Tag: BNP

BNP

  • FIR Against Mamata: হাদি হত্যা নিয়ে দেশবিরোধী মন্তব্য মমতার! দেশের তথ্য ফাঁসের অভিযোগে এফআইআর দায়ের

    FIR Against Mamata: হাদি হত্যা নিয়ে দেশবিরোধী মন্তব্য মমতার! দেশের তথ্য ফাঁসের অভিযোগে এফআইআর দায়ের

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: বাংলাদেশের ওসমান হাদি হত্যা নিয়ে প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের (Mamata Banerjee) বিতর্কিত মন্তব্য গুরুত্ব পেল না পদ্মাপাড়েই। উল্টে ফের মমতার বিরুদ্ধে এফআইআর দায়ের হল। উস্কানিমূলক বক্তব্য রাখার জন্য শিলিগুড়ি সাইবার ক্রাইম থানায় মমতার বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। পদ থেকে সরতেই কীভাবে দেশের অন্দরের তথ্য ফাঁস করলেন মমতা, তা নিয়ে উঠছে প্রশ্ন। গত ২ জুন রানি রাসমণি রোডের ভরা সভা থেকে নাম না করে বাংলাদেশের ওসমান হাদি হত্যা নিয়ে বিতর্কিত কথা বলেন মমতা। দেশের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রককে জড়িয়ে উস্কানিমূলক মন্তব্য ছুঁড়ে দেন রাজ্যের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী।

    কেন অভিযোগ দায়ের

    আইনজীবী রিঙ্কি সিং চট্টোপাধ্যায় মমতার বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের করেছেন। তাঁর অভিযোগ, গত ডিসেম্বরে বাংলাদেশে খুন হন বিতর্কিত ওসমান হাদি। হাদির হত্যাকারীরা গত জানুয়ারিতে মেঘালয় সীমান্ত পেরিয়ে এ রাজ্যে এলে দুজনকে গ্রেফতার করে রাজ্যের এসটিএফ। এরপর এই নিয়ে ২ জুনের ভরা সভা থেকে মমতা নাম উল্লেখ না করলেও সেই প্রসঙ্গ তুলে ইঙ্গিত করেন, অন্য দেশে খুন হলেও কারা জড়িত তিনি জানেন। নাম জড়ান কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীরও। এতে দেশের নিরাপত্তা বিঘ্নিত হতে পারে। সেই কারণেই রিঙ্কি শিলিগুড়ি থানায় অভিযোগ দায়ের করেছেন।

    বাংলাদেশকে ভারতের বিরুদ্ধে করার প্রয়াস

    রিঙ্কি বলেন, “উনি মুখ্য়মন্ত্রী থাকাকালীন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রকের যাই কথা হোক, সেটা এখন বাংলাদেশের একটা হত্যাকে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রকের নির্দেশে সংগঠিত হত্যা বলে চালাচ্ছেন। বাংলাদেশ ও ভারতের সংঘাতপূর্ণ পরিস্থিতি তৈরি করলেন। বিশ্বদরবারে ভারতের মাথা নত করলেন। বাংলাদেশের হিন্দুদের নিরাপত্তা বিঘ্নিত করেন। পদে আসার সময় শপথ নিয়েছিলেন যে উনি কোনওদিন দেশের গোপনীয়তা বজায় রাখবেন। যেই না পদ চলে গেছে অমনি উনি মৌলবাদীদের উস্কে দিলেন।” আন্তর্জাতিক বিশেষজ্ঞদের মতে, ধরনা মঞ্চ থেকে মমতা যে উক্তি করেছেন তা সাংঘাতিক। বাংলাদেশকে ভারতের বিরুদ্ধে ক্ষেপিয়ে দেওয়ার চেষ্টা। আতঙ্ক ছড়ানোর চেষ্টা। এর ফলে বাংলাদেশে হিন্দুদের উপর আক্রমণ বাড়বে।

    মমতার বিরুদ্ধে অভিযোগ

    • ● ১৫২- দেওয়ানি কার্যবিধি (CPC)
    • ● ১৫৩-দাঙ্গা সৃষ্টির উদ্দেশ্যে উস্কানি, জাতি ও ধর্মের মধ্যে বিদ্বেষ ছড়ানো
    • ● ১৫৩ এ- ধর্ম, জাতি, ভাষা, বা জন্মস্থানের ভিত্তিতে বিভিন্ন গোষ্ঠীর মধ্যে শত্রুতা, হিংসা, বা ঘৃণা ছড়ানো
    • ● ১৯১ ও ১৯২ ধারা- দাঙ্গা লাগানোর চেষ্টা
    • ● ১৯৬ ধারা-ধর্ম,বর্ণ,ভাষা বা অঞ্চলের ভিত্তিতে বিভিন্ন গোষ্ঠীর মধ্যে শত্রুতা বা বিদ্বেষ ছড়ানো এবং জনসম্প্রীতি বিনষ্ট করলে
    • ● ৩৫১- কোনও ব্যক্তিকে ভয় দেখানোর উদ্দেশ্যে বা তার ইচ্ছার বিরুদ্ধে কোনো কাজ করতে বাধ্য করার চেষ্টা
    • ● ৩৫২-ইচ্ছাকৃত ভাবে শান্তি ভঙ্গ করার উদ্দেশ্য

    পাত্তা দিল না বাংলাদেশ

    তবে, বাংলাদেশের মূলধারা রাজনৈতিক দলগুলি তৃণমূল নেত্রীর বক্তব্য নিয়ে তেমন একটা আগ্রহ দেখায়নি। কোন দলই পশ্চিমবঙ্গের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রীর (West Bengal Ex CM) বক্তব্যকে গুরুত্ব দিতে চায়নি। বাংলাদেশের শাসক দল বিএনপি (BNP) সরকারিভাবে কোন প্রতিক্রিয়া না দিলেও সে দেশের বিদেশ প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ মমতার বক্তব্যকে গুরুত্ব দেননি। তিনি বলেন, উনি (মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়) সদ্য নির্বাচনে হেরে গিয়েছেন। একজন ব্যক্তি বিশেষের কথা নিয়ে সরকারের‌ তরফে প্রতিক্রিয়া দেওয়া উচিত হবে না।

    কী বলেছেন মমতা

    মঙ্গলবার ধর্মতলায় তৃণমূলের ধর্না কর্মসূচিতে প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশের একটি হত্যা মামলার আসামি ভারতের মেঘালয় দিয়ে পশ্চিমবঙ্গে প্রবেশের পর পুলিশ তাঁকে গ্রেফতার করে। হোম মিনিস্টার তখন আমাকে ফোন করে বলেন পশ্চিমবঙ্গ পুলিশ যেন দেশের স্বার্থে এই ব্যাপারে মুখ না খোলে। তিনি আরও বলেন, ‘কাকে দিয়ে খুন করিয়েছিলেন? কার কার নাম বেরিয়ে ছিল? সবটাই জানি।’ তৃণমূল নেত্রীর ওই মন্তব্যের পর আলোচনায় আসে বাংলাদেশের ইসলামিক ঐক্য জোটের আহ্বায়ক শরিফ ওসমান হাদির হত্যাকাণ্ডের প্রসঙ্গ। গত বছর ১২ ডিসেম্বর ঢাকায় দিন দুপুরে তাঁকে খুন করা হয়। তারই হত্যাকারীদের ভারতীয় পুলিশ গ্রেফতার করে। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বক্তব্যকে অনেকেই ওসমান হাদির হত্যাকাণ্ডের প্রসঙ্গ বলে ধরে নিচ্ছেন। হোম মিনিস্টার বলতে তিনি ভারতের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহকে ইঙ্গিত করেছেন বলেও মনে করা হচ্ছে। যদিও তিনি অমিত শাহের নাম মুখে আনেননি। ‌ উল্লেখ করেননি হাদির নামও।

    মমতার মন্তব্য উদ্দেশ্য প্রণোদিত

    মঙ্গলবার ধর্মতলার কর্মসূচিতে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন হত্যাকাণ্ডে কারা জড়িত তাদের নাম যদি বলি তাহলে বাংলাদেশের তোলপাড় হবে। ওয়াকিবহাল মহলের অনেকের মতে, মমতার কথায় বাংলাদেশে ব্যাপক আলোড়ন তৈরি হবে বলে মনে করা হচ্ছিল। বাস্তবে সে‌ দেশের শাসক-বিরোধী কোনও দলই তৃণমূল কংগ্রেস নেত্রীর বক্তব্যকে খুব একটা গুরুত্ব দেয়নি। বাংলাদেশের একাধিক সংবাদ মাধ্যম সূত্রের খবর বিএনপি নেতৃত্ব একান্তে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বক্তব্য নিয়ে বিরক্তি প্রকাশ করেছে। তারা মনে করছে নির্বাচনে ভরাডুবির পর মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় কেন্দ্রে শাসকদল বিজেপিকে নিশানা করতে এই মন্তব্য করেছেন। বিএনপির এক বর্ষীয়ান নেতা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেছেন, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় পশ্চিমবঙ্গের নির্বাচনে পরাজিত হয়েছেন। সেখানে বিজেপি সরকার গড়েছে। এই পরিস্থিতিতে তার কোন মন্তব্য নিয়ে ভারতের সঙ্গে বিবাদে জড়াতে চায় না বিএনপি। ওই নেতার কথায় মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের মন্তব্য সম্পূর্ণভাবে একটি দেশ-বিরোধী পদক্ষেপ। ভারতের রাজনীতির এই অভ্যন্তরীণ বিষয় নিয়ে, তাই বিএনপি মাথা গলাতে আগ্রহী নয়। হাদির হত্যাকারীদের প্রত্যর্পণের জন্য বাংলাদেশ সরকার কূটনৈতিক চ্যানেলে আবেদন জানিয়ে রেখেছে। দুই দেশ যৌথভাবে ওই হত্যাকাণ্ডের তদন্ত চালাচ্ছে।

