Tag: Bengali news

Bengali news

  • US: মোদির কাছে মাথা নত! শেষমেশ ভারতীয় পণ্যের ওপর শুল্ক কমাল আমেরিকা

    US: মোদির কাছে মাথা নত! শেষমেশ ভারতীয় পণ্যের ওপর শুল্ক কমাল আমেরিকা

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ভারতীয় পণ্যের ওপর ১৫০ দিনের জন্য শুল্ক কমিয়ে ১০ শতাংশ করল মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র (US)। হোয়াইট হাউসের নয়া এক বিজ্ঞপ্তির পর এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এর আগে মার্কিন সুপ্রিম কোর্ট একটি গুরুত্বপূর্ণ রায়ে পূর্ববর্তী বৈশ্বিক শুল্ক কাঠামো বাতিল করে দেয় (Supreme Court Ruling)। সর্বশেষ সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, আগে যেসব ভারতীয় রফতানি পণ্যের ওপর ২৫ শতাংশ পারস্পরিক শুল্ক আরোপিত ছিল, সেগুলির ওপর এখন ১০ শতাংশ ‘অ্যাড ভ্যালোরেম’ (ad valorem) শুল্ক প্রযোজ্য হবে। যদিও এর আগে দুই দেশের মধ্যে ১৮ শতাংশ শুল্ক হার নিয়ে আলোচনা হয়েছিল, তা কখনও আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করা হয়নি। ফলে রফতানিকারীরা কার্যত ২৫ শতাংশ থেকে সরাসরি ১০ শতাংশে শুল্ক কমার সুবিধা পাবেন।

    সংশোধিত শুল্কহার কবে থেকে (US)

    সংশোধিত শুল্কহার ২৪ ফেব্রুয়ারি রাত ১২টা ১ মিনিট থেকে কার্যকর হবে এবং ১৫০ দিন বলবৎ থাকবে। এই নয়া কাঠামোটি আমেরিকার সঙ্গে বাণিজ্য চুক্তি রয়েছে, এমন সব দেশের ক্ষেত্রে সমভাবে প্রযোজ্য হবে বলে আশা করা হচ্ছে, যার মধ্যে ভারতও রয়েছে। এর আগে সিএনবিসি জানিয়েছিল যে, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাণিজ্য চুক্তি থাকা দেশগুলি মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প স্বাক্ষরিত নতুন ঘোষণার আওতায় কম শুল্ক সুবিধা পাবে। এই সাময়িক শুল্ক হ্রাসকে মার্কিন বাণিজ্যনীতির বৃহত্তর পুনর্গঠনের অংশ হিসেবে দেখা হচ্ছে (US)। শুল্ক সংশোধনের এই সিদ্ধান্ত এসেছে সুপ্রিম কোর্টের ৬–৩ সংখ্যাগরিষ্ঠ রায়ের পর, যেখানে প্রশাসনের পূর্ববর্তী বৈশ্বিক শুল্ক কাঠামোকে অবৈধ ঘোষণা করা হয়। সংখ্যাগরিষ্ঠ বিচারপতিরা মত দেন যে, আমদানি শুল্ক আরোপের জন্য যে আইনের উল্লেখ করা হয়েছিল, তা প্রেসিডেন্টকে শুল্ক আরোপের ক্ষমতা দেয় না। এর ফলে একতরফা শুল্ক আরোপের ব্যবস্থা বাতিল হয়ে যায়, যা একাধিক দেশকে প্রভাবিত করেছিল।

    শুল্কের জন্য ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসা প্রতিষ্ঠান

    তবে আদালত এই বিষয়ে কিছু বলেনি যে, আগে আদায় করা শুল্কের জন্য ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসা প্রতিষ্ঠান বা দেশগুলি ফেরতের অধিকার পাবে কি না। বিষয়টি এখনও নিষ্পন্ন হয়নি এবং ভবিষ্যতে এ নিয়ে আইনি বা কূটনৈতিক আলোচনা হতে পারে। রায়ের প্রতিক্রিয়ায় ট্রাম্প বিচারপতিদের সমালোচনা করে তাঁদের জাতির পক্ষে লজ্জা বলে অভিহিত করেন এবং অভিযোগ তোলেন যে তাঁরা “বিদেশি স্বার্থ ও ক্ষুদ্র রাজনৈতিক গোষ্ঠীর” প্রভাবে সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। ভারতীয় রফতানিকারীদের জন্য ১০ শতাংশে সাময়িক শুল্ক হ্রাস স্বল্পমেয়াদে স্বস্তি ও আমেরিকার বাজারে প্রতিযোগিতামূলক সুবিধা এনে দেবে। এই ১৫০ দিনের সময়সীমা উভয় দেশের বাণিজ্য কর্তা ও ব্যবসায়ীদের কাছে গুরুত্বপূর্ণ (Supreme Court Ruling) হয়ে উঠবে। কারণ ভবিষ্যতে  ভারত- মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র বাণিজ্য আলোচনার রূপরেখা নির্ধারণে এটি প্রভাব ফেলতে পারে (US)।

     

  • Ramakrishna 586: “দাস আমি’, ‘বিদ্যার আমি’, ‘ভক্তের আমি’—এরই নাম ‘পাকা আমি’”

    Ramakrishna 586: “দাস আমি’, ‘বিদ্যার আমি’, ‘ভক্তের আমি’—এরই নাম ‘পাকা আমি’”

    ৫২ শ্যামপুকুর বাটীতে ভক্তসঙ্গে ঠাকুর শ্রীরামকৃষ্ণ

    সপ্তম পরিচ্ছেদ

    ১৮৮৫, ২২শে অক্টোবর
    যুগধর্ম কথাপ্রসঙ্গে—জ্ঞানযোগ ও ভক্তিযোগ

    “সমাধির পর কাহারও ‘আমি’ থাকে—‘দাস আমি’, ‘ভক্তের আমি’। শঙ্করাচার্য (Ramakrishna) ‘বিদ্যার আমি’ লোকশিক্ষার জন্য রেখে দিয়েছিলেন। ‘দাস আমি’, ‘বিদ্যার আমি’, ‘ভক্তের আমি’—এরই নাম ‘পাকা আমি’। কাঁচা আমি কি জান? আমি কর্তা, আমি এত বড়লোকের ছেলে, বিদ্বান, আমি ধনবান আমাকে এমন কথা বলে! — এই সব ভাব। যদি কেউ বাড়িতে চুরি করে, তাকে যদি ধরতে পারে, প্রথমে সব জিনিসপত্র কেড়ে লয়; তারপর উত্তম-মধ্যম মারে, তারর পুলিসে দেয় (Kathamrita)! বলে, ‘কি! জানে না, কার চুরি করেছে!’

    “ঈশ্বরলাভ (Ramakrishna) হলে পাঁচ বছরের বালকের স্বভাব হয়। ‘বালকের আমি’ আর ‘পাকা আমি’। বালক কোন গুণের বশ নয়। ত্রিগুণাতীত। সত্ত্ব রজঃ তমঃ কোন গুণের বশ নয়। দেখ, ছেলে তমোগুণের বশ নয়। এইমাত্র ঝগড়া মারামারি করলে, আবার তৎক্ষণাৎ তারই গলা ধরে কত ভাব, কত খেলা! রজোগুণেরও বশ নয়। এই খেলাঘর পাতলে কত বন্দোবস্ত, কিছুক্ষণ পরেই সব পড়ে রইল; মার কাছে ছুটেছে। হয়তো এখখানি সুন্দর কাপড় পরে বেড়াচ্ছে। খানিকক্ষণ পরে কাপড় খুলে পড়ে গেছে। হয় কাপড়ের কথা একেবারে ভুলে গেল — নয় বগলদাবা করে বেড়াচ্ছে! (হাস্য)

