Tag: bjp

bjp

  • LK Advani: গণতন্ত্র রক্ষার লড়াই থেকে রামমন্দির আন্দোলন, ভারতীয় রাজনীতির ইতিহাসে এক স্বতন্ত্র অধ্যায় লালকৃষ্ণ আডবাণী

    LK Advani: গণতন্ত্র রক্ষার লড়াই থেকে রামমন্দির আন্দোলন, ভারতীয় রাজনীতির ইতিহাসে এক স্বতন্ত্র অধ্যায় লালকৃষ্ণ আডবাণী

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ভারতীয় রাজনীতির ইতিহাসে লালকৃষ্ণ আডবাণীর অবদান ও ভূমিকা অনস্বীকার্য। গণতন্ত্র রক্ষা, সংবিধানের মর্যাদা প্রতিষ্ঠা, জনসংঘের ভিত মজবুত করা থেকে শুরু করে বিজেপির উত্থান এবং (LK Advani) রামমন্দির আন্দোলন—দেশের রাজনৈতিক ইতিহাসের একাধিক গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়ের সঙ্গে জড়িয়ে রয়েছে তাঁর নাম। রবিবার, ৮ নভেম্বর, জীবনের শততম বর্ষে পদার্পণ করলেন প্রবীণ এই রাজনীতিক। ঘটনাচক্রে, এ বছর তাঁর জন্মদিন পড়েছে দীপাবলির সময়েই (PM Modi)। ভারতীয় জনসংঘের প্রতিষ্ঠার ৭৫ বছর, শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের ১২৫তম জন্মজয়ন্তী এবং রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সঙ্ঘের শতবর্ষ উদ্‌যাপনের আবহে আডবাণীর জীবনের এই বিশেষ মুহূর্তের তাৎপর্য আরও বেড়েছে।

    ১৯২৭ সালের ৮ নভেম্বর দেব দীপাবলির দিন অধুনা পাকিস্তানের করাচিতে জন্ম আডবাণীর। ১৯৪৭ সালে দেশভাগের সময় কিশোর বয়সেই সিন্ধের পরিচিত পরিবেশ ছেড়ে ভারতে চলে আসতে হয়েছিল তাঁকে। নতুন করে জীবন শুরু করার সেই কঠিন অভিজ্ঞতা তাঁকে দমিয়ে রাখতে পারেনি। প্রতিকূল পরিস্থিতির মধ্যেও শূন্য থেকে সংগঠন গড়ে তোলার যে মানসিকতা তাঁর মধ্যে তৈরি হয়েছিল, পরবর্তী রাজনৈতিক জীবনেও তার প্রতিফলন দেখা গিয়েছে। জনসংঘকে শক্তিশালী করা থেকে শুরু করে বিজেপিকে জাতীয় রাজনীতির অন্যতম প্রধান শক্তি হিসেবে প্রতিষ্ঠা—প্রতিটি ক্ষেত্রেই গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছেন তিনি।

    বিজেপির রাজনৈতিক উত্থান (LK Advani)

    আডবাণীর নেতৃত্বে বিজেপির রাজনৈতিক উত্থানও ছিল উল্লেখযোগ্য। তাঁর দলীয় সভাপতিত্বের সময়ে ১৯৮৯ সালের লোকসভা নির্বাচনে কংগ্রেসের আসনসংখ্যা ৪০০-র গণ্ডি থেকে নেমে ২০০-র নীচে চলে আসে। অন্যদিকে, ১৯৯৬ সালে প্রথমবারের জন্য লোকসভায় একক বৃহত্তম দল হিসেবে আত্মপ্রকাশ করে বিজেপি। একাধিক প্রজন্মের দলীয় কর্মীকে তৈরি করার পাশাপাশি জাতীয়তাবাদকে অগ্রাধিকার দেওয়ার রাজনৈতিক দর্শনের উপর দলের ভিত গড়ে তুলেছিলেন তিনি।

    নেতা হিসেবে আডবাণীর দু’টি বৈশিষ্ট্য বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য। প্রথমত, তাঁর আদর্শগত স্বচ্ছতা এবং রাজনৈতিক ও বৌদ্ধিক বিশ্লেষণক্ষমতা। বক্তৃতা, লেখালেখি এবং সংসদীয় বক্তব্যে বারবার তার পরিচয় পাওয়া গিয়েছে। জনসংঘ ও বিজেপির হয়ে তাঁর তৈরি করা একাধিক রাজনৈতিক প্রস্তাব আজও প্রাসঙ্গিক। দ্বিতীয়ত, ভারতীয় রাজনীতির একটি বড় অংশের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে প্রচলিত ছদ্মধর্মনিরপেক্ষতার প্রবণতাকে প্রকাশ্যে তুলে ধরার ক্ষেত্রে তাঁর ভূমিকা।

    আরএসএসের প্রচারক আডবাণী

    আরএসএসের প্রচারক হিসেবে রাজস্থানের বিভিন্ন এলাকায় কাজের মধ্যে দিয়ে আডবাণীর সাংগঠনিক জীবনের সূচনা। পরে তিনি দিল্লিতে আসেন এবং অটলবিহারী বাজপেয়ীর সঙ্গে কাজ শুরু করেন। কয়েক দশক ধরে দুই শীর্ষস্থানীয় রাজনৈতিক নেতার মধ্যে পারস্পরিক সহযোগিতা ও আস্থার যে সম্পর্ক বজায় ছিল, ভারতীয় রাজনীতিতে তা বিরল দৃষ্টান্ত। প্রতিযোগিতার পরিবর্তে সহযোগিতার মাধ্যমে তাঁরা একসঙ্গে দেশের রাজনৈতিক গতিপথে গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন (LK Advani) এনেছিলেন।

    দেশভাগের ক্ষত তখনও দিল্লির সমাজজীবনে গভীরভাবে রয়ে গিয়েছিল। সেই সময় জনসংঘের সাংগঠনিক শক্তি বৃদ্ধিতে নিজেকে নিয়োজিত করেন আডবাণী। ১৯৬৭ সালে তিনি দিল্লি মহানগর পরিষদের চেয়ারম্যান হন। সেই দায়িত্বে প্রয়াত বিজয়কুমার মালহোত্রার সঙ্গে কাজ করেছিলেন তিনি।

    ১৯৭০ সালে রাজ্যসভার সদস্য হওয়ার মধ্যে দিয়ে তাঁর সংসদীয় জীবনের সূচনা। সংসদে তাঁর বক্তব্য ও ভূমিকা দলমত নির্বিশেষে প্রশংসা পেয়েছে। পরবর্তী সময়ে লোকসভা ও রাজ্যসভা—উভয় কক্ষেই বিরোধী দলনেতা হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। শাসকপক্ষের আসনে থেকেও নিজের সংসদীয় দক্ষতার পরিচয় দিয়েছেন। সংসদের কাজের ব্যস্ততার মধ্যেও দেশের বিভিন্ন প্রান্তে গিয়ে সাধারণ মানুষের সঙ্গে যোগাযোগ বজায় রাখতেন তিনি।

    স্মরণীয় অধ্যায়

    ১৯৯১ সালের লোকসভা নির্বাচন আডবাণীর রাজনৈতিক জীবনের অন্যতম স্মরণীয় অধ্যায়। সেই নির্বাচনে গান্ধীনগর-সহ দু’টি আসন থেকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন তিনি। গুজরাটের সঙ্গে তাঁর পারিবারিক ও রাজনৈতিক সম্পর্ক ছিল দীর্ঘদিনের। দেশভাগের পর তাঁর বাবা কচ্ছ অঞ্চলে বসতি স্থাপন করেছিলেন। এই গুজরাট থেকেই রাজ্যসভার সদস্য নির্বাচিত হয়েছিলেন আডবাণী। ফলে গান্ধীনগর থেকে নির্বাচনে লড়া ছিল অনেকটা নিজের ঘরে ফিরে আসার মতোই।

    সেই সময় বিজেপির সাংগঠনিক কাজে যুক্ত থাকার সুবাদে তাঁর নির্বাচনী মনোনয়নপত্র তৈরি এবং প্রচারের বিভিন্ন কাজে সহযোগিতা করার সুযোগ পেয়েছিলেন নরেন্দ্র মোদি। গান্ধীনগরের মানুষ বারবার তাঁকে সংসদে পাঠিয়েছেন। ওই কেন্দ্রের ভোটার হিসেবে একাধিকবার আডবাণীকে ভোট দেওয়ার অভিজ্ঞতার কথাও উল্লেখ করেছেন মোদি। নিজের নির্বাচনী এলাকার মানুষের প্রতি আডবাণীর যত্ন ও দায়িত্ববোধকে রাজনৈতিক কর্মীদের কাছে শিক্ষণীয় বলে মনে করেন তিনি।

    আ টেল অব টু ইমার্জেন্সিস’

    আডবাণীর জীবনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ মোড় ছিল ১৯৭৫ সালের জরুরি অবস্থা। গণতন্ত্র ও সংবিধান রক্ষার আন্দোলনে তিনি সামনের সারিতে ছিলেন। জরুরি অবস্থার সময়কার অভিজ্ঞতা নিয়ে তাঁর লেখা বই ‘আ প্রিজনার্স স্ক্র্যাপ-বুক’ বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য। ওই বইয়ের ‘আ টেল অব টু ইমার্জেন্সিস’ শীর্ষক অংশে ১৯৭৫ সালের জুন মাস থেকে ভারতে শুরু হওয়া জরুরি অবস্থার সঙ্গে ১৯৩৩ সালে নাৎসি জার্মানিতে ঘটে যাওয়া রাজনৈতিক ঘটনাবলির তুলনা তুলে ধরেছিলেন (PM Modi) তিনি।

    আডবাণী যেমন ছিলেন তেজস্বী বিরোধী নেতা, তেমনই প্রশাসক হিসেবেও তাঁর দক্ষতা ছিল উল্লেখযোগ্য। ১৯৭৭ সালে জনতা সরকার ক্ষমতায় আসার পর তিনি তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রকের দায়িত্ব পান। ওই মন্ত্রকে তাঁর কাজ প্রশাসনিক ক্ষেত্রে বিশেষ প্রভাব ফেলেছিল বলে মনে করা হয়। পরবর্তী সময়ে উপপ্রধানমন্ত্রী এবং দীর্ঘদিনের কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী হিসেবে দেশের নিরাপত্তা ব্যবস্থাকে শক্তিশালী করার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নেন তিনি। নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যদের কাজের পরিবেশ ও সুযোগ-সুবিধার উন্নতিতেও তাঁর অবদান স্মরণীয়। সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে তাঁর কঠোর অবস্থানের ফলেই দেশে কঠোর সন্ত্রাসবিরোধী আইন প্রণয়নের পথ প্রশস্ত হয়েছিল।

    তবে আডবাণীর রাজনৈতিক জীবনের সবচেয়ে আলোচিত ঘটনাগুলির মধ্যে অন্যতম ১৯৯০ সালের সোমনাথ থেকে অযোধ্যা পর্যন্ত রথযাত্রা। এই যাত্রা ভারতীয় রাজনীতি ও সমাজজীবনে সুদূরপ্রসারী প্রভাব ফেলেছিল। রথযাত্রার পরিকল্পনা থেকে বাস্তবায়ন—প্রতিটি পর্যায়ে যুক্ত থাকার সুযোগকে বিশেষ সৌভাগ্যের বলে মনে করেন প্রধানমন্ত্রী। সোমনাথে যাত্রার সূচনাপর্বে উপস্থিত থাকার অভিজ্ঞতাও তাঁর কাছে বিশেষ স্মরণীয়।

    দীর্ঘ পথ পাড়ি দেওয়া, প্রতিদিনের ব্যস্ত কর্মসূচি, শারীরিক ধকল এবং ক্লান্তির মধ্যেও লক্ষ্য স্থির রাখার জন্য অসাধারণ সহনশীলতার প্রয়োজন হয়। রথযাত্রার সময় আডবাণী সেই ধৈর্য ও মানসিক দৃঢ়তার পরিচয় দিয়েছিলেন।

