Tag: Droupadi Murmu

Droupadi Murmu

  • Simhastha Kumbh Mela: গোদাবরীর তীরে ভক্তির মহাসমারোহ, গিনেস বিশ্বরেকর্ডের লক্ষ্যে ৬৫০০ আদিবাসীর সমবেত আরতি

    Simhastha Kumbh Mela: গোদাবরীর তীরে ভক্তির মহাসমারোহ, গিনেস বিশ্বরেকর্ডের লক্ষ্যে ৬৫০০ আদিবাসীর সমবেত আরতি

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: মহারাষ্ট্রের নাসিকে গোদাবরী নদীর তীরে ৩১ অক্টোবর অনুষ্ঠিত হয়ে গেল বিশাল ধর্মীয় সমাবেশ। ৬৫০টি গ্রামের প্রায় ৬৫০০ আদিবাসী পুরুষ ও মহিলা একসঙ্গে গোদাবরী আরতিতে অংশ নেন। সমবেত আরতির মাধ্যমে গিনেস বিশ্বরেকর্ডে জায়গা করে নেওয়াই ছিল এই উদ্যোগের অন্যতম লক্ষ্য। নাসিক-ত্র্যম্বকেশ্বর সিংহস্থ কুম্ভমেলার (Simhastha Kumbh Mela) আনুষ্ঠানিক সূচনাকে কেন্দ্র করে আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন গিনেস বিশ্বরেকর্ড কর্তৃপক্ষের প্রতিনিধিরা। তাঁদের উপস্থিতিতেই রেকর্ড গড়ার প্রচেষ্টা যাচাইয়ের ব্যবস্থা করা হয় (Guinness World Record)।

    অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণকারীদের অধিকাংশের পরনেই ছিল সাদা পোশাক। স্থানীয় কমিটিগুলির তত্ত্বাবধানে কয়েক মাস ধরে তাঁরা এই বিশেষ আরতির প্রস্তুতি নিয়েছিলেন। নাসিকের পঞ্চবটি এলাকার রামকুণ্ড সংলগ্ন নদীর ঘাটে একই ছন্দে প্রদীপ জ্বালিয়ে আরতি ও মন্ত্রোচ্চারণের মাধ্যমে এক অনন্য পরিবেশ তৈরি করেন তাঁরা।

    আরও এক রেকর্ড (Simhastha Kumbh Mela)

    এই সমবেত আরতির মাত্র ছ’দিন আগেই গোদাবরীর তীরে আরও একটি উল্লেখযোগ্য নজির তৈরি হয়েছিল। ২৫ অক্টোবর যশবন্ত মহারাজ পটাঙ্গণে একসঙ্গে শঙ্খধ্বনি করেছিলেন ৫১৭ জন ভক্ত। টানা সাড়ে পাঁচ মিনিট ধরে চলেছিল সেই শঙ্খধ্বনি। গিনেস বিশ্বরেকর্ড কর্তৃপক্ষ ইতিমধ্যেই এই কৃতিত্বকে স্বীকৃতি দিয়েছেন।

    গিনেস বিশ্বরেকর্ডের নথি অনুযায়ী, একসঙ্গে সর্বাধিক মানুষের শঙ্খধ্বনির নতুন নজির গড়েছেন নাসিক ত্র্যম্বকেশ্বর কুম্ভমেলা কর্তৃপক্ষের উদ্যোগে অংশ নেওয়া ৫১৭ জন। এর আগে ২০১৯ সালে আমেরিকার নিউ জার্সিতে ৩০৩ জনের একযোগে শঙ্খধ্বনির রেকর্ড ছিল। নতুন নজির গড়ার জন্য বিশেষভাবে শংসাপত্রপ্রাপ্ত শঙ্খ সংগ্রহ করা হয়েছিল। অংশগ্রহণকারীদের নথিভুক্তকরণ, উপস্থিতি এবং নির্ধারিত নিয়ম মেনে অনুষ্ঠান সম্পন্ন হয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখেন বিচারকরা।

    নাসিক-ত্র্যম্বকেশ্বর সিংহস্থ কুম্ভমেলা কর্তৃপক্ষ, অনন্ত বিজয় শঙ্খনাদ পাঠক এবং নাসিক পুরনিগমের যৌথ উদ্যোগে এই শঙ্খধ্বনির আয়োজন করা হয়েছিল। কুম্ভমেলার পতাকা উত্তোলন অনুষ্ঠানের আগে এই কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়।

    পরবর্তী সময়ে জানা যায়, এই আরতির ক্ষেত্রেও নাসিক নয়া বিশ্বরেকর্ড গড়েছে। প্রায় ৬৫০০ জনের উপস্থিতিতে ৬২৩৩ জন ভক্ত একযোগে গোদাবরী আরতিতে অংশ নেন। ফলে এক সপ্তাহের ব্যবধানে শঙ্খধ্বনি ও সমবেত আরতি—দুই ক্ষেত্রেই বিশ্বরেকর্ড গড়ার নজির গড়ল নাসিক।

    সিংহস্থ কুম্ভমেলার আনুষ্ঠানিক সূচনা

    ৩১ অক্টোবর দুপুর ১২টা ২ মিনিটে নাসিকের রামকুণ্ড এবং ত্র্যম্বকেশ্বরের কুশাবর্ত তীর্থে একই সময়ে ধর্মীয় পতাকা উত্তোলনের মধ্যে দিয়ে সিংহস্থ কুম্ভমেলার আনুষ্ঠানিক সূচনা হয়। নাসিকে রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মু পতাকা উত্তোলন করেন। অন্যদিকে ত্র্যম্বকেশ্বরে পতাকা উত্তোলন করেন মহারাষ্ট্রের মুখ্যমন্ত্রী দেবেন্দ্র ফড়ণবীস। বৈদিক মন্ত্রোচ্চারণ, পূজার্চনা ও শঙ্খধ্বনির মধ্য দিয়ে সম্পন্ন হয় উদ্বোধনী অনুষ্ঠান।

    রাষ্ট্রপতি নাসিকের অনুষ্ঠানে অংশ নিয়ে গোদাবরীর পুজো দেন এবং ধর্মীয় পতাকা উত্তোলন করেন। অনুষ্ঠানজুড়ে উপস্থিত ছিলেন সাধু-সন্ত, ধর্মীয় সংগঠনের প্রতিনিধি এবং বহু ভক্ত।

    সিংহস্থ কুম্ভমেলা ২০২৬ সালের ৩১ অক্টোবর থেকে শুরু হয়ে ২০২৮ সালের ২৪ জুলাই পর্যন্ত চলার কথা। অর্থাৎ ২০ মাসেরও বেশি সময় ধরে চলবে এই ধর্মীয় সমাবেশ। এই দীর্ঘ সময়ে পুণ্যস্নান, সাধুদের শোভাযাত্রা, ধর্মীয় আলোচনা, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান এবং বিভিন্ন আধ্যাত্মিক কর্মসূচির আয়োজন করা হবে।

    গোদাবরী নদী ও রামকুণ্ডের ধর্মীয় গুরুত্ব

    হিন্দু ধর্মীয় ঐতিহ্যে গোদাবরী নদীর বিশেষ মাহাত্ম্য রয়েছে। দক্ষিণ ভারতের গঙ্গা বা দক্ষিণ গঙ্গা হিসেবেও পরিচিত এই নদীর উৎপত্তি মহারাষ্ট্রের ত্র্যম্বকেশ্বরের কাছে ব্রহ্মগিরি পর্বতের পাদদেশে। সেখান থেকে ১৪০০ কিলোমিটারেরও বেশি পথ অতিক্রম করে নদীটি প্রবাহিত হয়েছে (Simhastha Kumbh Mela)।

    ধর্মীয় শাস্ত্র ও পুরাণে কুম্ভমেলার উৎপত্তি নিয়ে একাধিক কাহিনি রয়েছে। সমুদ্র মন্থনের সময় অমৃতের কলস থেকে অমৃতের কয়েক ফোঁটা পৃথিবীর বিভিন্ন জায়গায় পড়েছিল বলে পুরাণে উল্লেখ রয়েছে। নাসিকও সেই পবিত্র স্থানগুলির অন্যতম বলে বিশ্বাস। জ্যোতিষশাস্ত্র অনুসারে, বৃহস্পতি ও সূর্য যখন সিংহ রাশিতে প্রবেশ করে, তখন সিংহস্থ যোগ তৈরি হয়। এই বিশেষ মহাজাগতিক অবস্থানে গোদাবরীর জল বিশেষ পবিত্র হয়ে ওঠে বলে ভক্তদের বিশ্বাস। সেই সময়ে নদীতে স্নান করলে পাপমুক্তি ঘটে এবং মোক্ষলাভের পথ প্রশস্ত হয় বলে ধর্মীয় বিশ্বাস।

    নাসিকের রামকুণ্ডকে গোদাবরীর তীরবর্তী সবচেয়ে পবিত্র স্নানঘাটগুলির মধ্যে অন্যতম বলে মনে করা হয়। রামায়ণের কাহিনি অনুসারে, বনবাসের ১৪ বছরের একটি সময়ে সীতা ও লক্ষ্মণের সঙ্গে পঞ্চবটী অঞ্চলে অবস্থানকালে ভগবান রাম এই কুণ্ডে স্নান করেছিলেন। সেই স্মৃতিকে কেন্দ্র করেই জায়গাটির ধর্মীয় গুরুত্ব আরও বৃদ্ধি পেয়েছে।

    রামকুণ্ডের আর একটি পরিচয় হল অস্থিবিলয় তীর্থ। হিন্দু রীতি অনুযায়ী, প্রয়াত ব্যক্তিদের অস্থি এখানে বিসর্জন দেওয়া হয়, যাতে তাঁদের আত্মার শান্তি পায়। সারা বছর ধরে এখানে সকাল ও সন্ধ্যায় আরতি, পূর্বপুরুষদের উদ্দেশে পিণ্ডদান এবং পবিত্র স্নানের মতো নানা ধর্মীয় আচার পালিত হয়।

    কুম্ভমেলার সময়ে রামকুণ্ড হয়ে ওঠে বৈষ্ণব আখড়াগুলির প্রধান স্নানস্থল। অন্যদিকে, শৈব আখড়াগুলির সাধু-সন্তরা ত্র্যম্বকেশ্বরের কুশাবর্ত তীর্থে পুণ্যস্নান করেন। দীর্ঘদিনের এই ধর্মীয় রীতিই নাসিক ও ত্র্যম্বকেশ্বরকে কেন্দ্র করে কুম্ভমেলার দু’টি গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র গড়ে তুলেছে।

    বিশ্বের বৃহত্তম ধর্মীয় সমাবেশগুলির অন্যতম কুম্ভমেলা

    বিশ্বের বৃহত্তম শান্তিপূর্ণ ধর্মীয় সমাবেশগুলির মধ্যে কুম্ভমেলা অন্যতম। প্রতি ১২ বছর অন্তর নির্দিষ্ট জ্যোতিষশাস্ত্রীয় অবস্থানের ভিত্তিতে প্রয়াগরাজ, হরিদ্বার, উজ্জয়িনী এবং নাসিক-ত্র্যম্বকেশ্বরে পর্যায়ক্রমে এই মেলার আয়োজন করা হয়। লাখ লাখ পুণ্যার্থী, সাধু, নাগা সন্ন্যাসী এবং আধ্যাত্মিক অনুসন্ধানী মানুষ এই সমাবেশে যোগ দেন।

