Tag: CM Suvendu Adhikari

  • CM Suvendu Adhikari: নারী ক্ষমতায়নে বড় পদক্ষেপ শুভেন্দুর, জুনেই রাজ্যে বিনামূল্যে বাস পরিষেবা ও ‘অন্নপূর্ণার ভাণ্ডার’ চালু করছে নতুন সরকার

    CM Suvendu Adhikari: নারী ক্ষমতায়নে বড় পদক্ষেপ শুভেন্দুর, জুনেই রাজ্যে বিনামূল্যে বাস পরিষেবা ও ‘অন্নপূর্ণার ভাণ্ডার’ চালু করছে নতুন সরকার

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ২০২৬-এর নির্বাচনী সংকল্পপত্রে দেওয়া প্রতিশ্রুতি রক্ষায় বড়সড় পদক্ষেপ গ্রহণ করল রাজ্যের নবগঠিত সরকার। সোমবার নবান্নে আয়োজিত ম্যারাথন ক্যাবিনেট বৈঠক শেষে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী ঘোষণা করেছেন যে, আগামী ১ জুন থেকেই রাজ্যের মহিলারা সরকারি বাসে বিনামূল্যে যাতায়াতের সুবিধা (Free Bus Travel For Women) পাবেন। কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের দেওয়া নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী, প্রথম মন্ত্রিসভার বৈঠকেই এই ঐতিহাসিক জনকল্যাণমূলক সিদ্ধান্তটি চূড়ান্ত করা হয়েছে।

    ১ জুন থেকে কার্যকর হচ্ছে বিনামূল্যে সফর (CM Suvendu Adhikari)

    মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর (CM Suvendu Adhikari) ঘোষণা অনুযায়ী, আগামী মাস থেকেই রাজ্যের সমস্ত সরকারি বাসে মহিলাদের জন্য যাতায়াত সম্পূর্ণ নিখরচায় নিশ্চিত করা হবে। এই সিদ্ধান্তের ফলে কর্মজীবী মহিলা, শিক্ষার্থী এবং সাধারণ নিত্যযাত্রীরা সরাসরি উপকৃত হবেন, যা তাঁদের যাতায়াতের খরচ উল্লেখযোগ্যভাবে হ্রাস করবে। প্রশাসনিক মহলের মতে, এই পদক্ষেপ রাজ্যের নারীশক্তির ক্ষমতায়নে এক বৈপ্লবিক মোড় (Free Bus Travel For Women) নিয়ে আসবে।

    ত্রিমুখী জনকল্যাণ: অন্নপূর্ণার ভাণ্ডার ও আয়ুষ্মান ভারত

    কেবল বিনামূল্যে বাস পরিষেবা নয়, আগামী জুন মাস থেকেই রাজ্যজুড়ে আরও দুটি মেগা প্রকল্প চালু হতে চলেছে:

    • ● অন্নপূর্ণার ভাণ্ডার: মহিলাদের (Free Bus Travel For Women) আর্থিক স্বয়ম্ভরতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে এই বিশেষ প্রকল্পটির সূচনা হতে যাচ্ছে জুনের শুরুতেই।
    • ● আয়ুষ্মান ভারত: স্বাস্থ্যক্ষেত্রে কেন্দ্রীয় বিমা প্রকল্প ‘আয়ুষ্মান ভারত’ এতদিন রাজ্যে বাস্তবায়িত হয়নি। নতুন সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর আগামী মাস থেকেই সাধারণ মানুষ এই জাতীয় স্বাস্থ্য সুরক্ষার আওতাভুক্ত হতে পারবেন।

    প্রতিশ্রুতি পালনে অবিচল বিজেপি সরকার

    নির্বাচনী প্রচার চলাকালীন বিজেপি নেতৃত্ব দাবি করেছিল যে, সরকার গঠনের পর জনকল্যাণমূলক প্রকল্পগুলো বাস্তবায়নে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়া হবে। সোমবার জেলাশাসক ও উচ্চপদস্থ পুলিশ কর্তাদের সঙ্গে প্রশাসনিক বৈঠকের ফাঁকেই এই গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তগুলোতে সিলমোহর দেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী (CM Suvendu Adhikari)।

    রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, দায়িত্ব গ্রহণের স্বল্প সময়ের মধ্যেই এই বৃহৎ প্রকল্পগুলি কার্যকর করার ঘোষণা দিয়ে শুভেন্দু অধিকারী স্পষ্ট করে দিলেন যে, ‘মোদির গ্যারান্টি’ (Free Bus Travel For Women) বাস্তবায়নে তাঁর সরকার দ্রুত পদক্ষেপ গ্রহণে বদ্ধপরিকর। জুন মাস থেকেই পশ্চিমবঙ্গের সাধারণ মানুষ এই বহুমুখী প্রকল্পের সুফল পেতে শুরু করবেন।

  • Annapurna Bhandar: কবে পাবেন ‘অন্নপূর্ণা ভান্ডারের’ টাকা? কী জানালেন নয়া মুখ্যমন্ত্রী?

    Annapurna Bhandar: কবে পাবেন ‘অন্নপূর্ণা ভান্ডারের’ টাকা? কী জানালেন নয়া মুখ্যমন্ত্রী?

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ১ জুন থেকেই মহিলাদের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে ঢুকতে শুরু করবে ‘অন্নপূর্ণা ভান্ডারের’ টাকা। সোমবার নবান্নে বিজেপি-শাসিত সরকারের মন্ত্রিসভার প্রথম বৈঠক ছিল। সেই বৈঠকের পরেই ‘অন্নপূর্ণা ভান্ডার’ (Annapurna Bhandar) চালুর দিনক্ষণ ঘোষণা করে দিল রাজ্য সরকার। এদিন থেকেই সরকারি বাসে চড়লে (WB Govt) মহিলাদের আর ভাড়া দিতে হবে না বলেও জানিয়ে দেওয়া হয়েছে।

    ‘অন্নপূর্ণা ভান্ডারে’র প্রতিশ্রুতি পূরণ (Annapurna Bhandar)

