Tag: crude oil

crude oil

  • Saudi Arabia: সৌদি আরবের গুরুত্বপূর্ণ তেল পাইপলাইনে ড্রোন হামলা, নিরাপত্তার কারণে বন্ধ সরবরাহ পথ

    Saudi Arabia: সৌদি আরবের গুরুত্বপূর্ণ তেল পাইপলাইনে ড্রোন হামলা, নিরাপত্তার কারণে বন্ধ সরবরাহ পথ

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ইরান যুদ্ধের জেরে মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা ক্রমশ বাড়ার মধ্যেই সৌদি আরবের (Saudi Arabia) গুরুত্বপূর্ণ পূর্ব-পশ্চিম তেল পাইপলাইনে ড্রোন হামলার ঘটনা ঘটেছে। হামলার পর সতর্কতামূলক ব্যবস্থা হিসেবে পাইপলাইনটি বন্ধ করে দিয়েছে সৌদি আরব। বিশ্বের অন্যতম (Red Sea Island) গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি সরবরাহপথকে ঘিরে এই হামলার ফলে আন্তর্জাতিক তেলবাজারে নতুন করে উদ্বেগ সৃষ্টি হয়েছে।

    আরব উপদ্বীপের এক প্রান্ত থেকে অন্য প্রান্তে প্রতিদিন লাখ লাখ ব্যারেল অপরিশোধিত তেল পরিবহণ করে এই পাইপলাইন। বৃহস্পতিবার রিয়াদ ও মদিনা অঞ্চলে পাইপলাইনের বিভিন্ন অংশে ড্রোন হামলা চালানো হয়। হামলায় বেশ কয়েকজন জখম হয়েছেন। পাইপলাইনের ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ এখনও নির্ধারণ করা হচ্ছে।

    সৌদি জ্বালানিমন্ত্রকের বক্তব্য (Saudi Arabia)

    সৌদি জ্বালানিমন্ত্রক শুক্রবার জানিয়েছে, একাধিক হামলার পর সতর্কতামূলক ব্যবস্থা হিসেবে পাইপলাইনটি বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। সৌদি বিদেশমন্ত্রকের দাবি, ইরান-সমর্থিত সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলির সক্রিয়তার জন্য পরিচিত ইরাকের দিক থেকে একাধিক ড্রোন এসে এই হামলা চালায়। হামলার ফলে মানুষ আহত হয়েছেন এবং সম্পত্তির ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলেও জানিয়েছে সৌদি সরকার।

    তবে আপাতত পাল্টা হামলার পথে হাঁটেনি সৌদি আরব। সৌদি কর্তৃপক্ষ জানিয়েছেন, ইরাকের প্রধানমন্ত্রী দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য বাগদাদকে কিছুটা সময় দেওয়ার অনুরোধ করেছিলেন। সেই কারণে এই মুহূর্তে প্রতিক্রিয়া না জানানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

    সৌদি আরব অবশ্য সতর্ক করে বলেছে, নিজেদের সার্বভৌমত্ব, নিরাপত্তা, স্থাপনা এবং নাগরিকদের সুরক্ষার জন্য প্রয়োজনীয় সমস্ত ব্যবস্থা নেওয়ার অধিকার সৌদি আরবের রয়েছে।

    চাপে রেড-সির পথও

    আটের দশকে নির্মিত প্রায় ১,২০০ কিলোমিটার দীর্ঘ এই পূর্ব-পশ্চিম তেল পাইপলাইন ইরান যুদ্ধের আবহে আরও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। কারণ, এর মাধ্যমে সৌদি আরব হরমুজ প্রণালী এড়িয়ে তেল রফতানি করতে পারে। যুদ্ধের কারণে হরমুজ প্রণালী দিয়ে ট্যাঙ্কার চলাচল মারাত্মকভাবে ব্যাহত হয়েছে।

    পাইপলাইনটি সৌদি আরবের তেল উৎপাদনকারী পূর্বাঞ্চল থেকে লোহিত সাগরের উপকূলে অবস্থিত ইয়ানবু পর্যন্ত বিস্তৃত। ফলে সমুদ্রপথে তেল রফতানির জন্য এটি একটি বিকল্প পথ হিসেবে কাজ করে।

    জাহাজ চলাচল পর্যবেক্ষণকারী সংস্থা এবং বিশ্লেষকদের তথ্য অনুযায়ী, সাম্প্রতিক মাসগুলিতে এই পাইপলাইনের মাধ্যমে প্রতিদিন প্রায় ৪০ লাখ থেকে ৫০ লাখ ব্যারেল তেল পরিবহণ করা হচ্ছিল। যা বিশ্বের মোট তেল সরবরাহের ৪ থেকে ৫ শতাংশের সমান।

    জুনের শুরু নাগাদ ইয়ানবু বন্দর থেকে সৌদি আরবের তেল রফতানি দ্বিগুণেরও বেশি বেড়ে প্রতিদিন ৫০ লাখ ব্যারেলের বেশি হয়েছিল।

    মার্কিন আধিকারিকদের প্রাথমিক মূল্যায়নে জানা গিয়েছে, পাইপলাইনের পাশে থাকা তেল পাম্প করার কেন্দ্রগুলিতে হামলা হয়েছে। উপগ্রহচিত্রে অন্তত একটি পাম্পিং কেন্দ্র থেকে আগুন এবং ঘন কালো ধোঁয়া উঠতে দেখা গিয়েছে। তবে পাইপলাইনের মূল অংশ কতটা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং মেরামতের কাজ শেষ হতে কত সময় লাগবে, তা এখনও স্পষ্ট নয়।

    ইরাকের মাটি ব্যবহার করে হামলার অভিযোগ

    সৌদি বিদেশমন্ত্রক জানিয়েছে, ইরাকের প্রধানমন্ত্রীর অনুরোধের পর এই পর্যায়ে পাল্টা ব্যবস্থা না নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সৌদি আরব।

    ইরাক হামলার তীব্র নিন্দা করেছে। বাগদাদ জানিয়েছে, সৌদি আরব বা প্রতিবেশী দেশগুলির বিরুদ্ধে হামলা চালানোর জন্য ইরাকের ভূখণ্ড বা আকাশসীমা ব্যবহার করতে দেওয়া হবে না।

    ইরাকের প্রধানমন্ত্রীর দফতর আরও জানিয়েছে, তদন্তে হামলার উৎস ইরাক বলে প্রমাণিত হওয়ার পর এক সামরিক কমান্ডারকে পদ থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে। ইরাকের নিরাপত্তা সংস্থার দুই আধিকারিকের দাবি, সতর্কতামূলক ব্যবস্থা হিসেবে ইরান সীমান্তের শালামচেহ সীমান্তপথও বন্ধ করে দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে বাগদাদ। একই সঙ্গে হামলার সঙ্গে জড়িতদের খুঁজে বের করতে বড় আকারের অভিযান শুরু হয়েছে।

    লোহিত সাগরের কৌশলগত দ্বীপ দখল হুথিদের

    সৌদি তেল পাইপলাইনে হামলার ঘটনাটি এমন সময় ঘটল, যখন ইরান-সমর্থিত হুথি বিদ্রোহীরা লোহিত সাগরের দক্ষিণ প্রবেশপথে নিজেদের নিয়ন্ত্রণ আরও শক্তিশালী করছে (Saudi Arabia)।

    ইয়েমেন সরকারের সূত্রের দাবি, বাব এল-মান্দেব প্রণালীর কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ পেরিম দ্বীপ দখল করেছে হুথিরা। এর আগে তারা গুরুত্বপূর্ণ বন্দরনগরী মোচার নিয়ন্ত্রণও নিয়েছিল।

    হরমুজ প্রণালীর মাধ্যমে তেল পরিবহণ ব্যাহত হওয়ার পর বাব এল-মান্দেব প্রণালীর গুরুত্ব অনেক বেড়ে গিয়েছে। যুদ্ধ শুরুর আগে প্রতিদিন প্রায় ২ কোটি ব্যারেল তেল হরমুজ প্রণালী দিয়ে পরিবহণ করা হত, যা বিশ্বের মোট তেল সরবরাহের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ। সেই পথ ব্যাহত হওয়ায় সৌদি আরব তার পূর্ব-পশ্চিম পাইপলাইন এবং লোহিত সাগরীয় তেল রফতানির উপর আরও বেশি নির্ভরশীল হয়ে পড়েছে।

    অপরিশোধিত তেলের পরিবহণ

    হুথিদের হামলার আশঙ্কার কারণে বাব এল-মান্দেব দিয়ে সৌদি অপরিশোধিত তেলের পরিবহণ আগেই উল্লেখযোগ্যভাবে কমে গিয়েছিল। এবার আরও বড় ধরনের বিঘ্ন ঘটলে তেলবাহী জাহাজগুলিকে অনেক দীর্ঘ পথ ঘুরে যেতে হতে পারে। এর ফলে পরিবহণের খরচ বাড়বে এবং আন্তর্জাতিক জ্বালানির দামের উপর আরও চাপ তৈরি হবে।

    ইতিমধ্যেই আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি ১০০ মার্কিন ডলারের উপরে উঠে গিয়েছে। মধ্যপ্রাচ্যের গুরুত্বপূর্ণ তেল পরিবহণপথগুলিতে একের পর এক অস্থিরতা তৈরি (Red Sea Island) হলে বিশ্বজুড়ে জ্বালানি সরবরাহ এবং দামের পরিস্থিতি আরও কঠিন হয়ে (Saudi Arabia) উঠতে পারে বলেই ধারণা ওয়াকিবহাল মহলের।

     

  • India: ইউরোপের ডিজেল ঘাটতি মেটাচ্ছে ভারত, অগাস্টে ৬০ শতাংশেরও বেশি জ্বালানি গেল দিল্লির শোধনাগার থেকে

    India: ইউরোপের ডিজেল ঘাটতি মেটাচ্ছে ভারত, অগাস্টে ৬০ শতাংশেরও বেশি জ্বালানি গেল দিল্লির শোধনাগার থেকে

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: পশ্চিম এশিয়ার সংঘাত এবং দীর্ঘস্থায়ী রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের আবহে ইউরোপের জ্বালানি বাজারে ভারতের (India) গুরুত্ব আরও বেড়েছে। চলতি বছরের অগাস্টে বাব-এল-মান্দেব প্রণালীর মধ্যে দিয়ে ইউরোপের উদ্দেশে যাওয়া ডিজেল ও গ্যাসঅয়েলের ৬০ শতাংশেরও বেশি এসেছে ভারতের শোধনাগারগুলি থেকে (Diesel Supplier)। রাশিয়া থেকে ইউরোপে জ্বালানি সরবরাহ উল্লেখযোগ্যভাবে কমে যাওয়ায় সেই ঘাটতি পূরণে বড় ভূমিকা নিচ্ছে ভারত।

