Tag: Donald Trump

Donald Trump

  • Donald Trump: ট্রাম্পের কড়া ভিসা নীতির জের, ভারতেই বিশাল অফিস খুলছে গুগলের মূল সংস্থা অ্যালফাবেট

    Donald Trump: ট্রাম্পের কড়া ভিসা নীতির জের, ভারতেই বিশাল অফিস খুলছে গুগলের মূল সংস্থা অ্যালফাবেট

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের কঠোরতর অভিবাসন নীতির সঙ্গে খাপ খাইয়ে নিতে কৌশলগত পদক্ষেপ নিতে চলেছে অ্যালফাবেট। ট্রাম্পের ভিসা কড়াকড়ির জন্য বিকল্প পথ হিসেবে ভারতে তাদের ব্যবসা উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়াতে চলেছে গুগলের মূল সংস্থাটি। ট্রাম্প (Donald Trump) প্রশাসনের সিদ্ধান্তের ফলে বাধ্য হয়েই এই সম্প্রসারণের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে মার্কিন তথ্যপ্রযুক্তি সংস্থাটি। কারণ এই প্রশাসন এইচ-১বি ভিসা (H 1B Visa) কর্মসূচিতে কড়াকড়ি আরোপ করেছে। মার্কিন প্রযুক্তি সংস্থাগুলি বিদেশ থেকে বিশেষ করে ভারত ও চিন থেকে দক্ষ বিদেশি কর্মীদের নিয়োগ করে। এর জন্য  এইচ-১বি ভিসার ওপর ব্যাপকভাবে নির্ভরশীল তারা। এখন ট্রাম্প প্রশাসনের নতুন বিধিনিষেধের ফলে অ্যালফাবেটের মতো সংস্থাগুলি প্রতিভার উৎস দেশগুলিতেই তাদের ব্যবসার একটি অংশ সরিয়ে নিতে বাধ্য হচ্ছে।

    অ্যালফাবেটের অফিস (Donald Trump)

    ব্লুমবার্গের এক প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, বেঙ্গালুরুর হোয়াইটফিল্ড প্রযুক্তি করিডরে অ্যালেম্বিক সিটিতে অ্যালফাবেট মোট ২৪ লক্ষ বর্গফুট অফিস স্পেস নিশ্চিত করেছে। এর মধ্যে রয়েছে একটি অফিস টাওয়ার লিজ নেওয়া, যা আগামী কয়েক মাসের মধ্যেই কর্মীদের জন্য খুলে দেওয়া হবে। পাশাপাশি, আরও দুটি টাওয়ার কেনার অপশন নেওয়া হয়েছে, যেগুলির নির্মাণ কাজ শেষ হওয়ার কথা আগামী বছর। অ্যালফাবেটের এক মুখপাত্রের মতে, সংস্থাটি ইতিমধ্যেই ৬ লক্ষ ৫০ হাজার বর্গফুট অফিস স্পেস লিজ নিয়েছে (Donald Trump)। ‘কেনার-অপশন’ নেওয়ার অর্থ হল—নির্মাণ শেষ হওয়ার পর সংশ্লিষ্ট সম্পত্তিগুলি কেনার একচেটিয়া অধিকার থাকবে অ্যালফাবেটের হাতে। তবে সংস্থাটি চাইলে ওই সম্পত্তিগুলি না কেনার সিদ্ধান্তও নিতে পারে (H 1B Visa)।

    কর্মসংস্থানের সুযোগ

    জানা গিয়েছে, সব ক’টি নয়া পরিকাঠামো পুরোপুরি ব্যবহার করা হলে প্রায় ২০ হাজার অতিরিক্ত কর্মী কাজ করতে পারবেন। এর ফলে ভারতে অ্যালফাবেটের কর্মীসংখ্যা দ্বিগুণেরও বেশি হয়ে যেতে পারে। বর্তমানে বিশ্বজুড়ে অ্যালফাবেটের মোট কর্মী সংখ্যা প্রায় ১ লক্ষ ৯০ হাজার, যার মধ্যে ভারতে কর্মরত ১৪ হাজারের কাছাকাছি। ভারতে এই সম্প্রসারণের মূল কারণ হল প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের অধীনে মার্কিন সরকারের এইচ-১বি ভিসার আমূল সংস্কার। গত বছর নতুন এইচ-১বি ভিসার আবেদন ফি বাড়িয়ে ১ লাখ মার্কিন ডলার করা হয়, যা আগে ছিল মাত্র ২ হাজার থেকে ৫ হাজার ডলারের মধ্যে। এই পদক্ষেপের উদ্দেশ্য ছিল মার্কিন কর্মীদের অগ্রাধিকার দেওয়া এবং ট্রাম্পের ভাষায়, বিদেশি আউটসোর্সিং সংস্থাগুলির দ্বারা ‘ব্যবস্থার অপব্যবহার’ রোধ করা।

    বৃহত্তম ক্যাম্পাস ‘অনন্তে’র উদ্বোধন

    এইচ-১বি ভিসার অন্যতম বৃহৎ স্পনসর অ্যালফাবেট দীর্ঘদিন ধরেই ইঞ্জিনিয়ারিং ও এআই উন্নয়নের গুরুত্বপূর্ণ পদে এই কর্মসূচির ওপর নির্ভরশীল ছিল। এই পদগুলির বড় অংশে ভারতীয় প্রযুক্তিবিদরা কর্মরত। নতুন বিধিনিষেধ, বাড়তি নজরদারি এবং আউটসোর্সড কাজের ওপর সম্ভাব্য কর আরোপ—সব মিলিয়ে উচ্চদক্ষতার কাজ দ্রুত ভারতের মতো দেশে সরে যাচ্ছে, যেখানে দক্ষ জনবলের প্রাচুর্য রয়েছে এবং খরচ তুলনামূলকভাবে কম (Donald Trump)। ভারতে নতুন অফিস স্পেস অধিগ্রহণের এই সিদ্ধান্ত এসেছে এমন একটা সময়ে, যখন মাত্র এক বছর আগেই অ্যালফাবেট বেঙ্গালুরুতে তাদের বৃহত্তম ক্যাম্পাস ‘অনন্ত’ উদ্বোধন করেছে। এই কৌশল গ্রহণে অ্যালফাবেট একা নয় (H 1B Visa)। ট্রাম্প প্রশাসনের ভিসা বিধিনিষেধ মোকাবিলায় কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা সংস্থা ওপেনএআই এবং অ্যানথ্রপিক পিবিসি (যারা ‘ক্লদ’ তৈরি করে) সম্প্রতি ভারতে তাদের অফিস খুলেছে। পাশাপাশি মেটা, মাইক্রোসফট, অ্যাপল, অ্যামাজন, নেটফ্লিক্স-সহ অন্য প্রযুক্তি জায়ান্টরাও দ্রুত ভারতে তাদের কার্যকলাপ সম্প্রসারণ করছে (Donald Trump)।

    ভিসা-সংক্রান্ত সমস্যার ঝুঁকি

    ভারতে অ্যালফাবেট-সহ বিভিন্ন সংস্থার এই কৌশল শুধু ভিসা-সংক্রান্ত সমস্যার ঝুঁকি কমাচ্ছে না, বরং বিশ্বের সর্বাধিক জনসংখ্যার দেশের ক্রমবর্ধমান ডিজিটাল অর্থনীতির সুবিধাও নিতে সাহায্য করছে। প্রযুক্তি প্রতিভার বৃহত্তম ভান্ডার হওয়ার পাশাপাশি, ভারতে একশো কোটিরও বেশি মোবাইল ব্যবহারকারী রয়েছেন এবং স্বল্পমূল্যে ইন্টারনেট পরিষেবা সহজলভ্য—যা ডিজিটাল অর্থনীতিকে আরও শক্তিশালী করেছে। গত মাসে প্রকাশিত ব্লুমবার্গের আর একটি প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ট্রাম্পের ভিসা বিধিনিষেধের ফলে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র প্রচুর প্রযুক্তি প্রতিভা হারাচ্ছে এবং তার সুফল পাচ্ছে ভারত। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, যদি এই নীতির কারণে ভারতীয় প্রযুক্তি কর্মীরা মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে না যান বা সেখান থেকে ফিরে আসেন, তবে সবচেয়ে বেশি লাভবান হবে ভারত—এবং এই পরিবর্তন ইতিমধ্যেই শুরু হয়ে গিয়েছে। লিংকডইনের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালের তৃতীয় ত্রৈমাসিকে ভারতে স্থানান্তরিত হওয়া প্রযুক্তি পেশাদারের  সংখ্যা বেড়েছে ৪০ শতাংশ (H 1B Visa)।

    ফিকি (FICCI) এবং অ্যানারক (ANAROCK)-এর একটি যৌথ প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০৩০ সালের মধ্যে ভারতে ২,৪০০-রও বেশি গ্লোবাল ক্যাপাবিলিটি সেন্টার (GCC) গড়ে উঠতে পারে, যেখানে কর্মসংস্থান হবে প্রায় ২৮ লক্ষ পেশাদারের। বর্তমানে দেশে প্রায় ১,৭০০টি জিসিসি রয়েছে, যেখানে কর্মরত ১৯ লাখের মতো মানুষ (Donald Trump)।

  • India US Trade Deal: ধাক্কা পাকিস্তান, বাংলাদেশ ও চিনের! ভারত-মার্কিন বাণিজ্য চুক্তিতে কমল শুল্ক, সুবিধা দিল্লির

    India US Trade Deal: ধাক্কা পাকিস্তান, বাংলাদেশ ও চিনের! ভারত-মার্কিন বাণিজ্য চুক্তিতে কমল শুল্ক, সুবিধা দিল্লির

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: বাণিজ্য চুক্তিতে সহমত হয়েছে ভারত এবং আমেরিকা (India US Trade Deal)। যার ফলে ভারতের শুল্ক ৫০ শতাংশ থেকে কমিয়ে ১৮ শতাংশ করা হয়েছে বলে খবর। আর তাতেই ফাঁপড়ে পড়েছে পাকিস্তান, বাংলাদেশ ও চিন। কারণ, তাদের থেকে ভারতের শুল্ক অনেকটাই কম। যার ফলে ভারতের বাণিজ্য বাড়বে বলেই আশা করছেন বিশেষজ্ঞরা। সোমবার সামাজিক মাধ্যমে এক পোস্টে ট্রাম্প জানান, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে ফোনালাপের পর এই চুক্তি চূড়ান্ত হয়েছে। তিনি বলেন, ভবিষ্যতে ভারত যুক্তরাষ্ট্র থেকে তেল কিনবে এবং প্রয়োজনে ভেনেজুয়েলা থেকেও তেল আমদানি করতে পারে।

    স্বাগত বার্তা মোদির

    প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি এই চুক্তিকে স্বাগত জানিয়ে বলেন, “আজ আমার প্রিয় বন্ধু প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের সঙ্গে কথা বলে দারুণ আনন্দিত। ‘মেড ইন ইন্ডিয়া’ পণ্যের ওপর শুল্ক ১৮ শতাংশে নামিয়ে আনার এই ঘোষণায় আমি অত্যন্ত খুশি। ভারতের ১৪০ কোটি মানুষের পক্ষ থেকে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পকে আন্তরিক ধন্যবাদ।” তিনি আরও বলেন, বিশ্বের দুই বৃহৎ গণতন্ত্র ও অর্থনীতি একসঙ্গে কাজ করলে তা সাধারণ মানুষের উপকারে আসে এবং পারস্পরিক সহযোগিতার নতুন সুযোগ তৈরি হয়।

