Tag: BNP

BNP

  • Bangladesh Election: বাংলাদেশে প্রাক-নির্বাচনী সমীক্ষায় এগিয়ে বিএনপি, জয়-পরাজয় নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ হিন্দু-ভোট!

    Bangladesh Election: বাংলাদেশে প্রাক-নির্বাচনী সমীক্ষায় এগিয়ে বিএনপি, জয়-পরাজয় নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ হিন্দু-ভোট!

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: বাংলাদেশে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আর মাত্র দুই দিন বাকি। ১২ ফেব্রুয়ারি নির্বাচন। শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর এটিই প্রথম জাতীয় নির্বাচন। প্রতিবেশী দেশটির ইতিহাসে এই নির্বাচনকে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে। প্রধানত দু’টি  মুখ্য রাজনৈতিক দল, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামি (জামাত নামেই জনপ্রিয়) ও বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)-এর মধ্যে ভোটের লড়াই। এই দুই দলই ভোটারদের কাছে পৌঁছতে মরিয়া। এই প্রেক্ষাপটে প্রকাশিত একাধিক জনমত সমীক্ষায় নির্বাচনের ফলাফল নিয়ে ব্যাপক আগ্রহ তৈরি হয়েছে।

    জামাত না বিএনপি

    হাসিনার ক্ষমতাচ্যুতি এবং মহম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের মাধ্যমে আওয়ামি লিগের ওপর নিষেধাজ্ঞার পর, বাংলাদেশে একসময়ের মিত্র জামায়াত ও বিএনপি প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বি দুই রাজনৈতিক শক্তি হিসেবে উত্থান ঘটেছে। বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) নির্বাচনে জয়ী হবে বলে আশা করা হচ্ছে। যদিও ইসলামপন্থী জামায়াতে ইসলামির নেতৃত্বাধীন একটি জোট শক্তিশালী চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিতে পারে। ৩০ বছরের কম বয়সী তরুণ কর্মীদের পরিচালিত একটি নতুন দল হাসিনা-বিরোধী রাজপথের আন্দোলনকে নির্বাচনী শক্তিতে রূপান্তরিত করতে ব্যর্থ হওয়ার পর জামায়াতের সঙ্গে জোটবদ্ধ হয়েছে।

    সমীক্ষায় এগিয়ে বিএনপি

    বাংলাদেশের ইন্টারন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব ল’ অ্যান্ড ডিপ্লোমেসি (IILD) পরিচালিত এক সমীক্ষায় দেখা গিয়েছে, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) নেতৃত্বাধীন জোট ৪৪.১ শতাংশ ভোট পেয়ে এগিয়ে রয়েছে। অন্যদিকে, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামির নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় জোট পেতে পারে ৪৩.৯ শতাংশ ভোট। সমীক্ষা অনুযায়ী, মোট ভোটের হিসােবে তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন বিএনপি এগিয়ে থাকলেও, যেখানে জয় প্রায় নিশ্চিত—সেসব আসনে জামায়াত-নেতৃত্বাধীন জোট এগিয়ে। ইসলামপন্থী জোট প্রায় ১০৫টি আসনে জয় নিশ্চিত করতে পারে বলে জরিপে উল্লেখ করা হয়েছে, যেখানে বিএনপি-নেতৃত্বাধীন জোট নিশ্চিতভাবে জিততে পারে ১০১টি আসনে। এছাড়া ৭৫টি আসনে দুই জোটের মধ্যে হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ের সম্ভাবনা রয়েছে। বাংলাদেশের জাতীয় সংসদ বা জাতীয় সংসদে মোট ৩৫০টি আসন রয়েছে। এর মধ্যে ৩০০টি আসনে সরাসরি নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। এছাড়া ৫০টি মহিলা সংরক্ষিত আসন দলগুলোর প্রাপ্ত আসনের অনুপাতে বণ্টন করা হয়।

    ভারতবিরোধী জামাত পিছিয়ে

    এমিনেন্স অ্যাসোসিয়েটস ফর সোশ্যাল ডেভেলপমেন্ট (EASD) পরিচালিত আরেকটি জনমত সমীক্ষায় বিএনপি-নেতৃত্বাধীন জোটের আরও শক্ত অবস্থানের ইঙ্গিত পাওয়া গিয়েছে। ওই সমীক্ষায় বলা হয়েছে, বিএনপি জোট পেতে পারে প্রায় ২০৮টি আসন। জামায়াত-নেতৃত্বাধীন জোট পেতে পারে ৪৬টি আসন, জাতীয় পার্টি ৩টি আসন, অন্যান্য দল ৪টি আসন, এবং ১৭টি আসনে জয়ী হতে পারেন স্বতন্ত্র প্রার্থীরা। এই সমীক্ষায় ভোটারদের রাজনৈতিক পছন্দও উঠে এসেছে। সেখানে দেখা যায়, ৬৬.৩ শতাংশ ভোটার বিএনপিকে সমর্থন করছেন, যেখানে জামায়াতে ইসলামির সমর্থন মাত্র ১১.৯ শতাংশ। নবগঠিত ছাত্রদের দল এনসিপি (NCP) পেয়েছে ১.৭ শতাংশ সমর্থন।

