Tag: Madhyam

Madhyam

  • Ajit Pawar: অজিত প্রয়াত, ‘আসল’ এনসিপির নেতৃত্বে এবার কে?

    Ajit Pawar: অজিত প্রয়াত, ‘আসল’ এনসিপির নেতৃত্বে এবার কে?

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: বুধবার সকালে বিমান দুর্ঘটনায় মৃত্যু হয়েছে মহারাষ্ট্রের উপ-মুখ্যমন্ত্রী অজিত পাওয়ারের (Ajit Pawar)। তার পরেই উঠছে সেই মোক্ষম প্রশ্নটি, ‘আসল’ এনসিপির (NCP) নেতৃত্বে এবার কে? ভারতের রাজনৈতিক দলগুলি সাধারণত কমিটি নয়, ব্যক্তিনির্ভর নেতৃত্বে চলে। সংগঠনিক কর্তৃত্বের চেয়ে এসব ক্ষেত্রে ব্যক্তিগত ক্যারিশমার গুরুত্ব বেশি, এনসিপিও এর ব্যতিক্রম নয়।

    ‘গ্র্যান্ড ওল্ড ম্যান’ (Ajit Pawar)

    মহারাষ্ট্র রাজনীতির ‘গ্র্যান্ড ওল্ড ম্যান’ শরদ পাওয়ারের হাতে গড়া ও লালিত এই দলটিতে বরাবরই নেতৃত্বে ছিলেন কোনও না কোনও ‘পাওয়ার’। ২০২৩ সালের মে মাসে এর এক আবেগঘন উদাহরণ দেখা গিয়েছিল। সেদিন ভাইপো অজিত পাওয়ারের বিজেপির দিকে ঝুঁকে পড়া ঠেকাতে শরদ পাওয়ার দল ছাড়ার প্রস্তাব দিয়েছিলেন।  কিন্তু তৎক্ষণাৎ দলীয় কর্মীরা তাঁকে স্লোগানে স্লোগানে ভরিয়ে দেন। এমনকি যখন এনসিপি ভেঙে দু’টি শিবির তৈরি হয়েছিল, তখনও দলের রাশ ছিল পাওয়ার পরিবারেরই হাতে। কিন্তু অজিত পাওয়ারের অকাল মৃত্যুর পর সেই সমীকরণ বদলে যাওয়ার সম্ভাবনা সৃষ্টি হয়েছে। অজিত-উত্তর ‘আসল’ এনসিপির মালিকানা নিয়ে শীঘ্রই টানাপোড়েন শুরু হতে পারে। কারণ, এই মর্মান্তিক ঘটনার পরেও সরকার চালাতে হবে, মন্ত্রিসভায় শূন্য পদ, এমনকি উপ-মুখ্যমন্ত্রীর পদও পূরণ করতে হবে। এরই মধ্যে দু’টি স্পষ্ট ক্ষমতার ভরকেন্দ্র প্রকাশ্যে চলে এসেছে।

    প্রথম শিবির

    প্রথম শিবির পাওয়ার পরিবার। এই শিবিরের কেন্দ্রে রয়েছেন অজিত পাওয়ারের স্ত্রী সুনেত্রা পাওয়ার। অন্তত আপাতত তিনি বিপুল সহানুভূতির হাওয়া পাবেন, এমনকি তাঁদের কাছ থেকেও, যাঁরা সাধারণত এনসিপি বা অজিত পাওয়ারের রাজনীতির সমর্থক নন। রাজনীতিতে বংশানুক্রমের দৃষ্টিভঙ্গি ধরলে, স্বামীর উত্তরসূরি হিসেবে সুনেত্রাই দলীয় নেতৃত্বের সবচেয়ে স্বাভাবিক পছন্দ। তবে সুনেত্রা রাজনৈতিকভাবে নবাগত। ২০২৪ সালের লোকসভা নির্বাচনে তিনি প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে হেরে গিয়েছিলেন। বর্তমানে সুনেত্রা রাজ্যসভার সাংসদ। কিন্তু এই অভিজ্ঞতা প্রবীণ ও কৌশলী নেতা, যেমন ছগন ভুজবল বা সুনীল তটকরের পূর্ণ আনুগত্য আদায় করার পক্ষে যথেষ্ট নাও হতে পারে (Ajit Pawar)। এই শিবিরে (NCP) রয়েছেন অজিতের দুই ছেলে—পার্থ ও জয় পাওয়ার। তবে দু’জনকেই সুনেত্রার থেকেও কম বাস্তবসম্মত বিকল্প হিসেবে দেখা হচ্ছে। ২০১৯ সালের লোকসভা নির্বাচনে পার্থকে ভবিষ্যতের নেতা হিসেবে তুলে ধরা হয়েছিল। পুনে জেলার মাভাল কেন্দ্র থেকে তিনি প্রার্থী হন। কিন্তু শিবসেনার শ্রীরং বার্নের কাছে বিরাট ব্যবধানে হেরে যান তিনি। পার্থ পাঁচ লাখের কিছু বেশি ভোট পেলেও, বার্নে পেয়েছিলেন ৭.২ লাখেরও বেশি ভোট। এর পর থেকে পার্থকে আর সেভাবে সক্রিয় রাজনীতিতে দেখা যায়নি। ভোটারদের মধ্যে আবেগ তৈরি করতে তাঁর প্রত্যাবর্তন কিছুটা ভূমিকা রাখতে পারলেও, তাঁর বিরুদ্ধে চলা একাধিক আইনি মামলার কারণে সেই সম্ভাবনাও অত্যন্ত ক্ষীণ।  অজিতের ছোট ছেলে জয় এই তিনজনের মধ্যে সবচেয়ে দুর্বল বিকল্প বলেই রাজনৈতিক মহলের ধারণা। গত কয়েক বছর ধরে জয় মূলত পারিবারিক ব্যবসার দিকেই মনোযোগ দিয়েছেন। বোর্ডরুমের কাজেই তিনি বেশি স্বচ্ছন্দ বলে মনে করা হয়। যদিও বারামতিতে, পরিবারের শক্ত ঘাঁটিতে, গ্রামস্তরে কিছু সক্রিয়তার খবর পাওয়া গিয়েছে। এবং সেটাও সম্ভবত তাঁকে রাজনৈতিকভাবে প্রাসঙ্গিক রাখার চেষ্টা হিসেবে করা হয়েছে। কিন্তু বাস্তবতা হল, জয় কখনও কোনও নির্বাচনেই প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেননি, যা তাঁর বিরুদ্ধে যেতে পারে।

    দ্বিতীয় শিবিরে কারা?

    এতো গেল প্রথম শিবিরের কথা। দ্বিতীয় শিবিরে রয়েছেন এনসিপির শক্তিমান নেতারা। এই শিবিরে রয়েছেন অজিত -ঘনিষ্ঠ প্রবীণ তিন নেতাও, ছগন ভুজবল, সুনীল তটকরে এবং প্রফুল্ল প্যাটেল (NCP)। এঁদের মধ্যে প্রফুল্ল প্যাটেলই বর্তমানে অজিতের এনসিপির সবচেয়ে সিনিয়র নেতা। প্রাক্তন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী ও অভিজ্ঞ রাজনৈতিক কৌশলবিদ প্যাটেল একসময় দিল্লিতে শরদ পাওয়ারের দরকষাকষির প্রধান মুখ ছিলেন (Ajit Pawar)। সংসদীয় রাজনীতিতে অভিজ্ঞতা এবং জাতীয় রাজধানীতে যোগাযোগের জোরে তিনি অজিতের এনসিপির স্বপ্নকে এগিয়ে নিয়ে যেতে পারেন। তবে অনেকের মতে, দলের কর্মী ও ভোটারদের মধ্যে অজিতের যে দাপট ছিল, তা প্যাটেলের নেই। তাই দীর্ঘমেয়াদি নেতৃত্ব তাঁর পক্ষে কঠিন হতে পারে। তবুও, দল পুনর্গঠনের সময় তিনি একজন আদর্শ তত্ত্বাবধায়ক নেতা হতে পারেন। সুনীল তটকরে আবার একেবারে তৃণমূলস্তর থেকে উঠে আসা নেতা। রায়গড় জেলায় অজিতের এনসিপি গড়ে তুলতে তাঁর বিরাট ভূমিকা ছিল। তিনি মহারাষ্ট্রের জলসম্পদ মন্ত্রী হিসেবেও কাজ করেছেন।

    অজিতের এনসিপি কি আবার শরদ পাওয়ারের দলে?

