Tag: humayun Kabir

humayun Kabir

  • By Election: উপনির্বাচনেও ব্যাপক ভোট পড়ল নন্দীগ্রামে, রেজিনগরেও হাত উপুড় ভোটারদের

    By Election: উপনির্বাচনেও ব্যাপক ভোট পড়ল নন্দীগ্রামে, রেজিনগরেও হাত উপুড় ভোটারদের

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: মঙ্গলবার নন্দীগ্রাম ও রেজিনগর আসনে উপনির্বাচনকে (By Election) ঘিরে সকাল থেকেই উৎসাহ-উদ্দীপনা ছিল তুঙ্গে। বিকেল ৫টা পর্যন্ত নন্দীগ্রামে ভোট পড়েছে (Latest Update) ৭৯.৩৯ শতাংশ। খুব একটা পিছিয়ে নেই রেজিনগরও। সেখানে ভোটদানের হার ৭৮.৪২ শতাংশ।

    নন্দীগ্রাম (By Election)

    নন্দীগ্রামে বিজেপি প্রার্থী হাসিরানি রথের হয়ে রবিবার পদযাত্রা করেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। হাসিরানি নিহত বিজেপি নেতা চন্দ্রনাথ রথের মা। প্রচারে গিয়ে তৃণমূলের শীর্ষ নেতৃত্বকে নিশানা করেন শুভেন্দু। একুশের বিধানসভা নির্বাচনের সময় মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের পায়ে চোট লাগার ঘটনাকে কেন্দ্র করে বিস্ফোরক মন্তব্য করেন তিনি। শুভেন্দুর অভিযোগ, একুশের ভোটের সময় মমতার পায়ে চোট লাগার দাবি “মিথ্যা” ছিল। সেই ঘটনার পর খুনের চেষ্টার একটি মামলায় বিজেপি নেতাদের ফাঁসানোর জন্য তৎকালীন তৃণমূল সরকার সিআইডির “অপব্যবহার” করেছিল বলেও অভিযোগ করেন তিনি। এদিন টোটোয় চড়ে নন্দীগ্রামের একটি বুথে গিয়ে ভোট দেন মুখ্যমন্ত্রী। আজীবন এই কেন্দ্রের ভোটার থাকতে চান বলেও জানান তিনি

    রেজিনগর

    এদিকে, রেজিনগর আসনটি ফাঁকা হয়েছে আম জনতা উন্নয়ন পার্টির প্রতিষ্ঠাতা হুমায়ুন কবীরের কারণে। তিনি একই সঙ্গে রেজিনগর ও নওদা—দুই কেন্দ্র থেকে নির্বাচনে জয়ী হওয়ার পর নওদা আসনটি ধরে রাখেন। ফলে রেজিনগর আসনে উপনির্বাচন হয়েছে। এই কেন্দ্রে আম জনতা উন্নয়ন পার্টির হয়ে (By Election) লড়ছেন তাঁর ছেলে গোলাম নবী আজাদ। রেজিনগরে তৃণমূলের মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়পন্থী শিবিরের প্রার্থী রাবিউল আলম চৌধুরী। তৃণমূলের বিদ্রোহী শিবিরের প্রার্থী সাফিউজ্জামান শেখও প্রতিদ্বন্দ্বিতায় রয়েছেন। কংগ্রেসের প্রার্থী মহম্মদ আবদুল্লাহিল কাফি। ফলে এই কেন্দ্রে বহুমুখী লড়াইয়ের ছবি স্পষ্ট।

    তামিলনাড়ুতেও জমজমাট লড়াই

    তামিলনাড়ুর মাদুরান্থকম এবং ধরাপুরম আসন দুটিতেও উপনির্বাচন হয়েছে। অভিনেতা থেকে রাজনীতিতে আসা সি জোসেফ বিজয়ের দল তামিলগা ভেত্রি কাজাগমে যোগ দেওয়ার পর এই দুই আসন ছেড়ে দেন প্রাক্তন এআইএডিএমকে বিধায়ক কে মারাগাথাম কুমারাভেল এবং পি সত্যবামা। তাঁদের নিজেদের পুরনো কেন্দ্র থেকেই প্রার্থী করেছে বিজয়ের দল। মাদুরান্থকমে প্রাক্তন বিধায়ক আই পরন্থামেনকে এবং ধরাপুরমে সুগণ্যাকে প্রার্থী করেছে ডিএমকে। ধরাপুরমে সত্যবামার হয়ে প্রায় ৪০ কিলোমিটার পথজুড়ে প্রচার চালান বিজয়। ডিএমকেকে নিশানা করে তিনি অভিযোগ করেন, ওই দল মহিলাদের নিয়ে আপত্তিকর মন্তব্য করছে। তাঁর দাবি, মহিলাদের বিরুদ্ধে এই ধরনের আক্রমণ সীমা ছাড়িয়ে গিয়েছে। এই বিষয়ে আর নীরব থাকবেন না বলেও জানান বিজয়।

    অসমেও উপনির্বাচন

    অসমের নাগাঁও লোকসভা আসনটি মার্চ মাসে ফাঁকা হয়। কংগ্রেস সাংসদ প্রদ্যুৎ বরদলৈ দল ছেড়ে বিজেপিতে যোগ দেওয়ার পর এপ্রিলের বিধানসভা নির্বাচনে দিসপুর আসন থেকে জয়ী হন। ফলে নাগাঁও লোকসভা আসনে উপনির্বাচন হচ্ছে। এই কেন্দ্রে বিজেপি প্রার্থী তথা প্রাক্তন আমলা দেবাশিস শর্মার হয়ে প্রচার করেন মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্ব শর্মা। নাগাঁওয়ে মুসলিম ভোটারের সংখ্যা বেশি হওয়ায় বিজেপির সামনে নির্বাচনী চ্যালেঞ্জ রয়েছে বলে কার্যত স্বীকার করলেও, হিমন্তর দাবি, শেষ পর্যন্ত বিজেপি বড় ব্যবধানে জয় পাবে (Latest Update)। তাঁর পূর্বাভাস, জয়ের ব্যবধান আড়াই লাখ থেকে তিন লাখ ভোটের হতে পারে (By Election)।

     

  • Suvendu Adhikari: টোটোয় চেপে বুথে শুভেন্দু, নন্দীগ্রামে ভোট দিয়ে জয় নিয়ে ‘শতভাগ’ আত্মবিশ্বাসী মুখ্যমন্ত্রী

    Suvendu Adhikari: টোটোয় চেপে বুথে শুভেন্দু, নন্দীগ্রামে ভোট দিয়ে জয় নিয়ে ‘শতভাগ’ আত্মবিশ্বাসী মুখ্যমন্ত্রী

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: হাইভোল্টেজ উপনির্বাচনে (By-Poll) উত্তেজনার কেন্দ্রবিন্দু নন্দীগ্রাম বিধানসভা। সেই নন্দীগ্রামেই মঙ্গলবার ভোটাধিকার প্রয়োগ করলেন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari)। তবে এদিন তাঁর বুথে পৌঁছনোর ধরন ছিল একেবারেই অন্যরকম। প্রচলিত প্রোটোকল ও কনভয় দূরে সরিয়ে সাধারণ মানুষের মতোই টোটোয় চেপে ৭৯ নম্বর বুথে পৌঁছন মুখ্যমন্ত্রী। তাঁকে এভাবে বুথে আসতে দেখে স্থানীয় ভোটার, কর্মী-সমর্থকদের মধ্যে ব্যাপক উৎসাহ দেখা যায়। এদিন সকালে কনভয় থেকে নেমে টোটোয় চেপে সরাসরি বুথ চত্বরে পৌঁছন শুভেন্দু অধিকারী। তাঁর সঙ্গে ছিলেন নন্দীগ্রাম উপনির্বাচনে বিজেপির প্রার্থী হাসিরানি রথ। বুথে ঢোকার আগে এবং ভোটদান পর্ব শেষ হওয়ার পর স্থানীয় বাসিন্দাদের সঙ্গে কুশল বিনিময় ও সৌজন্য সাক্ষাৎ করতে দেখা যায় তাঁকে। নির্দিষ্ট নিয়ম মেনে ভোট দিয়ে স্থানীয় মন্দিরে গিয়ে পুজো দেন মুখ্যমন্ত্রী।

    ‘আইন সকলের জন্যই সমান’ (Suvendu Adhikari)