    ভারতের জন্য ইতিবাচক

    বিশ্লেষকদের মতে, এই ফলাফল ভারতের জন্য ইতিবাচক ইঙ্গিত বহন করছে। কারণ, বিএনপি বর্তমানে উদার-মধ্যপন্থী রাজনৈতিক অবস্থান নিয়েছে, যা কিছুটা হলেও আওয়ামি লিগের মতো। বিপরীতে, জামায়াতে ইসলামির মতো ইসলামপন্থী দলগুলোর অবস্থান প্রকাশ্যেই ভারত-বিরোধী। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, বিএনপি যদি সরকার গঠন করে, তবে ভারত তারেক রহমানের সঙ্গে সম্পর্ক ভাল করার চেষ্টা করবে। উল্লেখ্য, গত মাসেই তারেক রহমান ভারতের বিদেশমন্ত্রী এস জয়শঙ্করের সঙ্গে দেখা করেন। তবে বিএনপি আনুষ্ঠানিকভাবে ভারতবিরোধী অবস্থান না নিলেও দলটি “বাংলাদেশ ফার্স্ট” নীতিতে বিশ্বাসী।

    আওয়ামি লিগের সমর্থকদের কাছে পৌঁছানোর চেষ্টা

    বিএনপি এবং জামায়াত উভয়ই আওয়ামি লিগের সমর্থকদের কাছে পৌঁছানোর চেষ্টা করছে, বিশেষ করে সেই আসনগুলোতে যেখানে হাসিনার দলের ব্যাপক সমর্থন রয়েছে। ঠাকুরগাঁওয়ের বিশিষ্ট আওয়ামি লিগ নেতা এবং হিন্দু রাজনীতিবিদ রমেশ চন্দ্র সেনের কারাগারে মৃত্যুর পর উভয় দলের শীর্ষ নেতারা তাঁর বাড়িতে ছুটে যান, যা এই পরিবর্তনশীল ভোটব্যাঙ্কের গুরুত্বকে নির্দেশ করে। রমেশ চন্দ্র সেন পাঁচবারের সংসদ সদস্য ছিলেন এবং এই অঞ্চলে তাঁর ব্যাপক প্রভাব ছিল। যেহেতু দলটি প্রতিযোগিতার বাইরে, তাই উভয় দলই চায় আওয়ামি লিগের সমর্থকরা তাঁদের ভোট দিক। একটি হাড্ডাহাড্ডি নির্বাচনে এই দোদুল্যমান ভোটগুলোই নির্ধারক ভূমিকা পালন করবে বলে মনে করা হচ্ছে।

    গুরুত্বপূর্ণ হিন্দু ভোট

    হাসিনা পরবর্তী সময়ে বাংলাদেশে হিন্দু-সংখ্যালঘুদের উপর অত্যাচার হয়ে উঠেছে নিত্যদিনের ঘটনা। তবে, নির্বাচনের আবহে হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ের ইঙ্গিত পাওয়ার পর, সব দলই প্রধান সংখ্যালঘু সম্প্রদায় – হিন্দুদের কাছে পৌঁছানোর চেষ্টা করছে। অনেকেই বিশ্বাস করেন, হিন্দু ভোট শেষ পর্যন্ত নির্ধারক শক্তি হয়ে উঠতে পারে। মন্দির পরিদর্শন থেকে শুরু করে শিক্ষাক্ষেত্রে হিন্দুদের অবদানের প্রশংসা চলছে। জামায়াত ও বিএনপি উভয়ই এই সম্প্রদায়কে নিরাপত্তা ও সুরক্ষার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। কিন্তু জামায়াতের কট্টরপন্থী ও উগ্রবাদী ভাবমূর্তির কারণে হিন্দুদের মধ্যে বিএনপির গ্রহণযোগ্যতা বেশি। সংখ্যালঘুদের ভোট পাওয়ার এই প্রচেষ্টা শুরু হয় যখন সম্প্রতি জামায়াতের একজন প্রার্থী শিক্ষা বিস্তারে এবং শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে অর্থায়নের জন্য হিন্দুদের প্রশংসা করেন। তিনি ঘোষণা করেন যে, “এই অঞ্চলে শিক্ষা বিস্তারে হিন্দুদের ভূমিকা অস্বীকার করা যায় না।” যদিও বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, উগ্রপন্থী শক্তির কর্মকাণ্ডের কারণে ক্ষতিগ্রস্ত হিন্দুদের মন জয় করতে হলে জামায়াতকে শুধু কথার চেয়ে আরও অনেক বেশি কিছু করতে হবে। হিন্দু ভোটের ক্ষেত্রে বিএনপি কিছুটা সুবিধাজনক অবস্থানে রয়েছে।

  • Bangladesh Poll: ভোটের আগেই ব্যাপক হিংসা বাংলাদেশে, জামাত-বিএনপি সংঘর্ষে জখম ৪০

    Bangladesh Poll: ভোটের আগেই ব্যাপক হিংসা বাংলাদেশে, জামাত-বিএনপি সংঘর্ষে জখম ৪০

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: বাংলাদেশে হাইভোল্টেজ সাধারণ নির্বাচনের (Bangladesh Poll) আর মাত্র ৭২ ঘণ্টা বাকি। তার আগেই শুরু হয়ে গেল নতুন করে হিংসা। এতে স্পষ্ট হয়ে উঠেছে, দশকের মধ্যে সবচেয়ে বড় রাজনৈতিক পরিবর্তনের মধ্যে দিয়ে যাওয়া এই দেশে নির্বাচনী প্রচার কতটা অশান্ত হয়ে উঠেছে (BNP Jamaat Clash)।

    ব্যাপক সংঘর্ষ (Bangladesh Poll)

