Tag: CM Suvendu Adhikari

  • Suvendu Adhikari: শিল্পে পিছিয়ে বাংলা, বদলের বার্তা সরকারের, বস্ত্রশিল্পে বিনিয়োগ টানতে গুচ্ছের সংস্কারের ঘোষণা মুখ্যমন্ত্রীর

    Suvendu Adhikari: শিল্পে পিছিয়ে বাংলা, বদলের বার্তা সরকারের, বস্ত্রশিল্পে বিনিয়োগ টানতে গুচ্ছের সংস্কারের ঘোষণা মুখ্যমন্ত্রীর

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: পশ্চিমবঙ্গের শিল্পক্ষেত্রে গত পাঁচ দশকে যে পিছিয়ে পড়ার ছবি তৈরি হয়েছে, তা বদলে রাজ্যকে নতুন শিল্পায়নের পথে নিয়ে যাওয়ার বার্তা দিলেন পালাবদলের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari)। বুধবার কলকাতার মিলন মেলা প্রাঙ্গণে ‘টেক্সটাইল ইন্ডাস্ট্রি কনফারেন্সে’র উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে তিনি দাবি করেন, দীর্ঘ সময় ধরে রাজ্যে শিল্পের বিকাশ বাধাগ্রস্ত হয়েছে। তবে বর্তমান সরকারের লক্ষ্য সেই পরিস্থিতি বদলে পশ্চিমবঙ্গকে বিনিয়োগের অন্যতম প্রধান গন্তব্য হিসেবে গড়ে তোলা (Industrial Investment)। ‘ডাবল ইঞ্জিন সরকারে’র হাত ধরে রাজ্য উন্নয়নের নতুন পর্বে প্রবেশ করেছে বলেও দাবি করেন তিনি।

    বিনিয়োগের আহ্বান মুখ্যমন্ত্রীর (Suvendu Adhikari)

    শিল্পপতি, উদ্যোক্তা এবং ব্যবসায়ী মহলের কাছে বাংলায় বিনিয়োগের আহ্বান জানিয়ে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, গত ৩৪ বছরের বাম শাসন এবং পরবর্তী ১৫ বছরের তৃণমূল কংগ্রেস সরকারের সময় রাজ্যে শিল্পের গতি কার্যত থমকে গিয়েছিল। এর জেরে অর্থনৈতিক অগ্রগতির একাধিক সম্ভাবনা হাতছাড়া হয়েছে বলে তাঁর অভিযোগ। তবে সেই পরিস্থিতি থেকে বেরিয়ে এসে নতুন করে শিল্পবান্ধব পরিবেশ তৈরি করতে সরকার কাজ করছে বলে জানান শুভেন্দু। মুখ্যমন্ত্রীর কথায়, “বিগত ৫০ বছরে বাংলা অনেকটাই পিছিয়ে পড়েছে। এখন ‘অমৃত কাল’ ও ডাবল ইঞ্জিন সরকারের নেতৃত্বে আমরা শিল্পবান্ধব পরিবেশ তৈরি করছি। তোলাবাজি ও মাফিয়ারাজের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতি নেওয়া হয়েছে। বাংলা এখন এগোতে প্রস্তুত, তাই নির্ভয়ে এখানে বিনিয়োগ করুন।”

    অর্থনীতিতে চোখে পড়ার মতো পরিবর্তন

    শিল্পায়নের সঙ্গে আইনশৃঙ্খলার সম্পর্কের বিষয়টিও এদিন গুরুত্ব দিয়ে তুলে ধরেন মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর দাবি, রাজ্যে গুন্ডাগিরি, তোলাবাজি এবং অপরাধমূলক কার্যকলাপ বন্ধ করা গেলে শিল্পপতিদের মধ্যে আস্থা আরও বাড়বে। সেই আস্থা থেকেই নতুন বিনিয়োগ আসবে এবং রাজ্যে শিল্পের প্রসার ঘটবে। শিল্পবান্ধব পরিবেশ গড়ে তুলতে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির আমূল উন্নতি ঘটানো সরকারের অন্যতম প্রধান লক্ষ্য বলেও জানান তিনি। আগামী এক থেকে দু’বছরের মধ্যেই রাজ্যের অর্থনীতিতে চোখে পড়ার মতো পরিবর্তন আসবে বলেও আশা প্রকাশ করেন শুভেন্দু অধিকারী। তাঁর দাবি, সেই সময়ের মধ্যে পশ্চিমবঙ্গ অর্থনৈতিকভাবে আরও শক্তিশালী হয়ে উঠবে এবং বিনিয়োগকারীদের কাছে রাজ্যের আকর্ষণ উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়বে। বর্তমান সরকার মানুষের সরকার এবং নির্বাচনের আগে প্রকাশিত সংকল্পপত্রে যে প্রতিশ্রুতিগুলি দেওয়া হয়েছিল, সেগুলি বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে বলেও জানান মুখ্যমন্ত্রী।

    বিপুল কর্মসংস্থানের সুযোগ

    কেন্দ্র-রাজ্য সমন্বয়ের প্রসঙ্গও উঠে আসে তাঁর বক্তব্যে। কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারামনের সঙ্গে পশ্চিমবঙ্গে বস্ত্র ও চা শিল্পের প্রসার এবং নতুন বিনিয়োগের সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা হয়েছে বলে জানান মুখ্যমন্ত্রী। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির নির্দেশে রাজ্যের সর্বাঙ্গীন উন্নয়নের লক্ষ্যে সরকার কাজ করছে বলেও দাবি করেন তিনি। আগামী ২৪ থেকে ২৮ অগাস্ট কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রীর রাজ্য সফরের সময় বস্ত্রশিল্পের প্রতিনিধিদের সঙ্গে একটি বৈঠকের আয়োজন করা হবে বলেও জানান মুখ্যমন্ত্রী। ওই বৈঠকে শিল্পের সমস্যা, সম্ভাবনা এবং বিনিয়োগের সুযোগ নিয়ে সরাসরি আলোচনা হতে পারে বলেও জানান তিনি। বস্ত্রশিল্পকে কেন্দ্র করে রাজ্যে নতুন শিল্পায়নের পরিকল্পনার কথাও এদিন স্পষ্ট করেন মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর বক্তব্য, এই শিল্পে বিপুল কর্মসংস্থানের সুযোগ রয়েছে। পশ্চিমবঙ্গের ঐতিহ্যবাহী তাঁত, পোশাক এবং বস্ত্রশিল্পকে আধুনিক বাজারের সঙ্গে যুক্ত করে বৃহত্তর শিল্পক্ষেত্র তৈরি করাই সরকারের লক্ষ্য। সেই লক্ষ্যে প্রশাসনিক জটিলতা কমানো, দ্রুত অনুমোদন এবং বিনিয়োগকারীদের জন্য সহজতর ব্যবস্থা চালু করার ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে (Industrial Investment)।

    ‘সিঙ্গেল উইন্ডো সিস্টেম’

    বিশেষ করে ১০০ কোটি টাকার বেশি বিনিয়োগের প্রকল্পগুলির ক্ষেত্রে দ্রুত অনুমোদনের ব্যবস্থা করার কথা জানান মুখ্যমন্ত্রী। বড় শিল্প প্রকল্পের জন্য বিনিয়োগকারীদের যাতে একাধিক দফতর, পুরসভা বা পঞ্চায়েতের বিভিন্ন স্তরে অনুমোদনের জন্য ঘুরতে না হয়, সেই ব্যবস্থাও করা হচ্ছে। রাজ্য সরকারের ‘সিঙ্গেল উইন্ডো সিস্টেমে’র মাধ্যমে প্রয়োজনীয় ছাড়পত্র দেওয়ার পরিকল্পনার কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, শিল্পপতিদের জন্য প্রক্রিয়াটি আরও সহজ এবং সময়সাশ্রয়ী করা হবে (Suvendu Adhikari)। জমি সংক্রান্ত নীতিতেও পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। জমি ক্রয় নীতি ইতিমধ্যেই কার্যকর হয়েছে বলেও জানান রাজ্যে বিজেপি সরকারের প্রথম মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু। খুব শীঘ্রই নতুন ভূমি উন্নয়ন নীতি আনার পরিকল্পনার কথাও জানান শুভেন্দু। শিল্প স্থাপনের প্রক্রিয়া আরও সরল করতে প্রয়োজনে বিধানসভায় আইন সংশোধনের উদ্যোগ নেওয়া হবে বলেও আশ্বাস দেন তিনি। অর্থাৎ বিনিয়োগকারীদের জন্য জমি, অনুমোদন এবং প্রশাসনিক প্রক্রিয়ার জটিলতা কমিয়ে দ্রুত প্রকল্প বাস্তবায়নের পরিবেশ তৈরি করাই সরকারের অন্যতম লক্ষ্য।

    একাধিক বড় শিল্পগোষ্ঠীর বিনিয়োগ

    রাজ্যে ইতিমধ্যেই একাধিক বড় শিল্পগোষ্ঠী বিনিয়োগের সিদ্ধান্ত নিয়েছে বলেও দাবি করেন মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর বক্তব্য, লাক্স কোজি, আমূল, শ্যাম স্টিল এবং অমিত মেটালিক্স-সহ একাধিক সংস্থা পশ্চিমবঙ্গে বিনিয়োগে আগ্রহ দেখিয়েছে বা সিদ্ধান্ত নিয়েছে। ক্যাবিনেট বৈঠকের পর আগামী এক মাসের মধ্যে অন্তত ২৫ জন শিল্পপতির হাতে নতুন শিল্প প্রকল্পের জন্য জমি তুলে দেওয়ার পরিকল্পনার কথাও ঘোষণা করেন তিনি (Suvendu Adhikari)। শিল্পায়নের পাশাপাশি কর্মসংস্থান তৈরির বিষয়টিকেও সরকারের অগ্রাধিকারের তালিকায় রেখেছেন মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর মতে, নতুন শিল্প হলে একদিকে যেমন বিনিয়োগ বাড়বে, তেমনই সরাসরি ও পরোক্ষভাবে কর্মসংস্থানের সুযোগও তৈরি হবে। এর ফলে রাজ্যের অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড আরও গতি পাবে এবং পশ্চিমবঙ্গ আর্থিকভাবে স্বনির্ভর হওয়ার পথে এগিয়ে যাবে (Industrial Investment)।