    ভোট দিয়ে বেরিয়ে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে নন্দীগ্রামের পরিস্থিতি, আইনশৃঙ্খলা এবং নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা নিয়ে বার্তা দেন শুভেন্দু। তিনি বলেন, “নন্দীগ্রামে সম্পূর্ণ শান্তিপূর্ণ ভোট হচ্ছে। ইতিমধ্যেই ৫০ শতাংশের বেশি ভোটার ভোট দিয়ে দিয়েছেন। আমার বিশ্বাস, শেষ পর্যন্ত প্রায় ৮৫ শতাংশ ভোট পড়বে।” এদিন সকালে আইনভঙ্গের অভিযোগে আমজনতা উন্নয়ন পার্টির প্রধান তথা নওদার বিধায়ক হুমায়ুন কবীরের গ্রেফতারির প্রসঙ্গও ওঠে। এই বিষয়ে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “আইন সকলের জন্যই সমান। আইন ভাঙলে নির্বাচন কমিশন বা প্রশাসন পদক্ষেপ করবেই।”

    ‘শতভাগ’ আত্মবিশ্বাসী

    নন্দীগ্রামের মানুষের উপর তাঁর পূর্ণ আস্থার কথাও জানান শুভেন্দু। তিনি জানান, আজীবন নন্দীগ্রামের ভোটার হয়েই থাকতে চান। নন্দীগ্রামে জয় নিয়ে তিনি ‘শতভাগ’ আত্মবিশ্বাসী বলেও দাবি করেন। তাঁর বক্তব্য, রাজ্যে বর্তমানে যে উন্নয়নের গতি চলছে, মানুষ ভোটবাক্সে তারই প্রতি সমর্থন জানাচ্ছেন (Suvendu Adhikari)।

    ছাব্বিশের বিধানসভা নির্বাচনে নন্দীগ্রাম থেকে জয়ের পর শুভেন্দু ভবানীপুর আসনটি ধরে রেখে নন্দীগ্রাম আসনটি ছেড়ে দেন। সেই কারণেই এই উপনির্বাচন। বিজেপি এখানে হাসিরানি রথকে প্রার্থী করেছে। ফলে নন্দীগ্রামের লড়াইকে শুভেন্দুর রাজনৈতিক প্রভাব ও গ্রহণযোগ্যতারও পরীক্ষা হিসেবে দেখা হচ্ছে। এদিকে ভোটের দিন সকাল থেকেই নন্দীগ্রামে বিভিন্ন অভিযোগ-পাল্টা অভিযোগকে ঘিরে রাজনৈতিক উত্তেজনা সৃষ্টি হয়েছে (By-Poll)। বিরোধীদের তরফে অনিয়ম ও এজেন্টদের বের করে দেওয়ার অভিযোগ উঠলেও, বিজেপি প্রার্থী হাসিরানি রথ সেই অভিযোগ অস্বীকার করেছেন (Suvendu Adhikari)।

     

  • Nandigram Rejinagar Bypolls: পাঁচ মাসের মাথায় ফের ভোটের সকাল বাংলায়, নন্দীগ্রাম-রেজিনগরে চলছে উপনির্বাচন

    Nandigram Rejinagar Bypolls: পাঁচ মাসের মাথায় ফের ভোটের সকাল বাংলায়, নন্দীগ্রাম-রেজিনগরে চলছে উপনির্বাচন

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: রাজ্য বিধানসভা নির্বাচনের পর পাঁচ মাসও কাটেনি। তার মধ্যেই ফের ভোটের মুখে পশ্চিমবঙ্গ। মঙ্গলবার নন্দীগ্রাম ও রেজিনগর বিধানসভা কেন্দ্রে শুরু হয়েছে উপনির্বাচন (Nandigram Rejinagar Bypolls)। কড়া নিরাপত্তায় সকাল থেকেই চলছে দুই কেন্দ্রে ভোটগ্রহণ (Voting)। এই উপনির্বাচন ঘিরে রাজনৈতিক মহলের বিশেষ নজর রয়েছে নন্দীগ্রামের দিকে। কারণ, এই কেন্দ্রের ভোটার স্বয়ং মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। ছাব্বিশের বিধানসভা নির্বাচনে নন্দীগ্রাম ও ভবানীপুর—দুই কেন্দ্রেই জয়ী হয়েছিলেন শুভেন্দু অধিকারী। পরে নিজের পুরনো ও পরিচিত কেন্দ্র নন্দীগ্রামের বিধায়ক পদ ছেড়ে ভবানীপুরের বিধায়ক হিসেবে থেকে যান তিনি। মুখ্যমন্ত্রীর নন্দীগ্রাম আসন ছেড়ে দেওয়ার কারণেই সেখানে উপনির্বাচনের প্রয়োজন হয়। ফলে এবার ফের নন্দীগ্রামে ভোট দেবেন মুখ্যমন্ত্রী। নন্দীগ্রামের উপনির্বাচন ঘিরে আরও একটি বিষয় নিয়ে রাজনৈতিক উত্তেজনা রয়েছে। কংগ্রেস প্রার্থী মিলন প্রধানকে পুরনো একটি মামলায় গ্রেফতার করা নিয়ে বিষয়টি গড়ায় কলকাতা হাইকোর্ট এবং সুপ্রিম কোর্ট পর্যন্ত। আপাতত স্বস্তি পেয়েছেন তিনি। প্রচারে পুরোপুরি অংশ নিতে না পারলেও জেলের বাইরে থেকেই নির্বাচনে লড়াই করছেন মিলন। অন্যদিকে, রেজিনগরেও উপনির্বাচনের নেপথ্যে রয়েছে বিধায়ক পদ ছেড়ে দেওয়ার ঘটনা। এই কেন্দ্র থেকে জিতেছিলেন আম জনতা উন্নয়ন পার্টির হুমায়ুন কবীর। পরে তিনি নওদা কেন্দ্র থেকে নির্বাচনে লড়ে জয়ী হন এবং রেজিনগরের বিধায়ক পদ ছেড়ে দেন। সেই কারণেই রেজিনগরে ফের ভোটগ্রহণ হচ্ছে।

    কড়া নিরাপত্তা (Nandigram Rejinagar Bypolls)

    ভোটের সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে দুই কেন্দ্রেই কেন্দ্রীয় বাহিনীর কড়া প্রহরার ব্যবস্থা করা হয়েছে। নির্বাচন কমিশনের তথ্য অনুযায়ী, রেজিনগর বিধানসভা কেন্দ্রে মোট ৩৪ কোম্পানি কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে। নন্দীগ্রামে মোতায়েন রয়েছে ৩৭ কোম্পানি কেন্দ্রীয় বাহিনী।

    মোট ভোটার

    নির্বাচন কমিশনের তথ্য অনুযায়ী, মুর্শিদাবাদের রেজিনগর বিধানসভা কেন্দ্রে মোট ভোটারের সংখ্যা ২ লাখ ৫৭ হাজার ৬৫৭। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার ১ লাখ ৩৫ হাজার ১৪ জন এবং মহিলা ভোটার ১ লাখ ২২ হাজার ৬৩৮ জন। তৃতীয় লিঙ্গের ভোটার রয়েছেন পাঁচ জন। এই কেন্দ্রে ১৮ থেকে ১৯ বছর বয়সি নতুন ভোটারের সংখ্যা ২ হাজার ৪৪৫। শারীরিক প্রতিবন্ধী ভোটার রয়েছেন ৩ হাজার ২৩১ জন। ৮৫ বছরের বেশি বয়সি ভোটারের সংখ্যা ১ হাজার ৬৯৭। শতায়ু বা ১০০ বছরের বেশি বয়সি ভোটার রয়েছেন ৩৬ জন। এছাড়া সার্ভিস ভোটারের সংখ্যা ১ হাজার ১১১। পূর্ব মেদিনীপুরের নন্দীগ্রাম বিধানসভা কেন্দ্রে মোট ভোটারের সংখ্যা ২ লাখ ৬৭ হাজার ১৫৭। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার ১ লাখ ৩৯ হাজার ৬৭৭ এবং মহিলা ভোটার ১ লাখ ২৭ হাজার ৪৭৯ জন। তৃতীয় লিঙ্গের ভোটার রয়েছেন এক জন। নন্দীগ্রামে ১৮ থেকে ১৯ বছর বয়সি ভোটারের সংখ্যা ২ হাজার ১৬। শারীরিক প্রতিবন্ধী ভোটার রয়েছেন ২ হাজার ১৮০ জন। ৮৫ বছরের বেশি বয়সি ভোটারের সংখ্যা ১ হাজার ৮৮৪। শতায়ু বা ১০০ বছরের বেশি বয়সি ভোটার রয়েছেন ৪২ জন। এছাড়া ৭৩৮ জন সার্ভিস ভোটার নিজেদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করবেন (Nandigram Rejinagar Bypolls)।

