Tag: Howrah

Howrah

  • Amul: পশ্চিমবঙ্গে আমূলের ৭০০ কোটি টাকার মেগা প্রকল্প! রবিবার কারখানার শিলান্যাস, আসতে পারেন শাহ

    Amul: পশ্চিমবঙ্গে আমূলের ৭০০ কোটি টাকার মেগা প্রকল্প! রবিবার কারখানার শিলান্যাস, আসতে পারেন শাহ

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: কাটতে চলেছে রাজ্যে শিল্পায়নের খরা! বঙ্গে ডাবল ইঞ্জিন সরকার তৈরি হতেই হইহই করে শুরু হয়ে গেল শিল্পায়নের কাজ। পশ্চিমবঙ্গে দুগ্ধ শিল্পের হতশ্রী দশা ঘোচাতে বিপুল পরিমাণ বিনিয়োগের কথা ঘোষণা করল দেশের শীর্ষস্থানীয় দুগ্ধ সমবায় সংস্থা ‘আমূল’ (Amul)। রাজ্যের শিল্প ও কৃষি অর্থনীতিতে বড়সড় গতি আনতে প্রায় ৭০০ কোটি টাকা (৭৪.৮ মিলিয়ন মার্কিন ডলার) ব্যয়ে (700-cr Dairy Plant) একটি অত্যাধুনিক ডেয়ারি প্ল্যান্ট তৈরি করতে চলেছে তারা। ১৪ জুন, রবিবার এই মেগা প্রকল্পের শিলান্যাস হবে। উপস্থিত থাকার কথা কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের। তিনিই এই প্রকল্পের সূচনা করবেন বলেই আশা উদ্যোক্তাদের। প্রথমে বাম জমানা এবং পরে তৃণমূলের গত ১৫ বছরের রাজত্বে একের পর এক কারখানা বন্ধ হয়ে যাওয়ায় রাজ্যে দেখা দেয় শিল্পের খরা। বঙ্গে প্রথম বিজেপি সরকার আসতেই কাটতে চলেছে হা-শিল্প দশা। রাজ্যের উন্নয়নের জন্য এটি একটি উল্লেখযোগ্য সূচনা বলেই ধারণা ওয়াকিবহাল মহলের।

    শিল্পের নয়া গন্তব্য হাওড়া (Amul)

    গুজরাট কো-অপারেটিভ মিল্ক মার্কেটিং ফেডারেশন (GCMMF), যারা ‘আমূল’ (Amul) ব্র্যান্ডের পরিচালক, তারা জানিয়েছে, পশ্চিমবঙ্গের হাওড়া জেলায় এই বিশাল প্ল্যান্টটি গড়ে তোলা হবে। ভৌগোলিক অবস্থান এবং উন্নত যোগাযোগ ব্যবস্থার কারণে হাওড়াকেই এই বিনিয়োগের জন্য বেছে নেওয়া হয়েছে। এই প্রকল্পটি শুধুমাত্র একটি কারখানা নয়, বরং এটি পূর্ব ভারতের দুগ্ধ বিপণন ব্যবস্থার প্রধান কেন্দ্র (Hub) হিসেবে কাজ করবে।

    উৎপাদন ক্ষমতায় বড় চমক

    আমূল কর্তৃপক্ষের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, এই নতুন প্ল্যান্টটি যখন পূর্ণ মাত্রায় কাজ শুরু করবে, তখন এর উৎপাদন ক্ষমতা হবে ঈর্ষণীয়। ‘আমূল’ (Amul) জানিয়েছে, প্রতিদিন প্রায় ১৫ লাখ লিটার তরল দুধ প্রক্রিয়াকরণ করার ক্ষমতা থাকবে এই কেন্দ্রে। তবে শুধু তরল দুধ নয়, বাঙালির খাদ্যতালিকায় দুগ্ধজাত পণ্যের চাহিদার কথা মাথায় রেখে এখানে প্রতিদিন ১০ লাখ কেজি দই, মিষ্টি দই, ইয়োগার্ট, লস্যি এবং ঘোল বাটারমিল্ক (700-cr Dairy Plant) উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নেওয়া হয়েছে। প্রক্রিয়াজাতকরণের এই বিশাল পরিকাঠামো রাজ্যের সাধারণ মানুষের কাছে টাটকা ও উন্নতমানের দুগ্ধজাত পণ্য পৌঁছে দিতে বড় ভূমিকা পালন করবে।

    কর্মসংস্থান ও গ্রামীণ অর্থনীতিতে প্রভাব

    এই ৭০০ কোটি টাকার বিনিয়োগ (700-cr Dairy Plant) পশ্চিমবঙ্গের শিল্পমহলে এক ইতিবাচক বার্তা নিয়ে এসেছে। বাজার বিশেষজ্ঞদের মতে, এই প্রকল্পটি সরাসরি কয়েক হাজার মানুষের কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করবে। পরোক্ষভাবে লাভবান হবেন রাজ্যের হাজার হাজার দুগ্ধ খামারি ও পশুপালক। ‘আমূল’ (Amul)-এর সমবায় মডেল অনুযায়ী, স্থানীয় চাষিদের কাছ থেকে সরাসরি দুধ সংগ্রহ করা হবে, যার ফলে গ্রামীণ অর্থনীতিতে অর্থের জোগান বাড়বে এবং পশুপালকরা তাঁদের পণ্যের ন্যায্য ও সঠিক মূল্য নিশ্চিতভাবে পাবেন।

    প্রযুক্তির মেলবন্ধন ও ‘সরলাবেন’

    ‘আমূল’ (Amul) কেবল ইঁট-পাথরের কারখানা তৈরি করেই ক্ষান্ত থাকছে না, দুগ্ধ চাষের আধুনিকীকরণে তারা নিয়ে আসছে এআই (AI) প্রযুক্তি। দুগ্ধ খামারিদের প্রযুক্তিগত সহায়তা দিতে তারা ‘সরলাবেন’ (Sarlaben) নামক একটি এআই-চালিত ডিজিটাল অ্যাসিস্ট্যান্ট সেবা চালু করতে চলেছে। এই ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে পশুপালকরা পশুর স্বাস্থ্য, খাদ্যাভ্যাস এবং দুধের গুণমান (700-cr Dairy Plant) বৃদ্ধি সংক্রান্ত যে কোনও সমস্যার সমাধান নিমেষের মধ্যে ঘরে বসেই পেয়ে যাবেন।

    পূর্ব ভারতে আমূলের মাস্টারপ্ল্যান

    গত কয়েক বছর ধরেই ‘আমূল’ (Amul) উত্তর ও পূর্ব ভারতে তাদের ব্যবসার পরিধি বাড়ানোর পরিকল্পনা করছিল। পশ্চিমবঙ্গের এই ৭০০ কোটি টাকার (700-cr Dairy Plant) প্রকল্প সেই পরিকল্পনারই অংশ। এর মাধ্যমে তারা বিহার, ওডিশা এবং উত্তর-পূর্ব ভারতের রাজ্যগুলিতে তাদের সাপ্লাই চেন আরও মজবুত করতে পারবে।

    শিল্পায়নের পথে বড় মাইলফলক

    সব মিলিয়ে, ১৪ জুনের এই শিলান্যাস অনুষ্ঠান পশ্চিমবঙ্গের শিল্পায়নের পথে এক বড় মাইলফলক হতে চলেছে। একদিকে অত্যাধুনিক পরিকাঠামো নির্মাণ এবং অন্যদিকে প্রান্তিক কৃষকদের জন্য আধুনিক প্রযুক্তির প্রয়োগ—এই দুইয়ের মিশেলে আমূল রাজ্যে এক নতুন দুগ্ধ বিপ্লবের ডাক দিয়েছে। রাজ্যে তৃণমূলের বিসর্জন হতেই একের পর এক বিনিয়োগ আসছে বলে মনে করছে বিজেপির একটা বড় অংশ। সিঙ্গুর থেকে টাটা বিতাড়িত হওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই রাজ্যে শিল্পায়নের কফিনে পোঁতা হয়ে গিয়েছিল শেষ পেরেকটি। তৃণমূলের আমলে বছর বছর ঘটা করে বিশ্ব বাণিজ্য সম্মলেন হলেও, তার ছাপ বিশেষ পড়েনি। তবে মুখ্যমন্ত্রী হওয়ার পর থেকেই বঙ্গে শিল্প এবং কর্মসংস্থান নিয়ে ব্যাপক আলো দেখিয়ে আসছেন শুভেন্দু অধিকারী। টাটাকে বাংলায় এনে ফের কারখানা গড়ার ইঙ্গিতও দিয়েছে পদ্ম সরকার।

  • Banaras Road Rail Over Bridge: দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান! গতি পাচ্ছে হাওড়ার বেনারস রোড রেল ওভার ব্রিজ প্রকল্প; আজ থেকে ভারী যান চলাচল নিষিদ্ধ

    Banaras Road Rail Over Bridge: দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান! গতি পাচ্ছে হাওড়ার বেনারস রোড রেল ওভার ব্রিজ প্রকল্প; আজ থেকে ভারী যান চলাচল নিষিদ্ধ

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: উত্তর হাওড়াবাসীর দীর্ঘদিনের প্রতীক্ষার অবসান ঘটিয়ে অবশেষে গতি পেতে চলেছে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বেনারস রোড রেল ওভার ব্রিজ (Banaras Road Rail Over Bridge) প্রকল্প। আজ, রবিবার থেকেই সালকিয়া এবং লিলুয়ার বামুনগাছির সংযোগকারী এই ঐতিহাসিক সেতুতে ভারী ও মাঝারি ধরনের সব রকম যানবাহন চলাচল সম্পূর্ণ বন্ধ করে দেওয়া হচ্ছে। রেল (Railway) ও জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ট্র্যাফিক নিয়ন্ত্রণের এই সিদ্ধান্তের ফলেই দীর্ঘদিন ধরে থমকে থাকা নতুন সেতুর সংযোগকারী রাস্তা বা ‘অ্যাপ্রোচ রোড’ নির্মাণের মূল কাজ শুরু করা সম্ভব হবে।

    সেতুটির কাঠামো অত্যন্ত জীর্ণ ও বিপজ্জনক (Banaras Road Rail Over Bridge)