    নাসিকের সিংহস্থ কুম্ভমেলা বিশেষত বৃহস্পতি ও সূর্যের সিংহ রাশিতে অবস্থানের সঙ্গে সম্পর্কিত। এখানে পবিত্র স্নান, যা শাহী স্নান বা অমৃতস্নান নামে পরিচিত, মেলার অন্যতম প্রধান আকর্ষণ। পাশাপাশি বিভিন্ন আখড়ার শোভাযাত্রা, ধর্মীয় প্রবচন, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান এবং সমাজসেবামূলক কর্মসূচিও অনুষ্ঠিত হয়।

    এ বারের কুম্ভমেলার প্রস্তুতিতে আধ্যাত্মিক ঐতিহ্য রক্ষার পাশাপাশি পরিকাঠামো উন্নয়ন, বিপুল জনসমাগম নিয়ন্ত্রণ এবং নদী সংরক্ষণের মতো বিষয়গুলিতেও গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। গোদাবরীর পরিচ্ছন্নতা ও পরিবেশ রক্ষার বার্তা ছড়িয়ে দেওয়ার উদ্যোগও নেওয়া হয়েছে।

    আদিবাসী সংস্কৃতি, প্রকৃতিপূজা ও সামাজিক সম্প্রীতির বার্তা

    ৩১ অক্টোবরের সমবেত গোদাবরী আরতির বিশেষ তাৎপর্য ছিল আদিবাসী সমাজের ব্যাপক অংশগ্রহণ। নাসিক জেলার পেঠ, সুরগানা, ত্র্যম্বকেশ্বর, দিণ্ডোরি ও নিফাড়-সহ বিভিন্ন এলাকার আদিবাসী সম্প্রদায়ের মানুষ এই কর্মসূচিতে যোগ দেন। আয়োজকদের উদ্দেশ্য ছিল স্থানীয় আদিবাসী সংস্কৃতি, প্রকৃতির প্রতি শ্রদ্ধা এবং সামাজিক সম্প্রীতির ঐতিহ্যকে বৃহত্তর মঞ্চে তুলে ধরা।

    এই আরতির প্রস্তুতির জন্য অংশগ্রহণকারীদের বিশেষ প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছিল। যাতে প্রত্যেকে একই সময়ে প্রদীপ হাতে আরতি করতে পারেন এবং সমবেত মন্ত্রোচ্চারণের মাধ্যমে নদীর দুই তীরজুড়ে এক অভিন্ন দৃশ্য ও শব্দের আবহ তৈরি হয়, সেদিকে বিশেষ নজর রাখা হয়েছিল। সাদা পোশাকে সজ্জিত হাজার হাজার ভক্তের হাতে জ্বলন্ত প্রদীপের আলোয় গোদাবরীর ঘাট কার্যত এক আধ্যাত্মিক মিলনক্ষেত্রে পরিণত হয়।

    একই সপ্তাহে শঙ্খধ্বনির বিশ্বরেকর্ড এবং বিপুল সংখ্যক আদিবাসীর অংশগ্রহণে সমবেত আরতি—এই দুই আয়োজনের মধ্য দিয়ে প্রাচীন ধর্মীয় ঐতিহ্যকে আন্তর্জাতিক স্বীকৃতির মঞ্চে তুলে ধরার চেষ্টা করেছে নাসিক। হিন্দু ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠানে শঙ্খকে শুভ সূচনা, জাগরণ এবং অশুভ শক্তির বিনাশের প্রতীক হিসেবে বিবেচনা করা হয়। সেই শঙ্খধ্বনিকে একযোগে বিশ্বরেকর্ডের পর্যায়ে নিয়ে যাওয়া এবং তার সঙ্গে আদিবাসী সমাজের সমবেত আরতির সংযোগ বিশেষ তাৎপর্য বহন করছে (Guinness World Record)।

    আগামী কয়েক মাস ধরে সিংহস্থ কুম্ভমেলাকে কেন্দ্র করে গোদাবরীর তীরে আরও বহু ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন হবে। দেশের বিভিন্ন প্রান্তের পাশাপাশি বিদেশ থেকেও বহু পুণ্যার্থী ও পর্যটকের সমাগম ঘটবে বলে আশা করা হচ্ছে। রামকুণ্ড ও আশপাশের পবিত্র ঘাটগুলিকে কেন্দ্র করে এই বিশাল আয়োজনের সূচনা পর্বেই ভক্তি, সামাজিক অংশগ্রহণ এবং ভারতীয় ঐতিহ্যের (Simhastha Kumbh Mela) এক সম্মিলিত ছবি উঠে এল।

     

  • Sardar Patel 151st Birth Anniversary: ১৫১তম জন্মবার্ষিকীতে সর্দার প্যাটেলকে শ্রদ্ধা রাষ্ট্রপতি-প্রধানমন্ত্রীর, ‘রান ফর ইউনিটি’র সূচনা অমিত শাহের

    Sardar Patel 151st Birth Anniversary: ১৫১তম জন্মবার্ষিকীতে সর্দার প্যাটেলকে শ্রদ্ধা রাষ্ট্রপতি-প্রধানমন্ত্রীর, ‘রান ফর ইউনিটি’র সূচনা অমিত শাহের

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ভারতের ঐক্য ও অখণ্ডতা রক্ষার ইতিহাসে যাঁর অবদান চিরস্মরণীয়, সেই সর্দার বল্লভভাই প্যাটেলের ১৫১তম জন্মবার্ষিকীতে শ্রদ্ধায় স্মরণ করছে গোটা দেশ। শনিবার, ৩১ অক্টোবর পালিত হচ্ছে রাষ্ট্রীয় একতা দিবস (Rashtriya Ekta Diwas) বা জাতীয় ঐক্য দিবস। স্বাধীনতার পর ৫৬০টিরও বেশি দেশীয় রাজ্যকে ভারতীয় ইউনিয়নের অন্তর্ভুক্ত করে ঐক্যবদ্ধ রাষ্ট্র গঠনে তাঁর ঐতিহাসিক ভূমিকার কথা এদিন বিশেষভাবে স্মরণ করা হচ্ছে। রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মু, উপরাষ্ট্রপতি সি পি রাধাকৃষ্ণন, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি এবং কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ সর্দার প্যাটেলের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। পাশাপাশি, দেশজুড়ে বিভিন্ন কর্মসূচির মাধ্যমে পালিত হচ্ছে জাতীয় ঐক্য দিবস।

    রাষ্ট্রপতি ও উপরাষ্ট্রপতির শ্রদ্ধা নিবেদন

    নয়াদিল্লির প্যাটেল চকে সর্দার বল্লভভাই প্যাটেলের মূর্তিতে পুষ্পার্ঘ্য নিবেদন করেন রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মু এবং উপরাষ্ট্রপতি সি পি রাধাকৃষ্ণন। স্বাধীন ভারতের প্রথম উপপ্রধানমন্ত্রী ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে তাঁরা তাঁর ঐতিহাসিক অবদানকে স্মরণ করেন। দেশের রাজনৈতিক সংহতি ও অখণ্ডতা প্রতিষ্ঠায় প্যাটেলের ভূমিকা জাতীয় ইতিহাসে বিশেষ তাৎপর্য বহন করে।

    ‘অখণ্ড ভারতের স্থপতি’, সর্দার প্যাটেলকে শ্রদ্ধা মোদির

    সর্দার প্যাটেলের জন্মবার্ষিকীতে সমাজমাধ্যমে শ্রদ্ধার্ঘ্য নিবেদন করেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। তাঁকে ‘অখণ্ড ভারতের স্থপতি’ এবং ‘জাতির লৌহমানব’ হিসেবে অভিহিত করেন প্রধানমন্ত্রী। মোদি লেখেন, শক্তিশালী, সমৃদ্ধ ও সক্ষম ভারত গড়ার লক্ষ্যে নিজের জীবন উৎসর্গ করেছিলেন সর্দার প্যাটেল। মাতৃভূমির সেবায় তাঁর আত্মত্যাগ ও নিষ্ঠা আজও বিকশিত ও আত্মনির্ভর ভারত গড়ার পথে গভীর অনুপ্রেরণা জোগায়।

    প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্য, দেশের ঐক্য ও সংহতি প্রতিষ্ঠায় প্যাটেলের অবদান কখনও ভোলার নয়। তাঁর দূরদর্শিতা, নেতৃত্ব এবং দেশ গঠনের প্রতি নিষ্ঠা আগামী প্রজন্মকেও অনুপ্রাণিত করবে। এদিন গুজরাটের একতা নগরে ‘স্ট্যাচু অফ ইউনিটি’-তেও শ্রদ্ধা জানান প্রধানমন্ত্রী।

    ‘আধুনিক ভারতের স্থপতি’, প্যাটেলকে কুর্নিশ অমিত শাহের

    সর্দার বল্লভভাই প্যাটেলকে আধুনিক ভারতের স্থপতি হিসেবে উল্লেখ করেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। সমাজমাধ্যমে দেওয়া বার্তায় তিনি লেখেন, জাতীয় ঐক্য ও অখণ্ডতার প্রতীক সর্দার প্যাটেলের জন্মবার্ষিকীতে তাঁকে কোটি কোটি প্রণাম। দেশবাসীকেও রাষ্ট্রীয় একতা দিবসের শুভেচ্ছা জানান তিনি।

    শাহের বক্তব্য, স্বাধীনতার পর দেশীয় রাজ্যগুলিকে একত্রিত করে একটি ঐক্যবদ্ধ রাষ্ট্র গঠনের ক্ষেত্রে প্যাটেলের সাহস, দূরদর্শিতা ও নেতৃত্ব ছিল অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তাঁর ঐতিহাসিক উদ্যোগের ফলেই ভারতের রাজনৈতিক ও ভৌগোলিক সংহতি সুদৃঢ় হয়েছিল।

    দিল্লিতে ‘রান ফর ইউনিটি’র সূচনা স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর

    রাষ্ট্রীয় একতা দিবস উপলক্ষে দিল্লির মেজর ধ্যানচাঁদ জাতীয় স্টেডিয়াম থেকে ‘রান ফর ইউনিটি’ (Run for Unity)-র সূচনা করেন অমিত শাহ। অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে তিনি বলেন, সর্দার প্যাটেল এমন এক ব্যক্তিত্ব, যিনি শুধু ভারতের ইতিহাসই বদলাননি, দেশের ভৌগোলিক মানচিত্র গঠনেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিয়েছিলেন।

    স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর কথায়, স্বাধীনতার পর ভারতকে ঐক্যবদ্ধ করার কাজ ছিল অত্যন্ত কঠিন। কিন্তু প্যাটেলের নেতৃত্ব ও দূরদর্শিতায় সেই অসম্ভব কাজ সম্ভব হয়েছিল। তাঁর তৈরি শক্তিশালী ভিত্তির উপর দাঁড়িয়েই আজ বিশ্বমঞ্চে গর্বের সঙ্গে নিজের অবস্থান তুলে ধরছে ভারত।

    ৫৬০টিরও বেশি দেশীয় রাজ্যের সংযুক্তিকরণে ঐতিহাসিক ভূমিকা

    ভারতের স্বাধীনতা আন্দোলনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ নেতা সর্দার বল্লভভাই প্যাটেল স্বাধীন ভারতের প্রথম উপপ্রধানমন্ত্রী ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ছিলেন। ১৯৪৭ সালে স্বাধীনতার পর দেশীয় রাজ্যগুলিকে ভারতীয় ইউনিয়নের অন্তর্ভুক্ত করার ক্ষেত্রে তাঁর ভূমিকা ছিল ঐতিহাসিক। ৫৬০টিরও বেশি দেশীয় রাজ্যকে একত্রিত করে একটি শক্তিশালী ও ঐক্যবদ্ধ ভারত গঠনে গুরুত্বপূর্ণ নেতৃত্ব দিয়েছিলেন তিনি। এই অসামান্য অবদানের জন্যই ইতিহাসে তিনি ‘ভারতের লৌহমানব’ (Iron Man of India) হিসেবে পরিচিত।

