Tag: bjp

bjp

  • PM Narendra Modi: ‘ছাত্রদের ভবিষ্যৎ নিয়ে রাজনীতি করবেন না’, নিট বিতর্কে কড়া বার্তা প্রধানমন্ত্রী মোদির

    PM Narendra Modi: ‘ছাত্রদের ভবিষ্যৎ নিয়ে রাজনীতি করবেন না’, নিট বিতর্কে কড়া বার্তা প্রধানমন্ত্রী মোদির

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: নিট প্রশ্নফাঁস বিতর্কের আবহে ছাত্রদের ভবিষ্যৎ নিয়ে কোনও ধরনের রাজনৈতিক স্বার্থসিদ্ধির বিরুদ্ধে কড়া বার্তা দিলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি (PM Narendra Modi)। মঙ্গলবার সংসদ ভবনের লাইব্রেরি ভবনের জিএমসি বালাযোগী অডিটোরিয়ামে অনুষ্ঠিত এনডিএ সংসদীয় দলের ‘মঙ্গল মিলন’ বৈঠকে (NDA Parliamentary Party Meet) তিনি বলেন, ‘‘দেশের ছাত্রছাত্রীদের স্বার্থই সরকারের সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার। পরীক্ষা ব্যবস্থার স্বচ্ছতা বজায় রাখা এবং জড়িতদের বিচার নিশ্চিত করতে কেন্দ্র প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।’’ প্রধানমন্ত্রী স্পষ্ট জানান, ছাত্রদের ভবিষ্যৎ কোনওভাবেই ক্ষতিগ্রস্ত হতে দেওয়া যাবে না। নিট ইস্যুকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক দলগুলিকে অযথা রাজনীতি না করারও আহ্বান জানান তিনি।

    ছাত্রদের স্বার্থ রক্ষার বার্তা

    বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে সংসদীয় বিষয়ক মন্ত্রী কিরেন রিজিজু জানান, প্রধানমন্ত্রী নিট বিতর্কের কারণে ছাত্রছাত্রীদের মধ্যে যে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে, তা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। রিজিজু বলেন, ‘‘প্রধানমন্ত্রী স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন যে, কোনও পরিস্থিতিতেই ছাত্রদের ভবিষ্যৎ ক্ষতিগ্রস্ত হওয়া উচিত নয়। পাশাপাশি নিট ইস্যুকে রাজনৈতিক হাতিয়ার না বানানোর আহ্বান জানিয়ে তিনি সরকারের অবস্থানও পুনর্ব্যক্ত করেছেন। সরকারের লক্ষ্য পরীক্ষা ব্যবস্থার বিশ্বাসযোগ্যতা বজায় রাখা এবং ছাত্রদের স্বার্থ সুরক্ষিত রাখা।’’

    কেন ডাকা হয়েছিল ‘মঙ্গল মিলন’ বৈঠক?

    এদিনের ‘মঙ্গল মিলন’ (Mangal Milan) বৈঠকের মূল উদ্দেশ্য ছিল প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে অভিনন্দন জানানো। সম্প্রতি তিনি ভারতের ইতিহাসে সবচেয়ে দীর্ঘ সময় দায়িত্ব পালনকারী নির্বাচিত প্রধানমন্ত্রী হিসেবে নতুন মাইলফলক স্পর্শ করেছেন। পাশাপাশি সদ্য নির্বাচিত রাজ্যসভার সদস্যদেরও স্বাগত জানানো হয়। বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী মোদির সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী জিতেন্দ্র সিং, কিরেন রিজিজু ও অর্জুন রাম মেঘওয়াল। এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ, প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিং, অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারামন, কেন্দ্রীয় মন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধান, জি. কিষাণ রেড্ডি এবং বিজেপির জাতীয় সভাপতি রাহুল সিনহা। প্রধানমন্ত্রীর ভাষণের আগে এনডিএ-র সহযোগী দলগুলি মোদির এই ঐতিহাসিক মাইলফলককে স্বীকৃতি জানিয়ে একটি অভিনন্দন প্রস্তাবও গ্রহণ করে।

    প্রথম বৈঠক নিয়ে উচ্ছ্বসিত অশোক মিত্তল

    প্রথমবার এনডিএ–বিজেপির সংসদীয় দলের বৈঠকে যোগ দিয়ে বিজেপি সাংসদ অশোক মিত্তল বলেন, প্রধানমন্ত্রী ও দলের নেতৃত্বের বক্তব্য শোনার সুযোগ পাওয়াকে তিনি বড় সম্মান বলে মনে করছেন। তিনি জানান, দেশের উন্নয়নে কীভাবে আরও কার্যকরভাবে কাজ করা যায় এবং একজন সাংসদ হিসেবে নিজের দায়িত্ব কীভাবে পালন করতে হবে, সে বিষয়ে প্রধানমন্ত্রীর দিকনির্দেশনার অপেক্ষায় রয়েছেন।

    এনডিএ বৈঠকে অনুপস্থিত এনসিপিআই

    অন্যদিকে, সদ্য গঠিত ন্যাশনালিস্ট সিটিজেনস পার্টি অব ইন্ডিয়া (NCPI)-র ২০ জন সাংসদ এদিনের বৈঠকে যোগ দেননি। প্রাক্তন তৃণমূল কংগ্রেস সাংসদদের নিয়ে গঠিত এই দলটি বর্তমানে এনডিএ-কে সমর্থন করছে। তবে লোকসভার স্পিকার এখনও পর্যন্ত এনসিপিআই-এর একীভূত হওয়ার প্রক্রিয়াকে আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতি না দেওয়ায় তারা যৌথ বৈঠক থেকে দূরে থাকে। এর আগে রবিবার বিদ্রোহী তৃণমূল সাংসদ সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বে এনসিপিআই তাদের প্রথম পৃথক সংসদীয় দলের বৈঠক করে। বৈঠক শেষে তিনি জানান, সংসদে দলের বসার ব্যবস্থা, ডিভিশন নম্বর এবং পৃথক আইনসভার ব্লক অনুমোদিত হয়েছে। পাশাপাশি তিনি বলেন, সংসদে এনডিএ সরকারকে সমর্থন করলেও পশ্চিমবঙ্গের বিভিন্ন কেন্দ্রের সমস্যা নিয়ে তাঁরা রাজ্য সরকারের কাছেই বিষয়গুলি তুলবেন।

    ১৩ অগাস্ট পর্যন্ত চলবে বর্ষাকালীন অধিবেশন

    উল্লেখ্য, সংসদের বর্ষাকালীন অধিবেশন সোমবার শুরু হয়েছে এবং আগামী ১৩ অগাস্ট পর্যন্ত চলবে। এই অধিবেশনে নিট বিতর্ক-সহ একাধিক গুরুত্বপূর্ণ জাতীয় ইস্যুতে সরকার ও বিরোধীদের মধ্যে তীব্র আলোচনা হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

  • Lok Sabha Speaker: লোকসভায় বড় ভাঙন, শিন্ডে শিবিরে যোগ উদ্ধব শিবিরের ছয় শিবসেনা সাংসদের, আলাদা আসন তৃণমূলের ২০ বিদ্রোহীকেও

    Lok Sabha Speaker: লোকসভায় বড় ভাঙন, শিন্ডে শিবিরে যোগ উদ্ধব শিবিরের ছয় শিবসেনা সাংসদের, আলাদা আসন তৃণমূলের ২০ বিদ্রোহীকেও

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: সংসদের বাদল অধিবেশন শুরুর ঠিক দু’দিন আগে দেশের রাজনীতিতে ঘটল বড় ধরনের পালাবদল। লোকসভার স্পিকার (Lok Sabha Speaker) ওম বিড়লা আনুষ্ঠানিকভাবে শিবসেনা (ইউবিটি)-র ছয় লোকসভা সাংসদের একনাথ শিন্ডে নেতৃত্বাধীন শিবসেনায় (Shiv Sena UBT) যোগদানের অনুমোদন দিয়েছেন। এর ফলে লোকসভায় শিন্ডে নেতৃত্বাধীন শিবসেনার সাংসদ সংখ্যা বেড়ে দাঁড়াল ১৩।

    শক্তি বাড়ল এনডিএর (Lok Sabha Speaker)

    লোকসভা সচিবালয়ের জারি করা সরকারি বিজ্ঞপ্তিতে অষ্টাদশ লোকসভায় বিভিন্ন দলের সংশোধিত অবস্থান প্রকাশ করা হয়েছে। সেখানে উদ্ধব ঠাকরের শিবসেনা (ইউবিটি) থেকে ওই ছয় সাংসদের দলবদলের বিষয়টি নথিভুক্ত করা হয়েছে। এই ঘটনাকে মহারাষ্ট্রের রাজনীতিতে একটি গুরুত্বপূর্ণ পুনর্বিন্যাস হিসেবে দেখা হচ্ছে। একই সঙ্গে লোকসভায় বিজেপির নেতৃত্বাধীন এনডিএর শক্তিও আরও বৃদ্ধি পেল। এদিকে, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের তৃণমূল কংগ্রেস থেকে বেরিয়ে আসা ২০ জন বিদ্রোহী সাংসদের জন্যও লোকসভায় পৃথক আসন বিন্যাসের অনুমতি দিয়েছেন স্পিকার। বর্ষীয়ান নেতা সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন এই গোষ্ঠী ন্যাশনালিস্ট সিটিজেন্স পার্টি অব ইন্ডিয়ার সঙ্গে একীভূত হওয়ার আবেদন জানিয়েছে। যদিও ওই দলভুক্তিকে আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতি দেওয়ার বিষয়ে এখনও চূড়ান্ত কোনও সিদ্ধান্ত হয়নি। সাংবিধানিক ও আইনি দিকগুলি বিশেষজ্ঞদের মাধ্যমে খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

