Tag: CM Suvendu Adhikari

  • Suvendu in North Bengal: ‘ঘুরতে নয়, কাজ করতে আসব’, মুখ্যমন্ত্রী হয়ে প্রথম উত্তরবঙ্গ সফরে আশ্বাস শুভেন্দুর

    Suvendu in North Bengal: ‘ঘুরতে নয়, কাজ করতে আসব’, মুখ্যমন্ত্রী হয়ে প্রথম উত্তরবঙ্গ সফরে আশ্বাস শুভেন্দুর

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: উত্তর ও দক্ষিণবঙ্গের ভেদাভেদ মুছে দিতে প্রতি মাসেই উত্তরবঙ্গে যাবেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu in North Bengal)। প্রতি সপ্তাহে উত্তরকন্যায় বসবেন উত্তরবঙ্গ উন্নয়ন মন্ত্রী। অবহেলিত থাকবে না পাহাড়-ডুয়ার্স। ঢেলে সাজানো হবে, উন্নয়নের জোয়ার আসবে। দুর্নীতি দূর করতে খোলা হবে জিটিএ ফাইল। রাজ্যের প্রশাসনিক প্রধান তথা মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেওয়ার পর বুধবার প্রথমবার উত্তরবঙ্গ সফরে (North Bengal Visit) এসে আশ্বাসবাণী শোনালেন শুভেন্দু অধিকারী (CM Suvendu Adhikari)। এই সফরকে কেন্দ্র করে সকাল থেকেই উত্তরবঙ্গের রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক অলিন্দে ছিল টানটান উত্তেজনা। শিলিগুড়ির প্রশাসনিক সভা থেকে শুরু করে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ কর্মসূচি সেরে আজ বিকেলেই তাঁর কলকাতায় ফিরছেন শুভেন্দু।

    খোলা হবে জিটিএ-ফাইল

    উত্তরবঙ্গের উন্নয়ন নিয়ে শিলিগুড়িতে নেমেই বড় বার্তা দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। জিটিএ (গোর্খাল্যান্ড টেরিটোরিয়াল অ্যাডমিনিস্ট্রেশন)-এ কীভাবে কাজ হয়েছে? কতটা কাজ হয়েছে? সেইসব ফাইল এবার খোলা হবে। সেই কথা জানালেন মুখ্যমন্ত্রী। তৃণমূল সরকারের আমলে জিটিএ দুর্নীতি হয়েছে বলে একাধিকবার অভিযোগ উঠেছিল। সেসব ধামাচাপা পড়ে যায় বলে বিজেপির তরফে অভিযোগ। এবার বিজেপি সরকার কাজ শুরুর পরেই জিটিএ দুর্নীতির তদন্ত শুরু হবে। ফাইল খোলা হবে।উত্তরবঙ্গে নেমেই পাহাড়ে ‘সাফাই অভিযানে’র হুঁশিয়ারি শুভেন্দুর।

    প্রতিটি নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি পূরণ হবে

    উত্তরবঙ্গের মাটিতে পা দিয়েই সংবাদমাধ্যমের সঙ্গে কথা বলতে গিয়ে মুখ্যমন্ত্রী স্পষ্ট বলেন, বিধানসভা নির্বাচনের আগে উত্তরবঙ্গের মানুষের কাছে বিজেপির দেওয়া প্রতিটি নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি অক্ষরে অক্ষরে পূরণ করবে তাঁর সরকার। এদিন একপাশে দার্জিলিংয়ের সাংসদ রাজু বিস্তা এবং অন্যপাশে নবনিযুক্ত উত্তরবঙ্গ উন্নয়ন মন্ত্রী নিশীথ প্রামাণিককে সঙ্গে নিয়ে সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হন শুভেন্দু অধিকারী। অত্যন্ত দৃঢ়তার সঙ্গে তিনি বলেন, “২০০৯ সাল থেকে উত্তরবঙ্গের মানুষ দু’হাত উজাড় করে বিজেপির পাশে থেকেছেন। তাই এবার আমাদের ঋণ শোধ করার পালা। সরকারে আসার পর ভোটের আগে দেওয়া আমাদের সমস্ত প্রতিশ্রুতি আমরা পূরণ করবই।”

    মুখ্যমন্ত্রীকে স্বাগত জানাতে বাগডোগরায় বিপুল জমায়েত

    বুধবার সকাল থেকেই মুখ্যমন্ত্রীকে স্বাগত জানাতে বাগডোগরা বিমানবন্দরের বাইরে এবং রাস্তার দু’পাশে অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছিলেন হাজার হাজার বিজেপি কর্মী-সমর্থক ও সাধারণ মানুষ। বিমানবন্দর থেকে বাইরে বেরিয়েই উত্তরবঙ্গের মানুষের ভালবাসায় আপ্লুত মুখ্যমন্ত্রী হাতজোড় করে সকলকে নমস্কার ও কৃতজ্ঞতা জানান। লোকসভা থেকে শুরু করে বিধানসভা— বছরের পর বছর ধরে বিজেপিকে বিপুল ভোটে জেতানোর জন্য উত্তরবঙ্গবাসীকে আন্তরিক শুভেচ্ছাও জানান তিনি। একই সঙ্গে তিনি যোগ করেন, “এবার থেকে প্রতি মাসে আমি এবং মন্ত্রিসভার সদস্যরা উত্তরবঙ্গে আসব। তবে আমরা এখানে কোনও পাহাড়ি হাওয়া খেতে বা ঘুরতে আসব না, স্রেফ কাজ করতে আসব। আর প্রতি সপ্তাহে আমাদের উত্তরবঙ্গ উন্নয়ন মন্ত্রী উত্তরকন্যায় বসবেন।”

    ‘উত্তরকন্যায়’ প্রশাসনিক বৈঠক

    বিমানবন্দর থেকে সোজা শিলিগুড়ির স্যাটেলাইট টাউনশিপে অবস্থিত রাজ্য সরকারের মিনি সচিবালয় ‘উত্তরকন্যায়’ পৌঁছন মুখ্যমন্ত্রী। সেখানে উত্তরের পাঁচ জেলার বিধায়ক, আইজিপি, পুলিশ সুপার এবং প্রশাসনের শীর্ষ আমলাদের নিয়ে এক প্রশাসনিক পর্যালোচনা বৈঠকে বসেন তিনি। নবান্ন সূত্রে খবর, সামনেই বর্ষাকাল কড়া নাড়ছে, তাই এই বৈঠকে সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব পায় উত্তরবঙ্গের চিরাচরিত সমস্যা – বন্যা, পাহাড়ি ধস, হড়পা বান এবং নদীভাঙনের মতো প্রাকৃতিক বিপর্যয় মোকাবিলার আগাম প্রস্তুতি। এদিন মুখ্যমন্ত্রী জানান , উত্তরবঙ্গ উন্নয়ন মন্ত্রী নিশীথ প্রামাণিক প্রতি সপ্তাহে একদিন উত্তরকন্যায় সকাল ৯টা থেকে ১১টা পর্যন্ত সাধারণ মানুষদের সঙ্গে দেখা করবেন। ১১টা থেকে ১টা পর্যন্ত তিনি উত্তরবঙ্গের উন্নয়নের কর্মসূচির প্রতিটি কাজের খতিয়ান করবেন। আধিকারিকদের সঙ্গে বৈঠকের পাশাপাশি বেলা ২টো থেকে বিকেল ৪টে পর্যন্ত উত্তরবঙ্গের প্রত্যেক সাংসদ, বিধায়কদের সঙ্গে বৈঠক করবেন।

    চা বলয়ের শ্রমিকদের নিয়ে আলোচনা

    এদিনের বৈঠকে উত্তরবঙ্গের সড়ক যোগাযোগ ব্যবস্থার আধুনিকীকরণ, সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি এবং চা বলয়ের শ্রমিকদের দীর্ঘদিনের মজুরি ও চিকিৎসা পরিষেবার সমস্যা নিয়েও বিস্তারিত আলোচনা হয়। তবে সবচেয়ে তাৎপর্যপূর্ণ বিষয় হল, রাজ্যে সরকার বদল হতেই উত্তরবঙ্গের বেআইনি নির্মাণ, সরকারি জমি দখল এবং নদী থেকে অবৈধভাবে বালি ও পাথর পাচারকারী মাফিয়াদের দৌরাত্ম্য রুখতে প্রশাসনের শীর্ষ কর্তাদের ‘জিরো টলারেন্স’ (Zero Tolerance) নীতি নেওয়ার কড়া নির্দেশ দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী।

    আইনশৃঙ্খলা বজায় থাকবে

    উন্নয়ন ছাড়াও শুভেন্দুর মুখে শোনা যায় উত্তরবঙ্গের আইনশৃঙ্খলার কথাও। তিনি জানান, আইনশৃঙ্খলার প্রশ্নে সরকারের অনমনীয় নীতি বজায় থাকবে। তাঁর কথায়, ‘‘রাজ্যে কোনও ভাবেই তোলাবাজি, গুন্ডাগিরি বা আইনশৃঙ্খলার অবনতি সহ্য করা হবে না। যাঁরা ভাবছেন পুরনো কায়দায় পার পেয়ে যাবেন, তাঁরা ভুল ভাবছেন। আইন আইনের পথেই চলবে।’’