    প্রতিবেদন অনুযায়ী, অগাস্টে লোহিত সাগরের এই গুরুত্বপূর্ণ জলপথ দিয়ে ইউরোপের উদ্দেশে প্রতিদিন গড়ে ২ লাখ ব্যারেলেরও বেশি ডিজেল ও গ্যাসঅয়েল পরিবহণ করা হয়েছে। এর মধ্যে প্রায় তিন-পঞ্চমাংশ ছিল ভারতীয় জ্বালানি। ফলে ইউরোপের পরিশোধিত জ্বালানির বাজারে ভারতের অবস্থান আরও শক্তিশালী হয়েছে।

    রাশিয়ার রফতানি কমতেই বাড়ল ভারতের গুরুত্ব (India)

    ভারত থেকে ইউরোপে ডিজেল সরবরাহ বৃদ্ধির অন্যতম প্রধান কারণ রাশিয়ার রফতানিতে বড়সড় পতন। অগাস্টের প্রথম ২৫ দিনে রাশিয়া থেকে সমুদ্রপথে ডিজেল রফতানি নেমে এসেছে দৈনিক গড়ে মাত্র ১ লাখ ৫০ হাজার ব্যারেলে। এক বছর আগে একই সময়ে এই পরিমাণ ছিল প্রায় ৬ লাখ ১০ হাজার ব্যারেল। অর্থাৎ গত বছরের তুলনায় রফতানি প্রায় ৭৫ শতাংশ কমেছে এবং পাঁচ বছরের ঋতুভিত্তিক গড়ের তুলনায় পতন হয়েছে প্রায় ৮১ শতাংশ।

    এদিকে, ইউরোপের বাইরে থেকে ইউরোপে মার্কিন সমুদ্রপথে ডিজেল রফতানি অগাস্টে দৈনিক প্রায় ৫ লাখ ২০ হাজার ব্যারেলে পৌঁছেছে। গত বছরের তুলনায় ইউরোপের মোট আমদানিতে এর অংশও বেড়েছে। তবে মাসের প্রথমার্ধে দৈনিক প্রায় ৫ লাখ ৪০ হাজার ব্যারেলের শীর্ষে পৌঁছনোর পর দ্বিতীয়ার্ধে তা কমে নেমে আসে প্রায় ৩ লাখ ৫০ হাজার ব্যারেলে।

    ভারতের শোধনাগারগুলির সুবিধা

    ভারত বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ তেল পরিশোধনকারী দেশ। দেশে বছরে প্রায় ২৫ কোটি ৮১ লাখ টন পরিশোধন ক্ষমতা রয়েছে। ২০২৫-২৬ অর্থবর্ষে ভারত প্রায় ৬ কোটি ১৫ লাখ টন পেট্রোলিয়ামজাত পণ্য রফতানি করেছে।

    দেশের জটিল এবং রফতানিমুখী শোধনাগারগুলির অন্যতম সুবিধা হল, তারা বিভিন্ন ধরনের অপরিশোধিত তেল প্রক্রিয়াজাত করে আন্তর্জাতিক বাজারের চাহিদা অনুযায়ী পণ্য তৈরি করতে পারে। বিশেষ করে গুজরাতের জামনগরে রিলায়েন্সের শোধনাগারের মতো বড় পরিশোধনাগারগুলিতে অতিরিক্ত উৎপাদন ক্ষমতা রয়েছে। ফলে যে বাজারে দাম বেশি, সেখানে দ্রুত পরিশোধিত জ্বালানি পাঠানোর সুযোগ পাচ্ছে ভারত (India)।

    তবে পরিসংখ্যান বলছে, অগাস্টে ভারতের অপরিশোধিত তেল ও ঘনীভূত তরল হাইড্রোকার্বন আমদানি কমেছে। এক বছর আগে যেখানে দৈনিক আমদানির পরিমাণ ছিল প্রায় ৪৮ লাখ ব্যারেল, অগাস্টে তা কমে প্রায় দাঁড়িয়েছে ৩৮ লক্ষ ব্যারেলে। লোহিত সাগরের পথ এখনও ঝুঁকিপূর্ণ

    বাব-এল-মান্দেব প্রণালী দিয়ে ভারতীয় ডিজেল ইউরোপে পৌঁছনোর বিষয়টি বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ। পশ্চিম এশিয়ায় চলা সংঘাতের কারণে উপসাগরীয় দেশগুলি থেকে ইউরোপের দিকে জ্বালানি পরিবহণের প্রচলিত পথগুলির উপর চাপ সৃষ্টি হয়েছে। ফলে পূর্ব থেকে পশ্চিমমুখী জ্বালানি পরিবহণে লোহিত সাগর ও বাব-এল-মান্দেবের গুরুত্ব বেড়েছে।

    তবে এই পথ পুরোপুরি নিরাপদ নয়। অতীতে লোহিত সাগরে জাহাজ চলাচলে একাধিক বাধা তৈরি হয়েছিল। ফলে এই জলপথ ব্যবহার করে ইউরোপে জ্বালানি পাঠানোর ক্ষেত্রে পরিবহণ ব্যয় ও নিরাপত্তা—দুই বিষয়ই গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে।

    ইউক্রেনের হামলায় চাপে রাশিয়ার জ্বালানি পরিকাঠামো

    রাশিয়ার জ্বালানি রফতানি কমে যাওয়ার পিছনে ইউক্রেনের ধারাবাহিক ড্রোন হামলাও বড় কারণ হয়ে উঠেছে। রাশিয়ার শোধনাগার এবং জ্বালানি রফতানির পরিকাঠামোকে লক্ষ্য করে হামলা চালিয়ে মস্কোর অর্থনৈতিক আয় এবং যুদ্ধ চালানোর সক্ষমতার উপর চাপ তৈরি করার চেষ্টা করছে কিয়েভ (ইউক্রেনের রাজধানী)।

    অগাস্টের ২১ তারিখে ইউক্রেনের ড্রোন হামলায় রাশিয়ার পাম তেল শোধনাগারের প্রযুক্তিগত ইউনিটগুলির উল্লেখযোগ্য ক্ষতি হয়। এর পর শোধনাগারটির কার্যক্ষমতা কমে প্রায় ২৮ শতাংশে নেমে এসেছে বলে জানা গিয়েছে। মে মাসে হামলার পর থেকে তুয়াপসে বন্দর থেকেও কোনও ডিজেলবাহী জাহাজ ছাড়েনি।

    ফলে রাশিয়ার সরবরাহ কমার সঙ্গে সঙ্গে ইউরোপের জ্বালানি বাজারে তৈরি হওয়া শূন্যস্থান পূরণের সুযোগ পাচ্ছে (Diesel Supplier) ভারত। ওয়াকিবহাল মহলের মতে, পশ্চিম এশিয়ার অস্থিরতা এবং রাশিয়ার রফতানি সংকট যতদিন চলবে, ইউরোপের পরিশোধিত জ্বালানি বাজারে ভারতের ভূমিকা ততই গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে (India)।

     

  • Petroleum Supplier: সৌদি আরব-আমিরশাহিকে টপকে কেনিয়ায় সবচেয়ে বড় জ্বালানি সরবরাহকারী দেশ মোদির ভারত!

    Petroleum Supplier: সৌদি আরব-আমিরশাহিকে টপকে কেনিয়ায় সবচেয়ে বড় জ্বালানি সরবরাহকারী দেশ মোদির ভারত!

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের সংঘাত ঘিরে জ্বালানি বাণিজ্যের প্রচলিত পথে বিঘ্ন তৈরি হওয়ায় নতুন উৎসের দিকে ঝুঁকেছে পূর্ব আফ্রিকার দেশ কেনিয়া (Petroleum Supplier)। আর সেই সুযোগে সৌদি আরব ও সংযুক্ত আরব আমিরশাহিকে পেছনে ফেলে কেনিয়ার সবচেয়ে বড় শোধিত পেট্রোলিয়ামজাত পণ্য সরবরাহকারী দেশে পরিণত হয়েছে ভারত।

    জ্বালানি অর্থনীতিবিদ আনাস আলহাজ্জির উদ্ধৃত বেলজিয়ামের পণ্যবাজার-তথ্য সংস্থা কেপলারের তথ্য অনুযায়ী, কেনিয়ায় পেট্রোল, ডিজেল, বিমানের জ্বালানি এবং জ্বালানি তেল সরবরাহে ভারত এখন শীর্ষে। এর আগে এই বাজারে (Kenya) গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা ছিল সৌদি আরব ও সংযুক্ত আরব আমিরশাহির।

    কেনিয়ার জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থায় এই পরিবর্তনকে যথেষ্ট তাৎপর্যপূর্ণ বলেই মনে করা হচ্ছে। দীর্ঘদিন ধরেই উপসাগরীয় দেশগুলির ওপর জ্বালানির জন্য ব্যাপকভাবে নির্ভরশীল ছিল কেনিয়া। মধ্যপ্রাচ্যের অস্থিরতার কারণে সেই নির্ভরতার জায়গায় এখন বিকল্প সরবরাহকারী হিসেবে ভারতের গুরুত্ব দ্রুত বাড়ছে।

    কেন ভারতের দিকে ঝুঁকল কেনিয়া (Petroleum Supplier)

    ঐতিহাসিকভাবে সৌদি আরামকো, আবুধাবির আদনক এবং এমিরেটস ন্যাশনাল অয়েল কোম্পানির মতো বড় উপসাগরীয় জ্বালানি সংস্থার মাধ্যমেম শোধিত পেট্রোলিয়ামজাত পণ্য সংগ্রহ করত কেনিয়া। কিন্তু মধ্যপ্রাচ্যে জ্বালানি বাণিজ্যের পথে বিঘ্ন তৈরি হওয়ায় সরবরাহের উৎস বৈচিত্র্যময় করার প্রয়োজন দেখা দেয়। বিপুল পরিশোধন ক্ষমতা এবং শক্তিশালী রফতানি পরিকাঠামো থাকায় সেই বাড়তি চাহিদা পূরণের সুযোগ পায় ভারত।

    কেনিয়ার জ্বালানি বাজার দাপাচ্ছে ভারতের ‘সিক্কা’