    বৃহত্তর শিল্পক্ষেত্র তৈরির আশ্বাস

    তাঁত ও বস্ত্রশিল্পের ক্ষেত্রে বাংলার ঐতিহ্যকে কাজে লাগিয়ে আধুনিক শিল্প কাঠামো গড়ে তোলার পরিকল্পনার কথাও জানান তিনি। রাজ্যের দীর্ঘদিনের তাঁতশিল্প ও পোশাক উৎপাদনকে আধুনিক প্রযুক্তি, বাজার এবং বিনিয়োগের সঙ্গে যুক্ত করে বৃহত্তর শিল্পক্ষেত্র তৈরি করা হবে বলে জানান তিনি। প্রশাসনিক সংস্কার, দ্রুত অনুমোদন, জমি নীতির পরিবর্তন এবং শিল্পবান্ধব পরিবেশ—এই চারটি বিষয়কে সামনে রেখে বস্ত্রশিল্পে নতুন বিনিয়োগের দরজা খুলতে চাইছে রাজ্য সরকার। মিলন মেলা প্রাঙ্গণে টেক্সটাইল ইন্ডাস্ট্রি কনফারেন্সের মঞ্চ থেকে তাই একই সঙ্গে তিনটি বার্তা দেওয়ার চেষ্টা করেন মুখ্যমন্ত্রী—শিল্পে বিনিয়োগ বাড়ানো, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নতি এবং প্রশাসনিক জটিলতা কমানো। তাঁর দাবি, এই তিন ক্ষেত্রেই পরিবর্তন আনতে পারলে পশ্চিমবঙ্গ আগামী দিনে দেশের অন্যতম আকর্ষণীয় শিল্প ও বিনিয়োগকেন্দ্র হয়ে উঠতে পারে। আগামী এক থেকে দু’বছরের মধ্যে সেই (Industrial Investment) পরিবর্তনের প্রতিফলন রাজ্যের অর্থনীতিতে দেখা যাবে বলেও আশা প্রকাশ করেন মুখ্যমন্ত্রী (Suvendu Adhikari)।

     

  • Suvendu Adhikari: পাক-জঙ্গিদের নিশানায় মুখ্যমন্ত্রী! শুভেন্দুর নিরাপত্তায় বুলেটপ্রুফ গাড়ি

    Suvendu Adhikari: পাক-জঙ্গিদের নিশানায় মুখ্যমন্ত্রী! শুভেন্দুর নিরাপত্তায় বুলেটপ্রুফ গাড়ি

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: জঙ্গিদের টার্গেটে বাংলার মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari)। তাঁর গতিবিধির উপর নজর রেখেছে সন্ত্রাসীরা। বর্ধমান থেকে সন্দেহভাজন জইশ জঙ্গি হামিম মণ্ডলকে জেরা করে এই চাঞ্চল্যকর তথ্য সামনে এসেছে। তারপরই মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর নিরাপত্তায় জোর দেওয়া হল। মুখ্যমন্ত্রীর জন্য বুলেটপ্রুফ গাড়ির ব্যবস্থা করা হয়েছে। কাঁথির বাড়ি থেকে সেই বুলেটপ্রুফ গাড়িতেই কলকাতার রবিবার উদ্দেশে রওনা দেন শুভেন্দু। শুভেন্দু অধিকারী সাধারণত প্রতি সপ্তাহান্তে কলকাতা থেকে নিজের কাঁথির বাড়িতে যান। আবার রবিবার ফিরে আসেন। তাঁর যাওয়ার রাস্তাই ১৬ নং জাতীয় সড়ক। মুখ্যমন্ত্রীর জন্য বুলেটপ্রুফ গাড়ির পাশাপাশি গোটা রুটে নিরাপত্তা বৃদ্ধি করা হয়েছে।

    কেন বুলেটপ্রুফ গাড়ি

    সন্দেহভাজন জইশ জঙ্গি হামিমকে বেঙ্গল এসটিএফ গ্রেফতার করার পর থেকেই মুখ্যমন্ত্রীর নিরাপত্তা নিয়ে অনেকেই উদ্বেগ প্রকাশ করেন। মুখ্যমন্ত্রীর নিরাপত্তায় রাজ্য পুলিশের পাশাপাশি কেন্দ্রীয় বাহিনী রয়েছে। তবে শুভেন্দু অধিকারী এতদিন যে গাড়িটি ব্যবহার করতেন, তা বুলেটপ্রুফ ছিল না। হামিম ধরা পড়ার পর জানা যায়, পাকিস্তান থেকে হ্যান্ডলাররা মুখ্যমন্ত্রীর গতিবিধির তথ্য চেয়েছে। মুখ্যমন্ত্রীর কোনও আনগার্ডেড মুভমেন্ট থাকলে, জানাতে বলা হয়েছিল। শুভেন্দু অধিকারীর নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে গতকাল রাজ্যের পরিবহণমন্ত্রী অর্জুন সিং বলেছিলেন, মুখ্যমন্ত্রীর বুলেটপ্রুফ গাড়ি ব্যবহার করা উচিত। জ্যামার থাকা দরকার। পুর ও নগরোন্নয়নমন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পালও বলেছিলেন, মুখ্যমন্ত্রীর বুলেটপ্রুফ গাড়িতে যাতায়াত করা উচিত। এসটিএফ সেইমতোই ভাবনা চিন্তা করল।

    সাধারণের জন্য ব্রতী মুখ্যমন্ত্রী

    মুখ্যমন্ত্রীর ভাই তথা এগরার বিজেপি বিধায়ক দিব্যেন্দু অধিকারী বলেন, “বাংলার মানুষ শুভেন্দুবাবুর সঙ্গে রয়েছেন। আর পরিবারের একজন হিসেবে আমাদের, পশ্চিমবঙ্গ পুলিশ, এসটিএফ, কেন্দ্রীয় বাহিনীর উপর আস্থা রয়েছে। নিশ্চিতভাবে বাংলার প্রত্যেকটি মানুষ সুরক্ষিত থাকবেন।” হামিমকে ধরার জন্য রাজ্য পুলিশকে ধন্যবাদ জানান তিনি। মুখ্যমন্ত্রী মানুষের সঙ্গে মিশে যেতে পছন্দ করেন। বারবার সাধারণ মানুষের কাছে পৌঁছে যেতে দেখা গিয়েছে তাঁকে। এতে কি তাঁরা উদ্বিগ্ন? এই নিয়ে দিব্যেন্দু অধিকারী বলেন, “গতকাল যেভাবে বাড়ি এসেছিলেন, আজও সেভাবে গিয়েছেন। তাঁর নিরাপত্তায় বাড়তি কিছু কি লক্ষ্য করেছেন আপনারা? তিনি চান, সাধারণ মানুষের একজন প্রতিনিধি হিসেবে উন্নয়ন মানুষের দোরগোড়ায় পৌঁছে দিতে। তার জন্য যদি প্রাণ দিতে হয়, তার জন্য আমরা তৈরি রয়েছি।”

  • Suvendu Adhikari: প্রায় ১৯ বছর পর কলকাতায় তসলিমা, পূর্ণ নিরাপত্তার আশ্বাস শুভেন্দুর

    Suvendu Adhikari: প্রায় ১৯ বছর পর কলকাতায় তসলিমা, পূর্ণ নিরাপত্তার আশ্বাস শুভেন্দুর

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: প্রায় ১৯ বছর পর কলকাতায় প্রকাশ্য অনুষ্ঠানে যোগ দিলেন নির্বাসিত বাংলাদেশি লেখিকা তসলিমা নাসরিন (Taslima Nasreen)। শনিবার রবীন্দ্র সদনে মৌলবাদ-বিরোধী এক সাহিত্য অনুষ্ঠানে যোগ দেন তিনি। সেখানেই পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী তথা পুলিশমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari) তাঁকে রাজ্যে আসার সময় পূর্ণ নিরাপত্তার আশ্বাস দেন। তসলিমার কলকাতায় প্রত্যাবর্তনকে সামনে রেখে বাংলায় রাজনৈতিক পরিবর্তনের বার্তাও দেন তিনি।

    তসলিমাকে কলকাতায় স্বাগত মুখ্যমন্ত্রীর (Suvendu Adhikari)

    অনুষ্ঠানে তসলিমার উদ্দেশে শুভেন্দু বলেন, “মুখ্যমন্ত্রী এবং পুলিশ দফতরের দায়িত্বপ্রাপ্ত মন্ত্রী হিসেবে পশ্চিমবঙ্গে আপনি যখনই আসবেন, আপনাকে নিরাপত্তা দেওয়া আমার কর্তব্য। শুধু একবার নয়, আপনি যতবার ইচ্ছা পশ্চিমবঙ্গে আসুন। আপনাকে সম্পূর্ণ নিরাপত্তা দেওয়া হবে।” এর পরেই বাংলার রাজনৈতিক পরিস্থিতি বদলের দাবি করেন মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর কথায়, “এটি এমন এক পশ্চিমবঙ্গ, যা শৃঙ্খল ও ভয় থেকে মুক্ত। সংবিধানের প্রতিটি স্তম্ভ এখানে সুরক্ষিত। এখানে প্রত্যেকের আসার অধিকার রয়েছে এবং প্রত্যেকের নিজের মত প্রকাশের স্বাধীনতা রয়েছে।” তসলিমাকে “নিরাপদ পশ্চিমবঙ্গে” স্বাগত জানিয়ে শুভেন্দু বলেন, তাঁর উপস্থিতিই প্রমাণ করছে যে রাজ্যে গণতন্ত্র, সাংবিধানিক মূল্যবোধ, বাক্‌স্বাধীনতা এবং মৌলিক অধিকার সুরক্ষিত হয়েছে। তিনি বলেন, “আজ প্রমাণ হয়ে গেল, নতুন সরকারের অধীনে বাংলায় গণতন্ত্র, সংবিধান, বাক্‌স্বাধীনতা এবং মৌলিক অধিকার সুরক্ষিত (Suvendu Adhikari)।”

