Tag: Howrah

Howrah

  • Kolkata Tunnel: যানজট কমাতে বড় পদক্ষেপ, গঙ্গার তলা দিয়ে কলকাতা-হাওড়া সুড়ঙ্গপথ তৈরিতে উদ্যোগী কেন্দ্র

    Kolkata Tunnel: যানজট কমাতে বড় পদক্ষেপ, গঙ্গার তলা দিয়ে কলকাতা-হাওড়া সুড়ঙ্গপথ তৈরিতে উদ্যোগী কেন্দ্র

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: দেশের মধ্যে প্রথম নদীর তলা দিয়ে মেট্রো চলাচল শুরু হয়েছে কলকাতাতেই। এবার কেন্দ্রীয় সরকারের লক্ষ্য কলকাতা (Kolkata Tunnel) থেকে হাওড়া পর্যন্ত গঙ্গার (Ganges) নীচ দিয়ে পণ্যবাহী ট্রাক চলাচলের সুড়ঙ্গ তৈরি। এ নিয়ে রাজ্যের সঙ্গে কেন্দ্রের প্রাথমিক কথাবার্তা হয়ে গিয়েছে। আগামী বছর থেকেই সেই কাজ শুরু হয়ে যেতে পারে।

    কোথায় তৈরি হবে সুড়ঙ্গপথ? (Kolkata Tunnel)

    কেন্দ্রীয় সরকার কোন প্রকল্পে এই কাজ করবে, তাও ঠিক হয়ে গিয়েছে। এমনকী গঙ্গার নীচে কোথায় সেই সুড়ঙ্গ পথ তৈরি করা হবে, তার প্রাথমিক জায়গাও ঠিক করা হয়ে গিয়েছে। জানা গিয়েছে, প্রধানমন্ত্রী গতিশক্তি প্রকল্পের অধীনেই ওই সুড়ঙ্গ তৈরির কাজ করা হবে বলে জানা গিয়েছে। কলকাতার দক্ষিণ প্রান্তে মেটিয়াবুরুজ থেকে হাওড়া যাওয়ার প্রস্তাবিত সুড়ঙ্গ (Kolkata Tunnel) মূলত ট্রাক যাতায়াতের জন্যই তৈরি হবে। এর ফলে বন্দর এলাকার ট্রাক হাওড়া হয়ে বিভিন্ন জাতীয় সড়ক ধরে রাজ্যের অন্যত্র যেতে পারবে। ২০২২ সালেই এমন পরিকল্পনা করেছিল শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায় বন্দর কর্তৃপক্ষ। এর পরে গঙ্গার তলা দিয়ে বন্দর এলাকায় ট্রাক যাতায়াতের জন্য সুড়ঙ্গ বানানো সম্ভব কি না, তার পরীক্ষানিরীক্ষা শুরু হয়। ইতিমধ্যেই সেই কাজ শেষ হয়ে বন্দর, জাহাজ ও জলপথ মন্ত্রকে রিপোর্ট জমা পড়েছে।

    আরও পড়ুন: ৯৭ বছরে পা দিলেন লালকৃষ্ণ আডবানি, জন্মদিনে বর্ষীয়ান নেতাকে শুভেচ্ছা মোদি-শাহের

    কী বললেন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী?

    এখন বন্দর থেকে কোনও ট্রাককে জাতীয় সড়কে যেতে হলে প্রধান পথ দ্বিতীয় হুগলি সেতু। সেই সেতু দিয়েই যাতায়াতের জন্য কলকাতা (Kolkata Tunnel) শহরে ঢুকতে হয় ট্রাককে। শহরের যান চলাচলে যাতে ব্যাঘাত না ঘটে, তার জন্যই সুড়ঙ্গপথের প্রস্তাব কেন্দ্রীয় সড়কমন্ত্রী নীতীন গড়কড়িকে দিয়েছিলেন শান্তনু। বনগাঁর বিজেপি সাংসদ কেন্দ্রীয় মন্ত্রী হওয়ার পরেই ওই প্রস্তাব দেন। পরে ‘সম্ভাবনা’ পরীক্ষার অনুমোদন পাওয়া যায়। বন্দর কর্তৃপক্ষ সেই পরীক্ষা চালান একটি বেসরকারি সংস্থাকে দিয়ে। সেই রিপোর্ট যে মন্ত্রকে জমা পড়েছে, সম্প্রতি তা লোকসভাতেই জানিয়েছেন কেন্দ্রীয় বন্দর, জাহাজ ও জলপথ মন্ত্রী সর্বানন্দ সোনোয়াল। প্রকল্প প্রসঙ্গে জাহাজ ও জলপথ মন্ত্রকের প্রতিমন্ত্রী শান্তনু ঠাকুর  বলেন, “আপাতত যা ঠিক হয়েছে, তাতে ১১ হাজার কোটি টাকা বরাদ্দ হয়েছে ওই প্রকল্পের জন্য। মোট ১৫ কিলোমিটার রাস্তা হবে। তার মধ্যে ৮ কিলোমিটার থাকবে সুড়ঙ্গপথ। ফলে, এই কাজ শুরু করা যেতে পারে। আর সুড়ঙ্গ তৈরি হয়ে গেলে শহরে কোনও ট্রাক ঢুকবে না। ফলে, যানজট অনেকটাই কমবে। আর শুধু কলকাতা নয়, গোটা রাজ্যের জন্যই গুরুত্বপূর্ণ হবে ওই সুড়ঙ্গ। যা পরিকল্পনা, তাতে ভিন্ রাজ্য তো বটেই, রাজ্যেরও সর্বত্র সহজে পৌঁছে যাওয়ার জন্য সংযোগকারী রাস্তা তৈরি এই পরিকল্পনার মধ্যে রয়েছে।”

    কোথায় যানজট?

    এখন কলকাতায় যানজট কমাতে দিনে ৮ ঘণ্টা ভারী গাড়ি চলাচল বন্ধ থাকে। এর পরেও রাস্তায় বাকি গাড়ির জটের মধ্য দিয়ে গতি বাড়াতে পারে না ট্রাক। ফলে রাত পর্যন্ত অপেক্ষ করতে হয় অনেক ট্রাককে। আবার বন্দর থেকে দ্বিতীয় হুগলি সেতু যাওয়ার জন্য গার্ডেনরিচ সার্কুলার রোড, খিদিরপুর রোড, হেস্টিংস পর্যন্ত যানজট তৈরি হয়। গঙ্গার তলা দিয়ে হাওড়ায় যাওয়ার সুবিধা হয়ে গেলে এ সব থেকে কলকাতা মুক্তি পাবে বলে দাবি শান্তনুর। তিনি বলেন, “প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির নেতৃত্বে গোটা দেশেই সড়কপথের চরিত্র বদলে গিয়েছে। দেশের গতি বেড়েছে। অনেক টানেল পথ দিয়ে গাড়ি, ট্রেন, ছুটছে। এ বার সেই গতি পাবে কলকাতা তথা বাংলাও।”

     

    দেশের খবর, দশের খবর, সব খবর, সবার আগে পেতে ফলো করুন আমাদের  Whatsapp, FacebookTwitter, Telegram এবং Google News পেজ।

  • Kali Puja 2024: কেউ মায়ের হাজারটি হাত গুনতে পারেননি! জানুন শিবপুরের হাজার হাত কালীর মাহাত্ম্য

    Kali Puja 2024: কেউ মায়ের হাজারটি হাত গুনতে পারেননি! জানুন শিবপুরের হাজার হাত কালীর মাহাত্ম্য

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: দক্ষিণ ভারতে বিশেষ জনপ্রিয় হাজার হাত কালী। হাওড়ার শিবপুরে হাজার হাত কালীতলায় (Kali Puja 2024) প্রায় ২৫ ফুট উঁচু মায়ের এই মূর্তি রয়েছে। শিবপুর ওলাবিবিতলায় হাজার-হাত কালীর মন্দির রয়েছে। শতাব্দী প্রাচীন এই মন্দিরে প্রতি বছর ধুমধাম করে পুজোর আয়োজন করা হয়। দেবীর নাম থেকেই এলাকার নাম হয়েছে হাজারহাত কালীতলা। শোনা যায়, এখনও পর্যন্ত কেউ মায়ের হাজারটি হাত গুনতে পারেননি। গোনা বারণও রয়েছে।