    প্রসঙ্গত, নির্বাচনী প্রচারে পশ্চিমবঙ্গে এসে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি থেকে শুরু করে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ পর্যন্ত বিজেপির হেভিওয়েট নেতারা বার বার মহিলাদের জন্য অন্নপূর্ণা ভান্ডারের প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন। নয়া সরকারের প্রথম কর্মদিবসেই একে একে সেই প্রতিশ্রুতিগুলি পূরণ করা শুরু করলেন নয়া মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু। প্রশাসন সূত্রে খবর, লক্ষ্মীর ভান্ডার যাঁরা পেতেন, তাঁরাই অন্নপূর্ণা ভান্ডারের আওতায় মাসে মাসে তিন হাজার টাকা পাবেন। আপাতত নতুন করে অন্নপূর্ণা ভান্ডারের জন্য আবেদন করার প্রয়োজন নেই। পরবর্তী সময়ে যদি কোনও নথি কিংবা তথ্যের প্রয়োজন হয়, তা জানিয়ে দেওয়া হবে সরকারের তরফে।

    শুভেন্দুর মন্ত্রিসভায় কে, কোন দফতর পেলেন

    এদিকে, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির উপস্থিতিতে শনিবার মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দুর সঙ্গেই ব্রিগেড ময়দানে শপথ নিয়েছিলেন বাকি পাঁচ মন্ত্রীও। এদিন তাঁদের দফতর বণ্টন করেন মুখ্যমন্ত্রী। জানা গিয়েছে, পঞ্চায়েত, কৃষি বিপণন ও প্রাণিসম্পদ দফতরের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে দিলীপ ঘোষকে (Annapurna Bhandar)। অগ্নিমিত্রা পাল পেয়েছেন নারী, শিশু ও সমাজকল্যাণ দফতর এবং পুর ও নগরোন্নয়ন দফতরের দায়িত্ব (WB Govt)। প্রাক্তন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী নিশীথ প্রামাণিক সামলাবেন ক্রীড়া ও উত্তরবঙ্গ উন্নয়ন দফতর। খাদ‍্য ও সরবরাহ দফতরের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে অশোক কীর্তনিয়াকে। আদিবাসী উন্নয়ন দফতরের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে ক্ষুদিরাম টুডুকে। বাকি সব দফতর আপাতত থাকবে মুখ্যমন্ত্রীর হাতে। বিজেপি-শাসিত বাংলার মন্ত্রিসভার প্রথম বৈঠক শেষে শুভেন্দু জানান, তাঁর মন্ত্রিসভা চলবে সুশাসন ও সুরক্ষার পথে। তিনি এও জানান, বিজেপিশাসিত রাজ্যগুলিতে ‘ডবল ইঞ্জিন সরকার’ যে পথে এগোচ্ছে, পশ্চিমবাংলায়ও সরকার সেই পথেই এগোবে (Annapurna Bhandar)।

     

  • CM Suvendu Adhikari: ‘নির্ভয়ে কাজ করুন’, বৈঠকে সচিবদের নির্দেশ নয়া মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দুর

    CM Suvendu Adhikari: ‘নির্ভয়ে কাজ করুন’, বৈঠকে সচিবদের নির্দেশ নয়া মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দুর

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: শপথ নিয়েছিলেন শনিবার, ব্রিগেড ময়দানে। সোমবার গেলেন নবান্নে। সেখানে গিয়ে রাজ্যের সচিবদের নির্ভয়ে কাজ করতে বললেন পশ্চিমবঙ্গের নয়া মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী (CM Suvendu Adhikari)। জানিয়ে দেন, এবার থেকে তাঁকে খুশি করতে কোনও হোর্ডিং বা ফলকে ‘মুখ্যমন্ত্রীর অনুপ্রেরণা’ লিখতে হবে না (Govt Officers)।

    ‘মুখ্যমন্ত্রীর অনুপ্রেরণা’ (CM Suvendu Adhikari)

    তৃণমূল জমানায় রাজ্যের বিভিন্ন সরকারি প্রকল্প থেকে কর্মসূচির হোর্ডিং, সর্বত্র ফলকে ‘মুখ্যমন্ত্রীর অনুপ্রেরণা’ শব্দটি লেখা থাকত। নবান্নে কাজে যোগ দিয়ে প্রথম দিনই সচিবদের এই বিষয়ে সতর্ক করে দেন শুভেন্দু। জানিয়ে দেন, পূর্বতন সরকার বিশেষ একটি রাজনৈতিক দলের হয়ে কাজ করছিল। তাঁর সরকার সে রকম কিছু করবে না। এর পরেই সচিবদের নির্ভয়ে কাজ করার কথা জানান তিনি। বলেন, “সরকার তথ্য, নিয়মের ওপরে চলে। সরকারি সিদ্ধান্ত হয় সংবিধানের কতগুলি বিষয়ের ওপরে। এই সরকার ‘আমিত্বে’ বিশ্বাস করে না, ‘আমরা’-নীতিতে চলবে। সংবিধানকে গুরুত্ব দিয়েই আমরা কাজ করব। আমরা আশা করব, এই সরকারের কোনও সিদ্ধান্ত নিয়ে সমালোচকরাও কোনও সমালোচনা করতে পারবেন না। এমন কোনও সুযোগ এই সরকার দেবে না, ভরসা রাখুন।”

    সরকারি অর্থের অপচয় রুখতে হবে

    সচিবদের (CM Suvendu Adhikari) সঙ্গে বৈঠকে মুখ্যমন্ত্রী জানান, সরকারি অর্থের অপচয় রুখতে হবে। অর্থের যাতে অপচয় না হয়, তা দেখতে হবে। যেখানে কাজ করার প্রয়োজন রয়েছে, সেখানে খরচ করতে হবে, বন্ধ করতে হবে অপ্রয়োজনীয় খরচ। রাজ্যে কেন্দ্রীয় সরকারের যে সব প্রকল্প এতদিন কার্যকর করা হয়নি, সেগুলি চালু করার কথা বলেন মুখ্যমন্ত্রী। এদিন নবান্নে আসার আগে শুভেন্দু গিয়েছিলেন সল্টলেকের বিজেপি দফতরে। সেখানে বিজেপির রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্যের সঙ্গে বৈঠকও করেন তিনি। বৈঠকের পরে শমীকও বলেছিলেন, “সরকার সরকারের মতো চলবে। দল দলের মতো (Govt Officers)। এটি কোনও বিজেপি সরকার নয়। এটি পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য সরকার (CM Suvendu Adhikari)।”