    ঐতিহাসিক চুক্তি, শাহ

    অমিত শাহ (Amit Shah) তাঁর পোস্টে এই চুক্তিকে ‘ঐতিহাসিক’ (Historic Deal) বলে উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, ‘শুল্ক ১৮ শতাংশে নামায় ভারত–মার্কিন বাণিজ্য (India-US Trade) নতুন মাত্রা পাবে। উভয় দেশের মানুষই এর সুফল পাবেন।’ দুই দেশের তুলনামূলক শুল্ক নিয়ে সরকারি সূত্র জানায়, এখন ভারতের শুল্ক ইন্দোনেশিয়া (১৯%), ভিয়েতনাম (২০%), বাংলাদেশ (২০%), এবং চিনের (৩৪%) চেয়ে কম। ফলে বিশ্ববাজারে ভারতীয় পণ্যের চাহিদা আরও বাড়বে।

    ভারত-মার্কিন বাণিজ্য চুক্তির প্রভাব

    ভারত-মার্কিন বহু প্রতীক্ষিত বাণিজ্য চুক্তি (India US Trade Deal) সম্পন্ন হওয়ায় আজ ভারতীয় শেয়ার বাজারে বড়সড় উত্থানের সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে। ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রস্তাবিত ৫০% শুল্ক কমে ১৮%-এ নামিয়ে আনার সিদ্ধান্তে অটোমোবাইল (Auto Stocks), আইটি (IT Stocks), ডিফেন্স (Defence Stocks) এবং ফার্মার (Pharma Stocks) মতো রফতানি-নির্ভর সেক্টরগুলি বিনিয়োগকারীদের (Investment) নজরে রয়েছে।ভারত-আমেরিকা শুল্ক কমানোর সিদ্ধান্তের ফলে রফতানি বাণিজ্যে নতুন জোয়ার আসবে। বিশেষ করে আইটি এবং ডিফেন্স স্টকগুলোতে ভালো মুভমেন্ট দেখা যেতে পারে, বলে মত অর্থনৈতিক বিশেষজ্ঞদের।

    অন্যান্য দেশের তুলনায় ভারতের অবস্থান

    এই চুক্তির ফলে ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসনের অধীনে ভারত এখন এমন কয়েকটি দেশের মধ্যে পড়ল, যাদের ওপর যুক্তরাষ্ট্র তুলনামূলকভাবে কম শুল্ক আরোপ করছে। চিন, পাকিস্তান, বাংলাদেশ, ইন্দোনেশিয়া ও ভিয়েতনামের তুলনায় ভারতের শুল্কহার কম। তবে ইউরোপিয় ইউনিয়ন, জাপান ও দক্ষিণ কোরিয়ার তুলনায় ভারতের শুল্ক সামান্য বেশি। এর আগে রাশিয়া থেকে তেল কেনার কারণে ভারতের ওপর অতিরিক্ত ২৫ শতাংশ শুল্ক আরোপ করেছিল যুক্তরাষ্ট্র, যা আগের ২৫ শতাংশ ‘রেসিপ্রোকাল ট্যারিফ’-এর সঙ্গে যোগ হয়েছিল। নতুন চুক্তির ফলে এই অতিরিক্ত শুল্ক প্রত্যাহার করা হচ্ছে।

    বেশি ট্যারিফ যাদের উপর

    চিন- ৩৭ শতাংশ

    ব্রাজিল- ৫০ শতাংশ

    দক্ষিণ আফ্রিকা- ৩০ শতাংশ

    মায়ানমার- ৪০ শতাংশ

    লাওস- ৪০ শতাংশ

    কম ট্যারিফ রয়েছে যাদের উপর

    ইউরোপীয়ান ইউনিয়ন- ১৫ শতাংশ

    জাপান ১৫ শতাংশ

    দক্ষিণ কোরিয়া- ১৫ শতাংশ

    সুইৎজারল্যান্ড- ১৫ শতাংশ

    ইউকে- ১০ শতাংশ

    দক্ষিণ এশিয়ায় মার্কিন শুল্ক

    বাংলাদেশ- ২০ শতাংশ

    ভিয়েতনাম- ২০ শতাংশ

    মালেয়শিয়া- ১৯ শতাংশ

    কম্বোডিয়া- ১৯ শতাংশ

    থাইল্যান্ড- ১৯ শতাংশ

    পাকিস্তান- ১৯ শতাংশ

    ভারত-মার্কিন চুক্তির শর্ত

    সূত্রের খবর, ভারত রাশিয়া থেকে তেল কেনার কারণে যে অতিরিক্ত শুল্কের মুখে পড়েছিল, তা তুলে নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে আমেরিকা। একই সঙ্গে ভারত যুক্তরাষ্ট্র থেকে আরও বেশি পরিমাণে জ্বালানি, কয়লা, প্রযুক্তি, কৃষিপণ্যসহ বিভিন্ন পণ্য কিনতে সম্মত হয়েছে। ট্রাম্প দাবি করেছেন, ভারতের মোট মার্কিন জ্বালানি ক্রয় ৫০০ বিলিয়ন ডলারের বেশি হতে পারে। ট্রাম্প আরও বলেন, ভারত ধাপে ধাপে যুক্তরাষ্ট্রের পণ্যের ওপর শুল্ক ও অশুল্ক বাধা শূন্যের দিকে নিয়ে যাবে। বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থার (WTO) তথ্য অনুযায়ী, ট্রাম্প পুনরায় ক্ষমতায় আসার আগে ভারতের গড় শুল্কহার ছিল বিশ্বের অন্যতম উচ্চ—সাধারণভাবে প্রযোজ্য হার ১৫.৬ শতাংশ এবং কার্যকর হার ৮.২ শতাংশ।

    রাশিয়া থেকে তেল কেনা বন্ধ!

    মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ঘোষণা করেছেন যে বাণিজ্য চুক্তি হওয়ায় ভারতের উপর শুল্ক ২৫ শতাংশ থেকে কমিয়ে ১৮ শতাংশ করা হবে। বাণিজ্যে আরও সুবিধা হবে। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিও শুল্ক কমার কথা জানিয়েছেন। অন্যদিকে, ট্রাম্প দাবি করেছেন যে ভারত এবার থেকে রাশিয়ার কাছ থেকে তেল কেনা বন্ধ করে দেবে। তার বদলে আমেরিকা ও ভেনেজুয়েলার কাছ থেকে তেল কিনবে। যদিও প্রধানমন্ত্রী মোদির পোস্টে এ কথা উল্লেখ নেই।

    এখনো যেসব বিষয় স্পষ্ট নয়

    এই চুক্তি কবে থেকে কার্যকর হবে, রাশিয়া থেকে তেল কেনা বন্ধের সময়সীমা কী, কিংবা কোন কোন মার্কিন পণ্য ভারত কিনবে—এসব বিষয়ে এখনো স্পষ্ট কোনো ঘোষণা আসেনি। সোমবার বিকেল পর্যন্ত হোয়াইট হাউস এ নিয়ে আনুষ্ঠানিক কোনো বিজ্ঞপ্তি বা ফেডারেল রেজিস্টার নোটিস জারি করেনি। ভারত বা যুক্তরাষ্ট্র—কোনো পক্ষই এখনো চুক্তির বিস্তারিত শর্ত প্রকাশ করেনি। একই সঙ্গে রাশিয়াও ভারতের তেল আমদানি বন্ধের বিষয়ে কোনও মন্তব্য করেনি। উল্লেখ্য, জাপান ও দক্ষিণ কোরিয়ার সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের আগের বাণিজ্য চুক্তিগুলোতে শত শত বিলিয়ন ডলারের বিনিয়োগের প্রতিশ্রুতি ছিল। তবে ভারতের সঙ্গে ঘোষিত এই চুক্তিতে তেমন কোনো বিনিয়োগের উল্লেখ নেই। উল্লেখ্য, গত এক বছরে দু’দেশের মধ্যে একাধিক দফায় আলোচনা হলেও উচ্চ শুল্ক এবং কূটনৈতিক মতবিরোধে সম্পর্ক কিছুটা চাপের মধ্যে ছিল। শেষ পর্যন্ত এই সমঝোতাকে ভারত-আমেরিকা সম্পর্কের ক্ষেত্রে নতুন অধ্যায়ের সূচনা বলেই মনে করছেন কূটনৈতিক মহল।

     

     

     

     

     

  • India EU FTA: “ইইউ-র সঙ্গে বাণিজ্য চুক্তি করে ভারতই লাভবান হবে”, বলছেন মার্কিন বাণিজ্য কর্তা

    India EU FTA: “ইইউ-র সঙ্গে বাণিজ্য চুক্তি করে ভারতই লাভবান হবে”, বলছেন মার্কিন বাণিজ্য কর্তা

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: “ভারত ও ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ)-এর এই চুক্তিতে (India EU FTA) ভারতই সবচেয়ে বেশি লাভবান হবে।” কথাগুলি বললেন মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের শীর্ষ বাণিজ্য কর্তা। তাঁর মতে, এই চুক্তিটি ইউরোপীয় বাজারে ভারতের প্রবেশাধিকার আরও বাড়িয়ে দিয়ে নয়াদিল্লিরই সুবিধে করে দিয়েছে বলে মনে হচ্ছে। সংবাদ মাধ্যমে সাক্ষাৎকার দিতে গিয়ে আমেরিকার বাণিজ্য প্রতিনিধি জেমিসন গ্রিয়ার বলেন, “এই চুক্তিতে ভারতই সবচেয়ে বেশি লাভবান হবে। চুক্তি কার্যকর হলে নয়াদিল্লি কার্যত গোল্ডেন টাইম উপভোগ করবে।” তিনি বলেন, “এ পর্যন্ত চুক্তির কিছু খুঁটিনাটি আমি দেখেছি। সত্যি বলতে কী, আমার মনে হয় এতে ভারতই এগিয়ে থাকবে। তারা ইউরোপের বাজারে আরও বেশি করে প্রবেশাধিকার পাচ্ছে।”

    ভারত বেশ বড় সুবিধা পেতে চলেছে (India EU FTA)

    প্রস্তাবিত চুক্তির বিস্তারিত দিকগুলির উল্লেখ করে গ্রিয়ার বলেন, “শুনে মনে হচ্ছে, এতে ভারতের জন্য অতিরিক্ত কিছু অভিবাসন সুবিধাও থাকতে পারে। আমি নিশ্চিত নই, তবে ইইউয়ের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ফন ডার লেয়েন ইউরোপে ভারতীয় শ্রমিকদের যাতায়াত বা মোবিলিটি নিয়ে কথা বলেছেন। সব মিলিয়ে আমার ধারণা, এই চুক্তির ফলে ভারত বেশ বড় সুবিধা পেতে চলেছে।” মঙ্গলবার ভারত ও ইউরোপীয় ইউনিয়ন একটি ঐতিহাসিক মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি (এফটিএ) স্বাক্ষর করেছে। একে ‘সব চুক্তির জননী’ বলে অভিহিত করা হচ্ছে। এই চুক্তির মাধ্যমে প্রায় ২০০ কোটি মানুষের একটি যৌথ বাজার তৈরি হবে এবং বাণিজ্য ও প্রতিরক্ষা সহযোগিতার মাধ্যমে নিয়মভিত্তিক বৈশ্বিক ব্যবস্থাকে সমর্থন করার লক্ষ্যে একটি রূপান্তরধর্মী পাঁচ বছরের কর্মসূচি ঘোষণা করা হয়েছে (India EU FTA)।