    বাংলার পাশাপাশি আরও তিন কেন্দ্রে উপনির্বাচন

    পশ্চিমবঙ্গের নন্দীগ্রাম ও রেজিনগরের পাশাপাশি এদিন উপনির্বাচন হচ্ছে অসমের নগাঁও লোকসভা কেন্দ্র এবং তামিলনাড়ুর দু’টি বিধানসভা কেন্দ্রেও। নগাঁওয়ের কংগ্রেস সাংসদ প্রদ্যুৎ বরদোলই বিজেপিতে যোগ দেওয়ার পর লোকসভা কেন্দ্রটি ছেড়ে দেন। বর্তমানে তিনি বিজেপির বিধায়ক। তাঁর ছেড়ে দেওয়া নগাঁও লোকসভা কেন্দ্রেই আজ উপনির্বাচন হচ্ছে। এদিকে, এআইএডিএমকের দুই বিধায়ক ইস্তফা দেওয়ায় তামিলনাড়ুর মাদুরান্থকম এবং ধারাপুরম বিধানসভা কেন্দ্রেও উপনির্বাচন অনুষ্ঠিত হচ্ছে (Voting)। ফলে বাংলার দুই কেন্দ্রের পাশাপাশি দেশের আরও তিনটি গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্রে আজকের ভোটের ফলাফলের দিকে নজর রয়েছে রাজনৈতিক মহলের (Nandigram Rejinagar Bypolls)।

     

  • Nandigram Bypoll: নন্দীগ্রাম উপনির্বাচনে মমতাকে প্রার্থী করার প্রস্তাব, তৃণমূলের দুই শিবিরে বরফ গলার ইঙ্গিত

    Nandigram Bypoll: নন্দীগ্রাম উপনির্বাচনে মমতাকে প্রার্থী করার প্রস্তাব, তৃণমূলের দুই শিবিরে বরফ গলার ইঙ্গিত

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: নন্দীগ্রামে বিধানসভা উপনির্বাচনে (Nandigram Bypoll) মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের প্রার্থী হওয়ার সম্ভাবনাকে ঘিরে তৃণমূল কংগ্রেসের দুই শিবিরের মধ্যে সম্পর্কের বরফ গলতে পারে বলে জল্পনা তৈরি হয়েছে। মমতা (Mamata Banerjee) নন্দীগ্রাম থেকে লড়াই করলে তাঁরা প্রার্থী দেবেন না বলেও জানিয়েছে তৃণমূলের বিদ্রোহী শিবির। এর মধ্যেই দলের প্রতীক নিয়ে দুই পক্ষের টানাপোড়েন নির্বাচন কমিশন পর্যন্ত গড়িয়েছে।

    শনিবার নয়াদিল্লিতে বিদ্রোহী শিবিরের নেতা ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, “আমাদের প্রার্থী বাছাই সম্মিলিতভাবে হয়ে গিয়েছে। তবে এখনও তা ঘোষণা করা হয়নি।”

    এর পরেই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে কটাক্ষ করার পাশাপাশি তাঁকে নন্দীগ্রাম থেকে লড়াইয়ের সুযোগ দেওয়ার ইঙ্গিতও দেন তিনি।

    সাধারণ নির্বাচনে কখনও জেতেন না মমতা (Nandigram Bypoll)

    ঋতব্রত বলেন, “মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সাধারণ নির্বাচনে কখনও জেতেন না। কিন্তু উপনির্বাচনে জেতেন। আর এটা ভালো দেখায় না, তাই না যে এই নির্বাচনে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নিজের এলাকায় হেরেছেন এবং নিজের বুথেও হেরেছেন?”

    তিনি ভবানীপুরে বিজেপির শুভেন্দু অধিকারীর কাছে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের পরাজয়ের প্রসঙ্গ উল্লেখ করছিলেন। শুভেন্দু অধিকারী নন্দীগ্রামেও জয়ী হয়ে মুখ্যমন্ত্রী হন এবং মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ১৫ বছরের শাসনের অবসান ঘটান।

    এর পরেই ঋতব্রত বলেন, “আমরাও চাই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বিধানসভায় আসুন।” ৬ অক্টোবর নন্দীগ্রামে উপনির্বাচন হওয়ার কথা। শুভেন্দু নন্দীগ্রামের বিধায়ক পদ ছেড়ে দেওয়ায় আসনটি শূন্য হয়েছে। যদিও এই বিষয়ে এখনও প্রকাশ্যে কিছু বলেননি মমতা।

    ছাব্বিশের বিধানসভা নির্বাচনে তৃণমূলের বিপর্যয়ের পরে দলের অধিকাংশ বিধায়ক দল ছেড়ে ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়কে বিরোধী দলনেতা হিসেবে বেছে নেন। দলের এই ভাঙনের জন্য তাঁরা মমতার ভাইপো তথা দলের সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে দায়ী করেন। পরবর্তী সময়ে মমতার পাশ থেকে সরে যান তাঁর হাতে গড়া তৃণমূলের সিংহভাগ সাংসদও। যদিও বিদ্রোহী বিধায়কেরা বারবার দাবি করে এসেছেন, তাঁদের মূল আপত্তি মমতাকে নিয়ে নয়, অভিষেককে ঘিরে (Nandigram Bypoll)।

    তৃণমূলের বিদ্রোহী শিবিরের বক্তব্য

    বছর একাত্তরের মমতার সঙ্গে নন্দীগ্রামের রাজনৈতিক সম্পর্ক দীর্ঘদিনের। তৃণমূলের বিদ্রোহী শিবিরের বিধায়ক আখরুজ্জামান বলেন, “মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নন্দীগ্রাম থেকে কখনও সাধারণ নির্বাচনে জেতেননি।” তিনি ২০২১ সালের নির্বাচনের কথাও স্মরণ করিয়ে দেন। সেই নির্বাচনে নন্দীগ্রামে শুভেন্দুর কাছে মমতা হেরে গেলেও, রাজ্যে তৃণমূল জয়ী হয় এবং মমতা মুখ্যমন্ত্রী হন। পরে ভবানীপুরের উপনির্বাচনে জিতে বিধানসভায় প্রবেশাধিকার পান মমতা।

    আখরুজ্জামান এও বলেন, “এখন যেহেতু উপনির্বাচন হচ্ছে, আমরা বলেছি, নন্দীগ্রামে আসুন। আমরা কোনও প্রার্থী দেব না। জিতে বিধানসভায় আসুন এবং উন্নয়নের জন্য আমরা একসঙ্গে কাজ করব।”

    নন্দীগ্রামের পাশাপাশি রেজিনগর আসনেও উপনির্বাচন হতে চলেছে।

    নন্দীগ্রামে তৃণমূলের প্রার্থী পরাজিত হলেও উল্লেখযোগ্য ভোট পেয়েছিলেন। মমতার সঙ্গে নন্দীগ্রামের পুরনো রাজনৈতিক সম্পর্কও রয়েছে। ২০১১ সালের বিধানসভা নির্বাচনের আগে এই এলাকায় কৃষিজমি অধিগ্রহণের বিরুদ্ধে মমতার নেতৃত্বে বড় আন্দোলন গড়ে উঠেছিল। সেই আন্দোলনের পরেই রাজ্যে বামফ্রন্টের দীর্ঘ শাসনের অবসান ঘটিয়ে ক্ষমতায় আসে তৃণমূল।

    এদিকে, রেজিনগর আসনটি শূন্য হয় তৃণমূলের প্রাক্তন নেতা হুমায়ুন কবিরের পদত্যাগের পর। নির্বাচনের আগে তিনি নিজের দল আম জনতা উন্নয়ন পার্টি গঠন করেছিলেন। হুমায়ুন কবির নওদা এবং রেজিনগর—দুই আসন থেকেই জয়ী হয়েছিলেন। পরে তিনি নওদা আসনটি ধরে রাখেন এবং ছেড়ে দেন রেজিনগর আসনটি।

    এদিকে, বিজেপি জানিয়ে দিয়েছে, তৃণমূলের প্রতীকে (Mamata Banerjee) কে প্রার্থী হবেন, তা নিয়ে তাদের কোনও মাথাব্যথা নেই। যে-ই প্রার্থী হোন না কেন, উপনির্বাচনে বিজেপিই জয়ী হবে বলে দাবি করেছেন (Nandigram Bypoll) পদ্ম নেতারা।

     

  • Suvendu Adhikari: ‘২০৯’-এর টার্গেট! রেজিনগরে পদ্ম ফোটানোর ডাক শুভেন্দুর, বললেন ‘যা চাইবেন দু’হাত ভরে দেব’

    Suvendu Adhikari: ‘২০৯’-এর টার্গেট! রেজিনগরে পদ্ম ফোটানোর ডাক শুভেন্দুর, বললেন ‘যা চাইবেন দু’হাত ভরে দেব’

