Tag: Calcutta High court

Calcutta High court

  • Supreme Court: রাজ্যের মুখ্যসচিবকে কড়া ভাষায় ভর্ৎসনা সুপ্রিম কোর্টের, হাইকোর্টে গিয়ে ক্ষমা চাওয়ার নির্দেশ

    Supreme Court: রাজ্যের মুখ্যসচিবকে কড়া ভাষায় ভর্ৎসনা সুপ্রিম কোর্টের, হাইকোর্টে গিয়ে ক্ষমা চাওয়ার নির্দেশ

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: রাজ্যের মুখ্যসচিব (Chief Secretary) দুষ্যন্ত নারিয়ালাকে কড়া ভাষায় ভর্ৎসনা করল সুপ্রিম কোর্ট (Supreme Court)। শুধু তা-ই নয়, ওইদিনের ঘটনার জন্য ক্ষমা চাওয়ার নির্দেশও দেওয়া হয়েছে তাঁকে। মালদার কালিয়াচকের ঘটনার দিন মুখ্যসচিবের সঙ্গে যোগাযোগ করা যায়নি বলে অভিযোগ উঠেছিল। সেই অভিযোগের জল গড়ায় দেশের শীর্ষ আদালত পর্যন্ত। শেষমেশ সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ মেনে, সোমবার ভার্চুয়াল শুনানিতে উপস্থিত ছিলেন রাজ্যের মুখ্যসচিব। সেখানেই তীব্র ভর্ৎসনার শিকার হন নারিয়ালা। প্রসঙ্গত, ভোটের ঢাকে কাঠি পড়ার দিন রাতেই রাজ্যের মুখ্যসচিব পদ থেকে সরানো হয় নন্দিনী চক্রবর্তীকে। তাঁর বদলে নয়া মুখ্যসচিব হন নারিয়ালা।

    রিপোর্ট পেশ এনআইএর (Supreme Court)

    গত বুধবার কালিয়াচকের ঘটনায় এদিন সুপ্রিম কোর্টে রিপোর্ট পেশ করে জাতীয় তদন্তকারী সংস্থা, এনআইএ। এনআইএর টিম যে তদন্ত করেছে, তার ওপর ভিত্তি করেই রিপোর্ট জমা করা হয়েছে। মুখবন্ধ খামে সেই রিপোর্ট জমাও পড়েছে শীর্ষ আদালতে। সেখানে স্থানীয় পুলিশের বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগ উঠেছে বলেও খবর। সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ, যদি আরও অন্য কোনও ব্যক্তির যোগ থাকার প্রমাণ মেলে, অথবা অন্য কোনও দিক উন্মোচিত হয়, তাহলে এনআইএ প্রয়োজনে আরও এফআইআর দায়ের করতে পারে। কলকাতায় এনআইএ আদালতে তদন্তের বিষয় জানানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। আর তদন্তের স্টেটাস রিপোর্ট জমা দিতে হবে শীর্ষ আদালতে।

    এনআইএকে হস্তান্তর করার নির্দেশ

    সুপ্রিম কোর্টের তরফে স্থানীয় পুলিশকে তদন্তের যাবতীয় কাগজ এবং এফআইআর অবিলম্বে এনআইএকে হস্তান্তর করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। স্থানীয় পুলিশকে সবরকম সাহায্য করতেও বলা হয়েছে। জুডিশিয়াল অফিসারদের নিরাপত্তার বিষয়ে আলাদা হলফনামা জমা দিয়েছে খোদ নির্বাচন কমিশন কমিশন (Chief Secretary)। এদিকে, রাজ্যের মুখ্যসচিব ও রাজ্য পুলিশের ডিজির কাছে দেওয়া হয়েছে কমপ্লায়েন্স রিপোর্ট। এদিন মুখ্যসচিবকে জিজ্ঞেস করা হয়, ‘কেন প্রধান বিচারপতির ফোন ধরেননি?’ মুখ্যসচিব জানান, তিনি দিল্লিতে কাজে গিয়েছিলেন। দুপুরে বিমানে ছিলেন তিনি। তাঁর ফোনে কোনও কল যায়নি (Supreme Court)। এরপর প্রধান বিচারপতি ফের বলেন, “আপনি মোবাইল নম্বর কেন শেয়ার করেননি? আপনার কাছে রাতে ফোন এসেছে, যখন আপনি প্লেন থেকে নেমে গিয়েছেন। আপনাকে ফোনে পাওয়া যায়নি।”

    হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতির কাছে ক্ষমা চাওয়ার নির্দেশ

    রাজ্যের মুখ্যসচিবকে প্রধান বিচারপতি বলেন, “আপনাকে কলকাতা হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতির কাছে ক্ষমা চাইতে হবে।হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতি আপনার সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারছেন না।” এই সময় বিচারপতি জয়মাল্য বাগচী মুখ্যসচিবকে ভর্ৎসনা করে বলেন, “নিষ্ক্রিয়তারও একটা লিমিট থাকা উচিত।” সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতি বলেন, “শুধুমাত্র এই ক্ষেত্রে নয়, অন্যান্য জায়গায়ও তাঁদের যেভাবে প্যাম্পার করা হচ্ছে তাতে সবকিছু ঠিকঠাক নেই। এই ঘটনা আপনি এবং আপনার প্রশাসনের সম্পূর্ণ ব্যর্থতার প্রতিফলন। আপনার নিষ্ক্রিয়তার কারণেই নির্বাচন কমিশনকে ওই অবস্থায় পড়তে হয়েছে। আপনারা নির্বাচন কমিশনের সঙ্গে যোগাযোগ করেন না। কমিশনকে এই ধরনের জরুরি পরিস্থিতিতে আপনাদের নির্দেশ দেওয়ার দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। এই যোগাযোগের ঘাটতিই রাজ্যে এত সমস্যা ও অশান্তির সৃষ্টি করেছে। এটা আপনাদের কী ধরনের ক্রেডিবিলিটি (Chief Secretary)?”

    ‘নিজেকে একটু নীচে নামিয়ে আনুন’

    আইনজীবী লুথরা বলার চেষ্টা করেন যে ওই দিন নির্বাচন কমিশনের সঙ্গেই একটি বৈঠকে ছিলেন। জবাবে প্রধান বিচারপতি বলেন, “দয়া করে এদের ডিফেন্ড করবেন না। এই ধরনের অত্যন্ত একগুঁয়ে আমলাতান্ত্রিক মনোভাব আমরা অন্যান্য রাজ্যেও দেখছি (Supreme Court)।” প্রধান বিচারপতি মুখ্যসচিবকে বলেন, “আপনার পদমর্যাদা এতটাই বেশি যে হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতির মতো ছোট মানুষরা আপনার সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারেন না। দয়া করে নিজেকে একটু নীচে নামিয়ে আনুন, যাতে প্রধান বিচারপতির মতো সাধারণ নগণ্য মানুষরা অন্তত আপনার সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারে।”

    এদিন শুনানি হয়েছে ভার্চুয়ালি। সেই সময় আধিকারিকদের উদ্দেশে সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতি বলেন, “মুখ্যসচিব এবং অন্য আধিকারিকরা অনলাইনে উপস্থিত রয়েছেন। আমরা আশা করি, অফিসাররা এখন তাঁদের দায়িত্ব ভালোভাবে বুঝে গিয়েছেন। যে পরিস্থিতিতে তাঁদের সাড়া দেওয়া এবং হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতিকে সাহায্য করা প্রত্যাশিত ছিল, তা তাঁরা করেননি।” আদালতের তরফে এনআইএকে (Chief Secretary) পরবর্তী রিপোর্ট জমা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে ১৩ এপ্রিল (Supreme Court) ।

     

  • Calcutta High Court: সুপ্রিম কোর্টে ফের একবার মুখ পুড়ল তৃণমূলের, ঘাসফুল শিবিরের আবেদন খারিজ

    Calcutta High Court: সুপ্রিম কোর্টে ফের একবার মুখ পুড়ল তৃণমূলের, ঘাসফুল শিবিরের আবেদন খারিজ

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: দুয়ারে রাজ্য বিধানসভা নির্বাচন। তার আগে প্রশাসনিক রদবদলকে কেন্দ্র করে তৃণমূলের (TMC) তরফে যে মামলা দায়ের করা হয়েছিল, সেটি খারিজ করে দিল কলকাতা হাইকোর্ট (Calcutta High Court)। প্রধান বিচারপতির ডিভিশন বেঞ্চের সাফ কথা, নির্বাচন কমিশনের সিদ্ধান্তে হস্তক্ষেপ করতে চায় না আদালত।

