Tag: khobar

  • India Slams Pakistan: রাষ্ট্রসংঘে পাকিস্তানকে ‘সেনাবাহিনীর পুতুল’ বলে কটাক্ষ ভারতের, সন্ত্রাস চালালে পরিণতি ভোগের হুঁশিয়ারি

    India Slams Pakistan: রাষ্ট্রসংঘে পাকিস্তানকে ‘সেনাবাহিনীর পুতুল’ বলে কটাক্ষ ভারতের, সন্ত্রাস চালালে পরিণতি ভোগের হুঁশিয়ারি

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: রাষ্ট্রসংঘের সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফের বক্তব্যের কড়া জবাব দিল ভারত। কাশ্মীর প্রসঙ্গ উত্থাপন থেকে শুরু করে সন্ত্রাসবাদ ও মানবাধিকার নিয়ে ইসলামাবাদের অবস্থানের (India Slams Pakistan) তীব্র সমালোচনা করল নয়াদিল্লি। পাকিস্তানের শাসনব্যবস্থাকে সেনাবাহিনীর নিয়ন্ত্রণাধীন বলে অভিযোগ করার পাশাপাশি ভারত স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে, সীমান্তপারের সন্ত্রাসবাদ অব্যাহত থাকলে তার পরিণতি ভোগ করতে হবে পাকিস্তানকে।

    শুক্রবার রাষ্ট্রসংঘের (UN) সাধারণ পরিষদে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রীর ভাষণের পর জবাব দেওয়ার অধিকার প্রয়োগ করে ভারত। রাষ্ট্রসংঘে ভারতের স্থায়ী মিশনের ফার্স্ট সেক্রেটারি পেটাল গহলৌত পাকিস্তানের বিরুদ্ধে একাধিক অভিযোগ তোলেন। তাঁর বক্তব্যে উঠে আসে পাকিস্তানের অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক পরিস্থিতি, সেনাবাহিনীর প্রভাব, সন্ত্রাসবাদ এবং পাক অধিকৃত কাশ্মীরের মানবাধিকার পরিস্থিতি।

    পাকিস্তানে সেনাবাহিনীর কর্তৃত্ব নিয়ে সরব ভারত (India Slams Pakistan)

    গণতান্ত্রিক অধিকার ও মানবিক মূল্যবোধ নিয়ে পাকিস্তানের বক্তব্যকে দ্বিচারিতা বলে অভিহিত করেন গহলৌত। তাঁর অভিযোগ, যে দেশের রাজধানীকে নিজেদের নাগরিকদের হাত থেকে সুরক্ষিত রাখতে নিরাপত্তাব্যবস্থা জোরদার করতে হয়, সেই দেশের সরকারের মুখে গণতন্ত্র ও মানবাধিকারের কথা মানায় না।

    পাকিস্তানের শাসনব্যবস্থায় সেনাবাহিনীর প্রভাব বোঝাতে সে দেশের ২৭তম সংবিধান সংশোধনীর প্রসঙ্গও তোলেন ভারতীয় কূটনীতিক। তাঁর বক্তব্য, পাকিস্তানে নির্বাচিত সরকার বদলালেও প্রকৃত ক্ষমতা সেনাবাহিনীর হাতেই থাকে।

    ২০২৫ সালের নভেম্বরে পাকিস্তানে গৃহীত ২৭তম সংবিধান সংশোধনীর মাধ্যমে সেনাপ্রধান ফিল্ড মার্শাল আসিম মুনিরের ক্ষমতা বৃদ্ধি করা হয়। তাঁকে চিফ অব ডিফেন্স ফোর্সেসের দায়িত্ব দেওয়ার পাশাপাশি আজীবন আইনি সুরক্ষা দেওয়া হয়েছে। সংশোধনীর ফলে দেশটির সুপ্রিম কোর্টের ক্ষমতাও সীমিত হয়েছে।

    এই সংশোধনীর উল্লেখ করে গহলৌত দাবি করেন, পাকিস্তানে প্রকৃত ক্ষমতা কার হাতে রয়েছে, তা নিয়ে আন্তর্জাতিক মহলের কোনও বিভ্রান্তি থাকা উচিত নয়।

    সংঘর্ষ থামাতে ট্রাম্পের ভূমিকার প্রশংসা শরিফের

    রাষ্ট্রসংঘের সাধারণ পরিষদে নিজের ভাষণে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশংসা করেন পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ। ২০২৫ সালে ভারত-পাকিস্তান সংঘর্ষের সময় ট্রাম্পের হস্তক্ষেপের জন্য তাঁকে ধন্যবাদ জানান তিনি। শরিফের দাবি, মার্কিন প্রেসিডেন্টের সময়োচিত পদক্ষেপ দক্ষিণ এশিয়ার কয়েক কোটি মানুষের জীবন রক্ষা করেছে।

    প্রায় ২৩ মিনিটের ভাষণে কাশ্মীর সমস্যার কথাও তোলেন পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী। তাঁর বক্তব্য, দক্ষিণ এশিয়াকে ভবিষ্যতে ২০২৫ সালের মতো সামরিক সংঘাতের পরিস্থিতি থেকে দূরে রাখতে কাশ্মীর সমস্যার ন্যায়সঙ্গত সমাধান প্রয়োজন (India Slams Pakistan)।

    শরিফের এই বক্তব্যেরও বিরোধিতা করেছে ভারত। নয়াদিল্লির অবস্থান স্পষ্ট করে গহলৌত জানান, জম্মু ও কাশ্মীর ভারতের অবিচ্ছেদ্য অংশ এবং ভবিষ্যতেও তাই থাকবে।

    পাক অধিকৃত কাশ্মীরে মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগ

    কাশ্মীর প্রসঙ্গে পাকিস্তানের সমালোচনার জবাবে পাক অধিকৃত জম্মু ও কাশ্মীরের পরিস্থিতি তুলে ধরেন ভারতীয় প্রতিনিধি। রাওয়ালাকোটে সাধারণ মানুষের উপর নির্যাতন, হত্যাকাণ্ড এবং মৌলিক অধিকার থেকে বঞ্চিত করার অভিযোগের দিকে আন্তর্জাতিক মহলের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন তিনি।

    পাক অধিকৃত কাশ্মীরে বিতর্কিত ১২টি শরণার্থী আসনকে কেন্দ্র করে কয়েক মাস ধরে বিক্ষোভের প্রসঙ্গও উঠে আসে। সেখানকার আইনসভার সাম্প্রতিক নির্বাচনে কারচুপি এবং বিক্ষোভকারীদের বিরুদ্ধে নিরাপত্তা বাহিনীর দমনমূলক পদক্ষেপের অভিযোগ রয়েছে।

    সন্ত্রাসবাদ নিয়ে পাকিস্তানকে হুঁশিয়ারি

    পাকিস্তানের বিরুদ্ধে দীর্ঘদিন ধরে সীমান্তপারের সন্ত্রাসবাদে মদত দেওয়ার অভিযোগ করে আসছে ভারত। রাষ্ট্রসংঘের মঞ্চেও সেই অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করেন গহলৌত। তিনি জানান, সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে আত্মরক্ষার অধিকার প্রয়োগ করতে ভারত পিছপা হবে না।

    এ প্রসঙ্গে ২০২৫ সালের ৭ মে ভারতের চালানো অপারেশন সিঁদুরের উল্লেখ করা হয়। ওই অভিযানে পাকিস্তান এবং পাক অধিকৃত কাশ্মীরে জঙ্গি পরিকাঠামোকে নিশানা করেছিল ভারত। ২২ এপ্রিল পহেলগাঁওয়ে জঙ্গি হামলায় ২৬ জন সাধারণ নাগরিক নিহত হওয়ার পর ওই সামরিক অভিযান চালানো হয়।

    গহলৌত সতর্ক করে জানান, পাকিস্তানের তরফে সন্ত্রাসবাদ অব্যাহত থাকলে তার প্রভাব দুই দেশের সম্পর্কের উপরও পড়বে। পারস্পরিক বন্ধুত্ব ও সদিচ্ছার ভিত্তিতে গড়ে ওঠা বোঝাপড়াও প্রশ্নের মুখে পড়তে পারে।

    ওসামা বিন লাদেনের প্রসঙ্গ তুলে আক্রমণ

    পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্যের জবাব দিতে গিয়ে ২০০১ সালের ১১ সেপ্টেম্বর আমেরিকায় সন্ত্রাসবাদী হামলার প্রসঙ্গ তোলেন ভারতীয় কূটনীতিক। ওই হামলার ২৫তম বার্ষিকী পালনের মাত্র দু’সপ্তাহের মধ্যে রাষ্ট্রসংঘে পাকিস্তানের বক্তব্যের সমালোচনা করেন তিনি।

    গহলৌত মনে করিয়ে দেন, ৯/১১ হামলার মূল পরিকল্পনাকারী ওসামা বিন লাদেন পাকিস্তানের সামরিক অ্যাকাডেমির কাছেই দীর্ঘদিন আত্মগোপন করে ছিলেন। সন্ত্রাসবাদ নিয়ে পাকিস্তানের অবস্থানকে প্রশ্নবিদ্ধ করতে এই ঘটনার উল্লেখ করেন তিনি।

    ধর্মীয় অসহিষ্ণুতা নিয়ে শরিফের মন্তব্যেরও জবাব দেয় ভারত। গহলৌতের অভিযোগ, পাকিস্তানে ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের পরিস্থিতি এবং ধর্মনিন্দা সংক্রান্ত আইনের প্রয়োগের ইতিহাস বিবেচনা করলে সে দেশের সরকারের ধর্মীয় সহিষ্ণুতা নিয়ে বক্তব্য গ্রহণযোগ্য নয়।

    পাকিস্তানের বিরুদ্ধে (UN) মিথ্যা তথ্য প্রচার ও দ্বিচারিতার অভিযোগ তুলে ভারতীয় প্রতিনিধি বলেন, একই অভিযোগ বছরের পর বছর পুনরাবৃত্তি করলেই তা সত্য হয়ে যায় না। সন্ত্রাসবাদ এবং প্রতারণার নীতি পাকিস্তান কিংবা আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়, কারও স্বার্থই রক্ষা করবে না।

    রাষ্ট্রসংঘের সাধারণ পরিষদে দুই দেশের এই জবাব-পাল্টা জবাবের মধ্যে দিয়ে আরও একবার সামনে এল কাশ্মীর, সীমান্তপারের সন্ত্রাসবাদ এবং দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক নিয়ে ভারত ও পাকিস্তানের অবস্থানগত বিরোধ (India Slams Pakistan)।

     

  • Kashmir: ৩৬ বছর পর খুলল কাশ্মীরের ঐতিহাসিক শীতলনাথ মন্দির, পুজোয় ফিরলেন কাশ্মীরি পণ্ডিতরা

    Kashmir: ৩৬ বছর পর খুলল কাশ্মীরের ঐতিহাসিক শীতলনাথ মন্দির, পুজোয় ফিরলেন কাশ্মীরি পণ্ডিতরা

