Tag: Child health

Child health

  • Down Syndrome: একটি ক্রোমোজোমের হেরফেরেই বদলে যায় জীবন! কী এই ডাউন সিনড্রোম?

    Down Syndrome: একটি ক্রোমোজোমের হেরফেরেই বদলে যায় জীবন! কী এই ডাউন সিনড্রোম?

    তানিয়া বন্দ্যোপাধ্যায় পাল

    একটি ক্রোমোজোমের হেরফের! বদলে যায় জীবন! যাপনের ভঙ্গি! এমনকি বোঝার ও শেখার ক্ষমতাতেও পরিবর্তন আনে। চিকিৎসা বিজ্ঞানের ভাষায় যাকে বলে ডাউন সিনড্রোম। জন্মের সময় থেকেই শিশু এই সমস্যায় আক্রান্ত থাকে। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে ঠিকমতো যত্ন না নিলে, পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে যায়। অক্টোবর মাস ডাউন সিনড্রোম সচেতনতা মাস হিসাবে পালন করা হয়। এই সমস্যা সম্পর্কে সমাজের সর্বস্তরে জানানো এবং সচেতন করা অত্যন্ত জরুরি বলেই মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। তাঁরা জানাচ্ছেন, পরিবার ও সমাজ সচেতন ও সংবেদনশীল হলে তবেই ডাউন সিনড্রোম আক্রান্তের জীবন যাপন সহজ হবে। সম্মানের সঙ্গে বাঁচতে পারবেন।

    ডাউন সিনড্রোম কী?

    চিকিৎসকেরা জানাচ্ছেন, ডাউন সিনড্রোম এমন একটি জিনগত অবস্থা, যা শিশুর শারীরিক বিকাশ, শেখার ক্ষমতা এবং বুদ্ধিবৃত্তিক বিকাশকে প্রভাবিত করতে পারে। তবে ডাউন সিনড্রোম নিয়ে জন্মানো মানেই যে শিশু স্বাভাবিক পারিবারিক জীবন, পড়াশোনা, খেলাধুলো কিংবা সামাজিক জীবনে অংশ নিতে পারবে না, তা নয়। সঠিক সময়ে স্বাস্থ্য পরীক্ষা, বিশেষ শিক্ষার ব্যবস্থা, পরিবারের সহযোগিতা এবং উপযুক্ত সরকারি সহায়তা পেলে অনেক শিশু ও প্রাপ্তবয়স্ক মানুষ যথেষ্ট স্বনির্ভর জীবন কাটাতে পারেন।

    কেন হয় ডাউন সিনড্রোম?

    মানুষের শরীরের কোষে সাধারণত ৪৬টি ক্রোমোজোম থাকে, যা ২৩ জোড়ায় সাজানো। ক্রোমোজোমের মধ্যে থাকা জিন শরীরের বৃদ্ধি ও বিকাশ নিয়ন্ত্রণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। ডাউন সিনড্রোমে সাধারণত ২১ নম্বর ক্রোমোজোমের দুটি কপির বদলে তিনটি কপি থাকে। একে ট্রাইসোমি ২১ বলা হয়। এর ফলে শিশুর বিকাশের ধরনে কিছু পরিবর্তন দেখা দিতে পারে। অধিকাংশ ক্ষেত্রে এটি কোষ বিভাজনের সময় আকস্মিকভাবে ঘটে। সাধারণত এটি প্রতিরোধ করার কোনও নির্দিষ্ট উপায় নেই। চিকিৎসকদের একাংশ জানাচ্ছেন, গর্ভধারণের সময় মায়ের বয়স ৩৫ বা তার বেশি হলে ডাউন সিনড্রোমের ঝুঁকি বেড়ে যায়।

    প্রথম থেকে নেওয়া কোন পদক্ষেপ সহজ করবে ডাউন সিনড্রোম আক্রান্তের জীবন যাপন?

    প্রত্যেক শিশুর চাহিদা, বোঝার ক্ষমতা এবং মানিয়ে নেওয়ার শক্তি আলাদা! ডাউন সিনড্রোম আক্রান্তের ক্ষেত্রেও তাই। বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ, সন্তান ডাউন সিনড্রোম আক্রান্ত হলে প্রথম থেকেই অভিভাবকদের কয়েকটি পদক্ষেপ ভাবনা চিন্তা করে নেওয়া জরুরি। তাহলে ছোটো থেকেই তাদের জীবন যাপন অনেকটাই স্বাভাবিক হবে।

    স্কুল নির্বাচনে বাড়তি নজরদারি!

    বিশেষজ্ঞদের একাংশ জানাচ্ছেন, এলাকার ভালো স্কুল বা নামী স্কুল হলেই চলবে না। ডাউন সিনড্রোম আক্রান্ত সন্তানের জন্য তার উপযুক্ত স্কুল নির্বাচন করতে হবে। স্কুলে ভর্তির সময়ে খেয়াল রাখতে হবে, বিশেষ শিশুকে দেখভাল করা এবং শেখানোর মতো উপযুক্ত প্রশিক্ষণ প্রাপ্ত শিক্ষক রয়েছেন কিনা!
    চিকিৎসকদের একাংশ জানাচ্ছেন, শিশুর শেখার ক্ষমতা ও প্রয়োজন অনুযায়ী অন্তর্ভুক্তিমূলক স্কুল, বিশেষ শিক্ষকের সাহায্য এবং ব্যক্তিগত শিক্ষণ পরিকল্পনা ডাউন সিনড্রোম আক্রান্তের জীবনের বিকাশের কাজে বিশেষ সাহায্য করতে পারে। ছবি, খেলা, ছড়া, পুনরাবৃত্তি এবং ছোট ছোট নির্দেশের সাহায্যে শেখানো অনেক শিশুর ক্ষেত্রে বিশেষ কার্যকর হয়। সন্তানের কোন দিকে শেখার আগ্রহ হচ্ছে, কীভাবে সেটা কার্যকর হয়, সেদিকে বাড়তি খেয়াল রাখতে হবে। তবেই আক্রান্ত শিশুর মানসিক বিকাশ সম্ভব।

    নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা জরুরি!

    চিকিৎসকেরা জানাচ্ছেন, ডাউন সিনড্রোম আক্রান্ত শিশুর মানসিক ও বৌদ্ধিক বিকাশের সমস্যা ছাড়াও নানান শারীরিক জটিলতা থাকতে পারে। তাই ভোগান্তি রুখতে ও জীবন যাপন সহজ করতে নিয়মিত শারীরিক পরীক্ষা করানো জরুরি। তাঁদের পরামর্শ, ডাউন সিনড্রোম আক্রান্ত শিশুর জন্মগত হৃদ্‌যন্ত্রের সমস্যা, শ্রবণ ও দৃষ্টিশক্তি, থাইরয়েড, দাঁত, বৃদ্ধি এবং ঘুমের সমস্যা আছে কি না, সেটা নিশ্চিত করা জরুরি। বিশেষজ্ঞর পরামর্শে পরীক্ষা করাতে হবে। সমস্যা দ্রুত শনাক্ত হলে উপযুক্ত চিকিৎসাও করতে হবে। পাশাপাশি জীবন যাপন সহজ করতে কিছু থেরাপিও প্রয়োজন। ছোটো থেকেই এই থেরাপিগুলো ধারাবাহিকভাবে করতে পারলে শিশুদের নানান সমস্যা কমে। পেশি ও স্নায়ুর সক্রিয়তা বাড়ে। এমনকি বৌদ্ধিক জটিলতাও কমতে পারে।

    খেলাধুলো ও সামাজিক মেলামেশার সুযোগ প্রয়োজন!

    মনস্তাত্ত্বিকদের একাংশ জানাচ্ছেন, বয়স ও শারীরিক ক্ষমতা অনুযায়ী ডাউন সিনড্রোম আক্রান্ত শিশুকে নানান সৃজনশীল কাজের সঙ্গে যুক্ত করা জরুরি। পাশপাশি নিয়মিত খেলাধুলোর অভ্যাস তৈরি করাও প্রয়োজন। এতে একাধিক শারীরিক ও মানসিক জটিলতা কমবে। মস্তিষ্কের বিকাশের কাজ সহজ হবে। অভিভাবকদের জন্য তাঁদের পরামর্শ, খেলাধুলো, গান, নাচ, আঁকা, সাঁতার বা অন্য পছন্দের কাজে অংশ নিতে উৎসাহিত করতে হবে। ডাউন সিনড্রোম আক্রান্তকে অন্য শিশুদের সঙ্গে মেলামেশার সুযোগ গড়ে দিতে হবে। যাতে তাদের আত্মবিশ্বাস ও সামাজিক যোগাযোগের দক্ষতা বাড়ে।

    ডাউন সিনড্রোম আক্রান্তের জন্য সরকারি সহযোগিতা কি রয়েছে?

