Tag: Iran

Iran

  • Iran Israel Conflict: ইজরায়েলি হানায় নিহত ইরানের নিরাপত্তা প্রধান আলি লারিজানি, বাসিজ বাহিনীর কমান্ডার সোলাইমানি

    Iran Israel Conflict: ইজরায়েলি হানায় নিহত ইরানের নিরাপত্তা প্রধান আলি লারিজানি, বাসিজ বাহিনীর কমান্ডার সোলাইমানি

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: প্রাক্তন সর্বোচ্চ নেতা আয়াতোল্লা আলি খামেনেইর মৃত্যুর পরে ইরানের (Iran Israel Conflicts) হয়ে মূলত সামনে এসেছিলেন আলি লারিজানি (Ali Larijani)। ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং আমেরিকাকে ক্রমাগত আক্রমণ শানিয়ে যাচ্ছিলেন তিনি। তাঁকে হত্যা করতে তৎপর হয়ে উঠেছিল ইজরায়েল ও আমেরিকা। অবশেষে এল সাফল্য। নিহত ইরানের নিরাপত্তা প্রধান আলি লারিজানি। ইজরায়েলি হামলায় নিহত হয়েছেন বাসিজ বাহিনীর কমান্ডার গোলামরেজা সোলাইমানি। এই খবর নিশ্চিত করেছে তেহরানও। ইরানের জাতীয় নিরাপত্তার সর্বোচ্চ প্রতিষ্ঠান ‘সুপ্রিম ন্যাশনাল সিকিউরিটি কাউন্সিল’ বিবৃতি জারি করে লারিজানির মৃত্যুর খবর জানিয়েছে। সেই বিবৃতিতে লারিজানিকে ‘শহিদ’ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। লারিজানির মৃত্যুতে শোকপ্রকাশ করেছেন ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান। একই সঙ্গে লারিজানির মৃত্যুর প্রতিশোধের হুঁশিয়ারিও দিয়েছেন তিনি।

    দেশসেবার জন্য প্রাণ উৎসর্গ

    শুধু লারিজানি নন, ইজরায়েলি হামলায় একই সঙ্গে মৃত্যু হয়েছে তাঁর পুত্র এবং দেহরক্ষীরও। ইরানের সর্বোচ্চ জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদের উপ-প্রধান আলিরেজা বায়েতও প্রয়াত হয়েছেন ইজরায়েল হামলায়। লারিজানির ওপর ইজরায়েলি হামলার সময় তাঁর সঙ্গেই ছিলেন আলিরেজা। একই হামলায় আলি লারিজানির ছেলে মোর্তেজা লারিজানিও (Morteza Larijani) প্রাণ হারিয়েছেন। এছাড়া বাসিজ বাহিনীর কমান্ডার গোলামরেজা সোলাইমানির (Gholam Reza Soleimani) মৃত্যুর খবরও নিশ্চিত করেছে ইরান। তাঁদের প্রতি শোকজ্ঞাপন করেছে কাউন্সিল। বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ইরানের অগ্রগতি এবং ইসলামি বিপ্লবের জন্য আজীবন লড়াই করেছেন লারিজানি। দেশসেবার জন্য এই মৃত্যু তাঁর দীর্ঘ দিনের আকাঙ্ক্ষা পূরণ করেছে। দেশের জন্য দীর্ঘদিন কাজ করার পর তিনি ‘শহিদের মর্যাদা’ অর্জন করেছেন।

    লারিজানির মৃত্যুর প্রতিশোধের হুঁশিয়ারি

    মঙ্গলবার দুপুরে (ভারতীয় সময়) ইজরায়েলের তরফে দাবি করা হয়, বিমান হামলায় নিহত হয়েছেন লারিজানি! সংবাদমাধ্যম আল জাজিরা-র প্রতিবেদন অনুযায়ী, ইজরায়েলের প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইজরায়েল কাটজ দাবি করেছেন, লারিজানি নিহত হয়েছেন। তবে ইরান সেই সময় ইজরায়েলের দাবি উড়িয়ে দেয়। তেহরান-সহ ইরানের বেশ কয়েকটি জায়গায় বিমান হামলা চালিয়েছে ইজরায়েল বাহিনী। ইরানের সরকারি সংবাদসংস্থা তাসমিনের প্রতিবেদন অনুযায়ী, সে দেশের সেনাবাহিনীর সর্বাধিনায়ক মেজর জেনারেল আমির হাতানি হুঁশিয়ারি দিয়েছেন, লারিজানির মৃত্যুর প্রতিশোধ হবে ‘চূড়ান্ত এবং দুঃখজনক’।

    ট্রাম্পকে ‘নির্মূল’ করে দেওয়ার সরাসরি হুমকি

    দিন কয়েক আগেই এক্স হ্যান্ডলে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে ‘নির্মূল’ করে দেওয়ার সরাসরি হুমকি দিয়েছিলেন লারিজানি। তাঁর বার্তা ছিল, ‘‘আপনার থেকেও বড়রা ইরানকে নির্মূল করতে পারেনি। নিজেরটা দেখুন, না হলে আপনাকেই নির্মূল করে দেওয়া হবে।’’ সেই বার্তা প্রকাশ্যে আসার পরই শোরগোল পড়ে যায়। সোমবার লারিজানি ঘোষণা করেন, আমেরিকা এবং ইজরায়েলের বিরুদ্ধে সমস্ত মুসলিম দেশের ঐক্যবদ্ধ হওয়া উচিত। তার আগেই তাঁর মাথার দাম ঠিক করে রেখেছিল আমেরিকা। কিছুদিন আগেই ইরানের সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনেই-সহ (Mojtaba Khamenei) দেশের প্রশাসনের শীর্ষ ১০ জন কর্মকর্তার ছবি প্রকাশ করে তাঁদের ধরিয়ে দেওয়ার জন্য পুরস্কার ঘোষণা করেছিল আমেরিকা। সেই তালিকার একেবারে উপরের দিকেই ছিলেন ইরানের নিরাপত্তা উপদেষ্টা।

    কে ছিলেন আলি লারিজানি?

    আলি লারিজানি (Ali Larijani) ইরানের রাজনীতির অত্যন্ত প্রভাবশালী নেতা ছিলেন। ইরানের সুপ্রিম ন্যাশনাল সিকিউরিটি কাউন্সিলের সচিব (Secretary of Iran’s Supreme National Security Council) হিসেবে তিনি দেশের নিরাপত্তা ও কৌশল নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিতেন। তাঁর দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে তিনি সংস্কৃতি মন্ত্রী, রাষ্ট্রীয় সম্প্রচার সংস্থার প্রধান, সংসদের স্পিকার-সহ একাধিক গুরুত্বপূর্ণ পদে ছিলেন। ২০১৫ সালের পরমাণু চুক্তির ক্ষেত্রেও তাঁর গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা ছিল। ২০২৫ সালে আবার সুপ্রিম ন্যাশনাল সিকিউরিটি কাউন্সিলের সচিব হিসেবে দায়িত্ব পান লারিজানি। দেশের রাজনৈতিক, সামরিক ও নিরাপত্তা ব্যবস্থার মধ্যে সমন্বয় রক্ষায় তিনি গুরুত্বপূর্ণ সেতুবন্ধন হিসেবে কাজ করতেন। লেফটেন্যান্ট লারিজানি ছিলেন সদ্যনিয়ত ইরানের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়াতোল্লা আলি খামেনেইয়ের অন্যতম বিশ্বস্ত সঙ্গী। লারিজানির মৃত্যু ইরানের রাজনীতিতে বড় শূন্যতা তৈরি করল বলেই মনে করা হচ্ছে।

    রেজা সোলাইমানি কে?

    তরুণ বয়সে ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোরে যোগ দেন রেজা সোলেইমানি। ধীরে ধীরে পদোন্নতি পেয়ে তিনি ইরান-ইরাক যুদ্ধের সময় একটি ব্যাটালিয়নের কমান্ডার হন। পরে আইআরজিসির কয়েকটি ডিভিশনের নেতৃত্ব দেন। ২০১৯ সাল থেকে বাসিজ বাহিনীর প্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালন করে আসছেন গোলাম রেজা সোলেইমানি। আইআরজিসির অধীন এই স্বেচ্ছাসেবী আধাসামরিক বাহিনীতে আনুমানিক সাড়ে চার লাখ সদস্য রয়েছে। এ বাহিনীর নেতা হিসেবে ইরানের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা কাঠামোর জন্য গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি হিসেবে বিবেচিত ছিলেন সোলাইমানি। ইরান সরকারের কট্টর সমর্থক হিসেবে পরিচিত সোলাইমানির ওপর যুক্তরাষ্ট্র, ইউরোপীয় ইউনিয়ন, যুক্তরাজ্য ও কানাডাসহ একাধিক দেশ ও সংস্থার নিষেধাজ্ঞা ছিল।

    ইরানের শীর্ষ স্তরের নেতাদের ‘নির্মূল’ করাই লক্ষ্য

    ইজরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু বার বার লারিজানিকে ‘দুর্বৃত্তদের প্রধান’ বলে বর্ণনা করেছেন। তাঁর দাবি, ইরানের শীর্ষ স্তরের নেতাদের ‘নির্মূল’ করাই লক্ষ্য। তবে এ-ও জানান, কাজটা সহজ নয়। নেতানিয়াহুর কথায়, ‘‘এক বারে ঘটবে না। সহজ হবে না। তবে আমরা যদি লক্ষ্যে অবিচল থাকতে পারি তবে ইরানের মানুষ তাদের নেতৃত্বকে উৎখাত করতে পারবে।’’ ইজরায়েল দাবি করেছে, ইসলামিক রেভলিউশনারি গার্ড কর্পসের (IRGC) পরিকাঠামো লক্ষ্য করে চালানো হামলায় আলি লারিজানি ও রেজা সোলেইমানি দুই নেতাকে নিশানা করা হয়েছিল।

  • LPG Tanker Reached India: শিবালিক-এর পর নন্দাদেবী! পশ্চিম এশিয়ার উত্তেজনার মধ্যে কীভাবে হরমুজ পার করল ভারতীয় এলপিজি ট্যাঙ্কার, জানেন?

    LPG Tanker Reached India: শিবালিক-এর পর নন্দাদেবী! পশ্চিম এশিয়ার উত্তেজনার মধ্যে কীভাবে হরমুজ পার করল ভারতীয় এলপিজি ট্যাঙ্কার, জানেন?

