Tag: Kolkata

Kolkata

  • Uttam Kumar Birth Centenary: উত্তমকুমারের জন্মশতবর্ষে চার দিনের বর্ণাঢ্য উদ্‌যাপন, সম্মান জানানো হবে বরেণ্য শিল্পীদের

    Uttam Kumar Birth Centenary: উত্তমকুমারের জন্মশতবর্ষে চার দিনের বর্ণাঢ্য উদ্‌যাপন, সম্মান জানানো হবে বরেণ্য শিল্পীদের

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: মহানায়ক উত্তমকুমারের জন্মশতবর্ষ (Uttam Kumar Birth Centenary) উপলক্ষে চার দিন ধরে বিশেষ উদ্‌যাপনের আয়োজন করা হচ্ছে। আজ, ৩ সেপ্টেম্বর থেকে ৬ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত নন্দনকে (Nandan) কেন্দ্র করে চলবে এই বিশেষ অনুষ্ঠান। রাজ্য সরকারের তথ্য ও সংস্কৃতি বিভাগ, আইএনসিএ এবং টালিগঞ্জের চলচ্চিত্র শিল্পের যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে উঠে আসবে মহানায়কের দীর্ঘ অভিনয়জীবন এবং বাংলা চলচ্চিত্রে তাঁর অনন্য অবদানের নানা দিক।

    কী বলছেন প্রসেনজিৎ (Uttam Kumar Birth Centenary)

    নন্দনে আয়োজিত সাংবাদিক বৈঠকে অভিনেতা প্রসেনজিৎ চট্টোপাধ্যায় বলেন, “শুধু স্মৃতিচারণ নয়, আগামী প্রজন্মের কাছেও উত্তমকুমারের কাজ ও অবদানকে পৌঁছে দেওয়াই এই আয়োজনের অন্যতম উদ্দেশ্য।” তাঁর কথায়, আগামী একশো বছর পরেও যেন নতুন প্রজন্ম একই আবেগ ও শ্রদ্ধার সঙ্গে মহানায়কের জন্মবার্ষিকী উদ্‌যাপন করতে পারে, সেই লক্ষ্যেই এই উদ্যোগ।

    রাজ্যের তথ্য ও সংস্কৃতি দফতরের প্রতিমন্ত্রী পূর্ণিমা চক্রবর্তী বলেন, “উত্তমকুমার কেবল একজন অভিনেতা ছিলেন না, তিনি ছিলেন একটি সময়ের প্রতীক, বাংলা চলচ্চিত্রের সবচেয়ে শক্তিশালী ব্র্যান্ড এবং আবেগের অন্য নাম।” মুখ্যমন্ত্রী এবং রাজ্যের তথ্য ও সংস্কৃতি দফতরের উদ্যোগেই এই চার দিনের বিশেষ উদ্‌যাপনের আয়োজন করা হচ্ছে বলে জানান তিনি।

    মহানায়কের সহ-অভিনেতাদের বিশেষ সম্মাননা

    চার দিনের এই আয়োজনের অন্যতম প্রধান আকর্ষণ মহানায়ক উত্তমকুমারের সঙ্গে অভিনয় করা বরেণ্য শিল্পীদের বিশেষ সম্মাননা। এই তালিকায় রয়েছেন মিঠুন চক্রবর্তী, সাবিত্রী চট্টোপাধ্যায়, মাধবী মুখোপাধ্যায়, লিলি চক্রবর্তী, বিশ্বজিৎ চট্টোপাধ্যায়, দীপঙ্কর দে, রঞ্জিত মল্লিক, কল্যাণী মণ্ডল, প্রভাত রায়, রত্না ঘোষাল এবং বীরেশ চট্টোপাধ্যায়ের মতো বিশিষ্ট শিল্পীরা। উত্তমকুমার অভিনীত একাধিক জনপ্রিয় ছবিও প্রদর্শিত হবে এই আয়োজনের অংশ হিসেবে। প্রসেনজিৎ জানান, নন্দনের পাশাপাশি রাধা স্টুডিওতেও মহানায়ক অভিনীত নির্বাচিত কয়েকটি ছবি দেখানো হবে।

    শিশির মঞ্চে বিশেষ আলোচনা

    আগামী ৫ সেপ্টেম্বর শিশির মঞ্চে অনুষ্ঠিত হবে দু’টি বিশেষ আলোচনা সভা। একটি আলোচনার বিষয় ‘নায়িকাদের চোখে উত্তমকুমার’। অন্য আলোচনায় পরিচালকদের অংশগ্রহণে উঠে আসবে ‘অভিনেতা উত্তমকুমার’কে ঘিরে নানা স্মৃতি ও বিশ্লেষণ। উত্তমকুমারের অভিনয়, ব্যক্তিত্ব, সহ-অভিনেতাদের সঙ্গে তাঁর সম্পর্ক এবং বাংলা চলচ্চিত্রে তাঁর প্রভাব—এই সমস্ত বিষয়ই আলোচনায় উঠে আসবে বলে জানা গিয়েছে।

    সত্যজিৎ রায়ের বক্তৃতার রেকর্ডিং ঘিরে তথ্যচিত্র

    মহানায়ককে স্মরণ করে আয়োজিত এক সভায় সত্যজিৎ রায়ের দেওয়া বক্তৃতার রেকর্ডিংকে কেন্দ্র করে সন্দীপ রায়ের তৈরি একটি তথ্যচিত্রও প্রদর্শনের পরিকল্পনা রয়েছে। প্রসেনজিৎ জানান, “জন্মশতবর্ষ উদ্‌যাপনের প্রথম ও শেষ দিনে এই তথ্যচিত্রটি প্রদর্শনের চেষ্টা করা হবে।”

    স্মৃতিচারণে যুক্ত হবেন বর্ষীয়ান সাংবাদিকরাও

    উত্তমকুমারের কর্মজীবনের বহু গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তের প্রত্যক্ষ সাক্ষী ছিলেন তৎকালীন সাংবাদিকদের একাংশ। তাঁদেরও এই বিশেষ উদ্‌যাপনের সঙ্গে যুক্ত করার পরিকল্পনা রয়েছে (Uttam Kumar Birth Centenary)। অভিনেতা-বিধায়ক রুদ্রনীল ঘোষ জানান, এমন বহু সাংবাদিক রয়েছেন, যাঁরা উত্তমকুমারকে কাছ থেকে দেখেছেন, চিনেছেন এবং তাঁর কর্মজীবনের নানা ঘটনার সাক্ষী থেকেছেন। তাঁদের অভিজ্ঞতাও এই অনুষ্ঠানের মাধ্যমে তুলে ধরার পরিকল্পনা রয়েছে।

    রবীন্দ্র সদনে মহানায়কের ছবির গানে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান

    উদ্‌যাপনের শেষ দিন, আগামী ৬ সেপ্টেম্বর রবীন্দ্র সদনে আয়োজন করা হয়েছে বিশেষ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের। বাংলা চলচ্চিত্র ও সঙ্গীত জগতের শিল্পীরা মহানায়ক উত্তমকুমারের জনপ্রিয় ছবির গান পরিবেশন করবেন। ফলে তাঁর অভিনয়জীবনের পাশাপাশি বাংলা চলচ্চিত্রের সঙ্গীতজগতেও তাঁর প্রভাব ও জনপ্রিয়তার স্মৃতিচারণ হবে এই অনুষ্ঠানে। মুখ্যমন্ত্রীর উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছেন অভিনেতা জিৎ। তাঁর কথায়, “আমাদেরই জগতের একজনকে এভাবে সম্মান জানানো হচ্ছে দেখে খুব ভালো লাগছে। আগামী প্রজন্মকে এই উদ্যোগ দারুণভাবে অনুপ্রাণিত করবে।”

    বর্ণাঢ্য আয়োজন

    অভিনেতা যিশু সেনগুপ্ত বলেন, “খুব অল্প সময়ের নোটিশে হলেও মহানায়ককে ঘিরে এই বিশেষ আয়োজনকে সফল করতে ইন্ডাস্ট্রির সকলেই একজোট হয়েছেন। এই উদযাপন কোনও নির্দিষ্ট ব্যক্তি বা গোষ্ঠীর নয়, বরং গোটা বাংলা চলচ্চিত্র জগতের।”

    ৩ থেকে ৬ সেপ্টেম্বর মহানায়ক উত্তমকুমারের জন্মশতবর্ষ উপলক্ষে নন্দন-সহ কলকাতার বিভিন্ন প্রেক্ষাগৃহে যে বর্ণাঢ্য আয়োজন হতে চলেছে, তা বাংলা চলচ্চিত্রের ইতিহাসে বিশেষ তাৎপর্য বহন করবে বলেই (Nandan) মনে করছে টলিপাড়া। শুধু মহানায়কের স্মৃতিচারণ নয়, তাঁর শিল্পসৃষ্টিকে আগামী প্রজন্মের কাছে পৌঁছে দেওয়ার ক্ষেত্রেও এই আয়োজন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা (Uttam Kumar Birth Centenary) নেবে বলেই মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

     

  • Kolkata Book Fair: কলকাতা আন্তর্জাতিক বইমেলার ঢাকে কাঠি, কবে শুরু হবে মেলা?

    Kolkata Book Fair: কলকাতা আন্তর্জাতিক বইমেলার ঢাকে কাঠি, কবে শুরু হবে মেলা?

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: শুরু হয়ে গেল কলকাতা বইমেলার সলতে পাকানোর কাজ। ‘কলকাতা আন্তর্জাতিক বইমেলা, ২০২৭’ (Kolkata Book Fair) আয়োজনের প্রস্তুতি নিয়ে নবান্নের চোদ্দতলার কনফারেন্স হয়ে গেল বৈঠক (Meeting)। বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন ভারত সেবাশ্রম সংঘ, রামকৃষ্ণ মিশন, এবং ন্যাশনাল বুক ট্রাস্টের প্রতিনিধিরা। গণশিক্ষা প্রসার ও গ্রন্থাগার পরিষেবা বিভাগের প্রধান সচিবও উপস্থিত ছিলেন এই বৈঠকে। জানা গিয়েছে, আসন্ন বইমেলায় আরও বেশি মানুষের অংশগ্রহণকে উৎসাহিত করতে চাইছে সরকার। পূর্বে উত্থাপিত বিভিন্ন প্রশাসনিক বা ব্যবস্থাপনাগত সমস্যা সমাধানের লক্ষ্যে বইমেলা কমিটিকে দিকনির্দেশনা দেবে একটি অ্যাডভাইজরি বোর্ড। এই বোর্ড গঠিত হবে প্রকাশনা শিল্পের সঙ্গে পরিচিত ও অভিজ্ঞ ব্যক্তিদের নিয়ে।

    কারা ছিলেন সভায়? (Kolkata Book Fair)