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: মুর্শিদাবাদের রেজিনগর উপনির্বাচনকে সামনে রেখেই রাজনৈতিক লড়াই আরও তীব্র করে তুললেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। কর্মিসভা থেকে বিজেপির বিধায়ক সংখ্যা ২০৯-এ পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্য ঘোষণা করার পাশাপাশি রেজিনগরের মানুষের জন্য একাধিক উন্নয়ন প্রতিশ্রুতিও দিলেন তিনি। একই সঙ্গে নাম না করেই নিশানা করলেন আমজনতা উন্নয়ন পার্টির প্রধান তথা বিধায়ক হুমায়ুন কবীরকে।

    ‘যা চাইবেন দু’হাত ভরে দেব’

    রেজিনগরের কর্মিসভা থেকেই কার্যত উপনির্বাচনের প্রচারের সূচনা করে দেন শুভেন্দু অধিকারী। তাঁর দাবি, নন্দীগ্রামে জয় নিয়ে তিনি একেবারেই আত্মবিশ্বাসী। কর্মীদের উদ্দেশে তিনি বলেন, “নন্দীগ্রামটা আমার উপর ছেড়ে দিন। ওখানে কত ভোটে জিতব আমি জানি। সীমা নেই, অনেক বড় ভোটে জিতব।” এরপরই রেজিনগরের মানুষের উদ্দেশে একের পর এক প্রতিশ্রুতি দিয়ে তিনি বলেন, “রেজিনগরটা দেবেন তো? একটা নয়, দুটো ব্রিজ দেব। পরিযায়ী শ্রমিকদের বাড়ি ফেরাব। যত আবাস লাগে দেব। যা চাইবেন দু’হাত ভরে দেব। নন্দীগ্রাম জিতে ২০৮ বিধায়ক হবে বিজেপির। এবার সংখ্যাটা ২০৯ হবে কিনা রেজিনগরের উপর নির্ভর করবে।”

    পদ্ম ফোটানোর লক্ষ্যে…

    রেজিনগর দীর্ঘদিন ধরেই সংখ্যালঘু অধ্যুষিত কেন্দ্র হিসেবে পরিচিত। ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনে এখান থেকে আমজনতা উন্নয়ন পার্টির প্রধান হুমায়ুন কবীর ১ লক্ষ ২৩ হাজারেরও বেশি ভোটে জয়ী হন। তাঁর প্রাপ্ত ভোট ছিল ৫১ শতাংশেরও বেশি। অন্যদিকে বিজেপি প্রার্থী বাপন ঘোষ পেয়েছিলেন প্রায় ৬৪ হাজার ভোট, যা মোট ভোটের প্রায় ২৭ শতাংশ। তৃণমূল কংগ্রেসের ঝুলিতে গিয়েছিল ১৭ শতাংশের কিছু বেশি ভোট। এই পরিসংখ্যান সত্ত্বেও উপনির্বাচনে রেজিনগর থেকেই পদ্ম ফোটানোর বিষয়ে আত্মবিশ্বাসী বিজেপি নেতৃত্ব।

    হুমায়ুনকে নাম না করেই আক্রমণ

    সভা থেকে হুমায়ুন কবীরের নাম উচ্চারণ না করেই তীব্র আক্রমণ শানান শুভেন্দু। তিনি বলেন, “কাকে পাঠাবেন বিধানসভায়? যে ঝগড়া করবে, ধমকাবে, কমিউনিটির কথা বলবে, হিন্দু-মুসলমান করবে, মন্দির-মসজিদ করবে, না উন্নয়ন চাইবেন?” এরপর আরও কড়া সুরে তিনি বলেন, “দম্ভটা ভাঙতে হবে, অহঙ্কারটা ভাঙতে হবে। কার অহঙ্কার ভাঙতে হবে নামটা বললাম না। সামঝদারো কা ইশারা কাফি হ্যা। নাম বললে অনেকে হিরো হয়। তাই নাম বলার দরকার নেই।” উন্নয়নের প্রতিশ্রুতি দিয়ে তিনি আরও বলেন, “উন্নয়ন যদি চান, হাতে কাজ, পেটে ভাত, মাথায় ছাদ, আরও স্কুল, আরও কলেজ, আরও রাস্তা, আরো ব্রিজ, ঘরে ঘরে জল, কৃষকের অধিকার, পরিযায়ী শ্রমিকরা বাড়ি ফিরবে– যদি চান তাহলে পদ্ম ফোটাতে হবে। ৮ বিধায়ক দিয়েছেন, ৯ জন চাই। রেজিনগরটা চাই।”

    আইনশৃঙ্খলা নিয়ে কড়া বার্তা

    বহরমপুরের রবীন্দ্র সদনে প্রশাসনিক বৈঠকে যোগ দেওয়ার আগে আইনশৃঙ্খলা প্রসঙ্গেও কড়া অবস্থান নেন মুখ্যমন্ত্রী। তিনি বলেন, “এখানে কিছু ভাষণবাজি হয়েছে। কিন্তু কোনও বড় ঘটনা হয়নি। কোথাও পুলিশ খারাপ কাজ করলে কিংবা প্রশাসন খারাপ কাজ করলে আমাকে জানান। আমি ব্যবস্থা নেব। (কিন্তু) থানার সামনে গিয়ে কেউ বলবে, ‘এই করব, ওই করব’, কেউ বলবে, ‘জেলে ৪৭০০ লোকের জায়গা হয়, আমি তার থেকে বেশি লোক নিয়ে যাব’, দয়া করে এই সব ভাষণবাজি আর করবেন না।” রাজনৈতিক মহলের মতে, এই মন্তব্যও ছিল হুমায়ুন কবীরের সাম্প্রতিক বক্তব্যের পাল্টা জবাব।

    পুলিশের উদ্দেশে ‘ডু ইট নাউ’ নির্দেশ

    পুলিশ প্রশাসনকে আরও সক্রিয় হওয়ার নির্দেশ দিয়ে শুভেন্দু বলেন, “ধুলিয়ান, সামশেরগঞ্জ, বেলডাঙা, রেজিনগর, শক্তিপুরের মতো ঘটনা ঘটলে কাউকে ফোন করার দরকার নেই। ভারতীয় ন্যয় সংহিতাতে যা বলা আছে, আপনি যে শৃঙ্খলিত বাহিনীর ট্রেনিং নিয়ে এসেছে সেই অনুযায়ী ডু ইট নাউ। পরিষ্কার খোলা ছুট দেওয়া হয়েছে।” একই সঙ্গে তিনি ঘোষণা করেন, আগামী সোমবার থেকেই রাজ্যে গুন্ডাদমন আইন কার্যকর হবে। তাঁর কথায়, “ট্রেন, বাস জ্বালানো, পুলিশকে মারধর— এ সব এ বার অতীত। নারীসুরক্ষা, পাচার রোধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। মামলার বিচার হবে দ্রুত। শমসেরগঞ্জ, ধুলিয়ানে যা হয়েছে, সে সব আর হবে না। হলেই কড়া ব্যবস্থা।”

    নারী সুরক্ষায় জোর

    নারী ও শিশুদের নিরাপত্তা নিয়েও কড়া বার্তা দেন মুখ্যমন্ত্রী। তিনি বলেন, “নারী, শিশু কন্যাদের উপর অত্যাচার কার্যত ব্যধিতে পরিণত হয়েছে। এ ব্যধিকে কী করে মুক্ত করতে হয় আপনাদের বন্ধু শুভেন্দু জানে।” পুলিশের ভূমিকার প্রসঙ্গ টেনে তিনি জানান, “থানায় থানায় মহিলা হেল্প ডেস্ক চালু হয়েছে, দুর্গা স্কোয়াড মাঠে নেমেছে। আপনারা বারুইপুরে পুলিশ মন্ত্রীর ভূমিকা দেখেছেন। আরও দেখতে পাবেন।” এরপর পুলিশকে নির্দেশ দিয়ে তিনি বলেন, “আজই বলেছি নারী নির্যাতন, ধর্ষণ, শ্লীলতাহানির যত পুরনো কেস আছে সব বের করুন। চার্জশিট না হলে তা করুন, এফআইআর না হলে তা করুন। ছাড়া হবে না কাউকে।”