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: দীর্ঘ ৩৬ বছরের অপেক্ষার অবসান। ফের ভক্তদের জন্য খুলে দেওয়া হল শ্রীনগরের হাব্বা কদল এলাকার ঐতিহাসিক (Kashmir) শীতলনাথ মন্দির। ১৯৯০ সালে কাশ্মীরি পণ্ডিতদের উপত্যকা ছেড়ে চলে যাওয়ার পর থেকেই বন্ধ হয়ে পড়েছিল প্রাচীন এই মন্দির। সংস্কারের পর মন্দিরটি ফের চালু হওয়ায় দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে পুজো দিতে আসেন বহু কাশ্মীরি পণ্ডিত। তাঁদের স্বাগত জানান স্থানীয় কাশ্মীরি মুসলিমরাও। মন্দির পুনরায় (Sheetalnath Mandir) চালু হওয়ার দিন ঘণ্টাধ্বনি, বৈদিক মন্ত্রোচ্চারণ ও যজ্ঞের মধ্য দিয়ে বিশেষ পুজোর আয়োজন করা হয়। দীর্ঘ কয়েক দশক পর পূর্বপুরুষদের স্মৃতিবিজড়িত এই ধর্মস্থানে ফিরে আসেন বহু কাশ্মীরি হিন্দু। তাঁদের সঙ্গে স্থানীয় মুসলিমদের উপস্থিতি কাশ্মীরের দীর্ঘদিনের সম্প্রীতি ও বহুত্ববাদী সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের কথাও স্মরণ করিয়ে দেয়।

    অশান্তির জেরে ক্ষতিগ্রস্ত মন্দিরের পুনর্নির্মাণ (Kashmir)

    ১৯৯০ সালে কাশ্মীর উপত্যকা থেকে বিপুলসংখ্যক কাশ্মীরি পণ্ডিতের চলে যাওয়ার পর শীতলনাথ মন্দিরে নিয়মিত পুজো বন্ধ হয়ে যায়। পরবর্তী কয়েক দশক ধরে অযত্নে পড়ে থাকা মন্দিরটি ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। উপত্যকায় অশান্তির সময় অগ্নিসংযোগের ঘটনাতেও মন্দির চত্বরের ক্ষতি হয়েছিল। জম্মু ও কাশ্মীরের সংস্কৃতি দফতরের সহযোগিতায় মন্দির সংস্কারের দায়িত্ব নেয় শ্রীনগর স্মার্ট সিটি লিমিটেড (SSCL)। সংস্কার প্রকল্পের আওতায় মন্দিরের গর্ভগৃহ এবং যজ্ঞশালার মতো গুরুত্বপূর্ণ অংশের কাঠামোগত পুনর্নির্মাণ করা হয়। এর ফলে মন্দিরটি আবার ভক্তদের প্রবেশ ও পুজোর উপযোগী হয়ে উঠেছে। এর আগে ২০২১ সালের বসন্ত পঞ্চমীতে মন্দিরে পুজোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল। তবে সেই সময় মন্দিরের কাঠামো অত্যন্ত ক্ষতিগ্রস্ত থাকায় নিয়মিত দর্শনার্থীদের প্রবেশের অনুমতি দেওয়া সম্ভব হয়নি।

    কাশ্মীরি শৈবধর্মের প্রাচীন উপাসনাস্থল

    কাশ্মীরের ধর্মীয় ইতিহাসে শীতলনাথ মন্দিরের বিশেষ গুরুত্ব রয়েছে। কাশ্মীরি শৈবধর্মের সঙ্গে যুক্ত এই মন্দিরকে প্রাচীন অষ্টভৈরবের অন্যতম বলে মনে করা হয়। প্রচলিত ধর্মীয় বিশ্বাস অনুযায়ী, শ্রীনগরের রক্ষাকর্তা আট দেবতার মধ্যে শীতলনাথ অন্যতম (Kashmir)। স্থানীয় লোককথায় ঋষি কশ্যপ এবং সতীসর সংক্রান্ত পৌরাণিক কাহিনির সঙ্গেও এই মন্দিরের সম্পর্ক রয়েছে।

    একই চত্বরে পড়াশোনা করত হিন্দু ও মুসলিম শিশুরা

    ধর্মীয় গুরুত্বের পাশাপাশি শ্রীনগরের সামাজিক ও রাজনৈতিক ইতিহাসেও শীতলনাথ মন্দিরের উল্লেখযোগ্য ভূমিকা রয়েছে। ১৯৯০ সালের আগে মন্দির চত্বরে প্রাথমিক ও উচ্চমাধ্যমিক বিদ্যালয় ছিল। সেখানে হিন্দু ও মুসলিম পরিবারের শিশুরা একসঙ্গে পড়াশোনা করত। বিংশ শতাব্দীতে কাশ্মীরের গুরুত্বপূর্ণ সামাজিক ও রাজনৈতিক সমাবেশের কেন্দ্র হিসেবেও পরিচিত ছিল এই মন্দির চত্বর। মহাত্মা গান্ধী, জওহরলাল নেহরু, ইন্দিরা গান্ধী এবং অটলবিহারী বাজপেয়ীর মতো জাতীয় নেতাদের উপস্থিতিতে এখানে জনসভা অনুষ্ঠিত হয়েছিল।

    বাস্তুচ্যুত কাশ্মীরি পণ্ডিতদের কাছে বিশেষ তাৎপর্য

    উপত্যকা ছেড়ে দেশের বিভিন্ন জায়গায় বসবাস করতে বাধ্য হওয়া কাশ্মীরি পণ্ডিত পরিবারগুলির কাছে শীতলনাথ মন্দিরের পুনরায় চালু হওয়ার বিশেষ গুরুত্ব রয়েছে। এর মাধ্যমে দীর্ঘদিন পর তাঁদের পূর্বপুরুষদের ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের সঙ্গে সরাসরি যুক্ত হওয়ার সুযোগ তৈরি হয়েছে। প্রশাসনিক আধিকারিকদের বক্তব্য, শীতলনাথ মন্দিরের সংস্কার জম্মু ও কাশ্মীরের ঐতিহাসিক ধর্মীয় স্থানগুলি সংরক্ষণের বৃহত্তর প্রকল্পের অংশ। দীর্ঘ অশান্তির সময়ে ক্ষতিগ্রস্ত কিংবা অবহেলিত হয়ে পড়া মন্দিরের (Sheetalnath Mandir) পাশাপাশি সুফি দরগা, গুরুদ্বার ও মসজিদের সংস্কারও এই উদ্যোগের অন্তর্ভুক্ত। তিন দশকেরও বেশি সময় পর শীতলনাথ মন্দিরের দরজা খুলে যাওয়ায় শ্রীনগরের একটি ঐতিহাসিক ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক কেন্দ্র আবার জনজীবনের অংশ হয়ে উঠল (Kashmir)।

     

  • Suvendu Adhikari: বিদ্যুৎ বিলে বছরে ৩০ হাজার পর্যন্ত সাশ্রয়, ধানের দাম কুইন্টালে ২৭০০ টাকা! বর্ধমানে কল্পতরু শুভেন্দু

    Suvendu Adhikari: বিদ্যুৎ বিলে বছরে ৩০ হাজার পর্যন্ত সাশ্রয়, ধানের দাম কুইন্টালে ২৭০০ টাকা! বর্ধমানে কল্পতরু শুভেন্দু

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: সেচের বিদ্যুৎ খরচ কমাতে ইউনিট পিছু দু’টাকা ভর্তুকি, ধান কেনার দাম বৃদ্ধি এবং কৃষকদের বার্ষিক আর্থিক সহায়তায় অতিরিক্ত বরাদ্দ (Suvendu Adhikari)। শুক্রবার পূর্ব বর্ধমানের প্রশাসনিক সভা থেকে কৃষিক্ষেত্রের জন্য একাধিক সিদ্ধান্ত ঘোষণা করলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। তাঁর ঘোষণা অনুযায়ী, রাজ্যের চার লাখেরও বেশি কৃষক বিদ্যুৎ ভর্তুকির আওতায় আসবেন। পাশাপাশি, সরকারি ব্যবস্থায় কুইন্টাল প্রতি ২৭০০ টাকায় ধান কেনা হবে। কৃষকদের জন্য কেন্দ্র ও রাজ্যের সম্মিলিত বার্ষিক আর্থিক সহায়তার পরিমাণ দাঁড়াবে ৯০০০ টাকা।

    সেচের বিদ্যুতে ভর্তুকি (Suvendu Adhikari)

    কৃষিকাজে বৈদ্যুতিক পাম্পসেট ব্যবহারকারী কৃষকদের জন্য প্রতি ইউনিট বিদ্যুতে দু’টাকা করে ভর্তুকি দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে রাজ্য সরকার। মুখ্যমন্ত্রীর হিসাব অনুযায়ী, এই সুবিধার ফলে একজন কৃষকের বছরে প্রায় ২৫ থেকে ৩০ হাজার টাকা পর্যন্ত বিদ্যুৎ খরচ কমতে পারে। পূর্ব বর্ধমানের প্রায় ২৫ হাজার কৃষক এই প্রকল্পে উপকৃত হবেন। সরকারি ঘোষণা অনুযায়ী, চলতি বছরের ১ অগাস্ট থেকে এই ভর্তুকি কার্যকর বলে গণ্য করা হবে। রাজ্যজুড়ে প্রকল্পটি বাস্তবায়নের জন্য অতিরিক্ত ৩০০ কোটি টাকা ব্যয় করবে সরকার।

    ধানের দাম ২৭০০ টাকা, সরাসরি কিনবে সরকার

    ধানচাষিদের জন্যও নতুন আর্থিক সুবিধার কথা জানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। কুইন্টাল প্রতি নির্ধারিত ২৫০০ টাকার সঙ্গে রাজ্য আরও ২০০ টাকা যোগ করবে। ফলে সরকারি ক্রয়কেন্দ্রে ধান বিক্রি করে কৃষকেরা কুইন্টাল প্রতি মোট ২৭০০ টাকা পাবেন। পাঁচ একর পর্যন্ত জমির মালিকদের কাছ থেকে সরাসরি ধান কেনার কথা জানিয়েছে রাজ্য সরকার। ধান কেনার প্রক্রিয়ায় ফড়ে বা অন্য কোনও মধ্যস্বত্বভোগীর ভূমিকা থাকবে না বলেও ঘোষণা করেছেন মুখ্যমন্ত্রী। একই সঙ্গে ১০০ কুইন্টাল ধান বিক্রি করলে অতিরিক্ত ২০ হাজার টাকা উৎসাহ ভাতা দেওয়ার কথাও জানিয়েছেন তিনি।

