Tag: IMD

IMD

  • El Nino: তৈরি ‘এল নিনো’, শক্তিশালী হয়ে উঠছে উষ্ণ বায়ুর প্রভাব! ভারতের বর্ষা মঙ্গলে অশনি সংকেত

    El Nino: তৈরি ‘এল নিনো’, শক্তিশালী হয়ে উঠছে উষ্ণ বায়ুর প্রভাব! ভারতের বর্ষা মঙ্গলে অশনি সংকেত

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: সামনেই বর্ষা। তার আগে এক বড় আশঙ্কার কথা শোনাল ভারতের আবহাওয়া দফতর (IMD)। প্রশান্ত মহাসাগরে ‘এল নিনো’ (El Nino) পরিস্থিতি সক্রিয় হয়ে উঠেছে বলে নিশ্চিত করেছেন আবহাওয়াবিদরা। শুধু তাই নয়, সতর্কবার্তা দিয়ে জানানো হয়েছে যে, চলতি বছর বর্ষার মরশুম (Weather Update) যত এগোবে, এটি আরও বেশি শক্তিশালী ও দাপুটে হয়ে ওঠার প্রবল সম্ভাবনা রয়েছে। এই আবহাওয়া পরিস্থিতির জেরে ভারতে বর্ষার মানচিত্র পুরো বদলে যেতে পারে। এর জেরে বিলম্বিত বর্ষা থেকে, কম বৃষ্টিপাত ও অসময়ে অতিবৃষ্টির সঙ্কট তৈরি হতে পারে। সেই সঙ্গে প্রাণান্তকর গরমে ছটফট করতে পারে মানুষ।

    ভারতে বর্ষার উপর এল-নিনো-র প্রভাব

    দেশে বর্ষার উপর বড় প্রভাব ফেলতে পারে এমন একটি গুরুত্বপূর্ণ আবহাওয়াগত পরিবর্তনের কথা জানাল ভারতীয় আবহাওয়া দফতর (IMD)। আইএমডি-র বুলেটিন অনুযায়ী, মধ্য ও পূর্ব প্রশান্ত মহাসাগরের জলপৃষ্ঠের তাপমাত্রা (Sea Surface Temperatures) স্বাভাবিকের চেয়ে বৃদ্ধি পেয়ে ‘এল নিনো’ সক্রিয় হওয়ার নির্দিষ্ট সীমারেখা অতিক্রম করে গিয়েছে। সবচেয়ে উদ্বেগের বিষয় হল, সমুদ্রপৃষ্ঠের এই উষ্ণায়নের সঙ্গে সঙ্গে বায়ুমণ্ডলও সমান্তরালভাবে সাড়া দিতে শুরু করেছে। এর অর্থ, সমুদ্র ও বায়ুমণ্ডলের এই যৌথ বা কাপল্ড সিস্টেমটি এখন সম্পূর্ণভাবে ‘এল নিনো’র গ্রাসে চলে গিয়েছে। বুলেটিন অনুযায়ী, নিরক্ষীয় প্রশান্ত মহাসাগরে আনুষ্ঠানিকভাবে এল নিনো (El Nino) পরিস্থিতির সূচনা হয়েছে। শুধু তাই নয়, চলতি দক্ষিণ-পশ্চিম মৌসুমি বায়ুর মরশুমে এই এল নিনো আরও শক্তিশালী হওয়ার সম্ভাবনাও রয়েছে।

    আরও শক্তিশালী হবে ‘এল নিনো’

    মৌসম ভবনের বুলেটিনে স্পষ্ট বলা হয়েছে, বর্তমানে নিরক্ষীয় প্রশান্ত মহাসাগরে ‘এল নিনো’ পরিস্থিতি বিরাজ করছে এবং দক্ষিণ-পশ্চিম মৌসুমি বায়ুর মরশুমে এটি আরও শক্তিশালী রূপ ধারণ করতে পারে। পূর্বাভাস অনুযায়ী, আগামী মাসগুলিতে ‘এল নিনো’র তীব্রতা উত্তরোত্তর বৃদ্ধি পাবে। আবহাওয়া দফতর জানিয়েছে, জুন ২০২৬-এ মধ্য প্রশান্ত মহাসাগরের তাপমাত্রা ‘এল নিনো’র জন্য নির্ধারিত মাত্রা ছাড়িয়ে গিয়েছে। এই পরিস্থিতি পরিমাপের অন্যতম প্রধান সূচক তথা ‘নিনো ৩.৪ ইনডেক্স’ (Niño 3.4 index)-এর গত তিন মাসের গড় তাপমাত্রা +০.৫ ডিগ্রি সেলসিয়াসের ওপরে চলে গিয়েছে, যা ‘এল নিনো’র আনুষ্ঠানিক আগমনকে সিলমোহর দেয়। এ ছাড়াও, প্রশান্ত মহাসাগরের তলদেশেও তাপমাত্রার ব্যাপক অসঙ্গতি বা উষ্ণতা লক্ষ্য করা গেছে, যার অর্থ গভীরের এই গরম জল আগামী দিনগুলিতে অনবরত সমুদ্রপৃষ্ঠে উঠে এসে ‘এল নিনো’কে আরও বেশি শক্তিশালী করে তুলবে।

    দেশে বর্ষার উপর কী প্রভাব?

    সাধারণত ‘এল নিনো’ হল একটি প্রাকৃতিক জলবায়ু চক্র, যা প্রশান্ত মহাসাগরের জলপৃষ্ঠের অতিরিক্ত উষ্ণায়নের সঙ্গে সম্পর্কিত। ভারতের আবহাওয়ার ইতিহাসে এই ‘এল নিনো’র রেকর্ড মোটেও ভাল নয়। ঐতিহাসিকভাবে, ‘এল নিনো’ সক্রিয় থাকলে ভারতে বর্ষার বৃষ্টিপাত স্বাভাবিকের চেয়ে অনেকটাই কমে যায়। এর ফলে দেশের একাধিক রাজ্যে তীব্র দাবদাহ, দীর্ঘস্থায়ী শুষ্ক মরশুম এবং ক্ষেত্রবিশেষে ভয়াবহ খরার (Drought) ঝুঁকি মারাত্মকভাবে বেড়ে যায়। তবে আইএমডি জোর দিয়ে বলেছে যে, ভারতের বর্ষা কেবল ‘এল নিনো’র ওপর নির্ভর করে না, অন্যান্য অনেক আঞ্চলিক উপাদানও এর সঙ্গে জড়িত।

    ‘এল নিনো’ কী?

    সাধারণত প্রশান্ত মহাসাগরের পূর্ব থেকে পশ্চিমে বয়ে চলা হাওয়া গরম জলকে ইন্দোনেশিয়া ও অস্ট্রেলিয়ার দিকে ঠেলে দেয়। কিন্তু কয়েক বছর পরপর এই হাওয়া দুর্বল হয়ে পড়লে গরম জল উল্টো অভিমুখে, অর্থাৎ দক্ষিণ আমেরিকার উপকূলের দিকে চলে যায়। প্রশান্ত মহাসাগরের এই অস্বাভাবিক উষ্ণ হয়ে ওঠার চেনা নামই হল ‘এল নিনো’। গ্রীষ্মকালে ভারতের ভূখণ্ড প্রচণ্ড উত্তপ্ত হলে ভারত মহাসাগর থেকে জলীয় বাষ্পপূর্ণ বাতাস দেশের দিকে ছুটে আসে, যা বর্ষা ডেকে আনে। কিন্তু এল নিনো এই বাতাসের গতিপথকে ভারত থেকে দূরে, প্রশান্ত মহাসাগরের দিকে ঘুরিয়ে দেয়। ফলে মেঘ ও বৃষ্টির চাকা থমকে যায়। তথ্য বলছে, ১৯৫১ থেকে ২০২২ সালের মধ্যে হওয়া প্রায় ৬০ শতাংশ এল নিনোর বছরগুলিতেই ভারতে গড় বৃষ্টিপাতের পরিমাণ বেশ কমে গিয়েছিল।

    ভারতের নিজস্ব ‘রক্ষাকবচ’

