Tag: madhyom bangla

madhyom bangla

  • India: ২০২৪ সালে রেকর্ড ১২৯ বিলিয়ন মার্কিন ডলার দেশে পাঠিয়েছেন প্রবাসী ভারতীয়রা, জানাল রিজার্ভ ব্যাঙ্ক

    India: ২০২৪ সালে রেকর্ড ১২৯ বিলিয়ন মার্কিন ডলার দেশে পাঠিয়েছেন প্রবাসী ভারতীয়রা, জানাল রিজার্ভ ব্যাঙ্ক

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: বিদেশে উপার্জন করে রেকর্ড পরিমাণ টাকা দেশে পাঠিয়েছেন প্রবাসী ভারতীয়রা (India)। এনিয়ে সম্প্রতি এক তথ্য় সামনে এনেছে ভারতের রিজার্ভ ব্যাঙ্ক। সেখানেই দেখা যাচ্ছে, ২০২৪ সালে ভারতে বিদেশ থেকে এসেছে ১২৯.৪ বিলিয়ন বা ১২ হাজার ৯৪০ কোটি মার্কিন ডলার। শুধু তাই নয়, তার আগের তিন বছরেও প্রায় একই পরিমাণ টাকা ঢুকছে এদেশে। ওয়াকিবহাল মহলের মতে, বিদেশভূমে পড়ে থেকে টাকা কামানোতে ভারতীয়রা অন্যান্য দেশের চেয়ে এগিয়ে রয়েছে। এই তথ্য যেমন সামনে এল, একইভাবে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের অর্থনৈতিক বাজারে ভারতীয়রা উপার্জনের দিক থেকে অন্যান্য দেশকে পিছনে ফেলেছে, এটাও প্রতিষ্ঠিত হল।

    কী জানাল রিজার্ভ ব্যাঙ্ক?

    দেশের রিজার্ভ ব্যাঙ্ক (India) সূত্রে জানানো হয়েছে, রেমিট্যান্স বা প্রবাসী ভারতীদের উদ্যোগেই দেশে আসছে এই কোটি কোটি মার্কিন ডলার। এই প্রসঙ্গেই তথ্য প্রকাশ করা হয়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাঙ্কের তরফে (India Remittance)। সেই রিপোর্টে রিজার্ভ ব্যাঙ্ক জানিয়েছে, ২০২৪ সাল নিয়ে টানা তিন বছর রেমিট্যান্স হিসাবে ১০০ বিলিয়ন ডলারের বেশি অর্থ দেশে পাঠিয়েছেন প্রবাসী ভারতীয়রা (India)।

    বিগত ২৫ ধরে অটুট রয়েছে ভারতের রেকর্ড

    কেন্দ্রীয় ব্যাঙ্কের (India) তরফে আরও জানানো হয়েছে, নব্বইয়ের দশকেই বিশ্বজুড়ে তথ্যপ্রযুক্তি বিপ্লব আসে। এর ফলে দেশের অন্দরে বিদেশে উপার্জনের টাকার আগমন বাড়তে শুরু করে। বর্তমানে এই রেমিট্যান্স বা পরিযায়ী টাকা গ্রহণের ব্যাপারে ভারত বিশ্বের মধ্য়ে শীর্ষে রয়েছে বলে জানা যাচ্ছে। শুধু তাই নয়, বিগত ২৫ বছর ধরে শীর্ষস্থানে নিজেকে বজায়ও রেখেছে ভারত।

    ভারত ছাড়া দ্বিতীয় ও তৃতীয় স্থানে কোন কোন দেশে

    এই রেমিট্যান্স গ্রহণের নিরিখে ২০২৪ সালে ভারতের পরেই দ্বিতীয় স্থান পায় মেক্সিকো। ২০২৪ সালে ওই দেশে বিদেশি অর্থ ঢুকেছে ৬৮ বিলিয়ন মার্কিন ডলার। তৃতীয় স্থানে রয়েছে চিন। রাষ্ট্রপুঞ্জের রিপোর্ট অনুযায়ী দেখা যাচ্ছে, ২০২৪ সালে চিনে পরিযায়ীদের অর্থ হিসাবে প্রায় এসেছে ৪৮ বিলিয়ন মার্কিন ডলার।

  • Ram Navami: ধর্ম প্রতিষ্ঠা করতে আবির্ভূত হন বিষ্ণুর সপ্তম অবতার, জানুন রাম নবমীর মাহাত্ম্য

