Tag: China

China

  • BRICS Delhi Summit: দিল্লি সম্মেলনে ব্রিকসের ঐক্য ধরে রাখল ভারত, পাঁচ বিরাট কূটনৈতিক সাফল্য

    BRICS Delhi Summit: দিল্লি সম্মেলনে ব্রিকসের ঐক্য ধরে রাখল ভারত, পাঁচ বিরাট কূটনৈতিক সাফল্য

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ব্রিকস সম্মেলনে ভারতের সামনে সবচেয়ে বড় পরীক্ষা ছিল যুদ্ধ, বাণিজ্যিক উত্তেজনা এবং পশ্চিম এশিয়া নিয়ে সদস্য দেশগুলির তীব্র মতপার্থক্যের মধ্যেও জোটের ঐক্য ধরে রাখা। একই সঙ্গে চিন ও রাশিয়ার ঘনিষ্ঠ অবস্থানের কারণে ব্রিকসকে (BRICS Delhi Summit) কোনওভাবেই মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র-বিরোধী জোটে পরিণত হতে না দেওয়াও ছিল নয়াদিল্লির অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ কূটনৈতিক চ্যালেঞ্জ।

    ১৮তম ব্রিকস সম্মেলন এমন এক সময়ে অনুষ্ঠিত হয়, যখন জোটের দুই সদস্য দেশের সঙ্গে সরাসরি যুদ্ধ জড়িয়ে রয়েছে। সম্মেলনের মাত্র কয়েক মাস আগেই পশ্চিম এশিয়া নিয়ে মতবিরোধের কারণে ব্রিকসের বিদেশমন্ত্রীদের বৈঠক থেকে যৌথ বিবৃতি প্রকাশ করা সম্ভব হয়নি। রিও দে জেনেইরোতে ২০২৫ সালের এপ্রিল মাসের বৈঠকেও ঐকমত্যে পৌঁছনো যায়নি। ফলে পাঁচ সদস্যের জোট (Global South) থেকে ২০২৫ সালে ১১ সদস্যের ব্রিকসে পরিণত হওয়ার পর বিভিন্ন দেশের পরস্পরবিরোধী ভূ-রাজনৈতিক স্বার্থ কীভাবে সামলানো হবে, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছিল।

    ঐকমত্যের ভিত্তিতে নয়াদিল্লি ঘোষণা (Global South)

    কিন্তু সেই আশঙ্কা অনেকটাই দূর করে ১২ সেপ্টেম্বর শনিবার ব্রিকস নেতারা ঐকমত্যের ভিত্তিতে নয়াদিল্লি ঘোষণা গ্রহণ করেন। শুধু তাই নয়, পহেলগাঁও জঙ্গি হামলারও সম্মিলিত নিন্দা জানায় জোট। একই সঙ্গে ভারত ব্রিকসের বৃহত্তর কর্মসূচিকে উন্নয়নশীল বিশ্বের স্বার্থকেন্দ্রিক রাখতে সক্ষম হয় এবং জোটটিকে সরাসরি পশ্চিম-বিরোধী মঞ্চে পরিণত হতে দেয়নি।

    অর্থনীতিবিদ ও কলাম্বিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক জেফ্রি স্যাকস সম্মেলনকে সফল বলে বর্ণনা করেছেন। তাঁর কথায়, ঘোষণা প্রমাণ করেছে যে ব্রিকসের দেশগুলি বিশ্বমঞ্চে নিজেদের জায়গা করে নিচ্ছে। ভারতের জি২০ সভাপতিত্বের প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, “অত্যন্ত কঠিন সময়েও নয়াদিল্লি আবারও ঐকমত্য গড়ে তুলতে সক্ষম হয়েছে।”

    তিন দিনে, অর্থাৎ সম্মেলনের আগের দিন এবং সম্মেলনের দুই দিনে, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি বিদেশি রাষ্ট্রনেতাদের সঙ্গে ১৫টি আনুষ্ঠানিক দ্বিপাক্ষিক বৈঠক করেন। ফলে সম্মেলনটি ভারতের জন্য বহুপাক্ষিক কূটনীতির পাশাপাশি দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক জোরদারেরও গুরুত্বপূর্ণ মঞ্চ হয়ে ওঠে।

    ইরান-সংযুক্ত আরব আমিরশাহির বৈঠকের মঞ্চ হল নয়াদিল্লি

    সম্মেলনের সামনে সবচেয়ে (BRICS Delhi Summit) তাৎক্ষণিক চ্যালেঞ্জ ছিল পশ্চিম এশিয়ার যুদ্ধ পরিস্থিতি। ইরান ও সংযুক্ত আরব আমিরশাহি এই সংঘাত নিয়ে সম্পূর্ণ ভিন্ন অবস্থানে ছিল। ফেব্রুয়ারির শেষদিকে আমেরিকা, ইজরায়েল ও ইরানের মধ্যে যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর সংযুক্ত আরব আমিরশাহিতে থাকা মার্কিন সামরিক ঘাঁটিগুলিকে লক্ষ্য করে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা হয়েছে। ফলে ব্রিকসের অভ্যন্তরেও দুই দেশের অবস্থান একটি গুরুত্বপূর্ণ বিভাজনরেখায় পরিণত হয়েছিল।

    এর আগে বিদেশমন্ত্রীদের বৈঠকে পশ্চিম এশিয়া নিয়ে মতপার্থক্যের কারণে যৌথ বিবৃতি প্রকাশ করা সম্ভব হয়নি। ইরান মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র-ইজরায়েলের বিরুদ্ধে আরও কড়া ভাষা চেয়েছিল। অন্যদিকে সংযুক্ত আরব আমিরশাহি কিছু অবস্থানের বিরোধিতা করেছিল।

    ফলে সেপ্টেম্বরে রাষ্ট্রনেতাদের বৈঠক থেকে ঐকমত্যের ঘোষণা আসবে কি না, তা নিয়ে সংশয় ছিল। পর্যবেক্ষক গবেষণা ফাউন্ডেশনের গবেষণা ও বিদেশনীতি বিভাগের সহ-সভাপতি হর্ষভি পন্তও সম্মেলনের আগে আশঙ্কা প্রকাশ করেছিলেন যে ইরান-সংযুক্ত আরব আমিরশাহির উত্তেজনা যৌথ ঘোষণা আটকে দিতে পারে।

    কিন্তু শেষ পর্যন্ত সেই বিভাজন ব্রিকসের বৃহত্তর ঐক্যে বাধা হয়ে দাঁড়ায়নি। ইরান ও সংযুক্ত আরব আমিরশাহি দু’দেশই পশ্চিম এশিয়ায় সংযমের আহ্বান জানানো ব্রিকসের বিবৃতিতে সই করে (BRICS Delhi Summit)।

    এর পর সম্মেলনের ফাঁকে ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসউদ পেজেশকিয়ান আবু ধাবির যুবরাজ শেখ খালেদ বিন মহম্মদ বিন জায়েদ আল নাহিয়ানের সঙ্গে বৈঠক করেন। সংঘাত শুরুর পর দুই দেশের মধ্যে এটিই ছিল সর্বোচ্চ পর্যায়ের বৈঠকগুলির অন্যতম।

    ভারতের কূটনৈতিক সাফল্য এখানেই—ইরান ও সংযুক্ত আরব আমিরশাহির দ্বন্দ্বকে বৃহত্তর ব্রিকস-বিভাজনে পরিণত হতে না দেওয়া এবং নয়াদিল্লিকে দুই দেশের আলোচনার মঞ্চ হিসেবে তুলে ধরা।

    ঐকমত্য ফিরিয়ে এনে ব্রিকসকে প্রাতিষ্ঠানিক শক্তি দিল ভারত

    ভারতের দ্বিতীয় এবং সম্ভবত আরও গুরুত্বপূর্ণ সাফল্য ছিল ব্রিকসের প্রাতিষ্ঠানিক বিশ্বাসযোগ্যতা পুনরুদ্ধার করা।

    জোট সম্প্রসারিত হওয়ার পর ঐকমত্যে পৌঁছনো কঠিন হয়ে উঠেছিল। ২০২৫ সালের রিও দে জেনেইরো বৈঠক থেকে যৌথ বিবৃতি প্রকাশ করা সম্ভব হয়নি। তৎকালীন সভাপতি ব্রাজিলের পক্ষ থেকে পরিবর্তে সভাপতির বিবৃতি প্রকাশ করা হয়েছিল।

    তাই নয়াদিল্লি সম্মেলনের সামনে বড় প্রশ্ন ছিল—আগে যে কাজ সম্ভব হয়নি, তা কি এবার করা যাবে? উত্তর মিলেছে ইতিবাচকভাবেই। নয়াদিল্লি ঘোষণা শুধু ভূ-রাজনৈতিক বিষয়ে ঐকমত্যের কথা জানায়নি, বরং বিশ্ব শাসনব্যবস্থার সংস্কার, উন্নয়ন অর্থায়ন, বাণিজ্য, ডিজিটাল জনপরিকাঠামো, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সরবরাহ শৃঙ্খল-সহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে সহযোগিতার কথাও বলেছে।

    ভারতের ব্রিকস সভাপতিত্বেরও প্রশংসা করা হয়েছে এবং সম্মেলন আয়োজনের জন্য নয়াদিল্লিকে ধন্যবাদ জানানো হয়েছে।

    এটি গুরুত্বপূর্ণ, কারণ ঐকমত্যের ভিত্তিতে পরিচালিত কোনও জোটের ক্ষেত্রে সম্মেলনের যৌথ ঘোষণা নিছক আনুষ্ঠানিক দলিল নয়। মতবিরোধ থাকা সত্ত্বেও সদস্য দেশগুলি যে প্রতিষ্ঠানটির ভিতরে থেকে একটি সাধারণ অবস্থানে পৌঁছতে পারে, এই ঘোষণা তারই প্রমাণ।

    হর্ষভি পন্ত সম্মেলনের আগে বলেছিলেন, ব্রিকসের বিশ্বাসযোগ্যতা এখানে বড় পরীক্ষার মুখে। তাঁর মতে, “অনেক দেশ ব্রিকসের দিকে অনেক আশা নিয়ে তাকিয়ে আছে।” যৌথ বিবৃতি প্রকাশে ব্যর্থতা সেই আশাকে দুর্বল করতে পারত (BRICS Delhi Summit)।

    পহেলগাঁও হামলার নিন্দা ভারতের বড় কূটনৈতিক সাফল্য

    নয়াদিল্লি ঘোষণায় ২০২৫ সালের ২২ এপ্রিলের পহেলগাঁও জঙ্গি হামলার স্পষ্ট উল্লেখ রয়েছে। জম্মু ও কাশ্মীরে ওই হামলায় ২৬ জন নিহত এবং বহু মানুষ জখম হন।

    ব্রিকসের সদস্য দেশগুলি অত্যন্ত কঠোর ভাষায় ওই জঙ্গি হামলার নিন্দা করেছে। একই সঙ্গে সন্ত্রাসবাদ মোকাবিলায় নিজেদের অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেছে জোট। সীমান্ত পেরিয়ে জঙ্গিদের চলাচল, সন্ত্রাসে অর্থায়ন এবং জঙ্গিদের নিরাপদ আশ্রয়ের বিরুদ্ধেও অবস্থান নেওয়া হয়েছে। সন্ত্রাসবাদের ক্ষেত্রে “জিরো টলারেন্স” নীতির কথাও বলা হয়েছে।

    গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হল, ঘোষণায় পাকিস্তানের নাম করা হয়নি। কিন্তু পহেলগাঁও হামলাকে নির্দিষ্টভাবে চিহ্নিত করে সম্মিলিতভাবে সন্ত্রাসবাদী হামলা হিসেবে নিন্দা করা হয়েছে। পাশাপাশি বলা হয়েছে, “সন্ত্রাসবাদী কর্মকাণ্ডে জড়িত প্রত্যেক ব্যক্তি এবং তাদের সমর্থকদের জবাবদিহির আওতায় এনে প্রাসঙ্গিক জাতীয় ও আন্তর্জাতিক আইন অনুযায়ী বিচারের মুখোমুখি করতে হবে।”

    চিনের সঙ্গে পাকিস্তানের ঘনিষ্ঠ সম্পর্কের প্রেক্ষাপটে এই অবস্থান ভারতের জন্য বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ। নয়াদিল্লি পহেলগাঁও হামলাকে ভারত-পাকিস্তান দ্বিপাক্ষিক বিরোধের মধ্যে সীমাবদ্ধ না রেখে সন্ত্রাসবাদ, সন্ত্রাসে অর্থায়ন, নিরাপদ আশ্রয় এবং আন্তর্জাতিক জবাবদিহির বৃহত্তর কাঠামোর সঙ্গে যুক্ত করতে পেরেছে (Global South)।

