Tag: Shamik Bhattacharya

Shamik Bhattacharya

  • BJP: বঙ্গে ইতিহাস গড়ল বিজেপি, কোন চালে বাজিমাত পদ্মশিবিরের?

    BJP: বঙ্গে ইতিহাস গড়ল বিজেপি, কোন চালে বাজিমাত পদ্মশিবিরের?

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: পশ্চিমবঙ্গে ইতিহাস গড়েছে বিজেপি (BJP)। দলের শীর্ষ নেতৃত্ব, রাজ্যের মুখ এবং পর্দার আড়ালে থাকা কলা-কুশলীদের যৌথ প্রচেষ্টায় পদ্ম শিবিরের প্রচার অভিযান শান দিয়েছে গ্রাউন্ড লেভেলেও। তার জেরেই বিজেপির জয়ের পথে এগিয়ে যাওয়াটা হয়েছে (Key Leaders) অনায়াস।

    কোন অঙ্কে বাজিমাত? (BJP)

    স্বাধীনতার পর এই প্রথম পশ্চিমবঙ্গে সরকার গড়তে চলেছে বিজেপি। এসআইআরের (SIR) আওতায় রেকর্ড সংখ্যক ভোটার বাদ যাওয়ার পর অনুষ্ঠিত এই নির্বাচনে ১৫ বছরের শাসনের পর পরাজয়ের মুখে তৃণমূল কংগ্রেস। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির হাইভোল্টেজ সভা থেকে শুরু করে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের সূক্ষ্ম সংগঠনমূলক পরিকল্পনার পাশাপাশি বিজেপির প্রচারে জাতীয় বার্তা ও স্থানীয় সংগঠন একসঙ্গে কাজ করেছে। ঝালমুড়ির মতো বাংলার সাংস্কৃতিক প্রতীক ব্যবহার, চাকরির নিশ্চয়তার প্রতিশ্রুতি এবং মা কালীর মন্দিরে প্রার্থনা—এই সব মিলিয়ে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি এমন এক প্রচার গড়ে তুলেছিলেন যা স্থানীয় সংযোগ ও জাতীয় বার্তার মিশ্রণ। বড় বড় জনসভায় সীমাবদ্ধ না থেকে তিনি আবেগের স্তরেও ভোটারদের সঙ্গে সংযোগ স্থাপনের চেষ্টা করেন। একই সঙ্গে উন্নয়নের প্রতিশ্রুতি—কর্মসংস্থান, কল্যাণমূলক প্রকল্প এবং “ডাবল ইঞ্জিন সরকার”-এর সুবিধার কথাও তুলে ধরেছিলেন। সাংস্কৃতিক প্রতীক, ধর্মীয় সংযোগ এবং অর্থনৈতিক আশ্বাস—সব মিলিয়ে তাঁর প্রচার বিভিন্ন শ্রেণির মানুষের কাছে পৌঁছানোর চেষ্টা করে।

    ‘মিশন বেঙ্গলে’র মূল লক্ষ্য

    প্রধানমন্ত্রী ছিলেন বিজেপির প্রচারের মুখ। এর সঙ্গে সমানতালে সঙ্গত করেছে অমিত শাহের ‘চাণক্যসুলভ’ কৌশল। যার জেরেই দুরমুশ হয়ে গিয়েছে তৃণমূলের একের পর  শক্ত ঘাঁটিও। জানা গিয়েছে, পশ্চিমবঙ্গে বিজেপির সবচেয়ে সক্রিয় প্রচারক ছিলেন শাহ। তিনি এ রাজ্যে ৬৬টি সভা ও রোডশো করে ৬৩টি জায়গায় পৌঁছে গিয়েছিলেন (Key Leaders)। শাহের ‘মিশন বেঙ্গলে’র মূল লক্ষ্যই ছিল বুথ স্তরে সংগঠন শক্তিশালী করা। তিনি ৪৫ দিনের মধ্যে বাংলাদেশ সীমান্ত সিল করার প্রতিশ্রুতি দেন এবং অনুপ্রবেশের অভিযোগ তোলেন। “কাটমানি” সংস্কৃতি, দুর্নীতি, মহিলাদের নিরাপত্তা ইত্যাদি বিষয় তুলে ধরেন। পাশাপাশি মহিলাদের জন্য মাসিক ৩,০০০ টাকা সহায়তা, সরকারি চাকরিতে ৩৩ শতাংশ সংরক্ষণ, কর্মচারীদের বেতন বৃদ্ধি এবং চা বাগানের শ্রমিকদের জমির অধিকার—এসব প্রতিশ্রুতিও দেন। সাংস্কৃতিক পরিচয় ও ধর্মীয় স্বাধীনতার মতো বিষয়ের ওপরও গুরুত্ব দেন তিনি।

    নেপথ্যের কারিগরেরা

    এ রাজ্যে নির্বাচনের দায়িত্বে ছিলেন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী ভূপেন্দ্র যাদব। প্রার্থী নির্বাচন, জোট ব্যবস্থা এবং সাংগঠনিক সমন্বয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন তিনি (BJP)। বিজেপির রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্যও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। তিনি প্রার্থী নির্বাচন, কর্মী সংগঠন এবং বুথ প্রস্তুতি তদারকি করেন এবং তৃণমূল স্তরের কর্মী ও শীর্ষ নেতৃত্বের মধ্যে সংযোগ রক্ষা করেন। এই নির্বাচনে শুভেন্দু অধিকারীর অবদানও কম নয়। বস্তুত, পশ্চিমবঙ্গে বিজেপির অন্যতম প্রধান কৌশলবিদ হিসেবেই উঠে আসেন তিনি। একসময় মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ঘনিষ্ঠ এই সহযোগীর রাজনীতির জ্ঞান প্রখর (Key Leaders)। পূর্ব মেদিনীপুরে তাঁর শক্তিশালী সংগঠনও রয়েছে। গ্রামীণ ও আধা-শহুরে এলাকায় বিজেপির প্রভাব বাড়াতে সাহায্য করেন তিনি। নিজেকে বিজেপির প্রধান বাঙালি মুখ হিসেবে প্রতিষ্ঠা করে শুভেন্দু নির্বাচনে সরাসরি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে দাঁড়িয়ে পড়েন ভবানীপুর কেন্দ্রে। মমতার নির্বাচনী কেন্দ্র এই ভবানীপুরের পাশাপাশি নন্দীগ্রামেও বিজেপির বাজি ছিলেন শুভেন্দুই। তৃণমূলের একের পর এক দুর্নীতি ও রাজনৈতিক হিংসার বিষয় তুলে ধরে তাঁর আক্রমণাত্মক প্রচার বিজেপির কৌশলের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ ছিল।

    বিরোধী দলনেতা হিসেবে নির্বাচনের মাঝেও শুভেন্দু ছড়িয়ে দেন দলীয় বার্তা। চাঙা করে তোলেন হতাশ বিজেপি কর্মীদের। শুভেন্দুকে পেয়ে নিষ্ক্রিয় বিজেপি কর্মীরাও ফের সক্রিয় হয়ে ওঠেন। ২০২৬ সালের নির্বাচনে তিনি শুধু প্রচারকই নন, বরং একজন কেন্দ্রীয় কৌশলবিদ হিসেবেও কাজ করেছেন (BJP)। জাতীয় নেতৃত্ব ও বাংলার রাজনীতির মধ্যে সেতুবন্ধনের কাজটিও করেছিলেন তিনিই (Key Leaders)।

     

  • BJP: বঙ্গে ইতিহাস গড়তে চলেছে বিজেপি, কোন চালে বাজিমাত পদ্মশিবিরের?…

    BJP: বঙ্গে ইতিহাস গড়তে চলেছে বিজেপি, কোন চালে বাজিমাত পদ্মশিবিরের?…

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: পশ্চিমবঙ্গে ইতিহাস গড়তে চলেছে বিজেপি (BJP)। দলের শীর্ষ নেতৃত্ব, রাজ্যের মুখ এবং পর্দার আড়ালে থাকা কলা-কুশলীদের যৌথ প্রচেষ্টায় পদ্ম শিবিরের প্রচার অভিযান শান দিয়েছে গ্রাউন্ড লেভেলেও। তার জেরেই বিজেপির জয়ের পথে এগিয়ে যাওয়াটা হয়েছে (Key Leaders) অনায়াস।

