Tag: ECI

ECI

  • West Bengal Elections 2026: মমতার ‘অপছন্দের’ আইপিএস জয়রামনকে উত্তরবঙ্গে বিশেষ দায়িত্ব দিল নির্বাচন কমিশন!

    West Bengal Elections 2026: মমতার ‘অপছন্দের’ আইপিএস জয়রামনকে উত্তরবঙ্গে বিশেষ দায়িত্ব দিল নির্বাচন কমিশন!

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: এসজেডিএ দুর্নীতি কাণ্ডে কিরণ কুমার গোদালাকে গ্রেফতার করেছিলেন তিনি। সেটা ২০১৩ সাল। ফলস্বরূপ, ‘মমতার রোষে’ ১২ বছর মেলেনি গুরুত্বপূর্ণ পোস্টিং! এবার, সেই জয়রামনকেই ভোটের আগে ফিরিয়ে এনে উত্তরবঙ্গে বিশেষ দায়িত্ব দিল নির্বাচন কমিশন। বিরোধীদের অভিযোগ, প্রতিহিংসাপরায়ণ মুখ্যমন্ত্রীর ব্যক্তিগত আক্রোশের শিকার রাজ্যের এই উচ্চপদস্থ আইপিএস। তাঁদের দাবি, মমতা একনায়কতান্ত্রিক সিদ্ধান্তে যোগ্য ব্যক্তিকে দীর্ঘদিন কোণায় পাঠিয়ে দিয়েছিলেন। কাজ এবং সম্মান— দুই থেকে জয়রামনকে বঞ্চিত করেছেন। এবার এই আইপিএসকে বিশেষ দায়িত্ব এবং কাজে যুক্ত করেছে নির্বাচন কমিশন। আসন্ন নির্বাচনকে (West Bengal Elections 2026) সামনে রেখে প্রশাসনিক স্তরে বড়সড় রদবদল করছে নির্বাচন কমিশন। উত্তরবঙ্গের এডিজি (ADG) পদে নিয়োগ করা হয়েছে আইপিএস কে জয়রামনকে (K Jayaraman)। বিজেপির অভিযোগ, মমতা সরকারের দুর্নীতিকাণ্ডে শাসক দলের নেতাদের বিরুদ্ধে পদক্ষেপ গ্রহণ করেছিলেন জয়রামন। আর তাই রোষানলে পড়ে বঞ্চনার শিকার হন। তবে কমিশনের এই নিয়োগের পরই তাঁর পুরনো একটি বিতর্কিত ঘটনা নিয়ে প্রশাসনিক ও রাজনৈতিক মহলে নতুন করে শোরগোলে ফেলে দিয়েছে।

    গোদালা কিরণ কুমারকে গ্রেফতার করেছিলেন (West Bengal Elections 2026)

    সূত্রে জানা গিয়েছে, ২০১৩ সালে শিলিগুড়ির পুলিশ কমিশনার থাকাকালীন তৎকালীন জেলাশাসক (DM)-কে গ্রেফতার করে দেশজুড়ে শোরগোল ফেলে দিয়েছিলেন জয়রামন। সেই ঘটনার জেরে তাঁকে দীর্ঘ সময় ধরে অপেক্ষাকৃত কম গুরুত্বপূর্ণ পদে থাকতে হয়েছিল। বিরোধীদের অভিযোগ, অভিযুক্ত জেলাশাসক বিরাট দুর্নীতির সঙ্গে যুক্ত হয়ে শাসক দলকে সুবিধা পাইয়ে দিতেন। আর তাই ২০১৩ সালের ৩০ নভেম্বর তৎকালীন শিলিগুড়ির পুলিশ কমিশনারকে জয়রামন এই মামলার প্রধান অভিযুক্ত হিসেবে আইএএস অফিসার গোদালা কিরণ কুমারকে গ্রেফতার করেন।  উল্লেখ্য, দুর্নীতি যখন সংঘটিত হয়েছিল, তখন গোদালা কিরণ কুমার এসজেডিএ-র গুরুত্বপূর্ণ প্রশাসনিক দায়িত্বে ছিলেন। তবে, গ্রেফতারের সময় তিনি মালদার জেলাশাসক (DM) পদে কর্মরত ছিলেন। বিরোধীদের অভিযোগ, প্রশাসক মমতা নিজের অনুগতদের স্বজন পোষণ করেন আর মতের অমিল হলেই খাড়ার কোপ দেন। কে জয়রামন (K Jayaraman) শেষবার আইনশৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণের মতো গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব সামলেছেন এই উত্তরবঙ্গেই৷ ২০১৩ সালে তিনি ছিলেন শিলিগুড়ির পুলিশ কমিশনার৷ ওই পদে থাকাকালীনই তাঁকে সরিয়ে দিয়ে কম্পালসারি ওয়েটিং পাঠিয়ে দেওয়া হয়েছিল। তার পর দীর্ঘ সাড়ে বছর তাঁকে আইনশৃঙ্খলার গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব দেওয়া হয়নি। সময়ের সঙ্গে পদন্নোতি হয়ে বর্তমানে এডিজি পদমর্যাদার অফিসার হলেও, অন্তরালেই থেকে যান জয়রামন। তাঁকে সেখান থেকে বের করে এনে কমিশন এবার নির্বাচনে (West Bengal Elections 2026) গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব দিয়েছে।

    নবান্নের সঙ্গে প্রকার টানাপোড়েন ছিল

    একজন কর্মরত জেলাশাসককে গ্রেফতার করার এই ঘটনাটি প্রশাসনিক ইতিহাসে এক বিরল দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছিল। তবে তৎকালীন সময়ে উচ্চপদস্থ আধিকারিককে গ্রেফতারের পদ্ধতিগত প্রক্রিয়া নিয়ে নবান্নের সঙ্গে পুলিশের এক প্রকার টানাপোড়েন তৈরি হয়। এই পদক্ষেপের পর কে জয়রামনকে তাঁর দায়িত্ব থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছিল, যা নিয়ে প্রশাসনিক ও রাজনৈতিক মহলে দীর্ঘকাল চর্চা চলেছিল। বিগত কয়েক বছর ধরে পুনরায় মূল ধারার পুলিশ বিভাগে ফিরে এসেছেন জয়রামন। নির্বাচন কমিশন তাঁর অভিজ্ঞতা ও দক্ষতা বিবেচনা করেই ভোটের মুখে উত্তরবঙ্গের মতো গুরুত্বপূর্ণ জোনের দায়িত্ব তাঁর কাঁধে তুলে দিয়েছে। নির্বাচনের সময় স্পর্শকাতর উত্তরবঙ্গের আইনশৃঙ্খলা বজায় রাখা এবং নিরপেক্ষতা বজায় রাখাই এখন এই পদস্থ কর্মকর্তার প্রধান চ্যালেঞ্জ। তবে হিংসা মুক্ত নির্বাচন করতে কমিশন এই সক্রিয় অফিসারকে ময়দানে (West Bengal Elections 2026) নামিয়েছে।

    কেন এই নিয়োগ তাৎপর্যপূর্ণ?

    বিগত ১২ বছর ধরে তিনি মূলত অপেক্ষাকৃত কম আলোচিত দায়িত্ব সামলেছেন। ফলে ভোটের মতো সংবেদনশীল সময়ে উত্তরবঙ্গের এডিজি (ADG) হিসেবে তাঁর এই নিয়োগ প্রশাসনিক মহলে বিশেষ তাৎপর্য বহন করছে। নির্বাচনে হিংসা এবং অশান্তি প্রতিরোধ এখন বড় চ্যালেঞ্জ কমিশনের কাছে। লোকসভা নির্বাচনের পর উত্তরবঙ্গের জেলাগুলোতে আইনশৃঙ্খলা নিয়ে ব্যাপক প্রশ্ন উঠেছিল। ফলে আগামী বিধানসভা নির্বাচন অবাধ ও শান্তিপূর্ণ করা এবং ভোটারদের ভোট নিশ্চিত করাই এখন তাঁর প্রধান লক্ষ্য। কমিশনের আস্থা দীর্ঘ বিরতি সত্ত্বেও নির্বাচন কমিশন যে তাঁর ওপর এই গুরুদায়িত্ব অর্পণ করেছে, তা জয়রামনের (K Jayaraman) অভিজ্ঞতা ও দৃঢ়তার ওপর আস্থারই বহিঃপ্রকাশ বলে মনে করা হচ্ছে। একজন আইপিএস অফিসার হিসেবে কে জয়রামন তাঁর সোজাসাপ্টা ও কড়া মেজাজের জন্য পরিচিত। এক সময় রাজ্য সরকারের রোষানলে পড়লেও, কমিশনের এই সিদ্ধান্ত প্রমাণ করে যে আসন্ন ভোটের লড়াইয়ে অভিজ্ঞ ও কঠোর কর্মকর্তাদের উপরেই আস্থা রাখতে চাইছে নির্বাচন কমিশন (West Bengal Elections 2026)।

