Tag: Howrah

Howrah

  • Durga Puja 2026: দুর্গাপুজোকে ঘিরে অশান্তি, পশ্চিমবঙ্গে এক দশকের খতিয়ান

    Durga Puja 2026: দুর্গাপুজোকে ঘিরে অশান্তি, পশ্চিমবঙ্গে এক দশকের খতিয়ান

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: পশ্চিমবঙ্গের ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক জীবনে দুর্গাপুজো অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ উৎসব। পুজো কমিটি, মণ্ডপ, প্রতিমা, ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠান এবং বিসর্জনের শোভাযাত্রা—সব মিলিয়ে প্রতি বছরই রাজ্যের জনজীবনের সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়িয়ে থাকে দুর্গাপুজো। কলকাতার দুর্গাপুজো  (Durga Puja 2026) আন্তর্জাতিক স্বীকৃতিও পেয়েছে। মানবতার বিমূর্ত সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের প্রতিনিধি তালিকায় কলকাতার দুর্গাপুজোকে অন্তর্ভুক্ত করেছে ইউনেস্কো।

    তবে গত কয়েক বছরে পশ্চিমবঙ্গে দুর্গাপুজোকে কেন্দ্র করে একাধিক বিতর্ক, অশান্তি এবং প্রশাসনিক পদক্ষেপ সামনে এসেছে। কোথাও পুজো মণ্ডপে ভাঙচুর ও আগুন লাগানোর অভিযোগ উঠেছে, কোথাও ধর্মীয় আচার পালনে বাধা দেওয়ার অভিযোগ, আবার কোথাও বিসর্জনের শোভাযাত্রায় হামলা, প্রতিবাদীদের গ্রেফতার, পুলিশি পদক্ষেপ এবং প্রশাসনিক বিধিনিষেধ নিয়ে বিতর্ক তৈরি হয়েছে (Pandal Vandalism Incidents)।

    রাজনৈতিক বিতর্ক (Durga Puja 2026)

    ২০২৬ সালের সেপ্টেম্বরেও দুর্গাপুজোর মণ্ডপ সংলগ্ন সিপিআই(এম)-এর বইয়ের স্টলকে কেন্দ্র করে নতুন করে রাজনৈতিক বিতর্ক তৈরি হয়। “শারদোৎসবে”র বদলে ‘দুর্গোৎসব’ শব্দ ব্যবহার করতে হবে বলে সাফ জানিয়ে দেন মুখ্যমন্ত্রী। তা না করলে পুজো কমিটিগুলিকে সিপিআই(এম)-এর বইয়ের স্টল বসানোর অনুমতি না দেওয়ার আহ্বান জানানো হয় বলেও প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে। পাল্টা সিপিআই(এম)-এর রাজ্য সম্পাদক মহম্মদ সেলিম এই পদক্ষেপকে “ফ্যাসিবাদী আক্রমণ” বলে আখ্যা দেন এবং সরকারের বিরুদ্ধে ধর্মীয় আবেগ উসকে দেওয়ার অভিযোগ তোলেন। দীর্ঘদিন ধরেই পুজো মণ্ডপের আশপাশে সিপিআই(এম) ও তাদের সহযোগী সংগঠনগুলির বইয়ের স্টল বসানোর রীতি রয়েছে। সেখানে দলীয় প্রকাশনা, মার্কসবাদী সাহিত্য এবং বিভিন্ন বই বিক্রি করা হয়।

    ২০২৪ সালের দুর্গাপুজোর সময় একাধিক ঘটনাও বিশেষভাবে আলোচনায় আসে। কলকাতার গার্ডেন রিচ এলাকায় নিউ বেঙ্গল স্পোর্টিং ক্লাবের পুজোয় অষ্টমী ও নবমীর আচার-অনুষ্ঠানের সময় গান ও ভক্তিগীতি বাজানোকে কেন্দ্র করে আপত্তির অভিযোগ ওঠে। পুজো কমিটির অভিযোগ ছিল, একটি দল পুজোর অনুষ্ঠান বন্ধ করার হুমকি দেয় এবং দুর্গাপ্রতিমা ভাঙচুরেরও হুমকি দেওয়া হয়। অভিযোগের ভিত্তিতে পুলিশ মামলা করে।

    দুর্গাপুজোকে কেন্দ্র করে অশান্তি

    হাওড়ার শ্যামপুরে দুর্গাপুজোকে কেন্দ্র করে অশান্তির অভিযোগ ওঠে। পুজো সংলগ্ন এলাকায় ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটে বলে অভিযোগ। পরে বেশ কয়েকজনকে গ্রেফতার করা হয় এবং এলাকায় নিষেধাজ্ঞামূলক নির্দেশ জারি করা হয়। অতিরিক্ত পুলিশ বাহিনী ও দ্রুত প্রতিক্রিয়া বাহিনী মোতায়েন করা হয়।

    এদিকে, দুর্গাপুজোর বিভিন্ন মণ্ডপে প্রতিবাদকে কেন্দ্র করেও পুলিশি পদক্ষেপ নিয়ে বিতর্ক দেখা দেয়। কলকাতা পুলিশ পুজোর সময় জুনিয়র চিকিৎসকদের “অভয়া পরিক্রমা” কর্মসূচি থামিয়ে দেয় এবং বেশ কয়েকজনকে আটক করে। পুজো মণ্ডপের বাইরে চিকিৎসকদের আন্দোলনের সমর্থনে প্রতিবাদ করার অভিযোগে আলিপুরে নয় যুবককে গ্রেফতার করা হলেও পরে কলকাতা হাই কোর্ট তাঁদের অন্তর্বর্তী জামিন দেয়। আদালত পর্যবেক্ষণে জানায়, তাঁদের উদ্দেশ্য ধর্মীয় বিদ্বেষ ছড়ানো বা ধর্মীয় ভাবাবেগে আঘাত করা ছিল না (Durga Puja 2026)।

    দুর্গাপুজোর সরকারি কার্নিভালেও এক চিকিৎসকের গ্রেফতারি নিয়ে বিতর্ক তৈরি হয়। আরজি কর-কাণ্ডে আন্দোলনরত জুনিয়র চিকিৎসকদের সমর্থনে ব্যাজ পরে পুজো কার্নিভালে অংশ নেওয়া কর্তব্যরত সরকারি চিকিৎসক তপাব্রত রায়কে কলকাতা পুলিশ গ্রেফতার করে বলে প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে। তাঁর গ্রেফতারির প্রতিবাদে চিকিৎসক ও অন্যদের বিক্ষোভের পর কয়েক ঘণ্টার মধ্যে তাঁকে ছেড়ে দেওয়া হয়। পরবর্তী সময়ে কলকাতা হাই কোর্ট ওই মামলায় তাঁকে অন্তর্বর্তী সুরক্ষাও দেয়।

    নদিয়ার রানাঘাটে প্রায় ৫০ বছর ধরে দুর্গাপুজো করে আসা একটি ক্লাবকে ১১২ ফুট উচ্চতার প্রতিমা পুজোর অনুমতি দেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ ওঠে। আইনশৃঙ্খলার কারণ দেখিয়ে অনুমতি না দেওয়ায় প্রশাসনের বিরুদ্ধে অসহযোগিতার অভিযোগ তুলে ক্লাবটি ওই বছর পুজো না করার সিদ্ধান্ত নেয় বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

    অশান্তি বিসর্জনের শোভাযাত্রায়ও

    দুর্গাপুজোর সঙ্গে যুক্ত বিসর্জনের শোভাযাত্রাতেও একাধিকবার অশান্তির অভিযোগ উঠেছে। ২০২৪ সালের ৯ অক্টোবর কলকাতার পার্ক সার্কাস ও নারকেলডাঙা এলাকায় কালী ও লক্ষ্মীপ্রতিমা বিসর্জনের সময় পাথর ছোড়ার অভিযোগ ওঠে। পুজো কমিটি ও শোভাযাত্রায় অংশ নেওয়া ভক্তদের অভিযোগ, রাজাবাজার এলাকায় হঠাৎ করে পাথর, কাচের বোতল এবং ইট ছোড়া হয়। আশপাশের বাড়ি থেকেও পাথর ছোড়া হয়েছিল বলে অভিযোগ। আতঙ্কে অনেকে দৌড়ে নিরাপদ জায়গায় আশ্রয় নেন এবং কয়েকটি শোভাযাত্রার যাত্রাভঙ্গ হয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ লাঠিচার্জ ও কাঁদানে গ্যাস ব্যবহার করে বলে প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে। পরে অবশ্য বিসর্জন শান্তিপূর্ণভাবেই সম্পন্ন হয় (Durga Puja 2026)।

    এই ঘটনার পর জাতীয় মহিলা কমিশনের সদস্য অর্চনা মজুমদার রাজ্যপালকে চিঠি দিয়ে নারকেলডাঙার হিংসার অভিযোগ জানান। তাঁর দাবি ছিল, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের সময় পুলিশ আধিকারিকদের আচরণও যথাযথ ছিল না। তিনি অভিযোগ করেন, পুলিশ আধিকারিকদের সঙ্গে কথা বলতে গেলে তাঁর সঙ্গে তর্ক হয় এবং পরে বিসর্জনের শোভাযাত্রায় থাকা আক্রান্তদের ওপর লাঠিচার্জ করা হয় (Pandal Vandalism Incidents)।

    ২০২০ সালের বিজয়া দশমীতে বীরভূমে দুর্গাপ্রতিমা বিসর্জনের শোভাযাত্রাকে কেন্দ্র করে পুলিশি লাঠিচার্জের অভিযোগ উঠেছিল। পুজো কমিটির সদস্য ও ভক্তদের ছত্রভঙ্গ করতে পুলিশ লাঠিচার্জ করে বলে অভিযোগ। ঘটনার ভিডিয়োয় এক পুলিশকর্মীকে এক যুবকের জামার কলার ধরে রাস্তায় টেনে নিয়ে যেতে দেখা যায় বলে প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে।

    দুর্গাপুজোর মণ্ডপের থিম এবং ধর্মীয় প্রতীক ব্যবহার নিয়েও বিতর্ক হয়েছে। ২০২১ সালে কলকাতার বড়িশা ক্লাবের দুর্গাপুজোকে ঘিরে জাতীয় নাগরিকপঞ্জির বিরোধিতায় বিভ্রান্তিকর বার্তা দেওয়ার অভিযোগ ওঠে। মণ্ডপে দুর্গাপ্রতিমার পাশাপাশি ঢাকার ঐতিহাসিক ঢাকেশ্বরী মন্দিরের প্রতিকৃতি ব্যবহার করা হয়েছিল। মণ্ডপসজ্জায় একটি দৃশ্যে দুর্গাপ্রতিমার সঙ্গে এক হিন্দু মহিলা ও তাঁর শিশুকে ভারতের একটি আটককেন্দ্রে বন্দি দেখানো হয় বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। তাঁদের বাংলাদেশে ফেরত পাঠানো হতে পারে—এমন ইঙ্গিতও ছিল বলে দাবি করা হয়েছে। এছাড়া কিছু দুর্গাপুজোয় প্রতিমার সামনে আজান দেওয়া হয় বলেও অভিযোগ ওঠে। আজান ইসলামে নমাজের আহ্বান। এই ঘটনাকে ঘিরেও ধর্মীয় প্রতীক ও পুজোর পরিবেশ নিয়ে বিতর্ক তৈরি হয়েছিল।

    খাগড়াগড় বিস্ফোরণকাণ্ড

    দুর্গাপুজোর সঙ্গে যুক্ত সবচেয়ে গুরুতর নিরাপত্তা-সংক্রান্ত ঘটনাগুলির একটি হল বর্ধমানের খাগড়াগড় বিস্ফোরণ মামলা। ২০১৪ সালের ২ অক্টোবর বর্ধমানের একটি দুর্গাপুজোর মণ্ডপে বিস্ফোরণ ঘটে। প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, বাংলাদেশি জঙ্গি সংগঠন জামাত-উল-মুজাহিদিন বাংলাদেশের একটি মডিউলের সঙ্গে এই ঘটনার যোগ ছিল। বিস্ফোরণে মণ্ডপের বেশ কয়েকটি প্রতিমা ক্ষতিগ্রস্ত হয়। তদন্তকারী সংস্থার দাবি, বিস্ফোরক তৈরির সময় দুর্ঘটনাবশত বিস্ফোরণ ঘটে এবং দু’জনের মৃত্যু হয়। পরে বিশেষ এনআইএ আদালত মামলায় ১৯ জনকে দোষী সাব্যস্ত করে, যাঁদের মধ্যে বাংলাদেশের নাগরিক ছিলেন (Durga Puja 2026) চারজন।