    বিহারে আডবাণীর গ্রেফতারি

    বিহারে আডবাণীর গ্রেফতারির ঘটনাও তাঁর রাজনৈতিক জীবনের একটি উল্লেখযোগ্য অধ্যায়। ওই ঘটনার পর গুজরাটে চিমনভাই পটেল সরকারের উপর থেকে সমর্থন প্রত্যাহার করে নেয় বিজেপি। এর মাধ্যমে দলের আদর্শ এবং রামমন্দিরের প্রশ্নে আপসহীন অবস্থানের বার্তা দেওয়া হয়েছিল। দলের প্রবীণ নেতা থেকে সাধারণ কর্মী—অনেকেই প্রতিকূল পরিস্থিতি এলেও অযোধ্যায় রামমন্দির নির্মাণের শপথ নিয়েছিলেন। দীর্ঘ সময়ের অপেক্ষার পর দেশবাসীর আশীর্বাদে অযোধ্যায় ভগবান শ্রীরামের মন্দির নির্মাণ বাস্তবায়িত হয়েছে।

    রাজনৈতিক জীবনের বাইরেও আডবাণীর ব্যক্তিত্বের নানা দিক রয়েছে। তাঁর সরল জীবনযাপন, অধ্যয়ন এবং ইতিহাসের প্রতি গভীর আগ্রহ বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য। নবনির্মাণ আন্দোলনের পর তিনি জুনাগড়ে গিয়ে প্রায় এক মাস সাধারণ দলীয় কর্মীর মতো থেকেছিলেন। সেই সময় বিধানসভা নির্বাচনের প্রস্তুতিতে সংগঠনের কাজে যুক্ত ছিলেন তিনি। ওই নির্বাচনে কংগ্রেস পরাজিত হয়েছিল।

    জনজীবনে স্বচ্ছতা ও নৈতিকতার প্রশ্নে আডবাণী বরাবরই নিজের অবস্থানে অনড় থেকেছেন। তিনি নিয়মিত সংবাদপত্র পড়েন এবং বিভিন্ন বিষয় গভীরভাবে খুঁটিয়ে দেখেন। চলচ্চিত্র ও নাটকের প্রতিও তাঁর বিশেষ আগ্রহ রয়েছে (LK Advani)। চলচ্চিত্র সমালোচক হিসেবেও তাঁর পরিচিতি ছিল। ইতিহাস ও ঐতিহ্য সংরক্ষণের প্রয়োজনীয়তা নিয়ে তাঁর চিন্তার প্রতিফলন ঘটেছে ‘মাই কান্ট্রি মাই লাইফ’ বইয়ে।

    সিন্ধু দর্শন পূজার প্রচার

    সিন্ধি সংস্কৃতির সঙ্গেও বরাবর যোগাযোগ বজায় রেখেছেন আডবাণী। লেহর কাছে সিন্ধু দর্শন পূজার প্রচার ও প্রসারেও উদ্যোগী হয়েছিলেন তিনি। এই অনুষ্ঠানে আডবাণীর সঙ্গে জর্জ ফার্নান্ডেজের উপস্থিতির স্মৃতিও ভাগ করে নিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী।

    আডবাণীর দীর্ঘ রাজনৈতিক ও ব্যক্তিগত জীবনের আলোচনা করতে গেলে তাঁর স্ত্রী কমলা আডবাণীর অবদানের কথাও বিশেষভাবে উল্লেখ করতে হয়। প্রকাশ্য জীবনের দীর্ঘ পথচলায় তিনি ছিলেন আডবাণীর নিরন্তর শক্তি ও ভরসার জায়গা।

    করাচিতে বেড়ে ওঠা কিশোর লালকৃষ্ণ আডবাণী জীবনের পরবর্তী সময়ে কোন পথে এগোবেন, তা হয়তো তখন কল্পনাও করতে পারেননি। দেশভাগের যন্ত্রণা থেকে শুরু করে জাতীয় রাজনীতির শীর্ষে পৌঁছনো—তাঁর জীবনযাত্রা একাধিক ঐতিহাসিক ঘটনার সাক্ষী। দেশের প্রতি তাঁর দীর্ঘ অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে ২০২৪ সালে তাঁকে ভারতরত্ন সম্মানে ভূষিত করা হয়।

    জীবনের শততম বর্ষে পদার্পণের এই বিশেষ দিনে আডবাণীর সুস্বাস্থ্য ও দীর্ঘায়ু কামনা করেছেন প্রধানমন্ত্রী (PM Modi)। একই সঙ্গে দেশের রাজনৈতিক ও সামাজিক জীবনে তাঁর অভিজ্ঞতা এবং আদর্শ আগামী প্রজন্মকেও অনুপ্রাণিত করবে বলে আশা প্রকাশ করেছেন তিনি (LK Advani)।

     

  • CJP Protests: বিদেশি অর্থে অশান্তি ছড়ানোর অভিযোগ, ‘আরশোলা’ পার্টিকে নিশানা কেন্দ্রীয় মন্ত্রীর

    CJP Protests: বিদেশি অর্থে অশান্তি ছড়ানোর অভিযোগ, ‘আরশোলা’ পার্টিকে নিশানা কেন্দ্রীয় মন্ত্রীর

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ভারতে অশান্তি ও বিশৃঙ্খলা ছড়াতে বিদেশি বিভিন্ন সংস্থা এবং ভারতবিরোধী নেটওয়ার্কের কাছ থেকে বেআইনি অর্থ সংগ্রহের অভিযোগ উঠল ককরোচ জনতা পার্টি (সিজেপি)-র বিরুদ্ধে (CJP Protests)। অভিযোগ তুলেছেন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী জিতেন্দ্র সিং স্বয়ং। তাঁর দাবি, বিদেশি অর্থপুষ্ট স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন, গোপন রাজনৈতিক নেটওয়ার্ক এবং ভারতবিরোধী শক্তির মদতে (Pakistan Linked Funding) সরকারের বিরুদ্ধে পরিকল্পিত প্রচার চালানো হচ্ছে।

    বৃহত্তর ষড়যন্ত্রের অংশ! (CJP Protests)

    সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে জিতেন্দ্র সিং দাবি করেন, ককরোচ জনতা পার্টির কার্যকলাপ বৃহত্তর একটি ষড়যন্ত্রের অংশ। তাঁর অভিযোগ, বিদেশি অর্থপুষ্ট বিভিন্ন স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন, গোপন রাষ্ট্রীয় তৎপরতায় যুক্ত ব্যক্তিরা এবং ভারতবিরোধী শক্তি একযোগে সরকারের বিরুদ্ধে জনমত তৈরির চেষ্টা করছে।

    কেন্দ্রীয় মন্ত্রীর বক্তব্য, “তাদের বেআইনি ও অননুমোদিত বিভিন্ন উৎস থেকে অর্থ জোগানো হচ্ছে, যার মধ্যে দেশের ভিতরে ও বাইরে সক্রিয় ভারতবিরোধী সংগঠনও রয়েছে। বিদেশি অর্থপুষ্ট স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন এবং ভারতবিরোধী শক্তিগুলি পরিকল্পিতভাবে এই প্রচার চালাচ্ছে। অভিজিৎ দীপকে আমেরিকাভিত্তিক অনুদানকারীদের কাছ থেকে অর্থ পেয়েছেন এবং আশুতোষ রাঙ্কা পাকিস্তানি রাজনীতিকদের কাছ থেকে অর্থ পেয়েছেন।”

    বিজেপির মুখপাত্র তুহিন এ সিনহাও ককরোচ জনতা পার্টির বিরুদ্ধে সরব হয়েছেন। তাঁর অভিযোগ, উৎসবের মরশুমে দেশের রাজধানীতে অস্থিরতা ও বিশৃঙ্খলা তৈরি করতেই সাম্প্রতিক বিক্ষোভ কর্মসূচিগুলি পরিকল্পিতভাবে সংগঠিত করা হয়েছিল।

    বিদ্রোহের পরিস্থিতি তৈরির লক্ষ্য!

    সিনহার কথায়, “গত এক মাস ধরে ককরোচ জনতা পার্টির কর্মকাণ্ডের মূল লক্ষ্য ছিল বিদ্রোহের পরিস্থিতি তৈরি করা। উৎসবের মরশুমে দেশের রাজধানীতে অরাজকতা ছড়ানোর চেষ্টা চলেছে। এর পিছনে যে অসৎ উদ্দেশ্য এবং পরিকল্পিত অভিসন্ধি ছিল, তা স্পষ্ট।”

    এর আগে নিষিদ্ধ খালিস্তানপন্থী সংগঠন শিখস ফর জাস্টিসের প্রধান গুরপতবন্ত সিং পান্নুন ককরোচ জনতা পার্টির প্রতিবাদ আন্দোলনে ১০ লাখ মার্কিন ডলার আর্থিক সহায়তার কথা ঘোষণা করেছেন বলে খবর প্রকাশ্যে এসেছিল। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সরকারের বিরুদ্ধে পঞ্চম প্রজন্মের যুদ্ধকৌশলের অংশ হিসেবেই এই আর্থিক সহায়তার কথা বলা হয়েছিল বলে (CJP Protests) জানা গিয়েছে।

    এদিকে, বিক্ষোভ ঘিরে আইনি পদক্ষেপও শুরু করেছে দিল্লি পুলিশ। বৃহস্পতিবার ককরোচ জনতা পার্টির মুখপাত্র সৌরভ দাস এবং আশুতোষ রাঙ্কাকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তলব করে পুলিশের অপরাধ দমন শাখা। তাঁদের বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা অমান্য, অনুমতি ছাড়া যন্তর মন্তরে প্রবেশ এবং অনধিকার প্রবেশের অভিযোগ রয়েছে।

    পুলিশি পদক্ষেপ

    বিশেষ নিবিড় সংশোধন প্রক্রিয়ার মাধ্যমে ভোটার তালিকা সংশোধনের প্রতিবাদে মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে ধারাবাহিকভাবে বিক্ষোভ দেখাচ্ছিলেন সংগঠনের সদস্যরা। সেই (Pakistan Linked Funding) বিক্ষোভের জেরেই পুলিশের এই পদক্ষেপ বলে জানা গিয়েছে।

    এর আগে অক্টোবর মাসেও সৌরভ দাস ও আশুতোষ রাঙ্কাকে আটক করা হয়েছিল। পরে ৫০ হাজার টাকা করে মুচলেকা দিয়ে তাঁদের মুক্তি দেওয়া হয়। তবে পুলিশের অভিযোগ, মুক্তির ৭২ ঘণ্টার মধ্যেই তাঁরা যন্তর মন্তরের বন্ধ ফটক টপকে প্রবেশ করে (CJP Protests) মুচলেকার শর্ত ভঙ্গ করেন।

     

  • CAIT Writes to Rahul Gandhi: প্রতিবাদের অধিকার কি ব্যবসার অধিকারের চেয়ে বড়?’ রাহুলকে প্রশ্ন ব্যবসায়ী সংগঠনের, দেশজুড়ে ধিক্কার দিবসের ডাক

    CAIT Writes to Rahul Gandhi: প্রতিবাদের অধিকার কি ব্যবসার অধিকারের চেয়ে বড়?’ রাহুলকে প্রশ্ন ব্যবসায়ী সংগঠনের, দেশজুড়ে ধিক্কার দিবসের ডাক

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: দীপাবলির আগে রাজনৈতিক কর্মসূচির জেরে দিল্লির ব্যবসায়িক কর্মকাণ্ডে (CAIT Writes to Rahul Gandhi) বিপুল প্রভাব পড়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছে কনফেডারেশন অফ অল ইন্ডিয়া ট্রেডার্স (CAIT)। এই ঘটনায় কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধীকে দায়ী করে তাঁকে চিঠি পাঠিয়েছে ব্যবসায়ীদের সর্বভারতীয় সংগঠনটি। গত এক মাস ধরে দিল্লিতে একের পর এক রাজনৈতিক সভা, বিক্ষোভ ও প্রতিবাদ কর্মসূচির কারণে বাণিজ্যিক কর্মকাণ্ড ব্যাহত হচ্ছে বলে অভিযোগ ব্যবসায়ী সংগঠনের। বিশেষ করে গত ১ নভেম্বর রাহুল গান্ধীর নেতৃত্বাধীন ইন্ডি জোটের সভাকে কেন্দ্র করে ব্যাপক আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়তে হয়েছে ব্যবসায়ীদের।