    স্বাস্থ্য প্রশাসনের কর্তারা জানাচ্ছেন, সন্তান ডাউন সিনড্রোম আক্রান্ত হলে, রোগ নির্ণয়ের উপযুক্ত তথ্য সহ নিজের জেলার সরকারি মেডিক্যাল কলেজ বা জেলা হাসপাতালের প্রতিবন্ধকতা মূল্যায়ন বিভাগে অভিভাবকদের যোগাযোগ করতে হবে। তাহলে প্রয়োজনীয় নথি পরীক্ষার পরে জেলা সমাজকল্যাণ দফতর বা District Disability Rehabilitation Centre (DDRC) থেকে যোগাযোগ করা হবে। প্রয়োজনীয় শংসাপত্র দেওয়া হবে। যা থেকে বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন মানুষ হিসাবে ডাউন সিনড্রোম আক্রান্ত নানান সামাজিক প্রকল্পের সুযোগ ও সুবিধা পাবেন‌। সরকারের তরফে নানান প্রকল্প রয়েছে। যেখানে বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন মানুষদের সম্মানের সঙ্গে বাঁচার পথ সহজ হয়।

     

     

    DISCLAIMER: এই প্রতিবেদনটি বিশেষজ্ঞদের মতামত অনুযায়ী লেখা। এর সঙ্গে মাধ্যম-এর কোনও সম্পর্ক নেই। মাধ্যম এর কোনও দায় নিচ্ছে না। এখানে বলা যে কোনও উপদেশ পালন করার আগে অবশ্যই কোনও চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নিন।
  • Durga Puja Health Tips: দুর্গাপুজোয় প্যান্ডেলে প্যান্ডেলে ঘোরা, শিশুর শরীরে বাসা বাঁধতে পারে ৪ সংক্রমণ! কীভাবে সতর্ক থাকবেন?

    Durga Puja Health Tips: দুর্গাপুজোয় প্যান্ডেলে প্যান্ডেলে ঘোরা, শিশুর শরীরে বাসা বাঁধতে পারে ৪ সংক্রমণ! কীভাবে সতর্ক থাকবেন?

    তানিয়া বন্দ্যোপাধ্যায় পাল

    ঢাকে কাঠি পড়ে গিয়েছে। পশ্চিমবঙ্গ জুড়ে উৎসবের মেজাজ। উত্তর থেকে দক্ষিণ, কলকাতা থেকে জেলা, সর্বত্র দূর্গা পুজোর শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতি। কিন্তু তারমাঝেই চিকিৎসকেরা জানাচ্ছেন, আনন্দের এই তাল কাটাতে পারে সংক্রামক রোগ! তাই সামান্য অসচেতনতাও বড় বিপদ ঘটাতে পারে। বিশেষত, শিশু স্বাস্থ্যে বাড়তি নজরদারি প্রয়োজন। সন্তানের স্বাস্থ্যে সামান্য অবহেলাও বড় ভোগান্তির কারণ হয়ে উঠতে পারে।

    কোন সংক্রমণের আশঙ্কা করছেন চিকিৎসকেরা?

    ঋতু পরিবর্তনের সময়ে ভাইরাসঘটিত অসুখের দাপট!

    চিকিৎসকেরা জানাচ্ছেন, এই মরশুমে ভাইরাস ঘটিত অসুখের দাপট সবচেয়ে বেশি থাকে। বর্ষার মরশুম সবে শেষ হয়েছে। তবে আবহাওয়া শুষ্ক। সূর্যের তাপে দিনের বেলা বেশ গরম ভাব রয়েছে। কিন্তু রাত বাড়লে কিংবা ভোরের দিকে আবহাওয়া অনেকটাই বদলে যাচ্ছে। এর ফলে আবহাওয়ার তারতম্য দেখা দিচ্ছে। তাপমাত্রার এই রকমফেরের জেরে বাতাসে একাধিক ভাইরাসের দাপট বাড়ছে। এর জেরে ভাইরাস ঘটিত অসুখের প্রকোপ বৃদ্ধির আশঙ্কা থাকছে।

    ফুসফুসের সংক্রমণের ঝুঁকি বাড়তে পারে!

    দুর্গাপুজো মানেই ভিড়! একসঙ্গে অনেকে মিলে আনন্দ উদযাপন। কিন্তু ভিড় থেকেই একাধিক সংক্রমণ ছড়ানোর আশঙ্কা ও থাকে।‌ বিশেষত শিশুদের সংক্রামিত হওয়ার আশঙ্কা বেশি থাকে। এমনটাই জানাচ্ছেন শিশুরোগ বিশেষজ্ঞদের একাংশ। তাঁরা জানাচ্ছেন, ভিড় এলাকায় হাঁচি-কাশির মাধ্যমে রোগ সংক্রামিত হতে পারে। বিশেষত ফুসফুসের সংক্রমণের ঝুঁকি বাড়ে। বিশেষত যেসব শিশুরা হাঁপানি বা অন্যকোনো শ্বাসকষ্ট জনিত সমস্যায় আক্রান্ত, তাদের বাড়তি সাবধানতা জরুরি।

    ডায়রিয়া বা পেটের সংক্রমণ!

    উৎসবের দিনগুলোতে সকলেই কমবেশি অন্যরকম খাওয়া দাওয়া করেন। চিকিৎসকদের একাংশ জানাচ্ছেন, তাই এই সময়ে পেটের সংক্রমণের ঝুঁকি বেড়ে যায়। অনেকেই রঙিন জলের সরবত, লাগাতার ঠান্ডা পানীয় খেতে পছন্দ করে। শিশুদের এই ধরনের খাবারে বাড়তি আকর্ষণ থাকে। ফলে, তাদের জন্য বিপদ বেড়ে যায়। অনেক সময়েই সরবতের জল পরিশ্রুত থাকে না। তাই ডায়রিয়ার মতো পেটের অসুখের ঝুঁকি বেড়ে যায়।

    মশাবাহিত সংক্রমণের ঝুঁকি!

    চিকিৎসকেরা জানাচ্ছেন, উৎসবের দিনগুলোতেও মশাবাহিত রোগের ঝুঁকি কোনো ভাবেই অবহেলা করা যাবে না। রাজ্য জুড়ে ডেঙ্গির প্রকোপ রয়েছে। ইতিমধ্যেই আক্রান্তের সংখ্যা দশ হাজারের কাছাকাছি। তার সঙ্গে ম্যালেরিয়া সহ একাধিক মশাবাহিত রোগে আক্রান্তের খবর পাওয়া যাচ্ছে। তাই শিশুদের বাড়তি যত্ন জরুরি। উৎসবের দিনগুলোতেও যেন শিশুদের এই ধরনের সংক্রমণ না হয়, তার জন্য সমস্ত রকমের ব্যবস্থা করতে হবে।

    কীভাবে রোগ প্রতিরোধের পরিকল্পনা করবেন?

    চিকিৎসকেরা জানাচ্ছেন, কয়েকটি দিকে বাড়তি নজর রাখলেই একাধিক বিপদ আটকানো সহজ হয়। বিশেষত পাঁচ বছরের কম বয়সী শিশুদের ক্ষেত্রে বাড়তি সতর্কতা জরুরি। তবে অযথা আতঙ্ক নয়। সচেতনতা এবং সতর্কতাই সমস্ত বিপদ আটকাতে সাহায্য করে।

    বাড়ি থেকে বাইরে যাওয়ারা আগে পর্যাপ্ত খাবার খাওয়ানো!

