Tag: Indian Armed Forces

Indian Armed Forces

  • Indian Navy Rescue: কেরলে ১২ চিনা নাবিককে উদ্ধার, ‘‘কখনও ভুলব না’’, ভারতীয় সেনাকে প্রকাশ্যে ধন্যবাদ চিনের

    Indian Navy Rescue: কেরলে ১২ চিনা নাবিককে উদ্ধার, ‘‘কখনও ভুলব না’’, ভারতীয় সেনাকে প্রকাশ্যে ধন্যবাদ চিনের

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ভারতীয় সশস্ত্র বাহিনীর মানবিক ভূমিকার ভূয়সী প্রশংসা করলেন ভারতে নিযুক্ত চিনের (China) নবনিযুক্ত প্রতিরক্ষা অ্যাটাশে রিয়ার অ্যাডমিরাল ইউ জিয়ান (Rear Admiral You Jian)। গত বছর কেরল উপকূলে আগুনে বিধ্বস্ত একটি কার্গো জাহাজ থেকে ১২ জন চিনা নাবিককে উদ্ধারের জন্য ভারতীয় নৌবাহিনী ও অন্যান্য বাহিনীকে ধন্যবাদ জানিয়ে তিনি বলেন, ‘‘ভারত ও চিনের সেনাবাহিনীর মধ্যে যোগাযোগ, পারস্পরিক আস্থা এবং সহযোগিতা আরও বাড়ানো প্রয়োজন।’’

    ‘‘ভারত-চিন সম্পর্কে ইতিবাচক অগ্রগতি’’

    নয়াদিল্লিতে ২১ জুলাই পিপলস্ লিবারেশন আর্মির (PLA) প্রতিষ্ঠার ৯৯তম বর্ষপূর্তি উপলক্ষে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে ইউ জিয়ান বলেন, দুই দেশের শীর্ষ নেতৃত্বের কৌশলগত দিকনির্দেশনায় ভারত-চিন সম্পর্ক আবারও উন্নয়ন ও ইতিবাচক অগ্রগতির পথে ফিরেছে। তিনি বলেন, ‘‘চিন ও ভারত গুরুত্বপূর্ণ প্রতিবেশী দেশ। বর্তমানে দুই দেশই উন্নয়ন ও পুনর্জাগরণের গুরুত্বপূর্ণ পর্যায়ে রয়েছে। আমাদের নেতাদের কৌশলগত দিকনির্দেশনায় দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক আবার সঠিক পথে ফিরেছে।’’

    ‘‘সেই সহযোগিতা কখনও ভুলব না’’

    ইউ জিয়ান বিশেষভাবে ২০২৫ সালের জুন মাসে কেরল উপকূলে ঘটে যাওয়া একটি উদ্ধার অভিযানের কথা উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, ‘‘গত জুনে কেরল উপকূলে আগুন ও বিস্ফোরণের কবলে পড়া একটি কার্গো জাহাজ থেকে ভারতীয় সেনাবাহিনী ১২ জন চিনা নাবিককে উদ্ধার করেছিল। আমরা সেই সহযোগিতা কখনও ভুলব না।’’

    জ্বলন্ত জাহাজ থেকে চিনা নাবিকদের উদ্ধার ভারত

    প্রসঙ্গত, ২০২৫ সালের ৯ জুন সিঙ্গাপুরের পতাকাবাহী কনটেনার জাহাজ এমভি ওয়ান হাই ৫০৩ (MV Wan Hai 503) কেরলের আজহিক্কালের (Azhikkal) উপকূল থেকে প্রায় ৪৪ নটিক্যাল মাইল দূরে বিস্ফোরণ ও অগ্নিকাণ্ডের কবলে পড়ে। কলম্বো থেকে নাভা শেভার উদ্দেশে যাত্রারত জাহাজটিতে মোট ২২ জন নাবিক ছিলেন। বিপদের মুখে ১৮ জন নাবিককে উদ্ধার করা সম্ভব হলেও চারজন নিখোঁজ হন। উদ্ধার হওয়া নাবিকদের মধ্যে ১২ জন ছিলেন চিনা নাগরিক। সে সময় চিনা দূতাবাস ভারতীয় নৌবাহিনী ও উপকূলরক্ষী বাহিনীর দ্রুত ও পেশাদার উদ্ধার অভিযানের ভূয়সী প্রশংসা করেছিল। পরে ভারতীয় নৌবাহিনী, কোস্ট গার্ড ও বায়ুসেনা যৌথভাবে অগ্নিনির্বাপণ ও জাহাজটিকে নিরাপদে সরানোর অভিযানও চালায়।

    রাষ্ট্রসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনের প্রসঙ্গ

    ভারত ও চিনের সেনাবাহিনীর যৌথ অবদানের প্রসঙ্গ তুলে ইউ জিয়ান বলেন, রাষ্ট্রসংঘের (UN) শান্তিরক্ষা অভিযানে দুই দেশের সেনাবাহিনী গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে এবং বহু আত্মত্যাগও করেছে। তার কথায়, ‘‘ভারত ও চিনের মধ্যে মতপার্থক্য থাকলেও দুই দেশের অভিন্ন স্বার্থ সেই পার্থক্যের তুলনায় অনেক বেশি।’’

    সামরিক ও কূটনৈতিক যোগাযোগ বজায় রাখার বার্তা

    ভারতের সঙ্গে সামরিক ও কূটনৈতিক স্তরে নিয়মিত যোগাযোগ বজায় রাখার পক্ষেও সওয়াল করেন চিনের প্রতিরক্ষা অ্যাটাশে। তিনি বলেন, ‘‘আমরা সংলাপের মাধ্যমে পারস্পরিক আস্থা বৃদ্ধি এবং সহযোগিতা আরও জোরদার করতে চাই।’’

    লাদাখ অচলাবস্থার পর সম্পর্ক স্বাভাবিক করার চেষ্টা

    ২০২০ সালে প্রকৃত নিয়ন্ত্রণরেখা (LAC) বরাবর পূর্ব লাদাখে সামরিক সংঘাত এবং গালওয়ান উপত্যকার রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের পর ভারত-চিন সম্পর্কের অবনতি ঘটে। সেই সংঘর্ষে ২০ জন ভারতীয় সেনা এবং চারজন চিনা সেনার মৃত্যু হয়েছিল। এরপর দীর্ঘ আলোচনার পর ২০২৪ সালের অক্টোবরে ডেপসাং ও ডেমচক এলাকায় টহল সংক্রান্ত সমঝোতায় পৌঁছায় দুই দেশ। এর ফলে সেনা প্রত্যাহার প্রক্রিয়া শুরু হয় এবং দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক স্বাভাবিক করার পথ কিছুটা প্রশস্ত হয়। পরবর্তীতে ব্রিকস (BRICS) সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী ও চিনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের বৈঠক হয়। পরে ২০২৫ সালে সাংহাই কো-অপারেশন অর্গানাইজেশন (SCO) সম্মেলনের ফাঁকে তিয়ানজিনেও দুই নেতার মধ্যে বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। সেখানে উভয় দেশ একে অপরকে প্রতিদ্বন্দ্বী নয়, বরং উন্নয়নের অংশীদার হিসেবে দেখার উপর জোর দেয়।

    সীমান্ত সংলাপ ও প্রতিরক্ষা বৈঠক অব্যাহত

    সম্প্রতি দুই দেশের মধ্যে প্রতিরক্ষা ও সীমান্ত সংক্রান্ত উচ্চপর্যায়ের একাধিক বৈঠক হয়েছে। প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিং এবং চিনের প্রতিরক্ষামন্ত্রী ডং জুনের মধ্যে এসসিও বৈঠকের ফাঁকে আলোচনা হয়। এছাড়া সীমান্ত বিষয়ক ওয়ার্কিং মেকানিজমের ৩৫তম বৈঠক বেজিংয়ে অনুষ্ঠিত হয়। পরে জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা অজিত ডোভাল এবং চিনের বিদেশমন্ত্রী ওয়াং ই-র বৈঠকেও দুই দেশ সম্পর্কের ‘‘ধীরে ধীরে স্বাভাবিকীকরণ’’ নিয়ে ইতিবাচক অগ্রগতির কথা উল্লেখ করে। তবে ইউ জিয়ানের বক্তব্যে ভারত-চিন যৌথ সামরিক মহড়া পুনরায় শুরু করা বা নতুন কোনও প্রতিরক্ষা সহযোগিতা ব্যবস্থার ঘোষণা করা হয়নি।

  • General Dhiraj Seth: ৩১তম সেনাপ্রধান হলেন জেনারেল ধীরজ শেঠ, একসঙ্গে বদল একাধিক শীর্ষ পদে

    General Dhiraj Seth: ৩১তম সেনাপ্রধান হলেন জেনারেল ধীরজ শেঠ, একসঙ্গে বদল একাধিক শীর্ষ পদে

    জেনারেল শঙ্কর রায়চৌধুরীর পর এই প্রথম সেনার কোনও আর্মার্ড কোর অফিসার সেনাপ্রধান হলেন

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ভারতের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার শীর্ষস্তরে বড় রদবদল। মঙ্গলবার আনুষ্ঠানিকভাবে ভারতীয় সেনাবাহিনীর (Indian Army) ৩১তম সেনাপ্রধান (Chief of the Army Staff) হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করলেন জেনারেল ধীরজ শেঠ (General Dhiraj Seth)। তিনি প্রায় তিন দশক পর প্রথম আর্মার্ড কোর (Armoured Corps)-এর অফিসার, যিনি সেনাপ্রধানের পদে অধিষ্ঠিত হলেন। এর আগে ১৯৯৭ সালে জেনারেল শঙ্কর রায়চৌধুরী অবসর নেওয়ার পর আর কোনও আর্মার্ড কোর অফিসার এই দায়িত্ব পাননি। এই নিয়োগের মধ্য দিয়ে শুধু সেনাপ্রধানের পদেই নয়, ভারতীয় সেনাবাহিনীর একাধিক গুরুত্বপূর্ণ কমান্ডেও ব্যাপক রদবদল ঘটল। একইসঙ্গে ভারতীয় বায়ুসেনাতেও শীর্ষ পর্যায়ে নেতৃত্ব পরিবর্তনের প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে, যা ভবিষ্যতে তিন বাহিনীর যৌথ যুদ্ধ প্রস্তুতি, আধুনিকীকরণ এবং থিয়েটার কমান্ড গঠনের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।

