Tag: DRDO

DRDO

  • DRDO Junput Project: চাঁদিপুরের পাশে এবার জুনপুট! বাংলায় ডিআরডিও-র ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষাকেন্দ্র ঘিরে খুলছে সম্ভাবনার নতুন দরজা

    DRDO Junput Project: চাঁদিপুরের পাশে এবার জুনপুট! বাংলায় ডিআরডিও-র ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষাকেন্দ্র ঘিরে খুলছে সম্ভাবনার নতুন দরজা

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: পূর্ব মেদিনীপুরের উপকূলবর্তী জুনপুটে ডিআরডিও-র (DRDO) নতুন ক্ষেপণাস্ত্র ও অস্ত্র পরীক্ষাকেন্দ্র তৈরির উদ্যোগ এবার বাস্তবায়নের পথে। রাজ্য সরকারের অনুমোদন মেলার পর এই প্রকল্প ঘিরে নতুন করে তৈরি হয়েছে প্রত্যাশা। প্রতিরক্ষা গবেষণা ও পরীক্ষার ক্ষেত্রে পশ্চিমবঙ্গের গুরুত্ব বাড়ানোর পাশাপাশি পূর্ব মেদিনীপুরের শিল্প, পরিকাঠামো, কর্মসংস্থান এবং স্থানীয় অর্থনীতিতেও এই প্রকল্প দীর্ঘমেয়াদে বড় প্রভাব ফেলতে পারে বলে প্রশাসনিক মহলের একাংশের মত।

    চাঁদিপুরের বিকল্প নয়, পরিপূরক পরিকাঠামো

    ওড়িশার চাঁদিপুরে থাকা ডিআরডিও-র ইন্টিগ্রেটেড টেস্ট রেঞ্জ (ITR)-এর পরিপূরক হিসেবে জুনপুটে এই নতুন পরীক্ষাকেন্দ্র গড়ে তোলার প্রস্তাব করা হয়েছিল। ২০২৪ সালের এপ্রিল মাসে ডিআরডিও এই প্রকল্পের জন্য উদ্যোগ নেয় বলে জানা গিয়েছে। বঙ্গোপসাগরের উপকূলবর্তী এলাকায় পরীক্ষাকেন্দ্রটি তৈরি হলে ক্ষেপণাস্ত্র, রাডার এবং বিভিন্ন আধুনিক প্রতিরক্ষা প্রযুক্তির পরীক্ষা চালানোর ক্ষেত্রে দেশের পরিকাঠামো আরও শক্তিশালী হবে।

    বর্তমানে দেশের অন্যতম প্রধান ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষণ পরিকাঠামো রয়েছে ওড়িশার ইন্টিগ্রেটেড টেস্ট রেঞ্জে। চাঁদিপুর-অন-সি এলাকায় লঞ্চ কমপ্লেক্স-III এবং ওড়িশা উপকূলের কাছে লঞ্চ কমপ্লেক্স-IV-এর মাধ্যমে বিভিন্ন পরীক্ষা পরিচালিত হয়। সেই ব্যবস্থার পাশাপাশি জুনপুটে নতুন পরিকাঠামো তৈরি হলে পরীক্ষার পরিধি বাড়ানো এবং বিদ্যমান পরিকাঠামোর উপর চাপ কমানোর সুযোগ তৈরি হতে পারে।

    দিঘা থেকে জুনপুটের দূরত্ব প্রায় ৪০-৪৫ কিলোমিটার। কৌশলগত অবস্থানের দিক থেকেও বঙ্গোপসাগরের উপকূলবর্তী এই এলাকা প্রতিরক্ষা পরীক্ষার জন্য গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে।

    জমি-জট কাটিয়ে মিলল অনুমোদন

    এই প্রকল্প নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে প্রশাসনিক জটিলতার অভিযোগ ছিল। সূত্রের দাবি, প্রয়োজনীয় জমি সংক্রান্ত জটিলতার কারণে প্রকল্পের কাজ এগোয়নি। বর্তমানে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী প্রকল্পটিতে অনুমোদন দিয়েছেন বলে জানা গিয়েছে। একটি অনুষ্ঠানে তিনি জানান, ডিআরডিও-র তরফে প্রকল্প নিয়ে চিঠি এলেও আগের সরকারের সময়ে তার জবাব দেওয়া হয়নি। তাঁর কথায়, “আমি অনুমোদন দিয়েছি। পশ্চিমবঙ্গের উন্নয়নের জন্য এটি একটি বড় প্রকল্প হবে।”

    অন্যদিকে বিজেপির রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্যও প্রকল্পটি নিয়ে সরব হয়েছেন। তাঁর দাবি, আগে সাধারণ মানুষের মধ্যে বিকিরণ ও অসুস্থতার আশঙ্কা তৈরি করে পরিকল্পিতভাবে প্রকল্পে বাধা দেওয়া হয়েছিল। তিনি জানিয়েছেন, জুনপুট প্রকল্প দ্রুত বাস্তবায়নের বিষয়টি তিনি রাজ্যসভাতেও তুলেছিলেন এবং প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিংয়ের সঙ্গে আলোচনা করেছিলেন।

    পাশাপাশি পূর্বতন তৃণমূল সরকারের বিরুদ্ধে একাধিক কেন্দ্রীয় প্রকল্প আটকে রাখার অভিযোগও করেছেন শমীক ভট্টাচার্য। যদিও এই রাজনৈতিক অভিযোগ নিয়ে তৃণমূলের বক্তব্য এখানে পাওয়া যায়নি।

    শুধু ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষা নয়, বদলাতে পারে শিল্পের ছবিও

    জুনপুটে ডিআরডিও-র পরীক্ষাকেন্দ্র তৈরি হলে এর প্রভাব শুধু প্রতিরক্ষা ক্ষেত্রেই সীমাবদ্ধ থাকবে না বলেই মনে করা হচ্ছে। সবচেয়ে বড় সম্ভাবনা তৈরি হতে পারে স্থানীয় ও সহযোগী শিল্পের ক্ষেত্রে।

    ডিআরডিও-র মতো কৌশলগত জাতীয় সংস্থার পরিকাঠামোকে কেন্দ্র করে যন্ত্রাংশ নির্মাণ, ধাতব কাঠামো, বৈদ্যুতিক সরঞ্জাম, মেরামত ও রক্ষণাবেক্ষণ-সহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে ছোট ও মাঝারি শিল্প সংস্থার জন্য নতুন বাজার তৈরি হতে পারে। প্রতিরক্ষা সরবরাহ ব্যবস্থার সঙ্গে স্থানীয় শিল্পের সংযোগ তৈরি হলে পূর্ব মেদিনীপুরে শিল্পভিত্তিক অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডও বাড়তে পারে।

    এর সঙ্গে যুক্ত হতে পারে হলদিয়া শিল্পাঞ্চল ও বন্দর। জুনপুট-হলদিয়া অঞ্চলের ভৌগোলিক নৈকট্য কাজে লাগিয়ে প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম, যন্ত্রাংশ ও প্রয়োজনীয় উপকরণের উৎপাদন, পরিবহণ এবং সরবরাহের জন্য ভবিষ্যতে একটি সমন্বিত শিল্পভিত্তি গড়ে ওঠার সম্ভাবনা রয়েছে।

    বাড়তে পারে কর্মসংস্থান, পরিকাঠামোয় বিনিয়োগ

    প্রস্তাবিত কেন্দ্রকে ঘিরে প্রত্যক্ষ কর্মসংস্থানের পাশাপাশি পরোক্ষ কর্মসংস্থানের সুযোগও তৈরি হতে পারে। প্রযুক্তিবিদ, দক্ষ কারিগর, তথ্যপ্রযুক্তি ও যোগাযোগ বিশেষজ্ঞের পাশাপাশি নির্মাণ, পরিবহণ, নিরাপত্তা এবং বিভিন্ন পরিষেবা ক্ষেত্রে কাজের সুযোগ বাড়তে পারে।

    কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ এই ধরনের পরিকাঠামো গড়ে উঠলে রাস্তা, বিদ্যুৎ, যোগাযোগ এবং পরিবহণ ব্যবস্থার উন্নয়নেও বিনিয়োগ বাড়ার সম্ভাবনা থাকে। স্থানীয় ব্যবসা, আবাসন, পরিষেবা এবং অন্যান্য সহযোগী ক্ষেত্রেও তার প্রভাব পড়তে পারে।

    গবেষণায় নতুন দরজা

    জুনপুট প্রকল্পের আর একটি গুরুত্বপূর্ণ সম্ভাব্য দিক হল উচ্চপ্রযুক্তি গবেষণা। ভবিষ্যতে রাজ্যের প্রযুক্তি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, বিশ্ববিদ্যালয় এবং গবেষণা কেন্দ্রগুলির সঙ্গে প্রতিরক্ষা প্রযুক্তি, সেন্সর, যোগাযোগ ব্যবস্থা ও উন্নত উপকরণ নিয়ে গবেষণার সহযোগিতা তৈরি হতে পারে।

    সব মিলিয়ে, জুনপুটের ডিআরডিও পরীক্ষাকেন্দ্রকে শুধুমাত্র একটি ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষার পরিকাঠামো হিসেবে দেখলে এর সম্ভাব্য প্রভাবের পরিধি ছোট করে দেখা হবে। প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে পশ্চিমবঙ্গের প্রতিরক্ষা ক্ষেত্রে কৌশলগত গুরুত্ব বাড়ার পাশাপাশি জুনপুট-হলদিয়া করিডরকে ঘিরে নতুন শিল্প ও বিনিয়োগের সম্ভাবনাও তৈরি হতে পারে। আগামী কয়েক বছরে প্রকল্পের বাস্তব অগ্রগতি এবং তার সঙ্গে যুক্ত শিল্পনীতিই ঠিক করবে, এই সম্ভাবনা কতটা বাস্তবে রূপ নেয়।

  • Suvendu Adhikari: বিতর্কিত সংস্থাকে রাজ্যে বিনিয়োগের ছাড়পত্র নয়, জুনপুটে বড় প্রকল্প করবে ডিআরডিও, জানালেন মুখ্যমন্ত্রী

    Suvendu Adhikari: বিতর্কিত সংস্থাকে রাজ্যে বিনিয়োগের ছাড়পত্র নয়, জুনপুটে বড় প্রকল্প করবে ডিআরডিও, জানালেন মুখ্যমন্ত্রী

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ‘রাজ্যে পালাবদলের পর বেসরকারি লগ্নির একাধিক প্রস্তাব এলেও আবেদনকারী সংস্থার বিস্তারিত তথ্য ও অতীত কর্মকাণ্ড খতিয়ে দেখেই বিনিয়োগের ছাড়পত্র দেওয়া হবে। বিতর্কে থাকা কোনও সংস্থাকে কোনওভাবেই ছাড়পত্র দেওয়া হবে না।’ শুক্রবার ফের সরকারের এমন নীতিগত অবস্থান স্পষ্ট করলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari)।

    এদিন সল্টলেকের একটি শপিং মলে বিপণির উদ্বোধন অনুষ্ঠানে যোগ দিয়ে রাজ্যে বিনিয়োগ সংক্রান্ত সরকারের অবস্থান (DRDO Project) ব্যাখ্যা করেন মুখ্যমন্ত্রী। তিনি জানান, বেসরকারি সংস্থার পাশাপাশি কেন্দ্রীয় প্রতিরক্ষামন্ত্রকও এ রাজ্যে বিনিয়োগ করতে চলেছে। পূর্ব মেদিনীপুরের জুনপুটে সেই প্রকল্পের জন্য জমি দেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছে বলেও জানান তিনি। শীঘ্রই প্রকল্পটির বিস্তারিত পরিকল্পনা সরকারের তরফে জানানো হবে।

    মুখ্যমন্ত্রীর সাফ কথা (Suvendu Adhikari)

