Tag: Supreme court

Supreme court

  • Supreme Court on Firecracker: দীপাবলিতে বাজি নিষিদ্ধ করতে নারাজ সুপ্রিম কোর্ট, উৎসবের আনন্দ বজায় রেখেই দূষণ নিয়ন্ত্রণের বার্তা

    Supreme Court on Firecracker: দীপাবলিতে বাজি নিষিদ্ধ করতে নারাজ সুপ্রিম কোর্ট, উৎসবের আনন্দ বজায় রেখেই দূষণ নিয়ন্ত্রণের বার্তা

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: দীপাবলি এলেই দূষণের কথা মনে পড়ে! ক্রিসমাস, নববর্ষের সময়ও বাজি ফাটে, তখন এই উদ্বেগ কেন চোখে পড়ে না? দূষণ রোধ যেমন গুরুত্বপূর্ণ, তেমনই গুরুত্বপূর্ণ মানুষের উৎসব উদযাপনের অধিকার। একটা ভারসাম্য বজায় রাখা জরুরি। দীপাবলিতে দিল্লি-এনসিআর এলাকায় বাজি পোড়ানোর উপর সম্পূর্ণ নিষেধাজ্ঞা জারির পক্ষে নয় সুপ্রিম কোর্ট। পরিবেশ দূষণ নিয়ন্ত্রণের প্রয়োজনীয়তা স্বীকার করেও মানুষের উৎসব পালনের অধিকার ও আনন্দকে গুরুত্ব দেওয়ার কথা জানিয়েছে শীর্ষ আদালত। আদালতের পর্যবেক্ষণ, দূষণ রোধ করতে হবে ঠিকই, তবে তার জন্য উৎসবের আনন্দকে সম্পূর্ণভাবে স্তব্ধ করে দেওয়া উচিত নয়। তাই বাজি নিয়ে কোনও চূড়ান্ত নিষেধাজ্ঞার পরিবর্তে ভারসাম্যপূর্ণ পদক্ষেপের পক্ষেই মত আদালতের। দীপাবলি উদ্‌যাপনের সময় আমজনতাকে কম দূষণকারী বিকল্প গ্রহণ করার পরামর্শও দিয়েছে শীর্ষ আদালত।

    বেআইনিভাবে বাজি বিক্রির বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা

    বৃহস্পতিবার, ২৯ অক্টোবর, বিচারপতি এম এম সুন্দ্রেশ এবং বিচারপতি পি বি ভারালের বেঞ্চ এ বিষয়ে তীব্র অসন্তোষ প্রকাশ করেছে। বেঞ্চটি মন্তব্য করে, “প্রতি বছরই আমরা এই বিষয়ে নির্দেশ জারি করি… কিন্তু আমাদের কাছে এটি এখন কেবল একটি ‘তাত্ত্বিক চর্চা’য় পরিণত হয়েছে। আমাদের নির্দেশগুলো মানার চেয়ে অমান্যই বেশি করা হয়।” আদালত আরও বলে, এখন সময় এসেছে “নতুন ও উদ্ভাবনী কিছু” করার। বাজি সংক্রান্ত বিধিনিষেধ নিয়ে শুনানির সময় সুপ্রিম কোর্ট জানায়, বেআইনিভাবে বাজি বিক্রির বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নিতে হবে। একই সঙ্গে সাধারণ মানুষের মধ্যে সচেতনতা বাড়ানোর উপরেও জোর দেয় আদালত। প্রতি বছর একই ধরনের নিষেধাজ্ঞা জারি করে কতটা সুফল মিলছে, তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে আদালত। কারণ, বারবার নির্দেশ দেওয়া হলেও তার যথাযথ পালন হচ্ছে না। ফলে শুধু নিষেধাজ্ঞা জারি করে সমস্যার স্থায়ী সমাধান সম্ভব নয় বলেই ইঙ্গিত দিয়েছে সুপ্রিম কোর্ট।

    ভারতীয় ক্রিকেটার বিরাট কোহলির সহায়তা!

    দিল্লি-এনসিআরে বায়ুদূষণ নিয়ন্ত্রণে দীপাবলিতে বাজি পোড়ানো থেকে মানুষকে বিরত রাখতে সচেতনতামূলক প্রচারে বিরাট কোহলির (Virat Kohli) মতো জনপ্রিয় ক্রিকেটারদের যুক্ত করার প্রস্তাব দিল সুপ্রিম কোর্ট। বৃহস্পতিবার, ২৯ অক্টোবর, রাজধানী অঞ্চলের বায়ুদূষণ সংক্রান্ত মামলার শুনানিতে কেন্দ্র ও দিল্লির কর্তৃপক্ষকে এই পরামর্শ দেয় বিচারপতি এম এম সুন্দরেশ এবং বিচারপতি পি বি ভারালের বেঞ্চ। আদালতের মতে, জনপ্রিয় ক্রীড়াবিদ ও বিশিষ্ট ব্যক্তিত্বদের মাধ্যমে মানুষের কাছে পরিবেশবান্ধব দীপাবলির বার্তা পৌঁছে দেওয়া যেতে পারে। শীর্ষ আদালতের পর্যবেক্ষণ, উৎসবের সময় মানুষের উৎসাহ ও উদ্দীপনায় বাধা দিতে চায় না তারা। বর্তমান প্রজন্মও বাজি পোড়ানোর ফলে পরিবেশের ক্ষতি সম্পর্কে যথেষ্ট সচেতন।

    দিল্লির দূষণ নিয়ন্ত্রণে একাধিক পদক্ষেপের প্রস্তাব

    সম্পূর্ণ বাজি নিষিদ্ধের বিষয়ে আপত্তি থাকলেও দূষণ নিয়ন্ত্রণে প্রশাসনকে আরও সক্রিয় হওয়ার নির্দেশ দিয়েছে আদালত। দিল্লি-এনসিআরের বায়ুদূষণের ভয়াবহ পরিস্থিতি নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেছে সুপ্রিম কোর্ট। শুনানিতে দিল্লি সরকার দূষণ মোকাবিলায় একাধিক প্রস্তাবের কথা জানিয়েছে। তার মধ্যে রয়েছে বিএস-৬ নির্গমন মান পূরণ করে না, এমন পুরনো গাড়ির প্রবেশে বিধিনিষেধ, সরকারি অফিসের সময়সূচিতে পরিবর্তন এবং দূষণ নিয়ন্ত্রণে স্মগ গান ব্যবহারের মতো পদক্ষেপ। শীতের মরশুমে দিল্লির বাতাসের গুণমান ক্রমশ খারাপ হওয়ার বিষয়টিও আদালতের নজরে রয়েছে। একাধিক কারণে এই সময় দূষণের মাত্রা বৃদ্ধি পায়। তাই শুধু বাজির উপর বিধিনিষেধ আরোপ না করে সামগ্রিক দূষণ নিয়ন্ত্রণে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়ার প্রয়োজনীয়তার কথা উঠে এসেছে শুনানিতে।

    বাজির ধোঁয়ায় স্বাস্থ্যের ঝুঁকি, উদ্বেগ আদালতের

    শুনানিতে আদালত নিযুক্ত অ্যামিকাস কিউরিয়েও বাজির ধোঁয়া থেকে সৃষ্ট স্বাস্থ্যঝুঁকির বিষয়টি তুলে ধরেন। বিশেষ করে পিএম২.৫-এর মতো সূক্ষ্ম দূষিত কণার ক্ষতিকর প্রভাব সম্পর্কে আদালতকে অবহিত করা হয়। জানানো হয়, এই অতি সূক্ষ্ম কণাগুলি শ্বাসের সঙ্গে ফুসফুসে প্রবেশ করে রক্তপ্রবাহে মিশে যেতে পারে। এর ফলে শরীরের অন্যান্য অঙ্গপ্রত্যঙ্গও ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা থাকে। গুরুতর স্বাস্থ্য সমস্যার কারণ হতে পারে এই দূষিত কণাগুলি। এমনকী, পরিবেশবান্ধব বা গ্রিন ক্র্যাকারও সম্পূর্ণ দূষণমুক্ত নয় বলে স্পষ্ট করা হয়েছে। সাধারণ বাজির তুলনায় এগুলি কম দূষণ ছড়ালেও বায়ুদূষণে এর প্রভাব থেকে যায়।

    শুধু দীপাবলিতেই কেন দূষণ নিয়ে এত বিতর্ক?

    সুপ্রিম কোর্টের এই পর্যবেক্ষণের পর নতুন করে সামনে এসেছে উৎসব ও পরিবেশ দূষণ নিয়ে বিতর্ক। প্রতি বছর দীপাবলি এলেই বাজি পোড়ানো এবং বায়ুদূষণ নিয়ে সংবাদমাধ্যম, সামাজিক মাধ্যম ও বিভিন্ন মহলে তীব্র আলোচনা শুরু হয়। বাজি নিষিদ্ধ করার দাবিও ওঠে। পরিবেশ দূষণ যে একটি বাস্তব সমস্যা এবং জনস্বাস্থ্যের জন্য উদ্বেগের কারণ, তা নিয়ে কোনও সংশয় নেই। তবে প্রশ্ন উঠছে, অন্যান্য উৎসব বা উদযাপনের ক্ষেত্রেও কি একইভাবে দূষণ নিয়ে আলোচনা ও সচেতনতা দেখা যায়? দেশের বিভিন্ন জায়গায় বর্ষবরণ কিংবা বড়দিনের উদযাপনেও আতশবাজি ব্যবহার করা হয়। সেক্ষেত্রেও কি একই ধরনের পরিবেশগত পর্যালোচনা হওয়া উচিত নয়?

    পরিবেশ রক্ষার দায়িত্ব সবার

    পরিবেশ রক্ষার দায়িত্ব কোনও নির্দিষ্ট উৎসব বা সম্প্রদায়ের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকতে পারে না। দূষণের মাত্রা, নির্গমনের পরিমাণ, নিয়ম মেনে চলা এবং প্রশাসনিক নজরদারি—সব ক্ষেত্রেই সমান গুরুত্ব দেওয়া প্রয়োজন। দীপাবলির মতো ঐতিহ্যবাহী উৎসবকে প্রতি বছর দূষণের একমাত্র কারণ হিসেবে তুলে না ধরে, সমস্ত উৎসব ও সামাজিক অনুষ্ঠানে পরিবেশবিধি মেনে চলার উপর জোর দেওয়া উচিত বলেই মত সংশ্লিষ্ট মহলের। বাজির ব্যবহার কমানো, পরিবেশবান্ধব বিকল্প বেছে নেওয়া এবং সচেতনভাবে উৎসব পালনের উদ্যোগকে উৎসাহিত করার প্রয়োজনীয়তাও উঠে আসছে।

     

     

     

     

     

  • Indranil Sen Arrested: ‘‘সবে তো চা-বিস্কুট হয়েছে, এখনও প্রাতরাশ হয়নি’’, ইন্দ্রনীলের গ্রেফতারিতে কীসের ইঙ্গিত মুখ্যমন্ত্রীর?

    Indranil Sen Arrested: ‘‘সবে তো চা-বিস্কুট হয়েছে, এখনও প্রাতরাশ হয়নি’’, ইন্দ্রনীলের গ্রেফতারিতে কীসের ইঙ্গিত মুখ্যমন্ত্রীর?