     

  • CM Suvendu Initiates Census: পশ্চিমবঙ্গে জনগণনা শুরুতে ছাড়পত্র, আগের তৃণমূল সরকারকে তোপ শুভেন্দুর

    CM Suvendu Initiates Census: পশ্চিমবঙ্গে জনগণনা শুরুতে ছাড়পত্র, আগের তৃণমূল সরকারকে তোপ শুভেন্দুর

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: পশ্চিমবঙ্গে নতুন সরকার গঠনের পর প্রশাসনিক ক্ষেত্রে বড় সিদ্ধান্ত নিল শুভেন্দু অধিকারী সরকার। সোমবার রাজ্য মন্ত্রিসভার বৈঠকে পশ্চিমবঙ্গে জনগণনা (Census) প্রক্রিয়া শুরু করার জন্য ছাড়পত্র দেওয়া হয়েছে। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী জানান, অবিলম্বে কেন্দ্রের নির্দেশিকা কার্যকর করা হবে এবং প্রশাসনিক স্তরে প্রস্তুতিও শুরু হবে।

    মমতাকে আক্রমণ শুভেন্দুর

    এই ঘোষণা করতে গিয়েই আগের তৃণমূল কংগ্রেস সরকার এবং দলের সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে তীব্র আক্রমণ করেন মুখ্যমন্ত্রী। শুভেন্দুর অভিযোগ, ২০২৫ সালের ১৬ জুন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের অধীন রেজিস্ট্রার জেনারেল অব ইন্ডিয়া-র দফতর থেকে পশ্চিমবঙ্গ সরকারকে একটি সরকারি বিজ্ঞপ্তি পাঠানো হয়েছিল, যেখানে রাজ্যে আসন্ন জনগণনা প্রক্রিয়া নিয়ে প্রস্তুতি নেওয়ার নির্দেশ ছিল। কিন্তু সেই বিজ্ঞপ্তি কার্যকর করা হয়নি। মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “তৃণমূল সরকার সংবিধান এবং রাজ্যের মানুষের সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা করেছে। ইচ্ছাকৃতভাবে পশ্চিমবঙ্গে জনগণনা প্রক্রিয়া আটকে রাখা হয়েছিল, যাতে মহিলাদের সংরক্ষণ কার্যকর না হয়। আজ মন্ত্রিসভা অবিলম্বে ওই বিজ্ঞপ্তি কার্যকর করার অনুমোদন দিয়েছে।”

    কেন গুরুত্বপূর্ণ এই জনগণনা?

    ভারতে সাধারণত প্রতি ১০ বছর অন্তর জনগণনা হয়। শেষ জনগণনা হয়েছিল ২০১১ সালে। ২০২১ সালের জনগণনা কোভিড-১৯ অতিমারির কারণে স্থগিত হয়ে যায়। এরপর এখনও পর্যন্ত পূর্ণাঙ্গভাবে সেই প্রক্রিয়া শুরু করা যায়নি।

    জনগণনা শুধুমাত্র জনসংখ্যা গণনার বিষয় নয়, এর উপর নির্ভর করে—

    • ● কেন্দ্র ও রাজ্যের বিভিন্ন কল্যাণমূলক প্রকল্পের পরিকল্পনা
    • ● খাদ্য নিরাপত্তা ও রেশন বণ্টন
    • ● স্বাস্থ্য ও শিক্ষা অবকাঠামো পরিকল্পনা
    • ● নগরায়ণ ও আবাসন নীতি
    • ● ভবিষ্যতের নির্বাচনী সীমানা পুনর্নির্ধারণ (Delimitation)
    • ● মহিলাদের সংরক্ষণ ইস্যুতে রাজনৈতিক তাৎপর্য
    • ● বিরোধী রাজ্যগুলি এই প্রক্রিয়া বিলম্বিত করছে!

    শুভেন্দু অধিকারীর বক্তব্যে স্পষ্ট, এই সিদ্ধান্তকে শুধুমাত্র প্রশাসনিক পদক্ষেপ হিসেবে নয়, রাজনৈতিক বার্তা হিসেবেও তুলে ধরতে চাইছে নতুন সরকার। উল্লেখ্য, ২০২৩ সালে সংসদে পাশ হওয়া নারী শক্তি বন্দন অধিনিয়ম অনুযায়ী লোকসভা ও রাজ্য বিধানসভায় ৩৩ শতাংশ মহিলা সংরক্ষণ কার্যকর করতে হলে নতুন জনগণনা এবং পরবর্তী ডিলিমিটেশন প্রক্রিয়া সম্পন্ন হওয়া জরুরি। এই কারণেই জনগণনা বিলম্বিত হওয়াকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক চাপানউতোর চলছিল। বিজেপির অভিযোগ, বিরোধী শাসিত কিছু রাজ্য পরোক্ষে এই প্রক্রিয়াকে বিলম্বিত করেছে।

    কী কী প্রস্তুতি শুরু হবে?

    সরকারি সূত্রে জানা গিয়েছে, মন্ত্রিসভার অনুমোদনের পর থেকেই বিভিন্ন প্রশাসনিক দফতর জেলাশাসক, ব্লক প্রশাসন এবং কেন্দ্রীয় সংস্থার সঙ্গে সমন্বয় শুরু করবে।

    প্রাথমিক পর্যায়ে যে কাজগুলি শুরু হতে পারে—

    • ● প্রশাসনিক সীমানা ও ওয়ার্ড সংক্রান্ত তথ্য আপডেট
    • ● বাড়ি তালিকাকরণ (House Listing)
    • ● তথ্য সংগ্রহের জন্য ফিল্ড স্টাফ ও এনুমেরেটর প্রস্তুতি
    • ● ডিজিটাল ডেটা সংগ্রহের অবকাঠামো গড়ে তোলা
    • ● জেলা ও পুরসভা স্তরে সমন্বয় বৈঠক

    রাজ্য প্রশাসনের একাংশ জানিয়েছে, ক্যাবিনেট অনুমোদনের পর থেকেই বাস্তবায়ন সংক্রান্ত কাজ শুরু হবে।