    বৈঠকে আমন্ত্রণ তৃণমূলের বিদ্রোহী সাংসদদের 

    অন্যদিকে, কেন্দ্রীয় সংসদীয় বিষয়ক মন্ত্রী কিরেন রিজিজু ইতিমধ্যেই তৃণমূলের বিদ্রোহী সাংসদদের সরকারের ডাকা সর্বদলীয় ফ্লোর লিডারদের বৈঠকে যোগ দেওয়ার আমন্ত্রণ জানিয়েছেন। রাজনৈতিক মহলের মতে, বাদল অধিবেশন শুরুর আগেই আরও কিছু রাজনৈতিক পুনর্বিন্যাসের ইঙ্গিত মিলছে। ২০ জুলাই থেকে শুরু হচ্ছে সংসদের বাদল অধিবেশন। তার আগে এই রাজনৈতিক পরিবর্তনের ফলে এনডিএর সাংসদ সংখ্যা আরও বেড়েছে। তৃণমূলের বিদ্রোহী গোষ্ঠীর সমর্থন এবং শিবসেনা (ইউবিটি)-র ছয় সাংসদের শিন্ডে শিবিরে যোগদানের ফলে সরকার গুরুত্বপূর্ণ আইন পাস করানোর ক্ষেত্রে বাড়তি সুবিধা পেতে পারে বলেই শুরু হয়েছে জল্পনা (Lok Sabha Speaker)।

    বিল পাসে আশাবাদী সরকার

    রাজনৈতিক মহলের ধারণা, লোকসভায় সীমানা পুনর্নির্ধারণ বিল এবং মহিলাদের সংরক্ষণ সংক্রান্ত ১৩১তম সংবিধান সংশোধনী বিল পাস করানোর ক্ষেত্রে সরকার নতুন করে আশাবাদী। শরদ পওয়ার নেতৃত্বাধীন এনসিপি এবং দ্রাবিড় মুন্নেত্র কাঝগমের সমর্থন মিলতে পারে বলেও জল্পনা রয়েছে। এই ধরনের সংবিধান সংশোধনী বিল পাস করাতে লোকসভায় মোট সদস্যের দুই-তৃতীয়াংশের সমর্থন প্রয়োজন। সেই সংখ্যাগরিষ্ঠতা না থাকায় চলতি বছরের এপ্রিল মাসে বিলটি পাস করানো সম্ভব হয়নি।

    ‘অন্যায়’ আবদার তৃণমূল-উদ্ধব ঠাকরের দলের

    এদিকে, তামিলনাড়ুতে কংগ্রেস জোট ভেঙে টিভিকে-কে সমর্থন করার পর দ্রাবিড় মুন্নেত্র কাঝগমও লোকসভায় কংগ্রেসের থেকে আলাদা আসন বিন্যাসের আবেদন করেছে। যদিও স্পিকার এখনও এ বিষয়ে তাঁর সিদ্ধান্ত জানাননি। তবে তা অনুমোদিত হতে পারে বলেই জল্পনা রাজনৈতিক মহলে। শিবসেনা (ইউবিটি) এবং তৃণমূল কংগ্রেস—দুই দলই তাদের বিদ্রোহী সাংসদদের অযোগ্য ঘোষণা করার দাবি জানিয়েছে। তবে রাজনৈতিক মহলের একাংশের মতে, বিদ্রোহী গোষ্ঠীর (Shiv Sena UBT) সদস্যসংখ্যা দলত্যাগ-বিরোধী আইনের বিধান লঙ্ঘন না করায় স্পিকারের পক্ষে তাঁদের অযোগ্য ঘোষণা করার সম্ভাবনা খুবই কম (Lok Sabha Speaker)।

     

  • Koel Mallick: রথযাত্রার সকালে ধাক্কা তৃণমূলের! রাজ্যসভার সাংসদ পদ থেকে ইস্তফা দিলেন কোয়েল মল্লিক

    Koel Mallick: রথযাত্রার সকালে ধাক্কা তৃণমূলের! রাজ্যসভার সাংসদ পদ থেকে ইস্তফা দিলেন কোয়েল মল্লিক

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: রাজ্যসভার সাংসদপদ থেকে ইস্তফা দিলেন কোয়েল মল্লিক। রথের দিন (১৬ই জুলাই) বৃহস্পতিবার দিল্লিতে গিয়ে উপরাষ্ট্রপতি সিপি রাধাকৃষ্ণণের কাছে নিজের ইস্তফাপত্র জমা দেন অভিনেত্রী কোয়েল অর্থাৎ রুক্মিনী মল্লিক (Koel Mallick)। তার পরেই কেন্দ্রীয় মন্ত্রী ভূপেন্দ্র যাদবের সঙ্গে দেখা করেন তিনি। সম্প্রতি ভূপেন্দ্রের হাত ধরেই রাজ্যসভার তিন সাংসদ সুখেন্দুশেখর রায়, সুস্মিতা দেব, প্রকাশ চিক বরাইক তৃণমূল ছেড়ে বিজেপি-তে যোগ দেন। তাঁদের তিন জনকেই রাজ্যসভায় পাঠিয়েছে বিজেপি। এ বার কেন্দ্রীয় মন্ত্রীর সঙ্গে কোয়েলের সাক্ষাতের পরেই জল্পনা, তবে কি তিনিও বিজেপি-তে যাচ্ছেন!

    ইস্তফাপত্র জমা দিলেন কোয়েল

    সূত্রের খবর, রাজ্যসভার চেয়ারম্যান তথা উপরাষ্ট্রপতি রাধাকৃষ্ণণের কাছে ইমেল করে নিজের ইস্তফাপত্র পাঠিয়েছিলেন কোয়েল। কিন্তু নিয়ম অনুসারে, রাজ্যসভা থেকে ইস্তফা দিতে হলে সাংসদকে সশরীরে হাজিরা দিতে হয়। সেই মতো বৃহস্পতিবার সকালে রাজ্যসভার চেয়ারম্যানের হাতে নিজের ইস্তফাপত্র তুলে দেন রুক্মিণী, যিনি কোয়েল নামেই সমধিক পরিচিত। তার পরেই তিনি দেখা করেন ভূপেন্দ্রের সঙ্গে। গত ফেব্রুয়ারি মাসে রাজ্যসভার সাংসদ হওয়ার পরে এক বারও সংসদের কোনও অধিবেশনে যোগ দেওয়া হয়নি কোয়েলের। সোমবার থেকে বাদল অধিবেশন শুরু হচ্ছে। সাংসদপদ পাওয়ার পরে সেটাই হতে পারত কোয়েলের প্রথম অধিবেশন। কিন্তু তার আগেই তিনি ইস্তফা দিলেন। তবে, মনে করা হচ্ছে বাদল অধিবেশনের আগেই তাঁকে বিজেপি থেকে ওই আসনে প্রার্থী করা হতে পারে।

    কেন এই সিদ্ধান্ত?

    রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, তৃণমূলের সঙ্গে গত কয়েকদিন ধরেই কোয়েলের দূরত্ব বাড়ছিল। সূত্রের খবর, অভিনেত্রী বিদেশে থাকায় ইস্তফা দিতে কিছুটা সময় লেগেছে, তবে বিজেপি নেতৃত্বের সঙ্গে তাঁর কথোপকথন অনেক আগেই সম্পন্ন হয়েছিল। কোয়েল মল্লিকের এই দলবদলকে তৃণমূলের জন্য একটি বড় ধাক্কা হিসেবে দেখছেন অনেকে। মল্লিক পরিবারের স্বচ্ছ ভাবমূর্তি এবং টলিউডের ওপর কোয়েলের প্রভাব বিজেপির পালে বাড়তি হাওয়া দেবে বলে মনে করা হচ্ছে। বিশেষ করে, বর্তমানে টলিউডের সঙ্গে দুর্নীতির নানা অভিযোগ জড়িয়ে পড়ার আবহে কোয়েলের মতো একজন হেভিওয়েট তারকার বিজেপিতে যোগদান পদ্মশিবিরের জন্য তাৎপর্যপূর্ণ।

    গুঞ্জনই সত্যি হল

    রাজ্য পুলিশের প্রাক্তন ডিজি রাজীব কুমার, রাজ্যের প্রাক্তন মন্ত্রী বাবুল সুপ্রিয়, সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী মেনকা গুরুস্বামীর সঙ্গে অভিনেত্রী কোয়েল মল্লিককে রাজ্যসভায় পাঠিয়েছিল তৃণমূল। তার কয়েক দিন আগে তদানীন্তন রাজ্য সরকারের বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্পের খতিয়ান নিয়ে মল্লিকবাড়িতে গিয়েছিলেন তৃণমূলের সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। এর পরে এপ্রিল মাসে দিল্লিতে রাজ্যসভার সাংসদপদে শপথ নিতে যান কোয়েল। সঙ্গে ছিল তাঁর গোটা পরিবার। শপথের পরে অভিনেত্রী বলেছিলেন, “অনেক ভেবে যে সিদ্ধান্ত নিয়েছিলাম, তা নয়। এটা তো একটা মহৎ দায়িত্ব, দেশের সেবা, মানুষের সেবা— এর থেকে তো বড় মহৎ কাজ হতে পারে না। সেই জায়গা থেকে আমি নিজেকে ভীষণ ভাগ্যবতী মনে করি যে, আমার নাম মনোনীত হয়েছে এবং আমি এত গুরুত্বপূর্ণ একটা জায়গায় আসতে পেরেছি।” রাজ্যে পালা বদলের পর গত কয়েকদিন ধরেই রাজ্য রাজনীতির অন্দরে গুঞ্জন ছিল, তৃণমূলের আরও এক তারকা সাংসদের সঙ্গে ঘাসফুল শিবিরের দূরত্ব বাড়ছে। অনেকে ধরেই নিয়েছিলেন, সেই তিনি হলেন প্রবীণ অভিনেতা রঞ্জিত মল্লিকের মেয়ে তথা অভিনেত্রী কোয়েল মল্লিক।

