Tag: madhyom bangla

madhyom bangla

  • Tiredness: ‘লাঞ্চ ব্রেক’-এর পরেই কাজে অনীহা! কোন খাবারে দূর হবে দিনভর ক্লান্তি?

    Tiredness: ‘লাঞ্চ ব্রেক’-এর পরেই কাজে অনীহা! কোন খাবারে দূর হবে দিনভর ক্লান্তি?

    মাধ্যম ডেস্ক: সকাল থেকে একনাগাড়ে কাজ! এনার্জিও ভরপুর। কিন্তু দুপুরের সাময়িক বিরতি সব কিছু বিগড়ে দেয়।‌ লাঞ্চ ব্রেকের পরেই কাজের গতি কমে যায়। অনেক সময় গুরুত্বপূর্ণ মিটিংয়ে ঝিমিয়ে থাকতে হয়। কথা বলা বা কাজ করার এনার্জি পাওয়া যায় না। তরুণ প্রজন্মের অনেকেই এই সমস্যায় ভোগেন। যার ফলে তাদের কাজের জায়গায় যথেষ্ট ভোগান্তির শিকার হতে হয়। চিকিৎসকদের একাংশ জানাচ্ছেন, এর অন্যতম কারণ ক্লান্তি! শরীরের পেশি, স্নায়ু এবং মস্তিষ্ক ক্লান্ত (Tiredness) হয়ে যায়। আর তার জন্যই কাজের প্রতি অনীহা তৈরি হয়। মনোযোগ নষ্ট হয় এবং কাজের গতিও শ্লথ হয়ে যায়। পুষ্টিবিদদের একাংশ জানাচ্ছেন, খাবারের (Food) তালিকায় সামান্য রদবদল পরিস্থিতি বদলে দিতে পারে।‌ দূর করতে পারে দিনভর ক্লান্তি। কিন্তু কী রদবদলের পরামর্শ দিচ্ছেন পুষ্টিবিদরা (Tiredness)?

    সঙ্গে থাকুক কয়েকটা খেজুর

    পুষ্টিবিদদের একাংশ জানাচ্ছেন, খাবার খাওয়ার মাঝে অনেকটা সময় বিরতি থাকলে শরীর বাড়তি ক্লান্ত (Tiredness) হয়ে যায়। সকালের জলখাবার এবং দুপুরে অফিসের লাঞ্চ ব্রেকের মাঝে অনেকটা বিরতি থাকে। এর ফলে অনেকের শরীর বেশি ক্লান্ত হয়ে পড়ে। তারপরে অনেকটা বেশি‌ পরিমাণ খাবার একসঙ্গে খেয়ে ফেললে কাজের গতি কমে যায়। তাই পুষ্টিবিদদের একাংশ বলেন, নিয়মিত সঙ্গে থাকুক কয়েকটা খেজুর। খেজুর সহজেই খাওয়া যায়, তাই কাজের ফাঁকে একটা খেজুর খেতে বেশি সময় নষ্ট হয় না। লাঞ্চ ব্রেকের আগেই তাই সহজেই খেজুর খাওয়া যায়। আর খেজুরে (Food) থাকে আয়রন, পটাশিয়াম, ম্যাগনেশিয়ামের মতো নানান রকমের খনিজ পদার্থ। এর ফলে এই খাবার মস্তিষ্ককে সক্রিয় রাখতে‌ বিশেষ সাহায্য করে। তাই ক্লান্তি বোধ দূর হয়।

    সপ্তাহে দুদিন এক চামচ ঘিয়ের তৈরি খাবার

    শরীর ক্লান্ত (Tiredness) হয়ে যাওয়ার অন্যতম কারণ ভিটামিন ডি এবং ভিটামিন বি ১২-র অভাব। চিকিৎসকদের একাংশ জানাচ্ছেন, তরুণ প্রজন্মের একাংশ হাড়ের সমস্যায় ভুগছেন। পেশির নানান সমস্যাও বাড়ছে। আর তার ফলেই কাজের প্রতি মনোযোগ কমছে। মস্তিষ্ক ক্লান্ত হয়ে পড়ছে। তাই পুষ্টিবিদদের একাংশের পরামর্শ, সপ্তাহ অন্তত দু’দিন এক চামচ ঘি-য়ে তৈরি সবজি লাঞ্চের মেনুতে থাকুক। তাঁরা বলেন, শরীরে ভিটামিন ডি এবং ভিটামিন বি ১২ সবচেয়ে সহজে পূরণ করে ঘি। তাই অন্তত দুদিন এক চামচ ঘি (Food) শরীরে পৌঁছলে ভিটামিনের চাহিদা পূরণ হবে। এর ফলে ক্লান্তি দূর হবে।

    কার্বোহাইড্রেট এবং ভিটামিনের ব্যালান্স ডায়েট জরুরি

    তরুণ প্রজন্মের রোগা হওয়ার চাহিদা এবং তার জন্য অপরিকল্পিত ডায়েট ক্লান্তি বোধ (Tiredness) আরও বাড়িয়ে দিচ্ছে বলেই জানাচ্ছেন পুষ্টিবিদদের একাংশ। তাঁরা জানাচ্ছেন, ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখতে তরুণ প্রজন্মের অনেকেই সারাদিন সম্পূর্ণ কার্বোহাইড্রেট মুক্ত খাবার খাচ্ছেন। এর ফলে শরীরে এনার্জির জোগান‌ হচ্ছে না। তার ফলেই ক্লান্তি বোধ বাড়ছে। মস্তিষ্কও সক্রিয় থাকছে না। তাঁদের পরামর্শ, লাঞ্চে কার্বোহাইড্রেট এবং ভিটামিনের ব্যালান্স ডায়েট জরুরি। রুটি, ডাল, সবজি জাতীয় খাবার (Food), তার সঙ্গে সামান্য ফল থাকলে শরীর এনার্জি সহজেই পাবে। এতে ক্লান্তি বোধ কমবে।

    পর্যাপ্ত জল জরুরি

    চিকিৎসকদের একাংশ জানাচ্ছেন, শরীরে ক্লান্তি বোধ গ্রাস করে জলের ঘাটতি হলে। তাঁরা জানাচ্ছেন, অনেকেই বাইরে থাকলে খুব কম পরিমাণে জল খান (Food)। এর ফলে খাবার খাওয়ার পরেই শরীরের বিভিন্ন পেশির সক্রিয়তা আরও কমে যায়। তাঁরা জানাচ্ছেন, পর্যাপ্ত পরিমাণে জল খেলে শরীরের সমস্ত পেশি সক্রিয় থাকে। তখন ক্লান্তি (Tiredness) বোধ কম হয়।

     

    DISCLAIMER: এই প্রতিবেদনটি বিশেষজ্ঞদের মতামত অনুযায়ী লেখা। এর সঙ্গে মাধ্যম-এর কোনও সম্পর্ক নেই। মাধ্যম এর কোনও দায় নিচ্ছে না। এখানে বলা যে কোনও উপদেশ পালন করার আগে অবশ্যই কোনও চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নিন।

  • Daily Horoscope 18 March 2025: দিনটি বিশেষ অনুকূল নয় এই রাশির জাতকদের

    Daily Horoscope 18 March 2025: দিনটি বিশেষ অনুকূল নয় এই রাশির জাতকদের

    চাকরি থেকে ব্যবসা, বন্ধু থেকে ব্যক্তিগত জীবন, ভ্রমণ থেকে স্বাস্থ্য—কী বলছে ভাগ্যরেখা? কেমন কাটতে পারে দিন?

    মেষ

    ১) আজকের দিনটি খুবই ভালো কাটবে।

    ২) নিজের কাজে সাফল্য লাভ করবেন আজ।

    ৩) ব্যবসায়ে নতুন ও লাভজনক পরিকল্পনা শুরুর ভালো সুযোগ পাবেন।

    বৃষ

    ১) আজকের দিনটি বিশেষ ভালো নয়।

    ২) কর্মক্ষেত্রে বিরোধীদের থেকে সতর্ক থাকা জরুরি।

    ৩) কারও ওপর অধিক ভরসা করবেন না।

    মিথুন

    ১) সময় অনুকূল নয়।

    ২) কাজে মনোনিবেশ করতে হবে।

    ৩) ভেবেচিন্তে নিজের কাজে অগ্রসর হন।

    কর্কট

    ১) নিজের সাফল্যকে শীর্ষে নিয়ে যাওয়ার সুযোগ পাবেন।

    ২) কাজে কঠিন পরিশ্রম করায় ভালো পরিণাম পাবেন।

    ৩) বিরোধীদের থেকে দূরে থাকুন।

    সিংহ

    ১) আজকের দিনটি ভালো।

    ২) নিজের জীবনে সাফল্যের শীর্ষে পৌঁছনোর সুযোগ পাবেন।

    ৩) নতুন চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করতে পারবেন।

    কন্যা

    ১) আজকের দিনটি নানান ওঠাপড়ায় ভরপুর থাকবে।

    ২) মনের মধ্যে নানান ধরনের চিন্তাভাবনা উৎপন্ন হতে পারে।

    ৩) পারিবারিক বিষয়ে চিন্তিত থাকবেন।

    তুলা

    ১) আজকের দিনটি বিশেষ অনুকূল নয়।

    ২) কাজকর্মে বাধা উৎপন্ন হতে পারে।

    ৩) ব্যবসা ও চাকরিতে সাফল্য লাভের জন্য অধিক পরিশ্রম করতে হবে।

    বৃশ্চিক

    ১) আজকের দিনটি শুভ।

    ২) নিজের কাজে সাফল্য লাভ করতে পারবেন।

    ৩) নতুন সুযোগ পাবেন।

    ধনু

    ১) আজকের দিনটি খুবই ভালো।

    ২) কাজের ফলাফল পাবেন, সাফল্যের শীর্ষে পৌঁছবেন।

    ৩) লগ্নির দ্বারা ভালো মুনাফা অর্জন করতে পারেন।

    মকর

    ১) আজকের দিনটি অনুকূল নয়।

    ২) স্বাস্থ্যের যত্ন নিন।

    ৩) খাওয়া-দাওয়ার যত্ন নিতে হবে।

    কুম্ভ

    ১) আজকের দিনটি শুভ ফলাফল প্রদান করবে।

    ২) সমস্ত অসম্পূর্ণ ইচ্ছা পূরণ হবে।

    ৩) মনের মধ্যে আনন্দ থাকবে।

    মীন

    ১) আজকের দিনটি চ্যালেঞ্জে পরিপূর্ণ।

    ২) সতর্কতার সঙ্গে কাজ এগিয়ে নিয়ে যান।

    ৩) কাজের চাপের কারণে ক্লান্তি অনুভব করবেন।

     

     

     

    DISCLAIMER: এই প্রতিবেদনটি বিশেষজ্ঞদের মতামত অনুযায়ী লেখা। এর সঙ্গে মাধ্যম-এর কোনও সম্পর্ক নেই। মাধ্যম এর কোনও দায় নিচ্ছে না।

