Tag: Prosenjit Chatterjee

  • Actress Mithu Mukherjee: প্রয়াত অভিনেত্রী মিঠু মুখোপাধ্যায়, নিভৃত জীবনেই থামল ‘কলকাতার রেখা’র পথচলা

    Actress Mithu Mukherjee: প্রয়াত অভিনেত্রী মিঠু মুখোপাধ্যায়, নিভৃত জীবনেই থামল ‘কলকাতার রেখা’র পথচলা

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: লাইট-ক্যামেরা-অ্যাকশনের চক্কর থেকে সরে গিয়েছিলেন আগেই। এবার জীবনের রঙ্গমঞ্চ থেকেই চিরতরে বিদায় নিলেন অভিনেত্রী মিঠু মুখোপাধ্যায় (Actress Mithu Mukherjee)। একসময় জনপ্রিয়তার শিখরে থাকা এই অভিনেত্রী দীর্ঘদিন ধরেই ছিলেন লোকচক্ষুর অন্তরালে। দীর্ঘদিন ক্যানসারের সঙ্গে লড়াই করার পর রবিবার রাতে মুম্বইয়ের ব্রিচ ক্যান্ডি হাসপাতালে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন তিনি। বয়স হয়েছিল ৭১ বছর।

    মিঠুর প্রয়াণের খবর ছড়িয়ে পড়তেই শোকের আবহ টলিপাড়ায়। অভিনেতা প্রসেনজিৎ চট্টোপাধ্যায় সোশ্যাল মিডিয়ায় প্রয়াত অভিনেত্রীর ছবি শেয়ার করে শোকপ্রকাশ করেন। তিনি লেখেন, “মিঠু মুখোপাধ্যায়ের প্রয়াণের খবর অত্যন্ত বেদনাদায়ক (Cancer Battle)। তাঁর স্মৃতি ও তাঁর কাজ আমাদের মধ্যে চিরকাল বেঁচে থাকবে। গভীর শ্রদ্ধা।”

    ভিন্ন মেজাজে মিঠু (Actress Mithu Mukherjee)

    সাতের দশকের বাংলা ছবিতে মিঠুর উপস্থিতি ছিল স্বতন্ত্র। সৌন্দর্য, সাবলীল অভিনয় এবং সহজাত আকর্ষণে খুব অল্প সময়ের মধ্যেই দর্শকের মনে জায়গা করে নিয়েছিলেন তিনি। কখনও প্রেমিকা, কখনও প্রাণবন্ত তরুণী, আবার কখনও সম্পূর্ণ ভিন্ন মেজাজের চরিত্রে দেখা গিয়েছে তাঁকে। নিজেকে কোনও নির্দিষ্ট ছকের মধ্যে আটকে রাখেননি অভিনেত্রী।

    তাঁর অভিনয়ে যেমন ছিল স্বতঃস্ফূর্ততা, তেমনই ক্যামেরার সামনে ছিল প্রাণখোলা উপস্থিতি। ‘স্বয়ংসিদ্ধা’, ‘মর্জিনা আবদুল্লা’, ‘মৌচাক’, ‘বেশ করেছি প্রেম করেছি’র মতো একের পর এক জনপ্রিয় ছবিতে তাঁর অভিনয় আজও দর্শকের স্মৃতিতে উজ্জ্বল।

    মিঠুর সৌন্দর্য ও পর্দার আকর্ষণের সঙ্গে বলিউডের অভিনেত্রী রেখার মিল খুঁজে পেতেন দর্শকদের একাংশ। সেই কারণেই তাঁকে ভালোবেসে ‘কলকাতার রেখা’ নামে অভিহিত করা হয়েছিল। তবে খ্যাতির শিখরে পৌঁছেও খুব বেশি দিন আলোয় থাকেননি মিঠু।

    মহানায়িকা সুচিত্রা সেনের পর বাংলা ছবির জগতে মিঠুই এমন এক নায়িকা, যিনি জনপ্রিয়তার শীর্ষে থেকেও স্বেচ্ছায়  নিজেকে সরিয়ে নিয়েছিলেন লোকচক্ষুর অন্তরালে। ব্যক্তিগত জীবনকে রেখেছিলেন সম্পূর্ণ আড়ালে। কেন তিনি এই দূরত্ব তৈরি করেছিলেন, সেই প্রশ্নের উত্তর অজানাই রয়ে গিয়েছে।