    দুর্গাপুজো মানেই এক প্যান্ডেল থেকে আরেক প্যান্ডেল প্রতিমা দর্শন। তবে, বাড়ি থেকে বেরোনোর আগে সন্তানকে পেট ভরে খাইয়ে যাওয়ার পরামর্শ দিচ্ছেন বিশেষজ্ঞরা। তাঁরা জানাচ্ছেন, বাইরের খাবার এড়িয়ে চললে একাধিক রোগ মোকাবিলা সহজ হয়। ভারি খাবার খেয়ে বাইরে গেলে, লাগাতার স্ন্যাক্স বা ভাজা জাতীয় খাবার খাওয়ার ইচ্ছে কমে। এর ফলে শরীরে ক্ষতিকারক তেল মশলা কম যাবে, পুষ্টির ঘাটতি হবে না। হজমের সমস্যা ও পেটের অসুখের ঝুঁকি কমবে।

    সঙ্গে পানীয় জল রাখা আবশ্যিক!

    শিশুকে নিয়ে বাইরে যাওয়ার সময় পর্যাপ্ত পরিমাণ পানীয় জল রাখতে হবে। এমনটাই পরামর্শ দিচ্ছেন বিশেষজ্ঞরা। তাঁরা জানাচ্ছেন, এই আবহাওয়ায় বাইরে থাকলে পর্যাপ্ত পরিমাণ জল খাওয়া জরুরি। কারণ সূর্যের তাপে যথেষ্ট গরম লাগছে, ঘাম হচ্ছে। আবহাওয়া শুষ্ক। শরীরে জলের ঘাটতি হলে ডিহাইড্রেশনের ঝুঁকি তৈরি হতে পারে। আবার অপরিশ্রুত জল খেলে ডায়রিয়ার মতো রোগের ঝুঁকি দেখা দিতে পারে। লিভারের নানান সংক্রামক রোগ হতে পারে। তাই সব সময় পানীয় জল সঙ্গে রাখতে হবে। যাতে শিশু পরিশ্রুত জল খেতে পারে।

    ভিড় এলাকায় মাস্ক ব্যবহার জরুরি!

    ভিড় এলাকায় যাওয়ার সময় মাস্ক ব্যবহার জরুরি। বিশেষত শিশুদের মাস্ক পরানোর অভ্যাস থাকা প্রয়োজন। চিকিৎসকেরা জানাচ্ছেন, ভাইরাস ঘটিত অসুখ কিংবা ফুসফুসের সংক্রমণের ঝুঁকি কমাতে মাস্কের ব্যবহার খুবই কার্যকরী। এতে হাঁচি কাশি হলেও রোগ সংক্রমণের ঝুঁকি কমে।

    হাত পরিষ্কারে বাড়তি নজর!

    চিকিৎসকেরা জানাচ্ছেন, হাত পরিষ্কার করার দিকে বাড়তি নজরদারি প্রয়োজন। তাঁরা জানাচ্ছেন, সাবান দিয়ে হাত পরিষ্কার করার অভ্যাস তৈরি করতে হবে। বাইরে থেকে ফেরার পরে, খাবার খাওয়ার আগে এবং পরে কিংবা শৌচালয় থেকে বেরনোর পরে সন্তানের হাত পরিষ্কার কিনা সেদিকে নজর রাখতে হবে। বারবার সাবান দিয়ে হাত পরিষ্কার করাতে হবে। এতে নানান জীবাণু বাহিত অসুখের ঝুঁকি কমানো সম্ভব হয়।

    চিকিৎসকের পরামর্শে বাড়তি পরিকল্পনা!

    শিশুর সুস্বাস্থ্যের জন্য বাড়তি কী কী করণীয় সে সম্পর্কে অভিভাবকদের স্পষ্ট ধারণা থাকা জরুরি। তাই সন্তানকে নিয়মিত যে চিকিৎসক দেখেন, তার পরামর্শ নেওয়া প্রয়োজন। শিশুরোগ বিশেষজ্ঞদের একাংশ জানাচ্ছেন, অনেক সময়েই পুজোর দিনগুলোতে চিকিৎসককে সব সময় পাওয়া যায় না। তাই আগাম কী ধরনের সতর্কতা ও পরিকল্পনা জরুরি সে সম্পর্কে কথা বলে রাখতে হবে। তাহলে জরুরি পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করা সহজ হবে।

     

    DISCLAIMER: এই প্রতিবেদনটি বিশেষজ্ঞদের মতামত অনুযায়ী লেখা। এর সঙ্গে মাধ্যম-এর কোনও সম্পর্ক নেই। মাধ্যম এর কোনও দায় নিচ্ছে না। এখানে বলা যে কোনও উপদেশ পালন করার আগে অবশ্যই কোনও চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নিন।
  • ADHD in children: বকুনি দিয়েও ‘দুষ্টু’ সন্তানকে সামলাতে পারছেন না? এই লক্ষণগুলি দেখলে সতর্ক হোন অভিভাবকরা

    ADHD in children: বকুনি দিয়েও ‘দুষ্টু’ সন্তানকে সামলাতে পারছেন না? এই লক্ষণগুলি দেখলে সতর্ক হোন অভিভাবকরা

    তানিয়া বন্দ্যোপাধ্যায় পাল

    দিনভর শুধুই দৌড়াদৌড়ি, পড়তে বসতে চায় না! যদিও বা ছবি আঁকতে বসে, অতিরিক্ত চঞ্চলতার জন্য রঙ করতেও শিখতে পারছে না! নিত্যদিন স্কুল থেকেও নানান অভিযোগ, বন্ধুদের সঙ্গে খেলার সময় হঠাৎ রেগে যায়, এমনকি মারামারি শুরু হয়ে যায়! এমনি ‘দুষ্টু’ সন্তানকে নিয়ে নাজেহাল হন বহু বাবা-মা! বকুনি দিয়েও তাদের কাবু করা যায় না! আবার পড়াশোনায় মনোযোগ না থাকায় ‘অলস’ তকমাও জোটে। কিন্তু চিকিৎসকদের একাংশ জানাচ্ছেন, সন্তানকে কি সত্যিই অলস বা নিছক দুষ্টু! নাকি সন্তানের এমন আচরণের নেপথ্যে রয়েছে নিউরোডেভালপমেন্টাল ইস্যু! সচেতনতা আর সতর্কতা না বাড়ালে আসলে সন্তানের ভয়ঙ্কর ক্ষতিও হতে পারে।

    কোন সমস্যার ইঙ্গিত দিচ্ছেন বিশেষজ্ঞরা?

    চিকিৎসকেরা জানাচ্ছেন, শিশুর একাধিক মস্তিষ্কের বিকাশজনিত জটিলতা তৈরি হতে পারে। সেরকম একধরনের সমস্যা হলো এডিএইচডি। চিকিৎসা বিজ্ঞানের ভাষায় যার পুরো নাম, Attention-Deficit/Hyperactivity Disorder. যা একধরনের স্নায়বিক বিকাশজনিত সমস্যা।‌ অর্থাৎ, মস্তিষ্কের বিকাশের সমস্যা থাকলে শিশুর আচরণে সেটা প্রকাশ পায়। অতিরিক্ত চঞ্চলতা, মনোযোগের অভাব, হঠাৎ করেই মারামারি করা, বন্ধু বা শিক্ষকদের সঙ্গে খারাপ আচরণ করার মতো সমস্যা দেখা যায়। যা নিছক দুষ্টুমি বা অলসতা নয়।

    কীভাবে বুঝবেন সন্তান এই সমস্যায় আক্রান্ত?

    চিকিৎসকেরা জানাচ্ছেন সন্তান অতিরিক্ত চঞ্চল বা মনযোগের অভাব রয়েছে মানেই কিন্তু এডিএইচডি আক্রান্ত নয়। বরং এই সমস্যার কিছু স্পষ্ট দিক রয়েছে। অভিভাবকদের সে সম্পর্কে সতর্ক থাকা জরুরি। তবেই এই সমস্যা সহজে চিহ্নিত হবে এবং শিশুর সুন্দর জীবন যাপন সম্ভব হবে।

    বয়সের সঙ্গে সঙ্গে আচরণ কেমন!