    ব্রিটিশ আমলে নির্মিত এই বেনারস ব্রিজটি উত্তর হাওড়ার অন্যতম প্রধান জীবনরেখা। প্রতিদিন সালকিয়া, লিলুয়া, বামুনগাছি-সহ বিস্তীর্ণ এলাকার হাজার হাজার মানুষ এবং অসংখ্য যানবাহন এই সেতুর ওপর দিয়েই যাতায়াত করে। তবে দীর্ঘদিন সংস্কারের অভাবে সেতুটির কাঠামো অত্যন্ত জীর্ণ ও বিপজ্জনক হয়ে পড়েছিল। বিশেষজ্ঞদের পক্ষ থেকে বার বার সেতুর দুর্বলতার বিষয়টি সামনে আনার পর, পূর্ব রেল (Railway) এখানে একটি নতুন সেতু নির্মাণের উদ্যোগ নেয়।

    রেল (Railway) সূত্রের খবর, নতুন সেতুর মূল কাঠামোর সিংহভাগ কাজ ইতিমধ্যেই সম্পন্ন হয়েছে। তবে মূল জটিলতা তৈরি হয়েছিল অ্যাপ্রোচ রোড নির্মাণ নিয়ে। ট্র্যাফিক নিয়ন্ত্রণ সংক্রান্ত সমস্যার কারণে এই কাজ শুরুই করা যাচ্ছিল না। এই সড়ক নির্মাণের জন্য সেতুর (Banaras Road Rail Over Bridge) ওপর যানবাহন চলাচলে আংশিক বা সম্পূর্ণ বিধিনিষেধ আরোপের প্রয়োজন ছিল। রেল কর্তৃপক্ষ একাধিক বার প্রশাসনের কাছে এর অনুমতি চাইলেও, দীর্ঘদিন ধরে সেই প্রক্রিয়াটি ঝুলে ছিল বলে অভিযোগ।

    ভারী ও মাঝারি গাড়ির প্রবেশ নিষিদ্ধ

    তবে রাজ্যে প্রশাসনিক পটপরিবর্তনের পর এই থমকে থাকা প্রকল্পের জট কাটে। প্রশাসন, রেল এবং ট্র্যাফিক বিভাগের মধ্যে বেশ কয়েকটি উচ্চপর্যায়ের বৈঠকের পর ধাপে ধাপে ট্র্যাফিক (Banaras Road Rail Over Bridge) নিয়ন্ত্রণ করে প্রকল্পের বাকি কাজ দ্রুত শেষ করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। সেই পরিকল্পনা অনুযায়ী, প্রথম পদক্ষেপ হিসেবে আজ থেকে বেনারস ব্রিজে ভারী ও মাঝারি গাড়ির প্রবেশ নিষিদ্ধ করা হলো। এর আগেই এই রুট দিয়ে বাস চলাচল বন্ধ করা হয়েছিল।

    তবে সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন যাতায়াতে যাতে বড় ধরনের ভোগান্তি না হয়, সে কথা মাথায় রেখে আপাতত টোটো, রিকশা, মোটরবাইক এবং অন্যান্য হালকা যান চলাচলের অনুমতি দেওয়া হয়েছে। প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, আগামী প্রায় দু’মাস ধরে এই অ্যাপ্রোচ রোড নির্মাণের কাজ চলবে। এই সময়ে কাজের অগ্রগতি পর্যালোচনা করে পরবর্তী পর্যায়ে নির্দিষ্ট কিছু সময়ের জন্য সেতুতে সম্পূর্ণ ট্র্যাফিক ব্লক করা হতে পারে, যাতে বাকি পরিকাঠামোগত কাজ দ্রুত শেষ করা যায়। সব কিছু ঠিকঠাক চললে খুব শিগগিরই নতুন সেতুটি জনসাধারণের জন্য উন্মুক্ত করে দেওয়া হবে।

    নিরাপদ ও উন্নত যোগাযোগ ব্যবস্থা পাবেন (Banaras Road Rail Over Bridge)

    এই মেগা প্রজেক্টের কাজ শুরু হওয়া প্রসঙ্গে উত্তর হাওড়ার বিধায়ক তথা রাজ্যের প্রতিমন্ত্রী উমেশ রাই বলেন, “পূর্ববর্তী প্রশাসনের আমলে এই প্রকল্পের কাজ শুরু হলেও, রেলকে প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক সহযোগিতা করা হয়নি। সেই উদাসীনতার কারণেই বামুনগাছি-বেনারস ব্রিজ এবং বাঙালবাবু-চাঁদমারি ব্রিজের মতো গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্পগুলি দীর্ঘদিন ধরে আটকে পড়েছিল। তবে আমাদের সরকার ক্ষমতায় আসার পরেই সিদ্ধান্ত নিয়েছে যে, ধাপে ধাপে ট্র্যাফিক নিয়ন্ত্রণ করে দ্রুত সমস্ত কাজ সম্পূর্ণ করা হবে। মানুষের সাময়িক কিছু অসুবিধা হলেও, ভবিষ্যতে তাঁরা আরও নিরাপদ ও উন্নত যোগাযোগ ব্যবস্থা পাবেন।”

    প্রশাসনের এই সিদ্ধান্তকে একবাক্যে স্বাগত জানিয়েছেন এলাকার বাসিন্দারাও। দীর্ঘদিন ধরে জীর্ণ ও দুর্বল সেতুর কারণে যেমন দুর্ঘটনার আশঙ্কা ছিল, তেমনই নিত্যদিনের যানজটের সমস্যায় ভুগতে হচ্ছিল সাধারণ মানুষকে। স্থানীয়দের মতে, নতুন সেতুটি পুরোপুরি চালু হলে শুধু যাতায়াতের সময়ই কমবে না, বরং উত্তর হাওড়ার বিস্তীর্ণ এলাকার অর্থনৈতিক ও যোগাযোগ ব্যবস্থায় এক আমূল পরিবর্তন আসবে। ব্যবসা-বাণিজ্য, পরিবহণ এবং জরুরি পরিষেবার ক্ষেত্রেও এর অত্যন্ত ইতিবাচক প্রভাব পড়বে। দীর্ঘমেয়াদি সুফলের স্বার্থে এই সাময়িক অসুবিধা মেনে নিতে সানন্দেই প্রস্তুত হাওড়াবাসী।

  • TMC Leaders: রাজ্যে পুলিশি তৎপরতা, এক সপ্তাহে ৭০ জনেরও বেশি তৃণমূল নেতা-কর্মী গ্রেফতার, তালিকায় কাউন্সিলর থেকে পঞ্চায়েত সদস্য

    TMC Leaders: রাজ্যে পুলিশি তৎপরতা, এক সপ্তাহে ৭০ জনেরও বেশি তৃণমূল নেতা-কর্মী গ্রেফতার, তালিকায় কাউন্সিলর থেকে পঞ্চায়েত সদস্য

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: রাজ্যে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর গত এক সপ্তাহে আইনশৃঙ্খল রক্ষায় ব্যাপক প্রশাসনিক তৎপরতা দেখা যাচ্ছে। আর্থিক অনিয়ম, সরকারি তহবিলের অপব্যবহার, আয় বহির্ভূত সম্পত্তি, সাধারণ মানুষকে হেনস্থা এবং নির্বাচন-পরবর্তী ও পূর্ববর্তী হিংসার মতো একাধিক গুরুতর অভিযোগে গত সাত দিনে তৃণমূল কংগ্রেসের ৭০ জনেরও বেশি নেতা-কর্মীকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ (BJP Bengal)। ধৃতদের মধ্যে অন্যতম ‘প্রভাবশালী’ মুখ প্রাক্তন মন্ত্রী সুজিত বসু, যিনি কেন্দ্রীয় সংস্থা ইডির হাতে গ্রেফতার হয়েছেন। তাঁর ঘনিষ্ঠ কয়েকজন কাউন্সিলর এবং স্থানীয় নেতাকেও গ্রেফতার করেছে রাজ্য পুলিশ। কেবল শনিবারই রাজ্যজুড়ে অন্তত ১৭ জন তৃণমূল (TMC Leaders) নেতাকে গ্রেফতার করা হয়েছে।

    কলকাতা ও বিধাননগরে আইনি পদক্ষেপ (TMC Leaders)

    শনিবার কলকাতা এবং বিধাননগর এলাকা থেকে মোট আটজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য নাম হল কলকাতা পুরসভার ১২৩ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর তথা তৃণমূল নেতা সুদীপ পোল্লে। তোলাবাজির অভিযোগে বাগুইআটি থানার পুলিশ বিধাননগরের ৬ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর সম্রাট বড়ুয়াকে গ্রেফতার করেছে। সম্রাট প্রাক্তন বিধায়ক তৃণমূল নেত্রী তথা কীর্তনিয়া অদিতি মুন্সির স্বামী দেবরাজ চক্রবর্তীর ঘনিষ্ঠ বলে পরিচিত। হাওড়া, হুগলি, নদিয়া, মুর্শিদাবাদ, পশ্চিম বর্ধমান এবং কোচবিহার থেকেও একাধিক নেতাকে (TMC Leaders) গ্রেফতার করা হয়েছে।

    ভোট-পরবর্তী হিংসা ও সরকারি জমি দখলের অভিযোগ (TMC Leaders)

    হাওড়া ও হুগলি

    ২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচন-পরবর্তী হিংসায় জড়িত থাকার অভিযোগে গ্রামীণ হাওড়ার জগৎবল্লভপুর থানার পুলিশ গোবিন্দপুর গ্রাম পঞ্চায়েতের উপপ্রধান গুরুপদ মাঝি ও তাঁর ভাই রাজুকে (TMC Leaders) গ্রেফতার করেছে। তাঁদের বিরুদ্ধে বিজেপি কর্মীদের ওপর হামলা ও সম্পত্তি ভাঙচুরের অভিযোগ রয়েছে। ২০২১ সালের হিংসার ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে হুগলির দাদপুর থানার পুলিশ হারিট গ্রাম পঞ্চায়েতের তৃণমূল সদস্য আলতাব হোসেন মল্লিককে গ্রেফতার করেছে। হুগলির কোন্নগর পুরসভার ২০ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর বাবলু পাল ওরফে খোকনকে সরকারি জমি দখল করে দলীয় কার্যালয় নির্মাণ, অবৈধ ব্যবসা এবং জালিয়াতির অভিযোগে গ্রেফতার করেছে উত্তরপাড়া থানার পুলিশ। তাঁকে গ্রেফতার করার সময় উপস্থিত ছিলেন স্থানীয় বিজেপি বিধায়ক (BJP Bengal) দীপাঞ্জন চক্রবর্তী। বিধায়কের অভিযোগ, গত ২০ বছর ধরে ক্ষমতার অপব্যবহারে এই বেআইনি কাজ চলেছে এবং এই উচ্ছেদ প্রক্রিয়ার সম্পূর্ণ খরচ ধৃত কাউন্সিলরের কাছে থেকেই আদায় করা হবে।