    তবে প্যাটেলের মতো তাঁরও রাজ্যজুড়ে পূর্ণ কর্তৃত্ব নেই, যা ভবিষ্যতে দলের ভেতরে বিদ্রোহ হলে সমস্যার সৃষ্টি করতে পারে। রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের একটা বড় অংশের মতে, সবচেয়ে যুক্তিসঙ্গত পরিণতি হতে পারে এটিই – যে এনসিপি বিধায়কদের শরদ পাওয়ার ছেড়ে অজিত পাওয়ারের দিকে টানা হয়েছিল, তাঁরা ‘পাইড পাইপারে’র মৃত্যুর পর পুরানো শিবিরে ফিরে যেতে পারেন। এমনটা কি হতে পারে? অজিতের এনসিপি কি আবার শরদ পাওয়ারের দলে, বা কার্যত তাঁর কন্যা সুপ্রিয়া সুলের নেতৃত্বাধীন এনসিপির সঙ্গে মিশে যেতে পারে (NCP)? সম্ভাবনা উড়িয়ে দেওয়া যায় না। চলতি মাসের শুরুতেই পুনে ও পিম্পরি-চিঞ্চওয়াড় পুরসভা নির্বাচনে শরদ ও অজিত সমঝোতায় পৌঁছেছিলেন। ফল আশানুরূপ না হলেও, এবং বিজেপি-নেতৃত্বাধীন মহাযুতি জোটে অজিতের কোণঠাসা হওয়ার ফলেই এই জোট গড়ে উঠলেও, পুনর্মিলনের সম্ভাবনা কিন্তু রয়েই গিয়েছে (Ajit Pawar)।

  • Suvendu Adhikari: “মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের হাতে শ্মশানে পরিণত হয়েছে সিঙ্গুর”, তোপ শুভেন্দুর

    Suvendu Adhikari: “মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের হাতে শ্মশানে পরিণত হয়েছে সিঙ্গুর”, তোপ শুভেন্দুর

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: “প্রধানমন্ত্রীর সভা সফল হয়েছে দেখে চিন্তিত হয়ে তড়িঘড়ি সভা করতে গিয়েছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। যেখানে টাটাকে তাড়ানো হয়েছিল এই রাজ্য সরকারের নেতৃত্বে। ব্যাড এম বলেছিলেন রতন টাটা, সেটা এই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Banerjee)। গুড এম বলেছিলেন নরেন্দ্র মোদিকে। সিঙ্গুর মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের হাতে শ্মশানে পরিণত হয়েছে। কোনও বড় বিনিয়োগ আসেনি এই বাংলায়।” এক নাগাড়ে কথাগুলি বলে খানিক থামলেন রাজ্যের বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari)। পরে বলেন, “আজ মুখ্যমন্ত্রী সিঙ্গুরে সভা করছেন। প্রধানমন্ত্রী সিঙ্গুরের মাটি থেকে বলেছেন আইন শৃঙ্খলা ঠিক করলে শিল্প আসবে।”

    ভিড় দেখেই চক্ষু চড়কগাছ! (Suvendu Adhikari)

    দিন দুয়েক আগেই সিঙ্গুরে জনসভা করে গিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। ওয়াকিবহাল মহলের মতে, সেই সভায় ভিড় দেখেই চক্ষু চড়কগাছ হয়ে গিয়েছে তৃণমূলের ভোট ম্যানেজারদের। তার পরেই সাত তাড়াতাড়ি করে মুখ্যমন্ত্রী তথা তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে দিয়ে সভা করানো হয় সেই তাপসী মালিকের সিঙ্গুরে। রাজ্যের বিরোধী দলনেতা বলেন, “মুখ্যমন্ত্রী ওখানে গিয়েছেন বাংলার বাড়ি দেবেন বলে। প্রধানমন্ত্রী এর আগেই আবাস যোজনা চালু করেন। ৪০ লাখ ইউনিট আবাস যোজনার বাড়ি দিয়েছে। যেটা সাধারণ মানুষ পায়নি, কারণ তৃণমূল কংগ্রেসের কর্মীরা সেই টাকা তুলে নিয়ে খেয়ে নিয়েছে, নিজেদের বাড়ি বানিয়েছে।”

    শুভেন্দুর চাঁদমারি

    এদিন শুভেন্দু প্রথম থেকেই চাঁদমারি করেন তৃণমূলকে। তৃণমূল জমানায় দুর্নীতির প্রসঙ্গ তুলে তিনি বলেন, “যেভাবে বাংলার বালি চুরি হচ্ছে সেখানে এই টাকায় কোনও বাড়ি তৈরি হয় না। বিজেপিকে আনুন, বাড়ি করে দেবে বিজেপি। সোলার প্যানেল, জল, শৌচালয় দেবে বিজেপি। ২০০০ টাকার বালি হয়েছে ১৫,০০০ টাকা। অবৈধ বালি তোলা আর তৃণমূল কংগ্রেসের তোলা তোলার কারণে দাম বেড়েছে সব জিনিসের। মিথ্যাচারের পর্দা ফাঁস করা দরকার, ৪০ লাখ বাড়ি লুঠ করেছে।” তিনি বলেন, “মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এখানে সর্ষের বীজ ছড়িয়েছিলেন, এখন সিঙ্গুরের মানুষ চোখে সর্ষেফুল দেখছেন।” শুভেন্দু বলেন, “এ রাজ্যে কোনও শিল্প হবে না। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের রাজত্বে গত ১৫ বছরে রাজ্য থেকে ৬ হাজার ৪৮৮টি শিল্প চলে গিয়েছে। এটাই পশ্চিমবঙ্গের আসল ছবি (Suvendu Adhikari)।”

    এদিন সিঙ্গুর থেকেই ঘাটাল মাস্টার প্ল্যানের উদ্বোধন করেন মমতা। বলেন, “বারবার ডিভিসির জলে ভাসে ঘাটাল। ১০ বছর ধরে কেন্দ্রকে চিঠি দিয়েছি। তার বদলে পেয়েছি শুধুই ধোঁকা।” তিনি বলেন, “অনেকেই বড় বড় কথা বলেন। কিন্তু কথা রাখেন না। কিন্তু আমি ১০০ শতাংশ কথা রাখার চেষ্টা করি, জুমলা করি না।” এ প্রসঙ্গে শুভেন্দু বলেন, “ভোটের জন্যই তড়িঘড়ি ঘাটাল মাস্টার প্ল্যানের শিলান্যাস করা হয়েছে (Mamata Banerjee)। পুরোটাই মিথ্যাচার। ঘাটালবাসী পরপর ভোট দিয়ে গিয়েছেন, অথচ মাস্টার প্ল্যান আজও হয়নি (Suvendu Adhikari)।”

     

  • President Murmu: “এক দশকে বিভিন্ন ক্ষেত্রে ভারত তার ভিত্তি মজবুত করেছে”, সংসদে বাজেট অধিবেশনের বক্তৃতায় রাষ্ট্রপতি

    President Murmu: “এক দশকে বিভিন্ন ক্ষেত্রে ভারত তার ভিত্তি মজবুত করেছে”, সংসদে বাজেট অধিবেশনের বক্তৃতায় রাষ্ট্রপতি

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: আজ, বুধবার শুরু হয়েছে ২০২৬ সালের সংসদের বাজেট অধিবেশন (Budget Session)। এই উপলক্ষে রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মু (President Murmu) লোকসভা ও রাজ্যসভার যৌথ অধিবেশনে ভাষণ দেন। এই অধিবেশনের মধ্যে দিয়ে ২০২৬–২৭ অর্থবর্ষের কেন্দ্রীয় বাজেট পেশের আগে সংসদীয় কার্যক্রমের আনুষ্ঠানিক সূচনা হল। অধিবেশনের উদ্বোধনী ভাষণে রাষ্ট্রপতি সরকারের অগ্রাধিকারের বিষয়গুলি তুলে ধরেন। তিনি অর্থনৈতিক উন্নয়ন, সামাজিক ন্যায়বিচার, জাতীয় নিরাপত্তা ও পরিকাঠামো সম্প্রসারণের ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেন। রাষ্ট্রপতি বলেন, “গত এক দশকে বিভিন্ন ক্ষেত্রে ভারত তার ভিত্তি মজবুত করেছে এবং বিকশিত ভারতের লক্ষ্যে যাত্রাপথে এখন এক গুরুত্বপূর্ণ পর্যায়ে প্রবেশ করেছে।”

    রাষ্ট্রপতির বক্তব্য (President Murmu)

    রাষ্ট্রপতি জানান, গত দশ বছরে প্রায় ২৫ কোটি মানুষ দারিদ্র্যসীমার নীচ থেকে উঠে এসেছেন এবং দরিদ্রদের জন্য প্রায় চার কোটি পাকা বাড়ি নির্মাণ করা হয়েছে। তিনি আরও বলেন, “ভারত বর্তমানে বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম মাছ উৎপাদনকারী দেশ।” সামাজিক কল্যাণমূলক প্রকল্পগুলি প্রসঙ্গে রাষ্ট্রপতি বলেন, “বর্তমানে সরকারি বিভিন্ন প্রকল্পের আওতায় প্রায় ৯৫ কোটি নাগরিক রয়েছেন, যেখানে ২০১৪ সালে এই সংখ্যা ছিল মাত্র ২৫ কোটি।” তিনি বিআর আম্বেদকরের আদর্শের কথা স্মরণ করে সমতা ও সামাজিক ন্যায়বিচারের প্রতি সরকারের অঙ্গীকারের কথাও জানান। কর্মসংস্থানের বিষয়ে রাষ্ট্রপতি জানান, প্রস্তাবিত ‘বিকশিত ভারত–গ্রাম আইন’ গ্রামীণ এলাকায় ১২৫ দিনের কর্মসংস্থান নিশ্চিত করার লক্ষ্যে তৈরি করা হয়েছে (President Murmu)। নারীর ক্ষমতায়নের প্রসঙ্গে রাষ্ট্রপতি জাতীয় প্রতিরক্ষা অ্যাকাডেমি (এনডিএ) থেকে প্রথম ব্যাচের মহিলা ক্যাডেটদের স্নাতক হওয়ার কথা উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, “এটি জাতীয় উন্নয়নে নারীদের ক্রমবর্ধমান ভূমিকার প্রতিফলন।”