    রবিবার রাতে বিএনপি এবং জামায়াতে ইসলামির (সংক্ষেপে জামাত) কর্মীদের মধ্যে সংঘর্ষে মহিলা-সহ ৪০ জনেরও বেশি মানুষ জখম হয়েছেন। জামায়াতের এক অনুষ্ঠানে নগদ অর্থ বিলির অভিযোগ ঘিরে এই সংঘর্ষ শুরু হয়, যা পরে হিংসার রূপ নেয়। ঘটনাটি ঘটে ১২ ফেব্রুয়ারির ভোটের কয়েক দিন আগে। ১০ ফেব্রুয়ারি সকাল সাড়ে ৭টায় প্রচার শেষ হবে বাংলাদেশে। তার আগেই ঘটে গেল এমন হিংসার ঘটনা। প্রত্যক্ষদর্শীদের বক্তব্য, বিএনপি কর্মীরা অভিযোগ জানাতে ঘটনাস্থলে পৌঁছলে জামায়াতও তাদের সমর্থকদের জড়ো করে। রাতভর ধরে চলে তীব্র সংঘর্ষ। নির্বাচনী প্রচারে প্রতিদ্বন্দ্বী দুই শিবিরের মধ্যে এটিই সবচেয়ে ভয়াবহ হিংসার ঘটনা। গত ছ’সপ্তাহে সারা বাংলাদেশে নির্বাচনসংক্রান্ত হিংসায় পাঁচজনেরও বেশি মানুষ জখম হয়েছেন, যা ভোটের দিন যত ঘনিয়ে আসছে, হিংসার মাত্রা ততই বাড়বে বলেই ইঙ্গিত মিলেছে।

    ১২ ফেব্রুয়ারি নির্বাচন

    ১২ ফেব্রুয়ারির সাধারণ নির্বাচনকে ব্যাপকভাবে বিএনপি এবং জামায়াতে ইসলামির নেতৃত্বাধীন জোটের মধ্যে দ্বিমুখী প্রতিদ্বন্দ্বিতা হিসেবে দেখা হচ্ছে। ভোটার রয়েছেন ১২ কোটি ৭০ লাখেরও বেশি। বিশ্লেষকদের মতে, এটি ২০০৯ সালের পর দেশের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ নির্বাচন। ২০২৪ সালের অগাস্টে গণঅভ্যুত্থানের মাধ্যমে শেখ হাসিনার ১৫ বছরের শাসনের অবসান ঘটে এবং আওয়ামি লিগ নির্বাচনে অংশগ্রহণের অযোগ্য ঘোষিত হয়। বহু ভোটারের মতে, এক দশকেরও বেশি সময় পর এটিই প্রথম প্রকৃত প্রতিদ্বন্দ্বিতামূলক নির্বাচন হতে যাচ্ছে (BNP Jamaat Clash)। বিএনপি প্রধান তারেক রহমান সংবাদ মাধ্যমে বলেন, “৩০০ আসনের মধ্যে ২৯২টি আসনে লড়ছে আমার দল। সরকার গঠনের জন্য পর্যাপ্ত আসন পাব বলেই আত্মবিশ্বাসী আমি (Bangladesh Poll)।” অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা মুহাম্মদ ইউনূস নির্বাচন ও সংস্কারসংক্রান্ত গণভোটকে একটি উৎসব আখ্যা দিয়েছেন। তিনি প্রতিশ্রুতি দেন, এটি হবে দেশের ইতিহাসের সবচেয়ে অবাধ, সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ নির্বাচন এবং একটি নতুন বাংলাদেশের ভিত্তি।

    বাংলাদেশে হিংসার ঘটনা

    বিশ্লেষকরা অবশ্য সতর্ক করে বলছেন, বাংলাদেশে যেভাবে হিংসার ঘটনা ঘটছে, তা নির্বাচন প্রক্রিয়ার ওপর আস্থা নষ্ট করতে পারে, যখন রাজনৈতিক ভূমিকা নাটকীয়ভাবে পাল্টে গিয়েছে এবং আগের সরকারের দমন-পীড়নের পর বিরোধী দলগুলি এখন রাজপথে প্রভাব বিস্তার করছে। আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিশেষজ্ঞদের মতে, এই নির্বাচনের ফল সাম্প্রতিক অস্থিরতার পর বাংলাদেশের অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধারের পথ নির্ধারণ করবে বলেই মনে হচ্ছে। এই অস্থিরতায় তৈরি পোশাক-সহ গুরুত্বপূর্ণ শিল্প খাত ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং বাংলাদেশকে আইএমএফ এবং বিশ্বব্যাঙ্কের মতো আন্তর্জাতিক সংস্থার কাছ থেকে বড় অঙ্কের অর্থ সাহায্য চাইতে হয়েছে (Bangladesh Poll)। আঞ্চলিক ভূ-রাজনীতিতেও পরিবর্তন আসতে পারে এই নির্বাচনের পর। শেখ হাসিনা, যাঁকে ভারতের ঘনিষ্ঠ বলে মনে করা হত (BNP Jamaat Clash), নয়াদিল্লিতে আশ্রয় নেওয়ার পর থেকে বাংলাদেশে চিনের প্রভাব বেড়েছে। বিশ্লেষকদের একাংশের মতে, বিএনপি তুলনামূলকভাবে ভারতের ঘনিষ্ঠ হলেও, জামায়াত নেতৃত্বাধীন সরকার পাকিস্তানের দিকে ঝুঁকতে পারে। তবে জামায়াত জানিয়েছে, তারা কোনও দেশের প্রতিই পক্ষপাতদুষ্ট নয়।