    প্রধানমন্ত্রীর হাইভোল্টেজ সভা (BJP)

    স্বাধীনতার পর এই প্রথম পশ্চিমবঙ্গে সরকার গড়তে চলেছে বিজেপি। এসআইআরের (SIR) আওতায় রেকর্ড সংখ্যক ভোটার বাদ যাওয়ার পর অনুষ্ঠিত এই নির্বাচনে ১৫ বছরের শাসনের পর পরাজয়ের মুখে তৃণমূল কংগ্রেস। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির হাইভোল্টেজ সভা থেকে শুরু করে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের সূক্ষ্ম সংগঠনমূলক পরিকল্পনার পাশাপাশি বিজেপির প্রচারে জাতীয় বার্তা ও স্থানীয় সংগঠন একসঙ্গে কাজ করেছে। ঝালমুড়ির মতো বাংলার সাংস্কৃতিক প্রতীক ব্যবহার, চাকরির নিশ্চয়তার প্রতিশ্রুতি এবং মা কালীর মন্দিরে প্রার্থনা—এই সব মিলিয়ে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি এমন এক প্রচার গড়ে তুলেছিলেন যা স্থানীয় সংযোগ ও জাতীয় বার্তার মিশ্রণ। বড় বড় জনসভায় সীমাবদ্ধ না থেকে তিনি আবেগের স্তরেও ভোটারদের সঙ্গে সংযোগ স্থাপনের চেষ্টা করেন। একই সঙ্গে উন্নয়নের প্রতিশ্রুতি—কর্মসংস্থান, কল্যাণমূলক প্রকল্প এবং “ডাবল ইঞ্জিন সরকার”-এর সুবিধার কথাও তুলে ধরেছিলেন। সাংস্কৃতিক প্রতীক, ধর্মীয় সংযোগ এবং অর্থনৈতিক আশ্বাস—সব মিলিয়ে তাঁর প্রচার বিভিন্ন শ্রেণির মানুষের কাছে পৌঁছানোর চেষ্টা করে।

    যোগ্য সঙ্গত অমিত শাহের

    প্রধানমন্ত্রী ছিলেন বিজেপির প্রচারের মুখ। এর সঙ্গে সমানতালে সঙ্গত করেছে অমিত শাহের ‘চাণক্যসুলভ’ কৌশল। যার জেরেই দুরমুশ হয়ে গিয়েছে তৃণমূলের একের পর  শক্ত ঘাঁটিও। জানা গিয়েছে, পশ্চিমবঙ্গে বিজেপির সবচেয়ে সক্রিয় প্রচারক ছিলেন শাহ। তিনি এ রাজ্যে ৬৬টি সভা ও রোডশো করে ৬৩টি জায়গায় পৌঁছে গিয়েছিলেন (Key Leaders)। শাহের ‘মিশন বেঙ্গলে’র মূল লক্ষ্যই ছিল বুথ স্তরে সংগঠন শক্তিশালী করা। তিনি ৪৫ দিনের মধ্যে বাংলাদেশ সীমান্ত সিল করার প্রতিশ্রুতি দেন এবং অনুপ্রবেশের অভিযোগ তোলেন। “কাটমানি” সংস্কৃতি, দুর্নীতি, মহিলাদের নিরাপত্তা ইত্যাদি বিষয় তুলে ধরেন। পাশাপাশি মহিলাদের জন্য মাসিক ৩,০০০ টাকা সহায়তা, সরকারি চাকরিতে ৩৩ শতাংশ সংরক্ষণ, কর্মচারীদের বেতন বৃদ্ধি এবং চা বাগানের শ্রমিকদের জমির অধিকার—এসব প্রতিশ্রুতিও দেন। সাংস্কৃতিক পরিচয় ও ধর্মীয় স্বাধীনতার মতো বিষয়ের ওপরও গুরুত্ব দেন তিনি।

    পদ্ম শিবিরের কান্ডারিরা

    এ রাজ্যে নির্বাচনের দায়িত্বে ছিলেন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী ভূপেন্দ্র যাদব। প্রার্থী নির্বাচন, জোট ব্যবস্থা এবং সাংগঠনিক সমন্বয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন তিনি (BJP)। বিজেপির রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্যও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। তিনি প্রার্থী নির্বাচন, কর্মী সংগঠন এবং বুথ প্রস্তুতি তদারকি করেন এবং তৃণমূল স্তরের কর্মী ও শীর্ষ নেতৃত্বের মধ্যে সংযোগ রক্ষা করেন। এই নির্বাচনে শুভেন্দু অধিকারীর অবদানও কম নয়। বস্তুত, পশ্চিমবঙ্গে বিজেপির অন্যতম প্রধান কৌশলবিদ হিসেবেই উঠে আসেন তিনি। একসময় মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ঘনিষ্ঠ এই সহযোগীর রাজনীতির জ্ঞান প্রখর (Key Leaders)। পূর্ব মেদিনীপুরে তাঁর শক্তিশালী সংগঠনও রয়েছে। গ্রামীণ ও আধা-শহুরে এলাকায় বিজেপির প্রভাব বাড়াতে সাহায্য করেন তিনি। নিজেকে বিজেপির প্রধান বাঙালি মুখ হিসেবে প্রতিষ্ঠা করে শুভেন্দু নির্বাচনে সরাসরি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে দাঁড়িয়ে পড়েন ভবানীপুর কেন্দ্রে। মমতার নির্বাচনী কেন্দ্র এই ভবানীপুরের পাশাপাশি নন্দীগ্রামেও বিজেপির বাজি ছিলেন শুভেন্দুই। তৃণমূলের একের পর এক দুর্নীতি ও রাজনৈতিক হিংসার বিষয় তুলে ধরে তাঁর আক্রমণাত্মক প্রচার বিজেপির কৌশলের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ ছিল।

    বিরোধী দলনেতা হিসেবে নির্বাচনের মাঝেও শুভেন্দু ছড়িয়ে দেন দলীয় বার্তা। চাঙা করে তোলেন হতাশ বিজেপি কর্মীদের। শুভেন্দুকে পেয়ে নিষ্ক্রিয় বিজেপি কর্মীরাও ফের সক্রিয় হয়ে ওঠেন। ২০২৬ সালের নির্বাচনে তিনি শুধু প্রচারকই নন, বরং একজন কেন্দ্রীয় কৌশলবিদ হিসেবেও কাজ করেছেন (BJP)। জাতীয় নেতৃত্ব ও বাংলার রাজনীতির মধ্যে সেতুবন্ধনের কাজটিও করেছিলেন তিনিই (Key Leaders)।

     

  • West Bengal Elections 2026: রাজ্যের মানুষকে পরিযায়ী শ্রমিক করেছে কে? বহিরাগত করার দায় একমাত্র মমতা সরকারের, তৃণমূলকে তোপ শমীকের

    West Bengal Elections 2026: রাজ্যের মানুষকে পরিযায়ী শ্রমিক করেছে কে? বহিরাগত করার দায় একমাত্র মমতা সরকারের, তৃণমূলকে তোপ শমীকের

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: পশ্চিমবঙ্গের আসন্ন নির্বাচনের (West Bengal Elections 2026) প্রেক্ষাপটে ‘বহিরাগত’ ভোটার ইস্যু নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গন এখন উত্তপ্ত। তৃণমূল কংগ্রেসের তোলা এই অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে বিজেপির রাজ্যসভার সাংসদ তথা প্রধান মুখপাত্র শমীক ভট্টাচার্য (Shamik Bhattacharya) কড়া প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন। তিনি বলেন, “কর্মসংস্থান বা অন্য কারণে বাইরে থাকা রাজ্যের বাসিন্দাদের ‘বহিরাগত’ তকমা দেওয়া অনভিপ্রেত।”

