Tag: INDEPENDENCE DAY

INDEPENDENCE DAY

  • Vande Mataram Row: বন্দে মাতরমের প্রথম দুই স্তবককে অনুমোদন! কংগ্রেসকে তুলোধনা শাহ-নবীনের

    Vande Mataram Row: বন্দে মাতরমের প্রথম দুই স্তবককে অনুমোদন! কংগ্রেসকে তুলোধনা শাহ-নবীনের

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: বন্দে মাতরমের প্রথম দুই স্তবক গাওয়া নিয়ে কংগ্রেসকে তীব্র আক্রমণ করলেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। তাঁর অভিযোগ, কংগ্রেস দীর্ঘদিন ধরে তুষ্টিকরণের রাজনীতি করে আসছে এবং পুরো জাতীয় সঙ্গীত পরিবেশনের পরিবর্তে শুধু প্রথম দুই স্তবক (Vande Mataram Row) গাওয়ার সিদ্ধান্ত সেই রাজনীতিরই প্রতিফলন। একই সঙ্গে এই সিদ্ধান্তকে স্বাধীনতা সংগ্রামীদের আত্মত্যাগের প্রতি অসম্মান বলেও মন্তব্য করেন তিনি। বৃহস্পতিবার শাহ বলেন, কংগ্রেসের এই সিদ্ধান্ত জাতীয় স্বার্থবিরোধী। তাঁর দাবি, ১৯৩৭ সালের কংগ্রেসের সিদ্ধান্তের কথা উল্লেখ করে দলের বর্তমান নেতৃত্ব বন্দে মাতরমের শুধু প্রথম দুই স্তবক গাওয়ার অবস্থান বজায় রেখেছে।

    শাহি-কথা (Vande Mataram Row)

    সংবাদ সংস্থাকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে শাহ (Amit Shah) বলেন, “গতকাল (বুধবার) কংগ্রেসের কার্যনির্বাহী কমিটি একটি বিস্ময়কর এবং জাতীয় স্বার্থবিরোধী সিদ্ধান্ত নিয়েছে। ১৯৩৭ সালের দলের সিদ্ধান্ত অনুসরণ করে তারা মহান গান বন্দে মাতরমের মাত্র দু’টি স্তবক গাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।” শাহের দাবি, ১৯৩৭ সালে রাজনৈতিক কারণে বন্দে মাতরমের পরিবেশন সীমিত করার সিদ্ধান্ত পরবর্তী সময়ে দেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে প্রভাব ফেলেছিল। তাঁর অভিযোগ, এর ফলে দ্বিজাতিতত্ত্বের ধারণা শক্তিশালী হওয়ার পরিবেশ তৈরি হয় এবং শেষ পর্যন্ত দেশভাগের পথ প্রশস্ত হয়।

    শাহ বলেন, “আমি গোটা দেশকে মনে করিয়ে দিতে চাই, ১৯৩৭ সালে মুসলিম তুষ্টিকরণের জন্য কংগ্রেস বন্দে মাতরমকে দুই ভাগে ভাগ করে দেশভাগের ভিত্তি তৈরি করেছিল। সেখান থেকেই দ্বিজাতিতত্ত্ব শক্তিশালী হয় এবং শেষ পর্যন্ত দেশভাগ হয়, পাকিস্তানের জন্ম হয়।” কেন্দ্রীয় সরকারের তরফে সমস্ত সরকারি দফতরে জাতীয় সঙ্গীত বন্দে মাতরম পরিবেশনের যে আহ্বান জানানো হয়েছে, কংগ্রেস তার পক্ষে না থাকায়ও ক্ষোভ প্রকাশ করেন শাহ। তাঁর বক্তব্য, বন্দে মাতরমের রচয়িতা বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় এবং স্বাধীনতা সংগ্রামের সময়ে এই গানকে সামনে রেখে লড়াই করা দেশপ্রেমিকদের ঐতিহ্যের প্রতিও কংগ্রেসের সিদ্ধান্ত অসম্মানজনক।

    কংগ্রেসের যুক্তি

    তবে কংগ্রেস তাদের অবস্থান থেকে সরেনি। দলের কার্যনির্বাহী কমিটির ১৯৩৭ সালের সিদ্ধান্তের কথা তুলে ধরে কংগ্রেসের সাধারণ সম্পাদক কেসি বেণুগোপাল জানান, সেই সময় দলের শীর্ষ নেতৃত্ব যে সিদ্ধান্ত নিয়েছিল, দলের কর্মীরা এখনও সেটিই অনুসরণ করবেন (Vande Mataram Row)। বেণুগোপাল বলেন, “আমাদের অবস্থান একেবারে পরিষ্কার। ১৯৩৭ সালের যে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল, সেখানে মহাত্মা গান্ধী, পণ্ডিত জওহরলাল নেহরু, রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, সুভাষচন্দ্র বসু এবং সর্দার প্যাটেল-সহ সেই সময়ের দলের শীর্ষ নেতৃত্ব উপস্থিত ছিলেন। তাঁরা যে সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন, আমরা সেটিই মেনে চলব। আমাদের কংগ্রেস কর্মীরা সেই সিদ্ধান্তই অনুসরণ করবেন। এটাই আমাদের অবস্থান।”

    তাল কাটে কংগ্রেসের স্বাধীনতা দিবস পালনের অনুষ্ঠানে

    গত ১৫ অগাস্ট স্বাধীনতা দিবসের অনুষ্ঠানে বিতর্ক আরও তীব্র হয়। কংগ্রেসের সদর দফতরে বন্দে মাতরম পরিবেশনের সময় দলের কয়েকজন শীর্ষ নেতার কথাবার্তার দৃশ্য প্রকাশ্যে আসার পর বিজেপি নেতারা কংগ্রেসের বিরুদ্ধে জাতীয় গানের প্রতি অসম্মানের অভিযোগ তোলেন। বিজেপির অভিযোগ ছিল, পূর্ণাঙ্গ বন্দে মাতরম (Vande Mataram Row) পরিবেশন নিয়ে কংগ্রেস আপত্তি জানিয়েছে। যদিও সেই অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করেছে কংগ্রেস। এর পরেই বিষয়টি বিজেপি ও কংগ্রেসের মধ্যে বৃহত্তর রাজনৈতিক সংঘাতের রূপ নেয়। জাতীয় সঙ্গীত ও জাতীয় প্রতীকের ব্যবহার, স্বাধীনতা আন্দোলনের ইতিহাস এবং জাতীয়তাবাদের ব্যাখ্যা নিয়ে দুই দলের মধ্যে নতুন করে রাজনৈতিক চাপানউতোর শুরু হয়।

    কংগ্রেসের আত্মপক্ষ সমর্থন

    কংগ্রেস সভাপতি মল্লিকার্জুন খাড়্গেও দলের সিদ্ধান্তের পক্ষে সওয়াল করেন। তাঁর বক্তব্য, কংগ্রেস দীর্ঘদিনের ঐতিহ্য মেনেই বন্দে মাতরমের সংক্ষিপ্ত সংস্করণ পরিবেশন করছে। এই সিদ্ধান্তের সঙ্গে গান্ধী, নেহরু ও প্যাটেলের মতো নেতাদের ঐতিহাসিক ভূমিকার কথাও তুলে ধরেন তিনি। একই সঙ্গে জাতীয় সঙ্গীত ও জাতীয় গানের মতো বিষয়কে বিজেপি রাজনৈতিক স্বার্থে ব্যবহার করছে বলেও অভিযোগ করেন খাড়্গে। এদিকে কেন্দ্রীয় সরকার নির্দিষ্ট সরকারি অনুষ্ঠানে বন্দে মাতরম পরিবেশনের জন্য একটি নির্দিষ্ট বিধি বা রীতি চালুর উদ্যোগ নিয়েছে। জাতীয় গানটির মর্যাদা ও পরিবেশন নিয়ে সাম্প্রতিক সময়ে আইনগত সুরক্ষা দেওয়ার বিষয়েও সংসদে উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। ফলে বিতর্কটি এখন শুধু কতগুলি স্তবক গাওয়া হবে, সেই প্রশ্নে সীমাবদ্ধ নেই। জাতীয় প্রতীক, স্বাধীনতা আন্দোলনের ইতিহাস, অতীতের রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত এবং জাতীয়তাবাদ নিয়ে বিজেপি ও কংগ্রেসের ভিন্ন দৃষ্টিভঙ্গিও এই বিতর্কের কেন্দ্রে চলে এসেছে।

    কংগ্রেসকে ‘মুসলিম লিগ’-এর সঙ্গে তুলনা গিরিরাজ সিংয়ের

    কেন্দ্রীয় মন্ত্রী গিরিরাজ সিংও কংগ্রেসকে তীব্র আক্রমণ শানিয়েছেন। তাঁর দাবি, বন্দে মাতরমের বিরোধিতা আসলে স্বাধীনতা সংগ্রামীদের বিরোধিতা। তিনি বলেন, “এটি শুধু বন্দে মাতরমের বিরোধিতা নয়, আমাদের বিপ্লবীদের বিরোধিতাও। এখন কংগ্রেস মুসলিম লিগে পরিণত হয়েছে। এটি গান্ধীজির কংগ্রেস নয় (Amit Shah), এটি সোনিয়া গান্ধী ও রাহুল গান্ধীর কংগ্রেস।”

    ১৫ অগাস্ট কংগ্রেসের সদর দফতরে পুরো বন্দে মাতরম পরিবেশনের সময় সোনিয়া, রাহুল এবং খাড়্গের প্রতিক্রিয়া নিয়েও কটাক্ষ করেন গিরিরাজ। তিনি বলেন, “১৫ অগস্ট কংগ্রেস দফতরে পূর্ণাঙ্গ বন্দে মাতরম পরিবেশনের সময় সোনিয়া গান্ধী, রাহুল গান্ধী এবং মল্লিকার্জুন খাড়্গের মুখের দিকে তাকান। মনে হচ্ছিল, কেউ যেন তাঁদের জোর করে বিষ পান করাচ্ছে (Vande Mataram Row)।”

    কংগ্রেসকে নিশানা নিতিন নবীনেরও

    বিজেপি সভাপতি নিতিন নবীনও কংগ্রেসকে নিশানা করেছেন। তাঁর অভিযোগ, বন্দে মাতরমের মতো পবিত্র মাতৃভূমির বন্দনার প্রতি কংগ্রেসের অবস্থান দেশের জন্য আত্মবলিদান দেওয়া শহিদদের প্রতি অসম্মানের সমান। তিনি বলেন, “ভারতমাতার পবিত্র বন্দনার এই অসম্মান সেই হাজার হাজার শহিদের প্রতি অবজ্ঞা, যাঁরা এই গানকে হৃদয়ে ধারণ করে দেশের জন্য নিজেদের জীবন উৎসর্গ করেছিলেন। আজ কংগ্রেস নতুন মুসলিম লিগে পরিণত হয়েছে। এটি শুধুমাত্র রাজনৈতিক অবস্থান রক্ষা নয়, বরং সেই ভোটব্যাঙ্কের প্রতি ক্ষুধার প্রমাণ, যার বেদিতে কংগ্রেস বারবার দেশের আত্মসম্মান বন্ধক রেখেছে (Amit Shah)।”

