Padma Awards: রাষ্ট্রপতি ভবনে জাঁকজমকপূর্ণ অনুষ্ঠানে ৬৬ পদ্ম সম্মান প্রদান, মরণোত্তর পদ্মবিভূষণে সম্মানিত ধর্মেন্দ্র

padma shri president confers 66 padma awards are given

মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: পদ্ম পুরস্কার’ (Padma Awards) প্রদান ঘিরে সোমবার নয়াদিল্লির রাষ্ট্রপতি ভবনে (Rashtrapati Bhawan) ছিল সাজ-সাজ রব। ২৫ মে, পড়ন্ত বিকেলে দিল্লির রাইসিনা হিলসে রাষ্ট্রপতি ভবনের প্রথম ‘সিভিল ইনভেস্টিচার সেরিমনি’-তে রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মুর (President Draupadi Murmu) হাত থেকে ‘পদ্মশ্রী’ (Padmashri) সম্মান গ্রহণ করলেন দেশের কৃতীরা। চলতি বছরে ভারত সরকারের তরফে মোট ১৩১টি পদ্ম সম্মানের (Padma Awards) কথা ঘোষণা করা হয়েছে। যার মধ্যে রয়েছে ৫টি পদ্মবিভূষণ, ১৩টি পদ্মভূষণ এবং ১১৩টি পদ্মশ্রী সম্মান। সোমবারের অনুষ্ঠানে ২টি পদ্মবিভূষণ, ৬টি পদ্মভূষণ এবং ৫৮টি পদ্মশ্রী প্রদান করা হয়। বাকি সম্মানগুলি পরবর্তী পর্বে প্রদান করা হবে বলে সূত্রের খবর। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি (PM Narendra Modi) সামাজিক মাধ্যমে পদ্ম সম্মানপ্রাপ্তদের অভিনন্দন জানিয়ে বলেন, “এই অসাধারণ ব্যক্তিত্বদের জীবনযাত্রা ও কাজ দেশের সম্মিলিত অগ্রযাত্রাকে সমৃদ্ধ করেছে।”

বন্দেমাতরম-এর সুরে সূচনা

কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ-ও পুরস্কারপ্রাপকদের শুভেচ্ছা জানান এবং তাঁদের সম্মানে এক নৈশভোজের আয়োজন করেন। তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী মোদির নেতৃত্বে পদ্ম পুরস্কার এখন সমাজের তৃণমূল স্তরের প্রকৃত পরিবর্তনকারীদের সম্মান জানানোর এক গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠান হয়ে উঠেছে। অনুষ্ঠানের সূচনা হয় ‘বন্দে মাতরম’-এর বাদ্যযন্ত্র পরিবেশনার মাধ্যমে এবং সমাপ্তি ঘটে জাতীয় সঙ্গীত ‘জন গণ মন’-এর সঙ্গে। অনুষ্ঠানে ভারতীয় শাস্ত্রীয় সংগীতে অসামান্য অবদানের জন্য প্রখ্যাত বেহালাবাদক এন রাজম-কে পদ্মবিভূষণে সম্মানিত করা হয়। ‘গায়কি অঙ্গ’ শৈলীর মাধ্যমে বেহালায় কণ্ঠসংগীতের আবহ ফুটিয়ে তোলার জন্য তিনি বিশেষভাবে পরিচিত।

মরণোত্তর ‘পদ্মবিভূষণ’ ধর্মেন্দ্রকে

গত বছর প্রয়াত হয়েছেন বলিউডের ‘হি-ম্যান’ ধর্মেন্দ্র (Dharmendra)। তাঁর অভিনয় জীবনের অনন্য অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ ভারত সরকার তাঁকে মরণোত্তর ‘পদ্মবিভূষণ’ সম্মানে ভূষিত করেছে। সোমবার (২৫ মে) রাষ্ট্রপতি ভবনে আয়োজিত এক বর্ণাঢ্য অনুষ্ঠানে রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মুর (Draupadi Murmu) হাত থেকে স্বামীর এই মরণোত্তর সম্মান গ্রহণ করলেন ধর্মেন্দ্রর স্ত্রী অভিনেত্রী হেমা মালিনী (Hema Malini)। এদিন হালকা গোলাপি রঙের শাড়িতে অত্যন্ত স্নিগ্ধ বেশে অনুষ্ঠানে হাজির হন হেমা। সাথে ছিলেন তাঁদের ছোট মেয়ে অহনা এবং জামাতা। পুরস্কার গ্রহণের সেই মাহেন্দ্রক্ষণে আবেগ ধরে রাখতে পারেননি অহনা, দর্শকাসনে বসে তাঁকে অশ্রুসজল চোখে বাবার জন্য গর্বিত হতে দেখা যায়। হেমা মালিনী জানান, ২৫ মে দিনটি তাঁদের পরিবারের কাছে অত্যন্ত আবেগের এবং গুরুত্বপূর্ণ। এদিনের অনুষ্ঠানের পর হেমা মালিনী জানান, ধর্মেন্দ্রর দুই পুত্র সানি এবং ববি— দুজনের সম্মতি ও মত নিয়েই তিনি আজ এই পুরস্কার গ্রহণ করতে এসেছেন।