    পিএম কিষানে বছরে ৯০০০ টাকা, কৃষকবন্ধু প্রকল্পের পুনর্মূল্যায়ন

    কৃষকদের সরাসরি আর্থিক সহায়তার পরিমাণও বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে রাজ্য। পিএম কিষান সম্মাননিধি প্রকল্পে কেন্দ্রের বার্ষিক ৬০০০ টাকার সঙ্গে আরও ৩০০০ টাকা দেবে রাজ্য সরকার। প্রয়োজনীয় যাচাইয়ের মাধ্যমে নতুন আবেদনকারীদেরও প্রকল্পে অন্তর্ভুক্ত করা হবে। পাশাপাশি, আগামী ৩০ সেপ্টেম্বরের মধ্যে কৃষকবন্ধু প্রকল্পের সুবিধাভোগীদের পুনর্মূল্যায়নের কাজ শেষ করার কথা জানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। জমির পরিমাণ অনুযায়ী বছরে ৪০০০ থেকে ৬০০০ টাকা আর্থিক সহায়তা দেওয়ার পরিকল্পনাও তুলে ধরেন (Power Bill) তিনি।

    আলুচাষিদের জন্য ডিসেম্বরে বিশেষ প্যাকেজ

    ধানচাষিদের পাশাপাশি আলুচাষিদের সমস্যার কথাও উঠে আসে মুখ্যমন্ত্রীর বক্তব্যে। পূর্ববর্তী তৃণমূল সরকারের বিরুদ্ধে সারের কালোবাজারি, আন্তঃরাজ্য সীমানায় বিধিনিষেধ এবং হিমঘর মালিকদের উপর চাপ সৃষ্টির অভিযোগ তোলেন তিনি। তাঁর দাবি, এসব কারণে অতীতে আলুচাষিদের আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়তে হয়েছিল। আসন্ন আলুচাষের মরশুমের আগে বিশেষ আর্থিক প্যাকেজ ঘোষণার আশ্বাস দিয়েছেন শুভেন্দু। ডিসেম্বরের মধ্যেই ভর্তুকিযুক্ত সার এবং অন্যান্য সরকারি সহায়তার বিষয়ে বিস্তারিত জানানো হবে বলে জানিয়েছেন তিনি (Suvendu Adhikari)।

    পূর্ব বর্ধমানে পরিকাঠামো প্রকল্পের উদ্বোধন

    কৃষকদের জন্য আর্থিক ঘোষণা ছাড়াও এ দিনের সভা থেকে একাধিক উন্নয়ন প্রকল্পের উদ্বোধন ও শিলান্যাস করেন মুখ্যমন্ত্রী। ভাতারে প্রায় ১২৩ কোটি ৪৯ লাখ টাকার পরিকাঠামো প্রকল্পের পাশাপাশি ৩৩ কোটি টাকা ব্যয়ে তিনটি পৃথক প্রকল্পের উদ্বোধনের কথাও জানানো হয়। দক্ষিণ ২৪ পরগনার রাজপুর সোনারপুর ও বিষ্ণুপুরে বিদ্যুৎ সাব-স্টেশন এবং পূর্ব বর্ধমানের জামালপুরের চৌবেরিয়ায় ইডেন খালের উপর নতুন সেতুর উদ্বোধনও এই কর্মসূচির অন্তর্ভুক্ত ছিল। বিভিন্ন সরকারি প্রকল্পের সুবিধাভোগীদের হাতে কৃষি, সেচ, বিদ্যুৎ ভর্তুকি এবং সূর্যঘর প্রকল্পের চেক তুলে দেওয়া হয় (Power Bill)।

    ১২৫ দিনের কাজের প্রতিশ্রুতি

    কৃষি ও পরিকাঠামোর পাশাপাশি রাজ্যের অন্যান্য সরকারি প্রকল্প নিয়েও বক্তব্য রাখেন মুখ্যমন্ত্রী। ১২৫ দিনের গ্রামীণ কর্মসংস্থান, অন্নপূর্ণা, আবাস, আয়ুষ্মান ভারত এবং জল জীবন মিশনের মতো প্রকল্পের অগ্রগতির কথা তুলে ধরেন তিনি। রাজ্যে দুর্নীতি রোধের প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করার পাশাপাশি অভিন্ন দেওয়ানি বিধি (ইউসিসি) কার্যকর করা এবং ‘লাভ জিহাদ’ ও ‘ল্যান্ড জিহাদ’ প্রতিরোধে কঠোর আইন আনার পরিকল্পনার কথাও জানান শুভেন্দু। পূর্ব বর্ধমানকে রাজ্যের গুরুত্বপূর্ণ কৃষি উৎপাদন কেন্দ্র হিসেবে উল্লেখ করে মুখ্যমন্ত্রী জানান, কৃষকদের আয় বৃদ্ধি, সেচের খরচ কমানো এবং সরকারি সহায়তা সরাসরি তাঁদের কাছে পৌঁছে দেওয়ার উপর গুরুত্ব দিচ্ছে তাঁর সরকার (Suvendu Adhikari)।

     

  • RSS: শতবর্ষের কর্মসূচির সমাপ্তি দিল্লিতে, ২৯ নভেম্বর লক্ষাধিক স্বয়ংসেবকের সমাবেশে ভাষণ দেবেন মোহন ভাগবত

    RSS: শতবর্ষের কর্মসূচির সমাপ্তি দিল্লিতে, ২৯ নভেম্বর লক্ষাধিক স্বয়ংসেবকের সমাবেশে ভাষণ দেবেন মোহন ভাগবত

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক:  আরএসএসের শতবর্ষ উপলক্ষে বছরভর আয়োজিত কর্মসূচির সমাপ্তি হতে চলেছে দিল্লিতে। ২৯ নভেম্বর রাজধানীতে এক বিরাট সমাবেশের পরিকল্পনা করেছে আরএসএস। সেখানে ভাষণ দেবেন (RSS) সরসংঘচালক মোহন ভাগবত। সংগঠনের পরিকল্পনা অনুযায়ী, এই সমাবেশে ‘গণবেশ’ পরে যোগ দেবেন প্রায় এক লাখ স্বয়ংসেবক। সমাজের বিভিন্ন স্তরের আরও ৫০ হাজার আমন্ত্রিত ব্যক্তিও উপস্থিত থাকবেন। যদিও অনুষ্ঠানের জায়গা এখনও চূড়ান্ত হয়নি (Mohan Bhagwat)। এর আগে ২০ অক্টোবর নাগপুরের রেশিমবাগে অনুষ্ঠিত হবে সংঘের বার্ষিক বিজয়া দশমী উৎসব। সকাল ৭টা ৪০ মিনিটে অনুষ্ঠান শুরু হওয়ার কথা। প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন দৈনিক জাগরণের প্রধান সম্পাদক সঞ্জয় গুপ্ত। উৎসবে ভাষণ দেবেন মোহন ভাগবত। ১৯২৫ সালে বিজয়া দশমীর দিন নাগপুরে কেশব বলিরাম হেডগেওয়ারের হাতে প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল আরএসএস। ২০২৫ সালের বিজয়া দশমীতে সংগঠনটির প্রতিষ্ঠার ১০০ বছর পূর্ণ হয়। শতবর্ষ উপলক্ষে দেশজুড়ে একাধিক কর্মসূচি গ্রহণ করে সংঘ। চলতি বছরের বিজয়া দশমী উৎসব সেই শতবর্ষ উদ্‌যাপনের পরবর্তী বছরের বার্ষিক আয়োজন। সংঘ সূত্রের খবর, দিল্লির সমাবেশের মধ্যে দিয়েই দেশজুড়ে চলা স্বয়ংসেবকদের একত্রীকরণ কর্মসূচির ইতি টানা হবে। সেখানে সংগঠনের একশো বছরের যাত্রাপথের পাশাপাশি সাম্প্রতিক জাতীয় ও সামাজিক বিষয়গুলি নিয়ে ভাগবত বক্তব্য রাখতে পারেন।

    শতবর্ষে দেশজুড়ে একাধিক কর্মসূচি (RSS)

    শতবর্ষ উপলক্ষে স্বয়ংসেবকদের সংগঠিত করার পাশাপাশি সমাজের বিভিন্ন অংশের মানুষের সঙ্গে যোগাযোগ বাড়াতে একাধিক কর্মসূচি নিয়েছিল আরএসএস। তার মধ্যে অন্যতম ছিল প্রবুদ্ধ নাগরিক সম্মেলন। চিকিৎসক, অধ্যাপক, ইঞ্জিনিয়ার-সহ বিভিন্ন পেশার মানুষের কাছে সংঘের আদর্শ ও কর্মকাণ্ড তুলে ধরাই ছিল এই উদ্যোগের উদ্দেশ্য। এ ছাড়া গৃহসম্পর্ক অভিযানের মাধ্যমে বাড়ি বাড়ি গিয়ে সাধারণ মানুষের সঙ্গে কথা বলা এবং সংগঠন সম্পর্কে প্রচারপত্র বিলির পরিকল্পনা নেওয়া হয়। গ্রাম ও শহরে হিন্দু সম্মেলনের আয়োজনের মাধ্যমে হিন্দু সমাজের বিভিন্ন অংশের মধ্যে ঐক্য ও সামাজিক সম্প্রীতি বাড়ানোর লক্ষ্যও নির্ধারণ করেছিল সংঘ। ২০২৫ সালের ৭ জুলাই সংঘের সর্বভারতীয় প্রচারপ্রধান সুনীল আম্বেকর জানিয়েছিলেন, সংগঠনের কাঠামো অনুযায়ী দেশের ৫৮ হাজার ৯৬৪টি মণ্ডল এবং ৪৪ হাজার ৫৫টি বস্তিতে হিন্দু সম্মেলনের পরিকল্পনা রয়েছে। পাশাপাশি ১১ হাজার ৩৬০টি ব্লক ও শহরে সামাজিক সম্প্রীতি বৈঠক এবং সংঘের সাংগঠনিক কাঠামোর অন্তর্গত ৯২৪টি জেলায় বিশিষ্ট নাগরিকদের নিয়ে আলোচনাসভার আয়োজনের কথাও জানিয়েছিলেন তিনি। শতবর্ষের কর্মসূচিতে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে ‘পঞ্চ পরিবর্তনে’র উপর। সামাজিক সম্প্রীতি, কুটুম্ব প্রবোধন বা পারিবারিক সচেতনতা, নাগরিক কর্তব্য, পরিবেশ সংরক্ষণ এবং স্বদেশি তথা আত্মনির্ভরতা—এই পাঁচটি বিষয়কে সামনে রেখে বিভিন্ন স্তরে কর্মসূচি গ্রহণ করে সংঘ। জাতপাতের বিভাজন কমানোর লক্ষ্যেও সামাজিক সম্প্রীতি বৈঠকের আয়োজন করা হয়।