  • Sheikh Hasina: “বিএনপি ক্ষমতায় থাকলে দেশে আবারও অন্ধকার সময় ফিরে আসবে”, বাংলাদেশবাসীকে সতর্ক করলেন হাসিনা

    Sheikh Hasina: “বিএনপি ক্ষমতায় থাকলে দেশে আবারও অন্ধকার সময় ফিরে আসবে”, বাংলাদেশবাসীকে সতর্ক করলেন হাসিনা

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: “বিএনপি ক্ষমতায় থাকলে দেশে আবারও ২০০১ থেকে ২০০৬ সালের মতো অন্ধকার সময় ফিরে আসবে।” কথাগুলি বললেন বাংলাদেশের (Bangladesh) পদচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা (Sheikh Hasina)। প্রসঙ্গত, ওই সময় বাংলাদেশের রাশ ছিল বিএনপির হাতে। সংবাদ মাধ্যমে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে হাসিনা জানান, তিনি খুব শীঘ্রই বাংলাদেশে ফিরে যাবেন। আওয়ামি লিগের এই নেত্রী ২০২৪ সালে ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর থেকে রয়েছেন ভারতে।

    জনকল্যাণ নিশ্চিত করা জরুরি (Sheikh Hasina)

    হাসিনা বলেন, “ফিরে আসার বিষয়টি কোনও নির্দিষ্ট তারিখ বা সময়ের ওপর নির্ভর করে না। আমরা বাংলাদেশে একটি গণতান্ত্রিক পরিবেশ, মতপ্রকাশের স্বাধীনতা, রাজনৈতিক অধিকার এবং আইনের শাসন পুনঃপ্রতিষ্ঠার জন্য কাজ করে যাচ্ছি। এটি শুধু আমার ফিরে আসার জন্য নয়, দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষা এবং জনগণের সামগ্রিক কল্যাণ নিশ্চিত করার জন্যও জরুরি।” তিনি বলেন, “আমি একটি বিষয় খুব পরিষ্কার করে বলতে চাই। আমার অনুপস্থিতি মানে আমার নীরবতা নয়। আমি প্রতিটি মুহূর্তে দেশের জন্য লড়াই করছি এবং কূটনৈতিক পর্যায়ে, আন্তর্জাতিক আইনগত কাঠামোর মধ্যে এবং বৈশ্বিক গণমাধ্যমের মাধ্যমে সক্রিয়ভাবে কাজ করছি।” চলতি বছর সাধারণ নির্বাচনের পর বাংলাদেশের ক্ষমতায় আসে বিএনপি। তার পরেই দেশটিতে ভারতবিরোধী নানা মন্তব্য করার প্রবণতা বেড়ে গিয়েছে।

    ভারত বাংলাদেশের দীর্ঘদিনের বন্ধু

    এ প্রসঙ্গে হাসিনা জানান, ভারত বাংলাদেশের দীর্ঘদিনের বন্ধু এবং প্রতিবেশী (Sheikh Hasina)। মুক্তিযুদ্ধের সময় ভারতের সমর্থন ছিল প্রশ্নাতীত। তিনি বলেন, “অবশ্য আমাদের দেশে ভারতবিরোধী বক্তব্য দীর্ঘদিন ধরেই মুক্তিযুদ্ধবিরোধী ও আদর্শগতভাবে দেউলিয়া গোষ্ঠীগুলির অন্যতম প্রধান হাতিয়ার। ইউনূসের অন্তর্বর্তী সরকারও এই চর্চায় যোগ দিয়েছে।” তাঁর অভিযোগ, বিরোধীরা প্রায়ই আওয়ামি লিগের বিরুদ্ধে (Sheikh Hasina) ভারতের কাছে নতি স্বীকার করা এবং জাতীয় স্বার্থবিরোধী চুক্তি করার অভিযোগ তুলত। কিন্তু অন্তর্বর্তী সরকার তাদের ১৮ মাসের শাসন কালে কিংবা বিএনপি—কেউই এমন একটি চুক্তিরও প্রমাণ দিতে পারেনি, যা জাতীয় স্বার্থবিরোধী।

    ফের ভিসা পরিষেবা চালুর পথে দুই দেশ

    বছর দেড়েকের অস্থিরতার পর দুই দেশের সম্পর্ক স্বাভাবিক করতে ভারত ও বাংলাদেশ পুরো মাত্রায় ফের ভিসা পরিষেবা চালুর পথে এগোচ্ছে (Bangladesh)। বাংলাদেশ ইতিমধ্যেই সব ধরনের ক্যাটাগরিতে ভারতীয় নাগরিকদের জন্য ভিসা চালু করেছে। এদিকে, ভারতও ফের ধীরে ধীরে ভিসা কার্যকলাপ শুরু করার পরিকল্পনা করছে। বাংলাদেশের বিদেশমন্ত্রী খলিলুর রহমানের ভারত সফরের এক মাস পরেই এই প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। তাঁর সফরে ভিসা স্বাভাবিকীকরণের বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ আলোচ্য বিষয়গুলির মধ্যে ছিল। উল্লেখ্য, ভারতে থাকা বাংলাদেশের সব ভিসা কেন্দ্র—নয়াদিল্লির হাইকমিশন এবং কলকাতা, আগরতলা, মুম্বই ও চেন্নাইয়ের কনস্যুলার বিভাগ (Bangladesh), এখন আগের মতোই কাজকর্ম শুরু করেছে (Sheikh Hasina)।

     

  • Indo Bangladesh Border: বাংলাদেশে জামাতের উত্থানের প্রভাব পড়েছে বঙ্গের সীমান্তবর্তী বিধানসভা কেন্দ্রগুলিতে!

    Indo Bangladesh Border: বাংলাদেশে জামাতের উত্থানের প্রভাব পড়েছে বঙ্গের সীমান্তবর্তী বিধানসভা কেন্দ্রগুলিতে!

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: নয়ের দশকে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র-মেক্সিকো সীমান্তবর্তী শহর সান দিয়োগো এবং তিজুয়ানা এবং লরেডো ও ন্যুভো লরেডোয় ‘স্প্যাংলিশ’ (বা টেক্স-মেক্স স্প্যানিশ) নামে এক মিশ্র ভাষার বিকাশ ঘটেছিল। টেলিভিশন, অভিবাসন ও সীমান্তের দুই পাশের মানুষের পারস্পরিক যোগাযোগ প্রভাব ফেলেছিল এই ভাষার ওপর। এখন, হাজার হাজার কিলোমিটার দূরে এবং কয়েক দশক পরে, ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তেও (Indo Bangladesh Border) সীমান্ত-পার প্রভাবের এক আলাদা গল্প দেখা যাচ্ছে। যদিও এটি খানিক আলাদা ধরনের। এখানে প্রতিক্রিয়াশীল প্রভাব কাজ করেছে এবং পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনের ফল বলছে, ঘটনাপ্রবাহ অন্যভাবে ঘটেছে।

    অনুপ্রবেশ ও ধর্মীয় মেরুকরণ

    পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনে বড় ইস্যু ছিল অনুপ্রবেশ ও ধর্মীয় মেরুকরণ। বিজেপির অভিযোগ, বাংলাদেশ থেকে আসা (Indo Bangladesh Border) অনুপ্রবেশকারীরা, যাদের অধিকাংশই মুসলিম, রাজ্যের জনসংখ্যাগত ভারসাম্য বদলে দিয়েছে। তাদের দাবি, তৃণমূল কংগ্রেস ও মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় তুষ্টিকরণের রাজনীতির কারণে এই সমস্যা উপেক্ষা করেছেন। কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ শুক্রবার বিজেপি নেতা শুভেন্দু অধিকারীকে (Suvendu Adhikari) অভিনন্দন জানিয়ে বলেন, “পশ্চিমবঙ্গে বিজেপির জয় শুধু সংগঠনের বিস্তার বা মতাদর্শের স্বীকৃতি নয়, এটি জাতীয় নিরাপত্তার প্রশ্নও।” তিনি বাংলাদেশি অনুপ্রবেশের প্রসঙ্গটিও তোলেন। বঙ্গবাসী যখন রাজ্যের পরিবর্তিত পরিস্থিতি নিয়ে সতর্ক হচ্ছিলেন, তখন সীমান্তের ওপারে বাংলাদেশে ঘটে যাওয়া ঘটনাগুলিও তাঁরা লক্ষ্য করছিলেন। তাঁরা দেখেছেন, বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা (Sheikh Hasina) ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পরে কীভাবে হিন্দুদের ওপর আক্রমণ করা হয়েছে, মন্দির ভাঙচুর হয়েছে এবং ইসলামপন্থীরা ধর্মনিন্দার মিথ্যে অভিযোগ তুলে পিটিয়ে হত্যা করেছে নিরীহ মানুষকে।

    জামাতের জয়ের প্রভাব

    ফেব্রুয়ারি মাসে বাংলাদেশের সংসদীয় নির্বাচনে বাংলাদেশ জামাত-ই-ইসলামি (Jamaat Rise) পশ্চিমবঙ্গ সীমান্ত লাগোয়া একাধিক আসনে জয়ী হয়। বাংলাদেশের সীমান্তবর্তী অন্তত ১৭টি আসনে জামাতের জয় পশ্চিমবঙ্গের সীমান্ত অঞ্চলে বিজেপির পক্ষে ভোট একত্রিত করতে সাহায্য করেছে বলে ধারণা সংশ্লিষ্ট মহলের। পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনের ফলে দেখা যায়, সীমান্তবর্তী এলাকায় বিজেপি অন্তত ২৬টি আসনে জয়ী হয়েছে। এই আসনগুলি বাংলাদেশের সেই ১৭টি জামাত-জয়ী আসন লাগোয়া। জামাত-ই-ইসলামির নেতা সফিকুর রহমানের দলকে নিষিদ্ধ করেছিল শেখ হাসিনার সরকার। যদিও মহম্মদ ইউনূস নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকার ২০২৫ সালের অগাস্টে ক্ষমতায় এসেই তুলে নেয় সেই নিষেধাজ্ঞা।

