Tag: Iran

Iran

  • F 15 Aircraft: আমেরিকায় ভেঙে পড়া এফ-১৫ যুদ্ধবিমানের নিখোঁজ ক্রু সদস্য উদ্ধার জীবিত?

    F 15 Aircraft: আমেরিকায় ভেঙে পড়া এফ-১৫ যুদ্ধবিমানের নিখোঁজ ক্রু সদস্য উদ্ধার জীবিত?

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: আমেরিকার আকাশসীমায় ভেঙে পড়া একটি এফ-১৫ (F 15 Aircraft) যুদ্ধবিমানের নিখোঁজ ক্রু সদস্যকে (Missing Crew Member) অবশেষে জীবিত অবস্থায় উদ্ধার করা হয়েছে। দুর্ঘটনার পর থেকে ওই সদস্যের কোনও হদিস পাওয়া যাচ্ছিল না। তাই তাঁর নিরাপত্তা নিয়ে গভীর উদ্বেগ তৈরি হয়েছিল। তবে তাঁকে জীবিত ফিরে পাওয়ায় স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলেছে সংশ্লিষ্ট মহল।

    মূল ঘটনাক্রম (F 15 Aircraft)

    কয়েকদিন আগে যান্ত্রিক ত্রুটি বা কোনও বিশেষ কারণে একটি এফ-১৫ বিমান (F 15 Aircraft) দুর্ঘটনার কবলে পড়েছিল। দুর্ঘটনার পর বিমানের একজন ক্রু সদস্য নিখোঁজ হয়ে যান। তাঁর খোঁজে নৌবাহিনী এবং বিমানবাহিনীর বিশেষ উদ্ধারকারী দল দিনরাত অভিযান চালায়। অবশেষে সূত্রের খবর অনুযায়ী, তাঁকে একটি দুর্গম এলাকা থেকে উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে।

    আমেরিকা ও ইরানের মধ্যে সাম্প্রতিক সংঘাতের জেরে ওই অঞ্চলে দফায় দফায় বিমান হানা চালাচ্ছিল মার্কিন বায়ুসেনা। তেমনই এক অভিযানের সময় যান্ত্রিক ত্রুটি বা শত্রুপক্ষের পালটা আঘাতের ফলে একটি মার্কিন যুদ্ধবিমান ভেঙে পড়ে। তারপর থেকেই ওই বিমানের পাইলটের কোনও হদিস মিলছিল না। আশঙ্কা করা হচ্ছিল, তিনি হয়তো ইরানীয় বাহিনীর হাতে বন্দি হয়েছেন অথবা দুর্ঘটনায় তাঁর প্রাণহানি হয়েছে।

    বর্তমান পরিস্থিতি ও সরকারি বয়ান

    উদ্ধার হওয়া ক্রু সদস্যকে (F 15 Aircraft) দ্রুত চিকিৎসার জন্য স্থানীয় সামরিক হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। তাঁর শারীরিক অবস্থা বর্তমানে স্থিতিশীল বলে জানা গিয়েছে। তবে মার্কিন প্রতিরক্ষা দফতর (Missing Crew Member) বা কোনও সরকারি সূত্রের পক্ষ থেকে এখনও পর্যন্ত অফিশিয়ালি কোনও কনফার্মেশন বা আনুষ্ঠানিক বিবৃতি দেওয়া হয়নি।

    প্রাথমিক স্বাস্থ্য পরীক্ষার পর জানানো হয়েছে, ওই পাইলট শারীরিকভাবে অত্যন্ত বিধ্বস্ত হলেও তাঁর প্রাণহানি ঘটেনি। বর্তমানে তিনি মার্কিন সামরিক চিকিৎসকদের কড়া পর্যবেক্ষণে রয়েছেন। এই উদ্ধার অভিযানের সাফল্যকে পেন্টাগন তাদের রণকৌশলগত বিজয় হিসেবে দেখছে।

    যদিও এই বিষয়ে তেহরানের পক্ষ থেকে এখনও পর্যন্ত কোনো আনুষ্ঠানিক কড়া প্রতিক্রিয়া মেলেনি, তবে এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে দুই দেশের কূটনৈতিক ও সামরিক উত্তেজনা যে নতুন মাত্রা পাবে, তা নিয়ে কোনও সন্দেহ নেই। আমেরিকার পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, নিজেদের সেনা সদস্যের সুরক্ষা নিশ্চিত করতে তারা যে কোনও পদক্ষেপ করতে দ্বিধা করবে না।

    তদন্তের নির্দেশ

    কীভাবে ওই আধুনিক যুদ্ধবিমানটি (F15 Aircraft) ভেঙে পড়ল এবং নিখোঁজ সদস্য কীভাবে রক্ষা পেলেন, তা খতিয়ে দেখতে গড়া হয়েছে  উচ্চপর্যায়ের তদন্ত কমিটি। সরকারি আধিকারিকরা (Missing Crew Member) জানিয়েছেন, সমস্ত তথ্য যাচাই করার পরেই তাঁরা বিস্তারিত রিপোর্ট পেশ করবেন।

  • US Iran Conflict: পারস্য উপসাগরে ফের ভেঙে পড়ল এক জোড়া মার্কিন যুদ্ধবিমান! পাইলট উদ্ধার না ইরানের হাতে বন্দি? বাড়ছে উত্তেজনা

    US Iran Conflict: পারস্য উপসাগরে ফের ভেঙে পড়ল এক জোড়া মার্কিন যুদ্ধবিমান! পাইলট উদ্ধার না ইরানের হাতে বন্দি? বাড়ছে উত্তেজনা

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: পারস্য উপসাগর এলাকায় আবারও ভেঙে পড়ল মার্কিন বিমানবাহিনীর একটি যুদ্ধবিমান (US Iran Conflict)। নিউইয়র্ক টাইমসের প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, শুক্রবার একটি মার্কিন এফ-১৫ই যুদ্ধবিমান ভেঙে পড়ে। সেই বিমানের দুই পাইলট ঝাঁপ দেন। এর পরেই মার্কিন বায়ুসেনার এ-১০ ওয়ারথগ (Fairchild Republic A-10 Thunderbolt II/ A-10 Warthog) বিমানও দুর্ঘটনার শিকার হয়। বিমানে থাকা দুই পাইলটকে নিরাপদে উদ্ধার করা হয়েছে। সূত্রের খবর, বিমানটি হরমুজ প্রণালীর (Strait of Hormuz) কাছাকাছি এলাকায় ভেঙে পড়ে। তবে দুর্ঘটনার সঠিক কারণ এখনও স্পষ্ট নয়। শুধু তাই নয়। দুর্ঘটনাগ্রস্ত এফ-১৫ই বিমানের নিখোঁজ পাইলটকে খুঁজতে বের হওয়া দুই ব্ল্যাক হক হেলিকপ্টারও ইরানের হামলার মুখে পড়ে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে দাবি তেহরানের।

    দুর্ঘটনা না ধ্বংস!