    নতুন সরকারের প্রথম বড় প্রশাসনিক পদক্ষেপ

    বিশ্লেষকদের মতে, নতুন বিজেপি সরকারের এটি অন্যতম প্রথম বড় প্রশাসনিক পদক্ষেপ। সরকার ইতিমধ্যেই সীমান্তে কাঁটাতারের বেড়া নির্মাণ, আয়ুষ্মান ভারত প্রকল্প চালু এবং কেন্দ্র-রাজ্য সমন্বয় বাড়ানোর মতো বিষয়কে অগ্রাধিকার দিয়েছে। সেই তালিকায় এবার যুক্ত হল জনগণনা। নতুন সরকার এই সিদ্ধান্তের মাধ্যমে বার্তা দিতে চাইছে যে, তারা কেন্দ্রের নীতি ও প্রশাসনিক অগ্রাধিকারের সঙ্গে দ্রুত সামঞ্জস্য স্থাপন করছে।

    এখনও স্পষ্ট নয় সময়সূচি

    যদিও জনগণনা শুরু করার অনুমোদন দেওয়া হয়েছে, এখনও পর্যন্ত সরকার কোনও নির্দিষ্ট সময়সূচি ঘোষণা করেনি।

    এখনও জানা যায়নি—

    • ● বাড়ি তালিকাকরণ কবে শুরু হবে
    • ● মাঠ পর্যায়ে তথ্য সংগ্রহ কবে হবে
    • ● জনগণনা প্রক্রিয়া শেষ করতে কত সময় লাগবে

    তবে সরকারি সূত্রের দাবি, কেন্দ্রের সঙ্গে চূড়ান্ত সমন্বয়ের পর বিস্তারিত সময়সূচি ঘোষণা করা হবে।

  • Suvendu Adhikari: সরকারি চাকরির বয়স ৫ বছর বৃদ্ধি, আয়ুষ্মান ভারত চালু, বিএসএফকে জমি হস্তান্তর, প্রথম দিনেই ৬ সিদ্ধান্ত শুভেন্দুর মন্ত্রিসভার

    Suvendu Adhikari: সরকারি চাকরির বয়স ৫ বছর বৃদ্ধি, আয়ুষ্মান ভারত চালু, বিএসএফকে জমি হস্তান্তর, প্রথম দিনেই ৬ সিদ্ধান্ত শুভেন্দুর মন্ত্রিসভার

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: আগে থেকে চলতে থাকা কোনও সামাজিক কল্যাণমূলক প্রকল্প বন্ধ হচ্ছে না। চালু হচ্ছে আয়ুষ্মান ভারত-সহ সব কেন্দ্রীয় স্কিম, নবান্নে প্রথম মন্ত্রিসভার বৈঠকের পর এই ঘোষণা করলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। তিনি জানান, আগে চালু থাকা সমস্ত প্রকল্প থাকবে। তবে অভারতীয় বা মৃত কেউ এই সমস্ত প্রকল্পের সুবিধা পাবেন না বলে জানান তিনি।

    নবান্নে শুভেন্দুর প্রথম দিন

    সোমবার সকাল সাড়ে ১১টা নাগাদ নবান্নে পৌঁছন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari)। এরপর তাঁকে ভিআইপি করিডরে গার্ড অফ অনার দেওয়া হয়। ১০-১৫ মিনিটের গার্ড অফ অনার দেওয়ার অনুষ্ঠান হয়। কলকাতা পুলিশের টিম, কলকাতা পুলিশের ব্যান্ড গার্ড অফ অনার দিয়েছে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীকে। এরপর সোজা ১৪ তলায় পৌঁছন তিনি। নবান্নে রাজ্যে প্রথম বিজেপি সরকারের মন্ত্রিসভার বৈঠক হয়। ১৪ তলার একটি কনফারেন্স রুমে গিয়ে ৫ মন্ত্রীর সঙ্গে মুখ্যমন্ত্রী মন্ত্রিসভার প্রথম বৈঠক সারেন। ছিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী এবং মন্ত্রী পদে শপথ নেওয়া ৫ জন— অগ্নিমিত্রা পাল, অশোক কীর্তনিয়া, ক্ষুদিরাম টুডু, নিশীথ প্রামাণিক এবং দিলীপ ঘোষ। এছাড়াও, এই বৈঠকে হাজির ছিলেন বেশ কিছু দফতরের আধিকারিকরাও। এর পর মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী সাংবাদিকদের মুখোমুখি হন, জানান ৬ সিদ্ধান্তের কথা ।

    প্রথম মন্ত্রিসভায় ৬ সিদ্ধান্ত

    মন্ত্রিসভা বৈঠকের পর সাংবাদিক বৈঠক শুভেন্দু অধিকারীর। একাধিক গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। সিদ্ধান্তগুলি হল—

    ● বিজেপির নিহত কর্মীদের পাশে সরকার

    মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “বিজেপির অকালে ঝরে যাওয়া ৩২১ জনকে শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করেছি, সমবেদনা জানিয়েছি। তাদের পরিবারের প্রতি এই সরকার দায়বদ্ধ। হত্যার বিচার চান তাঁরা। তা আমরা দেব। আত্ম বলিদানকারী বিজেপি কর্মীর পরিবারগুলির দায়িত্ব আমাদের। তাঁদের পরিবারের সামাজিক এবং অন্যান্য কল‍্যাণমূলক দায়িত্ব আমরা নিলাম।”

    ৪৫ দিনের মধ্যে বিএসএফ-কে জমি হস্তান্তর

    সীমান্তে কাঁটাতার নির্মাণ এবং নিরাপত্তা পরিকাঠামো তৈরির জন্য প্রয়োজনীয় জমি ৪৫ দিনের মধ্যে বিএসএফ-এর হাতে তুলে দেবে পশ্চিমবঙ্গ সরকার। মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “রাজ্যের জনবিন্যাস বদলে গিয়েছে। প্রথম দিনই কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক এবং বিএসএফ-কে আমরা জমি হস্তান্তরে অনুমোদন দিলাম। ভূমি ও রাজস্ব সচিব এবং মুখ্যসচিবকে দায়িত্ব দেওয়া হল। ৪৫ দিনের মধ্যে বিএসএফ-এর হাতে প্রয়োজনীয় জমি তুলে দেওয়া হবে।” কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রকের সঙ্গে সমন্বয় রেখে এই প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হবে বলেও জানান তিনি।

