Tag: Kolkata news

Kolkata news

  • Suvendu Adhikari: ‘কাশ্মীর মাঙ্গে আজাদি’ স্লোগান চলবে না, যাদবপুরে গেরুয়া সম্মান যাত্রা শেষে হুঁশিয়ারি শুভেন্দুর

    Suvendu Adhikari: ‘কাশ্মীর মাঙ্গে আজাদি’ স্লোগান চলবে না, যাদবপুরে গেরুয়া সম্মান যাত্রা শেষে হুঁশিয়ারি শুভেন্দুর

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ‘কাশ্মীর মাঙ্গে আজাদি’র মতো দেশবিরোধী স্লোগান কোনওভাবেই বরদাস্ত করা হবে না—যাদবপুরে গেরুয়া (Saffron) সম্মান যাত্রা শেষে এমনই কড়া বার্তা দিলেন রাজ্যের প্রথম বিজেপি সরকারের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari)। বুধবার গোলপার্ক থেকে যাদবপুরের এইট বি বাসস্ট্যান্ড পর্যন্ত দীর্ঘ মিছিলের নেতৃত্ব দেন তিনি। মিছিল শেষে এইট বি বাসস্ট্যান্ডের মঞ্চে দাঁড়িয়ে গেরুয়াকে অপমানকারীদের বিরুদ্ধে কড়া পদক্ষেপের হুঁশিয়ারি দেন শুভেন্দু। তাঁর বক্তব্য, গেরুয়া ও দেশের মর্যাদাকে যাঁরা অপমান করছেন, তাঁদের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তোলা হবে।

    গেরুয়াময় যাদবপুর (Suvendu Adhikari)

    বুধবার দুপুর থেকেই যাদবপুর কার্যত গেরুয়া রঙে রঙিন হয়ে ওঠে। গেরুয়া পোশাক পরে এবং হাতে গেরুয়া পতাকা নিয়ে মিছিলে যোগ দেন বহু সাধু-সন্ত। শঙ্খধ্বনি ও উলুধ্বনির মধ্যে দিয়ে এগিয়ে চলে মিছিল। আড়াই থেকে তিন কিলোমিটার দীর্ঘ এই যাত্রায় বিভিন্ন সময়ে ‘জয় শ্রীরাম’ ধ্বনিও ওঠে। কপালে গেরুয়া তিলক, হাতে ডমরু নিয়ে সাধু-সন্তদের অংশগ্রহণে মিছিলের আবহ ছিল ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক ভাবধারায় পরিপূর্ণ।

    গোলপার্ক থেকে মিছিল শুরু হয়ে যাদবপুরের এইট বি বাসস্ট্যান্ডে পৌঁছয়। সেখানে আয়োজিত সভায় বক্তব্য রাখতে গিয়ে শুভেন্দু বলেন, যাদবপুরের মতো জায়গায় দেশবিরোধী কার্যকলাপ বা গেরুয়ার অবমাননা কোনওভাবেই মেনে নেওয়া হবে না। তাঁর কথায়, “আমি শপথ নিয়েছি এই যাদবপুরে, যেখানে উৎকর্ষের কেন্দ্র, যেখানে ঋষি অরবিন্দের ভূমি, এখানে কাশ্মীর মাঙ্গে আজাদি গ্যাংকে আর কিষেনজিকে রেড স্যালুট দেওয়া লোকেদের এবং যাঁরা গেরুয়া তাণ্ডব লিখেছেন, তাঁদের শিকড়-সহ তুলে ফেলব আমি।”

    তবে বক্তব্যের এই অংশ নিয়ে রাজনৈতিক মহলে স্বাভাবিকভাবেই বিতর্ক তৈরি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। কারণ, যাদবপুর দীর্ঘদিন ধরেই ছাত্র আন্দোলন, রাজনৈতিক মতাদর্শের সংঘাত এবং মতপ্রকাশের স্বাধীনতা নিয়ে আলোচনার অন্যতম কেন্দ্র। সেই জায়গাতেই দাঁড়িয়ে শুভেন্দুর এই মন্তব্যকে ঘিরে রাজনৈতিক চাপানউতোর আরও বাড়তে পারে বলেই ধারণা রাজনৈতিক মহলের একাংশের।

    শুভেন্দুর ‘তিন সত্যি’

    মঞ্চ থেকে নিজের রাজনৈতিক অবস্থানের কথাও তুলে ধরেন শুভেন্দু। বলেন, “আপনারা জানেন, ২০১১-য় পণ করেছিলাম কমিউনিস্টকে সরাব। আমি পণ করেছিলাম মোদিজির নেতৃত্বে ছাব্বিশে জামাতি সরকারকে সরাব। আপনাদের সাহায্যে সেটা হয়েছে (Suvendu Adhikari)।”

    এর পরেই স্বামী বিবেকানন্দ, শ্রীচৈতন্য এবং স্বামী প্রণবানন্দের প্রসঙ্গ তুলে গেরুয়ার পক্ষে সওয়াল করেন তিনি। শুভেন্দুর কথায়, “আপনারা সঙ্গে থাকুন স্বামী বিবেকানন্দের মাটি, শ্রীচৈতন্য ও প্রণবানন্দের ভূমিতে গেরুয়াই হবে, গেরুয়াই হবে, গেরুয়াই হবে।”

    শুধু বুধবারের কর্মসূচি নয়, আগামী দিনেও যাদবপুরে একাধিক ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান আয়োজন করার বার্তা দিয়েছেন শুভেন্দু। পশ্চিমবঙ্গ সনাতন সংস্কৃতি পরিষদের ডাকে আরও দু’বার যাদবপুরে আসার কথা জানান তিনি। তাঁর বক্তব্য, একবার বেদপাঠের আসরে এবং অন্যবার হনুমান চল্লিশা পাঠের অনুষ্ঠানে যোগ দেবেন তিনি। যাদবপুরে তিন দিন ধরে বেদপাঠের আয়োজন করা হবে বলেও জানান শুভেন্দু।

    তিনি বলেন, “এখানে পশ্চিমবঙ্গ সনাতন সংস্কৃতি পরিষদের ডাকে দু’বার আসব। দেশ ও গেরুয়াকে যাঁরা অপমান করছেন, তাঁদের শিক্ষা দেওয়ার জন্য একবার বেদপাঠ করতে আসব। আর একবার হনুমান চল্লিশা পাঠ করতে আসব।”

    যাদবপুরে আয়োজিত এই ধর্মীয় অনুষ্ঠানে রাষ্ট্রবাদী মানুষদের যোগ দেওয়ার আহ্বানও জানান তিনি। শুভেন্দুর কথায়, “আশা করব, সব রাষ্ট্রবাদী মানুষ তাতে অংশগ্রহণ করবেন।” তিন দিন ধরে বেদপাঠের ব্যবস্থা করা হচ্ছে বলেও জানান তিনি।

    গুরুত্বপূর্ণ বিল

    এদিনের সভায় উচ্চশিক্ষা দফতর সংক্রান্ত বিষয়েও বক্তব্য রাখেন মুখ্যমন্ত্রী। তবে সেই বিষয়ে বিস্তারিত কিছু না বলে বিধানসভায় বিষয়টি উত্থাপন করার কথা জানান (Saffron) তিনি। তাঁর দাবি, পরের দিন বিধানসভায় একটি গুরুত্বপূর্ণ বিল আসতে চলেছে এবং সকাল ১১টা থেকে দুপুর ১টা পর্যন্ত বিশেষ অধিবেশন বসবে। বদলির নীতি চালু করার বিষয়েও তিনি বক্তব্য রাখবেন বলে জানান।

    শুভেন্দু বলেন, “উচ্চশিক্ষা দফতর যা করছে, তা এখন বলব না। কাল বিধানসভায় বলব। কাল ঐতিহাসিক বিল আসতে চলেছে। বেলা ১১টা থেকে ১টা পর্যন্ত বিশেষ অধিবেশন বসবে। বদলির নীতি চালু করছে সরকার। আমি বলেছি, আমাকে ১০-১৫ মিনিট কথা বলার সময় দিতে হবে।”

    এদিনের মিছিলের অন্যতম আকর্ষণ ছিলেন পদ্মশ্রী কার্তিক মহারাজ। শুভেন্দু অধিকারীর পাশে তাঁকে মিছিলে হাঁটতে দেখা যায়। সঙ্গে ছিলেন কয়েকশো সাধু-সন্ত। রাজ্যের পরিবহণমন্ত্রী তাপস রায়ও মিছিলে শুভেন্দুর পাশে ছিলেন বলে আয়োজকদের তরফে জানানো হয়েছে। যাদবপুরের বিজেপি বিধায়ক শর্বরী মুখোপাধ্যায়কেও অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকতে দেখা গিয়েছে (Suvendu Adhikari)।

    ‘বন্দে মাতরম’

    মিছিল এইট বি বাসস্ট্যান্ডে পৌঁছনোর পর সকলে ‘বন্দে মাতরম’ গান। এরপর মঞ্চ থেকে ফের যাদবপুরকে স্বামী বিবেকানন্দের ভূমি হিসেবে উল্লেখ করেন শুভেন্দু। তাঁর বক্তব্য, এই ভূমিতে গেরুয়ার উপস্থিতিই থাকবে।

    শুভেন্দু বলেন, “গেরুয়ার অপমান সহ্য করব না। পরিষ্কার বার্তা দিয়ে গেলাম। যাদবপুর থেকে কাশ্মীর মাঙ্গে আজাদি, রেড স্যালুট কী করে সাফ করতে হয়, পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী তা জানে।”

    তিনি আরও বলেন, “আমি শপথ নিয়েছি, এই যাদবপুরে, যা ঋষি অরবিন্দের ভূমি, সেখানে কিষেনজিকে রেড স্যালুট দেওয়া লোকদের শিকড়-সহ তুলব।”