    সরে যান বিনোদন জগতের আলো থেকে

    অভিনেত্রীর শেষ ছবি ছিল ‘আশ্রিতা’। ছবিটি দর্শকের ব্যাপক প্রশংসা কুড়িয়েছিল। শুধু অভিনয়ই নয়, ছবিটির প্রযোজনার দায়িত্বও সামলেছিলেন মিঠু। ‘আশ্রিতা’র সাফল্যের পর তাঁর সামনে আরও কাজের সুযোগ এসেছিল। কিন্তু সেই পথে হাঁটেননি। বরং ধীরে ধীরে সরে যান বিনোদন জগতের আলো থেকে (Actress Mithu Mukherjee)।

    তাই দীর্ঘদিন মিঠুকে প্রকাশ্যে দেখা যায়নি। জীবনের শেষ পর্বও কেটেছে নিভৃতেই। ক্যানসারের সঙ্গে দীর্ঘ লড়াইয়ের পর রবিবার রাতে থেমে গেল সেই লড়াইও।

    মিঠুর প্রয়াণের (Cancer Battle) সঙ্গে সঙ্গে যেন বাংলা চলচ্চিত্রের একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়েরও অবসান হল। একসময়ের আলোচিত এই অভিনেত্রী পর্দা থেকে নিজেকে সরিয়ে নিয়েছিলেন ঠিকই, কিন্তু বাংলা সিনেমার ইতিহাসে তাঁর অভিনয় ও উপস্থিতির স্মৃতি (Actress Mithu Mukherjee) থেকে যাবে অমলিন।

     

  • Uttam Kumar Birth Centenary: উত্তমকুমারের জন্মশতবর্ষে চার দিনের বর্ণাঢ্য উদ্‌যাপন, সম্মান জানানো হবে বরেণ্য শিল্পীদের

    Uttam Kumar Birth Centenary: উত্তমকুমারের জন্মশতবর্ষে চার দিনের বর্ণাঢ্য উদ্‌যাপন, সম্মান জানানো হবে বরেণ্য শিল্পীদের

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: মহানায়ক উত্তমকুমারের জন্মশতবর্ষ (Uttam Kumar Birth Centenary) উপলক্ষে চার দিন ধরে বিশেষ উদ্‌যাপনের আয়োজন করা হচ্ছে। আজ, ৩ সেপ্টেম্বর থেকে ৬ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত নন্দনকে (Nandan) কেন্দ্র করে চলবে এই বিশেষ অনুষ্ঠান। রাজ্য সরকারের তথ্য ও সংস্কৃতি বিভাগ, আইএনসিএ এবং টালিগঞ্জের চলচ্চিত্র শিল্পের যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে উঠে আসবে মহানায়কের দীর্ঘ অভিনয়জীবন এবং বাংলা চলচ্চিত্রে তাঁর অনন্য অবদানের নানা দিক।

    কী বলছেন প্রসেনজিৎ (Uttam Kumar Birth Centenary)

    নন্দনে আয়োজিত সাংবাদিক বৈঠকে অভিনেতা প্রসেনজিৎ চট্টোপাধ্যায় বলেন, “শুধু স্মৃতিচারণ নয়, আগামী প্রজন্মের কাছেও উত্তমকুমারের কাজ ও অবদানকে পৌঁছে দেওয়াই এই আয়োজনের অন্যতম উদ্দেশ্য।” তাঁর কথায়, আগামী একশো বছর পরেও যেন নতুন প্রজন্ম একই আবেগ ও শ্রদ্ধার সঙ্গে মহানায়কের জন্মবার্ষিকী উদ্‌যাপন করতে পারে, সেই লক্ষ্যেই এই উদ্যোগ।

    রাজ্যের তথ্য ও সংস্কৃতি দফতরের প্রতিমন্ত্রী পূর্ণিমা চক্রবর্তী বলেন, “উত্তমকুমার কেবল একজন অভিনেতা ছিলেন না, তিনি ছিলেন একটি সময়ের প্রতীক, বাংলা চলচ্চিত্রের সবচেয়ে শক্তিশালী ব্র্যান্ড এবং আবেগের অন্য নাম।” মুখ্যমন্ত্রী এবং রাজ্যের তথ্য ও সংস্কৃতি দফতরের উদ্যোগেই এই চার দিনের বিশেষ উদ্‌যাপনের আয়োজন করা হচ্ছে বলে জানান তিনি।