    সেই যুগ অতীত

    কোনও রাজনৈতিক দলের নাম না করে অতীতের সঙ্গে বর্তমানের তুলনা টেনে শুভেন্দু বলেন, “হুমকি, ভয় দেখানো এবং মানুষকে চুপ করিয়ে দেওয়ার চেষ্টা—সেই যুগ শেষ হয়েছে।” অনুষ্ঠানে তসলিমার হাতে বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের একটি প্রতিকৃতিও তুলে দেন মুখ্যমন্ত্রী। এ বছর ‘বন্দে মাতরম্’-এর ১৫০ বছর পূর্তি উপলক্ষে এই উদ্যোগ বলে জানান তিনি। ২০০৭ সালের নভেম্বরের পর এই প্রথম কলকাতায় কোনও প্রকাশ্য অনুষ্ঠানে দেখা গেল তসলিমা নাসরিনকে। তাঁর আত্মজীবনীমূলক গ্রন্থ ‘দ্বিখণ্ডিত’-এর কিছু অংশ নিয়ে বিতর্কের জেরে সেই সময় কলকাতার বিভিন্ন এলাকায় বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়েছিল। হিংসাত্মক প্রতিবাদের মধ্যে তৎকালীন বামফ্রন্ট সরকার বইটি নিষিদ্ধ করে এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতির কারণ দেখিয়ে তসলিমাকে কলকাতার বাইরে সরিয়ে দেয়। পরে রাজ্যও ছেড়ে চলে যান (Suvendu Adhikari) তিনি।

    বিজেপি সরকারের রাজনৈতিক বার্তা

    তসলিমার কলকাতায় প্রত্যাবর্তন তাই নিছক সাহিত্যিক অনুষ্ঠানের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকছে না। ২০০৭ সালে তাঁর কলকাতা ছাড়ার ঘটনা বাংলার রাজনৈতিক পরিসরে দীর্ঘদিন ধরেই বিতর্কিত। ধর্মীয় মৌলবাদ এবং ভোটব্যাঙ্কের রাজনীতির সামনে স্বাধীন মতপ্রকাশের অধিকার আপস করা হয়েছিল—এই অভিযোগ তুলে বিজেপি অতীতের বামফ্রন্ট এবং তৃণমূল কংগ্রেস সরকারের বিরুদ্ধে বারবার সরব হয়েছে (Taslima Nasreen)। কলকাতার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সাংস্কৃতিক মঞ্চে তসলিমাকে প্রকাশ্যে আমন্ত্রণ জানিয়ে এবং তাঁর প্রত্যাবর্তনকে সাংবিধানিক অধিকার ও স্বাধীনতা পুনঃপ্রতিষ্ঠার নিদর্শন হিসেবে তুলে ধরে বিজেপি সরকারও রাজনৈতিক বার্তা দিতে চেয়েছে বলে ধারণা সংশ্লিষ্টমহলের।

    ধর্মীয় মৌলবাদের প্রকাশ্য সমালোচনা এবং নারীর অধিকারের পক্ষে সরব লেখিকা হিসেবে আন্তর্জাতিকভাবে পরিচিত তসলিমা। লেখালেখির কারণে ইসলামপন্থী গোষ্ঠীগুলির হুমকির মুখে ১৯৯৪ সালে বাংলাদেশ ছাড়েন (Suvendu Adhikari) তিনি। এরপর থেকেই নির্বাসিত জীবন কাটাচ্ছেন লেখিকা (Taslima Nasreen)।

     

  • CM Suvendu Adhikari: তিন মাসে আড়াই লাখ পড়ুয়ার পাতে ইসকনের মিড-ডে মিল, সপ্তাহে দু’দিন মিলবে ডিম

    CM Suvendu Adhikari: তিন মাসে আড়াই লাখ পড়ুয়ার পাতে ইসকনের মিড-ডে মিল, সপ্তাহে দু’দিন মিলবে ডিম

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: আগামী তিন মাসের মধ্যে রাজ্যের আড়াই লাখ পড়ুয়ার কাছে ইসকনের মিড-ডে (ISKCON Mid Day Meal) মিল পরিষেবা পৌঁছে দেওয়া হবে। শনিবার তারাতলায় ইসকনের ‘সেন্ট্রাল কিচেনে’ মিড-ডে মিলের পাইলট প্রকল্পের উদ্বোধন করে একথা জানান মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী (CM Suvendu Adhikari)। এ দিন কলকাতা পুরসভা এলাকার প্রাক্-প্রাথমিক থেকে উচ্চ প্রাথমিক স্তরের ৫০০টি স্কুলের প্রায় ৪৪ হাজার পড়ুয়ার জন্য ইসকনের তরফে মিড-ডে মিল সরবরাহ করা হয়। রাজ্য সরকার আগেই জানিয়েছিল, স্কুলের পড়ুয়াদের জন্য উন্নত মানের খাবার নিশ্চিত করতে ইসকনের হাতে মিড-ডে মিল পরিষেবার দায়িত্ব দেওয়া হচ্ছে। ইসকনের খাবার মূলত নিরামিষ হওয়ায় শুরু থেকেই প্রশ্ন উঠেছিল, পড়ুয়াদের পাতে তা হলে ডিম থাকবে কি না। বিরোধিতা ও বিতর্কের মধ্যেই শনিবার মুখ্যমন্ত্রী স্পষ্ট করে জানিয়ে দেন, পড়ুয়াদের ডিম দেওয়া হবে। তবে ইসকনের রান্না করা খাবারের ব্যবস্থার বাইরে পৃথকভাবে ডিম সরবরাহ করা হবে।

    পড়ুয়াদের ডিম দেওয়া হবে (CM Suvendu Adhikari)

    শুভেন্দু বলেন, “পড়ুয়াদের সপ্তাহে দু’দিন ডিম দেওয়া হবে। তবে আলাদা ব্যবস্থার মাধ্যমে।” ইসকনের মিড-ডে মিল নিয়ে ডিম বাদ পড়ার সম্ভাবনা ঘিরে বিতর্ক শুরু হওয়ার পর অনেকেই দাবি করেছিলেন, ডিম না থাকলে খাবারের পুষ্টিমান কমে যেতে পারে। সেই জল্পনার অবসান ঘটিয়ে মুখ্যমন্ত্রী জানান, সপ্তাহে দু’দিন পড়ুয়াদের ডিম দেওয়ার ব্যবস্থা করা হবে। এ দিন ইসকনের ‘সেন্ট্রাল কিচেন’ পরিদর্শনে গিয়ে রান্নার ব্যবস্থাও খতিয়ে দেখেন মুখ্যমন্ত্রী। অনুষ্ঠানের শুরুতে ইসকন আয়োজিত যজ্ঞে অংশ নেন তিনি। পরে রান্নাঘরে গিয়ে মিড-ডে মিল তৈরির প্রক্রিয়া দেখার পাশাপাশি রান্নার কাজেও সহযোগিতা করেন। তাঁর সঙ্গে ছিলেন মুখ্যসচিব মনোজ অগ্রবাল এবং স্কুল শিক্ষামন্ত্রী দীপক বর্মন। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে পাঁচটি স্কুলের ৪০ জন পড়ুয়াও উপস্থিত ছিল। রান্নাঘর উদ্বোধনের পাশাপাশি একটি বৈদ্যুতিক গাড়িরও উদ্বোধন করেন মুখ্যমন্ত্রী। মিড-ডে মিলের পরিষেবা সম্প্রসারণের পরিকল্পনা তুলে ধরে শুভেন্দু বলেন, “ইসকনের মাধ্যমে খাবার সরবরাহ শুরু হয়ে গিয়েছে। আগামী তিন মাসের মধ্যে এই পরিষেবা আড়াই লাখ পড়ুয়াদের কাছে পৌঁছে দেওয়া হবে (ISKCON Mid Day Meal)।” মুখ্যমন্ত্রীর দাবি, ইসকন অত্যন্ত পরিচ্ছন্নতা বজায় রেখে এবং খাদ্য নিরাপত্তার বিষয়টি নিশ্চিত করেই স্কুলগুলিতে খাবার পৌঁছে দেবে। শুধু উন্নয়ন নয়, ঐতিহ্য ও সংস্কৃতির সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে ত্রুটিমুক্ত স্বাস্থ্যব্যবস্থা গড়ে তোলাও সরকারের লক্ষ্য বলে জানান তিনি (CM Suvendu Adhikari)।

    রাঁধুনিদেরও কাজে রাখা হবে

    ইসকনের হাতে মিড-ডে মিলের দায়িত্ব যাওয়ায় এত দিন যে রাঁধুনিরা স্কুলে খাবার তৈরি করতেন, তাঁদের ভবিষ্যৎ নিয়েও প্রশ্ন উঠেছিল। এ দিন তাঁদের আশ্বস্ত করে মুখ্যমন্ত্রী জানান, কোনও রাঁধুনিকে কাজ থেকে সরানো হবে না। তাঁদেরও ইসকনের ব্যবস্থার সঙ্গে যুক্ত করা হবে। শুভেন্দু বলেন, “এক মাস আগে মিড-ডে মিলের রাঁধুনিদের নিয়ে একটি মিছিল দেখেছিলাম। কিছু বলিনি। সেই মিছিলকারীদের উদ্দেশে বলি, একজন রাঁধুনি দিদিও কর্মচ্যুত হবেন না। রান্না এবং মিড-ডে মিল বিতরণ প্রক্রিয়ায় তাঁদের জুড়ে দেওয়া হবে।” মিড-ডে মিলের রাঁধুনিদের পারিশ্রমিকও বাড়ানোর কথা জানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। অগাস্ট থেকে তাঁদের মাসিক ভাতা আরও ১,০০০ টাকা করে বাড়ানো হয়েছে। ফলে তাঁদের মোট মাসিক পারিশ্রমিক ৩,০০০ টাকা হবে বলে জানান তিনি।