    এল নিনো এলেই যে খরা হবে, তা নয়। অনেক সময় ভারতের ত্রাতা হয়ে ওঠে ভারত মহাসাগর নিজেই। একে বলা হয় ‘ইন্ডিয়ান ওশেন ডাইপোল’ বা আইওডি (IOD)।

    • পজিটিভ আইওডি : যখন পূর্ব আফ্রিকার উপকূলবর্তী পশ্চিম ভারত মহাসাগর উত্তপ্ত হয় এবং ইন্দোনেশিয়ার দিকের পূর্ব অংশ শীতল থাকে। এই পরিস্থিতি এল নিনোর নেতিবাচক প্রভাবকে রুখে দিয়ে ভারতে বাড়তি বৃষ্টির জোগান দেয়।
    • নেগেটিভ আইওডি: এর উল্টো পরিস্থিতি বর্ষাকে আরও দুর্বল করে। ২০০২ এবং ২০১৫ সালের মতো এল নিনো ও নেগেটিভ আইওডির যুগলবন্দি ভারতের জন্য সবচেয়ে ভয়াবহ খরা ডেকে এনেছিল।
    • নিরপেক্ষ আইওডি: আবহাওয়া দফতরের তথ্য অনুযায়ী, এই মুহূর্তে ভারত মহাসাগরে ‘ইন্ডিয়ান ওশান ডাইপোল’ বা আইওডি (IOD) পরিস্থিতি সম্পূর্ণ ‘নিরপেক্ষ’ বা নিউট্রাল অবস্থায় রয়েছে। বর্ষা জুড়েই এই পরিস্থিতি বজায় থাকার সম্ভাবনা। নিরপেক্ষ আইওডি থাকার অর্থ হল – এটি এবার ‘এল নিনো’র ক্ষতিকারক প্রভাবকে কমাতেও পারবে না, আবার বাড়িয়ে তুলতেও ভূমিকা নেবে না।
  • Southwest Monsoon: তীব্র গরমের মধ্যে বর্ষার আগমন, তিন দিন বিলম্বে কেরলে প্রবেশ করল দক্ষিণ-পশ্চিম মৌসুমি বায়ু

    Southwest Monsoon: তীব্র গরমের মধ্যে বর্ষার আগমন, তিন দিন বিলম্বে কেরলে প্রবেশ করল দক্ষিণ-পশ্চিম মৌসুমি বায়ু

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: নির্ধারিত সময়ের চেয়ে তিন দিন পিছিয়ে অবশেষে ভারতের মূল ভূখণ্ডে প্রবেশ করল দক্ষিণ-পশ্চিম মৌসুমি বায়ু (Southwest Monsoon)। আবহাওয়া দফতরের (IMD) পূর্বাভাস অনুযায়ী, সাধারণত ১ জুন কেরলে বর্ষা প্রবেশ করার কথা থাকলেও, এবার তা ৪ জুন আনুষ্ঠানিকভাবে কেরল উপকূলে এসে পৌঁছেছে।

    আবহাওয়া দফতরের (IMD) পর্যবেক্ষণ ও পরিমাপ

    একটি নির্দিষ্ট অঞ্চলে বর্ষা এসেছে কি না, তা নির্ধারণের জন্য আবহাওয়া দফতরের কিছু সুনির্দিষ্ট বৈজ্ঞানিক মাপকাঠি রয়েছে। কেরলের ক্ষেত্রে নিম্নলিখিত শর্তগুলি পূরণ হওয়ায় বর্ষা (Southwest Monsoon) আগমনের আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেওয়া হয়েছে। তার মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ হল-

    • বৃষ্টিপাতের বিস্তৃতি: কেরল এবং লাক্ষাদ্বীপের মোট ১৪টি আবহাওয়া পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রের মধ্যে অন্তত ৬০ শতাংশ কেন্দ্রে টানা দু’দিন ২.৫ মিলিমিটার বা তার বেশি বৃষ্টিপাত (Southwest Monsoon) নথিভুক্ত হয়েছে।
    • বায়ুর গতিপ্রকৃতি: পশ্চিমী বায়ুর গতিবেগ ভূপৃষ্ঠ থেকে নিম্ন-বায়ুমণ্ডল (প্রায় ৪.৫ কিলোমিটার উচ্চতা) পর্যন্ত উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে।
    • মেঘের ঘনত্ব: উপগ্রহ চিত্রে আরব সাগর এবং কেরল উপকূল সংলগ্ন এলাকায় গভীর মেঘমালার উপস্থিতি ও নিম্নমুখী বিকিরণের (Outgoing Longwave Radiation) মাত্রা উপযুক্ত পর্যায়ে রয়েছে।

    বিলম্বের কারণ ও আগামী পূর্বাভাস

    আবহাওয়া বিজ্ঞানীদের (IMD) মতে, সম্প্রতি দক্ষিণ-পূর্ব (Southwest Monsoon) আরব সাগরে সৃষ্ট নিম্নচাপ এবং পরবর্তী সামুদ্রিক পরিস্থিতির কারণে মৌসুমি বায়ুর মূল স্রোতটি কিছুটা বাধাগ্রস্ত হয়েছিল, যার ফলে এই তিন দিনের বিলম্ব।

    দেশজুড়ে অগ্রগতির সম্ভাবনা

    দক্ষিণে বর্ষা প্রবেশ করলেও দেশের মধ্য ও উত্তর ভাগে বর্ষা পৌঁছোতে আরও কিছুটা সময় লাগে। দক্ষিণ-পশ্চিম মৌসুমি বায়ু ধীরে ধীরে উত্তরে এগোয়। দিল্লিতে ২৭ জুনের আগে বর্ষা প্রবেশ করে না। পঞ্জাব, হরিয়ানা, উত্তরপ্রদেশ, রাজস্থানের মতো রাজ্যে বর্ষা সাধারণত জুনের শেষে কিংবা জুলাইয়ের শুরুতে প্রবেশ করে।

    আবহাওয়া দফতর (IMD)  আশ্বস্ত করেছে যে, দেরিতে এলেও বর্তমানে মৌসুমি বায়ু (Southwest Monsoon) বেশ শক্তিশালী। আগামী ৩-৪ দিনের মধ্যে এটি সমগ্র কেরল, তামিলনাড়ুর কিছু অংশ এবং উত্তর-পূর্ব ভারতের রাজ্যগুলিতে স্বাভাবিক নিয়মে অগ্রসর হবে।

    কৃষি ও অর্থনীতির ওপর প্রভাব

    ভারতে কৃষিকাজ এবং সার্বিক অর্থনীতির জন্য এই দক্ষিণ-পশ্চিম মৌসুমি বায়ু (Southwest Monsoon) অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বিলম্ব হলেও বর্ষার এই আগমন তীব্র দাবদাহে পুড়তে থাকা উত্তর ও মধ্য ভারতের রাজ্যগুলির জন্য স্বস্তির বার্তা নিয়ে আসবে বলে আশা করা হচ্ছে।

  • Weather Update: গরমে নাজেহাল! সময়ের আগেই বর্ষা ঢুকছে দেশে, বাংলায় কবে? দিনক্ষণ জানাল হাওয়া অফিস

    Weather Update: গরমে নাজেহাল! সময়ের আগেই বর্ষা ঢুকছে দেশে, বাংলায় কবে? দিনক্ষণ জানাল হাওয়া অফিস

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: প্যাচপ্যেচে গরমে (Weather Update) নাজেহাল বাঙালি। শহরে আর্দ্রতাজনিত অস্বস্তি চরমে উঠেছে। তবে শুধু বাংলা নয়, সূর্যের তাপে মোটামুটি পুড়ছে ভারতের একটা বড় অংশ। ভারতীয় আবহাওয়া দফতর (IMD) রাজধানীতে বারবার তাপপ্রবাহের সতর্কতা জারি করছে। একইভাবে রাজস্থান, পাঞ্জাব, হরিয়ানা এবং হিমাচল প্রদেশও তীব্র গরমে পুড়ছে। উত্তর-পশ্চিম দিক থেকে আসা শুষ্ক ও গরম বাতাস এই পরিস্থিতিকে আরও ভয়াবহ করে তুলেছে। এই সময়ই সুখবর দিল হাওয়া অফিস। ভারতীয় আবহাওয়া দফতর জানিয়েছে, চলতি বছর সময়ের আগেই প্রবেশ করছে বর্ষা (Monsoon Forecast 2026)। ভারতের মূল ভূখণ্ড কেরলে ২৬ মে ঢুকে যেতে পারে বর্ষা।