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: সোমবারই ভারতে এসে পৌঁছেছিল শিবালিক নামক এলপিজি ট্যাঙ্কার (LPG Tanker Reached India)। গুজরাটের মুন্দ্রা বন্দরে সেই জাহাজটি এসে পৌঁছায়। হরমুজ প্রণালী দিয়ে নিরাপদে এটি ভারতের উপকূলে এসে পৌঁছেছে। আর মঙ্গলবার ‘নন্দাদেবী’ নামক আরও একটি জাহাজ হরমুজ প্রণালী (Strait of Hormuz) দিয়ে ভারতে এসে পৌঁছল। এই জাহাজটিও এলপিজি বহন করছে বলে জানা গিয়েছে। জানা গিয়েছে, এই দুটি জাহাজকে এসকর্ট করে নিয়ে এসেছে ভারতীয় নৌবাহিনী। পেট্রোলিয়ম মন্ত্রকের তরফে জানানো হয়েছে, পশ্চিম এশিয়ায় ক্রমবর্ধমান উত্তেজনা এবং গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালীতে নিরাপত্তা সংকটের মধ্যেও দুই ভারতীয় এলপিজি ট্যাঙ্কার সফলভাবে প্রণালী অতিক্রম করেছে। কূটনৈতিক উদ্যোগ এবং ভারতীয় নৌবাহিনীর সক্রিয় উপস্থিতির ফলে এই যাত্রা সম্ভব হয়েছে।

    বাণিজ্যিক জাহাজের নিরাপত্তায় ভারতীয় যুদ্ধ জাহাজ

    সরকারি সূত্র অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্র, ইজরায়েল এবং ইরানকে ঘিরে চলমান সংঘাতের জেরে হরমুজ প্রণালীতে ঝুঁকি বেড়ে যাওয়ায় ভারতীয় নৌবাহিনী তিনটি যুদ্ধজাহাজ মোতায়েন করেছে। এর মধ্যে অত্যাধুনিক গাইডেড মিসাইল ডেস্ট্রয়ার আইএনএস সুরাটসহ দুটি জাহাজ আগে থেকেই ওই অঞ্চলে ছিল। তৃতীয় একটি যুদ্ধজাহাজ বিশেষভাবে বাণিজ্যিক জাহাজকে নিরাপত্তা দিয়ে ভারতমুখী পথে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার দায়িত্বে নিয়োজিত হয়েছে। বর্তমানে ভারতীয় নৌজাহাজগুলি ওমান উপসাগর এবং আরব সাগর জুড়ে টহল দিচ্ছে এবং গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যিক জাহাজগুলিকে নিরাপত্তা দিচ্ছে। এই পদক্ষেপের মূল লক্ষ্য সম্ভাব্য হুমকিকে প্রতিরোধ করা এবং জ্বালানি বহনকারী জাহাজগুলির নিরাপত্তা নিশ্চিত করা।

    আসছে আরও একটি জাহাজ

    শিবালিক এবং নন্দাদেবী নামক দুটি ট্যাঙ্কারই ভাড়া করেছিল ভারতীয় রাষ্ট্রায়ত্ত জ্বালানি সংস্থা ইন্ডিয়ান অয়েল কর্পোরেশন। এবং এই দুটি জাহাজই ভারতের রাষ্ট্রায়ত্ত সংস্থা শিপিং কর্পোরেশন অফ ইন্ডিয়ার মালিকানাধীন। এদিকে ‘জগ লড়কি’ নামক আরও একটি ট্যাঙ্কার শীঘ্রই ভারতে এসে পৌঁছানোর কথা। এটিও হরমুজ প্রণালী দিয়ে ভারতে আসছে। গুজরাটের মুন্দ্রা বন্দরে যাওয়ার কথা এই ট্যাঙ্কারের। এই জাহাজটি ৮১ হাজার টন অপরিশোধিত জ্বালানি তেল বহন করছে।

    কূটনৈতিক আলোচনার ফলেই কাজ

    জানা গিয়েছে, ভারত ও ইরানের মধ্যে নিবিড় কূটনৈতিক আলোচনার ফলেই এই দুই জাহাজের নিরাপদ যাত্রা সম্ভব হয়েছে। তবে সব জাহাজের জন্য একযোগে কোনও ছাড় দেওয়া হয়নি। প্রতিটি জাহাজের যাত্রা আলাদাভাবে আলোচনার মাধ্যমে নিশ্চিত করা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন বিদেশমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর। তিনি বলেন, “এটি কোনও বিনিময়ের বিষয় নয়। ভারত ও ইরানের মধ্যে সুসম্পর্ক রয়েছে। কিছু অগ্রগতি হয়েছে, তবে প্রতিটি জাহাজের বিষয় আলাদাভাবে দেখা হচ্ছে।” এই সংকটকে কেন্দ্র করে কূটনৈতিক স্তরেও তৎপরতা বেড়েছে। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ইরানের প্রেসিডেন্টের সঙ্গে কথা বলে জ্বালানি সরবরাহের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার বিষয়টি গুরুত্ব দিয়েছেন।

    আমেরিকার অদ্ভুত দাবি

    হরমুজ প্রণালীতে এখনও আটকে শ’য়ে শ’য়ে ট্যাঙ্কার এবং জাহাজ। ইরান বলছে, আমেরিকা এবং ইজরায়েলের সঙ্গে যোগ না থাকা কোনও জাহাজ তারা আটকাবে না। এদিকে আমেরিকা আবার এর ফাঁকেও ব্যবসার ফন্দি এঁটেছিল। মিত্র দেশগুলির কাছে আমেরিকার প্রস্তাব ছিল, টাকা দিলেই মার্কিন নৌসেনা এসকর্ট করে তাদের দেশের জাহাজকে হরমুজ প্রণালী পার করিয়ে দেবে। এরই সঙ্গে সাম্প্রতিক রিপোর্টে দাবি করা হয়, হরমুজ প্রণালী থেকে ভারতীয় পতাকাবাহী জাহাজগুলোকে যেতে দিচ্ছে ইরান। এই আবহে মার্কিন জ্বালানি সচিব ক্রিস রাইট দাবি করেছিলেন, ইরানের সঙ্গে ভারতের নিশ্চয় কোনও চুক্তি হয়েছে এবং বিনিময়ে ইরান ‘কিছু পাবে।’ যদিও মার্কিন কর্মকর্তার এহেন দাবিকে উড়িয়ে দেন ভারতের বিদেশমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর নিজে। ইরানের বিদেশমন্ত্রী জানিয়েছেন, হরমুজ প্রণালী এখনও অধিকাংশ দেশের জন্য খোলা রয়েছে। তবে চলমান সংঘাতের কারণে যুক্তরাষ্ট্র, ইজরায়েল ও তাদের মিত্রদের জাহাজের ওপর কিছু বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়েছে।

    হরমুজ প্রণালীর অবস্থান

    পারস্য উপসাগর এবং ওমান উপসাগরকে যুক্ত করেছে হরমুজ প্রণালী। তার ফলে ইরান, সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরশাহির মতো পারস্য উপসাগর লাগোয়া বিশ্বের অন্যতম তৈল উৎপাদনকারী দেশগুলি তেল সরবরাহের জন্য হরমুজ প্রণালীর উপরে নির্ভর করে। হরমুজ প্রণালী খুব চওড়া নয়। সংকীর্ণতম বিন্দুতে মাত্র ৩৩ কিমি চওড়া। ফলে সেই প্রণালী আটকে রাখা সহজ। বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ এই জলপথ দিয়ে প্রায় ২০ শতাংশ তেল ও গ্যাস পরিবহণ হয়। ফলে এই অঞ্চলে অস্থিরতা বিশ্ববাজারেও বড় প্রভাব ফেলতে পারে। পরিস্থিতি এখনও উত্তেজনাপূর্ণ থাকায় ভারতীয় নৌবাহিনীর এই নিরাপত্তা অভিযান আগামী দিনেও চলবে বলে মনে করা হচ্ছে। ভারতের কাছে জ্বালানি সরবরাহ ও সামুদ্রিক বাণিজ্য পথের নিরাপত্তা এখন কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।

    কী বললেন বিদেশমন্ত্রী

    হরমুজ প্রণালীতে ভারতের তেল এবং পণ্যবাহী জাহাজের নিরাপদ চলাচলে সম্পূর্ণ ছাড় দেয়নি ইরান। প্রত্যেক জাহাজ ভিত্তিক আলাদা করে আলোচনা চলছে ইরানের সঙ্গে। এমনটাই জানালেন ভারতের বিদেশমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর। বিদেশমন্ত্রী জয়শঙ্কর জানিয়েছেন, ইরানের সঙ্গে আলোচনা চলছে ভারতের। প্রতিটি জাহাজ নিয়ে আলাদা করে আলোচনা হচ্ছে। তবে ট্রাম্পের আবেদন মেনে হরমুজ প্রণালীকে ইরানের দখলমুক্ত করতে যুদ্ধজাহাজ পাঠাবে না ভারত। এ বিষয়ে আমেরিকার সঙ্গে কোনও আলোচনা হয়নি বলেও জানিয়েছে নয়াদিল্লি। পরিস্থিতি আপাতত স্বাভাবিক করতে ইরানের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক আলোচনার উপরই জোর দেবে ভারত। দেশের অভ্যন্তরে জ্বালানি সরবরাহ অব্যাহত রাখতে বড় সিদ্ধান্ত নিয়েছে কেন্দ্রীয় পেট্রোলিয়াম ও প্রাকৃতিক গ্যাস মন্ত্রক। জানা গিয়েছে, গ্যাস সংকটে বিকল্প পথ তৈরি হয়েছে। সেই কারণেই পিএনজি বা পাইপ দ্বারা সরবরাহ প্রাকৃতিক গ্যাসের ব্যবহারে জোর দিচ্ছে কেন্দ্র। মন্ত্রকের তরফে জানানো হয়েছে, দেশের যে সকল এলাকায় পাইপের মাধ্যমে প্রাকৃতিক গ্যাস সরবরাহের ব্যবস্থা রয়েছে, সেই সকল এলাকার বাসিন্দাদের কাছে এলপিজির পরিবর্তে পিএনজি ব্যবহার করতে হবে।

  • UAE: সোশ্যাল মিডিয়ায় ভুয়ো ভিডিও ছড়ানোর অভিযোগে ১৯ ভারতীয়-সহ ৩৫জনকে গ্রেফতারের নির্দেশ ইউএইর

