Tag: Red Sea

Red Sea

  • Indian Vessel Sinks: ইয়েমেন উপকূলে হামলা! লোহিত সাগরে ডুবল ভারতীয় পণ্যবাহী জাহাজ, নিন্দা নয়াদিল্লির

    Indian Vessel Sinks: ইয়েমেন উপকূলে হামলা! লোহিত সাগরে ডুবল ভারতীয় পণ্যবাহী জাহাজ, নিন্দা নয়াদিল্লির

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ইয়েমেন উপকূল (Yemen) সংলগ্ন লোহিত সাগরে (Red Sea) ক্ষেপণাস্ত্রের আঘাতে ডুবে গেল ভারতীয় পতাকাবাহী বাণিজ্যিক জাহাজ এমএসভি ফাইজে নূরে ওলিয়া (MSV Faize Noore Oliya)। তবে জাহাজে থাকা ১৩ জন ভারতীয় নাবিক এবং একজন বিদেশি নাগরিককে নিরাপদে উদ্ধার করেছে ইয়েমেন কোস্ট গার্ড (National Resistance Force)। উদ্ধার হওয়া নাবিকদের ইয়েমেনের মোখা বন্দরে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। মঙ্গলবার কেন্দ্রীয় বন্দর, জাহাজ চলাচল ও জলপথ মন্ত্রী সর্বানন্দ সোনোয়াল ঘটনাটি নিশ্চিত করে বলেন, নিরস্ত্র একটি বেসামরিক বাণিজ্যিক জাহাজের ওপর এই হামলা সম্পূর্ণ অযৌক্তিক ও নিন্দনীয়। তিনি জানান, জাহাজে থাকা ১৪ জন নাবিকই নিরাপদে উদ্ধার হয়েছেন।

    হামলার তীব্র নিন্দা বিদেশ মন্ত্রকের

    ভারতের বিদেশ মন্ত্রক (MEA) এক বিবৃতিতে এই হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়েছে। বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ৪ আগস্ট ইয়েমেন উপকূলের কাছে লোহিত সাগরে ভারতীয় পতাকাবাহী বাণিজ্যিক জাহাজ এমএসভি ফাইজে নূরে ওলিয়া (MSV Faize Noore Oliya)-এর ওপর হামলার ঘটনায় ভারত গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করছে। বিদেশ মন্ত্রক জানিয়েছে, জাহাজে থাকা ১৩ জন ভারতীয় নাগরিককেই নিরাপদে উদ্ধার করা হয়েছে। সৌদি আরবের রিয়াধে অবস্থিত ভারতীয় দূতাবাস ইয়েমেন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে যোগাযোগ রেখে উদ্ধার হওয়া নাবিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করছে। পাশাপাশি দ্রুত উদ্ধারকাজের জন্য ইয়েমেন প্রশাসনকে ধন্যবাদও জানানো হয়েছে।

    নাবিকদের নিরাপত্তা সবার আগে

    কেন্দ্রীয় বন্দর, জাহাজ চলাচল ও জলপথ মন্ত্রী সর্বানন্দ সোনোয়াল বলেন, ‘‘বিনা প্ররোচনায় ভারতীয় জাহাজটিকে নিশানা করা হয়েছে। প্রতিরোধ ক্ষমতা বিহীন একটি জলযানের উপরে বিনা প্ররোচনায় এই হামলার তীব্র নিন্দা করছে ভারত। আমাদের নাবিকদের নিরাপত্তাই সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার।’’ তিনি আরও জানান, উদ্ধার হওয়া নাবিকদের নিরাপত্তা ও প্রয়োজনীয় সহায়তা নিশ্চিত করতে মেরিটাইম অ্যাডমিনিস্ট্রেশন-কে সংশ্লিষ্ট সমস্ত সংস্থার সঙ্গে সমন্বয় করে অবিলম্বে ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

    কারা চালাল হামলা?

    উপসাগরীয় এলাকায় ভারতীয় কোনও জাহাজে এইভাবে সরাসরি হামলার ঘটনা এই প্রথম৷ সৌদি থেকে তেল নিয়ে আসছিল ভারতীয় এই জাহাজটি৷ ইয়েমেনের বাব আল মানডাবের হোদেইদাহ থেকে ১৩ নটিক্যাল মাইল দূরে এই হামলার ঘটনা ঘটে৷ বিস্ফোরক বোঝাই যে নৌকা করে আত্মঘাতী এই হামলা চালানো হয়, সেটিও ইয়েমেনেরই বলে জানা গিয়েছে৷সাম্প্রতিক সময়ে ইয়েমেন উপকূল এবং বাব-এল-মান্দেব প্রণালীতে বাণিজ্যিক জাহাজে ধারাবাহিক হামলার জেরে গোটা লোহিত সাগর অঞ্চল অস্থির হয়ে উঠেছে। তবে এখনও পর্যন্ত এই হামলার জন্য দায়ী গোষ্ঠীর নাম আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করেনি ভারত সরকার। লোহিত সাগরে সাম্প্রতিক সময়ে একাধিক বাণিজ্যিক জাহাজে হামলার ঘটনা ঘটছে। পরপর এমন ঘটনায় আন্তর্জাতিক বাণিজ্য ও সমুদ্রপথের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ বেড়েছে। এই ঘটনার পর ভারতীয় নাবিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কেন্দ্রীয় সরকার পরিস্থিতির উপর কড়া নজর রাখছে।

    কেন গুরুত্বপূর্ণ লোহিত সাগর?

    লোহিত সাগর বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ আন্তর্জাতিক নৌ-বাণিজ্য পথ। সুয়েজ খালের মাধ্যমে ইউরোপ ও এশিয়ার মধ্যে পণ্য ও জ্বালানি পরিবহনের বড় অংশ এই পথেই হয়। কিন্তু ইয়েমেন উপকূলবর্তী এলাকায় নিরাপত্তা পরিস্থিতির অবনতি, ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলার আশঙ্কা এবং বাণিজ্যিক জাহাজকে লক্ষ্য করে ধারাবাহিক আক্রমণের ফলে আন্তর্জাতিক শিপিং শিল্পের ওপর বাড়তি চাপ তৈরি হয়েছে। এই পরিস্থিতিতে বহু আন্তর্জাতিক শিপিং সংস্থা জাহাজ ঘুরিয়ে আফ্রিকার কেপ অব গুড হোপ হয়ে চলাচল করছে। ফলে পরিবহণ ব্যয়, বীমার খরচ এবং পণ্য সরবরাহের সময় উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়ে গেছে। একই সঙ্গে বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সামুদ্রিক বাণিজ্যপথে নিরাপত্তা জোরদার করতে আন্তর্জাতিক নৌবাহিনীগুলিও টহল বাড়িয়েছে।

