Tag: Calcutta High court

Calcutta High court

  • Indranil Sen Arrested: ‘‘সবে তো চা-বিস্কুট হয়েছে, এখনও প্রাতরাশ হয়নি’’, ইন্দ্রনীলের গ্রেফতারিতে কীসের ইঙ্গিত মুখ্যমন্ত্রীর?

    Indranil Sen Arrested: ‘‘সবে তো চা-বিস্কুট হয়েছে, এখনও প্রাতরাশ হয়নি’’, ইন্দ্রনীলের গ্রেফতারিতে কীসের ইঙ্গিত মুখ্যমন্ত্রীর?

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: “তদন্তকারী সংস্থাগুলি নিশ্চয়ই তথ্যপ্রমাণ পেয়েছে। সেই প্রমাণের ভিত্তিতেই আইন অনুযায়ী পদক্ষেপ করা হয়েছে।” বুধবার রাজ্যের প্রাক্তন মন্ত্রী তৃণমূলের ইন্দ্রনীল সেনের গ্রেফতারি প্রসঙ্গে এমনই মন্তব্য করলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। নবান্নে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে মুখ্যমন্ত্রী দাবি করেন, ইন্দ্রনীলের (Indranil Sen Arrested) বিরুদ্ধে কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা এবং কলকাতা পুলিশ তদন্ত চালাচ্ছিল।  প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের প্রসঙ্গ তুলেও আক্রমণ শানান শুভেন্দু। তাঁর অভিযোগ, এই ঘটনায় শুধু ইন্দ্রনীল নন, আরও অনেকে জড়িত থাকতে পারেন। তিনি বলেন, “আমি বহু রাজনৈতিক সভায় বলেছি, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের প্রত্যক্ষ মদতে এই ঘটনা ঘটেছে। একা তো আর কেউ টাকা নেননি! প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রীরও ভাগ থাকতে পারে।” ইন্দ্রনীলের সঙ্গে (ED) মমতার ঘনিষ্ঠতার প্রসঙ্গও তোলেন পালাবদলের মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর দাবি, দু’জনে একসঙ্গে ঘুরতেন এবং গানও গাইতেন। শুভেন্দুর কটাক্ষ, “মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং ইন্দ্রনীল সেন একে অন্যের পরিপূরক ছিলেন। যা পরিণতি হওয়ার, তা-ই হচ্ছে। সবে তো চা-বিস্কুট হয়েছে, এখনও প্রাতরাশ হয়নি। দুর্নীতিতে জড়িতদের সকলকেই জেলে যেতে হবে। ঠিক সময়ে বড় জায়গাতেও হাত পড়বে।”

    প্রসঙ্গত, দুর্গাপুজোর পাস বিক্রিকে কেন্দ্র করে আর্থিক দুর্নীতির অভিযোগে গ্রেফতার হন চন্দননগরের প্রাক্তন তৃণমূল বিধায়ক তথা রাজ্যের প্রাক্তন তথ্য ও সংস্কৃতিমন্ত্রী ইন্দ্রনীল সেন (Indranil Sen Arrested)। এদিন সল্টলেকের ইডি দফতরে হাজিরা দিতে গিয়েছিলেন তিনি। সেখান থেকে বেরোনোর পরেই তাঁকে আটক করে গাড়িতে তোলে কলকাতা পুলিশ। পরে তাঁকে লালবাজারে নিয়ে যাওয়া হয় বলে পুলিশ সূত্রে খবর। তদন্তে অসহযোগিতার অভিযোগেই এই পদক্ষেপ বলে জানা গিয়েছে (ED)।

    ইন্দ্রনীলের বিরুদ্ধে অভিযোগ (Indranil Sen Arrested)

    দুর্গাপুজোর পাস বিক্রির ক্ষেত্রে রাষ্ট্রসংঘের শিক্ষা, বিজ্ঞান ও সংস্কৃতিবিষয়ক সংস্থা ইউনেস্কোর নাম ব্যবহার করে বিপুল অঙ্কের টাকা তোলার অভিযোগ উঠেছে ইন্দ্রনীলের বিরুদ্ধে। অভিযোগ, দুর্গাপুজোর বিশেষ দর্শন এবং বিশেষ পাস বিক্রির মাধ্যমে কোটি কোটি টাকার লেনদেন হয়েছিল। অথচ এই ধরনের বাণিজ্যিক কার্যকলাপের জন্য ইউনেস্কোর কোনও অনুমোদন বা চুক্তি ছিল না বলে অভিযোগকারীদের দাবি।

    এই ঘটনায় কলকাতা পুলিশের কাছে প্রথম অভিযোগ দায়ের করেন জয়দীপ মুখোপাধ্যায় নামে এক ব্যক্তি। বৌবাজার থানায় দায়ের হওয়া সেই অভিযোগের ভিত্তিতে মামলা রুজু হয়। পরে আর্থিক লেনদেনের বিষয়টি খতিয়ে দেখতে তদন্ত শুরু করে এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট।

    তদন্তের অংশ হিসেবে এর আগে একাধিক বার ইন্দ্রনীলকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে। তাঁর কসবার বাড়ি এবং সিঙ্গুরের বাগানবাড়ি-সহ একাধিক ঠিকানায় তল্লাশিও চালানো হয়। দুর্গাপুজো ও লক্ষ্মীপুজোর পরে ফের তাঁকে হাজিরার নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। সেই নির্দেশ মেনেই বুধবার তিনি তদন্তকারী সংস্থার দফতরে পৌঁছন (Indranil Sen Arrested)।

    ৫০ থেকে ৬০ কোটি টাকার দুর্নীতির সন্দেহ

    প্রাথমিক তদন্তে ৫০ থেকে ৬০ কোটি টাকার আর্থিক অনিয়মের সম্ভাবনা রয়েছে বলে তদন্তকারীদের অনুমান। অভিযোগ, দুর্গাপুজোর বিশেষ দর্শনের আয়োজন এবং বিশেষ প্রবেশপত্র বিক্রির নামে সাধারণ মানুষের কাছ থেকে টাকা সংগ্রহ করা হয়েছিল। প্রচারে ইউনেস্কোর নাম ও স্বীকৃতিকে এমনভাবে ব্যবহার করা হয়, যাতে সাধারণ মানুষের মনে ওই আয়োজনের সঙ্গে সংস্থাটির সরাসরি যোগসূত্র থাকার ধারণা তৈরি হয়।

    ইন্দ্রনীলের স্ত্রী মধুছন্দা সেনের বিরুদ্ধেও এই ঘটনায় যুক্ত থাকার অভিযোগ উঠেছে। তিনি ‘মাস আর্ট’ নামে একটি সংস্থার সঙ্গে যুক্ত। অভিযোগ, ওই সংস্থার মাধ্যমেই পাস বিক্রি এবং সংশ্লিষ্ট আর্থিক লেনদেন পরিচালিত হয়েছিল। ২০২১ সালে কলকাতার দুর্গাপুজো ইউনেস্কোর স্বীকৃতি পাওয়ার পর সংস্থাটি গড়ে ওঠে বলে জানা গিয়েছে।

    আগাম জামিনের আবেদন খারিজ

    তদন্ত চলাকালীন গ্রেফতারি এড়াতে আগাম জামিনের আবেদন করেছিলেন ইন্দ্রনীল। কিন্তু কলকাতা হাইকোর্ট সেই আবেদন খারিজ করে দেয়। এর পর তিনি সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হন। মঙ্গলবার শীর্ষ আদালতে মামলাটির শুনানি হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু বিচারপতি দীপঙ্কর দত্ত ব্যক্তিগত কারণ দেখিয়ে মামলা থেকে সরে দাঁড়ান। ফলে শুনানি পিছিয়ে যায় এবং নতুন করে বেঞ্চ গঠনের প্রয়োজন হয়ে পড়ে। সুপ্রিম কোর্ট সূত্রে খবর, আগামী সোমবার নতুন বেঞ্চে ইন্দ্রনীলের আগাম জামিনের আবেদন সংক্রান্ত মামলার শুনানি হওয়ার কথা।

    উল্লেখ্য, রাজ্যে রাজনৈতিক পালাবদলের পর পুরনিয়োগ সংক্রান্ত মামলায় গত ১১ মে রাজ্যের প্রাক্তন দমকলমন্ত্রী সুজিত বসুকে গ্রেফতার করা হয়েছিল (ED)। এ বার দুর্গাপুজোর পাস বিক্রির অভিযোগে গ্রেফতার হলেন তৃণমূল সরকারের আর এক প্রাক্তন মন্ত্রী (Indranil Sen Arrested)।

     

  • Calcutta High Court: কলকাতা হাইকোর্টের ছাদে তালাবন্ধ ঘরে মিলল ইসলামিক বই, চাবি আইনজীবীর কাছে! কী নির্দেশ আদালতের?

    Calcutta High Court: কলকাতা হাইকোর্টের ছাদে তালাবন্ধ ঘরে মিলল ইসলামিক বই, চাবি আইনজীবীর কাছে! কী নির্দেশ আদালতের?