    Ram Navami: ধর্ম প্রতিষ্ঠা করতে আবির্ভূত হন বিষ্ণুর সপ্তম অবতার, জানুন রাম নবমীর মাহাত্ম্য

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: হিন্দু ধর্মের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ উৎসব রাম নবমী (Ram Navami 2025)। ধর্মীয় ধারণা অনুযায়ী এই তিথিতে রামচন্দ্রের জন্মোৎসব পালিত হয়। শাস্ত্র মতে চৈত্র মাসের শুক্লপক্ষের নবমী তিথিতে জন্মগ্রহণ করেছিলেন রাম। তাই এই তিথিটি রাম নবমী নামে পরিচিত। এ বছর চৈত্র মাসের শুক্লাপক্ষের নবমী (Ram Navami) তিথি শুরু হয়েছে ৫ এপ্রিল সন্ধ্যা ৭ টা ২৬ মিনিট থেকে। চলবে আজ রবিরার ৬ এপ্রিল সন্ধ্যা ৭ টা ২২ মিনিট পর্যন্ত। রাম নবমীতে পুজোর শুভ সময় হল সকাল ১১ টা ০৮ মিনিট থেকে দুপুর ১ টা ৩৯ মিনিট পর্যন্ত।

    রাম নবমীর গুরুত্ব

    শাস্ত্র মতে ভগবান বিষ্ণু বিভিন্ন যুগে নানা অবতারে মর্তে আবির্ভুত হয়েছিলেন। ত্রেতা যুগে তিনি ভগবান রামের (Ram Navami 2025) অবতারে অযোধ্যার রাজা দশরথ ও রানি কৌশল্যার ঘরে জন্ম নিয়েছিলেন। সংসারকে নানা বিষয়ে শিক্ষাদান করতেই তিনি মর্তে অবতীর্ণ হয়েছিলেন। অধর্মকে নাশ করে ধর্মকে স্থাপন করা, অশুভ শক্তির বিনাশ করে শুভশক্তি সূচনাই হল রাম নবমীর (Ram Navami 2025) মূল উদ্দেশ্য। প্রাচীন ভারতের হিন্দু ধর্মগ্রন্থনুযায়ী ভগবান বিষ্ণু হলেন বিশ্ব সংসারের পালক। বিশ্ব সংসারের সকল মানুষকে ন্যায়পরায়ণতা ও সত্যের পথ প্রদর্শন করতে এবং মিথ্যার উপর সত্যের জয় প্রতিষ্ঠা করতে শিখিয়েছেন ভগবান রাম। ভগবান রামের উল্লেখ যে শুধুমাত্র প্রাচীন ধর্ম গ্রন্থে পাওয়া যায় তা নয়, জৈন ও বৌদ্ধ ধর্মগ্রন্থেও শ্রীরামের উল্লেখ রয়েছে।

    কেন পালন করা হয় রাম নবমী

    রাম নবমী (Ram Navami 2025) হিন্দুধর্মের ঐতিহ্যবাহী অনুষ্ঠান। মন, প্রাণ ও দেহকে পবিত্র করার জন্য এই উৎসবটি পালন করা হয়। অশুভ শক্তির অপসারণ ও ঐশ্বরিক শক্তির আগমনের জন্য রামনবমী উৎসব পালিত হয়। ভগবান রাম অত্যাচারী রাক্ষসরাজ রাবণকে বধ করার জন্য পৃথিবীতে জন্মগ্রহণ করেছিলেন। শত্রুদের বিনাশ করে, অধর্মকে ধ্বংস করে পৃথিবীতে ধর্ম প্রতিষ্ঠা করেছিলেন শ্রীরাম। তিনি তাঁর পিতার নির্দেশে রাজবাড়ির ঐশ্বর্য ও প্রাচুর্য ত্যাগ করে বনবাসী হয়েছিলেন। পিতৃসত্য পালনের জন্য চোদ্দ বছর বনবাসে থেকে তিনি রাবণকে বধ করে অযোধ্যায় ফিরেছিলেন। এই চোদ্দ বছর শ্রীরামের জীবনে নানা ঝড়, বাধা, বিপত্তির, ঘাত-প্রতিঘাত সহ প্রতিকূল পরিস্থিতির মধ্যে থেকেও তিনি নিজ লক্ষ্যে স্থির ছিলেন। তাঁর রাজ্যে প্রজারা সুখে শান্তিতে বাস করত এবং সেই রাজ্যের সমৃদ্ধি ও ন্যায়বিচার অব্যাহত ছিল। এই জন্য রামের শাসনের অনুসরণে সুশাসিত রাজ্যকে ‘রামরাজ্য’ বলা হয়।