    উত্তরবঙ্গ বরাবরই বিজেপির শক্ত ঘাঁটি

    উত্তরবঙ্গ বরাবরই বিজেপির শক্ত ঘাঁটি। লোকসভা হোক বা বিধানসভা— গত এক দশক ধরে এই উত্তরবঙ্গে ভাল ফল করছে বিজেপি। উল্লেখ্য, এ বারের বিধানসভা নির্বাচনে উত্তরবঙ্গের ৫৪টি আসনের মধ্যে বিজেপি একাই জিতেছে ৪০টি। প্রসঙ্গত, ২০০৯ সালে দার্জিলিং লোকসভা কেন্দ্রে জিতেছিল বিজেপি। সে বার বিজেপির টিকিটে ওই কেন্দ্র থেকে জিতেছিলেন যশবন্ত সিং। ২০১৪ সালেই দার্জিলিং লোকসভা কেন্দ্র ধরে রেখেছিল বিজেপি। সে বছর ওই কেন্দ্র থেকে বিজেপির টিকিটে জিতেছিলেন সুরেন্দ্র সিংহ অহলুওয়ালিয়া। ২০১৯ সাল থেকে টানা ওই কেন্দ্রে জিতছেন রাজু বিস্তা। উত্তরকন্যায় পৌঁছনোর আগে এদিন শিলিগুড়িতে বিজেপির জেলা পার্টি অফিসে যান শুভেন্দু অধিকারী। সেখানে যাওয়ার আগে রাস্তায় মাঝেমধ্যেই থমকেছে মুখ্যমন্ত্রীর কনভয়। গাড়ি থেকে রাস্তায় নেমে সাধারণ মানুষের অভিবাদন গ্রহণ করেন তিনি। ছোট শিশুকে কোলে নিতেও দেখা যায়। জনজোয়ারে ভেসে মুখ্যমন্ত্রী এদিন শিলিগুড়ির বিজেপি কার্যালয়ে যান। উন্নয়নের পাশাপাশি বিজেপি কর্মীরা আরও বেশি করে সংগঠনের কাজ করবেন। সেই বার্তাও এদিন শুভেন্দু অধিকারী দিয়েছেন।

     

     

     

     

  • OBC Quota Row: ওবিসি সংরক্ষণ নিয়ে তৃণমূল সরকারের নীতি বাতিলে সিলমোহর শুভেন্দুর মন্ত্রিসভার

    OBC Quota Row: ওবিসি সংরক্ষণ নিয়ে তৃণমূল সরকারের নীতি বাতিলে সিলমোহর শুভেন্দুর মন্ত্রিসভার

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: বাতিল করে দেওয়া হল ওবিসি সংরক্ষণ (OBC Quota Row) নিয়ে রাজ্যের পূর্বতন তৃণমূল সরকারের নীতি। নজিরবিহীন এই পদক্ষেপ করল বিজেপির শুভেন্দু অধিকারীর নেতৃত্বাধীন রাজ্য সরকারের মন্ত্রিসভা। ওবিসি সংরক্ষণ কমিয়ে করা হল ৭ শতাংশ (TMC Govt Policy)। আগে ওবিসি ‘এ’ ক্যাটেগরিতে ১০ শতাংশ সংরক্ষণের সুযোগ মিলত। ওবিসি ‘বি’ ক্যাটেগরিতে ছিল ৭ শতাংশ সংরক্ষণের সুবিধা। কলকাতা হাইকোর্টের নির্দেশ মেনে ২০১০-সালের আগের সংরক্ষণ নীতিই বহাল রাখল রাজ্য সরকার। সরকারের দাবি, এই সিদ্ধান্তের ফলে রাজ্যের প্রকৃত অনগ্রসর হিন্দু জাতি তাদের নায্য অধিকার ফিরে পাবে। ৭ শতাংশ সংরক্ষণের জন্য অনগ্রসর হিসেবে ৬৬টি জাতির তালিকাও প্রকাশ করেছে রাজ্যে বিজেপি পরিচালিত প্রথম সরকার।

    ওবিসি সংরক্ষণের হার (OBC Quota Row)

    নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি পূরণের লক্ষ্যে একলপ্তে রাজ্যের ওবিসি সংরক্ষণের হার ১৭ শতাংশ থেকে কমিয়ে ৭ শতাংশ করার সিদ্ধান্তও নেয় রাজ্যের নয়া মন্ত্রিসভা। মুসলিম সম্প্রদায়ের জন্য থাকা ওবিসি সংরক্ষণ আপাতত বাতিল করার সিদ্ধান্তও নিয়েছে এই মন্ত্রিসভা। জানা গিয়েছে, কেবল তফশিলি জাতি এবং উপজাতির বাইরে থাকা প্রকৃত অনগ্রসর হিন্দু সম্প্রদায়ই পাবেন নয়া সংরক্ষণ ব্যবস্থার সুবিধা। সরকারি চাকরি এবং উচ্চশিক্ষায় ভর্তির ক্ষেত্রে অবিলম্বে কার্যকর হতে চলেছে এই নয়া নিয়ম। মঙ্গলবারই এ সংক্রান্ত বিজ্ঞপ্তিও জারি করা হয়েছে। রাজ্যপালের নির্দেশে প্রকাশ করা হয়েছে সেই তালিকাও।

    ধর্মের ভিত্তিতে সংরক্ষণের সুযোগ!

    বাম রাজত্বের শেষ পর্বে এবং তৃণমূল কংগ্রেস সরকারের প্রথম দিকে ২০১০-এর মার্চ থেকে ২০১২-র মে মাসের মধ্যে রাজ্যে ৭৭টি সম্প্রদায়ের নাম তোলা হয়েছিল ওবিসির তালিকায়। বাম জমানায় ৪২টি মুসলিম সম্প্রদায়কে ওবিসি তালিকাভুক্ত হয়েছিল। এদের ধর্মের ভিত্তিতে সংরক্ষণের সুযোগ দেওয়া হচ্ছে বলে মামলা দায়ের হয় (OBC Quota Row)। তৃণমূল সরকার ক্ষমতায় এসে তুষ্টিকরণে রাজনীতি করতে গিয়ে আরও ৩৫টি সম্প্রদায়কে ওবিসি তালিকায় জায়গা দেয়। ২০২৩ সালে তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরকার ওবিসি সংরক্ষণ আইন জারি করে এই ৭৭টি সম্প্রদায়কে ওই তালিকায় নিয়ে আসে। ফলে সব মিলিয়ে মোট ওবিসি সম্প্রদায়ের সংখ্যা পৌঁছয় ১৭৯-এ।

    শুভেন্দুর সরকারের ফরমান

    ক্ষমতায় এসেই তৃণমূল সরকারের আমলে যত ওবিসি শংসাপত্র দেওয়া হয়েছিল, সেগুলি ফের যাচাই করার নির্দেশ দিয়েছিল শুভেন্দুর সরকার। সোমবারের বৈঠকে সেই তালিকা যাচাই এবং উপ-শ্রেণিবিভাগের তালিকা বাতিল করার সিদ্ধান্তে সিলমোহর দেয় ক্যাবিনেট। তার পর মঙ্গলবারই জারি করা হয় বিজ্ঞপ্তি। প্রসঙ্গত, ২০২৪ সালের ২২ মে কলকাতা হাইকোর্ট রাজ্যের ওবিসি তালিকায় ৬৬টি সম্প্রদায়কে রেখে বাকি ১১৩টি সম্প্রদায়কে ওই তালিকাভুক্ত করার সিদ্ধান্ত খারিজ করে দিয়েছিল। আদালতের যুক্তি ছিল, ধর্মের ভিত্তিতে এই সম্প্রদায়গুলিকে ওবিসি তালিকাভুক্ত করা হয়েছে। এর ফলে ২০১০ থেকে বিলি হওয়া ৫ লাখের মতো ওবিসি শংসাপত্র বাতিল হয়ে যায়। হাইকোর্টের সেই রায়কে চ্যালেঞ্জ করে সুপ্রিম কোর্টে গিয়েছিল তৃণমূল পরিচালিত (TMC Govt Policy) রাজ্য সরকার। সেই মামলার এখনও নিষ্পত্তি হয়নি বলেই অসমর্থিত সূত্রের খবর (OBC Quota Row)।

  • TMC: মুখ লুকিয়েছেন তৃণমূলের মাথারা, বিপদ আঁচ করেই কি ফলতার নির্বাচন থেকে সরে গেলেন জাহাঙ্গির?

    TMC: মুখ লুকিয়েছেন তৃণমূলের মাথারা, বিপদ আঁচ করেই কি ফলতার নির্বাচন থেকে সরে গেলেন জাহাঙ্গির?

