Tag: bjp

bjp

  • Assembly Elections 2026: অসম ফের বিজেপির দখলে, বাকি দুই রাজ্যে হাড্ডাহাড্ডি লড়াই, বলছে এক্সিট পোল

    Assembly Elections 2026: অসম ফের বিজেপির দখলে, বাকি দুই রাজ্যে হাড্ডাহাড্ডি লড়াই, বলছে এক্সিট পোল

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: কেবল পশ্চিমবঙ্গ নয়, আগামী ৪ মে ফল ঘোষণা হবে দেশের আরও তিন রাজ্যের বিধানসভার (Assembly Elections 2026)। এই রাজ্য তিনটি হল অসম, তামিলনাড়ু এবং কেরল। কেন্দ্রশাসিত পুদুচেরির ফল ঘোষণাও হবে ওই দিনই (Exit Poll)। বুধবারই বাংলায় সাঙ্গ হল দু’দফার ভোট-পর্ব। তার পরেই শুরু হয়ে গিয়েছে কোন রাজ্যে কে ক্ষমতায় আসছে, তা নিয়ে জল্পনা। এর কারণ একাধিক এক্সিট পোল বা  বুথ ফেরত সমীক্ষার ফল। দেখে নেওয়া যাক, কী বলছেন ভোট বিশেষজ্ঞরা।

    অসমের এক্সিট পোল

    ১২৬ আসন বিশিষ্ট অসম বিধানসভায় ম্যাজিক ফিগার ৬৪। একাধিক বুথ ফেরত সমীক্ষার ফল বলছে, অসমে ফের ক্ষমতায় আসছে বিজেপি। অ্যাক্সিস মাই ইন্ডিয়ার বুথ ফেরত সমীক্ষা বলছে, বিজেপি পেতে পারে ৮৮ থেকে ১০০টি আসন। কংগ্রেস পেতে পারে ২৪ থেকে ৩৬টি আসন। একটিও আসনও পাচ্ছে না এআইইউডিএফ। অন্যরা পেতে পারে শূন্য থেকে ৩টি আসন। জনমত পোলস-এর বুথ ফেরত সমীক্ষা বলছে, বিজেপি পেতে পারে ৮৭ থেকে ৯৮টি আসন। কংগ্রেস পেতে পারে ২৯ থেকে ৩০টি আসন। অন্যরা কোনও আসন পাবে না। জেভিসির বুথ ফেরত সমীক্ষার ফল বলছে, বিজেপি পেতে পারে ৮৮ থেকে ১০১টি আসন। কংগ্রেসের ঝুলিতে যেতে পারে ২৩ থেকে ৩৩টি আসন। এআইইউডিএফ পেতে পারে ২ থেকে ৫টি আসন (Exit Poll)। কামাক্ষ্যা অ্যানালিটিকসের বুথ ফেরত সমীক্ষা বলছে, বিজেপি পেতে পারে ৮৫ থেকে ৯৫টি আসন। কংগ্রেস পেতে পারে ২৬ থেকে ৩৯টি আসন। অন্যরা পেতে পারে বড়জোর ৩টি আসন (Assembly Elections 2026)।

    তামিলনাড়ুর এক্সিট পোল

    দক্ষিণের দুটি রাজ্যেও হয়েছে বিধানসভার নির্বাচন। তামিলনাড়ু বিধানসভার আসন সংখ্যা ২৩৪। ম্যাজিক ফিগার ১১৮টি আসন। বিভিন্ন বুথ ফেরত সমীক্ষা বলছে, তামিলনাড়ুতে এবার হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ের সম্ভাবনা। লড়াইয়ের ময়দানে রয়েছে শাসকদল ডিএমকে, এডিএমকে এবং অভিনেতা বিজয়ের নয়া রাজনৈতিক দল টিভিকে-ও। এবার সরকার গঠনে নির্ণায়ক ভূমিকা নিতে পারে এই নয়া দল। ঘুরে দাঁড়াতে পারে এডিএমকে-ও। অ্যাক্সিস মাই ইন্ডিয়ার বুথ ফেরত সমীক্ষা বলছে, ডিএমকে পেতে পারে ৯২ থেকে ১১০টি আসন। এডিএমকে পেতে পারে ২২ থেকে ২৩টি আসন। টিভিকের ঝুলিতে যেতে পারে ৯৮ থেকে ১২০টি আসন।

    বুথ ফেরত সমীক্ষা

    জেভিসির বুথ ফেরত সমীক্ষা অনুযায়ী, ডিএমকে পেতে পারে ৭৫ থেকে ৯৫টি আসন। এডিএমকে পেতে পারে ১২৮ থেকে ১৪৭টি আসন। টিভিকে পেতে পারে ৮ থেকে ১৫টি আসন। অন্যরা কোনও আসনই পাবে না (Assembly Elections 2026)।কামাক্ষ্যা অ্যানালেটিকসের বুথ ফেরত সমীক্ষার ফল বলছে, ডিএমকে পেতে পারে ৭৮ থেকে ৯৫টি আসন। এডিএমকে পেতে পারে ৬৮ থেকে ৮৪টি আসন। টিভিকে পেতে পারে ৬৭ থেকে ৮১টি আসন (Exit Poll)। ম্যাট্রিজের বুথ ফেরত সমীক্ষা অনুযায়ী, ডিএমকে পেতে পারে ১২২ থেকে ১৩২টি আসন। এডিএমকে পেতে পারে ৮৭ থেকে ১০০টি আসন। টিভিকের ঝুলিতে পড়তে পারে ১০ থেকে ১২টি আসন। অন্যরা খুব বেশি হলে পেতে পারে ৬টি আসন।

    কেরলের এক্সিট পোল

    দক্ষিণের আর এক রাজ্য কেরলেও হয়েছে বিধানসভা নির্বাচন। ১৪০ আসন বিশিষ্ট এই বিধানসভায় ম্যাজিক ফিগার ৭১টি আসন। একাধিক বুথ ফেরত সমীক্ষার ফল বলছে, কেরলে এবার সরকার পরিবর্তন হতে চলেছে। বামেদের ক্ষমতাচ্যুত করে সরকার গড়তে পারে কংগ্রেস নেতৃত্বাধীন ইউডিএফ। অ্যাক্সিস মাই ইন্ডিয়ার বুথ ফেরত সমীক্ষা বলছে, এলডিএফ ৪৯ থেকে ৬২টি আসন পেতে পারে। ইউডিএফ পেতে পারে ৭৮ থেকে ৯০টি আসন। বিজেপি পেতে পারে সর্বোচ্চ ৩টি আসন (Assembly Elections 2026)। পিপলস ইনসাইটের বুথ ফেরত সমীক্ষায় দাবি, বামেদের জোট এলডিএফ পেতে পারে ৫৮ থেকে ৬৮টি আসন। ইউডিএফ পেতে পারে ৬৬ থেকে ৭৬টি আসন। পদ্ম-ঝুলিতে পড়তে পারে ১০ থেকে ১৪টি আসন। অন্যরা পাবে সর্বোচ্চ একটি আসন (Exit Poll)। পিপলস পালসের বুথ ফেরত সমীক্ষায় দাবি, এলডিএফ পেতে পারে ৫৫ থেকে ৬৫টি আসন। ইউডিএফ পেতে পারে ৭৫ থেকে ৮৫টি আসন। বিজেপি পেতে পারে সর্বোচ্চ ৩টি আসন। ভোট ভাইবের বুথ ফেরত সমীক্ষা অনুযায়ী, এলডিএফ পেতে পারে ৫৮ থেকে ৬৮টি আসন। ইউডিএফ পেতে পারে ৭০ থেকে ৮০টি আসন। অন্যরা পেতে পারে বড়জোর ৪টি আসন। বিজেপি কোনও আসনই পাবে না (Assembly Elections 2026)।

    পুদুচেরির এক্সিট পোল

    কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল পুদুচেরি বিধানসভার ফলও বেরবে ৪ তারিখেই। ৩০ আসন বিশিষ্ট এই বিধানসভায় সরকার গড়তে প্রয়োজন ১৬টি আসনের। বিভিন্ন বুথ ফেরত সমীক্ষা বলছে, এনআরসির নেতৃত্বাধীন শাসকদল এবার ক্ষমতা ধরে রাখতে পারবে। অ্যাক্সিস মাই ইন্ডিয়ার বুথ ফেরত সমীক্ষা বলছে, এনআরসি পেতে পারে ১৬ থেকে ২০টি আসন। কংগ্রেস ও তার সহযোগীরা পেতে পারে ৬ থেকে ৮টি আসন। অভিনেতা বিজয়ের টিভিকের ঝুলিতে যেতে পারে ২ থেকে ৪টি আসন। অন্যরা পেতে পারে এক থেকে তিনটি আসন (Exit Poll)। কামাক্ষ্যা অ্যানালিটিকসের বুথ ফেরত সমীক্ষার দাবি, এনআরসি এবং তার সহযোগীরা পেতে পারে ১৭ থেকে ২৪টি আসন। কংগ্রেসের ঝুলিতে পড়তে পারে ৪ থেকে ৭টি আসন। টিভিকে পেতে পারে ১ থেকে ২টি আসন। অন্যরা পেতে পারে সর্বোচ্চ একটি আসন। পিপলস পালসের সমীক্ষা বলছে, এনআরসি পেতে পারে ১৬ থেকে ১৯টি আসন। কংগ্রেসের ঝুলিতে যেতে পারে ১০ থেকে ১২টি আসন। টিভিকে কোনও আসনই পাচ্ছে না। অন্যরা পেতে পারে ১ থেকে ২টি আসন (Assembly Elections 2026)। প্রাইয়া পোলের বুথ ফেরত সমীক্ষার দাবি, এনআরসি এবং তাদের সহযোগীরা পেতে পারে ১৯ থেকে ২৫টি আসন। কংগ্রেস ও তার সহযোগীরা পেতে পারে ৬ থেকে ১০টি আসন। টিভিকে কোনও আসন পাবে না। অন্যদের অবস্থাও তথৈবচ (Exit Poll)।

     

  • Delhi Mayor: দিল্লি পুরসভার মেয়র হলেন বিজেপির প্রবেশ ওয়াহি

    Delhi Mayor: দিল্লি পুরসভার মেয়র হলেন বিজেপির প্রবেশ ওয়াহি

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: দিল্লি মিউনিসিপ্যাল কর্পোরেশনের (এমসিডি) মেয়র নির্বাচিত হলেন বিজেপি কাউন্সিলর প্রবেশ ওয়াহি। রোহিণী পূর্ব, ৫৩ নম্বর ওয়ার্ডের পদ্ম-কাউন্সিলর তিনি। ডেপুটি মেয়র নির্বাচিত হয়েছেন আনন্দ বিহারের বিজেপি কাউন্সিলর মনিকা পন্ত। এক্স হ্যান্ডেলে একটি পোস্টে দু’জনকেই অভিনন্দন জানিয়েছে এমসিডি। মেয়র ও ডেপুটি মেয়র — উভয়েই বিজেপির সদস্য। বিজেপির রাজা ইকবাল সিং ছিলেন বিদায়ী এমসিডি মেয়র। এর আগে, দিল্লির লেফটেন্যান্ট গভর্নর (এলজি) তরণজিৎ সিং সান্ধু এমসিডি নির্বাচনে সিংকে প্রিসাইডিং অফিসার হিসেবে নিয়োগ করেছিলেন।

