Tag: Donald Trump

Donald Trump

  • H-1B Visa: ‘এটা কর, জরিমানা নয়’! ট্রাম্পের ১ লক্ষ ডলারের এইচ-১বি ভিসা ফি উড়িয়ে দিল মার্কিন আদালত

    H-1B Visa: ‘এটা কর, জরিমানা নয়’! ট্রাম্পের ১ লক্ষ ডলারের এইচ-১বি ভিসা ফি উড়িয়ে দিল মার্কিন আদালত

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসনের আরোপিত নতুন এইচ-১বি (H-1B) ভিসা ফি বড় ধাক্কা খেল আদালতে। সোমবার ম্যাসাচুসেটসের একটি ফেডারেল আদালত ট্রাম্পের ঘোষিত ১ লক্ষ ডলারের (প্রায় ৮৬ লক্ষ টাকা) অতিরিক্ত এইচ-১বি ভিসা ফি বাতিল করে দিয়েছে। আদালতের মতে, এই ফি কার্যত একটি ‘কর’ (Tax), যা আরোপ করার ক্ষমতা প্রেসিডেন্টের নেই এবং এর জন্য কংগ্রেসের অনুমোদনও নেওয়া হয়নি। এই রায়কে মার্কিন প্রযুক্তি শিল্প, স্বাস্থ্য পরিষেবা খাত এবং বিদেশি দক্ষ কর্মীদের জন্য একটি বড় স্বস্তি হিসেবে দেখা হচ্ছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, সিদ্ধান্তটি ভারতীয় আইটি পেশাজীবীদের জন্যও গুরুত্বপূর্ণ, কারণ এইচ-১বি ভিসার সবচেয়ে বড় সুবিধাভোগীদের মধ্যে ভারতীয়রাই অন্যতম।

    কী ছিল ট্রাম্প প্রশাসনের সিদ্ধান্ত?

    গত বছরের সেপ্টেম্বরে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প একটি ঘোষণার মাধ্যমে নতুন এইচ-১বি (H-1B) ভিসার জন্য ১ লক্ষ ডলারের অতিরিক্ত ফি আরোপ করেন। প্রশাসনের যুক্তি ছিল, দীর্ঘদিন ধরে এইচ-১বি কর্মসূচির অপব্যবহার হয়েছে এবং এই উচ্চ ফি বিদেশি কর্মী নিয়োগের প্রবণতা কমাতে সাহায্য করবে। সাধারণত এইচ-১বি ভিসার জন্য নিয়োগকারী সংস্থাগুলিকে বিভিন্ন খাতে মোট ২,০০০ থেকে ৫,০০০ ডলারের মধ্যে ফি দিতে হতো। নতুন নিয়ম কার্যকর হলে সেই খরচ এক লাফে কয়েকগুণ বেড়ে যেত।

    আদালত কী বলেছে?

    ম্যাসাচুসেটসের ফেডারেল বিচারক লিও সোরোকিন রায়ে বলেন, প্রশাসন এই অর্থকে ‘জরিমানা’ (Penalty) হিসেবে উল্লেখ করলেও বাস্তবে এটি একটি কর (Tax)। বিচারকের পর্যবেক্ষণ, “এই ১ লক্ষ ডলারের অর্থপ্রদানের প্রকৃতি ও প্রয়োগ বিশ্লেষণ করলে স্পষ্ট হয় যে এটি একটি কর, নাম যাই দেওয়া হোক না কেন।” তিনি আরও বলেন, মার্কিন সংবিধান অনুযায়ী নতুন কর আরোপের ক্ষমতা কংগ্রেসের হাতে। প্রেসিডেন্ট একতরফাভাবে এমন আর্থিক বোঝা চাপাতে পারেন না, যদি না কংগ্রেস সেই ক্ষমতা প্রদান করে।

    কারা মামলা করেছিল?

    ক্যালিফোর্নিয়া-সহ মোট ২০টি ডেমোক্র্যাট-শাসিত রাজ্যের অ্যাটর্নি জেনারেল এই নীতির বিরুদ্ধে আদালতে মামলা দায়ের করেন। তাদের যুক্তি ছিল, এই বিপুল ফি আমেরিকার অর্থনীতি, স্বাস্থ্য পরিষেবা, প্রযুক্তি শিল্প এবং গবেষণা ক্ষেত্রের জন্য ক্ষতিকর হবে। বহু সংস্থা বিদেশি দক্ষ কর্মী নিয়োগ থেকে সরে আসতে বাধ্য হবে, যার ফলে শ্রমিক সংকট আরও তীব্র হবে।

    এইচ-১বি ভিসার উপর কী প্রভাব পড়েছিল?

    আদালতে জমা পড়া নথি অনুযায়ী, নতুন ফি কার্যকর হওয়ার পর এইচ-১বি (H-1B) ভিসার আবেদন উল্লেখযোগ্যভাবে কমে যায়। মার্কিন নাগরিকত্ব ও অভিবাসন পরিষেবা (USCIS)-এর তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের ১৫ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত মাত্র ৮৫টি ক্ষেত্রে ১ লক্ষ ডলারের ফি জমা পড়েছিল। এটি দেখায় যে বিপুল ব্যয়বহুল এই নীতি নিয়োগকারী সংস্থাগুলিকে আবেদন করা থেকে নিরুৎসাহিত করেছিল।

    রিপাবলিকান ও ডেমোক্র্যাট—উভয় শিবিরের সমর্থন

    রায়ের পর শুধু ডেমোক্র্যাটরাই নয়, কয়েকজন রিপাবলিকান আইনপ্রণেতাও আদালতের সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়েছেন। ডেমোক্র্যাট কংগ্রেসম্যান ডন বেয়ার বলেন, এই ফি চালু থাকলে এমন অনেক হাসপাতাল ও স্বাস্থ্যকেন্দ্র মারাত্মক সমস্যায় পড়ত, যারা ইতিমধ্যেই চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মীর ঘাটতির মুখোমুখি। অন্যদিকে রিপাবলিকান কংগ্রেসম্যান মাইক ললারও আদালতের সিদ্ধান্তকে সমর্থন করেন। তিনি উল্লেখ করেন যে স্বাস্থ্যক্ষেত্রের কর্মীদের এই ফি থেকে অব্যাহতি দেওয়ার লক্ষ্যে তিনি দ্বিদলীয় উদ্যোগে আইন প্রস্তাব করেছিলেন।

    রাজ্যগুলির প্রতিক্রিয়া

    ক্যালিফোর্নিয়ার অ্যাটর্নি জেনারেল রব বন্টা বলেন, এই নীতি আমেরিকার দক্ষ কর্মী আকর্ষণের ক্ষমতাকে ক্ষতিগ্রস্ত করছিল। তার বক্তব্য, “এই কর ছিল আমেরিকার অর্থনীতিকে শক্তিশালী করা এবং গুরুত্বপূর্ণ কর্মক্ষেত্রের চাহিদা পূরণে সহায়তা করা উচ্চ দক্ষতাসম্পন্ন প্রতিভাদের আকর্ষণ ও ধরে রাখার ক্ষমতার বিরুদ্ধে সরাসরি আঘাত।”

    হোয়াইট হাউসের অবস্থান

    আদালতের রায়ে ট্রাম্প প্রশাসন সন্তুষ্ট নয়। হোয়াইট হাউস ইতিমধ্যেই জানিয়েছে যে তারা উচ্চতর আদালতে এই সিদ্ধান্তকে চ্যালেঞ্জ করবে। হোয়াইট হাউসের মুখপাত্র টেলর রজার্স বলেন, “এইচ-১বি কর্মসূচির অপব্যবহার কয়েক দশক ধরে চলেছে এবং প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প অবশেষে সেই সমস্যার সমাধানে পদক্ষেপ নিয়েছিলেন।” প্রশাসনের দাবি, বিদেশি কর্মীদের প্রবেশ নিয়ন্ত্রণে ফেডারেল অভিবাসন আইন প্রেসিডেন্টকে পর্যাপ্ত ক্ষমতা দেয় এবং সেই ক্ষমতার ভিত্তিতেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছিল।

    ভারতীয় পেশাজীবীদের জন্য কেন গুরুত্বপূর্ণ?

    এইচ-১বি ভিসার সবচেয়ে বড় সুবিধাভোগী দেশগুলির মধ্যে ভারত শীর্ষে। প্রতি বছর হাজার হাজার ভারতীয় সফটওয়্যার ইঞ্জিনিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি বিশেষজ্ঞ, গবেষক, চিকিৎসক এবং অন্যান্য দক্ষ পেশাজীবী এই ভিসার মাধ্যমে আমেরিকায় কাজের সুযোগ পান। বিশেষজ্ঞদের মতে, ১ লক্ষ ডলারের অতিরিক্ত ফি বহাল থাকলে ভারতীয় আইটি সংস্থা এবং মার্কিন প্রযুক্তি কোম্পানিগুলির জন্য বিদেশি কর্মী নিয়োগ অত্যন্ত ব্যয়বহুল হয়ে উঠত। আদালতের এই রায় সেই আশঙ্কা আপাতত দূর করেছে।

    এইচ-১বি ভিসা কী?

    এইচ-১বি (H-1B) হল মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের একটি বিশেষ কর্মসংস্থানভিত্তিক ভিসা, যা উচ্চ দক্ষতাসম্পন্ন বিদেশি পেশাজীবীদের জন্য বরাদ্দ।

    প্রতি বছর—

    • ● ৬৫,০০০টি সাধারণ এইচ-১বি ভিসা দেওয়া হয়।
    • ● অতিরিক্ত ২০,০০০টি ভিসা মার্কিন বিশ্ববিদ্যালয় থেকে উচ্চতর ডিগ্রিধারীদের জন্য সংরক্ষিত থাকে।
    • ● সাধারণত এই ভিসার মেয়াদ ৩ থেকে ৬ বছর পর্যন্ত হয়।
    • ● প্রযুক্তি, স্বাস্থ্যসেবা, প্রকৌশল, গবেষণা এবং আর্থিক পরিষেবা খাতে এই ভিসার চাহিদা সবচেয়ে বেশি।

    ভবিষ্যতে কী হতে পারে?