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: “তদন্তকারী সংস্থাগুলি নিশ্চয়ই তথ্যপ্রমাণ পেয়েছে। সেই প্রমাণের ভিত্তিতেই আইন অনুযায়ী পদক্ষেপ করা হয়েছে।” বুধবার রাজ্যের প্রাক্তন মন্ত্রী তৃণমূলের ইন্দ্রনীল সেনের গ্রেফতারি প্রসঙ্গে এমনই মন্তব্য করলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। নবান্নে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে মুখ্যমন্ত্রী দাবি করেন, ইন্দ্রনীলের (Indranil Sen Arrested) বিরুদ্ধে কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা এবং কলকাতা পুলিশ তদন্ত চালাচ্ছিল।  প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের প্রসঙ্গ তুলেও আক্রমণ শানান শুভেন্দু। তাঁর অভিযোগ, এই ঘটনায় শুধু ইন্দ্রনীল নন, আরও অনেকে জড়িত থাকতে পারেন। তিনি বলেন, “আমি বহু রাজনৈতিক সভায় বলেছি, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের প্রত্যক্ষ মদতে এই ঘটনা ঘটেছে। একা তো আর কেউ টাকা নেননি! প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রীরও ভাগ থাকতে পারে।” ইন্দ্রনীলের সঙ্গে (ED) মমতার ঘনিষ্ঠতার প্রসঙ্গও তোলেন পালাবদলের মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর দাবি, দু’জনে একসঙ্গে ঘুরতেন এবং গানও গাইতেন। শুভেন্দুর কটাক্ষ, “মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং ইন্দ্রনীল সেন একে অন্যের পরিপূরক ছিলেন। যা পরিণতি হওয়ার, তা-ই হচ্ছে। সবে তো চা-বিস্কুট হয়েছে, এখনও প্রাতরাশ হয়নি। দুর্নীতিতে জড়িতদের সকলকেই জেলে যেতে হবে। ঠিক সময়ে বড় জায়গাতেও হাত পড়বে।”

    প্রসঙ্গত, দুর্গাপুজোর পাস বিক্রিকে কেন্দ্র করে আর্থিক দুর্নীতির অভিযোগে গ্রেফতার হন চন্দননগরের প্রাক্তন তৃণমূল বিধায়ক তথা রাজ্যের প্রাক্তন তথ্য ও সংস্কৃতিমন্ত্রী ইন্দ্রনীল সেন (Indranil Sen Arrested)। এদিন সল্টলেকের ইডি দফতরে হাজিরা দিতে গিয়েছিলেন তিনি। সেখান থেকে বেরোনোর পরেই তাঁকে আটক করে গাড়িতে তোলে কলকাতা পুলিশ। পরে তাঁকে লালবাজারে নিয়ে যাওয়া হয় বলে পুলিশ সূত্রে খবর। তদন্তে অসহযোগিতার অভিযোগেই এই পদক্ষেপ বলে জানা গিয়েছে (ED)।

    ইন্দ্রনীলের বিরুদ্ধে অভিযোগ (Indranil Sen Arrested)

    দুর্গাপুজোর পাস বিক্রির ক্ষেত্রে রাষ্ট্রসংঘের শিক্ষা, বিজ্ঞান ও সংস্কৃতিবিষয়ক সংস্থা ইউনেস্কোর নাম ব্যবহার করে বিপুল অঙ্কের টাকা তোলার অভিযোগ উঠেছে ইন্দ্রনীলের বিরুদ্ধে। অভিযোগ, দুর্গাপুজোর বিশেষ দর্শন এবং বিশেষ পাস বিক্রির মাধ্যমে কোটি কোটি টাকার লেনদেন হয়েছিল। অথচ এই ধরনের বাণিজ্যিক কার্যকলাপের জন্য ইউনেস্কোর কোনও অনুমোদন বা চুক্তি ছিল না বলে অভিযোগকারীদের দাবি।

    এই ঘটনায় কলকাতা পুলিশের কাছে প্রথম অভিযোগ দায়ের করেন জয়দীপ মুখোপাধ্যায় নামে এক ব্যক্তি। বৌবাজার থানায় দায়ের হওয়া সেই অভিযোগের ভিত্তিতে মামলা রুজু হয়। পরে আর্থিক লেনদেনের বিষয়টি খতিয়ে দেখতে তদন্ত শুরু করে এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট।

    তদন্তের অংশ হিসেবে এর আগে একাধিক বার ইন্দ্রনীলকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে। তাঁর কসবার বাড়ি এবং সিঙ্গুরের বাগানবাড়ি-সহ একাধিক ঠিকানায় তল্লাশিও চালানো হয়। দুর্গাপুজো ও লক্ষ্মীপুজোর পরে ফের তাঁকে হাজিরার নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। সেই নির্দেশ মেনেই বুধবার তিনি তদন্তকারী সংস্থার দফতরে পৌঁছন (Indranil Sen Arrested)।

    ৫০ থেকে ৬০ কোটি টাকার দুর্নীতির সন্দেহ

    প্রাথমিক তদন্তে ৫০ থেকে ৬০ কোটি টাকার আর্থিক অনিয়মের সম্ভাবনা রয়েছে বলে তদন্তকারীদের অনুমান। অভিযোগ, দুর্গাপুজোর বিশেষ দর্শনের আয়োজন এবং বিশেষ প্রবেশপত্র বিক্রির নামে সাধারণ মানুষের কাছ থেকে টাকা সংগ্রহ করা হয়েছিল। প্রচারে ইউনেস্কোর নাম ও স্বীকৃতিকে এমনভাবে ব্যবহার করা হয়, যাতে সাধারণ মানুষের মনে ওই আয়োজনের সঙ্গে সংস্থাটির সরাসরি যোগসূত্র থাকার ধারণা তৈরি হয়।

    ইন্দ্রনীলের স্ত্রী মধুছন্দা সেনের বিরুদ্ধেও এই ঘটনায় যুক্ত থাকার অভিযোগ উঠেছে। তিনি ‘মাস আর্ট’ নামে একটি সংস্থার সঙ্গে যুক্ত। অভিযোগ, ওই সংস্থার মাধ্যমেই পাস বিক্রি এবং সংশ্লিষ্ট আর্থিক লেনদেন পরিচালিত হয়েছিল। ২০২১ সালে কলকাতার দুর্গাপুজো ইউনেস্কোর স্বীকৃতি পাওয়ার পর সংস্থাটি গড়ে ওঠে বলে জানা গিয়েছে।

    আগাম জামিনের আবেদন খারিজ

    তদন্ত চলাকালীন গ্রেফতারি এড়াতে আগাম জামিনের আবেদন করেছিলেন ইন্দ্রনীল। কিন্তু কলকাতা হাইকোর্ট সেই আবেদন খারিজ করে দেয়। এর পর তিনি সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হন। মঙ্গলবার শীর্ষ আদালতে মামলাটির শুনানি হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু বিচারপতি দীপঙ্কর দত্ত ব্যক্তিগত কারণ দেখিয়ে মামলা থেকে সরে দাঁড়ান। ফলে শুনানি পিছিয়ে যায় এবং নতুন করে বেঞ্চ গঠনের প্রয়োজন হয়ে পড়ে। সুপ্রিম কোর্ট সূত্রে খবর, আগামী সোমবার নতুন বেঞ্চে ইন্দ্রনীলের আগাম জামিনের আবেদন সংক্রান্ত মামলার শুনানি হওয়ার কথা।

    উল্লেখ্য, রাজ্যে রাজনৈতিক পালাবদলের পর পুরনিয়োগ সংক্রান্ত মামলায় গত ১১ মে রাজ্যের প্রাক্তন দমকলমন্ত্রী সুজিত বসুকে গ্রেফতার করা হয়েছিল (ED)। এ বার দুর্গাপুজোর পাস বিক্রির অভিযোগে গ্রেফতার হলেন তৃণমূল সরকারের আর এক প্রাক্তন মন্ত্রী (Indranil Sen Arrested)।

     

  • SIR: এসআইআর-এর তিন নির্দেশই সর্বসম্মত! ফর্ম ৬-এ কোনও সংশোধন হয়নি, সুপ্রিম কোর্টে হলফনামা নির্বাচন কমিশনের

    SIR: এসআইআর-এর তিন নির্দেশই সর্বসম্মত! ফর্ম ৬-এ কোনও সংশোধন হয়নি, সুপ্রিম কোর্টে হলফনামা নির্বাচন কমিশনের

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন বা এসআইআর নিয়ে বিতর্কের মধ্যেই নিজেদের অবস্থান স্পষ্ট করল ভারতের নির্বাচন কমিশন (ECI)। ২০২৫ সালের জুন থেকে ২০২৬ সালের মে মাসের মধ্যে জারি করা এসআইআর (SIR) সংক্রান্ত তিনটি নির্দেশই সর্বসম্মতিক্রমে গৃহীত হয়েছিল বলে সুপ্রিম কোর্টে জমা দেওয়া হলফনামায় দাবি করেছে কমিশন। একই সঙ্গে ভোটার তালিকায় নাম তোলার জন্য ব্যবহৃত ফর্ম-৬ (Form 6)-এ কোনও সংশোধন করা হয়নি বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার রাতে সুপ্রিম কোর্টে এই হলফনামা জমা দেয় নির্বাচন কমিশন। প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের বিরুদ্ধে একতরফাভাবে এসআইআর (SIR) সংক্রান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়ার অভিযোগ তুলে দায়ের হওয়া জনস্বার্থ মামলার জবাবে এই বক্তব্য পেশ করা হয়েছে। মামলাকারীদের অভিযোগ, খসড়া ভোটার তালিকা থেকে ১৩.৩৬ কোটি নাম বাদ দেওয়ার প্রক্রিয়ার সঙ্গে এই সিদ্ধান্তগুলির সম্পর্ক রয়েছে। উপনির্বাচন কমিশনারের স্বাক্ষরিত এই যৌথ হলফনামাটি প্রধান নির্বাচন কমিশনার এবং দুই নির্বাচন কমিশনারের তরফে জমা দেওয়া হয়েছে। আজ, মঙ্গলবার প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্তের নেতৃত্বাধীন সুপ্রিম কোর্টের বেঞ্চে এসআইআর (SIR) সংক্রান্ত এই মামলা এবং অন্যান্য আবেদনগুলির শুনানি হওয়ার কথা।

    এসআইআর-এর সিদ্ধান্ত নিয়ে কী জানাল কমিশন?