    আদালতের দ্বারস্থ হয়েছিল তৃণমূল (Calcutta High Court)

    মঙ্গলবার প্রধান বিচারপতি সুজয় পাল এবং বিচারপতি পার্থসারথি সেনের বেঞ্চে এই মামলার শুনানি হয়। তৃণমূলের তরফে আদালতে সওয়াল করেন আইনজীবী তথা তৃণমূল সাংসদ কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁর অভিযোগ ছিল, রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে মুখ্যসচিব, স্বরাষ্ট্রসচিব, বিডিও, ওসি, আইসি-সহ বহু প্রশাসনিক আধিকারিককে একযোগে বদলি করা হচ্ছে। এহেন পরিস্থিতিতে তৃণমূলের তরফে চাওয়া হয়েছিল আদালতের হস্তক্ষেপ।

    জনস্বার্থ মামলা দায়ের

    এই বিষয়ে জনস্বার্থ মামলা দায়ের করেছিলেন আইনজীবী অর্ককুমার নাগ। ২৩ মার্চ মামলাটি শুনানির জন্য ওঠে। মামলাকারীর হয়ে সওয়াল করেছিলেন কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়। কমিশনের এই পদক্ষেপের উদ্দেশ্য নিয়ে প্রশ্ন তোলার পাশাপাশি, তাদের এক্তিয়ার নিয়েও আপত্তি জানানো হয়। তবে শুনানির সময় নির্বাচন কমিশনের পক্ষ থেকে জানানো হয়, অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন নিশ্চিত করতেই এই রদবদল করা হয়েছে। নির্বাচনী আচরণবিধি কার্যকর হওয়ার পর প্রশাসনের নিরপেক্ষতা বজায় রাখতে এমন সিদ্ধান্ত নেওয়া স্বাভাবিক (Calcutta High Court)। আদালতও কমিশনের সেই যুক্তিতেই সায় দিয়ে জানিয়ে দেয়, নির্বাচন কমিশনের সিদ্ধান্তে তারা হস্তক্ষেপ করবে না। এরপর প্রত্যাশিতভাবেই তৃণমূলের আবেদন খারিজ হয়ে যায়।

    প্রশাসনের বিভিন্ন স্তরে বদলি

    প্রসঙ্গত, গত ১৫ মার্চ রাজ্যে বিধানসভা নির্বাচনের দিন ঘোষণা হওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই কার্যকর হয়ে গিয়েছে নির্বাচনী আচরণবিধি। তার পর থেকেই প্রশাসনের বিভিন্ন স্তরে বদলির প্রক্রিয়া শুরু হয়। মুখ্যসচিব, স্বরাষ্ট্রসচিব, ডিজিপি থেকে শুরু করে জেলাশাসক, পুলিশ সুপার, এমনকি ওসি এবং বিডিও পর্যায়েও ব্যাপক রদবদল করা হয়েছে (TMC)। এই রদবদলের উদ্দেশ্য নিয়েই প্রশ্ন তুলেছিল তৃণমূল। দ্বারস্থ হয়েছিল কলকাতা হাইকোর্টের। সেখানেই আরও একবার মুখ পুড়ল মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের দলের (Calcutta High Court)।

     

  • West Bengal Assembly Election: আধিকারিক বদলি মামলায় নিজেদের অবস্থানেই অনড় রইল নির্বাচন কমিশন

    West Bengal Assembly Election: আধিকারিক বদলি মামলায় নিজেদের অবস্থানেই অনড় রইল নির্বাচন কমিশন

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: আধিকারিক বদলি মামলায় নিজেদের অবস্থানেই অনড় রইল নির্বাচন কমিশন (West Bengal Assembly Election)। বুধবার কলকাতা হাইকোর্টে জাতীয় নির্বাচন কমিশনের আইনজীবী ডিএস নাইডু বলেন, ‘কমিশন যদি মনে করে যে কোনও আধিকারিক নির্বাচন প্রক্রিয়ায় যুক্ত থাকলে অবাধ ও সুষ্ঠুভাবে ভোট পরিচালনা করার ক্ষেত্রে অসুবিধা হতে পারে, তাহলে কমিশন সেই আধিকারিককে বদলি করতেই পারে। অথবা তাঁকে নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় অংশগ্রহণ করা থেকে বিরত রাখতে পারে (Calcutta High Court)।’

    নির্বাচনের নির্ঘণ্ট ঘোষণার পরে পরেই বদলি (West Bengal Assembly Election)

    রাজ্য বিধানসভার নির্বাচনের নির্ঘণ্ট ঘোষণার পরে পরেই বদলি করা হয় পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যসচিব, স্বরাষ্ট্রসচিব, ডিজি, পুলিশ কমিশনার-সহ রাজ্য প্রশাসনের একধিক আইএএস-আইপিএসকে। রাত ১২টায় চিঠি দিয়ে বদলির নির্দেশ দেওয়া হয়েছে মুখ্যসচিবকে। ভিন রাজ্যে ভোট-পর্যবেক্ষক করে পাঠানো হয়েছে একাধিক আধিকারিককে। কমিশনের এহেন সিদ্ধান্তের বিরোধিতা করে জনস্বার্থ মামলা দায়ের হয় কলকাতা হাইকোর্টে।

    ‘এই মামলা একটা ছদ্মবেশ’

    এদিন শুনানি চলাকালে নির্বাচন কমিশন জানায়, ‘এই মামলা একটা ছদ্মবেশ। কেউ অন্যের ঘাড়ে বন্দুক রেখে চালাচ্ছে।’ জনস্বর্থের ওই মামলায় আইনজীবী তথা তৃণমূলের লোকসভার সাংসদ কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, “আইনসভা যে আইন তৈরি করে তার বাইরে গিয়ে কাজ করতে পারে না নির্বাচন কমিশন (West Bengal Assembly Election)।” তাঁর প্রশ্ন, “যদি অস্বচ্ছ প্রক্রিয়ার মাধ্যমে, মর্জিমাফিক বদলি করা হয়, তাহলে নির্বাচন অবাধ ও সুষ্ঠু হবে কীভাবে?” কল্যাণ বলেন, “নির্বাচনের জন্য পর্যবেক্ষক সেই রাজ্য থেকেই নিতে হবে। অন্য রাজ্য থেকে নিতে হলে রাজ্যের সম্মতি লাগে। ২০২৬-এ আমাদের রাজ্যে কোনও নিয়মই মানছে না কমিশন।” তাঁর প্রশ্ন, “রাজ্য থেকে সব আমলা নিয়ে চলে গেলে, রাজ্যটা চলবে কীভাবে?” লোকসভা নির্বাচনের সময় কেন্দ্রীয় সরকারের সচিবদের বদলি করা হয় কিনা, এদিন তাও জানতে চান তৃণমূলের এই আইনজীবী নেতা। তিনি বলেন, “৬ মে পর্যন্ত দায়িত্বে থাকবেন নির্বাচিত সরকারের মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর বিশ্বস্ত আধিকারিকদের ছাড়া কীভাবে কাজ করবেন তিনি? এটা ব্যাঘাত (Calcutta High Court) ঘটানোর চেষ্টা।” উল্লেখ্য যে, এই মামলার পরবর্তী শুনানি হওয়ার কথা শুক্রবার (West Bengal Assembly Election)।

     

  • Chingrighata Metro: ‘জেদ করে উন্নয়ন আটকানোর চেষ্টা’! চিংড়িঘাটা মেট্রো নিয়ে রাজ্যকে তুলোধনা সুপ্রিম কোর্টের

    Chingrighata Metro: ‘জেদ করে উন্নয়ন আটকানোর চেষ্টা’! চিংড়িঘাটা মেট্রো নিয়ে রাজ্যকে তুলোধনা সুপ্রিম কোর্টের