  • West Bengal Elections 2026: বঙ্গজয়ের লক্ষ্যে বিজেপি, প্রচারে ঝড় তুলতে রামনবমীর পরেই রাজ্যে আসছেন মোদি-শাহ

    West Bengal Elections 2026: বঙ্গজয়ের লক্ষ্যে বিজেপি, প্রচারে ঝড় তুলতে রামনবমীর পরেই রাজ্যে আসছেন মোদি-শাহ

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনকে পাখির চোখ করে পশ্চিমবঙ্গজুড়ে (West Bengal Elections 2026) ব্যাপক প্রচারে নামছে ভারতীয় জনতা পার্টি। দলীয় সূত্রে খবর, রাজ্যে পরিবর্তনের ডাক দিয়ে কোমর বেঁধে ময়দানে নামছেন খোদ প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি এবং কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। জানা গিয়েছে, রাম নবমীর পর রাজ্যজুড়ে রোড শো এবং জনসভা করবেন প্রধানমন্ত্রী (PM Modi) এবং স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। তবে রাজ্যের ভোট প্রচারে শুধু মোদি নন সেই সঙ্গে সভা করবেন অমিত শাহ, নিতিন নবীন, জেপি নাড্ডা এবং যোগী আদিত্যনাথের মতো জনপ্রিয় রাজনৈতিক নেতারা।

    প্রধানমন্ত্রীর মেগা ক্যাম্পেইন (West Bengal Elections 2026)

    ভোটগ্রহণের আগে রাজ্যে মোট ১৪টি জনসভা ও রোড-শো করার কথা রয়েছে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির (West Bengal Elections 2026)। উত্তর থেকে দক্ষিণ—রাজ্যের প্রতিটি প্রান্তে পৌঁছানোই তাঁর এই ঝটিকা সফরের লক্ষ্য। পশ্চিমবঙ্গে দুই দফায় নির্বাচন হবে। ফলাফল ঘোষণা হবে ৪ মে।

    অমিত শাহের রণকৌশল

    পিছিয়ে নেই কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীও। সাংগঠনিক দক্ষতা ও জনসভায় শান দিতে তিনিও রাজ্যে একাধিক কর্মসূচি পালন করবেন। বুথ স্তরের কর্মীদের চাঙ্গা করতে তাঁর উপস্থিতি অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছে রাজনৈতিক মহল। প্রবীণ বিজেপি নেতা মোট ৮টি জনসভা করবেন। সেই সঙ্গে ৭টি জনসভা করবেন সর্ব ভারতীয় সভাপতি নিতিন নবীন। ভোটের প্রচারে অংশ গ্রহণ করবেন জেপি নাড্ডা। তিনি মোট ৬টি জনসভা করবেন। উত্তরপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথ রোড শো করবেন ৪টি। সেই সঙ্গে রাজ্যজুড়ে প্রচার চালাবেন বিশিষ্ট অভিনেতা মিঠুন চক্রবর্তী। মোট ১০টি জনসভা এবং রোড শো করবেন।  মোদি-শাহ ছাড়াও উত্তরপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথকে নিয়ে ব্যাপক উন্মাদনা দেখা দিয়েছে কর্মী সমর্থকদের মধ্যে।

    সুর বেঁধে দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী

    গত কয়েকদিনের ব্যবধানে মোদি (PM Modi)-শাহের এই ঘনঘন সফর স্পষ্ট করে দিচ্ছে যে, বাংলার নির্বাচনে (West Bengal Elections 2026) এক ইঞ্চি জমিও ছাড়তে নারাজ বিজেপি নেতৃত্ব। বিশেষ করে গত ১৪ মার্চ ব্রিগেডের সমাবেশ থেকে প্রধানমন্ত্রী যে সুর বেঁধে দিয়েছেন, তাকেই পাথেয় করে আসন্ন নির্বাচনগুলোতে ঝড় তুলতে চাইছে গেরুয়া শিবির। রাজ্যের হাই-ভোল্টেজ এই প্রচারে গত ১৫ বছরের তৃণমূলের দুর্নীতি, নারী নির্যাতন, তোষণের রাজনীতিকেই হাতিয়ার করে ময়দানে জোর কদমে প্রচার চালাচ্ছে বিজেপি। তৃণমূলের কাটমানি বনাম বিজেপির আমজনতার অধিকার রক্ষার লড়াই এখন কোন দিকে মোড় নেয়, এখন সেটাই দেখার।

  • WB Elections 2026: কমিশনের মাস্টারস্ট্রোক! বাংলার অপসারিত আইএএস-আইপিএসদের উপরেই ভিনরাজ্যে ভোটের দায়িত্ব

    WB Elections 2026: কমিশনের মাস্টারস্ট্রোক! বাংলার অপসারিত আইএএস-আইপিএসদের উপরেই ভিনরাজ্যে ভোটের দায়িত্ব

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: পশ্চিমবঙ্গে যে একাধিক আইএএস ও আইপিএস অফিসারকে তাঁদের পদ থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে, এবার তাঁদেরই বেশকয়েকজনকে নির্বাচনী (WB Elections 2026) দায়িত্ব সামলাতে ভিনরাজ্যে পাঠানো হল৷ কমিশনের এই সিদ্ধান্ত ঘিরে প্রশাসনিক মহলে জোর চর্চা শুরু হয়েছে। কমিশনের তরফে জানানো হয়েছে, তাঁদের অবিলম্বে নতুন দায়িত্বস্থলে যোগ দিতে হবে এবং নির্বাচনী প্রক্রিয়া সুষ্ঠুভাবে পরিচালনার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিতে হবে। এঁদের প্রত্যেককেই সংশ্লিষ্ট রাজ্যে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উপর নজর রাখা, কেন্দ্রীয় বাহিনীর সঙ্গে সমন্বয় করা এবং নির্বাচনী বিধি কার্যকর করার দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। বিরোধী শিবিরের দাবি, নির্বাচন কমিশনের এই পদক্ষেপ প্রমাণ করছে যে কমিশন অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন করাতে বদ্ধপরিকর।

    তামিলনাড়ুতে ভোটের কাজে পাঠানো হল

    আসন্ন বিধানসভা ভোটে (West Bengal Election 2026) নির্বাচন কমিশন (ECI Gyanesh Kumar) পুরনো সব ছক ভেঙে দেওয়ার পথে হাঁটছে। প্রশাসনিক রদবদল যে দিকে এগোচ্ছে তাতে এই বিষয়টি আরও স্পষ্ট হচ্ছে। ভোটের নির্ঘণ্ট ঘোষণার পর থেকেই পুলিশ ও প্রশাসনের শীর্ষ স্তরে একাধিক রদবদল হয়েছে। শুরুটা হয়েছিল মুখ্যসচিব এবং স্বরাষ্ট্রসচিবকে দিয়ে। মুখ্যসচিব নন্দিনী চক্রবর্তীকে সরিয়ে তাঁর জায়গায় আনা হয় দুষ্মন্ত নারিয়াল। এর পাশাপাশি স্বরাষ্ট্রসচিব জগদীশ প্রসাদ মিনাকে সরিয়ে তাঁর জায়গায় আনা হয় সঙ্ঘমিত্রা ঘোষকে। পুলিশের শীর্ষ স্তরেও একাধিক রদবদল হয়েছে। কলকাতার পুলিশ কমিশনার সুপ্রতিম সরকারকেও সরিয়ে দেওয়া হয়েছে। রাজ্য পুলিশের ডিজি, রাজ্যের এডিজি আইনশৃঙ্খলা-সহ পুলিশের একাধিক শীর্ষকর্তাকেও সরানো হয়েছে ভোটের আগে।

    নবান্নর পোস্টিং খারিজ করে আইএএস-দের ভিনরাজ্যে পর্যবেক্ষক 

    বুধবার অর্ধেকের বেশি জেলার ডিএম বদল করেছিল কমিশন। নিয়ম অনুযায়ী, তাঁদের নতুন পোস্টিং দিয়েছিল নবান্ন। কিন্তু সেই পোস্টিংয়ের পর কমিশন ৬ জন আইএএস অফিসারকে বাইরের রাজ্যে অবজার্ভার হিসেবে পাঠিয়ে দিল। এর আগে আইপিএস-দের ক্ষেত্রে যা হয়েছিল, আইএএস বা ডিইও-দের ক্ষেত্রেও তাই হল। মোট তিন দফায় তামিলনাড়ু যেতে হবে এই আধিকারিকদের। প্রথম দফায় শুক্রবারের মধ্যে, থাকতে হবে অন্তত এক সপ্তাহ, দ্বিতীয় দফায় যেতে হবে ৩০ মার্চ, থাকতে হবে ভোট শেষ হ‌ওয়া পর্যন্ত, তৃতীয় দফায় যেতে হবে কাউন্টিংয়ের দু-দিন আগে।