    দুর্গাপুজোকে কেন্দ্র করে প্রতিবাদ ও গ্রেফতারের ঘটনাও সামনে এসেছে। ২০২৪ সালের অক্টোবরে আলিপুরে পুজোর মণ্ডপ থেকে আরজি কর-কাণ্ডে আন্দোলনরত চিকিৎসকদের সমর্থনে প্রতিবাদ করার অভিযোগে নয় যুবককে গ্রেফতার করা হয়। আদালতে তাঁদের বিরুদ্ধে পুলিশি পদক্ষেপ নিয়ে প্রশ্ন ওঠে এবং অন্তর্বর্তী জামিন দেওয়া হয়।

    পুজো মণ্ডপে জুনিয়র চিকিৎসক ও প্রতিবাদীদের আটক এবং তাঁদের বিরুদ্ধে বলপ্রয়োগের অভিযোগ নিয়েও জাতীয় মানবাধিকার কমিশন কলকাতা পুলিশের কাছে জবাব চেয়েছিল। ত্রিধারা সম্মিলনী দুর্গাপুজোর মণ্ডপে ঘটনাকে কেন্দ্র করে এই নোটিশ দেওয়া হয়। সর্বভারতীয় ছাত্র ইউনিয়নের পক্ষ থেকে দায়ের করা অভিযোগের ভিত্তিতে জাতীয় মানবাধিকার কমিশন কলকাতা পুলিশের কাছে ঘটনার পরবর্তী পদক্ষেপের রিপোর্ট চায়।

    সব মিলিয়ে, গত এক দশকেরও বেশি সময় ধরে পশ্চিমবঙ্গে দুর্গাপুজোকে ঘিরে নানা ধরনের বিতর্ক ও সংঘাতের ঘটনা সামনে এসেছে। কোথাও পুজোর মণ্ডপে ভাঙচুর, কোথাও ধর্মীয় আচার পালনে বাধা, কোথাও বিসর্জনের শোভাযাত্রায় হিংসা, আবার কোথাও প্রতিবাদীদের বিরুদ্ধে পুলিশি পদক্ষেপ—বিভিন্ন ঘটনায় উৎসবের ধর্মীয়, সাংস্কৃতিক এবং সামাজিক পরিসর প্রশ্নের মুখে পড়েছে (Pandal Vandalism Incidents)।

    বিসর্জনের শোভাযাত্রায় পাথর ছোড়ার অভিযোগ

    বিশেষ করে ২০২৪ সালের ঘটনাগুলিতে দুর্গাপুজোর মণ্ডপ ও তার আশপাশের জনপরিসর একাধিক পৃথক সংঘাতের কেন্দ্র হয়ে ওঠে। গার্ডেন রিচে পুজোর আচার ঘিরে বিরোধ, শ্যামপুরে ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ, নারকেলডাঙায় বিসর্জনের শোভাযাত্রায় পাথর ছোড়ার অভিযোগ, পুজোর মণ্ডপের কাছে প্রতিবাদকারীদের গ্রেফতার এবং সরকারি পুজো কার্নিভালে কর্তব্যরত চিকিৎসকের আটক—সবক’টি ঘটনায়ই নতুন করে আইনশৃঙ্খলা ও প্রশাসনিক ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।

    এর পাশাপাশি প্রতিমা বিসর্জন, বিজয়া দশমীতে পুলিশি পদক্ষেপ, পুজোর মণ্ডপের থিম ও ধর্মীয় প্রতীক ব্যবহার এবং বর্ধমান বিস্ফোরণ মামলার মতো পুরনো ঘটনাগুলিও এই বিতর্কের পরিসরকে আরও বিস্তৃত করেছে।

    ২০২৬ সালের “শারদোৎসব” বিতর্ক সেই চলমান চর্চায় নয়া মাত্রা যোগ করেছে। দুর্গাপুজোর পরিচয়, নামকরণ, সাংস্কৃতিক উপস্থাপনা এবং পুজোকে ঘিরে (Durga Puja 2026) জনপরিসরের ব্যবস্থাপনা নিয়ে রাজনৈতিক দল ও প্রশাসনের মধ্যে মতপার্থক্য ফের প্রকাশ্যে এসেছে (Pandal Vandalism Incidents)।

     

  • Sabuj Sathi Corruption: ‘পরিবারের আত্মীয়রা সাইকেলের যন্ত্রাংশ একত্রীকরণ করত’! তৃণমূল জমানার ‘সবুজ সাথী’তে দুর্নীতি নিয়ে সরব শুভেন্দু

    Sabuj Sathi Corruption: ‘পরিবারের আত্মীয়রা সাইকেলের যন্ত্রাংশ একত্রীকরণ করত’! তৃণমূল জমানার ‘সবুজ সাথী’তে দুর্নীতি নিয়ে সরব শুভেন্দু

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ভিনরাজ্য থেকে সাইকেলের যন্ত্রাংশ এনে রাজ্যে সেসব একত্রিকরণ করা হত। তারপর সেই সাইকেল তুলে দেওয়া হত পড়ুয়াদের হাতে। সেই সাইকেলের (Sabuj Sathi Corruption) গুণমান নিয়ে মাঝেমধ্যেই প্রশ্ন উঠত। ওই কাজেও বরাত পেত প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের (Mamata Banerjee) তোষামোদকারীরা। পড়ুয়াদের দেওয়া ওইসব সাইকেলের কলকব্জা সহজেই খুলে যেত, এমনও অভিযোগ উঠেছে। এ প্রসঙ্গে রাজ্যে বিগত তৃণমূল সরকারকে নিশানা করলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। তৃণমূল জমানায় ‘সবুজ সাথী’ প্রকল্পে সাইকেল দেওয়া হত স্কুল পড়ুয়াদের। রাজ্যে পালাবদলের পর সেই ‘সবুজ সাথী’ নাম বদলে ‘সারথি’ করা হয়েছে। সেই সারথি প্রকল্পে সাইকেল বিতরণে এসে হাওড়ায় মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে ফের কাঠগড়ায় তুললেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী (CM Suvendu Adhikari)। মুখ্যমন্ত্রী জানিয়েছেন, রাজ্যে এবার থেকে সারথি প্রকল্পে আরও উন্নতমানের সাইকেল দেওয়া হবে। যারা এই সাইকেল রাজ্যে তৈরি করবে, তাদের জমি দেওয়া হবে।

    ‘সবুজ সাথী’তেও দুর্নীতি

    তৃণমূল আমলে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Suvendu Attacks Mamata) জেলা সফরে গিয়ে সরকারি মঞ্চ থেকে ‘সবুজ সাথী’তে পড়ুয়াদের সাইকেল দিতেন। সেই সাইকেলের গুণমান নিয়ে বিভিন্ন সময় প্রশ্নও উঠেছে। বহু সময় দেখা যেত বহু সংখ্যায় সরকারি প্রকল্পের সাইকেল পড়ে রয়েছে কোনও বন্ধ ঘরে। সেইসব সাইকেলে জং পড়ে যেত দীর্ঘদিন ওভাবে থাকার কারণে। রাজ্যে পালাবদলের পর এই সরকারি প্রকল্পের নাম ‘সবুজ সাথী’ থেকে ‘সারথি’ রাখা হল। হাওড়ার এক স্কুলে এই প্রকল্পে সাইকেল বিতরণ অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী, রাজ্যের উচ্চ শিক্ষামন্ত্রী জগন্নাথ চট্টোপাধ্যায়-সহ অন্যান্য বিশিষ্টরা। সেখানেই প্রাক্তন সরকারকে এই ইস্যুতে আরও একবার বিঁধলেন মুখ্যমন্ত্রী। শুভেন্দু বলেন, “পাঞ্জাব থেকে সাইকেলের যন্ত্রাংশ আনা হত। এখানে এনে সেসব একত্রিকরণ করা হত। প্রাক্তন সরকারের সর্বোচ্চ প্রশাসনিক আধিকারিক, তাঁর পরিবারের আত্মীয়রা সেই কাজটি করত। সেই জায়গা থেকে এটাকে বার করে এনেছি।” তাহলে কি তৃণমূল জমানার ‘সবুজ সাথী’তে দুর্নীতির প্রসঙ্গও উসকে গেল বক্তব্যে? মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের পরিবারের কারা এই প্রকল্পে বরাত পেতেন? পাঞ্জাবে কাদের থেকে ওই সাইকেলের যন্ত্রাংশ আসত? অভিষেক বন্দ্যোপাধায়ও জড়িয়ে আছে এই নিশানায়? সেসব প্রশ্ন উঠছে।

    পড়ুয়ারা পাবে উন্নতমানের সাইকেল

    বিজেপি সরকারের আমলে আরও ভালো, উন্নতমানের সাইকেল পড়ুয়াদের দেওয়া হবে। সেই বার্তা দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। ইতিমধ্যেই ‘সবুজ সাথী’ প্রকল্পের নতুন নাম ‘সারথি’ এবং তার নতুন লোগো উন্মোচন করেছেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari)। এ দিন নবম শ্রেণির ১২ লক্ষ ৫৯ হাজারেরও বেশি ছাত্র-ছাত্রীর হাতে সাইকেল বিতরণের কর্মসূচির সূচনা করে শুভেন্দু স্পষ্ট জানিয়ে দেন, আগের সরকারের চালু করা প্রকল্প বন্ধ করা তাঁদের লক্ষ্য নয়; বরং তার ত্রুটিগুলি শুধরে সামগ্রিক গুণগত মান ও নিরাপত্তা বৃদ্ধি করাই রাজ্য সরকারের প্রধান অগ্রাধিকার।

    বাংলাতেই তৈরি হবে উন্নতমানের সাইকেল!

    বাংলাতেই আগামী দিনে আরও উন্নতমানের এই সাইকেল তৈরির ইচ্ছাপ্রকাশ করেছেন মুখ্যমন্ত্রী। মঞ্চ থেকে এদিন শুভেন্দু অধিকারী বলেছেন, “আগামী দিনে আমরা চেষ্টা করব, পশ্চিমবঙ্গে এই ধরনের সাইকেল তৈরির কারখানা যারা তৈরি করবে তাঁদেরকে জমিও দেব, তাঁদের থেকে সাইকেলও কিনব।” এদিন পড়ুয়াদের সঙ্গে বসে খেয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। শুভেন্দু বলেন, “১৫ বছর আগেও সীমিত পরিসরে এসসি, এসটি ও সংখ্যালঘুদের জন্য এই স্কিম চালু ছিল। তবে আগের জমানায় পাঞ্জাব থেকে সাইকেলের খুচরো যন্ত্রাংশ এনে এখানে একত্রীকরণ করা হত। অত্যন্ত দুঃখের বিষয়, তৎকালীন শীর্ষ প্রশাসনিক আধিকারিকের আত্মীয়েরা সেই কাজের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। আমরা সেই চক্র ভেঙে বের করে এনেছি। এ বার ফ্রেঞ্চ, ফর্ক, মাডগার্ড ও টায়ার তিন স্তরে গুণমান পরীক্ষা করে নিরাপদ সাইকেল তুলে দেওয়া হচ্ছে ছাত্র-ছাত্রীদের হাতে।” তিনি আরও জানান, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির ‘ভোকাল ফর লোকাল’ নীতিকে পাথেয় করে আগামী দিনে রাজ্যেই সাইকেল তৈরির কারখানা গড়ে তোলার পরিকল্পনা রয়েছে, যেখানে সংস্থাকে জমি দেওয়া ও সরকারের সাইকেল কেনার চুক্তিও করা হবে।

    রাজ্যে ছাত্রছাত্রীদের জন্য উন্নয়ন মূলক প্রকল্প

    কন্যারত্নে ভাতা বৃদ্ধি: গত ১৪ অগস্ট ‘কন্যারত্ন দিবসে’ দেওয়া প্রতিশ্রুতি স্মরণ করিয়ে মুখ্যমন্ত্রী জানান, ২০২৭ সাল থেকে ছাত্রীদের বার্ষিক ভাতা ১,০০০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ২০০০ টাকা করা হবে। এ ছাড়া আগামী শিক্ষাবর্ষ থেকে নবম শ্রেণির পাশাপাশি অষ্টম শ্রেণির শিক্ষার্থীদেরও ‘সারথী’ সাইকেল দেওয়া হবে।