    গ্রিয়ারের বক্তব্য

    এই চুক্তি গ্লোবাল মোট জিডিপির প্রায় এক-চতুর্থাংশকে অন্তর্ভুক্ত করবে। এর আওতায় ইউরোপীয় ইউনিয়নে ভারতের ৯৯ শতাংশ রফতানির ওপর শুল্ক তুলে নেওয়া হবে এবং একই সঙ্গে ভারতে ইউরোপীয় ইউনিয়নের ৯৭ শতাংশের বেশি রফতানির ওপর শুল্ক হ্রাস করা হবে। তবে আমেরিকার শীর্ষ বাণিজ্য কর্তা এই অগ্রগতির গুরুত্ব কিছুটা খাটো করে দেখান। তাঁর মতে, পরিবর্তনশীল বৈশ্বিক বাণিজ্য পরিবেশ ইউরোপীয় ইউনিয়নকে বিকল্প বাজার খুঁজতে বাধ্য করছে। কারণ মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র দেশীয় উৎপাদনকে অগ্রাধিকার দিচ্ছে এবং আরও কঠোর বাণিজ্য নীতি গ্রহণ করছে (India EU FTA)। গ্রিয়ার বলেন, “কৌশলগতভাবে এটা বোঝা জরুরি যে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প দেশীয় উৎপাদনকে অগ্রাধিকার দিয়েছেন এবং কার্যত অন্য দেশগুলির জন্য আমাদের বাজারে প্রবেশের ক্ষেত্রে এক ধরনের ফি আরোপ করেছেন। ফলে এসব দেশ তাদের অতিরিক্ত উৎপাদনের জন্য নতুন বাজার খুঁজছে। সেই কারণেই ইইউ ভারতের দিকে ঝুঁকছে।” তিনি এও বলেন, “ইইউ অত্যন্ত বাণিজ্যনির্ভর।”

    কম খরচের শ্রমশক্তির সুবিধা

    গ্রিয়ারের মতে, কম খরচের শ্রমশক্তির সুবিধা নিয়ে এই চুক্তি ভারতের জন্য ইউরোপীয় বাজারে প্রবেশাধিকার আরও বাড়াবে, বিশেষত এমন এক সময়ে যখন ইউরোপীয় ইউনিয়ন কার্যত গ্লোবালাইজেশনকে আরও জোরদার করছে। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি এই চুক্তিকে বিশ্বের দুটি প্রধান অর্থনীতির মধ্যে অংশীদারিত্বের এক নিখুঁত উদাহরণ বলে অভিহিত করেন। ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট ভারতের ক্রমবর্ধমান বৈশ্বিক গুরুত্বের ওপর জোর দিয়ে বলেন, “বাণিজ্যকে অস্ত্র হিসেবে ব্যবহারের আশঙ্কার প্রেক্ষাপটে এই চুক্তি আমাদের নিজস্ব বিশ্বে মানুষ ও অর্থনীতিকে সুরক্ষিত করতে সহায়ক হবে।” তিনি বলেন, “ভারত এগিয়ে এসেছে, আর ইউরোপ সত্যিই আনন্দিত। কারণ ভারত সফল হলে বিশ্ব আরও স্থিতিশীল, সমৃদ্ধ ও নিরাপদ হয়, এবং তার সুফল আমরা সবাই পাই।”

    ভূরাজনৈতিক তাৎপর্যের দিক

    এদিকে, এই চুক্তি মার্কিন সংবাদমাধ্যমে ব্যাপক চর্চার খোরাক জুগিয়েছে। অনেক সংবাদমাধ্যমই এর ভূরাজনৈতিক তাৎপর্যের দিকে আলোকপাত করেছে। দ্য নিউ ইয়র্ক টাইমসের হেডলাইন হল, “ট্রাম্পের ছায়ায়, ভারত ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের বাণিজ্যিক সম্পর্কের সম্প্রসারণ”। এখানে বলা হয়েছে, ওয়াশিংটনের বাণিজ্য সম্পর্ক যখন ক্রমশ অনিশ্চিত হয়ে উঠছে, ঠিক সেই সময় দুই বৃহৎ গণতন্ত্রের মধ্যে অর্থনৈতিক সংহতি আরও গভীর হচ্ছে (India EU FTA)। দ্য ওয়াশিংটন পোস্ট জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্যিক অনিশ্চয়তার আবহে ইউরোপ ও ভারত একটি ‘ব্লকবাস্টার’ বাণিজ্য চুক্তির কথা ঘোষণা করেছে। সিএনএন বৃহত্তর ভূ-রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে বিষয়টি তুলে ধরে জানিয়েছে, ট্রাম্পের নীতিতে আঘাতপ্রাপ্ত ভারত ও ইউরোপ একে অপরের দিকে ঝুঁকছে, যাকে তারা বাণিজ্যের ক্ষেত্রে ‘মাদার অব অল ডিলস’ বলে উল্লেখ করেছে। যদিও প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, প্রতীকী গুরুত্ব থাকা সত্ত্বেও চুক্তিটির তাৎক্ষণিক অর্থনৈতিক প্রভাব সীমিত হতে পারে।

    সবচেয়ে বড় মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি

    দ্য ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল চুক্তিটির ব্যাপ্তি তুলে ধরে জানিয়েছে, এটি ইউরোপীয় ইউনিয়নের স্বাক্ষরিত জনসংখ্যাভিত্তিক সবচেয়ে বড় মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি (FTA)। একই সঙ্গে এটি এমন এক বৃহত্তর প্রবণতার অংশ, যেখানে ট্রাম্প-যুগের শুল্কনীতির প্রতিক্রিয়ায় বড় অর্থনীতিগুলি বিকল্প বাণিজ্য নেটওয়ার্ক গড়ে তুলছে। সিএনবিসি বারবার এই চুক্তিকে ‘মাদার অব অল ডিলস’ বলে উল্লেখ করেছে। তারা সরবরাহ শৃঙ্খলের পুনর্গঠন, ইউরোপের গাড়ি, যন্ত্রপাতি ও ওষুধ রফতানির সম্ভাবনা এবং আমেরিকা–ভারত ও আমেরিকা–ইইউ বাণিজ্য উত্তেজনার মধ্যে ভারতীয় বস্ত্র ও পরিষেবা খাতের জন্য উন্নত বাজার প্রবেশাধিকারের বিষয়টি তুলে ধরেছে। এনবিসি একে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ওপর নির্ভরতা কমানোর লক্ষ্যে নেওয়া একটি ‘ঐতিহাসিক বাণিজ্য চুক্তি’ হিসেবে বর্ণনা করেছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এই চুক্তি বৈশ্বিক জিডিপির এক-চতুর্থাংশ এবং বিশ্ব বাণিজ্যের এক-তৃতীয়াংশকে অন্তর্ভুক্ত করে, পাশাপাশি ইউরোপকে ওয়াশিংটনের ওপর নির্ভরতা কমিয়ে বৈচিত্র্য আনার সুযোগ দেয় (India EU FTA)।

    ‘বহুমেরুকেন্দ্রিক বাণিজ্য ব্যবস্থা’

    দ্য ডিপ্লোম্যাট এটিকে ‘ট্রাম্প-পরবর্তী, বহুমেরুকেন্দ্রিক বাণিজ্য ব্যবস্থা’ হিসেবে চিহ্নিত করেছে। তাদের মতে, এই চুক্তি ভারতের প্রবৃদ্ধির ইঞ্জিনকে ইউরোপের শিল্পভিত্তির সঙ্গে যুক্ত করে বৈশ্বিক বাণিজ্যের কাঠামো নতুনভাবে সাজিয়ে দিচ্ছে। প্রসঙ্গত, ভারত ও ইইউয়ের মধ্যে প্রায় দুই দশক ধরে চলা বাণিজ্য আলোচনার পর এই চুক্তি সম্পন্ন হল। এর সমাপ্তি এমন একটা সময়ে হল, যখন বৈশ্বিক বাণিজ্য অস্থিরতার মধ্যে দিয়ে যাচ্ছে, এর মধ্যে রয়েছে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সাম্প্রতিক হুমকি, যেখানে তিনি গ্রিনল্যান্ড সংযুক্তির বিরোধিতা করা ইউরোপীয় দেশগুলির ওপর উচ্চ শুল্ক আরোপের কথা বলেছিলেন (যদিও পরে তিনি সেই অবস্থান থেকে সরে আসেন)। ইইউয়ের জন্য আমেরিকা এখনও সবচেয়ে বড় রফতানি বাজার। ফলে ভারতের সঙ্গে অংশীদারিত্ব বৈচিত্র্য আনার দিক থেকে কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। মার্কিন সংবাদমাধ্যমে ভারত–ইইউ মুক্ত বাণিজ্য চুক্তিকে শুধু শুল্ক বা বাজার প্রবেশাধিকারের চুক্তি হিসেবে নয়, বরং বৈশ্বিক বাণিজ্যের অস্থিরতার মুখে বড় অর্থনীতিগুলি কীভাবে একক দেশের ওপর নির্ভর না করে বিকল্প জোট গড়ে তুলছে, তারই প্রতিফলন হিসেবে দেখা হচ্ছে (India EU FTA)। বিশ্লেষকদের মতে, চুক্তিটির তাৎক্ষণিক অর্থনৈতিক প্রভাব মাঝারি হতে পারে, যদিও এর ভূরাজনৈতিক ও প্রতীকী গুরুত্ব অত্যন্ত বড়। এটি ভারত ও ইউরোপকে স্বাধীন, স্থিতিশীল এবং সক্ষম বাণিজ্য অংশীদার হিসেবে আরও দৃঢ়ভাবে প্রতিষ্ঠিত করে।

  • Canada PM: আমেরিকার নাগপাশ কাটাতে মার্চে ভারত সফরে আসছেন কানাডার প্রধানমন্ত্রী, একাধিক চুক্তির সম্ভাবনা

    Canada PM: আমেরিকার নাগপাশ কাটাতে মার্চে ভারত সফরে আসছেন কানাডার প্রধানমন্ত্রী, একাধিক চুক্তির সম্ভাবনা

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ভারত সফরে আসতে পারেন কানাডার প্রধানমন্ত্রী (Canada PM) মার্ক কার্নি। মার্চ মাসের প্রথম সপ্তাহে ভারত সফরে আসার কথা তাঁর। জ্বালানি, খনিজ সম্পদ, পারমাণবিক সহযোগিতা এবং উদীয়মান প্রযুক্তি খাতে একাধিক চুক্তি সই হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে বলে জানিয়েছেন কানাডায় নিযুক্ত ভারতের হাইকমিশনার দীনেশ পট্টনায়েক (Trump Tariffs)। এই সফর মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের বাইরে বাণিজ্য ও কৌশলগত অংশীদারিত্ব বৈচিত্র্যময় করার ক্ষেত্রে কানাডার একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। উল্লেখ্য, আমেরিকা বর্তমানে কানাডার সবচেয়ে বড় বাণিজ্যিক অংশীদার।

    ভারতের হাইকমিশনারের বক্তব্য (Canada PM)

    পট্টনায়েক জানান, সফরকালে মার্ক কার্নি ভারতের সঙ্গে ইউরেনিয়াম সরবরাহ, তেল ও গ্যাস, গুরুত্বপূর্ণ খনিজ, এআই, কোয়ান্টাম কম্পিউটিং, শিক্ষা এবং সাংস্কৃতিক সহযোগিতা সংক্রান্ত একাধিক চুক্তিতে সই করতে পারেন। প্রস্তাবিত চুক্তিগুলির মধ্যে প্রায় ২.৮ বিলিয়ন কানাডিয়ান ডলার মূল্যের ১০ বছরের একটি ইউরেনিয়াম সরবরাহ চুক্তিও অন্তর্ভুক্ত থাকতে পারে। এদিকে, চলতি সপ্তাহে ভারত সফররত কানাডার জ্বালানিমন্ত্রী টিম হজসন বলেন, “ভারত-কানাডার পারমাণবিক চুক্তির আওতায় পারমাণবিক সহযোগিতা নিয়ে আলোচনা হবে, তবে আন্তর্জাতিক সুরক্ষা বিধি মেনে চলার শর্তে।” তিনি আরও জানান, জ্বালানি ও খনি খাত হবে দ্বিপাক্ষিক সহযোগিতার অন্যতম প্রধান ক্ষেত্র, যার মধ্যে অপরিশোধিত তেল ও তরল প্রাকৃতিক গ্যাস লেনদেনের সম্ভাবনাও রয়েছে।