    “যদি ছেলেটিকে বল, ‘বেশ কাপড়খানি, কার কাপড় রে?’ সে বলে, ‘আমার কাপড়, আমার বাবা দিয়েছে।’ যদি বল, ‘লক্ষ্মী ছেলে, আমায় কাপড়খানি দাও না।’ সে বলে, ‘না, আমার কাপড়, আমার বাবা দিয়েছে (Kathamrita), না আমি দেবো না।’ তারপর ভুলিয়ে একটি পুতুল কি আর একটি বাঁশি যদি দাও তাহলে পাঁচটাকা দামের কাপড়খানা তোমায় দিয়ে চলে যাবে। আবার পাঁচ বছরের ছেলের সত্ত্বগুণেরও আঁট নাই। এই পাড়ার খেলুড়েদের সঙ্গে কত ভালবাসা, একদণ্ড না দেখলে থাকতে পারে না। কিন্তু বাপ-মার সঙ্গে যখন অন্য জায়গায় চলে গেল, তখন নূতন খেলুড়ে হল। তাদের উপর তখন সব ভালবাসা পড়ল; পুরানো খেলুড়েদের একেবারে ভুলে গেল। তারপর জাত অভিমান নাই। মা বলে দিয়েছে, ও তোর দাদা হয়, তা সে ষোল আনা জানে যে, এ আমার ঠিক দাদা। তা একজন যদি বামুনের ছেলে হয় আর-একজন যদি কামারের ছেলে হয়, তো একপাতে বসে ভাত খাবে। আর শুচি-অশুচি নাই, হেগোপোঁদে খাবে! আবার লোকলজ্জা নাই, ছোঁচাবার পর যাকে-তাকে পেছন ফিরে বলে — দেখ দেখি, আমার ছোঁচানো হয়েছে কি না?

  • SIR: হাইকোর্টকে পশ্চিমবঙ্গের এসআইআর-এর কাজ পরিচালনার জন্য বিচার বিভাগীয় কর্মকর্তা নিয়োগের নির্দেশ সুপ্রিম কোর্টের

    SIR: হাইকোর্টকে পশ্চিমবঙ্গের এসআইআর-এর কাজ পরিচালনার জন্য বিচার বিভাগীয় কর্মকর্তা নিয়োগের নির্দেশ সুপ্রিম কোর্টের

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ভোটার তালিকায় নিবিড় সংশোধন (SIR) অভিযান নিয়ে রাজ্য সরকার এবং নির্বাচন কমিশনের মধ্যে দুর্ভাগ্যজনকভাবে দোষারোপের খেলা চলছে বলে উল্লেখ করেছে সুপ্রিম কোর্ট (Supreme Court)। তাই দেশের শীর্ষ আদালত শুক্রবার কলকাতা হাইকোর্টকে পশ্চিমবঙ্গের এসআইআর-এর কাজ পরিচালনা করা এবং সহায়তার জন্য বিচার বিভাগীয় কর্মকর্তা নিয়োগ করতে বলেছে।

    এসআইআরের কাজে কমিশন এবং রাজ্য উভয়ের ভূমিকাতেই শুক্রবার অসন্তোষ প্রকাশ করেছে সুপ্রিম কোর্ট। প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত, বিচারপতি জয়মাল্য বাগচী এবং বিচারপতি এনভি অঞ্জরিয়ার বেঞ্চে মামলাটির শুনানি ছিল। আদালত জানায়, রাজ্যের ভূমিকায় তারা হতাশ। রাজ্য সরকার এবং কমিশনের মধ্যে বিশ্বাসের ঘাটতি রয়েছে বলেও মন্তব্য করেন প্রধান বিচারপতি।

    দোষারোপের খেলা (SIR)

    ভারতের সুপ্রিম কোর্টের (Supreme Court) প্রধান বিচারপতি সূর্যকান্ত বলেছেন, “ভোটার তালিকা সংশোধনে বিচার বিভাগীয় কর্মকর্তারা দাবি এবং আপত্তি খতিয়ে দেখতে পারেন। দুর্ভাগ্যজনকভাবে অভিযোগ ও পাল্টা অভিযোগের এক দৃশ্যপট তৈরি হয়েছে, যা দুটি সাংবিধানিক সংস্থার মধ্যে আস্থা এবং বিশ্বাসের ঘাটতিকেই সূচিত করে। রাজ্য সরকার এবং নির্বাচন কমিশন দোষারোপের খেলা খেলছে। এসআইআর (SIR) প্রক্রিয়াটি অসঙ্গতিপূর্ণ তালিকায় অন্তর্ভুক্ত ব্যক্তিদের দাবি এবং আপত্তির পর্যায়ে আটকে রয়েছে।”

    বিশেষ পরিস্থিতি এবং বিশেষ ক্ষেত্রের জন্য সুপ্রিম কোর্ট হাইকোর্টকে জেলা জজ পদমর্যাদার কর্মরত এমনকি প্রাক্তন বিচার বিভাগের কর্মকর্তাদেরও এসআইআর কাজের জন্য নিযুক্ত করার নির্দেশ দিয়েছে। একই ভাবে বিচার বিভাগীয় কর্মকর্তাদের পরিকল্পনার সূক্ষ্ম বিবরণ তৈরির জন্য, সুপ্রিম কোর্ট রাজ্য নির্বাচন কমিশনার, মুখ্য সচিব, পুলিশ প্রধান এবং অন্যান্য শীর্ষ কর্মকর্তাদের আগামীকাল হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতির সাথে একটি বৈঠক করার নির্দেশ দিয়েছে।

    আমরা রাজ্যের সহযোগিতা আশা করছিলাম

    সুপ্রিম কোর্ট (Supreme Court) আরও বলেছে, “এসডিও, এসডিএম-এর দায়িত্ব পালনের জন্য গ্রুপ এ অফিসারদের দিতে রাজ্য প্রশাসন বাধ্য। ইআরও এবং এইআরও-এর (SIR) দায়িত্ব পালনের জন্য রাজ্য সরকার কর্তৃক প্রদত্ত কর্মকর্তাদের পদমর্যাদা নিয়ে বিরোধিতা থাকা উচিত নয়। জমা দেওয়া নথিপত্রের সত্যতা বিচারে ন্যায্যতা নিশ্চিত করার জন্য কলকাতা হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতির কাছে অনুরোধ করা ছাড়া আমাদের আর কোনও বিকল্প নেই। কিছু কর্মরত বিচার বিভাগীয় কর্মকর্তা এবং এডিজে বা জেলা বিচারক পদমর্যাদার কিছু প্রাক্তন বিচারক কর্মকর্তাকে এই কাজে নিযুক্ত করতে হবে। তাঁরাই প্রতিটি জেলায় নিবিড় তালিকা তৈরিতে তথ্য যাচাইয়ের নিষ্পত্তি বা পুনর্বিবেচনা করতে সহায়তা করতে পারবেন।

    প্রধান বিচারপতি সূর্যকান্ত রাজ্য সরকারকে তোপ দেগে বলেন, “এমন একটি পরিস্থিতি তৈরি হচ্ছে, যেখানে বিচার বিভাগীয় কর্মকর্তাদের হস্তক্ষেপ করতে হচ্ছে… আমরা রাজ্যের সহযোগিতা আশা করছিলাম। রাজ্যের কাছ থেকে কি এই স্তরের যোগাযোগ? ৯ ফেব্রুয়ারির আদেশের জন্য, আপনি ১৭ ফেব্রুয়ারি জবাব দিয়েছিলেন। আপনি বলছেন রাজ্য সরকার কর্মকর্তাদের পরীক্ষা করছে। পরীক্ষা করছে, কীভাবে? আপনার লেখা উচিত ছিল যে ৮,৫০০ কর্মকর্তা পাঠানো হয়েছে। আমরা মাইক্রো অবজারভার নই। আমরা এটা দেখে হতাশ। আমরা ভেবেছিলাম রাজ্যগুলি সহযোগিতা করবে। আমরা ব্যক্তিগত ব্যাখ্যা চাই না।”