    এর আগে ২০১১ সালের রাজনৈতিক পরিবর্তনের প্রসঙ্গও তুলে ধরেন তিনি (Suvendu Adhikari)। কমিউনিস্টদের সরানোর পাশাপাশি জামাতের সরকার সরানোর সংকল্পের কথাও বলেন শুভেন্দু। তাঁর দাবি, সাধারণ মানুষের আশীর্বাদ ও সহযোগিতাতেই সেই রাজনৈতিক লক্ষ্য পূরণ হয়েছে।

    গেরুয়া সম্মান যাত্রা

    এদিনের গেরুয়া সম্মান যাত্রাকে কেন্দ্র করে যাদবপুরে ধর্মীয় আবহের পাশাপাশি রাজনৈতিক বার্তাও স্পষ্ট হয়ে ওঠে। একদিকে সাধু-সন্তদের উপস্থিতি, বেদপাঠ, হনুমান চল্লিশা পাঠ এবং গেরুয়া পতাকা—অন্যদিকে দেশবিরোধী স্লোগান ও রাজনৈতিক মতাদর্শের বিরুদ্ধে সরাসরি আক্রমণ, সব মিলিয়ে এদিনের কর্মসূচিটি রাজনৈতিক মহলে যথেষ্ট তাৎপর্যপূর্ণ।

    শুভেন্দুর বক্তব্যে বারবার উঠে এসেছে গেরুয়ার মর্যাদা রক্ষা (Saffron), সনাতন সংস্কৃতির প্রসার এবং দেশবিরোধী কার্যকলাপের বিরোধিতার বিষয়। যাদবপুরে এই কর্মসূচির মাধ্যমে সেই রাজনৈতিক ও সাংস্কৃতিক বার্তাই আরও জোরালোভাবে তুলে ধরতে চেয়েছেন তিনি। আগামী দিনে বেদপাঠ ও হনুমান চল্লিশা পাঠের কর্মসূচি ঘিরে যাদবপুরে রাজনৈতিক উত্তাপ কতটা বাড়ে, এখন সেটাই দেখার (Suvendu Adhikari)।

     

  • Kolkata High Court: ‘আর কতদিন বিচারাধীন থাকবে?’ আরজি কর মামলায় সিবিআইকে তীব্র ভর্ৎসনা হাইকোর্টের

    Kolkata High Court: ‘আর কতদিন বিচারাধীন থাকবে?’ আরজি কর মামলায় সিবিআইকে তীব্র ভর্ৎসনা হাইকোর্টের

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: আরজি কর মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালের (RG Kar Medical College) তরুণী চিকিৎসককে ধর্ষণ ও খুনের মামলার (RG Kar Case) তদন্তে কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা সিবিআই (CBI)-এর ভূমিকা নিয়ে তীব্র অসন্তোষ প্রকাশ করল কলকাতা হাইকোর্ট (Kolkata High Court)। তদন্তের ধীরগতি, একাধিক গুরুত্বপূর্ণ দিক উপেক্ষা এবং বিচারপ্রক্রিয়ায় বিলম্ব নিয়ে ক্ষোভ উগরে দেন বিচারপতি শম্পা সরকার ও বিচারপতি তীর্থঙ্কর ঘোষের বিশেষ ডিভিশন বেঞ্চ। আদালতের প্রশ্ন, “আর কতদিন বিচারাধীন থাকবে এই মামলা? সবাই বিচার চাইছে, আর কতদিন অপেক্ষা করবে?”

    তদন্ত নিয়ে কড়া প্রশ্ন হাইকোর্টের (Kolkata High Court)

    শুনানির সময় বিচারপতিরা সিবিআই (CBI)-এর তদন্তের গতিপ্রকৃতি নিয়ে একাধিক প্রশ্ন তোলেন। আদালতের (Kolkata High Court) পর্যবেক্ষণ, “ঘটনার এতদিন পরেও তদন্তে কাঙ্ক্ষিত অগ্রগতি দেখা যাচ্ছে না। এতে শুধু নির্যাতিতার পরিবার নয়, সাধারণ মানুষের মধ্যেও বিচারপ্রক্রিয়া নিয়ে প্রশ্ন তৈরি হচ্ছে।”

    বিচারপতি শম্পা সরকারের বক্তব্য

    বিচারপতি শম্পা সরকার বলেন, “সিবিআই (CBI)-এর জমা দেওয়া রিপোর্ট থেকেই স্পষ্ট যে ঘটনাস্থলে তথ্যপ্রমাণ নষ্ট করা হয়েছে এবং মৃতদেহ সরানোর মতো গুরুতর অভিযোগ রয়েছে। অথচ সেই বিষয়গুলিতে তদন্তে এখনও সন্তোষজনক অগ্রগতি নেই।”

    ‘আর কতদিন বিচারাধীন থাকবে এই মামলা?

    আদালত সিবিআই (CBI)-কে নির্দেশ দিয়েছে, ঘটনার দিন ঠিক কী কী ঘটেছিল? তার পূর্ণ পুনর্নির্মাণ (রিকনস্ট্রাকশন) করতে হবে। আগের তদন্তের ত্রুটি সংশোধন করে নতুন করে পুঙ্খানুপুঙ্খ তদন্তের নির্দেশও দেয় ডিভিশন বেঞ্চ। এ সময় বিচারপতি শম্পা সরকার সিবিআই-এর উদ্দেশে প্রশ্ন তোলেন, “আগের নির্দেশই যদি বুঝতে না পারেন, তাহলে তদন্ত এগোবে কীভাবে? এইভাবে কতদিন একটি মামলাকে বিচারাধীন রেখে দেব?”

    সিবিআই-এর ভূমিকায় প্রশ্ন

    এদিন সওয়াল জবাবে নির্যাতিতার পরিবারের পক্ষে আইনজীবী জয়ন্ত নারায়ণ চট্টোপাধ্যায় আদালতে অভিযোগ করেন, “সিবিআই (CBI)-এর তদন্তে কোনও স্পষ্ট রূপরেখা নেই। সিবিআই যদি নিজেদের অতিরিক্ত হলফনামায় উল্লেখ করা বিষয়গুলি যথাযথভাবে অনুসরণ করত, তাহলে আরও গুরুত্বপূর্ণ তথ্য সামনে আসতে পারত। ঘটনার রাতে নির্যাতিতার সঙ্গে আরও চারজন চিকিৎসক রাতের খাবার খেয়েছিলেন এবং গভীর রাতে ঘটনাস্থলের আশপাশে অন্তত ১৬ জন ছিলেন। তাঁদের প্রত্যেকের ভূমিকা এবং আরজি করের তৎকালীন অধ্যক্ষ সন্দীপ ঘোষের সঙ্গে কোনও যোগসূত্র ছিল কি না? তা এখনও স্পষ্ট নয়। কেন এখনও কাউকে গ্রেফতার করা হয়নি?” সেই প্রশ্নও তোলেন তিনি।

    সিবিআই-এর সাফাই

    সিবিআই (CBI)-এর পক্ষে বর্ষীয়ান আইনজীবী ধীরজ ত্রিবেদী আদালতে জানান, “নির্যাতিতার সঙ্গে শেষবার যিনি নৈশভোজ করেছিলেন, সেই জুনিয়র চিকিৎসকের এখনও বয়ান নেওয়া হয়নি। তবে সমস্ত অভিযোগ গুরুত্ব দিয়ে খতিয়ে দেখা হচ্ছে এবং কোথাও ত্রুটি থাকলে তা সংশোধন করা হবে।” আশ্বাস আইনজীবী ধীরজ ত্রিবেদীর। পাশাপাশি তদন্ত এগিয়ে নিয়ে যেতে আদালতের কাছে আরও সময় চান তিনি।

    ‘এটা কি পোস্টকার্ড পাঠানোর মতো সহজ?’

    সিবিআই (CBI)-এর বক্তব্যে সন্তুষ্ট হয়নি আদালত। সিবিআইয়ের আইনজীবীর জবাবের চরম কটাক্ষ বিচারপতি শম্পা সরকারের। ব্যঙ্গাত্মক সুরে তিনি বলেন, “একরাতের মধ্যে হঠাৎ করে একটা পরিকাঠামো ভেঙে পড়ল আর আপনারা বিষয়টি খতিয়ে দেখার নাম করে ঢুকে পড়েছেন? তদন্তটা কি জলপাইগুড়ি জেলা থেকে একটা পোস্টকার্ড পাঠিয়ে দেওয়ার মতো সহজ বিষয়?” মৃত্যুর প্রকৃত সময় কখন ছিল? সিবিআই কি তা সঠিকভাবে নির্ধারণ করতে পেরেছে? সে বিষয়েও প্রশ্ন তোলে বেঞ্চ। আদালতের মতে, এত গুরুত্বপূর্ণ মামলায় তদন্তে কোনওরকম গাফিলতি বা শিথিলতা মেনে নেওয়া যায় না।

    ‘এটা নিম্ন আদালত নয়’

    শুনানির সময় সিবিআই (CBI) জানায়, তারা গত ৭ জুলাই বিশেষ তদন্তকারী দল (SIT)-এর কাছ থেকে মামলার নথি ও তদন্তভার গ্রহণ করেছে। এর জবাবে বিচারপতি শম্পা সরকার স্পষ্ট ভাষায় বলেন, “মনে রাখবেন, এটা নিম্ন আদালত নয়। আমরা পুরো বিষয়টির উপর সরাসরি নজরদারি করছি।” আদালতের এই মন্তব্যে স্পষ্ট, তদন্তের প্রতিটি ধাপের উপর কড়া নজর রাখবে হাইকোর্ট।