    মনোরোগ বিশেষজ্ঞদের একাংশ জানাচ্ছেন, দুই-তিন বছরের শিশু পড়তে বসতে চাইছে না। খেলাধূলো করতে চাইছে, এগুলো খুব স্বাভাবিক ব্যবহার। ভারতে বর্তমানে অধিকাংশ শিশুদের আড়াই থেকে তিন বছর বয়সের মধ্যে প্রাক প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ভর্তি করানো‌ হয়। ওই বয়সীরা অনেকেই লিখতে চায় না, কিংবা মনোযোগ দিয়ে পড়াশোনা করতে পারে না। তাদের সেই আচরণ স্বাভাবিক। তবে, পাঁচ-ছ বছর বয়সেও যদি পড়াশোনার প্রতি তীব্র অনীহা , অমনোযোগীভাব স্পষ্ট হয়, তাহলে অভিভাবকদের সতর্ক হতে হবে।

    কখনওই একজায়গায় বসতে না চাওয়া!

    মনোরোগ বিশেষজ্ঞদের একাংশ জানাচ্ছেন, কখনোই একজায়গায় বসতে না চাওয়া, যেকোনো ছোটো ছোটো কাজ যেমন রঙ করা, ছবি আঁকা কিংবা বসে গল্প শোনার সময়েও যদি সন্তান লাগতার ঘোরাঘুরি করে, একদম বসতে না চায়, তাহলে বুঝতে হবে তার স্নায়বিক জটিলতা থাকতে পারে।

    দৈনন্দিন সহজ কাজেও অনীহা!

    প্রতিদিনের কোনো কাজ সন্তান করতে চায় না। বারবার বলার পরেও স্নান করা, পোশাক পরিবর্তনের কাজেও দীর্ঘ সময় লাগলে বুঝতে হবে, তার কোনো সমস্যা রয়েছে।

    হঠকারী আচরণের নেপথ্যে নজর!

    তবে, যে আচরণ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, সেটা হল, হঠাৎ করেই হঠকারী সিদ্ধান্ত নেওয়া। অর্থাৎ, হঠাৎ একজন শিশু আরেকজনকে মারতে শুরু করলো, কামড়ে দিতে যাচ্ছে কিংবা একটা সুন্দর জিনিস ভেঙে ফেলে দিলো, এই ধরনের আচরণ করলে বাড়তি গুরুত্ব দেওয়া দরকার।

    প্রয়োজনীয় পরীক্ষা জরুরি!

    তবে, শিশুর এই আচরণের নেপথ্যে এডিএইচডি সমস্যা রয়েছে কিনা সেটা নিশ্চিত করতে কিছু নির্দিষ্ট পরীক্ষা জরুরি। বিশেষজ্ঞের পরামর্শ মতো, নির্দিষ্ট কিছু স্নায়বিক এবং মনস্তাত্ত্বিক পরীক্ষার মাধ্যমে শিশুর এই সমস্যা সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া যায়।

    অসচেতনতা কেন বিপদ বাড়াচ্ছে?

    চিকিৎসকেরা জানাচ্ছেন, সন্তানের আচরণের নেপথ্যে আসল কারণ কী এই সম্পর্কে জানতে না পারলে, শিশুর আচরণ দিনের পর দিন আরও খারাপ হবে। এতে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে যাবে। অতিরিক্ত বকাবকির ফলে তার মানসিক চাপ তৈরি হবে। এতে আচরণে আরও নানান সমস্যা দেখা দেবে‌।

    কীভাবে এই সমস্যা মোকাবিলা করবেন?

    অক্টোবর মাস এডিএইচডি সচেতনতা মাস। এ বছরের সচেতনতার মূল বিষয়, পরিবারের পাশপাশি সমাজের সব মহলেই এডিএইচডি আক্রান্তের পাশে থাকতে হবে। তবেই তারা সুস্থ জীবন যাপন করতে হবে।‌

    প্রয়োজনীয় থেরাপি করানো দরকার!

    চিকিৎসকেরা জানাচ্ছেন, সন্তান এই সমস্যায় আক্রান্ত নিশ্চিত হওয়ার পরে মনোরোগ বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ মতো প্রয়োজনীয় থেরাপি করাতে হবে। যাতে শিশুর এই সমস্যা নিয়ন্ত্রণে থাকে।

    দায়িত্ব সম্পর্কে ধারণা তৈরি!

    নিয়মিত তাকে বিভিন্ন কাজের সঙ্গে যুক্ত রাখতে হবে। পড়াশোনার পাশাপাশি তাকে বাড়ির ছোটো ছোটো কাজ ও দায়িত্ব দিতে হবে। যেমন জল ভরা, গাছে জল দেওয়ার মতো নানান কাজের দায়িত্ব দিতে হবে, যাতে সে দায়িত্ব সম্পর্কে ধারণা করতে পারে আবার নিয়মিত কাজ সময় মতো করতেও শেখে।

    রুটিনমাফিক জীবন যাপনে অভ্যস্ত করা!

    তাকে দৈনন্দিন জীবন যাপনে নিয়মানুবর্তিতা শেখানো জরুরি। তাই নির্দিষ্ট সময়ে ঘুম থেকে ওঠা, ঘুমোতে যাওয়া এবং খাওয়া এগুলো করতে হবে। তাহলে সে সময় মতো কাজ করা সম্পর্কেও ধারণা তৈরি করতে পারবে।

    একসঙ্গে অতিরিক্ত পড়ার চাপ না দেওয়া!

    একসঙ্গে অনেক পড়ার চাপ নয়। বরং এক ঘণ্টা পড়া এবং আধঘণ্টা খেলাধুলা এই ভাবে পড়াতে হবে। তাহলে মনোযোগের সমস্যা ধীরে ধীরে কমবে।

    খেলাধুলার জন্য সময় বরাদ্দ করা!

    প্রতিদিন কিছু এমন খেলার সঙ্গে যুক্ত করতে হবে, যাতে শারীরিক কসরত হয়। যেমন সাঁতার কাটা, সাইকেল চালানো, ফুটবল খেলা! তাহলে এই শিশুদের উত্তেজনা নিয়ন্ত্রণ সহজ হয়‌। আবার ঘুম ভালো হয়। স্নায়বিক জটিলতা কমানোর জন্য নিয়মিত পর্যাপ্ত ঘুম জরুরি।

    স্কুলের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ!

    তবে, অভিভাবকদের স্কুল কর্তৃপক্ষকে সন্তানের সমস্যা সম্পর্কে জানানো জরুরি। নিয়মিত স্কুলের সঙ্গে ও যোগাযোগ রাখতে হবে। কারণ, শিশু দিনের একটা বড় সময় স্কুলে কাটায়। তাকে ভয় দেখানো বা শাস্তি দেওয়া বা সকলের সামনে অবহেলা করা নয়। বরং, তার সমস্যা বুঝে, ধীরে ধীরে পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার চেষ্টা করলেই এডিএইচডি আক্রান্তের জীবন যাপন সহজ হবে।

     

    DISCLAIMER: এই প্রতিবেদনটি বিশেষজ্ঞদের মতামত অনুযায়ী লেখা। এর সঙ্গে মাধ্যম-এর কোনও সম্পর্ক নেই। মাধ্যম এর কোনও দায় নিচ্ছে না। এখানে বলা যে কোনও উপদেশ পালন করার আগে অবশ্যই কোনও চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নিন।
  • Chandipura Virus: গুজরাটে বহু শিশুর মৃত্যু, দেশজুড়ে উদ্বেগ! কী এই চাঁদিপুরা ভাইরাস? জানুন লক্ষণ, ঝুঁকি ও সতর্কতা

    Chandipura Virus: গুজরাটে বহু শিশুর মৃত্যু, দেশজুড়ে উদ্বেগ! কী এই চাঁদিপুরা ভাইরাস? জানুন লক্ষণ, ঝুঁকি ও সতর্কতা

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: বর্ষার মরশুমে সামান্য জ্বর আর সর্দিতে কমবেশি সকলেই ভোগেন। পরিবারের খুদে সদস্যের জ্বর বা সর্দি হলেও তাই অভিভাবকেরা হালকা ভাবেই নেন। কিন্তু চিকিৎসকদের একাংশ জানাচ্ছেন, সম্প্রতি এক ভাইরাসের দাপটে আতঙ্ক বাড়ছে। বর্ষার মরশুমে জ্বর-সর্দি-কাশি হলেও বাড়তি নজরদারি জরুরি। কারণ, দেশজুড়ে দাপট বাড়াচ্ছে চাঁদিপুরা ভাইরাস! তাই বাড়তি সতর্কতা প্রয়োজন।

    চাঁদিপুরা ভাইরাস কী?