    তথ্য অনুযায়ী, কেনিয়ায় সংযুক্ত আরব আমিরশাহির জ্বালানি সরবরাহ জানুয়ারিতে দৈনিক প্রায় ৯০ হাজার ব্যারেল থেকে অগাস্টে নেমে প্রায় ১৫ হাজার ব্যারেলে দাঁড়িয়েছে। কেনিয়ার জ্বালানি বাজারে ভারতের ভূমিকা যে বাড়ছে, তার প্রমাণ অবশ্য বছরের গোড়াতেই পাওয়া গিয়েছিল। ‘বিজনেস ডেইলি আফ্রিকা’র পর্যালোচনা করা সরকারি নথি অনুযায়ী, ভারতের সিক্কা বন্দর থেকে পাঠানো ৮ কোটি ২৩ লাখ ৮০ হাজার লিটার কেরোসিন গত ১৯ মার্চ কেনিয়ার মোম্বাসা বন্দরে খালাস করা হয়। এর পর এপ্রিল মাসে সিক্কা বন্দর থেকে আরও ১৫ কোটি ৬৭ লাখ ৫০ হাজার লিটার কেরোসিন ও ডিজেল পাঠানো হয়েছিল।

    পরিশোধন ক্ষমতায় ভারতের সুবিধা

    ভারত তার প্রয়োজনীয় অপরিশোধিত তেলের ৯০ শতাংশেরও বেশি আমদানি করে। তবে বিপুল পরিশোধন ক্ষমতা গড়ে তোলার ফলে আমদানি করা অপরিশোধিত তেলকে প্রক্রিয়াজাত করে অভ্যন্তরীণ চাহিদা মেটানোর পাশাপাশি বিদেশেও শোধিত পেট্রোলিয়ামজাত পণ্য রফতানি করতে পারে দেশটি। ভারতের পেট্রোলিয়াম ও প্রাকৃতিক গ্যাস মন্ত্রকের হিসাব অনুযায়ী, ভারত বিশ্বের চতুর্থ বৃহত্তম তেল পরিশোধনকারী এবং এশিয়ার দ্বিতীয় বৃহত্তম পরিশোধনকারী দেশ।

    বিশ্বের সবচেয়ে বড় তেল শোধনাগার ভারতেই!

    দেশে বর্তমানে ২২টি চালু তেল শোধনাগার রয়েছে। সব মিলিয়ে এ সবের বার্ষিক পরিশোধন ক্ষমতা ২৫ কোটি ৮১ লাখ টন। ২০২৫-২৬ অর্থবর্ষে ভারত ৬ কোটি ১৫ লাখ টন পেট্রোলিয়ামজাত পণ্য রফতানি করেছে। বিশ্বের সবচেয়ে বড় তেল শোধনাগার কমপ্লেক্সও ভারতে অবস্থিত। গুজরাটের জামনগরে রিলায়েন্স ইন্ডাস্ট্রিজের এই বিশাল পরিশোধন কমপ্লেক্স ভারতের জ্বালানি রফতানির সক্ষমতাকে আরও শক্তিশালী করেছে (Petroleum Supplier)।

    আফ্রিকায় ভারতীয় জ্বালানির বড় বাজার

    কেনিয়ার বাজারে ভারতের উত্থান আফ্রিকায় ভারতীয় পেট্রোলিয়ামজাত পণ্যের রফতানি বৃদ্ধির বৃহত্তর প্রবণতারই অংশ। আনাস আলহাজ্জির দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, জুলাই মাসে আফ্রিকায় ভারতের পেট্রোলিয়ামজাত পণ্য রফতানি রেকর্ড উচ্চতায় পৌঁছেছে। এক বছরের এই একই সময়ের তুলনায় রফতানি বেড়েছে ৬৬ শতাংশ।

    ইউরোপের জ্বালানি বাজারের পরিবর্তনও এই প্রবণতার অন্যতম কারণ। রাশিয়ার অপরিশোধিত তেল থেকে তৃতীয় কোনও দেশে পরিশোধিত পেট্রোলিয়ামজাত পণ্য আমদানির ক্ষেত্রে ইউরোপীয় ইউনিয়নের বিধিনিষেধের ফলে ভারতীয় জ্বালানির কিছু চালান ইউরোপের পরিবর্তে আফ্রিকা-সহ অন্য বাজারের দিকে যাচ্ছে (Kenya)। এদিকে বিশ্বের অন্যতম প্রধান অপরিশোধিত তেল রফতানিকারী দেশ রাশিয়াও নিজেদের পরিশোধন ক্ষমতায় বিঘ্ন তৈরি হওয়ার পর ভারত থেকে কিছু পেট্রোলিয়ামজাত পণ্য আমদানি শুরু করেছে। ইউক্রেনীয় হামলার কারণে রাশিয়ার অভ্যন্তরীণ তেল শোধনাগারগুলির কার্যক্রম ব্যাহত হওয়াই এর অন্যতম কারণ।

    কেনিয়ায় ভারতের রফতানি বাড়ল ১৫১ শতাংশ

    কেনিয়ার সঙ্গে ভারতের সামগ্রিক বাণিজ্যও সম্প্রতি উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। ভারতের বাণিজ্য ও শিল্প মন্ত্রকের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালের জুলাইয়ের তুলনায় ২০২৬ সালের জুলাইয়ে কেনিয়ায় ভারতের পণ্য রফতানি বেড়েছে ১৫১ দশমিক ৪১ শতাংশ। এই হিসাব শুধু পেট্রোলিয়ামজাত পণ্য নয়, সব ধরনের পণ্য রফতানিকে অন্তর্ভুক্ত করে।

    তবে সামগ্রিক রফতানি বৃদ্ধিতে পেট্রোলিয়ামজাত পণ্যের অবদান ছিল উল্লেখযোগ্য। জুলাই মাসে ভারতের বিশ্বব্যাপী পেট্রোলিয়ামজাত পণ্য রফতানি ৬৭ দশমিক ৬৪ শতাংশ বেড়েছে। আগের বছরের ৪১৩ কোটি ডলারের রফতানি বেড়ে চলতি বছরের জুলাইয়ে হয়েছে ৬৯২ কোটি ডলার।

    নাইরোবিতে ভারতের হাইকমিশনের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫-২৬ অর্থবছরে কেনিয়ার তৃতীয় বৃহত্তম বাণিজ্যিক অংশীদার ছিল ভারত। দুই দেশের দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্যের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৪৩১ কোটি ডলার। এর মধ্যে কেনিয়ায় ভারতের রফতানির পরিমাণ ছিল ৪০১ কোটি ডলার এবং কেনিয়া থেকে ভারতের আমদানির পরিমাণ ২৯ কোটি ডলার (Petroleum Supplier)। কেনিয়ায় ভারতের প্রধান রফতানি পণ্যের তালিকায় পেট্রোলিয়ামজাত পণ্য অন্যতম।

    বিশ্ব জ্বালানি বাণিজ্যে ভারতের গুরুত্ব বাড়ছে

    কেনিয়ার শীর্ষ পেট্রোলিয়াম সরবরাহকারী হিসেবে ভারতের উঠে আসা বিশ্ব জ্বালানি বাণিজ্যে ভারতের তেল পরিশোধন শিল্পের ক্রমবর্ধমান গুরুত্বেরই ইঙ্গিত দিচ্ছে। অপরিশোধিত তেলের জন্য ভারত এখনও ব্যাপকভাবে আমদানির ওপর নির্ভরশীল। কিন্তু দেশের বিশাল পরিশোধন ক্ষমতার কারণে সেই অপরিশোধিত তেলকে উচ্চমূল্যের পেট্রোলিয়ামজাত পণ্যে রূপান্তর করে বিদেশের বাজারে পাঠানো সম্ভব হচ্ছে।

    কেনিয়ার পরিস্থিতি আরও দেখিয়ে দিচ্ছে, ভূ-রাজনৈতিক অস্থিরতা কীভাবে খুব দ্রুত দীর্ঘদিনের জ্বালানি সরবরাহের পথ বদলে দিতে পারে। ভৌগোলিক নৈকট্য এবং দীর্ঘদিনের বাণিজ্যিক সম্পর্কের কারণে পূর্ব আফ্রিকায় উপসাগরীয় দেশগুলির জ্বালানি সরবরাহের ভূমিকা এতদিন গুরুত্বপূর্ণ ছিল। মধ্যপ্রাচ্যের অস্থিরতা সেই ব্যবস্থায় ফাঁক তৈরি করেছে, আর সেই সুযোগ কাজে লাগাচ্ছে ভারতীয় তেল শোধনাগারগুলি।

    এই ঝোঁক ভারতের পরিশোধন শিল্পের জন্যও গুরুত্বপূর্ণ

    আফ্রিকার দিকে ভারতীয় জ্বালানি রফতানির এই ঝোঁক ভারতের পরিশোধন শিল্পের জন্যও গুরুত্বপূর্ণ। ইউরোপের নতুন বিধিনিষেধের কারণে কিছু প্রচলিত রফতানি বাজারে প্রবেশ কঠিন হয়ে পড়ায় আফ্রিকার বাড়তে থাকা চাহিদা ভারতীয় পেট্রোলিয়ামজাত পণ্যের জন্য বিকল্প বাজার তৈরি করছে। এর ফলে পরিশোধিত জ্বালানি রফতানিকারী হিসেবে বিশ্ববাজারে ভারতের অবস্থান আরও শক্তিশালী হতে পারে (Kenya)।

    অন্যদিকে, কেনিয়ার জন্য ভারত থেকে বেশি জ্বালানি আমদানি করার অর্থ হল সরবরাহের উৎস আরও বৈচিত্র্যময় করা। বিশ্ব জ্বালানি বাজারে অনিশ্চয়তার সময়ে এটি দেশটির জন্য গুরুত্বপূর্ণ সুবিধা। তবে এই পরিবর্তন দীর্ঘমেয়াদে কতটা স্থায়ী হবে, তা নির্ভর করবে পরিবহণ খরচ, অপরিশোধিত তেলের দাম, তেল শোধনাগারের অর্থনীতি, ভূরাজনৈতিক পরিস্থিতি এবং উপসাগরীয় দেশগুলির জ্বালানি সরবরাহ আগের মাত্রায় ফিরে আসে কি না, তার ওপর (Petroleum Supplier)।

  • India: জুনেই রুশ তেলের আমদানি ছাড়াল ২৩ লাখ ব্যারেলের গন্ডি, সস্তা জ্বালানির খোঁজে নয়া কৌশল ভারতের

    India: জুনেই রুশ তেলের আমদানি ছাড়াল ২৩ লাখ ব্যারেলের গন্ডি, সস্তা জ্বালানির খোঁজে নয়া কৌশল ভারতের