    আদালতের এই রায় আপাতত ট্রাম্প প্রশাসনের নীতিতে বড় বাধা তৈরি করলেও আইনি লড়াই এখানেই শেষ হচ্ছে না। হোয়াইট হাউস আপিল করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। ফলে বিষয়টি ভবিষ্যতে ফেডারেল আপিল আদালত বা প্রয়োজনে মার্কিন সুপ্রিম কোর্ট পর্যন্ত গড়াতে পারে। তবে আপাতত আদালতের সিদ্ধান্ত বিদেশি দক্ষ কর্মী, মার্কিন নিয়োগকারী সংস্থা এবং বিশেষ করে ভারতীয় পেশাজীবীদের জন্য বড় স্বস্তির খবর হিসেবে দেখা হচ্ছে।

  • Donald Trump: মুসলিম ও আরব দেশকে ‘আব্রাহাম অ্যাকর্ডসে’ যোগ দেওয়ার আহ্বান ট্রাম্পের

    Donald Trump: মুসলিম ও আরব দেশকে ‘আব্রাহাম অ্যাকর্ডসে’ যোগ দেওয়ার আহ্বান ট্রাম্পের

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: বেশ কয়েকটি মুসলিম ও আরব দেশকে ‘আব্রাহাম অ্যাকর্ডসে’ (Abraham Accords) যোগ দেওয়ার আহ্বান জানালেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প (Donald Trump)। সোমবার এই আহ্বান জানান তিনি। ট্রাম্প একে তেহরানের সঙ্গে সম্ভাব্য চুক্তির সঙ্গে যুক্ত বৃহত্তর আঞ্চলিক সমঝোতার অংশ হিসেবে তুলে ধরেন, জানিয়ে দেন, ইসলামি প্রজাতন্ত্র ইরানের সঙ্গে আলোচনা ভালোভাবেই এগোচ্ছে। সোশ্যাল মিডিয়ায় একটি পোস্টে ট্রাম্প জানান, প্রস্তাবিত এই ব্যবস্থা মধ্যপ্রাচ্যের জন্য একটি ঐতিহাসিক ঘটনা হতে পারে। তিনি সৌদি আরব, কাতার, পাকিস্তান, তুরস্ক, মিশর, জর্ডন এবং বাহরিন-সহ বিভিন্ন দেশকে একসঙ্গে ওই অ্যাকর্ডসে সই করার আহ্বান জানান।

    মার্কিন প্রেসিডেন্টের বক্তব্য (Donald Trump)

    দীর্ঘ ওই পোস্টে মার্কিন প্রেসিডেন্ট লেখেন, “ইসলামি প্রজাতন্ত্র ইরানের সঙ্গে আলোচনা সুন্দরভাবে এগোচ্ছে! এটি সবার জন্যই একটি দারুণ চুক্তি হবে, না হলে কোনও চুক্তিই হবে না।” সতর্ক করে দিয়ে তিনি বলেন, “যদি কোনও সমঝোতায় পৌঁছনো না যায়, তাহলে আবার যুদ্ধক্ষেত্রে ফিরে যেতে হবে এবং গোলাগুলি আগের চেয়ে আরও বড় ও মারাত্মক হবে।” ট্রাম্পের দাবি, ইরানের সঙ্গে চুক্তি স্বাক্ষরিত হওয়ার পর সৌদি আরব এবং কাতারের অবিলম্বে আব্রাহাম অ্যাকর্ডসে যোগ দেওয়া উচিত। পরে অন্যান্য দেশগুলোরও একে অনুসরণ করা উচিত। তাঁর ইঙ্গিত, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সফলভাবে চুক্তি সম্পন্ন হলে ভবিষ্যতে ইরানও এই কাঠামোর অংশ হতে পারে। মার্কিন প্রেসিডেন্টের মতে, আব্রাহাম অ্যাকর্ডস বর্তমান সদস্য দেশগুলির জন্য আর্থিক, অর্থনৈতিক ও সামাজিক উন্নয়নের ‘বিস্ফোরণ’ নিয়ে এসেছে। তিনি সদস্য দেশ হিসেবে সংযুক্ত আরব আমিরশাহি, বাহরিন, মরক্কো, সুদান এবং কাজাখাস্তানের নাম করেন (Abraham Accords)।

    ট্রাম্পের দাবি

    ট্রাম্প বলেন, “আব্রাহাম অ্যাকর্ডস তাদের পক্ষে খুবই উপকারী হয়েছে। সবার জন্যই আরও ভালো হবে। এটি মধ্যপ্রাচ্যে প্রকৃত শক্তি, ক্ষমতা ও শান্তি নিয়ে আসবে।” তিনি জানান, ওই দেশগুলির অনেক নেতার সঙ্গে কথা বলে তিনি বুঝেছেন, আমেরিকার সঙ্গে চুক্তি স্বাক্ষরিত হওয়ার পর তারা ইরানকেও আব্রাহাম অ্যাকর্ডসের অংশ হিসেবে দেখতে সম্মানিত বোধ করবেন। ট্রাম্প একে এই অঞ্চলের ইতিহাসে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ চুক্তিগুলির একটি বলে উল্লেখ করেন। তিনি জানান, তিনি তাঁর প্রতিনিধিদের আরও দেশকে আব্রাহাম অ্যাকর্ডসে অন্তর্ভুক্ত করার প্রক্রিয়া শুরু করার নির্দেশ দিয়েছেন।

    আব্রাহাম অ্যাকর্ডস

    আব্রাহাম অ্যাকর্ডস হল ২০২০ সালে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় স্বাক্ষরিত এক ঐতিহাসিক চুক্তি, যার মাধ্যমে ইজরায়েল এবং একাধিক আরব দেশের মধ্যে কূটনৈতিক, অর্থনৈতিক ও নিরাপত্তা সম্পর্ক স্বাভাবিক হয়। জানা গিয়েছে, শনিবার ট্রাম্প (Donald Trump) কয়েকটি আরব ও মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ দেশের নেতাদের সঙ্গে কনফারেন্স কলে আলোচনা করেছেন। সেখানে তিনি স্পষ্টভাবে জানিয়ে দিয়েছেন, ইরানের সঙ্গে যুদ্ধ শেষ হলে তিনি আরও বিভিন্ন দেশকে ইজরায়েলকে স্বীকৃতি দিতে এবং আনুষ্ঠানিকভাবে আব্রাহাম অ্যাকর্ডসে যোগ দেওয়াতে চান। ট্রাম্পের এহেন প্রস্তাবের পর ওই ভার্চুয়াল বৈঠকে কিছু সময়ের জন্য নীরবতা নেমে আসে, চুপ করে (Abraham Accords) যান সৌদি আরব, কাতার এবং পাকিস্তানের প্রধানরা। কারণ এই দেশগুলির সঙ্গে ইজরায়েলের আনুষ্ঠানিক কোনও কূটনৈতিক সম্পর্কই নেই (Donald Trump)।

     

  • Donald Trump: “আমি প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির বড় ভক্ত”, লাইভ ফোন কলে বললেন ট্রাম্প, হঠাৎ কী হল ‘পোটাস’-এর?

    Donald Trump: “আমি প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির বড় ভক্ত”, লাইভ ফোন কলে বললেন ট্রাম্প, হঠাৎ কী হল ‘পোটাস’-এর?

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: “আমি প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির (PM Modi) বড় ভক্ত”। কথাগুলি বললেন ৪৭তম মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প (Donald Trump)। তবে সরাসরি নয়, ফোনে। ঘটনাটি খুলেই বলা যাক। বর্তমানে ভারত সফর করছেন মার্কিন বিদেশসচিব মার্কো রুবিও। কলকাতা সফর সেরে তিনি গিয়েছেন দিল্লিতে। সেখানেই মার্কিন স্বাধীনতা ঘোষণাপত্রের ২৫০তম বার্ষিকী উদযাপন উপলক্ষে আয়োজন করা হয়েছিল অনুষ্ঠানের। এই অনুষ্ঠানে লাইভ ফোন কলে যোগ দেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট। উপস্থিত ছিলেন রুবিও-ও। এই অনুষ্ঠানেই ট্রাম্পের মুখে শোনা গেল মোদি-প্রশস্তি। ট্রাম্প বলেন, “সার্জিও, আপনাকে আমাদের দেশের প্রতিনিধি হতে হবে। তবে আমি সবাইকে শুধু শুভেচ্ছা জানাতে চাই। আমি প্রধানমন্ত্রীকে ভালোবাসি। মোদি অসাধারণ। তিনি আমার বন্ধু।”

    ‘আমি মোদির বড় ভক্ত’ (Donald Trump)

    অনুষ্ঠানস্থলে দর্শকদের জন্য রাখা হয়েছিল এক বিশাল স্ক্রিন। সেখানে দাঁড়িয়ে ছিলেন গর এবং রুবিও। ট্রাম্পকে বলতে শোনা যায়, “ভারতের সঙ্গে আমাদের সম্পর্ক কখনও এত ঘনিষ্ঠ ছিল না। ভারত শতভাগ আমার এবং আমাদের দেশের ওপর ভরসা করতে পারে। যদি তাদের কোনও সাহায্য লাগে, তারা জানে কোথায় ফোন করতে হবে। তারা এখানেই ফোন করবে। আমরা খুব ভালো করছি। আমরা একের পর এক রেকর্ড গড়ছি।” তিনি বলেন, “আমাদের অর্থনীতি রেকর্ড পর্যায়ে, শেয়ার বাজারও রেকর্ড উচ্চতায়। ভারত যা চাইবে, তা-ই পাবে। আর আমি প্রধানমন্ত্রী মোদির একজন বড়, খুব বড় ভক্ত।”

    মোদিকে হোয়াইট হাউস সফরের আমন্ত্রণ

    রুবিওর প্রশংসা করে মার্কিন প্রেসিডেন্ট বলেন, “তিনি (রুবিও) মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসের সর্বকালের সেরা বিদেশসচিব হিসেবে পরিচিত হবেন। যখন আপনার সঙ্গে মার্কো এবং সার্জিওর মতো মানুষ থাকেন, তখন আপনি বড় ধরনের কাজই পাবেন।” তিনি বলেন,
    “আমি জানি আপনি আমাদের ভালোভাবে প্রতিনিধিত্ব করবেন। সবাই সন্ধেটা উপভোগ করুন। প্রধানমন্ত্রীকে শুভেচ্ছা জানানো আমার কাছে সম্মানের। আর তাঁকে জানিয়ে দিন যে, আমি তাঁর বড় ভক্ত।” শনিবার সার্জিও, ট্রাম্পের (Donald Trump) পক্ষ থেকে, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে হোয়াইট হাউস সফরের আমন্ত্রণও জানান।

    দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য চুক্তি

    প্রসঙ্গত, রুবিওর ভারত সফর এমন একটা সময়ে হচ্ছে, যখন আমেরিকায় বড় ধরনের অভিবাসন নীতির পরিবর্তন উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে (PM Modi)। নয়া নীতিতে বলা হয়েছে, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে বৈধভাবে বসবাসরত বহু অভিবাসীকে দেশ ছেড়ে নিজ দেশের বাইরে থেকে ফের একবার গ্রিন কার্ডের জন্য আবেদন করতে হবে। এদিন অনুষ্ঠানের শুরুতে রুবিও বলেন, “মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এবং ভারত একটি দীর্ঘ প্রতীক্ষিত দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য চুক্তির খুব কাছাকাছি পৌঁছে গিয়েছে, যা উভয় দেশের পক্ষেই উপকারী, স্থিতিশীল এবং জাতীয় স্বার্থের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ হবে।” রুবিও বিদেশমন্ত্রী এস জয়শঙ্করের সঙ্গেও বৈঠক করেন। উভয় পক্ষের এই আলোচনায় (Donald Trump) বাণিজ্য, গুরুত্বপূর্ণ খনিজ, জ্বালানি নিরাপত্তা এবং প্রতিরক্ষা সহযোগিতার মতো বিষয়ও উঠে এসেছিল।

    ভারত প্রধান বাণিজ্য অংশীদার

    বিশ্লেষকদের মতে, রুবিওর এই সফরের উদ্দেশ্য হল, দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কে আস্থা আরও জোরদার করা এবং একটি বিস্তৃত বাণিজ্য কাঠামোর আলোচনা এগিয়ে নিয়ে যাওয়া। রুবিও বলেন, “এটি ভারতের বিরুদ্ধে কিছু নয়।” তাঁর মতে, বাণিজ্য ঘাটতি নিয়ে উদ্বেগের কারণে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ইউরোপের ঐতিহ্যগত মিত্রদের সঙ্গেও একই ধরনের আলোচনা করছে। তিনি বলেন, “ভারত একটি বিশাল অর্থনীতি এবং আমাদের অন্যতম প্রধান বাণিজ্য অংশীদার। ভারতের সঙ্গে আমাদের বিপুল পরিমাণ বাণিজ্য রয়েছে (PM Modi)। এত বড় অর্থনীতির সঙ্গে বাণিজ্যের ভারসাম্য পুনর্গঠন করাও স্বাভাবিকভাবেই ভিন্ন ধরনের বিষয় (Donald Trump)।”

     

  • PM Modi: আগামী মাসেই ফ্রান্সে মুখোমুখি মোদি-ট্রাম্প! কী নিয়ে হতে পারে আলোচনা?

    PM Modi: আগামী মাসেই ফ্রান্সে মুখোমুখি মোদি-ট্রাম্প! কী নিয়ে হতে পারে আলোচনা?

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: গত বছরের ফেব্রুয়ারি মাসে হোয়াইট হাউসে ঐতিহাসিক সাক্ষাৎ হয়েছিল ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি (PM Modi) এবং ৪৭তম মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের। তারপর থেকে আর বড় কোনও আন্তর্জাতিক সম্মেলনে (G7 Summit) মুখোমুখি হওয়া হয়নি দুই রাষ্ট্রনেতার। এবার হবে। জুন মাসে ফ্রান্সে অনুষ্ঠিত হবে জি৭ শীর্ষ সম্মেলন। সেখানেই ফের মুখোমুখি হতে পারেন এই দুই ‘মহান বন্ধু’। ট্রাম্পের অপ্রত্যাশিত রাজনৈতিক স্টাইলের কারণে একটি ছোট্ট দ্বিপাক্ষিক বৈঠকের সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না। প্রশ্ন হল, এতে কি আর ভারত-আমেরিকার বাণিজ্যিক টানাপোড়েন কমবে? উত্তর পেতে অপেক্ষা করতে হবে জুন পর্যন্ত।

    জি৭ শীর্ষ সম্মেলন (PM Modi)

    ভারত জি৭-এর স্থায়ী সদস্য নয়। তবে বিশেষ আমন্ত্রিত দেশ হিসেবে নিয়মিত যোগ দেয় এই সম্মেলনে। এ বছর ওই সম্মেলনে যোগ দিতে ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল মাক্রঁ স্বয়ং আমন্ত্রণ জানিয়েছেন ভারতের প্রধানমন্ত্রীকে। ফ্রান্সের এভিয়ঁ-লে-ব্যাঁ (Evian-les-Bains) ১৫-১৭ জুন হবে জি৭ শীর্ষ সম্মেলন। দ্বিতীয়বারের জন্য মার্কিন প্রেসিডেন্টের কুর্সিতে বসার পর ২০২৫ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে হোয়াইট হাউসে মুখোমুখি হয়েছিলেন মোদি ও ট্রাম্প। শুল্ক উত্তেজনার পটভূমিতে অনুষ্ঠিত সেই উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে ট্রাম্প মোদিকে ‘মহান বন্ধু’ বলে সম্বোধন করেছিলেন। শুধু তা-ই নয়, ২০৩০ সালের মধ্যে ভারত-আমেরিকা বাণিজ্য ৫০০ বিলিয়ন মার্কিন ডলারে পৌঁছনোর অঙ্গীকারও করেছিলেন এই দুই রাষ্ট্রনেতা।

    নোবেল পুরস্কার প্রত্যাশী ট্রাম্পের দাবি

    যদিও গত বছরের মে মাসে ভারত-পাকিস্তান উত্তেজনার পর পরিস্থিতি জটিল হয়ে ওঠে। নোবেল শান্তি পুরস্কার প্রত্যাশী ট্রাম্প হঠাৎই দাবি করতে থাকেন, ভারত ও পাকিস্তানের যুদ্ধবিরতি হয়েছে তাঁরই মধ্যস্থতায়। এর পর থেকে ট্রাম্প যেখানেই গিয়েছেন, সেখানেই বলে বেড়িয়েছেন, তাঁরই বাণিজ্যিক চাপের কারণে দুই পারমাণবিক শক্তিধর দেশ পুরোপুরি যুদ্ধে জড়ায়নি। ট্রাম্পের এহেন ঘোষণায় খুব খুশি হয়েছিল শাহবাজ শরিফের দেশ। তবে পাকিস্তান ট্রাম্পের প্রশংসা করলেও, ভারত এবং প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি সাফ জানিয়ে দেন, যুদ্ধবিরতি হয়েছে সরাসরি ইসলামাবাদের সঙ্গে আলোচনা করেই, কারও মধ্যস্থতায় নয়। বস্তুত, এর পর থেকেই তলানিতে ঠেকে দুই ‘হুজুরে’র সম্পর্ক (G7 Summit)।

    ওয়াশিংটনে থামার আমন্ত্রণ প্রত্যাখ্যান

    গত বছর জুনে কানাডায় হয়েছিল জি৭ শীর্ষ সম্মেলন। সেখানে পার্শ্ব বৈঠকে ফের সাক্ষাৎ হওয়ার কথা ছিল এই দুই নেতার। যদিও ট্রাম্প হঠাৎ করেই সম্মেলন ছেড়ে চলে যাওয়ায় বাতিল হয়ে যায় প্রস্তাবিত বৈঠক। পরে অবশ্য ট্রাম্প প্রধানমন্ত্রীকে কানাডা থেকে ফেরার পথে ওয়াশিংটনে থামার আমন্ত্রণ জানান। কিন্তু মোদির পূর্বনির্ধারিত ক্রোয়েশিয়া সফর থাকায়, সেই আমন্ত্রণ প্রত্যাখ্যান করে ভারত। তবে মার্কিন সংবাদ মাধ্যমের একটি প্রতিবেদনে সরকারি কর্তাদের উদ্ধৃতি দিয়ে বলা হয়, ভারতের আশঙ্কা ছিল যে ট্রাম্প হয়ত পাকিস্তানের সেনাপ্রধান আসিম মুনিরের সঙ্গে মোদিকে নিয়ে একটি ছবি তোলার জন্য চাপ দিতে পারেন। সেই সময় একইসঙ্গে (PM Modi) হোয়াইট হাউসে মধ্যাহ্নভোজ আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল মুনিরকেও।

    ভারতকে শায়েস্তা করার চেষ্টা

    তার পর থেকে সময় যত গড়িয়েছে, ততই অবনতি হয়েছে ভারত-মার্কিন সম্পর্কের। ট্রাম্পের চাপের কাছে নতি স্বীকার না করায় ভারতকে শায়েস্তা করতে চেষ্টার কম কসুর করেননি ট্রাম্প। তাঁর সরকার প্রথমে ভারতের ওপর ২৫ শতাংশ শুল্ক আরোপ করে। রাশিয়ার তেল কেনায় বসানো হয় অতিরিক্ত ২৫ শতাংশ শুল্কও। ট্রাম্প এবং তাঁর ঘনিষ্ঠ সহযোগী স্কট বেসেন্ট (Scott Bessent) এবং পিটার নাভারো (Peter Navarro) বারবার অভিযোগ করেন, রাশিয়ার তেল কিনে ঘুরপথে ইউক্রেন যুদ্ধে মস্কোকে সাহায্য করছে ভারত। এই শুল্ক-চাপ মূলত ভারতকে আমেরিকার দিকে ঝুঁকে থাকা একটি বাণিজ্য চুক্তিতে রাজি করানোর মরিয়া চেষ্টা ছিল বলেই খবর (G7 Summit)।

    সম্পর্কের উন্নতির ইঙ্গিত

    এই পুরো পর্বটায় কার্যত মুখে কুলুপ এঁটে ছিলেন প্রধানমন্ত্রী। মাথা নত করেননি ট্রাম্পের চাপের কাছে। শুধু তা-ই নয়, ভারতের প্রধানমন্ত্রী শার্ম এল-শেখ এবং কুয়ালালামপুরে অনুষ্ঠিত এশিয়ান (ASEAN) সম্মেলনের মতো বৈশ্বিক অনুষ্ঠানও এড়িয়ে যান। কারণ সেখানে তাঁর সঙ্গে সাক্ষাৎ হতে পারত ট্রাম্পের। গত সেপ্টেম্বরে দুই দেশের সম্পর্কের উন্নতির ইঙ্গিত মেলে। ট্রাম্প জন্মদিনের শুভেচ্ছা জানান ভারতের প্রধানমন্ত্রীকে। ফের গতি পায় বাণিজ্য আলোচনা। এই বছরের ফেব্রুয়ারিতে একটি সমঝোতায় পৌঁছয় দুই দেশ। ভারতের ওপর চাপানো শুল্ক কমিয়ে করা হয় ১৮ শতাংশ। বিভিন্ন সময় ট্রাম্পের করা মন্তব্য এবং সোশ্যাল মিডিয়া পোস্টে আবারও শোনা কিংবা দেখা যায় পরিচিত বাক্য — “ইন্ডিয়া থেকে আমার বন্ধু” (PM Modi)।