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: জনসাধারণের জন্য প্রকল্প নিয়ে রাজনীতি করবেন না। চিংড়িঘাটায় (Chingrighata Metro) দীর্ঘদিন ধরে আটকে থাকা মেট্রো প্রকল্প নিয়ে, সোমবার রাজ্য সরকারকে তীব্র ভর্ৎসনা করল সুপ্রিম কোর্ট। ওই প্রকল্পে ৩৬৬ মিটারের বকেয়া কাজ নিয়ে রাজ্য সরকারের মামলায় হস্তক্ষেপও করল না সুপ্রিম কোর্ট। চিংড়িঘাটা মেট্রোর বকেয়া কাজ শেষ করার বিষয়ে কলকাতা হাইকোর্টের নির্দেশকে চ্যালেঞ্জ করে গত ১১ ফেব্রুয়ারি কোর্টে যায় রাজ্য। কলকাতা হাইকোর্টের সিদ্ধান্তকে চ্যালেঞ্জ করে হয় মামলা। সেই মামলার শুনানিতে শীর্ষ আদালতেও ধাক্কা খেল রাজ্য। রাজ্যের মামলায় হস্তক্ষেপই করল না সুপ্রিম কোর্ট। এই বিষয়ে হাইকোর্টের কথা মেনেই রাজ্য সরকারকে কাজ করার নির্দেশ দিল শীর্ষ আদালত (Supreme Court)।

    চিংড়িঘাটা মেট্রো নিয়ে রাজ্যের গাফিলতি

    রাজ্যের যুক্তি ধোপে টিকল না। ধমক খেয়ে ফিরতে হল সুপ্রিম কোর্ট থেকে। চিংড়িঘাটা মেট্রো লাইন নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে টালবাহানা চলছে। মাত্র ৩৬৬ মিটার লাইনের কাজ বাকি থাকায় সম্পূর্ণ হচ্ছে না কলকাতা মেট্রোর অরেঞ্জ লাইন। রাজ্য়ের সঙ্গে মেট্রো কর্তৃপক্ষের বারবার সংঘাত তৈরি হয়েছে এই নিয়ে। কলকাতা হাইকোর্টের নির্দেশে বৈঠকে বসেও কোনও লাভ হয়নি। রেলমন্ত্রী অশ্বিনী বৈষ্ণবও এই ইস্যুতে মুখ খুলেছিলেন।  আর এবার সেই ইস্যুতেই রাজ্যকে কার্যত ভর্ৎসনা করল সুপ্রিম কোর্ট। কলকাতা হাইকোর্টের নির্দেশ থাকা সত্ত্বেও বেঁধে দেওয়া সময়ের মধ্যে কাজ শেষ করতে পারেনি মেট্রো। পুলিশের বিরুদ্ধে কাজ করতে না দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। কাজ করার ক্ষেত্রে বারবার বিভিন্ন যুক্তি দেখিয়েছে রাজ্য। হাইকোর্টের নির্দেশ মানার বদলে সুপ্রিম কোর্টে চ্যালেঞ্জ করে মামলা করেছে রাজ্য সরকার।

    হাইকোর্টের দেওয়া নির্দেশে কোনও ত্রুটি নেই

    সোমবার সেই মামলাটি ওঠে সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত, বিচারপতি জয়মাল্য বাগচী এবং বিপুল মনুভাই পঞ্চোলীর বেঞ্চে। আদালত মামলায় হস্তক্ষেপ করতে চায়নি। উল্টে রাজ্য সরকারকে মামলা তুলে নিতে বলা হয়। তা না করা হলে মামলাটি সরাসরি খারিজ করে দেওয়া হবে, জানান বিচারপতি। চিংড়িঘাটা মেট্রোর বকেয়া কাজ নিয়ে রাজ্য সরকার সাংবিধানিক দায়িত্ব পালনে গাফিলতি করেছে বলেও মন্তব্য করে আদালত। সর্বোচ্চ ন্যায়ালয়ের তরফে বলা হয়েছে, এটা কিছু আধিকারিকের একগুঁয়েমিকেই প্রতিফলিত করছে। যারা আদতে কলকাতা শহরে মেট্রো রেল প্রকল্পটিতে আরও দেরি করতে চায় অথবা বন্ধ করিয়ে দিতে চায়। পাশাপাশি, সুপ্রিম কোর্ট জানিয়ে দেয়, হাইকোর্টের দেওয়া নির্দেশে কোনও ত্রুটি নেই।

    উন্নয়ন অপেক্ষা উৎসব গুরুত্বপূর্ণ!

    রাজ্য সরকারের আইনজীবীকে উদ্দেশ্য বলে সুপ্রিম কোর্টের মন্তব্য,‘‘আমরা প্রথমবার দেখছি, কোনও রাজ‍্য উন্নয়নের বিরোধিতা করছে। এই মামলা এত দূর গড়িয়েছে যে, এখন নির্বাচন বিধির আওতায় পড়ে গিয়েছে। আপনাদের কাছে উৎসব আগে না যোগাযোগ ব‍্যবস্থার উন্নতি করা আগে? আপনারা হাইকোর্টকে জানিয়েছেন যে, আপনাদের উৎসব আয়োজনের কাজ রয়েছে। তাই নির্মাণকাজের জন্য আপনারা পুলিশি সহায়তা দিতে পারবেন না। আপনাদের কাছে উন্নয়ন অপেক্ষা উৎসবই অধিক গুরুত্বপূর্ণ। আমরা একটি গণতান্ত্রিকভাবে নির্বাচিত সরকারের কাছে আশা করি না যে, তারা বলবে পরিবহণের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ রাস্তা নির্মাণের কাজটি আপাতত উপেক্ষা করা হোক।’’ আদালত আরও বলে, ‘‘একবার বলা হল উৎসব চলছে, একবার বলা হচ্ছে পরীক্ষা চলছে। এখন বলা হচ্ছে নির্বাচন আছে! এটা কী হচ্ছে?’’ শীর্ষ আদালত স্পষ্ট জানিয়ে দেয়, হাইকোর্টের নির্দেশ মেনেই কাজ হবে, হাইকোর্টই সময় বেঁধে দিয়ে কাজ করবে। রাজ্যের প্রতি কড়াভাব দেখিয়েই বিচারপতি বলেন,‘‘সুযোগ দিচ্ছি হয় মামলা তুলে নিন, না হলে খারিজ করে দেব।’’

    রাজ্য কী প্রকল্প বন্ধ করিয়ে দিতে চায়?

    সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতি বললেন, ‘‘রাজ্য নিজের সংবিধানগত দায়িত্ব পালনে গাফিলতি দেখাচ্ছে। উন্নয়ন আটকাতে জেদি মনোভাব দেখানো হচ্ছে।’’ আদালতের বক্তব্য, এত অজুহাত দেখালে চিংড়িঘাটা মেট্রো প্রকল্পের বকেয়া কাজ কবে হবে? বিচারপতি জয়মাল্য বাগচী বলেন, ‘‘আদর্শ আচরণবিধি কার্যকর হওয়ার আগে এই প্রকল্পের ঘোষণা করা হয়েছিল। উন্নয়ন কর্মকাণ্ড ব্যাহত করার উদ্দেশ্যে আপনারা এটিকে আরেকটি অজুহাত হিসেবে দাঁড় করাবেন, এমনটা আমরা কিছুতেই হতে দেব না।’’

    সবকিছুর রাজনীতিকরণ করবেন না

    মেট্রো লাইনের কাজে রাজ্য সরকারের বিরুদ্ধে, অসহযোগিতার অভিযোগ তুলেছিল মেট্রো কর্তৃপক্ষ। মামলা গড়ায় কলকাতা হাইকোর্টে। কলকাতা হাইকোর্ট বকেয়া কাজ শেষ করার জন্য সময় বেঁধে দিয়েছিল। হাইকোর্টের নির্দেশকে চ্যালেঞ্জ করে সুপ্রিম কোর্টে যায় রাজ্য সরকার। এই মামলা নিয়ে বক্তব্য রাখতে গিয়ে প্রধান বিচারপতি বলেন, ‘‘সবকিছুর রাজনীতিকরণ করবেন না। এটি একটি উন্নয়নমূলক বিষয়।’’

    মুখ্য সচিব এবং ডিজিপির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা!