    আয়ুষ্মান ভারতে যুক্ত হল পশ্চিমবঙ্গ

    ‘আয়ুষ্মান ভারত’ প্রকল্পে যুক্ত হল পশ্চিমবঙ্গ। বিজেপি সরকারের প্রথম মন্ত্রিসভার বৈঠকের পর সাংবাদিক বৈঠক করেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। বড় ঘোষণা করে মুখ্যমন্ত্রী জানান, আজ থেকেই পশ্চিমবঙ্গ আয়ুষ্মান ভারত ( Ayushman Bharat ) প্রকল্পে যুক্ত হল। পাশাপাশি, প্রধানমন্ত্রী জন আরোগ্য যোজনা (Pradhan Mantri Jan Arogya Yojana), প্রধানমন্ত্রী কৃষক বিমা যোজনা (Pradhan Mantri Kisan Bima Yojana), পিএম বিশ্বকর্মা (PM Vishwakarma), বেটি বাঁচাও বেটি পড়াও (Beti Bachao Beti Padhao), পিএম উজ্জ্বলা (PM Ujjwala) যোজনা সহ কেন্দ্রীয় সমস্ত প্রকল্পের সঙ্গে সংযুক্ত হল রাজ্য।

    মুখ্যমন্ত্রী দাবি করেন, বিভিন্ন গ্রাহক বিতরণ কেন্দ্র এবং প্রশাসনিক স্তরে বহু আবেদন দীর্ঘদিন ধরে আটকে রাখা হয়েছিল। তাঁর অভিযোগ, “রাজনৈতিক কারণে প্রচুর আবেদন ফেলে রেখেছিলেন জেলা শাসকরা।” তিনি জানান, অবিলম্বে সংশ্লিষ্ট কেন্দ্রীয় মন্ত্রকের কাছে সেই সমস্ত আবেদন পাঠানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। মুখ্যমন্ত্রী জানান, উজ্জ্বলা প্রকল্পের আওতায় ৮ লক্ষ ৬৫ হাজার আবেদন করেছিলেন। সেগুলি আগের সরকার কেন্দ্রীয় সরকারে পাঠাতে দেননি। আজ সেই আবেদন গুলি পেট্রোলিয়াম মন্ত্রকে পাঠানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

    আইএএস-আইপিএসদের প্রশিক্ষণ

    প্রশাসনিক ক্ষেত্রেও বড় পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। শুভেন্দু জানান, প্রশাসনিক সংস্কারের অংশ হিসেবে আইএএস আধিকারিকদের কেন্দ্রীয় প্রশিক্ষণ ব্যবস্থার সঙ্গে যুক্ত করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভা। তিনি বলেন, এবার থেকে পশ্চিমবঙ্গের আইএএস ও আইপিএস আধিকারিকরাও দেশের অন্যান্য রাজ্যের মতো কেন্দ্রীয় প্রশিক্ষণ কর্মসূচিতে অংশ নিতে পারবেন। মুখ্যমন্ত্রীর অভিযোগ, “আগের মুখ্যমন্ত্রীর অলিখিত নির্দেশে আইএএস, আইপিএস-রা প্রশিক্ষণ নিতে পারতেন না।” এই বিষয়ে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার দায়িত্ব মুখ্যসচিবকে দেওয়া হয়েছে বলেও জানিয়েছেন তিনি।

    বঙ্গে চালু হল বিএনএস

    আজ থেকে ভারতীয় ন্যায় সংহিতা বা বিএনএস-এ যুক্ত হল পশ্চিমবঙ্গ। মুখ্যমন্ত্রী বলেন, এতদিন সংবিধান অগ্রাহ্য করে অত্যন্ত অবৈধ ভাবে আগের আইপিসি, সিআরপিসি চলছিল। আজ থেকে বিএনএস-এ যুক্ত হল পশ্চিমবঙ্গ।

    সরকারি চাকরিতে ঊর্ধ্বসীমা বৃদ্ধি

    সরকারি চাকরি পাওয়ার বয়স পাঁচ বছর বৃদ্ধি করল রাজ্যের বিজেপি সরকার। মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহজি বলেছিলেন, ২০১৫ সালের পর রাজ্যে সরকারি চাকরিতে কোনও নিয়োগ হয়নি। তাই প্রচুর শিক্ষিত যুবক-যুবতীর বয়স চলে গিয়েছে। সে কথা মাথায় রেখে সরকারি চাকরিতে আবেদনের বয়ঃসীমা পাঁচ বছর বৃদ্ধি করা হল।”

    একইসঙ্গে মুখ্যমন্ত্রীর ঘোষণা, জনগণনার কাজ আজ থেকে শুরু করল রাজ্য। কেন্দ্রের নির্দেশ এখন থেকেই কার্যকর। মুখ্যমন্ত্রী জানান, আগামী সোমবার মন্ত্রিসভার পরবর্তী বৈঠক। তিনি বলেন, “পরবর্তী সোমবার আমরা মন্ত্রিসভার আরও একটি বৈঠক করব। আরজি কর-সহ নারী নির্যাতন, প্রাতিষ্ঠানিক দুর্নীতি, পে কমিশন, মহার্ঘ্য ভাতা (ডিএ), এরিয়ারের বিষয়ে আমরা ওই দিন আলোচনা করব।”

  • West Bengal Government: ‘‘এই সরকার বিজেপির সরকার নয়, পশ্চিমবঙ্গ সরকার হবে’’, মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দুর সঙ্গে বৈঠকের পর বার্তা শমীকের

    West Bengal Government: ‘‘এই সরকার বিজেপির সরকার নয়, পশ্চিমবঙ্গ সরকার হবে’’, মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দুর সঙ্গে বৈঠকের পর বার্তা শমীকের

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: সল্টলেকে বিজেপির রাজ্য দফতরে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর সঙ্গে বৈঠকের পর রাজ্য বিজেপি সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য স্পষ্ট বার্তা দেন। তিনি বলেন, “সরকার তার নিজস্ব নিয়মে চলবে। বিজেপির সঙ্কল্পপত্র বাস্তবায়নের জন্য সরকারের সঙ্গে দলের সমন্বয় থাকবে। তবে এই সরকার বিজেপির সরকার নয়, এটা পশ্চিমবঙ্গ সরকার হবে।” শমীক ভট্টাচার্যের এই মন্তব্যের রাজনৈতিক তাৎপর্য বেশ স্পষ্ট। বার্তাটা পরিষ্কার, বর্তমান সরকার দলমত নির্বিশেষে সকলের জন্য কাজ করবে।