    সঙ্কটে আন্তর্জাতিক সমুদ্রপথ

    একই দিনে হরমুজ প্রণালীর কাছে আরেকটি ড্রাই বাল্ক কার্গো জাহাজও একটি প্রজেক্টাইলের আঘাতে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে খবর। ওই জাহাজের কর্মীরা জাহাজ ছেড়ে নিরাপদ স্থানে সরে যেতে বাধ্য হন। তবে একজন নাবিক এখনও নিখোঁজ রয়েছেন বলে জানা গেছে। এদিকে আন্তর্জাতিক সামুদ্রিক পর্যবেক্ষণ সংস্থা কেপলার-এর তথ্য অনুযায়ী, যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে ইরাকের হরমুজ প্রণালী দিয়ে অপরিশোধিত তেল রফতানি প্রায় ৭১ শতাংশ কমে গেছে। সংস্থার হিসেব অনুযায়ী, ৪ জুলাই থেকে ৪ আগস্টের মধ্যে ইরাক প্রায় ৩ কোটি ব্যারেল অপরিশোধিত তেল রপ্তানি করেছে, যেখানে যুদ্ধের আগে মাসিক গড় রফতানি ছিল ১০.৫ কোটি ব্যারেল। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ১৪ জুলাই যুক্তরাষ্ট্র ইরানের বিরুদ্ধে নৌ অবরোধ (Naval Blockade) কার্যকর করার পর হরমুজ প্রণালী দিয়ে জাহাজ চলাচলে বড় ধরনের প্রভাব পড়েছে। ফলে আন্তর্জাতিক জ্বালানি সরবরাহ শৃঙ্খলেও চাপ তৈরি হয়েছে।

    আন্তর্জাতিক জলপথে অবাধ বাণিজ্য জরুরি

    ভারত স্পষ্ট জানিয়েছে, লোহিত সাগর অঞ্চলে বাণিজ্যিক জাহাজের উপর ধারাবাহিক হামলা অত্যন্ত উদ্বেগজনক। আন্তর্জাতিক জলপথে অবাধ ও নিরাপদ বাণিজ্যিক নৌচলাচল দ্রুত পুনরুদ্ধারের প্রয়োজন রয়েছে। তাই আন্তর্জাতিক আইন মেনেই এই গুরুত্বপূর্ণ সমুদ্রপথে চলাচল নিশ্চিত করতে হবে বলে মনে করছে দিল্লি। গত মাসেই ইরান-সমর্থিত হুথি গোষ্ঠী সৌদি আরবের বিরুদ্ধে নৌ অবরোধের ঘোষণা করে। তার পর থেকে লোহিত সাগর ও বাব এল-মান্দেব প্রণালী ঘিরে উত্তেজনা তীব্র হয়েছে। এই প্রণালী লোহিত সাগরকে এডেন উপসাগর ও ভারত মহাসাগরের সঙ্গে যুক্ত করেছে। আন্তর্জাতিক জ্বালানি ও পণ্য পরিবহণের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ এই জলপথে হামলার ঘটনা উদ্বেগ বাড়িয়েছে বিভিন্ন মহলে।

     

     

     

     

  • Saudi Arabia: হুথি হামলায় সৌদির তেল রফতানি চাপে, ইজরায়েলের গোপন পাইপলাইনই কি হতে পারে নতুন ভরসা?

    Saudi Arabia: হুথি হামলায় সৌদির তেল রফতানি চাপে, ইজরায়েলের গোপন পাইপলাইনই কি হতে পারে নতুন ভরসা?

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ইয়েমেনের সশস্ত্র গোষ্ঠী হুথিদের ধারাবাহিক হামলায় সৌদি আরবের (Saudi Arabia) তেল পরিকাঠামো ও জাহাজ চলাচল ক্রমশ ঝুঁকির মুখে পড়েছে। এর ফলে রিয়াধের অপরিশোধিত তেল (Hormuz Crisis) রফতানি নেটওয়ার্কে বড় ধরনের দুর্বলতা প্রকাশ্যে এসেছে, যা সৌদি নেতৃত্বের কাছে নতুন উদ্বেগের কারণ হয়ে উঠেছে। সম্প্রতি ইরান-সমর্থিত হুথিরা দাবি করেছে, তারা সৌদি আরামকোর জাজান ও ইয়ানবু অঞ্চলের একাধিক প্রতিষ্ঠানে হামলা চালিয়েছে। অন্যদিকে সৌদি আরব জানিয়েছে, তাদের তেল শোধনাগার লক্ষ্য করে পাঠানো একাধিক ড্রোন ভূপাতিত করা হয়েছে। এমন সময় এই হামলা হয়েছে, যখন লোহিত সাগর দিয়ে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল ক্রমশ কঠিন হয়ে উঠছে। তেলবাহী জাহাজগুলিকে দীর্ঘ পথ ঘুরে যেতে হচ্ছে এবং ইউরোপে অপরিশোধিত তেল পাঠাতে রফতানিকারীদের খরচও বেড়ে যাচ্ছে।

    হুথিদের হামলার জের (Saudi Arabia)

    সংবাদ সংস্থার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত ২৭ জুলাই হুথিদের হামলার পর দৈনিক চার লাখ ব্যারেল পরিশোধন ক্ষমতাসম্পন্ন জাজান শোধনাগার বন্ধ করে দেয় সৌদি আরামকো। হামলায় শোধনাগারের সমন্বিত গ্যাসীকরণ ও যৌথ বিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্র এবং তেল সংরক্ষণাগার ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। অগাস্টের মাঝামাঝি পর্যন্ত মেরামতের কাজ চলতে পারে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। হরমুজ প্রণালী এড়িয়ে পূর্বাঞ্চল থেকে ইয়ানবু পর্যন্ত তেল পরিবহণের জন্য সৌদি আরব যে পূর্ব-পশ্চিম পাইপলাইন তৈরি করেছিল, সেটিও এখন আর পুরো সমস্যার সমাধান করতে পারছে না। কারণ ইয়ানবুতে পৌঁছনোর পরও তেলবাহী জাহাজকে বাব-আল-মান্দেব প্রণালী পেরোতে হয়। হরমুজের মতো এই জলপথও এখন হুথিদের হামলার কারণে ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠেছে। ফলে বিকল্প রুটের সন্ধানে সৌদি আরবকে ভাবতে হতে পারে। আর সেই বিকল্প বহু বছর ধরেই রয়েছে, যদিও এতদিন তা কার্যত আড়ালেই ছিল। ইজরায়েলের লোহিত সাগরের উপকূলবর্তী এলাত থেকে ভূমধ্যসাগরের তীরবর্তী আশকেলন পর্যন্ত ২৫৪ কিলোমিটার দীর্ঘ একটি পাইপলাইন রয়েছে। প্রায় ছ’দশক আগে ইরানের অর্থায়ন ও ইজরায়েলের প্রযুক্তিগত দক্ষতায় গোপনে এটি নির্মিত হয়েছিল। তখনও ইসলামী বিপ্লবের মাধ্যমে ইরান ও ইজরায়েলের সম্পর্ক বৈরিতার রূপ নেয়নি। এই পাইপলাইনের উদ্দেশ্য ছিল এলাতে আসা ইরানি অপরিশোধিত তেল পাইপলাইনের মাধ্যমে আশকেলনে পৌঁছে সেখান থেকে ইউরোপে পাঠানো। এর ফলে সুয়েজ খাল এড়িয়ে দ্রুত তেল পরিবহণ সম্ভব হত। মধ্যপ্রাচ্যের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ হলেও সবচেয়ে কম আলোচিত জ্বালানি পরিকাঠামো হিসেবে এটি পরিচিত। বর্তমানে হরমুজ ও বাব-আল-মান্দেব—দুই গুরুত্বপূর্ণ জলপথই সংঘাতের কারণে ঝুঁকিতে পড়ায় ইজরায়েলি কর্মকর্তারা প্রকাশ্যেই বলছেন, একই পাইপলাইন সৌদি আরবের জন্য হতে পারে ইউরোপমুখী নয়া রফতানি পথ।