    UAE: সোশ্যাল মিডিয়ায় ভুয়ো ভিডিও ছড়ানোর অভিযোগে ১৯ ভারতীয়-সহ ৩৫জনকে গ্রেফতারের নির্দেশ ইউএইর

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ শুরুর পর সোশ্যাল মিডিয়ায় বিভ্রান্তিকর বা জাল ভিডিও ছড়ানোর অভিযোগে ১৯ জন ভারতীয়-সহ (Indians) মোট ৩৫ জনকে গ্রেফতার করার নির্দেশ দিয়েছে সংযুক্ত আরব আমিরশাহি (ইউএই)। গত মাসের শেষ দিকে মার্কিন-ইজরায়েলি বাহিনী ইরানে বিমান হামলা চালানোর পর  শুরু (UAE) হয় এই যুদ্ধ। ইউএইয়ের তরফে জানানো হয়েছে, তদন্তে দেখা গিয়েছে অভিযুক্তরা ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করে বিকৃত ভিডিও এবং বিভ্রান্তিমূলক তথ্য ছড়িয়েছে, যা বর্তমান আঞ্চলিক উত্তেজনার সঙ্গে সম্পর্কিত। তদন্তের ভিত্তিতে তাদের দ্রুত বিচার করা হবে। এই পদক্ষেপ করা হয়েছে দু’টি ধাপে। সর্বশেষ তালিকায় বিভিন্ন দেশের ২৫ জন রয়েছেন, যাঁদের মধ্যে ১৭ জন ভারতীয়। এর আগে শনিবার ১০ জনের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরওয়ানা জারি করা হয়েছিল, তাঁদের মধ্যে দু’জন ভারতীয়।

    ইউএইর অভিযোগ (UAE)

    ইউএইর অ্যাটর্নি জেনারেল হামাদ সাইফ আল শামস জানান, জনশৃঙ্খলা বিঘ্নিত করা এবং স্থিতিশীলতা নষ্ট করার উদ্দেশ্যে তৈরি ভুয়ো তথ্য ও কৃত্রিম কনটেন্ট ছড়ানো রুখতে ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মগুলির ওপর কঠোর নজরদারি চালানো হচ্ছে। সে দেশের সরকারি সংবাদ সংস্থা ওয়ামের (WAM) উদ্ধৃতি অনুযায়ী, তদন্তে দেখা গিয়েছে অভিযুক্তরা তিনটি দলে বিভক্ত হয়ে বিভিন্ন ধরনের কাজ করেছে। এর মধ্যে ছিল বর্তমান ঘটনাবলীর আসল ভিডিও ক্লিপ প্রকাশ করা, আই ব্যবহার করে ভুয়ো ভিডিও তৈরি করা, এবং সামরিক আগ্রাসনে জড়িত একটি রাষ্ট্রের প্রশংসা করে প্রচার করা।

    প্রথম দলের ১০

    জানা গিয়েছে, প্রথম দলের ১০ জন অভিযুক্তের মধ্যে ছিলেন ৫ জন ভারতীয়, ১ জন পাকিস্তানি, ১ জন নেপালি, ২ জন ফিলিপিনো এবং ১ জন মিশরীয়। তাঁরা দেশের আকাশসীমায় মিসাইল চলাচল ও প্রতিরোধের আসল ভিডিও প্রচার করেছিল। এসব ঘটনা দেখার জন্য জড়ো হওয়া মানুষের ভিডিও করে তাতে এমন মন্তব্য ও শব্দপ্রভাব যোগ করা হয়েছিল, যাতে মনে হয় দেশে সক্রিয় হামলা চলছে। কর্তৃপক্ষ জানিয়েছেন, এতে দেশের প্রতিরক্ষা ক্ষমতা প্রকাশ হয়ে যাওয়ার ঝুঁকি ছিল এবং দেশ বিরোধী প্রচার চালানোর সুযোগ তৈরি হতে পারত (UAE)। দ্বিতীয় দলে ৭ জন ছিলেন। এঁদের মধ্যে ৫ জন ভারতীয়, ১ জন নেপালি এবং ১ জন বাংলাদেশি (Indians)।

    এআই-নির্মিত ভুয়ো ভিডিও

    তাঁরা এআই-নির্মিত ভুয়ো ভিডিও বা দেশের বাইরের ঘটনার ভিডিও ব্যবহার করে দাবি করেছিলেন যে এগুলি সংযুক্ত আরব আমিরশাহিতে ঘটেছে। এসব ভিডিওয় বিস্ফোরণ ও মিসাইল হামলার কৃত্রিম দৃশ্য দেখানো হয়েছিল এবং বিশ্বাসযোগ্যতা বাড়াতে সেখানে জাতীয় পতাকা বা নির্দিষ্ট তারিখ যুক্ত করা হয়েছিল। আর তৃতীয় দলে ৬ জন ছিলেন। এঁর মধ্যে ৫ জন ভারতীয় এবং ১ জন পাকিস্তানি। অভিযোগ, তাঁরা ইরানের প্রশংসা করে কনটেন্ট প্রকাশ করেছেন, যেখানে সেই দেশের রাজনৈতিক ও সামরিক নেতৃত্ব এবং আঞ্চলিক সামরিক কর্মকাণ্ডকে সাফল্য হিসেবে দেখানো হয়েছে।

    ক্ষুণ্ণ করা হয়েছে জাতীয় স্বার্থ

    সরকারের বক্তব্য, এতে শত্রুপক্ষের প্রচারকে শক্তিশালী করা হয়েছে, ক্ষুণ্ণ করা হয়েছে জাতীয় স্বার্থ। এছাড়া আরও দুই ভারতীয় নাগরিকের বিরুদ্ধেও একই ধরনের অভিযোগ উঠেছে। শনিবার ওয়ামের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ১০ অভিযুক্তকে জিজ্ঞাসাবাদের পর সরকারি কৌঁসুলির দফতর তাঁদের আটক করে রাখার নির্দেশ দেয় (Indians)। অ্যাটর্নি জেনারেল আল শামস বলেন, “তাঁরা এআই-নির্মিত ভুয়ো ভিডিও ছড়িয়েছিল, যেখানে ইউএইয়ের বিভিন্ন জায়গায় বিস্ফোরণ, গুরুত্বপূর্ণ পরিকাঠামোয় হামলা বা বড় অগ্নিকাণ্ড দেখানো হয়েছিল (UAE)। ইউএই আইনে এই ধরনের অপরাধের শাস্তি হল, কমপক্ষে ১ বছরের কারাদণ্ড এবং অন্তত ১,০০,০০০ দিরহাম জরিমানা। তিনি বলেন, “এসব ঘটনার উদ্দেশ্য ছিল জনগণকে বিভ্রান্ত করা এবং জাতীয় নিরাপত্তা, শৃঙ্খলা ও স্থিতিশীলতা দুর্বল করা।”

    নিরাপত্তা হুমকির মিথ্যে ধারণা

    কিছু ভিডিওতে শিশুদের আবেগকে ব্যবহার করে নিরাপত্তা হুমকির মিথ্যে ধারণাও তৈরি করা হয়েছে। কিছু ভিডিওয় আবার দেশের সামরিক পরিকাঠামো ধ্বংস হয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে বা বিদেশের ঘটনাকে ইউএইয়ের ঘটনা হিসেবে দেখানো হয়েছে। রবিবার সকালে উপসাগরীয় দেশগুলি, যার মধ্যে ইউএইও রয়েছে, নতুন করে হামলার খবর জানায়। এর একদিন আগে ইরান ইউএইয়ের তিনটি বড় বন্দর খালি করার আহ্বান জানিয়েছিল এবং প্রথমবারের মতো প্রতিবেশী দেশের অ-মার্কিন সম্পদের বিরুদ্ধে হুমকি দিয়েছিল (Indians)। তেহরানের অভিযোগ, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ইউএইয়ের বন্দর, ডক ও ঘাঁটি ব্যবহার করে খার্গ দ্বীপে হামলা চালিয়েছে। এই দ্বীপেই রয়েছে ইরানের প্রধান তেল রফতানি টার্মিনাল। যদিও এই অভিযোগের পক্ষে কোনও প্রমাণ দেয়নি ইরান (UAE)। এদিকে, যুদ্ধ থামার কোনও লক্ষণ দেখা যাচ্ছে না। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানান, তিনি আশা করেন মিত্র দেশগুলি গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালী নিরাপদ রাখতে যুদ্ধজাহাজ পাঠাবে।

     

  • Kharg Island: ইরানের ‘ক্রাউন জুয়েল’ খার্গ দ্বীপে হামলা আমেরিকার, ব্যাপক প্রভাব পড়তে পারে বিশ্বের তেলের বাজারে?

    Kharg Island: ইরানের ‘ক্রাউন জুয়েল’ খার্গ দ্বীপে হামলা আমেরিকার, ব্যাপক প্রভাব পড়তে পারে বিশ্বের তেলের বাজারে?

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: পশ্চিম এশিয়ায় উত্তেজনা ক্রমেই বাড়তে থাকায় শুক্রবার ইরানের খার্গ দ্বীপে (Kharg Island) বড় ধরনের হামলা চালাল মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র। এখানে থাকা গুরুত্বপূর্ণ একটি সামরিক টার্গেট ধ্বংস করে (Global Oil Crisis)। এই দ্বীপটিকে ইরানের ‘ক্রাউন জুয়েল’ বলা হয়। কারণ এটি দেশের তেল রফতানি নেটওয়ার্কের একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র।

    কী বললেন ট্রাম্প? (Kharg Island)

    মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেন, “মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের এই হামলা কেবল সামরিক পরিকাঠামোগুলিকেই লক্ষ্য করে করা হয়েছে এবং দ্বীপের জ্বালানি পরিকাঠামো এড়িয়ে চলা হয়েছে।” তবে তিনি সতর্ক করে দিয়ে বলেন, “যদি তেহরান হরমুজ প্রণালী (Strait of Hormuz) দিয়ে জাহাজ চলাচলে বাধা দিতে থাকে, তাহলে দ্বীপে থাকা তেলের মজুত ভবিষ্যতে টার্গেট হতে পারে।” ট্রাম্পের হুঁশিয়ারির পর পাল্টা হুঁশিয়ারি দিয়েছে ইরান। সাফ জানিয়ে দিয়েছে, পরিস্থিতি যদি দিন দিন এভাবে আরও উত্তেজনাপূর্ণ হয়ে ওঠে, তাহলে তা বড় ধরনের সংঘাতের রূপ নিতে পারে। কারণ তখন তারা আমেরিকার সঙ্গে সহযোগিতা করা আঞ্চলিক তেল কোম্পানিগুলির জ্বালানি পরিকাঠামোকেও টার্গেট করতে বাধ্য হবে।

    খার্গ দ্বীপ কোথায়?