    রয়েছেন রাজ্য সরকারের দুই সচিবও

    ওই ছ’জন আইএএস অফিসারের মধ্যে রাজ্য সরকারের দু’জন সচিবও রয়েছেন। কমিশন সূত্রে জানা গিয়েছে, ২০১৩ ব্যাচের আইএএস প্রীতি গোয়েল, ২০১৪ ব্যাচের সিয়াদ এন, ২০১০ ব্যাচের অরবিন্দকুমার মিনা, ২০০৯ ব্যাচের রানি এ আয়েশা, ২০০৬ ব্যাচের পি উলাগানাথন, ২০১৩ সালে আইএএস শামা পরভিনকে তামিলানাড়ুতে পাঠিয়েছে কমিশন। এই ছ’জনকেই তামিলনাড়ুর বিভিন্ন জেলায় ভোট পর্যবেক্ষকের কাজের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। আইএএস উলাগানাথন এবং শামা রাজ্য সরকারের সচিব। উলাগানাথন পঞ্চায়েত এবং গ্রামীণ দফতরের সচিব। পাশাপাশি, তিনি তথ্যপ্রযুক্তি এবং ইলেক্ট্রনিক্স বিভাগের অধীনে পশ্চিমবঙ্গ ইলেক্ট্রনিক্স টেস্টিং এবং স্ট্যান্ডার্ড বিভাগের সচিবের দায়িত্ব পালন করেন। শামা উত্তরবঙ্গ উন্নয়ন দফতরের সচিব। পাশাপাশি, জিটিএর প্রিন্সিপ্যাল সচিবের অতিরিক্ত দায়িত্ব রয়েছে তাঁর কাঁধে।

    রাজ্যের অপসারিত আইএএস-আইপিএসদের হাতে ভিনরাজ্যের দায়িত্ব!

    বুধবার রাতে নির্দেশিকা প্রকাশ করে রাজ্যের ১৫ জন আইপিএস অফিসারকে তামিলনাড়ু এবং কেরলে ভোটের কাজে পাঠানোর কথা জানিয়েছিল কমিশন। পরে এঁদের মধ্যে পাঁচজনের বদলিতে স্থগিতাদেশ দেয় কমিশন। তবে রাজ্যের বাকি অপসারিত ১০ জন আইপিএস আধিকারিকের জন্য পুরনো নির্দেশই বহাল থাকে। অর্থাৎ, তাঁদের কেরল এবং তামিলনাড়ুতে যেতে হচ্ছে। বুধবার রাজ্যের দুই সচিব প্রিয়ঙ্কা শিঙ্গলা এবং পি মোহনগান্ধীকে ভিন্‌রাজ্যে ভোটের কাজে পাঠানো হয়। প্রিয়ঙ্কা বিপর্যয় মোকাবিলা এবং অসামরিক প্রতিরক্ষা বিভাগের সিনিয়র বিশেষ সচিব। মোহনগান্ধী শিল্প, বাণিজ্য এবং উদ্যোগ বিভাগের সচিব তথা পশ্চিমবঙ্গ খনিজ উন্নয়ন এবং বাণিজ্য কর্পোরেশনের চেয়ারম্যান এবং ম্যানেজিং ডিরেক্টর।

    ভিনরাজ্যে পর্যবেক্ষক আরও ৬ আইপিএস

    মঙ্গলবার পূর্ত দফতরের সচিব অন্তরা আচার্য এবং খাদ্য ও খাদ্য প্রক্রিয়াকরণ দফতরের প্রধান সচিব পারভেজ আহমেদ সিদ্দিকিকে অন্য রাজ্যের পর্যবেক্ষক করে পাঠানোর কথা জানায় কমিশন। তার আগে রাজ্যের অপসারিত স্বরাষ্ট্রসচিব জগদীশপ্রসাদ মীনাকে অন্য রাজ্যে ভোট-পর্যবেক্ষক করে পাঠানো হয়েছে। এদিকে, আগে স্থগিতাদেশ দেওয়া ৫ সহ ৬ আইপিএসকে বৃহস্পতিবার ভিনরাজ্যে পর্যবেক্ষক করে কমিশন। বিধাননগরের পুলিশ কমিশনার মুরলীধর শর্মা এবং শিলিগুড়ির পুলিশ কমিশনার ওয়াক্কার রাজাকে তামিলনাড়ু বিধানসভা নির্বাচনের জন্য পুলিশ অবজার্ভার হিসেবে নিয়োগ করা হয়েছে। অভিজিৎ বন্দ্যোপাধ্যায় এবং ধৃতিমান সরকারকে কেরলে, সন্দীপ কাররাকে নাগাল্যান্ডের উপনির্বাচনে এবং আমনদীপকে তামিলনাড়ুতে পাঠানো হয়েছে।

    কেন ভিনরাজ্যে পাঠানোর সিদ্ধান্ত

    কমিশনের নির্দেশিকায় জানানো হয়েছে, আসন্ন নির্বাচনের আগে আইনশৃঙ্খলা ও প্রশাসনিক নিরপেক্ষতা বজায় রাখতেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। কমিশনের মতে, ভোট যাতে শান্তিপূর্ণ এবং অবাধভাবে সম্পন্ন হয়, তার জন্য এই ধরনের পদক্ষেপ জরুরি। রবিবার বাংলার বিধানসভা ভোট ঘোষণার পর থেকে এখনও পর্যন্ত প্রশাসনিক পদে বিস্তর বদল করেছে নির্বাচন কমিশন। মুখ্যসচিব, স্বরাষ্ট্রসচিব, সিপি, ডিজি, ডিআইজি, ডিএম থেকে শুরু করে উচ্চপদস্থ একাধিক আধিকারিককে বদলে দিয়েছে তাঁরা। বিষয়টি নিয়ে ইতিমধ্যে মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারকে (ECI Gyanesh Kumar) একাধিক চিঠি দিয়েছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। কিন্তু তাতে কোনও লাভই হয়নি। উল্টে দেখা গেল, চিঠি বা সোশ্যাল পোস্টের পর রাতারাতি আরও বদল করেছে কমিশন।

    সহিংসতা কমার আশা

    পশ্চিমবঙ্গের নির্বাচন ঘিরে বার বার অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। সহিংসতার ঘটনা ঘটেছে। অসংখ্য প্রাণহানি হয়েছে। শান্তিপূর্ণ, ভয়হীন ও অবাধ নির্বাচন নিশ্চিত করাই প্রশাসনের মূল লক্ষ্য হওয়া উচিত, যাতে সাধারণ মানুষ গণতন্ত্রের এই উৎসবে নির্ভয়ে অংশ নিতে পারেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, নির্বাচন কমিশন যেভাবে এবার সক্রিয় হয়েছে এবং যে সংখ্যায় কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েন করা হচ্ছে, তাতে পশ্চিমবঙ্গবাসী একটি হিংসামুক্ত নির্বাচন (WB Elections 2026) দেখতে পাবেন বলে আশা করা যায়। তবে এই প্রক্রিয়ার পূর্ণাঙ্গ সাফল্য কেবল প্রশাসনের ওপর নির্ভর করে না, বরং নির্বাচনের সঙ্গে যুক্ত প্রতিটি স্তরের সরকারি আধিকারিক, পুলিশ প্রশাসন এবং সর্বোপরি সাধারণ নাগরিকের আন্তরিক সহযোগিতা ও সৎ ইচ্ছা থাকলে তবেই একটি সুষ্ঠু নির্বাচন সম্পন্ন করা সম্ভব। পশ্চিমবঙ্গের বিগত নির্বাচনগুলিতে ব্যাপক রিগিং, দুর্নীতি এবং আইন-শৃঙ্খলার অবনতি একটি সাধারণ অভিজ্ঞতায় পরিণত হয়েছে। এটা সাধারণ ভোটারদের স্বাধীনভাবে ভোটাধিকার প্রয়োগে বাধা দেয়। প্রশাসনকে পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে রেখে নির্বাচন করার যে সংস্কৃতি গড়ে উঠেছে, তা ভাঙতেই হয়তো নির্বাচন কমিশন এবার এত বিপুল সংখ্যায় উচ্চপদস্থ আধিকারিকদের রদবদলের পদক্ষেপ করছে।