    তাঁর স্মৃতিতে গুজরাটের একতা নগরে নির্মিত হয়েছে বিশ্বের উচ্চতম মূর্তি ‘স্ট্যাচু অফ ইউনিটি’। সর্দার প্যাটেলের রাষ্ট্রগঠন, জাতীয় সংহতি ও ঐক্যের ভাবনাকে সম্মান জানাতেই প্রতি বছর তাঁর জন্মদিনে পালিত হয় রাষ্ট্রীয় একতা দিবস।

    দেশজুড়ে ঐক্যের শপথ, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান

    শুধু দিল্লি বা গুজরাট নয়, রাষ্ট্রীয় একতা দিবস উপলক্ষে দেশের বিভিন্ন প্রান্তে আয়োজন করা হয়েছে নানা কর্মসূচির। সরকারি প্রতিষ্ঠান, স্কুল ও কলেজে নেওয়া হচ্ছে জাতীয় ঐক্য ও সংহতি রক্ষার শপথ। পাশাপাশি, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, সচেতনতামূলক কর্মসূচি এবং ‘রান ফর ইউনিটি’র আয়োজন করা হচ্ছে বিভিন্ন জায়গায়।

    দেশের বৈচিত্র্যময় সামাজিক ও সাংস্কৃতিক পরিসরে ঐক্য, সম্প্রীতি, শান্তি ও ভ্রাতৃত্বের বার্তা ছড়িয়ে দেওয়াই এই আয়োজনের মূল উদ্দেশ্য। সর্দার প্যাটেলের জন্মবার্ষিকী তাই কেবল একজন মহান স্বাধীনতা সংগ্রামীকে স্মরণ করার দিন নয়, বরং দেশের অখণ্ডতা, নিরাপত্তা ও জাতীয় সংহতির প্রতি দায়বদ্ধতা পুনর্ব্যক্ত করারও উপলক্ষ।

  • Bastar Dussehra Celebration: নকশালমুক্ত বস্তারে ৭৫ দিনের দশেরা, ঐতিহ্যবাহী উৎসবে যোগ দিলেন রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মু

    Bastar Dussehra Celebration: নকশালমুক্ত বস্তারে ৭৫ দিনের দশেরা, ঐতিহ্যবাহী উৎসবে যোগ দিলেন রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মু

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ছত্তিশগড়ের বস্তার অঞ্চলে উৎসবের আবহ। ৭৫ দিন ধরে চলা ঐতিহ্যবাহী বস্তার দশেরা উৎসবকে কেন্দ্র করে জড়ো হচ্ছেন বিভিন্ন গ্রামের মানুষ। গত ১২ অগস্ট পাট যাত্রার মাধ্যমে শুরু হওয়া এই উৎসবের আনুষ্ঠানিক সমাপ্তি হবে ২৭ অক্টোবর মা দন্তেশ্বরীর বিদায় অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে (Bastar Dussehra Celebration)। উৎসবে যোগ দিতে দু’দিনের সফরে বস্তারে পৌঁছেছেন রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মু। ছয় শতাব্দীরও বেশি প্রাচীন এই উৎসব ভারতের অন্যান্য অঞ্চলের দশেরা উদ্‌যাপনের থেকে সম্পূর্ণ আলাদা। এখানে রাবণবধ নয়, বরং বস্তারের আরাধ্য দেবী মা দন্তেশ্বরীর পুজোই উৎসবের মূল আকর্ষণ। বস্তারের রাজপরিবারের কুলদেবী মা দন্তেশ্বরীর প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদনকে কেন্দ্র করে এই উৎসবের সূচনা। কাকতীয় রাজবংশের আমলে শুরু হওয়া এই ঐতিহ্য আজও স্থানীয় আদিবাসী সম্প্রদায়ের উদ্যোগে বহমান। বস্তারের আদিবাসী সমাজের ধর্মীয় বিশ্বাস, সাংস্কৃতিক পরিচয় এবং সামাজিক ঐক্যের সঙ্গে এই উৎসব গভীরভাবে জড়িত (Red Terror Eradication)।

    নানা আচার-অনুষ্ঠানে সমৃদ্ধ বস্তার দশেরা (Bastar Dussehra Celebration)

    পাটযাত্রা, রথযাত্রা, কাঞ্চন গাদি এবং মুরিয়া দরবার—একাধিক প্রাচীন আচার-অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে পালিত হয় বস্তার দশেরা। পাশাপাশি থাকে বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। প্রতি বছর শ্রাবণ মাসের হরিয়ালি অমাবস্যায় পবিত্র কাঠের আনুষ্ঠানিক পুজো, অর্থাৎ পাটযাত্রার মাধ্যমে উৎসব শুরু হয়। বস্তার অঞ্চলের বিভিন্ন গ্রাম থেকে দেবদেবী, পুরোহিত ও কারিগরেরা এই অনুষ্ঠানে অংশ নেন।

    উৎসবের দিনগুলিতে তৈরি করা হয় বিশাল রথ। জগদলপুর শহরজুড়ে চলে শোভাযাত্রা। রাতে অনুষ্ঠিত হয় দেবীর বিশেষ আচার-অনুষ্ঠান। বিভিন্ন গ্রামের আরাধ্য দেবদেবীর সমাবেশও এই উৎসবের অন্যতম বৈশিষ্ট্য।

    উৎসবের শেষ পর্বে আয়োজিত হয় মুরিয়া দরবার। মূল রথযাত্রা ও দশেরার প্রধান আচার-অনুষ্ঠান শেষ হওয়ার পর জগদলপুরে এই বিশেষ সমাবেশ বসে। ঐতিহ্যগতভাবে মুরিয়া আদিবাসী সম্প্রদায়-সহ বিভিন্ন জনগোষ্ঠীর প্রতিনিধিরা রাজদরবারে নিজেদের সমস্যা ও সামাজিক বিষয়গুলি তুলে ধরতেন। আধুনিক গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় রাজদরবারের প্রশাসনিক ভূমিকা আর না থাকলেও, মুরিয়া দরবার বস্তারের ঐতিহ্যবাহী সামাজিক কাঠামো, জনসংলাপ এবং সম্প্রদায়ভিত্তিক অংশগ্রহণের প্রতীক হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ।

    নকশাল আতঙ্ক কাটিয়ে উৎসবে ফিরছেন মানুষ

    দীর্ঘদিন ধরে নকশাল হিংসার কারণে বস্তারের বহু গ্রামের মানুষ এই উৎসবে যোগ দিতে পারতেন না। সুকমা, বিজাপুর ও নারায়ণপুরের মতো সংঘর্ষপ্রবণ এলাকার বহু জনপদ কার্যত বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছিল। মাওবাদী হিংসার ছায়ায় বছরের পর বছর উৎসবের চেনা জৌলুসও ব্যাহত হয়েছে।

    তবে এ বছর পরিস্থিতিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন দেখা গিয়েছে। একসময় নকশাল-প্রভাবিত প্রায় ৫০টি গ্রামের দেবদেবী প্রথমবারের মতো ঐতিহাসিক বস্তার দশেরা উৎসবে অংশ নিয়েছেন। ২০২৬ সালের ৩১ মার্চ কেন্দ্রীয় সরকার দেশে নকশালবাদ অবসান করার কথা ঘোষণা করার পর এই অংশগ্রহণ বিশেষ তাৎপর্য বহন করছে।

    দীর্ঘদিন ধরে নকশাল সমস্যায় জর্জরিত অঞ্চলের আদিবাসীরা এখন স্বাভাবিক জীবনে ফেরার সুযোগ পাচ্ছেন। কেন্দ্র ও রাজ্য সরকার নিরাপত্তা অভিযান, প্রশাসনিক সমন্বয় এবং উন্নয়নমূলক কর্মসূচির মাধ্যমে এলাকায় মাওবাদী প্রভাব কমানোর উদ্যোগ নিয়েছে। একই সঙ্গে আত্মসমর্পণকারী মাওবাদীদের পুনর্বাসনের ব্যবস্থাও করা হয়েছে।

    গত বছর জগদলপুরে বস্তার দশেরা উৎসবে যোগ দিয়ে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ ২০২৬ সালের ৩১ মার্চের মধ্যে নকশালবাদ নির্মূলের লক্ষ্যমাত্রার কথা জানিয়েছিলেন। মাওবাদী মতাদর্শে যুক্ত স্থানীয় আদিবাসীদের অস্ত্র ছেড়ে মূলস্রোতে ফেরার আহ্বানও জানান তিনি। নকশালমুক্ত ঘোষিত প্রতিটি গ্রামকে এক কোটি টাকা সহায়তা দেওয়ার প্রতিশ্রুতিও দিয়েছিল রাজ্য সরকার (Bastar Dussehra Celebration)।

    নকশাল দমনে অভিযান, নিরাপত্তা জোরদার

    নকশালবাদের অবসান ঘটাতে সরকার একাধিক পদক্ষেপ গ্রহণ করে। নিরাপত্তা বাহিনীর অভিযান, কেন্দ্র ও রাজ্যের বাহিনীগুলির মধ্যে সমন্বয় বৃদ্ধি এবং প্রত্যন্ত অঞ্চলে উন্নয়ন পৌঁছে দেওয়ার উদ্যোগ ছিল সেই কৌশলের গুরুত্বপূর্ণ অংশ। একদিকে আত্মসমর্পণের মাধ্যমে স্বাভাবিক জীবনে ফেরার সুযোগ দেওয়া হয়েছে, অন্যদিকে মাওবাদীদের শক্ত ঘাঁটিগুলিতে অভিযান চালানো হয়েছে।

    ২০২৪ সালের জানুয়ারিতে নকশাল দমনে অভিযান আরও জোরদার করা হয়। কেন্দ্রীয় রিজার্ভ পুলিশ বাহিনী, বিশেষ কোবরা ইউনিট, জেলা রিজার্ভ গার্ড এবং রাজ্য পুলিশকে বিভিন্ন নকশাল-প্রভাবিত এলাকায় মোতায়েন করা হয়। তথ্য সংগ্রহ ও গোয়েন্দা তৎপরতা বাড়াতে ড্রোন, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা এবং উপগ্রহচিত্রের মতো আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার করা হয়।

    এই অভিযানে একাধিক শীর্ষ মাওবাদী নেতা নিহত হন। তাঁদের মধ্যে ছিলেন ভারতের কমিউনিস্ট পার্টি (মাওবাদী)-র সাধারণ সম্পাদক ও কেন্দ্রীয় সামরিক কমিশনের প্রধান নাম্বালা কেশব রাও, যিনি বাসবরাজু নামেও পরিচিত, এবং মাওবাদী কমান্ডার মাডভি হিডমা। তাঁদের মৃত্যুর ফলে মাওবাদী সংগঠনগুলির নেতৃত্ব ও সাংগঠনিক কাঠামো বড় ধাক্কা খায়।