    শমীকের বাড়িতে শুভেন্দু

    সোমবার সকালে চিনার পার্কের বাসভবন থেকে বেরিয়ে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর কনভয় প্রথমে পৌঁছয় সল্টলেকের বিএইচ ব্লকে, বিজেপির রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্যের পৈতৃক বাড়িতে। সেখানে সৌজন্য সাক্ষাতে মিলিত হন দু’জন। কিছু সময় ব্যক্তিগত আলাপচারিতার পর শমীকের সঙ্গে একই গাড়িতে বিজেপির সেক্টর ফাইভের রাজ্য কার্যালয়ের উদ্দেশে রওনা দেন মুখ্যমন্ত্রী। শুভেন্দুর আগমন ঘিরে সকাল থেকেই শমীকের বাড়ির সামনে ভিড় জমায় বহু সাধারণ মানুষ ও বিজেপি কর্মী-সমর্থকরা। মুখ্যমন্ত্রী গাড়ি থেকে নামতেই তাঁকে পদ্মফুলের মালা পরিয়ে স্বাগত জানানো হয়। বাড়ির ভিতরে শমীক ভট্টাচার্যের পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে শুভেন্দুর পরিচয়পর্ব ও সৌজন্য বিনিময় হয়। মিষ্টিমুখ এবং এক কাপ চায়ের পর দু’জনে একসঙ্গে দলীয় কার্যালয়ের উদ্দেশে বেরিয়ে যান।

    ফুলে-মালায় বরণ শুভেন্দুকে

    বিজেপি সূত্রে জানা গিয়েছে, সেক্টর ফাইভের দলীয় দফতরে শমীক-শুভেন্দুর বৈঠক আগে থেকেই নির্ধারিত ছিল। তবে তার আগে রাজ্য সভাপতির বাড়িতে মুখ্যমন্ত্রীর এই সফর ছিল সৌজন্যমূলক। নতুন দায়িত্ব গ্রহণের পর কাজ শুরুর আগে শুভেচ্ছা জানাতেই তিনি শমীকের বাড়িতে যান বলে দলীয় সূত্রের দাবি। এদিকে, বিজেপির সল্টলেক কার্যালয়েও মুখ্যমন্ত্রীকে ঘিরে ছিল উৎসবের আবহ। শঙ্খধ্বনি, উত্তরীয় এবং ২০৭টি পদ্মফুলের মালা দিয়ে তাঁকে বরণ করা হয়। মহিলা বিজেপি কর্মীরা বরণডালা নিয়ে শুভেন্দুকে স্বাগত জানান এবং তাঁকে মা দুর্গার একটি মূর্তি উপহার দেন।

    ‘‘বিজেপি সরকার নয়, পশ্চিমবঙ্গ সরকার’’

    এরপর বিজেপির রাজ্য দফতরে শমীক ভট্টাচার্যের সঙ্গে পূর্বনির্ধারিত বৈঠকে বসেন মুখ্যমন্ত্রী। বৈঠক শেষে শমীক আবারও জোর দিয়ে বলেন, সরকার দলীয় সীমারেখা ছাড়িয়ে রাজ্যের স্বার্থে কাজ করবে। তিনি বলেন, “এই সরকার বিজেপির সরকার নয়, এটা পশ্চিমবঙ্গ সরকার হবে।”  এই বার্তার মাধ্যমে মূলত নতুন সরকারকে শুধুমাত্র দলীয় সরকারের ছাপ থেকে দূরে রাখার চেষ্টা করা হয়েছে। বৈঠক শেষে শুভেন্দু অধিকারী নবান্নের উদ্দেশে রওনা দেন। শমীক বলেছেন, “সরকার সরকারের মতো চলবে, দলের সঙ্কল্পপত্র বাস্তবায়নে যোগাযোগ থাকবে।” অর্থাৎ দল নীতিগত দিশা দেবে, কিন্তু প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত সরকার নেবে। এতে বোঝানো হচ্ছে যে সরকার শুধুমাত্র পার্টি অফিস থেকে পরিচালিত হবে না।

    নবান্নয় শুভেন্দুর কর্মসূচি

    মুখ্যমন্ত্রী হওয়ার পরে সোমবার প্রথম নবান্নে শুভেন্দু অধিকারী। এদিন নবান্নে পশ্চিমবঙ্গের প্রথম বিজেপি সরকারের প্রথম মন্ত্রিসভার বৈঠক হওয়ার কথা। আটকে থাকা কেন্দ্রীয় প্রকল্পগুলি নিয়ে বৈঠকে আলোচনা হতে পারে। বিকেল তিনটে নাগাদ নবান্ন সভাঘরে বিজয়ী বিধায়কদের নিয়ে বৈঠক হবে। পাশাপাশি তিনটি প্রশাসনিক বৈঠকও রয়েছে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দুর। প্রথম বৈঠকটি দুপুরে। রাজ্য প্রশাসনের শীর্ষকর্তাদের নিয়ে প্রথমে একটি পর্যালোচনা বৈঠক করবেন তিনি। এর পর বিকেল ৪টে নাগাদ সব জেলাশাসকদের সঙ্গে বৈঠক। বিকেল ৫টা নাগাদ ডিজি, এডিজি আইনশৃঙ্খলা, সিপি ও এসপিদের নিয়ে বৈঠক করবেন শুভেন্দু।

  • Suvendu Adhikari: নবান্নে প্রথম মন্ত্রিসভার বৈঠক শুক্রবার, একাধিক কেন্দ্রীয় প্রকল্পের বাস্তবায়নের পথে ডাবল ইঞ্জিন সরকার

    Suvendu Adhikari: নবান্নে প্রথম মন্ত্রিসভার বৈঠক শুক্রবার, একাধিক কেন্দ্রীয় প্রকল্পের বাস্তবায়নের পথে ডাবল ইঞ্জিন সরকার