    নির্বাচন কমিশনের দাবি, ২০২৫ সালের ২৪ জুন, ২০২৫ সালের ২৭ অক্টোবর এবং ২০২৬ সালের ১৪ মে জারি করা SIR সংক্রান্ত নির্দেশগুলি যথাযথ অনুমোদন নিয়েই কার্যকর করা হয়েছিল। কমিশনের অভ্যন্তরীণ সিদ্ধান্ত গ্রহণের প্রক্রিয়া ব্যাখ্যা করে হলফনামায় বলা হয়েছে, প্রধান নির্বাচন কমিশনার এবং অন্যান্য নির্বাচন কমিশনারের মতামত ও পরামর্শ বিবেচনা করার পর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। কোনও ক্ষেত্রে সর্বসম্মতিক্রমে, আবার কোনও ক্ষেত্রে সংখ্যাগরিষ্ঠতার ভিত্তিতে সিদ্ধান্ত গৃহীত হতে পারে। হলফনামায় আরও বলা হয়েছে, কোনও নির্বাচন কমিশনারের পর্যবেক্ষণ বা প্রশ্নকে একা নির্বাচন কমিশনের সিদ্ধান্ত হিসেবে গণ্য করা যায় না। ২০২৩ সালের মুখ্য নির্বাচন কমিশনার ও অন্যান্য কমিশনারদের নিয়ে তৈরি (Appointment, Conditions of Service and Term of Office) আইনের ১৮ নম্বর ধারার উল্লেখ করে এই বক্তব্য পেশ করেছে কমিশন। জরুরি পরিস্থিতিতে কমিশনের সদস্যদের কাছ থেকে ইলেকট্রনিক মাধ্যমে অনুমোদন নেওয়া হয় এবং পরে তা সংশ্লিষ্ট নথিতে নথিভুক্ত করা হয় বলেও জানানো হয়েছে। অন্যদিকে, সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত একটি প্রতিবেদনের ভিত্তিতেই মামলাটি দায়ের করা হয়েছে বলে দাবি করে এর গ্রহণযোগ্যতা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছে নির্বাচন কমিশন।

    ফর্ম ৬ সংশোধন নিয়ে কী দাবি কমিশনের?

    এসআইআর বিতর্কে অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অভিযোগ ছিল, কেন্দ্রীয় সরকারের অনুমোদন ছাড়াই নির্বাচন কমিশন ফর্ম ৬ (Form 6)-এ পরিবর্তন এনেছে। এই ফর্মের মাধ্যমে নতুন ভোটাররা ভোটার তালিকায় নাম অন্তর্ভুক্ত করার আবেদন করেন। হলফনামায় কমিশনের দাবি, ফর্ম ৬-এ কোনও পরিবর্তন করা হয়নি। বরং ভোটারদের দেওয়া তথ্য যাচাই এবং পূর্ববর্তী ভোটার তালিকার সঙ্গে তাঁদের যোগসূত্র প্রতিষ্ঠার জন্য একটি পৃথক ঘোষণাপত্র বা ডিক্লারেশন ফর্ম চালু করা হয়েছিল। এই ঘোষণাপত্রে আবেদনকারীরা নিজেদের অথবা বাবা-মা কিংবা দাদু-দিদা বা ঠাকুরদা-ঠাকুমার পূর্ববর্তী নিবিড় সংশোধনের সময়কার ভোটার তালিকায় থাকা তথ্য দিতে পারবেন। সংশ্লিষ্ট যোগসূত্রের তথ্য পাওয়া না গেলে নির্ধারিত সহায়ক নথি জমা দিতে হতে পারে। বিহারে এসআইআর পরিচালনার অভিজ্ঞতার ভিত্তিতে ঘোষণাপত্রের কাঠামো সহজ করা হয়েছিল বলে জানিয়েছে কমিশন। এর উদ্দেশ্য ছিল আবেদনকারীদের সুবিধা নিশ্চিত করা এবং ভোটার তালিকার সঙ্গে তাঁদের যোগসূত্র যাচাইয়ের প্রক্রিয়া দ্রুত করা। তবে অনলাইনে ফর্ম ৬ পূরণের সময় ঘোষণাপত্রটি যেভাবে দেখানো হচ্ছিল, তাতে মনে হতে পারে যে মূল ফর্মটিতেই সংশোধন আনা হয়েছে—হলফনামায় এই বিষয়টি স্বীকার করেছে কমিশন। এই বিভ্রান্তি দূর করতে ২০২৬ সালের ২১ অক্টোবর জারি করা নির্দেশের মাধ্যমে অনলাইনে ফর্ম ৬ পূরণের পদ্ধতি পরিবর্তন করা হয়েছে। এখন ঘোষণাপত্রটি পৃথক অংশ হিসেবে রাখা হয়েছে, যেমনটি কাগজে পূরণ করা ফর্মের ক্ষেত্রে করা হয়। এর ফলে আবেদনকারীদের একবারই ওটিপি এবং ই-সই ব্যবহার করতে হবে বলে আগে এই ব্যবস্থা চালু করা হয়েছিল বলে জানিয়েছে কমিশন।

    ভোটারদের নাম বাদ পড়া আটকাতে কী ব্যবস্থা?

    এসআইআর-এর কারণে যোগ্য ভোটারদের নাম বাদ পড়ার আশঙ্কা নিয়েও নিজেদের অবস্থান জানিয়েছে নির্বাচন কমিশন। কমিশনের দাবি, প্রক্রিয়ায় প্রয়োজনীয় সুরক্ষাব্যবস্থা রাখা হয়েছে। খসড়া ভোটার তালিকায় যাঁদের নাম নেই এবং যাঁদের তথ্য পূর্ববর্তী ভোটার তালিকার সঙ্গে মেলানো যাচ্ছে না, তাঁদের ক্ষেত্রে ইলেক্টোরাল রেজিস্ট্রেশন অফিসারদের (ERO) নোটিস দিতে হবে। এ ছাড়া, বুথ লেভেল অফিসার বা বিএলও-রা সংশ্লিষ্ট ভোটারদের বাড়িতে গিয়ে প্রয়োজনীয় নথি সংগ্রহ করবেন এবং তা যাচাইয়ের জন্য আপলোড করবেন। এই ধরনের ভোটারদের সশরীরে শুনানিতে হাজির হওয়ার প্রয়োজন হবে না বলেও জানিয়েছে কমিশন। প্রয়োজন অনুযায়ী অনলাইন ব্যবস্থার পাশাপাশি গৃহহীন ব্যক্তি এবং নাইট শেল্টারে বসবাসকারীদের মতো অসহায় গোষ্ঠীর জন্য বিশেষ শিবিরের ব্যবস্থাও করা হবে।

    আধার কার্ডের প্রসঙ্গে কমিশনের বক্তব্য

    এসআইআর প্রক্রিয়া শেষ হয়ে যাওয়ার পরেও যোগ্য ব্যক্তিরা ভোটার তালিকায় নাম অন্তর্ভুক্ত করার আবেদন জানাতে পারবেন। তবে সেই আবেদন সংশ্লিষ্ট নিয়মের অধীন থাকবে। আধার কার্ডের প্রসঙ্গে কমিশন স্পষ্ট জানিয়েছে, আধার নাগরিকত্বের প্রমাণ নয়। এটি শুধুমাত্র পরিচয় যাচাইয়ের নথি হিসেবে ব্যবহার করা হবে।

    ইসিআইনেট (ECINet) নিয়ে কী বক্তব্য?

    ইসিআইনেট (ECINet) ব্যবস্থার কার্যকারিতা নিয়েও হলফনামায় বক্তব্য রেখেছে নির্বাচন কমিশন। কমিশনের দাবি, ইলেক্টোরাল রেজিস্ট্রেশন অফিসার (Electoral Registration Officer)-এর নির্দেশ ছাড়া ইসিআইনেট-এ কোনও ভোটারের নাম যোগ করা, বাদ দেওয়া বা পরিবর্তন করা হয় না। এই ব্যবস্থার আইন মেনে চলা নিশ্চিত করতে ১৪ অক্টোবর একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে। ওই কমিটিতে আইআইটি মুম্বই এবং আইআইএসসি বেঙ্গালুরুর দু’জন স্বাধীন বিশেষজ্ঞ রয়েছেন বলে আদালতকে জানিয়েছে কমিশন।

    গোয়ার ৯৭ ভোটার এবং বাংলার আবেদন নিয়ে বক্তব্য

    গোয়ায় ৯৭ জন ভোটারের নাম তালিকা থেকে বাদ পড়ার বিষয়টিও হলফনামায় উল্লেখ করেছে নির্বাচন কমিশন। কমিশনের বক্তব্য, তাঁদের মধ্যে ৮৮ জন ইতিমধ্যেই ফর্ম-৬ জমা দিয়েছেন এবং তাঁদের আবেদন গ্রহণ করা হয়েছে। ছ’জন দেশের বাইরে রয়েছেন। বাকি তিনজন পর্তুগিজ পাসপোর্টধারী অথবা বিদেশি নাগরিক বলে জানানো হয়েছে। পশ্চিমবঙ্গে ভোটারদের নাম অন্তর্ভুক্তির বিরুদ্ধে রাজ্য নির্বাচন কমিশনের দায়ের করা আপিল প্রসঙ্গে কেন্দ্রীয় নির্বাচন কমিশন জানিয়েছে, সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ অনুসারে রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিকের দফতরের আধিকারিকরা ওই আবেদনগুলি দায়ের করেছিলেন। বিষয়গুলি কেন্দ্রীয় নির্বাচন কমিশনের সদর দফতরের নজরে আনা হয়নি বলেও হলফনামায় দাবি করা হয়েছে।

    সুপ্রিম কোর্টের রায়ের উল্লেখ কমিশনের

    ভোটারদের যোগ্যতা যাচাইয়ের জন্য প্রয়োজনীয় নথি নির্ধারণ করার ক্ষমতা নির্বাচন কমিশনের রয়েছে বলেও দাবি করা হয়েছে হলফনামায়। এ ক্ষেত্রে সুপ্রিম কোর্টের চলতি বছরের মে মাসের রায়ের উল্লেখ করেছে কমিশন। তাদের বক্তব্য, ভোটার তালিকার স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বজায় রাখা এবং আইন মেনে চলার উদ্দেশ্যে যুক্তিসংগত নথিপত্র চাওয়া যেতে পারে।

  • Rahul Gandhi’s Petition: ভুলে ভরা…! সুপ্রিম কোর্টে করা রাহুল গান্ধীর আবেদনে ১৪টি ত্রুটি, বকেয়া ২২০ টাকা কোর্ট ফি-ও

    Rahul Gandhi’s Petition: ভুলে ভরা…! সুপ্রিম কোর্টে করা রাহুল গান্ধীর আবেদনে ১৪টি ত্রুটি, বকেয়া ২২০ টাকা কোর্ট ফি-ও

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ভোটার তালিকায় অনিয়মের অভিযোগ এবং ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন (SIR) প্রক্রিয়াকে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধী-সহ বিরোধী নেতাদের দায়ের করা যৌথ আবেদনে ১৪টি ত্রুটি চিহ্নিত করল সুপ্রিম কোর্টের রেজিস্ট্রি। এর মধ্যে রয়েছে ২২০ টাকা কোর্ট ফি কম জমা দেওয়া, নয়জন আবেদনকারীর প্রয়োজনীয় অনুমোদনপত্র না থাকা এবং কংগ্রেস সভাপতি মল্লিকার্জুন খাড়গের পরিচয়পত্রের অস্পষ্ট ফটোকপি। সোমবার দিল্লিতে নির্বাচন প্রক্রিয়ায় অনিয়মের অভিযোগ তুলে সুপ্রিম কোর্টের দিকে মিছিল করেন বিরোধী ‘ইন্ডি’-জোটের একাধিক নেতা ও সমর্থক। সেই সময়ই নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে ‘ভোট চুরি’র অভিযোগ তুলে শীর্ষ আদালতে আবেদন জমা দেয় বিরোধী নেতাদের আইনজীবী দল।

    কী কী ত্রুটি চিহ্নিত হয়েছে?