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: রাজ্যে পালাবদলের পরেই এলাকা ছেড়েছিলেন দক্ষিণ ২৪ পরগনার ফলতা বিধানসভা পুনর্নির্বাচনের তৃণমূল প্রার্থী (TMC) জাহাঙ্গির খান। জাহাঙ্গির (Jahangir Khan) গা ঢাকা দেওয়ার আগেই বড়সড় কোনও বিপর্যয়ের আশঙ্কায় কর্পূরের মতো উবে গিয়েছেন তাঁর মাথায় যাঁর আশীর্বাদী হাত ছিল, তৃণমূলের সেই ‘সেকেন্ড ইন কমান্ড’ বা ‘সেনাপতি’ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। জোড়া (কমান্ডার) বন্দ্যোপাধ্যায় রাতারাতি ‘হাওয়া’ হয়ে যাওয়ায় প্রমাদ গুণতে শুরু করেন ফলতার তৃণমূল প্রার্থী। গ্রেফতারির আশঙ্কায় কাঁটা হয়ে থাকা জাহাঙ্গির মঙ্গলবার ভোটপ্রচারের শেষ দিনে ঘোষণা করেন, ‘‘আমি এই ভোটে লড়ছি না।’’ তাঁর এই সিদ্ধান্তের নেপথ্যে অভিষেক কিংবা ঘাসফুল শিবিরের শীর্ষ নেতৃত্বের কোনও নির্দেশ রয়েছে কি না, তা জানাননি ফলতার ‘বাদশা’।

    বিজেপির কাছে গোহারা (TMC)

    ওয়াকিবহাল মহলের মতে, বিজেপির কাছে গোহারা হেরে গিয়ে এবং রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর সঙ্গে পাঙ্গা নিতে গিয়ে কার্যত মুখ পুড়িয়েছেন তৃণমূল অ্যান্ড কোং-এর (অন্তত, লোকে তো তাই বলে) কর্ণধার মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তার পর থেকে মুখ লুকিয়েছেন বুয়া-ভাতিজা। অবশ্য, এর মধ্যে একদিন সহানুভূতি কুড়োতে এবং অবশ্যই জনগণের দৃষ্টি আকর্ষণ করতে আইনজীবীর সাজ-পোশাক পরে কলকাতা হাইকোর্টে হাজির হয়েছিলেন মমতা। সেখানে নিজের কানে ‘চোর-চোর’ স্লোগান শুনে (এই প্রথম নয়, আগেও শুনেছেন, তবে এত জোরালোভাবে নয়), সেই যে কালীঘাটের বাড়িতে সেঁধিয়েছেন, তার পর থেকে আর তাঁকে দেখা যায়নি টিভি কিংবা সংবাদপত্র মায় হ্যান্ডবিলেও। এই যখন স্বয়ং দলনেত্রীর দশা, তখন আর কোন ভরসায় ফলতার নির্বাচনী ময়দানে খেলতে নামেন জাহাঙ্গির! অগত্যা তিনিও মুখ লুকোলেন।

    জাহাঙ্গিরের বোধোদয়!

    ফলতা বিধানসভায় পুনর্নির্বাচনের ৪৮ ঘণ্টারও কম সময় আগে মঙ্গলবার সকালে সাংবাদিক বৈঠকে তৃণমূল প্রার্থী জাহাঙ্গির (Jahangir Khan) বলেন, ‘‘ফলতার উন্নয়নের জন্য স্পেশ্যাল প্যাকেজের কথা ঘোষণা করেছেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। তাই আমি এই নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়াচ্ছি।’’ মনোনয়নপত্র প্রত্যাহারের দিন (TMC) পেরিয়ে গিয়েছে। প্রতিদ্বন্দ্বিতা না করলেও ইভিএমে জাহাঙ্গির এবং তাঁর দল তৃণমূলের বোতাম জ্বলজ্বল করবে। তৃণমূলের রাজত্বে কেউটে জাহাঙ্গির প্রথমবার নির্বাচনের সময় কোনও ইভিএমে টেপ আটকে দিয়েছিলেন পদ্ম-প্রতীকের পাশে, কোথাও আবার বিজেপি প্রার্থীর বোতামে লাগিয়ে দিয়েছিলেন আতর। ভোটাররা কাকে ভোট দিচ্ছেন, তা জানতেই এই ‘ডায়মন্ড হারবার দাওয়াই’ অ্যাপ্লাই করেছিলেন বলে অভিযোগ।

    ‘কেউটে’ থেকে ‘হেলে’

    রাজ্যে পালাবদলের সরকার ক্ষমতায় আসার পরে সেই জাহাঙ্গিরই বদলে গিয়ে ‘কেউটে’ থেকে ‘হেলে’ হয়ে গিয়েছেন! মঙ্গলবারই ফলতায় রোড-শো করেন ‘সিংহম’ মুখ্যমন্ত্রী। বিজেপি প্রার্থী দেবাংশু পণ্ডার সমর্থনে প্রচারে এসেছিলেন তিনি। সেই সময় প্রচারে না বেরিয়ে বাড়িতে সাংবাদিক বৈঠক করেন অভিষেক-ঘনিষ্ঠ ‘পুষ্পা’ জাহাঙ্গির। তিনি বলেন, ‘‘আমি ফলতার ভূমিপুত্র। আমি চাইব ফলতা শান্তিতে থাকুক, সুস্থ থাকুক এবং ভালো থাকুক (TMC)। ফলতায় আরও বেশি বেশি উন্নয়ন হোক।’’ গলার কাছে দলা পাকানো কান্নাটা আটকে কোনওক্রমে ধরা গলায় তিনি বলেন, ‘‘আমার স্বপ্ন ছিল সোনার ফলতার। তাই আমাদের সম্মানীয় মুখ্যমন্ত্রী ফলতার উন্নয়নের জন্য স্পেশ্যাল প্যাকেজ দিচ্ছেন। সেই জন্য আমি ২১ মে যে পুনর্নির্বাচন আছে, সেই লড়াই থেকে নিজেকে দূরে সরিয়ে নিলাম।’’ জাহাঙ্গিরের এহেন ভোল বদলে যারপরনাই বিস্মিত ফলতায় তৃণমূলের ‘দুধেল গাই’রাও।

    প্রসঙ্গত, পুনর্নির্বাচন শুরু হওয়ার আগেই হাতকড়া পড়েছে জাহাঙ্গিরের ভায়রাভাইয়ের হাতে (Jahangir Khan)। গ্রেফতার হয়েছেন ফলতা পঞ্চায়েত সমিতির সহ সভাপতি। রাজনীতির কারবারিদের মতে, জাহাঙ্গির ভেবেছেন এবার হয়তো তাঁর পালা। তাই লড়াইয়ের ময়দান ছেড়ে পগার পার হয়েছেন ‘ঐতিহাসিক’ চরিত্র জাহাঙ্গির (TMC)।

    বেচারা! কারা যেন জাহাঙ্গিরকে গাছে তুলে মইটা কেড়ে নিল!

     

  • Suvendu Adhikari: “আমি মুখ্যমন্ত্রী হওয়ায় বেশি চাপে পড়েছে বাংলাদেশের জামাতরা”, বললেন শুভেন্দু

    Suvendu Adhikari: “আমি মুখ্যমন্ত্রী হওয়ায় বেশি চাপে পড়েছে বাংলাদেশের জামাতরা”, বললেন শুভেন্দু

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: বিধানসভা নির্বাচনের প্রচারে বেরিয়ে রাজ্যের প্রায় সব সভায় বিজেপির ‘সঙ্কল্প-বার্তা’ ছিল, ক্ষমতায় এলে রুখে দেওয়া হবে বাংলাদেশিদের বঙ্গে অনুপ্রবেশ। পশ্চিমবঙ্গবাসী হাত উপুড় করে ভোট দেওয়ায় এ রাজ্যে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে পদ্ম-রাজ। মুখ্যমন্ত্রী হয়েছেন শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari)। তার পরেই শুরু করে দিয়েছেন ‘অ্যাকশন’। সেই শুভেন্দুই এবার আক্রমণ শানালেন বাংলাদেশের জামাত-ই-ইসলামিকে (Jamaat)।

    ‘বাংলাদেশে যাও’ (Suvendu Adhikari) 

    তিনি বলেন, “আমি পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী হওয়ায় তৃণমূল কংগ্রেস, সিপিএম, কংগ্রেস তো টেনশনে আছেই। তার চেয়েও বেশি চাপে পড়েছে বাংলাদেশের জামাতরা। দেখুন ভাই, আমি ভয় পাই না। তাই ওই সব চেষ্টা করেও লাভ নেই। বিজেপি যা যা প্রতিশ্রুতি দিয়েছে, সব পালন করব। আমার কাছে দেশ আগে। অনুপ্রবেশকারীদের ভোটার তালিকায় চিহ্নিত করা হয়েছে। তারপর তাদের নাম বাদ দেওয়া হয়েছে। এবার তাড়িয়ে দেওয়ার পালা।” মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “বর্ডারকে সুরক্ষিত করা, অ-ভারতীয়দের দরজা দেখিয়ে দেওয়া, অনুপ্রবেশকারীদের হটাও… যাও যেখান থেকে এসেছিলে, সেই রাস্তা দিয়ে ফেরত যাও। বাংলাদেশে যাও।”

    পুলিশের ওপর হামলা চালানো নিয়েও বার্তা

    মুখ্যমন্ত্রীর কুর্সিতে বসেই সীমান্তে কাঁটাতারের বেড়া দেওয়ার জন্য বিএসএফকে জমি পাওয়ার ব্যবস্থা করে দিয়েছে রাজ্যে পালাবদলের সরকার। বন্ধ করে দেওয়া হচ্ছে তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের রাজত্বে শুরু হওয়া পুরোহিত-ইমাম-মোয়াজ্জেমদের মাসিক ভাতা (Suvendu Adhikari)। শুধু অনুপ্রবেশকারী নয়, পুলিশের ওপর হামলা চালানো নিয়েও বার্তা দিয়েছেন রাজ্যের নয়া মুখ্যমন্ত্রী ‘জায়ান্ট কিলার’ শুভেন্দু। রবিবার পার্ক সার্কাসে পুলিশকে লক্ষ্য করে পাথর ছোড়া হয়। সে প্রসঙ্গে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “শ্রীনগরেও পাথর ছোড়া বন্ধ হয়েছে। কলকাতায়ও বন্ধ হবে। যদি মনে করেন, আগের সরকার আছে, আগের মতো পুলিশ ফোর্সকে হাত-পা বেঁধে রেখে দেওয়া হবে, তাহলে ভুল করছেন। গুন্ডামি, অসামাজিক কাজকর্মে অনুমতি দেব না। পুলিশমন্ত্রী হিসেবে বলে দিলাম, পুলিশের গায়ে হাত পড়লে সরকার আইনানুগ ব্যবস্থা নেবে। এজন্য যতদূর যেতে হয়, যাব (Jamaat)। শুধু গ্রেফতারি নয়, শাস্তি দেওয়া পর্যন্ত মনিটরিং করবে সরকার (Suvendu Adhikari)।”