    বৃহত্তর ব্রিকস কর্মসূচিতে ভারতের অগ্রাধিকার

    ভারতের সভাপতিত্বে ব্রিকসের আলোচনায় উন্নয়নশীল দেশগুলির উদ্বেগকে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। বিশ্ব শাসনব্যবস্থায় সংস্কার, উদীয়মান অর্থনীতি ও উন্নয়নশীল দেশগুলির প্রতিনিধিত্ব বৃদ্ধি এবং আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠানগুলিতে ক্ষমতার ভারসাম্য বদলের দাবি গুরুত্ব পেয়েছে।

    তবে প্রদত্ত প্রতিবেদনে তৃতীয় সাফল্যটি আলাদা করে বিস্তারিতভাবে উল্লেখ করা হয়নি। পরবর্তী অংশে সরাসরি চতুর্থ সাফল্য হিসেবে ব্রিকসকে আমেরিকা-বিরোধী জোটে পরিণত হতে না দেওয়ার বিষয়টি তুলে ধরা হয়েছে (BRICS Delhi Summit)।

    ব্রিকসকে আমেরিকা-বিরোধী জোটে পরিণত হতে দিল না ভারত

    ভারতের আর একটি বড় সাফল্য ছিল তুলনামূলকভাবে সূক্ষ্ম। উন্নয়নশীল দেশগুলির উদ্বেগকে সামনে রাখলেও নয়াদিল্লি ব্রিকসকে সরাসরি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র বা পশ্চিম-বিরোধী জোটে পরিণত হতে দেয়নি।

    নয়াদিল্লি ঘোষণা বিশ্ব শাসনব্যবস্থায় সংস্কার এবং উদীয়মান বাজার ও উন্নয়নশীল অর্থনীতির বৃহত্তর প্রতিনিধিত্বের পক্ষে অবস্থান নিয়েছে। রাষ্ট্রসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের সংস্কারের দাবিও তোলা হয়েছে। পাশাপাশি চিন ও রাশিয়া রাষ্ট্রসংঘে, বিশেষ করে নিরাপত্তা পরিষদে, ভারত ও ব্রাজিলের বৃহত্তর ভূমিকার আকাঙ্ক্ষাকে সমর্থন করে বলে ঘোষণায় উল্লেখ করা হয়েছে।

    আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল এবং বিশ্বব্যাংকের মতো প্রতিষ্ঠানেও উন্নয়নশীল দেশগুলির প্রতিনিধিত্ব বাড়ানোর আহ্বান জানানো হয়েছে।

    একই সঙ্গে একতরফা নিষেধাজ্ঞা ও সুরক্ষাবাদী পদক্ষেপের সমালোচনা করা হয়েছে। আন্তর্জাতিক আইনের পরিপন্থী একতরফা চাপের বিরোধিতা করে বলা হয়েছে, এর ফলে উন্নয়ন, স্বাস্থ্য ও খাদ্যনিরাপত্তা ক্ষতিগ্রস্ত হয়। আরও উন্মুক্ত, ন্যায্য এবং নিয়মভিত্তিক বহুপাক্ষিক বাণিজ্যব্যবস্থার পক্ষেও অবস্থান নেওয়া হয়েছে।

    রাশিয়া আমেরিকার কঠোর নিষেধাজ্ঞার মুখে রয়েছে এবং ইউক্রেনের সঙ্গে যুদ্ধে জড়িত। অন্যদিকে চিন বিশ্ব বাণিজ্য ও প্রভাব বিস্তারের ক্ষেত্রে আমেরিকার প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী। এই দুই দেশের চাপ ব্রিকসকে পশ্চিম-বিরোধী জোটের দিকে ঠেলে দিতে পারত।

    কিন্তু প্রাক্তন কূটনীতিক বীণা সিকরি শনিবার ভারতের অবস্থানকে পশ্চিম-বিরোধী নয়, বরং পশ্চিমের বাইরে থাকা অবস্থান হিসেবে ব্যাখ্যা করেন। তাঁর কথায়, “আমরা পশ্চিম-বিরোধী নই; আমরা এক পৃথিবী হিসেবে বাঁচতে চাই।” নয়াদিল্লি ঘোষণাতেও সেই ভারসাম্যই স্পষ্ট হয়েছে (Global South)।

    যুদ্ধ ও ভূ-রাজনৈতিক সংঘাতের মধ্যেও বৈচিত্র্যময় জোটকে সামলাল ভারত

    ভারতের পঞ্চম সাফল্যটি সবচেয়ে বিস্তৃত। ২০২৬ সালের ব্রিকস আর আগের পাঁচ সদস্যের জোট নয়। সম্প্রসারণের ফলে বিভিন্ন রাজনৈতিক ব্যবস্থা, অর্থনৈতিক স্বার্থ এবং কৌশলগত অংশীদারিত্বের দেশগুলি একই মঞ্চে এসেছে।

    চলতি বছরে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়েছে, কারণ জোটের দুই সদস্য সরাসরি বড় যুদ্ধে জড়িয়ে পড়েছে। রাশিয়া ইউক্রেনের সঙ্গে যুদ্ধে ব্যস্ত। অন্যদিকে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইজরায়েলের সঙ্গে সংঘাতের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে ইরান।

    এই যুদ্ধগুলির প্রভাব যুদ্ধক্ষেত্রের বাইরেও পড়েছে। জ্বালানি বাজার, নৌপরিবহণ, সরবরাহ শৃঙ্খল, খাদ্যনিরাপত্তা এবং মূল্যবৃদ্ধি—সব ক্ষেত্রেই তার প্রভাব দেখা যাচ্ছে।

    তার মধ্যেও নয়াদিল্লি ঘোষণায় পরস্পরবিরোধী স্বার্থগুলিকে জায়গা দেওয়া হয়েছে। পশ্চিম এশিয়া নিয়ে সর্বোচ্চ সংযম ও কূটনীতির আহ্বান জানানো হয়েছে এবং একই সঙ্গে আমাদের নিজ নিজ জাতীয় অবস্থানকে স্বীকৃতি দেওয়া হয়েছে। বৃহত্তর আন্তর্জাতিক বিরোধের ক্ষেত্রে আলোচনা, পরামর্শ এবং কূটনীতির মাধ্যমে সমাধানের পক্ষে অবস্থান নেওয়া হয়েছে।

    অর্থনৈতিক ক্ষেত্রেও গুরুত্ব পেয়েছে স্থিতিস্থাপকতা, উন্নয়ন, সরবরাহ শৃঙ্খল, প্রযুক্তি এবং অর্থায়ন।

    যুদ্ধ, অর্থনৈতিক বিভাজন এবং বৃহৎ শক্তিগুলির প্রতিদ্বন্দ্বিতায় ব্রিকস যখন ভেঙে পড়ার আশঙ্কার মুখে, তখন ভারত ঐকমত্য গড়ে তুলে উন্নয়নশীল বিশ্বের জন্য গুরুত্বপূর্ণ কিছু ফলাফল নিশ্চিত করেছে। নয়াদিল্লি দেখিয়ে দিয়েছে, গভীর (BRICS Delhi Summit) মতপার্থক্য থাকা সত্ত্বেও ব্রিকসকে কার্যকর রাখা সম্ভব।

    এখন পরবর্তী পরীক্ষা চিনের। ২০২৭ সালে ব্রিকসের সভাপতিত্ব চিনের হাতে যাবে। ভারত যে ঐকমত্য তৈরি (Global South) করেছে, বেজিং সেটি কতটা ধরে রাখতে পারে, সেটিই দেখার।

     

  • BRICS: “ব্রিকসের কাছে বিশ্বের প্রত্যাশা এখন সুনির্দিষ্ট ফলাফলে পৌঁছনোর”, বললেন মোদি

    BRICS: “ব্রিকসের কাছে বিশ্বের প্রত্যাশা এখন সুনির্দিষ্ট ফলাফলে পৌঁছনোর”, বললেন মোদি

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: তৃতীয় দশকে প্রবেশ করতে চলেছে ব্রিকস (BRICS)। এই পরিস্থিতিতে বিশ্বের প্রত্যাশা এখন শুধু ভাবনা ও প্রতিশ্রুতিতে সীমাবদ্ধ না থেকে সুনির্দিষ্ট ফলাফলে পৌঁছনোর। রবিবার নয়াদিল্লিতে ব্রিকস শীর্ষ সম্মেলনের দ্বিতীয় দিনের উন্মুক্ত অধিবেশনে এমনই মন্তব্য করলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি (PM Modi)। একই সঙ্গে ২০২৭ সালে পরবর্তী শীর্ষ সম্মেলনের আয়োজক দেশ চিনকে শুভেচ্ছা জানান তিনি।

    ব্রিকস শীর্ষ সম্মেলনের দ্বিতীয় দিনের অধিবেশনে প্রধানমন্ত্রী বলেন, “ব্রিকস তৃতীয় দশকে প্রবেশ করতে চলেছে। এখন বিশ্ব আমাদের কাছ থেকে শুধু ভাবনা ও প্রতিশ্রুতি নয়, সুনির্দিষ্ট ফলাফল প্রত্যাশা করে। আমি আত্মবিশ্বাসী যে আমাদের সম্মিলিত প্রচেষ্টার মাধ্যমে আমরা অবশ্যই এই প্রত্যাশা পূরণ করতে সক্ষম হব।”

    চিনকে শুভেচ্ছা মোদির (BRICS)

    ২০২৭ সালে ব্রিকসের পরবর্তী আয়োজক দেশ হিসেবে চিনকে শুভেচ্ছা জানিয়ে মোদি নয়াদিল্লি সম্মেলন সফল করার জন্য সদস্য দেশগুলির নেতৃবৃন্দ এবং তাঁদের দলগুলির প্রশংসা করেন। তিনি বলেন, “পরবর্তী আয়োজক দেশ হিসেবে চিনকে আবারও আমার আন্তরিক শুভেচ্ছা জানাই। নয়াদিল্লি সম্মেলনকে সফল করে তোলার জন্য আপনাদের প্রত্যেককে এবং আপনাদের দলগুলিকে বিশেষভাবে অভিনন্দন জানাই। আপনাদের সকলের নিরাপদ ও আনন্দময় যাত্রা কামনা করি।”

    এর আগে রবিবার সকালে ভারত মণ্ডপমে ব্রিকসের সদস্য ও অংশীদার দেশগুলির নেতৃবৃন্দ, আমন্ত্রিত দেশগুলির প্রতিনিধিদের পাশাপাশি বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংস্থার প্রধানদের স্বাগত জানান প্রধানমন্ত্রী মোদি। সোশ্যাল মিডিয়ায় তিনি লেখেন, “ভারত মণ্ডপমে আরও একটি ফলপ্রসূ সকাল। ব্রিকসের সদস্য ও অংশীদার দেশগুলির নেতৃবৃন্দ, আমন্ত্রিত দেশগুলির প্রতিনিধিদের এবং আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলির প্রধানদের স্বাগত জানাতে পেরে আনন্দিত।”

    রবিবার ব্রিকস নেতাদের বৈঠকে “স্থিতিস্থাপকতা, উদ্ভাবন, সহযোগিতা ও স্থায়িত্ব: অন্তর্ভুক্তিমূলক বৈশ্বিক প্রবৃদ্ধির ভবিষ্যৎ নির্মাণ” শীর্ষক বিষয় নিয়ে আলোচনা হয় (BRICS)।

    অধিবেশনে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ব্রিকসের প্রতি গ্লোবাল সাউথের দেশগুলির আস্থা বেড়েছে। দুর্যোগ মোকাবিলা, ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্পের মধ্যে সহযোগিতা এবং পরিবেশ সংক্রান্ত বিভিন্ন উদ্যোগের কথাও তুলে ধরেন তিনি।

    প্রধানমন্ত্রী বলেন, “ভারত ব্রিকসের মঞ্চের মাধ্যমে বন্ধুত্ব, অংশীদারিত্ব ও সহযোগিতার চেতনাকে এগিয়ে নিয়ে গিয়েছে।”