    সিআইএর নজরেও ছিল প্রকল্পটি

    মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থা সিআইএর নথি অনুযায়ী, প্রকল্পটিকে এতটাই কৌশলগত গুরুত্ব দেওয়া হয়েছিল যে তা মার্কিন প্রেসিডেন্টের দৈনিক গোয়েন্দা প্রতিবেদনের অংশ ছিল। সেই মূল্যায়নে বলা হয়েছিল, বিশাল তেলবাহী জাহাজে ইরানি তেল এলাতে নামানো হবে, তারপর ৪২ ইঞ্চি ব্যাসের পাইপলাইনের মাধ্যমে তা আশকেলনে পৌঁছে ছোট জাহাজে ইউরোপে পাঠানো হবে। প্রথম ধাপে বছরে প্রায় দুই কোটি টন এবং পরবর্তীতে ছয় কোটি টন পর্যন্ত তেল পরিবহণের সক্ষমতা অর্জনের পরিকল্পনা ছিল। একই সঙ্গে সুয়েজ খাল বা আফ্রিকার উত্তমাশা অন্তরীপ ঘুরে যাওয়ার তুলনায় এই পথে খরচ কম হবে বলেও সিআইএ মনে করেছিল। পরে এই পরিকাঠামোর পরিচালনাকারী সংস্থার নাম হয় ইউরোপ-এশিয়া পাইপলাইন কোম্পানি (Saudi Arabia)। ১৯৭৯ সালের ইসলামি বিপ্লবের পর তেহরানের সঙ্গে কূটনৈতিক সম্পর্ক ছিন্ন হলে পুরো প্রকল্পের নিয়ন্ত্রণ নিজেদের হাতে নিয়ে নেয় ইজরায়েল। পরবর্তীকালে সুইজারল্যান্ডের একটি সালিশি ট্রাইব্যুনাল ইরানকে একশো দশ কোটি মার্কিন ডলার দেওয়ার নির্দেশ দিলেও, শত্রুর সঙ্গে বাণিজ্য আইন দেখিয়ে সেই রায় মানতে অস্বীকার করে ইজরায়েল। আজও এই সংস্থা ইজরায়েলের অন্যতম গোপন রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠান হিসেবে পরিচিত।

    কীভাবে কাজ করবে এই রুট?

    পরিকল্পনা অনুযায়ী, সৌদি অপরিশোধিত তেল প্রথমে পূর্ব-পশ্চিম পাইপলাইনে ইয়ানবু পৌঁছাবে। সেখান থেকে জাহাজে করে লোহিত সাগর পেরিয়ে আকাবা উপসাগরের এলাত বন্দরে আনা হবে। এরপর পাইপলাইনের মাধ্যমে আশকেলনে নিয়ে গিয়ে ভূমধ্যসাগর হয়ে ইউরোপে পাঠানো হবে। বর্তমানে উত্তরমুখী এই পাইপলাইনের দৈনিক পরিবহণ ক্ষমতা প্রায় বারো লাখ ব্যারেল (Hormuz Crisis)। তবে সৌদি আরবের দৈনিক ছয় থেকে সাড়ে সাত মিলিয়ন ব্যারেল তেল রফতানির তুলনায় এটি মাত্র পাঁচ থেকে পনেরো শতাংশ বহন করতে পারবে। ফলে এটি মূল রফতানি পথের বিকল্প নয়, বরং একটি সহায়ক রুট হিসেবেই কার্যকর হতে পারে।

    ইজরায়েলের প্রস্তাব কতটা গুরুত্ব পাচ্ছে?

    মার্কিন বংশোদ্ভূত, ইজরায়েল-ভিত্তিক উন্মুক্ত উৎস গোয়েন্দা বিশ্লেষক এবং ওএসআইএনটি সিক্স ওয়ান থ্রির প্রতিষ্ঠাতা জে লেটনি সংবাদ সংস্থাকে বলেন, “বিষয়টি নিয়ে ইজরায়েলের নীতিনির্ধারণী পর্যায়ে অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে আলোচনা হচ্ছে। চলতি বছরের জুলাইয়ের শুরুতে জ্বালানিমন্ত্রী এলি কোহেন ওয়াশিংটনের কাছে সৌদি আরব থেকে এলাত পর্যন্ত প্রায় সাতশো কিলোমিটার পাইপলাইন নির্মাণের প্রস্তাব দেন। ২০২০ সালে সংযুক্ত আরব আমিরশাহির সঙ্গে ব্যর্থ সমঝোতার পর এটিই ইজরায়েল সরকারের সবচেয়ে জোরালো উদ্যোগ। তবে এর বাস্তবায়ন পুরোপুরি সৌদি আরবের রাজনৈতিক সিদ্ধান্তের ওপর নির্ভর করছে।” তিনি আরও বলেন, “উপসাগরীয় অঞ্চলের তেল ইজরায়েল হয়ে ইউরোপে গেলে হরমুজের ওপর নির্ভরতা কমবে এবং ইউরোপের জ্বালানি নিরাপত্তায় ইজরায়েলের পরিকাঠামো কৌশলগত গুরুত্ব পাবে।”

