Tag: Indian freedom struggle

Indian freedom struggle

  • Suvendu Adhikari: মাতঙ্গিনীর আত্মবলিদান দিবসে শ্রদ্ধা মুখ্যমন্ত্রীর, তাক করলেন মমতাকেও

    Suvendu Adhikari: মাতঙ্গিনীর আত্মবলিদান দিবসে শ্রদ্ধা মুখ্যমন্ত্রীর, তাক করলেন মমতাকেও

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: মাতঙ্গিনী হাজরার ঐতিহাসিক আত্মবলিদানের ৮৪তম বার্ষিকীতে শ্রদ্ধা জানালেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari)। মঙ্গলবার কলকাতার রেড রোডে সংলগ্ন মাতঙ্গিনী হাজরার (Matangini Hazra) মূর্তিতে মাল্যদান করেন তিনি। একই সঙ্গে স্বাধীনতা সংগ্রামীদের প্রতি সম্মান প্রদর্শন নিয়ে প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কেও নিশানা করেন তিনি।

    মাতঙ্গিনীর বলিদান দিবসে এর আগে কোনও মুখ্যমন্ত্রী ওই মূর্তিতে এসে শ্রদ্ধা জানাননি বলে দাবি করেন শুভেন্দু। তাঁর কথায়, “এ যাবৎকালে আগের কোনও মুখ্যমন্ত্রী এই মহীয়সী নারীর বলিদান দিবসে এখানে এসে শ্রদ্ধার্ঘ্য জানাননি বলেই আমার মনে হয়। রাষ্ট্রবাদী সরকার সম্মান জানাল।”

    মাতঙ্গিনীর আত্মবলিদানের ইতিহাস (Suvendu Adhikari)

    ১৯৪২ সালের ২৯ সেপ্টেম্বর। ভারত ছাড়ো আন্দোলনে উত্তাল অবিভক্ত মেদিনীপুর। ব্রিটিশ শাসনের অবসান ঘটানোর দাবিতে তমলুক থানা অভিমুখে এগিয়ে চলেছে কয়েক হাজার মানুষের মিছিল। সেই মিছিলের পুরোভাগে ছিলেন মাতঙ্গিনী হাজরা। হাতে জাতীয় পতাকা, মুখে বন্দে মাতরম ধ্বনি। মিছিল তমলুক থানার কাছে পৌঁছলে আন্দোলনকারীদের লক্ষ্য করে গুলি চালায় ব্রিটিশ পুলিশ। গুলিবিদ্ধ হয়েও পিছিয়ে যাননি মাতঙ্গিনী। শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত জাতীয় পতাকা হাতে রেখেই শহিদ হন তিনি। ভারতের স্বাধীনতা সংগ্রামের ইতিহাসে তাঁর এই আত্মবলিদান স্মরণীয় হয়ে রয়েছে।

    গান্ধীবাদী আদর্শে বিশ্বাসী মাতঙ্গিনী স্বাধীনতা আন্দোলনের বিভিন্ন কর্মসূচিতে সক্রিয়ভাবে অংশ নিয়েছিলেন। আইন অমান্য আন্দোলন থেকে শুরু করে ভারত ছাড়ো আন্দোলন, ব্রিটিশবিরোধী সংগ্রামের একাধিক পর্যায়ে তাঁর গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা ছিল। স্থানীয় মানুষের কাছে তিনি পরিচিত হয়ে উঠেছিলেন ‘গান্ধী বুড়ি’ নামে। বয়সের বাধা উপেক্ষা করে স্বাধীনতার দাবিতে রাজপথে নামার ঘটনা তাঁকে স্বাধীনতা সংগ্রামের অন্যতম পরিচিত চরিত্রে পরিণত করে (Suvendu Adhikari)।