    যোগ্য গ্রুপ এ অফিসারদের নিয়োগ করা হচ্ছে না

    পশ্চিমবঙ্গ সরকারের পক্ষে উপস্থিত জ্যেষ্ঠ আইনজীবী (Supreme Court) কপিল সিব্বল এবং মেনকা গুরুস্বামী যুক্তি দিয়েছিলেন যে পর্যাপ্ত গ্রুপ বি অফিসার সরবরাহ করা হয়েছে। অন্যদিকে ইসিআইয়ের (SIR) প্রতিনিধিত্বকারী জ্যেষ্ঠ আইনজীবী দামা শেষাদ্রি নাইডু যুক্তি দিয়েছিলেন, নির্বাচনের ইআরও হিসাবে দায়িত্ব পালনের জন্য যোগ্য সবাইকে কাজে লাগানো যায়নি। রাজ্য সরকার সহযোগিতা করেনি।

    পরিস্থিতির উপর অসন্তোষ প্রকাশ করে সুপ্রিম কোর্ট মন্তব্য করে, “আপনি যোগ্য গ্রুপ এ অফিসারদের নিয়োগ দিচ্ছেন না। অযোগ্য কর্মকর্তারা কীভাবে জনগণের ভাগ্য নির্ধারণ করতে পারেন? উভয় দিকেই দ্বিধা রয়েছে বলে মনে হচ্ছে। তাই সকল স্টেকহোল্ডারদের সহযোগিতা অপরিহার্য। রাজ্য সরকারকে সতর্ক থাকতে হবে। কলকাতা হাইকোর্ট-মনোনীত বিচার বিভাগীয় কর্মকর্তাদের কার্যকরভাবে কাজ করার জন্য একটি উপযুক্ত পরিবেশ তৈরি করে দিতে হবে। দয়া করে হাইকোর্টের সাথে সহযোগিতা করুন। তাদের কাজ করার জন্য একটি পরিবেশ তৈরি করুন। কল্পনা করুন, যদি এসআইআর প্রক্রিয়া সম্পন্ন না হয় তবে কী হবে।”

    অবৈধ নাম বাদ যাওয়ায় মমতার ক্ষোভ  

    কেন্দ্রের বিজেপি সহ সমস্ত প্রধান দল যখন বাংলার বিধানসভা নির্বাচনের জন্য জোর প্রচার চালাচ্ছে, তখন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে ভোটার তালিকা সংশোধনকে অপব্যবহার করে প্রকৃত ভোটারদের বাদ দেওয়ার অভিযোগ তুলেছেন। নির্বাচন কমিশনকে জিজ্ঞাসা করে মমতা বলেন, “বিজেপি শাসিত আসামে ভোটার তালিকা (SIR) সংশোধন করেনি। অবৈধ অনুপ্রবেশে এবং জনসংখ্যার পরিবর্তনের বিষয়টি নিয়ে উত্তেজনা এবং সংঘাত সৃষ্টি করছে। নির্বাচন কমিশন বাংলা এবং কেরালাকে অন্যায়ভাবে লক্ষ্যবস্তু করেছে, বিজেপির এজেন্ট নির্বাচন কমিশন।”

  • RSS: “গবেষকদের উচিত ভারতীয় জ্ঞান পরম্পরার ভিত্তিতে গ্রামোন্নয়ন নিয়ে চিন্তাভাবনা করা”, বললেন দত্তাত্রেয় হোসবলে

    RSS: “গবেষকদের উচিত ভারতীয় জ্ঞান পরম্পরার ভিত্তিতে গ্রামোন্নয়ন নিয়ে চিন্তাভাবনা করা”, বললেন দত্তাত্রেয় হোসবলে

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: আরএসএস (RSS)-এর সরকার্যবাহ দত্তাত্রেয় হোসবলে (Dattatreya Hosabale) গবেষক ও শিক্ষাবিদদের প্রতি ভারতীয় জ্ঞান পরম্পররা দিকে নজর দেবার আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি বলেন, “ভারতের নিজস্ব জ্ঞান ব্যবস্থা বা ‘ভারতীয় জ্ঞান পরম্পরা’ (IKS)-এর ওপর ভিত্তি করে গ্রামোন্নয়নের নতুন পথ খুঁজে বের করা একান্ত প্রয়োজন। প্রকৃত গ্রামীণ উন্নয়ন কেবল আধুনিক প্রযুক্তি দিয়ে সম্ভব নয়, বরং তাতে ভারতের প্রাচীন শিকড় ও অভিজ্ঞতার প্রতিফলন থাকা প্রয়োজন।”

    দেশীয় মডেলে উন্নয়ন (Dattatreya Hosabale)

    সংঘের (RSS) সরকার্যবাহ হোসবলে (Dattatreya Hosabale) বলেন, “গ্রামোন্নয়নের জন্য আমাদের কেবল পাশ্চাত্য মডেলের ওপর নির্ভর করলে চলবে না। ভারতের গ্রামগুলোর নিজস্ব শক্তি ও ঐতিহ্য রয়েছে। গবেষকদের উচিত, এমন গবেষণায় মনোনিবেশ করা যা গ্রামীণ অর্থনীতিকে স্বনির্ভর করতে সাহায্য করবে।”

    কৃষি ও পরিবেশ রক্ষা

    হোসবলে (Dattatreya Hosabale) টেকসই উন্নয়নের ওপর গুরুত্ব আরোপ করেন। তাঁর মতে, “রাসায়নিক মুক্ত চাষাবাদ এবং পরিবেশবান্ধব জীবনশৈলী ভারতের গ্রামগুলোর মূল ভিত্তি হওয়া উচিত। ভারতীয় জ্ঞান ব্যবস্থায় পরিবেশ ও মানুষের যে নিবিড় সম্পর্কের কথা বলা হয়েছে, তা বর্তমান সময়ে অত্যন্ত প্রাসঙ্গিক।”

    সামাজিক সম্প্রীতি ও একতা

    তিনি উল্লেখ করেন যে, গ্রামের উন্নয়ন মানে কেবল রাস্তাঘাট বা অবকাঠামো নয়, বরং সামাজিক ঐক্য বজায় রাখাও উন্নয়নের অংশ। পঞ্চায়েত ব্যবস্থা এবং স্থানীয় বিচার ব্যবস্থার মতো ঐতিহ্যবাহী কাঠামোগুলোকে কীভাবে আধুনিক প্রেক্ষাপটে শক্তিশালী করা যায়, তা নিয়ে কাজ করা একান্ত প্রয়োজন।

    তরুণ প্রজন্মের ভূমিকা

    হোসবলে (Dattatreya Hosabale) আহ্বান জানান, যেন উচ্চশিক্ষিত তরুণরা এবং গবেষকরা সরাসরি গ্রামের মানুষের সংস্পর্শে আসেন এবং তাঁদের সমস্যাগুলো বুঝে দেশীয় পদ্ধতিতে তার সমাধান খুঁজে বের করেন। তাই তিনি বলেন, “যদি ভারত তার নিজস্ব জ্ঞান ও সংস্কৃতির ভিত্তিতে গ্রামগুলোকে সমৃদ্ধ করতে পারে, তবেই ‘বিকশিত ভারত’ গড়ার স্বপ্ন সফল হবে। তিনি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোকে এই ধরণের গবেষণায় উৎসাহ দেওয়ার অনুরোধ জানান, যা সরাসরি দেশের সাধারণ মানুষের কল্যাণে আসবে।”

  • Food Corporation of India: বিশ্ব খাদ্য কর্মসূচির সঙ্গে পাঁচ বছরের চাল সরবরাহ চুক্তি স্বাক্ষর করেছে ভারতের খাদ্য কর্পোরেশন

    Food Corporation of India: বিশ্ব খাদ্য কর্মসূচির সঙ্গে পাঁচ বছরের চাল সরবরাহ চুক্তি স্বাক্ষর করেছে ভারতের খাদ্য কর্পোরেশন

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ক্ষুধা মোকাবেলার লক্ষ্যে বিশ্বব্যাপী মানবিক কাজকর্মের সমর্থনে এবার চাল সরবরাহ করবে ভারত। ভারতের খাদ্য কর্পোরেশন (Food Corporation of India) এবং বিশ্ব খাদ্য কর্মসূচি (World Food Programme) একটি বিশেষ চুক্তির স্মারকে (এমওইউ) স্বাক্ষর করেছে। বিশ্ববাসীকে অন্ন প্রদানের মাধ্যমে অন্নদান করবে ভারত।