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: পশ্চিমী নিষেধাজ্ঞা, ভূরাজনৈতিক অনিশ্চয়তা এবং আন্তর্জাতিক চাপ সত্ত্বেও, রাশিয়া থেকে অপরিশোধিত তেল কিনে (India) চলেছে ভারত। বলা ভালো, রুশ তেল (Russian Oil) কেনার ক্ষেত্রে ভারত আরও সক্রিয় হয়েছে। বিশ্বের বহু দেশ এখনও রাশিয়ার তেল কেনার ক্ষেত্রে সতর্ক অবস্থান বজায় রাখলেও, ভারতীয় শোধনাগার সংস্থাগুলি রেকর্ড পরিমাণে রুশ তেল আমদানি করছে। এর ফলে একদিকে যেমন রাশিয়া তার তেলের জন্য একটি বড় ও নির্ভরযোগ্য বাজার পাচ্ছে, তেমনি অন্যদিকে ভারত তুলনামূলক কম দামে জ্বালানি জোগাড় করে নিজেদের জ্বালানি নিরাপত্তা আরও মজবুত করছে।

    জুন মাসের খতিয়ান (India)

    জানা গিয়েছে, জুন মাসে ২৩ লাখেরও বেশি ব্যারেল রুশ অপরিশোধিত তেল ভারতের বিভিন্ন বন্দরে এসে পৌঁছেছে। যার আর্থিক মূল্য ৫১৪ কোটি মার্কিন ডলারের কাছাকাছি। বাজার বিশেষজ্ঞদের ধারণা, জুলাই মাসেও এই আমদানির পরিমাণ প্রায় একই স্তরে থাকতে পারে। ইউরোপের বড় অংশের বাজার হারানোর পর রাশিয়া এখন মূলত এশিয়ার বিভিন্ন দেশের ওপর নির্ভর করছে। সেই পরিস্থিতিতে ভারতের ধারাবাহিক চাহিদা রাশিয়ার তেল রফতানির ক্ষেত্রে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, ভারত কেন এত বেশি পরিমাণে রাশিয়ার তেল কিনছে, তার সবচেয়ে বড় কারণ হল তুলনামূলক কম দাম। আন্তর্জাতিক বাজারে অন্যান্য মানের অপরিশোধিত তেলের তুলনায় রুশ তেল এখনও উল্লেখযোগ্য ছাড়ে মিলছে। ফলে ভারতীয় শোধনাগার সংস্থাগুলি কম খরচে কাঁচামাল সংগ্রহ করতে পারছে। এতে তাদের উৎপাদন ব্যয় কমছে, লাভের পরিমাণ বাড়ছে এবং দেশের জ্বালানি সরবরাহও স্থিতিশীল রাখা সম্ভব হচ্ছে।

    তেল আমদানি বাড়িয়েছে ভারত

    তাছাড়া, পশ্চিম এশিয়ায় সাম্প্রতিক সংঘাত ভারতের আমদানি নীতিতে গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলেছে। ইরানকে ঘিরে যুদ্ধ পরিস্থিতি এবং সেই কারণে সমুদ্রপথে পণ্য পরিবহণে তৈরি হওয়া অনিশ্চয়তার ফলে উপসাগরীয় অঞ্চল থেকে অপরিশোধিত তেলের সরবরাহে সমস্যা দেখা দিয়েছে। অনেক ক্ষেত্রে পরিবহণ ব্যয় বেড়েছে এবং সরবরাহের ধারাবাহিকতাও ব্যাহত হয়েছে। এই পরিস্থিতিতে ভারত শুধু রাশিয়া থেকেই নয়, লাতিন আমেরিকার বিভিন্ন দেশ থেকেও তেল আমদানি বাড়িয়েছে। উদ্দেশ্য একটাই—একটি নির্দিষ্ট অঞ্চলের ওপর নির্ভরতা কমিয়ে বিভিন্ন উৎস থেকে জ্বালানি জোগাড় নিশ্চিত করা। চলতি বছরের এপ্রিল থেকে জুন পর্যন্ত সময়ে পশ্চিম এশিয়ার দেশগুলি থেকে ভারতে অপরিশোধিত তেলের আমদানি উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে। তার পরিবর্তে রাশিয়া ভারতের সবচেয়ে বড় তেল সরবরাহকারী দেশ হিসেবে নিজেদের অবস্থান আরও মজবুত করেছে। জুন মাসে ভারতে মোট যে পরিমাণ অপরিশোধিত তেল আমদানি হয়েছে, তার প্রায় অর্ধেকই এসেছে রাশিয়া থেকে। এই পরিসংখ্যানই স্পষ্ট করে দিচ্ছে, ভারতের জ্বালানি চাহিদা পূরণে রুশ তেলের গুরুত্ব গত কয়েক বছরে কতটা বেড়েছে (Russian Oil)।

    অপরিশোধিত তেলের দামও ঊর্ধ্বমুখী

    এদিকে আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের দামও ঊর্ধ্বমুখী। ইরানকে ঘিরে উত্তেজনা এবং আন্তর্জাতিক অস্থিরতার কারণে ব্রেন্ট মানের অপরিশোধিত তেলের দাম ব্যারেল প্রতি ৯০ মার্কিন ডলারের ওপরে উঠে গিয়েছে। এই পরিস্থিতিতে তুলনামূলক কম দামে রুশ তেল পাওয়া ভারতীয় সংস্থাগুলির কাছে আরও আকর্ষণীয় হয়ে উঠেছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, যদি আন্তর্জাতিক বাজারে দাম আরও বাড়ে, তাহলে রাশিয়া থেকে আমদানির প্রবণতাও বজায় থাকতে পারে (India)। রাশিয়ার ক্ষেত্রেও ভারতের এই ক্রমবর্ধমান চাহিদা অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। ইউক্রেন যুদ্ধ শুরুর পর ইউরোপীয় দেশগুলি রাশিয়ার ওপর একাধিক নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে। এর ফলে ইউরোপে রুশ তেলের বাজার অনেকটাই ছোট হয়ে গিয়েছে। পশ্চিমী দেশগুলির নানা বিধিনিষেধের কারণে জাহাজ পরিবহণ, বিমা এবং আর্থিক লেনদেনেও রাশিয়া নানা সমস্যায় জর্জরিত। সেই সময় থেকেই এশিয়ার দেশগুলির দিকে ঝুঁকতে শুরু করে ভ্লাদিমির পুতিনের দেশ।

    নয়াদিল্লির সাফ কথা

    ২০২২ সালের আগে পর্যন্ত ভারত রাশিয়া থেকে খুব সীমিত পরিমাণে তেল আমদানি করত। কিন্তু ইউক্রেন যুদ্ধের পর আন্তর্জাতিক বাজারের পরিস্থিতি বদলে যাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে ভারত ধীরে ধীরে পরিণত হয়েছে রাশিয়ার অন্যতম বৃহত্তম ক্রেতায়। বর্তমানে চিন ও ভারতের মতো দেশগুলির চাহিদাই রাশিয়ার তেল রফতানিকে সচল রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে (India)। মার্কিন নিষেধাজ্ঞা নিয়েও আন্তর্জাতিক মহলে বারবার উঠেছে প্রশ্ন। যদিও নয়াদিল্লি বরাবরই জানিয়ে এসেছে, তাদের তেল কেনার সিদ্ধান্ত সম্পূর্ণই বাণিজ্যিক বিবেচনার ভিত্তিতে নেওয়া হয় (Russian Oil)। দেশের জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, তুলনামূলক কম দামে তেল সংগ্রহ করা এবং পর্যাপ্ত সরবরাহ বজায় রাখাই সরকারের পাখির চোখ। চলতি বছরের শুরুতে মার্কিন প্রশাসন অস্থায়ীভাবে কিছু রুশ তেলবাহী চালানের ক্ষেত্রে বিশেষ ছাড় দিয়েছিল। পরে সেই ছাড়ের মেয়াদ শেষ হলেও, ভারত সাফ জানিয়ে দেয়, তাদের আমদানি নীতির মূল ভিত্তি থাকবে দেশের জ্বালানি নিরাপত্তা, বাজারে প্রতিযোগিতামূলক মূল্য এবং পর্যাপ্ত সরবরাহ নিশ্চিত করা। আন্তর্জাতিক রাজনৈতিক পরিস্থিতি বা কূটনৈতিক চাপের ভিত্তিতে নয়, বরং দেশের অর্থনৈতিক স্বার্থকে গুরুত্ব দিয়েই নেওয়া হবে সিদ্ধান্ত (India)।

    ভারতের বহুমুখী আমদানি কৌশল

    শিল্পমহলের পর্যবেক্ষণ, বর্তমানে ভারত একাধিক দেশ থেকে তেল আমদানি করছে এবং প্রয়োজনীয় মজুতও বজায় রেখেছে। ফলে কোনও একটি অঞ্চলে সংঘাত বা সরবরাহ ব্যাহত হলেও, দেশের জ্বালানি ব্যবস্থায় বড় ধরনের সঙ্কট তৈরি হওয়ার আশঙ্কা তুলনামূলকভাবে কম। এই বহুমুখী আমদানি কৌশল ভবিষ্যতেও ভারতের জন্য গুরুত্বপূর্ণ হয়ে থাকবে বলেই ধারণা বিশেষজ্ঞদের। বিশ্ব রাজনীতিতে জ্বালানি এখন শুধু অর্থনীতির বিষয় নয়, কৌশলগত ও কূটনৈতিক ক্ষেত্রেও তা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সেই প্রেক্ষাপটে ভারতের বর্তমান অবস্থান স্পষ্ট—যেখানে সুলভ মূল্যে নির্ভরযোগ্য জ্বালানি মিলবে, সেখান থেকেই প্রয়োজন অনুযায়ী তেল সংগ্রহ করা হবে। বিশেষজ্ঞদের মতে, যতদিন রাশিয়া আন্তর্জাতিক বাজারের তুলনায় কম দামে অপরিশোধিত তেল বিক্রি করবে এবং বিকল্প উৎসগুলিতে অনিশ্চয়তা বজায় থাকবে, ততদিন (Russian Oil) ভারত মস্কো থেকে বিপুল পরিমাণ তেল আমদানি করে চলবে বলেই ধারণা (India) সংশ্লিষ্টমহলের।

     

  • Venezuela: যুদ্ধের জের, বিশ্ববাজারে জোরালোভাবে ফিরছে ভেনেজুয়েলার অপরিশোধিত তেল