  • Suvendu Adhikari: অবৈধ নির্মাণের ক্ষেত্রে জিরো টলারেন্সের পথে রাজ্য সরকার, বড় নির্দেশ মুখ্যমন্ত্রীর

    Suvendu Adhikari: অবৈধ নির্মাণের ক্ষেত্রে জিরো টলারেন্সের পথে রাজ্য সরকার, বড় নির্দেশ মুখ্যমন্ত্রীর

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: বেআইনি নির্মাণ নিয়ে বড় বার্তা মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর (Suvendu Adhikari)। তিলজলার ঘটনাকে সামনে রেখে মুখ্যমন্ত্রী জানিয়ে দেন, অবৈধ নির্মাণের (Illegal Construction) ক্ষেত্রে জিরো টলারেন্সের পথে হাঁটবে রাজ্য সরকার। তিনি জানান, যাঁদের বিল্ডিং প্ল্যান নেই, সেই সমস্ত অবৈধ কারখানার বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করা হবে। শুভেন্দু অধিকারী বলেন, ‘সিইএসসি-কে বিদ্যুৎ সচিবের মাধ্যমে জানানো হয়েছে, যত এই ধরনের বিল্ডিং আছে, যাদের বিল্ডিং প্ল্যান স্যাংশন নেই, সেই সব কারখানা, বিশেষ করে তিলজলা, কসবা, মোমিনপুর, একবালপুর-সহ এলাকাগুলিতে দ্রুত ইন্টারনাল অডিট করা হবে। প্ল্যানের অনুমোদন না থাকলে বিদ্যুৎ পরিষেবা ডিসকানেক্ট করতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।’

    পুর ও নগরোন্নয়ন সচিবকে নির্দেশ

    মুখ্যমন্ত্রীর সংযোজন, পুর ও নগরোন্নয়ন সচিবকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, একদিনের মধ্যে অবৈধ নির্মাণ ভেঙে ফেলার জন্য। কলকাতা পুরসভার (KMC) উদ্যোগে কলকাতা পুলিশের সাহায্য নিয়ে তা করা হবে। কেএমসি-কেও বলা হয়েছে, এই ধরনের অবৈধ, বিপজ্জনক কারখানাগুলিতে জলের লাইন কেটে দেওয়ার জন্য। এ ক্ষেত্রে জিরো টলারেন্স নীতিতে হাঁটবে সরকার। শুভেন্দুর বার্তা, ‘যাঁরা সতর্ক হতে চান, সতর্ক হয়ে যান। যাঁরা বেআইনি কাজকর্ম করছেন, তাঁদের আমরা এই ধরনের কাজ থেকে বিরত থাকতে কড়া নির্দেশ দিচ্ছি।’ শহরের বিভিন্ন প্রান্তে এই ধরনের অবৈধ নির্মাণ চিহ্নিত করার নির্দেশও দিয়েছেন শুভেন্দু। আলাদা করে উল্লেখ করেছেন কসবা, তিলজলা, মোমিনপুর, একবালপুরের মতো এলাকার কথা।

    কঠোর প্রশাসনিক বার্তা

    উল্লখ্যে, মঙ্গলবার তিলজলায় একটি চামড়ার কারখানায় আগুন লাগে। দু’জনের মৃত্যু হয়। তিন জন হাসপাতালে ভর্তি। মঙ্গলবারের ঘটনার পরেই তড়িঘড়ি রিপোর্ট তলব করেছিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। এরপরই তিনি জানান, ওই কারখানার কোনও বিল্ডিং প্ল্যান নেই। পুরোপুরি অবৈধ ওই কারখানা। কারখানার মালিক শেখ নাসির ও শামিম মহম্মদকে গ্রেফতার করা হয়েছে। রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, দুর্নীতি ও বেআইনি নির্মাণ— এই দুই ইস্যুতেই নতুন সরকার শুরু থেকে কঠোর প্রশাসনিক বার্তা দিতে চাইছে। ক্ষমতায় আসার পরে প্রথম কয়েক দিনের সিদ্ধান্ত থেকেই বিজেপি সরকারের প্রশাসনিক অগ্রাধিকারের ইঙ্গিত স্পষ্ট হয়ে উঠছে।

    কী বললেন অগ্নিমিত্রা

    রাজ্যের পুরমন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পাল জানান, যে অবৈধ ভবনগুলির ফায়ার লাইসেন্স বা এনওসি নেই, সেগুলিকে নোটিস পাঠানো শুরু হচ্ছে। ওই ভবনের মালিকদের প্রথমে শুধরে নেওয়ার সুযোগ দেওয়া হবে। তার পরেও নিয়ম না মানলে মুখ্যমন্ত্রীর নির্দেশ মোতাবেক পদক্ষেপ করা হবে। তিনি আরও জানান, তপসিয়ার ওই ভবনটিতে সিঁড়ি এতটাই সরু ছিল যে, সেখান থেকে লোকজন নামতে পারেননি। পিছন দিকে লোহার ঘোরানো সিঁড়ি থাকা উচিত ছিল বলেও মনে করেন তিনি।

     

     

  • CM Suvendu Adhikari: হাসপাতাল চত্বরে দালালরাজ বরদাস্ত করা হবে না, এসএসকেএমে বৈঠকে একগুচ্ছ নির্দেশ মুখ্যমন্ত্রীর

    CM Suvendu Adhikari: হাসপাতাল চত্বরে দালালরাজ বরদাস্ত করা হবে না, এসএসকেএমে বৈঠকে একগুচ্ছ নির্দেশ মুখ্যমন্ত্রীর

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: স্বাস্থ্য ব্যবস্থাকে ঢেলে সাজাতে শুক্রবার এসএসকেএম হাসপাতালে উচ্চপর্যায়ের বৈঠক করলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী (CM Suvendu Adhikari)। বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন স্বাস্থ্য দফতরের শীর্ষ আধিকারিক, স্বাস্থ্য অধিকর্তা, কলকাতার বিভিন্ন সরকারি হাসপাতালের অধ্যক্ষ, দায়িত্বপ্রাপ্ত আধিকারিক ও চিকিৎসকেরা। কলকাতা এবং পার্শ্ববর্তী কয়েকটি জেলার ১২টি মেডিক্যাল কলেজ সরকারি হাসপাতালের অধ্যক্ষ এবং মেডিক্যাল সুপারদের সঙ্গে এদিন বৈঠক সারেন মুখ্যমন্ত্রী (Suvendu Adhikari)। বিজেপির দুই জয়ী ডাক্তার বিধায়ক, বিধাননগর থেকে জয়ী শারদ্বত মুখোপাধ্যায় এবং বেহালা পশ্চিম বিধানসভা কেন্দ্রে জয়ী ইন্দ্রনীল খাঁও এই বৈঠকে মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন।

    কেন্দ্র ও রাজ্যের স্বাস্থ্য পরিষেবার মধ্যে সংযোগ স্থাপন

    অতীতে স্বাস্থ্য পরিষেবা নিয়ে একাধিক অভিযোগ বিভিন্ন সময়ে সামনে এসেছে। এই অভিযোগের জায়গাগুলিতে কীভাবে উন্নতি করা যায়, কীভাবে ভুলত্রুটি সংশোধন করা যায় এবং এ বিষয়ে সরকারি আধিকারিকদের কী কী করণীয়, সেই নিয়ে কথা বলতেই এসএসকেএম হাসপাতালে পৌঁছন শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu in SSKM)। কেন্দ্র ও রাজ্যের স্বাস্থ্য পরিষেবার মধ্যে সংযোগ স্থাপনে যাতে কোনও সমস্যা না হয়, সেই কারণে কেন্দ্রীয় সরকারি চিকিৎসা প্রতিষ্ঠানের আধিকারিকদেরও এই বৈঠকে ডাকা হয়েছে। বৈঠকে উপস্থিত থাকছেন কেন্দ্র সরকারের অধীনস্ত চিত্তরঞ্জন ন্যাশনাল ক্যান্সার ইনস্টিটিউটের অধিকর্তা। রাজ্যের স্বাস্থ্য সচিব, স্বাস্থ্য অধিকর্তা, স্বাস্থ্য শিক্ষা অধিকর্তা এই বৈঠকে উপস্থিত রয়েছেন। কলকাতার সবকয়টি মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পদাধিকারীদের ডাকা হয়েছে এই বৈঠকে।