    রাহুল গান্ধীর চিঠির উত্তরের অপেক্ষা

    সংগঠনের দাবি, উৎসবের মরশুমে রামলীলা ময়দান ও তার আশপাশের একাধিক দোকানপাট বন্ধ রাখতে বাধ্য হয়েছিলেন ব্যবসায়ীরা। এই পরিস্থিতিতে বিভিন্ন সংগঠনের প্রতিবাদ কর্মসূচিকে কংগ্রেস-সহ অন্যান্য রাজনৈতিক দলের সমর্থন নিয়েও প্রশ্ন তুলেছে সিএআইটি । সংগঠনের তরফে জানানো হয়েছে, রাহুল গান্ধীর চিঠির উত্তরের অপেক্ষা করা হবে। তবে দীপাবলির পরেই দিল্লিতে দেশের বিভিন্ন প্রান্তের বিশিষ্ট ব্যবসায়ী ও বাণিজ্যিক নেতৃত্বকে নিয়ে একটি গুরুত্বপূর্ণ জাতীয় স্তরের বৈঠক ডাকা হবে। সেই বৈঠকেই পরবর্তী কর্মসূচি নির্ধারণ করা হবে। পাশাপাশি এই ইস্যুতে দেশজুড়ে ‘ধিক্কার দিবস’ পালনেরও ঘোষণা করেছে সিএআইটি (CAIT।) জাতীয় বৈঠকেই এই কর্মসূচির দিনক্ষণ চূড়ান্ত হবে।

    ব্যবসায়ী সংগঠনের মত

    সিএআইটি (CAIT)-এর নেতা প্রবীণ খণ্ডেলওয়াল (Bhartia) বলেন, “রাহুল গান্ধী একই সঙ্গে দুটি পরস্পরবিরোধী অবস্থান নিতে পারেন না। একদিকে তিনি মানুষকে স্থানীয় বাজার থেকে কেনাকাটা করার আহ্বান জানান, অন্যদিকে এমন রাজনৈতিক কর্মসূচিকে সমর্থন করেন, যার ফলে ক্রেতারা সেই বাজারে পৌঁছতেই পারেন না। এটি শুধু রাজনৈতিক অবস্থানের অসঙ্গতি নয়, সাধারণ ব্যবসায়ীদের জীবিকা ও রোজগারের উপর সরাসরি আঘাত।” সংগঠনের জাতীয় সভাপতি রাহুল গান্ধীকে সরাসরি প্রশ্ন করেছেন— “প্রতিবাদের অধিকার কি ব্যবসার অধিকারের চেয়ে বড়?” রাজনৈতিক বিরোধিতার নামে সাধারণ মানুষের জীবিকা ও বাজার অচল করে দেওয়া কতটা যুক্তিযুক্ত, সেই প্রশ্নও তোলা হয়েছে।

    সুপ্রিম কোর্টের পর্যবেক্ষণ

    সম্প্রতি প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্তের নেতৃত্বাধীন সুপ্রিম কোর্টের বেঞ্চ একটি মামলার শুনানিতে পর্যবেক্ষণ দিয়েছে যে, প্রতিবাদের অধিকার পরম বা সীমাহীন নয়। প্রতিবাদের অধিকারের সঙ্গে জীবিকা নির্বাহ ও ব্যবসার অধিকারের মধ্যে ভারসাম্য বজায় রাখা প্রয়োজন। অনির্দিষ্টকালের জন্য কোনো জনবহুল স্থান বা রাস্তা আটকে রাখা যায় না। সিএআইটি-এর বিবৃতিতে বলা হয়েছে, বিষয়টি আর শুধু দিল্লির ব্যবসায়ীদের মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই। আজ জাতীয় রাজধানীতে এমন পরিস্থিতি তৈরি হলে আগামী দিনে দেশের অন্য শহরগুলিতেও একই পরিস্থিতি দেখা দিতে পারে। তাই এটি এখন একটি গুরুতর জাতীয় সমস্যা। ব্যবসায়ী সমাজ আর এ ধরনের পরিস্থিতি মেনে নিতে প্রস্তুত নয়। অন্যায়ের বিরুদ্ধে শিক্ষা দেওয়ার সময় এসেছে।

    প্রতিবাদ করার অধিকার অধিক গুরুত্বপূর্ণ!

    রাজনৈতিক নেতাদের সংবিধানের অধিকার নিয়ে বেছে বেছে অবস্থান নেওয়ারও সমালোচনা করেছে ব্যবসায়ী সংগঠনটি। খণ্ডেলওয়ালের বক্তব্য, সংবিধানের ১৯(১)(এ) অনুচ্ছেদে নাগরিকদের বাক্‌স্বাধীনতা ও মতপ্রকাশের অধিকার দেওয়া হয়েছে। একইভাবে ১৯(১)(জি) অনুচ্ছেদে প্রত্যেক নাগরিকের পেশা গ্রহণ এবং ব্যবসা-বাণিজ্য করার অধিকারও সুনিশ্চিত করা হয়েছে। তিনি প্রশ্ন তোলেন, “রাহুল গান্ধী কি মনে করেন, প্রতিবাদ করার অধিকার ব্যবসা ও জীবিকা অর্জনের অধিকারের চেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ? সংবিধানের ১৯(১)(জি) অনুচ্ছেদ কি শুধুমাত্র বক্তৃতা ও বইয়ের জন্য, নাকি লক্ষ লক্ষ ছোট ব্যবসায়ী, দোকানদার, ফুটপাতের হকার এবং কর্মজীবী পরিবারের দৈনন্দিন রোজগারের অধিকারও এর আওতায় পড়ে? রাজনৈতিক নেতারা নিজেদের সুবিধামতো সংবিধানের অধিকার তুলে ধরতে পারেন না, অথচ অন্যদের অধিকার উপেক্ষা করতে পারেন না।”

    দিল্লি শুধু রাজনৈতিক শক্তি প্রদর্শনের মঞ্চ নয়

    ভারতিয়ার বক্তব্য, রাজনৈতিক দলগুলিকে বুঝতে হবে যে দিল্লি শুধু রাজনৈতিক শক্তি প্রদর্শনের মঞ্চ নয়, এটি দেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যিক ও অর্থনৈতিক কেন্দ্র। দিল্লির বাজারগুলি লক্ষ লক্ষ মানুষের জীবিকার ভিত্তি এবং জাতীয় অর্থনীতি ও সরকারি রাজস্বে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখে। তিনি বলেন, দেশের ব্যবসায়ীরা কারও রাজনৈতিক লড়াইয়ের ‘পাঞ্চিং ব্যাগ’ নন। তাঁরা দেশের অভ্যন্তরীণ অর্থনীতির মেরুদণ্ড, কর্মসংস্থান সৃষ্টির অন্যতম চালিকাশক্তি এবং দেশ গঠনের গুরুত্বপূর্ণ অংশীদার। তাঁরা কোনও বিশেষ সুযোগ-সুবিধা চাইছেন না, শুধু নিজেদের সাংবিধানিক অধিকারকে সম্মান জানানোর দাবি জানাচ্ছেন। সরকারের বিরোধিতা করা গণতান্ত্রিক অধিকার হলেও রাজনৈতিক বিরোধিতার নামে অন্যের জীবিকা ধ্বংস করা গণতান্ত্রিক বা ন্যায়সংগত হতে পারে না বলেও মন্তব্য করেন সিএআইটি-এর জাতীয় সভাপতি।

    ব্যবসায়ীদের আর্থিক ক্ষতির দায় কে নেবে

    ব্যবসায়ীদের আর্থিক ক্ষতির দায় কে নেবে, সেই প্রশ্নও তুলেছে সিএআইটি (CAIT।)। খণ্ডেলওয়ালের বক্তব্য, এই ধরনের বিক্ষোভ ও রাজনৈতিক কর্মসূচির কারণে ব্যবসায়ী এবং কর্মজীবী পরিবারগুলির যে বিপুল আর্থিক ক্ষতি হয়েছে, তার ক্ষতিপূরণ কে দেবে? কংগ্রেস বা এই ধরনের কর্মসূচির আয়োজক ও সমর্থকদের কি ক্ষতির দায় নেওয়ার কোনও ব্যবস্থা রয়েছে? রাজনৈতিক শক্তি প্রদর্শনের জন্য কি সাধারণ মানুষের জীবিকা ও রোজগারকে এভাবে অনিশ্চয়তার মুখে ঠেলে দেওয়া যায়? এই সমস্ত প্রশ্নের জবাব চেয়েই রাহুল গান্ধীকে চিঠি পাঠিয়েছে সিএআইটি (CAIT।)। এখন ওই চিঠির উত্তরের পাশাপাশি দীপাবলির পর জাতীয় বৈঠকে ব্যবসায়ী সংগঠনটি কী সিদ্ধান্ত নেয়, সেদিকেই নজর রয়েছে।

  • Social Media Safe Harbor: প্রতিটি পোস্টের দায় নিতে হতে পারে মেটা, ইউটিউব ও এক্স-কে! সোশ্যাল মিডিয়ার আইনি সুরক্ষা তুলে দেওয়ার ভাবনা

    Social Media Safe Harbor: প্রতিটি পোস্টের দায় নিতে হতে পারে মেটা, ইউটিউব ও এক্স-কে! সোশ্যাল মিডিয়ার আইনি সুরক্ষা তুলে দেওয়ার ভাবনা

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: সোশ্যাল মিডিয়ায় (Social Media Safe Harbor) ব্যবহারকারীদের পোস্ট, ছবি, ভিডিও কিংবা মন্তব্যের দায় এবার সরাসরি বর্তাতে পারে সংশ্লিষ্ট প্ল্যাটফর্মগুলির উপর। ফেসবুক, ইনস্টাগ্রাম, ইউটিউব এবং এক্স-এর মতো জনপ্রিয় সোশ্যাল মিডিয়া সংস্থাগুলিকে দেওয়া আইনি সুরক্ষা বা ‘সেফ হারবার’ তুলে দেওয়ার কথা ভাবছে কেন্দ্রীয় সরকার। এই বিষয়ে তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রক ইতিমধ্যেই সংশ্লিষ্ট নিয়মে পরিবর্তন আনার বিষয়ে আলোচনা শুরু করেছে।

    ‘সেফ হারবার’ বা আইনি দায়মুক্তি!

    বর্তমানে তথ্যপ্রযুক্তি আইনের ৭৯ নম্বর ধারায় সোশ্যাল মিডিয়া সংস্থাগুলি ‘সেফ হারবার’ বা আইনি দায়মুক্তির সুবিধা পেয়ে থাকে। এই বিধান অনুযায়ী, ব্যবহারকারীদের তৈরি করা কোনও পোস্ট, ভিডিও বা মন্তব্যের জন্য সাধারণত সরাসরি দায়ী করা যায় না সংশ্লিষ্ট প্ল্যাটফর্মগুলিকে। তবে প্রস্তাবিত পরিবর্তন কার্যকর হলে সেই আইনি সুরক্ষা থেকে বাদ পড়তে পারে সোশ্যাল মিডিয়া সংস্থাগুলি। পরিবর্তে ইন্টারনেট পরিষেবা প্রদানকারী, টেলিকম এবং মেসেজিং প্ল্যাটফর্মগুলির জন্য এই সুবিধা সীমাবদ্ধ রাখার কথা বিবেচনা করছে কেন্দ্র।

    কেন এই আইনি সুরক্ষা তুলে দেওয়ার ভাবনা?