    দেশে কবে বর্ষার প্রবেশ

    এবছর ১৬ মে আন্দামান নিকোবর দ্বীপপুঞ্জে ঢুকেছিল বর্ষা ৷ আগামী ৩-৪ দিনের মধ্যে মৌসুমী বায়ু দক্ষিণ-পূর্ব আরব সাগরের কিছু অংশে ঢুকে পড়বে। অগ্রগতি হতে পারে কোমোরিন এলাকাতে। দক্ষিণপূর্ব ও দক্ষিণ-পশ্চিম বঙ্গোপসাগরের বাকি এলাকা এবং পূর্ব মধ্য বঙ্গোপসাগরের এলাকাতে ঢুকবে দক্ষিণ পশ্চিম মৌসুমি বায়ু। হাওয়া অফিস সূত্রের খবর, ভারতের দক্ষিণ-পশ্চিম মৌসুমি বায়ু, যা দেশের প্রায় ৭০ শতাংশ বার্ষিক বৃষ্টিপাত নিয়ে আসে, তা স্বাভাবিক সময়ের তুলনায় প্রায় এক সপ্তাহ আগেই প্রবেশ করছে। আরও নির্দিষ্ট করে বললে, ২৬ মে নাগাদ কেরল উপকূলে পৌঁছাতে পারে বর্ষা। আর মৌসমি বায়ু দেশে প্রবেশের স্বাভাবিক সময় হল ১ জুন।

    বাংলায় কবে আসছেন বর্ষারানি

    কেরলে বর্ষার আগাম আগমন মানেই যে সারা দেশে দ্রুত বা বেশি বৃষ্টি হবে, এমনটা বলা যায় না। পশ্চিমবঙ্গে বর্ষা সাধারণত উত্তর-পূর্ব ভারতের দিক দিয়ে প্রবেশ করে। আলিপুর আবহাওয়া দপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, উত্তরবঙ্গে বর্ষা ঢুকতে ৫ জুনের কাছাকাছি সময় লাগে এবং দক্ষিণবঙ্গে বর্ষার প্রথম বৃষ্টি পৌঁছাতে প্রায় ১০ জুন পর্যন্ত সময় গড়ায়। বাংলায় বর্ষা প্রবেশ না করলেও উত্তরবঙ্গে প্রাক বর্ষার বৃষ্টি শুরু হয়েছে। বজ্রবিদ্যুৎ-সহ ঝড়বৃষ্টি হবে উত্তরবঙ্গের সব জেলাতেই। ভারী বৃষ্টির আরও একটা স্পেল চলবে আজ বৃহস্পতিবার থেকে শুরু করে আগামী সপ্তাহের মঙ্গলবার পর্যন্ত।

    এল নিনোর প্রভাব দেশে

    দেশে সময়ের আগে বর্ষা প্রবেশ করলেও আইএমডি-র তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬ সালের বর্ষায় স্বাভাবিকের চেয়ে কম বৃষ্টিপাত হতে পারে। এ বছরের বৃষ্টিপাত দীর্ঘমেয়াদি গড়ের প্রায় ৯২ শতাংশ হতে পারে। আইএমডি জানিয়েছে, ধীরে ধীরে এল নিনো পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে। প্রশান্ত মহাসাগরের জলের তাপমাত্রা বৃদ্ধি পেতে পারে। আর এই পরিস্থিতি ভারতের মৌসুমী বায়ুকে দুর্বল করে দেয়। বিশেষজ্ঞদের মতে, জুলাই-অগাস্টে মৌসুমি বায়ু এগোনোর সঙ্গে সঙ্গে এল নিনোর প্রভাব আরও স্পষ্ট হতে পারে। ইতিমধ্যেই জৈষ্ঠ্যে চাঁদিফাটা রোদে জ্বলছে বঙ্গবাসী। সকাল থেকেই অস্বস্তিকর গরমে হাঁসফাঁস করছে কলকাতা সহ- দক্ষিণবঙ্গের (South Bengal Heatwave) একাধিক জেলা। পশ্চিমের জেলাগুলিতে ৪০ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা হতে পারে। এই আবহে বর্ষাতেও যদি কম বৃষ্টি হয়, তাহলে স্বাভাবিক জনজীবন ব্যহত হবে।

     

  • PM Modi: তীব্র গরমে পুড়ছে ভারতের একাধিক শহর, প্রধানমন্ত্রীকে কাঠগড়ায় তুলছেন বিরোধীরা

    PM Modi: তীব্র গরমে পুড়ছে ভারতের একাধিক শহর, প্রধানমন্ত্রীকে কাঠগড়ায় তুলছেন বিরোধীরা

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: এখনও মে মাস শুরুই হয়নি। তার আগেই তীব্র গরমে পুড়ছে (Heatwave) ভারতের বেশ কয়েকটি শহর। পাঞ্জাব, হরিয়ানা, দিল্লি, রাজস্থান এবং উত্তর প্রদেশ-সহ ১১টি রাজ্য ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলে তাপপ্রবাহের পরিস্থিতি ঘোষণা করেছে ভারতীয় আবহাওয়া দফতর (IMD)। বিরোধী শিবির ও তাদের সমর্থকরা দেখাতে চাইছে, এই ঘটনা শুধু ভারতের মধ্যেই সীমাবদ্ধ (PM Modi)। যদিও একই সময়ে বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তেও তাপমাত্রা হঠাৎ করে বেড়ে গিয়েছে। এই চরম আবহাওয়ার পেছনে মানবসৃষ্ট কিছু কারণ থাকলেও, বেশি করে রয়েছে প্রাকৃতিক কারণ।

    সুপার এল নিনো (PM Modi)

    পরিস্থিতি আরও খারাপ হয়েছে সুপার এল নিনোর কারণে। এটি সমুদ্র থেকে অতিরিক্ত তাপ সংগ্রহ করে বায়ুমণ্ডলে ছেড়ে দেয়। বিজ্ঞানীরা প্রশান্ত মহাসাগরের ঘটনাবলী পর্যবেক্ষণ করছেন। এই ঘটনাবলী আগামী বছরে বৈশ্বিক তাপমাত্রা আরও বাড়াতে পারে এবং নতুন রেকর্ড সৃষ্টি করতে পারে। আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হল, বর্তমানে ভারতের সমতলভূমিকে গ্রাস করা তীব্র গরম বৃহত্তর এক আবহাওয়াগত ধাঁচের অংশ, যা ছ’সপ্তাহ আগে উত্তর এশিয়া ও সাইবেরিয়ায় শুরু হয়েছিল।

    তাপমাত্রা মোকাবিলায় পদক্ষেপ

    এদিকে, এপ্রিলের শুরুতে বিভিন্ন অংশীদার একজোট হয়ে গ্লোবাল হিট হেল্থ ইনফর্মেশান নেটওয়ার্ক (GHHIN)-এর সাউথ এশিয়া হাব (South Asia Hub) গঠন করেছে। এর কারণ হল ভারত-সহ গোটা উপমহাদেশে বাড়তে থাকা তাপমাত্রা মোকাবিলায় সহযোগিতা ও উদ্ভাবন বাড়ানো যায়। এটি ইন্ডিয়ান ইনস্টিটিউট অফ ট্রপিক্যাল মেটিওরোলজি (IITM) এবং ইন্ডিয়া মেটিওরোলজি (India Meteorological Department)-এর সঙ্গে কাজ করবে। লক্ষ্য, জলবায়ু তথ্যকে স্বাস্থ্যসেবামূলক পদক্ষেপে রূপান্তরের জন্য একটি অভিন্ন আঞ্চলিক পরিকাঠামো তৈরি করা। বিশ্ব এই পরিবর্তনের সঙ্গে লড়ছে এবং সমাধান খুঁজছে। অন্যদিকে, ভারতীয় বিরোধী দল ও বাম-উদারপন্থীরা অযৌক্তিক যুক্তি দিয়ে কেন্দ্রের নরেন্দ্র মোদির (PM Modi) সরকারকে দোষারোপ করতে ব্যস্ত।