    তাম্রলিপ্ত জাতীয় সরকার

    মাতঙ্গিনীর আত্মবলিদানের পর অবিভক্ত মেদিনীপুরে ব্রিটিশবিরোধী আন্দোলন আরও সংগঠিত হয়। ১৯৪২ সালের ১৭ ডিসেম্বর তমলুকে প্রতিষ্ঠিত হয় তাম্রলিপ্ত জাতীয় সরকার। বিপ্লবী সতীশচন্দ্র সামন্তের নেতৃত্বে গড়ে ওঠা এই সমান্তরাল প্রশাসনের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন সুশীলকুমার ধাড়া ও অজয় মুখোপাধ্যায়ের মতো স্বাধীনতা সংগ্রামীরা।

    ব্রিটিশ প্রশাসনের বিকল্প হিসেবে গড়ে ওঠা এই সরকার স্থানীয় স্তরে বিচারব্যবস্থা, আইনশৃঙ্খলা রক্ষা, রাজস্ব সংগ্রহ এবং ত্রাণের মতো একাধিক দায়িত্ব পালন করেছিল। প্রায় ২০ মাস সক্রিয় থাকার পর ১৯৪৪ সালের অগাস্টে মহাত্মা গান্ধীর অনুরোধে এই সরকারের কার্যক্রম বন্ধ করা হয়। ভারত ছাড়ো আন্দোলনের সময় প্রতিষ্ঠিত সমান্তরাল সরকারগুলির মধ্যে এটি দীর্ঘস্থায়ী সরকার হিসেবে পরিচিত।

    তাম্রলিপ্ত জাতীয় সরকারের প্রসঙ্গ তুলে শুভেন্দু বলেন, “মাতঙ্গিনী হাজরার এই বলিদানের পর তাম্রলিপ্ত সরকার গঠিত হয়। ইংরেজদের বিরুদ্ধে চলা সব থেকে শক্তিশালী সমান্তরাল সরকার। পরে মহাত্মা গান্ধীর অনুরোধে এই সরকার ভেঙে দেওয়া হয়।”

    মমতাকে নিশানা শুভেন্দুর

    প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন শুভেন্দু। তাঁর অভিযোগ, দীর্ঘদিন রাজ্যের ক্ষমতায় থাকা সত্ত্বেও মাতঙ্গিনী হাজরার বলিদান দিবসে রেড রোড সংলগ্ন মূর্তিতে শ্রদ্ধা জানাতে আসেননি মমতা। শুভেন্দু বলেন, “১৫ বছর ক্ষমতায় ছিলেন। কোনও দিন এখানে আসেননি। রাজ্যবাসীকে ভুল বার্তা দিয়েছেন।”

    স্বাধীনতা সংগ্রামীদের স্মৃতিরক্ষা এবং তাঁদের যথাযথ সম্মান জানানোর বিষয়ে বর্তমান সরকার গুরুত্ব দেবে বলেও জানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর বক্তব্য (Matangini Hazra), বর্তমান রাষ্ট্রবাদী বিজেপি সরকার দেশের স্বাধীনতা আন্দোলনে অংশগ্রহণকারীদের অবদান কোনওভাবেই ভুলে যাবে না। শুভেন্দুর (Suvendu Adhikari) অভিযোগের বিষয়ে মমতা বা তৃণমূল কংগ্রেসের কোনও প্রতিক্রিয়া মেলেনি।

     

  • Independence Day 2026: আজ ৮০তম স্বাধীনতা দিবস, ১৮৫৭-র বিদ্রোহ থেকে লালকেল্লায় প্রথম তেরঙা, ফিরে দেখা সংগ্রামের ইতিহাস

    Independence Day 2026: আজ ৮০তম স্বাধীনতা দিবস, ১৮৫৭-র বিদ্রোহ থেকে লালকেল্লায় প্রথম তেরঙা, ফিরে দেখা সংগ্রামের ইতিহাস