    দালাল-রাজ মানা হবে না

    হাসপাতাল সূত্রের খবর, বৈঠকে হাসপাতালগুলির বেহাল অবস্থা নিয়ে তীব্র অসন্তোষ প্রকাশ করেন মুখ্যমন্ত্রী। বিশেষ করে সরকারি হাসপাতালগুলিতে সক্রিয় দালালচক্র এবং রোগী রেফার করে বেসরকারি হাসপাতালে পাঠানোর প্রবণতা নিয়ে কড়া বার্তা দেন তিনি। স্পষ্ট নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, কোনও ভাবেই হাসপাতাল চত্বরে দালালরাজ বরদাস্ত করা হবে না। এই ধরনের অভিযোগ প্রমাণিত হলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে কঠোর প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও জানানো হয়েছে।

    ‘ওয়ার রুম’ তৈরির সিদ্ধান্ত

    রাজ্যের সরকারি হাসপাতালগুলির পরিষেবা নিয়ে দীর্ঘ দিন ধরেই অভিযোগ জমছিল। রোগী ভোগান্তি, বেডের অভাব, দালালচক্রের দৌরাত্ম্য থেকে শুরু করে চিকিৎসা পরিষেবার নানা ত্রুটি নিয়ে সাধারণ মানুষের ক্ষোভ ক্রমশ বাড়ছিল। সেই পরিস্থিতিতে স্বাস্থ্য পরিষেবার উপর সরাসরি নজরদারি চালাতে স্বাস্থ্যভবনে একটি বিশেষ ‘ওয়ার রুম’ তৈরির সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

    হাসপাতালগুলির পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণে মুখ্যমন্ত্রী

    হাসপাতালের সেই ওয়ার রুমের সঙ্গে মুখ্যমন্ত্রীর দফতরের সরাসরি সংযোগ থাকবে বলে জানা গিয়েছে। হাসপাতালগুলির পরিস্থিতি, বেডের অবস্থা, রোগী পরিষেবা এবং জরুরি ব্যবস্থাপনা নিয়ে নিয়মিত পর্যবেক্ষণ করবেন স্বয়ং মুখ্যমন্ত্রী। মেডিক্যাল কলেজগুলিতে ডাক্তারি পড়ুয়াদের নিরাপত্তা জোরদারের নির্দেশ দিয়েছেন শুভেন্দু। ক্যাম্পাস চত্বরে বহিরাগতদের আনাগোনা বন্ধ করতে বলা হয়েছে। এছাড়াও রাজ্যজুড়ে অ্যাপ নির্ভর অ্যাম্বুল্যান্স ব্যবস্থা তৈরি করা হবে। অ্যাম্বুল্যান্সগুলিতে জিপিএস ট্র্যাকার থাকবে।

    হাসপাতালগুলিতে বেড সংখ্যা বাড়ানোর নির্দেশ

    বাংলায় সরকারি হাসপাতালগুলিতে বেহাল দশা স্বাস্থ্য পরিষেবার। হাসপাতালে চিকিৎসা করাতে গেলে অনেক সময় মেলে না বেড। মেঝেতে শুয়েই চিকিৎসা চলে রোগীদের। এই নিয়ে রয়েছে ভুড়ি ভুড়ি অভিযোগ। এদিনের বৈঠকে হাসপাতালগুলিতে বেড সংখ্যা বাড়ানোর নির্দেশও দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি, প্রতিটি হাসপাতালে ডিজিটাল ডিসপ্লে বোর্ড বাধ্যতামূলক করার নির্দেশ দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। ওই বোর্ডে হাসপাতালের মোট বেড সংখ্যা, কতগুলি বেড খালি রয়েছে এবং কতজন রোগী ভর্তি রয়েছেন, সেই তথ্য রিয়েল টাইমে দেখাতে হবে। প্রশাসনের মতে, এর ফলে রোগী ও তাঁদের পরিবারের ভোগান্তি অনেকটাই কমবে এবং স্বচ্ছতা বাড়বে। একই সঙ্গে বেসরকারি হাসপাতালগুলির ১৫ শতাংশ বেড সাধারণ মানুষের চিকিৎসার জন্য ব্যবহারের বিষয়েও খুব শীঘ্রই বৈঠক করবেন মুখ্যমন্ত্রী বলে সূত্রের খবর। কেন্দ্রীয় হসপিটালের বেড নিয়ে রাজ্য সরকারের সঙ্গে চুক্তি হবে।

    হাসপাতালগুলিতে নিরাপত্তা জোরদার

    এছাড়াও সরকারি হাসপাতালের ডাক্তার, নার্স, স্বাস্থ্যকর্মী থেকে শুরু করে সমস্ত কর্মীর জন্য আইডি কার্ড বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। হাসপাতালের ভিতরে কে কর্মরত এবং কে বহিরাগত, তা স্পষ্টভাবে চিহ্নিত করতেই এই সিদ্ধান্ত বলে জানা গিয়েছে। মেডিক্যাল কলেজগুলিতেও নিরাপত্তা জোরদারের নির্দেশ দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। ক্যাম্পাসে বহিরাগতদের অবাধ প্রবেশ বন্ধ করতে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়ার কথাও বলা হয়েছে। তিনি যে নির্দেশগুলো দিয়েছেন তার মধ্যে রয়েছে-রোগী কল্যাণ সমিতিতে পলিটিকাল লোক রাখা চলবে না। বৈধ আইডি কার্ড দিতে হবে ৩১ মে’র মধ্যে। এর ফলে হাসপাতালে বহিরাগত বা দালালদের দৌরাত্ম্য বন্ধ করা সহজ হবে। ডাক্তার ও স্টাফেদের জন্য আলাদা কার্ড থাকবে বলেও জানানো হয়েছে ওই বৈঠকে।

    রিয়েল টাইম ট্র্যাকিং

    এবার থেকে রিয়েল টাইম ট্র্যাকিং হবে। রোগী কল্যাণ সমিতি চালু রাখতে হবে। পলিটিকাল লোক রাখা চলবে না। হেলথ রিক্রুটমেন্ট বোর্ডে চিকিৎসার সঙ্গে যুক্ত না এমন লোক রাখবেন না। অবৈধ স্ট্রাকচার থাকলে হসপিটাল ভাঙতে হবে হেলথ রিক্রুটমেন্ট বোর্ডের পুনর্গঠন করতে হবে। আর এই রিয়েল টাইম ট্র্যাকিংয়ের সাহায্যে কোথায় কয়টি বেড আছে তা সরাসরি দেখতে পারবেন রোগীর পরিজনরা।

    স্বাস্থ্য পরিষেবার উন্নয়নে বিশেষ গুরুত্ব

    আগামী পাঁচ বছর স্বাস্থ্য পরিষেবা কীভাবে চলবে, কীভাবে স্বাস্থ্য প্রশাসনকে ঢেলে সাজানো যায়, যাতে স্বাস্থ্য ব্যবস্থা নিয়ে ক্ষোভ, অভিযোগ কমে, এই বৈঠকের মাধ্যমে সেই গতিপ্রকৃতিই নির্ধারণ করা হয় বলে অনুমান। উল্লেখ্য, এখনও পর্যন্ত স্বাস্থ্য দফতরের দায়িত্ব মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর হাতেই রয়েছে। ভবানীপুর বিধানসভা কেন্দ্রেই অবস্থিত রাজ্যের বৃহত্তম সরকারি হাসপাতাল এসএসকেএম। ফলে স্বাস্থ্য পরিষেবার উন্নয়নে তিনি বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছেন বলেই প্রশাসনিক মহলের ধারণা। মুখ্যমন্ত্রী পদে শপথ নিয়েই শুভেন্দু বলেছিলেন, কথা কম কাজ বেশি। দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকে শুভেন্দুকে একেবারে দাবাং মুডে দেখা যাচ্ছে। এদিন এসএসকেএম-এর বৈঠকে মূলত ‘দালালরাজ’ নির্মূল করা এবং সাধারণ মানুষের চিকিৎসা পরিষেবা নিশ্চিত করার ওপর বিশেষ নজর দেওয়া হয়।

     

     

  • RG Kar Case: আরজি কর কাণ্ডে সাসপেন্ড তিন আইপিএস বিনীত গোয়েল, ইন্দিরা মুখার্জি, অভিষেক গুপ্তা

    RG Kar Case: আরজি কর কাণ্ডে সাসপেন্ড তিন আইপিএস বিনীত গোয়েল, ইন্দিরা মুখার্জি, অভিষেক গুপ্তা

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: কথামতোই আবার খুলল আরজি কর ফাইল (RG Kar Case)। কাজ করলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। আরজি কর কাণ্ডে কর্তব্যে গাফিলতির অভিযোগে সাসপেন্ড হলেন রাজ্যের তিন আইপিএস অফিসার। শুক্রবার নবান্ন থেকে শুভেন্দু জানান, আরজি করের চিকিৎসকের ধর্ষণ এবং খুনের মামলার ফাইল ফের খোলা হবে। ওই সময়ে বিভিন্ন পদে কর্মরত তিন আইপিএস অফিসার বিনীত গোয়েল, ইন্দিরা মুখোপাধ্যায় এবং অভিষেক গুপ্তের বিরুদ্ধে বিভাগীয় তদন্ত শুরু হবে। আপাতত তাঁদের সাসপেন্ড করা হচ্ছে। পাশাপাশি, প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতার ভূমিকাও খতিয়ে দেখা হবে জানিয়েছেন বর্তমান মুখ্যমন্ত্রী।