    মোদি সরকারকে দোষারোপ

    সমালোচকেরা নানা অদ্ভুত অজুহাত খাড়া করে মোদি সরকারকে দোষ দিচ্ছেন। ‘এপিক ম্যাপস’ ভারতের বাড়তে থাকা তাপমাত্রার একটি মানচিত্র প্রকাশ করে এটিকে কেবল ভারতের অস্বাভাবিক ঘটনা হিসেবে দেখায়, অথচ পাকিস্তান, ইয়েমেন, থাইল্যান্ড, মায়ানমার-সহ আশপাশের দেশগুলির তাপমাত্রা বৃদ্ধির বিষয়টি গোপন রাখে (Heatwave)। কংগ্রেস নেতা শ্রীনিবাস বিভি এই অসম্পূর্ণ তথ্যকে কাজে লাগিয়ে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে দায়ী করেন। দিয়া মির্জা একটি পোস্ট শেয়ার করেন। তাতে দাবি করা হয়, ২০২৩ সালের ফরেস্ট কনজারভেশন অ্যামেন্ডমেন্ট অ্যাক্ট (Forest Conservation Amendment Act)-এর মাধ্যমে বন ধ্বংস ত্বরান্বিত হয়েছে। কারবারি আনসারির অভিযোগ, মোদি শুধু হিন্দু-মুসলিম রাজনীতি করে ভোট কুড়োতে চান, জলবায়ু পরিবর্তন বা গরম নিয়ে তিনি উদাসীন।

    নিট-জিরো এমিশন

    যদিও বিজেপি নেতৃত্বাধীন কেন্দ্রীয় সরকার ঘন বনভূমি বৃদ্ধি, ২০৭০ সালের মধ্যে নিট-জিরো এমিশন (net-zero emission) অর্জনের অঙ্গীকার করেছে এবং নবায়নযোগ্য শক্তির প্রসারে নানা পদক্ষেপ নিয়েছে (PM Modi)। তা সত্ত্বেও বিরোধীরা তথ্যের চেয়ে রাজনৈতিক প্রচারেই বেশি মনোযোগ দিচ্ছেন। এআইসিসির সম্পাদক গৌরব পান্ধির দাবি, কংগ্রেস আমলে পরিস্থিতি ভালো ছিল, বর্তমান সরকার ব্যর্থ হয়েছে। দীনেশ ওয়াদেরা বলেন, “পরিকাঠামোর উন্নয়নের ‘কংক্রিট উদ্যোগ’ই সমস্যার কারণ।” সুধীর যাদবের অভিযোগ, আদিবাসীদের জন্য সংরক্ষিত জমি ও বন ব্যবসায়ীদের হাতে তুলে দেওয়ায় কাটা হয়েছে লাখ লাখ গাছ।

    “হিট ডোম”

    বিশেষজ্ঞদের মতে, ভারতে গরমের প্রকৃত কারণ বহুস্তরীয়। কম বাতাস, উচ্চচাপ বলয় এবং মেঘের অভাবের কারণে তাপ ভূমির কাছাকাছি আটকে থাকে। ইন্দো-গ্যাঞ্জেটিক প্লেন্স (Indo-Gangetic plains) ও পূর্ব ভারতের ওপর তৈরি হওয়া “হিট ডোম” একটি বড় কারণ। এ বছর পশ্চিমী ঝঞ্ঝাও দুর্বল হয়েছে। তাই কম বৃষ্টি হয়েছে (Heatwave)। বাম-উদারপন্থীরা দাবি করলেও, ভারত বিশ্বের তুলনায় দ্রুত উষ্ণ হচ্ছে, এ কথা পুরোপুরি ঠিক নয়। হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের সালাটা ইনস্টিটিউটের গবেষণায় বলা হয়েছে, ভারতের গড় পৃষ্ঠতাপমাত্রা বৈশ্বিক গড়ের তুলনায় বেড়েছে ধীরে (PM Modi)।

    ইন্দো-গ্যাঞ্জেটিক প্লেন

    দূষণ থেকে উৎপন্ন এরোসলস (aerosols) সূর্যালোক ছড়িয়ে দেয়, কমিয়ে দেয় ভূমির ওপর সৌর বিকিরণ। এগুলি দক্ষিণ এশিয়ার ওপর এক ধরনের প্রতিফলক আবরণ তৈরি করে। এছাড়া, ইন্দো-গ্যাঞ্জেটিক প্লেনে (Indo-Gangetic plain) ব্যাপক সেচ বাষ্পীভবন বাড়িয়ে প্রাকৃতিক শীতলতা তৈরি করে। কোপার্নিকাস ক্লাইমেট চেঞ্জ সার্ভিসের ইআরএ৫ ডেটাসেট অনুযায়ী, নয়ের দশকের মাঝামাঝি থেকে ইউরোপ প্রতি দশকে প্রায় ০.৫৩°সেলসিয়াস হারে উষ্ণ হয়েছে, যা একে পরিণত করেছে দ্রুততম উষ্ণ হওয়া মহাদেশে। আর্কটিক আরও দ্রুত, প্রতি দশকে প্রায় ০.৬৯°সেলসিয়াস হারে উষ্ণ হচ্ছে। জানা গিয়েছে, ভারতীয় উপমহাদেশের বড় অংশে তাপমাত্রা বৃদ্ধির হার তুলনামূলকভাবে স্থিতিশীল, প্রতি দশকে ০ থেকে ০.২°সেলসিয়াস।

    বস্তুত, বিশ্ব উষ্ণায়ন ও তাপপ্রবাহ একটি বাস্তব ও গুরুতর সমস্যা। এর সমাধানে দীর্ঘমেয়াদি ও আন্তরিক প্রচেষ্টা দরকার। কিন্তু বিরোধী দল ও তাদের সমর্থকেরা বাস্তব সমাধানের বদলে রাজনৈতিক আক্রমণে বেশি (Heatwave) মনোযোগী। সরকার বদলালেই বিশ্বের জলবায়ুগত বাস্তবতা বদলে যাবে না (PM Modi)।

     

  • Snowfall in Sikkim: তুষারপাতের জেরে বিপর্যস্ত সিকিম! নাথুলার পথে আটকে কয়েক হাজার পর্যটক, উদ্ধারকাজ চলছে

    Snowfall in Sikkim: তুষারপাতের জেরে বিপর্যস্ত সিকিম! নাথুলার পথে আটকে কয়েক হাজার পর্যটক, উদ্ধারকাজ চলছে

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: আচমকা তুষারপাতে বিপর্যস্ত সিকিম (Snowfall in Sikkim)। মঙ্গলবার ছাঙ্গু লেকের কাছে শেরথাং এলাকায় প্রবল তুষারপাতের জেরে আটকা পড়েন দেশ-বিদেশের কয়েক হাজার পর্যটক। পর্যটন দফতর সূত্রের খবর, ১৫ মাইল এলাকা থেকে ছাঙ্গুর মাঝে বরফের স্তূপে আটকে পড়ে ৫৪১টি গাড়ি। রাস্তায় গাড়ির দীর্ঘ লাইন। অনেকে আবার গাড়িতেও আটকে রয়েছেন। তবে ধীরে ধীরে তাঁদের উদ্ধারের কাজ শুরু হয়েছে। বুধবার সকালে পূর্ব সিকিম থেকে ২৭০০ জন পর্যটককে উদ্ধার করা হয়েছে। তুষারপাতের আনন্দ উপভোগ করতে গিয়ে বিপাকে পড়া পর্যটকেরা এখন উদ্ধারের অপেক্ষা করছেন।