    আপের অঙ্গীকার নিয়েই প্রশ্ন (Delhi Mayor)

    বুধবার সকালেই রাজ্যসভার সাংসদ স্বাতী মালিওয়াল, যিনি আনুষ্ঠানিকভাবে বিজেপিতে যোগ দিয়েছেন, এমসিডি মেয়র নির্বাচনে প্রার্থী না দেওয়ায় আপের সমালোচনা করেন। তিনি জানান, হার নিশ্চিত জানলেও গণতন্ত্রের প্রতি বিশ্বাস রাখা উচিত। আপ সুপ্রিমো অরবিন্দ কেজরিওয়ালকে কটাক্ষ করে তিনি জানান, আপের প্রার্থী না দেওয়ার সিদ্ধান্ত দলটির গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার প্রতি অঙ্গীকার নিয়েই প্রশ্ন তোলে। সংবাদ মাধ্যমে সাক্ষাৎকার দিতে গিয়ে তিনি বলেন, “অরবিন্দ কেজরিওয়ালের দল কোনও প্রার্থী দেননি। এটা কেমন রাজনীতি? তাদের উচিত গণতন্ত্রে বিশ্বাস রাখা। তারা জানে যে তারা হারবে, তবুও তাদের উচিত ছিল নির্বাচন লড়া।”

    ট্রিপল-ইঞ্জিন সরকার

    তিনি জানান, এমসিডি জাতীয় রাজধানীর উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে এবং নাগরিক প্রশাসন ও রাজ্য সরকারের মধ্যে সমন্বয়ের প্রয়োজনীয়তার ওপর জোর দেন। তিনি বলেন, “দিল্লির উন্নয়নের জন্য এমসিডি খুবই গুরুত্বপূর্ণ। যতদিন দিল্লিতে আপ সরকার ক্ষমতায় ছিল, তারা একে খুব খারাপ অবস্থায় ফেলে রেখেছিল। এখন এমসিডি ও দিল্লি সরকারকে একসঙ্গে কাজ করতে হবে।” একই ধরনের মন্তব্য করে, মেয়র নির্বাচনে আপ প্রার্থী না দেওয়া প্রসঙ্গে বিজেপি বিধায়ক রবিন্দর সিং নেগি বলেন, “আপ জানে তারা হারবে, তাই তারা কাউকেই প্রার্থী করেনি।” তিনি বলেন, “আপ প্রার্থী দিচ্ছে না কারণ তারা জানে তারা নির্বাচনে হারবে, যেহেতু তাদের সংখ্যাগরিষ্ঠতা নেই। দিল্লিতে এখন ট্রিপল-ইঞ্জিন সরকার রয়েছে, যা ঐতিহাসিক কাজ করছে, এবং এটি আরও শক্তিশালী হবে।”

     

  • Assembly Election 2026: ভয়হীন ভোটদান! দুই দফাতেই পড়ল রেকর্ড সংখ্যক ভোট, কোন রাজ্যের রেকর্ড ভেঙে ভারত-সেরা বাংলা?

    Assembly Election 2026: ভয়হীন ভোটদান! দুই দফাতেই পড়ল রেকর্ড সংখ্যক ভোট, কোন রাজ্যের রেকর্ড ভেঙে ভারত-সেরা বাংলা?

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ভারত সেরা বাংলা। ভোটদানে (Assembly Election 2026) রেকর্ড গড়েছে পশ্চিমবঙ্গ। বুধবার দ্বিতীয় তথা শেষ দফার ভোটগ্রহণ শেষে মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমার ঘোষণা করেছেন যে, স্বাধীনতার পর থেকে এবারই দুই দফার নির্বাচনে রাজ্যে সর্বোচ্চ শতাংশ ভোট পড়েছে। নির্বাচন কমিশনের ‘ECINet’ অ্যাপের তথ্য অনুযায়ী, বুধবার রাত ১২টা পর্যন্ত ভোটদানের হার ছিল ৯২.৬৩ শতাংশ। নির্বাচন কমিশনের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী বাংলায় মোট ভোট পড়েছে ৯২.৯৩ শতাংশ। মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের দাবি, স্বাধীনতার পর যত ভোট হয়েছে এবারই রেকর্ড হয়েছে বাংলায়। ভোটদানের এই হার সাম্প্রতিক নির্বাচনগুলোর সমস্ত রেকর্ডকে ছাপিয়ে গিয়েছে।

    সারা দেশে ভোটদানে নজির বাংলার

    প্রথম দফাতেই ইঙ্গিত মিলেছিল। দেশের সর্বকালের সর্বোচ্চ ভোটের হারের রেকর্ড গড়ে ফেলল পশ্চিমবঙ্গ। দ্বিতীয় দফার নির্বাচনের পর এ রাজ্যে রাত ১২টা পর্যন্ত কমিশন ৯২.৬৩ শতাংশ ভোট পড়ার কথা জানিয়েছে। এখনও কমিশনের তরফে চূড়ান্ত ভোটের হার প্রকাশ করা হয়নি। তবে এ পর্যন্ত যে পরিসংখ্যান এসেছে, তাতে দেশের এর আগের সমস্ত নজির ভেঙে গিয়েছে। প্রথম ও দ্বিতীয় দফা মিলিয়ে রাজ্যে মোট ভোটের হার দাঁড়িয়েছে ৯২.৯৩ শতাংশ। পশ্চিমবঙ্গে প্রথম দফার ১৫২টি আসনে ভোটগ্রহণ হয় গত ২৩ এপ্রিল। ভোট পড়েছিল ৯৩.১৯ শতাংশ। সে দিনই দেশের মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমার জানিয়ে দিয়েছিলেন, স্বাধীনতার পর থেকে পশ্চিমবঙ্গে এত ভোট কখনও পড়েনি। দ্বিতীয় দফাতেও ভোটের হারে নজির তৈরি হল।

    কোন রাজ্যের রেকর্ড ভাঙল বাংলা

    এর আগে দেশের সর্বকালের সর্বোচ্চ ভোটদানের রেকর্ড ছিল ত্রিপুরার দখলে। সেখানে ২০১৩ সালে‌ ৯১.৮২ শতাংশ ভোট পড়েছিল, যা এত দিন পর্যন্ত দেশে বিধানসভা নির্বাচনের নিরিখে সর্বোচ্চ ছিল। ১৩ বছর ধরে ওই নজির অক্ষত ছিল। পশ্চিমবঙ্গের ভোট তা ভেঙে দিল। উত্তর-পূর্বের রাজ্যগুলিতে বরাবরই ভোট বেশি পড়ে। কমিশনের পরিসংখ্যান ঘেঁটে দেখা যাচ্ছে, ১৯৯৩ সালে নাগাল্যান্ডে ৯১.৫৩ শতাংশ, ১৯৯৫ সালে মণিপুরে ৯১.৪১ শতাংশ, ২০০৮ সালে মেঘালয়ে ৮৮.৯৯ শতাংশ, ২০২৪ সালে অরুণাচল প্রদেশে ৮২.২৯ শতাংশ, ১৯৯৯ সালে সিকিমে ৮১.৮৩ শতাংশ, মিজোরামে ১৯৮৯ সালে ৮১.৩০ শতাংশ সর্বোচ্চ ভোট পড়েছিল। এসআইআর-এর পর ২০২৬ সালে অসমেও ভোটের হারে নজির তৈরি হয়েছে। সেখানে ভোট পড়েছে ৮৫.৩৮ শতাংশ, এখনও পর্যন্ত ওই রাজ্যের নিরিখে সর্বোচ্চ।

    রাজনৈতিক চাপানউতোর

    ভোটের এই পরিসংখ্যান নিয়ে রাজনৈতিক চাপানউতোরও তুঙ্গে। কলকাতার হাই-ভোল্টেজ কেন্দ্র ভবানীপুরে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের প্রতিদ্বন্দ্বী বিজেপি নেতা শুভেন্দু অধিকারী দাবি করেছেন, তাঁর কেন্দ্রে এবার ৯০ শতাংশের বেশি ভোট পড়েছে, যা এই আসনের জন্য একটি নতুন রেকর্ড। ২০২১ সালে এখানে ৮২ শতাংশ এবং ২০২৪ সালের লোকসভা নির্বাচনে ৭৮ শতাংশ ভোট পড়েছিল। শুভেন্দু অধিকারীর অভিযোগ, বিগত নির্বাচনে শাসকদল জালিয়াতির আশ্রয় নিয়েছিল, কিন্তু এবার কেন্দ্রীয় বাহিনী ও পুলিশি কড়াকড়ির কারণে তারা সফল হতে পারেনি।

    অবাধ এবং শান্তিপূর্ণ নির্বাচন

    ভোট দানে রেকর্ড গড়ার সঙ্গে সঙ্গেই এমন অবাধ এবং শান্তিপূর্ণ নির্বাচন শেষ কবে দেখেছে পশ্চিমবঙ্গ তা ভেবে বলতে হয়। এইভাবে ভোট করানোই ছিল মূলত নির্বাচন কমিশনের (Election Commission) কাছে চ্যালেঞ্জ। ভোটাররা যাতে ভয়হীন ভাবে ভোট দিতে যেতে পারেন, সেই দিকে বারেবারে নজর রেখেছে কমিশন। ভোট শুরুর অনেক আগেই আস্থা জোগাতে বঙ্গে হাজির করানো হয়েছিল কেন্দ্রীয় বাহিনীকে (Central Force)। আর তার ফল মিলল ২৩ এপ্রিল ও ২৯ এপ্রিল হাতে নাতে।  নির্বাচন কমিশনের পরিসংখ্যান বলছে, ২০২১ সালের তুলনায় পশ্চিমবঙ্গে এ বার ৫১ লক্ষ ভোটার কম ছিল। তবে ভোট পড়েছে আগের বারের তুলনায় ৩০ লক্ষেরও বেশি।

    রাজ্যে প্রাণহানি হয়নি, ভয়হীন ভোটদান

    কমিশনের দেওয়া তথ্য বলছে, এবারের ভোটে পাঁচ লক্ষ কর্মী কাজ করেছেন। ফলস ভোটিংয়ের অভিযোগ বেশি এসেছে ঠিকই, তবে হিংসা কম হয়েছে। সব থেকে উল্লেখযোগ্য, দুই দফা ভোটেই কোনও মৃত্যুর ঘটনা ঘটেনি। অথচ পাঁচ বছর আগে ২০২১ সালের বিধানসভা ভোটে ২৪ জনের প্রাণ গিয়েছিল বাংলায়। আবার তারও পাঁচ বছর আগে অর্থাৎ ২০১৬ সালে সাত জন নির্বাচনী হিংসার বলি হয়েছিলেন। কিন্তু এবার সেই সংখ্যাটাই শূন্য। এটা যে কমিশনের বড় সাফল্য তা বলার অপেক্ষা রাখে না। আবার ২০২১ সালে ৬৯টি বোমা উদ্ধার হয়েছিল। কিন্তু এবার একটিও বোমা উদ্ধারের খবর নেই। কমিশন বলছে- একটা সময়ে এক শ্রেণির মানুষ ছিলেন যাঁরা ভোট দানে বিরত থাকতেন। তবে অবাধ ভয়হীন ভোটদানের প্রতি মুহূর্তে প্রচারের জন্য এমন হয়েছে তাঁরাও ভোট দিয়েছেন। বুথ থেকে পোলিং এজেন্টকে বের করে দেওয়া বিশেষ করে বিরোধী দলের পোলিং এজেন্টকে বের করে দেওয়ার ঘটনা বাংলায় নতুন কিছু নয়, তবে উল্লেখযোগ্য ভাবে এবার এমন কিছুই হয়নি। একটাও ঘটনা এমন নয় যেখানে পোলিং এজেন্টকে বের করে দেওয়া হয়েছে।