    স্মার্ট স্কুল ও পরিকাঠামো: চলতি শিক্ষাবর্ষে ৬০০টি অনুমোদিত এবং আরও ২০০টি প্রস্তাবিত-সহ মোট ৮০০টি স্কুলে স্মার্ট ক্লাসরুম, ল্যাবরেটরি, লাইব্রেরি ও খেলার মাঠ আধুনিকীকরণ করা হচ্ছে। বিগত সরকার ৩ বছর যে ‘কম্পোজিট গ্র্যান্ট’ বন্ধ রেখেছিল, বর্তমান সরকার এসে ৮০ হাজার প্রাথমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক স্কুলে এক লপ্তে ৩০০ কোটি টাকা বরাদ্দ করেছে।

    খাতা, পোশাক ও নিয়োগ: নিম্নমানের খাতার কাগজ এবং ব্যাগ বদলানোর পাশাপাশি স্কুলের পোশাকের রঙ ও ব্র্যান্ড নির্বাচন করার চূড়ান্ত অধিকার স্কুলের হাতেই ছেড়ে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। সেই সঙ্গে দীর্ঘদিনের শিক্ষক-সংকট মেটাতে স্কুল সার্ভিস কমিশন (এসএসসি) প্রথম ধাপে ১০ হাজারের বেশি নির্ভেজাল ও ত্রুটিমুক্ত তালিকা প্রকাশ করেছে বলে জানান শুভেন্দু।

    মিড-ডে মিল ও রাঁধুনীদের বেতন: প্রাথমিক স্তরে মিড-ডে মিলের পুষ্টি বাড়াতে বরাদ্দ ৬.৭৮ টাকা থেকে বাড়িয়ে ১০ টাকা করা হয়েছে। কলকাতায় ইসকনের মাধ্যমে ৪৪ হাজার ছাত্র-ছাত্রীকে দেওয়া শুদ্ধ পুষ্টিকর আহার আগামী এক মাসের মধ্যে ২.৪৫ লক্ষ শিক্ষার্থীর কাছে পৌঁছে দেওয়া হবে। ইসকন সম্পূর্ণ নিরামিষ হওয়ায় এসএইচজি (SHG) গ্রুপের মাধ্যমে সপ্তাহে দু’দিন সিদ্ধ ডিম সরবরাহের বিকল্প ব্যবসাও চালু রাখা হয়েছে। রাঁধুনীদের চাকরি যাওয়ার বিভ্রান্তি উড়িয়ে তাঁদের মাসিক ভাতা ২,০০০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ৩,০০০ টাকা করা হয়েছে।

    ভারতীয় সংস্কৃতিকে আপন করে নেওয়ার আহ্বান

    পড়ুয়াদের স্রেফ পুথিগত বিদ্যায় সীমাবদ্ধ না থেকে দেশপ্রেম, জাতীয়তাবাদ ও ভারতীয় সংস্কৃতিকে আপন করে নেওয়ার আহ্বান জানান মুখ্যমন্ত্রী। ১৯৪২ সালের ২৯ সেপ্টেম্বর রেড রোডে স্বাধীনতা সংগ্রামী মাতঙ্গিনী হাজরার আত্মবলিদান দিবসে শ্রদ্ধা নিবেদনের কথা মনে করিয়ে দিয়ে শুভেন্দু বলেন, “১৯৪৭ সালের ২০ জুন ডঃ শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায় ও স্বামী প্রণবানন্দের প্রচেষ্টায় আমরা মাতা ভারতীর কোলে পশ্চিমবঙ্গ হিসেবে আশ্রয় পেয়েছিলাম। ২০৪৭-এর বিকশিত ভারতের কণ্ডারীদের এই ইতিহাস জানা জরুরি।” স্বামী বিবেকানন্দের শিক্ষা দর্শনের কথা উল্লেখ করে তিনি শিক্ষার্থীদের ইংরেজি শেখার পাশাপাশি বাংলা ভাষার মাধুর্য বজায় রাখা, বিতর্ক, তাৎক্ষণিক বক্তৃতা, ড্রয়িং এবং খঞ্জনি, মৃদঙ্গ, তবলা ও গিটারের মতো সাংস্কৃতিক চর্চায় যুক্ত হওয়ার পরামর্শ দেন। আগামী দিনে আরও বেশি স্কুলে এনসিসি (NCC) চালু করার জন্য কেন্দ্রীয় প্রতিরক্ষা মন্ত্রকের সঙ্গেও আলোচনা হয়েছে বলে জানান মুখ্যমন্ত্রী।

  • Durga Puja: দুর্গাপুজোকে ঘিরে হিংসা, প্রশাসনিক বাধা-রাজনৈতিক বিতর্ক, নতুন করে সামনে ফের পুরনো প্রশ্ন

    Durga Puja: দুর্গাপুজোকে ঘিরে হিংসা, প্রশাসনিক বাধা-রাজনৈতিক বিতর্ক, নতুন করে সামনে ফের পুরনো প্রশ্ন

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: পশ্চিমবঙ্গের (West Bengal) দুর্গাপুজো শুধু ধর্মীয় উৎসব নয়, বাংলার সামাজিক ও সাংস্কৃতিক জীবনেরও অন্যতম বড় পরিসর। ২০২১ সালে কলকাতার দুর্গাপুজোকে (Durga Puja) মানবতার বিমূর্ত সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের প্রতিনিধি তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করে ইউনেস্কো। তাদের নথিতে দুর্গাপুজোকে ধর্ম, শিল্প, কারুশিল্প ও সমবেত সামাজিক অংশগ্রহণের গুরুত্বপূর্ণ উদাহরণ হিসেবে বর্ণনা করা হয়েছে।

    তবে গত এক দশকে দুর্গাপুজোকে ঘিরে পশ্চিমবঙ্গে একাধিক হিংসাত্মক ঘটনা, প্রশাসনিক বিধিনিষেধ, পুলিশি পদক্ষেপ এবং রাজনৈতিক বিতর্ক সামনে এসেছে। এর মধ্যে কিছু ঘটনায় পুজোমণ্ডপ বা বিসর্জনকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষের অভিযোগ রয়েছে, আবার কিছু ঘটনায় প্রতিবাদ, মতপ্রকাশের অধিকার এবং প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। ফলে উৎসবের নিরাপত্তা, ধর্মীয় স্বাধীনতা, মতপ্রকাশের অধিকার এবং প্রশাসনিক নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।

    শারদোৎসব না দুর্গাপুজো? (Durga Puja)

    ২০২৬ সালের ১০ সেপ্টেম্বর বিধানসভায় দুর্গাপুজোর মণ্ডপের কাছে বামপন্থী সংগঠনগুলির বইয়ের স্টল নিয়ে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী জানান, যে সব বামপন্থী বইয়ের স্টলে “দুর্গাপুজো”র পরিবর্তে “শারদোৎসব” শব্দ ব্যবহার করা হবে, সেই স্টলকে পুজো কমিটিগুলির অনুমতি দেওয়া উচিত নয়। তাঁর অভিযোগ, “শারদোৎসব” শব্দ ব্যবহারের মাধ্যমে উৎসবের ধর্মীয় চরিত্রকে খাটো করা হচ্ছে।

    সিপিআই(এম)-এর তরফে এই বক্তব্যের বিরোধিতা করা হয়েছে। দলটির সঙ্গে যুক্ত বইয়ের স্টলগুলির দীর্ঘদিনের ঐতিহ্যের কথাও সামনে এসেছে। সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ১৯৫৪ সালে পার্ক সার্কাসে মুজফ্ফর আহমেদের উদ্যোগে এই ধরনের প্রথম বামপন্থী-সংযুক্ত বইয়ের স্টল বসেছিল। সেখানে রাজনৈতিক ও মতাদর্শগত বইয়ের পাশাপাশি বিভিন্ন বিষয়ে সাহিত্য ও অন্যান্য বই বিক্রি করা হয়েছিল।

    সিপিআই(এম)-এর রাজ্য সম্পাদক মহম্মদ সেলিম মুখ্যমন্ত্রীর বক্তব্যের সমালোচনা করে বলেন, “গণতন্ত্র মানে বিভিন্ন সংস্কৃতি ও ভাবনার সহাবস্থান।” দলের পক্ষ থেকে আরও দাবি করা হয়েছে, তাদের বইয়ের স্টলে স্বামী বিবেকানন্দ, ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর ও রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর-সহ বিভিন্ন ভারতীয় ব্যক্তিত্বের উপর বইও থাকে।

    ফলে বিতর্কটি কেবল একটি শব্দ ব্যবহারের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকেনি। দুর্গাপুজোকে প্রধানত ধর্মীয় উৎসব হিসেবে দেখা হবে, নাকি ধর্মীয় তাৎপর্যের পাশাপাশি বৃহত্তর সাংস্কৃতিক উৎসব হিসেবেও তার পরিচয় থাকবে—তা নিয়েও রাজনৈতিক মতপার্থক্য সামনে এসেছে। ২০২৪ সালের দুর্গাপুজোর সময় কলকাতা ও পশ্চিমবঙ্গের বিভিন্ন এলাকায় একাধিক ঘটনা নিয়ে বিতর্ক তৈরি হয়।

    হাওড়ার শ্যামপুরে অশান্তি

    অক্টোবর ২০২৪-এ হাওড়ার শ্যামপুরে একটি ছবি নিয়ে দুই সম্প্রদায়ের মধ্যে উত্তেজনা তৈরি হয়। পরিস্থিতি পরে সংঘর্ষ ও ভাঙচুরে গড়ায়। পুলিশের তরফে ৬৭ জনকে গ্রেফতারের কথা জানানো হয়। এলাকায় ভারতীয় নাগরিক সুরক্ষা সংহিতার ১৬৩ ধারা জারি এবং মোবাইল ও ইন্টারনেট পরিষেবায় বিধিনিষেধের কথাও প্রকাশ্যে আসে। একই ঘটনায় পুজো কমিটির এক সদস্যের বিরুদ্ধেও মামলা হয়।

    গার্ডেনরিচের পুজোমণ্ডপে উত্তেজনা

    ১১ অক্টোবর কলকাতার গার্ডেনরিচের নিউ বেঙ্গল স্পোর্টিং ক্লাবের পুজোমণ্ডপে একদল যুবকের প্রবেশ ও ধর্মীয় আচার চলাকালীন বাজানো শব্দ নিয়ে আপত্তির অভিযোগ ওঠে। পুজো কমিটির অভিযোগ, ৫০-৬০ জন সেখানে এসে অনুষ্ঠান বন্ধ করার দাবি জানিয়েছিলেন এবং প্রতিমা ভাঙার হুমকিও দেওয়া হয়েছিল। পুলিশ অভিযোগ পাওয়ার পর মামলা করে তদন্ত শুরু করে।

    তবে ঘটনাটির প্রেক্ষাপট নিয়ে বিভিন্ন পক্ষের বক্তব্য আলাদা। একটি প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, শুক্রবারের নমাজের সময়ে পুজোর শব্দ নিয়ে আপত্তি থেকে বচসার সূত্রপাত এবং পরে স্থানীয় প্রবীণদের হস্তক্ষেপে পরিস্থিতি (Durga Puja) নিয়ন্ত্রণে আসে।

    বিসর্জনকে ঘিরে সংঘর্ষ

    নরকেলডাঙায় কালীপুজোর বিসর্জনের সময় সংঘর্ষ, পাথর ও কাচের বোতল ছোড়ার ঘটনা নিয়ে ব্যাপক চর্চা হয়। পুলিশ লাঠিচার্জ ও কাঁদানে গ্যাস ব্যবহার করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। তবে পুলিশ স্পষ্টভাবে জানিয়েছিল, ঘটনাটির সূত্রপাত একটি মোটরবাইক পার্কিং নিয়ে বিবাদের জেরে এবং নির্দিষ্ট কোনও বিসর্জন মিছিলকে লক্ষ্য করে হামলা হয়নি। পুলিশের বক্তব্য, নির্ধারিত বিসর্জনের শোভাযাত্রা পরে নিরাপত্তার মধ্যে সম্পন্ন হয়।

    এই ঘটনায় জাতীয় মহিলা কমিশনের সদস্য অর্চনা মজুমদারও রাজ্যপালের কাছে পুলিশি আচরণ নিয়ে অভিযোগ করেছিলেন বলে সংবাদমাধ্যমের খবর।

    আরজি কর আন্দোলন এবং পুজোর সময় পুলিশের পদক্ষেপ

    ২০২৪ সালের পুজোর সময় আরজি কর-কাণ্ডের প্রতিবাদও দুর্গাপুজোর পরিসরে এসে পড়ে। ৯ অক্টোবর জুনিয়র চিকিৎসকদের “অভয়া পরিক্রমা” কর্মসূচিকে কলকাতা পুলিশ আটকে দেয়। এ নিয়ে পুলিশের সঙ্গে চিকিৎসকদের উত্তেজনা তৈরি হয়।