    রইল বাকি ৯

    গত ৬ এপ্রিল সাংসদ হিসেবে শপথ নিয়েছিলেন কোয়েল মল্লিক। তিন মাসেই পদত্যাগ! যদিও ৪ মে রাজ্যে পালাবদলের পরে তৃণমূলের রাজনৈতিক বৃত্তের ছবিটাই রাতারাতি বদলাতে শুরু করে। লোকসভার সিংহভাগ সাংসদই তৃণমূল ছেড়েছেন। এখন রাজ্যসভায় তৃণমূলের সাংসদ হিসেবে রইলেন বাবুল সুপ্রিয়, মেনকা গুরুস্বামী, রাজীব কুমার, নাদিমুল হক, মমতাবালা ঠাকুর, সাগরিকা ঘোষ, ডেরেক ও’ব্রায়েন, দোলা সেন, সামিরুল ইসলাম।

    ভূপেন্দ্রর প্রচ্ছন্ন ভূমিকা

    গত ৯ জুলাই বিজেপি-তে যোগ দেন সুখেন্দু, সুস্মিতা, প্রকাশ। যোগদানের কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই তিন জনকে রাজ্যসভার উপনির্বাচনের প্রার্থী করে বিজেপি। উল্লেখ্য, সুস্মিতা, প্রকাশ চিক এবং সুখেন্দুশেখরের পদত্যাগের কারণে রাজ্যসভার তিনটি আসন খালি হয়। তাঁদেরই আবার ওই আসনে প্রার্থী করে পাঠায় বিজেপি। অর্থাৎ, প্রার্থীরা একই, কেবল দল বদলে যায়। ভোট হয়নি। শুক্রবার ওই তিন জনের হাতে রাজ্যসভার সাংসদপদের শংসাপত্র তুলে দেওয়া হবে। অনুমান করা হচ্ছে, কোয়েলও সেই পথেই হাঁটবেন। এর আগে ভূপেন্দ্রের হাত ধরেই তৃণমূলের ২০ জন লোকসভা সাংসদ ন্যাশনালিস্ট সিটিজ়েন্স পার্টি অফ ইন্ডিয়া বা এনসিপিআই-তে যোগ দিয়েছিলেন। জুন মাসে ভূপেন্দ্রের দিল্লির বাড়িতেই দফায় দফায় বৈঠক করে তৃণমূলের বিদ্রোহী গোষ্ঠী। নেতৃত্বে ছিলেন বারাসতের সাংসদ কাকলি ঘোষ দস্তিদার। তার পরেই তৃণমূলের বিদ্রোহী সাংসদেরা লোকসভার স্পিকার ওম বিড়লার সঙ্গে দেখা করে জানান, তাঁদের ব্লক এনসিপিআই-এ মিশে যাচ্ছে। সূত্রের খবর, বিদ্রোহীদের মধ্যে সমন্বয় সাধনের নেপথ্যে অন্যতম ভূমিকা ছিল ভূপেন্দ্রের।

  • IB Officer Murder Verdict: অঙ্কিত শর্মা হত্যা মামলায় তাহির হুসেন দোষী সাব্যস্ত, কেজরিওয়ালকে তীব্র আক্রমণ বিজেপির

    IB Officer Murder Verdict: অঙ্কিত শর্মা হত্যা মামলায় তাহির হুসেন দোষী সাব্যস্ত, কেজরিওয়ালকে তীব্র আক্রমণ বিজেপির

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: অঙ্কিত শর্মা হত্যা (IB Officer Murder Verdict) মামলায় দোষী সাব্যস্ত হয়েছেন আম আদমি পার্টির প্রাক্তন কাউন্সিলর তাহির হুসেন। তারপর মঙ্গলবার আম আদমি পার্টির জাতীয় আহ্বায়ক অরবিন্দ কেজরিওয়ালকে তীব্র আক্রমণ করলেন বিজেপির (BJP) জাতীয় মুখপাত্র গৌরব ভাটিয়া। তাঁর দাবি, তাহির হুসেনের পাশাপাশি এই ঘটনার সবচেয়ে বড় অপরাধী অরবিন্দ কেজরিওয়াল, কারণ তিনি হুসেনকে রাজনৈতিক সুরক্ষা দিয়েছিলেন।

    বিজেপি নেতার বক্তব্য (IB Officer Murder Verdict)

    সাংবাদিক বৈঠকে আদালতের রায়কে স্বাগত জানিয়ে গৌরব বলেন, “এই মামলার প্রধান অভিযুক্ত ছিলেন তাহির হুসেন। ওই সময় তিনি আম আদমি পার্টির কাউন্সিলর ছিলেন এবং অরবিন্দ কেজরিওয়ালের অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ ছিলেন। আজ তিনি ভারতীয় দণ্ডবিধির ৩০২ ধারায় খুন, ৩৬৫ ধারায় অপহরণ এবং ১৫৩এ ধারায় বিভিন্ন গোষ্ঠীর মধ্যে বিদ্বেষ ছড়ানোর অভিযোগে দোষী সাব্যস্ত হয়েছেন। তাঁর সঙ্গে জাভেদ, আনাস, নাজিম এবং কাসিমকেও শাস্তি দেওয়া হয়েছে। তাহির হুসেনের পাশাপাশি সবচেয়ে বড় অপরাধী অরবিন্দ কেজরিওয়াল। তাঁর নির্দেশেই এই ঘটনা ঘটেছিল এবং পরে তা ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করা হয়েছিল।” ভাটিয়ার দাবি, তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রী হওয়া সত্ত্বেও, দিল্লির সাম্প্রদায়িক হিংসায় নিহত প্রায় ৬০ জনের জন্য কিংবা অঙ্কিতের পরিবারের পাশে দাঁড়িয়ে কেজরিওয়াল একটি কথাও বলেননি।

    জনতাকে উসকে দেন তাহির

    আদালতের পর্যবেক্ষণের উল্লেখ করে বিজেপি মুখপাত্র বলেন, “আদালত জানিয়েছে, অঙ্কিত যখন নিজের দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে জনতার সামনে এসেছিলেন, তখন তাহির জনতাকে উসকে দেন। আদালত আরও বলেছে, অভিযুক্তরা একটি ষড়যন্ত্র ও অভিন্ন উদ্দেশ্য নিয়ে হিন্দুদের হত্যা করতে চেয়েছিল এবং সেই কারণেই অঙ্কিত শর্মাকেও হত্যা করা হয়।” তাঁর প্রশ্ন, “কেন অরবিন্দ কেজরিওয়াল তাহিরকে রাজনৈতিক সুরক্ষা দিয়েছিলেন? কেন তিনি অঙ্কিতের পরিবারের পাশে দাঁড়াননি?” আম আদমি পার্টির নেতা আমানতুল্লা খানের মন্তব্যেরও সমালোচনা করেন তিনি। ভাটিয়ার অভিযোগ, ভোটব্যাঙ্কের রাজনীতির কারণেই অভিযুক্তদের পাশে দাঁড়াচ্ছে আম আদমি পার্টি। তিনি জানান, ময়নাতদন্তের রিপোর্ট অনুযায়ী অঙ্কিতের দেহে ৫১টি ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। তাঁর অভিযোগ, এত নৃশংস ঘটনার পরেও কেজরিওয়াল কখনও শর্মা পরিবারের পাশে দাঁড়াননি।

    আপ এবং কংগ্রেসকেও নিশানা

    কংগ্রেসকেও নিশানা করেন এই বিজেপি কর্তা। তাঁর অভিযোগ, নাগরিকত্ব সংশোধনী আইন নিয়ে ভুয়ো আতঙ্ক ছড়িয়ে কংগ্রেস এবং আম আদমি পার্টি সাধারণ মানুষকে বিভ্রান্ত করেছিল। তিনি বলেন, “সংসদে আইন পাস হওয়ার পর সোনিয়া গান্ধী ও রাহুল গান্ধী এমন পরিবেশ তৈরি করেছিলেন, যাতে মনে হয় মুসলিমদের নাগরিকত্ব কেড়ে নেওয়া হবে। আজ আমি জানতে চাই, কতজন ভারতীয় মুসলিম তাঁদের নাগরিকত্ব হারিয়েছেন? উত্তর একটিও নয়।” সোনিয়া গান্ধীর ‘শেষ পর্যন্ত লড়াই’ মন্তব্যের প্রসঙ্গ টেনে (IB Officer Murder Verdict) ভাটিয়া বলেন, “যখন কারও নাগরিকত্ব কেড়ে নেওয়া হচ্ছিল না, তখন এই লড়াই কীসের জন্য ছিল?” রাহুলকে নিশানা করে তিনি বলেন, “তিনি (রাহুল) দাঙ্গা কবলিত এলাকায় গিয়ে একটি মসজিদে গিয়েছিলেন, যদিও অঙ্কিতের পরিবারের সঙ্গে দেখা করেননি। এটি নিরাময়ের স্পর্শ নয়, বরং রক্তাক্ত করার স্পর্শ ছিল।”

    শেষে বিজেপির পক্ষ থেকে অরবিন্দ কেজরিওয়াল, সোনিয়া গান্ধী এবং রাহুল গান্ধীর কাছে দিল্লিবাসী ও দেশের মানুষের উদ্দেশে নিঃশর্ত ক্ষমা চাওয়ার দাবি জানানো হয়। পাশাপাশি, সাম্প্রদায়িক উস্কানি দেওয়ার অভিযোগে আমানতুল্লা খান এবং ইমরান মাসুদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা (BJP) নেওয়ারও দাবি তোলেন ভাটিয়া। তিনি বলেন, “যে-ই যত প্রভাবশালীই হোন না কেন, আইনের হাত থেকে রেহাই পাবেন না। দিল্লির সাম্প্রদায়িক হিংসার প্রত্যেক অপরাধীকেই আইনের আওতায় এনে শাস্তি নিশ্চিত করা হবে (IB Officer Murder Verdict)।”

     