    আল জাজিরা জানিয়েছে, হরমুজ প্রণালীর নিকটবর্তী এলাকায় একটি মার্কিন এ-১০ বিমান ধ্বংস করার দাবি করেছে ইরান (US Iran Conflict)। জানা গিয়েছে, ঘটনাটি কৌশলগত সামুদ্রিক করিডরের কাছে ঘটেছে। বর্তমানে আঞ্চলিক সংঘাতের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে এই হরমুজ প্রণালী। উল্লেখ্য, এই এ-১০ ওয়ারথগ বিমান জমিতে লড়াইয়ের সময় সাহায্যের জন্য ব্যবহার করা হয়ে থাকে। অন্যদিকে, ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম দাবি করেছে, তাদের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা “শত্রু” এ-১০ বিমানকে লক্ষ্য করে আঘাত হেনেছে। তাতেই ভেঙে পড়ে মার্কিন বিমান (US Jet Crash)। তবে, বিমানটি দুর্ঘটনার শিকার হয়েছে, নাকি গুলি করে নামানো হয়েছে, তা এখনও স্পষ্ট নয়।

    এফ-১৫ ভেঙে পড়েছিল আগেই

    এই ঘটনার আগে ইরানের আকাশসীমায় একটি এফ-১৫ (F-15E Strike Eagle) যুদ্ধবিমান ভেঙে পড়ে। দক্ষিণ-পশ্চিম ইরানে আমেরিকার একটি যুদ্ধবিমানকে গুলি করে নামিয়েছিল তেহরান। তাতে দু’জন পাইলট ছিলেন। এক জনকে উদ্ধার করা গেলেও আর এক জনের খোঁজ এখনও পায়নি মার্কিন সেনা। তাঁদের খোঁজে তল্লাশি চলছে। এই পরিস্থিতিতে ইরান জুড়ে ‘শত্রু’ পাইলটকে জীবন্ত ধরে আনার ডাক দেওয়া হয়েছে। বিভিন্ন ইরানি সংবাদমাধ্যম এই কাজে পুরস্কারও ঘোষণা করেছে। বলা হচ্ছে, মার্কিন যুদ্ধবিমানের (US Jet Crash) ওই পাইলটকে যদি জীবন্ত অবস্থায় উদ্ধার করে ইরানি সেনার হাতে তুলে দেওয়া যায়, সেনা উপযুক্ত সম্মান এবং পুরস্কার দেবে। মার্কিন সংবাদমাধ্যম ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল এবং নিউ ইয়র্ক টাইম্‌স জানিয়েছে, ইরানে ভেঙে পড়া বিমানটি এফ-১৫ই। এতে এক জন পাইলট থাকেন। পিছনের আসনে থাকেন এক জন অস্ত্র নিয়ন্ত্রণকারী অফিসার। সংবাদসংস্থা এপি-র রিপোর্ট বলছে, দক্ষিণ-পশ্চিম ইরানে মার্কিন যুদ্ধবিমানটি ভেঙে পড়ার ঠিক আগের মুহূর্তে পাইলট বেরিয়ে গিয়েছিলেন। তবে তিনি কী অবস্থায় আছেন, এখনও স্পষ্ট নয়। ওই বিমানের আর এক অফিসারকে উদ্ধার করেছে মার্কিন সেনা। দ্বিতীয় জনের খোঁজ চলছে। কিছু প্রতিবেদনে আবার বলা হচ্ছে তিনি ইরানের হেফাজতে।

    পাইলট ধরতে পুরস্কার ঘোষণা

    ইরানের (US Iran Conflict) দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের এক প্রাদেশিক গভর্নর দাবি করেছেন, যে কেউ মার্কিন পাইলটকে ধরতে বা হত্যা করতে পারবে, তাকে পুরস্কৃত করা হবে। এমনকি স্থানীয় মানুষদের পাইলট খোঁজার জন্য উৎসাহিত করা হয়েছে বলেও খবর। দক্ষিণ-পশ্চিম ইরানের কোহ্‌গিলুয়ে এবং বয়ের-আহমাদ প্রদেশে মার্কিন যুদ্ধবিমানটি ভেঙে পড়ে। এটি দুর্গম পার্বত্য এলাকা। ইরানের সংবাদমাধ্যম এবং টিভি চ্যানেলে এই সমস্ত এলাকার মানুষদের উদ্দেশে বলা হচ্ছে, ‘‘আমেরিকান পাইলটকে খুঁজতে আমাদের সেনাবাহিনী তল্লাশি অভিযান শুরু করেছে। আপনারা যদি শত্রু দেশের ওই পাইলটকে ধরতে পারেন এবং সেনার হাতে তুলে দেন, অনেক পুরস্কার ও বোনাস পাবেন।’’ কোনও কোনও সংবাদমাধ্যমে দাবি করা হচ্ছে, মার্কিন পাইলটকে খুঁজে পেলেই গুলি করে দেওয়া হোক। তবে ইরানের সশস্ত্র বাহিনী বিবৃতি দিয়ে অনুরোধ করেছে, আমেরিকান পাইলটকে খুঁজে পেলে কেউ যেন তাঁর সঙ্গে খারাপ ব্যবহার না-করেন। তাঁকে যেন সেনাবাহিনীর হাতে তুলে দেওয়া হয়। সংবাদমাধ্যমে আরও দাবি, মার্কিন পাইলটকে খুঁজতে ইরানের ওই দুর্গম এলাকায় ভিড় জমতে শুরু করেছে। অনেকে ব্যক্তিগত গাড়ি নিয়ে দূরদূরান্ত থেকে সেখানে পৌঁছে গিয়েছেন।

    ইরানের দাবি

    শুক্রবারই ইসলামিক রেভলিউশনারি গার্ড কোর (IRGC)-এর তরফে আবার দাবি করা হয়েছিল, মধ্য ইরানে একটি মার্কিন এফ-৩৫ যুদ্ধবিমান ধ্বংস করেছে তারা। খাতাম আল-আনবিয়া সদর দপ্তরের একজন মুখপাত্র ইরানের প্রেস টিভিকে জানান, বিমানটি মাটিতে আছড়ে পড়ার পর ভয়ংকর বিস্ফোরণ ঘটে। ফলে পাইলটের জীবিত থাকার সম্ভাবনা অত্যন্ত কম। মার্কিন বিমান ধ্বংসের পর ইরান গোটা ঘটনাকে নিজেদের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার সাফল্য হিসেবে বর্ণনা করেন। মুম্বইয়ে ইরানের দূতাবাসের তরফে এই বিষয়ে এক্স হ্যান্ডেলে একটি ভিডিও পোস্ট করা হয়। একইসঙ্গে তিনি লেখেন, ‘আমাদের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার মাধ্যমে দ্বিতীয় এফ-৩৫ যুদ্ধবিমান ধ্বংস করা হল। ইরান একটি শক্তিশালী দেশ। কারও সামনে মাথানত করে না।’

    ট্রাম্পের অসন্তোষ

    ইরান যুদ্ধ (US Iran Conflict) শুরু হওয়ার পর থেকে এক মাসের বেশি সময় পেরিয়ে গিয়েছে। এখনও পুরোদমে লড়ছে ইরান। শুক্রবারই দুটি মার্কিন যুদ্ধ বিমান গুলি করে নামানোর দাবি করে ইরানি সেনা। তবে বিষয়টি নিয়ে শুক্রবার রাতে প্রথমবার মুখ খুললেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। মার্কিন প্রেসিডেন্টের দাবি, এই ঘটনাগুলির কোনও প্রভাব ইরানের সঙ্গে চলা কূটনৈতিক আলোচনায় পড়বে না। এনবিসি নিউজকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প বলেন, “এই ঘটনাগুলির কূটনীতি বা আলোচনার উপর কোনও প্রভাব পড়বে না। এটা যুদ্ধ। আমরা যুদ্ধের মধ্যেই আছি।” এদিন সংবাদমাধ্যমের সামনে ট্রাম্প দুর্ঘটনাগ্রস্ত বিমানের সার্চ অ্যান্ড রেসকিউ অপারেশন নিয়ে বিস্তারিত কিছু বলতে চাননি। তবে তাঁর কথায়, পরিস্থিতি অত্যন্ত সংবেদনশীল ও জটিল। তবে, ইরানের দাবি, মার্কিন উদ্ধারকারী দলের ২ ব্ল্যাক হক হেলিকপ্টারকেও তারা গুলি করে নামিয়েছে।

