মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: শীর্ষ আদালত থেকে ওবিসি মামলা (OBC Case) প্রত্যাহার করে নিল রাজ্য সরকার। একদিন আগেই বার্তা দিয়েছিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। বলেছিলেন, পূর্বতন তৃণমূল সরকারের ওবিসি সংক্রান্ত মামলা সুপ্রিম কোর্ট থেকে প্রত্যাহার করা হবে। সেই মতো মঙ্গলবার সলিসিটর জেনারেল তুষার মেহতা প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্তের বেঞ্চকে জানান, রাজ্য মন্ত্রিসভা এই মামলা প্রত্যাহারের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। একইসঙ্গে, রাজ্য অনগ্রসর শ্রেণি কমিশনও তাদের পৃথক আপিল প্রত্যাহার করেছে। কমিশনের তরফে আইনজীবী কুণাল চট্টোপাধ্যায় এই সিদ্ধান্তের কথা সুপ্রিম কোর্টকে জানান।
শীর্ষ আদালতের পর্যবেক্ষণ
২০১০ সালের পর ওবিসি তালিকায় অন্তর্ভুক্ত ৭৫টি মুসলিম সম্প্রদায়-সহ মোট ৭৭টি গোষ্ঠীর অন্তর্ভুক্তি বাতিলের নির্দেশ দিয়েছিল কলকাতা হাইকোর্ট। ২০২৪ সালের মে মাসের হাইকোর্টের সেই নির্দেশকে চ্যালেঞ্জ করেই সুপ্রিম কোর্টে গিয়েছিল পূর্বতন তৃণমূল সরকার। কিন্তু, বিজেপি ক্ষমতায় এসেই জানিয়ে দেয়, ওবিসি তালিকা নিয়ে পূর্বতন সরকারের মামলা সুপ্রিম কোর্ট থেকে প্রত্যাহার করবে তারা। সেইমতো এদিন মামলা প্রত্যাহার করে নিল বর্তমান রাজ্য সরকার। মঙ্গলবার সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত, বিচারপতি জয়মাল্য বাগচী এবং বিচারপতি ভি মোহানার বেঞ্চ মামলা প্রত্যাহারের অনুমতি দিয়েছে। তবে আদালত স্পষ্ট করে দিয়েছে যে, অন্য কোনও পক্ষ চাইলে নিজেদের মামলা চালিয়ে যেতে পারবে।
শুভেন্দু-সরকারের ভাবনা
কলকাতা হাইকোর্টের নির্দেশ মেনে সম্প্রতি পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভায় দু’টি নতুন বিল পাশ করিয়ে রাজ্যের ওবিসি সংরক্ষণের পুরো কাঠামো ফিরিয়ে এনেছে শুভেন্দু অধিকারীর সরকার। তাতে ২০১০ সালের আগের সমীক্ষার ভিত্তিতে স্বীকৃত শুধুমাত্র ৬৬টি সম্প্রদায়কেই ওবিসি তালিকায় রাখা হয়েছে। ওবিসি স্বীকৃতি বাদ গিয়েছে ৭৭টি সম্প্রদায়ের। ধর্মের ভিত্তিতে মুসলিমদের ওবিসি তালিকাভুক্ত করে সংরক্ষণের সুবিধা দেওয়া হয়েছে— এই যুক্তিতে কলকাতা হাইকোর্ট পশ্চিমবঙ্গে বাম জমানার শেষ পর্ব থেকে তৃণমূল জমানার গোড়া পর্যন্ত ৭৭টি সম্প্রদায়কে ওবিসি তালিকাভুক্ত করার সিদ্ধান্ত খারিজ করে দিয়েছিল। গত দু’বছর মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরকার সেই রায়ে স্থগিতাদেশ চেয়ে সুপ্রিম কোর্টে মামলা লড়ছিল। নিয়োগ প্রক্রিয়া থমকে থাকার জন্য এই ওবিসি মামলার কথা জানিয়েছিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। শিক্ষক নিয়োগ কবে হবে, সেই প্রশ্নের উত্তরে মুখ্যমন্ত্রী বলেছিলেন, ওবিসি সংরক্ষণের জটিলতায় নিয়োগ প্রক্রিয়া কিছুটা পিছিয়ে পড়েছে।

Leave a Reply