    ‘ফলতা মডেল’-এর উদাহরণ

    বক্তৃতার শেষদিকে একাধিকবার ‘ফলতা মডেল’-এর উল্লেখ করেন মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর দাবি, ফলতার মানুষ যেমন পরিবর্তনের পক্ষে রায় দিয়েছেন, তেমনই রেজিনগরেও উন্নয়নের পক্ষে মানুষ ভোট দেবেন। বারুইপুরের সাম্প্রতিক পুলিশি পদক্ষেপের প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, “ফলতার মানুষ কথা দিয়েছিল রেখেছে। বারুইপুরের ওই ছোট্ট মেয়েটির পরিবারের লোকেরাও সংখ্যালঘু। ওনারা আমার উপর আস্থা রেখেছেন। বাকিরাও রাখুন। ফল হাতেনাতে পাবেন।” রেজিনগরের উপনির্বাচনকে ঘিরে এখন থেকেই রাজনৈতিক উত্তাপ বাড়তে শুরু করেছে। একদিকে উন্নয়নের প্রতিশ্রুতি, অন্যদিকে আইনশৃঙ্খলা ও রাজনৈতিক বার্তা— দুইয়ের মিশেলেই বিজেপির প্রচারের সুর স্পষ্ট করে দিলেন শুভেন্দু অধিকারী।

  • Suvendu Adhikari Warning: মুখ্যমন্ত্রীর ‘এনাফ ইজ এনাফ’ বলার ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই অ্যাকশন! হুমায়ুনের সভা নিয়ে বড় পদক্ষেপ পুলিশের

    Suvendu Adhikari Warning: মুখ্যমন্ত্রীর ‘এনাফ ইজ এনাফ’ বলার ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই অ্যাকশন! হুমায়ুনের সভা নিয়ে বড় পদক্ষেপ পুলিশের

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর কড়া বার্তার এক দিনের মধ্যেই হুমায়ুন কবীরের বিতর্কিত জনসভার তিন আয়োজককে গ্রেফতার করল পুলিশ। সোমবার গভীর রাতে দুই পৃথক অভিযানে মুর্শিদাবাদের রেজিনগর ও শক্তিপুর থানার পুলিশ গোলাম মোস্তাফা, মহম্মদ আমিনুল (আমিনুক) হক এবং আনিসুর রহমানকে আটক করে।

    রেজিনগর, শক্তিপুর থানায় অভিযোগ…

    পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, রেজিনগর থানায় দায়ের হওয়া মামলায় গ্রেফতার হয়েছেন গোলাম মোস্তাফা ও মহম্মদ আমিনুল হক। গোলাম আমজনতা উন্নয়ন পার্টি (এজেইউপি)-র কাশীপুর-২ অঞ্চলের সভাপতি। অন্যদিকে, শক্তিপুর থানার মামলায় ধরা পড়েছেন আনিসুর রহমান, যিনি এজেইউপির বেলডাঙা-২ ব্লকের আহ্বায়ক। সম্প্রতি রেজিনগর ও শক্তিপুরে আয়োজিত দুটি জনসভায় এজেইউপির বিধায়ক হুমায়ুন কবীরের বক্তব্য ঘিরে তীব্র বিতর্ক তৈরি হয়। অভিযোগ, তাঁর ভাষণে উস্কানিমূলক মন্তব্য ছিল। সেই অভিযোগের ভিত্তিতেই রেজিনগর ও শক্তিপুর থানায় পৃথক এফআইআর দায়ের করা হয়।

    সোমবারই বিধানসভায় হুঁশিয়ারি শুভেন্দুর

    এই ইস্যু সোমবার বিধানসভাতেও ওঠে। অধিবেশনে বক্তব্য রাখতে গিয়ে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী হুমায়ুনের মন্তব্যের তীব্র সমালোচনা করেন এবং স্পষ্ট জানান, আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তিনি বলেন, যাঁরা ওই সভার আয়োজন করেছিলেন, তাঁদের বিরুদ্ধেই আগে পদক্ষেপ করা হবে, তারপর প্রয়োজনীয় ক্ষেত্রে পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে। একই সঙ্গে তিনি মন্তব্য করেন, ‘‘এনাফ ইজ এনাফ। এ ধরনের আচরণের বিরুদ্ধে এবার কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার সময় এসেছে।’’ পাশাপাশি হুমায়ুন কবীরকে ভবিষ্যতে সংযত ভাষা ব্যবহারেরও পরামর্শ দেন তিনি।

    ‘স্যাঁটা’ শব্দটি নিয়েও আলোচনা শুরু

    বিধানসভায় মুখ্যমন্ত্রী রেজিনগরের সভায় হুমায়ুনের বক্তব্যের একটি অংশও পড়ে শোনান। তাঁর অভিযোগ, ওই ভাষণে রাজনৈতিক বিরোধীদের উদ্দেশে হুমকি ও সংঘাতমূলক ভাষা ব্যবহার করা হয়েছিল, যা কোনওভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। মুখ্যমন্ত্রী স্পষ্ট জানান, এমন বক্তব্য দেওয়ার অধিকার কাউকেই দেওয়া হয়নি এবং রাজ্যে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠায় সরকার কোনও রকম আপস করবে না। এদিকে, বিতর্কিত মন্তব্যে ব্যবহৃত ‘স্যাঁটা’ শব্দটি নিয়েও আলোচনা শুরু হয়েছে। ভাষাতত্ত্ববিদদের মতে, শব্দটির অর্থ অঞ্চলভেদে ভিন্ন। কোথাও এটি শিরদাঁড়া বোঝাতে ব্যবহৃত হয়, কোথাও আবার অবমাননাকর বা ঘৃণাসূচক অর্থে প্রচলিত। ফলে বক্তব্যের ব্যাখ্যা নিয়েও নানা মত উঠে এসেছে।

    কী প্রতিক্রিয়া হুমায়ুনের?

    অন্যদিকে, মুখ্যমন্ত্রীর বক্তব্যের পর নিজের অবস্থান স্পষ্ট করেন হুমায়ুন কবীর। তাঁর দাবি, তিনি মুখ্যমন্ত্রীকে লক্ষ্য করে কোনও মন্তব্য করেননি। হুমায়ুন জানান, এই বক্তব্যের জন্য যদি তাঁকে গ্রেফতারও করা হয়, তাতেও তিনি বিচলিত নন। তাঁর দাবি, মানুষের স্বার্থে লড়াই করেই তিনি নতুন রাজনৈতিক দল গড়েছেন এবং নির্বাচনে জয়লাভ করেছেন। তবে পুলিশ জানিয়েছে, দুই থানায় দায়ের হওয়া মামলার তদন্ত চলছে। তদন্তে উঠে আসা তথ্য ও প্রমাণের ভিত্তিতেই পরবর্তী আইনি পদক্ষেপ করা হবে।

  • Suvendu Adhikari: ‘লাগামছাড়া কথা বলতে দেবো না’, হুমায়ুনের বিরুদ্ধে ২টি এফআইআর, শেষ দেখার বার্তা মুখ্যমন্ত্রীর

    Suvendu Adhikari: ‘লাগামছাড়া কথা বলতে দেবো না’, হুমায়ুনের বিরুদ্ধে ২টি এফআইআর, শেষ দেখার বার্তা মুখ্যমন্ত্রীর

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: যথেষ্ট হয়েছে,আর নয়। হুমায়ুন কবীরের মতো লোকজনকে ‘শিক্ষা’ দেওয়ার সময় এসেছে। সোমবার বিধানসভায় দাঁড়িয়ে এ ভাবেই ভরতপুরের বিধায়ককে হুঁশিয়ারি দিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari)। রেজিনগর এবং শক্তিপুরে যে ভাষণ দিয়েছিলেন হুমায়ুন, তার পরিপ্রেক্ষিতে কোন কোন ধারায় এফআইআর রুজুর প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে, তা-ও জানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর মতে, নিজের ছেড়ে আসা রেজিনগর আসনে পুত্রকে উপনির্বাচনে প্রার্থী করে জিতিয়ে আনতে চান বলেই এ সব বলছেন হুমায়ুন। তবে এ ধরনের কথাবার্তা আর বলা যাবে না। হুমায়ুনকে ‘সংযত’ হতেও বলেন শুভেন্দু।

    ‘এনাফ ইজ এনাফ’

    প্রথমে বিধানসভায় হুমায়ুন কবীরের দুটো জায়গার অর্থাৎ গত ২৬ তারিখের কাশীপুরের রেজিনগরের বলা বক্তব্য ও ২৮ তারিখে শক্তিপুরের দুয়ারাঘাটের কর্মসূচির বক্তব্য পাঠ করে শোনান মুখ্যমন্ত্রী। তারপর বলেন, “এই দুটো ঘটনার পর মনে হয়েছে, এনাফ ইজ এনাফ। সময় এসেছে এই ধরনের লোককে শিক্ষা দেওয়ার। এখন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় মুখ্য়মন্ত্রী নন। আগে দুর্বল মুখ্যমন্ত্রী পেয়ে যা খুশি বলেছেন, যা খুশি করেছেন। এখন এসব চলবে না।” মুখ্যমন্ত্রী বিধানসভায় ঘটনার প্রসঙ্গ উত্থাপন করে বলেন, ভরতপুরের বিধায়ক হুমায়ুন কবীর দুটি জায়গায় অত্যন্ত আপত্তিজনক, সাম্প্রদায়িক সমাজ ও রাজ্যের জন্য ক্ষতিকারক বক্তব্য রেখেছেন। তাঁর সঙ্গে পরিষদীয় মন্ত্রী ড. শঙ্কর ঘোষ যোগাযোগ করেছিলেন।

    হুমায়ুন কবীরের বিরুদ্ধে কোন কোন ধারায় মামলা?