    ইসলামাবাদে আলোচনায় বসছে না ইরান

    ট্রাম্পের দাবি সত্ত্বেও মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ওয়াল স্ট্রিট জার্নালে দাবি করা হয়েছে, আমেরিকা ও ইরানের মধ্যে সংঘাত কমানোর কূটনৈতিক প্রচেষ্টা ব্যাপক ভাবে ধাক্কা খেয়েছে। যুদ্ধবিরতির প্রচেষ্টা আপাতত স্থগিত হয়ে রয়েছে বলেই জানা যাচ্ছে। রিপোর্টে আরও বলা হয়েছে, পাকিস্তান-সহ একাধিক দেশের মধ্যস্থতার পরেও আলোচনায় কোনও উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হয়নি। ইরান জানিয়ে দিয়েছে, তারা ইসলামাবাদে মার্কিন প্রতিনিধিদের সঙ্গে বৈঠকে বসতে রাজি নয়।

    ক্ষয়ক্ষতির হিসেব

    মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ডের তথ্য অনুযায়ী, এই সংঘাতে এখনও পর্যন্ত ১৩ জন মার্কিন সেনা নিহত এবং ৩০০-র বেশি আহত হয়েছেন। তবে এখনও পর্যন্ত কোনও মার্কিন সেনা ইরানের হাতে বন্দি হয়েছে বলে নিশ্চিত তথ্য নেই। ক্রমাগত মার্কিন যুদ্ধবিমান ভেঙে পড়ার ঘটনা এবং ইরানের US Iran Conflict) পাল্টা দাবিতে মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠছে। বিশেষ করে জ্বালানি নিরাপত্তা ও সম্ভাব্য বড় সংঘর্ষের আশঙ্কা ঘিরে আন্তর্জাতিক মহলে বাড়ছে উদ্বেগ।

  • US Troops: মধ্যপ্রাচ্যে সামরিক উপস্থিতি বাড়াচ্ছে আমেরিকা, মোতায়েন করা হল ৩,৫০০-রও বেশি সেনা

    US Troops: মধ্যপ্রাচ্যে সামরিক উপস্থিতি বাড়াচ্ছে আমেরিকা, মোতায়েন করা হল ৩,৫০০-রও বেশি সেনা

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: মধ্যপ্রাচ্যে সামরিক উপস্থিতি বাড়াচ্ছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র (US Troops)। ইরানের সঙ্গে সংঘাত (Iran War) তীব্রতর হওয়ায় ৩,৫০০-রও বেশি সেনা মোতায়েন করা হয়েছে। মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ডের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, প্রায় ২,৫০০ মেরিন-সহ ইউএসএস ট্রিপোলি এখন তার কর্মক্ষেত্রে অবস্থান করছে। এদিকে, পেন্টাগন ইরানে সম্ভাব্য কয়েক সপ্তাহব্যাপী স্থল অভিযানের প্রস্তুতি নিচ্ছে। তবে মার্কিন কর্তাদের উদ্ধৃতি দিয়ে সে দেশের সংবাদ মাধ্যম জানিয়েছে, ডোনাল্ড ট্রাম্প স্থলবাহিনী পাঠানোর অনুমোদন দেবেন কি না, তা এখনও স্পষ্ট নয়।

    ‘বিগ ডেক’ (US Troops)

    ইউএসএস ট্রিপোলি একটি আধুনিক ‘বিগ ডেক’ উভচর জাহাজ, যা এফ-৩৫ স্টেলথ ফাইটার জেট এবং ওস্প্রে বিমান পরিচালনা করতে সক্ষম। এটি আগে জাপানে মোতায়েন ছিল। সপ্তাহ দুয়েক আগে নয়া নির্দেশ পেয়ে এখানে আসে। অতিরিক্ত শক্তিবৃদ্ধি হিসেবে ইউএসএস বক্সার-সহ সান ডিয়েগো থেকে অন্যান্য নৌ ইউনিটও পাঠানো হচ্ছে। সেন্ট্রাল কমান্ডের মতে, ২৮ ফেব্রুয়ারি ‘অপারেশন এপিক ফিউরি’ শুরুর পর থেকে ১১,০০০-রও বেশি টার্গেটে হামলা চালানো হয়েছে, যা বর্তমান সামরিক অভিযানের ব্যাপকতা নির্দেশ করে।

    মার্কিন বিদেশমন্ত্রীর বার্তা

    মার্কিন বিদেশমন্ত্রী মার্কো রুবিও বলেন, “আমেরিকা স্থলবাহিনী মোতায়েন ছাড়াই লক্ষ্য অর্জনের চেষ্টা করছে। তবে পরিস্থিতি বদলালে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পকে প্রস্তুত থাকতে হবে।” উত্তেজনা আরও বেড়ে যায়, যখন ইরান সৌদি আরবের প্রিন্স সুলতান এয়ার বেস লক্ষ্য করে ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালায়। এতে অন্তত ১০ জন মার্কিন সেনা জখম হন। একই সময়ে ইরান গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালীর ওপর নিয়ন্ত্রণ বজায় রেখেছে, যা বৈশ্বিক তেল সরবরাহে বড় ধরনের বিঘ্ন ঘটাচ্ছে এবং জ্বালানির দাম বাড়িয়ে দিচ্ছে।

    জটিল হচ্ছে পরিস্থিতি

    পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠেছে ইয়েমেনের ইরান-সমর্থিত হুথি গোষ্ঠীর অংশগ্রহণে, যারা ইজরায়েলের দিকে ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপের দায় স্বীকার করেছে। তাদের এই সম্পৃক্ততা গুরুত্বপূর্ণ সমুদ্রপথের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ বাড়িয়েছে, বিশেষ করে বাব এল-মান্দেব প্রণালী, যা সুয়েজ খালের দিকে যাওয়া বৈশ্বিক বাণিজ্যের একটি গুরুত্বপূর্ণ পথ (US Troops)। সংঘাতের কারণে আন্তর্জাতিক নৌপথ ও বিমান চলাচল ব্যাহত হয়েছে। হরমুজ প্রণালী কার্যত বন্ধ থাকায় বিকল্প পথ খুঁজছে বিভিন্ন দেশ (Iran War)। বিশ্লেষকরা সতর্ক করেছেন, হুথিদের আরও হামলা সামুদ্রিক নিরাপত্তায় প্রভাব ফেলতে পারে। যার জেরে বাড়তে পারে বৈশ্বিক জ্বালানির দাম।

    সার্বভৌমত্বের স্বীকৃতির দাবি

    জানা গিয়েছে, কূটনৈতিক প্রচেষ্টা এখনও স্থবির। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের দূত স্টিভ উইটকফের মাধ্যমে একটি যুদ্ধবিরতির প্রস্তাব দেওয়া হয়েছিল, যার লক্ষ্য ছিল ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ন্ত্রণ এবং গুরুত্বপূর্ণ জলপথ ফের খুলে দেওয়া। তবে তেহরান সেই প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেছে। পাল্টা ক্ষতিপূরণ ও সার্বভৌমত্বের স্বীকৃতির দাবি জানিয়েছে তারা (US Troops)। বস্তুত, সংঘাত কমার কোনও লক্ষণ না থাকায় এবং নতুন একটি পক্ষ যুক্ত হওয়ায়, ক্রমেই (Iran War) বাড়ছে বৃহত্তর আঞ্চলিক অস্থিরতার ঝুঁকি।

     

  • Holy Jihad Battle: ইজরায়েলের বিরুদ্ধে দ্বিতীয় সামরিক অভিযান ইয়েমেনের হুথি বিদ্রোহীদের

    Holy Jihad Battle: ইজরায়েলের বিরুদ্ধে দ্বিতীয় সামরিক অভিযান ইয়েমেনের হুথি বিদ্রোহীদের

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: রবিবার ‘পবিত্র জেহাদ যুদ্ধে’র (Holy Jihad Battle) অংশ হিসেবে ইজরায়েলের বিরুদ্ধে দ্বিতীয় সামরিক অভিযান চালাল ইয়েমেনের হুথি বিদ্রোহীরা। এই হুথিরাই (Yemens Houthis) মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইজরায়েলের সঙ্গে ইরান যুদ্ধে এখনও অবধি সর্বশেষ অংশগ্রহণকারী।