    Venezuela: যুদ্ধের জের, বিশ্ববাজারে জোরালোভাবে ফিরছে ভেনেজুয়েলার অপরিশোধিত তেল

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: বিশ্ববাজারে জোরালোভাবে ফিরছে ভেনেজুয়েলার (Venezuela) অপরিশোধিত তেল(Crude Oil)। চলতি বছরের এপ্রিল মাসে দেশটির তেল রফতানি দৈনিক ১৪ শতাংশ বেড়ে গিয়ে ১২ লাখ ৩০ হাজার ব্যারেলে পৌঁছেছে, যা গত সাত বছরেরও বেশি সময়ের মধ্যে সর্বোচ্চ। শিপিং ডেটা (Crude Shipments) ও রাষ্ট্রীয় তেল সংস্থা পিডিভিএসএর নথি থেকেই জানা গিয়েছে এই তথ্য।

    উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে রফতানির পরিমাণ (Venezuela)

    বিশেষজ্ঞদের মতে, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, ভারত এবং ইউরোপে চাহিদা বাড়ার ফলেই উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে রফতানির পরিমাণ। মার্চ মাসে যেখানে রফতানির পরিমাণ ছিল দৈনিক ১০ লাখ ৮০ হাজার ব্যারেল, এপ্রিলেই তা একলপ্তে বেড়ে গিয়েছে অনেকখানি। একই সময়ে ভেনেজুয়েলার বন্দর থেকে ৬৬টি ট্যাঙ্কার তেল নিয়ে গন্তব্যে রওনা দিয়েছে, মার্চ মাসে এর সংখ্যা ছিল ৬১। এপ্রিল মাসে ভেনেজুয়েলার তেলের সবচেয়ে বড় ক্রেতা ছিল আমেরিকা। দেশটি প্রতিদিন আমদানি করেছে প্রায় ৪ লাখ ৪৫ হাজার ব্যারেল, মার্চে এর সংখ্যা ছিল ৩ লাখ ৬৩ হাজার ব্যারেল।

    আমদানির পরিমাণ বাড়িয়েছে ভারতও

    এদিকে ভারত প্রতিদিন আমদানির পরিমাণ বাড়িয়ে করেছে ৩ লাখ ৭৪ হাজার ব্যারেল। মার্চে এর পরিমাণ ছিল ৩ লাখ ৪২ হাজার ব্যারেল। ইউরোপেও রফতানি বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১ লাখ ৬৫ হাজার ব্যারেল প্রতিদিন (Venezuela)। এপ্রিল মাসে মোট রফতানির ৫৬ শতাংশ বা প্রায় ৬ লাখ ৯১ হাজার ব্যারেল তেল পরিবহণ করেছে বড় ট্রেডিং বিভিন্ন হাউস। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হল ভিটল (Vitol) এবং ট্রাফিগুরা (Trafigura)। অন্যদিকে মার্কিন তেল কোম্পানি শেভরন (Chevron) প্রতিদিন একাই নিয়েছে প্রায় ৩ লাখ ৮ হাজার ব্যারেল। এটি মোট রফতানির ২৫ শতাংশ (Crude Shipments)।

    বিশ্ববাজারে খদ্দের বাড়িয়েছে ভেনেজুয়েলা

    ভারতের বৃহৎ শিল্পগোষ্ঠী রিলায়েন্স ইন্ডাস্ট্রিজ (Reliance Industries) সরাসরি পিডিভিএসএ (PDVSA) থেকে একটি বড় কার্গো নিয়েছে। ট্রেডিং কোম্পানির মাধ্যমেও একাধিক চালান কিনেছে। মে মাসে আরও অন্তত তিনটি সুপারট্যাঙ্কার ভেনেজুয়েলা থেকে তেল তুলবে বলে খবর। মার্কিন নিষেধাজ্ঞা আংশিক শিথিল হওয়ায় এবং নতুন সরবরাহ চুক্তির ফলে ভেনেজুয়েলা আবারও আন্তর্জাতিক বাজারে গ্রাহক বাড়াতে পেরেছে। যদিও দেশটির তেলের আয়ের ওপর এখনও রয়েছে মার্কিন ট্রেজারি বিভাগের নজরদারি।

    অপরিশোধিত তেলের পাশাপাশি এপ্রিল মাসে ভেনেজুয়েলা ৩ লাখ ৬০ হাজার মেট্রিক টন ওয়েল বাইপ্রোডাক্টস এবং পেট্রোকেমিক্যালস রফতানি করেছে (Crude Shipments)। তবে ন্যাপথা (Naphtha) আমদানির পরিমাণ কিছুটা কমে দাঁড়িয়েছে দৈনিক ১ লাখ ৪১ হাজার ব্যারেলে (Venezuela)।

     

  • UAE: ওপেক গোষ্ঠী থেকে বেরিয়ে এল আরব আমিরশাহি, পোয়া বারো ভারতের, কীভাবে জানেন?

    UAE: ওপেক গোষ্ঠী থেকে বেরিয়ে এল আরব আমিরশাহি, পোয়া বারো ভারতের, কীভাবে জানেন?

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: সংযুক্ত আরব আমিরশাহির (UAE) অর্গানাইজেশন অব দ্য পেট্রোলিয়াম এক্সপোর্টিং কান্ট্রিজ (OPEC) থেকে বেরিয়ে যাওয়ায় বদলে গিয়েছে মধ্যপ্রাচ্যের জ্বালানি পরিস্থিতি। শুধু তাই নয়, এটি (Strait of Hormuz) জন্ম দিয়েছে বৈশ্বিক তেল বাণিজ্যেও নয়া সম্ভাবনার। ১ মে থেকে আবুধাবি আর সৌদি আরবের নেতৃত্বাধীন তেল কার্টেলের উৎপাদন সীমাবদ্ধতার অধীনে থাকবে না। নিজস্ব ক্ষমতা অনুযায়ী অপরিশোধিত তেল উৎপাদন করতে পারবে।

    ফুজাইরাহ্ পাইপলাইন (UAE)

    এর ফলে কৌশলগত ফুজাইরাহ্ পাইপলাইন ব্যবহার করে ভারতের কাছে তেল রফতানি বাড়ানোর সুযোগও তৈরি হয়েছে। এভাবে তেল এলে সম্পূর্ণভাবে এড়িয়ে যাওয়া যাবে হরমুজ প্রণালী। যেহেতু ইউএই অবিলম্বে দৈনিক ১০ লক্ষ ব্যারেল পর্যন্ত উৎপাদন বাড়াতে পারে, তাই ভারতের জন্য এটি একটি ইতিবাচক খবর। ভারত এবং ইউএইর মধ্যে জ্বালানি, বাণিজ্য এবং নিরাপত্তা ভিত্তিক গভীর কৌশলগত সম্পর্ক রয়েছে। ইউএই ইতিমধ্যেই ভারতের অন্যতম প্রধান অপরিশোধিত তেল সরবরাহকারী দেশের জায়গা নিয়ে নিয়েছে। পারস্য উপসাগর ও হরমুজ প্রণালীতে অশান্তির সময় ভারত ফুজাইরাহ পথ ব্যবহার করে তেল আমদানি বাড়িয়েছে। এখন ওপেকের কোটা না থাকায় ইউএই ভারতের কাছে আরও বেশি তেল, এমনকি তুলনামূলকভাবে সস্তা দরে তেলও পাঠাতে পারবে। ভারত তার পেট্রোল, ডিজেল ও পেট্রোকেমিক্যাল চাহিদার জন্য এই সব আমদানির ওপর অনেকটাই নির্ভরশীল (UAE)।

    ওপেকের সদস্যপদে ইতি

    মঙ্গলবার ঘোষিত আবুধাবির এই সিদ্ধান্তের মাধ্যমে প্রায় ৬০ বছরের ওপেক সদস্যপদে ইতি ঘটল। ইউএইর রাষ্ট্রায়ত্ত সংবাদ সংস্থা ডাব্লুএএম (WAM) জানিয়েছে, উৎপাদন নীতি ও জাতীয় স্বার্থের গভীর পর্যালোচনার পরেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। জ্বালানি মন্ত্রী সুহাইল মোহাম্মদ আল মাজরুইয়ের মতে, “এটি দীর্ঘমেয়াদি বাজার বাস্তবতার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নীতিনির্ভর একটি পরিবর্তন (Strait of Hormuz)।” এডিএনওসি (ADNOC) প্রধান সুলতান আল জাবের একে সার্বভৌম সিদ্ধান্ত বলে উল্লেখ করেছেন, যা দেশের প্রকৃত উৎপাদন ক্ষমতা ও বৈশ্বিক জ্বালানি স্থিতিশীলতার সঙ্গে সঙ্গতিপূর্ণ। বহু বছর ধরে ওপেক ইউএইর উৎপাদন দৈনিক প্রায় ৩.৪ মিলিয়ন ব্যারেলে সীমাবদ্ধ রেখেছিল, যদিও দেশটির তেলক্ষেত্র ও পরিকাঠামো তার চেয়ে অনেক বেশি সামলাতে সক্ষম। ইউএই মনে করেছিল, এই কোটা তাদের বাড়তে থাকা ক্ষমতার তুলনায় খুবই কম। কারণ বর্তমানে তাদের উৎপাদন ক্ষমতা দৈনিক ৪.৮–৫ মিলিয়ন ব্যারেলের কাছাকাছি (UAE)।

    ভারতের জন্য নিরাপদ রফতানি পথ

    বিশেষজ্ঞদের মতে, ফুজাইরাহ্ পাইপলাইন ভারতের জন্য একটি নিরাপদ রফতানি পথ। এই নয়া সুযোগের মূল আকর্ষণ হল হাবশান-ফুজাইরাহ্ তেল পাইপলাইন, যা আবুধাবি ক্রুড অয়েল পাইপলাইন (ADCOP) নামেও পরিচিত। এটি আবুধাবির হাবশান তেলক্ষেত্র থেকে ওমান উপসাগরের ফুজাইরাহ্ বন্দরের ৩৮০–৪০৬ কিলোমিটার পর্যন্ত বিস্তৃত। এই পাইপলাইনটি ২০১২ সালে প্রায় ৪ বিলিয়ন মার্কিন ডলার ব্যয়ে নির্মিত হয়েছিল। প্রধান উদ্দেশ্য ছিল, সরু ও ঝুঁকিপূর্ণ হরমুজ প্রণালী এড়ানো। ৪৮ ইঞ্চি ব্যাসের এই পাইপলাইনের ক্ষমতা দৈনিক ১.৫ মিলিয়ন ব্যারেল, যা ১.৮ মিলিয়ন পর্যন্ত বাড়ানো যেতে পারে (UAE)। ফুজাইরাহ্ থেকে ট্যাঙ্কারগুলি মুরবান ক্রুড নিয়ে সরাসরি আরব সাগরে চলে যায়, ফলে ব্যস্ত ও ঝুঁকিপূর্ণ হরমুজ প্রণালী ব্যবহার করতে হয় না। বিশ্বের সমুদ্রপথে পরিবাহিত তেলের ২০ শতাংশই চলাচল করে এই প্রণালী দিয়ে (Strait of Hormuz)।