    ইরানের উপকূল থেকে প্রায় ১৬ মাইল দূরে এবং হরমুজ প্রণালীর প্রায় ৩০০ মাইল উত্তর-পশ্চিমে অবস্থিত খার্গ দ্বীপ। এটি পারস্য উপসাগরের উত্তরের একটি কৌশলগত তেল টার্মিনাল। এই দ্বীপকে বলা হয় ইরানের ‘তেলের জীবনরেখা’। ইরানের মোট তেল রফতানির প্রায় ৯০ শতাংশই হয় এই দ্বীপের মাধ্যমে। বড় বড় তেলবাহী ট্যাঙ্কার প্রথমে দ্বীপে তেল নিয়ে আসে এবং সেখান থেকে তা পারস্য উপসাগর ও হরমুজ প্রণালী হয়ে আন্তর্জাতিক বাজারে পাঠানো হয় (Kharg Island)। এই দ্বীপে প্রবেশাধিকার বন্ধ হয়ে গেলে, তা ব্যাপক প্রভাব ফেলবে ইসলামি প্রজাতন্ত্র ইরানের অর্থনীতিতে।

    কেন খার্গ দ্বীপ ইরানের জন্য গুরুত্বপূর্ণ

    ১৯৮৪ সালের একটি গোপন নথি থেকে প্রাপ্ত সিআইএ নোট অনুযায়ী, দ্বীপটির তেল পরিকাঠামোগুলি ইরানের পেট্রোলিয়াম ব্যবস্থার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অংশ এবং দেশটির অর্থনীতি ও ইরাকের বিরুদ্ধে যুদ্ধ পরিচালনার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এই দ্বীপের সঙ্গে যুক্ত পাইপলাইনগুলি সমুদ্রপথে ইরানের বড় বড় তেল ও গ্যাসক্ষেত্রের সঙ্গে সংযুক্ত (Global Oil Crisis)। জানা গিয়েছে, সমুদ্রের তেলক্ষেত্র আবুজার (Aboozar), ফোরুজান (Forouzan) এবং দোরুদ (Dorood) থেকে অপরিশোধিত তেল এই টার্মিনালে আসে। এরপর জলের নীচের পাইপলাইনের মাধ্যমে তা স্থলভাগের পরিশোধনাগারে পৌঁছয়। সেখানে প্রক্রিয়াকরণ করার পর তেল সংরক্ষণ করা হয় বা আন্তর্জাতিক বাজারে পাঠানো হয় (Kharg Island)।

    প্রভাব পড়তে পারে বিশ্ববাজারে তেলের দামে

    এই দ্বীপে ইরানের তেল মন্ত্রক পরিচালিত তিনটি বড় জ্বালানি পরিকাঠামোও রয়েছে। নিউ ইয়র্ক টাইমসের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এর মধ্যে অন্যতম বড় হল ফালাত ইরান অয়েল কোম্পানি (Falat Iran Oil Company)। এই কোম্পানি প্রতিদিন প্রায় ৫ লক্ষ ব্যারেল অপরিশোধিত তেল উৎপাদন করে। দ্বীপটিতে খার্গ পেট্রোকেমিক্যাল কোম্পানি-সহ একটি বড় পরিকাঠামো রয়েছে, যা তেল ও তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস সংরক্ষণ ও রফতানির জন্য ব্যবহৃত হয়। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই দ্বীপের ওপর কোনও সামরিক হামলা, যেখানে সাধারণ নাগরিকরাও বসবাস করেন (Global Oil Crisis), বিশ্ববাজারে তেলের দাম আরও বাড়িয়ে দিতে পারে (Kharg Island)।

     

  • Iran: ভারতগামী দু’টি এলপিজি ট্যাঙ্কারকে হরমুজ প্রণালী পার হওয়ার অনুমতি দিল ইরান

    Iran: ভারতগামী দু’টি এলপিজি ট্যাঙ্কারকে হরমুজ প্রণালী পার হওয়ার অনুমতি দিল ইরান

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ভারতগামী দু’টি এলপিজি ট্যাঙ্কারকে হরমুজ প্রণালী (Hormuz Strait) দিয়ে পার হওয়ার অনুমতি দিয়েছে ইরান (Iran)। ভারতে নিযুক্ত ইরানের রাষ্ট্রদূত মোহাম্মদ ফাথালির বক্তব্যের কয়েক ঘণ্টা পরেই মিলেছে এই খবর। তিনি ইঙ্গিত দিয়েছিলেন, গুরুত্বপূর্ণ এই বৈশ্বিক নৌপথ (হরমুজ প্রণালী) দিয়ে নিরাপদে চলাচলের অনুমতি দুই থেকে তিন ঘণ্টার মধ্যেই পেতে পারে ভারত। মধ্যপ্রাচ্যে যে সংঘাত চলছে, তার  পরিপ্রেক্ষিতেই ইরানি রাষ্ট্রদূতের এই মন্তব্য। এই সংঘাতের জেরে পারস্য উপসাগরকে বৈশ্বিক বাজারের সঙ্গে যুক্ত করা হরমুজ প্রণালীতে জাহাজ চলাচলের ওপর নজর রাখছে বিশ্বের বিভিন্ন দেশ।

    ইরানি রাষ্ট্রদূতের বক্তব্য (Iran)

    ইরানের রাষ্ট্রদূতকে যখন জিজ্ঞেস করা হয়েছিল ভারত কি হরমুজ প্রণালী দিয়ে নিরাপদে চলাচল করতে পারবে, তখনই তিনি ইতিবাচক ইঙ্গিত দিয়েছিলেন। তিনি বলেছিলেন, “হ্যাঁ, হ্যাঁ, ভবিষ্যতেই আপনি তা দেখতে পাবেন। আমার মনে হয় দুই বা তিন ঘণ্টার মধ্যেই।” ফাথালি বলেন, “ভারত ইরানের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশীদার। এই অঞ্চলে দুই দেশেরই অভিন্ন স্বার্থ রয়েছে।” তিনি বলেন, “আমরা বিশ্বাস করি ইরান ও ভারতের এই অঞ্চলে অভিন্ন স্বার্থ রয়েছে।” ইরানি রাষ্ট্রদূত নয়াদিল্লি ও তেহরানের মধ্যে দীর্ঘদিনের সম্পর্কের কথা মনে করিয়ে দেন। এই সম্পর্ককে তিনি বন্ধুত্ব ও সহযোগিতার ভিত্তিতে গড়ে ওঠা সম্পর্ক হিসেবে বর্ণনা করেন। তিনি বলেন, “আমরা বিশ্বাস করি ইরান ও ভারত বন্ধু। আমাদের অভিন্ন স্বার্থ রয়েছে, রয়েছে অভিন্ন বিশ্বাসও।” কঠিন সময়ে ইরানকে যে ভারত সাহায্য করেছিল, তাও এদিন মনে করিয়ে দেন ফাথালি। তিনি বলেন, “ভারতে রাষ্ট্রদূত হিসেবে আমি বলতে পারি, যুদ্ধের পর এই পরিস্থিতিতে ভারত সরকার বিভিন্ন ক্ষেত্রে আমাদের সাহায্য করেছে।”

    হরমুজ প্রণালীর গুরুত্ব

    প্রসঙ্গত, হরমুজ প্রণালী বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সামুদ্রিক বাণিজ্যপথ। এই পথ দিয়েই বিশ্বের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ তেল ও গ্যাস সরবরাহ করা হয় (Iran)। এই পথে চলাচলে কোনও বিঘ্ন ঘটলে তা জ্বালানি বাজার ও আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের ওপর বড়সড় প্রভাব ফেলতে পারে। ভারতের ক্ষেত্রেও এর গুরুত্ব রয়েছে। কারণ দেশটি তার বড় অংশের অপরিশোধিত তেল এই অঞ্চল থেকেই আমদানি করে (Hormuz Strait)। মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধের কারণে বিভিন্ন সরকার ও শিপিং কোম্পানি হরমুজ প্রণালীর পরিস্থিতির ওপর নিরন্তর নজরদারি চালিয়ে যাচ্ছে। এই প্রেক্ষাপটেই ভারতের জন্য নিরাপদ পথের ইঙ্গিত দেন ফাথালি।

    ভারতে আসছে একের পর এক জাহাজ

    যে দুটি এলপিজি ট্যাঙ্কারকে হরমুজ পার করার অনুমতি দিয়েছে ইরান, সেগুলি হল— শিবালিক ও নন্দাদেবী। এরমধ্যে ভারতীয় পতাকাবাহী এলপিজি ট্যাঙ্কার শিবালিক ভারতীয় নৌবাহিনীর নিরাপত্তায় হরমুজ প্রণালী পার করে আন্তর্জাতিক জলসীমায় প্রবেশ করেছে। দ্বিতীয় জাহাজ নন্দাদেবী আজ, শনিবার ভোরের দিকে ওই প্রণালী অতিক্রম করবে বলেই খবর। মেরিনট্র্যাফিকের ট্র্যাকিং তথ্য অনুযায়ী, ১২ মার্চ শিবালিকের অবস্থান সংযুক্ত আরব আমিরশাহির উপকূল থেকে ২৪ নটিক্যাল মাইল দূরে, তাদের এক্সক্লুসিভ ইকোনমিক জোনের মধ্যেই ছিল। অন্যদিকে, নন্দাদেবীকে শুক্রবার ইরানের জলসীমায় হরমুজ প্রণালীর প্রবেশমুখের কাছে দেখা গিয়েছে বলে মেরিনট্র্যাফিকের তথ্য জানিয়েছে। জানা গিয়েছে, জাহাজটি ২৭ ফেব্রুয়ারি কাতারের রাস লাফান নোঙরস্থলে অবস্থান করেছিল এবং পরে সংযুক্ত আরব আমিরশাহির জলসীমার দিকে যাত্রা করে। এছাড়াও, আরও একটি অপরিশোধিত তেলবাহী ট্যাঙ্কারের শনিবার ভারতে পৌঁছানোর কথা রয়েছে। এই জাহাজে আসছে সৌদি আরবের তেল। লাইবেরিয়া পতাকাবাহী স্মিরনি সুয়েজম্যাক্স ক্রুড অয়েল ট্যাঙ্কার (সর্বোচ্চ ধারণক্ষমতা ১০ লাখ ব্যারেল), অচিরেই ভারতের একটি বন্দরে পৌঁছবে বলেও আশা করা হচ্ছে (Hormuz Strait)। এই তেল নেবে রাষ্ট্রায়ত্ত সংস্থা হিন্দুস্তান পেট্রোলিয়াম কর্পোরেশন (Iran)।