    দেশে-বিদেশে ভাগবতের জনসংযোগ

    শতবর্ষ উপলক্ষে দেশের পাশাপাশি বিদেশেও একাধিক কর্মসূচিতে অংশ নিয়েছেন মোহন ভাগবত। নিউইয়র্কের ম্যাডিসন স্কোয়্যার গার্ডেনে প্রবাসী ভারতীয়দের উদ্দেশে ভাষণ দেওয়ার পাশাপাশি লন্ডন ও টরন্টো সফর করেছেন (RSS) তিনি। ২০২৫ সালের ২৬ থেকে ২৮ অগাস্ট দিল্লির বিজ্ঞান ভবনে তিন দিনের বক্তৃতামালার আয়োজন করেছিলেন ভাগবত। সেখানে সংঘের একশো বছরের ইতিহাস এবং বিভিন্ন বিষয়ে সংগঠনের অবস্থান তুলে ধরা হয়। এর আগে ২০১৮ সালেও একাধিক বিতর্কিত বিষয়ে সংঘের অবস্থান ব্যাখ্যা করতে প্রকাশ্য বক্তৃতার আয়োজন করেছিলেন তিনি। চলতি বছরের ৬ আগস্ট মুম্বইয়ে জেন জি পড়ুয়াদের সঙ্গেও মতবিনিময় করেন ভাগবত। দিল্লির যন্তরমন্তরে তরুণদের বিক্ষোভ শেষ হওয়ার কয়েক দিন পরেই ওই অনুষ্ঠান হয়েছিল। তবে সংঘ সূত্রের দাবি, মুম্বইয়ের কর্মসূচি কয়েক মাস আগেই নির্ধারিত হয়েছিল। দিল্লি বা অন্য শহরের তরুণদের বিক্ষোভের প্রতিক্রিয়া হিসেবে ওই অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়নি।

    সংঘের বিজয়া দশমী উদযাপন

    সংঘের পরিকল্পনা অনুযায়ী, নাগপুরের বিজয়া দশমী উৎসবের পর নভেম্বরের শেষ দিকে দিল্লির সমাবেশের মধ্য দিয়ে শতবর্ষের কর্মসূচি শেষ হবে (Mohan Bhagwat)। সংগঠনের সূত্রের দাবি, সারা বছর ধরে বিভিন্ন শহরে আয়োজিত স্বয়ংসেবকদের একত্রীকরণ কর্মসূচির শেষ পর্ব হিসেবেই দিল্লির সভাকে দেখা হচ্ছে (RSS)। প্রসঙ্গত, বাংলায় বিজয়া দশমী হলে, উৎসবটি তামাম ভারতে পরিচিক দশেরা নামে। এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ হিন্দু উৎসব। প্রতি বছর নবরাত্রির শেষে পালিত হয় এই উৎসব। যেহেতু আরএসএসের প্রতিষ্ঠাদিবস এটি, তাই বিজয়া দশমীই হল তাদের অন্যতম প্রধান বার্ষিক অনুষ্ঠান। প্রতি বছর এই দিনটিতে নাগপুরের রেশিমবাগ মাঠে জাঁকজমক সহকারে বিজয়া দশমী পালন করে আরএসএস। অনুষ্ঠানে সংঘচালক স্বয়ংসেবকদের উদ্দেশে ভাষণ দেন। পুজো করা হয় অস্ত্র এবং শাস্ত্র। স্বয়ংসেবকরা পূর্ণ গণবেশে রুট মার্চে অংশ নেন। গত বছর বিজয়া দশমীতে সংঘ পা দিয়েছে শতবর্ষে। সেই উপলক্ষেই বছরভর পালিত হয় নানা কর্মসূচি।

     

  • PM Modi: মহালয়ায় ইডেনে মোদি-শুভেন্দুর মেগা শো, পাঁচ পুজোর উদ্বোধন থেকে ড্রোন প্রদর্শনী, দেখুন পুজোর জাঁক

    PM Modi: মহালয়ায় ইডেনে মোদি-শুভেন্দুর মেগা শো, পাঁচ পুজোর উদ্বোধন থেকে ড্রোন প্রদর্শনী, দেখুন পুজোর জাঁক

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: দুর্গাপুজোর কার্নিভালের পরিবর্তে এবার মহালয়াতেই বিশেষ আয়োজন রাজ্যের প্রথম বিজেপি সরকারের। ১০ অক্টোবর ইডেন গার্ডেন্সে দুর্গোৎসবের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকার কথা প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি (PM Modi) এবং মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর। সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, হাজার হাজার ঢাকির পরিবেশনা, পুজোর উদ্বোধন থেকে ড্রোন শো—সব মিলিয়ে বড় আয়োজনের প্রস্তুতি চলছে। শুক্রবার সেই প্রস্তুতি খতিয়ে দেখতে ক্রিকেট অ্যাসোসিয়েশন অফ বেঙ্গলের (সিএবি) কর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করেন রাজ্য প্রশাসনের (Eden Gardens Mahalaya) শীর্ষ আধিকারিকরা।

    সূত্রের খবর, বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন কলকাতার পুর কমিশনার স্মিতা পাণ্ডে, পুলিশ কমিশনার অজয় নন্দা এবং পর্যটন ও তথ্য-সংস্কৃতি দফতর-সহ একাধিক বিভাগের আধিকারিকরা। অনুষ্ঠানের দায়িত্বপ্রাপ্ত ইভেন্ট ম্যানেজমেন্ট সংস্থার প্রতিনিধিরাও বৈঠকে যোগ দেন। মহালয়ার অনুষ্ঠানের সম্ভাব্য সূচি ও সামগ্রিক আয়োজনের পরিকল্পনা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়।

    রেড রোডে রোড শো (PM Modi)

    প্রাথমিক সূচি অনুযায়ী, ১০ অক্টোবর বিকেল ৫টা থেকে ইডেনে শুরু হবে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। প্রায় ৬ হাজার শিল্পীর অংশগ্রহণের পরিকল্পনা রয়েছে। সন্ধ্যা ৭টা নাগাদ স্টেডিয়ামে পৌঁছনোর কথা প্রধানমন্ত্রী ও মুখ্যমন্ত্রীর। রাত ৮টা ২০ মিনিট পর্যন্ত তাঁদের সেখানে থাকার সম্ভাবনা। তবে নিরাপত্তা ও অন্যান্য প্রশাসনিক কারণে অনুষ্ঠানের সময়সূচিতে পরিবর্তন হতে পারে। ইডেনের মূল অনুষ্ঠানের আগে রেড রোডে প্রধানমন্ত্রী ও মুখ্যমন্ত্রীর রোড শো করার পরিকল্পনা রয়েছে। সেখান থেকে তাঁরা পৌঁছবেন স্টেডিয়ামে। উলুধ্বনি, শঙ্খধ্বনি ও ঢাকের তালে তাঁদের স্বাগত জানানোর প্রস্তুতি চলছে। প্রধানমন্ত্রীর জন্য ইডেনের হোম ড্রেসিংরুম এবং মুখ্যমন্ত্রীর জন্য অ্যাওয়ে ড্রেসিংরুম ব্যবহারের পরিকল্পনা করা হয়েছে। সেখান থেকে মাঠে প্রবেশ করবেন তাঁরা। গলফ কার্টে চেপে প্রধানমন্ত্রীর মাঠ প্রদক্ষিণের কথাও রয়েছে।

    পাঁচ পুজোর উদ্বোধন

    সূত্রের খবর, মহালয়ার সন্ধ্যায় ইডেন গার্ডেন্স থেকে ভার্চুয়াল মাধ্যমে কলকাতার পাঁচটি নামী দুর্গাপুজোর উদ্বোধন করতে পারেন প্রধানমন্ত্রী। প্রাথমিক তালিকায় রয়েছে শ্রীভূমি স্পোর্টিং ক্লাব, সুরুচি সংঘ, সন্তোষ মিত্র স্কোয়ার, চেতলা অগ্রণী এবং ত্রিধারা সম্মিলনী। চূড়ান্ত তালিকা অবশ্য এখনও আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করা হয়নি।

    পুজো কমিটিগুলির উদ্দেশেও বক্তব্য রাখার কথা প্রধানমন্ত্রীর (PM Modi)। ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে রাজ্যের প্রায় পাঁচ হাজার পুজো কমিটির সঙ্গে যুক্ত হওয়ার পরিকল্পনাও রয়েছে তাঁর।

    ঢাকের তালে…

    মহালয়ার বিশেষ অনুষ্ঠানের অন্যতম আকর্ষণ হতে চলেছে সাংস্কৃতিক পরিবেশনা। প্রাথমিক পরিকল্পনায় প্রায় ৬ হাজার শিল্পীর অংশগ্রহণের কথা রয়েছে। সংগীত পরিবেশনের সম্ভাব্য তালিকায় রয়েছেন শান্তনু মৈত্র, শান, অন্তরা মিত্র, লগ্নজিতা চক্রবর্তী, দেবর্ষি ভট্টাচার্য ও কৌশিকী চক্রবর্তী। অংশ নেওয়ার কথা বাংলা লোকসংগীতের দল দোহারেরও।

    অনুষ্ঠানের সংগীত পরিচালনার দায়িত্বে থাকছেন শান্তনু মৈত্র। প্রাথমিক পরিকল্পনা অনুযায়ী, প্রায় তিন হাজার ঢাকির একযোগে পরিবেশনার ব্যবস্থা করা হচ্ছে। তবে চূড়ান্ত সংখ্যাটা আয়োজকদের আনুষ্ঠানিক ঘোষণার পরেই নিশ্চিত হবে (Eden Gardens Mahalaya)।

    শ্রেয়া ঘোষাল ও সুরকার প্রীতম এই অনুষ্ঠানে থাকছেন না বলেই আপাতত খবর। দু’জনেই দেশের বাইরে থাকায় তাঁদের অংশগ্রহণের সম্ভাবনা কম।

    ড্রোন শো ও আতসবাজি

    প্রধানমন্ত্রী (PM Modi) ও মুখ্যমন্ত্রীর ভাষণের পর রাত ৮টা ২০ মিনিট নাগাদ তাঁদের ইডেন ছাড়ার প্রাথমিক পরিকল্পনা রয়েছে। তাঁদের উপস্থিতিতে লাইট অ্যান্ড সাউন্ডের একটি অনুষ্ঠান হওয়ার কথাও রয়েছে। এরপর স্টেডিয়ামে আয়োজন করা হবে বিশেষ ড্রোন শো ও আতসবাজির প্রদর্শনীর।

    আমেদাবাদের টি-টোয়েন্টি ফাইনালের ধাঁচে আলোকসজ্জা ও প্রযুক্তিনির্ভর প্রদর্শনীর পরিকল্পনা করা হচ্ছে বলে সূত্রের খবর। দুর্গাপুজোর বিভিন্ন বিষয়কে তুলে ধরা হতে পারে ড্রোনের মাধ্যমে।

    দর্শক, ভিভিআইপির ভিড়

    ইডেনের এই অনুষ্ঠানে প্রায় ৩৫ হাজার দর্শকের উপস্থিতির পরিকল্পনা রয়েছে। তার মধ্যে আড়াই হাজার আসন ভিভিআইপিদের জন্য সংরক্ষিত রাখার কথা। প্রায় ৭০০ সাংবাদিকের বসার ব্যবস্থাও করা হতে পারে।

    ক্লাব হাউসের দু’পাশের গ্যালারি সংলগ্ন এলাকায় মঞ্চ তৈরির পরিকল্পনা রয়েছে। রাজ্যের মন্ত্রী এবং অন্যান্য বিশিষ্ট অতিথিদের বসার জন্য পৃথক ব্যবস্থা রাখা হবে।