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: কলকাতা হাইকোর্টের ছাদে একটি তালাবন্ধ ঘরের ভিতর থেকে ইসলাম ধর্ম সংক্রান্ত বইপত্র, পড়ার সামগ্রী, গদি, চেয়ার-সহ একাধিক জিনিসপত্র উদ্ধারকে কেন্দ্র করে প্রশ্ন উঠল আদালতেই। আরও তাৎপর্যপূর্ণ বিষয়, ঘরটির তালার চাবি ছিল এজাজ হোসেন নামের এক আইনজীবী কাছে। হাইকোর্টের প্রশাসনের পরিবর্তে একজন আইনজীবীর হাতে ওই ঘরের চাবি কীভাবে এল, তা জানতে চেয়েছে আদালত। পাশাপাশি, আদালত চত্বরের নিরাপত্তা ব্যবস্থা এবং বিভিন্ন ঘরের চাবি সংরক্ষণের পদ্ধতি পর্যালোচনার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে সিকিউরিটি কমিটিকে।

    তবে পরিদর্শন রিপোর্টে ছাদের ওই ঘরকে মসজিদ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়নি। সেখানে নিয়মিত নামাজ পড়া হত কি না, সে বিষয়েও নিশ্চিত কোনও তথ্য পাওয়া যায়নি। ফলে আপাতত আদালতের নজর ঘরটির ব্যবহার, সেখানে থাকা সামগ্রী এবং চাবির নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা নিয়ে।

    ছাদে নামাজ পড়া হত কি না, জানতে চেয়েছিল আদালত

    সঞ্জয় ঘোষের দায়ের করা একটি জনস্বার্থ মামলার শুনানি চলাকালীন বিষয়টি ওঠে কলকাতা হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতি রবীন্দ্র ভি. ঘুগে এবং বিচারপতি ওম নারায়ণ রাইয়ের ডিভিশন বেঞ্চে।

    গত ৩০ সেপ্টেম্বরের নির্দেশে হাইকোর্টের রেজিস্ট্রিকে আদালত ভবনের ছাদ পরিদর্শন করে রিপোর্ট জমা দিতে বলা হয়েছিল। ছাদে ইসলাম ধর্মাবলম্বীরা নামাজ পড়তেন কি না এবং পড়লে দিনের বেলায় কত ঘনঘন তা হত, তা খতিয়ে দেখার নির্দেশ দিয়েছিল আদালত।

    সেই নির্দেশ মেনে পরিদর্শন চালায় রেজিস্ট্রি। রঙিন ছবিসহ রিপোর্ট জমা পড়ার পর জানা যায়, ছাদে একটি ছোট ঘর রয়েছে। সেখানে ইসলাম ধর্ম সংক্রান্ত বইপত্র ও অন্যান্য সামগ্রী রাখা ছিল।

    ঘরে কী কী পাওয়া গেল?

    পরিদর্শন রিপোর্ট অনুযায়ী, ঘরটিতে কাঠের তৈরি দু’টি দরজা ছিল। দু’টিই তালাবন্ধ অবস্থায় ছিল। চাবির খোঁজ করতে গিয়ে আধিকারিকরা জানতে পারেন, সেই চাবি রয়েছে আইনজীবী এজাজ হোসেনের কাছে। তিনি হাইকোর্ট বার অ্যাসোসিয়েশনের ১২ নম্বর ঘর ব্যবহার করেন। পরে এজাজ হোসেন আরও তিন আইনজীবীকে সঙ্গে নিয়ে সেখানে পৌঁছন। এরপর তালা খুলে ঘরটি পরিদর্শন করা হয়।

    ঘরের ভিতর থেকে পাওয়া সামগ্রীর মধ্যে ছিল—

    • ● ইসলাম ধর্ম সংক্রান্ত বই ও ধর্মীয় পাঠ্যসামগ্রী

    • ● গদি ও প্লাস্টিকের চেয়ার

    • ● স্ট্যান্ড ফ্যান ও একটি আলমারি

    • ● বালতি, গামলা ও জলের পাত্র

    • ● চটি রাখার একটি ঝুড়ি এবং অন্যান্য ব্যক্তিগত সামগ্রী

    এই সামগ্রীগুলি ঘরটির ব্যবহার নিয়ে প্রশ্ন তুললেও, পরিদর্শন রিপোর্টে সেখানে মসজিদ থাকার কথা নিশ্চিত করা হয়নি। একইভাবে, নিয়মিত নামাজ পড়া হত কি না, তা-ও প্রতিষ্ঠিত হয়নি।

    আইনজীবীর কাছে চাবি কেন? প্রশ্ন আদালতের

    ঘটনার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ দিক হল, হাইকোর্টের ছাদের একটি তালাবন্ধ ঘরের চাবি প্রশাসনের পরিবর্তে একজন আইনজীবীর কাছে থাকা। বিষয়টি নিয়ে বিস্ময় প্রকাশ করেছে ডিভিশন বেঞ্চ।

    আদালতের পর্যবেক্ষণ, ঘর, দরজা, এজলাস, সিঁড়ি এবং আদালত ভবনের অন্যান্য অংশের চাবি হাইকোর্ট প্রশাসনের হেফাজতে থাকা উচিত। আদালত চত্বর, ভবন ও টাওয়ারের নিরাপত্তা ব্যবস্থাও প্রশাসনের তত্ত্বাবধান ও নির্দেশে পরিচালিত হয়।

    এই প্রেক্ষিতে এজাজ হোসেনের কাছে দু’টি তালার চাবি কীভাবে এল, তা ব্যাখ্যা করতে বলা হয়েছে। মামলাকারীকে আদালতের নির্দেশের একটি কপি ওই আইনজীবীর কাছে পৌঁছে দেওয়ার নির্দেশও দেওয়া হয়েছে।

    নিরাপত্তা ব্যবস্থা খতিয়ে দেখবে সিকিউরিটি কমিটি

    শুধু ওই ঘরের চাবি নয়, আদালত ভবনের সামগ্রিক নিরাপত্তা ব্যবস্থাও পর্যালোচনার আওতায় আনতে চায় হাইকোর্ট। সেই কারণে রেজিস্ট্রিকে সাম্প্রতিক নির্দেশ এবং ৩০ সেপ্টেম্বরের আগের নির্দেশের কপি হাইকোর্টের সিকিউরিটি কমিটির কাছে পাঠাতে বলা হয়েছে।

    কর্মরত হাইকোর্টের বিচারপতিদের নিয়ে গঠিত ওই কমিটিকে আদালত চত্বরের নিরাপত্তা সংক্রান্ত বিষয়ে পরামর্শ দিতে বলা হয়েছে। বিশেষ করে, ছাদের ওই ঘর এবং ভবনের অন্যান্য অংশের চাবি কার হেফাজতে থাকবে, তা খতিয়ে দেখতে বলা হয়েছে।

    তদন্তের মূল প্রশ্ন কী?

    এই ঘটনায় আপাতত তিনটি বিষয় গুরুত্বপূর্ণ—ছাদের ঘরটি কী কাজে ব্যবহার করা হত, সেখানে পাওয়া ধর্মীয় বই ও অন্যান্য সামগ্রী কীসের জন্য রাখা হয়েছিল এবং ঘরটির চাবি একজন আইনজীবীর কাছে থাকার কারণ কী।

    উল্লেখযোগ্য, ঘরে ইসলাম ধর্ম সংক্রান্ত বইপত্র পাওয়া যাওয়াই সেখানে মসজিদ ছিল বা নিয়মিত নামাজ হত—এমন সিদ্ধান্তে পৌঁছনোর জন্য যথেষ্ট নয়। আদালতের নির্দেশে হওয়া পরিদর্শন থেকে এখনও সেই দাবির নিশ্চিত প্রমাণ মেলেনি।

    এখন নজর আদালতের পরবর্তী পদক্ষেপের দিকে। আইনজীবীর ব্যাখ্যা এবং সিকিউরিটি কমিটির পর্যালোচনার ভিত্তিতে ঘরটির ব্যবহার ও চাবি সংরক্ষণের ব্যবস্থাপনা সম্পর্কে আরও স্পষ্ট তথ্য সামনে আসতে পারে।

  • West Bengal Bar Council: বার কাউন্সিলের নির্বাচনেও বিজেপির দাপট! ‘রাষ্ট্রবাদের জয়’ বললেন শুভেন্দু

    West Bengal Bar Council: বার কাউন্সিলের নির্বাচনেও বিজেপির দাপট! ‘রাষ্ট্রবাদের জয়’ বললেন শুভেন্দু

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: রাজ্য বার কাউন্সিলের গুরুত্বপূর্ণ পদগুলির নির্বাচনেও বিজেপির দাপট। সভাপতি, সহ-সভাপতি এবং বার কাউন্সিল (West Bengal Bar Council) অফ ইন্ডিয়ার প্রতিনিধি-তিনটি পদেই বিজেপি-সমর্থিত প্রার্থীদের জয়ের কথা জানিয়ে ‘রাষ্ট্রবাদের জয়জয়কার’ বলে মন্তব্য করলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari) এদিন নির্বাচিতদের শুভেচ্ছা জানিয়েছেন। একই সঙ্গে তৃণমূল কংগ্রেসকে নিশানা করে তাঁর দাবি, রাজ্যে এখন আর তৃণমূলের কোনও অস্তিত্বই অবশিষ্ট নেই। রাজ্য বার কাউন্সিলের সভাপতি নির্বাচিত হলেন সমীর পাল। বিধানসভা নির্বাচনে তৃণমূলকে পর্যূদস্ত করে বিপুল জনমত নিয়ে বিজেপি বাংলায় প্রথমবারের জন্য ক্ষমতায় এসেছে। দুই কেন্দ্রে উপনির্বাচনেও বড় জয় পেয়েছে বিজেপি। সেই জয়ের ধারাই ওয়েস্ট বেঙ্গল বার স্টেট কাউন্সিলের অফিস বেয়ারার নির্বাচনেও বজায় রইল। এমনই মনে করছে রাজনৈতিক মহল।