    দুই দফাতেই শান্তিপূর্ণ ভোট

    কমিশনের পদক্ষেপ নির্বাচনে যাঁরা যাঁরা সমস্যা তৈরি করতে পারেন, তেমন ৬৮৭ জন-কে প্রিভেন্টিভ গ্রেফতার করা হয়েছিল। ব্যাক টেপ-সেলো টেপ, আতর ইত্যাদি অভিযোগ এসেছে মোট ৭৭টি বুথ থেকে। পুনরায় নির্বাচন হবে ফলতার ৩২, মগরাহাটে ১৩, ডায়মণ্ডহারবারে ২৯, বজবজ ৩ বুথে। বাংলার সিইও মনোজ আগরওয়াল বলেন, “পশ্চিমবঙ্গ দেখিয়ে দিয়েছে, দুই দফাতেই শান্তিপূর্ণ ভোট হয়েছে সাত-আট দফার থেকে। কোনও মৃত্যু হয়নি। বড়সড় কোনও গণ্ডগোল হয়নি। ছোটখাটো তো সব জায়গায় হয়। তবে, এবার পশ্চিমবঙ্গ দেখিয়ে দিয়েছে।” পশ্চিমবঙ্গের বিধানসভা নির্বাচনের ইতিহাসে এক অভূতপূর্ব নজির তৈরি হল এই বিপুল উৎসাহকে ‘ভোটের উৎসব, বাংলার গর্ব’ হিসেবে অভিহিত করেছেন মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমার।

    পশ্চিমবঙ্গে এত দিন পর্যন্ত সবচেয়ে বেশি ভোটদানের নজির ছিল ২০১১ সালে। ভোট পড়েছিল ৮৪.৩৩ শতাংশ এবং সেই ভোটে ৩৪ বছরের বাম শাসনের অবসান হয়েছিল। পরিবর্তনের হাওয়ায় রাজ্যে ক্ষমতায় এসেছিল মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের তৃণমূল। এ বারের পশ্চিমবঙ্গে এই বিপুল সংখ্যক বাড়তি ভোট কোন পক্ষে যায়, সেটাই দেখার।

  • Assembly Election 2026: গেরুয়াময় হতে চলেছে পশ্চিমবঙ্গ! বলছে একাধিক সমীক্ষার ফল

    Assembly Election 2026: গেরুয়াময় হতে চলেছে পশ্চিমবঙ্গ! বলছে একাধিক সমীক্ষার ফল

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: গেরুয়াময় হতে চলেছে পশ্চিমবঙ্গ (Assembly Election 2026)! অন্তত রাজ্য বিধানসভার নির্বাচন শেষ হওয়ার পরেই বুথফেরত সমীক্ষার ফলেই মিলেছে এই খবর (TMC vs BJP)। অধিকাংশ সমীক্ষায় দেখা গিয়েছে, এগিয়ে বিজেপি। সংখ্যাগরিষ্ঠতার ম্যাজিক ফিগার ছুঁয়ে ফেলেছে নরেন্দ্র মোদি-অমিত শাহের দল। দু’একটি সমীক্ষায় আবার এগিয়ে তৃণমূল। তবে সর্বত্রই বিজেপি এবং তৃণমূলের মধ্যে লড়াই হবে হাড্ডাহাড্ডি। সংশ্লিষ্ট মহলের মতে, অনেক ক্ষেত্রেই এই ধরনের বুথফেরত বা প্রাক নির্বাচনী জনমত সমীক্ষার ফল মেলে না। তবে আবার একেবারেই যে মেলে না, তাও কিন্তু নয়।

    ম্যাজিক ফিগার (Assembly Election 2026)

    এ রাজ্যে বিধানসভার আসন সংখ্যা ২৯৪। কুর্সিতে বসতে গেলে প্রয়োজন অন্তত ১৪৮টি আসন। একুশের বিধানসভা নির্বাচনে একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেয়েছিল তৃণমূল। বিজেপি পেয়েছিল ৭৭টি আসন। ম্যাট্রিজের বুথফেরত সমীক্ষা বলছে, পশ্চিমবঙ্গে ১৪৬ থেকে ১৬১টি আসন পেতে চলেছে বিজেপি। তৃণমূল পাচ্ছে ১২৫ থেকে ১৪০টি আসন। অন্য দলগুলি পেতে পারে ৬ থেকে ১০টি আসন। বাম বা কংগ্রেস এবারও খাতা খুলতে পারবে না বলেই দাবি ওই সমীক্ষায়।

    এগিয়ে বিজেপি

    চাণক্য স্ট্র্যাটেজির সমীক্ষায় প্রকাশ, বিজেপি ১৫০ পেরিয়ে যাবে। তারা ১৫০ থেকে ১৬০টি আসন পেতে পারে। তৃণমূলের ঝুলিতে পড়তে পারে ১৩০ থকে ১৪০টি আসন। অন্যান্যরা পেতে পারে ৬ থেকে ১০টি আসন। যদিও বাম এবং কংগ্রেসের ঝুলি শূন্য। পি-মার্কের সমীক্ষায় প্রকাশ, এ রাজ্যে ১৫০ থেকে ১৭৫টি আসনে জিততে পারে বিজেপি। তৃণমূল পেতে পারে ১১৮ থেকে ১৩৮টি আসন (TMC vs BJP)। প্রজা পোলের সমীক্ষা অনুযায়ী, বিজেপি পেতে পারে ১৭৮ থেকে ২০৮টি আসন। তৃণমূলের ঝুলিতে পড়তে পারে ৮৫ থেকে ১১০টি আসন। অন্যান্য দল শূন্য থেকে পাঁচটি আসনে জিততে পারে। পোল ডায়েরির সমীক্ষা বলছে, পশ্চিমবঙ্গে ১৪২ থেকে ১৭১টি আসন পেতে পারে বিজেপি। তৃণমূল পেতে পারে ৯৯ থেকে ১২৭টি। অন্যান্যরা পেতে পারে ৫ থেকে ৯টি আসন (Assembly Election 2026)।

    হাড্ডাহাড্ডি লড়াই

    পিপল্‌স পাল্‌সের সমীক্ষায় অবশ্য তৃণমূল এগিয়ে। তারা পাচ্ছে ১৭৮ থেকে ১৮৯টি আসন। বিজেপি পেতে পারে ৯৫ থেকে ১১০টি আসন। কংগ্রেস পেতে পারে ১ থেকে ৩টি আসন, বামেরা শূন্য থেকে একটি আসনে জয় পেতে পারে। জনমত পোল্‌সের সমীক্ষায়ও এগিয়ে তৃণমূল। ১৯৫ থেকে ২০৫টি আসন পেয়ে রাজ্যে ফের ক্ষমতায় আসতে চলেছে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের দল। এই সমীক্ষায় জানা গিয়েছে, বিজেপি পেতে পারে ৮০ থেকে ৯০টি আসন। কংগ্রেসের ঝুলিতে যেতে পারে এক থেকে তিনটি আসন। বামেরা শূন্য থেকে পেতে পারে বড়জোর ১টি আসন। অন্যান্যরা পেতে পারে তিন থেকে পাঁচটি আসন।

    কংগ্রেসের ভাগ্যে শিকে ছিঁড়বে!

    জেভিসির সমীক্ষায়ও এগিয়ে তৃণমূল। তাদের হিসেব বলছে, রাজ্যে ১৩১ থেকে ১৫২টি আসনে এগিয়ে রয়েছে তৃণমূল। বিজেপি পেতে পারে ১৩৮ থেকে ১৫৯টি আসন। কংগ্রেস শূন্য থেকে দু’টি আসন পেতে পারে (TMC vs BJP)। বুধবার ছিল পশ্চিমবঙ্গের দ্বিতীয় তথা শেষ দফার ভোট। এই দফায় ভোট হয়েছে রাজ্যের সাত জেলার ১৪২টি আসনে। এর আগে গত ২৩ এপ্রিল নির্বাচন (Assembly Election 2026) হয়েছিল ১৬টি জেলার ১৫২টি আসনে। এদিকে, বুধবার বিকেল ৫টা পর্যন্ত পূর্ব বর্ধমান জেলায় ভোটদানের হার ছিল ৯২.৪৬ শতাংশ। হুগলিতে এই হার ছিল ৯০.৩৪ শতাংশ, নদিয়ায় ৯০.২৮ শতাংশ, হাওড়ায় ৮৯.৪৪ শতাংশ আর উত্তর ও দক্ষিণ দুই ২৪ পরগনায় ভোটদানের হার ছিল যথাক্রমে ৮৯.৭৪ ও ৮৯.৫৭ শতাংশ। ভোট গণনা হবে ৪ মে।

    প্রসঙ্গত, দ্বিতীয় তথা শেষ দফার নির্বাচনে অংশ নিয়ে বুধবার ভোটাধিকার প্রয়োগ করেন বিদায়ী মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়, রাজ্যের বিদায়ী বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী, তৃণমূলের (TMC vs BJP) সেকেন্ড ইন কমান্ড অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়, বিজেপি প্রার্থী তথা আরজিকর মেডিক্যাল কলেজে ধর্ষণ ও খুনের ঘটনার শিকার তরুণীর মা রত্না দেবনাথ, তৃণমূল সাংসদ মিতালি বাগ, পশ্চিমবঙ্গ বিজেপির সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য (Assembly Election 2026)।

     

     

  • West Bengal Elections 2026: ডায়মন্ড হারবারে ইভিএমে পদ্ম প্রতীকে ‘টেপ’! তৃণমূলকে বিঁধল বিজেপি, পাল্টায় ‘সিংহম’

    West Bengal Elections 2026: ডায়মন্ড হারবারে ইভিএমে পদ্ম প্রতীকে ‘টেপ’! তৃণমূলকে বিঁধল বিজেপি, পাল্টায় ‘সিংহম’

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: রাজ্যে দ্বিতীয় তথা শেষ দফার নির্বাচন (West Bengal Elections 2026) চলাকালীন ফের উত্তপ্ত ডায়মন্ড হারবার (Diamond Harbour)। তৃণমূল সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের লোকসভা এলাকার ফলতা বিধানসভা কেন্দ্রের একাধিক বুথে ইভিএম মেশিনে বিজেপির ‘পদ্ম’ প্রতীকের ওপর সেলোটেপ লাগিয়ে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে তৃণমূল ও বিজেপির মধ্যে শুরু হয়েছে তীব্র রাজনৈতিক তরজা। উল্লেখ্য, এই এলাকার তৃণমূল বিধায়ক জাহাঙ্গীরের বিরুদ্ধে আগেই ভয় দেখানোর অভিযোগে সরব হয়েছিলেন আইপিএস অজয়পাল শর্মা। এবার এই ইভিএমের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেবেন দাবাং অফিসার।