    সবাই ব্রিকসের সহযোগিতার অংশীদার হয়ে উঠুন

    তিনি বলেন, “আমরা চেষ্টা করেছি, যাতে ব্রিকসের সহযোগিতা শুধু সরকারের মধ্যে সীমাবদ্ধ না থাকে। আমরা চাই আমাদের উদ্যোগপতি, কৃষক, গবেষক, মহিলা, যুবসমাজ এবং সাধারণ নাগরিকরাও এর সক্রিয় অংশীদার হয়ে উঠুন।”

    গ্লোবাল সাউথের দেশগুলির মধ্যে ব্রিকসের প্রতি আস্থা বৃদ্ধির প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী বলেন, “আমি ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা থেকে বলতে পারি যে ব্রিকসের প্রতি আস্থা বেড়েছে গ্লোবাল সাউথের দেশগুলির। কারণ এখানে তাদের কণ্ঠস্বর শোনা হয়, তাদের অভিজ্ঞতাকে সম্মান করা হয় এবং সমাধান শুধু তাদের জন্য তৈরি করা হয় না, তাদের সঙ্গে নিয়েই তৈরি করা হয়।”

    ব্রিকসের শক্তি তার বৈচিত্র্য ও সহযোগিতার মধ্যে নিহিত বলেও মন্তব্য করেন মোদি। তাঁর কথায়, “আমরা হয়তো ভিন্ন ভিন্ন বাস্তবতার সঙ্গে যুক্ত, কিন্তু সহযোগিতার মাধ্যমে আমরা একসঙ্গে এগিয়ে যাই এবং মানবতার কল্যাণে বিকশিত হই। আমাদের বৈচিত্র্য যেন আমাদের পরিচয় হয়ে থাকে, আমাদের সহযোগিতা যেন আমাদের অনুপ্রেরণা জোগায় এবং আমাদের অগ্রগতি যেন সমগ্র মানবজাতির উপকারে আসে।”

    এদিকে, চিনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংও ব্রিকসকে গ্লোবাল সাউথের স্বার্থকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার ক্ষেত্রে আরও শক্তিশালী ভূমিকা পালনের আহ্বান জানিয়েছেন। নয়াদিল্লিতে অনুষ্ঠিত ১৮তম ব্রিকস শীর্ষ সম্মেলনের দ্বিতীয় অধিবেশনে বক্তব্য রাখতে গিয়ে তিনি ব্রিকস দেশগুলিকে “ঐতিহাসিক উদ্যোগ গ্রহণ” করার আহ্বান জানান।

    জিনপিং বলেন, ব্রিকসের উচিত আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে একটি “সক্রিয়, স্থিতিশীল ও ইতিবাচক শক্তি” হয়ে ওঠা। চিনের বিদেশমন্ত্রকের প্রকাশিত সরকারি বিবৃতি অনুযায়ী, ভারতের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই দুই দিনের সম্মেলনে স্থিতিস্থাপকতা, উদ্ভাবন, সহযোগিতা ও স্থায়িত্বকে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে গ্লোবাল সাউথের অগ্রাধিকার, বহুপাক্ষিকতা, টেকসই উন্নয়ন এবং প্রযুক্তিকে ব্রিকসের আলোচনার কেন্দ্রে রাখা হয়েছে।

    ভারতের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত দু’দিনের ব্রিকস শীর্ষ সম্মেলনে অংশ নেওয়ার পর রবিবার নয়াদিল্লি ছেড়ে চিনে ফিরে যান জিনপিং। ভারত মণ্ডপমে অনুষ্ঠিত সম্মেলনের বিভিন্ন অধিবেশনে অংশ নেন তিনি।

    সম্মেলনের ফাঁকে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি (PM Modi) ও জিনপিং দ্বিপাক্ষিক বৈঠকও করেন। দুই প্রতিবেশী দেশের (BRICS) মধ্যে সম্পর্ক আরও শক্তিশালী করার ক্ষেত্রে এই বৈঠক তাৎপর্যপূর্ণ বলেই ধারণা ওয়াকিবহাল মহলের।

     

  • PM Modi: ব্রিকস নেতাদের সম্মানে প্রধানমন্ত্রীর নৈশভোজ, দিল্লিতে মোদির সঙ্গে বৈঠকে জিনপিং

    PM Modi: ব্রিকস নেতাদের সম্মানে প্রধানমন্ত্রীর নৈশভোজ, দিল্লিতে মোদির সঙ্গে বৈঠকে জিনপিং

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ভারতের সভাপতিত্বে আয়োজিত অষ্টাদশ ব্রিকস (BRICS) শীর্ষ সম্মেলনে অংশ নিতে আসা রাষ্ট্রপ্রধান ও প্রতিনিধিদের সম্মানে শনিবার সন্ধ্যায় নয়াদিল্লির ভারত মণ্ডপমে নৈশভোজের আয়োজন করেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি (PM Modi)। রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন, কাজাখস্তানের প্রেসিডেন্ট কাসিম-জোমার্ট তোকায়েভ, ইন্দোনেশিয়ার প্রেসিডেন্ট প্রাবোও সুবিয়ান্তো এবং বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার মহাপরিচালক টেড্রোস আধানম গেব্রেয়েসুস-সহ একাধিক বিশিষ্ট অতিথি এই অনুষ্ঠানে যোগ দেন (Gala Dinner)।

    নৈশভোজের আসরে রাষ্ট্রনেতারা (PM Modi)

    নৈশভোজে যোগ দিতে প্রথমে ভারত মণ্ডপমে পৌঁছন রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন। এরপর সেখানে আসেন কাজাখস্তানের প্রেসিডেন্ট কাসিম-জোমার্ট তোকায়েভ এবং ইন্দোনেশিয়ার প্রেসিডেন্ট প্রাবোও সুবিয়ান্তো। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার মহাপরিচালক টেড্রোস আধানম গেব্রেয়েসুসও অনুষ্ঠানে উপস্থিত হন।

    ভারতের সভাপতিত্বে নয়াদিল্লিতে অনুষ্ঠিত হচ্ছে অষ্টাদশ ব্রিকস শীর্ষ সম্মেলন। সম্মেলনে অংশ নেওয়া বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্রপ্রধান, প্রতিনিধি এবং অন্যান্য বিশিষ্ট ব্যক্তিদের সম্মান জানাতেই এই নৈশভোজের আয়োজন করা হয়।

    কেন্দ্রীয় মন্ত্রী কিরেন রিজিজু, সর্বানন্দ সোনোয়াল এবং অর্জুন রাম মেঘওয়াল, উত্তরপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথ-সহ একাধিক মন্ত্রী ও মুখ্যমন্ত্রী একসঙ্গে বাসে করে ভারত মণ্ডপমে পৌঁছন। এর আগে কেন্দ্রীয় মন্ত্রী নির্মলা সীতারামন, শিবরাজ সিং চৌহান ও কিরেন রিজিজু-সহ অন্য মন্ত্রীরা অনুষ্ঠানের উদ্দেশে রওনা দেন। কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ, কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্যমন্ত্রী জে পি নাড্ডা এবং লোকসভার স্পিকার ওম বিড়লাও অন্যান্য মন্ত্রীর সঙ্গে ভারত মণ্ডপমের উদ্দেশে রওনা দেন।

    নৈশভোজে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন

    নৈশভোজ উপলক্ষে বিশেষ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান “নবরস—অভিন্ন অনুভূতির মহাবিশ্ব” পরিবেশিত হয়। পাশাপাশি ছিল ব্রিকসের বিশেষ সঙ্গীতানুষ্ঠান “এক ছন্দ, বহু সংস্কৃতি”। ব্রিকসের সদস্য ও অংশীদার দেশগুলির শিল্পীরা যৌথভাবে এই সঙ্গীত পরিবেশন করেন।

    বিভিন্ন দেশের সঙ্গীত ঐতিহ্যকে একত্রিত করে আয়োজিত এই অনুষ্ঠানের লক্ষ্য ছিল ব্রিকস পরিবারের সাংস্কৃতিক সমৃদ্ধি, বৈচিত্র্য এবং পারস্পরিক ঐক্যের ভাবনাকে তুলে ধরা।

    এর কয়েক ঘণ্টা আগেই ব্রিকসের নেতারা সর্বসম্মতভাবে ২০২৬ সালের নয়াদিল্লি ঘোষণা গ্রহণ করেন। এই ঘোষণায় বিশ্ব শাসনব্যবস্থায় সংস্কারের পাশাপাশি উন্নয়নশীল দেশগুলির আরও শক্তিশালী প্রতিনিধিত্বের দাবি জানানো হয়েছে।

    মোদি-জিনপিং বৈঠক

    শনিবার শীর্ষ সম্মেলনের ফাঁকে চিনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক বৈঠক করেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। বৈঠকে দুই দেশের দীর্ঘমেয়াদি উন্নয়নের কথা মাথায় রেখে কৌশলগত দৃষ্টিভঙ্গি থেকে ভারত-চিন সম্পর্ককে দেখার প্রয়োজনীয়তার কথা বলেন জিনপিং।

    জিনপিং বলেন, “দুই দেশ দীর্ঘমেয়াদি দ্বিপাক্ষিক উন্নয়নের কথা মাথায় রেখে কৌশলগত দৃষ্টিভঙ্গিতে সম্পর্ককে এগিয়ে নিয়ে এসেছে।”

    তিনি আরও বলেন, “দুই দেশ একে অপরের থেকে ভিন্ন হলেও অভিন্ন উন্নয়ন অর্জনের ক্ষেত্রে আমরা একে অপরকে সহযোগিতা ও সাহায্য করতে পেরেছি।”

    নয়াদিল্লিতে ব্রিকস সম্মেলনে যোগ দিতে পেরে আনন্দ প্রকাশ করে চিনা প্রেসিডেন্ট বলেন, “নয়াদিল্লিতে ব্রিকস সম্মেলনে যোগ দিতে এবং আপনার সঙ্গে আবার দেখা করতে পেরে আমি অত্যন্ত আনন্দিত। ভারতে আয়োজিত ব্রিকস সম্মেলনের সাফল্যের জন্য আমি আন্তরিক অভিনন্দন জানাই।”

    তিনি জানান, ১২ বছরের মধ্যে এটি তাঁর দ্বিতীয় নয়াদিল্লি সফর। এই সময়ে দুই দেশের দুই নেতা ২০ বারেরও বেশি সাক্ষাৎ করেছেন এবং একাধিক গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে ঐকমত্যে পৌঁছেছেন।

    বিশ্বের সবচেয়ে জনবহুল দুই দেশ এবং বিশ্ব দক্ষিণের গুরুত্বপূর্ণ সদস্য হিসেবে ভারত ও চিনের অভিন্ন দায়িত্বের কথাও তুলে ধরেন জিনপিং। তিনি বলেন, “দুই দেশ ভিন্ন হলেও অভিন্ন উন্নয়নের লক্ষ্যে আমরা একে অপরকে সহযোগিতা ও সাহায্য করতে পেরেছি। চিন ও ভারত বিশ্বের সবচেয়ে জনবহুল দেশ এবং বিশ্ব দক্ষিণের অংশ। মানবজাতির অভিন্ন ভবিষ্যতের কারণে আমাদের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব রয়েছে। মানুষের স্বার্থকে ভিত্তি করে উচ্চমানের সহযোগিতা অব্যাহত রাখতে হবে এবং আরও ন্যায়সঙ্গত, অন্তর্ভুক্তিমূলক, উন্মুক্ত ও অর্থনৈতিকভাবে সংযুক্ত বিশ্বের জন্য কাজ করতে হবে। এর মাধ্যমে বিশ্বশান্তি, স্থিতিশীলতা ও উন্নয়নে ইতিবাচক ভূমিকা রাখা সম্ভব।”

    কৃতজ্ঞতা প্রকাশ মোদির

    ভারতের ব্রিকস সভাপতিত্বের সময়ে চিনের সহযোগিতা ও সমর্থনের জন্য কৃতজ্ঞতা জানান প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি।

    তিনি বলেন, “আপনাকে আন্তরিক স্বাগত জানাতে পেরে আমি অত্যন্ত আনন্দিত। ব্রিকস সম্মেলনে আপনার ইতিবাচক বক্তব্যের জন্য আপনাকে অনেক ধন্যবাদ। ভারতের ব্রিকস সভাপতিত্বের সময়ে চিনের কাছ থেকে পাওয়া সমর্থন ও সহযোগিতার জন্য আমি কৃতজ্ঞতা জানাই।”

    মোদি আরও বলেন, “এখন আমাদের দ্বিপাক্ষিক সহযোগিতা নিয়ে আলোচনা করার সুযোগ রয়েছে। আবারও আপনাকে ভারতে আন্তরিক স্বাগত জানাই।”