    দক্ষিণ ব্লকে আনুষ্ঠানিক দায়িত্ব হস্তান্তর

    নয়াদিল্লির দক্ষিণ ব্লকের লনে আয়োজিত এক আনুষ্ঠানিক অনুষ্ঠানে সেনাপ্রধানের দায়িত্ব হস্তান্তর সম্পন্ন হয়। বিদায়ী সেনাপ্রধান জেনারেল উপেন্দ্র দ্বিবেদী চার দশকেরও বেশি সামরিক জীবনের ইতি টানার আগে গার্ড অফ অনার গ্রহণ করেন। এরপর আনুষ্ঠানিকভাবে সেনাপ্রধানের দায়িত্ব গ্রহণ করেন জেনারেল ধীরজ শেঠ। এই পরিবর্তন ভারতের প্রতিরক্ষা নেতৃত্বে সাম্প্রতিক সময়ের অন্যতম বড় প্রশাসনিক রদবদল হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। উল্লেখযোগ্যভাবে, মাত্র এক মাস আগেই চিফ অফ ডিফেন্স স্টাফ (CDS) হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন জেনারেল এনএস রাজা সুব্রমণি এবং ভারতীয় নৌবাহিনীর প্রধান হিসেবে দায়িত্ব নিয়েছেন অ্যাডমিরাল কৃষ্ণ স্বামীনাথন। ফলে তিন বাহিনীর নেতৃত্বে নতুন প্রজন্মের কর্মকর্তাদের হাতে দায়িত্ব চলে এল।

    কে এই জেনারেল ধীরজ শেঠ?

    জেনারেল ধীরজ শেঠ খড়্গবাসলায় স্থিত ন্যাশনাল ডিফেন্স অ্যাকাডেমির (NDA) প্রাক্তনী। ১৯৮৬ সালের ডিসেম্বর মাসে তিনি আর্মার্ড কোরে কমিশনপ্রাপ্ত হন। প্রায় চার দশকের দীর্ঘ সামরিক জীবনে তিনি প্রচলিত যুদ্ধ, সীমান্ত নিরাপত্তা, সন্ত্রাসবিরোধী অভিযান এবং বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্টাফ নিয়োগে কাজ করেছেন। তাঁর সামরিক জীবনের অন্যতম উল্লেখযোগ্য দিক হল, পাকিস্তান সীমান্ত সংলগ্ন ভারতের পশ্চিমাঞ্চলের দুটি গুরুত্বপূর্ণ অপারেশনাল কমান্ডের নেতৃত্ব দেওয়া। তিনি প্রথমে ২০২৩ সালের নভেম্বর মাসে জয়পুরভিত্তিক সাউথ ওয়েস্টার্ন কমান্ডের জেনারেল অফিসার কমান্ডিং-ইন-চিফ (GOC-in-C) হন। পরে পুনে-ভিত্তিক সাদার্ন কমান্ডের নেতৃত্বও গ্রহণ করেন। ২০২৬ সালের ১ এপ্রিল তিনি ভাইস চিফ অফ দ্য আর্মি স্টাফ (Vice Chief of the Army Staff) হিসেবে দায়িত্ব নেন। সেখান থেকেই তিনি এবার দেশের সর্বোচ্চ সামরিক পদে উন্নীত হলেন।

    সেনাবাহিনীর শীর্ষ পদে একাধিক পরিবর্তন

    জেনারেল ধীরজ শেঠ সেনাপ্রধান হওয়ার ফলে সেনাবাহিনীর বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পদেও রদবদল হয়েছে। ভাইস চিফ অফ দ্য আর্মি স্টাফ হিসেবে নিয়োগ পাচ্ছেন লেফটেন্যান্ট জেনারেল সন্দীপ জৈন। তিনি এতদিন সাদার্ন কমান্ডের প্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন। অন্যদিকে, তাঁর স্থলাভিষিক্ত হচ্ছেন লেফটেন্যান্ট জেনারেল রাজেশ পুষ্কর। বর্তমানে তিনি আম্বালা-ভিত্তিক দ্বিতীয় স্ট্রাইক কোরের (II Strike Corps) নেতৃত্বে রয়েছেন। ১ জুলাই পুনেতে সাদার্ন আর্মি কমান্ডের নতুন প্রধান হিসেবে তিনি দায়িত্ব গ্রহণ করেন। রাজেশ পুষ্করও আর্মার্ড কোরের অফিসার। ফলে এই রদবদলে সেনাবাহিনীর গুরুত্বপূর্ণ ফিল্ড কমান্ডগুলিতে আর্মার্ড কোরের কর্মকর্তাদের উপস্থিতি উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেল।

    সাউথ-ওয়েস্টার্ন কমান্ডেও নতুন নেতৃত্ব

    জয়পুর-ভিত্তিক সাউথ ওয়েস্টার্ন কমান্ডের নতুন প্রধান হচ্ছেন লেফটেন্যান্ট জেনারেল মোহিত মালহোত্রা। বর্তমানে তিনি কলকাতার ইস্টার্ন কমান্ডের চিফ অফ স্টাফ হিসেবে কর্মরত। ১৯৮৯ সালের জুন মাসে ৪৭তম আর্মার্ড রেজিমেন্টে কমিশনপ্রাপ্ত মালহোত্রা এবার এমন একটি কমান্ডের দায়িত্ব নিতে চলেছেন, যা পাকিস্তান সীমান্তে ভারতের অন্যতম সংবেদনশীল সামরিক দায়িত্ব বহন করে। তিনি অবসরগ্রহণকারী লেফটেন্যান্ট জেনারেল মঞ্জিন্দর সিং-এর স্থলাভিষিক্ত হবেন।

    ভারতীয় বায়ুসেনাতেও নেতৃত্বে পরিবর্তন

    শুধু সেনাবাহিনী নয়, ভারতীয় বায়ুসেনাতেও গুরুত্বপূর্ণ নেতৃত্ব পরিবর্তন হতে চলেছে। এয়ার মার্শাল আশুতোষ দীক্ষিত নতুন ভাইস চিফ অফ দ্য এয়ার স্টাফ হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করলেন। সামরিক সিনিয়রিটির নিরিখে তিনি আগামী অক্টোবর মাসে অবসর নিতে চলা বর্তমান বায়ুসেনা প্রধান এয়ার চিফ মার্শাল অমরপ্রীত সিং-এর সম্ভাব্য উত্তরসূরি হিসেবেও বিবেচিত হচ্ছেন। ১৯৮৬ সালের ডিসেম্বর মাসে ফাইটার স্ট্রিমে কমিশনপ্রাপ্ত আশুতোষ দীক্ষিত বর্তমানে ইন্টিগ্রেটেড ডিফেন্স স্টাফ (Integrated Defence Staff)-এর প্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। চিফ অফ ডিফেন্স স্টাফের অধীনে থাকা এই ত্রি-সার্ভিস সংস্থায় তিনি তিন বাহিনীর মধ্যে সমন্বয় বাড়ানো এবং ভবিষ্যতের থিয়েটার কমান্ড গঠনের প্রস্তুতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছেন। এর আগে তিনি বেঙ্গালুরুর এয়ারক্রাফট অ্যান্ড সিস্টেমস টেস্টিং এস্টাবলিশমেন্ট (ASTE)-এর ফ্লাইট টেস্ট স্কোয়াড্রনের কমান্ডিং অফিসার এবং ২০২৩ সালের মে মাস থেকে ডেপুটি চিফ অফ দ্য এয়ার স্টাফ হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেছেন।

    থিয়েটার কমান্ড ও আধুনিকীকরণে নতুন নেতৃত্বের বড় চ্যালেঞ্জ

    ভারতের প্রতিরক্ষা কাঠামো বর্তমানে একটি গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তনের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। তিন বাহিনীর যৌথ থিয়েটার কমান্ড গঠন, যুদ্ধক্ষেত্রে প্রযুক্তিনির্ভর সক্ষমতা বৃদ্ধি, আধুনিক অস্ত্র ও প্ল্যাটফর্ম অন্তর্ভুক্তি, সীমান্ত নিরাপত্তা আরও জোরদার করা এবং সমন্বিত সামরিক কাঠামো গড়ে তোলাই এখন প্রধান অগ্রাধিকার। গত কয়েক বছরে এই সংস্কার প্রক্রিয়া ধাপে ধাপে এগোলেও নানা প্রশাসনিক ও কাঠামোগত কারণে তা প্রত্যাশিত গতিতে এগোয়নি। ফলে নতুন সেনাপ্রধান জেনারেল ধীরজ শেঠ, নতুন সিডিএস, নৌবাহিনী প্রধান এবং বায়ুসেনার নতুন নেতৃত্বের সামনে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হবে এই সংস্কার কর্মসূচিকে কার্যকরভাবে এগিয়ে নিয়ে যাওয়া। প্রতিরক্ষা বিশেষজ্ঞদের মতে, সীমান্তে চিন ও পাকিস্তানের নিরাপত্তা চ্যালেঞ্জ, প্রযুক্তিনির্ভর যুদ্ধের পরিবর্তিত বাস্তবতা এবং তিন বাহিনীর মধ্যে আরও ঘনিষ্ঠ সমন্বয় গড়ে তোলার প্রয়োজনীয়তা বিবেচনায় নতুন নেতৃত্বের ভূমিকা আগামী কয়েক বছরে ভারতের সামরিক কৌশল নির্ধারণে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে।

  • Amit Shah: “হেডগেওয়ারের ‘নেশন ফার্স্ট’ দর্শন আজও ভারতের অগ্রগতির ভিত্তি”, বললেন শাহ

    Amit Shah: “হেডগেওয়ারের ‘নেশন ফার্স্ট’ দর্শন আজও ভারতের অগ্রগতির ভিত্তি”, বললেন শাহ