    ১৫ অক্টোবর সরকারি দুর্গাপুজো কার্নিভালে কর্তব্যরত চিকিৎসক তপোব্রত রায়কে প্রতিবাদী ব্যাজ পরার অভিযোগে গ্রেফতার করা হয়। পরে তাঁকে জামিনে মুক্তি দেওয়া হয়। মামলাটির তদন্তে কলকাতা হাইকোর্ট অন্তর্বর্তী স্থগিতাদেশও দেয়। আদালতের নথিতে বলা হয়েছে, ব্যাজে লেখা বক্তব্যকে আপত্তিকর মনে করে পুলিশের পক্ষ থেকে মামলা করা হয়েছিল।

    বস্তুত, আরজি করকাণ্ডের প্রতিবাদ, প্রশাসনের সঙ্গে আন্দোলনকারীদের সংঘাত এবং উৎসবের সরকারি অনুষ্ঠানে রাজনৈতিক প্রতিবাদের প্রশ্নও এর সঙ্গে যুক্ত ছিল।

    ১১২ ফুটের দুর্গাপ্রতিমা নিয়ে বিতর্ক

    নদিয়ার রানাঘাটে ২০২৪ সালে ১১২ ফুট উচ্চতার দুর্গাপ্রতিমা স্থাপনের পরিকল্পনা শেষ পর্যন্ত বাস্তবায়িত হয়নি। আয়োজকদের বক্তব্য, প্রশাসনিক অনুমতি না মেলায় পুজো বন্ধ রাখতে হয়। পরে ওই জায়গায় মন্দির নির্মাণের সিদ্ধান্তের কথাও জানানো হয়েছিল। এখানে প্রশাসনের আইনশৃঙ্খলা-সংক্রান্ত উদ্বেগ এবং আয়োজকদের পুজো আয়োজনের অধিকার—দুই দিকই আলোচনায় আসে।

    সাংবাদিক গ্রেফতারির ঘটনায় বিতর্ক

    ২০২৪ সালের নভেম্বরে কলকাতার একটি সংবাদমাধ্যমের সঙ্গে যুক্ত সাংবাদিক অনন্য গুপ্তকে গ্রেফতার করা হয়। পুলিশ জানিয়েছিল, সংশ্লিষ্ট সংবাদমাধ্যমের সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়ানো একটি প্রতিবেদনে বিভ্রান্তিকর তথ্য ও বিশৃঙ্খলা তৈরির অভিযোগ রয়েছে। রাজনৈতিক মহলের একটি অংশ এবং সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতার পক্ষে থাকা ব্যক্তিরা অনন্যর গ্রেফতারির সমালোচনা করেন।

    ২০১৪-র বর্ধমান বিস্ফোরণ

    দুর্গাপুজোর সময় পশ্চিমবঙ্গে নিরাপত্তা নিয়ে আলোচনায় ২০১৪ সালের বর্ধমানের খাগড়াগড় বিস্ফোরণও গুরুত্বপূর্ণ। তবে প্রচলিত কিছু প্রতিবেদনে তারিখ নিয়ে বিভ্রান্তি রয়েছে। বিস্ফোরণটি ঘটে ২ অক্টোবর ২০১৪ সালে; কিন্তু ১৯ জনকে দোষী সাব্যস্ত করা হয় ২৮ অগাস্ট ২০১৯ সালে। দোষী সাব্যস্তদের মধ্যে চারজন বাংলাদেশের নাগরিক ছিলেন। মামলাটি নিষিদ্ধ জঙ্গি সংগঠন জামাতুল মুজাহিদিন বাংলাদেশের সঙ্গে যুক্ত নেটওয়ার্কের তদন্তের সঙ্গেও সম্পর্কিত ছিল।

    অতএব, ঘটনাটিকে “২০১৪ সালের ২৮ আগস্টের মামলা” বলা সঠিক নয়; ২৮ আগস্ট ২০১৯ ছিল দোষী সাব্যস্ত হওয়ার তারিখ।

    দুর্গাপুজোর সাংস্কৃতিক পরিচয় নিয়ে প্রশ্ন

    ইউনেস্কোর নথিতে কলকাতার দুর্গাপুজোকে শুধু ধর্মীয় আচার হিসেবে নয়, শিল্পী, কারিগর, পুজো কমিটি, পুরোহিত, ঢাকি এবং সাধারণ মানুষের সম্মিলিত সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ড হিসেবে তুলে ধরা হয়েছে। নথিতে বলা হয়েছে, উৎসবের সময়ে শ্রেণি, ধর্ম ও জাতিগত বিভাজন অনেকাংশে অতিক্রম করে মানুষ পুজোমণ্ডপ পরিদর্শনে অংশ নেয়।

    এই কারণেই পুজোকে ঘিরে হিংসা, প্রতিমা ভাঙচুরের অভিযোগ, প্রশাসনিক বিধিনিষেধ কিংবা মতপ্রকাশের উপর নিয়ন্ত্রণের অভিযোগ—প্রতিটি ঘটনাই বৃহত্তর সাংস্কৃতিক ও নাগরিক অধিকারের আলোচনার সঙ্গে যুক্ত হয়ে যায়।

    তবে ঘটনাগুলির প্রকৃতি এক নয়। কোথাও সাম্প্রদায়িক উত্তেজনার অভিযোগ, কোথাও ব্যক্তিগত বা স্থানীয় বিবাদ, কোথাও রাজনৈতিক আন্দোলন, আবার কোথাও প্রশাসনিক অনুমতি বা আইনশৃঙ্খলার প্রশ্ন রয়েছে। ফলে সব ঘটনাকে একই ধরনের “পরিকল্পিত হামলা” হিসেবে দেখার আগে প্রত্যেকটির প্রেক্ষাপট, পুলিশের বক্তব্য, মামলা ও আদালতের পর্যবেক্ষণ আলাদাভাবে বিবেচনা করা প্রয়োজন।

    সুমুখে যেসব প্রশ্ন

    ২০২৬ সালের বইয়ের স্টল-বিতর্ক এই পুরনো আলোচনায় নতুন মাত্রা যোগ করেছে। একদিকে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর বক্তব্যে দুর্গাপুজোর ধর্মীয় পরিচয়কে স্পষ্টভাবে তুলে ধরার দাবি রয়েছে। অন্যদিকে বামপন্থী দলগুলি দীর্ঘদিনের বই বিক্রির ঐতিহ্য এবং মতাদর্শগত প্রকাশের অধিকারের কথা বলছে।

    একই সঙ্গে, দুর্গাপুজোকে (Durga Puja) ইউনেস্কোর স্বীকৃত সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য হিসেবে সুরক্ষিত রাখার ক্ষেত্রে নিরাপত্তা, মতপ্রকাশের স্বাধীনতা, প্রশাসনিক নিরপেক্ষতা এবং বিভিন্ন সম্প্রদায়ের অংশগ্রহণ—সবক’টিই গুরুত্বপূর্ণ বিষয়।

    পশ্চিমবঙ্গে দুর্গাপুজো তাই একই সঙ্গে ধর্মীয় আচার, সাংস্কৃতিক উৎসব, সামাজিক সমাবেশ এবং রাজনৈতিক বিতর্কের ক্ষেত্র। ২০২৬-এর পুজোর আগে বইয়ের স্টল ঘিরে নতুন বিতর্ক দেখিয়ে দিল, উৎসবের পরিচয় ও জনপরিসরে তার অর্থ নিয়ে রাজনৈতিক মতপার্থক্য এখনও যথেষ্ট তীব্র। সামনে (West Bengal) প্রশাসন, পুজো কমিটি, রাজনৈতিক দল এবং সাধারণ মানুষ কীভাবে এই মতপার্থক্য সামলান, তার উপরই অনেকাংশে নির্ভর করবে উৎসবের পরিবেশ।

     

  • Rajnath Singh: পুরভোটের আগে বঙ্গ বিজেপিতে তৎপরতা, ১৫-১৬ সেপ্টেম্বর বাংলায় নিতিন নবীন-রাজনাথ

    Rajnath Singh: পুরভোটের আগে বঙ্গ বিজেপিতে তৎপরতা, ১৫-১৬ সেপ্টেম্বর বাংলায় নিতিন নবীন-রাজনাথ

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: দুর্গাপুজো মিটলেই কলকাতা, হাওড়া-সহ রাজ্যের একাধিক গুরুত্বপূর্ণ পুরসভায় বেজে যাবে ভোটের বাদ্যি। সেই নির্বাচনকে সামনে রেখে এখন থেকেই ঘর গোছাতে শুরু করে দিয়েছে বঙ্গ বিজেপি (Rajnath Singh)। দফায় দফায় সাংগঠনিক বৈঠক, নতুন কমিটি গঠন এবং শীর্ষ নেতৃত্বের সফর—সব মিলিয়ে পুরভোটের প্রস্তুতিতে জোরকদমে ময়দানে নামতে চাইছে গেরুয়া শিবির। এই আবহেই (Municipality Elections) আগামী ১৫ সেপ্টেম্বর দু’দিনের সফরে বাংলায় আসছেন বিজেপির সর্বভারতীয় সভাপতি নিতিন নবীন। পরের দিন, ১৬ সেপ্টেম্বর কলকাতায় আসার কথা প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিংয়ের। একই সময়ে কলকাতায় দুই শীর্ষ নেতার উপস্থিতিকে যথেষ্ট তাৎপর্যপূর্ণ বলেই মনে করছে রাজনৈতিক মহল।

    আসছেন রাজনাথও (Rajnath Singh)

    বিজেপি সূত্রে খবর, ১৬ সেপ্টেম্বর কলকাতায় এসে একটি সরকারি কর্মসূচিতে যোগ দেবেন রাজনাথ। তবে তাঁর সফরের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ পর্ব হতে চলেছে রাজ্য বিজেপি নেতৃত্বের সঙ্গে রুদ্ধদ্বার বৈঠক। এদিকে, ১৫ সেপ্টেম্বর বাংলায় এসে নিতিন নবীনও রাজ্য নেতৃত্বের সঙ্গে একাধিক বৈঠক করবেন। তাঁর সঙ্গে থাকবেন বিজেপির সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক (সাংগঠনিক) বিএল সন্তোষ।

    সদ্য গঠিত রাজ্য কার্যকরী কমিটি এবং কোর কমিটি নিয়েও এই সফরে বিস্তারিত আলোচনা হতে পারে বলে খবর। রাজ্য সভাপতি নির্বাচনের প্রায় ১৪ মাস পর পূর্ণাঙ্গ রাজ্য কার্যকরী কমিটি ঘোষণা করেছে বঙ্গ বিজেপি। সেখানে পুরনো ও নতুন নেতৃত্বের একাধিক মুখকে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। একইসঙ্গে তৈরি হয়েছে নতুন কোর কমিটিও।

    সূত্রের দাবি, রাজনাথ এবং নিতিন নবীন—দুই শীর্ষ নেতা রাজ্য কোর কমিটি ও নতুন রাজ্য কমিটির সদস্যদের সঙ্গে দফায় দফায় বৈঠক করবেন। পুরসভা নির্বাচনে শাসকদলের মোকাবিলায় বিজেপির কৌশল কী হবে, কোন কোন ইস্যুকে সামনে রেখে প্রচারে নামা হবে, সংগঠনকে কীভাবে আরও সক্রিয় করা হবে—এসব বিষয়েই আলোচনা হওয়ার সম্ভাবনা।

    ‘সেবা’ কর্মসূচি পালনের পরিকল্পনা

    পুরভোটের পাশাপাশি প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির জন্মদিন উপলক্ষে আয়োজিত কর্মসূচি নিয়েও বৈঠকে আলোচনা হতে পারে। ১৭ সেপ্টেম্বর থেকে ১৭ অক্টোবর পর্যন্ত মাসব্যাপী ‘সেবা’ কর্মসূচি পালনের পরিকল্পনা রয়েছে বিজেপির। বাংলার বিভিন্ন প্রান্তে এই কর্মসূচি কীভাবে ছড়িয়ে দেওয়া হবে, তার সাংগঠনিক রূপরেখাও শীর্ষ নেতৃত্বের বৈঠকে চূড়ান্ত হতে পারে বলে বিজেপি সূত্রে খবর (Rajnath Singh)।