    আন্ডা আন্ডা’ বলে আন্দোলন নিয়ে মুখ্যমন্ত্রীর কটাক্ষ

    স্কুলের মিড-ডে মিলে ডিম থাকবে কি না, তা নিয়ে শুরু থেকেই যে বিতর্ক তৈরি হয়েছিল, এ দিন তারও জবাব দেন শুভেন্দু। তিনি জানান, ইসকনের নিজস্ব রীতিনীতি রয়েছে। তবে তার সঙ্গে সমন্বয় রেখেই পড়ুয়াদের ডিম দেওয়ার ব্যবস্থা করা হবে (ISKCON Mid Day Meal)। মুখ্যমন্ত্রীর কথায়, “ইসকনের একটি নিজস্ব রীতিনীতি রয়েছে। তার বাইরেও ওড়িশায় আমাদের একটি দল পাঠানো হয়েছিল। জানতে পেরেছি সেখানে স্কুলে এক দিন ডিম সিদ্ধ দেওয়া হয়। আমরা ঠিক করেছি আলাদা করে বাচ্চাদের দু’দিন ডিম বিতরণ করব (CM Suvendu Adhikari)।” ডিম নিয়ে আগাম আন্দোলন ও সমালোচনার প্রসঙ্গ তুলে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “প্রথম থেকেই আন্ডা আন্ডা বলে মিছিল বের করে দিলেন! কিছু না জেনে এ সব নিয়ে বলা শুরু করে দিলেন!” শুভেন্দুর বক্তব্য, মিড-ডে মিল নিয়ে সরকারের সঙ্গে ইসকনের কী চুক্তি হয়েছে, তা জানতে শিক্ষা দফতরের আধিকারিকদের সঙ্গে কথা বলা যেত। প্রয়োজন হলে ইসকনের সঙ্গেও যোগাযোগ করা সম্ভব ছিল। কিন্তু তা না করেই শুরু থেকে ডিম বাদ দেওয়ার অভিযোগ তুলে আন্দোলন করা হয়েছে বলে দাবি তাঁর।

    কলকাতায় পাইলট প্রকল্প, পরে গোটা রাজ্যে?

    রাজ্যে বিজেপি সরকার ক্ষমতায় আসার পর থেকেই মিড-ডে মিল ব্যবস্থার মানোন্নয়নের কথা বলা হয়েছিল। পড়ুয়াদের পরিচ্ছন্ন পরিবেশে পুষ্টিকর খাবার দেওয়ার লক্ষ্যেই ইসকনকে এই দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে বলে সরকারের বক্তব্য। প্রাথমিক পর্যায়ে কলকাতার সরকারি ও সরকারপোষিত স্কুলগুলিতে এই পরিষেবা চালু করা হচ্ছে (ISKCON Mid Day Meal)। ১ অগস্ট থেকে কলকাতার স্কুলগুলিতে ইসকনের মাধ্যমে মিড-ডে মিল সরবরাহের কথা আগেই ঘোষণা করা হয়েছিল। শনিবার আনুষ্ঠানিকভাবে সেই পাইলট প্রকল্পের সূচনা হল। প্রকল্পের কার্যকারিতা ও ফলাফল পর্যালোচনা করে ভবিষ্যতে গোটা রাজ্যে এই ব্যবস্থা চালু করা হতে পারে (CM Suvendu Adhikari)। ইসকনের নিরামিষ খাবার নিয়ে প্রশ্ন থাকলেও মুখ্যমন্ত্রী আগেই জানিয়েছিলেন, পুষ্টির ক্ষেত্রে কোনও ঘাটতি রাখা হবে না। এখন সপ্তাহে দু’দিন আলাদা ব্যবস্থায় ডিম দেওয়ার ঘোষণায় সেই বিতর্কেও জল দিল রাজ্যের প্রথম বিজেপি সরকার।

     

  • CM Suvendu Adhikari: জনগণনা শুরু রাজ্যে, অনলাইনে ৩৩ প্রশ্নের উত্তর দিয়ে ‘স্ব-শুমারি’ করলেন মুখ্যমন্ত্রী

    CM Suvendu Adhikari: জনগণনা শুরু রাজ্যে, অনলাইনে ৩৩ প্রশ্নের উত্তর দিয়ে ‘স্ব-শুমারি’ করলেন মুখ্যমন্ত্রী

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: শনিবার সকাল ১০টা থেকে রাজ্যে শুরু হল জনগণনার কাজ। দেশের অন্যান্য প্রান্তের মতো এ রাজ্যেও প্রথম বার সম্পূর্ণ ডিজিটাল পদ্ধতিতে জনগণনা করা হচ্ছে। এই পর্বে অনলাইনে ৩৩টি প্রশ্নের উত্তর দিয়ে স্ব-শুমারি করলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী (CM Suvendu Adhikari)। নবান্নে বসেই তিনি নিজের পরিবারের তথ্য নথিভুক্ত করেন। পাশাপাশি রাজ্যবাসীকেও (Census) স্ব-শুমারির সুবিধা নেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।

    স্ব-শুমারি প্রথম বার (CM Suvendu Adhikari)

    এ বারের জনগণনায় স্ব-শুমারি এবং ডিজিটাল পদ্ধতিতে তথ্য সংগ্রহ—এই দুই বিষয়কে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “এ বারের জনগণনায় দু’টি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় রয়েছে। ১০০ শতাংশ ডিজিটাল জনগণনা হচ্ছে। সেলফ এনুমারেশন অর্থাৎ স্ব-শুমারি হচ্ছে প্রথম বার।” মুখ্যমন্ত্রী জানান, ১ থেকে ১৫ অগস্ট পর্যন্ত পরিবারের সদস্যদের যাবতীয় তথ্য অনলাইনে জমা দেওয়া যাবে। নাগরিকদের দেওয়া তথ্যের গোপনীয়তা বজায় রাখার আশ্বাসও দিয়েছেন তিনি। তাঁর কথায়, “রাজ্যবাসীর দেওয়া তথ্য গোপন এবং আইনগত ভাবে সুরক্ষিত থাকবে। একমাত্র পরিসংখ্যান, পরিকল্পনা এবং উন্নয়নের জন্য তা ব্যবহার করা হবে। ব্যক্তিগত তথ্য প্রকাশ বা অপব্যবহারের সুযোগ নেই।”

    ‘জনগণের জনকল্যাণ’

    এ বারের জনগণনার মূল বার্তা ‘জনগণের জনকল্যাণ’। জনগণনা সফল ভাবে সম্পন্ন হলে উন্নত ভারত গঠনের পরিকল্পনায় তা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নেবে বলেও আশা প্রকাশ করেছেন মুখ্যমন্ত্রী। জনগণনার কাজে নিযুক্ত কর্মীদের সহযোগিতা করার জন্যও সাধারণ মানুষের কাছে আবেদন জানিয়েছেন তিনি। ১৫ অগস্ট স্ব-শুমারি পর্ব শেষ হওয়ার পর শুরু হবে বাড়ি বাড়ি তথ্য যাচাইয়ের কাজ। ১৬ অগস্ট থেকে ১৫ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত জনগণনাকর্মীরা বাড়িতে গিয়ে নাগরিকদের দেওয়া তথ্যের সঙ্গে বাস্তব পরিস্থিতি মিলিয়ে দেখবেন। কোথাও ভুল বা অসঙ্গতি ধরা পড়লে তা সংশোধনের সুযোগও থাকবে। এ বার গোটা জনগণনা প্রক্রিয়াই ডিজিটাল মাধ্যমে পরিচালিত হচ্ছে। তথ্য সংগ্রহের জন্য গণনাকারীদের বিশেষ মোবাইল ব্যবস্থা দেওয়া হয়েছে। সংগৃহীত তথ্য সরাসরি কেন্দ্রীয় তথ্যভাণ্ডারে পাঠানো হবে। প্রশাসনের দাবি, এর ফলে তথ্য সংগ্রহের কাজ আগের তুলনায় দ্রুত ও নির্ভুল হবে। একই সঙ্গে স্বচ্ছতা বাড়বে এবং কাগজের ব্যবহারও উল্লেখযোগ্যভাবে কমবে (CM Suvendu Adhikari)।

    মিলবে জাতিগত সুবিধা

    স্ব-শুমারির ৩৩টি প্রশ্নে নাগরিকের ব্যক্তিগত পরিচয়, পরিবারের সদস্যসংখ্যা, শিক্ষাগত যোগ্যতা, পেশা, বসবাসের ধরন-সহ নানা তথ্য জানতে চাওয়া হচ্ছে। এই জনগণনায় প্রথম বার জাতিগত পরিচয় সংক্রান্ত তথ্যও সংগ্রহ করা হচ্ছে। এর ফলে ভবিষ্যতে জাতিগত ভিত্তিতে স্থায়ী পরিসংখ্যান তৈরি করা সম্ভব হবে বলে জানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। এই প্রসঙ্গে শুভেন্দু বলেন, “এর ফলে সাধারণ মানুষ জাতিগত সুবিধা পাবেন। আলাদা করে তাঁদের লাইনে দাঁড়াতে হবে না। জাতিগত তথ্যে স্থায়ী পরিসংখ্যান থাকবে।” জনগণনার প্রস্তুতি নিয়ে আগের তৃণমূল সরকারের বিরুদ্ধেও অভিযোগ তুলেছেন মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর দাবি, আগের সরকার সময়মতো কাজ শুরু করেনি। বর্তমান সরকার বিষয়টিকে অগ্রাধিকার দিয়ে কাজ এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছে।