    মাওবাদী হিংসা উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে

    অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা নিয়ে বক্তব্য রাখতে গিয়ে তিনি বলেন, “মাওবাদী হিংসা উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে এবং বর্তমানে তা মাত্র আটটি জেলায় সীমাবদ্ধ। আগে যেসব অঞ্চল মাওবাদী সমস্যায় দীর্ণ ছিল, সেখানে এখন শান্তি ফিরছে। গত এক বছরে মাওবাদী সংগঠনের সঙ্গে যুক্ত বহু ব্যক্তি আত্মসমর্পণ করেছেন (President Murmu)।” জাতীয় নিরাপত্তা প্রসঙ্গে রাষ্ট্রপতি ‘অপারেশন সিঁদুরে’র কথা উল্লেখ করে বলেন, “সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে ভারতের নীতি দৃঢ় ও আপসহীন। প্রতিরক্ষা প্রস্তুতি জোরদার করতে সরকার ‘মিশন সুদর্শন চক্রে’র ওপর কাজ করছে।” রেল উন্নয়নের কথা তুলে ধরে রাষ্ট্রপতি বলেন, “ভারতীয় রেল শীঘ্রই সম্পূর্ণ বিদ্যুতায়নের লক্ষ্যে পৌঁছতে চলেছে।” তিনি দিল্লি–আইজল রাজধানী এক্সপ্রেস এবং কামাখ্যা–হাওড়া বন্দে ভারত স্লিপার ট্রেন-সহ নতুন রেল পরিষেবার কথা উল্লেখ করে বলেন, “এই উদ্যোগগুলির মাধ্যমে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের মধ্যে যোগাযোগ আরও উন্নত হবে (Budget Session)।”

    রাষ্ট্রপতি তাঁর ভাষণের মাধ্যমে বাজেট অধিবেশনের আনুষ্ঠানিক সূচনা ঘোষণা করেন। ২৯ জানুয়ারি অর্থনৈতিক সমীক্ষা সংসদে পেশ করা হবে এবং ১ ফেব্রুয়ারি সংসদে পেশ হবে ২০২৬–২৭ অর্থবর্ষের কেন্দ্রীয় বাজেট (President Murmu)।

  • India EU FTA: “ইইউ-র সঙ্গে বাণিজ্য চুক্তি করে ভারতই লাভবান হবে”, বলছেন মার্কিন বাণিজ্য কর্তা

    India EU FTA: “ইইউ-র সঙ্গে বাণিজ্য চুক্তি করে ভারতই লাভবান হবে”, বলছেন মার্কিন বাণিজ্য কর্তা

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: “ভারত ও ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ)-এর এই চুক্তিতে (India EU FTA) ভারতই সবচেয়ে বেশি লাভবান হবে।” কথাগুলি বললেন মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের শীর্ষ বাণিজ্য কর্তা। তাঁর মতে, এই চুক্তিটি ইউরোপীয় বাজারে ভারতের প্রবেশাধিকার আরও বাড়িয়ে দিয়ে নয়াদিল্লিরই সুবিধে করে দিয়েছে বলে মনে হচ্ছে। সংবাদ মাধ্যমে সাক্ষাৎকার দিতে গিয়ে আমেরিকার বাণিজ্য প্রতিনিধি জেমিসন গ্রিয়ার বলেন, “এই চুক্তিতে ভারতই সবচেয়ে বেশি লাভবান হবে। চুক্তি কার্যকর হলে নয়াদিল্লি কার্যত গোল্ডেন টাইম উপভোগ করবে।” তিনি বলেন, “এ পর্যন্ত চুক্তির কিছু খুঁটিনাটি আমি দেখেছি। সত্যি বলতে কী, আমার মনে হয় এতে ভারতই এগিয়ে থাকবে। তারা ইউরোপের বাজারে আরও বেশি করে প্রবেশাধিকার পাচ্ছে।”

    ভারত বেশ বড় সুবিধা পেতে চলেছে (India EU FTA)

    প্রস্তাবিত চুক্তির বিস্তারিত দিকগুলির উল্লেখ করে গ্রিয়ার বলেন, “শুনে মনে হচ্ছে, এতে ভারতের জন্য অতিরিক্ত কিছু অভিবাসন সুবিধাও থাকতে পারে। আমি নিশ্চিত নই, তবে ইইউয়ের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ফন ডার লেয়েন ইউরোপে ভারতীয় শ্রমিকদের যাতায়াত বা মোবিলিটি নিয়ে কথা বলেছেন। সব মিলিয়ে আমার ধারণা, এই চুক্তির ফলে ভারত বেশ বড় সুবিধা পেতে চলেছে।” মঙ্গলবার ভারত ও ইউরোপীয় ইউনিয়ন একটি ঐতিহাসিক মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি (এফটিএ) স্বাক্ষর করেছে। একে ‘সব চুক্তির জননী’ বলে অভিহিত করা হচ্ছে। এই চুক্তির মাধ্যমে প্রায় ২০০ কোটি মানুষের একটি যৌথ বাজার তৈরি হবে এবং বাণিজ্য ও প্রতিরক্ষা সহযোগিতার মাধ্যমে নিয়মভিত্তিক বৈশ্বিক ব্যবস্থাকে সমর্থন করার লক্ষ্যে একটি রূপান্তরধর্মী পাঁচ বছরের কর্মসূচি ঘোষণা করা হয়েছে (India EU FTA)।

    গ্রিয়ারের বক্তব্য

    এই চুক্তি গ্লোবাল মোট জিডিপির প্রায় এক-চতুর্থাংশকে অন্তর্ভুক্ত করবে। এর আওতায় ইউরোপীয় ইউনিয়নে ভারতের ৯৯ শতাংশ রফতানির ওপর শুল্ক তুলে নেওয়া হবে এবং একই সঙ্গে ভারতে ইউরোপীয় ইউনিয়নের ৯৭ শতাংশের বেশি রফতানির ওপর শুল্ক হ্রাস করা হবে। তবে আমেরিকার শীর্ষ বাণিজ্য কর্তা এই অগ্রগতির গুরুত্ব কিছুটা খাটো করে দেখান। তাঁর মতে, পরিবর্তনশীল বৈশ্বিক বাণিজ্য পরিবেশ ইউরোপীয় ইউনিয়নকে বিকল্প বাজার খুঁজতে বাধ্য করছে। কারণ মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র দেশীয় উৎপাদনকে অগ্রাধিকার দিচ্ছে এবং আরও কঠোর বাণিজ্য নীতি গ্রহণ করছে (India EU FTA)। গ্রিয়ার বলেন, “কৌশলগতভাবে এটা বোঝা জরুরি যে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প দেশীয় উৎপাদনকে অগ্রাধিকার দিয়েছেন এবং কার্যত অন্য দেশগুলির জন্য আমাদের বাজারে প্রবেশের ক্ষেত্রে এক ধরনের ফি আরোপ করেছেন। ফলে এসব দেশ তাদের অতিরিক্ত উৎপাদনের জন্য নতুন বাজার খুঁজছে। সেই কারণেই ইইউ ভারতের দিকে ঝুঁকছে।” তিনি এও বলেন, “ইইউ অত্যন্ত বাণিজ্যনির্ভর।”

    কম খরচের শ্রমশক্তির সুবিধা

    গ্রিয়ারের মতে, কম খরচের শ্রমশক্তির সুবিধা নিয়ে এই চুক্তি ভারতের জন্য ইউরোপীয় বাজারে প্রবেশাধিকার আরও বাড়াবে, বিশেষত এমন এক সময়ে যখন ইউরোপীয় ইউনিয়ন কার্যত গ্লোবালাইজেশনকে আরও জোরদার করছে। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি এই চুক্তিকে বিশ্বের দুটি প্রধান অর্থনীতির মধ্যে অংশীদারিত্বের এক নিখুঁত উদাহরণ বলে অভিহিত করেন। ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট ভারতের ক্রমবর্ধমান বৈশ্বিক গুরুত্বের ওপর জোর দিয়ে বলেন, “বাণিজ্যকে অস্ত্র হিসেবে ব্যবহারের আশঙ্কার প্রেক্ষাপটে এই চুক্তি আমাদের নিজস্ব বিশ্বে মানুষ ও অর্থনীতিকে সুরক্ষিত করতে সহায়ক হবে।” তিনি বলেন, “ভারত এগিয়ে এসেছে, আর ইউরোপ সত্যিই আনন্দিত। কারণ ভারত সফল হলে বিশ্ব আরও স্থিতিশীল, সমৃদ্ধ ও নিরাপদ হয়, এবং তার সুফল আমরা সবাই পাই।”