    পরবর্তী শুনানি ২৮ অগাস্ট

    দীর্ঘ সওয়াল-জবাবের শেষে ডিভিশন বেঞ্চ স্পষ্ট জানিয়ে দেয়, এই মামলায় আর কোনও গাফিলতি বরদাস্ত করা হবে না। আদালতের (Kolkata High Court) নির্দেশ অনুযায়ী নতুন তদন্তে কী অগ্রগতি হয়েছে? কী কী পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে? তার বিস্তারিত রিপোর্ট আগামী ২৮ অগাস্ট জমা দিতে হবে সিবিআই (CBI)-কে। ওই দিনই মামলার (RG Kar Case) পরবর্তী শুনানি হবে।

  • Suvendu Adhikari: নবান্নে সারলেন সিটের সঙ্গে জরুরি বৈঠক, পরিবারের সঙ্গে দেখা করতে বারুইপুরে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু

    Suvendu Adhikari: নবান্নে সারলেন সিটের সঙ্গে জরুরি বৈঠক, পরিবারের সঙ্গে দেখা করতে বারুইপুরে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: দক্ষিণ ২৪ পরগনার বারুইপুরে ১২ বছরের এক নাবালিকাকে গণধর্ষণ ও খুনের ঘটনায় রাজ্যজুড়ে তীব্র ক্ষোভের আবহের মধ্যেই মঙ্গলবার বারুইপুর সফরে যাচ্ছেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। নির্যাতিতার পরিবারের সঙ্গে দেখা করে তাঁদের পাশে থাকার বার্তা দেওয়ার পাশাপাশি তদন্তের অগ্রগতি খতিয়ে দেখতে পুলিশ প্রশাসনের শীর্ষ কর্তাদের সঙ্গেও বৈঠক করবেন তিনি।

    বারুইপুর নিয়ে নবান্নে জরুরি বৈঠক শুভেন্দুর

    মুখ্যমন্ত্রীর দফতর সূত্রে জানা গিয়েছে, বারুইপুর রওনা হওয়ার আগে মঙ্গলবার সকালে বিশেষ তদন্তকারী দল (SIT)-এর আধিকারিকদের সঙ্গে দীর্ঘ বৈঠক করেন শুভেন্দু অধিকারী। তদন্ত কতদূর এগিয়েছে, এখনও কী কী তথ্য সামনে এসেছে এবং পরবর্তী পদক্ষেপ কী হতে পারে— সেই সমস্ত বিষয় নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। এরপর বারুইপুরের পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে নির্যাতিতার পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে তাঁর সাক্ষাতের সম্ভাবনা রয়েছে।

    মুখ্যমন্ত্রীর আগেই পৌঁছল বিজেপির প্রতিনিধি দল

    মুখ্যমন্ত্রীর সফরের আগে মঙ্গলবার সকালে নির্যাতিতার বাড়িতে পৌঁছন বিজেপির একটি প্রতিনিধি দল। দলে ছিলেন রাজ্যের পুরমন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পাল, বিজেপি নেত্রী লকেট চট্টোপাধ্যায় এবং বিজেপি মহিলা মোর্চার রাজ্য সভানেত্রী ফাল্গুনী পাত্র। তাঁরা পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কথা বলে সমবেদনা জানান এবং সরকারের পক্ষ থেকে সব ধরনের সহযোগিতার আশ্বাস দেন। পরিবারের সঙ্গে সাক্ষাতের পর অগ্নিমিত্রা পাল দাবি করেন, আগের সরকার আক্রান্ত পরিবারের পাশে দাঁড়ানোর উদ্যোগ নেয়নি। তাঁর কথায়, বর্তমান সরকার দ্রুত পদক্ষেপ করেছে এবং মাত্র ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই মূল অভিযুক্তদের গ্রেফতার করা সম্ভব হয়েছে। তিনি আরও বলেন, নির্যাতিতার পরিবার সরকারের ভূমিকা নিয়ে সন্তুষ্ট এবং মুখ্যমন্ত্রীর উপর তাঁদের পূর্ণ আস্থা রয়েছে। অগ্নিমিত্রা পালের বক্তব্য, ‘‘আমরা রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে আসিনি। এই কঠিন সময়ে পরিবারের পাশে দাঁড়ানোই আমাদের একমাত্র লক্ষ্য।’’ একইসঙ্গে লকেট চট্টোপাধ্যায়ও আশ্বাস দেন, অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে আইনের সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করতে সরকার সব ধরনের ব্যবস্থা নেবে।

    তদন্তে গতি, গণধর্ষণের ধারাও যুক্ত

    বারুইপুরের এই নৃশংস ঘটনায় খুনের পাশাপাশি গণধর্ষণের ধারাও যুক্ত করেছে তদন্তকারী সংস্থা। তদন্তকারীরা ধৃতদের জিজ্ঞাসাবাদ করে অপরাধের প্রকৃত উদ্দেশ্য, ঘটনার পরিকল্পনা এবং অন্য কারও যোগ রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখছেন। এখন পর্যন্ত তিন জনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। ধৃতদের নাম আনন্দ সর্দার, প্রভাস মণ্ডল এবং দিবাকর সর্দার। তাঁদের মধ্যে দু’জনকে ইতিমধ্যেই আদালতে পেশ করে ১৪ দিনের পুলিশ হেফাজতে নেওয়া হয়েছে। তৃতীয় অভিযুক্তকে মঙ্গলবার আদালতে তোলা হচ্ছে। পরিবারের অভিযোগের ভিত্তিতে মোট চার জনের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের হয়েছে বলে প্রশাসন সূত্রে খবর।

    তৃণমূলের বিদ্রোহী শিবিরের প্রতিনিধিরাও গেলেন

    মঙ্গলবার সকালে বিজেপির প্রতিনিধি দল বেরিয়ে যাওয়ার কিছুক্ষণ পর ঘটনাস্থলে পৌঁছয় তৃণমূলের বিদ্রোহী গোষ্ঠীর প্রতিনিধিরাও। ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন প্রতিনিধিদলে ছিলেন চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য, এনসিপিআই-তে যোগ দেওয়া স্থানীয় সাংসদ সায়নী ঘোষ এবং কাকলি ঘোষ দস্তিদার-সহ একাধিক নেতা। এলাকায় প্রবেশকে কেন্দ্র করে প্রথমে পুলিশের সঙ্গে প্রতিনিধি দলের সদস্যদের বচসা বাধে। পরে স্থানীয় সাংসদ হওয়ার কারণে শুধুমাত্র সায়নী ঘোষকে পরিবারের সঙ্গে দেখা করার অনুমতি দেওয়া হয়। তিনি পরিবারের সদস্যদের সমবেদনা জানান এবং প্রশাসনের তরফে প্রয়োজনীয় সহায়তার আশ্বাস দেন। পরে সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে কাকলি ঘোষ দস্তিদার জানান, মুখ্যমন্ত্রীর নির্দেশেই তাঁরা ঘটনাস্থলে গিয়েছেন। তিনি বলেন, সরকার অত্যন্ত কঠোর অবস্থান নিয়েছে এবং দ্রুত তদন্ত শেষ করে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে কঠোর শাস্তির ব্যবস্থা করা হবে।

    রবিবার থেকেই উত্তপ্ত বারুইপুর

    গত রবিবার স্থানীয় একটি পুকুর থেকে ১২ বছরের ওই কিশোরীর দেহ উদ্ধারের পর থেকেই উত্তেজনা ছড়ায় বারুইপুরে। দফায় দফায় বিক্ষোভে পরিস্থিতি অগ্নিগর্ভ হয়ে ওঠে। সেই উত্তেজনার মধ্যেই কিশোরীর খুনের সন্দেহে গণপিটুনির ঘটনায় এক যুবকের মৃত্যুও হয়, যা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তোলে। এই ঘটনার পর থেকেই পুলিশ ও এসআইটি যৌথভাবে তদন্ত চালাচ্ছে। প্রশাসনের দাবি, ঘটনার সঙ্গে যুক্ত প্রত্যেককে আইনের আওতায় এনে কঠোর শাস্তির ব্যবস্থা করা হবে।

    মুখ্যমন্ত্রীর বার্তা

    সোমবারই শুভেন্দু অধিকারী জানিয়েছিলেন, নির্যাতিতার পরিবারের সমস্ত ন্যায্য দাবি পূরণে সরকার প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। তাঁর বক্তব্য, “নির্যাতিতার বাবা যা যা চেয়েছেন, সবটাই করা হবে। পরিবার আমাদের উপর আস্থা রেখেছে, সেটাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।” মঙ্গলবারের সফরে মুখ্যমন্ত্রী সরাসরি পরিবারের সঙ্গে কথা বলে তদন্তের অগ্রগতি সম্পর্কে তাঁদের অবহিত করতে পারেন বলেই প্রশাসনিক সূত্রে জানা গিয়েছে।

  • Kolkata Trams: বিদেশি প্রযুক্তির হাত ধরে পুনরুত্থানের আশায় কলকাতার ট্রাম! ভাবনায় কালীঘাট-দক্ষিণেশ্বর রুট, শুরু সমীক্ষা

    Kolkata Trams: বিদেশি প্রযুক্তির হাত ধরে পুনরুত্থানের আশায় কলকাতার ট্রাম! ভাবনায় কালীঘাট-দক্ষিণেশ্বর রুট, শুরু সমীক্ষা

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: কলকাতার ঐতিহ্যের অন্যতম প্রতীক ট্রামকে (Kolkata Trams) আধুনিক রূপে ফিরিয়ে আনতে উদ্যোগী হয়েছে রাজ্যের পরিবহণ দফতর। শহরের বিভিন্ন (Australian French Technology) রুটে বন্ধ হয়ে যাওয়া ট্রাম পরিষেবা ফের চালু করা এবং আন্তর্জাতিক মানের প্রযুক্তি ব্যবহার করে ট্রামকে সময়োপযোগী করে তোলার লক্ষ্যে সমীক্ষার দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে রাষ্ট্রায়ত্ত সংস্থা রাইটসকে (RITES)।