    স্ব-শুমারিতে অংশ নিতে পারবেন যাঁরা

    এ দিকে, যাঁদের নাম বিশেষ নিবিড় পুনর্বিবেচনার তালিকায় এখনও বিবেচনাধীন, তাঁরা স্ব-শুমারিতে অংশ নিতে পারবেন কি না, তা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। মুখ্যমন্ত্রী জানিয়েছেন, এই বিষয়ে নির্দিষ্ট নির্দেশিকা রয়েছে। তাঁর দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, রাজ্যে প্রায় ২৭ লক্ষ মানুষের নাম বিবেচনাধীন ছিল। এর মধ্যে কিছু নাম তালিকায় যুক্ত হয়েছে, ট্রাইবুনালও হয়েছে এবং প্রায় সাত লাখ মানুষ ট্রাইবুনালে আবেদন করেছেন। প্রায় ২০ লাখ মানুষের তরফে কোনও জবাব দেওয়া হয়নি বলেও দাবি করেন তিনি। পাশাপাশি বাংলাদেশ থেকে এ দেশে আসা মানুষদের নিয়েও নিজের অবস্থান স্পষ্ট করেছেন মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর বক্তব্য, তাঁদের মধ্যে একাংশ অবৈধভাবে প্রবেশ করেছেন এবং অন্য অংশ শরণার্থী। অবৈধ অনুপ্রবেশকারীদের ক্ষেত্রে যাচাই-বাছাই করে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন তিনি (CM Suvendu Adhikari)।

    শরণার্থীদের প্রসঙ্গে মুখ্যমন্ত্রী

    শরণার্থীদের প্রসঙ্গে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “অন্যেরা হলেন শরণার্থী। সিএএর আওতায় হিন্দু, শিখ, জৈন পারসিরা কিন্তু শরণার্থীর পর্যায়ে পড়েন। ২০১৯ সালের আইন, ২০২৪ সালের রুলে স্পষ্ট বলা হয়েছে যে, তাঁরা শরণার্থী। ২০২৪ সালের ৩১ ডিসেম্বরের মধ্যে প্রাণ, ধর্ম বাঁচানোর জন্য বাংলাদেশ থেকে যাঁরা এ রাজ্যে এসেছেন, তাঁদের বিরুদ্ধে কোনও মামলা হবে না। পুলিশ হয়রানি করতে পারবে না।” জনগণনার (Census) মাধ্যমে সংগৃহীত তথ্য ভবিষ্যতের সরকারি পরিকল্পনা, উন্নয়নমূলক কর্মসূচি এবং বিভিন্ন নীতিনির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নেবে বলেই মনে করছে প্রশাসন। এখন নজর আগামী ১৫ অগস্ট পর্যন্ত চলা স্ব-শুমারি পর্বে রাজ্যের মানুষ কতটা সক্রিয়ভাবে অংশ নেন, তার দিকে (CM Suvendu Adhikari)।

     

  • Suvendu Attacks Mamata: ‘পাথর পাচারে বাজেয়াপ্ত ৯০ কোটির ওপর! প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রীর সাহায্য ছাড়া এটা অসম্ভব’, মমতাকে নিশানা শুভেন্দুর

    Suvendu Attacks Mamata: ‘পাথর পাচারে বাজেয়াপ্ত ৯০ কোটির ওপর! প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রীর সাহায্য ছাড়া এটা অসম্ভব’, মমতাকে নিশানা শুভেন্দুর

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: প্রশাসনিক প্রধান যখন চোখ-কান বন্ধ করে থাকেন, তখনই দুর্নীতি একেবারে গোড়য় গেঁথে যায়। আগের সরকারের সময় রাজ্যে তাই হয়েছিল। নবান্নে সাংবাদিক বৈঠক করে নাম না করে প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের তীব্র সমালোচনা করলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Attacks Mamata)। বীরভূমের পাথর ও বালি পাচার চক্রের বিরুদ্ধে রাজ্য পুলিশের সাম্প্রতিক অভিযান এবং বিপুল ধনসম্পদ উদ্ধারের খতিয়ান তুলে ধরে নবান্ন থেকে একগুচ্ছ বিস্ফোরক তথ্য সামনে আনেন তিনি। শুক্রবার সাংবাদিক বৈঠকে শুভেন্দু জানান, টুলু মণ্ডলের নামে বিপুল পরিমাণ নগদ অর্থ, ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট, বিলাসবহুল গাড়ি, জমি, সোনা-রুপো-সহ একাধিক সম্পত্তির বিরুদ্ধে পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।

    প্রায় ৯৩ কোটি টাকা ফ্রিজ

    মুখ্যমন্ত্রীর দাবি অনুযায়ী, তদন্তে এখনও পর্যন্ত টুলু মণ্ডলের বিভিন্ন ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে থাকা প্রায় ৯৩ কোটি টাকা ফ্রিজ করা হয়েছে। এছাড়া ৫৩ লক্ষ টাকা নগদ, ২৬৮ গ্রাম সোনা, ৪০০ গ্রাম রুপো এবং ৬৩ গ্রাম প্ল্যাটিনাম বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে। তদন্তকারীরা আরও উদ্ধার করেছেন তিনটি টাকা গোনার মেশিন, একটি কম্পিউটার ও সিপিইউ এবং দুটি পেনড্রাইভ। পরিবহণ ও ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত বিপুল সম্পদেরও হদিস মিলেছে বলে দাবি করেছেন শুভেন্দু অধিকারী। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, ৮৩টি ট্রাক ও ডাম্পার এবং বিএমডব্লিউ, অডি-সহ মোট ২৪২টি গাড়ি বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে।

    বিগত তৃণমূল সরকারকে নিশানা শুভেন্দুর

    বিগত তৃণমূল সরকারকে নিশানা করে শুভেন্দু অধিকারী বলেন, গত ১৫ বছরে কেবল একটি জেলা থেকেই রাজ্য সরকারের বিপুল রাজস্বের ঘাটতি চোখে পড়েছে। প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রীর প্রত্যক্ষ সহযোগিতা বা প্রশ্রয় ছাড়া এত বড় পাচার চক্র বছরের পর বছর চলা অসম্ভব বলে তিনি দাবি করেন। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর বক্তব্য, “বিগত সরকারের আমলে পাথর খাত থেকে মাসে মাত্র ৬০ থেকে ৮০ কোটি টাকা রাজস্ব আসত। আর আমাদের সরকারের সময়ে কঠোর নজরদারির ফলে কেবল গত এক মাসেই ৮৩ কোটি টাকার রেভিনিউ সংগ্রহ হয়েছে। নদীর পাড়ে তৃণমূল নেতারা যে বালি ডাম্প করে রেখেছিল, আমরা এসে তা খোলা নিলাম (Auction) করাই। সেই বালি নিলাম করেই রাজ্য সরকারের ভাণ্ডারে নতুন করে সাড়ে ১৩ কোটি টাকা এসেছে।”

    রাজ্য পুলিশ দক্ষ

    সাধারণত এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট (ED) বা সিবিআই-এর মতো কেন্দ্রীয় সংস্থাগুলোকে এই ধরনের বিশাল ক্র্যাক ডাউন করতে দেখা যায়। তবে রাজ্য পুলিশের এই অভূতপূর্ব সাফল্যে সন্তোষ প্রকাশ করে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “এ রাজ্যের পুলিশও যে কতটা দক্ষ, তা এই অভিযানের মাধ্যমে প্রমাণিত হলো। এই পাচারের টাকা বিদেশেও পাঠানো হয়েছে। অনেকেই চিকিৎসার দোহাই দিয়ে বিদেশে পালানোর চেষ্টা করেছিলেন।” শুভেন্দু আশাপ্রকাশ করেন যে, দুর্নীতির পথ বন্ধ হওয়ায় চলতি অর্থবর্ষ শেষে রাজ্য সরকারের রাজস্ব সংগ্রহ আরও ২০ শতাংশ বৃদ্ধি পাবে।

  • Suvendu Attacks Abhishek: ‘বাইরে থাকলে তবে তো হিসেব’, ২১ জুলাইয়ের মন্তব্যে অভিষেককে পাল্টা শুভেন্দুর

    Suvendu Attacks Abhishek: ‘বাইরে থাকলে তবে তো হিসেব’, ২১ জুলাইয়ের মন্তব্যে অভিষেককে পাল্টা শুভেন্দুর

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের ‘২০৩১ সালে হিসেব মেটানোর’ মন্তব্যকে কেন্দ্র করে এবার পাল্টা আক্রমণ করলেন পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Attacks Abhishek)। তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদককে সরাসরি চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিয়ে তিনি বলেন, সাহস থাকলে আগামী লোকসভা নির্বাচনে ডায়মন্ড হারবার থেকেই লড়াই করুন অভিষেক। ২০৩১ সালে তিনি কোথায় থাকবেন, তা বিজেপিই ঠিক করবে বলেও কটাক্ষ করেন মুখ্যমন্ত্রী। দুর্নীতির প্রশ্নে বিধানসভা থেকে বুধবার বাম-তৃণমূল দুই প্রাক্তন শাসক দলকে আক্রমণ করলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু। তবে তাঁর আক্রমণের ঝাঁঝ অনেক বেশি ছিল প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের ক্ষেত্রে।