    শুভেন্দু জানান, ভারতীয় প্রতিরক্ষা গবেষণা ও উন্নয়ন সংস্থা বা ডিআরডিও রাজ্যে একটি বড় প্রকল্প তৈরি করতে চলেছে। তাঁর কথায়, “ডিআরডিওর তরফে পূর্ব মেদিনীপুর উপকূলের জুনপুটে একটি বড় প্রকল্প করা হচ্ছে। এ বিষয়ে আমি বিস্তারিত ভাবে পরে জানাব।”

    উল্লেখ্য, বাম আমলে কাঁথি মহকুমার হরিপুরে সমুদ্রসৈকতের কাছে প্রস্তাবিত পরমাণু বিদ্যুৎকেন্দ্র গড়ে ওঠেনি। সেই সময় তৎকালীন বিরোধী তৃণমূলের তরফে প্রকল্পটির বিরোধিতা করা হয়েছিল। পরবর্তী সময়ে তৃণমূল ক্ষমতায় থাকাকালীন হরিপুর থেকে অল্প দূরত্বে জুনপুটে ডিআরডিওর ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণ কেন্দ্র তৈরির কাজও ২০২৪ সালে বন্ধ হয়ে যায়।

    এ প্রসঙ্গে শুভেন্দু বলেন, “প্রতিরক্ষামন্ত্রকের তরফে রাজ্যকে চিঠি পাঠানো হলেও, কোনও জবাব দেওয়া হয়নি। আমি এসে তাদের সেই চিঠির জবাব দিয়েছি। ওখানে বড় প্রকল্প হবে। তাকে ঘিরে উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ড হবে সেখানে।”

    রাজ্যে বিনিয়োগের পরিবেশের ভাবমূর্তি বদলাতে সরকার উদ্যোগী হয়েছে বলেও দাবি করেন মুখ্যমন্ত্রী। শিল্পায়নের পক্ষে বার্তা দিয়েছেন বিজেপির রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্যও। তবে শিল্প ও বাণিজ্য টানার ক্ষেত্রে অনিয়ম বা দুর্নীতিকে কোনওভাবেই বরদাস্ত করা হবে না বলে এ দিন স্পষ্ট করে দেন শুভেন্দু।

    তিনি (Suvendu Adhikari) বলেন, “যেসব সংস্থা রাজ্যে বিনিয়োগ করতে আসছে, তাদের বিশ্বাসযোগ্যতা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। ওই সংস্থাগুলি দুর্নীতির টাকায় চলছে কি না, তা দেখা হচ্ছে। সংস্থার বিরুদ্ধে কোনও প্রতারণা বা তদন্তকারী সংস্থার কাছে কোনও অভিযোগ রয়েছে কি না, তাও দেখা হচ্ছে।”

    পূর্বতন সরকারের শিল্পনীতি নিয়ে আক্রমণ

    এ দিন পূর্বতন সরকারের শিল্প নিয়ে অনীহার প্রসঙ্গও তোলেন শুভেন্দু। তাঁর অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে নানা কারণে রাজ্যে বাণিজ্য ও শিল্পবান্ধব পরিবেশ নষ্ট হয়ে গিয়েছিল। সেই পরিস্থিতি বদলাতে গত চার মাস ধরে সরকারি ও বেসরকারি উদ্যোগে একাধিক কর্মসূচি করা হচ্ছে বলেও জানান তিনি।

    শুভেন্দুর অভিযোগ, আগের সরকারের আমলে ঘটা করে শিল্প-বাণিজ্য সম্মেলনের আয়োজন করা হলেও বাস্তবে সেই অনুপাতে বিনিয়োগ আসেনি। তাঁর দাবি, “তখন শুধুমাত্র ছবি তোলার পর্ব চলত।”

    বর্তমান সরকার (DRDO Project) সেই পরিস্থিতি বদলাতে প্রথমে জমির ব্যবস্থা, ব্যাঙ্কের অর্থায়ন এবং পরিবেশ সংক্রান্ত ছাড়পত্রের মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলি খতিয়ে দেখছে। এরপরই শিল্পসংস্থা ও ব্যবসায়ীদের পাশে দাঁড়ানো হচ্ছে বলে জানান মুখ্যমন্ত্রী।

    অনন্ত আম্বানির সঙ্গে লগ্নি নিয়ে কথা

    রাজ্যে নতুন বিনিয়োগের সম্ভাবনা নিয়ে শিল্পপতি অনন্ত আম্বানি এবং তাঁর বাবা মুকেশ আম্বানির সঙ্গেও কথা হয়েছে বলে জানান শুভেন্দু। তিনি বলেন, “আমার সঙ্গে অনন্ত আম্বানির কথা হয়েছে। অনন্ত এবং ওঁর বাবা মুকেশ আম্বানি এখানে লগ্নি করা নিয়ে আগ্রহ দেখিয়েছেন। ওঁরা আমাকে মুম্বইয়ে আমন্ত্রণ জানিয়েছেন। গণেশ চতুর্থীর পরেই ওঁদের সঙ্গে দেখা করতে যাব।”

    সরকারের দাবি (Suvendu Adhikari), জমি, অর্থায়ন ও পরিবেশ সংক্রান্ত ছাড়পত্রের মতো বিষয়গুলি আগে নিশ্চিত করে শিল্পের জন্য প্রয়োজনীয় পরিকাঠামো তৈরির দিকে জোর দেওয়া হচ্ছে। একই সঙ্গে সম্ভাব্য বিনিয়োগকারী সংস্থার বিশ্বাসযোগ্যতা যাচাই করে তবেই চূড়ান্ত অনুমোদন দেওয়ার নীতিও বজায় রাখা হবে।

     

  • Rajnath Singh: দেশীয় ক্ষেপণাস্ত্র উৎপাদনে বড় পদক্ষেপ, সব প্রচলিত মিসাইলের প্রযুক্তি ভারতীয় শিল্পকে হস্তান্তরের অনুমোদন রাজনাথের

    Rajnath Singh: দেশীয় ক্ষেপণাস্ত্র উৎপাদনে বড় পদক্ষেপ, সব প্রচলিত মিসাইলের প্রযুক্তি ভারতীয় শিল্পকে হস্তান্তরের অনুমোদন রাজনাথের

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: প্রতিরক্ষা ক্ষেত্রে আত্মনির্ভরতার লক্ষ্যে আরও বড় পদক্ষেপ করল ভারত। প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিং প্রতিরক্ষা গবেষণা ও উন্নয়ন সংস্থা বা ডিআরডিও (DRDO)-র তৈরি সমস্ত প্রচলিত ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবস্থার প্রযুক্তি ভারতীয় শিল্প সংস্থাগুলিকে হস্তান্তরের (Transfer of Technology বা ToT) অনুমোদন দিয়েছেন। এর ফলে নির্দিষ্ট যোগ্যতা, সার্টিফিকেশন এবং নিয়ন্ত্রক বিধি পূরণ সাপেক্ষে ভারতীয় সংস্থাগুলি দেশে এই ক্ষেপণাস্ত্রগুলির উৎপাদন করতে পারবে। প্রেস ইনফরমেশন ব্যুরো (PIB) মঙ্গলবার এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে জানিয়েছে, এই প্রযুক্তি হস্তান্তর প্রতিরক্ষা ক্ষেত্রে ভারতীয় শিল্পের অংশগ্রহণ আরও বাড়ানোর ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ মাইলস্টোন। এর মূল লক্ষ্য হল ডিআরডিও-র গবেষণাগারে তৈরি ক্ষেপণাস্ত্র প্রযুক্তিকে উন্নয়ন পর্যায় থেকে সরিয়ে বাণিজ্যিক ও বৃহৎ পরিসরে উৎপাদনের পর্যায়ে নিয়ে যাওয়া।

    দেশীয় সংস্থার হাতে ক্ষেপণাস্ত্র তৈরির প্রযুক্তি

    এতদিন ডিআরডিও-র তৈরি বিভিন্ন ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবস্থার উৎপাদনে মূলত রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিরক্ষা সংস্থাগুলির গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা ছিল। এবার সেই ব্যবস্থায় আরও বড় পরিসরে বেসরকারি ভারতীয় শিল্পকে যুক্ত করার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। প্রতিরক্ষা মন্ত্রকের এই সিদ্ধান্তের ফলে যোগ্য ভারতীয় সংস্থাগুলি ডিআরডিও-র কাছ থেকে উন্নত ক্ষেপণাস্ত্র প্রযুক্তি গ্রহণ করে তার ভিত্তিতে দেশেই উৎপাদন করতে পারবে। এর মাধ্যমে একদিকে যেমন উৎপাদনের পরিমাণ বাড়ানোর সুযোগ তৈরি হবে, অন্যদিকে তেমনই ক্ষেপণাস্ত্র তৈরির ক্ষেত্রে ভারতীয় শিল্পের প্রযুক্তিগত সক্ষমতাও বৃদ্ধি পাবে। সরকারের বক্তব্য, এই উদ্যোগ আমদানি নির্ভরতা কমানোর পাশাপাশি দেশীয় প্রতিরক্ষা উৎপাদন ব্যবস্থাকে আরও শক্তিশালী করবে। একইসঙ্গে প্রতিরক্ষা সরঞ্জামের সরবরাহ শৃঙ্খলে ক্ষুদ্র, ছোট ও মাঝারি শিল্প বা এমএসএমই (MSME) এবং অন্যান্য প্রযুক্তি অংশীদারদের অংশগ্রহণের সুযোগও বাড়বে।

    ডিআরডিও-শিল্প সহযোগিতায় জোর

    প্রযুক্তি হস্তান্তরের মাধ্যমে ডিআরডিও এবং ভারতীয় শিল্পের মধ্যে সহযোগিতা আরও গভীর করার পরিকল্পনা রয়েছে। উন্নত প্রতিরক্ষা প্রযুক্তি শুধু গবেষণাগারে তৈরি করাই নয়, সেই প্রযুক্তিকে দ্রুত উৎপাদনযোগ্য করে তোলা এবং সেনাবাহিনীর প্রয়োজন অনুযায়ী পর্যাপ্ত সংখ্যায় সরবরাহ করাই এখন অন্যতম লক্ষ্য। এই ব্যবস্থায় ডিআরডিও ভারতীয় শিল্পকে প্রযুক্তি গ্রহণ ও আত্মস্থ করতে সহায়তা করবে। ফলে ভবিষ্যতে দেশীয় সংস্থাগুলি আরও উন্নত ক্ষেপণাস্ত্র ও প্রতিরক্ষা প্রযুক্তি তৈরি এবং উৎপাদনের ক্ষেত্রে নিজেদের সক্ষমতা বাড়াতে পারবে। এর সরাসরি প্রভাব পড়তে পারে ভারতের দেশীয় প্রতিরক্ষা উৎপাদন, প্রযুক্তি উন্নয়ন, সরবরাহ শৃঙ্খল এবং প্রতিরক্ষা রফতানিতে।

    অ্যাস্ট্রা মার্ক-২ তৈরিতে বেসরকারি সংস্থার দৌড়?

