Saudi Arabia: সৌদি আরবের গুরুত্বপূর্ণ তেল পাইপলাইনে ড্রোন হামলা, নিরাপত্তার কারণে বন্ধ সরবরাহ পথ

saudi-arabia-oil-pipeline-shut-houthis-seize-red-sea-island

মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ইরান যুদ্ধের জেরে মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা ক্রমশ বাড়ার মধ্যেই সৌদি আরবের (Saudi Arabia) গুরুত্বপূর্ণ পূর্ব-পশ্চিম তেল পাইপলাইনে ড্রোন হামলার ঘটনা ঘটেছে। হামলার পর সতর্কতামূলক ব্যবস্থা হিসেবে পাইপলাইনটি বন্ধ করে দিয়েছে সৌদি আরব। বিশ্বের অন্যতম (Red Sea Island) গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি সরবরাহপথকে ঘিরে এই হামলার ফলে আন্তর্জাতিক তেলবাজারে নতুন করে উদ্বেগ সৃষ্টি হয়েছে।

আরব উপদ্বীপের এক প্রান্ত থেকে অন্য প্রান্তে প্রতিদিন লাখ লাখ ব্যারেল অপরিশোধিত তেল পরিবহণ করে এই পাইপলাইন। বৃহস্পতিবার রিয়াদ ও মদিনা অঞ্চলে পাইপলাইনের বিভিন্ন অংশে ড্রোন হামলা চালানো হয়। হামলায় বেশ কয়েকজন জখম হয়েছেন। পাইপলাইনের ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ এখনও নির্ধারণ করা হচ্ছে।

সৌদি জ্বালানিমন্ত্রকের বক্তব্য (Saudi Arabia)

সৌদি জ্বালানিমন্ত্রক শুক্রবার জানিয়েছে, একাধিক হামলার পর সতর্কতামূলক ব্যবস্থা হিসেবে পাইপলাইনটি বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। সৌদি বিদেশমন্ত্রকের দাবি, ইরান-সমর্থিত সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলির সক্রিয়তার জন্য পরিচিত ইরাকের দিক থেকে একাধিক ড্রোন এসে এই হামলা চালায়। হামলার ফলে মানুষ আহত হয়েছেন এবং সম্পত্তির ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলেও জানিয়েছে সৌদি সরকার।

তবে আপাতত পাল্টা হামলার পথে হাঁটেনি সৌদি আরব। সৌদি কর্তৃপক্ষ জানিয়েছেন, ইরাকের প্রধানমন্ত্রী দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য বাগদাদকে কিছুটা সময় দেওয়ার অনুরোধ করেছিলেন। সেই কারণে এই মুহূর্তে প্রতিক্রিয়া না জানানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

সৌদি আরব অবশ্য সতর্ক করে বলেছে, নিজেদের সার্বভৌমত্ব, নিরাপত্তা, স্থাপনা এবং নাগরিকদের সুরক্ষার জন্য প্রয়োজনীয় সমস্ত ব্যবস্থা নেওয়ার অধিকার সৌদি আরবের রয়েছে।

চাপে রেড-সির পথও

আটের দশকে নির্মিত প্রায় ১,২০০ কিলোমিটার দীর্ঘ এই পূর্ব-পশ্চিম তেল পাইপলাইন ইরান যুদ্ধের আবহে আরও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। কারণ, এর মাধ্যমে সৌদি আরব হরমুজ প্রণালী এড়িয়ে তেল রফতানি করতে পারে। যুদ্ধের কারণে হরমুজ প্রণালী দিয়ে ট্যাঙ্কার চলাচল মারাত্মকভাবে ব্যাহত হয়েছে।

পাইপলাইনটি সৌদি আরবের তেল উৎপাদনকারী পূর্বাঞ্চল থেকে লোহিত সাগরের উপকূলে অবস্থিত ইয়ানবু পর্যন্ত বিস্তৃত। ফলে সমুদ্রপথে তেল রফতানির জন্য এটি একটি বিকল্প পথ হিসেবে কাজ করে।

জাহাজ চলাচল পর্যবেক্ষণকারী সংস্থা এবং বিশ্লেষকদের তথ্য অনুযায়ী, সাম্প্রতিক মাসগুলিতে এই পাইপলাইনের মাধ্যমে প্রতিদিন প্রায় ৪০ লাখ থেকে ৫০ লাখ ব্যারেল তেল পরিবহণ করা হচ্ছিল। যা বিশ্বের মোট তেল সরবরাহের ৪ থেকে ৫ শতাংশের সমান।

জুনের শুরু নাগাদ ইয়ানবু বন্দর থেকে সৌদি আরবের তেল রফতানি দ্বিগুণেরও বেশি বেড়ে প্রতিদিন ৫০ লাখ ব্যারেলের বেশি হয়েছিল।