    প্রতিবেদন অনুযায়ী, সরকারের একাংশের মতে, সোশ্যাল মিডিয়া (Social Media Safe Harbor) সংস্থাগুলি এখন আর শুধুমাত্র তথ্য আদানপ্রদানের মাধ্যম নয়। বিভিন্ন অ্যালগরিদম ব্যবহার করে কোন পোস্ট কত মানুষের কাছে পৌঁছবে, কোন ভিডিও বেশি প্রচার পাবে কিংবা কোন বিষয় ব্যবহারকারীদের সামনে তুলে ধরা হবে, তা অনেকাংশে নির্ধারণ করে এই প্ল্যাটফর্মগুলি। পাশাপাশি, সংস্থাগুলি নিজেদের কমিউনিটি গাইডলাইন অনুযায়ী বিভিন্ন পোস্ট মুছে দেয় কিংবা সেগুলির প্রচার সীমিত করে। কিন্তু অনেক ক্ষেত্রে এই নীতিমালার সঙ্গে ভারতীয় আইনের সামঞ্জস্য নিয়ে প্রশ্ন উঠছে। কেন্দ্রের একাংশের যুক্তি, কনটেন্টের প্রচার ও প্রসারে যখন প্ল্যাটফর্মগুলির সক্রিয় ভূমিকা রয়েছে, তখন ব্যবহারকারীদের পোস্টের দায় থেকে সম্পূর্ণ মুক্তি দেওয়া উচিত কি না, তা পুনর্বিবেচনা করা প্রয়োজন।

    শিশুদের যৌন নির্যাতন সংক্রান্ত কনটেন্ট নিয়ে বিতর্ক

    এর আগেও মেটা পরিচালিত ইনস্টাগ্রামের বিরুদ্ধে ভারতে শিশুদের যৌন নির্যাতন সংক্রান্ত আপত্তিকর কনটেন্ট বা চাইল্ড সেক্সুয়াল অ্যাবিউজ মেটেরিয়াল (CSAM) অর্থের বিনিময়ে বিজ্ঞাপনের মাধ্যমে প্রচারের অভিযোগ উঠেছিল। এই অভিযোগের ভিত্তিতে জাতীয় মানবাধিকার কমিশন (NHRC) দিল্লি পুলিশকে বিষয়টি নিয়ে বিস্তারিত তদন্তের নির্দেশ দিয়েছিল। পাশাপাশি, পকসো (POCSO) আইনের আওতায় প্রযুক্তি সংস্থা এবং সংশ্লিষ্ট অন্যান্য পক্ষ বাধ্যতামূলকভাবে রিপোর্ট করার দায়িত্ব পালন করেছে কি না, তাও খতিয়ে দেখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল।

    সুপ্রিম কোর্ট-এর নির্দেশ

    ১৮ বছরের কম বয়সি শিশু-কিশোরদের সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহারের ক্ষেত্রে আরও কঠোর সুরক্ষা ব্যবস্থা চালুর সম্ভাবনা খতিয়ে দেখতে পুজোর আগেই কেন্দ্রকে নির্দেশ দিয়েছিল সুপ্রিম কোর্ট। শিশুদের জন্য ইন্টারনেট বা সোশ্যাল মিডিয়া সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করার পক্ষপাতী নয় দেশের সর্বোচ্চ আদালত। আর এখানে মূল প্রশ্ন হল, ১৮ বছরের কম বয়সিরা নিজের নামে স্বাধীনভাবে সোশ্যাল মিডিয়া অ্যাকাউন্ট খুলতে এবং সংশ্লিষ্ট ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মের শর্তাবলিতে চুক্তিবদ্ধ হতে পারবে কি না। সুপ্রিম কোর্টের সাম্প্রতিক কার্যপ্রণালীতে এই বিষয়টির সম্ভাবনা নিয়ে কেন্দ্রকে বিবেচনা করতে বলা হয়েছে।

    ভারতে কাজের ধরন বদলাতে হবে প্রযুক্তি সংস্থাগুলিকে

    তবে এই প্রস্তাব কার্যকর হলে ভারতে কাজের ধরন বদলাতে হতে পারে বিশ্বের বৃহত্তম প্রযুক্তি সংস্থাগুলির। কারণ, ব্যবহারকারীদের তৈরি করা কনটেন্টের জন্য সরাসরি আইনি দায় এড়ানোর সুযোগই এত দিন এই সংস্থাগুলির ব্যবসার অন্যতম ভিত্তি। ২০০০ সালের তথ্যপ্রযুক্তি আইনের ৭৯ নম্বর ধারায় ইন্টারনেট মধ্যস্থতাকারী সংস্থাগুলিকে নির্দিষ্ট শর্তে আইনি দায়মুক্তি দেওয়া হয়েছে। অর্থাৎ, ব্যবহারকারীরা কোনও পোস্ট, ছবি, ভিডিও বা মন্তব্য করলে তার জন্য সাধারণত সরাসরি দায়ী করা যায় না সংশ্লিষ্ট প্ল্যাটফর্মকে। নির্দিষ্ট নিয়ম মেনে চললে এই সুরক্ষা বজায় থাকে। কেন্দ্রের আলোচনায় এখন প্রশ্ন উঠছে, এই সুবিধা কি শুধুমাত্র সেই সব সংস্থার জন্য রাখা উচিত, যারা এক জায়গা থেকে অন্য জায়গায় তথ্য পৌঁছে দেওয়ার কাজ করে? যেমন ইন্টারনেট পরিষেবা প্রদানকারী সংস্থা, টেলিকম সংস্থা কিংবা পিয়ার-টু-পিয়ার মেসেজিং পরিষেবা।

    নতুন পণ্য আনলেও আগাম জানাতে হতে পারে

    শুধু সেফ হারবার নয়, আরও কয়েকটি বিষয়ে বদলের কথা ভাবছে কেন্দ্র। সোশ্যাল মিডিয়া (Social Media Safe Harbor) বা মেসেজিং প্ল্যাটফর্মগুলি ব্যবহারকারীদের নিরাপত্তায় প্রভাব ফেলতে পারে, এমন কোনও বড় প্রযুক্তিগত পরিবর্তন আনলে আগাম সরকারকে জানানোর ব্যবস্থা চালুর প্রস্তাব রয়েছে। হোয়াটসঅ্যাপের ইউজারনেম ফিচার নিয়ে কেন্দ্রের সঙ্গে সাম্প্রতিক বিরোধের পর এই ভাবনা সামনে এসেছে। ওই ফিচারের মাধ্যমে ফোন নম্বর প্রকাশ না করেই ব্যবহারকারীরা একে অপরের সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারতেন। পরিচয় জালিয়াতি, ফিশিং এবং আর্থিক প্রতারণার আশঙ্কা দেখিয়ে জুলাইয়ে ফিচারটির চালু হওয়া স্থগিত রাখতে বলেছিল মন্ত্রক। পাশাপাশি অভিযোগ নিষ্পত্তির ব্যবস্থাও ঢেলে সাজাতে চাইছে সরকার। ডিপফেক, সম্মতি ছাড়া ছড়ানো যৌন বা ব্যক্তিগত ছবি এবং পরিচয় অপব্যবহারের মতো ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্তদের অভিযোগের ভিত্তিতে দ্রুত কনটেন্ট সরানোর ব্যবস্থা আরও শক্তিশালী করার পরিকল্পনা রয়েছে।

    বড়সড় বদলের ভাবনা কেন্দ্রের

    সব মিলিয়ে, সোশ্যাল মিডিয়ায় বেআইনি ও আপত্তিকর কনটেন্টের প্রচার রুখতে প্ল্যাটফর্মগুলির দায়বদ্ধতা বাড়ানোর বিষয়ে কেন্দ্রের এই ভাবনা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে। আইন পরিবর্তন হলে ফেসবুক, ইনস্টাগ্রাম, ইউটিউব কিংবা এক্স— সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহারকারীদের পোস্ট করা কোনও বিষয়বস্তুর দায় নিতে হবে সংশ্লিষ্ট সংস্থাকেই। সোশ্যাল মিডিয়া নিয়ন্ত্রণের আইনি কাঠামোয় বড়সড় বদলের কথা ভাবছে কেন্দ্রের তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রক। তবে প্রস্তাবিত পরিবর্তন এখনও আলোচনার পর্যায়ে রয়েছে। চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত ও নতুন নিয়ম কার্যকর হলে ভারতের ডিজিটাল দুনিয়ায় তার বড়সড় প্রভাব পড়তে পারে।

  • Suvendu Adhikari: পরিবারতন্ত্রকে নিশানা করে ‘৪জি-৩জি-২জি’ তত্ত্ব শুভেন্দুর, শিলিগুড়ির উন্নয়নে গুচ্ছের প্রতিশ্রুতি

    Suvendu Adhikari: পরিবারতন্ত্রকে নিশানা করে ‘৪জি-৩জি-২জি’ তত্ত্ব শুভেন্দুর, শিলিগুড়ির উন্নয়নে গুচ্ছের প্রতিশ্রুতি

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের বার্তা দিয়ে উত্তরবঙ্গে মিছিল করল বিজেপি। মঙ্গলবার শিলিগুড়িতে বিশাল মিছিলের নেতৃত্ব দিয়ে রাজ্যের প্রাক্তন শাসকদলকে আক্রমণ শানান রাজ্যের প্রথম বিজেপি সরকারের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari)। একই সঙ্গে কংগ্রেস, আঞ্চলিক দল এবং বিরোধী রাজনৈতিক নেতৃত্বের পরিবারতন্ত্রকে নিশানা করে সামনে আনলেন ‘৪জি, ৩জি ও ২জি’ তত্ত্ব। মিছিলের মঞ্চ থেকে উত্তরবঙ্গের উন্নয়নেও একাধিক প্রতিশ্রুতি দিলেন তিনি।

    শিলিগুড়ির বাঘাযতীন পার্ক থেকে শুরু হয়ে এয়ারভিউ মোড়ে শেষ হয় মিছিল (Siliguri Rally)। মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে কর্মসূচিতে উপস্থিত ছিলেন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী সুকান্ত মজুমদার, দার্জিলিঙের সাংসদ রাজু বিস্তা, বিধায়ক নিশীথ প্রামাণিক, শঙ্কর ঘোষ-সহ বিজেপির একাধিক নেতা ও জনপ্রতিনিধি।

    মিছিল শেষে বক্তব্য রাখতে গিয়ে নাম না করেই তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে আক্রমণ শানান শুভেন্দু। তাঁর অভিযোগ, রাজনৈতিকভাবে কোণঠাসা হয়ে বিরোধী শিবিরের নেতারা এখন দিল্লিতে গিয়ে অস্থিরতা তৈরির চেষ্টা করছেন। এই প্রসঙ্গে বামপন্থী দলগুলিকেও নিশানা করেন তিনি।

    জামাতি ও মৌলবাদী শক্তির প্রভাব (Suvendu Adhikari)

    শুভেন্দুর কথায়, “এঁরা সবাই রাজনৈতিকভাবে পরাজিত। এখন দিল্লিতে গিয়ে একজোট হয়েছেন। বাংলাদেশে যেমন জামাতি ও মৌলবাদী শক্তির প্রভাব রয়েছে, তেমন পরিস্থিতি ভারতেও তৈরি করতে চাইছে কিছু শক্তি। দেশকে বিভক্ত করার রাজনীতি এবং উৎখাত হয়ে যাওয়া রাজনৈতিক নেতৃত্ব একসঙ্গে অস্থিরতা তৈরির চেষ্টা করছেন।”

    বিরোধীদের উদ্দেশে তিনি বলেন, “দিমাগি নকশাল, জিহাদি, জঙ্গি কিংবা দেশবিরোধী শক্তিকে কীভাবে নিয়ন্ত্রণ করতে হয়, তা আমাদের জানা আছে। রাজনীতি করতে হলে নির্বাচনে লড়াই করতে হবে। নরেন্দ্র মোদি যতদিন দেশের নেতৃত্বে থাকবেন, ততদিন তোমাদের পক্ষে নির্বাচনে জয় পাওয়া কঠিন।”

    পরিবারতন্ত্র বোঝাতে নয়া তত্ত্ব

    ভারতীয় রাজনীতিতে পরিবারতন্ত্রের প্রসঙ্গ তুলে বিরোধী দলগুলিকে নতুন আঙ্গিকে আক্রমণ করেন মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর বক্তব্য, দেশের একাধিক রাজনৈতিক দল নির্দিষ্ট কিছু পরিবারের নিয়ন্ত্রণে পরিচালিত হচ্ছে। এই প্রবণতাকে বোঝাতেই তিনি ৪জি, ৩জি ও ২জি-র উদাহরণ সামনে আনেন।

    শুভেন্দুর ব্যাখ্যায়, নেহরু, ইন্দিরা গান্ধী, রাজীব গান্ধী ও রাহুল গান্ধীকে নিয়ে ৪জি। শেখ আবদুল্লা, ফারুক আবদুল্লা ও ওমর আবদুল্লাকে নিয়ে ৩জি। একইভাবে করুণানিধি, এম কে স্ট্যালিন ও উদয়নিধি স্ট্যালিনের রাজনৈতিক পরিবারকেও ৩জি-র উদাহরণ হিসেবে উল্লেখ করেন তিনি (Suvendu Adhikari)।