    ২,৭৩৬ জন পর্যটক উদ্ধার

    জানা গিয়েছে, সিকিমের হাড়কাঁপানো ঠান্ডার মধ্যে সব মিলিয়ে প্রায় ২,৭৩৬ জন পর্যটক কার্যত বন্দি হয়ে পড়েছিলেন। পরিস্থিতি বেগতিক দেখে তড়িঘড়ি ময়দানে নামে সিকিম প্রশাসন। পর্যটন দফতর, পুলিশ ও বিআরও-এর জওয়ানরা স্থানীয় চালক ও বিভিন্ন সংগঠনের সদস্যদের সঙ্গে নিয়ে তৎপরতার সঙ্গে উদ্ধারকাজ শুরু করেন। প্রতিকূল আবহাওয়ার তোয়াক্কা না করেই পর্যটকদের নিরাপদে সরিয়ে আনার কাজ চলে। এই ঘটনায় কোনও প্রাণহানি বা বড় বিপত্তি ঘটেনি। এই সাফল্যের জন্য সিকিম পুলিশ থেকে শুরু করে স্থানীয় চালক সংগঠন- সকলকেই ধন্যবাদ জানিয়েছে পর্যটন দফতর। প্রশাসন সূত্রে জানানো হয়েছে, শেরথাং-এ প্রবল তুষারপাত হচ্ছে। ওই এলাকার রাস্তাগুলিতেও কয়েক ইঞ্চি বরফের পুরু আস্তরণ পড়েছে। ফলে যানজটের সৃষ্টি হয়েছে।

    তুষারপাত নিয়ে সতর্কতা

    রাজ্য পর্যটন দফতরের তরফে পর্যটক এবং পর্যটন সংস্থাগুলিকে আবহাওয়া সংক্রান্ত যাবতীয় তথ্য অনুসরণ করতে পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। তুষারপাতপ্রবণ এলাকায় ভ্রমণের সময় গাড়িতে বাধ্যতামূলক ভাবে ‘স্নো চেন’ রাখার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। আগামী দিনে এমন পরিস্থিতি এড়াতে পর্যটক ও ট্রাভেল এজেন্সিগুলির জন্য কড়া নির্দেশিকা জারি করা হয়েছে। অন্যদিকে, মঙ্গলবার ২৪ ফেব্রুয়ারি ছিল মরশুমের প্রথম তুষারপাত। সাদা চাদরে ঢেকে গেল উত্তরবঙ্গের সর্বোচ্চ শৃঙ্গ সান্দাকফু। ভোর হওয়ার পর থেকেই হালকা তুষারপাত শুরু হয়, যা বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে গোটা পাহাড়ি অঞ্চলকে এক মনোরম শীতের আবহে মুড়ে দেয়।

  • Heavy Rain: উত্তর ভারতের বিস্তীর্ণ অঞ্চলে অব্যাহত বন্যার তাণ্ডব, তলিয়ে গিয়েছে বহু রাস্তা, ঘরবাড়ি

    Heavy Rain: উত্তর ভারতের বিস্তীর্ণ অঞ্চলে অব্যাহত বন্যার তাণ্ডব, তলিয়ে গিয়েছে বহু রাস্তা, ঘরবাড়ি

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: উত্তর ভারতের (North India) বিস্তীর্ণ অঞ্চলে অব্যাহত বন্যার তাণ্ডব। বিভিন্ন রাজ্যে জলের নীচে তলিয়ে গিয়েছে রাস্তা, সতর্কতা জারি হয়েছে বন্যার, কোথাও কোথাও আবার জলের (Heavy Rain) তোড়ে ভেসে গিয়েছে ঘরবাড়ি। জম্মু-কাশ্মীর এবং উত্তরাখণ্ডে বহু মানুষের মৃত্যু হয়েছে। অনেকেই নিখোঁজ রয়েছেন। গত কয়েক দিনে নাগাড়ে মেঘভাঙা বৃষ্টির জেরে একের পর এক আকস্মিক বন্যা দেখা দিচ্ছে।

    পাঞ্জাবে অন্তত ২৯ জনের মৃত্যু (Heavy Rain)

    একদিকে, পাঞ্জাবে অন্তত ২৯ জনের মৃত্যু হয়েছে এবং হাজার হাজার মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছেন। একে রাজ্যের সাম্প্রতিক ইতিহাসের সবচেয়ে ভয়াবহ বন্যা হিসেবে বর্ণনা করা হচ্ছে। একই দৃশ্য লক্ষ্য করা গিয়েছে দিল্লি ও পার্শ্ববর্তী অঞ্চলে (এনসিআর)। ওই সব এলাকায় বন্যার জল মানুষের ঘরে ঢুকে গিয়েছে। নিকটবর্তী ব্যারাজ থেকে ক্রমাগত জল ছাড়ায় আরও বিপদের আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন প্রশাসনের লোকজন। ভারতীয় আবহাওয়া দফতর (IMD) জানিয়েছে, অন্তত সাত দিন স্বস্তি মিলবে না প্রবল বর্ষণ থেকে। প্রবল বৃষ্টির জেরে জম্মু-কাশ্মীর, গুরগাঁও, উত্তরপ্রদেশ এবং চণ্ডীগড়-সহ বেশ কিছু অঞ্চলের স্কুল বন্ধ রাখা হয়েছে মঙ্গলবার। গুরগাঁওয়ের বেসরকারি ও কর্পোরেট অফিসগুলিকে এদিন ‘ওয়ার্ক-ফ্রম-হোম’ নীতি অনুসরণ করতে বলা হয়েছে। সোমবার ভারী বর্ষণের কারণে শহর ও এনসিআরে ২০ কিলোমিটার দীর্ঘ যানজট সৃষ্টি হয়েছিল। দিল্লি-এনসিআরের একাধিক গুরুত্বপূর্ণ সড়ক এবং জম্মু-কাশ্মীর ও উত্তরাখণ্ডের জাতীয় সড়কগুলি প্লাবিত হয়েছে। কোথাও কোথাও রাস্তা বা ভেঙে পড়া পাহাড়ি ধ্বংসস্তূপের কারণে বন্ধ রয়েছে জাতীয় সড়ক (Heavy Rain)।

    পাঞ্জাবের ১০টিরও বেশি জেলায় বন্যা

    প্রবল বৃষ্টি ও বাঁধ থেকে জল ছাড়ায় বন্যা হয়েছে পাঞ্জাবের ১০টিরও বেশি জেলায়। অগাস্ট মাসে রাজ্যে ২৫৩.৭ মিলিমিটার বৃষ্টি হয়েছে, যা স্বাভাবিকের তুলনায় ৭৪ শতাংশ বেশি এবং গত ২৫ বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ। মুখ্যমন্ত্রী ভগবন্ত মান সতর্ক করে বলেন, আগামী দিনে পরিস্থিতি আরও খারাপ হতে পারে। গত দু’সপ্তাহে জম্মু-কাশ্মীরে প্রবল বৃষ্টি ও আকস্মিক বন্যার কারণে ৫০ জনেরও বেশি মানুষের মৃত্যু হয়েছে। পরিস্থিতির কারণে জম্মু-শ্রীনগর হাইওয়ে টানা আট দিন বন্ধ রয়েছে। সোমবার প্রবল বৃষ্টির জেরে রাজৌরি ও সাম্বা জেলায় ভূমি ধসে পড়ে, যার জেরে প্রশাসন ১৯টি পরিবারকে সরিয়ে নিতে বাধ্য হয়। ডোডা জেলায় বৃষ্টি ও আকস্মিক বন্যায় ৫০০টিরও বেশি বাড়িঘর ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে (Heavy Rain)।

    উত্তরাখণ্ডে প্রবল বৃষ্টি ও মেঘভাঙা বৃষ্টির কারণে অন্তত ১০ জনের মৃত্যু হয়েছে। রাজ্যের ৬৯ জন এখনও নিখোঁজ রয়েছেন। অগাস্ট মাসে একের পর এক মেঘভাঙা বৃষ্টির কারণে পাহাড়ি এলাকায় ভূমিধস ও আকস্মিক (North India) বন্যা দেখা দেয়। ধ্বংস হয় বহু বাড়িঘর। ধ্বংসস্তূপের নীচে চাপা পড়ে মানুষ ও গৃহপালিত পশু। রাজ্যে রেড অ্যালার্ট জারি করেছে আবহাওয়া বিভাগ। ৭ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত উত্তর-পশ্চিম ভারতে প্রবল বৃষ্টির পূর্বাভাস দিয়েছে ভারতীয় আবহাওয়া দফতর (Heavy Rain)।

  • Monsoon in Kerala: ১৬ বছরে সবচেয়ে তাড়াতাড়ি! বর্ষা ঢুকে পড়ল কেরলে, বাংলাতে কবে প্রবেশ?