    কীভাবে পালন করবেন রাম নবমী

    চৈত্র মাসের শুক্ল পক্ষের ব্রহ্ম মুহূর্তে উঠে রাম ও সীতাকে প্রণাম করে দিন শুরু করুন। ঘর পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন করে বাড়ির প্রবেশদ্বারে আমপাতার তোরণ টাঙান। রঙ্গোলি বানাতে পারেন। এই তিথিতে ধ্বজা লাগানো শুভ। এর পর স্নান করে ব্রতর সংকল্প গ্রহণ করুন। এই তিথিতে হলুদ রঙের নতুন পোশাক পরে পুজো করা শুভ ফলদায়ী। এর পর সূর্যকে জলের অর্ঘ্য প্রদান করুন। ঠাকুরঘরে একটি চৌকিতে লাল বা হলুদ আসন বিছিয়ে রাম পরিবারের প্রতিমা বা ছবি স্থাপন করুন। এর পর আহ্বান মন্ত্র উচ্চারণ করে রামচন্দ্রের ধ্যান করুন। পঞ্চোপচার নিয়মে রাম, লক্ষ্মণ, সীতা ও বজরংবলীর পুজো করুন। এ সময়ে রাম চালিসা বা রাম স্তোত্র পাঠ করতে ভুলবেন না। অবশেষে আরতী করে রামচন্দ্রের কাছে সুখ-সমৃদ্ধি ও ধন লাভের প্রার্থনা করুন।

    ধর্মের প্রতিষ্ঠা

    এই উৎসবের দিন সকালে হিন্দুদের আদি দেবতা সূর্য দেবকে জল প্রদান করে, সর্বোচ্চ ক্ষমতার অধিকারী সূর্য দেবতার আশীর্বাদ গ্রহণ করা হয়। রাম নবমী (Ram Navami 2024) উপলক্ষ্যে ধার্মিক ব্যক্তিরা সমগ্র দিন জুড়ে বৈদিক মন্ত্র পাঠ করেন।  এই দিনটিতে রাম কথার বর্ণনা করে, রাম কাহিনী পড়ে দিনটি পালন করা হয়। অনেকে মন্দিরে যান, অনেকে বাড়িতে রামের মূর্তিতে পুজো করেন। এদিন মন্দ শক্তিকে পরাজিত করে ভালোর প্রতিষ্ঠা করা হয়, অর্ধমকে নিক্ষেপ করে ধর্মের প্রতিষ্ঠা করা হয়। এদিন নিষ্ঠা নিয়ে পুজো করলে মনের অনেক আকাঙ্ক্ষা পূরণ হয়। ভগবানের কৃপায় সব ধরনের সংকট থেকে রক্ষা পাওয়া যায়। অনেকে রাম নবমীর দিন ভগবান রামের সঙ্গেই দেবী দুর্গারও পুজো করেন।

    শপথ নেওয়ার দিন রাম নবমী (Ram Navami)

    ভগবান বিষ্ণুর সপ্তম অবতার রাম। হিন্দুধর্মে রাম অন্তঃহীন প্রেম, সাহস, শান্তি, শক্তি, ভক্তি, কর্তব্য ও মূল্যবোধের দেবতা। তিনি শুধুমাত্র হিন্দু ধর্মেরই নন। তিনি হলেন ভারতীয় ভূখণ্ডের সংস্কৃতির ধারক ও বাহক। এই ঐতিহ্যকে ভাগ করা সম্ভব নয়। রামের নাম ভারতে বসবাসকারী কোটি কোটি নাগরিককে একে অপরের সঙ্গে যুক্ত করে। বিশ্বাস ও সাংস্কৃতিক চেতনার মহান দূত হলেন ‘শ্রীরাম’। স্বামী বিবেকানন্দ বলেছেন, ‘রামচন্দ্র হলেন আদর্শ পুত্র, আদর্শ স্বামী, আদর্শ পিতা সর্বোপরি আদর্শ নৃপতি’। তাই শ্রীরামচন্দ্রের জন্মদিনটি ভারতবাসী তথা হিন্দুদের কাছে পবিত্র দিন, শপথ নেওয়ার দিন। ‘রাম নবমী’ (Ram Navami 2025) উৎসব হল মিলনের উৎসব, ভালোবাসার উৎসব, পবিত্রতার উৎসব, সত্য ও ধর্মস্থাপনের উৎসব।