  • PM Modi: হায়দরাবাদ হাউসে মোদি-লুক্সন বৈঠক, প্রতিরক্ষা থেকে ইন্দো-প্রশান্ত মহাসাগর অঞ্চল নিয়ে আলোচনা

    PM Modi: হায়দরাবাদ হাউসে মোদি-লুক্সন বৈঠক, প্রতিরক্ষা থেকে ইন্দো-প্রশান্ত মহাসাগর অঞ্চল নিয়ে আলোচনা

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ভারত সফরে এসেছেন নিউজিল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী ক্রিস্টোফার লুক্সন। সোমবারে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির (PM Modi) সঙ্গে দিল্লির হায়দরাবাদ হাউসে তিনি একটি বৈঠক করেন। এরপরে দুই দেশের রাষ্ট্রপ্রধান নিজেদের যৌথ ভাষণে বলেন, ‘‘উভয় দেশই ইন্দো-প্রশান্ত মহাসাগর অঞ্চলকে মুক্ত, নিরাপদ ও উন্নত করার নীতিতে বিশ্বাস রাখে।’’

    দুই দেশের মধ্যে স্বাক্ষরিত হয়েছে প্রতিরক্ষা সংক্রান্ত চুক্তিও

    জানা গিয়েছে, নয়া দিল্লিতে হায়দরাবাদ হাউসে দুই রাষ্ট্র প্রধানের বৈঠকে একটি প্রতিরক্ষা সংক্রান্ত চুক্তিও স্বাক্ষরিত হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি (PM Modi) নিউজিল্যান্ডের সঙ্গে ভারতের দীর্ঘ সময়ের সুসম্পর্কের জন্য সেদেশের রাষ্ট্রপ্রধান লুক্সনের ভূয়সী প্রশংসাও করেন। এর পাশাপাশি অকল্যান্ডে নিউজিল্যান্ডের (New Zealand) নেতারা যেভাবে ভারতীয় হিন্দু পরম্পরার উৎসব হোলি উদযাপন করেছেন সেটিও প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি নিজের ভাষণে উল্লেখ করেন। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি (PM Modi) সাংবাদিক সম্মেলনে বলেন, ‘‘ভারত ও নিউজিল্যান্ডের দ্বিপাক্ষিক নানা গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়েছে। আমরা দুই দেশের প্রতিরক্ষা, নিরাপত্তা সংক্রান্ত সম্পর্ককে শক্তিশালী এবং কৌশলগত রূপ দেওয়ার বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিয়েছি। আমরা যেকোনও ধরনের সন্ত্রাসবাদ, বিচ্ছিন্নতাবাদী কার্যকলাপ এগুলোর বিরুদ্ধে লড়াই জারি রাখব।’’

    কী বললেন নিউজিল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী লুক্সন

    অন্যদিকে, প্রধানমন্ত্রীর নরেন্দ্র মোদির (PM Modi) বক্তব্যকে সমর্থন করে নিউজিল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী ক্রিস্টোফার লুক্সন বলেন, ‘‘ইন্দো প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের উন্নতির জন্য আমরা এক সঙ্গে কাজ করব।’’ প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে তাঁর এই বৈঠককে অত্যন্ত ফলপ্রসূ বলেও বর্ণনা করেন নিউজিল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী। সাংবাদিকের সামনে নিজের বিবৃতিতে নিউজিল্যান্ডের রাষ্ট্রপ্রধান বলেন, ‘‘আমি আশা করি আমাদের এই আলোচনা ভারতের সঙ্গে গভীর এবং একটি তাৎপর্যপূর্ণ সম্পর্ক গড়ে তোলার জন্য অগ্রণী ভূমিকা পালন করবে। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি নিউজিল্যান্ডের সঙ্গে সম্পর্ক গড়ার বিষয়ে যথেষ্ট দৃঢ়প্রতিজ্ঞ। এতে কোনও সন্দেহ নেই।’’

    দুই দেশের ১০০ বছরের ক্রীড়া সম্পর্ক

    প্রসঙ্গত, দুই রাষ্ট্রপ্রধানের এই বৈঠকে উঠে আসে ক্রীড়া সম্পর্কের কথাও। নিউজিল্যান্ডের সঙ্গে ভারতের ১০০ বছরের ক্রীড়া সম্পর্ক নিয়ে দুই দেশের রাষ্ট্রপ্রধান নিজেদের মধ্যে ভাব বিনিময় করেন। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি উল্লেখ করেন যে ভারত ও নিউজিল্যান্ড যে কোনও খেলার ক্ষেত্রে, তা সে ক্রিকেট হোক বা হকি, সবকিছুতেই একে অপরের সঙ্গে সম্পর্ক তৈরি করেছে। ভারতের প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘‘দুই দেশের মধ্যে ক্রীড়া প্রশিক্ষণ, ক্রীড়াবিজ্ঞান, মনোবিজ্ঞান চিকিৎসা ক্ষেত্রের মতো অন্যান্য বিষয় নিয়েও সম্পর্ক গড়ে তোলা হবে।’’ প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি আরও বলেন, ‘‘আমরা ২০২৬ সালে দুই দেশের ক্রীড়া সম্পর্কের ১০০ বছর উদযাপন করার সিদ্ধান্ত নিয়েছি।’’

    আলোচনায় উঠে এল নিউজিল্যান্ডের ভারত বিরোধী কার্যকলাপ

    একই সঙ্গে নিউজিল্যান্ডে বেশকিছু ভারত বিরোধী কার্যকলাপও এদিনের বৈঠকে আলোচিত হয়েছে বলে জানা গিয়েছে। হায়দরাবাদ হাউসের ওই বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি (PM Modi) এনিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। এর পাশাপাশি দুই দেশেই অবৈধ অভিবাসনের সমস্যার মোকাবিলার একটি চুক্তি তৈরি করা হবে বলে সিদ্ধান্ত হয়েছে। একইসঙ্গে সন্ত্রাসবাদের বিষয়ে বলতে গিয়ে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি বলেন, ‘‘ ২০১৯ সালে ক্রাইস্ট চার্চ মসজিদ হামলা এবং ২৬/১১-র সন্ত্রাসবাদ হামলা কোনওভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।’’

    ২০ মার্চ পর্যন্ত তিনি ভারত সফরে থাকবেন নিউজিল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী

    প্রসঙ্গত, রবিবারই নিউজিল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী ক্রিস্টোফার লুক্সন পাঁচ দিনের ভারত সফরে আসেন। আজ সোমবার প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে তাঁর বৈঠক সম্পন্ন হল। জানা যাচ্ছে, ২০ মার্চ পর্যন্ত তিনি ভারত সফরে থাকবেন। নিউজিল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রীর এই সফরে তাঁর সঙ্গে বড় সংখ্যার প্রতিনিধি দলও এসেছে। রবিবার দিল্লি এয়ারপোর্টে কেন্দ্রীয় মন্ত্রী এসপি সিং বাঘেল তাঁদের অভ্যর্থনা জানান। জানা গিয়েছে, এই প্রতিনিধি দলে নিউজিল্যান্ডের মন্ত্রী, শিল্পপতিরাও রয়েছেন। নিউজিল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী ভারতে থাকাকালীন মুম্বই সফরেরও কর্মসূচি রয়েছে বলে জানানো হয়েছে কেন্দ্র সরকারের তরফে।

    রবিবার দিল্লিতে পা রেখে কী বলেন নিউজিল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী?

    রবিবার দিল্লিতে পা রেখে নিউজিল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘‘ভারতের সঙ্গে বাণিজ্যিক অংশীদারিত্ব অনেক গুণ বাড়াতে চলেছি। ভারত বর্তমান বিশ্বে গুরুত্বপূর্ণ শক্তি। ইন্দো-প্রশান্তমহাসাগর অঞ্চলে শান্তি বজায় রাখা ও উন্নয়নে কী করতে পারি সেই বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী মোদির সঙ্গে আলোচনা করব। নিউজিল্যান্ডকে বিনিয়োগের গন্তব্য হিসেবে তুলে ধরা হবে।’’

  • ISRO: এবার চন্দ্রযান ৫ মিশনের অনুমোদন দিল কেন্দ্র, জাপানের সঙ্গে যৌথভাবে হবে অভিযান

    ISRO: এবার চন্দ্রযান ৫ মিশনের অনুমোদন দিল কেন্দ্র, জাপানের সঙ্গে যৌথভাবে হবে অভিযান

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: এবার মহাকাশে পাড়ি দেবে ইসরোর (ISRO) চন্দ্রযান-৫। ইতিমধ্যে এবিষয়ে কেন্দ্রীয় সরকারের ছাড়পত্র পেয়েছে ভারতীয় মহাকাশ গবেষণা সংস্থা (ISRO)। এমনটাই জানিয়েছেন ইসরো প্রধান ভি নারায়ণন। প্রসঙ্গত, চন্দ্রযান ৩ সফল হওয়ার পরে চন্দ্রযান-৪ অভিযানের জন্য গত বছরেই অনুমোদন করে কেন্দ্র। ২০২৪ সালের সেপ্টেম্বরে মোদি মন্ত্রিসভা চন্দ্রযান ৪ মিশন অনুমোদন করেছিল। এই অভিযানের উদ্দেশ্য হল চাঁদে একটি মহাকাশযান অবতরণ করানো, চাঁদের মাটি এবং পাথরের নমুনা সংগ্রহ করা এবং নিরাপদে তা পৃথিবীতে ফিরিয়ে আনা। এই মিশনে জন্য খরচ ধরা হয়েছে ২১০৪ কোটি টাকা। চন্দ্রযান ৪ মিশন নিয়ে এখন ইসরোর প্রস্তুতি তুঙ্গে। সব কিছু ঠিকঠাক থাকলে, ২০২৭ সালেই উৎক্ষেপণ করা হতে পারে চন্দ্রযান ৪। এই আবহে সামনে এল চন্দ্রযান ৫ এর অনুমোদনের খবর। চন্দ্রযান-৫ সম্পর্কে নারায়ণন সংবাদমাধ্যমকে বলেন, “মাত্র তিন দিন আগে আমরা চন্দ্রযান-৫ অভিযানের অনুমোদন পেয়েছি (Chandrayaan 5 Mission)। আমরা জাপানের সঙ্গে যৌথভাবে এই অভিযান পরিচালনা করব।”

    চন্দ্রযান-৫ যে রোভার নিয়ে যাবে তার ওজন হবে ২৫০ কেজি (ISRO)

    প্রসঙ্গত, রবিবারই এক সাংবাদিক সম্মেলনে একথা ঘোষণা করেন ইসরো (ISRO) চেয়ারম্যান ভি নারায়ণন। তিনি আরও জানিয়েছেন জাপানের সহযোগিতায় এই মিশন পরিচালিত হবে। সম্প্রতি, ইসরো চেয়ারম্যানের দায়িত্ব গ্রহণ করেন ভি নারায়ণন। চন্দ্রযান ৫ মিশন নিয়ে তিনি জানিয়েছেন, চন্দ্রযান ৩ মিশনে রোভার যন্ত্রটির ওজন ছিল ২৫ কেজি। তবে, চাঁদের পৃষ্ঠদেশে অনুসন্ধানের জন্য চন্দ্রযান ৫ যে রোভারটি নিয়ে যাবে, সেটির ওজন হবে ২৫০ কেজি। বস্তুত, চাঁদের পৃষ্ঠদেশ নিয়ে গবেষণার জন্যই চন্দ্রযান কর্মসূচি শুরু করে ইসরো।