    অন্যদিকে, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়, মুলায়ম সিং যাদব ও অখিলেশ যাদব, লালুপ্রসাদ যাদব ও তেজস্বী যাদব এবং মুফতি পরিবারের উদাহরণ টেনে ২জি-র প্রসঙ্গ তোলেন। তাঁর দাবি, নরেন্দ্র মোদির ক্ষেত্রে এমন পারিবারিক রাজনৈতিক উত্তরাধিকারের নজির নেই। তাঁর রাজনৈতিক দর্শনের মূল ভিত্তি দেশ ও দেশের স্বার্থ।

    মোদির নেতৃত্বে ভারতের অগ্রগতির দাবি

    প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির প্রশংসা করে দেশের অর্থনৈতিক অগ্রগতি ও আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে ভারতের ভূমিকার কথাও তুলে ধরেন শুভেন্দু। তাঁর দাবি, ২০১৪ সালে বিশ্বের অর্থনীতিতে ভারতের অবস্থান ছিল দ্বাদশ স্থানে। বর্তমানে দেশ তৃতীয় বৃহত্তম অর্থনীতির দিকে এগিয়ে চলেছে।

    করোনা অতিমারির সময় প্রতিষেধক তৈরির উদ্যোগ এবং বিভিন্ন দেশকে টিকা সরবরাহের বিষয়টিও বক্তব্যে তুলে ধরেন তিনি। শুভেন্দুর কথায়, “অতিমারি শুরু হওয়ার মাত্র ১১ মাসের মধ্যে তিনটি প্রতিষেধক তৈরির উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল। বিশ্বের ৫৫টি দরিদ্র দেশকে বিনামূল্যে টিকা দেওয়ার ব্যবস্থা করেছিলেন (Siliguri Rally) নরেন্দ্র মোদি। এই কারণেই তিনি আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ নেতৃত্বের জায়গায় পৌঁছেছেন।”

    রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের সময় ভারতীয় পড়ুয়াদের দেশে ফিরিয়ে আনার প্রসঙ্গেরও উল্লেখ করেন মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর দাবি, প্রধানমন্ত্রীর কূটনৈতিক তৎপরতায় সাময়িকভাবে যুদ্ধবিরতির ব্যবস্থা হয়েছিল এবং প্রায় ৩০ হাজার ভারতীয়কে নিরাপদে দেশে ফিরিয়ে আনা সম্ভব হয়েছিল।

    পুরভোটে জয়ের ব্যাপারে আত্মবিশ্বাসী

    আসন্ন পুরসভা নির্বাচন নিয়েও যথেষ্ট আত্মবিশ্বাসী শুভেন্দু। নন্দীগ্রাম, ফলতা ও রেজিনগরের নির্বাচনী সাফল্যের উদাহরণ দিয়ে কলকাতা, হাওড়া ও শিলিগুড়িতেও জয়ের আশা প্রকাশ করেন তিনি। তাঁর দাবি, আগামী ফেব্রুয়ারিতে শিলিগুড়িতেও বিজেপি ভালো ফল করবে।

    শুভেন্দু (Suvendu Adhikari) বলেন, “নন্দীগ্রাম, ফলতা ও রেজিনগরের মতো কলকাতাতেও আমরা জয় পাব। এরপর কলকাতা, হাওড়া এবং শিলিগুড়িতে রাজনৈতিক সাফল্য অর্জন করাই আমাদের লক্ষ্য।”

    উত্তরবঙ্গের উন্নয়নে একগুচ্ছ ঘোষণা

    উত্তরবঙ্গকে রাজ্যের উন্নয়ন পরিকল্পনার বাইরে রাখা হবে না বলেও আশ্বাস দেন মুখ্যমন্ত্রী। স্বাস্থ্য, শিক্ষা, যোগাযোগ এবং পর্যটন পরিকাঠামোর উন্নয়নে একাধিক প্রকল্পের কথা ঘোষণা করেন তিনি।

    তাঁর ঘোষণার মধ্যে রয়েছে, রায়গঞ্জে সর্বভারতীয় চিকিৎসাবিজ্ঞান প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলা, জলপাইগুড়িতে ক্যান্সার হাসপাতাল নির্মাণ, বালুরঘাট, কালিম্পং ও আলিপুরদুয়ারে মেডিক্যাল কলেজ স্থাপন, শিলিগুড়িতে প্রযুক্তি অথবা ব্যবস্থাপনা শিক্ষার উচ্চমানের প্রতিষ্ঠান গড়ার পরিকল্পনা, হাসিমারা, কলাইকুন্ডা, বালুরঘাট ও পুরুলিয়ায় বিমানবন্দর চালুর উদ্যোগ এবং সামসিং-সহ বন্ধ হয়ে থাকা ২১টি চা বাগান ফের খোলার ব্যবস্থা করা।

    উত্তরবঙ্গের মানুষের কাছে উন্নয়নের সুবিধা পৌঁছে দেওয়ার পাশাপাশি রাজ্যবাসী ডাবল ইঞ্জিন সরকারের সুফল পাবেন বলেও দাবি করেন তিনি। আগামী রাসপূর্ণিমায় কোচবিহারে উপস্থিত থাকার কথাও জানান মুখ্যমন্ত্রী।

    ভাওয়াইয়া ও বৈষ্ণব সংগীতশিল্পীদের বাদ্যযন্ত্র দেওয়ার প্রতিশ্রুতিও দেন মুখ্যমন্ত্রী। স্থানীয় সংস্কৃতি ও শিল্পীদের পাশে থাকার বার্তাও দেন তিনি।

    পরিকাঠামো উন্নয়নে বৈঠক

    মিছিল শেষ হওয়ার পর শিলিগুড়ির পুর কমিশনার, প্রশাসক এবং স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের সঙ্গে বৈঠক করেন মুখ্যমন্ত্রী। উপস্থিত ছিলেন শিলিগুড়ির বিধায়ক শঙ্কর ঘোষ, ডাবগ্রাম-ফুলবাড়ির বিধায়ক শিখা চট্টোপাধ্যায় এবং দার্জিলিঙের সাংসদ রাজু বিস্ত-সহ প্রশাসনের আধিকারিকেরা।

    বৈঠক শেষে রাজু জানান, কার্শিয়াং থেকে দার্জিলিং পর্যন্ত রোপওয়ে নির্মাণের কাজ দ্রুত শুরু করার উদ্যোগ নেওয়া হবে। এই প্রকল্পে রাজ্য সরকারের অনুমোদন আগেই মিলেছে বলে জানান তিনি।

    আগামী ৯ ডিসেম্বর কালিম্পং মেডিক্যাল কলেজের শিলান্যাস করবেন মুখ্যমন্ত্রী। দার্জিলিং, কার্শিয়াং, কালিম্পং, মিরিক ও শিলিগুড়ির হাসপাতালগুলির সংস্কার এবং আধুনিকীকরণের বিষয়েও বৈঠকে সিদ্ধান্ত হয়েছে বলে সূত্রের খবর।

    লেবং গ্রাউন্ডকে আধুনিক ক্রীড়া স্টেডিয়ামে রূপান্তরের অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। এদিকে, দার্জিলিঙের মহাকাল মন্দির চত্বরের সৌন্দর্যায়ন, উন্নয়ন ও রক্ষণাবেক্ষণের জন্য ১৯ কোটি টাকা বরাদ্দের সিদ্ধান্তও নেওয়া হয়েছে (Siliguri Rally)।

    সব মিলিয়ে রাজনৈতিক আক্রমণ, পরিবারতন্ত্রের বিরোধিতা এবং উত্তরবঙ্গের উন্নয়নের প্রতিশ্রুতি—এই তিনটি বিষয়কে সামনে রেখেই শিলিগুড়ির মিছিল থেকে নিজেদের রাজনৈতিক অবস্থান স্পষ্ট করে দিলেন শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari)।

     

  • BJP: এসআইআর-বিরোধী আন্দোলনের পালটা কলকাতার রাজপথে বিজেপি, মিছিলে নীতিন নবীন-শুভেন্দু-শমীক

    BJP: এসআইআর-বিরোধী আন্দোলনের পালটা কলকাতার রাজপথে বিজেপি, মিছিলে নীতিন নবীন-শুভেন্দু-শমীক

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: এসআইআর (ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন) ঘিরে দেশজুড়ে রাজনৈতিক উত্তাপ ক্রমশ বাড়ছে। নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে বিরোধীদের লাগাতার আন্দোলনের পালটা এবার রাজপথে নামল বিজেপি (BJP)। সোমবার কলকাতায় ‘গণতন্ত্র বাঁচাও, অরাজকতা হটাও’ স্লোগান সামনে রেখে পদযাত্রা করে গেরুয়া শিবির। কলেজ স্কোয়ার থেকে শুরু হয়ে মিছিল শেষ হয় ধর্মতলায় গিয়ে। এই কর্মসূচিতে নেতৃত্ব দেন বিজেপির সর্বভারতীয় সভাপতি নীতিন নবীন। তাঁর সঙ্গে মিছিলে হাঁটেন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী এবং বিজেপির রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য। জাতীয় পতাকা হাতে কয়েকশো দলীয় নেতা-কর্মী ও সমর্থকও এই পদযাত্রায় অংশ নেন (Kolkata Rally)।

    সোমবার বিকেলে কলকাতায় পৌঁছন নীতিন নবীন। বিমানবন্দরে তাঁকে স্বাগত জানান মুখ্যমন্ত্রী। এরপর দু’জনে কলেজ স্ট্রিটে পৌঁছন। তাঁদের ঘিরে তখন থেকেই এলাকায় বিজেপি কর্মী-সমর্থকদের ভিড় জমতে শুরু করে। নির্ধারিত সময়ে কলেজ স্কোয়ার থেকে পদযাত্রা শুরু হয়। মিছিলের সামনের সারিতে জাতীয় পতাকা হাতে দেখা যায় নীতিন নবীন, শুভেন্দু এবং শমীককে। কলেজ স্ট্রিট থেকে মধ্য কলকাতার বিভিন্ন রাস্তা ধরে মিছিল এগিয়ে যায় ধর্মতলার দিকে।

    গণতন্ত্র রক্ষার বার্তা (BJP)

    কর্মসূচি শুরুর আগে বিজেপির মুখপাত্র দেবজিৎ সরকার বিরোধীদের বিরুদ্ধে গণতন্ত্রের পরিবেশ নষ্ট করার অভিযোগ তোলেন। তাঁর বক্তব্য, বিরোধীরা গণতন্ত্রের কথা বললেও বাস্তবে অরাজকতা তৈরির চেষ্টা করছে। সেই প্রবণতার বিরুদ্ধে সাধারণ মানুষের কাছে গণতন্ত্র রক্ষার বার্তা পৌঁছে দিতেই এই পদযাত্রার আয়োজন। তিনি বলেন, “সত্যের পক্ষে এবং মিথ্যার বিরুদ্ধে রয়েছেন মানুষ।”

    একই সুর শোনা যায় বিজেপি বিধায়ক অর্জুন সিংয়ের গলায়ও। তাঁর অভিযোগ, দেশের গণতান্ত্রিক ব্যবস্থাকে দুর্বল করার চেষ্টা চলছে। এই কাজে বিদেশি শক্তির আর্থিক মদত রয়েছে বলেও দাবি করেন তিনি।

    এসআইআর প্রক্রিয়া নিয়ে নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে দীর্ঘদিন ধরেই সরব বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলি। জাতীয় নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতেও একাধিক কর্মসূচি নিয়েছে বিরোধী শিবির। বিভিন্ন রাজ্যে পথে নেমে বিক্ষোভ দেখাচ্ছে একাধিক রাজনৈতিক সংগঠন। এই আন্দোলনের পালটা হিসেবে দেশজুড়ে জনসংযোগ ও রাজনৈতিক কর্মসূচি গ্রহণ করেছে বিজেপি। দলের পক্ষ থেকে একাধিক শহরে ‘গণতন্ত্র বাঁচাও, অরাজকতা হটাও’ কর্মসূচির কথা ঘোষণা করা হয়েছে।