    দিয়ায় গ্রেফতার

    নদিয়ার আড়ংঘাটায় সমান্তরাল প্রশাসন চালানো এবং স্থানীয় ব্যবসায়ীদের ‘সিন্ডিকেট’ থেকে চড়া দামে নির্মাণসামগ্রী কিনতে বাধ্য করার অভিযোগে গ্রেফতার হয়েছেন তৃণমূল নেতা (TMC Leaders) রমজান আলি মণ্ডল। তাঁর গ্রেফতারির পর পুলিশ (BJP Bengal) তাঁর সহযোগী প্রদীপ সাঁতরাকেও হেফাজতে নিয়েছে। ধানতলা থানার পুলিশ তাঁদের বিরুদ্ধে একাধিক জামিন অযোগ্য ধারায় মামলা রুজু করে রানাঘাট আদালতে পেশ করেছে।

    মুর্শিদাবাদ

    বড়ঞা থানার পুলিশ বিশেষ অভিযান চালিয়ে কুলি গ্রাম পঞ্চায়েতের প্রধানের স্বামী তথা দাপুটে নেতা আবু বক্করকে (TMC Leaders) গ্রেফতার করেছে। তাঁর বিরুদ্ধে সেলিম বারি নামে এক যুবককে ধারালো অস্ত্র দিয়ে প্রাণনাশের চেষ্টা-সহ একাধিক অপরাধমূলক মামলা রয়েছে। তাঁকে কান্দি মহকুমা আদালতে তোলা হচ্ছে।

    পশ্চিম বর্ধমান

    পাণ্ডবেশ্বরের ছোড়া পঞ্চায়েতের প্রধানের পর এবার ভোটের সময় সন্ত্রাস ও তোলাবাজির অভিযোগে গ্রেফতার হলেন পঞ্চায়েত সদস্য ও কোলিয়ারি শ্রমিক সংগঠনের সম্পাদক শেখ কামরুদ্দিন। তবে কামরুদ্দিন তাঁর বিরুদ্ধে ওঠা সমস্ত অভিযোগ অস্বীকার করে একে ‘রাজনৈতিক প্রতিহিংসা’ বলে দাবি করেছেন।

    কোচবিহার

    কোচবিহারের দিনহাটায় বিজেপি কর্মীদের মারধর ও অর্থ আদায়ের অভিযোগে দিনহাটা-২ ব্লকের বড় শাকদল গ্রাম পঞ্চায়েতের উপপ্রধান ভবরঞ্জন বর্মণকে (TMC Leaders)  গ্রেফতার করেছে সাহেবগঞ্জ থানার পুলিশ। আদালত তাঁর ১৪ দিনের জেল হেফাজতের নির্দেশ দিয়েছে। সরকারি আইনজীবী নিহাররঞ্জন গুপ্ত জানান, ২০২৪ সালের নির্বাচন-পরবর্তী হিংসা ও তোলাবাজির সুনির্দিষ্ট অভিযোগের (BJP Bengal) ভিত্তিতেই এই আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।

    এই ভাবেই রাজ্যজুড়ে দুর্নীতিগ্রস্ত, তোলাবাজ এবং ভোট পরবর্তী হিংসায় নেতৃত্ব দেওয়া তৃণমূল নেতাদের গ্রেফতার করে জেলে ভরার কাজ করছে বিজেপি সরকার। সময় যত যাচ্ছে ধরপাকড়ের সংখ্যা আরও বাড়ছে।

  • TMC Leader Shamim Ahmed: অরূপ রায়-ঘনিষ্ঠ তৃণমূল নেতার বাড়িতে গোপন সুড়ঙ্গ! শোয়ার ঘরে রাজ-পালঙ্ক, তল্লাশিতে গিয়ে পুলিশ থ

    TMC Leader Shamim Ahmed: অরূপ রায়-ঘনিষ্ঠ তৃণমূল নেতার বাড়িতে গোপন সুড়ঙ্গ! শোয়ার ঘরে রাজ-পালঙ্ক, তল্লাশিতে গিয়ে পুলিশ থ

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: তৃণমূলের শাসনে এই রকম উন্নয়ন অকল্পনীয়। তবে তৃণমূল নেতাদের আর্থিক সমৃদ্ধির দৃশ্য খোদ তদন্তকারী পুলিশ অফিসারদেরকেই রীতিমতো চমকে দিয়েছে। ঘিঞ্জি জনবসতিপূর্ণ এলাকায় এমন স্থাপত্যের অস্তিত্ব থাকতে পারে, তা কল্পনাও করতে পারেননি তদন্তকারীরা। হাওড়ার (Howrah) শিবপুরের চওড়াবস্তি এলাকায় পলাতক তৃণমূল নেতা শামিম আহমেদ ওরফে ‘বড়ে’-র বাসভবনে তল্লাশি চালাতে গিয়ে কার্যত স্তম্ভিত হয়ে গেলেন পুলিশ আধিকারিকরা। কেবল বহুমূল্য আসবাব বা মুঘল ঘরানার স্থাপত্য নয়, বাড়ির অন্দরে মাটির নিচে আবিষ্কৃত হয়েছে এক রহস্যময় গোপন সুড়ঙ্গ। প্রশাসনিক মহলের ধারণা, বিপদের সময় আইন-শৃঙ্খলার নজর এড়িয়ে পলায়নের উদ্দেশ্যেই এই বিশেষ অবৈধ নির্মাণ করা হয়েছিল। তবে এই আলিশান রাজমহল (TMC Leader Shamim Ahmed) নির্মাণের টাকা কোথা থেকে আসতো? আসুন দেখে নিই কুখ্যত শামিম আহমেদের কুকীর্তি।

    আভিজাত্যের আড়ালে রহস্যের জাল (Howrah)

    নির্বাচন-পরবর্তী হিংসা এবং বিজেপি সংখ্যালঘু সেলের এক নেতার বাড়িতে হামলার অভিযোগে অভিযুক্ত শামিম আহমেদ (TMC Leader Shamim Ahmed) বর্তমানে পলাতক। তাঁর খোঁজে শিবপুরের ওই প্রাসাদে হানা দেয় পুলিশ। বাড়ির ভেতরে প্রবেশ করতেই আধিকারিকদের চোখ চড়কগাছ হয়ে যায়। সুড়ঙ্গ পেরলেই ‘সিংহদুয়ার’। নেমপ্লেটে লেখা শামিম আহম্মেদ নাম। দরজা খুললেই ভিতরে এলাহি ব্যবস্থা। গোটা বাড়ির সিসিটিভি মনিটরিং চলছে ওই ঘর থেকে।

    হাওড়ার তৃণমূল (TMC) নেতা শামিম আহমেদের সেই বাড়ির ছবি ইতিমধ্যেই সামনে এসেছে। দামি আসবাবপত্র, সিনেমার সেটের মতো সজ্জা এবং কারুকার্যমণ্ডিত ঘরগুলি আভিজাত্যের চরম নিদর্শন। তবে তল্লাশি চলাকালীন মাটির নিচে সুড়ঙ্গের সন্ধান মিলতেই পুরো পরিস্থিতি ভিন্ন মাত্রা পায়। সংবাদমাধ্যমের ক্যামেরায় ধরা পড়েছে সেই রহস্যময় সুড়ঙ্গ এবং নেমপ্লেট সম্বলিত শামিমের ঘরের চিত্র। এই সুড়ঙ্গ পথটি ঠিক কোথায় গিয়ে মিশেছে এবং এর মাধ্যমে কোনও অপরাধমূলক কারসাজি চলত কি না, তা নিয়ে ইতিপূর্বেই তদন্ত শুরু হয়েছে।

    সাধারণ জীবন থেকে ক্ষমতার শিখরে: শামিমের উত্থান

    মধ্য হাওড়ার (Howrah) রাজনৈতিক অলিন্দে কান পাতলে শামিম আহমেদের উল্কাসম উত্থানের কাহিনী শোনা যায়। জানা যায়, একসময় শপিং মলের সাধারণ কর্মচারী হিসেবে কাজ করা এই ব্যক্তি সময়ের ব্যবধানে এলাকার বেতাজ বাদশা হয়ে ওঠেন। ৩৬ নম্বর ওয়ার্ডের প্রাক্তন কাউন্সিলরের স্বামী এবং প্রাক্তন মন্ত্রী অরূপ রায়ের ছায়াসঙ্গী (TMC Leader Shamim Ahmed) হিসেবে পরিচিত হওয়ার পর থেকেই তাঁর প্রভাব-প্রতিপত্তি বাড়তে থাকে। স্থানীয়দের কাছে তিনি ‘বড়ে’ বা কেউ কেউ ‘ডন’ হিসেবেও পরিচিত। তাঁর বিরুদ্ধে অভিযোগ রয়েছে, প্রশাসনিক ও রাজনৈতিক প্রশ্রয়ে তিনি ওই এলাকায় আধিপত্য বিস্তার করেছিলেন।

    রাজনৈতিক উত্তাপ ও অভিযোগের আঙুল

    শামিমের (TMC Leader Shamim Ahmed) বাড়িতে (Howrah) এই গোপন সুড়ঙ্গের সন্ধান পাওয়ার ঘটনাটি প্রকাশ্যে আসতেই রাজ্যে রাজনৈতিক চাপানউতোর তুঙ্গে উঠেছে। বিজেপি নেতৃত্ব এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে শাসকদলের বিরুদ্ধে কড়া সমালোচনা শুরু করেছে।