    ভারত-কানাডা সম্পর্কের অবনতি

    জাস্টিন ট্রুডোর আমলে ভারত-কানাডা সম্পর্কের অবনতি হওয়ার পর কার্নি দুই দেশের সম্পর্ক পুনর্গঠনের উদ্যোগ নিয়েছেন। ট্রুডো ২০২৩ সালে শিখ বিচ্ছিন্নতাবাদী নেতা হারদীপ সিং নিজ্জর হত্যাকাণ্ডে ভারত সরকারের জড়িত থাকার অভিযোগ করেছিলেন, যা ভারত অস্বীকার করেছিল (Trump Tariffs)। পট্টনায়েক জানান, ভারত ও কানাডার মধ্যে একটি বিস্তৃত অর্থনৈতিক অংশীদারিত্ব চুক্তি (সিইপিএ) নিয়ে আনুষ্ঠানিক আলোচনা মার্চ মাসে শুরু হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। প্রায় দু’বছর ধরে স্থগিত থাকা এই বাণিজ্য আলোচনা গত নভেম্বরে পুনরুজ্জীবিত করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। তাঁর মতে, আলোচনা শুরু হওয়ার এক বছরের মধ্যেই সিইপিএ চূড়ান্ত করা সম্ভব (Canada PM)।

    বৈশ্বিক নিয়মভিত্তিক ব্যবস্থা

    কার্নি কানাডার বাণিজ্যিক সম্পর্ক বৈচিত্র্যময় করাকে অগ্রাধিকার দিয়েছেন। তাঁর যুক্তি, বৈশ্বিক নিয়মভিত্তিক ব্যবস্থা আর কার্যকর নেই। গত সপ্তাহে সুইৎজারল্যান্ডের দাভোসে বিশ্ব অর্থনৈতিক ফোরামে তিনি মধ্যম শক্তিধর দেশগুলির প্রতি নতুন জোট গঠনের আহ্বান জানান, যাতে আরও স্থিতিশীল বৈশ্বিক ব্যবস্থা গড়ে তোলা যায়। এই উদ্যোগ এমন একটা সময়ে নেওয়া হচ্ছে, যখন বৈশ্বিক বাণিজ্য অনিশ্চয়তা বাড়ছে। যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সম্প্রতি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, “কানাডা যদি চিনের সঙ্গে চুক্তি করে, তবে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র কঠোর শুল্ক আরোপ করতে পারে।” এ প্রসঙ্গে পট্টনায়েক বলেন, “বৈশ্বিক বাণিজ্য বিঘ্নের প্রেক্ষাপটে ভারত ও কানাডা দ্রুত নতুন অংশীদারিত্ব গড়ে তুলতে তৎপর হয়েছে।”

    তিনি জানান, আগামী মাসে ভারতের জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা অজিত ডোভাল ওটাওয়া সফর করতে পারেন। সফরকালে গোয়েন্দা তথ্য আদান-প্রদান এবং নিরাপত্তা সহযোগিতা নিয়ে আলোচনা হওয়ার কথা রয়েছে। বাণিজ্যমন্ত্রী পীযূষ গোয়েল এবং অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারামনেরও শীঘ্রই কানাডা সফরের সম্ভাবনা রয়েছে। নিজ্জর হত্যা মামলা প্রসঙ্গে পট্টনায়েক বলেন, “কানাডায় চার অভিযুক্তের বিরুদ্ধে মামলা চলছে।” তিনি জানান, যদি তদন্তে কোনও ভারতীয় নাগরিকের জড়িত থাকার (Trump Tariffs) প্রমাণ পাওয়া যায়, তবে ভারত যথাযথ ব্যবস্থা নেবে (Canada PM)।

  • Republic Day 2026: ভারতকে কাছে পেতে দড়ি টানাটানি চিন-আমেরিকার! প্রজাতন্ত্র দিবসে শুভেচ্ছা ট্রাম্প-জিনপিংয়ের

    Republic Day 2026: ভারতকে কাছে পেতে দড়ি টানাটানি চিন-আমেরিকার! প্রজাতন্ত্র দিবসে শুভেচ্ছা ট্রাম্প-জিনপিংয়ের

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: বিশ্বসভায় ভারতের গুরুত্ব বুঝিয়ে দিল ৭৭তম প্রজাতন্ত্র দিবস ( Republic Day 2026)। ভারতকে কাছে পেতে দড়ি টানাটানি বিশ্বে শক্তিধর দুই দেশের। বেশ কিছু ক্ষেত্রে নীতিগত বিরোধ থাকা সত্ত্বেও ভারতকে পাশে চায় চিন ও আমেরিকা (India China US) উভয়েই। বাণিজ্যচুক্তি নিয়ে বিরোধ এবং নীতিগত পার্থক্য নিয়ে দু’দেশের মধ্যে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের টানাপড়েন অব্যাহত রয়েছে। তবে প্রথা মেনে ভারতের সাধারণতন্ত্র দিবসের শুভেচ্ছা জানালেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ভারত এবং আমেরিকা— দু’দেশ ‘ঐতিহাসিক বন্ধনে’ আবদ্ধ বলে জানিয়েছেন তিনি। একই সঙ্গে চিন এবং ভারত ভালো বন্ধু, ভালো প্রতিবেশী! সাধারণতন্ত্র দিবসে ভারতের রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মুকে শুভেচ্ছা জানিয়ে বললেন চিনা প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং।

    ভারতের সঙ্গে ‘ঐতিহাসিক বন্ধন’

    বাণিজ্য বিরোধ, শুল্কনীতি ও কৌশলগত মতপার্থক্যের কারণে যুক্তরাষ্ট্র–ভারত সম্পর্ক যখন চাপের মুখে, ঠিক সেই সময়েই ভারতের ৭৭তম প্রজাতন্ত্র দিবস উপলক্ষে নয়াদিল্লিকে শুভেচ্ছা জানিয়ে দুই দেশের মধ্যে ‘ঐতিহাসিক বন্ধন’-এর কথা তুলে ধরলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। সোমবার ভারতের প্রজাতন্ত্র দিবস উপলক্ষে মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে প্রকাশিত এক বার্তায় ট্রাম্প বলেন, “যুক্তরাষ্ট্রের জনগণের পক্ষ থেকে ভারত সরকার ও জনগণকে ৭৭তম প্রজাতন্ত্র দিবসের আন্তরিক শুভেচ্ছা জানাই।” তিনি আরও বলেন, “বিশ্বের প্রাচীনতম ও বৃহত্তম গণতন্ত্র হিসেবে যুক্তরাষ্ট্র ও ভারতের মধ্যে এক ঐতিহাসিক বন্ধন রয়েছে।”

    কেন ভারতকে পাশে চায় আমেরিকা

    ভারতের পণ্যের উপর বাড়তি ২৫ শতাংশ শুল্ক চাপিয়েছে আমেরিকা। ফলে মোট শুল্কের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৫০ শতাংশে। রাশিয়া থেকে তেল কেনায় ‘শাস্তিস্বরূপ’ ভারতের উপর শুল্ক চাপানোর পর থেকেই দু’দেশের মধ্যে সম্পর্কে টানাপড়েন শুরু হয়। অন্য দিকে, কয়েকমাস আগেই সাংহাই সম্মেলনে চিন ও রাশিয়ার সঙ্গে ভারতের সখ্যতা দেখেও তেলেবেগুনে জ্বলে উঠেছিলেন ট্রাম্প। তবে, তারপরই নিজের দেশে বিরোধিতার মুখে পড়েন মার্কিন প্রেসিডেন্ট। আমেরিকার সেনেটেও ওঠে বিতর্কের ঝড়। ট্রাম্পের নির্বুদ্ধিতার জন্যই ভারতের মতো বন্ধুকে হারাতে চলেছে আমেরিকা, বলে দাবি করেন মার্কিন কূটনীতিকদের একাংশ। এরপরই ১৮০ ডিগ্রি ঘুরে ফের ভারতকে কাছে টানার চেষ্টা শুরু করে ট্রাম্প প্রশাসন। প্রজাতন্ত্র দিবসে ট্রাম্পের পাশাপাশি আমেরিকার বিদেশসচিব মার্কো রুবিও-ও শুভেচ্ছা জানিয়েছেন। দুই দেশের কৌশলগত সহযোগিতার বিষয়টি বিশেষভাবে তুলে ধরেন রুবিও। তাঁর কথায়, ‘‘প্রতিরক্ষা, জ্বালানি, গুরুত্বপূর্ণ খনিজ পদার্থ-সহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে আমাদের মধ্যে সহযোগিতা আরও বাড়বে।’’ তিনি জানান, আগামী বছরেও অভিন্ন লক্ষ্য অর্জনে ভারতের সঙ্গে কাজ করার প্রত্যাশা রয়েছে ওয়াশিংটনের। কোয়াডের মাধ্যমে বহুমাত্রিক অংশীদারত্ব—যুক্তরাষ্ট্র ও ভারতের সম্পর্ক দুই দেশ এবং ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলের জন্য বাস্তব ফল দিচ্ছে, বলে মনে করেন রুবিও।

    কর্তব্য পথে মার্কিন রাষ্ট্রদূত

    ভারতের প্রজাতন্ত্র দিবসের মূল কুচকাওয়াজে কর্তব্য পথে উপস্থিত ছিলেন ভারতে নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত সার্জিও গোর। প্রথমবারের মতো প্রজাতন্ত্র দিবস প্যারেডে অংশ নিয়ে তিনি একে ভারতের সংবিধান ও গণতান্ত্রিক চেতনার উদযাপন বলে অভিহিত করেন। গোর বলেন, “হ্যাপি রিপাবলিক ডে, ইন্ডিয়া! ভারতের সংবিধান ও গণতান্ত্রিক আত্মার এই উদযাপনে অংশ নিতে পেরে সম্মানিত।” তিনি আরও বলেন, “ভারতের আকাশে মার্কিন তৈরি বিমান উড়তে দেখা যুক্তরাষ্ট্র–ভারত কৌশলগত অংশীদারত্বের শক্তিশালী প্রতীক।”

    ভারত ‘ভালো প্রতিবেশী, বন্ধু ও অংশীদার’

    প্রজাতান্ত্রিক দিবসে ভারতকে শুভেচ্ছা জানিয়েছেন চিনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংও। রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মুকে শুভেচ্ছা জানিয়ে ভারত ও চিনকে ‘ভালো প্রতিবেশী, বন্ধু ও অংশীদার’ হিসেবে বর্ণনা করেছেন তিনি। চিনের রাষ্ট্রপতি আরও জানান, দুই দেশের সম্পর্ক উভয় দেশের মৌলিক স্বার্থের সঙ্গে সঙ্গতিপূর্ণ এবং বিশ্ব শান্তি ও সমৃদ্ধিতে উল্লেখযোগ্য অবদান রাখে। নয়াদিল্লি-বেজিংয়ের সুসম্পর্ক উভয় দেশের সুস্থ ও স্থিতিশীল উন্নয়নে সহায়তা করবে। অন্য দিকে ভারত-প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে শান্তি ও সমৃদ্ধির জন্য কাছাকাছি আসতে শুরু করেছে নয়াদিল্লি ও বেজিং। সীমান্ত সমস্যা দূর করতে এবং সীমান্তপারের সন্ত্রাসবাদ দমনে দুই দেশ বন্ধুত্বপূর্ণ সহাবস্থান বজায় রাখার কথাও জানিয়েছে।

    কাছাকাছি ভারত-চিন

    চিনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের মতে, গত এক বছরে ভারত ও চিন দুই প্রতিবেশীর মধ্যে সম্পর্কের উল্লেখযোগ্য উন্নতি হয়েছে। চিন সব সময় বিশ্বাস করে ভাল বন্ধু এবং প্রতিবেশী হওয়া দুই দেশের জন্যই সঠিক পথ। সেই বিষয় উল্লেখ করতে গিয়ে জিনপিং আবার ‘ড্রাগন-হাতি’ যৌথ নাচের প্রসঙ্গ টেনেছেন। জিনপিং আশাবাদী, ভারত-চিন উভয় দেশই পারস্পরিক বোঝাপড়া, বিনিময়, সহযোগিতার পথ আরও সম্প্রসারণ করবে। সুস্থ এবং স্থিতিশীল সম্পর্ক জোরদার করার লক্ষ্যে দু’দেশের মধ্যে উদ্বেগের বিষয়গুলি সমাধান করা হবে। এই বক্তব্যে সুর মিলিয়েছেন ভারতে নিযুক্ত চিনা রাষ্ট্রদূত সু ফেইহং। তিনি বলেন, “চিন ও ভারতের জন্য ভাল প্রতিবেশী বন্ধু ও অংশীদার হওয়াই সঠিক পথ—যেখানে ড্রাগন ও হাতি একসঙ্গে নাচবে।” একই দিনে চিনের প্রধানমন্ত্রী লি ছিয়াংও প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে শুভেচ্ছা বার্তা পাঠান।

    ভয় পাচ্ছে আমেরিকা!