    ‘গণতন্ত্রের কণ্ঠরোধ’ (West Bengal Elections 2026)

    অভিযোগ জানিয়ে বিজেপির পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে যে, ভোটারদের বিভ্রান্ত করতে এবং বিজেপিকে ভোট (West Bengal Elections 2026) দেওয়া থেকে বিরত রাখতে পরিকল্পিতভাবে ইভিএমে পদ্ম প্রতীকের ওপর ব্রাউন টেপ সেঁটে দেওয়া হয়েছে। বিজেপির আইটি সেলের প্রধান অমিত মালব্য টুইট করে এই ঘটনাকে ‘গণতন্ত্রের কণ্ঠরোধ’ বলে অভিহিত করেছেন। গেরুয়া শিবিরের দাবি, অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের এলাকায় (Diamond Harbour) নিশ্চিত পরাজয় বুঝতে পেরেই তৃণমূল এই ধরণের ‘নোংরা রাজনীতি’র আশ্রয় নিচ্ছে। বেশ কিছু বুথে নতুন করে ভোটের (Repolling) দাবিও তুলেছে বিজেপি।

    কমিশনের ভূমিকা

    নির্বাচন কমিশনের তরফে জানানো হয়েছে, ডায়মন্ড হারবার (Diamond Harbour) এবং ফলতার বেশ কিছু বুথ থেকে অভিযোগ জমা পড়েছে। অভিযোগগুলি খতিয়ে দেখা হচ্ছে এবং যেখানে ইভিএম বিকৃতির প্রমাণ মিলবে, সেখানে কড়া আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হবে। কমিশনের আধিকারিকরা সংশ্লিষ্ট বুথগুলির প্রিসাইডিং অফিসারদের (West Bengal Elections 2026) কাছে রিপোর্ট তলব করেছেন। দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণের কথাও জানানো হয়েছে।

    উত্তেজনা তুঙ্গে

    বুধবার সকাল থেকেই ডায়মন্ড হারবারের (Diamond Harbour) বিভিন্ন এলাকায় তৃণমূল এবং বিজেপি কর্মীদের মধ্যে বচসা ও হাতাহাতির খবর মিলেছে। পরিস্থিতি সামাল দিতে মোতায়েন করা হয়েছে বিশাল কেন্দ্রীয় বাহিনী। একদিকে যেমন ইভিএম (West Bengal Elections 2026) বিকৃত করার অভিযোগ উঠছে, অন্যদিকে শাসকদলের পাল্টা দাবি— ভোটাররা স্বতঃস্ফূর্তভাবে তৃণমূলের পক্ষেই জনমত দিচ্ছেন।

    তৃণমূলের পাল্টা জবাব

    তৃণমূল কংগ্রেস টেপকাণ্ডের (West Bengal Elections 2026) অভিযোগ পুরোপুরি ভিত্তিহীন বলে উড়িয়ে দিয়েছে। তৃণমূলের পক্ষ থেকে পাল্টা নিশানা করা হয়েছে বিজেপিকে। বিদ্রুপ করে বলা হয়েছে, “যদি কোনও অভিযোগ থাকে, তবে ‘সিংহম’ অজয় পালের কাছে গিয়ে অভিযোগ জানান।” উল্লেখ্য, আইপিএস অফিসার অজয় পাল শর্মাকে এই দফার জন্য পুলিশ অবজার্ভার হিসেবে নিয়োগ করা হয়েছে। তৃণমূলের দাবি, বিজেপি হার নিশ্চিত জেনে এখন থেকেই অজুহাত খাড়া করতে কেন্দ্রীয় বাহিনী (Diamond Harbour) ও কমিশনের কর্তাদের নাম নিচ্ছেন।

  • Assembly Election 2026: আজ দ্বিতীয় দফা ভোটে ভরকেন্দ্র ভবানীপুর! মমতা বনাম শুভেন্দু হাড্ডাহাড্ডি লড়াই, আর কোথায় কোন হেভিওয়েট প্রার্থী?

    Assembly Election 2026: আজ দ্বিতীয় দফা ভোটে ভরকেন্দ্র ভবানীপুর! মমতা বনাম শুভেন্দু হাড্ডাহাড্ডি লড়াই, আর কোথায় কোন হেভিওয়েট প্রার্থী?

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: আজ, ২৯ এপ্রিল রাজ্যে বিধানসভা নির্বাচনের দ্বিতীয় দফার ভোটগ্রহণ। এই দফায় দফায় মূলত উত্তর ও দক্ষিণ ২৪ পরগনা, কলকাতা, হাওড়া, হুগলি, পূর্ব বর্ধমানে নির্বাচন হচ্ছে। ৭ জেলার ১৪২ আসনে ভোটগ্রহণ হচ্ছে। ভবানীপুরে রয়েছে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং শুভেন্দু অধিকারীর হাড্ডাহাড্ডি ফাইট। স্বাধীনতার পর পশ্চিমবঙ্গে সর্বোচ্চ ভোটদান হয়েছে এবারের বিধানসভা নির্বাচনে। প্রথম দফায় ভোট পড়েছে ৯২.৩৫ শতাংশ। রাজ্যের ১৬টি জেলায় ১৫২টি আসনে ভোটগ্রহণ সম্পন্ন। এবার দ্বিতীয় দফার নির্বাচন। এই পর্বে ভোট রয়েছে- পূর্ব বর্ধমান (১৬), হুগলি (১৮), হাওড়া (১৬), কলকাতা (১১), উত্তর ২৪ পরগনা (৩৩) ও দক্ষিণ ২৪ পরগনা (৩১) ও নদিয়া (১৭) জেলায়।

    মমতা বনাম শুভেন্দু লড়াই

    দ্বিতীয় দফার ভোটের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হল, ভবানীপুর কেন্দ্রে ভোট। কারণ, এই আসন থেকে লড়াই করছেন তৃণমূলেনত্রী তথা রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। অন্যদিকে, তাঁর কঠিনতম প্রতিদ্বন্দ্বী রয়েছেন বিজেপি প্রার্থী তথা বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী। গত বিধানসভা ভোটে শুভেন্দুর কাছেই নন্দীগ্রামে পরাস্ত হতে হয়েছিল মমতাকে। কাজেই, এবার কি হয় সেদিকে তাকিয়ে গোটা রাজ্য। শুধু রাজ্য নয় সারা দেশের নজর এখন ভবানীপুর আসনের দিকে। পশ্চিমবঙ্গের রাজনৈতিক কল্পনায় ভবানীপুর এখন আর শুধু দক্ষিণ কলকাতার একটি বিধানসভা আসন নয়। এটি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের রাজনৈতিক আশ্রয় ও ঘরের মাঠ। বিজেপির বেছে নেওয়া মনস্তাত্ত্বিক রণক্ষেত্র, যেখানে সেই লড়াইয়ের মঞ্চ প্রস্তুত, যাকে বাংলার অনেকেই ‘সব নির্বাচনী লড়াইয়ের ভরকেন্দ্র’ বলে অভিহিত করছেন।

    লড়াইয়ে আর কোন কোন হেভিওয়েট প্রার্থীরা

    নদিয়া

    • সোহম চক্রবর্তী: করিমপুরের TMC প্রার্থী।
    • রুকবানুর রহমান: পলাশিপাড়ার TMC প্রার্থী
    • সাবিনা ইয়াসমিন: কালীগঞ্জের CPIM প্রার্থী।
    • সবুজ দাস: কল্যাণীর CPIM প্রার্থী।

    উত্তর ২৪ পরগনা

    • মধুপর্ণা ঠাকুর: বাগদার TMC প্রার্থী।
    • সোমা ঠাকুর: বাগদার BJP প্রার্থী।
    • সুব্রত ঠাকুর: গাইঘাটার BJP প্রার্থী।
    • জ্যোতিপ্রিয় মল্লিক: হাবরার TMC প্রার্থী।
    • কাশেম সিদ্দিকি: আমডাঙার TMC প্রার্থী।
    • পবন সিং: ভাটপাড়ার BJP প্রার্থী।
    • তৃণাঙ্কুর ভট্টাচার্য: নোয়াপাড়া TMC প্রার্থী।
    • অর্জুন সিং: নোয়াপাড়ার BJP প্রার্থী।
    • রাজ চক্রবর্তী: ব্যারাকপুরের TMC প্রার্থী।
    • কৌস্তভ বাগচী: ব্যারাকপুরের BJP প্রার্থী।
    • দেবদীপ পুরোহিত: খড়দার TMC প্রার্থী।
    • দেবজ্যোতি দাস: খড়দার CPIM প্রার্থী।
    • চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য: দমদম উত্তরের TMC প্রার্থী।
    • দীপ্সিতা ধর: দমদম উত্তরের CPIM প্রার্থী।
    • রত্না দেবনাথ: পানিহাটির BJP প্রার্থী।
    • কলতান দাশগুপ্ত: পানিহাটির CPIM প্রার্থী।
    • মদন মিত্র: কামারহাটির TMC প্রার্থী।
    • মানস মুখোপাধ্যায়: কামারহাটির CPIM প্রার্থী।
    • সায়ন্তিকা বন্দ্যোপাধ্যায়: বরানগরের TMC প্রার্থী।
    • সজল ঘোষ: বরানগরের BJP প্রার্থী।
    • সায়নদীপ মিত্র: বরানগরের CPIM প্রার্থী।
    • ব্রাত্য বসু: দমদমের TMC প্রার্থী।
    • ময়ূখ বিশ্বাস: দমদমের CPIM প্রার্থী।
    • তাপস চট্টোপাধ্যায়: রাজারহাট নিউ টাউনের TMC প্রার্থী।
    • সুজিত বসু: বিধাননগরের TMC প্রার্থী।
    • অদিতি মুন্সি: রাজারহাট গোপালপুরের TMC প্রার্থী।
    • তরুণজ্যোতি তিওয়ারি: রাজারহাট গোপালপুরের BJP প্রার্থী।
    • রথিন ঘোষ: মধ্যমগ্রামের TMC প্রার্থী।
    • সব্যসাচী দত্ত: বারাসতের TMC প্রার্থী।
    • রেখা পাত্র: হিঙ্গলগঞ্জের BJP প্রার্থী।