    পশ্চিম এশিয়ার পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ

    ভারত-চিন বৈঠকের আগে ব্রিকস দেশগুলি সর্বসম্মতভাবে নয়াদিল্লি ঘোষণা গ্রহণ করে। পশ্চিম এশিয়ায় উত্তেজনা ক্রমাগত বাড়তে থাকায় ঘোষণায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়েছে। পরিস্থিতির আরও অবনতি রুখতে সর্বোচ্চ সংযম দেখানো এবং প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে।

    অসামরিক নাগরিক এবং অসামরিক পরিকাঠামো রক্ষার ওপর জোর দিয়ে স্থায়ী শান্তি, নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতার লক্ষ্যে সংলাপ ও কূটনৈতিক উদ্যোগ আরও জোরদার করার আহ্বান জানিয়েছে ব্রিকস।

    আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থার পূর্ণ নিরাপত্তা ব্যবস্থার আওতায় থাকা অসামরিক পরিকাঠামো এবং শান্তিপূর্ণ পরমাণু স্থাপনায় হামলা নিয়েও গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়েছে। সশস্ত্র সংঘাতের সময়ও পরমাণু নিরাপত্তা, সুরক্ষা এবং সংশ্লিষ্ট নিরাপত্তাবিধি মেনে চলার ওপর জোর দেওয়া হয়েছে।

    রাষ্ট্রসংঘের সাধারণ পরিষদ এবং নিরাপত্তা পরিষদের সংশ্লিষ্ট প্রস্তাবগুলি বাস্তবায়নের আহ্বান জানানো হয়েছে। একই সঙ্গে গাজা উপত্যকায় যুদ্ধবিরতি বজায় রাখা এবং মানবিক সহায়তা যাতে সম্পূর্ণ ও বাধাহীনভাবে পৌঁছতে পারে, তা নিশ্চিত করার জন্য সব পক্ষের প্রতি আহ্বান জানানো হয়েছে।

    আগামী বছর ব্রিকসের দায়িত্ব চিনের

    জিনপিং ঘোষণা করেন, আগামী বছর চিন ব্রিকসের সভাপতিত্বের দায়িত্ব গ্রহণ করবে এবং (PM Modi) উনিশতম ব্রিকস শীর্ষ সম্মেলনের আয়োজন করবে।

    চিনের মুখপাত্র মাও নিংয়ের বক্তব্য অনুযায়ী, জিনপিং বলেন, “চিন এই সুযোগ কাজে লাগিয়ে ঐকমত্য তৈরি করবে এবং ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার জন্য সব পক্ষের সঙ্গে কাজ করবে।”

    তিনি আরও (BRICS) বলেন, “আমরা একসঙ্গে ব্রিকস সহযোগিতার তৃতীয় স্বর্ণযুগের সূচনা করব।”

    উল্লেখ্য, ১২ ও ১৩ সেপ্টেম্বর (Gala Dinner) নয়াদিল্লিতে অনুষ্ঠিত হচ্ছে অষ্টাদশ ব্রিকস শীর্ষ সম্মেলন। ভারতের সভাপতিত্বে এবারের সম্মেলনের মূল ভাবনা হল “সহনশীলতা, উদ্ভাবন, সহযোগিতা ও স্থায়িত্বের জন্য নির্মাণ” (PM Modi)।

     

     

  • XI Jinping: ব্রিকস সম্মেলনে যোগ, দিল্লিতে প্রেসিডেন্ট জিনপিং, মোদির সঙ্গে বৈঠকের আগে সহযোগিতার বার্তা

    XI Jinping: ব্রিকস সম্মেলনে যোগ, দিল্লিতে প্রেসিডেন্ট জিনপিং, মোদির সঙ্গে বৈঠকের আগে সহযোগিতার বার্তা

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: নয়াদিল্লিতে ১৮তম ব্রিকস সম্মেলনে যোগ দিতে শনিবার ভারতে পৌঁছলেন চিনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং (XI Jinping)। বিমানবন্দরে তাঁকে স্বাগত জানান কেন্দ্রীয় বাণিজ্য ও শিল্প প্রতিমন্ত্রী জিতিন প্রসাদ। জিনপিংকে স্বাগত জানাতে উত্তর-পূর্ব ভারত-সহ দেশের বিভিন্ন রাজ্যের সাংস্কৃতিক দল ঐতিহ্যবাহী নৃত্য পরিবেশন করে (BRICS Summit)।

    বিদেশমন্ত্রকের পক্ষ থেকে সোশ্যাল মিডিয়ায় জানানো হয়েছে, “১৮তম ব্রিকস সম্মেলনে যোগ দিতে নয়াদিল্লিতে আগত গণপ্রজাতন্ত্রী চিনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংকে উষ্ণ স্বাগত। বিমানবন্দরে তাঁকে স্বাগত জানান কেন্দ্রীয় প্রতিমন্ত্রী জিতিন প্রসাদ। ব্রিকস যখন সহযোগিতা আরও এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছে এবং আরও ভারসাম্যপূর্ণ, প্রতিনিধিত্বশীল ও বহুমেরুকেন্দ্রিক বিশ্ব গঠনে অবদান রাখছে, তখন আমরা গঠনমূলক আলোচনার দিকে তাকিয়ে রয়েছি।”

    জিনপিংয়ের সঙ্গী (XI Jinping)

    জিনপিংয়ের সঙ্গে চিনা কমিউনিস্ট পার্টির কেন্দ্রীয় কমিটির রাজনৈতিক ব্যুরোর স্থায়ী কমিটির সদস্য এবং কেন্দ্রীয় কমিটির সাধারণ দফতরের পরিচালক ছাই ছি এবং চিনের বিদেশমন্ত্রী ও কমিউনিস্ট পার্টির কেন্দ্রীয় কমিটির রাজনৈতিক ব্যুরোর সদস্য ওয়াং ই-সহ একাধিক শীর্ষ আধিকারিক রয়েছেন।

    প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে গুরুত্বপূর্ণ দ্বিপাক্ষিক বৈঠকের আগে ভারত-চিন সম্পর্ক নিয়ে আশাব্যঞ্জক বার্তা দিয়েছেন চিনের সাংবাদিক ওয়েনতিং শিয়ে। তাঁর বক্তব্য, দুই দেশ একসঙ্গে কাজ করলে তা ভারত ও চিন—উভয়েরই স্বার্থ রক্ষা করবে।

    তিনি বলেন, “চিন ও ভারতের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক আরও উন্নত করার জন্য এই সফর অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি সুযোগ। দুই দেশই বৃহৎ উন্নয়নশীল দেশ এবং বিশ্ব দক্ষিণের গুরুত্বপূর্ণ সদস্য। আমার মনে হয়, চিন ও ভারত একসঙ্গে কাজ করলে দুই দেশের মানুষের স্বার্থ রক্ষা হবে এবং বিশ্ব দক্ষিণের উন্নয়নেও তা গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখবে।”

    তিনি আরও বলেন, “চিন ভারতের সঙ্গে একযোগে কাজ করতে প্রস্তুত। যোগাযোগ আরও জোরদার করা, সহযোগিতা বৃদ্ধি করা, মতপার্থক্যগুলি যথাযথভাবে সামাল দেওয়া এবং একে অপরের সাফল্যে সহায়ক অংশীদার হিসেবে কাজ করাই আমাদের লক্ষ্য হওয়া উচিত। দুই দেশেরই উন্নয়ন ও অগ্রগতির বিপুল সম্ভাবনা রয়েছে। চিন ও ভারতের সহযোগিতা বিশ্ব দক্ষিণের স্বার্থে গুরুত্বপূর্ণ। আর গ্লোবাল সাউথও সেটিই দেখতে চায় (XI Jinping)।”

    চিনা সংবাদ সংস্থা শিনহুয়ার একটি প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, কিরগিজস্তানের বিশকেকে সাংহাই সহযোগিতা সংস্থার সম্মেলনে যে ধরনের প্রস্তাব দিয়েছিলেন জিনপিং, ব্রিকস সম্মেলনেও গ্লোবাল সাউথের সহযোগিতা নিয়ে একই ধরনের উদ্যোগের কথা তিনি তুলে ধরতে পারেন।

    দায়িত্বে চিন

    ২০২৭ সালে ব্রিকসের পর্যায়ক্রমিক সভাপতিত্বের দায়িত্ব নেবে চিন। চিনা সংবাদমাধ্যমের সম্পাদকীয়তে বলা হয়েছে, প্রকৃত বহুপাক্ষিকতার মাধ্যমে ঐক্যের ভিত্তি আরও শক্তিশালী করা এবং সহযোগিতার বিভিন্ন মঞ্চকে কাজে লাগিয়ে উন্নয়ন কৌশলের মধ্যে আরও বেশি সমন্বয় গড়ে তোলার চেষ্টা করবে চিন।

    একই সঙ্গে অভিন্ন উন্নয়নকে এগিয়ে নিয়ে যেতে বিশ্ব উন্নয়ন উদ্যোগ, বিশ্ব নিরাপত্তা উদ্যোগ, বিশ্ব সভ্যতা উদ্যোগ এবং বিশ্ব শাসন উদ্যোগের মতো কর্মসূচির উপরও জোর দেওয়া হবে। ডিজিটাল অর্থনীতি, পরিবেশবান্ধব উন্নয়ন, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, দারিদ্র্য হ্রাস এবং কৃষির উন্নয়নের মতো ক্ষেত্রেও গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতির লক্ষ্যে কাজ করবে চিন।

    এদিকে, ভারতের আয়োজনে ১৮তম ব্রিকস সম্মেলনের মূল ভাবনা— “সহনশীলতা, উদ্ভাবন, সহযোগিতা ও স্থায়িত্বের জন্য নির্মাণ”। এই ভাবনায় বিদ্যমান সাফল্যগুলিকে আরও শক্তিশালী করা এবং প্রাতিষ্ঠানিক কার্যকারিতা বৃদ্ধির উপর ভারতের গুরুত্ব প্রতিফলিত হয়েছে।

    সম্মেলনের আলোচনায় উন্নয়ন, স্থায়িত্ব এবং উদ্ভাবনকে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। পাশাপাশি গ্লোবাল সাউথের আকাঙ্ক্ষাকেও সামনে রাখা হয়েছে। ভারত ব্রিকসকে (BRICS Summit) আরও গঠনমূলক এবং সমস্যা সমাধানমুখী আন্তর্জাতিক মঞ্চ হিসেবে শক্তিশালী করতে চায় বলেই অভিমত (XI Jinping) বিশেষজ্ঞদের।

     

  • Modi-Xi Meet: মোদি-জিনপিং বৈঠকে গুরুত্ব বাণিজ্য ও সীমান্ত পরিস্থিতিকে, শনিবার ভারতে আসছেন চিনা প্রেসিডেন্ট

    Modi-Xi Meet: মোদি-জিনপিং বৈঠকে গুরুত্ব বাণিজ্য ও সীমান্ত পরিস্থিতিকে, শনিবার ভারতে আসছেন চিনা প্রেসিডেন্ট

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: দীর্ঘ সাত বছর পর ভারতে আসছেন চিনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং (Modi-Xi Meet)। আগামী ১২ থেকে ১৩ সেপ্টেম্বর নয়াদিল্লিতে আয়োজিত ব্রিকস শীর্ষ সম্মেলনে যোগ দেবেন তিনি। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির আমন্ত্রণেই তাঁর এই সফর। কূটনৈতিক সূত্রের খবর, শনিবার বিকেল ৫টা ৪৫ মিনিটে চিনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক বৈঠকে বসবেন মোদি। দুই রাষ্ট্রপ্রধানের আলোচনায় বাণিজ্য, সীমান্ত পরিস্থিতি এবং দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের উন্নয়ন গুরুত্বপূর্ণ জায়গা পেতে পারে। চিনের প্রেসিডেন্টের সঙ্গে ৬৭ সদস্যের সরকারি প্রতিনিধিদল ভারতে আসছে। এই দলে রয়েছেন চিনের কমিউনিস্ট পার্টির পলিটব্যুরোর স্ট্যান্ডিং কমিটির সদস্য এবং শি জিনপিংয়ের ঘনিষ্ঠ সহযোগী কাই চি এবং চিনের বিদেশমন্ত্রী ওয়াং ই। পাশাপাশি পৃথক একটি বাণিজ্যিক প্রতিনিধিদলও ভারতে আসবে।