    বাড়ানো হল ফুজাইরাহ্ দিয়ে আমদানি

    ভারতের জন্য এই পথ ইতিমধ্যেই কার্যকর প্রমাণিত হয়েছে। হরমুজে বিঘ্ন দেখা দেওয়ায় ভারতীয় রিফাইনারিগুলি ফুজাইরাহ্ দিয়ে আমদানি বাড়িয়েছে। এখন ইউএই ওপেক সীমাবদ্ধতা থেকে মুক্ত হওয়ায় এই পথে আরও বেশি তেল পাঠানো সম্ভব হবে।ফুজাইরাহ্ বর্তমানে বড় তেল কেন্দ্র হিসেবে গড়ে উঠেছে, যেখানে স্টোরেজ ট্যাঙ্ক, বাঙ্কারিং সুবিধা এবং গভীর সমুদ্রবন্দর রয়েছে। উপসাগরের বাইরে এর অবস্থান হওয়ায় আঞ্চলিক উত্তেজনায়ও কম ঝুঁকিপূর্ণ। ভারত ও ইউএইর মধ্যে একটি কমপ্রিহেনসিভ স্ট্র্যাটেজিক পার্টনারশিপ রয়েছে, যা শুধু তেলের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়। দু’দেশের দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য বর্তমানে ২০০ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের লক্ষ্যের দিকে এগোচ্ছে, যার কেন্দ্রে রয়েছে জ্বালানি।

    অপরিশোধিত তেল আমদানি

    ইউএই ভারতের মোট অপরিশোধিত তেল আমদানির ৯–১০ শতাংশ সরবরাহ করে এবং এলএনজি (LNG) সরবরাহেও গুরুত্বপূর্ণ অংশীদার। সাম্প্রতিক চুক্তির মধ্যে রয়েছে ৩ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের এলএনজি চুক্তি, এবং ভারতীয় কোম্পানিগুলির ইউএইর তেলক্ষেত্রে অংশীদারিত্বও রয়েছে। ইউএইর ওপেক ত্যাগ এই সম্পর্ককে আরও শক্তিশালী করতে পারে। ভারতীয় রিফাইনারিগুলি, যারা ইতিমধ্যেই মার্বান (Murban) গ্রেডের সঙ্গে পরিচিত, তারা আরও স্থিতিশীল সরবরাহ ও সম্ভবত ভালো মূল্য পেতে পারে (UAE)। আজকের যুদ্ধ ও অস্থিরতার যুগে নিরাপত্তা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, তাই ইউএইর মতো নির্ভরযোগ্য অংশীদার ভারতের জন্য বিশেষ মূল্যবান। ফুজাইরাহ্ পথ ভারতের হরমুজ প্রণালী নির্ভরতার ঝুঁকি কমায় এবং বহুমুখী আমদানির সরকারি নীতি সমর্থন করে।

    ওপেকের পক্ষে বড় ধাক্কা

    আমিরশাহির এই সিদ্ধান্ত বহুদিনের অসন্তোষের ফল। আবুধাবি এডিএনওসির মাধ্যমে ১৫০ বিলিয়ন মার্কিন ডলারেরও বেশি বিনিয়োগ করেছে উৎপাদন বাড়ানোর জন্য এবং ২০২৭ সালের মধ্যে দৈনিক ৫ মিলিয়ন ব্যারেল উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে। কিন্তু ওপেক নিয়মের কারণে তাদের অনেক সময় ক্ষমতার তুলনায় ৩০ শতাংশ কম উৎপাদন করতে হয়েছে। এটি ওপেকের পক্ষে একটি বড় ধাক্কা, কারণ তারা তাদের তৃতীয় বৃহত্তম উৎপাদককে হারাল। এখন ওপেকের সদস্য সংখ্যা দাঁড়াল ১১-য়। স্বাভাবিকভাবেই বৈশ্বিক সরবরাহে তাদের প্রভাব কিছুটা কমবে। যদিও ইউএই সাফ জানিয়ে দিয়েছে, হরমুজ প্রণালী পুরোপুরি স্বাভাবিক হলে তারা ধীরে ধীরে ও দায়িত্বশীলভাবে উৎপাদন বাড়াবে। দীর্ঘমেয়াদে এই নীতিগত পরিবর্তন ইউএইকে ভারতের মতো দ্রুতবর্ধনশীল অর্থনীতির চাহিদার একটি দেশের জন্য উৎপাদন আরও বাড়াতে সাহায্য করবে (UAE)। ওয়াকিবহাল মহলের মতে, আবুধাবি সম্ভবত তাদের অবশিষ্ট তেল মজুত দ্রুত নগদীকরণ করতে চায়, যতদিন (Strait of Hormuz) ভারত-সহ এশিয়ার বাজারে ব্যাপক চাহিদা রয়েছে।

     

  • Strait of Hormuz Conflict: ইরান–আমেরিকার সংঘাতে আপাতত বিরতি, এলপিজি নিয়ে স্বস্তিতে ভারত

    Strait of Hormuz Conflict: ইরান–আমেরিকার সংঘাতে আপাতত বিরতি, এলপিজি নিয়ে স্বস্তিতে ভারত

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ইরান–মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সংঘাতে আপাতত বিরতি। কারণ দুই দেশের মধ্যে হয়েছে যুদ্ধবিরতি চুক্তি (Strait of Hormuz Conflict)। এর ফলে ভারতের সবচেয়ে বড় উদ্বেগ—এলপিজি (LPG) এবং তেলের স্বাভাবিক সরবরাহ—এখন অনেকটাই কমেছে। ইরান ও আমেরিকা হরমুজ প্রণালী খুলে দেওয়ার বিষয়েও একমত হয়েছে।

    স্বস্তিতে ভারত (Strait of Hormuz Conflict)

    সমুদ্রপথের বাধা দূর হওয়ার এই খবর ভারতকে বড় স্বস্তি দিয়েছে। এখন তেল ও গ্যাসবাহী ভারতীয় জাহাজগুলি সহজে এবং দ্রুত ভারতে পৌঁছতে পারবে। এর ফলে দেশের অর্থনীতিতেও ইতিবাচক প্রভাব পড়বে। সম্প্রতি হরমুজ প্রণালীতে উত্তেজনা চরমে পৌঁছেছিল। ২৮ ফেব্রুয়ারি আমেরিকা ও ইজরায়েল ইরানের ওপর হামলা চালায়। তার পরেই ইরান হরমুজ প্রণালী বন্ধ করে দেয়। ফলে বিশ্বের ২০–২৫ শতাংশ তেল ও গ্যাস সরবরাহ বন্ধ হয়ে যায়। এটি ভারতের জন্য বড় সমস্যার কারণ হয়ে দাঁড়ায়। কারণ দেশের প্রায় ৮০ শতাংশ এলপিজি এবং উল্লেখযোগ্য পরিমাণ অপরিশোধিত তেল হরমুজ প্রণালী দিয়েই আসে। সংঘাতের আবহে অনেক জাহাজ সেখানে আটকে পড়ে। ভারতে গ্যাসের ঘাটতি দেখা দেয়, কালোবাজারি বাড়ে। আতঙ্কের জেরে পরিস্থিতি আরও ঘোরালো হয়ে ওঠে। তবে এখন যুদ্ধবিরতি ঘোষণা এবং হরমুজ প্রণালী খুলে দেওয়ার কথা ঘোষণার ফলে পরিস্থিতি সম্পূর্ণ বদলে গিয়েছে।

    হরমুজ অঞ্চলে আটকে একাধিক ভারতীয় জাহাজ

    বাস্তবে, ভারতীয় তেলবাহী জাহাজগুলির একটি বড় অংশ এখনও হরমুজ অঞ্চলে আটকে রয়েছে (Strait of Hormuz Conflict)। ইরান ভারতকে জাহাজ চলাচলের অনুমতি দিলেও, তা খুব ধীরগতিতে চলছে। এই কারণে এখন পর্যন্ত মাত্র আটটি ভারতীয় জাহাজ হরমুজ প্রণালী পার হয়ে ভারতে এসে পৌঁছেছে, যার অধিকাংশই এলপিজি ট্যাঙ্কার ভর্তি। গত কয়েক দিনে বেশ কিছু জাহাজ ভারতীয় বন্দরে এসে পৌঁছেছে। এগুলি হাজার হাজার টন গ্যাস ও তেল বহন করছিল, যা দেশের দৈনন্দিন ব্যবহারের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ (LPG)। তবে এখনও ১৬টি ভারতীয় জাহাজ পারস্য উপসাগরে আটকে রয়েছে। এগুলিতে রয়েছেন শত শত ভারতীয় নাবিক। এই জাহাজগুলিও তেল এবং গ্যাসে ভর্তি।

    হরমুজ প্রণালী খুলে দেওয়া হয়েছে

    এখন যেহেতু হরমুজ প্রণালী পুরোপুরি খুলে দেওয়া হয়েছে, তাই এই জাহাজগুলিও খুব শীঘ্রই যাত্রা শুরু করতে পারবে। সরকারি সূত্রের খবর, আগামী কয়েক দিনের মধ্যেই বাকি জাহাজগুলিও নিরাপদে ভারতে পৌঁছে যাবে (Strait of Hormuz Conflict)। অর্থাৎ, তেল ও গ্যাসবাহী সম্পূর্ণ বহরই শীঘ্রই দেশে পৌঁছে যাবে। হরমুজ প্রণালী খুলে যাওয়ায় ভারতের একাধিক সুবিধা হবে। প্রথমত, তেল ও গ্যাস সরবরাহ স্বাভাবিক হবে। দ্বিতীয়ত, গ্যাসের কালোবাজারি বন্ধ হবে। তৃতীয়ত, মূল্যবৃদ্ধির আশঙ্কা কমে যাবে।
    গৃহস্থালির গ্যাস সিলিন্ডার সরবরাহও স্বাভাবিক হবে (LPG)।