  • MEA: ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে প্রায় ১.৩ লক্ষ ভারতীয় দেশে ফিরেছেন, জানাল বিদেশমন্ত্রক

    MEA: ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে প্রায় ১.৩ লক্ষ ভারতীয় দেশে ফিরেছেন, জানাল বিদেশমন্ত্রক

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: শুক্রবার বিদেশ মন্ত্রক (MEA) নিশ্চিত করেছে যে, ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে এ পর্যন্ত পশ্চিম এশিয়া থেকে প্রায় ১,৩০,০০০ ভারতীয় নাগরিক দেশে ফিরেছেন। একটি আন্তঃদেশীয় প্রতিবেদন পেশ করার সময় উপসাগরীয় অঞ্চলের অতিরিক্ত সচিব অসীম মহাজন এই প্রচেষ্টার কথা বিস্তারিত তুলে ধরেছেন। তিনি উল্লেখ করেছেন, আঞ্চলিক আকাশপথ এখনও অস্থিতিশীল থাকলেও যারা ফিরতে ইচ্ছুক তাদের সুবিধার্থে বাণিজ্যিক এবং অনির্ধারিত ফ্লাইটের সংখ্যা বাড়ানো হচ্ছে।

    রিয়াদ, জেদ্দা, মদিনা এবং দাম্মাম থেকে আসছে বিমান (MEA)

    সংযুক্ত আরব আমিরশাহিতে (UAE) বেশ কয়েকটি বিমানবন্দর থেকে নন-শিডিউল্ড বাণিজ্যিক ফ্লাইট পুনরায় শুরু হয়েছে, যার ফলে যাতায়াতের সুবিধা বেড়েছে। সাম্প্রতিক তথ্যে (MEA) দেখা গেছে যে, কাতার এবং সৌদি আরবের মাধ্যমে প্রায় ২,৯০০ ভারতীয় ফিরে এসেছেন। কাতার এয়ারওয়েজ আগামী দিনগুলিতে ভারতের জন্য প্রতিদিন এক থেকে দুটি ফ্লাইট চালু রাখবে বলে আশা করা হচ্ছে। সৌদি আরবেও পরিস্থিতির একই রকম স্থিতিশীলতা লক্ষ্য করা গেছে, যেখানে এয়ার ইন্ডিয়া এক্সপ্রেস এবং ইন্ডিগো রিয়াধ, জেদ্দা, মদিনা এবং দাম্মাম থেকে তাদের নির্ধারিত পরিষেবা পুনরায় শুরু করেছে। তবে আকাশপথ বন্ধ (Iran) থাকায় কুয়েত এবং ইরাকের পরিস্থিতি এখনও সংবেদনশীল। বর্তমানে এই অঞ্চলে থাকা ভারতীয় নাগরিকদের সৌদি আরবের স্থল সীমান্ত দিয়ে যাতায়াতে সহায়তা করছেন, যাতে তারা সেখান থেকে ফ্লাইটে উঠতে পারেন। এর পাশাপাশি, বিদেশ মন্ত্রক স্পষ্ট করে জানিয়েছে, ১৭০ জন ভারতীয় নাগরিক ইরান থেকে স্থলপথে সফলভাবে আর্মেনিয়ায় প্রবেশ করেছেন যাতে সেখান থেকে বাণিজ্যিক ফ্লাইটে দেশে ফিরতে পারেন।

    মাস্কাটের শিল্পাঞ্চলে ড্রোনের আঘাতে মৃত দুই ভারতীয়

    বিদেশমন্ত্রকের প্রতিবেদনে (MEA) সাম্প্রতিক আঞ্চলিক ঘটনার প্রেক্ষিতে ভারতীয় নাগরিকদের নিরাপত্তার বিষয়টিও আলোচনা করা হয়েছে। ‘সেফসি বিষ্ণু’ (Safesea Vishnu) নামক জাহাজের ১৫ জন ক্রু সদস্যের প্রত্যাবর্তন এবং বসরা-র কাছে একটি হামলায় মৃত ভারতীয়দের দেহ দেশে ফিরিয়ে আনার বিষয়ে সমন্বয় বজায় রেখে প্রক্রিয়া চালানো হচ্ছে বলে জানিয়েছে মন্ত্রক। মাস্কাটের (Iran) একটি শিল্পাঞ্চলে ড্রোনের ধ্বংসাবশেষের আঘাতে দুই ভারতীয় নাগরিকের মৃত্যুর খবরও নিশ্চিত করেছে বিদেশ মন্ত্রক  এবং জানিয়েছে যে আরও দশজন আহত ভারতীয় চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

  • Modi Pezeshkian Discussion: ‘জ্বালানির অবাধ যাতায়াত নিশ্চিতই ভারতের প্রধান অগ্রাধিকার’ ইরানের প্রেসিডেন্টের সঙ্গে কথা মোদির

    Modi Pezeshkian Discussion: ‘জ্বালানির অবাধ যাতায়াত নিশ্চিতই ভারতের প্রধান অগ্রাধিকার’ ইরানের প্রেসিডেন্টের সঙ্গে কথা মোদির

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: শান্তির বার্তা নিয়ে ইরানের প্রেসিডেন্ট ডক্টর মাসুদ পেজেশকিয়ানের (Masoud Pezeshkian) সঙ্গে কথা বললেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি (PM Modi)। মধ্যপ্রাচ্য যখন কার্যত বারুদের স্তূপের ওপর দাঁড়িয়ে, ঠিক সেই সময়েই গুরুত্বপূর্ণ পরামর্শ দিলেন মোদি (Modi Pezeshkian Discussion)। একই সঙ্গে জানিয়ে দিলেন ভারতীয় নাগরিকদের নিরাপত্তা, সেইসঙ্গে পণ্য ও জ্বালানির অবাধ যাতায়াত নিশ্চিত করাই এখন ভারতের প্রধান অগ্রাধিকার। ১২ মার্চ অনুষ্ঠিত এই আলোচনায় ওই অঞ্চলে বাড়তে থাকা সংঘাত, সাধারণ মানুষের প্রাণহানি এবং গুরুত্বপূর্ণ পরিকাঠামোর ক্ষয়ক্ষতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন মোদি। দুই রাষ্ট্রপ্রধানের মধ্যে বর্তমান আঞ্চলিক পরিস্থিতি নিয়ে দীর্ঘক্ষণ কথা হয়। পরে প্রধানমন্ত্রী নিজেই সোশ্যাল হ্য়ান্ডেলে সেই আলোচনার কথা তুলে ধরলেন।

    আন্তর্জাতিক মহলকে উদ্যোগী হওয়ার বার্তা

    সামাজিক মাধ্যমে এক পোস্টে প্রধানমন্ত্রী জানান, বর্তমান পরিস্থিতিতে মানবিক দিকটি বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে দেখা জরুরি এবং শান্তিপূর্ণ সমাধানের জন্য আন্তর্জাতিক মহলকে উদ্যোগী হতে হবে। মোদি বলেন, “ওই অঞ্চলের সামগ্রিক পরিস্থিতি নিয়ে ইরানের প্রেসিডেন্ট ডক্টর মাসুদ পেজেশকিয়ানের সঙ্গে আলোচনা করেছি।” পশ্চিম এশিয়ায় যেভাবে যুদ্ধের পরিবেশ তৈরি হচ্ছে, যেভাবে একের পর এক হামলায় সাধারণ মানুষের মৃত্যু হচ্ছে, তা নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেন প্রধানমন্ত্রী। স্পষ্ট ভাষায় লেখেন, “ইরানের প্রেসিডেন্টের সঙ্গে আলোচনায় যেভাবে উত্তেজনার আবহে সাধারণ মানুষের প্রাণহানি হচ্ছে, প্রচুর ক্ষয়ক্ষতি হচ্ছে সে বিষয়েও গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছি।”

    ভারতীয়দের নিরাপত্তা ও বাণিজ্যিক স্বার্থে জোর

    আলোচনায় প্রধানমন্ত্রী মোদি স্পষ্ট করে জানান, উপসাগরীয় অঞ্চলে বসবাসকারী ভারতীয় নাগরিকদের নিরাপত্তা ভারতের কাছে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার। পাশাপাশি দেশের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি সরবরাহ এবং পণ্য পরিবহণ যাতে নির্বিঘ্নে চলতে পারে, সেই বিষয়টিও তিনি গুরুত্ব দিয়ে তুলে ধরেন। মোদি নিজেই তাঁর পোস্টে জানান, যুদ্ধের আবহে ভারতের স্বার্থ রক্ষার পাশাপাশি মধ্যপ্রাচ্যে কর্মরত কয়েক লক্ষ ভারতীয়র সুরক্ষাকেই সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দিচ্ছেন তিনি।

    ভারত শান্তি এবং সুস্থিতির পক্ষে

    ভারত সরকার এই সংকট সমাধানে কূটনৈতিক সংলাপ ও আলোচনার পথেই জোর দিচ্ছে বলে জানান প্রধানমন্ত্রী। আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে সব পক্ষকে সংযম ও আলোচনার পথে এগিয়ে আসার আহ্বান জানানো হয়েছে। ভারত যে কোনওভাবেই যুদ্ধ চায় না, বরং আলোচনার মাধ্যমেই সমাধান খোঁজার পক্ষপাতী, তা আবারও বিশ্বমঞ্চে মনে করিয়ে দিয়েছেন মোদি। তিনি তাঁর পোস্টে লেখেন, “শান্তি ও স্থিতিশীলতার প্রতি ভারতের অঙ্গীকারের কথা আবারও ওনাকে বলেছি। আলোচনা ও কূটনীতির পথে হাঁটার আহ্বান জানিয়েছি।” প্রধানমন্ত্রী মোদির এই বার্তা আবার প্রমাণ করেছে ভারত শান্তি এবং সুস্থিতির পক্ষে।