    জামাতের উত্থান

    ছাব্বিশের নির্বাচনে হাসিনার আওয়ামি লিগ নিষিদ্ধ থাকায় বিএনপির প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী হয়ে ওঠে জামাত (Jamaat Rise)। বিএনপি ২০৯টি আসনে জয় পেলেও, জামাত-নেতৃত্বাধীন ১১টি দলের জোট ৭৭টি কেন্দ্রে জয়ী হয়। জামাতের ইতিহাসে সেরা ফল এটি। এই ৭৭টি আসনের মধ্যে ১৭টি এসেছিল রংপুর, নীলফামারী, কুড়িগ্রাম, জয়পুরহাট, নওগাঁ, মেহেরপুর, চুয়াডাঙা, ঝিনাইদহ, যশোর ও সাতক্ষীরার মতো সীমান্তবর্তী জেলাগুলি (Indo Bangladesh Border) থেকে। রংপুর বিভাগে, যা ভারতের ‘চিকেনস নেক’ বা ‘শিলিগুড়ি করিডর’ লাগোয়া, জামাতের ব্যাপক উত্থান দেখা যায়। এই করিডর ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলের সঙ্গে যোগাযোগের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

    শুভেন্দু অধিকারীর প্রতিবাদ 

    বাংলাদেশে হিন্দুদের ওপর হামলার খবর পশ্চিমবঙ্গেও রাজনৈতিকভাবে বড় প্রভাব ফেলেছে। বিজেপি নেতা তথা বর্তমান মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী বারবার রাস্তায় নেমে প্রতিবাদ করেছিলেন। তিনি পেট্রাপোল সীমান্তে গিয়ে সংখ্যালঘু হিন্দুদের ওপর অত্যাচারের প্রতিবাদ জানান এবং কলকাতায় বাংলাদেশ ডেপুটি হাইকমিশনের সামনেও বিক্ষোভ দেখান। একই সঙ্গে বিজেপি বাংলাদেশ থেকে অনুপ্রবেশের বিষয়েও সোচ্চার হন (Jamaat Rise)। এই বিষয়গুলি পশ্চিমবঙ্গের ভোটারদের কাছেও গুরুত্ব পেতে থাকে। পশ্চিমবঙ্গের সীমান্তবর্তী (Indo Bangladesh Border) বিভিন্ন এলাকায় বিজেপি উল্লেখযোগ্য সাফল্য পেয়েছে। দক্ষিণ ২৪ পরগনা, মালদা, উত্তর ও দক্ষিণ দিনাজপুর, জলপাইগুড়ি এবং কোচবিহারের সীমান্তবর্তী একাধিক আসনে বিজেপি জয়ী হয়েছে ।

    জামাতের আসনগুলির উল্টোদিকে বিজেপির প্রাচীর!

    বাংলাদেশের জামাত-জয়ী (Jamaat Rise) আসনের উল্টো দিকে অবস্থিত পশ্চিমবঙ্গের বাংলাদেশ-সীমান্তবর্তী আসনগুলিতে বিজেপির জয়কে একটি গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক প্যাটার্ন হিসেবে দেখা যাচ্ছে। পশ্চিমবঙ্গের ২৬টি আসনে বিজেপির জয় এসেছে মোট নয়টি জেলা থেকে, যেগুলির ঠিক ওপারেই বাংলাদেশে জামাতের জয়ী আসনগুলি অবস্থিত। এক নজরে দেখে নেওয়া যাক, বাংলাদেশ সীমান্তবর্তী জেলায় কেমন ফল করেছে বিজেপি। ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তবর্তী দক্ষিণ দিক থেকে শুরু করলে, দক্ষিণ ২৪ পরগনার সুন্দরবন সংলগ্ন (Indo Bangladesh Border) এলাকায় বিজেপি জিতেছে বাগদা (SC), বনগাঁ উত্তর (SC) এবং হিঙ্গলগঞ্জ (SC)-এর মতো আসন। এই কেন্দ্রগুলির ঠিক বিপরীতে রয়েছে বাংলাদেশের সাতক্ষীরা-১ থেকে সাতক্ষীরা-৪ আসন, যেখানে চলতি বছরের ফেব্রুয়ারি নির্বাচনে জামাত জয়ী হয়েছিল।

    মালদা-মুর্শিদাবাদ-দিনাজপুর

    এরপর কিছুটা উত্তরে মুসলিম-অধ্যুষিত মালদা জেলায় বিজেপি জিতেছে ইংলিশ বাজার এবং বৈষ্ণবনগর আসন, যেগুলির সীমান্তের ওপারেও রয়েছে জামাত-জয়ী বাংলাদেশি কেন্দ্র। আরও উত্তরে দক্ষিণ দিনাজপুরে বিজেপি দখল করেছে কুশমণ্ডি (SC), বালুরঘাট, তপন (ST), গঙ্গারামপুর (SC) এবং হবিবপুর (ST) আসন। এই কেন্দ্রগুলির (Indo Bangladesh Border)  ঠিক উল্টোদিকে রয়েছে জয়পুরহাট, নওগাঁ এবং মেহেরপুরের মতো বাংলাদেশি আসন, যেখানে ফেব্রুয়ারি ২০২৬ নির্বাচনে জামাত জিতেছিল। উত্তর দিনাজপুর, যা আরেকটি মুসলিম-প্রধান জেলা, সেখানেও বিজেপি জিতেছে করণদিঘি, হেমতাবাদ (SC) এবং হরিপুর আসন। এই কেন্দ্রগুলির ওপারেই রয়েছে বাংলাদেশের চুয়াডাঙ্গা এবং যশোরের জামাত-জয়ী (Jamaat Rise) আসনগুলি।

    শিলিগুড়ি করিডর ও ডুয়ার্স

    শিলিগুড়ি করিডরের দিকে এগোলে, বিজেপির শিলিগুড়ি এবং ফাঁসিদেওয়া (ST) আসনগুলি বাংলাদেশের নীলফামারী-১ আসনের ঠিক বিপরীতে অবস্থিত। জলপাইগুড়ি জেলায় বিজেপি জিতেছে ময়নাগুড়ি এবং জলপাইগুড়ি (SC) আসন, যেগুলিও সরাসরি সীমান্ত লাগোয়া এবং বাংলাদেশের জামাত-জয়ী (Jamaat Rise) কেন্দ্রগুলির মুখোমুখি। সবশেষে ডুয়ার্স অঞ্চলের কোচবিহার জেলায় বিজেপি দখল করেছে সিতাই (SC), শীতলকুচি (SC) এবং মেখলিগঞ্জ (SC) আসন। এই কেন্দ্রগুলির ঠিক ওপারেই রয়েছে বাংলাদেশের কুড়িগ্রাম জেলা, যেখানে জামাত ও তাদের মিত্ররা ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে চারটি আসনে জয় পেয়েছিল।

    বাংলাদেশে হিন্দুদের ওপর যা ঘটেছে, তার প্রভাব পড়েছে এপারের ভোটে?

    যদিও হলফ করে বলা যায় না যে বাংলাদেশে জামাতের উত্থান (Jamaat Rise) সরাসরি পশ্চিমবঙ্গে বিজেপির বিপুল সাফল্যের একটি কারণ, তবে প্রাপ্ত তথ্যে স্পষ্ট একটি সমান্তরাল প্রবণতা। বাংলাদেশের রাজনৈতিক ও ধর্মীয় পরিস্থিতি, পরিচয় নিয়ে উদ্বেগ, সীমান্ত নিরাপত্তা (Indo Bangladesh Border) এবং অনুপ্রবেশের প্রশ্ন—এই সব কিছু মিলেই পশ্চিমবঙ্গের সীমান্তবর্তী এলাকায় ভোটারদের আচরণে প্রভাব ফেলেছে বলেই ধারণা রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের। এই পরিসংখ্যান দেখিয়েই রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মত, পশ্চিমবঙ্গের ভোটাররা সম্ভবত বেআইনি অনুপ্রবেশ রোধ করার আশায় বিজেপির উপর আস্থা রেখেছেন, যা তাঁরা দীর্ঘদিন ধরে বাস্তবে প্রত্যক্ষ করেছেন। সীমান্তবর্তী এলাকাগুলির (Indo Bangladesh Border)  নির্বাচনী ফলাফল দুই দেশের জনবিন্যাস থেকে শুরু করে ধর্মীয় ও রাজনৈতিক পরিবর্তন, পরিচয়-সংক্রান্ত উদ্বেগ এবং অভিবাসন ও নিরাপত্তা ঘিরে তৈরি হওয়া নানা বয়ানের প্রভাবের ফল হতে পারে। এই সমস্ত উপাদানই পশ্চিমবঙ্গের ভোটারদের আচরণে প্রতিফলিত হয়েছে বলেই মনে করা হচ্ছে, কারণ সীমান্তের ওপারে বাংলাদেশে যা ঘটতে দেখেছেন বাঙালিরা, তার প্রভাবও তাঁদের ভোটের সিদ্ধান্তে পড়েছে।

  • Bangladesh: এবার কাঠগড়ায় ইউনূস, অসাংবিধানিক উপায়ে অপসারণের “নীল নকশা” করার অভিযোগ

    Bangladesh: এবার কাঠগড়ায় ইউনূস, অসাংবিধানিক উপায়ে অপসারণের “নীল নকশা” করার অভিযোগ