    ২০০৮ সালে পাড়ি দেয় চন্দ্রযান ১, ২০১৯ সালে চন্দ্রযান ২

    চাঁদের দেশে গবেষণা (ISRO) করতে ভারত একাধিক চন্দ্রযান কর্মসূচি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে। প্রথম মিশন শুরু হয় ২০০৮ সালে। চন্দ্রযান-১, ২০০৮ সালে সফলভাবেই পাড়ি দেয় মহাকাশে। চন্দ্রপৃষ্ঠে রাসায়নিক, খনিজ ইত্যাদি নিয়ে গবেষণা চালায় চন্দ্রযান ১। ২০১৯ সালে উৎক্ষেপণ করা চন্দ্রযান-২-তে একটি ল্যান্ডার এবং রোভার ছিল, কিন্তু অবতরণের সময় ল্যান্ডারটি বিধ্বস্ত হয়ে মিশনটি (Chandrayaan 5 Mission) শেষ হয়ে যায়। তার পরে ২০১৯ সালে চন্দ্রযান-২ সম্পূর্ণ সাফল্য পায়নি। সেসময় ইসরো প্রধান জানান, লক্ষ্যে সফল না হলেও চন্দ্রযান ২-এর উচ্চ ক্ষমতাসম্পন্ন ক্যামেরা থেকে প্রচুর ছবি পাচ্ছে মহাকাশ গবেষণা সংস্থা ইসরো (ISRO)।

    বিরাট সাফল্য পায় চন্দ্রযান ৩

    পরবর্তীকালে ভারতের মহাকাশ গবেষণা এবং চন্দ্রাভিযানে অন্যতম বড় সাফল্য এসেছে চন্দ্রযান ৩-এর হাত ধরেই। চন্দ্রযান ৩ চাঁদের দক্ষিণ মেরুর কাছে অবতরণ করে। উচ্ছ্বাসে মেতে ওঠে গোটা দেশ। চন্দ্রযান ৩-এর ল্যান্ডার ‘বিক্রম’ যেখানে অবতরণ করে, বিশ্বের অন্য কোনও দেশ সেখানে আজও মহাকাশযান পাঠাতে পারেনি। প্রসঙ্গত, ২০২৩ সালের ২৩ অগাস্ট, চাঁদের মাটিতে পা রেখেছিল তৃতীয় চন্দ্রযানের ল্যান্ডার বিক্রম। পাখির পালকের মতো অবতরণ (সফ্‌ট ল্যান্ডিং) করে ওই ল্যান্ডারটি। যা এর আগে কোনও দেশ কখনও করতে পারেনি। তার পেট থেকে বেরিয়ে আসে রোভার প্রজ্ঞান। চাঁদের মাটি-পাথর নমুনা সংগ্রহ করে নিজের মধ্যে থাকা মিনি-গবেষণাগারে পরীক্ষা করে তার ফল পৃথিবীতে পাঠিয়েছিল প্রজ্ঞান। ১৪ দিনের কাজের পর, ল্যান্ডার ও রোভার চির-ঘুমে চলে যায়। এই সাফল্যের পরেই ২০২৪ সালে চন্দ্রযান ৪ এর অনুমোদন দেয় কেন্দ্রের মোদি সরকার। পরবর্তীকালে ২০২৫ সালে চন্দ্রযান ৫ কেন্দ্রের অনুমোদন পেল।

    মহাকাশ অভিযানে ইসরোর (ISRO) অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্প

    চন্দ্রযান অভিযানের বাইরেও, ইসরো বেশ কয়েকটি অন্যান্য কর্মসূচিও গ্রহণ করেছে। যা নিয়ে চর্চা চলছে দেশজুড়ে। এর মধ্যে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হল গগনযান অভিযান। ভারতের প্রথম মানব মহাকাশযান কর্মসূচি হতে চলেছে এই কর্মসূচি। এই প্রকল্পের লক্ষ্য হল ভারতীয় নভোচারীদের মহাকাশে পাঠানো। এছাড়াও, নারায়ণন ভারতের নিজস্ব মহাকাশ স্টেশন স্থাপনের পরিকল্পনার কথাও উল্লেখ করেন সাংবাদিক সম্মেলনে। যার নাম হবে ভারতীয় অন্তরীক্ষ স্টেশন। এই প্রকল্প ভারতের স্বাধীন মহাকাশ গবেষণার সুবিধা তৈরি করবে বলে জানিয়েছেন ইসরো প্রধান। প্রসঙ্গত উল্লেখ্য, ইসরো ২০৪০ সালের মধ্যে চাঁদে মহাকাশচারী পাঠানোর জন্য কাজ করছে। বর্তমানে, আমেরিকাই একমাত্র দেশ যারা চাঁদে মানুষ পাঠাতে সক্ষম হয়েছে। জানা গিয়েছে, চিন ২০৩০ সালের মধ্যে চাঁদে নভশ্চরদের পাঠানোর জন্যও কাজ করছে।

  • India France Rafale Deal: ৬৬ হাজার কোটি টাকায় ২৬টি রাফাল-এম জেট কিনছে ভারত, চুক্তি এপ্রিলেই

    India France Rafale Deal: ৬৬ হাজার কোটি টাকায় ২৬টি রাফাল-এম জেট কিনছে ভারত, চুক্তি এপ্রিলেই

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ভারতীয় নৌসেনার জন্য ২৬টি রাফাল-এম যুদ্ধবিমান (Rafale-M jets) কেনার বিষয়টি প্রায় চূড়ান্ত। সম্প্রতি, দর কষাকষির পর্ব মিটিয়ে ফেলেছে দুই দেশের প্রতিনিধিরা। জানা যাচ্ছে, ৭.৬ বিলিয়ন মার্কিন ডলারে (ভারতীয় মুদ্রায় প্রায় ৬৬ হাজার কোটি টাকা) বিনিময়ে ওই জেটগুলি কিনতে চলেছে ভারত। সূত্রের খবর, এই নিয়ে চূড়ান্ত চুক্তি (India France Rafale Deal) স্বাক্ষরিত হতে পারে এপ্রিল মাসেই। সেই সময় ভারত সফরে আসার কথা ফরাসি প্রতিরক্ষামন্ত্রীর। জানা যাচ্ছে, তাঁর উপস্থিতিতেই এই চুক্তি স্বাক্ষরিত হতে চলেছে।

    মিগ-২৯ বিমানের পরিবর্তে রাফাল-এম (Rafale-M jets)

    বুড়ো হয়ে যাওয়া মিগ-২৯কে ও মিগ-২৯কেইউবি যুদ্ধবিমানগুলির পরিবর্তে এবার ভারতীয় নৌসেনার জোড়া বিমানবাহী রণতরী আইএনএস বিক্রমাদিত্য ও আইএনএস বিরাট-এ মোতায়েন করা হবে রাফাল-এম জেটগুলিকে। নতুন বিমানগুলির দায়িত্বে থাকবে নৌসেনার আইএনএএস ৩০০ ‘হোয়াইট টাইগার্স’ এবং আইএনএএস ৩০৩ ‘ব্ল্যাক প্যান্থার্স’ এভিয়েশন স্কোয়াড্রন। ২৬টি বিমানের ভেরিয়েন্টের বিস্তারিত তথ্য এখনও প্রকাশ্যে না আসলেও, কয়েকটি সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত খবর অনুযায়ী, ২২টি বিমান হবে এক-আসন বিশিষ্ট রাফাল-এম ফাইটার, যেগুলি রণতরীতে মোতায়েন থাকবে (India France Rafale Deal)। বাকি চারটে হবে দুই-আসন বিশিষ্ট ‘রাফাল-বি’ ট্রেনার বা প্রশিক্ষণ বিমান। এই বিমানগুলিকে রণতরীতে মোতায়েন করা যায় না। মূলত, গোয়ায় অবস্থিত ভারতীয় নৌসেনার ঘাঁটি আইএনএস হানসা-র বিমান প্রশিক্ষণ কেন্দ্রে এগুলি থাকবে পাইলটদের প্রশিক্ষণের জন্য। যদিও, অন্যান্য সংবাদমাধ্যমে খবরে প্রকাশিত অনুযায়ী, সবকটি বিমানই রাফাল-এম (Rafale-M jets) ভেরিয়েন্ট হবে। ফ্রান্স এবং ভারতে থাকা অত্যাধুনিক সিমুলেটরে প্রশিক্ষণ হবে। তবে, আখেরে কী হবে, তা চুক্তির সময় প্রকাশ্যে আসবে।

    ভারতে পৃথক অ্যাসেম্বলি লাইন তৈরির পরিকল্পনা

    রাফাল বিমানের নির্মাতা ফরাসি সংস্থা দাসো ভারতে একটি পৃথক অ্যাসেম্বলি লাইন বা কারখানা তৈরির ভাবনাচিন্তা করছে। এতে, ভারত ভবিষ্যতে যদি আরও রাফাল কিনতে ইচ্ছুক হয়, তাহলে এখানেই সেগুলিকে তৈরি করা সম্ভব হবে (India France Rafale Deal)। এর প্রধান কারণ হল, ভারতীয় নৌসেনার রাফাল-এম চুক্তিতে ভবিষ্যতে অতিরিক্ত বিমান কেনার সংস্থানও থাকছে। বর্তমানে নৌসেনায় ৪৫টি মিগ-২৯কে/কেইউবি যুদ্ধবিমান রয়েছে। ভারত চাইছে সবগুলিকে সরিয়ে পুরোটাই রাফাল দিয়ে মুড়ে দিতে। সেক্ষেত্রে ভারতে অ্যাসেম্বলি লাইন হলে বাড়তি সুবিধা মিলবে। একদিকে, বিমান কেনা ও রক্ষণাবেক্ষণের খরচ কমবে। অন্যদিকে, দ্রুত বিমানগুলি হাতে পাবে ভারত।

    এমআরএফএ চুক্তিতে নজর দাসোর

    প্রতিরক্ষা বিশেষজ্ঞদের মতে, ভারত যে আগামী দিনে বায়ুসেনার জন্য ১১৪টি মিডিয়াম রোল যুদ্ধবিমান (এমআরএফএ) কেনার দরপত্র পেশ করতে চলেছে, তাতে এক ধাপ এগিয়ে থাকবে দাসো। কারণ, ওই ক্যাটেগরিতে বরাত জিততে রাফালের লড়াই হবে মার্কিন এফ-১৬, সুইডেনের গ্রিপেন সাব, রাশিয়ার মিগ-৩৫ এবং ইউরোফাইটার টাইফুনের সঙ্গে। ভারতীয় বায়ুসেনা ইতিমধ্যেই ৩৬টি রাফাল ব্যবহার করে। তার ওপর নৌসেনাও কিনছে ২৬টি রাফাল (Rafale-M jets)। এবার ভারতে অ্যাসেম্বলি লাইন হয়ে গেলে, সেক্ষেত্রে, দাসো বলতে পারবে, তারা প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির ‘মেক ইন ইন্ডিয়া’-কে সমর্থন করে। স্বভাবতই ১১৪টি মিডিয়াম যুদ্ধবিমানের বরাতে পাল্লা ভারি ঝুঁকে পড়বে রাফালের দিকেই (India France Rafale Deal)।

     

  • Festival of colors: রঙের উৎসবে খেয়াল থাকুক ত্বক ও চোখে! কেন বাড়তি সতর্কতা জরুরি?