    বাংলার সন্তানরা বহিরাগত নন (West Bengal Elections 2026)

    শমীক ভট্টাচার্য (Shamik Bhattacharya) স্পষ্ট ভাষায় বলেন, “বাংলার যে সমস্ত ভূমিপুত্র কাজের তাগিদে ভিন রাজ্যে থাকেন এবং ভোটের সময় নিজেদের গণতান্ত্রিক অধিকার প্রয়োগ করতে যারা বাড়ি ফেরেন, তারা কোনোভাবেই বহিরাগত নন। ভোটে (West Bengal Elections 2026) তাঁদের সম্পূর্ণ অধিকার রয়েছে।”

    ভয় প্রদর্শনের অভিযোগ

    শাসকদল সাধারণ ভোটারদের মনে বিভ্রান্তি এবং ভয় তৈরি করার চেষ্টা করছে বলে শমীক পালটা অভিযোগ করেন। তিনি বলেন, “এটি ভোটারদের (West Bengal Elections 2026) গণতান্ত্রিক অধিকার থেকে বঞ্চিত করার একটি অপকৌশল মাত্র। মুখ্যমন্ত্রী রাজ্যে শিল্প, কলকারখানা এবং বিনিয়োগ আনতে ব্যর্থ। রাজ্যে বেকারত্ব চরম সীমায়। লক্ষ লক্ষ মানুষকে পরিযায়ী করেছে তৃণমূল সরকার।”

    সংবিধানের প্রতি শ্রদ্ধা

    রাজ্যসভাপতি শমীক এদিন স্মরণ করিয়ে দেন যে, ভারতের যেকোনো প্রান্তে বসবাসকারী নাগরিকের নিজ রাজ্যে ভোটাধিকার (West Bengal Elections 2026) প্রয়োগ করার পূর্ণ সাংবিধানিক অধিকার রয়েছে। একে কেন্দ্র করে বিভাজনের রাজনীতি করা উচিত নয়। নির্বাচনী আবহে এই বহিরাগত ইস্যুটি সবসময়ই অত্যন্ত স্পর্শকাতর। শমীক ভট্টাচার্যের এই বক্তব্যের মাধ্যমে প্রবাসী বাঙালিদের সমর্থনকে নিশ্চিত করতে চাইছে, যারা ভোটের সময় রাজ্যে ফেরেন। অন্যদিকে, এই বাদানুবাদ রাজ্যের রাজনৈতিক তরজা আরও স্পষ্ট করে তুলছে।

  • Shamik challenges Mamata: ‘পুরনো ভোটার লিস্টে ভোট করুন, তাও জিততে পারবেন না’, মমতাকে চ্যালেঞ্জ শমীকের

    Shamik challenges Mamata: ‘পুরনো ভোটার লিস্টে ভোট করুন, তাও জিততে পারবেন না’, মমতাকে চ্যালেঞ্জ শমীকের

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: পুরনো ভোটার তালিকা দিয়েই ভোট করালেও বাংলায় চতুর্থবারের জন্য মুখ্যমন্ত্রী হতে পারবেন না মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Shamik challenges Mamata)। আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনে রাজ্যে পালাবদল স্পষ্ট। এসআইআর মামলায় সুপ্রিম নির্দেশের পর সাফ জানিয়ে দিলেন বিজেপির রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য। বৃহস্পতিবার দেশের শীর্ষ আদালত (Supreme Court) জানিয়েছে, ২১ এপ্রিল পর্যন্ত ট্রাইবুনাল যাঁদের ছাড়পত্র দেবে, তাঁরা প্রথম দফার নির্বাচনে ভোট দিতে পারবেন। সমস্ত জল্পনার অবসান ঘটিয়ে সংবিধানের ১৪২তম অনুচ্ছেদ অনুসারে প্রয়োগ করা হয়েছে বিশেষ ক্ষমতা। সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ, ভোটের ২ দিন আগে ট্রাইবুনালে নিষ্পত্তি হলেও দেওয়া যাবে ভোট।

    মমতাকে চ্যালেঞ্জ শমীকের

    বৃহস্পতিবার সাংবাদিক বৈঠকে কার্যত খোলা চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিলেন বঙ্গ বিজেপির রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য (Shamik challenges Mamata)। তাঁর সাফ কথা, “মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় যেভাবে ভোট করাতে চাইছেন সেভাবেই করুন। পুরোনো ভোটার তালিকা দিয়েই ভোট করুন। তাও চতুর্থবারের জন্য মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় মুখ্যমন্ত্রী হতে পারবেন না। তৃণমূল চলে গিয়েছে। তৃণমূল শেষ।” এদিন কমিশনের বিরুদ্ধেও খানিক ক্ষোভ উগরে দিতে দেখা গিয়েছে শমীককে। বলেন, “আমরা এই প্রক্রিয়ায় সন্তুষ্ট নই। আমাদের ফর্ম ৭ এর শুনানি হয়নি। নির্বাচন কমিশন আমাদের কথা পুরো শোনেননি। আমাদের অভিযোগ, আমাদের অভিমান কমিশনের বিরুদ্ধে। কিন্তু একটা সাংবিধানিক সংস্থা। আমরা তাঁদের আধিকারিকদের প্রতি সম্পূর্ণ সম্মান রেখেই বলছি আমরা সন্তুষ্ট নই।”

    কী বলল দেশের শীর্ষ আদালত

    অবশেষে বাংলার এসআইআর মামলায় বিশেষ ক্ষমতা প্রয়োগ করল সুপ্রিম কোর্ট। দেশের সর্বোচ্চ আদালতের নির্দেশে পরিষ্কার বলা হয়েছে, যে লক্ষ লক্ষ ভোটার, যাঁরা ট্রাইবুনালে যাওয়ার জন্য আবেদন করেছেন, এবং তাঁদের মধ্যে যাঁদের প্রথম দফার ভোট (২৩ এপ্রিল) রয়েছে, এবং ২১ এপ্রিল পর্যন্ত মধ্যে যাঁদের সমস্যার সমাধান হয়ে যাবে এবং যাঁরা যাঁরা ট্রাইবুনালে পাশ করবেন, তাঁদের প্রত্যেকের নাম ভোটার লিস্টে উঠবে। তার জন্য সাপ্লিমেন্টারি ভোটার লিস্ট প্রকাশ করতে হবে এবং ২৩ এপ্রিল তাঁরা ভোট দিতে পারবেন। একইভাবে, দ্বিতীয় দফার ভোট হচ্ছে ২৯ এপ্রিল। ২৭ এপ্রিল পর্যন্ত, যাঁদের যাঁদের ভোটার লিস্টে নাম ওঠার জন্য সমস্যার সমাধান হয়ে যাবে, যাঁরা ট্রাইবুনালে পাশ করতে পারবেন, তাঁরা দ্বিতীয় দফায় অর্থাৎ ২৯ এপ্রিল ভোট দিতে পারবেন। এই ২৭ এপ্রিল অবধি যাঁদের নাম উঠবে, তাঁদের জন্য আলাদা সাপ্লিমেন্টারি লিস্ট বের করা হবে।

  • West Bengal Assembly Election: বিজেপিতে তৃণমূলের প্রাক্তন বিধায়ক, যোগ দিলেন রাজবংশী নেতাও, ভোটে বদলে যাবে উত্তরের সমীকরণ!

    West Bengal Assembly Election: বিজেপিতে তৃণমূলের প্রাক্তন বিধায়ক, যোগ দিলেন রাজবংশী নেতাও, ভোটে বদলে যাবে উত্তরের সমীকরণ!