  • West Bengal Assembly Election: দ্বিতীয় দফার প্রার্থী তালিকা প্রকাশ বিজেপির: একাধিক হেভিওয়েট মুখে চমক পদ্ম-শিবিরে

    West Bengal Assembly Election: দ্বিতীয় দফার প্রার্থী তালিকা প্রকাশ বিজেপির: একাধিক হেভিওয়েট মুখে চমক পদ্ম-শিবিরে

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনকে (West Bengal Assembly Election) সামনে রেখে রণকৌশল সাজাতে ব্যস্ত সব পক্ষই। এই আবহে আজ পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনের জন্য নিজেদের দ্বিতীয় দফার প্রার্থী তালিকা প্রকাশ করল ভারতীয় জনতা পার্টি (Bengal BJP)। প্রথম তালিকায় একাধিক গুরুত্বপূর্ণ আসনের নাম ঘোষণার পর, দ্বিতীয় তালিকায় মূলত উত্তর ও দক্ষিণবঙ্গের বেশ কিছু স্পর্শকাতর ও হেভিওয়েট কেন্দ্রের দিকে নজর দেওয়া হয়েছে। প্রার্থী তালিকায় রয়েছেন, অর্জুন সিং, নিশীথ প্রামাণিক, রূপা গাঙ্গুলি, পাপিয়া অধিকারী, শর্বরী মুখোপাধ্যায়ের মতো একাধিক বড় নাম।

    ১১২টি আসনের প্রার্থীর নাম ঘোষণা বিজেপি (West Bengal Assembly Election)

    দ্বিতীয় দফায় আরও ১১২টি আসনের প্রার্থীর নাম ঘোষণা করল বিজেপি (West Bengal Assembly Election)। প্রথম তালিকায় একটি কেন্দ্রের প্রার্থীও বদল করা হয়েছে। হাওড়ার শ্যামপুরে টিকিট পেয়েছেন হিরণ চট্টোপাধ্যায়। সোনারপুর দক্ষিণ কেন্দ্রে তৃণমূলের লাভলি মৈত্রের বিরুদ্ধে লড়াই করবেন বিজেপির রূপা গঙ্গোপাধ্যায়। নোয়াপাড়ায় বিজেপির প্রার্থী ব্যারাকপুরের প্রাক্তন সাংসদ অর্জুন সিংহ। ব্যরাকপুর বিধানসভার প্রার্থী হয়েছেন আইনজীবী কৌস্তভ বাগচী। পানিহাটি কেন্দ্রে প্রার্থীর নাম এখনও ঘোষণা করেনি বিজেপি (Bengal BJP)। তবে জল্পনা শুরু হয়েছে ওই কেন্দ্র থেকে আরজি কর হাসপাতালের ধর্ষণ-খুন কাণ্ডে নিহত চিকিৎসকের মাকে টিকিট দেবে বিজেপি নেতৃত্ব। এখনও পর্যন্ত তেমন কোনও ঘোষণা করা হয়নি।

    উত্তরবঙ্গ ও মতুয়াগড়ে কে কে প্রার্থী?

    উত্তরবঙ্গের জেলাগুলোতে নিজেদের আধিপত্য বজায় রাখতে বিজেপি বেশ কয়েকজন প্রভাবশালী স্থানীয় নেতাকে নির্বাচনী ময়দানে নামিয়েছে। আলিপুরদুয়ার ও কোচবিহারের মতো জেলাগুলোতে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। প্রাক্তন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী তথা কোচবিহারের প্রাক্তন সাংসদ নিশীথ প্রামাণিককে মাথাভাঙায় প্রার্থী করা হয়েছে। টালিগঞ্জে পাপিয়া অধিকারী লড়বেন। যাদবপুরে টিকিট পেয়েছেন শর্বরী মুখোপাধ্যায়। কৃষ্ণগঞ্জে প্রার্থী করা হয়েছে সুকান্ত বিশ্বাসকে। মতুয়া গড় হিসাবে পরিচিত বনগাঁ উত্তর, বনগাঁ দক্ষিণ এবং গাইঘাটায় বিদায়ী বিধায়কদেরই (West Bengal Assembly Election) প্রার্থী করা হয়েছে। এখানে লড়ছেন যথাক্রমে অশোক কীর্তনিয়া, স্বপন মজুমদার এবং সুব্রত ঠাকুর। স্বরূপনগরে প্রার্থী হলেন তারক সাহা। হাবড়ার প্রার্থী করা হয়েছে বনগাঁ জেলা বিজেপির প্রাক্তন সভাপতি তথা বনগাঁ পুরসভার কাউন্সিলর দেবদাস মণ্ডলকে। উত্তর ২৪ পরগনার জগদ্দলে প্রার্থী করা হয়েছে প্রাক্তন আইপিএস রাজেশ কুমারকে। বিধাননগরে প্রার্থী করা হয়েছে চিকিৎসক শারদ্বৎ মুখোপাধ্যায়কে। রাজারহাট গোপালপুরে প্রার্থী তরুণ আইনজীবী তরুণজ্যোতি তিওয়ারি।

    দ্বিতীয় দফার তালিকায় দলের অভিজ্ঞ নেতা-কর্মীদের পাশাপাশি বেশ কয়েকজন জনপ্রিয় ব্যক্তিত্ব ও তারকা প্রার্থীকে জায়গা দেওয়া হয়েছে। রাজনৈতিক মহলের মতে, জনভিত্তি মজবুত করতেই এই কৌশল গ্রহণ করেছে বিজেপি।

    কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের সিলমোহর

    বেশ কিছু আসনে বর্তমান বিধায়কদের (West Bengal Assembly Election) ওপর পুনরায় আস্থা রাখা হলেও, কিছু ক্ষেত্রে নতুন ও স্বচ্ছ ভাবমূর্তির প্রার্থীদের সুযোগ দেওয়া হয়েছে। বিশেষ করে মহিলা ও যুব প্রার্থীদের প্রতিনিধিত্ব বাড়ানোর চেষ্টা লক্ষণীয়।

    সন্দেশখালিতে বিজেপি (Bengal BJP) প্রার্থী সনৎ সর্দার। হিঙ্গলগঞ্জে প্রার্থী করা হয়েছে সন্দেশখালি আন্দোলনের নেত্রী রেখা পাত্রকে। কলকাতায় বেহালা পশ্চিমের বিজেপি প্রার্থী ডাক্তার ইন্দ্রনীল খাঁ। কাশীপুর বেলগাছিয়ায় প্রার্থী হয়েছেন রিতেশ তিওয়ারি। রাজ্য বিজেপির সহ-সভাপতি তাপস রায়কে টিকিট দেওয়া হয়েছে মানিকতলায়। বালিগঞ্জের প্রার্থী বিজেপির জাতীয় পরিষদ সদস্য শতরূপা। পূর্ব মেদিনীপুরের এগরায় প্রার্থী করা হয়েছে বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারীর ভাই দিব্যেন্দু অধিকারীকে। পুরুলিয়া সদরে সুদীপ মুখোপাধ্যায়, বাঁকুড়া সদরে টিকিট পেয়েছেন নীলাদ্রিশেখর দানা।

    দিল্লিতে দলের কেন্দ্রীয় নির্বাচন কমিটির (CEC) বৈঠকের পরেই এই নামের তালিকা চূড়ান্ত করা হয়। প্রার্থী তালিকা ঘোষণার সঙ্গে সঙ্গে সংশ্লিষ্ট এলাকাগুলোতে প্রচারের প্রস্তুতি ও দেওয়াল লিখনের কাজ শুরু করে দিয়েছেন বিজেপি কর্মীরা।

    রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট

    দ্বিতীয় দফায় ১১২টি আসনের পর এখন বাকি রইল ৩৮টি আসন। তৃণমূল কংগ্রেস ইতিমধ্যেই তাদের সিংহভাগ প্রার্থীর নাম ঘোষণা করে দিয়েছে। পাল্টা হিসেবে বিজেপির (Bengal BJP) এই দ্বিতীয় তালিকা রাজনৈতিকভাবে (West Bengal Assembly Election) অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে। এখন দেখার, এই প্রার্থী নির্বাচন নির্বাচনের চূড়ান্ত ফলাফলে কতটা প্রভাব ফেলে।