    শুভেন্দুর আল্টিমেটাম

    স্বরাষ্ট্র দফতরের বাজেট আলোচনার জবাবি ভাষণ দিতে গিয়ে মুখ্যমন্ত্রী তথা পুলিশমন্ত্রী শুভেন্দুর হুমকি, ‘‘ভাইপোপন্থী তৃণমূলের নাম ও নিশান পশ্চিমবঙ্গে থাকবে না। এটা আমার দায়িত্ব।’’ তৃণমূলের শহিদ দিবস নিয়ে খোঁচা দিয়ে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “কালকে তো শহিদ দিবস হয়নি। কেউ বলছে, ভাইপো প্যারাশুটে নেমেছে। আর ভাইপো বলছে, নোট-খাতা খুলে রাখো, একত্রিশে হিসেব হবে। আরে তুমি বাইরে থাকলে তো হিসাব হবে।” রাজ্যে পালাবদলের পর ডায়মন্ড হারবারের সাংসদ অভিষেককে কেন আর তাঁর কেন্দ্রে দেখা যায় না, তা নিয়ে খোঁচা দিয়ে শুভেন্দু বলেন, “৪ মের পর ডায়মন্ড হারবার গিয়েছ? জোকা পেরিয়েছ? যাও না ডায়মন্ড হারবার। পান্নালাল হালদার নিয়ে যান চ্যাম্পিয়ন এমপি-কে।”

    ৩১-এ কোথায় থাকে দেখব

    বুধবার ক্যাথিড্রাল রোডের সভামঞ্চ থেকে বিজেপিকে আক্রমণ করেছিলেন অভিষেক। কর্মীদের সাহস ও উপস্থিতির প্রশংসা করে তিনি ঘোষণা করেছিলেন, “যাঁরা ভয় উপেক্ষা করে এসেছেন, তাঁদের দেখে মনে হচ্ছে আজ নতুন করে তৃণমূলের জন্ম হল। এই নতুন তৃণমূল আগামী ৪০ বছর বাংলার রাজনীতিতে লড়াই চালিয়ে যাবে এবং ৩১ সালে সব হিসেব বুঝে নেবে।” মন্তব্যের পাল্টা শুভেন্দু বলেন, “গতকাল বড় বড় আওয়াজ দেওয়া হয়েছে। ও ৩১-এ কোথায় থাকে আমি দেখব।”

    ‘‘ফলতার মতো দূরবীন দিয়ে খুঁজতে হবে’’

    অভিষেককে তীব্র আক্রমণ করে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী বলেন, “ভোটে লড়ুন, তারপর কোথায় থাকবেন, তা দেখবেন। ফলতার মতো দূরবীন দিয়ে খুঁজতে হবে। নির্বাচনের আগে অনেক বড় বড় কথা বলা হয়েছিল। শুভেন্দু অধিকারী, অমিত শাহ—সবাই বলেছিলেন, ডি-জে বাজাবেন। কিন্তু ৪ তারিখে পশ্চিমবঙ্গের মানুষই ডি-জে বাজিয়ে দিয়েছেন।” এরপর আরও কড়া সুরে তিনি মন্তব্য করেন, “এই সরকার ভদ্রতা বজায় রেখেছে বলেই এখনও কেউ ২ হাজার লোকের সামনে নায়কোচিত ভঙ্গিতে পকেটে হাত ঢুকিয়ে ঘুরে বেড়াতে পারছেন। প্রতিষ্ঠিত চোর ভিতরে থাকবেন না বাইরে থাকবেন, তা ভবিষ্যৎই বলবে।”

    ‘‘শওকত, পুষ্পার থেকেও অবস্থা খারাপ হবে’’

    ডায়মন্ড হারবার কেন্দ্রের প্রসঙ্গ টেনে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ‘‘ডায়মন্ড হারবারে লড়ুন। সেখানে ৪০ শতাংশ মুসলিম ভোট রয়েছে। তারপরও আপনি যে ব্যবধানে জিতেছেন, সেই ব্যবধানেই যদি আপনাকে হারাতে না পারি, তাহলে আমার কথাই ভুল প্রমাণিত হবে। আপনার অবস্থা শওকত বা পুষ্পার থেকেও খারাপ হবে।’’ বিধানসভায় একাধিক ইস্যুতে বক্তব্য রাখতে গিয়ে তিনি আগের রাজ্য সরকারেরও সমালোচনা করেন। পাশাপাশি অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে কটাক্ষ করে বলেন, ‘‘পুলিশকে কোথায় নিয়ে গিয়েছিলেন? এই ভাইপোপন্থী তৃণমূলের কোনও অস্তিত্ব পশ্চিমবঙ্গে থাকবে না, সেটাই আমার দায়িত্ব। ফলতা তো সবে শুরু, রেজিনগর ও নন্দীগ্রাম এখনও বাকি।’’

    ‘‘পাশের বাড়ির মানুষও আপনাকে ভোট দেন না’’

    প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কেও নিশানা করে শুভেন্দু অধিকারী বলেন, ‘‘তিনি বলছেন, আবার ফিরে আসবেন। সবাই নাকি গদ্দার, সব চোর নাকি অন্য দলে চলে গিয়েছে। এত বড় নেত্রী হয়েও মিত্র ইন্সটিটিউশনের চারটি বুথেই আমার কাছে হেরেছেন। পাশের বাড়ির মানুষও আপনাকে ভোট দেন না, অথচ নিজেকে জননেত্রী বলেন। একসময় অটল বিহারী বাজপেয়ীর আশীর্বাদ পেয়েছিলেন।’’

    আমফান দুর্নীতি নিয়ে অভিষেককে তোপ

    তার আগেই বিধানসভায় সিএজি (ক্যাগ) রিপোর্ট পেশ করার সিদ্ধান্তের কথা জানান মুখ্যমন্ত্রী। সেই প্রসঙ্গেই উঠে আসে আমফান নিয়ে দুর্নীতির প্রসঙ্গ। আমপানের পর কেন্দ্রের বিপর্যয় মোকাবিলা তহবিল থেকে আসা বিপুল অর্থ নয়ছয় হয়েছে বলে বিভিন্ন সময়ে সরব হয়েছেন শুভেন্দু। এমনকি, দক্ষিণ ২৪ পরগনার ফলতায় পুনর্নির্বাচনে জয়ের পর সভা করার সময়ও আমফান দুর্নীতির প্রসঙ্গ তোলেন মুখ্যমন্ত্রী। এই দুর্নীতি নিয়ে আগেও অভিষেককে নিশানা করেছেন তিনি। সেই আমফান দুর্নীতি নিয়ে সিএজি রিপোর্ট বিধানসভায় পেশ করে রাজ্যপালের কাছে এফআইআর করার অনুমতি চাওয়া হবে বলেও জানান শুভেন্দু।

    পুলিশের দুর্নীতি রুখতে দাওয়াই শুভেন্দুর

    পুলিশমন্ত্রী হিসেবে দুর্নীতির প্রসঙ্গ টেনে শুভেন্দু এদিন বলেন, ‘‘ওটা (অভিষেক) বাঘ না, বেড়াল। যত চুরি করেছে সব গর্ত খুঁড়ে বার করব।’’ ‘আঞ্চলিক দলের’ সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক বলে অভিষেককে কটাক্ষ করে আক্রমণ শানিয়েছেন মমতার দিকেও। তাঁর নাম না-করে মুখ্যমন্ত্রীর কটাক্ষ, ‘‘আপনি বেঁচে থাকতে থাকতে প্রমাণ করে দেব আপনি প্রতিষ্ঠিত চোর।’’পুলিশমন্ত্রী হিসেবে তাঁর অভিযোগ, বিগত সরকার পরিকাঠামো উন্নয়ন থেকে শুরু করে পুলিশের কর্মদক্ষতা বৃদ্ধির জন্য কিছুই করেনি। রাজ্য পুলিশে অনুমোদিত পদের এক তৃতীয়াংশই (৪৩ হাজার ৭৩) শূন্য রয়েছে বলে বিধানসভায় জানান শুভেন্দু। তবে আশ্বাস দেন পুজোর আগেই ১৬ হাজার কনস্টেবল নিযুক্ত হবে। আরও ২০ হাজার পুলিশকর্মী অবিলম্বে নিয়োগ করা হবে বলেও ঘোষণা করেন শুভেন্দু। পুলিশের দুর্নীতি রুখতে তাঁর দাওয়াই, ‘‘হেল্পলাইন নম্বর চালু হয়েছে। কোথাও কাউকে রাস্তায় হাত পাততে দেখলেই জানান।’’

    ‘জিরো টলারেন্সের’ নির্দেশ

    ধানতলা, বানতলা থেকে শুরু করে নন্দীগ্রামে গুলিচালনার ঘটনা বা সূচপুরের ঘটনা উল্লেখ করে শুভেন্দু দাবি করেন, যে ঘটনাগুলিকে ব্যবহার করে ক্ষমতায় এসেছিলেন মমতা, সেই সমস্ত ক্ষেত্রে মানুষকে বিচার পাইয়ে দিতে পারেননি তিনি। মহিলা এবং নারীদের উপর অপরাধের ক্ষেত্রে ফের ‘জিরো টলারেন্সের’ কথা বলে তিনি পুলিশকে নির্দেশ দেন, ‘‘এ ধরনের অপরাধের ক্ষেত্রে নির্দেশের অপেক্ষা করবেন না। যা করার দরকার তাই করবেন। মনে রাখবেন আপনাদের সবচেয়ে বড় ঢাল রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী।’’ বিগত সরকারের জমানায় ধর্ষণের ঘটনায় নিম্ন আদালত একের পর এক ফাঁসির সাজা দিলেও তা কার্যকর কেন হয়নি, সেই প্রশ্ন তুলে মূলত তাদের গাফিলতিকেই দায়ী করেন মুখ্যমন্ত্রী। সম্প্রতি বারুইপুরের শিশুকন্যা ধর্ষণ এবং খুনের ঘটনায় পুলিশের ভূমিকাকে কার্যত মডেল হিসেবে ব্যাখ্যা করে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ‘‘ঘটনা ঘটলে তা কী ভাবে মোকাবিলা করতে হয় তা বারুইপুরের ঘটনায় প্রমাণ করে দিয়েছে আমাদের সরকার।’’

    দুর্নীতির প্রশ্নে নিশানা তৃণমূলকে

    এর পরেই দুর্নীতির প্রশ্নে নিশানা করেন তৃণমূল কংগ্রেসকে। গত পনেরো বছরে যাঁরা অবৈধ সম্পত্তি করেছেন, সেই সব বাজেয়াপ্ত করে নিলাম করা হবে বলে হুঁশিয়ারি দিয়ে বামেদেরও বিঁধেছেন শুভেন্দু। সিপিএমকে চিটফান্ডের ‘ক্যাম্পেইনার’ বলে অভিযোগ করে, ত্রিপুরার প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী থেকে শুরু করে এ রাজ্যের সিপিএম নেতাদের একাংশের ফাইল খোলার কথাও বলতে শোনা যায় তাঁকে।

    ডায়মন্ড হারবারে লড়বেন!