    মহানায়কের সহ-অভিনেতাদের বিশেষ সম্মাননা

    চার দিনের এই আয়োজনের অন্যতম প্রধান আকর্ষণ মহানায়ক উত্তমকুমারের সঙ্গে অভিনয় করা বরেণ্য শিল্পীদের বিশেষ সম্মাননা। এই তালিকায় রয়েছেন মিঠুন চক্রবর্তী, সাবিত্রী চট্টোপাধ্যায়, মাধবী মুখোপাধ্যায়, লিলি চক্রবর্তী, বিশ্বজিৎ চট্টোপাধ্যায়, দীপঙ্কর দে, রঞ্জিত মল্লিক, কল্যাণী মণ্ডল, প্রভাত রায়, রত্না ঘোষাল এবং বীরেশ চট্টোপাধ্যায়ের মতো বিশিষ্ট শিল্পীরা। উত্তমকুমার অভিনীত একাধিক জনপ্রিয় ছবিও প্রদর্শিত হবে এই আয়োজনের অংশ হিসেবে। প্রসেনজিৎ জানান, নন্দনের পাশাপাশি রাধা স্টুডিওতেও মহানায়ক অভিনীত নির্বাচিত কয়েকটি ছবি দেখানো হবে।

    শিশির মঞ্চে বিশেষ আলোচনা

    আগামী ৫ সেপ্টেম্বর শিশির মঞ্চে অনুষ্ঠিত হবে দু’টি বিশেষ আলোচনা সভা। একটি আলোচনার বিষয় ‘নায়িকাদের চোখে উত্তমকুমার’। অন্য আলোচনায় পরিচালকদের অংশগ্রহণে উঠে আসবে ‘অভিনেতা উত্তমকুমার’কে ঘিরে নানা স্মৃতি ও বিশ্লেষণ। উত্তমকুমারের অভিনয়, ব্যক্তিত্ব, সহ-অভিনেতাদের সঙ্গে তাঁর সম্পর্ক এবং বাংলা চলচ্চিত্রে তাঁর প্রভাব—এই সমস্ত বিষয়ই আলোচনায় উঠে আসবে বলে জানা গিয়েছে।

    সত্যজিৎ রায়ের বক্তৃতার রেকর্ডিং ঘিরে তথ্যচিত্র

    মহানায়ককে স্মরণ করে আয়োজিত এক সভায় সত্যজিৎ রায়ের দেওয়া বক্তৃতার রেকর্ডিংকে কেন্দ্র করে সন্দীপ রায়ের তৈরি একটি তথ্যচিত্রও প্রদর্শনের পরিকল্পনা রয়েছে। প্রসেনজিৎ জানান, “জন্মশতবর্ষ উদ্‌যাপনের প্রথম ও শেষ দিনে এই তথ্যচিত্রটি প্রদর্শনের চেষ্টা করা হবে।”

    স্মৃতিচারণে যুক্ত হবেন বর্ষীয়ান সাংবাদিকরাও

    উত্তমকুমারের কর্মজীবনের বহু গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তের প্রত্যক্ষ সাক্ষী ছিলেন তৎকালীন সাংবাদিকদের একাংশ। তাঁদেরও এই বিশেষ উদ্‌যাপনের সঙ্গে যুক্ত করার পরিকল্পনা রয়েছে (Uttam Kumar Birth Centenary)। অভিনেতা-বিধায়ক রুদ্রনীল ঘোষ জানান, এমন বহু সাংবাদিক রয়েছেন, যাঁরা উত্তমকুমারকে কাছ থেকে দেখেছেন, চিনেছেন এবং তাঁর কর্মজীবনের নানা ঘটনার সাক্ষী থেকেছেন। তাঁদের অভিজ্ঞতাও এই অনুষ্ঠানের মাধ্যমে তুলে ধরার পরিকল্পনা রয়েছে।

    রবীন্দ্র সদনে মহানায়কের ছবির গানে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান

    উদ্‌যাপনের শেষ দিন, আগামী ৬ সেপ্টেম্বর রবীন্দ্র সদনে আয়োজন করা হয়েছে বিশেষ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের। বাংলা চলচ্চিত্র ও সঙ্গীত জগতের শিল্পীরা মহানায়ক উত্তমকুমারের জনপ্রিয় ছবির গান পরিবেশন করবেন। ফলে তাঁর অভিনয়জীবনের পাশাপাশি বাংলা চলচ্চিত্রের সঙ্গীতজগতেও তাঁর প্রভাব ও জনপ্রিয়তার স্মৃতিচারণ হবে এই অনুষ্ঠানে। মুখ্যমন্ত্রীর উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছেন অভিনেতা জিৎ। তাঁর কথায়, “আমাদেরই জগতের একজনকে এভাবে সম্মান জানানো হচ্ছে দেখে খুব ভালো লাগছে। আগামী প্রজন্মকে এই উদ্যোগ দারুণভাবে অনুপ্রাণিত করবে।”

    বর্ণাঢ্য আয়োজন

    অভিনেতা যিশু সেনগুপ্ত বলেন, “খুব অল্প সময়ের নোটিশে হলেও মহানায়ককে ঘিরে এই বিশেষ আয়োজনকে সফল করতে ইন্ডাস্ট্রির সকলেই একজোট হয়েছেন। এই উদযাপন কোনও নির্দিষ্ট ব্যক্তি বা গোষ্ঠীর নয়, বরং গোটা বাংলা চলচ্চিত্র জগতের।”

    ৩ থেকে ৬ সেপ্টেম্বর মহানায়ক উত্তমকুমারের জন্মশতবর্ষ উপলক্ষে নন্দন-সহ কলকাতার বিভিন্ন প্রেক্ষাগৃহে যে বর্ণাঢ্য আয়োজন হতে চলেছে, তা বাংলা চলচ্চিত্রের ইতিহাসে বিশেষ তাৎপর্য বহন করবে বলেই (Nandan) মনে করছে টলিপাড়া। শুধু মহানায়কের স্মৃতিচারণ নয়, তাঁর শিল্পসৃষ্টিকে আগামী প্রজন্মের কাছে পৌঁছে দেওয়ার ক্ষেত্রেও এই আয়োজন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা (Uttam Kumar Birth Centenary) নেবে বলেই মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

     

  • Padma Awards: রাষ্ট্রপতি ভবনে জাঁকজমকপূর্ণ অনুষ্ঠানে ৬৬ পদ্ম সম্মান প্রদান, মরণোত্তর পদ্মবিভূষণে সম্মানিত ধর্মেন্দ্র

    Padma Awards: রাষ্ট্রপতি ভবনে জাঁকজমকপূর্ণ অনুষ্ঠানে ৬৬ পদ্ম সম্মান প্রদান, মরণোত্তর পদ্মবিভূষণে সম্মানিত ধর্মেন্দ্র

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: পদ্ম পুরস্কার’ (Padma Awards) প্রদান ঘিরে সোমবার নয়াদিল্লির রাষ্ট্রপতি ভবনে (Rashtrapati Bhawan) ছিল সাজ-সাজ রব। ২৫ মে, পড়ন্ত বিকেলে দিল্লির রাইসিনা হিলসে রাষ্ট্রপতি ভবনের প্রথম ‘সিভিল ইনভেস্টিচার সেরিমনি’-তে রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মুর (President Draupadi Murmu) হাত থেকে ‘পদ্মশ্রী’ (Padmashri) সম্মান গ্রহণ করলেন দেশের কৃতীরা। চলতি বছরে ভারত সরকারের তরফে মোট ১৩১টি পদ্ম সম্মানের (Padma Awards) কথা ঘোষণা করা হয়েছে। যার মধ্যে রয়েছে ৫টি পদ্মবিভূষণ, ১৩টি পদ্মভূষণ এবং ১১৩টি পদ্মশ্রী সম্মান। সোমবারের অনুষ্ঠানে ২টি পদ্মবিভূষণ, ৬টি পদ্মভূষণ এবং ৫৮টি পদ্মশ্রী প্রদান করা হয়। বাকি সম্মানগুলি পরবর্তী পর্বে প্রদান করা হবে বলে সূত্রের খবর। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি (PM Narendra Modi) সামাজিক মাধ্যমে পদ্ম সম্মানপ্রাপ্তদের অভিনন্দন জানিয়ে বলেন, “এই অসাধারণ ব্যক্তিত্বদের জীবনযাত্রা ও কাজ দেশের সম্মিলিত অগ্রযাত্রাকে সমৃদ্ধ করেছে।”