    Monsoon in Kerala: ১৬ বছরে সবচেয়ে তাড়াতাড়ি! বর্ষা ঢুকে পড়ল কেরলে, বাংলাতে কবে প্রবেশ?

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: বর্ষা ঢুকে গেল দেশের মূল ভূখণ্ডে। স্বাভাবিক সময়ের চেয়ে আট দিন আগেই কেরলে বর্ষা (Monsoon in Kerala) প্রবেশ করল শনিবার। মৌসম ভবন জানিয়েছে, গত ১৬ বছরে এত তাড়াতাড়ি দেশে বর্ষার আগমন হয়নি। ২০০৯ সালের পর এই বছরই নির্ধারিত সময়ের আগেই বর্ষা ঢুকল দেশে। কেরলে বর্ষা তার স্বাভাবিক আসার তারিখ ১ জুনের চেয়ে ৮ দিন আগেই এসে পৌঁছেছে। ১৬ বছরের পরিসংখ্যানও প্রকাশ করা হয়েছে।

    কোন বছরে কবে বর্ষার প্রবেশ

    গত বছর কেরলে বর্ষা (Monsoon in Kerala) এসেছিল ৩০ মে। ২০২৩ সালে ৮ জুন দক্ষিণের এই রাজ্যে প্রবেশ করেছিল দক্ষিণ পশ্চিম মৌসুমী বায়ু। এছাড়াও আইএমডি-র তথ্য অনুসারে, ২০২২ সালের ২৯ মে, ২০২১ সালের ৩ জুন, ২০২০ সালের ১ জুন, ২০১৯ সালের ৮ জুন এবং ২০১৮ সালের ২৯ মে কেরলে বর্ষা ঢুকেছিল। কেরলে বর্ষার সবচেয়ে তাড়াতাড়ি প্রবেশের নজির তৈরি হয়েছিল ১৯১৮ সালে। সে বছর ১১ মে আনুষ্ঠানিক ভাবে বর্ষা ঢুকে পড়েছিল কেরলে। এ ছাড়া, এখনও পর্যন্ত সবচেয়ে দেরি করে কেরলে বর্ষা প্রবেশের নজির রয়েছে ১৯৭২ সালে। সে বছর বর্ষা এসেছিল ১৮ জুন। শনিবার কেরল, কর্নাটকের দক্ষিণ অংশ এবং গোয়ার কিছু অংশে অতি ভারী বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। ২৯ মে পর্যন্ত কেরল এবং কর্নাটকের উপকূলে বর্ষণ চলবে। সঙ্গে থাকতে পারে ৪০-৫০ কিলোমিটার বেগে ঝোড়ো হাওয়া। বৃষ্টি হবে তামিলনাড়ু, তেলঙ্গানা এবং অন্ধ্রপ্রদেশেও।

    বাংলায় কবে বর্ষার প্রবেশ

    কেরলে বর্ষা (Monsoon in Kerala) ঢুকে পড়লেও পশ্চিমবঙ্গে দক্ষিণ-পশ্চিম মৌসুমি বায়ুর আগাম প্রবেশের সম্ভাবনা আছে কি না, তা এখনও স্পষ্ট নয়। আলিপুর আবহাওয়া দফতর জানিয়েছে, কেরলে আগাম বর্ষা প্রবেশ করলে বাংলার ক্ষেত্রেও তা হবে, এমন কোনও নিশ্চয়তা নেই। দক্ষিণবঙ্গে বর্ষা প্রবেশের আনুষ্ঠানিক সময় ১০ জুন। আপাতত বঙ্গোপসাগরের উপরে নিম্নচাপের একটি সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। তার প্রভাবেই শনিবার সকাল থেকে শহর কলকাতার আকাশে কালো মেঘের ঘনঘটা। বেলা বারোটা থেকেই শুরু হয়েছে বিক্ষিপ্ত বৃষ্টি। আগামী মঙ্গলবারের মধ্যে মধ্য ও উত্তর বঙ্গোপসাগরের সংযোগস্থলে নিম্নচাপ তৈরির সম্ভাবনা রয়েছে। তার ফলে আগামী সপ্তাহে দক্ষিণবঙ্গের জেলাগুলিতে ভারী বৃষ্টি হতে পারে। ভিজতে পারে কলকাতাও। বর্ষার আগমন সাধারণত বিভিন্ন ক্ষেত্রে ইতিবাচক বার্তা নিয়ে আসে। বিশেষ করে কৃষিক্ষেত্রে, যা ভারতের গ্রামীণ অর্থনীতির মেরুদণ্ড। সময়মতো বৃষ্টিপাত ভূগর্ভস্থ জলের স্তর উন্নত করে, জলাশয় ভরাট করে এবং ধান, ডাল, তৈলবীজ, তুলা এবং শাকসবজির মতো খরিফ ফসলের আগাম বপনে সহায়তা করে। এই সবকিছুই খাদ্য নিরাপত্তা এবং গ্রামীণ আয়ের জন্য গুরুত্বপূর্ণ।

  • Undivided India: আইএমডি-র দেড়শো বছর, দিল্লিতে ‘অখণ্ড ভারত’ অনুষ্ঠানে আমন্ত্রিত পাকিস্তান-বাংলাদেশ

    Undivided India: আইএমডি-র দেড়শো বছর, দিল্লিতে ‘অখণ্ড ভারত’ অনুষ্ঠানে আমন্ত্রিত পাকিস্তান-বাংলাদেশ

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ভারতের আবহাওয়া দফতরের দেড়শ বছর পূর্তি, এই উপলক্ষে দিল্লিতে আয়োজিত হচ্ছে ‘অখণ্ড ভারত’ (Undivided India) অনুষ্ঠান। সেই অনুষ্ঠানে ভারতের সমস্ত প্রতিবেশী রাষ্ট্রগুলিকে আমন্ত্রণ জানিয়েছে দিল্লি। আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে পাকিস্তান ও বাংলাদেশকেও। প্রসঙ্গত, হাল আমলে বাংলাদেশের সঙ্গে ভারতের কূটনৈতিক সম্পর্ক বলতে গেলে তলানিতেই ঠেকেছে। অন্যদিকে, সন্ত্রাস ইস্যুতে পাকিস্তানের (Pakistan) সঙ্গে কূটনৈতিক সম্পর্ক বরাবরই খারাপ ভারতের। এই আবহে আবহাওয়া দফতরের ‘অখণ্ড ভারত’ (Undivided India)  অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ ও পাকিস্তানকে আমন্ত্রণ জানানো যথেষ্ট তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছে ওয়াকিবহল মহল। ইতিমধ্যে পাকিস্তানের তরফ থেকে ওই অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করার ব্যাপারে সবুজ সংকেত দেওয়া হয়েছে বলে জানা গিয়েছে। আবার বাংলাদেশের কাছ থেকে সবুজ সংকেত পাওয়ার বিষয়ে আশাবাদী দিল্লি, এমনটাই জানিয়েছে সংবাদ সংস্থা পিটিআই। 

    উপমহাদেশের অন্যান্য দেশও আমন্ত্রিত (Undivided India) 

    প্রসঙ্গত, পাকিস্তান (Pakistan) ও বাংলাদেশ ছাড়াও এই অনুষ্ঠানে আমন্ত্রিত থাকছে আফগানিস্তান, মায়ানমার, মলদ্বীপ, শ্রীলঙ্কা ও নেপাল। উপমহাদেশের এই দেশগুলি ছাড়াও মধ্যপ্রাচ্য, মধ্য ও দক্ষিণ পশ্চিম এশিয়ার বিভিন্ন দেশকেও আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে বলে সূত্রের খবর। বাংলাদেশ ও পাকিস্তানের অংশগ্রহণ নিয়ে আবহাওয়া দফতরের একজন উচ্চপদস্থ আধিকারিক সংবাদমাধ্যমকে বলেন, ‘‘আমরা চেয়েছিলাম যে ভারতের আবহাওয়া দফতরের প্রতিষ্ঠার সময় অখণ্ড ভারতের অংশ থাকা সমস্ত দেশই এই অনুষ্ঠানে সামিল হোক (Undivided India)।’’