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: আবারও ধস নামল তৃণমূলে। বিধানসভা নির্বাচনের প্রাক্কালে উত্তরবঙ্গে তৃণমূল ছেড়ে বিজেপিতে (BJP) যোগ দিলেন প্রাক্তন বিধায়ক অর্ঘ্য রায় প্রধান। মঙ্গলবার (West Bengal Assembly Election) মেখলিগঞ্জের এই প্রাক্তন বিধায়কের সঙ্গে পদ্মশিবিরে ভিড়েছেন আরও একজন, তিনি রাংজবংশী নেতা গিরিজাশঙ্কর রায়। গ্রেটার কোচবিহার পিপলস অ্যাসোসিয়েশনের নেতা বংশীবদন বর্মণও ঘোষণা করেছেন বিজেপিকে সমর্থনের কথা। ২০২৪ সালের লোকসভা নির্বাচনে তৃণমূলকে সমর্থন করেছিল বংশীবদনের সংগঠন। বর্তমানে বেশ কিছু ইস্যুতে তৃণমূলের সঙ্গে তাঁর মতবিরোধ শুরু হয়েছে। তার পরিপ্রেক্ষিতেই বংশীবদন এবার জানালেন বিজেপিকে সমর্থনের কথা। মঙ্গলবার তিনি গিয়েছিলেন বিজেপির কার্যালয়েও।

    তৃণমূলকে তোপ অর্ঘ্যর (West Bengal Assembly Election)

    এদিকে, পদ্মশিবিরে যোগ দেওয়ার পরেই তৃণমূলকে তোপ দাগেন অর্ঘ্য। ২০১৬-এর বিধানসভা নির্বাচনের সময় ঘাসফুল আঁকা প্রতীকে দাঁড়িয়ে মেখলিগঞ্জের বিধায়ক হয়েছিলেন তিনি। একুশের বিধানসভা নির্বাচনে অবশ্য তাঁকে টিকিট দেয়নি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের দল। তার পরেও অবশ্য তৃণমূল-সঙ্গ ছাড়েননি। ছাড়লেন মঙ্গলবার এবং এদিনই তিনি যোগ দিলেন বিজেপিতে। তৃণমূল ছাড়ার কারণে দর্শাতে গিয়ে অর্ঘ্য বলেন, “আমি আর দুর্নীতিগ্রস্ত একটি দলের পাশে দাঁড়াতে পারি না। আমি আমার এলাকার মানুষের মুখোমুখি হওয়ার মতো অবস্থায় ছিলাম না।” প্রসঙ্গত, অর্ঘ্যর বাবা অমর রায় প্রধান ফরওয়ার্ড ব্লকের নেতা ছিলেন। তিনি তিনবার মেখলিগঞ্জের বিধায়ক হয়েছিলেন। আটবার কোচবিহারের সাংসদও হয়েছিলেন। ২০০৪ সালে ছেলে অর্ঘ্যকে নিয়ে বাম-সঙ্গ ছেড়ে অমর যোগ দিয়েছিলেন তৃণমূলে। সেই অর্ঘ্যই এবার পদ্ম-শিবিরে।

    বিজেপিকে সমর্থনের কথা ঘোষণা রাজবংশী নেতার

    গেরুয়া ঝান্ডার তলায় তাঁর চলে আসা এবং রাজবংশী নেতা বংশীবদনের বিজেপিকে সমর্থনের কথা (BJP) ঘোষণা বদলে দিতে পারে উত্তরবঙ্গের যাবতীয় সমীকরণ। গত (West Bengal Assembly Election) লোকসভা নির্বাচনে কোচবিহার আসনটি বিজেপির হাত থেকে ছিনিয়ে নিয়েছিল তৃণমূল। এবার সেখানেই থাবা বসাতে চাইছে নরেন্দ্র মোদি-অমিত শাহ-জেপি নাড্ডার দল। বংশীবদন বলেন, “আমি কেন্দ্রীয় নেতৃত্বকে বলেছি যে আমাদের রাজবংশী ভাষাকে স্বীকৃতি দিতে হবে, রক্ষা করতে হবে আমাদের অধিকার। আমি বিজেপিকে আমার পূর্ণ সমর্থন দিতে এসেছি।” প্রসঙ্গত, এর আগে উত্তরপঙ্গের নেতা অনন্ত মহারাজকে রাজ্যসভায় পাঠিয়েছিল বিজেপি। তার পর থেকে বেসুরো গাইতে থাকেন অনন্ত। এহেন পরিস্থিতিতে বংশীবদনের সমর্থনের আশ্বাস বিজেপিকে বাড়িতে অক্সিজেন জোগাবে বলেই ধারণা রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের। কারণ এবার রাজবংশীদের একটা বড় অংশের ভোটই পড়বে পদ্ম-প্রতীকে।

    শুভেন্দুর কটাক্ষ

    বর্তমানে উত্তরবঙ্গ সফরে রয়েছেন বিদায়ী মুখ্যমন্ত্রী তথা তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। এমতাবস্থায় মঙ্গলবার কলকাতায় বিজেপির রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য এবং রাজ্যের বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারীর উপস্থিতিতে পদ্ম-খাতায় নাম লেখান অর্ঘ্য এবং রাংজবংশী নেতা গিরিজাশঙ্কর (West Bengal Assembly Election)। উত্তরবঙ্গের এই দুই হেভিওয়েট নেতা বিজেপিতে যোগ দেওয়ায় যারপরনাই খুশি পদ্মশিবির। রাজ্যের বিদায়ী বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী বলেন, “মুখ্যমন্ত্রী উত্তরবঙ্গে থাকাকালীন এই যোগদান তাঁকে উপহার স্বরূপ দেওয়া হল।” তিনি জানান, বংশীবদন রাজবংশী সমাজের উন্নয়নের (BJP) জন্য কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের কাছে কিছু প্রস্তাব রেখেছন। সেই প্রস্তাব গ্রহণ করা হয়েছে। তবে বংশীবদন নিজে ভোটে লড়বেন না বলেই জানিয়ে দিয়েছেন শুভেন্দু। এদিন দলবদলের এই অনুষ্ঠানে বিজেপির ঝান্ডা হাতে তুলে নিয়েছেন তৃণমূল যুব কংগ্রেসের মেখলিগঞ্জ ব্লক সভাপতি বাপ্পা মণ্ডলও। উত্তরবঙ্গের এই তিন নেতাকে স্বাগত জানিয়েছেন বিজেপির রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য। তিনি বলেন, “নিজেদের প্রতিষ্ঠিত জায়গা ছেড়ে, কোনও কিছু না চেয়ে, না পেয়ে ওঁরা বিজেপিতে যোগ দিলেন (West Bengal Assembly Election)।”

    ফ্যাক্টর যখন রাজবংশী ভোট

    উল্লেখ্য যে, উত্তরবঙ্গের কয়েকটি আসনে রাজবংশী ভোট বড় ফ্যাক্টর। এই রাজবংশী সম্প্রদায়েরই বিভিন্ন দাবিদাওয়া নিয়ে দীর্ঘ দিন ধরে লড়াই করছেন বংশীবদন। গত লোকসভা নির্বাচনে তিনি ছিলেন তৃণমূলের সঙ্গেই। অসমর্থিত একটি সূত্রের খবর, আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনে আসন সমঝোতা নিয়ে তাঁর সঙ্গে বিরোধ বাঁধে মমতা-অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের দলের। বংশীবদন বারবার দাবি করেছেন, মাথাভাঙা-সহ কয়েকটি বিধানসভা আসনে গত নির্বাচনগুলিতে যত ভোট পেয়েছে তৃণমূল, তা এসেছে তাঁর সংগঠনের জন্যই। তাই এবার আসন সমঝোতার প্রস্তাব দিয়েছিলেন তিনি। দাবি করেছিলেন, রাজবংশী প্রাথমিক বিদ্যালয় এবং হাইস্কুলের অনুমোদনও। তিনি সাফ জানিয়ে দিয়েছিলেন, তাঁর এই শর্ত পূরণ না হলে বিজেপিকে সমর্থন করবে তাঁর সংগঠন। সেই মতোই তিনি জানালেন বিজেপিকে সমর্থনের কথা। বংশীবদন বলেন, “রাজবংশী সম্প্রদায়ের আলাদা ভাষা এবং সংস্কৃতি রয়েছে (BJP)। কিন্তু রাজবংশী সম্প্রদায়ের উন্নয়ন এতদিন সম্ভব হয়নি (West Bengal Assembly Election)।”