  • Hindus Under Attack: হিন্দু আচার, ধর্মান্তর, হিংসায় বিপন্ন হিন্দুরা, দেখুন এই সপ্তাহের ছবি

    Hindus Under Attack: হিন্দু আচার, ধর্মান্তর, হিংসায় বিপন্ন হিন্দুরা, দেখুন এই সপ্তাহের ছবি

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: হিন্দু ও হিন্দু ধর্মের ওপর আক্রমণ অব্যাহত দেশের পাশাপাশি বিদেশেও। বিশ্বের বহু অঞ্চলে এই নির্যাতন ধীরে ধীরে এক ধরনের গণহত্যার রূপ নিচ্ছে (Hindus Under Attack)। কয়েক দশক ধরে বিশ্ব এই আক্রমণের প্রকৃত গভীরতা ও ব্যাপ্তি উপেক্ষা করে আসছে, যা খুবই উদ্বেগজনক (Roundup Week)। হত্যা, জোরপূর্বক ধর্মান্তর, জমি দখল, উৎসবে হামলা, মন্দির ও মূর্তি ভাঙচুর, ঘৃণা ভাষণ, যৌন হিংসা থেকে শুরু করে প্রাতিষ্ঠানিক ও আইনি বৈষম্য পর্যন্ত, সর্বত্র হিন্দুরা তাঁদের অস্তিত্বের ওপর ক্রমবর্ধমান আক্রমণ এবং নজিরবিহীন হিন্দু-বিদ্বেষের সম্মুখীন হচ্ছেন। দেশের বিভিন্ন প্রান্তে একাধিক অপরাধ, সাম্প্রদায়িক উত্তেজনা, ধর্মীয় স্থাপনায় চুরি এবং বাংলাদেশে হিন্দু সংখ্যালঘুদের নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ সৃষ্টি হয়েছে (Roundup Week)। আসুন, ৫ থেকে ১১ জুলাই, ২০২৬ পর্যন্ত  সপ্তাহে বিভিন্ন ঘটনার ছবিটা দেখে নেওয়া যাক এক ঝলকে।

    ধর্মান্তরের অভিযোগকে ঘিরে উত্তেজনা (Hindus Under Attack)

    পুনের ঐতিহাসিক মহাত্মা ফুলে ওয়াড়ায় বিজেপির রাজ্যসভার সাংসদ মেধা কুলকার্নির ঐতিহ্যবাহী বট পূর্ণিমার আচার-অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণকে ঘিরে নতুন করে বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে। তথাকথিত প্রগতিশীল মহলের একাংশের সমালোচনাকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক ও সামাজিক বিতর্ক তীব্র হয়েছে। সমালোচকদের অভিযোগ, ইতিহাস ও জাতিভিত্তিক বিভাজনের প্রসঙ্গ তুলে হিন্দু ধর্মীয় ঐতিহ্যকে প্রশ্নবিদ্ধ করার চেষ্টা করা হচ্ছে। ভারতীয় সংবাদমাধ্যমের একাংশের ভূমিকা নিয়েও উঠেছে প্রশ্ন। উত্তরপ্রদেশের শামলি জেলায় জোরপূর্বক ধর্মান্তরের অভিযোগকে ঘিরে দুটি পৃথক মামলার জেরে উত্তেজনা বেড়েছে। প্রথম মামলাটি জুনের শুরুতে এক বিশিষ্ট ওষুধ ব্যবসায়ীর ছেলেকে কেন্দ্র করে দায়ের হয়। দ্বিতীয় ঘটনাটি সামনে আসে জুলাইয়ের শুরুতে, যেখানে একটি রাজপুত পরিবার তাদের ৩৫ বিঘা পৈতৃক জমি দখলের হুমকি এবং ধর্মান্তরের চাপের অভিযোগ তোলে। উভয় ক্ষেত্রেই পরিবারের সদস্যরা বাঘরার যোগ সাধনা আশ্রমের প্রধান স্বামী যশবীর মহারাজের দ্বারস্থ হয়েছেন। তিনি পুলিশি পদক্ষেপের দাবি জানিয়ে প্রয়োজনে গণআন্দোলনের হুঁশিয়ারিও দিয়েছেন (Hindus Under Attack)।

    কৃষি উৎসবকে কেন্দ্র করে হিংসা

    কর্নাটকের হাভেরি জেলার হাঙ্গাল তালুকের নরেগাল গ্রামে শতাব্দীপ্রাচীন সনাতনী কৃষি উৎসব কারা হুন্নিমে উদ্‌যাপনকে কেন্দ্র করে হিংসার ঘটনা ঘটেছে। অভিযোগ, একটি বিবাদকে কেন্দ্র করে পরিস্থিতি দ্রুত উত্তপ্ত হয়ে ওঠে এবং ইসলামি সম্প্রদায়ের একদল দুষ্কৃতী শোভাযাত্রায় অংশগ্রহণকারী হিন্দুদের ওপর বিনা প্ররোচনায় হামলা চালায়। ধারালো অস্ত্র ব্যবহারের অভিযোগও উঠেছে। এই ঘটনায় অন্তত আটজন জখম হন, যাঁদের মধ্যে কয়েকজনকে হাসপাতালে ভর্তি করতে হয়েছে। কর্নাটকেরই বেঙ্গালুরুর জিগানিতে একটি ভাড়া বাড়ি থেকে উদ্ধার হয় বছর তিরিশের অক্ষতা ইন্দরাগির দেহ। ঘটনায় চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে এলাকায়। বাড়িটি বাইরে থেকে তালা দেওয়া ছিল। পুলিশ জানিয়েছে, নিহতের সঙ্গী জনৈক নানা সাব এই হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় প্রধান সন্দেহভাজন। ঘটনার পর থেকেই তিনি পলাতক। তাঁর খোঁজে চলছে তল্লাশি। কর্নাটকের মন্ত্রী প্রিয়াঙ্ক খাড়গের কেশর আমদানি এবং তিলক পরার রীতি নিয়ে করা মন্তব্যকে ঘিরে (Hindus Under Attack) বিতর্ক শুরু হয়েছে। তিনি দাবি করেছিলেন, বিশ্বের অধিকাংশ কেশর ইসলামি দেশগুলি থেকে আমদানি হয়, তাই হিন্দুদের তিলক পরা বন্ধ করা উচিত। সমালোচকদের মতে, অধিকাংশ হিন্দুই দৈনন্দিন তিলকের জন্য বিশুদ্ধ কেশর ব্যবহার করেন না, ফলে তাঁর বক্তব্য বাস্তবতার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়।

    বিদেশি অনুদান নিয়ন্ত্রণ আইন

    এদিকে, বিদেশি অনুদান নিয়ন্ত্রণ আইনের আওতায় নিবন্ধন থাকলেই আর বিদেশি অর্থ নেওয়া সাধারণ অনুমতি হিসেবে গণ্য হবে না। এখন থেকে বিদেশি অনুদানের উদ্দেশ্য, অর্থের প্রকৃত ব্যবহার এবং সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের প্রশাসনিক স্বচ্ছতার ওপর বিশেষ নজর রাখা হবে। নিয়ম না মানলে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। সরকারের এই নীতির বিরুদ্ধে বিদেশি অর্থপুষ্ট বিভিন্ন সংগঠনের একাংশ আপত্তি জানিয়েছে (Roundup Week)। একই সঙ্গে ধর্মান্তর, রাজনৈতিক প্রচার এবং আন্দোলনে বিদেশি অর্থ ব্যবহারের ওপর সরকারের কড়াকড়িও চর্চায় এসেছে। চেন্নাইয়ের তাম্বরমে বছর ছাপ্পান্নর মহম্মদ ইউসুফকে গ্রেফতার করা হয়েছে বছর বারোর এক নাবালিকাকে টানা চার মাস ধরে যৌন নির্যাতন করার অভিযোগে। নির্যাতিতার বাবা তাঁরই গুদামের কর্মী। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে বিভিন্ন মহলে শিশু সুরক্ষা এবং অপরাধ দমনে কঠোর পদক্ষেপের দাবি উঠেছে (Hindus Under Attack)।

    বহির্বিশ্বের ছবি

    বহির্বিশ্বের ছবিটাও খুব একটা ভিন্ন নয়। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে হিন্দু আমেরিকানদের বিরুদ্ধে ধারাবাহিক প্রচারের অভিযোগে আবারও আলোচনায় এসেছেন স্বঘোষিত সাংবাদিক পিটার ফ্রিডরিখ। অভিযোগ, গত কয়েক মাস ধরে তিনি আমেরিকার বিভিন্ন শহরে ঘুরে সিটি কাউন্সিল-সহ বিভিন্ন জনমঞ্চে হিন্দু সংগঠনগুলির বিরুদ্ধে উসকানিমূলক মন্তব্য করছেন। আটলান্টা, পালো অল্টো-সহ একাধিক শহরে তাঁর বক্তব্যের টার্গেট হয়েছে হিন্দুদের বিভিন্ন সংগঠন, যার মধ্যে কোয়ালিশন অব হিন্দুস অব নর্থ আমেরিকাও রয়েছে। সংশ্লিষ্ট সংগঠনগুলির দাবি, তাঁর অভিযোগগুলি ভিত্তিহীন এবং হিন্দু সমাজের কণ্ঠরোধের উদ্দেশ্যেই এই প্রচার চালানো হচ্ছে। ওয়াকিবহাল মহলের মতে, ধর্মীয় বিদ্বেষ ও ঘৃণাজনিত অপরাধ কেবল প্রত্যক্ষ হামলার মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়, বিভিন্ন দেশে (Roundup Week) সামাজিক, রাজনৈতিক ও প্রাতিষ্ঠানিক স্তরেও বৈষম্যের অভিযোগ ওঠে। সব মিলিয়ে, তামাম বিশ্বে (Hindus Under Attack) খুব একটা সুখে নেই হিন্দুরা।

     