  • ECI: সুষ্ঠু ও অবাধ নির্বাচন করতে রাজ্যে ‘কমপ্লেন রিড্রেসাল সেল’ গড়ছে কমিশন

    ECI: সুষ্ঠু ও অবাধ নির্বাচন করতে রাজ্যে ‘কমপ্লেন রিড্রেসাল সেল’ গড়ছে কমিশন

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: পশ্চিমবঙ্গে ফ্রি অ্যান্ড ফেয়ার ইলেকশন (Bengal Polls 2026) করতে বদ্ধপরিকর জাতীয় নির্বাচন কমিশন (ECI)। সেই জন্যই কোনওরকম অভাব-অভিযোগ এড়িয়ে না যাওয়ার সিদ্ধান্তে অটল কমিশন। জমা পড়া প্রতিটি অভিযোগ খতিয়ে দেখা হবে। এজন্য তৈরি করা হচ্ছে ‘কমপ্লেন রিড্রেসাল সেল’ (Complaint Redressal Cell)। এই সেল যে খোলা হবে, তা আগেই জানিয়েছিলেন রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক মনোজ কুমার আগরওয়াল।

    ‘কমপ্লেন রিড্রেসাল সেল’ (ECI)

    কমিশন সূত্রে খবর, সেল তৈরির কাজ শুরু হয়ে গিয়েছে। সেলে প্রয়োজন ৯জন আধিকারিকের। যদিও আপাতত কমিশনের তিন আধিকারিক এবং ছ’জন মাইক্রো অবজারভার এই কাজ করবেন। কিন্তু কমিশনের বক্তব্য, এই ধরনের নির্বাচনের ক্ষেত্রে প্রায় কয়েক লাখ অভিযোগের নিষ্পত্তি করতে হয়। সেই জন্যই নবান্নের কাছে প্রয়োজনে অতিরিক্ত আধিকারিক চেয়ে চিঠি দেওয়ার প্রস্তুতিও নিচ্ছে কমিশন। আপাতত অভিযোগ জানানো যাবে ১৯৫০-এই টোল ফ্রি নম্বরে। অভিযোগ জানানোর আট ঘণ্টার মধ্যেই তার নিষ্পত্তি করা হবে। এই নম্বরের পাশাপাশি কমিশনের ই-মেইল আইডি-ও জানিয়ে দেওয়া হবে আমজনতাকে। কোনও বুথ এলাকার কোথাও যদি কোনও ভোটারকে ভোট দিতে বাধা দেওয়া হয় কিংবা ভয় দেখানো হয়, তাহলে সেই বুথে পুনর্নির্বাচন হবে বলে আগেই জানিয়ে দিয়েছিল কমিশন।

    সাপ্লিমেন্টারি তালিকা

    এদিকে, যে ৬০ লাখ ভোটারের নাম বিচারাধীন ছিল, তার মধ্যে নিষ্পত্তি হয়েছে ২৩ লাখ ৩০ হাজারের। নয়া যে সাপ্লিমেন্টারি তালিকা বের হবে, সেখানে থাকবে অ্যাডিশন এবং ডিলিশন। অ্যাডিশনে থাকবে যাঁদের নাম উঠবে, আর ডিলিশনে থাকবে তাঁদের নাম, যাঁদের নাম বাদ পড়েছে (ECI)। এদিকে, বুধবারের মধ্যে রাজ্যে পৌঁছে গিয়েছেন সব অবজারভার। এঁদের মধ্যে সাধারণ অবজারভার ২৯৪ জন, পুলিশ অবজারভার ৮৪ জন, এক্সপেন্ডিচার অবজারভার ১০০ জন। নির্ধারিত এলাকায় কাজও শুরু করে দিয়েছেন তাঁরা। প্রসঙ্গত, বঙ্গে দু’দফায় হবে বিধানসভার ২৯৪টি আসনে ভোট গ্রহণ। প্রথম দফার নির্বাচন হবে ২৩ এপ্রিল, সেদিন ভোট হবে রাজ্যের ১৬টি জেলায়। শীঘ্রই ওই জেলাগুলি সফর করবেন (Free and Fare Polls) মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক মনোজ কুমার আগরওয়াল। জেলাওয়াড়ি ভোটের প্রস্তুতি কোন পর্যায়ে, সেটাই খতিয়ে দেখবেন তিনি (ECI)।

     

  • Suvendu Adhikari: ভবানীপুরে প্রচারে নেমেই মমতাকে ২৫ হাজার ভোটে পরাজিত করার হুঙ্কার শুভেন্দুর

    Suvendu Adhikari: ভবানীপুরে প্রচারে নেমেই মমতাকে ২৫ হাজার ভোটে পরাজিত করার হুঙ্কার শুভেন্দুর

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ভবানীপুর নির্বাচনকে কেন্দ্র করে রাজ্যের রাজনৈতিক পারদ এখন মধ্যগগনে। একদিকে যেমন তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নিজের জয়ের ব্যবধান বাড়াতে বদ্ধপরিকর, অন্যদিকে বিজেপি প্রার্থী হয়ে সরাসরি ময়দানে নেমেছেন বিধানসভার বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari)। উল্লেখ্য মমতাকে (Mamata Banerjee) এবার ২৫ হাজার ভোটে পরাজয়ের কথা ঘোষণা করেছেন। ২০২১ সালে রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রীকে আগেও একবার নন্দীগ্রাম কেন্দ্র থেকে পরাজয়ের মুখ দেখতে হয়েছিল বিজেপির কাছেই। এইবার ফের একবার সম্মুখ সমরে মমতা-শুভেন্দু।

    তৃণমূলের রণকৌশল (Suvendu Adhikari)

    মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Banerjee) নিজে এলাকার ভোটারদের সঙ্গে সংযোগ স্থাপনের ওপর জোর দিচ্ছেন। তৃণমূল শিবিরের লক্ষ্য কেবল জয় নয়, বরং রেকর্ড ব্যবধানে জয়ী হয়ে বিরোধীদের বার্তা দেওয়া। দলের হেভিওয়েট নেতারা পাড়ায় পাড়ায় গিয়ে সরকারের উন্নয়নমূলক কাজের খতিয়ান তুলে ধরছেন। পাল্টা বিজেপি নির্বাচনের আড়াই মাস আগে থেকেই ওয়াররুম তৈরি এবং সংগঠনকে মজবুত করতে প্রস্তুতি নিয়েছে বিজেপি। শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari) এই লড়াইকে মর্যাদার লড়াই হিসেবে দেখছেন। তিনি প্রতিটি কর্মিসভায় এবং পদযাত্রায় আক্রমণাত্মক মেজাজে শাসক দলকে বিঁধছেন। তাঁর দাবি, ভবানীপুরের মানুষ এবার পরিবর্তনের পক্ষে রায় দেবেন।

    কর্মসূচির বৈচিত্র্য

    বড় বড় জনসভার বদলে দুই পক্ষই এখন ছোট ছোট বৈঠক এবং ‘ডোর-টু-ডোর’ বা বাড়ি বাড়ি গিয়ে প্রচারের ওপর বেশি গুরুত্ব দিচ্ছে। ভোটারদের ব্যক্তিগতভাবে প্রভাবিত করাই এখন এই কেন্দ্রের বিজেপির মূল লক্ষ্য। শুভেন্দু অধিকারীর প্রতিটি পদযাত্রাকে কেন্দ্র করে যেমন গেরুয়া শিবিরের উন্মাদনা দেখা যাচ্ছে, তেমনি মমতার সমর্থনে স্লোগানে মুখর হয়ে থাকছে ভবানীপুরের অলিগলি। ভবানীপুরের এই নির্বাচন এখন আর কেবল একটি সাধারণ আসন দখলের লড়াই নেই; এটি কার্যত দুই বিবদমান রাজনৈতিক আদর্শের প্রেস্টিজ ফাইটে পরিণত হয়েছে। শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari) বনাম তৃণমূলের এই দ্বৈরথ শেষ পর্যন্ত কোন দিকে মোড় নেয়, এখন সেদিকেই তাকিয়ে রয়েছে রাজ্যের রাজনৈতিক মহল।

    সংঘাতের আবহ

    ভোটের প্রচারে শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari) যখন ভবানীপুরের বিভিন্ন ওয়ার্ডে দলের প্রার্থীর সমর্থনে পদযাত্রা বা সভা করছেন, তখন বারবারই তাঁকে তৃণমূল সমর্থকদের (Mamata Banerjee) বিক্ষোভের মুখে পড়তে হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে। এই নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে রাজনৈতিক উত্তেজনা এখন তুঙ্গে। প্রচার চলাকালীন দুই শিবিরের কর্মীদের মধ্যে মাঝেমধ্যেই উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ছে। পুলিশ ও প্রশাসন কড়া নজরদারি চালাচ্ছে যাতে কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা না ঘটে। সব মিলিয়ে, ভবানীপুরের এই নির্বাচন কেবল একটি আসন জয়ের লড়াই নয়, বরং রাজ্যের দুই শীর্ষ নেতার ব্যক্তিত্ব ও জনপ্রিয়তার এক অগ্নিপরীক্ষায় পরিণত হয়েছে।

  • ECI: বৃহস্পতিতেই রাজ্যের ২৯৪ কেন্দ্রে নেমে পড়লেন ৪৭৮ অবজার্ভার, রিপোর্ট পাঠানো শুরু শুক্র থেকেই!