    হুথির বিবৃতি জারি (Holy Jihad Battle)

    এক বিবৃতিতে হুথির সামরিক মুখপাত্র ইয়াহিয়া সারি বলেন, “আমাদের বাহিনী পবিত্র জেহাদ যুদ্ধের অংশ হিসেবে দ্বিতীয় সামরিক অভিযান পরিচালনা করেছে, যেখানে ক্রুজ মিসাইল ও ড্রোনের মাধ্যমে দক্ষিণের দখল করা প্যালেস্তাইনে জায়োনিস্ট শত্রুর গুরুত্বপূর্ণ ও সামরিক প্রতিষ্ঠানগুলিকে টার্গেট করা হয়েছে। এই অভিযান ইরানে আমাদের মুজাহিদিন ভাইদের এবং লেবাননে হিজবুল্লাহর সামরিক অভিযানের সঙ্গে যুক্ত ছিল এবং আল্লাহর রহমতে এটি সফলভাবে তার লক্ষ্য পূরণ করেছে।” প্রসঙ্গত, এই বিবৃতিটি জারি করা হয় ইরান-সমর্থিত এই গোষ্ঠী আনুষ্ঠানিকভাবে আঞ্চলিক সংঘাতে যোগ দেওয়ার মাত্র একদিন পর। ওই বিবৃতিতে তারা জানায়, তারা প্রথম সামরিক হামলায় ব্যালিস্টিক মিসাইল ব্যবহার করে ইজরায়েলের সামরিক টার্গেটে আঘাত হেনেছে। এই আক্রমণ ইরান ও লেবাননের মিত্র বাহিনীর সঙ্গে যৌথভাবে পরিচালিত হয়েছে।

    আরও ঘনাচ্ছে যুদ্ধের মেঘ!

    হুথিদের এই যুদ্ধে জড়িয়ে পড়ার জেরে আরও প্রসারিত হল ইরান, আমেরিকা ও ইজরায়েলের সংঘাতের পরিধি। এর ফলে মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে বহুমুখী যুদ্ধের আশঙ্কা বেড়েছে। হুথিরা ঘোষণা করেছে, তারা তাদের ভাষায় “আগ্রাসন” বন্ধ না হওয়া পর্যন্ত অভিযান চালিয়ে যাবে। এ থেকে স্পষ্ট, এটি এককালীন কোনও পদক্ষেপ নয়, বরং এর ফলে দীর্ঘমেয়াদি উত্তেজনা বাড়তে পারে (Holy Jihad Battle)। এদিকে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র অঞ্চলটিতে তাদের সামরিক উপস্থিতি আরও জোরদার করছে। হাজার হাজার মেরিন ইতিমধ্যেই সেখানে পৌঁছতে শুরু করেছে এবং আরও সেনা মোতায়েনের পরিকল্পনা রয়েছে, যার মধ্যে ৮২তম এয়ারবর্ন ডিভিশনের সৈন্যরাও অন্তর্ভুক্ত থাকতে পারে। যদিও মার্কিন বিদেশমন্ত্রী মার্কো রুবিও বলেন, “ওয়াশিংটন কয়েক সপ্তাহের মধ্যেই অভিযান শেষ করতে চায় এবং স্থলযুদ্ধ ছাড়াই লক্ষ্য অর্জন সম্ভব হতে পারে, তবুও এই সামরিক প্রস্তুতি সর্বোচ্চ কৌশলগত নমনীয়তা নিশ্চিত করতে করা হয়েছে।” বস্তুত, এই ঘটনাটি সংঘাতের ভবিষ্যৎ নিয়ে অনিশ্চয়তাকেই তুলে ধরে (Yemens Houthis)।

    যুদ্ধের ক্ষত

    একই সময়ে কূটনৈতিক প্রচেষ্টা সামরিক ঘটনার সঙ্গে তাল মেলাতে গিয়ে হিমশিম খাচ্ছে। ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসউদ পেজেশকিয়ান আঞ্চলিক যোগাযোগ বাড়িয়েছেন, যার মধ্যে (Holy Jihad Battle) পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফের সঙ্গে আলোচনাও রয়েছে। ইসলামাবাদ তুরস্ক ও সৌদি আরবের বিদেশমন্ত্রীদের সঙ্গে বৈঠকের আয়োজন করতে যাচ্ছে। এর লক্ষ্য হল উত্তেজনা কমানো। তবে দ্রুত কোনও সমাধানের লক্ষণ এখনও দেখা যায়নি। ফেব্রুয়ারির শেষের দিকে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এবং ইজরায়েলের ইরানের ওপর হামলার মাধ্যমে যে যুদ্ধ শুরু হয়েছিল, তা ইতিমধ্যেই গোটা অঞ্চলে ছড়িয়ে পড়েছে। বিপুল (Yemens Houthis) সংখ্যক মানুষের প্রাণহানি হয়েছে। মারাত্মকভাবে ব্যাহত হয়েছে বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থা (Holy Jihad Battle)।

     

  • Middle East Crisis: নিশ্চিন্তে পার হতে পারবে ভারত, ৫ ‘বন্ধু’ দেশের জন্য হরমুজ প্রণালী খুলে দিল ইরান

    Middle East Crisis: নিশ্চিন্তে পার হতে পারবে ভারত, ৫ ‘বন্ধু’ দেশের জন্য হরমুজ প্রণালী খুলে দিল ইরান

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ভারত-সহ পাঁচটি ‘বন্ধু’ দেশের জাহাজ চলাচলে তারা কোনও অবরোধ আরোপ করবে না। মধ্যপ্রাচ্যে ক্রমবর্ধমান সংঘাতের মধ্যেই একথা জানিয়ে দিল ইরান। ভারত ছাড়া রাশিয়া, চিন, পাকিস্তান এবং ইরাকের জাহাজগুলিকেও এই সংঘাতপূর্ণ অথচ গুরুত্বপূর্ণ জলপথ (হরমুজ প্রণালী) দিয়ে নিরাপদে চলাচলের অনুমতি দেওয়া হয়েছে।

    ইরানের বিদেশমন্ত্রীর ঘোষণা (Middle East Crisis)

    ইরানের বিদেশমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে বলেন, “হরমুজ প্রণালী সম্পূর্ণভাবে বন্ধ নয়। যেসব দেশের সঙ্গে ইরানের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক রয়েছে, তাদের জাহাজ চলাচল অব্যাহত রয়েছে।” তিনি বলেন, “অনেক জাহাজ মালিক বা সংশ্লিষ্ট দেশ আমাদের সঙ্গে যোগাযোগ করে নিরাপদে প্রণালী পার হওয়ার অনুরোধ জানিয়েছে। যেসব দেশকে আমরা বন্ধু মনে করি, অথবা অন্য বিশেষ কারণে যাদের অনুমতি দেওয়া হয়েছে, তাদের জন্য আমাদের সশস্ত্র বাহিনী নিরাপদ পথ নিশ্চিত করেছে।” তিনি এও বলেন, “আপনারা খবরে দেখেছেন চিন, রাশিয়া, পাকিস্তান, ইরাক এবং ভারতের কোনও সমস্যা হয়নি। কয়েক রাত আগে ভারতের দু’টি জাহাজও এই পথ পার হয়েছে। আরও কিছু দেশ, এমনকি আমার মনে হয় বাংলাদেশও, আমাদের সঙ্গে যোগাযোগ করেছে। এই প্রক্রিয়া ভবিষ্যতেও চলবে, এমনকি যুদ্ধের পরেও।”