    ট্রাম্পের মুখে মোদি-স্তুতি

    তবে ইরান যুদ্ধ এবং মার্কিন সুপ্রিম কোর্টের বৈশ্বিক শুল্ক বাতিলের রায়ের কারণে আটকে যায় আনুষ্ঠানিক বাণিজ্য চুক্তি সই। ১৭ এপ্রিল টানা ৪০ মিনিট ধরে ভারতের প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে ফোনে কথা বলেন ট্রাম্প। চলতি বছরে এটি ছিল তাঁদের তৃতীয় ফোনালাপ। যদিও সেই কথোপকথনের বিস্তারিত প্রকাশ করা হয়নি, তবে শোনা যায় দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক এবং মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা করেন মোদি-ট্রাম্প। ফোনালাপের পর (G7 Summit) সাংবাদিক বৈঠকে ট্রাম্প বলেন, “ওঁর (মোদির) সঙ্গে আমার খুব ভালো কথা হয়েছে। উনি ভারত থেকে আমার বন্ধু। উনি দারুণ কাজ করছেন।” এই প্রেক্ষিতেই আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিশেষজ্ঞদের অনুমান, ফ্রান্সে অনুষ্ঠিত জি৭ শীর্ষ সম্মেলনে ফের মুখোমুখি হতে পারেন মোদি ও ট্রাম্প। দুই রাষ্ট্র প্রধানের এই সাক্ষাৎই কেড়ে নিতে পারে তামাম দুনিয়ার নজর (PM Modi)। ওয়াকিবহাল মহলের মতে, হাসি, করমর্দন এবং বন্ধুত্বপূর্ণ পরিবেশের বাইরেও হবে আসল পরীক্ষা — দুই দেশ সাম্প্রতিক বাণিজ্য ও শুল্ক সংক্রান্ত উত্তেজনা কাটিয়ে উঠতে পারে কি না। খুব সংক্ষিপ্ত ব্যক্তিগত আলাপও দিকনির্দেশ করে দিতে পারে ভারত-মার্কিন সম্পর্কের পরবর্তী অধ্যায়ের।

     

  • Pakistan: মুখোশ খুলে গেল পাকিস্তানের, বেআব্রু শাহবাজ শরিফের দেশের ‘দ্বিচারিতা’

    Pakistan: মুখোশ খুলে গেল পাকিস্তানের, বেআব্রু শাহবাজ শরিফের দেশের ‘দ্বিচারিতা’

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: মুখোশ খুলে গেল পাকিস্তানের (Pakistan)! বিশেষজ্ঞদের মতে, বিশ্বাসঘাতকতা, প্রতারণা এবং দ্বিমুখী আচরণ পাকিস্তানের মূল বৈশিষ্ট্য (US Attacks)। শাহবাজ শরিফের দেশের প্রকৃত চরিত্রের আর একটি উদাহরণ হল পাকিস্তান ইরানের সামরিক বিমানকে নিজেদের বিমানঘাঁটিতে রাখার অনুমতি দিয়েছিল। এই একই সময়ে তারা ইরান ও আমেরিকার মধ্যে যে সংঘাত চলছে, তার ‘মধ্যস্থতাকারী’র ভূমিকাও পালন করছিল। ১১ মে প্রকাশিত সিবিএস নিউজের (CBS News) রিপোর্টে মার্কিন আধিকারিকদের উদ্ধৃত করে বলা হয়েছে, পাকিস্তান ইরানের সামরিক বিমানগুলিকে মার্কিন হামলা থেকে রক্ষা করতে তাদের বিমানঘাঁটিতে রাখার অনুমতি দিয়েছে।

    পাকিস্তানের দ্বিচারিতা (Pakistan)

    রিপোর্টে বলা হয়, “এই সব পদক্ষেপ থেকে স্পষ্ট, ইরান তাদের অবশিষ্ট সামরিক ও বিমানসম্পদকে ক্রমবর্ধমান সংঘাত থেকে সুরক্ষিত রাখতে চেয়েছিল, যদিও একই সময়ে আধিকারিকরা প্রকাশ্যে উত্তেজনা প্রশমনে মধ্যস্থতাকারী হিসেবে কাজ করছিলেন।” মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এপ্রিল মাসে যুদ্ধবিরতির কথা ঘোষণা করার কয়েকদিন পরেই ইরান তাদের সামরিক বিমান, যার মধ্যে একটি আরসি-১৩০ (RC-130) গোয়েন্দা বিমানও ছিল, পাকিস্তানে সরিয়ে নেয়। এই সব বিমান রাখা হয় পাকিস্তানের নূর খান এয়ারবেসে। ২০২৫ সালের মে মাসে ভারতের ‘অপারেশন সিঁদুরে’ ব্যাপক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল এই বিমানবন্দর (US Attacks)।

    বিশ্ব-রাজনৈতিক মহলে প্রশ্ন

    প্রতিবেদনটি প্রকাশিত হওয়ার পরেই হইচই পড়ে যায় বিশ্ব-রাজনৈতিক মহলে। প্রশ্ন ওঠে পাকিস্তানের নিরপেক্ষতা নিয়েই। এর জবাবে পাকিস্তানের বিদেশমন্ত্রক ১২ মে এক বিবৃতিতে রিপোর্টটিকে ‘ভুল ও অতিরঞ্জিত’ বলে দাবি করে। তাদের দাবি, শান্তি-আলোচনা চলাকালীনই কূটনৈতিক ও প্রশাসনিক কর্মীদের যাতায়াতের সুবিধার জন্য কিছু ইরানি ও মার্কিন বিমান পাকিস্তানে এসেছিল। পাকিস্তান সাফ জানিয়ে দেয়, ইরানি বিমানগুলির সঙ্গে তাদের কোনও সামরিক প্রস্তুতি বা সুরক্ষা ব্যবস্থার সম্পর্ক নেই। বিবৃতিতে বলা হয়েছে, “ইরানি বিমানগুলি যুদ্ধবিরতির সময় পাকিস্তানে আসে। তবে এগুলির সঙ্গে কোনও সামরিক পরিকল্পনার সম্পর্ক নেই। এই ধরনের দাবি সম্পূর্ণ অনুমাননির্ভর ও বিভ্রান্তিকর (US Attacks)।”

    মার্কিন সেনেটরের বক্তব্য

    মার্কিন সেনেটর লিন্ডসে গ্রাহাম সোশ্যাল মিডিয়ায় করা একটি পোস্টে লেখেন, যদি এই রিপোর্ট সত্য হয়, তবে পাকিস্তানের মধ্যস্থতাকারী হিসেবে ভূমিকা নতুনভাবে মূল্যায়ন করা উচিত (Pakistan)। তিনি বলেন, “যদি এই খবর ঠিক হয়, তাহলে ইরান, আমেরিকা ও অন্যান্য পক্ষের মধ্যে মধ্যস্থতাকারী হিসেবে পাকিস্তানের ভূমিকা পুনর্বিবেচনা করতে হবে।” বস্তুত, ভারত দীর্ঘদিন ধরেই পাকিস্তানের দ্বিমুখী আচরণের শিকার। একদিকে পাকিস্তান ইরানের সামরিক বিমানকে আশ্রয় দিয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে, অন্যদিকে শান্তি আলোচনায় তারা অগ্রাধিকার দিয়েছে আমেরিকার স্বার্থকেই।

    ইরানের বক্তব্য

    ইরানের জাতীয় নিরাপত্তা ও বিদেশনীতি কমিশনের মুখপাত্র ইব্রাহিম রেজায়ির অভিযোগ, পাকিস্তান নিরপেক্ষ মধ্যস্থতাকারী নয়। তিনি বলেন, “পাকিস্তান সবসময় ট্রাম্পের স্বার্থকে গুরুত্ব দেয়, আমেরিকার বিরুদ্ধে কিছু বলতে চায় না।” তাঁর আরও অভিযোগ, আমেরিকা প্রথমে ইরানের ১০ দফা প্রস্তাব মেনে নিয়েছিল। এর মধ্যে লেবাননে ইজরায়েলি হামলা বন্ধ এবং ইরানের বাজেয়াপ্ত করা সম্পদ মুক্ত করার বিষয়ও ছিল। যদিও পরে তারা সেই অবস্থান থেকে সরে আসে। অভিযোগ, পাকিস্তান এই তথ্য গোপন করেছে (Pakistan)।

    শরিফের করা খসড়া সংস্করণ ফাঁস অনলাইনে

    এপ্রিল মাসে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফের করা এক্স হ্যান্ডেলে একটি পোস্টের খসড়া সংস্করণ অনলাইনে ফাঁস হয় (US Attacks)। সেখানে লেখা ছিল ‘ড্রাফট-পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রীর এক্সে লেখা মেসেজ’ (Draft – Pakistan’s PM Message on X)। পরে অবশ্য সংশোধিত পোস্ট প্রকাশিত হয়। যদিও ততক্ষণে পাকিস্তানের নিরপেক্ষতা নিয়েই প্রশ্ন উঠে গিয়েছে। পাকিস্তানের প্রতিরক্ষামন্ত্রী খাজা আসিফ শান্তি আলোচনা চলার সময়ই ইজরায়েল সম্পর্কে অত্যন্ত কড়া প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেছিলেন। ইজরায়েলকে তিনি ‘অভিশাপ’, ‘মানবতার ক্যানসার’ ইত্যাদি অভিধায় ভূষিত করেন। তীব্র সমালোচনার মুখে পড়ে পরে অবশ্য পোস্টটি মুছে ফেলেন তিনি।

    সমালোচকদের বক্তব্য

    এপ্রিলের শেষের দিকে পাকিস্তান ইরানের জন্য ছ’টি বাণিজ্যপথ খুলে দেয়। এর ফলে মার্কিন অবরোধ সত্ত্বেও ইরান বিকল্প পথে বাণিজ্য চালিয়ে যেতে পারে। সমালোচকদের মতে, এর ফলে দুর্বল হয়ে পড়ে আমেরিকার চাপ। সমালোচকদের একটা বড় অংশের মতে, পাকিস্তান প্রকৃতপক্ষে শান্তি প্রতিষ্ঠার চেষ্টা করছে না, বরং ইরান-আমেরিকা সংঘাতকে নিজেদের অর্থনৈতিক ও কূটনৈতিক স্বার্থে ব্যবহার করছে (Pakistan)। একদিকে তারা ইরানের সঙ্গে সম্পর্ক বজায় রাখছে, অন্যদিকে আমেরিকার সঙ্গেও ঘনিষ্ঠতা বজায় রেখে চলেছে। ফলে পাকিস্তানকে অনেকে ‘মধ্যস্থতাকারী’ নয়, বরং ‘সুযোগসন্ধানী’ বলেই মনে করছেন (US Attacks)।

     

  • Trump China Visit: চিন সফরে যাচ্ছেন ট্রাম্প, কী কারণে বেজিংয়ে মার্কিন প্রেসিডেন্ট?