  • Baruipur Incident: ‘ছোট ঘটনা, লাভ অ্যাফেয়ার্স বলবে না সরকার!’, বারুইপুরে নির্যাতিতার পরিবারের পাশে দাঁড়িয়ে তৃণমূলকে কটাক্ষ শুভেন্দুর

    Baruipur Incident: ‘ছোট ঘটনা, লাভ অ্যাফেয়ার্স বলবে না সরকার!’, বারুইপুরে নির্যাতিতার পরিবারের পাশে দাঁড়িয়ে তৃণমূলকে কটাক্ষ শুভেন্দুর

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: বারুইপুরে নির্যাতিতার বাড়িতে গেলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী৷ বারুইপুরে গণপিটুনি কাণ্ডে (Baruipur Incident) নিহত ইন্দ্রজিৎ মণ্ডলের পরিবারের বাড়িতেও শনিবার যান মুখ্যমন্ত্রী৷ গণপিটুনিতে নিহতের পরিবারের হাতে ২৫ লক্ষ টাকার চেক তুলে দিয়েছেন তিনি। যুবকের দাদাকে সিভিক ভলান্টিয়ারের চাকরিও দেওয়া হয়েছে। শুভেন্দু জানিয়েছেন, নির্যাতিতার পরিবারের পাশেও দাঁড়িয়েছে সরকার। তবে সেখানে কোনও আর্থিক সাহায্য করা হয়েছে কি না, কী ভাবে পাশে দাঁড়ানো হয়েছে, তা খোলসা করতে চাননি। জানিয়েছেন, প্রয়োজনে তা পরিবার জানাবে।

    নির্যাতিতার পরিবারের আবেদন মেনে পুলিশ ফাঁড়ি

    শনিবার বারুইপুরের সূর্যপুরে নতুন পুলিশ ফাঁড়ির উদ্বোধন করেন শুভেন্দু। গত মঙ্গলবার নির্যাতিতার পরিবার তাঁর সঙ্গে দেখা করে এই পুলিশ ফাঁড়ির আবেদন জানিয়েছিল। চার দিনের মধ্যেই তা প্রস্তুত করা হয়েছে। শুভেন্দু জানিয়েছেন, দু’টি ঘটনাতেই অপরাধীদের কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা হবে। সূর্যপুর থেকে শুভেন্দু বলেন, ‘‘এখানে একটি একরত্তি মেয়েকে যে ভাবে অত্যাচার করে খুন করা হয়েছে, পরিবারের প্রতি আমরা কৃতজ্ঞ যে ওঁরা তদন্তে সহযোগিতা করেছেন। প্রথম থেকেই পরিবারের পাশে আছি। যে চার জনের নামে অভিযোগ করা হয়েছিল, তাঁদের পুলিশ গ্রেফতার করেছে। কেউ কেউ বসিরহাটের বাংলাদেশ সীমান্ত পর্যন্তও পালিয়ে গিয়েছিল। ধরে আনা হয়েছে। বারুইপুর জেলা পুলিশ ভাল কাজ করেছে। বাকি যা ঘটনা ঘটেছে, তা নিয়ে সিআইডি তদন্ত করছে। আমি কিছু বলব না।’’

    কামদুনির নির্যাতিতার পাশে সরকার

    বারুইপুরে ঘটনায় সুবিচারের আশ্বাস দেওয়ার মাঝেই ফের কামদুণি কাণ্ড নিয়েও বড় ঘোষণা করলেন শুভেন্দু অধিকারী৷ নির্যাতিতার পরিবারকে সরকারি আইনজীবী দিয়ে সহায়তা করা হবে, জানালেন তিনি৷ কামদুনির বিচার প্রসঙ্গে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ‘‘কামদুনির নির্যাতিতার পরিবার সুপ্রিম কোর্টে গিয়েছিল৷ নির্যাতিতার পরিবারকে সরকার সরকারি আইনজীবী দিয়ে সহায়তা করবে৷ এবার বিষয়টি সুপ্রিম কোর্টের হাতে৷ কারণ আদালতের ব্যাপারে আমি কিছু বলতে পারি না৷ বারাসাত আদালতের রায়কে বাতিল করেছিল সুপ্রিম কোর্ট৷ শীর্ষ আদালতে এতদিন রাজ্য সরকার বিরোধিতা করেছিল৷ কিন্তু এবার আর রাজ্য বিরোধিতা করবে না৷’’

    তৃণমূল সরকারকে কটাক্ষ

    পূর্বতন সরকারকে কটাক্ষ করে শুভেন্দু এদিন বলেন, ‘‘এসব ক্ষেত্রে সরকার কোনও ত্রুটি রাখবে না৷ ছোট ঘটনা বলবে না, লাভ অ্যাফেয়ার্স বলবে না, মহিলা অন্ত:স্বত্তা বলবে না, ১০ লক্ষ দেওয়া যেতেই পারে, এমন কথা কেউ বলবে না৷’’ শনিবার সকাল ১১টা বেজে ৩২ মিনিট নাগাদ নির্যাতিতার বাড়িতে যান শুভেন্দু অধিকারী৷ কিশোরীর বাবা-মায়েরা সঙ্গে ১০ মিনিট কথা বলেন শুভেন্দু৷ নির্যাতিতার পরিবারের সঙ্গে সাক্ষাৎ প্রসঙ্গে শুভেন্দু বলেন, ‘‘আমি পরিবারকে বলে এসেছি, দোষীদের কাস্টডি ট্রায়াল হবে। মুখ্যমন্ত্রীর মনিটরিংয়ে কনভিকশন হবে। সরকারের তরফে আমাদের কিছু দায়িত্ব ছিল। পরিবারের পাশে দাঁড়িয়েছি। সেটা আমি বলব না। পরিবার চাইলে বলবে।’’

    গণপিটুনিতে নিহত ইন্দ্রজিৎ মণ্ডলের বাড়িতে শুভেন্দু

    এদিন ১১টা বেজে ৪৭ মিনিট নাগাদ তিনি যান, গণপিটুনিতে নিহত ইন্দ্রজিৎ মণ্ডলের বাড়িতে৷ সেখানেও তাঁর বাবা-মায়েরা সঙ্গে কথা কথা বলেন তিনি৷ পরে পরিবারের পক্ষ থেকে জানা যায়, তাঁদের হাতে ২৫ লক্ষ টাকার চেক তুলে দেওয়া হয়েছে৷ তাঁর দাদা বাপি মণ্ডলকে সিভিক ভলান্টিয়ারের চাকরি দেওয়া হয়েছে৷ সূর্যপুরের আউটপোস্টে তাঁর পোস্টিং হয়েছে৷ এই সব কিছুর জন্য পুলিশ এবং জেলাশাসকের প্রতি ধন্যবাদ প্রকাশ করেন শুভেন্দু ৷ বলেন, ‘‘নাম-পরিচয় দেখে খুন করা হয়েছে। ৩৫ বছরের অবিবাহিত যুবককে হাত-পা বেঁধে মারধর করা হয়েছে। যাঁরা ভোটে প্রত্যাখ্যাত হয়েছেন, এর পিছনে তাঁদের উস্কানি রয়েছে। ভিডিয়োতে যত জনের ছবি দেখা গিয়েছে, সকলকে গ্রেফতার করা হয়েছে। বকখালি, দিঘা থেকেও অভিযুক্তদের ধরে এনেছে পুলিশ।’’ নিহত ইন্দ্রজিতের দাদাকে সূর্যপুরের পুলিশ ফাঁড়িতেই সিভিক ভলান্টিয়ার হিসাবে নিয়োগ করা হয়েছে, জানিয়েছেন শুভেন্দু। ওই পরিবারের দায়িত্ব নিয়েছে সরকার। তাঁদের বাড়ি মেরামত করে দেওয়া হয়েছে। বাবার বার্ধক্য ভাতা এবং মায়ের অন্নপূর্ণা ভান্ডার চালু করা হয়েছে। শুভেন্দুর কথায়, ‘‘ছেলেটাকে তো আমরা ফেরাতে পারব না। তবে এই পরিবারের দায়িত্ব নিয়েছি। ইন্দ্রের খুনিরা আইন অনুযায়ী চরম শাস্তি পাবে।’’

    ভয়ের কারণ নেই, আশ্বাস মুখ্যমন্ত্রীর

    গত রবিবার সূর্যপুরের একটি পুকুর থেকে নাবালিকার দেহ উদ্ধার করা হয়। তাকে গণধর্ষণ এবং খুন করা হয়েছে বলে অভিযোগ। সে দিন নাবালিকার দেহ ঘিরে তুমুল বিক্ষোভ দেখানো হয় এলাকায়। রেল অবরোধও করা হয়েছিল। পুলিশকে মারধর এবং রেল অবরোধের ঘটনায় পৃথক মামলা করে তদন্ত চালাচ্ছে পুলিশ। এলাকায় ধরপাকড় চলছে। নির্যাতিতার পরিবারের কাছে স্থানীয়েরা অনেকেই তা নিয়ে অভিযোগ জানিয়েছেন। শুভেন্দুকে শনিবার সে কথা বলেন নির্যাতিতার বাবা। মুখ্যমন্ত্রী জানিয়েছেন, রেললাইনের ক্ষতি করেছেন যাঁরা, তাঁরা দেশবিরোধী। তাঁদের শাস্তি পেতে হবে। তবে নিরীহ কেউ যাতে পুলিশি হেনস্থার শিকার না-হন, তা নিশ্চিত করতে বলেছেন তিনি। শুভেন্দুর কথায়, ‘‘খুনি, ধর্ষক, ভাঙচুরকারীরা ভয়ে থাকুক। বাকিদের ভয়ের কারণ নেই।’’

  • Sebashray Medicine Scam: মাটি খুঁড়ে উদ্ধার কোটি টাকার ওষুধ! ‘সেবাশ্রয়’ ঘিরে আরও বিপাকে অভিষেক