    সুপ্রিম কোর্টের রেজিস্ট্রির তরফে আবেদনে একাধিক নথিগত ও পদ্ধতিগত ত্রুটির কথা জানানো হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে কয়েকজন আবেদনকারীর প্রয়োজনীয় ‘ভকালতনামা’ বা আইনজীবী নিয়োগের অনুমতিপত্র না থাকা, মল্লিকার্জুন খাড়গের পরিচয়পত্রের স্পষ্ট প্রতিলিপি জমা দেওয়ার নির্দেশ এবং কয়েকটি নথির রঙিন কপি জমা না দেওয়া। এ ছাড়াও আবেদনের কয়েকটি অংশের অক্ষর অত্যন্ত ছোট হওয়া, অস্পষ্ট বা ঝাপসা লেখা, কিছু পৃষ্ঠা অনুপস্থিত থাকা, আঞ্চলিক ভাষায় লেখা পৃষ্ঠা সংক্রান্ত সমস্যা এবং পৃষ্ঠার নম্বরের অসঙ্গতির মতো ত্রুটি তুলে ধরা হয়েছে। এই আবেদনে রাহুল গান্ধী, মল্লিকার্জুন খাড়গে, তৃণমূল কংগ্রেসের সাংসদ সৌগত রায়, সমাজবাদী পার্টির নেতা অখিলেশ যাদব, তেজস্বী প্রসাদ যাদব, সুপ্রিয়া সুলে, শিবসেনা (উদ্ধব বালাসাহেব ঠাকরে) গোষ্ঠীর নেতা সঞ্জয় রাউত, ডি রাজা, ঝাড়খণ্ড মুক্তি মোর্চার মহুয়া মাঝি, এম এ বেবি এবং ইন্ডিয়ান ইউনিয়ন মুসলিম লিগের নেতা ই টি মহম্মদ বশির-সহ একাধিক বিরোধী নেতা আবেদনকারী হিসেবে রয়েছেন। আবেদনে প্রতিপক্ষ হিসেবে নাম রয়েছে ভারতের নির্বাচন কমিশন, মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমার এবং নির্বাচন কমিশনার সুখবীর সিং সান্ধু ও বিবেক যোশীর। রেজিস্ট্রির চিহ্নিত ত্রুটিগুলি সংশোধন করার পরেই আবেদনটি শুনানির জন্য তালিকাভুক্ত হতে পারে।

    আবেদনে কী কী দাবি জানিয়েছে ‘ইন্ডি’ জোট?

    আবেদনকারীদের প্রধান দাবিগুলির মধ্যে রয়েছে— এসআইআর প্রক্রিয়া সংক্রান্ত সমস্ত নথি ও তথ্য আদালতে পেশ করার নির্দেশ। এসআইআর সংক্রান্ত নির্বাচন কমিশনের সিদ্ধান্তগুলির সাংবিধানিক বৈধতা খতিয়ে দেখা। অনিয়মের জন্য দায়ী আধিকারিকদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ আবেদনকারীদের অভিযোগ ও সমস্যার প্রতিকার। গোটা প্রক্রিয়ার নিরপেক্ষ তদন্তের জন্য একটি স্বাধীন কমিটি গঠন-সহ অন্যান্য পদক্ষেপ। বিরোধী নেতাদের অভিযোগ, ভোটার তালিকা সংশোধন এবং নির্বাচন পরিচালনার ক্ষেত্রে একাধিক অনিয়ম ঘটেছে। সেই অভিযোগের ভিত্তিতেই তাঁরা আদালতের দ্বারস্থ হয়েছেন। তবে এই অভিযোগগুলির সত্যতা বিচারাধীন বিষয়।

    প্রধান বিচারপতির সঙ্গে সাক্ষাতের আবেদন খারিজ

    সোমবার সুপ্রিম কোর্টে যাওয়ার আগে বিরোধী নেতারা প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্তের সঙ্গে সাক্ষাতের জন্য আবেদন করেছিলেন। তাঁদের উদ্দেশ্য ছিল, কথিত ‘ভোট চুরি’ বন্ধ করা, মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগ, এসআইআর প্রক্রিয়া স্থগিত করা এবং ব্যালট পেপারে ভোট ফেরানোর দাবিতে একটি স্মারকলিপি জমা দেওয়া। কিন্তু বিষয়টি আদালতের বিচারাধীন থাকায় প্রধান বিচারপতি সাক্ষাতের অনুরোধ গ্রহণ করেননি বলে প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে।

  • Supreme Court: সংবাদপত্রের প্রতিবেদনের ভিত্তিতে নির্দেশ দিতে পারে না আদালত, নির্বাচন কমিশনের জবাব তলব সুপ্রিম কোর্টের

    Supreme Court: সংবাদপত্রের প্রতিবেদনের ভিত্তিতে নির্দেশ দিতে পারে না আদালত, নির্বাচন কমিশনের জবাব তলব সুপ্রিম কোর্টের

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: কোনও সংবাদপত্রের প্রতিবেদনের ভিত্তিতে সরাসরি নির্দেশ দিতে পারে না সুপ্রিম কোর্ট। মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমার কি এককভাবে এমন কিছু ক্ষমতা প্রয়োগ করেছেন, যা সাংবিধানিকভাবে গোটা বহু-সদস্যের নির্বাচন কমিশনের হাতে ন্যস্ত—এই অভিযোগের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে নির্বাচন কমিশনের জবাব প্রয়োজন বলে স্পষ্ট জানাল শীর্ষ আদালত (Supreme Court)।

    সোমবার প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত, বিচারপতি জয়মাল্য বাগচী এবং বিচারপতি ভি মোহনার বেঞ্চ এই বিষয়ে নির্বাচন কমিশনকে নোটিস দিয়েছে। অভিযোগ উঠেছে, অপর দুই নির্বাচন কমিশনারের সম্মতি ছাড়াই মুখ্য নির্বাচন কমিশনার এককভাবে বিভিন্ন সিদ্ধান্ত নিয়েছেন (Election Commission)।

    শীর্ষ আদালতের কাছে আবেদন (Supreme Court)

    পাটনার বাসিন্দা রাকেশ কুমার সিংয়ের দায়ের করা জনস্বার্থ মামলায় শীর্ষ আদালতের কাছে আবেদন জানানো হয়েছে, আইন অনুযায়ী নির্বাচন কমিশনের সামগ্রিকভাবে যে ক্ষমতা রয়েছে, মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমার তা এককভাবে প্রয়োগ করছেন কি না, তা নির্ধারণ করা হোক। যদি এমনটা হয়ে থাকে, তাহলে ওই সিদ্ধান্তগুলিকে অননুমোদিত ঘোষণা করে উপযুক্ত আইনি ব্যবস্থা নেওয়ারও আবেদন জানানো হয়েছে।

    আদালত জানিয়েছে, নির্বাচন কমিশনের সিদ্ধান্ত সর্বসম্মতভাবে অথবা সংখ্যাগরিষ্ঠতার ভিত্তিতে নেওয়ার কথা। বেঞ্চের পর্যবেক্ষণ, “আমরা ধরে নিচ্ছি, সমস্ত সিদ্ধান্ত এইভাবেই নেওয়া হয়েছে। যদি দেখা যায়, কোনও সিদ্ধান্ত সর্বসম্মতভাবে বা সংখ্যাগরিষ্ঠতার ভিত্তিতে নেওয়া হয়নি, তাহলে সেই সিদ্ধান্ত স্থগিত রাখা যেতে পারে।”

    একই সঙ্গে আদালত সতর্ক করে বলেছে, “আমরা একতরফাভাবে এই সিদ্ধান্তে পৌঁছতে পারি না যে সমস্ত সিদ্ধান্ত এককভাবে নেওয়া হয়েছে।” আগে তথ্য যাচাই না করে সিদ্ধান্তে পৌঁছনো যায় না বলেই আদালত কার্যত বুঝিয়ে দিয়েছে।

    এই বিতর্কের সূত্রপাত একটি সংবাদপত্রের প্রতিবেদনের পর। ওই প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছিল, প্রায় ১০ মাসে অন্তত ১৪ বার ভোটার তালিকা, ভোটার নথিভুক্তিকরণ এবং নির্বাচন কমিশনের প্রযুক্তি ব্যবস্থা সংক্রান্ত বিভিন্ন সিদ্ধান্ত নিয়ে নির্বাচন কমিশনার সুখবীর সিং সান্ধু এবং বিবেক যোশী আনুষ্ঠানিকভাবে আপত্তি জানিয়েছিলেন।

    তবে নির্বাচন কমিশন সেই আপত্তিগুলিকে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিয়ে কমিশনের অভ্যন্তরীণ মতবিরোধ হিসেবে দেখানোর দাবি খারিজ করেছে। কমিশনের বক্তব্য, কোনও সিদ্ধান্তের খসড়া তৈরির পর্যায়ে প্রশাসনিক প্রশ্ন, মতামত এবং পরামর্শ দেওয়া তাদের স্বাভাবিক প্রশাসনিক ও সিদ্ধান্ত গ্রহণের প্রক্রিয়ারই অংশ। বিশেষ নিবিড় পুনর্বিবেচনা অভিযানের সময়সূচি সংক্রান্ত সিদ্ধান্ত সর্বসম্মতভাবেই নেওয়া হয়েছিল বলেও জানিয়েছে কমিশন।

    সুপ্রিম কোর্টের সাফ কথা

    সুপ্রিম কোর্ট বলেছে, যে সিদ্ধান্তগুলি নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে, সেগুলি সর্বসম্মতভাবে নেওয়া হয়েছিল, নাকি সংখ্যাগরিষ্ঠতার ভিত্তিতে—এ বিষয়ে প্রত্যয়িত তথ্য প্রয়োজন (Supreme Court)। মামলাকারীর উদ্দেশে আদালতের প্রশ্ন, “আপনি কি সংবাদপত্রের প্রতিবেদনের উপর নির্ভর করছেন?”