    মন্দির তৈরির ইতিহাস

    কলকাতার চোরবাগানের আশুতোষ মুখোপাধ্যায়ের উদ্যোগে এই মন্দির গড়ে ওঠে। শিবপুরে হাজার হাত কালী মন্দিরের প্রতিষ্ঠা নিয়েও অনেক ইতিহাস রয়েছে। প্রচলিত লোককথা অনুযায়ী, স্থানীয় মুখোপাধ্যায় বাড়ির ছেলে তান্ত্রিক আশুতোষ মুখোপাধ্যায়কে মা চণ্ডী স্বপ্নাদেশ দিয়ে কালীর এই রূপ দেখান এবং মন্দির তৈরির আদেশ দেন। লোকে তাঁকে তান্ত্রিক আশুতোষ তর্করত্ন নামেও চেনেন। আশুতোষ দেশের বিভিন্ন তীর্থস্থান ঘুরে বেড়াতেন। পুজোপাঠ, ধ্যান, সাধনা নিয়ে থাকতেন তিনি। এক বার স্বপ্নে কালীর এই হাজার-হাতের রূপ দেখতে পান আশুতোষ। ওলাবিবিতলায় যেখানে আজ এই মন্দির গড়ে উঠেছে, সেই জায়গাটিরও স্বপ্ন দেখেন। সেই স্বপ্নাদেশ মতো মন্দির গড়ার জন্য ১২৫ টাকায় হালদার পরিবারের কাছ থেকে ৩ কাঠা জায়গা কিনে মাটির মন্দির তৈরি করেন আশুতোষ। ১৮৭০ সালে সেই মন্দির গড়ে ওঠে। কুমোরটুলির প্রিয়নাথ পাল বিগ্রহ বানান। চণ্ডীপুরাণ অনুযায়ী, অসুর বধের সময়ে দেবী দুর্গা অনেক রূপ ধারণ করেছিলেন। তার মধ্যে অন্যতম তাঁর হাজার-হাতের রূপ। চণ্ডীপুরাণের সেই বর্ণনা মতো হাজার-হাতের কালী মূর্তি তৈরি করা হয়।

    আরও পড়ুন: মা তাঁর ভয়ঙ্কর রূপ দেখিয়েছিলেন সাধক বামাক্ষ্যাপাকে! জানুন তারাপীঠের মাহাত্ম্যকথা

    মা কাউকে ফেরান না

    প্রাচীন প্রথা মেনে আজও মুখোপাধ্যায় পরিবারের সদস্যরা এখানে পুজো (Kali Puja 2024) করে আসছেন। মায়ের পুজো ও মঙ্গলারতিতে যাতে কোনও রকম অসুবিধা না হয় সেজন্য আশুতোষ মুখোপাধ্যায় মায়ের মন্দিরের নামে বেশ কিছু সম্পত্তি রেখে গিয়েছেন। সেই সম্পত্তি থেকেই আয় যা আসে, তা থেকে মায়ের পুজো করা হয় ও মন্দিরের সংস্কার করা হয়। কালীপুজোর দিনে পুণ্যার্থীদের ভিড় এতটাই হয় যে, পরিস্থিতি সামাল দিতে নিরাপত্তারক্ষী মোতায়েন করতে হয়। বিশ্বাস, মায়ের কাছে কিছু প্রার্থনা করলে সেটি পূর্ণ হয়। শোনা যায়, প্রায় ৬০ বছর আগে শ্রাবণ মাসের শুক্লপক্ষের এক শুক্রবার দক্ষিণ ভারতের বাসিন্দা কৃষ্ণা সুব্রহ্মণ্যম এই মন্দিরে এসেছিলেন। তখন তিনি দৃষ্টিহীন। হাজার-হাত কালীর কাছে দৃষ্টি ফিরিয়ে দেওয়ার প্রার্থনা করেন। এক বছরের মধ্যে তিনি দৃষ্টিশক্তি ফিরে পান। তার পর থেকে তিনি মায়ের মাহাত্ম্য প্রচার শুরু করেন দক্ষিণ ভারত জুড়ে। 

     

    দেশের খবর, দশের খবর, সব খবর, সবার আগে পেতে ফলো করুন আমাদের  Whatsapp, FacebookTwitter, Telegram এবং Google News পেজ।

  • Cyclone Dana: আসছে ‘দানা’! ১৪ ঘণ্টা পরিষেবা বন্ধ শিয়ালদা দক্ষিণে, হাওড়ায় বাতিল একগুচ্ছ ট্রেন

    Cyclone Dana: আসছে ‘দানা’! ১৪ ঘণ্টা পরিষেবা বন্ধ শিয়ালদা দক্ষিণে, হাওড়ায় বাতিল একগুচ্ছ ট্রেন

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ঘূর্ণিঝড় ‘দানা’র (Cyclone Dana) আশঙ্কায় সতর্কতামূলক ব্যবস্থা নিল রেল। ইতিমধ্যেই পূর্ব রেল (Train Cancelled) জানিয়েছে, শিয়ালদা দক্ষিণ এবং হাসনাবাদ শাখায় বাতিল করা হয়েছে ১৯০টি লোকাল ট্রেন। বুধবার শিয়ালদার ডিআরএম দীপক নিগম জানিয়েছেন, বৃহস্পতিবার রাত থেকে শুক্রবার সকাল পর্যন্ত সব মিলিয়ে ১৪ ঘণ্টা শিয়ালদা দক্ষিণ এবং হাসনাবাদ শাখায় বন্ধ থাকবে ট্রেন চলাচল। হাওড়া ডিভিশনে পুরোপুরি লোকাল ট্রেন পরিষেবা বন্ধ রাখা না হলেও একগুচ্ছ লোকাল ট্রেন বাতিল করে দেওয়া হয়েছে।

    কখন ছাড়বে শেষ ট্রেন

    আলিপুর আবহাওয়া দফতর থেকে জানানো হয়েছে, বৃহস্পতিবার রাতে ওড়িশার ভিতরকণিকা এবং ধামারার মধ্যবর্তী অঞ্চল দিয়ে স্থলভাগে প্রবেশ করবে ‘দানা’। ঘূর্ণিঝড়ের প্রভাবে বাংলার উপকূলীয় অঞ্চল তো বটেই, কলকাতাতেও ঝড়-ঝঞ্ঝার (Cyclone Dana) আশঙ্কা রয়েছে। ডিআরএম দীপক বলেন, ‘‘দুর্যোগের কারণে শিয়ালদা স্টেশন থেকে দক্ষিণ শাখার সমস্ত গন্তব্যের উদ্দেশে শেষ ট্রেন ছাড়বে বৃহস্পতিবার রাত ৮টায়। পরের দিন, অর্থাৎ শুক্রবার সকাল ১০টা পর্যন্ত ওই শাখায় বন্ধ থাকবে লোকাল ট্রেন চলাচল।’’ তিনি জানিয়েছেন, বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা ৭টা থেকে পরের দিন সকাল ৯টা পর্যন্ত দক্ষিণ শাখার কোনও স্টেশন থেকেই শিয়ালদার উদ্দেশে লোকাল ট্রেন ছাড়বে না। শিয়ালদার ডিআরএম জানিয়েছেন, একই সঙ্গে হাসনাবাদ শাখাতেও একাধিক ট্রেন বাতিল করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার রাত ৮টায় হাসনাবাদের উদ্দেশে শেষ ট্রেন ছাড়বে শিয়ালদা থেকে। 

    শিয়ালদার কোন শাখায় কত ট্রেন বাতিল 

    ১) শিয়ালদা-ক্যানিং শাখা: ২৪টি ট্রেন বাতিল

    ২) সোনারপুর-ক্যানিং শাখা: ৭টি ট্রেন বাতিল

    ৩) শিয়ালদা-লক্ষ্মীকান্তপুর শাখা: ২৫টি ট্রেন বাতিল

    ৪) শিয়ালদা-বজবজ শাখা: ২৯টি ট্রেন বাতিল

    ৫) শিয়ালদা-সোনারপুর শাখা: ১১টি ট্রেন বাতিল

    ৬) সোনারপুর-বারুইপুর শাখা: ২টি ট্রেন বাতিল

    ৭) শিয়ালদা-বারুইপুর শাখা: ১৬টি ট্রেন বাতিল

    ৮) শিয়ালদা-নৈহাটি শাখা: ২টি ট্রেন বাতিল

    ৯) লক্ষ্মীকান্তপুর-বারুইপুর শাখা: ৩টি ট্রেন বাতিল

    ১০) শিয়ালদা-ডায়মন্ড হারবার শাখা: ৩০টি ট্রেন বাতিল

    ১১) লক্ষ্মীকান্তপুর-নামখানা শাখা: ১৯টি ট্রেন বাতিল

    ১২) শিয়ালদা/বারাসত-হাসনাবাদ শাখা: ২০টি ট্রেন বাতিল

    ১৩) চক্ররেল: ২টি ট্রেন বাতিল

    হাওড়ার হালচাল

    যাত্রীদের নিরাপত্তার কথা ভেবে শিয়ালদা বিভাগে লোকাল ট্রেন চলাচলের (Train Cancelled) ক্ষেত্রে এই পরিবর্তন করা হয়েছে। এমনই জানিয়েছেন পূর্ব রেলের মুখ্য জনসংযোগ আধিকারিক কৌশিক মিত্র। তিনি জানান, আরও ট্রেন বাতিল করা হবে কিনা, পরিস্থিতি বিচার করে সেই সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হবে। হাওড়া ডিভিশনে পুরোপুরি লোকাল ট্রেন পরিষেবা বন্ধ রাখা হচ্ছে না। শুক্রবার ছ’ঘণ্টা (ভোর ৪ টে থেকে সকাল ১০ টা) একগুচ্ছ লোকাল ট্রেন বাতিল করে দেওয়া হয়েছে। পূর্ব রেলের তরফে জানানো হয়েছে, ওই ছ’ঘণ্টার মধ্যে যে ট্রেনগুলি ছাড়বে, সেগুলি যাত্রাপথের প্রতিটি স্টেশনেই দাঁড়াবে। অর্থাৎ গ্যালোপিং ট্রেনও সব স্টেশনে স্টপেজ দেবে বলে পূর্ব রেলের তরফে জানানো হয়েছে।