    চাঁদিপুরা ভাইরাস একটি বিরল এবং বিপজ্জনক ভাইরাস। বিশেষজ্ঞরা জানাচ্ছেন, এটা ১৯৬৫ সালে মহারাষ্ট্রের চাঁদিপুর এলাকায় প্রথম দেখা গিয়েছিলো। এই ভাইরাসে আক্রান্ত হলে মস্তিষ্ক এবং স্নায়ুতন্ত্রের উপরে গভীর প্রভাব পড়ে।

    কেন চাঁদিপুরা ভাইরাস আতঙ্ক বাড়াচ্ছে?

    সম্প্রতি গুজরাট এবং মহারাষ্ট্রে চাঁদিপুরা ভাইরাসের দাপট দেখা গিয়েছে। প্রশাসনের তরফে জানানো হয়েছে, গুজরাটে ২২ জন শিশু এই ভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে মারা গিয়েছে। মহারাষ্ট্রেও এই ভাইরাসের সংক্রমণের দাপট বাড়ছে। তাই দেশ জুড়ে সতর্কতা থাকার পরামর্শ দিচ্ছেন বিশেষজ্ঞরা। তাঁরা জানাচ্ছেন, প্রথম থেকেই এই বিপজ্জনক ভাইরাস থেকে সতর্ক না হলে সমস্যা তৈরি হতে পারে।

    কাদের ঝুঁকি বেশি?

    চিকিৎসকেরা জানাচ্ছেন, চাঁদিপুরা ভাইরাসে মূলত শিশুরাই আক্রান্ত হয়। ১৫ বছরের কম বয়সি ছেলেমেয়েদের এই ভাইরাসে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি বেশি থাকে। সাম্প্রতিক সময়েও গুজরাট এবং মহারাষ্ট্রে এই ভাইরাসে আক্রান্তেরা সকলেই ১৫ বছরের কম বয়সি। তাই শিশুদের বাড়তি সতর্ক থাকার পরামর্শ দিচ্ছেন চিকিৎসকেরা।

    কীভাবে এই সংক্রমণ ঘটে?

    চিকিৎসকেরা জানাচ্ছেন, বালির মাছি বা স্যান্ড ফ্লাই থেকে চাঁদিপুরা ভাইরাসের সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়ে। গুজরাট এবং মহারাষ্ট্রের যে অঞ্চলে এই রোগের প্রকোপ বেশি দেখা গিয়েছে, সেখানে স্যান্ড ফ্লাইয়ের দাপট বেশি। তবে যে কোনও রকম পোকা, যা মানুষকে সহজে কামড়াতে পারে, কামড়ে রক্ত বেরিয়ে যায়, এই ধরনের পোকার মাধ্যমে মানুষ এই ভাইরাস সংক্রমণের শিকার হতে পারেন‌। তবে বিশেষজ্ঞরা জানাচ্ছেন, একজনের দেহ থেকে আরেক জনের দেহে দ্রুত এই সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়ে না। তাই সতর্ক থাকলে মহামারির ঝুঁকি হবে না।

    কেন বাড়তি আতঙ্ক এই ভাইরাসে?

    শিশুরোগ বিশেষজ্ঞেরা জানাচ্ছেন, চাঁদিপুরা ভাইরাস স্নায়ু ও মস্তিষ্কের উপরে প্রভাব ফেলে। আক্রান্তের মস্তিষ্কের কার্যক্ষমতা চলে যায়। স্নায়বিক জটিলতা তৈরি হয়। রোগ নির্ণয় হলেও চিকিৎসা অত্যন্ত জটিল। তাঁরা জানাচ্ছেন, চাঁদিপুরা ভাইরাসের নির্দিষ্ট কোনও অ্যান্টিবায়োটিক নেই। নির্দিষ্ট কোনও চিকিৎসা পদ্ধতিও নেই। তবে আক্রান্তের উপসর্গ কমানোর চেষ্টা করা হয়। মস্তিষ্কের সক্রিয়তা যাতে বন্ধ না হয়, সেদিকে খেয়াল রাখা হয়। আর স্নায়বিক জটিলতা কমানোর চেষ্টা চলে। এই রোগের নির্দিষ্ট চিকিৎসা এবং ওষুধ না থাকার জেরেই এই রোগ নিয়ে বাড়তি উদ্বিগ্ন চিকিৎসক মহল।

    কী পরামর্শ দিচ্ছেন চিকিৎসকেরা?

    চিকিৎসকেরা জানাচ্ছেন, এই ধরনের সংক্রামক রোগ রুখতে সচেতনতা জরুরি। সন্তানের জ্বর হলে তার বাড়তি খেয়াল রাখতে হবে। জ্বরের সঙ্গে খিঁচুনি, বার বার বমি হওয়া, অতিরিক্ত ক্লান্তি বোধ করছে কিনা কিংবা স্নায়বিক কোনও জটিলতা দেখা দিচ্ছে কিনা সেদিকে নজরদারি প্রয়োজন। জ্বরের সঙ্গে খিঁচুনি বা জ্ঞান হারানোর মতো উপসর্গ দেখা দিলে আর দেরি করা যাবে না। বরং দ্রুত হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া জরুরি। চিকিৎসকেরা জানাচ্ছেন, এই রোগের নির্দিষ্ট ওষুধ নেই।‌ তাই যাতে শরীরের অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গ সক্রিয় থাকে, তাই আগাম চিকিৎসা শুরু জরুরি। না হলে বড় বিপদ হয়ে যেতে পারে। বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ, এই মরশুমে রোগ থেকে বাঁচতে হাত ও পা ঢাকা জামা কাপড় পরা জরুরি। কোনও রকম পোকা যাতে কামড়াতে না পারে, সেদিকেও‌ খেয়াল রাখতে হবে। রাতে মশারি টাঙিয়ে ঘুমোনোর পরামর্শ দিচ্ছেন বিশেষজ্ঞরা।

  • Hepatitis in India: হেপাটাইটিস আক্রান্তের নিরিখে বিশ্বে দ্বিতীয় স্থান ভারতের! টিকাকরণে ঘাটতিই কি বড় কারণ?

    Hepatitis in India: হেপাটাইটিস আক্রান্তের নিরিখে বিশ্বে দ্বিতীয় স্থান ভারতের! টিকাকরণে ঘাটতিই কি বড় কারণ?

    তানিয়া বন্দ্যোপাধ্যায় পাল

    ক্রমশ বাড়ছে উদ্বেগ। সদ্যোজাত ও শিশুদের মধ্যে লিভারের রোগের দাপট বাড়ছে‌। বিশেষত দীর্ঘমেয়াদি এবং সংক্রামক লিভারের রোগের প্রকোপ বাড়ছে। তাই উদ্বেগ আরও বেশি। ওয়ার্ল্ড হেপাটাইটিস ডে-তে তাই চিকিৎসকেরা জানাচ্ছেন, সামাজিক সচেতনতার হার না বাড়ালে এবং স্বাস্থ্য সতর্ক না হলে আগামী দিনে আরও বড় বিপদ হতে পারে। তাঁরা আরেকটি মহামারির আশঙ্কা করছেন।
    ভারতে ক্রমশ বাড়ছে হেপাটাইটিস রোগের দাপট। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা এবং একাধিক আন্তর্জাতিক সমীক্ষায় দেখা গিয়েছে, হেপাটাইটিস আক্রান্তের নিরিখে ভারত বিশ্বের মধ্যে দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে। গত এক দশকে ভারতে হেপাটাইটিস বি এবং হেপাটাইটিস সি রোগের প্রকোপ বেড়েছে। উল্লেখযোগ্য হারে আক্রান্তের সংখ্যা পাওয়া যাচ্ছে। হেপাটাইটিস এ এবং অন্যান্য হেপাটাইটিস সারিয়ে তোলা সহজ। কিন্তু হেপাটাইটিস বি এবং সি হলো দীর্ঘমেয়াদি রোগ। সংক্রমণ ছড়ানোর ক্ষমতা অনেক বেশি।

    মিলিয়েনিয়াম প্রজন্মের টিকাকরণে ঘাটতি বিপদ বাড়িয়েছে?