     

  • Shamik Bhattacharya: ‘‘পৃথিবীর কোনও শক্তি তৃণমূলকে আর ফেরাতে পারবে না’’! রাজ্য সরকারকে তীব্র আক্রমণ শমীকের

    Shamik Bhattacharya: ‘‘পৃথিবীর কোনও শক্তি তৃণমূলকে আর ফেরাতে পারবে না’’! রাজ্য সরকারকে তীব্র আক্রমণ শমীকের

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের রাজনীতি শুধু রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বিতার মধ্যেই সীমাবদ্ধ নেই, বরং তা রাজ্যের সামাজিক ও সাংস্কৃতিক কাঠামোর ওপর গভীর প্রভাব ফেলছে। তোষণমূলক নীতির মাধ্যমে রাজ্যের সামাজিক সংহতি দুর্বল করার একটি পরিকল্পিত প্রচেষ্টা চলছে। এমনভাবেই রাজ্য সরকার ও শাসক দলকে কড়া ভাষায় আক্রমণ করলেন বিজেপি রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য (Shamik Bhattacharya)। মঙ্গলবার পূর্ব বর্ধমানের ভাতার বাজারে ‘পরিবর্তন যাত্রা’র শেষদিনে এক জনসভা থেকে তিনি সাফ ঘোষণা করেন, আগামী দিনে বিজেপির মুখ্যমন্ত্রী নবান্ন থেকে নয়, বরং ঐতিহ্যের রাইটার্স বিল্ডিং থেকেই সরকার পরিচালনা করবেন। তৃণমূলের পরাজয় এখন কেবল সময়ের অপেক্ষা বলেও দাবি করেন তিনি।

    নো এসআইআর, নো ভোট

    পশ্চিমবঙ্গ থেকে ‘বিচারাধীন’ বা এসআইআর (SIR) তালিকা কোনওভাবেই সরানো যাবে না—এই দাবিতে অনড় থাকল বিজেপি। সোমবার কালীঘাটে মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারকে তৃণমূলের ‘গো ব্যাক’ স্লোগান এবং কালো পতাকা দেখানোর ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়ে রাজ্য বিজেপি সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য (Samik Bhattacharya) জানালেন, “নো এসআইআর, নো ভোট— এটাই আমাদের অবস্থান।” শমীক ভট্টাচার্যের কটাক্ষ, “মুখ্যমন্ত্রীর এজেন্ডা অত্যন্ত পরিষ্কার। তিনি চান বাংলাদেশি ও রোহিঙ্গারা ভোটার লিস্টে থাকুক। মৃত ব্যক্তি এবং ভুয়ো ভোটারদের নাম তালিকায় রেখে দেওয়ার জন্যই এই লড়াই।” তাঁর দাবি, মুখ্যমন্ত্রী ভাতার বা বর্ধমানের সাধারণ মানুষের জন্য লড়ছেন না, তাঁর লক্ষ্য কেবল বাংলাদেশি অনুপ্রবেশকারীদের স্বার্থরক্ষা করা।

    পশ্চিমবঙ্গে দাঙ্গা-গোষ্ঠী হিংসা কেন

    বিজেপি শাসিত রাজ্যগুলির উদাহরণ টেনে শমীক ভট্টাচার্য দাবি করেন, গুজরাটে গত ২০ বছরে কোনও দাঙ্গা হয়নি। উত্তরপ্রদেশ বা মধ্যপ্রদেশেও হিন্দু-মুসলিম বা শিয়া-সুন্নি বিবাদ বন্ধ। কিন্তু পশ্চিমবঙ্গের মালদা, মুর্শিদাবাদ বা উত্তর ২৪ পরগনার মতো জেলাগুলিতে প্রতিনিয়ত অশান্তি ঘটছে। তাঁর অভিযোগ, “তথাকথিত ধর্মনিরপেক্ষ মিডিয়া অনেক ঘটনা চেপে গেলেও সোশ্যাল মিডিয়ায় মানুষ সব দেখছেন।” সোমবারের বক্তব্যের জন্য মুখ্যমন্ত্রী ক্ষমা না চাইলে বিচারব্যবস্থাকে হস্তক্ষেপ করার আহ্বান জানান তিনি। বিজেপির অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের মধ্যে নিরাপত্তাহীনতার এক পরিবেশ তৈরি করা হয়েছে। বিজেপির মতে, প্রকৃত উন্নয়ন বা ক্ষমতায়নের বদলে তাঁদের ভোটব্যাঙ্ক হিসেবে ব্যবহার করা হয়েছে। দলের অভিযোগ, শিক্ষা, কর্মসংস্থান ও আর্থিক উন্নয়নের ক্ষেত্রে সংখ্যালঘু সমাজের প্রকৃত অগ্রগতি ঘটাতে সরকার পর্যাপ্ত উদ্যোগ নেয়নি।

    রাজ্যে মানুষ ভালো নেই

    কালীঘাটে মুখ্য নির্বাচন কমিশনারকে তৃণমূলের বিক্ষোভ দেখানো প্রসঙ্গে শমীক ভট্টাচার্য বিদ্রুপের সুরে বলেন, “আমরা ওনাকে (জ্ঞানেশ কুমার) আসতে বলেছিলাম। আশা করি উনি ভালো সংবর্ধনা পেয়েছেন। এখানকার মানুষ কেমন আছেন এবং পরিস্থিতি কী, সেটা নিশ্চয়ই উনি বুঝতে পেরেছেন।” বিজেপির অভিযোগ, সীমান্তবর্তী জেলাগুলিতে অনুপ্রবেশ ও জনসংখ্যার ভারসাম্য নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে। দলের দাবি, এ বিষয়ে রাজ্য সরকার যথেষ্ট কঠোর পদক্ষেপ নেয়নি। বিজেপির বক্তব্য, এই সমস্ত ইস্যু এখন কেবল রাজনৈতিক বিতর্কের বিষয় নয়, বরং রাজ্যের ভবিষ্যৎ, সংস্কৃতি ও নিরাপত্তার সঙ্গে যুক্ত একটি বড় প্রশ্ন। তাদের দাবি, পশ্চিমবঙ্গের ঐতিহ্য ও সামাজিক ভারসাম্য রক্ষার জন্য তারা রাজনৈতিকভাবে লড়াই চালিয়ে যাবে এবং উন্নয়নমুখী একটি রাজ্য গঠনের লক্ষ্যে কাজ করবে।

    তৃণমূল ক্ষমতায় ফিরবে না

    ২০২৬-এর বিধানসভা নির্বাচনের রণদামামাও বাজিয়ে দিয়েছেন বিজেপি রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য। ভাতার বাজারের কামারপাড়া মোড়ে আয়োজিত সভায় শমীক ভট্টাচার্য বলেন, “পৃথিবীর কোনও শক্তি তৃণমূলকে চতুর্থবার ক্ষমতায় ফেরাতে পারবে না। ২৬-এর নির্বাচন আসলে তৃণমূলের বিসর্জন।” তাঁর দাবি, মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় রাইটার্স ছেড়ে নবান্নে প্রশাসন নিয়ে গিয়েছিলেন, কিন্তু বিজেপি ক্ষমতায় এসে আবার পুরোনো কেন্দ্র থেকেই কাজ শুরু করবে। সোমবার ধর্মতলার ধরনা মঞ্চ থেকে মুখ্যমন্ত্রী ভোটারদের উদ্দেশ্যে যে সতর্কবার্তা দিয়েছিলেন, তাকে ‘অসাংবিধানিক’ এবং ‘বিভাজনমূলক’ বলে ব্যাখ্যা করেছেন শমীক। তিনি বলেন, “পরাজয়ের হতাশা থেকেই মুখ্যমন্ত্রী দাঙ্গা ও অস্থিরতা তৈরির চেষ্টা করছেন। অতীতে কোনও নেতা এভাবে মঞ্চ থেকে দুই সম্প্রদায়কে আক্রমণের ভয় দেখাননি।”