কতজন পদ্ম সম্মান পেলেন

এদিন পদ্মভূষণে সম্মানিত হন প্রাক্তন উত্তরাখণ্ড মুখ্যমন্ত্রী ভগবন্ত সিং কোশিয়ারি, ‘অবধান’ শিল্পরীতির পুনর্জাগরণকারী আর গনেশ, কোটাক মাহীন্দ্রা ব্যাঙ্ক-এর প্রতিষ্ঠাতা উদয় কোটাক এবং বিশিষ্ট গ্যাস্ট্রো এন্টারোলজিস্ট কালিপত্তি রামাস্বামী পালানিস্বামী। মরণোত্তর পদ্মভূষণ পান বিজ্ঞাপন জগতের পরিচিত মুখ পীযুষ পান্ডে এবং প্রাক্তন সাংসদ বিজয় কুমার মালহোত্রা। পদ্মশ্রী প্রাপকদের তালিকায় ছিলেন প্রাক্তন সিআরপিএফ ডিজি কে বিজয় কুমার। এছাড়াও লোকসংগীত, সংস্কৃতিচর্চা, পরিবেশ সংরক্ষণ, সমাজসেবা ও চিকিৎসাক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ অবদানের জন্য একাধিক বিশিষ্ট ব্যক্তিত্বকে পদ্মশ্রী সম্মানে ভূষিত করা হয়। তাঁদের মধ্যে ছিলেন লোকশিল্পী তাগা রাম ভীল, কাঁথা শিল্পী তুপ্তি মুখোপাধ্যায় এবং সমাজকর্মী জনার্দন বাপুরাও বোথে।

প্রসেনজিতের হাতে পদ্মশ্রী

অবশেষে প্রতীক্ষার অবসান। সোমবার রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মুর হাত থেকে ‘পদ্মশ্রী’ (Padmashri) সম্মান গ্রহণ করলেন টলিউডের সুপারস্টার প্রসেনজিৎ চট্টোপাধ্যায় (Prasenjit Chatterjee)। বাংলা চলচ্চিত্রের ইতিহাসে প্রায় চার দশকের অসামান্য অবদান এবং দীর্ঘ লড়াইয়ের স্বীকৃতি হিসেবে এই সম্মান তাঁকে প্রদান করা হলো। এদিন রাষ্ট্রপতি ভবন (Rashtrapati Bhawan) ছিল দেশের বিশিষ্টজনদের মিলনক্ষেত্র। প্রসেনজিৎ ছাড়াও এদিন পদ্ম সম্মানের তালিকায় থাকা ১১ জন বাঙালিকে সম্মানিত করা হয়েছে। বিনোদন জগতের অন্যান্য ব্যক্তিত্বদের মধ্যে গায়িকা অলকা ইয়াগনিক এবং মালয়ালম মেগাস্টার মামুত্তিও তাঁদের প্রাপ্ত সম্মান গ্রহণ করেন। প্রসঙ্গত, ১৯৬৮ সালে ‘ছোট্ট জিজ্ঞাসা’ ছবিতে শিশুশিল্পী হিসেবে যাত্রা শুরু করে ‘অমরসঙ্গী’-র হাত ধরে বাংলা ছবির অবিসংবাদিত নায়ক হয়ে ওঠা প্রসেনজিতের এই দীর্ঘ পথচলা রূপকথার মতো। বাংলা ছবির দুঃসময়ে অভিভাবকের মতো দায়িত্ব কাঁধে তুলে নিয়ে সাড়ে তিনশোরও বেশি ছবিতে কাজ করেছেন তিনি। বাংলার সিনেমাপ্রেমীদের কাছে এই মুহূর্তটি তাই অত্যন্ত গর্বের ও আবেগের।