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: রাজ্যে স্বাধীনতার পর বিজেপির প্রথম মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শপথ নিয়েছেন ভবানীপুর ও নন্দীগ্রামের বিধায়ক, জায়ান্ট কিলার শুভেন্দু অধিকারী। শুক্রবার নবান্নে মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে তিনি (Suvendu Adhikari) করতে চলেছেন নয়া মন্ত্রিসভার প্রথম বৈঠক (Cabinet Meeting)। এই বৈঠককে ঘিরে রাজনৈতিক মহলে উত্তেজনা তুঙ্গে। এই প্রথম বৈঠকেই বঙ্গবাসীর জন্য বেশ কিছু বড় প্রকল্পের কথা ঘোষণা করা হতে পারে। গত ১৫ বছর ধরে তৃণমূল পরিচালিত মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরকার যে যে কেন্দ্রীয় প্রকল্প থেকে রাজ্যবাসীকে প্রাপ্য সরকারি অধিকার থেকে বঞ্চিত করেছে, সেগুলি দ্রুত বাস্তবায়িত করা হবে।

    সোমবার বিকেল ৫টায় বৈঠক (Suvendu Adhikari)

    বিজেপি সূত্রে খবর, নয়া মুখ্যমন্ত্রী সরকার পরিচালনা করবেন মহাকরণ থেকে। তবে মহাকরণে সংস্কারের কাজ চলায় আপাতত বিধানসভায়ই বসবেন শুভেন্দু (Suvendu Adhikari)। ইতিমধ্যেই বিধানসভায় মুখ্যমন্ত্রীর নামে বিশেষ ফলকও বাসানো হয়েছে। সোমবার নবান্ন সভাঘরে প্রথম বড় বৈঠক করবেন মুখ্যমন্ত্রী। রাজ্যের ডিজিপি, এডিজি (আইনশৃঙ্খলা) থেকে শুরু করে সব জেলার পুলিশ সুপারদের নিয়ে বৈঠকে বসতে চলেছেন বিজেপির প্রথম মুখ্যমন্ত্রী। সোমবার বিকেল ৫টায় এই বৈঠক হবে। এরপর শুক্রবার নবান্নেই বিজেপি সরকারের প্রথম ক্যাবিনেট (Cabinet Meeting) বৈঠকের সম্ভাবনা। নবান্নেই বসবে নতুন সরকারের প্রথম মন্ত্রিসভার বৈঠক।

    আয়ুষ্মান ভারত প্রকল্প

    দীর্ঘদিন ধরে পশ্চিমবঙ্গ সরকার কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্য প্রকল্প ‘আয়ুষ্মান ভারত’ চালু করেনি। এই বৈঠকে সবচেয়ে বড় সিদ্ধান্ত হতে পারে রাজ্যে এই কেন্দ্রীয় প্রকল্পের প্রয়োগ নিশ্চিত করা। এর ফলে সাধারণ মানুষ ৫ লক্ষ টাকা পর্যন্ত বিনামূল্যে চিকিৎসার সুযোগ পাবেন।

    সরকারি কর্মচারীদের ডিএ (DA)

    বকেয়া মহার্ঘ ভাতা বা ডিএ নিয়ে রাজ্যের সরকারি কর্মচারীদের মধ্যে দীর্ঘদিনের অসন্তোষ রয়েছে। প্রথম ক্যাবিনেট বৈঠকেই ডিএ নিয়ে কোনও ইতিবাচক ঘোষণা বা কিস্তি মেটানোর পরিকল্পনা করা হতে পারে।

    কৃষক ও যুবকদের জন্য প্রকল্প

    কেন্দ্রীয় প্রকল্প ‘পিএম কিষান নিধি’র সুবিধা রাজ্যের প্রতিটি কৃষকের কাছে পৌঁছে দেওয়া এবং বেকার যুবক-যুবতীদের কর্মসংস্থানের জন্য নতুন কোনও রূপরেখা তৈরি করা হতে পারে।

    প্রশাসনিক রদবদল

    নবান্নের অন্দরে এবং পুলিশ প্রশাসনে বড়সড় রদবদল ঘটিয়ে প্রশাসনকে আরও গতিশীল করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হতে পারে। ব্রিগেডে শুভেন্দুর (Suvendu Adhikari)  সঙ্গে শপথ নিয়েছেন দিলীপ ঘোষ, অগ্নিমিত্রা পাল, অশোক কীর্তনিয়া, নিশীথ প্রামাণিক এবং ক্ষুদিরাম টুডু। প্রোটেম স্পিকার হিসেবে শপথ নেবেন তাপস রায়। বুধ ও বৃহস্পতিবার শপথ নেবেন বাকি বিধায়করা। শুভেন্দুর নেতৃত্বে এই প্রথম মন্ত্রিসভার (Cabinet Meeting) বৈঠকটি মূলত ‘ডাবল ইঞ্জিন সরকারে’র উন্নয়নমূলক মডেলকে সামনে রেখে পরিচালিত হতে পারে। যেখানে কেন্দ্রের জনকল্যাণমূলক প্রকল্পগুলিকে দ্রুত রাজ্যে কার্যকর করাই হবে নয়া সরকারের প্রধান লক্ষ্য।

  • CM Suvendu Adhikari: মমতার নেমপ্লেট সরিয়ে বিধানসভায় বসল মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দুর নাম, ১৫ বছর পর আমূল বদলের ছবি

    CM Suvendu Adhikari: মমতার নেমপ্লেট সরিয়ে বিধানসভায় বসল মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দুর নাম, ১৫ বছর পর আমূল বদলের ছবি

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: শনিবার পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শপথ নিয়েছেন শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari)। এর সঙ্গে বিধানসভাতে (West Bengal Assembly) পরিবর্তন লক্ষ্য করে গেল। যেখানে এতদিন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের (Mamata Banerjee) নেমপ্লেট ছিল। সেখানে আজ বসানো হল শুভেন্দু অধিকারীর নেমপ্লেট। বাকি ঘরগুলিও খোলা হয়েছে। দফতর নির্ধারিত হওয়ার পরেই সেখানেও নেপপ্লেট বসে যাবে। এখন যুদ্ধকালীন তৎপরতায় কাজ চলছে রাজ্য বিধানসভা চত্বরে। বিধানসভা রং করা থেকে শুরু করে সংস্কারের কাজ চলছে জোরকদমে। বিধানসভাকে মুড়ে ফেলা হচ্ছে গেরুয়া আলোয়৷ ইতিমধ্যেই বসানো হচ্ছে ৩৫০টি আলোর সেট।