    জবাবে মামলাকারী বলেন, “নির্বাচন কমিশন সংবাদপত্রের প্রতিবেদনে ওঠা অভিযোগ অস্বীকার করেনি।”

    এরপর আদালত স্পষ্ট করে দেয়, “সংবাদপত্রের প্রতিবেদন সম্পূর্ণ সঠিক হতে পারে, আংশিক সঠিক হতে পারে, আবার ভুলও হতে পারে। আজ আমরা তার ভিত্তিতে কোনও নির্দেশ দিতে পারি না। আমরা অবশ্যই নির্বাচন কমিশনের জবাব চাইব। যদি দেখা যায়, এমন কিছু ক্ষেত্রে আইন অনুসরণ করা হয়নি, তাহলে আমরা সেই সিদ্ধান্ত বাতিল করতে পারি (Election Commission)।”

    অর্থাৎ, সংবাদপত্রে প্রকাশিত অভিযোগকে আপাতত চূড়ান্ত প্রমাণ হিসেবে গ্রহণ করছে না শীর্ষ আদালত। নির্বাচন কমিশনের আনুষ্ঠানিক জবাব পাওয়ার পরই অভিযোগগুলির সত্যতা এবং সংশ্লিষ্ট সিদ্ধান্তগুলি আইন ও সাংবিধানিক প্রক্রিয়া মেনে নেওয়া হয়েছিল কি না, তা খতিয়ে দেখবে সর্বোচ্চ আদালত (Supreme Court)।

     

  • Social Media Accounts Rule: ১৮ বছরের নীচে সোশ্যাল মিডিয়া অ্যাকাউন্ট নয়? নাবালকদের আইনি সুরক্ষা নিয়ে কেন্দ্রকে বার্তা সুপ্রিম কোর্টের

    Social Media Accounts Rule: ১৮ বছরের নীচে সোশ্যাল মিডিয়া অ্যাকাউন্ট নয়? নাবালকদের আইনি সুরক্ষা নিয়ে কেন্দ্রকে বার্তা সুপ্রিম কোর্টের

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ফেসবুক, ইনস্টাগ্রাম বা স্ন্যাপচ্যাটের মতো সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্মে এক ক্লিকেই অ্যাকাউন্ট খুলে ফেলছে বাচ্চারা (Minors Social Media Account)। কিন্তু ভারতীয় আইন অনুযায়ী এটি কতটা সঙ্গত? ১৮ বছরের কম বয়সিরা (Social Media Age Limit) কি আদৌ কোনও ডিজিটাল চুক্তিতে সই করতে পারে? এই নিয়ে কেন্দ্র সরকারকে বার্তা দিল দেশের সর্বোচ্চ আদালত (Supreme Court)। সুপ্রিম কোর্ট স্পষ্ট জানিয়েছে, ১৮ বছর বয়সের কম বয়সি অর্থাৎ নাবালকরা কোনও আইনি চুক্তিতে আবদ্ধ হতে পারে না (Child Online Safety)। ফলে সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্মে অ্যাকাউন্ট খোলার আইনি শর্তাবলী মেনে নেওয়ার প্রক্রিয়াটি ১৮ বছরের কম বয়সিদের জন্য বিধিবদ্ধ আইনি নিয়মের আওতায় আনা যায় কি না, তা কেন্দ্রকে খতিয়ে দেখতে বলেছে সুপ্রিম কোর্ট। প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত, বিচারপতি জয়মাল্য বাগচী এবং বিচারপতি ভি. মোহনা-র বেঞ্চে এই বিষয়ে শুনানি হয়। জাস্ট রাইটস ফর চিল্ড্রেন অ্যালায়েন্স (Just Rights for Children Alliance বা JRCA)-এর দায়ের করা একটি জনস্বার্থ মামলার শুনানিতে আদালত এই পর্যবেক্ষণ করে।

    কেন্দ্রীয় সরকারকে নির্দেশ শীর্ষ আদালতের

    শুনানিকালে বেঞ্চের অন্যতম সদস্য বিচারপতি জয়মাল্য বাগচী কেন্দ্রের আইনজীবী অর্থাৎ ভারতের সলিসিটর জেনারেল তুষার মেহতাকে উদ্দেশ্য করে বলেন, “বিষয়টি আপনাদের গভীরভাবে খতিয়ে দেখা উচিত। কারণ যেকোনও সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্মে অ্যাকাউন্ট খুলতে গেলেই ডিজিটাল ‘টার্মস অফ সার্ভিস’ বা ব্যবহারের শর্তাবলী মেনে নিতে হয়, যা মূলত একটি আইনি চুক্তি বা কন্ট্রাক্ট ছাড়া আর কিছুই নয়।” এরপরই ১৮৭২ সালের ঐতিহাসিক ‘ইন্ডিয়ান কন্ট্রাক্ট অ্যাক্ট’-এর (ভারতীয় চুক্তি আইন) প্রসঙ্গ টেনে বিচারপতি বাগচী বলেন, “এই আইনের ১১ নম্বর ধারা অনুযায়ী, কোনও ১২ বা ১৫ বছরের নাবালক বা অপ্রাপ্তবয়স্ক ব্যক্তি আইনি চুক্তি সই করতে পারে না। নাবালকদের সঙ্গে করা এই ধরনের যেকোনও চুক্তি বা চুক্তিপত্র শুরু থেকেই সম্পূর্ণ বেআইনি ও বাতিল বলে গণ্য হয় (void ab initio)।” ফলে একজন নাবালক একা কী করে সোশাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্মের সঙ্গে এই চুক্তিতে আবদ্ধ হচ্ছে, প্রশ্ন সুপ্রিম কোর্টের।

    শুধু নির্দেশিকা নয়, প্রয়োজন আইনি কাঠামো

    বিচারপতি জয়মাল্য বাগচী বলেন, নাবালকদের সুরক্ষা শুধুমাত্র নির্দেশিকা বা গাইডলাইনের মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখা উচিত নয়। এই সুরক্ষাগুলিকে সোশ্যাল মিডিয়া ইন্টারমিডিয়ারিদের নিয়ন্ত্রণকারী আইনি কাঠামোর আওতায় আনা যায় কি না, তা খতিয়ে দেখতে সলিসিটর জেনারেল তুষার মেহতাকে বলেন আদালত। ভারতে পরিষেবা পরিচালনা করা সমস্ত সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্মকে দেশের প্রচলিত আইন মেনে চলতে হবে বলেও স্পষ্ট করেছে বেঞ্চ। বিশেষ করে শিশু ও নাবালকদের সংক্রান্ত আইনি বিধানগুলি মেনে চলার বিষয়টির উপর জোর দেওয়া হয়েছে।

    ১৮ বছরের আইনি সীমা নিয়ে প্রশ্ন

    মামলাকারীদের মূল যুক্তির একটি হল, ভারতীয় আইনে ১৮ বছরের কম বয়সি ব্যক্তিরা স্বাধীনভাবে অনেক ধরনের আইনগত বাধ্যতামূলক চুক্তি করতে পারেন না। অথচ সোশ্যাল মিডিয়া অ্যাকাউন্ট খোলার সময় ব্যবহারকারীদের প্ল্যাটফর্মের শর্তাবলিতে সম্মতি দিতে হয়। তাহলে ১৮ বছরের কম বয়সি কোনও শিশু কীভাবে স্বাধীনভাবে এমন অ্যাকাউন্ট তৈরি ও পরিচালনা করতে পারে—সেই প্রশ্নই তুলেছে জাস্ট রাইটস ফর চিল্ড্রেন অ্যালায়েন্স। জেআরসিএ-র হয়ে সিনিয়র আইনজীবী এইচ এস ফুলকা আদালতে জানান, ডিজিটাল পার্সোনাল ডেটা প্রোটেকশন কাঠামো সম্পূর্ণ কার্যকর হওয়ার জন্য অপেক্ষা করার প্রয়োজন নেই। তাঁর যুক্তি, নাবালকদের চুক্তিগত সক্ষমতা নিয়ে বিদ্যমান ভারতীয় আইনেই প্রয়োজনীয় ভিত্তি রয়েছে।

    অভিভাবকের সম্মতির প্রস্তাব

    কেন্দ্রের তরফে সলিসিটর জেনারেল তুষার মেহতা জানান, সরকার বিষয়টি খতিয়ে দেখবে। তিনি ডিজিটাল পার্সোনাল ডাটা প্রোটেকশন অ্যাক্ট ২০২৩ (Digital Personal Data Protection Act, 2023)-এর কথাও উল্লেখ করেন। নাবালকদের সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহারের ক্ষেত্রে অভিভাবকের সম্মতি (parental consent)-ভিত্তিক ব্যবস্থা চালু করা যায় কি না, সেটিও বিবেচনা করা হতে পারে বলে কেন্দ্রের তরফে জানানো হয়েছে। এই ব্যবস্থায় কোনও শিশু সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্মে অ্যাকাউন্ট তৈরি করলে সংশ্লিষ্ট চুক্তিগত সম্পর্কটি বাবা-মা বা আইনগত অভিভাবকের মাধ্যমে সম্পন্ন করার ব্যবস্থা থাকতে পারে।

    আইটি অ্যাক্টের ৭৯ নম্বর ধারাও আলোচনায়

    শুনানিতে ইনফরমেশন টেকনোলজি অ্যাক্ট (Information Technology Act)-এর ৭৯ নম্বর ধারা নিয়েও আলোচনা হয়। এই ধারা অনলাইন ইন্টারমিডিয়ারিদের আইনি কাঠামোর সঙ্গে সম্পর্কিত। আদালত ইঙ্গিত দিয়েছে, নাবালকদের সুরক্ষায় পর্যাপ্ত নিয়ন্ত্রক ব্যবস্থা গ্রহণ না করা হলে প্রয়োজনীয় নির্দেশ দেওয়ার বিষয়টিও বিবেচনা করা হতে পারে। তবে আদালতের সাম্প্রতিক শুনানির অর্থ এই নয় যে ১৮ বছরের কম বয়সিদের জন্য গোটা দেশে সোশ্যাল মিডিয়া অ্যাকাউন্ট ইতিমধ্যেই নিষিদ্ধ করে দেওয়া হয়েছে। বরং কেন্দ্রকে এমন একটি বিধিবদ্ধ ব্যবস্থা তৈরির সম্ভাবনা খতিয়ে দেখতে বলা হয়েছে, যা ভারতীয় আইনের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে নাবালকদের সুরক্ষা নিশ্চিত করতে পারে।

    শিশুদের অনলাইন নিরাপত্তা নিয়ে একাধিক উদ্বেগ

    জাস্ট রাইটস ফর চিল্ড্রেন অ্যালায়েন্সের (JRCA) আবেদনে শিশুদের সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহারের সঙ্গে যুক্ত বিভিন্ন ঝুঁকির কথা তুলে ধরা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে— অনলাইন গ্রুমিং, যৌন শোষণ, শিশু পাচার, সেক্সটরশন বা অনলাইনে যৌন হয়রানির মাধ্যমে ব্ল্যাকমেল, আচরণগত প্রোফাইলিং, ব্যক্তিগত তথ্যের অপব্যবহার, সাইবারবুলিং, বয়সের অনুপযুক্ত কনটেন্টের সংস্পর্শ। আবেদনে আরও বলা হয়েছে, কিছু সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্মে ১৩ বছর বয়স থেকেই অ্যাকাউন্ট খোলার সুযোগ রয়েছে। এর সঙ্গে ভারতের নাবালকদের সম্পর্কিত আইনি কাঠামোর মধ্যে যে পার্থক্য রয়েছে, সেটিও মামলাকারীরা আদালতের নজরে এনেছেন।

    ফের শুনানি কবে

    এই মামলায় সুপ্রিম কোর্ট প্রথমবার কেন্দ্রের বক্তব্য জানতে চেয়েছিল ১০ সেপ্টেম্বর। এরপর ২৮ সেপ্টেম্বর মামলাটি ফের শুনানিতে ওঠে। এদিন বেঞ্চ নাবালকদের সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহারের ক্ষেত্রে বিধিবদ্ধ সুরক্ষা ব্যবস্থা তৈরির সম্ভাবনা খতিয়ে দেখতে কেন্দ্রকে বলেছে শীর্ষ আদালাত। আগামী কয়েক সপ্তাহের মধ্যে মামলাটি ফের সুপ্রিম কোর্টে শুনানির জন্য উঠতে পারে।

     

     

     

     

     

  • Supreme Court: এসআইআর বিতর্কে সুপ্রিম কোর্টে ধাক্কা, ১৮ হাজারেরও বেশি আপিল বিচারাধীন!