    এদিন শুনানির সময় পশ্চিমবঙ্গ সরকারের তরফে বলা হয়,‘‘আমাদের মে মাস পর্যন্ত সময় দিন। নির্বাচন চলছে, তাই এই বিলম্ব।’’ এরপর প্রধান বিচারপতি রাজ্য সরকারের উপর আরও ক্ষুব্ধ হয়ে বলেন, ‘‘হাইকোর্ট খুবই নরম মনোভাব দেখিয়েছে। এটি এমন একটি মামলা যেখানে আপনাদের মুখ্যসচিব এবং ডিজিপির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া উচিত ছিল। এই ঘটনায় তাঁদের কর্তব্যের প্রতি সম্পূর্ণ অবহেলা প্রকাশ পাচ্ছে। যেখানে আদতে রাজনীতির কোনও জায়গা নেই, সেখানে এটিকে রাজনীতিকরণের চেষ্টা করা হচ্ছে।’’

    চিংড়িঘাটা নিয়ে কী জটিলতা

    চিংড়িঘাটায় মাত্র ৩১৬ স্কোয়ার মিটার অংশের জন্য থমকে রয়েছে নিউ গড়িয়া থেকে কলকাতা বিমানবন্দর পর্যন্ত মেট্রোর অরেঞ্জ লাইন সম্প্রসারণের কাজ। এই কাজ সম্পন্ন করতে হলে সাময়িক ভাবে বাইপাসে যান চলাচল নিয়ন্ত্রণ প্রয়োজন। কিন্তু অভিযোগ, রাজ্য সরকার অনুমতি দিচ্ছে না। ফলে কাজও এগোচ্ছে না। কলকাতা হাইকোর্ট এ বিষয়ে রাজ্য, কলকাতার পুলিশ কমিশনার, জয়েন্ট কমিশনার অফ পুলিশ (ট্রাফিক), ডেপুটি কমিশনার অফ পুলিশকে (ট্রাফিক) ছাড়পত্র (এনওসি) দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছিল। জট কাটাতে আদালতের নির্দেশে মেট্রো, রাজ্য এবং নির্মাণকারী সংস্থার একাধিক বৈঠকও হয়েছে। কিন্তু সমাধানসূত্র বেরোয়নি।

    কাজ শেষ হতে কতদিন

    নির্মাণকারী সংস্থা জানিয়েছিল, সাময়িক যান নিয়ন্ত্রণ করে চিংড়িঘাটায় মেট্রোর বাকি কাজ শেষ করতে ন’মাস লাগবে। কিন্তু হাইকোর্টের নির্দেশ সত্ত্বেও রাজ্য ‘এনওসি’ দেয়নি বলে অভিযোগ। ফলে কাজ শুরু করা যায়নি। বর্ষবরণের অনুষ্ঠান এবং গঙ্গাসাগর মেলার জন্য রাতের ট্রাফিক আটকানো যাবে না বলে আগে জানিয়েছিল সরকার। এবার ভোটের জন্য সমস্যার কথাও বলা হয়েছে। রাজ্যের এই ভূমিকাতেই অসন্তোষ প্রকাশ করেছে সুপ্রিম কোর্ট। বলা হয়েছে, হাইকোর্টের নির্দেশেই কাজ হবে। ইতিমধ্যে গত মাসে মেট্রো রেলওয়ের জেনারেল ম্যানেজার শুভ্রাংশু শেখর মিশ্র জানান, চিংড়িঘাটায় জটের কারণে মেট্রোর অরেঞ্জ লাইনের ‘ডেডলাইন’ আরও এক বছর পিছিয়ে যাচ্ছে। ২০২৭ সালের মধ্যে অরেঞ্জ লাইনের (নিউ গড়িয়া থেকে বিমানবন্দর মেট্রো করিডর) কাজ শেষ করার যে লক্ষ্যমাত্রা নেওয়া হয়েছিল, সেটা পিছিয়ে ২০২৮ সাল করে দেওয়া হয়েছে।

  • DA: এবার ষষ্ঠ বেতন কমিশন কার্যকর করতে হাইকোর্টে রাজ্য সরকারি কর্মচারীরা, ভোটের মুখে আরও চাপে মমতা

    DA: এবার ষষ্ঠ বেতন কমিশন কার্যকর করতে হাইকোর্টে রাজ্য সরকারি কর্মচারীরা, ভোটের মুখে আরও চাপে মমতা

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: পশ্চিমবঙ্গের সরকারি কর্মচারীদের দীর্ঘদিনের অমীমাংসিত মহার্ঘ ভাতা (DA) সংক্রান্ত আইনি লড়াই বর্তমানে এক অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ মোড় নিয়েছে। এবার ষষ্ঠ বেতন কমিশনের সুপারিশ এবং অল ইন্ডিয়া কনজিউমার প্রাইস ইনডেক্স (AICPI)-এর তথ্যকে ভিত্তি করে কলকাতা হাইকোর্টে (Calcutta High Court) প্রথম কিস্তির টাকা দেওয়ার জন্য দাবি করেছে কর্মচারীরা। ভোটের আগে মামলা মমতা সরকারকে চাপে ফেলবে বলে মনে করছে নির্বাচন কমিশন। কেন্দ্রীয় সরকারের কর্মীদের থেকে এখনও ৪০ শতাংশ ডিএ পাওয়ার বিষয়ে পিছিয়ে রয়েছে রাজ্যের কর্মীরা।

    ষষ্ঠ বেতন কমিশনের সুপারিশ (Calcutta High Court)

    বিচারপতি (Calcutta High Court) মধুরেশ প্রসাদের ডিভিশন বেঞ্চে মামলা দায়ের করেছে ইউনিটি ফোরাম নামে একটি সংস্থা। ইতিমধ্যে শুনানি হয়েছে কোর্টে। তাতে রাজ্য প্রশাসনের আর্থিক অবস্থান ও কর্মীদের অধিকারের বিষয়টি নতুন করে আলোচনায় এসেছে। সরকারি কর্মচারীদের পক্ষ থেকে যুক্তি দেওয়া হয়েছে যে, দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধির সূচক অনুযায়ী কেন্দ্রীয় সরকারি কর্মীরা যে হারে ডিএ (DA) পান, রাজ্য সরকারি কর্মচারীদের ক্ষেত্রেও সেই সমতা বজায় রাখা উচিত। রাজ্য সরকার ষষ্ঠ বেতন কমিশন কার্যকর করার সময় ডিএ-র যে হিসেব দিয়েছিল, তা বর্তমান বাজারদরের তুলনায় অনেকটাই পিছিয়ে বলে অভিযোগ করা হয়েছে।

    আর্থিক সামর্থ্য বনাম আইনি বাধ্যবাধকতা

    রাজ্য সরকার বারবারই তাদের সীমিত আর্থিক সংস্থানের কথা উল্লেখ করেছে। তবে আদালতের (Calcutta High Court) পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী, ডিএ কেবল দয়ার দান নয়, বরং এটি সরকারি কর্মচারীদের আইনি অধিকারের আওতায় পড়ে। ডিএ মামলাটি এখন কেবল আইনি লড়াইয়ে সীমাবদ্ধ নেই, এটি একটি বড় সামাজিক ও প্রশাসনিক ইস্যুতে পরিণত হয়েছে। ষষ্ঠ বেতন (DA) কমিশনের কাঠামো সংস্কার এবং কেন্দ্র-রাজ্য ডিএ-র ফারাক কমানোর বিষয়টি নিয়ে উচ্চ আদালতের চূড়ান্ত সিদ্ধান্তই বলে দেবে, রাজ্যের অর্থভাণ্ডার ও কর্মচারীদের অধিকারের মধ্যে কীভাবে ভারসাম্য রক্ষা করা হবে।

    পিটিশনে মূলত তিনটি প্রধান বিষয়

    কর্মীদের একাংশের অভিযোগ, ষষ্ঠ বেতন কমিশন (DA) যে পদ্ধতিতে বেতন ও ভাতার হার নির্ধারণ করেছে, তা বর্তমান মুদ্রাস্ফীতির হারের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। দীর্ঘ সময় ধরে কেন্দ্র ও রাজ্যের মহার্ঘ ভাতার মধ্যে যে বিস্তর ফারাক তৈরি হয়েছে, তা মেটানোর কোনো সুনির্দিষ্ট দিশা রাজ্য সরকার দেখায়নি বলে দাবি করা হয়েছে। মামলাকারীদের (Calcutta High Court) মতে, মহার্ঘ ভাতা কোনো দয়া বা অনুদান নয়, বরং এটি সরকারি কর্মচারীদের জীবনযাত্রার মান বজায় রাখার জন্য একটি বিধিবদ্ধ অধিকার। রাজ্য সরকার এই অধিকার থেকে কোনও ভাবেই কর্মচারীদের বঞ্চনা করা যাবে না।