    জনমত

    ঢাকার সেন্টার ফর গভর্ন্যান্স স্টাডিজের পারভেজ করিম আব্বাসি বলেন, “জনমত সমীক্ষায় বিএনপি এগিয়ে থাকলেও, বড় একটি অংশের ভোটার এখনও সিদ্ধান্তহীন। জেনারেশন জেড কীভাবে ভোট দেয়, সেটিই বড় ভূমিকা রাখবে।” প্রথমবার ভোট দিতে যাওয়া অনেক তরুণের কাছে এই নির্বাচন দীর্ঘদিন হারিয়ে যাওয়া রাজনৈতিক অধিকার ফিরে পাওয়ার সুযোগ (Bangladesh Poll)। বছর একুশের মোহাম্মদ রাকিব বলেন, “জাতীয় নির্বাচনেও মানুষ ভোট দিতে পারত না। মানুষের কোনও কণ্ঠ ছিল না। আশা করি, যে-ই ক্ষমতায় আসুক, মতপ্রকাশের এই স্বাধীনতা নিশ্চিত করবে।” প্রচারের শেষের প্রহরে ভোটারদের নিরাপত্তা নিয়েও উদ্বেগ বেড়েছে প্রশাসনের। একই সঙ্গে বাংলাদেশ অপেক্ষা করছে এমন এক রায়ের, যা আগামী বহু বছর ধরে (BNP Jamaat Clash) দেশের রাজনীতি, অর্থনীতি ও বৈদেশিক সম্পর্ক নতুনভাবে নির্ধারণ করতে পারে (Bangladesh Poll)।

  • Bangladesh Election: ভোটের প্রাক্কালে বাংলাদেশ জামায়াতের বিরুদ্ধে ‘জেহাদ’ ঘোষণা হেফাজতে ইসলামের

    Bangladesh Election: ভোটের প্রাক্কালে বাংলাদেশ জামায়াতের বিরুদ্ধে ‘জেহাদ’ ঘোষণা হেফাজতে ইসলামের

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: বাংলাদেশের জাতীয় সংসদ নির্বাচন হবে ১২ ফেব্রুয়ারি। এর মাত্র কয়েক দিন আগে দেশটির ইসলামপন্থী সংগঠন (Bangladesh Election) হেফাজত-ই-ইসলাম সেই দেশটির প্রধান ইসলামপন্থী রাজনৈতিক দল বাংলাদেশ জামায়াত-ই-ইসলামির বিরুদ্ধে প্রকাশ্য ‘যুদ্ধ’ ঘোষণা (Jihad) করেছে। হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশের আমির আল্লামা শাহ মুহিব্বুল্লাহ বাবুনগরী জামায়াতের বিরুদ্ধে ‘জেহাদ’ ঘোষণা করে বলেন, “মুসলমানদের জন্য জামায়াতে-ই-ইসলামিতে ভোট দেওয়া হারাম (ধর্মীয়ভাবে নিষিদ্ধ)।”

    হেফাজতে-ই-ইসলামের বক্তব্য (Bangladesh Election)

    চট্টগ্রাম শহরে বিএনপির এক প্রার্থীকে সমর্থন করে হেফাজতে-ই-ইসলাম বাংলাদেশের প্রধান আল্লামা শাহ মুহিব্বুল্লাহ বাবুনগরী বলেন, “আমার কাছে এটি কোনও নির্বাচন নয়। এটি জামায়াতের বিরুদ্ধে একটি জেহাদ।” তিনি জানান, শফিকুর রহমানের নেতৃত্বাধীন জামায়াতে ইসলামির সঙ্গে হেফাজতের মৌলিক আদর্শগত ও মতবাদগত পার্থক্য রয়েছে এবং জামায়াত ইসলামের অপব্যাখ্যা দিচ্ছে। বাবুনগরীর ভাষায়, “এই ভ্রান্ত শক্তির উত্থান ঠেকাতেই আমাদের সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হতে হবে।” সংবাদ মাধ্যমে সাক্ষাৎকার দিতে গিয়ে তিনি বলেন, “সব মুসলমানের জন্য জামায়াতে ইসলামিতে ভোট দেওয়া হারাম এবং কোনওভাবেই তা বৈধ নয়। জামায়াতে ইসলামির সঙ্গে আমাদের মৌলিক ও মতবাদগত পার্থক্য রয়েছে। তারা ধর্মের সঠিক ব্যাখ্যা দেয় না। তাই এই ভ্রান্ত শক্তির উত্থান ঠেকাতে আমাদের ঐক্যবদ্ধ হতেই হবে।” বিভিন্ন সমীক্ষায় ইঙ্গিত মিলেছে, ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে জামায়াতে ইসলামি আগের যে কোনও সময়ের তুলনায় শক্তিশালী হয়ে উঠতে পারে। দলটি বর্তমানে এগিয়ে থাকা বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) খুব কাছাকাছি অবস্থানে রয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে।

    বিএনপি হেফাজতের সঙ্গে যোগাযোগ

    ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বর মাসে প্রকাশিত বাংলাদেশের একটি পত্রিকার এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছিল, তারেক রহমানের নেতৃত্বে বিএনপি হেফাজতের সঙ্গে যোগাযোগ ও সম্পর্ক জোরদার করেছে। প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছিল, আগে জামায়াতকে অন্তর্ভুক্ত করা জোটে আপত্তি না থাকলেও হেফাজত এখন জামায়াতের বিরোধিতা শুরু করেছে। ১২ ফেব্রুয়ারি শুধু নতুন সরকার গঠনের জন্য ভোটই নয়, একই সঙ্গে জনগণ ‘জুলাই চার্টার’ অনুমোদন বা প্রত্যাখ্যানের বিষয়েও ভোট দেবেন। ইসলামপন্থীদের সমর্থিত মহম্মদ ইউনূস সরকার দাবি করেছে, এই চার্টার ‘নতুন বাংলাদেশের জন্মে’র সঙ্গে (Bangladesh Election) যুক্ত।