    ১৯৬২-র যুদ্ধ এবং ১৯৬৭-র সীমান্ত সংঘর্ষের পর প্রকৃত নিয়ন্ত্রণরেখা (এলএসি) তুলনামূলক শান্ত ছিল। ২০১৭ সাল থেকে পরিস্থিতি আবার উত্তপ্ত হতে শুরু করে। সে বছর ডোকলামে টানা ৭৩ দিন দু’দেশের বাহিনী পরস্পরের মুখোমুখি দাঁড়িয়েছিল। পরে কূটনৈতিক পথে সমস্যার সমাধান হয়। এর পর ২০২০ সালে পূর্ব লাদাখের গালওয়ানে সংঘর্ষ হয় ভারতীয় সেনার সঙ্গে চিনের বাহিনীর। তার পরে কূটনৈতিক এবং সামরিক স্তরে দ্বিপাক্ষিক আলোচনার মাধ্যমে শান্তি ফিরেছে। ভারত এবং চিনের কূটনৈতিক শৈত্য অনেকটাই কেটে গিয়েছে। প্রকৃত নিয়ন্ত্রণরেখা শান্ত। পাশাপাশি কৈলাস মানস সরোবর যাত্রা পুনরায় শুরু, সরাসরি বিমান পরিষেবা চালু, কূটনৈতিক সম্পর্কের ৭৫ বছর পূর্তি উদযাপন এবং ভিসা সুবিধা সম্প্রসারণের বিষয়ে সমঝোতা হয়েছে। সেই আবহে দু’দেশের মধ্যে সরাসরি উড়ান পরিষেবা চালু হয়েছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের শুল্কযুদ্ধের আবহে ভারতের পাশে দাঁড়িয়েছে চিন। কড়া বার্তা দিয়েছে আমেরিকাকে। বর্তমান পরিস্থিতিতে ভারতের সঙ্গে সম্পর্ক নিয়ে জিনপিঙের মন্তব্য তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছেন আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিশেষজ্ঞদের একাংশ।

    ভারত-এর গুরুত্ব

    আন্তর্জাতিক কূটনীতিতে স্থিতিশীলতার জন্য ভারতের গুরুত্ব অনস্বীকার্য। এমনটাই মনে করছে ইউরোপীয় ইউনিয়ন। সোমবার ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ভন ডার লিয়েন বলেন, “সফল ভারতই পারে বিশ্বকে আরও স্থিতিশীল, উন্নত এবং নিরাপদ করে তুলতে।” এই আবহে কূটনৈতিক সম্পর্কের ওঠানামার মাঝেই প্রজাতন্ত্র দিবসে ভারতকে শুভেচ্ছা জানিয়ে বন্ধুত্বপূর্ণ বার্তা দুই প্রতিদ্বন্দ্বী রাষ্ট্রের। চিন ও আমেরিকার এই বার্তাই বুঝিয়ে দিচ্ছে আন্তর্জাতিক স্তরে ভারতের স্থান।

  • India US Trade Deal: প্রকাশ্যে চলে এল ট্রাম্প প্রশাসনের অভ্যন্তরীণ কোন্দল

    India US Trade Deal: প্রকাশ্যে চলে এল ট্রাম্প প্রশাসনের অভ্যন্তরীণ কোন্দল

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: প্রকাশ্যে চলে এল মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসনের অভ্যন্তরীণ কোন্দল (India US Trade Deal)। সম্প্রতি প্রকাশ্যে আসে মার্কিন সেনেটর টেড ক্রুজের একটি অডিও রেকর্ডিং। ওই রেকর্ডিংয়ে টেক্সাসের রিপাবলিকান এই সেনেটর বাণিজ্যনীতি ও থমকে থাকা ভারত-মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র শুল্ক চুক্তি নিয়ে তীব্র ভাষায় সমালোচনা করেছেন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স (JD Vance), হোয়াইট হাউসের উপদেষ্টা পিটার নাভারো এবং কখনও কখনও প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পেরও। অ্যাক্সিওসের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, প্রায় ১০ মিনিটের ওই অডিওটি এক রিপাবলিকান সূত্র শেয়ার করেছে। এটির সময়কাল ২০২৫ সালের শুরু ও মধ্যভাগ। এতে ব্যক্তিগত দাতাদের সঙ্গে একান্ত কথোপকথনে ক্রুজ নিজেকে ঐতিহ্যবাহী, মুক্তবাণিজ্যপন্থী ও হস্তক্ষেপমূলক নীতিতে বিশ্বাসী রিপাবলিকান হিসেবে তুলে ধরেন। একই সঙ্গে তিনি ভাইস প্রেসিডেন্ট ভ্যান্সের তুলনামূলকভাবে বিচ্ছিন্নতাবাদী অবস্থানের বিরোধিতা করেন, যা সম্ভাব্য ২০২৮ সালের প্রেসিডেন্ট প্রাইমারির প্রেক্ষাপটে তাৎপর্যপূর্ণ বলেই মনে করা হচ্ছে।

    ট্রাম্পের শুল্কনির্ভর বাণিজ্যনীতির কড়া সমালোচনা (India US Trade Deal)

    অডিওতে ক্রুজ ট্রাম্পের শুল্কনির্ভর বাণিজ্যনীতির কড়া সমালোচনা করে সতর্ক করেন যে, এই নীতি মার্কিন অর্থনীতিকে মারাত্মক ক্ষতির মুখে ফেলতে পারে। তিনি জানান, ২০২৫ সালের এপ্রিলের শুরুতে শুল্ক আরোপের পর তিনি ও কয়েকজন সেনেটর গভীর রাতে প্রেসিডেন্টের সঙ্গে একটি ফোনালাপে তাঁকে সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনার আহ্বান জানান। তবে সেই আলোচনা ভালোভাবে শেষ হয়নি (India US Trade Deal)। অ্যাক্সিওসের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ক্রুজ দাতাদের জানান মধ্যরাত পেরিয়ে যাওয়া ওই ফোনালাপে ট্রাম্প আইনপ্রণেতাদের উদ্দেশ্যে চিৎকার করেন এবং অশালীন ভাষা ব্যবহার করেন। ক্রুজ বলেন, “ট্রাম্প সেদিন খুব খারাপ মেজাজে ছিলেন। আমি তাঁর সঙ্গে এমন কথোপকথনেও ছিলাম, যখন তিনি খুব খুশি ছিলেন। কিন্তু এটি সেরকম ছিল না।”

    সতর্ক করেছিলেন প্রেসিডেন্টকে

    ক্রুজ আরও জানান, তিনি প্রেসিডেন্টকে সতর্ক করেছিলেন যে ২০২৬ সালের নভেম্বরের মধ্যে যদি অবসরভিত্তিক বিনিয়োগ হিসেব ৩০ শতাংশ কমে যায় এবং নিত্যপণ্যের দাম ১০ থেকে ২০ শতাংশ বেড়ে যায়, তাহলে রিপাবলিকানদের জন্য নির্বাচনে ‘ভয়াবহ বিপর্যয়’ নেমে আসবে। ক্রুজের ভাষায়, তিনি ট্রাম্পকে বলেছিলেন, “আপনি প্রতিনিধি পরিষদ হারাবেন, সেনেট হারাবেন, আর পরবর্তী দু’বছর প্রতি সপ্তাহে একবার করে ইমপিচমেন্টের মুখোমুখি হবেন (JD Vance)।” এর প্রেক্ষিতে ট্রাম্প খুবই খারাপ কথা বলেছিলেন। ক্রুজ প্রশাসনের শুল্ক আরোপকে ‘লিবারেশন ডে’ বা ‘মুক্তির দিন’ নামে ব্র্যান্ডিং করার বিষয়টিও ব্যঙ্গ করেন। এক দাতা ওই শব্দবন্ধ ব্যবহার করলে ক্রুজ মন্তব্য করেন, তাঁর দলে কেউ এই শব্দটি ব্যবহার করলে তাঁকে সঙ্গে সঙ্গে বরখাস্ত করা হত।

    ভারতের সঙ্গে বাণিজ্য আলোচনার প্রসঙ্গ

    ক্রুজের বক্তব্যের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ জুড়ে ছিল ভারতের সঙ্গে বাণিজ্য আলোচনার প্রসঙ্গ। তিনি দাতাদের বলেন, চুক্তিটি এগিয়ে নিতে তিনি হোয়াইট হাউসের সঙ্গে লড়াই করছেন এবং যারা এই ধরনের চুক্তির বিরোধিতা করছেন, তাঁদের নামও উল্লেখ করেন (India US Trade Deal)। আমেরিকার অগ্রগতি কে আটকে দিচ্ছে, এই প্রশ্নে ক্রুজ অর্থনৈতিক উপদেষ্টা পিটার নাভারো, ভাইস প্রেসিডেন্ট ভ্যান্স এবং কখনও কখনও স্বয়ং প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের নামও নেন। রেকর্ডিংয়ে ক্রুজ বারবার ভাইস প্রেসিডেন্ট ভ্যান্সকে রক্ষণশীল পডকাস্টার টাকার কার্লসনের সঙ্গে যুক্ত করেন। তিনি অভিযোগ করেন, কার্লসন বিদেশনীতি বিতর্কে হস্তক্ষেপবিরোধী ও ইহুদিবিদ্বেষী অবস্থানকে উসকে দিচ্ছেন এবং ভ্যান্স মূলত কার্লসনের দৃষ্টিভঙ্গির প্রতিফলন। ক্রুজ বলেন, “টাকারই জেডিকে তৈরি করেছে। জেডি টাকারের শিষ্য, আর তারা দু’জন একই (JD Vance)।”

    যদিও ক্রুজ গত কয়েক মাস ধরে সোশ্যাল মিডিয়ায় প্রকাশ্যে কার্লসনের সঙ্গে তর্কে জড়িয়েছেন, এবং অডিও রেকর্ডিংটি দেখায় যে ব্যক্তিগতভাবে তিনি কার্লসন ও ভ্যান্সের মধ্যে আরও স্পষ্ট ও কঠোর সীমারেখা টেনেছেন, যা প্রকাশ্যে তিনি এতটা স্পষ্ট করেননি, যদিও ভাইস প্রেসিডেন্টের সঙ্গে ওই পডকাস্টারের বন্ধুত্ব সুপরিচিত (India US Trade Deal)।

  • Donald Trump: ডাহা ফেল ট্রাম্পের ‘বোর্ড অফ পিসে’র প্রচেষ্টা, কেন জানেন?

    Donald Trump: ডাহা ফেল ট্রাম্পের ‘বোর্ড অফ পিসে’র প্রচেষ্টা, কেন জানেন?