    দক্ষিণ ২৪ পরগনা

    • আরাবুল ইসলাম: ক্যানিং পূর্বের ISF প্রার্থী।
    • বিমান বন্দ্যোপাধ্যায়: বারুইপুর পশ্চিমের TMC প্রার্থী।
    • জাহাঙ্গির খান: ফলতার TMC প্রার্থী।
    • লাভলি মৈত্র: সোনারপুর দক্ষিণের TMC প্রার্থী।
    • রূপা গঙ্গোপাধ্যায়: সোনারপুর দক্ষিণের BJP প্রার্থী।
    • শওকত মোল্লা: ভাঙড়ের TMC প্রার্থী।
    • ওশাদ সিদ্দিকি: ভাঙড়ের ISF প্রার্থী।
    • জাভেদ খান: কসবার TMC প্রার্থী।
    • বিকাশ রঞ্জন ভট্টাচার্য: যাদবপুরের CPIM প্রার্থী।
    • ফিরদৌসি বেগম: সোনারপুর উত্তরের TMC প্রার্থী।
    • অরূপ বিশ্বাস: টালিগঞ্জের TMC প্রার্থী।
    • পাপিয়া অধিকারী: টালিগঞ্জের BJP প্রার্থী।
    • রত্না চট্টোপাধ্যায়: বেহালা পশ্চিমের TMC প্রার্থী।
    • সায়ন বন্দ্যোপাধ্যায়: মহেশতলার CPIM প্রার্থী।কলকাতা
    • ফিরহাদ হাকিম: কলকাতা বন্দরের TMC প্রার্থী।
    • রাকেশ সিং: কলকাতা বন্দরের BJP প্রার্থী।
    • মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়: ভবানীপুরের TMC প্রার্থী।
    • শুভেন্দু অধিকারী: ভবানীপুরের BJP প্রার্থী।
    • দেবাশিস কুমার: রাসবিহারীর TMC প্রার্থী।
    • স্বপন দাশগুপ্ত: রাসবিহারীর BJP প্রার্থী।
    • শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়: বালিগঞ্জের TMC প্রার্থী।
    • রোহন মিত্র: বালিগঞ্জের কংগ্রেস প্রার্থী।
    • নয়না বন্দ্যোপাধ্যায়: চৌরঙ্গীর TMC প্রার্থী।
    • সন্তোষ পাঠক: চৌরঙ্গীর BJP প্রার্থী।
    • প্রিয়াঙ্কা টিব্রেওয়াল: এন্টালির BJP প্রার্থী।
    • কুণাল ঘোষ: বেলেঘাটার TMC প্রার্থী।
    • শশী পাঁজা: শ্যামপুকুরের TMC প্রার্থী।
    • শ্রেয়া পাণ্ডে: মানিকতলার TMC প্রার্থী।
    • তাপস রায়: মানিকতলার BJP প্রার্থী।
    • অতীন ঘোষ: কাশীপুর বেলগাছিয়ার TMC প্রার্থী।
    • রিতেশ তিওয়ারি: কাশীপুর বেলগাছিয়ার BJP প্রার্থী।

    হাওড়া

    • অরূপ রায়: হাওড়া মধ্যর TMC প্রার্থী।
    • রুদ্রনীল ঘোষ: শিবপুরের BJP প্রার্থী।
    • ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়: উলুবেরিয়া পূর্বের TMC প্রার্থী।
    • হিরণ চট্টোপাধ্যায়: শ্যামপুরের BJP প্রার্থী।

    হুগলি

    • শীর্ষণ্য বন্দ্যোপাধ্যায়: উত্তরপাড়ার TMC প্রার্থী।
    • দীপাঞ্জন চক্রবর্তী: উত্তরপাড়ার BJP প্রার্থী।
    • মীনাক্ষী মুখোপাধ্যায়: উত্তরপাড়ার CPIM প্রার্থী।
    • শুভঙ্কর সরকার: শ্রীরামপুরের কংগ্রেস প্রার্থী।
    • বেচারাম মান্না: সিঙ্গুরের TMC প্রার্থী।
    • ইন্দ্রনীল সেন: চন্দননগরের TMC প্রার্থী।
    • দেবাংশু ভট্টাচার্য: চুঁচুড়ার TMC প্রার্থী।
    • স্নেহাশিস চক্রবর্তী: জাঙ্গিপাড়ার TMC প্রার্থী।
    • করবী মান্না: হরিপালের TMC প্রার্থী।
    • অসিমা পাত্র: ধনেখালির TMC প্রার্থী।
    • নির্মল মাজি: গোঘাটের TMC প্রার্থী।

    পূর্ব বর্ধমান

    • সিদ্দিকুল্লাহ চৌধুরী: মন্তেশ্বরের TMC প্রার্থী।
    • কলিতা মাঝি: আউশগ্রামের BJP প্রার্থী।
  • WB Assembly Election 2026: সকাল থেকেই শুরু দ্বিতীয় দফার ভোটগ্রহণ, কত ভোটার করবেন ভোটদান, আজ কত প্রার্থীর ভাগ্য-পরীক্ষা?

    WB Assembly Election 2026: সকাল থেকেই শুরু দ্বিতীয় দফার ভোটগ্রহণ, কত ভোটার করবেন ভোটদান, আজ কত প্রার্থীর ভাগ্য-পরীক্ষা?

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: আজ, দ্বিতীয় দফায় (Second Phase Polling) ভোট হচ্ছে ১৪২টি আসনে। সকাল থেকেই শুরু হয়ে গিয়েছে ভোটদান। বিভিন্ন বুথে ইতিমধ্যেই লম্বা লাইন চোখে পড়েছে। নির্বাচনকে (WB Assembly Election 2026) ঘিরে মানুষের মধ্যে প্রবল উৎসাহ ও উদ্দীপনাও লক্ষ্য করা যাচ্ছে। রাজ্যে এবার দু’দফায় বিধানসভা ভোট। প্রথমটি ইতিমধ্যেই সম্পন্ন হয়েছে ২৩ এপ্রিল। দ্বিতীয় দফা হচ্ছে আজ, বুধবার ২৯ এপ্রিল। দু’দফায় মোট প্রার্থীর সংখ্যা ২৯২৬। ২৯৪টি আসনের প্রথম দফায় ভোট হয়েছে ১৫২টিতে। কমিশনের তথ্য অনুযায়ী, দ্বিতীয় দফায় ভোট হচ্ছে পূর্ব বর্ধমান, হাওড়া, হুগলি, কলকাতা, উত্তর ২৪ পরগনা, দক্ষিণ ২৪ পরগনা এবং নদিয়ায়। ফল ঘোষণা হবে ৪ মে।

    কতজন ভোটার তাঁদের অধিকার প্রয়োগ করবেন?

    এই দফায় ৭টি জেলার মোট ৩,২১,৭৩,৮৩৭ জন ভোটার তাঁদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করবেন, যার মধ্যে ১,৬৪,৩৫,৬২৭ জন পুরুষ ও ১,৫৭,৩৭,৪১৮ জন মহিলা ভোটার এবং ৭৯২ জন তৃতীয় লিঙ্গের ভোটার রয়েছেন। এর সঙ্গে জুড়বে ট্রাইবুনালে ‘পাশ’ করা আরও ১,৪৬৮ নাম। উল্লেখ্য, দ্বিতীয় দফার ভোটে সবচেয়ে বেশি প্রার্থী লড়ছেন দক্ষিণ ২৪ পরগনার ভাঙড় বিধানসভা কেন্দ্রে। এই আসনে মোট প্রার্থীর সংখ্যা ১৯। সবচেয়ে কম প্রার্থী লড়ছেন হুগলির গোঘাট (এসসি) আসনে। সেখানে প্রার্থী সংখ্যা ৫।

    কতজন প্রার্থীর ভাগ্য পরীক্ষা হবে?

    নির্বাচন কমিশনের তথ্য অনুযায়ী, দ্বিতীয় দফার ভোটে ১৪২টি আসনের জন্য লড়ছেন ১৪৪৮ জন। মনোনয়ন জমা পড়েছিল ১৪৬৩টি। তার মধ্যে ১৫ জনের মনোনয়ন বাতিল হয়েছে। তৃণমূল কংগ্রেস এবং কংগ্রেস সব আসনেই প্রার্থী দিয়েছে। অন্যদিকে ভারতীয় জনতা পার্টি (বিজেপি) ১৪১টি আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছে। সিপিএম প্রায় ১০০টি আসনে প্রার্থী দিয়েছে। এবারের নির্বাচনে সবচেয়ে আলোচিত কলকাতার ভবানীপুর বিধানসভা কেন্দ্র। সেখানে তৃণমূল প্রার্থী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং বিজেপি প্রার্থী শুভেন্দু অধিকারী। ২০২১ সালের নির্বাচনে নন্দীগ্রামে দুজন রাজনৈতিক ময়দানে মুখোমুখি হয়েছিলেন। তাতে শুভেন্দু অধিকারী জয়ী হন।

    বুথের সংখ্যা কোথায় কত

    দ্বিতীয় দফার ভোটে বুথের সংখ্যা বারাসত পুলিশ জেলায় ১৯৭৮টি, বনগাঁয় ১০২৮টি, বসিরহাটে ২০৫২টি, বিধাননগরে ৮৮৩টি, ব্যারাকপুরে ২৯২৮টি, সুন্দরবন পুলিশ জেলায় ১৭৯৮টি, বারুইপুরে ২৮২৫টি, ডায়মন্ড হারবারে ২৪৪১টি, হাওড়া গ্রামীণ পুলিশ জেলায় ২৪৩১টি, হাওড়া পুলিশ কমিশনারেট এলাকায় ২০৮৭টি, কৃষ্ণনগর পুলিশ জেলায় ২৮৪৪টি, রানাঘাট পুলিশ জেলায় ২২৯২টি, চন্দননগর পুলিশ কমিশনারেট এলাকায় ১৫৬৮টি, হুগলি গ্রামীণ পুলিশ জেলায় ৪০৪১টি, পূর্ব বর্ধমানে ৪৪৬৫টি, আসানসোল দুর্গাপুর পুলিশ কমিশনারেট এলাকায় ১৯৫টি, কলকাতায় ৫১৭২টি।

    কোন কেন্দ্রে কতজন করে প্রার্থী?