    বিশেষ করে পুজোর পর কলকাতা ও হাওড়া-সহ একাধিক পুরসভায় নির্বাচন হওয়ার সম্ভাবনাকে সামনে রেখে এই বৈঠকগুলিকে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছে পদ্ম শিবিরের বঙ্গ শাখা। রাজ্য নেতৃত্ব ইতিমধ্যেই সাংগঠনিক স্তরে প্রস্তুতি শুরু করে দিয়েছে। এবার কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের উপস্থিতিতে সেই প্রস্তুতিকে আরও গতি দেওয়াই লক্ষ্য বলে মনে করা হচ্ছে।

    নিতিন নবীনের ক্ষেত্রে এই সফরের গুরুত্ব আরও বেশি। বিজেপির সর্বভারতীয় সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর এটাই তাঁর প্রথম বাংলা সফর। কেন্দ্রীয় কমিটি ঘোষণার পরপরই তাঁর এই সফর এবং তার আগে বঙ্গ বিজেপির পূর্ণাঙ্গ রাজ্য কার্যকরী কমিটি ঘোষণা—দুই ঘটনাকে একই সূত্রে দেখছে দলের একাংশ। ফলে পুরভোটের আগে রাজ্য বিজেপির সংগঠন ও রণকৌশল নিয়ে কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব কী বার্তা দেয়, সেদিকেই নজর রাজনৈতিক মহলের।

    রাজনাথের সফরের তাৎপর্য

    অন্যদিকে, রাজনাথের কলকাতা সফরও আলাদা তাৎপর্য বহন করছে। সরকারি কর্মসূচির পাশাপাশি রাজ্য বিজেপি নেতৃত্বের সঙ্গে (Municipality Elections) তাঁর বৈঠক হলে সেখানে পুরভোটের প্রস্তুতি থেকে শুরু করে সাংগঠনিক পরিস্থিতি—একাধিক বিষয় নিয়ে আলোচনা হতে পারে। সব মিলিয়ে ১৫ ও ১৬ সেপ্টেম্বর বিজেপির এই দুই হেভিওয়েট নেতার সফরকে ঘিরে ইতিমধ্যেই জোর প্রস্তুতি শুরু হয়ে গিয়েছে বঙ্গ বিজেপির অন্দরে (Rajnath Singh)।

     

  • Amul: পশ্চিমবঙ্গে আমূলের ৭০০ কোটি টাকার মেগা প্রকল্প! রবিবার কারখানার শিলান্যাস, আসতে পারেন শাহ

    Amul: পশ্চিমবঙ্গে আমূলের ৭০০ কোটি টাকার মেগা প্রকল্প! রবিবার কারখানার শিলান্যাস, আসতে পারেন শাহ

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: কাটতে চলেছে রাজ্যে শিল্পায়নের খরা! বঙ্গে ডাবল ইঞ্জিন সরকার তৈরি হতেই হইহই করে শুরু হয়ে গেল শিল্পায়নের কাজ। পশ্চিমবঙ্গে দুগ্ধ শিল্পের হতশ্রী দশা ঘোচাতে বিপুল পরিমাণ বিনিয়োগের কথা ঘোষণা করল দেশের শীর্ষস্থানীয় দুগ্ধ সমবায় সংস্থা ‘আমূল’ (Amul)। রাজ্যের শিল্প ও কৃষি অর্থনীতিতে বড়সড় গতি আনতে প্রায় ৭০০ কোটি টাকা (৭৪.৮ মিলিয়ন মার্কিন ডলার) ব্যয়ে (700-cr Dairy Plant) একটি অত্যাধুনিক ডেয়ারি প্ল্যান্ট তৈরি করতে চলেছে তারা। ১৪ জুন, রবিবার এই মেগা প্রকল্পের শিলান্যাস হবে। উপস্থিত থাকার কথা কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের। তিনিই এই প্রকল্পের সূচনা করবেন বলেই আশা উদ্যোক্তাদের। প্রথমে বাম জমানা এবং পরে তৃণমূলের গত ১৫ বছরের রাজত্বে একের পর এক কারখানা বন্ধ হয়ে যাওয়ায় রাজ্যে দেখা দেয় শিল্পের খরা। বঙ্গে প্রথম বিজেপি সরকার আসতেই কাটতে চলেছে হা-শিল্প দশা। রাজ্যের উন্নয়নের জন্য এটি একটি উল্লেখযোগ্য সূচনা বলেই ধারণা ওয়াকিবহাল মহলের।

    শিল্পের নয়া গন্তব্য হাওড়া (Amul)

    গুজরাট কো-অপারেটিভ মিল্ক মার্কেটিং ফেডারেশন (GCMMF), যারা ‘আমূল’ (Amul) ব্র্যান্ডের পরিচালক, তারা জানিয়েছে, পশ্চিমবঙ্গের হাওড়া জেলায় এই বিশাল প্ল্যান্টটি গড়ে তোলা হবে। ভৌগোলিক অবস্থান এবং উন্নত যোগাযোগ ব্যবস্থার কারণে হাওড়াকেই এই বিনিয়োগের জন্য বেছে নেওয়া হয়েছে। এই প্রকল্পটি শুধুমাত্র একটি কারখানা নয়, বরং এটি পূর্ব ভারতের দুগ্ধ বিপণন ব্যবস্থার প্রধান কেন্দ্র (Hub) হিসেবে কাজ করবে।

    উৎপাদন ক্ষমতায় বড় চমক

    আমূল কর্তৃপক্ষের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, এই নতুন প্ল্যান্টটি যখন পূর্ণ মাত্রায় কাজ শুরু করবে, তখন এর উৎপাদন ক্ষমতা হবে ঈর্ষণীয়। ‘আমূল’ (Amul) জানিয়েছে, প্রতিদিন প্রায় ১৫ লাখ লিটার তরল দুধ প্রক্রিয়াকরণ করার ক্ষমতা থাকবে এই কেন্দ্রে। তবে শুধু তরল দুধ নয়, বাঙালির খাদ্যতালিকায় দুগ্ধজাত পণ্যের চাহিদার কথা মাথায় রেখে এখানে প্রতিদিন ১০ লাখ কেজি দই, মিষ্টি দই, ইয়োগার্ট, লস্যি এবং ঘোল বাটারমিল্ক (700-cr Dairy Plant) উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নেওয়া হয়েছে। প্রক্রিয়াজাতকরণের এই বিশাল পরিকাঠামো রাজ্যের সাধারণ মানুষের কাছে টাটকা ও উন্নতমানের দুগ্ধজাত পণ্য পৌঁছে দিতে বড় ভূমিকা পালন করবে।

    কর্মসংস্থান ও গ্রামীণ অর্থনীতিতে প্রভাব

    এই ৭০০ কোটি টাকার বিনিয়োগ (700-cr Dairy Plant) পশ্চিমবঙ্গের শিল্পমহলে এক ইতিবাচক বার্তা নিয়ে এসেছে। বাজার বিশেষজ্ঞদের মতে, এই প্রকল্পটি সরাসরি কয়েক হাজার মানুষের কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করবে। পরোক্ষভাবে লাভবান হবেন রাজ্যের হাজার হাজার দুগ্ধ খামারি ও পশুপালক। ‘আমূল’ (Amul)-এর সমবায় মডেল অনুযায়ী, স্থানীয় চাষিদের কাছ থেকে সরাসরি দুধ সংগ্রহ করা হবে, যার ফলে গ্রামীণ অর্থনীতিতে অর্থের জোগান বাড়বে এবং পশুপালকরা তাঁদের পণ্যের ন্যায্য ও সঠিক মূল্য নিশ্চিতভাবে পাবেন।

    প্রযুক্তির মেলবন্ধন ও ‘সরলাবেন’

    ‘আমূল’ (Amul) কেবল ইঁট-পাথরের কারখানা তৈরি করেই ক্ষান্ত থাকছে না, দুগ্ধ চাষের আধুনিকীকরণে তারা নিয়ে আসছে এআই (AI) প্রযুক্তি। দুগ্ধ খামারিদের প্রযুক্তিগত সহায়তা দিতে তারা ‘সরলাবেন’ (Sarlaben) নামক একটি এআই-চালিত ডিজিটাল অ্যাসিস্ট্যান্ট সেবা চালু করতে চলেছে। এই ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে পশুপালকরা পশুর স্বাস্থ্য, খাদ্যাভ্যাস এবং দুধের গুণমান (700-cr Dairy Plant) বৃদ্ধি সংক্রান্ত যে কোনও সমস্যার সমাধান নিমেষের মধ্যে ঘরে বসেই পেয়ে যাবেন।

    পূর্ব ভারতে আমূলের মাস্টারপ্ল্যান

    গত কয়েক বছর ধরেই ‘আমূল’ (Amul) উত্তর ও পূর্ব ভারতে তাদের ব্যবসার পরিধি বাড়ানোর পরিকল্পনা করছিল। পশ্চিমবঙ্গের এই ৭০০ কোটি টাকার (700-cr Dairy Plant) প্রকল্প সেই পরিকল্পনারই অংশ। এর মাধ্যমে তারা বিহার, ওডিশা এবং উত্তর-পূর্ব ভারতের রাজ্যগুলিতে তাদের সাপ্লাই চেন আরও মজবুত করতে পারবে।

    শিল্পায়নের পথে বড় মাইলফলক

    সব মিলিয়ে, ১৪ জুনের এই শিলান্যাস অনুষ্ঠান পশ্চিমবঙ্গের শিল্পায়নের পথে এক বড় মাইলফলক হতে চলেছে। একদিকে অত্যাধুনিক পরিকাঠামো নির্মাণ এবং অন্যদিকে প্রান্তিক কৃষকদের জন্য আধুনিক প্রযুক্তির প্রয়োগ—এই দুইয়ের মিশেলে আমূল রাজ্যে এক নতুন দুগ্ধ বিপ্লবের ডাক দিয়েছে। রাজ্যে তৃণমূলের বিসর্জন হতেই একের পর এক বিনিয়োগ আসছে বলে মনে করছে বিজেপির একটা বড় অংশ। সিঙ্গুর থেকে টাটা বিতাড়িত হওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই রাজ্যে শিল্পায়নের কফিনে পোঁতা হয়ে গিয়েছিল শেষ পেরেকটি। তৃণমূলের আমলে বছর বছর ঘটা করে বিশ্ব বাণিজ্য সম্মলেন হলেও, তার ছাপ বিশেষ পড়েনি। তবে মুখ্যমন্ত্রী হওয়ার পর থেকেই বঙ্গে শিল্প এবং কর্মসংস্থান নিয়ে ব্যাপক আলো দেখিয়ে আসছেন শুভেন্দু অধিকারী। টাটাকে বাংলায় এনে ফের কারখানা গড়ার ইঙ্গিতও দিয়েছে পদ্ম সরকার।

  • Banaras Road Rail Over Bridge: দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান! গতি পাচ্ছে হাওড়ার বেনারস রোড রেল ওভার ব্রিজ প্রকল্প; আজ থেকে ভারী যান চলাচল নিষিদ্ধ

    Banaras Road Rail Over Bridge: দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান! গতি পাচ্ছে হাওড়ার বেনারস রোড রেল ওভার ব্রিজ প্রকল্প; আজ থেকে ভারী যান চলাচল নিষিদ্ধ

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: উত্তর হাওড়াবাসীর দীর্ঘদিনের প্রতীক্ষার অবসান ঘটিয়ে অবশেষে গতি পেতে চলেছে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বেনারস রোড রেল ওভার ব্রিজ (Banaras Road Rail Over Bridge) প্রকল্প। আজ, রবিবার থেকেই সালকিয়া এবং লিলুয়ার বামুনগাছির সংযোগকারী এই ঐতিহাসিক সেতুতে ভারী ও মাঝারি ধরনের সব রকম যানবাহন চলাচল সম্পূর্ণ বন্ধ করে দেওয়া হচ্ছে। রেল (Railway) ও জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ট্র্যাফিক নিয়ন্ত্রণের এই সিদ্ধান্তের ফলেই দীর্ঘদিন ধরে থমকে থাকা নতুন সেতুর সংযোগকারী রাস্তা বা ‘অ্যাপ্রোচ রোড’ নির্মাণের মূল কাজ শুরু করা সম্ভব হবে।

    সেতুটির কাঠামো অত্যন্ত জীর্ণ ও বিপজ্জনক (Banaras Road Rail Over Bridge)