    কোন কোন পদে জয়ী

    গত মার্চে বিধানসভা নির্বাচনের আগে বার কাউন্সিলের সদস্য নির্বাচন হয়েছিল। শুভেন্দুর দেওয়া হিসেব অনুযায়ী, সেই পর্বে বিজেপি ও তাদের সমর্থক আইনজীবী সংগঠনগুলির পক্ষে মাত্র তিন জন জয়ী হয়েছিলেন। বাকি আসনগুলিতে জয় পেয়েছিলেন তৃণমূল,কংগ্রেস এবং অন্যান্য শিবিরের প্রার্থীরা। কিন্তু এবারের নির্বাচনে তিনটি গুরুত্বপূর্ণ পদেই বিজেপি-সমর্থিত প্রার্থীদের জয় হয়েছে। সভাপতি পদে ১৮-৮ ভোটে নির্বাচিত হয়েছেন সমীর পাল। সহ-সভাপতি পদে ১৭-৯ ভোটে জয়ী হয়েছেন অজয় চৌবে। বার কাউন্সিল অফ ইন্ডিয়ার প্রতিনিধি হিসেবে নির্বাচিত হয়েছেন শিলিগুড়ির বর্ষীয়ান আইনজীবী অরুণ সরকার। ওই পদেও ভোটের ব্যবধান ছিল ১৭-৯। এই ফলকে সামনে রেখেই আইনজীবী মহলে নিজেদের প্রভাব বৃদ্ধির দাবি করছে বিজেপি শিবির। পুজোর ছুটির পর বার কাউন্সিলের নতুন সদস্যদের নিয়ে বৈঠকের কথাও এদিন জানিয়েছেন শুভেন্দু অধিকারী। এক হাজারেরও বেশি সদস্য রাজ্য বার কাউন্সিলে আছেন। কাজের পরিকল্পনা নতুন সদস্যদের নিয়ে করা হবে। সেই কথাও এদিন জানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী

    রাজ্যে বিরোধীদের নিশানা মুখ্যমন্ত্রীর

    ফল ঘোষণার পর তৃণমূলকে আক্রমণ করে শুভেন্দু বলেন, ওরা এখন একাধিক ভাগে বিভক্ত। তাঁর কথায়, “তৃণমূল তো এখন ত্রিখণ্ডিত। একদল নতুন পার্টিতে জয়েন করেছেন আর একটি দল দু’ভাগে বিভক্ত হয়েছে। নাম, নিশান, পতাকা নেই।” বার কাউন্সিলের এই ফলকে রাজ্যের সাম্প্রতিক রাজনৈতিক প্রবণতার সঙ্গে মিলিয়ে দেখছেন শুভেন্দু। তাঁর বক্তব্য, বিধানসভা নির্বাচন থেকে শুরু করে বিভিন্ন স্তরের নির্বাচনেই একই প্রবণতা দেখা যাচ্ছে। ফলতা, রিষড়া, নন্দীগ্রাম এবং বার কাউন্সিলের নির্বাচনের প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, “দেখুন রাষ্ট্রবাদের জয়জয়কার। এখানে সব একমুখী। একদম সেম ট্রেন্ড।” বিধানসভা ভোটের ফল নিয়ে যাঁরা আগে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেছিলেন, কটাক্ষের সুরে তাঁদের ‘শোক রাত্রি’ পালনের পরামর্শও দিয়েছেন। রাজ্যের প্রাক্তন শাসকদলের রাজনৈতিক অবস্থান নিয়ে কটাক্ষ করে মুখ্যমন্ত্রী জানান, তৃণমূল এখন নন্দীগ্রামে প্রার্থী পর্যন্ত দিতে পারে না। পাঁচ মাস আগে যে তৃণমূল প্রার্থী রেজিনগরে ৪৭ হাজার ভোট পেয়েছিলেন, এখন তিনি মাত্র ছ’হাজার ভোট পাচ্ছেন। কংগ্রেসের জেতা লোকসভা আসনও হাতছাড়া হচ্ছে। যারা একসময় ব্রিগেডে সভা করার দম্ভ দেখাত, তারা এখন ৫০০ লোক জড়ো করতে তারামণ্ডলের গলিপথ খোঁজে!

  • Durga Puja 2026: দুর্গাপুজোকে ঘিরে অশান্তি, পশ্চিমবঙ্গে এক দশকের খতিয়ান

    Durga Puja 2026: দুর্গাপুজোকে ঘিরে অশান্তি, পশ্চিমবঙ্গে এক দশকের খতিয়ান

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: পশ্চিমবঙ্গের ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক জীবনে দুর্গাপুজো অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ উৎসব। পুজো কমিটি, মণ্ডপ, প্রতিমা, ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠান এবং বিসর্জনের শোভাযাত্রা—সব মিলিয়ে প্রতি বছরই রাজ্যের জনজীবনের সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়িয়ে থাকে দুর্গাপুজো। কলকাতার দুর্গাপুজো  (Durga Puja 2026) আন্তর্জাতিক স্বীকৃতিও পেয়েছে। মানবতার বিমূর্ত সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের প্রতিনিধি তালিকায় কলকাতার দুর্গাপুজোকে অন্তর্ভুক্ত করেছে ইউনেস্কো।

    তবে গত কয়েক বছরে পশ্চিমবঙ্গে দুর্গাপুজোকে কেন্দ্র করে একাধিক বিতর্ক, অশান্তি এবং প্রশাসনিক পদক্ষেপ সামনে এসেছে। কোথাও পুজো মণ্ডপে ভাঙচুর ও আগুন লাগানোর অভিযোগ উঠেছে, কোথাও ধর্মীয় আচার পালনে বাধা দেওয়ার অভিযোগ, আবার কোথাও বিসর্জনের শোভাযাত্রায় হামলা, প্রতিবাদীদের গ্রেফতার, পুলিশি পদক্ষেপ এবং প্রশাসনিক বিধিনিষেধ নিয়ে বিতর্ক তৈরি হয়েছে (Pandal Vandalism Incidents)।

    রাজনৈতিক বিতর্ক (Durga Puja 2026)

    ২০২৬ সালের সেপ্টেম্বরেও দুর্গাপুজোর মণ্ডপ সংলগ্ন সিপিআই(এম)-এর বইয়ের স্টলকে কেন্দ্র করে নতুন করে রাজনৈতিক বিতর্ক তৈরি হয়। “শারদোৎসবে”র বদলে ‘দুর্গোৎসব’ শব্দ ব্যবহার করতে হবে বলে সাফ জানিয়ে দেন মুখ্যমন্ত্রী। তা না করলে পুজো কমিটিগুলিকে সিপিআই(এম)-এর বইয়ের স্টল বসানোর অনুমতি না দেওয়ার আহ্বান জানানো হয় বলেও প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে। পাল্টা সিপিআই(এম)-এর রাজ্য সম্পাদক মহম্মদ সেলিম এই পদক্ষেপকে “ফ্যাসিবাদী আক্রমণ” বলে আখ্যা দেন এবং সরকারের বিরুদ্ধে ধর্মীয় আবেগ উসকে দেওয়ার অভিযোগ তোলেন। দীর্ঘদিন ধরেই পুজো মণ্ডপের আশপাশে সিপিআই(এম) ও তাদের সহযোগী সংগঠনগুলির বইয়ের স্টল বসানোর রীতি রয়েছে। সেখানে দলীয় প্রকাশনা, মার্কসবাদী সাহিত্য এবং বিভিন্ন বই বিক্রি করা হয়।

    ২০২৪ সালের দুর্গাপুজোর সময় একাধিক ঘটনাও বিশেষভাবে আলোচনায় আসে। কলকাতার গার্ডেন রিচ এলাকায় নিউ বেঙ্গল স্পোর্টিং ক্লাবের পুজোয় অষ্টমী ও নবমীর আচার-অনুষ্ঠানের সময় গান ও ভক্তিগীতি বাজানোকে কেন্দ্র করে আপত্তির অভিযোগ ওঠে। পুজো কমিটির অভিযোগ ছিল, একটি দল পুজোর অনুষ্ঠান বন্ধ করার হুমকি দেয় এবং দুর্গাপ্রতিমা ভাঙচুরেরও হুমকি দেওয়া হয়। অভিযোগের ভিত্তিতে পুলিশ মামলা করে।

    দুর্গাপুজোকে কেন্দ্র করে অশান্তি

    হাওড়ার শ্যামপুরে দুর্গাপুজোকে কেন্দ্র করে অশান্তির অভিযোগ ওঠে। পুজো সংলগ্ন এলাকায় ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটে বলে অভিযোগ। পরে বেশ কয়েকজনকে গ্রেফতার করা হয় এবং এলাকায় নিষেধাজ্ঞামূলক নির্দেশ জারি করা হয়। অতিরিক্ত পুলিশ বাহিনী ও দ্রুত প্রতিক্রিয়া বাহিনী মোতায়েন করা হয়।

    এদিকে, দুর্গাপুজোর বিভিন্ন মণ্ডপে প্রতিবাদকে কেন্দ্র করেও পুলিশি পদক্ষেপ নিয়ে বিতর্ক দেখা দেয়। কলকাতা পুলিশ পুজোর সময় জুনিয়র চিকিৎসকদের “অভয়া পরিক্রমা” কর্মসূচি থামিয়ে দেয় এবং বেশ কয়েকজনকে আটক করে। পুজো মণ্ডপের বাইরে চিকিৎসকদের আন্দোলনের সমর্থনে প্রতিবাদ করার অভিযোগে আলিপুরে নয় যুবককে গ্রেফতার করা হলেও পরে কলকাতা হাই কোর্ট তাঁদের অন্তর্বর্তী জামিন দেয়। আদালত পর্যবেক্ষণে জানায়, তাঁদের উদ্দেশ্য ধর্মীয় বিদ্বেষ ছড়ানো বা ধর্মীয় ভাবাবেগে আঘাত করা ছিল না (Durga Puja 2026)।