    Supreme Court: এসআইআর বিতর্কে সুপ্রিম কোর্টে ধাক্কা, ১৮ হাজারেরও বেশি আপিল বিচারাধীন!

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: পশ্চিমবঙ্গে ভোটার তালিকার এসআইআর (বিশেষ নিবিড় সংশোধন) সংক্রান্ত মামলায় বড় সিদ্ধান্ত সুপ্রিম কোর্টের (Supreme Court)। রেজিনগর ও নন্দীগ্রাম বিধানসভা কেন্দ্রের উপনির্বাচনের আগে জরুরি শুনানির (Voter List Dispute) আবেদন খারিজ করে দিল শীর্ষ আদালত। ৬ অক্টোবর দুই কেন্দ্রে উপনির্বাচন। তার আগে ১৮ হাজারেরও বেশি বিচারাধীন আপিলের নিষ্পত্তি চেয়ে আদালতের দ্বারস্থ হয়েছিলেন আবেদনকারীরা। তবে শুনানির দিন এগিয়ে আনার আর্জিতে সাড়া দেয়নি আদালত। পূর্বনির্ধারিত সূচি অনুযায়ী, আগামী ৫ অক্টোবরই মামলাটির শুনানি হওয়ার কথা।

    আবেদনকারীদের আইনজীবী আদালতে জানান, ভোটার তালিকা থেকে বাদ পড়া ব্যক্তিদের ১৮ হাজারেরও বেশি আবেদন এখনও আপিল কর্তৃপক্ষের কাছে বিচারাধীন। বিধানসভা নির্বাচনের সময়েও তাঁদের অনেকে ভোট দিতে পারেননি। উপনির্বাচনের আগে আবেদনগুলির নিষ্পত্তি না হলে সংশ্লিষ্ট ভোটারদের একাংশ পরপর দু’বার ভোটদানের সুযোগ থেকে বঞ্চিত হতে পারেন। সেই কারণেই মামলাটির দ্রুত শুনানির আবেদন জানানো হয়।

    আবেদন খারিজ সুপ্রিম কোর্টে (Supreme Court)

    কিন্তু আবেদনকারীদের যুক্তিতে সাড়া দেয়নি শীর্ষ আদালত। শুনানির দিন এগিয়ে আনার আর্জির প্রেক্ষিতে প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত মন্তব্য করেন, “এগুলি নেহাতই উপনির্বাচন, এর চেয়ে বেশি কিছু নয়।” এরপরেও মামলাটির শুনানির দিন অপরিবর্তিত রাখা হয়। ফলে ভোটের ঠিক আগের দিন শুনানি হলেও সংশ্লিষ্ট আবেদনকারীরা উপনির্বাচনে অংশ নিতে পারবেন কি না, তা নিয়ে অনিশ্চয়তা থেকেই যাচ্ছে।

    পশ্চিমবঙ্গে এসআইআর প্রক্রিয়ায় বিপুল সংখ্যক ভোটারের নাম নিয়ে জটিলতা তৈরি হয়েছিল। বাদ পড়া ভোটারদের আবেদন নিষ্পত্তির জন্য সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশে আপিল ট্রাইব্যুনাল গঠন করা হয়। কিন্তু বিপুল সংখ্যক আবেদন এখনও নিষ্পত্তির অপেক্ষায় রয়েছে। নির্বাচন কমিশনের ১৮ সেপ্টেম্বর প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, মোট ৩৮ লাখ ২০ হাজার ৬৮৩টি আপিলের মধ্যে ১ লাখ ২ হাজার ২৩১টির নিষ্পত্তি হয়েছে। বাকি ৩৭ লাখেরও বেশি আবেদন তখনও বিচারাধীন ছিল (Supreme Court)।

    এদিকে, নিষ্পত্তি হওয়া আপিলগুলির একটি বড় অংশেই আবেদনকারীদের নাম ভোটার তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। তথ্যের অধিকার আইনে পাওয়া ৭ অগাস্ট পর্যন্ত পরিসংখ্যান অনুযায়ী, নিষ্পত্তি হওয়া আবেদনগুলির মধ্যে ৭৫ হাজার ৪৪৩টি ক্ষেত্রে ভোটারের নাম অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। এদিকে, ৭ হাজার ৩৩৯টি ক্ষেত্রে নাম বাদ দেওয়ার সিদ্ধান্ত বহাল থেকেছে। অর্থাৎ, ওই সময় পর্যন্ত নিষ্পত্তি হওয়া আবেদনের প্রায় ৯১ শতাংশেই ভোটারের নাম অন্তর্ভুক্ত হয়েছে।

    বিচারপতির পর্যবেক্ষণ

    এর আগে এসআইআর সংক্রান্ত মামলার শুনানিতে বিচারপতি জয়মাল্য বাগচী পর্যবেক্ষণ করেছিলেন, কোনও একটি নির্বাচনে ভোট দিতে না পারলেও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির ভোটাধিকার চিরতরে হারিয়ে যায় না। তবে আবেদন নিষ্পত্তির আগে ভোটার তালিকায় নাম না থাকলে সংশ্লিষ্ট নির্বাচনে ভোট দেওয়ার সুযোগ থাকে না।

    এই পরিস্থিতিতে আপিল নিষ্পত্তির (Voter List Dispute) গতি নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে। ৬ অক্টোবর নন্দীগ্রাম ও রেজিনগরে উপনির্বাচন। তার ঠিক আগের দিন, ৫ অক্টোবর মামলাটির শুনানি হওয়ার কথা। আবেদনকারীদের উদ্বেগ, তার আগে বিচারাধীন আপিলগুলির নিষ্পত্তি না হলে বহু মানুষ আরও একবার ভোট দেওয়ার সুযোগ থেকে (Supreme Court) বঞ্চিত হতে পারেন।

     

  • EC: এসআইআর নিয়ে সব সিদ্ধান্ত সর্বসম্মত, মতবিরোধের জল্পনা ওড়াল নির্বাচন কমিশন

    EC: এসআইআর নিয়ে সব সিদ্ধান্ত সর্বসম্মত, মতবিরোধের জল্পনা ওড়াল নির্বাচন কমিশন

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন (SIR) নিয়ে কমিশনের অন্দরে মতবিরোধের জল্পনা খারিজ করল জাতীয় নির্বাচন কমিশন (EC)। দেশজুড়ে এসআইআর কার্যকর করা-সহ এ সংক্রান্ত সমস্ত সিদ্ধান্ত কমিশনের তিন সদস্যের সর্বসম্মতিক্রমে নেওয়া হয়েছে বলে জানানো হয়েছে। শনিবার, ২৬ সেপ্টেম্বর মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমার এবং দুই নির্বাচন কমিশনার এসএস সান্ধু ও বিবেক জোশীর বৈঠকের পর এই বিবৃতি প্রকাশ করা হয় (SIR)। সম্প্রতি বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে এসআইআর নিয়ে নির্বাচন কমিশনের অন্দরে মতপার্থক্যের খবর প্রকাশিত হয়। সেই বিতর্কের মধ্যেই কমিশন স্পষ্ট করেছে, ভোটার তালিকা সংশোধন সংক্রান্ত সিদ্ধান্তগুলি সর্বসম্মতিক্রমে গৃহীত হয়েছে। এসআইআর চলাকালীন ভোটারদের নথিতে অসঙ্গতি ধরা পড়লে তাঁদের শুনানির প্রক্রিয়া সহজ করার কথাও ঘোষণা করেছে কমিশন।

    সিদ্ধান্ত সর্বসম্মত, দাবি কমিশনের (EC)

    কমিশনের বিবৃতি অনুযায়ী, ২০২৫ সালের ২৪ জুন বিহার দিয়ে শুরু করে পশ্চিমবঙ্গ এবং দেশের অন্যান্য রাজ্য ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলে এসআইআর পরিচালনার নির্দেশ সর্বসম্মতিক্রমে জারি করা হয়েছিল। কমিশনের দাবি, ২০২৬ সালের ২৭ মে সুপ্রিম কোর্টও ওই নির্দেশ বহাল রেখেছে। ২০২৫ সালের ২৭ অক্টোবর ১২টি রাজ্য ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলে এবং ২০২৬ সালের ১৪ মে আরও ১৯টি রাজ্য ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলে এসআইআরের সময়সূচি ঘোষণার সিদ্ধান্তও সর্বসম্মতিক্রমে নেওয়া হয়েছিল বলে জানিয়েছে কমিশন।

    একই সঙ্গে কমিশন জানিয়েছে, এসআইআরের জন্য ফর্ম ৬-এর সঙ্গে যুক্ত ঘোষণাপত্রও সুপ্রিম কোর্টের অনুমোদন পেয়েছে। এসআইআর প্রক্রিয়ার বাইরে ভোটার তালিকা সংশোধনের ক্ষেত্রে ১৯৬০ সালের ভোটার নিবন্ধন বিধি অনুযায়ী নির্ধারিত ফর্ম ব্যবহার করা হবে।

    কমিশনের তথ্যপ্রযুক্তি বিভাগকে কেন্দ্র করে অভ্যন্তরীণ মতবিরোধের অভিযোগও অস্বীকার করা হয়েছে। কমিশনের বক্তব্য, ক্যাবিনেট সচিবকে পাঠানো চিঠিটি কোনও নীতিগত সিদ্ধান্ত বা তথ্যপ্রযুক্তি বিভাগের নীতি সংক্রান্ত ছিল না। সেটি নির্বাচন কমিশনে ডেপুটেশনে কর্মরত এক আধিকারিকের কাজের সঙ্গে সম্পর্কিত।

    কমিশন আরও জানিয়েছে, সংশ্লিষ্ট আধিকারিকের জারি করা দায়িত্ব পুনর্বণ্টনের নির্দেশ দুই নির্বাচন কমিশনারের নির্দেশের পর বাস্তবে কার্যকর হয়নি। তথ্যপ্রযুক্তি বিভাগের উপর ডেপুটি নির্বাচন কমিশনারের তদারকির দায়িত্বও কখনও প্রত্যাহার করা হয়নি।

    গোয়ায় বাদ পড়া ৯৭ ভোটারের মধ্যে ৮১ জনের আবেদন

    এসআইআর প্রক্রিয়ায় যোগ্য ভোটারদের নাম চূড়ান্ত তালিকা থেকে বাদ পড়ার অভিযোগ নিয়েও প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে নির্বাচন কমিশন। গোয়ার মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিকের দেওয়া তথ্যের উল্লেখ করে কমিশন জানিয়েছে, তালিকা থেকে বাদ পড়া ভোটারদের বাড়ি বাড়ি গিয়ে তাঁদের আবেদনপত্র সংগ্রহ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে সংশ্লিষ্ট বুথ লেভেল অফিসারদের (BLO)।

    কমিশনের দাবি, গোয়ায় সংশ্লিষ্ট ৯৭ জন ভোটারের মধ্যে ইতিমধ্যেই ৮১ জন ভোটার তালিকায় নাম অন্তর্ভুক্তির জন্য ফর্ম ৬ পূরণ করেছেন (EC)।