    মুখ্যমন্ত্রী জানান, ২ টো এফআইআর-এর ভিত্তিতে তদন্ত শুরু হয়েছে। রেজিনগরে কেস নম্বর ২১৯, ২২৬। ভারতীয় ন্যায় সংহিতার, ১৫২, ১৯২, ১৯৬, ১৯৭, ২২৪. ২৯৯,৩৫১ (২), ৩৫২, ৩৫৩ ধারায় হুমায়ুনের বিরুদ্ধে মামলা রুজু হয়েছে। দ্বিতীয় ঘটনাতেও শক্তিপুর থানায় ভারতীয় ন্যায় সংহিতার ১৭৬/২২৬ এ মামলা রুজু রয়েছে।

    কী বলেছিলেন হুমায়ুন কবীর?

    ২৬ জুন দুপুরে হুমায়ুন কবীর কাশীপুরের রেজিনগরে তাঁর দলীয় কর্মসূচিতে বলছেন, “অনামিকা ঘোষ ভোটে হেরে মনে করছেন আমি এমএলএ। এখানে ভোটে হেরে বিজেপি মনে করছে, আমি এমএলএ। এখানে এখন আস্ফালন করে বেরাচ্ছে। আমি শুভেন্দু অধিকারীকে বলেছি যে, আপনি ভোটে জিতেছেন, আপনার দল জিতেছে, ভালো কথা। কিন্তু মুর্শিদাবাদে আস্ফালনটা একটু কম করবেন। আমি যেদিন ময়দানে মুসলমানদের নিয়ে নেমে যাব না, সেদিন এমন স্যাটা ভাঙা মার শুরু করবে যে, আপনাদের পতাকা বহন করার লোক থাকবে না। আমাদের বহরমপুরে জেল খাটা আছে। ৫০০০ হাজার লোককে আপনি বহরমপুর সেন্ট্রাল জেলের যা আয়তন, তাতে ৪৭০০ বা ৪৮০০-র বেশি লোক ধরে না। লাখে লাখে লোক রাস্তায় নিয়ে নামাব। আর স্যাটা ভাঙা মার দেব আর জেলে যাব। ক’দিন জেলে আটকে রাখতে পারবেন?” শক্তিপুরের দুয়ারাঘাটে গত ২৮ তারিখে কথা বলার সময়ে বেশ কয়েকটি শব্দও প্রয়োগ করেছেন হুমায়ুন কবীর, যা অশ্রাব্য। তার ভিত্তিতেই পদক্ষেপ।

    কেন এই মন্তব্য হুমায়ুনের?

    মুখ্যমন্ত্রী স্পষ্ট জানিয়ে দেন, হুমায়ুন যে ভাষায় বক্তৃতা করেছেন, তা করার ক্ষমতা তাঁকে কেউ দেয়নি। তাঁর কথায়, ‘‘আপনাদের নিশ্চিত করছি, এত বড় ক্ষমতা (ওঁকে) কেউ দেয়নি।’’ কেন নওদার বিধায়ক এ সব বলছেন, তার কারণ ব্যাখ্যাও করেন শুভেন্দু। তাঁর কথায়, ‘‘কেন করছেন জানি, রাজনৈতিক কারণ জানি, দু’টি এজেন্ডা ছিল।’’ এর পরেই আরও বিশদে শুভেন্দু জানান, হুমায়ুনের প্রথম উদ্দেশ্য ছিল, ভরতপুর, রেজিনগর, নওদায় সব নির্বাচিত পঞ্চায়েত, তা সে যে দলেরই হোক, নিজের দলে নিয়ে যাওয়া। কিন্তু তিনি তা করতে পারছেন না। হুমায়ুনের দ্বিতীয় উদ্দেশ্য নিয়ে শুভেন্দু বলেন, ‘‘বিধানসভা ভোটে দু’টি আসনে জিতেছেন। নিয়ম মেনে রেজিনগর আসন ছেড়ে দিয়েছেন। আগামী ২-৩ মাসে সেখানে ভোট হবে। ওই আসনে আপনি আপনার ছেলেকে জেতাতে চাইছেন।’’ শুভেন্দুর কথায়, ‘‘ওই আসনে ৭২ শতাংশ মুসলিম রয়েছেন। মুসলিম ভোট কনসোলিডেট (ঐক্যবদ্ধ) করার জন্য আপনি এই খেলা খেলছেন।’’

    ভেবে কাজ করুন

    হুমায়ুনকে রীতিমতো হুঁশিয়ারি দিয়ে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “কান খুলে শুনে রাখুন, এইভাবে ধমক-হুমকি, বেপরোয়া, লাগামছাড়া কথা বলতে দেব না—দেব না—দেব না।” আর এক্ষেত্রে তিনি তিনটে উদাহরণও দেন। মুখ্যমন্ত্রীর কথায়, “সন্দেশখালিতে একজন ছিল, জীবনতলার গুন্ডা,আরেকজন পুষ্পা- এমন ঝুঁকেছেন, খালি পায়ে ছোট প্যান্ট পরে ওঠবোস করতে করতে যাচ্ছেন।” আগামী ১ সপ্তাহের মধ্যে মুখ্যমন্ত্রী মুর্শিদাবাদ যাচ্ছেন। তিনি জানিয়ে রাখলেন, আগে তিনি যাঁরা হুমায়ুনকে ওই সভায় ডেকেছিলেন, তাঁদের কাছে যাবেন। পরে হুমায়ুনের কাছে যাবেন। তিনি আবারও বলেন, “আইনের শাসন প্রতিষ্ঠিত হবে। গুন্ডাদের নয়।” শুভেন্দু বলেন, “এই ধরনের কথা বলার আগে এরপর থেকে ২৫ বার ভাবুন।”

    ঢোঁক গিললেন হুমায়ুন!

    শুভেন্দু বিধানসভায় বক্তব্য রাখার পরে এ দিন হুমায়ুন কবীর দাবি করেন, ‘আমি তো রাজ্য সরকারের বিরুদ্ধে কিছু বলিনি। আমি বিজেপিকে বলেছি। নবাগত বিজেপিরা আমার বাড়ির কাছে গিয়ে আমাকে আক্রমণ করেছে। আমি কী করব? রাজনৈতিক ভাবে আমি আক্রমণ করব না? কার কাছে উনি ক্ষমা চাইতে বলছেন, তা তিনি স্পষ্ট করুন। যদি সেটা বলার হয়, নিশ্চয়ই বলব।’ ওয়াকিবহাল মহলের মত, মুখ্যমন্ত্রীর কড়া হুঁশিয়ারিতে ততটা আস্ফালন আর দেখাতে পারছেন না হুমায়ুন কবীর, কিছুটা ভয় পেয়েই সুর নরম করেছেন।

  • WB Assembly Election 2026: ভোটগ্রহণের সময় গন্ডগোল করতে গুন্ডাবাহিনীকে মাঠে নামিয়েছিল তৃণমূল!

    WB Assembly Election 2026: ভোটগ্রহণের সময় গন্ডগোল করতে গুন্ডাবাহিনীকে মাঠে নামিয়েছিল তৃণমূল!