    আরও পড়ুন: শিকল দিয়ে বাঁধা ক্রেন! ঘূর্ণিঝড়ের শঙ্কায় সতর্ক হলদিয়া, বন্ধ বিমান ওঠা-নামাও

    কোন কোন ট্রেন বাতিল

    লোকাল ছাড়াও বেশ কয়েকটি মেল ও এক্সপ্রেস ট্রেন বাতিল করা হয়েছে। পূর্ব রেল জানিয়েছে, ২৩ অক্টোবর, বুধবার বাতিল করা হয়েছে কামাখ্যা-বেঙ্গালুরু এক্সপ্রেস, ডিব্রুগড়-কন্যাকুমারী এক্সপ্রেস, কন্যাকুমারী-ডিব্রুগড় এক্সপ্রেস, বেঙ্গালুরু-গুয়াহাটি এক্সপ্রেস, শিয়ালদা-পুরী দুরন্ত এক্সপ্রেস, শিলচর-সেকেন্দরাবাদ সুপারফাস্ট এক্সপ্রেস। ২৪ অক্টোবর, বৃহস্পতিবারও বেশ কয়েকটি এক্সপ্রেস বাতিল থাকবে। সেই তালিকায় রয়েছে পটনা-এর্নাকুলাম এক্সপ্রেস, কলকাতা-পুরী এক্সপ্রেস স্পেশ্যাল, পুরী-জয়নগর এক্সপ্রেস, পুরী-শিয়ালদা দুরন্ত এক্সপ্রেস, পটনা-পুরী এক্সপ্রেস স্পেশ্যাল, বেঙ্গালুরু-মুজফ্‌ফরপুর এক্সপ্রেস, মালদা টাউন-দীঘা এক্সপ্রেস, মালদা টাউন-দীঘা এক্সপ্রেস, আসানসোল-হলদিয়া এবং হলদিয়া-আসানসোল এক্সপ্রেস। ২৫ অক্টোবর, শুক্রবার আসানসোল-হলদিয়া, হলদিয়া-আসানসোল এক্সপ্রেস এবং পুরী-কলকাতা এক্সপ্রেস স্পেশ্যাল বাতিল করা হয়েছে। ‘দানা’র কারণে দক্ষিণ-পূর্ব রেলও আগাম সতর্কতামূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে। বাতিল করা হয়েছে ১৭২টি ট্রেন। এ ছাড়াও ১২০টি মেল-এক্সপ্রেস এবং ৫২টি লোকাল ও মেমু ট্রেন বাতিল থাকছে এই সময়ের মধ্যে।

    হেল্পলাইন নম্বর

    ইতিমধ্যেই শিয়ালদা এবং হাওড়া ডিভিশনে হেল্পলাইন নম্বর চালু করা হয়েছে। পূর্ব রেলের (Train Cancelled) তরফে জানানো হয়েছে, হাওড়া ডিভিশনে হেল্পলাইন নম্বর ০৩৩ ২৬৪১৩৬৬০, ০৩৩ ২৬৪০২২৪১, ০৩৩ ২৬৪০২২৪২, ০৩৩ ২৬৪১২৩২৩। শিয়ালদা ডিভিশন হেল্পলাইন নম্বর ০৩৩ ২৩৫১৬৯৬৭।

     

    দেশের খবর, দশের খবর, সব খবর, সবার আগে পেতে ফলো করুন আমাদের  Whatsapp, FacebookTwitter, Telegram এবং Google News পেজ।

     

  • Kali Puja 2024: ঘন জঙ্গলে মা কালীর আরাধনা শুরু করেছিলেন এক কাপালিক! সেই পুজো ৫০০ বছরে

    Kali Puja 2024: ঘন জঙ্গলে মা কালীর আরাধনা শুরু করেছিলেন এক কাপালিক! সেই পুজো ৫০০ বছরে

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: পুরনো ঐতিহ্য ও রীতি-রেওয়াজ মেনে ৫০০ বছর ধরে পুজো হয়ে আসছে হাওড়ার (Howrah) উদয়নারায়ণপুরের কালীকাপুরের কালী বিগ্রহের। ফি বছর গ্রামের বাসিন্দারা পুজোকে (Kali Puja 2024) কেন্দ্র করে আনন্দে মেতে ওঠেন। আর এই পুজো শুরু হওয়ার সুন্দর ইতিহাস রয়েছে।

    কাপালিক শুরু করেছিলেন কালীপুজো (Kali Puja 2024)

    স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, এই কালীপুজোকে (Kali Puja 2024) কেন্দ্র করেই এই গ্রামের নাম কালীকাপুর। সে প্রায় পাঁচ শতাব্দী আগের কথা। বর্তমানের জনবহুল গ্রাম সে সময় ছিল জনশূন্য। ঘন জঙ্গলে ঢাকা নির্জন স্থান। কানা দামোদর নদীর পাড়। জঙ্গলে বন্য পশুর দাপট ছিল। কেউ সাহস পেত না এখানে আসার। জনশ্রুতি থেকে জানা যায়, এই ঘন জঙ্গলেই বাস করতেন এক কাপালিক। তিনি জঙ্গলে একাকী থেকে মা কালীর আরাধনা করতেন। তখন বর্ধমান রাজার রাজত্বকাল। কথিত রয়েছে, রাজার আদেশ মতোই কাপালিকের অবর্তমানে মা কালীকে সেবা করার দ্বায়িত্ব পেয়েছিলেন বর্ধমানের ঘোষ পরিবার। জানা যায়, সে সময় বর্ধমান রাজসভার নবরত্নের একজন ছিলেন তিলকরাম ঘোষ। বর্ধমান থেকে রাজার আদেশ মতোই মা কালীর সেবার উদ্দেশ্যে সপরিবারে হাওড়ার উদয়নারায়ণপুরে চলে এসেছিল ঘোষ পরিবার। তৎকালীন ঘোষ পরিবার ভাট উপাধি পেয়েছিল রাজার কাছে। ধীরে ধীরে বসতি বৃদ্ধি পেতে থাকে। মন্দির থেকে কিছুটা দূরে ভাট পরিবারের বসবাস শুরু করেছিল সেখানেই। সেই স্থান দেবীপুর গ্রাম নামে পরিচিত।

    ‘একাহারি কালী মা’

    বর্তমানে যে স্থানে কালী মন্দির রয়েছে, তখন সেখানে ঘন জঙ্গল, পুজো (Kali Puja 2024) করার জন্য পুরোহিতের সঙ্গে লেঠেল নিয়ে আসা হত বন্য পশুদের আক্রমণ থেকে রক্ষা পেতে। মন্দির সংলগ্ন ঘন জঙ্গল পরিষ্কার করে বর্তমানে ঘনবসতি গড়ে উঠেছে। মন্দিরের পুরনো রীতি অনুযায়ী প্রতিদিন একবার মাতৃ পুজো অনুষ্ঠিত হয় এখানে। জানা যায়, সে সময় ঘন জঙ্গল কোনওরকমে লেঠেল সঙ্গে নিয়ে দিনে একবার মা কালীর পুজো করা সম্ভব হত। একবার পুজো হওয়ার কারণেই “একাহারি ‘কালী মা”ও বলা হয়। কথিত রয়েছে, শুরুতে মূর্তি ছাড়াই ঘট প্রতিষ্ঠা করে মা কালী রূপে পুজো হত। সেই ঘট নাকি আজও মন্দিরে রয়েছে বলেই জানান পুরোহিত এবং স্থানীয় মানুষ।

    পরিবারের সদস্যরা কী বললেন?