  • SIR in Bengal: শুক্রবারই এসআইআর-এ বিবেচনাধীনদের প্রথম তালিকা প্রকাশ! দিনে দু’লক্ষ করে নামের নিষ্পত্তি হচ্ছে, জানাল কমিশন

    SIR in Bengal: শুক্রবারই এসআইআর-এ বিবেচনাধীনদের প্রথম তালিকা প্রকাশ! দিনে দু’লক্ষ করে নামের নিষ্পত্তি হচ্ছে, জানাল কমিশন

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: রাজ্যে এসআইআর-এর পর পশ্চিমবঙ্গে অতিরিক্ত ভোটার তালিকা প্রকাশ করা হতে পারে শুক্রবারই। নির্বাচন কমিশন সূত্রে খবর, রাজ্যে বিশেষ নিবিড় সংশোধনের (SIR) তালিকায় ‘বিবেচনাধীন’ নামের নিষ্পত্তির গতি বেড়েছে। পশ্চিমবঙ্গের ভোটার তালিকার দিনে প্রায় দু’লক্ষ করে নামের নিষ্পত্তি হচ্ছে। বুধবার পর্যন্ত নিষ্পত্তি হয়েছে মোট ২৩ লক্ষ ৩০ হাজার ‘বিবেচনাধীন’ নাম। হাইকোর্ট নিযুক্ত ৭০০-র বেশি বিচারবিভাগীয় আধিকারিক এই কাজ করছেন। সিইও দফতর সূত্র জানা গিয়েছে, এই গতিতে চললে ভোটের আগে সমস্ত বিবেচনাধীন ভোটারের নিষ্পত্তি হয়ে যেতে পারে।

    আজই উচ্চ-পর্যায়ে বৈঠক

    অতিরিক্ত ভোটার তালিকা প্রকাশের আগে রাজ্যের নিরাপত্তা পরিস্থিতি খতিয়ে দেখতে স্বরাষ্ট্রসচিব, পুলিশের ডিজি এবং কলকাতার পুলিশ কমিশনারকে বৈঠকে ডাকলেন কলকাতা হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতি সুজয় পাল। ‘বিবেচনাধীন’ ভোটারদের নামের তালিকা প্রকাশের আগে নিরাপত্তা সংক্রান্ত বিষয় নিয়ে এই বৈঠকে আলোচনা হবে। বৈঠক ডাকা হয়েছে বৃহস্পতিবার সকাল ১০টায়। এই মুহূর্তে রাজ্যের কোথাও আইনশৃঙ্খলাজনিত কোনও সমস্যা রয়েছে কি না, বৈঠকে জানতে চাইতে পারেন প্রধান বিচারপতি। উল্লেখ্য, ভোটের নির্ঘণ্ট ঘোষণার পর থেকেই প্রশাসনের বিভিন্ন স্তরে বদল আনা হয়েছে। নির্বাচন কমিশনের দাবি, স্বচ্ছ ও শান্তিপূর্ণ ভোট নিশ্চিত করতেই এই পদক্ষেপ। অতিরিক্ত ভোটার তালিকা প্রকাশ ঘিরে যাতে কোনও উত্তেজনা না তৈরি হয়, সে দিকেই এখন নজর আদালতের।

    সময়ের মধ্যেই সকল বিবেচনাধীন নামের নিষ্পত্তি!

    আগামী ২৩ এবং ২৯ এপ্রিল দু’দফায় ভোট হবে পশ্চিমবঙ্গের ২৯৪টি বিধানসভা আসনে। ভোটের ফল জানা যাবে ৪ মে। পূর্ণাঙ্গ ভোটার তালিকা ছাড়া নির্বাচন সম্ভব নয়। সে ক্ষেত্রে ভোটের আগে যদি সমস্ত বিবেচনাধীন নামের নিষ্পত্তি না হয়, ঝুলে থাকা ভোটারদের কী হবে, তাঁরা ভোট দিতে পারবেন কি না, স্পষ্ট নয়। সুপ্রিম কোর্টকে এ ক্ষেত্রে হস্তক্ষেপ করতে হবে। তবে সময়ের মধ্যেই সকল বিবেচনাধীন নামের নিষ্পত্তি করে ফেলতে চান বিচারকেরা। এর পরেও যাঁদের নাম তালিকা থেকে বাদ যাবে, তাঁরা বিচার বিভাগের বিশেষ ট্রাইবুনালে আবেদন জানাতে পারবেন।

    দ্রুত গতিতে কাজ করছে কমিশন

    কমিশন সূত্রে জানা গিয়েছে, অতিরিক্ত তালিকা প্রকাশের জন্য একটি বিশেষ সফ্‌টঅয়্যার প্রয়োজন। তা তৈরি করার পর আদালতের ছাড়পত্র নিতে হবে। সেই সফ্‌টঅয়্যারের কাজ চলছে। শেষ হলেই তালিকা প্রকাশ করে দেওয়া যাবে। এর মধ্যে প্রতি দিনই ‘বিবেচনাধীন’ নাম নিষ্পত্তির কাজ করে চলেছেন কলকাতা হাইকোর্ট নিযুক্ত বিচারবিভাগীয় আধিকারিক ও বিচারকেরা। যে দিন কমিশন অতিরিক্ত তালিকা প্রকাশ করবে, সে দিন পর্যন্ত যত নামের নিষ্পত্তি হবে, সব নাম ওই তালিকায় রাখা হবে। রাজ্যের মন্ত্রী শশী পাঁজার নাম ‘বিবেচনাধীন’ তালিকায় ছিল। কলকাতার শ্যামপুকুর কেন্দ্র থেকে তাঁকে ফের প্রার্থী করেছে তৃণমূল। তাঁর নাম যাতে আগে নিষ্পত্তি করা হয়, বিচারবিভাগীয় আধিকারিকদের কাছে তিনি সেই আবেদন জানিয়েছিলেন। বুধবার সিইও দফতর খোঁজ নিয়ে জানিয়েছে, মন্ত্রীর নামের নিষ্পত্তি হয়ে গিয়েছে।

    সাপ্লিমেন্টারি তালিকা প্রকাশ 

    গত ২৮ ফেব্রুয়ারি এসআইআর প্রক্রিয়া চূড়ান্ত ভোটার তালিকা প্রকাশিত হয়েছে। আর সেই তালিকায় ৬০ লক্ষ ভোটারের নাম বিবেচনাধীনের তালিকায় রয়েছে। চূড়ান্ত ভোটার তালিকা বেরনোর পর কেটে গিয়েছে ২ সপ্তাহের বেশি। বিবেচনাধীন ভোটারদের তথ্য খতিয়ে দেখে তা নিষ্পত্তি করছেন জুডিশিয়াল অফিসাররা। এই নিয়ে কমিশনের বিশেষ পর্যবেক্ষক সুব্রত গুপ্ত বললেন, “সাপ্লিমেন্টারি তালিকা প্রকাশ নিয়ে আলোচনা হয়েছে। আশা করা হচ্ছে, এই সপ্তাহের মধ্যেই আমরা তা প্রকাশ করতে পারব। যে সব নামের নিষ্পত্তি হয়েছে, সেগুলি এক-দু’দিনের মধ্যে আমাদের সঙ্গে শেয়ার করবেন জুডিশিয়াল অফিসাররা। এখন যে অবস্থায় রয়েছে, তাতে শুক্রবার কিংবা শনিবার সাপ্লিমেন্টারি তালিকা বেরিয়ে যাওয়ার কথা।”