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন তৃণমূল কংগ্রেসের শাসনব্যবস্থা ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচন হারানোর আশঙ্কায় নড়বড়ে (Post Poll Violence) হয়ে পড়েছে। ফলস্বরূপ, প্রথম দফার ভোটগ্রহণের সময় বিশৃঙ্খলা ও সংঘাত সৃষ্টি করতে তারা তাদের গুন্ডাবাহিনীকে মাঠে (Post Poll Violence) নামিয়েছে। জানা গিয়েছে, গুন্ডাবাহিনীকে বিরত রাখতে এবং মমতা সরকারের পতন ঠেকাতে তৃণমূলের দুষ্কৃতীরা হিংসা ও ভয় দেখানোর পথ অবলম্বন করেছে (WB Assembly Election 2026)। সংবাদ মাধ্যমে এমন ৯টি ঘটনার উল্লেখ করা হয়েছে, যা বৃহস্পতিবার ঘটেছে (WB Assembly Election 2026)।

    ভোটারদের প্রভাবিত করার চেষ্টা (WB Assembly Election 2026)

    এদিকে, পূর্ব মেদিনীপুর জেলার ময়না বিধানসভা কেন্দ্রে তৃণমূল প্রার্থী চন্দন মণ্ডলকে ভোটারদের প্রভাবিত করার চেষ্টা করতে দেখা গিয়েছে। জনতা প্রতিবাদ জানিয়ে স্লোগান দেন, তাকে তাড়িয়ে দেয়। রিপোর্ট অনুযায়ী, রানিনগর বিধানসভা কেন্দ্রের ৫৪ নম্বর বুথে তৃণমূলের দুষ্কৃতীরা ভোটারদের ভোট দিতে বাধা দেয়। অভিযোগের পর পুলিশ ও নিরাপত্তা বাহিনী ক্ষুব্ধ ভোটারদের সঙ্গে কথা বলে তাদের ভোটকেন্দ্রে নিয়ে যায়। প্রথম দফার ভোটের সময় তৃণমূলের তরফে দুষ্কৃতীরা কুমারগঞ্জ বিধানসভা কেন্দ্রে বিজেপি প্রার্থীকে হেনস্থা করে। ভাইরাল হওয়া ভিডিওতে দেখা গিয়েছে, পুলিশের উপস্থিতিতেই তারা (Post Poll Violence) করছে। দোষীরা পালানোর চেষ্টা করলেও, পুলিশ হামলাকারীদের থামাতে কিছুই করেনি বলে অভিযোগ।

    বিজেপির পোলিং এজেন্টকে বুথে ঢুকতে বাধা

    একই কেন্দ্রে তৃণমূলের দুষ্কৃতীরা বিজেপির পোলিং এজেন্টকে বুথে ঢুকতে বাধা দেয়। পরে বিজেপি কর্মীরা তাদের তাড়িয়ে দেন। নিজেদের শক্তি প্রদর্শন এবং ভোটারদের ভয় দেখানোর উদ্দেশ্যে তৃণমূলের দুষ্কৃতীরা (WB Assembly Election 2026) মুর্শিদাবাদের রাস্তায় নেমে গিয়ে যান চলাচল ব্যাহত করে। পুলিশ বাধা দেওয়ার চেষ্টা করলেও, তারা তৃণমূলের পতাকা নিয়ে বিশৃঙ্খলা চালিয়ে যায় বলে অভিযোগ (WB Assembly Election 2026)। এদিকে, মুর্শিদাবাদের নওদা বিধানসভা কেন্দ্রে তৃণমূল কংগ্রেসের সদস্যদের সঙ্গে প্রাক্তন তৃণমূল বিধায়ক হুমায়ুন কবীরের সমর্থকদের মধ্যে (Post Poll Violence) সংঘর্ষ হয়। কবীর, যিনি আম জনতা উন্নয়ন পার্টির নেতা, তাঁকে তৃণমূল কর্মীরা প্রচারে বাধা দেয় বলে অভিযোগ। এর ফলে দু’পক্ষের মধ্যে লাঠি ও পাথর নিয়ে তীব্র সংঘর্ষ হয়। একটি ভিডিওতে হুমায়ুন কবীরকে তৃণমূল কর্মীদের উদ্দেশ্যে অশ্রাব্য ভাষা ব্যবহার করতে এবং হুমকি দিতে শোনা যায়।

    লুঙ্গি বাহিনীর তাণ্ডব

    বৃহস্পতিবার (২৩শে এপ্রিল) মমতা সরকারের তথাকথিত ‘লুঙ্গি বাহিনী’ পশ্চিমবঙ্গ পুলিশ ও কেন্দ্রীয় সশস্ত্র পুলিশ বাহিনীর ওপর হামলা চালায়। ঘটনাটি ঘটে বীরভূম জেলার দুবরাজপুর বিধানসভা কেন্দ্রে। ভিডিওতে দেখা গিয়েছে, জনতা ইট-পাথর ছুড়ছে এবং নিরাপত্তা বাহিনী আশ্রয় নিতে বাধ্য হচ্ছে (Post Poll Violence)। তারা একটি পুলিশের গাড়ির কাচও ভাঙচুর করে (WB Assembly Election 2026)। সোশ্যাল মিডিয়ায় প্রকাশিত আর একটি ভিডিওতে দেখা যায়, বীরভূম জেলার লাভপুর বিধানসভা কেন্দ্রে তৃণমূলের দুষ্কৃতীরা (WB Assembly Election 2026) বিজেপি প্রার্থীর গাড়ি ঘিরে ফেলে এবং লাথি-ঘুষি মারে। উত্তেজিত জনতা গাড়ির পেছনের কাচ ভেঙে দেয়, আর পুলিশ তাদের নিয়ন্ত্রণ করতে ব্যর্থ হয়।

    বিজেপির পোলিং এজেন্টকে আক্রমণ

    পরে জানা গিয়েছে, তৃণমূলের দুষ্কৃতীরা বিজেপির এক পোলিং এজেন্টকে মারাত্মকভাবে আক্রমণ করে রক্তাক্ত অবস্থায় ফেলে রাখে। কোচবিহারের তুফানগঞ্জ কেন্দ্রে বুথ দখলের খবরও সামনে আসে। কেন্দ্রীয় বাহিনী দ্রুত ব্যবস্থা নিয়ে তাদের পরিকল্পনা ব্যর্থ করে দেয় এবং তাড়িয়ে দেয়। ঘটনাটির ভিডিও ভাইরাল হয়েছে। এদিকে, বৃহস্পতিবার পশ্চিমবঙ্গের আসানসোল শহরে বিজেপি (WB Assembly Election 2026) প্রার্থী অগ্নিমিত্রা পালের গাড়িতে হামলা চালায় তৃণমূলের দুষ্কৃতীরা। তারা তাঁর গাড়িতে ইট-পাথর ছুড়ে গুরুতরভাবে আঘাত করার চেষ্টা করে। তবে বিজেপি নেত্রী অক্ষত অবস্থায় পালাতে সক্ষম হন (WB Assembly Election 2026)। পরে পুলিশে অভিযোগ দায়ের করা হয় এবং তদন্ত শুরু হয়।

    মমতা সরকার এবং তাদের তথাকথিত ‘লুঙ্গি বাহিনী’ ভোটারদের ভয় দেখানো, প্রভাবিত করা এবং হিংসার মাধ্যমে দমিয়ে রাখার চেষ্টা করলেও পশ্চিমবঙ্গের মানুষ বিপুল সংখ্যায় ভোট দিতে এগিয়ে আসেন এবং তাঁদের গণতান্ত্রিক অধিকার প্রয়োগ করেন।

     

  • Amit Shah: “পশ্চিমবঙ্গে যারা বাবরি মসজিদ করতে চাইছে, তাদের সঙ্গে জোট করে না বিজেপি”, সাফ জানালেন শাহ

    Amit Shah: “পশ্চিমবঙ্গে যারা বাবরি মসজিদ করতে চাইছে, তাদের সঙ্গে জোট করে না বিজেপি”, সাফ জানালেন শাহ

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: “পশ্চিমবঙ্গে বাবরি মসজিদের (Babri Masjid) ধাঁচে কোনও কাঠামো নির্মাণে যুক্ত ব্যক্তিদের সঙ্গে জোট করার চেয়ে বিজেপি আগামী ২০ বছর বিরোধী আসনে বসতেই বেশি পছন্দ করবে।” শুক্রবার সাফ জানিয়ে দিলেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ (Amit Shah)। তৃণমূল বিধায়ক হুমায়ুন কবীরকে ঘিরে একটি স্টিং অপারেশন সংক্রান্ত প্রশ্নের জবাবে কথাগুলি বলেন তিনি।

    স্টিং ভিডিও (Amit Shah)

    গত বছর অযোধ্যার বাবরি মসজিদের আদলে পশ্চিমবঙ্গে একটি মসজিদ নির্মাণের চেষ্টা করতে গিয়ে চর্চায় চলে আসেন হুমায়ুন। চলতি মাসেই রয়েছে পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভার নির্বাচন। তার কয়েক সপ্তাহ আগে, একটি স্টিং ভিডিও অনলাইনে প্রকাশিত হয়েছে, যেখানে হুমায়ুনকে বলতে শোনা যায়, বিজেপির শীর্ষ নেতাদের সঙ্গে যোগাযোগ রয়েছে তাঁর। তৃণমূলকে হারানোর জন্য ১,০০০ কোটি টাকার একটি চুক্তির কথাও উল্লেখ করেছেন তিনি। ভিডিওটির সত্যতা যাচাই করেনি মাধ্যম। হুমায়ুনের এহেন দাবিকে প্রচারের হাতিয়ার করে ইতিমধ্যেই মাঠে নেমে পড়েছে তৃণমূল এবং কংগ্রেস। যদিও হুমায়ুন এবং বিজেপি সাফ জানিয়ে দিয়েছে, ভাইরাল হওয়া ভিডিওটি ভুয়ো, এটি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) দিয়ে তৈরি করা হয়েছে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে (Amit Shah)।

    কী বললেন শাহ?