    পরিবারের সদস্য অনির্বাণ ভাট বলেন, “এখানে ভাট পরিবারের প্রথম পুরুষ তিলকরাম ঘোষ (ভাট) রাজার আদেশমতো বর্ধমান থেকে এখানে মায়ের সেবা করতে এসেছিলেন। সে সময় থেকে কয়েক শতাব্দী পেরিয়ে গিয়েছে। তবে প্রায় সমস্ত নিয়ম রীতি রয়েছে অক্ষত। জানা যায়, মন্দিরে কষ্ঠি পাথরের মায়ের যে মূর্তি তা প্রায় দু’শো বছর প্রাচীন। গ্রামে অন্য কোনও মূর্তি পূজা নিষিদ্ধ ছিল। বৈশাখের ফলহারিণী, মকর সংক্রান্তি, নবমী এবং শ্যামাকালী পুজো-সহ মোট চারটি বিশেষ পুজো হয় প্রতি বছর।”

     

    দেশের খবর, দশের খবর, সব খবর, সবার আগে পেতে ফলো করুন আমাদের  Whatsapp, FacebookTwitter, Telegram এবং Google News পেজ।

  • RG Kar: আরজি কর-কাণ্ডের প্রতিবাদ, পথে নামছেন প্রাক্তন পুলিশকর্মীরা, সন্ধ্যায় হাওড়ায় মিছিল

    RG Kar: আরজি কর-কাণ্ডের প্রতিবাদ, পথে নামছেন প্রাক্তন পুলিশকর্মীরা, সন্ধ্যায় হাওড়ায় মিছিল

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: আরজি কর-কাণ্ডের (RG Kar) প্রতিবাদে এবার পথে নামছেন রাজ্যের অবসরপ্রাপ্ত পুলিশ কর্মীরা। শুধু তাই নয়, তাঁদের পরিবারের সদস্যরাও পা মেলাবেন এই মিছিলে। জানা গিয়েছে, আজ রবিবার অবসরপ্রাপ্ত পুলিশ কর্মীদের এই মৌন মিছিল অনুষ্ঠিত হতে চলেছে। সূত্র মারফত জানা গিয়েছে, কোনওরকম স্লোগান ব্যবহার করা হবে না এই মিছিলে। তাঁদের গলায় ঝোলানো থাকবে শুধু মাত্র প্লাকার্ড এবং সেখানে লেখা থাকবে, ‘আরজি করের ঘটনার দ্রুত বিচার চাই’, ‘সমাজবন্ধু পুলিশবাহিনী গড়ে তুলুন’।

    শিবপুরের কাজিপাড়া থেকে হাওড়া ময়দান পর্যন্ত মিছিল (RG Kar)

    অবসরপ্রাপ্ত পুলিশ কর্মীদের এই মিছিলের (RG Kar) যাঁরা উদ্যোগ নিয়েছেন, তাঁদের তরফ থেকে জানানো হয়েছে, রবিবার শিবপুরের কাজিপাড়া থেকে হাওড়া ময়দান (Howrah) পর্যন্ত মিছিল হবে। তাতে যোগ দেবেন প্রাক্তন পুলিশকর্মীরা এবং মূল দাবি থাকবে আরজিকর কাণ্ডের খুব দ্রুত বিচার। জানা গিয়েছে, হাওড়ার (Howrah) পুলিশ কমিশনার প্রবীণ ত্রিপাঠিকে ইতিমধ্যেই তাঁরা ইমেইল করে নিজেদের কর্মসূচির কথা বিস্তারিতভাবে জানিয়েছেন। অবসরপ্রাপ্ত পুলিশ কর্মীরা জানিয়েছেন, শনিবার রাত পর্যন্ত ইমেইলের কোনও উত্তর পুলিশ কমিশনার দেননি। উদ্যোক্তারা জানিয়েছেন, ধরেই নেওয়া হচ্ছে পুলিশের কোনও আপত্তি থাকবে না।

    প্রথমবারের জন্য অবসরপ্রাপ্ত পুলিশকর্মীদের পথে নামতে দেখা যাবে

    নিজেদের কর্মসূচিতে তাঁরা (RG Kar) আইনজীবী- চিকিৎসক-অভিনেতা-অভিনেত্রীদের মধ্যেও বেশ কয়েকজনকে আমন্ত্রণ জানিয়েছেন। তবে কোন কোন মুখকে ঠিক অবসরপ্রাপ্ত পুলিশ কর্মীদের মিছিলে দেখা যাবে, তা এখনও স্পষ্ট নয়। আরজি কর-কাণ্ডের প্রতিবাদে সমাজের সর্বস্তরের মানুষকে পথে দেখা গেলেও, এই প্রথমবারের জন্য অবসরপ্রাপ্ত পুলিশ কর্মীদের পথে নামতে দেখা যাবে। শুধু তাই নয়, এই মিছিলে সামিল হবেন তাঁদের পরিবারও। প্রসঙ্গত আরজি করের (RG Kar) ঘটনার প্রায় ৫০ দিনেরও বেশি পার। এরই মধ্যে দেশ ছাড়িয়ে বিদেশেও দেখা গিয়েছে প্রতিবাদের আঁচ। আরজি করের ঘটনায় পুলিশের ভূমিকাও বার বার প্রশ্নের মুখে পড়েছে! গ্রেফতার হয়েছেন টালা থানার প্রাক্তন ওসি। দেশের শীর্ষ আদালতও পুলিশকে কাঠগড়ায় তুলেছে। লাগাতার আন্দোলনের চাপে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সরাতে বাধ্য হয়েছেন বিনীত গোয়েলকে। এই আবহে আরজি কর-কাণ্ডের প্রতিবাদে প্রাক্তন পুলিশ কর্মীদের এই মিছিল যথেষ্ট তাৎপর্যপূর্ণ বলেই মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল।

     

    দেশের খবর, দশের খবর, সব খবর, সবার আগে পেতে ফলো করুন আমাদের  Whatsapp, FacebookTwitter, Telegram এবং Google News পেজ।

  • Jute Mill: পুজোর মুখে পর পর বন্ধ হচ্ছে জুটমিল! কর্মহীন কয়েক হাজার, হেলদোল নেই মমতা-সরকারের

    Jute Mill: পুজোর মুখে পর পর বন্ধ হচ্ছে জুটমিল! কর্মহীন কয়েক হাজার, হেলদোল নেই মমতা-সরকারের

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: হাতে গোনা কয়েকদিন পরই বাঙালির সব থেকে বড় উৎসব দুর্গাপুজো। ঠিক পুজোর মুখে রাজ্যে একের পর এক জুটমিলে তালা ঝুলিয়ে দেওয়া হচ্ছে। কর্মহীন হয়ে পড়ছেন হাজার হাজার শ্রমিক। পুজোর মুখে মিল (Jute Mill) কর্তৃপক্ষের এই সিদ্ধান্তে বেজায় ক্ষুব্ধ মিল শ্রমিকরা। মিল খোলার বিষয়ে তৃণমূল সরকারের কোনও উদ্যোগ নেই বলেই শ্রমিকদের মধ্যে ক্ষোভ বাড়ছে।

    বন্ধ হল দাসনগর জুটমিল (Jute Mill)

    রাতারাতি বন্ধ হয়ে গেল হাওড়ার (Howrah) দাসনগরের ভারত জুটমিল (Jute Mill)। পুজোর মুখেই চাকরিহারা কয়েক হাজার শ্রমিক। জানা গিয়েছে, বৃহস্পতিবার সকাল ৬টার সময় দাসনগরের ভারত জুটমিলের কর্মীরা ডিউটিতে আসলে দেখেন, মিলের গেট বন্ধ। গেটে ঝুলছে সাসপেনশন অব ওয়ার্কের নোটিশ। অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ হয়ে গেল জুটমিল। পুজোর বোনাস পাননি, বেতন-গ্রাচুয়িটির হিসেব-নিকেশ তো দূর-অস্ত! এভাবে হঠাৎ জুটমিল বন্ধ হয়ে যাওয়ায় মাথায় হাত শ্রমিকদের। পুজোর মুখে কী করবেন, কোথা থেকে রোজগার হবে, তা ভেবেই দিশেহারা। জুটমিলের বাইরে ঝোলা নোটিশে বলা হয়েছে, তাঁত বিভাগের অবৈধ ধর্মঘটের কারণেই এই সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য হয়েছে মালিক কর্তৃপক্ষ। শ্রমিকদের দাবি, শাসক দল ঘনিষ্ঠ ইউনিয়ন তাদের এবং কর্তৃপক্ষের ওপরে চাপ সৃষ্টি করছে। দুটির বদলে চারটি মেশিন চালানোর জন্য জোর করছে। এর জেরেই সিদ্ধান্ত।

    আরও পড়ুন: ঘূর্ণাবর্তের জেরে আজও বৃষ্টির পূর্বাভাস জেলায় জেলায়, জানাল হাওয়া অফিস