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: আরএসএসের (RSS) প্রতিষ্ঠাতা ড. কেশব বালিরাম হেডগেওয়ারের মৃত্যুবার্ষিকীতে তাঁকে শ্রদ্ধা জানালেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। তিনি বলেন, “হেডগেওয়ারের (Amit Shah) ‘নেশন ফার্স্ট’, সাংস্কৃতিক জাতীয়তাবাদ এবং আত্মবিশ্বাস ও স্বদেশি ভাবনায় গড়ে ওঠা সংগঠিত সমাজের ধারণা আজও ভারতের অগ্রগতির অন্যতম ভিত্তি হিসেবে কাজ করছে।” এক্স হ্যান্ডেলে দেওয়া এক পোস্টে তিনি লেখেন, “আরএসএসের প্রতিষ্ঠাতা পরম পূজ্য ড. হেডগেওয়ারজির মৃত্যুবার্ষিকীতে তাঁকে আমাদের বিনম্র শ্রদ্ধা জানাই।”

    হেডগেওয়ারের অবদান (Amit Shah)

    হেডগেওয়ারের অবদানের কথা স্মরণ করে শাহ বলেন, “দীর্ঘমেয়াদি জাতি গঠন ও সামাজিক ঐক্যের লক্ষ্য নিয়ে তিনি আরএসএস প্রতিষ্ঠা করেছিলেন।” তাঁর মতে, হেডগেওয়ার ‘নেশন ফার্স্ট’ এবং সাংস্কৃতিক জাতীয়তাবাদের আদর্শ দেশের প্রতিটি মানুষের কাছে পৌঁছে দিয়েছিলেন। তিনি স্বপ্ন দেখেছিলেন একটি নিরাপদ, সমৃদ্ধশালী ও বিশ্বের শীর্ষস্থানীয় রাষ্ট্র গঠনের। শাহ বলেন, “হেডগেওয়ার এমন একটি সংগঠিত সমাজের কল্পনা করেছিলেন, যা অস্পৃশ্যতা ও সামাজিক বৈষম্যমুক্ত হবে এবং আত্মবিশ্বাস ও স্বনির্ভরতার চেতনায় উদ্বুদ্ধ থাকবে। তাঁর সেই স্বদেশি-ভিত্তিক চিন্তাধারাই বর্তমানে ভারতের উন্নয়নের অন্যতম ভিত্তি হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে”।

    কী বললেন শাহ?

    হেডগেওয়ারের জীবন ও আদর্শের প্রশংসা করে তিনি বলেন, “দেশমাতৃকার প্রতি অসীম ভালোবাসা, শৃঙ্খলা ও আত্মনিবেদনের এক অক্ষয় উৎস হল তাঁর জীবন (Amit Shah)।” এদিকে, এদিনই মহারাষ্ট্রের কোলহাপুর জেলার ইচলকরঞ্জিতে এক জনসভায় বক্তব্য রাখতে গিয়ে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী দাবি করেন, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির নেতৃত্বে জাতীয় নিরাপত্তা, প্রতিরক্ষা ক্ষেত্রে স্বনির্ভরতা এবং গ্রামীণ উন্নয়নে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হয়েছে। তিনি বলেন, “এক সময় ভারতে একটি গুলিও তৈরি হত (RSS) না। আজ আমরা ক্ষেপণাস্ত্র উৎপাদন করছি, এবং আত্মনির্ভর ভারতের শক্তি নিয়ে বিশ্বের সামনে দাঁড়িয়ে আছি।” তিনি জানান, মোদি সরকারের আমলে আধুনিক এবং আরও শক্তিশালী করে তোলা হয়েছে সশস্ত্র বাহিনীকে (Amit Shah)।

     

  • Ballistic Missile Defence: আইসিবিএম ধ্বংসের ক্ষমতা! টানা ৩ সফল ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষা ডিআরডিও-র, বিশ্বের এলিট ক্লাবে ভারত!

    Ballistic Missile Defence: আইসিবিএম ধ্বংসের ক্ষমতা! টানা ৩ সফল ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষা ডিআরডিও-র, বিশ্বের এলিট ক্লাবে ভারত!

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ভারতের প্রতিরক্ষা সক্ষমতায় আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক যোগ হল। দীর্ঘ-পাল্লার ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরোধে (Ballistic Missile Defence বা BMD) ২৪ ঘণ্টার ব্যবধানে টানা তিনটি সফল পরীক্ষা সম্পন্ন করেছে দেশের প্রতিরক্ষা গবেষণা ও উন্নয়ন সংস্থা (DRDO)।

    অভিনন্দন রাজনাথ সিংয়ের

    একইসঙ্গে প্রথমবারের মতো মাঝারি পাল্লার অ্যান্টি-শিপ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থারও সফল পরীক্ষা হয়েছে। এই সাফল্যের পর ভারত এখন বিশ্বের সেই নির্বাচিত দেশগুলির তালিকায় উঠে এসেছে, যারা দীর্ঘ-পাল্লার ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র এমনকি আন্তঃমহাদেশীয় ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র (ICBM) মোকাবিলার সক্ষমতা অর্জন করেছে। প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিং শুক্রবার এই সাফল্যের কথা ঘোষণা করে ডিআরডিও-র বিজ্ঞানী, শিল্প অংশীদার এবং সশস্ত্র বাহিনীকে অভিনন্দন জানান। সামাজিক মাধ্যম এক্সে (X) তিনি জানান, মাত্র ২৪ ঘণ্টার মধ্যে পরিচালিত একাধিক জটিল পরীক্ষায় ভারতের বহুস্তরীয় ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার কার্যকারিতা সফলভাবে প্রমাণিত হয়েছে।

    কী কী পরীক্ষা চালানো হয়েছে?

    ১০ এবং ১১ জুন ধারাবাহিকভাবে তিনটি ফ্লাইট টেস্ট পরিচালনা করে ডিআরডিও। এই পরীক্ষাগুলির মূল লক্ষ্য ছিল ভারতের বহুস্তরীয় ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার কার্যকারিতা যাচাই করা। প্রতিরক্ষামন্ত্রী জানান, পরীক্ষার সময় ইন্টারসেপ্টর ক্ষেপণাস্ত্রগুলি নির্ধারিত লক্ষ্যবস্তুকে সফলভাবে শনাক্ত, অনুসরণ এবং ধ্বংস করতে সক্ষম হয়েছে। এই ব্যবস্থাগুলি আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করে তৈরি করা হয়েছে, যাতে ভবিষ্যতের আরও উন্নত ক্ষেপণাস্ত্র হুমকির মোকাবিলা করা যায়। সরকারি সূত্রের দাবি, পরীক্ষিত দুটি ইন্টারসেপ্টর ক্ষেপণাস্ত্র শত্রুপক্ষের ২,০০০ থেকে ৫,০০০ কিলোমিটার পাল্লার ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ধ্বংস করতে সক্ষম। এই ধরনের ক্ষেপণাস্ত্রকে সাধারণত ইন্টারমিডিয়েট রেঞ্জ ব্যালিস্টিক মিসাইল (IRBM) বলা হয়।

    এক্সো-অ্যাটমোস্ফেরিক ও এন্ডো-অ্যাটমোস্ফেরিক প্রতিরক্ষা

    সূত্রের খবর, পরীক্ষায় ব্যবহৃত দুটি ইন্টারসেপ্টর ক্ষেপণাস্ত্রের মধ্যে একটি বায়ুমণ্ডলের বাইরে (Exo-atmospheric) এবং অন্যটি বায়ুমণ্ডলের ভিতরে (Endo-atmospheric) শত্রু ক্ষেপণাস্ত্র ধ্বংস করতে সক্ষম। এই দুই স্তরের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ভারতের বিএমডি শিল্ডকে আরও শক্তিশালী করবে। কোনও শত্রু ক্ষেপণাস্ত্র প্রথম স্তরের প্রতিরোধ ভেদ করলেও দ্বিতীয় স্তরের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সেটিকে ধ্বংস করার চেষ্টা করবে। ফলে সাফল্যের সম্ভাবনা বহুগুণ বৃদ্ধি পায়।

    প্রথমবার সফল অ্যান্টি-শিপ প্রতিরক্ষা পরীক্ষা

    ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা পরীক্ষার পাশাপাশি মাঝারি পাল্লার অ্যান্টি-শিপ ডিফেন্স সিস্টেমেরও প্রথম সফল ফ্লাইট টেস্ট সম্পন্ন হয়েছে। যদিও সরকার এখনও এই প্রকল্পের বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করেনি, তবে প্রতিরক্ষা বিশেষজ্ঞদের মতে, এটি ভারতীয় নৌবাহিনীর সামুদ্রিক প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাকে আরও শক্তিশালী করবে। বিশেষত ভারত মহাসাগরীয় অঞ্চলে ক্রমবর্ধমান কৌশলগত প্রতিযোগিতার প্রেক্ষাপটে এই প্রযুক্তি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে।

    কেন ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষায় জোর দিচ্ছে ভারত?