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: বাংলাদেশের (Bangladesh) তদারকি সরকারের প্রধান মুহাম্মদ ইউনূসের (Mohammad Yunus) বিরুদ্ধে উঠল ষড়যন্ত্রের অভিযোগ। তাঁর বিরুদ্ধে অসাংবিধানিক উপায়ে অপসারণের “নীল নকশা” করার অভিযোগ তুলেছেন। দিন কয়েক আগেই বিএনপি সুপ্রিমো তারিক রহমানের নেতৃত্বাধীন নতুন সরকার ক্ষমতা গ্রহণের কয়েক দিনের মধ্যেই দক্ষিণ এশীয় দেশ বাংলাদেশের প্রেসিডেন্ট মোহাম্মদ শাহাবুদ্দিন তোপ দাগলেন ইউনূসকে। বাংলাদেশের এক সংবাদ মাধ্যমে সাক্ষাৎকার দিতে গিয়ে শাহাবুদ্দিন দাবি করেন, ইউনূসের আমলে বাংলাদেশকে অস্থিতিশীল করার এবং একটি সাংবিধানিক শূন্যতা তৈরির চেষ্টা করা হয়েছিল।

    সংবিধানের কোনও বিধানই মানেননি, তোপ রাষ্ট্রপতির (Bangladesh)

    তিনি ঢাকার রাষ্ট্রপতির সরকারি বাসভবন বঙ্গভবনে দেওয়া ওই সাক্ষাৎকারে বলেন, “এই দেড় বছরে আমি কোনও আলোচনায় ছিলাম না, অথচ আমার বিরুদ্ধে নানা ষড়যন্ত্র করা হয়েছে। দেশের শান্তি-শৃঙ্খলা স্থায়ীভাবে ধ্বংস করার এবং একটি সাংবিধানিক শূন্যতা তৈরির বহু চেষ্টা হয়েছে (Bangladesh)।” প্রেসিডেন্ট জানান, অন্তর্বর্তী সরকার চলাকালে প্রাক্তন প্রধান উপদেষ্টা ইউনূস তাঁর সঙ্গে সংবিধানসম্মতভাবে যোগাযোগও করেননি। তিনি বলেন, “বিদেশ সফর কিংবা রাষ্ট্রীয় বিষয়ে আমায় অবহিত করা হয়নি। অথচ, একে তিনি “সাংবিধানিক বাধ্যবাধকতা” হিসেবে উল্লেখ করেন। প্রেসিডেন্ট বলেন, “প্রধান উপদেষ্টা সংবিধানের কোনও বিধানই মানেননি। বিদেশ সফর শেষে তাঁর আমার সঙ্গে সাক্ষাৎ করে লিখিতভাবে সফরের ফল জানানোর কথা ছিল। তিনি ১৪ থেকে ১৫ বার বিদেশ গিয়েছেন, কিন্তু একবারও আমায় জানাননি। কখনও দেখা করতেও আসেননি (Mohammad Yunus)।”

    আমায় ‘প্রাসাদবন্দি’ করে রাখা হয়েছিল

    শাহাবুদ্দিনের অভিযোগ, গত দেড় বছরে তাঁকে কার্যত ‘প্রাসাদবন্দি’ করে রাখা হয়েছিল। তাঁর পরিকল্পিত দুটি বিদেশ সফরে বাধা দেয় ইউনূস প্রশাসন (Bangladesh)। রাষ্ট্রীয় সিদ্ধান্ত, বিশেষ করে ১৩৩টি অধ্যাদেশ জারির বিষয়ে প্রাক্তন প্রধান উপদেষ্টা তাঁর সঙ্গে সমন্বয় করেছিলেন কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে শাহাবুদ্দিন বলেন, ‘কিছু অধ্যাদেশ পরিস্থিতির কারণে প্রয়োজন হতে পারে, কিন্তু এত বিপুল সংখ্যক অধ্যাদেশ জারির যৌক্তিকতা ছিল না।’ নির্বাচনের আগে অন্তর্বর্তী সরকার মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে যে সর্বশেষ চুক্তি সম্পাদন করেছিল, সে বিষয়ে তিনি অবগত ছিলেন কি না—এ প্রশ্নের উত্তরে প্রেসিডেন্ট জানান, তিনি এ বিষয়ে কিছুই জানতেন না। এই ধরনের রাষ্ট্রীয় চুক্তি তাঁকে আনুষ্ঠানিকভাবে জানানো উচিত ছিল (Bangladesh)। তিনি বলেন, “না, আমি কিছুই জানি না। এমন রাষ্ট্রীয় চুক্তির বিষয়ে আমায় জানানো উচিত ছিল (Mohammad Yunus)। ছোট হোক বা বড়—পূর্ববর্তী সরকারের প্রধানরা অবশ্যই রাষ্ট্রপতিকে জানাতেন। এটি একটি সাংবিধানিক বাধ্যবাধকতা। কিন্তু তিনি তা করেননি। মৌখিক বা লিখিতভাবে কিছুই জানাননি। তিনি আসেনওনি। অথচ তাঁর আসার কথা ছিল!”

    ‘আমার জায়গায় বসানোর ষড়যন্ত্র’

    শাহাবুদ্দিন বলেন, “এক পর্যায়ে অসাংবিধানিক উপায়ে একজন প্রাক্তন প্রধান বিচারপতিকে এনে আমার জায়গায় বসানোর ষড়যন্ত্রও হয়েছিল।” তবে তিনি জানান, সংশ্লিষ্ট বিচারপতি সাংবিধানিক সীমাবদ্ধতার কথা উল্লেখ করে সেই প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেন। তিনি ২০২৪ সালের ২২ অক্টোবর বঙ্গভবনের বাইরে হওয়া বিক্ষোভকে “ভয়াবহ এক রাত” হিসেবে উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, “জনতাকে সংঘবদ্ধ করা হয়েছিল এবং রাষ্ট্রপতির বাসভবনে লুটপাটের চেষ্টা হয়েছিল। পরে সেনা মোতায়েনের মাধ্যমে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনা হয়।” শাহাবুদ্দিন বলেন, “বাংলাদেশ সেনাবাহিনী এবং বিএনপি নেতৃত্ব আমায় সাংবিধানিক ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে সাহায্য করেছে। তিন বাহিনীর প্রধানরা আমায় স্পষ্টভাবে বলেছেন, “আপনি সশস্ত্র বাহিনীর সর্বাধিনায়ক। আপনার পরাজয় মানে পুরো (Mohammad Yunus) সশস্ত্র বাহিনীর পরাজয়। আমরা যে কোনও মূল্যে তা প্রতিরোধ করব (Bangladesh)।”

     

  • India-Bangladesh Visa: সম্পর্ক মেরামতের বার্তা! ভারতীয়দের ভিসা দেওয়া ফের শুরু ঢাকার, তারিকের প্রথম বিদেশ সফর কি দিল্লি?

    India-Bangladesh Visa: সম্পর্ক মেরামতের বার্তা! ভারতীয়দের ভিসা দেওয়া ফের শুরু ঢাকার, তারিকের প্রথম বিদেশ সফর কি দিল্লি?

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: বদলে যাচ্ছে ভারত-বাংলাদেশ কূটনৈতিক সম্পর্ক। কূটনৈতিক সূত্রে খবর, বাংলাদেশে ভারতের নাগরিকদের জন্য পুনরায় সব ধরনের ভিসা (India-Bangladesh Visa) পরিষেবা চালু করা হয়েছে। ভারতীয়দের ভিসা দেওয়া সাময়িক ভাবে বন্ধ রেখেছিল বাংলাদেশ। ফের তা চালু করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্কের টানাপোড়েনের আবহে বড় পদক্ষেপ ঢাকার নতুন সরকারের। ফেব্রুয়ারিতে নির্বাচনের পর বদলে গিয়েছে বাংলাদেশের রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট। বিদায় নিয়েছেন মহম্মদ ইউনূস, প্রধানমন্ত্রী হয়েছেন তারেক রহমান। কূটনৈতিক মহলে জল্পনা প্রধানমন্ত্রী তারেকের প্রথম বিদেশ সফর শুরুও হতে পারে ভারত দিয়ে।

    দিল্লির সঙ্গে সম্পর্ক স্বাভাবিক করার ইঙ্গিত

    ঢাকায় অবস্থিত বাংলাদেশ হাইকমিশনের (Bangladesh High Commission) পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, শুক্রবার, ২০ ফেব্রুয়ারি থেকে ভারতীয় নাগরিকদের জন্য পুনরায় সব ধরনের ভিসা পরিষেবা চালু করা হচ্ছে। প্রায় দুই মাস ধরে এই পরিষেবা স্থগিত ছিল। প্রধানমন্ত্রী হিসেবে তারেক রহমান দায়িত্ব নেওয়ার মাত্র তিন দিনের মধ্যেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে, যা নয়াদিল্লির সঙ্গে সম্পর্ক স্বাভাবিক করার ইতিবাচক ইঙ্গিত হিসেবেই দেখা হচ্ছে। গত ডিসেম্বর ২০২৫ থেকে দুই দেশের মধ্যে উত্তেজনা ও ভারত-বিরোধী মনোভাব বৃদ্ধির প্রেক্ষাপটে ভিসা পরিষেবা স্থগিত ছিল। নবনির্বাচিত প্রধানমন্ত্রী তারেকের (Tarique Rahman) নেতৃত্বে বাংলাদেশ সরকার দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক স্বাভাবিক করার বৃহত্তর উদ্যোগের অংশ হিসেবেই এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে বলে কূটনৈতিক সূত্রে জানা গিয়েছে।