    মুখ্যসচিব, স্বরাষ্ট্রসচিবের কাছ থেকে রিপোর্ট 

    মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর সাফ কথা, “মুখ্যসচিব, স্বরাষ্ট্রসচিবের কাছ থেকে রিপোর্ট পেয়েছি। পুলিশ অফিসাররা তিলোত্তমার মা-কে টাকা দিতে গিয়েছিলেন। নির্যাতিতার পরিবারকে এইভাবে টাকা দিতে যাওয়ার অভিযোগে আমরা এই তিনজনকে সাসপেন্ড করছি।” শুভেন্দু আরও বলছেন, “যখন বিভাগীয় তদন্ত হবে তখন যাঁদের বিরুদ্ধে আমরা অ্যাকশন নিচ্ছি তাঁদের বক্তব্যও নেব, অন্যদিকে নির্যাতিতার পরিবার যদি চায় তাহলে তাদের বাড়িতে গিয়েও আমাদের অফিসাররা তাদের বক্তব্য নিয়ে আসবে।” এখানেই না থেমে এবার একেবারে সেই সময় তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রীর প্রসঙ্গ টেনে বলেন, “ফোন কল রেকর্ড, হোয়াটসঅ্যাপ চ্যাট সবই পরে পরে বের করব। দেখা যাবে তখনকার অফিসারদের সঙ্গে সঙ্গে কাদের কাদের কথা হয়েছে। সেই সময়ের কোনও মুখ্যমন্ত্রীর কোনও নির্দেশ ছিল কিনা সেটা দেখা হবে। সব বের করব।”

    যা হয়েছিল তা হওয়ার কথাই ছিল না

    তিলোত্তমার মা রত্না দেবনাথ বলছেন, “আমার মেয়ের সঙ্গে যা হয়েছিল তা হওয়ার কথাই ছিল না। ও একটা সুরক্ষিত জায়গায় ছিল। প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রীর জন্যই আমি আমার মেয়েটাকে হারিয়ে ফেলেছি। নতুন মুখ্যমন্ত্রীকে ধন্যবাদ জানাই এত তাড়াতাড়ি আবার ফাইল খোলার জন্য। বিচার খুব তাড়াতাড়ি আসবে। গোটা বিশ্বের মানুষ এর বিচার চায়। সবার চাওয়া কখনও বিফলে যাবে না। বিচার আসবেই।” মেয়ের স্মৃতিচারণা করতে করতে ফের একবার গলা ধরে আসে তাঁর। বলেন, “যেদিন রাত দখল হয়েছিল সেদিন সব জাতি-ধর্ম-বর্ণের মানুষ শুধু উই ওয়ান্ট জাস্টিস বলেছিল। সেদিন টিভিতে আমাকে দেখানো হয়েছিল আমি তখন মেয়ের ছবিটা জড়িয়ে ধরে বলেছিলাম তোর যে এত শক্তি, যে তুই সারা বিশ্বকে নাড়িয়ে দিয়ে গেলি।”

    কে কোন দায়িত্বে ছিল 

    মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দুর কথায়, ‘‘অ্যাজ আ হোম মিনিস্টার, আমি চার্জ নেওয়ার পর মাননীয় চিফ সেক্রেটারি এবং মাননীয় হোম সেক্রেটারির কাছে লিখিত চেয়েছিলাম আরজি করের ঘটনা এবং তার পরবর্তী কিছু বিষয় নিয়ে। কীভাবে দায়িত্বপ্রাপ্ত পুলিশ আধিকারিকরা সেটা হ্যান্ডল করেছিলেন, তা জানতে চেয়েছিলাম। তথ্য অনুসন্ধানের পর আপাতত একটি প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিলাম।’’ শুভেন্দুর সংযোজন, ‘‘রাজ্যের পুলিশমন্ত্রী হিসেবে আমি ঘোষণা করছি, ওই সময়ে যা ঘটেছিল, তা মিসহ্যান্ডেলিং করা, যথাযথ ভাবে এফআইআর করে পদক্ষেপ করার মতো প্রাথমিক যে বিষয়গুলো ছিল, সেখানে সবচেয়ে বড় অভিযোগ ছিল দু’জন পুলিশ অফিসারের বিরুদ্ধে।’’ ২০২৪ সালের অগাস্টে আরজি কর মেডিক্যাল কলেজের তরুণী চিকিৎসকের ধর্ষণ ও খুনের ঘটনার সময় আইপিএস বিনীত ছিলেন কলকাতা পুলিশের কমিশনার। অভিষেক গুপ্ত ছিলেন কলকাতা পুলিশের ডিসি (নর্থ) পদে। আইপিএস ইন্দিরা তখন কলকাতা পুলিশের ডিসি (সেন্ট্রাল) পদে দায়িত্বরত ছিলেন।

  • CM Suvendu Adhikari: ‘তৃণমূল বিধায়কেরা এখন ব্যক্তি স্বাধীনতা পেয়েছেন’, সৌজন্যের আবহে কীসের ইঙ্গিত দিলেন শুভেন্দু?

    CM Suvendu Adhikari: ‘তৃণমূল বিধায়কেরা এখন ব্যক্তি স্বাধীনতা পেয়েছেন’, সৌজন্যের আবহে কীসের ইঙ্গিত দিলেন শুভেন্দু?

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: তৃণমূল বিধায়কেরা এখন ব্যক্তি স্বাধীনতা পেয়েছেন, এমনই অভিমত মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর। আত্মবিশ্বাসী মেজাজ রাজনৈতিক মহলে নতুন সমীকরণের ইঙ্গিত দিলেন শুভেন্দু। সরকার বদালতেই বিধানসভার অন্দরে ফিরে এল ‘সৌজন্যের’ ছবি। নতুন মুখ্যমন্ত্ররী জন্য তৃণমূল বিধায়কদের তরফে শুভেচ্ছার বন্যা। একদিকে কাউকে যেমন অধিবেশনের সময় শুভেচ্ছা জানাতে দেখা গেল, তেমনই কেউ আবার মুখ্যমন্ত্রীর ঘরে গিয়ে শুভেচ্ছা জানিয়ে এলেন। অন্যদিকে দিলীপ ঘোষকে দীর্ঘক্ষণ দেখা গেল তৃণমূল বিধায়কদের সঙ্গে গল্প করতে।

    সৌজন্যের ছবি বিধানসভায়

    সংবাদমাধ্যম সূত্রে খবর মুখ্যমন্ত্রী বলেছেন, তৃণমূল বিধায়কেরা এখন ব্যক্তি স্বাধীনতা পেয়েছেন। সৌজন্য হয়েছে। কিন্তু কার সঙ্গে কী কথা হয়েছে তা এখনই বলতে চাননি তিনি। শুভেন্দুর এ কথাতেই শুরু হয়ে গিয়েছে জোর চাপানউতোর। শুভেন্দুর এই ইঙ্গিতপূর্ণ মন্তব্য থেকেই অনেকে বলতে শুরু করেছেন দলের সেনাপতি অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের ভয়েই উবে গিয়েছিল সৌজন্যের আবহ। তাঁর অদৃশ্য অঙ্গুলিহেলনেই কী তাহলে স্বাভাবিক ছন্দে কেটেছিল তাল? প্রশ্ন ঘুরছে। সঙ্গে আবার সেই সময় বিধানসভার অন্দরে খোদ মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের উপস্থিতি! কিন্তু সেই ছবিতে ইতি! বর্তমানে ছবিটা এক্কেবারে আলাদা।

    শুভেন্দুর জন্য মনোহরা আনলেন হুমায়ুন!

    সংবাদমাধ্যম সূত্রে খবর, সিতাইয়ের তৃণমূল কংগ্রেস বিধায়ক সঙ্গীতা রায় বসুনিয়া শপথগ্রহণের আগে পর্যন্ত বিজেপি বিধায়কদের সঙ্গেই বসেছিলেন। খোদ নতুন মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গেও বেশ কিছুক্ষণ কথাও বলেন। সুজাপুরের সাবিনা ইয়াসমিনও আবার শুভেন্দুকে শুভেচ্ছা জানান। আম জনতা উন্নয়ন পার্টির বিধায়ক হুমায়ুন কবীরের সৌজন্যে তো আবার অন্য মাত্রাই দেখা গিয়েছে। মুখ্যমন্ত্রীর জন্য তিনি মনোহরা নিয়ে এসেছিলেন বলে খবর। সব মিলিয়ে বিধানসভার অন্দরের সৌজন্যপূর্ণ আবহ নিয়েই এখন জোর চর্চা রাজনৈতিক আঙিনায়।