    সমীক্ষায় রাইটস (Kolkata Trams)

    পরিবহণ দফতর সূত্রে জানা গিয়েছে, ইতিমধ্যেই ট্রাম পরিষেবা সংক্রান্ত বিভিন্ন নথি ও তথ্য রাইটসের হাতে তুলে দেওয়া হয়েছে। সমীক্ষার সময় অস্ট্রেলিয়া ও ফ্রান্সের আধুনিক ট্রাম প্রযুক্তি এবং নগর পরিবহণ ব্যবস্থার অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগানো হবে। সংশ্লিষ্ট বিদেশি সংস্থাগুলির সঙ্গে আলোচনা করেই রাইটস এই সমীক্ষা করবে। পরিবহণ দফতরের এক আধিকারিক বলেন, “কলকাতায় ট্রাম চলছে ব্রিটিশ আমল থেকে। এই সময় থেকে এখনও পর্যন্ত কলকাতা ট্রামের কোনও প্রযুক্তিগত উন্নতি হয়নি। ট্রামকে সময়োপযোগী করে তুলতে প্রযুক্তির উন্নয়ন প্রয়োজন। তাই অস্ট্রেলিয়া এবং ফ্রান্সের দু’টি সংস্থার সঙ্গে আলোচনা সাপেক্ষে তাদের সঙ্গে সমীক্ষার কাজ করবে রাইটস।”

    ‘তৃণ’ জমানায় ট্রামের ‘মূলে’ কুঠারাঘাত!

    সরকারি সূত্রে খবর, বাঙালির আবেগ ও কলকাতার ঐতিহ্যের সঙ্গে ট্রামের গভীর সম্পর্ক থাকলেও (Kolkata Trams) গত কয়েক বছরে এই পরিষেবার পরিকাঠামো ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। রাজ্যের প্রথম বিজেপি সরকারের অভিযোগ, সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ থাকা সত্ত্বেও ট্রাম পরিষেবার সঙ্গে যুক্ত একাধিক গুরুত্বপূর্ণ সম্পদ ও জমি আগের সরকারের আমলে বিক্রি করে দেওয়া হয়েছে। ফলে অনেক ক্ষেত্রেই শুধু ট্রামের বাহ্যিক কাঠামো অবশিষ্ট রয়েছে, কিন্তু প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম ও পরিকাঠামোর বড় অংশ আর নেই। এই পরিস্থিতিতে ট্রাম পরিষেবাকে পুনরুজ্জীবিত করার নির্দেশ দিয়েছেন পরিবহণমন্ত্রী অর্জুন সিংহ। রাইটসের সমীক্ষায় মূলত খতিয়ে দেখা হবে, যে সব রুটে ট্রাম পরিষেবা বন্ধ হয়ে গিয়েছে, সেখানে ফের ট্রাম চালানো যায় কি না এবং আন্তর্জাতিক প্রযুক্তির সাহায্যে পরিষেবাকে আরও কার্যকর করে তোলা যায় কীভাবে।

    কী বলছেন পালাবদলের পরিবহণমন্ত্রী?

    পরিবহণমন্ত্রী বলেন, “ট্রামের সবচেয়ে বড় সুবিধা হল এটি সম্পূর্ণ দূষণমুক্ত একটি পরিবহণ ব্যবস্থা। পরিবহণ দফতর চেষ্টা করছে যাতে ট্রাম চালানোর জন্য রাজ্য সরকারের ওপর অতিরিক্ত আর্থিক বোঝা না চাপে (Australian French Technology)। আমরা পাবলিক-প্রাইভেট পার্টনারশিপ মডেলে এই প্রকল্প বাস্তবায়নের সম্ভাবনা খতিয়ে দেখছি।” পরিবহণ দফতর সূত্রে জানা গিয়েছে, দক্ষিণেশ্বর থেকে কালীঘাট এবং গঙ্গা থেকে আদিগঙ্গা সংযোগকারী বিশেষ ট্রাম রুট চালুর বিষয়েও ভাবনাচিন্তা চলছে (Kolkata Trams)। এর পাশাপাশি ট্রাম পরিষেবাকে পর্যটনের সঙ্গে যুক্ত করার পরিকল্পনাও রয়েছে। এ ক্ষেত্রে পর্যটন দফতরের সহযোগিতা নেওয়া হতে পারে। শুধু কলকাতাই নয়, ভবিষ্যতে নিউটাউন- রাজারহাট এলাকায়ও ট্রাম পরিষেবা চালুর সম্ভাবনা খতিয়ে দেখা হবে। ওই অঞ্চলের বর্তমান গণপরিবহণ ব্যবস্থা নিয়ে সরকার পুরোপুরি সন্তুষ্ট নয় বলেই প্রশাসনিক সূত্রে খবর।

    বাঁচবে তিলোত্তমাও

    পরিবহণ দফতরের একাংশের মতে, পরিবেশবান্ধব ও আধুনিক নগর পরিবহণ ব্যবস্থার চাহিদা ক্রমশ বাড়ছে। সেই প্রেক্ষাপটে আন্তর্জাতিক প্রযুক্তির সাহায্যে ট্রামকে নব কলেবরে ফিরিয়ে আনা গেলে একদিকে যেমন কলকাতার ঐতিহ্য সংরক্ষণ হবে, তেমনই নগর পরিবহণ ব্যবস্থাও আরও শক্তিশালী হবে, দূষণের হাত থেকে রক্ষা পাবে তিলোত্তমা। এমতাবস্থায় রাইটসের সমীক্ষা রিপোর্টের দিকেই (Australian French Technology) তাকিয়ে শুভেন্দু অধিকারীর নেতৃত্বাধীন রাজ্যের পদ্ম সরকার (Kolkata Trams)।

  • TMC July 21 Rally: ধর্মতলায় ২১ জুলাইয়ের সভার অনুমতি নয়, মমতা-ঋতব্রত— তৃণমূলের দুই শিবিরকেই জানিয়ে দিল পুলিশ

    TMC July 21 Rally: ধর্মতলায় ২১ জুলাইয়ের সভার অনুমতি নয়, মমতা-ঋতব্রত— তৃণমূলের দুই শিবিরকেই জানিয়ে দিল পুলিশ

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ২১ জুলাই ধর্মতলায় ‘শহিদ দিবস’ উপলক্ষে রাজনৈতিক সমাবেশের (TMC July 21 Rally) অনুমতি দেওয়া হবে না বলে কালীঘাট এবং ঋতব্রত— তৃণমূলের দুই শিবিরকেই জানিয়ে দিল (Dharmatala) কলকাতা পুলিশ। লালবাজারের বক্তব্য, ধর্মতলার মতো অত্যন্ত ব্যস্ত এলাকায় রাস্তা অবরুদ্ধ করে কোনও রাজনৈতিক কর্মসূচি আয়োজনের অনুমতি দেওয়া সম্ভব নয়।

    ধর্মতলায় সভা নয় (TMC July 21 Rally)

    এ বছর ভিক্টোরিয়া হাউসের সামনে ২১ জুলাইয়ের কর্মসূচি করার জন্য পুলিশের কাছে আলাদা করে আবেদন জানিয়েছিল দুই পক্ষই। অনুমতির সিদ্ধান্ত ঘোষণার আগেই রবিবার সেখানে ফিতে দিয়ে জায়গা মাপতে দেখা গিয়েছিল তৃণমূলের মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় শিবিরের কুণাল ঘোষ ও দোলা সেনকে। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে শুরু হয় রাজনৈতিক বিতর্ক। পরে যান চলাচলে বিঘ্ন ঘটিয়ে মাপজোক করার অভিযোগে তাঁদের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করে কলকাতা পুলিশ। তার পরের দিনই ধর্মতলায় সভার অনুমতি না দেওয়ার সিদ্ধান্ত জানিয়ে দেওয়া হয়।

    মমতা শিবিরের বক্তব্য

    মমতা শিবিরের তরফে রাজ্যসভার প্রাক্তন সাংসদ শুভাশিস চক্রবর্তী বলেন, “এখনও পুলিশের তরফে কোনও চিঠি আমরা পাইনি। তাই এখনই এই বিষয়ে কোনও মন্তব্য করব না।” ঋতব্রত শিবিরের পরিষদীয় দলের মুখ্যসচেতক তথা মুর্শিদাবাদের রঘুনাথগঞ্জের বিধায়ক আখরুজ্জামান জানান, “আমরা আমাদের শহিদ দিবস পালন করবই। তবে তা কখনও মানুষের কোনও অসুবিধা করে হবে না। আমরা সবাই মিলে বসে এই কর্মসূচি নিয়ে আলোচনা করেই পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেব।”

    তৃণমূলে মুষল পর্ব 

    প্রসঙ্গত, ছাব্বিশের বিধানসভা নির্বাচনে গোহারা হেরে যাওয়ার পরেই মুষল পর্ব শুরু হয় মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সাধের তৃণমূলে। এক শিবিরের নেতা ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়, আর অন্য গোষ্ঠীর নেতা মমতা স্বয়ং। দলের অন্দরে এই বিভাজনের জেরে এ বছর ২১ জুলাইয়ের কর্মসূচি আদৌ হবে কি না, তা নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছিল। তবে সম্প্রতি মমতা জানিয়েছিলেন, ধর্মতলায়ই শহিদ দিবস পালনের পরিকল্পনা রয়েছে। উত্তর কলকাতার এক কর্মসূচিতে কুণালের মোবাইল ফোন থেকে (TMC July 21 Rally) তাঁর বার্তাও শোনানো হয়। সেখানে মমতা বলেন, “২১ জুলাই আশা করি অনুমতি পাব। আমরা একটা দিনই মিটিং করি। সে দিন বিস্তারিত বলব। পাঁচ জন কর্মী থাকলেও সেই মিটিংয়ে থাকব। আপনারা ওই দিন সমবেত হোন।” এরপরই দুই শিবির পৃথকভাবে একই জায়গায় সমাবেশের অনুমতি চেয়ে আবেদন করে।