    কেন জেহাদ

    প্রশ্ন হল, কেন হেফাজতে ইসলাম জামায়াতে ইসলামির বিরুদ্ধে জেহাদ ঘোষণা করেছে? হেফাজতের আমির বাবুনগরীর এই বক্তব্য আসে কয়েক মাস আগে জামায়াতকে ‘ভণ্ড ইসলামি দল’ আখ্যা দেওয়ার পর (Jihad)। ২০২৫ সালের অগাস্টে বাবুনগরী বলেছিলেন, “জামায়াতে ইসলামি একটি ভণ্ড ইসলামি দল। এটি খাঁটি নয়। শুধু আমি নই, আমাদের শ্রদ্ধেয় আলেমরাও এ কথা বলেছেন। জামায়াত মওদুদীর ইসলাম অনুসরণ করে, আর আমরা মদিনার ইসলাম অনুসরণ করি। মওদুদীর ইসলাম অনুসরণ করলে ইমান (সম্মান) ঝুঁকির মুখে পড়ে।” জামায়াতে ইসলামি আবুল আলা মওদুদীর রাজনৈতিক-আদর্শিক ইসলামের ব্যাখ্যা অনুসরণ করে, যেখানে ইসলামকে একটি পূর্ণাঙ্গ রাষ্ট্রব্যবস্থা হিসেবে দেখা হয় এবং ধর্ম ও রাজনীতিকে অবিচ্ছেদ্য ধরা হয়। ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বরে জামায়াত বাবুনগরীর বক্তব্যকে ‘মনগড়া’ ও ‘ভিত্তিহীন’ বলে প্রত্যাখ্যান করে। ‘মদিনার ইসলাম’ নৈতিক সংস্কার, সামাজিক ঐকমত্য, বহুত্ববাদী সহাবস্থান এবং প্রফেটিক নেতৃত্বের ওপর ভিত্তি করে গড়ে ওঠা, যেখানে শাসনব্যবস্থা কোনও দলীয় মতবাদের মাধ্যমে নয়, বরং সামাজিক চুক্তি ও নৈতিক নেতৃত্বের মাধ্যমে বিকশিত হয়, যেমন মদিনা সনদ। হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশভিত্তিক একটি সুন্নি দেওবন্দি ইসলামপন্থী সংগঠন। ২০১০ সালের জানুয়ারিতে প্রতিষ্ঠিত এই সংগঠনটি কওমি মাদ্রাসাভিত্তিক এবং চট্টগ্রামের আল-জামিয়াতুল আহলিয়া দারুল উলুম মঈনুল ইসলাম মাদ্রাসায় এর সদর দফতর (Bangladesh Election)।

    অরাজনৈতিক সংগঠন বলে দাবি

    নিজেদের অরাজনৈতিক সংগঠন বলে দাবি করলেও, ১৩ দফা দাবি নিয়ে ব্যাপক গণআন্দোলনের মাধ্যমে তারা বাংলাদেশের আইন ও সমাজব্যবস্থাকে ‘ইসলামিকরণে’র জন্য রাজনৈতিক চাপ সৃষ্টি করে। শেখ হাসিনা সরকারের পতনের এক মাসের মধ্যেই ইউনূস হেফাজতের নেতা মামুনুল হক ও তাঁর সহযোগীদের সঙ্গে ঢাকায় বৈঠক করেন। হাসিনা সরকারের শেষ দিকেও ভোটব্যাঙ্ক বাড়াতে হেফাজতকে কাছে টানার চেষ্টা চলছিল। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে চট্টগ্রামে ভারতের সহকারী হাইকমিশনে হামলার ঘটনায় গ্রেফতার হওয়া ১২ জনকে ছাড়িয়ে নিতে থানায় ঢুকে পড়েন হেফাজতের নেতা মুফতি হারুন বিন ইজহার (Jihad)। পরে পুলিশ ওই ব্যক্তিদের মুক্তি দেয়। ২০২৫ সালের নভেম্বরে প্রাথমিক বিদ্যালয়ে সঙ্গীত ও শারীরশিক্ষা শিক্ষক নিয়োগের পরিকল্পনাকে হেফাজত-সহ ইসলামপন্থী বিভিন্ন গোষ্ঠী ‘অ-ইসলামিক’ বলে আখ্যা দেয় এবং ধর্মীয় শিক্ষক নিয়োগ না হলে পথে নামার হুমকিও দেয়। ২০২৪ সালের ডিসেম্বরে হেফাজতের এক কর্মী হিন্দু সন্ন্যাসী চিন্ময় কৃষ্ণ দাস ও তাঁর শতাধিক অনুগামীর বিরুদ্ধে মামলা করে এবং বাংলাদেশে অবস্থিত ইসকনের ওপর নিষেধাজ্ঞা দাবি করে (Bangladesh Election)।

    দেশব্যাপী বনধ্

    ২০২১ সালের মার্চে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির বাংলাদেশ সফরের সময় হেফাজত দেশব্যাপী বনধ ডাকে। ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় ট্রেনে হামলায় অন্তত ১০ জন জখম হন। অনুচ্ছেদ ৩৭০ বাতিল এবং সিএএ কার্যকরের পর হেফাজত ভারতকে ‘উম্মাহর অস্তিত্বের জন্য হুমকি’ হিসেবে তুলে ধরে একাধিক সমাবেশ করে (Jihad)। সব মিলিয়ে ইসলামপন্থী শক্তিগুলির পারস্পরিক দ্বন্দ্বের মধ্য দিয়ে বাংলাদেশের নির্বাচন কার্যত ‘কে প্রকৃত ইসলামের প্রতিনিধিত্ব করে’—এই প্রশ্নের লড়াইয়ে পরিণত হয়েছে। হেফাজত-জামায়তে বিভাজন বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইসলামের গভীর আদর্শগত ফাটলকে স্পষ্ট করে তুলেছে (Bangladesh Election)।