    ছত্তিশগড় ছাড়াও ঝাড়খণ্ড, মধ্যপ্রদেশ, মহারাষ্ট্র, অন্ধ্রপ্রদেশ ও তেলঙ্গানার নকশাল-প্রভাবিত এলাকায় অভিযান চালানো হয়। পাশাপাশি মাওবাদীদের আর্থিক জোগানের পথ বন্ধ করতে তল্লাশি ও তদন্ত চালায় সরকারি সংস্থাগুলি। বিভিন্ন অভিযানে কোটি কোটি টাকার সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে। গত কয়েক বছরে বহু মাওবাদী সদস্য অস্ত্র সমর্পণ করেছেন, আবার নিরাপত্তা বাহিনীর অভিযানে অনেকে নিহতও হয়েছেন।

    জঙ্গলের জীবন থেকে স্বাভাবিক জীবনে

    নকশাল-প্রভাবিত অঞ্চলে নিরাপত্তা পরিস্থিতির উন্নতির প্রভাব এখন সাধারণ মানুষের জীবনেও দেখা যাচ্ছে। চলতি বছরের অগাস্টে ছত্তিশগড়ের রায়পুরে একটি আদিবাসী পোশাক প্রদর্শনীতে অংশ নেন মাওবাদী মতাদর্শের সঙ্গে একসময় যুক্ত কয়েকজন মহিলা। জাতীয় তাঁত দিবস উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে তাঁরা ঐতিহ্যবাহী তাঁতের পোশাক পরে মঞ্চে হাঁটেন।

    একসময় যাঁদের হাতে অস্ত্র নিয়ে নকশাল-প্রভাবিত জঙ্গলে ঘুরতে হত, তাঁদের কাছে এই অংশগ্রহণ ছিল স্বাভাবিক জীবনে ফেরার এক উল্লেখযোগ্য পদক্ষেপ। মাওবাদী সংগঠন ছেড়ে মূলস্রোতে ফেরার ফলে তাঁরা নতুন করে সামাজিক জীবন গড়ে তোলার সুযোগ (Red Terror Eradication) পাচ্ছেন।

    উন্নয়নের ছোঁয়া পৌঁছচ্ছে প্রত্যন্ত গ্রামেও। চলতি বছরের এপ্রিলে নারায়ণপুর জেলার একটি দুর্গম গ্রামে প্রথমবার নলবাহিত পানীয় জলের সংযোগ পৌঁছয়। নকশাল হুমকির কারণে দীর্ঘদিন ধরে এলাকাটি অত্যন্ত স্পর্শকাতর হিসেবে চিহ্নিত ছিল। মাওবাদী প্রভাবের জেরে বহু আদিবাসী গ্রামে উন্নয়নমূলক কাজ পৌঁছনো কঠিন হয়ে পড়েছিল।

    নকশাল হিংসা কমার পর কেন্দ্র ও রাজ্য সরকারের বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। শিক্ষা, পানীয় জল ও অন্যান্য নাগরিক পরিষেবা পৌঁছে দেওয়ার চেষ্টা জোরদার করা হয়েছে (Bastar Dussehra Celebration)।

    সব মিলিয়ে, বস্তার দশেরায় এ বছর প্রায় ৫০টি প্রাক্তন নকশাল-প্রভাবিত গ্রামের দেবদেবীদের অংশগ্রহণ শুধু একটি ধর্মীয় উৎসবের পরিসর বাড়ায়নি, বরং দীর্ঘ সংঘাতের পর ওই অঞ্চলে সামাজিক যোগাযোগ ও স্বাভাবিক জীবনযাত্রা ফিরে আসারও ইঙ্গিত দিচ্ছে। ছয় শতাব্দীর ঐতিহ্যবাহী এই উৎসব তাই এ বছর সাংস্কৃতিক উদ্‌যাপনের পাশাপাশি বস্তারের পরিবর্তিত পরিস্থিতিরও প্রতীক হয়ে উঠেছে বলেই অভিমত ওয়াকিবহাল মহলের।

     

  • CJI: বিরোধী নেতাদের সঙ্গে বৈঠকে রাজি নন প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত, সুপ্রিম কোর্টের পথে ‘গণতন্ত্রের মিছিল’

    CJI: বিরোধী নেতাদের সঙ্গে বৈঠকে রাজি নন প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত, সুপ্রিম কোর্টের পথে ‘গণতন্ত্রের মিছিল’

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ভারতের প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্তের (CJI) সঙ্গে বৈঠক করতে চেয়েছিলেন লোকসভা ও রাজ্যসভার বিরোধী দলনেতা কংগ্রেসের রাহুল গান্ধী ও মল্লিকার্জুন খাড়্গে। কিন্তু সেই আবেদন পত্রপাঠ খারিজ করে দিয়েছেন প্রধান বিচারপতি। সোমবার সুপ্রিম কোর্টের উদ্দেশে বিরোধী জোটের প্রস্তাবিত মিছিলের আগে, ১২ অক্টোবর বিকেল ৪টে থেকে ৫টার মধ্যে প্রধান বিচারপতির সঙ্গে দেখা করার সময় চেয়েছিলেন তাঁরা। নির্বাচনী অনিয়মের অভিযোগ-সহ একাধিক দাবি জানিয়ে একটি স্মারকলিপি জমা দেওয়াই ছিল তাঁদের উদ্দেশ্য। সংবাদমাধ্যম সূত্রে খবর, প্রধান বিচারপতির সিদ্ধান্ত ইমেলের মাধ্যমে দুই বিরোধী নেতাকে জানানো হয়েছে। তাঁদের বক্তব্য, যে বিষয়গুলি নিয়ে রাহুল ও খাড়্গে আলোচনা করতে চেয়েছিলেন, সেগুলি ইতিমধ্যেই সুপ্রিম কোর্টের বিচারাধীন। তাই এই পরিস্থিতিতে আলাদা করে বৈঠক করা সমীচীন নয়। পাশাপাশি, প্রশাসনিক ভূমিকা পালন করতে গিয়ে আদালত সরকারের কার্যকলাপে হস্তক্ষেপ করতে পারে না বলেও জানানো হয়েছে। তবে মৌলিক অধিকার রক্ষার জন্য তাঁরা বিচারবিভাগীয় প্রক্রিয়ার সাহায্য নিতে পারেন বলে বিরোধী নেতাদের জানানো হয়েছে।

    কেন প্রতিবাদে সরব বিরোধীরা? (CJI)

    ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন প্রক্রিয়াকে কেন্দ্র করেই মূলত বিরোধীদের আন্দোলন। অভিযোগ, এই প্রক্রিয়ায় বহু ভোটারের নাম অন্যায়ভাবে তালিকা থেকে বাদ দেওয়া হচ্ছে এবং ভোটার তালিকায় কারচুপি করা হচ্ছে। বিরোধী দলগুলির দাবি, নির্বাচন কমিশন শাসক দল বিজেপির প্রতি পক্ষপাতিত্ব করছে। সেই সঙ্গে মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের জবাবদিহির দাবিও তুলেছে তারা।

    নির্বাচন কমিশনার সুখবীর সিং সান্ধু এবং বিবেক যোশি গত ১০ মাসে অন্তত ১৪ বার বিভিন্ন বিষয়ে আপত্তি জানিয়েছিলেন বলে সংবাদ প্রকাশিত হওয়ার পর বিতর্ক আরও তীব্র হয়েছে। তাঁদের আপত্তির একটি বড় অংশই ছিল ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন সংক্রান্ত সিদ্ধান্ত নিয়ে।

    যদিও নির্বাচন কমিশনের বক্তব্য, আলোচনার সময় মতপার্থক্য থাকা স্বাভাবিক। কমিশনের দাবি, তাদের নির্দেশগুলির আইনি ভিত্তি রয়েছে এবং যাবতীয় সিদ্ধান্ত নির্ধারিত আইন ও বিধি মেনেই নেওয়া হয়।

    ‘গণতন্ত্রের মিছিলে’র ডাক কংগ্রেসের

    সোমবারের কর্মসূচির নাম দিয়েছে কংগ্রেস, ‘চলো দিল্লি—গণতন্ত্রের মিছিল’। দুপুর ১টা ৩০ মিনিটে দিল্লির কনট প্লেস ও বারাখাম্বা রোডের সংযোগস্থলে জমায়েত হওয়ার জন্য অংশগ্রহণকারীদের আহ্বান জানানো হয়েছে।

    রাহুল জানিয়েছেন, তরুণ সমাজ, বিরোধী রাজনৈতিক দল এবং নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিরা এই মিছিলে অংশ নিয়ে সুপ্রিম কোর্টের দিকে এগিয়ে যাবেন। শনিবার দিল্লিতে শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদকারীদের উপর পুলিশ ও বিজেপি সমর্থকেরা হামলা চালিয়েছেন বলেও অভিযোগ করেছেন তিনি।

    এদিকে, খাড়্গে জানিয়েছেন, তাঁরা প্রধান বিচারপতির হস্তক্ষেপ চাইছিলেন। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি এবং কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের বিরুদ্ধে অশান্তি সৃষ্টির অভিযোগও তুলেছেন তিনি। খাড়্গের দাবি, শনিবার প্রতিবাদস্থলে বিপুল পুলিশ মোতায়েন এবং আন্দোলনকারীদের আটক করার ঘটনা থেকেই বোঝা যায়, এই আন্দোলন নিয়ে সরকার উদ্বিগ্ন (CJI)।

    রাষ্ট্রপতির দ্বারস্থ বিরোধী প্রতিনিধিদল

    শুক্রবার দিল্লির বিজয় চকে বিরোধী সাংসদদের মিছিল আটকে দেয় পুলিশ। এরপর কয়েকজন সাংসদ সেখানেই অবস্থান বিক্ষোভ শুরু করেন। অন্যদিকে, ১০ সদস্যের এক প্রতিনিধিদল রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মুর সঙ্গে দেখা করতে রাষ্ট্রপতি ভবনে যায়। মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারকে অপসারণের দাবিতে রাষ্ট্রপতির হস্তক্ষেপ চেয়েছিল ওই প্রতিনিধিদল।

    বৈঠকের পরে বিরোধী নেতারা জানান, নির্বাচনী অনিয়মের অভিযোগের সমর্থনে প্রমাণ চেয়েছেন রাষ্ট্রপতি। পাশাপাশি, তাঁদের উদ্বেগ ও অভিযোগগুলি খতিয়ে দেখার আশ্বাসও দিয়েছেন তিনি বলে দাবি বিরোধীদের।

    রাহুল বলেন, রাষ্ট্রপতি অভিযোগগুলি অস্বীকার করেননি কিংবা সেগুলি নিয়ে প্রশ্নও তোলেননি—এই বিষয়টি তাঁকে বিস্মিত করেছে। তাঁর দাবি, দেশে কথিত ভোটচুরির অভিযোগের প্রমাণ সম্পর্কে বহু মানুষ অবগত। বিরোধীরা সেই প্রমাণ রাষ্ট্রপতির কাছে জমা দেবেন বলেও জানিয়েছেন তিনি।

    ভোটার তালিকার সংশোধন, কথিত ভোটচুরি এবং নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা নিয়ে বিরোধীদের আন্দোলন ক্রমশ জোরালো হচ্ছে। সোমবারের ‘গণতন্ত্রের মিছিল’ ঘিরে রাজনৈতিক চাপানউতোর কোন দিকে মোড় নেয়, এখন সেটাই দেখার (CJI)।

     

  • Uniform Civil Code: মিলল রাষ্ট্রপতির সম্মতি, গুজরাটে পরিষ্কার হয়ে গেল অভিন্ন দেওয়ানি বিধি কার্যকরের রাস্তা

    Uniform Civil Code: মিলল রাষ্ট্রপতির সম্মতি, গুজরাটে পরিষ্কার হয়ে গেল অভিন্ন দেওয়ানি বিধি কার্যকরের রাস্তা