    ২১ জুলাই

    ধর্মতলায় ২১ জুলাইয়ের সভা তৃণমূলের দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক ঐতিহ্য। ২০১১ সালে কর্মসূচি পালিত হয়েছিল ব্রিগেড ময়দানে। ২০১৩ এবং অতিমারির কারণে ২০২০ ও ২০২১ সালে ধর্মতলায় সভা হয়নি। বাকি প্রায় প্রত্যেক বছরই এই কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়েছে ধর্মতলায়ই। ২১ জুলাইয়ের এই কর্মসূচির সূচনা ১৯৯৩ সালের ঘটনাকে ঘিরে। সেই সময় যুব কংগ্রেসের সভাপতি ছিলেন মমতা। সচিত্র ভোটার পরিচয়পত্রের দাবিতে মহাকরণ অভিযানের ডাক দেওয়া হয়েছিল। মিছিল মহাকরণের দিকে এগোতে শুরু করলে বিভিন্ন জায়গায় পুলিশ ব্যারিকেড করে তা রুখে দেয়। এরপর বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষ, ইট-পাথর বর্ষণ, কাঁদানে গ্যাসের সেল ফাটানো এবং উত্তেজনার মধ্যে গুলিচালনার ঘটনা ঘটে। সেই ঘটনায় ১৩ জনের মৃত্যু হয় (Dharmatala), জখম হয়েছিলেন বহু কংগ্রেস কর্মী-সমর্থক। এই দিনটিকেই শহিদ দিবস হিসেবে পালন করে আসছে তৃণমূল (TMC July 21 Rally)।

     

  • Taratala Godown Collapse: তারাতলায় মৃত বেড়ে ১৫, ধ্বংসস্তূপে এখনও আটকে থাকার আশঙ্কা! তদন্তে গ্রেফতার কালীচরণ

    Taratala Godown Collapse: তারাতলায় মৃত বেড়ে ১৫, ধ্বংসস্তূপে এখনও আটকে থাকার আশঙ্কা! তদন্তে গ্রেফতার কালীচরণ

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: কলকাতার তারাতলায় নির্মীয়মাণ গুদাম ধসের ঘটনায় মৃত্যুমিছিল আরও দীর্ঘ হল। শুক্রবার ধ্বংসস্তূপের নীচ থেকে আরও দু’জনকে উদ্ধার করে এসএসকেএম হাসপাতালের ট্রমা কেয়ার সেন্টারে নিয়ে যাওয়া হলে চিকিৎসকেরা তাঁদের মৃত বলে ঘোষণা করেন। এর ফলে এই ভয়াবহ দুর্ঘটনায় মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১৫। যদিও উদ্ধারকারীদের আশঙ্কা, এখনও ধ্বংসস্তূপের নীচে আরও কয়েকজন আটকে থাকতে পারেন। ফলে যুদ্ধকালীন তৎপরতায় উদ্ধার অভিযান অব্যাহত রয়েছে। শুক্রবার এই প্রসঙ্গে বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী বলেন, “এখনও কেউ আটকে আছে কি না, এখনই বলা সম্ভব নয়। এটা এনডিআরএফ ও সেনা চূড়ান্ত জানালে, আমি কলকাতা পুলিশকে জানাব।” হাসপাতাল সূত্রে জানা গিয়েছে, এখনও পর্যন্ত মোট ৩৩ জনকে ধ্বংসস্তূপ থেকে উদ্ধার করে বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। আহতদের মধ্যে কয়েকজনের শারীরিক অবস্থা এখনও আশঙ্কাজনক বলে চিকিৎসকরা জানিয়েছেন।

    বুধবারের ভয়াবহ দুর্ঘটনা

    বুধবার দুপুরে তারাতলার একটি নির্মীয়মাণ গুদামের ছাদ আচমকাই ধসে পড়ে। মুহূর্তের মধ্যে কংক্রিটের বিশাল অংশ, লোহার বিম এবং নির্মাণসামগ্রীর নীচে চাপা পড়েন বহু শ্রমিক ও কর্মী। খবর পেয়েই ঘটনাস্থলে পৌঁছয় কলকাতা পুলিশ, দমকল, রাজ্য বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনী, এনডিআরএফ এবং পরে ভারতীয় সেনাবাহিনী। রাতভর উদ্ধার অভিযান চালানো হয়। পরবর্তী সময়ে ক্রেন, হাইড্রোলিক কাটার, অত্যাধুনিক যন্ত্র এবং স্নিফার ডগ ব্যবহার করে ধ্বংসস্তূপ সরানোর কাজ শুরু হয়। উদ্ধার হওয়া আহতদের ঘটনাস্থলে তৈরি অস্থায়ী চিকিৎসা শিবিরে প্রাথমিক চিকিৎসার পর এসএসকেএম-সহ বিভিন্ন হাসপাতালে পাঠানো হচ্ছে। প্রশাসনের দাবি, ধ্বংসস্তূপের প্রতিটি অংশ অত্যন্ত সতর্কতার সঙ্গে সরানো হচ্ছে, কারণ এখনও ভিতরে কেউ আটকে থাকতে পারেন বলে আশঙ্কা রয়েছে। বৃষ্টি ও প্রতিকূল আবহাওয়ার কারণে মাঝেমধ্যে উদ্ধারকাজে বিঘ্ন ঘটলেও অভিযান বন্ধ করা হয়নি।

    তদন্তে সিট, গ্রেফতার একাধিক

    ঘটনার পরই রাজ্য প্রশাসন তদন্তভার দেয় কলকাতা পুলিশের গোয়েন্দা বিভাগের হাতে এবং গঠন করা হয় বিশেষ তদন্তকারী দল (সিট)। তদন্তে নির্মাণে গাফিলতি, নিরাপত্তা বিধি লঙ্ঘন এবং দায়িত্বে অবহেলার অভিযোগ খতিয়ে দেখা হচ্ছে। নির্মাণ সংক্রান্ত সমস্ত নথি, অনুমোদনপত্র এবং প্রযুক্তিগত দিকও পরীক্ষা করছে তদন্তকারীরা। পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, গুদাম নির্মাণ ও পরিচালনার সঙ্গে যুক্ত একাধিক ব্যক্তিকে ইতিমধ্যেই গ্রেফতার করা হয়েছে। তদন্তে ধৃতদের মধ্যে দু’জনের বিরুদ্ধে অতীতেও ফৌজদারি মামলার অভিযোগ ছিল বলেও জানা গিয়েছে।

    সিটের জালে কালীচরণ বন্দ্যোপাধ্যায়, কে তিনি?

    এই তদন্তেই নতুন মোড় আসে প্রাক্তন মেয়র ফিরহাদ হাকিমের প্রাক্তন ওএসডি কালীচরণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের গ্রেফতারিকে কেন্দ্র করে। প্রথমে তাঁকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। পরে সিট তাঁকে গ্রেফতার করে। ফিরহাদ হাকিমের ঘনিষ্ঠ বলেই পরিচিত কালীচরণ বন্দ্যোপাধ্যায়। তদন্তকারী সূত্রে জানা গিয়েছে, গুদাম নির্মাণের প্ল্যান কীভাবে অনুমোদন পেল এবং সেই অনুমোদন প্রক্রিয়ায় কারা যুক্ত ছিলেন, সেই বিষয়েই মূলত তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। এর আগে বৃহস্পতিবার বিধানসভায় এই ইস্যুতে সরব হন শুভেন্দু অধিকারী। একটি নথি দেখিয়ে তিনি দাবি করেন, নির্মাণের অনুমোদনপত্রে তৎকালীন মেয়র ফিরহাদ হাকিমের স্বাক্ষর রয়েছে। তাঁর অভিযোগ, কাঠামোগত ত্রুটি থাকা সত্ত্বেও নির্মাণ পরিকল্পনা অনুমোদন দেওয়া হয়েছিল। বিধানসভায় শুভেন্দু বলেন, “প্রাক্তন মেয়র জড়িত। দেখুন মাননীয় ফিরহাদ হাকিমের সই। দেখুন কীভাবে স্ট্রাকচারে ডিফেক্ট থাকা অবস্থাতেও প্ল্যান অ্যাপ্রুভ করেছেন।” একইসঙ্গে তিনি কালীচরণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের নাম উল্লেখ করে বলেন, “কালীকে তুললেই সব হয়ে যাবে। পুরসভায় কালী না বললে কোনও প্ল্যান অ্যাপ্রুভ হয় না। আর কালী ক্যামাক স্ট্রিটের দ্বারা নিযুক্ত।” তবে এই অভিযোগের বিষয়ে ফিরহাদ হাকিম বা তাঁর পক্ষ থেকে এখনও পর্যন্ত কোনও আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া প্রকাশ্যে আসেনি।

    পরিচয় জানার চেষ্টা, অভিযান অব্যাহত

    শুক্রবার উদ্ধার হওয়া দুই মৃতের পরিচয় এখনও জানা যায়নি। তাঁদের শনাক্ত করতে বিভিন্ন থানার নিখোঁজ ব্যক্তিদের তালিকা, আঙুলের ছাপ, ছবি এবং অন্যান্য তথ্যের সঙ্গে মিলিয়ে দেখছে পুলিশ। প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ধ্বংসস্তূপ সম্পূর্ণ সরিয়ে নিশ্চিত না-হওয়া পর্যন্ত উদ্ধার অভিযান চলবে। একইসঙ্গে তদন্তে যদি কারও গাফিলতি, নিরাপত্তা বিধি লঙ্ঘন বা আইনভঙ্গের প্রমাণ মেলে, তবে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে কঠোরতম আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে প্রশাসন স্পষ্ট করেছে।

  • Kolkata Thunder Lightning: মুহূর্তে অন্ধকার শহর, তারপর তাণ্ডব! কলকাতায় নজিরবিহীন বজ্রপাতের নেপথ্যে কোন রহস্য?