    মোদিকে বার্তা পেজেশকিয়ানের

    মোদিকে পেজেশকিয়ান বলেন, ইরান যুদ্ধকে দীর্ঘায়িত করতে চায় না। তবে তারা আয়াতোল্লা আলি খামেনেই এবং ইরানের স্কুল ছাত্রীদের মৃত্যুর প্রতিশোধ নিতে বদ্ধপরিকর। এদিকে এই অঞ্চলে শান্তি বজায় রাখতে ব্রিকস গোষ্ঠীর ভূমিকার তাৎপর্য তুলে ধরেন পেজেশকিয়ান। এর আগে ১১ মার্চ রুশ এবং পাক নেতাদের সঙ্গে আলোচনার পরে পেজেশকিয়ান জানিয়েছিলেন, তিন শর্তে ইরান যুদ্ধ বন্ধে রাজি হবে- আন্তর্জাতিক স্তরে ইরানের ন্যায্য অধিকার মেনে নিতে হবে। সাম্প্রতিক হামলায় ইরানের যে ক্ষতি হয়েছে, তার জন্য ক্ষতিপূরণ দিতে হবে। এবং ভবিষ্যতে যাতে আর কোনও হামলা না ঘটে সে বিষয়ে নিশ্চয়তা দিতে হবে।

    উচ্চপর্যায়ের কূটনৈতিক যোগাযোগ

    বিদেশ মন্ত্রক জানিয়েছে, ভারতের বিদেশমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর (S Jaishankar) ইতিমধ্যেই ইরানের বিদেশমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচির (Abbas Araghchi) সঙ্গে একাধিকবার কথা বলেছেন। এই আলোচনায় বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলের নিরাপত্তা এবং ভারতের জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করার বিষয়টি গুরুত্ব পেয়েছে। বিশেষ করে কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালী দিয়ে ভারতীয় তেলবাহী জাহাজের নিরাপদ যাতায়াত নিশ্চিত করার বিষয়েও আলোচনা হয়েছে।

    ইরানে থাকা ভারতীয়দের সহায়তা

    বিদেশ মন্ত্রকের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল জানিয়েছেন, বর্তমানে ইরানে প্রায় ৯ হাজার ভারতীয় নাগরিক রয়েছেন, যাদের মধ্যে ছাত্র ও তীর্থযাত্রীরা আছেন। তাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ভারত সরকার সক্রিয়ভাবে কাজ করছে। সংকটের সময় অনেক ভারতীয়কে ইতিমধ্যেই দূতাবাসের সহায়তায় দেশে ফেরানো হয়েছে এবং প্রয়োজনে আরও সহায়তার ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। ওই অঞ্চলে থাকা ভারতীয়দের নিরাপদ এলাকায় স্থানান্তর করার কাজও চলছে। সামগ্রিকভাবে ইরানে থাকা ভারতীয় নাগরিকদের সুরক্ষা নিশ্চিত করতে সরকার একাধিক পদক্ষেপ নিয়েছে বলে জানিয়েছে বিদেশ মন্ত্রক। তেহরানে অবস্থিত ভারতীয় দূতাবাস যারা দেশ ছাড়তে চান তাদের জন্য বিশেষ সহায়তা দিচ্ছে। প্রয়োজনে আর্মেনিয়া ও আজারবাইজানের স্থলপথ ব্যবহার করে সেখান থেকে বাণিজ্যিক বিমানে ভারতে ফেরার ব্যবস্থা করা হচ্ছে। দূতাবাস ভিসা প্রক্রিয়া, সীমান্ত পারাপার এবং যাত্রাপথের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতেও সক্রিয়ভাবে সাহায্য করছে।

    ‘হরমুজ প্রণালী’

    এদিকে হরমুজ প্রণালী নিয়ে এই সংকটের আবহে বৃহস্পতিবার সংবাদসংস্থা রয়টার্স প্রথমে ভারতীয় সূত্রকে উদ্ধৃত করে দাবি করে, ভারত এবং ইরান, দুই দেশের বিদেশমন্ত্রীদের মধ্য়ে কথা হওয়ার পর, ভারতের জাহাজগুলিকে হরমুজ প্রণালী দিয়ে আসার অনুমতি দিয়েছে ইরান। কিন্তু পরে সংবাদসংস্থা রয়টার্স-ই ইরানের একটি সূত্রকে উদ্ধৃত করে জানায় যে, ভারতের সঙ্গে ইরানের এরকম কোনও চুক্তি হয়নি। ভারতীয় বিদেশমন্ত্রকের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল বলেন, “ভারতের বিদেশমন্ত্রী ও ইরানের বিদেশমন্ত্রীর মধ্যে সম্প্রতি ৩ বার কথোপকথন হয়েছে। শেষ কথা হয়েছে জাহাজ পরিবহণের নিরাপত্তা এবং ভারতের জ্বালানি নিরাপত্তা নিয়ে। এর বেশি আমার পক্ষে বলা সম্ভব নয়।” তবে বুধবারই হরমুজ পার করে আসা একটি জাহাজ মুম্বইতে পৌঁছেছে। এর আগে অবশ্য গোটা বিশ্বের উদ্বেগ বাড়িয়ে ইরানের সদ্য় মনোনীত সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনেই হুঙ্কারের সুরে জানিয়ে দিয়েছেন, কোনওভাবেই ‘হরমুজ প্রণালী’ (Strait of Hormuz) খোলা হবে না। এটাকে আমেরিকা ও ইজরায়েলকে চাপে রাখার কৌশল হিসাবে ব্যবহার করা হবে। তাঁর আরও হুঁশিয়ারি, “শহিদদের মৃত্যুর বদলা আমরা নেবই। কারণ, তাঁরা আমাদের সর্বোচ্চ নেতার জন্য জীবন দিয়েছেন।”

    মোদির বার্তা, ভারত-ইরান যোগ কূটনৈতিক উদ্যোগ

    আমেরিকা-ইজরায়েলের সঙ্গে ইরানের (US-Iran Conflict) অবিরাম যুদ্ধ চলছে। কেউ কাউকে ছেড়ে কথা বলছে না। একের পর এক প্রাণহানি হচ্ছে। এদিকে হরমুজ প্রণালী দিয়ে জাহাজ যেতে না দিয়ে ইজরায়েল-আমেরিকার পাশাপাশি কার্যত গোটা বিশ্বের মাথাব্য়াথার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে ইরান। কারণ এই রুট দিয়েই তেলবহনকারী জাহাজগুলি যাতায়াত করে। একমাত্র রাশিয়া ও চিনকে ‘হরমুজ প্রণালী’ দিয়ে জাহাজ চলাচল করার অনুমতি দিয়েছে ইরান। এই পরিস্থিতিতে ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ানের সঙ্গে কথা বললেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। গতমাসে পশ্চিম এশিয়ায় সংঘর্ষ শুরু হওয়ার পর এই প্রথম তাঁদের কথা হল। যা যথেষ্ট তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল। আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিশেষজ্ঞদের মতে, আমেরিকা-ইজরায়েল তো বটেই এবং ইরানের সঙ্গেও ভারতের সুসম্পর্ক রয়েছে। এই পরিস্থিতিতে ভারসাম্য বজায় রেখে প্রধানমন্ত্রী যেভাবে শান্তি ও কূটনীতির বার্তা দিলেন, তা বিশ্বমঞ্চে ভারতের কূটনৈতিক অবস্থানের দৃঢ়তাই আরও স্পষ্ট করছে।

  • Strait of Hormuz: বড় কূটনৈতিক জয় দিল্লির! জয়শঙ্করের ফোনের পরেই হরমুজ দিয়ে ভারতগামী ট্যাঙ্কার ছাড়ল ইরান, তেল পৌঁছল মুম্বই

    Strait of Hormuz: বড় কূটনৈতিক জয় দিল্লির! জয়শঙ্করের ফোনের পরেই হরমুজ দিয়ে ভারতগামী ট্যাঙ্কার ছাড়ল ইরান, তেল পৌঁছল মুম্বই

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: বড় কূটনৈতিক সাফল্য ভারতের। বুধবার ইরানের বিদেশমন্ত্রী আরাঘচির সঙ্গে ফোনে কথা হয় ভারতের বিদেশমন্ত্রী এস জয়শঙ্করের (S Jaishankar)। এর পরেই হরমুজ প্রণালীতে সেফ প্যাসেজ পেল ভারতের অশোধিত তেলবাহী জাহাজ। ভারতের জ্বালানি বহনকারী ট্যাঙ্কারকে হরমুজ প্রণালী পার হওয়ার সবুজ সঙ্কেত দিল ইরান। বুধবার সন্ধ্যায় মুম্বই বন্দরে একটি জাহাজ পৌঁছেও গিয়েছে।  বিদেশ মন্ত্রক সূত্রে খবর, হরমুজে (Strait Of Hormuz) আটকে থাকা ভারতের বাকি জাহাজগুলিও সেফ প্যাসেজের প্রতিশ্রুতি দিয়েছে তেহরান। যুদ্ধের ১৩তম দিনে তেল সঙ্কটে ভোগা ভারতে স্বস্তি।

    ভারতের পতাকাবাহী জাহাজগুলি যাতায়াতের অনুমতি

    মধ্যপ্রাচ্যে ভয়ংকর যুদ্ধের জেরে জ্বালানি সংকটে ধুঁকছে বিশ্ব। ইরানের হামলার আতঙ্কে থমকে গিয়েছে হরমুজ প্রণালী দিয়ে তৈল বাণিজ্য। কার্যত গোটা বিশ্বের জন্য হরমুজ বন্ধ করে দেয় ইরান। ব্যতিক্রম ছিল রাশিয়া এবং চিন। এবার সেই তালিকায় নাম জুড়ে গেল ভারতের। সূত্রের খবর, ইরানের বিদেশমন্ত্রক মৌখিকভাবে ভারতের পতাকাবাহী জাহাজগুলি যাতায়াতের অনুমতি দিয়েছে। ভারতীয় পতাকা লাগানো জাহাজকে হরমুজ প্রণালী দিয়ে যেতে দেবে ইরান, আক্রমণ করা হবে না তাকে। এমনটাই জানিয়েছে ইরান। তবে ইজরায়েল, আমেরিকা, এবং ইউরোপের সব জাহাজে এখনও নিষেধাজ্ঞা জারি রেখেছে ইরানের ইসলামিক রেভেলুশনারি গার্ড কোর।

    মোদি সরকারের কূটনৈতিক ‘কৌশল’