    ফলে বন্দে মাতরমের কতগুলি স্তবক পরিবেশন করা হবে, সেই প্রশ্নটি এখন নিছক সাংস্কৃতিক বা আনুষ্ঠানিক বিতর্কে সীমাবদ্ধ নেই। জাতীয়তাবাদ, স্বাধীনতা আন্দোলনের উত্তরাধিকার, ধর্মীয় সংবেদনশীলতা এবং দেশের রাজনৈতিক ইতিহাসের ব্যাখ্যাকে কেন্দ্র করে আরও তীব্র হয়ে উঠেছে বিজেপি-কংগ্রেসের সংঘাত (Vande Mataram Row)।

     

  • Dimagi Naxals: ‘দিমাগি নকশাল’দের চিহ্নিত করে বিচ্ছিন্ন করার ডাক প্রধানমন্ত্রীর, প্রাক্তন নকশাল-অধ্যুষিত এলাকায় উন্নয়নের দাবি

    Dimagi Naxals: ‘দিমাগি নকশাল’দের চিহ্নিত করে বিচ্ছিন্ন করার ডাক প্রধানমন্ত্রীর, প্রাক্তন নকশাল-অধ্যুষিত এলাকায় উন্নয়নের দাবি

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: লালকেল্লা থেকে স্বাধীনতা দিবসের ভাষণে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি (PM Modi) নকশাল সমস্যার একটি নতুন রূপের কথা তুলে ধরলেন। তিনি এর নাম দিয়েছেন “দিমাগি নকশাল” (Dimagi Naxals)। প্রধানমন্ত্রীর দাবি, জঙ্গলে সক্রিয় সশস্ত্র নকশালদের অনেকটাই নির্মূল করা সম্ভব হয়েছে। তবে নকশালপন্থী মানসিকতায় প্রভাবিত কিছু মানুষ এখনও প্রভাবশালী অবস্থানে রয়েছেন। তাঁদের চিহ্নিত করে বিচ্ছিন্ন করা প্রয়োজন বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

    ‘মাওবাদী হিংসা শেষ নিঃশ্বাস নিচ্ছে’ (Dimagi Naxals)

    নকশাল হিংসার অতীতের কথা স্মরণ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বছরের পর বছর দেশের একাধিক অঞ্চলকে আতঙ্কের মধ্যে রেখেছিল ‘লাল সন্ত্রাস’। মাওবাদী হিংসার বিরুদ্ধে অভিযান চালিয়ে সাধারণ মানুষকে রক্ষা করতে গিয়ে ৩,৫০০-এরও বেশি নিরাপত্তাকর্মী প্রাণ হারিয়েছেন বলেও জানান প্রধানমন্ত্রী। তাঁর বক্তব্য, এই ধরনের অভিযানে নিহত নিরাপত্তাকর্মীর সংখ্যা যুদ্ধের কারণে প্রাণ হারানো মানুষের সংখ্যার থেকেও বেশি। ২০১৪ সালে তাঁর সরকার ক্ষমতায় আসার পরেই দেশ থেকে নকশালবাদ নির্মূলের প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল বলেও স্মরণ করিয়ে দেন তিনি। প্রধানমন্ত্রী বলেন, “২০১৪ সালে আমরা ক্ষমতায় আসার পর দেশকে নকশালমুক্ত করার শপথ নিয়েছিলাম। আমি খুশি যে মাওবাদী হিংসা এখন তার শেষ নিঃশ্বাস নিচ্ছে।”

    ক্ষমতার অলিন্দে ‘দিমাগি নকশাল’

    প্রধানমন্ত্রীর দাবি, একাধিক জঙ্গল এলাকা থেকে সশস্ত্র নকশালদের হটাতে সরকার সফল হয়েছে। তবে তাঁর অভিযোগ, মাওবাদী চিন্তাধারায় প্রভাবিত কিছু মানুষ অতীতে সরকারি কমিটি এবং ক্ষমতার অলিন্দে জায়গা করে নিয়েছিলেন।প্রধানমন্ত্রী বলেন, “বছরের পর বছর নকশাল মানসিকতার মানুষ ক্ষমতার অলিন্দে জায়গা করে নিয়েছিলেন। তাঁরা সরকারি কমিটিতে উপদেষ্টা হিসেবে ছিলেন। মাওবাদী চিন্তাধারা নীতিনির্ধারণেও প্রভাব ফেলেছিল।” প্রধানমন্ত্রীর দাবি, এই ‘দিমাগি নকশাল’রা এখন হিংসা ও অশান্তি তৈরির সুযোগ খুঁজছে এবং সমাজকে ভুল পথে চালিত করার চেষ্টা করছে। তিনি বলেন, “এই ‘দিমাগি নকশাল’দের চিহ্নিত করে বিচ্ছিন্ন করতে হবে এবং যুবসমাজকে মূলস্রোতের সঙ্গে যুক্ত করতে হবে (Dimagi Naxals)।”

    প্রাক্তন নকশাল-অধ্যুষিত এলাকায় উন্নয়নের দাবি

    নকশাল হিংসায় একসময় ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলিতে উন্নয়নের কথাও তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী। তাঁর দাবি, মাওবাদীদের উপস্থিতির কারণে যে প্রত্যন্ত অঞ্চলগুলিকে একসময় উন্নয়নের পক্ষে অত্যন্ত কঠিন বলে মনে করা হত, সেখানেও এখন অগ্রগতি হচ্ছে। প্রধানমন্ত্রী বলেন, হিংসার কারণে যে অঞ্চলগুলি দীর্ঘদিন পিছিয়ে ছিল, সেখানে এখন উন্নয়নের গতি বেড়েছে এবং রাষ্ট্রের উপস্থিতিও আরও শক্তিশালী হয়েছে। তাঁর বক্তব্য, এই পরিবর্তন দেখিয়ে দিচ্ছে যে দেশ একসময় যেখানে বন্দুকের নলের সামনে দাঁড়িয়েছিল, সেখানেই এখন উন্নয়নের ধ্বজা উড়ছে (PM Modi)। একসময় নকশাল হিংসায় ক্ষতিগ্রস্ত সেই অঞ্চলগুলিতেই এখন উন্নয়নের নতুন ছবি দেখা যাচ্ছে বলেও দাবি করেন প্রধানমন্ত্রী (Dimagi Naxals)।

     

  • Suvendu Adhikari on Red Road: বন্দে মাতরম থেকে শ্যামাপ্রসাদের ট্যাবলো, স্বাধীনতা দিবসে বর্ণাঢ্য রেড রোড, বাংলাকে হারানো গৌরব ফেরানোর অঙ্গীকার মুখ্যমন্ত্রীর

    Suvendu Adhikari on Red Road: বন্দে মাতরম থেকে শ্যামাপ্রসাদের ট্যাবলো, স্বাধীনতা দিবসে বর্ণাঢ্য রেড রোড, বাংলাকে হারানো গৌরব ফেরানোর অঙ্গীকার মুখ্যমন্ত্রীর

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: কলকাতার রেড রোডে ৮০তম স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষে জাতীয় পতাকা উত্তোলন করলেন পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। স্বাধীনতা দিবসের বিশেষ অনুষ্ঠানে জাতীয় পতাকা উত্তোলনের পাশাপাশি দেশবাসীকে স্বাধীনতা দিবসের শুভেচ্ছা জানান মুখ্যমন্ত্রী। স্বাধীনতা দিবসের মঞ্চ থেকে রাজনৈতিক সংকীর্ণতা দূরে সরিয়ে রেখে হাতে হাত মিলিয়ে বাংলা গড়ার আহ্বান জানালেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। এদিন দেশবাসীর উদ্দেশে তিনি বলেন, রাজনৈতিক মতপার্থক্য ভুলে সকলকে একসঙ্গে বাংলার উন্নয়নে কাজ করতে হবে। কর্মসংস্থান, নারীর ক্ষমতায়ন, সুরক্ষা এবং নগরায়নের মাধ্যমে পশ্চিমবঙ্গকে ফের তার পুরনো গৌরবের জায়গায় নিয়ে যাওয়ার বার্তাও দেন মুখ্যমন্ত্রী। রেড রোডে আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন রাজ্যের মন্ত্রী, সাংসদ ও বিধায়কেরা।

    রাজনৈতিক সংকীর্ণতা দূর করুন

    বদলের বাংলায় রেড রোডে ইতিহাস। স্বাধীনতা দিবসে রেড রোডে বাজল বন্দে মাতরম। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী নেতাজির মূর্তিতে মাল্যদানের পর পতাকা উত্তোলন করেন। কর্মক্ষেত্রে অসামান্য অবদানের জন্য ১৪ জন আইপিএসকে ‘মুখ্যমন্ত্রীর পদক’ প্রদান করেন। তার আগে রাজ্যবাসীর উদ্দেশে ভিডিওবার্তায় সকলকে শুভেচ্ছা জানান মুখ্যমন্ত্রী। শুভেন্দু অধিকারী বলেন, ‘‘আসুন রাজনৈতিক সংকীর্ণতা দূরে সরিয়ে রেখে, হাতে হাত মিলিয়ে বাংলা গড়ার কাজ করি।’’ তাঁর বক্তব্যে বাংলার উন্নয়নের জন্য দলমত নির্বিশেষে সকলের অংশগ্রহণের উপর জোর দেওয়া হয়। স্বাধীনতা দিবসের তাৎপর্য তুলে ধরে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, পশ্চিমবঙ্গ গৌরবের মাটি। এই মাটিতেই জন্মেছেন বীর বিপ্লবী নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসু, ক্ষুদিরাম বসু এবং মাতঙ্গিনী হাজরার মতো স্বাধীনতা সংগ্রামীরা। তাঁদের আত্মত্যাগ ও আদর্শকে সামনে রেখে নতুন বাংলা গড়ার সংকল্প নেওয়ার কথাও বলেন তিনি।