    এই নীতির অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সম্ভাব্য ক্ষেত্র হতে পারে ভারতের দেশীয় অ্যাস্ট্রা মার্ক-২ (Astra Mark-2) ক্ষেপণাস্ত্র। একটি প্রতিবেদন অনুযায়ী, প্রতিরক্ষা মন্ত্রক শীঘ্রই একটি রিকোয়েস্ট ফর প্রোপোজাল (RFP) জারি করতে পারে। সেখানে অ্যাস্ট্রা মার্ক-২ তৈরির জন্য বেসরকারি ক্ষেত্রের সংস্থা ও বৃহৎ শিল্পগোষ্ঠীগুলিকে অংশ নেওয়ার সুযোগ দেওয়া হতে পারে। ওই প্রতিবেদনে আইকম, আদানি, ভারত ফোর্জ, টাটা গোষ্ঠী ও মহিন্দ্রা গ্রুপ সহ একাধিক ভারতীয় শিল্পগোষ্ঠীর সম্ভাব্য অংশগ্রহণের কথা উল্লেখ করা হয়েছে।

    অ্যাস্ট্রা মার্ক-২ ক্ষেপণাস্ত্রের পাল্লা প্রায় ১৮০–২০০ কিলোমিটার বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। বায়ুসেনার জন্য গুরুত্বপূর্ণ এই দেশীয় আকাশ-থেকে-আকাশ ক্ষেপণাস্ত্রের উৎপাদন যদি বৃহৎ ভারতীয় শিল্পগোষ্ঠীর হাতে যায়, তাহলে ভবিষ্যতে এর উৎপাদন ক্ষমতা উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়ানো সম্ভব হতে পারে।তবে সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলিকে উৎপাদনে নামার আগে নির্ধারিত যোগ্যতা, সার্টিফিকেশন এবং সমস্ত নিয়ন্ত্রক শর্ত পূরণ করতে হবে।

    দেশীয় মিসাইলের চাহিদা বাড়ছে

    প্রতিরক্ষা মন্ত্রকের এই সিদ্ধান্ত এমন এক সময়ে এল, যখন ভারতীয় তৈরি ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবস্থার চাহিদা দেশ এবং বিদেশ—দুই ক্ষেত্রেই বাড়ছে। ভারতীয় সশস্ত্র বাহিনীর পাশাপাশি বিভিন্ন বিদেশি দেশও ভারতের দেশীয় ক্ষেপণাস্ত্র প্রযুক্তির প্রতি আগ্রহ দেখাচ্ছে। সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ইন্দোনেশিয়া অ্যাস্ট্রা সিরিজের ক্ষেপণাস্ত্র কেনার বিষয়ে আগ্রহ প্রকাশ করেছে। ফলে শুধু ভারতীয় সেনাবাহিনীর প্রয়োজন মেটানো নয়, ভবিষ্যতে আন্তর্জাতিক বাজারের জন্যও দেশীয় ক্ষেপণাস্ত্র উৎপাদনের পরিমাণ বাড়ানোর প্রয়োজন তৈরি হচ্ছে। বেসরকারি শিল্পকে উৎপাদন ব্যবস্থায় আরও বেশি করে যুক্ত করলে সেই চাহিদা পূরণ করা সহজ হতে পারে।

    প্রতিরক্ষা রফতানিতেও বড় সুযোগ

    ভারত গত কয়েক বছরে দেশীয় প্রতিরক্ষা উৎপাদন এবং রফতানির উপর বিশেষ গুরুত্ব দিয়েছে। যুদ্ধবিমান, কামান, ড্রোন, যুদ্ধজাহাজসহ একাধিক ক্ষেত্রে দেশীয় উৎপাদন বাড়ানোর পাশাপাশি বিদেশে ভারতীয় প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম বিক্রির ক্ষেত্রেও জোর দেওয়া হয়েছে। ক্ষেত্রবিশেষে উচ্চপ্রযুক্তির ক্ষেপণাস্ত্র উৎপাদন ক্ষমতা বাড়ানো সেই নীতিরই পরবর্তী ধাপ হিসেবে দেখা হচ্ছে। পর্যাপ্ত উৎপাদন ক্ষমতা তৈরি হলে ভবিষ্যতে ভারতীয় সশস্ত্র বাহিনীর চাহিদা পূরণের পাশাপাশি বন্ধুত্বপূর্ণ দেশগুলিতেও দেশীয় ক্ষেপণাস্ত্র রফতানির সুযোগ বাড়তে পারে।

    এতদিন কেন পিছিয়ে ছিল মিসাইল উৎপাদন?

    ভারতে বেসরকারি শিল্পের প্রতিরক্ষা ক্ষেত্রে অংশগ্রহণ গত কয়েক বছরে উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। বিমান, ড্রোন এবং আর্টিলারি বা কামান উৎপাদনের মতো ক্ষেত্রে বেসরকারি সংস্থাগুলিকে ইতিমধ্যেই বিভিন্ন পর্যায়ে যুক্ত করা হয়েছে। কিন্তু ক্ষিপণাস্ত্র উৎপাদনের ক্ষেত্রে রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিরক্ষা সংস্থাগুলির ভূমিকা এতদিন তুলনামূলকভাবে বেশি ছিল। এবার ডিআরডিও-র তৈরি প্রচলিত ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবস্থার প্রযুক্তি বৃহত্তর ভারতীয় শিল্পের হাতে তুলে দেওয়ার সিদ্ধান্ত সেই ব্যবস্থায় বড় পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিচ্ছে। এর ফলে গবেষণা ও উন্নয়নের দায়িত্বে থাকা ডিআরডিও আরও বেশি করে নতুন প্রযুক্তি, ভবিষ্যৎ প্রজন্মের অস্ত্র ব্যবস্থা এবং উন্নত প্রতিরক্ষা গবেষণায় মনোযোগ দিতে পারবে। অন্যদিকে শিল্প সংস্থাগুলি তুলনামূলকভাবে পরিণত প্রযুক্তির বৃহৎ পরিসরের উৎপাদনের দায়িত্ব নিতে পারবে।

    আত্মনির্ভর ভারতের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থায় নতুন অধ্যায়

    রাজনাথ সিংয়ের অনুমোদিত এই প্রযুক্তি হস্তান্তর তাই শুধুমাত্র একটি প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নয়। এর মাধ্যমে ভারতের প্রতিরক্ষা উৎপাদন ব্যবস্থায় গবেষণা থেকে উৎপাদন এবং উৎপাদন থেকে রফতানি—পুরো শৃঙ্খলকে আরও শক্তিশালী করার চেষ্টা করা হচ্ছে। দেশীয় শিল্পের উৎপাদন ক্ষমতা বাড়ানো, এমএসএমই-কে সরবরাহ শৃঙ্খলে যুক্ত করা, আমদানি নির্ভরতা কমানো এবং বিদেশি বাজারে ভারতীয় ক্ষেপণাস্ত্রের সম্ভাবনা বাড়ানো— সব মিলিয়ে এই সিদ্ধান্ত ভারতের ‘আত্মনির্ভর প্রতিরক্ষা’ কর্মসূচিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিতে পারে। বিশেষ করে অ্যাস্ট্রা মার্ক-২-এর মতো উন্নত দেশীয় ক্ষেপণাস্ত্রের উৎপাদনে যদি একাধিক ভারতীয় বেসরকারি শিল্পগোষ্ঠী যুক্ত হয়, তাহলে আগামী দিনে দেশের ক্ষেপণাস্ত্র উৎপাদন পরিকাঠামো আরও দ্রুত সম্প্রসারিত হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হবে।

  • DRDO AI Swarm Drone: যুদ্ধের চেহারা বদলে দেবে ৫০ ড্রোনের ‘ঝাঁক’! এমএসএমই-দের সঙ্গে হাত মিলিয়ে ‘এআই সোয়ার্ম ড্রোন’ বানাচ্ছে ডিআরডিও

    DRDO AI Swarm Drone: যুদ্ধের চেহারা বদলে দেবে ৫০ ড্রোনের ‘ঝাঁক’! এমএসএমই-দের সঙ্গে হাত মিলিয়ে ‘এআই সোয়ার্ম ড্রোন’ বানাচ্ছে ডিআরডিও

    সুশান্ত দাস

    ভারতের প্রতিরক্ষা ক্ষেত্রে আত্মনির্ভরতার (Atmanirbhar Bharat) পথে আরও এক গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ নিল প্রতিরক্ষা গবেষণা ও উন্নয়ন সংস্থা (DRDO)। আধুনিক যুদ্ধের দ্রুত বদলে যাওয়া চাহিদার কথা মাথায় রেখে এ বার কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI) নির্ভর সোয়ার্ম ড্রোন (Swarm Drone) তৈরির জন্য দেশীয় বেসরকারি সংস্থা, বিশেষ করে স্টার্ট-আপ এবং ক্ষুদ্র, ছোট ও মাঝারি শিল্প (MSME)-গুলিকে আহ্বান জানিয়েছে কেন্দ্রীয় প্রতিরক্ষা গবেষণা ও উন্নয়ন সংস্থা ডিআরডিও (DRDO)। এই প্রকল্প সফল হলে ভারতের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থায় যেমন বড় প্রযুক্তিগত পরিবর্তন আসবে, তেমনই দেশীয় প্রতিরক্ষা শিল্পও নতুন উচ্চতায় পৌঁছবে বলে মনে করা হচ্ছে।

    এমএসএমই-দের জন্য ডিআরডিও-র নতুন প্রকল্প

    ডিআরডিও এই প্রকল্পের নাম দিয়েছে ‘ডেভেলপমেন্ট অফ ক্লোজ ফর্মেশন ফ্লাইং অফ মাল্টিপল ড্রোনস্’ । এটি সংস্থার প্রযুক্তি উন্নয়ন তহবিল (TDF) প্রকল্পের অধীনে বাস্তবায়িত হবে। টিডিএফ প্রকল্পের মূল উদ্দেশ্য হল দেশীয় এমএসএমই ও স্টার্টআপগুলিকে অত্যাধুনিক প্রতিরক্ষা প্রযুক্তি তৈরিতে উৎসাহ দেওয়া এবং প্রতিরক্ষা ক্ষেত্রে তৃণমূল স্তরের উদ্ভাবনকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়া। প্রতিরক্ষা বিশেষজ্ঞদের মতে, ভবিষ্যতের যুদ্ধ ক্রমশ আকাশপথকেন্দ্রিক হয়ে উঠছে। সেই কারণে স্বল্প খরচে, এআই-নির্ভর এবং সমন্বিতভাবে পরিচালিত সোয়ার্ম ড্রোন ভারতের জাতীয় নিরাপত্তার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে।

    কী এই সোয়ার্ম ড্রোন?

    সোয়ার্ম ড্রোন হল একসঙ্গে সমন্বিতভাবে কাজ করা একাধিক মানববিহীন বিমান (UAV)-এর একটি নেটওয়ার্ক। ডিআরডিও-র পরিকল্পনা অনুযায়ী, একটি ‘মাস্টার’ ড্রোন এবং প্রায় ৫০টি ‘স্লেভ’ ড্রোন মিলিয়ে একটি সোয়ার্ম তৈরি হবে। এই ড্রোনগুলি একে অপরের থেকে মাত্র অর্ধ মিটার দূরত্ব বজায় রেখে উড়তে পারবে এবং রিয়েল-টাইমে পরস্পরের সঙ্গে যোগাযোগ বজায় রাখবে। মাস্টার ড্রোনটি মূল নিয়ন্ত্রণ কেন্দ্র হিসেবে কাজ করবে। এটি স্থলভিত্তিক কন্ট্রোল স্টেশন থেকে নির্দেশ গ্রহণ করে বাকি ড্রোনগুলিকে সমন্বিতভাবে পরিচালনা করবে। ফলে পুরো ড্রোন নেটওয়ার্কটি একযোগে নির্দিষ্ট লক্ষ্যবস্তুতে নজরদারি, তথ্য সংগ্রহ বা আক্রমণ চালাতে সক্ষম হবে।

    কেন এত গুরুত্বপূর্ণ এই প্রযুক্তি?

    একটি মাত্র ড্রোনকে শত্রুপক্ষ সহজেই শনাক্ত করে ধ্বংস করতে পারে। কিন্তু একই সঙ্গে সমন্বিতভাবে চলা ৫০টি ড্রোনের একটি সোয়ার্মকে থামানো অনেক বেশি কঠিন। কোনও একটি ড্রোন ধ্বংস হলেও বাকি ড্রোনগুলি স্বয়ংক্রিয়ভাবে নিজেদের অবস্থান পুনর্বিন্যাস করে মিশন চালিয়ে যেতে পারে। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই প্রযুক্তিই সোয়ার্ম ড্রোনকে আধুনিক যুদ্ধক্ষেত্রে অত্যন্ত কার্যকর করে তুলেছে।

    কী কী করতে পারবে ডিআরডিও-র সোয়ার্ম ড্রোন?