    কেন্দ্রের সমস্ত মন্ত্রক মাঠে নেমেছে অনুষ্ঠানকে সফল করতে

    ইতিমধ্যে ‘অখণ্ড ভারত’-এর (Undivided India) এই অনুষ্ঠানকে সাফল্যমণ্ডিত করে তুলতে মোদি সরকারের একাধিক মন্ত্রক মাঠে নেমেছে। অর্থমন্ত্রক এই অনুষ্ঠানকে স্মরণীয় করে তুলতে ইতিমধ্যে দেড়শো টাকার একটি স্মারক মুদ্রা প্রকাশের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। অন্যদিকে, অমিত শাহের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক ভারতের আবহাওয়া দফতরের দেড়শ বছর পূর্তি উপলক্ষে প্রজাতন্ত্র দিবসে একটি ট্যাবলো প্রকাশ করার অনুমোদন দিয়েছে।

    ১৮৭৫ সালে প্রতিষ্ঠিত হয় আইএমডি

    প্রসঙ্গত ভারতের আবহাওয়া দফতর, যা পরিচিত ইন্ডিয়া মেটিওরোলজিক্যাল ডিপার্টমেন্ট নামে, এই সংস্থা প্রতিষ্ঠিত হয় ১৮৭৫ সালের ১৫ জানুয়ারি। তখনই আনুষ্ঠানিকভাবে প্রতিষ্ঠিত হয় দেশের কেন্দ্রীয় আবহাওয়া দফতর। তার আগে অবশ্য দেশের একাধিক প্রান্তে ছিল আবহাওয়া পর্যবেক্ষণ কেন্দ্র। এই আবহাওয়া পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রগুলিকে ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি প্রতিষ্ঠিত করেছিল। ১৭৮৫ সালে ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি কলকাতাতে প্রতিষ্ঠা করে আবহাওয়া পর্যবেক্ষণ কেন্দ্র। ১৭৯৬ সালে (তৎকালীন) মাদ্রাজে আবহাওয়া পর্যবেক্ষণ কেন্দ্র গড়ে তোলা হয়। ১৮২৬ সালে গড়ে ওঠে বম্বে আবহাওয়া পর্যবেক্ষণ কেন্দ্র। এরপরে উনিশ শতকের প্রথম প্রথমদিকে ভারতীয় উপমহাদেশ জুড়ে প্রতিষ্ঠিত করা হতে থাকে আবহাওয়া পর্যবেক্ষণ কেন্দ্র।

    কীভাবে প্রতিষ্ঠিত হল আইএমডি

    ১৮৬৪ সালে কলকাতায় ব্যাপক ঘূর্ণিঝড় হয়। ১৮৬৬ এবং ১৮৭১ সালে ব্যাপক বন্যার কারণে বাংলাজুড়ে দুর্ভিক্ষ দেখা দেয়। তখনই নড়েচড়ে বসে ব্রিটিশ সরকার। এধরনের প্রাকৃতিক দুর্যোগগুলিকে আবহাওয়া পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রগুলির ব্যর্থতা বলে মনে করে ব্রিটিশ সরকার। এরপরে ১৮৭৫ সালে ইন্ডিয়া মেটিওরোলজিক্যাল ডিপার্টমেন্ট বা আইএমডি প্রতিষ্ঠিত হয়। ব্রিটিশ সরকার তখন সিদ্ধান্ত নেয় যে আবহাওয়ার খুঁটিনাটি রেকর্ড সংরক্ষণ এবং সেই অনুযায়ী তথ্য বিশ্লেষণ ও পর্যবেক্ষণ করবে এই সংস্থা। আবহাওয়া সংক্রান্ত পর্যবেক্ষণ ও বিশ্লেষণ করার কাজে স্থাপিত হয় ইন্ডিয়া মেটিওরোলজিক্যাল ডিপার্টমেন্ট। জানা যায়, ১৮৭৫ সালে  ইন্ডিয়া মেটিওরোলজিক্যাল ডিপার্টমেন্ট প্রতিষ্ঠার পর থেকে এর সদর দফতর ছিল কলকাতায়। পরবর্তীকালে ১৯০৫ সালে আইএমডির দফতর স্থানান্তরিত হয় সিমলায়। ১৯২৮ সালে আইএমডি-এর দফতর চলে যায় পুণেতে। ব্রিটিশ শাসনের একদম শেষের দিকে ১৯৪৪ সালে নতুন দিল্লিতে স্থানান্তরিত হয় আইএমডির দফতর এবং তখন থেকে এটা দিল্লিতে রয়েছে।

    দেশ স্বাধীন হওয়ার পরে উল্লেখযোগ্য সাফল্য অর্জন করেছে আইএমডি

    বছরের পর বছর ধরে আইএমডি-এর বিবর্তন হয়েছে এবং বর্তমান দিনে এশিয়ার অন্যতম শীর্ষস্থানীয় একটি আবহাওয়া পূর্বাভাস দফতরে তা পরিণত হয়েছে। ১৯৪৭ সালে দেশ স্বাধীন হওয়ার পর আবহাওয়া বিজ্ঞান সমেত নানা গবেষণার কাজে উল্লেখযোগ্য সাফল্য অর্জন করেছে আইএমডি। জানা যায়, প্রথমদিকে টেলিগ্রামের যুগে, আইএমডি টেলিগ্রামের মাধ্যমে আবহাওয়ার বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ খুঁটিনাটি আপডেট এবং সতর্কতা পাঠাত। পরবর্তীকালে যখন কম্পিউটার আসে, তখন এর মাধ্যমে কাজ চলতে থাকে। স্বাধীন ভারতে ইসরো স্থাপিত হওয়ার পরে, ওই সংস্থাকেও বিভিন্নভাবে সহযোগিতা করতে থাকে আবহাওয়া দফতর। বর্তমানে আবহাওয়া দফতরের নিজস্ব উপগ্রহ রয়েছে যা বিভিন্ন প্রাকৃতিক দুর্যোগের পূর্বাভাস দিতে সক্ষম।

     

    দেশের খবর, দশের খবর, সব খবর, সবার আগে পেতে ফলো করুন আমাদের  Whatsapp, FacebookTwitter, Telegram এবং Google News পেজ।

  • Warmest June in India: ১৯০১ সাল থেকে এত গরম পড়েনি ভারতে! কী বলল হাওয়া অফিস? 

    Warmest June in India: ১৯০১ সাল থেকে এত গরম পড়েনি ভারতে! কী বলল হাওয়া অফিস? 

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: আবহাওয়ার খামখেয়ালিপনায় দিশেহারা মানুষ। কখনও অতিবৃষ্টি আবার কখনও অনাবৃষ্টি। কখনও দহনের তীব্রতা আবার কখনও ঘূর্ণিঝড়ের তাণ্ডব। আবহাওয়া পরিবর্তনের জন্য দেশের বেশিরভাগ অংশেই জুন মাসে প্রবল গরম ছিল। গত ১২৩ বছর পর, জুন (Warmest June in India) মাসে দেশে এত গরম পড়ল বলে জানিয়েছেন আবহবিদরা (Weather Report)। দিনের পর দিন তাপপ্রবাহ চলেছিল দেশে। 

    জুনেও তাপপ্রবাহ (Warmest June in India) 

    জুনের শুরুতে দেশে বর্ষা এলেও বৃষ্টির দেখা মিলছিল না একাধিক জায়গায়। গত বছরের মতো এই বছরেও বর্ষা নির্দিষ্ট সমেয়র মধ্যেই কেরলে প্রবেশ করেছিল। কেরলে স্বাভাবিক বর্ষণ শুরু হওয়ায় অনেকেই স্বস্তিতে ছিলেন। নিয়ম মেনে মৌসুমী বায়ু উত্তরপূর্বের রাজ্যে প্রবেশ করে। সেখানে ভাল বর্ষণ শুরু হয়। কিন্তু তারপরেই যেন থমকে যায় মৌসুমি বায়ু। উত্তর পূর্বের রাজ্য গুলি থেকে সরার নাম গন্ধ করছিল না। 

    দীর্ঘদিন স্থায়ী গরম

    আবহবিদরা জানিয়েছেন, এবছর ভারতে অন্যান্য বছরের তুলনায় বেশিদিন এবং বেশি মাত্রায় তাপপ্রবাহ স্থায়ী হয়েছে। সমীক্ষায় দেখা গিয়েছে, অন্তত ৪০ হাজার নাগরিক আক্রান্ত হয়েছেন হিট স্ট্রোকে। অন্তত ১০০ জন প্রাণ হারিয়েছেন অত্যধিক তাপের কারণে। তবে বহুক্ষেত্রেই অসুস্থতার ঘটনা নথিভুক্ত করা হয়নি।

    আরও পড়ুন: ম্যাচ জেতানো ইনিংস অভিষেকের, কোহলির পরিবর্ত কি খুঁজে পেল ভারত?