     

  • Osman Hadi: অভিযুক্ত দুবাইতে! মুখ থুবড়ে পড়ল হাদি-হত্যা নিয়ে বাংলাদেশের করা ভারত-বিরোধী অভিযোগ

    Osman Hadi: অভিযুক্ত দুবাইতে! মুখ থুবড়ে পড়ল হাদি-হত্যা নিয়ে বাংলাদেশের করা ভারত-বিরোধী অভিযোগ

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: এবার সরকারকে চূড়ান্ত আল্টিমেটাম দিল নিহত শরিফ ওসমান হাদির (Osman Hadi) ছাত্র সংগঠন ইনকিলাব মঞ্চ। এহেন আবহে সোশ্যাল মিডিয়ায় ঘুরছে হাদির অভিযুক্ত খুনির একটি ভিডিও। বাংলাদেশের তদন্তকারী সংস্থার মতে, হাদি হত্যাকাণ্ডের মূল সন্দেহভাজন ফয়সাল করিম মাসুদ ওই ভিডিওতে দাবি করেছে (Bangladesh), খুন করার পর সে হালুয়াঘাট সীমান্ত দিয়ে ভারতে পালিয়ে গিয়েছে – এই অভিযোগ সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন।

    অভিযুক্ত খুনির দাবি (Osman Hadi)

    মাসুদের দাবি, হাদির সঙ্গে তার সম্পর্ক কেবল আর্থিক লেনদেনের মধ্যেই সীমাবদ্ধ ছিল। ভিডিওতে সে জানায়, ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানের সময় সে আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়ে ছিল। সেই সময় সাহায্যের জন্য হাদির সঙ্গে যোগাযোগ করে সে। হাদি তাকে চাকরি পাইয়ে দেওয়ার আশ্বাস দিয়ে পাঁচ লাখ টাকা দাবি করেন বলে ভিডিওতে দাবি করা হয়েছে। মাসুদের বক্তব্য, পরে সে হাদির হয়ে রাজনৈতিক সংগঠনের কাজেও যুক্ত হয়। তবে ভিডিওটির সত্যতা যাচাই করেনি মাধ্যম। এই বিষয়ে এখনও পর্যন্ত ভারত বা বাংলাদেশের কোনও সরকারি সংস্থা আনুষ্ঠানিকভাবে কোনও প্রতিক্রিয়া জানায়নি। ভিডিওতে মাসুদ বলে, “হাদির সঙ্গে কথা বলার পর তিনি আমাকে চাকরি পাইয়ে দেওয়ার আশ্বাস দেন। তিনি পাঁচ লাখ টাকা চেয়েছিলেন। তাই আমি সেই টাকা দিই। এর উদ্দেশ্য ছিল শুধুমাত্র সরকারি প্রকল্প সংক্রান্ত লবিং।”

    ২৪ ঘণ্টার আল্টিমেটাম

    এদিকে, ইনকিলাব মঞ্চ রবিবার রাতে ঢাকার শাহবাগ থেকে মহম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকারকে ২৪ ঘণ্টার আল্টিমেটাম দিয়েছে। সংগঠনের সদস্য-সচিব আবদুল্লা আল জাবের এই ঘোষণা করেন। ভারতবিরোধী অবস্থান বজায় রেখে ইনকিলাব মঞ্চের দাবি, প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে প্রত্যর্পণ না করা হলে ভারতে কর্মরত ভারতীয় নাগরিকদের ওয়ার্ক পারমিট স্থগিত করতে হবে। পাশাপাশি ভারতের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক আদালতে মামলা দায়ের করার দাবিও জানানো হয়েছে। প্রসঙ্গত, ইনকিলাব মঞ্চের (Osman Hadi) এই দাবি আসে এমন একটা সময়ে, যখন ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ অভিযোগ করে যে হাদি হত্যাকাণ্ডের দুই প্রধান সন্দেহভাজন ময়মনসিংহ জেলার হালুয়াঘাট সীমান্ত দিয়ে ভারতে পালিয়ে গিয়েছে। এই সীমান্তটি ভারতের মেঘালয় রাজ্যের সঙ্গে যুক্ত। যদিও অভিযোগ অস্বীকার করে একে ‘ভিত্তিহীন’ বলে অভিহিত করেছে সে।

    অভিযুক্ত হত্যাকারীর ভিডিও

    এই অভিযোগ ওঠার ঠিক একদিন পরেই সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়ে অভিযুক্ত হত্যাকারীর একটি ভিডিও। ভাইরাল হওয়া ভিডিওটিতে ওই ব্যক্তি জানায়, সে দুবাইয়ে রয়েছে। ভিডিওতে তাকে বলতে শোনা যায়, সে ওসমান হাদিকে হত্যা করেনি। তার দাবি, জামাত-শিবিরের সদস্যরাই ছাত্রনেতা হাদিকে হত্যা করেছে এবং সে এই হামলার পেছনে জামাতিদের জড়িত থাকার অভিযোগ তোলে। যদিও ভিডিওটির সত্যতা যাচাই করা যায়নি। বিষয়টি নিয়ে ভারত ও বাংলাদেশের (Bangladesh) কোনও সংস্থাই এখনও কোনও প্রতিক্রিয়াও জানায়নি।