    প্রধানমন্ত্রীর (PM Modi) সফর ঘিরে নিরাপত্তার বিশেষ বন্দোবস্ত করা হচ্ছে। অনুষ্ঠানের কয়েক দিন আগে থেকেই ইডেনের নিরাপত্তার দায়িত্ব প্রধানমন্ত্রীর নিরাপত্তারক্ষীদের হাতে চলে যেতে পারে। অনুষ্ঠান চলাকালীন ক্লাব হাউসের দু’টি তলা এবং প্রেস বক্সে প্রবেশের ক্ষেত্রে বিধিনিষেধ থাকার সম্ভাবনা রয়েছে।

    সিএবি সভাপতি সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায় জানিয়েছেন, অনুষ্ঠানের প্রস্তুতি নিয়ে রাজ্য প্রশাসনের আধিকারিকদের সঙ্গে বৈঠক হয়েছে। সিএবি কোষাধ্যক্ষ সঞ্জয় দাসও সেখানে উপস্থিত ছিলেন।

    সঞ্জয় বলেন, “প্রধানমন্ত্রীর অনুষ্ঠানের আয়োজন আগে কখনও করিনি আমরা। তাই অভিজ্ঞতা নেই। যেভাবে প্রশাসন চাইবে আমরা সেরকমই ব্যবস্থা করে দেব। প্রথমবার দেশের প্রধানমন্ত্রী ইডেনে আসছেন।”

    মহালয়ার অনুষ্ঠানের জন্য ১৫ অক্টোবর পর্যন্ত ইডেন গার্ডেন্স ব্যবহারের পরিকল্পনা রয়েছে (PM Modi) রাজ্য সরকারের। মূল অনুষ্ঠান শেষ হওয়ার পরে অস্থায়ী মঞ্চ ও অন্যান্য পরিকাঠামো সরানোর জন্যও অতিরিক্ত সময় রাখা হয়েছে (Eden Gardens Mahalaya)।

     

  • Puja Bookstall Row: বেশি সংখ্যায় পুনর্মুদ্রণ হচ্ছে বিবেকানন্দ-শঙ্করাচার্য থেকে দেশপ্রেমের বই! পুজোর বুকস্টল বিতর্কের মধ্যেই নয়া কৌশল বামেদের

    Puja Bookstall Row: বেশি সংখ্যায় পুনর্মুদ্রণ হচ্ছে বিবেকানন্দ-শঙ্করাচার্য থেকে দেশপ্রেমের বই! পুজোর বুকস্টল বিতর্কের মধ্যেই নয়া কৌশল বামেদের

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: দুর্গাপুজোয় বামেদের বুকস্টল ঘিরে রাজনৈতিক বিতর্কের মধ্যেই বই প্রকাশ ও পুনর্মুদ্রণে বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছে সিপিএম (CPM)। স্বামী বিবেকানন্দ থেকে আদি শঙ্করাচার্য, গৌতম বুদ্ধ থেকে হিন্দু-মুসলমানের যৌথ সাধনা—এবার পুজোর বইয়ের স্টলে এই সমস্ত বিষয়কে সামনে আনতে চাইছে আলিমুদ্দিন স্ট্রিট। স্বাধীনতা আন্দোলন এবং দেশভাগ নিয়ে নতুন বই প্রকাশের প্রস্তুতিও চলছে। বুকস্টল নিয়ে বিজেপির সঙ্গে রাজনৈতিক সংঘাতের আবহে সিপিএমের প্রকাশনা সংস্থা ন্যাশনাল বুক এজেন্সির (এনবিএ) এই উদ্যোগ (Puja Bookstall Row) তাৎপর্যপূর্ণ।

    শঙ্করাচার্য-বিবেকানন্দের বই (Puja Bookstall Row)

    এবার এনবিএর পুনর্মুদ্রণের তালিকায় বিশেষ গুরুত্ব পাচ্ছে কেরলের প্রথম কমিউনিস্ট মুখ্যমন্ত্রী ইএমএস নাম্বুদ্রিপাদের লেখা ‘আদি শঙ্করাচার্য ও অন্যান্য প্রসঙ্গ’। একই সঙ্গে বেশি সংখ্যায় ছাপানো হচ্ছে বিভিন্ন বামপন্থী নেতার লেখার সংকলন ‘মার্ক্সবাদীর দৃষ্টিভঙ্গিতে স্বামী বিবেকানন্দ’। প্রকাশনা সংস্থা সূত্রে খবর, গৌতম বুদ্ধের দর্শন সংক্রান্ত বই এবং ক্ষিতিমোহন সেনের ‘ভারতে হিন্দু-মুসলমানের যুক্ত সাধনা’ও পুনর্মুদ্রণের পরিকল্পনায় রয়েছে। পুজোর বুকস্টলে ধর্মীয় ব্যক্তিত্বদের নিয়ে বই রাখার প্রশ্নে ইতিমধ্যেই বিজেপির সঙ্গে বামেদের বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। বামেদের স্টলে বিদেশি কমিউনিস্ট নেতাদের বই থাকলেও বিবেকানন্দের বই কেন থাকে না, সেই প্রশ্ন তুলেছিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। পাল্টা সিপিএম নেতৃত্বের দাবি, তাঁদের স্টলে বিবেকানন্দ ও চৈতন্যদেবকে নিয়ে বই আগেও ছিল। বিজেপি এবং আরএসএসের বইয়ের স্টলে ভগৎ সিংয়ের লেখা কেন দেখা যায় না, সেই প্রশ্নও তুলেছেন বাম নেতারা। এই পরিস্থিতিতে পুরনো বই পুনর্মুদ্রণের সিদ্ধান্তকে ঘিরে রাজনৈতিক মহলে চর্চা শুরু হয়েছে। সিপিএমের রাজ্য সম্পাদকমণ্ডলীর সদস্য সুজন চক্রবর্তী এনবিএর দায়িত্বে রয়েছেন। তাঁর বক্তব্য, “এই বইগুলি আমাদের প্রকাশনা সংস্থা আগেই এনেছে। নতুন নয়। তবে হ্যাঁ, এবার নানাবিধ প্রশ্ন আসছে বলেই আমাদের বিশেষভাবে মনোযোগ দিতে হচ্ছে।”

    মিলবে দেশপ্রেমের বই

    এবারের পুজোয় নতুন বইয়ের তালিকাতেও থাকছে রাজনৈতিক ইতিহাস। সুজন চক্রবর্তীর লেখা ‘দেশপ্রেমের খতিয়ান স্বাধীনতা আন্দোলন ও বাংলাভাগ’ প্রকাশিত হওয়ার কথা। একই সঙ্গে বামফ্রন্ট চেয়ারম্যান বিমান বসুকে নিয়ে প্রকাশিত হচ্ছে ‘আমাদের চেয়ারম্যান’। বইটি সম্পাদনা করেছেন সিপিএমের রাজ্য কমিটির সদস্য সুদীপ সেনগুপ্ত। প্রকাশ কারাত, বৃন্দা কারাত, মহম্মদ সেলিম এবং সূর্যকান্ত মিশ্র-সহ একাধিক নেতা তাঁদের স্মৃতিচারণায় তুলে ধরেছেন বিমান বসুকে। আগামী ৭ তারিখ আলিমুদ্দিন স্ট্রিটে বইটির আনুষ্ঠানিক প্রকাশের পরিকল্পনা রয়েছে।

    সুদীপ বলেন, “আগামী ৭ তারিখ আলিমুদ্দিন স্ট্রিটেই এই বইয়ের উদ্বোধন হবে। বিমান বসু বরাবরই আত্মপ্রচারবিমুখ। কেউ তাঁকে ‘রাজনৈতিক সন্ন্যাসী’ বলেন, কেউ বলেন ‘রাজনৈতিক বিপ্লবী’। এরকম একজন মানুষকে নিয়ে তাঁর সহকর্মীদের লেখা নিশ্চয়ই সকলের ভালো লাগবে।”

    এদিকে, পুজোর বুকস্টল নিয়ে বিতর্কের সূত্রপাত মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর মন্তব্য ঘিরে। বিধানসভায় তিনি বামেদের ধর্মাচরণ নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। পুজোমণ্ডপের পাশে বইয়ের স্টল বসিয়েও সেখানে ‘দুর্গাপুজো’র পরিবর্তে ‘শারদোৎসব’ লেখা হয় কেন, তা নিয়ে আপত্তি জানান তিনি। পুজো উদ্যোক্তাদের উদ্দেশে তাঁর বার্তা ছিল, “বুকস্টলে দুর্গাপুজো না-লিখলে স্টল করতে দেবেন না (Puja Bookstall Row)।”

    পুজোর বুকস্টল পরিচালনার প্রস্তুতি শুরু সিপিএমের

    বিতর্কের মধ্যেই পুজোর বুকস্টল পরিচালনার প্রস্তুতি শুরু করেছে সিপিএম। দক্ষিণবঙ্গের জেলা নেতৃত্বকে নিয়ে কলকাতার সূর্য সেন স্ট্রিটে এনবিএর দফতরে বৈঠকের পরিকল্পনা রয়েছে। সেখানে রাজ্য সম্পাদক মহম্মদ সেলিম ও সুজন চক্রবর্তীর পাশাপাশি বিমান বসুরও উপস্থিত থাকার কথা। উত্তরবঙ্গের জেলা নেতৃত্বকে নিয়ে শিলিগুড়িতেও পৃথক বৈঠকের পরিকল্পনা হয়েছে। সেখানে সুজনের সঙ্গে দলের পলিটব্যুরোর সদস্য শ্রীদীপ ভট্টাচার্যের যোগ দেওয়ার কথা।

    বুকস্টলে সম্ভাব্য হামলার আশঙ্কায় দক্ষিণবঙ্গের একাধিক জায়গায় রাতপাহারার ব্যবস্থাও করার পরিকল্পনা করেছে সিপিএম। ক্ষমতা হারানোর পরেও দুর্গাপুজো-সহ বিভিন্ন উৎসবে বইয়ের স্টল বসানোর সাংগঠনিক কর্মসূচি বজায় রেখেছে দল (CPM)। এবারের রাজনৈতিক বিতর্কের আবহে সেই কর্মসূচি পরিচালনা এবং বইয়ের সম্ভার সাজানোর প্রস্তুতিতে বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছে (Puja Bookstall Row) বঙ্গের লাল পার্টির ভরকেন্দ্র আলিমুদ্দিন স্ট্রিট।

     

  • Hindus Under Attack: ভারত-বাংলাদেশে হিন্দুদের উপর হামলার অভিযোগ, সাপ্তাহিক প্রতিবেদনে একাধিক ঘটনার উল্লেখ

    Hindus Under Attack: ভারত-বাংলাদেশে হিন্দুদের উপর হামলার অভিযোগ, সাপ্তাহিক প্রতিবেদনে একাধিক ঘটনার উল্লেখ