    আপত্তি জমার সময়সীমা বৃদ্ধি

    দিল্লি ও মহারাষ্ট্রের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিকদের আবেদনের ভিত্তিতে এসআইআর সংক্রান্ত দাবি ও আপত্তি জমা দেওয়ার সময়সীমা বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে নির্বাচন কমিশন।

    কমিশন জানিয়েছে, সংশ্লিষ্ট রাজ্যগুলির মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিকদের অনুরোধ বিবেচনা করেই এই সময়সীমা বাড়ানো হয়েছে।

    বাড়িতেই যাবেন বিএলও

    এসআইআর চলাকালীন যেসব ভোটারের তথ্যের সঙ্গে পূর্ববর্তী ভোটার তালিকার তথ্যের মিল পাওয়া যাচ্ছে না অথবা নথিতে যৌক্তিক অসঙ্গতি রয়েছে, তাঁদের জন্য প্রক্রিয়া সহজ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে কমিশন।

    এই ধরনের ভোটারদের নোটিশ পাঠানো হলেও সাধারণত তাঁদের ইলেক্টোরাল রেজিস্ট্রেশন অফিসার (ERO) বা অ্যাসিস্ট্যান্ট ইলেক্টোরাল রেজিস্ট্রেশন অফিসারের (AERO) দফতরে শুনানির জন্য হাজির হতে হবে না।

    পরিবর্তে বুথ লেভেল অফিসাররা সংশ্লিষ্ট ভোটারদের বাড়িতে গিয়ে প্রয়োজনীয় নথি সংগ্রহ করবেন এবং সেগুলি ইসিআইনেট পোর্টালে আপলোড করবেন। ওই নথির ভিত্তিতে সিদ্ধান্ত নেবেন সংশ্লিষ্ট ইআরও।

    কেবল ব্যতিক্রমী পরিস্থিতিতে ইআরও প্রয়োজন মনে করলে শুনানির ব্যবস্থা করা হবে। সেক্ষেত্রেও অনলাইন শুনানিকে অগ্রাধিকার দেওয়া হবে। প্রয়োজন হলে ভোটার তাঁর পরিবারের কোনও প্রাপ্তবয়স্ক সদস্যকে নিজের হয়ে শুনানিতে অংশগ্রহণের অনুমতি দিতে পারবেন। অনলাইন শুনানির পরিকাঠামো আরও শক্তিশালী করার নির্দেশও দিয়েছে কমিশন।

    পাশাপাশি, রাত্রিকালীন আশ্রয়কেন্দ্রে বসবাসকারী মানুষ, শ্রমিক, দরিদ্র ও গৃহহীনদের সুবিধার্থে প্রয়োজনীয় সংখ্যক হেল্প ডেস্ক এবং বিশেষ শিবির আয়োজনের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে জেলা নির্বাচনী (EC) আধিকারিকদের।

    ২০টি অঞ্চলে এসআইআর সম্পূর্ণ

    পশ্চিমবঙ্গ ও বিহার-সহ ২০টি রাজ্য ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলে এসআইআর প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ হয়েছে বলে জানিয়েছে নির্বাচন কমিশন। সংশোধন প্রক্রিয়া চলাকালীন বা পরবর্তী সময়ে যাঁদের নাম ভোটার তালিকা থেকে বাদ পড়েছে, তাঁরা নিয়মিত তালিকা সংশোধন প্রক্রিয়ার মাধ্যমে নতুন করে নাম অন্তর্ভুক্তির আবেদন জানাতে পারবেন।

    একই সুযোগ পাবেন নতুন এবং প্রথমবারের ভোটাররাও। সংশ্লিষ্ট ইআরও-র কাছে আবেদন জানাতে হবে তাঁদের। বাদ পড়া এবং নতুন ভোটারদের নাম অন্তর্ভুক্তির জন্য অবিলম্বে বিশেষ অভিযান শুরুর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে রাজ্য ও জেলা নির্বাচনী আধিকারিকদের (SIR)।

    পর্যালোচনায় বিশেষজ্ঞ কমিটি

    নির্বাচন কমিশনের ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম ইসিআইনেটের কার্যকারিতা ও আইনি বিধি মেনে পরিচালনার বিষয়টি খতিয়ে দেখতে একটি বিশেষ কমিটি গঠনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। কমিটির নেতৃত্বে থাকবেন একজন সিনিয়র ডেপুটি নির্বাচন কমিশনার। পাশাপাশি আইআইটি বা আইআইআইটি থেকে একজন স্বাধীন বিশেষজ্ঞকেও কমিটিতে রাখা হবে।

    কমিশন জানিয়েছে, সংশ্লিষ্ট আইন ও বিধি অনুযায়ী নির্বাচনী আধিকারিকরা যাতে নিজেদের দায়িত্ব পালনের জন্য প্রয়োজনীয় তথ্য ব্যবহার করতে পারেন, তা নিশ্চিত করা হবে। ইতিমধ্যেই বিভিন্ন রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিকদের পরামর্শের ভিত্তিতে পোর্টালে একাধিক পরিবর্তন আনা হয়েছে। প্রয়োজনে আরও পরিবর্তন করা হবে।

    ভবিষ্যতে তথ্যপ্রযুক্তি সংক্রান্ত কোনও নতুন মডিউল বা পোর্টাল চালু করার আগে আধিকারিকদের কমিটিতে আলোচনা হবে। তার পর চূড়ান্ত অনুমোদনের জন্য বিষয়টি নির্বাচন কমিশনের কাছে পাঠানো হবে (EC)।

    কমিশনের বৈঠক ও প্রশাসনিক কাজেও নতুন নির্দেশ

    নির্বাচন কমিশনের প্রতিটি বৈঠকের আলোচ্যসূচি আগাম সদস্যদের কাছে পাঠানো হবে। বৈঠকের কার্যবিবরণীও সংশ্লিষ্ট সকলের মধ্যে বিলি করা হবে বলে জানানো হয়েছে।

    পাশাপাশি, কমিশনের সমস্ত আধিকারিকের বার্ষিক কর্মমূল্যায়ন রিপোর্ট প্রতি বছর ৩১ ডিসেম্বরের মধ্যে সম্পূর্ণ করতে হবে। বিদেশ সফরের ক্ষেত্রে কমিশনের অনুমোদন বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। নির্বাচন কমিশনারদের দেওয়া সমস্ত নির্দেশ যথাযথভাবে পালন করতে হবে আধিকারিকদের।

    এর আগে অভ্যন্তরীণ মতবিরোধের খবর প্রকাশ্যে আসার পর কমিশন জানিয়েছিল, এটি একটি বহুসদস্যবিশিষ্ট সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠান (SIR)। লিখিত পর্যবেক্ষণ, প্রযুক্তিগত পরামর্শ এবং অভ্যন্তরীণ যাচাই-বাছাই কমিশনের স্বাভাবিক প্রশাসনিক প্রক্রিয়ার অংশ। তবে শনিবারের বৈঠকের পর এসআইআর সংক্রান্ত সিদ্ধান্তগুলি সর্বসম্মতভাবে নেওয়ার কথা পুনরায় জানাল কমিশন (EC)।

     

  • Supreme Court: পশ্চিমবঙ্গে ভোটার তালিকা নিয়ে নয়া তথ্য, বাদ পড়া ২৭.১৬ লাখের মধ্যে সিংহভাগেরই পুনর্বহালের আবেদন

    Supreme Court: পশ্চিমবঙ্গে ভোটার তালিকা নিয়ে নয়া তথ্য, বাদ পড়া ২৭.১৬ লাখের মধ্যে সিংহভাগেরই পুনর্বহালের আবেদন

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: পশ্চিমবঙ্গের ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন প্রক্রিয়ায় নাম বাদ পড়া ভোটারদের আবেদনের সংখ্যা নিয়ে সুপ্রিম কোর্টে (Supreme Court) নতুন তথ্য জানিয়েছে নির্বাচন কমিশন। কমিশনের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, রাজ্যে নাম অন্তর্ভুক্তি ও নাম বাদ দেওয়ার সিদ্ধান্তকে (EC) চ্যালেঞ্জ করে মোট ৩৮.৩১ লাখ আবেদনপত্র জমা পড়েছে। এর মধ্যে ২২.২১ লাখ আবেদন করেছেন সেই ভোটাররা, যাঁদের নাম তালিকা থেকে বাদ দেওয়া হয়েছিল। অর্থাৎ, বাদ পড়া ২৭.১৬ লাখ ভোটারের প্রায় ৮২ শতাংশ নিজেদের নাম ফের ভোটার তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করার জন্য আবেদন করেছেন।

    তৃণমূল কংগ্রেসের সাংসদ ডেরেক ও’ব্রায়েনের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে নির্বাচন কমিশন শুক্রবার সুপ্রিম কোর্টে এই তথ্য জানায়। কমিশনের বক্তব্য, আপিল ট্রাইব্যুনালগুলির সামনে থাকা মোট ৩৮.৩১ লাখ আবেদনের মধ্যে ২২.২১ লাখ আবেদন করেছেন বাদ পড়া ভোটাররা। অন্যদিকে, ১৬.১০ লাখ আবেদন করা হয়েছে ভোটার তালিকায় অন্তর্ভুক্ত নামের বিরুদ্ধে। অর্থাৎ, ওই আবেদনগুলির উদ্দেশ্য সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের নাম আরও বাদ দেওয়ার দাবি জানানো। এই ১৬.১০ লাখ আবেদন কারা করেছেন, তা কমিশন স্পষ্ট করেনি। তবে কোনও ভোটার বা নির্বাচনী আধিকারিক কোনও ব্যক্তিকে ভোটার হিসেবে অযোগ্য বলে মনে করলে তাঁর নাম বাদ দেওয়ার জন্য আবেদন করতে পারেন।

    আপিলের দ্রুত নিষ্পত্তিতে ট্রাইব্যুনালের সংখ্যা বাড়ানোর প্রস্তাব (Supreme Court)

    আপিলের বিপুল সংখ্যা সামলাতে পশ্চিমবঙ্গে আপিল ট্রাইব্যুনালের সংখ্যা বাড়ানোর প্রস্তাবও দিয়েছে নির্বাচন কমিশন। কমিশন জানিয়েছে, আবেদনগুলির দ্রুত নিষ্পত্তি করতে রাজ্যের লোকসভা কেন্দ্রের সংখ্যার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে আপিল ট্রাইব্যুনালের সংখ্যা বাড়ানোর বিষয়টি বিবেচনা করা যেতে পারে।

    কমিশনের বক্তব্য, “বিচারাধীন আপিলগুলির নিষ্পত্তি আরও সুশৃঙ্খল ও দ্রুত করার লক্ষ্যে পশ্চিমবঙ্গে আপিল ট্রাইব্যুনালের সংখ্যা রাজ্যের লোকসভা কেন্দ্রের সংখ্যার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে বাড়ানোর বিষয়টি বিবেচনা করা যেতে পারে। এর ফলে বিচারাধীন আপিলগুলির দ্রুত নিষ্পত্তি সম্ভব হবে।”