    ভূরাজনৈতিক তাৎপর্যের দিক

    এদিকে, এই চুক্তি মার্কিন সংবাদমাধ্যমে ব্যাপক চর্চার খোরাক জুগিয়েছে। অনেক সংবাদমাধ্যমই এর ভূরাজনৈতিক তাৎপর্যের দিকে আলোকপাত করেছে। দ্য নিউ ইয়র্ক টাইমসের হেডলাইন হল, “ট্রাম্পের ছায়ায়, ভারত ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের বাণিজ্যিক সম্পর্কের সম্প্রসারণ”। এখানে বলা হয়েছে, ওয়াশিংটনের বাণিজ্য সম্পর্ক যখন ক্রমশ অনিশ্চিত হয়ে উঠছে, ঠিক সেই সময় দুই বৃহৎ গণতন্ত্রের মধ্যে অর্থনৈতিক সংহতি আরও গভীর হচ্ছে (India EU FTA)। দ্য ওয়াশিংটন পোস্ট জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্যিক অনিশ্চয়তার আবহে ইউরোপ ও ভারত একটি ‘ব্লকবাস্টার’ বাণিজ্য চুক্তির কথা ঘোষণা করেছে। সিএনএন বৃহত্তর ভূ-রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে বিষয়টি তুলে ধরে জানিয়েছে, ট্রাম্পের নীতিতে আঘাতপ্রাপ্ত ভারত ও ইউরোপ একে অপরের দিকে ঝুঁকছে, যাকে তারা বাণিজ্যের ক্ষেত্রে ‘মাদার অব অল ডিলস’ বলে উল্লেখ করেছে। যদিও প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, প্রতীকী গুরুত্ব থাকা সত্ত্বেও চুক্তিটির তাৎক্ষণিক অর্থনৈতিক প্রভাব সীমিত হতে পারে।

    সবচেয়ে বড় মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি

    দ্য ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল চুক্তিটির ব্যাপ্তি তুলে ধরে জানিয়েছে, এটি ইউরোপীয় ইউনিয়নের স্বাক্ষরিত জনসংখ্যাভিত্তিক সবচেয়ে বড় মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি (FTA)। একই সঙ্গে এটি এমন এক বৃহত্তর প্রবণতার অংশ, যেখানে ট্রাম্প-যুগের শুল্কনীতির প্রতিক্রিয়ায় বড় অর্থনীতিগুলি বিকল্প বাণিজ্য নেটওয়ার্ক গড়ে তুলছে। সিএনবিসি বারবার এই চুক্তিকে ‘মাদার অব অল ডিলস’ বলে উল্লেখ করেছে। তারা সরবরাহ শৃঙ্খলের পুনর্গঠন, ইউরোপের গাড়ি, যন্ত্রপাতি ও ওষুধ রফতানির সম্ভাবনা এবং আমেরিকা–ভারত ও আমেরিকা–ইইউ বাণিজ্য উত্তেজনার মধ্যে ভারতীয় বস্ত্র ও পরিষেবা খাতের জন্য উন্নত বাজার প্রবেশাধিকারের বিষয়টি তুলে ধরেছে। এনবিসি একে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ওপর নির্ভরতা কমানোর লক্ষ্যে নেওয়া একটি ‘ঐতিহাসিক বাণিজ্য চুক্তি’ হিসেবে বর্ণনা করেছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এই চুক্তি বৈশ্বিক জিডিপির এক-চতুর্থাংশ এবং বিশ্ব বাণিজ্যের এক-তৃতীয়াংশকে অন্তর্ভুক্ত করে, পাশাপাশি ইউরোপকে ওয়াশিংটনের ওপর নির্ভরতা কমিয়ে বৈচিত্র্য আনার সুযোগ দেয় (India EU FTA)।

    ‘বহুমেরুকেন্দ্রিক বাণিজ্য ব্যবস্থা’

    দ্য ডিপ্লোম্যাট এটিকে ‘ট্রাম্প-পরবর্তী, বহুমেরুকেন্দ্রিক বাণিজ্য ব্যবস্থা’ হিসেবে চিহ্নিত করেছে। তাদের মতে, এই চুক্তি ভারতের প্রবৃদ্ধির ইঞ্জিনকে ইউরোপের শিল্পভিত্তির সঙ্গে যুক্ত করে বৈশ্বিক বাণিজ্যের কাঠামো নতুনভাবে সাজিয়ে দিচ্ছে। প্রসঙ্গত, ভারত ও ইইউয়ের মধ্যে প্রায় দুই দশক ধরে চলা বাণিজ্য আলোচনার পর এই চুক্তি সম্পন্ন হল। এর সমাপ্তি এমন একটা সময়ে হল, যখন বৈশ্বিক বাণিজ্য অস্থিরতার মধ্যে দিয়ে যাচ্ছে, এর মধ্যে রয়েছে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সাম্প্রতিক হুমকি, যেখানে তিনি গ্রিনল্যান্ড সংযুক্তির বিরোধিতা করা ইউরোপীয় দেশগুলির ওপর উচ্চ শুল্ক আরোপের কথা বলেছিলেন (যদিও পরে তিনি সেই অবস্থান থেকে সরে আসেন)। ইইউয়ের জন্য আমেরিকা এখনও সবচেয়ে বড় রফতানি বাজার। ফলে ভারতের সঙ্গে অংশীদারিত্ব বৈচিত্র্য আনার দিক থেকে কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। মার্কিন সংবাদমাধ্যমে ভারত–ইইউ মুক্ত বাণিজ্য চুক্তিকে শুধু শুল্ক বা বাজার প্রবেশাধিকারের চুক্তি হিসেবে নয়, বরং বৈশ্বিক বাণিজ্যের অস্থিরতার মুখে বড় অর্থনীতিগুলি কীভাবে একক দেশের ওপর নির্ভর না করে বিকল্প জোট গড়ে তুলছে, তারই প্রতিফলন হিসেবে দেখা হচ্ছে (India EU FTA)। বিশ্লেষকদের মতে, চুক্তিটির তাৎক্ষণিক অর্থনৈতিক প্রভাব মাঝারি হতে পারে, যদিও এর ভূরাজনৈতিক ও প্রতীকী গুরুত্ব অত্যন্ত বড়। এটি ভারত ও ইউরোপকে স্বাধীন, স্থিতিশীল এবং সক্ষম বাণিজ্য অংশীদার হিসেবে আরও দৃঢ়ভাবে প্রতিষ্ঠিত করে।

  • ECI: তিন ভোটার তালিকা পর্যবেক্ষকের বদলির নির্দেশ প্রত্যাহার করতে রাজ্যকে নির্দেশ কমিশনের

    ECI: তিন ভোটার তালিকা পর্যবেক্ষকের বদলির নির্দেশ প্রত্যাহার করতে রাজ্যকে নির্দেশ কমিশনের

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: নতুন করে সংঘাত তৈরি হয়েছে ভারতের নির্বাচন কমিশন (ইসিআই) (ECI) এবং পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য সরকারের মধ্যে। এসআইআর প্রক্রিয়ার মধ্যে তিনজন ভোটার তালিকা পর্যবেক্ষকের (IAS Officers) বদলির নির্দেশ প্রত্যাহার করতে পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যসচিব নন্দিনী চক্রবর্তীর কাছে নির্দেশ পাঠিয়েছে নির্বাচন কমিশন। মঙ্গলবার নির্বাচন কমিশনের সচিব সুজিত কুমার মিশ্র মুখ্যসচিবকে লেখা চিঠিতে জানান, ওই বদলির নির্দেশ অবিলম্বে বাতিল করতে হবে এবং ভবিষ্যতে এই ধরনের কোনও নির্দেশ জারি করার আগে নির্বাচন কমিশনের আগাম অনুমোদন নিতে হবে।

    বদলির নির্দেশ বাতিল করতে হবে (ECI)

    সম্প্রতি রাজ্য সরকার আইএএস আধিকারিক স্মিতা পাণ্ডে, অশ্বিনী কুমার যাদব এবং রণধীর কুমারকে অতিরিক্ত দায়িত্ব দিয়ে দফতর বদলির নির্দেশ জারি করেছিল। চিঠিতে বলা হয়েছে, “বদলির নির্দেশগুলি অবিলম্বে বাতিল করতে হবে। ভবিষ্যতে এই ধরনের কোনও নির্দেশ জারি করার আগে নির্বাচন কমিশনের আগাম অনুমোদন নিতে হবে।” এছাড়াও চিঠির ৪ নম্বর অনুচ্ছেদের উল্লেখ করে বলা হয়েছে, এসআইআর চলাকালীন মুখ্যসচিবকে নিশ্চিত করতে হবে যে কমিশনের পূর্বানুমোদন ছাড়া এসআইআর প্রক্রিয়ার সঙ্গে যুক্ত কোনও আধিকারিককে বদলি করা যাবে না। চিঠিতে আরও বলা হয়, “কমিশন ২৭.১০.২০২৫ তারিখের চিঠির মাধ্যমে পশ্চিমবঙ্গে এসআইআর ঘোষনা করেছে। ওই চিঠির ৪ নম্বর অনুচ্ছেদে স্পষ্টভাবে বলা আছে যে, এসআইআর চলাকালীন কমিশনের পূর্বানুমোদন ছাড়া এই প্রক্রিয়ার সঙ্গে যুক্ত কোনও আধিকারিককে বদলি করা যাবে না।”

    নির্বাচন কমিশনের বক্তব্য

    নির্বাচন কমিশন আরও জানিয়েছে, “২৮.১১.২০২৫ তারিখের চিঠির মাধ্যমে কমিশন ডিভিশনাল কমিশনারদের সঙ্গে ভোটার তালিকা পর্যবেক্ষক নিয়োগ করেছে। এসআইআর (IAS Officers) পরিচালনার জন্য এই আধিকারিকদের নির্বাচন কমিশনে ডিমড ডেপুটেশনে পাঠানো হয়েছে।” চিঠিতে উল্লেখ করা হয়েছে যে, কমিশনের নজরে এসেছে পশ্চিমবঙ্গ সরকার ০১.১২.২০২৫, ২০.০১.২০২৬ এবং ২১.০১.২০২৬ তারিখের বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে যথাক্রমে অশ্বিনী কুমার যাদব, আইএএস উত্তর দিনাজপুর ও দক্ষিণ দিনাজপুরের ভোটার তালিকা পর্যবেক্ষক, রণধীর কুমার, আইএএস উত্তর ২৪ পরগনা ও কলকাতা উত্তরের ভোটার তালিকা পর্যবেক্ষক, এবং স্মিতা পাণ্ডে, আইএএস পশ্চিম বর্ধমান, পূর্ব বর্ধমান ও বীরভূমের ভোটার তালিকা পর্যবেক্ষক – এই তিন আধিকারিকের দফতর বদলির নির্দেশ জারি করেছে (ECI)।

    কমিশনের অনুমোদন ছাড়াই বদলি!