    Sebashray Medicine Scam: মাটি খুঁড়ে উদ্ধার কোটি টাকার ওষুধ! ‘সেবাশ্রয়’ ঘিরে আরও বিপাকে অভিষেক

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ডায়মন্ড হারবারের সাংসদ ‘ভাইপো’ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের উদ্যোগে পরিচালিত ‘সেবাশ্রয়’ প্রকল্পকে ঘিরে বিতর্ক আরও ঘনীভূত হল। ইতিমধ্যেই এই প্রকল্প নিয়ে একাধিক অভিযোগ দায়ের হয়েছে। তারই মধ্যে এবার দক্ষিণ ২৪ পরগনার পারুলিয়া কোস্টাল থানায় নতুন করে লিখিত অভিযোগ জমা দিলেন বিজেপি নেতা অভিজিৎ দাস (ববি)। অভিযোগে শুধু অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় নন, তাঁর ঘনিষ্ঠ সহযোগী, প্রকল্প-সংশ্লিষ্ট একাধিক ব্যক্তি, তৎকালীন জেলা প্রশাসনের শীর্ষ আধিকারিক এবং স্বাস্থ্য দফতরের কর্তাদের নামও উল্লেখ করা হয়েছে। সোমবার সন্ধ্যায় দায়ের হওয়া এই অভিযোগে বিজেপি নেতার দাবি, ‘সেবাশ্রয়’ প্রকল্পের নামে ওষুধ কেনা, সংরক্ষণ এবং ব্যবহারে ব্যাপক আর্থিক অনিয়ম ও দুর্নীতির সম্ভাবনা রয়েছে। একই সঙ্গে উদ্ধার হওয়া বিপুল পরিমাণ ওষুধের উৎস, ব্যবহার এবং কেন সেগুলি মাটির নীচে চাপা দেওয়া হয়েছিল, তা নিয়ে পূর্ণাঙ্গ তদন্তের আবেদন জানানো হয়েছে।

    মাটি খুঁড়ে ওষুধ উদ্ধারের ঘটনাকে কেন্দ্র করেই নতুন অভিযোগ

    অভিযোগপত্রে উল্লেখ করা হয়েছে, গত ১০ জুন ডায়মন্ড হারবারের সরিষা-হিঞ্চাবেড়িয়া এলাকায় বিজেপি কর্মী-সমর্থকরা মাটি খুঁড়ে বিপুল পরিমাণ ওষুধ উদ্ধার করেন। পরে পারুলিয়া থানার পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে নমুনা সংগ্রহ করলেও, অভিযোগ অনুযায়ী, এখনও পর্যন্ত এই ঘটনায় কোনও পৃথক মামলা রুজু করা হয়নি। বিজেপির অভিযোগ, ওই উদ্ধার হওয়া ওষুধগুলির সঙ্গে ‘সেবাশ্রয়’ প্রকল্পের সরাসরি যোগ রয়েছে। তাই পুরো ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত হলে প্রকৃত তথ্য সামনে আসতে পারে।

    কার কার বিরুদ্ধে অভিযোগ?

    নতুন অভিযোগে প্রথমেই নাম রয়েছে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের। তাঁকে প্রকল্পের মূল পরিকল্পনাকারী হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। পাশাপাশি তাঁর ব্যক্তিগত সহকারী সুমিত রায়, অয়ন ঘোষ দস্তিদার, জাহাঙ্গির খান, শামিম আহমেদ মোল্লা, গৌতম অধিকারী, মেহবুব গায়েন-সহ একাধিক ব্যক্তির নাম রয়েছে অভিযোগপত্রে। এছাড়াও তৎকালীন জেলাশাসক এবং স্বাস্থ্য দফতরের কয়েকজন আধিকারিকের বিরুদ্ধেও অভিযোগ আনা হয়েছে।

    কী কী অভিযোগ তুলেছে বিজেপি?

    অভিজিৎ দাস ববির অভিযোগ, সরকারি ও জনকল্যাণমূলক স্বাস্থ্য শিবিরের নামে বিপুল পরিমাণ ওষুধ খোলা বাজার থেকে কেনা হয়েছিল কি না, সেই প্রক্রিয়ায় কোনও আর্থিক অনিয়ম বা তছরুপ হয়েছে কি না, তা তদন্ত করে দেখা প্রয়োজন। একই সঙ্গে কোটি কোটি টাকার ওষুধ কী কারণে মাটির নীচে লুকিয়ে রাখা হয়েছিল, সেই প্রশ্নও তুলেছেন তিনি। তাঁর দাবি, বিষয়টি শুধুমাত্র ওষুধ সংরক্ষণের গাফিলতি নয়, বরং এর সঙ্গে ওষুধ পাচার বা অন্য কোনও বেআইনি আর্থিক লেনদেন জড়িত থাকতে পারে। সেই সম্ভাবনাও খতিয়ে দেখার আবেদন জানানো হয়েছে পুলিশের কাছে।

    মেয়াদোত্তীর্ণ ওষুধ নিয়েও প্রশ্ন

    বিজেপি নেতার দাবি, উদ্ধার হওয়া ওষুধের মধ্যে কিছু ওষুধের মেয়াদ ইতিমধ্যেই শেষ হয়ে গিয়েছিল, আবার কিছু ওষুধের মেয়াদ তখনও বাকি ছিল। তাঁর অভিযোগ, এর ফলে প্রশ্ন উঠছে, ‘সেবাশ্রয়’ প্রকল্পে রোগীদের মেয়াদোত্তীর্ণ ওষুধও দেওয়া হয়েছিল কি না। এছাড়াও তিনি দাবি করেছেন, উদ্ধার হওয়া কিছু ওষুধের বাজারদর এবং সর্বোচ্চ খুচরো মূল্য (MRP)-এর মধ্যে অস্বাভাবিক ব্যবধান ছিল। তাঁর অভিযোগ, যে ওষুধের প্রকৃত বাজারমূল্য তুলনামূলকভাবে কম, তার এমআরপি অনেক বেশি দেখানো হয়েছে। এ ধরনের ওষুধ স্থানীয় সংস্থার তৈরি বলেও অভিযোগ করেছেন তিনি। এর মাধ্যমে সরকারি অর্থের অপচয় বা অতিরিক্ত বিল দেখিয়ে আর্থিক অনিয়ম হয়েছে কি না, সেই বিষয়েও তদন্তের দাবি তুলেছেন।

    বিজেপি নেতার দাবি

    অভিজিৎ দাস ববির বক্তব্য, কারা এই বিপুল পরিমাণ ওষুধ মাটির নীচে চাপা দিয়েছিল, তাদের পরিচয় প্রকাশ হওয়া প্রয়োজন। তাঁর দাবি, সরকার পরিবর্তনের পর এমন কী পরিস্থিতি তৈরি হয়েছিল যে কোটি কোটি টাকার ওষুধ গোপনে মাটির নীচে চাপা দিতে হল? তাঁর মতে, এই পুরো ঘটনার নেপথ্যে কারা ছিল এবং তাদের ভূমিকা কী, তা তদন্ত করলেই প্রকৃত চিত্র সামনে আসবে।

    এখনও দলের প্রতিক্রিয়া মেলেনি

    এই অভিযোগের প্রেক্ষিতে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় বা তৃণমূল কংগ্রেসের পক্ষ থেকে এই প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত কোনও আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। পাশাপাশি পুলিশের তরফেও নতুন অভিযোগের ভিত্তিতে কী পদক্ষেপ করা হবে, সে সম্পর্কেও এখনও কোনও সরকারি বিবৃতি প্রকাশ করা হয়নি। তদন্ত এগোলে এই ঘটনায় নতুন তথ্য সামনে আসতে পারে।

  • Election Commission: রাজ্যসভার তিন শূন্য আসনে ২৪ জুলাই উপনির্বাচন, বদলে যাওয়া রাজনৈতিক সমীকরণে বাড়ছে জল্পনা

    Election Commission: রাজ্যসভার তিন শূন্য আসনে ২৪ জুলাই উপনির্বাচন, বদলে যাওয়া রাজনৈতিক সমীকরণে বাড়ছে জল্পনা

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: পশ্চিমবঙ্গ থেকে রাজ্যসভার তিন শূন্য আসনে উপনির্বাচন (Rajya Sabha Bypolls) হবে আগামী ২৪ জুলাই। এমনই ঘোষণা করল নির্বাচন কমিশন (Election Commission)। তৃণমূল কংগ্রেসের তিন প্রাক্তন সাংসদ সুখেন্দুশেখর রায়, সুস্মিতা দেব এবং প্রকাশচিক বরাইকের পদত্যাগের জেরে এই আসনগুলি খালি হয়েছে। দীর্ঘদিন ধরেই এই তিন আসনে কারা প্রার্থী হবেন, তা নিয়ে জোর জল্পনা চলছিল। কমিশনের নির্ঘণ্ট প্রকাশের পর সেই জল্পনা আরও জোরালো হয়েছে।

    নির্বাচনী নির্ঘণ্ট (Election Commission)

    নির্বাচন কমিশনের ঘোষিত নির্ঘণ্ট অনুযায়ী, মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার শেষ দিন ১৪ জুলাই। ১৫ জুলাই যাচাই করা হবে মনোনয়নপত্র, ১৭ জুলাই পর্যন্ত মনোনয়ন প্রত্যাহার করতে পারবেন প্রার্থীরা। ২৪ জুলাই সকাল ৯টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত চলবে ভোট নেওয়া। ওই দিনই বিকেল ৫টা থেকে শুরু হবে ভোটগণনা। পুরো নির্বাচন প্রক্রিয়া শেষ করা হবে ২৭ জুলাইয়ের মধ্যে। ছাব্বিশের বিধানসভা নির্বাচনে তৃণমূল গোহারা হারতেই দলে ভাঙন শুরু হয়। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে বেড়েছে ভাঙনের গতি। পরিষদীয় দল এবং সংসদীয় দলের একাংশ আলাদা পথ বেছে নেয়। পরবর্তী কালে একাধিক নেতা নতুন রাজনৈতিক শিবিরে যোগ দেন। এই ডামাডোলের বাজারে ৮ জুন রাজ্যসভার সাংসদ পদে ইস্তফা দেন সুখেন্দুশেখর রায়। ১০ জুন পদত্যাগ করেন সুস্মিতা দেব। আর তার ঠিক পরের দিনই ইস্তফা দেন প্রকাশচিক বরাইক।

    পদত্যাগীরা কী পদ্মশিবিরে?