    Trump China Visit: চিন সফরে যাচ্ছেন ট্রাম্প, কী কারণে বেজিংয়ে মার্কিন প্রেসিডেন্ট?

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: তিনদিনের চিন সফরে যাচ্ছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প (Trump China Visit)। ১৩ থেকে ১৫ মে পর্যন্ত চিনে থাকবেন তিনি। বহুচর্চিত এই রাষ্ট্রীয় সফর ওয়াশিংটন ও বেজিংয়ের ভবিষ্যৎ সম্পর্কের দিক নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিতে পারে (Xi Jinping) বলেই ধারণা আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিশেষজ্ঞদের। প্রায় এক দশকের মধ্যে কোনও মার্কিন প্রেসিডেন্ট পা রাখেননি চিনে। ৪৭তম মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পেরও এটিই প্রথম চিন সফর। যদিও তাঁর প্রথম মেয়াদের ২০১৭ সালের সফরের পর এটিই প্রথম তাঁর চিন-যাত্রা।

    সৌহার্দ্যপূর্ণ ভাষার আড়ালে চাপ! (Trump China Visit)

    চিন সম্পর্কে নানা সময় কড়া ভাষায় মন্তব্য করলেও, ট্রাম্পকে প্রকাশ্যে প্রশংসা করতে দেখা গিয়েছে চিনা প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের। গত সপ্তাহেও তিনি শি-কে ‘ভালো মানুষ’ এবং ‘বুদ্ধিমান মানুষ’ বলে উল্লেখ করেন। জানিয়ে দেন, তাঁদের মধ্যে ‘খুব ভালো সম্পর্ক’ রয়েছে। বিশ্ব রাজনীতির খবরাখবর যাঁরা রাখেন, তাঁদের মতে, এই সৌহার্দ্যপূর্ণ ভাষার আড়ালে চাপ ক্রমশ বাড়ছে। ট্রাম্প-জিনপিং বৈঠক এমন একটা সময়ে হচ্ছে, যখন মধ্যপ্রাচ্য-সহ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক ইস্যুতে সামরিক ও অর্থনৈতিক শক্তিকে কূটনৈতিক সাফল্যে রূপ দিতে হিমশিম খাচ্ছে ট্রাম্পের দেশ। ট্রাম্পের বেজিং সফরের ওপর সবচেয়ে বড় ছায়া ফেলেছে ইরান সঙ্কট। কয়েক সপ্তাহ ধরে হোয়াইট হাউস চেষ্টা করছে যাতে চিন তেহরানের ওপর তার প্রভাব খাটিয়ে মার্কিন-সমর্থিত সমাধান নিশ্চিত করতে সাহায্য করে। তা না হলেও, অন্তত যাতে হরমুজ প্রণালী ফের খুলে দেওয়া হয়, সেজন্য চাপ সৃষ্টি করে।

    মার্কিন প্রভাবের সীমাবদ্ধতা

    যদিও এই যুদ্ধে আমেরিকা সরাসরি পরাজিত হয়নি, তবে এই সংঘাত মার্কিন প্রভাবের সীমাবদ্ধতার কঙ্কালসার চেহারাটাই বেআব্রু (Xi Jinping) করে দিয়েছে। বিশ্ব জ্বালানি বাজারে অশান্তির প্রভাব পড়লেও, এখনও যুদ্ধ বন্ধ করতে পারেনি ওয়াশিংটন। ট্রাম্প অবশ্য (Trump China Visit) মচকাচ্ছেন না। তিনি বলেন, “আমি এর শেষ দেখতে চাই।”  অর্থাৎ গুরুত্বপূর্ণ ওই প্রণালী ফের চালু করতে যে তিনি মরিয়া, তা স্পষ্ট ট্রাম্পের এই বক্তব্যেই। ট্রাম্পের দাবি, ইরানের যুদ্ধবিরতি ‘লাইফ সাপোর্টে’ রয়েছে। কারণ তিনি তেহরানের (ইরানের রাজধানী) সর্বশেষ শান্তি প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেছেন। আধিকারিকদের মতে, ওই প্রস্তাবে ইরানের বিতর্কিত পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে কিছু সমঝোতার ইঙ্গিত ছিল। যদিও ট্রাম্প সেটিকে ‘জঞ্জাল’ বলে উড়িয়ে দেন। এহেন আবহে ওয়াশিংটন তাকিয়ে রয়েছে বেজিংয়ের সাহায্যের দিকে। চিন ইরানের অন্যতম প্রধান অর্থনৈতিক অংশীদার এবং এখনও বিপুল পরিমাণ ইরানি তেল কেনে। তাই তেহরানের ওপর তাদের এমন প্রভাব রয়েছে, যা আমেরিকারও নেই।

    বিদেশনীতি বিশেষজ্ঞের বক্তব্য

    হংকং বিশ্ববিদ্যালয়ের চিনা (Xi Jinping) বিদেশনীতি বিশেষজ্ঞ আলেহান্দ্রো রেয়েস বলেন, “ট্রাম্প আলোচনায় প্রবেশ করছেন দুর্বল অবস্থান থেকে। ট্রাম্পের চিনকে প্রয়োজন চিনের তুলনায় বেশি (Trump China Visit)।” তিনি এও বলেন, “ট্রাম্প একটি বিদেশনীতি-সংক্রান্ত সাফল্য চান। এমন একটি সাফল্য, যা দেখাবে তিনি শুধু বিশ্ব রাজনীতিতে অস্থিরতা সৃষ্টি করছেন না, বরং স্থিতিশীলতাও নিশ্চিত করতে চাইছেন।” এদিকে, ট্রাম্পের চিন সফরের আগে উত্তেজনা কমানোর তেমন কোনও ইঙ্গিত দেয়নি তেহরান। ইরানের নয়া সর্বোচ্চ নেতার উপদেষ্টা আলি আকবর ভেলায়াতি বলেন, “মিস্টার ট্রাম্প, কখনও ভাববেন না যে ইরানের বর্তমান শান্ত পরিস্থিতির সুযোগ নিয়ে আপনি বিজয়ীর বেশে বেজিংয়ে ঢুকতে পারবেন।” অন্যদিকে, বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ট্রাম্প ফের ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক পদক্ষেপ নেওয়ার সম্ভাবনার প্রতি আগ্রহ দেখাচ্ছেন। এ থেকে স্পষ্ট সংঘাত এখনও শেষ হয়নি (Trump China Visit)।

    ইরান ইস্যুতে চিনের সাহায্য বিনামূল্যে!

    তবে ইরান ইস্যুতে চিনের সাহায্য বিনামূল্যে আসবে না। বেজিং হয়তো ওয়াশিংটনের কাছ থেকে ছাড় আদায়ের চেষ্টা করবে, বিশেষ করে তাইওয়ান ইস্যুতে। প্রসঙ্গত, চিন তাইওয়ানকে নিজেদের অংশ বলে মনে করে। তাইপের (তাইওয়ানের রাজধানী) সঙ্গে আমেরিকার ঘনিষ্ঠ সম্পর্কের বিরুদ্ধে বারবার সোচ্চার হয়েছে চিন। মনে রাখতে হবে, ওয়াশিংটনের নীতিতে সামান্য পরিবর্তনও এশিয়ায় মার্কিন মিত্রদের উদ্বিগ্ন করতে পারে। বিশ্লেষকদের আশঙ্কা, ট্রাম্পের কূটনৈতিক দুর্বলতাকে কাজে লাগিয়ে বেজিং হয়তো তাইওয়ানের প্রতি আমেরিকার প্রতিশ্রুতি শিথিল করার চেষ্টা করবে। তাই এই বৈঠকেই স্পষ্ট হয়ে যাবে, চিনের সহযোগিতার বিনিময়ে কতদূর আপস করতে প্রস্তুত ট্রাম্প। শি-ট্রাম্প বৈঠকের আর একটি বড় বিষয় হবে বাণিজ্য, বিশেষ করে গত বছরের তীব্র শুল্কযুদ্ধের পর (Xi Jinping)।

    হাতিয়ার যখন বিরল খনিজ রফতানি

    এই বৈঠকের পথ তৈরি হয় অক্টোবর মাসে বুসানে, যখন দুই দেশ ক্রমবর্ধমান বাণিজ্য সংঘাত সাময়িকভাবে স্থগিত রাখতে সম্মত হয়েছিল। সেই সংঘাতে চিনা পণ্যের ওপর মার্কিন শুল্ক পৌঁছেছিল ১৪৫ শতাংশ পর্যন্ত (Trump China Visit)। পাল্টা প্রতিক্রিয়ায় চিন বিরল খনিজ (Rare Earth Minerals) রফতানিতে কড়াকড়ি করে। এসব খনিজ আমেরিকার প্রযুক্তি কোম্পানি ও সামরিক সরবরাহ ব্যবস্থার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। চিনের কড়াকড়ির জেরে আমেরিকার কয়েকটি কারখানায় দেখা দেয় বড় ধরনের উৎপাদন সমস্যা। এই অচলাবস্থা দেখিয়ে দেয়, চিন এখন আমেরিকার অর্থনীতির কৌশলগত খাতগুলিতেও আঘাত হানার ক্ষমতা রাখে। বর্তমানে উভয় পক্ষই অন্তত সাময়িকভাবে সম্পর্ক স্থিতিশীল করতে আগ্রহী। চিন মার্কিন প্রযুক্তিতে প্রবেশাধিকার ও রফতানি নিষেধাজ্ঞায় শিথিলতা চায়। আর ওয়াশিংটন চায় চিন আরও বেশি করে মার্কিন পণ্য কিনুক, প্রতিশ্রুতি দিক নয়া লগ্নির (Trump China Visit)।