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ভারত তো বটেই, বিদেশেও হিন্দুদের উপর হামলা, হুমকি, ধর্মান্তরের চাপ, মন্দির ও মূর্তির অবমাননা এবং বৈষম্যের অভিযোগ ক্রমেই সামনে আসছে (Hindus Under Attack)। ৩০ অগাস্ট থেকে ৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬—এই সময়সীমার ঘটনাবলি নিয়ে প্রকাশিত একটি সাপ্তাহিক প্রতিবেদনে ভারত ও বাংলাদেশে হিন্দুদের ওপর হামলার একাধিক ঘটনার উল্লেখ করা হয়েছে (Weekly Roundup)। প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, বিশ্বের বিভিন্ন অঞ্চলে এই ধরনের নিপীড়ন ধীরে ধীরে গুরুতর মানবাধিকার সংকটের রূপ নিচ্ছে।

    গণেশ শোভাযাত্রায় ডিম ছোড়ার অভিযোগ (Hindus Under Attack)

    মুম্বইয়ের মাজগাঁও এলাকায় গণেশ মূর্তি নিয়ে শোভাযাত্রায় ডিম ছোড়ার অভিযোগে বছর বাইশের দানিশ শের খানকে গ্রেফতার করেছে বাইকুল্লা পুলিশ। পুলিশের দাবি, ঘটনার ৩৬ ঘণ্টার মধ্যেই অভিযুক্তকে গ্রেফতার করা হয়। প্রযুক্তিগত নজরদারি এবং পাঁচটি পৃথক তদন্তকারী দলের তৎপরতায় তাকে আটক করা হয়। জিজ্ঞাসাবাদে অভিযুক্ত ঘটনার কথা স্বীকার করেছে বলেও প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে।

    তামিলনাড়ু সরকার নিয়ে রাজনৈতিক বিতর্ক

    তামিলনাড়ুর মুখ্যমন্ত্রী জোসেফ বিজয় এবং তাঁর দল টিভিকে-কে ঘিরে প্রতিবেদনে ধর্মীয় পক্ষপাতিত্বের অভিযোগ তোলা হয়েছে। প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, সরকারের বিভিন্ন পদক্ষেপের মধ্যে খ্রিস্টধর্মীয় মৌলবাদের প্রভাবের লক্ষণ দেখা যাচ্ছে। তবে এই অভিযোগের সত্যতা যাচাই করা সম্ভব হয়নি।

    আরএসএসের পথসঞ্চালনে অংশ নেওয়ায় শিক্ষক সাসপেন্ড

    আরএসএসের পথসঞ্চালনে অংশ নেওয়ার অভিযোগে কর্নাটকের দুই সরকারি স্কুলশিক্ষককে সাসপেন্ড করাকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক চাপানউতোর শুরু হয়েছে। বিজেপির অভিযোগ, কংগ্রেস সরকার আরএসএসের সঙ্গে সম্পর্কের কারণে সরকারি কর্মীদের নিশানা করছে। প্রতিবেদন অনুযায়ী, হুনসাগির সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক গুরুংরাজ যোশী এবং সুরপুর তালুকের কুপি সরকারি নিম্ন প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক অন্না সাহেব দেশমুখকে কর্নাটক শিক্ষা দফতর সাসপেন্ড করেছে। তাঁদের বিরুদ্ধে আরএসএসের পথসঞ্চালনে অংশ নেওয়ার অভিযোগ রয়েছে।

    ধর্মান্তরের জন্য অর্থ দেওয়ার অভিযোগ

    কান্দিভলি পশ্চিমের সঞ্জয় নগরে খ্রিস্টধর্মে ধর্মান্তরের জন্য হিন্দুদের ৫ থেকে ৬ লাখ টাকা দেওয়ার প্রস্তাব দেওয়ার অভিযোগে তিনজনকে স্থানীয় কর্মীরা আটক করেছিলেন বলে প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে। তাঁদের মধ্যে একজন দক্ষিণ কোরিয়ার নাগরিক। ঘটনাটি ২১ অগাস্টের বলে দাবি করা হয়েছে। বিশ্ব হিন্দু পরিষদের অভিযোগ, ঘটনার ১০ দিন পরেও কান্দিভলি পুলিশ এফআইআর দায়ের করেনি। রাজনৈতিক চাপের কারণে পুলিশ তদন্তে গড়িমসি করছে বলেও অভিযোগ করেছে সংগঠনটি। তবে এই অভিযোগের বিষয়ে পুলিশের বক্তব্য প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়নি।

    তেলঙ্গনায় নার্সের মৃত্যু, ধর্ষণ-খুনের অভিযোগ

    তেলঙ্গনার রঙ্গারেড্ডি জেলার থুক্কুগুড়ায় বছর একুশের বেসরকারি হাসপাতালের নার্স শিরিষাকে তাঁর কর্মস্থলের আবাসনে মৃত অবস্থায় পাওয়া যায় ২৯ আগস্ট ভোরে। যৌন নির্যাতনের পর তাঁকে হত্যা করা হয়েছে বলে পুলিশি তদন্তে জানা গিয়েছে।অভিযোগের প্রায় ৩০ ঘণ্টার মধ্যে ৩৪ বছর বয়সি বাইক মেকানিক মহম্মদ সানাউল্লাহকে গ্রেফতার করা হয়। প্রযুক্তিগত তথ্য, ঘটনাস্থলের পুনর্গঠন এবং চিকিৎসা সংক্রান্ত প্রমাণের ভিত্তিতে তদন্ত এগোয় বলে প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে। চিকিৎসা পরীক্ষায় ধর্ষণ ও একাধিক আঘাতের প্রমাণ মিলেছে বলেও দাবি করা হয়েছে (Hindus Under Attack)।

    বাংলাদেশি হিন্দুদের নিয়ে পোস্ট করা অ্যাকাউন্টে পুলিশের নোটিশ

    ‘ভয়েস অব বাংলাদেশি হিন্দুস’ নামে একটি এক্স অ্যাকাউন্ট বাংলাদেশে হিন্দুদের বিরুদ্ধে তথাকথিত অত্যাচারের ঘটনা তুলে ধরে বলে প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে। পাশাপাশি সীমান্তপারের সম্ভাব্য নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে ভারতীয় নাগরিক ও প্রশাসনকে সতর্ক করে থাকে অ্যাকাউন্টটি। প্রতিবেদনের দাবি, এই অ্যাকাউন্ট পরিচালনাকারীদের মুম্বই এবং মধ্যপ্রদেশ পুলিশ নোটিশ দিয়েছে।

    বাংলাদেশ

    প্রতিবেদনে বাংলাদেশে হিন্দুদের বিরুদ্ধে ধারাবাহিক হামলা ও নিপীড়নের অভিযোগ তোলা হয়েছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক আবুল বারাকতের একটি গবেষণার উল্লেখ করে দাবি করা হয়েছে, বর্তমান পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে ২০৫০ সালের মধ্যে বাংলাদেশে হিন্দু জনসংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে কমে যেতে পারে। মন্দিরে হামলা ও মূর্তির অবমাননা, জমি দখল, মিথ্যা ধর্ম অবমাননার অভিযোগে গণহামলা, নারীকে ধর্ষণ বা জোরপূর্বক ধর্মান্তর এবং বিদ্বেষমূলক বক্তব্যকে হিন্দুদের ভয় দেখানো ও দেশ ছাড়তে বাধ্য করার হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করার অভিযোগ করা হয়েছে।

    নাবালককে মসজিদে নিয়ে গিয়ে মারধরের অভিযোগ

    ২৭ অগাস্ট বাংলাদেশের লালমনিরহাট জেলার কালীগঞ্জে নাবালক সৌরভ চন্দ্র রায়কে চুরির অভিযোগে চাপারহাট আল-হেরা জামে মসজিদের ভিতরে নিয়ে গিয়ে মারধর করা হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। তাঁর পরিবার, স্থানীয় বাসিন্দা এবং স্থানীয় সাংবাদিক আসাদুজ্জামান সাজুর দাবি, চুরির অভিযোগটি ভিত্তিহীন। প্রতিবেদন অনুযায়ী, সৌরভকে প্রথমে বেঁধে মারধর করা হয়। পরে তাঁকে মসজিদের বারান্দায় নিয়ে গিয়ে ফের মারধর করা হয় বলে অভিযোগ। সৌরভের বক্তব্য উদ্ধৃত করে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, তাঁর হিন্দু পরিচয় নিশ্চিত করার পর তাঁকে আরও নির্মমভাবে নির্যাতন করা হয়।

    হিন্দুদের বিরুদ্ধে বিদ্বেষের অভিযোগ

    প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, হিন্দুদের বিরুদ্ধে সংঘটিত বহু অপরাধের পেছনে ধর্মীয় শিক্ষা ও রাজনৈতিক মতাদর্শ থেকে সৃষ্টি বিদ্বেষ কাজ করে। মুসলিম-অধ্যুষিত দেশগুলিতে হিন্দুবিদ্বেষের প্রকাশ অপেক্ষাকৃত স্পষ্ট হলেও, নিজেদের ধর্মনিরপেক্ষ হিসেবে পরিচয় দেওয়া রাষ্ট্রগুলির প্রতিষ্ঠান ও জনপরিসরেও অপেক্ষাকৃত সূক্ষ্ম বৈষম্য রয়েছে বলে প্রতিবেদনে অভিযোগ করা হয়েছে। উদাহরণ হিসেবে প্রতিবেদনে দীপাবলিতে আতশবাজি ব্যবহারের উপর ধীরে ধীরে আরোপিত নিষেধাজ্ঞার কথা বলা হয়েছে (Weekly Roundup)। পরিবেশদূষণ নিয়ন্ত্রণের যুক্তিতে এই ধরনের বিধিনিষেধ আরোপ করা হলেও, প্রতিবেদনের দাবি—হিন্দু উৎসবের ক্ষেত্রে বিধিনিষেধের সামগ্রিক চিত্র এবং বিভিন্ন ধর্মীয় উৎসবের ক্ষেত্রে (Hindus Under Attack) নীতির প্রয়োগের পার্থক্য বিবেচনা করলে ‘দ্বৈত মানদণ্ডে’র প্রশ্ন উঠতেই পারে।

     

  • NIA: ২০১৩ সালের ঝিরম উপত্যকা হত্যাকাণ্ডে দোষী সাব্যস্ত ১০ মাওবাদী

    NIA: ২০১৩ সালের ঝিরম উপত্যকা হত্যাকাণ্ডে দোষী সাব্যস্ত ১০ মাওবাদী

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ছত্তিশগড়ের জগদলপুরের একটি বিশেষ জাতীয় তদন্তকারী সংস্থা (NIA) আদালত ২০১৩ সালের ঝিরম উপত্যকা হত্যাকাণ্ডের মামলায় ১০ জন মাওবাদীকে দোষী সাব্যস্ত করেছে (Jheeram Valley Massacre)। ২০১৩ সালের ওই মাওবাদী হামলায় রাজ্যের শীর্ষ কংগ্রেস নেতা-সহ অন্তত ২৭ জন নিহত হয়েছিলেন।