    সব ক্যাটাগরিতে ভিসা পুনরায় চালু

    বাংলাদেশ শুক্রবার থেকে পর্যটন, চিকিৎসা, ব্যবসা ও কর্মসংস্থানসহ সব ধরনের ভিসা ইস্যু পুনরায় শুরু হয়েছে। নয়াদিল্লিতে অবস্থিত বাংলাদেশ হাই কমিশন এবং ত্রিপুরার আগরতলায় অবস্থিত বাংলাদেশের সহকারী হাই কমিশন থেকে ফের ভারতীয় নাগরিকরা বাংলাদেশের ভিসা পাবেন। ভিসা ও দূতাবাস সংক্রান্ত (কনস্যুলার) অন্যান্য সুযোগসুবিধা ভারতীয়দের জন্য ফের চালু করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে ঢাকা। বিএনপি নেতারা ভারতকে আঞ্চলিক নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক সহযোগিতায় গুরুত্বপূর্ণ অংশীদার হিসেবে দেখছেন। এর আগে দুই দেশের সম্পর্কের অবনতির জেরে গত ডিসেম্বরে কনস্যুলার ও ভিসা পরিষেবা স্থগিত করা হয়েছিল। ভারতবিরোধী ছাত্রনেতা শরীফ ওসমান হাদির হত্যাকাণ্ডের পর পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। তাঁর মৃত্যুর প্রতিবাদে বাংলাদেশে ব্যাপক বিক্ষোভ হয়, যেখানে ভারতবিরোধী স্লোগান ওঠে এবং সংখ্যালঘু হিন্দুদের উপর হামলার ঘটনাও ঘটে। ফলে কূটনৈতিক সম্পর্কের টানাপোড়েন চরমে পৌঁছায়। তবে ঢাকায় নেতৃত্ব পরিবর্তনের পর পরিস্থিতি বদলাতে শুরু করেছে। সূত্রের খবর, ব্যবসা ও কর্মসংস্থান সংক্রান্ত ভিসা আগেই চালু ছিল, কিন্তু এখন চিকিৎসা, পর্যটন-সহ সমস্ত বিভাগেই ভিসা পরিষেবা পুনরায় স্বাভাবিক করা হয়েছে।

    ভারতের ইতিবাচক ইঙ্গিত

    এদিকে, নয়াদিল্লিও ইতিবাচক সাড়া দিয়েছে। রাজনৈতিক টানাপোড়েনের জেরে উভয় দেশ ভিসা প্রক্রিয়ায় একাধিক বিধিনিষেধ আরোপ করেছিল। যার ফলে ভারতে যাওয়ার জন্য কেবল মেডিক্যাল ভিসা ও ডাবল এন্ট্রি ভিসা দেওয়া হচ্ছিল এতদিন। এবার গোটা ভিসা প্রক্রিয়া স্বাভাবিক হতে চলছে বলেই জানিয়েছেন সিলেটের ভারতীয় সহকারী হাইকমিশনের সহকারী হাইকমিশনার অনিরুদ্ধ দাস। ২০২৪ সালের অগস্টে শেখ হাসিনা বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর কুর্সি ত্যাগ করে ভারতে চলে আসার পর থেকেই সে দেশে সংখ্যালঘুদের অবস্থার অবনতি হয়েছে বলে অভিযোগ। সংখ্যালঘু নির্যাতনের খবর প্রকাশ্যে এসেছে বার বার। একাধিক বার তা নিয়ে উদ্বেগ জানায় ভারত সরকারও। এই পরিস্থিততে গত ডিসেম্বরে সংখ্যালঘু পীড়নের প্রতিবাদে দুই দেশের মধ্যে ভিসা পরিষেবা স্থগিত করা হয়। পদ্মা-পাড়ে সরকার পরিবর্তনের ফলে দু’মাসের মধ্যে তা বদল করা হল।

    সম্পর্ক রক্ষায় বিশ্বাসী ভারত

    ভারত (India-Bangladesh Visa) সরকারের তরফে আগেই আভাস দেওয়া হয়েছিল বাংলাদেশের নতুন সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর কূটনৈতিক তৎপরতা আরও জোরদার করা হবে। সেইমতো নাগরিক স্তরের যোগাযোগের দুয়ার খুলে দেওয়া হচ্ছে।‌ এদিকে ভারতের বিদেশ মন্ত্রকের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল সাপ্তাহিক ব্রিফিংয়ে বলেছেন, বাংলাদেশের সঙ্গে ভারত সুসম্পর্ক গড়ার কাজ চালিয়ে ঢাকা ও দিল্লির কূটনৈতিক মহলের খবর, চলতি বছরে গঙ্গার জল চুক্তির পুনর্নবীকরণকে‌ ভিন্নমাত্রা দেওয়ার চেষ্টা হচ্ছে। যদিও অফিসার পর্যায়ে এখনও চুক্তি পুনর্নবীকরণের বেশ কিছু ইস্যুর ফয়সালা হয়নি।

    স্বাস্থ্য-শিক্ষা-কৃষি-জলবায়ু থেকে ক্রীড়া

    তারেক রহমানের নেতৃত্বে নতুন সরকার গঠনের পরেই ভারতের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক ক্রিকেট সম্পর্কের উন্নতি চায় বাংলাদেশ। আইপিএল থেকে মুস্তাফিজ়ুর রহমানকে বাদ দেওয়ার পর যে জটিলতা তৈরি হয়েছিল, তা চালিয়ে নিয়ে যেতে চায় না বাংলাদেশ। মঙ্গলবার শপথ নেওয়ার পর সাংবাদিক বৈঠকে জানিয়েছেন বাংলাদেশের নতুন ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হক। ক্ষমতায় আসার পরই তারেক জানিয়েছিলেন, তাঁর সরকারের অগ্রাধিকার হবে দেশের উন্নয়ন এবং জনগণের স্বার্থকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া। স্বাস্থ্য, শিক্ষা, কৃষি, জলবায়ু পরিবর্তন এবং খাদ্য নিরাপত্তার মতো বিষয়গুলিও গুরুত্ব দিয়ে দেখা হবে। এর পাশাপাশি অতীতের অভিজ্ঞতা থেকে শিক্ষা নিয়ে ভবিষ্যতের নীতি প্রণয়ন করবে সরকার। ভারত এবং অন্যান্য প্রতিবেশী দেশগুলির সঙ্গে সম্মানজনক সম্পর্ক স্থাপন করা বাংলাদেশের বিদেশনীতিতে অগ্রাধিকার পাবে।

    ভারতে আসছেন তারেক

    ইউনূস শাসনের দীর্ঘ ১৭ মাসের অস্থিরতা শেষে বাংলাদেশের বুকে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে স্থায়ী সরকার। প্রধানমন্ত্রী হিসাবে শপথ নিয়েছেন তারেক রহমান। তাৎপর্যপূর্ণভাবে শপথের দিনেই সপরিবারে ভারতে আসার জন্য খালেদা পুত্রকে আমন্ত্রণ জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির ‘দূত’ ওম বিড়লা। শুধু তাই নয়, তারেকের সঙ্গে একান্ত বৈঠকও করেছেন তিনি। প্রধানমন্ত্রী মোদি জানিয়েছেন, তিনি বিএনপি নেতৃত্বাধীন সরকারের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করে দুই দেশের বহুমাত্রিক সম্পর্ক আরও জোরদার করতে আগ্রহী। ফলে অতীত ভুলে নতুন করে ভারত-বাংলাদেশ ফের কাছাকাছি! মনে করা হচ্ছে ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্ক আবার আগের অবস্থায় ফিরে যাবে। বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমানের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথের দিনেই বাংলাদেশে গম রফতানির দুই বছরের নিষেধাজ্ঞা তুলে নেয় ভারত। যা ইতিবাচক বার্তা বহন করছে। এরপরই ভিসা নিয়ে সিদ্ধান্ত। কূটনৈতিক মহলের অনুমান, ভারতের আমন্ত্রণ গ্রহণ করে খুব শীঘ্রই গঙ্গা-পাড়ে আসতে পারেন তারেক। অতীতে বাংলাদেশের নতুন প্রধানমন্ত্রীরা প্রথম বিদেশ সফরে ভারত সফরের রীতি অনুসরণ করেছেন। যদিও গত বছর মহম্মদ ইউনূস প্রথম সফরে চিন যাওয়ায় সেই প্রথা ভেঙেছিল, যা নয়াদিল্লিতে অসন্তোষের কারণ হয়েছিল।

  • Reliance: ভারতের নিজস্ব এআই সক্ষমতা গড়ে তুলতে ১০ লাখ কোটি টাকা লগ্নি করবে রিলায়েন্স

    Reliance: ভারতের নিজস্ব এআই সক্ষমতা গড়ে তুলতে ১০ লাখ কোটি টাকা লগ্নি করবে রিলায়েন্স

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: বৃহস্পতিবার এক বিরাট কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI) উদ্যোগর ঘোষণা করলেন বিলিয়নিয়ার শিল্পপতি মুকেশ আম্বানি। তিনি জানান, রিলায়েন্স (Reliance) ইন্ডাস্ট্রিজ এবং জিও আগামী সাত বছরে ১০ লাখ কোটি টাকা বিনিয়োগ করবে ভারতের নিজস্ব এআই সক্ষমতা (AI Infrastructure) গড়ে তুলতে এবং দেশকে বৈশ্বিক প্রযুক্তি নেতৃত্বের পথে দ্রুত এগিয়ে নিতে।

    ইন্ডিয়া এআই ইমপ্যাক্ট সামিট (Reliance)

    ইন্ডিয়া এআই ইমপ্যাক্ট সামিটে বক্তব্য রাখতে গিয়ে রিলায়েন্সের চেয়ারম্যান বলেন, “এই বিনিয়োগ কোনও জল্পনাভিত্তিক পদক্ষেপ নয়, বরং দীর্ঘমেয়াদি কৌশলগত অঙ্গীকার।” তাঁর দাবি, জনসংখ্যাগত শক্তি, ডিজিটাল পরিকাঠামো, বিপুল তথ্য উৎপাদন এবং উদ্ভাবনের ক্ষেত্রে ভারতের তুলনাহীন সুবিধা রয়েছে। আগামী কয়েক দশকে ভারত বিশ্বের অন্যতম প্রধান এআই শক্তি হয়ে উঠতে প্রস্তুত বলেও মন্তব্য করেন তিনি। আম্বানি জানান, জিও ইন্টেলিজেন্সের অধীনে শক্তিশালী দেশীয় কম্পিউট পরিকাঠামো গড়ে তুলতে তিনটি প্রধান স্তম্ভ নির্ধারণ করা হয়েছে।