    ব্রিটিশ আমলে নির্মিত এই বেনারস ব্রিজটি উত্তর হাওড়ার অন্যতম প্রধান জীবনরেখা। প্রতিদিন সালকিয়া, লিলুয়া, বামুনগাছি-সহ বিস্তীর্ণ এলাকার হাজার হাজার মানুষ এবং অসংখ্য যানবাহন এই সেতুর ওপর দিয়েই যাতায়াত করে। তবে দীর্ঘদিন সংস্কারের অভাবে সেতুটির কাঠামো অত্যন্ত জীর্ণ ও বিপজ্জনক হয়ে পড়েছিল। বিশেষজ্ঞদের পক্ষ থেকে বার বার সেতুর দুর্বলতার বিষয়টি সামনে আনার পর, পূর্ব রেল (Railway) এখানে একটি নতুন সেতু নির্মাণের উদ্যোগ নেয়।

    রেল (Railway) সূত্রের খবর, নতুন সেতুর মূল কাঠামোর সিংহভাগ কাজ ইতিমধ্যেই সম্পন্ন হয়েছে। তবে মূল জটিলতা তৈরি হয়েছিল অ্যাপ্রোচ রোড নির্মাণ নিয়ে। ট্র্যাফিক নিয়ন্ত্রণ সংক্রান্ত সমস্যার কারণে এই কাজ শুরুই করা যাচ্ছিল না। এই সড়ক নির্মাণের জন্য সেতুর (Banaras Road Rail Over Bridge) ওপর যানবাহন চলাচলে আংশিক বা সম্পূর্ণ বিধিনিষেধ আরোপের প্রয়োজন ছিল। রেল কর্তৃপক্ষ একাধিক বার প্রশাসনের কাছে এর অনুমতি চাইলেও, দীর্ঘদিন ধরে সেই প্রক্রিয়াটি ঝুলে ছিল বলে অভিযোগ।

    ভারী ও মাঝারি গাড়ির প্রবেশ নিষিদ্ধ

    তবে রাজ্যে প্রশাসনিক পটপরিবর্তনের পর এই থমকে থাকা প্রকল্পের জট কাটে। প্রশাসন, রেল এবং ট্র্যাফিক বিভাগের মধ্যে বেশ কয়েকটি উচ্চপর্যায়ের বৈঠকের পর ধাপে ধাপে ট্র্যাফিক (Banaras Road Rail Over Bridge) নিয়ন্ত্রণ করে প্রকল্পের বাকি কাজ দ্রুত শেষ করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। সেই পরিকল্পনা অনুযায়ী, প্রথম পদক্ষেপ হিসেবে আজ থেকে বেনারস ব্রিজে ভারী ও মাঝারি গাড়ির প্রবেশ নিষিদ্ধ করা হলো। এর আগেই এই রুট দিয়ে বাস চলাচল বন্ধ করা হয়েছিল।

    তবে সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন যাতায়াতে যাতে বড় ধরনের ভোগান্তি না হয়, সে কথা মাথায় রেখে আপাতত টোটো, রিকশা, মোটরবাইক এবং অন্যান্য হালকা যান চলাচলের অনুমতি দেওয়া হয়েছে। প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, আগামী প্রায় দু’মাস ধরে এই অ্যাপ্রোচ রোড নির্মাণের কাজ চলবে। এই সময়ে কাজের অগ্রগতি পর্যালোচনা করে পরবর্তী পর্যায়ে নির্দিষ্ট কিছু সময়ের জন্য সেতুতে সম্পূর্ণ ট্র্যাফিক ব্লক করা হতে পারে, যাতে বাকি পরিকাঠামোগত কাজ দ্রুত শেষ করা যায়। সব কিছু ঠিকঠাক চললে খুব শিগগিরই নতুন সেতুটি জনসাধারণের জন্য উন্মুক্ত করে দেওয়া হবে।

    নিরাপদ ও উন্নত যোগাযোগ ব্যবস্থা পাবেন (Banaras Road Rail Over Bridge)

    এই মেগা প্রজেক্টের কাজ শুরু হওয়া প্রসঙ্গে উত্তর হাওড়ার বিধায়ক তথা রাজ্যের প্রতিমন্ত্রী উমেশ রাই বলেন, “পূর্ববর্তী প্রশাসনের আমলে এই প্রকল্পের কাজ শুরু হলেও, রেলকে প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক সহযোগিতা করা হয়নি। সেই উদাসীনতার কারণেই বামুনগাছি-বেনারস ব্রিজ এবং বাঙালবাবু-চাঁদমারি ব্রিজের মতো গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্পগুলি দীর্ঘদিন ধরে আটকে পড়েছিল। তবে আমাদের সরকার ক্ষমতায় আসার পরেই সিদ্ধান্ত নিয়েছে যে, ধাপে ধাপে ট্র্যাফিক নিয়ন্ত্রণ করে দ্রুত সমস্ত কাজ সম্পূর্ণ করা হবে। মানুষের সাময়িক কিছু অসুবিধা হলেও, ভবিষ্যতে তাঁরা আরও নিরাপদ ও উন্নত যোগাযোগ ব্যবস্থা পাবেন।”

    প্রশাসনের এই সিদ্ধান্তকে একবাক্যে স্বাগত জানিয়েছেন এলাকার বাসিন্দারাও। দীর্ঘদিন ধরে জীর্ণ ও দুর্বল সেতুর কারণে যেমন দুর্ঘটনার আশঙ্কা ছিল, তেমনই নিত্যদিনের যানজটের সমস্যায় ভুগতে হচ্ছিল সাধারণ মানুষকে। স্থানীয়দের মতে, নতুন সেতুটি পুরোপুরি চালু হলে শুধু যাতায়াতের সময়ই কমবে না, বরং উত্তর হাওড়ার বিস্তীর্ণ এলাকার অর্থনৈতিক ও যোগাযোগ ব্যবস্থায় এক আমূল পরিবর্তন আসবে। ব্যবসা-বাণিজ্য, পরিবহণ এবং জরুরি পরিষেবার ক্ষেত্রেও এর অত্যন্ত ইতিবাচক প্রভাব পড়বে। দীর্ঘমেয়াদি সুফলের স্বার্থে এই সাময়িক অসুবিধা মেনে নিতে সানন্দেই প্রস্তুত হাওড়াবাসী।

  • TMC Leaders: রাজ্যে পুলিশি তৎপরতা, এক সপ্তাহে ৭০ জনেরও বেশি তৃণমূল নেতা-কর্মী গ্রেফতার, তালিকায় কাউন্সিলর থেকে পঞ্চায়েত সদস্য

    TMC Leaders: রাজ্যে পুলিশি তৎপরতা, এক সপ্তাহে ৭০ জনেরও বেশি তৃণমূল নেতা-কর্মী গ্রেফতার, তালিকায় কাউন্সিলর থেকে পঞ্চায়েত সদস্য

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: রাজ্যে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর গত এক সপ্তাহে আইনশৃঙ্খল রক্ষায় ব্যাপক প্রশাসনিক তৎপরতা দেখা যাচ্ছে। আর্থিক অনিয়ম, সরকারি তহবিলের অপব্যবহার, আয় বহির্ভূত সম্পত্তি, সাধারণ মানুষকে হেনস্থা এবং নির্বাচন-পরবর্তী ও পূর্ববর্তী হিংসার মতো একাধিক গুরুতর অভিযোগে গত সাত দিনে তৃণমূল কংগ্রেসের ৭০ জনেরও বেশি নেতা-কর্মীকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ (BJP Bengal)। ধৃতদের মধ্যে অন্যতম ‘প্রভাবশালী’ মুখ প্রাক্তন মন্ত্রী সুজিত বসু, যিনি কেন্দ্রীয় সংস্থা ইডির হাতে গ্রেফতার হয়েছেন। তাঁর ঘনিষ্ঠ কয়েকজন কাউন্সিলর এবং স্থানীয় নেতাকেও গ্রেফতার করেছে রাজ্য পুলিশ। কেবল শনিবারই রাজ্যজুড়ে অন্তত ১৭ জন তৃণমূল (TMC Leaders) নেতাকে গ্রেফতার করা হয়েছে।

    কলকাতা ও বিধাননগরে আইনি পদক্ষেপ (TMC Leaders)

    শনিবার কলকাতা এবং বিধাননগর এলাকা থেকে মোট আটজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য নাম হল কলকাতা পুরসভার ১২৩ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর তথা তৃণমূল নেতা সুদীপ পোল্লে। তোলাবাজির অভিযোগে বাগুইআটি থানার পুলিশ বিধাননগরের ৬ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর সম্রাট বড়ুয়াকে গ্রেফতার করেছে। সম্রাট প্রাক্তন বিধায়ক তৃণমূল নেত্রী তথা কীর্তনিয়া অদিতি মুন্সির স্বামী দেবরাজ চক্রবর্তীর ঘনিষ্ঠ বলে পরিচিত। হাওড়া, হুগলি, নদিয়া, মুর্শিদাবাদ, পশ্চিম বর্ধমান এবং কোচবিহার থেকেও একাধিক নেতাকে (TMC Leaders) গ্রেফতার করা হয়েছে।

    ভোট-পরবর্তী হিংসা ও সরকারি জমি দখলের অভিযোগ (TMC Leaders)

    হাওড়া ও হুগলি

    ২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচন-পরবর্তী হিংসায় জড়িত থাকার অভিযোগে গ্রামীণ হাওড়ার জগৎবল্লভপুর থানার পুলিশ গোবিন্দপুর গ্রাম পঞ্চায়েতের উপপ্রধান গুরুপদ মাঝি ও তাঁর ভাই রাজুকে (TMC Leaders) গ্রেফতার করেছে। তাঁদের বিরুদ্ধে বিজেপি কর্মীদের ওপর হামলা ও সম্পত্তি ভাঙচুরের অভিযোগ রয়েছে। ২০২১ সালের হিংসার ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে হুগলির দাদপুর থানার পুলিশ হারিট গ্রাম পঞ্চায়েতের তৃণমূল সদস্য আলতাব হোসেন মল্লিককে গ্রেফতার করেছে। হুগলির কোন্নগর পুরসভার ২০ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর বাবলু পাল ওরফে খোকনকে সরকারি জমি দখল করে দলীয় কার্যালয় নির্মাণ, অবৈধ ব্যবসা এবং জালিয়াতির অভিযোগে গ্রেফতার করেছে উত্তরপাড়া থানার পুলিশ। তাঁকে গ্রেফতার করার সময় উপস্থিত ছিলেন স্থানীয় বিজেপি বিধায়ক (BJP Bengal) দীপাঞ্জন চক্রবর্তী। বিধায়কের অভিযোগ, গত ২০ বছর ধরে ক্ষমতার অপব্যবহারে এই বেআইনি কাজ চলেছে এবং এই উচ্ছেদ প্রক্রিয়ার সম্পূর্ণ খরচ ধৃত কাউন্সিলরের কাছে থেকেই আদায় করা হবে।

    নদিয়ায় গ্রেফতার

    নদিয়ার আড়ংঘাটায় সমান্তরাল প্রশাসন চালানো এবং স্থানীয় ব্যবসায়ীদের ‘সিন্ডিকেট’ থেকে চড়া দামে নির্মাণসামগ্রী কিনতে বাধ্য করার অভিযোগে গ্রেফতার হয়েছেন তৃণমূল নেতা (TMC Leaders) রমজান আলি মণ্ডল। তাঁর গ্রেফতারির পর পুলিশ (BJP Bengal) তাঁর সহযোগী প্রদীপ সাঁতরাকেও হেফাজতে নিয়েছে। ধানতলা থানার পুলিশ তাঁদের বিরুদ্ধে একাধিক জামিন অযোগ্য ধারায় মামলা রুজু করে রানাঘাট আদালতে পেশ করেছে।

    মুর্শিদাবাদ

    বড়ঞা থানার পুলিশ বিশেষ অভিযান চালিয়ে কুলি গ্রাম পঞ্চায়েতের প্রধানের স্বামী তথা দাপুটে নেতা আবু বক্করকে (TMC Leaders) গ্রেফতার করেছে। তাঁর বিরুদ্ধে সেলিম বারি নামে এক যুবককে ধারালো অস্ত্র দিয়ে প্রাণনাশের চেষ্টা-সহ একাধিক অপরাধমূলক মামলা রয়েছে। তাঁকে কান্দি মহকুমা আদালতে তোলা হচ্ছে।

    পশ্চিম বর্ধমান

    পাণ্ডবেশ্বরের ছোড়া পঞ্চায়েতের প্রধানের পর এবার ভোটের সময় সন্ত্রাস ও তোলাবাজির অভিযোগে গ্রেফতার হলেন পঞ্চায়েত সদস্য ও কোলিয়ারি শ্রমিক সংগঠনের সম্পাদক শেখ কামরুদ্দিন। তবে কামরুদ্দিন তাঁর বিরুদ্ধে ওঠা সমস্ত অভিযোগ অস্বীকার করে একে ‘রাজনৈতিক প্রতিহিংসা’ বলে দাবি করেছেন।