    ২০০,০০০ মেট্রিক টন চাল সরবরাহ (Food Corporation of India)

    খাদ্য ও গণবণ্টন বিভাগের সচিবের উপস্থিতিতে ভারত সরকারের পক্ষে এফসিআই-এর (Food Corporation of India) সিএমডি রবীন্দ্র কুমার আগরওয়াল এবং ডাব্লিউএফপি-এর উপ-নির্বাহী পরিচালক কার্ল স্কাউ এই চুক্তি স্মারক স্বাক্ষর করেন। চুক্তিপত্র স্মারকের আওতায়, এফসিআই ডব্লিউএফপি-কে ২০০,০০০ মেট্রিক টন চাল (World Food Programme) সরবরাহ করবে। মোটামুটি ভাবে ২৫ শতাংশের যোগান দেওয়ার কথা বলা হয়েছে। এই চুক্তিপত্র স্মারক স্বাক্ষরের তারিখ থেকে আগামী পাঁচ বছরের জন্য বৈধ থাকবে। প্রয়োজন এবং চাহিদা অনুসারে পারস্পরিক সম্মতিতে এটি বাড়ানো যেতে পারে। বার্ষিক ভিত্তিতে পারস্পরিক সম্মতিতে দাম নির্ধারণ করা হবে। বর্তমান চালের মূল্য আগামী ৩১ মার্চ ২০২৬ পর্যন্ত প্রতি কুইন্টাল ২,৮০০ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।

    কেউ ক্ষুধার্ত থাকবে না

    খাদ্য ও গণবণ্টন বিভাগের সচিব সঞ্জীব চোপড়া বলেন, “ডব্লুএফপি (Food Corporation of India)-এর সঙ্গে আমাদের অংশীদারিত্বের মাধ্যমে মানুষকে খাদ্য (World Food Programme) সরবরাহ করতে পুষ্টি এবং সম্মান রফতানি করছি। এই চুক্তিটি ভারতের দৃঢ় সংকল্পকে প্রতিফলিত করে। কেউ ক্ষুধার্ত থাকবে না, এই নীতিকেই এখন গুরুত্ব দিয়ে ভাবা হচ্ছে। অপুষ্টি এবং খাদ্য নিরাপত্তাহীনতার বিরুদ্ধে লড়াইয়ে ভারত আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সঙ্গে দাঁড়িয়ে থাকবে সবসময়ে।”

    বিশ্বব্যাপী সংহতির প্রবক্তা ভারত

    জাতিসংঘের বিশ্ব খাদ্য কর্মসূচির উপ-নির্বাহী পরিচালক কার্ল স্কাউ বলেন, “ভারতের সঙ্গে এই চুক্তি বিশ্বব্যাপী ক্ষুধা মোকাবেলায় একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক। ভারতের সহায়তা আগামী পাঁচ বছরে ডব্লুএফপি (WFP)-কে পুষ্টিকর খাদ্য ঝুঁকিপূর্ণ জনগোষ্ঠীর কাছে আরও কার্যকরভাবে পৌঁছে দিতে সাহায্য করবে। একটি কৃষিপ্রধান দেশ এবং বিশ্বব্যাপী সংহতির প্রবক্তা হিসেবে, ভারত আমাদের শূন্য ক্ষুধা লক্ষ্যকে কার্যকর করতে অনুপ্রাণিত করে। এই রূপান্তরমূলক অংশীদারিত্বের জন্য আমি ভারতকে ধন্যবাদ জানাই।”

    এই অংশীদারিত্ব বিশ্বব্যাপী খাদ্য নিরাপত্তার প্রতি ভারতের প্রতিশ্রুতিকে আরও জোরদার করবে। বিশ্বব্যাপী মানবিক চাহিদা পূরণে ডব্লুএফপি (World Food Programme)-এর সঙ্গে সহযোগিতা জোরদার করবে। বিশ্বব্যাপী খাদ্য ব্যবস্থায় বিশ্বস্ত ও দায়িত্বশীল ভূমিকায় ভারতের ভূমিকাকে আরও জোরদার করবে।

  • Estaurant Tax Scam: আয়কর ফাঁকির অভিযোগ তিন জনপ্রিয় বিরিয়ানি সংস্থার বিরুদ্ধে, ৭০০০০ কোটি টাকার দুর্নীতি

    Estaurant Tax Scam: আয়কর ফাঁকির অভিযোগ তিন জনপ্রিয় বিরিয়ানি সংস্থার বিরুদ্ধে, ৭০০০০ কোটি টাকার দুর্নীতি

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: আয়কর ফাঁকির অভিযোগ ছিল তিন জনপ্রিয় বিরিয়ানি সংস্থার বিরুদ্ধে। এবার তা নিয়ে তল্লাশিতে নামতেই তদন্তকারী অফিসারদের চক্ষু একেবারে চড়কগাছ। বিরাট জালিয়াতি চক্রের খোঁজ পেয়েছে আয়কর দফতর। সংস্থার বিরুদ্ধে করফাঁকি এবং বিভিন্ন জায়গায় রেস্তরাঁ (Estaurant Tax Scam) ব্যবসায় সংক্রান্ত তথ্য গোপন করার অভিযোগ রয়েছে। সব মিলিয়ে ৭০০০০ কোটি টাকার আয় গোপন রাখা হয়েছে বিভিন্ন রেস্তরার পক্ষে। তবে নগদ টাকার হেরফের (Income Tax) করা হয়েছে সব থেকে বেশি। এই ভাবে খাবারের রেস্তোরাঁয় এতবড় জালিয়াতি আগে কখনও ধরা পড়েনি বলে সূত্রে জানা গিয়েছে।

    সর্বভারতীয় বিলিং সফ্টওয়্যার প্ল্যাটফর্মে ব্যবসা (Estaurant Tax Scam)

    হায়দ্রাবাদের জনপ্রিয় বিরিয়ানি সংস্থার (Estaurant Tax Scam) দিকে নজর ছিল সকলেরই। সেই মতো গত বছর নভেম্বর মাসে বিভিন্ন রেস্তরাঁয় হানা দিয়েছিল আয়কর দফতর। এই অভিযানে উদ্ধার হয়েছে ৭০০০০ কোটি টাকার আর্থিক দুর্নীতি। প্রথম বিষয়টি গোপন করা হয়েছিল। এরপর সংবাদ মাধ্যমে বিষয়টি আলোড়িত হয়। জানা গিয়েছে সংস্থার পক্ষ থেকে সর্বভারতীয় বিলিং সফ্টওয়্যার প্ল্যাটফর্ম ব্যবসার করে এই আর্থিক (Income Tax) অনিয়ম করা হয়। ২০১৯-২০ সাল থেকেই এই কাজ করা হয়েছিল।

    সামান্য আয় দেখিয়ে আয়কর রিটার্ন জমা

    গোটা তদন্ত আয়কর আইনের মাধ্যমে তদন্ত করা হয়। এরপর ১৩৩ এ ধারায় মামলা দায়ের করা হয়। ২০১৯-২০ থেকে ২০২৫-২৬ পর্যন্ত অর্থবর্ষে লেনদেন সংক্রান্ত ৬০ টের বেশি টেরাবাইট তথ্য দিয়ে খতিয়ে দেখা হয়। আয়কর দফতর জানিয়েছে, দেশের ১ লক্ষের বেশি রেস্তরাঁ (Estaurant Tax Scam) ওই বিলিং সফ্টওয়্যার প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করা হয়েছিল। এটা ভারতের রেস্তরাঁ ব্যবসার প্রায় ১০ শতাংশ। মোট ২ কোটি ৪২ লক্ষ কোটি টাকার বিল পরীক্ষা করে দেখেন তদন্তকারী অফিসাররা। তদন্তে জানা যায়, বিল তৈরির পর ১৩, ৩২৭ কোটি টাকার হিসেব মুছে দেওয়া হয়। ইচ্ছা করেই বিক্রির যথার্থ হিসেব গোপন করা হয়। হায়দ্রাবাদে আয়কর (Income Tax) বিভাগের ডিজিটাল ল্যাবে ফরেনসিক পরীক্ষা করা হয়। এআই ব্যবহার করে ১ কোটি ৭৭ লক্ষ টাকার হিসেব দেখতে রেস্তরাঁর আইডি, জিএসটি নম্বর, প্যান নম্বর সংক্রান্ত তথ্য খুঁটিয়ে দেখা হয়।