    Festival of colors: রঙের উৎসবে খেয়াল থাকুক ত্বক ও চোখে! কেন বাড়তি সতর্কতা জরুরি?

    তানিয়া বন্দ্যোপাধ্যায় পাল

    আর মাত্র কয়েক ঘণ্টার অপেক্ষা! আর তার পরেই রঙের উৎসব! দোল উদযাপনে (Festival of colors) আপামর বাঙালি। তবে এই রঙিন উৎসবের আনন্দে সামিল হওয়ার জন্য কয়েকটি বিষয়ে বাড়তি সতর্কতা জরুরি। চিকিৎসকদের একাংশ জানাচ্ছেন, দোলের উৎসবের পরেই ত্বক এবং চোখের নানান সংক্রমণে আক্রান্তের সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়ে যায়। বিশেষত শিশুদের বাড়তি নানান সমস্যা দেখা দেয়। শিশুদের কানেও নানান সমস্যা এবং সংক্রমণ হয়। তাই তাঁদের পরামর্শ, এই উৎসবে আনন্দ করার সময় বাড়তি সতর্কতা জরুরি। তবেই সুস্থ ভাবে উদযাপন সম্ভব হবে। এখন দেখা যাক, কী ধরনের সমস্যার আশঙ্কা করছেন চিকিৎসকেরা?

    ত্বকে অ্যালার্জি, চোখে সংক্রমণ (Festival of colors)

    চিকিৎসকদের একাংশ জানাচ্ছেন, দোলের উদযাপনে অনেকেই নানান রকমের রঙ ব্যবহার করেন। সব রঙের গুণমান সমান হয় না। কম মানের রঙ ব্যবহার করলে ত্বকে নানা ধরনের অ্যালার্জি হতে পারে। চুলকানি, Rash, গোলগোল চাকা দাগ এমন নানান উপসর্গ দেখা দিতে পারে। যা দীর্ঘদিন ভোগান্তি তৈরি করে। আবার চোখেও নানান সংক্রমণ হতে পারে। চক্ষুরোগ বিশেষজ্ঞদের একাংশ জানাচ্ছেন, প্রায় প্রত্যেক বছরেই দোলের পরে চোখের সমস্যায় আক্রান্ত রোগীদের সংখ্যা বাড়ে। অনেকের চোখে রঙ ঢুকে নানান ধরনের অ্যালার্জি হয়। আবার অনেকের চোখ ফুলে যায়। সংক্রমণ জটিল হয়ে গেলে দৃষ্টিশক্তিতেও প্রভাব ফেলে‌।

    কানে যন্ত্রণা

    অনেক সময় কানের সমস্যাও দেখা দেয়। চিকিৎসকদের একাংশ জানাচ্ছেন, এই সমস্যায় আক্রান্তেরা অধিকাংশ ক্ষেত্রে শিশুরা হয়। তাঁরা জানাচ্ছেন, আবির জাতীয় রঙ খেলার সময় (Festival of colors) সময়েই অসাবধানতার জন্য শিশুদের কানের ভিতরে রঙ ঢুকে যায়। এর ফলে পরে কানে যন্ত্রণা হয়। অনেক সময়েই জটিল সংক্রমণ দেখা দেয়।

    কী পরামর্শ দিচ্ছেন বিশেষজ্ঞ মহল? (Festival of colors)

    চিকিৎসকদের একাংশের পরামর্শ, দোলের উৎসব উদযাপনের সময় বাড়তি সতর্কতা বজায় রাখলেই এই ধরনের বিপদ আটকানো সম্ভব হবে। ত্বকের সমস্যা এড়ানোর জন্য রঙের গুণমানের দিকে নজর দেওয়া জরুরি। তাঁরা জানাচ্ছেন, পরিবেশবান্ধব রঙ এখন পাওয়া যায়। সেগুলো ব্যবহার করলে ত্বকের নানান সমস্যায় আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকিও কমে‌।
    তাছাড়া বিশেষজ্ঞদের একাংশের পরামর্শ, ভালোভাবে ত্বকে ময়েশ্চারাইজার জাতীয় ক্রিম মেখে নিতে হবে। এতে চট করে রঙ চামড়ায় ছাপ ফেলবে না। রঙ ওঠানোও সহজ হবে।
    শিশুদের রঙের উৎসবে সামিল করার আগে বাড়তি সতর্কতা দরকার। যাতে চোখ ও কানের ভিতরে রঙ ঢুকে না যায়, সেদিকে খেয়াল রাখতে হবে। রঙিন নানা রকম উইগ এবং মুখোশ ব্যবহার করা যেতে পারে। বিশেষজ্ঞদের একাংশের পরামর্শ, মাথায় উইগ কিংবা মুখে মুখোশ পরলে শিশুদের কান এবং চোখে কিছুটা আচ্ছাদন থাকে। ফলে অনেক ভোগান্তি সহজেই এড়ানো সম্ভব হয়।
    উৎসবের (Festival of colors) পরিচ্ছন্নতার দিকে নজরদারি জরুরি বলেই জানাচ্ছেন চিকিৎসকদের একাংশ। তাঁরা জানাচ্ছেন, শিশুদের পাশাপাশি বাড়ির বড়দেরও এই পরিচ্ছন্নতার বিষয়ে নজর দিতে হবে। হাত, নখ, চুল, চোখে যাতে রঙ ঢুকে না থাকে, তার জন্য ভালোভাবে পরিষ্কার হতে হবে। তবেই নানান রোগে আক্রান্ত (skin and eyes) হওয়ার ঝুঁকি কমবে।

    DISCLAIMER: এই প্রতিবেদনটি বিশেষজ্ঞদের মতামত অনুযায়ী লেখা। এর সঙ্গে মাধ্যম-এর কোনও সম্পর্ক নেই। মাধ্যম এর কোনও দায় নিচ্ছে না। এখানে বলা যে কোনও উপদেশ পালন করার আগে অবশ্যই কোনও চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নিন।

  • Chia seeds: নিয়মিত এক চামচ চিয়া বীজ! কেমন করে খাবেন, কী কী উপকার মেলে?

    Chia seeds: নিয়মিত এক চামচ চিয়া বীজ! কেমন করে খাবেন, কী কী উপকার মেলে?

    তানিয়া বন্দ্যোপাধ্যায় পাল

    বাড়তি ওজনের ঝামেলা কিংবা কোলেস্টেরলের বাড়বাড়ন্তে দুশ্চিন্তা! সব মুশকিল সহজেই মেটাতে পারে এক চামচ চিয়া বীজ। পুষ্টিবিদদের একাংশ জানাচ্ছেন, আধুনিক ব্যস্ত জীবনে নানান রোগের প্রকোপ বাড়ছে। কম বয়সিদের মধ্যে উচ্চ রক্তচাপ, হৃদরোগ, মাত্রাতিরিক্ত কোলেস্টেরল, ডায়াবেটিসের মতো নানান রোগ দেখা দিচ্ছে। যার ফলে খুব‌ কম বয়স থেকেই শারীরিক জটিলতা তৈরি হচ্ছে। সুস্থ স্বাভাবিক জীবন‌ যাপন কঠিন হয়ে যাচ্ছে। চল্লিশের চৌকাঠে যাওয়ার আগেই হার্ট অ্যাটাকের মতো ঘটনা বাড়ছে। পাশপাশি মহিলাদের হাড়ের সমস্যা মারাত্মক ভাবে বেড়েছে। ক্যালসিয়ামের ঘাটতির জেরে তিরিশের আগেই মহিলারা হাঁটু ও কোমরের সমস্যায় ভুগছেন। তবে এই ধরনের নানান রোগের মোকাবিলা করতে পারে চিয়া (Chia seeds)! এখন দেখা যাক, নিয়মিত এক চামচ চিয়া বীজ কোন কোন রোগের মোকাবিলা করবে?

    হৃদরোগের ঝুঁকি কমাবে

    চিকিৎসকদের একাংশ জানাচ্ছেন, উচ্চ রক্তচাপ এবং কোলেস্টেরলের সমস্যা হৃদরোগের ঝুঁকি বাড়িয়ে দেয়। পুষ্টিবিদদের একাংশ জানাচ্ছেন, চিয়া বীজ কোলেস্টেরলের মাত্রা নিয়ন্ত্রণ করতে বিশেষ সাহায্য করে। চিয়া বীজে থাকে প্রচুর পরিমাণে ফাইবার। চিয়ার বীজ খনিজ পদার্থ সমৃদ্ধ একটি খাবার। তাই এই খাবার নিয়মিত খেলে রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে থাকে। উচ্চ রক্তচাপের সমস্যায় আক্রান্তদের জন্য বিশেষ উপকারী। তাই এই উপাদান হৃদরোগের ঝুঁকি কমাতেও সাহায্য করে। পাশপাশি চিয়া বীজে থাকে ওমেগা থ্রি। এই উপাদান হৃদরোগের ঝুঁকি কমাতে সাহায্য করে। হৃদপিণ্ডের কার্যকারিতাও স্বাভাবিক রাখে।

    হাড়ের জন্য বিশেষ উপকারী (Chia seeds)

    পুষ্টিবিদদের একাংশ জানাচ্ছেন, চিয়া বীজে ক্যালসিয়াম, পটাশিয়াম, ম্যাগনেশিয়ামের মতো নানান খনিজ পদার্থ থাকে। এর ফলে নিয়মিত চিয়া বীজ খেলে হাড় মজবুত হয়। হাড়ের ক্ষয়রোগ কমে। চিকিৎসকদের একাংশ জানাচ্ছেন, ভারতে বিশেষত মহিলারা হাড়ের ক্ষয় রোগে বেশি আক্রান্ত হচ্ছেন। তাই চিয়া‌ বীজ তাদের জন্য বিশেষ উপকারী।

