Teesta Water Ties: “তিস্তা চুক্তি নিয়ে ভারতের সঙ্গে বন্ধুত্ব নষ্ট করতে চায় না বাংলাদেশ”, বললেন ঢাকার জলসম্পদমন্ত্রী

india-bangladesh-teesta-water-ties

মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: “তিস্তা নদীর জলবণ্টন চুক্তিকে (Teesta Water Ties) কেন্দ্র করে ভারতের সঙ্গে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক নষ্ট করতে চায় না বাংলাদেশ।” অন্তত এমনই বললেন বাংলাদেশের জলসম্পদমন্ত্রী শহিদউদ্দিন চৌধুরী আনে।তবে একইসঙ্গে নিজেদের স্বার্থের কথাও নয়াদিল্লিকে (India Bangladesh) বিবেচনা করতে হবে বলে জানিয়েছেন তিনি।ঢাকায় আয়োজিত এক সেমিনারে মন্ত্রী বলেন, “প্রতিবেশী দেশ একটি বন্ধুত্বপূর্ণ দেশ। তাদের যেমন নিজেদের স্বার্থ রয়েছে, তেমনই আমাদেরও স্বার্থ রয়েছে—এই বিষয়টি তাদের ভাবতে হবে।” তিনি আরও বলেন, “একজন বন্ধু আর এক বন্ধুর স্বার্থ রক্ষা করবে। তাদের সঙ্গে আমাদের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক কখনও নষ্ট হোক, আমরা তা চাই না।”

তিস্তা সমস্যার সমাধানে বাংলাদেশের তৎপরতা (Teesta Water Ties)

দীর্ঘদিন ধরে ঝুলে থাকা তিস্তা সমস্যার সমাধানে বাংলাদেশের নতুন করে তৎপরতার মধ্যেই জলসম্পদমন্ত্রীর এহেন মন্তব্য সামনে এল। এর অংশ হিসেবে চিনের সহযোগিতায় প্রস্তাবিত তিস্তা নদীর যৌথ ব্যবস্থাপনা ও পুনরুদ্ধার প্রকল্প এগিয়ে নেওয়ার চেষ্টাও করছে ঢাকা। এই প্রকল্পের লক্ষ্য, উত্তর বাংলাদেশের বারবার দেখা দেওয়া বন্যা, নদীভাঙন এবং শুকনো মরশুমে জলসংকট মোকাবিলা করা। মন্ত্রী জানান, ফেব্রুয়ারির নির্বাচনের পর প্রস্তাবিত প্রকল্প নিয়ে বিশেষজ্ঞদের মতামত নিতে সরকার একাধিক সেমিনার ও পরামর্শ বৈঠকের আয়োজন করেছে। এসব আলোচনায় পাওয়া সুপারিশের ভিত্তিতে বিস্তারিত সমীক্ষা করা হবে। সেই সমীক্ষার ফলের ভিত্তিতেই পরবর্তী পদক্ষেপ নেবে সরকার।তিস্তা প্রকল্পকে বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, নদীভাঙন-সহ নানা সমস্যায় বছরের পর বছর ক্ষতিগ্রস্ত উত্তরাঞ্চলের পাঁচ-ছ’টি জেলার মানুষের এই প্রকল্প নিয়ে ব্যাপক প্রত্যাশা রয়েছে। তাঁর কথায়, “আমরা যদি এটি বাস্তবায়ন করতে ব্যর্থ হই, তাহলে ওই এলাকার পরিবারগুলির ক্ষয়ক্ষতি ও সমস্যার পরিমাণ আরও বাড়তে থাকবে। যে কোনও মূল্যে আমাদের এই চ্যালেঞ্জের মোকাবিলা করতে হবে (Teesta Water Ties)।”

জলবণ্টন নিয়ে ভারত-বাংলাদেশ বিরোধ

তিস্তা নদীর জলবণ্টন নিয়ে ভারত ও বাংলাদেশের মধ্যে কয়েক দশক ধরে বিরোধ রয়েছে। হিমালয় থেকে উৎপন্ন হয়ে নদীটি সিকিম ও পশ্চিমবঙ্গের মধ্যে দিয়ে বাংলাদেশে প্রবেশ করেছে এবং পরে বাংলাদেশের যমুনা নামে পরিচিত ব্রহ্মপুত্রের সঙ্গে মিলিত হয়েছে। উত্তর বাংলাদেশের কৃষি ও মানুষের জীবিকার জন্য তিস্তার জল অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এদিকে পশ্চিমবঙ্গেও সেচ ও বিদ্যুৎ উৎপাদনের ক্ষেত্রে এই নদীর জল গুরুত্বপূর্ণ। রাজ্যের একাধিক জেলার মানুষের জীবন ও কৃষি নির্ভরশীল তিস্তার ওপর। আটের দশক থেকেই তিস্তার জল ভাগাভাগি নিয়ে ভারত ও বাংলাদেশের মধ্যে আলোচনা চলছে। ১৯৮৩ সালে একটি অন্তর্বর্তী ব্যবস্থা করা হয়েছিল। সেই ব্যবস্থায় তিস্তার জলের ৩৯ শতাংশ ভারতের জন্য এবং ৩৬ শতাংশ বাংলাদেশের জন্য নির্ধারণ করা হয়। বাকি ২৫ শতাংশ জল বণ্টন করা হয়নি (India Bangladesh)।