    কর্ণাটকে ২০০০ কোটির দুর্নীতি

    আয় কর বিভাগের দাবি করে জানিয়েছে, ১) কার্ড, UPI, নগদ লেনদেনের সব কিছু প্রথমে সিস্টেমের অন্তর্ভুক্ত করা হয়। কিন্তু আয়কর রিটার্ন জমা দেওয়ার আগে, অধিকাংশ লেনদেনের বাদ দেওয়া হয়। রেস্তরাঁয় (Estaurant Tax Scam) নগদ টাকার বিলগুলি সব সরিয়ে ফেলা হয়। আয় কম বিল গুলি দেখানো হয়। ২) রেস্তরাঁগুলি ৩০ দিন পর্যন্ত সময়সীমার আয়ের রেকর্ড ডিলিট করে দেয়। পরবর্তীতে সামান্য আয় দেখিয়ে আয়কর রিটার্ন জমা করে। ৩) আবার পুরোপুরি মুছে না ফেলে, আয় (Income Tax)কম দেখানো হয়।

    এই আর্থিক দুর্নীতি অন্ধ্রপ্রদেশ, তেলেঙ্গানা, তামিলনাড়ু, মহারাষ্ট্র, গুজরাটে ছড়িয়ে পড়েছে। অন্ধ্রপ্রদেশে ৫১৪১ কোটি, কর্ণাটকে ২০০০ কোটি, তেলেঙ্গানায় ১৫০০, তামিলনাড়ুতে ১২০০ কোটি টাকার হিসেব ডিলিট করে দেওয়া হয়েছে। আয়ের ২৭ শতাংশ লুকিয়ে রেখে হিসেব দেওয়া হয়েছে।

  • Paris: ফ্রান্সে তৈরি হচ্ছে বিএপিএস স্বামীনারায়ণ মন্দির, ভারত থেকে প্রাচীন ঐতিহ্যের শিলা পৌঁছলো প্যারিসে

    Paris: ফ্রান্সে তৈরি হচ্ছে বিএপিএস স্বামীনারায়ণ মন্দির, ভারত থেকে প্রাচীন ঐতিহ্যের শিলা পৌঁছলো প্যারিসে

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ফ্রান্সে নির্মিত হচ্ছে প্রথম বিএপিএস (BAPS) স্বামীনারায়ণ মন্দির (Swaminarayan Mandir)। প্রাচীন স্থাপত্যের ঐতিহ্য বহন করে এমন ভারতীয় শিলা পাথর পৌঁছে গিয়েছে প্যারিসে (Paris)। ভারত ও ফ্রান্সের মধ্যে সুদৃঢ় সাংস্কৃতিক সম্পর্কের এক ঐতিহাসিক মাইলফলক হিসেবে এই স্বামীনারায়ণ হিন্দু মন্দির নির্মিত হতে চলেছে। মন্দির নির্মাণের জন্য এই পাথরগুলি ভারতের প্রাচীন স্থাপত্য কৌশলে খোদাই করা।

    সাংস্কৃতিক বিনিময়ের কেন্দ্র (Paris)

    ভারতের শতাব্দী প্রাচীন ঐতিহ্য এবং অসাধারণ কারুকার্যমণ্ডিত এই পাথরগুলো প্যারিসে পৌঁছলে সেগুলোকে আনুষ্ঠানিকভাবে বরণ করে নেওয়া হয়। প্যারিসের (Paris) উপকণ্ঠে বুসি-সাঁ-জর্জে (Bussy-Saint-Georges) এই মন্দিরটি নির্মিত হচ্ছে। আন্তর্জাতিক গবেষকরা মনে করছেন এই মন্দির কেবল মন্দির (Swaminarayan Mandir) নয়, এটি ভারত ও ফ্রান্সের ক্রমবর্ধমান বহুমুখী সম্পর্ক এবং বিশেষ করে দুই দেশের জনগণের মধ্যে সাংস্কৃতিক বিনিময়ের প্রতিফলন। এই মন্দিরটি ভারতের প্রাচীন স্থাপত্য জ্ঞান এবং কারিগরদের দক্ষতার এক অনন্য নিদর্শন। ভারতীয় শিল্পকলাকে বিদেশের মাটিতে ভারতের ‘সফট পাওয়ার’ (Soft Power)-কে তুলে ধরবে। মন্দির নির্মাণে ব্যবহৃত এই বেলেপাথরগুলো ভারতের দক্ষ কারিগররা ঐতিহ্যবাহী পদ্ধতিতে খোদাই করে তৈরি করেছে। মন্দিরের জন্য নির্মিত পাথরের শিল্পকলা প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে ভারতের এক সংরক্ষিত শিল্পকলার নিদর্শন।

    ভারত-ফ্রান্স স্থাপত্য সহযোগিতার প্রতীক

    প্যারিসের এই বিএপিএস স্বামীনারায়ণ মন্দির নির্মাণে ভারতীয় কারিগরদের পাশাপাশি ফরাসি পাথর-মিস্ত্রিরাও কাজ করবেন। উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো, এই ফরাসি দলে এমন কারিগররাও রয়েছেন যারা বিখ্যাত ‘নটর-দাম ক্যাথেড্রাল’ (Notre-Dame Cathedral) সংস্কারের কাজে যুক্ত ছিলেন। এটি দুই দেশের জ্ঞান ও দক্ষতার আদান-প্রদান এবং সাংস্কৃতিক মেলবন্ধনের এক অনন্য উদাহরণ হতে চলেছে। নতুন এই মন্দিরটি (Swaminarayan Mandir) কেবল একটি উপাসনালয় হবে না, বরং এটি ভারতীয় সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যের চর্চা, শিক্ষা এবং সামাজিক মেলবন্ধনের একটি কেন্দ্র হিসেবে গড়ে উঠবে। প্রাচীন ভারতীয় দর্শনকে বিশ্বকল্যাণের কাজে ছড়িয়ে দিতেও এই মন্দির বিশেষ ভূমিকা পালন করবে।

    ভারত ও ফ্রান্সের দক্ষতাকে এক সুতোয় গাঁথা

    প্যারিস (Paris) মন্দির নির্মাণ প্রকল্পের সিইও এবং বিএপিএস ইউকে ও ইউরোপের ট্রাস্টি সঞ্জয় কারা বলেন, “ভারত থেকে প্রথম পাথরের আগমন একটি ঐতিহাসিক মুহূর্ত। প্রতিটি পাথর আমাদের ঐতিহ্য ও যত্নের প্রতীক। মহন্ত স্বামী মহারাজের সেবা, নম্রতা ও সম্প্রীতির আদর্শে অনুপ্রাণিত এই প্রকল্প ভারত ও ফ্রান্সের দক্ষতাকে এক সুতোয় গেঁথেছে।” ফ্রান্সে নিযুক্ত ভারতীয় রাষ্ট্রদূত সঞ্জীব কুমার সিংলা বলেন, “এই মন্দিরটি (Swaminarayan Mandir) একটি অনন্য সহযোগিতার ফসল। ভারতে দক্ষ শিল্পীদের হাতে খোদাই করা এই পাথরগুলো এখানে ফ্রান্সের দক্ষ কারিগররা সংযোজন করবেন। এটি পবিত্র স্থাপত্যের দুটি মহান ঐতিহ্যের মিলন।” ফরাসি বিদেশ মন্ত্রকের ধর্ম বিষয়ক উপদেষ্টা রাষ্ট্রদূত জঁ-ক্রিস্তফ পসেল মন্তব্য করে বলেন, “এই ধরনের মন্দির ফ্রান্সে এই প্রথম এবং এটি দুই দেশের মধ্যে আধ্যাত্মিক ও মানবিক সম্পর্কের একটি নতুন অধ্যায়।” ২০২৪ সালের জুনে এই মন্দিরের কাজ শুরু হয়েছে এবং ২০২৬ সালের মধ্যে এটি সম্পন্ন হবে বলে আশা করা হচ্ছে। এটি ভারত ও ফ্রান্সের চিরস্থায়ী বন্ধুত্ব ও পারস্পরিক শ্রদ্ধার প্রতীক হয়ে দাঁড়িয়ে থাকবে।