  • India Sri Lanka Relation: ভারত-বিরোধী কোনও শক্তি শ্রীলঙ্কার জমি ব্যবহার করতে পারবে না, মোদিকে আশ্বাস দিশানায়েকের

    India Sri Lanka Relation: ভারত-বিরোধী কোনও শক্তি শ্রীলঙ্কার জমি ব্যবহার করতে পারবে না, মোদিকে আশ্বাস দিশানায়েকের

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: উদ্বেগ বাড়াল চিনের। দ্বীপরাষ্ট্র শ্রীলঙ্কার (India Sri Lanka Relation) সঙ্গে প্রতিরক্ষা সহ একগুচ্ছ ইস্যুতে মৌ চুক্তি স্বাক্ষর করল ভারত। তৃতীয় দফায় ক্ষমতায় আসার পর প্রথম শ্রীলঙ্কা সফরে শনিবার কলম্বো পৌঁছন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। সেখানে গার্ড অফ অনারে তাঁকে সম্মান জানানো হয়। সফরের সময় দুই দেশের মধ্যে ৭টি গুরুত্বপূর্ণ মৌ সাক্ষর হয়েছে। প্রতিরক্ষা, জ্বালানি, ডিজিটাল প্ররিকাঠামো, স্বাস্থ্য এবং বাণিজ্য খাতে চুক্তি হয়েছে ভারত-শ্রীলঙ্কার। ভারত মহাসাগর অঞ্চলে চিনের প্রভাব বিস্তারের মধ্যেই এই গুরুত্বপূর্ণ চুক্তিগুলি সাক্ষর হয়েছে। চিনের নাম না নিয়ে শ্রীলঙ্কার প্রেসিডেন্ট অনুরা কুমারা দিশানায়েক এদিন জানান, ভারত বিরোধী কোনও শক্তিকে শ্রীলঙ্কার মাটি ব্যবহার করতে দেবেন না। প্রধানমন্ত্রী মোদির উপস্থিতিতে তিনি ভারতকে আশ্বস্ত করেছেন যে শ্রীলঙ্কা তার ভূমি ভারতের নিরাপত্তা স্বার্থে প্রতিকূল পদক্ষেপ নেওয়ার জন্য ব্যবহার করতে দেবে না।

    ভারত বিরোধী কোনও শক্তিকে আশ্রয় নয়

    শ্রীলঙ্কার মাটি এবং জলপথ ব্যবহার করে ভারতের নিরাপত্তার বিঘ্নিত করতে দেওয়া হবে না। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে বৈঠকে এমনটাই জানিয়েছেন শ্রীলঙ্কার প্রেসিডেন্ট অনুরা দিশানায়েক। ভারতের নিরাপত্তার জন্য ক্ষতিকর কোনও কাজে শ্রীলঙ্কার মাটি এবং জলভাগকে ব্যবহারের অনুমতি দেওয়া হবে না বলেও আশ্বস্ত করেছেন তিনি। বস্তুত, গত কয়েক বছরে চিনের বেশ কিছু জাহাজ শ্রীলঙ্কার দক্ষিণে, ভারত মহাসাগরে ঘুরপাক খেয়েছে। শ্রীলঙ্কার হামবানটোটা আন্তর্জাতিক সমুদ্রবন্দরের একাংশ ইজারা নিয়েছে চিন। এই পরিস্থিতিতে মোদির সঙ্গে বৈঠকে অনুরার এই বার্তা যথেষ্ট তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে।