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক ফোরামে যোগ দিতে সুইজারল্যান্ডের দাভোসে (Davos) গিয়েছিলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তাঁর সেই সফর শেষমেশ এক বড়সড় ব্যর্থতায় পরিণত হল। ইউরোপীয় দেশগুলির ঐক্যবদ্ধ বিরোধিতার মুখে গ্রিনল্যান্ড নিয়ে তাঁর দাবিতে পিছু হটতে বাধ্য হওয়ার পর, গাজা সঙ্কট নিয়ে তাঁর প্রস্তাবিত ‘বোর্ড অব পিস’ উদ্যোগটিও সম্পূর্ণভাবে ভেস্তে গেল (Donald Trump)। ট্রাম্প এই বোর্ডে যোগ দিতে প্রায় ৬০টি দেশকে আমন্ত্রণ জানিয়েছিলেন। কিন্তু বিশ্বের অধিকাংশ প্রভাবশালী দেশই এই উদ্যোগ থেকে দূরে থাকার সিদ্ধান্ত নেয়। শেষ পর্যন্ত আমন্ত্রিত দেশগুলির মাত্র এক-তৃতীয়াংশ ট্রাম্পের নেতৃত্বাধীন এই বোর্ডে যোগ দিতে রাজি হয়।

    উচ্চাভিলাষী ট্রাম্প (Donald Trump)

    গাজায় যুদ্ধবিরতি দিয়ে বিশ্বব্যাপী সংঘাত নিরসনের লক্ষ্যে যে নতুন সংস্থাটি গঠনের কথা ছিল, সেটি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ছাড়া মাত্র ১৯টি দেশের অংশগ্রহণে যাত্রা শুরু করেছিল। ট্রাম্প যে উচ্চাভিলাষী পরিকল্পনার কথা বলেছিলেন, বাস্তবে তা তার ধারেকাছেও পৌঁছায়নি। ভারত, চিন, ফ্রান্স, রাশিয়া এবং ইউরোপীয় ইউনিয়নের মতো গুরুত্বপূর্ণ বৈশ্বিক শক্তিগুলি এই বোর্ডে যোগ দেয়নি।২০২৬ সালের বিশ্ব অর্থনৈতিক ফোরামের সময় বৃহস্পতিবার সকালে দাভোসে ডোনাল্ড ট্রাম্প আনুষ্ঠানিকভাবে ‘বোর্ড অব পিসে’র সূচনা করেন। বিশ্বের সব মহাদেশের বহু দেশকে এই বোর্ডে যোগ দেওয়ার আমন্ত্রণ জানানো হলেও, সিংহভাগ দেশই তা প্রত্যাখ্যান করেছে। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে আমেরিকা-সহ মোট ২০টি দেশ উপস্থিত ছিল। যদিও হোয়াইট হাউসের পক্ষ থেকে আগে দাবি করা হয়েছিল, আমন্ত্রিত ৬০টি দেশের মধ্যে অন্তত ৩৫টি দেশ যোগ দেবে, বাস্তবে সেই সংখ্যা ছিল ঢের বেশি কম (Davos)।

    পশ্চিম ইউরোপীয় দেশই এই বোর্ডে যোগ দেয়নি

    উল্লেখ্য যে, কোনও পশ্চিম ইউরোপীয় দেশই এই বোর্ডে যোগ দেয়নি, যা গ্রিনল্যান্ড ইস্যুতে ট্রাম্পের সঙ্গে ইউরোপের বাড়তে থাকা দূরত্বকেই স্পষ্ট করে। সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ছাড়াও যে ১৯টি দেশ এই বোর্ডে যোগ দিয়েছে এবং উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিল, তারা হল,  আর্জেন্টিনা, আর্মেনিয়া, আজারবাইজান, বাহরিন, বুলগেরিয়া, হাঙ্গেরি, ইন্দোনেশিয়া, জর্ডন, কাজাখস্তান, কসোভো, মঙ্গোলিয়া, মরক্কো, পাকিস্তান, প্যারাগুয়ে, কাতার, সৌদি আরব, তুরস্ক, সংযুক্ত আরব আমিরশাহি (ইউএই) এবং উজবেকিস্তান (Donald Trump)। আলবেনিয়া, বেলারুশ এবং ভিয়েতনাম বোর্ডে যোগ দেওয়ার কথা জানিয়েছিল, কিন্তু দাভোসে আয়োজিত অনুষ্ঠানে ওই দেশগুলিরই কোনও শীর্ষ নেতা উপস্থিত ছিলেন না (Davos)।

    বোর্ড ভবিষ্যত রাষ্ট্রসংঘের

    পর্যবেক্ষকদের মতে, মূলত মধ্যপ্রাচ্য, মধ্য এশিয়া এবং পূর্ব ইউরোপের দেশগুলিই এই আমন্ত্রণ গ্রহণ করেছে। লক্ষণীয় বিষয় হল, এই তালিকার বহু দেশ গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র নয় এবং বেশ কয়েকটি দেশ মুসলিম-সংখ্যাগরিষ্ঠ, যেখানে ইসলামি আইনের ভিত্তিতে শাসনব্যবস্থা পরিচালিত হয়। যে দেশগুলি এই বোর্ডে যোগ দিতে অস্বীকার করেছে, তাদের মধ্যে কয়েকটি দেশ আনুষ্ঠানিক বিবৃতি দিয়ে নিজেদের অবস্থান স্পষ্ট করেছে। অনেক দেশ আশঙ্কা প্রকাশ করেছে যে, এই বোর্ড ভবিষ্যতে রাষ্ট্রসংঘের (ইউএন) ভূমিকা খর্ব করার চেষ্টা করতে পারে। আবার কয়েকটি দেশ রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনকে আমন্ত্রণ জানানো নিয়েও আপত্তি তুলেছে। যদিও পুতিন নিজেও এই বোর্ডে যোগ দিতে অস্বীকার করেছেন এবং জানিয়েছেন, এই বিষয়ে রাশিয়ার কৌশলগত অংশীদারদের সঙ্গে এখনও আলোচনা চলছে (Donald Trump)।

    রাষ্ট্রসংঘের বিকল্প 

    ব্রিটেন নিশ্চিত করেছে যে তারা বোর্ডের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকবে না। ফ্রান্স জানিয়েছে, তারা এই বোর্ডে যোগ দেবে না, কারণ এটি রাষ্ট্রসংঘের বিকল্প হয়ে উঠতে পারে। নরওয়ে, সুইডেন, স্লোভেনিয়া এবং চিনও স্পষ্টভাবে জানিয়েছে যে তারা এই বোর্ডে যোগ দিচ্ছে না। অন্য অনেক দেশ কোনও আনুষ্ঠানিক বিবৃতি না দিলেও বৃহস্পতিবার বোর্ডে যোগ দেয়নি। এই তালিকায় রয়েছে ভারত, জার্মানি, ইতালি, জাপান, ইউরোপীয় ইউনিয়ন-সহ আরও বহু দেশ (Davos)। তবে ট্রাম্প আশাবাদী যে ভবিষ্যতে আরও দেশ তাঁর এই বোর্ডে যোগ দেবে। তিনি বলেন, “একবার এই বোর্ড পুরোপুরি গঠিত হয়ে গেলে, আমরা কার্যত যা চাই তাই করতে পারব। এবং তা আমরা রাষ্ট্রসংঘের সঙ্গে সমন্বয় রেখেই করব।”

    ‘বোর্ড অব পিস’

    গাজার জন্য গঠিত এই ‘বোর্ড অব পিস’ পশ্চিম এশিয়া সংক্রান্ত ট্রাম্পের ২০ দফা শান্তি পরিকল্পনার দ্বিতীয় পর্যায়ের অংশ। এই পরিকল্পনার লক্ষ্য গাজা যুদ্ধের পর পরিস্থিতি স্থিতিশীল করা এবং যুদ্ধ-পরবর্তী পুনর্গঠনের তদারকি করা। গত বছরের সেপ্টেম্বর মাসে প্রথম এই প্রস্তাব উত্থাপিত হয়েছিল গাজা সংঘাতের অবসান ঘটানোর একটি উপায় হিসেবে। তবে বর্তমানে এটি আন্তর্জাতিক বিরোধ মীমাংসার একটি বৃহত্তর মঞ্চের রূপ নিতে চলেছে বলে মনে করা হচ্ছে। হোয়াইট হাউসের এক বিবৃতিতে জানানো হয়েছে, বোর্ডটির এক্সিকিউটিভ কমিটি গাজার স্থিতিশীলতা ও দীর্ঘমেয়াদি উন্নয়নের সঙ্গে যুক্ত গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্রগুলির তদারকি করবে। এর মধ্যে রয়েছে প্রশাসনিক সক্ষমতা বৃদ্ধি, আঞ্চলিক কূটনৈতিক যোগাযোগ, পুনর্গঠন, বিনিয়োগ সংগ্রহ এবং বৃহৎ পরিসরের অর্থায়ন (Donald Trump)।

    উল্লেখ্য যে, এই বোর্ডে যোগ দেওয়ার ক্ষেত্রে একটি ঐচ্ছিক সদস্য ফি ধার্য করা হয়েছে। যে দেশগুলি এক বিলিয়ন মার্কিন ডলার দেবে, তারাই স্থায়ী সদস্যপদ পাবে। আর যারা অর্থ দিতে পারবে না, তারা তিন বছরের জন্য (Davos) সদস্য হিসেবে থাকতে পারবে। তবে বোর্ডে যোগ দেওয়ার সময় কোনও দেশ এই ফি দিয়েছে কি না, সে বিষয়ে এখনও কোনও তথ্য জানা যায়নি (Donald Trump)।

     

  • India: পাক-তুরস্ক-সৌদির ‘ইসলামিক ন্যাটো’র পাল্টা, দুই দেশের সঙ্গে নয়া জোট ভারতের! সঙ্গী আরও দুই

    India: পাক-তুরস্ক-সৌদির ‘ইসলামিক ন্যাটো’র পাল্টা, দুই দেশের সঙ্গে নয়া জোট ভারতের! সঙ্গী আরও দুই

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এখন ব্যস্ত। ব্যস্ত তার প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পও। ‘মেক আমেরিকা গ্রেট এগেইন’ লক্ষ্যপূরণে ট্রাম্প-নেতৃত্বাধীন মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র পশ্চিম গোলার্ধকে আরও মজবুত করার ভাবনায় মজে (India)। বহুপাক্ষিক সংস্থা থেকে বেরিয়ে যাওয়ার হুমকি, শুল্কযুদ্ধের ‘বাজুকা’ ছোড়া এবং লেনদেনভিত্তিক চুক্তিতে ঝোঁক, এ সবই তার বহিঃপ্রকাশ। ফলস্বরূপ, বিশ্বে স্থিতিশীলতার রক্ষক হিসেবে আমেরিকার ঐতিহ্যগত ভূমিকা ক্রমশ দুর্বল হয়ে পড়ছে। এই প্রভাব এখন আটলান্টিকের গণ্ডি ছাড়িয়ে বহু দূর পর্যন্ত স্পষ্ট।

    নীরবে নিজেদের কৌশল পুনর্গঠন (India)

    দক্ষিণ ও পশ্চিম এশিয়ার শক্তিগুলি নীরবে নিজেদের কৌশল পুনর্গঠন করছে। এই ভূরাজনৈতিক টানাপোড়েনের মধ্যেই দুটি আলগা কিন্তু ক্রমশ আলোচিত কৌশলগত অক্ষ মাথা তুলতে শুরু করেছে। একটি গড়ে উঠছে সৌদি আরব, পাকিস্তান ও তুরস্ককে কেন্দ্র করে। অন্যটি গড়ে উঠছে ভারত, সংযুক্ত আরব আমিরশাহি (UAE) ও ইজরায়েলকে কেন্দ্র করে, যার কৌশলগত প্রান্তে রয়েছে গ্রিস ও সাইপ্রাস। এগুলির কোনওটিই এখনও আনুষ্ঠানিক জোট নয়। তবে সংশ্লিষ্ট দেশগুলির মধ্যে হওয়া ইঙ্গিতপূর্ণ চুক্তি, কূটনৈতিক বার্তা ও কৌশলগত অবস্থান স্পষ্ট করে দিচ্ছে, পুরানো জোটব্যবস্থা ভেঙে নতুন ও কার্যকর সমীকরণ তৈরি হচ্ছে। এসবই হচ্ছে সরকারি ঘোষণার তুলনায় অনেক দ্রুত।