    দ্বিতীয় দফার ভোটে প্রার্থীর সংখ্যা ১৯ জন প্রার্থী রয়েছেন ভাঙড় কেন্দ্রে। ১৫ জন করে প্রার্থী নোয়াপাড়া, এন্টালি, হাওড়া মধ্য কেন্দ্রে, ১৪ জন করে প্রার্থী দেগঙ্গা, সোনারপুর দক্ষিণ, বেহালা পশ্চিম, কলকাতা বন্দর, কাশীপুর-বেলগাছিয়া, বালি, ডোমজুড়জু কেন্দ্রে। ১৩ জন করে প্রার্থী বাদুড়িয়া, হাবড়া, বিজপুর, জগদ্দল, রাজারহাট-নিউটাউন, রায়দিঘি, জয়নগর (এসসি), কসবা, যাদবপুর, সোনারপুর উত্তর, মানিকতলা, হাওড়া উত্তর, আমতা কেন্দ্রে। ১২ জন করে প্রার্থী কৃষ্ণগঞ্জ (এসসি), বনগাঁ উত্তর (এসসি), আমডাঙা, খড়দা, রাজারহাট-গোপালপুর, বারাসত, মগরাহাট পশ্চিম, বেহালা পূর্ব, ভবানীপুর, বালিগঞ্জ, জোড়াসাঁকো, শ্যামপুকুর, হাওড়া দক্ষিণ, শ্যামপুর, তারকেশ্বর কেন্দ্রে। ১১ জন করে প্রার্থী কৃষ্ণনগর দক্ষিণ, রানাঘাট উত্তর-পূর্ব (এসসি), হরিণঘাটা (এসসি), বনগাঁ দক্ষিণ (এসসি), গাইঘাটা (এসসি), পানিহাটি, কামারহাটি, বসিরহাট দক্ষিণ, কাকদ্বীপ, মন্দিরবাজার (এসসি), বারুইপুর পূর্ব (এসসি), টালিগঞ্জ, মেটিয়াব্রুজ, চৌরঙ্গী, বেলেঘাটা, উলুবেড়িয়া পূর্ব, উলুবেড়িয়া দক্ষিণ, বাগনান, শ্রীরামপুর, চন্দননগর, হরিপাল কেন্দ্রে। ১০ জন করে প্রার্থী বাগদা (এসসি), বরাহনগর, বিধাননগর, মধ্যমগ্রাম, হাড়োয়া, বসিরহাট উত্তর, বারুইপুর পশ্চিম, ডায়মন্ড হারবার, মহেশতলা, শিবপুর, সাঁকরাইল (এসসি), চুঁচুড়া, জাঙ্গিপাড়া, ভাতার, কাটোয়া, কেতুগ্রাম কেন্দ্রে। ৯ জন করে প্রার্থী করিমপুর, পলাশিপাড়া, নাকাশিপাড়া, চাপড়া, অশোকনগর, নৈহাটি, ভাটপাড়া, ব্যারাকপুর, দমদম উত্তর, দমদম, হিঙ্গলগঞ্জ (এসসি), গোসাবা (এসসি), কুলতলি (এসসি), কুলপি, রাসবিহারী, উলুবেড়িয়া উত্তর (এসসি), উদয়নারায়ণপুর, চাঁপাদানি, সিঙ্গুর, পান্ডুয়া, সপ্তগ্রাম, খানাকুল, বর্ধমান দক্ষিণ, বর্ধমান উত্তর (এসসি), মঙ্গলকোট কেন্দ্রে। ৮ জন করে প্রার্থী রানাঘাট দক্ষিণ (এসসি), স্বরূপনগর (এসসি), মিনাখাঁ (এসসি), সন্দেশখালি (এসটি), বাসন্তী (এসসি), ক্যানিং পশ্চিম (এসসি), ক্যানিং পূর্ব, মগরাহাট পূর্ব (র্বএসসি), সাতগাছিয়া, বিষ্ণুপুর (এসসি), জগৎবল্লভপুর, চণ্ডীতলা, পুরশুড়া, রায়না (এসসি), জামালপুর (এসসি), মন্তেশ্বর, পূর্বস্থলী উত্তর, গলসি (এসসি) কেন্দ্রে। ৭ জন করে প্রার্থী কৃষ্ণনগর উত্তর, পাথরপ্রতিমা, সাগর, বজবজ, পাঁচপাঁলা, উত্তরপাড়া, বলাগড় (এসসি), ধনেখালি (এসসি), খণ্ডঘোষ (এসসি), কালনা (এসসি), মেমারি, পূর্বস্থলী দক্ষিণ কেন্দ্রে। ৬ জন করে প্রার্থী ফলতা, আরামবাগ (এসসি), আউশগ্রাম (এসসি) কেন্দ্রে। ৫ জন প্রার্থী গোঘাট (এসসি) কেন্দ্রে।

  • Gujarat Local Body Polls: গুজরাটে গেরুয়া সুনামি! ১৫-র ১৫ পুরসভা দখল করে বিজেপির ঐতিহাসিক জয়

    Gujarat Local Body Polls: গুজরাটে গেরুয়া সুনামি! ১৫-র ১৫ পুরসভা দখল করে বিজেপির ঐতিহাসিক জয়

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: গুজরাটের (Gujarat Local Body Polls) স্থানীয় পুরসভা নির্বাচনে কার্যত গেরুয়া ঝড়—১৫টি মিউনিসিপ্যাল কর্পোরেশনই দখল করল বিজেপি (Bharatiya Janata Party)। মঙ্গলবার ফলাফল প্রকাশের পর স্পষ্ট হয়েছে, শহর থেকে গ্রাম—সব ক্ষেত্রেই বড়সড় ব্যবধানে এগিয়ে থেকে একতরফা জয় পেয়েছে তারা। রবিবার ভোটগ্রহণ হয়েছিল ১৫টি মিউনিসিপ্যাল কর্পোরেশন, ৮৪টি পৌরসভা, ৩৪টি জেলা পঞ্চায়েত এবং ২৬০টি তালুকা পঞ্চায়েতে। রাজ্যের আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনের আগে এই নির্বাচনকে গুরুত্বপূর্ণ শক্তিপরীক্ষা হিসেবে দেখা হচ্ছিল। প্রায় ৯,২০০টি আসনের জন্য ৪.১৮ কোটিরও বেশি ভোটার তাদের মতামত দিয়েছেন।

    শহর থেকে গ্রাম দাপট বিজেপির

    শহরাঞ্চলে বিজেপির (BJP in Gujarat) দাপট ছিল চোখে পড়ার মতো। আমেদাবাদে ১৯২টির মধ্যে ১৫৮টি আসন, সুরাটে ১১৫টি আসন দখল করেছে তারা। সুরাটে আপ (Aam Aadmi Party) পেয়েছে মাত্র ৪টি এবং কংগ্রেস পেয়েছে মাত্র (Indian National Congress) ১টি আসন। রাজকোটে ৭২টির মধ্যে ৬৫টি এবং বরোদায় ৭৬টির মধ্যে ৬৯টি আসন জিতে নিয়েছে বিজেপি। শুধু শহরেই নয়, গ্রামাঞ্চলেও প্রভাব বিস্তার করেছে গেরুয়া শিবির। ৩৪টি জেলা পঞ্চায়েতের মোট ১,০৯০টি আসনের মধ্যে বিজেপি জিতেছে ৫৬৮টি আসন। সেখানে কংগ্রেস পেয়েছে ৭৭টি এবং অন্যান্যরা ৩০টি আসন। একইভাবে, ২৬০টি তালুকা পঞ্চায়েতের মোট ৫,২৩৪টি আসনের মধ্যে বিজেপি জিতেছে ২,৩৯৭টি। কংগ্রেসের ঝুলিতে গিয়েছে ৫৯১টি আসন, অন্যরা পেয়েছে ৩২৯টি।

    অনেক পিছিয়ে কংগ্রেস

    উল্লেখযোগ্য বিষয় হল, এবারের নির্বাচনে প্রথমবার ভোটগ্রহণ হয়েছে ৯টি নতুন মিউনিসিপ্যাল কর্পোরেশনে—নভসারি, গান্ধিধাম, মোরবি, ভাপি, আনন্দ, নাডিয়াদ, মেহসানা, পোরবন্দর ও সুরেন্দ্রনগর। এই নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছে সংশোধিত ওবিসি সংরক্ষণ নীতির ভিত্তিতে, যার ফলে একাধিক জেলায় ওয়ার্ড পুনর্বিন্যাস ও সীমা নির্ধারণ করা হয়। বিজেপি, কংগ্রেস, আপ ছাড়াও এআইএমআইএম (All India Majlis-e-Ittehadul Muslimeen) কয়েকটি আসনে প্রার্থী দিয়েছিল, তবে সামগ্রিকভাবে বিজেপির প্রাধান্যই স্পষ্ট হয়েছে গোটা রাজ্যে। কংগ্রেস সামগ্রিক ভাবে এই নির্বাচনে অনেকটাই পিছিয়ে রয়েছে। কর্পোরেশনগুলিতে কার্যত তারা খাতা খুলতে পারেনি বললেই চলে। তবে কিছু নির্দিষ্ট পকেটে তারা সাফল্য পেয়েছে।

  • WB Assembly Polls 2026 Second Phase: দ্বিতীয় দফার ১৪২ কেন্দ্রে ২ লক্ষ কেন্দ্রীয় বাহিনী, ৩৮ হাজার পুলিশ মোতায়েন, কোন জেলায় কত?

    WB Assembly Polls 2026 Second Phase: দ্বিতীয় দফার ১৪২ কেন্দ্রে ২ লক্ষ কেন্দ্রীয় বাহিনী, ৩৮ হাজার পুলিশ মোতায়েন, কোন জেলায় কত?

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: রাত পোহালেই বাংলায় দ্বিতীয় দফার ভোটগ্রহণ (WB Assembly Polls 2026 Second Phase)। প্রথম দফার মতো বুধবার দ্বিতীয় তথা শেষ দফার ভোটগ্রহণকে শান্তিপূর্ণ ও সুষ্ঠু করতে বদ্ধপরিকর নির্বাচন কমিশন (Election Commission)। তার জন্য একাধিক কড়া ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে নির্বাচন কমিশন। মোতায়েন করা হয়েছে প্রায় ২ লক্ষ কেন্দ্রীয় বাহিনী। কেন্দ্রীয় বাহিনীর সঙ্গে মোতায়েন ৩৮ হাজার ২৯৭ রাজ্য পুলিশও। নিউটাউনে রয়েছে স্পেশাল কন্ট্রোল রুম।

    কোথায় কত বাহিনী…

    দ্বিতীয় দফার বিধানসভা নির্বাচনে মোট ২,৩২১ কোম্পানি কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েন করার কথা জানিয়েছে কমিশন। কমিশন সূত্রে জানা গেছে, সবচেয়ে বেশি বাহিনী মোতায়েন করা হবে উত্তর ২৪ পরগনা জেলায়— মোট ৫০৭ কোম্পানি। উত্তর ২৪ পরগনার বারাসত পুলিশ জেলায় মোতায়েন করা হচ্ছে ১১২ কোম্পানি বাহিনী। বনগাঁ পুলিশ জেলায় মোতায়েন করা হচ্ছে ৬২ কোম্পানি বাহিনী। বসিরহাটে ১২৩ কোম্পানি কেন্দ্রীয় বাহিনী থাকবে ভোটের দিন। বিধাননগরে ৫০ কোম্পানি কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে। ব্যারাকপুরে থাকবে ১৬০ কোম্পানি। দক্ষিণ ২৪ পরগনার সুন্দরবনে ১১৩ কোম্পানি, বারুইপুরে ১৬১, ডায়মন্ড হারবারে ১৩৫ কোম্পানি বাহিনী মোতায়েন করা হবে দ্বিতীয় দফার ভোটে।

    আরও বাহিনী…

    হাওড়া জেলার হাওড়া গ্রামীণ এলাকায় ১৪৭ কোম্পানি কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েন করছে কমিশন। হাওড়া পুলিশ কমিশনারেট এলাকায় থাকবে ১১০ কোম্পানি। নদিয়ার কৃষ্ণনগর পুলিশ জেলায় ১৫৮ কোম্পানি কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েন করা হবে বলে জানিয়েছে কমিশন। ওই জেলার রানাঘাট পুলিশ জেলায় থাকবে ১২৭ কোম্পানি। হুগলি জেলার চন্দননগর পুলিশ কমিশনারেট এলাকায় থাকছে ৮৩ কোম্পানি বাহিনী। হুগলি গ্রামীণ পুলিশ জেলায় ভোট-দায়িত্ব সামলাবে ২৩৪ কোম্পানি কেন্দ্রীয় বাহিনী। পূর্ব বর্ধমানে মোট ২৬০ কোম্পানি কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েন করা হচ্ছে। পশ্চিম বর্ধমানের আসানসোল-দুর্গাপুর পুলিশ কমিশনারেটে মোট বুথের সংখ্যা ১৯৫টি। বাহিনী থাকবে ১৩ কোম্পানি। কলকাতায় ২৭৩ কোম্পানি কেন্দ্রীয় বাহিনী থাকবে। উল্লেখ্য, কেন্দ্রীয় বাহিনীর প্রতিটি কোম্পানিতে অন্তত ৭২ জন করে জওয়ান থাকেন।