    গত কয়েক বছরে ভারত তার কৌশলগত প্রতিরক্ষা পরিকাঠামোকে দ্রুত শক্তিশালী করার পথে এগিয়েছে। বিশেষ করে দীর্ঘ-পাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র এবং পারমাণবিক প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধির ওপর জোর দেওয়া হয়েছে। গত বছর ডিআরডিও অগ্নি-৫ আন্তঃমহাদেশীয় ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রের একটি উন্নত সংস্করণের কাজ শুরু করে, যা ভূগর্ভস্থ শক্তিশালী বাঙ্কার বা সুরক্ষিত সামরিক স্থাপনা ধ্বংস করতে সক্ষম হবে বলে জানা যায়। অন্যদিকে, চলতি বছরের এপ্রিল মাসে ভারতীয় নৌবাহিনী তাদের তৃতীয় অরিহন্ত শ্রেণির পারমাণবিক শক্তিচালিত ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রবাহী সাবমেরিন আইএনএস অরিদ্ধমানকে (INS Aridaman) অন্তর্ভুক্ত করে। এই সাবমেরিন হাজার হাজার কিলোমিটার দূরে পারমাণবিক ওয়ারহেড বহনকারী ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণ করতে সক্ষম।

    পাকিস্তান ও আঞ্চলিক নিরাপত্তা পরিস্থিতির প্রভাব

    প্রতিরক্ষা সূত্রের মতে, পাকিস্তানও সাম্প্রতিক সময়ে দীর্ঘ-পাল্লার ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচিতে জোর দিচ্ছে। ফাতাহ-১ (Fatah-I), ফাতাহ-২ (Fatah-II) এবং চিনা প্রযুক্তিভিত্তিক পি২৮২-র (P282) মতো ক্ষেপণাস্ত্রের উন্নয়ন ভারতের কৌশলগত পরিকল্পনায় গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলেছে। শুধু পাকিস্তান নয়, এশিয়ার সামগ্রিক নিরাপত্তা পরিস্থিতি এবং দ্রুত পরিবর্তিত ক্ষেপণাস্ত্র প্রযুক্তির প্রেক্ষাপটেও ভারত তার প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাকে আধুনিক করছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, ভবিষ্যতের যুদ্ধে আক্রমণাত্মক সক্ষমতার পাশাপাশি কার্যকর প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাও সমান গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।

    বিশ্বের কোন এলিট ক্লাবে ভারত?

    রাজনাথ সিংয়ের বক্তব্য অনুযায়ী, এই পরীক্ষার মাধ্যমে ভারত এখন সেই সীমিত সংখ্যক দেশের দলে যোগ দিয়েছে, যাদের কাছে দীর্ঘ-পাল্লার ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র এবং আইসিবিএম মোকাবিলার সক্ষমতা রয়েছে। যদিও তিনি নির্দিষ্টভাবে দেশগুলির নাম উল্লেখ করেননি, প্রতিরক্ষা বিশেষজ্ঞদের মতে, বর্তমানে এই ধরনের উন্নত ব্যালিস্টিক মিসাইল ডিফেন্স প্রযুক্তি মূলত মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, রাশিয়া, চিন এবং ইজরায়েলের মতো কয়েকটি দেশের কাছেই রয়েছে। ভারতের সাম্প্রতিক সাফল্য সেই তালিকায় তার অবস্থানকে আরও শক্তিশালী করেছে।

    ভারতের প্রতিরক্ষা নীতিতে নতুন অধ্যায়

    বিশেষজ্ঞদের মতে, টানা তিনটি সফল পরীক্ষা শুধু প্রযুক্তিগত সাফল্য নয়, বরং ভারতের প্রতিরক্ষা নীতির একটি নতুন দিকও তুলে ধরেছে। দেশটি এখন শুধু শক্তিশালী আক্রমণাত্মক ক্ষেপণাস্ত্র তৈরি করছে না, পাশাপাশি সম্ভাব্য শত্রুর দীর্ঘ-পাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র হামলা প্রতিহত করার সক্ষমতাও দ্রুত গড়ে তুলছে। ডিআরডিওর এই সাফল্য ভবিষ্যতে ভারতের সমন্বিত ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ঢাল নির্মাণের পথে একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। বিশেষ করে আইসিবিএম স্তরের হুমকি মোকাবিলার সক্ষমতার দাবি ভারতের কৌশলগত প্রতিরক্ষা অবস্থানকে আরও শক্তিশালী করবে বলে মনে করছেন প্রতিরক্ষা বিশ্লেষকরা।

  • Operation Sindoor Anniversary: ‘দেশের জন্য সর্বদা প্রস্তুত’, অপারেশন সিঁদুর’-এর বর্ষপূর্তিতে সেনাকে কুর্নিশ মোদির

    Operation Sindoor Anniversary: ‘দেশের জন্য সর্বদা প্রস্তুত’, অপারেশন সিঁদুর’-এর বর্ষপূর্তিতে সেনাকে কুর্নিশ মোদির

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ‘অপারেশন সিঁদুর’-এর বর্ষপূর্তিতে ভারতীয় সশস্ত্র বাহিনীর সাহস ও বীরত্বকে সম্মান জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি বুধবার নিজের এক্স (সাবেক টুইটার) প্রোফাইলের ডিসপ্লে ছবি পরিবর্তন করলেন। নতুন ডিসপ্লেতে স্থান পেয়েছে ‘অপারেশন সিঁদুর’-এর প্রতীকী ছবি, যা দেশের নিরাপত্তা রক্ষায় সেনাবাহিনীর ভূমিকার প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন হিসেবে দেখা হচ্ছে। ২০২৫ সালের ৭ মে পহেলগাঁও জঙ্গি হামলার পর ভারত শুরু করেছিল ‘অপারেশন সিঁদুর’ (Operation Sindoor Anniversary)। ভারতীয় সেনাবাহিনী পাকিস্তান ও পাকিস্তান অধিকৃত জম্মু-কাশ্মীর (PoJK)-এ অবস্থিত একাধিক জঙ্গি ঘাঁটিতে নিশানা করে অভিযান চালায়। সরকারি সূত্র অনুযায়ী, এই অভিযানে লস্কর-ই-তইবা, জইশ-ই-মহম্মদ এবং হিজবুল মুজাহিদিনের মোট ৯টি বড় জঙ্গি লঞ্চপ্যাড ধ্বংস করা হয়। অভিযানে ১০০-রও বেশি জঙ্গি নিহত হয়েছিল বলে দাবি ভারতের।

    সেনাবাহিনীকে স্যালুট প্রধানমন্ত্রী মোদির

    পহেলগাঁও হামলার বদলা নিতে গত বছর ৭ মে অপারেশন সিঁদুর অভিযান চালায় ভারত। বৃহস্পতিবার তার বর্ষপূর্তি উপলক্ষে সেনাবাহিনীর জয়গান গাইলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। একইসঙ্গে তাঁর বার্তা, “সন্ত্রাসবাদকে ধ্বংস করার সংকল্পে অটল ভারত।” বৃহস্পতিবার মোদি তাঁর এক্স হ্যান্ডলে লেখেন, ‘এই অভিযানে ভারতের সশস্ত্র বাহিনী অতুলনীয় সাহস, নির্ভুলতা এবং দৃঢ় সংকল্পের প্রদর্শন করেছে। অপারেশন সিঁদুর সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে ভারতের দৃঢ় অবস্থান এবং জাতীয় নিরাপত্তার প্রতি অবিচল অঙ্গীকারকে প্রতিফলিত করেছে।’ প্রধানমন্ত্রী বলেন, “এই অভিযান ভারতের সশস্ত্র বাহিনীর পেশাদারিত্ব, প্রস্তুতি এবং তিন বাহিনীর সম্মিলিত শক্তির পরিচয় দিয়েছে। গোটা দেশ সেনাবাহিনীকে স্যালুট জানায়। সন্ত্রাসবাদকে ধ্বংস করতে করতে ভারত নিজের সংকল্পে অটল রয়েছে।”

    আত্মনির্ভর ভারতের প্রতিরক্ষা সক্ষমতার প্রমাণ

    অন্যদিকে, এদিন সকালে সেনাবাহিনীর তরফেও ভিডিও প্রকাশ করে বিশেষ বার্তা দেওয়া হয়। বলা হয়, “সন্ত্রাসবাদীদের রেহাই নেই। জঙ্গিদের খুঁজে খুঁজে শাস্তি দেবে ভারত।” এদিন অপারেশন সিঁদুরের বর্ষপূর্তিতে প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিংও ভারতীয় সশস্ত্র বাহিনীর বীরত্ব ও আত্মত্যাগকে কুর্নিশ জানান। এক্সে করা পোস্টে তিনি লেখেন, “অপারেশন সিঁদুর আমাদের জাতীয় সংকল্প ও প্রস্তুতির শক্তিশালী প্রতীক। এই অভিযানে ভারতীয় সেনাবাহিনী যে নিখুঁত সমন্বয়, আধুনিক কৌশল ও দৃঢ়তা দেখিয়েছে, তা ভবিষ্যতের সামরিক অভিযানের জন্যও এক নতুন মানদণ্ড স্থাপন করেছে।” তিনি আরও বলেন, “দেশের নিরাপত্তা সুনিশ্চিত করতে ভারতীয় সশস্ত্র বাহিনী সবসময় প্রস্তুত। একই সঙ্গে এই অভিযান আত্মনির্ভর ভারতের প্রতিরক্ষা সক্ষমতারও প্রমাণ বহন করে।”

  • India Defence Modernization 2026: ২০২৬ সালে ভারতের প্রতিরক্ষা আধুনিকীকরণ— নজরে এই ১০ বড় প্রকল্প

    India Defence Modernization 2026: ২০২৬ সালে ভারতের প্রতিরক্ষা আধুনিকীকরণ— নজরে এই ১০ বড় প্রকল্প

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ভারতীয় প্রতিরক্ষার জন্য যুগান্তকারী হতে চলেছে ২০২৬ সাল। এ বছর, দেশের সামরিক ক্ষেত্রে একাধিক ঐতিহাসিক পদক্ষেপ ও উল্লেখযোগ্য সিদ্ধান্ত নেওয়া হতে পারে, যা দেশের প্রতিরক্ষাকে এক অন্য উচ্চতায় পৌঁছে দিতে পারে। ২০২৬ সালকে ভারতের প্রতিরক্ষা আধুনিকীকরণের ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ বছর হিসেবে বর্ণনা করছেন প্রতিরক্ষা বিশেষজ্ঞরা। তাঁদের অনুমান, দীর্ঘদিন ধরে ঝুলে থাকা একাধিক বড় সামরিক ক্রয় ও কৌশলগত সক্ষমতা বৃদ্ধির প্রকল্প এই বছর সরকারি অনুমোদন অথবা চুক্তি স্বাক্ষরের গুরুত্বপূর্ণ পর্যায়ে পৌঁছাতে পারে। যা আগামী কয়েক দশকে ভারতীয় স্থলসেনা, বায়ুসেনা, নৌবাহিনী ও আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থায় কার্যকরী সক্ষমতা নির্ধারণ করবে। পাশাপাশি, এগুলি দেশীয় প্রতিরক্ষা শিল্প ও বৈশ্বিক কৌশলগত অংশীদারিত্বের ভবিষ্যৎ রূপরেখাও গড়ে দেবে। এমনই ১০টি সম্ভাব্য প্রতিরক্ষা প্রকল্প নিয়ে আলোচনা করা হচ্ছে, যা নিয়ে চলতি বছর বড় সিদ্ধান্ত হতে চলেছে বলে আশাপ্রকাশ করা হচ্ছে।