    এই সোয়ার্ম ড্রোনগুলির অন্যতম বড় বৈশিষ্ট্য হল—

    • ● প্রায় ৫,০০০ মিটার উচ্চতা পর্যন্ত উড়তে সক্ষম।
    • ● পাহাড়ি এলাকা ও দুর্গম সীমান্ত অঞ্চলেও সমন্বিতভাবে কাজ করতে পারবে।
    • ● প্রবল বাতাসেও স্থিতিশীলভাবে উড়তে সক্ষম।
    • ● প্রতিটি ড্রোনে ক্যামেরা, নজরদারি ব্যবস্থা বা ইলেকট্রনিক ওয়ারফেয়ার সরঞ্জাম বহন করা যাবে।
    • ● একসঙ্গে ১০০-রও বেশি শত্রু ড্রোন শনাক্ত ও ট্র্যাক করতে পারবে।
    • ● প্রচলিত রেডারের নজর এড়িয়ে রেকি, আর্টিলারি সংশোধন, কামিকাজে হামলা এবং সমন্বিত সোয়ার্ম আক্রমণ চালাতে সক্ষম।
    • ● মাত্র ৫০০ মিলিসেকেন্ডের মধ্যে নিজেদের অবস্থানের ত্রুটি সংশোধন করতে পারবে।
    • ● ৭০ শতাংশেরও বেশি দেশীয় প্রযুক্তি ব্যবহারের লক্ষ্য থাকায় সাইবার নিরাপত্তাও আরও শক্তিশালী হবে।

    ইলেকট্রনিক যুদ্ধেও বড় অস্ত্র

    সোয়ার্ম ড্রোনের আর একটি বড় সুবিধা হল, একসঙ্গে উড়তে গিয়ে এগুলি কার্যত ‘ভার্চুয়াল অ্যান্টেনা’ হিসেবে কাজ করতে পারে। এর মাধ্যমে শক্তিশালী রেডিও সিগন্যাল তৈরি করে শত্রুপক্ষের যোগাযোগ ব্যবস্থা শনাক্ত করা বা জ্যাম করার মতো কাজও করা সম্ভব। ফলে ভবিষ্যতের ইলেকট্রনিক যুদ্ধেও এই প্রযুক্তির গুরুত্ব অনেকটাই বাড়বে বলে মনে করা হচ্ছে।

    কম খরচে বেশি কার্যকর

    ভারী ও ব্যয়বহুল সামরিক প্ল্যাটফর্মের পরিবর্তে তুলনামূলক কম খরচে বহু ড্রোন ব্যবহার করে একই সঙ্গে নজরদারি, বিভ্রান্তিমূলক অভিযান (Decoy Mission), নির্ভুল হামলা (Precision Strike) এবং আকাশ প্রতিরক্ষা পরিচালনা করা সম্ভব হবে। এই সোয়ার্ম ড্রোনে ‘সফট কিল’ এবং ‘হার্ড কিল’— উভয় ধরনের প্রতিরক্ষা সক্ষমতাই থাকবে বলে জানানো হয়েছে।

    আত্মনির্ভর ভারতের পথে বড় পদক্ষেপ

    প্রতিরক্ষা বিশ্লেষকদের মতে, ডিআরডিও-র এই উদ্যোগ শুধু নতুন প্রজন্মের যুদ্ধ প্রযুক্তি তৈরির দিকেই নয়, দেশীয় প্রতিরক্ষা উৎপাদন ব্যবস্থায় এমএসএমই-দের অংশগ্রহণও উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়াবে। এর ফলে একদিকে যেমন ভারতের প্রতিরক্ষা সরঞ্জামের দেশীয় উৎপাদন বাড়বে, তেমনই তৈরি হবে নতুন কর্মসংস্থান ও অর্থনৈতিক সুযোগ। আধুনিক যুদ্ধের বাস্তবতায় কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা-নির্ভর স্বল্প ব্যয়ের সোয়ার্ম ড্রোনই আগামী দিনে ভারতের আক্রমণাত্মক ও প্রতিরক্ষামূলক সক্ষমতার অন্যতম প্রধান শক্তি হয়ে উঠতে পারে বলে মনে করছেন প্রতিরক্ষা বিশেষজ্ঞরা।

  • Ballistic Missile Defence: আইসিবিএম ধ্বংসের ক্ষমতা! টানা ৩ সফল ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষা ডিআরডিও-র, বিশ্বের এলিট ক্লাবে ভারত!

    Ballistic Missile Defence: আইসিবিএম ধ্বংসের ক্ষমতা! টানা ৩ সফল ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষা ডিআরডিও-র, বিশ্বের এলিট ক্লাবে ভারত!

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ভারতের প্রতিরক্ষা সক্ষমতায় আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক যোগ হল। দীর্ঘ-পাল্লার ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরোধে (Ballistic Missile Defence বা BMD) ২৪ ঘণ্টার ব্যবধানে টানা তিনটি সফল পরীক্ষা সম্পন্ন করেছে দেশের প্রতিরক্ষা গবেষণা ও উন্নয়ন সংস্থা (DRDO)।

    অভিনন্দন রাজনাথ সিংয়ের

    একইসঙ্গে প্রথমবারের মতো মাঝারি পাল্লার অ্যান্টি-শিপ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থারও সফল পরীক্ষা হয়েছে। এই সাফল্যের পর ভারত এখন বিশ্বের সেই নির্বাচিত দেশগুলির তালিকায় উঠে এসেছে, যারা দীর্ঘ-পাল্লার ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র এমনকি আন্তঃমহাদেশীয় ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র (ICBM) মোকাবিলার সক্ষমতা অর্জন করেছে। প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিং শুক্রবার এই সাফল্যের কথা ঘোষণা করে ডিআরডিও-র বিজ্ঞানী, শিল্প অংশীদার এবং সশস্ত্র বাহিনীকে অভিনন্দন জানান। সামাজিক মাধ্যম এক্সে (X) তিনি জানান, মাত্র ২৪ ঘণ্টার মধ্যে পরিচালিত একাধিক জটিল পরীক্ষায় ভারতের বহুস্তরীয় ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার কার্যকারিতা সফলভাবে প্রমাণিত হয়েছে।

    কী কী পরীক্ষা চালানো হয়েছে?

    ১০ এবং ১১ জুন ধারাবাহিকভাবে তিনটি ফ্লাইট টেস্ট পরিচালনা করে ডিআরডিও। এই পরীক্ষাগুলির মূল লক্ষ্য ছিল ভারতের বহুস্তরীয় ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার কার্যকারিতা যাচাই করা। প্রতিরক্ষামন্ত্রী জানান, পরীক্ষার সময় ইন্টারসেপ্টর ক্ষেপণাস্ত্রগুলি নির্ধারিত লক্ষ্যবস্তুকে সফলভাবে শনাক্ত, অনুসরণ এবং ধ্বংস করতে সক্ষম হয়েছে। এই ব্যবস্থাগুলি আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করে তৈরি করা হয়েছে, যাতে ভবিষ্যতের আরও উন্নত ক্ষেপণাস্ত্র হুমকির মোকাবিলা করা যায়। সরকারি সূত্রের দাবি, পরীক্ষিত দুটি ইন্টারসেপ্টর ক্ষেপণাস্ত্র শত্রুপক্ষের ২,০০০ থেকে ৫,০০০ কিলোমিটার পাল্লার ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ধ্বংস করতে সক্ষম। এই ধরনের ক্ষেপণাস্ত্রকে সাধারণত ইন্টারমিডিয়েট রেঞ্জ ব্যালিস্টিক মিসাইল (IRBM) বলা হয়।

    এক্সো-অ্যাটমোস্ফেরিক ও এন্ডো-অ্যাটমোস্ফেরিক প্রতিরক্ষা

    সূত্রের খবর, পরীক্ষায় ব্যবহৃত দুটি ইন্টারসেপ্টর ক্ষেপণাস্ত্রের মধ্যে একটি বায়ুমণ্ডলের বাইরে (Exo-atmospheric) এবং অন্যটি বায়ুমণ্ডলের ভিতরে (Endo-atmospheric) শত্রু ক্ষেপণাস্ত্র ধ্বংস করতে সক্ষম। এই দুই স্তরের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ভারতের বিএমডি শিল্ডকে আরও শক্তিশালী করবে। কোনও শত্রু ক্ষেপণাস্ত্র প্রথম স্তরের প্রতিরোধ ভেদ করলেও দ্বিতীয় স্তরের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সেটিকে ধ্বংস করার চেষ্টা করবে। ফলে সাফল্যের সম্ভাবনা বহুগুণ বৃদ্ধি পায়।

    প্রথমবার সফল অ্যান্টি-শিপ প্রতিরক্ষা পরীক্ষা

    ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা পরীক্ষার পাশাপাশি মাঝারি পাল্লার অ্যান্টি-শিপ ডিফেন্স সিস্টেমেরও প্রথম সফল ফ্লাইট টেস্ট সম্পন্ন হয়েছে। যদিও সরকার এখনও এই প্রকল্পের বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করেনি, তবে প্রতিরক্ষা বিশেষজ্ঞদের মতে, এটি ভারতীয় নৌবাহিনীর সামুদ্রিক প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাকে আরও শক্তিশালী করবে। বিশেষত ভারত মহাসাগরীয় অঞ্চলে ক্রমবর্ধমান কৌশলগত প্রতিযোগিতার প্রেক্ষাপটে এই প্রযুক্তি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে।

    কেন ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষায় জোর দিচ্ছে ভারত?

    গত কয়েক বছরে ভারত তার কৌশলগত প্রতিরক্ষা পরিকাঠামোকে দ্রুত শক্তিশালী করার পথে এগিয়েছে। বিশেষ করে দীর্ঘ-পাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র এবং পারমাণবিক প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধির ওপর জোর দেওয়া হয়েছে। গত বছর ডিআরডিও অগ্নি-৫ আন্তঃমহাদেশীয় ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রের একটি উন্নত সংস্করণের কাজ শুরু করে, যা ভূগর্ভস্থ শক্তিশালী বাঙ্কার বা সুরক্ষিত সামরিক স্থাপনা ধ্বংস করতে সক্ষম হবে বলে জানা যায়। অন্যদিকে, চলতি বছরের এপ্রিল মাসে ভারতীয় নৌবাহিনী তাদের তৃতীয় অরিহন্ত শ্রেণির পারমাণবিক শক্তিচালিত ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রবাহী সাবমেরিন আইএনএস অরিদ্ধমানকে (INS Aridaman) অন্তর্ভুক্ত করে। এই সাবমেরিন হাজার হাজার কিলোমিটার দূরে পারমাণবিক ওয়ারহেড বহনকারী ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণ করতে সক্ষম।

    পাকিস্তান ও আঞ্চলিক নিরাপত্তা পরিস্থিতির প্রভাব

    প্রতিরক্ষা সূত্রের মতে, পাকিস্তানও সাম্প্রতিক সময়ে দীর্ঘ-পাল্লার ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচিতে জোর দিচ্ছে। ফাতাহ-১ (Fatah-I), ফাতাহ-২ (Fatah-II) এবং চিনা প্রযুক্তিভিত্তিক পি২৮২-র (P282) মতো ক্ষেপণাস্ত্রের উন্নয়ন ভারতের কৌশলগত পরিকল্পনায় গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলেছে। শুধু পাকিস্তান নয়, এশিয়ার সামগ্রিক নিরাপত্তা পরিস্থিতি এবং দ্রুত পরিবর্তিত ক্ষেপণাস্ত্র প্রযুক্তির প্রেক্ষাপটেও ভারত তার প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাকে আধুনিক করছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, ভবিষ্যতের যুদ্ধে আক্রমণাত্মক সক্ষমতার পাশাপাশি কার্যকর প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাও সমান গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।

    বিশ্বের কোন এলিট ক্লাবে ভারত?