    ওজন কমাতে সাহায্য করে

    স্থূলতা ভারতের অন্যতম বড় স্বাস্থ্য সমস্যা। অনিয়মিত খাদ্যাভ্যাস এবং অস্বাস্থ্যকর খাবারের জন্য স্থূলতার সমস্যা বাড়ছে। তরুণ প্রজন্মের মধ্যে স্থূলতা একটা বড় সমস্যা। এই স্বাস্থ‌্য সমস্যা একাধিক রোগের জন্ম দিচ্ছে। হৃদরোগ, ডায়াবেটিস এমনকি ক্যান্সারের কারণ হিসেবেও স্থূলতাকে দায়ী করছেন চিকিৎসকদের একাংশ। তাঁরা জানাচ্ছেন, ওজন নিয়ন্ত্রণ জরুরি। আর এই কাজে সাহায্য করে চিয়া (Chia seeds)। ওমেগা থ্রি, ফ্যাটি অ্যাসিড এবং পটাশিয়াম, ম্যাগনেশিয়ামের মতো খনিজ উপাদান শরীরের অপ্রয়োজনীয় মেদ তৈরি করে না। বরং ক্যালোরি কমাতে সাহায্য করে।

    হজম শক্তি বাড়ায় চিয়া বীজ

    অন্ত্রের কার্যকারিতা ঠিক রাখতে এবং লিভার, পাকস্থলীকে সুস্থ রাখতে বিশেষ সাহায্য করে চিয়া বীজ। খনিজ পদার্থ সমৃদ্ধ এই খাবার হজম শক্তি বাড়াতেও সাহায্য করে। তাই নিয়মিত চিয়া বীজ খেলে হজমের গোলমাল কমে যায়। লিভার এবং পাকস্থলীও সুস্থ থাকে‌।

    কীভাবে খাবেন চিয়া বীজ (Chia seeds)

    পুষ্টিবিদদের একাংশ জানাচ্ছেন, নিয়মিত এক চামচ চিয়া বীজ খেলেই শরীরে একাধিক উপকার হয়। তাঁদের পরামর্শ, সারারাত এক চামচ চিয়া বীজ জলে ভিজিয়ে রেখে সকালে লেবুর রসের সঙ্গে মিশিয়ে খেলেই শরীরে উপকার পাওয়া যায়। তাছাড়া, যে কোনও খাবার, যেমন দুধ কিংবা ফলের রসের সঙ্গেও ভেজানো চিয়া বীজ খাওয়া যেতে পারে। পুষ্টিবিদদের একাংশ জানাচ্ছেন, অনেকেই জলখাবারে দুধ কর্নফ্লেক্স খান। তাঁরা কাজু, কিসমিস জাতীয় নানান ড্রাই ফ্রুটস মিশিয়ে সেটা খান। সেই খাবারেও চিয়া‌ বীজ ছড়িয়ে দেওয়া যেতে পারে। তাছাড়া যে কোনও রকম স্যালাডের সঙ্গে চিয়া বীজ ছড়িয়ে খাওয়া যেতে পারে। শশা, গাজর, টমেটোর উপরেও এক চামচ চিয়া বীজ ছড়িয়ে খাওয়া যেতে পারে। আবার স্যান্ডুইচের ভিতরেও চিয়া‌ বীজ ছড়িয়ে খাওয়া যেতে পারে। পুষ্টিবিদদের একাংশ জানাচ্ছেন, যে কোনও ধরনের খাবারের সঙ্গে প্রতিদিন এক চামচ চিয়া বীজ খেলেই শরীরে উপকার পাওয়া যাবে।

    DISCLAIMER: এই প্রতিবেদনটি বিশেষজ্ঞদের মতামত অনুযায়ী লেখা। এর সঙ্গে মাধ্যম-এর কোনও সম্পর্ক নেই। মাধ্যম এর কোনও দায় নিচ্ছে না। এখানে বলা যে কোনও উপদেশ পালন করার আগে অবশ্যই কোনও চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নিন।

  • F-35 Stealth Fighter: ট্রাম্পের এফ-৩৫ প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করা উচিত ভারতের, কেন? রইল ১০ কারণ

    F-35 Stealth Fighter: ট্রাম্পের এফ-৩৫ প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করা উচিত ভারতের, কেন? রইল ১০ কারণ

    সুশান্ত দাস: ‘‘আমেরিকার শত্রু হওয়া বিপজ্জনক হতে পারে, কিন্তু বন্ধু হওয়া সর্বনাশা।’’ কথাটা অন্য কেউ নয়, বলেছিলেন প্রয়াত মার্কিন বিদেশসচিব তথা সেদেশের জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টার পদ সামলানো হেনরি কিসিঞ্জার, যিনি রিচার্ড নিক্সন এবং জেরাল্ড ফোর্ডের মতো প্রেসিডেন্টের অধীনে কাজ করেছেন। ফলে, আমেরিকার মতো দেশের সঙ্গে সম্পর্কের ক্ষেত্রে সব দেশের বুঝতে হবে ঠিক কী করণীয়। কিন্তু, সমস্যা একটা জায়গায়। ডোনাল্ড ট্রাম্পের (US President Donald Trump) মতো ব্যক্তিত্ব মার্কিন প্রেসিডেন্ট পদে থাকলে, এটা বোঝা দায় যে, কোনটা ঠিক আর কোনটা ভুল। ফলে, সম্পর্ক ঠিক রাখতে গিয়ে অনেক ক্ষেত্রে এমন ভুল হয়ে যেতে পারে যে, তার মাশুল দীর্ঘদিন ধরে চোকাতে হতে পারে। তাই, সব বিষয় যাচাই করে, পরখ করে এগনোই শ্রেয়।

    বিশ্ববাসীর চোখ কপালে…

    গত মাসে হোয়াইট হাউসে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে একান্ত আলাপচারিতায় ভারতকে তাদের ‘নয়নের মণি’ পঞ্চম প্রজন্মের স্টেলথ এফ-৩৫ যুদ্ধবিমান (F-35 Stealth Fighter) দেওয়ার প্রস্তাব আচমকাই পেড়ে দেন ট্রাম্প। বলা বাহুল্য, এই প্রস্তাবের খবরে সারা বিশ্ববাসীর চোখ কপালে ওঠার মতো অবস্থা হয়। কারণ, এই বিমান এতটাই আধুনিক ও উন্নত যে, নেটো-গোষ্ঠীভুক্ত দেশ বা জাপান, দক্ষিণ কোরিয়া ঘনিষ্ঠ সহযোগী অথবা ইজরায়েলের মতো সব ঋতুর বন্ধু ছাড়া অন্য কোনও দেশকে তা বেচেনি ওয়াশিংটন। প্রযুক্তিগতভাবে, এটি বিশ্বের সবচেয়ে উন্নত ও আধুনিক যুদ্ধবিমান। এই যুদ্ধবিমান ভালো কিনা তা প্রশ্ন অবান্তর। কিন্তু, যে প্রশ্নটা করা উচিত, তা হল— ভারতের জন্য এই বিমান কি আদৌ প্রয়োজন? মার্কিন প্রস্তাব অনুযায়ী, এই বিমানকে (F-35 Sale Offer) সরাসরি কিনতে হবে। সেখানে রাশিয়া জানিয়েছে, ভারতকে তারা এদেশেই তাদের পঞ্চম প্রজন্মের সু-৫৭ যুদ্ধবিমান (Sukhoi Su-57) উৎপাদন করার প্রয়োজনীয় প্রযুক্তি ও অনুমতি দিতে রাজি।

    মার্কিন যুদ্ধবিমান অপরিচিত…

    ভারতের সঙ্গে রুশ যুদ্ধবিমানের সম্পর্ক দীর্ঘদিনের। ভারতীয় বায়ুসেনার প্রধান স্তম্ভ রুশ-নির্মিত সু-৩০। এর পাশাপাশি রয়েছে মিগ-২৯/২৯কে ও মিগ-২১ বাইসন। এছাড়া, ভারতীয় বায়ুসেনা দীর্ঘদিন ধরে ফ্রান্সের একাধিক যুদ্ধবিমানও ব্যবহার করে আসছে। সেই তালিকায় রয়েছে— জাগুয়ার, মিরাজ ও রাফাল। আজ পর্যন্ত ভারত কোনও মার্কিন ফাইটার জেট ব্যবহার করেনি। ফলে, এখন আপৎকালীন পরিস্থিতির জন্য মার্কিন এফ-৩৫ যুদ্ধবিমান (F-35 Stealth Fighter) ভারতীয় বায়ুসেনার বর্তমান ইকোসিস্টেমের জন্য আদৌ যুক্তিসঙ্গত কিনা, সেই প্রশ্ন উঠতে পারে।

    সামরিক বিশেষজ্ঞদের দাবি…

    এমতাবস্থায়, একাধিক সামরিক বিশেষজ্ঞের মতে, মার্কিন (বলা ভালো ট্রাম্পের) প্রস্তাব সুকৌশলে প্রত্যাখ্যান করা উচিত ভারতের। তবে, সরাসরি ‘না’ না বলে বরং বদলে অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ সামরিক সরঞ্জাম বা সামরাস্ত্র কেনা যেতে পারে। তাতে সাপও মরবে, আবার লাঠিও ভাঙবে না। সামরিক বিশেষজ্ঞরা নিজেদের জ্ঞান ও অভিজ্ঞতা দিয়ে এটা দাবি করেছেন যে, এফ-৩৫ কেনা (F-35 Sale Offer) ভারতের পক্ষে একেবারেই লাভজনক হবে না। উল্টে ক্ষতিই বেশি। কারণ হিসেবে তাঁদের দাবি, এই বিমানের সুবিধা যেমন, অসুবিধাও নেহাত কম নয়, বাস্তবে প্রচুর! তাঁরা জানিয়েছেন, এফ-৩৫ কিনবে কি না, তার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবে মোদি সরকার এবং সামরিক শীর্ষ কর্তাব্যক্তিরা। কিন্তু, এই বিমানে ব্যবহারে একাধিক প্রতিবন্ধকতা খালি চোখেই ধরা পড়েছে। অসুবিধাগুলি এতটাই স্পষ্ট যে সেগুলিকে কোনও ভাবেই এড়িয়ে যাওয়া সম্ভব নয় বলে মত ওই বিশেষজ্ঞদের।

    সবদিক খতিয়ে দেখে আমেরিকার এফ-৩৫ না কেনার ১০টি কারণ তুলে ধরেছেন ওই বিশেষজ্ঞরা—

    কারণ এক…

    এফ-৩৫ (F-35 Stealth Fighter) মূলত একটি ‘উড়ন্ত কম্পিউটার’, যেখানে অত্যাধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহৃত হয়েছে। যুদ্ধবিমানের নির্মাতা লকহিড-মার্টিন (Lockheed Martin) কঠোর গোপনীয়তা বজায় রাখে। নিজেদের ‘নয়নের মণি’ বিমানের প্রযুক্তি এবং যন্ত্রাংশ— উভয়ের উপরই কঠোর নিয়ন্ত্রণ রাখে পেন্টাগন। এর অর্থ হল, যে কোনও রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্ব ভারতের হাতে ছাড়া হবে না। তার জন্য ভারতে একাধিক মার্কিন কর্মীকে মোতায়েন করতে হবে। আমেরিকার সব ঋতুর বন্ধু ইজরায়েলের মতো মিত্র দেশও এটি করতে পারে না। এতে একদিকে যেমন ভারতে মার্কিন গুপ্তচরবৃত্তির ঝুঁকি বাড়বে, তেমনই ভারতীয় প্রতিরক্ষা ক্রয়ের বিষয়ে মার্কিন হস্তক্ষেপের সম্ভাবনাও বৃদ্ধি পাবে। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ভারতকে কঠোর এন্ড-ইউজার মনিটরিং ক্লজ চাপাতে পারে, যাতে ভারত সায় দেবে না।