    ১. মাল্টি-রোল ফাইটার এয়ারক্রাফ্ট (MRFA) প্রকল্পে ১১৪টি যুদ্ধবিমান

    ভারতীয় বায়ুসেনার জন্য ১১৪টি মাল্টি-রোল ফাইটার এয়ারক্রাফ্ট (MRFA) কেনার বিষয়টি ২০২৬ সালে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি দেখতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। দীর্ঘ মূল্যায়ন প্রক্রিয়া ও একাধিক প্রশাসনিক স্থগিতাবস্থার পর, এই প্রকল্প এখন এমন পর্যায়ে পৌঁছেছে যেখানে বিক্রেতা নির্বাচন ও বাণিজ্যিক দরকষাকষি চূড়ান্ত হতে পারে। ভারতীয় বায়ুসেনার ক্রমহ্রাসমান স্কোয়াড্রন সংখ্যা মোকাবিলা করা এবং আঞ্চলিক প্রতিদ্বন্দ্বীদের সঙ্গে সংখ্যাগত ও গুণগত ভারসাম্য বজায় রাখার লক্ষ্যে প্রতিরক্ষা মন্ত্রক এই প্রকল্প দ্রুত এগিয়ে নিতে আগ্রহী।

    ২. বায়ুসেনার মিডিয়াম ট্রান্সপোর্ট এয়ারক্রাফ্ট (MTA) প্রকল্পে গতি

    মিডিয়াম ট্রান্সপোর্ট এয়ারক্রাফ্ট (MTA) প্রকল্পটি ২০২৬ সালে আনুষ্ঠানিক গতি পেতে পারে। সামরিক পণ্যবাহী বিমানের সংখ্যা ও কার্যকরী ভূমিকা স্পষ্টভাবে নির্ধারিত হবে। এই প্রকল্পের আওতায় পুরনো অ্যান্টোনভ এএন-৩২ এবং ইলিউশিন আইএল-৭৬ বিমানের বিকল্প হিসেবে নতুন সামরিক পরিবহণ বিমান পেতে চাইছে বায়ুসেনা। এ বছর এক্ষেত্রে রিকোয়েস্ট ফর প্রপোজাল (RFP) জারি হওয়া এবং বিক্রেতা সংক্ষিপ্ত তালিকাভুক্ত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে, যেখানে লকহিড মার্টিন সি-১৩০জে, এমব্রায়ার সি-৩৯০ ও এয়ারবাস এ৪০০এম প্রতিযোগিতায় থাকতে পারে। সামরিক এয়ারলিফ্ট সক্ষমতায় এই চুক্তি ভারতকে কৌশলগত বড় সুবিধা দেবে।

    ৩. প্রজেক্ট ৭৫আই (P-75I) সাবমেরিন প্রকল্প কেন্দ্রের অনুমোদনের পথে

    দীর্ঘ বিলম্বের পর প্রজেক্ট ৭৫আই অবশেষে ক্যাবিনেট কমিটি অন সিকিউরিটি (CCS)-এর অনুমোদনের দিকে এগোচ্ছে। এই প্রকল্পের মাধ্যমে এয়ার ইন্ডিপেন্ডেন্ট প্রপালশন (AIP) প্রযুক্তিসম্পন্ন ছয়টি আধুনিক প্রচলিত সাবমেরিনের জন্য চুক্তি করা হবে। ভারত মহাসাগরীয় অঞ্চলে চিনের বাড়তে থাকা নৌ-উপস্থিতির মোকাবিলা এবং পুরনো সাবমেরিন অবসর নেওয়ার ফলে সৃষ্ট ঘাটতি পূরণে এই প্রকল্পকে ভারতীয় নৌবাহিনী অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছে। তবে, এক্ষেত্রে ফ্রান্স নির্মিত স্করপিন-সিরিজ নয়, বরং জার্মানি ও স্পেনের সংস্থার নকশা নিয়ে আলোচনাই মূল ফোকাসে রয়েছে।

    ৪. রণতরীতে দেশীয় যুদ্ধবিমান (TEDBF) প্রকল্প অনুমোদনের অপেক্ষায়

    ভারতীয় নৌসেনার জন্য দেশীয় টুইন ইঞ্জিন ডেক বেসড ফাইটার (TEDBF) প্রকল্পটি ২০২৬ সালে ক্যাবিনেট কমিটি অন সিকিউরিটির অনুমোদন পেতে পারে বলে আশা করা হচ্ছে। ভারতের বিমানবাহী রণতরী থেকে পরিচালনার জন্য বিশেষভাবে নকশা করা এই যুদ্ধবিমান ভবিষ্যতে মিগ-২৯কে বহরের স্থলাভিষিক্ত হবে এবং নৌবাহিনীর কেরিয়ার এয়ার উইংয়ের মূল স্তম্ভে পরিণত হবে। এই অনুমোদন পূর্ণমাত্রার উন্নয়ন তহবিল ছাড় করবে এবং দেশীয় নৌবিমান নির্মাণে ভারতের উচ্চাকাঙ্ক্ষাকে সুদৃঢ় করবে।

    ৫. অ্যামকা (AMCA) জেট ইঞ্জিন উন্নয়নে বিদেশি অংশীদারিত্ব চূড়ান্ত

    ২০২৬ সালের অন্যতম কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত হবে অ্যাডভান্সড মিডিয়াম কমব্যাট এয়ারক্রাফ্ট (AMCA)-এর ইঞ্জিন উন্নয়ন সংক্রান্ত অনুমোদন। যৌথ-উদ্যোগে ১১০–১৩০ কিলোনিউটন থ্রাস্ট ক্ষমতাসম্পন্ন একটি ইঞ্জিন উন্নয়নের জন্য ভারত সম্ভবত বিদেশি অংশীদারিত্বের কাঠামো চূড়ান্ত করবে। ফ্রান্সের সাফরান (Safran) প্রধান অংশীদার হিসেবে উঠে আসতে পারে। এই সিদ্ধান্ত পঞ্চম প্রজন্মের যুদ্ধবিমানের ক্ষেত্রে ভারতের প্রযুক্তিগত স্বনির্ভরতা অর্জনের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

    ৬. অতিরিক্ত এস-৪০০ (S-400) ডেলিভারি ও অর্ডার বাড়ানোর সম্ভাবনা

    ২০২৬ সাল জুড়ে এস-৪০০ ট্রায়াম্ফ আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার রেজিমেন্ট অন্তর্ভুক্ত করা হবে বলে জানা গিয়েছে।চূড়ান্ত ইউনিটগুলি পূর্ণাঙ্গ আকাশ প্রতিরক্ষা বলয় সম্পূর্ণ করবে বলে আশা। একইসঙ্গে, মূল চুক্তির বাইরে অতিরিক্ত এস-৪০০ ইউনিট কেনা নিয়েও আলোচনা চলছে, যা ভারতের দীর্ঘপাল্লার আকাশ ও ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা আরও শক্তিশালী করবে। বিশেষজ্ঞদের মতে, অপারেশন সিঁদুর থেকে অর্জিত অভিজ্ঞতা এবং ভবিষ্যতে সম্ভাব্য হুমকি ও ঝুঁকির মূল্যায়ন ভারতের দীর্ঘপাল্লার আকাশ ও ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাকে আরও শক্তিশালী করার সিদ্ধান্তকে প্রভাবিত করতে পারে।

    ৭. মিডিয়াম অল্টিটিউড লং এন্ডুরেন্স ড্রোন (MALE Drone) প্রকল্প চুক্তির পর্যায়ে

    ভারতের দীর্ঘদিন ধরে চলা মিডিয়াম অল্টিটিউড লং এন্ডুরেন্স (MALE) ড্রোন প্রকল্পটি ২০২৬ সালে বাস্তব অগ্রগতি দেখতে পারে। মার্কিন এমকিউ-৯বি রিপার (MQ-9B Reaper) ড্রোন সংগ্রহ এগোলেও, এখন মূল জোর দেওয়া হচ্ছে দেশীয় তাপাস (TAPAS) বা আর্চার-এনজি (Archer-NG) প্ল্যাটফর্মের উপর, যা স্থল ও সমুদ্র উভয় ক্ষেত্রে নিরবচ্ছিন্ন নজরদারি নিশ্চিত করবে। এই দেশীয় ড্রোনগুলির চুক্তি চূড়ান্ত হলে শত্রু অঞ্চলে গোয়েন্দা, নজরদারি ও রেকি— সংক্ষেপে আইএসআর (ISR) থেকে শুরু করে আঘাত হানার ক্ষমতা উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়বে।

    ৮. প্রজেক্ট-৭৭ (P-77) পারমাণবিক শক্তিচালিত অ্যাটাক সাবমেরিন (SSN)

    ২০২৬ সালে অতিরিক্ত রাজনৈতিক ও আর্থিক অনুমোদন পেতে পারে ভারতের দেশীয় পারমাণবিক শক্তিচালিত ঘাতক সাবমেরিন (SSN) নির্মাণ প্রকল্প— প্রজেক্ট-৭৭। এই সাবমেরিনগুলি বিমানবাহী রণতরীর নিরাপত্তা, শত্রু সাবমেরিন ট্র্যাকিং এবং গভীর সমুদ্রে আধিপত্য বজায় রাখতে অপরিহার্য। এই অনুমোদন ভারতের শক্তিশালী ও ভারসাম্যপূর্ণ ‘ব্লু-ওয়াটার নেভি’ গঠনের সংকল্পকে জোরালোভাবে তুলে ধরবে।