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: আজ ১৫ অগাস্ট। স্বাধীনতা দিবস। ১৯৪৭ সালের এই দিনেই দীর্ঘ ব্রিটিশ শাসনের অবসান ঘটিয়ে স্বাধীন রাষ্ট্র হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেছিল ভারত। স্বাধীনতার ৮০তম বর্ষে দেশজুড়ে পালিত হচ্ছে ঐতিহাসিক এই দিন। দিল্লির লালকেল্লা থেকে দেশের প্রত্যন্ত প্রান্ত—জাতীয় পতাকার রঙে সেজে উঠেছে ভারত। স্বাধীনতা অর্জনের এই পথ অবশ্য সহজ ছিল না। বহু আন্দোলন, বিদ্রোহ, আত্মত্যাগ এবং অসংখ্য স্বাধীনতা সংগ্রামীর লড়াইয়ের মধ্য দিয়ে এসেছে ১৯৪৭-এর ১৫ অগাস্ট। আজকের দিনে তাই ফিরে দেখা যাক ব্রিটিশবিরোধী আন্দোলনের কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়।

    ১৮৫৭-র বিদ্রোহ: স্বাধীনতার প্রথম বড় স্ফুলিঙ্গ

    ভারতের স্বাধীনতা সংগ্রামের ইতিহাসে ১৮৫৭ সালের বিদ্রোহ এক গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক। ইতিহাসে এটি সিপাই বিদ্রোহ বা ভারতের প্রথম স্বাধীনতা যুদ্ধ হিসেবেও পরিচিত। ব্রিটিশ ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির বিরুদ্ধে অসন্তোষ থেকে শুরু হওয়া এই বিদ্রোহ দ্রুত বিস্তৃত আকার নেয়। মঙ্গল পাণ্ডে, বাহাদুর শাহ জাফর, রানি লক্ষ্মীবাই, নানা সাহেব-সহ বহু নেতা ব্রিটিশ শাসনের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তোলেন। উত্তর ও মধ্য ভারতের বিস্তীর্ণ অঞ্চলে ছড়িয়ে পড়ে বিদ্রোহের আগুন।

    স্বদেশি আন্দোলন: বিদেশি পণ্য বর্জনের ডাক

    ব্রিটিশবিরোধী আন্দোলনে স্বদেশি ভাবনা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নেয়। বিদেশি পণ্য বর্জন করে দেশীয় পণ্য ব্যবহারের আহ্বান জানানো হয় দেশবাসীকে। বিশেষ করে বঙ্গভঙ্গ-বিরোধী আন্দোলনের সময় স্বদেশি আন্দোলন ব্যাপক জনসমর্থন পায়। বাল গঙ্গাধর তিলকের মতো নেতারা দেশীয় শিল্প ও পণ্যের প্রসারে জোর দেন। স্বদেশি ভাবনা পরবর্তীকালে স্বাধীনতা আন্দোলনের অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক দর্শনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অংশ হয়ে ওঠে।

    ১৯৪২-এর ভারত ছাড়ো আন্দোলন

    স্বাধীনতা সংগ্রামের শেষ পর্যায়ের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় ছিল ভারত ছাড়ো আন্দোলন। ১৯৪২ সালের ৮ অগাস্ট বম্বেতে অল ইন্ডিয়া কংগ্রেস কমিটির অধিবেশনে এই আন্দোলনের ডাক দেওয়া হয়। মহাত্মা গান্ধীর নেতৃত্বে ব্রিটিশদের উদ্দেশে ওঠে ‘ভারত ছাড়ো’ স্লোগান। আন্দোলনের মূল লক্ষ্য ছিল ব্রিটিশ শাসনের অবসান ঘটিয়ে অবিলম্বে স্বাধীনতা অর্জন। দেশজুড়ে ব্যাপক গণআন্দোলন শুরু হয় এবং বহু স্বাধীনতা সংগ্রামী গ্রেফতার হন।