    প্রধানমন্ত্রী মোদিই অনুপ্রেরণা, বার্তা শুভেন্দুর

    স্বচ্ছ প্রশাসন ও উন্নয়নের বার্তা দেওয়ার পাশাপাশি মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দুর গলায় শোনা গেল প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির ভূয়সী প্রশংসা। শুভেন্দু স্পষ্ট জানান, তাঁর সরকার প্রধানমন্ত্রীর দেখানো পথেই পরিচালিত হবে। মোদিকে ‘বিশ্বনেতা’ সম্বোধন করে শুভেন্দু বলেন, ‘‘প্রধানমন্ত্রী আমাদের পথপ্রদর্শক। স্বচ্ছ ভারত অভিযানের মাধ্যমে তিনি যে নাগরিক সচেতনতা তৈরি করেছেন, আমরা তা এগিয়ে নিয়ে যাব।’’ প্রশাসনে স্বচ্ছতা ফেরাতে এবং ভিআইপি সংস্কৃতি কালচার বন্ধ করতে কড়া পদক্ষেপের ইঙ্গিত দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। তিনি বলেন, ‘‘বিধানসভায় কোনও লুকোছাপা থাকবে না। সরকার পুরোপুরি বিধানসভার প্রতি দায়বদ্ধ থাকবে।’’ প্রধানমন্ত্রীর আহ্বান মেনে বাড়তি নিরাপত্তার বহর ও গাড়ির সংখ্যা কমানোর নির্দেশ দিয়েছেন তিনি। শুভেন্দুর কথায়, ‘‘অতিরিক্ত গাড়ির প্রয়োজন নেই। জ্বালানি সাশ্রয়ের বার্তায় আমরাও শামিল।’’তৃণমূলের একাধিক বিধায়ক তাঁর সঙ্গে যোগাযোগ রাখছেন দাবি করে শুভেন্দু বলেন, ‘‘অনেকে বলছেন আমরা স্বাধীনতা পেলাম। এবার প্রকৃত অর্থেই জনগণের দ্বারা, জনগণের জন্য সরকার দেখতে পাবেন সবাই।’’

  • CM Suvendu Adhikari: লাইভ দেখানো হবে বিধানসভার সব কাজ! স্পিকার নির্বাচনের দিনেই ঐতিহাসিক ঘোষণা মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দুর

    CM Suvendu Adhikari: লাইভ দেখানো হবে বিধানসভার সব কাজ! স্পিকার নির্বাচনের দিনেই ঐতিহাসিক ঘোষণা মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দুর

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: বাংলার সংসদীয় রাজনীতিতে সূচনা হল এক নতুন অধ্যায়ের। শুক্রবার পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভার নতুন অধ্যক্ষ হিসেবে শপথ গ্রহণ করলেন কোচবিহার দক্ষিণ কেন্দ্রের বিজেপি বিধায়ক রথীন্দ্রনাথ বসু। ১৮তম বিধানসভার প্রথম অধিবেশনে তাঁর বিরুদ্ধে কোনও প্রতিদ্বন্দ্বী না থাকায় সর্বসম্মতিক্রমে ও ধ্বনিভোটে স্পিকার পদে নির্বাচিত হন তিনি। সকালে প্রোটেম স্পিকার তাপস রায়ের তত্ত্বাবধানে নির্বাচন প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়। মুখ্যমন্ত্রী ও শাসকদলের পরিষদীয় দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী রথীন্দ্রনাথের নাম প্রস্তাব করেন, যা সমর্থন করেন দিলীপ ঘোষ ও অগ্নিমিত্রা পাল। বিধানসভার দীর্ঘদিনের রীতি মেনে বিরোধীরা আলাদা প্রার্থী না দেওয়ায় প্রথমবারের বিধায়ক রথীন্দ্রনাথ বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় জয়লাভ করেন। পরে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী এবং বিরোধী দলনেতা শোভনদেব চট্টোপাধ্যায় তাঁকে আনুষ্ঠানিকভাবে স্পিকারের আসনে বসান।

    বিধানসভায় লাইভ টেলিকাস্ট

    নতুন স্পিকার নির্বাচনের পর বিধানসভায় বক্তব্য রাখতে গিয়ে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী এক গুরুত্বপূর্ণ ঘোষণা করেন। তিনি জানান, সংসদীয় গণতন্ত্রে স্বচ্ছতা বাড়াতে এবার থেকে বিধানসভার সমস্ত কার্যক্রম সাধারণ মানুষের জন্য সরাসরি সম্প্রচার করা হবে। ফলে বিধায়করা কীভাবে কাজ করছেন এবং সরকার কীভাবে সিদ্ধান্ত নিচ্ছে, তা মানুষ সরাসরি দেখতে পারবেন। তাঁর কথায়, বিল, বাজেট, জিরো আওয়ার-সহ সব গুরুত্বপূর্ণ কার্যক্রম টেলিকাস্টের আওতায় আসবে। পাশাপাশি, বর্তমান বিধানসভা ভবনের আধুনিকীকরণের প্রয়োজনীয়তার কথাও তুলে ধরেন তিনি। শুভেন্দুর মতে, এখনও ভোটিংয়ের জন্য কাগজে নির্ভর করতে হয়, যা প্রযুক্তিগতভাবে উন্নত করার সময় এসেছে। ভবিষ্যতে ডিলিমিটেশনের ফলে আসন সংখ্যা বাড়লে নতুন বিধানসভা ভবনের প্রয়োজনও দেখা দিতে পারে।

    “হাউজ বিলংস টু অপজিশন”

    বক্তব্যে শুভেন্দু অধিকারী অতীতের বিধানসভা পরিচালনা নিয়ে পরোক্ষভাবে পূর্বতন সরকারের সমালোচনাও করেন। তিনি বলেন, আগে বিরোধী দলের তরফে মন্ত্রীদের কাছে চিঠি পাঠানো হলেও তার উত্তর মিলত না। কিন্তু বর্তমান সরকার সেই সংস্কৃতি বদলাতে চায়। এখন থেকে শুধু প্রাপ্তিস্বীকার নয়, সমস্যার সমাধানের দিকেও নজর দেওয়া হবে বলে আশ্বাস দেন তিনি। বিরোধীদের উদ্দেশে তাঁর বার্তা, “হাউজ বিলংস টু অপজিশন”—এই নীতিকে সামনে রেখেই আগামী দিনে বিধানসভার কাজ চলবে। সংখ্যাগরিষ্ঠতা থাকা সত্ত্বেও বিরোধীদের মত প্রকাশের পর্যাপ্ত সুযোগ দেওয়া হবে বলেও জানান মুখ্যমন্ত্রী। শুভেন্দু আরও বলেন, বিরোধীরা চাইলে মন্ত্রীদের সঙ্গে দেখা করতে পারবেন এবং তাঁদের সমস্যা বা দাবি নিয়ে সরাসরি আলোচনা করতে পারবেন, যদি দলীয় অনুমতি থাকে। তিনি বিজেপি বিধায়কদেরও নির্দেশ দেন, বিরোধী দলের সদস্যরা দেখা করতে চাইলে তাঁদের সময় দিতে হবে। তাঁর দাবি, দেশের অন্যান্য বিজেপি-শাসিত রাজ্যে যেভাবে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির আদর্শে সরকার পরিচালিত হচ্ছে, পশ্চিমবঙ্গেও সেই ধারা বজায় থাকবে।

    বিরোধীদের বড় বার্তা শুভেন্দুর

    বিরোধী দলনেতা থাকাকালীন বিধানসভায় নিজের নানা অভিজ্ঞতার কথা উল্লেখ করে শুভেন্দু জানান, অতীতের তিক্ততা ভুলে তিনি নতুনভাবে এগোতে চান। তাঁর বক্তব্য, বিধানসভা বহুদলীয় গণতন্ত্রের মঞ্চ, তাই নিয়ম ও শালীনতা বজায় রেখেই কাজ হওয়া উচিত। তিনি স্পষ্ট করে বলেন, কোনও বিধায়ক যাতে শারীরিক হেনস্থার শিকার না হন বা অযথা শাস্তির মুখে না পড়েন, তা নিশ্চিত করতে সরকার প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। মুখ্যমন্ত্রীর কথায়, বিধানসভা মারামারির জায়গা নয়, বরং এটি হওয়া উচিত গঠনমূলক বিতর্ক ও জবাবদিহির ক্ষেত্র। সংবিধানকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে বিধানসভার কাজ পরিচালনা হবে বলেও তিনি জানান। নতুন স্পিকার সরকারের সঙ্গে পরামর্শ করে বিধানসভা পরিচালনা করবেন এবং তাঁর নির্দেশ সবাই মেনে চলবেন—এমন আশ্বাসও দেন শুভেন্দু। বিরোধীদের প্রতি মুখ্যমন্ত্রীর অনুরোধ, তাঁরা যেন গঠনমূলক সমালোচনা করেন এবং বিধানসভার নিয়মবিধি মেনে চলেন। একইসঙ্গে বিজেপি বিধায়কদের প্রতি তাঁর নির্দেশ, বিরোধী দলের বিধায়করা দেখা করতে চাইলে যেন তাঁদের সময় (অ্যাপয়েন্টমেন্ট) দেওয়া হয়। রাজনৈতিক মহলের একাংশের মতে, নতুন স্পিকারের কার্যকালের শুরুতেই মুখ্যমন্ত্রীর এই আপাত সমঝোতামূলক ও উদার বার্তা ভবিষ্যতে বিধানসভার পরিবেশকে আরও ইতিবাচক ও ফলপ্রসূ করে তুলতে পারে।

  • West Bengal Govt Rules: ফ্রি হ্যান্ড দেওয়া হল সিবিআই, ইডি-কে! যেখানে-সেখানে পশুহত্যা নয়, মোয়াজ্জেম ভাতা নিয়েও বড় সিদ্ধান্ত রাজ্য সরকারের

    West Bengal Govt Rules: ফ্রি হ্যান্ড দেওয়া হল সিবিআই, ইডি-কে! যেখানে-সেখানে পশুহত্যা নয়, মোয়াজ্জেম ভাতা নিয়েও বড় সিদ্ধান্ত রাজ্য সরকারের