    আরও পুলিশ অফিসার নিয়োগ

    দ্বিতীয় দফায় ভোটের আগে নিরাপত্তা সুনিশ্চিত করতে আরও পুলিশ অফিসার নিয়োগ করেছে কমিশন। প্রথম দফার নির্বাচনের দায়িত্বে থাকা ২৬ জন পুলিশ অফিসারকে নিয়োগ করা হয়েছে দ্বিতীয় দফার নির্বাচনেও। ব্যারাকপুরে নিয়ে আসা হল অতিরিক্ত ৪ জন পুলিশ অফিসারকে। অন্যদিকে, হাওড়া-কৃষ্ণনগরে ১ জন অতিরিক্ত পুলিশ অফিসারকে নিয়োগ করা হয়েছে বলে জানা গিয়েছে নির্বাচন কমিশন সূত্রে। বারাসাত-বসিরহাট-বারুইপুরে অতিরিক্ত ২ জন পুলিশ অফিসারকে নিয়োগ করেছে কমিশন। পূর্ব বর্ধমান, চন্দননগর, হাওড়া গ্রামীণ, হাওড়া শহরে নিয়োগ করা হয়েছে অতিরিক্ত ২ জন পুলিশ অফিসার। এছাড়াও ডায়মন্ডহারবারে অতিরিক্ত ৩ জন পুলিশ অফিসারকে নিয়োগ করেছে কমিশন। আর সুন্দরবন ও বনগাঁয় অতিরিক্ত পুলিশ অফিসার নিয়োগ করেছে নির্বাচন কমিশন।

    বাহিনীর বিশেষ হেল্পলাইন নম্বর

    বুধবার দ্বিতীয় দফায় ভোটের আগে বিশেষ হেল্পলাইন নম্বরও প্রকাশ করেছে কেন্দ্রীয় বাহিনী। ওয়েস্টবেঙ্গল সেক্টর ও রাজ্য ফোর্স কোঅর্ডিনেটর সিআরপিএফের আইজি হেল্পলাইন নম্বর প্রকাশ করেছেন। ভোটের দিন কোনও সমস্যা হলে বা অভিযোগ থাকলে হেল্পলাইন নম্বরে জানানো যাবে। দুটো মোবাইল ও একটি ল্যান্ড লাইন নম্বর দেওয়া হয়েছে। মোবাইল নম্বর দুটি হল- ৮৪২০২৭২১০১, ৮৪২০২৭২৩৪৩ ও ল্যান্ড লাইন নম্বরটি হল- ০৩৩২৩৬৭১১১৭। দ্বিতীয় দফার ভোটের আগে মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক মনোজ কুমার আগরওয়াল জানিয়েছেন, ‘‘প্রথম দফার থেকেও বেশি ভোট পড়বে দ্বিতীয় দফায়। নির্ভয়ে ভোট দিতে পারবেন ভোটাররা। শান্তিপূর্ণ ভোটই হবে দ্বিতীয় দফাতেও।’’

  • WB Election 2026: কয়লা থেকে রেশন, শিক্ষক নিয়োগ থেকে গরু পাচার! এক ঝলকে গত ১৫ বছরে তৃণমূলের দুর্নীতির ‘বর্ণমালা’

    WB Election 2026: কয়লা থেকে রেশন, শিক্ষক নিয়োগ থেকে গরু পাচার! এক ঝলকে গত ১৫ বছরে তৃণমূলের দুর্নীতির ‘বর্ণমালা’

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক:  মাত্র আর কয়েক ঘণ্টা পরেই শেষ দফার নির্বাচন (WB Election 2026)। ভোট দেওয়ার আগে দেখে নিন এক নজরে দুর্নীতির (West Benagl Scam) ইতিকথা। ছোটবেলায় আমরা সবাই বর্ণপরিচয় পড়েছি। ‘ক’-এ কলা, ‘খ’-এ খই। গত ১৫ বছরে বাংলার শাসকদল আমাদের এক নতুন ‘বর্ণপরিচয়’ শিখিয়েছে। এই বর্ণপরিচয় আদর্শলিপি নয়, বরং দুর্নীতির এক কলঙ্কিত ইতিহাস। পশ্চিমবঙ্গের দেওয়ালে দেওয়ালে সেই নতুন অ-আ-ক-খ লেখা হচ্ছে, যেখানে প্রতিটি বর্ণের সাথে জড়িয়ে আছে আপনার হকের টাকা চুরির গল্প।”

    চুরির “তৃণমূলী বর্ণপরিচয়’ 

    “কয়লা থেকে গরু, বালি থেকে চাকরি, এমনকি গরিবের হকের রেশন বা মিড-ডে মিলের চাল—কোনও কিছুই বাদ যায়নি। আমরা ভাবতাম দুর্নীতি বোধহয় দু—একটা দফতরে হয়, কিন্তু না! এরা তো রীতিমতো গবেষণার স্তরে নিয়ে গেছে বিষয়টাকে। ‘ক’ থেকে শুরু করে ‘হ’ পর্যন্ত প্রতিটি অক্ষরের পিছনে লুকিয়ে আছে হাজার হাজার কোটি টাকার কেলেঙ্কারি।

    ‘তৃণমূলী বর্ণপরিচয়’ দেখলে দেখা যাবে বর্ণমালার প্রতিটি ভাঁজে ভাঁজে আপনার পকেট কাটা হয়েছে আর সাধারণ মানুষের ভবিষ্যৎ চুরি করা হয়েছে। আজকের এই ভিডিও কোনো কাল্পনিক গল্প নয়, বরং খোদ বাংলার বর্তমান অবস্থার এক নগ্ন দলিল।

    ক-এ: কয়লা চুরি ও কাটমানি (WB Election 2026)

    শুরুটা করা যাক ‘ক’ দিয়ে। বাংলার খনি থেকে হাজার হাজার কোটি টাকার কয়লা পাচার হয়ে গেল, আর সেই কালো কারবারের ধোঁয়া গিয়ে পৌঁছাল খোদ রাঘববোয়ালদের দরজায়। শুধু কি কয়লা? যেকোনও সরকারি প্রকল্পের টাকা থেকে নেতাদের জন্য নির্দিষ্ট ‘কাটমানি’ রাখা এখন এক অলিখিত নিয়ম। আপনার বাড়ির ছাদ হোক বা এলাকার রাস্তা—নেতার কাটমানি না দিলে কাজ শুরু হওয়া অসম্ভব। ভোটে (WB Election 2026) কতটা প্রভাব পরে তাই এখন দেখার।

    খ-এ: খাদ্য বা রেশন দুর্নীতি (West Benagl Scam)

    খাদ্য মানুষের মৌলিক অধিকার, কিন্তু সেই গরিবের রেশনেও থাবা বসাতে ছাড়েনি এরা। লকডাউনের সময় থেকে শুরু করে আজ পর্যন্ত হাজার হাজার কুইন্টাল চাল আর গম কালোবাজারি হয়েছে। আজ রাজ্যের প্রাক্তন খাদ্যমন্ত্রী কেন জেল খেঁটে এসেছেন? কারণ তিনি আপনার থালার ভাতটা নিয়ে কোটি কোটি টাকার ডিল করেছেন।

    গ-এ: গরু পাচার

    বাংলার (WB Election 2026) সীমান্ত দিয়ে হাজার হাজার গরু পাচার হয়ে ভিনদেশে চলে গেল, আর তার বিনিময়ে ফুলে-ফেঁপে উঠল একশ্রেণীর নেতার ব্যাংক ব্যালেন্স। সীমান্তের ওপারে গরু পাঠাতে গিয়ে যারা মানুষের সুরক্ষাকে বাজি রেখেছে, তারা কি সত্যিই আপনার ভালো চাইবে? গ-এ গরু নয়, বরং ‘গ’ দিয়ে বাংলার কোটি কোটি টাকার আন্তর্জাতিক চোরাচালানের (West Benagl Scam)  গল্প লেখা হয়েছে।

    ঘ-এ: ঘাট ও বালি মাফিয়া

    বাংলার নদীগুলো আজ হাহাকার করছে। রাতের অন্ধকারে বেআইনিভাবে নদী থেকে বালি আর পাথর তুলে নিয়ে নদীগর্ভ উজাড় করে দিচ্ছে বালি মাফিয়ারা। গ্রামের পর গ্রাম ধসে যাচ্ছে, পরিবেশ নষ্ট হচ্ছে, আর এই ঘাটগুলো থেকে সিন্ডিকেটের পকেটে যাচ্ছে কোটি কোটি টাকা। ঘ-এ ঘাট আজ মাফিয়াদের ব্যক্তিগত সম্পত্তি হয়ে দাঁড়িয়েছে।

    চ-এ: চাকরি চুরি

    এটি সম্ভবত বাংলার আধুনিক ইতিহাসের সবচেয়ে বড় কলঙ্ক। ‘চ’ দিয়ে আজ চাতক পাখির মতো হাজার হাজার শিক্ষিত বেকার যুবক-যুবতী রাজপথে বসে আছে। কারণ তাদের যোগ্যতার চাকরিটা কয়েক লাখ টাকার বিনিময়ে নেতার ঘনিষ্ঠদের ঘরে পৌঁছে দেওয়া হয়েছে। মেধাকে হত্যা করে টাকার জোরে অযোগ্যদের চেয়ারে বসানোই হলো এদের আসল সাফল্য।

    ছ-এ: ছাত্রভর্তিতে তোলাবাজি

    পড়াশোনার মন্দির আজ তোলাবাজির আখড়া। কলেজে ভর্তি হতে গেলেও ছাত্র পরিষদের দাদাদের মোটা অঙ্কের টাকা দিতে হয়। গরিব মেধাবী ছাত্রটি আজ তার স্বপ্নের বিষয়ে পড়তে পারছে না, কারণ তার কাছে সেই ‘ছ’-এ ছাত্রভর্তির তোলাবাজির টাকা নেই। শিক্ষাক্ষেত্রে এমন চরম নির্লজ্জতা কি আগে কেউ দেখেছে?

    জ-এ: জব কার্ড কেলেঙ্কারি

    গরিব মানুষের একশো দিনের কাজের টাকা নিয়ে যে ছিনিমিনি খেলা হয়েছে, তার নাম ‘জ’ দিয়ে জব কার্ড কেলেঙ্কারি (West Benagl Scam) । মৃত মানুষের নামে জব কার্ড বানিয়ে কিংবা কাজ না করিয়েই টাকা তুলে নিয়েছে শাসকদলের নেতারা। আজ যে সাধারণ মানুষ একশো দিনের কাজের টাকা পাচ্ছেন না, তার দায় কি ওই তৃণমূলী মেম্বার আর প্রধানদের নয়, যারা দুর্নীতির পাহাড় বানিয়ে কেন্দ্রীয় টাকা আটকে যাওয়ার পথ করে দিয়েছে?