    উন্নয়ন ও ঐক্যের বার্তা

    শুভেন্দুর কথায়, কর্মসংস্থান বৃদ্ধি, মহিলাদের ক্ষমতায়ন, সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা এবং পরিকল্পিত নগরায়নের মাধ্যমে পশ্চিমবঙ্গকে আবারও দেশের অন্যতম অগ্রণী রাজ্যে পরিণত করাই সরকারের লক্ষ্য। স্বাধীনতা দিবসের মঞ্চ থেকেই উন্নয়ন ও ঐক্যের বার্তা দিয়ে সেই লক্ষ্যে সকলকে একযোগে এগিয়ে আসার আহ্বান জানান মুখ্যমন্ত্রী। শুভেন্দু বলেন, ‘‘কর্মসংস্থান, নারীর ক্ষমতায়ন, সুরক্ষাকে সুদৃঢ় করতে চাই। যে সংকল্প নিয়ে সরকারে এসেছি, তাকে অক্ষরে অক্ষরে পালন করব।’’ এই প্রথমবার রেড রোডে প্যারেডে কম্যান্ডার এবং সহকারী দু’জনে ছিলেন। কুচকাওয়াজের পর মোট ১২টি ট্যাবলো প্রদর্শিত হয়। শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্য়ায়ের ট্যাবলো দেখানো হয়। তারপর একে একে অন্নামৃত, কন্যারত্ন ও অন্নপূর্ণা যোজনা, আয়ুষ্মান আরোগ্য মন্দির, দুর্গাশক্তি বাহিনী, কলকাতা পুলিশ এবং কলকাতা পুরসভার ট্যাবলো প্রদর্শিত হয়।

    পুলিশের সঙ্গে কেন্দ্রীয় বাহিনী

    স্বাধীনতা দিবসে রেড রোডের নিরাপত্তায় এবছরই পুলিশের সঙ্গে রয়েছে কেন্দ্রীয় বাহিনী। কলকাতাজুড়ে নিরাপত্তার দায়িত্ব অতিরিক্ত প্রায় তিন হাজার পুলিশ। রেড রোডকে ১৩টি জোনে ভাগ করা হয়েছে। প্রত্যেক সেক্টরের দায়িত্বে একজন করে ডিসি পদমর্যাদার পুলিশকর্তা। ১৩টি জোনের আওতায় ৮০টি সেক্টর। এ ছাড়াও নিরাপত্তার দায়িত্বে পুলিশের অতিরিক্ত কমিশনার, যুগ্ম কমিশনার, ২০ জন ডিসি, ৪০ জন অ‌্যাসিস্ট‌্যান্ট পুলিশ কমিশনার। সারা শহরজুড়ে টহল দিচ্ছে ন’টি পিসিআর ভ্যান, তিনটি কুইক রেসপন্স টিম। নজরদারির জন্য শহরে ১৯টি পুলিশ পিকেট, মেট্রো স্টেশনে ২৫টি পিকেট, ২৪টি পিকেট শহরের বিভিন্ন বাজার ও শপিং মলে, কালীঘাট মন্দির ছাড়াও সাতটি ধর্মস্থানে। শহরের ২৩টি গুরুত্বপূর্ণ রাস্তায় নাকা চেকিংয়ের বন্দোবস্ত করা হয়েছে। যে কোনওরকম নাশকতা এড়াতে দর্শকদের সঙ্গে মিশে রয়েছে সাদা পোশাকের পুলিশ।

    দূরদর্শনে শুভেন্দুর বক্তব্য

    দীর্ঘ ২০ বছর পর বাংলার কোনও মুখ্যমন্ত্রী আবারও বার্তা দিলেন দূরদর্শনে। শুভেন্দু অধিকারী এদিন প্রথমবার মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে অংশ নিয়েছিলেন স্বাধীনতা দিবসের অনুষ্ঠানে। দূরদর্শনে তাঁর বক্তব্য সম্প্রচারিত হয় দিল্লিতে লালকেল্লার অনুষ্ঠান সম্পন্ন হওয়ার ঠিক পরেই। বক্তব্যের শুরুতেই নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসুকে স্মরণ করলেন তিনি। তারপর নিলেন শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের নাম। শুভেন্দু অধিকারী বলেন, ‘বন্দে মাতরম। প্রিয় পশ্চিমবঙ্গ বাসী, আজ স্বাধীনতার ৮০তম বর্ষপূর্তির পবিত্র দিনে প্রতিটি নাগরিককে জানাই আন্তরিক অভিনন্দন ও শুভেচ্ছা। আজ শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করি সেই সকল স্বাধীনতা সংগ্রামীদের যাঁদের সংগ্রামের মাধ্যমে আমরা পেয়েছি স্বাধীনতার মুক্ত আকাশ।’ এরপরই একে একে নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসু, শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়, ক্ষুদিরাম বসু, মাতঙ্গিনী হাজরা, প্রীতিলতা ওয়াদ্দেদার, বিনয়-বাদল দীনেশের নাম।

    বিকশিত ভারতে পশ্চিমবঙ্গ অন্যতম চালিকাশক্তি

    আড়াই মিনিটের এই বার্তায় শুভেন্দু অধিকারী বলেন, ‘তাঁদের আত্মত্যাগ আমাদের শিখিয়েছে স্বাধীনতা শুধু রাজনৈতিক জয় নয়, বরং দেশকে আরও এগিয়ে যাওয়ার এক পবিত্র অঙ্গীকার। সেই অঙ্গীকারকে সঙ্গে নিয়েই প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি বিকশিত ভারত ২০৪৭-এর স্বপ্ন দেখেছেন। সেই স্বপ্নকে বাস্তব রূপ দিতে পশ্চিমবঙ্গ হবে অন্যতম চালিকাশক্তি। সেই লক্ষ্যে যুব সমাজের জন্য নতুন সুযোগ তৈরি করা, মা-বোনেদের আরও স্বনির্ভর করে তোলা, শিক্ষা-স্বাস্থ্য, কৃষি-শিল্প থেকে সমাজের প্রতিটি স্তরে উন্নয়ন পৌঁছে দিতে আমাদের সরকার বদ্ধপরিকর।’

    এই প্রথম স্বাধীনতা দিবসের অনুষ্ঠানে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু

    মুখ্যমন্ত্রী তেরঙার তাৎপর্যও এদিনের বার্তায় তুলে ধরেন। তিনি জানান, এটি দেশের সার্বভৌমত্বের প্রতীক। বৈচিত্রের মধ্যে ঐক্যের গর্ব। জাতীয় সঙ্গীত ও জাতীয় গানের মর্যাদাও অক্ষুন্ন রাখার কথা বলেন শুভেন্দু। উল্লেখ্য, এর আগে ২০০৬ সালে স্বাধীনতা দিবসে পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে বুদ্ধদেব ভট্টাচার্য দূরদর্শনে বার্তা দিয়েছিলেন। তারপর বাংলার আর কোনও মুখ্যমন্ত্রী স্বাধীনতা দিবসে দুরদর্শনে বক্তব্য রাখেননি। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের জমানায় দুরদর্শনে মুখ্যমন্ত্রীর ভাষণ বন্ধ ছিল ১৫ বছর। বিজেপি সরকার ক্ষমতায় আসার পর আবার চালু হল সেই রীতি। পশ্চিমবঙ্গের ক্ষেত্রে এবারের স্বাধীনতা দিবসটা অন্যরকম। রয়েছে বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ। কারণ বাংলায় বিজেপি ক্ষমতায় আসার পর এই প্রথম তারা উদযাপন করছে ১৫ অগাস্ট। মুখ্যমন্ত্রী পদে বসার পর এই প্রথম স্বাধীনতা দিবসের সরকারি অনুষ্ঠানে যোগ দিলেন শুভেন্দু অধিকারী।

     

     

  • PM Modi on Independence Day:  ‘বিকশিত ভারত’ গড়ে তোলার লক্ষ্যে ‘শক্তির সপ্তধারা’র ঘোষণা করলেন প্রধানমন্ত্রী মোদি

    PM Modi on Independence Day: ‘বিকশিত ভারত’ গড়ে তোলার লক্ষ্যে ‘শক্তির সপ্তধারা’র ঘোষণা করলেন প্রধানমন্ত্রী মোদি

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ভারতের প্রাচীন ঐতিহ্যে ‘সপ্তসিন্ধু’র এক বিশাল মাহাত্ম্য রয়েছে। সাতটি নদীর অববাহিকাতেই গড়ে উঠেছিল প্রাচীন ভারতের সভ্যতা। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি (PM Modi on Independence Day) দেশের ৮০ তম স্বাধীনতা দিবসে সেই আদি রসটাকেই ফিরিয়ে আনতে চাইলেন আধুনিক অর্থনীতির ময়দানে। স্পষ্ট জানিয়ে দিলেন, আগামী দিনে দেশকে নতুন উচ্চতায় নিয়ে যেতে গেলে যে নতুন গতির প্রয়োজন, তার মূল চালিকাশক্তি হবে এই ‘সপ্তধারা’ (PM Modi Saptdhara Vision)। তাঁর কথায়, “বিগত সাত দশকে যা সম্ভব হয়নি, আগামী পাঁচ থেকে সাত বছরের মধ্যে এই সপ্তধারার শক্তিতে আমরা সেই অধরা স্বপ্ন সত্যি করব।”

    সাত দফা সংস্কার কর্মসূচি

    ৮০তম স্বাধীনতা দিবসে লালকেল্লা থেকে ‘শক্তির সপ্তধারা’ ঘোষণা করেছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। সপ্তসিন্ধুর প্রসঙ্গ টেনে জানিয়েছেন, এই সাতটি ধারাই দেশকে এগিয়ে নিয়ে যেতে সাহায্য করবে। ২০৪৭ সালের মধ্যে ‘বিকশিত ভারত’ গড়ে তোলার যে লক্ষ্য স্থির করেছে মোদি সরকার, তার কান্ডারি হয়ে থাকবে সাত শক্তি। মোদি জানিয়েছেন, স্বপ্ন সফল করার জন্য সাতটি ক্ষেত্রেই জোর দেওয়া হচ্ছে। দেশের উন্নয়নের লক্ষ্যে সাত দফা সংস্কার কর্মসূচির কথা বলেছেন মোদি।

    উৎপাদন শক্তি: এই কর্মসূচির মধ্যে প্রথমেই রয়েছে উৎপাদন শক্তি। দেশের নানা প্রান্তে উৎপাদন বৃদ্ধির ক্ষেত্রে জোর দেবে সরকার। তবেই বিকাশের পথ প্রশস্ত হবে। প্রধানমন্ত্রী কথায়, দুনিয়া যখন কেবল নিজের কথা ভাবছে, তখন ভারত শুধু অন্যের তৈরি জিনিসের বাজার হয়ে বসে থাকতে পারে না। খরচে, গুণমানে আর বিপুল উৎপাদনে ভারতীয় পণ্যকে বিশ্বের দরবারে সেরা হতে হবে। ভারতকে হয়ে উঠতে হবে বিশ্বের অন্যতম প্রধান জোগানদার বা গ্লোবাল সাপ্লায়ার।