    রামকৃষ্ণ মিশনের বই প্রকাশিত হয় উদ্বোধন কার্যালয় থেকে। এই প্রকাশনা সংস্থার তরফে বক্তব্য রাখেন স্বামী আর্যেশানন্দ। ভারত সেবাশ্রম সংঘের তরফে বক্তব্য রাখেন স্বামী সরস্বতানন্দ মহারাজ। এঁরা প্রত্যেকেই নিজস্ব মতামত দেন। নানা বিষয়ে পরামর্শও দেন। পরামর্শদাতা বোর্ডে কারা থাকবেন তা নিয়েও সর্বসম্মতভাবে সিদ্ধান্ত হয় ওই বৈঠকে। এঁরা হলেন, স্বামী আর্যেশানন্দ, প্রকাশনা প্রধান, উদ্বোধন (রামকৃষ্ণ মিশনের প্রতিনিধি), স্বামী সরস্বতানন্দ, প্রকাশনা প্রধান (ভারত সেবাশ্রম সংঘের প্রতিনিধি), শ্রী দেবজ্যোতি দত্ত (পাবলিশার্স অ্যান্ড বুক সেলার্স গিল্ডের প্রতিনিধি) (Kolkata Book Fair), শ্রী অনিল আচার্য (পাবলিশার্স অ্যান্ড বুক সেলার্স গিল্ডের প্রতিনিধি), শ্রী মিলিন্দ দে (পাবলিশার্স অ্যান্ড বুক সেলার্স গিল্ডের প্রতিনিধি), শ্রী রাজকুমার বর্মন (পাবলিশার্স অ্যান্ড বুক সেলার্স গিল্ডের প্রতিনিধি), শ্রীমতী তনুজা চক্রবর্তী (সমাজকর্মী), অ্যাডভোকেট দেবজিৎ সরকার (আইনজীবী ও সম্পাদক, দেশের ডাক), শ্রী সপ্তর্ষি চৌধুরী (সমাজকর্মী), শ্রীমতী অফেলিয়া সিং (শিক্ষক), শ্রী প্রসেনজিৎ বক্সী (পরামর্শদাতা সম্পাদক, দূরদর্শন), শ্রী অনির্বাণ দে (গ্রন্থ বিকাশ পরিষদ), ড. অরিন্দম ভট্টাচার্য (অধ্যাপক, কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়), শ্রী বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায় (কবি), শ্রী সুকেশ মণ্ডল (স্বস্তিকা), শ্রী জয়ন্ত বিশ্বাস (ভিএইচ বার্তা), ড. রবিরঞ্জন সেন (কলামিস্ট), ড. মোহিত রায় (লেখক), শ্রী অমিতাভ রায় (ভারতীয় জন বার্তা), অ্যাডভোকেট ওসমান গণি (সেক্যুলার ফাউন্ডেশন), এনবিটি (ন্যাশনাল বুক ট্রাস্ট)-এর একজন প্রতিনিধি, শ্রী আশিস গিরি, নির্দেশক, ইজেডসিসি (ইস্টার্ন জোনাল কালচারাল সেন্টার-এর প্রতিনিধি), মাকাইয়াস (MAKAIAS)-এর একজন প্রতিনিধি, এবং রাজা রামমোহন রায় লাইব্রেরি ফাউন্ডেশনের একজন প্রতিনিধি (Meeting)।

    বৈঠকের সিদ্ধান্ত

    এই বৈঠকে আরও বিষয়গুলিও সিদ্ধান্ত হিসেবে গৃহীত হয়েছে, সেগুলি হল ‘কলকাতা আন্তর্জাতিক বইমেলা, ২০২৭’ (Kolkata Book Fair) ইস্ট জোন কালচারাল সেন্টার (ইজেডসিসি) এবং ন্যাশনাল বুক ট্রাস্ট (এনবিটি)-এর সহযোগিতায়, উপদেষ্টা বোর্ডের দিকনির্দেশনা ও পরামর্শ অনুযায়ী পাবলিশার্স অ্যান্ড বুক সেলার্স গিল্ড দ্বারা আয়োজিত হবে। সুষ্ঠু সমন্বয় সাধনের লক্ষ্যে উপদেষ্টা বোর্ড প্রয়োজন অনুযায়ী সভা করবে এবং গিল্ডের অন্যান্য সদস্য ও আয়োজকদের আমন্ত্রণ জানাতে পারবে।

    ম্যানেজমেন্ট সংক্রান্ত কাজ

    বইমেলা সংক্রান্ত বিভিন্ন ম্যানেজমেন্ট সংক্রান্ত কাজের দায়িত্বে থাকা সাব-কমিটিগুলি প্রয়োজন (Kolkata Book Fair) অনুযায়ী উপদেষ্টা বোর্ড থেকে সদস্যদের অন্তর্ভুক্ত করে নিতে পারবে। উপদেষ্টা বোর্ডের বৈঠকগুলি ইজেডসিসি (EZCC)-তে অথবা উপদেষ্টা বোর্ডের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী অন্য কোনও সুবিধাজনক স্থানে অনুষ্ঠিত হবে। বইমেলা শুরু হবে আগামী ২২ জানুয়ারি, চলবে ৩ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত। পাবলিশার্স অ্যান্ড বুক সেলার্স গিল্ডের প্রতিনিধিরা জানান, মেলার জন্য নির্দিষ্ট মাঠ অর্থাৎ সল্টলেকের সেন্ট্রাল পার্ক বরাদ্দের অনুরোধ ইতিমধ্যেই নগর উন্নয়ন ও পৌর বিষয়ক বিভাগের মন্ত্রীর কাছে জমা দেওয়া হয়েছে। গিল্ডকে এই বিষয়টি নিয়ে নগর উন্নয়ন ও পৌর বিষয়ক (UDMA) বিভাগের সঙ্গে প্রয়োজনীয় যোগাযোগ রক্ষা ও তদারকি চালিয়ে যাওয়ার অনুরোধও জানানো হয়েছে উদ্যোক্তাদের তরফে। বৈঠক শেষে তৈরি (Meeting) হয় সভার কার্য বিবরণী। তাতে স্বাক্ষর করেছেন পশ্চিমবঙ্গ সরকারের মুখ্যমন্ত্রীর উপদেষ্টা অবসরপ্রাপ্ত আইএএস ড. সুব্রত গুপ্ত (Kolkata Book Fair)।

  • Suvendu Adhikari: স্কুল-কলেজে ফিরছে এনসিসি, আসছে অত্যাধুনিক ‘অর্জুন বাহিনী’, বড় সিদ্ধান্ত নয়া মুখ্যমন্ত্রীর

    Suvendu Adhikari: স্কুল-কলেজে ফিরছে এনসিসি, আসছে অত্যাধুনিক ‘অর্জুন বাহিনী’, বড় সিদ্ধান্ত নয়া মুখ্যমন্ত্রীর

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: রাজ্যজুড়ে শিক্ষা, সুরক্ষা এবং বিপর্যয় মোকাবিলার ক্ষেত্রে বড়সড় পরিবর্তনের বার্তা দিলেন রাজ্যের প্রথম বিজেপি সরকারের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari)। রবিবার গার্ডেনরিচে প্রতিরক্ষা মন্ত্রকের এক কর্মসূচিতে অংশ নেওয়ার পর সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তের কথা ঘোষণা করেন তিনি। পশ্চিমবঙ্গে এনসিসি বা ন্যাশনাল ক্যাডেট কোর পুনরুজ্জীবিত করা থেকে শুরু করে নতুন বিশেষ উদ্ধারকারী ‘অর্জুন বাহিনী’ (Arjun Bahini) গঠন এবং অগ্নিবীরদের জন্য সরকারি চাকরিতে বিশেষ সংরক্ষণের জোড়া ঘোষণা প্রকাশ্যে আনেন মুখ্যমন্ত্রী।

    শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ফেরানো হচ্ছে এনসিসি (Suvendu Adhikari)

    শিক্ষাঙ্গনে ছাত্রাবস্থা থেকেই শৃঙ্খলা, নিয়মানুবর্তিতা এবং দেশপ্রেমের পাঠ ছড়িয়ে দিতে এনসিসি ফিরিয়ে আনার সিদ্ধান্ত নিয়েছে বর্তমান রাজ্য সরকার। মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “বিগত সরকার আমাদের রাজ্যের স্কুল ও কলেজ থেকে পরিকল্পিতভাবে এনসিসি তুলে দিয়েছিল। আর তার বদলে শুরু করেছিল জয়হিন্দ বাহিনী। অত্যন্ত খারাপ মানসিকতা ও সংকীর্ণ ভাবনা নিয়ে ওই কাজটা করা হয়েছিল। অথচ এনসিসিতে নিয়মিত প্রশিক্ষণ নিলে ছাত্রাবস্থা থেকেই ছেলেমেয়েদের মধ্যে শৃঙ্খলাবোধ, নিয়মানুবর্তিতা এবং নির্ভেজাল রাষ্ট্রপ্রেম তৈরি হয়। আমি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলিকে এই বিষয়ে চিঠি লিখব।”

    তিনি জানান, এনসিসি চালুর জন্য নির্দিষ্ট সামরিক প্রোটোকল রয়েছে। প্রতিরক্ষা মন্ত্রকের আধিকারিকদের নির্দেশিকা অনুযায়ী রাজ্য শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলিকে ফের আবেদন জানানোর প্রক্রিয়া শুরু করতে চিঠি পাঠানো হবে।

    অগ্নিবীরদের জন্য ২০ শতাংশ সংরক্ষণ

    প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার পাশাপাশি রাজ্যের কর্মসংস্থান ও রাজ্য সুরক্ষায় প্রাক্তন সেনাদের যুক্ত করার কথা ভাবছে রাজ্য সরকার। মুখ্যমন্ত্রীর ঘোষণা, “রাজ্যের প্রতিটি স্কুল-কলেজে যাতে এনসিসির কাজকর্ম আরও ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে দেওয়া যায়, সরকার সেই ব্যবস্থা করবে। এর পাশাপাশি আমরা বড় সিদ্ধান্ত নিয়েছি – পুলিশ, দমকলবাহিনী, বন দফতর এবং বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনীতে অগ্নিবীরদের জন্য ২০ শতাংশ আসন সংরক্ষিত রাখা হচ্ছে। নিয়োগের ক্ষেত্রে এই অগ্নিবীরদেরই অগ্রাধিকার দেওয়া হবে।”

    বিপর্যয় মোকাবিলায় সেপ্টেম্বরেই নামছে ‘অর্জুন বাহিনী’

    তারাতলার সাম্প্রতিক ভয়াবহ গোডাউন দুর্ঘটনার কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে মুখ্যমন্ত্রী রাজ্যের নতুন বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনী গঠনের নীল নকশা প্রকাশ করেন। তিনি জানান, উদ্ধারকাজ ও বিপর্যয় সামলাতে সর্বাধুনিক প্রযুক্তিতে সজ্জিত ‘অর্জুন বাহিনী’ তৈরি করা হচ্ছে। মুখ্যমন্ত্রী (Suvendu Adhikari) বলেন, “আমাদের তো এত বড় শহর, এত বেআইনি নির্মাণ হয়েছে এত বছর ধরে, এখানে আরও অত্যাধুনিক ব্যবস্থা থাকা দরকার যে কোনও রকম বিপর্যয়ের মোকাবিলা করতে। সেই কারণে অর্জুন বাহিনী তৈরি করা হচ্ছে। সেপ্টেম্বর মাসে তারা কাজ শুরু করবে।” তিনি জানান, আগামী সেপ্টেম্বর মাসেই তিনি নিজে এই বাহিনীর সূচনা ও ফ্ল্যাগ-অফ করবেন।