  • Google: ‘বিশাখাপত্তনমে গড়ে উঠবে নয়া আন্তর্জাতিক আন্ডার-সি কেবল গেটওয়ে’, ঘোষণা সুন্দর পিচাইয়ের

    Google: ‘বিশাখাপত্তনমে গড়ে উঠবে নয়া আন্তর্জাতিক আন্ডার-সি কেবল গেটওয়ে’, ঘোষণা সুন্দর পিচাইয়ের

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: “আমেরিকা-ইন্ডিয়া কানেক্ট” উদ্যোগ ঘোষণা করল গুগল। এটি একটি বৃহৎ পরিকাঠামো প্রকল্প, যার লক্ষ্য মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, ভারত এবং দক্ষিণ গোলার্ধের বিভিন্ন অঞ্চলের মধ্যে ডিজিটাল ও এআই (AI) সংযোগ উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়ানো। নয়াদিল্লিতে চলমান ‘ইন্ডিয়া এআই ইমপ্যাক্ট সামিট’-এ এই ঘোষণা করা হয়।

    সুন্দর পিচাইয়ের বক্তব্য (Google)

    গুগলের সিইও সুন্দর পিচাই সম্মেলনে বক্তব্য রাখতে গিয়ে এই উদ্যোগের কথা ঘোষণা করেন। তিনি বলেন, “এর লক্ষ্য হল এআইয়ের প্রাপ্যতা বাড়ানো এবং ডিজিটাল বিভাজন যাতে এআই বিভাজনে পরিণত না হয় তা নিশ্চিত করা। তিনি বলেন, “আজ আমরা ইন্ডিয়া-আমেরিকা কানেক্ট উদ্যোগ ঘোষণা করছি, যা ভারত ও আমেরিকার মধ্যে এবং দক্ষিণ গোলার্ধের একাধিক জায়গার সঙ্গে এআই সংযোগ বাড়াতে নয়া আন্ডার-সি (সমুদ্রতল) কেবল রুট স্থাপন করবে।” এই প্রকল্পটি ভারতে এআই পরিকাঠামো গড়ে তোলার জন্য গুগলের পাঁচ বছর মেয়াদি ১৫০০ কোটি মার্কিন ডলারের বৃহত্তর বিনিয়োগ পরিকল্পনার অংশ। এর মধ্যে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হল ভারতের পূর্ব উপকূলে বিশাখাপত্তনমে একটি নতুন আন্তর্জাতিক আন্ডারসি গেটওয়ে স্থাপন। মুম্বই ও চেন্নাইয়ের মধ্যে থাকা কেবল ল্যান্ডিং পয়েন্টগুলির পাশাপাশি এই নতুন সংযোজন বৈচিত্র্য ও স্থিতিস্থাপকতা বাড়াবে।

    সমুদ্রতলে নয়া ৩ কেবল বসানোর পরিকল্পনা

    গুগল তিনটি নতুন আন্ডার-সি কেবল বসানোর পরিকল্পনাও করেছে, যা ভারতকে সরাসরি সিঙ্গাপুর, দক্ষিণ আফ্রিকা ও অস্ট্রেলিয়ার সঙ্গে যুক্ত করবে। ভারতের পূর্ব উপকূলে বিশাখাপত্তনম থেকে চেন্নাই হয়ে দক্ষিণ আফ্রিকার সঙ্গে একটি সরাসরি ফাইবার-অপটিক সংযোগ গড়ে তোলা হবে। আর একটি সরাসরি রুট বিশাখাপত্তনমকে সিঙ্গাপুরের সঙ্গে যুক্ত করবে, যা সাবমেরিন কেবল ব্যবস্থার মাধ্যমে অস্ট্রেলিয়ার সঙ্গে সরাসরি সংযোগ স্থাপন করবে। এসব বিনিয়োগের ফলে ভাইজাগ একটি গুরুত্বপূর্ণ আন্তর্জাতিক আন্ডার-সি কেবল গেটওয়ে হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হবে।

    কৌশলগত ফাইবার-অপটিক রুট

    নেটওয়ার্কের সক্ষমতা ও নির্ভরযোগ্যতা বাড়াতে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র থেকে ভারত ও দক্ষিণ গোলার্ধের বিভিন্ন গন্তব্যে চারটি কৌশলগত ফাইবার-অপটিক রুট গড়ে তোলা হবে। এগুলি গুগলের বৈশ্বিক আন্ডারসি কেবল ব্যবস্থার সঙ্গে সমন্বিত হবে—যার মধ্যে রয়েছে ইকিউয়ানো, নুভেম, বসান, টাবুয়া, তালয়ালিঙ্ক, অনোমোয়ানা, ব্লু, রামন এবং সল।  এসব সংযোগ একাধিক বিকল্প ও উচ্চ-ক্ষমতাসম্পন্ন পথ তৈরি করবে, যেমন আমেরিকার পূর্ব উপকূল থেকে আফ্রিকা ঘুরে ভাইজাগে সংযোগ, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের পশ্চিম উপকূল থেকে দক্ষিণ প্রশান্ত মহাসাগর ও অস্ট্রেলিয়া হয়ে ভাইজাগে সংযোগ, এবং মুম্বই থেকে পশ্চিম অস্ট্রেলিয়ায় সহায়ক লিঙ্ক।

    উত্তর আমেরিকা (যুক্তরাষ্ট্র), এশিয়া (ভারত ও সিঙ্গাপুর), আফ্রিকা (দক্ষিণ আফ্রিকা) এবং অস্ট্রেলিয়া/ওশেনিয়া—এই চার মহাদেশকে যুক্ত করে আমেরিকা-ইন্ডিয়া কানেক্ট ঐতিহাসিক সামুদ্রিক বাণিজ্যপথগুলিকে আধুনিক শক্তিশালী ডিজিটাল রুটে রূপান্তর করতে চায়। উন্নত পরিকাঠামো ভারতের জন্য আরও নির্ভরযোগ্য, সাশ্রয়ী এবং স্থিতিশীল ইন্টারনেট পরিষেবা নিশ্চিত করবে। একই সঙ্গে এটি দেশে ব্যাপক এআই গ্রহণযোগ্যতা বাড়াবে, অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ত্বরান্বিত করবে, উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধি করবে এবং দক্ষতা উন্নয়ন কর্মসূচিকে এগিয়ে নিয়ে যাবে। কোম্পানিটি জানিয়েছে, আমেরিকা-ইন্ডিয়া কানেক্ট প্রকল্প আফ্রিকা, অস্ট্রেলিয়া এবং প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে এআইয়ের প্রবেশাধিকারও বাড়াবে।

     

  • Ram Mandir: ধর্মীয় নগরী থেকে গুরুত্বপূর্ণ অর্থনৈতিক কেন্দ্রে পরিণত হচ্ছে অযোধ্যা, কীভাবে জানেন?

    Ram Mandir: ধর্মীয় নগরী থেকে গুরুত্বপূর্ণ অর্থনৈতিক কেন্দ্রে পরিণত হচ্ছে অযোধ্যা, কীভাবে জানেন?