    এআই-প্রস্তুত ডেটা সেন্টার নির্মাণ

    প্রথমত, বহু-গিগাওয়াট ক্ষমতাসম্পন্ন এআই-প্রস্তুত ডেটা সেন্টার নির্মাণ, যার মধ্যে ২০২৬ সালের দ্বিতীয়ার্ধে জামনগরে ১২০ মেগাওয়াটেরও বেশি সক্ষমতা চালু হওয়ার কথা। এটি বৃহৎ পরিসরে এআই প্রশিক্ষণ ও ইনফারেন্স সক্ষমতার ভিত্তি গড়ে তুলবে।
    দ্বিতীয়ত, রিলায়েন্সের নবায়নযোগ্য শক্তির সুবিধা কাজে লাগানো, কচ্ছ ও অন্ধ্রপ্রদেশে সৌর প্রকল্পের মাধ্যমে ১০ গিগাওয়াট পর্যন্ত অতিরিক্ত সবুজ বিদ্যুৎ এআই পরিকাঠামোকে শক্তি জোগাবে। তৃতীয়ত, জিওর টেলিকম নেটওয়ার্কের সঙ্গে যুক্ত দেশব্যাপী এজ কম্পিউট নেটওয়ার্ক গড়ে তোলা, যা ব্যবহারকারীদের কাছাকাছি কম বিলম্বে ও সাশ্রয়ী মূল্যে এআই পরিষেবা পৌঁছে দেবে (Reliance)।

    ভারতের ডিজিটাল পরিসর

    ভারতের ডিজিটাল পরিসরের কথা উল্লেখ করে আম্বানি বলেন, “দেশে প্রায় ১০০ কোটি ইন্টারনেট ব্যবহারকারী রয়েছে এবং বিশ্বের অন্যতম কম ডেটা খরচ এখানে। পাশাপাশি ১ লাখেরও বেশি স্টার্টআপ ও ১০০-র বেশি ইউনিকর্ন নিয়ে একটি শক্তিশালী উদ্যোক্তা পরিবেশ তৈরি হয়েছে। আধার এবং ইউপিআইয়ের মতো ডিজিটাল পাবলিক পরিকাঠামো দ্রুত এআই গ্রহণের ভিত্তি গড়ে দিয়েছে। জিওর ৫০ কোটিরও বেশি গ্রাহকভিত্তি বুদ্ধিমান পরিষেবাকে ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে দিতে সহায়ক হবে বলেও জানান (AI Infrastructure) তিনি। আম্বানি বলেন, “কম্পিউটিং শক্তির খরচ কমানোই ভারতের এআই স্বপ্ন পূরণের কেন্দ্রীয় শর্ত। ভারত বুদ্ধিমত্তা ভাড়া করে নিতে পারে না।” টেলিকম খাতে যেমন জিও ডেটার মূল্য কমিয়ে বাজারে পরিবর্তন এনেছিল, তেমনভাবেই এআই ব্যবহারের খরচ কমানোই তাদের লক্ষ্য।

    এআই রূপান্তরমূলক শক্তি

    এআইকে তিনি এক রূপান্তরমূলক শক্তি হিসেবে বর্ণনা করে পৌরাণিক ‘অক্ষয় পাত্রে’র সঙ্গে তুলনা করেন। তাঁর মতে, এটি জ্ঞান, দক্ষতা ও উৎপাদনশীলতায় সীমাহীন উন্নতির সম্ভাবনা তৈরি করতে পারে। তবে তিনি সতর্ক করে দেন, বিশ্ব এআই পরিসর এখনও উন্নত অর্থনীতিতে কেন্দ্রীভূত কম্পিউট ক্ষমতা ও বৈশ্বিক গণতান্ত্রিক প্রবেশাধিকারের প্রয়োজনের মধ্যে বিভক্ত (Reliance)। ভারতের পথ হওয়া উচিত নিজস্ব সক্ষমতা গড়ে তোলা এবং একই সঙ্গে এআইকে অন্তর্ভুক্তিমূলক ও সবার নাগালের মধ্যে রাখা—যাতে প্রযুক্তিগত রূপান্তরের যুগে ভারত গ্লোবাল সাউথের উদ্ভাবনের অন্যতম চালিকাশক্তি হয়ে উঠতে পারে (AI Infrastructure)।

     

  • Bangladesh India Cricket: ‘ভারতের সঙ্গে ক্রিকেট সম্পর্ক পুনর্গঠন করতে চায় বাংলাদেশ’, জানালেন ঢাকার নয়া ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী

    Bangladesh India Cricket: ‘ভারতের সঙ্গে ক্রিকেট সম্পর্ক পুনর্গঠন করতে চায় বাংলাদেশ’, জানালেন ঢাকার নয়া ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: মঙ্গলবার তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন বিএনপি (BNP) সরকার শপথ নিয়েছে। তার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই নয়া যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হক ইঙ্গিত দেন, আইসিসি পুরুষদের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ ২০২৬ ইস্যুতে (Bangladesh India Cricket) যে অচলাবস্থার সৃষ্টি হয়েছে, তার পর ভারত-বাংলাদেশ ক্রিকেট সম্পর্ক পুনর্গঠনের পথে হাঁটছে ঢাকা। আমিনুল জানান, তিনি ভারতের উপ-হাইকমিশনারের সঙ্গে আলোচনা করেছেন এবং বন্ধুত্বপূর্ণ আলোচনার মাধ্যমে মতভেদ নিরসনের আগ্রহ প্রকাশ করেছেন। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বিশ্বকাপ-সংকটের সময় দায়িত্বে থাকা বিসিবির কর্মকর্তাদের নির্বাচনের প্রক্রিয়াকেও তিনি সন্দেহজনক বলে কটাক্ষ করেন।

    ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্কে অবনতি (Bangladesh India Cricket)

    মহম্মদ ইউনূসের অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে সামগ্রিকভাবে ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্কের অবনতি ঘটে, যার প্রভাব পড়ে ক্রিকেট সম্পর্কেও। ২০২৪ সালের ডিসেম্বর মাসে আইপিএল ফ্র্যাঞ্চাইজি কলকাতা নাইট রাইডার্স থেকে বাংলাদেশের পেসার মুস্তাফিজুর রহমানকে বাদ দেওয়ায় বিরোধের সূচনা হয়। ঢাকার দৃষ্টিতে এই সিদ্ধান্ত ছিল অন্যায্য। এরপর ইউনূস সরকারের সময় বাংলাদেশ ভারত মাটিতে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের ম্যাচ না খেলার সিদ্ধান্ত নেয়। ভারত সফরে যেতে নিরাপত্তা উদ্বেগের কথা উল্লেখ করে বাংলাদেশ ম্যাচ খেলতে রাজি হবে না জেনে আইসিসি বাংলাদেশকে বিশ্বকাপে অংশগ্রহণ করতে না বলে। শেষ পর্যন্ত আইসিসি বাংলাদেশের জায়গায় স্কটল্যান্ডকে অন্তর্ভুক্ত করে (BNP)। যদিও বাংলাদেশকে কোনও ক্রীড়া বা প্রশাসনিক শাস্তি দেওয়া হয়নি এবং ভবিষ্যতে আয়োজক হওয়ার সুযোগ দেওয়ার আশ্বাস দেওয়া হয় (Bangladesh India Cricket)।

    মামলাগুলির নিষ্পত্তি চাই

    এই প্রেক্ষাপটে আমিনুল বলেন, “আওয়ামি লিগ-ঘনিষ্ঠ ক্রিকেটার সাকিব আল হাসান ও মাশরাফি বিন মর্তুজার বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলাগুলির নিষ্পত্তি চাই আমি, যাতে প্রাক্তন দুই অধিনায়ক আবারও বাংলাদেশ ক্রিকেটে ফিরতে পারেন। দুই খেলোয়াড়ই আওয়ামি লিগের সাংসদ ছিলেন। ২০২৪ সালের অগাস্টে ইউনূস প্রশাসন ক্ষমতায় আসার পর থেকে সাকিব দেশে ফিরতে পারেননি এবং মাশরাফিকেও জনসমক্ষে দেখা যায়নি। ২০২৪ সালের জুলাই-অগাস্টে শেখ হাসিনা-বিরোধী আন্দোলনের সময়ের ঘটনায় তাঁদের বিরুদ্ধে হত্যা-সহ একাধিক মামলা রয়েছে। নির্বাচনের পর ঢাকায় নতুন সরকার গঠনের পর প্রাক্তন বাংলাদেশ ফুটবল অধিনায়ক আমিনুল হক যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেন। তিনি ভারতের সঙ্গে টানাপোড়েনপূর্ণ ক্রিকেট সম্পর্ক মেরামতের পরিকল্পনা তুলে ধরেন (BNP)।

    ভারতের উপ-হাইকমিশনারের সঙ্গে সাক্ষাৎ

    তিনি বলেন, “দায়িত্ব নেওয়ার পরপরই আমি ভারতের উপ-হাইকমিশনারের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছি এবং বন্ধুত্বপূর্ণ আলোচনার মাধ্যমে সমস্যার সমাধান নিয়ে কথা বলেছি। আমরা প্রতিবেশী দেশগুলির সঙ্গে সুসম্পর্ক বজায় রাখতে চাই এবং ক্রীড়া অঙ্গনের সমস্যাগুলি কূটনৈতিক আলোচনার মাধ্যমে সমাধান করতে চাই। ক্রিকেটের ক্ষেত্রে আইসিসি বিধিমালা অনুযায়ী আলোচনার মাধ্যমে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।” তিনি এও বলেন, “সংসদ ভবনে আমি ভারতের উপ-হাইকমিশনারের সঙ্গে দেখা করেছি। টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ ইস্যু নিয়ে আলোচনা করেছি। তিনি খুবই বন্ধুত্বপূর্ণ ছিলেন এবং আমিও বন্ধুত্বপূর্ণভাবে কথা বলেছি (Bangladesh India Cricket)। আমরা দ্রুত আলোচনার মাধ্যমে সমস্যার সমাধান করতে চাই, কারণ সব প্রতিবেশী দেশের সঙ্গে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক বজায় রাখতে আগ্রহী। খেলাধুলা থেকে শুরু করে অন্যান্য সব ক্ষেত্রেই আন্তরিক ও সৌহার্দ্যপূর্ণ সম্পর্ক গড়ে তুলতে চাই।”