    এই বাহিনীর জন্য ইতিমধ্যেই আধুনিক ভবন, ক্যাম্পাসের পাশাপাশি জাতীয় বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনীর (এনডিআরএফ) মতো উচ্চপ্রযুক্তির সরঞ্জাম সংগ্রহ করা হয়েছে। ধ্বংসস্তূপের নীচে কোনো জীবিত ব্যক্তি আটকে আছেন কি না, তা জানার হাই-টেক ক্যামেরা, বিশেষ উদ্ধারকারী গাড়ি এবং গ্যাস কাটারের মতো আধুনিক সরঞ্জাম-সহ উন্নতমানের পরিকাঠামো প্রস্তুত রাখা হচ্ছে।

    সৈনিক বোর্ডের মাধ্যমে সাময়িক ২০০ জওয়ান মোতায়েন

    অগ্নিবীরদের প্রথম ব্যাচ চাকরিতে যোগ দিতে দিতে আগামী বছরের জানুয়ারি মাস গড়িয়ে যাবে। তাই অন্তর্বর্তী সময়ে উদ্ধারকাজের শূন্যতা মেটাতে রাজ্য সৈনিক বোর্ড থেকে ২০০ জন প্রশিক্ষিত প্রাক্তন সেনাকর্মীকে এনলিস্ট করা হয়েছে। এই দলের ১০০ জন কলকাতায়, ৫০ জন উত্তরবঙ্গের পাহাড়ি অঞ্চল দার্জিলিংয়ে এবং ৫০ জন দক্ষিণবঙ্গের সমুদ্র উপকূলবর্তী এলাকা কাকদ্বীপে মোতায়েন থাকবেন।

    আগের সরকারের সমালোচনা করে মুখ্যমন্ত্রী (Suvendu Adhikari) বলেন, “বিপর্যয় মোকাবিলার জন্য ভারত সরকার প্রচুর টাকা দিয়েছিল, কিন্তু আগের সরকার সেই অর্থ সঠিকভাবে খরচই করেনি। আমরা সেই ফান্ড ব্যবহার করে নতুন করে পরিকাঠামো তৈরি করছি। তারাতলার ঘটনায় আমরা দেখেছি এনডিআরএফ যেভাবে ২২ জন মানুষকে জীবন্ত উদ্ধার করেছে, তা একটা বিরাট অর্জন। কলকাতা পুলিশের ভূমিকাও সেখানে প্রশংসনীয় ছিল। এর আগে আমফানের সময় আপনারা দেখেছেন, একটানা তিন দিন ধরে কলকাতার রাস্তা থেকে (Arjun Bahini) উপড়ে পড়া গাছই সরাতে পারেনি তখনকার প্রশাসন। শেষে ওড়িশার বিপর্যয় ব্যবস্থাপনা দলকে এনে শহর পরিষ্কার করাতে হয়েছিল।”

    প্রতিরক্ষা উৎপাদন ও আত্মনির্ভর পশ্চিমবঙ্গের রূপরেখা

    রাজ্যের আর্থিক উন্নতি ও প্রতিরক্ষা উৎপাদনের সম্ভাবনা তুলে ধরে মুখ্যমন্ত্রী জানান, গার্ডেনরিচ শিপবিল্ডার্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ার্স (জিআরএসই)-এর মতো সংস্থা স্বাবলম্বী ভারতের প্রতীক। ‘অপারেশন সিঁদুরে’র মতো সাম্প্রতিক সামরিক অভিযানের উদাহরণ দিয়ে তিনি লখনউয়ে তৈরি হওয়া ব্রহ্মস ক্ষেপণাস্ত্রের সাফল্যের কথা উল্লেখ করেন এবং বলেন, বাংলায়ও প্রতিরক্ষা সংক্রান্ত উৎপাদনের বিশাল সুযোগ রয়েছে।

    তিনি বলেন, “আমরা তো একসময় রাজ্য হিসেবে পুরোপুরি ‘নির্ভরশীল পশ্চিমবঙ্গ’ হয়ে গিয়েছিলাম। সবাই কেবল ভাতা-নির্ভর হয়ে পড়েছিল। কিন্তু প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিজি, প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিংজি এবং স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহজির নেতৃত্বে ভারত এখন স্বাবলম্বী ও আত্মনির্ভর হচ্ছে।”

    তিনি (Suvendu Adhikari) জানান, নতুন এই প্রশাসনিক রূপরেখায় কোনো অনভিজ্ঞ কর্মীকে দায়িত্ব দেওয়া হবে না। তিন মাস থেকে এক বছরের কঠোর পেশাদার প্রশিক্ষণ ছাড়া কাউকে এই জাতীয় ঝুঁকিপূর্ণ কাজে যুক্ত (Arjun Bahini) করা হবে না।

     

  • Shamik Bhattacharya: এবিভিপির বিরুদ্ধে পরিকল্পিত চক্রান্ত! যাদবপুরের ঘটনায় কী বললেন রাজ্য বিজেপি সভাপতি?

    Shamik Bhattacharya: এবিভিপির বিরুদ্ধে পরিকল্পিত চক্রান্ত! যাদবপুরের ঘটনায় কী বললেন রাজ্য বিজেপি সভাপতি?

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: যাদবপুর কাণ্ডে এবিভিপি-র বিরুদ্ধে পরিকল্পিত চক্রান্তের আশঙ্কা করলেন বিজেপির রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য (Samik Bhattacharya)। এসএফআই-এবিভিপির সংঘর্ষে উত্তপ্ত যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়। অশান্তি নিয়ে তোলপাড় রাজ্য রাজনীতি। বৃহস্পতিবার ছাত্র আন্দোলনের মাঝেই বিখ্যাত চিত্রশিল্পী নন্দলাল বসুর তৈরি প্রতীকটি ভেঙে পড়ে। শুক্রবার মেদিনীপুর কলেজেও যাদবপুরের আঁচ দেখা যায়। ক্যাম্পাসের মধ্যেই এসএফআই-এবিভিপির সংঘর্ষ হয় বলে অভিযোগ। এই আবহে বিজেপি রাজ্য সভাপতি তথা রাজ্যসভার সাংসদের দাবি, এটি সম্পূর্ণ পরিকল্পিত চক্রান্ত।

    অখিল ভারতীয় বিদ্যার্থী পরিষদ-এর বিরুদ্ধে চক্রান্ত

    অখিল ভারতীয় বিদ্যার্থী পরিষদ সরাসরি বিজেপির কোনও ছাত্র সংগঠন নয়। এটি একটি জাতীয়তাবাদী ছাত্র সংগঠন। পশ্চিম মেদিনীপুরের একটি কলেজে চলা গন্ডগোল এবং যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ে নন্দলাল বসুর তৈরি ঐতিহাসিক লোগো বা শতদল প্রতীক ভেঙে ফেলার অভিযোগ প্রসঙ্গে বিজেপি রাজ্য সভাপতির দাবি, এবিভিপি-র মূল লক্ষ্য, আদর্শের সঙ্গে লোগো ভাঙচুরের মতো ঘটনা কখনওই মেলে না। এর পিছনে অন্য কোনও উদ্দেশ্য থাকার আশঙ্কা করছেন তিনি। এছাড়া, যাদবপুরের সাম্প্রতিক ছাত্র সংঘর্ষ ও উত্তপ্ত পরিস্থিতির মাঝে বিজেপির এক নির্বাচিত জনপ্রতিনিধির উপস্থিতি নিয়ে প্রশ্ন উঠলে শমীক ভট্টাচার্য পাল্টা সাফাই দেন। তিনি জানান, গেটের বাইরে বা সংলগ্ন এলাকায় কোনও গন্ডগোল বা পরিস্থিতি তৈরি হলে একজন নির্বাচিত জনপ্রতিনিধি হিসেবে তাঁদের সেখানে উপস্থিত থাকার অধিকার ও দায়িত্ব রয়েছে। কোচবিহার হোক কিংবা পশ্চিমবঙ্গের যেকোনও প্রান্ত—জনপ্রতিনিধিরা প্রয়োজনে যেতেই পারেন।

    জাতীয় শিক্ষানীতি লাগু হবে

    সাংবাদিকদের সামনে জাতীয় শিক্ষানীতির প্রসঙ্গ টেনে শমীকবাবু বলেন, বর্তমান সময়ে দেশের বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলির একমাত্র কাজ হল প্রতি পদে কেবল বিরোধিতা করে যাওয়া। এ রাজ্যেও ঠিক একই পরিস্থিতি তৈরি করা হচ্ছে। তাঁর আরও দাবি, শিক্ষানীতি নিয়ে অতীতে বহু বুদ্ধিজীবী ও পন্ডিত মানুষ নানা সমালোচনা করেছেন এবং এটিকে ‘গৈরিকীকরণ’ বলে দাগিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করেছেন। কিন্তু সাধারণ মানুষ সেই সমস্ত বিতর্ক এবং অপপ্রচারকে উপেক্ষা করেই নির্বাচনের মাধ্যমে তাঁদের সরকারে জায়গা করে দিয়েছে। তাই রাজ্যে এই নীতি রূপায়ণের ক্ষেত্রে আর নতুন করে বলার কিছু নেই বলেই তাঁর মত। তিনি জানান, পশ্চিমবঙ্গে জাতীয় শিক্ষানীতি অবশ্যই লাগু হবে এবং এই নিয়ে বিরোধীরা যে বিতর্ক তৈরি করার চেষ্টা করছে, তা কেবল রাজনৈতিক স্বার্থে।

  • Jadavpur University: যাদবপুরে জেনারেল বডির বৈঠক ঘিরে এবিভিপি-বামপন্থী পড়ুয়াদের মধ্যে ব্যাপক সংঘর্ষ

    Jadavpur University: যাদবপুরে জেনারেল বডির বৈঠক ঘিরে এবিভিপি-বামপন্থী পড়ুয়াদের মধ্যে ব্যাপক সংঘর্ষ

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: জেনারেল বডির বৈঠককে কেন্দ্র করে ব্যাপক সংঘর্ষ যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ে (Jadavpur University)। বুধবার রাতের ওই ঘটনায় এলাকায় তীব্র উত্তেজনা। বৈঠক চলাকালীন এবিভিপি এবং বামপন্থী ছাত্র সংগঠন ফেটসু-ঘনিষ্ঠ পড়ুয়াদের মধ্যে প্রথমে বচসা এবং পরে হাতাহাতি হয়। তার পরেই পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। হাতাহাতি রূপ নেয় সংঘর্ষের। ঘটনায় দু’পক্ষেরই একাধিক পড়ুয়া জখম হয়েছেন বলে (Left Student) দাবি। তাঁদের মধ্যে কয়েকজনকে হাসপাতালে নিয়ে গিয়ে চিকিৎসাও করাতে হয়েছে বলে খবর। যদিও ঠিক কী কারণে আচমকাই পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠল, তা নিয়ে দু’পক্ষের বক্তব্য সম্পূর্ণ আলাদা।

    এবিভিপির অভিযোগ (Jadavpur University)