    পরিকাঠামো এখনও বড় বাধা

    লেটনির মতে, এলাত বন্দরের বর্তমান পরিকাঠামো সৌদি আরবের মতো বড় রফতানি সামলানোর উপযুক্ত নয়। তাঁর কথায়, “হুথিদের হামলার কারণে এলাত বন্দরের কার্যক্রম নব্বই শতাংশেরও বেশি কমে গিয়েছে। ২০২৫ সালের মাঝামাঝি আর্থিক সংকটের কারণে কার্যত বন্দরটি বন্ধ হওয়ার পরিস্থিতি তৈরি হয়। সৌদি আরবের পরিমাণের তেল পরিবহণের জন্য গভীর নৌপথ, অতিবৃহৎ তেলবাহী জাহাজ ভেড়ানোর ব্যবস্থা, নতুন সংরক্ষণাগার এবং শক্তিশালী নিরাপত্তা ব্যবস্থা-সহ কয়েকশো কোটি ডলারের বিনিয়োগ প্রয়োজন হবে (Saudi Arabia)।” তিনি আরও জানান, গত পাঁচ বছরে পাইপলাইনে অন্তত ১১টি যান্ত্রিক ত্রুটি এবং ন’টি নাশকতা বা মানবসৃষ্ট দুর্ঘটনা ঘটেছে। ২০২১ সালে রকেট হামলাও হয়েছিল। ২০২৫ সালের জুনে ইরানের হামলায় ইজরায়েলের বাজান জ্বালানি প্রতিষ্ঠান ক্ষতিগ্রস্ত হয় এবং কয়েকটি গ্যাসক্ষেত্রের উৎপাদন সাময়িকভাবে বন্ধ রাখতে হয়।

    সবচেয়ে বড় বাধা রাজনীতি

    সৌদি আরব এখনও স্পষ্টভাবে জানিয়ে আসছে, স্বাধীন প্যালেস্তাইন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার বাস্তব অগ্রগতি ছাড়া ইজরায়েলের সঙ্গে সম্পর্ক স্বাভাবিক করা সম্ভব নয়। গাজায় ইজরায়েলের সামরিক অভিযান শুরু হওয়ার পর ২০২৩ সালের অক্টোবর থেকে দুই দেশের সম্পর্ক স্বাভাবিক করার আলোচনা কার্যত থমকে যায়। সম্প্রতি ইজরায়েলের প্রেসিডেন্ট আইজ্যাক হারজগ সৌদি সংবাদমাধ্যমকে বলেন, “সৌদি আরব ও ইজরায়েলের মধ্যে শান্তি প্রতিষ্ঠা আমার স্বপ্ন।” তবে সৌদি কর্তৃপক্ষ বারবার জানিয়েছে, প্যালেস্তাইন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার বাস্তব পথ না থাকলে ইজরায়েলকে স্বীকৃতি দেওয়ার প্রশ্নই ওঠে না (Hormuz Crisis)। লেটনির মতে, “আব্রাহাম চুক্তি মানসিক বাধা ভেঙে দিয়েছে। ইজরায়েলের অনেক নীতিনির্ধারক এখন মনে করেন, সৌদির সঙ্গে সম্পর্ক স্বাভাবিক হওয়া শুধু সময়ের অপেক্ষা। কিন্তু বাস্তবে রিয়াধ বারবার বলেছে, প্যালেস্তাইন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার অগ্রগতি ছাড়া তা সম্ভব নয়। এই পাইপলাইন প্রস্তাবের মাধ্যমে ইজরায়েল যৌথ পরিকাঠামো, গোয়েন্দা সহযোগিতা ও অর্থনৈতিক সংযোগের মাধ্যমে সেই রাজনৈতিক শর্তকে পাশ কাটানোর চেষ্টা করছে।”

    গোপনে কি সম্ভব এই সহযোগিতা?

    ইউরোপ-এশিয়া পাইপলাইন কোম্পানির দীর্ঘদিনের গোপনীয়তার ইতিহাস থাকলেও, বর্তমান প্রযুক্তির যুগে (Saudi Arabia) এত বড় প্রকল্প গোপন রাখা কঠিন বলে মনে করেন লেটনি। তাঁর ভাষায়, “সীমিত পরিসরে কিছুদিন গোপন রাখা সম্ভব হলেও, উপগ্রহ চিত্র ও আন্তর্জাতিক পণ্য পরিবহণ বিশ্লেষণের মাধ্যমে খুব দ্রুতই বিষয়টি প্রকাশ্যে চলে আসবে। ইরান এটিকে সৌদি-ইজরায়েল জোট হিসেবে তুলে ধরবে এবং হুথিরাও নিজেদের অবস্থানকে আরও জোরালোভাবে প্রতিষ্ঠার চেষ্টা করবে।”

    আমেরিকা ও ইরানের অবস্থান কী হতে পারে?

    লেটনির মতে, ইরান এমন কোনও চুক্তিকে অত্যন্ত আক্রমণাত্মকভাবে দেখবে এবং তাদের মিত্র গোষ্ঠীগুলির মাধ্যমে পরিকাঠামো লক্ষ্য করে চাপ বাড়ানোর চেষ্টা করবে। এদিকে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের স্বার্থ এই প্রকল্পের সঙ্গে অনেকটাই সামঞ্জস্যপূর্ণ। কারণ এতে হরমুজ প্রণালীর ওপর নির্ভরতা কমবে, সৌদি আরব ও ইজরায়েলের সম্পর্ক আরও ঘনিষ্ঠ হবে, গুরুত্বপূর্ণ সমুদ্রপথে মার্কিন নৌবাহিনীর দীর্ঘমেয়াদি উপস্থিতির প্রয়োজন কমবে এবং ইউরোপ রাশিয়া বা মিশরের বিকল্প জ্বালানি পরিবহণ পথ পাবে (Saudi Arabia)। লেটনির ভাষায়, “ওয়াশিংটন প্রকাশ্যে সামনে না এলেও, পর্দার আড়াল থেকে এই ধরনের উদ্যোগের পথে বাধা দূর করতে আগ্রহী হতে পারে (Hormuz Crisis)।”

     

  • LPG: ৪৬,০০০ টন এলপিজি নিয়ে হরমুজ পেরলো আরও একটি ট্যাঙ্কার, আসছে ভারতে

    LPG: ৪৬,০০০ টন এলপিজি নিয়ে হরমুজ পেরলো আরও একটি ট্যাঙ্কার, আসছে ভারতে

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ৪৬,০০০ মেট্রিক টনেরও বেশি এলপিজি (LPG) বহনকারী একটি ট্যাঙ্কার শনিবার সকালে পার হল হরমুজ প্রণালী। ৬ এপ্রিলের মধ্যে মুম্বই বন্দরে পৌঁছবে বলেই আশা। ডিরেক্টরেট জেনারেল অফ শিপিংয়ের তরফে (Hormuz Strait) জানানো হয়েছে, এলপিজি বহনকারী জাহাজ গ্রিন সানভি বর্তমানে প্রণালী পার হয়ে গিয়েছে। জাহাজ মন্ত্রকের কর্তারা জানান, জাহাজটি ৪৬,৬৫৫ মেট্রিক টন এলপিজি বহন করছে।