    বন্দেমাতরম-এর সুরে সূচনা

    কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ-ও পুরস্কারপ্রাপকদের শুভেচ্ছা জানান এবং তাঁদের সম্মানে এক নৈশভোজের আয়োজন করেন। তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী মোদির নেতৃত্বে পদ্ম পুরস্কার এখন সমাজের তৃণমূল স্তরের প্রকৃত পরিবর্তনকারীদের সম্মান জানানোর এক গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠান হয়ে উঠেছে। অনুষ্ঠানের সূচনা হয় ‘বন্দে মাতরম’-এর বাদ্যযন্ত্র পরিবেশনার মাধ্যমে এবং সমাপ্তি ঘটে জাতীয় সঙ্গীত ‘জন গণ মন’-এর সঙ্গে। অনুষ্ঠানে ভারতীয় শাস্ত্রীয় সংগীতে অসামান্য অবদানের জন্য প্রখ্যাত বেহালাবাদক এন রাজম-কে পদ্মবিভূষণে সম্মানিত করা হয়। ‘গায়কি অঙ্গ’ শৈলীর মাধ্যমে বেহালায় কণ্ঠসংগীতের আবহ ফুটিয়ে তোলার জন্য তিনি বিশেষভাবে পরিচিত।

    মরণোত্তর ‘পদ্মবিভূষণ’ ধর্মেন্দ্রকে

    গত বছর প্রয়াত হয়েছেন বলিউডের ‘হি-ম্যান’ ধর্মেন্দ্র (Dharmendra)। তাঁর অভিনয় জীবনের অনন্য অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ ভারত সরকার তাঁকে মরণোত্তর ‘পদ্মবিভূষণ’ সম্মানে ভূষিত করেছে। সোমবার (২৫ মে) রাষ্ট্রপতি ভবনে আয়োজিত এক বর্ণাঢ্য অনুষ্ঠানে রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মুর (Draupadi Murmu) হাত থেকে স্বামীর এই মরণোত্তর সম্মান গ্রহণ করলেন ধর্মেন্দ্রর স্ত্রী অভিনেত্রী হেমা মালিনী (Hema Malini)। এদিন হালকা গোলাপি রঙের শাড়িতে অত্যন্ত স্নিগ্ধ বেশে অনুষ্ঠানে হাজির হন হেমা। সাথে ছিলেন তাঁদের ছোট মেয়ে অহনা এবং জামাতা। পুরস্কার গ্রহণের সেই মাহেন্দ্রক্ষণে আবেগ ধরে রাখতে পারেননি অহনা, দর্শকাসনে বসে তাঁকে অশ্রুসজল চোখে বাবার জন্য গর্বিত হতে দেখা যায়। হেমা মালিনী জানান, ২৫ মে দিনটি তাঁদের পরিবারের কাছে অত্যন্ত আবেগের এবং গুরুত্বপূর্ণ। এদিনের অনুষ্ঠানের পর হেমা মালিনী জানান, ধর্মেন্দ্রর দুই পুত্র সানি এবং ববি— দুজনের সম্মতি ও মত নিয়েই তিনি আজ এই পুরস্কার গ্রহণ করতে এসেছেন।

    কতজন পদ্ম সম্মান পেলেন

    এদিন পদ্মভূষণে সম্মানিত হন প্রাক্তন উত্তরাখণ্ড মুখ্যমন্ত্রী ভগবন্ত সিং কোশিয়ারি, ‘অবধান’ শিল্পরীতির পুনর্জাগরণকারী আর গনেশ, কোটাক মাহীন্দ্রা ব্যাঙ্ক-এর প্রতিষ্ঠাতা উদয় কোটাক এবং বিশিষ্ট গ্যাস্ট্রো এন্টারোলজিস্ট কালিপত্তি রামাস্বামী পালানিস্বামী। মরণোত্তর পদ্মভূষণ পান বিজ্ঞাপন জগতের পরিচিত মুখ পীযুষ পান্ডে এবং প্রাক্তন সাংসদ বিজয় কুমার মালহোত্রা। পদ্মশ্রী প্রাপকদের তালিকায় ছিলেন প্রাক্তন সিআরপিএফ ডিজি কে বিজয় কুমার। এছাড়াও লোকসংগীত, সংস্কৃতিচর্চা, পরিবেশ সংরক্ষণ, সমাজসেবা ও চিকিৎসাক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ অবদানের জন্য একাধিক বিশিষ্ট ব্যক্তিত্বকে পদ্মশ্রী সম্মানে ভূষিত করা হয়। তাঁদের মধ্যে ছিলেন লোকশিল্পী তাগা রাম ভীল, কাঁথা শিল্পী তুপ্তি মুখোপাধ্যায় এবং সমাজকর্মী জনার্দন বাপুরাও বোথে।