    আরএসএসের ছাত্র সংগঠন এবিভিপির অভিযোগ, জেনারেল বডির বৈঠক চলাকালীন তাঁদের কয়েকজন সদস্যকে ঘিরে প্রথমে ধাক্কাধাক্কি শুরু হয়। পরে সেই ঘটনা হাতাহাতির আকার নেয়। সংগঠনের দাবি, তাঁদের কয়েকজন পড়ুয়াকে বেধড়ক মারধর করা হয়েছে। সংগঠনের আরও অভিযোগ, সাধারণ সভার নামে ডেকে পরিকল্পিতভাবে এসএফআই এবং ডিএসও-ডিএসএফ হামলার ঘটনা ঘটিয়েছে। আক্রমণ করা হয়েছে বিশ্ববিদ্যালয়ের এবিভিপি সভাপতি নিখিল রায়ের উপরেও। বর্তমানে তিনি গুরুতর অবস্থায় কেপিসি মেডিক্যাল কলেজে চিকিৎসাধীন। এদিকে, ফেটসুর অভিযোগ, এবিভিপি-ঘনিষ্ঠ কয়েকজন পড়ুয়া বৈঠকে এসে উসকানিমূলক মন্তব্য করেন। তাঁদের আচরণের জেরেই পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। তার পরেই তা আকার নেয় সংঘর্ষের।

    জখম এবিভিপির ছাত্র নেতা

    বামপন্থী পড়ুয়াদের মারে জখম হয়েছেন এবিভিপির অর্ণব দাস। যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের এই ছাত্রের দাবি, বামপন্থী ছাত্র সংগঠনগুলির ডাকা ওই জেনারেল বডির বৈঠকে বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র সংগঠন সংক্রান্ত বেশ কিছু সিদ্ধান্ত নেওয়া হচ্ছিল। তাঁর কথায়, “আজকে বামপন্থী ছাত্র সংগঠনগুলির ডাকা জেনারেল বডি বৈঠকে তাঁরা ঠিক করেন কোনও সরকারি সিদ্ধান্ত মানবেন না। আমরা বলেছি, নির্বাচন ছাড়া এমন কোনও সিদ্ধান্ত হবে না। সর্বোপরি, আমাদের উচ্চশিক্ষামন্ত্রী বলেছেন, কলেজ ক্যাম্পাসের মধ্যে কোনও রাজনীতি চলবে না। আমি বলেছিলাম, ইউনিয়ন রুমে (Jadavpur University) এরকম স্লোগান লেখা থাকবে না, কারণ ইউনিয়ন হয়নি। তার পরেই ওরা আচমকা এসে আমাকে ধাক্কাধাক্কি করতে থাকে। আমার চশমা ছিটকে পড়ে। আমাকে সিনিয়ররা বাঁচাতে এলে তাঁরাও জখম হন।”

    বিরোধীদের অভিযোগ

    অর্ণবের আরও দাবি, ঘটনার প্রথম দিকে ৭০ থেকে ৮০ জনের জমায়েত হয়েছিল। পরে যখন মারধর শুরু হয়, তখন সেখানে প্রায় ২০ জন ছিলেন। তাঁদের মধ্যে কয়েকজনকে শনাক্ত করা হয়েছে বলেও দাবি করেছে এবিভিপি। ঘটনাস্থলে বহিরাগতদের উপস্থিতি এবং বিশ্ববিদ্যালয় চত্বরে পর্যাপ্ত সিসিটিভি ক্যামেরা না থাকার বিষয় নিয়েও প্রশ্ন তুলেছে আরএসএসের এই ছাত্র সংগঠন। অন্যদিকে, ফেটসুর সদস্য বৈদিক সম্পূর্ণ ভিন্ন দাবি করেছেন। তাঁর বক্তব্য, “আমাদের একটা সাংগঠনিক বৈঠক চলছিল। বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রদের একটি সংগঠনের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট পরিচালনার জন্য প্রয়োজনীয় স্বাক্ষরকারী ঠিক করার জন্যই এই বৈঠক ডাকা হয়েছিল। সেখানে একটি নির্দিষ্ট ছাত্রগোষ্ঠী বারবার উসকানিমূলক মন্তব্য করতে থাকে। তারপরেই পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয় এবং মারধর শুরু হয়।” বৈদিকের পাল্টা অভিযোগ, তাঁদের কয়েকজন পড়ুয়াকেও মারধর করা হয়েছে। বাঁশ এবং গাছের মোটা ডাল নিয়ে তাঁদের ওপর হামলার চেষ্টা করা হয়েছিল বলেও দাবি তাঁর। তিনি জানান, কয়েকজনকে বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসের বাইরে টেনে নিয়ে গিয়ে মারধর করা হয়েছে। এমন অভিযোগ করেছে তাঁর সংগঠন ফেটসু-ও (Left Student)।

    জেনারেল বডির বৈঠক কীভাবে?

    এই ঘটনার পাশাপাশি জেনারেল বডি বৈঠকের বৈধতা নিয়েও নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। এবিভিপির বক্তব্য, বিশ্ববিদ্যালয়ে বর্তমানে কোনও ছাত্র ইউনিয়ন থাকার কথা নয়। তাহলে কীভাবে জেনারেল বডির বৈঠক ডাকা হল, সেই প্রশ্ন তুলেছে তারা। সংগঠনের প্রশ্ন, নির্বাচন না হলে ছাত্র ইউনিয়নের নামে কোনও বৈঠক বা সিদ্ধান্ত গ্রহণের বৈধতা থাকে কি (Jadavpur University)? ফেটসুর পাল্টা বক্তব্য, নির্বাচন না হলেও ছাত্রদের সাংগঠনিক কাজকর্ম পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যায় না। সাংগঠনিক এবং প্রশাসনিক প্রয়োজনেই ওই বৈঠক ডাকা হয়েছিল বলে দাবি করেছে তারা। তাদের বক্তব্য, ছাত্রদের সংগঠন পরিচালনার জন্য প্রয়োজনীয় কিছু প্রশাসনিক কাজ সম্পন্ন করতেই বৈঠকের আয়োজন করা হয়েছিল। ঘটনার পর বুধবার রাতেই ঘটনাস্থলে পৌঁছে বামপন্থী ছাত্র সংগঠনগুলির বিরুদ্ধে সরব হন বিজেপি বিধায়ক শর্বরী চক্রবর্তী। জেনারেল বডির বৈঠকের বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন তোলার পাশাপাশি যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ে তথাকথিত ‘দেশবিরোধী’ স্লোগান এবং নকশাল-মাওবাদী রাজনীতির অভিযোগও তোলেন তিনি।

    বিধায়কের বক্তব্য

    শর্বরী বলেন, “কোনও ইউনিয়ন নেই। তারপরেও কী করে জিবির বৈঠক ডাকা হয়েছে? কে ডেকেছে বৈঠক? আমি সৃজন ভট্টাচার্যকে জিজ্ঞেস করছি, কে ডেকেছে জিবির বৈঠক (Left Student)?” যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ে তথাকথিত ‘দেশবিরোধী’ স্লোগান দেওয়ার অভিযোগ তুলে তিনি আরও বলেন, “যাদবপুরকে নকশাল এবং দেশবিরোধী শক্তি, মাওবাদী দিয়ে আপনারা ভর্তি করে রাখবেন? কী ভেবেছেন, কী? এমনটা চলবে না। যাদবপুরে তো নয়ই।” ঘটনায় অভিযুক্ত কয়েকজনের নাম প্রকাশ্যে উল্লেখ করে তাঁদের পুলিশের কাছে হাজির করার দাবিও জানান শর্বরী। তাঁর বক্তব্য, “এক ঘণ্টার মধ্যে যদি যাদবপুর থানায় সারেন্ডার না করান… আমি কিন্তু যেখানে লুকিয়ে আছে, সেখান থেকে টেনে বের করব (Jadavpur University)।”

    থানায় বিক্ষোভ এবিভিপির

    এরপর ওই এলাকার বিজেপি কর্মী এবং যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের এবিভিপি সদস্যরা মিলে রাতে স্থানীয় থানার সামনে বিক্ষোভ দেখান। এবিভিপির দাবি, তাঁদের বিক্ষোভ ছিল শান্তিপূর্ণ। একইসঙ্গে তাদের দাবি, ক্যাম্পাসের ভিতরে হামলা বা আগুন লাগানোর যে অভিযোগ উঠেছে, তা সম্পূর্ণ মিথ্যা।এবিভিপির কেন্দ্রীয় কর্মসমিতির সদস্য শুভব্রত অধিকারী বলেন, ‘‘দলিত প্রেমের কথা বলা বাম, অতিবাম ও দিমাগি নকশালরা দলিত শিক্ষার্থীদের উপরে হামলা চালিয়ে তাঁদের বলে দলিতদের বিশ্ববিদ্যালয়ে থাকার অধিকার নেই।’’ তাঁর দাবি, এবিভিপির ছাত্রনেতা নিখিল দাসের উপরে হামলা চালিয়ে তাঁকে প্রাণে মারার চেষ্টা হয়েছে। শুভব্রত জানান, বেশ কয়েকজনের নামে এফআইআর করা হচ্ছে। তিনি বলেন, ‘‘যাদবপুরে গণতান্ত্রিকভাবে সার্জিক্যাল স্ট্রাইক হবে।’’ যদিও শর্বরীর অভিযোগ এবং এবিভিপির বক্তব্যের সঙ্গে একমত নয় বামপন্থী ছাত্র সংগঠনগুলি। ঘটনার সঙ্গে সংগঠনের কোনও যোগ নেই বলেও স্পষ্ট করেছে এসএফআই। যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ে এসএফআইয়ের শুভদীপ বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, “আজকের জিবি মিটিংয়ে এসএফআইয়ের কোনও ছাত্র উপস্থিত ছিলেন না। এই জিবি মিটিংটি ফেটসুর পক্ষ থেকে আয়োজন করা হয়েছিল। সেখানে এএফএসইউ এবং ডিএসএফের প্রতিনিধিরাও উপস্থিত ছিলেন।”

    ‘দেশবিরোধী’ স্লোগান দেওয়ার অভিযোগ

    জেনারেল বডি বৈঠককে কেন্দ্র করে ‘দেশবিরোধী’ স্লোগান দেওয়ার অভিযোগ প্রসঙ্গেও এবিভিপিকে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের কাছে যাওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন শুভদীপ। তিনি বলেন, “কেউ যদি দেশবিরোধী স্লোগান দিয়ে থাকে, তাহলে এবিভিপিকে বলব অভিযোগ না করে পুরো বিষয়টি উপাচার্য এবং বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষকে জানাতে। তাঁরা নিজেরা কেন ব্যবস্থা নেবেন? পুরো বিষয়টি দেখার এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দায়িত্ব বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের (Jadavpur University)।” অন্যদিকে, ঘটনার জেরে বৃহস্পতিবার সকাল ১১টা থেকে বিক্ষোভ কর্মসূচির ডাক দিয়েছে এবিভিপি। সংগঠনের দাবি, বুধবার রাতের ঘটনার পূর্ণাঙ্গ তদন্ত করতে হবে এবং অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে হবে। পাশাপাশি বিশ্ববিদ্যালয় চত্বরে বহিরাগতদের প্রবেশ, ছাত্র সংগঠনের কার্যকলাপ এবং জেনারেল বডি বৈঠকের বৈধতা নিয়েও কর্তৃপক্ষকে স্পষ্ট অবস্থান জানাতে হবে।