    রাজ্যের নবনিযুক্ত মন্ত্রী দিলীপ ঘোষ কটাক্ষ করে বলেন, “তদন্ত যত এগোবে, সুড়ঙ্গ বা গুহার পাশাপাশি টাকার পাহাড়ও বেরিয়ে আসবে।” অন্যদিকে, শিবপুরের বিধায়ক রুদ্রনীল ঘোষ সরাসরি প্রাক্তন মন্ত্রী অরূপ রায়ের দিকে আঙুল তুলেছেন। তাঁর দাবি, “হাওড়ার মতো প্রাচীন শহরকে জমি প্রোমোটিং, মাদক ব্যবসা এবং লুটের রাজত্বে পরিণত করার নেপথ্যে এই নেতারাই মদতদাতা হিসেবে কাজ করেছেন। অপরাধীদের সুরক্ষা দিতে পুলিশকেও ঢাল হিসেবে ব্যবহার করা হয়েছে।”

    প্রশাসনিক তৎপরতা

    তদন্তকারীদের প্রাথমিক অনুমান, এই শামিমের (TMC Leader Shamim Ahmed)  সুড়ঙ্গ পথটি জরুরি অবস্থায় আত্মগোপন করার জন্য সুপরিকল্পিতভাবে তৈরি করা হয়েছিল। তৃণমূল নেতার এই ‘অপারেশনাল স্টাইল’ কোনও অন্ধকার জগতের অপরাধীদের কর্মপদ্ধতির সঙ্গে তুলনীয় বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। ঘটনার পর থেকে এলাকায় তীব্র চাঞ্চল্য বিরাজ করছে। পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, এই সুড়ঙ্গের বিস্তৃতি এবং এর সঙ্গে অন্য কোনো গোপন কার্যকলাপের যোগসূত্র খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

    এনআইএ-ও গ্রেফতার করেছিল শামিমকে

    এই প্রথমবার শামিমের (TMC Leader Shamim Ahmed) বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠল, তা নয়। আগেও তাঁর বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠেছে। হাওড়ায় (Howrah) রামনবমীর শোভাযাত্রায় হামলা চালানোর অভিযোগে যখন এনআইএ তদন্তভার নিয়ে গ্রেফতার করা হয়েছিল এই বড়েকে। যদিও সেই সময় তদন্তে ভাইরাল ভিডিয়ো সম্পর্কে হাওড়া সিটি পুলিশের কর্তারা কিছু জানাতে চাননি। তৃণমূলের শাসনে তোষণ নীতির কারণে শামিম রক্ষা পেলেও বিজেপি সরকারের দুর্নীতি এবং সিন্ডিকেট রাজের বিরুদ্ধে জিরো টোলারেন্স নীতি গ্রহণ করার সক্রিয় ভূমিকা পালন করতে দেখা গিয়েছে। রাজ্যে প্রশাসনিক রদবদল এবং নতুন সরকারের কড়া অবস্থানের মাঝেই এই ধরণের ঘটনা শাসকদলের ভাবমূর্তিকে নতুন করে চ্যালেঞ্জের মুখে ফেলেছে। এখন দেখার, এই সুড়ঙ্গের রহস্য উদ্ঘাটনে তদন্ত কোন পথে এগোয়।

  • TMC Violence: পদ্মের দখলে রাজ্য, তার পরেও বঙ্গে অত্যাচার চালাচ্ছে তৃণমূল! নিহত ২ বিজেপি কর্মী

    TMC Violence: পদ্মের দখলে রাজ্য, তার পরেও বঙ্গে অত্যাচার চালাচ্ছে তৃণমূল! নিহত ২ বিজেপি কর্মী

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ভবানীপুরে শুভেন্দু অধিকারীর কাছে ‘বধ’ হয়েও মুখ্যমন্ত্রী পদে ইস্তফা দেননি তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়! বস্তত, গোটা রাজ্যেই মুখ থুবড়ে পড়েছে বন্দ্যোপাধ্যায় পরিবারের পারিবারিক প্রতিষ্ঠান তৃণমূল। প্রত্যাশিতভাবেই ২০০-এরও বেশি বিধায়ক নিয়ে সরকার গড়ার দাবিদার বিজেপি (BJP Workers Killed)। এহেন আবহে রাজ্যে অশান্তি পাকাতে শুরু করে দিয়েছে তৃণমূল আশ্রিত দুষ্কৃতীরা (TMC Violence)। বিজেপির তরফে প্রথম থেকেই জানিয়ে দেওয়া হয়েছিল, বদলা নয়, বদল চাই। তার পরেও দলনেত্রীর মতোই মাজা ভাঙলেও, মচকায়নি তৃণমূলের জার্সিধারীরা।

    হাওড়ায় বিজেপি কর্মী খুন (TMC Violence)

    রাজ্যজুড়ে বিজেপি নেতা-কর্মীদের ওপর বিক্ষিপ্ত হামলা চালাতে শুরু করেছে গোহারা হেরে যাওয়া তৃণমূলের লোকজন। মঙ্গলবার সকালে হাওড়ার উদয়নারায়ণপুরে বিজেপির এক কর্মীকে পিটিয়ে খুন করার অভিযোগ ওঠে তৃণমূলের বিরুদ্ধে। গ্রেফতার করা হয়েছে অভিযুক্তকে। স্থানীয় ও বিজেপি সূত্রে খবর, মৃতের নাম যাদব বর। বিজেপির জয়ের আনন্দে সোমবার রাতে আবির খেলায় মেতেছিলেন তিনি। তার পরেই তাঁকে তৃণমূল আশ্রিত দুষ্কৃতীরা খুন করেছে বলে অভিযোগ। বিজেপির এই কর্মীর বাড়ি উদয়নারায়ণপুর বিধানসভার দেবীপুর গ্রাম পঞ্চায়েতের ১৪৮ নম্বর বুথ এলাকায়। তাঁর পরিবার জানিয়েছে, যাদব বিজেপির সমর্থক ছিলেন। বিজেপির জয়ের আনন্দ দলের সতীর্থদের সঙ্গে উদ্‌যাপন করছিলেন তিনি। সোমবার রাত ১১টা নাগাদ বাড়ি ফিরছিলেন। সেই সময় তাঁকে টেনেহিঁচড়ে নিয়ে যান কয়েকজন। ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে মারা হয় বিজেপির ওই কর্মীকে।

    নিউটাউনেও পিটিয়ে খুন, কাঠগড়ায় তৃণমূল

    মঙ্গলবারই নিউটাউনের বালিগড়ি চক পাচুড়িয়া এলাকায় বিজেপি কর্মী মধু মণ্ডলকে পিটিয়ে খুনের অভিযোগ উঠেছে তৃণমূলের বিরুদ্ধে। অনিচ্ছাকৃত খুনের মামলা দায়ের করে ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ (BJP Workers Killed)। যদিও ঘটনার পর থেকেই অভিযুক্ত কমল মণ্ডল পলাতক। জানা গিয়েছে, পুনর্গণনার পরে রাজারহাট-নিউটাউন বিধানসভা কেন্দ্রে ৩১৬ ভোটে জয়ী হন বিজেপির পীযূষ কানোরিয়া (TMC Violence)। পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে খবর, এর পরেই মধু দলবল নিয়ে স্থানীয় তৃণমূল নেতা এবং পঞ্চায়েত কমিটির সদস্য কমল মণ্ডলের বাড়িতে চড়াও হয় বলে অভিযোগ। ওই সময় কমল বাড়িতে ছিলেন না। বিকেলে মধু ফের উজিয়ে কমলের বাড়িতে গিয়ে হুমকি দেয় বলে অভিযোগ। মধুর হুমকি শুনে বেরিয়ে আসেন কমল। শুরু হয় কথা কাটাকাটি। এক সময় ওই তৃণমূল নেতা মধুকে ধাক্কা মারে বলে অভিযোগ। টাল সামলাতে না পেরে পড়ে যান ওই বিজেপি কর্মী। তখন সে মধুর বুকে সজোরে লাথি মারে বলে অভিযোগ। সঙ্গে সঙ্গে জ্ঞান হারান মধু। হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে মৃত ঘোষণা করা হয় তাঁকে। খবর পেয়ে রাতেই মধুর বাড়িতে যান বিজেপির সদ্য নির্বাচিত বিধায়ক পীযূষ কানোরিয়া। কথা বলেন মৃতের পরিবারের সঙ্গে। সব রকমভাবে পাশে থাকার আশ্বাস দেন তিনি। বিজেপি কর্মী অরূপ মণ্ডল বলেন, “মধুকে বুকে লাথি মেরে পিটিয়ে খুন করেছে তৃণমূলের কর্মী-সমর্থকরা।” অভিযুক্তকে গ্রেফতারের দাবিও জানিয়েছেন স্থানীয়রা (TMC Violence)।

    উত্তরেও অশান্তি হেরো তৃণমূলের

    দক্ষিণবঙ্গের পাশাপাশি উত্তরেও অশান্তি পাকানোর অভিযোগে কাঠগড়ায় সেই তৃণমূল-ই। বিধানসভা নির্বাচনে দলের জয়ের পর মঙ্গলবার সকালে স্থানীয় মন্দিরে পুজো দিতে যাচ্ছিলেন একদল বিজেপি কর্মী-সমর্থক (BJP Workers Killed)। আচমকাই তাঁদের ওপর হামলা চালানো হয় বলে অভিযোগ। জলপাইগুড়ির রংধামালি এলাকায় এই রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের ঘটনায় ছড়ায় ব্যাপক চাঞ্চল্য। বিজেপির অভিযোগ, জলপাইগুড়ি সদর বিধানসভা কেন্দ্রের হেরে যাওয়া তৃণমূল প্রার্থী কৃষ্ণ দাসের লোকজনই একাজ করেছে। ধারালো অস্ত্রের কোপে গুরুতর জখম হয়েছেন অন্তত ৬ জন বিজেপি কর্মী। জলপাইগুড়ি মেডিক্যাল কলেজ-হাসপাতালে চিকিৎসাধীন তাঁরা। স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে খবর, কৃষ্ণের নেতৃত্বে একদল যুবক লাঠি ও ধারালো অস্ত্র নিয়ে বিজেপি কর্মী-সমর্থকদের পথ আগলায়। গাড়ি থেকে টেনে নামিয়ে শুরু হয় মারধর। প্রত্যক্ষদর্শীদের দাবি, প্রকাশ্য দিবালোকেই বিজেপি কর্মীদের ওপর চড়াও হয় তৃণমূল আশ্রিত দুষ্কৃতীরা। ধারালো অস্ত্রের ঘায়ে জখম হন বেশ কয়েকজন।

    উলটপুরাণ!