    ভারতের প্রথম জাতীয় পতাকা থেকে আজকের তেরঙা

    স্বাধীন ভারতের জাতীয় পতাকার বর্তমান রূপ একদিনে তৈরি হয়নি। ১৯০৬ সালের ৭ অগাস্ট কলকাতার পার্সি বাগান স্কোয়ারে একটি জাতীয় পতাকা উত্তোলন করা হয়েছিল। সেই পতাকায় ছিল সবুজ, হলুদ ও লাল রং। পরবর্তীতে জাতীয় পতাকার নকশায় একাধিক পরিবর্তন আসে। ১৯২১ সালে পিঙ্গালি বেঙ্কাইয়া তেরঙার নকশা উপস্থাপন করেন। বর্তমান জাতীয় পতাকায় রয়েছে গেরুয়া, সাদা ও সবুজ রং এবং মাঝখানে ২৪টি কাঁটাযুক্ত নীল অশোকচক্র। ১৯৪৭ সালের ২২ জুলাই সংবিধান সভা ভারতের জাতীয় পতাকার বর্তমান নকশা গ্রহণ করে। স্বাধীনতার পর ১৫ অগাস্ট দিল্লির লালকেল্লায় প্রথমবার জাতীয় পতাকা উত্তোলন করেন স্বাধীন ভারতের প্রথম প্রধানমন্ত্রী জওহরলাল নেহরু।

    ‘জনগণমন’ কীভাবে জাতীয় সঙ্গীত হল?

    ভারতের স্বাধীনতার সময় কোনও আনুষ্ঠানিক জাতীয় সঙ্গীত ছিল না। রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর ১৯১১ সালে ‘ভারত ভাগ্য বিধাতা’ রচনা করেন। পরবর্তীতে এর প্রথম স্তবক ‘জনগণমন’ নামে পরিচিত হয়। ১৯৫০ সালের ২৪ জানুয়ারি সংবিধান সভা ‘জনগণমন’-কে ভারতের জাতীয় সঙ্গীত হিসেবে গ্রহণ করে।

    জাতীয় গান ‘বন্দে মাতরম’-এর ইতিহাস

    স্বাধীনতা আন্দোলনে ‘বন্দে মাতরম’ শুধু একটি গান ছিল না, বরং তা হয়ে উঠেছিল দেশাত্মবোধ ও জাতীয়তাবাদের অন্যতম শক্তিশালী প্রতীক। বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় তাঁর বিখ্যাত উপন্যাস ‘আনন্দমঠ’-এ গানটি রচনা করেন। ১৯৫০ সালের ২৪ জানুয়ারি সংবিধান সভা ‘বন্দে মাতরম’-কে জাতীয় গান হিসেবে স্বীকৃতি দেয়।

    র‌্যাডক্লিফ লাইন ও দেশভাগ

    স্বাধীনতার সঙ্গে ভারতীয় ইতিহাসে যুক্ত হয়ে আছে দেশভাগের গভীর বেদনা। ১৯৪৭ সালে ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে সীমারেখা নির্ধারণের দায়িত্ব দেওয়া হয় ব্রিটিশ আইনজীবী স্যার সিরিল র‌্যাডক্লিফকে। পাঞ্জাব ও বাংলা ভাগের সীমারেখা নিয়ে কাজ শেষ হওয়ার পর ১৯৪৭ সালের ১৭ অগাস্ট তা প্রকাশ্যে আসে। স্বাধীনতার মাত্র দু’দিন পর প্রকাশিত সেই সীমারেখা লক্ষ লক্ষ মানুষের জীবন ও বাসস্থানকে বদলে দেয়।

    ১৫ অগাস্ট ১৯৪৭: স্বাধীন ভারতের জন্ম

    অবশেষে আসে সেই ঐতিহাসিক দিন—১৫ অগাস্ট, ১৯৪৭। দীর্ঘ ব্রিটিশ শাসনের অবসান ঘটে এবং স্বাধীন রাষ্ট্র হিসেবে আত্মপ্রকাশ করে ভারত। একই সঙ্গে দেশভাগের ফলে জন্ম নেয় পাকিস্তান। ব্রিটিশ ভারতের শেষ ভাইসরয় লর্ড মাউন্টব্যাটেন প্রথমে ১৯৪৮ সালের ৩০ জুন ক্ষমতা হস্তান্তরের পরিকল্পনা করেছিলেন। কিন্তু পরিস্থিতির দ্রুত পরিবর্তনের পর ক্ষমতা হস্তান্তরের সময় এগিয়ে আনা হয়। ১৯৪৭ সালের ১৫ অগাস্ট স্বাধীনতা অর্জন করে ভারত।