    রাজনৈতিক চাপানউতোর

    সব মিলিয়ে, জেনারেল বডির বৈঠক ঘিরে বুধবার রাতের সংঘর্ষ যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র রাজনীতিতে নতুন করে উত্তেজনার সৃষ্টি করেছে। একদিকে বৈঠকের বৈধতা এবং ছাত্র সংগঠনের সাংগঠনিক কার্যকলাপ নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে, অন্যদিকে হামলা এবং পাল্টা হামলা এবং উসকানির অভিযোগ ঘিরে শুরু হয়েছে রাজনৈতিক চাপানউতোর। ঘটনার প্রকৃত কারণ এবং কারা সংঘর্ষে জড়িত ছিলেন, তা স্পষ্ট করতে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ এবং পুলিশের তদন্তই এখন গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। দুই (Left Student) পক্ষই নিজেদের অবস্থানে অনড় থাকায় বৃহস্পতিবারের প্রস্তাবিত বিক্ষোভকে ঘিরেও বিশ্ববিদ্যালয় চত্বরে নতুন করে উত্তেজনার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে (Jadavpur University)।

     

  • Yug Nirman Yojana: যুগ নির্মাণ যোজনার তিন দিনের শিবিরে হল যজ্ঞ-প্রবচন দান

    Yug Nirman Yojana: যুগ নির্মাণ যোজনার তিন দিনের শিবিরে হল যজ্ঞ-প্রবচন দান

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: হুগলির ব্যান্ডেলে হয়ে গেল যুগ নির্মাণ যোজনার (Yug Nirman Yojana) তিন দিনের শিবির। শুক্রবার শুরু হওয়া এই শিবিরে কর্মকর্তারা ছাড়াও, যোগ দিয়েছিলেন রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তের প্রায় ৫০ জন ভক্ত। এঁদের অনেকেই গায়ত্রী মন্ত্রে দীক্ষিত (Puja Pravachan)। তিনি দিনের এই শিবিরে হিন্দু সংস্কার মেনে হয়েছে পুংসবন সংস্কার-যজ্ঞ এবং প্রবচন দান। রীতি মেনে হয়েছে দীপ যজ্ঞও। সংস্থার তরফে শিবির পরিচালনা করেন গোকুল মুন্দ্রা এবং সঞ্জীব ব্যানার্জি।

    যুগ নির্মাণ যোজনার লক্ষ্য (Yug Nirman Yojana)

    যুগের পরিবর্তন ও মানবকল্যাণের লক্ষ্যে পণ্ডিত শ্রীরাম শর্মা আচার্য ১৯৫৮ সালে প্রতিষ্ঠা করেন যুগ নির্মাণ যোজনা। এটি শান্তিকুঞ্জ, হরিদ্বার এবং অল ওয়ার্ল্ড গায়ত্রী পরিবারের একটি সামাজিক ও আধ্যাত্মিক আন্দোলন। এর মূল লক্ষ্য মানুষের চিন্তা ও চরিত্রের উন্নতি ঘটিয়ে পৃথিবীতে শান্তি ও সদ্‌ভাব প্রতিষ্ঠা করা। মানুষের মধ্যে দেবত্ব প্রতিষ্ঠা করাও এই সংস্থার লক্ষ্য। যুগ নির্মাণ যোজনা হিন্দুদের এক ছাতার তলায় নিয়ে আসতে বছরভর নানা অনুষ্ঠান করেন। প্রতিটি মানুষেরই যে গায়ত্রী মন্ত্রে দীক্ষিত হওয়ার অধিকার রয়েছে, সকলেই যে নিত্য গায়ত্রী মন্ত্র পাঠ করতে পারেন, সেই আন্দোলনের বীজই সমাজের সর্বস্তরে ছড়িয়ে দিতে প্রাণপাত করছেন যুগ নির্মাণ যোজনার কর্তারা।

    পরিপাটি ব্যান্ডেলের আশ্রম

    বাংলায় যুগ নির্মাণ যোজনার একাধিক কেন্দ্র রয়েছে। তবে সব চেয়ে বেশি পরিচিত কলকাতা ও ব্যান্ডেলের কেন্দ্রগুলি। কলকাতায় রয়েছে মা গায়ত্রীর অনিন্দ্যসুন্দর বিগ্রহ। আর ব্যান্ডেলের আশ্রমে সব মিলিয়ে রয়েছে পাঁচটি মন্দির। একটিতে রয়েছেন মা কালী, অন্যটির অধিষ্ঠাত্রী দেবী মা দুর্গা। একটি মন্দির রয়েছে মহাকালের। এই মন্দিরে রয়েছে দ্বাদশ জ্যোতির্লিঙ্গের রেপ্লিকাও। এখানে মা গায়ত্রীর মন্দির রয়েছে দু’টি। একটি রয়েছে মায়ের এক মুখী মূর্তি, আর অন্যটিতে রয়েছে মায়ের পঞ্চমুখী বিগ্রহ। মন্দিরগুলিতে নিত্য অন্নভোগ হয়। সেই ভোগই প্রসাদ হিসেবে পরম শ্রদ্ধায় গ্রহণ করেন ভক্তরা। যুগ নির্মাণ যোজনার প্রধান কেন্দ্র হরিদ্বারে। সেখানে রয়েছে রাম আচার্য এবং তাঁর স্ত্রীর সমাধিস্থল। সেই সমাধিস্থলের অনুকরণেই ব্যান্ডেলেও বানানো হয়েছে হয়েছে একটি স্মৃতিসৌধ। এই সৌধের মাঝেই রয়েছে অখণ্ড জ্যোতির রেপ্লিকা। এই নামে সংস্থার একটি মাসিক পত্রিকাও রয়েছে। দেশ-বিদেশের একাধিক ভাষায় নিয়মিত প্রকাশিত হয় এই পত্রিকা। ব্যান্ডেলের এই আশ্রমে রয়েছে বিরাট গো-শালা, যজ্ঞ-শালা, এবং সবজি খেত।

    কর্মকর্তাদের বক্তব্য  

    সংস্থার তরফে সঞ্জীববাবু বলেন, “প্রতি বছর চার থেকে পাঁচবার আমাদের শিবির হয়। শিবিরে হিন্দু রীতি মেনে যাগ-যজ্ঞ-সহ নানা অনুষ্ঠান হয়। হয় প্রবচন দানও (Yug Nirman Yojana)। শিবিরে যোগ দেওয়া ভক্তদের জন্য আশ্রমের তরফে নিখরচায় খাওয়া-দাওয়া এবং থাকার ব্যবস্থা করা হয়। ভক্তরা স্বেচ্ছায় প্রণামী হিসেবে যা দেন, তাই আশ্রম চালানোর পাথেয়।” গোকুলবাবু বলেন, “হিন্দু ধর্ম বাঁচাতে আমাদের ভরসা মা গায়ত্রী। আমরা তাঁরই নাম জপ-ধ্যান করি। ভক্তরা চাইলে আমরা তাঁদের বাড়িতে গিয়ে দীক্ষা-সহ নানা শুভ অনুষ্ঠান সম্পন্ন করে দিয়ে আসি। ভক্তদের সামর্থ্য না থাকলে আমরাই জিনিসপত্র নিয়ে (Puja Pravachan) গিয়েও দীক্ষা দান করে আসি। আমরা এভাবেই সমাজের সর্বস্তরে পৌঁছে দিতে চাই গায়ত্রী আন্দোলনের ঢেউ (Yug Nirman Yojana)।”

     

  • NRS: এনআরএসে নার্সের রহস্যমৃত্যু! স্বাধীন তদন্ত কমিটি গড়ার সিদ্ধান্তের কথা জানালেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী

    NRS: এনআরএসে নার্সের রহস্যমৃত্যু! স্বাধীন তদন্ত কমিটি গড়ার সিদ্ধান্তের কথা জানালেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: কলকাতার নীলরতন সরকার মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালে (NRS) কর্মরত নার্সের রহস্যমৃত্যুকে ঘিরে চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। বুধবার রাতে হাসপাতালের স্ত্রীরোগ বিভাগে কর্মরত অবস্থায় মৃত্যু হয় রূপালি বর্মণের। প্রাথমিকভাবে তাঁর শরীরে কোনও আঘাতের চিহ্ন (Nurse Death) মেলেনি। কোনও সুইসাইড নোটও উদ্ধার হয়নি। তাই অনুমানের ভিত্তিতে ঘটনাটিকে আত্মহত্যা বলে ধরে নিয়ে তদন্ত এগোতে নারাজ স্বাস্থ্য দফতর ও পুলিশ। পরিবারের দাবি মেনে রূপালির দেহের ময়নাতদন্ত হচ্ছে কলকাতা মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালে করা হচ্ছে।

    হাসপাতালে স্বাস্থ্যমন্ত্রী (NRS)

    বৃহস্পতিবার সকালে বিষয়টি জানাজানি হওয়ার পর দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছন রাজ্যের স্বাস্থ্যমন্ত্রী শারদ্বত মুখোপাধ্যায়। তিনি মৃত নার্সের পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কথা বলার পাশাপাশি হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ, ওয়ার্ডের রোগী এবং অন্য কর্মীদের সঙ্গেও কথা বলেন। কয়েক ঘণ্টা হাসপাতালে থাকার পর সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে তিনি জানান, ঘটনার পূর্ণাঙ্গ কারণ খতিয়ে দেখতে তদন্ত কমিটি গঠন করা হবে। স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, “স্বামী ও ভাইয়ের সঙ্গে কথা হয়েছে। ওঁরা চেয়েছিলেন, তাই মেডিক্যাল কলেজে ময়নাতদন্ত হবে। আমার ফোন নম্বর বাড়ির লোককে দেওয়া হয়েছে। যে কোনও ঘটনারই তদন্ত হবে, আলাদা কিছু নয়। কেউ কোনও সন্দেহ করছেন না।”

    তদন্ত কমিটি

    জানা গিয়েছে, সাতটি বিভাগের প্রধানকে নিয়ে ওই তদন্ত কমিটি গঠন করা হবে। নার্সিং, স্ত্রীরোগ-সহ সংশ্লিষ্ট সাতটি বিভাগের প্রধানরা কমিটিতে থাকবেন। ঘটনার সমস্ত দিক খতিয়ে দেখে সাত দিনের মধ্যে স্বাস্থ্য ভবনে রিপোর্ট জমা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। কর্মক্ষেত্রে রূপালি কোনও ধরনের মানসিক চাপের মধ্যে ছিলেন কি না, তাও খতিয়ে দেখা হবে। মানসিক বিভাগের প্রধানকেও তদন্ত কমিটিতে রাখার কথা বলা হয়েছে। হাসপাতালে ময়নাতদন্ত না করে কলকাতা মেডিক্যাল কলেজে কেন ময়নাতদন্ত করা হচ্ছে, সে বিষয়ে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, “মৃত মহিলার স্বামী চেয়েছেন, তাই করা হচ্ছে। এ নিয়ে কোনও কথা নয়। তিনটের মধ্যে ময়নাতদন্ত শুরু হবে। বিভাগীয় তদন্তও করা হবে।”

    পুলিশ দেখবেন পুলিশ

    বুধবার নাইট শিফটে ছিলেন রূপালি। স্ত্রীরোগ বিভাগে কাজে যোগ দেওয়ার কিছুক্ষণ পর থেকেই তাঁর আর খোঁজ মিলছিল না। সহকর্মীরা খোঁজ করতে গিয়ে বাথরুমের দরজা বন্ধ অবস্থায় দেখতে পান। ভিতর থেকে কোনও সাড়া না পাওয়ায় দরজা ভেঙে রূপালিকে উদ্ধার করা হয়। চিকিৎসকেরা তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন। পরে হাসপাতালের তরফে খবর দেওয়া হয় তাঁর পরিবারকে। রূপালির আচরণ নিয়ে সহকর্মীদের বক্তব্যও খতিয়ে দেখা হচ্ছে। সহকর্মী ও রোগীদের অনেকেই জানিয়েছেন, তিনি হাসিখুশি স্বভাবের ছিলেন। রূপালির আকস্মিক মৃত্যু মেনে নিতে পারছেন না তাঁর সহকর্মীরাও। স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, “সকলেই বলেছেন, উনি খুবই হাসিখুশি ছিলেন। কী হয়েছে হঠাৎ, তদন্ত করে তা খুঁজে দেখা পুলিশের কাজ। তাঁরা বিষয়টি দেখবেন (NRS)।”

    তদন্তে সব সম্ভাবনাই!

    পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, ঘটনার খবর পেয়ে বুধবারই হাসপাতালের পুলিশ ফাঁড়ির কর্মীরা ঘটনাস্থলে পৌঁছন। পরে এন্টালি থানার পুলিশ এবং গোয়েন্দা বিভাগের হত্যাকাণ্ড শাখার তদন্তকারী দলও সেখানে যায়। প্রাথমিক তদন্তে রূপালির শরীরে কোনও আঘাতের চিহ্ন পাওয়া যায়নি। উদ্ধার হয়নি কোনও সুইসাইড নোটও। তাই আত্মহত্যার সম্ভাবনা সামনে রেখে তদন্ত এগিয়ে নিয়ে যেতে চাইছে না পুলিশ। রূপালির বাড়ি পূর্ব মেদিনীপুরে। বছরখানেক আগে বিয়ে হয়েছিল তাঁর। স্বামী রাহুল দাসের সঙ্গে দমদম থানা এলাকায় থাকতেন তিনি। মৃত্যুর আগে তাঁর আচরণে কোনও অস্বাভাবিকতা লক্ষ্য করা গিয়েছিল কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। স্বাস্থ্য দফতরের তরফে সাফ জানিয়ে দেওয়া হয়েছে (Nurse Death), ঘটনার প্রকৃত কারণ জানতে সমস্ত সম্ভাবনাই খতিয়ে দেখা হবে। ময়নাতদন্তের রিপোর্ট, পুলিশের তদন্ত এবং (NRS) তদন্ত কমিটির রিপোর্ট—এই তিন দিকের প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতেই করা হবে পরবর্তী পদক্ষেপ।

     

  • Suvendu Adhikari: শিল্পে পিছিয়ে বাংলা, বদলের বার্তা সরকারের, বস্ত্রশিল্পে বিনিয়োগ টানতে গুচ্ছের সংস্কারের ঘোষণা মুখ্যমন্ত্রীর

    Suvendu Adhikari: শিল্পে পিছিয়ে বাংলা, বদলের বার্তা সরকারের, বস্ত্রশিল্পে বিনিয়োগ টানতে গুচ্ছের সংস্কারের ঘোষণা মুখ্যমন্ত্রীর

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: পশ্চিমবঙ্গের শিল্পক্ষেত্রে গত পাঁচ দশকে যে পিছিয়ে পড়ার ছবি তৈরি হয়েছে, তা বদলে রাজ্যকে নতুন শিল্পায়নের পথে নিয়ে যাওয়ার বার্তা দিলেন পালাবদলের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari)। বুধবার কলকাতার মিলন মেলা প্রাঙ্গণে ‘টেক্সটাইল ইন্ডাস্ট্রি কনফারেন্সে’র উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে তিনি দাবি করেন, দীর্ঘ সময় ধরে রাজ্যে শিল্পের বিকাশ বাধাগ্রস্ত হয়েছে। তবে বর্তমান সরকারের লক্ষ্য সেই পরিস্থিতি বদলে পশ্চিমবঙ্গকে বিনিয়োগের অন্যতম প্রধান গন্তব্য হিসেবে গড়ে তোলা (Industrial Investment)। ‘ডাবল ইঞ্জিন সরকারে’র হাত ধরে রাজ্য উন্নয়নের নতুন পর্বে প্রবেশ করেছে বলেও দাবি করেন তিনি।

    বিনিয়োগের আহ্বান মুখ্যমন্ত্রীর (Suvendu Adhikari)

    শিল্পপতি, উদ্যোক্তা এবং ব্যবসায়ী মহলের কাছে বাংলায় বিনিয়োগের আহ্বান জানিয়ে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, গত ৩৪ বছরের বাম শাসন এবং পরবর্তী ১৫ বছরের তৃণমূল কংগ্রেস সরকারের সময় রাজ্যে শিল্পের গতি কার্যত থমকে গিয়েছিল। এর জেরে অর্থনৈতিক অগ্রগতির একাধিক সম্ভাবনা হাতছাড়া হয়েছে বলে তাঁর অভিযোগ। তবে সেই পরিস্থিতি থেকে বেরিয়ে এসে নতুন করে শিল্পবান্ধব পরিবেশ তৈরি করতে সরকার কাজ করছে বলে জানান শুভেন্দু। মুখ্যমন্ত্রীর কথায়, “বিগত ৫০ বছরে বাংলা অনেকটাই পিছিয়ে পড়েছে। এখন ‘অমৃত কাল’ ও ডাবল ইঞ্জিন সরকারের নেতৃত্বে আমরা শিল্পবান্ধব পরিবেশ তৈরি করছি। তোলাবাজি ও মাফিয়ারাজের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতি নেওয়া হয়েছে। বাংলা এখন এগোতে প্রস্তুত, তাই নির্ভয়ে এখানে বিনিয়োগ করুন।”

    অর্থনীতিতে চোখে পড়ার মতো পরিবর্তন

    শিল্পায়নের সঙ্গে আইনশৃঙ্খলার সম্পর্কের বিষয়টিও এদিন গুরুত্ব দিয়ে তুলে ধরেন মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর দাবি, রাজ্যে গুন্ডাগিরি, তোলাবাজি এবং অপরাধমূলক কার্যকলাপ বন্ধ করা গেলে শিল্পপতিদের মধ্যে আস্থা আরও বাড়বে। সেই আস্থা থেকেই নতুন বিনিয়োগ আসবে এবং রাজ্যে শিল্পের প্রসার ঘটবে। শিল্পবান্ধব পরিবেশ গড়ে তুলতে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির আমূল উন্নতি ঘটানো সরকারের অন্যতম প্রধান লক্ষ্য বলেও জানান তিনি। আগামী এক থেকে দু’বছরের মধ্যেই রাজ্যের অর্থনীতিতে চোখে পড়ার মতো পরিবর্তন আসবে বলেও আশা প্রকাশ করেন শুভেন্দু অধিকারী। তাঁর দাবি, সেই সময়ের মধ্যে পশ্চিমবঙ্গ অর্থনৈতিকভাবে আরও শক্তিশালী হয়ে উঠবে এবং বিনিয়োগকারীদের কাছে রাজ্যের আকর্ষণ উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়বে। বর্তমান সরকার মানুষের সরকার এবং নির্বাচনের আগে প্রকাশিত সংকল্পপত্রে যে প্রতিশ্রুতিগুলি দেওয়া হয়েছিল, সেগুলি বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে বলেও জানান মুখ্যমন্ত্রী।

    বিপুল কর্মসংস্থানের সুযোগ

    কেন্দ্র-রাজ্য সমন্বয়ের প্রসঙ্গও উঠে আসে তাঁর বক্তব্যে। কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারামনের সঙ্গে পশ্চিমবঙ্গে বস্ত্র ও চা শিল্পের প্রসার এবং নতুন বিনিয়োগের সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা হয়েছে বলে জানান মুখ্যমন্ত্রী। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির নির্দেশে রাজ্যের সর্বাঙ্গীন উন্নয়নের লক্ষ্যে সরকার কাজ করছে বলেও দাবি করেন তিনি। আগামী ২৪ থেকে ২৮ অগাস্ট কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রীর রাজ্য সফরের সময় বস্ত্রশিল্পের প্রতিনিধিদের সঙ্গে একটি বৈঠকের আয়োজন করা হবে বলেও জানান মুখ্যমন্ত্রী। ওই বৈঠকে শিল্পের সমস্যা, সম্ভাবনা এবং বিনিয়োগের সুযোগ নিয়ে সরাসরি আলোচনা হতে পারে বলেও জানান তিনি। বস্ত্রশিল্পকে কেন্দ্র করে রাজ্যে নতুন শিল্পায়নের পরিকল্পনার কথাও এদিন স্পষ্ট করেন মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর বক্তব্য, এই শিল্পে বিপুল কর্মসংস্থানের সুযোগ রয়েছে। পশ্চিমবঙ্গের ঐতিহ্যবাহী তাঁত, পোশাক এবং বস্ত্রশিল্পকে আধুনিক বাজারের সঙ্গে যুক্ত করে বৃহত্তর শিল্পক্ষেত্র তৈরি করাই সরকারের লক্ষ্য। সেই লক্ষ্যে প্রশাসনিক জটিলতা কমানো, দ্রুত অনুমোদন এবং বিনিয়োগকারীদের জন্য সহজতর ব্যবস্থা চালু করার ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে (Industrial Investment)।

    ‘সিঙ্গেল উইন্ডো সিস্টেম’

    বিশেষ করে ১০০ কোটি টাকার বেশি বিনিয়োগের প্রকল্পগুলির ক্ষেত্রে দ্রুত অনুমোদনের ব্যবস্থা করার কথা জানান মুখ্যমন্ত্রী। বড় শিল্প প্রকল্পের জন্য বিনিয়োগকারীদের যাতে একাধিক দফতর, পুরসভা বা পঞ্চায়েতের বিভিন্ন স্তরে অনুমোদনের জন্য ঘুরতে না হয়, সেই ব্যবস্থাও করা হচ্ছে। রাজ্য সরকারের ‘সিঙ্গেল উইন্ডো সিস্টেমে’র মাধ্যমে প্রয়োজনীয় ছাড়পত্র দেওয়ার পরিকল্পনার কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, শিল্পপতিদের জন্য প্রক্রিয়াটি আরও সহজ এবং সময়সাশ্রয়ী করা হবে (Suvendu Adhikari)। জমি সংক্রান্ত নীতিতেও পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। জমি ক্রয় নীতি ইতিমধ্যেই কার্যকর হয়েছে বলেও জানান রাজ্যে বিজেপি সরকারের প্রথম মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু। খুব শীঘ্রই নতুন ভূমি উন্নয়ন নীতি আনার পরিকল্পনার কথাও জানান শুভেন্দু। শিল্প স্থাপনের প্রক্রিয়া আরও সরল করতে প্রয়োজনে বিধানসভায় আইন সংশোধনের উদ্যোগ নেওয়া হবে বলেও আশ্বাস দেন তিনি। অর্থাৎ বিনিয়োগকারীদের জন্য জমি, অনুমোদন এবং প্রশাসনিক প্রক্রিয়ার জটিলতা কমিয়ে দ্রুত প্রকল্প বাস্তবায়নের পরিবেশ তৈরি করাই সরকারের অন্যতম লক্ষ্য।