    খবর পেয়েই এলাকায় যান জলপাইগুড়ি থানার পুলিশ এবং কেন্দ্রীয় বাহিনীর জওয়ানরা। বিজেপির দাবি, পরাজয়ের গ্লানি সহ্য করতে না পেরে প্রতিহিংসার রাজনীতি শুরু করেছে রাজ্যের শাসকদল। ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ। প্রসঙ্গত, হেরে গিয়েও বিজেপি নেতা-কর্মী-সমর্থকদের ওপর তৃণমূল হামলা চালিয়ে যাচ্ছে বলে অভিযোগ (BJP Workers Killed)। যদিও বিজেপির তরফে পাল্টা মার দেওয়া হয়নি। সূত্রের খবর, পদ্মশিবিরের ওপরতলার (TMC Violence) নেতাদের নির্দেশেই পাল্টা মারের রাস্তায় হাঁটেনি পদ্মশিবির। ওয়াকিবহাল মহলের মতে, দুই ফুলের (বিজেপির পদ্মফুল এবং তৃণমূলের ঘাসফুল) রূপ-রস-গন্ধ সবই যে আলাদা, এই সব ঘটনাই তার প্রমাণ।

     

  • West Bengal Poll Violence: ‘ডায়মন্ড মডেল’ প্রয়োগ তৃণমূলের! বাসন্তীর বিজেপি প্রার্থীকে ব্যাপক মারধরের অভিযোগ

    West Bengal Poll Violence: ‘ডায়মন্ড মডেল’ প্রয়োগ তৃণমূলের! বাসন্তীর বিজেপি প্রার্থীকে ব্যাপক মারধরের অভিযোগ

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: গদি ধরে রাখতে ডায়মন্ড হারবারে ‘ডায়মন্ড মডেল’ প্রয়োগ তৃণমূলের (TMCs Gundagiri)! আজ, বুধবার পশ্চিমবঙ্গে হচ্ছে দ্বিতীয় তথা শেষ দফার ভোটগ্রহণ। অভিযোগ, বসন্তী বিধানসভা কেন্দ্রের বিজেপি প্রার্থী বিকাশ সরদারের গাড়িতে (West Bengal Poll Violence) হামলা চালায় তৃণমূল আশ্রিত দুষ্কৃতীরা। বিজেপি প্রার্থীর দাবি, এলাকাজুড়ে তৃণমূল ব্যাপক ‘গুন্ডাগিরি’ চালাচ্ছে। সরদার জানান, ২০০ থেকে ২৫০ জনের একটি দল লোহার রড ও বাঁশের লাঠি নিয়ে তাঁর গাড়িতে হামলা চালায়, আক্রমণ করা হয় তাঁর গাড়ি চালককেও। বিকাশ বলেন, “পুরো বিধানসভা এলাকায় তৃণমূলের গুন্ডাগিরি চলছে। ২০০-২৫০ জন তৃণমূলের গুন্ডা লোহার রড ও বাঁশ নিয়ে আমার গাড়িতে হামলা করেছে। তারা আমার চালককেও মারধর করেছে।”

    বিজেপির বুথকর্মীর অভিযোগ (West Bengal Poll Violence)

    এদিকে, নদিয়ার চাপড়া বিধানসভা কেন্দ্রের এক বিজেপি বুথকর্মীর অভিযোগ, বুধবার ভোরে একদল দুষ্কৃতী তাঁকে আক্রমণ করেছে। ওই বুথকর্মীর নাম মোশাররফ মির। তিনি হাতরা পঞ্চায়েতের ৫৩ নম্বর বুথের পোলিং এজেন্ট। তাঁর দাবি, সকাল সাড়ে ৫টা নাগাদ ১৫-২০ জন সশস্ত্র ব্যক্তি লোহার রড ও আগ্নেয়াস্ত্র নিয়ে তাঁকে মারধর করে পালিয়ে যায়। পুলিশ তাঁকে উদ্ধার করে চাপড়া গ্রামীণ হাসপাতালে ভর্তি করে। আপাতত, সেখানেই চিকিৎসাধীন রয়েছেন তিনি। তাঁর মাথায় ছ’টি সেলাই পড়েছে।

    কী বলছেন মির?

    মির বলেন, “তৃণমূলের কিছু গুন্ডা লুকিয়ে ছিল জানিয়াল্লামুল্লার বাড়িতে। তাদের বিরুদ্ধে একাধিক মামলা রয়েছে। জানিয়াল্লামুল্লা নিজেই একজন অপরাধী। তার কাছে বন্দুক ছিল। আরও দু’জনের কাছেও বন্দুক ছিল। তারা সেগুলি দেখাচ্ছিল। তারপর আরও ১৫-২০ জন আমাদের দিকে আসে। তাদের হাতে ছিল লোহার রড ও লাঠি। তারা প্রথমে আমায় আক্রমণ করে, মারধর করে ফেলে দেয় (West Bengal Poll Violence)।” তিনি আরও বলেন, “তারা আমায়  বারবার আঘাত (TMCs Gundagiri) করতে থাকে। আমার সঙ্গে থাকা লোকজনকেও আক্রমণ করা হয়। আমার মাথায় ছ’টি সেলাই পড়েছে। আমি চাই পুলিশ তাদের গ্রেফতার করুক। আমি বিচার চাই।”

    এদিকে, এদিন সকাল ৯টা পর্যন্ত নদিয়া জেলায় ভোটের হার ছিল ১৮.৫০ শতাংশ। পূর্ব বর্ধমান সর্বোচ্চ ২০.৮৬ শতাংশ ভোট নিয়ে শীর্ষে রয়েছে। হুগলিতে ভোট পড়েছে ২০.১৬ শতাংশ এবং উত্তর ২৪ পরগনায় ১৭.৮১ শতাংশ ভোট পড়েছে। কলকাতা উত্তর ও দক্ষিণে যথাক্রমে ১৭.২৮ শতাংশ ও ১৬.৮১ শতাংশ ভোট পড়েছে, আর হাওড়ায় ভোটের হার ১৭.৭৬ শতাংশ। ২০২৬ সালের পশ্চিমবঙ্গ নির্বাচনে মূল লড়াই তৃণমূল ও বিজেপির মধ্যে। এর আগে, বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী ভবানীপুর কেন্দ্রের ভোটকেন্দ্রগুলি পরিদর্শন করেন। দ্বিতীয় দফায় পশ্চিমবঙ্গের ২৯৪টির মধ্যে ১৪২টি আসনে ভোট হচ্ছে। মোট ভোটার প্রায় ৩.২১ কোটি। এর মধ্যে ১,৬৪,৩৫,৬২৭ জন পুরুষ, ১,৫৭,৩৭,৪১৮ জন মহিলা এবং ৭৯২ জন তৃতীয় লিঙ্গের ভোটার রয়েছেন (West Bengal Poll Violence)। প্রসঙ্গত, ১৪২টি আসনে ভোট হলেও, সবার নজর “বিগ ফাইভ” আসনগুলির দিকে। ভবানীপুরের হাই-প্রোফাইল আসনের পাশাপাশি, বাংলা চলচ্চিত্র জগতের কেন্দ্র টালিগঞ্জেও তারকাখচিত জমজমাট লড়াই চলছে (TMCs Gundagiri)।

     

  • Communal Violence: ধর্মতলার ধর্নামঞ্চ থেকে হিন্দুদের উদ্দেশে মমতার ‘থ্রেট’, গত ১৫ বছর ধরে সেই ট্র্যাডিশন সমানে চলছে

    Communal Violence: ধর্মতলার ধর্নামঞ্চ থেকে হিন্দুদের উদ্দেশে মমতার ‘থ্রেট’, গত ১৫ বছর ধরে সেই ট্র্যাডিশন সমানে চলছে

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: “আমরা আছি বলেই আপনারা সবাই ভালো আছেন। যদি আমরা না-থাকি, কোনও দিন সেই রকম আসে, এক সেকেন্ড লাগবে। একটা কমিউনিটি যখন জোট বাঁধে না, ঘিরে ফেললে এক সেকেন্ডে দেবে একদম বারোটা বাজিয়ে। যদি নিজেদের ১৩টা বাজাতে না চান তাহলে বিজেপির অপপ্রচারে কোনও দিন ভুল বুঝবেন না।” দিন কয়েক আগে ধর্মতলার ধর্না মঞ্চে কথাগুলি বলেছিলেন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী তথা তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। রাজনৈতিক মহলের একাংশের মতে, তাঁর এই মন্তব্য থেকেই স্পষ্ট, নবান্নের গদি বাঁচাতে সাম্প্রদায়িকতার তাস খেলে দিলেন তৃণমূলেশ্বরী (Mamata Banerjee)। অবশ্য (Communal Violence) এই প্রথম নয়, ২০১১ সালে মমতা এবং তাঁর দল তৃণমূল ক্ষমতায় আসার পর থেকেই পশ্চিমবঙ্গের বিভিন্ন জেলায় বারবার সাম্প্রদায়িক উত্তেজনা ও হিংসার ঘটনা ঘটেছে। জনমানসে এটি রাজ্যের প্রশাসন এবং আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে গুরুতর উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে।

    ম্লান পশ্চিমবঙ্গের সাংস্কৃতিক বহুত্ববাদ (Communal Violence) 