    কালীঘাট তৃণমূলের শহিদ দিবসের অনুষ্ঠানে ভিড় নিয়ে এদিন বিধানসভায় মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “বিড়লা তারামণ্ডলে ওইটুকু জায়গায় কত লোক হয়েছে? পুলিশ রিপোর্ট দিয়েছে। আড়াই হাজারের একটু বেশি হয়েছে।” মমতা অভিষেককে বাঘ বলে উল্লেখ করেছেন। এদিন তা নিয়েও কটাক্ষ করে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “ওটা বাঘ না বিড়াল। ওকে আমি কাউন্টার করব না। ও অনেক বড়-বড় কথা বলে। তবে একটাই কথা বলব, সাহস থাকলে আগামী লোকসভা ভোটে ডায়মন্ড হারবারে লড়বে। যত ভোটে জিতেছে, তত ভোটে হারাব। আপনার অবস্থা পুষ্পার চেয়েও খারাপ হবে।”

  • Mira Bhattacharya Security: রাজ্য-রাজনীতিতে সৌজন্যের বার্তা! বুদ্ধ-জায়া মীরা ভট্টাচার্যের নিরাপত্তা ফেরাচ্ছেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু

    Mira Bhattacharya Security: রাজ্য-রাজনীতিতে সৌজন্যের বার্তা! বুদ্ধ-জায়া মীরা ভট্টাচার্যের নিরাপত্তা ফেরাচ্ছেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: রাজ্য-রাজনীতিতে সৌজন্যের বার্তা। রাজ্যে রাজনৈতিক পালাবদলের পর প্রশাসনিক সিদ্ধান্তেও আসতে শুরু করেছে বদল। এবার সেই তালিকায় যোগ হল একটি ব্যতিক্রমী পদক্ষেপ। প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী বুদ্ধদেব ভট্টাচার্যের (Buddhadeb Bhattacharjee) স্ত্রী মীরা ভট্টাচার্যের (Mira Bhattacharya) জন্য ফের নিরাপত্তা ব্যবস্থা চালু করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে নতুন রাজ্য সরকার। রাজনৈতিক মতাদর্শে বিস্তর ফারাক থাকা সত্ত্বেও প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রীর পরিবারের প্রতি মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর (Suvendu Adhikari)সম্মান প্রদর্শনের এই সিদ্ধান্ত বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ বলেই মনে করছেন পর্যবেক্ষকরা।

    শীঘ্রই পাম অ্যাভিনিউয়ের ফ্ল্যাটে ফের নিরাপত্তারক্ষী

    ২০২৪ সালের ৮ আগস্ট প্রয়াত হন পশ্চিমবঙ্গের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী বুদ্ধদেব ভট্টাচার্য। তাঁর মৃত্যুর পর পাম অ্যাভিনিউয়ের ৫৯এ নম্বরের ছোট্ট ফ্ল্যাটেই আগের মতো বসবাস করে আসছেন তাঁর স্ত্রী মীরা ভট্টাচার্য। তবে মীরা দেবীর জীবনযাত্রায় কোনও জৌলুস আসেনি। দীর্ঘদিন ধরেই তিনি অত্যন্ত সাধারণ ও অনাড়ম্বর জীবনযাপন করছেন, যা বুদ্ধদেব ভট্টাচার্যের রাজনৈতিক জীবনেরও অন্যতম পরিচয় ছিল। সূত্রের খবর, বুদ্ধদেব ভট্টাচার্যের মৃত্যুর পর তৎকালীন রাজ্য সরকার ওই ফ্ল্যাটের নিরাপত্তা ব্যবস্থা প্রত্যাহার করে নেয়। সেই সিদ্ধান্তকে ঘিরে বিভিন্ন মহলে প্রশ্ন উঠেছিল। তবে সরকার পরিবর্তনের পর সেই অবস্থান বদলাতে চলেছে। নতুন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী মীরা ভট্টাচার্যের নিরাপত্তা পুনর্বহালের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন বলে জানা গিয়েছে। খুব শীঘ্রই পাম অ্যাভিনিউয়ের ফ্ল্যাটে ফের নিরাপত্তারক্ষী মোতায়েন করা হবে।

    সহজ-সরল জীবনযাত্রা মীরা-দেবীর

    বর্তমানে মীরা দেবী একাই থাকেন ওই ফ্ল্যাটে। স্বামী বুদ্ধদেব থাকাকালীন যেমন সহজ ও সাধারণ জীবনযাত্রা ছিল এখনও তাই। এই ছোট্ট ফ্ল্যাট বদলানোর কথা স্বয়ং জ্যোতি বসুও নাকি একসময়ে বলেছিলেন। কিন্তু বুদ্ধবাবু চেয়েছিলেন এখানেই থাকতে। স্বামীর মৃত্যুর পর মীরা দেবীও সেই সিদ্ধান্তেই অটল থেকেছেন। রাজ্যে পরিবর্তনের পর তাকে স্বাগতও জানিয়েছিলেন। মতাদর্শগত ফারাক মাথায় রেখেও নতুন সরকারের প্রশংসা করতে দেখা যায় তাঁকে। প্রার্থনা করেছিলেন, ২০১১ সালের আগে যেমন সিন্ডিকেট রাজ ছিল না, সেই পরিস্থিতিই যেন ফিরে আসে বাংলায়। ভোটের সময় যা প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল গেরুয়া শিবির, তা পূরণ হবে বলেই আশা প্রকাশ করেন মীরা।

    রাজনৈতিক সৌজন্যের অনন্য নজির

    রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এই সিদ্ধান্ত শুধুমাত্র নিরাপত্তা সংক্রান্ত প্রশাসনিক পদক্ষেপ নয়, বরং রাজনৈতিক সৌজন্যেরও একটি গুরুত্বপূর্ণ বার্তা। কারণ, বুদ্ধদেব ভট্টাচার্য এবং শুভেন্দু অধিকারী সম্পূর্ণ ভিন্ন রাজনৈতিক মতাদর্শের প্রতিনিধি। তবুও রাজনৈতিক বিরোধিতাকে ব্যক্তিগত সম্পর্ক বা সম্মানের পথে বাধা হতে দেননি বর্তমান মুখ্যমন্ত্রী। বিরোধী রাজনৈতিক শিবিরের একজন প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রীর পরিবারের প্রতি এই সম্মান প্রদর্শন বাংলার রাজনৈতিক সংস্কৃতিতে ইতিবাচক বার্তা বহন করছে বলেই মত অনেকের।

  • OBC Case: শুরু হবে নিয়োগ প্রক্রিয়া! সুপ্রিম কোর্ট থেকে ওবিসি মামলা প্রত্যাহার করে নিল শুভেন্দু-সরকার

    OBC Case: শুরু হবে নিয়োগ প্রক্রিয়া! সুপ্রিম কোর্ট থেকে ওবিসি মামলা প্রত্যাহার করে নিল শুভেন্দু-সরকার

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: শীর্ষ আদালত থেকে ওবিসি মামলা (OBC Case) প্রত্যাহার করে নিল রাজ‍্য সরকার। একদিন আগেই বার্তা দিয়েছিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। বলেছিলেন, পূর্বতন তৃণমূল সরকারের ওবিসি সংক্রান্ত মামলা সুপ্রিম কোর্ট থেকে প্রত্যাহার করা হবে। সেই মতো মঙ্গলবার সলিসিটর জেনারেল তুষার মেহতা প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্তের বেঞ্চকে জানান, রাজ্য মন্ত্রিসভা এই মামলা প্রত্যাহারের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। একইসঙ্গে, রাজ্য অনগ্রসর শ্রেণি কমিশনও তাদের পৃথক আপিল প্রত্যাহার করেছে। কমিশনের তরফে আইনজীবী কুণাল চট্টোপাধ্যায় এই সিদ্ধান্তের কথা সুপ্রিম কোর্টকে জানান।

    শীর্ষ আদালতের পর্যবেক্ষণ

    ২০১০ সালের পর ওবিসি তালিকায় অন্তর্ভুক্ত ৭৫টি মুসলিম সম্প্রদায়-সহ মোট ৭৭টি গোষ্ঠীর অন্তর্ভুক্তি বাতিলের নির্দেশ দিয়েছিল কলকাতা হাইকোর্ট। ২০২৪ সালের মে মাসের হাইকোর্টের সেই নির্দেশকে চ্যালেঞ্জ করেই সুপ্রিম কোর্টে গিয়েছিল পূর্বতন তৃণমূল সরকার। কিন্তু, বিজেপি ক্ষমতায় এসেই জানিয়ে দেয়, ওবিসি তালিকা নিয়ে পূর্বতন সরকারের মামলা সুপ্রিম কোর্ট থেকে প্রত্যাহার করবে তারা। সেইমতো এদিন মামলা প্রত্যাহার করে নিল বর্তমান রাজ্য সরকার। মঙ্গলবার সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত, বিচারপতি জয়মাল্য বাগচী এবং বিচারপতি ভি মোহানার বেঞ্চ মামলা প্রত্যাহারের অনুমতি দিয়েছে। তবে আদালত স্পষ্ট করে দিয়েছে যে, অন্য কোনও পক্ষ চাইলে নিজেদের মামলা চালিয়ে যেতে পারবে।