    কোচবিহার

    কোচবিহারের দিনহাটায় বিজেপি কর্মীদের মারধর ও অর্থ আদায়ের অভিযোগে দিনহাটা-২ ব্লকের বড় শাকদল গ্রাম পঞ্চায়েতের উপপ্রধান ভবরঞ্জন বর্মণকে (TMC Leaders)  গ্রেফতার করেছে সাহেবগঞ্জ থানার পুলিশ। আদালত তাঁর ১৪ দিনের জেল হেফাজতের নির্দেশ দিয়েছে। সরকারি আইনজীবী নিহাররঞ্জন গুপ্ত জানান, ২০২৪ সালের নির্বাচন-পরবর্তী হিংসা ও তোলাবাজির সুনির্দিষ্ট অভিযোগের (BJP Bengal) ভিত্তিতেই এই আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।

    এই ভাবেই রাজ্যজুড়ে দুর্নীতিগ্রস্ত, তোলাবাজ এবং ভোট পরবর্তী হিংসায় নেতৃত্ব দেওয়া তৃণমূল নেতাদের গ্রেফতার করে জেলে ভরার কাজ করছে বিজেপি সরকার। সময় যত যাচ্ছে ধরপাকড়ের সংখ্যা আরও বাড়ছে।

  • TMC Leader Shamim Ahmed: অরূপ রায়-ঘনিষ্ঠ তৃণমূল নেতার বাড়িতে গোপন সুড়ঙ্গ! শোয়ার ঘরে রাজ-পালঙ্ক, তল্লাশিতে গিয়ে পুলিশ থ

    TMC Leader Shamim Ahmed: অরূপ রায়-ঘনিষ্ঠ তৃণমূল নেতার বাড়িতে গোপন সুড়ঙ্গ! শোয়ার ঘরে রাজ-পালঙ্ক, তল্লাশিতে গিয়ে পুলিশ থ

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: তৃণমূলের শাসনে এই রকম উন্নয়ন অকল্পনীয়। তবে তৃণমূল নেতাদের আর্থিক সমৃদ্ধির দৃশ্য খোদ তদন্তকারী পুলিশ অফিসারদেরকেই রীতিমতো চমকে দিয়েছে। ঘিঞ্জি জনবসতিপূর্ণ এলাকায় এমন স্থাপত্যের অস্তিত্ব থাকতে পারে, তা কল্পনাও করতে পারেননি তদন্তকারীরা। হাওড়ার (Howrah) শিবপুরের চওড়াবস্তি এলাকায় পলাতক তৃণমূল নেতা শামিম আহমেদ ওরফে ‘বড়ে’-র বাসভবনে তল্লাশি চালাতে গিয়ে কার্যত স্তম্ভিত হয়ে গেলেন পুলিশ আধিকারিকরা। কেবল বহুমূল্য আসবাব বা মুঘল ঘরানার স্থাপত্য নয়, বাড়ির অন্দরে মাটির নিচে আবিষ্কৃত হয়েছে এক রহস্যময় গোপন সুড়ঙ্গ। প্রশাসনিক মহলের ধারণা, বিপদের সময় আইন-শৃঙ্খলার নজর এড়িয়ে পলায়নের উদ্দেশ্যেই এই বিশেষ অবৈধ নির্মাণ করা হয়েছিল। তবে এই আলিশান রাজমহল (TMC Leader Shamim Ahmed) নির্মাণের টাকা কোথা থেকে আসতো? আসুন দেখে নিই কুখ্যত শামিম আহমেদের কুকীর্তি।

    আভিজাত্যের আড়ালে রহস্যের জাল (Howrah)

    নির্বাচন-পরবর্তী হিংসা এবং বিজেপি সংখ্যালঘু সেলের এক নেতার বাড়িতে হামলার অভিযোগে অভিযুক্ত শামিম আহমেদ (TMC Leader Shamim Ahmed) বর্তমানে পলাতক। তাঁর খোঁজে শিবপুরের ওই প্রাসাদে হানা দেয় পুলিশ। বাড়ির ভেতরে প্রবেশ করতেই আধিকারিকদের চোখ চড়কগাছ হয়ে যায়। সুড়ঙ্গ পেরলেই ‘সিংহদুয়ার’। নেমপ্লেটে লেখা শামিম আহম্মেদ নাম। দরজা খুললেই ভিতরে এলাহি ব্যবস্থা। গোটা বাড়ির সিসিটিভি মনিটরিং চলছে ওই ঘর থেকে।

    হাওড়ার তৃণমূল (TMC) নেতা শামিম আহমেদের সেই বাড়ির ছবি ইতিমধ্যেই সামনে এসেছে। দামি আসবাবপত্র, সিনেমার সেটের মতো সজ্জা এবং কারুকার্যমণ্ডিত ঘরগুলি আভিজাত্যের চরম নিদর্শন। তবে তল্লাশি চলাকালীন মাটির নিচে সুড়ঙ্গের সন্ধান মিলতেই পুরো পরিস্থিতি ভিন্ন মাত্রা পায়। সংবাদমাধ্যমের ক্যামেরায় ধরা পড়েছে সেই রহস্যময় সুড়ঙ্গ এবং নেমপ্লেট সম্বলিত শামিমের ঘরের চিত্র। এই সুড়ঙ্গ পথটি ঠিক কোথায় গিয়ে মিশেছে এবং এর মাধ্যমে কোনও অপরাধমূলক কারসাজি চলত কি না, তা নিয়ে ইতিপূর্বেই তদন্ত শুরু হয়েছে।

    সাধারণ জীবন থেকে ক্ষমতার শিখরে: শামিমের উত্থান

    মধ্য হাওড়ার (Howrah) রাজনৈতিক অলিন্দে কান পাতলে শামিম আহমেদের উল্কাসম উত্থানের কাহিনী শোনা যায়। জানা যায়, একসময় শপিং মলের সাধারণ কর্মচারী হিসেবে কাজ করা এই ব্যক্তি সময়ের ব্যবধানে এলাকার বেতাজ বাদশা হয়ে ওঠেন। ৩৬ নম্বর ওয়ার্ডের প্রাক্তন কাউন্সিলরের স্বামী এবং প্রাক্তন মন্ত্রী অরূপ রায়ের ছায়াসঙ্গী (TMC Leader Shamim Ahmed) হিসেবে পরিচিত হওয়ার পর থেকেই তাঁর প্রভাব-প্রতিপত্তি বাড়তে থাকে। স্থানীয়দের কাছে তিনি ‘বড়ে’ বা কেউ কেউ ‘ডন’ হিসেবেও পরিচিত। তাঁর বিরুদ্ধে অভিযোগ রয়েছে, প্রশাসনিক ও রাজনৈতিক প্রশ্রয়ে তিনি ওই এলাকায় আধিপত্য বিস্তার করেছিলেন।

    রাজনৈতিক উত্তাপ ও অভিযোগের আঙুল

    শামিমের (TMC Leader Shamim Ahmed) বাড়িতে (Howrah) এই গোপন সুড়ঙ্গের সন্ধান পাওয়ার ঘটনাটি প্রকাশ্যে আসতেই রাজ্যে রাজনৈতিক চাপানউতোর তুঙ্গে উঠেছে। বিজেপি নেতৃত্ব এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে শাসকদলের বিরুদ্ধে কড়া সমালোচনা শুরু করেছে।

    রাজ্যের নবনিযুক্ত মন্ত্রী দিলীপ ঘোষ কটাক্ষ করে বলেন, “তদন্ত যত এগোবে, সুড়ঙ্গ বা গুহার পাশাপাশি টাকার পাহাড়ও বেরিয়ে আসবে।” অন্যদিকে, শিবপুরের বিধায়ক রুদ্রনীল ঘোষ সরাসরি প্রাক্তন মন্ত্রী অরূপ রায়ের দিকে আঙুল তুলেছেন। তাঁর দাবি, “হাওড়ার মতো প্রাচীন শহরকে জমি প্রোমোটিং, মাদক ব্যবসা এবং লুটের রাজত্বে পরিণত করার নেপথ্যে এই নেতারাই মদতদাতা হিসেবে কাজ করেছেন। অপরাধীদের সুরক্ষা দিতে পুলিশকেও ঢাল হিসেবে ব্যবহার করা হয়েছে।”

    প্রশাসনিক তৎপরতা

    তদন্তকারীদের প্রাথমিক অনুমান, এই শামিমের (TMC Leader Shamim Ahmed)  সুড়ঙ্গ পথটি জরুরি অবস্থায় আত্মগোপন করার জন্য সুপরিকল্পিতভাবে তৈরি করা হয়েছিল। তৃণমূল নেতার এই ‘অপারেশনাল স্টাইল’ কোনও অন্ধকার জগতের অপরাধীদের কর্মপদ্ধতির সঙ্গে তুলনীয় বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। ঘটনার পর থেকে এলাকায় তীব্র চাঞ্চল্য বিরাজ করছে। পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, এই সুড়ঙ্গের বিস্তৃতি এবং এর সঙ্গে অন্য কোনো গোপন কার্যকলাপের যোগসূত্র খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

    এনআইএ-ও গ্রেফতার করেছিল শামিমকে

    এই প্রথমবার শামিমের (TMC Leader Shamim Ahmed) বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠল, তা নয়। আগেও তাঁর বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠেছে। হাওড়ায় (Howrah) রামনবমীর শোভাযাত্রায় হামলা চালানোর অভিযোগে যখন এনআইএ তদন্তভার নিয়ে গ্রেফতার করা হয়েছিল এই বড়েকে। যদিও সেই সময় তদন্তে ভাইরাল ভিডিয়ো সম্পর্কে হাওড়া সিটি পুলিশের কর্তারা কিছু জানাতে চাননি। তৃণমূলের শাসনে তোষণ নীতির কারণে শামিম রক্ষা পেলেও বিজেপি সরকারের দুর্নীতি এবং সিন্ডিকেট রাজের বিরুদ্ধে জিরো টোলারেন্স নীতি গ্রহণ করার সক্রিয় ভূমিকা পালন করতে দেখা গিয়েছে। রাজ্যে প্রশাসনিক রদবদল এবং নতুন সরকারের কড়া অবস্থানের মাঝেই এই ধরণের ঘটনা শাসকদলের ভাবমূর্তিকে নতুন করে চ্যালেঞ্জের মুখে ফেলেছে। এখন দেখার, এই সুড়ঙ্গের রহস্য উদ্ঘাটনে তদন্ত কোন পথে এগোয়।

  • TMC Violence: পদ্মের দখলে রাজ্য, তার পরেও বঙ্গে অত্যাচার চালাচ্ছে তৃণমূল! নিহত ২ বিজেপি কর্মী

    TMC Violence: পদ্মের দখলে রাজ্য, তার পরেও বঙ্গে অত্যাচার চালাচ্ছে তৃণমূল! নিহত ২ বিজেপি কর্মী

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ভবানীপুরে শুভেন্দু অধিকারীর কাছে ‘বধ’ হয়েও মুখ্যমন্ত্রী পদে ইস্তফা দেননি তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়! বস্তত, গোটা রাজ্যেই মুখ থুবড়ে পড়েছে বন্দ্যোপাধ্যায় পরিবারের পারিবারিক প্রতিষ্ঠান তৃণমূল। প্রত্যাশিতভাবেই ২০০-এরও বেশি বিধায়ক নিয়ে সরকার গড়ার দাবিদার বিজেপি (BJP Workers Killed)। এহেন আবহে রাজ্যে অশান্তি পাকাতে শুরু করে দিয়েছে তৃণমূল আশ্রিত দুষ্কৃতীরা (TMC Violence)। বিজেপির তরফে প্রথম থেকেই জানিয়ে দেওয়া হয়েছিল, বদলা নয়, বদল চাই। তার পরেও দলনেত্রীর মতোই মাজা ভাঙলেও, মচকায়নি তৃণমূলের জার্সিধারীরা।

    হাওড়ায় বিজেপি কর্মী খুন (TMC Violence)