মার্কিন আধিকারিকদের প্রাথমিক মূল্যায়নে জানা গিয়েছে, পাইপলাইনের পাশে থাকা তেল পাম্প করার কেন্দ্রগুলিতে হামলা হয়েছে। উপগ্রহচিত্রে অন্তত একটি পাম্পিং কেন্দ্র থেকে আগুন এবং ঘন কালো ধোঁয়া উঠতে দেখা গিয়েছে। তবে পাইপলাইনের মূল অংশ কতটা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং মেরামতের কাজ শেষ হতে কত সময় লাগবে, তা এখনও স্পষ্ট নয়।

ইরাকের মাটি ব্যবহার করে হামলার অভিযোগ

সৌদি বিদেশমন্ত্রক জানিয়েছে, ইরাকের প্রধানমন্ত্রীর অনুরোধের পর এই পর্যায়ে পাল্টা ব্যবস্থা না নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সৌদি আরব।

ইরাক হামলার তীব্র নিন্দা করেছে। বাগদাদ জানিয়েছে, সৌদি আরব বা প্রতিবেশী দেশগুলির বিরুদ্ধে হামলা চালানোর জন্য ইরাকের ভূখণ্ড বা আকাশসীমা ব্যবহার করতে দেওয়া হবে না।

ইরাকের প্রধানমন্ত্রীর দফতর আরও জানিয়েছে, তদন্তে হামলার উৎস ইরাক বলে প্রমাণিত হওয়ার পর এক সামরিক কমান্ডারকে পদ থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে। ইরাকের নিরাপত্তা সংস্থার দুই আধিকারিকের দাবি, সতর্কতামূলক ব্যবস্থা হিসেবে ইরান সীমান্তের শালামচেহ সীমান্তপথও বন্ধ করে দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে বাগদাদ। একই সঙ্গে হামলার সঙ্গে জড়িতদের খুঁজে বের করতে বড় আকারের অভিযান শুরু হয়েছে।

লোহিত সাগরের কৌশলগত দ্বীপ দখল হুথিদের

সৌদি তেল পাইপলাইনে হামলার ঘটনাটি এমন সময় ঘটল, যখন ইরান-সমর্থিত হুথি বিদ্রোহীরা লোহিত সাগরের দক্ষিণ প্রবেশপথে নিজেদের নিয়ন্ত্রণ আরও শক্তিশালী করছে (Saudi Arabia)।

ইয়েমেন সরকারের সূত্রের দাবি, বাব এল-মান্দেব প্রণালীর কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ পেরিম দ্বীপ দখল করেছে হুথিরা। এর আগে তারা গুরুত্বপূর্ণ বন্দরনগরী মোচার নিয়ন্ত্রণও নিয়েছিল।

হরমুজ প্রণালীর মাধ্যমে তেল পরিবহণ ব্যাহত হওয়ার পর বাব এল-মান্দেব প্রণালীর গুরুত্ব অনেক বেড়ে গিয়েছে। যুদ্ধ শুরুর আগে প্রতিদিন প্রায় ২ কোটি ব্যারেল তেল হরমুজ প্রণালী দিয়ে পরিবহণ করা হত, যা বিশ্বের মোট তেল সরবরাহের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ। সেই পথ ব্যাহত হওয়ায় সৌদি আরব তার পূর্ব-পশ্চিম পাইপলাইন এবং লোহিত সাগরীয় তেল রফতানির উপর আরও বেশি নির্ভরশীল হয়ে পড়েছে।

অপরিশোধিত তেলের পরিবহণ

হুথিদের হামলার আশঙ্কার কারণে বাব এল-মান্দেব দিয়ে সৌদি অপরিশোধিত তেলের পরিবহণ আগেই উল্লেখযোগ্যভাবে কমে গিয়েছিল। এবার আরও বড় ধরনের বিঘ্ন ঘটলে তেলবাহী জাহাজগুলিকে অনেক দীর্ঘ পথ ঘুরে যেতে হতে পারে। এর ফলে পরিবহণের খরচ বাড়বে এবং আন্তর্জাতিক জ্বালানির দামের উপর আরও চাপ তৈরি হবে।

ইতিমধ্যেই আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি ১০০ মার্কিন ডলারের উপরে উঠে গিয়েছে। মধ্যপ্রাচ্যের গুরুত্বপূর্ণ তেল পরিবহণপথগুলিতে একের পর এক অস্থিরতা তৈরি (Red Sea Island) হলে বিশ্বজুড়ে জ্বালানি সরবরাহ এবং দামের পরিস্থিতি আরও কঠিন হয়ে (Saudi Arabia) উঠতে পারে বলেই ধারণা ওয়াকিবহাল মহলের।

 

Please follow and like us:

Comments

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

LinkedIn
Share