    রাজনাথ সিংয়ের বক্তব্য অনুযায়ী, এই পরীক্ষার মাধ্যমে ভারত এখন সেই সীমিত সংখ্যক দেশের দলে যোগ দিয়েছে, যাদের কাছে দীর্ঘ-পাল্লার ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র এবং আইসিবিএম মোকাবিলার সক্ষমতা রয়েছে। যদিও তিনি নির্দিষ্টভাবে দেশগুলির নাম উল্লেখ করেননি, প্রতিরক্ষা বিশেষজ্ঞদের মতে, বর্তমানে এই ধরনের উন্নত ব্যালিস্টিক মিসাইল ডিফেন্স প্রযুক্তি মূলত মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, রাশিয়া, চিন এবং ইজরায়েলের মতো কয়েকটি দেশের কাছেই রয়েছে। ভারতের সাম্প্রতিক সাফল্য সেই তালিকায় তার অবস্থানকে আরও শক্তিশালী করেছে।

    ভারতের প্রতিরক্ষা নীতিতে নতুন অধ্যায়

    বিশেষজ্ঞদের মতে, টানা তিনটি সফল পরীক্ষা শুধু প্রযুক্তিগত সাফল্য নয়, বরং ভারতের প্রতিরক্ষা নীতির একটি নতুন দিকও তুলে ধরেছে। দেশটি এখন শুধু শক্তিশালী আক্রমণাত্মক ক্ষেপণাস্ত্র তৈরি করছে না, পাশাপাশি সম্ভাব্য শত্রুর দীর্ঘ-পাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র হামলা প্রতিহত করার সক্ষমতাও দ্রুত গড়ে তুলছে। ডিআরডিওর এই সাফল্য ভবিষ্যতে ভারতের সমন্বিত ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ঢাল নির্মাণের পথে একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। বিশেষ করে আইসিবিএম স্তরের হুমকি মোকাবিলার সক্ষমতার দাবি ভারতের কৌশলগত প্রতিরক্ষা অবস্থানকে আরও শক্তিশালী করবে বলে মনে করছেন প্রতিরক্ষা বিশ্লেষকরা।

  • India Missile Launch: অনামী ক্ষেপণাস্ত্রের পরীক্ষা চালাল ভারত, আকাশে ‘রহস্যময় আলো’ দেখে তোলপাড় বাংলাদেশে

    India Missile Launch: অনামী ক্ষেপণাস্ত্রের পরীক্ষা চালাল ভারত, আকাশে ‘রহস্যময় আলো’ দেখে তোলপাড় বাংলাদেশে

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ভারতের প্রতিরক্ষা গবেষণা ও উন্নয়ন সংস্থা (DRDO) শুক্রবার সন্ধ্যায় ওড়িশা উপকূল থেকে একটি পরমাণু অস্ত্রবহন সক্ষম আন্তঃমহাদেশীয় ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র (ICBM) শ্রেণির মিসাইলের প্রথম পরীক্ষামূলক উৎক্ষেপণ করেছে বলে প্রতিরক্ষা সূত্রে জানা গিয়েছে। যদিও এখনও পর্যন্ত ডিআরডিও আনুষ্ঠানিকভাবে এই পরীক্ষার ঘোষণা করেনি, তবে এক প্রতিরক্ষা সূত্র সংবাদমাধ্যমকে জানিয়েছে, “এই উৎক্ষেপণটি দেখতে অগ্নি-৬ মিসাইলের মতো না হলেও, আজ যে ক্ষেপণাস্ত্রটি পরীক্ষা করা হয়েছে, সেটি আইসিবিএম ক্যাটেগরির।”

    এলিট গ্রুপে ভারত…

    কয়েকদিন আগেই জাতীয় সংবাদমাধ্যমে খবর প্রকাশিত হয়েছিল যে, ডিআরডিও খুব শীঘ্রই আইসিবিএম শ্রেণির একটি ক্ষেপণাস্ত্রের পরীক্ষা চালাতে চলেছে। শুক্রবারের উৎক্ষেপণের পর সেই জল্পনাই আরও জোরালো হয়েছে। বর্তমানে বিশ্বের হাতে গোনা কয়েকটি দেশই আইসিবিএম প্রযুক্তির অধিকারী। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, রাশিয়া, চিন এবং উত্তর কোরিয়ার কাছে ১২,০০০ কিলোমিটারেরও বেশি পাল্লার আইসিবিএম রয়েছে। অন্যদিকে ফ্রান্স ও ব্রিটেনের কাছে রয়েছে কার্যকরী পরমাণু অস্ত্রবাহী সাবমেরিন-লঞ্চড ব্যালিস্টিক মিসাইল (SLBM) প্রযুক্তি। ভারত যদি সফলভাবে আইসিবিএম প্রযুক্তি আয়ত্ত করতে পারে, তাহলে বিশ্বের যে কোনও দেশ, এমনকি আমেরিকাও ভারতের ক্ষেপণাস্ত্রের আওতায় চলে আসবে।

    অগ্নি-৬ ঘিরে ভারতে কৌতুহল তুঙ্গে

    এই উৎক্ষেপণের কয়েকদিন আগেই ডিআরডিও চেয়ারম্যান সমীর ভি কামাথ এক প্রতিরক্ষা সম্মেলনে অগ্নি-৬ প্রসঙ্গে বলেছিলেন, “সরকার অনুমতি দিলেই আমরা এগোতে প্রস্তুত। সমস্ত প্রযুক্তিগত প্রস্তুতি সম্পূর্ণ।” অগ্নি-৬ ক্ষেপণাস্ত্রকে ঘিরে রাজনৈতিক মহলেও ইতিমধ্যেই উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। গত সপ্তাহে বিজেপি তাদের এক্স হ্যান্ডেলে পোস্ট করে জানায়, “অগ্নি-৬: ভারত সুপারপাওয়ার হওয়ার পথে! ১০,০০০+ কিমি স্ট্রাইক রেঞ্জ এবং মার্ভ প্রযুক্তি সহ অগ্নি-৬ ইতিহাস গড়তে প্রস্তুত।” পাশাপাশি একটি ভিডিও-ও পোস্ট করা হয়, যেখানে বলা হয়, “এখন পর্যন্ত মাত্র পাঁচটি দেশের হাতে আইসিবিএম ক্ষমতা রয়েছে। ভারত খুব শীঘ্রই সেই শক্তিধর দেশগুলির তালিকায় জায়গা করে নিতে চলেছে।”

    প্রতিরক্ষা সক্ষমতায় যুগান্তকারী পদক্ষেপ

    অগ্নি-৬ বা আইসিবিএম প্রযুক্তির সবচেয়ে বড় কৌশলগত গুরুত্ব হল পারমাণবিক প্রতিরোধ সক্ষমতা। অর্থাৎ, কোনও দেশ ভারতের বিরুদ্ধে প্রথমে পরমাণু হামলা চালানোর আগে বহুবার ভাবতে বাধ্য হবে, কারণ ভারত পাল্টা জবাব দেওয়ার সক্ষমতা অর্জন করবে। শুধু সামরিক শক্তির দিক থেকেই নয়, আইসিবিএম প্রযুক্তি আয়ত্ত করা মানে জটিল রকেট প্রপালশন, অত্যাধুনিক গাইডেন্স সিস্টেম, মাল্টিপল ইনডিপেনডেন্টলি টার্গেটেবল রি-এন্ট্রি ভেহিকল (MIRV), এবং রি-এন্ট্রি প্রযুক্তিতে দক্ষতা অর্জন করা। বিশেষজ্ঞদের মতে, ভারত ইতিমধ্যেই অগ্নি সিরিজের মাধ্যমে মধ্য ও দীর্ঘ পাল্লার ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র প্রযুক্তিতে যথেষ্ট অগ্রগতি করেছে। অগ্নি-৬ যদি আনুষ্ঠানিকভাবে পরীক্ষিত ও সফল ঘোষণা করা হয়, তাহলে তা ভারতের কৌশলগত প্রতিরক্ষা সক্ষমতায় যুগান্তকারী পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচিত হবে।

    বাংলাদেশের আকাশে ‘রহস্যময় আলো’ 

    বুধবার সন্ধ্যায় ভারতের এই পরীক্ষা, গোটা অঞ্চলে তীব্র আলোড়ন সৃষ্টি করেছে। বিশেষ করে প্রতিবেশী রাষ্ট্র বাংলাদেশে। এই পরীক্ষা দেখা গিয়েছে। অনেকেই মোবাইলে সেই ছবি তুলে ভিডিও সমাজমাধ্যমে পোস্টও করেন। এই ঘটনার একাধিক ভিডিও সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হয় (ভিডিওর সত্যতা যাচাই করেনি মাধ্যম)। কক্সবাজার থেকে নোয়াখালি— ৮ মে বাংলাদেশের বিভিন্ন জায়গা থেকে সন্ধ্যার আকাশে একটি ‘রহস্যময় আলো’ দেখা যায়। অনেকেই দাবি করেন, এটি মিসাইল। এই আবহে সেই মিসাইলটি অগ্নি ৬ কি না, তা নিয়ে জল্পনা শুরু হয়।

    মিসাইলের ধরণ নিয়ে নীরব ভারত

    ডিআরডিওর তরফে সরকারি ঘোষণা না আসা পর্যন্ত ক্ষেপণাস্ত্রটির প্রকৃত পরিচয়, রেঞ্জ এবং প্রযুক্তিগত বৈশিষ্ট্য নিয়ে ধোঁয়াশা বজায় থাকছে। তবে বঙ্গোপসাগরে আগে থেকেই নোটাম জারি করে রেখেছিল ভারত। রিপোর্ট অনুযায়ী, মিসাইলের পরীক্ষা চালাতে ৬ থেকে ৯ মে পর্যন্ত বঙ্গোপসাগরের আকাশসীমায় বিধিনিষেধ আরোপ করেছিল ভারত। এই আবহে ভারতীয় প্রতিরক্ষা মহলে এখন একটাই প্রশ্ন— এটাই কি অগ্নি-৬ ক্ষেপণাস্ত্রের প্রথম গোপন পরীক্ষা, না হাইপারসনিক গ্লাইড ক্ষেপণাস্ত্র, নাকি সম্পূর্ণ নতুন কোনও আইসিবিএম প্ল্যাটফর্মের আত্মপ্রকাশ? সরকারিভাবে কোনও ঘোষণা করেনি ভারত। আর এই কৌশলগত নীরবতাই সাম্প্রতিক ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষার মনস্তাত্ত্বিক ও ভূ-রাজনৈতিক প্রভাবকে আরও বাড়িয়ে দিয়েছে। প্রতিরক্ষা বিশ্লেষকদের মতে, শেষ পর্যন্ত এটি একটি নিয়মিত কৌশলগত সক্ষমতা যাচাই পরীক্ষাও হতে পারে, কিন্তু তার আগেই আন্তর্জাতিক মহলে তা নিয়ে জোর জল্পনা তৈরি হয়েছে।

    পরীক্ষা ঘিরে তুমুল জল্পনা

    বিশেষ করে বাংলাদেশের বিস্তীর্ণ অংশ থেকে উৎক্ষেপণটি দৃশ্যমান হওয়ায় এই পরীক্ষার বার্তাবাহী গুরুত্ব আরও বেড়েছে। সাধারণ মানুষের নজরে আসার ফলে একটি প্রযুক্তিগত সামরিক ঘটনাই বৃহত্তর ভূ-রাজনৈতিক আলোচনার কেন্দ্রে চলে এসেছে। ফলে এটি শুধু প্রতিরক্ষা মহলেই সীমাবদ্ধ থাকেনি, বরং জনপরিসরেও ব্যাপক কৌতূহল ও জল্পনার জন্ম দিয়েছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, কৌশলগত প্রতিরোধক্ষমতার ক্ষেত্রে শুধুমাত্র সক্ষমতা অর্জনই যথেষ্ট নয়। প্রতিপক্ষকে রাজনৈতিকভাবে সংবেদনশীল পরিস্থিতিতে সেই সক্ষমতা বাস্তব সময়ে উপলব্ধি করানো এবং তার বার্তা পৌঁছে দেওয়াও সমান গুরুত্বপূর্ণ। এই কারণেই সাম্প্রতিক উৎক্ষেপণের দৃশ্যমানতা ও তা ঘিরে তৈরি হওয়া আলোচনা কৌশলগত দিক থেকে তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে।