    বন্ধ কাঁকিনাড়ার নফরচাঁদ জুটমিল

    কয়েকদিন আগে, বন্ধ হয়ে যায় উত্তর ২৪ পরগনার বারাকপুরের কাঁকিনাড়ার একটি জুটমিলও (Jute Mill)। তার জেরে কর্মহীন হয়ে পড়েন কারখানার প্রায় তিন হাজার স্থায়ী-অস্থায়ী শ্রমিক। শ্রমিক-মালিক অসন্তোষের জেরে কাঁকিনাড়ার নফরচাঁদ জুট মিলে উৎপাদন বন্ধ করে দেয় কর্তৃপক্ষ। পুজোর মুখে কর্মহীন হয়ে পড়ায় দিশেহারা শ্রমিকরা। মিলের ভিতরে শ্রমিক-মালিক অসন্তোষের চরম বিশৃঙ্খলা তৈরি হয়। তারপরে উৎপাদন বন্ধের সিদ্ধান্ত নিয়ে কর্তৃপক্ষ। প্রসঙ্গত, কাঁকিনাড়ার এই মিলে শ্রমিক অসন্তোষ এই প্রথম নয়। এর আগেও বিভিন্ন সময়ে শ্রমিক অসন্তোষের জেরে বন্ধ হয়ে গিয়েছিল এই জুট মিল। গত ডিসেম্বরেও একইভাবে কর্মীদের সঙ্গে দুর্ব্যবহারের অভিযোগ উঠেছিল। তার জেরে তুমুল শ্রমিক অসন্তোষ শুরু হয়েছিল মিলে। তখন সেই কাজ বন্ধ রাখা হয়। তবে, পুজোয় যেখানে সকলে নতুন পোশাক কিনে থাকেন সেই জায়গায় শ্রমিকরা কর্মহীন হয়ে পড়াই স্বাভাবিকভাবেই সমস্যায় পড়েছে তাদের পরিবার।

     

    দেশের খবর, দশের খবর, সব খবর, সবার আগে পেতে ফলো করুন আমাদের  Whatsapp, FacebookTwitter, Telegram এবং Google News পেজ।

  • Vande Bharat: পুজোর আগেই বাংলা পাচ্ছে তিনটি বন্দে ভারত, কোন কোন রুটে ছুটবে এই ট্রেন?

    Vande Bharat: পুজোর আগেই বাংলা পাচ্ছে তিনটি বন্দে ভারত, কোন কোন রুটে ছুটবে এই ট্রেন?

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: পুজোর আগে রাজ্যবাসীর জন্য সুখবর। বিশেষ উপহার পাচ্ছে বাংলা। যাত্রীদের সুবিধার জন্য নতুন বন্দে ভারত চালু করতে চলেছে ভারতীয় রেল। জানা গিয়েছে, রাজ্যে এবার চলবে আরও তিনটি বন্দে ভারত এক্সপ্রেস (Vande Bharat)। আগামী রবিবারই প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির হাত ধরে সেই ট্রেন চালু হবে। ওইদিন মোট ছ’টি বন্দে ভারত এক্সপ্রেসের উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী। তার মধ্যেই থাকছে বাংলার জন্য তিনটি ট্রেন।

    কমলা রঙের বন্দে ভারত, কোন রুটে চলবে? (Vande Bharat)

    বর্তমানে হাওড়া থেকে দু’টি বন্দে ভারত (Vande Bharat) চলে। একটি নিউ জলপাইগুড়ি পর্যন্ত এবং আর একটি ওড়িশার পুরী পর্যন্ত। বন্দে ভারত নিয়ে প্রথম থেকে উচ্ছ্বাস এবং কৌতূহল ছিল যাত্রীদের মধ্যে। অল্প সময়ের মধ্যে গন্তব্যস্থলে পৌঁছে দেওয়ার জন্য যাত্রীদের কাছে বেশ জনপ্রিয় এই প্রিমিয়াম ট্রেন। চাহিদার কথা মাথায় রেখে এবং যাত্রী পরিষেবায় আরও স্বাচ্ছন্দ্য আনতে এবার হাওড়া থেকে আরও তিনটি পথে বন্দে ভারত চালানোর উদ্যোগ নিল রেল। রেল সূত্রে খবর, এই তিনটি ট্রেন হল হাওড়া-ভাগলপুর, হাওড়া-গয়া এবং হাওড়া-রাউরকেল্লা। ইতিমধ্যেই এই ট্রেনগুলির কমলা রঙের বগি তৈরির কাজ সম্পূর্ণ হয়ে গিয়েছে। হাওড়া কোচিং ইয়ার্ডে সেগুলি চলে এসেছে। পরীক্ষামূলকভাবে চালানো হবে খুব শীঘ্রই। আনুষ্ঠানিক ভাবে এই পরিষেবা চালু হওয়া শুধু সময়ের অপেক্ষা। আগামী ১৫ সেপ্টেম্বর ট্রেনগুলি ভার্চুয়ালি উদ্বোধন করার সম্ভাবনা রয়েছে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির। তিনটি ছাড়াও দেওঘর থেকে বারাণসী বন্দে ভারত একই সঙ্গে চালু হবে।

    আরও পড়ুন: উত্তরবঙ্গ মেডিক্যালের হস্টেলে গড়ে উঠেছে ‘মসজিদ’! প্রতিবাদ করলেই হুমকি

    রাজ্যে বন্দে ভারত বেড়ে হল ৯টি

    বর্তমানে পশ্চিমবঙ্গ থেকে মোট ছ’টি বন্দে ভারত এক্সপ্রেস (Vande Bharat) চলাচল করে। তার সঙ্গে যুক্ত হচ্ছে আরও তিনটি। বর্তমানে যে রুটগুলিতে বন্দে ভারত এক্সপ্রেস চলাচল করে, সেই রুটগুলি হল-হাওড়া-নিউ জলপাইগুড়ি, হাওড়া-পুরী, নিউ জলপাইগুড়ি-গুয়াহাটি, হাওড়া-পাটনা, হাওড়া-রাঁচি এবং নিউ জলপাইগুড়ি-পাটনা। রাজ্যে প্রথম বন্দে ভারত চালু হয়েছিল হাওড়া (Howrah) থেকে। সেটি হল হাওড়া-নিউ জলপাইগুড়ি রুটে। এরপর হাওড়া-পুরী এবং এনজিপি-গুয়াহাটি বন্দে ভারত চালু হয়। ট্রেনগুলি চালিয়ে অভূতপূর্ব সাড়া মিলেছে বলে রেল কর্তৃপক্ষের দাবি। তাই এ বার আরও বেশ কয়েকটি নতুন পথে বন্দে ভারত চালানোর এই পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।

     

    দেশের খবর, দশের খবর, সব খবর, সবার আগে পেতে ফলো করুন আমাদের  Whatsapp, FacebookTwitter, Telegram এবং Google News পেজ

  • Srirampur: ফ্রেডরিকনগর থেকে শ্রীরামপুর! গঙ্গাপাড়ের এই শহর বহু ইতিহাসের সাক্ষী

    Srirampur: ফ্রেডরিকনগর থেকে শ্রীরামপুর! গঙ্গাপাড়ের এই শহর বহু ইতিহাসের সাক্ষী

    হরিহর ঘোষাল

    শ্রীরামপুর। বহু প্রাচীন জনপদ। গঙ্গার পাড়ে গড়ে ওঠা এই শহর বহু ইতিহাসের সাক্ষী বহন করে চলেছে। শ্রীরামপুর (Srirampur) হাওড়া-ব্যান্ডেল রেললাইনের অষ্টম স্টেশন। গ্র্যান্ড ট্রাঙ্ক রোড (জিটি রোড) এই শহরের ওপর দিয়ে চলে গিয়েছে। কলকাতা থেকে দূরত্ব ২০ কিমি। শ্রীরামপুর থেকে ডেনীয়রা চলে গেলেও গঙ্গাতীরে তাঁদের নির্মিত সুরম্য অট্টালিকাসমূহ আজও তাঁদের কথা স্মরণ করিয়ে দেয়। চৈতন্যদেব, উইলিয়াম কেরি, মার্শম্যান ও ওয়ার্ডের স্মৃতি বিজড়িত শহর এই শ্রীরামপুর।

    ফ্রেডরিকনগর থেকে শ্রীরামপুর (Srirampur) 