    সংঘর্ষের সুতোয় জড়িয়ে গিয়েছে সব

    সবচেয়ে বড় সম্ভাব্য ঘোষণাগুলির মধ্যে রয়েছে বোয়িংয়ের সঙ্গে দীর্ঘদিনের আলোচিত বিমান চুক্তি। জানা গিয়েছে, চিন ৫০০টি বোয়িং ৭৩৭ ম্যাক্স এবং আরও কয়েক ডজন ওয়াইড-বডি বিমান কেনার বিষয়ে আলোচনা করছে। এটি বাস্তবায়িত হলে ২০১৭ সালের পর এটাই হবে চিনের সবচেয়ে বড় বোয়িং কেনা। আমেরিকা আরও চাইছে চিন যেন সয়াবিন, মুরগি, গরুর মাংস, কয়লা, তেল ও প্রাকৃতিক গ্যাস-সহ মার্কিন কৃষি ও জ্বালানি পণ্যের আমদানি ব্যাপকভাবে বাড়ায় (Xi Jinping)। বিশ্লেষকদের মতে, চিনের সবচেয়ে শক্তিশালী হাতিয়ার এখনও তাদের বিরল খনিজ সরবরাহ ব্যবস্থার নিয়ন্ত্রণ। বেজিং বাণিজ্যিক ব্যবহারের জন্য আমেরিকাকে দীর্ঘমেয়াদি বিরল খনিজ সরবরাহের নিশ্চয়তা দিতে পারে, যদিও সামরিক প্রয়োজনে ব্যবহৃত সরবরাহ সীমিত রাখবে (Trump China Visit)। এই কৌশলগত প্রভাবই ট্রাম্পের চিন সফরের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দিকগুলির একটি হয়ে উঠতে পারে, যেখানে কূটনীতি, বাণিজ্য এবং ভূ-রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বিতা – সব একসঙ্গে জড়িয়ে গিয়েছে সংঘর্ষের সুতোয়।

     

  • Donald Trump: ট্রাম্প কি ‘মানসিকভাবে সুস্থ?’ মার্কিন আইনপ্রণেতার প্রশ্নে ক্ষিপ্ত আমেরিকার প্রতিরক্ষামন্ত্রী

    Donald Trump: ট্রাম্প কি ‘মানসিকভাবে সুস্থ?’ মার্কিন আইনপ্রণেতার প্রশ্নে ক্ষিপ্ত আমেরিকার প্রতিরক্ষামন্ত্রী

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প (Donald Trump)-এর মানসিক স্থিতিশীলতা নিয়ে সরব হলেন বিরোধী ডেমোক্র্যাটরা। কংগ্রেসের শুনানিতে (US Congress) এই প্রশ্ন ঘিরে তীব্র বাকবিতণ্ডা দেখা যায়। প্রশ্নের মুখে পড়েন মার্কিন প্রতিরক্ষা সচিব পিট হেগসেথ (Pete Hegseth)। ইরানকে কেন্দ্র করে চলা সংঘাতের আবহে ট্রাম্পের সোশ্যাল মিডিয়ায় একাধিক বিতর্কিত মন্তব্য—বিশেষ করে “পুরো সভ্যতা শেষ হয়ে যাবে” এই ধরনের হুমকি—নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে। এই প্রেক্ষিতেই কংগ্রেসে সরাসরি প্রশ্ন তোলেন ডেমোক্র্যাট সাংসদ সারা জেকব্স (Sara Jacobs)। তাঁর প্রশ্ন ছিল, ট্রাম্প কি “কমান্ডার-ইন-চিফ” হওয়ার মতো মানসিকভাবে স্থিতিশীল?

    প্রেসিডেন্টকে রক্ষার চেষ্টা

    ইরানের সঙ্গে যুদ্ধ-পরিস্থিতির মধ্যে মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথকে কংগ্রেসে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ‘মানসিক স্থিতিশীলতা’ এবং তাঁর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের ‘অসংলগ্ন’ পোস্টগুলো নিয়ে কঠোর জিজ্ঞাসাবাদের মুখে পড়তে হয়েছে। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প তাঁর একটি পোস্টে এমনকি ইরানের ‘পুরো সভ্যতা’ ধ্বংস করে দেওয়ার হুমকি দিয়েছিলেন। ক্যাপিটল হিলে শুনানির সময় এই প্রশ্নের জবাবে হেগসেথ যা বলেছেন, তা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হয়ে গিয়েছে। সেখানে তিনি সরাসরি ‘হ্যাঁ’ বা ‘না’ উত্তর না দিয়ে প্রেসিডেন্টকে রক্ষার চেষ্টা করেন।

    ট্রাম্পের বিরুদ্ধে প্রশ্ন

    ভিডিও ক্লিপে দেখা যায়, ডেমোক্র্যাট আইনপ্রণেতা সারা জেকব্স প্রতিরক্ষামন্ত্রী হেগসেথকে জিজ্ঞেস করছেন, ‘কমান্ডার ইন চিফ’ হওয়ার মতো ট্রাম্প ‘মানসিকভাবে যথেষ্ট স্থিতিশীল’ কি না। সারা বলেন, “আমাদের রাষ্ট্রপতি সম্পর্কে এই প্রশ্নটি করতেও আমার কষ্ট হচ্ছে, কিন্তু আমার নির্বাচনী এলাকার মানুষের জীবন ঝুঁকির মুখে, আপনারা কি মনে করেন যে রাষ্ট্রপতি সর্বাধিনায়ক হওয়ার জন্য মানসিকভাবে যথেষ্ট স্থিতিশীল?” এ সময় অনেকটা বিরক্ত মুখে প্রতিরক্ষামন্ত্রী দ্রুত প্রেসিডেন্টের সমর্থনে এগিয়ে আসেন। তিনি উল্টো প্রশ্ন করেন, ট্রাম্পের পূর্বসূরি জো বাইডেনের ক্ষেত্রেও কি চার বছর ধরে একই প্রশ্ন তোলা হয়েছিল। জেকব্স উত্তর দেন, জো বাইডেন এখন প্রেসিডেন্ট নন। ট্রাম্প দেড় বছর ধরে প্রেসিডেন্টের দায়িত্বে আছেন। রাগান্বিত হেগসেথ বলেন, ‘আপনি কমান্ডার ইন চিফকে যেভাবে তুচ্ছতাচ্ছিল্য করছেন, আমি সেই পর্যায়ে তর্কে জড়াব না।’ পরে তিনি আরও যোগ করেন, ট্রাম্প একজন ‘অসাধারণ কমান্ডার ইন চিফ, যিনি আমাদের সৈন্যদের স্বার্থকে সবার আগে দেখেন। জেকব্স যুক্তি দেন যে ট্রাম্পের আচরণ নিয়ে উদ্বেগ দলমত নির্বিশেষে সবার মধ্যেই রয়েছে এবং এ প্রসঙ্গে তিনি মার্জোরি টেইলর গ্রিন, ক্যান্ডেস ওয়েন্স, মেগিন কেলি, টাকার কার্লসন, অ্যালেক্স জোনস এবং স্টেফানি গ্রিশামের মতো ব্যক্তিত্বদের সমালোচনার কথা উল্লেখ করেন।

    আমেরিকার সামরিক বাজেট

    হাউস ও সেনেট আর্মড সার্ভিসেস কমিটির সদস্যরা ট্রাম্প প্রশাসনের ২০২৭ সালের সামরিক বাজেট প্রস্তাব নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেন। এই প্রস্তাবে প্রতিরক্ষা ব্যয় বাড়িয়ে ঐতিহাসিকভাবে ১ লাখ ৫০ হাজার কোটি ডলারে নিয়ে যাওয়ার কথা বলা হয়েছে। সেনেট আর্মড সার্ভিসেস কমিটির সামনে হেগসেথ বলেন, এই রেকর্ড পরিমাণ বাজেটের অনুরোধ বছরের পর বছর ধরে চলা ‘অল্প বিনিয়োগ এবং অব্যবস্থাপনা’ দূর করে ‘আমাদের বাহিনীকে বর্তমান ও ভবিষ্যতের যুদ্ধের জন্য প্রস্তুত করবে।’ হেগসেথ বলেন, ১ লাখ ৫০ হাজার কোটি ডলারের এই বাজেট নিশ্চিত করবে, যুক্তরাষ্ট্র বিশ্বের সবচেয়ে শক্তিশালী এবং সক্ষম সামরিক বাহিনী হিসেবে টিকে থাকবে। মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী এই প্রস্তাবকে মার্কিন সামরিক শক্তির একটি নতুন যুগের সূচনা হিসেবে উল্লেখ করেন। তিনি শিল্প সক্ষমতা, উন্নত অস্ত্রশস্ত্র এবং সৈন্যদের কল্যাণে বিনিয়োগের বিষয়টি তুলে ধরেন। তিনি তরুণ তালিকাভুক্ত কর্মীদের বেতন ৭ শতাংশ বৃদ্ধি করার কথা জানিয়ে বলেন, এই বাজেটের মাধ্যমে ‘নিম্নমানের বা জরাজীর্ণ সব ব্যারাক’ নির্মূল করা হবে। হেগসেথ আরও বলেন, একটি জাতির দ্রুত ও বড় পরিসরে উদ্ভাবন করা, নির্মাণ করা এবং যোদ্ধাদের সংকটকালীন প্রয়োজনগুলো মেটানোর সক্ষমতাই হলো তার প্রতিরোধ ক্ষমতা এবং টিকে থাকার মূল ভিত্তি।

    ট্রাম্পের মানসিক অস্থিরতা নিয়ে উদ্বেগ কেন

    ইরানের সঙ্গে শান্তি আলোচনা স্থবির হয়ে পড়ার মধ্যে ট্রাম্প সামাজিক মাধ্যমে বেশ কিছু হুমকিমূলক এবং উত্তেজনাকর পোস্ট করেন। এর মধ্যে অনেক পোস্ট মাঝরাতে করা হয়েছে, যখন অধিকাংশ মার্কিন নাগরিক ঘুমিয়ে থাকেন, যা তাঁর মানসিক সুস্থতা নিয়ে উদ্বেগ বাড়িয়ে দিয়েছে, এমনই অভিমত সেনেটের। একটি বিশেষ ঘটনায় ট্রাম্প পুরো সভ্যতা ধ্বংস করে দেওয়ার হুমকি দেন। তিনি ঘোষণা করেন, ইরান যদি তাঁর দাবি মেনে না নেয়, তবে ‘এক রাতে একটি আস্ত সভ্যতা ধ্বংস হবে’। ট্রাম্প এআই-প্রযুক্তি দিয়ে তৈরি নিজের একটি ছবিও পোস্ট করেছিলেন, যেখানে তাঁকে যিশুখ্রিষ্টের মতো একটি ঐশ্বরিক অবয়বে দেখানো হয়েছে এবং তাঁর হাত থেকে পবিত্র আলো বিচ্ছুরিত হচ্ছিল। ব্যাপক সমালোচনার মুখে ট্রাম্প শেষ পর্যন্ত ছবিটি সরিয়ে নেন। তবে নিজের স্বপক্ষে যুক্তি দিয়ে বলেন, ‘ছবিটিতে আমাকে একজন চিকিৎসক হিসেবে দেখানোর কথা ছিল, যে মানুষকে সুস্থ করার কাজ করছে।’