    মোদি সরকারের কূটনৈতিক ‘কৌশলে’ মন গলল ইরানের। হরমুজ প্রণালি (Strait of Hormuz) দিয়ে ভারতের জাহাজ চলাচলের অনুমতি দল ইরান। সূত্রের খবর, ইতিমধ্যেই পুস্পক এবং পরিমল নামের দুই পণ্যবাহী জাহাজও নিরাপদে হরমুজ পেরিয়ে ভারতের উদ্দেশে রওনা দিয়েছে বলেও খবর। শীঘ্রই ভারতের বন্দরে এই জাহাজ দু’টি পৌঁছবে। এছাড়া দেশ মহিমা, দেশ অভিমান, স্বর্ণ কমল, বিশ্ব প্রেরণা, জগ বিরাট, জগ লোকেশ এবং এলএনজিসি অসীম নামের জাহাজগুলি ইতিমধ্যেই আরব সাগরে পৌঁছে গিয়েছে হরমুজ প্রণালী পার করে। একদিন আগেই ইরানের বিদেশমন্ত্রী সৈয়দ আরাঘচির সঙ্গে ফোনে কথা বলেন বিদেশমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর। জানা যাচ্ছে, এই ফোনালাপে পশ্চিম এশিয়ার বর্তমান পরিস্থিতি ও বাণিজ্যিক জাহাজগুলির নিরাপত্তা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয় দুই রাষ্ট্রনেতার মধ্যে। হরমুজে ভারতীয় জাহাজ চলাচল নিয়েও আলোচনা হয় আরাগাছি এবং জয়শঙ্করের মধ্যে। এর আগেও বার দু’য়েক ইরানের বিদেশমন্ত্রীর সঙ্গে কথা বলেন জয়শঙ্কর। বস্তুত গত দুসপ্তাহ ধরে লাগাতার ব্যাক চ্যানেলে আলোচনা চলছে দু’দেশের। তাতেই মিলল সাফল্য। আপাতত অন্তত হরমুজের ওপারে আটকে থাকা জাহাজগুলি নিরাপদে ফেরানোর অনুমতি পাওয়া গিয়েছে বলে খবর।

    কেন ভারতকে অনুমতি

    ইরান যুদ্ধে শুরু থেকেইপ্রকাশ্যে ‘নিরপেক্ষ’ অবস্থান নিয়েছে। অন্তত । কিন্তু ভারত মহাসাগরে ভারতীয় জলসীমার অদূরে ইরানের রণতরীতে মার্কিন হামলার পর ভারত সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দেয়। এর মধ্যে আবার হরমুজেই আক্রান্ত হয় ভারতীয় পণ্যবাহী একটি তাইল্যান্ডের জাহাজ। তাতে ভারতীয় নাবিকের মৃত্যুও হয়। তারপরই মোদি সরকার ইরানের সঙ্গে আলোচনায় তৎপরতা বাড়ায়। সেটারই সুফল মিলল। এর ফলে দ্রুত দেশের জ্বালানি সমস্যা মিটবে বলে আশা করা হচ্ছে।

    হরমুজ পার করে মুম্বই বন্দরে

    এদিকে বুধবার হরমুজ পার করে আসা একটি জাহাজ মুম্বইতে পৌঁছেছে। লাইবেরিয়ার পতাকা লাগানো ওই জাহাজটির নাম শেনলং সুয়েজম্যাক্স (Shenlong Suezmax)। ওই জাহাজে ছিল ভারতের জন্য জ্বালানি। গত ১ মার্চ জাহাজটি সৌদি আরবের রাস টানুরা বন্দরে ক্রুড অয়েল ভরেছিল । তার দু’দিন পরে সেটি ওই বন্দর থেকে রওনা দেয়। জাহাজের ক্যাপ্টেন ছিলেন এক ভারতীয়। ৮ মার্চ ওই জাহাজের শেষ সিগন্যাল পাওয়া গিয়েছিল হরমুজ প্রণালীতে। জাহাজটিতে ছিল ১ লক্ষ ৩৫ হাজার ৩৩৫ মেট্রিক টন ক্রুড অয়েল। মুম্বই পোর্ট অথরিটির ডেপুটি কনজারভেটর প্রবীণ সিং জানিয়েছেন, জাহাজে থাকা ক্রুড অয়েল পূর্ব মুম্বইয়ের মাহুলের রিফাইনারিতে নিয়ে যাওয়া হবে। মুম্বইয়ে শেনলংয়ের প্রতিনিধি জিতেন্দ্র যাদব জানান, শেনলং সুয়েজম্যাক্স জাহাজে ছিলেন ২৯ জন ভারতীয়, পাকিস্তানি এবং ফিলিপাইন্সের ক্রু। জাহাজে ক্যাপ্টেনের ভূমিকায় ছিলেন সুকান্ত সিং সান্ধু।

    কীভাবে ভারতে এল তেলবাহী জাহাজ

    লাইবেরিয়ার পতাকাবাহী জাহাজটি ১ মার্চ সৌদি আরবের রাস তানুরা বন্দর থেকে রওনা দেয়। সামুদ্রিক ট্র্যাকিং তথ্য থেকে জানা যায় যে, জাহাজটির সিগন্যাল শেষবার ৮ মার্চ হরমুজ প্রণালীর ভিতরে পর্যবেক্ষণ ব্যবস্থায় দেখা গিয়েছিল, তারপর নিখোঁজ হয়ে যায়। এর থেকে বোঝা যায় যে, জাহাজের ক্রুরা বিপজ্জনক জলপ্রপাত অতিক্রম করার সময় জাহাজের স্বয়ংক্রিয় শনাক্তকরণ ব্যবস্থা (AIS) এবং ট্রান্সপন্ডার বন্ধ করে দিয়েছিলেন। ফার্স্টপোস্টের এক প্রতিবেদন অনুসারে, উচ্চ-ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা সফলভাবে অতিক্রম করার পর, পরের দিন ভারতের দিকে যাত্রা শুরু করার সময় জাহাজটি আবার সামুদ্রিক ট্র্যাকিং সিস্টেমে দেখা দেয়।

    হরমুজ নিয়েই গত কয়েকদিনে উত্তেজনা

    গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানের উপর ইজরায়েল এবং আমেরিকার যৌথ হামলার পর ইরানের ইসলামিক রেভোলিউশনারি গার্ড কর্পস (IRGC) এই গুরুত্বপূর্ণ জলপথ হরমুজ প্রণালী বন্ধ করে দিয়েছিল। হরমুজ দিয়ে কোনও জাহাজ পার করার চেষ্টা করলে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হবে বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছিল তেহরান। এই হরমুজ নিয়েই গত কয়েকদিনে আরও চড়েছে পশ্চিম এশিয়ায় সংঘাতের পারদ। একদিকে, ইরানের হুঁশিয়ারি—নিজেদের নিয়ন্ত্রণাধীন এই প্রণালী দিয়ে এক বিন্দু তেলও রফতানি হতে দেবে না তারা। অন্যদিকে আমেরিকার হুমকি—ইরান যদি হরমুজ প্রণালীতে মাইন পুঁতে অন্য দেশের জাহাজকে ধ্বংসের চেষ্টা করে, তবে ফল ভালো হবে না। সবমিলিয়ে এই জলপথ দিয়ে আন্তর্জাতিক জাহাজ চলাচল বন্ধ হওয়ায় বিশ্বজুড়ে তেলের সরবরাহে বড় সমস্যা তৈরি হয়।

    হরমুজ প্রণালীর আশে পাশে ভারতীয় জাহাজের অবস্থান

    ভারতের শিপিংয়ের ডিরেক্টর জেনারেল জানিয়েছেন, যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে ২৮টি ভারতীয় পতাকাবাহী জাহাজ এখনও হরমুজে আটকে। যুদ্ধ শুরু হওয়ার ঠিক আগে হরমুজ প্রণালী পার করে আটটি ভারতীয় পতাকাবাহী জাহাজ সমুদ্রের সুরক্ষিত অঞ্চলে পৌঁছে গিয়েছিল। এদিকে ভারতের জাহাজ পরিবহন মন্ত্রক জানিয়েছে, বর্তমানে পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলে ২৮টি ভারতীয় পতাকাবাহী জাহাজ চলাচল করছে। এর মধ্যে ৬৭৭ জন ভারতীয় নাবিকসহ ২৪টি জাহাজ হরমুজ প্রণালীর পশ্চিমে এবং ১০১ জন ভারতীয় নাবিকসহ চারটি জাহাজ প্রণালীর পূর্ব দিকে অবস্থান করছে। ভারতীয় জাহাজ ও নাবিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ২৪ ঘণ্টার একটি নিয়ন্ত্রণ কক্ষ চালু করা হয়েছে বলে মন্ত্রকের তরফে জানানো হয়েছে। পরিস্থিতির উপর নজর রাখতে এবং প্রয়োজনে দ্রুত সহায়তা সমন্বয় করতে এই ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।

  • S Jaishankar: “ভারতীয় উপভোক্তাদের স্বার্থই সরকারের সর্বোচ্চ অগ্রাধিকারের তালিকায়”, বললেন জয়শঙ্কর

    S Jaishankar: “ভারতীয় উপভোক্তাদের স্বার্থই সরকারের সর্বোচ্চ অগ্রাধিকারের তালিকায়”, বললেন জয়শঙ্কর

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: “পশ্চিম এশিয়ায় ক্রমবর্ধমান সংঘাতের প্রেক্ষিতে ভারতীয় উপভোক্তাদের স্বার্থই সরকারের সর্বোচ্চ অগ্রাধিকারের তালিকায় থাকবে।” সোমবার রাজ্যসভায় সাফ জানিয়ে দিলেন ভারতের বিদেশমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর (S Jaishankar)। সতর্ক করে (Iran War) দিয়ে তিনি বলেন, “এই সঙ্কটের কারণে বিঘ্ন ঘটতে পারে সরবরাহ শৃঙ্খলে।”

    জয়শঙ্করের বক্তব্য (S Jaishankar)