    কূটনৈতিক জটিলতা

    তিনি বলেন, “কূটনৈতিক জটিলতার কারণে আমরা বিশ্বকাপে খেলতে পারিনি। বিষয়গুলি আগে আলোচনা করে সমাধান করা গেলে হয়তো আমাদের দল অংশ নিতে পারত।” যদিও আমিনুলের বক্তব্য পরিবর্তনের ইঙ্গিত দেয়, বিসিবির তৎকালীন সভাপতি আমিনুল ইসলাম বুলবুল ব্যক্তিগত কারণ দেখিয়ে বাংলাদেশ ছেড়েছেন। বিসিবির প্রধান এক্সিকিউটিভ নিজামউদ্দিন চৌধুরী নিশ্চিত করেছেন যে, বুলবুল অস্ট্রেলিয়ায় গিয়েছেন, যেখানে তাঁর পরিবার বসবাস করে (BNP)। আমিনুল বলেন, “আমি আগেই বলেছি, ক্রিকেট বোর্ডের নির্বাচন প্রশ্নবাণে জর্জরিত ছিল। আমরা বসে আলোচনা করব। সঠিক পথে এগোতে চাই। প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ দ্রুত নেওয়া হবে (Bangladesh India Cricket)।” ২০২৫ সালের মে মাসে ইউনূসের রাজত্বে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডে নির্বাচিত হন নয়া কর্মকর্তারা। বোর্ডের দায়িত্ব নেন আমিনুল ইসলাম বুলবুল।

    ভারতের মাটিতে খেলবে না

    তিনি যখন দায়িত্বে ছিলেন, তখন নিরাপত্তা উদ্বেগের কারণে বাংলাদেশ দল টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ ২০২৬-এ ভারতের মাটিতে খেলবে না বলেই জানিয়ে দেয়। সেই সময় বাংলাদেশ পাকিস্তানের সঙ্গে গাঁটছড়া বেঁধেছিল। তৎকালীন ক্রীড়া উপদেষ্টা আসিফ নজরুল কলম্বোয় ভারতের বিপক্ষে ম্যাচ বয়কট করায় পাকিস্তানকে ধন্যবাদ জানান (Bangladesh India Cricket)। তবে পরে পাকিস্তান সিদ্ধান্ত পরিবর্তন করে ম্যাচটি খেলে এবং হেরে যায়। ইসলামাবাদ যখন ভারতের বিপক্ষে ম্যাচ বয়কটের কথা ঘোষণা করে, তখন আইসিসি ও পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ডের মধ্যে মধ্যস্থতায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন আমিনুল ইসলাম বুলবুল। লাহোরে আইসিসির সঙ্গে উচ্চপর্যায়ের বৈঠকের পর সিদ্ধান্ত বদলে যায়। বৈঠকে অংশ নিতে বুলবুল রাত ১টার ফ্লাইটে লাহোরে যান (BNP)।

    বর্তমানে নতুন বিএনপি সরকারের কূটনৈতিক তৎপরতা ইঙ্গিত দিচ্ছে যে, ভারতের সঙ্গে ক্রিকেট সম্পর্ক পুনর্গঠন এখন অগ্রাধিকার। টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ ইস্যুতে সম্পর্কের টানাপোড়েন তৈরি হলেও, ভবিষ্যতে এমন পরিস্থিতি এড়াতে ঢাকা আলোচনার পথেই এগোতে চায় বলেই ধারণা বিশেষজ্ঞদের (Bangladesh India Cricket)।

     

  • Bangladesh: বাংলাদেশে বিএনপির মন্ত্রিসভায় ঠাঁই দুই সংখ্যালঘুর, জানেন তাঁরা কারা?

    Bangladesh: বাংলাদেশে বিএনপির মন্ত্রিসভায় ঠাঁই দুই সংখ্যালঘুর, জানেন তাঁরা কারা?

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: বাংলাদেশে (Bangladesh) বিএনপির মন্ত্রিসভায় (BNP Led Cabinet) ঠাঁই হল দুই সংখ্যালঘুরও। বিএনপির নবনির্বাচিত সাংসদরা ১৩তম জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর শপথ গ্রহণ করেন। এর মাধ্যমে বিএনপি নেতা তথা প্রয়াত প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার পুত্র তারেক রহমানের নেতৃত্বে ৫০ সদস্যের মন্ত্রিসভা গঠনের পথ সুগম হয়েছে। পূর্ণমন্ত্রী হিসেবে যাঁরা শপথ নিয়েছেন, তাঁদের মধ্যে রয়েছেন হিন্দু নেতা নিতাই রায়চৌধুরী এবং বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বী দীপেন দেওয়ান। নতুন মন্ত্রিসভা ১৭ ফেব্রুয়ারি সংসদ ভবন কমপ্লেক্সের সাউথ প্লাজায় শপথ নেন।

    নয়া মন্ত্রিসভা (Bangladesh)

    সংবাদ মধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২৫ জন নেতা পূর্ণমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন, আর ২৪ জন প্রতিমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নেবেন। মুসলিম-প্রধান দেশে হিন্দু ও বৌদ্ধ পরিচয়ের কারণে চৌধুরী ও দেওয়ানকে পূর্ণমন্ত্রী হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করা বিশেষভাবে তাৎপর্যপূর্ণ বলেই ধারণা রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের। উল্লেখ্য, ২০২৪ সালের অগাস্টে শেখ হাসিনা প্রধানমন্ত্রীর পদ ছাড়ার পর সংখ্যালঘুরা, বিশেষ করে হিন্দুরা, বিভিন্ন ধরনের নির্যাতনের শিকার হয়েছে। এরপর থেকে বাংলাদেশে হাজার হাজার হিন্দুর বাড়িঘর ও দোকানপাটে হামলার অভিযোগ প্রকাশ্যে আসে। সাধারণ নির্বাচনের আগে বেশ কয়েকজন হিন্দুকে নৃশংসভাবে হত্যা করা হয়েছিল, এবং সেই সব ঘটনা সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত হয় ফলাও করে। যদিও বিএনপি মন্ত্রিসভায় একজন হিন্দু ও একজন বৌদ্ধ সদস্যকে অন্তর্ভুক্ত করেছে, তবুও বাংলাদেশে সংখ্যালঘুদের, বিশেষ করে হিন্দুদের ওপর নির্যাতন কমাতে এর প্রভাব পড়বে কি না—তা সময়ই বলবে (BNP Led Cabinet)।

    পূর্ণমন্ত্রীদের তালিকা

    এবার দেখে নেওয়া যাক পূর্ণমন্ত্রীদের তালিকাটি (Bangladesh)। মন্ত্রিসভায় রয়েছেন মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগির, আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরি, সালাহউদ্দিন আহমেদ, ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু, মেজর (অব.) হাফিজউদ্দিন আহমেদ, এজেডএম জাহিদ হোসেন, খালিলুর রহমান, আবদুল আওয়াল মিন্টু, কাজি শাহ মোফাজ্জল হোসেন কাইকোবাদ, মিজানুর রহমান মিনু, নিতাই রায় চৌধুরী, খন্দকার আবদুল মুক্তাদির, আরিফুল হক চৌধুরি, জহির উদ্দিন স্বপন, মোহাম্মদ আমিন উর রশিদ, আফরোজা খানম রিতা, শহিদউদ্দিন চৌধুরি অ্যানি, আসাদুল হাবিব দুলু, মহম্মদ আসাদুজ্জামান, জাকারিয়া তাহের, দীপেন দেওয়ান, এএনএম এহসানুল হক মিলন, সরদার সাখাওয়াত হোসেন বকুল, ফকির মাহবুব আনাম স্বপন এবং শেখ রাবিউল আলম।

    প্রতিমন্ত্রীর তালিকায় ঠাঁই হয়েছে এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত, অনিন্দ্য ইসলাম অমিত, মহম্মদ শরিফুল আলম, শামা ওবায়েদ ইসলাম, সুলতান সালাহউদ্দিন টুকু, কায়সার কামাল, ফরহাদ হোসেন আজাদ, আমিনুল হক, মির মোহাম্মদ হেলাল উদ্দিন, হাবিবুর রশিদ, মহম্মদ রাজীব আহসান, মহম্মদ আবদুল বারি, মির শাহে আলম, জুনায়েদ সাকি, ইশরাক হোসেন, ফারজানা শারমিন, শেখ ফরিদুল ইসলাম, নুরুল হক, ইয়াসের খান চৌধুরি, একে ইকবাল (BNP Led Cabinet) হোসেন, এমএ মুহিত, আহমেদ সোহেল মনজুর, ববি হাজ্জাজ এবং আলি নেওয়াজ মাহমুদ খাইয়াম (Bangladesh)।

  • Tarique Rahman: বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী পদে শপথ নিলেন তারেক রহমান, সঙ্গী আরও ৪৯ মন্ত্রী

    Tarique Rahman: বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী পদে শপথ নিলেন তারেক রহমান, সঙ্গী আরও ৪৯ মন্ত্রী