    ৪৭৮ জন পর্যবেক্ষক নিয়োগ

    অন্য দিকে, ভোটের কাজের জন্য পশ্চিমবঙ্গে নির্বাচন কমিশন ৪৭৮ জন পর্যবেক্ষক নিয়োগ করেছে। ২৯৪টি বিধানসভা কেন্দ্রের প্রতিটিতে এক জন করে সাধারণ পর্যবেক্ষক নিয়োগ করা হচ্ছে। এ ছাড়া থাকছেন ৮৪ জন পুলিশ অবজার্ভার এবং ১০০ জন এক্সপেনডিচার অবজার্ভার। প্রতিটি বিধানসভা কেন্দ্রের জন্য এক জন করে সাধারণ পর্যবেক্ষক রয়েছেন। এই সমস্ত পর্যবেক্ষক রাজ্যে আসতে শুরু করেছেন বুধবার থেকেই। কমিশন জানিয়েছে, শুধু ভোটগ্রহণ কেন্দ্রে নয়, বুথ সংলগ্ন এলাকাতেও ভোটারকে হুমকি, ভয় দেখানোর মতো ঘটনা ঘটলে পুনর্নির্বাচন হতে পারে। ছাপ্পা, অশান্তি, বুথ দখলের মতো ঘটনা বরদাস্ত করা হবে না। কমিশনের বক্তব্য, বাংলায় হিংসামুক্ত, রক্তপাতহীন, স্বচ্ছ ভোট করাই লক্ষ্য। তাই অতীতে ভোটের হিংসা যেখানে বেশি হয়েছে এবং স্পর্শকাতর অশান্তিপ্রবণ জেলাগুলিতেই বেশি করে পুলিশ অবজ়ার্ভার নিয়োগের উপরে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে, যাতে কেন্দ্রীয় বাহিনীকে যথাযথ ভাবে ব্যবহার করা হয়। কমিশনের বিশেষ নজরে রয়েছে মুর্শিদাবাদ, মালদা, উত্তর দিনাজপুর, নদিয়া, পূর্ব ও পশ্চিম বর্ধমান, পূর্ব ও পশ্চিম মেদিনীপুর, হুগলি, উত্তর ও দক্ষিণ ২৪ পরগনা। শুধু অশান্তি নয়, কমিশন ভোটকে সামনে রেখে টাকা, মদ–মাদক সমেত বিভিন্ন ধরনের উপহার দেওয়ার খেলা বন্ধ করতেও বদ্ধপরিকর।

  • SIR: বৈঠকে হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতি ও রাজ্য সিইও, কী কী বিষয়ে আলোচনা হল?

    SIR: বৈঠকে হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতি ও রাজ্য সিইও, কী কী বিষয়ে আলোচনা হল?

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: সম্প্রতি ভোটার তালিকা সংশোধন (SIR) এবং আসন্ন নির্বাচনী প্রস্তুতি নিয়ে একটি গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক হল হাইকোর্ট ও কমিশনের মধ্যে। কলকাতা হাইকোর্টের (Calcutta High Court) প্রধান বিচারপতি এবং রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক (CEO) এই বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূ্র্ণ বিষয় নিয়ে আলোচনা সারেন। বৈঠকের কেন্দ্রবিন্দু ছিল ভোটার তালিকার স্বচ্ছতাকে নিশ্চিত করা এবং আইনি স্বচ্ছতা বজায় রাখা। অপর দিকে এসআইআর সংক্রান্ত মামলার দায়িত্বে থাকা বাঁকুড়া-পুরুলিয়া জেলার ১৭ জন বিচারবিভাগীয় আধিকারিককে বিভিন্ন জেলায় স্থানান্তরিত করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

    কোন কোন বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়েছে (SIR)?

    ভোটার তালিকার পরিমার্জন (SIR) নিয়ে কলকাতা হাইকোর্টের বিচারপতি (Calcutta High Court) এবং নির্বাচন কমিশনের আধিকারিকদের সঙ্গে বৃহস্পতিবার বিশেষ বৈঠক হয়। ভোটার তালিকায় নাম তোলা, মৃত ভোটারদের নাম বাদ দেওয়া এবং তথ্যের ভুল সংশোধনের প্রক্রিয়া নিয়ে বিশদ আলোচনা হয়েছে ওই বৈঠকে। আইনি পর্যবেক্ষণ দিয়ে নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় যাতে কোনও প্রকার আইনি জটিলতা তৈরি না হয়, সে বিষয়ে প্রধান বিচারপতির পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। স্বচ্ছতা ও নিরপেক্ষতার সঙ্গে এই কাজকে সম্পন্ন করার কথা বলা হয়েছে। সাধারণ মানুষের আস্থা বজায় রাখতে এবং একটি অবাধ ও শান্তিপূর্ণ নির্বাচনের পরিবেশ তৈরিতে এই প্রশাসনিক সমন্বয় অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ।

    ১৪ লক্ষ ভোটারের তথ্য যাচাই

    কমিশন সূত্রে প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, ভোটার তালিকা সংশোধনের কাজ দ্রুতগতিতে এগোচ্ছে। গত বৃহস্পতিবার পর্যন্ত রাজ্যে প্রায় ১৪ লক্ষ ভোটারের তথ্য যাচাই ও নিষ্পত্তি সম্পন্ন হয়েছে। সেই সঙ্গে আরও  জানা গেছে, চূড়ান্ত ভোটার তালিকার আংশিক অংশ ইতিপূর্বেই প্রকাশিত হয়েছে এবং বাকি অংশটি পর্যায়ক্রমে প্রকাশের পরিকল্পনা রয়েছে কমিশনের। বৃহস্পতিবারের উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে এই ধাপে ধাপে তালিকা প্রকাশের রূপরেখা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে।

    ভোটারদের অধিকার রক্ষায় বিচার বিভাগ

    নির্বাচনী ব্যবস্থার (SIR) আধুনিকীকরণ, ভোটারদের অধিকার রক্ষায় বিচার বিভাগ ও প্রশাসনিক বিভাগের এই যৌথ উদ্যোগ একটি ইতিবাচক পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচিত বলে মনে করা হচ্ছে। এদিকে, এসআইআর সংক্রান্ত মামলার দায়িত্বে থাকা বাঁকুড়া-পুরুলিয়া জেলার ১৭ জন বিচারবিভাগীয় আধিকারিককে বিভিন্ন জেলায় বদলি করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।  হাইকোর্ট প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, এটি একটি নিয়মিত প্রশাসনিক প্রক্রিয়া। জানা যাচ্ছে, যে জেলায় ভোটার তালিকা যাচাইয়ের কাজ শেষ হয়েছে, সেখান থেকে বিচারকদের যাচাই বাকি থাকা জেলায় পাঠিয়েছে হাইকোর্ট। এই মর্মে, ৫ জন করে বিচারককে মুর্শিদাবাদ, উত্তর দিনাজপুর জেলায় পাঠানো হয়েছে। রাজ্যে এখনও ৫০ লক্ষ নাম বিচারাধীন রয়েছে।

    কাজের ধারাবাহিকতা জরুরি

    সংশ্লিষ্ট আধিকারিকদের বর্তমান দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দিয়ে রাজ্যের বিভিন্ন জেলা আদালতে (Calcutta High Court) নতুন দায়িত্বভার অর্পণ করা হয়েছে। কাজের ধারাবাহিকতা বজায় রাখতেই এই রদবদলের ফলে চলমান মামলাগুলোর (SIR) প্রক্রিয়া যাতে ব্যাহত না হয়, সেদিকেও নজর রাখা হয়েছে। নতুন আধিকারিকরা শীঘ্রই তাঁদের নিজ নিজ পদে যোগদান করবেন। প্রশাসনিক এই পদক্ষেপের মূল উদ্দেশ্য হল, বিচার প্রক্রিয়ায় গতিশীলতা আনা এবং দীর্ঘকাল একই পদে আসীন থাকা আধিকারিকদের নতুন অভিজ্ঞতা ও কর্মক্ষেত্রে নিযুক্ত করা। হাইকোর্টের এই নির্দেশিকা বিচার ব্যবস্থার স্বচ্ছতা ও নিরপেক্ষতা বজায় রাখার একটি স্বাভাবিক প্রক্রিয়া হিসেবেই দেখা হচ্ছে।

  • Calcutta High Court: আয়ুষ্মান ভারত প্রকল্প কেন কার্যকর হচ্ছে না? ৭ দিনের মধ্যে রাজ্যের জবাব তলব হাইকোর্টের

    Calcutta High Court: আয়ুষ্মান ভারত প্রকল্প কেন কার্যকর হচ্ছে না? ৭ দিনের মধ্যে রাজ্যের জবাব তলব হাইকোর্টের

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: পশ্চিমবঙ্গে কেন্দ্রীয় সরকারের জনকল্যাণমূলক প্রকল্প ‘আয়ুষ্মান ভারত’ (Ayushman Bharat Scheme) কেন কার্যকর করা হচ্ছে না, তা নিয়ে রাজ্য সরকারের কাছে স্পষ্ট ব্যাখ্যা চাইল কলকাতা হাইকোর্ট (Calcutta High Court)। বিজেপি সাংসদ শমীক ভট্টাচার্যের দায়ের করা একটি জনস্বার্থ মামলার প্রেক্ষিতে আদালত এই নির্দেশ দিয়েছে। বিজেপির তরফ থেকে কেন্দ্রীয় প্রকল্পে জনসাধারণকে বঞ্চনার কথা বলে মমতা সরকারকে কাঠগড়ায় নিয়ে গিয়েছে বিজেপি। এবার মামলা দায়ের হয়েছে উচ্চ আদালতে।

    কেন বঞ্চনা?