    স্ট্র্যাটেজিক মিউচুয়াল ডিফেন্স এগ্রিমেন্ট

    এই জল্পনার কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বর মাসে সৌদি আরব ও পাকিস্তানের মধ্যে স্বাক্ষরিত স্ট্র্যাটেজিক মিউচুয়াল ডিফেন্স এগ্রিমেন্ট (SMDA)। ন্যাটোর অনুচ্ছেদ ৫-এর আদলে তৈরি এই চুক্তি অনুযায়ী, এক দেশের ওপর আক্রমণ হলে তা উভয়ের ওপর আক্রমণ হিসেবে বিবেচিত হবে। এটি রিয়াধের জন্য একটি বড় কৌশলগত পরিবর্তন, কারণ এতদিন তাদের নিরাপত্তা ব্যবস্থা ছিল দ্বিপাক্ষিক ও মূলত মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র-নির্ভর (India)। সংবাদমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, পশ্চিম এশিয়ার অস্থিরতা এবং ট্রাম্প আমলে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের নিরাপত্তা নিশ্চয়তা নিয়ে সংশয় থেকেই এই চুক্তির জন্ম। বিশেষজ্ঞদের ভাষায় ‘ইসলামিক ন্যাটো’ হিসেবে পরিচিত এই কাঠামোয় তুরস্কের আগ্রহ পরিস্থিতিকে আরও গুরুত্বপূর্ণ করে তুলেছে। ব্লুমবার্গ গত সপ্তাহে জানিয়েছে, ন্যাটোর দ্বিতীয় বৃহত্তম সামরিক শক্তি তুরস্ক এই জোটে যোগ দিতে ‘উন্নত পর্যায়ের আলোচনা’ চালাচ্ছে (UAE)।

    বাস্তব চিত্র

    যদিও রিয়াধ, ইসলামাবাদ ও আঙ্কারা বলছে এই কাঠামো আদর্শগত নয়, প্রতিরক্ষামূলক, তবুও বাস্তব চিত্র উপেক্ষা করা কঠিন। সম্ভাব্য এই ত্রিপাক্ষিক জোটে এক ছাতার নীচে মিলিত হচ্ছে সৌদি আরবের আর্থিক শক্তি, পাকিস্তানের পারমাণবিক ও ক্ষেপণাস্ত্র সক্ষমতা এবং তুরস্কের সামরিক প্রযুক্তি। আঙ্কারাভিত্তিক থিঙ্ক-ট্যাঙ্ক টেপাভের বিশ্লেষক নিহাত আলি ওজচান সংবাদ মাধ্যমে বলেন, “আঞ্চলিক ভূরাজনৈতিক পরিবর্তন দেশগুলিকে তাদের নিরাপত্তা অংশীদারিত্ব নতুনভাবে সংজ্ঞায়িত করতে বাধ্য করছে (India)।” পাকিস্তানের ক্ষেত্রে, এই চুক্তি ২০২৫ সালের মে মাসে ভারতের সঙ্গে চার দিনের সীমিত যুদ্ধের পর জোট মজবুত করার প্রয়াস। ওই সংঘাতে পাকিস্তানের পক্ষে তুরস্কের সামরিক সমর্থন প্রকাশ্যে এসেছিল এবং নয়াদিল্লি তা লক্ষ্যও করেছিল। বহুদিন ধরে পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির লক্ষ্যে সৌদি আরবের জন্য এটি ওয়াশিংটনের ওপর অতিরিক্ত নির্ভরতা কমানোর চেষ্টা, বিশেষত ভৌগোলিক বাস্তবতা ও ‘ভাই’ সংযুক্ত আরব আমিরশাহির সঙ্গে সাম্প্রতিক সম্পর্কের শীতলতার প্রেক্ষাপটে। আর তুরস্কের ক্ষেত্রে, এই ‘মুসলিম ন্যাটো’ প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়েপ এরদোয়ানের ভূমধ্যসাগর ও পশ্চিম এশিয়ায় কৌশলগত স্বায়ত্তশাসনের দীর্ঘদিনের লক্ষ্যকে এগিয়ে নেয়, যদিও দেশটি আনুষ্ঠানিকভাবে ন্যাটোর মধ্যেই রয়েছে (UAE)।

    ‘কৌশলগত প্রতিরক্ষা অংশীদারিত্বের উদ্দেশ্যপত্র’

    যদি সৌদি–পাকিস্তান–তুরস্ক অক্ষ এক দিক হয়, তবে অন্য দিকে রয়েছে ভারত, সংযুক্ত আরব আমিরশাহি ও ইজরায়েলের ক্রমবর্ধমান প্রতিরক্ষা ও কৌশলগত অংশীদারিত্ব (India)। ১৯ জানুয়ারি, সংযুক্ত আরব আমিরশাহির প্রেসিডেন্ট শেখ মহম্মদ বিন জায়েদ আল নাহিয়ানের প্রায় দু’ঘণ্টার ভারত সফরের সময় নয়াদিল্লি ও আবুধাবি একটি ‘কৌশলগত প্রতিরক্ষা অংশীদারিত্বের উদ্দেশ্যপত্র’ সই করে। ভাষাগতভাবে এটি সংযত হলেও সময়টি মোটেই কাকতালীয় নয়। সৌদি–পাক অক্ষ নিয়ে আলোচনা ও অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্রের ভূমিকা নিয়ে অনিশ্চয়তার মধ্যেই এই চুক্তি প্রকাশ্যে আসে। আমেরিকান লেখক ও সাংবাদিক মাইকেল ভাটিকিওটিস এক্স হ্যান্ডেলে লেখেন, “তুরস্ক–সৌদি আরব–পাকিস্তান অক্ষের মোকাবিলায় ভারত ইউএই এবং পরোক্ষভাবে ইজরায়েলকে নিয়ে একটি নতুন ভূরাজনৈতিক অক্ষ গড়ে তুলছে।” তিনি আরও বলেন, “এই নতুন অক্ষগুলির জন্ম হচ্ছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপীয় শক্তির সঙ্কোচনের ফল হিসেবে।”

    আব্রাহাম চুক্তি

    এই অংশীদারিত্ব আব্রাহাম চুক্তির পর আরও শক্তিশালী হয়েছে, যার মাধ্যমে ইউএই ও ইজরায়েলের সম্পর্ক স্বাভাবিক হয়। এটি ভারত–ইজরায়েল–ইউএই– মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রকে নিয়ে পূর্বে গঠিত (I2U2) জোট কাঠামোর সঙ্গেও সামঞ্জস্যপূর্ণ। ভারত ইতিমধ্যেই ইজরায়েল থেকে প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম আমদানি করে এবং যৌথ উৎপাদনেও যুক্ত। দুই দেশ যৌথ সামরিক মহড়া ও প্রযুক্তিগত সহযোগিতা চালায়। ২০২৫ সালের মে মাসে পাকিস্তানের সঙ্গে যুদ্ধে ইজরায়েল প্রকাশ্যে ভারতের পাশে দাঁড়ায়। ইউএইর (UAE) কাছে ভারত ইয়েমেন, আফ্রিকা ও কৌশলগত লোহিত সাগর অঞ্চলে সৌদি প্রভাবের বিরুদ্ধে একটি ভারসাম্য রক্ষাকারী শক্তি (India)। এই পাল্টা জোট কেবল পশ্চিম ভারত মহাসাগরেই সীমাবদ্ধ নয়। এটি ধীরে ধীরে ভূমধ্যসাগরের দিকে অগ্রসর হচ্ছে। সেখানে তুরস্কের আগ্রাসী অবস্থানের বিরুদ্ধে কৌশলগত সমন্বয় বাড়াচ্ছে  গ্রিস, সাইপ্রাস ও ইজরায়েল। ২০২৪ সালে ব্রিটেনভিত্তিক ইউরোপিনিয়নের এক প্রতিবেদনে জানানো হয়, পূর্ব ভূমধ্যসাগরে তুরস্কের প্রভাব মোকাবিলায় গঠিত ৩+১ ত্রিপাক্ষিক শীর্ষ সম্মেলনে (ইজরায়েল–গ্রিস–সাইপ্রাস) ভারতকে আমন্ত্রণ জানায় ইজরায়েল।

    জোট গড়ছে আঞ্চলিক শক্তিগুলি

    এয়ার মার্শাল অবসরপ্রাপ্ত অনিল চোপড়া ‘ইউরেশিয়ান টাইমসে’ লেখেন, এই গোষ্ঠীটি ভবিষ্যতে ইউএইকেও (UAE) অন্তর্ভুক্ত করতে পারে। অ্যাজেন্ডায় রয়েছে যৌথ সামরিক মহড়া, সামুদ্রিক নিরাপত্তা এবং ভারত-মধ্যপ্রাচ্য-ইউরোপ অর্থনৈতিক করিডর, যা চিনের বেল্ট অ্যান্ড রোড প্রকল্পের প্রতিদ্বন্দ্বী (India)। বিশেষজ্ঞদের মতে, তুরস্ক–পাকিস্তান–সৌদি অক্ষ শুধু ভারতের জন্য নয়, ইজরায়েল, আর্মেনিয়া ও সাইপ্রাসের জন্যও চ্যালেঞ্জ হতে পারে। তবে এখনও কোনও আনুষ্ঠানিক ত্রিপাক্ষিক সামরিক জোট গড়ে ওঠেনি। আমেরিকা ভেতরের দিকে মনোযোগ দিচ্ছে, ইউরোপ বিভক্ত। ফলে আঞ্চলিক শক্তিগুলি আর দিকনির্দেশনার জন্য অপেক্ষা করছে না, তারা নিজেদের মতো করে জোট গড়ছে, হিসাব কষছে এবং প্রস্তুতি নিচ্ছে (UAE)। এই অক্ষগুলি এখনও তরল এবং অনানুষ্ঠানিক হলেও, ভবিষ্যতের কৌশলগত রূপরেখা যে নতুন করে লেখা হচ্ছে, তা স্পষ্ট (India)।

     

  • Donald Trump: “ইরান যদি ভুল কিছু করার চেষ্টা করে, তাহলে আমেরিকা আবারও শক্ত হাতে জবাব দেবে”, আয়াতুল্লাকে ফের হুঁশিয়ারি ট্রাম্পের

    Donald Trump: “ইরান যদি ভুল কিছু করার চেষ্টা করে, তাহলে আমেরিকা আবারও শক্ত হাতে জবাব দেবে”, আয়াতুল্লাকে ফের হুঁশিয়ারি ট্রাম্পের

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প (Donald Trump) ইরানকে ঘিরে ফের কড়া অবস্থান নিয়েছেন। তাঁর বক্তব্যে স্পষ্ট ইঙ্গিত মিলেছে যে, ইরান (Iran) যদি আবার পরমাণু পরীক্ষার কর্মসূচিকে সক্রিয় করার চেষ্টা করে অথবা দেশজুড়ে চলা সরকারবিরোধী বিক্ষোভ আরও রক্তাক্ত আকার নেয়, তাহলে যুক্তরাষ্ট্র সামরিক পদক্ষেপ নেবে। এদিন ট্রাম্প দাবি করেছেন, যুক্তরাষ্ট্রের চাপের কারণেই ইরান সরকার শত শত মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের পরিকল্পনা থেকে সরে এসেছে। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, ইরান যদি ভুল কিছু করার চেষ্টা করে, তাহলে আমেরিকা আবারও শক্ত হাতে জবাব দেবে।

    মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন সামরিক শক্তি মোতায়েন (Donald Trump)

    ইরানের (Iran) ওপর চাপ বাড়াতে যুক্তরাষ্ট্র (Donald Trump) ইতিমধ্যেই মধ্যপ্রাচ্যে বিরাট পরিমাণে সামরিক শক্তি মোতায়েন শুরু করেছে। পারস্য উপসাগর ও আরব সাগর অঞ্চলে একাধিক এয়ারক্রাফট ক্যারিয়ার স্ট্রাইক গ্রুপ, গাইডেড মিসাইলবাহী যুদ্ধজাহাজ এবং আধুনিক যুদ্ধবিমান পাঠানো হয়েছে। ফলে ইরান সরকারের প্রধান আয়াতুল্লা খামেনিকে ভাবতেই হচ্ছে।

    পাশাপাশি, যুক্তরাষ্ট্র তাদের মিত্র দেশগুলিতে আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা যেমন প্যাট্রিয়ট ও থাড মোতায়েন করছে, যাতে ইরানের সম্ভাব্য ক্ষেপণাস্ত্র বা ড্রোন হামলা প্রতিহত করা যায়। আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকদের মতে, এটি সরাসরি যুদ্ধ ঘোষণার চেয়ে বেশি শক্তি প্রদর্শন এবং কৌশলগত চাপ সৃষ্টি করার পরিকল্পনা ছাড়া আর কিছুই না।

    ইরানের ভেতরে বিক্ষোভ ও দমন অভিযান

    ডিসেম্বরের শেষ দিক থেকে ইরানে শুরু হওয়া সরকারবিরোধী বিক্ষোভ দ্রুত দেশজুড়ে ছড়িয়ে পড়ে। প্রথমে অর্থনৈতিক সংকট, মূল্যবৃদ্ধি ও বেকারত্বকে কেন্দ্র করে এই আন্দোলন শুরু হলেও পরে তা সরাসরি সরকারের বিরুদ্ধে বিক্ষোভের রূপ নেয়। ইসলাম ধর্মগুরু খোমেনির ছবি পুড়িয়ে বিক্ষোভ করতে দেখা যায়।

    তবে ইরানের সরকারি তথ্য অনুযায়ী, এই সংঘর্ষে কয়েক হাজার মানুষের মৃত্যু হয়েছে। অপর দিকে মানবাধিকার সংগঠনগুলোর দাবি, নিহতের প্রকৃত সংখ্যা আরও অনেক বেশি হতে পারে। হাজার হাজার মানুষকে গ্রেফতার করা হয়েছে এবং বহু ক্ষেত্রে কঠোর সাজা দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প (Donald Trump) এই কঠোর দমন নীতির অভিযানকে মানবাধিকার লঙ্ঘনের উদাহরণ হিসেবে তুলে ধরে ইরান সরকারের তীব্র সমালোচনা করেছেন।

    ইরানের পাল্টা বার্তা

    যুক্তরাষ্ট্রের হুমকির জবাবে ইরানও কড়া ভাষায় প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে। ইরান (Iran) সরকারের শীর্ষ নেতৃত্বের দাবি, আমাদের দেশ সম্পূর্ণ ভাবে প্রস্তুত। যে কোনও আগ্রাসনের জবাব দিতে আমরা ট্রিগারে আঙুল রেখে দিয়েছি। একই ভাবে ইরান অভিযোগ করেছে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইজরায়েল দেশটির অভ্যন্তরীণ অস্থিরতা উস্কে দিচ্ছে এবং সরকারকে দুর্বল করার চেষ্টা করছে। বাইরের শক্তির প্রত্যক্ষ হস্তক্ষেপেই পরিস্থিতি আরও খারাপ করছে।

    কেন এখন ইরানের ওপর চাপ বাড়াচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র?

    বিশেষজ্ঞদের মতে, বর্তমান পরিস্থিতিতে যুক্তরাষ্ট্রের (Donald Trump) চাপ বৃদ্ধির পেছনে কয়েকটি কারণ রয়েছে। এর মধ্যে অন্যতম হলো—

    • ইরানের ভেতরে চলমান বিক্ষোভ ও মানবাধিকার পরিস্থিতি
    • ইরানের (Iran) সম্ভাব্য পারমাণবিক কর্মসূচি পুনরুজ্জীবনের আশঙ্কা
    • মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্রদেশেরদের নিরাপত্তা উদ্বেগ

    ট্রাম্পের বক্তব্য অনুযায়ী, ইরান যদি পারমাণবিক পথে ফেরে, তাহলে তা গোটা বিশ্বের নিরাপত্তার জন্য হুমকি হয়ে উঠবে। তাই আরও কড়া মনোভাব ব্যক্ত করেছেন ট্রাম্প।

    হামলা হলে কী হতে পারে?

    যুক্তরাষ্ট্র যদি ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযান শুরু করে, তাহলে তা ধাপে ধাপে হতে পারে। প্রথমে সীমিত আকারে সতর্কতামূলক হামলা, এরপর ইরানের সামরিক ঘাঁটি, ক্ষেপণাস্ত্র কেন্দ্র বা ড্রোন পরিকাঠামো লক্ষ্য করা হতে পারে। চরম পরিস্থিতিতে পারমাণবিক স্থাপনাগুলিও নিশানায় আসতে পারে।

    ইজরায়েলের সম্ভাব্য ভূমিকা

    যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সরাসরি সংঘর্ষ শুরু হলে ইজরায়েলও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকায় থাকতে পারে। ইজরায়েল ইরানকে দীর্ঘদিন ধরেই তাদের নিরাপত্তার জন্য বড় হুমকি বলে মনে করে। ফলে সংঘাত বাড়লে ইজরায়েলের শক্তিশালী প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ও সামরিক সক্ষমতা পরিস্থিতিতে বড় প্রভাব ফেলতে পারে। ইরান যদি পরমাণু শক্তিধর দেশ হয়ে যায় তাহলে ইহুদীয়ের ধর্মীয় অস্তিত্বে সবথেকে বড় সঙ্কটে নেমে আসবে।

    সব মিলিয়ে, যুক্তরাষ্ট্র (Donald Trump) ও ইরানের  (Iran) মধ্যে উত্তেজনা এখন চরমে। এখনও পর্যন্ত সরাসরি যুদ্ধ শুরু না হলেও সামরিক প্রস্তুতি, কড়া হুঁশিয়ারি ও পাল্টা বক্তব্য মধ্যপ্রাচ্যে বড় সংঘাতের আশঙ্কা তৈরি করছে। এই পরিস্থিতি কোন দিকে গড়ায়, সেদিকে নজর রাখছে গোটা বিশ্ব।

  • Tesla: ট্রাম্পের শুল্ক-চাপের মধ্যেই ভারত থেকে গাড়ির যন্ত্রাংশ সংগ্রহ দ্বিগুণ করল টেসলা

    Tesla: ট্রাম্পের শুল্ক-চাপের মধ্যেই ভারত থেকে গাড়ির যন্ত্রাংশ সংগ্রহ দ্বিগুণ করল টেসলা

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ভারত থেকে অটোমোবাইল যন্ত্রাংশ সংগ্রহ উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়াল মার্কিন বৈদ্যুতিক গাড়ি নির্মাতা টেসলা (Tesla)। ২০২৫ সালে টেসলা ভারতীয় অটো কম্পোনেন্ট নির্মাতাদের কাছ থেকে আনুমানিক ৪ থেকে ৪.৫ বিলিয়ন ডলারের যন্ত্রাংশ সংগ্রহ করেছে ইলন মাস্কের সংস্থা, যা এক বছর আগের তুলনায় প্রায় দ্বিগুণ। এই বৃদ্ধি ঘটেছে এমন এক সময়ে, যখন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ভারতীয় পণ্যের ওপর উচ্চ শুল্ক আরোপ করেছেন।

    ভারতের সঙ্গে সম্পর্ক স্থাপনে আগ্রহী

    সূত্রের খবর, চলতি বছরে ভারত থেকে যন্ত্রাংশ কেনায় টেসলার মোট ব্যয় ৫ বিলিয়ন (৫০০ কোটি) ডলারে পৌঁছতে পারে। তুলনায় ২০২৩ সালে এই অঙ্ক ছিল প্রায় ১ বিলিয়ন ডলার এবং ২০২৪ সালে প্রায় ২ বিলিয়ন ডলার। চিন ও তাইওয়ানের মতো প্রচলিত উৎপাদন কেন্দ্রের ওপর নির্ভরতা কমানো এবং সরবরাহ শৃঙ্খল আরও শক্তিশালী করার কৌশলের সঙ্গে এই পদক্ষেপ সামঞ্জস্যপূর্ণ বলে মনে করছেন শিল্প বিশেষজ্ঞরা। শিল্প মহলের মতে, উত্তর আমেরিকার বাইরে টেসলার দ্রুততম বর্ধনশীল সোর্সিং হাবগুলোর একটি হয়ে উঠেছে ভারত। একাধিক ভারতীয় টিয়ার-১ কম্পোনেন্ট সরবরাহকারী ইতিমধ্যেই ইলন মাস্কের নেতৃত্বাধীন সংস্থাটির সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করছে। গত এক বছরে টেসলা ভারত থেকে যে যন্ত্রাংশ সংগ্রহ করেছে, তার পরিমাণ বহুগুণে বাড়ছে। বিশেষজ্ঞরা জানিয়েছেন, এই বৃদ্ধি টেসলার অভ্যন্তরীণ কোডনেমযুক্ত প্রকল্প “রেডউড”-এর সঙ্গে যুক্ত। এটি একটি তুলনামূলকভাবে সাশ্রয়ী মূল্যের বৈদ্যুতিক গাড়ি, যা একটি কমপ্যাক্ট ক্রসওভার হিসেবে বিশ্ববাজারে আনার প্রস্তুতি চলছে। এই এন্ট্রি-লেভেল মডেলের সম্ভাব্য উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রার কারণেই বহু বিলিয়ন ইউরোর কম্পোনেন্ট অর্ডার তৈরি হয়েছে, যার বড় অংশ পূরণ করছে ভারতীয় সরবরাহকারীরা।

    কৌশলগত গুরুত্ব

    বিশ্লেষকদের মতে, সাময়িক শুল্কজনিত চাপের তুলনায় টেসলার (Tesla) সোর্সিং সিদ্ধান্তে বেশি প্রভাব ফেলছে খরচে প্রতিযোগিতামূলক সুবিধা, প্রকৌশল দক্ষতা এবং সরবরাহ শৃঙ্খলের স্থিতিশীলতা। এসঅ্যান্ডপি গ্লোবাল মোবিলিটির ডিরেক্টর পুনীত গুপ্ত বলেন, “ভারতীয় সরবরাহকারীদের সঙ্গে অংশীদারিত্ব টেসলার জন্য কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এতে খরচ কমে, দ্রুত লোকালাইজেশন সম্ভব হয় এবং চিনের ওপর নির্ভরতা কমে। অন্যদিকে, ভারতীয় সংস্থাগুলোর ক্ষেত্রেও এটি লাভজনক। টেসলার সঙ্গে কাজ করা বিশ্বাসযোগ্যতা বাড়ায়। আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে টেসলার সঙ্গে কাজ করা ভারতীয় সংস্থাগুলোর গুরুত্ব বাড়ে।” ট্রাম্প প্রশাসনের শুল্ক বাড়ানোর ফলে নতুন করে বাণিজ্য উত্তেজনা তৈরি হলেও, ভারতীয় সরবরাহকারীদের সঙ্গে টেসলার সম্পর্ক অটুট রয়েছে বলে মত বিশেষজ্ঞদের।

LinkedIn
Share