    ইতিহাস ঘেঁটে জানা যায়, শ্রীরামপুর (Srirampur) এক সময় ডেনমার্কের দখলে ছিল। ডেনীয় বা দিনেমার শাসকেরা এই শহরের রাম রাখেন ফ্রেডরিকনগর (Fredrik Nagar)। শ্রীপুর, আকনা, গোপীনাথপুর, মোহনপুর ও পেয়ারাপুর-এই পাঁচটি জনপদ নিয়ে ফ্রেডরিকনগর গঠিত হয়েছিল। বার্ষিক ১৬০১ সিক্কা খাজনায় ডেনীয়রা শেওড়াফুলি-রাজের কাছ থেকে এই স্থানগুলি ইজারা নেন। ১৭৫২ খ্রিষ্টাব্দে শেওড়াফুলির রাজা মনোহর রায় শ্রীরামচন্দ্রের মন্দির নির্মাণ করেন। শ্রীরামপুর নামটি শ্রীরামচন্দ্র জীউ থেকে উদ্ভূত হয়েছে। ডেনীয় কুঠির অধ্যক্ষ সোয়েটমানের চেষ্টায় শ্রীরামপুর শহরটির বিশেষ উন্নতি ঘটে।

    পুরসভা

    গঙ্গার তীরে এই শহরটি তৎকালীন ইউরোপীয়দের একটি বিহার ক্ষেত্রে পরিণত হয়। ১৭৯৯ খ্রিষ্টাব্দে মার্শম্যান ও ওয়ার্ড খ্রিষ্টধর্ম প্রচারের উদ্দেশ্যে শ্রীরামপুরে (Srirampur) এসেছিলেন। কিছুকাল পরে উইলিয়াম কেরি তাঁদের সঙ্গে মিলিত হন। ১৮০৫ খ্রিষ্টাব্দে কর্নেল বাই-এর চেষ্টায় সেন্ট ওলাফের গির্জা নির্মিত হয়। বঙ্গদেশে খ্রিষ্টান মিশনারিদের কার্যকলাপের প্রধান কেন্দ্র ছিল শ্রীরামপুর। বাংলা ভাষা ও সাহিত্য, মুদ্রণশিল্প ও প্রকাশনা এবং আধুনিক শিক্ষাবিস্তারের ক্ষেত্রে শ্রীরামপুর ছিল অগ্রণী। ১৮১৮ খ্রিষ্টাব্দে শ্রীরামপুরের মিশনারিগণ শ্রীরামপুর কলেজের জন্য জমি ক্রয় করেন। ১৮২১ খ্রিষ্টাব্দে ডেনমার্কের রাজকীয় সনদ অনুযায়ী কলেজ তৈরি হয়। ১৮৪৫ খ্রিষ্টাব্দে ইংরেজরা এই শহরটিকে ডেনীয়দের  থেকে কিনে নেন। ১৮৪৭ খ্রিষ্টাব্দে মহকুমার সদর দফতর দ্বারহাট্টা থেকে শ্রীরামপুরে স্থানান্তরিত হয়। ১৮৬৫ খ্রিষ্টাব্দে শ্রীরামপুর পুরসভার পথচলা শুরু হয়।

    গোস্বামী পরিবার

    গোস্বামীরা শ্রীরামপুরের (Srirampur) প্রাচীন জমিদার পরিবার, এই শহরের উন্নতির ক্ষেত্রে যাদের দান অপরিসীম। বর্ধমানের পাটুলি থেকে রামগোবিন্দ গোস্বামী (চক্রবর্তী) শেওড়াফুলি-রাজের থেকে এখানে বাস্তুভূমি পান। তাঁর কনিষ্ঠ পুত্র হরিনারায়ণ ডেনীয় ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির দেওয়ান হিসেবে অনেক অর্থ রোজগার করেন। তাঁর পুত্র রঘুরাম জন পামার কোম্পানির বেনিয়ান ছিলেন। সেই সঙ্গে ছিলেন ইউনিয়ন ব্যাঙ্কের অংশীদার। তিনি বিপুল জমিদারি কিনে নেন। এমনকী ডেনীয়রা ইংরেজদের শ্রীরামপুর বিক্রয়ের উদ্যোগী হলে তিনি বারো লক্ষ টাকায় তা কিনে নিতে চান। রাজা কিশোরীলাল গোস্বামী এবং তুলসী গোস্বামী এই বংশেরই লোক ছিলেন। এই গোস্বামী পরিবারের অনেকগুলি প্রাসাদতুল্য ভবন আছে, যেগুলির অধিকাংশই রাজা কিশোরীলাল গোস্বামী ও তুলসী গোস্বামীর নামাঙ্কিত রাস্তার ওপর অবস্থিত। শ্রীরামপুর রেল স্টেশন থেকে যে ভবনটি ট্রেন থেকে সকলে দেখতে পান, সেটি তুলসী গোস্বামী তৈরি করেছিলেন।

    উইলিয়াম কেরির সমাধি

    সেন্ট ওলাফের গির্জাটি ১৮০৫ খ্রিষ্টাব্দে নির্মিত। ১৯৪০ সালে শ্রীরামপুর পুরসভার চেয়ারম্যান শ্রীযুক্ত কানাইলাল গোস্বামী ১৫টি কামান একত্রে সেন্ট ওলাফের গির্জার সামনে স্থাপন ও সংরক্ষণের ব্যবস্থা করেন। শ্রীরামপুরের সঙ্গে ডেনদের সম্পর্কের বিষয় একটি ফলকে লেখা রয়েছে। শ্রীরামপুরের আদি রোমান ক্যাথলিক চ্যাপেল ১৭৬৪ সালে তৈরি হয়। এটি ছোট হওয়ার কারণে ১৭৭৬ সালে নতুন করে তা তৈরি করা হয়। ডেনীয় কবরখানার কথাও এই প্রসঙ্গে বলা যেতে পারে। শ্রীরামপুরে রেলওয়ে স্টেশনের কাছেই রয়েছে এই সমাধিক্ষেত্র। সেখানে উইলিয়াম কেরি, মার্শম্যান ও ওয়ার্ডের সমাধি আছে। এখানে প্রোটেস্টান্ট ও ক্যাথলিকদের জন্য পৃথক স্থান নির্দিষ্ট। অষ্টাদশ ও উনবিংশ শতকের বহু সমাধি এখানে আছে যাঁদের মধ্যে প্রধান ডেনীয় বিচারপতি হলেনবার্গের নাম উল্লেখযোগ্য। প্রসঙ্গত, একথাও বলা দরকার যে দেশীয় খ্রিস্টানদের সমাধি নির্মাণও প্রথম শ্রীরামপুরে হয়। প্রথম মৃত দেশীয় খ্রিষ্টানের নাম গোকুল দাস।

     রাধাবল্লভ মন্দির 

    রাধাবল্লভের নামেই শ্রীরামপুরের (Srirampur) গঙ্গার ধারে একটি অঞ্চলের নামকরণ হয় বল্লভপুর। কথিত আছে, চাতরার রুদ্ররাম পণ্ডিত বল্লভপুরে সাধনা করতেন। তখন বল্লভপুর ছিল জঙ্গলে ভরা এলাকা। তাঁর সাধনায় সন্তুষ্ট হয়ে কৃষ্ণ স্বয়ং যোগীর বেশে তাঁর কাছে আসেন। তাঁকে বলেন, গৌড়ের সুলতানের শয়নকক্ষের দ্বারপ্রান্তের পাথরের স্তম্ভ থেকে তাঁর মূর্তি তৈরি করে প্রতিষ্ঠা করতে। সেই মতো রুদ্ররাম গৌড়ে গিয়ে বিস্মিত হয়ে দেখেন, নানারূপ অশুভ লক্ষণ দেখে ওই বিশেষ পাথরটিকে সুলতান প্রাসাদ থেকে বের করে দিয়েছে। ওই ভারী পাথরকে কীভাবে নিয়ে আসবেন এই চিন্তায় রুদ্ররাম খুবই ব্যাকুল হয়ে ওঠেন। তখন দেবতা তাঁকে স্বপ্নে জানান যে তিনি যেন পাথরটিকে নিকটস্থ নদীতে ফেলে দিয়ে বল্লভপুরে ফিরে যান। নির্দেশ মতো তিনি বল্লভপুরে ফিরে এসে দেখেন যে ওই পাথর সেখানে ভেসে চলে এসেছে। তা থেকে তিনটি কৃষ্ণমূর্তি তৈরি করা হয়-প্রথমটির নাম হয় রাধাবল্লভ, দ্বিতীয়টির নাম হয় শ্যামসুন্দর যে মূর্তি এখন খড়দায় পূজিত হয়। আর তৃতীয়টির নাম হয় নন্দদুলাল, যাঁর অধিষ্ঠান সাঁইবোনায়। ১৬৭৭ সালে রুদ্ররাম অন্যান্য ভক্তের সহযোগিতায় রাধাবল্লভ মন্দির গড়ে তোলেন। এই মন্দিরই হচ্ছে হেনরি মার্টিনের প্যাগোডা। এই মন্দিরটি পরিত্যক্ত হলে ১৭৬৪ সালে কলকাতার নয়নচাঁদ মল্লিক বর্তমান রাধাবল্লভ মন্দির তৈরি করেন। রাধাবল্লভ এবং রাধিকার যুগ্ম মূর্তি ছাড়াও জগন্নাথ, বলরাম ও সুভদ্রার মূর্তি এখানে রয়েছে। আগে রথযাত্রার সময় মাহেশের জগন্নাথকে এই মন্দিরে নিয়ে আসা হত। ১৮৫০ সালের পর তা বন্ধ হয়ে যায়।

    ওয়ালশ হাসপাতাল!