    দোষী সাব্যস্ত ১০ জন হলেন—প্রমীলা মোদিয়াম, চৈতু লেকাম ওরফে মুন্না, সুমিত্রা ওরফে সুমিত্রা পুনেম মোদিয়াম, মুক্কা মাণ্ডভি, কোসা কাভাসি ওরফে কোসারাম, আয়াতা মার্কাম, মাদকমি দেবা, জোগা মাদকমি, বানজামি সন্না ওরফে চামরু ওরফে ডেঙ্গা এবং মহাদেব নাগ। তদন্ত অনুযায়ী, এঁদের অধিকাংশই অপেক্ষাকৃত নিম্নস্তরের কমান্ডার অথবা সশস্ত্র গেরিলা।

    দোষী সাব্যস্তদের আইনজীবী অরবিন্দ চৌধুরী রায়দানের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, আগামী ১৬ সেপ্টেম্বর আদালত সাজা ঘোষণা করবে। একই সঙ্গে দোষী সাব্যস্তদের পক্ষ থেকে উচ্চ আদালতে আপিল করা হবে বলেও তিনি জানান।

    হামলায় আহত শিব সিং ঠাকুর বলেন, আদালতের সিদ্ধান্তকে তিনি সম্মান করেন। তবে তাঁর অভিযোগ, নিম্নস্তরের মাওবাদীদের গ্রেফতার করে তাঁদের বিরুদ্ধে বিচার চালানোর মধ্যে দিয়েই জাতীয় তদন্ত সংস্থা মূলত আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করেছে। তাঁর কথায়, “হামলার আগে তাঁরা আমাদের নেতাদের নাম জানতে চেয়েছিল। এরপরই তাঁদের গুলি করে হত্যা করা হয়। এর পিছনে নিশ্চিতভাবেই একটি ষড়যন্ত্র ছিল। সেই ষড়যন্ত্রের আসল সত্য সামনে আসা দরকার। তাহলেই আমরা এই ঘটনার পূর্ণ পরিসমাপ্তি দেখতে পাব।”

    কী ঘটেছিল ঝিরম উপত্যকায়? (NIA)

    দেশের অন্যতম ভয়াবহ মাওবাদী হামলার ঘটনাটি ঘটে ২০১৩ সালের ২৫ মে। সুকমা জেলার দরভা থানার প্রায় ১০ কিলোমিটার দূরে কংগ্রেস নেতাদের একটি কনভয়ে বড়সড় হামলা চালায় মাওবাদীরা।

    সুকমায় ‘পরিবর্তন যাত্রা’র একটি সভা শেষ করে কনভয়টি ফিরছিল। সেই সময় রাজ্যে ক্ষমতাসীন ভারতীয় জনতা পার্টির বিরুদ্ধে রাজনৈতিক প্রচার চালাচ্ছিল কংগ্রেস। ওই বছরই রাজ্যে বিধানসভা নির্বাচন হওয়ার কথা ছিল।

    অভিযোগ, কনভয়টি ঝিরম উপত্যকার কাছে পৌঁছতেই মাওবাদীদের কমিউনিস্ট পার্টি-সংক্রান্ত সশস্ত্র সদস্যরা প্রথমে রাস্তার নীচে পুঁতে রাখা মাইন বিস্ফোরণ ঘটায়। বিস্ফোরণের ফলে রাস্তায় বড় গর্ত তৈরি হয় এবং পরিবর্তন যাত্রার গাড়িগুলি থেমে যেতে বাধ্য হয় (NIA)।

    এরপর শুরু হয় নির্বিচারে গুলিবর্ষণ, গ্রেনেড হামলা এবং বেছে বেছে হত্যাকাণ্ড। হামলায় ২৪ জনের মৃত্যু হয় এবং ৩৫ জনেরও বেশি মানুষ গুরুতর জখম হন। পরে আহতদের কয়েকজনেরও মৃত্যু হয়।

    নিহতদের মধ্যে ছিলেন তৎকালীন ছত্তিশগড় প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি নন্দকুমার পটেল এবং রাজ্যের প্রাক্তন বিরোধী দলনেতা মহেন্দ্র কর্মা। প্রাক্তন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী বিদ্যাচরণ শুক্লও হামলায় গুরুতর জখম হন এবং পরে তাঁর মৃত্যু হয়।

    এই হামলার মূল লক্ষ্য ছিলেন মহেন্দ্র কর্মা। তিনি মাওবাদী সশস্ত্র আন্দোলনের বিরুদ্ধে রাজ্য-সমর্থিত ‘সালওয়া জুডুম’ আন্দোলনের নেতৃত্ব দিয়েছিলেন। ওই আন্দোলনে স্থানীয় যুবকদের অস্ত্র দেওয়ার অভিযোগ ছিল। পরে ভারতের সুপ্রিম কোর্ট আন্দোলনটিকে অবৈধ ও অসাংবিধানিক ঘোষণা করে।

    ৩৯ জনের বিরুদ্ধে মামলা

    ঘটনার তদন্তভার পরে জাতীয় তদন্তকারী সংস্থার হাতে যায়। নিষিদ্ধ সংগঠনের ৩৯ জন সদস্যের বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের করা হয়। তদন্তকারীদের দাবি, চলতি বছরের জানুয়ারিতে তেলঙ্গানা পুলিশের কাছে আত্মসমর্পণ করা বর্ষে সুক্কা ওরফে দেবা ওই সময় দরভা বিভাগীয় কমিটির দায়িত্বে ছিলেন। নিষিদ্ধ সংগঠনের শীর্ষ নেতৃত্ব তাঁকেই (Jheeram Valley Massacre) হামলাটি পরিচালনার জন্য সামগ্রিক কমান্ডার হিসেবে নিযুক্ত করেছিল বলে জেনেছেন তদন্তকারীরা (NIA)। Jheeram Valley Massacre,

     

  • Mount Everest: এভারেস্টে বরফ গলছে প্রস্রাবের তাপেও, বড় ভূমিকা জ্বালানি পোড়ানোর

    Mount Everest: এভারেস্টে বরফ গলছে প্রস্রাবের তাপেও, বড় ভূমিকা জ্বালানি পোড়ানোর

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: বিশ্বের সর্বোচ্চ পর্বত শৃঙ্গ এভারেস্টে প্রতি বছর পর্বতারোহীদের আনাগোনার সঙ্গে বাড়ছে পরিবেশের উপর চাপ। নতুন এক গবেষণায় দাবি করা হয়েছে, পর্বতারোহীদের প্রস্রাব থেকেও উৎপন্ন তাপ খুম্বু হিমবাহের বরফ গলনে ভূমিকা রাখছে (Mount Everest)। তবে মানুষের তৈরি তাপের ক্ষেত্রে সবচেয়ে বড় ভূমিকা জ্বালানি পোড়ানোর।

    এভারেস্টের (Human Urine) মূল শিবির খুম্বু হিমবাহের উপরেই গড়ে ওঠে। প্রতি বছর সেখানে প্রায় ১,৬০০টি তাঁবু ফেলা হয়। রান্নাঘর, স্নানের ব্যবস্থা, বিদ্যুৎ উৎপাদন যন্ত্র, তারবিহীন ইন্টারনেট এবং কিছু ক্ষেত্রে মেঝে গরম রাখার ব্যবস্থাও থাকে। এসব থেকে উৎপন্ন তাপ হিমবাহের উপরিভাগ ও মাটির তাপমাত্রা বাড়িয়ে দেয়।

    নেপাল ও আমেরিকার একদল বিজ্ঞানীর গবেষণা আঞ্চলিক পরিবেশ পরিবর্তন বিষয়ক গবেষণা পত্রিকায় প্রকাশিত হয়েছে। গবেষকদের মতে, বিশ্ব উষ্ণায়ন ও জীবাশ্ম জ্বালানি ব্যবহারের পাশাপাশি এভারেস্টে মানুষের সরাসরি কর্মকাণ্ডও হিমবাহ গলনের গতি বাড়াচ্ছে। এর ফলে ভবিষ্যতে বড় ধরনের বিপর্যয়ের আশঙ্কা তৈরি হচ্ছে।

    নেপালে গত ২৬ অগাস্ট হড়পা বানে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয় এবং ১,২০০-রও বেশি মানুষের মৃত্যু হয়। ওই বিপর্যয়ের কারণ হিসেবে হিমবাহ-উৎসারিত হ্রদের বাঁধ ভেঙে যাওয়ার ঘটনাকে দায়ী করা হয়।

    প্রস্রাবের তাপেও গলছে বরফ (Mount Everest)

    উচ্চতার কারণে এভারেস্টে ওঠা পর্বতারোহীদের বেশি পরিমাণে জল পান করতে হয়। ফলে প্রস্রাবের পরিমাণও বাড়ে। গবেষকদের হিসাব অনুযায়ী, ২০২৩ সালের পর্বতারোহণের মরশুমে প্রতিদিন প্রায় ৬,৭৬৬ লিটার প্রস্রাব জমা হয়েছিল।

    গবেষক খিম লাল গৌতম ও তাঁর সহকর্মীদের মতে, এই বিপুল পরিমাণ প্রস্রাব শরীর থেকে প্রায় ৩৭ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রায় বের হয়। ফলে এতে থাকা তাপের একটি অংশ আশপাশের বরফ গলতে সাহায্য করে।

    গবেষণায় হিসাব করে দেখা গিয়েছে, ওই তাপ সম্পূর্ণভাবে বরফে পৌঁছলে সংশ্লিষ্ট পর্বতারোহণ মরশুমে প্রায় ১৫৪ টন বরফ গলতে পারত। তবে বাস্তবে তাপের পুরোটা বরফে পৌঁছয় না। এর একটি বড় অংশ বাতাস ও আশপাশের পাথরে ছড়িয়ে যায়।

    সবচেয়ে বড় কারণ জ্বালানি পোড়ানো

    তবে গবেষকদের মতে, এভারেস্টের বরফ গলার ক্ষেত্রে প্রস্রাব সবচেয়ে বড় সমস্যা নয়। মূল সমস্যা হল মূল শিবিরকে ঘিরে বিপুল জ্বালানির ব্যবহার।

    ২০২৩ সালের মরশুমে রান্না, উত্তাপ ও বিদ্যুৎ উৎপাদনের জন্য সেখানে প্রায় ৮২৪টি তরলীকৃত পেট্রোলিয়াম গ্যাসের সিলিন্ডার, ১৮,৯৩৫ লিটার কেরোসিন এবং ৫,১৩০ লিটার পেট্রোল ব্যবহার করা হয়। মানুষের কর্মকাণ্ড থেকে সৃষ্ট বরফ গলার প্রায় ৯৪ শতাংশের জন্য এই জ্বালানি ব্যবহারকে দায়ী করা হয়েছে। প্রস্রাবের কারণে গলার অংশ মাত্র প্রায় ৬ শতাংশ (Mount Everest)।

    দ্রুত উষ্ণ হচ্ছে হিমালয়

    বিজ্ঞানীরা সতর্ক করে বলেছেন, বিশ্বের অন্যান্য অঞ্চলের তুলনায় হিমালয় দ্রুত উষ্ণ হয়ে উঠছে। ২০১৯ সালে প্রকাশিত এক গবেষণা অনুযায়ী, ২০০০ সালের পর হিমবাহের বরফ ক্ষয়ের হার তার আগের সময়ের তুলনায় প্রায় দ্বিগুণ হয়েছে।