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: বাংলাদেশের (Bangladesh) প্রধানমন্ত্রী পদে শপথ নিলেন বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান (Tarique Rahman)। বিএনপির সংসদীয় দলের নেতা নির্বাচিত হওয়ার পর মঙ্গলবার শপথ নেন তিনি। দেশের সাধারণ নির্বাচনে বিএনপির ঐতিহাসিক জয়ের পাঁচ দিন পর হল শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠান। এদিন শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠানে ভারতের প্রতিনিধিত্ব করেন লোকসভার স্পিকার ওম বিড়লা। তিনি এদিন সকালেই ঢাকায় পৌঁছন। তাঁর সঙ্গে ছিলেন বিদেশ সচিব বিক্রম মিশ্রি এবং অন্য আধিকারিকরা। জানা গিয়েছে, প্রথমবারের মতো বঙ্গভবনের পরিবর্তে সংসদ ভবন কমপ্লেক্সের সাউথ প্লাজায় হয়েছে শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠান।

    বিএনপির জয়জয়কার (Tarique Rahman)

    ১২ ফেব্রুয়ারির সাধারণ নির্বাচনে বাংলাদেশ সংসদের ২৯৭টি আসনের মধ্যে বিএনপি ২০৯টি আসনে জয়ী হয়। এক সময়ের মিত্র এবং বর্তমানে প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী ডানপন্থী জামায়াতে ইসলামি (জামাত নামে পরিচিত) পেয়েছে ৬৮টি আসন। অপসারিত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার আওয়ামি লিগকে নির্বাচনে অংশই নিতে দেওয়া হয়নি। তাঁর দলের ওপর জারি করা হয়েছিল নিষেধাজ্ঞা।

    শপথ নিলেন প্রধানমন্ত্রী-সহ ৫০ জন

    এদিন তারেক ছাড়াও শপথ নিয়েছেন ২৫ জন মন্ত্রী ও ২৪ জন প্রতিমন্ত্রী। বাংলাদেশের প্রথম সারির দৈনিক প্রথম আলো পত্রিকার খবরে বলা হয়েছে, বিএনপির মন্ত্রিসভায় মোট ৫০ জন সদস্য রয়েছেন। এর মধ্যে ২৫ জন মন্ত্রী, ২৪ জন প্রতিমন্ত্রী এবং ৩ জন টেকনোক্র্যাট। ২৫ জন মন্ত্রীর মধ্যে ১৭ জনই নতুন (Bangladesh) মুখ, এবং সব প্রতিমন্ত্রীই প্রথমবারের মতো এই দায়িত্ব পেয়েছেন। প্রধানমন্ত্রী রহমান নিজেও প্রথমবারের মতো মন্ত্রিসভার সদস্য হলেন (Tarique Rahman)।

    প্রসঙ্গত, ২০০১ থেকে ২০০৬ সাল পর্যন্ত সরকারে ছিল খালেদা জিয়ার বিএনপি। সম্প্রতি প্রয়াত হন তিনি। ২০০৬ এর পর থেকে বাংলাদেশের রশি ছিল দেশান্তরিত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দল আওয়ামি লিগের হাতে। ২০ বছর পরে ত্রয়োদশ জাতীয় (Bangladesh) সংসদ নির্বাচনে জয় পেয়ে সরকার গড়ল বিএনপি (Tarique Rahman)।

  • BNP: হাসিনা-ইস্যু ভারত-বাংলাদেশ বৃহত্তর সম্পর্কে বাধা হবে না, সরকার গঠনের আগে জানাল বিএনপি

    BNP: হাসিনা-ইস্যু ভারত-বাংলাদেশ বৃহত্তর সম্পর্কে বাধা হবে না, সরকার গঠনের আগে জানাল বিএনপি

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: বাংলাদেশের দেশান্তরিত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার প্রত্যর্পণের দাবিকে তারা ভারত-বাংলাদেশের বৃহত্তর সম্পর্ক থেকে আলাদা রাখবে। যদিও তারা নয়াদিল্লির কাছে অপসারিত প্রধানমন্ত্রীকে হস্তান্তরের জন্য চাপও অব্যাহত রাখবে। অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান মহম্মদ ইউনূসের জায়গায় বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী পদে বসতে চলেছেন বিএনপির নেতা তারেক রহমান। ঢাকার গুলশন এলাকায় দলের কার্যালয়ে সংবাদ মাধ্যমে দেওয়া একান্ত সাক্ষাৎকারে বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগির বলেন, “ভারতের সঙ্গে সম্পর্ককে একটি মাত্র ইস্যুর মধ্যেই কেন্দ্রীভূত করা উচিত নয়।”

    বিএনপির মহাসচিবের বক্তব্য (BNP)

    তিনি বলেন, “আমরা বিশ্বাস করি হাসিনা গুরুতর মানবাধিকার লঙ্ঘন করেছেন। তাঁকে শাস্তি দেওয়ার জন্য জনমত রয়েছে এবং আমরা মনে করি ভারত তাঁকে আমাদের কাছে হস্তান্তর করা উচিত। কিন্তু হাসিনাকে বাংলাদেশে না পাঠালেও বাণিজ্য ও বাণিজ্যিক সম্পর্ক-সহ বৃহত্তর সম্পর্ক গড়ে তোলার পথে তা অন্তরায় হবে না। আমরা আরও ভালো সম্পর্ক গড়ে তুলতে চাই।” আজ, মঙ্গলবারই পরবর্তী সরকার গঠন করতে যাচ্ছে বিএনপি। ২০২৪ সালের অগাস্টের গণঅভ্যুত্থানের পর দেশ ছেড়ে যাওয়া শেখ হাসিনা ও আওয়ামি লিগের অন্য প্রবীণ নেতাদের হস্তান্তরের জন্য বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকার বারবার ভারতের কাছে আহ্বান জানিয়েছে। গত সতেরো মাসে ভারত এসব অনুরোধের বিষয়ে প্রকাশ্যে কোনও প্রতিক্রিয়া জানায়নি। আলমগির বলেন, “অভ্যুত্থানের সময় সংঘটিত অপরাধের অভিযোগে শেখ হাসিনা, প্রাক্তন মন্ত্রী ও আমলাদের বিরুদ্ধে আইনি প্রক্রিয়া এগিয়ে যাবে।” তিনি বলেন, “এই প্রক্রিয়া চলতেই থাকবে।”

    কিছু অমীমাংসিত উত্তেজনা রয়েছে

    তিনি স্বীকার করেন, দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কে কিছু অমীমাংসিত উত্তেজনা রয়েছে। ফারাক্কা সংক্রান্ত গঙ্গা জল চুক্তির নবায়ন, সীমান্তে হত্যাকাণ্ডের উদ্বেগ এবং অন্যান্য স্পর্শকাতর বিষয়ের কথাও উল্লেখ করেন তিনি। আলমগির বলেন, “আগামী বছরের আগেই গঙ্গা চুক্তির নবায়নের সময় ফরাক্কার জলের বিষয়টি উঠবে, তারপর রয়েছে সীমান্তে হত্যাকাণ্ডের প্রশ্ন—এসব বিষয়ে আমাদের আলোচনা করতে হবে।” মুখোমুখি সংঘর্ষের সম্ভাবনা খারিজ করে দিয়ে তিনি বলেন, “আমরা ভারতের সঙ্গে যুদ্ধ করতে পারি না। আমাদের কথা বলতে হবে। যাঁরা ভারতের সঙ্গে যুদ্ধের কথা বলেন, তাঁরা উন্মাদের মতো কথা বলেন।” তুলনা টেনে তিনি বলেন, “মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও চিনের মধ্যে গভীর মতপার্থক্য থাকা সত্ত্বেও একে অপরকে সহযোগিতা করে।” এর পরেই তিনি বলেন, “ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্ককে একটি মাত্র ইস্যুতে সীমাবদ্ধ রাখা উচিত নয়।”

    অন্তর্বর্তী প্রশাসনের সমালোচনা

    বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমানের সঙ্গে আলমগিরও দেশে রাজনৈতিক সমঝোতার বিষয়ে সহমত পোষণ করেন। সরকার গঠনের আগে  তিনি জামায়াতে ইসলামী ও ন্যাশনাল সিটিজেন পার্টির (এনসিপি) নেতাদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। তিনি ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী প্রশাসনের সমালোচনা করে বলেন, “২০২৪ সালে অভ্যুত্থানের পর তারা জাতীয় সমঝোতা গড়ে তুলতে ব্যর্থ হয়েছে। অভ্যুত্থানের নেতারাই অধ্যাপক ইউনূসকে বেছে নিয়েছিলেন।” তিনি বলেন, “অভ্যুত্থানের নেতারা তাঁকে যে দায়িত্ব দিয়েছিলেন, অন্তর্বর্তী প্রধান (ইউনূস) তার বাইরে যেতে পারেননি।” আলমগির বিএনপির ৩১ দফা কর্মসূচিকে ভারতের সঙ্গে বাণিজ্য, ব্যবসা, ডিজিটাল পরিকাঠামো ও কারিগরি শিক্ষায় অর্থনৈতিক সহযোগিতা জোরদারের সুযোগ হিসেবে উপস্থাপন করেন। তিনি বলেন, “কারিগরি শিক্ষায় ভারতের সম্পদ রয়েছে এবং আমাদের বিপুল সংখ্যক বেকার তরুণ আছে। সক্ষমতা বৃদ্ধি করে তাদের সাহায্য করতে হবে, যাতে তারা উপসাগরীয় দেশে চাকরি পেতে পারে।” তিনি এও বলেন, “আওয়ামি লিগ সরকারের নেওয়া বৃহৎ পরিকাঠামো প্রকল্পগুলি বিএনপি সরকার পুনর্মূল্যায়ন করবে, কারণ এতে ঋণের বোঝা বেড়েছে।এই প্রকল্পগুলির মধ্যে যেগুলি বাংলাদেশের স্বার্থে কাজ করে, আমরা কেবল সেগুলিই রাখব।”

LinkedIn
Share