    ৬০ লাখেরও বেশি ভোটারের যোগ্যতা যাচাই

    ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন প্রক্রিয়ায় নির্বাচন কমিশনের ‘যুক্তিগত অসঙ্গতি’ চিহ্নিত করা ব্যবস্থার মাধ্যমে ৬০.০৬ লাখ ভোটারের নাম যাচাইয়ের আওতায় এসেছিল। ২০ ফেব্রুয়ারি সুপ্রিম কোর্ট তাঁদের মধ্যে একটি অংশের ভোটার হিসেবে যোগ্যতা বিচার করার দায়িত্ব বিচারবিভাগীয় আধিকারিকদের উপর দেয়। সেই সময় তৎকালীন তৃণমূল কংগ্রেস সরকার এবং নির্বাচন কমিশনের মধ্যে আস্থার ঘাটতির কথাও আদালত উল্লেখ করেছিল।

    পশ্চিমবঙ্গ, ঝাড়খণ্ড ও ওড়িশার প্রায় ৭০০ বিচারবিভাগীয় আধিকারিককে এই কাজের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল। তাঁদের যাচাইয়ের পর ২৭.১৬ লাখ ভোটারের নাম বাদ দেওয়ার সিদ্ধান্ত হয় এবং বাকিদের নাম বহাল রাখা হয় (Supreme Court)।

    এর পর ১০ মার্চ সুপ্রিম কোর্ট বাদ দেওয়া বা অন্তর্ভুক্তির সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আপিল শুনতে আপিল ট্রাইব্যুনাল গঠনের নির্দেশ দেয়। ১৯টি ট্রাইব্যুনাল গঠন করা হয় এবং ১৩ এপ্রিল থেকে সেগুলি কাজ শুরু করে। পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনের ২৩ ও ২৯ এপ্রিলের ভোটগ্রহণের কয়েক দিন আগে থেকেই ট্রাইব্যুনালগুলি কাজ করছিল।

    ভোটের আগে মাত্র ১,৬০৭ জনের নাম ফেরানো সম্ভব

    নির্বাচনের আগে দায়ের হওয়া বিপুল সংখ্যক আবেদনের মধ্যে মাত্র ১,৬০৭ জন ভোটারের নাম সময়মতো ভোটার তালিকায় ফেরানো সম্ভব হয়েছিল বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। ফলে বহু আবেদনকারী ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনে ভোট দিতে পারেননি।

    তবে পরবর্তী সময়ে ট্রাইব্যুনালগুলির নিষ্পত্তির সংখ্যা বেড়েছে। নির্বাচন কমিশনের তথ্য উদ্ধৃত করে প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ৭ অগাস্ট পর্যন্ত নিষ্পত্তি হওয়া ৮২,৭৮২টি আবেদনের মধ্যে ৭৫,৪৪৩ জনের নাম ফের ভোটার তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে এবং ৭,৩৩৯ জনের নাম বাদ দেওয়া হয়েছে (EC)।

    বর্তমানে অবশ্য আবেদনের বড় অংশই এখনও বিচারাধীন। ১৮ সেপ্টেম্বরের কমিশনের তথ্য অনুযায়ী, মোট ৩৮,২০,৬৮৩টি আবেদনের মধ্যে ১,০২,২৩১টির নিষ্পত্তি হয়েছে এবং ৩৭,১৮,৪৫২টি আবেদন তখনও বাকি ছিল (Supreme Court)।

     

  • SC: নিট আন্দোলনের মামলা নিয়ে সুপ্রিম কোর্টের বড় সিদ্ধান্ত, দেশজুড়ে এফআইআর বন্ধের নির্দেশ

    SC: নিট আন্দোলনের মামলা নিয়ে সুপ্রিম কোর্টের বড় সিদ্ধান্ত, দেশজুড়ে এফআইআর বন্ধের নির্দেশ

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: জুলাই মাসে নিট-সংক্রান্ত আন্দোলনকে কেন্দ্র করে দেশজুড়ে দায়ের হওয়া একাধিক ফৌজদারি মামলার নিষ্পত্তি করল সুপ্রিম কোর্ট (SC)। সংবিধানের ১৪২ অনুচ্ছেদে দেওয়া বিশেষ ক্ষমতা প্রয়োগ করে আদালত তার সামনে থাকা এফআইআরগুলি বন্ধ করার নির্দেশ দিয়েছে। একই সঙ্গে একই আন্দোলনকে কেন্দ্র করে দেশের অন্যত্র দায়ের হওয়া একই ধরনের এফআইআরগুলির ক্ষেত্রেও সুরক্ষা বাড়ানো হয়েছে (NEET Protest)। তবে এই নির্দেশকে নিঃশর্তভাবে “সব এফআইআর বাতিল” হিসেবে দেখলে বিষয়টি সম্পূর্ণভাবে বোঝা যাবে না।

    ‘সুপ্রিম’ শুনানি (SC)

    প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত, বিচারপতি জয়মাল্য বাগচী এবং বিচারপতি ভি মোহনার তিন সদস্যের বেঞ্চ জুলাইয়ের ২০ থেকে ২৫ তারিখ পর্যন্ত হওয়া বিক্ষোভকে কেন্দ্র করে দায়ের হওয়া এফআইআর সংক্রান্ত একগুচ্ছ আবেদনের শুনানি করছিল।আদালত মনে করেছে, শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলনে অংশ নেওয়া পড়ুয়া এবং অন্যান্য তরুণ-তরুণীদের শুধুমাত্র একটি বিক্ষোভে অংশ নেওয়ার কারণে বছরের পর বছর ফৌজদারি মামলার বোঝা বহন করা উচিত নয়। সেই কারণেই আদালতের সামনে থাকা এফআইআরগুলি বন্ধ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। একই প্রতিবাদ কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে দেশের অন্যান্য জায়গায় দায়ের হওয়া একই ধরনের মামলাতেও এই সুরক্ষা প্রযোজ্য হবে।

    তবে এই নির্দেশের ক্ষেত্রে একটি নির্দিষ্ট ব্যতিক্রম রেখেছে শীর্ষ আদালত।

    কেন্দ্রীয় সরকার আদালতকে জানিয়েছে, দিল্লি পুলিশ ২,৮৭৩ জনকে চিহ্নিত করেছে। ন্যাশনাল ক্রাইম রেকর্ডস ব্যুরোর তথ্যের ভিত্তিতে যাচাই করে পুলিশের দাবি, ওই ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে গুরুতর অপরাধমূলক অতীতের তথ্য রয়েছে এবং তাঁরা প্রাথমিকভাবে বিক্ষোভস্থলে উপস্থিত ছিলেন (SC)।

    এই ২,৮৭৩ জনকে নিয়ে দিল্লি পুলিশকে একটি নতুন এফআইআর দায়ের করে তদন্তের অনুমতি দিয়েছে আদালত। তবে সেই তদন্তের বিষয় হবে বিক্ষোভ চলাকালীন তাঁদের কেউ শারীরিক ক্ষতি বা সম্পত্তি ধ্বংসের মতো নির্দিষ্ট অপরাধে যুক্ত ছিলেন কি না।

    আদালতের অবস্থান

    বিষয়টি নিয়ে আদালতের অবস্থানও স্পষ্ট। ২,৮৭৩ জনকেই অপরাধী হিসেবে চিহ্নিত করেনি সুপ্রিম কোর্ট। শুনানির সময় প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত স্পষ্ট করে বলেন, “আমরা বলছি না যে তাঁরা অপরাধী। অভিযোগ রয়েছে, এই পর্যন্ত।”

    অর্থাৎ, শুধু ওই ব্যক্তিরা বিক্ষোভে উপস্থিত ছিলেন বলেই তাঁদের বিরুদ্ধে অপরাধের অভিযোগ প্রতিষ্ঠিত হয়ে যাচ্ছে না। নতুন করে যে তদন্ত হবে, তার কেন্দ্রে থাকতে হবে হিংসা, শারীরিক ক্ষতি অথবা সম্পত্তি নষ্ট করার মতো নির্দিষ্ট অপরাধমূলক কাজ।

    ফলে সুপ্রিম কোর্টের এই নির্দেশকে আন্দোলনকারীদের বিরুদ্ধে সার্বিকভাবে মামলা চালিয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্তও বলা যায় না, আবার সব ধরনের অভিযোগ থেকে নিঃশর্ত অব্যাহতি দেওয়াও বলা যায় না।

    আদালতের অবস্থানের মূল বিষয় হল, শান্তিপূর্ণ গণতান্ত্রিক প্রতিবাদে অংশ নেওয়া এবং সেই জমায়েতকে আড়াল করে সংঘটিত সম্ভাব্য অপরাধের মধ্যে স্পষ্ট পার্থক্য করা। শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলনে অংশ নেওয়া পড়ুয়াদের ভবিষ্যৎ যাতে দীর্ঘদিন ধরে ফৌজদারি মামলার কারণে ক্ষতিগ্রস্ত না হয়, তা নিশ্চিত করেছে আদালত। একই সঙ্গে হিংসা বা সম্পত্তি নষ্টের মতো নির্দিষ্ট অপরাধের তদন্তের সুযোগও রাষ্ট্রের হাতে রাখা হয়েছে।

    আরও একটি বিষয় অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। আদালত জানিয়েছে, ১৪২ অনুচ্ছেদের বিশেষ ক্ষমতা প্রয়োগের সিদ্ধান্তটি এই মামলার সামনে থাকা বিশেষ পরিস্থিতি ও ঘটনাপ্রবাহের ভিত্তিতে নেওয়া হয়েছে। এটিকে ভবিষ্যতের মামলায় অনুসরণযোগ্য নজির হিসেবে বিবেচনা করা যাবে না। ফলে গণবিক্ষোভকে কেন্দ্র করে দায়ের হওয়া সব এফআইআর ভবিষ্যতে একইভাবে বাতিল করা যাবে—এমন সাধারণ নিয়ম এই রায় থেকে তৈরি হচ্ছে না।

    নিট বিতর্কের সঙ্গে যুক্ত হয়ে আত্মহত্যা করে মারা যাওয়া পড়ুয়াদের পরিবারের ক্ষতিপূরণের বিষয়টিও শুনানিতে উঠে আসে। এ ক্ষেত্রে কেন্দ্রীয় সরকারকে তিন মাসের মধ্যে গোটা দেশের জন্য একটি অভিন্ন কাঠামো তৈরি করার নির্দেশ দিয়েছে আদালত।

    ‘সুপ্রিম’ সিদ্ধান্তের তাৎপর্য বহুমাত্রিক

    সব মিলিয়ে, সুপ্রিম কোর্টের সিদ্ধান্তের তাৎপর্য বহুমাত্রিক। শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদকে গণতান্ত্রিক অধিকার হিসেবে সুরক্ষা দেওয়া হয়েছে এবং তরুণ আন্দোলনকারীদের দীর্ঘমেয়াদি আইনি জটিলতা থেকে রক্ষা করা হয়েছে (NEET Protest)। তবে বিক্ষোভের সময় সংঘটিত হতে পারে এমন নির্দিষ্ট হিংসাত্মক অপরাধ বা সম্পত্তি ধ্বংসের ঘটনা তদন্তের বাইরে রাখা হয়নি। অর্থাৎ, আদালত (SC) যে সীমারেখা টেনেছে, তা হল গণতান্ত্রিক প্রতিবাদ একদিকে এবং সেই প্রতিবাদের সময় সংঘটিত সম্ভাব্য অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড আর একদিকে।

     

LinkedIn
Share