    Kolkata Thunder Lightning: মুহূর্তে অন্ধকার শহর, তারপর তাণ্ডব! কলকাতায় নজিরবিহীন বজ্রপাতের নেপথ্যে কোন রহস্য?

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: সকাল থেকেই ছিল অস্বস্তিকর ভ্যাপসা গরম। কিন্তু দুপুর গড়াতেই যেন আচমকা বদলে গেল প্রকৃতির মেজাজ। মুহূর্তের মধ্যে কালো মেঘে ঢেকে গেল আকাশ, তারপর শুরু হল ঝোড়ো হাওয়া, প্রবল বর্ষণ এবং একের পর এক বিকট শব্দে বজ্রপাত। বৃহস্পতিবারের কলকাতা যেন সাক্ষী থাকল প্রকৃতির এক বিরল ও রুদ্র রূপের। সাম্প্রতিক অতীতে এত ঘনঘন এবং এত তীব্র বজ্রপাতের অভিজ্ঞতা খুব কমই হয়েছে মহানগরবাসীর। আকাশ চিরে পরপর বিদ্যুতের ঝলকানি এবং কানফাটানো বজ্রধ্বনিতে আতঙ্কিত হয়ে পড়েন বহু মানুষ। শহরের বহুতল আবাসন থেকে শুরু করে রাস্তাঘাট— সর্বত্রই অনুভূত হয় বজ্রপাতের তীব্রতা।

    ঝড়-বৃষ্টিতে কার্যত থমকে শহর

    বৃহস্পতিবার দুপুরের এই আকস্মিক দুর্যোগে কলকাতার স্বাভাবিক জনজীবনে বড়সড় প্রভাব পড়ে। ধর্মতলা, পার্ক স্ট্রিট, ময়দান, এসপ্ল্যানেড, কলকাতা হাইকোর্ট চত্বর-সহ একাধিক গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় বজ্রপাতের বিকট শব্দে কেঁপে ওঠে পরিবেশ। মুষলধারে বৃষ্টির কারণে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ রাস্তায় যানজটের সৃষ্টি হয়। অফিসফেরত মানুষ, পথচারী ও নিত্যযাত্রীরা নিরাপদ আশ্রয়ের খোঁজে ছুটতে বাধ্য হন। বহু এলাকায় দৃশ্যমানতা কমে যাওয়ায় যান চলাচলেও বিঘ্ন ঘটে। শুধু কলকাতাই নয়, এই ঝড়-বৃষ্টির প্রভাব পড়েছে হাওড়া, হুগলি, উত্তর ২৪ পরগনা, দক্ষিণ ২৪ পরগনা, নদিয়া-সহ দক্ষিণবঙ্গের বিস্তীর্ণ অঞ্চলে। বিভিন্ন জেলায় ঘণ্টায় ৩০ থেকে ৫০ কিলোমিটার বেগে ঝোড়ো হাওয়ার সঙ্গে বজ্রবিদ্যুৎসহ ভারী বৃষ্টিপাতের খবর মিলেছে।

    কেন এত তীব্র বজ্রপাত? ব্যাখ্যা আবহাওয়া দফতরের

    আলিপুর আবহাওয়া দফতরের মতে, বর্তমান পরিস্থিতির নেপথ্যে কাজ করছে একাধিক সক্রিয় আবহাওয়াজনিত সিস্টেম। বর্তমানে উত্তর বিহার থেকে উত্তর-পশ্চিম বঙ্গোপসাগর পর্যন্ত একটি সক্রিয় নিম্নচাপ অক্ষরেখা বিস্তৃত রয়েছে। এই অক্ষরেখা ঝাড়খণ্ড, গাঙ্গেয় পশ্চিমবঙ্গ এবং ওড়িশার উপর দিয়ে বিস্তৃত হয়েছে। একই সময়ে রাজস্থান থেকে গাঙ্গেয় বঙ্গ পর্যন্ত মৌসুমী অক্ষরেখাও সক্রিয় রয়েছে। এর পাশাপাশি উত্তর-পূর্ব বাংলাদেশ সংলগ্ন এলাকায় একটি শক্তিশালী ঘূর্ণাবর্ত তৈরি হয়েছে। আবার বঙ্গোপসাগরের উপরও এই মরশুমের প্রথম গুরুত্বপূর্ণ ঘূর্ণাবর্ত সক্রিয় হয়েছে। এই সমস্ত আবহাওয়াগত উপাদানের সম্মিলিত প্রভাবে সমুদ্র থেকে বিপুল পরিমাণ জলীয় বাষ্প স্থলভাগে প্রবেশ করছে। আবহাওয়াবিদদের মতে, অতিরিক্ত জলীয় বাষ্প এবং দিনের তাপমাত্রাজনিত অস্থিরতার ফলে দ্রুত তৈরি হচ্ছে বিশালাকার কিমিউলোনিম্বাস (Cumulonimbus) বা বজ্রগর্ভ মেঘ। এই মেঘ থেকেই উৎপন্ন হচ্ছে প্রবল বজ্রঝড় এবং ঘনঘন বজ্রপাতের ঘটনা।

    কী সতর্কতা মেনে চলবেন?

    আবহাওয়া দফতরের পরামর্শ অনুযায়ী—

    • ● বজ্রপাতের সময় খোলা মাঠ, ছাদ বা গাছের নিচে দাঁড়াবেন না।
    • ● মোবাইল ফোন চার্জে লাগিয়ে ব্যবহার করা এড়িয়ে চলুন।
    • ● বিদ্যুৎ পরিবাহী ধাতব বস্তু থেকে দূরে থাকুন।
    • ● ঝড় শুরু হলে পাকা বাড়ি বা নিরাপদ আশ্রয়ে অবস্থান করুন।
    • ● অপ্রয়োজনীয়ভাবে বাইরে বের হওয়া এড়িয়ে চলুন।

    সোমবার পর্যন্ত দক্ষিণবঙ্গে হলুদ সতর্কতা

    গত কয়েকদিন ধরে চলা দফায় দফায় বৃষ্টি এবং ঝড়ের কারণে দক্ষিণবঙ্গের জেলাগুলিতে গরমের তীব্রতা কিছুটা কমেছে। তবে আবহাওয়া দফতরের মতে, আপাত স্বস্তির মাঝেও দুর্যোগের আশঙ্কা এখনও কাটেনি। সর্বশেষ পূর্বাভাস অনুযায়ী, আগামী সোমবার পর্যন্ত কলকাতা-সহ দক্ষিণবঙ্গের অধিকাংশ জেলায় বজ্রবিদ্যুৎসহ বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। সেই সঙ্গে ঘণ্টায় ৩০ থেকে ৫০ কিলোমিটার বেগে ঝোড়ো হাওয়া বইতে পারে। এই পরিস্থিতির জন্য জারি করা হয়েছে হলুদ সতর্কতা।

    বিশেষভাবে সতর্ক করা হয়েছে—

    • ● উত্তর ২৪ পরগনা
    • ● দক্ষিণ ২৪ পরগনা
    • ● পূর্ব বর্ধমান
    • ● পশ্চিম বর্ধমান
    • ● বীরভূম
    • ● মুর্শিদাবাদ
    • ● নদিয়া
    • ● পুরুলিয়া
    • ● বাঁকুড়া
    • ● ঝাড়গ্রাম
    • ● পূর্ব মেদিনীপুর

    এই জেলাগুলিতে বিক্ষিপ্তভাবে প্রবল বজ্রপাতের সম্ভাবনা রয়েছে বলে জানিয়েছে হাওয়া অফিস।

    উত্তরবঙ্গে পরিস্থিতি আরও উদ্বেগজনক

    দক্ষিণবঙ্গে যেখানে মূল উদ্বেগ বজ্রপাত ও ঝড়বৃষ্টি, সেখানে উত্তরবঙ্গের পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠছে অতিভারী বৃষ্টির কারণে। দার্জিলিং, কালিম্পং, জলপাইগুড়ি, আলিপুরদুয়ার এবং কোচবিহার জেলায় আগামী কয়েকদিনে ৭ থেকে ২০ সেন্টিমিটার পর্যন্ত বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা রয়েছে। কিছু এলাকায় বৃষ্টির পরিমাণ ২০ সেন্টিমিটারও ছাড়িয়ে যেতে পারে বলে পূর্বাভাস। অতিভারী বর্ষণের ফলে তিস্তা, তোর্সা, বালাসন-সহ একাধিক পাহাড়ি নদীর জলস্তর দ্রুত বৃদ্ধি পাচ্ছে। ফলে নিম্নাঞ্চলে জল জমা, নদী উপচে পড়া এবং পাহাড়ি এলাকায় ভূমিধসের আশঙ্কা প্রবল হয়েছে। এই পরিস্থিতির জন্য উত্তরবঙ্গের একাধিক জেলায় লাল ও কমলা সতর্কতা জারি করেছে আবহাওয়া দফতর।