    মোদির আমন্ত্রণেই ভারতে শি

    প্রায় ২৪ ঘণ্টার ঝটিকা সফরে ভারতে থাকবেন শি। শনিবার দুপুর ১২টা ১০ মিনিটে তাঁর ভারতে পৌঁছনোর কথা। পরদিন রবিবার দুপুর ১২টা ২০ মিনিটে তিনি ভারত ছাড়বেন। শনিবার দুপুর ২টা নাগাদ ভারত মণ্ডপমে তাঁকে এবং অন্যান্য রাষ্ট্রনেতাকে স্বাগত জানাবেন প্রধানমন্ত্রী মোদি। কূটনৈতিক সূত্রের খবর, ব্রিকসের একটি রুদ্ধদ্বার বৈঠকের পর এবং সন্ধ্যা সাড়ে ৭টায় প্রধানমন্ত্রী মোদির দেওয়া নৈশভোজের আগে দুই নেতার দ্বিপাক্ষিক বৈঠক হতে পারে। নৈশভোজেও উপস্থিত থাকবেন শি জিনপিং। গালওয়ান সংঘর্ষের পরে প্রথম ভারত সফরে আসছেন জিনপিং। গোটা বিশ্বের নজর থাকবে মোদি-জিনপিং বৈঠকের দিকে। কূটনৈতিক বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, দীর্ঘদিনের সামরিক উত্তেজনা, কূটনৈতিক দূরত্ব এবং অর্থনৈতিক টানাপড়েনের পর ভারত ও চিন উভয় দেশ সম্পর্ক পুনর্গঠনের চেষ্টা করতে পারে এই বৈঠকে।

    ভারত-চিন সম্পর্ক নিয়ে প্রশ্ন

    শেষ বার সাত বছর আগে ২০১৯ সালে ভারতে এসেছিলেন চিনের প্রেসিডেন্ট। তার পরের বছরেই পূর্ব লাদাখের গালওয়ানে ভারতীয় সেনাবাহিনীর সঙ্গে সীমান্ত সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে চিনের ফৌজ। রক্তক্ষয়ী ওই সংগ্রামে ২০ জন ভারতীয় জওয়ান নিহত হন। চিন সরকারি ভাবে তাদের বাহিনীর চার জনের মৃত্যুর কথা স্বীকার করে। ওই সংঘর্ষের পর থেকেই ভারত এবং চিনের পারস্পরিক সম্পর্কের দ্রুত অবনতি হয়। এই অবস্থায় দিল্লির ব্রিকস সম্মেলনে জিনপিংয়ের ভারত সফর তাৎপর্যপূর্ণ। যদিও প্রশ্ন উঠছে, ১৯৬২-র যুদ্ধের পর থেকে শুরু হওয়া অবিশ্বাসের কাঁটা, যা ২০২০ সালে গালওয়ানে দুই দেশের সেনার মধ্যে সংঘর্ষে কয়েক গুণ বেড়ে গিয়েছে। সাম্প্রতিক সময়ে অরুণাচল সীমান্তের অঞ্চলের দখলদারি নিয়েও দ্বন্দ্ব অব্যাহত। এর পরেও কি মধ্যপ্রাচ্যের একটানা চলা যুদ্ধের আবহে এশিয়ার দুই শক্তিশালী দেশ মধ্যবর্তী কোন সমঝোতায় আসবে?

    বাণিজ্যে ভারসাম্যের বার্তা দিতে পারেন মোদি

    ভারত-চিন সম্পর্কের সাম্প্রতিক উন্নতির মধ্যেও বাণিজ্য ঘাটতি নিয়ে নয়াদিল্লির উদ্বেগ রয়েছে। বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী মোদি চিনের বাজারে ভারতীয় পণ্যের জন্য আরও ন্যায্য ও সমান সুযোগ, সরবরাহ শৃঙ্খলের নির্ভরযোগ্যতা এবং দুই দেশের বাণিজ্যে ভারসাম্যের প্রয়োজনীয়তার কথা তুলে ধরতে পারেন বলে জানা গিয়েছে। দুই দেশই অর্থনৈতিক সহযোগিতা আরও বাড়াতে আগ্রহী। ফলে শি জিনপিংয়ের সফরকে বাণিজ্যিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে।

    আলোচনায় সীমান্ত সমস্যাও

    বাণিজ্যের পাশাপাশি সীমান্ত পরিস্থিতিও মোদি-শি বৈঠকের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হতে পারে। ২০২০ সালের পূর্ব লাদাখের সামরিক সংঘাতের পর ভারত ও চিনের মধ্যে সম্পর্কের যে টানাপোড়েন তৈরি হয়েছিল, ২০২৪ সালে কাজানে মোদি-শি বৈঠকের পর তার বরফ গলতে শুরু করে। দুই দেশের সেনার সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্নকরণ এবং সীমান্তে শান্তি ও স্থিতাবস্থা ফিরিয়ে আনার ক্ষেত্রে অগ্রগতি হয়েছে। কাজান বৈঠকের পর দুই দেশ সীমান্ত প্রশ্নে বিশেষ প্রতিনিধিদের মাধ্যমে আলোচনা চালিয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেয়। ভারতের অবস্থান হল, সীমান্তে শান্তি ও স্থিতাবস্থা বজায় রাখা দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের সামগ্রিক উন্নতির পূর্বশর্ত। এরপর বিশেষ প্রতিনিধিরা তিন দফা সীমান্ত বৈঠক করেছেন। চলতি বছরের অগস্টে অনুষ্ঠিত সর্বশেষ বৈঠকে সীমান্ত নির্ধারণ ও সীমান্ত ব্যবস্থাপনা নিয়ে দ্রুত ও গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতির জন্য আলোচনার কাঠামো চূড়ান্ত করার সিদ্ধান্ত-সহ মোট আটটি বিষয়ে ঐকমত্য হয়।

    সম্পর্কের বরফ গলাতে গুরুত্বপূর্ণ

    গত বছর সাংহাই কো-অপারেশন অর্গানাইজেশন (SCO)-এর শীর্ষ সম্মেলনে যোগ দিতে চিন সফর করেছিলেন প্রধানমন্ত্রী মোদি। সেই সফরেও শি জিনপিংয়ের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক বৈঠক করেন তিনি। দুই নেতার ধারাবাহিক বৈঠকে ভারত-চিন সম্পর্কের উন্নতির ইঙ্গিত মিলেছে। দুই দেশের নেতাই ভারত ও চিনকে ‘প্রতিদ্বন্দ্বী নয়, অংশীদার’ হিসেবে দেখার বার্তা দিয়েছেন। এবার শি জিনপিংয়ের ভারত সফর চিনের কাছেও বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ। কারণ আগামী বছর ব্রিকসের সভাপতিত্ব করবে চিন, ভারতের কাছ থেকে দায়িত্ব গ্রহণ করবে তারা। ফলে ব্রিকসের পাশাপাশি ভারত-চিন দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক নিয়েও এই সফরে গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা হতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে। শি জিনপিংয়ের ঘনিষ্ঠ সহযোগী কাই চির সঙ্গেও এর আগে প্রধানমন্ত্রী মোদির বৈঠক হয়েছে। সেই সময় দুই দেশের মধ্যে যোগাযোগ আরও বাড়ানো এবং দুই রাষ্ট্রপ্রধানের মধ্যে হওয়া সমঝোতা অনুযায়ী দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ককে আরও এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার বিষয়ে চিনের আগ্রহের কথা জানিয়েছিলেন কাই।

     

     

     

     

  • Belgium PM: ‘আগেই সতর্ক করেছিলেন মোদি, শোনেনি ইউরোপ, আজ উপলব্ধি হচ্ছে’! ভারতে এসে অকপট বেলজিয়ামের প্রধানমন্ত্রী

    Belgium PM: ‘আগেই সতর্ক করেছিলেন মোদি, শোনেনি ইউরোপ, আজ উপলব্ধি হচ্ছে’! ভারতে এসে অকপট বেলজিয়ামের প্রধানমন্ত্রী

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: বাণিজ্য ও শিল্পক্ষেত্রে অতিরিক্ত নির্ভরতার ঝুঁকি নিয়ে ইউরোপ অনেক দেরিতে বাস্তবতা উপলব্ধি করেছে বলে মন্তব্য করেছেন বেলজিয়ামের প্রধানমন্ত্রী বার্ট ডি ওয়েভার (Belgium PM)। তাঁর বক্তব্য, অর্থনৈতিক নির্ভরতা যখন রাজনৈতিক ও কৌশলগত চাপ তৈরির হাতিয়ার হয়ে ওঠে, তখন মুক্ত বাণিজ্যের পাশাপাশি জাতীয় স্বার্থ সুরক্ষার বিষয়টিও সমান গুরুত্বপূর্ণ হয়ে পড়ে। এই পরিস্থিতিতে ভারত ও ইউরোপের মধ্যে দীর্ঘমেয়াদি কৌশলগত অংশীদারীত্বের যথেষ্ট সম্ভাবনা রয়েছে বলে মনে করেন (Modi Trade Warning) তিনি। ভারত-ইউরোপ সম্পর্কের ভবিষ্যৎ এবং বৈশ্বিক অর্থনীতির ক্রমবর্ধমান বিভাজনের প্রেক্ষাপটে দু’পক্ষের সহযোগিতার সম্ভাবনা নিয়ে বক্তব্য রাখতে গিয়ে ওয়েভার বলেন, ইউরোপ বর্তমানে এমন এক বাস্তবতার মুখোমুখি হয়েছে, যেখানে বাণিজ্যিক ও শিল্পক্ষেত্রের নির্ভরতা কেবল অর্থনৈতিক বিষয় হিসেবে থাকছে না; বরং তা কৌশলগত প্রভাব বিস্তারের মাধ্যম হিসেবেও ব্যবহৃত হচ্ছে।

    বদলাচ্ছে ক্ষমতার ভারসাম্য (Belgium PM)

    তিনি বলেন, বিশ্বের বড় শক্তিগুলির মধ্যে ক্ষমতার ভারসাম্য বদলাচ্ছে এবং কিছু দেশ নিজেদের নির্দিষ্ট রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক পথে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছে। সেই পরিস্থিতিতে অন্যদের ওপর চাপ সৃষ্টি করা বা নির্ভরতাকে অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করা ইউরোপের কাছে গ্রহণযোগ্য নয়। ডি ওয়েভারের কথায়, ভারত ও ইউরোপের সামনে থাকা বেশ কিছু চ্যালেঞ্জ একই ধরনের। বিশেষ করে কোনও একটি দেশ বা শক্তির ওপর অতিরিক্ত অর্থনৈতিক নির্ভরতা তৈরি হলে সেটি ভবিষ্যতে রাজনৈতিক ও কৌশলগত চাপের কারণ হতে পারে। তাঁর মতে, এই অভিজ্ঞতা ইউরোপকে নতুন করে বাণিজ্যনীতি ও অংশীদার বাছাইয়ের বিষয়ে ভাবতে বাধ্য করেছে। ভারতের ভূমিকার কথা বলতে গিয়ে বেলজিয়ামের প্রধানমন্ত্রী স্বীকার করেন, ইউরোপের বর্তমান উপলব্ধির অনেক আগেই ভারত এই ধরনের ঝুঁকি সম্পর্কে সতর্ক করেছিল। কিন্তু সেই সতর্কবার্তা তখন ইউরোপ যথাযথ গুরুত্ব দিয়ে নেয়নি।

    বেলজিয়ামের প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্য

    তিনি বলেন, ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি বহু আগেই ইউরোপকে সতর্ক করেছিলেন। তখন সেই সতর্কবার্তা গুরুত্ব পায়নি, কিন্তু বর্তমান পরিস্থিতিতে ইউরোপ সেই বাস্তবতা বুঝতে শুরু করেছে। ডি ওয়েভারের বক্তব্য, এই উপলব্ধি ইউরোপের ক্ষেত্রে কিছুটা বিলম্বিত হলেও এখন তা বাস্তবে রূপ নিচ্ছে।

    বিশ্ব অর্থনীতির কাঠামো যখন বিভিন্ন শক্তিশালী গোষ্ঠী ও বাণিজ্যিক ব্লকে ভাগ হয়ে পড়ছে, তখন ভারত ও ইউরোপ কীভাবে একটি স্থায়ী কৌশলগত সম্পর্ক গড়ে তুলতে পারে—এমন প্রশ্নের জবাবে ডি ওয়েভার সহযোগিতার ভিত্তি হিসেবে পারস্পরিক সম্মান, বহুপাক্ষিকতা এবং নিয়মভিত্তিক আন্তর্জাতিক ব্যবস্থার ওপর গুরুত্ব দেন।