    কারণ দুই…

    কৌশলগত দিক থেকেও এফ-৩৫ ভারতীয় সামরিক কৌশলের সঙ্গে কতটা খাপ খাবে, সেটিও বড় প্রশ্ন। প্রতিটি এফ-৩৫ বিমান মার্কিন অটোমেটিক লজিস্টিক্স ইনফরমেশন সিস্টেম (এএলআইএস)-এর সঙ্গে যুক্ত। এই প্রযুক্তি দিয়ে বিমানের ওপর প্রতিনিয়ত নজরদারি চালাতে পারে পেন্টাগন (Pentagon)। এমনকি, প্রয়োজনে যে কোনও সময়ে যদি আমেরিকা চায়, তাহলে এটি কার্যত ‘বন্ধ’ করে দিতে পারবে। যুদ্ধকালীন পরিস্থিতিতে যুক্তরাষ্ট্র চাইলে বিমানের কার্যকারিতা সীমিত করতে পারে। আমেরিকা চাইলে ভারতকে কিছু নির্দিষ্ট অঞ্চলে (যেমন পাকিস্তানের বিরুদ্ধে) এটি ব্যবহার করতে দিতেও আপত্তি জানাতে পারে। একইভাবে, আপত্তি জানাতে পারে নির্দিষ্ট দেশের (যেমন রাশিয়া) সঙ্গে এই বিমান নিয়ে ভারতের যুদ্ধ-মহড়ায় অংশগ্রহণের ক্ষেত্রেও।

    কারণ তিন…

    সামরিক বিশেষজ্ঞদের মতে, ভারতের জন্য চ্যালেঞ্জ হল এফ-৩৫ বিমানের দাম, রক্ষণাবেক্ষণ ও প্রশিক্ষণের জন্য বিপুল খরচের ভার। এক-একটি এফ-৩৫ ফাইটার জেটের (F-35 Stealth Fighter) আনুমানিক দাম ৮ থেকে ১১ কোটি মার্কিন ডলার। ঘণ্টা-প্রতি ওড়ানোর খরচ ৩৫ থেকে ৪০ হাজার ডলার। তার ওপর, যুদ্ধের সময় এফ-৩৫ বিমানের গোটা ফ্লিট উপলব্ধ নাও হতে পারে। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ক্ষেত্রেও বর্তমানে এফ-৩৫ ফ্লিটের (F-35 Sale Offer) মাত্র ৫১ শতাংশই উপলব্ধ। ভারতের ক্ষেত্রে এই পরিমাণ আরও কম হবে। অর্থাৎ, ভারত যদি ৩৬টি বিমান কেনে (রাফালের মতো), তাহলে যে কোনও সময় মাত্র ১৮টি কিংবা তারও কম সংখ্যক বিমান উপলব্ধ থাকবে। যুদ্ধ পরিস্থিতিতে এটি সম্পূর্ণ অবাস্তব। এই খরচের জেরে, খোদ মার্কিন বাহিনীই এই বিমান নিয়ে নাকানি-চোবানি খাচ্ছে। সহজ কথায় বলতে গেলে,  এফ-৩৫ একটি সাদা হাতি হিসেবে প্রমাণিত হতে পারে। প্রেসিডেন্ট হওয়ার আগে, খোদ ডোনাল্ড ট্রাম্প এফ-৩৫ যুদ্ধবিমানের উচ্চ দামের সমালোচনা করে তাকে ‘নিয়ন্ত্রণের বাইরে’ বলে দাগিয়েছিলেন। আজ তিনিই ভারতকে এই বিমান বেচতে উদ্যোগী। প্রশ্ন উঠছে, কেন?

    কারণ চার…

    নেটো গোষ্ঠীভুক্ত দেশ না হওয়ায় পরবর্তীকালে, এফ-৩৫ নিয়ে সমস্যায় পড়তে হতে পারে ভারতকে। কারণ, ভারতের কাছে যে কোনও বিক্রি মার্কিন কংগ্রেসের মাধ্যমে পাস করা কঠিন হবে এবং লকহিড থেকে খুচরা যন্ত্রাংশ এবং আপগ্রেড পেতে ভারতের সম্ভবত মার্কিন আইনসভার নিয়মিত অনুমোদনের প্রয়োজন হতে পারে। ট্রাম্প একবার চিত্রের বাইরে চলে গেলে অথবা তার চার বছরের মেয়াদের দ্বিতীয়ার্ধে ক্ষমতাহীন হয়ে পড়লে, প্রতিহিংসাপরায়ণ ডেমোক্র্যাটিক কংগ্রেস এফ-৩৫ প্রোগ্রামের (F-35 Sale Offer) কী ক্ষতি করতে পারে তা অনুমান করাই যায়।

    কারণ পাঁচ…

    এফ-৩৫ (F-35 Stealth Fighter) একটি এক ইঞ্জিন-বিশিষ্ট যুদ্ধবিমান। ভারতীয় বায়ুসেনা সাধারণত দুই ইঞ্জিন বিশিষ্ট যুদ্ধবিমান পছন্দ করে, কারণ এটি নিরাপত্তা এবং রক্ষণাবেক্ষণের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। ভারতের মতো দেশে, যেখানে প্রচুর গরম ও ধুলোবালি ও আর্দ্রতা থাকে এবং যেখানে বার্ড হিটের (পাখির ধাক্কা) ঝুঁকি অনেক বেশি, এক ইঞ্জিন বিশিষ্ট যুদ্ধবিমান একটি বড় ঝুঁকি হতে পারে। একটি ইঞ্জিন বিকল হলে, দ্বিতীয় ইঞ্জিনের সহায়তায় পাইলট নিরাপদে অবতরণ করতে পারে। কিন্তু এক ইঞ্জিন থাকলে, বিমান হারানোর সম্ভাবনা অনেক বেশি। আর সেই বিমান যদি এফ-৩৫ এর মতো ব্যয়বহুল হয়, তাহলে তো বড় ক্ষতি।

    কারণ ছয়…

    মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র থেকে ফাইটার নিলে সমস্যাটা মূলত হবে গ্রাউন্ড ক্রু-দের। যাঁরা এই ফাইটারের ডেটা লিঙ্কের উপরে কাজ করবেন। কারণ, ভারত তাঁর আকাশসীমা রক্ষায় ব্যবহার করে রুশ এস-৪০০ মিসাইল সিস্টেম। সমস্যা হল, এস-৪০০ সিস্টেমের সঙ্গে এফ-৩৫ কখনই কাজ করতে পারবে না। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এই দুয়ের মধ্যে ডেটা-লিঙ্কের অনুমতি দেবে না। কারণ, তারা কখনই চাইবে না যে, এস-৪০০ আকাশে এফ-৩৫কে চিহ্নিত করতে পারুক। ফলে, আইডেন্টফিকেশন ফ্রেন্ড অর ফো বা আইএফএফ সিস্টেমে আপডেট করে ফ্রেন্ডলি-ফায়ার থেকে এফ-৩৫ বিমানকে রক্ষা করার কাজটা প্রচণ্ড চ্যালেঞ্জিং হবে। অর্থাৎ, নিজেদের বিমান ও ক্ষেপণাস্ত্রের মধ্যে কমিউনিকেট না হলে, যুদ্ধের সময় আকাশে ভারতের এফ-৩৫ বিমানকেই ধ্বংস করার জন্য উড়ে যাবে ভারতেরই এস-৪০০।

    কারণ সাত…

    এফ-৩৫ (F-35 Stealth Fighter) কিনলে ভারতকে মার্কিন প্রযুক্তিগত ও কৌশলগত নিয়ন্ত্রণের আওতায় চলে যেতে হবে। কারণ, সফটওয়্যারের অ্যাক্সেস না পাওয়ার কারণে ভারত এই ধরনের ফাইটারের নিজের অস্ত্র মিসাইলের মত ক্ষেপণাস্ত্র মোতায়েন করতে পারবে না। অর্থাৎ এই ফাইটার নিলে ভারতকে আলাদাভাবে আমেরিকার অস্ত্র কিনতে হবে ব্যবহারের জন্য। আমেরিকা চাইবে, নিজেদের ক্ষেপণাস্ত্র গছাতে (F-35 Sale Offer)। তাতে, তাদের ব্যবসা বাড়বে। অন্যদিকে, আখেরে ভারতের ক্ষতি হবে। কারণ, ভারতের নিজের দেশীয় ক্ষেপণাস্ত্রের গবেষণা, উৎপাদন ও ব্যবহার মার খাবে। এতে, প্রতিরক্ষা অর্থনীতির ক্ষতি। ইতিমধ্যেই, ভারতকে এফ-৩৫ বিমানের সঙ্গে তাদের এক গুচ্ছ সামরাস্ত্রর তালিকাও দিয়েছে ট্রাম্প প্রশাসন। বলা হয়েছে, এফ-৩৫ কিনলে এগুলো ওর সঙ্গে পেতে পারো (মোদ্দা কথা, কিনতে হবে)।

    কারণ আট…

    শুধু ক্ষেপণাস্ত্র-সমস্যাই সব নয়। ভারত যদি এফ-৩৫ কেনে (F-35 Sale Offer), তাহলে মিড-এয়ার রিফুয়েলিং বা মাঝ-আকাশে জ্বালানি ভরার ক্ষেত্রে একটা বড় প্রশ্ন হয়ে দাঁড়াবে। কারণ, ভারতের (আবার রুশ-নির্মিত) আইএল-৭৮ ট্যাঙ্কারগুলো প্রোব-অ্যান্ড-ড্রোগ পদ্ধতি ব্যবহার করে। কিন্তু এফ-৩৫ ফ্লাইং বুম পদ্ধতির জন্য ডিজাইন করা। আবার, ভারত যদি এফ-৩৫ বিমানে প্রোব সিস্টেম ইন্টিগ্রেট করতে চায়, তাহলে তাতে রাজি হবে না আমেরিকা। ফলে, এফ-৩৫ বিমানে তেল ভরার জন্য আলাদা করে বোয়িং কেসি পেগাসাস বা এ৩৩০ এমআরটিটি-র মতো ফ্লাইং বুম বৈশিষ্ট থাকা ট্যাঙ্কার কিনতে হবে, যা ভারতের খরচ বাড়াবে।