তিস্তার জল বণ্টন চুক্তি জরুরি প্রয়োজন

এরপর ২০১১ সালে একটি অন্তর্বর্তী চুক্তির খসড়া চূড়ান্ত করা হয়। তাতে শুষ্ক মরশুমে তিস্তার জল ভাগাভাগির একটি সূত্র প্রস্তাব করা হয়েছিল। কিন্তু পশ্চিমবঙ্গ সরকার রাজ্যে জলের প্রাপ্যতা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে ওই ব্যবস্থার বিরোধিতা করায় চুক্তিটি স্বাক্ষরিত হয়নি (Teesta Water Ties)। জলসম্পদমন্ত্রী জানান, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান নিয়মিত প্রস্তাবিত তিস্তা প্রকল্প নিয়ে আলোচনা করছেন। পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট দফতর এবং বিভিন্ন মন্ত্রকের মধ্যে বৈঠকের মাধ্যমে প্রকল্পের অগ্রগতি পর্যালোচনা করা হচ্ছে। তিস্তা নিয়ে একটি চুক্তি “জরুরি প্রয়োজন” বলে উল্লেখ করে মন্ত্রী জানান, সেটিকে তিস্তা চুক্তি বা অন্য কোনও ব্যবস্থার নামে অভিহিত করা হোক না কেন, প্রকল্পটি বাস্তবায়নের দিকে এগিয়ে যাবে বাংলাদেশ।

বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর চিন সফর

জুন মাসে বেজিংয়ে সরকারি সফরের সময় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান চিনের নেতাদের সঙ্গে উচ্চপর্যায়ের বৈঠক করেন। ওই বৈঠকে প্রস্তাবিত তিস্তা পুনরুদ্ধার প্রকল্পের কারিগরি সম্ভাব্যতা সমীক্ষা দ্রুত এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার বিষয়ে চিনের কাছ থেকে প্রতিশ্রুতি পাওয়া গিয়েছে বলে জানানো হয়েছে (India Bangladesh)। তিস্তা প্রকল্পে চিনকে যুক্ত করার সিদ্ধান্তের ফলে দীর্ঘদিনের এই জলবণ্টন বিরোধে নতুন কৌশলগত মাত্রা যুক্ত হয়েছে। ভারতের কাছে বিষয়টি বিশেষভাবে সংবেদনশীল, কারণ উত্তর বাংলাদেশের ওই অঞ্চলের অবস্থান ভারতের শিলিগুড়ি করিডরের (চিকেন্স নেকের) কাছাকাছি। এই সরু স্থলপথই ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় রাজ্যগুলিকে দেশের বাকি অংশের সঙ্গে যুক্ত করেছে (Teesta Water Ties)। ভারত বরাবরই বলে আসছে, তিস্তা সমস্যার সমাধান সংশ্লিষ্ট সব পক্ষকে নিয়ে আলোচনার মাধ্যমে করা উচিত। এর মধ্যে পশ্চিমবঙ্গও রয়েছে।

রণধীর জয়সওয়ালের বক্তব্য

জুলাই মাসে ভারতের বিদেশমন্ত্রকের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল জানিয়েছিলেন, প্রস্তাবিত তিস্তা প্রকল্প নিয়ে ভারতের মতামত বাংলাদেশকে জানিয়ে দেওয়া হয়েছে। একইসঙ্গে বিষয়টি নিয়ে ভারতের সামগ্রিক অবস্থানের অংশ হিসেবে “সংশ্লিষ্ট সব উন্নয়ন” বিবেচনা করা হবে বলেও জানান তিনি। তিস্তা জলবণ্টন বিরোধ ১৯৯৬ সালে স্বাক্ষরিত ভারত-বাংলাদেশ গঙ্গা জলবণ্টন চুক্তি থেকে আলাদা। ওই চুক্তির মেয়াদ ৩০ বছর এবং ২০২৬ সালের ডিসেম্বর মাসে তার মেয়াদ শেষ হওয়ার কথা। ভারত ও বাংলাদেশের (India Bangladesh) মধ্যে মোট ৫৪টি আন্তঃসীমান্ত নদী রয়েছে। এসব নদী ও জলসম্পর্কিত বিষয় নিয়ে দুই দেশ প্রায়ই আলোচনা করে থাকে যৌথ নদী কমিশনের মাধ্যমে (Teesta Water Ties)।

 

Please follow and like us:

Comments

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

LinkedIn
Share