    কৃষি ও খাদ্য প্রক্রিয়াকরণ: ভারতের মাটি ও কৃষকের হাতে যে জাদু আছে, তাকে বিশ্বের ঘরে ঘরে পৌঁছে দেওয়াই দ্বিতীয় লক্ষ্য। এখন আর কেবল দেশের পেট ভরানো নয়, ভারতীয় কৃষকের উৎপাদিত ফসল যাবে বিদেশের বাজারে। ফ্রি ট্রেড চুক্তিগুলোকে কাজে লাগিয়ে ভারতীয় মশলা, মিলেট, ট্র্যাডিশনাল খাবার, শাকসবজি আর ফুলকে বিশ্বের দরবারে এক একটি বিশ্বমানের ‘ব্র্যান্ড’ করে তোলাই এখন আসল চ্যালেঞ্জ।

    প্রযুক্তি ও উদ্ভাবন: প্রযুক্তির মাঠে ভারত যে পিছিয়ে নেই, তা ইউপিআই (UPI) আর ডিজিটাল পাবলিক ইনফ্রাস্ট্রাকচার দিয়েই প্রমাণ হয়ে গেছে। কিন্তু মোদীর চোখ এখন আরও দূরে। এআই (AI), কোয়ান্টাম টেকনোলজি, স্পেস, রোবোটিক্স এবং ডেটা সেন্টারের মতো ভবিষ্যতের প্রযুক্তিকে ভারতে ডানা মেলতে হবে। লক্ষ্য একটাই – দেশীয় প্রযুক্তিতে তৈরি ‘মেড ইন ইন্ডিয়া’ ৬জি যেন পৌঁছে যায় ভারতের শেষ প্রান্তের মানুষটির কাছেও।

    গতিশক্তি: যোগাযোগ ব্যবস্থা উন্নত না হলে উন্নয়ন অধরাই থেকে যায়। তাই গতিশক্তি প্রকল্পে জোর দেওয়া হচ্ছে দেশের আধুনিকতম গণপরিবহনে। বুলেট ট্রেন ও হাই-স্পিড রেলে যেমন শহরের সঙ্গে শহর জোড়া হবে, ঠিক তেমনই নজর থাকবে ‘পোর্ট-লেড ডেভেলপমেন্ট’ বা বন্দরভিত্তিক বাণিজ্যের ওপর।

    প্রতিরক্ষা: ভারতের প্রতিরক্ষা খাতকে স্বাবলম্বী করা এই রূপরেখার অন্যতম প্রধান লক্ষ্য। বিদেশ থেকে স্রেফ আধুনিক যুদ্ধাস্ত্র কিনে আনা নয়, ভারত নিজে সেই সমস্ত হাইপারসনিক প্রযুক্তির অস্ত্র তৈরি করবে এবং বিশ্বের বাজারে অন্যতম বড় সামরিক সরঞ্জাম সরবরাহকারী দেশ হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠা করবে।

    অর্থনীতি: অর্থনীতির ক্ষেত্রে দু’ধরনের বিষয়ে জোর দেওয়ার কথা বলেছেন মোদি— পরিবেশবান্ধব অর্থনীতি (গ্রিন ইকোনমি) এবং সমুদ্রবান্ধব অর্থনীতি (ব্লু ইকোনমি)। প্রথমটির ক্ষেত্রে পরিবেশের ক্ষতি না-করে কর্মসংস্থান তৈরি এবং অর্থনৈতিক অগ্রগতির উপায় সন্ধান হবে সরকারের প্রাধান্য। দ্বিতীয় ক্ষেত্রে সমুদ্র, নদী বা যে কোনও জলাশয়ের জলকে কাজে লাগিয়ে অর্থনীতির উন্নয়নের কথা বলা হয়। তবে সমুদ্র বা পরিবেশের ক্ষতি না করা এ ক্ষেত্রেও সরকারের অন্যতম অগ্রাধিকার।

    সফ্‌ট পাওয়ার: সফ্‌ট পাওয়ার বলতে ভারতের ঐতিহ্য, সংস্কৃতি এবং বিভিন্ন দেশের সঙ্গে কূটনীতির মাধ্যমে সুসম্পর্ক বজায় রাখার কথা বলা হয়। মোদf উল্লেখ করেছেন যোগা, আয়ুর্বেদ এবং পর্যটনের কথা। সামরিক শক্তি প্রয়োগ না করেই এগুলির মাধ্যমে দেশকে বিশ্বের দরবারে আরও এগিয়ে নিয়ে যাওয়া যায়। মোদি সেই ক্ষমতার কথাই স্মরণ করিয়ে দিয়েছেন স্বাধীনতা দিবসের উদ্‌যাপনে। হস্তশিল্প, চলচ্চিত্র, ভিএফএক্স, অ্যানিমেশন, গেমিং এবং ডিজিটাল কন্টেন্টকে কাজে লাগিয়ে ভারতের সৃজনশীল অর্থনীতিকে গ্লোবাল ব্র্যান্ড করার কথা বলেছেন তিনি। বিদেশি শিল্পীদের ভারতে পারফর্ম করার ইচ্ছার কথা উল্লেখ করে দেশের ক্রমবর্ধমান ‘কনসার্ট ইকোনমি’-র কথাও তুলে ধরেন তিনি।

    ‘পাঁচ প্রতিজ্ঞা’ থেকে ‘সপ্তসিন্ধু’

    এর আগে ২০২২ সালে দেশের ৭৫তম স্বাধীনতা দিবসের অনুষ্ঠানে লালকেল্লা থেকে ‘পাঁচ প্রতিজ্ঞা’-র কথা বলেছিলেন মোদি। এ বার শক্তির সপ্তধারায় জোর দিয়ে দেশকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার প্রতিজ্ঞা করলেন প্রধানমন্ত্রী। মোদি কেবল পরিকল্পনার কথা বলেই থেমে থাকেননি, ভারতীয় ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানগুলির জন্য নির্দিষ্ট লক্ষ্যমাত্রাও বেঁধে দিয়েছেন। তিনি জানিয়েছেন, আগামী এক দশকের মধ্যে বিশ্বের ‘ফর্চুন ৫০০’ তালিকায় ভারতের ৫০টি কোম্পানিকে দেখতে চান তিনি। পাশাপাশি বিশ্বের শীর্ষ ৫টি ব্যাঙ্কের মধ্যে অন্তত একটি ভারতীয় ব্যাঙ্ক এবং বিশ্বের ৫টি বৃহত্তম ফার্মা কোম্পানির মধ্যে একটি ভারতীয় ফার্মা কোম্পানি থাকার লক্ষ্যমাত্রা স্থির করেছেন। সবশেষে প্রধানমন্ত্রী প্রশাসন এবং সংস্কারের ওপর জোর দিয়ে জানান, পুরনো নিয়ম ও নীতি দিয়ে ভারত আর চলতে পারে না, ২০৪৭-এর উচ্চাকাঙ্ক্ষার কথা মাথায় রেখে নতুন নিয়ম তৈরি করতে হবে।

  • PM Modi in Red Fort: তরুণ প্রজন্মের হাত ধরেই বিকশিত ভারত-এর স্বপ্নপূরণ! লাল কেল্লায় ‘আত্মনির্ভর ভারত’ গঠনে জোর প্রধানমন্ত্রীর

    PM Modi in Red Fort: তরুণ প্রজন্মের হাত ধরেই বিকশিত ভারত-এর স্বপ্নপূরণ! লাল কেল্লায় ‘আত্মনির্ভর ভারত’ গঠনে জোর প্রধানমন্ত্রীর

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: দেশের তরুণ প্রজন্মই ২০৪৭ সালের মধ্যে ‘বিকশিত ভারত’ সম্ভব করে তুলতে পারে। ৮০তম স্বাধীনতা দিবসে দিল্লির লালকেল্লা থেকে দেশের তরুণ প্রজন্মকেই বিশেষ বার্তা দিলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি (PM Modi in Red Fort)। তিনি জানান, দেশকে নিয়ে তিনি যে স্বপ্ন দেখেছেন, তা সত্যি করার জন্য তরুণ প্রজন্মের উপর ভরসা রাখা হয়েছে।

    তরুণ প্রজন্মের উপস্থিতিও চোখে পড়ল

    স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষে লালকেল্লায় দর্শকাসনে তরুণ প্রজন্মের উপস্থিতিও ছিল চোখে পড়ার মতো। কিছু দিন আগে এই লালকেল্লাতেই নিটের প্রশ্নফাঁস এবং শিক্ষায় দুর্নীতির অভিযোগে সরকারের বিরুদ্ধে প্রতিবাদে শামিল হয়েছিল তরুণ প্রজন্ম। কিছু দিন আগে দিল্লির যন্তর মন্তরে নিট-সহ বিভিন্ন পরীক্ষায় অনিয়ম ও প্রশ্নফাঁসের অভিযোগে সরকারের বিরুদ্ধে বিক্ষোভে শামিল হয়েছিল তরুণ প্রজন্ম। সংসদ ভবন অভিযানেও বহু তরুণ-তরুণী যোগ দিয়েছিলেন। সেই সময়ে বার বার সমাজমাধ্যমে ভিডিয়োবার্তার মাধ্যমে যুবসমাজের পাশে থাকার কথা বলেছিলেন মোদি। স্বাধীনতা দিবসের উদ্‌যাপনের কেন্দ্রেও রাখা হল সেই প্রজন্মকেই। শনিবার প্রথমে রাজঘাটে মহাত্মা গান্ধীর সমাধিস্থলে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন মোদি। তার পর লালকেল্লায় জাতীয় পতাকা উত্তোলন করেন।

    ‘আত্মনির্ভর ভারত’ গঠনে জোর

    শনিবার দেশ জুড়ে ভারতের ৮০তম স্বাধীনতা দিবস পালিত হচ্ছে। এ বারের লালকেল্লার অনুষ্ঠানে ‘যুবশক্তি’ এবং ২০৪৭-এর ‘বিকশিত ভারত’-এর লক্ষ্যে বিশেষ জোর দেওয়া হয়েছে। অর্থাৎ, তরুণ প্রজন্মকে প্রাধান্য দিয়েই স্বাধীনতা দিবসের অনুষ্ঠান পরিকল্পনা করা হয়েছে। সেখান থেকে মোদি (PM Modi On Independence Day) বলেন, ‘‘আমাদের দেশের তরুণ প্রজন্মের উপর আমার ভরসা আছে।’’ বিকশিত ভারতের স্বপ্ন সফল করার জন্য দেশের নারীশক্তি, কৃষক, শ্রমিক সকলের সহযোগিতাই চেয়েছেন তিনি। তবেই ২০৪৭ সালের মধ্যে দেশকে ভিন্ন উচ্চতায় পৌঁছে দেওয়া যাবে। দ্রুত অগ্রগতি এবং ‘আত্মনির্ভর ভারত’ পরিকল্পনার উপরেও প্রধানমন্ত্রী জোর দিয়েছেন। “দ্রুত পালটাচ্ছে আধুনিক যুদ্ধক্ষেত্র। রকেট গতিতে বদলাচ্ছে প্রযুক্তি। ভারত শুধু বাজার হয়ে থাকবে না। প্রতিরক্ষা ক্ষেত্রে আত্মনির্ভর হবে। ড্রোন থেকে শুরু করে কাউন্টার ড্রোন সিস্টেম, হাইপারসোনিক মিসাইল টেকনোলজিতে আত্মনির্ভর হবে দেশ”, শনিবার লালকেল্লায় বার্তা মোদির। মোদি বলেন, “আমাদের কর্ম সংস্কৃতি বদল ঘটানোর সময় এসেছে। ছোট কলকবজা থেকে বড় পণ্য তৈরি করতে হবে। পণ্য়ের গুণমানে কোনও আপস নয়। ৫ দশকে যা হয়নি তা ৫ বছরে হয়েছে। উৎপাদন ক্ষেত্রের উন্নতি করতে হবে। শক্তির সপ্তধারার আহ্বান জানাচ্ছি।”