    ভারতীয় বন্দরে দুই জাহাজ (LPG)

    দিন কয়েক আগেই হরমুজ প্রণালী পার হয়ে ভারতীয় বন্দরে পৌঁছেছে দুটি এলপিজি ভর্তি ট্যাঙ্কার। এর মধ্যে জাগ বসন্ত (Jag Vasant) কাণ্ডলায় পৌঁছেছে ৪৭,৬১২ মেট্রিক টন এলপিজি, আর পাইন গ্যাস (Pine Gas) নিউ মাঙ্গালোর বন্দরে ৪৫,০০০ মেট্রিক টন এলপিজি পৌঁছে দিয়েছে। আরও দুটি এলপিজি জাহাজ গ্রিন আশা (Green Asha)  এবং জাগ বিক্রম (Jag Vikram) বর্তমানে হরমুজ প্রণালী অতিক্রমের জন্য ভারতীয় নৌবাহিনীর নির্দেশের অপেক্ষায় রয়েছে। পদস্থ এক নৌ-আধিকারিক জানান, ওই অঞ্চলে আটকে থাকা সব জাহাজের চলাচল নিশ্চিত করতে চেষ্টা করা হচ্ছে।

    শিপিং কর্তার বক্তব্য

    এদিকে, বিডাব্লু টিওয়াইআর নামের এলপিজি ট্যাঙ্কার ইতিমধ্যেই মুম্বই পৌঁছে গিয়েছে। মুম্বই আউটার পোর্ট লিমিটসে জাহাজ-থেকে-জাহাজ পদ্ধতিতে পণ্য খালাস করা হয়েছে। আর একটি জাহাজ বিডাব্লু ইএলএমকে এন্নোর বন্দরের দিকে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। ৪ এপ্রিল ভারতে পৌঁছানোর কথা এই জাহাজটির (Hormuz Strait)। শিপিং-কর্তা জানান, বর্তমানে ১৭টি ভারতীয় জাহাজ পারস্য উপসাগরে, ২টি ওমান উপসাগরে, ২টি এডেন উপসাগরে এবং ১টি লোহিত সাগরে অবস্থান করছে। এর মধ্যে ৫টি জাহাজ শিপিং কর্পোরেশন অব ইন্ডিয়ার মালিকানাধীন।

    ভারতীয় জাহাজগুলির নিরাপদ চলাচল নিশ্চিত করাই লক্ষ্য!

    পুরো উপসাগরীয় অঞ্চলে প্রায় ২০,৫০০ জন ভারতীয় নাবিক রয়েছেন। এদের মধ্যে ৫০৪ জন ভারতীয় পতাকাবাহী জাহাজে কর্মরত, এবং ৩ এপ্রিল পর্যন্ত বিভিন্ন শিপিং কোম্পানি ১,১৩০ জন নাবিককে সরিয়ে নিয়েছে (LPG)। ভারতীয় নৌবাহিনী এবং শিপিং কর্তৃপক্ষের মধ্যে চলমান সমন্বয় এই অঞ্চলের মধ্যে দিয়ে ভারতীয় জাহাজগুলির নিরাপদ ও সময় মতো চলাচল নিশ্চিত করার লক্ষ্যেই করা হচ্ছে। আঞ্চলিক চ্যালেঞ্জের মধ্যেও ভারতীয় বন্দরে এলপিজির সরবরাহ অব্যাহত রাখতে এটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ (Hormuz Strait)। এই ঘটনাপ্রবাহ উপসাগরীয় অঞ্চলে সামুদ্রিক পরিবহণ ব্যবস্থাপনা এবং নাবিকদের কল্যাণ নিশ্চিত করার ধারাবাহিক প্রচেষ্টাকে তুলে ধরে, যাতে নির্বিঘ্নে ভারতে পৌঁছতে পারে জ্বালানি ভর্তি ট্যাঙ্কার (LPG)।

     

  • Houthi Attacks In Red Sea: লোহিত সাগরে ত্রাতা ভারতীয় নৌসেনা, হুথি হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত জাহাজ থেকে উদ্ধার ২১

    Houthi Attacks In Red Sea: লোহিত সাগরে ত্রাতা ভারতীয় নৌসেনা, হুথি হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত জাহাজ থেকে উদ্ধার ২১

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: লোহিত সাগরে ফের ত্রাতার ভূমিকায় ভারতীয় নৌসেনা। বুধবার বার্বাডোজের পতাকা লাগানো একটি জাহাজে হামলা চালায় ইয়েমেনের বিদ্রোহী গোষ্ঠী হুথি (Houthi Attacks In Red Sea)। ইরান সমর্থিত ওই বিদ্রোহী গোষ্ঠী বাণিজ্যিক ওই জাহাজটি লক্ষ্য করে মিসাইল ছোড়ে। ঘটনায় নিহত হয়েছেন তিনজন, জখমও হন বেশ কয়েকজন। এই জাহাজটি থেকেই এক ভারতীয়-সহ মোট ২১জন কর্মীকে উদ্ধার করল ভারতীয় নৌসেনা।

    জাহাজে মিসাইল হামলা (Houthi Attacks In Red Sea)

    এদিন লোহিত সাগর দিয়ে যাচ্ছিল পণ্যবাহী জাহাজ এমভি ট্রু কনফিডেন্স। জাহাজটি (Houthi Attacks In Red Sea) যে এলাকা দিয়ে যাচ্ছিল, সেখান থেকে ইয়েমেনের বন্দরশহর এডেনের দূরত্ব ১০১ কিলোমিটার। আচমকাই জাহাজটিতে মিসাইল ছোড়ে হুথি জঙ্গিরা। আগুন লেগে যায় জাহাজটিতে। সঙ্গে সঙ্গে সাহায্য চেয়ে বার্তা পাঠান জাহাজটির ক্যাপ্টেন। বার্তাটি পৌঁছায় ভারতীয় নৌসেনার জাহাজ আইএনএস কলকাতার কাছে। দ্রুত রওনা দেয় ভারতীয় নৌসেনা। নৌসেনার মুখপাত্র কমান্ডার মাধওয়াল বলেন, “হেলিকপ্টার ও নৌকোর মাধ্যমে উদ্ধার করা হয়েছে জাহাজটির কর্মীদের। আহতদের চিকিৎসার ব্যবস্থাও করা হয়েছে।”