    মমতা-রাহুলকে নিশানা

    সোমবার কলকাতার পাশাপাশি বিহারের ভাগলপুরেও একই ধরনের কর্মসূচিতে অংশ নেন নীতিন নবীন। সেখানে এসআইআর-বিরোধী আন্দোলনকে কেন্দ্র করে তৃণমূল নেত্রী তথা বাংলার প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধীকে আক্রমণ করেন তিনি। বিজেপির এই কর্মসূচির অংশ হিসেবে হায়দরাবাদে জাতীয় পতাকা কাঁধে পদযাত্রায় অংশ নেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহও (BJP)।

    তবে কলকাতায় বিজেপির এই পদযাত্রা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে বাম শিবির। সিপিএম বিধায়ক মুস্তাফিজুর রহমান রানা এই কর্মসূচির প্রাসঙ্গিকতা নিয়ে সংশয় প্রকাশ করেন। তাঁর বক্তব্য, বিরোধীদের আন্দোলনের তেমন কোনও প্রভাব এ রাজ্যে পড়েনি। রাজ্যে নতুন সরকার গঠনের পর মাত্র ছ’মাস হয়েছে। তাহলে এখনই কলকাতায় এই ধরনের মিছিলের প্রয়োজনীয়তা কোথায়, সেই প্রশ্নও তোলেন তিনি।

    রাজনৈতিক মহলের মতে, এসআইআর নিয়ে বিরোধীদের লাগাতার প্রতিবাদের আবহে বিজেপির এই পদযাত্রা নিছক একটি সাংগঠনিক কর্মসূচি নয়, বরং পালটা রাজনৈতিক শক্তি প্রদর্শনের চেষ্টাও (Kolkata Rally)। একদিকে বিরোধীদের আন্দোলনের মোকাবিলা, অন্যদিকে দলের নেতা-কর্মীদের সক্রিয়তা বাড়ানো এবং জনসমক্ষে নিজেদের (BJP) অবস্থান তুলে ধরাই ছিল এই কর্মসূচির অন্যতম লক্ষ্য। বিহার থেকে কলকাতা, পরপর দুই রাজ্যে নীতিন নবীনের কর্মসূচি ঘিরে এসআইআরকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক সংঘাত যে আরও বিস্তৃত হচ্ছে, তা স্পষ্ট।

     

  • INDIA Bloc Rally: দিল্লিতে ইন্ডিয়া জোটের সমাবেশকে ‘সুপার ফ্লপ’ কটাক্ষ বিজেপির, কী বলল পদ্মশিবির?

    INDIA Bloc Rally: দিল্লিতে ইন্ডিয়া জোটের সমাবেশকে ‘সুপার ফ্লপ’ কটাক্ষ বিজেপির, কী বলল পদ্মশিবির?

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ভোট চুরির অভিযোগ এবং নির্বাচন প্রক্রিয়ায় অনিয়মের প্রতিবাদে রবিবার দিল্লির রামলীলা ময়দানে সমাবেশ করেছিল বিরোধীদের ইন্ডিয়া জোট (INDIA Bloc Rally)। সেই সমাবেশ ‘সুপার ফ্লপ’ বলে দাবি করল (Ramlila Maidan) বিজেপি। সমাবেশে প্রত্যাশিত ভিড় না হওয়া নিয়ে বিরোধীদের কটাক্ষও করেন বিজেপি সাংসদ সম্বিত পাত্র।

    এদিনের সমাবেশে হাজির ছিলেন কংগ্রেস সাংসদ প্রিয়াঙ্কা গান্ধী বঢরা। ভাই রাহুল গান্ধীর ভোট চুরির অভিযোগকে সমর্থন করেন তিনিও। তাঁর দাবি, পশ্চিমবঙ্গ, মধ্যপ্রদেশ, হরিয়ানা, ছত্তিশগড়, মহারাষ্ট্র, কর্নাটক-সহ একাধিক রাজ্যে এবং চব্বিশের লোকসভা নির্বাচনে ভোটার তালিকায় ব্যাপক অনিয়ম হয়েছে। রাহুলের অভিযোগের উল্লেখ করে প্রিয়াঙ্কা বলেন, ২০২৪ সালের লোকসভা নির্বাচনের পর প্রায় ১৩ কোটি ৫০ লাখ ভোটারের নাম তালিকা থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে, যা মোট ভোটারের প্রায় ১৫ শতাংশ। তাঁর বক্তব্য, বিরোধীদের তুলনায় এনডিএর ভোটের ব্যবধান ছিল মাত্র ৩ শতাংশ। সেই পরিস্থিতিতে ১৫ শতাংশ ভোটারের নাম বাদ যাওয়ার অভিযোগ অত্যন্ত গুরুতর। এই কারণেই তিনি ২০২৪ সালের নির্বাচনকে ‘অবৈধ’ বলে দেগে দিয়েছেন।

    সমাবেশে হাজির মমতাও (INDIA Bloc Rally)

    দিল্লির সমাবেশে উপস্থিত ছিলেন মমতাও। তিনি আক্রমণ শানান বিজেপিকে। ককরোচ জনতা পার্টির নেতৃত্ব এবং নবীন প্রজন্মের আন্দোলনকারীদের প্রতি সংহতি প্রকাশ করে তিনি অভিযোগ করেন, বিজেপি নির্বাচনী প্রক্রিয়াকে প্রভাবিত করার চেষ্টা করছে। এসআইআর (বিশেষ নিবিড় সংশোধন) প্রক্রিয়াকে হাতিয়ার করে বিরোধী শাসিত রাজ্যগুলিকে নিশানা করা হচ্ছে বলেও দাবি করেন তিনি। মমতার অভিযোগ, এই প্রক্রিয়ার ফলে পশ্চিমবঙ্গ ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে এবং বিজেপি কার্যত বাংলাকে লুট করেছে। নির্বাচনী কারচুপির বিরুদ্ধে লড়াই চালিয়ে যাওয়ার অঙ্গীকারও করেন তিনি। মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারকে কটাক্ষ করে মমতা বলেন, “ভ্যানিশ কুমারজি, আপনি কবে ভ্যানিশ হবেন?” একই সঙ্গে গণতন্ত্র রক্ষার স্বার্থে রাজনৈতিক মতাদর্শ ও ধর্মীয় পরিচয়ের ঊর্ধ্বে উঠে সকলকে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানান তিনি। তাঁর দাবি, শেষ পর্যন্ত বিজেপির পরাজয় নিশ্চিত।

    বিরোধীদের সমাবেশকে কটাক্ষ করতে ছাড়েননি বিজেপি সাংসদ সম্বিত পাত্র। রাহুলের বক্তব্যের পাশাপাশি সমাবেশে লোকসমাগম নিয়েও প্রশ্ন তোলেন তিনি। তাঁর দাবি, সকাল থেকেই বিজেপি এই সমাবেশের দিকে নজর রেখেছিল এবং রাহুলের বক্তব্যও শোনা হয়েছে। কিন্তু শেষ পর্যন্ত গোটা অনুষ্ঠানকে সময়ের অপচয় বলেই মনে হয়েছে তাঁর।

    সম্বিতের দাবি, রামলীলা ময়দানের আয়তন ১০ থেকে ১২ একর। সেখানে প্রায় ২৮ হাজার আসনের ব্যবস্থা ছিল। মঞ্চ ও তার সামনের নির্দিষ্ট অংশ বাদ দিলে মাঠের প্রায় ৪০ শতাংশ জায়গাই ফাঁকা ছিল।তাঁর বক্তব্য, প্রায় ১৫ শতাংশ জায়গা মঞ্চ ও সংশ্লিষ্ট ঘেরাটোপের জন্য ব্যবহৃত হয়েছিল। বিকেল ৩টে থেকে সাড়ে ৩টের মধ্যে তোলা একটি ভিডিয়োর উল্লেখ করে তিনি জানান, সেই ছবি দেখিয়েই সমাবেশে উপস্থিত মানুষের সংখ্যা নিয়ে নিজের হিসাব তুলে ধরবেন (INDIA Bloc Rally)।

    কংগ্রেসকে নিশানা বিজেপির

    রাহুলকে নিশানা করে সম্বিত বলেন, “রাহুল গান্ধী বক্তব্য রাখছেন, অথচ সামনে ফাঁকা চেয়ার পড়ে রয়েছে। রামলীলা ময়দানও কংগ্রেস সম্পূর্ণ ভরাতে পারেনি। এই সমাবেশ পুরোপুরি ব্যর্থ।”

    তিনি আরও প্রশ্ন তোলেন, বিরোধীরা যে ১০ লাখ মানুষের জমায়েতের দাবি করেছিল, সেই বিপুল সংখ্যক মানুষ কোথায় গেলেন? তাঁর কথায়, “১০ লাখ মানুষ কোথায়? তাঁদের দেখান। এই ধরনের কৌশল করে কেউ নেতা বা প্রধানমন্ত্রী হতে পারেন না। প্রধানমন্ত্রী হওয়ার অর্থ শুধু প্রধানমন্ত্রীর পদ পাওয়া নয়। এখানে ‘পি’ অর্থ ঘাম এবং ‘এম’ অর্থ পরিশ্রম। ঘাম ঝরিয়ে এবং কঠোর পরিশ্রম করেই প্রধানমন্ত্রী হওয়া যায়। এতগুলি রাজনৈতিক দল ও পতাকা একত্রিত করেও তাঁরা ১০ লাখ মানুষের জমায়েত করতে পারেননি।”

    সমাবেশে বেশি মানুষের উপস্থিতি দেখানোর জন্য ক্যামেরার বিশেষ দৃষ্টিকোণ ব্যবহার করা হয়েছে বলেও অভিযোগ করেন বিজেপি সাংসদ। তাঁর দাবি, ছবিতে ভিড় বেশি দেখানোর এই কৌশল আসলে দৃশ্যের কারসাজি। রাহুলকে আক্রমণ করে তিনি বলেন, “রাহুলজি, হিন্দুস্তান আপনার পূর্বপুরুষের ব্যক্তিগত সম্পত্তি নয়। এই দেশ দেশের মানুষের। এখানে একজন চা-বিক্রেতাও প্রধানমন্ত্রী হতে পারেন। আর সেটাই আপনাদের অস্বস্তির কারণ।”

    শুধু সমাবেশের ভিড় নয়, রাহুলের বিদেশ সফর নিয়েও কটাক্ষ করেন সম্বিত। তাঁর পাসপোর্টে ভিয়েতনাম ও ব্যাঙ্ককের ছাপ থাকার প্রসঙ্গ তুলে তিনি প্রশ্ন করেন, রাহুল গান্ধী কখনও দিল্লির চাঁদনি চক বাজারে কেনাকাটা করতে গিয়েছেন কি না। তাঁর দাবি, রাহুল কেনাকাটা করতে যাওয়ার কথা বললেও কোথায় কেনাকাটা করবেন, তা স্পষ্ট করেননি। তবে তাঁর গন্তব্য সম্পর্কে উপস্থিত সকলেই অবগত বলে ইঙ্গিতপূর্ণ মন্তব্য করেন বিজেপি সাংসদ।

    সম্বিতের নিশানায় মমতাও

    মমতা, রাহুল ও তাঁদের সহযোগী বিরোধী নেতাদেরও আক্রমণ শানান সম্বিত। তাঁর অভিযোগ, অনুপ্রবেশকারীদের ভোটব্যাঙ্ক হিসেবে ব্যবহার করছেন বিরোধীরা। তিনি বলেন, ভারতের নির্বাচনে ভোট দেওয়ার অধিকার শুধুমাত্র এ দেশের নাগরিকদের রয়েছে। অথচ অনুপ্রবেশকারীরা দেশে ঢুকে ভোটার তালিকায় নাম নথিভুক্ত করছে বলে অভিযোগ করেন তিনি। মমতার কটাক্ষের জবাবে সম্বিত জানান, তাঁকে কী নামে ডাকা হচ্ছে, তা নিয়ে তিনি চিন্তিত নন। অনুপ্রবেশকারীরা যাতে ভোটার হিসেবে তালিকাভুক্ত হতে না পারে, তার জন্য বিজেপি প্রয়োজনীয় সব পদক্ষেপ করবে।