    বিশেষ এআই প্রশিক্ষণ

    যুবসমাজের জন্য নতুন প্রকল্প ঘোষণা করতে গিয়ে মোদি জানান, বিশ্ব জুড়ে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ঝড়ের গতিতে চলছে। তাই দেশের এক কোটি যুবক-যুবতীকে প্রতি বছর বিশেষ এআই প্রশিক্ষণ দেওয়ার ব্যবস্থা করছে সরকার। প্রধানমন্ত্রী জানান, দেশ গঠনে তরুণ প্রজন্মের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তাঁদের শক্তি উন্নয়নের প্রক্রিয়ায় কাজে লাগানো হবে। দেশের উচ্চাকাঙ্ক্ষাকে একমাত্র তরুণরাই সফল করতে পারেন বলে মনে করেন প্রধানমন্ত্রী।

    তরুণদের সহযোগিতার আর্জি মোদির

    তরুণদের বিশেষ বার্তা মোদির, “দেশের উন্নতিতে নেতৃত্ব দিন তরুণরা। আপনাদের দেওয়া ১-২ ঘণ্টা সময়ে আরও এগিয়ে যাবে দেশ। আপনার মনে হতে পারে এই ১-২ ঘণ্টা সময়ে কী-ই বা হবে। দেশে জনগণনার কাজ চলছে। সেনসাসের কাজে অংশ নিন।” মহিলা সংরক্ষণ বিলের পক্ষে সওয়াল করে মোদি বলেন, “মহিলা সংরক্ষণ বিল আনা হয়েছে। বিল পাশ করাতে সহযোগিতা করুন। বিকশিত ভারত তখনই হবে যখন মহিলারাও বিধানসভা, লোকসভায় আসার সুযোগ পাবেন।”

    কংগ্রেস-সহ বিরোধীদের বার্তা মোদির

    মোদি বলেন, “অনেকে বলছেন ইউক্রেনে যুদ্ধ হচ্ছে। গ্যাস পাবেন না। পেট্রল পাম্পে তেল পাবেন না। কিছু লোকের আনন্দ হচ্ছিল দেশবাসীকে ভয় দেখিয়ে। চাষিদের ভয় দেখানো হচ্ছে ইউরিয়া পাবেন না। তবে যাতে কারও কোনও সমস্যা না হয় ভারত প্রস্তুত ছিল। করোনা থেকে জ্বালানি নিয়ে অপপ্রচার করেছেন বিরোধীরা।” প্রধানমন্ত্রী বলেন, ২০১৪ সালে দেশের মাত্র ৭০টি শহরে পাইপলাইনের মাধ্যমে গ্যাস সরবরাহ করা হতো। বর্তমানে সেই পরিষেবা প্রায় ৭০০টি শহরে পৌঁছে গিয়েছে। রেলপথের বৈদ্যুতিকরণের কাজও সম্পূর্ণ হয়েছে । দেশে হাইড্রোজেনচালিত ট্রেন চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।  তিনি বলেন, ‘বিশ্বমাণের উৎপাদন করতে হবে। রফতানিতে নজর দিতে হবে। গ্লোবাল ব্র্যান্ড তৈরি করতে হবে।

    পরমাণু পথে ভারত

    মোদি বলেন, “ভারতে ৩ সেমি কন্ডাক্টর প্লান্ট কাজ করছে। ভারতে তৈরি সেমি কন্ডাক্টর রপ্তানি হচ্ছে। আগামী দিনে ৮টি সেমি কন্ডাক্টর প্লান্ট হবে। ৫টি নতুন পরমাণু চুল্লি এবং ২০৪৭ সালের মধ্যে ১০০ গিগাওয়াট পরমাণু শক্তি উৎপাদনের লক্ষ্যে এগিয়ে চলেছে ভারত। আমাদের নিজেদের ক্ষমতাবৃদ্ধি করতে হবে। নিজের স্বার্থ নিজেকে রক্ষা করতে হবে।” যুদ্ধের আবহে আত্মনির্ভর ভারতের বার্তা প্রধানমন্ত্রীর। বলেন, “নিজেদের স্বার্থ নিজেদের রক্ষা করতে হবে। অন্যের উপর ভরসা করে দেশ গড়া যায় না।”

    মোদির মুখে নেহরু-শ্যামাপ্রসাদ

    মাও সন্ত্রাস দমন প্রসঙ্গে মোদি বলেন, “অস্ত্রধারী মাওবাদীদের নিমূল করার লক্ষ্যে দেশ। মাও সন্ত্রাসে শহিদ হয়েছেন ৩ হাজার পুলিশ। মাওবাদী মানসিকতার মানুষ সব জায়গায় রয়েছে। জঙ্গলে যারা বন্দুক হাতে লড়াই করে তাদের চেয়েও বেশি ভয়ংকর ‘মস্তিষ্ক নকশাল’। তাদের নির্মূল করা এখনও বাকি।” ‘মিশন সুদর্শন চক্র’ দ্রুত কাজ করছে। নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসু, জওহরলাল নেহরু, শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের নাম দিয়ে লালকেল্লায় স্বাধীনতা দিবসে ভাষণ শেষ করলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি।

  • Vande Mataram: ‘বন্দে মাতরম’কে জাতীয় সঙ্গীতের সমান আইনি সুরক্ষা, রাষ্ট্রপতির অনুমোদনের পর পরিণত আইনে

    Vande Mataram: ‘বন্দে মাতরম’কে জাতীয় সঙ্গীতের সমান আইনি সুরক্ষা, রাষ্ট্রপতির অনুমোদনের পর পরিণত আইনে

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ‘বন্দে মাতরম’কে (Vande Mataram) জাতীয় সঙ্গীত ‘জন গণ মন’-এর সমান আইনি সুরক্ষা দিল কেন্দ্র। মঙ্গলবার ১১ অগাস্ট, রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মু জাতীয় (National Anthem) সম্মানের অবমাননা প্রতিরোধ (সংশোধন) বিল, ২০২৬-এ সম্মতি দেন। রাষ্ট্রপতির অনুমোদনের পর বিলটি আইনে পরিণত হয়েছে।

    শাস্তিযোগ্য অপরাধ (Vande Mataram)

    সংসদ গত মাসেই ১৯৭১ সালের জাতীয় সম্মানের অবমাননা প্রতিরোধ আইনে সংশোধনী হিসেবে এই বিলটি পাশ করেছিল। নতুন আইনে ইচ্ছাকৃতভাবে ‘বন্দে মাতরম’ গান থামিয়ে দেওয়া অথবা জাতীয় সঙ্গীত গাওয়ার সময় কোনও সমাবেশে বিঘ্ন ঘটানো শাস্তিযোগ্য অপরাধ হিসেবে গণ্য হবে। এই অপরাধে সর্বোচ্চ তিন বছর পর্যন্ত কারাদণ্ড, জরিমানা অথবা একই সঙ্গে কারাদণ্ড ও জরিমানা হতে পারে। ১৯৭১ সালের আইনে নির্দিষ্টভাবে জাতীয় সঙ্গীত ‘জন গণ মন’-এর সুরক্ষার কথা বলা ছিল। ইচ্ছাকৃতভাবে জাতীয় সঙ্গীত গাওয়া বন্ধ করে দেওয়া অথবা তা গাওয়ার সময় কোনও ধরনের বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করলে সর্বোচ্চ তিন বছর পর্যন্ত কারাদণ্ড, জরিমানা অথবা উভয় দণ্ডের বিধান ছিল। দ্বিতীয় বা পরবর্তী দোষের ক্ষেত্রে ন্যূনতম এক বছরের কারাদণ্ডের বিধানও রয়েছে।

    আইনি সুরক্ষার আওতায় ‘বন্দে মাতরম’ 

    নতুন সংশোধনীর ফলে ‘বন্দে মাতরম’-ও একই আইনি সুরক্ষার আওতায় চলে এল। সংশোধনী বিলে বলা হয়েছিল, জাতীয় গান ইচ্ছাকৃতভাবে বন্ধ করে দেওয়া বা গাওয়ার সময় ইচ্ছাকৃতভাবে বাধা সৃষ্টি করা রুখতে ১৯৭১ সালের আইনে এতদিন কোনও নির্দিষ্ট বিধান ছিল না। সেই কারণে আইনের ৩ নম্বর ধারায় ‘বন্দে মাতরম’কে অন্তর্ভুক্ত করার প্রস্তাব দেওয়া হয়। স্বাধীনতা সংগ্রামে ‘বন্দে মাতরম’-এর গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকাও সংশোধনী আইনে তুলে ধরা হয়েছে। ১৯৫০ সালের ২৪ জানুয়ারি গণপরিষদের সভাপতি রাজেন্দ্র প্রসাদ জানিয়েছিলেন, বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের লেখা এই গানকে ‘জন গণ মন’-এর সমান মর্যাদা দেওয়া হবে (Vande Mataram)।

    প্রথমে জাতীয় গান ‘বন্দে মাতরম’

    এদিকে, জাতীয় গান পরিবেশন নিয়ে নতুন নিয়মও চালু করেছে কেন্দ্রীয় সরকার। ২৮ জানুয়ারি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রকের জারি করা নির্দেশ অনুযায়ী, রাষ্ট্রপতির আগমন, জাতীয় পতাকা উত্তোলন এবং রাজ্যপালদের ভাষণের মতো সরকারি অনুষ্ঠানে ‘বন্দে মাতরম’-এর ছ’টি স্তবকই গাওয়া হবে। পুরো গানটি গাইতে সময় লাগবে প্রায় ৩ মিনিট ১০ সেকেন্ড। ‘বন্দে মাতরম’ এবং ‘জন গণ মন’ একই অনুষ্ঠানে পরিবেশিত হলে প্রথমে জাতীয় গান ‘বন্দে মাতরম’ গাওয়া হবে। উপস্থিত সকলের তখন সতর্ক অবস্থানে দাঁড়িয়ে থাকার কথা। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রক আরও জানিয়েছে, এ বছর স্বাধীনতা দিবসের অনুষ্ঠানে প্রথমবার লালকেল্লা থেকে ‘বন্দে মাতরম’ পরিবেশন করা হবে (National Anthem)। দেশের স্কুলগুলিতেও দিনের কর্মসূচি জাতীয় গানটির সমবেত পরিবেশনের মাধ্যমে শুরু করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে (Vande Mataram)।