    দীর্ঘদিন ধরে পশ্চিমবঙ্গকে দেখা হত একটি সাংস্কৃতিক বহুত্ববাদ, বৌদ্ধিক ঐতিহ্য এবং সামাজিক সহাবস্থানের আঙ্গিকে। কিন্তু গত এক দশকে, মমতা জমানায় ধারাবাহিক দাঙ্গা, হিংসাত্মক বিক্ষোভ এবং সংঘর্ষ বাংলার এই ভাবমূর্তিকে বারবার ক্ষতবিক্ষত করেছে। রাজ্যের বিভিন্ন জেলায় ধর্মীয় শোভাযাত্রা, রাজনৈতিক বিরোধ বা স্থানীয় উত্তেজনা থেকে শুরু হওয়া ঘটনাগুলি দ্রুতই সাম্প্রদায়িক সংঘর্ষের রূপ নিয়েছে। এর মধ্যে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ঘটনাগুলির একটি ঘটে ২০১৬ সালের জানুয়ারি মাসে, মালদার কালিয়াচকে। এক বিরাট উন্মত্ত জনতা হিংসাত্মক তাণ্ডব চালায় স্থানীয় থানায়, গাড়িতে আগুন লাগায়, ধ্বংস করে সরকারি সম্পত্তি। তাণ্ডবের মাত্রা এতটাই তীব্র ছিল যে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে কার্যত হিমশিম খেতে হয়।

    হাওড়ায় হিংসা

    ওই বছরেরই শেষের দিকে হাওড়া জেলার ধুলোগড়ে সাম্প্রদায়িক হিংসা ছড়ায়। এলাকার বহু বাড়ি ও দোকানে আগুন লাগানো হয়, যার জেরে অনেক বাসিন্দাকে ভিটেমাটি ছেড়ে পালাতে হয়। কয়েকদিন ধরে চলা এই হিংসা নিয়ন্ত্রণে আনতে বিপুল সংখ্যক পুলিশ মোতায়েন করতে হয়। সোশ্যাল মিডিয়ার একটি পোস্টকে কেন্দ্র করে বড় ধরনের সাম্প্রদায়িক সংঘর্ষ শুরু হয় উত্তর ২৪ পরগনার বাদুড়িয়া ও বসিরহাটে, ২০১৭ সালে। উত্তেজনার আঁচ দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে, শুরু হয় অগ্নিসংযোগ ও ভাঙচুরের মতো হিংসাত্মক ঘটনা। পরিস্থিতি সামাল দিতে জারি করা হয় নিষেধাজ্ঞা, মোতায়েন করা হয় কেন্দ্রীয় বাহিনী।

    বঙ্গে অশান্তির আগুন

    এর ঠিক পরের বছরই ২০১৮ সালে, রাম নবমীর শোভাযাত্রায় হামলা হয় আসানসোল ও রানিগঞ্জ শিল্পাঞ্চলে। নতুন করে ছড়ায় হিংসার আগুন। বিভিন্ন এলাকায় সংঘর্ষের জেরে কয়েকজন নিহত হন, নষ্ট করা হয় বিপুল পরিমাণ সম্পত্তি (Mamata Banerjee)। ২০১৯ এবং ২০২০ সালের শুরুতে নাগরিকত্ব সংশোধনী আইন (CAA)-এর প্রতিবাদ জানানোর সময়ও পশ্চিমবঙ্গে ব্যাপক অস্থিরতা দেখা যায়। বিক্ষোভকারীরা বহু জেলায় রেললাইন অবরোধ করে, ভাঙচুর করে রেলস্টেশনে, ট্রেনে লাগিয়ে দেয় আগুন। হিংসা এবং বিক্ষোভের জেরে বহু জায়গায় ক্ষতি করা হয় জনসাধারণের সম্পত্তির।

    নির্বাচনোত্তর হিংসা

    আর একটি বড় হিংসার ঘটনা ঘটে ২০২১ সালের পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনের পর। তৃণমূল কংগ্রেস নির্বাচনে জয়ী হওয়ার পর রাজ্যের বিভিন্ন জেলায় শুরু হয় ভোট-পরবর্তী হিংসা। বিভিন্ন জায়গায় বাড়িঘরে হামলা হয়, নষ্ট করা হয় সম্পত্তি, বাসিন্দাদের এলাকা ছেড়ে চলে যেতে বাধ্য করা হয় বলেও অভিযোগ (Communal Violence)। বাংলার এই হিংসাই জাতীয় পর্যায়ে আলোচনার বিষয় হয়ে ওঠে। ঘটনাগুলির তদন্তে হস্তক্ষেপ করতে হয় আদালত ও কেন্দ্রীয় সংস্থাগুলিকে। ক্ষতিগ্রস্ত বাসিন্দাদের বক্তব্য থেকে জানা গিয়েছে, নির্বাচনের পর অনেক এলাকায় ব্যাপক আতঙ্ক ছড়ায়, ঘরছাড়াও হতে হয়েছিল বহু মানুষকে।

    রামনবমীতেও হিংসার ছবি

    ২০২৩ এবং ২০২৪ সালেও রামনবমী উদযাপনের সময় হাওড়া, রিষড়া ও মুর্শিদাবাদে হিংসাত্মক ঘটনা ঘটে। পাথর ছোড়া, তাজা বোমা নিয়ে হামলা এবং অগ্নিসংযোগের ঘটনাও ঘটে (Mamata Banerjee)। কোনও কোনও এলাকায় দু’পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ তীব্র আকার ধারণ করলে প্রশাসন জমায়েতে নিষেধাজ্ঞা জারি করে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে মোতায়েন করা হয় প্রচুর পুলিশ ও কেন্দ্রীয় বাহিনী। সংঘর্ষের পর বিভিন্ন ভিডিও এবং প্রতিবেদনে দেখা যায়, ভাঙাচোরা গাড়ি, পুড়ে খাক হয়ে যাওয়া দোকান এবং শুনসান রাস্তাঘাটের ছবি। বারবার এই ধরনের হিংসাত্মক ঘটনার জের পশ্চিমবঙ্গের আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি নানা সময় উঠে এসেছে জাতীয় আলোচনার কেন্দ্রে। রাজ্য সরকারের সমালোচকরা দাবি করেন, স্থানীয় বিরোধকে সাম্প্রদায়িক হিংসার রূপ নেওয়া থেকে বাঁচাতে ব্যর্থ হয়েছে প্রশাসন। শুধু তাই নয়, সংবেদনশীল এলাকায় দীর্ঘস্থায়ী শান্তি বজায় রাখতেও পারেনি তারা।

    রাজনৈতিক উত্তেজনা

    রাজ্যে ক্রমবর্ধমান রাজনৈতিক উত্তেজনাও পরিস্থিতিকে আরও ঘোরালো করে তুলেছে। রাজনৈতিক নেতাদের বক্তব্য অনেক সময় সাম্প্রদায়িক হিংসার ঘটনাগুলিতে ইন্ধন জুগিয়ে পরিবেশকে আরও বিষাক্ত করে তোলে। বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতির সঙ্গে ঐতিহাসিক তুলনাও টানা হয়েছে হুসেন শহিদ সুরাবর্দির সময়ের সঙ্গে। অবিভক্ত বাংলার প্রধানমন্ত্রী হিসেবে তাঁর শাসনকাল ১৯৪৬ সালের ‘ডায়রেক্ট অ্যাকশন ডে’-র ভয়াবহ সাম্প্রদায়িক হিংসার স্মৃতি জাগিয়ে তোলে। সেই ঘটনা বাংলার ইতিহাসের অন্যতম অন্ধকারতম অধ্যায় হিসেবে বিবেচিত হয় (Mamata Banerjee) আজও। এই ঘটনার গভীর ক্ষত এখনও রয়ে গিয়েছে বাংলার সামাজিক কাঠামোয় (Communal Violence)।

     

  • Vande Bharat: বন্দে ভারত স্লিপার থেকে অমৃত ভারত, নববর্ষে বাংলাকে একগুচ্ছ ট্রেন উপহার মোদি সরকারের

    Vande Bharat: বন্দে ভারত স্লিপার থেকে অমৃত ভারত, নববর্ষে বাংলাকে একগুচ্ছ ট্রেন উপহার মোদি সরকারের

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: নববর্ষে বাংলাকে একগুচ্ছ ট্রেন উপহার দিল প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সরকার। উপহার দেওয়া হয়েছে অসমকেও (Vande Bharat)। জানা গিয়েছে, একই সঙ্গে পশ্চিমবঙ্গ এবং অসম থেকে ১১টি ট্রেন চালু করতে চলেছে ভারতীয় রেল (Amrit Bharat Express)। সূত্রের খবর, এই ১১টি ট্রেনের মধ্যে রয়েছে আটটি অমৃত ভারত এবং একটি বন্দে ভারত স্লিপার ট্রেনও। দেশে এই প্রথমবার আটটি বন্দে ভারত স্লিপার ট্রেন চালু হচ্ছে। আর রাজ্যভিত্তিক বণ্টনের নিরিখে ১১টি ট্রেনের মধ্যে ন’টিই পাচ্ছে পশ্চিমবঙ্গ। বাকি দুটি ট্রেনও অসম ছেড়ে পশ্চিমবঙ্গ ছুঁয়ে যাবে গন্তব্যে। একটি মেমু প্যাসেঞ্জার ট্রেনের যাত্রাপথও সম্প্রসারণ করা হচ্ছে। বাঁকুড়া-ময়নাপুর মেমু প্যাসেঞ্জার ট্রেন সম্প্রসারণ করা হচ্ছে জয়রামবাটি পর্যন্ত।

    নয়া ট্রেন (Vande Bharat)

    রেল সূত্রে খবর, নয়া যে ট্রেনগুলি চালু হবে, সেগুলি হল, নিউ জলপাইগুড়ি-তিরুচিলাপল্লি অমৃত ভারত এক্সপ্রস, এসএমভিটি বেঙ্গালুরু-আলিপুরদুয়ার অমৃত ভারত এক্সপ্রেস, আলিপুরদুয়ার-পানভেল অমৃত এক্সপ্রেস, ডিব্রুগড়-গোমতী নগর অমৃত ভারত এক্সপ্রেস, কামাখ্যা-রোহতক অমৃত ভারত এক্সপ্রেস, হাওড়া-আনন্দ বিহার টার্মিনাল অমৃত ভারত এক্সপ্রেস, শিয়ালদা-বেনারস অমৃত ভারত এক্সপ্রেস, নিউ জলপাইগুড়ি-নাগেরকোল অমৃত ভারত এক্সপ্রেস, হাওড়া-কামাখ্যা বন্দে ভারত স্লিপার ট্রেন, এসএমভিটি বেঙ্গালুরু-বালুরঘাট এক্সপ্রেস এবং এসএমভিটি বেঙ্গালুরু-রাধিকাপুর এক্সপ্রেস (Vande Bharat)।