    ১৫ বছর পর রাজ্যে পালাবদল…

    ১৫ বছর পর রাজ্যে পালাবদল হয়েছে। বিধানসভার ভেতর ও বাইরের সাজসজ্জাও অনেকটা বদলে গিয়েছে। এ বার আর বিরোধী দলনেতা নয়, মুখ্যমন্ত্রী হিসাবে বিধানসভায় প্রবেশ করবেন শুভেন্দু। তাঁর বসার ব্যবস্থাও মুখ্যমন্ত্রীর পুরনো ঘরে। প্রথমে ঠিক হয়েছিল মুখ্যমন্ত্রী বসবেন অ্যানেক্স বিল্ডিংয়ে। কিন্তু নিরাপত্তারক্ষীদের কথা মাথায় রেখে এবং অন্য কয়েকটি বিষয়কে গুরুত্ব দিয়ে ঠিক হয়েছে মুখ্যমন্ত্রীদের জন্য নির্দিষ্ট ঘরেই বসবেন শুভেন্দু। নতুন সরকারের শপথগ্রহণের দিন তোড়জোড় দেখা গেল বিধানসভায়। মুখ্যমন্ত্রীর ঘর নতুন করে সাজানোর পাশাপাশি জিনিসপত্র গোছগাছের কাজ চলছে। শুক্রবার পর্যন্ত বিধানসভায় মুখ্যমন্ত্রীর ঘরে ছিল মমতার নামে নেমপ্লেট। শনিবার, মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেওয়ার পর, ওই ঘরে বসল শুভেন্দু অধিকারীর (Suvendu Adhikari) নেমপ্লেট। অন্যদিকে, বিরোধী দলনেতা হিসেবে যে ঘরে বসতেন শুভেন্দু, সেখান থেকে তার নাম সরিয়ে ফেলা হয়েছে বলে জানা যাচ্ছে।

    বিধানসভায় আমূল পরিবর্তন…

    বিধানসভায় প্রত্যেক দফতরের মন্ত্রীর জন্য বসার নির্দিষ্ট ঘর রয়েছে। পার্থ চট্টোপাধ্যায়, মলয় ঘটক, শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়, চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য এবং ফিরহাদ হাকিমরা যে ঘরগুলিতে বসতেন, সেগুলি পরিস্কার করা হয়েছে। এমনকি নেমপ্লেটও বদল করা হয়েছে। প্রায় চার বছর পর খোলা হল রাজ্যের প্রাক্তন শিক্ষামন্ত্রী পার্থ চট্টোপাধ্যায়ের ঘর। নিয়োগ দুর্নীতি মামলায় পার্থ গ্রেফতার হওয়ার পর থেকে ওই ঘরটি তালাবন্ধ অবস্থায় ছিল। শুক্রবার তালা খুলে ঘরটি পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন করা হয়েছে। বিধানসভার সব ফ্লোরেই পরিবর্তন চোখে পড়েছে। প্রাক্তন সরকারি মুখ্য সচেতক নির্মল ঘোষ, প্রাক্তন ডেপুটি চিফ গভর্নমেন্ট হুইপ দেবাশিস কুমার, প্রাক্তন শিক্ষামন্ত্রী ব্রাত্য বসুর নামফলক স্ক্রু ড্রাইভার দিয়ে খোলা হয়। সরকারি প্রটোকল মেনে ঘরগুলি ‘স্যানিটাইজ’ করছে পিডব্লিউডি বা পূর্ত দফতর। নতুন আসবাবপত্র আনা হচ্ছে। সব মিলিয়ে এক আমূল পরিবর্তনের ছবি ধরা পড়ছে বিধানসভার অলিন্দে।

    বিধানসভাতেই তৈরি হবে সিএমও

    এদিকে, বিধানসভাতেই তৈরি হবে মুখ্যমন্ত্রীর সচিবালয় (Chief Minister’s Secretariat)। এতদিন নবান্ন থেকে সরকার পরিচালনা করতেন মমতা। ২০১৩ সালে রাজ্যের প্রশাসনিক সদর গঙ্গার ও পারে নবান্নে সরিয়ে নিয়ে যান তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রী মমতা। তিনি জানিয়েছিলেন, বছর দশেকের মধ্যে রাইটার্স বিল্ডিংয়ে সংস্কারের কাজ শেষ হলে আবার সচিবালয় ফিরবে সেখানে। যদিও তিনি ফেরেননি। তবে বিজেপি নেতৃত্ব আগেই জানিয়েছিলেন, ক্ষমতায় এসে নবান্ন নয়, রাজ্য সচিবালয় চলবে রাইটার্স বিল্ডিংস বা মহাকরণ থেকেই। তবে, সেখানে সংস্কারের কাজ ৫০ শতাংশও হয়নি। মহাকরণে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর (Suvendu Adhikari) জন্য নির্দিষ্ট ঘর এখনও তৈরি হয়নি। ফলে যতদিন না তা তৈরি হচ্ছে, ততদিন বিধানসভার বাইরের প্ল্যাটিনাম জুবলি কক্ষ থেকে মুখ্যমন্ত্রীর সচিবালয় কাজ করবেন তিনি। সূত্রের খবর, মহাকরণে সংস্কারের জন্য আপাতত মাস ছয়েক বিধানসভা থেকে সচিবালয় চালাতে পারেন নতুন মুখ্যমন্ত্রী। মুখ্যমন্ত্রীর সচিবালয় বা সিএমও-র আধিকারিকরা আপাতত বিধানসভার প্ল্যাটিনাম জয়ন্তী স্মারক ভবনে বসবেন বলেই ঠিক হয়েছে। এই ভবনে দু’টি হল, গ্রন্থাগার ছাড়াও পর্যাপ্ত জায়গা রয়েছে। কোনও দপ্তরের মন্ত্রী বা সচিবের সেখান থেকে অফিসে করতে কোনও সমস্যা হবে না। রাইটার্স বিল্ডিংসের সংস্কারের কাজ সম্পূর্ণ হয়ে গেলে গোটা সচিবালয় সেখানে উঠে আসার কথা। তবে নবান্নে মুখ্যমন্ত্রী বা গুরুত্বপূর্ণ কোনও মন্ত্রী না–বসলেও কিছু দফতর সেখানে থাকতে পারে।

LinkedIn
Share