    বিজেপি কর্মীদের উপর হামলা

    বিধানসভা নির্বাচনের নির্ঘণ্ট ঘোষণার আগেই রাজ্যজুড়ে বিজেপি কর্মীদের উপর হামলা চালানো হচ্ছে বলেও অভিযোগ তোলেন বিজেপির রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য। তিনি দাবি করেন, “তৃণমূলের গুন্ডাদের হামলার জেরে বহু বিজেপি কর্মীকে বাড়িঘর ছেড়ে পালাতে বাধ্য করা হচ্ছে। অপরাধী আর তৃণমূল এখন সমার্থক হয়ে গিয়েছে।” তিনি বলেন, ভীমপুর, কলকাতা, মুর্শিদাবাদ, তারকেশ্বর এবং উত্তর ২৪ পরগনায় বিজেপি কর্মীদের উপর হামলার ঘটনা ঘটেছে। তাঁর অভিযোগ, “জেলা জেলায় নতুন নতুন ফতোয়া জারি হচ্ছে। এই সরকারের আমলে কেউ রেহাই পাচ্ছেন না বিচারপতি থেকে শিল্পপতি পর্যন্ত।” ভোটের আগে রাজ্যে ৪৮০ কোম্পানি কেন্দ্রীয় সশস্ত্র পুলিশ বাহিনী (সিএপিএফ) মোতায়েনের নির্বাচন কমিশনের সিদ্ধান্ত প্রসঙ্গে বিজেপি রাজ্য সভাপতি বলেন, এটি পশ্চিমবঙ্গ ও রাজ্যের মানুষের জন্য লজ্জার। তাঁর কথায়, “গণতন্ত্রের সবচেয়ে বড় উৎসব হল নির্বাচন। তার আগেই কেন্দ্রীয় বাহিনীকে আসতে হয়েছে। ২০১১ সালে গণতন্ত্র ফেরানোর স্লোগান দিয়ে তৃণমূল ক্ষমতায় এসেছিল। আজ তাদের কারণেই এই পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে।”

  • Parivartan Yatra: আমতায় রাজনাথ সিংয়ের পাশে দাঁড়িয়ে মমতাকে পুরনো দিনের কথা মনে করালেন শমীক ভট্টাচার্য

    Parivartan Yatra: আমতায় রাজনাথ সিংয়ের পাশে দাঁড়িয়ে মমতাকে পুরনো দিনের কথা মনে করালেন শমীক ভট্টাচার্য

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: আমতার জনসভায় কেন্দ্রীয় প্রতিরক্ষা মন্ত্রী রাজনাথ সিংয়ের উপস্থিতিতেই তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে তীব্র আক্রমণ শানালেন বিজেপি নেতা শমীক ভট্টাচার্য (Shamik Bhattacharya)। আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনের প্রাক্কালে আয়োজিত বিজেপির ‘পরিবর্তন যাত্রা’-র (Parivartan Yatra) মঞ্চ থেকে এদিন তিনি রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রীকে তাঁর রাজনৈতিক ইতিহাসের কথা মনে করিয়ে দেন।

    ‘দুর্বল চিত্রনাট্য’ (Parivartan Yatra)

    শমীক ভট্টাচার্য (Shamik Bhattacharya) তাঁর ভাষণে বলেন, “বর্তমানে তৃণমূল কংগ্রেস যে রাজনৈতিক কৌশল গ্রহণ করছে, তা আসলে একটি ‘দুর্বল চিত্রনাট্য’।” একই ভাবে সিঙ্গুর আন্দোলনের সময় মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ধর্মতলার অনশন মঞ্চের প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, “সে সময় মুখ্যমন্ত্রী যে রাজনৈতিক সঙ্কটের মুখে পড়েছিলেন, সেখান থেকে তাঁকে উদ্ধার করতে এগিয়ে এসেছিলেন আজকের মঞ্চে উপস্থিত রাজনাথ সিং। একসময় মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নিজেই অটলবিহারী বাজপেয়ী ও লালকৃষ্ণ আদবানির এনডিএ জোটের শরীক ছিলেন এবং বিজেপিকে অসাম্প্রদায়িক দল হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছিলেন। অথচ বর্তমানে সেই তৃণমূলের শাসনকালেই বিজেপি কর্মীদের ওপর অত্যাচার (Parivartan Yatra) চালানো হচ্ছে।”

    বাংলার মাটি থেকেই পরিবর্তনের ডাক এসেছে

    শমীক ভট্টাচার্যের (Shamik Bhattacharya) সুরেই সুর মিলিয়ে রাজনাথ সিংও এদিন তৃণমূল সরকারের কড়া সমালোচনা করেন। তিনি দাবি করে বলেন, “এবার আর এদিক ওদিক হলে হবে না। আর টিএমসির অত‍্যাচার চলবে না। এবার মমতা যাচ্ছেন। বাংলার উৎসাহ তাই বলে দিচ্ছে। বাংলায় পরিবর্তন হলে দারুণ গতিতে উন্নয়ন হবে। বিকাশ আর প্রগতি কেউ আটকাতে পারবে না। বাংলার মানুষ এবার পরিবর্তনের জন্য তৈরি এবং বর্তমান সরকারের দুর্নীতির অবসান ঘটিয়ে বিজেপিই রাজ্যে উন্নয়নের (Parivartan Yatra) জোয়ার আনবে।”

    রাজ্যে একাধিক কেন্দ্রীয় মন্ত্রী

    রাজ্যে পরিবর্তনের ডাকে বিজেপি একাধিক জেলা থেকে পরিবর্তন সংকল্পের (Parivartan Yatra) ডাক দিয়েছে। ইতিমধ্যে নানা প্রান্ত থেকে যাত্রা শুরু হয়েছে। কেন্দ্রের হেভি ওয়েট নেতারা এই কর্মকাণ্ডে যোগদান করেছেন। মমতার বিরুদ্ধে প্রচারকে আরও জোরদার করতে বিজেপি ভোটের প্রচারকে আরও জোরদার করেছে। রাজ্যের তৃণমূলকে সরিয়ে বিজেপি সরকার গঠন করতে দৃঢ় সংকল্প গ্রহণ করেছে। কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ, প্রতিরক্ষা মন্ত্রী রাজনাথ সিং, কৃষি মন্ত্রী শিবরাজ সিং চৌহান, শিক্ষা মন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধান সহ অনেক নেতা এখান বঙ্গে পরিবর্তনের ডাক দিয়েছেন। এই পরিবর্তন যাত্রার মূল লক্ষ্য হল মানুষের মনে তৃণমূলের ভয়কে দূরে সরিয়ে দেওয়া।

  • West Bengal Elections 2026: কোনও এজেন্সি বা বাহিনী নয়, নিজের কায়দায় লড়বো, হুঙ্কার শমীকের

    West Bengal Elections 2026: কোনও এজেন্সি বা বাহিনী নয়, নিজের কায়দায় লড়বো, হুঙ্কার শমীকের

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: “কোনও এজেন্সি বা বাহিনী নয়, এবারের ভোট আমরা নিজেদের কায়দায় লড়ব।” বিধানসভা নির্বাচনে (West Bengal Elections 2026) বিজেপির জয় নিশ্চিত করতে বিজেপি জোর প্রস্তুতি নিচ্ছে। আগামী ১ মার্চ থেকে জোরদার প্রচার করতে ময়দানে নামবে বিজেপি। এই ভাবেই কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েন এবং তদন্তকারী সংস্থার ভূমিকা নিয়ে বিশেষ ইঙ্গিত দিলেন বিজেপি রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য (Shamik Bhattacharya)।