  • JD Vance: ‘ইরান যুদ্ধের অগ্রগতি নিয়ে ট্রাম্পকে দেওয়া পেন্টাগনের রিপোর্ট সঠিক নয়’, আশঙ্কা মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্টের

    JD Vance: ‘ইরান যুদ্ধের অগ্রগতি নিয়ে ট্রাম্পকে দেওয়া পেন্টাগনের রিপোর্ট সঠিক নয়’, আশঙ্কা মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্টের

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: প্রতিরক্ষা সচিব পিট হেগসেথ এবং শীর্ষ সামরিক কর্তাদের ইরান যুদ্ধের (Iran War) অগ্রগতি নিয়ে দেওয়া বিভিন্ন রিপোর্ট সঠিক নয় বলেই আশঙ্কা মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্সের (JD Vance)। তাঁর মতে, যুদ্ধে আমেরিকার সাফল্য সম্পর্কে পেন্টাগনের অতিরঞ্জিত উপস্থাপন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে বিভ্রান্ত করতে পারে। প্রশাসনের অভ্যন্তরীণ এই মতভেদ প্রকাশ করেছে ‘দ্য আটলান্টিক’।

    ভ্যান্সের সন্দেহ (JD Vance)

    প্রতিরক্ষা সচিব পিট হেগসেথ এবং জয়েন্ট চিফস অব স্টাফের চেয়ারম্যান জেনারেল ড্যান কেইনের দাবি, আট সপ্তাহের যুদ্ধে ইরানের বিমানবাহিনী, নৌবাহিনী ও প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ধ্বংস হয়ে গিয়েছে, নিরাপদে রয়েছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের অস্ত্রভাণ্ডার। গোপন বৈঠকে ভান্স বারবার এসব দাবির সত্যতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন বলে অসমর্থিত সূত্রের খবর। ভ্যান্সের সন্দেহ, আমেরিকার ক্ষেপণাস্ত্র মজুতে বড় ঘাটতি রয়েছে, এ তথ্য লুকিয়ে রেখেছে পেন্টাগন। তিনি ইতিমধ্যেই প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পকে জানিয়েছেন, বর্তমান অস্ত্রসঙ্কট ভবিষ্যতে চিন, রাশিয়া এবং উত্তর কোরিয়ার মতো দেশের সঙ্গে সম্পর্ককে প্রভাবিত করবে।

    পেন্টাগনের দাবি

    সেন্টার ফর স্ট্র্যাটেজিক অ্যান্ড ইন্টারন্যাশনাল স্টাডিজের মতে, আমেরিকা ইতিমধ্যেই তার অর্ধেকেরও বেশি ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করে ফেলেছে। পেন্টাগনের দাবি, ইরানের সামরিক শক্তি পুরোপুরি ধ্বংস হয়ে গিয়েছে। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ইরানের আকাশসীমার ওপর পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করেছে এবং তাদের অস্ত্রভাণ্ডার একটুও কমেনি। তবে ভ্যান্স মনে করছেন, বাস্তব পরিস্থিতি সম্পূর্ণ ভিন্ন। গোয়েন্দা রিপোর্টে বলা হয়েছে, ইরান এখনও তার বিমানবাহিনী ও ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণ ব্যবস্থার দুই-তৃতীয়াংশ ধরে রেখেছে। হরমুজ প্রণালীতে জাহাজ চলাচল ব্যাহত করতে সক্ষম ইরানি নৌযানও এখনও হুমকি হিসেবেই রয়ে গিয়েছে (JD Vance)।

    সমালোচকদের অভিযোগ

    সমালোচকদের অভিযোগ, পেন্টাগন প্রধান পিট হেগসেথ বাস্তব পরিস্থিতি জানানোর বদলে ট্রাম্প যা শুনতে চান, তাই বলেন। প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, ফক্স নিউজে কাজের পূর্ব অভিজ্ঞতার কারণে হেগসেথ ট্রাম্পের মনোভাব অনায়াসেই বুঝতে পারেন (Iran War)। ২৮ ফেব্রুয়ারি ‘অপারেশন এপিক ফিউরি’ শুরু হওয়ার আগেই ভ্যান্স ইরানের সঙ্গে যুদ্ধের বিরোধিতা করেছিলেন। তিনি জানিয়েছিলেন, “এতে ব্যাপক প্রাণহানি হবে এবং অঞ্চল অস্থিতিশীল হয়ে পড়বে।” তবে এখন ভ্যান্স অত্যন্ত সতর্কভাবে এগোচ্ছেন, কারণ তিনি প্রেসিডেন্টের সঙ্গে নিজের ভালো সম্পর্ক এবং ২০২৮ সালের রাজনৈতিক ভবিষ্যতের বিষয়টি মাথায় রাখছেন।

    মার্কিন গোয়েন্দা প্রতিবেদনে ইঙ্গিত

    এদিকে, মার্কিন গোয়েন্দা প্রতিবেদনে ইঙ্গিত, ইরানের বিমানবাহিনী ও ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণ ব্যবস্থা এখনও অনেকটাই অক্ষত রয়েছে। হরমুজ প্রণালীতে নৌ-অভিযান চালানোর ক্ষমতাও রয়েছে ইরানের (JD Vance)। এদিকে, মার্কিন প্রতিরক্ষা সচিব পিট হেগসেথ প্রায় ছ’ঘণ্টাব্যাপী এক শুনানিতে ডেমোক্র্যাট আইনপ্রণেতাদের সঙ্গে তর্কে জড়িয়ে পড়েন। ইরান যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর শপথ নিয়ে প্রশ্নের মুখোমুখি হওয়ার এটাই ছিল তাঁর প্রথম উপস্থিতি। বুধবার প্রতিনিধি পরিষদের সশস্ত্র বাহিনী কমিটির সামনে হাজির হন তিনি। তাঁর সঙ্গে ছিলেন জয়েন্ট চিফস অব স্টাফের চেয়ারম্যান জেনারেল ড্যান কেইন এবং প্রতিরক্ষা (Iran War) বিভাগের প্রধান আর্থিক কর্তা জুলস হার্স্ট।

    হেগসেথের বক্তব্য

    উদ্বোধনী বক্তব্যে হেগসেথ বলেন, “আমাদের সবচেয়ে বড় প্রতিপক্ষ হল ডেমোক্র্যাট এবং কিছু রিপাবলিকানের বক্তব্য।” কমিটির ডেমোক্র্যাট সদস্যরা সংঘাতে ফেডারেল অর্থ কীভাবে ব্যয় হচ্ছে, তা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন। হার্স্ট জানান, এ পর্যন্ত এই যুদ্ধে আমেরিকার খরচ হয়েছে ২৫ বিলিয়ন ডলার। এর বেশিরভাগটাই ব্যয় হয়েছে গোলাবারুদ এবং সরঞ্জাম প্রতিস্থাপনে। খরচের পুরো হিসেব পরে দেওয়া হবে বলেও তিনি জানান। প্রসঙ্গত, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান শান্তি আলোচনায় বসতে যুদ্ধবিরতিতে রাজি হয়েছে, যদিও সংঘাত আনুষ্ঠানিকভাবে এখনও শেষ হয়নি (JD Vance)।

    প্রতিরক্ষা বাজেট বাড়ানোর দাবি

    অর্থের বিষয়টি শুনানির বড় আলোচ্য বিষয় ছিল। হোয়াইট হাউস কংগ্রেসের কাছে প্রতিরক্ষা বাজেট ১.৫ ট্রিলিয়ন ডলারে উন্নীত করার অনুরোধ করেছে, যা দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর সামরিক ব্যয়ের ক্ষেত্রে সবচেয়ে বড় বৃদ্ধি (Iran War)। হেগসেথ বলেন, “বাজেট প্রস্তাবটি সময়ের জরুরির বিষয়টি প্রতিফলিত করে।” জেনারেল কেইন বলেন, “১.৫ ট্রিলিয়ন ডলার ভবিষ্যৎ নিরাপত্তার জন্য ঐতিহাসিক অগ্রিম বিনিয়োগ, যা দ্রুত পরিবর্তনশীল প্রযুক্তিতে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রকে এগিয়ে রাখবে।” ডেমোক্র্যাট সদস্যরা প্রায়ই ইরানে মার্কিন সামরিক পদক্ষেপকে কংগ্রেসের অনুমোদন ছাড়া চালানো ‘ব্যয়বহুল পছন্দের যুদ্ধ’ হিসেবে বর্ণনা করেন।

    ক্যালিফোর্নিয়ার ডেমোক্র্যাট জন গারামেন্ডি বলেন, “আপনি প্রথম দিন থেকেই এই যুদ্ধ নিয়ে আমেরিকান জনগণকে মিথ্যে বলে আসছেন, এবং প্রেসিডেন্টও তাই (JD Vance) করেছেন।” তিনি আরও বলেন, “ট্রাম্প পশ্চিম এশিয়ার আর একটি যুদ্ধে একেবারে কাদায় আটকে গিয়েছেন (Iran War)”।

     

  • Pakistan: যুদ্ধ থামাতে মধ্যস্থতাকারীর ভূমিকায় নামা পাকিস্তানের নিরপেক্ষতা নিয়েই প্রশ্ন তুলল ইরান

    Pakistan: যুদ্ধ থামাতে মধ্যস্থতাকারীর ভূমিকায় নামা পাকিস্তানের নিরপেক্ষতা নিয়েই প্রশ্ন তুলল ইরান

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ইরানের সঙ্গে ইজরায়েল-আমেরিকার যুদ্ধ থামাতে মধ্যস্থতাকারীর ভূমিকা নিয়েছে পাকিস্তান (Pakistan)। সেই পাকিস্তানের ভূমিকা নিয়েই গুরুতর সন্দেহ প্রকাশ করলেন এক ইরানি আইনপ্রণেতা (Iranian Lawmaker)। তার জেরে একটি গুরুত্বপূর্ণ কূটনৈতিক মুহূর্তে নিরপেক্ষতা নিয়েই সৃষ্টি হয়েছে গভীর উদ্বেগের।

    কী বললেন ইব্রাহিম রেজায়ি? (Pakistan) 