    দুর্গাপুজোর সরকারি কার্নিভালেও এক চিকিৎসকের গ্রেফতারি নিয়ে বিতর্ক তৈরি হয়। আরজি কর-কাণ্ডে আন্দোলনরত জুনিয়র চিকিৎসকদের সমর্থনে ব্যাজ পরে পুজো কার্নিভালে অংশ নেওয়া কর্তব্যরত সরকারি চিকিৎসক তপাব্রত রায়কে কলকাতা পুলিশ গ্রেফতার করে বলে প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে। তাঁর গ্রেফতারির প্রতিবাদে চিকিৎসক ও অন্যদের বিক্ষোভের পর কয়েক ঘণ্টার মধ্যে তাঁকে ছেড়ে দেওয়া হয়। পরবর্তী সময়ে কলকাতা হাই কোর্ট ওই মামলায় তাঁকে অন্তর্বর্তী সুরক্ষাও দেয়।

    নদিয়ার রানাঘাটে প্রায় ৫০ বছর ধরে দুর্গাপুজো করে আসা একটি ক্লাবকে ১১২ ফুট উচ্চতার প্রতিমা পুজোর অনুমতি দেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ ওঠে। আইনশৃঙ্খলার কারণ দেখিয়ে অনুমতি না দেওয়ায় প্রশাসনের বিরুদ্ধে অসহযোগিতার অভিযোগ তুলে ক্লাবটি ওই বছর পুজো না করার সিদ্ধান্ত নেয় বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

    অশান্তি বিসর্জনের শোভাযাত্রায়ও

    দুর্গাপুজোর সঙ্গে যুক্ত বিসর্জনের শোভাযাত্রাতেও একাধিকবার অশান্তির অভিযোগ উঠেছে। ২০২৪ সালের ৯ অক্টোবর কলকাতার পার্ক সার্কাস ও নারকেলডাঙা এলাকায় কালী ও লক্ষ্মীপ্রতিমা বিসর্জনের সময় পাথর ছোড়ার অভিযোগ ওঠে। পুজো কমিটি ও শোভাযাত্রায় অংশ নেওয়া ভক্তদের অভিযোগ, রাজাবাজার এলাকায় হঠাৎ করে পাথর, কাচের বোতল এবং ইট ছোড়া হয়। আশপাশের বাড়ি থেকেও পাথর ছোড়া হয়েছিল বলে অভিযোগ। আতঙ্কে অনেকে দৌড়ে নিরাপদ জায়গায় আশ্রয় নেন এবং কয়েকটি শোভাযাত্রার যাত্রাভঙ্গ হয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ লাঠিচার্জ ও কাঁদানে গ্যাস ব্যবহার করে বলে প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে। পরে অবশ্য বিসর্জন শান্তিপূর্ণভাবেই সম্পন্ন হয় (Durga Puja 2026)।

    এই ঘটনার পর জাতীয় মহিলা কমিশনের সদস্য অর্চনা মজুমদার রাজ্যপালকে চিঠি দিয়ে নারকেলডাঙার হিংসার অভিযোগ জানান। তাঁর দাবি ছিল, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের সময় পুলিশ আধিকারিকদের আচরণও যথাযথ ছিল না। তিনি অভিযোগ করেন, পুলিশ আধিকারিকদের সঙ্গে কথা বলতে গেলে তাঁর সঙ্গে তর্ক হয় এবং পরে বিসর্জনের শোভাযাত্রায় থাকা আক্রান্তদের ওপর লাঠিচার্জ করা হয় (Pandal Vandalism Incidents)।

    ২০২০ সালের বিজয়া দশমীতে বীরভূমে দুর্গাপ্রতিমা বিসর্জনের শোভাযাত্রাকে কেন্দ্র করে পুলিশি লাঠিচার্জের অভিযোগ উঠেছিল। পুজো কমিটির সদস্য ও ভক্তদের ছত্রভঙ্গ করতে পুলিশ লাঠিচার্জ করে বলে অভিযোগ। ঘটনার ভিডিয়োয় এক পুলিশকর্মীকে এক যুবকের জামার কলার ধরে রাস্তায় টেনে নিয়ে যেতে দেখা যায় বলে প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে।

    দুর্গাপুজোর মণ্ডপের থিম এবং ধর্মীয় প্রতীক ব্যবহার নিয়েও বিতর্ক হয়েছে। ২০২১ সালে কলকাতার বড়িশা ক্লাবের দুর্গাপুজোকে ঘিরে জাতীয় নাগরিকপঞ্জির বিরোধিতায় বিভ্রান্তিকর বার্তা দেওয়ার অভিযোগ ওঠে। মণ্ডপে দুর্গাপ্রতিমার পাশাপাশি ঢাকার ঐতিহাসিক ঢাকেশ্বরী মন্দিরের প্রতিকৃতি ব্যবহার করা হয়েছিল। মণ্ডপসজ্জায় একটি দৃশ্যে দুর্গাপ্রতিমার সঙ্গে এক হিন্দু মহিলা ও তাঁর শিশুকে ভারতের একটি আটককেন্দ্রে বন্দি দেখানো হয় বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। তাঁদের বাংলাদেশে ফেরত পাঠানো হতে পারে—এমন ইঙ্গিতও ছিল বলে দাবি করা হয়েছে। এছাড়া কিছু দুর্গাপুজোয় প্রতিমার সামনে আজান দেওয়া হয় বলেও অভিযোগ ওঠে। আজান ইসলামে নমাজের আহ্বান। এই ঘটনাকে ঘিরেও ধর্মীয় প্রতীক ও পুজোর পরিবেশ নিয়ে বিতর্ক তৈরি হয়েছিল।

    খাগড়াগড় বিস্ফোরণকাণ্ড

    দুর্গাপুজোর সঙ্গে যুক্ত সবচেয়ে গুরুতর নিরাপত্তা-সংক্রান্ত ঘটনাগুলির একটি হল বর্ধমানের খাগড়াগড় বিস্ফোরণ মামলা। ২০১৪ সালের ২ অক্টোবর বর্ধমানের একটি দুর্গাপুজোর মণ্ডপে বিস্ফোরণ ঘটে। প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, বাংলাদেশি জঙ্গি সংগঠন জামাত-উল-মুজাহিদিন বাংলাদেশের একটি মডিউলের সঙ্গে এই ঘটনার যোগ ছিল। বিস্ফোরণে মণ্ডপের বেশ কয়েকটি প্রতিমা ক্ষতিগ্রস্ত হয়। তদন্তকারী সংস্থার দাবি, বিস্ফোরক তৈরির সময় দুর্ঘটনাবশত বিস্ফোরণ ঘটে এবং দু’জনের মৃত্যু হয়। পরে বিশেষ এনআইএ আদালত মামলায় ১৯ জনকে দোষী সাব্যস্ত করে, যাঁদের মধ্যে বাংলাদেশের নাগরিক ছিলেন (Durga Puja 2026) চারজন।

    দুর্গাপুজোকে কেন্দ্র করে প্রতিবাদ ও গ্রেফতারের ঘটনাও সামনে এসেছে। ২০২৪ সালের অক্টোবরে আলিপুরে পুজোর মণ্ডপ থেকে আরজি কর-কাণ্ডে আন্দোলনরত চিকিৎসকদের সমর্থনে প্রতিবাদ করার অভিযোগে নয় যুবককে গ্রেফতার করা হয়। আদালতে তাঁদের বিরুদ্ধে পুলিশি পদক্ষেপ নিয়ে প্রশ্ন ওঠে এবং অন্তর্বর্তী জামিন দেওয়া হয়।

    পুজো মণ্ডপে জুনিয়র চিকিৎসক ও প্রতিবাদীদের আটক এবং তাঁদের বিরুদ্ধে বলপ্রয়োগের অভিযোগ নিয়েও জাতীয় মানবাধিকার কমিশন কলকাতা পুলিশের কাছে জবাব চেয়েছিল। ত্রিধারা সম্মিলনী দুর্গাপুজোর মণ্ডপে ঘটনাকে কেন্দ্র করে এই নোটিশ দেওয়া হয়। সর্বভারতীয় ছাত্র ইউনিয়নের পক্ষ থেকে দায়ের করা অভিযোগের ভিত্তিতে জাতীয় মানবাধিকার কমিশন কলকাতা পুলিশের কাছে ঘটনার পরবর্তী পদক্ষেপের রিপোর্ট চায়।

    সব মিলিয়ে, গত এক দশকেরও বেশি সময় ধরে পশ্চিমবঙ্গে দুর্গাপুজোকে ঘিরে নানা ধরনের বিতর্ক ও সংঘাতের ঘটনা সামনে এসেছে। কোথাও পুজোর মণ্ডপে ভাঙচুর, কোথাও ধর্মীয় আচার পালনে বাধা, কোথাও বিসর্জনের শোভাযাত্রায় হিংসা, আবার কোথাও প্রতিবাদীদের বিরুদ্ধে পুলিশি পদক্ষেপ—বিভিন্ন ঘটনায় উৎসবের ধর্মীয়, সাংস্কৃতিক এবং সামাজিক পরিসর প্রশ্নের মুখে পড়েছে (Pandal Vandalism Incidents)।

    বিসর্জনের শোভাযাত্রায় পাথর ছোড়ার অভিযোগ

    বিশেষ করে ২০২৪ সালের ঘটনাগুলিতে দুর্গাপুজোর মণ্ডপ ও তার আশপাশের জনপরিসর একাধিক পৃথক সংঘাতের কেন্দ্র হয়ে ওঠে। গার্ডেন রিচে পুজোর আচার ঘিরে বিরোধ, শ্যামপুরে ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ, নারকেলডাঙায় বিসর্জনের শোভাযাত্রায় পাথর ছোড়ার অভিযোগ, পুজোর মণ্ডপের কাছে প্রতিবাদকারীদের গ্রেফতার এবং সরকারি পুজো কার্নিভালে কর্তব্যরত চিকিৎসকের আটক—সবক’টি ঘটনায়ই নতুন করে আইনশৃঙ্খলা ও প্রশাসনিক ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।