    প্রভাব পড়বে পেট্রোল ও ডিজেলের দামে

    এছাড়া, এর প্রভাব পড়বে পেট্রোল ও ডিজেলের দামেও। এতে অর্থনীতিও চাঙ্গা হবে, কারণ তেল ও গ্যাস আমদানি সহজ হবে। আগে জাহাজগুলিকে দীর্ঘ পথ ঘুরে আসতে হত, এতে সময় ও অর্থ দুটোই বেশি লাগত। এখন সরাসরি সমুদ্র পথ খুলে গিয়েছে। তাই সাশ্রয় হবে অর্থ এবং সময়। ভারত কীভাবে সমাধান করল এই সমস্যার? ভারতের বিদেশমন্ত্রক এবং জাহাজমন্ত্রক আগেই ইরানের সঙ্গে আলোচনা করে কয়েকটি জাহাজের নিরাপদ চলাচল নিশ্চিত করেছিল। এখন যুদ্ধবিরতি পুরোপুরি কার্যকর হওয়ায় বাকি জাহাজগুলিও নিরাপদ। নাবিকদের নিরাপত্তাও নিশ্চিত করা হয়েছে। সরকার জানিয়েছে, সব  নাবিকের নিরাপত্তার ওপর কড়া নজর রাখা হচ্ছে (Strait of Hormuz Conflict)।

    হরমুজ প্রণালী খুলে যাওয়ায় শুধু ভারত নয়, উপকৃত হবে গোটা বিশ্বই। ইতিমধ্যেই বিশ্ব বাজারে তেলের দাম কমতে শুরু করেছে। এতে ভারত-সহ তেল আমদানিকারী দেশগুলি সবচেয়ে বেশি স্বস্তি পাবে (LPG)। এখন ধারাবাহিকভাবে তেল ও গ্যাসবাহী জাহাজ ভারতে এসে পৌঁছবে, যা দেশের জ্বালানি চাহিদা সহজেই পূরণ করবে। বাকি ১৬টি জাহাজও পৌঁছে গেলে দেশের জ্বালানি সরবরাহ আরও মজবুত হবে (Strait of Hormuz Conflict)।

     

  • West Asia Conflict: পর্যাপ্ত পরিমাণ খাবার-জ্বালানি মজুত রয়েছে, ইরান সঙ্কট নিয়ে আয়োজিত বৈঠকে জানাল কেন্দ্র

    West Asia Conflict: পর্যাপ্ত পরিমাণ খাবার-জ্বালানি মজুত রয়েছে, ইরান সঙ্কট নিয়ে আয়োজিত বৈঠকে জানাল কেন্দ্র

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: মধ্যপ্রাচ্যে চলা সংঘাত এবং বৈশ্বিক বাণিজ্য ও জ্বালানি সরবরাহে এর ক্রমবর্ধমান প্রভাবের প্রেক্ষিতে, ৬ এপ্রিল আন্তঃমন্ত্রকের তরফে আয়োজিত বৈঠকে পরিস্থিতি সম্পর্কে আপডেট জানাল কেন্দ্রীয় সরকার। বিদেশমন্ত্রক, পেট্রোলিয়াম ও প্রাকৃতিক গ্যাস মন্ত্রক-সহ বিভিন্ন দফতরের প্রতিনিধিরা বিদেশে থাকা ভারতীয় নাগরিকদের সুরক্ষা নিশ্চিত করা এবং দেশের ভেতরে জরুরি সরবরাহ ব্যবস্থায় সম্ভাব্য প্রভাব মোকাবিলায় গৃহীত পদক্ষেপগুলি তুলে ধরেন। সরকার জানিয়েছে, তারা বিশেষ করে উপসাগরীয় দেশগুলি ও ইরানের পরিস্থিতির ওপর নিবিড় নজর রাখছে। শুধু তাই নয়, বৈশ্বিক জ্বালানি ও সরবরাহ শৃঙ্খলে সম্ভাব্য বিঘ্ন মোকাবিলার জন্য প্রস্তুতিও নেওয়া হচ্ছে।

    খাদ্য নিরাপত্তা (West Asia Conflict)

    বৈঠকে আলোচিত প্রধান বিষয়গুলির একটি ছিল খাদ্য নিরাপত্তা। এ ব্যাপারে আধিকারিকরা আশ্বস্ত করেন, দেশে জরুরি পণ্যের কোনও ঘাটতি নেই। ভোক্তা বিষয়ক মন্ত্রকের অতিরিক্ত সচিব অনুপম মিশ্র বলেন, “খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এবং খাদ্যশস্য সরবরাহ বজায় রাখতে আমরা কড়া নজর রাখছি। ১৯৫৫ সালের আবশ্যিক পণ্য আইন অনুযায়ী মজুতদারি ও কালোবাজারি রোধে নজরদারি করা হচ্ছে।” তিনি আরও জানান, এ বছর ডাল উৎপাদন বেশি হয়েছে এবং পর্যাপ্ত বাফার স্টক রাখা হয়েছে। পেঁয়াজ, আলু ও টমেটোর উৎপাদনও গত বছরের মতোই রয়েছে। তাই সরবরাহ স্থিতিশীল রয়েছে।

    রাজ্য সরকারগুলির সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ

    মিশ্র বলেন, “আমরা রাজ্য সরকারগুলির সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখছি, যাতে কালোবাজারি ও মজুতদারির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া যায়। কন্ট্রোল রুম খোলা হয়েছে।   এটি মূল্য পর্যবেক্ষণ ও রাজ্যগুলির সঙ্গে সমন্বয়ের কাজ অনায়াস করছে। ১৯১৫ নম্বর ভোক্তা হেল্পলাইন ১৭টি ভাষায় চালু রয়েছে।” খাদ্য দফতরের কর্তারা জানান, ভারতে পর্যাপ্ত খাদ্যশস্য মজুত রয়েছে। জয়েন্ট সেক্রেটারি সি শিখা বলেন, “আমাদের কাছে গম ও চালের মজুত রয়েছে নির্ধারিত মানের তিনগুণ বেশি। গম প্রায় ২২২ লাখ মেট্রিক টন এবং চাল প্রায় ৩৮০ লাখ মেট্রিক টন—মোট ৬০২ লাখ মেট্রিক টন খাদ্যশস্য মজুত রয়েছে।” তিনি জানান, এই মজুত সরকারি বিতরণ ব্যবস্থা ও জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলার জন্য যথেষ্ট। ভোজ্য তেল এবং চিনির সরবরাহও স্থিতিশীল।

    দেশে জ্বালানি সরবরাহ স্বাভাবিক

    সংঘাতের কারণে আন্তর্জাতিক তেলবাজার প্রভাবিত হলেও দেশে জ্বালানি সরবরাহ স্বাভাবিক রয়েছে বলেও জানা গিয়েছে। পেট্রোলিয়াম মন্ত্রকের যৌথ সচিব সুজাতা শর্মা বলেন, “৩৫ দিনের বেশি সময় ধরে মধ্যপ্রাচ্যের সঙ্কট চললেও, এলপিজির পর্যাপ্ত সরবরাহ নিশ্চিত করা হয়েছে এবং অতিরিক্ত আমদানি করা হয়েছে।” তিনি জানান, প্রতিদিন প্রায় ৫০ লাখ এলপিজি সিলিন্ডার সরবরাহ করা হচ্ছে। গত পাঁচ সপ্তাহে প্রায় ১৮ কোটি পরিবারের কাছে সিলিন্ডার পৌঁছানো হয়েছে। অনলাইন বুকিং ৯৭ শতাংশ এবং ৯০ শতাংশ সরবরাহ ওটিপি যাচাইয়ের মাধ্যমে হচ্ছে।

    ছোট সিলিন্ডার

    ছোট সিলিন্ডার সম্পর্কে তিনি বলেন, “পর্যাপ্ত মজুত রয়েছে। গ্রাহকরা নিকটস্থ ডিস্ট্রিবিউটরের কাছ থেকে বৈধ পরিচয়পত্র দেখিয়ে ৫ কেজির সিলিন্ডার কিনতে পারবেন।” তিনি জানান, ৫,৫০০-এর বেশি সচেতনতা শিবিরের আয়োজন করা হয়েছে। অপরিশোধিত তেল সরবরাহ ও রিফাইনারি কার্যকলাপ স্বাভাবিক রয়েছে। সরকার এলপিজি উৎপাদন বাড়াতে অতিরিক্ত উপাদান সরবরাহ এবং শুল্ক সমন্বয়ের মতো পদক্ষেপও নিয়েছে। দেশজুড়ে পেট্রোল পাম্প স্বাভাবিকভাবে চলছে। ব্যবসায়িক ক্ষেত্রে এলপিজি সরবরাহ ৭০ শতাংশ বাড়ানো হয়েছে। গৃহস্থালির চাহিদাকে অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে। পিএনজি এবং সিএনজি সরবরাহও জোরদার করা হয়েছে।

    বিদেশমন্ত্রকের বক্তব্য

    বিদেশমন্ত্রক জানিয়েছে, ইরান থেকে আর্মেনিয়া ও আজারবাইজান হয়ে ১,৭৭৭ জন ভারতীয়কে সরিয়ে আনা হয়েছে। এর মধ্যে ৮৯৫ জন ছাত্র এবং ৩৪৫ জন মৎস্যজীবিও রয়েছেন। মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল জানান, পরিস্থিতির ওপর নজর রাখা হচ্ছে। অতিরিক্ত সচিব অসীম মহাজন বলেন, “ভারতীয়দের নিরাপত্তা আমাদের অগ্রাধিকার। ২৪ ঘণ্টা কন্ট্রোল রুম ও হেল্পলাইন চালু রয়েছে।” প্রসঙ্গত, ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে প্রায় ৭.৩ লাখ যাত্রী ভারতে ফিরেছেন। আকাশপথে কিছু সীমাবদ্ধতা থাকায় বিকল্প রুট ব্যবহার করা হচ্ছে। কর্তৃপক্ষ জানিয়েছেন, ওই অঞ্চলে ভারতীয় নাবিকরা নিরাপদে রয়েছেন। জাহাজমন্ত্রকের অতিরিক্ত সচিব মুকেশ মঙ্গল বলেন, “গত ২৪ ঘণ্টায় ভারতীয় জাহাজের ক্ষেত্রে কোনও দুর্ঘটনা ঘটেনি।” তিনি জানান, দুটি এলপিজি বহনকারী জাহাজ নিরাপদে হরমুজ প্রণালী পার হয়েছে। বর্তমানে ১৬টি ভারতীয় পতাকাবাহী জাহাজে ৪০০-এরও বেশি ভারতীয় কাজ করছেন।

     

  • Russia: সরকারি সফরে ভারতে এসেছেন রাশিয়ার ডেপুটি প্রধানমন্ত্রী, কী নিয়ে আলোচনা হবে?

    Russia: সরকারি সফরে ভারতে এসেছেন রাশিয়ার ডেপুটি প্রধানমন্ত্রী, কী নিয়ে আলোচনা হবে?