     

  • Independence Day: স্বাধীনতা দিবসের আগে দিল্লিতে হাই অ্যালার্ট, ১৯ মোস্ট ওয়ান্টেড জঙ্গির পোস্টার প্রকাশ পুলিশের

    Independence Day: স্বাধীনতা দিবসের আগে দিল্লিতে হাই অ্যালার্ট, ১৯ মোস্ট ওয়ান্টেড জঙ্গির পোস্টার প্রকাশ পুলিশের

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: স্বাধীনতা দিবসের আগে নিরাপত্তার চাদরে মুড়ে ফেলা হচ্ছে রাজধানী দিল্লিকে। ১৫ অগাস্টকে কেন্দ্র করে সম্ভাব্য নাশকতা রুখতে নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও জোরদার করেছে দিল্লি পুলিশ। এরই মধ্যে আমজনতাকে সতর্ক করতে রাজধানীর বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ ও জনবহুল এলাকায় ১৯ জন ‘মোস্ট ওয়ান্টেড’ জঙ্গির ছবি ও পরিচয়-সংক্রান্ত তথ্য-সহ পোস্টার লাগানো হয়েছে। সাধারণ মানুষের কাছে তাদের সম্পর্কে কোনও তথ্য থাকলে পুলিশকে জানানোর আবেদনও করা হয়েছে। পুলিশ সূত্রে খবর, পোস্টারে ইন্ডিয়ান মুজাহিদিন, আল-কায়দা এবং বিভিন্ন খালিস্তানি জঙ্গি সংগঠনের সঙ্গে যুক্ত একাধিক ওয়ান্টেড জঙ্গির ছবি রয়েছে। তাঁদের সন্ধান পেতে তথ্য দিলে উপযুক্ত পুরস্কারের কথাও জানানো হয়েছে।

    কোন কোন জঙ্গি পুলিশের নজরে?

    দিল্লি পুলিশের প্রকাশিত তালিকায় ইন্ডিয়ান মুজাহিদিনের সঙ্গে যুক্ত রিয়াজ ভাটকল এবং শাবানদ্রি মহম্মদ ইকবাল ওরফে ইকবাল ভাটকলের নাম রয়েছে। আল-কায়দার সঙ্গে যুক্ত মহম্মদ শারজিল আখতার, আবু সুফিয়ান এবং সৈয়দ মহম্মদ আরশিয়ান-এর ছবিও পোস্টারে রাখা হয়েছে। খালিস্তানি জঙ্গিদের মধ্যে খালিস্তান জিন্দাবাদ ফোর্স (KZF)-এর সঙ্গে যুক্ত রঞ্জিত সিং ওরফে নীতা এবং পরমজিৎ সিং পাম্মা-র নাম রয়েছে। এছাড়াও খালিস্তান টাইগার ফোর্স (KTF)-এর সঙ্গে যুক্ত আরশদীপ সিং ওরফে আরশ ডালা-র ছবিও প্রকাশ করা হয়েছে। বাব্বর খালসা ইন্টারন্যাশনাল (BKI)-এর সঙ্গে যুক্ত বলে চিহ্নিত হরবিন্দর সিং সান্ধু ওরফে রিন্ডা, ওয়াধাওয়া সিং বাব্বর এবং গুরমিত সিং বাগ্গা-র নামও রয়েছে পুলিশের প্রকাশিত তালিকায়।

    কেন পোস্টার লাগানো হলো?

    স্বাধীনতা দিবসের আগে রাজধানীতে এ ধরনের পোস্টার সাঁটানো নতুন নয়। ১৫ অগeস্ট ও ২৬ জানুয়ারির মতো গুরুত্বপূর্ণ জাতীয় অনুষ্ঠানের আগে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করার অংশ হিসেবেই সাধারণত সন্দেহভাজন বা ওয়ান্টেড জঙ্গিদের ছবি জনসমক্ষে তুলে ধরা হয়। এ বারও দিল্লি পুলিশের লক্ষ্য, ওই ব্যক্তিদের সম্পর্কে কোনও তথ্য সাধারণ মানুষের কাছে থাকলে তা দ্রুত নিরাপত্তা সংস্থার কাছে পৌঁছনো। পুলিশ জানিয়েছে, সন্দেহজনক কোনও ব্যক্তি বা কার্যকলাপ চোখে পড়লে নাগরিকদের সতর্ক থাকতে হবে এবং দ্রুত কর্তৃপক্ষকে জানাতে হবে। তবে, পুলিশের এই পদক্ষেপের উদ্দেশ্য শুধু নজরদারি বাড়ানো নয়, সাধারণ মানুষকেও সম্ভাব্য নিরাপত্তা হুমকি সম্পর্কে সতর্ক করা। পুলিশ সূত্রে খবর, স্বাধীনতা দিবসে হামলার আশঙ্কায় দিল্লি জুড়ে চূড়ান্ত সতর্কতা জারি করা হল। গোয়েন্দা সূত্রে খবর আসার পরই স্বাধীনতা দিবসের আগে রাজধানীতে নিরাপত্তা আঁটোসাঁটো করা হল।

    সংবেদনশীল এলাকায় নজরদারি বৃদ্ধি

    স্বাধীনতা দিবসের আগে রাজধানীর নিরাপত্তা ব্যবস্থায় কোনও ফাঁক রাখতে চাইছে না দিল্লি পুলিশ। রেলস্টেশন, বাস টার্মিনাল, জনবহুল বাজার, ধর্মীয় স্থান এবং অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ ও সংবেদনশীল এলাকায় নজরদারি বাড়ানো হয়েছে। নিরাপত্তা সংস্থাগুলির সঙ্গে সমন্বয়ও আরও বাড়ানো হয়েছে। সন্দেহজনক ব্যক্তি, বস্তু বা গতিবিধির উপর বিশেষ নজর রাখা হচ্ছে। দিল্লির গুরুত্বপূর্ণ এলাকাগুলিতে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েনের পাশাপাশি বিভিন্ন স্তরে নিরাপত্তা পরিকাঠামো খতিয়ে দেখা হচ্ছে। স্বাধীনতা দিবসের আগে দিল্লি মেট্রোতেও নিরাপত্তা বাড়ানো হয়েছে। স্বাধীনতা দিবসের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে দিল্লি পুলিশ পার্শ্ববর্তী রাজ্যগুলির পুলিশের সঙ্গেও সমন্বয় বাড়িয়েছে। দিল্লির পাশাপাশি দেশের পশ্চিম সীমান্তেও নিরাপত্তা বাড়ানো হয়েছে।

    রেড ফোর্টে বিশেষ নজর

    স্বাধীনতা দিবসের মূল অনুষ্ঠান হবে দিল্লির লালকেল্লায়। সেখান থেকেই প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি জাতীয় পতাকা উত্তোলন করে দেশবাসীর উদ্দেশে ভাষণ দেবেন। ফলে লালকেল্লা ও তার আশপাশের এলাকায় নিরাপত্তা ব্যবস্থাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। একাধিক নিরাপত্তা সংস্থার অন্তত ১৫,০০০ থেকে ২০,০০০ কর্মীকে ওই এলাকায় মোতায়েন করা হবে বলে মনে করা হচ্ছে। নিরাপত্তা জোরদার করতে এবং জনবহুল এলাকায় অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্ত করতে দিল্লি পুলিশ প্রথম বারের মতো তাদের ‘ফেসিয়াল রিকগনিশন সিস্টেমে’র পাশাপাশি ‘অভিজ্ঞান অ্যাপ’ ব্যবহার করবে। উত্তর দিল্লির ডেপুটি কমিশনার অব পুলিশ (ডিসিপি) রাজা বানথিয়া বলেছেন, বেশ কয়েক দিন ধরেই নিরাপত্তার প্রস্তুতি চলছে এবং এতে দিল্লি পুলিশ, আধাসামরিক বাহিনী, ন্যাশনাল সিকিউরিটি গার্ড (এনএসজি) এবং অন্যান্য সংস্থার কর্মীরা অংশ নেবেন। নিরাপত্তা ব্যবস্থায় ভিডিয়ো অ্যানালিটিক্স এবং ফেসিয়াল রিকগনিশন সিস্টেমযুক্ত সিসিটিভি ক্যামেরা অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। এই ব্যবস্থা দূর থেকে মুখাবয়ব চিহ্নিত করতে পারে।

    সাধারণ মানুষকে পরামর্শ

    নিরাপত্তা সংস্থাগুলির তরফে সাধারণ মানুষকে অযথা আতঙ্কিত না হয়ে সতর্ক থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। বিশেষ করে জনবহুল জায়গায় কোনও পরিত্যক্ত ব্যাগ বা সন্দেহজনক বস্তু পড়ে থাকতে দেখা গেলে সেটি স্পর্শ না করে পুলিশকে খবর দিতে বলা হয়েছে। একই সঙ্গে পোস্টারে থাকা ওয়ান্টেড ব্যক্তিদের সম্পর্কে কোনও নির্ভরযোগ্য তথ্য কারও কাছে থাকলে তা নিরাপত্তা সংস্থাকে জানানোর আবেদন করা হয়েছে। ১১২ নম্বরে ফোন করে তথ্য দেওয়া যাবে। এছাড়াও দিল্লি পুলিশের স্পেশাল সেল-এর সঙ্গেও যোগাযোগ করার আবেদন জানানো হয়েছে। পুলিশের তরফে জানানো হয়েছে, বিশ্বাসযোগ্য তথ্য প্রদানকারীকে উপযুক্ত পুরস্কার দেওয়া হবে এবং তাঁর পরিচয় গোপন রাখা হবে।

  • 80th Independence Day: থিম ‘যুব শক্তি’! স্বাধীনতা দিবসে লালকেল্লায় প্রথম গাওয়া হবে ‘বন্দে মাতরম’

    80th Independence Day: থিম ‘যুব শক্তি’! স্বাধীনতা দিবসে লালকেল্লায় প্রথম গাওয়া হবে ‘বন্দে মাতরম’

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: স্বাধীনতা দিবসে (80th Independence Day) লালকেল্লায় (Red Fort) এবার যুক্ত হতে চলেছে এক নতুন অধ্যায়। ইতিহাস তৈরি করে প্রথম বার জাতীয় মঞ্চে গাওয়া হবে জাতীয় গান ‘বন্দে মাতরম’ (Vande Mataram in Red Fort)। আর ‘বিকশিত ভারত’ গঠনে তরুণ প্রজন্মের ভূমিকাকে স্বীকৃতি দিতেই স্বাধীনতা দিবসে এ বারের মূল ভাবনা ‘যুব শক্তি’। সোমবার এই সিদ্ধান্তের কথা জানালেন প্রতিরক্ষা সচিব আরকে সিং। সাম্প্রতিক রাজনৈতিক আবহে দু’টি ঘোষণাই যথেষ্ট তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে।