    ট-এ: টেট (TET) দুর্নীতি

    ‘ট’ দিয়ে আজ বাংলার ঘরে ঘরে কান পাতলে শোনা যায় টেট দুর্নীতির হাহাকার। ওএমআর শিট (OMR sheet) কারচুপি করে রাতারাতি ফেল করা প্রার্থীদের পাস করিয়ে দেওয়া হয়েছে। সাদা খাতা জমা দিয়েও অনেকে আজ চাকরি করছে, আর যারা দিনরাত এক করে পড়াশোনা করেছিল, তারা আজ গান্ধী মূর্তির পাদদেশে চোখের জল ফেলছে। টেট আজ নিয়োগের পরীক্ষা নয়, বরং টাকা কামানোর মেশিনে পরিণত হয়েছে।

    ঠ-এ: ঠিকাদারি ও সিন্ডিকেট

    যেকোনও সরকারি নির্মাণ মানেই তৃণমূলী সিন্ডিকেটের রমরমা। ‘ঠ’ দিয়ে ঠিকাদারি আজ আর মেধার লড়াই নয়, বরং কে কত বড় নেতার কাছের লোক তার প্রতিযোগিতা। নিম্নমানের সামগ্রী দিয়ে রাস্তা বা ব্রিজ তৈরি হচ্ছে, আর সেই মুনাফার টাকা ভাগ হয়ে যাচ্ছে ভাইপো থেকে পাড়ার মেজো নেতা—সবার মধ্যে। এই সিন্ডিকেট ট্যাক্স না দিলে বাংলায় একটা ইঁটও গাঁথা সম্ভব নয়।

    ড-এ: ডিয়ার লটারি দুর্নীতি

    সাধারণ মানুষের (WB Election 2026) ভাগ্য নিয়ে ছিনিমিনি খেলার নাম লটারি। ‘ড’ দিয়ে এই ডিয়ার লটারি আজ কালো টাকা সাদা করার সবচেয়ে বড় মাধ্যম। আমরা দেখছি বারবার একই প্রভাবশালী পরিবারের লোক লটারিতে কোটি টাকা জিতছে! এটা কি নিছক ভাগ্য, নাকি আপনার ঘাম ঝরানো পয়সা পকেটস্থ করার এক পরিকল্পিত নীল নকশা? লটারির নেশায় সাধারণ মানুষ সর্বস্বান্ত হচ্ছে, আর নেতারা কোটিপতি হচ্ছে।

    ত-এ: ত্রিপল ও ত্রাণ চুরি

    মানবিকতাও এদের কাছে ব্যবসার মাধ্যম। আমফানের সময় যখন মানুষের মাথার ছাদ উড়ে গিয়েছিল, তখন ‘ত’ দিয়ে সেই সামান্য ত্রিপলটুকুও চুরি করতে ছাড়েনি এরা। রিলিফের চাল থেকে শুরু করে ক্ষতিপূরণের টাকা—সবই চলে গেছে তৃণমূলী নেতাদের আত্মীয়স্বজনদের একাউন্টে। বিপদের দিনে যারা মানুষের হকের ত্রাণ চুরি করে, তারা মানুষের শত্রু ছাড়া আর কিছু নয়।

    ন-এ: নিয়োগ দুর্নীতি (পুরসভা)

    স্কুলের পর এবার নজর পুরসভার দিকে। ‘ন’ দিয়ে নিয়োগ দুর্নীতি আজ পুরসভাগুলোতেও থাবা বসিয়েছে। অযোগ্যদের চাকরি দিয়ে শহর বা মফস্বলের প্রশাসনকে পঙ্গু করে দেওয়া হয়েছে। যোগ্য প্রার্থীরা আজও হন্যে হয়ে ঘুরে বেড়াচ্ছে, আর নেতার প্যাডে নাম থাকা ব্যক্তিরা সরকারি চেয়ারে বসে জনগণের টাকায় মৌজ করছে।

    প-এ: প্রাথমিকে দুর্নীতি

    শিক্ষার একদম গোড়াতেই বিষ মিশিয়ে দিয়েছে এই সরকার। ‘প’ দিয়ে প্রাথমিক শিক্ষক নিয়োগে যে নির্লজ্জ কারচুপি আমরা দেখলাম, তা গোটা দেশের সামনে বাংলার মাথা হেঁট করে দিয়েছে। টাকার বিনিময়ে অযোগ্যদের হাতে তুলে দেওয়া হয়েছে আগামীর ভবিষ্যৎ গড়ার দায়িত্ব। আজ যে শিশুরা প্রাথমিক স্কুলে যাচ্ছে, তারা কী শিখবে? যখন তাদের শিক্ষকরাই মেধার বদলে টাকার জোরে চাকরি পেয়েছে!

    ব-এ: বালি পাচার

    বাংলার নদীগুলো আজ কঙ্কালসার (West Benagl Scam) । ‘ব’ দিয়ে বালি পাচার আজ এক সংগঠিত অপরাধে পরিণত হয়েছে। কোনো রয়্যালটি ছাড়াই রাতের অন্ধকারে শয়ে শয়ে ট্রাক নদী থেকে বালি চুরি করে নিয়ে যাচ্ছে। প্রকৃতির এই ধ্বংসলীলা আর কয়েকশ কোটি টাকার এই পাচারকাণ্ডের পিছনে রয়েছে স্থানীয় নেতা আর প্রশাসনের এক গভীর আঁতাত। বালি চুরি করে নদীগর্ভ সাবাড় করা হচ্ছে, আর নেতাদের পকেট ভরাট হচ্ছে।

    র-এ: রেশন চুরি

    মানুষের অভাব নিয়ে ব্যবসা করাই এদের দস্তুর। ‘র’ দিয়ে রেশন চুরির জাল ছড়িয়ে আছে গ্রাম থেকে শহর পর্যন্ত। গরিবের ডিজিটাল রেশন কার্ডের চাল-গম খোলা বাজারে চড়া দামে বিক্রি হয়ে যাচ্ছে। আর সাধারণ মানুষ যখন ডিলারের কাছে যাচ্ছে, তখন বলা হচ্ছে “ওপর থেকে স্টক আসেনি”। আপনার পেটের ভাত যারা কেড়ে নেয়, তাদের ক্ষমা করার জায়গা কোথায়?

    ম-এ: মিড-ডে মিল তছরূপ

    এরা এতটাই নিচে নেমেছে যে শিশুদের খাবারটুকুও ছাড়েনি। ‘ম’ দিয়ে মিড-ডে মিলের টাকায় কখনো রাজনৈতিক সভা করা হচ্ছে, কখনো আবার সেই টাকা তছরূপ করে নেতাদের পকেট গরম করা হচ্ছে। বাড়ন্ত বয়সের বাচ্চাদের পাতে ডাল-ভাতের বদলে জুটেছে চরম দুর্নীতি। শিশুদের পুষ্টি নিয়ে যারা খেলা করে, তাদের থেকে নিষ্ঠুর আর কে হতে পারে?

    স-এ: সিন্ডিকেট রাজ

    বাংলায় (WB Election 2026) আজ আইনের শাসন নয়, চলছে ‘স’ দিয়ে সিন্ডিকেট রাজ। আপনি নিজের জমিতে বাড়ি করবেন? সিন্ডিকেটের থেকে মাল নিতে হবে। আপনি ছোট ব্যবসা করবেন? সিন্ডিকেটকে তোলা দিতে হবে। এই সিন্ডিকেট আজ বাংলার অর্থনীতির গলা টিপে ধরেছে। কোনও বড় শিল্প এখানে আসতে ভয় পায় কেবল এই সিন্ডিকেট আর তোলাবাজদের ভয়ে।

    শ-এ: শিক্ষা দুর্নীতি ও সারদা

    ‘শ’ দিয়ে বাংলার লক্ষ লক্ষ মানুষের সর্বস্বান্ত হওয়ার ইতিহাস লেখা আছে। একদিকে সারদার মতো চিটফান্ডে সাধারণ মানুষের রক্তজল করা টাকা লোপাট, আর অন্যদিকে গোটা শিক্ষা ব্যবস্থাকে নিলামে তোলা। পর্ষদ সভাপতি থেকে শুরু করে শিক্ষামন্ত্রী—সবাই আজ জেল খাটছে। মেধা আজ রাজপথে কাঁদছে, আর দুর্নীতি আজ রাজপ্রাসাদে অট্টহাসি হাসছে।

    হ-এ: হান্ড্রেড ডেইজ ওয়ার্ক টাকা লুট

    সবশেষে ‘হ’—হান্ড্রেড ডেইজ ওয়ার্ক বা একশো দিনের কাজের টাকা লুট। গ্রামের খেটে খাওয়া মানুষের ঘামের দাম এরা নর্দমায় ছুড়ে ফেলেছে। ভুয়া মাস্টার রোল বানিয়ে কোটি কোটি টাকা নয়ছয় করা হয়েছে। আজ যখন কেন্দ্র হিসাব চাইছে, তখন এরা মুখ লুকাচ্ছে আর মাশুল গুনছে বাংলার সাধারণ শ্রমিকরা। ‘হ’-এ হাহাকার আজ বাংলার গ্রামে গ্রামে।

    এটাই আজকের বাংলার বাস্তব ‘বর্ণপরিচয়’ (West Benagl Scam)। আমরা ছোটবেলায় পড়েছিলাম ‘অজগরটি আসছে তেড়ে’, আজ বাংলার প্রতিটি প্রান্তে সেই অজগরের মতো দুর্নীতি সাধারণ মানুষকে গিলে খেতে আসছে। ক-থেকে-হ, বর্ণমালার প্রতিটি অক্ষর আজ কলঙ্কিত। যারা আপনার সন্তানের শিক্ষার অধিকার বিক্রি করে দেয়, যারা আপনার ঘরের চাল চুরি করে, কিংবা যারা আপনার সারা জীবনের জমানো টাকা লটারির নামে বা চিটফান্ডের নামে লুটে নেয়—তারা কি সত্যিই আপনার বন্ধু?”

    যুবসমাজ পরিযায়ী শ্রমিক

    এই অ-আ-ক-খ দিয়ে কোনো উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ গড়া সম্ভব নয়। এই বর্ণপরিচয় কেবল ধ্বংস আর অন্ধকারের কথা বলে। আজ বাংলার (WB Election 2026) যুবসমাজ পরিযায়ী শ্রমিক, বাংলার মেধাবীরা রাজপথে অনশনরত, আর বাংলার কোষাগার দেউলিয়া। দেড় হাজার টাকার ভাতার মুলো ঝুলিয়ে যারা আপনার এই চরম ক্ষতিকে আড়াল করতে চাইছে, তাদের চিনে নেওয়ার সময় এসেছে। মনে রাখবেন, আজ যদি আপনি এই ব্যবস্থার বিরুদ্ধে আওয়াজ না তোলেন, তবে আপনার আগামী প্রজন্ম আপনাকে ক্ষমা করবে না। এখন এই সব কিছুর প্রভাব ভোটে কতটা পরে তাই এখন দেখার।

LinkedIn
Share