    চিকিৎসকদের একাংশ জানাচ্ছেন, ভারতে হেপাটাইটিস বি এবং সি রোগে আক্রান্তের একটা বড় অংশ শিশু এবং সদ্যোজাত। অধিকাংশ আক্রান্ত তার মায়ের শরীর থেকে এই রোগে সংক্রামিত হয়েছেন। আবার অনেকের দীর্ঘদিন পরে রোগ চিহ্নিত হয়েছে। উপসর্গ বিশেষ না থাকায়, তাঁরা স্বাস্থ্য অবহেলা করেছেন। যার ফলে পরবর্তী কালে রোগ আরও জটিল আকার নিয়েছে।
    বিশেষজ্ঞদের মতে, টিকাকরণে ঘাটতি ভারতে হেপাটাইটিসের বোঝা বাড়াচ্ছে। তাঁরা জানাচ্ছেন, কুড়ি-পঁচিশ বছর আগে ভারতে হেপাটাইটিসের টিকাকরণের হার একদম কম ছিল। এখন যাদের পঁচিশ -তিরিশ বছর বয়স, তাঁদের অনেকেই হেপাটাইটিস বি-র টিকাকরণ হয়নি। এখন গোটা দেশ জুড়ে শিশুদের জন্মের পরে হেপাটাইটিসের টিকা দেওয়া হয়। কিন্তু আগের প্রজন্মের অনেকের এই টিকা দেওয়া হয়নি। এর ফলে, তাদের মধ্যে এই রোগের প্রকোপ দেখা দিচ্ছে। আর হেপাটাইটিস বি এবং সি-র মতো রোগ সহজেই মায়ের শরীর থেকে গর্ভস্থ শিশুর শরীরে সংক্রামিত হয়। তাই বর্তমানে ভারতে শিশুদের মধ্যে হেপাটাইটিসের দাপট দেখা দিচ্ছে।
    পাশপাশি প্রাপ্ত বয়স্কদের টিকাকরণের হার এ দেশে এখনো উল্লেখযোগ্য ভাবে কম। স্বাস্থ্য মন্ত্রকের তথ্য অনুযায়ী, ভারতে প্রাপ্ত বয়স্কদের হেপাটাইটিস টিকাকরণের হার মাত্র ৩ শতাংশ। হেপাটাইটিসের প্রকোপ বাড়ার নেপথ্যে এটাও অন্যতম কারণ বলেই মনে করছেন চিকিৎসকেরা। তাঁরা জানাচ্ছেন, টিকাকরণের হার না বাড়লে এই রোগের দাপট আটকানো কঠিন হয়ে যাবে।

    কীভাবে রোগ নির্ণয় হয়?

    চিকিৎসকদের একাংশ জানাচ্ছেন, কয়েকটি উপসর্গ সম্পর্কে সজাগ থাকলেই রোগ নির্ণয় সহজ হয়। তাঁরা জানাচ্ছেন, লিভারে এই রোগ সংক্রামিত হলে, বমি ভাব, খিদে কমে যাওয়া, পেটের ডান দিকে ব্যথা হওয়া, ক্লান্তি ভাব দেখা দেবে। এই ধরনের উপসর্গ দেখা দিলে অবহেলা করা উচিত নয়। বরং, চিকিৎসকদের পরামর্শ নেওয়া প্রয়োজন। নির্দিষ্ট উপায়ে রক্ত পরীক্ষা করালে হেপাটাইটিস রোগ চিহ্নিত করা যায়। এর দ্রুত চিকিৎসাও করা যায়। চিকিৎসকেরা জানাচ্ছেন, হেপাটাইটিস রোগ দীর্ঘমেয়াদি হলে লিভারের কার্যক্ষমতা সম্পূর্ণ চলে যেতে পারে। সিরোসিস হতে পারে। জীবন সংশয় ও দেখা দিতে পারে। তাই এই ধরনের রোগকে একেবারেই অবহেলা করা উচিত নয়।

    হেপাটাইটিস বি এবং সি নিয়ে কেন বাড়তি উদ্বেগ?

    চিকিৎসকদের একাংশ জানাচ্ছেন, হেপাটাইটিস এ সাধারণত জলবাহিত রোগ। বর্ষার মরশুমে এই সংক্রামক রোগের দাপট বাড়ে। দূষিত জল থেকেই এই রোগ হয়। কিন্তু হেপাটাইটিস বি এবং সি আরও বেশি জটিল। এই রোগ একাধিক কারণে হতে পারে। মায়ের শরীর থেকে শিশুর শরীরে সংক্রামিত হওয়া ছাড়াও, এই রোগ রক্ত এবং যৌন সংস্পর্শ থেকেও ছড়াতে পারে। বিশেষজ্ঞরা জানাচ্ছেন, হেপাটাইটিস বি চিকিৎসায় সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ, এই রোগ কোনো উপসর্গ ছাড়াই দীর্ঘদিন আক্রান্তের শরীরে থাকতে পারে। যখন রোগ নির্ণয় হয়, তখন অনেক দেরি হয়ে যায়। ফলে চিকিৎসা আরও জটিল হয়ে যায়।

    হেপাটাইটিসের দাপট ঠেকাতে কী পরামর্শ দিচ্ছেন বিশেষজ্ঞরা?

    ২৮ জুলাই ওয়ার্ল্ড হেপাটাইটিস ডে! এই উপলক্ষে দেশ জুড়ে একাধিক কর্মসূচি পালন করা হচ্ছে। সামাজিক সচেতনতা বৃদ্ধি হেপাটাইটিসের মতো রোগ আটকানোর মূল হাতিয়ার বলে জানাচ্ছেন চিকিৎসকেরা। বিশেষজ্ঞরা জানাচ্ছেন, ভারতে প্রায় আড়াই কোটি মানুষ হেপাটাইটিস বি রোগে আক্রান্ত। প্রতি বছর এ দেশে ৫৫ লাখ মানুষ হেপাটাইটিস সি রোগে আক্রান্ত হন। ভারতে হেপাটাইটিসের দাপট ঠেকাতে মূল হাতিয়ার টিকাকরণ। এ দেশে হেপাটাইটিস বি এবং সি রোগের দাপট বেড়েছে। তাই লিভারের এই সংক্রামক রোগ ঠেকাতে টিকা করণ জরুরি। শিশুদের টিকা দেওয়ার পাশপাশি প্রাপ্ত বয়স্কদের টিকাকরণে জোর দিতে হবে। তাঁদের পরামর্শ, প্রাপ্ত বয়স্কদের টিকাকরণ না হলে হেপাটাইটিসের এই বোঝা ভারতে বাড়তে পারে। হেপাটাইটিস বি নিঃশব্দে মহামারির আকার নিতে পারে। তাছাড়া লিভার সুস্থ রাখতে স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভাসে জোর দিতে হবে। আবার মদ্যপানের অভ্যাস ছাড়তে হবে। কারণ দেশ জুড়ে মদ্যপানে আসক্তি বাড়ছে। যা লিভারের একাধিক সংক্রমণের কারণ হয়ে উঠছে।

  • Juvenile Arthritis: খেলতে গিয়ে হাঁটতে কষ্ট, বারবার জ্বর? অবহেলা করবেন না, শিশুর হাড়েও বাসা বাঁধতে পারে আর্থারাইটিস!

    Juvenile Arthritis: খেলতে গিয়ে হাঁটতে কষ্ট, বারবার জ্বর? অবহেলা করবেন না, শিশুর হাড়েও বাসা বাঁধতে পারে আর্থারাইটিস!

    তানিয়া বন্দ্যোপাধ্যায় পাল

    মাঝেমধ্যেই জ্বর, গায়ে ব্যথা আবার কখনো হাঁটতে বা ছুটতে গেলেই ক্লান্তি গ্রাস করে! পরিবারের একরত্তি সদস্যের এমন সমস্যায় উদ্বেগ বাড়ে অভিভাবকদের! চিকিৎসকদের একাংশ জানাচ্ছেন, সাধারণ এমন উপসর্গ জটিল রোগের জানান দেয়। তাই আগাম সচেতনতা জরুরি। তবেই পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ সম্ভব। রোগ সম্পর্কে জানলে তবে রোগের ঝুঁকি কমানো সম্ভব। জুলাই মাস জুভেনাইল আর্থারাইটিস অ্যাওয়ারনেস মান্থ। চিকিৎসকদের একাংশ জানাচ্ছেন, শিশুর হাড়েও সমস্যা হতে পারে। আর্থারাইটিস প্রৌঢ় বয়সে দেখা দেয়। কিন্তু শিশুদের মধ্যেও এই রোগের প্রকোপ বাড়ছে। একাধিক সমীক্ষায় দেখা গিয়েছে, ভারতে প্রত্যেক বছর কয়েক হাজার শিশু এই রোগে আক্রান্ত হচ্ছে। বর্তমানে কয়েক লাখ শিশু আর্থারাইটিসের মতো রোগে কাবু। সম্প্রতি এই রোগের প্রকোপ আরও বেড়েছে। তাই এই নিয়ে বাড়তি সতর্কতা জরুরি বলেও জানাচ্ছেন চিকিৎসকদের একাংশ।

    জুভেনাইল আর্থারাইটিস কী?