    নিজের সামর্থ দিয়ে লড়বে (West Bengal Elections 2026)

    রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য (Shamik Bhattacharya) বলেন, “কেউ যদি বিজেপিকে ভোট না দিতে চান, তা তাঁদের সিদ্ধান্ত। তাতেও রাজ্যে বিজেপির ক্ষমতায় (West Bengal Elections 2026) আসা আটকানো যাবে না। এসআইআর তালিকা প্রকাশ,  কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েন বা কত দফায় ভোট, এই সব নিয়ে আমাদের চিন্তা নেই। বিজেপি নিজেদের কৌশলেই শান্তিপূর্ণভাবে মানুষের কাছে পৌঁছবে এবং ভোটের হার বাড়ানোর চেষ্টা করবে। সবটাই এবার নিজের সামর্থ দিয়ে লড়বো।”

    বিজেপি এক দিকে যেমন জেলায় জেলায় আরও শক্তিশালী সংগঠন করতে পেরেছে, তেমনি তৃণমূলের সীমাহীন দুর্নীতি, মানুষের মনে তৃণমূলের সম্পর্কে ব্যাপক বিদ্বেষ তৈরি করেছে। এই ভাবনাকে মাথায় রেখে বিজেপি তৃণমূলের বিরুদ্ধে জোর কদমে ময়দানে নামতে চলেছে বলে জানা গিয়েছে।

    আটকানো যাবে না বিজেপিকে

    সংখালঘু ভোট প্রসঙ্গে শমীক ভট্টাচার্য (Shamik Bhattacharya) বলেন, “সংখ্যালঘুরা যদি ভোট দিতে না চান, তাহলে সেটা তাঁদের নিজেদের সিদ্ধান্ত। তবে তার উপর নির্ভর করে বিজেপির ক্ষমতায় (West Bengal Elections 2026) আসাকে আটকানো যাবে না।” নির্বাচন কমিশন (ECI) ইতিমধ্যে স্পষ্ট করেছে, ভোটের সময় কেন্দ্রীয় বাহিনী এলে তাদের নিষ্ক্রিয় রাখা হবে না। অতীতে বাহিনীর ভূমিকা নিয়ে যে অভিযোগ উঠেছিল, তা এ বার আর যাতে না হয়, সেদিকেই নজর দেওয়া হবে।

    দুর্নীতি, নারী নির্যাতন, বেকারত্বের মতো ইস্যুর কারণে তৃণমূল সরকার ব্যাপক চাপের মধ্যে। অপর দিকে বিজেপি এই বিষয়কে হাতিয়ার করে তৃণমূলের বিরুদ্ধে আক্রমণাত্মক জনমত গড়তে ময়দানে নেমেছে।  বিজেপি নিজেদের জয় নিয়ে আত্মবিশ্বাসী।

  • BJP Sankalpa Patra: বিধানসভা নির্বাচনে অভিনব পদক্ষেপ, আমজনতার পরামর্শে বাংলায় বিজেপির সংকল্পপত্র

    BJP Sankalpa Patra: বিধানসভা নির্বাচনে অভিনব পদক্ষেপ, আমজনতার পরামর্শে বাংলায় বিজেপির সংকল্পপত্র

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: বাংলায় বিধানসভা নির্বাচনের ঘণ্টা বেজে গিয়েছে। এই আবহে নির্বাচনী ‘সংকল্পপত্র’ বা ইস্তাহার (Sankalp Patra) তৈরিতে অভূতপূর্ব পদক্ষেপ করল রাজ্য বিজেপি। গতানুগতিকভাবে দলের গুটি কয়েক নেতার ঘরে বসে ইস্তাহার তৈরির প্রথা ভেঙে, এবার সরাসরি সাধারণ মানুষের পরামর্শ নিয়ে ইস্তাহার গড়ার সিদ্ধান্ত নিল পদ্ম শিবির। শনিবার এক সাংবাদিক বৈঠকে এই কর্মসূচির বিস্তারিত ঘোষণা করলেন রাজ্য বিজেপি সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য।

    মানুষের কথা শুনে সংকল্প পত্র

    এবার নির্বাচনী সংকল্পপত্রে (BJP Sankalpa Patra) মানুষের সমস্যা ও চাহিদার কথাই তুলে ধরার সিদ্ধান্ত নিল রাজ্য বিজেপি। সেজন্য বড় পদক্ষেপ করল গেরুয়া শিবির। রাজ্যের কোণায় কোণায় মানুষের কাছে পৌঁছে তাঁদের সমস্যার কথা শোনার উদ্যোগ নেওয়া হল। একইসঙ্গে একটি নম্বরও জানানো হল রাজ্য বিজেপির তরফে। যে নম্বরে ফোন করে যে কেউ নিজের পরামর্শ জানাতে পারবেন। মানুষের সেই সব পরামর্শ গ্রহণ করেই নির্বাচনী সংকল্পপত্র তৈরি করা হবে বলে শনিবার জানালেন রাজ্য বিজেপির সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য। তিনি (Shamik Bhattacharya) এদিন জানান, ‘এই সরকারের হাত থেকে পশ্চিমবঙ্গবাসীর মুক্তি যখন নিশ্চিত, তখন আপনারাও আপনাদের পরামর্শ দিন।’ মানুষের দাবি ও সমস্যাগুলি সরাসরি শোনার জন্য রাজ্যজুড়ে ১০০০টি জায়গায় ড্রপ বক্স বসানো হচ্ছে। আগামী ১৮ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত এই ড্রপ বক্সে সাধারণ মানুষ তাঁদের মতামত জমা দিতে পারবেন।

    কেন এই অভিনব পদক্ষেপ

    পাশাপাশি, প্রযুক্তির সাহায্য নিয়েও মানুষের কাছে পৌঁছতে চাইছে বিজেপি। মতামত জানানোর জন্য একটি বিশেষ টোল-ফ্রি নম্বর চালু (Toll Free Number) করা হয়েছে, নম্বরটি হল— ৯৭২৭২৯৪২৯৪। এছাড়াও কিউআর কোড স্ক্যান করে বিজেপির ওয়েবসাইটে গিয়ে অথবা ইমেল মারফতও যে কেউ তাঁদের পরামর্শ পাঠাতে পারবেন। বিজেপির লক্ষ্য সমাজের সর্বস্তরের মানুষের কাছে পৌঁছানো। রাজ্যে ভারী শিল্প আনতে এবং শিল্পবান্ধব পরিবেশ তৈরিতে শিল্পপতিদের কাছ থেকেও সুনির্দিষ্ট পরামর্শ চাওয়া হচ্ছে। এর পাশাপাশি সমাজের বিভিন্ন ক্ষেত্রের বিশিষ্ট ব্যক্তিদের প্রায় ১০ হাজার চিঠি লিখছে দল। শমীক ভট্টাচার্য বলেন, ‘কোনও দলের সরকার না হয়ে যাতে মানুষের সরকার হয়, সেই লক্ষ্যেই এই উদ্যোগ। ফেব্রুয়ারির মাসের শেষেই আমরা এই সংকল্পপত্র নিয়ে মানুষের কাছে যাব।’ তিনি আরও বলেন, “অতীতে বাংলায় দেখা গিয়েছে, ইস্তাহার নির্বাচনের শেষ মুহূর্ত প্রকাশ হত। দলের কয়েকজন মুষ্টিমেয় এই ইস্তাহার করে।” কোনও দলের সরকার না হয়ে, যাতে মানুষের সরকার হয়, সেজন্য সংকল্প পত্রে মানুষের পরামর্শ নেওয়া হচ্ছে বলে মত শমীকের।