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মুর সম্মতির পর খুলে গেল গুজরাটে অভিন্ন দেওয়ানি বিধি (Uniform Civil Code) কার্যকরের আনুষ্ঠানিক পথ। উত্তরাখণ্ডের পর গুজরাটই ভারতের দ্বিতীয় রাজ্য, যেখানে এই বিধি কার্যকর করার অনুমোদন মিলল। রাষ্ট্রপতির সম্মতি পাওয়া বিধিটি ১ অক্টোবর রাজ্যের সরকারি বিশেষ গেজেটে প্রকাশিত হয়েছে। রাষ্ট্রপতির সম্মতি দেওয়া হয়েছিল (Gujarat) ১৭ সেপ্টেম্বর। তবে বিধিটি কবে থেকে কার্যকর হবে, সেই তারিখ রাজ্য সরকার নির্ধারণ করবে। চলতি বছরের মার্চে প্রায় সাড়ে সাত ঘণ্টার দীর্ঘ আলোচনা শেষে অভিন্ন দেওয়ানি বিধি বিল পাশ করে গুজরাট বিধানসভা।  ২০২৪ সালের ফেব্রুয়ারিতে উত্তরাখণ্ড দেশের প্রথম রাজ্য হিসেবে অভিন্ন দেওয়ানি বিধি কার্যকর করেছিল। এই বিধিতে ধর্ম নির্বিশেষে বিয়ে, বিবাহবিচ্ছেদ, উত্তরাধিকার, দত্তক গ্রহণ এবং বিবাহবহির্ভূত সহবাসের মতো বিষয়গুলির জন্য একটি অভিন্ন আইনি কাঠামোর প্রস্তাব করা হয়েছে। গুজরাটের আইনটি মূলত উত্তরাখণ্ডের অভিন্ন দেওয়ানি বিধির আদলে তৈরি। তবে তফশিলি উপজাতি এবং সংবিধানের ২১তম অংশের অধীনে প্রথাগত অধিকার সুরক্ষিত থাকা কিছু ব্যক্তি ও গোষ্ঠী এই আইনের আওতার বাইরে থাকবে।

    কী বললেন মুখ্যমন্ত্রী (Uniform Civil Code)

    মুখ্যমন্ত্রী ভূপেন্দ্র পটেল বলেন, অভিন্ন দেওয়ানি বিধি সকলের জন্য সমান অধিকার নিশ্চিত করবে। তাঁর কথায়, “এই বিল গুজরাটের বোন ও মেয়েদের জন্য আনা হয়েছে। অভিন্ন দেওয়ানি বিধির মাধ্যমে ২০৪৭ সালের মধ্যে উন্নত ভারত গড়ার লক্ষ্যে রাজ্য আরও দ্রুত এগিয়ে যাওয়ার পথে এক ধাপ এগিয়েছে। এই বিল নিশ্চিত করছে যে কোনও সম্প্রদায়ের সঙ্গে বৈষম্য করা হবে না। এটি কারও অধিকার কেড়ে নেয় না বা কারও স্বাধীনতায় বাধা দেয় না।”

    তবে বিরোধীরা বিলটির বিরোধিতা করে দাবি করেছে, এতে মূলত সাম্প্রদায়িক বিষয়গুলিই গুরুত্ব পেয়েছে এবং এর মাধ্যমে শাসক দলের রাজনৈতিক স্বার্থ পূরণ হবে। বিরোধী নেতাদের অভিযোগ, স্থানীয় নির্বাচন সামনে রেখে সরকারের বিরুদ্ধে তৈরি হওয়া অসন্তোষ মোকাবিলায় বিলটি দ্রুত পাশ করানো হয়েছে।

    বিলটি নিয়ে আপত্তি জানিয়ে গুজরাটের কংগ্রেস বিধায়ক ইমরান খেদাওয়ালা বলেন, “এই বিল আমাদের সমাজের বিরুদ্ধে এবং এতে আমাদের কোনও উপকার হবে না। আমরা কোরান ও শরিয়তে বিশ্বাস করি, তাই আমরা এই বিলের বিরোধিতা করছি। সরকার যদি মুসলিম মহিলাদের নিয়ে সত্যিই উদ্বিগ্ন হয়, তাহলে বিলকিস বানোর প্রতি ন্যায়বিচার করা এবং তাঁর অভিযুক্তদের দেওয়া সংবর্ধনার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া উচিত।”

    আম আদমি পার্টির অভিযোগ

    আম আদমি পার্টির বিধায়ক ছতার বাসাভানের অভিযোগ, শুধুমাত্র নির্বাচনী স্বার্থেই সরকার এই বিল এনেছে। নতুন অভিন্ন দেওয়ানি বিধিতে আদিবাসী সম্প্রদায়ের অবস্থান নিয়েও স্পষ্টতা নেই বলে দাবি করেন (Uniform Civil Code) তিনি। আম আদমি পার্টির এই বিধায়ক বলেন, “কিছু বিষয়ে স্পষ্টতা থাকা জরুরি। অন্য সম্প্রদায়ের কাউকে বিয়ে করা আদিবাসী মহিলাদের ক্ষেত্রে কোন আইন প্রযোজ্য হবে, সরকার তা স্পষ্ট করেনি।”

    গুজরাটের এই আইনটি বিবাহবহির্ভূত সহবাসের সম্পর্কের আইনি স্বীকৃতি দেওয়ার পাশাপাশি এই ধরনের সম্পর্কে জন্ম নেওয়া সন্তানের অধিকার, উত্তরাধিকার, বিবাহ ও বিবাহবিচ্ছেদের ক্ষেত্রে একাধিক পরিবর্তন আনছে। বিধানসভায় বিলটি পাশের সময় বিরোধী কংগ্রেস বিধায়করা স্পিকারকে এটি নির্বাচিত কমিটির কাছে পাঠানোর দাবি জানিয়ে অধিবেশন থেকে ওয়াকআউট করেছিলেন (Gujarat)।

    ২০২৪ সালের ফেব্রুয়ারিতে উত্তরাখণ্ড দেশের প্রথম রাজ্য হিসেবে অভিন্ন দেওয়ানি বিধি কার্যকর করেছিল। ২০২২ সালের উত্তরাখণ্ড বিধানসভা নির্বাচনের ইস্তাহারেও ভারতীয় জনতা পার্টির অন্যতম প্রধান প্রতিশ্রুতি ছিল এই বিধি (Uniform Civil Code) কার্যকর করা।

     

  • Dhakuria Private School: ঢাকুরিয়ার স্কুলের দেওয়ালে টাঙানো মাও-মার্ক্স-চে! ৭ দিনের মধ্যে ‘বিদেশি’দের সব ছবি সরানোর আশ্বাস

    Dhakuria Private School: ঢাকুরিয়ার স্কুলের দেওয়ালে টাঙানো মাও-মার্ক্স-চে! ৭ দিনের মধ্যে ‘বিদেশি’দের সব ছবি সরানোর আশ্বাস

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: কলকাতার ঢাকুরিয়ার প্রাইভেট স্কুলে (Dhakuria Private School) টিচার্স রুমে টাঙানো কার্ল মার্ক্স, মাও সে তুং-সহ কয়েকজন বিদেশি ব্যক্তিত্বের ছবি নিয়ে আপত্তি জানাল আরএসএস-ঘনিষ্ঠ শিক্ষক সংগঠন অখিল ভারতীয় রাষ্ট্রীয় শৈক্ষিক মহাসংঘ। বুধবার সংগঠনের প্রতিনিধিরা স্কুলে গিয়ে বিষয়টি নিয়ে (Marx Mao Pictures) আপত্তি জানান। এরপর স্কুল কর্তৃপক্ষ টিচার্স রুম থেকে কার্ল মার্ক্স ও মাও সে তুংয়ের ছবি সরিয়ে দেয়। স্কুলের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক সুদীপ্ত দে জানিয়েছেন, আগামী সাত দিনের মধ্যে স্কুলের অন্যান্য জায়গা থেকেও এমন ছবি সরিয়ে দেওয়া হবে।

    স্কুল আলো করে বিদেশি ‘প্রভু’রা! (Dhakuria Private School)

    সংগঠনের অভিযোগ, স্কুলে কার্ল মার্ক্স, মাও সে তুং, হো চি মিন, চে গেভারা এবং স্তালিনের মতো বিদেশি ব্যক্তিত্বদের ছবি থাকলেও দেশের বিশিষ্ট ব্যক্তিদের কয়েকজনের ছবি সেখানে ছিল না। সংগঠনের দাবি, বিআর আম্বেদকর, নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসু, এপিজে আবদুল কালাম এবং রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মুর মতো ভারতীয় মনীষী ও বিশিষ্ট ব্যক্তিদের ছবি স্কুলে থাকা উচিত।

    অখিল ভারতীয় রাষ্ট্রীয় শৈক্ষিক মহাসংঘের কলকাতা শাখার সভাপতি প্রদীপ পাল বলেন, “স্কুলের করিডরে ঢুকলেই মাও সে তুং, চে গেভারা এবং স্তালিনের ছবি দেখা যাচ্ছে। প্রধান শিক্ষকের ঘরে এপিজে আবদুল কালামের ছবি নেই, দ্রৌপদী মুর্মুর ছবিও নেই। অথচ সেখানে ভেনেজুয়েলার প্রাক্তন রাষ্ট্রপতি হুগো শাভেজের ছবি রয়েছে। বিআর আম্বেদকর ও নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসুর ছবিও নেই। অথচ স্টাফরুমে কার্ল মার্ক্সের ছবি রয়েছে। আমাদের আপত্তির জায়গাটা এখানেই।” প্রদীপের আরও অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে শিক্ষাঙ্গনে রাজনৈতিক মতাদর্শের প্রভাব রয়েছে। তাঁর বক্তব্য, “২০ বছর ধরে এগুলো চলে আসছে। ২০ বছর ধরে একটি স্কুলে কার্যত রাজনৈতিক বিষয়গুলো চলেছে, নাকি রাষ্ট্রচিন্তায় ছাত্র তৈরি করা হয়েছে, সেই প্রশ্নটা সবার কাছেই রয়েছে (Dhakuria Private School)।”

    এদিকে স্কুলের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক সুদীপ্ত দে জানিয়েছেন, ছবিগুলি দীর্ঘদিন ধরেই স্কুলে ছিল। তিনি মে মাসের শেষে দায়িত্ব নিয়েছেন। তাঁর কথায়, “বহু বছর ধরেই ছবিগুলি রয়েছে। আপত্তি ওঁরা তুলেছেন ছবিগুলি নিয়ে। এই মুহূর্তে বিষয়টি খুব যুক্তিযুক্তই মনে হচ্ছে। কেউ আগে অভিযোগ জানাননি। কোনও আধিকারিক এসেও কিছু বলেননি, ছাত্ররাও বলেনি। ফলে আমাদের মাথায় আসেনি।”

    ছবি সরানোর প্রতিশ্রুতি

    তিনি আরও বলেন, “ওঁরা যখন বিষয়টি তুলে ধরেছেন, আমি কথা দিচ্ছি, সাত দিনের মধ্যে আমরা এই সমস্ত ছবি একেবারে সরিয়ে দেব। আর যে ছবিগুলি দরকার, অবশ্যই ভারতের রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মুর ছবি আমরা টাঙাব। ভবিষ্যতে এটাই বজায় থাকবে।”