    ECI: বৃহস্পতিতেই রাজ্যের ২৯৪ কেন্দ্রে নেমে পড়লেন ৪৭৮ অবজার্ভার, রিপোর্ট পাঠানো শুরু শুক্র থেকেই!

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ভারতের নির্বাচন কমিশন (ECI) বুধবার জানিয়েছে, আগামী চার রাজ্য ও একটি কেন্দ্র শাসিত অঞ্চলের বিধানসভা নির্বাচনকে ঘিরে বড় পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। আসন্ন পাঁচ রাজ্যের বিধানসভা নির্বাচন যাতে কোনো প্রকার হিংসা (Violence Free Assembly Polls), ভয়ের পরিবেশ না তৈরি হয় তা সুনিশ্চিত করতে বদ্ধ পরিকর কমিশন। সেই সঙ্গে নির্বাচন যাতে প্রলোভনমুক্ত হয়, তা নিশ্চিত করতে ২৫ লক্ষেরও বেশি কর্মকর্তা মোতায়েন করার কথা জানিয়েছে। নির্বাচন কমিশন গত রবিবার পাঁচ রাজ্য— অসম, কেরল, তামিলনাড়ু এবং পশ্চিমবঙ্গ, ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল পুদুচেরির বিধানসভা নির্বাচনের পাশাপাশি ছয়টি রাজ্যের উপ-নির্বাচনের নির্ঘণ্ট ঘোষণা করেছে। এই পাঁচটি অঞ্চলে একাধিক দফায় সুষ্ঠু ও সুশৃঙ্খলভাবে ভোটগ্রহণের সুবিধার্থে কমিশন বিশাল সংখ্যক নির্বাচন পর্যবেক্ষক, ভোট কর্মী সহ কর্মকর্তা নিযুক্ত করেছে।

    কোথায় কত কর্মী?

    • ● কমিশনের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী জানা গিয়েছে, মোতায়েন করা কর্মীদের মধ্যে রয়েছেন প্রায় ১৫ লক্ষ পোলিং স্টাফ, ৮.৫ লক্ষ নিরাপত্তা কর্মী, ৪০,০০০ গণনা কর্মী, ৪৯,০০০ মাইক্রো অবজার্ভার অর্থাৎ অণু-পর্যবেক্ষক, ২১,০০০ সেক্টর অফিসার এবং গণনা কাজের জন্য আরও প্রায় ১৫,০০০ অতিরিক্ত মাইক্রো অবজার্ভার (ECI)।
    • ● গ্রাউন্ড লেভেল স্তরে এই নির্বাচনী ব্যবস্থাকে সহায়তা করছেন ২.১৮ লক্ষেরও বেশি বুথ লেভেল অফিসার (BLO)। ভোটাররা ফোন কলের মাধ্যমে অথবা ‘ECINet’ মোবাইল অ্যাপ্লিকেশনের ‘Book-a-call to BLO’ ফিচারের মাধ্যমে তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারবেন।
    • ● এছাড়াও, জেলা নির্বাচনী কর্মকর্তা এবং রিটার্নিং অফিসারদের স্তরে অভিযোগ বা জিজ্ঞাসা জানানোর জন্য এসটিডি কোড ‘+৯১ ১৯৫০’ নম্বরে একটি ডেডিকেটেড কল সেন্টার পরিষেবা চালু করা হয়েছে।

    নির্বাচন কমিশন জানিয়েছে, “জনপ্রতিনিধিত্ব আইন, ১৯৫১-এর ধারা ২৮এ-এর বিধান অনুযায়ী মোতায়েন করা সমস্ত কর্মীকে নির্বাচন কমিশনের ডেপুটেশনে থাকা বলে গণ্য করা হবে।”

    ৮৩২টি বিধানসভা কেন্দ্রে ১,১১১ জন কেন্দ্রীয় পর্যবেক্ষক

    • ● সম্পূর্ণ নির্বাচনী ব্যবস্থাকে তদারকি করতে কমিশন (ECI) ৮৩২টি বিধানসভা কেন্দ্রে ১,১১১ জন কেন্দ্রীয় পর্যবেক্ষক মোতায়েন করেছে। এই পর্যবেক্ষকরা সাধারণ নির্বাচন এবং উপ-নির্বাচন চলাকালীন মাঠে কমিশনের প্রতিনিধি (Violence Free Assembly Polls) হিসেবে কাজ করবেন।
    • ● এই দলে ৫৫৭ জন সাধারণ পর্যবেক্ষক (General Observers), ১৮৮ জন পুলিশ পর্যবেক্ষক এবং ৩৬৬ জন ব্যয় পর্যবেক্ষক (Expenditure Observers) রয়েছেন। তাদের মধ্যে বেশিরভাগই কর্মী ইতিমধ্যে নির্ধারিত নির্বাচনী এলাকায় পৌঁছে গেছেন।

    এই পর্যবেক্ষকরা তাদের যোগাযোগের তথ্য জনসমক্ষে প্রকাশ করবেন এবং প্রতিদিন নির্দিষ্ট সময়ে প্রার্থী, রাজনৈতিক দলের প্রতিনিধি এবং সাধারণ মানুষের সঙ্গে দেখা করবেন। নির্বাচন সংক্রান্ত যে কোনও অভিযোগ শোনা ও তার সমাধান করার জন্য কাজ করবেন বলে জানিয়েছে কমিশন।

    কমিশনের চোখ-কান হয়ে নেমে পড়েছেন অবজার্ভাররা

    পশ্চিমবঙ্গে শান্তিপূর্ণ ও অবাধ নির্বাচন করা কমিশনের কাছে অ্যাসিড-টেস্ট। যে কারণে, এরাজ্যের ওপর বাড়তি নজর রেখেছে কমিশন। ফলস্বরূপ, বৃহস্পতিবার থেকেই নির্বাচন কমিশনের চোখ-কান হয়ে রাজ্যের ভোটের ময়দানে নেমে পড়েছেন অবজার্ভাররা। কমিশন জানিয়েছে নির্বাচনকে অবাধ এবং শান্তিপূর্ণ করতে রাজ্যের ২৯৪ কেন্দ্রে ইতিমধ্যে কাজ শুরু করে দিয়েছেন। পশ্চিমবঙ্গে ভোটকে কেন্দ্র করে সব মিলিয়ে ৪৭৮ জন পর্যবেক্ষক নিয়োগ করা হয়েছে। ২৯৪ জন জেনারেল অবজারভার থাকছেন। রয়েছেন ৮৪ জন পুলিশ পর্যবেক্ষক। সেই সঙ্গে আয়-ব্যয়ের জন্য হিসেব পর্যবেক্ষক থাকবে ১০০ জন। শুক্রবার থেকেই বিধানসভা ভিত্তিক রিপোর্ট জমা দেবেন তাঁরা৷ এই সকল পর্যবেক্ষকের কাজ থাকবে নির্বাচন প্রক্রিয়াকে অবাধ এবং শান্তিপূর্ণ (Violence Free Assembly Polls) করা।

    স্পর্শকাতর এলাকায় বিশেষ অবজার্ভার

    হিংসা কবলিত (Violence Free Assembly Polls) স্পর্শকাতর বিধানসভা এবং বুথে বিশেষ নজর দিয়েছে নির্বাচন কমিশন। মালদা, মুর্শিদবাদ, উত্তর ২৪ পরগনা, দক্ষিণ ২৪ পরগনায় তিন থেকে চারটি বিধানসভায় একজন করে পুলিশ অবজার্ভার থাকবেন। উত্তর কলকাতার সাতটি বিধানসভা কেন্দ্রের জন্য থাকছে তিন জন এবং দক্ষিণ কলকাতা চারটি বিধানসাভ কেন্দ্রের জন্য দেওয়া হয়েছে একজন পুলিশ অবজার্ভার।

    প্রতি ৭০ জন ভোটারের এক জন নির্বাচনী কর্মকর্তা (ECI)