    জাতীয় সঙ্গীতের আগে গাওয়া হবে ‘বন্দে মাতরম’

    প্রতি বছর ১৫ অগস্ট প্রধানমন্ত্রী লালকেল্লায় জাতীয় পতাকা উত্তোলনের পর প্রথা অনুযায়ী কেবল জাতীয় সঙ্গীত ‘জনগণমন’ গাওয়া হত। তবে এ বছর থেকে সেই বিধিতে বদল আসছে। নতুন সূচি অনুযায়ী, জাতীয় পতাকা উত্তোলনের মুখেই প্রথমে গাওয়া হবে জাতীয় গান ‘বন্দে মাতরম’ এবং তার পরেই বাজানো হবে জাতীয় সঙ্গীত। ঋষি বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় রচিত এই কালজয়ী দেশাত্মবোধক রচনার ১৫০ বছর পূর্তি উপলক্ষে জাতীয় গানের মর্যাদা পুনর্প্রতিষ্ঠায় কেন্দ্র নানা পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। খবর অনুযায়ী, এ বারের স্বাধীনতা দিবসের প্রাতিষ্ঠানিক নিমন্ত্রণপত্রেও ‘বন্দে মাতরম’-এর ছ’টি স্তবককেই অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।

    ‘বন্দে মাতরম’-এর গুরুত্ব প্রতিষ্ঠা

    চলতি বছরে বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় রচিত দেশাত্মবোধক গান ‘বন্দে মাতরম’-এর ১৫০ বছর পূর্তি উদযাপিত হচ্ছে। ১৮৭৫ সালে লেখা এই গান প্রথম প্রকাশিত হয় ১৮৮২ সালে ‘আনন্দমঠ’ উপন্যাসে। ১৮৯৬ সালে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর প্রথম এই গান গেয়েছিলেন। ব্রিটিশ-বিরোধী স্বাধীনতা আন্দোলনের সঙ্গে জুড়ে গিয়েছিল ‘বন্দে মাতরম’-এর কথা ও ভাবনা। কংগ্রেস জমানায় জাতীয় গানের মর্যাদা বৃদ্ধির পক্ষে বার বার সওয়াল করে এসছিল বিজেপি। বস্তুত, চলতি বছরেই জাতীয় গান পরিবেশনের নিয়মবিধি স্থির করে কেন্দ্র। জানিয়ে দেয়, জাতীয় সঙ্গীত ‘জনগণমন’র মতো এ বার থেকে সরকারি অনুষ্ঠানে পরিবেশন করতে হবে জাতীয় গানও। সময়ও স্থির করে দেওয়া হয়। বিধি অনুযায়ী, ‘বন্দে মাতরম’-এর ছ’টি স্তবক ১৯০ সেকেন্ড (৩ মিনিট ১০ সেকেন্ড)-এ পরিবেশন করতে হবে। কেন্দ্রের গত ফেব্রুয়ারির নির্দেশিকা অনুযায়ী, জাতীয় পতাকা উন্মোচন-সহ যে সব সরকারি অনুষ্ঠানে জাতীয় সঙ্গীত পরিবেশনের রীতি রয়েছে— সেখানে জাতীয় সঙ্গীতের আগে জাতীয় গান পরিবেশন করা হবে। ‘বন্দে মাতরম’-এর অপমানকে শাস্তিযোগ্য করতে সম্প্রতি সংসদে বিল পাস করিয়েছে কেন্দ্র। এ বার লালকেল্লায় স্বাধীনতা দিবসের অনুষ্ঠানেও ‘বন্দে মাতরম’ গাওয়ার বিষয়টি বিবৃতি প্রকাশ করে জানাল কেন্দ্রীয় সরকার।

    ভারতীয় বায়ুসেনার বিশেষ স্যালুট

    প্রতিরক্ষা মন্ত্রকের তরফে জানানো হয়েছে, ফুলের মাধ্যমে ‘বন্দে মাতরম’-র আবহ প্রদর্শিত হবে। এনসিসির ক্যাডেট এবং এবং মাই ভারতের স্বেচ্ছাসেবকরা লালকেল্লার প্রাচীরের উল্টোদিকের জ্ঞানপীঠে ‘বন্দে মাতরম’ ফুটিয়ে তুলবে। সেইসঙ্গে ‘বন্দে মাতরম’-র ১৫০ বছর পূর্তি উপলক্ষে ভারতীয় বায়ুসেনার এমআই-১৭ হেলিকপ্টার একটি ব্যানার বহন করবে এবং লালকেল্লায় সমবেত জনতার উপরে পুষ্পবৃষ্টি করবে।

    মূল ভাবনা যুব শক্তি!

    ২০৪৭-এর মধ্যে বিকশিত ভারত গড়ে তোলার ক্ষেত্রে দেশের তরুণ প্রজন্মের অবদান মনে করিয়ে দিতেই এ বারে যুবশক্তি থিম করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন প্রতিরক্ষা সচিব। সাংবাদিক সম্মেলনে তিনি বলেন, ‘বিকশিত ভারতের লক্ষ্যে পৌঁছতে যুবসমাজের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তাঁরাই এই দেশকে গড়ে তুলবেন। ভবিষ্যতে তার সুফলও পাবেন।’ তবে এর সঙ্গে যন্তর মন্তরে ছাত্রছাত্রীদের আন্দোলনের কোনও সম্পর্ক নেই বলেও স্পষ্ট করে দিয়েছেন তিনি। আরকে সিংয়ের কথায়, ‘স্বাধীনতা দিবসের অনুষ্ঠানে যুবসমাজের সাফল্য ও অবদানকে তুলে ধরার পরিকল্পনা অনেক আগেই করা হয়েছিল।’ তিনি জোর দিয়ে বলেন, ‘যন্তর মন্তরে আন্দোলনের অনেক আগে।’ কেন্দ্র জানিয়েছে, এ বারের স্বাধীনতা দিবস উদযাপনের মূল বিষয় হবে ‘যুব শক্তি’। এর মাধ্যমে ‘বিকশিত ভারত’ গড়ার লক্ষ্যে দেশের তরুণদের অবদানের কথা তুলে ধরা হবে। ঘটনাচক্রে, সম্প্রতি প্রশ্নফাঁস কাণ্ডের প্রতিবাদে দেশ জুড়ে ছাত্র-যুবদের বিক্ষোভ হয়েছে। সাম্প্রতিক সময়ে বার বার দেশের তরুণদের উদ্দেশে বার্তা দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। এ অবস্থায় লালকেল্লার অনুষ্ঠানেরও মূল বিষয় হিসেবে ‘যুব শক্তি’-কে তুলে ধরা তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে। লালকেল্লার অনুষ্ঠানে দেশ গঠনে ছাত্র-যুবদের গুরুত্ব বোঝাতে চাইছে কেন্দ্র।

    আমন্ত্রিতদের তালিকা

    স্বাধীনতা দিবসের অনুষ্ঠানে প্রায় ৫,০০০ বিশেষ অতিথিকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। প্রতিরক্ষা মন্ত্রকের তরফে জানানো হয়েছে, জাতীয় উদ্ভাবন কর্মসূচির আওতাধীন তরুণ প্রজন্মের উদ্ভাবক, প্রধানমন্ত্রী ইন্টার্নশিপ প্রকল্পের আওতাধীন ইন্টার্নরা, বিভিন্ন প্রকল্পের আওতাধীন স্টার্ট আপের প্রতিনিধিরা, প্রধানমন্ত্রী কৌশল বিকাশ যোজনায় সেরা হওয়া প্রতিনিধি, স্টার্ট-আপ ইন্ডিয়া সিড ফান্ডের আওতাধীন সেরা স্টার্ট-আপের প্রতিনিধিরা অনুষ্ঠানে থাকবেন । সংবাদ সংস্থা এএনআই সূত্রে খবর, পদার্থবিদ্যা, রসায়ন, জীববিদ্যা এবং গণিত অলিম্পিয়াডে এ বছরে পদকজয়ী ১৯ পড়ুয়াকে আমন্ত্রণ জানানো হচ্ছে অনুষ্ঠানে। দিল্লির বিভিন্ন সরকারি স্কুলের পড়ুয়াদেরও আমন্ত্রণ জানানো হবে লালকেল্লায়। প্রতিরক্ষাসচিব আরকে সিং জানিয়েছেন, লোকসভার বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধীকেও আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। বস্তুত, বিরোধী দলনেতার পদ ক্যাবিনেট মন্ত্রীর সমতুল। সে ক্ষেত্রে প্রতিরক্ষাসচিব জানান, পদমর্যাদা অনুযায়ীই তাঁর বসার ব্যবস্থা করা হচ্ছে। ক্যাবিনেট মন্ত্রীদের ঠিক পরেই তাঁর আসন থাকবে।

  • Har Ghar Tiranga Campaign: স্বাধীনতা দিবসে প্রথম ‘হর ঘর তিরঙ্গা’ কর্মসূচি কলকাতায়, মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে পদযাত্রায় ১০ হাজার পড়ুয়া

    Har Ghar Tiranga Campaign: স্বাধীনতা দিবসে প্রথম ‘হর ঘর তিরঙ্গা’ কর্মসূচি কলকাতায়, মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে পদযাত্রায় ১০ হাজার পড়ুয়া

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: স্বাধীনতা দিবসের অনুষ্ঠানে পথে হাঁটবেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari on Independence Day)। তাঁর সঙ্গী কলকাতার প্রায় ১০ হাজার পড়ুয়া। আগামী সোমবার ১০ অগস্ট ‘হর ঘর তিরঙ্গা’ কর্মসূচি (Har Ghar Tiranga Campaign) উপলক্ষে বিশেষ পদযাত্রার আয়োজন করেছে পশ্চিমবঙ্গ সরকার। রাস্তায় নামবেন মুখ্যমন্ত্রী। সেখানেই প্রায় ১০ হাজার পড়ুয়া উপস্থিত থাকতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে। সূত্রের খবর, বিকাশ ভবনের তত্ত্বাবধানে গোটা পরিকল্পনা হলেও কার্যত সব দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়কে। বিভিন্ন কলেজের সঙ্গে বৈঠক করে পড়ুয়াদের উৎসাহিত করার কথা বলা হয়েছে। তবে, শুধু কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় নয়, বারাসত রাষ্ট্রীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের বেশ কিছু কলেজ থেকেও পড়ুয়াদের এই মিছিলে আসতে বলা হয়েছে। তা ছাড়া, কলকাতার প্রায় ২০টি স্কুলের পড়ুয়ারা ওই পদযাত্রায় যোগ দেবে।