    একাধিক বড় শিল্পগোষ্ঠীর বিনিয়োগ

    রাজ্যে ইতিমধ্যেই একাধিক বড় শিল্পগোষ্ঠী বিনিয়োগের সিদ্ধান্ত নিয়েছে বলেও দাবি করেন মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর বক্তব্য, লাক্স কোজি, আমূল, শ্যাম স্টিল এবং অমিত মেটালিক্স-সহ একাধিক সংস্থা পশ্চিমবঙ্গে বিনিয়োগে আগ্রহ দেখিয়েছে বা সিদ্ধান্ত নিয়েছে। ক্যাবিনেট বৈঠকের পর আগামী এক মাসের মধ্যে অন্তত ২৫ জন শিল্পপতির হাতে নতুন শিল্প প্রকল্পের জন্য জমি তুলে দেওয়ার পরিকল্পনার কথাও ঘোষণা করেন তিনি (Suvendu Adhikari)। শিল্পায়নের পাশাপাশি কর্মসংস্থান তৈরির বিষয়টিকেও সরকারের অগ্রাধিকারের তালিকায় রেখেছেন মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর মতে, নতুন শিল্প হলে একদিকে যেমন বিনিয়োগ বাড়বে, তেমনই সরাসরি ও পরোক্ষভাবে কর্মসংস্থানের সুযোগও তৈরি হবে। এর ফলে রাজ্যের অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড আরও গতি পাবে এবং পশ্চিমবঙ্গ আর্থিকভাবে স্বনির্ভর হওয়ার পথে এগিয়ে যাবে (Industrial Investment)।

    বৃহত্তর শিল্পক্ষেত্র তৈরির আশ্বাস

    তাঁত ও বস্ত্রশিল্পের ক্ষেত্রে বাংলার ঐতিহ্যকে কাজে লাগিয়ে আধুনিক শিল্প কাঠামো গড়ে তোলার পরিকল্পনার কথাও জানান তিনি। রাজ্যের দীর্ঘদিনের তাঁতশিল্প ও পোশাক উৎপাদনকে আধুনিক প্রযুক্তি, বাজার এবং বিনিয়োগের সঙ্গে যুক্ত করে বৃহত্তর শিল্পক্ষেত্র তৈরি করা হবে বলে জানান তিনি। প্রশাসনিক সংস্কার, দ্রুত অনুমোদন, জমি নীতির পরিবর্তন এবং শিল্পবান্ধব পরিবেশ—এই চারটি বিষয়কে সামনে রেখে বস্ত্রশিল্পে নতুন বিনিয়োগের দরজা খুলতে চাইছে রাজ্য সরকার। মিলন মেলা প্রাঙ্গণে টেক্সটাইল ইন্ডাস্ট্রি কনফারেন্সের মঞ্চ থেকে তাই একই সঙ্গে তিনটি বার্তা দেওয়ার চেষ্টা করেন মুখ্যমন্ত্রী—শিল্পে বিনিয়োগ বাড়ানো, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নতি এবং প্রশাসনিক জটিলতা কমানো। তাঁর দাবি, এই তিন ক্ষেত্রেই পরিবর্তন আনতে পারলে পশ্চিমবঙ্গ আগামী দিনে দেশের অন্যতম আকর্ষণীয় শিল্প ও বিনিয়োগকেন্দ্র হয়ে উঠতে পারে। আগামী এক থেকে দু’বছরের মধ্যে সেই (Industrial Investment) পরিবর্তনের প্রতিফলন রাজ্যের অর্থনীতিতে দেখা যাবে বলেও আশা প্রকাশ করেন মুখ্যমন্ত্রী (Suvendu Adhikari)।

     

  • Taslima Nasreen: ১৯ বছর পর কলকাতায় তসলিমা, ফিরল ২০০৭-এর সেই বিতর্কিত স্মৃতি

    Taslima Nasreen: ১৯ বছর পর কলকাতায় তসলিমা, ফিরল ২০০৭-এর সেই বিতর্কিত স্মৃতি

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ৩৪ বছরের বাম সূর্য অস্ত গিয়েছে। পাটে বসেছে ১৫ বছরের তৃণমূল-ভাস্করও। চলতি বছরই রাজ্যে প্রাণ প্রতিষ্ঠা হয়েছে প্রথম বিজেপি সরকারের। তার পরেই এক এক করে খুলে পড়ছে বাম এবং তৃণমূল সরকারের মুখোশ (Taslima Nasreen)। স্রেফ ভোটব্যাঙ্কের রাজনীতিকে হাতিয়ার করেই কেউ ৩৪, কেউ আবার দিব্যি আরাম-আয়েশ করে ১৫ বছর কাটিয়ে দিয়েছে মহাকরণ এবং তারই পোর্টেবল সংস্করণ নবান্নে (Left Front Govt)। সংখ্যালঘু সম্প্রদায়কে দাবার বোড়ে করে আদতে আখের গুছিয়ে গিয়েছেন বাম এবং তৃণমূলের ভোট কারবারিরা।

    পদ্ম জমানায় কলকাতায় ‘মুক্তমনা’ তসলিমা (Taslima Nasreen)  

    রাজ্যে পালাবদলের পর সরকার গড়েছে বিজেপি। এই পদ্ম জমানায়ই বুক ভরে শ্বাস নিতে পারছেন ‘মুক্তমনা’রা। ২০০৭ সালে বাম জমানায় প্রবল আন্দোলনের জেরে কলকাতা ছাড়তে হয়েছিল বাংলাদেশের নির্বাসিত লেখিকা তসলিমা নাসরিনকে। ‘দ্বিখণ্ডিত’র জননী বড় দুঃখে ছেড়েছিলেন তাঁর ‘সেকেন্ড হোম’ কলকাতা। ১৯ বছর পর সেই তিনিই ফিরলেন আবারও কলকাতায়। যখন শহর ছেড়েছিলেন, চাক্ষুষ করেছিলেন মৌলবাদীদের দাপাদাপি। আর যখন ফিরলেন, তখন দেখলেন আক্ষরিক অর্থেই একটু একটু করে গড়ে উঠছে সোনার বাংলা। প্রায় ১৯ বছর পর কলকাতায় ফিরে তসলিমা নিজেই বলেছেন, এই শহরের সঙ্গে তাঁর সম্পর্ক গভীর। তাঁর প্রত্যাবর্তনের আবহে ফের আলোচনায় এসেছে—কেন ২০০৭ সালে তাঁকে পশ্চিমবঙ্গ ছাড়তে হয়েছিল, কীভাবে কলকাতার রাজপথে হিংসাত্মক বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়েছিল এবং সেই পরিস্থিতিতে তৎকালীন বামফ্রন্ট সরকারের ভূমিকা কী ছিল।

     ‘লজ্জা’ থেকে নির্বাসন, শুরুটা বাংলাদেশে

    তসলিমার নির্বাসনের ইতিহাস অবশ্য কলকাতায় শুরু হয়নি। ১৯৯৪ সালে বাংলাদেশ ছাড়তে বাধ্য হওয়ার আগে থেকেই তাঁর লেখা নিয়ে মৌলবাদী সংগঠনগুলির তীব্র বিরোধিতা শুরু হয়েছিল। ১৯৯২ সালে বাবরি মসজিদ ধ্বংসের পর বাংলাদেশে সংখ্যালঘু হিন্দুদের ওপর হামলা ও নির্যাতনের প্রেক্ষাপট উঠে আসে তাঁর বহুল আলোচিত উপন্যাস ‘লজ্জা’-য়। বইটি প্রকাশের পর তীব্র প্রতিবাদ শুরু হয়। মৌলবাদী গোষ্ঠীগুলি তাঁকে প্রাণনাশের হুমকি দেয়। শেষ পর্যন্ত ১৯৯৪ সালে দেশ ছাড়তে বাধ্য হন তসলিম। পরবর্তী সময়ে ইউরোপের বিভিন্ন দেশে থেকেছেন। কিন্তু মাতৃভাষা ও বাংলার সাংস্কৃতিক পরিমণ্ডলের সঙ্গে তাঁর সম্পর্ক কখনও ছিন্ন হয়নি।

    কলকাতায় আশ্রয়, তারপর নতুন সংঘাত

    ২০০৪ সালে ভারতে থাকার অনুমতি পাওয়ার পর কলকাতায় আসেন তসলিমা। শহরের সাহিত্যিক ও বুদ্ধিজীবী মহলের একাংশ তাঁকে স্বাগত জানিয়েছিল। কলকাতাকেই তিনি নিজের নতুন ঠিকানা হিসেবে দেখতে শুরু করেন। কিন্তু তাঁর লেখা ও বক্তব্যকে ঘিরে বিরোধ থামেনি। ২০০৩ সালে প্রকাশিত তাঁর আত্মজীবনীমূলক গ্রন্থ ‘দ্বিখণ্ডিত’ পশ্চিমবঙ্গে নিষিদ্ধ করেছিল তৎকালীন বামফ্রন্ট সরকার। পরে কলকাতা হাইকোর্ট সেই নিষেধাজ্ঞা তুলে দেয়। আদালতের পর্যবেক্ষণকে কেন্দ্র করে বইটি নিষিদ্ধ করার সরকারি সিদ্ধান্ত নিয়েও প্রশ্ন ওঠে (Taslima Nasreen)।

    কলকাতার রাজপথে অশান্তি

    ২০০৭ সালের ২১ নভেম্বর তসলিমাকে ঘিরে কলকাতায় পরিস্থিতি ভয়াবহ আকার নেয়। অল ইন্ডিয়া মাইনরিটি ফোরামের নেতৃত্বে বিক্ষোভকারীরা তসলিমার ভারতে থাকার অনুমতি বাতিল এবং তাঁকে সরিয়ে দেওয়ার দাবি তোলে। বিক্ষোভ দ্রুত হিংসার রূপ নেয়। পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষ, ইটবৃষ্টি, যানবাহনে আগুন এবং পথ অবরোধে স্তব্ধ হয়ে যায় কলকাতার বিস্তীর্ণ এলাকা (Left Front Govt)। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে শেষ পর্যন্ত সেনা নামাতে হয়। সে দিন প্রায় ৪০ জন আহত হন, যাঁদের অধিকাংশই ছিলেন পুলিশকর্মী। বহু মানুষকে গ্রেফতার করা হয় এবং সংশ্লিষ্ট এলাকায় রাতের কারফিউ জারি করা হয়েছিল। অর্থাৎ, তসলিমাকে কেন্দ্র করে তৈরি হওয়া বিক্ষোভ শুধু একটি সাহিত্যিক বা ধর্মীয় বিতর্কে সীমাবদ্ধ থাকেনি, তা রাজ্যের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছিল। সমালোচকদের অভিযোগ, বামফ্রন্ট সরকার মৌলবাদী বিক্ষোভকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নেওয়ার বদলে তসলিমাকেই সরিয়ে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয়। তাঁদের যুক্তি, একজন লেখিকার মতপ্রকাশের স্বাধীনতা রক্ষার বদলে সরকার বিক্ষোভকারীদের চাপের কাছে নতি স্বীকার করেছিল। অগত্যা বাংলা ছাড়তে হয় তসলিমাকে।