    ৯. কুইক রিঅ্যাকশন সারফেস-টু-এয়ার মিসাইল (QRSAM) চুক্তি

    দীর্ঘ প্রতীক্ষিত কুইক রিঅ্যাকশন সারফেস-টু-এয়ার মিসাইল (QRSAM) প্রকল্পের চুক্তি ২০২৬ সালে চূড়ান্ত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। এই ব্যবস্থা স্থলসেনার সাঁজোয়া বাহিনীকে ড্রোন, হেলিকপ্টার ও নিচু দিয়ে উড়ে আসা বিমানের আক্রমণ থেকে রক্ষা করবে। ভারত ইলেকট্রনিক্স লিমিটেড (BEL) এই সিস্টেমের জন্য উল্লেখযোগ্য অর্ডারের আশা করছে।

    ১০. আকাশ-এনজি (Akash-NG) চুক্তিতে পরবর্তী প্রজন্মের আকাশ প্রতিরক্ষা

    দেশীয় আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার সর্বশেষ সংস্করণ আকাশ-এনজি (নিউ জেনারেশন) প্রকল্পও ২০২৬ সালে বড় উৎপাদন চুক্তি পেতে পারে। ২০২৫ সালের শেষ দিকে সফল পরীক্ষার পর উন্নত রেঞ্জ, নির্ভুল লক্ষ্যভেদ ও দ্রুত প্রতিক্রিয়ার ক্ষমতাসম্পন্ন এই ব্যবস্থা বর্তমান আকাশ প্রতিরক্ষা স্তরকে আরও শক্তিশালী করবে।

    সব মিলিয়ে, প্রতিরক্ষা মন্ত্রকের সামনে থাকা এই সিদ্ধান্তগুলি ২০২৬ সালকে ভারতের প্রতিরক্ষা পরিকল্পনার ক্ষেত্রে এক ঐতিহাসিক বছর করে তুলতে চলেছে। এই সময়ে নেওয়া পদক্ষেপগুলি শুধুমাত্র তাৎক্ষণিক সক্ষমতার ঘাটতি পূরণ করবে না, বরং দীর্ঘমেয়াদে ভারতের সামরিক কাঠামো, প্রতিরক্ষা শিল্প এবং কৌশলগত স্বনির্ভরতাকে নতুন দিশা দেবে।

  • Uri Hydro Power Plant: অপারেশন সিঁদুরে উরি জলবিদ্যুৎ কেন্দ্রে পাক হামলা রুখেছিলেন ১৯ বীর জওয়ান, জানেন কীভাবে?

    Uri Hydro Power Plant: অপারেশন সিঁদুরে উরি জলবিদ্যুৎ কেন্দ্রে পাক হামলা রুখেছিলেন ১৯ বীর জওয়ান, জানেন কীভাবে?

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ভারত–পাকিস্তান সংঘাতের ছ’মাস পেরিয়ে গেলেও যুদ্ধক্ষেত্রের অন্তরালে লুকিয়ে থাকা দৃঢ়তার কাহিনি সামনে আসছে একে একে। ‘অপারেশন সিঁদুরের’ সময় কাশ্মীরের উরিতে (Uri Hydro Power Plant) একটি জলবিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্রে হামলা করার ছক কষেছিল পাকিস্তান। কিন্তু ইসলামাবাদের সেই ছক বানচাল করে দেন সিআইএসএফ-এর ১৯ জন জওয়ান (CISF)। সাহসিকতার জন্য মঙ্গলবার ওই ১৯ জনকে পুরস্কৃত করলেন সিআইএসএফ কর্তৃপক্ষ। তাঁদের তরফে একটি বিবৃতি দিয়ে ওই ১৯ জনের সাহসিকতার বিবরণও তুলে ধরা হয়েছে।

    কী ঘটেছিল সেদিন

    পহেলগাঁওয়ে জঙ্গি হামলার পর পাকিস্তানের জঙ্গিঘাঁটিকে ধ্বংস করতে সামরিক অভিযান ‘অপারেশন সিঁদুর’ (Operation Sindoor) শুরু করেছিল ভারত। কয়েক ঘণ্টা পর পাল্টা জবাব দিতে নিয়ন্ত্রণরেখা (এলওসি) বরাবর গোলাবর্ষণ করা শুরু করে পাকিস্তান। ৬ মে থেকে ৭ মে-র মধ্যে একাধিক বার উরির জলবিদ্যুৎ (Uri Hydro Power Plant) উৎপাদন কেন্দ্রে হামলা চালানোর চেষ্টা করে পাক সেনা। জলবিদ্যুৎ কেন্দ্রে পাহারার দায়িত্বে থাকা ওই ১৯ জন জওয়ান সেই হামলা রুখে দেন। শুধু তা-ই নয়, আশপাশের এলাকা থেকে স্থানীয়দের সরিয়ে নিয়ে যান তাঁরা। নিরাপদে বার করে আনা হয় জলবিদ্যুৎ কেন্দ্রে কর্মরত আধিকারিক এবং কর্মীদেরও। বারামুলায় বিতস্তা নদীর উপর রয়েছে উরির এই জলবিদ্যুৎ প্রকল্পটি। সংঘাতের সময় এই জলবিদ্যুৎ প্রকল্পকে লক্ষ্য করেই বার বার ড্রোন ছুড়ছিল পাকিস্তানের সেনা। সেই সময় কমান্ড্যান্ট রবি যাদবের নেতৃত্বে ১৮ জন জওয়ান জলবিদ্যুৎ কেন্দ্রটি পাহারা দিচ্ছিলেন। তাঁরা কেবল ড্রোন হামলার চেষ্টাই রুখে দেননি, আশপাশের প্রতিটি বাড়িতে গিয়ে বাসিন্দাদের বার করে আনেন। মোট ২৫০ জনকে উদ্ধার করা হয়। তাঁদের মধ্যে রয়েছেন ন্যাশনাল হাইড্রোইলেকট্রিক পাওয়ার কর্পোরেশন (এনএইচপিসি)-র কর্মী এবং আধিকারিকেরাও।

    পাকিস্তানের হামলা

    গত ৭ মে মধ্যরাতের পরপরই পহেলগাঁও হামলার পাল্টা জবাব দেয় ভারত। ‘অপারেশন সিঁদুর’-এ ধ্বংস হয় পাকিস্তানের ভেতরে থাকা নয়টি জঙ্গি ঘাঁটি। এর কিছু ঘণ্টার মধ্যেই পাকিস্তান শুরু করে তীব্র গোলাবর্ষণ ও ড্রোন হামলা—লক্ষ্য ছিল জম্মু–কাশ্মীরের বারামুলা জেলার উরি জলবিদ্যুৎ প্রকল্প (UHEP-I ও II)। সীমান্তরেখার একেবারে গা ঘেঁষে থাকা এই প্রকল্প শুধু কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ নয়, আশপাশের গ্রামীণ বসতিগুলিও সরাসরি বিপদের মুখে ছিল। ৭ মে গভীর রাতে প্রকল্প এলাকায় অ্যালার্ট জারি করা হয়। সিআইএসএফ-এর কমান্ড্যান্ট রবি যাদবের নেতৃত্বে থাকা ১৯ জনের দল দ্রুত আঁচ করে নেয় পাকিস্তানের উদ্দেশ্য। গোলাবর্ষণের মধ্যেই একের পর এক শত্রুপক্ষের ড্রোন প্রকল্পের দিকে এগোতে শুরু করে। গোলার আঘাতে যখন আশপাশের আবাসন কেঁপে উঠছে, সিআইএসএফ জওয়ানরা তখন শুরু করেন মানবিক উদ্ধার অভিযান—রাতের মধ্যে দরজায় দরজায় গিয়ে জাগিয়ে তুলে নিরাপদ বাঙ্কারে নিয়ে যান ২৫০ জন সাধারণ মানুষ ও এনএইচপিসি কর্মীদের। প্রাণহানি শূন্য। গুরজিৎ বলেন, “সবচেয়ে কঠিন ছিল ঘুমিয়ে থাকা পরিবারগুলিকে বুঝিয়ে বের করে আনা।”

    ব্যর্থ পাকিস্তান

    অপারেশন সিঁদুর চালিয়ে পাকিস্তান এবং পাক-অধিকৃত কাশ্মীরের অসংখ্য জঙ্গিকে খতম করে দিয়েছিল ভারত। অন্তত ১০০ জন জঙ্গি মৃত্যু হয়েছিল বলে দাবি করা হয়। আর সেই জঙ্গিদের মৃত্যুর ‘কষ্টে’ বারামুলা জেলায় বিতস্তা নদীর উপরে তৈরি উরি জলবিদ্যুৎ কেন্দ্রে হামলার ছক কষেছিল পাকিস্তান। কিন্তু সেই ছক ভেস্তে দিয়েছিল ভারত। নিয়ন্ত্রণরেখা বরাবর অবস্থিত সেই জলবিদ্যুৎ কেন্দ্রে পাকিস্তান একটা আঁচড়ও কাটতে পারেনি পাকিস্তান। কোনওরকম ক্ষয়ক্ষতি হয়নি। এমনই জানাল ভারতের আধা-সামরিক সেন্ট্রাল ইন্ডাস্ট্রিয়াল সিকিউরিটি ফোর্স (সিআইএসএফ)।