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: হাইকোর্টের রায় মেনে পশুহত্যা নিয়ে কড়া পদক্ষেপের কথা জানাল রাজ্য সরকার। সরকারি নির্দেশিকায় প্রকাশ্যে পশুহত্যা বন্ধ করার কথা বলা হয়েছে। বুধবার বিধায়ক হিসেবে শপথ গ্রহণ করার পর একাধিক গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তের কথা জানিয়েছেন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari)। পাঁচ মন্ত্রীর দফতর বণ্টনের পর বৈঠক করেছিলেন তিনি। এবার সব দফতরের সচিবদের নিয়ে বৈঠক করলেন শুভেন্দু। বুধবার সেই বৈঠকে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। শিক্ষা দফতরে বিশেষ নজর দেওয়ার কথা বলেছেন। পশুহত্যা নিয়ে সরব হয়েছেন। একই সঙ্গে জানিয়েছেন এবার থেকে রাজ্য সরকারি আধিকারিকদের বিরুদ্ধে বিচারপ্রক্রিয়া শুরু করতে রাজ্য সরকারের কোনও অনুমোদন নিতে হবে না কেন্দ্রীয় এজেন্সিকে। দুর্নীতি হঠাতে কড়া সিদ্ধান্ত নিলেন মুখ্য়মন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী।

    পশুহত্যা নিয়ে কী কী শর্ত দিল রাজ্য

    গরু, মহিষ, বলদ ও বাছুর বলির ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট সার্টিফিকেট থাকতে হবে। পশুহত্যার আগে পুরসভার চেয়ারম্যান/পঞ্চায়েত সমিতির সভাপতি ও সরকারি পশুচিকিৎসকের যৌথ শংসাপত্র থাকা বাধ্যতামূলক। কেউ সার্টিফিকেট দিতে অস্বীকার করলে, ১৫ দিনের মধ্যে রাজ্য সরকারের কাছে অভিযোগ জানানো যাবে। প্রকাশ্য জায়গায় বা রাস্তার ধারে পশুহত্যা নিষিদ্ধ। শুধুমাত্র সরকার অনুমোদিত কসাইখানায় পশুবলি করা যাবে। নিয়ম ভেঙে পশুহত্যা করলে আইন অনুযায়ী, ৬ মাস পর্যন্ত জেল অথবা ১০০০ টাকা পর্যন্ত জরিমানা হতে পারে। দুটোই হতে পারে। এই নির্দেশিকায় একটি মামলার কথা উল্লেখ করা হয়েছে, যার প্রেক্ষিতে আদালত রায় দিয়েছিল। নির্দেশিকায় আরও উল্লেখ করা হয়েছে যে সুপ্রিম কোর্ট ও হাইকোর্টের রায় রাজ্য সরকারের ওয়েবসাইট খুললেই দেখা যাবে।

    শিক্ষা-স্বাস্থ্য-তথ্য-সংস্কৃতি দফতর নিয়ে সিদ্ধান্ত

    এখনও মন্ত্রী ঠিক না হলেও শিক্ষা দফতরের সঙ্গে যুক্ত করা হয়েছে রাসবিহারীর বিধায়ক স্বপন দাশগুপ্তকে। আগামী সোমবার থেকেই স্নাতক স্তরের ভর্তি প্রক্রিয়া অনলাইনে শুরু করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। তীব্র গরমের কারণে স্কুলের ছুটি আরও ১৪ দিন বাড়ানো হয়েছে। স্কুল খুলবে আগামী ১ জুন। তথ্য ও সংস্কৃতি দফতরের সঙ্গে যুক্ত করা হচ্ছে সাংস্কৃতিক জগতের বিধায়কদের। এই তালিকায় রয়েছেন রুদ্রনীল ঘোষ, রূপা গঙ্গোপাধ্যায়, পাপিয়া অধিকারী ও হিরণ চট্টোপাধ্যায়। স্বাস্থ্য দফতরের কাজে যুক্ত থাকবেন চিকিৎসক-বিধায়ক শারদ্বত মুখোপাধ্যায় ও ইন্দ্রনীল খাঁ। আগামী দু’দিনের মধ্যে সংশ্লিষ্ট বিধায়কদের বিভিন্ন দফতরের সঙ্গে আনুষ্ঠানিকভাবে যুক্ত করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। খুব শীঘ্রই মুখ্যমন্ত্রী নিজে স্বাস্থ্য ও শিক্ষা দফতরে গিয়ে সচিবদের সঙ্গে পৃথকভাবে বৈঠক করবেন।

    মোয়াজ্জেম ভাতা অনলাইনে

    মোয়াজ্জেম ভাতা এবার থেকে সম্পূর্ণ অনলাইনে দেওয়া হবে। সেই পরিষেবা শুরু হচ্ছে বৃহস্পতিবার থেকেই। বিএসএফের জন্য জমি হস্তান্তরের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে সচিব নন্দিনী চক্রবর্তীকে। ক্ষুদ্র শিল্প দফতরে কেন্দ্রীয় প্রকল্প সংক্রান্ত প্রায় ২৫ লক্ষ আবেদন দীর্ঘদিন ধরে পড়ে রয়েছে। দ্রুত নিষ্পত্তির নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। জল জীবন মিশনে “কল আছে, জল নেই” পরিস্থিতি আর বরদাস্ত করা হবে না বলে স্পষ্ট বার্তা দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। সেন্ট্রাল ভিজিল্যান্স কমিশনের নির্দেশিকা মেনে টেন্ডার ও দরপত্র প্রক্রিয়া চালানোর নির্দেশ দিয়েছেন তিনি। রাজ্যের নিজস্ব আয় বৃদ্ধির ওপরও বিশেষ জোর দেওয়ার কথা বলা হয়েছে।

    দুর্নীতি হঠাতে কড়া সিদ্ধান্ত

    এবার থেকে রাজ্য সরকারি আধিকারিকদের বিরুদ্ধে বিচারপ্রক্রিয়া শুরু করতে রাজ্য সরকারের কোনও অনুমোদন নিতে হবে না কেন্দ্রীয় এজেন্সিকে। দুর্নীতি হঠাতে কড়া সিদ্ধান্ত নিলেন মুখ্য়মন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। কার্যত ফ্রি হ্যান্ড দেওয়া হল সিবিআই, ইডি-র মতো তদন্তকারী সংস্থাগুলোকে। তৃণমূল সরকারের আমলে রাজ্যে শিক্ষা থেকে পুরসভায় নিয়োগে ব্যাপক দুর্নীতি সামনে এসেছে। গ্রেফতার হয়েছেন একের পর এক হেভিওয়েট নেতা-মন্ত্রী থেকে শুরু করে সরকারি আমলা। কিন্তু বারবার সেই কাজে বাধা দিয়েছে তৎকালীন রাজ্য সরকার।

    কলেজগুলির পরিচালন সমিতি ভেঙে দিল রাজ্য সরকার

    রাজ্যের সব সরকারী এবং সরকারী সাহায্যপ্রাপ্ত কলেজগুলি পরিচালন সমিতি ভেঙে দিয়েছে রাজ্য সরকার। উচ্চশিক্ষা দফতরের তরফে গতকাল এই মর্মে নির্দেশিকা জারি হয়েছে। নতুন সরকার, অবসরপ্রাপ্তদের পুনর্নিয়োগ ও চাকরির মেয়াদ বৃদ্ধির সিদ্ধান্ত বাতিল করেছে। সেই অনুযায়ী কলেজগুলির পরিচালন সমিতি ভেঙে দেওয়ার এই সিদ্ধান্ত। এরফলে পরিচালন সমিতির সভাপতি ও অন্যান্য মনোনীত সদস্যদের মেয়াদ বাতিল হয়ে গেল। উল্লেখ্য, গত এক দশকে রাজ্যের বিভিন্ন কলেজে পরিচালন সমিতিতে শাসক দলের নেতাদের প্রভাব খাটানোর অভিযোগ উঠছিল। স্বচ্ছতা ফেরাতেই এই উদ্যোগ বলে জানা গেছে।

    রাজ্য সরকারি কর্মীদের জন্য নির্দেশিকা

    আসি যাই মাইনে পাই কালচারে ইতি! রাজ্য সরকারি কর্মীদের (Government Employees) জন্য কড়াকড়ি শুরু করল রাজ্য সরকার (Government of West Bengal)। মমতা জমানার অবসান ঘটিয়ে ক্ষমতায় এসেছে বিজেপি। আর নতুন বিজেপি সরকার রাজ্যের কর্মসংস্কৃতিতে আমূল বদল আনতে চলছে বলেই মনে করা হচ্ছে। ইতিমধ্যেই সরকারি কর্মীদের জন্য জারি হয়েছে কড়া নির্দেশিকা। এবার থেকে সরকারি কর্মীদের প্রত্যেক কাজের দিন সকাল ১০টা ১৫ মিনিটের মধ্যে অবশ্যই অফিসে উপস্থিত হতে হবে। ছুটির সময় নিয়েও কড়াকড়ি। বলা হয়েছে কাজ শেষ করে বিকেল ৫টা ১৫ মিনিটের আগে কোনও অবস্থাতেই অফিস ছাড়া যাবে না। ক্ষমতায় এসেই সরকারি পরিষেবাকে গতিশীল করতে উদ্যোগী হয়েছে রাজ্য সরকার। এতদিন সরকার চলেছে দলের নির্দেশে, কিন্তু এবার থেকে মানুষের প্রয়োজনে চলবে সরকার।

LinkedIn
Share