  • Hypersonic Glide Missile Test: হাইপারসনিক যুগে ভারতের বড় লাফ! নতুন অ্যান্টি-শিপ ক্ষেপণাস্ত্রের সফল পরীক্ষা

    Hypersonic Glide Missile Test: হাইপারসনিক যুগে ভারতের বড় লাফ! নতুন অ্যান্টি-শিপ ক্ষেপণাস্ত্রের সফল পরীক্ষা

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: সামুদ্রিক প্রতিরক্ষা শক্তিতে বড়সড় সাফল্য পেল ভারত। শুক্রবার ওড়িশা উপকূলের কাছে দীর্ঘ-পাল্লার অ্যান্টি-শিপ ক্ষেপণাস্ত্রের (Long-Range Anti-Ship Missile বা LR-AShM) সফল পরীক্ষা চালিয়েছে ভারত। শীর্ষ প্রতিরক্ষা সূত্রের দাবি, এই হাইপারসনিক ক্ষেপণাস্ত্রটি ১,৫০০ কিলোমিটার দূরে নির্ধারিত লক্ষ্যবস্তুতে নিখুঁতভাবে আঘাত হেনেছে, যা দেশের সমুদ্র প্রতিরক্ষার পরিসর আরও বাড়ানোর ক্ষেত্রে বড় মাইলফলক।

    গতি ঘণ্টায় ৬১০০ কিমি…

    প্রতিরক্ষা সূত্রে জানা গিয়েছে, ক্ষেপণাস্ত্রটি ম্যাক ৫ (শব্দের পাঁচগুণ বা আনুমানিক ঘণ্টায় ৬১০০ কিমি)-এর বেশি গতিতে উড়তে সক্ষম। ফলে আধুনিক যুদ্ধজাহাজে থাকা ইন্টারসেপশন সিস্টেম বা প্রতিরোধী প্রযুক্তিকে ফাঁকি দেওয়ার ক্ষমতা এই ক্ষেপণাস্ত্রে রয়েছে। পরীক্ষায় ক্ষেপণাস্ত্রটির উন্নত টার্মিনাল গাইডেন্স সিস্টেমের নির্ভুলতাও যাচাই করা হয়েছে। উৎক্ষেপণ থেকে চূড়ান্ত আঘাত পর্যন্ত সব মিশন উদ্দেশ্য সফলভাবে পূরণ হয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে। এর মধ্যে ছিল মিড-কোর্স ম্যানুভার এবং দীর্ঘ সময় ধরে উচ্চগতির ফ্লাইট।

    বিরাট সাফল্য ভারতের…

    ভারতীয় নৌসেনার জন্য তৈরি অ্যান্টি-শিপ মিসাইল (LR-AShM) হল একটি হাইপারসনিক গ্লাইড ক্ষেপণাস্ত্র, যা স্থির ও চলমান—দুই ধরনের লক্ষ্যবস্তুকেই নিশানা করতে পারে। এতে ব্যবহৃত হয়েছে সম্পূর্ণ দেশীয় প্রযুক্তিতে তৈরি অ্যাভিওনিক্স এবং উচ্চ-নির্ভুলতার সেন্সর। ক্ষেপণাস্ত্রটি আধা-ক্ষেপণাস্ত্র গতিপথ (quasi-ballistic trajectory) অনুসরণ করে এবং সর্বোচ্চ ম্যাক ১০ (শব্দের দশ গুণ) পর্যন্ত গতি অর্জন করতে পারে, যদিও গড় গতি থাকে প্রায় ম্যাক ৫। একাধিক ‘স্কিপ’ কৌশল, কম উচ্চতায় উড়ান এবং দ্রুত গতির কারণে শত্রুপক্ষের রাডারে এটি শনাক্ত করা অত্যন্ত কঠিন।

    হাইপারসনিক গ্লাইড ক্ষেপণাস্ত্র..

    দুই-ধাপের সলিড রকেট মোটরের সাহায্যে চালিত এই ক্ষেপণাস্ত্র প্রথমে বুস্টারের মাধ্যমে গতি অর্জন করে। এরপর প্রাথমিক ধাপ শেষে এটি পৃথক হয়ে যায় এবং দ্বিতীয় ধাপে এটি ইঞ্জিনবিহীন গ্লাইড পর্যায়ে (unpowered glide phase) প্রবেশ করে, তারপর লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানে। এই সফল পরীক্ষা ভারতের দেশীয় প্রতিরক্ষা প্রযুক্তির অগ্রগতিকে আরও একবার সামনে আনল। বিশেষজ্ঞদের মতে, এর ফলে দূরপাল্লায় শত্রুর গুরুত্বপূর্ণ নৌ-সম্পদ ধ্বংস করার ক্ষেত্রে ভারতের সক্ষমতা অনেকটাই বেড়ে গেল।

    দুটি পৃথক হাইপারসনিক প্রকল্প….

    চলতি সপ্তাহের গোড়ায় জাতীয় নিরাপত্তা সম্মেলনে (National Security Summit) বক্তব্য রাখতে গিয়ে ডিআরডিও-র (DRDO) প্রধান ড. সমীর ভি কামাত জানিয়েছিলেন, ভারত বর্তমানে দুটি পৃথক হাইপারসনিক প্রকল্পে কাজ করছে— একটি হল হাইপারসনিক গ্লাইড মিসাইল (Hypersonic Glide Missile) এবং দ্বিতীয়টি হাইপারসনিক ক্রুজ মিসাইল (Hypersonic Cruise Missile)। তিনি বলেন, “হাইপারসনিক ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্রে এয়ার ব্রদিং স্ক্র্যামজেট ইঞ্জিন (air-breathing scramjet engine) থাকে এবং পুরো উড়ানের সময় সেটি চালু থাকে। অন্যদিকে হাইপারসনিক গ্লাইড ক্ষেপণাস্ত্র বুস্টারের মাধ্যমে প্রাথমিক গতি পেয়ে পরে কোনও প্রোপালসান (ইঞ্জিন) ছাড়াই গ্লাইড করে বা বাতাসে ভেসে যায়।” কামাত আরও জানান, গ্লাইড মিসাইল প্রকল্পটি তুলনামূলকভাবে বেশি উন্নত পর্যায়ে রয়েছে। তাঁর কথায়, “গ্লাইড মিসাইলই আগে আসবে।”

    কনভেনশনাল মিসাইল ফোর্স গঠনের ভাবনা

    একই সঙ্গে তিনি একটি সম্ভাব্য কনভেনশনাল মিসাইল ফোর্স (conventional missile force) গঠনের প্রয়োজনীয়তার কথাও তুলে ধরেন। তাঁর মতে, স্বল্প, মধ্যম এবং প্রায় ২,০০০ কিলোমিটার পর্যন্ত পাল্লার ব্যালিস্টিক মিসাইলের (ballistic missile) পাশাপাশি ক্রুজ মিসাইল (cruise missile) এবং হাইপারসনিক মিসাইল (hypersonic missile) সহ বহুমুখী অস্ত্রভান্ডার দরকার, যাতে বিভিন্ন কৌশলগত ব্যবহারের (tactical application) প্রয়োজন অনুযায়ী জন্য আলাদা আলাদা আঘাত হানার ক্ষমতা (strike capability) তৈরি হয়।

    “ঐতিহাসিক অর্জন” বলেছেন রাজনাথ

    উল্লেখ্য, গত কয়েক বছরে হাইপারসনিক প্রযুক্তিতে ভারত ধারাবাহিক অগ্রগতি করেছে। ২০২৪ সালের নভেম্বরে ড. এপিজে আব্দুল কালাম দ্বীপ থেকে দীর্ঘ-পাল্লার হাইপারসনিক ক্ষেপণাস্ত্রের সফল পরীক্ষা চালায় ডিআরডিও। এর আগে ২০২০ সালে হাইপারসনিক টেকনোলজি ডেমোন্সট্রেটর ভেহিক্যল (Hypersonic Technology Demonstration Vehicle বা HSTDV)-এর সফল পরীক্ষা এবং পরবর্তী স্ক্র্যামজেট ইঞ্জিনের পরীক্ষাও গুরুত্বপূর্ণ প্রযুক্তিগত সাফল্য এনে দেয়। প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিং এর আগেই এই ধরনের সাফল্যকে “ঐতিহাসিক অর্জন” বলে উল্লেখ করেছিলেন। তাঁর কথায়, এর মাধ্যমে ভারত বিশ্বের সেই নির্বাচিত কয়েকটি দেশের তালিকায় জায়গা করে নিয়েছে, যাদের হাতে উন্নত হাইপারসনিক প্রযুক্তি রয়েছে।

  • PM Modi: পশ্চিম এশিয়ার সঙ্কট নিয়ে সর্বদলীয় বৈঠক ডাকল কেন্দ্র, কারা কারা উপস্থিত থাকবেন?

    PM Modi: পশ্চিম এশিয়ার সঙ্কট নিয়ে সর্বদলীয় বৈঠক ডাকল কেন্দ্র, কারা কারা উপস্থিত থাকবেন?

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: পশ্চিম এশিয়ার সঙ্কট (West Asia Conflict) নিয়ে সর্বদলীয় বৈঠক ডাকল কেন্দ্র। বুধবার বৈঠক হবে বিকেল ৫টায়। এই বৈঠকে সভাপতিত্ব করতে পারেন প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিং। উপস্থিত থাকতে পারেন বিদেশমন্ত্রী এস জয়শঙ্করও।

    সর্বদলীয় বৈঠকের ডাক কেন্দ্রের (PM Modi)

    পশ্চিম এশিয়ায় ক্রমবর্ধমান উত্তেজনার প্রেক্ষিতে এই বৈঠক (PM Modi) অনুষ্ঠিত হচ্ছে। যার প্রত্যক্ষ প্রভাব পড়েছে গুরুত্বপূর্ণ সামুদ্রিক বাণিজ্যপথের ওপর। উপসাগরীয় দেশগুলিতে বসবাসকারী ভারতীয় নাগরিকদের নিরাপত্তা নিয়েও উদ্বেগ বেড়েছে। মঙ্গলবারই প্রতিরক্ষামন্ত্রী মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতি নিয়ে আয়োজিত একটি বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন। সেই বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন চিফ অফ ডিফেন্স স্টাফ (CDS) জেনারেল অনিল চৌহান, তিন বাহিনীর প্রধান, ডিআরডিওর চেয়ারম্যান সমীর কামাত-সহ অন্যরা। রবিবার প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি মন্ত্রিসভার নিরাপত্তা কমিটির (CCS) বৈঠকে পশ্চিম এশিয়ায় চলা সংঘাতের পরিস্থিতি এবং তার মোকাবিলায় নেওয়া প্রস্তাবিত পদক্ষেপগুলি পর্যালোচনা করেন। তিনি পরিস্থিতি মোকাবিলার জন্য মন্ত্রী ও সচিবদের একটি বিশেষ দল গঠনের নির্দেশও দেন।