    হাদি হত্যাকাণ্ডের জেরে বাংলাদেশে অস্থিরতা

    ২০২৫ সালের ডিসেম্বর মাসে কট্টরপন্থী ছাত্রনেতা হাদির হত্যাকাণ্ডের পর বাংলাদেশে নতুন করে সংঘর্ষ ছড়িয়ে পড়ে। একাধিক শহরে হিংসার ঘটনা ঘটতে দেখা গিয়েছে। হাদির দল ইনকিলাব মঞ্চ তাঁর হত্যার জন্য ইউনূস নেতৃত্বাধীন সরকারকে দায়ী করেছে। এই হিংসার বলি হয়েছিলেন দীপু চন্দ্র দাস ও অমৃত মণ্ডল নামে দুই হিন্দু নাগরিক। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ভিত্তিক কট্টর ছাত্র সংগঠন ইনকিলাব মঞ্চের প্রতিষ্ঠাতা হাদি তাঁর তীব্র ভারতবিরোধী অবস্থানের জন্য পরিচিত ছিলেন। জানা গিয়েছে, তিনি ২০২৪ সালের ছাত্র আন্দোলনের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। ওই আন্দোলনের জেরেই ক্ষমতাচ্যুত হয়ে (Osman Hadi) দেশান্তরিত হতে হয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে।

    বাংলাদেশে জাতীয় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা ফেব্রুয়ারি মাসে। প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী বিএনপির খালেদা জিয়া প্রয়াত হয়েছেন। দীর্ঘ ১৭ বছর স্বেচ্ছানির্বাসনে থাকার পর বাংলাদেশে ফিরেছেন (Bangladesh) তাঁর ছেলে তারেক রহমান। ২৫ ডিসেম্বর পরিবার নিয়ে বাংলাদেশে ফেরেন তারেক। বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে বিএনপিকেই নির্বাচনের (Osman Hadi) অন্যতম প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে দেখা হচ্ছে। যদিও নির্বাচন বয়কট করেছে শেখ হাসিনার দল আওয়ামি লিগ।

  • Khaleda Zia: “ভারত সহায়তা দিতে প্রস্তুত”, এবার প্রধানমন্ত্রী মোদিকে ধন্যবাদ জানাল বাংলাদেশের বিএনপি

    Khaleda Zia: “ভারত সহায়তা দিতে প্রস্তুত”, এবার প্রধানমন্ত্রী মোদিকে ধন্যবাদ জানাল বাংলাদেশের বিএনপি

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির (PM Modi) প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছিলেন বাংলাদেশের পদচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার পুত্র মার্কিন প্রবাসী সজিব ওয়াজেদ। তাঁর মাকে আশ্রয় দেওয়ার জন্য মোদিকে ধন্যবাদও জানিয়েছিলেন তিনি। আওয়ামি লিগের পর এবার প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে ধন্যবাদ জ্ঞাপন করলেন বাংলাদেশের আর একটি রাজনৈতিক দল বিএনপি। সম্প্রতি বিএনপির চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়ার (Khaleda Zia) দ্রুত আরোগ্য কামনা করে বার্তা পাঠিয়েছিলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। তার পরেই মঙ্গলবার বিএনপির তরফে ধন্যবাদ জানানো হয় প্রধানমন্ত্রীকে।

    প্রধানমন্ত্রীর বার্তা (Khaleda Zia)

    বর্তমানে সংকটাপন্ন অবস্থায় চিকিৎসাধীন খালেদা। বাংলাদেশের বছর আশির এই প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রীর দ্রুত আরোগ্য কামনা করে এক্স হ্যান্ডেলে প্রধানমন্ত্রী লেখেন, “বেগম খালেদা জিয়ার স্বাস্থ্যের অবনতি সম্পর্কে জানতে পেরে গভীরভাবে উদ্বিগ্ন। তিনি দীর্ঘদিন ধরে বাংলাদেশের জনজীবনে অবদান রেখে এসেছেন। তাঁর দ্রুত আরোগ্যের জন্য আমাদের আন্তরিক প্রার্থনা এবং শুভকামনা। আমরা যেভাবে পারি, ভারত সকল ধরনের সম্ভাব্য সহায়তা দিতে প্রস্তুত।” প্রসঙ্গত, শারীরিক অসুস্থতার কারণে খালেদা ভর্তি রয়েছেন এভারকেয়ার হাসপাতালে।

    বিএনপির প্রতিক্রিয়া

    প্রত্যুত্তরে, অফিসিয়াল অ্যাকাউন্টের মাধ্যমে প্রতিক্রিয়া জানিয়ে বিএনপি বলেছে, তাদের নেতার শারীরিক অবস্থার হঠাৎ অবনতি হওয়ার সময়ে সদিচ্ছাপূর্ণ উদ্যোগের জন্য তাঁরা প্রধানমন্ত্রী মোদিকে আন্তরিক কৃতজ্ঞতা জানাচ্ছে। এক্স হ্যান্ডেলে তারা লিখেছে, “বিএনপি এই সদিচ্ছার উদ্যোগ এবং সাহায্য দেওয়ার প্রস্তুতি প্রকাশের খবর গভীরভাবে মূল্যায়ন করে (PM Modi)।” বাংলাদেশের প্রথম মহিলা প্রধানমন্ত্রী হিসেবে ইতিহাসে নাম তুলে নিয়েছেন খালেদা। সম্প্রতি ফুসফুসের সংক্রমণের কারণে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছিল তাঁকে। পরে অবস্থা আরও খারাপ হওয়ায় চিকিৎসকরা তাঁকে হাসপাতালের করোনারি কেয়ার ইউনিটে স্থানান্তর করেন। বিএনপি নেতারা জানান, তাঁকে ভেন্টিলেশনে রাখা হয়েছে। বিদেশি বিশেষজ্ঞ-সহ একটি মেডিক্যাল টিমের তত্ত্বাবধানে রয়েছেন তিনি (Khaleda Zia)। হৃদযন্ত্র ও ফুসফুস সংক্রান্ত জটিলতা হঠাৎ করে তীব্র হয়ে ওঠায় ২৩ নভেম্বর তাঁকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।