  • Geetapath: লক্ষ লক্ষ কণ্ঠে গীতার বাণীতে মুখরিত ব্রিগেড, অনুষ্ঠানের ধারা বিবরণী

    Geetapath: লক্ষ লক্ষ কণ্ঠে গীতার বাণীতে মুখরিত ব্রিগেড, অনুষ্ঠানের ধারা বিবরণী

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: লাখ লাখ কণ্ঠে গীত হচ্ছে গীতা (Geetapath)। ব্রিগেডজুড়ে (Brigade) ভাবগম্ভীর পরিবেশ। ধূপের গন্ধে ম ম করছে গোটা চত্বর। সাধু-সন্তদের পাশাপাশি গীতা পাঠ করছে আমজনতাও। এই জনতার ভিড়ে যেমন ছিলেন হিন্দুরা, তেমনি সংখ্যায় কম হলেও, ছিলেন ভিন ধর্মের কিছু মানুষও। সবার সঙ্গেই গলা মেলালেন তাঁরাও। বস্তুত, রবিবার ভোর থেকেই জনতা ছিল ব্রিগেডমুখী। হাওড়া এবং শিয়ালদহ থেকে দলে দলে লোক যোগ দিতে যান গীতা পাঠের আসরে। ঘোড়ার গাড়িতে করে মঞ্চে এসেছেন বেশ কয়েকজন সাধু-সন্তও। ঘড়ির কাঁটায় যখন ঠিক ন’টা বাজে, তখনই এক সঙ্গে বেজে উঠল কয়েক হাজার শাঁখ। বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে বেড়েছে ভিড়ও।

    সনাতন সংস্কৃতি পর্ষদ (Geetapath)

    ব্রিগেডে এদিন পাঁচ লাখ কণ্ঠে গীতা পাঠের আয়োজন করেছে সনাতন সংস্কৃতি পর্ষদ। এদিন প্রথমে হয়েছে সমবেত কণ্ঠে বেদপাঠ। পরে হয় গীতা আরতি। এই আরতির সময় ঢাক, খোল এবং করতাল নিয়ে ভাবাবিষ্ট হয়ে নৃত্য করতে দেখা যায় জনতার একাংশকে। এই সময় উলুধ্বনিও দিতে থাকেন মহিলারা। অনুষ্ঠানে সভাপতি পদে বরণ করে নেওয়া হয় জ্ঞানানন্দজি মহারাজকে। ব্রিগেডের এই ভিড় সামাল দিতে বিভিন্ন রুটে ২০টি স্পেশাল ট্রেনের ব্যবস্থা করেছিল রেল। শিয়ালদহের পাশাপাশি হাওড়া শাখায়ও চলছে বিশেষ ট্রেন। ট্রেন এসেছে কৃষ্ণনগর, শান্তিপুর, বনগাঁ, হাসনাবাদ, লক্ষ্মীকান্তপুর, ডায়মন্ড হারবার এবং ক্যানিং থেকেও। ট্রেনগুলিতে কার্যত তিল ধারণের জায়গা ছিল না। প্রবীণ ব্যক্তিদের অনেকের মতে, দীর্ঘদিন পরে এমন জনসমাবেশ দেখল ব্রিগেড। এদিনের ভিড় ছাপিয়ে গিয়েছে অতীতের সব রেকর্ড।

    আয়োজনের পুরোধা

    এদিন এই আয়োজনের পুরোধা ছিলেন স্বামী প্রদীপ্তানন্দ মহারাজ, যাঁকে কার্তিক মহারাজ বলেই চেনেন সবাই। তাঁর সঙ্গে মঞ্চে ছিলেন নির্গুনানন্দ ব্রহ্মচারী, বন্ধুগৌরব দাস মহারাজেরাও (Geetapath)। বিভিন্ন রাজ্য থেকে আসা সাধু-সন্তরা ছিলেন মূল মঞ্চে। বাকি দুটি মঞ্চে ছিলেন এরাজ্যের সাধু-সন্ত এবং বিশিষ্টজনেরা। গীতা পাঠের (Brigade) অনুষ্ঠানে যোগ দিতে আসা মানুষের নিরাপত্তার কথা মাথায় রেখে কড়া নিরাপত্তার চাদরে মুড়ে ফেলা হয় গোটা এলাকা। মাঠজুড়ে নির্মাণ করা হয়েছে ২৫টি গেট। সব মিলিয়ে মঞ্চ বাঁধা হয়েছে তিনটি। মূল মঞ্চের পাশেই রয়েছে আরও দুটি মঞ্চ। মঞ্চের নীচে সোফায় বসার ব্যবস্থা ছিল কেন্দ্রীয় মন্ত্রী সুকান্ত মজুমদার, রাজ্যের বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী, বিজেপির রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্যদের। ভিআইপিদের বসার জন্যও ছিল লাল রংয়ের চেয়ার। ব্রিগেডের শেষ প্রান্তের মানুষজনও যাতে অনুষ্ঠান চাক্ষুষ করতে পারেন, সেজন্য টাঙানো হয়েছিল বেশ কয়েকটি জায়ান্ট স্ক্রিন। ভিড়ের কারণে সেই স্ক্রিনেই মূল অনুষ্ঠান দেখতে বাধ্য হয়েছেন বহু মানুষ (Geetapath)।

    গীতা আরতি

    এদিন গীতা পাঠ করতে ব্রিগেডে আসা মানুষকে সাহায্য করতে দুটি শিবির করা হয়েছিল হাওড়া স্টেশনের বাইরে। এই শিবির তৈরি করেছিল পশ্চিমবঙ্গ সরকারি কর্মচারী পরিষদের তরফে। ভিড়ে চোটে যাঁরা বুঝতে পারছেন না, ঠিক কোন দিকে যাবেন অনুষ্ঠানে যোগ দিতে, তাঁরা নানা প্রশ্ন নিয়ে চলে গিয়েছেন ক্যাম্পে। তারপর কেউ ফেরি চড়ে, কেউবা বাসে চড়ে রওনা দেন গন্তব্যের দিকে। পায়ে হেঁটেও অনেকেই দেখা গেল ব্রিগেডের দিকে যেতে। এদিনের অনুষ্ঠানে অবশ্য গোটা গীতা পাঠ করা হয়নি। পাঠ করা হয়েছে কেবল প্রথম, নবম এবং অষ্টাদশ অধ্যায়। এর আগে মঞ্চে প্রতিষ্ঠা করা হয় গীতাকে। পরে হয় আরতি। তারও পরে শুরু হয় গীতা পাঠ। সব শেষে হয়েছে বিশিষ্ট ব্যক্তিদের প্রবচন (Geetapath)। এদিনের এই (Brigade) অনুষ্ঠানে যোগ দিতে যেমন মানুষ এসেছেন তামাম ভারত থেকে, তেমনি লোকজন এসেছেন নেপাল এবং বাংলাদেশ থেকেও।

    এত বড় সমবেত কণ্ঠে গীতা পাঠ

    উদ্যোক্তাদের তরফে জানানো হয়েছে, এদিনের অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকার জন্য আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি, রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মু এবং মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কেও। তবে অসমর্থিত একটি সূত্রের খবর, অনুষ্ঠানে হাজির হননি মমতা। ওয়াকিবহাল মহলের মতে, তৃণমূলের ভোটব্যাঙ্কে যাতে টোল না লাগে, তা-ই এদিনের অনুষ্ঠান সযত্নে এড়িয়ে গিয়েছেন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী। সনাতন সংস্কৃতি পরিষদের দাবি, কলকাতা বা কেবল বাংলা নয়, ভারতের ইতিহাসেও এত বড় সমবেত কণ্ঠে গীতা পাঠ এই প্রথমবার (Geetapath)। গত বছরই প্রথমবারের জন্য লক্ষ কণ্ঠে গীতা পাঠের আয়োজন করা হয়েছিল এই ব্রিগেডেই। তবে সেবার মাঠ ভরেনি বলেই দাবি করেছিল রাজ্যের শাসক দল। এবার লক্ষ কণ্ঠ নয়, গীতা পাঠ করেছেন পাঁচ লাখেরও বেশি মানুষ। এই প্রথম ব্রিগেড (Brigade) প্রত্যক্ষ করল ভারতে রয়েছে বৈচিত্র্যের মধ্যে ঐক্যের ছবি।

LinkedIn
Share