    উত্তাল সমুদ্র, মৎস্যজীবীদের সতর্কবার্তা

    শুধু স্থলভাগ নয়, বঙ্গোপসাগরও বর্তমানে উত্তাল অবস্থায় রয়েছে। উত্তর ওড়িশা উপকূল এবং পশ্চিমবঙ্গ সংলগ্ন সমুদ্র এলাকায় ঘণ্টায় ৪০ থেকে ৬০ কিলোমিটার বেগে দমকা হাওয়া বইতে পারে বলে সতর্ক করা হয়েছে। এই পরিস্থিতিতে মৎস্যজীবীদের সমুদ্রে যেতে সম্পূর্ণ নিষেধ করা হয়েছে। যারা ইতিমধ্যেই গভীর সমুদ্রে রয়েছেন, তাঁদের দ্রুত নিরাপদ বন্দরে ফিরে আসার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। আবহাওয়াবিদদের স্পষ্ট বার্তা, আগামী কয়েকদিন দক্ষিণবঙ্গে বজ্রঝড় ও বৃষ্টির এই অস্থির আবহাওয়া বজায় থাকবে। ফলে পরিস্থিতির দিকে নজর রেখে সতর্ক থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে সাধারণ মানুষকে।

  • Swami Pradiptananda: পশ্চিমবঙ্গে রাস্তা-গুরুত্বপূর্ণ জায়গার নামবদল খতিয়ে দেখতে বিশেষ কমিটি, নেতৃত্বে কার্তিক মহারাজ

    Swami Pradiptananda: পশ্চিমবঙ্গে রাস্তা-গুরুত্বপূর্ণ জায়গার নামবদল খতিয়ে দেখতে বিশেষ কমিটি, নেতৃত্বে কার্তিক মহারাজ

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: পশ্চিমবঙ্গের বিভিন্ন রাস্তা, এলাকা এবং গুরুত্বপূর্ণ জায়গার নামবদল সংক্রান্ত প্রস্তাব পর্যালোচনার জন্য বিশেষ কমিটি গঠনের কথা ঘোষণা করলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari)। মঙ্গলবার (Swami Pradiptananda) বিধানসভায় রাজ্যপালের ভাষণের ওপর ধন্যবাদজ্ঞাপক প্রস্তাবের আলোচনায় অংশ নিয়ে (Place Renaming) তিনি জানান, পদ্মশ্রী প্রাপক স্বামী প্রদীপ্তানন্দ মহারাজ (কার্তিক মহারাজ) এই কমিটির নেতৃত্ব দেবেন।

    কী বললেন মুখ্যমন্ত্রী?

    মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “আপনার প্রস্তাব গ্রহণ করে পদ্মশ্রী স্বামী প্রদীপ্তানন্দ মহারাজের নেতৃত্বে নতুন করে নামকরণ মূল্যায়নের জন্য একটি কমিটি আমি ঘোষণা করছি। আপনারাই বলেছেন মূল্যায়ন।” তিনি জানান, ভবিষ্যতে কোনও রাস্তা, এলাকা বা গুরুত্বপূর্ণ জায়গার নাম পরিবর্তন কিংবা নয়া নামকরণের প্রস্তাব থাকলে তা এই কমিটির কাছেই জমা দেওয়া যাবে। পালাবদলের মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “পদ্মশ্রী স্বামী প্রদীপ্তানন্দ মহারাজ একটি কমিটির নেতৃত্ব দেবেন। যাঁর যা প্রস্তাব আছে সেখানে জমা দেবেন।” বিধানসভায় বিরোধী দলনেতার বক্তব্যের জবাব দিতে গিয়ে মুখ্যমন্ত্রী বাংলার ইতিহাস ও সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য সংরক্ষণের প্রসঙ্গ টানেন। সেই সূত্রেই তিনি সুরাবর্দি অ্যাভেনিউয়ের নাম পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিয়ে বলেন, “আমি যখন সেভেন পয়েন্ট দিয়ে যাতায়াত করেছি, তখন দেখতাম সুরাবর্দি অ্যাভেনিউ লেখা ছিল। সুরাবর্দির নাম থাকবে না।”

    কালামের প্রসঙ্গ টানলেন মুখ্যমন্ত্রী

    মুখ্যমন্ত্রী সাফ জানিয়ে দেন, স্বাধীন ভারতে অত্যাচার, হিংসা বা ঔপনিবেশিক শাসনের সঙ্গে যুক্ত বিতর্কিত ব্যক্তিদের নামে কোনও রাস্তা বা গুরুত্বপূর্ণ জায়গার নাম থাকা উচিত নয়। প্রকৃত দেশভক্ত ও রাষ্ট্রনেতাদের যথাযথ সম্মান প্রদর্শনের পক্ষেও সওয়াল (Swami Pradiptananda) করেন তিনি। উদাহরণ হিসেবে প্রাক্তন রাষ্ট্রপতি এপিজে আবদুল কালামের নাম উল্লেখ করে শুভেন্দু বলেন, “যদি মনে করেন এপিজে আবদুল কালামের মতো কোনও প্রকৃত দেশভক্তকে সম্মান জানানোর প্রয়োজন আছে, তাহলে তথ্য দেবেন, মর্যাদা দেওয়া হবে।” রাজ্য সরকারের এহেন উদ্যোগের ফলে ভবিষ্যতে (Place Renaming) পশ্চিমবঙ্গের বিভিন্ন জায়গার নামকরণ ও নাম পরিবর্তনের ক্ষেত্রে একটি নির্দিষ্ট মূল্যায়ন প্রক্রিয়া চালু হতে পারে (Swami Pradiptananda) বলেই অনুমান প্রশাসনিক মহলের।

     

  • PM Modi in Bengal: রেড রোডে যোগ, বন্দরে ৩ যুদ্ধজাহাজ, উন্নয়নের ঝাঁপি নিয়ে বাংলায় আসছেন মোদি! নজরে ২০-২১ জুন

    PM Modi in Bengal: রেড রোডে যোগ, বন্দরে ৩ যুদ্ধজাহাজ, উন্নয়নের ঝাঁপি নিয়ে বাংলায় আসছেন মোদি! নজরে ২০-২১ জুন

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনের পর নতুন রাজনৈতিক বাস্তবতার মধ্যে ২০ ও ২১ জুন দু’দিনের গুরুত্বপূর্ণ বঙ্গ সফরে আসছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি (PM Narendra Modi)। হুগলির তারকেশ্বরে ‘পশ্চিমবঙ্গ দিবস’ (Paschimbanga Divas) উদযাপন থেকে শুরু করে কলকাতায় আন্তর্জাতিক যোগ দিবসের (International Yoga Day) নেতৃত্ব এবং গার্ডেনরিচে (GRSE) নির্মিত তিনটি যুদ্ধজাহাজের কমিশনিং— এই সফরে উন্নয়ন, কৃষি, অবকাঠামো, আত্মনির্ভর প্রতিরক্ষা এবং রাজনৈতিক বার্তা— সবকিছুকেই একসঙ্গে সামনে আনতে চলেছে কেন্দ্রীয় সরকার। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই সফর শুধু সরকারি প্রকল্প উদ্বোধনের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়, বরং ‘বিকশিত বাংলা, বিকশিত ভারত’-এর (Viksit Bengal Viksit Bharat) রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক রূপরেখা তুলে ধরার একটি বড় মঞ্চ হিসেবেও ব্যবহৃত হবে।

    তারকেশ্বরে ‘পশ্চিমবঙ্গ দিবস’: উন্নয়ন ও সাংস্কৃতিক পরিচয়ের মেলবন্ধন

    ২০ জুন হুগলির তারকেশ্বরে অনুষ্ঠিত হবে রাজ্যস্তরের ‘পশ্চিমবঙ্গ দিবস’ উদযাপন। এ বছরের থিম— ‘ওয়েস্ট বেঙ্গল: হেরিটেজ, হারমোনি অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট’। ঐতিহাসিক ও সাংস্কৃতিক গুরুত্বসম্পন্ন তারকেশ্বরকে বেছে নেওয়ার মধ্যেও রাজনৈতিক তাৎপর্য দেখছেন পর্যবেক্ষকরা, কারণ এই অঞ্চল শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের (Syama Prasad Mookerjee) স্মৃতির সঙ্গে যুক্ত। প্রধানমন্ত্রী এখানে রেল, কৃষি, মৎস্য, পশুপালন ও গ্রামীণ উন্নয়ন সংক্রান্ত একাধিক প্রকল্পের উদ্বোধন, শিলান্যাস ও জাতির উদ্দেশে উৎসর্গ করবেন। কেন্দ্রের দাবি, এসব প্রকল্প পশ্চিমবঙ্গের অবকাঠামো উন্নয়ন, কর্মসংস্থান এবং গ্রামীণ অর্থনীতিকে নতুন গতি দেবে।

    ২৩তম কিস্তির পিএম কিসান নিধি: বাংলার ৪৫ লক্ষের বেশি কৃষকের অ্যাকাউন্টে টাকা

    সফরের অন্যতম বড় আকর্ষণ হল প্রধানমন্ত্রী কিষাণ সম্মান নিধি (PM-KISAN)-র ২৩তম কিস্তি প্রকাশ। এই কিস্তিতে দেশজুড়ে ৯.৪৪ কোটিরও বেশি কৃষকের ব্যাংক অ্যাকাউন্টে সরাসরি ১৮,৮৮০ কোটি টাকারও বেশি স্থানান্তর করা হবে। এর মধ্যে পশ্চিমবঙ্গের ৪৫ লক্ষের বেশি কৃষক পাবেন ৯০০ কোটিরও বেশি টাকা। ২০১৯ সালে প্রকল্প চালুর পর পশ্চিমবঙ্গে কিষাণ সম্মান নিধির আওতায় মোট বিতরণের পরিমাণ ১৫ হাজার কোটি টাকার গণ্ডি ছাড়িয়ে যাবে বলে জানিয়েছে কেন্দ্র। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, কৃষক-ভিত্তিক এই আর্থিক সহায়তা কর্মসূচি বাংলার গ্রামীণ ভোটব্যাঙ্কের কাছেও একটি গুরুত্বপূর্ণ বার্তা বহন করবে।