    চিঠিতে আরও বলা হয়েছে, “এই বদলিগুলি নির্বাচন কমিশনের পূর্বানুমোদন ছাড়াই করা হয়েছে, যা ২৭.১০.২০২৫ তারিখের কমিশনের নির্দেশের সরাসরি লঙ্ঘন। উপরোক্ত পরিস্থিতির পরিপ্রেক্ষিতে কমিশনের নির্দেশ অনুযায়ী এই বদলির আদেশ অবিলম্বে বাতিল করতে হবে। ভবিষ্যতে এই ধরনের কোনও নির্দেশ জারি করার আগে কমিশনের আগাম অনুমোদন নিতে হবে। এ বিষয়ে গৃহীত পদক্ষেপের রিপোর্ট ২৮.০১.২০২৬ তারিখ বিকেল ৩টার মধ্যে কমিশনে পাঠাতে হবে।” এর আগেও নির্বাচন কমিশন ও রাজ্য প্রশাসনের মধ্যে বিতর্ক তৈরি হয়েছিল, যখন মুর্শিদাবাদ জেলা প্রশাসন ফারাক্কা বিডিও অফিসে ভাঙচুরের অভিযোগে তৃণমূল কংগ্রেস বিধায়ক মনিরুল ইসলামের বিরুদ্ধে ২৪ ঘণ্টা পার হয়ে গেলেও এফআইআর দায়ের করেনি (IAS Officers)।

    উল্লেখ্য, গত বছর অগাস্ট মাসে নির্বাচন কমিশন বারুইপুর পূর্ব এবং ময়না বিধানসভা কেন্দ্রে ১২৭ জন ভুয়ো ভোটার নথিভুক্তির অভিযোগে চার সরকারি আধিকারিক এবং এক চুক্তিভিত্তিক কর্মীর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছিল। এই চার আধিকারিকের মধ্যে ছিলেন বারুইপুর পূর্বের ইলেক্টোরাল রেজিস্ট্রেশন অফিসার (ইআরও) দেবোত্তম দত্ত চৌধুরী, ময়নার ইআরও বিপ্লব সরকার, বারুইপুরের সহকারী ইলেক্টোরাল রেজিস্ট্রেশন অফিসার (এইআরও) তথাগত মণ্ডল, ময়নার এইআরও সুদীপ্ত দাস (ECI)। চুক্তিভিত্তিক ডেটা এন্ট্রি অপারেটর সুরজিৎ হালদারের বিরুদ্ধেও একই ধরনের ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে কমিশন। যদিও রাজ্য সরকার সুরজিৎকে আগেই সাসপেন্ড করেছে, তবে সংশ্লিষ্ট আধিকারিকদের বিরুদ্ধে এখনও পর্যন্ত এফআইআর দায়ের করা হয়নি।

  • Bangladesh: সঙ্কটের সন্ধিক্ষণে বাংলাদেশের বস্ত্র শিল্প, ভারতের কাছে পৌষমাস! কীভাবে জানেন?

    Bangladesh: সঙ্কটের সন্ধিক্ষণে বাংলাদেশের বস্ত্র শিল্প, ভারতের কাছে পৌষমাস! কীভাবে জানেন?

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: গভীর সঙ্কটের সন্ধিক্ষণে দাঁড়িয়ে রয়েছে বাংলাদেশের (Bangladesh) টেক্সটাইল শিল্প। শুল্কমুক্ত সুতো আমদানির প্রতিবাদে দেশটির স্পিনিং মিল মালিকরা দেশব্যাপী (Textile Industry) উৎপাদন বন্ধের হুমকি দিয়েছেন। এই পরিস্থিতি বাংলাদেশের টেক্সটাইল সরবরাহ শৃঙ্খলের দুর্বলতা স্পষ্ট করে তুলেছে এবং বিনিয়োগকারীদের সামনে একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন তুলে ধরছে, বাণিজ্য কাঠামোর পরিবর্তন ও ভারতীয় সুতো সরবরাহকারীদের ওপর বাড়তে থাকা নির্ভরতার সুযোগ কি ভারতীয় টেক্সটাইল প্রস্তুতকারীরা নিতে পারবেন?

    স্পিনিং শিল্প বন্ধ হয়ে যাওয়ার মুখে (Bangladesh)

    বাংলাদেশের স্পিনিং শিল্প ১ ফেব্রুয়ারি থেকে দেশজুড়ে বন্ধ হয়ে যাওয়ার মুখে, কারণ সরকার যদি সুতো আমদানিতে শুল্কমুক্ত সুবিধা প্রত্যাহার না করে, সে ক্ষেত্রে মিল মালিকরা তাঁদের কারখানা বন্ধ করে দেওয়ার কথা ঘোষণা করেছেন। এই সঙ্কটের সূত্রপাত বন্ডেড ওয়্যারহাউস ব্যবস্থার মাধ্যমে স্বল্পমূল্যের সুতো আমদানি থেকে, যার বড় অংশই ভারত থেকে আসে। এর ফলে দেশের স্পিনিং শিল্প মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। এই পরিস্থিতিতে বাণিজ্যমন্ত্রক জাতীয় রাজস্ব বোর্ডকে (এনবিআর) নীতিমালা পুনর্বিবেচনার সুপারিশ করায় স্পিনিং মিল মালিকদের সঙ্গে সরকারের বিরোধ আরও তীব্র হয়েছে (Bangladesh)। একই সঙ্গে জ্বালানি সঙ্কটও এই শিল্পকে চাপে ফেলেছে। গত তিন থেকে চার মাস ধরে অনিয়মিত গ্যাস সরবরাহ এবং জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধির অভিযোগে সরব হয়েছেন টেক্সটাইল মিল মালিকরা (Textile Industry)।

    ৫০টির বেশি স্পিনিং মিল বন্ধ

    এই সঙ্কটের ফলে এখনও পর্যন্ত প্রায় ২০০ কোটি মার্কিন ডলারের ক্ষতি হয়েছে এবং স্পিনিং মিলগুলির উৎপাদন ক্ষমতা প্রায় ৫০ শতাংশ কমে গিয়েছে। ইতিমধ্যেই ৫০টির বেশি স্পিনিং মিল বন্ধ হয়ে গিয়েছে, যার ফলে হাজার হাজার শ্রমিক কর্মহীন হয়ে পড়েছেন। বাংলাদেশ টেক্সটাইল মিলস অ্যাসোসিয়েশন (বিটিএমএ)-এর তথ্য অনুযায়ী, বাজারে সস্তা ভারতীয় সুতোর জোগান বেড়ে যাওয়ায় ১২ হাজার কোটি টাকারও বেশি মূল্যের সুতো অবিক্রীত অবস্থায় পড়ে রয়েছে। মিল মালিকদের দাবি, জ্বালানি, ঋণের সুদ এবং ভ্যাট অব্যাহতির অভাবের কারণে তাঁরা আমদানি করা সুতোর সঙ্গে দামে এঁটে উঠতে পারছেন না। তাঁদের দাবির মধ্যে রয়েছে, শুল্কমুক্ত সুতো আমদানি বন্ধ করা, ভর্তুকিমূল্যে গ্যাস সরবরাহ করা, সুদের হার কমানো এবং ট্যাক্স হলিডে দেওয়া।

    রফতানিকারীদের বক্তব্য

    এদিকে, পোশাক রফতানিকারীরা শুল্কমুক্ত আমদানি বন্ধের যে কোনও উদ্যোগের তীব্র বিরোধিতা করছেন। তাঁদের বক্তব্য, দেশীয় সুতো, বিশেষ করে ১০ থেকে ৩০ কাউন্টের তুলোর সুতো দামে অনেক বেশি এবং অনেক সময় মানের দিক থেকেও নিম্ন। রফতানিকারীদের মতে, আন্তর্জাতিক পোশাক ব্র্যান্ডগুলির কাছে ভারতীয় সুতো বেশি নির্ভরযোগ্য (Bangladesh)। সতর্ক করে দিয়ে তাঁরা বলেন, “যদি আমদানি নিষিদ্ধ করা হয়, তবে বাংলাদেশের রফতানি আয়ে নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে এবং বৈশ্বিক বাজারে দেশটির প্রতিযোগিতার (Textile Industry) ক্ষমতা কমে যাবে।