    উল্লেখ্য, ভোটার তালিকায় অনিয়ম এবং তথাকথিত ভোট চুরির অভিযোগকে সামনে রেখেই দিল্লিতে এই সমাবেশের (Ramlila Maidan) আয়োজন করেছিল ইন্ডিয়া জোট। সেখানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে রাহুল দাবি করেন, ভবিষ্যতে মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারকে পদ থেকে সরানো হবে এবং রাষ্ট্রদ্রোহের অভিযোগে তাঁকে জেলের মুখোমুখি হতে হবে। ফলে ভোটার তালিকা সংশোধন, নির্বাচন কমিশনের নিরপেক্ষতা (INDIA Bloc Rally) এবং গণতন্ত্রের স্বচ্ছতা নিয়ে শাসক ও বিরোধী শিবিরের সংঘাত যে আরও বাড়তে চলেছে, তা স্পষ্ট।

     

  • Modi Ka Baap Remark: খাড়গের ‘মোদির বাবাও চলে যাবেন’ মন্তব্য ঘিরে বিতর্ক, দেশজুড়ে বিক্ষোভের ডাক বিজেপির

    Modi Ka Baap Remark: খাড়গের ‘মোদির বাবাও চলে যাবেন’ মন্তব্য ঘিরে বিতর্ক, দেশজুড়ে বিক্ষোভের ডাক বিজেপির

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: কংগ্রেস সভাপতি মল্লিকার্জুন খাড়গের ‘মোদির বাবাও চলে যাবেন’ মন্তব্যকে (Modi Ka Baap Remark) কেন্দ্র করে রাজনৈতিক বিতর্ক তীব্র হয়েছে। এই মন্তব্যের প্রতিবাদে সোমবার দেশজুড়ে বিক্ষোভ কর্মসূচির ডাক দিয়েছে ভারতীয় জনতা পার্টি (বিজেপি)। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে ব্যক্তিগত আক্রমণ করার অভিযোগ তুলে কংগ্রেসের বিরুদ্ধে সরব হয়েছেন বিহার, পশ্চিমবঙ্গ ও উত্তরপ্রদেশের বিজেপি নেতারা (BJP Protest)। খাড়গের কাছে নিঃশর্ত ক্ষমা চাওয়ার দাবিও জানিয়েছে গেরুয়া শিবির।

    বিজেপির তরফে দলের রাজ্য শাখাগুলিকে নিজ নিজ দলীয় কার্যালয়ের সামনে বিক্ষোভ দেখানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। বিজেপির অভিযোগ, খাড়গের মন্তব্য প্রধানমন্ত্রীর প্রয়াত বাবাকে অপমান করেছে।

    রবিবার পটনায় বিহারের প্রথম মুখ্যমন্ত্রী শ্রীকৃষ্ণ সিংয়ের ১৩৯তম জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত একটি অনুষ্ঠানে এই বিতর্কের সূত্রপাত। সেখানে উপস্থিত এক ব্যক্তি বলেন, প্রধানমন্ত্রী মোদি কখনও পদ ছাড়বেন না। তার জবাব দিতে গিয়ে খাড়গে বলেন, “মোদির বাবাও চলে যাবেন।” তাঁর এই মন্তব্যের পরেই আপত্তি জানাতে শুরু করেন বিজেপি নেতারা।

    কংগ্রেসকে নিশানা বিজেপি নেতাদের (Modi Ka Baap Remark)

    খাড়গের মন্তব্যকে দুর্ভাগ্যজনক বলে অভিহিত করেছেন বিহারের সমবায়মন্ত্রী রাম কৃপাল যাদব। তাঁর অভিযোগ, কংগ্রেস নেতৃত্ব রাজনৈতিক বিতর্কের মান ক্রমশ নামিয়ে আনছে।

    সংবাদ সংস্থাকে রাম কৃপাল যাদব বলেন, “কংগ্রেসের সর্বভারতীয় সভাপতি খাড়গে গতকাল প্রধানমন্ত্রী মোদিকে নিয়ে যে আপত্তিকর মন্তব্য করেছেন, তা অত্যন্ত দুর্ভাগ্যজনক। এটি কংগ্রেস পার্টি, রাহুল গান্ধী এবং দলীয় সভাপতির মানসিকতার প্রতিফলন। এটাই কংগ্রেসের সংস্কৃতি, যে কারণে দলটি ইতিমধ্যেই শেষ হয়ে গিয়েছে।”

    তিনি আরও বলেন, রাজনৈতিক প্রতিপক্ষের সমালোচনা করার জন্য শালীন ভাষা ব্যবহার করা উচিত। ব্যক্তিগত আক্রমণ বা কটূক্তি রাজনৈতিক নৈতিকতা নিয়ে প্রশ্ন তোলে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

    পশ্চিমবঙ্গের পঞ্চায়েত ও গ্রামোন্নয়নমন্ত্রী দিলীপ ঘোষও কংগ্রেস নেতার বক্তব্যের সমালোচনা করেছেন। তাঁর দাবি, রাজনৈতিক ক্ষেত্রে পিছিয়ে পড়ার কারণেই কংগ্রেস নেতারা ব্যক্তিগত আক্রমণের পথ বেছে নিচ্ছেন।

    দিলীপ বলেন, “আজ শুধু দেশেই নয়, বিদেশেও মোদিজির নেতৃত্ব সম্মানিত। বিজেপি ধারাবাহিকভাবে জয়ী হচ্ছে এবং মানুষের কাছে উন্নয়নের সুফল পৌঁছে দিচ্ছে। ফলে তারা রাজনৈতিক লড়াইয়ে পিছিয়ে পড়েছে। সেই কারণেই মোদিজি এবং আমাদের অন্যান্য নেতাদের ব্যক্তিগত আক্রমণ করা হচ্ছে, যা আমাদের ঐতিহ্যের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়।”

    উত্তরপ্রদেশের উচ্চশিক্ষামন্ত্রী যোগেন্দ্র উপাধ্যায়ও কংগ্রেস নেতৃত্বের বিরুদ্ধে রাজনৈতিক মূল্যবোধের অভাবের অভিযোগ তুলেছেন।

    তিনি বলেন, “কটূক্তি করা ওদের সংস্কৃতির অংশ। কাউকে উপহার না দিলে সে কিছুক্ষণ কাঁদে। কাউকে মূল্যবোধের শিক্ষা না দিলে সে সারা জীবন কাঁদে। আর কোনও রাজনৈতিক ব্যক্তির মধ্যে মূল্যবোধের অভাব থাকলে তিনি শুধু নিজেই কাঁদেন না, গোটা সমাজ ও দেশকেও কাঁদান। যাঁদের নেতৃত্বে মূল্যবোধের অভাব রয়েছে, তাঁরাই এই ধরনের মন্তব্য করেন।”

    বিজেপির বিরুদ্ধে বক্তব্য বিকৃতির অভিযোগ

    এদিকে, বিতর্কের মধ্যেই খাড়গের পাশে দাঁড়িয়েছে সমাজবাদী পার্টি (এসপি)। তাদের অভিযোগ, গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক বিষয়গুলি থেকে মানুষের নজর ঘোরাতে বিজেপি কংগ্রেস সভাপতির বক্তব্যের একটি অংশকে বেছে নিয়ে প্রচার করছে (Modi Ka Baap Remark)।

    সমাজবাদী পার্টির মুখপাত্র আশুতোষ বর্মা বলেন, সংবিধানকে দুর্বল করার চেষ্টার সমালোচনা করতে গিয়েই খাড়গে ওই মন্তব্য করেছিলেন। তাই তাঁর বক্তব্যকে সম্পূর্ণ প্রেক্ষাপটে বিচার করা উচিত।

    বর্মার কথায়, “তাঁর বক্তব্যকে প্রেক্ষাপট থেকে বিচ্ছিন্ন করে তুলে ধরা হচ্ছে। বিজেপি স্লোগান বদলে সেগুলিকে রাজনৈতিক অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করে, যা রাজনীতির পক্ষে ঠিক নয়। রাজনীতি হওয়া উচিত বিভিন্ন ইস্যুকে কেন্দ্র করে।”

    বিজেপি কংগ্রেস সভাপতির ওই মন্তব্যকে রাজনৈতিক আলোচনার ক্ষেত্রে অগ্রহণযোগ্য বলে দাবি করেছে। ঘটনার প্রতিবাদে সোমবার দেশজুড়ে বিক্ষোভের মাধ্যমে নিজেদের অবস্থান স্পষ্ট করতে দলীয় রাজ্য শাখাগুলিকে নির্দেশ দিয়েছে গেরুয়া পার্টি (Modi Ka Baap Remark)।

     

  • Mallikarjun Kharge: মোদিকে নিয়ে খাড়্গের বিতর্কিত মন্তব্য, কংগ্রেসের রাজনৈতিক ভাষা নিয়ে উঠল প্রশ্ন

    Mallikarjun Kharge: মোদিকে নিয়ে খাড়্গের বিতর্কিত মন্তব্য, কংগ্রেসের রাজনৈতিক ভাষা নিয়ে উঠল প্রশ্ন

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে নিয়ে বিতর্কিত মন্তব্য করে রাজনৈতিক সমালোচনার মুখে কংগ্রেস সভাপতি মল্লিকার্জুন খাড়্গে (Mallikarjun Kharge)। ২৬ অক্টোবর পাটনায় একটি প্রকাশ্য অনুষ্ঠানে তাঁর করা মন্তব্যকে কেন্দ্র করে নতুন করে রাজনৈতিক বিতর্ক শুরু হয়েছে। বিজেপি নেতাদের পাশাপাশি সোশ্যাল মিডিয়ার একাংশও দেশের নির্বাচিত প্রধানমন্ত্রীর (PM Modi) বিরুদ্ধে বিরোধী দলের শীর্ষ নেতার ব্যবহৃত ভাষা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন।

    বিহারের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী শ্রীকৃষ্ণ সিংয়ের ১৩৯তম জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখছিলেন খাড়্গে। সেই সময় শ্রোতাদের মধ্যে উপস্থিত এক ব্যক্তি তাঁকে বাধা দিয়ে বলেন, প্রধানমন্ত্রী মোদি পদ ছাড়বেন না। এর জবাবে খাড়্গে বলেন, ‘‘মোদির বাবাও চলে যাবেন।’’ তাঁর এই মন্তব্যের ভিডিও সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়তেই শুরু হয় রাজনৈতিক চাপানউতোর।

    সমালোচকদের বক্তব্য, শ্রোতাদের কোনও মন্তব্যের জবাব দেওয়ার ক্ষেত্রেও কংগ্রেস সভাপতির আরও সংযত ভাষা ব্যবহার করা উচিত ছিল। একটি সর্বভারতীয় রাজনৈতিক দলের সর্বোচ্চ সাংগঠনিক পদে থাকা নেতার বক্তব্যে এমন ভাষার ব্যবহার কতটা গ্রহণযোগ্য, তা নিয়েও আলোচনা শুরু হয়েছে।

    মোদিকে নিয়ে কংগ্রেস নেতাদের অতীত মন্তব্যও বিতর্কে (Mallikarjun Kharge)

    প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে ঘিরে কংগ্রেস নেতাদের অতীতের একাধিক মন্তব্যও নতুন করে চর্চায় এসেছে। ২০০৭ সালে গুজরাটের তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রী মোদিকে নিশানা করে সোনিয়া গান্ধীর “মওত কা সওদাগর” (মৃত্যুর সওদাগর) মন্তব্য, ২০১৭ সালে মণিশঙ্কর আইয়ারের “নীচ আদমি” মন্তব্য এবং ২০২২ সালে খাড়্গের মোদিকে “রাবণ”-এর সঙ্গে তুলনা করার প্রসঙ্গ উল্লেখ করছেন সমালোচকেরা। ২০১৯ সালের লোকসভা নির্বাচনের প্রচারে রাহুল গান্ধীর “চৌকিদার চোর হ্যায়” স্লোগানও রাজনৈতিক বিতর্কের অন্যতম উদাহরণ হিসেবে উঠে এসেছে। ২০২৬ সালের ২৬ অক্টোবর পাটনায় খাড়্গের সাম্প্রতিক মন্তব্য সেই বিতর্ককে আরও উসকে দিয়েছে। রাজনৈতিক বিরোধিতা গণতন্ত্রের অবিচ্ছেদ্য অংশ হলেও, ব্যক্তিগত আক্রমণের পরিবর্তে সরকারের নীতি, প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত এবং কাজের খতিয়ান নিয়ে বিরোধীদের সমালোচনা করা উচিত কি না, তা নিয়েও প্রশ্ন উঠছে।