    শুভেন্দু-সরকারের ভাবনা

    কলকাতা হাইকোর্টের নির্দেশ মেনে সম্প্রতি পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভায় দু’টি নতুন বিল পাশ করিয়ে রাজ্যের ওবিসি সংরক্ষণের পুরো কাঠামো ফিরিয়ে এনেছে শুভেন্দু অধিকারীর সরকার। তাতে ২০১০ সালের আগের সমীক্ষার ভিত্তিতে স্বীকৃত শুধুমাত্র ৬৬টি সম্প্রদায়কেই ওবিসি তালিকায় রাখা হয়েছে। ওবিসি স্বীকৃতি বাদ গিয়েছে ৭৭টি সম্প্রদায়ের। ধর্মের ভিত্তিতে মুসলিমদের ওবিসি তালিকাভুক্ত করে সংরক্ষণের সুবিধা দেওয়া হয়েছে— এই যুক্তিতে কলকাতা হাইকোর্ট পশ্চিমবঙ্গে বাম জমানার শেষ পর্ব থেকে তৃণমূল জমানার গোড়া পর্যন্ত ৭৭টি সম্প্রদায়কে ওবিসি তালিকাভুক্ত করার সিদ্ধান্ত খারিজ করে দিয়েছিল। গত দু’বছর মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরকার সেই রায়ে স্থগিতাদেশ চেয়ে সুপ্রিম কোর্টে মামলা লড়ছিল। নিয়োগ প্রক্রিয়া থমকে থাকার জন্য এই ওবিসি মামলার কথা জানিয়েছিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। শিক্ষক নিয়োগ কবে হবে, সেই প্রশ্নের উত্তরে মুখ্যমন্ত্রী বলেছিলেন, ওবিসি সংরক্ষণের জটিলতায় নিয়োগ প্রক্রিয়া কিছুটা পিছিয়ে পড়েছে।

  • CM Suvendu Adhikari: রথযাত্রার ৬০ কমিটিকে ৫ লাখ করে অনুদান, শ্রাবণে জলযাত্রীদের ওপর পুষ্পবৃষ্টির ঘোষণা মুখ্যমন্ত্রীর

    CM Suvendu Adhikari: রথযাত্রার ৬০ কমিটিকে ৫ লাখ করে অনুদান, শ্রাবণে জলযাত্রীদের ওপর পুষ্পবৃষ্টির ঘোষণা মুখ্যমন্ত্রীর

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: রথযাত্রায় মোটা অঙ্কের অনুদান দেওয়ার কথা ঘোষণা করলেন রাজ্যের প্রথম বিজেপি সরকারের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। আগামী বৃহস্পতিবার রথযাত্রা উৎসব (Rath Yatra Committee)। তার আগে সোমবার নবান্নে জেলাশাসক ও বিভিন্ন দফতরের আধিকারিকদের সঙ্গে বৈঠকে বসেন তিনি। মুখ্যমন্ত্রী জানান, রাজ্যের ৬০টি রথযাত্রা কমিটিকে ৫ লাখ টাকা করে সরকারি সাহায্য দেওয়া হবে। শ্রাবণ মাসে শিবের মন্দিরে যাওয়া জলযাত্রীদের জন্য বিশেষ পরিষেবা এবং অনুকূল আবহাওয়া থাকলে হেলিকপ্টার থেকে পুষ্পবৃষ্টি করা হবে বলেও ঘোষণা করেছেন (CM Suvendu Adhikari) তিনি।

    রথযাত্রা কমিটিগুলিকে অনুদান (CM Suvendu Adhikari)

    এদিনের বৈঠকে ভার্চুয়ালি যোগ দিয়েছিল রথযাত্রা কমিটিগুলি। এই বৈঠকেই মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “দশকের পর দশক উৎসব হয়, এমন ৬০টি কমিটিকে ৫ লাখ টাকা করে সরকারি সাহায্য দেব। এটি আমাদের অংশগ্রহণ।” তিনি জানান, প্রথম বছর কমিটির তালিকা তৈরিতে কোনও ত্রুটি থাকলে তা ক্ষমাসুন্দর দৃষ্টিতে দেখার অনুরোধ রইল। রাজ্যের পালাবদলের মুখ্যমন্ত্রীর কথায়, “আগামী দিনে ত্রুটিহীন তালিকা তৈরি করব। অনেক দূর যাবে এই বিশেষ ব্যবস্থা। আজ যে বৃক্ষ রোপিত হল, আগামী দিনে তা মহীরূহ হবে। ঐতিহ্যে পরিণত হবে।” মুখ্যমন্ত্রী রথযাত্রা কমিটিগুলিকে সরকারি অনুদানের অর্থ পুরানো, বিশেষ করে কাঠের তৈরি রথ সংস্কারের কাজে ব্যবহার করারও অনুরোধ জানান।রথযাত্রা নিয়ে পূর্বতন তৃণমূল সরকারকেও আক্রমণ করেন মুখ্যমন্ত্রী। বলেন, “এত দিন রথযাত্রা উৎসবে সরকারি স্তরে কয়েক জন ট্রাফিক পুলিশ পাঠিয়েই সরকার দায়িত্ব পালন শেষ করত। বর্তমান সরকার প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির যে স্লোগান— উন্নয়ন এবং ঐতিহ্য, দু’টিকে সামনে রেখে এগোতে চায়। তাই এ বারের রথযাত্রায় সরকারিভাবে, সক্রিয় ভাবে অংশগ্রহণের সিদ্ধান্ত নিয়েছি।”

    পুষ্পবৃষ্টি

    মুখ্যমন্ত্রী জানান, রাজ্যের ৭৫টি ঐতিহ্যবাহী রথযাত্রার মেলায় সেবাকেন্দ্র গড়ে তোলা হবে। তথ্য ও সংস্কৃতি দফতরের উদ্যোগে পুণ্যার্থীদের জন্য ন্যূনতম পরিষেবা দেওয়া হবে। এই কাজে পুরসভা, জেলা প্রশাসন, জেলা পুলিশ এবং সংশ্লিষ্ট রথযাত্রা কমিটিগুলিকে যুক্ত করা হবে।শ্রাবণ মাসে জলযাত্রীদের জন্যও একাধিক বিশেষ উদ্যোগের কথা ঘোষণা করেন মুখ্যমন্ত্রী। তিনি বলেন, “শেওড়াফুলি থেকে তারকেশ্বরে যাওয়ার পথে প্রতি ৫ কিলোমিটার অন্তর সেবাকেন্দ্র স্থাপন করছে সরকার। তারকেশ্বর ধামকে সাজানোর জন্য ১৫ কোটি টাকার কাজ করছি।” তিনি জানান, জলযাত্রীদের পরিষেবার জন্য রাজ্যের তিনটি তীর্থস্থানকে বেছে নেওয়া হয়েছে— জলপাইগুড়ির জল্পেশ মন্দির, ভুটান সীমান্তবর্তী জয়ন্তী এলাকার একটি মন্দির এবং তারকেশ্বর। এই তিনটি কেন্দ্রকে ঘিরে পরিষেবা শিবির গড়ে তোলা হবে। সেখানে থাকবে পুলিশি সহায়তা কেন্দ্র, অস্থায়ী স্বাস্থ্য শিবির, পানীয় জল, ওআরএস এবং বিশ্রামের ব্যবস্থা। এই প্রসঙ্গেও পূর্বতন সরকারকে কটাক্ষ করে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “ভারতের অন্য রাজ্যে দেখেছি, সরকারিভাবে এই পরম্পরাকে বাঁচাতে সহযোগিতা করা হয়। এত দিন এই রাজ্য বঞ্চিত ছিল। কিন্তু এই সরকার সহায়তা করবে (CM Suvendu Adhikari)।” তিনি আরও জানান, শ্রাবণ মাসের প্রতি সোমবার আবহাওয়া অনুকূল থাকলে জলযাত্রীদের ওপর হেলিকপ্টার থেকে গোলাপের পাপড়ি বর্ষণ করা হবে। এর পাশাপাশি, তিনি জানান, ১৪ জুলাই তারকেশ্বরে উপস্থিত থেকে শ্রাবণী মেলার সূচনা করবেন।

    তীর্থক্ষেত্র সার্কিট প্রকল্প

    মুখ্যমন্ত্রী জানান, বাজেটে তীর্থক্ষেত্র সার্কিট প্রকল্প রাখা হয়েছে। তাঁর বক্তব্য, “মঠ, মন্দির, কিরীটেশ্বরী-সহ অনেক প্রাচীন মন্দির, যাদের ইতিহাস রয়েছে, তাদের সংস্কার এবং হেরিটেজের আওতায় আনতে উদ্যোগী হয়েছি। ধর্মীয় স্থানগুলির রক্ষণাবেক্ষণ ও সংরক্ষণে ১০০০ কোটি টাকা বরাদ্দ করেছি।” তিনি আরও জানান, ভারত সেবাশ্রম সংঘ পরিচালিত হাসপাতালগুলিকে আয়ুষ্মান ভারতের আওতায় আনা (Rath Yatra Committee) হয়েছে। স্বামী বিবেকানন্দের জন্মস্থান সিমলা স্ট্রিটের উন্নয়নের জন্য ৫ কোটি টাকার কর্পাস তহবিল দেওয়ার সিদ্ধান্তও নিয়েছে রাজ্য সরকার (CM Suvendu Adhikari)।

     

LinkedIn
Share