মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: যাদবপুর কাণ্ডে এবিভিপি-র বিরুদ্ধে পরিকল্পিত চক্রান্তের আশঙ্কা করলেন বিজেপির রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য (Samik Bhattacharya)। এসএফআই-এবিভিপির সংঘর্ষে উত্তপ্ত যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়। অশান্তি নিয়ে তোলপাড় রাজ্য রাজনীতি। বৃহস্পতিবার ছাত্র আন্দোলনের মাঝেই বিখ্যাত চিত্রশিল্পী নন্দলাল বসুর তৈরি প্রতীকটি ভেঙে পড়ে। শুক্রবার মেদিনীপুর কলেজেও যাদবপুরের আঁচ দেখা যায়। ক্যাম্পাসের মধ্যেই এসএফআই-এবিভিপির সংঘর্ষ হয় বলে অভিযোগ। এই আবহে বিজেপি রাজ্য সভাপতি তথা রাজ্যসভার সাংসদের দাবি, এটি সম্পূর্ণ পরিকল্পিত চক্রান্ত।
অখিল ভারতীয় বিদ্যার্থী পরিষদ-এর বিরুদ্ধে চক্রান্ত
অখিল ভারতীয় বিদ্যার্থী পরিষদ সরাসরি বিজেপির কোনও ছাত্র সংগঠন নয়। এটি একটি জাতীয়তাবাদী ছাত্র সংগঠন। পশ্চিম মেদিনীপুরের একটি কলেজে চলা গন্ডগোল এবং যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ে নন্দলাল বসুর তৈরি ঐতিহাসিক লোগো বা শতদল প্রতীক ভেঙে ফেলার অভিযোগ প্রসঙ্গে বিজেপি রাজ্য সভাপতির দাবি, এবিভিপি-র মূল লক্ষ্য, আদর্শের সঙ্গে লোগো ভাঙচুরের মতো ঘটনা কখনওই মেলে না। এর পিছনে অন্য কোনও উদ্দেশ্য থাকার আশঙ্কা করছেন তিনি। এছাড়া, যাদবপুরের সাম্প্রতিক ছাত্র সংঘর্ষ ও উত্তপ্ত পরিস্থিতির মাঝে বিজেপির এক নির্বাচিত জনপ্রতিনিধির উপস্থিতি নিয়ে প্রশ্ন উঠলে শমীক ভট্টাচার্য পাল্টা সাফাই দেন। তিনি জানান, গেটের বাইরে বা সংলগ্ন এলাকায় কোনও গন্ডগোল বা পরিস্থিতি তৈরি হলে একজন নির্বাচিত জনপ্রতিনিধি হিসেবে তাঁদের সেখানে উপস্থিত থাকার অধিকার ও দায়িত্ব রয়েছে। কোচবিহার হোক কিংবা পশ্চিমবঙ্গের যেকোনও প্রান্ত—জনপ্রতিনিধিরা প্রয়োজনে যেতেই পারেন।
জাতীয় শিক্ষানীতি লাগু হবে
সাংবাদিকদের সামনে জাতীয় শিক্ষানীতির প্রসঙ্গ টেনে শমীকবাবু বলেন, বর্তমান সময়ে দেশের বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলির একমাত্র কাজ হল প্রতি পদে কেবল বিরোধিতা করে যাওয়া। এ রাজ্যেও ঠিক একই পরিস্থিতি তৈরি করা হচ্ছে। তাঁর আরও দাবি, শিক্ষানীতি নিয়ে অতীতে বহু বুদ্ধিজীবী ও পন্ডিত মানুষ নানা সমালোচনা করেছেন এবং এটিকে ‘গৈরিকীকরণ’ বলে দাগিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করেছেন। কিন্তু সাধারণ মানুষ সেই সমস্ত বিতর্ক এবং অপপ্রচারকে উপেক্ষা করেই নির্বাচনের মাধ্যমে তাঁদের সরকারে জায়গা করে দিয়েছে। তাই রাজ্যে এই নীতি রূপায়ণের ক্ষেত্রে আর নতুন করে বলার কিছু নেই বলেই তাঁর মত। তিনি জানান, পশ্চিমবঙ্গে জাতীয় শিক্ষানীতি অবশ্যই লাগু হবে এবং এই নিয়ে বিরোধীরা যে বিতর্ক তৈরি করার চেষ্টা করছে, তা কেবল রাজনৈতিক স্বার্থে।

Leave a Reply