    চিকিৎসকদের একাংশ জানাচ্ছেন, ১৬ বছরের কম বয়সি ছেলেমেয়েদের হাড় এবং দেহের একাধিক জয়েন্টে যন্ত্রণা এবং হাড়ের ক্ষমতা কমতে থাকার এক ধরনের অসুখ হলো জুভেনাইল আর্থারাইটিস।

    কেন এই রোগ হয়?

    শিশুরোগ বিশেষজ্ঞদের একাংশ জানাচ্ছেন, জুভেনাইল আর্থারাইটিসে আক্রান্ত হওয়ার কোনো নির্দিষ্ট একটি কারণ থাকে না। তবে কয়েকটি ঘটনা এই রোগে আক্রান্তের ঝুঁকি বাড়িয়ে দেয়। পরিবারের কেউ আর্থারাইটিসে আক্রান্ত হলে শিশুর জুভেনাইল আর্থারাইটিস হওয়ার ঝুঁকি বেড়ে যায়‌। এই রোগ জিনগত। তাই বংশানুক্রমিক ভাবে এই রোগ ছড়িয়ে পড়ে। অর্থাৎ পরিবারের কেউ আর্থারাইটিসে আক্রান্ত থাকলে, পরবর্তী প্রজন্মের এই রোগে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি বেশি থাকে। শিশুর এই রোগে আক্রান্ত হওয়ার অন্যতম কারণ রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা। এমনটাই জানাচ্ছেন শিশুরোগ বিশেষজ্ঞদের একাংশ। তাঁরা জানাচ্ছেন, আর্থারাইটিস অনেক সময়েই অটোইমিউন ডিজিজ হিসাবে দেখা যায়। অর্থাৎ নিজের দেহের রোগ প্রতিরোধ শক্তি, শরীরে সমস্যা সৃষ্টি করছে। শিশুর রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা নিয়ে এমন জটিলতা থাকলে, এই ধরনের রোগের ঝুঁকি বেড়ে যায়। পরিবেশগত কারণেও জুভেনাইল আর্থারাইটিস হতে পারে বলেই জানাচ্ছেন শিশুরোগ বিশেষজ্ঞেরা। অর্থাৎ এমন কোনো ব্যাকটেরিয়া সংক্রমণ শিশু দেহে হতে পারে, তার থেকে এই ধরনের রোগে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি তৈরি হয়‌।

    কীভাবে বুঝবেন সন্তানের সমস্যা রয়েছে কিনা?

    চিকিৎসকদের একাংশ জানাচ্ছেন, কয়েকটি উপসর্গ সম্পর্কে সচেতন থাকলেই এই রোগ সম্পর্কে ওয়াকিবহাল থাকা যায়। তাঁরা জানাচ্ছেন, শিশু অতিরিক্ত ক্লান্ত হয়ে পড়লে অভিভাবকদের নজর দেওয়া জরুরি। বারবার জ্বর হওয়া, ত্বকে নানান রকম দাগ দেখা দেওয়া, হাঁটাচলা বা খেলার সময়ে হঠাৎ করেই পায়ে অসুবিধা হয়ে যাওয়া, সকালে ঘুম থেকে ওঠার পরে হাঁটতে অসুবিধা হওয়া কিংবা পায়ের জয়েন্ট ফুলে যাওয়ার মতো উপসর্গ দেখা দিলে বাড়তি নজরদারি প্রয়োজন। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো, শিশুর বিকাশ ঠিকমতো হচ্ছে কিনা সেদিকে নজর দেওয়া। অর্থাৎ ওজন ঠিকমতো বাড়ছে কিনা, উচ্চতাও ঠিকমতো বাড়ছে কিনা এগুলো নজর দেওয়া প্রয়োজন। শিশুরোগ বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ মেনে প্রয়োজনীয় পরীক্ষা করানো জরুরি বলেই জানাচ্ছেন চিকিৎসকদের একাংশ। তাঁরা জানাচ্ছেন, ১ থেকে ৫ বছর বয়সের মধ্যে শিশুদের এই রোগে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি সবচেয়ে বেশি‌ থাকে। আবার ১২-১৬ বছর বয়সিদের মধ্যেও এই রোগের প্রকোপ নতুন করে বেশি দেখা দিতে পারে। তাই এই বয়সে বাড়তি নজরদারি জরুরি।

    সন্তানকে সুস্থ রাখতে কী পরামর্শ দিচ্ছেন বিশেষজ্ঞরা?

    বিশেষজ্ঞদের একাংশ জানাচ্ছেন, রোগের ঝুঁকি কমানো জরুরি। কিন্তু পুরোপুরি এড়ানো সম্ভব নয়‌। এই রোগে আক্রান্ত হলে সম্পূর্ণ সুস্থ হয়ে ওঠাও সম্ভব হয় না।‌ এই রোগে আক্রান্তের দীর্ঘমেয়াদি চিকিৎসা প্রয়োজন। তবে সুস্থ স্বাভাবিক জীবন যাপনের জন্য কয়েকটি দিকে বাড়তি নজরদারি জরুরি। শিশুর প্রত্যেক দিন সুষম খাবার প্রয়োজন বলেই জানাচ্ছেন চিকিৎসকদের একাংশ। তাঁরা জানাচ্ছেন, শিশুর হাড় মজবুত করতে ক্যালসিয়াম সমৃদ্ধ খাবার খাওয়া দরকার। তাছাড়া এই রোগে শিশুর শরীরে ক্লান্তিবোধ আরও তৈরি হয়। তাই প্রোটিন ও ভিটামিন জাতীয় খাবার খাওয়া প্রয়োজন। বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ, নিয়মিত শিশুকে দুধ, ডিম, মাছ এবং পর্যাপ্ত পরিমাণে সব্জি খাওয়াতে হবে। যাতে শরীরের প্রয়োজনীয় প্রোটিন, ভিটামিন ও মিনারেলের চাহিদা পূরণ হয়। শিশুর নিয়মিত শারীরিক কসরত করা জরুরি। বিশেষজ্ঞরা জানাচ্ছেন, শারীরিক কসরত করলে তবেই হাড়, পেশি, স্নায়ু সচল থাকে। জুভেনাইল আর্থারাইটিসের মতো রোগের মোকাবিলায় শারীরিক সক্রিয়তা অত্যন্ত জরুরি। দিনে নূন্যতম তিরিশ মিনিট যাতে শিশু শারীরিক কসরত করে, সেদিকে নজর দেওয়া জরুরি। শিশুকে সুস্থ রাখতে নিয়মিত পর্যাপ্ত ঘুম জরুরি। বিশেষজ্ঞরা জানাচ্ছেন, প্রতিদিন পর্যাপ্ত ঘুম হলে তবেই শরীর প্রয়োজনীয় বিশ্রাম পাবে। ক্লান্তি দূর হবে। আবার পেশি ও স্নায়ুর উপরেও চাপ কমবে। ফলে শিশু স্বাভাবিক কাজ সহজেই করতে পারবে। এছাড়াও নিয়মিত চিকিৎসার ফলোআপ করানো জরুরি বলেই মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।

    DISCLAIMER: এই প্রতিবেদনটি বিশেষজ্ঞদের মতামত অনুযায়ী লেখা। এর সঙ্গে মাধ্যম-এর কোনও সম্পর্ক নেই। মাধ্যম এর কোনও দায় নিচ্ছে না। এখানে বলা যে কোনও উপদেশ পালন করার আগে অবশ্যই কোনও চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নিন।
  • Child Health: তীব্র গরম! এই আবহাওয়ায় শিশুদের কোন ভোগান্তি বাড়তে পারে?