    দায় কবুল হুথির 

    ঘটনার নেপথ্যে যে হুথিই, তার প্রমাণ মিলেছে বিদ্রোহী গোষ্ঠী হামলার দায় কবুল করায়। তাদের দাবি, হামলা চালানোর আগে সতর্ক করা হয়েছিল জাহাজটিকে। সেই সতর্কবার্তা উপেক্ষা করাতেই চালানো হয়েছে হামলা। গত অক্টোবরে শুরু হয় ইজরায়েল-হামাস যুদ্ধ। তার পর থেকেই লোহিত সাগরে বাণিজ্যিক জাহাজগুলিতে হামলা চালানোর অভিযোগ উঠেছে হুথির বিরুদ্ধে। হামলা বন্ধ না হলে ফল ভালো হবে না বলেও হুঁশিয়ারি দিয়েছে আমেরিকা। তার পরেও হামলা চালিয়ে যাচ্ছে হুথি।

    ব্রিটিশ দূতাবাসের তরফে এক্স হ্যান্ডেলে লেখা হয়েছে, “অন্তত দুজন নিরপরাধ নাবিকের মৃত্যু হয়েছে। এটি ছিল আন্তর্জাতিক জাহাজগুলিতে হুথিদের বেপরোয়াভাবে ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপের দুঃখজনক কিন্তু অনিবার্য পরিণতি। এদের অবশ্যই থামাতে হবে।” মাসখানেক আগেও লোহিত সাগরে দুটি জাহাজে হামলা চালিয়েছিল হুথিরা। তার প্রেক্ষিতে হুথির মুখপাত্র ইয়াহিয়া সারি বলেছিলেন, “মঙ্গলবার প্রথম হামলাটি হয় আমেরিকান জাহাজ স্টার নাসিয়াকে লক্ষ্য করে ও অন্যটি ব্রিটিশ জাহাজ মর্নিং টাইডকে লক্ষ্য করে (Houthi Attacks In Red Sea)।”

    আরও পড়ুুন: বাংলাদেশে চড়ছে ‘ভারত বয়কট’ সুর, পেঁয়াজ পাঠিয়ে মোক্ষম চাল মোদির

     

    দেশের খবরদশের খবরসব খবরসবার আগে পেতে ফলো করুন আমাদের FacebookTwitter এবং Google News পেজ।

  • Airstrike Against Houthis: ইয়েমেনের ‘হুথি’ জঙ্গি গোষ্ঠীর একাধিক ঘাঁটিতে বিমান হানা আমেরিকা ও ব্রিটেনের

    Airstrike Against Houthis: ইয়েমেনের ‘হুথি’ জঙ্গি গোষ্ঠীর একাধিক ঘাঁটিতে বিমান হানা আমেরিকা ও ব্রিটেনের

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: লোহিত সাগরে একের পর এক মার্কিন পণ্যবাহী জাহাজে হামলা চালাচ্ছিল ইয়েমেনের বিদ্রোহী জঙ্গি গোষ্ঠী ‘হুথি’ (Airstrike Against Houthis)। গত ১৯ নভেম্বর থেকেই এই হামলা চলছিল বলে জানা গিয়েছে। এ বিষয়ে ওই জঙ্গি গোষ্ঠীকে চরম হুঁশিয়ারি দিয়েছিল মার্কিন প্রশাসন। কিন্তু তাতে কাজ হয়নি। শুক্রবার ভোরে পাল্টা প্রত্যাঘাত চালাল মার্কিন ও ব্রিটিশ বায়ুসেনা। ‘হুথি’ জঙ্গি গোষ্ঠীর একাধিক ঘাঁটি গুঁড়িয়ে দিল মার্কিন ও ব্রিটিশ বোমারু বিমান (Airstrike Against Houthis)। ইরানের হুথি জঙ্গিগোষ্ঠী প্যালেস্তাইনের হামাস গোষ্ঠীর প্রতিও সহানুভূতিশীল এবং প্রকাশ্যেই তারা এই জঙ্গি গোষ্ঠীকে সমর্থন জানিয়েছে।

    পরামর্শ চেয়ে জয়শঙ্করকে ফোন মার্কিন বিদেশ সচিবের

    মার্কিন জাহাজগুলির উপরে বেড়ে চলা এই হামলার বিষয়ে বৃহস্পতিবার বিদেশমন্ত্রী এস জয়শঙ্করকে ফোন করেন মার্কিন বিদেশ সচিব অ্যান্টনি ব্লিঙ্কেন। ফোনে জয়শঙ্করের পরামর্শ চান মার্কিন বিদেশ সচিব। সূত্রের খবর, মার্কিন বিদেশ সচিব জানতে চান, ‘‘পণ্যবাহী জাহাজে আক্রমণ শানিয়েছে হুথি জঙ্গিগোষ্ঠী। কী করণীয়!’’ সূত্র মারফত খবর মিলেছে ভারতের বিদেশমন্ত্রী এবং মার্কিন বিদেশ সচিবের মধ্যে দীর্ঘক্ষণ আলোচনা হয় এ বিষয়ে। আসলে হুথি জঙ্গিগোষ্ঠীর (Airstrike Against Houthis) এই আক্রমণে প্রভাব পড়ছে আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে। শুক্রবার ভোর থেকেই মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এবং ব্রিটেনের যৌথবাহিনী হানা দেয়। ইয়েমেনের রাজধানী সানা এবং বন্দর শহর আল হুদাইদাহ থেকেও শোনা গিয়েছে বিস্ফোরণের শব্দ।

    মার্কিন প্রেসিডেন্টের বিবৃতি

    এয়ার স্ট্রাইকের পরে বিবৃতি সামনে এসেছে মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের। তাঁর বিবৃতি অনুযায়ী, ‘‘মার্কিন সেনা ব্রিটেনের সঙ্গে যৌথভাবে ইয়েমেনে বিদ্রোহী হুথি গোষ্ঠীর ঘাঁটিতে বোমারু বিমান নিয়ে হামলা চালিয়েছে। এই অভিযানে আমাদের সমর্থন জানিয়েছে অস্ট্রেলিয়া, বাহরিন, কানাডা এবং নেদারল্যান্ডস। লোহিত সাগরে দিনের পর দিন বাণিজ্যিক জাহাজে হামলা চালাচ্ছিল এই হুথি গোষ্ঠী। তার প্রতিশোধ হিসেবেই এই এয়ার স্ট্রাইক। একে মার্কিন সেনা, জলপথে যাতায়াতকারী সাধারণ নাগরিক এবং আমাদের বাণিজ্য সঙ্গীদের বিপদের মুখে পড়তে হচ্ছিল। ২৭টি হামলায় ৫০টি দেশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়। ২০টি দেশের নৌ-সদস্যের উপর হামলা চালানো হয়েছে, তাদের অনেককে আটক করা হয়েছে। লোহিত সাগর যেন আতঙ্কের জলপথে পরিণত হয়েছিল। আমেরিকাকে টার্গেট করে গত ৯ জানুয়ারি হুথিরা (Airstrike Against Houthis) সবচেয়ে বড় অ্যাটাক করেছিল। আজকের হামলা এটা স্পষ্ট করল আমরা গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যিক জলপথে কোনওরকম বেচার কাজ বরদাস্ত করব না। সেনাকে নির্দেশ দেওয়া আছে, আন্তর্জাতিক জলপথকে সুরক্ষিত রাখতে প্রয়োজনে আরও কড়া পদক্ষেপ নিতে।’’