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ২০২০ সালের ৫ অগাস্ট প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি রাম জন্মভূমি (Ram Mandir) মন্দিরের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেছিলেন। ২০২৪ সালের ২২ জানুয়ারি হয় এর উদ্বোধন। এই ঐতিহাসিক আয়োজন শুধু ভারতের সাংস্কৃতিক চেতনাকেই পুনর্জাগরিত করেনি, বরং অযোধ্যাকে (Ayodhya) কেবল ধর্মীয় নগরী থেকে একটি গুরুত্বপূর্ণ অর্থনৈতিক কেন্দ্রে পরিণত করেছে। এর পেছনে ভারতের কেন্দ্রীয় সরকার এবং উত্তরপ্রদেশের যোগী আদিত্যনাথ সরকারের গৃহীত বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগ বিশেষভাবে অবদান রেখেছে।

    কর্মসংস্থানের সুযোগ (Ram Mandir)

    শতাব্দীর পর শতাব্দী ধরে ভারতীয় মন্দিরগুলি শুধু আস্থার কেন্দ্র হিসেবেই নয়, বরং স্থানীয় অর্থনীতি উন্নয়ন, কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং পরিকাঠামো বৃদ্ধিতেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে। তিরুপতি, বৈষ্ণোদেবী ও শিরডির মতো তীর্থস্থানগুলি তার উদাহরণ। এখন অযোধ্যাও আধুনিক অগ্রগতি ও সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের সমন্বয়ের এক নতুন মডেল হিসেবে আত্মপ্রকাশ করছে। ইন্ডিয়ান ইনস্টিটিউট অব ম্যানেজমেন্ট (আইআইএম), লখনউ “দ্য ইকোনমিক রেনেসাঁ অব অযোধ্যা, ইন্ডিয়া: এ কেস স্টাডি অন শ্রী রাম মন্দির” শিরোনামে একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে। এতে তুলে ধরা হয়েছে কীভাবে এই পবিত্র স্থানটি অযোধ্যার অর্থনীতিকে বদলে দিচ্ছে (Ram Mandir)।

    মন্দির অর্থনীতি

    মন্দির অর্থনীতি বলতে মন্দিরকে কেন্দ্র করে গড়ে ওঠা সব অর্থনৈতিক কার্যকলাপকে বোঝায়—দর্শনার্থীদের আগমন, তীর্থ পর্যটন, মন্দির পরিচালনা, প্রসাদ, ফুলের মালা, আবাসন, পরিবহণ-সহ অন্যান্য পরিষেবা। প্রাচীনকালে স্থানীয় অর্থনীতি যখন প্রধান ছিল, তখন মন্দিরগুলি আশপাশের জনগোষ্ঠীর জন্য কর্মসংস্থান ও ব্যবসার সুযোগ সৃষ্টি করত। তীর্থযাত্রা দোকানদার, কারিগর, পুরোহিত, গাইড-সহ বহু মানুষের জীবিকা নিশ্চিত করত। বারাণসী, মাদুরাই, পুষ্কর ও উজ্জয়িনীর মতো শহরগুলি বড় শিল্পনগরী হিসেবে নয়, বরং মন্দির ও তীর্থকেন্দ্র হিসেবেই পরিচিত (Ayodhya)। শতাব্দীর পর শতাব্দী ধরে এই মন্দিরকেন্দ্রিক অর্থনীতি এসব শহরকে টিকিয়ে রেখেছে। প্রাচীন ভারতীয় গ্রন্থেও উল্লেখ রয়েছে যে মন্দিরগুলিকে সমাজের সব স্তরের, বিশেষ করে প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর কল্যাণে সামাজিক ও অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে যুক্ত থাকতে হবে।

    কী বলছেন অর্থনৈতিক বিশ্লেষকরা

    স্টেট ব্যাঙ্ক অব ইন্ডিয়া (এসবিআই) এবং বিভিন্ন অর্থনৈতিক বিশ্লেষকের মতে, ভারতের মন্দির অর্থনীতি প্রতিবছর প্রায় ৩.০২ লক্ষ কোটি থেকে ৬ লক্ষ কোটি টাকা অবদান রাখে, যা দেশের মোট জিডিপির প্রায় ২.৩ শতাংশ থেকে ৩ শতাংশ। একইভাবে রাম মন্দির অযোধ্যার অর্থনীতিকে নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাচ্ছে এবং শহরটিকে বিশ্বব্যাপী শীর্ষ তীর্থস্থানগুলির তালিকায় লিপিবদ্ধ করেছে (Ram Mandir)। রাম জন্মভূমি তীর্থ ক্ষেত্র ট্রাস্ট ৫ ফেব্রুয়ারি ২০২০ থেকে ৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৫ পর্যন্ত সময়ে সরকারকে প্রায় ৪০০ কোটি টাকা কর দিয়েছে। এর মধ্যে ২৭০ কোটি টাকা জিএসটি এবং ১৩০ কোটি টাকা অন্যান্য কর হিসেবে জমা হয়েছে। মন্দির থেকে সরকার প্রায় ৪০০ কোটি টাকা জিএসটি পাবে বলে ধারণা করা হচ্ছে (Ayodhya)।

    অযোধ্যার অর্থনৈতিক প্রভাব

    মন্দির উদ্বোধনের পর অযোধ্যার অর্থনৈতিক প্রভাব ব্যাপকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। ধর্মীয় পর্যটন পরিবহণ, হোটেল, খাদ্য, ব্যবসা ও দান-খয়রাতিকে  বিশেষভাবে চাঙা করেছে। আইআইএম লখনউয়ের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে যে ২০২৪ সালের জানুয়ারি থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ১৩.৭৭ কোটি ভক্ত অযোধ্যা পরিদর্শন করেছেন এবং বছরের শেষে এই সংখ্যা ১৬–১৮ কোটিতে পৌঁছায়। তুলনায় ইতালির ভ্যাটিকান সিটি প্রতিবছর প্রায় ০.৯ কোটি দর্শনার্থী পায়। মুসলমানদের পবিত্রতম তীর্থস্থান মক্কায় প্রায় ২ কোটি মানুষ যান। অযোধ্যাও অন্যান্য ধর্মীয় কেন্দ্রকে ছাড়িয়ে ২০২৫-২৬ সালের মধ্যে বছরে ১০ হাজার কোটি টাকার বেশি পর্যটন আয় অর্জন করতে পারে বলে আশা করা হচ্ছে (Ram Mandir)।

    অর্থনৈতিক প্রভাব ৪ লাখ কোটি টাকারও বেশি

    এসবিআইয়ের বিশ্লেষণ অনুযায়ী, ২০২৪ অর্থবর্ষে অযোধ্যায় তীর্থযাত্রা ও সংশ্লিষ্ট কর্মকাণ্ডের অর্থনৈতিক প্রভাব ৪ লাখ কোটি টাকারও বেশি হতে পারে। এতে পর্যটন, আতিথেয়তা, খুচরো ব্যবসা ও পরিবহণ খাতে উল্লেখযোগ্য আর্থিক সুবিধা সৃষ্টি হয়েছে। প্রতিষ্ঠা অনুষ্ঠানের পর একদিনেই দানের পরিমাণ ৩ কোটিরও বেশি হওয়ায় মন্দিরের জনপ্রিয়তা স্পষ্ট হয়। উত্তরপ্রদেশ সরকার ২০২৫ অর্থবর্ষে অতিরিক্ত প্রায় ২৫ হাজার কোটি টাকা কর রাজস্ব পেয়ে থাকতে পারে বলে অনুমান। ফলে উন্নয়ন প্রকল্পে বিনিয়োগের সুযোগ বাড়ছে (Ayodhya)। অযোধ্যায় হোটেল ও লজ খাতে দ্রুত উন্নয়ন হচ্ছে। ১৫০টির বেশি হোটেল ও লজ নির্মিত হয়েছে বা নির্মাণাধীন। তাজ হোটেলস, রেডিসন ও ওয়ো-র মতো ব্র্যান্ড সেখানে বিনিয়োগ করছে। সারা বছর হোটেলের গড় দখলের হার ৬০–৭০ শতাংশ, আর উৎসবের মরশুমে তা ১০০ শতাংশ (Ram Mandir)। ডোমিনোজ ও পিৎজা হাটের মতো আন্তর্জাতিক খাদ্যচেইনও শাখা খুলেছে।