    কারণ নয়…

    এফ-৩৫ যুদ্ধবিমানের (F-35 Stealth Fighter) অন্যতম প্রধান বিক্রয়-বৈশিষ্ট্য হল এর স্টেলথ প্রযুক্তি, যা শত্রুর রেডার এড়াতে সক্ষম। কিন্তু সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বিশ্বব্যাপী রেডার ও ইনফ্রারেড ট্র্যাকিং সিস্টেমের প্রভুত উন্নতির ফলে স্টেলথ ফাইটারগুলোর কার্যকারিতা প্রশ্নবিদ্ধ হয়েছে। আজ না হলেও, আগামী কয়েক বছরের মধ্যে এফ-৩৫-কে ট্র্যাক করতে সক্ষম রেডার বানিয়ে ফেলবে আমেরিকার প্রতিপক্ষ দেশগুলি। সেই সময়, নিজের অ্যাডভান্টেজ বা কার্যকারিতা হারিয়ে ফেলবে এফ-৩৫। এমনিতেই, বলা হচ্ছে যে, রুশ এস-৫০০ এয়ার ডিফেন্স সিস্টেম উন্নত ইনফ্রারেড সার্চ অ্যান্ড ট্র্যাক (IRST) সেন্সর প্রযুক্তির সাহায্যে স্টেলথ বিমানের উপস্থিতি শনাক্ত করতে পারে।

    এও দাবি যে, সু-৫৭ ও ইউরোপীয় টাইফুনের মতো বিমানে ব্যবহৃত এই অত্যাধুনিক ইনফ্রারেড সেন্সর আমেরিকার দুই পঞ্চম প্রজন্মের স্টেলথ বিমান এফ-২২ ও এফ-৩৫ ফাইটারগুলোকেও (F-35 Stealth Fighter) ৫০ থেকে ১০০ কিলোমিটার দূর থেকে সনাক্ত করতে সক্ষম। পাশাপাশি, যুদ্ধক্ষেত্রে কখনই এক ধরনের রেডার ব্যবহৃত হয় না। বরং একাধিক রেডারের নেটওয়ার্ক শত্রু বিমান চিহ্নিত করে। স্টেলথ বিমান একটি নির্দিষ্ট কোণ থেকে রেডার এড়াতে সক্ষম হলেও, একাধিক কোণ থেকে রেডারের তরঙ্গ প্রতিফলিত হওয়ার সম্ভাবনা থাকে, যা স্টেলথ প্রযুক্তিকে সীমিত করে ফেলে।

    কারণ দশ…

    ভারত যদি এফ-৩৫ কেনে (F-35 Sale Offer), তাহলে নিজস্ব দেশীয় পঞ্চম প্রজন্মের যুদ্ধবিমান অ্যামকা তৈরির কাজ বড় ধাক্কা খাবে। অ্যামকার জন্য প্রয়োজনীয় বিনিয়োগ কমে যেতে পারে। ইতিহাস বলছে, যখনই কোনও দেশ আমেরিকার যুদ্ধবিমান কেনে, তখন তাদের নিজস্ব পঞ্চম-প্রজন্মের ফাইটার প্রোগ্রাম পিছিয়ে যায়। ভারতের ক্ষেত্রেও তা হতে পারে। তাই ভারতের উচিত আত্মনির্ভরতা বজায় রেখে অ্যামকা প্রকল্পে মনোযোগ দেওয়া, যাতে ভবিষ্যতে আমেরিকা নয়, ভারতই অন্যদের পঞ্চম প্রজন্মের ফাইটার সরবরাহ করতে পারে।

  • F-35 vs Su-57: রেডারকে ফাঁকি দিতে ওস্তাদ এফ-৩৫, গতি-অস্ত্রসম্ভারে তুখোড় সু-৫৭, ভারতের মন জিতবে কে?

    F-35 vs Su-57: রেডারকে ফাঁকি দিতে ওস্তাদ এফ-৩৫, গতি-অস্ত্রসম্ভারে তুখোড় সু-৫৭, ভারতের মন জিতবে কে?

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: সোশ্যাল মিডিয়ায় চোখ রাখলে দেখা যাবে, এখন একটাই প্রশ্ন চারদিকে ঘুরে ফিরে বেড়াচ্ছে। তা হল- মার্কিন এফ-৩৫ নাকি রুশ সু-৫৭, (F-35 vs Su-57) কোন যুদ্ধবিমান কিনবে ভারত? কিন্তু কেন উঠছে এই প্রশ্ন, তা বুঝতে হলে ফিরে যেতে হবে গতমাসের মাঝামাঝি সময়ে। বেঙ্গালুরুতে আয়োজিত এরো ইন্ডিয়া শো-তে দুই যুদ্ধবিমানই উপস্থিত ছিল। এক কথায় এই দুই বিমানই ছিল এবারের সংস্করণের ‘শো-স্টপার’। পঞ্চম প্রজন্মের এই দুই স্টেলথ যুদ্ধবিমানই তাদের কলা-কৌশল যথাসম্ভবভাবে তুলে ধরেছে। অবশ্যই ভারতকে আকৃষ্ট করার জন্য। এর সঙ্গেই ওয়াশিংটন ও মস্কোর থেকে বিবৃতির পর এই প্রশ্ন উঠতে শুরু করে।

    এদিকে হোয়াইট হাউস, ওদিকে ক্রেমলিন!

    একদিকে, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে পাশে নিয়ে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানান, তাঁরা ভারতকে এই বিমান দেওয়ার প্রস্তাব রেখেছেন। ভারত এই বিমানই নেবে, সেই ব্যাপারে তিনি যথেষ্ট আশাবাদী। হোয়াইট হাউস যখন এগিয়েছে, তাহলে ক্রেমলিন পিছিয়ে থাকে কী করে! পুতিনের তরফে আরও এক কদম বাড়িয়ে ঘোষণা করা হয়, ভারত সু-৫৭ নিলে তারা প্রযুক্তি হস্তান্তরেও রাজি। এর পর থেকেই সমাজ মাধ্যমের পাতায় জমে উঠেছে মার্কিন এফ-৩৫ বনাম রুশ সু-৫৭ যুদ্ধবিমানের ‘লড়াই’। এখন প্রতিরক্ষা বিশেষজ্ঞ থেকে শুরু করে দেশপ্রেমী নেটাগরিক— সকলেই যে যার মতো ব্যাখ্যা-বিশ্লেষণ শুরু করে দিয়েছে।

    রুশ সু-৫৭ বনাম মার্কিন এফ-৩৫ (F-35 vs Su-57)

    এখন প্রশ্ন হল, ভারত যেখানে দেশে নিজস্ব পঞ্চম প্রজন্মের স্টেলথ যুদ্ধবিমান তৈরি করার চেষ্টা চালাচ্ছে, তাহলে সারা কেন হাজার হাজার কোটি টাকা খরচ করে বিদেশ থেকে পঞ্চম প্রজন্মের যুদ্ধবিমান কিনবে? এর উত্তর অবশ্য অনেকেরই জানা। তা হল, ভারতের নিজস্ব পঞ্চম প্রজন্মের যুদ্ধবিমান যার নাম অ্যাডভান্সড মাল্টি-রোল এয়ারক্র্যাফট বা অ্যামকা— তার এখনও দিনের আলোই দেখেনি। ফলে, বায়ুসেনায় (Indian Air Force) অন্তর্ভুক্ত হতে এখনও অন্তত এক দশক দেরি। অন্যদিকে, চিন ষষ্ঠ প্রজন্মের যুদ্ধবিমানের ট্রায়াল শুরু করে দিয়েছে। ফলে, ভারতীয় বায়ুসেনাকে এখনই একটা বিকল্প উপায় বেছে নিতে হবে। তা হল, বিদেশ থেকে অল্প সংখ্যক যুদ্ধবিমান কিনে পরিস্থিতি আপাতত সামাল দেওয়া। আর সেখানেই বিকল্প হিসেবে নাম উঠে এসেছে এই দুই প্রতিদ্বন্দ্বীর— এফ-৩৫ ও সু-৫৭ (F-35 vs Su-57)।

    এক নজরে দেখে নেওয়া যাক এই দুই অত্যাধুনিক স্টেলথ যুদ্ধবিমানের মধ্যে প্রযুক্তিগত তফাত কোথায়—

    প্রযুক্তিগত তুল্যমূল্য বিশ্লেষণ

    উৎপাদন ও উন্নয়ন— সু-৫৭ যুদ্ধবিমান তৈরি করেছে রাশিয়ার সুখোই সংস্থা, যাদের ব্যবহৃত সু-৩০ এমকেআই যুদ্ধবিমান ব্যবহার করে ভারতীয় বায়ুসেনা। এখ ভারতেই নির্মিত হয় সু-৩০এমকেআই। সু-৫৭ বিমানে আকাশ থেকে আকাশ এবং আকাশ থেকে ভূমিতে আঘাত হানার ক্ষমতা রয়েছে। অন্যদিকে, এফ-৩৫ যুদ্ধবিমান তৈরি করেছে মার্কিন সংস্থা লকহিড-মার্টিন। এটি মাল্টি-রোল স্টেলথ ফাইটার জেট।

    স্টেলথ সক্ষমতা— সু-৫৭ যুদ্ধবিমানের স্টেলথ-সক্ষমতা মার্কিন পঞ্চম প্রজন্মের এফ-৩৫ বা এফ-২২ যুদ্ধবিমানের তুলনায় কম উন্নত। অন্যদিকে, এফ-৩৫ বিমানের ‘স্টেলদিনেস’ উচ্চমানের। শত্রুর রেডারে প্রায় ধরা পড়ে না এই যুদ্ধবিমান।

    ইঞ্জিন ও গতি— সু-৫৭ যুদ্ধবিমানকে শক্তি জোগায় স্যাটার্ন এএল-৪১এফ১ ইঞ্জিন। এর সর্বোচ্চ গতি ২২৭৮ কিমি প্রতি ঘণ্টা, যা আনুমানিক শব্দের গতির ২.২৫ গুণ। অন্যদিকে, এফ-৩৫ জেটে রয়েছে প্র্যাট অ্যান্ড হুইটনি এফ১৩৫ ইঞ্জিন। এর সর্বোচ্চ গতি ১৪৩২ কিমি প্রতি ঘণ্টা, যা শব্দের গতির প্রায় ১.১৫ গুণ। ফলে, গতিতে মার্কিন জেটকে টেক্কা দেবে রুশ যুদ্ধবিমান (F-35 vs Su-57)।

    অস্ত্রবহনের ক্ষমতা— সু-৫৭ যুদ্ধবিমানে রয়েছে ১২টি ‘হার্ডপয়েন্ট’, যাতে বিভিন্ন ধরনের মিসাইল মোতায়েন করা যেতে পারে। এই তালিকায় রয়েছে হাইপারসনিক (শব্দের চেয়ে ন্যূনতম ৫ গুণ বেশি গতিসম্পন্ন) ক্ষেপণাস্ত্র, আকাশ থেকে আকাশ এবং আকাশ থেকে ভূমিতে নিক্ষেপযোগ্য মিসাইল। অন্যদিকে, এফ-৩৫ যুদ্ধবিমানে কেবলমাত্র ৬টি অস্ত্রবহণ করতে পারে। যার মধ্যে রয়েছে আকাশ থেকে আকাশ এবং আকাশ থেকে ভূমি ক্ষেপণাস্ত্র।