    সরকারি পরিসংখ্যান অনুযায়ী, এই নির্বাচনী প্রক্রিয়ার জন্য ২৫ লক্ষের বেশি কর্মকর্তা মোতায়েন করা হয়েছে, যেখানে মোট যোগ্য ভোটারের সংখ্যা ১৭.৪ কোটির বেশি। এর অর্থ হলো, প্রতি ৭০ জন ভোটারের জন্য প্রায় একজন করে নির্বাচনী কর্মকর্তা (ECI) নিয়োগ করা হয়েছে। এর আগে নির্বাচনের বিজ্ঞপ্তি ঘোষণার সময় প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমার সমস্ত কর্মকর্তাদের সম্পূর্ণ নিরপেক্ষভাবে কাজ করার নির্দেশ দিয়েছিলেন। তিনি জোর দিয়ে বলেছিলেন, কমিশনের লক্ষ্য হল হিংসা (Violence Free Assembly Polls) ও প্রলোভনমুক্ত নির্বাচন নিশ্চিত করা, যাতে প্রতিটি ভোটার কোনো ভয় বা পক্ষপাত ছাড়াই তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারেন।

     

    ৪ মে ফলাফল ঘোষণা

    নির্বাচন কমিশন গত ১৫ মার্চ দিল্লিতে সাংবাদিক বৈঠক করে অসম, কেরল, তামিলনাড়ু, পদুচেরি ও পশ্চিমবঙ্গের বিধানসভার নির্ঘণ্ট ঘোষণা করেছে। পশ্চিমবঙ্গে ভোট হবে দুই দফায়। প্রথম দফা ২৩ এপ্রিল, এবং দ্বিতীয় দফা ২৯ এপ্রিল। সব রাজ্যে মোট ফলাফল ঘোষণা হবে ৪ মে। বুধবার থেকেই কাজে যোগদানের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে কমিশনের তরফে। সন্ত্রাস রুখতে কমিশন যে অত্যন্ত তৎপর তা আরও একবার স্পষ্ট বলে মনে করছেন রাজনীতির একাংশের মানুষ।

  • Election Commission: ভোটের আগে রাজ্য-কমিশন সংঘাত চরমে, ভিন রাজ্যে সরানো হল ১৫ আইপিএসকে

    Election Commission: ভোটের আগে রাজ্য-কমিশন সংঘাত চরমে, ভিন রাজ্যে সরানো হল ১৫ আইপিএসকে

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: বিধানসভা নির্বাচনের প্রাক্কালে রাজ্যের তৃণমূল পরিচালিত সরকার এবং নির্বাচন কমিশনের (Election Commission) সংঘাত চরমে। বঙ্গে নির্বাচনের নির্ঘণ্ট ঘোষণা হওয়ার পর পরই বিভিন্ন পদ থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছিল রাজ্য ও কলকাতা পুলিশের বেশ কয়েকজন আইপিএসকে (IPS)। বুধবার ১৯ জন অপসারিত আধিকারিককে সিআইডি, আইবি এবং এসটিএফের মতো শাখায় পুনর্বহাল করার নির্দেশিকা জারি করেছিল রাজ্য সরকার। এর কিছুক্ষণের মধ্যেই রাজ্য সরকারের সেই নির্দেশিকা বাতিল করে দিয়েছে কমিশন।

    কমিশনের নয়া নির্দেশিকা (Election Commission)

    এদিন রাতেই কমিশনের তরফে নয়া নির্দেশিকা জারি করে জানিয়ে দেওয়া হয়েছে, ওই আধিকারিকদের মধ্যে ১৫ জনকে অবিলম্বে তামিলনাড়ু এবং কেরলে নির্বাচনী পর্যবেক্ষক হিসেবে কাজে যোগ দিতে হবে। বিধাননগরের অপসারিত পুলিশ কমিশনার মুরলী ধর এবং শিলিগুড়ির অপসারিত পুলিশ কমিশনার ওয়াকার রাজা-সহ মোট ১৫ জনকে অন্য রাজ্যে পাঠানো হচ্ছে। ওই তালিকায় থাকা অন্য আধিকারিকরা হলেন আকাশ মাঘারিয়া, অলোক রাজোরিয়া, আমনদীপ, অভিজিৎ বন্দ্যোপাধ্যায়, ভাস্কর মুখোপাধ্যায়, সি সুধাকর, ধৃতিমান সরকার, ইন্দিরা মুখোপাধ্যায়, মুকেশ, প্রবীণ কুমার ত্রিপাঠী, প্রিয়ব্রত রায়, সন্দীপ কাররা এবং রশিদ মুনির খানও।

    কমিশনের সিদ্ধান্তে গুঞ্জন

    নির্বাচন কমিশনের এই সিদ্ধান্তে গুঞ্জন শুরু হয়েছে প্রশাসনিক মহলে। সাধারণত, পর্যবেক্ষক হিসেবে কোনও আধিকারিককে পাঠানোর আগে তাঁর জন্য বিশেষ প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করা হয়। কিন্তু এই ১৫ জনের মধ্যে একমাত্র প্রবীণকুমার ত্রিপাঠী ছাড়া বাকি আধিকারিকদের সেই প্রশিক্ষণ নেই। গুঞ্জনের কারণ এটাই। যদিও, কমিশন সূত্রে খবর, পর্যবেক্ষক হিসেবে কাজ করার জন্য প্রশিক্ষণ বাধ্যতামূলক নয়। নবান্নের পুনর্বহালের নির্দেশিকা জারির ঠিক পরে পরেই নির্বাচন কমিশনের এই পাল্টা পদক্ষেপকে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলেই মনে করছে রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের একাংশ (Election Commission)। নির্বাচনের মুখে রাজ্য পুলিশের এই শীর্ষ স্তরের আধিকারিকদের বাংলা থেকে দূরে পাঠিয়ে দেওয়ার নির্বাচনী সমীকরণ কতটা প্রভাব ফেলে, এখন তা-ই দেখার।

    প্রসঙ্গত, পশ্চিমবঙ্গের পাশাপাশি তামিলনাড়ু এবং কেরলেও দুয়ারে বিধানসভা নির্বাচন। ওই দুই রাজ্যে ইতিমধ্যেই পশ্চিমবঙ্গের একাধিক আধিকারিককে পর্যবেক্ষক হিসেবে পাঠানো হয়েছে। নির্বাচনী নির্ঘণ্ট ঘোষণা হওয়ার আগে পর্যন্ত (IPS) যিনি ছিলেন রাজ্যের স্বরাষ্ট্রসচিব, সেই জগদীশ প্রসাদ মিনাকেও পর্যবেক্ষক হিসেবে পাঠানো হয়েছে তামিলনাড়ুতে (Election Commission)।

     

  • Assembly Election 2026: রাজ্য পুলিশে ফের রদবদল কমিশনের, এক ধাক্কায় সরানো হল ২ এডিজি, ১২ সুপারকে

    Assembly Election 2026: রাজ্য পুলিশে ফের রদবদল কমিশনের, এক ধাক্কায় সরানো হল ২ এডিজি, ১২ সুপারকে

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: রাজ্য পুলিশে ফের রদবদল। এবার নির্বাচন কমিশন (Assembly Election 2026) এক ধাক্কায় বদল করে দিল রাজ্যের ১২ জন পুলিশ সুপারকে (Election Commission)। সরানো হয়েছে কলকাতার ডিসি (সেন্ট্রাল) ইন্দিরা মুখোপাধ্যায়কেও। সরানো হয়েছে চার পুলিশ কমশনারেটের কমিশনার, এডিজি পদমর্যাদার দু’জনকেও। ইন্দিরার জায়গায় দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে ইয়েলওয়াড় শ্রীকান্ত জগন্নাথ রাওকে। বদলে দেওয়া হল রাজ্যের ১২ পুলিশ জেলার সুপারকেও।

    এসপি বদল (Assembly Election 2026)

    বীরভূমের পুলিশ সুপার করা হয়েছে সূর্যপ্রতাপ যাদবকে। তিনি ২০১১ ব্যাচের আইপিএস। এই জেলার পুলিশ সুপার ছিলেন আমনদীপ। কোচবিহারের এসপি সন্দীপ কাররাকে সরিয়ে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে ২০১৬ ব্যাচের আইপিএস জসপ্রীত সিংকে। বারাসত পুলিশ জেলার নয়া এসপি হলেন ২০১২ ব্যাচের আইপিএস মিস পুষ্পা। এখানে ছিলেন প্রিয়ব্রত রায়। এক সময় কলকাতা পুলিশের ডিসি (দক্ষিণ) ছিলেন প্রিয়ব্রত। সরানো হয়েছে ডয়মন্ড হারবার পুলিশ জেলার সুপারকেও। বিশপ সরকারকে সরিয়ে এই পদে বসানো হয়েছে চন্দননগর পুলিশ কমিশনারেটের ডিসি (সদর) ঈশানী পালকে। ইসলামপুর পুলিশ জেলার সুপার জোবি থমাসকে সরিয়ে ওই পদে বসানো হয়েছে ২০১৪ ব্যাচের আইপিএস রাকেশ সিংকে। মুর্শিদাবাদ পুলিশ জেলার এসপি ধৃতিমান সরকারকে সরিয়ে বসানো হয়েছে ২০১৩ ব্যাচের আইপিএস সচিনকে।