     

    দেশের খবর, দশের খবর, সব খবর, সবার আগে পেতে ফলো করুন আমাদের Facebook, Twitter এবং Google News পেজ।

  • India Bound Oil Tanker: এবার লোহিত সাগরে ভারতীয় তেলের ট্যাঙ্কারে ড্রোন হানা, নেপথ্যে হুথি?

    India Bound Oil Tanker: এবার লোহিত সাগরে ভারতীয় তেলের ট্যাঙ্কারে ড্রোন হানা, নেপথ্যে হুথি?

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: শনিবারের পর এবার রবিবার। ভারত মহাসাগরের পর এবার লোহিত সাগর। রবিবার ভারতের দিকে আসা অপরিশোধিত একটি তেলের ট্যাঙ্কার (India Bound Oil Tanker) লক্ষ্য করে ড্রোন হামলা চালাল ইয়েমেনের বিদ্রোহী গোষ্ঠী হুথি। ট্যাঙ্কারটি যখন লোহিত সাগরে ছিল, ঘটনাটি ঘটে তখন। রবিবার এক্স হ্যান্ডেলে এ কথা জানিয়েছে আমেরিকা। ‘সাইবাবা’ নামের ওই ট্যাঙ্কারে ২৫ জন ভারতীয় ছিলেন। ড্রোন হানায় অবশ্য হতাহতের কোনও খবর নেই। হামলার পরে পরেই ট্যাঙ্কারে থাকা ভারতীয়রা যোগাযোগ করেন আমেরিকার একটি জাহাজের সঙ্গে। তার পরেই প্রকাশ্যে আসে খবরটি।

    হামলা শনিবারও

    শনিবারই ভারত মহাসাগরে ড্রোন হামলা চালানো হয় ইজরায়েলের একটি জাহাজ লক্ষ্য করে। সেটিও আসছিল ভারতের দিকে। শনিবারের ঘটনার জন্য আমেরিকা দুষছিল ইরানকে। রবিবারের ঘটনায় আমেরিকার নিশানায় ইয়েমেনের হুথি। মার্কিন সেনার তরফে (India Bound Oil Tanker) জানানো হয়েছে, এদিন দক্ষিণ লোহিত সাগরে টহল দিচ্ছিল আমেরিকার একটি যুদ্ধ জাহাজ। তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করে দুটি জাহাজ, জানায় আক্রান্ত হয়েছে তারা। এই দুটির মধ্যে নরওয়ের পতাকা লাগানো জাহাজটিতে ছিল রাসায়নিক। আর ভারতের পতাকা লাগানো জাহাজটি ছিল অপরিশোধিত তেলের ট্যাঙ্কার। পরে অবশ্য ভারতীয় নৌবাহিনীর জারি করা বিবৃতিতে বলা হয়, ট্যাঙ্কারটিতে ভারতের পতাকা লাগানো ছিল না।

    আমেরিকার অভিযোগ

    ইজরায়েল-হামাস যুদ্ধের পর থেকে লোহিত সাগরে ড্রোন হামলা বৃদ্ধি পেয়েছে বলে অভিযোগ আমেরিকার। নেপথ্যে রয়েছে হুথি। আমেরিকার অভিযোগ যে নিছক ভুয়ো নয়, তা হুথির বক্তব্যেই স্পষ্ট। ইয়েমেনের বিদ্রোহী গোষ্ঠীর বক্তব্য, ইজরায়েল-হামাস যুদ্ধে তারা রয়েছে হামাসের পক্ষে। তাই ইজরায়েলের সঙ্গে যোগ রয়েছে এমন দেশের বাণিজ্যিক জাহাজ লক্ষ্য করে হামলা চালাবে তারা। আমেরিকার দাবি, রবিবারের আগে চারটি ড্রোন গুলি করে নামিয়েছে তারা। ড্রোনগুলি ওড়ানো হয়েছিল হুথি অধিকৃত এলাকা থেকে। বাইডেন প্রশসনের অভিযোগ, হুথিদের সাহায্য করছে ইরান। তার জেরেই লোহিত সাগরে বেড়েছে ড্রোন হামলা। মার্কিন অভিযোগের প্রত্যুত্তরে ইরানের কমান্ডার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মহম্মদ রেজা নাকদির হুমকি, আমেরিকা ও তার জোটসঙ্গীরা গাজায় অপরাধ বন্ধ না করলে ভূমধ্যসাগর, জিব্রাল্টার প্রণালী দিয়ে চলাচল বন্ধ করে দেওয়া হবে (India Bound Oil Tanker)।

    আরও পড়ুুন: “ভারত যখন স্বাধীন হয়, তখন থেকেই শুরু সন্ত্রাসবাদের,” তোপ জয়শঙ্করের

     

    দেশের খবরদশের খবরসব খবরসবার আগে পেতে ফলো করুন আমাদের FacebookTwitter এবং Google News পেজ।

  • Brine Pool: লোহিত সাগরের তলদেশে ‘ব্রাইন পুল’! যেখানে গেলেই মৃত্যু নিশ্চিত…

    Brine Pool: লোহিত সাগরের তলদেশে ‘ব্রাইন পুল’! যেখানে গেলেই মৃত্যু নিশ্চিত…

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: সাগরের মধ্যে আরও একটি জলাশয়! তাও আবার প্রাণঘাতী! এমনটাই জানিয়েছেন মিয়ামি ইউনিভার্সিটির (University of Miami) বিজ্ঞানীরা। রহস্যে ভরা পৃথিবীতে কখন যে কী উদ্ধার হয় তার কোনও ঠিক নেই। আর যা কিছুরই খোঁজ পাওয়া যাক না কেন, তা মানুষকে বিস্মিত করে। লোহিত সাগরের (Red Sea) ১.৭ কিলোমিটার নীচে এই ব্রাইন পুলটি উদ্ধার করা হয়েছে। সম্প্রতি তার খোঁজ পেয়েছেন মিয়ামি বিশ্ববিদ্যালয়ের বিজ্ঞানীরা (Scientists)। তাঁরা জানিয়েছেন এই জলাশয়ে কোনও প্রাণী গেলেই তার মৃত্যু নিশ্চিত। দশ ঘণ্টা ধরে লোহিত সাগরের নীচে তল্লাশি চালিয়ে এই জলাশয়ের সন্ধান মিলেছে।