    বিরোধী সাংসদদের স্লোগানের মধ্যেই সংসদে বক্তব্য রাখতে গিয়ে জয়শঙ্কর বলেন, সম্প্রতী ওই অঞ্চলে সংঘাত আরও তীব্র হয়েছে। এতে জ্বালানি সরবরাহ, নৌ-পথ এবং বৈশ্বিক বাণিজ্য সরবরাহ নিয়ে উদ্বেগের সৃষ্টি হয়েছে। তিনি জানান, সরকার পরিস্থিতি ঘনিষ্ঠভাবে পর্যবেক্ষণ করছে এবং এর সম্ভাব্য প্রভাব ভারতের অর্থনীতি ও সরবরাহ ব্যবস্থার ওপর কী  হতে পারে, তা মূল্যায়ন করা হচ্ছে। তিনি বলেন, “আমাদের সরকার ২০ ফেব্রুয়ারি একটি বিবৃতি দিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে এবং সব পক্ষকে সংযম প্রদর্শনের আহ্বান জানিয়েছে।” জয়শঙ্কর এও বলেন, “উত্তেজনা কমাতে আলোচনা ও কূটনীতির পথই অনুসরণ করা উচিত বলে আমরা এখনও বিশ্বাস করি।” মন্ত্রী বলেন, “পশ্চিম এশিয়ার স্থিতিশীলতা বৈশ্বিক জ্বালানি বাজার এবং ভারতের অর্থনৈতিক স্বার্থের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।” তিনি বলেন, “পশ্চিম এশিয়াকে অবশ্যই স্থিতিশীল ও শান্তিপূর্ণ থাকতে হবে।” তিনি জানান, ভারত তার আন্তর্জাতিক অংশীদারদের সঙ্গে যোগাযোগ রাখছে এবং পরিস্থিতির ওপর কড়া নজর রাখছে।

    জাতীয় স্বার্থকে অগ্রাধিকার

    জয়শঙ্কর বলেন, “ভারতের জাতীয় স্বার্থ—বিশেষ করে জ্বালানি নিরাপত্তা এবং ভারতীয় উপভোক্তাদের কল্যাণ—সরকারের প্রধান অগ্রাধিকার। ওই অঞ্চলে বসবাসকারী ও কর্মরত বিপুল সংখ্যক ভারতীয় নাগরিকের নিরাপত্তা এবং কল্যাণ নিশ্চিত করাও সরকারের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব।” সংসদে তিনি জানান, ক্রমবর্ধমান উত্তেজনার মধ্যে প্রায় ৬৭,০০০ ভারতীয় নাগরিক ইতিমধ্যেই দেশে ফিরে এসেছেন। ইরানের অনুরোধে ওই অঞ্চলে তিনটি জাহাজকে ভারতীয় বন্দরে প্রবেশের অনুমতি দেওয়ার সিদ্ধান্তের অংশ হিসেবে ভারত আইআরআইএস লাভান নামের একটি ইরানি যুদ্ধজাহাজকে কোচি বন্দরে নোঙর করার অনুমতি দেয়। ১ মার্চ এই অনুমোদন দেওয়া হয়, জাহাজটি বন্দরে পৌঁছয় ৪ মার্চ (S Jaishankar)।

    ইরানি নৌ-জাহাজ

    এর আগে শনিবার রাইসিনা ডায়ালগে ভাষণ দিতে গিয়ে জয়শঙ্কর বলেছিলেন, “ভারত এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে মানবিকতার খাতিরে, কোনও ভূরাজনৈতিক বিবেচনা থেকে নয়। জাহাজটিতে ১৮৩ জন নাবিক ছিলেন, যাঁদের বেশিরভাগই তরুণ ক্যাডেট, এবং যাত্রাপথে জাহাজটির প্রযুক্তিগত একটি সমস্যা দেখা দিয়েছিল (Iran War)।” এই ঘটনার কয়েক দিন পরে ৪ মার্চ ভারত মহাসাগরে আর একটি ইরানি নৌ-জাহাজ আইআরআইএস ডেনা ডুবে যায় একটি মার্কিন সাবমেরিনের হামলায়। এতে ৮০ জনেরও বেশি নাবিক নিহত হন। পরে শ্রীলঙ্কা নেভি প্রায় ৩২ জনকে উদ্ধার করে (S Jaishankar)।

    বিপদের সংকেত

    এই ঘটনাকে দুঃখজনক বলে উল্লেখ করেন জয়শঙ্কর। তিনি বলেন, জাহাজটি বিপদের সংকেত পাঠিয়েছিল। অনুসন্ধান ও উদ্ধার অভিযানের জন্য ভারত সেখানে আগেই মোতায়েন করেছিল সামুদ্রিক বিভিন্ন সরঞ্জাম, যার মধ্যে ছিল টহলদারি বিমান এবং নৌবাহিনীর জাহাজও। মন্ত্রী বলেন, “লাভান জাহাজটিকে নোঙর করার অনুমতি দেওয়া ছিল সঠিক সিদ্ধান্ত।” তিনি ফের মনে করিয়ে দেন, “পরিস্থিতির আরও অবনতি রুখতে ভারত সব পক্ষকে সংযম প্রদর্শন এবং কূটনৈতিক (Iran War) আলাপ-আলোচনা চালিয়ে যাওয়ার আহ্বানও জানিয়ে যাচ্ছে (S Jaishankar)।”

     

  • Iran-US Conflict : ‘আর হামলা নয়’… প্রতিবেশীদের সঙ্গে শত্রুতা নেই, হঠাৎ সুর নরম ইরানের

    Iran-US Conflict : ‘আর হামলা নয়’… প্রতিবেশীদের সঙ্গে শত্রুতা নেই, হঠাৎ সুর নরম ইরানের

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: আমেরিকা-ইরানের যুদ্ধের আঁচ ছড়িয়ে পড়েছে পশ্চিম এশিয়ার সর্বত্র। ইজরায়েল-আমেরিকার (Iran-US Conflict) যৌথ অভিযানের প্রত্যাঘাত স্বরূপ পশ্চিম এশিয়ার একাধিক দেশে হামলা চালায় তেহরান। সৌদি আরব, কাতার, কুয়েত থেকে ওমান, বাহরিন… মুহুর্মুহু ইরানি মিসাইলে কেঁপে উঠেছে। তবে, এবার থেকে আর প্রতিবেশী দেশগুলিতে হামলা চালাবে না ইরান। প্রতিবেশী দেশগুলির কাছে ক্ষমা চেয়ে নিলেন ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান। জানালেন, ইরানের উপর মার্কিন বা ইজরায়েলি হামলায় মদত না দিলে আর কোনও প্রতিবেশী দেশকে তাঁরা আক্রমণ করবেন না। তবে একই সঙ্গে আমেরিকার প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে কঠোর বার্তা দিয়েছেন পেজেশকিয়ান।

    হঠাৎ কেন সুর নরম

    ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান বলেন,“আমি প্রতিবেশী রাষ্ট্রগুলির কাছে ক্ষমা চাইছি। অন্য দেশগুলির উপর আক্রমণের কোনও ইচ্ছা ছিল না আমাদের।” এরপর তাদের উপর আর কোনও হামলা না হলে, তাহলেও তারাও পাল্টা হামলা চালাবে না প্রতিবেশী রাষ্ট্রগুলির উপর। উপসাগরীয় এলাকার দেশগুলির সঙ্গে ইরানের শত্রুতা নেই। শনিবার যুদ্ধ দ্বিতীয় সপ্তাহে প্রবেশ করেছে। কখন যুদ্ধ শেষ হবে তা নিয়ে অনিশ্চয়তা বেড়েই চলেছে। গত শনিবার মার্কিন-ইজরায়েলি যৌথ হামলায় ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতোল্লা আলি খামেনেইয়ের মৃত্যুর পর প্রাথমিক ভাবে একটি অন্তর্বর্তী কাউন্সিল গঠন করেছিল তেহরান। প্রেসিডেন্ট-সহ তিন সদস্যের সেই কাউন্সিলের হাতেই আপাতত রয়েছে দেশ চালানোর ভার। পেজেশকিয়ান জানিয়েছেন, সেই অন্তর্বর্তী কাউন্সিল প্রতিবেশীদের আর আক্রমণ না করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

    ভুল বোঝাবুঝির কারণে এই পরিস্থিতি

    মার্কিন-ইজরায়েলি হামলার প্রত্যাঘাত করতে গিয়ে বিভিন্ন দেশের মার্কিন ঘাঁটি আক্রমণ করছিল তেহরান। অনেক দেশ এই আচরণের সমালোচনা করেছে। বলা হয়েছে, অযথা শান্তিপূর্ণ দেশগুলিকে যুদ্ধে টেনে আনছে ইরান। তবে তেহরানও সিদ্ধান্তে এত দিন অনড় ছিল। তাদের দাবি, এই পরিস্থিতির জন্য আমেরিকা এবং ইজরায়েল দায়ী। কারণ, যুদ্ধ তারা শুরু করেনি। অবশেষে তেহরান কিছুটা সুর নরম করল। পেজেশকিয়ানের দাবি, সামরিক বাহিনীর মধ্যে ভুল বোঝাবুঝির কারণে এই পরিস্থিতি তৈরি হয়েছিল। আর ইরান অযথা কোনও প্রতিবেশীর উপর হামলা চালাবে না। বিশ্লেষকদের মতে, সাম্প্রতিক সংঘাতের পর এই ঘোষণা আঞ্চলিক উত্তেজনা কমানোর একটি প্রচেষ্টা হতে পারে।

    ট্রাম্পকে হুঁশিয়ারি

    মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প তেহরানের উপর নতুন করে চাপ সৃষ্টি করেছেন। ইরানের “নিঃশর্ত আত্মসমর্পণ” দাবি করেছেন তিনি। তবে, পেজেশকিয়ান স্পষ্ট জানিয়েছেন, কোনওভাবেই তাঁরা আত্মসমর্পণ করবে না। পেজেশকিয়ান জানান, এই ধরনের প্রত্যাশা অবাস্তব। ইরানের আত্মসমর্পণের স্বপ্ন তাঁদের স্বপ্নই থেকে যাবে। শনিবার রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে সম্প্রচারিত ভাষণে প্রেসিডেন্ট পেজেশকিয়ান জানান, অন্তর্বর্তী নেতৃত্ব পরিষদ আক্রমণ স্থগিত করার সিদ্ধান্ত অনুমোদন করেছে। তবে একইসঙ্গে তিনি স্পষ্ট করে দেন, ইরান কোনওভাবেই যুক্তরাষ্ট্র বা ইজরায়েলের কাছে আত্মসমর্পণ করবে না। তাঁর কথায়, শত্রুরা যদি মনে করে ইরানের জনগণ আত্মসমর্পণ করবে, সেই আশা তাদের কবর পর্যন্ত নিয়ে যেতে হবে। এই মন্তব্য থেকেই স্পষ্ট, উত্তেজনা কমানোর বার্তা দিলেও ইরান এখনও কঠোর অবস্থানেই রয়েছে।

LinkedIn
Share