    অতীতেও নিশানায় উরি

    বিমানবন্দর, গুরুত্বপূর্ণ স্থাপত্য-সহ দেশের গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠানগুলি পাহারার দায়িত্বে থাকেন সিআইএসএফ জওয়ানরা। মঙ্গলবার দিল্লিতে সিআইএসএফ-এর একটি কর্মসূচিতে ওই ১৯ জনকে পুরস্কৃত করা হয়। অসাধারণ সাহস এবং পেশাদারিত্বের জন্য ১৯ জনকে বিশেষ সম্মান জানানো হয়েছে। এঁরা না থাকলে আরও এক বৃহৎ বিপর্যয় নেমে আসত সীমান্তের ওই এলাকায়। এটাই প্রথম নয়। ২০১৬ সালের ১৮ সেপ্টেম্বর উরি সেনা শিবিরে জইশ জঙ্গিদের হামলায় প্রাণ হারান ১৯ জন জওয়ান। ছ’ঘণ্টার অপারেশনে চার জঙ্গিকে নিকেশ করে ভারতীয় সেনা। তারপরই আসে সার্জিক্যাল স্ট্রাইক—পাক অধিকৃত কাশ্মীরের গভীরে ঢুকে ধ্বংস করা হয় একাধিক জঙ্গি লঞ্চপ্যাড। পাকিস্তানের গোলাবর্ষণ ও ড্রোন হামলার মাঝেও সিআইএসএফ-এর মাত্র ১৯ জন জওয়ান যেভাবে জাতীয় সম্পদ ও শত শত মানুষের প্রাণ বাঁচালেন—এটি নিঃসন্দেহে সাম্প্রতিক সংঘাতের সবচেয়ে উজ্জ্বল বীরগাথাগুলির একটি। দেশের নিরাপত্তাব্যবস্থায় তাঁদের এই বীরত্ব দীর্ঘদিন স্মরণীয় হয়ে থাকবে।

  • Indian Armed Forces: ৭৯০০০ কোটি টাকার অস্ত্র, আধুনিক সামরিক সরঞ্জাম কেনায় সায় কেন্দ্রের, বিরাট বদলের পথে তিন বাহিনী

    Indian Armed Forces: ৭৯০০০ কোটি টাকার অস্ত্র, আধুনিক সামরিক সরঞ্জাম কেনায় সায় কেন্দ্রের, বিরাট বদলের পথে তিন বাহিনী

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ভবিষ্যতের রণনীতি ও যুদ্ধকৌশলের সঙ্গে সেনাশক্তির সামঞ্জস্য বজায় রাখতে ভারতীয় সশস্ত্র বাহিনীর (Indian Armed Forces) তিন শাখার (স্থল, নৌ এবং বায়ুসেনা) জন্য ৭৯ হাজার কোটি টাকার অস্ত্র এবং আধুনিক সামরিক সরঞ্জাম (Modern Weapon Systems) কেনার সিদ্ধান্ত নিল নরেন্দ্র মোদি সরকার। প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিংয়ের সভাপতিত্বে ডিফেন্স অ্যাকুইজিশন কাউন্সিল বা প্রতিরক্ষা অধিগ্রহণ পরিষদের বৈঠক ছিল বৃহস্পতিবার। নয়াদিল্লির সাউথ ব্লকে এই বৈঠক হয়। সেখানে বিভিন্ন সমরাস্ত্র ও আধুনিক সামরিক প্রযুক্তি কেনার প্রস্তাবে অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। এর ফলে, আরও শক্তি বাড়ছে ভারতীয় সেনার। যার জেরে তিন বাহিনীতেই ঘটবে বিরাট বদল। নতুন রূপে সেজে উঠবে দেশের তিন সশস্ত্র বাহিনী।

    স্থল সেনার ঝুলিতে যা যা আসছে…

    স্থল সেনার ঝুলিতে ঢুকতে চলেছে মোট তিনটি প্রতিরক্ষা সামগ্রী (Indian Armed Forces)। যথাক্রমে নাগ মিসাইল সিস্টেম মার্ক-২ (NAMIS Mk-II), গ্রাউন্ড-বেসড মোবাইল ইলেকট্রনিক ইন্টেলিজেন্স সিস্টেম (GBMES), ম্যাটেরিয়াল হ্যান্ডলিং ক্রেন-সহ হাই মোবিলিটি ভেহিক্যল (HMVs)। এর মধ্যে নাগ মিসাইল সিস্টেম শত্রুপক্ষের ট্যাঙ্ক, বাঙ্কার ধ্বংস করতে ব্যবহৃত হয়। গ্রাউন্ড-বেসড মোবাইল ইলেকট্রনিক ইন্টেলিজেন্স সিস্টেম কাজ করে রেডার সিগন্যাল ধরতে। শত্রুপক্ষের ইলেকট্রনিক সিগন্যাল ও রেডার সিগনেচার শনাক্ত ও ট্র্যাক করতে সক্ষম এটি। সবশেষে হাই মোবিলিটি ভেহিক্যল মূলত সেনা লজিস্টিক সাপোর্ট প্রদান করে থাকে। ভারী সরঞ্জাম পরিবহণে কাজে আসে।

    নৌবাহিনী যা পেতে চলেছে…

    ভারতীয় নৌসেনার জন্য আসছে ল্যান্ডিং প্ল্যাটফর্ম ডক (LPDs), ৩০ মিমি নেভাল সারফেস গান (NSG), অ্যাডভান্সড লাইট ওয়েট টর্পিডো (ALWT) ও ইলেক্ট্রো-অপটিক্যাল ইনফ্রা-রেড সার্চ অ্যান্ড ট্র্যাক সিস্টেম সঙ্গে স্মার্ট অ্যামুনিশন। ল্যান্ডিং প্ল্যাটফর্ম ডক প্ল্যাটফর্মগুলি নৌসেনা ও বিমানবাহিনীর যৌথ অপারেশনে ব্যবহৃত হবে (Indian Armed Forces)। পাশাপাশি, শান্তিরক্ষা, মানবিক সহায়তা এবং দুর্যোগ মোকাবিলা কার্যক্রমেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নেবে এলপিডি। ৩০ মিমি নেভাল সারফেস গান মূলত নৌবাহিনী এবং উপকূলরক্ষী বাহিনীকে লো ইন্টেনসিটি মেরিটাইম অপারেশনস (LIMO) এবং জলদস্যুতা বিরোধী (Anti-piracy) অভিযানে আরও কার্যকর করে তুলবে। ডিআরডিও-র তৈরি অ্যাডভান্সড লাইট ওয়েট টর্পিডো যে কোনও ধরনের সাবমেরিন— কনভেনশনাল হোক কিংবা পারমাণবিক— সবাইকেই টার্গেট করতে সক্ষম। এছাড়া, কোনও বস্তুকে টার্গেটে আনতে তৈরি হচ্ছে ইলেক্ট্রো-অপটিক্যাল ইনফ্রা-রেড সার্চ অ্যান্ড ট্র্যাক সিস্টেম।

    বায়ুসেনার ঘরে যা ঢুকছে…

    বায়ুসেনার (Indian Armed Forces) জন্য কোল্যাবরেটিভ লং রেঞ্জ টার্গেট স্যাচুরেশন/ডিস্ট্রাকশন সিস্টেম (CLRTS/DS) তৈরিতে অনুমোদন দিয়ে পরিষদ। এই ব্যবস্থাটি স্বয়ংক্রিয়ভাবে উড্ডয়ন, অবতরণ, নেভিগেট করা, লক্ষ্যবস্তু সনাক্ত করতে সক্ষম। এটি মূলত দূর পাল্লার লক্ষ্যবস্তুকে নিখুঁতভাবে আঘাত করার জন্য ডিজাইন করা হয়েছে। ১০০০ কিলোমিটার পাল্লার এই সোয়ার্ম ড্রোন এই সঙ্ঘবদ্ধ ভাবে স্বয়ংক্রিয় বৈদ্যুতিন ব্যবস্থার সাহায্যে নিশানা চিহ্নিত করে হামলা চালাতে পারে।

    ‘আত্মনির্ভর ভারত’ উদ্যোগের অংশ

    কেন্দ্রীয় সরকারের তরফে জানানো হয়েছে, ভারতীয় সেনাবাহিনী, নৌবাহিনী এবং বিমান বাহিনীর (Indian Armed Forces) জন্য উন্নত অস্ত্র, সহায়তা সরঞ্জাম কিনে দেশের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাকে আরও উন্নত করার জন্য এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। প্রতিরক্ষা মন্ত্রকের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, এই অনুমোদনগুলি কেবল সামরিক শক্তি বৃদ্ধিই করবে না বরং ‘আত্মনির্ভর ভারত’ উদ্যোগের অংশ হিসেবে দেশীয় প্রতিরক্ষা শিল্পকে আরও শক্তিশালী (Modern Weapon Systems) করবে। চলতি বছরের বাজেটে মোট ৬.৮১ লক্ষ কোটি টাকা বাজেট বরাদ্দ করেছিল কেন্দ্রীয় সরকার। যা গতবছরের তুলনায় প্রায় ১০ শতাংশ বেশি। কেন্দ্রীয় সূত্রে খবর, সামরিক খাতে আরও ৫০ হাজার কোটি টাকা বরাদ্দ বৃদ্ধি করা হতে পারে। আগামী শীতকালীন অধিবেশনে সেই বাজেট পেশ করা হতে পারে।

  • Heron UAV: ‘অপারেশন সিঁদুর’-এ বাজিমাত, সেনার তিন বাহিনীর জন্য আরও ইজরায়েলি হেরন ড্রোন কিনবে ভারত

    Heron UAV: ‘অপারেশন সিঁদুর’-এ বাজিমাত, সেনার তিন বাহিনীর জন্য আরও ইজরায়েলি হেরন ড্রোন কিনবে ভারত

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: সশন্ত্র বাহিনীকে (Indian Armed Forces) আরও শক্তিশালী করতে নতুন পদক্ষেপ নিল প্রতিরক্ষা মন্ত্রক (Ministry of Defence)। সূত্রের খবর, সেনার তিন বাহুর জন্যই ইজরায়েল থেকে আরও হেরন ড্রোন (Heron UAV) কিনতে চলেছে ভারত। ‘অপারেশন সিঁদুর’-পর্বে হেরন ড্রোনের ক্ষমতা দেখে সন্তুষ্ট সেনাকর্তারা। তাই এবার স্থলসেনা, নৌসেনা এবং বায়ুসেনার জন্য অতিরিক্ত হেরন ড্রোন কিনবে মোদি সরকার।