    প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্য

    পশ্চিম এশিয়ার পরিস্থিতি নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর সংসদীয় ভাষণের পর আয়োজিত হচ্ছে এই সর্বদলীয় বৈঠক। মঙ্গলবার রাজ্যসভায় বক্তব্য রাখতে গিয়ে তিনি বলেন, “জ্বালানি, সরবরাহ ব্যবস্থা, সার-সহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে কৌশল তৈরির জন্য সরকার সাতটি ক্ষমতাপ্রাপ্ত গোষ্ঠী গঠন করেছে, যাতে ইরান-ইজরায়েল-আমেরিকা সংঘাতের প্রভাব কমানো যায়।” সোমবার লোকসভায় তিনি বলেন, “পশ্চিম এশিয়ার সংঘাতজনিত কঠিন বৈশ্বিক পরিস্থিতি দীর্ঘস্থায়ী হতে পারে। এজন্য দেশকে ঐক্যবদ্ধ ও প্রস্তুত থাকতে হবে, যেমনটি কোভিড-১৯ অতিমারির সময় ছিল। পশ্চিম এশিয়ার এই সংঘাত এখন চতুর্থ সপ্তাহে প্রবেশ করেছে, ব্যাহত হয়েছে হরমুজ প্রণালী দিয়ে চলাচলকারী তেলবাহী জাহাজের অনায়াস যাতায়াত। ২৮ ফেব্রুয়ারি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইজরায়েলের যৌথ সামরিক হামলায় ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতোল্লাহ আলি খামেনেই নিহত হওয়ার পর উত্তেজনা আরও বেড়েছে (PM Modi)।

    বৈঠকে থাকছেন না রাহুল

    এর প্রতিক্রিয়ায় ইরান উপসাগরীয় বিভিন্ন দেশে ইজরায়েল ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সম্পদকে লক্ষ্য করে হামলা চালায়। যার ফলে সামুদ্রিক পথে জাহাজ চলাচল আরও বিঘ্নিত হয়। এর ভয়ঙ্কর প্রভাব পড়ে আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজার ও বৈশ্বিক অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার ওপর (West Asia Conflict)। এদিনের সর্বদলীয় বৈঠকে হাজির থাকবেন না লোকসভার বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধী। তিনি জানান, কেরালায় একটি নির্ধারিত কর্মসূচিতে অংশ নেওয়ার কারণে এই সর্বদলীয় বৈঠকে উপস্থিত থাকতে পারবেন না। প্রসঙ্গত, এর আগে কংগ্রেস প্রধানমন্ত্রীকে আক্রমণ করে বলেছিল, “সঙ্কট নিয়ে তাঁর বক্তব্য ছিল নিজের প্রশংসায় ভরা আগেভাগেই তৈরি করে দেওয়া একটি লেখা”। প্রধানমন্ত্রী তাঁর বক্তব্যে বলেন, “পশ্চিম এশিয়া ভারতের জন্য গুরুত্বপূর্ণ, কারণ প্রায় এক কোটি ভারতীয় সেখানে বসবাস ও কাজ করেন। তাছাড়া এই অঞ্চলের সমুদ্রপথে চলাচলকারী বাণিজ্যিক জাহাজে বিপুল সংখ্যক ভারতীয় নাবিকও কাজ করেন (PM Modi)।”

    ঐক্যবদ্ধ ও সর্বসম্মত বার্তা দিতেই বৈঠক

    তিনি এও বলেন, “এই বিভিন্ন কারণেই ভারতের উদ্বেগ স্বাভাবিকভাবেই বেশি। তাই এই সঙ্কট নিয়ে ভারতের সংসদ থেকে একটি ঐক্যবদ্ধ ও সর্বসম্মত বার্তা বিশ্বে পৌঁছনো অত্যন্ত জরুরি।” ২৪ মার্চ প্রধানমন্ত্রী জানিয়েছিলেন, তিনি প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের সঙ্গে ফোনে কথা বলেছেন। পশ্চিম এশিয়ার পরিস্থিতি নিয়ে ফলপ্রসূ মতবিনিময়ও হয়েছে তাঁদের মধ্যে। তিনি বলেন, “ভারত দ্রুত উত্তেজনা প্রশমনের এবং শান্তি পুনঃপ্রতিষ্ঠার পক্ষে। হরমুজ প্রণালী খোলা, নিরাপদ এবং সকলের জন্য সহজলভ্য রাখা (West Asia Conflict) অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। শান্তি ও স্থিতিশীলতার প্রচেষ্টায় আমরা যোগাযোগ বজায় রাখার বিষয়ে একমত হয়েছি (PM Modi)।”

  • Project Kusha: প্রজেক্ট কুশ-এর পরীক্ষায় সাফল্য ডিআরডিও-র, দেশীয় ‘সুদর্শন’ নির্মাণে গুরুত্বপূর্ণ মোড়ে ভারত

    Project Kusha: প্রজেক্ট কুশ-এর পরীক্ষায় সাফল্য ডিআরডিও-র, দেশীয় ‘সুদর্শন’ নির্মাণে গুরুত্বপূর্ণ মোড়ে ভারত

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: সামরিক স্বনির্ভরতার পথে আরও একধাপ এগোল ভারত। দেশীয় দীর্ঘ-পাল্লার আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ‘প্রজেক্ট কুশ’-এর (মতান্তরে ‘কুশা’) প্রথম উন্নয়নমূলক পরীক্ষা সফলভাবে সম্পন্ন হয়েছে। প্রতিরক্ষা গবেষণা ও উন্নয়ন সংস্থা (DRDO) এবং ভারত ইলেকট্রনিক্স লিমিটেড (BEL)-এর যৌথ উদ্যোগে ডুয়াল-পালস রকেট মোটরসহ গুরুত্বপূর্ণ সাব-সিস্টেমের পরীক্ষা সম্পন্ন হয়েছে। এই ধাপটি সাধারণত যে কোনও মিসাইল প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার জন্য প্রযুক্তিগত বিশ্বাসযোগ্যতার ভিত্তি তৈরি করে। এই সাফল্যের ফলে প্রকল্পটি প্রাথমিক নকশা পর্যায় পেরিয়ে এখন ২০২৬ সালে সম্ভাব্য সমন্বিত ফ্লাইট পরীক্ষার দিকে এগোচ্ছে।

    এস-৪০০ ‘সুদর্শন’-এর দেশীয় বিকল্প

    ভারতের আকাশ প্রতিরক্ষা কাঠামোয় এক গুরুত্বপূর্ণ কৌশলগত পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিচ্ছে ‘প্রজেক্ট কুশ’। সরকারি ভাবে ‘এক্সটেন্ডেড রেঞ্জ এয়ার ডিফেন্স সিস্টেম’ (ERADS) নামে পরিচিত এই প্রকল্পের লক্ষ্য রাশিয়ার এস-৪০০ ও ভবিষ্যতের এস-৫০০ শ্রেণির সিস্টেমের দেশীয় বিকল্প গড়ে তোলা। প্রায় ২১,৭০০ কোটি টাকার এই প্রকল্প শুধু একটি প্রতিরক্ষা প্ল্যাটফর্ম নয়, বরং এটি একটি নেটওয়ার্ক-কেন্দ্রিক এয়ার ডিফেন্স দর্শনের প্রতিফলন। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির নেতৃত্বাধীন ক্যাবিনেট কমিটি অন সিকিউরিটি (CCS) এই প্রকল্পকে অনুমোদন দিয়েছে।এই সিস্টেমের লক্ষ্য দেশের গুরুত্বপূর্ণ সামরিক স্থাপনা ও শহরগুলিকে বহুস্তরীয় সুরক্ষা প্রদান করা। স্টেলথ যুদ্ধবিমান, ড্রোন থেকে শুরু করে ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র—বিভিন্ন ধরনের আকাশপথের হুমকি মোকাবিলায় সক্ষম হবে এই ব্যবস্থা।

    মাল্টি-লেয়ারড ডিফেন্স: তিন স্তরের প্রতিরক্ষা বলয়

    ‘প্রজেক্ট কুশ’-এর মূল শক্তি এর তিন-স্তরবিশিষ্ট ইন্টারসেপ্টর আর্কিটেকচার— এম১, এম২ ও এম৩। এই স্তরভিত্তিক প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ‘লেয়ার্ড ডিনায়াল’ কৌশলকে বাস্তবায়িত করে, যেখানে শত্রুপক্ষের আকাশপথে প্রবেশ ও অপারেশন ক্রমশ কঠিন হয়ে ওঠে।

    • এম১ (≈১৫০ কিমি): প্রায় ১৫০ কিলোমিটার পর্যন্ত লক্ষ্যবস্তু ধ্বংস করতে সক্ষম। ইতিমধ্যেই এই ভ্যারিয়েন্টের সাব-সিস্টেম যাচাই সম্পন্ন হয়েছে এবং শীঘ্রই প্রথম ফ্লাইট টেস্ট হতে পারে। এটি ‘পয়েন্ট ডিফেন্স’ ও ‘এরিয়া ডিফেন্স’-এর মধ্যে ভারসাম্য তৈরি করে। ট্যাকটিক্যাল ফাইটার, স্ট্যান্ড-অফ ওয়েপন এবং লো-অবজারভেবল প্ল্যাটফর্মের বিরুদ্ধে কার্যকর।
    • এম২ (≈২৫০ কিমি): প্রায় ২৫০ কিলোমিটার পর্যন্ত প্রতিরক্ষা বলয় বিস্তৃত করে। AESA সিকার প্রযুক্তির মাধ্যমে উচ্চ নির্ভুলতা বজায় রাখে। এটি মধ্যম স্তরের প্রতিরক্ষা বলয় তৈরি করে এবং এইএসএ সিকার প্রযুক্তির মাধ্যমে উচ্চ গতিশীল ও ইভেসিভ টার্গেট ট্র্যাকিং সক্ষমতা প্রদান করে। এই স্তরটি মূলত শত্রুপক্ষের স্ট্রাইক প্যাকেজকে ভেঙে দিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নেবে।
    • এম৩ (৩৫০–৪০০+ কিমি): ৩৫০-৪০০ কিলোমিটারেরও বেশি দূরত্বে শত্রুপক্ষের গুরুত্বপূর্ণ সম্পদ—যেমন আর্লি ওয়ার্নিং বিমান বা রিফুয়েলার—ধ্বংস করতে সক্ষম। কৌশলগত দৃষ্টিকোণ থেকে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ স্তর। এটি শত্রুপক্ষের ‘হাই-ভ্যালু এয়ারবর্ন অ্যাসেট’—যেমন অ্যাওয়াক্স, এয়ার-টু-এয়ার রিফুয়েলার—এবং নির্দিষ্ট ধরনের ব্যালিস্টিক হামলাকে দূর থেকে নিষ্ক্রিয় করতে সক্ষম। এর মাধ্যমে শত্রুর ‘ফোর্স মাল্টিপ্লায়ার’ ক্ষমতা ভেঙে দেওয়া সম্ভব।

    এই তিনটি স্তরের সমন্বয়ে একটি ‘ডিফেন্স-ইন-ডেপথ’ মডেল গড়ে উঠছে, যা আধুনিক নেটওয়ার্ক-সেন্ট্রিক যুদ্ধের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ।

    প্রযুক্তিগত দিক: সেন্সর-শুটার ইন্টিগ্রেশন

    প্রজেক্ট কুশ-এর কার্যকারিতা নির্ভর করছে উন্নত সেন্সর, রাডার এবং ইন্টারসেপ্টর মিসাইলের মধ্যে রিয়েল-টাইম ডেটা লিঙ্কের উপর। এইএসএ রেডার (AESA Radar), উন্নত ফায়ার কন্ট্রোল সিস্টেম এবং কিল ভেহিকলের সমন্বয় একটি ‘সেন্সর-টু-শুটার’ চেইন তৈরি করবে, যা দ্রুত সিদ্ধান্ত গ্রহণ ও প্রতিক্রিয়া নিশ্চিত করবে। ডুয়াল-পালস রকেট মোটরের ব্যবহার মিসাইলকে শেষ পর্যায়ে অতিরিক্ত গতি ও ম্যানুভারেবিলিটি প্রদান করে—যা হাই-স্পিড ও ইভেসিভ টার্গেট ইন্টারসেপ্টে গুরুত্বপূর্ণ।