    স্কুল কর্তৃপক্ষের বক্তব্য, টিচার্স রুমে থাকা কয়েকটি ছবি ইতিমধ্যেই সরিয়ে দেওয়া হয়েছে। ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক জানিয়েছেন, আগামী সাত দিনের মধ্যে স্কুলের অন্যান্য জায়গাতেও বিষয়টি খতিয়ে দেখে প্রয়োজনীয় পরিবর্তন করা হবে। অন্যদিকে, বিষয়টি নিয়ে রাজনৈতিক ও মতাদর্শগত বিতর্কও তৈরি হয়েছে। কারণ, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে দেশ-বিদেশের ঐতিহাসিক ও রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বদের ছবি রাখা, সেই ছবিগুলির নির্বাচন এবং তা সরানোর দাবি—সবকিছুকেই ঘিরে ভিন্নমত রয়েছে (Marx Mao Pictures)। সাম্প্রতিক প্রতিবেদনে এই ঘটনাকে ঘিরে বামপন্থী শিক্ষক সংগঠনের আপত্তির কথাও উঠে এসেছে (Dhakuria Private School)।

     

  • Bihar Temple Stampede: বিহারের মন্দিরে পদপিষ্ট হয়ে ৭ পুণ্যার্থীর মৃত্যু, আহত ১২, শোক রাষ্ট্রপতি-মোদি-রাজনাথের

    Bihar Temple Stampede: বিহারের মন্দিরে পদপিষ্ট হয়ে ৭ পুণ্যার্থীর মৃত্যু, আহত ১২, শোক রাষ্ট্রপতি-মোদি-রাজনাথের

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: বিহারের লাখিসরাই জেলার অশোকধাম মন্দিরে ভয়াবহ পদপিষ্টের ঘটনায় মৃত্যু হয়েছে অন্তত সাত পুণ্যার্থীর। আহত হয়েছেন প্রায় ১২ জন। সোমবার ভোরে শ্রাবণ মাসের সোমবার উপলক্ষে মন্দিরে প্রচুর ভক্ত সমাগম হয়েছিল (President Droupadi Murmu)। সেই সময়ই আচমকাই ভিড়ের চাপ বেড়ে গিয়ে দুর্ঘটনা ঘটে। মৃতদের অধিকাংশই মহিলা বলে সংবাদ সংস্থা সূত্রে খবর (Temple Stampede)। ঘটনায় গভীর শোক প্রকাশ করেছেন রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মু। মৃতদের পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানানোর পাশাপাশি আহতদের দ্রুত আরোগ্য কামনা করেছেন তিনি। সোশ্যাল মিডিয়ায় এক বার্তায় রাষ্ট্রপতি বলেন, “বিহারের লাখিসরাইয়ের অশোকধাম মন্দিরে পদপিষ্ট হয়ে প্রাণহানির খবর অত্যন্ত বেদনাদায়ক। শোকসন্তপ্ত পরিবারগুলির প্রতি আমি গভীর সমবেদনা জানাই। আহত সকলের দ্রুত আরোগ্য কামনা করছি।”

    শ্রাবণী সোমে ব্যাপক ভিড় (President Droupadi Murmu)

    প্রশাসন সূত্রে খবর, সোমবার সকাল ৬টা ৪০ মিনিট নাগাদ দুর্ঘটনাটি ঘটে। শ্রাবণ মাসের সোমবার হওয়ায় ভোর থেকেই অশোকধাম মন্দিরে পুণ্যার্থীদের থিকথিকে ভিড় জমতে শুরু করেছিল। শিবের উদ্দেশে প্রার্থনা ও জলাভিষেক করতে দূরদূরান্ত থেকে বহু মানুষ মন্দিরে এসেছিলেন। সময় গড়ানোর সঙ্গে সঙ্গে ভিড় ক্রমশ বাড়তে থাকে। প্রত্যক্ষদর্শী ও প্রশাসনিক সূত্রে খবর, মন্দিরে প্রবেশের চেষ্টা করার সময় পুণ্যার্থীদের একাংশ ব্যারিকেড ঠেলে এগিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেন। ভিড় চলে যায় নিয়ন্ত্রণের বাইরে। ঠেলাঠেলির চোটে আচমকাই কয়েক জন মাটিতে পড়ে যান। তাঁদের উপর দিয়েই অন্যরা এগিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করলে পরিস্থিতি ভয়াবহ আকার নেয়। আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে মন্দির চত্বরে। ওই সময়ই স্থানীয় রেলস্টেশনে চলে আসে পর পর আরও দু’টি ট্রেন। তার জেরে মন্দিরে ভিড় আরও বেড়ে যায়। ভিড়ের চাপে মন্দির চত্বরে বিদ্যুতের খুঁটি ভেঙে পড়ে। সেই কারণেও ভয়ে হুড়োহুড়ি পড়ে যায় পুণ্যার্থীদের মধ্যে। তবে ঠিক কীভাবে দুর্ঘটনার সূত্রপাত হয়েছিল, তা খতিয়ে দেখছে প্রশাসন।

    ভিড় নিয়ন্ত্রণ প্রশাসনের কাছে বড় চ্যালেঞ্জ

    দুর্ঘটনার খবর পেয়েই ঘটনাস্থলে পৌঁছন পুলিশ ও জেলা প্রশাসনের আধিকারিকরা। দ্রুত উদ্ধারকাজ শুরু করা হয়। আহতদের কাছাকাছি বিভিন্ন হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। মৃতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলেই অনুমান। দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ এবং ঘটনাক্রম খতিয়ে দেখতে শুরু হয়েছে তদন্ত। অশোকধাম মন্দিরটি ইন্দ্রমণেশ্বর মহাদেব মন্দির নামেও পরিচিত। লাখিসরাই জেলার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ শিবমন্দির এটি (President Droupadi Murmu)। শ্রাবণ মাসে এই মন্দিরে পুণ্যার্থীদের ভিড় উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়ে যায়। বিশেষ করে সোমবারগুলিতে শিবলিঙ্গে জল ঢেলে জলাভিষেক করেন ভক্তরা। সোমবারের দিনগুলিতে তাই মন্দিরে ভিড় নিয়ন্ত্রণ প্রশাসনের কাছে বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়ায় (Temple Stampede)। এবার ভিড় আরও বেশি হওয়ার অন্যতম কারণ ছিল শ্রাবণের তৃতীয় সোমবার। ধর্মীয় উৎসবের আবহের সঙ্গে বিপুল পুণ্যার্থী সমাগম এবং রেলপথে মানুষের আগমন—এই তিনটি বিষয় একসঙ্গে পরিস্থিতিকে জটিল করে তুলেছিল বলে প্রাথমিকভাবে মনে করা হচ্ছে।

    মৃতদের পরিবারকে ৪ লাখ টাকা ক্ষতিপূরণ

    দুর্ঘটনায় মৃতদের পরিবারের জন্য ক্ষতিপূরণ ঘোষণা করেছে বিহার সরকার। মুখ্যমন্ত্রী সম্রাট চৌধুরী প্রতিটি মৃত পুণ্যার্থীর পরিবারের জন্য ৪ লাখ টাকা করে আর্থিক সাহায্যের কথা ঘোষণা করেছেন। মন্দিরে ভিড় নিয়ন্ত্রণের ব্যবস্থাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে। প্রশাসনের পক্ষ থেকে মন্দিরের ব্যারিকেড ব্যবস্থা, প্রবেশ ও বেরিয়ে আসার পথ, নিরাপত্তাকর্মীর সংখ্যা এবং ভিড় নিয়ন্ত্রণের অন্যান্য ব্যবস্থাপনা পর্যালোচনা করা হচ্ছে। ভবিষ্যতে যাতে এই ধরনের দুর্ঘটনা এড়ানো যায়, সেই বিষয়ে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার কথাও জানিয়েছে প্রশাসন।

    শোক প্রকাশ প্রধানমন্ত্রীর

    অশোকধাম মন্দিরের দুর্ঘটনায় গভীর শোক প্রকাশ করেছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিও। মৃতদের পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানিয়েছেন তিনি। এক বার্তায় প্রধানমন্ত্রী বলেন, “বিহারের লাখিসরাইয়ে পদপিষ্ট হয়ে প্রাণহানির ঘটনায় আমি অত্যন্ত ব্যথিত। এই শোকের সময়ে আমার ভাবনা শোকসন্তপ্ত পরিবারগুলির সঙ্গে রয়েছে। আহতরা দ্রুত সুস্থ হয়ে উঠুন। স্থানীয় প্রশাসন ক্ষতিগ্রস্তদের সাহায্য করছে (President Droupadi Murmu)।”

    প্রধানমন্ত্রীর পাশাপাশি বিহারের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী নীতীশ কুমারও ঘটনায় গভীর দুঃখপ্রকাশ করেছেন। তিনি ঘটনাটিকে অত্যন্ত মর্মান্তিক বলে উল্লেখ করেন। এক বার্তায় নীতীশ কুমার বলেন, “লাখিসরাইয়ের অশোকধাম মন্দিরে পদপিষ্টের ঘটনা অত্যন্ত মর্মান্তিক। দুর্ঘটনায় পুণ্যার্থীদের মৃত্যুর খবর আমাকে গভীরভাবে ব্যথিত করেছে। শোকসন্তপ্ত পরিবারগুলির প্রতি আমার গভীর সমবেদনা। আহতদের দ্রুত আরোগ্য কামনা করছি (Temple Stampede)।”

    শোক প্রকাশ রাজনাথের

    প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিংও দুর্ঘটনায় প্রাণহানির ঘটনায় গভীর শোক প্রকাশ করেছেন। মৃতদের পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানিয়ে তিনি বলেন, “বিহারের লাখিসরাইয়ের অশোকধাম মন্দিরে পদপিষ্ট হয়ে প্রাণহানির ঘটনায় আমি গভীরভাবে শোকাহত। এই হৃদয়বিদারক ঘটনায় যাঁরা প্রাণ হারিয়েছেন, তাঁদের শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি আমার আন্তরিক সমবেদনা জানাই। আহতদের দ্রুত আরোগ্য কামনা করছি।”

    শ্রাবণ মাসে দেশের বিভিন্ন শিবমন্দিরে বিপুল পুণ্যার্থী সমাগম হয়। ফলে এই সময় মন্দিরগুলিতে ভিড় নিয়ন্ত্রণ, নিরাপত্তা ব্যবস্থা এবং প্রবেশ ও বেরোনোর পৃথক পথ নিশ্চিত করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। অশোকধাম মন্দিরের এই দুর্ঘটনা সেই ব্যবস্থাপনার প্রয়োজনীয়তাকেই আরও একবার সামনে এনে দিয়েছে। প্রশাসনের তদন্তে দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ স্পষ্ট হওয়ার পাশাপাশি ভবিষ্যতে এমন (Temple Stampede) ঘটনা রুখতে কী কী ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন, এখন সেদিকেই নজর সকলের (President Droupadi Murmu)।

     

  • Vande Mataram: ‘বন্দে মাতরম’কে জাতীয় সঙ্গীতের সমান আইনি সুরক্ষা, রাষ্ট্রপতির অনুমোদনের পর পরিণত আইনে

    Vande Mataram: ‘বন্দে মাতরম’কে জাতীয় সঙ্গীতের সমান আইনি সুরক্ষা, রাষ্ট্রপতির অনুমোদনের পর পরিণত আইনে

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ‘বন্দে মাতরম’কে (Vande Mataram) জাতীয় সঙ্গীত ‘জন গণ মন’-এর সমান আইনি সুরক্ষা দিল কেন্দ্র। মঙ্গলবার ১১ অগাস্ট, রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মু জাতীয় (National Anthem) সম্মানের অবমাননা প্রতিরোধ (সংশোধন) বিল, ২০২৬-এ সম্মতি দেন। রাষ্ট্রপতির অনুমোদনের পর বিলটি আইনে পরিণত হয়েছে।