    কী বললেন রেলমন্ত্রী

    ২০২৬ সালের প্রথম দিনই রেলমন্ত্রী অশ্বিনী বৈষ্ণব জানিয়েছিলেন, দেশের প্রথম বন্দে ভারত স্লিপার ট্রেন চালু হবে হাওড়া থেকে (Amrit Bharat Express) কামাখ্যার মধ্যে। সম্প্রতি তিনি বলেন, “আগামী ১৫ থেকে ২০ দিনের মধ্যেই পরিষেবা চালু হয়ে যাবে, পরিষেবা শুরু হবে সম্ভবত ১৮ বা ১৯ তারিখ। আমরা প্রধানমন্ত্রীকে অনুরোধ করেছি। তিনি রাজিও হয়েছেন। আর সব কিছু ঠিকঠাক হয়ে গিয়েছে। দু’-তিনদিনের মধ্যেই নির্দিষ্ট দিনক্ষণ ঘোষণা করে দেব।”

    ভাড়া কত

    রেলমন্ত্রী জানিয়েছেন, কলকাতা থেকে গুয়াহাটিতে বিমানে যেতে খরচ পড়ে ৬ থেকে ৮ হাজার টাকা। সেখানে বন্দে ভারত স্লিপার ট্রেনে থার্ড এসিতে যেতে খরচ হবে খাবার-সহ ২,৩০০ টাকার মধ্যে। সেকেন্ড এসিতে সফর করতে হলে দিতে হবে আরও ৭০০ টাকা বেশি (Vande Bharat)। আর ফার্স্ট এসিতে ভাড়া পড়বে মোটামুটি ৩,৬০০ টাকা। তিনি জানান, মধ্যবিত্তের কথা মাথায় রেখেই ভাড়া নির্ধারণ করা হয়েছে। মন্ত্রী জানান, গুয়াহাটি থেকে যে ট্রেন হাওড়া আসবে, তাতে মিলবে অসমের খাবার। আর কলকাতা থেকে যে ট্রেন কামাখ্যা যাবে, তাতে পাওয়া যাবে বাঙালি খাবার (Amrit Bharat Express)।

    রেল সূত্রে খবর, সাঁতরাগাছি থেকে চেন্নাই পেরিয়ে তাম্বারাম পর্যন্ত চালু হচ্ছে অমৃত ভারত এক্সপ্রেস। বালুরঘাট-হিলির মধ্যে নয়া রেলপথে শিলান্যাসের জন্য বরাদ্দ হয়েছে ১ হাজার ১৮১ কোটি টাকা। নিউ কোচবিহার থেকে বামনহাট ও বক্সিরহাটের মধ্যে ৯৫ কিলোমিটার লাইনের বৈদ্যুতিকীকরণ করা হবে। এজন্য বরাদ্দ হচ্ছে ১১৮ কোটি টাকা (Vande Bharat)। ফালাকাটা থেকে ধূপগুড়ি পর্যন্ত চার লেনের জাতীয় সড়ক তৈরি প্রকল্পের শিলান্যাসও হবে একই দিনে। এজন্য বরাদ্দ হয়েছে ১ হাজার ৬০৬ কোটি টাকা (Amrit Bharat Express)।

  • Commonwealth Weightlifting Championship: কমনওয়েলথ ইয়ুথ চ্যাম্পিয়নশিপে বিশ্বরেকর্ড বাংলার মেয়ে কোয়েলের, সোনা অনিকেরও

    Commonwealth Weightlifting Championship: কমনওয়েলথ ইয়ুথ চ্যাম্পিয়নশিপে বিশ্বরেকর্ড বাংলার মেয়ে কোয়েলের, সোনা অনিকেরও

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ভারোত্তোলনে কমনওয়েলথ ইয়ুথ চ্যাম্পিয়নশিপে (Commonwealth Weightlifting Championship) দেশকে জোড়া সোনা এনে দিলেন দুই বঙ্গ সন্তান। মেয়েদের ৫৩ কেজি বিভাগে বিশ্বরেকর্ড গড়লেন বাংলার মেয়ে ১৭ বছরের কোয়েল বর। ছেলেদের যুব ৬৫ কেজি বিভাগে মোট ২৩৮ কেজি ভারোত্তোলন করে সোনা জিতলেন অনিক মোদি। সার্বিকভাবে কমনওয়েলথ ভারোত্তোলন চ্যাম্পিয়নশিপে ভালোই পারফর্ম করছেন ভারতীয়রা। এই প্রতিযোগিতা দিয়েই ভারোত্তোলন সার্কিটে কামব্যাক করেছেন মীরাবাঈ চানু। আর কামব্যাক ম্যাচেই মহিলাদের ৪৮ কেজি বিভাগে ক্লিন অ্যান্ড জার্কে মোট ১৯৩ কেজি (৮৪+১০৯ কেজি) ওজন তুলে শীর্ষ স্থান অর্জন করেছেন তিনি।

    রেকর্ডর পর রেকর্ড

    চলতি বছর গুজরাটে ভারোত্তোলনের কমনওয়েলথ চ্যাম্পিয়নশিপ চলছে। এখানেই তিনটি বিশ্বরেকর্ড করেছে হাওড়ার ১৭ বছরের মেয়ে কোয়েল বর। মঙ্গলবার ভারোত্তোলনের কমনওয়েলথ চ্যাম্পিয়নশিপে বিশ্বরেকর্ডের হ‍্যাটট্রিক করেন বঙ্গের কোয়েল। মোট ১৯২ কেজি ওজন তুলে যুব ভারোত্তোলনে বিশ্বরেকর্ড করেন কোয়েল। সেই সঙ্গে জিতে নেন সোনাও। যুব ভারোত্তোলনে ৫৩ কেজি বিভাগে আগের বিশ্বরেকর্ড ছিল ১৮৮ কেজি। কোয়েল সহজেই তা ভেঙে দেন। ক্লিন অ‍্যান্ড জার্ক বিভাগে ১০৭ কেজি ওজন তোলেন কোয়েল। এই বিভাগে বিশ্বরেকর্ড ছিল ১০৫ কেজি। স্ন্যাচে ৮৫ কেজি ওজন তুলে বিশ্বরেকর্ড স্পর্শ করেন কোয়েল।

    বাবাই অনুপ্রেরণা

    হাওড়ায় মুরগির মাংস বিক্রেতার মেয়ে কোয়েল ইউথ ছাড়াও জুনিয়র বিভাগেও সোনা জিতেছে। রেকর্ডের হ‍্যাটট্রিক, জোড়া সোনা। তার পরেও নির্বিকার কোয়ল বলে, “বিশ্বরেকর্ড করাই আমার লক্ষ‍্য ছিল। অনুশীলনের সময়ে ১০৭-১০৮ কেজি ওজন আমি নিয়মিত তুলেছি। ফলে, বিশ্বরেকর্ডের কাছাকাছি ছিলামই। রেকর্ড হতই। আমি ১০৯ কেজি তুলতে পারতাম। কিন্তু অল্পের জন্য পারলাম না।” কী ভাবে এই সাফল্য এল তা বলতে গিয়ে কোয়ল বলে, “বাবাকে দেখে ২০১৮ সালে ভারোত্তোলন শুরু করি। বাবা নিয়মিত জিমে যেত। বিজয় স্যারের (বিজয় শর্মা, কোয়েলর প্রশিক্ষক) কাছে প্রশিক্ষণ নিয়ে গত দু’বছরে আমার পারফরম্যান্সে অনেক উন্নতি হয়েছে। আগে সব মিলিয়ে ১৪৭ কেজি তুলতে পারতাম। এখন ১৯২ কেজি তুলছি।”

    কেন্দ্রের সহায়তায় অলিম্পিক্স গোল্ড কোয়েস্ট

    কথায় বলে,জহুরি জহর চেনেন। কোয়েলকে একঝলক দেখে জাতীয় দলের প্রধান কোচ বিজয় শর্মা বুঝে গিয়েছিলেন এই মেয়ে একদিন সোনা জিতবেন। লম্বা রেসের ঘোড়া তিনি। বাংলার মেয়েটিকে নিয়ে দীর্ঘমেয়াদী চিন্তাভাবনা শুরু করে দেন বিজয় শর্মা। কোয়েলকে স্কাউট করেন তিনি। বিজয় বলেছেন, “কোয়েলকে দেখে আমার শারীরিক দিক থেকে শক্তিশালী বলেই মনে হয়েছিল। তাই অলিম্পিকের জন্য দীর্ঘমেয়াদী লক্ষ্য নিয়ে তৈরি করছিলাম। অলিম্পিক্সের কথা মাথায় রেখে দীর্ঘকালীন লক্ষ‍্যে বেশ কয়েক জন খুদেকে নিয়ে কাজ করছিলাম। তখনই কোয়েল আমার নজরে পড়ে। প্রথমেই অন্য সব কিছু বাদ দিয়ে ওর টেকনিকের উপর জোর দিয়েছিলাম। বাচ্চাদের কী করে বিজ্ঞানসম্মত উপায়ে প্রশিক্ষণ দেওয়া যায় তার জন্য অলিম্পিক্স গোল্ড কোয়েস্ট খুবই সাহায্য করছে।”

  • Nabanna Aabhiyan: নবান্ন অভিযানকে ঘিরে ধুন্ধুমার, অবস্থান বিক্ষোভ শুভেন্দুর, সাঁতরাগাছিতে জ্বলল আগুন

    Nabanna Aabhiyan: নবান্ন অভিযানকে ঘিরে ধুন্ধুমার, অবস্থান বিক্ষোভ শুভেন্দুর, সাঁতরাগাছিতে জ্বলল আগুন

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: শনিবার নবান্ন অভিযানকে (Nabanna Aabhiyan) ঘিরে ধুন্ধুমার পরিস্থিতি কলকাতার পার্কস্ট্রিটে। পুলিশের মারে জখম শতাধিক আন্দোলনকারী। শাঁখা ভাঙল আরজিকরকাণ্ডে নিহত তরুণী চিকিৎসকের মায়ের। নবান্ন অভিযানে বাধা পেয়ে পার্কস্ট্রিটেই অবস্থান বিক্ষোভে বসে পড়েন রাজ্যের বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari)। ক্ষোভ উগরে দেন পুলিশের বিরুদ্ধে। বলেন, “অনুব্রত ঠিকই বলেছিল।” রাজ্যের বিরোধী দলনেতা বলেন, “যখন জনগণের ন্যায়বিচারের দাবি দমন করতে পুলিশ লাঠিচার্জ করে (Nabanna Aabhiyan), তখন বোঝা যায় অনুব্রত মণ্ডলের কথার মধ্যে কিছু সত্যি ছিল।”