    লালকেল্লায় প্রথম তেরঙা উত্তোলন

    স্বাধীন ভারতের প্রথম প্রধানমন্ত্রী জওহরলাল নেহরু ১৯৪৭ সালের ১৫ অগাস্ট দিল্লির লালকেল্লায় জাতীয় পতাকা উত্তোলন করেন। স্বাধীনতার প্রথম প্রভাতে জাতির উদ্দেশে ঐতিহাসিক ভাষণ দেন তিনি। সেই ভাষণে নেহরুর কণ্ঠে ধ্বনিত হয়েছিল স্বাধীন ভারতের নতুন যাত্রার প্রত্যয়—“গোটা পৃথিবী যখন ঘুমোচ্ছে, তখন ভারত জাগবে নতুন জীবন ও স্বাধীনতা নিয়ে।” আজ ৮০তম স্বাধীনতা দিবসে সেই আত্মত্যাগ, সংগ্রাম ও স্বপ্নকেই ফের স্মরণ করছে দেশ। স্বাধীনতার ইতিহাস শুধু অতীতের একটি অধ্যায় নয়— এটি ভারতীয় গণতন্ত্র, সার্বভৌমত্ব ও জাতীয় চেতনার ভিত্তি।

  • Netaji’s Historic Flag Hoisting: ৮২ বছরেও ‘জয় হিন্দ’-এর চেতনা অমলিন, আন্দামানে নেতাজির তিরঙ্গা উত্তোলনের বর্ষপূর্তি পালিত

    Netaji’s Historic Flag Hoisting: ৮২ বছরেও ‘জয় হিন্দ’-এর চেতনা অমলিন, আন্দামানে নেতাজির তিরঙ্গা উত্তোলনের বর্ষপূর্তি পালিত

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: আন্দামান ও নিকোবর দ্বীপপুঞ্জে নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসুর ঐতিহাসিক তিরঙ্গা পতাকা উত্তোলনের ৮২তম বর্ষপূর্তি উপলক্ষে লেফটেন্যান্ট গভর্নর মনোজ সিনহা বিশেষ কর্মসূচির আয়োজন করেন। মঙ্গলবার, ৩০ ডিসেম্বর তিনি জম্মুর রাম বিহার এলাকার জেডিএ পার্কে তিরঙ্গা পতাকা উত্তোলন করেন এবং ‘নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসু ফ্ল্যাগ পয়েন্ট’-এর উদ্বোধন করেন।

    অনুষ্ঠানে এলজি সিনহা বলেন, নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসু প্রদত্ত “জয় হিন্দ” স্লোগান আজও জাতীয় বীরত্ব ও ঐক্যের প্রতীক। এই স্লোগান একসময় আজাদ হিন্দ ফৌজকে ঐক্যবদ্ধ করেছিল এবং আজও ১৪০ কোটির বেশি ভারতীয়কে অনুপ্রেরণা জোগাচ্ছে। তিনি জানান, সশস্ত্র বাহিনীর সব স্তরের সদস্যরা দৈনন্দিন অভিবাদনে ‘জয় হিন্দ’ ব্যবহার করেন।

    লেফটেন্যান্ট গভর্নর স্মরণ করিয়ে দেন, ১৯৪৩ সালের ৩০ ডিসেম্বর নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসু পোর্ট ব্লেয়ারকে ব্রিটিশ শাসনমুক্ত ঘোষণা করেন এবং দেশবাসীর সামনে স্বাধীনতার দৃঢ় সংকল্প তুলে ধরেন। বর্তমান প্রজন্মের কাছে সেই ঐতিহাসিক মুহূর্তের গুরুত্ব তুলে ধরতেই এই স্মরণানুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে।