    শাস্তিযোগ্য অপরাধ (Vande Mataram)

    সংসদ গত মাসেই ১৯৭১ সালের জাতীয় সম্মানের অবমাননা প্রতিরোধ আইনে সংশোধনী হিসেবে এই বিলটি পাশ করেছিল। নতুন আইনে ইচ্ছাকৃতভাবে ‘বন্দে মাতরম’ গান থামিয়ে দেওয়া অথবা জাতীয় সঙ্গীত গাওয়ার সময় কোনও সমাবেশে বিঘ্ন ঘটানো শাস্তিযোগ্য অপরাধ হিসেবে গণ্য হবে। এই অপরাধে সর্বোচ্চ তিন বছর পর্যন্ত কারাদণ্ড, জরিমানা অথবা একই সঙ্গে কারাদণ্ড ও জরিমানা হতে পারে। ১৯৭১ সালের আইনে নির্দিষ্টভাবে জাতীয় সঙ্গীত ‘জন গণ মন’-এর সুরক্ষার কথা বলা ছিল। ইচ্ছাকৃতভাবে জাতীয় সঙ্গীত গাওয়া বন্ধ করে দেওয়া অথবা তা গাওয়ার সময় কোনও ধরনের বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করলে সর্বোচ্চ তিন বছর পর্যন্ত কারাদণ্ড, জরিমানা অথবা উভয় দণ্ডের বিধান ছিল। দ্বিতীয় বা পরবর্তী দোষের ক্ষেত্রে ন্যূনতম এক বছরের কারাদণ্ডের বিধানও রয়েছে।

    আইনি সুরক্ষার আওতায় ‘বন্দে মাতরম’ 

    নতুন সংশোধনীর ফলে ‘বন্দে মাতরম’-ও একই আইনি সুরক্ষার আওতায় চলে এল। সংশোধনী বিলে বলা হয়েছিল, জাতীয় গান ইচ্ছাকৃতভাবে বন্ধ করে দেওয়া বা গাওয়ার সময় ইচ্ছাকৃতভাবে বাধা সৃষ্টি করা রুখতে ১৯৭১ সালের আইনে এতদিন কোনও নির্দিষ্ট বিধান ছিল না। সেই কারণে আইনের ৩ নম্বর ধারায় ‘বন্দে মাতরম’কে অন্তর্ভুক্ত করার প্রস্তাব দেওয়া হয়। স্বাধীনতা সংগ্রামে ‘বন্দে মাতরম’-এর গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকাও সংশোধনী আইনে তুলে ধরা হয়েছে। ১৯৫০ সালের ২৪ জানুয়ারি গণপরিষদের সভাপতি রাজেন্দ্র প্রসাদ জানিয়েছিলেন, বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের লেখা এই গানকে ‘জন গণ মন’-এর সমান মর্যাদা দেওয়া হবে (Vande Mataram)।

    প্রথমে জাতীয় গান ‘বন্দে মাতরম’

    এদিকে, জাতীয় গান পরিবেশন নিয়ে নতুন নিয়মও চালু করেছে কেন্দ্রীয় সরকার। ২৮ জানুয়ারি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রকের জারি করা নির্দেশ অনুযায়ী, রাষ্ট্রপতির আগমন, জাতীয় পতাকা উত্তোলন এবং রাজ্যপালদের ভাষণের মতো সরকারি অনুষ্ঠানে ‘বন্দে মাতরম’-এর ছ’টি স্তবকই গাওয়া হবে। পুরো গানটি গাইতে সময় লাগবে প্রায় ৩ মিনিট ১০ সেকেন্ড। ‘বন্দে মাতরম’ এবং ‘জন গণ মন’ একই অনুষ্ঠানে পরিবেশিত হলে প্রথমে জাতীয় গান ‘বন্দে মাতরম’ গাওয়া হবে। উপস্থিত সকলের তখন সতর্ক অবস্থানে দাঁড়িয়ে থাকার কথা। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রক আরও জানিয়েছে, এ বছর স্বাধীনতা দিবসের অনুষ্ঠানে প্রথমবার লালকেল্লা থেকে ‘বন্দে মাতরম’ পরিবেশন করা হবে (National Anthem)। দেশের স্কুলগুলিতেও দিনের কর্মসূচি জাতীয় গানটির সমবেত পরিবেশনের মাধ্যমে শুরু করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে (Vande Mataram)।

     

  • Rath Yatra: রথযাত্রা উপলক্ষে দেশবাসীকে শুভেচ্ছা রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রী ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর

    Rath Yatra: রথযাত্রা উপলক্ষে দেশবাসীকে শুভেচ্ছা রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রী ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: রথযাত্রা উপলক্ষে দেশ-বিদেশের সকল ভক্ত এবং দেশবাসীকে শুভেচ্ছা জানালেন রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মু, উপরাষ্ট্রপতি সিপি রাধাকৃষ্ণণ, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি এবং কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ।

    রাষ্ট্রপতি কী বললেন?

    শুভেচ্ছাবার্তায় রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মু বলেন, “জনবিশ্বাস অনুযায়ী মহাপ্রভু শ্রীজগন্নাথ, চক্ররাজ সুদর্শন, ভগবান বলভদ্র এবং দেবী সুভদ্রা রথে চড়ে ভক্তদের দর্শন দিতে বেরিয়ে আসেন।” তিনি প্রার্থনা করেন, মহাপ্রভু জগন্নাথের আশীর্বাদে দেশ ও দেশের মানুষের জীবনে সুখ, শান্তি ও সমৃদ্ধি নেমে আসুক।উপরাষ্ট্রপতি সি পি রাধাকৃষ্ণন বলেন, “রথযাত্রা বিশ্বাস, ভক্তি, সমতা এবং সম্প্রীতির প্রতীক। এই উৎসব ভারতের সমৃদ্ধ সভ্যতা ও সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যকে তুলে ধরে।”

    প্রধানমন্ত্রী যা বললেন (Rath Yatra)

    রথযাত্রাকে ভারতের চিরন্তন আধ্যাত্মিক ও সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের প্রতীক হিসেবে উল্লেখ করেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। তিনি বলেন, “রথযাত্রা ভারতের চিরন্তন আধ্যাত্মিক ও সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের এক উজ্জ্বল প্রকাশ।” তাঁর কথায়, “এই উৎসবের সঙ্গে জড়িয়ে থাকা ঐতিহ্য প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে ভারত এবং বিশ্বের অসংখ্য মানুষকে অনুপ্রাণিত করে চলেছে। এই উৎসব বিনয়, সম্মিলিত অংশগ্রহণ এবং নিঃস্বার্থ সেবার আদর্শ ধারণ করে।” প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, “মহাপ্রভু জগন্নাথ সকলকে সুস্বাস্থ্য, সুখ এবং সমৃদ্ধির আশীর্বাদ দিন। আমাদের সমস্ত প্রয়াসে তিনি শক্তি দিন এবং সমাজে ঐক্য ও সম্প্রীতির চেতনা আরও দৃঢ় করুন। জয় জগন্নাথ।”

    কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর বার্তা

    অন্য একটি শুভেচ্ছাবার্তায় প্রধানমন্ত্রী বলেন, “মহাপ্রভু জগন্নাথের পবিত্র রথযাত্রার শুভক্ষণে আমি প্রার্থনা করি, তাঁর আশীর্বাদ যেন সকলের ওপর চিরকাল অটুট থাকে। তাঁর ঐশ্বরিক কৃপা দেশের প্রতিটি মানুষের জীবনে নতুন শক্তি ও উদ্দীপনা সঞ্চার করুক।” কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ বলেন, “বিশ্বখ্যাত জগন্নাথ রথযাত্রা বিশ্বাস, আস্থা ও ভক্তির এক অনন্য প্রতীক। একই সঙ্গে এই উৎসব ভারতের সমৃদ্ধ সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য বহন করে চলেছে।” তিনি সকলের সুখ, শান্তি ও কল্যাণ কামনা করেন। প্রতি বছর রথযাত্রাকে কেন্দ্র করে লাখ লাখ ভক্তের সমাগম হয়। শুধু ওড়িশার পুরীতেই নয়, দেশের বিভিন্ন প্রান্তেও একই উৎসাহ-উদ্দীপনার সঙ্গে পালিত হয় রথযাত্রা।

     

  • Padma Awards: রাষ্ট্রপতি ভবনে জাঁকজমকপূর্ণ অনুষ্ঠানে ৬৬ পদ্ম সম্মান প্রদান, মরণোত্তর পদ্মবিভূষণে সম্মানিত ধর্মেন্দ্র

    Padma Awards: রাষ্ট্রপতি ভবনে জাঁকজমকপূর্ণ অনুষ্ঠানে ৬৬ পদ্ম সম্মান প্রদান, মরণোত্তর পদ্মবিভূষণে সম্মানিত ধর্মেন্দ্র

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: পদ্ম পুরস্কার’ (Padma Awards) প্রদান ঘিরে সোমবার নয়াদিল্লির রাষ্ট্রপতি ভবনে (Rashtrapati Bhawan) ছিল সাজ-সাজ রব। ২৫ মে, পড়ন্ত বিকেলে দিল্লির রাইসিনা হিলসে রাষ্ট্রপতি ভবনের প্রথম ‘সিভিল ইনভেস্টিচার সেরিমনি’-তে রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মুর (President Draupadi Murmu) হাত থেকে ‘পদ্মশ্রী’ (Padmashri) সম্মান গ্রহণ করলেন দেশের কৃতীরা। চলতি বছরে ভারত সরকারের তরফে মোট ১৩১টি পদ্ম সম্মানের (Padma Awards) কথা ঘোষণা করা হয়েছে। যার মধ্যে রয়েছে ৫টি পদ্মবিভূষণ, ১৩টি পদ্মভূষণ এবং ১১৩টি পদ্মশ্রী সম্মান। সোমবারের অনুষ্ঠানে ২টি পদ্মবিভূষণ, ৬টি পদ্মভূষণ এবং ৫৮টি পদ্মশ্রী প্রদান করা হয়। বাকি সম্মানগুলি পরবর্তী পর্বে প্রদান করা হবে বলে সূত্রের খবর। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি (PM Narendra Modi) সামাজিক মাধ্যমে পদ্ম সম্মানপ্রাপ্তদের অভিনন্দন জানিয়ে বলেন, “এই অসাধারণ ব্যক্তিত্বদের জীবনযাত্রা ও কাজ দেশের সম্মিলিত অগ্রযাত্রাকে সমৃদ্ধ করেছে।”

    বন্দেমাতরম-এর সুরে সূচনা

    কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ-ও পুরস্কারপ্রাপকদের শুভেচ্ছা জানান এবং তাঁদের সম্মানে এক নৈশভোজের আয়োজন করেন। তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী মোদির নেতৃত্বে পদ্ম পুরস্কার এখন সমাজের তৃণমূল স্তরের প্রকৃত পরিবর্তনকারীদের সম্মান জানানোর এক গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠান হয়ে উঠেছে। অনুষ্ঠানের সূচনা হয় ‘বন্দে মাতরম’-এর বাদ্যযন্ত্র পরিবেশনার মাধ্যমে এবং সমাপ্তি ঘটে জাতীয় সঙ্গীত ‘জন গণ মন’-এর সঙ্গে। অনুষ্ঠানে ভারতীয় শাস্ত্রীয় সংগীতে অসামান্য অবদানের জন্য প্রখ্যাত বেহালাবাদক এন রাজম-কে পদ্মবিভূষণে সম্মানিত করা হয়। ‘গায়কি অঙ্গ’ শৈলীর মাধ্যমে বেহালায় কণ্ঠসংগীতের আবহ ফুটিয়ে তোলার জন্য তিনি বিশেষভাবে পরিচিত।