    Child Health: তীব্র গরম! এই আবহাওয়ায় শিশুদের কোন ভোগান্তি বাড়তে পারে?

    তানিয়া বন্দ্যোপাধ্যায় পাল

    গরমের তীব্রতা বাড়ছে! বেলা বাড়তে তাপমাত্রার পারদ ৩৪ ডিগ্রি ছাড়িয়ে যাচ্ছে। যদিও রোদের তাপ যেন অনুভূতি দিচ্ছে পঞ্চাশ ডিগ্রি তাপমাত্রার! এই প্রচন্ড গরমে একাধিক স্বাস্থ্য সমস্যা দেখা দিচ্ছে। বিশেষত শিশুদের নানান স্বাস্থ্য সমস্যা দেখা দিচ্ছে বলেই জানাচ্ছেন শিশুরোগ বিশেষজ্ঞদের একাংশ। তাই এই আবহাওয়ায় পরিবারের একরত্তি সদস্যের বাড়তি খেয়াল রাখা জরুরি বলেই জানাচ্ছেন চিকিৎসকদের একাংশ।

    কোন ধরনের স্বাস্থ্য সঙ্কটের আশঙ্কা করছেন?

    ডিহাইড্রেশনের ঝুঁকি!

    চিকিৎসকদের একাংশ জানাচ্ছেন, এই তীব্র গরমে শিশুদের ডিহাইড্রেশনের ঝুঁকি সবচেয়ে বেশি দেখা যায়। তাঁরা জানাচ্ছেন, শিশুরা দীর্ঘ সময় একজায়গায় বসে থাকে না। তাদের স্বভাবজাত ভাবেই তারা ছোটাছুটি, লাফালাফি করে। এর ফলে তাদের ঘাম হয়। এই আবহাওয়ায় আদ্রতা আরও বেশি। স্বাভাবিকের চেয়েও বেশি ঘাম হচ্ছে। শিশুদেরও অতিরিক্ত ঘাম হচ্ছে। এর জেরে শরীর থেকে জল বেরিয়ে যাচ্ছে। তাই শরীরে জলশূণ্যতা কিংবা ডিহাইড্রেশনের ঝুঁকি বেড়ে যাচ্ছে। চিকিৎসকদের একাংশ জানাচ্ছেন, অত্যন্ত কম পরিমাণ প্রস্রাব হলে বা চোখ-মুখে শুকনো ভাব এলে, বাড়তি সতর্কতা জরুরি। শিশুর ডিহাইড্রেশনের সমস্যা প্রাণঘাতী হয়ে ওঠে।

    হিট র‌্যাশের সমস্যা

    শিশুদের শরীরে হিট র‌্যাশের মতো সমস্যা দেখা দিচ্ছে বলেই জানাচ্ছেন শিশুরোগ বিশেষজ্ঞদের একাংশ। তাঁরা জানাচ্ছেন, বহু শিশুর ত্বকে এই গরমে লাল চাকা দাগ বা ফুসকুড়ি দেখা দিচ্ছে। প্রাথমিক ভাবে, হাম বা অন্যকোনো ভাইরাসঘটিত অসুখ বলে সন্দেহ হলেও, পরীক্ষা করে বোঝা যাচ্ছে, অতিরিক্ত গরমের জেরেই ত্বকে এই ধরনের র ্যাশ তৈরি হচ্ছে। যা শিশুর ভোগান্তি বাড়াচ্ছে।

    হিট ফিভারে ভোগান্তি বাড়ছে!

    পাঁচ বছর বা তার কম বয়সী শিশুদের সবচেয়ে বড় সমস্যা হয়ে উঠছে হিট ফিভার। শিশুরোগ বিশেষজ্ঞদের একাংশ জানাচ্ছেন, অতিরিক্ত গরমে শিশুর শরীরের তাপমাত্রা ভারসাম্য রাখতে পারছে না। এর ফলে, সেটাও গরম হয়ে উঠছে। তাই মনে হচ্ছে শিশুর জ্বর হয়েছে। কিন্তু সেটা ভাইরাস ঘটিত কোনো জ্বর নয়। গরমের জেরেই শরীরের তাপমাত্রা বেড়ে যাচ্ছে। একে হিট ফিভার বলা হয়।

    হজমের সমস্যা এবং বমি!

    অতিরিক্ত গরমের জেরে বমি, হজমের গোলমালের মতো সমস্যায় ভুগছে বহু শিশু। এমনটাই জানাচ্ছেন চিকিৎসকদের একাংশ। তাঁরা জানাচ্ছেন, এই আবহাওয়ায় খাবার হজম করা মুশকিল হয়ে উঠছে। এর ফলে শিশুরা বমি বা পেটের সমস্যায় ভুগছে।

    শিশুকে সুস্থ রাখতে কী পরামর্শ দিচ্ছেন বিশেষজ্ঞরা?

    • ১) শিশুরোগ বিশেষজ্ঞদের একাংশ জানাচ্ছেন, এই আবহাওয়ায় শিশুদের খাবারের দিকে বাড়তি নজরদারি প্রয়োজন। তাঁদের পরামর্শ, স্বল্প পরিমানে বারবার শিশুদের জল খাওয়াতে হবে। ডিহাইড্রেশনের ঝুঁকি কমানো যায়, এমন ব্যবস্থার দিকে নজরদারি প্রয়োজন।
    • ২) তাঁদের পরামর্শ, জলের পাশপাশি নিয়মিত ডাবের জল, লেবুর সরবত খাওয়াতে হবে। এতে একদিকে শরীরে ডিহাইড্রেশনের ঝুঁকি কমবে। আরেকদিকে ভিটামিন সি এবং অন্যান্যা ভিটামিন, খনিজ পদার্থের জোগান শরীর সহজেই পাবে। এর ফলে শরীরে ক্লান্তি গ্রাস করবে না। তাছাড়া শিশুর ত্বকের সমস্যা কমবে।
    • ৩) নিয়মিত এই আবহাওয়ায় শিশুদের খাবারের তালিকায় তরমুজ, শশার মতো রসালো ফল রাখার পরামর্শ দিচ্ছেন বিশেষজ্ঞরা। এতে শরীর ঠান্ডা থাকবে। একাধিক সমস্যা কমবে।
    • ৪) গরম থেকে বাঁচাতে শিশুকে নিয়মিত টক দই খাওয়ানোর পরামর্শ দিচ্ছেন বিশেষজ্ঞরা। তাঁরা জানাচ্ছেন বয়স দুই বছরের বেশি হলে নিয়মিত টক দই খাওয়ানো যেতে পারে। এতে অন্ত্র ভালো থাকবে। হজমের গোলমাল এড়ানো যাবে। গরমের ভোগান্তি কমবে।
    • ৫) হালকা মাছের ঝোল, ডিম সিদ্ধ, হালকা সব্জি খাওয়ার পরামর্শ দিচ্ছেন শিশুরোগ বিশেষজ্ঞদের একাংশ। তাঁরা জানাচ্ছেন, সহজ পাচ্য খাবার খাওয়ালে শিশুদের বমি, পেটের সমস্যা সহজেই এড়ানো যাবে।
    • ৬) হিট ফিভারের মোকাবিলা করার জন্য নিয়মিত ভালোভাবে স্নান করার পরামর্শ দিচ্ছেন বিশেষজ্ঞরা। তাঁরা জানাচ্ছেন, শিশুকে নিয়মিত ভালোভাবে স্নান করাতে হবে। শিশুকে নিয়ে বেলা ১১টা থেকে বিকেল ৪টের মধ্যে বাইরে না যাওয়ার পরামর্শ দিচ্ছেন। সকালে কিংবা সন্ধ্যায় খেলাধুলা করলেও দুপুরে শিশু যাতে অতিরিক্ত দৌড়াদৌড়ি না করে সেদিকে খেয়াল রাখার পরামর্শ দিচ্ছেন বিশেষজ্ঞরা।

     

    DISCLAIMER: এই প্রতিবেদনটি বিশেষজ্ঞদের মতামত অনুযায়ী লেখা। এর সঙ্গে মাধ্যম-এর কোনও সম্পর্ক নেই। মাধ্যম এর কোনও দায় নিচ্ছে না। এখানে বলা যে কোনও উপদেশ পালন করার আগে অবশ্যই কোনও চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নিন।
LinkedIn
Share