    প্রসেনজিতের হাতে পদ্মশ্রী

    অবশেষে প্রতীক্ষার অবসান। সোমবার রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মুর হাত থেকে ‘পদ্মশ্রী’ (Padmashri) সম্মান গ্রহণ করলেন টলিউডের সুপারস্টার প্রসেনজিৎ চট্টোপাধ্যায় (Prasenjit Chatterjee)। বাংলা চলচ্চিত্রের ইতিহাসে প্রায় চার দশকের অসামান্য অবদান এবং দীর্ঘ লড়াইয়ের স্বীকৃতি হিসেবে এই সম্মান তাঁকে প্রদান করা হলো। এদিন রাষ্ট্রপতি ভবন (Rashtrapati Bhawan) ছিল দেশের বিশিষ্টজনদের মিলনক্ষেত্র। প্রসেনজিৎ ছাড়াও এদিন পদ্ম সম্মানের তালিকায় থাকা ১১ জন বাঙালিকে সম্মানিত করা হয়েছে। বিনোদন জগতের অন্যান্য ব্যক্তিত্বদের মধ্যে গায়িকা অলকা ইয়াগনিক এবং মালয়ালম মেগাস্টার মামুত্তিও তাঁদের প্রাপ্ত সম্মান গ্রহণ করেন। প্রসঙ্গত, ১৯৬৮ সালে ‘ছোট্ট জিজ্ঞাসা’ ছবিতে শিশুশিল্পী হিসেবে যাত্রা শুরু করে ‘অমরসঙ্গী’-র হাত ধরে বাংলা ছবির অবিসংবাদিত নায়ক হয়ে ওঠা প্রসেনজিতের এই দীর্ঘ পথচলা রূপকথার মতো। বাংলা ছবির দুঃসময়ে অভিভাবকের মতো দায়িত্ব কাঁধে তুলে নিয়ে সাড়ে তিনশোরও বেশি ছবিতে কাজ করেছেন তিনি। বাংলার সিনেমাপ্রেমীদের কাছে এই মুহূর্তটি তাই অত্যন্ত গর্বের ও আবেগের।

    হরমনপ্রীতের সম্মান গ্রহণ, এলেন না রোহিত

    এদিন রাষ্ট্রপতির হাত থেকে পদ্মশ্রী সম্মান গ্রহণ করেন হরমনপ্রীত কৌর। তসর রঙের চুড়িদারে সম্মান গ্রহণ করেন হরমনপ্রীত। গতবছর দেশের মাটিতে প্রথমবার মহিলাদের ক্রিকেট বিশ্বকাপ জেতে ভারত। উইমেন ইন ব্লুর অধিনায়ক ছিলেন হরমনপ্রীত। এদিন উপস্থিত ছিলেন না ভারতীয় দলের প্রাক্তন অধিনায়ক রোহিত শর্মা। ২০২৪ টি-২০ বিশ্বকাপজয়ী অধিনায়ক রোহিত। গতবছর তাঁর নেতৃত্বে ভারত চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফিও জেতে। রবিবার মুম্বইতে আইপিএলে খেলেছেন রোহিত। জানা গিয়েছে, পদ্ম সম্মান বিভিন্ন কিস্তিতে প্রাপকদের হাতে তুলে দেওয়া হয়। অর্থাৎ, সকল প্রাপকদের একইদিনে দেওয়া হয় না। বিভিন্ন দিনে ধাপে ধাপে অনুষ্ঠানের মাধ্যমে তা দেওয়া হয়। সেই তালিকা তৈরি করে রাষ্ট্রপতি ভবন। এদিনের তালিকায় রোহিতের নাম ছিল না। ফের যেদিন বাকি প্রাপকদের এই সম্মান তুলে দেওয়া হবে, সেদিন উপস্থিত থাকবেন রোহিত। তবে, সেই তারিখের ঘোষণা রাষ্ট্রপতি ভবনের তরফে এখনও করা হয়নি।