    অষ্টাদশ শতকের মধ্যভাগে রামানুজ সম্প্রদায়ভুক্ত দক্ষিণী বৈষ্ণবেরা শ্রীরামপুরে (Srirampur) তাঁদের একটি আখড়া স্থাপন করেন ও মদনমোহন মন্দির প্রতিষ্ঠা করেন। পরে, আখড়া উঠে গেলে ওই স্থানে ১৮৩৬ খ্রিষ্টাব্দে ওয়ালশ হাসপাতাল গড়ে তোলা হয়। মদনমোহনের বিগ্রহ অন্যত্র স্থানান্তরিত করা হয়। ডেনীয় সরকার এই বিগ্রহের সেবার জন্য বাৎসরিক ১২০ টাকা বরাদ্দ করেন। ব্রিটিশ সরকার এই ব্যবস্থা বন্ধ করে ১০,০০০ টাকা এককালীন অনুদান দিয়ে। এই টাকায় মদনমোহনের বর্তমান আটচালা মন্দির তৈরি হয়। লাহিড়ী পাড়ায় গোস্বামীদের প্রতিষ্ঠিত একটি আটচালা শিবমন্দির আছে। এটি তৈরি হয়েছিল ১৭৭৩ খ্রিষ্টাব্দ।

    চৈতন্যদেব

    উত্তরে চাতরা ও দক্ষিণে মাহেশ-বল্লভপুর নামক স্থানগুলি শ্রীরামপুর (Srirampur) পুরসভার অন্তর্গত। চাতরা একটি প্রাচীন জনপদ। শ্রীরামপুর রেল স্টেশন থেকে দুই কিমি উত্তরে অবস্থিত। এখানকার চৌধুরীপাড়ায় অবস্থিত গৌরাঙ্গ মন্দিরটি শ্রীচৈতন্যের পার্ষদ কালীশ্বর পণ্ডিত প্রতিষ্ঠা করেছিলেন। তিনটি শিখরবিশিষ্ট এই মন্দিরে মাঝের শিখরটি দুই পাশের অন্য দুই শিখরের চেয়ে বেশি উচ্চতাসম্পন্ন। শিখরগুলি পিরামিডাকার ও রেখ ধরনের খাঁজকাটা। মন্দিরের সামনের সমতল ছাদ বিশিষ্ট বারান্দাটি পরবর্তীকালে নির্মিত। মন্দিরের মধ্যে কৃষ্ণ-রাধা ও শ্রীগৌরাঙ্গ-বিষ্ণুপ্রিয়া দুটি সিংহাসনে রয়েছেন। এ রকম অবস্থান নবদ্বীপ ছাড়া আর কোথাও দেখা যায় না। কথিত আছে যে মহাপ্রভু স্বয়ং পুরী যাত্রার সময় নিমাই-তীর্থের ঘাট থেকে চাতরার এই মন্দিরে এসেছিলেন। মন্দিরে তাঁর নিজের মূর্তি দেখে তিনি ক্ষুব্ধ হন এবং তাঁর বিগ্রহ গঙ্গায় বিসর্জন দেওয়ার নির্দেশ দেন। এই নির্দেশ পালিত হয়। পরে মহাপ্রভুর দেহত্যাগের পর কাশীশ্বর পণ্ডিতের পৌত্র পুনরায় মহাপ্রভুর মূর্তি প্রতিষ্ঠা করেন। 

     

    দেশের খবর, দশের খবর, সব খবর, সবার আগে পেতে ফলো করুন আমাদের  Whatsapp, FacebookTwitter, Telegram এবং Google News পেজ।

  • Vande Bharat: বন্দে ভারত-লোকাল ট্রেন! বিভ্রান্তি ছড়ানোয় ব্যবস্থা নিতে চলেছে রেল

    Vande Bharat: বন্দে ভারত-লোকাল ট্রেন! বিভ্রান্তি ছড়ানোয় ব্যবস্থা নিতে চলেছে রেল

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: রেলপথ হচ্ছে লাইফ লাইন। দেশের কোটি কোটি মানুষ এই পরিষেবার ওপর ভরসা করে রয়েছেন। ক্রমাগত রেল পরিষেবা উন্নত করার জন্য চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে রেল দফতর। সামান্য কিছু হলেই সেটা নিয়ে গেল গেল রব। আর বিক্ষিপ্ত দু-এক জায়গায় ট্রেন, মালগাড়ি লাইনচ্যুত হওয়ার খবর সামনে আসতেই জনগনকে বিভ্রান্ত করার জন্য সোশ্যাল মিডিয়ায় সক্রিয় হয়ে উঠেছে এক শ্রেণির অসাধু মানুষ। এমনই দাবি রেল কর্তৃপক্ষের। হুগলির শিবাইচণ্ডী স্টেশনে বন্দে ভারত (Vande Bharat)-লোকাল ট্রেন একই লাইনে চলে আসার ঘটনা নিয়ে তোলপাড় নেটপাড়া। এই ঘটনা ঠিক নয় বলে রেল আধিকারিকরা স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন।

    ঠিক কী ঘটনা ঘটেছে? (Vande Bharat)

    হুগলির শিবাইচণ্ডী স্টেশনে একই লাইনে চলে আসে বন্দে ভারত (Vande Bharat) এবং একটি লোকাল ট্রেন। সোশ্যাল মিডিয়ায় এই ভিডিও ভাইরাল হয়। ভিডিওটির সত্যতা যাচাই করেনি মাধ্যম। সেই ভিডিওটিতে দেখা যাচ্ছে, মুখোমুখি একটি বন্দে ভারত এবং লোকাল ট্রেন। আর তা দেখেই সোশ্যাল মিডিয়ায় রীতিমতো হইচই পড়ে গিয়েছে। জানা গিয়েছে, হাওড়া ছেড়ে এনজিপির উদ্দেশে রওনা দেওয়া বন্দে ভারতটিকেই দেখা গিয়েছে ভাইরাল ভিডিওর ফ্রেমে।

    আরও পড়ুন: ইতিহাসের সামনে লক্ষ্য, ভারতের প্রথম পুরুষ শাটলার হিসেবে অলিম্পিক্সের সেমিফাইনালে

    রেল আধিকারিকের কী বক্তব্য?

    যদিও এই ঘটনা নিয়ে পূর্ব রেলের তরফে স্পষ্ট জানানো হয়েছে, যাঁরা ভিডিওটি পোস্ট করেছেন, তাঁদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে। ইতিমধ্যেই দু’জনকে শনাক্ত করা হয়েছে। পূর্ব রেলের মুখ্য জনসংযোগ আধিকারিক কৌশিক মিত্র বলেন, বৃহস্পতিবার সকালে হাওড়া-গুরাপ লোকাল ট্রেনটি (Local Train) অটোমেটিক সিগন্যাল জোনে দাঁড়িয়েছিল। ওই সময় বন্দে ভারত (Vande Bharat) ট্রেনটিও ঢুকেছিল। অটোমেটিক সিগন্যাল জোনে একটি নিরাপদ দূরত্ব রেখে ট্রেন চলাচল করে। হাওড়া বা শিয়ালদা লাইনে এটা রোজকার দৃশ্য। একটি ট্রেনের আগে বা পরে, নিরাপদ দূরত্বে অপর একটি ট্রেনকে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা যায়। কিছু অসাধু ব্যক্তি ইচ্ছাকৃত ভাবে সোশ্যাল মিডিয়ায় ফেক ভিডিও ছড়িয়ে মানুষকে বিভ্রান্ত করার এবং রেল ব্যবস্থাকে অপমান করার চেষ্টা করছে। অতএব, এটা প্রমাণিত যে ভাইরাল ভিডিওটি ভুয়ো।

     

    দেশের খবর, দশের খবর, সব খবর, সবার আগে পেতে ফলো করুন আমাদের  Whatsapp, FacebookTwitter, Telegram এবং Google News পেজ।

  • Sealdah Railline: বারাকপুর থেকে দমদম যাওয়ার জন্য গোরা সাহেবরা ঘোড়া নিয়েই ট্রেনে উঠতেন!