    এই অঞ্চল এখন যুদ্ধক্ষেত্র

    তিনি সাফ জানিয়ে দেন, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, ইজরায়েল এবং মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাতে জড়িত উপসাগরীয় দেশগুলির জাহাজকে এই যুদ্ধবিধ্বস্ত জলপথ দিয়ে চলাচলের অনুমতি দেওয়া হবে না। আরাঘচি বলেন, “আমরা যুদ্ধাবস্থায় আছি। এই অঞ্চল এখন যুদ্ধক্ষেত্র। আমাদের শত্রু ও তাদের মিত্রদের জাহাজ চলাচলের অনুমতি দেওয়ার কোনও কারণই নেই। তবে অন্যদের জন্য এটি খোলা থাকবে।” আরাঘচি বলেন, “প্রায় পাঁচ দশক পরে হরমুজ প্রণালীর ওপর ইরান যে নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করতে পেরেছে, তাতে তিনি সন্তুষ্ট।” তিনি জানান, যখন ইরান আংশিক অবরোধের কথা ঘোষণা করেছিল, তখন অনেকেই সেটিকে বিশ্বাস করেনি এবং এটিকে কেবল ব্লাফ বলে মনে করেছিল। কিন্তু সময়ের সঙ্গে ইরান তাদের ক্ষমতা ও কর্তৃত্ব প্রমাণ করে দিয়েছে। আরাঘচি বলেন, “তারা (আমেরিকা এবং ইজরায়েল) ভেবেছিল ইরানের এত সাহস নেই। কিন্তু আমরা শক্ত হাতে পরিস্থিতির মোকাবিলা করেছি। তারা আমাদের ঠেকাতে সব ধরনের চেষ্টা করেছে, যদিও ব্যর্থ হয়েছে। তারা অন্য দেশগুলির কাছেও সাহায্য চেয়েছে, এমনকি যাদের তারা নিজেরাই শত্রু বলে মনে করে। কিন্তু কেউ সাড়া দেয়নি। কারণ এটি বাস্তবসম্মত নয়।”

    হরমুজ প্রণালী আংশিকভাবে বন্ধ করার ঘোষণার জের

    আমেরিকা ও ইজরায়েলের যৌথ সামরিক অভিযানের কয়েকদিন পর ইরানের ইসলামিক রেভলিউশনারি গার্ড কর্পস (IRGC)-এর এক শীর্ষ আধিকারিক হরমুজ প্রণালী আংশিকভাবে বন্ধ করার কথা ঘোষণা করেছিলেন। সংবাদ মাধ্যমের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, হরমুজ প্রণালী বিশ্বের অন্যতম ব্যস্ত তেল পরিবহণ পথ। এখান দিয়ে বিশ্বের প্রায় ২০ শতাংশ তেল ও তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস পরিবাহিত হয়। তাই এই অবরোধ বৈশ্বিক জ্বালানি সঙ্কট সৃষ্টি করে এবং বিশ্ববাজারে তেল ও গ্যাসের দাম বেড়ে যায়, যার প্রভাব পড়ে বহু দেশের ওপর। সমুদ্রপথের এই বিঘ্ন ভারতের এলপিজি (LPG) সরবরাহেও ঘাটতি সৃষ্টি করেছে। কারণ দেশটি তার মোট এলপিজির প্রায় ৯০ শতাংশ এই প্রণালী দিয়ে আমদানি করে। এর ফলে ছোট রাস্তার বিক্রেতা থেকে শুরু করে রেস্টুরেন্ট মালিক পর্যন্ত বিরাট জনগোষ্ঠী ক্ষতিগ্রস্ত হয়। যদিও পরিস্থিতির উন্নতি ঘটে কয়েক দিনের মধ্যেই, যখন ‘নন্দাদেবী’ ও ‘শিবালিক’-সহ এলপিজি বহনকারী কয়েকটি জাহাজকে হরমুজ প্রণালী পার হওয়ার অনুমতি দেওয়া হয়। ইতিমধ্যেই জাহাজগুলি ভারতে এসেও গিয়েছে।

     

  • Donald Trump: মধ্যপ্রাচ্যে সংঘাত তুঙ্গে, মোদির সঙ্গে ফোনে কথা ট্রাম্পের

    Donald Trump: মধ্যপ্রাচ্যে সংঘাত তুঙ্গে, মোদির সঙ্গে ফোনে কথা ট্রাম্পের

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: মধ্যপ্রাচ্যে তীব্র আকার ধারণ করেছে সংঘাত। এহেন আবহে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প (Donald Trump) কথা বললেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির (PM Modi) সঙ্গে। উভয় নেতাই হরমুজ প্রণালী খোলা রাখার প্রয়োজনীয়তার ওপর জোর দেন। এক্স হ্যান্ডেলে ভারতে নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত সার্জিও গর লিখেছেন, “প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সদ্য প্রধানমন্ত্রী মোদির সঙ্গে কথা বলেছেন।

    কী জানালেন প্রধানমন্ত্রী (Donald Trump)

    এরই কিছুক্ষণ পরে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিও জানান, তিনি মার্কিন প্রেসিডেন্টের সঙ্গে একটি গুরুত্বপূর্ণ ও ফলপ্রসূ মতবিনিময় করেছেন। এক্স-এ করা পোস্টে তিনি লেখেন, “ভারত উত্তেজনা প্রশমন এবং দ্রুত শান্তি পুনঃপ্রতিষ্ঠার পক্ষে। হরমুজ প্রণালী খোলা, নিরাপদ ও সবার জন্য সহজলভ্য রাখা বৈশ্বিক স্থিতিশীলতার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।” এই ফোনালাপের সময়ই প্রধানমন্ত্রী সংসদে বলেন, “হরমুজ প্রণালীতে কোনও বিঘ্নই মেনে নেওয়া যায় না।” লোকসভায় বক্তব্য রাখতে গিয়ে তিনি বাণিজ্যিক জাহাজে হামলা এবং বৈশ্বিক নৌপথে বিঘ্ন নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন। প্রধানমন্ত্রী বলেন, “বাণিজ্যিক জাহাজে হামলা এবং (PM Modi) হরমুজ প্রণালীর মতো আন্তর্জাতিক জলপথে বিঘ্ন মেনে নেওয়া যায় না। এই যুদ্ধ পরিস্থিতির মধ্যেও ভারত কূটনৈতিক উপায়ে ভারতীয় জাহাজগুলির নিরাপদ চলাচল নিশ্চিত করতে অবিরাম চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।” বিশ্বের বিপুল পরিমাণ তেল পরিবহণে ব্যবহৃত হয় হরমুজ প্রণালী। তাই এটি বৈশ্বিক জ্বালানি স্থিতিশীলতার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এই পথে সাম্প্রতিক বিঘ্ন বিশ্বব্যাপী জ্বালানি সঙ্কটের সৃষ্টি করেছে (Donald Trump)। মঙ্গলবার রাজ্যসভায় বক্তব্য রাখতে গিয়ে প্রধানমন্ত্রী সতর্ক করে দিয়ে বলেন, “এই সঙ্কট বিশ্ব অর্থনীতিকে নড়িয়ে দিয়েছে। স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরতে অনেক সময় লাগতে পারে।”

    দ্রুত পরিবর্তনশীল পরিস্থিতির ওপর নজর

    তিনি বলেন, “এই যুদ্ধ বিশ্বজুড়ে জ্বালানি সঙ্কট সৃষ্টি করেছে। ভারতের জন্যও এই পরিস্থিতি উদ্বেগজনক। যুদ্ধ আমাদের বাণিজ্যিক পথগুলিকে প্রভাবিত করেছে। এর ফলে পেট্রোল, ডিজেল, গ্যাস এবং সারের নিয়মিত সরবরাহ ব্যাহত হয়েছে।” তিনি অবশ্য আশ্বাস দেন, সরকার দ্রুত পরিবর্তনশীল পরিস্থিতির ওপর নজর রাখছে এবং এর প্রভাব কমাতে ধারাবাহিক পদক্ষেপ করছে। এই পরিস্থিতিটি এমন একটি সময়ে সামনে এল, যার ঠিক একদিন আগেই মার্কিন প্রেসিডেন্ট ইরানের ওপর হামলা স্থগিত করার কথা ঘোষণা করেন (PM Modi)। তিনি জানান, তাঁর সরকার তেহরানের সঙ্গে গঠনমূলক আলোচনা করেছে এবং যদি হরমুজ প্রণালী ফের চালু না হয়, তবে ইরানের বিদ্যুৎকেন্দ্রে পরিকল্পিত হামলা পাঁচ দিন পিছিয়ে দেওয়া হবে।