    ভারতীয় সুতোর ওপর টিকে বাংলাদেশের বস্ত্র-শিল্প

    ২০২৫ সালে বাংলাদেশ প্রায় ৭০ কোটি কেজি সুতো আমদানি করেছে, যার বাজারমূল্য প্রায় ২০০ কোটি মার্কিন ডলার। এর মধ্যে প্রায় ৭৮ শতাংশই এসেছে ভারত থেকে। এ থেকে এটি স্পষ্ট যে, বাংলাদেশ ভারতীয় সুতোর ওপর অত্যন্ত নির্ভরশীল। বাংলাদেশ যদি শুল্কমুক্ত আমদানি বন্ধ করে দেয় বা স্পিনিং মিলগুলি বন্ধ হয়ে যায়, তবে পোশাক শিল্পের জন্য সুতো আমদানির প্রয়োজন থেকেই যাবে। সে ক্ষেত্রে ভারতীয় সুতো, বিশেষ করে তুলো ও ব্লেন্ডেড সুতোর চাহিদা ও দাম উভয়ই বাড়তে পারে। স্বল্পমেয়াদে ভারতীয় টেক্সটাইল সংস্থাগুলি লাভবান হতে পারে। তারা বেশি অর্ডার পেতে পারে এবং ভালো দামে বিক্রি করতে পারে। ভারতের স্পিনিং মিল ও সমন্বিত টেক্সটাইল সংস্থাগুলির উৎপাদন ও বিক্রয়মূল্য বাড়ার সম্ভাবনা রয়েছে। তবে সব কিছু নির্ভর করবে এই বিষয়ের ওপর যে, বাংলাদেশ সরকার দেশীয় স্পিনিং শিল্প রক্ষায় আমদানি বন্ধ করে কি না (Textile Industry), নাকি পোশাক শিল্পের প্রতিযোগিতা বজায় রাখতে সস্তা সুতো আমদানি অব্যাহত রাখে (Bangladesh)।

  • Calcutta High Court: ভারত–বাংলাদেশ সীমান্তে কাঁটাতার বসাতে কড়া নির্দেশ কলকাতা হাইকোর্টের

    Calcutta High Court: ভারত–বাংলাদেশ সীমান্তে কাঁটাতার বসাতে কড়া নির্দেশ কলকাতা হাইকোর্টের

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ভারত–বাংলাদেশ সীমান্তে কাঁটাতারের বেড়া বসানোর কাজ নিয়ে রাজ্যের গাফিলতিতে কড়া অবস্থান নিল কলকাতা হাইকোর্ট (Calcutta High Court)। মঙ্গলবার প্রধান বিচারপতি সুজয় পাল এবং বিচারপতি পার্থ সারথি সেনের ডিভিশন বেঞ্চের নির্দেশ, আগামী ৩১ মার্চের মধ্যে রাজ্যকে সীমান্তবর্তী ন’টি জেলায় কাঁটাতার বসানোর জন্য প্রয়োজনীয় জমি বিএসএফের (BSF) হাতে তুলে দিতে হবে। আদালত জানিয়েছে, এই জমি অধিগ্রহণের জন্য কেন্দ্রীয় সরকার ইতিমধ্যেই টাকা মিটিয়ে দিয়েছে এবং অধিগ্রহণ প্রক্রিয়াও শেষ হয়েছে। অথচ এখনও পর্যন্ত সেই জমি বিএসএফের হাতে তুলে দেওয়া হয়নি। অবিলম্বে জমি হস্তান্তরের নির্দেশ দিয়ে আদালত সাফ জানিয়ে দিয়েছে, এসআইআর প্রক্রিয়ার অজুহাত আর গ্রহণযোগ্য নয়।

    জমি অধিগ্রহণ (Calcutta High Court)

    এছাড়া যে সব জমির অধিগ্রহণ এখনও রাজ্য মন্ত্রিসভার অনুমোদনের অপেক্ষায় রয়েছে, সে সংক্রান্ত বিষয়ে কেন্দ্র ও রাজ্যের বক্তব্য শোনার পর আদালত পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেবে। জাতীয় নিরাপত্তার কথা মাথায় রেখে আইন অনুযায়ী জরুরি ভিত্তিতে সীমান্ত এলাকায় জমি অধিগ্রহণ সম্ভব কি না, সে বিষয়ে সব পক্ষকে হলফনামা জমা দেওয়ার নির্দেশও দেওয়া হয়েছে। ২ এপ্রিল এই মামলার পরবর্তী শুনানি। এই মামলাটি দায়ের করেছিলেন প্রাক্তন সেনাকর্মী সুব্রত সাহা। তাঁর অভিযোগ, রাজ্যে অবস্থিত ভারত–বাংলাদেশ সীমান্তের একাংশ দিয়ে অবাধে বেআইনি চোরাচালান ও অনুপ্রবেশ চলছে এবং সীমান্তে কাঁটাতারের বেড়া না থাকায় তার দায় রাজ্যের ওপরই বর্তায়। এর আগের শুনানিতে রাজ্যের জমি অধিগ্রহণ দফতরের প্রিন্সিপাল সেক্রেটারিকে হলফনামা জমা দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছিল আদালত। মঙ্গলবার রাজ্য সরকার জানায়, সীমান্তে জরুরি ভিত্তিতে কাঁটাতার বসানোর জন্য কেন্দ্র যে ১৮১ কিলোমিটার জমির অধিগ্রহণ বাবদ অর্থ দিয়েছে, সেই জমি আগামী মার্চ মাসের মধ্যেই বিএসএফের হাতে তুলে দেওয়া হবে। সব পক্ষের বক্তব্য শোনার পর আদালত ৩১ মার্চকে ডেডলাইন হিসেবে স্থির করে দেয়।

    আদালতের প্রশ্ন

    এই মামলায় অ্যাডিশনাল সলিসিটর জেনারেল অশোক চক্রবর্তী আদালতে জানান, বিষয়টি সরাসরি জাতীয় নিরাপত্তার সঙ্গে জড়িত। আইন অনুযায়ী জেলা কালেক্টর জরুরি পরিস্থিতিতে জমি অধিগ্রহণের সিদ্ধান্ত নিতে পারেন। মামলাকারীর আইনজীবী তখন উল্লেখ করেন, ২০১৩ সালের জমি অধিগ্রহণ আইনের ৪০ নম্বর ধারা অনুযায়ী জাতীয় নিরাপত্তার ক্ষেত্রে জরুরি ভিত্তিতে জমি অধিগ্রহণ করা যায়। তবে প্রধান বিচারপতি প্রশ্ন তোলেন, “যতই জরুরি অবস্থা হোক, কালেক্টর কি এককভাবে সেই সিদ্ধান্ত নিতে পারেন? (BSF)” রাজ্যের পক্ষে আইনজীবী শীর্ষাণ্য বন্দ্যোপাধ্যায় জানান (Calcutta High Court), ২০১৩ সালের নির্দিষ্ট জমি অধিগ্রহণ নীতিকে অগ্রাহ্য করে রাজ্যের পক্ষে কোনও সিদ্ধান্ত নেওয়া সম্ভব নয়। প্রধান বিচারপতি বলেন, “জাতীয় নিরাপত্তার মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে একাধিকবার আলোচনা সত্ত্বেও অধিগ্রহণ না হলে কেন ৪০ নম্বর ধারা প্রয়োগ করা হচ্ছে না?”

    জমি অধিগ্রহণের জন্য বরাদ্দ টাকা পাওয়া সত্ত্বেও বিএসএফের হাতে জমি হস্তান্তর না হওয়ার বিষয়ে রাজ্যের আইনজীবী জানান, ২০২৬ সালের মার্চের মধ্যে পুরো প্রক্রিয়া সম্পন্ন হবে। যদিও কিছু জেলায় এক–দু’মাস অতিরিক্ত সময় লাগতে পারে। দক্ষিণ দিনাজপুরে মে মাসে, জলপাইগুড়িতে জুনে এবং মুর্শিদাবাদে জুন মাসের মধ্যে জমি হস্তান্তরের কথা জানানো হয়েছে। সীমান্ত এলাকায় ঘন ঘন জমির মালিকানা বদলের কারণেই এই বিলম্ব হচ্ছে বলে আদালতে দাবি করে রাজ্য। পাশাপাশি, বাকি যে জমিগুলি অধিগ্রহণ করা প্রয়োজন, সেগুলিও বর্তমানে প্রক্রিয়ায় রয়েছে বলে জানানো হয়েছে (Calcutta High Court)।

     

  • All Party Meet: সর্বদলীয় বৈঠকে বিরোধীদের দাবি উড়িয়ে দিল সরকার

    All Party Meet: সর্বদলীয় বৈঠকে বিরোধীদের দাবি উড়িয়ে দিল সরকার

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: বুধবার শুরু হবে সংসদের বাজেট অধিবেশন। তার ঠিক আগের দিন মঙ্গলবার বিরোধীদের ভি বি-জি রাম জি আইন (VB-G RAM G Act) এবং এসআইআর (SIR) নিয়ে আলোচনার দাবি নাকচ করে দিল সরকার (All Party Meet)। সংসদীয় বিষয়ক মন্ত্রী কিরেন রিজিজু বলেন, “এই দুই বিষয় নিয়ে ইতিমধ্যেই সংসদের উভয় কক্ষে আলোচনা হয়েছে এবং এখন আর পিছিয়ে যাওয়ার প্রশ্নই নেই।” বাজেট অধিবেশনের প্রাক্কালে সরকারের তরফে ডাকা সর্বদলীয় বৈঠকের পর এমন মন্তব্য করেন রিজিজু।

    বিরোধীদের বক্তব্য (All Party Meet)