    তাঁর মতে, ইউরোপ এমন অংশীদার খুঁজছে যারা বহুপাক্ষিকতার প্রতি আস্থাশীল এবং শক্তি প্রয়োগের পরিবর্তে পারস্পরিক সম্মানের ভিত্তিতে সহযোগিতাকে এগিয়ে নিয়ে যেতে চায়। এই জায়গায় ভারত ইউরোপের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ অংশীদার হতে পারে (Modi Trade Warning)।

    বিশ্বের বড় অর্থনীতিগুলির মধ্যে ভারতের অবস্থান তুলে ধরে ডি ওয়েভার দেশটিকে বিশ্বের সবচেয়ে বড় এবং দ্রুত বর্ধনশীল অর্থনীতিগুলির একটি হিসেবে উল্লেখ করেন। একই সঙ্গে ভারতের বিপুল মানবসম্পদ, দক্ষ জনশক্তি এবং প্রযুক্তিগত সক্ষমতাকে ভবিষ্যৎ সহযোগিতার গুরুত্বপূর্ণ ভিত্তি হিসেবে দেখেন তিনি।

    জাপানের মতো তুলনামূলকভাবে পরিণত অর্থনীতির সঙ্গে ভারতের পার্থক্যও তুলে ধরেন বেলজিয়ামের প্রধানমন্ত্রী। তাঁর বক্তব্য, ভারতের অর্থনীতির বিকাশের পর্যায় এবং ভবিষ্যৎ সম্ভাবনা ইউরোপের জন্য পারস্পরিকভাবে লাভজনক সহযোগিতার নতুন সুযোগ তৈরি করতে পারে। বাণিজ্য, বিনিয়োগ, প্রযুক্তি এবং সরবরাহ-শৃঙ্খলের স্থিতিশীলতা—সব ক্ষেত্রেই দু’পক্ষের মধ্যে সহযোগিতা আরও বাড়ানো সম্ভব বলেই মনে করেন তিনি।

    ইউরোপের সাম্প্রতিক অভিজ্ঞতা

    ইউরোপের সাম্প্রতিক অভিজ্ঞতার প্রসঙ্গে ডি ওয়েভার বলেন, দীর্ঘ সময় ধরে ইউরোপের বাজারে উৎপাদন সক্ষমতার অতিরিক্ত অংশ কম দামে প্রবেশ করেছে। এর ফলে ইউরোপের নিজস্ব শিল্পভিত্তি দুর্বল হয়েছে এবং নির্দিষ্ট উৎসের ওপর নির্ভরতা বেড়েছে। পরবর্তী সময়ে সেই নির্ভরতাকে রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক চাপ সৃষ্টির হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করার সুযোগ তৈরি হয়েছে।

    এই প্রসঙ্গে তিনি কোনও দেশের নাম সরাসরি না বললেও এমন একটি প্রতিবেশী দেশের কথা উল্লেখ করেন, যে এই প্রক্রিয়া থেকে সবচেয়ে বেশি লাভবান হয়েছে। তাঁর বক্তব্যে স্পষ্টতই চিনের দিকে ইঙ্গিত ছিল। ডি ওয়েভারের মতে, ভারত ইউরোপের তুলনায় আগেই এই প্রবণতা উপলব্ধি করেছিল এবং সতর্ক করেছিল। কিন্তু ইউরোপ তখন সেই সতর্কবার্তায় কর্ণপাত করেনি (Belgium PM)।

    বাণিজ্যের ক্ষেত্রে উন্মুক্ততার নীতি বজায় রাখার পাশাপাশি কৌশলগত নির্ভরতার বিষয়টি বিবেচনায় নেওয়ার প্রয়োজনীয়তার কথাও বলেন তিনি। তাঁর মতে, মুক্ত বাণিজ্য মানে এমন নয় যে কোনও দেশের জাতীয় স্বার্থ বা নিরাপত্তার সঙ্গে সম্পর্কিত নির্ভরতাগুলি উপেক্ষা করতে হবে। বরং উন্মুক্ত অর্থনীতির সঙ্গে জাতীয় স্বার্থ রক্ষার মধ্যে ভারসাম্য তৈরি করাই বর্তমান সময়ের বড় চ্যালেঞ্জ।

    সমৃদ্ধ ও স্থিতিশীল বিশ্বব্যবস্থা

    ডি ওয়েভার আরও বলেন, ভারত ও ইউরোপের ইতিহাস, রাজনৈতিক প্রতিষ্ঠান এবং কৌশলগত দৃষ্টিভঙ্গিতে পার্থক্য রয়েছে। কিন্তু সেই পার্থক্য সত্ত্বেও গণতন্ত্র, উদ্ভাবন, অর্থনৈতিক উন্নয়ন এবং একটি সমৃদ্ধ ও স্থিতিশীল বিশ্বব্যবস্থা গড়ে তোলার ক্ষেত্রে দু’পক্ষের স্বার্থের যথেষ্ট মিল রয়েছে (Modi Trade Warning)।

    ভারতকে তিনি একটি গুরুত্বপূর্ণ গণতান্ত্রিক শক্তি এবং উদ্ভাবনের ক্ষেত্রে উল্লেখযোগ্য দেশ হিসেবে বর্ণনা করেন। তাঁর মতে, বিশ্বব্যবস্থা যখন নতুনভাবে গড়ে উঠছে, তখন ভারতের মতো একটি বড় শক্তির কণ্ঠস্বর বাদ দিয়ে কোনও মুক্ত ও সমৃদ্ধ আন্তর্জাতিক ব্যবস্থা কল্পনা করা কঠিন।

    এদিকে ইউরোপের শক্তি হিসেবে তিনি তুলে ধরেন বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ একক বাজার, শিল্প সক্ষমতা, প্রযুক্তিগত দক্ষতা এবং পূর্ব-অনুমানযোগ্য ও নিয়মভিত্তিক আন্তর্জাতিক সহযোগিতার প্রতি অঙ্গীকারকে। তাঁর মতে, এই দু’পক্ষের নিজস্ব সক্ষমতাকে কাজে লাগানো গেলে একটি দীর্ঘমেয়াদি ও ভারসাম্যপূর্ণ অংশীদারিত্ব তৈরি করা সম্ভব (Belgium PM)।

    বাণিজ্য অংশীদার নির্বাচনের ক্ষেত্রেও বৈচিত্র্য বাড়ানোর পক্ষে মত দেন ডি ওয়েভার। তাঁর বক্তব্য, যেসব দেশ নিজেদের প্রতিশ্রুতি ও আন্তর্জাতিক দায়বদ্ধতা সম্মান করে, তাদের সঙ্গে বাণিজ্যিক সম্পর্ক আরও বিস্তৃত করা প্রয়োজন। এর ফলে কোনও একটি দেশ বা অঞ্চলের ওপর অতিরিক্ত নির্ভরতার ঝুঁকি কমানো সম্ভব হবে।

    বিশ্ব রাজনীতি

    বিশ্ব রাজনীতিতে বর্তমানে বিভিন্ন দেশকে নির্দিষ্ট কোনও একটি শিবির বেছে নেওয়ার জন্য চাপ দেওয়া হচ্ছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি। এমন পরিস্থিতিতে ভারত ও ইউরোপের সম্পর্ককে কোনও একটি পক্ষের সঙ্গে জোটবদ্ধ হওয়ার বদলে স্বাধীন ও পারস্পরিক স্বার্থনির্ভর অংশীদার হিসেবে দেখার পক্ষে তিনি (Belgium PM)।

    সব মিলিয়ে ডি ওয়েভারের বক্তব্যে ভারত-ইউরোপ সম্পর্কের ক্ষেত্রে বাণিজ্যের পাশাপাশি কৌশলগত স্বনির্ভরতা, সরবরাহ-শৃঙ্খলের নিরাপত্তা, প্রযুক্তি, বিনিয়োগ এবং বহুপাক্ষিক আন্তর্জাতিক ব্যবস্থার বিষয়গুলি বিশেষ গুরুত্ব পেয়েছে। ইউরোপের সাম্প্রতিক অভিজ্ঞতা এবং ভারতের আগের সতর্কবার্তাকে সামনে রেখে তাঁর বক্তব্যের মূল বার্তা হল—ভবিষ্যতের অর্থনৈতিক সম্পর্ক শুধু সস্তা পণ্য বা বড় বাজারের হিসাবের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকবে না; নির্ভরতার ঝুঁকি, জাতীয় স্বার্থ এবং দীর্ঘমেয়াদি কৌশলগত নিরাপত্তাকেও সমান গুরুত্ব দিতে হবে (Modi Trade Warning)।

    আর সেই নতুন বাস্তবতায় ভারতকে ইউরোপের অন্যতম প্রধান অংশীদার হিসেবে দেখছেন বেলজিয়ামের প্রধানমন্ত্রী। তাঁর বক্তব্যে স্পষ্ট, বৈশ্বিক অর্থনীতির পুনর্বিন্যাসের সময়ে ভারত-ইউরোপ সম্পর্ক শুধু বাণিজ্যিক সহযোগিতার মধ্যে সীমাবদ্ধ না থেকে বৃহত্তর কৌশলগত অংশীদারত্বের দিকে এগিয়ে যেতে পারে (Belgium PM)।

     

  • China: নেপালের ভয়াবহ বন্যায় চিনের ক্ষতি কত? তথ্য গোপনের অভিযোগে কাঠগড়ায় ড্রাগনের দেশ

    China: নেপালের ভয়াবহ বন্যায় চিনের ক্ষতি কত? তথ্য গোপনের অভিযোগে কাঠগড়ায় ড্রাগনের দেশ

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: নেপালে কয়েক দিন আগে ভয়াবহ প্রাকৃতিক দুর্যোগে ৫০০-রও বেশি মানুষের মৃত্যু হলেও একই দুর্যোগে চিনের তিব্বত অঞ্চলে ঠিক কতটা ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে, তার প্রকৃত হিসাব পাওয়া কঠিন। তিব্বত থেকে পাওয়া তথ্যের উপর চিনা (China) সরকারের কঠোর নিয়ন্ত্রণের কারণেই এই পরিস্থিতি বলে একটি প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে। চিনা কর্তৃপক্ষ এখনও পর্যন্ত জানিয়েছে, আকস্মিক বন্যার প্রবল স্রোতে কাদা ও বিশালাকার পাথর ভেসে এসে এলাকা প্লাবিত হওয়ার ঘটনায় পাঁচজনের মৃত্যু হয়েছে (Flood Damage Assessment)। তবে নেপাল সীমান্তবর্তী চিনা অংশের গ্রামগুলিতে হাজার হাজার মানুষ বসবাস করতেন বলে ব্রিটিশ সংবাদপত্র গার্ডিয়ানের প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে।

    চিনের ক্ষতি কত (China)

    দুর্যোগের পর নেপালের সাংবাদিকেরা ঘটনাস্থলের দিকে যান। পরিস্থিতি সরেজমিনে খতিয়ে দেখতে তাঁরা যতটা সম্ভব দুর্গত এলাকার কাছাকাছি পৌঁছনোর চেষ্টা করেন। প্রত্যক্ষদর্শীদের সঙ্গে কথা বলে ক্যামেরার সামনে তাঁদের অভিজ্ঞতাও তুলে ধরেন সাংবাদিকেরা। ফলে ভয়াবহ বিপর্যয়ের একটি সামগ্রিক চিত্র প্রকাশ্যে আসে।অন্যদিকে, চিনের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যমে মূলত উদ্ধারকাজ নিয়েই প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছে। বন্যার স্রোতে ঠিক কী কী ধ্বংস হয়েছে বা কতজনের মৃত্যু হয়েছে, সেই বিষয়ে তেমন কোনও তথ্য প্রকাশ করা হয়নি। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, “তিব্বতের একটি ত্রাণকেন্দ্র থেকে সম্প্রচারিত প্রতিবেদনে চিনা রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যমের সাংবাদিক তাঁর পিছনে বসে থাকা কোনও মানুষের সঙ্গেই কথা বলেননি।”