    সিনহা বলেন, “নেতাজির দেশপ্রেম ও সাহস ছিল তুলনাহীন। ঐক্যের ভিত্তিতেই দেশের ভবিষ্যৎ গড়ে তোলার বার্তা তিনি দেশবাসীকে দিয়েছিলেন।” তিনি আরও জানান, স্বরাজের পক্ষে অবস্থান, যুব ও নারীর ক্ষমতায়ন, শিল্পায়ন এবং ক্ষুদ্র শিল্প বিকাশে নেতাজির চিন্তাভাবনাই আজকের আত্মনির্ভর ভারতের ভিত্তি নির্মাণ করেছে।

    প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির নেতৃত্বে নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসু ইতিহাসে প্রাপ্য মর্যাদা পেয়েছেন বলে মন্তব্য করেন মনোজ সিনহা। তিনি বলেন, “অতীতে নেতাজি ও স্বাধীন ভারতের প্রথম স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সর্দার বল্লভভাই প্যাটেলের মতো নেতাদের যথাযথ স্বীকৃতি দেওয়া হয়নি। তবে মোদির উদ্যোগে গুজরাটের কেভাডিয়ায় স্থাপিত সর্দার প্যাটেলের বিশাল ব্রোঞ্জ মূর্তি আজ জাতীয় ঐক্যের প্রতীক হয়ে উঠেছে।”

    লেফটেন্যান্ট গভর্নর সিনহা জম্মুকে ভারতের জাতীয় ঐক্য ও অবিচ্ছিন্ন সাংস্কৃতিক ধারার প্রতীক হিসেবে উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, জম্মুর মানুষের দৃঢ় মনোবল প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে জম্মু ও কাশ্মীরের সম্পূর্ণ একীকরণের আন্দোলনকে শক্তিশালী করেছে। সংবিধানের ৩৭০ অনুচ্ছেদ প্রত্যাহারের দাবিতে জম্মু অঞ্চলের মানুষের ত্যাগের কথাও তিনি তুলে ধরেন।

    অনুষ্ঠানে লেফটেন্যান্ট গভর্নর সিনহা বলেন, “আমাদের ঐক্যই আমাদের সবচেয়ে বড় শক্তি। ঐক্য বজায় রেখেই আমাদের যৌথ ঐতিহ্য ও মূল্যবোধ রক্ষা করতে হবে।” তিনি প্রতি বছর ৩০ ডিসেম্বর নিয়মিতভাবে নেতাজিকে স্মরণে এ ধরনের অনুষ্ঠান আয়োজনের আহ্বান জানান। এই উপলক্ষে তিনি নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসুর জীবন ও সংগ্রাম নিয়ে আয়োজিত আলোকচিত্র প্রদর্শনী পরিদর্শন করেন। পাশাপাশি ভারতের স্বাধীনতা আন্দোলনে নেতাজির ভূমিকা তুলে ধরে একটি তথ্যচিত্রও প্রদর্শিত হয়।

    অনুষ্ঠানে বিধায়ক শ্যাম লাল শর্মা ও অরবিন্দ গুপ্ত, হাউজিং ও আরবান ডেভেলপমেন্ট দফতরের কমিশনার-সচিব মানদীপ কৌর, ডিভিশনাল কমিশনার রমেশ কুমার, আইজিপি ভীম সেন তুতি, ডিআইজি শিব কুমার শর্মা, ডেপুটি কমিশনার রাকেশ মিনহাস, মিউনিসিপ্যাল কমিশনার দেবাংশ যাদব, জেডিএ-র ভাইস চেয়ারম্যান রুপেশ কুমার-সহ প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন আধিকারিকরা উপস্থিত ছিলেন। পদ্মশ্রী অধ্যাপক বিশ্বমূর্তি শাস্ত্রী, পদ্মশ্রী ডিএসপি বর্মা এবং সমাজের বিভিন্ন স্তরের বিশিষ্ট ব্যক্তিরাও অনুষ্ঠানে যোগ দেন।

LinkedIn
Share