    বৈঠকে কংগ্রেসের জয়রাম রমেশ এবং সিপিআই(এম)-এর জন ব্রিটাস-সহ বিরোধী সদস্যরা অধিবেশনের জন্য সরকারের প্রস্তাবিত কাজের তালিকা এখনও বিলি না হওয়ায় আপত্তি জানান। মন্ত্রী বলেন, “যথাসময়ে তা বিতরণ করা হবে।” সূত্রের খবর, বিরোধীরা পশ্চিমবঙ্গে এসআইআর, কর্মসংস্থান নিশ্চয়তা সংক্রান্ত ভি বি-জি রাম জি আইন, যা এমজিএনরেগা প্রকল্পের পরিবর্তে আনা হয়েছে, ভারতীয় পণ্যের ওপর আমেরিকার আরোপিত শুল্ক, বিদেশনীতি, বায়ুদূষণ, দেশের অর্থনৈতিক অবস্থা, কিশোর-কিশোরীদের জন্য সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহারে নিষেধাজ্ঞা-সহ একাধিক বিষয় নিয়ে আলোচনার দাবি তোলেন। ভি বি-জি রাম জি আইন নিয়ে বিরোধীদের আপত্তি প্রসঙ্গে মন্ত্রী বলেন, “একবার কোনও আইন জাতির সামনে এলে, তা মানতেই হবে। আমরা গিয়ার উল্টো করে আবার পিছনে যেতে পারি না।”

    মন্ত্রীর বক্তব্য

    তিনি বলেন, “বিরোধী সাংসদরা একাধিক বিষয় উত্থাপন করেছেন এবং সেগুলি রাষ্ট্রপতির ভাষণ ও বাজেট নিয়ে আলোচনার সময় তোলা যেতে পারে। এটি বছরের প্রথম অধিবেশন। সাধারণত রাষ্ট্রপতির ভাষণের পরেই সরকারের কাজের তালিকা প্রকাশ করা হয়। তবুও আমি তা প্রকাশ করতে প্রস্তুত এবং আধিকারিকদের নির্দেশও দিয়েছি।” মন্ত্রী জানান, এটি কোনও বড় সমস্যা নয় এবং সংসদ নির্বিঘ্নে চালানোই সরকারের প্রধান লক্ষ্য। পশ্চিমবঙ্গে এসআইআর নিয়ে আলাদা আলোচনা চাওয়ার দাবির জবাবে রিজিজু বলেন, “গত অধিবেশনে সংসদের উভয় কক্ষে নির্বাচন সংস্কার নিয়ে বিস্তৃত আলোচনা হয়েছে এবং তখন বিরোধীরাই এই বিষয়টি তুলেছিলেন। আবার নতুন করে বিতর্কের দাবি তাই অপ্রয়োজনীয় (All Party Meet)।” তিনি সংসদ সদস্যদের আবেদন জানিয়ে বলেন, “সবাই যেন নিজেদের বিষয় তুলে ধরেন, তবে সংসদের কাজকর্মে যেন কোনও বিশৃঙ্খলা না হয় (SIR)।

    সরকারের পক্ষ থেকে সমস্ত সম্মানীয় সদস্যদের কাছে আমার আন্তরিক আবেদন, আমরা সংসদীয় গণতন্ত্রে জনগণের প্রতিনিধি হিসেবে নির্বাচিত হয়েছি এবং জনগণের হয়ে কথা বলার দায়িত্ব আমাদের। কথা বলার অধিকার প্রয়োগের পাশাপাশি অন্য রাজনৈতিক দলের সদস্যদের কথাও শোনার দায়িত্বও আমাদের রয়েছে।” তিনি জানান, গত অধিবেশনে নির্বাচন সংস্কার নিয়ে আলোচনার সময় এসআইআর বিষয়টি নিয়ে ম্যারাথন আলোচনা হয়েছে। মন্ত্রী বলেন, “সব সদস্যকে পর্যাপ্ত সময় দেওয়া হয়েছিল এবং রাজনৈতিক দলগুলি তাদের বক্তব্য সম্পূর্ণভাবে তুলেও ধরেছিল (All Party Meet)।”

  • Canada PM: আমেরিকার নাগপাশ কাটাতে মার্চে ভারত সফরে আসছেন কানাডার প্রধানমন্ত্রী, একাধিক চুক্তির সম্ভাবনা

    Canada PM: আমেরিকার নাগপাশ কাটাতে মার্চে ভারত সফরে আসছেন কানাডার প্রধানমন্ত্রী, একাধিক চুক্তির সম্ভাবনা

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ভারত সফরে আসতে পারেন কানাডার প্রধানমন্ত্রী (Canada PM) মার্ক কার্নি। মার্চ মাসের প্রথম সপ্তাহে ভারত সফরে আসার কথা তাঁর। জ্বালানি, খনিজ সম্পদ, পারমাণবিক সহযোগিতা এবং উদীয়মান প্রযুক্তি খাতে একাধিক চুক্তি সই হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে বলে জানিয়েছেন কানাডায় নিযুক্ত ভারতের হাইকমিশনার দীনেশ পট্টনায়েক (Trump Tariffs)। এই সফর মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের বাইরে বাণিজ্য ও কৌশলগত অংশীদারিত্ব বৈচিত্র্যময় করার ক্ষেত্রে কানাডার একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। উল্লেখ্য, আমেরিকা বর্তমানে কানাডার সবচেয়ে বড় বাণিজ্যিক অংশীদার।

    ভারতের হাইকমিশনারের বক্তব্য (Canada PM)

    পট্টনায়েক জানান, সফরকালে মার্ক কার্নি ভারতের সঙ্গে ইউরেনিয়াম সরবরাহ, তেল ও গ্যাস, গুরুত্বপূর্ণ খনিজ, এআই, কোয়ান্টাম কম্পিউটিং, শিক্ষা এবং সাংস্কৃতিক সহযোগিতা সংক্রান্ত একাধিক চুক্তিতে সই করতে পারেন। প্রস্তাবিত চুক্তিগুলির মধ্যে প্রায় ২.৮ বিলিয়ন কানাডিয়ান ডলার মূল্যের ১০ বছরের একটি ইউরেনিয়াম সরবরাহ চুক্তিও অন্তর্ভুক্ত থাকতে পারে। এদিকে, চলতি সপ্তাহে ভারত সফররত কানাডার জ্বালানিমন্ত্রী টিম হজসন বলেন, “ভারত-কানাডার পারমাণবিক চুক্তির আওতায় পারমাণবিক সহযোগিতা নিয়ে আলোচনা হবে, তবে আন্তর্জাতিক সুরক্ষা বিধি মেনে চলার শর্তে।” তিনি আরও জানান, জ্বালানি ও খনি খাত হবে দ্বিপাক্ষিক সহযোগিতার অন্যতম প্রধান ক্ষেত্র, যার মধ্যে অপরিশোধিত তেল ও তরল প্রাকৃতিক গ্যাস লেনদেনের সম্ভাবনাও রয়েছে।

    ভারত-কানাডা সম্পর্কের অবনতি

    জাস্টিন ট্রুডোর আমলে ভারত-কানাডা সম্পর্কের অবনতি হওয়ার পর কার্নি দুই দেশের সম্পর্ক পুনর্গঠনের উদ্যোগ নিয়েছেন। ট্রুডো ২০২৩ সালে শিখ বিচ্ছিন্নতাবাদী নেতা হারদীপ সিং নিজ্জর হত্যাকাণ্ডে ভারত সরকারের জড়িত থাকার অভিযোগ করেছিলেন, যা ভারত অস্বীকার করেছিল (Trump Tariffs)। পট্টনায়েক জানান, ভারত ও কানাডার মধ্যে একটি বিস্তৃত অর্থনৈতিক অংশীদারিত্ব চুক্তি (সিইপিএ) নিয়ে আনুষ্ঠানিক আলোচনা মার্চ মাসে শুরু হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। প্রায় দু’বছর ধরে স্থগিত থাকা এই বাণিজ্য আলোচনা গত নভেম্বরে পুনরুজ্জীবিত করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। তাঁর মতে, আলোচনা শুরু হওয়ার এক বছরের মধ্যেই সিইপিএ চূড়ান্ত করা সম্ভব (Canada PM)।

    বৈশ্বিক নিয়মভিত্তিক ব্যবস্থা

    কার্নি কানাডার বাণিজ্যিক সম্পর্ক বৈচিত্র্যময় করাকে অগ্রাধিকার দিয়েছেন। তাঁর যুক্তি, বৈশ্বিক নিয়মভিত্তিক ব্যবস্থা আর কার্যকর নেই। গত সপ্তাহে সুইৎজারল্যান্ডের দাভোসে বিশ্ব অর্থনৈতিক ফোরামে তিনি মধ্যম শক্তিধর দেশগুলির প্রতি নতুন জোট গঠনের আহ্বান জানান, যাতে আরও স্থিতিশীল বৈশ্বিক ব্যবস্থা গড়ে তোলা যায়। এই উদ্যোগ এমন একটা সময়ে নেওয়া হচ্ছে, যখন বৈশ্বিক বাণিজ্য অনিশ্চয়তা বাড়ছে। যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সম্প্রতি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, “কানাডা যদি চিনের সঙ্গে চুক্তি করে, তবে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র কঠোর শুল্ক আরোপ করতে পারে।” এ প্রসঙ্গে পট্টনায়েক বলেন, “বৈশ্বিক বাণিজ্য বিঘ্নের প্রেক্ষাপটে ভারত ও কানাডা দ্রুত নতুন অংশীদারিত্ব গড়ে তুলতে তৎপর হয়েছে।”