    ৯-জন ক্রীড়াবিদকে সম্মান

    রোহিত ও হরমনপ্রীত ছাড়া এ বছর আরও ৯ জন ক্রীড়াবিদ এই সম্মান পাচ্ছেন। প্যারা অ্যাথলিট প্রবীণ কুমার ও হকি কোচ বলদেব সিং এদিন পদ্মশ্রী সম্মান গ্রহণ করেন। এছাড়া ২০২৬ সালের একমাত্র ক্রীড়াবিদ হিসেবে দেশের তৃতীয় সর্বোচ্চ সম্মান পদ্মভূষণ পাচ্ছেন বিজয় অমৃতরাজ। ১৯৮৩ সালে তিনি পদ্মশ্রী সম্মানে ভূষিত হয়েছিলেন। তারও আগে পেয়েছিলেন অর্জুন পুরস্কার। ভারতীয় ক্রীড়ায় অসামান্য অবদানের জন্য় এবার পদ্মভূষণ পাচ্ছেন তিনি। এর সঙ্গে ভারতীয় মহিলা হকি দলের গোলকিপার সবিতা পুনিয়া পাচ্ছেন পদ্মশ্রী। মরণোত্তর পদ্মশ্রী পাচ্ছেন প্রাক্তন কুস্তি কোচ ভ্লাদিমির মেস্তভিরিশভি। জর্জিয়ার নাগরিক হলেও সুশীল কুমার, যোগেশ্বর দত্ত এবং বজরং পুনিয়াদের মতো অলিম্পিক পদকজয়ীদের কোচিং করিয়েছেন মেস্তভিরিশভি। এছাড়াও পদ্মশ্রী পাচ্ছেন কে পাজানিভেল, তামিলনাড়ুর ঐতিহ্যবাহী সিলামবাম মার্শাল আর্টে অনবদ্য অবদানের জন্য। বুন্দেলখণ্ডের মার্শাল আর্ট বুন্দেলি ওয়ারে অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ পদ্মশ্রী পাচ্ছেন ভগবানদাস রায়কর।

    পদ্মশ্রী সম্মান গ্রহণের আগে সাষ্টাঙ্গে প্রণাম

    তিনি মার্শাল আর্টের পাঁচ হাজার বছরের পুরনো ‘সিলামবাম’-এর সাধক। শুধু ভারতে নয়, দেশের গণ্ডি ছাড়িয়ে গোটা বিশ্বে এই খেলার জনপ্রিয়তা ছড়িয়ে দিয়েছেন । যে কারণে তাঁকে দেওয়া হল পদ্মশ্রী সম্মান। পুদুচেরির কে পাজানিভেল (K Pajanivel)। সোমবার রাষ্ট্রপতি ভবনে পদ্মশ্রী পুরস্কার নিতে গিয়েছিলেন ট্র্যাডিশনাল দক্ষিণ ভারতীয় পোশাকে। সাদা ধুতি ও হাফশার্ট। ঘোষক তাঁর নাম ঘোষণা করতেই পাজানিভেল কার্পেটে উঠে শুয়ে পড়ে সাষ্টাঙ্গে প্রণাম করেন দর্শকাসনের সামনের সারিতে বসে থাকা বিশিষ্ট অতিথিদের। যাঁদের মধ্যে ছিলেন প্রধানমন্ত্রী, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীরাও। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির পাশেই বসেছিলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। পাজানিভেল সাষ্টাঙ্গে প্রণাম করতেই নিজের আসন ছেড়ে উঠে এসে তাঁকে তুলে ধরেন মোদি। প্রতিনমস্কার করেন। পুরস্কার গ্রহণের আগে রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মুকে পায়ে হাত দিয়ে প্রণাম করেন তিনি। পাজানিভেলের ভিডিও সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল। তাঁর প্রশংসায় পঞ্চমুখ সকলে।

LinkedIn
Share