    ব্যাপক কর্মসংস্থান

    মন্দির নির্মাণ ও পরিচালনায় সরাসরি ১,০০০-এর বেশি মানুষ কাজ করছেন। মন্দির নির্মাণের সময় ৫০,০০০-এর বেশি শ্রমিক যুক্ত ছিলেন। মন্দির সম্পন্ন হওয়ার পর প্রায় ১.২ লাখ নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি হয়েছে। জমির মূল্য ২০২০ সালের আগে যেখানে প্রতি বর্গফুট ৪০০–৮০০ টাকা ছিল, ২০২৪ সালে তা বেড়ে ৪,০০০–১০,০০০ টাকায় পৌঁছেছে। ফলে বিনিয়োগকারীদের আগ্রহ বেড়েছে। অযোধ্যা মাস্টার প্ল্যান ২০৩১-এর আওতায় ৮৫,০০০ কোটিরও বেশি বিনিয়োগ ঘোষণা করা হয়েছে। সড়ক, ড্রেনেজ, স্মার্ট ট্রাফিক, বাস টার্মিনাল ও নগর সুবিধা সম্প্রসারণ করা হচ্ছে। মহর্ষি বাল্মীকি আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর ২০২৩ সালের ডিসেম্বরে চালু হয়। ২০২৫ অর্থবর্ষে ১.১ কোটি যাত্রী এই বিমানবন্দর ব্যবহার করেছে। এ ক্ষেত্রে বৃদ্ধির পরিমাণ ৪২৩ শতাংশ। ভবিষ্যতে বছরে ১০ কোটি যাত্রী পরিবহণের পরিকল্পনা রয়েছে (Ayodhya)।

    অযোধ্যা ধাম জংশন আধুনিকীকরণ

    অযোধ্যা ধাম জংশন আধুনিকীকরণ করা হয়েছে। লখনউ, বারাণসী, প্রয়াগরাজ ও গোরখপুরের সঙ্গে নতুন এক্সপ্রেসওয়ে সংযোগ স্থাপন হয়েছে। ই-রিকশার সংখ্যা ৫০০ থেকে বেড়ে হয়েছে ১৭,০০০। হোটেলের সংখ্যা ২০ থেকে বেড়ে হয়েছে ২০০। ব্যাঙ্কের শাখা ১৫ থেকে ৬০ (Ram Mandir)। ইলেকট্রনিক্স দোকান ১০৮ থেকে ৪০১। পেট্রোল ও সিএনজি পাম্প ৫০-এর কম থেকে ৭৫-এর বেশি। ফুটপাতে বিক্রেতার সংখ্যা ৫০০ থেকে বেড়ে হয়েছে প্রায় ২,০০০। ফৈজাবাদ, বস্তি, সুলতানপুর, আমেঠি, লখনউ ও গোরখপুরেও অর্থনৈতিক কার্যকলাপ বৃদ্ধি পেয়েছে। হোটেল, গেস্ট হাউস, ধর্মশালা এবং লজিস্টিক সেবার সম্প্রসারণ ঘটেছে। সব মিলিয়ে স্পষ্ট যে, মোদি ও যোগী সরকার শুধু রাম মন্দির নির্মাণেই সীমাবদ্ধ থাকেনি, বরং অযোধ্যাকে বিশ্বমানের তীর্থনগরী (Ayodhya) হিসেবে গড়ে তোলার বৃহত্তর পরিকল্পনায় কাজ করছে (Ram Mandir)।

     

  • Ramakrishna 585: “‘নাহং’ ‘নাহং’ ‘নাহং’ আমি কেহ নি, হে ঈশ্বর! তুমি কর্তা; আমি দাস তুমি প্রভু”

    Ramakrishna 585: “‘নাহং’ ‘নাহং’ ‘নাহং’ আমি কেহ নি, হে ঈশ্বর! তুমি কর্তা; আমি দাস তুমি প্রভু”

    ৫২ শ্যামপুকুর বাটীতে ভক্তসঙ্গে ঠাকুর শ্রীরামকৃষ্ণ

    সপ্তম পরিচ্ছেদ

    ১৮৮৫, ২২শে অক্টোবর
    যুগধর্ম কথাপ্রসঙ্গে—জ্ঞানযোগ ও ভক্তিযোগ

    “তিনি সাকার, তিনি নিরাকার। কিরকম জানো? যেন সচ্চিদানন্দ-সমুদ্র। কূল কিনারা নাই। ভক্তিহিমে সেই সমুদ্রের স্থানে স্থানে জল বরফ হয়ে যায়, যেন জল বরফ আকারে জমাট বাঁধে; অর্থাৎ ভক্তের কাছে তিনি সাক্ষাৎ হয়ে কখন কখন সাকাররূপ হয়ে দেখা দেন। আবার জ্ঞানসূর্য উঠলে সে বরফ গলে যায় (Kathamrita)।”

    ডাক্তার—সূর্য উঠলে বরফ গলে জল হয়; আবার জানেন, জল আবার নিরাকার বাষ্প হয়?

    শ্রীরামকৃষ্ণ (Ramakrishna)—অর্থাৎ ‘ব্রহ্ম সত্য, জগৎ মিথ্যা’ এই বিচারের পর সমাধি হলে রূপ-টুপ উড়ে যায়। তখন আর ঈশ্বরকে ব্যক্তি (Person) বলে বোধ হয় না। কি তিনি মুখে বলা যায় না। কে বলবে? যিনি বলবেন তিনিই নাই। তিনি তাঁর ‘আমি’ আর খুঁজে পান না। তখন ব্রহ্ম নির্গুণ (Absolute)। তখন তিনি কেবল বোধে বোধ হন। মন-বুদ্ধি দ্বারা তাঁকে ধরা যায় না। (Unknown and Unknowable)

    “তাই বলে, ভক্তি—চন্দ্র; জ্ঞান—সূর্য। শুনেছি, খুব উত্তরে আর দক্ষিণে সমুদ্র আছে। এত ঠাণ্ডা যে, জল জমে মাঝে মাঝে বরফের চাঁই হয়। জাহাজ চলে না। সেখানে গিয়ে আটকে যায়।”

    শ্রীরামকৃষ্ণ (Ramakrishna)—হাঁ, তা যায় বটে, কিন্তু তাতে হানি হয় না, সেই সচ্চিদানন্দ-সাগরের জলই জমাট বেঁধে বরফ হয়েছে। যদি আরও বিচার করতে চাও, যদি ‘ব্রহ্ম সত্য জগৎ মিথ্যা’ এই বিচার কর, তাতেও ক্ষতি নাই। জ্ঞানসূর্যেই বরফ গলে (Kathamrita) যাবে; তবে সেই সচ্চিদানন্দ-সাগরই রইল।

    কাঁচা আমি ও পাকা আমি—ভক্তের আমি—ভক্তের আমি—বালকের আমি

    “জ্ঞানবিচারের শেষে সমাধি হলে, আমি-টামি কিছু থাকে না। কিন্তু সমাধি হওয়া বড় কঠিন। ‘আমি’ কোন মতে যেতে চায় না। আর যেতে চায় না বলে, ফিরে এই সংসারে আসতে হয়।

    “গরু হাম্বা হাম্বা (আমি, আমি) করে তাই এত দুঃখ! সমস্ত দিন লাঙল দিতে হয়—গ্রীষ্ম নাই, বর্ষা নাই। কিম্বা তাকে কসাইয়ে কাটে। তাতেও নিস্তার নাই। চামারে চামড়া করে, জুতা তৈয়ারি করে। অবশেষে নাড়ীভুঁড়ি থেকে তাঁত হয় (Kathamrita)। ধুনুরীর হাতে পড়ে যখন তুঁহু তুঁহু (তুমি তুমি) করে, তখন নিস্তার হয়।

    “যখন জীব বলে, ‘নাহং’ ‘নাহং’ ‘নাহং’ আমি কেহ নি, হে ঈশ্বর! তুমি কর্তা; আমি দাস তুমি প্রভু—তখন নিস্তার; তখনই মুক্তি।”

    ডাক্তার—কিন্তু ধুনুরীর হাতে পড়া চাই। (সকলের হাস্য)

    শ্রীরামকৃষ্ণ (Ramakrishna)—যদি একান্ত ‘আমি’ না যাস, থাক শালা ‘দাস আমি’ হয়ে। (সকলের হাস্য)

LinkedIn
Share