    কী বলছে বিএনপি

    বিএনপি নেতারা বলেছেন, খালেদা জিয়ার শারীরিক অবস্থার কোনও উন্নতি হয়নি। দলের ভাইস-চেয়ারম্যান আহমেদ আযম খান জানান, চিকিৎসকরা প্রায় সব ধরনের চিকিৎসার পথ ব্যবহার করে দেখেছেন। তিনি বলেন, “তিনি অত্যন্ত সংকটাপন্ন অবস্থায় রয়েছেন। সারা জাতির কাছে আবেদন দোয়া চাওয়া ছাড়া আর করার কিছুই করার নেই।” মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগিরও একই ধরনের মন্তব্য করেছেন। তিনি জানান, দেশি ও বিদেশি বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকরা দিন-রাত কাজ করে চলেছেন। তিনি বলেন, “তিনি (খালেদা) গুরুতর অসুস্থ। তাঁরা সর্বোচ্চ চেষ্টা করছেন।” সিনিয়র যুগ্ম-মহাসচিব রুহুল কবির রিজভি জানান, রবিবার পর্যন্ত তাঁর অবস্থার কোনও পরিবর্তন হয়নি।উল্লেখ্য, খালেদা (Khaleda Zia) দীর্ঘদিন ধরে লিভার ও কিডনির জটিলতা, ডায়াবেটিস, আর্থ্রাইটিস এবং চোখের সমস্যা-সহ বেশ কয়েকটি দীর্ঘস্থায়ী অসুস্থতার সঙ্গে লড়াই করে আসছেন। উন্নত চিকিৎসার জন্য চার মাস লন্ডনে থাকার পর গত ৬ মে ঢাকায় ফিরে আসেন তিনি।

    শারীরিক অবস্থার উন্নতি

    বাংলাদেশের সংবাদ মাধ্যম সূত্রে খবর, খালেদার শারীরিক অবস্থার কিছুটা উন্নতি হয়েছে। সোমবার তিনি সামান্য নড়াচড়া করেছেন। হাসপাতাল সূত্রে খবর, আত্মীয়-স্বজনের সঙ্গে কথাবার্তায় সাড়াও দিয়েছেন বাংলাদেশের প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী তথা বিএনপির চেয়ারপার্সন খালেদা। খালেদার চিকিৎসা করছে চিকিৎসকদের যে টিম, তাদের বক্তব্য, প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রীর শারীরিক অবস্থার সামান্য উন্নতি হলেও, তিনি এখনও ঝুঁকি মুক্ত নন। লিভারজনিত জটিলতা, কিডনির কর্মক্ষমতা কমে যাওয়া, শ্বাসকষ্ট-সহ একাধিক সমস্যা সামলে তাঁর চিকিৎসা করতে হচ্ছে বিশেষ সতর্কতায়। পরে ফের অবস্থার অবনতি হওয়ায় খালেদাকে রাখা হয়েছে আইসিইউ সমমানের হাই ডিপেনডেন্সি ইউনিটে (এইচডিইউ)। মেডিক্যাল বোর্ডের সদস্য এ জেড এম জাহিদ হোসেন জানান, খালেদা জিয়া চিকিৎসায় সাড়া দিচ্ছেন। তবে বিদেশযাত্রার মতো স্থিতিশীলতা এখনও আসেনি। চিকিৎসকদের লক্ষ্য, তাঁকে ধীরে ধীরে এমন পর্যায়ে নিয়ে যাওয়া, যেখানে বিমানযাত্রা করতে কোনও কষ্ট না হয় তাঁর (PM Modi)।

    চিন থেকে এল চিকিৎসক দল

    এদিকে, সোমবারই চিন থেকে বাংলাদেশে গিয়েছেন একদল চিকিৎসক (Khaleda Zia)। সন্ধ্যায়ই তাঁরা খালেদার চিকিৎসার দায়িত্বে থাকা মেডিক্যাল বোর্ডের সদস্যদের সঙ্গে প্রয়োজনীয় আলোচনাও সেরে নিয়েছেন। এই মেডিক্যাল বোর্ডে বাংলাদেশের বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকরা ছাড়াও রয়েছেন আমেরিকার জন হপকিনস হাসপাতালের এক চিকিৎসক এবং লন্ডনের এক চিকিৎসক। এর পরেও সাহায্য নেওয়া হচ্ছে চিনা বিশেষজ্ঞদের। অন্যদিকে, ভারত ছাড়াও খালেদার শারীরিক অবস্থা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে আরও কয়েকটি দেশও। বাংলাদেশের রাজধানী ঢাকায় অবস্থিত তুরস্ক ও রাশিয়ার দূতাবাস থেকেও তাঁর দ্রুত আরোগ্য কামনা করা হয়েছে (PM Modi)। দিন কয়েক আগে খালেদার আরোগ্য কামনা করে বার্তা পাঠিয়েছিলেন পাক প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফও (Khaleda Zia)।

LinkedIn
Share