    নিরাপদ আশ্রয় থেকে জয়পুরে, দিল্লিতে

    কলকাতার নিরাপদ আশ্রয় ছেড়ে তসলিমাকে চলে যেতে হয় জয়পুরে। সেখানেও প্রতিবাদ-আন্দোলন শুরু হয় বাংলাদেশের নির্বাসিত লেখিকাকে নিয়ে যাওয়া হয় দিল্লিতে। যদিও নিরাপত্তাজনিত কারণে দিল্লিতেও তাঁর চলাফেরায় ছিল নানা বিধিনিষেধের বেড়ি। ২০০৮ সালে পরিস্থিতির চাপে তিনি সাময়িকভাবে ভারত ছেড়ে সুইডেনে চলে যান। পরে আবার ভারতে ফিরে এসে দিল্লিতে বসবাস শুরু করেন (Taslima Nasreen)।

    বুদ্ধদেব ভট্টাচার্যের ভূমিকা নিয়ে বিতর্ক

    ২০০৭ সালের ঘটনায় তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রী বুদ্ধদেব ভট্টাচার্যের ভূমিকা আজও রাজনৈতিক বিতর্কের বিষয়। সমালোচকদের বক্তব্য, নিজেকে সাহিত্য ও সংস্কৃতির সঙ্গে যুক্ত এবং মুক্তচিন্তার সমর্থক হিসেবে তুলে ধরা এক মুখ্যমন্ত্রীর সরকারের কাছ থেকে আরও দৃঢ় অবস্থান প্রত্যাশিত ছিল। তাঁদের প্রশ্ন—রাজপথে হিংসা ছড়ানো বিক্ষোভকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা না নিয়ে কেন একজন লেখিকাকেই শেষ পর্যন্ত রাজ্য ছাড়তে হল?

    ‘তুষ্টিকরণের রাজনীতি’

    ২০০৭ সালের ঘটনার পর থেকেই বামেদের বিরুদ্ধে ‘তোষণের রাজনীতি’র অভিযোগ উঠেছে (Left Front Govt)। সমালোচকদের বক্তব্য, মুখে ধর্মনিরপেক্ষতার কথা বললেও, সরকার সেদিন শেষ পর্যন্ত মৌলবাদী চাপের কাছে নতি স্বীকার করেছিল। পরবর্তী সময়ে তসলিমা নাসরিনকে ভারতে থাকার অনুমতি দেওয়ার প্রশ্নে কেন্দ্রীয় সরকারের অবস্থান নিয়েও বিতর্ক হয়েছে। বিজেপির সমর্থকেরা দাবি করেন, মৌলবাদী হুমকির কাছে নতি স্বীকার না করে তসলিমাকে ভারতে থাকার সুযোগ দেওয়ার ক্ষেত্রে কেন্দ্রের ভূমিকা প্রশংসনীয়। তবে তসলিমার ভারতে থাকা মূলত কেন্দ্রীয় সরকারের দেওয়া অনুমতি ও নিরাপত্তা ব্যবস্থার সঙ্গে যুক্ত একটি প্রশাসনিক বিষয়। একে কোনও একটি রাজনৈতিক দলের একক কৃতিত্ব হিসেবে দেখার আগে সংশ্লিষ্ট সরকারি সিদ্ধান্ত ও সময়কাল আলাদা করে বিচার করা প্রয়োজন (Taslima Nasreen)।

    ১৯ বছর পর ফের কলকাতায়

    দীর্ঘ ১৯ বছর পর ২০২৬ সালের জুলাইয়ের শেষ দিকে কলকাতায় ফিরেছেন তসলিমা। বিমানবন্দরে তাঁকে স্বাগত জানাতে উপস্থিত ছিলেন অনুরাগীরা। কঠোর নিরাপত্তার মধ্যেই কলকাতায় প্রত্যাবর্তন হয় তাঁর। বিমানবন্দরে পা দিয়েই তসলিমা জানান, কলকাতার সঙ্গে তাঁর সম্পর্ক এখনও গভীর। তিনি বলেন, এই প্রত্যাবর্তন তাঁর কাছে আবেগের। এমনকি নিরাপত্তার নিশ্চয়তা থাকলে কলকাতায় আরও বেশি সময় থাকার ইচ্ছার কথাও জানিয়েছেন তিনি। তাঁর এই প্রত্যাবর্তন তাই শুধু একজন নির্বাসিত লেখিকার শহরে ফেরার ঘটনা নয়। ২০০৭ সালের সেই রাত, রাজপথের হিংসা, মতপ্রকাশের স্বাধীনতা, ধর্মীয় মৌলবাদ, প্রশাসনের ভূমিকা (Left Front Govt) এবং অবশ্যই তোষণ-তুষ্টিকরণের রাজনীতি—সব কিছুই আবারও জাগরুক বঙ্গবাসীর স্মৃতিতে (Taslima Nasreen)।

     

  • Suvendu Adhikari: প্রায় ১৯ বছর পর কলকাতায় তসলিমা, পূর্ণ নিরাপত্তার আশ্বাস শুভেন্দুর

    Suvendu Adhikari: প্রায় ১৯ বছর পর কলকাতায় তসলিমা, পূর্ণ নিরাপত্তার আশ্বাস শুভেন্দুর

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: প্রায় ১৯ বছর পর কলকাতায় প্রকাশ্য অনুষ্ঠানে যোগ দিলেন নির্বাসিত বাংলাদেশি লেখিকা তসলিমা নাসরিন (Taslima Nasreen)। শনিবার রবীন্দ্র সদনে মৌলবাদ-বিরোধী এক সাহিত্য অনুষ্ঠানে যোগ দেন তিনি। সেখানেই পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী তথা পুলিশমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari) তাঁকে রাজ্যে আসার সময় পূর্ণ নিরাপত্তার আশ্বাস দেন। তসলিমার কলকাতায় প্রত্যাবর্তনকে সামনে রেখে বাংলায় রাজনৈতিক পরিবর্তনের বার্তাও দেন তিনি।

    তসলিমাকে কলকাতায় স্বাগত মুখ্যমন্ত্রীর (Suvendu Adhikari)

    অনুষ্ঠানে তসলিমার উদ্দেশে শুভেন্দু বলেন, “মুখ্যমন্ত্রী এবং পুলিশ দফতরের দায়িত্বপ্রাপ্ত মন্ত্রী হিসেবে পশ্চিমবঙ্গে আপনি যখনই আসবেন, আপনাকে নিরাপত্তা দেওয়া আমার কর্তব্য। শুধু একবার নয়, আপনি যতবার ইচ্ছা পশ্চিমবঙ্গে আসুন। আপনাকে সম্পূর্ণ নিরাপত্তা দেওয়া হবে।” এর পরেই বাংলার রাজনৈতিক পরিস্থিতি বদলের দাবি করেন মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর কথায়, “এটি এমন এক পশ্চিমবঙ্গ, যা শৃঙ্খল ও ভয় থেকে মুক্ত। সংবিধানের প্রতিটি স্তম্ভ এখানে সুরক্ষিত। এখানে প্রত্যেকের আসার অধিকার রয়েছে এবং প্রত্যেকের নিজের মত প্রকাশের স্বাধীনতা রয়েছে।” তসলিমাকে “নিরাপদ পশ্চিমবঙ্গে” স্বাগত জানিয়ে শুভেন্দু বলেন, তাঁর উপস্থিতিই প্রমাণ করছে যে রাজ্যে গণতন্ত্র, সাংবিধানিক মূল্যবোধ, বাক্‌স্বাধীনতা এবং মৌলিক অধিকার সুরক্ষিত হয়েছে। তিনি বলেন, “আজ প্রমাণ হয়ে গেল, নতুন সরকারের অধীনে বাংলায় গণতন্ত্র, সংবিধান, বাক্‌স্বাধীনতা এবং মৌলিক অধিকার সুরক্ষিত (Suvendu Adhikari)।”

    সেই যুগ অতীত

    কোনও রাজনৈতিক দলের নাম না করে অতীতের সঙ্গে বর্তমানের তুলনা টেনে শুভেন্দু বলেন, “হুমকি, ভয় দেখানো এবং মানুষকে চুপ করিয়ে দেওয়ার চেষ্টা—সেই যুগ শেষ হয়েছে।” অনুষ্ঠানে তসলিমার হাতে বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের একটি প্রতিকৃতিও তুলে দেন মুখ্যমন্ত্রী। এ বছর ‘বন্দে মাতরম্’-এর ১৫০ বছর পূর্তি উপলক্ষে এই উদ্যোগ বলে জানান তিনি। ২০০৭ সালের নভেম্বরের পর এই প্রথম কলকাতায় কোনও প্রকাশ্য অনুষ্ঠানে দেখা গেল তসলিমা নাসরিনকে। তাঁর আত্মজীবনীমূলক গ্রন্থ ‘দ্বিখণ্ডিত’-এর কিছু অংশ নিয়ে বিতর্কের জেরে সেই সময় কলকাতার বিভিন্ন এলাকায় বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়েছিল। হিংসাত্মক প্রতিবাদের মধ্যে তৎকালীন বামফ্রন্ট সরকার বইটি নিষিদ্ধ করে এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতির কারণ দেখিয়ে তসলিমাকে কলকাতার বাইরে সরিয়ে দেয়। পরে রাজ্যও ছেড়ে চলে যান (Suvendu Adhikari) তিনি।

    বিজেপি সরকারের রাজনৈতিক বার্তা

    তসলিমার কলকাতায় প্রত্যাবর্তন তাই নিছক সাহিত্যিক অনুষ্ঠানের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকছে না। ২০০৭ সালে তাঁর কলকাতা ছাড়ার ঘটনা বাংলার রাজনৈতিক পরিসরে দীর্ঘদিন ধরেই বিতর্কিত। ধর্মীয় মৌলবাদ এবং ভোটব্যাঙ্কের রাজনীতির সামনে স্বাধীন মতপ্রকাশের অধিকার আপস করা হয়েছিল—এই অভিযোগ তুলে বিজেপি অতীতের বামফ্রন্ট এবং তৃণমূল কংগ্রেস সরকারের বিরুদ্ধে বারবার সরব হয়েছে (Taslima Nasreen)। কলকাতার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সাংস্কৃতিক মঞ্চে তসলিমাকে প্রকাশ্যে আমন্ত্রণ জানিয়ে এবং তাঁর প্রত্যাবর্তনকে সাংবিধানিক অধিকার ও স্বাধীনতা পুনঃপ্রতিষ্ঠার নিদর্শন হিসেবে তুলে ধরে বিজেপি সরকারও রাজনৈতিক বার্তা দিতে চেয়েছে বলে ধারণা সংশ্লিষ্টমহলের।

    ধর্মীয় মৌলবাদের প্রকাশ্য সমালোচনা এবং নারীর অধিকারের পক্ষে সরব লেখিকা হিসেবে আন্তর্জাতিকভাবে পরিচিত তসলিমা। লেখালেখির কারণে ইসলামপন্থী গোষ্ঠীগুলির হুমকির মুখে ১৯৯৪ সালে বাংলাদেশ ছাড়েন (Suvendu Adhikari) তিনি। এরপর থেকেই নির্বাসিত জীবন কাটাচ্ছেন লেখিকা (Taslima Nasreen)।

     

LinkedIn
Share