    দীর্ঘদিন ধরেই রাজ্য ও কেন্দ্রের মধ্যে ‘আয়ুষ্মান ভারত’ (Ayushman Bharat Scheme) প্রকল্প নিয়ে টানাপড়েন চলছে। রাজ্য সরকারের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে যে, তাদের নিজস্ব ‘স্বাস্থ্যসাথী’ প্রকল্প ইতিমধ্যেই সাধারণ মানুষকে পরিষেবা দিচ্ছে। তবে বিরোধী পক্ষ এবং মামলাকারীর (Calcutta High Court) দাবি, আয়ুষ্মান ভারত প্রকল্পটি জাতীয় স্তরের সুবিধা প্রদান করে, যা থেকে রাজ্যের মানুষ বঞ্চিত হচ্ছেন। দেশের যে কোনও নাগরিককে স্বাস্থ্যখাতে ৫ লাখ টাকা পর্যন্ত সুবিধার কথা যেখানে প্রকল্পে রয়েছে সেখানে এমন স্কিমে বঞ্চনা কেন তাই প্রশ্ন।

    মমতা সরকারের কঙ্কালসার স্বাস্থ্য ব্যবস্থা

    বুধবার কলকাতা হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতির ডিভিশন বেঞ্চে এই মামলার শুনানি হয়। মামলাকারীর পক্ষে যুক্তি দেওয়া হয় যে, আয়ুষ্মান ভারত কার্ড থাকলে ভারতের যেকোনো প্রান্তের তালিকাভুক্ত হাসপাতালে চিকিৎসা পাওয়া সম্ভব, যা অনেক ক্ষেত্রে স্বাস্থ্যসাথী কার্ডের মাধ্যমে সম্ভব হয় না। উভয় পক্ষের প্রাথমিক বক্তব্য শোনার পর আদালত এই বিষয়ে রাজ্যের অবস্থান জানতে চেয়েছে। যদিও বিজেপির দাবি, কেন্দ্রীয় প্রকল্পের কথা সর্বত্র প্রচার হলে মমতা সরকারের কঙ্কালসার স্বাস্থ্য ব্যবস্থার কথা আরও প্রচারতি হবে তাই তৃণমূল সরকার জনগণের প্রাপ্য অধিকার থেকে বঞ্চনা করতে হচ্ছে।

    গত ডিসেম্বরে মামলা করেছিলেন বিজেপি রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য মামলা করে বলেছিলেন, “কেন্দ্রীয় সরকারের কোনও সোশাল ওয়েলফেয়ার প্রজেক্টই পশ্চিমবঙ্গে কার্যকর করতে দেওয়া হচ্ছে না ৷ এগুলি বাস্তবায়িত হলে প্রান্তিক মানুষ, অসংগঠিত ক্ষেত্রের শ্রমিকরা উপকৃত হবেন ৷ এই সরকার শ্রমিক বিরোধী৷ তাই আয়ুষ্মান ভারতের মতো জনকল্যাণমূলক প্রকল্প বাস্তবায়িত করা নিয়ে মামলা করতে হচ্ছে ।”

    মামলার মূল বিষয়সমূহ

    শমীকের আইনজীবী বলেন, “এটা ভারত সরকারের একটা জনকল্যাণমুখী প্রকল্প (Ayushman Bharat Scheme) ৷ দেশের অন্যান্য রাজ্যে এই প্রকল্পের মাধ্যমে সেখানকার মানুষ সুবিধা পেলেও, পশ্চিমবঙ্গের মানুষ এর সুফল থেকে বঞ্চিত হচ্ছে ৷ রাজ্য সরকার গত ২৩ সেপ্টেম্বর ২০১৮ সালে একটি মউ স্বাক্ষর করেছিল ৷ কিন্তু, ২০১৯ সালে সেটা প্রত্যাহার করে নেয় ৷ ফলে এ রাজ্যের মানুষ আয়ুষ্মান ভারত যোজনার সুবিধা থেকে বঞ্চিত হয়ে আসছে ৷”

    রাজ্য সরকার হলফ নামা দেবে

    এখন আগামী কয়েক সপ্তাহের মধ্যে রাজ্য সরকারকে হলফনামা (Calcutta High Court) জমা দিয়ে জানাতে হবে, এই প্রকল্প কেন এখনো রাজ্যে চালু করা হয়নি। মামলাকারীর দাবি অনুযায়ী, কয়েক কোটি মানুষ এই কেন্দ্রীয় বিমা প্রকল্পের সুবিধা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন, যা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি বিষয়। রাজ্যের জবাব পাওয়ার পর আদালত এই বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবে বলে জানা গিয়েছে।

    রাজ্য সরকারের পক্ষ থেকে এই আইনি লড়াইয়ে কী অবস্থান নেওয়া হয়, এখন সেদিকেই নজর রয়েছে রাজনৈতিক এবং প্রশাসনিক মহলের। সাধারণ মানুষের স্বাস্থ্য পরিষেবার স্বার্থে এই আইনি পদক্ষেপ অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে। তবে তৃণমূল সরকার কেন্দ্রের বিজেপি সরকারের প্রকল্পকে (Ayushman Bharat Scheme) বাস্তবায়ন না করে আদালতে আইনজীবী দাঁড় করাবেন বলে মনে করছেন ওয়াকিবহাল মহল।

  • BJP Parivartan Yatra: বিজেপির ‘পরিবর্তন যাত্রা’য় অনুমতি দিল কলকাতা হাইকোর্ট, মানতে হবে কিছু শর্তও

    BJP Parivartan Yatra: বিজেপির ‘পরিবর্তন যাত্রা’য় অনুমতি দিল কলকাতা হাইকোর্ট, মানতে হবে কিছু শর্তও

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: অগত্যা সেই হাইকোর্টের দ্বারস্থ হয়েই রাজনৈতিক কর্মসূচির অনুমতি আদায় করতে হল বিজেপিকে। গেরুয়া শিবিরের ‘পরিবর্তন যাত্রা’য় অনুমতি দিল কলকাতা হাইকোর্ট। তবে, সঙ্গে কয়েকটি শর্ত চাপিয়েছে হাইকোর্ট।

    রাজ্যে বিধানসভা নির্বাচন আসন্ন। এই আবহে রাজ্যে পরিবর্তন যাত্রার সিদ্ধান্ত নিয়েছে বঙ্গ বিজেপি। সেই মতো, পুলিশের কাছে পরিবর্তন যাত্রার অনুমতি চেয়ে বিজেপি ২২ ফেব্রুয়ারি আবেদন করেছিল গেরুয়া শিবির। কিন্তু তার কোনও জবাব পুলিশ দেয়নি। পুলিশের কাছ থেকে জবাব না পেয়ে হাইকোর্টে মামলা করে গেরুয়া শিবির। ফলে বাধ্য হয়েই কলকাতা হাইকোর্টের দ্বারস্থ হতে হয়েছিল বঙ্গ বিজেপিকে। শুক্রবার সেই আদালত থেকেই মিলল অনুমতি। বিজেপির ‘পরিবর্তন যাত্রা’য় অনুমতি দিল কলকাতা হাইকোর্ট। তবে, সঙ্গে কয়েকটি শর্ত চাপিয়েছে হাইকোর্ট।

    কী বলল আদালত?