    এই বিতর্কের জবাবে শাহ বলেন, “পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এমন হাজার হাজার ভিডিও তৈরি করতে পারেন।”  তিনি জোর দিয়ে বলেন, “বিজেপি ও কবীরের লক্ষ্য সম্পূর্ণ আলাদা।” তিনি তাঁদের পার্থক্যকে উত্তর ও দক্ষিণ মেরুর সঙ্গে তুলনা করে বলেন, “বিজেপি কখনওই তাঁকে (হুমায়ুন) সহযোগিতা করবে না (Babri Masjid)।” উল্লেখ্য, এর আগে, বিজেপির প্রাক্তন রাজ্য সভাপতি দিলীপ ঘোষ হুমায়ুনকে কটাক্ষ করে বলেছিলেন, “তিনি ১০০ কোটি টাকারও যোগ্য নন, ১,০০০ কোটি তো দূরের কথা (Amit Shah)!”

    অভিযোগ অস্বীকার হুমায়ুনের

    হুমায়ুনও এই অভিযোগ অস্বীকার করে দাবি করেন, ভিডিওটি তাঁর বদনাম করতে এআই ব্যবহার করে তৈরি করা হয়েছে। তিনি তৃণমূল কংগ্রেসের বিরুদ্ধে মুসলিম ভোট হারানোর ভয়ে তাঁর ভাবমূর্তি নষ্ট করার চেষ্টা করার অভিযোগও আনেন। স্পষ্ট করে জানিয়ে দেন, প্রমাণ না দিলে আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হবে (Babri Masjid)। তাঁর ব্যাখ্যা সত্ত্বেও অব্যাহত রয়েছে বিতর্ক। অল ইন্ডিয়া মজলিশ-ই-ইত্তেহাদুল মুসলিমিন (AIMIM), যারা হুমায়ুনের দলকে সমর্থন করেছিল, তারাও জানিয়ে দিয়েছে ‘আম জনতা উন্নয়ন পার্টি’র সঙ্গে তাদের জোট ভেঙে দেওয়া হয়েছে (Amit Shah)।

  • Humayun Kabir: ২০০টি আসনে প্রার্থী দেওয়া লক্ষ্য! মুর্শিদাবাদে ‘বাবরি মসজিদ’ বিতর্কের পর নতুন দল গড়লেন হুমায়ুন কবীর

    Humayun Kabir: ২০০টি আসনে প্রার্থী দেওয়া লক্ষ্য! মুর্শিদাবাদে ‘বাবরি মসজিদ’ বিতর্কের পর নতুন দল গড়লেন হুমায়ুন কবীর

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: বছর ঘুরলেই রাজ্যে বিধানসভা নির্বাচন। তার আগে সোমবার বহিষ্কৃত তৃণমূল কংগ্রেস (TMC) বিধায়ক হুমায়ুন কবীর আনুষ্ঠানিকভাবে তাঁর নতুন রাজনৈতিক দল জনতা উন্নয়ন পার্টি (JUP)-র সূচনা করলেন। ২০২৫ সালের ২২ ডিসেম্বর মুর্শিদাবাদের বেলডাঙায় এক জনসভায় দলের পতাকা উন্মোচন করে তিনি জানান, ২০২৬ সালের পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনে দলটি অংশ নেবে। সভায় হুমায়ুন কবীর (Humayun Kabir) বলেন, তিনি সর্বোচ্চ ২০০টি আসনে প্রার্থী দেওয়ার লক্ষ্য নিয়েছেন এবং নির্বাচনের পরে নিজেকে সম্ভাব্য ‘কিংমেকার’ হিসেবে প্রতিষ্ঠা করতে চান। তিনি আরও জানান, সাধারণ মানুষ ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর সমস্যা নিয়ে রাজনীতি করাই তাঁর দলের মূল উদ্দেশ্য।

    ২টি আসন থেকে লড়াই করবেন হুমায়ুন

    নতুন দল তৈরির দিনই বেশ কয়েকটি আসনে প্রার্থীর নামও ঘোষণা করে দিলেন হুমায়ুন কবীর। নিজে বিধানসভা নির্বাচনে ২টি আসন থেকে লড়াই করবেন হুমায়ুন। প্রসঙ্গত, চলতি মাসের শুরুতেই তৃণমূল কংগ্রেস থেকে হুমায়ুন কবীরকে (Humayun Kabir) বহিষ্কার করা হয়। ১১ ডিসেম্বর মুর্শিদাবাদে একটি ‘বাবরি মসজিদ’-এর ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপনের সিদ্ধান্তকে ঘিরে তৈরি হওয়া বিতর্কের জেরেই এই পদক্ষেপ বলে জানা যায়। নতুন দলের ঘোষণা মঞ্চ থেকেই হুমায়ুন কবীর তৃণমূল নেতৃত্ব, বিশেষ করে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সমালোচনা করেন। পাশাপাশি তিনি জানান, বিরোধী দলগুলির সঙ্গে জোটের সম্ভাবনাও তিনি খোলা রাখছেন। সূত্রের খবর, হুমায়ুন কবীর নিজে রেজিনগর ও বেলডাঙা বিধানসভা কেন্দ্র থেকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে ইচ্ছুক।

    কোন কোন কেন্দ্রে প্রার্থী, ব্রিগেডের ডাক

    সোমবার দুপুর ১টায় নিজের রাজনৈতিক দলের নাম এবং রাজ্য কমিটি ঘোষণা করেন তৃণমূল থেকে বহিষ্কৃত বিধায়ক হুমায়ুন কবীর। প্রকাশ করা হয় দলের পতাকাও। দলের পতাকায় রয়েছে তিনটি রং— হলুদ, সবুজ এবং সাদা। দলের সভাপতির নামও ঘোষণা করেন হুমায়ুন কবীর (Humayun Kabir)। জানান আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনে তাঁর দলের প্রথম প্রার্থীর নামও। হাজী ইবরার হোসেনকে পশ্চিম মেদিনীপুর জেলার জনতা উন্নয়ন পার্টির সভাপতি পদে নির্বাচিত করা হয়েছে। তাঁকেই খড়গপুর গ্রামীণ বিধানসভা কেন্দ্রের প্রার্থী ঘোষণা করেন হুমায়ুন কবীর। মালদার বৈষ্ণবনগরের প্রার্থী হচ্ছেন মুস্তারা বিবি। মুর্শিদাবাদ কেন্দ্রের প্রার্থী করা হচ্ছে মনীষা পাণ্ডেকে। এরআগে মনীষা পাণ্ডে ছিলেন তৃণমূলের নেত্রী। ভগবানগোলায় লড়বেন আর এক হুমায়ুন কবীর। তিনি পেশায় ব্যবসায়ী। রানিনগর থেকে যিনি লড়বেন, তাঁর নামও হুমায়ুন কবীর। দক্ষিণ দিনাজপুরের ধনিরাম বিধানসভার প্রার্থীর নাম ডঃ ওয়েদুল রহমান। কলকাতার বালিগঞ্জ বিধানসভা, যেখানে উপনির্বাচনে বাবুল সুপ্রিয় তৃণমূলের টিকিটে জয়ী হয়েছিলেন, সেই কেন্দ্র থেকে জনতা উন্নয়ন পার্টির প্রতীকে লড়াই করবেন নিশা চট্টোপাধ্যায়। ইছাপুরের প্রার্থীর নাম সিরাজুল মন্ডল। অর্থাৎ শুধু মালদা-মুর্শিদাবাদে সীমাবদ্ধ থাকছেন না হুমায়ুন। বালিগঞ্জ, ইছাপুরের মতো কেন্দ্রেও ‘জনতা উন্নয়ন পার্টি’র প্রার্থীর নামও ঘোষণা করা দিলেন। সেইসঙ্গে ইস্তেহার প্রকাশ করেন। হুমায়ুন দাবি করেছেন, ৯০ আসন জিততে পারলে তাঁর দল রাজ্যে সরকার গঠনের কাণ্ডারি হবে ৷ পাশাপাশি এদিন মঞ্চ থেকে হুমায়ুন জানিয়ে দেন আগামী জানুয়ারি মাসে ব্রিগেডে সভা করবেন তিনি।

LinkedIn
Share