    মরণোত্তর ‘পদ্মবিভূষণ’ ধর্মেন্দ্রকে

    গত বছর প্রয়াত হয়েছেন বলিউডের ‘হি-ম্যান’ ধর্মেন্দ্র (Dharmendra)। তাঁর অভিনয় জীবনের অনন্য অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ ভারত সরকার তাঁকে মরণোত্তর ‘পদ্মবিভূষণ’ সম্মানে ভূষিত করেছে। সোমবার (২৫ মে) রাষ্ট্রপতি ভবনে আয়োজিত এক বর্ণাঢ্য অনুষ্ঠানে রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মুর (Draupadi Murmu) হাত থেকে স্বামীর এই মরণোত্তর সম্মান গ্রহণ করলেন ধর্মেন্দ্রর স্ত্রী অভিনেত্রী হেমা মালিনী (Hema Malini)। এদিন হালকা গোলাপি রঙের শাড়িতে অত্যন্ত স্নিগ্ধ বেশে অনুষ্ঠানে হাজির হন হেমা। সাথে ছিলেন তাঁদের ছোট মেয়ে অহনা এবং জামাতা। পুরস্কার গ্রহণের সেই মাহেন্দ্রক্ষণে আবেগ ধরে রাখতে পারেননি অহনা, দর্শকাসনে বসে তাঁকে অশ্রুসজল চোখে বাবার জন্য গর্বিত হতে দেখা যায়। হেমা মালিনী জানান, ২৫ মে দিনটি তাঁদের পরিবারের কাছে অত্যন্ত আবেগের এবং গুরুত্বপূর্ণ। এদিনের অনুষ্ঠানের পর হেমা মালিনী জানান, ধর্মেন্দ্রর দুই পুত্র সানি এবং ববি— দুজনের সম্মতি ও মত নিয়েই তিনি আজ এই পুরস্কার গ্রহণ করতে এসেছেন।

    কতজন পদ্ম সম্মান পেলেন

    এদিন পদ্মভূষণে সম্মানিত হন প্রাক্তন উত্তরাখণ্ড মুখ্যমন্ত্রী ভগবন্ত সিং কোশিয়ারি, ‘অবধান’ শিল্পরীতির পুনর্জাগরণকারী আর গনেশ, কোটাক মাহীন্দ্রা ব্যাঙ্ক-এর প্রতিষ্ঠাতা উদয় কোটাক এবং বিশিষ্ট গ্যাস্ট্রো এন্টারোলজিস্ট কালিপত্তি রামাস্বামী পালানিস্বামী। মরণোত্তর পদ্মভূষণ পান বিজ্ঞাপন জগতের পরিচিত মুখ পীযুষ পান্ডে এবং প্রাক্তন সাংসদ বিজয় কুমার মালহোত্রা। পদ্মশ্রী প্রাপকদের তালিকায় ছিলেন প্রাক্তন সিআরপিএফ ডিজি কে বিজয় কুমার। এছাড়াও লোকসংগীত, সংস্কৃতিচর্চা, পরিবেশ সংরক্ষণ, সমাজসেবা ও চিকিৎসাক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ অবদানের জন্য একাধিক বিশিষ্ট ব্যক্তিত্বকে পদ্মশ্রী সম্মানে ভূষিত করা হয়। তাঁদের মধ্যে ছিলেন লোকশিল্পী তাগা রাম ভীল, কাঁথা শিল্পী তুপ্তি মুখোপাধ্যায় এবং সমাজকর্মী জনার্দন বাপুরাও বোথে।

    প্রসেনজিতের হাতে পদ্মশ্রী

    অবশেষে প্রতীক্ষার অবসান। সোমবার রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মুর হাত থেকে ‘পদ্মশ্রী’ (Padmashri) সম্মান গ্রহণ করলেন টলিউডের সুপারস্টার প্রসেনজিৎ চট্টোপাধ্যায় (Prasenjit Chatterjee)। বাংলা চলচ্চিত্রের ইতিহাসে প্রায় চার দশকের অসামান্য অবদান এবং দীর্ঘ লড়াইয়ের স্বীকৃতি হিসেবে এই সম্মান তাঁকে প্রদান করা হলো। এদিন রাষ্ট্রপতি ভবন (Rashtrapati Bhawan) ছিল দেশের বিশিষ্টজনদের মিলনক্ষেত্র। প্রসেনজিৎ ছাড়াও এদিন পদ্ম সম্মানের তালিকায় থাকা ১১ জন বাঙালিকে সম্মানিত করা হয়েছে। বিনোদন জগতের অন্যান্য ব্যক্তিত্বদের মধ্যে গায়িকা অলকা ইয়াগনিক এবং মালয়ালম মেগাস্টার মামুত্তিও তাঁদের প্রাপ্ত সম্মান গ্রহণ করেন। প্রসঙ্গত, ১৯৬৮ সালে ‘ছোট্ট জিজ্ঞাসা’ ছবিতে শিশুশিল্পী হিসেবে যাত্রা শুরু করে ‘অমরসঙ্গী’-র হাত ধরে বাংলা ছবির অবিসংবাদিত নায়ক হয়ে ওঠা প্রসেনজিতের এই দীর্ঘ পথচলা রূপকথার মতো। বাংলা ছবির দুঃসময়ে অভিভাবকের মতো দায়িত্ব কাঁধে তুলে নিয়ে সাড়ে তিনশোরও বেশি ছবিতে কাজ করেছেন তিনি। বাংলার সিনেমাপ্রেমীদের কাছে এই মুহূর্তটি তাই অত্যন্ত গর্বের ও আবেগের।

    হরমনপ্রীতের সম্মান গ্রহণ, এলেন না রোহিত

    এদিন রাষ্ট্রপতির হাত থেকে পদ্মশ্রী সম্মান গ্রহণ করেন হরমনপ্রীত কৌর। তসর রঙের চুড়িদারে সম্মান গ্রহণ করেন হরমনপ্রীত। গতবছর দেশের মাটিতে প্রথমবার মহিলাদের ক্রিকেট বিশ্বকাপ জেতে ভারত। উইমেন ইন ব্লুর অধিনায়ক ছিলেন হরমনপ্রীত। এদিন উপস্থিত ছিলেন না ভারতীয় দলের প্রাক্তন অধিনায়ক রোহিত শর্মা। ২০২৪ টি-২০ বিশ্বকাপজয়ী অধিনায়ক রোহিত। গতবছর তাঁর নেতৃত্বে ভারত চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফিও জেতে। রবিবার মুম্বইতে আইপিএলে খেলেছেন রোহিত। জানা গিয়েছে, পদ্ম সম্মান বিভিন্ন কিস্তিতে প্রাপকদের হাতে তুলে দেওয়া হয়। অর্থাৎ, সকল প্রাপকদের একইদিনে দেওয়া হয় না। বিভিন্ন দিনে ধাপে ধাপে অনুষ্ঠানের মাধ্যমে তা দেওয়া হয়। সেই তালিকা তৈরি করে রাষ্ট্রপতি ভবন। এদিনের তালিকায় রোহিতের নাম ছিল না। ফের যেদিন বাকি প্রাপকদের এই সম্মান তুলে দেওয়া হবে, সেদিন উপস্থিত থাকবেন রোহিত। তবে, সেই তারিখের ঘোষণা রাষ্ট্রপতি ভবনের তরফে এখনও করা হয়নি।

    ৯-জন ক্রীড়াবিদকে সম্মান

    রোহিত ও হরমনপ্রীত ছাড়া এ বছর আরও ৯ জন ক্রীড়াবিদ এই সম্মান পাচ্ছেন। প্যারা অ্যাথলিট প্রবীণ কুমার ও হকি কোচ বলদেব সিং এদিন পদ্মশ্রী সম্মান গ্রহণ করেন। এছাড়া ২০২৬ সালের একমাত্র ক্রীড়াবিদ হিসেবে দেশের তৃতীয় সর্বোচ্চ সম্মান পদ্মভূষণ পাচ্ছেন বিজয় অমৃতরাজ। ১৯৮৩ সালে তিনি পদ্মশ্রী সম্মানে ভূষিত হয়েছিলেন। তারও আগে পেয়েছিলেন অর্জুন পুরস্কার। ভারতীয় ক্রীড়ায় অসামান্য অবদানের জন্য় এবার পদ্মভূষণ পাচ্ছেন তিনি। এর সঙ্গে ভারতীয় মহিলা হকি দলের গোলকিপার সবিতা পুনিয়া পাচ্ছেন পদ্মশ্রী। মরণোত্তর পদ্মশ্রী পাচ্ছেন প্রাক্তন কুস্তি কোচ ভ্লাদিমির মেস্তভিরিশভি। জর্জিয়ার নাগরিক হলেও সুশীল কুমার, যোগেশ্বর দত্ত এবং বজরং পুনিয়াদের মতো অলিম্পিক পদকজয়ীদের কোচিং করিয়েছেন মেস্তভিরিশভি। এছাড়াও পদ্মশ্রী পাচ্ছেন কে পাজানিভেল, তামিলনাড়ুর ঐতিহ্যবাহী সিলামবাম মার্শাল আর্টে অনবদ্য অবদানের জন্য। বুন্দেলখণ্ডের মার্শাল আর্ট বুন্দেলি ওয়ারে অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ পদ্মশ্রী পাচ্ছেন ভগবানদাস রায়কর।

    পদ্মশ্রী সম্মান গ্রহণের আগে সাষ্টাঙ্গে প্রণাম

    তিনি মার্শাল আর্টের পাঁচ হাজার বছরের পুরনো ‘সিলামবাম’-এর সাধক। শুধু ভারতে নয়, দেশের গণ্ডি ছাড়িয়ে গোটা বিশ্বে এই খেলার জনপ্রিয়তা ছড়িয়ে দিয়েছেন । যে কারণে তাঁকে দেওয়া হল পদ্মশ্রী সম্মান। পুদুচেরির কে পাজানিভেল (K Pajanivel)। সোমবার রাষ্ট্রপতি ভবনে পদ্মশ্রী পুরস্কার নিতে গিয়েছিলেন ট্র্যাডিশনাল দক্ষিণ ভারতীয় পোশাকে। সাদা ধুতি ও হাফশার্ট। ঘোষক তাঁর নাম ঘোষণা করতেই পাজানিভেল কার্পেটে উঠে শুয়ে পড়ে সাষ্টাঙ্গে প্রণাম করেন দর্শকাসনের সামনের সারিতে বসে থাকা বিশিষ্ট অতিথিদের। যাঁদের মধ্যে ছিলেন প্রধানমন্ত্রী, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীরাও। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির পাশেই বসেছিলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। পাজানিভেল সাষ্টাঙ্গে প্রণাম করতেই নিজের আসন ছেড়ে উঠে এসে তাঁকে তুলে ধরেন মোদি। প্রতিনমস্কার করেন। পুরস্কার গ্রহণের আগে রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মুকে পায়ে হাত দিয়ে প্রণাম করেন তিনি। পাজানিভেলের ভিডিও সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল। তাঁর প্রশংসায় পঞ্চমুখ সকলে।

LinkedIn
Share