    বাংলায় প্রথমবার পূর্ণমাত্রায় ফসল বিমা প্রকল্প

    সবচেয়ে তাৎপর্যপূর্ণ ঘোষণাগুলির মধ্যে রয়েছে পশ্চিমবঙ্গে প্রধানমন্ত্রী ফসল বিমা যোজনা (PMFBY)-র সূচনা। ২০২৬-২৭ অর্থবর্ষে প্রায় ৫০ লক্ষ কৃষক এবং ১৪ লক্ষ হেক্টর কৃষিজমি এই প্রকল্পের আওতায় আসবে। বিমাকৃত ফসলের সম্ভাব্য মূল্য ধরা হয়েছে প্রায় ২৮,১৪০ কোটি টাকা। দীর্ঘদিন ধরে পশ্চিমবঙ্গে এই প্রকল্পের পূর্ণ বাস্তবায়ন না হওয়ায় কৃষকদের একটি বড় অংশ এর সুবিধা থেকে বঞ্চিত ছিলেন। ফলে কেন্দ্রের এই পদক্ষেপকে কৃষি ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ নীতিগত পরিবর্তন হিসেবে দেখা হচ্ছে।

    ডিজিটাল কৃষির যুগে বাংলায় এগ্রিস্ট্যাক

    প্রধানমন্ত্রী পশ্চিমবঙ্গে এগ্রিস্ট্যাক (AgriStack) চালু করবেন, যা ডিজিটাল অ্যাগ্রিকালচার মিশনের অংশ। এই প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে কৃষকরা সার বিতরণ, কিষাণ ক্রেডিট কার্ড, সরাসরি আর্থিক সহায়তা (DBT), ন্যূনতম সহায়ক মূল্যে ফসল ক্রয়সহ বিভিন্ন পরিষেবা একক ডিজিটাল ব্যবস্থার মাধ্যমে পেতে পারবেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, কৃষি তথ্যভান্ডার ডিজিটাল হওয়ায় সরকারি সহায়তা দ্রুত ও স্বচ্ছভাবে পৌঁছনো সহজ হবে।

    প্রাকৃতিক কৃষি ও ধান-ধান্য কৃষি যোজনায় জোর

    পশ্চিমবঙ্গে চালু হচ্ছে ন্যাশনাল মিশন অন ন্যাচারাল ফার্মিং। ২০২৬-২৭ সালে ১৭,৩০০ হেক্টর জমি জুড়ে ৩৪৬টি প্রাকৃতিক কৃষি ক্লাস্টার গড়ে তোলা হবে। একই সঙ্গে প্রধানমন্ত্রী ধান-ধান্য কৃষি যোজনা (PMDDKY)-র আওতায় পুরুলিয়া, দার্জিলিং, আলিপুরদুয়ার ও ঝাড়গ্রাম জেলায় কৃষি উৎপাদন, সেচ, ফসল বৈচিত্র্য এবং কৃষি অবকাঠামো উন্নয়নে বিশেষ জোর দেওয়া হবে। এই চারটি জেলার নির্বাচনও তাৎপর্যপূর্ণ, কারণ এগুলি ভৌগোলিক ও আর্থসামাজিক দিক থেকে রাজ্যের তুলনামূলকভাবে পিছিয়ে থাকা অঞ্চলগুলির মধ্যে পড়ে।

    মৎস্য ও পশুপালন খাতে বড় বিনিয়োগ

    দক্ষিণ ২৪ পরগনার ফ্রেজারগঞ্জে আধুনিকীকৃত মাছ ধরার বন্দর এবং বীরভূমের সাঁইথিয়ায় আধুনিক মাছ বাজারের উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী। এছাড়া নদিয়ার হরিণঘাটায় পূর্ব ভারতের প্রথম আঞ্চলিক ছাগল বীর্য উৎপাদন গবেষণাগার ও সিমেন ব্যাঙ্কও উদ্বোধন করা হবে। কৃষি অর্থনীতিবিদদের মতে, কৃষির পাশাপাশি মৎস্য ও পশুপালন খাতকে শক্তিশালী করা গ্রামীণ আয় বৃদ্ধির জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

    ৫৯০ কোটি টাকার রেল প্রকল্প: হাওড়া ও পূর্ব মেদিনীপুরে জোর

    রেল ক্ষেত্রে প্রায় ৫৯০ কোটি টাকার প্রকল্প ঘোষণা করা হবে। এর মধ্যে রয়েছে—

    • ● হাওড়ার সাঁকরাইল-সাঁতরাগাছি লিংক লাইন প্রকল্পের উদ্বোধন
    • ● হাওড়ায় ৩০০ শয্যার নতুন ডিভিশনাল রেলওয়ে হাসপাতালের শিলান্যাস
    • ● পূর্ব মেদিনীপুরের হাউর ও রাধামোহনপুরের মধ্যে রোড ওভারব্রিজের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন
    • ● প্রধানমন্ত্রী গ্রাম সড়ক যোজনার অধীনে ৩১৫ কিলোমিটারেরও বেশি দৈর্ঘ্যের ৪৯টি রাস্তা প্রকল্পের উদ্বোধন করবেন।

    কলকাতায় আন্তর্জাতিক যোগ দিবস: বিশ্বমঞ্চে ভারতের সফট পাওয়ার

    ২১ জুন সকালে কলকাতার রেড রোডে অনুষ্ঠিত হবে ১২তম আন্তর্জাতিক যোগ দিবসের মূল অনুষ্ঠান। এবারের থিম ‘যোগা ফর হেলদি এজিং’ (Yoga for Healthy Ageing)। ২০১৫ সালে রাষ্ট্রসংঘে ভারতের প্রস্তাব গৃহীত হওয়ার পর থেকে আন্তর্জাতিক যোগ দিবস ভারতীয় কূটনীতির অন্যতম সফল সফট-পাওয়ার উদ্যোগে পরিণত হয়েছে। নিউ ইয়র্ক, শ্রীনগর, মাইসুরু, লখনউসহ বিভিন্ন শহরে অনুষ্ঠান পরিচালনার পর এবার কলকাতাকে বেছে নেওয়া হয়েছে। বিশ্বজুড়ে প্রায় ২,৫০০ স্থানে এবং ২১০টিরও বেশি ভারতীয় দূতাবাস ও মিশনে এদিন যোগ দিবস পালিত হবে।

    তিন যুদ্ধজাহাজ কমিশনিং: আত্মনির্ভর ভারতের প্রতিরক্ষা শক্তির প্রদর্শন

    সফরের সবচেয়ে কৌশলগত অংশ নিঃসন্দেহে কলকাতার শ্যামাপ্রসাদ মুখার্জি বন্দরে তিনটি দেশীয় প্রযুক্তিতে নির্মিত নৌযানের কমিশনিং কর্মসূচি।

    প্রধানমন্ত্রী ভারতীয় নৌবাহিনীর হাতে তুলে দেবেন—

    • ● উন্নত স্টেলথ ফ্রিগেট — আইএনএস দুনাগিরি (INS Dunagiri)
    • ● বৃহৎ সমীক্ষা জাহাজ — আইএনএস সংশোধক (INS Sanshodhak)
    • ● অ্যান্টি-সাবমেরিন যুদ্ধজাহাজ — আইএনএস অগ্রয় (INS Agray)

    তিনটিই নকশা করেছে ভারতীয় নৌবাহিনীর ওয়ারশিপ ডিজাইন ব্যুরো এবং নির্মাণ করেছে গার্ডেনরিচ শিপবিল্ডার্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ার্স (Garden Reach Shipbuilders & Engineers) বা সংক্ষেপে জিআরএসই (GRSE)। ৭৫ শতাংশেরও বেশি দেশীয় উপাদান ব্যবহার করা হয়েছে এই জাহাজগুলিতে এবং ২০০-র বেশি এমএসএমই (MSME) তাদের নির্মাণ প্রক্রিয়ায় যুক্ত ছিল। প্রতিরক্ষা বিশেষজ্ঞদের মতে, ভারত মহাসাগর অঞ্চলে চিনের ক্রমবর্ধমান উপস্থিতি ও সামুদ্রিক প্রতিযোগিতার প্রেক্ষাপটে এই তিন জাহাজ ভারতীয় নৌবাহিনীর নজরদারি, সাবমেরিন-বিরোধী যুদ্ধক্ষমতা এবং উপকূলীয় নিরাপত্তাকে উল্লেখযোগ্যভাবে শক্তিশালী করবে।

    রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক বার্তা— দুই-ই স্পষ্ট

    মোদির এই বঙ্গ সফরে একদিকে যেমন কৃষক, মৎস্যজীবী, গ্রামীণ জনগোষ্ঠী ও অবকাঠামো উন্নয়নের উপর জোর দেওয়া হয়েছে, অন্যদিকে আত্মনির্ভর প্রতিরক্ষা উৎপাদন ও আন্তর্জাতিক যোগ দিবসের মাধ্যমে জাতীয় এবং বৈশ্বিক বার্তাও তুলে ধরা হচ্ছে। সব মিলিয়ে ২০-২১ জুনের এই সফর পশ্চিমবঙ্গে কেন্দ্রের উন্নয়নমূলক উপস্থিতি জোরদার করার পাশাপাশি কৃষি, অবকাঠামো, প্রতিরক্ষা ও সাংস্কৃতিক কূটনীতির এক সমন্বিত প্রদর্শনী হিসেবে গুরুত্ব পেতে চলেছে।

LinkedIn
Share