    এর পাশাপাশি প্রতিমা বিসর্জন, বিজয়া দশমীতে পুলিশি পদক্ষেপ, পুজোর মণ্ডপের থিম ও ধর্মীয় প্রতীক ব্যবহার এবং বর্ধমান বিস্ফোরণ মামলার মতো পুরনো ঘটনাগুলিও এই বিতর্কের পরিসরকে আরও বিস্তৃত করেছে।

    ২০২৬ সালের “শারদোৎসব” বিতর্ক সেই চলমান চর্চায় নয়া মাত্রা যোগ করেছে। দুর্গাপুজোর পরিচয়, নামকরণ, সাংস্কৃতিক উপস্থাপনা এবং পুজোকে ঘিরে (Durga Puja 2026) জনপরিসরের ব্যবস্থাপনা নিয়ে রাজনৈতিক দল ও প্রশাসনের মধ্যে মতপার্থক্য ফের প্রকাশ্যে এসেছে (Pandal Vandalism Incidents)।

     

  • Kolkata Illegal Construction: শহরে বেআইনি বহুতলের আড়ালে কোটি কোটি কালো টাকা? সরাসরি সিবিআই তদন্তের নির্দেশ কলকাতা হাইকোর্টের

    Kolkata Illegal Construction: শহরে বেআইনি বহুতলের আড়ালে কোটি কোটি কালো টাকা? সরাসরি সিবিআই তদন্তের নির্দেশ কলকাতা হাইকোর্টের

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: কলকাতায় একের পর এক বেআইনি বহুতল নির্মাণের নেপথ্যে কি কোটি কোটি টাকার কালো টাকা সাদা করার কারবার চলেছে? এই বিস্ফোরক অভিযোগের তদন্তে এবার সরাসরি কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা সিবিআইকে (CBI) নামাল কলকাতা হাই কোর্ট। শহরের একাধিক এলাকায় বেআইনিভাবে গড়ে ওঠা অন্তত ৫০টি বহুতল নির্মাণের বিষয়টি সামনে আসার পর জনস্বার্থ মামলার শুনানিতে এই নির্দেশ দিয়েছে প্রধান বিচারপতির বেঞ্চ। আগামী ১৪ অক্টোবরের মধ্যে প্রাথমিক তদন্ত রিপোর্ট আদালতে জমা দিতে হবে সিবিআইকে।

    ৫০টি বেআইনি বহুতল আদালতের নজরে

    কলকাতার রাজাবাজার, মানিকতলা, বেলেঘাটা-সহ একাধিক এলাকায় বেআইনি নির্মাণ নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই অভিযোগ উঠছিল। সেই তালিকায় ক্যানাল স্ট্রিট সংলগ্ন এলাকাও রয়েছে। আদালতের নজরে আসা তথ্য অনুযায়ী, এই সমস্ত এলাকায় অন্তত ৫০টি বেআইনি বহুতল নির্মাণের অভিযোগ রয়েছে।

    জনস্বার্থ মামলার শুনানিতে বিষয়টি সামনে আসতেই নির্মাণের ধরন এবং তার পিছনে থাকা আর্থিক লেনদেন নিয়ে প্রশ্ন তোলে হাই কোর্ট। আদালতের পর্যবেক্ষণ, বিষয়টি শুধু পুরসভার বিল্ডিং রুল বা নির্মাণবিধি লঙ্ঘনের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। এর পিছনে বিপুল অঙ্কের বেআইনি অর্থের লেনদেন এবং সেই অর্থকে বৈধ করার চেষ্টা রয়েছে কি না, সেটিও তদন্ত করে দেখা প্রয়োজন।

    রিয়েল এস্টেটের আড়ালে কালো টাকা সাদা?

    শুনানিতে প্রধান বিচারপতির বেঞ্চের পর্যবেক্ষণে উঠে আসে আরও গুরুতর অভিযোগ। বেআইনি ভাবে বহুতল নির্মাণের সঙ্গে যুক্ত রিয়েল এস্টেট কারবারকে ব্যবহার করে বিপুল পরিমাণ কালো টাকা সাদা করা হয়ে থাকতে পারে বলে সন্দেহ প্রকাশ করা হয়।

    এই অভিযোগের সত্যতা কতটা, কোথা থেকে টাকা এসেছে, কারা সেই অর্থ বিনিয়োগ করেছে এবং নির্মাণ ব্যবসার মাধ্যমে কীভাবে সেই অর্থের লেনদেন হয়েছে—সমস্ত বিষয় খতিয়ে দেখবে সিবিআই। একইসঙ্গে এই বেআইনি নির্মাণের পিছনে কোনও সংগঠিত চক্র কাজ করছে কি না, তাও তদন্তের আওতায় আসছে।

    কাঠগড়ায় কলকাতা পুরসভাও

    বেআইনি নির্মাণ নিয়ে স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ থাকা সত্ত্বেও কলকাতা পুরসভা কেন কার্যকর ব্যবস্থা নেয়নি, তা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছে আদালত। অভিযোগ সম্পর্কে পুরসভার আধিকারিকরা অবগত ছিলেন কি না এবং জানার পরেও কেন নির্মাণ বন্ধ করার উদ্যোগ নেওয়া হয়নি, তা তদন্ত করে দেখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

    এর পাশাপাশি, বেআইনি নির্মাণের সঙ্গে কলকাতা পুরসভার কোনও আধিকারিকের প্রত্যক্ষ যোগসাজশ ছিল কি না, সেটিও খতিয়ে দেখবে সিবিআই। অর্থাৎ শুধু নির্মাণকারী বা রিয়েল এস্টেট ব্যবসায়ীদের ভূমিকা নয়, সরকারি স্তরে কোনও সহযোগিতা বা মদত ছিল কি না, তদন্তে সেই প্রশ্নও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।

    টাস্ক ফোর্সের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন

    বেআইনি নির্মাণ বন্ধ করতে রাজ্য সরকারের তরফে আগে একটি ‘টাস্ক ফোর্স’ গঠনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল। কিন্তু সেই টাস্ক ফোর্স বাস্তবে কতটা কাজ করেছে, তা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছে হাই কোর্ট।

    প্রধান বিচারপতির বেঞ্চ জানতে চায়, বেআইনি নির্মাণ রুখতে টাস্ক ফোর্স গঠনের নির্দেশ দেওয়ার পর এখনও পর্যন্ত কী কী পদক্ষেপ করা হয়েছে। শুধু কমিটি বা টাস্ক ফোর্স গঠন করলেই দায়িত্ব শেষ হয়ে যায় না—মাঠে তার কার্যকরী ভূমিকা কতটা ছিল, সেই প্রশ্নও শুনানিতে উঠে আসে।

    অনুমতি না মেলায় তদন্ত করতে পারেনি সিবিআই

    শুনানির সময় সিবিআইয়ের তরফেও তাদের অবস্থান আদালতকে জানানো হয়। কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থার বক্তব্য, মামলাকারীর তরফে আগেই সিবিআইকে সরাসরি চিঠি দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু তৎকালীন রাজ্য সরকারের তরফে তদন্তের প্রয়োজনীয় অনুমতি না মেলায় তারা সেই সময় কোনও পদক্ষেপ করতে পারেনি।

    তবে বর্তমান মামলার প্রেক্ষিতে হাই কোর্ট স্পষ্ট করে দিয়েছে, অভিযোগের সঙ্গে যদি বিপুল অঙ্কের অর্থ লেনদেন এবং সংগঠিত অপরাধের যোগ থাকে, তাহলে আদালতের নির্দেশে কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা তদন্তে নামতে পারে। সেই অনুযায়ী সিবিআইকে প্রাথমিক তদন্তের জন্য পূর্ণ আইনি এক্তিয়ার দেওয়া হয়েছে।

    ১৪ অক্টোবরের মধ্যে রিপোর্ট

    এখন সিবিআইয়ের প্রাথমিক তদন্তের দিকেই নজর। আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী, আগামী ১৪ অক্টোবরের মধ্যে প্রাথমিক তদন্ত রিপোর্ট জমা দিতে হবে কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থাকে। বেআইনি বহুতল নির্মাণ, তার সঙ্গে যুক্ত আর্থিক লেনদেন, কালো টাকা সাদা করার অভিযোগ এবং কলকাতা পুরসভার কোনও আধিকারিকের ভূমিকা—সবকটি বিষয়ই তদন্তের গুরুত্বপূর্ণ অংশ হতে চলেছে। ফলে কলকাতার বেআইনি নির্মাণ নিয়ে এই মামলায় আগামী দিনে আরও একাধিক চাঞ্চল্যকর তথ্য সামনে আসতে পারে বলেই মনে করা হচ্ছে।

  • Calcutta High Court: ওবিসি সংরক্ষণে কলকাতা হাইকোর্টের বড় নির্দেশ, বাতিল তৃণমূল জমানার ‘এ’, ‘বি’ শ্রেণির শংসাপত্র

    Calcutta High Court: ওবিসি সংরক্ষণে কলকাতা হাইকোর্টের বড় নির্দেশ, বাতিল তৃণমূল জমানার ‘এ’, ‘বি’ শ্রেণির শংসাপত্র