    দাশতেস্তানের প্রতিনিধি তথা ইরানের জাতীয় নিরাপত্তা ও বিদেশনীতি কমিশনের মুখপাত্র ইব্রাহিম রেজায়ি বলেন, “পাকিস্তানের মধ্যস্থতা করার মতো বিশ্বাসযোগ্যতা নেই।” এক্স হ্যান্ডেলে এক বিবৃতিতে তিনি পাকিস্তানকে “ভালো বন্ধু ও প্রতিবেশী” বলে উল্লেখ করলেও, বলেন, এটি (পাকিস্তান) উপযুক্ত মধ্যস্থতাকারী নয়, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের স্বার্থের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে চলে। রেজায়ির আরও অভিযোগ, ইসলামাবাদ প্রকাশ্যে ওয়াশিংটনের সমালোচনা এড়িয়ে চলে এবং মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র যেসব প্রতিশ্রুতি পূরণ করেনি, যেমন লেবানন প্রসঙ্গ ও অবরুদ্ধ সম্পদ, সেগুলিও তুলে ধরে না। তিনি বলেন, “মধ্যস্থতাকারীকে অবশ্যই নিরপেক্ষ হতে হয়। সব সময় এক পক্ষের দিকে ঝুঁকে থাকা চলে না।”

    আসরে আরাঘচি

    বস্তুত, রেজায়িরও এই মন্তব্য এমন একটা সময়ে এসেছে, যখন আব্বাস আরাঘচি অনিশ্চয়তার মধ্যেও আলোচনা চালিয়ে যেতে বাড়িয়েছেন কূটনৈতিক তৎপরতা। প্রসঙ্গত, আরাঘচি সম্প্রতি তিন দিনের মধ্যে দ্বিতীয়বার ইসলামাবাদ সফর করেন। সেখানে তিনি পাকিস্তান সেনাবাহিনীর প্রধান আসিম মুনিরের সঙ্গে সংঘাত এবং সম্ভাব্য সমাধানের পথ নিয়েও আলোচনা করেন (Iranian Lawmaker)। ইরানের বিদেশমন্ত্রী এর আগে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ এবং অন্যান্য প্রবীণ আধিকারিকদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। এর পর তিনি ইসলামাবাদ থেকে ওমানে পৌঁছন। সেখানে তিনি সুলতান হাইথাম বিন তারিক আল-সঈদের সঙ্গে বৈঠক করেন। ওই বৈঠকে হরমুজ প্রণালীর নিরাপত্তা এবং বৃহত্তর কূটনৈতিক প্রচেষ্টা নিয়েও আলোচনা হয় (Pakistan)।

    আলোচ্য বিষয়

    ইরানি গণমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, আলোচনা শুধু পারমাণবিক ইস্যুতেই সীমাবদ্ধ ছিল না, হরমুজ প্রণালীর জন্য নতুন আইনি কাঠামোর প্রস্তাব, ক্ষতিপূরণের দাবি, ভবিষ্যতে সামরিক পদক্ষেপ না নেওয়ার নিশ্চয়তা এবং মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সামুদ্রিক নিষেধাজ্ঞা  প্রত্যাহারের বিষয় নিয়েও আলোচনা হয়েছে (Iranian Lawmaker)। উল্লেখ্য, ইসলামাবাদে সংক্ষিপ্ত সফরের পর আরাঘচির মস্কো সফরে যাওয়ার কথা। কারণ তেহরান (ইরানের রাজধানী) আলোচনার গতি ধরে রাখতে চাইছে। এদিকে, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র-ইরান সংঘাত সমাধানের কূটনৈতিক প্রচেষ্টা গতি হারাতে থাকায়, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, তেহরান যদি আলোচনা চায় তবে সরাসরি যোগাযোগ করতে পারে। তাঁর এই মন্তব্যের আগেই ওয়াশিংটন যোগাযোগ কমিয়ে দেয় এবং পাকিস্তানে পরিকল্পিত এক দফা আলোচনাও বাতিল করে দেয় (Pakistan)।

    সংবাদমাধ্যমে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প জানান, আলোচনা ফের শুরু করতে চাইলে ইরান নিজেই যোগাযোগ করতে পারে। তিনি বলেন, “যদি তারা কথা বলতে চায়, তারা আমাদের কাছে আসতে পারে, অথবা ফোন করতে পারে। আপনি (Iranian Lawmaker) জানেন, টেলিফোন আছে। আমাদের উন্নত এবং নিরাপদ যোগাযোগ লাইন রয়েছে।”

     

  • Donald Trump: ‘‘পিডোফাইল, ধর্ষক…’’! হামলার আগে ট্রাম্প-বিরোধী ইস্তাহার লিখে পরিবারকে পাঠিয়েছিলেন গুলিকাণ্ডে ধৃত যুবক

    Donald Trump: ‘‘পিডোফাইল, ধর্ষক…’’! হামলার আগে ট্রাম্প-বিরোধী ইস্তাহার লিখে পরিবারকে পাঠিয়েছিলেন গুলিকাণ্ডে ধৃত যুবক

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: হোয়াইট হাউসে নৈশভোজের আসরে গুলি চালানোর অভিযোগে যাঁকে গ্রেফতার করা হয়েছে, সেই কোল অ্যালেন আগে থেকেই একটি ট্রাম্প-বিরোধী ইস্তাহার তৈরি করে (Donald Trump) নিজের পরিবারের সদস্যদের পাঠিয়েছিলেন। সেখানে তিনি ‘পিডোফাইল, ধর্ষক এবং দেশদ্রোহী’ শব্দগুলি (Shooting) ব্যবহার করেছিলেন। সরাসরি কারও নাম উল্লেখ না থাকলেও, অনেকেই মনে করছেন, ওই কথাগুলি অভিযুক্ত মার্কিন প্রেসিডেন্টকে লক্ষ্য করেই লেখা হয়েছিল।

    ইস্তাহারে কী লিখেছিলেন ধৃত যুবক (Donald Trump)

    হোয়াইট হাউস করেসপন্ডেন্টস’ ডিনারে গুলি চালানোর অভিযোগে ধৃত যুবক কোল অ্যালেন ওই ইস্তাহারে লিখেছিলেন, “আমি আর কোনও পিডোফাইল, ধর্ষক এবং দেশদ্রোহীর অপরাধে আমার হাত রক্তাক্ত হতে দিতে রাজি নই।” যদিও সেখানে তিনি সরাসরি ট্রাম্প বা মার্কিন প্রশাসনের কোনও কর্তার নাম উল্লেখ করেননি। ঘটনার পর ট্রাম্প সিবিএসের ‘৬০ মিনিটসে’ সাক্ষাৎকার দিতে গিয়ে তাঁর বিরুদ্ধে ওঠা যৌন হিংসার অভিযোগগুলি উড়িয়ে দিয়ে একে ‘উগ্রপন্থায় প্রভাবিত’ ইস্তাহার বলে মন্তব্য করেন। মিডিয়াকে ‘ভয়ঙ্কর মানুষ’ বলে দেগে দিয়ে ট্রাম্প বলেন, “হ্যাঁ, ও (কোল অ্যালেন) এটা লিখেছিল। আমি ধর্ষক নই। আমি কাউকে ধর্ষণ করিনি।”

    “আমি পিডোফাইল নই”

    নিউজ অ্যাঙ্কর তাঁর কাছে জানতে চান, সন্দেহভাজন ব্যক্তি ট্রাম্পকেই বোঝাতে চেয়েছিলেন কি না। জবাবে মার্কিন প্রেসিডেন্ট বলেন, “আমি পিডোফাইল নই। মাফ করবেন, আমি পিডোফাইল নই। আমি ধর্ষক নই। কোনও অসুস্থ মানুষের লেখা এসব বাজে কথা আপনি পড়ছেন? আমার সঙ্গে এমন সব বিষয়ের নাম জড়ানো হয়েছে, যার সঙ্গে আমার কোনও সম্পর্কই নেই। আমি পুরোপুরি নির্দোষ প্রমাণিত হয়েছি।” তদন্তকারীরা ওই যুবকের ইস্তাহার খতিয়ে দেখছেন (Shooting)। হোয়াইট হাউসের তরফে জানানো হয়েছে, ইস্তাহার থেকে স্পষ্ট বোঝা যায় যে সন্দেহভাজনের লক্ষ্য ছিলেন ট্রাম্প প্রশাসনের কর্তারা। প্রসঙ্গত, শনিবার রাতে গুলির শব্দ শোনা গেলে ট্রাম্প ও তাঁর প্রশাসনের আধিকারিকদের দ্রুত নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নিয়ে যাওয়া হয়।

    ‘ফ্রেন্ডলি ফেডেরাল অ্যাসাসিন’!

    কর্তৃপক্ষের মতে, ঘটনাটি বলরুমের বাইরে ঘটে। সন্দেহভাজন ব্যক্তি এক বা দু’রাউন্ড গুলি ছোড়ার পর সিঁড়ির কাছে তাঁকে আটক করা হয়। হোয়াইট হাউসের এই হাই-প্রোফাইল অনুষ্ঠানে হামলার অভিযোগে অভিযুক্ত ব্যক্তি হামলার কয়েক মিনিট আগে তাঁর পরিবারকে একটি উদ্বেগজনক ইস্তাহার পাঠিয়েছিলেন। সেখানে তিনি নিজেকে একজন ‘ফ্রেন্ডলি ফেডেরাল অ্যাসাসিন’ বলে উল্লেখ করেন এবং দাবি করেন, কোনও ইরানি অপারেটিভ সহজেই নিরাপত্তা ভেদ করে ঢুকে পড়তে পারে—এভাবে অনুষ্ঠানের নিরাপত্তা ব্যবস্থা দুর্বল বলেই তুলে ধরে তিনি। ইস্তাহারে ট্রাম্প (Donald Trump) প্রশাসনের আধিকারিকদের টার্গেট করার ইচ্ছের কথাও উল্লেখ ছিল। রাজনৈতিক হিংসার বারংবার উল্লেখও পাওয়া গিয়েছে ওই ইস্তাহারে।

    ‘নিউ ইয়র্ক পোস্ট’কে এক মার্কিন কর্তা জানান, ওই নথিতে ‘সর্বোচ্চ পদমর্যাবদা থেকে সর্বনিম্ন পর্যন্ত’ কর্তাদের টার্গেট হিসেবে নাম উল্লেখ করা হয়েছিল। যদিও এফবিআই (FBI) পরিচালক কাশ প্যাটেলের নাম ওই তালিকায় ছিল না। হামলার পরিকল্পনা সম্পর্কে অভিযুক্ত লিখেছিলেন (Shooting), দেওয়াল ভেদ কম করার জন্য সে স্লাগের বদলে বাকশট ব্যবহার করতে চেয়েছিলেন তিনি, যাতে (Donald Trump) প্রয়োজনে অনুষ্ঠানে উপস্থিত অন্যদের ভেদ করেও এগিয়ে যাওয়া যায়।

LinkedIn
Share