    লক্ষ্যবস্তু চিহ্নিতকরণ— সু-৫৭ যুদ্ধবিমানে রয়েছে এন০৩৬ বেলকা এইসা রেডার সিস্টেম, যা একসঙ্গে একাধিক লক্ষ্যবস্তু চিহ্নিত করতে সক্ষম। অন্যদিকে, এফ-৩৫ জেটে রয়েছে এএন/এপিজি-৮১ এইসা রেডার এবং ইলেক্ট্রো-অপটিক্যাল টার্গেটিং সিস্টেম, যা আরও নিখুঁতভাবে শত্রুর সঠিক জায়গা চিহ্নিত করতে সক্ষম।

    লড়াইয়ের সক্ষমতা— সুপারসনিক (শব্দের চেয়ে বেশি দ্রুত) গতিতে সুপারক্রুজ করতে সক্ষম সু-৫৭। অর্থাৎ এটি আফটারবার্নার ব্যবহার না করেই সুপারসনিক গতিতে উড়তে পারে। এর সরাসরি অর্থ হল, এটি অতিরিক্ত জ্বালানি না পুড়িয়েও দীর্ঘ দূরত্বে অভিযান সম্পন্ন করতে পারে। এফ-৩৫ যুদ্ধবিমানের সুপারক্রুজ ক্ষমতা নেই, অর্থাৎ সুপারসনিক গতিতে উড়তে একে অতিরিক্ত জ্বালানি পোড়াতে হয় (F-35 vs Su-57)।

    মাল্টিরোল ক্ষমতা— সু-৫৭ আকাশ থেকে আকাশে এবং ভূমিতে আক্রমণ চালানোর জন্য তৈরি, তবে এটি মূলত ‘ডগফাইট’-এর (মাঝ-আকাশে দুই বিমানের লড়াই) ক্ষেত্রে আরও ভালো। অন্যদিকে, এফ-৩৫ হল একটি সত্যিকারের বহুমুখী যুদ্ধবিমান। এটি একইধারে আকাশে যুদ্ধ, নজরদারি, ইলেকট্রনিক ওয়ারফেয়ার এবং স্থল আক্রমণে সক্ষম।

    ম্যানুভারাবিলিটি বা দ্রুত দিশা পরিবর্তন— সু-৫৭ যুদ্ধবিমানে থ্রাস্ট-ভেক্টরিং প্রযুক্তি রয়েছে, যা এটিকে অত্যন্ত বিপজ্জনক করে তোলে। বিশেষ করে, ডগফাইটের সময় এটি ভীষণ কাজে লাগে। তুলনায়, এতটা উন্নত নয় এফ-৩৫। এটি বহুমুখী উদ্দেশ্যে তৈরি করা হয়েছে।

    ব্যবহার এবং মূল্য— সু-৫৭ শুধুমাত্র রাশিয়ায় ব্যবহৃত হয়, তাও সীমিত সংখ্যায়। এর এক-একটির দাম ৩.৫ থেকে ৫ কোটি মার্কিন ডলার পর্যন্ত। সেখানে, বিশ্বের অনেক দেশ ব্যবহার করে এফ-৩৫ যুদ্ধবিমান, এবং এর এক-একটির দাম ৮ থেকে ১১ কোটি মার্কিন ডলার পর্যন্ত। অর্থাৎ, রুশ যুদ্ধবিমানের দ্বিগুণ (F-35 vs Su-57)।

    রয়েছে আরও অনেক হিসেব-নিকেশ

    এতো গেল প্রযুক্তিগত বিশ্লেষণ। যা পরখ করে দেখা হবে একাধিক পরীক্ষা-নিরীক্ষার মাধ্যমে। কিন্তু, এর বাইরেও রয়েছে অনেক হিসেব-নিকেশ। যার মধ্যে কূটনৈতিক ও কৌশলগত লাভ-ক্ষতির বিষয় জড়িয়ে। তার পর বিচার্য হবে প্রয়োজনীয়তা, দাম, সরঞ্জাম ও সুযোগ-সুবিধার বিষয়গুলি। এত ধাপ পেরিয়ে তবে চূড়ান্ত হবে ভারতীয় বায়ুসেনার (Indian Air Force) ঘরে কোন বিমানটি আসবে।

  • Excess salt: নুনেই রয়েছে বিপদ! অতিরিক্ত নুন খেলে কোন কোন রোগের ঝুঁকি বাড়ে?

    Excess salt: নুনেই রয়েছে বিপদ! অতিরিক্ত নুন খেলে কোন কোন রোগের ঝুঁকি বাড়ে?

    তানিয়া বন্দ্যোপাধ্যায় পাল

    দুপুরে হোক বা রাতে, ভাতের পাতে এক চামচ নুন (Excess salt) না নিলে অনেকেরই খাওয়া ঠিকমতো হয় না। আবার অনেকের পেয়ারা হোক বা কুল, নানান রকম ফলেও নুন মিশিয়ে খাওয়ার অভ্যাস। আর তার জেরেই বাড়ে নানান রোগের দাপট। চিকিৎসকদের একাংশ জানাচ্ছেন, দিনে দেড় চামচের বেশি পরিমাণ নুন খেলেই নানান জটিল রোগের ঝুঁকি বাড়ে‌। বিভিন্ন রান্নায় নুন দেওয়া হয়। কিন্তু তারপরেও অনেকেই অতিরিক্ত নুন খান। আর এই অভ্যাস বিপজ্জনক। দেখে নিন, অতিরিক্ত নুন থেকে কী কী রোগ হতে পারে?

    উচ্চ রক্তচাপের ঝুঁকি বাড়ায় (Excess salt) 

    চিকিৎসকদের একাংশ জানাচ্ছেন, নুনে প্রচুর পরিমাণে সোডিয়াম থাকে। তাই নিয়মিত অতিরিক্ত নুন খেলে শরীরে সোডিয়ামের পরিমাণ বেড়ে যায়। এর ফলে রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে থাকে না। উচ্চ রক্তচাপের ঝুঁকিও বেড়ে যায়। তাঁরা জানাচ্ছেন, উচ্চ রক্তচাপ শরীরে একাধিক রোগের কারণ তৈরি করে। হৃদপিণ্ড, কিডনি এবং স্নায়ুর নানান জটিল রোগের কারণ উচ্চ রক্তচাপ। তাই অতিরিক্ত নুন খাওয়া খুবই বিপজ্জনক।

    হৃদরোগের ঝুঁকিও বাড়ায়

    চিকিৎসকদের একাংশ জানাচ্ছেন, উচ্চ রক্তচাপ হৃদরোগের ঝুঁকি বাড়িয়ে দেয়। তাঁরা জানাচ্ছেন, লাগাতার রক্তচাপ অনিয়ন্ত্রিত থাকলে এবং উচ্চ রক্তচাপের প্রবণতা বেড়ে গেলে হৃদযন্ত্রের উপরে চাপ পড়ে‌‌। এর ফলে হৃদরোগের ঝুঁকিও বেড়ে যায়। তাই হৃদরোগ এড়াতে নুন (Excess salt) খাওয়ায় রাশ টানা জরুরি।

    লিভারের রোগের ঝুঁকি বাড়ায়

    চিকিৎসকদের একাংশ জানাচ্ছেন, নুন পেটের পক্ষেও বিপজ্জনক হতে পারে। অতিরিক্ত নুন খেলে অন্ত্র এবং লিভারের ক্ষতি হয়। এর কারণ নুনের সোডিয়াম। এই উপাদান অতিরিক্ত হলে লিভারে অনেক সময়েই গভীর ক্ষতি সৃষ্টি করে। তাই বেশি পরিমাণ নুন খেলে পেটের নানান সমস্যা তৈরি হওয়ার ঝুঁকি বেড়ে যায়।

    অনিদ্রার সমস্যা বাড়িয়ে দেয় (Excess salt) 

    চিকিৎসকদের একাংশ জানাচ্ছেন, নুন হরমোনের ভারসাম্যেও সমস্যা তৈরি করে। অতিরিক্ত নুন খেলে শরীরের হরমোনের ভারসাম্য নষ্ট হয়। এর ফলে ঘুমের সমস্যা তৈরি হয়। একটানা ঘুম না হওয়া, রাতে বারবার ঘুম ভেঙে যাওয়ার মতো সমস্যা দেখা দিতে পারে। আর এর থেকেই অনিদ্রার মতো‌ সমস্যা তৈরি হয়। যা শরীরের পক্ষে অত্যন্ত ক্ষতিকারক।

    হাত-পা ফুলে যাওয়ার ঝুঁকি

    পায়ের পাতা কিংবা হাত ফুলে যাওয়ার ঝুঁকি বাড়িয়ে দেয় নুন (Excess salt)। চিকিৎসকদের একাংশ জানাচ্ছেন, অতিরিক্ত নুন খেলে শরীরে আয়োডিন, সোডিয়াম সহ একাধিক উপাদানের তারতম্য ঘটে। এর ফলে হাত ও পায়ের বিভিন্ন পেশিতে প্রভাব পড়ে। শরীর ফুলে যাওয়ার ঝুঁকিও তৈরি হয়।

    কী পরামর্শ দিচ্ছেন চিকিৎসকেরা?

    চিকিৎসকদের একাংশ জানাচ্ছেন, বাড়ির তৈরি রান্নায় পরিমাণ মতো নুন (Excess salt) দেওয়া হয়। তাই বাড়তি নুন খাওয়ার অভ্যাস ছাড়তেই হবে। শরীর সুস্থ রাখতে এই অভ্যাস পরিবর্তন জরুরি। তাছাড়া পেয়ারা, জাম, কুলের মতো ফল নুন মাখিয়ে খেলে তার পুষ্টিগুণ একেবারেই চলে যায়। বরং শরীরের জন্য তা ক্ষতিকারক হয়ে ওঠে। তাই নুন মাখিয়ে ফল খাওয়ার অভ্যাস বিপজ্জনক। পাশপাশি প্রক্রিয়াজাত খাবার এড়িয়ে চলার পরামর্শ দিচ্ছেন চিকিৎসকেরা। তাঁরা জানাচ্ছেন, পিৎজা, বার্গার, সসেজের মতো খাবারে যে ধরনের মাংস ব্যবহার করা হয়, সেগুলো প্রক্রিয়াজাত। এই মাংসের মান ও স্বাদ ধরে রাখতে অতিরিক্ত নুন দেওয়া হয়। যা শরীরের পক্ষে অত্যন্ত বিপজ্জনক (Disease)। তাই এই ধরনের প্রক্রিয়াজাত খাবার ও এড়িয়ে চলার পরামর্শ দিচ্ছেন বিশেষজ্ঞদের একাংশ।

    DISCLAIMER: এই প্রতিবেদনটি বিশেষজ্ঞদের মতামত অনুযায়ী লেখা। এর সঙ্গে মাধ্যম-এর কোনও সম্পর্ক নেই। মাধ্যম এর কোনও দায় নিচ্ছে না। এখানে বলা যে কোনও উপদেশ পালন করার আগে অবশ্যই কোনও চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নিন।

LinkedIn
Share