    আমেরিকার দাবি খারিজ

    ইরানি আধিকারিকরা মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের এই দাবি প্রত্যাখ্যান করেছেন (Donald Trump)। তাঁদের দাবি, তেহরানের কঠোর সতর্কবার্তার পরেই পিছিয়ে এসেছেন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প। ইরানের সংসদের স্পিকার মোহম্মদ বাঘের গালিবাফ ট্রাম্পের এই দাবিকে ভুয়ো খবর আখ্যা দেন। তিনি বলেন, “এটি আর্থিক ও তেলবাজারে প্রভাব ফেলতে এবং মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইজরায়েলের ব্যর্থতা থেকে দৃষ্টি সরাতে করা হয়েছে।”

    এক্স-এ দেওয়া পোস্টে গালিবাফ বলেন, “মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে কোনও আলোচনা হয়নি ()। আর্থিক ও তেলবাজারকে প্রভাবিত করতে এবং মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইজরায়েল যে সঙ্কটে পড়েছে, তা থেকে বেরিয়ে আসার চেষ্টা হিসেবেই ছড়ানো হচ্ছে ভুয়ো খবর (Donald Trump)।”

     

  • PM Modi: “পশ্চিম এশিয়ার সঙ্কটে নড়ে গিয়েছে বৈশ্বিক অর্থনীতি”, দেশবাসীকে সতর্ক করলেন প্রধানমন্ত্রী

    PM Modi: “পশ্চিম এশিয়ার সঙ্কটে নড়ে গিয়েছে বৈশ্বিক অর্থনীতি”, দেশবাসীকে সতর্ক করলেন প্রধানমন্ত্রী

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: “পশ্চিম এশিয়ার সঙ্কট নাড়িয়ে দিয়েছে বৈশ্বিক অর্থনীতিকে। পরিস্থিতি স্বাভাবিক হতে দীর্ঘ সময় লাগতে পারে।” ঠিক এই ভাষায়ই দেশবাসীকে সতর্ক করে দিলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি (PM Modi)। তিনি এও বলেন, “দীর্ঘস্থায়ী সংঘাত (West Asia Crisis) বিশ্বজুড়ে গুরুতর পরিণতি ডেকে আনতে পারে।” মঙ্গলবার রাজ্যসভায় বক্তব্য রাখতে গিয়ে প্রধানমন্ত্রী জানান, তিন সপ্তাহের বেশি সময় ধরে চলা এই যুদ্ধ ইতিমধ্যেই বড় ধরনের জ্বালানি সঙ্কট সৃষ্টি করেছে, ব্যাহত করেছে গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্য পথগুলিতে চলাচল। তিনি বলেন, “এই যুদ্ধ বিশ্বজুড়ে জ্বালানির একটি গুরুতর সমস্যা সৃষ্টি করেছে। ভারতের জন্যও এই পরিস্থিতি উদ্বেগজনক। আমাদের বাণিজ্য পথগুলি প্রভাবিত হয়েছে। এর ফলে পেট্রোল, ডিজেল, গ্যাস এবং সার সরবরাহের স্বাভাবিক প্রক্রিয়া ব্যাহত হয়েছে।”

    প্রধানমন্ত্রীর আশ্বাস (PM Modi)

    প্রধানমন্ত্রীর আশ্বাস, সরকার দ্রুত পরিবর্তনশীল পরিস্থিতির ওপর কড়া নজর রাখছে। ভারতের ওপর এর প্রভাব কমাতে ধারাবাহিক পদক্ষেপও করছে। তিনি বলেন, “আমাদের অর্থনীতির মৌলিক ভিত্তি শক্তিশালী। সরকার প্রতিটি পরিবর্তিত পরিস্থিতির ওপর নজর রাখছে এবং সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে সিদ্ধান্ত নিচ্ছে।” তিনি বলেন, “এই সঙ্কট ভিন্ন ধরনের এবং এর সমাধানও ভিন্নভাবে খোঁজা হচ্ছে। আমাদের প্রতিটি চ্যালেঞ্জের মোকাবিলা করতে হবে ধৈর্য, সংযম এবং শান্তভাবে।” এর পরেই দেশবাসীকে সতর্ক করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, “এই যুদ্ধের নেতিবাচক প্রভাব দীর্ঘদিন ধরে থাকতে পারে। তবে সরকার এ ব্যাপারে সতর্ক রয়েছে। জাতীয় স্বার্থ রক্ষায় সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে কাজও করছে।” প্রধানমন্ত্রী রাজ্যগুলিকে কালোবাজারি ও প্রয়োজনীয় পণ্যের মজুতদারির বিরুদ্ধে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানান। দরিদ্র এবং অভিবাসী শ্রমিকদের জন্য আগাম উদ্যোগ নেওয়ার কথাও বলেন।

    কোভিড পরিস্থিতির পদক্ষেপের কথা স্মরণ করালেন প্রধানমন্ত্রী

    কোভিড পরিস্থিতির পদক্ষেপের কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে তিনি বর্তমান সঙ্কটেও একই ধরনের ‘টিম ইন্ডিয়া পদ্ধতি’ অবলম্বন করার আহ্বান জানান (West Asia Crisis)। তিনি বলেন, “প্রয়োজনীয় পণ্যের সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে দ্রুত কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া উচিত (PM Modi)।” প্রধানমন্ত্রী হরমুজ প্রণালীর পরিস্থিতিকে বড় উদ্বেগ হিসেবে তুলে ধরেন। এই প্রণালীতে আটকে রয়েছে বহু আন্তর্জাতিক জাহাজ, সেগুলিতে রয়েছেন ভারতীয় নাবিকরাও। তিনি বলেন, “বিশ্বের অনেক জাহাজ হরমুজ প্রণালীতে আটকে রয়েছে এবং সেগুলিতে বিপুল সংখ্যক ভারতীয় ক্রু সদস্য রয়েছেন।” তিনি জানান, ভারত কূটনৈতিকভাবে কাজ করছে যাতে জাহাজগুলি নিরাপদে চলাচল করতে পারে এবং অঞ্চলে উত্তেজনা কমানো যায়। প্রধানমন্ত্রী বলেন, “আমাদের লক্ষ্য হল উত্তেজনা কমানো এবং হরমুজ প্রণালী চালু করা (West Asia Crisis)।” উপসাগরীয় দেশগুলিতে প্রায় এক কোটি ভারতীয় বসবাস ও কাজ করেন। সে প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী বলেন, “সঙ্কটের সময় দেশে ও বিদেশে থাকা ভারতীয়দের নিরাপত্তাই আমাদের প্রধান অগ্রাধিকার।”