    রাজ্যজুড়ে বিজেপি নেতা-কর্মীদের ওপর বিক্ষিপ্ত হামলা চালাতে শুরু করেছে গোহারা হেরে যাওয়া তৃণমূলের লোকজন। মঙ্গলবার সকালে হাওড়ার উদয়নারায়ণপুরে বিজেপির এক কর্মীকে পিটিয়ে খুন করার অভিযোগ ওঠে তৃণমূলের বিরুদ্ধে। গ্রেফতার করা হয়েছে অভিযুক্তকে। স্থানীয় ও বিজেপি সূত্রে খবর, মৃতের নাম যাদব বর। বিজেপির জয়ের আনন্দে সোমবার রাতে আবির খেলায় মেতেছিলেন তিনি। তার পরেই তাঁকে তৃণমূল আশ্রিত দুষ্কৃতীরা খুন করেছে বলে অভিযোগ। বিজেপির এই কর্মীর বাড়ি উদয়নারায়ণপুর বিধানসভার দেবীপুর গ্রাম পঞ্চায়েতের ১৪৮ নম্বর বুথ এলাকায়। তাঁর পরিবার জানিয়েছে, যাদব বিজেপির সমর্থক ছিলেন। বিজেপির জয়ের আনন্দ দলের সতীর্থদের সঙ্গে উদ্‌যাপন করছিলেন তিনি। সোমবার রাত ১১টা নাগাদ বাড়ি ফিরছিলেন। সেই সময় তাঁকে টেনেহিঁচড়ে নিয়ে যান কয়েকজন। ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে মারা হয় বিজেপির ওই কর্মীকে।

    নিউটাউনেও পিটিয়ে খুন, কাঠগড়ায় তৃণমূল

    মঙ্গলবারই নিউটাউনের বালিগড়ি চক পাচুড়িয়া এলাকায় বিজেপি কর্মী মধু মণ্ডলকে পিটিয়ে খুনের অভিযোগ উঠেছে তৃণমূলের বিরুদ্ধে। অনিচ্ছাকৃত খুনের মামলা দায়ের করে ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ (BJP Workers Killed)। যদিও ঘটনার পর থেকেই অভিযুক্ত কমল মণ্ডল পলাতক। জানা গিয়েছে, পুনর্গণনার পরে রাজারহাট-নিউটাউন বিধানসভা কেন্দ্রে ৩১৬ ভোটে জয়ী হন বিজেপির পীযূষ কানোরিয়া (TMC Violence)। পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে খবর, এর পরেই মধু দলবল নিয়ে স্থানীয় তৃণমূল নেতা এবং পঞ্চায়েত কমিটির সদস্য কমল মণ্ডলের বাড়িতে চড়াও হয় বলে অভিযোগ। ওই সময় কমল বাড়িতে ছিলেন না। বিকেলে মধু ফের উজিয়ে কমলের বাড়িতে গিয়ে হুমকি দেয় বলে অভিযোগ। মধুর হুমকি শুনে বেরিয়ে আসেন কমল। শুরু হয় কথা কাটাকাটি। এক সময় ওই তৃণমূল নেতা মধুকে ধাক্কা মারে বলে অভিযোগ। টাল সামলাতে না পেরে পড়ে যান ওই বিজেপি কর্মী। তখন সে মধুর বুকে সজোরে লাথি মারে বলে অভিযোগ। সঙ্গে সঙ্গে জ্ঞান হারান মধু। হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে মৃত ঘোষণা করা হয় তাঁকে। খবর পেয়ে রাতেই মধুর বাড়িতে যান বিজেপির সদ্য নির্বাচিত বিধায়ক পীযূষ কানোরিয়া। কথা বলেন মৃতের পরিবারের সঙ্গে। সব রকমভাবে পাশে থাকার আশ্বাস দেন তিনি। বিজেপি কর্মী অরূপ মণ্ডল বলেন, “মধুকে বুকে লাথি মেরে পিটিয়ে খুন করেছে তৃণমূলের কর্মী-সমর্থকরা।” অভিযুক্তকে গ্রেফতারের দাবিও জানিয়েছেন স্থানীয়রা (TMC Violence)।

    উত্তরেও অশান্তি হেরো তৃণমূলের

    দক্ষিণবঙ্গের পাশাপাশি উত্তরেও অশান্তি পাকানোর অভিযোগে কাঠগড়ায় সেই তৃণমূল-ই। বিধানসভা নির্বাচনে দলের জয়ের পর মঙ্গলবার সকালে স্থানীয় মন্দিরে পুজো দিতে যাচ্ছিলেন একদল বিজেপি কর্মী-সমর্থক (BJP Workers Killed)। আচমকাই তাঁদের ওপর হামলা চালানো হয় বলে অভিযোগ। জলপাইগুড়ির রংধামালি এলাকায় এই রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের ঘটনায় ছড়ায় ব্যাপক চাঞ্চল্য। বিজেপির অভিযোগ, জলপাইগুড়ি সদর বিধানসভা কেন্দ্রের হেরে যাওয়া তৃণমূল প্রার্থী কৃষ্ণ দাসের লোকজনই একাজ করেছে। ধারালো অস্ত্রের কোপে গুরুতর জখম হয়েছেন অন্তত ৬ জন বিজেপি কর্মী। জলপাইগুড়ি মেডিক্যাল কলেজ-হাসপাতালে চিকিৎসাধীন তাঁরা। স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে খবর, কৃষ্ণের নেতৃত্বে একদল যুবক লাঠি ও ধারালো অস্ত্র নিয়ে বিজেপি কর্মী-সমর্থকদের পথ আগলায়। গাড়ি থেকে টেনে নামিয়ে শুরু হয় মারধর। প্রত্যক্ষদর্শীদের দাবি, প্রকাশ্য দিবালোকেই বিজেপি কর্মীদের ওপর চড়াও হয় তৃণমূল আশ্রিত দুষ্কৃতীরা। ধারালো অস্ত্রের ঘায়ে জখম হন বেশ কয়েকজন।

    উলটপুরাণ!

    খবর পেয়েই এলাকায় যান জলপাইগুড়ি থানার পুলিশ এবং কেন্দ্রীয় বাহিনীর জওয়ানরা। বিজেপির দাবি, পরাজয়ের গ্লানি সহ্য করতে না পেরে প্রতিহিংসার রাজনীতি শুরু করেছে রাজ্যের শাসকদল। ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ। প্রসঙ্গত, হেরে গিয়েও বিজেপি নেতা-কর্মী-সমর্থকদের ওপর তৃণমূল হামলা চালিয়ে যাচ্ছে বলে অভিযোগ (BJP Workers Killed)। যদিও বিজেপির তরফে পাল্টা মার দেওয়া হয়নি। সূত্রের খবর, পদ্মশিবিরের ওপরতলার (TMC Violence) নেতাদের নির্দেশেই পাল্টা মারের রাস্তায় হাঁটেনি পদ্মশিবির। ওয়াকিবহাল মহলের মতে, দুই ফুলের (বিজেপির পদ্মফুল এবং তৃণমূলের ঘাসফুল) রূপ-রস-গন্ধ সবই যে আলাদা, এই সব ঘটনাই তার প্রমাণ।

     

  • West Bengal Poll Violence: ‘ডায়মন্ড মডেল’ প্রয়োগ তৃণমূলের! বাসন্তীর বিজেপি প্রার্থীকে ব্যাপক মারধরের অভিযোগ

    West Bengal Poll Violence: ‘ডায়মন্ড মডেল’ প্রয়োগ তৃণমূলের! বাসন্তীর বিজেপি প্রার্থীকে ব্যাপক মারধরের অভিযোগ

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: গদি ধরে রাখতে ডায়মন্ড হারবারে ‘ডায়মন্ড মডেল’ প্রয়োগ তৃণমূলের (TMCs Gundagiri)! আজ, বুধবার পশ্চিমবঙ্গে হচ্ছে দ্বিতীয় তথা শেষ দফার ভোটগ্রহণ। অভিযোগ, বসন্তী বিধানসভা কেন্দ্রের বিজেপি প্রার্থী বিকাশ সরদারের গাড়িতে (West Bengal Poll Violence) হামলা চালায় তৃণমূল আশ্রিত দুষ্কৃতীরা। বিজেপি প্রার্থীর দাবি, এলাকাজুড়ে তৃণমূল ব্যাপক ‘গুন্ডাগিরি’ চালাচ্ছে। সরদার জানান, ২০০ থেকে ২৫০ জনের একটি দল লোহার রড ও বাঁশের লাঠি নিয়ে তাঁর গাড়িতে হামলা চালায়, আক্রমণ করা হয় তাঁর গাড়ি চালককেও। বিকাশ বলেন, “পুরো বিধানসভা এলাকায় তৃণমূলের গুন্ডাগিরি চলছে। ২০০-২৫০ জন তৃণমূলের গুন্ডা লোহার রড ও বাঁশ নিয়ে আমার গাড়িতে হামলা করেছে। তারা আমার চালককেও মারধর করেছে।”

    বিজেপির বুথকর্মীর অভিযোগ (West Bengal Poll Violence)

    এদিকে, নদিয়ার চাপড়া বিধানসভা কেন্দ্রের এক বিজেপি বুথকর্মীর অভিযোগ, বুধবার ভোরে একদল দুষ্কৃতী তাঁকে আক্রমণ করেছে। ওই বুথকর্মীর নাম মোশাররফ মির। তিনি হাতরা পঞ্চায়েতের ৫৩ নম্বর বুথের পোলিং এজেন্ট। তাঁর দাবি, সকাল সাড়ে ৫টা নাগাদ ১৫-২০ জন সশস্ত্র ব্যক্তি লোহার রড ও আগ্নেয়াস্ত্র নিয়ে তাঁকে মারধর করে পালিয়ে যায়। পুলিশ তাঁকে উদ্ধার করে চাপড়া গ্রামীণ হাসপাতালে ভর্তি করে। আপাতত, সেখানেই চিকিৎসাধীন রয়েছেন তিনি। তাঁর মাথায় ছ’টি সেলাই পড়েছে।

    কী বলছেন মির?

    মির বলেন, “তৃণমূলের কিছু গুন্ডা লুকিয়ে ছিল জানিয়াল্লামুল্লার বাড়িতে। তাদের বিরুদ্ধে একাধিক মামলা রয়েছে। জানিয়াল্লামুল্লা নিজেই একজন অপরাধী। তার কাছে বন্দুক ছিল। আরও দু’জনের কাছেও বন্দুক ছিল। তারা সেগুলি দেখাচ্ছিল। তারপর আরও ১৫-২০ জন আমাদের দিকে আসে। তাদের হাতে ছিল লোহার রড ও লাঠি। তারা প্রথমে আমায় আক্রমণ করে, মারধর করে ফেলে দেয় (West Bengal Poll Violence)।” তিনি আরও বলেন, “তারা আমায়  বারবার আঘাত (TMCs Gundagiri) করতে থাকে। আমার সঙ্গে থাকা লোকজনকেও আক্রমণ করা হয়। আমার মাথায় ছ’টি সেলাই পড়েছে। আমি চাই পুলিশ তাদের গ্রেফতার করুক। আমি বিচার চাই।”

    এদিকে, এদিন সকাল ৯টা পর্যন্ত নদিয়া জেলায় ভোটের হার ছিল ১৮.৫০ শতাংশ। পূর্ব বর্ধমান সর্বোচ্চ ২০.৮৬ শতাংশ ভোট নিয়ে শীর্ষে রয়েছে। হুগলিতে ভোট পড়েছে ২০.১৬ শতাংশ এবং উত্তর ২৪ পরগনায় ১৭.৮১ শতাংশ ভোট পড়েছে। কলকাতা উত্তর ও দক্ষিণে যথাক্রমে ১৭.২৮ শতাংশ ও ১৬.৮১ শতাংশ ভোট পড়েছে, আর হাওড়ায় ভোটের হার ১৭.৭৬ শতাংশ। ২০২৬ সালের পশ্চিমবঙ্গ নির্বাচনে মূল লড়াই তৃণমূল ও বিজেপির মধ্যে। এর আগে, বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী ভবানীপুর কেন্দ্রের ভোটকেন্দ্রগুলি পরিদর্শন করেন। দ্বিতীয় দফায় পশ্চিমবঙ্গের ২৯৪টির মধ্যে ১৪২টি আসনে ভোট হচ্ছে। মোট ভোটার প্রায় ৩.২১ কোটি। এর মধ্যে ১,৬৪,৩৫,৬২৭ জন পুরুষ, ১,৫৭,৩৭,৪১৮ জন মহিলা এবং ৭৯২ জন তৃতীয় লিঙ্গের ভোটার রয়েছেন (West Bengal Poll Violence)। প্রসঙ্গত, ১৪২টি আসনে ভোট হলেও, সবার নজর “বিগ ফাইভ” আসনগুলির দিকে। ভবানীপুরের হাই-প্রোফাইল আসনের পাশাপাশি, বাংলা চলচ্চিত্র জগতের কেন্দ্র টালিগঞ্জেও তারকাখচিত জমজমাট লড়াই চলছে (TMCs Gundagiri)।

     

LinkedIn
Share