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন তৃণমূল সরকারের আমলে পশ্চিমবঙ্গে চালু হওয়া অন্যান্য অনগ্রসর শ্রেণির (OBC) সংরক্ষণ ব্যবস্থায় বড় ধাক্কা কলকাতা হাইকোর্টে (Calcutta High Court)। ২০১০ সালের পর জারি হওয়া অন্যান্য অনগ্রসর শ্রেণির ‘এ’ এবং ‘বি’ শ্রেণির শংসাপত্র বাতিলের নির্দেশ দিয়েছে আদালত। এর ফলে ওই শংসাপত্রের ভিত্তিতে সংরক্ষণের সুবিধা নেওয়ার ক্ষেত্রে নতুন করে তৈরি হল অনিশ্চয়তা। বুধবার কলকাতা হাইকোর্টের বিচারপতি রাজাশেখর মান্থা এবং বিচারপতি অনুজ সিংয়ের ডিভিশন বেঞ্চ এই নির্দেশ দেয়। আদালতের নির্দেশের ফলে ২০১০ সালের পর জারি হওয়া সংশ্লিষ্ট শংসাপত্রগুলির বৈধতা নিয়ে বড়সড় প্রশ্ন উঠেছে। এর আগে ২০২৪ সালের রায়েও হাইকোর্ট ২০১০ সালের পর তৈরি হওয়া অন্যান্য অনগ্রসর শ্রেণির শংসাপত্র নিয়ে প্রশ্ন তুলেছিল এবং সেই সময়ের রায়ের বিরুদ্ধে রাজ্য সরকার সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হয়। সুপ্রিম কোর্ট হাইকোর্টের মূল নির্দেশে হস্তক্ষেপ করেনি।

    সংরক্ষণ নিয়ে সমস্যায় চাকরিপ্রার্থী ও পড়ুয়ারা (Calcutta High Court)

    এই নির্দেশের সরাসরি প্রভাব পড়তে পারে চাকরিপ্রার্থী এবং পড়ুয়াদের উপর। বিশেষ করে যাঁরা অন্যান্য অনগ্রসর শ্রেণির ‘এ’ বা ‘বি’ শ্রেণির শংসাপত্রের ভিত্তিতে চাকরি, নিয়োগ পরীক্ষা কিংবা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ভর্তির ক্ষেত্রে সংরক্ষণের সুবিধা নেওয়ার পরিকল্পনা করেছিলেন, তাঁদের সামনে নতুন করে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। তবে আগের রায়ে আদালত স্পষ্ট করেছিল, ইতিমধ্যে চাকরি পেয়ে গিয়েছেন বা চাকরিতে যোগদানের প্রক্রিয়ায় রয়েছেন, তাঁদের ক্ষেত্রে ওই নির্দেশের প্রভাব পড়বে না।

    ২০১০ সালের পর থেকেই বিতর্ক

    ২০১০ সালের পর পশ্চিমবঙ্গে অন্যান্য অনগ্রসর শ্রেণির তালিকাকে মূলত ‘এ’ এবং ‘বি’—এই দুই শ্রেণিতে ভাগ করা হয়। পরবর্তী সময়ে সেই তালিকা তৈরি এবং তার আইনি বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন ওঠে। ২০২৪ সালের ২২ মে কলকাতা হাইকোর্টের ডিভিশন বেঞ্চ ২০১০ সালের পর তৈরি হওয়া প্রায় ১২ লক্ষ অন্যান্য অনগ্রসর শ্রেণির শংসাপত্র বাতিলের নির্দেশ দিয়েছিল। আদালতের পর্যবেক্ষণ ছিল, ওই শংসাপত্রগুলি যথাযথ আইনি পদ্ধতি অনুসরণ করে তৈরি করা হয়নি। ওই রায়কে চ্যালেঞ্জ করে রাজ্য সরকার সুপ্রিম কোর্টে যায়। কিন্তু শীর্ষ আদালত কলকাতা হাইকোর্টের রায়ে হস্তক্ষেপ করেনি। ফলে রাজ্যের অন্যান্য অনগ্রসর শ্রেণির সংরক্ষণ ব্যবস্থা নিয়ে আইনি জট আরও জটিল হয়ে ওঠে (Calcutta High Court)।

    নতুন তালিকা নিয়েও প্রশ্ন

    এর পর রাজ্য সরকার নতুন করে সমীক্ষা চালিয়ে অন্যান্য অনগ্রসর শ্রেণির তালিকায় পরিবর্তন আনে। ‘এ’ এবং ‘বি’ শ্রেণির তালিকায়ও রদবদল করা হয়। কিন্তু নতুন তালিকা তৈরির পদ্ধতি নিয়েও কলকাতা হাইকোর্টে প্রশ্ন ওঠে। অভিযোগ ছিল, সীমিত সংখ্যক মানুষের নমুনার ভিত্তিতে সমীক্ষা চালিয়ে বহু জনগোষ্ঠীকে অন্যান্য অনগ্রসর শ্রেণির তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। নতুন তালিকা নিয়েও আদালতে মামলা হয় এবং বিষয়টি ফের সুপ্রিম কোর্ট পর্যন্ত গড়ায়।

    বদলাতে চলেছে সংরক্ষণ কাঠামো

    সাম্প্রতিক নির্দেশের ফলে পশ্চিমবঙ্গে অন্যান্য অনগ্রসর শ্রেণির সংরক্ষণ কাঠামোয় বড় ধরনের পরিবর্তনের সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। ‘এ’ এবং ‘বি’—এই দুই শ্রেণির ভিত্তিতে যে ব্যবস্থা এত দিন চলছিল, আদালতের নির্দেশে তার আইনি ভিত্তি নতুন করে (OBC) প্রশ্নের মুখে পড়ল। ফলে আগামী দিনে রাজ্য সরকার কীভাবে নতুন সংরক্ষণ ব্যবস্থা কার্যকর করে এবং বর্তমানে সংরক্ষণের আওতায় থাকা চাকরিপ্রার্থী ও পড়ুয়াদের ক্ষেত্রে কী ব্যবস্থা নেওয়া হয়, সেটাই দেখার (Calcutta High Court)।

     

  • Abhishek Banerjee: অভিষেককে হাই কোর্টের কড়া হুঁশিয়ারি! ১৫ জুলাই কণ্ঠস্বরের নমুনা না দিলে উঠতে পারে রক্ষাকবচ

    Abhishek Banerjee: অভিষেককে হাই কোর্টের কড়া হুঁশিয়ারি! ১৫ জুলাই কণ্ঠস্বরের নমুনা না দিলে উঠতে পারে রক্ষাকবচ

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: আদালতের নির্দেশ সত্ত্বেও বারবার কণ্ঠস্বরের নমুনা না দেওয়ায় তৃণমূল কংগ্রেসের সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে কড়া ভর্ৎসনা করল কলকাতা হাই কোর্ট। বিচারপতি স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, তদন্তে সহযোগিতা না করলে তাঁর জন্য দেওয়া আদালতের রক্ষাকবচ প্রত্যাহার করা হতে পারে। সেক্ষেত্রে সিআইডি চাইলে আইন অনুযায়ী তাঁর বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ বা গ্রেফতারির ক্ষেত্রেও আর কোনও আইনি বাধা থাকবে না। শুক্রবার মামলার শুনানিতে বিচারপতি সৌগত ভট্টাচার্যের বেঞ্চ অভিষেকের আইনজীবীর বক্তব্যে সন্তুষ্ট হয়নি। শেষ পর্যন্ত আদালতের নির্দেশ মেনে আগামী ১৫ জুলাই দুপুর ১২টায় ম্যাজিস্ট্রেটের সামনে উপস্থিত হয়ে কণ্ঠস্বরের নমুনা দিতে সম্মত হন অভিষেক।

    তদন্তে সহযোগিতা না করলে রক্ষাকবচ থাকবে না

    শুনানির সময় বিচারপতি স্পষ্ট ভাষায় বলেন, “কখন কণ্ঠস্বরের নমুনা দেবেন? সব কিছুর একটা সীমা থাকা উচিত। তদন্তে সহযোগিতা না করলে আমি রক্ষাকবচ প্রত্যাহার করব। পুলিশের নোটিসে সাড়া দিয়ে তদন্তে সহযোগিতা করুন। না হলে মামলা খারিজ করে জরিমানা করব।” পরে অভিষেকের আইনজীবীর উদ্দেশে বিচারপতির আরও মন্তব্য, “রক্ষাকবচের নির্দেশ প্রত্যাহার করব? হ্যাঁ কি না, উত্তর দিন। না হলে কণ্ঠস্বরের নমুনা দিয়ে আসুন।”

    কেন কণ্ঠস্বরের নমুনা চাইছে সিআইডি?

    নির্বাচনী প্রচারের সময় ডিজে-সংক্রান্ত একটি মন্তব্যকে কেন্দ্র করে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের হয়েছে। সেই মামলার তদন্ত করছে সিআইডি। তদন্তের স্বার্থে অভিষেকের কণ্ঠস্বরের নমুনা সংগ্রহ করতে চেয়েছে তদন্তকারী সংস্থা। আগেই আদালত জানিয়েছিল, তদন্তে পূর্ণ সহযোগিতা করতে হবে অভিষেককে। সেই সঙ্গে নির্দেশ ছিল, তদন্ত চলাকালীন তাঁর বিরুদ্ধে কোনও কঠোর পদক্ষেপ করা যাবে না। তবে অভিষেকের দাবি ছিল, সংশ্লিষ্ট বক্তব্য তাঁরই— তা তিনি অস্বীকার করছেন না। তাই আলাদা করে কণ্ঠস্বরের নমুনা সংগ্রহের প্রয়োজন নেই।

    দ্বিতীয়বারও হাজিরা এড়িয়ে যান

    গত বুধবার বিধাননগর আদালতে কণ্ঠস্বরের নমুনা দেওয়ার জন্য হাজির হওয়ার নির্দেশ ছিল অভিষেকের। কিন্তু তিনি দ্বিতীয়বারের মতো সেই হাজিরা এড়িয়ে যান। সিআইডি আধিকারিকেরা প্রায় দু’ঘণ্টা অপেক্ষা করলেও তিনি উপস্থিত হননি। এরপর তাঁকে আগামী ১৮ জুলাই ফের হাজির হওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়। এই পরিস্থিতিতেই শুক্রবার হাইকোর্টে মামলার শুনানি হয় এবং আদালত তদন্তে দেরি নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে।

    আইনজীবীর সওয়াল কী?