    আত্মনির্ভর হওয়ার ডাক

    তিনি জানান, যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে ৩,৭৫,০০০-এর বেশি ভারতীয় নিরাপদে দেশে ফিরেছেন। এর মধ্যে রয়েছেন ইরান থেকে ১,০০০-এরও বেশি জন। তাঁদের মধ্যে ৭০০ জন মেডিক্যাল পড়ুয়া। প্রধানমন্ত্রী জানান, ভারত ইরান, ইজরায়েল ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র-সহ বিভিন্ন দেশের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখছে এবং শান্তিপূর্ণ সমাধানের জন্য কাজ করছে (PM Modi)। তিনি বলেন, “এই যুদ্ধে মানবজীবনের কোনও হুমকি মানবতার স্বার্থে নয়। ভারত সব পক্ষকে শান্তিপূর্ণ সমাধানের দিকে এগিয়ে নিতে ধারাবাহিকভাবে চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।” তিনি জানান, সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলিতে তিনি বিভিন্ন বিশ্বনেতার সঙ্গে এই সঙ্কট নিয়ে আলোচনা করেছেন। সরকার জ্বালানি সরবরাহ নিশ্চিত করতে বিভিন্ন উৎস থেকে তেল ও গ্যাস সংগ্রহের চেষ্টা করছে (West Asia Crisis)। প্রধানমন্ত্রী বলেন, “আমরা সম্ভাব্য সব উৎস থেকে গ্যাস ও অপরিশোধিত তেল জোগাড়ের চেষ্টা করছি। এই প্রচেষ্টা আগামী দিনগুলিতেও চলবে।” তিনি জানান, গত ১১ বছরে ভারত ৫৩ লাখ মেট্রিক টন কৌশলগত তেল মজুত করেছে।  আরও ৬৫ লাখ মেট্রিক টন সংরক্ষণ ক্ষমতার ভাণ্ডার তৈরি করার কাজ চলছে। আগে ২৭টি দেশ থেকে জ্বালানি আমদানি করা হত। এই সংখ্যা বাড়িয়ে ৪১ করা হয়েছে। তিনি ৭০,০০০ কোটি টাকার জাহাজ নির্মাণ প্রকল্পের কথাও উল্লেখ করেন এবং আত্মনির্ভরতার ওপর জোর দেন। প্রধানমন্ত্রী বলেন, “আত্মনির্ভর হওয়া ছাড়া ভারতের সামনে আর কোনও বিকল্প নেই (PM Modi)।”

  • Iran: ‘‘সংঘাত থামাতে ফলপ্রসূ আলোচনা হচ্ছে ইরানের সঙ্গে’’ দাবি ট্রাম্পের, নস্যাৎ করল তেহরান

    Iran: ‘‘সংঘাত থামাতে ফলপ্রসূ আলোচনা হচ্ছে ইরানের সঙ্গে’’ দাবি ট্রাম্পের, নস্যাৎ করল তেহরান

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ‘সংঘাত শেষ করতে খুব ভালো ও ফলপ্রসূ আলোচনা চলছে।’ সম্প্রতি এমনই দাবি করেছিলেন ৪৭তম মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প (Donald Trump)। আমেরিকার প্রেসিডেন্টের এহেন দাবি নস্যাৎ করে দিল ইরান (Iran)। সাফ জানিয়ে দিয়েছে, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে কোনও আলোচনাই হয়নি। সোমবার ইরানি সংসদের স্পিকার মহম্মদ বাঘের গালিবাফের নামে পরিচালিত এক্স হ্যান্ডেলে লেখা হয়েছে, “মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে কোনও আলোচনা হয়নি।” গালিবাফ এই জাতীয় খবরকে ভুয়ো বলে উড়িয়ে দেন। তিনি লিখেছেন, “ফেক নিউজ আর্থিক ও তেল বাজারকে প্রভাবিত করতে এবং মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইজরায়েল যে সঙ্কটে আটকে রয়েছে, তা থেকে বেরিয়ে আসার জন্য ব্যবহার করা হচ্ছে।”

    ইরানের বার্তা (Iran)

    তাঁর এই মন্তব্য ইরানের বিদেশমন্ত্রকের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাইয়ের বক্তব্যের সঙ্গে সাদৃশ্যপূর্ণ। তিনিও ওয়াশিংটনের সঙ্গে কোনও আলোচনা হওয়ার বিষয়টি অস্বীকার করেন। ইরানের সরকারি বার্তা সংস্থা আইআরএনএকে বাঘাই বলেন, “যুদ্ধ শেষ করতে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে আলোচনার অনুরোধ নিয়ে কিছু বন্ধুপ্রতিম দেশ থেকে বার্তা পাওয়া গিয়েছে।” এই আদান-প্রদান এমন একটা সময়ে ঘটছে, যখন আমেরিকা-ইজরায়েল ও ইরানের মধ্যে সংঘাত চতুর্থ সপ্তাহে প্রবেশ করেছে এবং উভয় পক্ষই সামরিক অভিযান চালিয়ে যাচ্ছে।

    কী বলছে ইজরায়েল

    ইজরায়েল জানিয়েছে, তারা সোমবার তেহরানে নতুন করে হামলা চালিয়েছে। এদিকে, ইরানও অঞ্চলজুড়ে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা অব্যাহত রেখেছে। এই পরিস্থিতিতে হরমুজ প্রণালী প্রায় অচল হয়ে পড়েছে। এই প্রণালী বৈশ্বিক জ্বালানি পরিবহণের একটি গুরুত্বপূর্ণ পথ। বিশ্বের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ তেল ও গ্যাস পরিবাহিত হয় এই পথেই (Donald Trump)। এই বিঘ্নের জেরে বিশ্বজুড়ে বেড়ে গিয়েছে জ্বালানির দাম। উদ্বেগ বাড়ছে বৃহত্তর অর্থনৈতিক প্রভাব নিয়ে।

    ট্রাম্পের দাবি

    তবে ইরান অস্বীকার করলেও, ট্রাম্প দাবি করে চলেছেন যে আলোচনা এগিয়ে চলছে। সপ্তাহান্তে তিনি সতর্ক করে বলেন, “৪৮ ঘণ্টার মধ্যে হরমুজ প্রণালী খুলে না দিলে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ইরানের (Iran) বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলি সম্পূর্ণ ধ্বংস করে দেবে।” সোমবার এক পোস্টে অবশ্য ট্রাম্প জানান, তিনি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা দফতরকে নির্দেশ দিয়েছেন যে ইরানের বিদ্যুৎকেন্দ্র ও জ্বালানি পরিকাঠামোর ওপর সব ধরনের সামরিক হামলা পাঁচ দিনের জন্য স্থগিত রাখতে। তিনি জানান, এই সিদ্ধান্ত বর্তমানে চলা বৈঠক ও আলোচনা সাফল্যের সঙ্গে সম্পর্কিত। সাংবাদিক বৈঠকে ট্রাম্প (Donald Trump) আরও জানান, রবিবার ইরানের এক শীর্ষ ব্যক্তির সঙ্গে আলোচনা হয়েছে, যদিও তিনি ওই ব্যক্তির পরিচয় প্রকাশ করেননি (Iran)।

     

  • Indian diplomacy: রাষ্ট্রনেতাদের সঙ্গে ফোনালাপ প্রধানমন্ত্রী মোদির, পশ্চিম এশিয়ার উত্তেজনা প্রশমনে ভারতের কূটনৈতিক তৎপরতা

    Indian diplomacy: রাষ্ট্রনেতাদের সঙ্গে ফোনালাপ প্রধানমন্ত্রী মোদির, পশ্চিম এশিয়ার উত্তেজনা প্রশমনে ভারতের কূটনৈতিক তৎপরতা

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: পশ্চিম এশিয়ার (West Asia) উত্তপ্ত পরিস্থিতি নিয়ে কূটনৈতিক তৎপরতা বাড়াল ভারত। পশ্চিম এশিয়ায় ক্রমবর্ধমান উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে বৃহস্পতিবার দিনভর কূটনৈতিক (Indian diplomacy) আলোচনায় অংশ নেয় দিল্লি। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি একাধিক বিশ্বনেতার সঙ্গে ফোনালাপ করেন, পাশাপাশি বিদেশমন্ত্রী এস জয়শঙ্করও উপসাগরীয় দেশ ও ইজরায়েলের শীর্ষ নেতৃত্বের সঙ্গে গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক ও আলোচনা করেন। প্রধানমন্ত্রীর আলোচনার মূল বিষয় ছিল উত্তেজনা প্রশমিত করা, অঞ্চলে শান্তি ও স্থিতিশীলতা বজায় রাখা এবং সেখানে বসবাসকারী ভারতীয় নাগরিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা।