    পদত্যাগের পর বরাইক প্রকাশ্যে রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর ভূয়সী প্রশংসা করেন। আর, সুস্মিতা অসমে গিয়ে সে রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্বশর্মার সঙ্গে বৈঠক করেন। সুখেন্দুশেখরকেও লোকসভায় তৃণমূল ছেড়ে আসা বিদ্রোহী নেতাদের সঙ্গে বৈঠকে দেখা যায়। এসব নিয়েই রাজনৈতিক মহলে শুরু হয়েছে নানা (Election Commission) জল্পনা। এদিকে, বর্তমান বিধানসভায় বিধায়ক সংখ্যার নিরিখে বিজেপির অবস্থান অনেকটাই শক্তিশালী। ২০৮ জন বিধায়কের সমর্থন নিয়ে দলটি যদি তিনটি আসনেই প্রার্থী দেয় এবং নিজেদের ভোট অক্ষুণ্ণ রাখতে পারে, তাহলে তিন প্রার্থীর ঝুলিতে যথাক্রমে ৭০, ৬৯ এবং ৬৯টি করে ভোট পড়ার সম্ভাবনা রয়েছে। এর পাশাপাশি ক্রস ভোটিং হলে বিজেপির পালে জয়ের হাওয়া আরও জোরালো হতে পারে বলে অভিমত রাজনৈতিক মহলের একাংশের।

    তিন আসনেই ফুটতে পারে পদ্ম

    এদিকে, বিজেপির কোনও প্রার্থীকে হারাতে হলে বিরোধী শিবিরের প্রার্থীকে অন্তত ৭০টি ভোট নিশ্চিত করতে হবে। বর্তমানে বিধানসভায় তৃণমূল কংগ্রেসের মোট ৮০ জন বিধায়ক থাকলেও, দলের অভ্যন্তরীণ বিভাজন সেই সমীকরণকে জটিল করে তুলেছে। দুই শিবির একজোট হয়ে প্রার্থী (Rajya Sabha Bypolls) দিলে একটি আসনে লড়াইয়ের সম্ভাবনা থাকলেও, বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে সেই সম্ভাবনাকে খুব একটা জোরালো বলে মনে করছেন না রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের একটা বড় অংশই (Election Commission)।

     

  • PM Modi: শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের ১২৫তম জন্মবার্ষিকীতে শ্রদ্ধা মোদির, কী লিখলেন প্রধানমন্ত্রী?

    PM Modi: শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের ১২৫তম জন্মবার্ষিকীতে শ্রদ্ধা মোদির, কী লিখলেন প্রধানমন্ত্রী?

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের ১২৫তম জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে তাঁকে শ্রদ্ধা জানিয়ে ব্লগ লিখলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি (PM Modi)। সেখানে তিনি জানান, শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায় (Syamaprasad Mukherjee) ভারতের ঐক্য ও অগ্রগতির জন্য নিজের জীবন উৎসর্গ করেছিলেন। তাঁর জীবন আজও সাহস, আদর্শ এবং মাতৃভূমির প্রতি অটল নিষ্ঠার এক চিরন্তন উদাহরণ। ভারতীয় জনসঙ্ঘের প্রতিষ্ঠাতা শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়কে স্মরণ করে প্রধানমন্ত্রী লেখেন, ‘তিনি সচ্ছল পরিবারে জন্মগ্রহণ করলেও দেশের স্বার্থে আত্মত্যাগ ও জনসেবার পথই বেছে নিয়েছিলেন। তাঁর বিশ্বাস ছিল, ঔপনিবেশিক শাসন, সাম্প্রদায়িকতা কিংবা মানবিক সঙ্কট— কোনও ক্ষেত্রেই তিনি নীরব দর্শক হয়ে থাকতে পারেন না।’

    ব্লগে শ্যামাপ্রসাদ স্মরণ প্রধানমন্ত্রীর (PM Modi)

    ব্লগে প্রধানমন্ত্রী উল্লেখ করেন, শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের জনজীবনের অন্যতম প্রধান আদর্শ ছিল ভারতের অখণ্ডতা। তাঁর কথায়, “দেশভাগের অস্থির সময়ে তিনি দৃঢ়তার সঙ্গে লড়াই করেছিলেন যাতে পশ্চিমবঙ্গ ভারতের অবিচ্ছেদ্য অংশ হিসেবে থেকে যায়। কয়েক বছর পর সেই একই বিশ্বাস তাঁকে জম্মু ও কাশ্মীরে নিয়ে যায়। কারাবাস তাঁকে দমাতে পারেনি, বিচ্ছিন্নতাও তাঁর মনোবল ভাঙতে পারেনি। অসংখ্য মানুষের অধিকারের জন্য লড়াই করতে গিয়েই বন্দি অবস্থায় তাঁর জীবনের আকস্মিক অবসান ঘটে।” প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের প্রতি সবচেয়ে উপযুক্ত শ্রদ্ধাঞ্জলি ছিল তাঁর সরকারের নেওয়া সিদ্ধান্ত, যার মাধ্যমে ২০১৯ সালে সংবিধানের ৩৭০ ও ৩৫(ক) অনুচ্ছেদ বাতিল করা হয় এবং জম্মু ও কাশ্মীরের বিশেষ মর্যাদা প্রত্যাহার করা হয় (PM Modi)।

    ভারতীয় জনসঙ্ঘ প্রতিষ্ঠার লক্ষ্য

    প্রধানমন্ত্রী মনে করিয়ে দেন, কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের সর্বকনিষ্ঠ উপাচার্য হিসেবে শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায় গ্রন্থাগারের পরিকাঠামো উন্নয়ন, গবেষণার প্রসার এবং প্রত্নবস্তুর অধ্যয়নে বিশেষ গুরুত্ব দিয়েছিলেন। প্রধানমন্ত্রী বলেন, “ভারতের উন্নয়নের জন্য একটি বিকল্প রাজনৈতিক কণ্ঠস্বর গড়ে তোলার লক্ষ্যেই শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায় ভারতীয় জনসঙ্ঘ প্রতিষ্ঠা করেছিলেন। একই সঙ্গে দেশের সাংস্কৃতিক শেকড়ের সঙ্গেও তিনি দৃঢ়ভাবে যুক্ত ছিলেন।” তিনি আরও উল্লেখ করেন, স্বাধীন ভারতের প্রথম শিল্পমন্ত্রী হিসেবে শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায় শিল্পকে দেশের মর্যাদা, কর্মসংস্থান এবং আত্মবিশ্বাস পুনর্গঠনের অন্যতম মাধ্যম হিসেবে দেখেছিলেন। দামোদর ভ্যালি কর্পোরেশন এবং সিন্দ্রি সার কারখানার মতো গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্প বাস্তবায়নে তাঁর ভূমিকার কথাও তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী।

    শ্যামাপ্রসাদের দূরদর্শিতা

    ব্লগে প্রধানমন্ত্রী নেহরু সরকারের আনা প্রথম সংবিধান সংশোধনীর বিরোধিতায় শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের (Syamaprasad Mukherjee) অবস্থানের কথাও উল্লেখ করেন। তাঁর দাবি, কংগ্রেসের নীতির বিরুদ্ধে শ্যামাপ্রসাদ যে সতর্কবার্তা দিয়েছিলেন, ১৯৭৫ সালে জরুরি অবস্থা জারির মাধ্যমে তা (PM Modi) পরবর্তীকালে সত্য বলে প্রমাণিত হয়।

  • Shyama Prasad Mookerjee: শিক্ষাবিদ থেকে জনসঙ্ঘের প্রতিষ্ঠাতা— ১২৫ বছর পরও কেন প্রাসঙ্গিক শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়?

    Shyama Prasad Mookerjee: শিক্ষাবিদ থেকে জনসঙ্ঘের প্রতিষ্ঠাতা— ১২৫ বছর পরও কেন প্রাসঙ্গিক শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়?