    তালিকায় রয়েছে ৭৬ টি কলেজ

    কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রের খবর, আপাতত ৭৬ টি কলেজকে এই তালিকায় রাখা হয়েছে। সে ক্ষেত্রে কলকাতা, দক্ষিণ ২৪ পরগনা, হাওড়া এবং হুগলির বিভিন্ন কলেজ থেকে ছাত্রছাত্রীরা আসবেন। সূত্রের খবর, প্রায় ৮ হাজার পড়ুয়াকে জড়ো করার লক্ষ্যমাত্রা ধার্য করা হয়েছে। কলকাতার বাইরের কলেজের ক্ষেত্রে বাসের ব্যবস্থা করেছেন তাঁরা। ওই দিন সকাল ১০ টার মধ্যে আকাশবাণীর কাছে জমায়েত হবে। বেলা ১ টার পরে মিছিল শুরু হবে ভিক্টোরিয়া মেমোরিয়াল পর্যন্ত। যোগ দেবেন মুখ্যমন্ত্রী। বিকাশ ভবনের তত্ত্বাবধানে সব আয়োজন করা হচ্ছে। কিন্তু সংশ্লিষ্ট বিশ্ববিদ্যালয়গুলিকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে পড়ুয়াদের আকাশবাণী এলাকায় পৌঁছে দেওয়ার। কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের তরফে জানানো হয়েছে, প্রতিটি কলেজ থেকে একজন নোডাল অফিসার থাকবেন। তাঁর দায়িত্বে থাকবেন সব ছাত্রছাত্রীরা। তিনি যোগাযোগ রাখবেন সরাসরি বিশ্ববিদ্যালয়ের সঙ্গে।

    অনুষ্ঠানে যোগ দিচ্ছে শহরের প্রায় ২০টি স্কুল

    স্কুলশিক্ষা দফতর সূত্রের খবর, শহরের প্রায় ২০টি স্কুল এই অনুষ্ঠানে যোগ দিচ্ছে। পর্ষদের নির্দেশ অনুযায়ী ২ অগাস্ট থেকে ১২ অগাস্ট সময়ের মধ্যে বিভিন্ন স্কুলে দ্বিতীয় সামেটিভ পরীক্ষা শেষ করার কথা। সে ক্ষেত্রে যোগদানকারী কোনও স্কুলে যদি ১০ অগাস্ট পরীক্ষার সূচি থাকে, তা পিছিয়ে দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে স্কুলশিক্ষা দফতরের তরফে। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী আগেই জানিয়েছেন, ‘‘বিগত সরকার কেন ‘হর ঘর তিরঙ্গা’ কর্মসূচি করেনি, জানি না। আমরা এবার ওই কর্মসূচিতে জুড়লাম। এবছর থেকে স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষে আমরা তিরঙ্গা যাত্রা করব। যেহেতু এবারই প্রথম, তাই এর বিস্তারিত আমি জানিয়ে দিচ্ছি। ৯ থেকে ১৭ অগাস্ট তিরঙ্গা কর্মসূচি পালিত হবে। রাজ্যের প্রতিটি মহকুমা, পৌরসভা, ব্লক, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, সংগঠন, স্বেচ্ছাসেবী সংস্থা – সবাইকে অংশগ্রহণের আহ্বান জানাচ্ছি। এই উপলক্ষে কলকাতার ঐতিহাসিক ভবন থেকে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে আলোকসজ্জা হবে। প্রবন্ধ, অঙ্কন, সচেতনতামূলক মিছিল হবে। এনিয়ে প্রিন্ট, ডিজিটাল ও সোশাল মিডিয়ায় ব্যাপক প্রচার করব আমরা।”

  • Modi At Red Fort: দেশের প্রত্যেক গুরুত্বপূর্ণ স্থান হবে নিরাপদ, লালকেল্লা থেকে ‘সুদর্শন চক্র মিশন’-এর ঘোষণা মোদির

    Modi At Red Fort: দেশের প্রত্যেক গুরুত্বপূর্ণ স্থান হবে নিরাপদ, লালকেল্লা থেকে ‘সুদর্শন চক্র মিশন’-এর ঘোষণা মোদির

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ভবিষ্যতের যে কোনও ধরনের প্রযুক্তি-ভিত্তিক হামলা থেকে দেশের প্রতিটা প্রান্তকে নিরাপদ ও সুরক্ষিত রাখতে এখন থেকেই পরিকল্পনা শুরু করে দিয়েছে কেন্দ্রীয় সরকার। শুক্রবার সেই যুগান্তকারী প্রতিরক্ষা পরিকল্পনার কথা প্রকাশ করলেন খোদ প্রধানমন্ত্রী। এদিন দেশের ৭৯তম স্বাধীনতা দিবস (79th Independence Day) উপলক্ষে দিল্লির লালকেল্লা থেকে জাতির উদ্দেশে বক্তব্য রাখেন নরেন্দ্র মোদি (Modi At Red Fort)। সেখানেই তিনি জানান, আগামী ১০ বছরের মধ্যে দেশের প্রতিটা কোনাকে সুরক্ষিত করতে জাতীয় সুরক্ষা ঢাল তৈরি করার প্রকল্প নেওয়া হয়েছে। সম্পূর্ণ দেশীয় এই প্রকল্পের নাম ‘মিশন সুদর্শন চক্র’ (Mission Sudarshan Chakra)। দেশকে সুরক্ষা দেওয়ার, শত্রুদের আক্রমণ প্রতিহত পাশাপাশি শত্রুদের ধ্বংস করার ক্ষমতা থাকবে এই মিশনের। পুরোপুরিভাবে আত্মনির্ভরভাবে তথা দেশীয় প্রযুক্তিতে এই মিশন কাজ করবে, ঘোষণা প্রধানমন্ত্রীর।

    কী এই ‘সুদর্শন চক্র মিশন’?

    নরেন্দ্র মোদি (Modi Independence Day Speech) বলেছেন, “২০৩৫ সালের মধ্যে রাষ্ট্রের সব গুরুত্বপূর্ণ সেক্টরকে পুরোপুরি একটি নির্দিষ্ট সুরক্ষা কবচের মধ্যে আনা হবে। এর সেক্টরগুলির মধ্যে সামরিক সেক্টর যেমন রয়েছে তেমনই থাকবে হাসপাতাল, রেলও। নতুন প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে পুরোপুরি সুরক্ষাকবচ দেওয়া হবে এই সব ক্ষেত্রকে।” প্রধানমন্ত্রী জানান, এটি ভগবান কৃষ্ণের সুদর্শন চক্র দ্বারা অনুপ্রাণিত। এটি হবে একটি অত্যাধুনিক দেশীয় প্রযুক্তিনির্ভর অস্ত্র ব্যবস্থা, যা শুধু শত্রুর আক্রমণ প্রতিরোধই নয়, প্রয়োজনে তাদের উপর নির্ভুল পাল্টা আঘাত হানতেও সক্ষম হবে। মহাভারতের উদাহরণ দিয়ে তিনি বলেন, “সকলেই জানেন, কীভাবে শ্রী কৃষ্ণ তাঁর সুদর্শন চক্র দিয়ে সূর্যকে ঢেকে দিনকে অন্ধকার করে দিয়েছিলেন, যাতে অর্জুন তাঁর প্রতিজ্ঞা পূরণ করতে সক্ষম হন। একইভাবে, ভারতের ‘সুদর্শন চক্র’ও শত্রুদের প্রতিটি আক্রমণকে নিষ্ক্রিয় করতে এবং তাদের চেয়ে বহুগুণ বেশি শক্তি দিয়ে প্রতিশোধ নিতে সক্ষম হবে।”

    প্রতিরক্ষায় দেশীয় ঢাল ও বর্ম

    প্রধানমন্ত্রী আরও স্পষ্ট করেছেন যে, এই উন্নয়নের সঙ্গে সম্পর্কিত সমস্ত গবেষণা, উন্নয়ন এবং উৎপাদন ভারতেই করা হবে এবং এটি দেশের যুবকদের হাতেই প্রস্তুত করা হবে। এই ‘মিশন সুদর্শন চক্র’ বাস্তবায়নের মূল উদ্দেশ্য দেশের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাকে এমন এক উচ্চতায় নিয়ে যাওয়া, যেখানে আকাশপথ, স্থলপথ ও সমুদ্রপথ— তিন ক্ষেত্রেই শত্রুর যেকোনও আক্রমণ মুহূর্তের মধ্যে শনাক্ত ও প্রতিহত করা সম্ভব হবে। শুধু সামরিক সুরক্ষার মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকবে না এই প্রযুক্তি; বরং দেশের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থানে— যেমন বড় শহর, কৌশলগত শিল্পাঞ্চল, বিদ্যুৎকেন্দ্র, পারমাণবিক স্থাপনা এবং সীমান্তবর্তী এলাকায়— এটি স্থাপন করা হবে, যাতে সাধারণ নাগরিকদের নিরাপত্তাও নিশ্চিত হয়।

    দেশীয় ইঞ্জিনের পক্ষে সওয়াল মোদির

    তিনি আরও বলেন, “এই সুরক্ষা নিয়মিত বাড়ানো হবে। রাষ্ট্রীয় সুরক্ষাকে মজবুত, আধুনিক করার জন্য এই সিদ্ধান্ত।” ‘মিশন সুদর্শন চক্র’ যে প্রযুক্তিগত হামলা ঠেকানোর ঢাল হবে, তা একপ্রকার স্পষ্ট করে দিয়েছেন মোদি। এই মিশনের জন্য রিসার্চ, ডেভেলপমেন্ট, ম্যানুফ্যাকচারিং সবটাই ভারতে হবে বলে জানান প্রধানমন্ত্রী। একইসঙ্গে, যুদ্ধবিমানের জন্য মেড ইন ইন্ডিয়া ইঞ্জিনের জন্য জোরালো সওয়াল করেন তিনি। জানান, এটাই সময়ের দাবি। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি বলেন, “সম্মান পাওয়ার জন্য আত্মনির্ভর থাকা দরকার। অপারেশন সিঁদুরে দেখেছি আত্মনির্ভরতার ক্ষমতা। আত্মনির্ভর না হলে এত বড় সাফল্য আসত না।” প্রধানমন্ত্রীর এই বক্তব্য তাৎপর্যপূর্ণ, কারণ, আমেরিকা থেকে ইঞ্জিন আসতে দেরি হওয়ায় তেজসের উৎপাদন বিলম্বিত হচ্ছে। প্রসঙ্গত, তেজস মার্ক-১এ যুদ্ধবিমানের জন্য ইঞ্জিন সরবরাহ করছে মার্কিন সংস্থা জিই।

LinkedIn
Share