    পরবর্তী ধাপ ও সময়সীমা

    গ্রাউন্ড ট্রায়াল সফল হওয়ার পর এখন মূল লক্ষ্য এম১ ক্ষেপণাস্ত্রের ফ্লাইট টেস্ট। এরপর ধাপে ধাপে এম২ ও এম৩-এর পরীক্ষাও হবে। ভারতীয় বায়ুসেনা ইতিমধ্যেই একাধিক স্কোয়াড্রনের জন্য ‘অ্যাকসেপ্ট্যান্স অফ নেসেসিটি’ অনুমোদন দিয়েছে। প্রাথমিক ভাবে ২০২৮ সালের মধ্যে সিস্টেমের কিছু অংশ কার্যকর হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। ২০৩০ সালের মধ্যে সম্পূর্ণ তিন-স্তরের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা মোতায়েনের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। এই সময়সীমা বাস্তবায়িত হলে, ভারত প্রথমবারের মতো সম্পূর্ণ দেশীয় লং-রেঞ্জ মাল্টি-লেয়ারড এয়ার ডিফেন্স নেটওয়ার্ক পাবে।

    কৌশলগত গুরুত্ব: ‘মিশন সুদর্শন চক্র’ ও ভবিষ্যৎ রফতানি

    ‘মিশন সুদর্শন চক্র’-এর অংশ হিসেবে প্রজেক্ট কুশ ভারতের ভবিষ্যৎ আকাশ ও ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার অন্যতম স্তম্ভ। ২০৩৫ সালের মধ্যে একটি পূর্ণাঙ্গ জাতীয় প্রতিরক্ষা জাল গড়ে তোলাই লক্ষ্য। ‘আকাশ-এনজি’ এবং ব্যালিস্টিক মিসাইল ডিফেন্স ব্যবস্থার সঙ্গে সমন্বয়ে কাজ করে এই প্রকল্প ভারতের বিদেশি প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার উপর নির্ভরতা উল্লেখযোগ্যভাবে কমাবে।
    বিশেষজ্ঞদের মতে, এই উদ্যোগ শুধু প্রতিরক্ষা শক্তি বাড়াবে না, ভবিষ্যতে ভারতের জন্য উন্নত সামরিক প্রযুক্তি রফতানির নতুন দরজাও খুলে দিতে পারে। প্রজেক্ট কুশ শুধুমাত্র একটি মিসাইল সিস্টেম নয়, এটি ভারতের প্রতিরক্ষা নীতিতে একটি মৌলিক পরিবর্তনের প্রতীক। মাল্টি-লেয়ারড, নেটওয়ার্ক-সেন্ট্রিক এবং সম্পূর্ণ দেশীয় প্রযুক্তিনির্ভর এই উদ্যোগ সফল হলে, ভারতের আকাশ প্রতিরক্ষা সক্ষমতা নতুন উচ্চতায় পৌঁছবে—এবং বৈশ্বিক প্রতিরক্ষা মানচিত্রে দেশের অবস্থান আরও শক্তিশালী হবে।

  • India’s Pralay Missile: রেঞ্জে বাংলাদেশ, পাকিস্তান! একই লঞ্চার থেকে পর পর দু’বার ছোড়া হল প্রলয়

    India’s Pralay Missile: রেঞ্জে বাংলাদেশ, পাকিস্তান! একই লঞ্চার থেকে পর পর দু’বার ছোড়া হল প্রলয়

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: সারা বিশ্ব যখন বর্ষবরণ উৎসবের প্রস্তুতিতে মগ্ন, তখনই দেশের সুরক্ষায় কঠোর ভারত। বছরের শেষ দিনে শত্রুদের নিজের শক্তির কথা জানিয়ে সতর্ক করল ভারত। তবে কোনও হামলা নয়, নিজের আত্মরক্ষার প্রস্তুতিতে মগ্ন দিল্লি। ওড়িশার চাঁদিপুরে গর্জে উঠল ভারত। ৩১ ডিসেম্বর ২০২৫, ভারতের প্রতিরক্ষা মন্ত্রক ও ডিআরডিও পরপর একই লঞ্চার থেকে দু’টি ‘প্রলয়’ মিসাইল (India’s Pralay Missile) উৎক্ষেপণ করল। এই প্রথম ব্যাক-টু-ব্যাক টেস্ট। আর দুই ক্ষেত্রেই সফল ভারত। বুধবার সকাল সাড়ে ১০টা নাগাদ ওড়িশার চাঁদিপুর উপকূলের ‘ডক্টর এপিজে আব্দুল কালাম দ্বীপ’ থেকে প্রলয় ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণ করা হয়। বুধবারের সাফল্যে উচ্ছ্বসিত কেন্দ্রীয় প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিং। ডিআরডিও, ভারতীয় সেনাকে অভিনন্দন জানিয়েছেন তিনি।

    পিনাকারের পরে প্রলয়

    পিনাকার পরে প্রলয়- এক সপ্তাহের মধ্যেই পরপর দুটি মিসাইল পরীক্ষায় সাফল্য পেল ভারত। প্রতিরক্ষা মন্ত্রকের তরফে জানানো হয়েছে, বুধবার সকাল ১০ টা ৩০ মিনিট নাগাদ ওড়িশা উপকূল থেকে পরীক্ষামূলকভাবে দুটি প্রলয় মিসাইলের উৎক্ষেপণ করেছে ডিফেন্স রিসার্চ অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট অর্গানাইজেশন (ডিআরডিও)। রুটিন পরীক্ষার অংশ হিসেবে সেই মিসাইল লঞ্চ করা হয়েছে। আর চাঁদিপুরে থাকা ইন্টিগ্রেটেড টেস্ট রেঞ্জের ট্র্যাকিং সেনসর এবং জাহাজ থেকে যে তথ্য পাওয়া গিয়েছে, তা থেকে স্পষ্ট হয়ে গিয়েছে যে দুটি মিসাইলই নির্দিষ্ট পথ ধরেই এগিয়ে গিয়েছে। পূরণ করেছে যাবতীয় মাপকাঠি।

    প্রলয় মিসাইলের রেঞ্জ

    প্রলয় ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ১৫০ থেকে ৫০০ কিলোমিটার পর্যন্ত দূরের লক্ষ্যে আঘাত করতে পারে। ‘ভূমি থেকে ভূমি’ ক্ষেপণাস্ত্রগুলি উড়ন্ত অবস্থায় অভিমুখ বদলাতেও পারে। ২০২২ সালে ভারতীয় সেনার অস্ত্রাগারে প্রথম শামিল হয়েছিল প্রলয়। তার পর থেকে সেটি উন্নত করার কাজ করছে ডিআরডিও। ৩৫০ থেকে ৭০০ এবং ৫০০ থেকে হাজার কেজির উচ্চ শক্তির বিস্ফোরক ব্যবহার করে প্রলয়। শত্রুপক্ষের ইন্টারসেপ্টর ক্ষেপণাস্ত্রকে এড়িয়ে নির্দিষ্ট লক্ষ্যে আঘাত হানতে পারে প্রলয়। ভারতীয় সেনার পাশাপাশি বায়ুসেনাও এই ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করে থাকে।

    সম্পূর্ণ দেশীয় পদ্ধতিতে তৈরি প্রলয়

    সম্পূর্ণ দেশীয় সরঞ্জাম এবং পদ্ধতিতে এই ক্ষেপণাস্ত্র তৈরি করা হয়। ২০২০ সালে পূর্ব লাদাখে চিনা ফৌজের আগ্রাসন এবং গালওয়ান উপত্যকায় রক্তাক্ত সংঘর্ষের পরে এলএসি-তে প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা জোরদার করতে সক্রিয় হয়েছিল ভারতীয় সেনা। সেই প্রক্রিয়া অনুসরণ করে ২০২২ সালে পূর্ব লাদাখে মোতায়েন করা হয়েছে প্রলয়।

    প্রলয় কেন আলাদা

    প্রলয় কেবল কোনও সাধারণ মিসাইল নয়, এটি একটি আধা-ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র। সাধারণ ক্ষেপণাস্ত্রের মতো এটি নির্দিষ্ট পথে চলে না। ওড়ার সময় এটি নিজের গতিপথ বদলে ফেলতে পারে। ফলে শত্রুপক্ষের এয়ার ডিফেন্স একে ট্র্যাক করতে গিয়ে খেই হারিয়ে ফেলবে। ১৫০ থেকে ৫০০ কিলোমিটার পাল্লার এই মিসাইলটি মোবাইল লঞ্চার থেকে যে কোনও সময় ছোড়া সম্ভব।

    রণক্ষেত্রের গেম-চেঞ্জার

    প্রলয়ের আসল শক্তি লুকিয়ে আছে এর ওয়ারহেডে। পিএফ ওয়ারহেড: একটি ৭০০ কেজির ওয়ারহেডে থাকে ৮৩ হাজার ৫০০টি টাংস্টেনের টুকরো। বিস্ফোরণের পর ১০০ মিটার এলাকা কার্যত গুঁড়িয়ে দেয় এই মিসাইল। রানওয়ে ধ্বংস: এর আরডিপিএস প্রযুক্তি মাত্র কয়েক সেকেন্ডে শত্রু বিমানঘাঁটির রানওয়েতে বড় বড় গর্ত তৈরি করে দিতে পারে। ফলে যুদ্ধবিমান সেখানে থাকলেও তা ওড়ার সুযোগই পাবে না।

    সতর্ক পাকিস্তান-বাংলাদেশ

    প্রলয় মিসাইলের সেই পরীক্ষামূলক উৎক্ষেপণের দিনদুয়েক আগেই ওড়িশার উপকূল থেকে পিনাকা দূরপাল্লার মিসাইলের পরীক্ষা করা হয়। এই মিসাইলের এটি প্রথম পরীক্ষামূলক উৎক্ষেপণ ছিল। দেশীয় প্রযুক্তিতে তৈরি করা হয়েছে এই মিসাইল। এই পিনাকা গাইডেড রকেটটির সর্বোচ্চ ১২০ কিলোমিটার পর্যন্ত লক্ষ্যবস্তুতে নিখুঁত ভাবে আঘাত হানতে সক্ষম। অর্থাৎ ভারতের উত্তরপূর্ব সীমান্ত থেকে ঢাকা থেকে চট্টগ্রামের মতো শহর অনায়াসে সেই মিসাইলের রেঞ্জে চলে আসতে পারে। এছাড়াও বাংলাদেশের খুলনা, রাজশাহির মতো যে কোনও বড় শহরই এই মিসাইলের রেঞ্জে থাকবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। আর প্রলয়ের রেঞ্জেও বাংলাদেশ থাকবে। যেমন কলকাতা থেকে ঢাকার দূরত্ব মেরেকেটে ৩৫০ কিমি। যদিও সংশ্লিষ্ট মহলের মতে, ভারতের এমন অনেক মিসাইল আছে, যেগুলির রেঞ্জে আছে বাংলাদেশ। ব্রহ্মোস মিসাইলের তো রেঞ্জে আছে পাকিস্তানও। গত অক্টোবরেই ভারতের প্রতিরক্ষা মন্ত্রী রাজনাথ সিং তো বলেছিলেন, ‘দেশ আত্মবিশ্বাসী যে আমাদের প্রতিপক্ষরা আর কোনওভাবেই ব্রহ্মোসের গ্রাস থেকে পালাতে পারবে না। পাকিস্তানের ভূখণ্ডের প্রতিটি ইঞ্চি এখন আমাদের ব্রহ্মোসের নাগালের মধ্যে আছে।’ সামরিক বিশেষজ্ঞদের মতে, এই জোড়া উৎক্ষেপণ নিছক পরীক্ষা নয়। পূর্ব এবং পশ্চিম—দুই সীমান্তের প্রতিবেশীদের জন্যই এটি কড়া বার্তা। ভারতের কৌশলগত লক্ষ্য এখন পরিষ্কার, যুদ্ধের শুরুতেই শত্রুর তেল ভাণ্ডার এবং সেনা ছাউনি ধ্বংস করে তাদের মেরুদণ্ড ভেঙে দেওয়া।

LinkedIn
Share