    Sealdah Railline: বারাকপুর থেকে দমদম যাওয়ার জন্য গোরা সাহেবরা ঘোড়া নিয়েই ট্রেনে উঠতেন!

    হরিহর ঘোষাল

    হাওড়া-ব্যান্ডেল লাইন দিয়ে ১৮৫৪ সালেই ট্রেন চলাচল শুরু করে দিয়েছে রেল কোম্পানি। পরে, সেই রেলপথ বর্ধমান হয়ে রানিগঞ্জ পর্যন্ত চলে যায়। আর গঙ্গার পূর্ব পাড়ের বাসিন্দাদের নৌকা করে গঙ্গা পার হয়ে হেঁটে বেশ কিছুটা পথ গিয়ে সুযোগ মিলত ‘কু ঝিক ঝিক’ ট্রেনে চড়ার। মানে অনেক কাঠখড় পুড়িয়ে তবেই রেলগাড়ির দেখা মিলত। ফলে, গঙ্গার পূর্ব পাড়ের বাসিন্দাদের আক্ষেপ ছিল। তাই, গঙ্গার পূর্ব পাড়ে ট্রেন চালানো নিয়ে সেকালের জমিদার থেকে সাধারণ মানুষ, সকলেই বিভিন্ন জায়গায় দরবার শুরু করলেন। পূর্ব পাড় দিয়ে আদৌ রেলগাড়ি চলবে কি না, তা নিয়ে এই সব এলাকার মানুষের মধ্যে রাস্তাঘাটে জোর চর্চা হত। তবে, সেই আক্ষেপ বেশি দিন বয়ে বেড়াতে হয়নি। ১৮৫৭ সালে বারাকপুরের সেনা ছাউনিতে মঙ্গল পাণ্ডের নেতৃত্বে হয়েছিল সিপাহী বিদ্রোহ। ঠিক তার পরের বছর, ১৮৫৮ সাল নাগাদ গঙ্গার পূর্ব পাড়ে শিয়ালদা (Sealdah Station) থেকে রেলগাড়ি চালানোর জন্য রেলপথ বসানোর উদ্যোগ শুরু হয়।

    শিয়ালদা রেলপথ তৈরির আদি কথা (Sealdah Station)

    শিয়ালদা (Sealdah Station) থেকে কুষ্টিয়া (এখন বাংলাদেশে) পর্যন্ত ১০৯ মাইল রেলপথ তৈরির উদ্যোগ নেওয়া হয়। যদিও এখন এই রেলপথের অনেকটা অংশ বাংলাদেশের দিকে রয়েছে। এই দেশের রেলপথের শেষ স্টেশন গেদে। আর ওপারে রয়েছে দর্শনা স্টেশন। মৈত্রী এক্সপ্রেস এখন সেই পুরানো রেলপথ ধরে চলাচল করে। রেল সূত্রে জানা গিয়েছে, নতুন রেলপথ তৈরির জন্য ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির সঙ্গে ইস্টার্ন বেঙ্গল রেলওয়ে কোম্পানির চুক্তি হয়। রেলপথ পাতার জন্য ২০০ ফুট চওড়া জমি অধিগ্রহণ করার কাজ শুরু হয়। ১৮৫৯ সালের ১৪ এপ্রিল ৫ ফুট ৬ ইঞ্চি গেজের সিঙ্গল লাইন বসানোর কাজ শুরু হয়। ১৮৬২ সালে শিয়ালদা থেকে রানাঘাট পর্যন্ত প্রথম পরীক্ষামূলকভাবে ট্রেন চলাচল শুরু হয়। ট্রেনটি (Train) ছিল দু’কামরার। প্রথম শ্রেণির যাত্রীবাহী একটি কামরা ছিল। অন্যটি ছিল মালবাহী কামরা। ১৮৬২ সালের ১৯ সেপ্টেম্বর স্পেশাল ট্রেন শিয়ালদা থেকে কুষ্টিয়া যায়।

    প্যাসেঞ্জার ট্রেন কবে থেকে চালু হল?

    গঙ্গার পূর্বপাড়ে রেলগাড়ি চালু হওয়ার সময় শিয়ালদা (Sealdah Station) স্টেশনের নাম ছিল কলিকাতা। সেই সময়কার রেলওয়ে টাইম টেবিলের তথ্য সেই কথা বলছে। কলিকাতা থেকে কুষ্টিয়া পর্যন্ত ট্রেন চলাচল করত। কলিকাতা থেকে রানাঘাট পর্যন্ত প্যাসেঞ্জার ট্রেন যাতায়াত করা শুরু করেছিল ১৮৬২ সালের ২৯ সেপ্টেম্বর। প্রথম এই ট্রেনটিতে যাত্রী সংখ্যা ছিল ১১০০ জন। আর ১৮৬২ সালের ১৫ নভেম্বর থেকে শিয়ালদা থেকে কুষ্টিয়া পর্যন্ত নিয়মিত ট্রেন চলাচল শুরু হয়। যদিও গেদের পর থেকে এখন বাকি অংশটি বাংলাদেশের দিকে চলে গিয়েছে।

    ১৬০ বছর আগে শিয়ালদা মেন লাইনে কোন কোন স্টেশন ছিল?

    ১৬০ বছর আগে রেলগাড়ি চালু হওয়ার সময় বহু স্টেশনের কোনও চিহ্নমাত্র ছিল না। হাতে গোনা কয়েকটি স্টেশনের ওপর দিয়ে রেলগাড়ি ছুটত। সেই সময়কার নথি থেকে পাওয়া যায়, শিয়ালদা (Sealdah Station) বা কলিকাতার পর ছিল দমদমা স্টেশন। আসলে তখন দমদম নাম ছিল না, বলা হত দমদমা। তারপর বেলঘরিয়া, সোদপুর, বারাকপুর, ইছাপুর, শ্যামনগর, নৈহাটি, কাঁচরাপাড়া, মদনপুর, চাকদা, রানাঘাট। অন্যদিকে, এই সব স্টেশন বাদ দিলে উল্টোডাঙা, আগরপাড়া, খড়দা, টিটাগড়, পলতা, জগদ্দল, কাঁকিনাড়া, হালিশহর, কল্যাণী, শিমুরালি, পালপাড়া, পায়রাডাঙা-এই সব স্টেশনের কোনও চিহ্নমাত্র ছিল না। অনেক কাঠখড় পুড়িয়ে নতুন এই সব স্টেশনের অনুমোদন মিলেছে। আর রানাঘাট থেকে কুষ্টিয়া পর্যন্ত স্টেশনের সংখ্যাও ছিল হাতেগোনা। রানাঘাটের পরের স্টেশন ছিল আড়ংঘাটা, বগুলা, কৃষ্ণগঞ্জ, মতিয়ারি, রামনগর, জয়রামপুর, চুয়াডাঙা, মুন্সিগঞ্জ, আলমডাঙা, হিলসিয়া, পোড়াদহ, জাগটি, কুষ্টিয়া।

    প্রথমে কত কামরার ট্রেন চালু হয়েছিল, কত ছিল ভাড়া?

    রেলগাড়ি চলাচল করার শুরুতে তিনটি কামরা থাকত-প্রথম, দ্বিতীয় এবং তৃতীয় শ্রেণির। প্রথম শ্রেণির কামরায় শিয়ালদা থেকে দমদমের ভাড়া ছিল ৪ আনা। বেলঘরিয়া-৬আনা, সোদপুর-৯ আনা, বারাকপুর-১৪ আনা, ইছাপুর-১ টাকা ১ আনা। দ্বিতীয় শ্রেণির ভাড়া ছিল দমদম-২ আনা, বারাকপুর-৬ আনা। তৃতীয় শ্রেণির কামরায় শিয়ালদা থেকে দমদম পর্যন্ত ১ আনা ভাড়া ছিল। আর বারাকপুর ছিল ৩ আনা ১০ পাই। বারাকপুর সেনা ছাউনি থেকে দমদম যাওয়ার জন্য গোরা সাহেবরা ঘোড়া নিয়ে ট্রেনে উঠতেন। সন্ধ্যা নামলেই গোরা সাহেবদের দাপাদাপির কারণে দেশিয় লোকজন ট্রেনে চড়তে ভয় পেতেন। এখন সবই ইতিহাস। এখন শিয়ালদার (Sealdah Station) এই লাইনে লোকাল ট্রেন, এক্সপ্রেস ট্রেনের ছড়াছড়ি। এখনও আদি রুট শিয়ালদা-গেদে লাইনে একাধিক লোকাল ট্রেন (Train) রয়েছে।

     

    দেশের খবর, দশের খবর, সব খবর, সবার আগে পেতে ফলো করুন আমাদের  Whatsapp, FacebookTwitter, Telegram এবং Google News পেজ।

LinkedIn
Share