    জুন মাস জুড়ে গরম (Weather Report)

    জুন মাস (Warmest June in India) জুড়ে ফুটি ফাটা গরমে কষ্ট পেয়েছে উত্তর-পশ্চিম ভারতের সিংহভাগ এলাকা। জুন মাসে সাধারণত বর্ষার বৃষ্টি শুরু হয়ে যায় উত্তর-পূর্ব এবং উত্তর-পশ্চিম ভারতের রাজ্যগুলিতে। কিন্তু এবার জুন মাস জুড়ে তাপপ্রবাহ তাণ্ডব চালিয়েছে উত্তর-পশ্চিমের রাজ্য গুলিতে। দিল্লি-পাঞ্জাব-হরিয়ানা- রাজস্থান-গুজরাটের একাংশের তাপমাত্রা ৫০ ডিগ্রিতে পৌঁছে গিয়েছিল। এবারে রাজধানী দিল্লিতে রেকর্ড গরম পড়েছিল। এর আগে কখনও দিল্লিত তাপমাত্রা ৫০ ডিগ্রি ছাড়িয়ে যায়নি। কিন্তু এবারে রাজধানী দিল্লির তাপমাত্রা ৫৩ ডিগ্রিতে পৌঁছে গিয়েছিল। সবচেয়ে বড় কথা এবারে রাতের এবং দিনের তাপমাত্রার ফারাক বেশি ছিল না। যার ফলে রাতেও গরম থেকে রেহাই পাননি দিল্লির বাসিন্দারা। হিট স্ট্রোকে উত্তর-পশ্চিম ভারতে বহু মানুষ মারা গিয়েছেন। এর আগে কখনও জুন মাসে এতোটা গরম পড়েনি। জুন মাসে এই তাপমাত্রা বৃদ্ধি ১২৩ বছরের রেকর্ড ভেঙে দিয়েছে। প্রায় এক মাস ধরে গরমের দাপট বজায় থেকেছে জুন মাসে। যা এর আগে কখনও হয়নি (Weather Report)।

     

    দেশের খবর, দশের খবর, সব খবর, সবার আগে পেতে ফলো করুন আমাদের  Whatsapp, FacebookTwitter, Telegram এবং Google News পেজ।

  • Heavy Rain in Delhi: রেকর্ড বৃষ্টিতে ভাসল দিল্লি! আন্ডারপাসে আটকে বাস, স্তব্ধ জনজীবন

    Heavy Rain in Delhi: রেকর্ড বৃষ্টিতে ভাসল দিল্লি! আন্ডারপাসে আটকে বাস, স্তব্ধ জনজীবন

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ভাসছে দিল্লি। ভারী বৃষ্টির (Heavy Rain in Delhi) জেরে থমকে গিয়েছে রাজধানী। বৃহস্পতিবার থেকে বৃষ্টি শুরু হয়েছে। এদিন রাত সাড়ে ৮টা থেকে শুক্রবার সকাল সাড়ে ৮টা পর্যন্ত ১২ ঘণ্টায় দিল্লিতে ২২৮ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত হয়েছে , বলে জানিয়েছে মৌসম ভবন। এর ফলে কার্যত জলের নীচে ডুবে গিয়েছে দিল্লির অধিকাংশ এলাকা। ২৪ ঘণ্টারও বেশি সময় ধরে টানা বৃষ্টি হচ্ছে দিল্লিতে। 

    রেকর্ড বৃষ্টি

    ১৯৩৬ সালের পর এই প্রথম দিল্লিতে (Heavy Rain in Delhi) টানা ২৪ ঘণ্টায় এত পরিমাণ বৃষ্টিপাত হয়েছে। ১৯৩৬ সালে পরিমাণ ছিল ২৩৫.৫ মিলিমিটার। সাধারণত জুন মাসে দিল্লিতে গড়ে ৮০.৬ মিলিমিটার বৃষ্টি হয়। এবার সেই রেকর্ড ছাপিয়ে গিয়েছে। বৃহস্পতিবার রাত থেকেই ভারী বৃষ্টি হচ্ছে দিল্লিতে। শুক্রবার সকালে বৃষ্টির পরিমাণ আরও বাড়ে। জলমগ্ন দিল্লিতে জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে।

    আন্ডারপাসে আটকে বাস

    বৃহস্পতিবার অফিস ফেরত যাত্রীরা প্রায় পথেই আটকে গিয়েছেন। দিল্লির  কাইজজারগঞ্জে কোদিয়া সেতুর আন্ডারপাসে আটকে যায় একটি যাত্রীবোঝাই বাস। প্রায় ৮ ফুট সমান জলে যাত্রীদের নিয়ে আটকে পড়ে বাসটি। আন্ডারপাসের মাঝ বরাবর বাসটি জলের মধ্যে আটকে পড়ায় আতঙ্কিত হয়ে পড়েন যাত্রীরা। প্রায় দু’ঘণ্টা ধরে বাসটি আটকে ছিল। আন্ডারপাসের নীচে বাস আটকে পড়ার খবর পুলিশের কাছে পৌঁছয়। তার পরই সেখানে পুলিশ এবং উদ্ধারকারী দল আসে। পুলিশ সূত্রে খবর, আটকে পড়া যাত্রীদের বাস থেকে এক এক করে উদ্ধার করা হয়। উদ্ধারকাজের জন্য দড়ি এবং লাইফ জ্যাকেট ব্যবহার করা হয়েছিল।  পুলিশ জানিয়েছে, প্রাথমিক ভাবে যাত্রীদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়ালেও সকলকেই নিরাপদে উদ্ধার করা হয়েছে।

    জলমগ্ন বহু রাস্তা

    প্রশাসনের তরফে খবর,  দিল্লি-মেরাঠ হাইওয়ে, নারাইনা-মোতি বাগ রোড, ধৌলা কুঁয়া উড়ালপুল, বীর বান্দা বৈরাগী মার্গ, আজাদ মার্কেট আন্ডারপাস, তিলক সেতু, অরবিন্দ মার্গ, অনুব্রত মার্গ, আইটিও এবং এমস যাওয়ার বহু রাস্তা মথুরা রোড, মুলচাঁদ, মিন্টো রোড, মেহরৌলি, বদরপুর রোড, মান্ডাওয়ালি, ভিখাজি কামা প্লেস, মধু বিহার, তিন মূর্তি মার্গ, প্রগতি ময়দান, মুনিরকা, ধৌলা কুঁয়া, মোতি বাগ, আইটিও এবং নয়ডার বহু রাস্তা প্লাবিত। নীচু এলাকাগুলিতে বাড়ির মধ্যে জল ঢুকে গিয়েছে।

    বিপর্যস্ত বিমানবন্দর

    ভোর সাড়ে ৫টা নাগাদ দিল্লিতে (Heavy Rain in Delhi) তুমুল বৃষ্টির জেরে ভেঙে পড়ে দিল্লি বিমানবন্দরের টার্মিনাল ১-এর একাংশ। পার্কিংয়ে দাঁড়িয়ে থাকা গাড়ি এবং ট্যাক্সি চাপা পড়ে যায় ভেঙে পড়া অংশের নীচে। ঘটনায় এক জনের মৃত্যু হয়েছে এবং পাঁচজন গুরুতর আহত হয়েছে। আহতদের চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। আপাতত বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে টার্মিনাল ১-এর পরিষেবা। 

     

    দেশের খবর, দশের খবর, সব খবর, সবার আগে পেতে ফলো করুন আমাদের  Whatsapp, FacebookTwitter, Telegram এবং Google News পেজ।

LinkedIn
Share