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ভারতীয় জনসঙ্ঘের প্রতিষ্ঠা, পশ্চিমবঙ্গের জন্ম, স্বাধীন ভারতের শিল্পায়নের ভিত্তি নির্মাণ কিংবা কাশ্মীরের বিশেষ মর্যাদা নিয়ে দীর্ঘ রাজনৈতিক লড়াই—এই প্রতিটি অধ্যায়ে বারবার ফিরে আসে একটি নাম। তিনি ‘ভারত কেশরী’ ড. শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়। আজ, ৬ জুলাই, তাঁর ১২৫তম জন্মবার্ষিকী। এক শতাব্দীরও বেশি সময় পেরিয়ে গেলেও কেন তিনি ভারতীয় রাজনীতির অন্যতম প্রাসঙ্গিক ব্যক্তিত্ব, সেই প্রশ্নের উত্তর লুকিয়ে রয়েছে তাঁর জীবন, দর্শন ও রাজনৈতিক উত্তরাধিকারে।

    কলকাতার এক মেধাবী ছাত্র থেকে জাতীয় নেতা

    ১৯০১ সালের ৬ জুলাই কলকাতার ভবানীপুরে জন্মগ্রহণ করেন শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়। তাঁর বাবা ছিলেন ‘বাংলার বাঘ’ স্যার আশুতোষ মুখোপাধ্যায় এবং মা যোগমায়া দেবী। ছাত্রজীবন থেকেই তাঁর অসামান্য মেধার পরিচয় মিলেছিল। মিত্র ইনস্টিটিউশন থেকে মেধাবৃত্তিসহ ম্যাট্রিক, প্রেসিডেন্সি কলেজে ইংরেজি অনার্সে প্রথম শ্রেণিতে প্রথম, এরপর কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ে বাংলা ভাষা ও সাহিত্যে এমএ-তেও প্রথম স্থান—প্রতিটি ধাপেই তিনি নিজেকে অনন্য উচ্চতায় প্রতিষ্ঠিত করেন। মাত্র ২৩ বছর বয়সে কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের ফেলো নির্বাচিত হওয়া ছিল সেই সময়ের এক বিরল নজির।

    শিক্ষাক্ষেত্রে যে সংস্কার আজও স্মরণীয়

    আইনশাস্ত্রে উচ্চশিক্ষা নিয়ে দেশে ফিরে তিনি কেবল আইনজীবী হয়ে থেমে থাকেননি। মাত্র ৩৩ বছর বয়সে কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যের দায়িত্ব গ্রহণ করেন। ১৯৩৪ থেকে ১৯৩৮—এই চার বছরে বিশ্ববিদ্যালয়ে যে পরিবর্তনগুলি তিনি আনেন, তা সময়ের তুলনায় অনেকটাই এগিয়ে ছিল। কৃষিবিজ্ঞান বিষয়ে ডিপ্লোমা কোর্স, চীনা ও তিব্বতি ভাষা শিক্ষা, আধুনিক কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগারের সম্প্রসারণ, বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিষ্ঠা দিবস পালনের সূচনা—সবই তাঁর উদ্যোগে। তাঁর আমলেই প্রথমবার কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাবর্তনে বক্তৃতা দেন রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর। শিক্ষাকে কেবল ডিগ্রি অর্জনের মাধ্যম নয়, জাতি গঠনের ভিত্তি হিসেবে দেখতেন তিনি।

    বাংলার রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা

    ত্রিশ ও চল্লিশের দশকের ভারত ছিল রাজনৈতিক টানাপোড়েনের সময়। এই সময়েই শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায় জাতীয় রাজনীতির অন্যতম প্রভাবশালী মুখ হয়ে ওঠেন। ১৯৪১ সালে ফজলুল হকের নেতৃত্বাধীন শ্যামা-হক মন্ত্রিসভায় অর্থমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। ১৯৪৬ সালের কলকাতা ও নোয়াখালির দাঙ্গার সময় তিনি ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের পাশে দাঁড়ান। উদ্বাস্তুদের পুনর্বাসন, খাদ্য ও আশ্রয়ের ব্যবস্থা এবং ত্রাণ কার্যক্রমে তাঁর সক্রিয় ভূমিকার কথা সেই সময়ের নানা বিবরণে উল্লেখ রয়েছে। দেশভাগের আগে অবিভক্ত বাংলার হিন্দু-অধ্যুষিত অঞ্চলকে ভারতের অন্তর্ভুক্ত করার দাবিতে তিনি অন্যতম প্রধান কণ্ঠস্বর হয়ে ওঠেন। ১৯৪৭ সালের ২০ জুনের ঐতিহাসিক ভোটাভুটি পরবর্তী পশ্চিমবঙ্গ গঠনের প্রক্রিয়ায় তাঁর রাজনৈতিক ভূমিকা আজও আলোচিত।

    স্বাধীন ভারতের শিল্পায়নের প্রথম রূপরেখা

    স্বাধীনতার পর জওহরলাল নেহরুর মন্ত্রিসভায় দেশের প্রথম শিল্পমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নেন শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়। তাঁর সময়েই ভারতের প্রথম শিল্পনীতি প্রণয়ন, চিত্তরঞ্জন লোকোমোটিভ কারখানা, সিন্ধ্রি সার কারখানা এবং একাধিক শিল্পপ্রকল্পের ভিত্তি স্থাপিত হয়। খড়্গপুরে দেশের প্রথম আইআইটি প্রতিষ্ঠার ভাবনা এবং কলকাতায় ইন্ডিয়ান ইনস্টিটিউট অব সোশ্যাল ওয়েলফেয়ার অ্যান্ড বিজনেস ম্যানেজমেন্ট প্রতিষ্ঠার পরিকল্পনাও তাঁর দূরদর্শিতার পরিচায়ক। আজ ‘আত্মনির্ভর ভারত’ বা দেশীয় উৎপাদন বৃদ্ধির যে আলোচনা হয়, তার প্রাথমিক শিল্পভিত্তি নির্মাণের ইতিহাসে শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের অবদান বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য।

    মতাদর্শের প্রশ্নে মন্ত্রিসভা ছেড়ে বেরিয়ে আসা

    ১৯৫০ সালে পূর্ব পাকিস্তানে হিন্দুদের ওপর নির্যাতনের প্রতিবাদে তিনি নেহরু মন্ত্রিসভা থেকে পদত্যাগ করেন। এটি ছিল কেবল রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত নয়; তাঁর আদর্শগত অবস্থানেরও প্রকাশ। এরপরই তিনি বিকল্প জাতীয়তাবাদী রাজনৈতিক শক্তি গড়ে তোলার উদ্যোগ নেন।

    ভারতীয় জনসঙ্ঘ: যে বীজ থেকে বিজেপির উত্থান

    ১৯৫১ সালের ২১ অক্টোবর দিল্লিতে প্রতিষ্ঠিত হয় ভারতীয় জনসঙ্ঘ। প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি ছিলেন শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়। রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সংঘের সমর্থনে গড়ে ওঠা এই দলেই পরবর্তীকালে যুক্ত হন দীনদয়াল উপাধ্যায়, অটল বিহারী বাজপেয়ী, লালকৃষ্ণ আডবাণী-সহ বহু নেতা। সময়ের সঙ্গে রাজনৈতিক রূপান্তরের মধ্য দিয়ে এই জনসঙ্ঘই পরবর্তীকালে ভারতীয় জনতা পার্টির ভিত্তি হয়ে ওঠে। ফলে বর্তমান ভারতের রাজনৈতিক ইতিহাসে শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের গুরুত্ব কেবল একজন নেতা হিসেবে নয়, একটি রাজনৈতিক ধারার স্থপতি হিসেবেও মূল্যায়িত হয়।

    ৩৭০ ধারা নিয়ে যে আন্দোলন ইতিহাস হয়ে রয়েছে

    শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের রাজনৈতিক জীবনের সবচেয়ে আলোচিত অধ্যায় ছিল জম্মু-কাশ্মীরের বিশেষ সাংবিধানিক মর্যাদার বিরোধিতা। ‘এক দেশে দুই বিধান, দুই নিশান, দুই প্রধান চলবে না’— এই স্লোগান তাঁর রাজনৈতিক দর্শনের প্রতীক হয়ে ওঠে। পারমিট ব্যবস্থা অমান্য করে কাশ্মীরে প্রবেশের চেষ্টা করলে ১৯৫৩ সালের ১১ মে তাঁকে গ্রেফতার করা হয়। এরপর ২৩ জুন বন্দি অবস্থায় তাঁর মৃত্যু হয়, যা আজও নানা প্রশ্ন ও বিতর্কের বিষয়। ২০১৯ সালে ৩৭০ ধারা বিলোপের পর তাঁর এই আন্দোলন নতুন করে জাতীয় রাজনীতির আলোচনায় ফিরে আসে।

    ১২৫ বছর পরও কেন প্রাসঙ্গিক?

    সময়ের সঙ্গে রাজনীতি বদলেছে, দল বদলেছে, কিন্তু শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়কে ঘিরে আলোচনা থামেনি। কারণ, তাঁর জীবনকে একমাত্র রাজনৈতিক পরিচয়ে সীমাবদ্ধ করা যায় না। তিনি ছিলেন একজন অসাধারণ শিক্ষাবিদ, সফল বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসক, স্বাধীন ভারতের শিল্পনীতির অন্যতম স্থপতি, সংসদীয় রাজনীতির প্রভাবশালী বক্তা এবং জাতীয়তাবাদী রাজনীতির অন্যতম সংগঠক। একই সঙ্গে তিনি এমন একজন নেতা, যাঁর রাজনৈতিক দর্শন আজও ভারতের অন্যতম বৃহৎ রাজনৈতিক দলের আদর্শগত ভিত্তির অংশ।

    ইতিহাসের মূল্যায়ন কখনও একরৈখিক নয়

    শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের জীবন ও রাজনৈতিক ভূমিকা নিয়ে ইতিহাসবিদ, রাজনৈতিক বিশ্লেষক এবং বিভিন্ন রাজনৈতিক মতাদর্শের মধ্যে ভিন্ন ভিন্ন মূল্যায়ন রয়েছে। তাঁর সমর্থকেরা তাঁকে জাতীয়তাবাদের অন্যতম প্রধান স্থপতি হিসেবে দেখেন, অন্যদিকে সমালোচকেরা তাঁর রাজনীতির বিভিন্ন দিক নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। তবে একটি বিষয়ে ইতিহাসবিদদের মধ্যে বিস্তর ঐকমত্য রয়েছে— স্বাধীনতা-উত্তর ভারতের রাজনীতি, পশ্চিমবঙ্গের গঠন, জনসঙ্ঘের প্রতিষ্ঠা এবং কাশ্মীর প্রশ্নের ইতিহাসে শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়কে বাদ দিয়ে পূর্ণাঙ্গ আলোচনা সম্ভব নয়। ১২৫তম জন্মবার্ষিকীতে তাই তাঁকে স্মরণ করা মানে শুধু একজন নেতাকে স্মরণ করা নয়; বরং স্বাধীন ভারতের রাষ্ট্রগঠন, শিক্ষাব্যবস্থা, শিল্পায়ন এবং রাজনৈতিক মতাদর্শের এক গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়কে নতুন করে ফিরে দেখা।

LinkedIn
Share