    সুড়ঙ্গে আটকে বহু শ্রমিক

    তিব্বত চিনের কাছে অত্যন্ত সংবেদনশীল একটি অঞ্চল। স্বাধীনতা ও ধর্মীয় স্বাধীনতার দাবিতে সেখানে তিব্বতিদের বিক্ষোভের ঘটনা অতীতেও ঘটেছে। এর মধ্যে আত্মদাহের ঘটনাও রয়েছে। চিনা সরকারের ব্যবস্থাপনায় আয়োজিত বিশেষ সফর ছাড়া বিদেশি সংবাদমাধ্যমের পক্ষে তিব্বতে সহজে প্রবেশ করাও কঠিন। এদিকে নেপালি সেনাবাহিনী জানিয়েছে, ত্রিশূলী-৩এ জলবিদ্যুৎ প্রকল্পের একটি সুড়ঙ্গে বহু শ্রমিক আটকে রয়েছেন বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। সুড়ঙ্গের ভিতরে সফলভাবে একটি পাইপ ঢোকানোর পর তাঁদের উদ্ধারের কাজ শুরু হয়েছে (China)।

    নেপালের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সুদান গুরুং এক বিবৃতিতে জানিয়েছেন, “ছোট ওই খোলা জায়গা দিয়ে বাতাস পাঠানো শুরু হয়েছে।” তবে বৃষ্টি এবং নদীর জলস্তর বেড়ে যাওয়ায় উদ্ধারকাজ ব্যাহত হচ্ছে। পরিস্থিতির কথা মাথায় রেখে নেপালের দুর্যোগ মোকাবিলা কর্তৃপক্ষ উদ্ধারকারী দলগুলিকে সতর্কতার সঙ্গে কাজ করার নির্দেশ দিয়েছে।

    আশঙ্কা করা হচ্ছে, এখনও ১০০-র বেশি শ্রমিক সুড়ঙ্গের ভিতরে জীবিত অবস্থায় আটকে থাকতে পারেন। ত্রিশূলী-৩এ এবং ত্রিশূলী-৩বি জলবিদ্যুৎ প্রকল্প এলাকাতেই উদ্ধারকাজে সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। সুড়ঙ্গ ধসের সঠিক কারণ এখনও স্পষ্ট নয়। তবে বিশ্বজুড়ে জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে হিমবাহ দ্রুত গলে যাওয়ায় এই ধরনের বিপর্যয়ের ঝুঁকি বাড়ছে বলে বিশেষজ্ঞদের আশঙ্কা।

    রাষ্ট্রসংঘের বক্তব্য

    রাষ্ট্রসংঘের জলবায়ু বিষয়ক প্রধান সাইমন স্টিল এক বিবৃতিতে বলেন, “হিমবাহের আকস্মিক ধস এবং আকস্মিক বন্যা আমাদের মনে করিয়ে দিচ্ছে, পাহাড়ি পরিবেশ কতটা ভঙ্গুর হতে পারে।”

    এদিকে নেপালের উদ্ধার ও ত্রাণকাজে সহায়তার জন্য প্রয়োজনীয় সামগ্রী এবং বিশেষ প্রযুক্তিগত সরঞ্জাম নিয়ে ভারতের আরও একটি বিমান আজ কাঠমান্ডুতে পৌঁছেছে বলে জানিয়েছেন ভারতের বিদেশমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর।

    তিনি জানান, ভারতীয় বায়ুসেনার একটি সি-১৩০ বিমান নেপালে অতিরিক্ত সহায়তা নিয়ে পৌঁছেছে। বিমানে বিশেষজ্ঞ দল এবং প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম পাঠানো হয়েছে। এর (Flood Damage Assessment) মধ্যে রয়েছে সুড়ঙ্গ-সংক্রান্ত প্রযুক্তিগত বিশেষজ্ঞদের একটি দল, অনুসন্ধান ও উদ্ধারকাজের সরঞ্জাম, ফরেনসিক বিশেষজ্ঞদের একটি দল এবং ডিএনএ পরীক্ষার প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম (China)।

     

  • Teesta Water Ties: “তিস্তা চুক্তি নিয়ে ভারতের সঙ্গে বন্ধুত্ব নষ্ট করতে চায় না বাংলাদেশ”, বললেন ঢাকার জলসম্পদমন্ত্রী

    Teesta Water Ties: “তিস্তা চুক্তি নিয়ে ভারতের সঙ্গে বন্ধুত্ব নষ্ট করতে চায় না বাংলাদেশ”, বললেন ঢাকার জলসম্পদমন্ত্রী

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: “তিস্তা নদীর জলবণ্টন চুক্তিকে (Teesta Water Ties) কেন্দ্র করে ভারতের সঙ্গে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক নষ্ট করতে চায় না বাংলাদেশ।” অন্তত এমনই বললেন বাংলাদেশের জলসম্পদমন্ত্রী শহিদউদ্দিন চৌধুরী আনে।তবে একইসঙ্গে নিজেদের স্বার্থের কথাও নয়াদিল্লিকে (India Bangladesh) বিবেচনা করতে হবে বলে জানিয়েছেন তিনি।ঢাকায় আয়োজিত এক সেমিনারে মন্ত্রী বলেন, “প্রতিবেশী দেশ একটি বন্ধুত্বপূর্ণ দেশ। তাদের যেমন নিজেদের স্বার্থ রয়েছে, তেমনই আমাদেরও স্বার্থ রয়েছে—এই বিষয়টি তাদের ভাবতে হবে।” তিনি আরও বলেন, “একজন বন্ধু আর এক বন্ধুর স্বার্থ রক্ষা করবে। তাদের সঙ্গে আমাদের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক কখনও নষ্ট হোক, আমরা তা চাই না।”

    তিস্তা সমস্যার সমাধানে বাংলাদেশের তৎপরতা (Teesta Water Ties)

    দীর্ঘদিন ধরে ঝুলে থাকা তিস্তা সমস্যার সমাধানে বাংলাদেশের নতুন করে তৎপরতার মধ্যেই জলসম্পদমন্ত্রীর এহেন মন্তব্য সামনে এল। এর অংশ হিসেবে চিনের সহযোগিতায় প্রস্তাবিত তিস্তা নদীর যৌথ ব্যবস্থাপনা ও পুনরুদ্ধার প্রকল্প এগিয়ে নেওয়ার চেষ্টাও করছে ঢাকা। এই প্রকল্পের লক্ষ্য, উত্তর বাংলাদেশের বারবার দেখা দেওয়া বন্যা, নদীভাঙন এবং শুকনো মরশুমে জলসংকট মোকাবিলা করা। মন্ত্রী জানান, ফেব্রুয়ারির নির্বাচনের পর প্রস্তাবিত প্রকল্প নিয়ে বিশেষজ্ঞদের মতামত নিতে সরকার একাধিক সেমিনার ও পরামর্শ বৈঠকের আয়োজন করেছে। এসব আলোচনায় পাওয়া সুপারিশের ভিত্তিতে বিস্তারিত সমীক্ষা করা হবে। সেই সমীক্ষার ফলের ভিত্তিতেই পরবর্তী পদক্ষেপ নেবে সরকার।তিস্তা প্রকল্পকে বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, নদীভাঙন-সহ নানা সমস্যায় বছরের পর বছর ক্ষতিগ্রস্ত উত্তরাঞ্চলের পাঁচ-ছ’টি জেলার মানুষের এই প্রকল্প নিয়ে ব্যাপক প্রত্যাশা রয়েছে। তাঁর কথায়, “আমরা যদি এটি বাস্তবায়ন করতে ব্যর্থ হই, তাহলে ওই এলাকার পরিবারগুলির ক্ষয়ক্ষতি ও সমস্যার পরিমাণ আরও বাড়তে থাকবে। যে কোনও মূল্যে আমাদের এই চ্যালেঞ্জের মোকাবিলা করতে হবে (Teesta Water Ties)।”

    জলবণ্টন নিয়ে ভারত-বাংলাদেশ বিরোধ

    তিস্তা নদীর জলবণ্টন নিয়ে ভারত ও বাংলাদেশের মধ্যে কয়েক দশক ধরে বিরোধ রয়েছে। হিমালয় থেকে উৎপন্ন হয়ে নদীটি সিকিম ও পশ্চিমবঙ্গের মধ্যে দিয়ে বাংলাদেশে প্রবেশ করেছে এবং পরে বাংলাদেশের যমুনা নামে পরিচিত ব্রহ্মপুত্রের সঙ্গে মিলিত হয়েছে। উত্তর বাংলাদেশের কৃষি ও মানুষের জীবিকার জন্য তিস্তার জল অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এদিকে পশ্চিমবঙ্গেও সেচ ও বিদ্যুৎ উৎপাদনের ক্ষেত্রে এই নদীর জল গুরুত্বপূর্ণ। রাজ্যের একাধিক জেলার মানুষের জীবন ও কৃষি নির্ভরশীল তিস্তার ওপর। আটের দশক থেকেই তিস্তার জল ভাগাভাগি নিয়ে ভারত ও বাংলাদেশের মধ্যে আলোচনা চলছে। ১৯৮৩ সালে একটি অন্তর্বর্তী ব্যবস্থা করা হয়েছিল। সেই ব্যবস্থায় তিস্তার জলের ৩৯ শতাংশ ভারতের জন্য এবং ৩৬ শতাংশ বাংলাদেশের জন্য নির্ধারণ করা হয়। বাকি ২৫ শতাংশ জল বণ্টন করা হয়নি (India Bangladesh)।

    তিস্তার জল বণ্টন চুক্তি জরুরি প্রয়োজন

    এরপর ২০১১ সালে একটি অন্তর্বর্তী চুক্তির খসড়া চূড়ান্ত করা হয়। তাতে শুষ্ক মরশুমে তিস্তার জল ভাগাভাগির একটি সূত্র প্রস্তাব করা হয়েছিল। কিন্তু পশ্চিমবঙ্গ সরকার রাজ্যে জলের প্রাপ্যতা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে ওই ব্যবস্থার বিরোধিতা করায় চুক্তিটি স্বাক্ষরিত হয়নি (Teesta Water Ties)। জলসম্পদমন্ত্রী জানান, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান নিয়মিত প্রস্তাবিত তিস্তা প্রকল্প নিয়ে আলোচনা করছেন। পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট দফতর এবং বিভিন্ন মন্ত্রকের মধ্যে বৈঠকের মাধ্যমে প্রকল্পের অগ্রগতি পর্যালোচনা করা হচ্ছে। তিস্তা নিয়ে একটি চুক্তি “জরুরি প্রয়োজন” বলে উল্লেখ করে মন্ত্রী জানান, সেটিকে তিস্তা চুক্তি বা অন্য কোনও ব্যবস্থার নামে অভিহিত করা হোক না কেন, প্রকল্পটি বাস্তবায়নের দিকে এগিয়ে যাবে বাংলাদেশ।

    বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর চিন সফর

    জুন মাসে বেজিংয়ে সরকারি সফরের সময় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান চিনের নেতাদের সঙ্গে উচ্চপর্যায়ের বৈঠক করেন। ওই বৈঠকে প্রস্তাবিত তিস্তা পুনরুদ্ধার প্রকল্পের কারিগরি সম্ভাব্যতা সমীক্ষা দ্রুত এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার বিষয়ে চিনের কাছ থেকে প্রতিশ্রুতি পাওয়া গিয়েছে বলে জানানো হয়েছে (India Bangladesh)। তিস্তা প্রকল্পে চিনকে যুক্ত করার সিদ্ধান্তের ফলে দীর্ঘদিনের এই জলবণ্টন বিরোধে নতুন কৌশলগত মাত্রা যুক্ত হয়েছে। ভারতের কাছে বিষয়টি বিশেষভাবে সংবেদনশীল, কারণ উত্তর বাংলাদেশের ওই অঞ্চলের অবস্থান ভারতের শিলিগুড়ি করিডরের (চিকেন্স নেকের) কাছাকাছি। এই সরু স্থলপথই ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় রাজ্যগুলিকে দেশের বাকি অংশের সঙ্গে যুক্ত করেছে (Teesta Water Ties)। ভারত বরাবরই বলে আসছে, তিস্তা সমস্যার সমাধান সংশ্লিষ্ট সব পক্ষকে নিয়ে আলোচনার মাধ্যমে করা উচিত। এর মধ্যে পশ্চিমবঙ্গও রয়েছে।