    শুনানিতে অভিষেকের আইনজীবী অয়ন ভট্টাচার্য আদালতে বলেন, “আমার মক্কেল স্বীকার করছেন সেটি তাঁর কণ্ঠস্বর। গত ২৩ জুন কণ্ঠস্বর নমুনা সংগ্রহের নির্দেশ দেওয়া হয়। আমার মক্কেল মন্তব্যের দায়বদ্ধতা স্বীকার করছেন। আমি একবারও দাবি করিনি কণ্ঠস্বরের নমুনা সংগ্রহের নির্দেশে রক্ষাকবচ রয়েছে। এই নির্দেশ নিয়ে আমার দু’টি বক্তব্য রয়েছে। এক, নির্দেশ দেওয়ার সময় আমার মক্কেলের বক্তব্য শোনা হয়নি। দুই, ওই নির্দেশ জারির সিদ্ধান্তকে চ্যালেঞ্জ করা হয়েছে।” পরবর্তীতে তিনি আদালতের কাছে স্বীকার করেন যে, আদালতের আগের নির্দেশ ব্যাখ্যা করতে তাঁর ভুল হয়েছিল। একই সঙ্গে মামলাটি প্রত্যাহারের অনুমতিও চান।

    বিচারপতির পর্যবেক্ষণ

    বিচারপতি জানান, সংবিধানের ২২৬ ধারার অধীনে অভিষেককে যে রক্ষাকবচ দেওয়া হয়েছিল, তার অন্যতম শর্ত ছিল তদন্তে সম্পূর্ণ সহযোগিতা করা। তাই তদন্তকারী সংস্থা কণ্ঠস্বরের নমুনা চাইলে সেটিও সেই নির্দেশের আওতার মধ্যেই পড়ে। একই বিষয়ে একাধিক মামলা দায়ের করার বিষয়েও আদালত অসন্তোষ প্রকাশ করে। বিচারপতির মন্তব্য, “একই বিষয়ে এই আদালত একটি নির্দেশ জারি করেছে। রক্ষাকবচ পেয়েছেন। অন্য দিকে, একই বিষয়ে জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেটের নির্দেশকে চ্যালেঞ্জ করে নতুন মামলা করলেন। এটা কী ধরনের আচরণ? বিচার পদ্ধতির অপব্যবহার করছেন। আমার নির্দেশে স্পষ্ট বলা ছিল, তদন্তে সহযোগিতা করতে হবে। ফলে তদন্তকারী সংস্থা যদি কণ্ঠস্বরের নমুনা সংগ্রহ করতে চায়, সেটাও নির্দেশের মধ্যেই পড়ে।”

    অভিষেককে ভর্ৎসনা হাইকোর্টের

    রীতিমতো ভর্ৎসনা করে বিচারপতি বলেন, “আপনি ভয়েস দিন। ম্যাজিস্ট্রেট নির্দেশ দেওয়ার পরেও যাননি কেন? কোনও মামলাই শুনব না। সম্পূর্ণ প্রটেকশন দেওয়া হয়েছিল। আপনি মামলা তুলে নিন।” বিচারপতি উল্লেখ করেন, আগামী ৩১ জুলাই পর্যন্ত রক্ষাকবচ দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু নমুনা দিতে যেতে হবে না, এ কথা বলা হয়নি। আগামী ১৫ জুলাই দুপুর ১২টায় কণ্ঠস্বরের নমুনা দিতে যেতে হবে বলে নির্দেশ দিয়েছে কলকাতা হাইকোর্ট। শুনানির শেষে অভিষেকের আইনজীবী আদালতের কাছে আবেদন করেন, এই মামলার জন্য নেওয়া কণ্ঠস্বরের নমুনা যেন অন্য কোনও মামলায় ব্যবহার করা না হয়। তবে এই বিষয়ে আদালত কোনও নির্দেশ বা মন্তব্য করেনি।

    ডিম ছোড়ার আশঙ্কা, রাজ্যকে নির্দেশ

    এর পর ১৫ জুলাই কণ্ঠস্বরের নমুনা দিতে যাওয়ার সময় নিরাপত্তা নিয়েও আদালতে প্রশ্ন তোলেন অভিষেকের আইনজীবী। তাঁর দাবি, ওই সময়ে কেউ যেন অভিষেককে লক্ষ্য করে ডিম না ছোড়ে, তার নিশ্চয়তা দেওয়া হোক। এ বিষয়ে বিচারপতি রাজ্য সরকারকে নির্দেশ দিয়ে বলেন, “ডিম ছোড়ার ঘটনা বন্ধ হওয়া উচিত। জনতাকে নিয়ন্ত্রণ করা উচিত যাতে এই ধরনের ঘটনা না ঘটে।” আদালত স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে, ১৫ জুলাই এমন কোনও অপ্রীতিকর ঘটনা যাতে না ঘটে, তা নিশ্চিত করার দায়িত্ব রাজ্যের।

  • Rashid Khan: বউবাজার বিস্ফোরণ মামলায় সাজাপ্রাপ্ত রশিদ খানের মুক্তিতে স্থগিতাদেশ সুপ্রিম কোর্টের

    Rashid Khan: বউবাজার বিস্ফোরণ মামলায় সাজাপ্রাপ্ত রশিদ খানের মুক্তিতে স্থগিতাদেশ সুপ্রিম কোর্টের

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ১৯৯৩ সালের কলকাতার বউবাজার বিস্ফোরণ (Bowbazar Blast) মামলায় যাবজ্জীবন কারাদণ্ডপ্রাপ্ত ৭৭ বছর বয়সি মহম্মদ রশিদ খানের (Rashid Khan) আগাম মুক্তির নির্দেশে স্থগিতাদেশ দিল সুপ্রিম কোর্ট। পশ্চিমবঙ্গ সরকারের আবেদনের ভিত্তিতে বিচারপতি পিকে মিশ্র এবং বিচারপতি সঞ্জীব সচদেবের ডিভিশন বেঞ্চ অন্তর্বর্তীকালীন এই নির্দেশ জারি করে দিয়েছে। গত ৫ জুন রশিদ খানের দীর্ঘ ৩৩ বছরেরও বেশি কারাবাস, জেলে তাঁর আচরণ এবং সংশোধনমূলক বিচারব্যবস্থার নীতিকে গুরুত্ব দিয়ে আগাম মুক্তির পক্ষে রায় দিয়েছিল দিল্লি হাইকোর্ট। সেই সিদ্ধান্তকে চ্যালেঞ্জ করে সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হয় পশ্চিমবঙ্গ সরকার।

    বউবাজার বিস্ফোরণ মামলা (Rashid Khan)

    মামলার শুনানিতে অতিরিক্ত সলিসিটর জেনারেল এসভি রাজু প্রশ্ন তোলেন, যে বিস্ফোরণে ৭০ জনেরও বেশি মানুষের মৃত্যু, শতাধিক মানুষ জখম এবং বহু ভবন ধ্বংস হয়েছিল, সেই মামলায় কীভাবে শুধুমাত্র সংশোধনমূলক তত্ত্বের ভিত্তিতে মুক্তির নির্দেশ দেওয়া যায়? তিনি জানান, রাজ্যের স্টেট সেনটেন্স রিভিউ বোর্ড (SSRB) রশিদ খানের মুক্তির বিরুদ্ধেই মত দিয়েছিল। রশিদের পক্ষে প্রবীণ আইনজীবী এমআর শামশাদ জানান, তাঁর মক্কেল দীর্ঘদিন ধরে কারাবন্দি এবং সহ-অভিযুক্ত পন্নালাল জয়সওয়ারা ২০১৪ সালেই রেমিশন পেয়েছিলেন। এর পাশাপাশি তিনি আদালতের নজরে আনেন রশিদের বার্ধক্য ও শারীরিক অসুস্থতার বিষয়টিও (Rashid Khan)।

    রশিদ খানই মাস্টারমাইন্ড

    সুপ্রিম কোর্টের পর্যবেক্ষণ, রশিদ খান ওই ঘটনার মাস্টারমাইন্ড ছিলেন। আদালত আরও জানিয়েছে, তাঁকে যদি মামলার চূড়ান্ত নিষ্পত্তির আগে মুক্তি দেওয়া হয়, তাহলে পরবর্তী শুনানি অর্থহীন হয়ে পড়তে পারে। প্রসঙ্গত, ২০০১ সালে বিশেষ টাডা আদালত রশিদ খান-সহ পাঁচজনকে দোষী সাব্যস্ত করে। ভারতীয় দণ্ডবিধি (IPC), অস্ত্র আইন এবং টাডা আইনের অধীনে তাঁকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেওয়া হয় (Bowbazar Blast)। পরবর্তীকালে কলকাতা হাইকোর্ট এবং সুপ্রিম কোর্ট উভয় আদালতই বহাল রাখে সেই সাজা (Rashid Khan)।

     

  • Trinamool Crisis: অমিত সকাশে তৃণমূলের সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়, বুয়া-সঙ্গ ছাড়লেন মানস ভুঁইয়া, কোন দিকে গড়াচ্ছে বঙ্গ রাজনীতির জল?

    Trinamool Crisis: অমিত সকাশে তৃণমূলের সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়, বুয়া-সঙ্গ ছাড়লেন মানস ভুঁইয়া, কোন দিকে গড়াচ্ছে বঙ্গ রাজনীতির জল?