    গবেষকদের আরও দাবি, খুম্বু হিমবাহের অন্যান্য অংশের তুলনায় মূল শিবির এলাকায় তাপমাত্রা দ্রুত বাড়ছে। সেখানে প্রতি বছর তাপমাত্রা প্রায় ০.২৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস করে বৃদ্ধি পাচ্ছে।

    সরিয়ে নেওয়া হতে পারে এভারেস্টের মূল শিবির

    গবেষক দলটি বর্তমান মূল শিবির অন্যত্র সরিয়ে নেওয়ার সম্ভাবনাও খতিয়ে দেখেছে। এ জন্য বর্তমান শিবিরের দক্ষিণ-পশ্চিমে দুটি সম্ভাব্য স্থান চিহ্নিত করা হয়েছে।

    তবে শিবির সরিয়ে নিলেও নতুন জায়গায় নানা ধরনের ব্যবস্থাপনা ও পরিবহনগত সমস্যা তৈরি হতে পারে। পাশাপাশি নতুন এলাকাতেও মানুষের কর্মকাণ্ড পরিবেশের উপর চাপ সৃষ্টি করতে পারে।

    গবেষকদের পরামর্শ, হিমবাহ রক্ষায় আরও কার্যকর বর্জ্য ব্যবস্থাপনা গড়ে তুলতে হবে এবং সৌরশক্তির ব্যবহার বাড়াতে হবে (Human Urine)। প্রয়োজনে মূল শিবিরের কিছু অংশ অন্যত্র সরিয়ে নেওয়া যেতে পারে। তবে মানুষের কর্মকাণ্ড থেকে তৈরি অতিরিক্ত তাপ নিয়ন্ত্রণ করা না গেলে সমস্যার আরও অবনতি হতে পারে (Mount Everest)।

     

  • Warmest Year: ২০২৬-এর অগাস্টে বিশ্ব ও ভারত—দুই জায়গাতেই উষ্ণতার নতুন রেকর্ড

    Warmest Year: ২০২৬-এর অগাস্টে বিশ্ব ও ভারত—দুই জায়গাতেই উষ্ণতার নতুন রেকর্ড

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ২০২৬ সালের অগাস্ট মাসে বিশ্ব ও ভারত—দুই ক্ষেত্রেই তাপমাত্রার নতুন রেকর্ড তৈরি হয়েছে। সম্প্রতি প্রকাশিত একটি বৈশ্বিক জলবায়ু প্রতিবেদন এবং ভারতের আবহাওয়া দফতরের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬ সালের অগাস্ট ছিল বিশ্বের উষ্ণতম অগাস্ট (Warmest Year)। একই সঙ্গে চলতি বছরই পৃথিবীর উষ্ণতম বছর হিসেবে নয়া রেকর্ড গড়তে পারে বলে পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে (India)।

    জলবায়ুবিজ্ঞান বিশ্লেষণকারী সংস্থা ‘ক্লাইমেট ব্রিঙ্কে’র তৈরি প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বিজ্ঞানীদের মধ্যে সবচেয়ে নির্ভরযোগ্য বলে বিবেচিত কোপার্নিকাস-ইসিএমডব্লিউএফ-এর ইআরএ৫ তথ্যভান্ডার অনুযায়ী, ২০২৬ সালের অগাস্টে প্রাক্-শিল্প যুগের তুলনায় পৃথিবীর গড় তাপমাত্রা ১.৬৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস বেশি ছিল। ২০২৪ সালের অগাস্টে তৈরি আগের রেকর্ডের তুলনায় এই বৃদ্ধি যথেষ্ট বেশি।

    মানবসৃষ্ট কারণে তাপমাত্রা বৃদ্ধির সূচনা হওয়ার আগের সময়কে প্রাক্-শিল্প যুগের মানদণ্ড হিসেবে ধরা হয়। জলবায়ুবিজ্ঞানীদের মতে, চলতি বছরের আট মাসের তথ্য হাতে আসায় এবং বছরের বাকি সময়ের এল নিনো পরিস্থিতি সম্পর্কে পূর্বাভাস আরও নির্ভরযোগ্য হওয়ায় ২০২৬ সালের এখনও পর্যন্ত উষ্ণতম বছর হওয়ার সম্ভাবনা প্রায় ৭৫ শতাংশ।

    প্রতিবেদন অনুযায়ী, এ বছর প্রাক্-শিল্প যুগের তুলনায় পৃথিবীর গড় তাপমাত্রা ১.৬২ ডিগ্রি সেলসিয়াস, কমবেশি ০.০৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস, বেশি থাকার পথে রয়েছে। ২০২৪ সালে বিশ্বে বার্ষিক গড় তাপমাত্রা বৃদ্ধির সর্বোচ্চ হার ছিল ১.৫৫ থেকে ১.৬০ ডিগ্রি সেলসিয়াসের মধ্যে। ফলে চলতি বছরের সম্ভাব্য বৃদ্ধি সেই রেকর্ডকেও ছাপিয়ে যেতে পারে।

    কলকাতায় উষ্ণতা বৃদ্ধির হার সবচেয়ে বেশি (Warmest Year)

    বৈশ্বিক প্রতিবেদনে আরও উঠে এসেছে, গত বছর ভারতের মহানগরগুলির মধ্যে কলকাতায় উষ্ণতা বৃদ্ধির হার ছিল সর্বাধিক। প্রাক্-শিল্প যুগের বৈশ্বিক মানদণ্ডের তুলনায় কলকাতার তাপমাত্রা ১.৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস বেড়েছে। দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে বেঙ্গালুরু, সেখানে বৃদ্ধির হার ১.৩ ডিগ্রি সেলসিয়াস।

    কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবেশবিজ্ঞান বিভাগের এক প্রবীণ অধ্যাপক নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, গত ৫০ বছরের প্রবণতার সঙ্গেই এই তথ্য সামঞ্জস্যপূর্ণ। তাঁর কথায়, সর্বশেষ রাষ্ট্রসংঘের বিশ্লেষণ ব্যবহার করে প্রকাশিত একটি আন্তর্জাতিক গবেষণায় দেখা গিয়েছে, ১৮৫৮ থেকে ২০১৮ সালের মধ্যে গড় তাপমাত্রা প্রায় ২.৭ ডিগ্রি সেলসিয়াস বেড়েছে। বিশ্বে এই বৃদ্ধির হার কলকাতাতেই সবচেয়ে বেশি ছিল। এরপর ছিল তেহরান ও মস্কো।

    ১৯০১ সালের পর ভারতে উষ্ণতম অগাস্ট

    ভারতের আবহাওয়া দফতরও জানিয়েছে, দেশের তাপমাত্রা বৃদ্ধির প্রবণতা বিশ্বের সামগ্রিক প্রবণতার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ।

    ভারতের আবহাওয়া দফতরের মহাপরিচালক মৃত্যুঞ্জয় মহাপাত্র জানিয়েছেন, ১৯০১ সালে দেশজুড়ে তাপমাত্রার নথি সংরক্ষণ শুরু হওয়ার পর থেকে ২০২৬ সালের অগাস্টই ভারতে উষ্ণতম অগাস্ট (Warmest Year)।

    আবহাওয়া দফতরের তথ্য অনুযায়ী, অগাস্টে ভারতের জাতীয় গড় তাপমাত্রা ২৮.০১ ডিগ্রি সেলসিয়াসে পৌঁছেছিল। দীর্ঘমেয়াদি স্বাভাবিক গড় ২৭.৩৪ ডিগ্রি সেলসিয়াসের তুলনায় তা ০.৬৭ ডিগ্রি বেশি। শুধু দিনের তাপমাত্রাই নয়, রাতের গড় সর্বনিম্ন তাপমাত্রাতেও নতুন রেকর্ড হয়েছে। তা ২৪.৩৬ ডিগ্রি সেলসিয়াসে পৌঁছেছে, যেখানে স্বাভাবিক গড় ২৩.৬৮ ডিগ্রি। ১২৫ বছরের মধ্যে এটাই সর্বোচ্চ রাতের গড় তাপমাত্রা।

    ভারতের আবহাওয়া দফতরের প্রাক্তন মহাপরিচালক কেজে রমেশ বলেন, ভারতের তাপমাত্রা বৃদ্ধির প্রবণতা বিশ্বব্যাপী প্রবণতার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ। কারণ, বিশ্ব এবং ভারত—উভয় জায়গাতেই এ বছরের আগস্ট ছিল উষ্ণতম।

    ১.৫ ডিগ্রির সীমা পেরিয়ে বিপদের আশঙ্কা

    ২০১৫ সালে প্যারিসে অনুষ্ঠিত বিশ্ব জলবায়ু সম্মেলনে দেশগুলি সর্বসম্মতভাবে বৈশ্বিক উষ্ণায়নকে প্রাক্-শিল্প যুগের তুলনায় ১.৫ ডিগ্রি সেলসিয়াসের মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখার লক্ষ্যে সম্মত হয়েছিল। কারণ, এই সীমা অতিক্রম করলে পাহাড়ি অঞ্চল, সমুদ্রসংলগ্ন এলাকা এবং নিচু ভূমিতে বসবাসকারী মানুষের উপর অত্যন্ত ভয়াবহ জলবায়ুগত প্রভাব পড়তে পারে। একই সঙ্গে জলজ বাস্তুতন্ত্রও মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

    সম্প্রতি প্রকাশিত রাষ্ট্রসংঘের বিভিন্ন প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, পৃথিবী স্থায়ীভাবে ১.৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস উষ্ণায়নের যুগে প্রবেশ করতে চলেছে। সর্বোত্তম পরিস্থিতিতেও গড় তাপমাত্রা প্রায় ১.৮ ডিগ্রি সেলসিয়াসে স্থিত হতে পারে। আবার কয়েকটি জলবায়ু মডেল অনুযায়ী, তাপমাত্রা বৃদ্ধি ২ ডিগ্রি সেলসিয়াস বা তারও বেশি হতে পারে।

    ‘ক্লাইমেট ট্রেন্ডসে’র জলবায়ু প্রভাব বিভাগের প্রধান কার্তিকী নেগি বলেন, বিশ্ব ও ভারত—দুই জায়গাতেই অগাস্টকে এখনও পর্যন্ত উষ্ণতম অগাস্ট হিসেবে ঘোষণা করা ভবিষ্যতের উষ্ণ পৃথিবী কেমন হতে পারে, তার একটি স্পষ্ট সতর্কবার্তা। তাঁর মতে, জলবায়ু পরিবর্তন এল নিনোর সৃষ্টি করে (India) না। তবে এটি পৃথিবীর স্বাভাবিক উষ্ণতার ভিত্তি আরও বাড়িয়ে দেয় এবং শক্তিশালী এল নিনোর প্রভাবকে আরও তীব্র করে তুলতে পারে (Warmest Year)।

     

LinkedIn
Share