    রণধীর জয়সওয়ালের বক্তব্য

    জুলাই মাসে ভারতের বিদেশমন্ত্রকের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল জানিয়েছিলেন, প্রস্তাবিত তিস্তা প্রকল্প নিয়ে ভারতের মতামত বাংলাদেশকে জানিয়ে দেওয়া হয়েছে। একইসঙ্গে বিষয়টি নিয়ে ভারতের সামগ্রিক অবস্থানের অংশ হিসেবে “সংশ্লিষ্ট সব উন্নয়ন” বিবেচনা করা হবে বলেও জানান তিনি। তিস্তা জলবণ্টন বিরোধ ১৯৯৬ সালে স্বাক্ষরিত ভারত-বাংলাদেশ গঙ্গা জলবণ্টন চুক্তি থেকে আলাদা। ওই চুক্তির মেয়াদ ৩০ বছর এবং ২০২৬ সালের ডিসেম্বর মাসে তার মেয়াদ শেষ হওয়ার কথা। ভারত ও বাংলাদেশের (India Bangladesh) মধ্যে মোট ৫৪টি আন্তঃসীমান্ত নদী রয়েছে। এসব নদী ও জলসম্পর্কিত বিষয় নিয়ে দুই দেশ প্রায়ই আলোচনা করে থাকে যৌথ নদী কমিশনের মাধ্যমে (Teesta Water Ties)।

     

  • Xi Jinping: সেপ্টেম্বরেই আসতে পারেন শি জিনপিং, গলওয়ান সংঘর্ষের পর এই প্রথম ভারত সফরে চিনা প্রেসিডেন্ট

    Xi Jinping: সেপ্টেম্বরেই আসতে পারেন শি জিনপিং, গলওয়ান সংঘর্ষের পর এই প্রথম ভারত সফরে চিনা প্রেসিডেন্ট

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: প্রায় ছ’বছর পরে ভারতে আসতে পারেন চিনা প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং (Xi Jinping)। সেপ্টেম্বরে নয়াদিল্লিতে আয়োজিত ব্রিকস শীর্ষ সম্মেলনে (BRICS Summit) যোগ দিতে আসতে পারেন তিনি। ১২ ও ১৩ সেপ্টেম্বর তাঁর ভারত সফরের সম্ভাবনা। সফর চূড়ান্ত হলে ২০২০ সালের গলওয়ান উপত্যকার সংঘর্ষের পর এটাই হবে জিনপিংয়ের প্রথম ভারত সফর। ওই সংঘর্ষের পর ভারত-চিন সম্পর্ক কয়েক দশকের মধ্যে সবচেয়ে তলানিতে গিয়ে পৌঁছেছিল।

    জিনপিংয়ের ভারত সফর (Xi Jinping)

    ২০১৩ সাল থেকে চিনের প্রেসিডেন্টে পদে রয়েছেন জিনপিং। এর আগে তিনবার ভারত সফরে এসেছেন তিনি। তাঁর শেষ ভারত সফর হয়েছিল ২০১৯ সালের অক্টোবরে। এর কয়েক মাস পরেই এলওসি (প্রকৃত নিয়ন্ত্রণরেখা) বরাবর পূর্ব লাদাখে সামরিক সংঘাত শুরু হয়, যা দুই দেশের সম্পর্কে আমূল পরিবর্তন আনে। জিনপিংয়ের সম্ভাব্য সফরকে সামনে রেখে নয়াদিল্লি ও বেজিংয়ের মধ্যে কূটনৈতিক তৎপরতা আরও বাড়তে পারে বলে সূত্রের খবর। জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা অজিত দোভালের চিন সফরের সম্ভাবনাও রয়েছে। সেখানে উচ্চপর্যায়ের আলোচনায় অংশ নেওয়ার কথা থাকলেও, সফরের দিনক্ষণ এখনও চূড়ান্ত হয়নি। এদিকে ভারত-চিন সীমান্ত বিষয়ক পরামর্শ ও সমন্বয়ের কার্যপ্রণালীর বৈঠকও আগামী কয়েক সপ্তাহের মধ্যে হতে পারে। এরপর সীমান্ত সংক্রান্ত বিষয়ে দুই দেশের বিশেষ প্রতিনিধিদের মধ্যে বৈঠকের সম্ভাবনা রয়েছে।

    অমীমাংসিত সীমান্ত বিরোধ

    বিশেষ প্রতিনিধিদের আসন্ন বৈঠকটি বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে। কারণ, দীর্ঘদিন ধরে অমীমাংসিত সীমান্ত বিরোধ নিয়ে আলোচনা এগিয়ে নিয়ে যেতে পরামর্শ ও সমন্বয়ের কার্যপ্রণালীর কাঠামোর অধীনে নতুন বিশেষজ্ঞ গোষ্ঠী এবং একটি কার্যকরী গোষ্ঠী গঠনের বিষয়ে ভারত ও চিন সম্মত হওয়ার পর এই প্রথম বিশেষ প্রতিনিধিদের বৈঠক হতে চলেছে। এই আলোচনায় সীমান্ত ব্যবস্থাপনা নিয়ে কারিগরি ও কূটনৈতিক স্তরে অগ্রগতি ঘটানোর পাশাপাশি বৃহত্তর রাজনৈতিক আলোচনার জন্য অনুকূল পরিবেশ তৈরির চেষ্টা হবে বলে মনে করা হচ্ছে। কয়েক বছর ধরে টানাপোড়েনের পর দুই দেশের মধ্যে যোগাযোগের গতি বজায় রাখতে উভয় পক্ষই যৌথভাবে কাজ করছে। এলওসি বরাবর অমীমাংসিত সমস্যাগুলির সমাধানের পাশাপাশি কৌশলগত আস্থা পুনর্গঠন, নতুন করে সীমান্ত উত্তেজনা এড়ানো এবং অভিন্ন স্বার্থের ক্ষেত্রগুলিতে সহযোগিতা বাড়ানোই এই কূটনৈতিক তৎপরতার মূল লক্ষ্য।

    গলওয়ান সংঘর্ষের পর এই প্রথম

    জিনপিংয়ের সফর চূড়ান্ত হলে ব্রিকস সম্মেলনের বাইরেও এর তাৎপর্য থাকবে। প্রায় ছ’বছর পর ভারতে তাঁর উপস্থিতি এবং গলওয়ান সংঘর্ষের পর প্রথম সফর হওয়ায় বিষয়টি আন্তর্জাতিক মহলের নজর কাড়বে। সম্মেলনের ফাঁকে ভারত ও চিনের শীর্ষ নেতৃত্বের (Xi Jinping) মধ্যে দ্বিপাক্ষিক বৈঠক হতে পারে কি না, সেদিকেও নজর থাকবে তামাম বিশ্বের। সম্ভাব্য বৈঠকে সীমান্ত বিরোধ, আঞ্চলিক নিরাপত্তা, অর্থনৈতিক সম্পর্ক এবং এশিয়ার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের ভবিষ্যৎ গতিপথ নিয়ে আলোচনা হতে পারে। বর্তমান আন্তর্জাতিক পরিস্থিতিও এই সম্ভাব্য বৈঠকের গুরুত্ব বাড়িয়েছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের শুল্কনীতি এবং পশ্চিম এশিয়ায় মার্কিন সামরিক হস্তক্ষেপের পর বেড়ে চলা অস্থিরতার মধ্যে ভারত ও চিন উভয়কেই নতুন বৈশ্বিক চ্যালেঞ্জের মোকাবিলা করতে হচ্ছে (BRICS Summit)। তবে এখনও পর্যন্ত জিনপিংয়ের ভারত সফর নিয়ে নয়াদিল্লি বা বেজিং (Xi Jinping)—কোনও পক্ষেই আনুষ্ঠানিক ঘোষণা করা হয়নি। ফলে সফরটি শেষ পর্যন্ত বাস্তবায়িত হবে কি না, তা নিশ্চিত হতে অপেক্ষা করতে হবে সরকারিভাবে ঘোষণা করার সময় পর্যন্ত।

     

  • Iran US War: ইরানে ৪০০ এয়ার ডিফেন্স ক্ষেপণাস্ত্র লঞ্চার পাঠাচ্ছে চিন! হতাশার সুর ট্রাম্পের, অস্বীকার করল বেজিং

    Iran US War: ইরানে ৪০০ এয়ার ডিফেন্স ক্ষেপণাস্ত্র লঞ্চার পাঠাচ্ছে চিন! হতাশার সুর ট্রাম্পের, অস্বীকার করল বেজিং

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: আমেরিকার সঙ্গে যুদ্ধের আবহে ইরানকে শক্তিশালী করতে পাকিস্তানের মাধ্যমে চিনের তৈরি কাঁধে বহনযোগ্য প্রায় ৪০০টি এয়ার ডিফেন্স ক্ষেপণাস্ত্র লঞ্চার (MANPADS) পাঠানো হতে পারে বলে রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে। তবে এই দাবি সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন বলে উড়িয়ে দিয়েছে চিন। একইভাবে পাকিস্তানও এই প্রতিবেদন অস্বীকার করেছে। রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আগামী কয়েক সপ্তাহের মধ্যেই পাকিস্তান হয়ে ইরানের কাছে প্রথম চালান পৌঁছতে পারে। চুক্তির আর্থিক মূল্য প্রায় ৬০ থেকে ৭০ মিলিয়ন মার্কিন ডলার। এর আওতায় চিনের তৈরি ৩০০ থেকে ৪০০টি ম্যান-পোর্টেবল এয়ার ডিফেন্স সিস্টেম (MANPADS) কেনার কথা রয়েছে।

    প্রতিরক্ষা সক্ষমতা বাড়ানোর ক্ষেত্রে ইরানের উদ্যোগ

    প্রতিবেদন অনুযায়ী, এই চুক্তিটি হংকং-ভিত্তিক এক মধ্যস্থতাকারী সংস্থার মাধ্যমে সম্পন্ন হয়েছে। যদি এই সরবরাহ বাস্তবায়িত হয়, তবে তা ইরানের স্বল্প-পাল্লার আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাকে উল্লেখযোগ্যভাবে শক্তিশালী করবে। সাম্প্রতিক যুক্তরাষ্ট্র ও ইজরায়েলের সঙ্গে সংঘাতের পর নিজেদের প্রতিরক্ষা সক্ষমতা বাড়ানোর ক্ষেত্রে এটিকে ইরানের অন্যতম বড় উদ্যোগ হিসেবে দেখা হচ্ছে। এদিকে, পাকিস্তানের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। একদিকে ইসলামাবাদ নিজেকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে মধ্যস্থতাকারী হিসেবে তুলে ধরলেও, অন্যদিকে পাকিস্তান ইরানকে সহায়তা করছে বলে অভিযোগ উঠেছে। চলতি বছরের মে মাসে এক প্রতিবেদনে মার্কিন কর্মকর্তাদের উদ্ধৃত করে দাবি করা হয়েছিল যে, মার্কিন হামলা থেকে রক্ষা করতে পাকিস্তান তাদের বিমানঘাঁটিতে ইরানের সামরিক বিমান রাখার অনুমতি দিয়েছিল। তবে চিনের বিদেশ মন্ত্রক এই প্রতিবেদনকে সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন বলে দাবি করেছে। এক বিবৃতিতে তারা জানিয়েছে, “সংশ্লিষ্ট প্রতিবেদন সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন। চিন সবসময় শান্তি প্রতিষ্ঠা ও সংঘাতের অবসানে গঠনমূলক ভূমিকা পালন করেছে।”

    ট্রাম্পের হতাশার সুর

    ইরানের কাছে চিনের অস্ত্র সরবরাহের সম্ভাব্য খবর নিয়ে প্রতিক্রিয়া জানিয়ে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, যদি চিন সত্যিই ইরানকে অস্ত্র সরবরাহ করে, তবে তিনি অত্যন্ত হতাশ হবেন। এক সাংবাদিক বৈঠকে ট্রাম্প বলেন, চিনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং তাঁকে আশ্বাস দিয়েছিলেন যে বেজিং এই সংঘাতে জড়াবে না। ট্রাম্পের কথায়, “তিনি (শি জিনপিং) খুব দৃঢ়ভাবে আমাকে বলেছেন যে তাঁরা এতে অংশ নেবেন না। যদি তাঁরা তা করেন, তাহলে আমি অবশ্যই হতাশ হব। তিনি সম্ভবত ২৪ সেপ্টেম্বর যুক্তরাষ্ট্র সফরে আসছেন।” এর আগে চলতি বছরের এপ্রিলেও ট্রাম্প দাবি করেছিলেন, শি জিনপিং তাঁকে চিঠি লিখে জানিয়েছিলেন যে চিন তেহরানে অস্ত্র পাঠাচ্ছে না। একই সঙ্গে ট্রাম্প সতর্ক করে বলেছিলেন, ইরানকে অস্ত্র সরবরাহকারী দেশগুলির ওপর ৫০ শতাংশ পর্যন্ত শুল্ক আরোপ করা হতে পারে।

LinkedIn
Share