    বিজ্ঞানীরা জানিয়েছেন, এই জাতীয় জলাশয় আসলে ‘ব্রাইন’ প্রজাতির (Brine Pool)। ব্রাইন আসলে সমুদ্রের তলদেশের এক প্রকার নিম্নচাপ। যেখানে লবণের ঘনত্ব ও জলের চাপ সমুদ্রের বাকি অংশের তুলনায় অনেক বেশি। এখানে বিভিন্ন রকমের রাসায়নিক উপাদানও জলের সঙ্গে মিশে রয়েছে। ফলে যে কোনও সামুদ্রিক প্রাণী বা অন্য কিছু এখানে প্রবেশ করলেই তার মৃত্যু হবেই।

    গবেষণার প্রধান গবেষক স্যাম পারকিস (Sam Purkis) এই পুলটিকে পৃথিবীর সবচেয়ে মারাত্মক পুল বলেছেন। তিনি বলেছেন, “যে কোনও প্রাণী ওই পুলে গেলে মৃত্যু নিশ্চিত।” পারকিস আরও জানান যে মাছ, চিংড়ি এবং ঈল অন্য প্রাণীদের  শিকারের জন্য এই জায়গাটি ব্যবহার করে থাকে। কারণ এই প্রাণীগুলি অন্য প্রাণীদের খাওয়ার জন্য এই মারাত্মক পুলের কাছে লুকিয়ে থাকে। যাতে তাদের শিকার করতে সুবিধা হয়।

    তিনি আরও জানান, এই পুল নিয়ে গবেষণা করলে জানা যেতে পারে যে, কীভাবে লক্ষ লক্ষ বছর আগে পৃথিবীতে মহাসাগর তৈরি হয়েছিল। তাছাড়া এই বিষাক্ত লবণাক্ত পরিবেশে যে বিরাট সংখ্যক জীবাণু বসবাস করছে, এর থেকেই বোঝা যাবে যে  চরম পরিবেশে কীভাবে অন্যান্য প্রাণী বেঁচে থাকতে পারে। পৃথিবীতে কতটা চরম অবস্থাতেও বেঁচে থাকা সম্ভব এটি বুঝতে পারলেই জানা যাবে যে সৌরজগতের অন্যান্য গ্রহে এবং তার বাইরে অন্য কোথাও জীবনের হদিশ আছে কি নেই।

    তবে পৃথিবীতে এটিই প্রথম ব্রাইন জলাশয় নয়। গত তিরিশ বছর ধরে লোহিত সাগর, ভূমধ্যসাগর এবং মেক্সিকো উপসাগরে অন্তত এক ডজন ব্রাইন জলাশয়ের সন্ধান পেয়েছেন বিজ্ঞানীরা।

     

     

  • Viral News: সাগরে সাঁতার কাটতে গিয়ে হাঙরের আক্রমণে দুই মহিলা, এরপর কী হল…

    Viral News: সাগরে সাঁতার কাটতে গিয়ে হাঙরের আক্রমণে দুই মহিলা, এরপর কী হল…

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: একটি মর্মান্তিক ঘটনা ঘটে গেল মিশরের উপকূলে। এই ঘটনার সাক্ষী হয়ে থাকল একগুচ্ছ মানুষ। তবে কারোর থেকেই সাহায্য পাওয়া গেল না। একটি হাঙরের আক্রমণে প্রাণ হারালেন এক ৬৮ বছর বয়সী অস্ট্রিয়ান মহিলা ও এক রোমানিয়ান মহিলা। ইজিপ্টের (Egypt) লোহিত সাগরের (Red Sea) সল হাশিশ (Sahl Hasheesh) উপসাগরে এই ভয়ানক দুর্ঘটনাটি ঘটে। এই ঘটনাটি হওয়ার সময় সেখানে উপস্থিত বহু মানুষ এটির ভিডিয়োও করেছেন ও সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করার সঙ্গে সঙ্গেই এটি ভাইরাল হতে শুরু হয়েছে।

    খবরসূত্রে জানা যায়, এই দুই মহিলা লোহিত সাগরে সাঁতার কাটছিলেন। আর তখনই মহিলাটির ওপর হাঙর আক্রমণ করে। আর তখন সেখানে উপস্থিত লোকেরা ভিডিও করে হাঙরটির দৃষ্টি অন্য দিকে সরানোর চেষ্টা করলেও কেউ জলে নেমে তাঁদের সাহায্য করতে যায়নি। শুধুমাত্র আক্রমণ চালিয়েই থেমে থাকেনি হাঙরটি, অস্ট্রিয়ান মহিলাটির একটি হাত ও পা কেটে নিয়েও চলে যায়। যদিও তিনি অনেক চেষ্টা করে উপকূলে এসে পৌঁছতে পারেন। কিন্তু শেষ রক্ষাটুকু করা গেল না। তাঁকে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার পথেই মৃত্যু হয়। আর এক মহিলাকে আক্রমণ চালানোর প্রায় এক ঘণ্টা পরে মৃত অবস্থায় উদ্ধার করা হয়।

    সেখানকার সংবাদমাধ্যম থেকে জানা যায়, গত শুক্রবার হুরঘাদা (Hurghada) রিসর্টের দক্ষিণে সল হাশিশ উপসাগরে সাঁতার কাটছিলেন তাঁরা। তারপরেই হাঙর আক্রমণ করলে একজনের পা ও হাত কেটে নিয়ে চলে যায়। এরপরেও নিজেই উপকূলে আসার আপ্রাণ চেষ্টা চালিয়ে শেষ পর্যন্ত ধারে পৌঁছে গেলেও হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার সময় অ্যাম্বুলেন্সেই মারা যান। এই ঘটনার পরেই লোহিত সাগরের (Red Sea) সমস্ত সৈকত দ্রুত বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। আপাতত ৩ দিনের জন্য বন্ধ সৈকতগুলি।

    প্রসঙ্গত, এর কিছুদিন আগেই ফ্লোরিডাতে (Florida) এমনই দুর্ঘটনা ঘটেছিল, যেখানে একটি কম বয়সী মেয়েকেও আক্রমণ করেছিল এক হাঙর এবং তার পায়ের কিছুটা অংশ কেটে নিয়ে চলে যায়। যদিও পরে সে বেঁচে যায় তার দাদার জন্য। এই ঘটনাটির কথা তাঁর বাবা ফেসবুকে পোস্ট করে জানান। 

     

LinkedIn
Share