    কাকে, কোথায় সরানো হল

    বেলডাঙায় অশান্তির পর সরিয়ে দেওয়া হয়েছিল সানি রাজকে। পাঠানো হয়েছিল এসবিতে। মঙ্গলবার কমিশন তাঁকে পাঠিয়ে দিলেন হুগলি (গ্রামীণ)-এর পুলিশ সুপার করে। বসিরহাট পুলিশ জেলার সুপার আরিশ বিলালকে সরিয়ে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে ২০১৭ ব্যাচের আইপিএস অলকানন্দা ভাওয়ালকে। মালদার পুলিশ সুপার অভিজিৎ বন্দ্যোপাধ্যায়কে সরিয়ে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে অনুপম সিংকে। পূর্ব মেদিনীপুরের পুলিশ সুপার পারিজাত বিশ্বাসকে সরিয়ে ওই পদে বসানো হয়েছে ২০১২ ব্যাচের আইপিএস অংশুমান সাহাকে। পশ্চিম মেদিনীপুরের পুলিশ সুপার পলাশ ঢালিকে সরিয়ে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে ২০১৫ ব্যাচের আইপিএস পাপিয়া সুলতানাকে। জঙ্গিপুর পুলিশ জেলার সুপার হোসেন মেহেদি রহমানকে সরিয়ে বসানো হল ২০১৬ ব্যাচের আইপিএস সুরিন্দর সিংকে। পুলিশ সুপার ছাড়াও বদল করা হয়েছে দু’জায়গার এডিজিকেও। দক্ষিণবঙ্গের নয়া এডিজি হয়েছেন ১৯৯৭ ব্যাচের আইপিএস রাজেশকুমার সিং (Election Commission)। আগে এই পদে ছিলেন রাজীব মিশ্র। উত্তরবঙ্গের এডিজি করা হয়েছে ১৯৯৭ ব্যাচের আইপিএস কে জয়রামনকে (Assembly Election 2026)। ওই পদে ছিলেন সুকেশ জৈন।

    পুলিশ কমিশনারও বদল

    চার কমিশনারেটের পুলিশ কমিশনারও বদল করা হয়েছে। আসানসোল-দুর্গাপুর পুলিশ কমিশনারেটের নয়া সিপি হয়েছেন প্রণব কুমার। সুনীল কুমার চৌধুরীকে সরিয়ে বসানো হয়েছে তাঁকে। হাওড়া পুলিশ কমিশনারেটের নয়া সিপি হয়েছেন অখিলেশ চতুর্বেদী। এই পদে ছিলেন আকাশ মাঘারিয়া। ব্যারাকপুরের নয়া সিপি হয়েছেন অমিতকুমার সিং। আগে ছিলেন প্রবীণ ত্রিপাঠী। সুশীলকুমার যাদবকে বসানো হয়েছে চন্দননগর পুলিশ কমিশনারেটের সিপি পদে। আগে এই পদে ছিলেন কোটেশ্বর রাও।প্রসঙ্গত, সোমবারই রাজ্য পুলিশের ডিজি পীযূষ পাণ্ডেকে সরিয়ে দিয়েছিল নির্বাচন কমিশন।

    মমতার চিঠির পাল্টা বদলির নির্দেশ

    এদিকে, রাজ্য সরকারের সঙ্গে কোনও আলোচনা না করেই বা রাজ্যের মতামত না নিয়েই পুলিশ-প্রশাসনে রদবদলে যারপরনাই ক্ষুব্ধ বিদায়ী মুখ্যমন্ত্রী তৃণমূলের মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। এজন্য তিনি সোমবার রাতে চিঠি দেন জাতীয় মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারকে। চিঠিতে তিনি লেখেন, আগে নির্বাচন চলাকালীন কোনও গুরুত্বপূর্ণ পদে থাকা আধিকারিককে সরানোর প্রয়োজন হলে কমিশনের তরফে রাজ্যের কাছে তিনজনের একটি প্যানেল চেয়ে পাঠানো হত। সেই তালিকা থেকেই কমিশন একজনকে বেছে নিত। মুখ্যমন্ত্রীর দাবি, এবার সেই প্রচলিত রীতি মেনে চলা হয়নি। কমিশনের কাছে মুখ্যমন্ত্রীর আর্জি, ভবিষ্যতে এই ধরনের সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে রাজ্য সরকারের সঙ্গে আলোচনা করা হোক এবং দীর্ঘদিনের প্রশাসনিক রীতি অনুসরণ করা হোক (Assembly Election 2026)। মুখ্যমন্ত্রীর এই চিঠি লেখার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই নবান্নে চলে এল কমিশনের তরফে নতুন বদলির নির্দেশ (Election Commission)।

     

  • West Bengal Elections 2026: নির্বাচন বিঘ্নহীন করতে বাংলায় হবে আরও কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েন

    West Bengal Elections 2026: নির্বাচন বিঘ্নহীন করতে বাংলায় হবে আরও কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েন

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনে পশ্চিমবঙ্গে এবার সব চেয়ে বেশি কেন্দ্রীয় আধাসামরিক বাহিনী মোতায়েন করা হতে পারে (West Bengal Elections 2026) বলে মনে করা হচ্ছে। নির্বাচন কমিশন এমন এক রাজ্যে কড়া নিরাপত্তার মধ্যে ভোটগ্রহণের প্রস্তুতি নিচ্ছে। ভোটার তালিকায় এসআইআর নিয়ে তীব্র প্রতিবাদ দেখা গিয়েছে (Central Forces)।

    ২,০০০-এর বেশি কোম্পানি (West Bengal Elections 2026)

    নির্বাচন কমিশনের এক প্রবীণ আধিকারিক বলেন, “ব্যাপক কেন্দ্রীয় বাহিনীর মোতায়েন শান্তিপূর্ণ ভোটগ্রহণ নিশ্চিত করতে এবং যে কোনও ধরনের অশান্তি রোধ করতে সাহায্য করবে।” প্রধান নির্বাচনী আধিকারিকের (CEO) দফতর সূত্রে জানা গিয়েছে, ভোট গণনা শেষ হওয়া পর্যন্ত রাজ্যে কেন্দ্রীয় বাহিনীর ২,০০০-এর বেশি কোম্পানি প্রয়োজন হতে পারে। ইতিমধ্যেই কেন্দ্রীয় সরকার ভোটগ্রহণ প্রক্রিয়ার আগে পশ্চিমবঙ্গে প্রায় ৪৮০ কোম্পানি কেন্দ্রীয় বাহিনী পাঠিয়েছে। এই মোতায়েনের পরিমাণ ২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনের তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে বেশি। সেই নির্বাচনে ভোটের আগে এবং ভোটের সময় মোট প্রায় ৭০০ কোম্পানি কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েন করা হয়েছিল, যার মধ্যে ৩৫০-৩৭০ কোম্পানি ছিল সিআরপিএফ। আধিকারিকদের মতে, এবার বাহিনীর সংখ্যা বাড়ানোর কারণ হল আরও ভালো পরিকল্পনা এবং প্রস্তুতি নেওয়া, যাতে পুরো নির্বাচনী প্রক্রিয়া বিঘ্নহীন হয়।

    ওয়েবকাস্টের মাধ্যমে নজরদারি

    বাহিনী মোতায়েনের পাশাপাশি নির্বাচন কমিশন নির্বাচনী প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতার দিকেও বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছে। রাজ্যের সব ভোটকেন্দ্র সম্পূর্ণ ওয়েবকাস্টের মাধ্যমে নজরদারিতে থাকবে, যাতে আধিকারিকরা রিয়েল-টাইমে ভোটগ্রহণ পর্যবেক্ষণ করতে পারেন। আধিকারিকদের মতে, এর ফলে নির্বাচন প্রক্রিয়া আরও স্বচ্ছ হবে এবং ভোটারদের আস্থা বাড়বে (Central Forces)।আরও একটি বড় পার্থক্য রয়েছে ভোটগ্রহণের ধাপের সংখ্যায়। ২০২১ সালে পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভার নির্বাচন হয়েছিল আট দফায়। এবার নির্বাচন হবে মাত্র দু’দফায়। কর্তাদের ধারণা, কেন্দ্রীয় বাহিনীর উপস্থিতির জেরে নির্বাচন হবে শান্তিপূর্ণ (West Bengal Elections 2026)।

     

LinkedIn
Share