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: দুদিনের সরকারি সফরে ভারতে এসেছেন রাশিয়ার ডেপুটি প্রধানমন্ত্রী ডেনিস মান্তুরভ (Deputy PM Manturov)। আজ, ২ এপ্রিল ভারত সফরে এসেছেন তিনি, যা দুই দিনের একটি সরকারি সফর। এই সফরের উদ্দেশ্য ছিল বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ খাতে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক আরও জোরদার করা। তিনি ভারত–রাশিয়া আন্তঃসরকার কমিশনের সহ-সভাপতিত্ব করবেন, যা আদতে দুই দেশের মধ্যে সহযোগিতা পরিচালনার একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রাতিষ্ঠানিক ব্যবস্থা। ভারতের বিদেশমন্ত্রকের তরফে এক্স-এ (X) একটি পোস্টে জানায়, “রাশিয়ান ফেডারেশনের প্রথম উপ-চেয়ারম্যান এবং ভারত–রাশিয়া আন্তঃসরকার কমিশনের সহ-সভাপতি ডেনিস মান্তুরভকে নয়াদিল্লিতে আন্তরিক স্বাগত। সফরের সময় তিনি বিদেশমন্ত্রী এস জয়শঙ্করের সঙ্গে বৈঠক করবেন। অংশ নেবেন অন্যান্য দ্বিপাক্ষিক আলোচনায়ও।”

    দ্বিপাক্ষিক সহযোগিতা (Russia)

    ভারতে রাশিয়ার দূতাবাসের তরফেও তাঁর আসার খবর নিশ্চিত করা হয়েছে। জানানো হয়েছে, চলতি সফরে রুশ নেতার সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক সহযোগিতার বিভিন্ন বিষয়ে একাধিক আলোচনা হবে। সফরের আগে দেওয়া এক বিবৃতিতে মান্তুরভ বলেন, “এই কমিশনের প্রধান লক্ষ্য হল দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্য ও অর্থনৈতিক সম্পর্কের সামগ্রিক সম্প্রসারণ (Deputy PM Manturov)।” তিনি এও বলেন, “পারস্পরিক অর্থপ্রদান ব্যবস্থার স্থিতিশীলতা, লজিস্টিক চেন শক্তিশালী করা, বাজারে প্রবেশের সুযোগ উন্নত করা এবং নতুন বিনিয়োগ ও যৌথ প্রকল্পকে উৎসাহিত করা—এই বিষয়গুলি আলোচনায় বিশেষ গুরুত্ব পাবে। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে গৃহীত ২০৩০ পর্যন্ত অর্থনৈতিক সহযোগিতা কর্মসূচি বাস্তবায়নের নির্দিষ্ট পদক্ষেপ নিয়েও আলোচনা হবে।”

    সফরের বহুমুখী গুরুত্ব

    নয়াদিল্লতে থাকার সময় মান্তুরভ জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা অজিত ডোভাল এবং কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারামনের সঙ্গেও সাক্ষাৎ করবেন, যা এই সফরের বহুমুখী গুরুত্বকে তুলে ধরে। এই সফর দুই দেশের অর্থনৈতিক সম্পর্ক আরও বিস্তৃত করার প্রচেষ্টার ইঙ্গিত দেয়। ২০৩০ সালের মধ্যে দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য ১০০ বিলিয়ন ডলারে উন্নীত করার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। তবে বর্তমান বাণিজ্যে বড় ধরনের ভারসাম্যহীনতা রয়েছে (Deputy PM Manturov)। ২০২৪–২৫ অর্থবছরে দুই দেশের বাণিজ্য প্রায় ৬৮.৭ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছে গিয়েছিল। এর মধ্যে রাশিয়ার রফতানি ছিল ৬৩.৮ বিলিয়নেরও বেশি, আর ভারতের রফতানির পরিমাণ ছিল ৫ বিলিয়নের কম। এই ভারসাম্যহীনতার প্রধান কারণ ভারতীয় বাজারে সস্তা রাশিয়ান অপরিশোধিত তেলের আমদানি বৃদ্ধি।

    ভারতের তেল আমদানির পরিমাণ

    ইউক্রেন যুদ্ধের আগে ভারতের তেল আমদানির মাত্র ২.৫ শতাংশ আসত রাশিয়া থেকে। ২০২৪–২৫ সালে তা বেড়ে প্রায় ৩৫.৮ শতাংশ হয়েছে। এটি পশ্চিম এশিয়ার অস্থিরতা মোকাবিলা এবং জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ভারতের একটি কৌশলের অংশ (Deputy PM Manturov)। ভারত ও রাশিয়া এখন জ্বালানি ও প্রতিরক্ষা ছাড়াও নতুন খাতে সহযোগিতা বাড়াতে চাইছে। এর মধ্যে রয়েছে শিল্প প্রযুক্তি, ডিজিটাল ফাইন্যান্স, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা এবং উন্নত উৎপাদন ব্যবস্থা। এছাড়া বাণিজ্যের কাঠামোগত বাধা দূর করা এবং ইউরেশীয় অর্থনৈতিক ইউনিয়নের (EAEU) সঙ্গে সম্ভাব্য মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি নিয়ে আলোচনা চলছে। ভারত একই সঙ্গে তার জ্বালানি আমদানির উৎস ২৭ দেশ থেকে বাড়িয়ে ৪১ দেশে সম্প্রসারণ করেছে, যাতে নির্ভরতা কমে।

    ব্রিকস সম্মেলন

    রাশিয়ার উপ-বিদেশমন্ত্রী আন্দ্রে রুডেনকো জানান, প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন সেপ্টেম্বর মাসে ভারতে অনুষ্ঠিতব্য ব্রিকস সম্মেলনে অংশ নিতে পারেন। তিনি জানান, মস্কো এই সম্মেলনে ঐকমত্য গঠনে ভারতের প্রচেষ্টাকে সমর্থন করবে। তিনি আরও জানান, রাশিয়া ১ এপ্রিল ২০২৬ থেকে পেট্রোল রফতানি নিষিদ্ধ করলেও বর্তমানে যে তেল চুক্তি রয়েছে, তাকেও সম্মান করবে (Deputy PM Manturov)। রুডেনকো বলেন, “ভারত ও রাশিয়ার মধ্যে নিয়মিত এবং ধারাবাহিক যোগাযোগ বজায় রাখা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।” তিনি আশা প্রকাশ করেন, ভারতের প্রধানমন্ত্রীও সুবিধাজনক সময়ে রাশিয়া সফর করবেন। এর আগে প্রেসিডেন্ট পুতিন ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে নয়াদিল্লিতে অনুষ্ঠিত বার্ষিক সম্মেলনে অংশ নিতে ভারতে এসেছিলেন। এবার পরবর্তী সম্মেলন মস্কোয় হবে। সেখানেই ফের একবার মুখোমুখি হতে পারেন পুতিন-মোদির (Deputy PM Manturov)।

     

  • Crude Oil: ‘‘জ্বালানি সংকটের আশঙ্কা নেই’’, গোটা দেশের জন্য ৬০ দিনের পর্যাপ্ত তেল মজুত রয়েছে, আশ্বাস কেন্দ্রের

    Crude Oil: ‘‘জ্বালানি সংকটের আশঙ্কা নেই’’, গোটা দেশের জন্য ৬০ দিনের পর্যাপ্ত তেল মজুত রয়েছে, আশ্বাস কেন্দ্রের

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: বিশ্বজুড়ে ভূ-রাজনৈতিক অস্থিরতা এবং যুদ্ধ পরিস্থিতির আবহে ভারতের জ্বালানি নিরাপত্তা নিয়ে বড়সড় আশ্বাস দিল কেন্দ্রীয় সরকার (India Government)। বৃহস্পতিবার সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, বর্তমানে গোটা দেশের জন্য ৬০ দিনের ব্যবহারযোগ্য অপরিশোধিত তেলের (Crude Oil) পর্যাপ্ত ভান্ডার মজুত রয়েছে। ফলে আন্তর্জাতিক বাজারে কোনো বিঘ্ন ঘটলেও আপৎকালীন পরিস্থিতিতে ভারতের সরবরাহ ব্যবস্থা সম্পূর্ণ ভাবে সুরক্ষিত।

    মজুত ভাণ্ডারের বিন্যাস (Crude Oil)

    কেন্দ্রীয় সরকারের (India Government) তরফে বলা হয়েছে, এই বিশাল পরিমাণ তেলের মজুত (Crude Oil) মূলত দুটি স্তরে ভাগ করা রয়েছে দেশের কৌশলগত তেল ভান্ডার (Strategic Reserves)। ওড়িশার চণ্ডীখোল এবং কর্নাটকের পদুর ও মাঙ্গালুরুতে অবস্থিত ভূগর্ভস্থ ভান্ডারে প্রায় ৯.৫ দিনের তেলের ব্যাকআপ রয়েছে। রাষ্ট্রায়ত্ত তেল বিপণন সংস্থাগুলির (OMCs) কাছে নিজস্ব ট্যাঙ্কে আরও প্রায় ৫০.৫ দিনের ব্যবহারের উপযোগী তেল মজুত রয়েছে।

    সরকার কী বলছে?

    পেট্রোলিয়াম ও প্রাকৃতিক গ্যাস মন্ত্রকের এক ঊর্ধ্বতন আধিকারিক জানিয়েছেন, “ভারত বর্তমানে বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ তেল (Crude Oil) আমদানিকারক দেশ হওয়া সত্ত্বেও আমাদের সরবরাহ ব্যবস্থা অত্যন্ত মজবুত। মধ্যপ্রাচ্য বা অন্য কোনও অঞ্চলে অস্থিরতা দেখা দিলেও সাধারণ মানুষের আতঙ্কিত হওয়ার কারণ নেই।” সরকার আরও স্পষ্ট করেছে যে, আপৎকালীন ব্যবহারের পাশাপাশি দীর্ঘমেয়াদী জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে দেশজুড়ে আরও নতুন কিছু ‘স্ট্র্যাটেজিক পেট্রোলিয়াম রিজার্ভ’ তৈরির কাজ চলছে।

    বাজারের ওপর প্রভাব

    আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দামের (India Government) ওঠানামা সত্ত্বেও এই পর্যাপ্ত মজুত দেশের অভ্যন্তরীণ বাজারে পেট্রল ও ডিজেলের (Crude Oil) দাম স্থিতিশীল রাখতে সাহায্য করবে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। বিশেষ করে যুদ্ধের প্রভাবে যখন বিশ্ব অর্থনীতি টালমাটাল, তখন ভারতের এই ‘এনার্জি বাফার’ দেশের অর্থনীতির জন্য এক বিশেষ সুরক্ষা কবচ।

LinkedIn
Share