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: নয়াদিল্লিতে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের (Amit Shah) সঙ্গে বৈঠক করলেন তৃণমূল কংগ্রেসের (Trinamool Crisis) বর্ষীয়ান সাংসদ সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়। বাংলার শাসক এবং শাসিত দুই দলের এই দুই প্রতিনিধির এই বৈঠক ঘিরে তোলপাড় রাজ্য রাজনীতি। শনিবার এই বৈঠকের আগে কেন্দ্রীয় মন্ত্রী ভূপেন্দ্র যাদবের সঙ্গেও সাক্ষাৎ করেন সুদীপ। সেই বৈঠকে তাঁর সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন বিদ্রোহী তৃণমূল সাংসদ শতাব্দী রায়।

    তৃণমূলে ফের ‘রামধাক্কা’ (Trinamool Crisis)

    সুদীপের এই বৈঠকের কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই তৃণমূলে লাগে আরও এক ‘রামধাক্কা’। তৃণমূলের প্রবীণ নেতা তথা প্রাক্তন মন্ত্রী মানস ভুঁইয়া দল ছাড়েন। বছর চুয়াত্তরের মানস জানান, বর্তমানে দলে যে সঙ্কট চলছে, তাতে তিনি অসন্তুষ্ট। তাই দল ছেড়েছেন তিনি। তবে ভবিষ্যতে কোন রাজনৈতিক পথে বাঁক নেবেন তিনি, তা স্পষ্ট করেননি পোড়খাওয়া এই রাজনীতিক। এদিকে, সোমবার লোকসভার স্পিকার ওম বিড়লার সঙ্গে বৈঠকে বসতে চলেছেন তৃণমূলের ২০ জন বিদ্রোহী সাংসদ। সেখানে তাঁরা পৃথক সংসদীয় গোষ্ঠীর স্বীকৃতি এবং আলাদা আসন বিন্যাসের দাবি জানাবেন বলে খবর।

    বিদ্রোহ চারিদিকে

    বিদ্রোহী শিবিরের সাংসদ জগদীশ চন্দ্র বর্মা বসুনিয়ার দাবি, তৃণমূলের ২৮ জন লোকসভা সাংসদের মধ্যে ইতিমধ্যেই ১৯ জন তাঁদের পাশে রয়েছেন। সুদীপ তাঁদের সঙ্গে যোগ দিলে সংখ্যাটা বেড়ে হবে ২০। বিদ্রোহী শিবিরের নেত্রী কাকলি ঘোষ দস্তিদার জানিয়েছেন, পৃথক গোষ্ঠী হিসেবে স্বীকৃতি পেলে তাঁরা সংসদে বিজেপি নেতৃত্বাধীন এনডিএ সরকারকে সমর্থন করবেন। এহেন পরিস্থিতিতে তৃণমূল নেতা কুণাল ঘোষ সুদীপের তীব্র সমালোচনা করেছেন। তাঁর অভিযোগ, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সুদীপকে সম্মান ও গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব দিলেও, তিনি সেই বিশ্বাসের মর্যাদা রাখেননি। কুণালের দাবি, ক্ষমতা ও পদলাভের লোভ থেকেই সুদীপ দলীয় নেতাদের দূরে সরিয়ে দিয়েছেন। তাই বহু গুরুত্বপূর্ণ নেতা দল ছাড়তে বাধ্য হয়েছেন।

    কুণালের নিশানায়

    তিনি আরও (Trinamool Crisis) দাবি করেন, সম্প্রতি মমতার বাসভবনে সিআইডি অভিযানের সময় সুদীপ তাঁকে ফোন করে তাঁর অবস্থান জানতে চেয়েছিলেন এবং জানিয়েছিলেন যে তাঁর স্ত্রী নয়না সেখানে আসবেন। কিন্তু শেষ পর্যন্ত সুদীপ আসেননি। কুণাল বলেন, “দিদির বাড়িতে না গিয়ে সুদীপদা এখন বিজেপির দরজায় পৌঁছে গিয়েছেন (Amit Shah)।” সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়কে “বিশ্বাসঘাতক” বলেও আক্রমণ করেন কুণাল। তাঁর অভিযোগ, তিনি শুধু দলের নেতৃত্বকেই নয়, ২০২৪ সালের লোকসভা নির্বাচনে যাঁরা তাঁর হয়ে কাজ করেছেন এবং তাঁকে ভোট দিয়েছেন, তাঁদের সঙ্গেও বিশ্বাসঘাতকতা করেছেন। তৃণমূলের বর্ষীয়ান সাংসদ সৌগত রায় জানান, কয়েকদিন আগেও সুদীপ দল ছাড়ছেন না বলে আশ্বস্ত করেছিলেন তাঁকে। পরে ভূপেন্দ্র যাদবের সঙ্গে সুদীপকে বৈঠক করতে দেখে তিনি অত্যন্ত মর্মাহত বলে জানান সৌগত।

    ডামাডোলের বাজারে সংগঠন সাজাচ্ছেন মমতা!  

    এদিকে, দলের এই ডামাডোলের বাজারের মধ্যেই সাংগঠনিক স্তরে একাধিক পরিবর্তনের কথা ঘোষণা করেছে তৃণমূল। সায়নী ঘোষের পরিবর্তে অর্ণব বন্দ্যোপাধ্যায়কে যুব সভাপতির দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে (Trinamool Crisis)। মহিলা সংগঠনের নতুন সভানেত্রী হয়েছেন আলিফা আহমেদ। উত্তর কলকাতা সাংগঠনিক জেলার সভাপতি পদ থেকে সুদীপকে সরিয়ে সেখানকার দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে কুণালকে। সংখ্যালঘু সেলের সভাপতি হয়েছেন মুসারফ হোসেন। এরই মধ্যে রাজ্য বিধানসভায়ও সামনে চলে এল তৃণমূলে বড় ভাঙনের ছবি। দলের ৮০ জন বিধায়কের মধ্যে ৬৪ জন আলাদা গোষ্ঠী গঠন করে স্পিকারের স্বীকৃতি পেয়েছেন। সেই গোষ্ঠীর নেতা হিসেবে ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়কে বিরোধী দলনেতা ঘোষণা করা হয়েছে। যদিও এই স্বীকৃতিকে চ্যালেঞ্জ করে কলকাতা হাইকোর্টে মামলা দায়ের করেছে মমতার নেতৃত্বাধীন তৃণমূল শিবির (Trinamool Crisis)।

    কোথাকার জল কতদূর গড়ায়, এখন সেটাই দেখার (Amit Shah)।

     

  • Suvendu Adhikari: রাত পোহালেই সম্প্রসারণ নয়া মন্ত্রিসভার, জানালেন মুখ্যমন্ত্রী

    Suvendu Adhikari: রাত পোহালেই সম্প্রসারণ নয়া মন্ত্রিসভার, জানালেন মুখ্যমন্ত্রী

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: শেষমেশ সম্প্রসারণ হচ্ছে রাজ্যের প্রথম বিজেপি মন্ত্রিসভার।  সোমবার শপথ নেবেন ৩৫ জন মন্ত্রী (35 Ministers)। রবিবারই এ কথা জানান রাজ্যের নয়া মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari)।

    মুখ্যমন্ত্রীর পোস্ট (Suvendu Adhikari)

    এক্স হ্যান্ডেলে করা পোস্টে মুখ্যমন্ত্রী জানান, রাজ্যপাল আরএন রবি (R. N. Ravi) আগামিকাল (সোমবার) সকাল ১১টায় নবান্নে নতুন মন্ত্রীদের শপথবাক্য পাঠ করাবেন। তিনি বলেন, “আগামিকাল পশ্চিমবঙ্গের জনগণের রায়ে নির্বাচিত জাতীয়তাবাদী সরকারের একটি পূর্ণাঙ্গ মন্ত্রিসভা গঠিত হবে। মন্ত্রিসভার সম্প্রসারণের উদ্দেশ্যে পশ্চিমবঙ্গ সরকারের ৩৫ জন মন্ত্রী আগামিকাল সকাল ১১টায় নবান্নে শপথ নেবেন। মাননীয় রাজ্যপাল শ্রী আরএন রবি তাঁদের শপথবাক্য পাঠ করাবেন।” জানা গিয়েছে, বিজেপির কয়েকজন প্রবীণ নেতা রাজ্য প্রশাসনের গুরুত্বপূর্ণ দফতরের দায়িত্ব পেতে চলেছেন। ১৮ মে পশ্চিমবঙ্গ মন্ত্রিসভা প্রাতিষ্ঠানিক দুর্নীতি এবং নারীদের ওপর অত্যাচারের ঘটনা তদন্ত ও মোকাবিলা করার জন্য দু’টি কমিশন গঠনের অনুমোদন দিয়েছে। একথাও জানান রাজ্যের পালাবদলের মুখ্যমন্ত্রী। দু’টি কমিশনেরই প্রধান হবেন কলকাতা হাইকোর্টের অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতিরা। কমিশনগুলি আনুষ্ঠানিকভাবে কাজ শুরু করবে ১ জুন থেকে।

    প্রাতিষ্ঠানিক দুর্নীতি কমিশন

    মন্ত্রিসভার সিদ্ধান্ত সম্পর্কে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “মন্ত্রিসভা প্রাতিষ্ঠানিক দুর্নীতির বিরুদ্ধে (Suvendu Adhikari) একটি কমিশন গঠনের অনুমোদন দিয়েছে, যার প্রধান হবেন কলকাতা হাইকোর্টের অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি বিশ্বজিত বসু। নারীদের ওপর অত্যাচারের ঘটনা নিয়ে তদন্তের জন্য একটি কমিশন গঠনের অনুমোদনও দেওয়া হয়েছে, যার প্রধান হবেন অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি সমাপ্তি চ্যাটার্জি।” মুখ্যমন্ত্রী জানান, রাজ্য সরকার স্বচ্ছতা বজায় রাখা এবং নাগরিকদের অধিকার রক্ষার বিষয়ে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ (35 Ministers)। তিনি বলেন, “উভয় কমিশনই ১ জুন থেকে কাজ শুরু করবে (Suvendu Adhikari)।”

     

LinkedIn
Share