    আরজিকর কাণ্ডের বর্ষপূর্তি (Nabanna Aabhiyan)

    আরজিকর কাণ্ডের বর্ষপূর্তি ৯ অগাস্ট। এখনও বিচার পাননি নির্যাতিতার পরিবার। এরই প্রতিবাদে এদিন ডাক দেওয়া হয়েছিল নবান্ন অভিযানের। এই অভিযানে ছিলেন নির্যাতিতা প্রয়াত চিকিৎসকের মা-বাবা এবং পরিবারের অন্য সদস্যরা। ছিলেন প্রচুর সাধারণ মানুষ। ছিলেন বিজেপি কর্মী-সমর্থকরাও। এদিনের অভিযানে দলীয় ঝান্ডা ছাড়াই যোগ দিয়েছিলেন রাজ্যের বিরোধী দলনেতা তথা নন্দীগ্রামের বিধায়ক জায়েন্ট কিলার (বিধানসভা নির্বাচনে নন্দীগ্রামে মমতাকে হারানোয় রাজ্যে এই নামেই পরিচিত রাজ্যের বিরোধী দলনেতা) শুভেন্দু অধিকারীও।

    ব্যারিকেড ভেঙে নবান্নের দিকে যাত্রার চেষ্টা

    নবান্ন চত্বরে জারি করা হয়েছে ১৬৩ ধারা (আগে এটাই ছিল ১৪৪ ধারা)। তাই সেখানে কোনও আন্দোলন করা যাবে না বলে আগেই জানিয়ে দিয়েছিল পুলিশ। আন্দোলনকারীরা যাতে নবান্নের কাছ অবধি পৌঁছতে না পারে, তাই ত্রিস্ত্ররীয় নিরাপত্তার বন্দোবস্ত করেছিল পুলিশ। তবে পুলিশের কথায় কান না দিয়ে ব্যারিকেড ভেঙে নবান্নের দিকে যাত্রার চেষ্টা করেছে একের পর এক মিছিল। হাওড়া ময়দান, সাঁতরাগাছি, পার্কস্ট্রিট, ডোরিনা ক্রসিং সর্বত্রই পুলিশ আটকে দিয়েছে মিছিলের গতি। পুলিশি ব্যারিকেড ভেঙেও কোথাও কোথাও এগিয়েছে মিছিল। সাঁতরাগাছিতে লোহার ব্যারিকেডগুলি বাঁধা ছিল শেকল দিয়ে। সেই ব্যারিকেডের ওপরই উঠে পড়েন আন্দোলনকারীদের অনেকে। পুলিশের তরফে বিভিন্ন জায়গায় ‘শান্তি বজায় রাখুন’, ‘ডোন্ট ক্রস লাইন’ লেখা ব্যানার থাকলেও, সে-সবের তোয়াক্কা না করেই চলতে থাকে ব্যারিকেড ভাঙার চেষ্টা।

    লাঠিচার্জ পুলিশের

    এদিন নবান্ন অভিযানের শুরুতেই রাজ্যের বিরোধী দলনেতা শুভেন্দুকে রানি রাসমণি অ্যাভিনিউতে বাধা দেয় পুলিশ। বেলা পৌনে ১২টা নাগাদ বিধানসভা থেকে তিনি সরাসরি চলে যান ডোরিনা ক্রসিংয়ে। তাঁর সঙ্গে ছিলেন বিজেপি নেত্রী অগ্নিমিত্রা পাল, সাংসদ অর্জুন সিং-সহ অন্য (Nabanna Aabhiyan) নেতারা। মিছিল রানি রাসমণি অ্যাভেনিউতে পৌঁছতেই শুভেন্দুর পথ আটকায় পুলিশ। এনিয়ে পুলিশের সঙ্গে বচসায় জড়িয়ে পড়েন শুভেন্দু। খানিকক্ষণ বচসার পরে মিছিলের রুট বদল করে জওহরলাল নেহরু রোড ধরে নবান্ন অভিমুখে যাত্রা করে শুভেন্দুর নেতৃত্বে মিছিল। মিছিল যখন পার্কস্ট্রিটে পৌঁছয়, তখনই এলোপাথাড়ি লাঠিচার্জ করে পুলিশ। পুলিশের লাঠির ঘায়ে জখম হন শতাধিক বিক্ষোভকারী। এঁদের মধ্যে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে বেশ কয়েকজনকে। পুলিশের লাঠির আঘাতেই ভেঙে যায় নিহত তরুণী চিকিৎসকের মায়ের হাতের শাঁখা। এরই প্রতিবাদে পার্কস্ট্রিটেই অবস্থানে বসে পড়েন শুভেন্দু, অগ্নিমিত্রা এবং বিক্ষোভকারীদের একটা বড় অংশ।

    শুভেন্দুর অভিযোগ

    রাজ্যের বিরোধী দলনেতার অভিযোগ, আন্দোলনে যোগ দেওয়ায় তাঁর সঙ্গীদের মারধর করা হয়েছে। জখম হয়েছেন বিধায়করা। নির্যাতিতার মা-বাবাকেও মারা হয়েছে। জানা গিয়েছে, পার্কস্ট্রিট মোড়ে এক পুলিশের লাঠির ঘায়ে গুরুতর চোট পেয়েছেন নিহত তরুণী চিকিৎসকের মা। ভেঙে গিয়েছে তাঁর হাতের শাঁখাও। বস্তুত, এদিন নবান্ন অভিযানের ডাক দিয়েছিলেন (Suvendu Adhikari) নির্যাতিতার মা ও বাবা। তাঁরা ছিলেন পার্কস্ট্রিটের মিছিলে। সেখানে বাধা পেয়ে জনা তিরিশেক সমর্থক নিয়ে তাঁরা রেসকোর্সের পাশ দিয়ে এগোতে থাকেন দ্বিতীয় হুগলি সেতুর দিকে। সেখানে ফের আটকানো হয় তাঁদের। মাথায় চোট লাগায় তাঁকে নিয়ে যাওয়া হয়েছে হাসপাতালে।

    সাঁতরাগাছিতে জ্বলল আগুন

    এদিকে (Nabanna Aabhiyan), ডোরিনা ক্রসিংয়ে বিক্ষোভকারীরা ব্যারিকেড ভাঙার চেষ্টা করলে পুলিশের সঙ্গেই শুরু হয়ে যায় ধস্তাধস্তি। হাওড়ার সাঁতরাগাছিতেও ব্যাপক উত্তেজনা দেখা দেয়। বিক্ষোভকারীদের গতিরোধ করতে ব্যারিকেডের ওপারে জলকামান, কাঁদানে গ্যাস নিয়ে তৈরিই ছিল পুলিশ। ‘দফা এক, দাবি এক – মমতার পদত্যাগ’ এই স্লোগান দিতে দিতে ব্যারিকেড ভাঙার চেষ্টা করেন আন্দোলনকারীরা। যদিও হাজার চেষ্টা করেও সেই ব্যারিকেড ভাঙতে পারেননি তাঁরা। জানা গিয়েছে, এদিনের নবান্ন অভিযান রুখতে সাঁতরাগাছি-সহ যেসব জায়গায় ব্যারিকেড করা হয়েছিল, সেগুলি তৈরিতে ব্যবহার করা হয়েছিল বিপুল পরিমাণ সিমেন্ট, লোহার বিম এবং মোটা লোহার রড। তাই আটকানো গিয়েছে বিক্ষোভকারীদের (Suvendu Adhikari)। প্রসঙ্গত, এর আগে একবার বিজেপির ডাকা নবান্ন অভিযানের সময় গলিপথ ধরে নবান্নের প্রায় দোরগোড়ায় পৌঁছে গিয়েছিলেন আন্দোলনকারীরা। সেই ঘটনার পুনরাবৃত্তি রুখতেই এবার আঁটোসাঁটো করা হয়েছিল নিরাপত্তার ঘেরাটোপ। সেই ঘেরাটোপ ভাঙতে না পেরে সাঁতরাগাছিতে রাস্তায় আগুন জ্বালিয়ে বিক্ষোভ দেখান আন্দোলনকারীরা।

    কী বললেন শুভেন্দু

    পার্কস্ট্রিটে শুভেন্দুর নেতৃত্বে মিছিল আটকাতেই পুলিশের উদ্দেশে তিনি বলেন, “অনুব্রত ঠিকই বলেছিল।” রাজ্যের বিরোধী দলনেতা বলেন, “যখন জনগণের ন্যায়বিচারের দাবি দমন করতে পুলিশ লাঠিচার্জ করে (Nabanna Aabhiyan), তখন বোঝা যায় অনুব্রত মণ্ডলের কথার মধ্যে কিছু সত্যি ছিল।” তিনি বলেন, “নির্যাতিতার মা-বাবাকেও রেহাই দেয়নি পুলিশ।” তাঁর দাবি, আজ ৫০ হাজার লোক হয়েছে। পুলিশ ব্যাপক লাঠিচার্জ করেছে, ১০০ জনেরও বেশি জখম হয়েছেন। তিনি বলেন, “আজকের লড়াই বাংলা বনাম মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের লড়াই। তাই নির্যাতিতার বাবা-মা যতক্ষণ চাইবেন, এই অবস্থান চলবে।” শুভেন্দু বলেন, “একটাও বিজেপির ঝান্ডা নেই। অথচ ১৮ জনকে ভর্তি করা হয়েছে রেলের হাসপাতালে (Suvendu Adhikari)।” বিজেপি নেতা কৌস্তুভ বাগচি বলেন, “কাকিমার (নির্যাতিতার মায়ের) শাঁখা ভেঙে দিয়েছে পুলিশ। আগে মেয়েকে মেরেছে। এবার শাঁখা ভেঙে দিয়েছে। এটাই পুলিশের চরিত্র (Nabanna Aabhiyan)।”

LinkedIn
Share