    তিনি জানান, আগামী মাসে ভারতের জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা অজিত ডোভাল ওটাওয়া সফর করতে পারেন। সফরকালে গোয়েন্দা তথ্য আদান-প্রদান এবং নিরাপত্তা সহযোগিতা নিয়ে আলোচনা হওয়ার কথা রয়েছে। বাণিজ্যমন্ত্রী পীযূষ গোয়েল এবং অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারামনেরও শীঘ্রই কানাডা সফরের সম্ভাবনা রয়েছে। নিজ্জর হত্যা মামলা প্রসঙ্গে পট্টনায়েক বলেন, “কানাডায় চার অভিযুক্তের বিরুদ্ধে মামলা চলছে।” তিনি জানান, যদি তদন্তে কোনও ভারতীয় নাগরিকের জড়িত থাকার (Trump Tariffs) প্রমাণ পাওয়া যায়, তবে ভারত যথাযথ ব্যবস্থা নেবে (Canada PM)।

  • India: “সন্ত্রাসবাদ কখনও স্বাভাবিক বিষয় হতে পারে না”, রাষ্ট্রসংঘে পাকিস্তানকে স্মরণ করাল ভারত

    India: “সন্ত্রাসবাদ কখনও স্বাভাবিক বিষয় হতে পারে না”, রাষ্ট্রসংঘে পাকিস্তানকে স্মরণ করাল ভারত

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ফের রাষ্ট্রসংঘের নিরাপত্তা পরিষদে (UNSC) পাকিস্তানের তীব্র নিন্দে করল ভারত (India)। পাকিস্তানের রাষ্ট্রদূতকে ‘অপারেশন সিঁদুর’ নিয়ে ভিত্তিহীন ও আত্মস্বার্থমূলক বক্তৃতা দেওয়ার জন্য তীব্র নিন্দা জানালেন নয়াদিল্লির প্রতিনিধি। একই সঙ্গে ভারত স্পষ্ট করে জানিয়ে দিয়েছে, রাষ্ট্রীয় নীতির হাতিয়ার হিসেবে পাকিস্তানের ধারাবাহিক সন্ত্রাসবাদের ব্যবহার কোনওভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।পাকিস্তানের স্থায়ী প্রতিনিধি আসিম ইফতিখার আহমদের বক্তব্যের প্রেক্ষিতে রাষ্ট্রসংঘে ভারতের স্থায়ী প্রতিনিধি রাষ্ট্রদূত পার্বতনেনি হরিশ এই মন্তব্য করেন। সোমবার ‘আন্তর্জাতিক আইনের শাসন পুনর্ব্যক্তকরণ: শান্তি, ন্যায়বিচার ও বহুপাক্ষিকতাকে পুনরুজ্জীবিত করার পথ’ শীর্ষক নিরাপত্তা পরিষদের খোলা বিতর্কে পাকিস্তানের রাষ্ট্রদূত অপারেশন সিঁদুর, জম্মু ও কাশ্মীর এবং সিন্ধু জলচুক্তি প্রসঙ্গে বক্তব্য রাখেন।

    পাকিস্তানের অ্যাজেন্ডা (India)

    হরিশের অভিযোগ, পাকিস্তানের একমাত্র অ্যাজেন্ডা হল ভারত ও ভারতের নাগরিকদের ক্ষতি করা। অপারেশন সিঁদুর প্রসঙ্গে আহমদের দাবির জবাবে পাকিস্তানের প্রতিক্রিয়া প্রমাণ করে জোরজবরদস্তি বা দায়মুক্তির ভিত্তিতে কোনও নতুন স্বাভাবিকতা তৈরি হতে পারে না। তিনি বলেন, “সন্ত্রাসবাদ কখনও স্বাভাবিক বিষয় হতে পারে না।” হরিশ (UNSC) বলেন, “পাকিস্তানের প্রতিনিধি নতুন স্বাভাবিকতা নিয়ে কথা বলেছেন। আমি আবারও স্পষ্ট করে বলছি—পাকিস্তান যেভাবে চায়, সন্ত্রাসবাদকে কখনও স্বাভাবিক হিসেবে মেনে নেওয়া যায় না। রাষ্ট্রীয় নীতির হাতিয়ার হিসেবে পাকিস্তানের সন্ত্রাসবাদের ধারাবাহিক ব্যবহার সহ্য করা কোনওভাবেই স্বাভাবিক নয়। এই পবিত্র সভাকক্ষ পাকিস্তানের সন্ত্রাসবাদকে বৈধতা দেওয়ার মঞ্চ হতে পারে না।”

    অপারেশন সিঁদুর

    হরিশ এও বলেন, “অপারেশন সিঁদুর সম্পর্কে পাকিস্তানের রাষ্ট্রদূত একটি মিথ্যা ও আত্মস্বার্থমূলক বর্ণনা তুলে ধরেছেন।” উল্লেখ্য, গত বছরের মে মাসে ভারত ‘অপারেশন সিঁদুর’ চালিয়ে পাকিস্তান ও পাক-অধিকৃত কাশ্মীরে অবস্থিত ন’টি জঙ্গি ঘাঁটিতে আঘাত হানে। এটি ছিল ২২ এপ্রিল পহেলগাঁওয়ে সংঘটিত জঙ্গি হামলার প্রতিশোধমূলক পদক্ষেপ, যেখানে ২৬ জন সাধারণ মানুষ নিহত হন। তিনি বলেন (India), “তথ্য একেবারেই স্পষ্ট। ২০২৫ সালের এপ্রিল মাসে পহেলগাঁওয়ে পাকিস্তান-পোষিত জঙ্গিরা ২৬ জন নিরীহ মানুষকে নৃশংসভাবে হত্যা করে। এই মর্যাদাপূর্ণ সংস্থাই অপরাধী, সংগঠক, অর্থ জোগানদাতা ও পৃষ্ঠপোষকদের জবাবদিহির আওতায় আনার আহ্বান জানিয়েছিল। আমরা ঠিক সেটাই করেছি (UNSC)।”

    জঙ্গি পরিকাঠামো ধ্বংস

    হরিশ জানান, ভারতের প্রতিক্রিয়া ছিল সংযত, পরিস্থিতি ঘোরালো না করে শুধুমাত্র জঙ্গি পরিকাঠামো ধ্বংসে সীমাবদ্ধ। তিনি আরও বলেন, “৯ মে পর্যন্ত পাকিস্তান ভারতকে আরও হামলার হুমকি দিচ্ছিল। কিন্তু ১০ মে পাকিস্তানের সেনাবাহিনী সরাসরি আমাদের বাহিনীর সঙ্গে যোগাযোগ করে যুদ্ধবিরতির অনুরোধ জানায়।” তিনি বলেন, পাকিস্তানের একাধিক বিমানঘাঁটিতে ধ্বংস হওয়া রানওয়ে ও পুড়ে যাওয়া হ্যাঙ্গারের ছবি সর্বসাধারণের জন্য প্রকাশ্যেই দেখা যায়। হরিশ বলেন, “জম্মু ও কাশ্মীর কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল ছিল, আছে এবং চিরকালই ভারতের অবিচ্ছেদ্য ও অবিচ্ছিন্ন অংশ হয়ে থাকবে।” সিন্ধু জলচুক্তি প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “ভারত ৬৫ বছর আগে সদিচ্ছা, সৌহার্দ্য ও বন্ধুত্বের মনোভাব নিয়ে এই চুক্তিতে প্রবেশ করেছিল। কিন্তু এই সাড়ে ছয় দশকে পাকিস্তান তিনটি যুদ্ধ এবং ভারতের বিরুদ্ধে হাজার হাজার জঙ্গি হামলার মাধ্যমে চুক্তির মূল ভাবধারাই বারবার লঙ্ঘন করেছে। পাকিস্তান-পোষিত সন্ত্রাসবাদের কারণে হাজার হাজার ভারতীয় প্রাণ হারিয়েছেন।

    সিন্ধু জলচুক্তি স্থগিতের কারণ

    পহেলগাঁওয়ে হামলার প্রেক্ষিতে হরিশ বিষয়টি ব্যাখ্যা করে বলেন, “ভারত বাধ্য হয়েছে সিন্ধু জলচুক্তি স্থগিত রাখতে। যতক্ষণ না সন্ত্রাসবাদের বৈশ্বিক কেন্দ্র হিসেবে পরিচিত পাকিস্তান সীমান্তপারের এবং সব ধরনের সন্ত্রাসবাদে তার সমর্থন বিশ্বাসযোগ্য ও স্থায়ীভাবে বন্ধ করে, ততদিন এটা চলতেই থাকবে।” ভারতের প্রতিনিধি এও বলেন, “আইনের শাসন মানার প্রশ্নে পাকিস্তানের আত্মসমালোচনা করা উচিত। পাকিস্তান চাইলে শুরু করতে পারে এই প্রশ্ন দিয়ে—কীভাবে তারা তাদের সশস্ত্র বাহিনীকে ২৭তম সংশোধনীর মাধ্যমে একটি সাংবিধানিক অভ্যুত্থান ঘটানোর সুযোগ দিল, যার ফলে তাদের প্রতিরক্ষা প্রধানকে আজীবন দায়মুক্তি দেওয়া হয়েছে (India)।” উল্লেখ্য, গত বছরের নভেম্বরে প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফের নেতৃত্বে গৃহীত এই সংশোধনীর মাধ্যমে ফিল্ড মার্শাল আসিম মুনিরকে যে কোনও আইনি বিচারের হাত থেকে সম্পূর্ণ রেহাই দেওয়া হয়েছে (UNSC)।

     

LinkedIn
Share