হরমনপ্রীতের সম্মান গ্রহণ, এলেন না রোহিত

এদিন রাষ্ট্রপতির হাত থেকে পদ্মশ্রী সম্মান গ্রহণ করেন হরমনপ্রীত কৌর। তসর রঙের চুড়িদারে সম্মান গ্রহণ করেন হরমনপ্রীত। গতবছর দেশের মাটিতে প্রথমবার মহিলাদের ক্রিকেট বিশ্বকাপ জেতে ভারত। উইমেন ইন ব্লুর অধিনায়ক ছিলেন হরমনপ্রীত। এদিন উপস্থিত ছিলেন না ভারতীয় দলের প্রাক্তন অধিনায়ক রোহিত শর্মা। ২০২৪ টি-২০ বিশ্বকাপজয়ী অধিনায়ক রোহিত। গতবছর তাঁর নেতৃত্বে ভারত চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফিও জেতে। রবিবার মুম্বইতে আইপিএলে খেলেছেন রোহিত। জানা গিয়েছে, পদ্ম সম্মান বিভিন্ন কিস্তিতে প্রাপকদের হাতে তুলে দেওয়া হয়। অর্থাৎ, সকল প্রাপকদের একইদিনে দেওয়া হয় না। বিভিন্ন দিনে ধাপে ধাপে অনুষ্ঠানের মাধ্যমে তা দেওয়া হয়। সেই তালিকা তৈরি করে রাষ্ট্রপতি ভবন। এদিনের তালিকায় রোহিতের নাম ছিল না। ফের যেদিন বাকি প্রাপকদের এই সম্মান তুলে দেওয়া হবে, সেদিন উপস্থিত থাকবেন রোহিত। তবে, সেই তারিখের ঘোষণা রাষ্ট্রপতি ভবনের তরফে এখনও করা হয়নি।

৯-জন ক্রীড়াবিদকে সম্মান

রোহিত ও হরমনপ্রীত ছাড়া এ বছর আরও ৯ জন ক্রীড়াবিদ এই সম্মান পাচ্ছেন। প্যারা অ্যাথলিট প্রবীণ কুমার ও হকি কোচ বলদেব সিং এদিন পদ্মশ্রী সম্মান গ্রহণ করেন। এছাড়া ২০২৬ সালের একমাত্র ক্রীড়াবিদ হিসেবে দেশের তৃতীয় সর্বোচ্চ সম্মান পদ্মভূষণ পাচ্ছেন বিজয় অমৃতরাজ। ১৯৮৩ সালে তিনি পদ্মশ্রী সম্মানে ভূষিত হয়েছিলেন। তারও আগে পেয়েছিলেন অর্জুন পুরস্কার। ভারতীয় ক্রীড়ায় অসামান্য অবদানের জন্য় এবার পদ্মভূষণ পাচ্ছেন তিনি। এর সঙ্গে ভারতীয় মহিলা হকি দলের গোলকিপার সবিতা পুনিয়া পাচ্ছেন পদ্মশ্রী। মরণোত্তর পদ্মশ্রী পাচ্ছেন প্রাক্তন কুস্তি কোচ ভ্লাদিমির মেস্তভিরিশভি। জর্জিয়ার নাগরিক হলেও সুশীল কুমার, যোগেশ্বর দত্ত এবং বজরং পুনিয়াদের মতো অলিম্পিক পদকজয়ীদের কোচিং করিয়েছেন মেস্তভিরিশভি। এছাড়াও পদ্মশ্রী পাচ্ছেন কে পাজানিভেল, তামিলনাড়ুর ঐতিহ্যবাহী সিলামবাম মার্শাল আর্টে অনবদ্য অবদানের জন্য। বুন্দেলখণ্ডের মার্শাল আর্ট বুন্দেলি ওয়ারে অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ পদ্মশ্রী পাচ্ছেন ভগবানদাস রায়কর।

পদ্মশ্রী সম্মান গ্রহণের আগে সাষ্টাঙ্গে প্রণাম

তিনি মার্শাল আর্টের পাঁচ হাজার বছরের পুরনো ‘সিলামবাম’-এর সাধক। শুধু ভারতে নয়, দেশের গণ্ডি ছাড়িয়ে গোটা বিশ্বে এই খেলার জনপ্রিয়তা ছড়িয়ে দিয়েছেন । যে কারণে তাঁকে দেওয়া হল পদ্মশ্রী সম্মান। পুদুচেরির কে পাজানিভেল (K Pajanivel)। সোমবার রাষ্ট্রপতি ভবনে পদ্মশ্রী পুরস্কার নিতে গিয়েছিলেন ট্র্যাডিশনাল দক্ষিণ ভারতীয় পোশাকে। সাদা ধুতি ও হাফশার্ট। ঘোষক তাঁর নাম ঘোষণা করতেই পাজানিভেল কার্পেটে উঠে শুয়ে পড়ে সাষ্টাঙ্গে প্রণাম করেন দর্শকাসনের সামনের সারিতে বসে থাকা বিশিষ্ট অতিথিদের। যাঁদের মধ্যে ছিলেন প্রধানমন্ত্রী, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীরাও। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির পাশেই বসেছিলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। পাজানিভেল সাষ্টাঙ্গে প্রণাম করতেই নিজের আসন ছেড়ে উঠে এসে তাঁকে তুলে ধরেন মোদি। প্রতিনমস্কার করেন। পুরস্কার গ্রহণের আগে রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মুকে পায়ে হাত দিয়ে প্রণাম করেন তিনি। পাজানিভেলের ভিডিও সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল। তাঁর প্রশংসায় পঞ্চমুখ সকলে।

Please follow and like us:

Comments

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

LinkedIn
Share