    শুক্রবার বিচারপতি শুভ্রা ঘোষের এজলাসে এই মামলার শুনানি ছিল। আদালত স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে, কর্মসূচি পালন করা গেলেও মানতে হবে একগুচ্ছ নিয়ম। বিশেষ করে জনসমাগম এবং সময়ের ওপর আদালত কিছু বিধিনিষেধ আরোপ করেছে। এদিন শুনানিতে বিজেপির তরফে কোন জেলায় কোন জায়গায় কবে এই যাত্রা বা মিছিল হবে, তার তালিকা দেওয়া হয় হাইকোর্টকে। আদালত জানিয়েছে, আগামী ১ থেকে ৩ মার্চ পর্যন্ত এই পরিবর্তন যাত্রা করা যাবে। তবে মিছিলে এক হাজারের বেশি মানুষের জমায়েত করা যাবে না। একইসঙ্গে সময়সীমাও বেঁধে দিয়েছে আদালত। প্রতিদিন বেলা ২টো থেকে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্তই এই মিছিল করার অনুমতি মিলবে। পাশাপাশি, কর্মসূচিপথে যাতে কোনোভাবেই আইনশৃঙ্খলাজনিত সমস্যা না হয়, তা নিশ্চিত করার দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে স্থানীয় পুলিশ প্রশাসনকে।

    বিজেপির কর্মসূচি ও অমিত শাহের সফরে রদবদল

    আদালতের নির্দেশ পাওয়ার পর বিজেপি (BJP) তাদের কর্মসূচিতে কিছুটা রদবদল ঘটিয়েছে। দোল উৎসবের কারণে ৩ ও ৪ মার্চ যাত্রা বন্ধ থাকবে। তাই ১ ও ২ মার্চেই অধিকাংশ বিভাগের উদ্বোধন সেরে ফেলতে চাইছে গেরুয়া শিবির। আগামী ১ মার্চ কোচবিহার, কৃষ্ণনগর, কুলটি ও গড়বেতা থেকে যাত্রার সূচনা হবে। ২ মার্চ আরও কয়েকটি জায়গায় কর্মসূচি রয়েছে। সেগুলি হল ইসলামপুর, হাসন, সন্দেশখালি এবং আমতা। বিশেষ আকর্ষণ হিসেবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের ২ মার্চ রায়দিঘি থেকে যাত্রার উদ্বোধন করার কথা রয়েছে। ১ মার্চেই দক্ষিণ ২৪ পরগনার রায়দিঘি থেকে পরিবর্তন যাত্রার সূচনা করার কথা ছিল কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর। কিন্তু শেষ মুহূর্তে তাতে বদল হয়েছে। শাহের সফর এক দিন পিছিয়ে গিয়েছে। বিজেপি জানাচ্ছে, শাহ ২ মার্চ রায়দিঘি থেকে পরিবর্তন যাত্রার উদ্বোধন করতে পারেন।

    লক্ষ্য ১৪ মার্চের ব্রিগেড, থাকবেন মোদি!

    বিজেপির পরিকল্পনা অনুযায়ী, পশ্চিমবঙ্গের মোট ১০টি সাংগঠনিক বিভাগের মধ্যে ৯টিতেই এই পরিবর্তন যাত্রা হবে। একমাত্র কলকাতা মহানগর বিভাগে কোনও যাত্রা হবে না, কারণ এই বিভাগের ওপর দায়িত্ব রয়েছে ১৪ মার্চের মেগা ব্রিগেড সমাবেশ সফল করার। সেখানেই উপস্থিত থাকবেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি (PM Narendra Modi)। ২০২১-এর বিধানসভা নির্বাচনের আগে ‘যোগদান মেলা’র মতো বড় কোনও কর্মসূচি না থাকলেও, এই পরিবর্তন যাত্রার মাধ্যমেই জনমত নিজেদের দিকে টানতে চাইছে রাজ্যের প্রধান বিরোধী দল।

    পাখির চোখ নির্বাচন

    বিধানসভা নির্বাচনে এবার রাজ্যে পরিবর্তন হবে বলে আশাবাদী গেরুয়া শিবির। নির্বাচনের নির্ঘণ্ট ঘোষণার আগে রাজ্যজুড়ে পরিবর্তন যাত্রাকে প্রচারের হাতিয়ার করতে সচেষ্ট হয়েছে বঙ্গ বিজেপি। এই পরিবর্তন যাত্রায় কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ, বিজেপির সর্বভারতীয় সভাপতি নিতিন নবীন, কেন্দ্রীয় মন্ত্রী জেপি নাড্ডা-সহ একাধিক কেন্দ্রীয় নেতা আসবেন। আগামীদিনে এই যাত্রার হাত ধরেই রাজ্যে একাধিক কেন্দ্রীয় হেভিওয়েট নেতা-মন্ত্রীর আনাগোনা বাড়বে।

  • Kolkata Wetlands Case: ‘রাজ্য না পারলে আধা সামরিক বাহিনী নামাতে হবে’, জলাভূমি ভরাট রুখতে কড়া বার্তা হাইকোর্টের

    Kolkata Wetlands Case: ‘রাজ্য না পারলে আধা সামরিক বাহিনী নামাতে হবে’, জলাভূমি ভরাট রুখতে কড়া বার্তা হাইকোর্টের

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: পূর্ব কলকাতা জলাভূমি (Wetland) এলাকায় বেআইনি নির্মাণ এবং জলা ভরাট সংক্রান্ত মামলায় রাজ্য প্রশাসনকে ভর্ৎসনা করলেন কলকাতা হাইকোর্টের বিচারপতি অমৃতা সিনহা (Amrita Sinha)। এবার কেন্দ্রীয় সরকারকে মামলায় যুক্ত করার নির্দেশ দিলেন বিচারপতি। বিচারপতির সাফ বক্তব্য, রাজ্য যদি না-পারে তাহলে কেন্দ্রের সহযোগিতা নিতে হবে। কেন্দ্রীয় বাহিনী দিয়ে বেআইনি নির্মাণ ভাঙার কাজ করতে হবে। বারবার নির্দেশ দেওয়ার সত্ত্বেও রাজ্য এবং পুরনিগম পদক্ষেপ করছে না বলে উল্লেখ করেন বিচারপতি।

    ‘রিপোর্ট নয়, কাজ কই?’

    পূর্ব কলকাতা জলাভূমিতে বেআইনি নির্মাণ ভাঙতে রাজ্য সরকার ও পুর কর্তৃপক্ষের ভূমিকায় চরম ক্ষুব্ধ কলকাতা হাইকোর্ট। সোমবার, এই সংক্রান্ত মামলার শুনানির শুরুতেই বিচারপতি সিনহা (Justice Amrita Sinha) ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “আদালতে রিপোর্টের পর রিপোর্ট জমা পড়ছে, কিন্তু বাস্তবে কাজ হওয়ার কোনও তথ্য নেই। আর রিপোর্ট নেব না, এবার হাতেনাতে কাজ দেখতে চাই।” জলাভূমি রক্ষার দায়িত্বপ্রাপ্ত সংস্থা ‘ইস্ট কলকাতা ওয়েটল্যান্ড ম্যানেজমেন্ট অথরিটি’ (EKWMA)-র পক্ষ থেকে আদালতে জানানো হয়, তারা বেআইনি নির্মাণ ভাঙতে জেলাশাসককে (DM) বারবার অনুরোধ করলেও কোনও সাহায্য মিলছে না। এমনকি চৌবাগা-সহ সংলগ্ন এলাকায় বেআইনি বিদ্যুৎ সংযোগ কাটতে গিয়ে স্থানীয়দের প্রবল বিক্ষোভের মুখে পড়তে হয়েছে তাঁদের। সেই বিক্ষোভ সামলানোর ক্ষমতা বা পরিকাঠামো— কোনওটিই ওই সংস্থার নেই।

    কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েন করে ভাঙার নির্দেশ

    এদিন বিচারপতি অমৃতা সিনহা বলেন, জলাভূমি সংলগ্ন ৫০৫টি বেআইনি নির্মাণ (Illegal Building) ভাঙার কাজে রাজ্য যদি পরিকাঠামো বা পুলিশি সাহায্য দিতে ব্যর্থ হয়, তবে আধা সামরিক বাহিনী দিয়ে সেই কাজ করানো হবে। এই মর্মে কেন্দ্রীয় সরকারের স্বরাষ্ট্র, আবাসন এবং পরিবেশ মন্ত্রককে অবিলম্বে মামলায় যুক্ত করার নির্দেশ দিয়েছে আদালত। জলাভূমি ভরাটের ক্ষেত্রে সুপ্রিম কোর্টের যে কড়া নির্দেশিকা রয়েছে, পরবর্তী শুনানিতে তার প্রতিলিপি জমা দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে হাইকোর্ট। ১৬ মার্চ মামলার পরবর্তী শুনানির দিন ধার্য করা হয়েছে।

LinkedIn
Share