    ভারতের সঙ্গে দীর্ঘ সম্পর্ক হেরনের

    এক দশকেরও বেশি সময় আগে হেরন মার্ক-১ ড্রোন (Heron UAV) ইজরায়েল থেকে কিনেছিল ভারত। তার পর ২০২১ সালে এই ড্রোনের উন্নত মার্ক-২ সংস্করণ ‘হেরন টিপি’ ও ‘হেরন টিপি এক্সপি’ কিনেছিল প্রতিরক্ষা মন্ত্রক। মূলত, চালকহীন এই ড্রোনগুলি থেকে আকাশ থেকে মাটিতে ছোড়ার ক্ষেপনাস্ত্র ব্যবহার করা যায়। ড্রোনগুলো মূলত চিন ও পাকিস্তান উভয় সীমান্তে দূরপাল্লার নজরদারির জন্য ব্যবহৃত হয় এবং এগুলো অত্যন্ত কার্যকর প্রমাণিত হয়েছে।

    ‘অপারেশন সিঁদুর’-এ ক্ষমতা প্রদর্শন

    এই ড্রোনগুলিকে (Heron UAV) ব্যবহার করে অনায়াসে দেশের আকাশসীমা অতিক্রম করে শত্রু দেশে সহজেই হামলা চালানো সম্ভব। এতে প্রাণের ঝুঁকিও থাকে না। প্রতিরক্ষা মন্ত্রক সূত্রে খবর, ইজরায়েলি ড্রোনগুলো এ বছরের মে মাসে পাকিস্তানের বিরুদ্ধে ‘অপারেশন সিঁদুর’-এর সময় গোয়েন্দা, নজরদারি এবং নিরীক্ষণ (আইএসআর) মিশনের জন্য কার্যকরভাবে মোতায়েন করা হয়েছিল। অপারেশন সিঁদুরের সময় এই ড্রোনগুলি তার ক্ষমতা দেখিয়েছিল। যার ফলস্বরূপ, ভারতের সশস্ত্র বাহিনী (Indian Armed Forces) অতিরিক্ত হেরন ড্রোন কেনার জন্য নতুন অর্ডার দিচ্ছে। জানা যাচ্ছে, নতুন ড্রোনগুলি মার্ক-২ সংস্করণ থেকে আরও উন্নত হবে।

    ‘প্রজেক্ট চিতা’য় বিশেষ পরিকল্পনা

    সূত্রের খবর, নতুন এই ড্রোনগুলিতে (Drones) ট্যাঙ্ক-বিধ্বংসী গাইডেড মিসাইল বসানোর পরিকল্পনা করছে ভারতীয় তিন বাহিনী। এই পরিকল্পনার নাম দেওয়া হয়েছে ‘প্রজেক্ট চিতা’। উন্নতমানের এই ড্রোনগুলিতে (Heron UAV) অত্যাধুনিক মানের নজরদারি সরঞ্জাম বসানো হতে পারে বলে সূত্রের খবর। হেরনে ট্যাঙ্ক বিধ্বংসী গাইডেড ক্ষেপণাস্ত্র ‘স্পাইক-এনএলওএস’ (নন লাইন অফ সাইট) বসানোর পরিকল্পনা করেছে স্থল, নৌ এবং বায়ুসেনা। নতুন এই ড্রোনগুলি ৩০ ঘন্টা উড়তে সক্ষম। পাশাপাশি ৪৫ হাজার ফুট উঁচু থেকে স্পষ্ট ছবি তুলতে সক্ষম এই ড্রোনগুলি।

    দেশীয় মেল ড্রোন উৎপাদন

    বিদেশ থেকে কেনার পাশাপাশি, ভারতের নিজস্ব দেশীয় এই ধরনের ড্রোন নির্মাণের কর্মসূচির চলছে। এর আওতায় মিডিয়াম অলটিটিউড লং এনডিওরেন্স (MALE) ড্রোন তৈরি হচ্ছে। হিন্দুস্তান অ্যারোনটিক্স লিমিটেড (হ্যাল), লারসেন অ্যান্ড টুব্রো (এলঅ্যান্ডটি), সোলার ইন্ডাস্ট্রিজ ডিফেন্স অ্যান্ড অ্যারোস্পেস এবং আদানি ডিফেন্সের মতো বড় প্রতিরক্ষা সংস্থাগুলো এই ক্ষেত্রে প্রধান প্রতিযোগী হবে বলে আশা করা হচ্ছে। সশস্ত্র বাহিনী (Indian Armed Forces) দেশের নিরাপত্তা চাহিদা মেটাতে আগামী ১০-১৫ বছরে প্রায় ৪০০টি এমন ‘মেল’ ড্রোনের দীর্ঘমেয়াদী প্রয়োজনীয়তার কথা জানিয়েছে।

  • Ministry of Defence: দেশের প্রতিরক্ষাকে আরও শক্তিশালী করতে ৬৭০০০ কোটি টাকার অস্ত্র-সরঞ্জাম কিনছে ভারত

    Ministry of Defence: দেশের প্রতিরক্ষাকে আরও শক্তিশালী করতে ৬৭০০০ কোটি টাকার অস্ত্র-সরঞ্জাম কিনছে ভারত

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: আরও শক্তিশালী হতে চলেছে ভারতের অস্ত্রভান্ডার। শতাধিক ব্রহ্মস ও উন্নত ড্রোন কিনতে চলেছে ভারতীয় ফৌজ। ইতিমধ্যে অস্ত্র কেনা এবং রক্ষণাবেক্ষণের জন্য ৬৭ হাজার কোটি টাকার চুক্তিতে প্রাথমিক অনুমোদন দিয়েছে প্রতিরক্ষা মন্ত্রক (Ministry of Defence)।

    সামরিক বাহিনীর (Indian Armed Forces) আধুনিকীকরণের কাজ শুরু হয়েছিল আগেই। ‘অপারেশন সিঁদুর’-এর পরে তাতে আরও গতি এসেছে। মঙ্গলবারই প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিংয়ের নেতৃত্বে একটি উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে বসেছিল প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম ক্রয় সংক্রান্ত সর্বোচ্চ সিদ্ধান্ত গ্রহণকারী কমিটি (ডিফেন্স অ্যাকিউজিশন কাউন্সিল বা ডিএসি)। সেখানেই অস্ত্র কেনার বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

    ৮৭টি ম্যাল সশস্ত্র ড্রোন

    জানা যাচ্ছে, তিন-বাহিনীর জন্য মাঝারি-উচ্চতায় দীর্ঘক্ষণ আকাশে উড়তে সক্ষম (ম্যাল) সম্পন্ন ৮৭টি সশস্ত্র ড্রোন কেনা হবে। সেই ড্রোনগুলি তৈরি হবে ৬০ শতাংশ দেশীয় উপকরণ দিয়ে। এর জন্য বিদেশি সংস্থার সঙ্গে চুক্তি করবে একটি ভারতীয় প্রতিরক্ষা কোম্পানি। কিনতে খরচ হবে প্রায় ২০ হাজার কোটি টাকা। এই সব ড্রোন কেনার পর ১০ বছর রক্ষণাবেক্ষণের জন্য আরও ১১ হাজার কোটি টাকা খরচ হবে।

    ১১০টি ব্রহ্মস ক্ষেপণাস্ত্র

    এর পাশাপাশি, প্রতিরক্ষা মন্ত্রকের অনুমতিতে নতুন ১১০টি ব্রহ্মস ক্ষেপণাস্ত্র কেনারও সিদ্ধান্ত হয়েছে। দুনিয়ার দ্রুততম ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্রগুলির মধ্যে অন্যতম হল ব্রহ্মস। রাশিয়ার সঙ্গে যৌথ উদ্যোগে এই সুপারসনিক ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্রটি তৈরি করেছে ভারত। জল, স্থল, আকাশ ও জলের নীচ— এই চার জায়গা থেকেই ছোড়া যায় ব্রহ্মস। এর প্রতিটির জন্য পৃথক সংস্করণের ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করে সামরিক বাহিনী। ব্রহ্মসের গতি শব্দের চেয়ে তিনগুণ। দেশের প্রতিরক্ষাকে মাথায় রেখে এই ব্রহ্মসকে আরও উন্নত করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে কেন্দ্র। সেই লক্ষ্যে ৫ দফা পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। সেখানে ব্রহ্মসের পাল্লা ও গতি দুটোই বাড়ানো হচ্ছে।

    সাঁজোয়ার জন্য থার্মাল ইমেজার

    নৌবাহিনীর জন্য কমপ্যাক্ট অটোনমাস সারফেস ক্রাফ্ট কেনার অনুমোদন দিয়েছে ডিফেন্স অ্যাকিউজিশন কাউন্সিল। এই স্বয়ংক্রিয় নৌযান সাবমেরিন শনাক্ত করতে পারে। একইসঙ্গে বারাক-১ এয়ার ডিফেন্স সিস্টেমকে আরও উন্নত করা হবে। স্থলসেনার ব্যবহৃত সাঁজোয়া সামরিক যানগুলির আধুনিকীকরণের অঙ্গ হিসেবে তার জন্য থার্মাল ইমেজার সহ উন্নতমানের ড্রাইভার নাইট সাইট কেনার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এতে কম আলোয় বা রাতে চালকের দেখতে কোনও অসুবিধা হবে না।

    পাহাড়ি সীমান্তে মাউন্টেন রেডার

    এছাড়া, বায়ুসেনার সি-১৭ ও সি-১৩০জে বিমানের রক্ষণাবেক্ষণের সিদ্ধান্ত নিয়েছে রাজনাথ সিংয়ের নেতৃত্বাধীন কমিটি, যাতে যুদ্ধের সময়ে পরিবহণ এবং উদ্ধারকাজে দেরি না হয়। একই সঙ্গে এস-৪০০ লং রেঞ্জ মিসাইল সিস্টেম-এর রক্ষণাবেক্ষণের জন্য বার্ষিক চুক্তির অনুমোদনও মিলেছে। আকাশপথে শত্রুর গতিবিধির উপরে নজর রাখতে পাহাড়ি সীমান্তে বসানো হবে মাউন্টেন রেডার। পাশাপাশি সক্ষম/স্পাইডার মিসাইল সিস্টেমকে আপগ্রেড করে ইন্টিগ্রেটেড এয়ার কমান্ড অ্যান্ড কনট্রোল সিস্টেম (IACCS)-এর সঙ্গে যুক্ত করার কাজও চলবে জোরকদমে।

LinkedIn
Share