    ইমানুয়েল মাক্রোঁর সঙ্গে ফোনালাপ

    ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল মাক্রোঁর সঙ্গে ফোনালাপে মোদি পশ্চিম এশিয়ার পরিস্থিতি নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেন এবং দ্রুত উত্তেজনা হ্রাস করে আলোচনার পথে ফেরার ওপর জোর দেন। তিনি জানান, এই অঞ্চলে শান্তি ও স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনতে দুই দেশ একসঙ্গে কাজ করবে। দুই নেতাই একমত হয়েছেন, এই পরিস্থিতিতে কূটনৈতিক সংলাপ (Diplomatic Engagement) চালিয়ে যাওয়া অত্যন্ত জরুরি, তবেই শান্তি ও স্থিতিশীলতা বজায় রাখা সম্ভব। যুদ্ধপরিস্থিতিতে ইরান, ইজরায়েল, কুয়েত, ওমান-সহ বিভিন্ন দেশের নেতৃত্বের সঙ্গে ইতিমধ্যেই কথা বলেছেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী।

    দ্রুত শান্তি ফেরানোর আহ্বান

    জর্ডানের রাজা আবদুল্লাহ দ্বিতীয়ের সঙ্গেও কথা বলেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি অগ্রিম ঈদের শুভেচ্ছা জানান এবং অঞ্চলে ভারতীয়দের নিরাপত্তা নিয়ে আলোচনা করেন। পাশাপাশি পশ্চিম এশিয়ার পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে দ্রুত শান্তি ফেরানোর আহ্বান জানান। বুধবার কুয়েতের (Kuwait) যুবরাজ শেখ সাবাহ আল-খালেদ আল-হামাদ আল-মুবারক আল-সাবাহ (Sheikh Sabah Al-Khaled Al-Hamad Al-Mubarak Al-Sabah)-এর সঙ্গেও ফোনে কথা বললেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি (Narendra Modi)। আলোচনার কেন্দ্রে ছিল পশ্চিম এশিয়ার নিরাপত্তা পরিস্থিতি (Security Situation) এবং আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা (Regional Stability) বজায় রাখার প্রশ্ন।

    গভীরভাবে উদ্বেগজনক

    এছাড়া মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিমের সঙ্গেও কথোপকথনে মোদি পশ্চিম এশিয়ার পরিস্থিতিকে “গভীরভাবে উদ্বেগজনক” বলে উল্লেখ করেন এবং শান্তি প্রতিষ্ঠায় কূটনৈতিক প্রচেষ্টার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। এক্সে (X, formerly Twitter) পোস্ট করে প্রধানমন্ত্রী নিজে জানান, “পশ্চিম এশিয়ার পরিবর্তিত পরিস্থিতি নিয়ে আমি অনেকের সঙ্গে আলোচনা করেছি এবং সাম্প্রতিক ঘটনাবলি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছি।” আলোচনায় উঠে আসে হরমুজ প্রণালীর (Strait of Hormuz) নিরাপত্তার বিষয়টিও। বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি করিডর (Energy Corridor) হিসেবে পরিচিত এই পথ দিয়ে বিপুল পরিমাণ তেল (Oil Supply) নিয়ে যাতায়াত করে একাধিক জাহাজ। মোদি স্পষ্ট বলেন, “এই প্রণালী দিয়ে অবাধ ও নিরাপদ নৌ চলাচল (Safe Navigation) নিশ্চিত করাই আমাদের সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার।” কারণ, এখানে উত্তেজনা বাড়লে বিশ্বজুড়ে জ্বালানি সংকটের (Energy Crisis) আশঙ্কা তৈরি হতে পারে।

    সংলাপ ও কূটনীতিই শ্রেয়

    ওমানের সুলতান হাইথাম বিন তারিকের সঙ্গেও ফোনালাপে প্রধানমন্ত্রী মোদি সংলাপ ও কূটনীতির মাধ্যমে উত্তেজনা কমানোর প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরেন। একইসঙ্গে ওমানের সার্বভৌমত্ব লঙ্ঘনের ঘটনায় ভারতের নিন্দা পুনর্ব্যক্ত করেন এবং আটকে পড়া ভারতীয়দের নিরাপদে ফিরিয়ে আনতে ওমানের সহযোগিতার প্রশংসা করেন। তিনি হরমুজ প্রণালী দিয়ে অবাধ বাণিজ্য ও জ্বালানি পরিবহণের পক্ষেও মত দেন। পশ্চিম এশিয়ার বিভিন্ন দেশে বসবাসকারী ভারতীয়দের (Indian Community) নিরাপত্তা ও কল্যাণে (Safety and Wellbeing) সেখানকার নেতৃত্বের সহযোগিতার জন্য ধন্যবাদ জানিয়েছেন মোদি।

    বিদেশমন্ত্রী জয়শঙ্কর-এর সঙ্গে আলোচনা

    আরব দুনিয়ার সংঘাত (Middle East tension) গড়িয়েছে ২১তম দিনে। এখনও পরিস্থিতি উত্তপ্ত। বৃহস্পতিবার ভারতের বিদেশমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর (India FM Jaishankar) ইজরায়েলের বিদেশমন্ত্রী গিদেওন সা’আর-র ( Israeli Foreign Minister Gideon Sa’ar) সঙ্গে ফোনে কথা বলেন। পশ্চিম এশিয়ার যুদ্ধ পরিস্থিতি এবং হরমুজ প্রণালীতে (Hormuz Pronali) এর প্রভাব নিয়ে দু’পক্ষ মতবিনিময় করেছেন বলে খবর সূত্রের। জয়শঙ্কর ইতিমধ্যেই ইরান, ইজরায়েল এবং গালফ অঞ্চলের দেশগুলির সঙ্গে যোগাযোগ রেখেছেন এবং শান্তি ও স্থিতিশীলতা বজায় রাখার ক্ষেত্রে ভারতের অবস্থান স্পষ্ট করেছেন। ইজরায়েলি বিদেশমন্ত্রী সাআর জানিয়েছেন, হরমুজ সঙ্কটে ইরানের নৌ অবরোধ পুরো বিশ্বের উপর প্রভাব ফেলছে। তিনি বলেন, “এটি কোনও আমেরিকান বা ইজরায়েলি সমস্যা নয়, এটি বিশ্ব শৃঙ্খলা ও অর্থনীতির জন্য গুরুতর সমস্যা। এখনই সমাধান না হলে এটি বিশ্বব্যাপী ছড়িয়ে পড়তে পারে।” অন্যদিকে বিদেশমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর সংযুক্ত আরব আমিরশাহির আন্তর্জাতিক সহযোগিতা বিষয়ক মন্ত্রী রীম আল হাশিমির সঙ্গে বৈঠক করেন। সেখানে তিনি ইউএই-তে বসবাসকারী ভারতীয়দের সুরক্ষার জন্য ধন্যবাদ জানান এবং পশ্চিম এশিয়ার চলমান সংঘাত নিয়ে আলোচনা করেন।

    কূটনৈতিক তৎপরতা ভারতের

    সব মিলিয়ে, অশান্ত পশ্চিম এশিয়া নিয়ে এই কূটনৈতিক তৎপরতা (Indian diplomacy)ভারতের সক্রিয় ভূমিকারই প্রতিফলন—যেখানে একদিকে ভারতীয় নাগরিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হচ্ছে, অন্যদিকে সংলাপ ও কূটনীতির মাধ্যমে শান্তি প্রতিষ্ঠার ওপর জোর দেওয়া হচ্ছে। সব মিলিয়ে, যুদ্ধের আবহে (War Situation) কূটনৈতিক স্তরে সক্রিয় থেকে পরিস্থিতি সামাল দিতে চাইছে ভারত। পশ্চিম এশিয়ায় দ্রুত শান্তি, সার্বিক নিরাপত্তা ও স্থিথিশীলতা ফিরিয়ে আনার জন্য বদ্ধপরিকর দিল্লি।

LinkedIn
Share