    আরএসএসের আদর্শ নিয়ে খাড়্গের বক্তব্য ঘিরেও বিতর্ক

    আরএসএসের আদর্শ নিয়েও খাড়্গের বক্তব্যকে কেন্দ্র করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। সমালোচকদের দাবি, আরএসএসের মতাদর্শের অবসান না ঘটলে ভারতে স্থায়ী শান্তি প্রতিষ্ঠা সম্ভব নয়—এমন অবস্থান একটি সংগঠনের আদর্শকে সামগ্রিকভাবে বিপদের উৎস হিসেবে তুলে ধরে। তাঁদের মতে, এই ধরনের দাবির পক্ষে নির্দিষ্ট প্রমাণ ও যুক্তি থাকা প্রয়োজন।

    ১৯২৫ সালে প্রতিষ্ঠিত আরএসএস ২০২৫ সালে প্রতিষ্ঠার শতবর্ষ পূর্ণ করেছে। সংগঠনটির স্বেচ্ছাসেবকেরা দেশের বিভিন্ন প্রান্তে সমাজসেবা, ত্রাণকাজ এবং নানা সামাজিক উদ্যোগের সঙ্গে যুক্ত বলে সংগঠনটির কার্যকলাপে উল্লেখ করা হয়।

    গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় কোনও সংগঠনের মতাদর্শের সমালোচনা করার অধিকার রয়েছে। তবে বিরোধী মতাদর্শকে সম্পূর্ণ নির্মূল করার আহ্বান গণতান্ত্রিক বহুত্ববাদের ধারণার সঙ্গে কতটা সামঞ্জস্যপূর্ণ, তা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। সমালোচকদের মতে, মতাদর্শগত বিরোধিতার জবাব যুক্তি, তথ্য ও আলোচনার মাধ্যমে দেওয়া উচিত (Mallikarjun Kharge)।

    খাড়্গের সমালোচনা

    বিজেপি-নেতৃত্বাধীন জোটে নীতীশ কুমারের যোগদান নিয়েও খাড়্গের সমালোচনা তাঁর বক্তব্যের রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটকে আরও স্পষ্ট করেছে। বিরোধী দলগুলির জোট এবং রাজনৈতিক অবস্থানকে নিশানা করেই তাঁর বক্তব্যের একটি বড় অংশ তৈরি হয়েছে বলে মনে করছেন সমালোচকেরা।

    সব মিলিয়ে, খাড়্গের মন্তব্যকে ঘিরে বিতর্ক শুধু প্রধানমন্ত্রীর বিরুদ্ধে ব্যবহৃত ভাষার প্রশ্নে সীমাবদ্ধ নেই। রাজনৈতিক বিরোধিতার সীমারেখা কোথায় টানা উচিত এবং মতাদর্শগত সংঘাতের মধ্যেও গণতান্ত্রিক সহনশীলতা কীভাবে বজায় রাখা যায়, সেই (PM Modi) প্রশ্নও সামনে এসেছে। আরএসএস-সহ যে কোনও সংগঠনের কাজকর্ম ও মতাদর্শের সমালোচনা তথ্যনির্ভর হওয়া প্রয়োজন—এমনটাই মত সমালোচকদের। তাঁদের বক্তব্য, কোনও মতাদর্শকে নির্মূল করার আহ্বান বিতর্কের নিষ্পত্তি না করে রাজনৈতিক মেরুকরণ আরও বাড়িয়ে দিতে পারে (Mallikarjun Kharge)।

     

  • Naseeruddin Shah: কলকাতার সত্যজিৎ রায় চলচ্চিত্র-টেলিভিশন প্রতিষ্ঠানে অশান্তি, নাসিরুদ্দিন শাহের মন্তব্য ঘিরে বিতর্ক

    Naseeruddin Shah: কলকাতার সত্যজিৎ রায় চলচ্চিত্র-টেলিভিশন প্রতিষ্ঠানে অশান্তি, নাসিরুদ্দিন শাহের মন্তব্য ঘিরে বিতর্ক

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: সত্যজিৎ রায় চলচ্চিত্র ও টেলিভিশন প্রতিষ্ঠানে (এসআরএফটিআই) আন্দোলনের নামে হিংসাত্মক ঘটনার জেরে পড়ুয়াদের সম্মিলিত ভবিষ্যৎ বিপন্ন হচ্ছে বলে অভিযোগ। প্রতিষ্ঠানের উপাচার্য সন্তোষ আজমেরার উপর শারীরিক হামলার কয়েক দিন পর অভিনেতা নাসিরুদ্দিন শাহের (Naseeruddin Shah) মন্তব্যকে কেন্দ্র করে নতুন করে বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। প্রতিষ্ঠানের প্রশাসনের দাবি, ৫০০-র বেশি পড়ুয়ার নিরাপত্তা, মর্যাদা এবং শিক্ষাগত ভবিষ্যৎ সুরক্ষিত রাখতেই সাম্প্রতিক নিয়ন্ত্রণমূলক পদক্ষেপ করা হয়েছে (Srfti Controversy)। কেন্দ্রীয় তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রকের অধীন এই প্রতিষ্ঠানের একটি রিপোর্টে জানানো হয়েছে, নিরাপত্তা জোরদার করতে সিসিটিভি ক্যামেরা বসানোর বিরোধিতা করেছিলেন পড়ুয়াদের একাংশ। ফলে তাঁদের উদ্দেশ্য নিয়েই প্রশ্ন উঠেছে বলে প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে। প্রতিষ্ঠানের বক্তব্য, এই বিরোধিতার জেরে গোটা প্রতিষ্ঠানের পড়ুয়া ও কর্মীদের নিরাপত্তা বিঘ্নিত হয়েছে।

    আন্দোলনরত পড়ুয়াদের পাশে নাসিরুদ্দিন (Naseeruddin Shah)

    সোশ্যাল মিডিয়ায় প্রকাশিত একটি ভিডিয়োয় নাসিরুদ্দিন শাহ আন্দোলনরত পড়ুয়াদের পাশে দাঁড়ান। তাঁর অভিযোগ, “বাংলার নির্বাচনে জয়ের পর বিজেপি যেন তাদের বিশ্বাস ও নীতির সঙ্গে একমত নন, এমন প্রত্যেকের বিরুদ্ধে প্রতিশোধ নিতে উঠেপড়ে লেগেছে।” পড়ুয়াদের তিনি ওই দলের প্রতিহিংসার শিকার বলেও উল্লেখ করেন। তাঁর আরও অভিযোগ, “দেশের ভবিষ্যৎ চলচ্চিত্র নির্মাতাদের হয় মগজধোলাই করার, নয়তো ভয় দেখানোর চেষ্টা করছে বিজেপি।” তবে অভিনেতার বক্তব্য, “আমি আপনাদের কথা দিতে পারি, এমনটা হতে দেব না।”

    শাহের মন্তব্যের জবাবে বিজেপির সাংসদ তথা মুখপাত্র রাহুল সিনহা তাঁর বক্তব্যের পূর্ণাঙ্গ তদন্তের দাবি করেছেন। এই মন্তব্যের সঙ্গে আন্তর্জাতিক ষড়যন্ত্রের যোগ থাকতে পারে বলেও অভিযোগ করেন তিনি। সিনহার দাবি, দীর্ঘদিন নিষ্ক্রিয় থাকার পর শাহ বিদেশি শক্তি এবং কংগ্রেস, তৃণমূল কংগ্রেস ও সিপিআই(এম)-সহ বিরোধী দলগুলির সঙ্গে বৃহত্তর ষড়যন্ত্রে যুক্ত হয়ে গণতন্ত্রকে দুর্বল করার চেষ্টা করছেন। এদিকে, প্রতিষ্ঠানের সূত্রের অভিযোগ, অভিনেতা মিথ্যা কথা বলে পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত করছেন, যার ফলে পড়ুয়াদের ক্ষতি এবং তাঁদের ভবিষ্যৎ বিপন্ন হতে পারে। তাঁদের বক্তব্য, এই ঘটনায় শাহ সরাসরি সংশ্লিষ্ট পক্ষ নন এবং ক্ষতির দায়ও তাঁকে বহন করতে হবে না।

    প্রতিষ্ঠানের প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত ২৭ সেপ্টেম্বর থেকে অশান্তির সূত্রপাত। ওই দিন যথাযথ অনুমতি নিয়ে আয়োজিত একটি অনুষ্ঠানের সময় বিক্ষোভকারী পড়ুয়ারা মূল প্রেক্ষাগৃহে ঢুকে পড়েন। এর জেরে হাতাহাতি ও ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে। এর পরেই উপাচার্যের উপর হামলার ঘটনা ঘটে বলে রিপোর্টে উল্লেখ করা হয়েছে (Naseeruddin Shah)।

    প্রতিষ্ঠান কর্তৃপক্ষের পদক্ষেপ

    ঘটনার পর অজ্ঞাতপরিচয় ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে এফআইআর দায়ের করেন প্রতিষ্ঠান কর্তৃপক্ষ। আহত পড়ুয়াদের চিকিৎসার খরচও প্রতিষ্ঠান বহন করে বলে জানা গিয়েছে। নিরাপত্তা জোরদার করতে মূল ফটকের উচ্চতা বাড়ানো, বেড়ার তার বসানো এবং অতিরিক্ত নিরাপত্তাকর্মী মোতায়েনের মতো পদক্ষেপ করা হয়। একই সঙ্গে মহিলা পড়ুয়াদের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগের বিষয়টি পুলিশকে জানানো হয়।

    তবে ৪ অক্টোবর পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে ওঠে বলে প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে। ওই দিন প্রায় ২৫০ জন পড়ুয়া রাত ১১টা পর্যন্ত মূল ফটকে উপাচার্য আজমেরাকে আটকে রাখেন বলে অভিযোগ। ৬ অক্টোবর থেকে অন্তত ৫০-৬০ জন পড়ুয়া প্রায় দু’দিন তাঁর দফতর দখল করে রাখেন। সেই সময় তাঁর চেয়ার ভাঙচুর করা হয় এবং ঘরের ভিতরেও তাণ্ডব চালানো হয় বলে অভিযোগ। ১৫ অক্টোবর শুভম নামে এক পড়ুয়া আজমেরার সঙ্গে দুর্ব্যবহার ও ধস্তাধস্তি করেন বলে দাবি প্রতিষ্ঠানের। পরের দিন তাঁর দফতর লক্ষ্য করে পাথর ছোড়ার ঘটনাও ঘটে।

    প্রতিষ্ঠান কর্তৃপক্ষের অভিযোগ

    প্রতিবাদ কর্মসূচি চলাকালীন অনুমতি ছাড়াই মিছিল করা হয়েছিল বলেও অভিযোগ করেছেন প্রতিষ্ঠান কর্তৃপক্ষ। সেই মিছিলে ক্যাম্পাসের বাইরের রাজনৈতিক সংগঠনের সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তিরাও অংশ নিয়েছিলেন বলে প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে। পুলিশ সংযত থাকার অনুরোধ জানালেও বিক্ষোভকারীরা উসকানিমূলক স্লোগান দেন বলে অভিযোগ।

    পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে অসদাচরণের অভিযোগে ছ’জন পড়ুয়াকে এক বছরের জন্য প্রতিষ্ঠান থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে। নিরাপদ ও ভয়মুক্ত শিক্ষার পরিবেশ ফিরিয়ে আনতে ১৩ নভেম্বর পর্যন্ত ক্লাস স্থগিত রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন কর্তৃপক্ষ। প্রশিক্ষণ সম্পূর্ণ করার লক্ষ্যে পড়ুয়াদের স্বাভাবিক শিক্ষাজীবন নিশ্চিত করাই এই সিদ্ধান্তের উদ্দেশ্য বলে দাবি প্রতিষ্ঠানের।

    এদিকে, চলচ্চিত্র পরিচালক পায়েল কাপাডিয়াও পড়ুয়াদের পাশে দাঁড়িয়েছেন (Srfti Controversy)। বিজেপির আদর্শগত অভিভাবক হিসেবে পরিচিত রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সংঘের সঙ্গে যুক্ত গোষ্ঠীগুলির কথিত হামলার অভিযোগের জেরে পড়ুয়াদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়ায় তিনি গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। এই ঘটনায় চলচ্চিত্র মহল ও রাজনৈতিক মহলে বিতর্ক আরও তীব্র হয়েছে (Naseeruddin Shah)।

     

LinkedIn
Share