    শ্রীলঙ্কায় রাজকীয় অভ্যর্থনা প্রধানমন্ত্রী মোদিকে

    তিনদিনের সফরে শ্রীলঙ্কায় (India Sri Lanka Relation) গিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। বিমানবন্দরে রাজকীয় অভ্যর্থনা জানানো হয় তাঁকে। কলম্বোতে নমোকে স্বাগত জানান শ্রীলঙ্কার প্রেসিডেন্ট অনুরা কুমারা দিশানায়েক। তিনদিন পড়শি দেশে একগুচ্ছ কর্মসূচি রয়েছে মোদির। থাইল্যান্ডের ব্যাংককে অনুষ্ঠিত বিমস্টেক (বে অব বেঙ্গল ইনিশিয়েটিভ ফর মাল্টিসেক্টরাল, টেকনিকাল এন্ড ইকোনমিক কোঅপারেশন) শীর্ষ সম্মেলনে যোগ দিয়েছিলেন মোদি। সেখান থেকেই শ্রীলঙ্কার উদ্দেশে রওনা দেন তিনি। শনিবার সকালে মোদি পা রাখেন পড়শি দেশে। বিমানবন্দরে তাঁকে স্বাগত জানান বৈদেশিক কর্মসংস্থান ও পর্যটন মন্ত্রী বিজিথা হেরাথ, স্বাস্থ্য ও গণমাধ্যম মন্ত্রী নালিন্দা জয়তিসা, শ্রম মন্ত্রী অনিল জয়ন্ত, মৎস্য মন্ত্রী রামালিঙ্গম চন্দ্রশেখর, নারী ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রী সরোজা সাবিত্রী পালরাজ এবং বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রী কৃষ্ণাথা আবেসেনা। সকলের থেকে রাজকীয় অভ্যর্থনা পেয়ে আপ্লুত মোদি।

    ভারত শ্রীলঙ্কা মউ স্বাক্ষর

    দীর্ঘ ৬ বছর পর শ্রীলঙ্কায় গিয়েছেন মোদি (India Sri Lanka Relation)৷ দ্বীপরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট অনুরা কুমারা দিশানায়েক এবং প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি শনিবার ৭টি সমঝোতা স্মারকে সই করেছেন, যার মধ্যে রয়েছে প্রথম প্রতিরক্ষা সহযোগিতা চুক্তি। এই ঐতিহাসিক চুক্তি উভয় নেতার মধ্যে আলোচনা শেষে সই করা হয়৷ প্রতিরক্ষা সহযোগিতা বিষয়ে সই করা স্মারকটি ভারত ও শ্রীলঙ্কার সম্পর্কের ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্ত, যা প্রায় ৩৫ বছর আগে ত্রিনকোমালি এলাকা একটি শক্তি কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলার পরিকল্পনা রয়েছে। অন্য একটি চুক্তি শ্রীলঙ্কার পূর্বাঞ্চলে ভারতের বহুমুখী সহায়তার প্রসারে সহায়ক ভূমিকা রাখবে।

    ভারত ও শ্রীলঙ্কার মধ্যে সই হওয়া ৭টি মউ

    ১. এইচভিডিসি আন্তঃসংযোগের বাস্তবায়নের জন্য (বিদ্যুৎ আমদানি/রফতানি)
    ২. ডিজিটাল রূপান্তরের জন্য সফল ডিজিটাল সমাধান শেয়ারিংয়ে
    ৩. ত্রিনকোমালি এলাকা শক্তি কেন্দ্র হিসেবে উন্নয়নের পরিকল্পনা
    ৪. ভারত ও শ্রীলঙ্কার সরকারের মধ্যে প্রতিরক্ষা সহযোগিতার জন্য চুক্তি
    ৫. শ্রীলঙ্কার পূর্বাঞ্চলের জন্য বহুমুখী গ্রান্ট সহায়তার চুক্তি
    ৬. স্বাস্থ্য ও চিকিৎসা ক্ষেত্রে সহযোগিতা চুক্তি
    ৭. ভারতীয় ফার্মাকোপিয়া কমিশন এবং শ্রীলঙ্কার জাতীয় ঔষধ নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষের মধ্যে ফার্মাকোপিয়াল সহযোগিতা সংক্রান্ত চুক্তি হয়

    চিন্তা বাড়ল চিনের

    ভারত মহাসাগরে চোখ রাঙাচ্ছে চিন। গবেষণার নামে ‘নজরদারি’ চালাতে সাগরে ঘোরাফেরা করছে একাধিক চিনা জাহাজ। ভারতের হাঁড়ির খবর বের করাই সেগুলোর লক্ষ্য বলে আশঙ্কা করা করা হচ্ছে। গোটা পরিস্থিতির উপর তীক্ষ্ণ নজর রাখছে দিল্লি। শ্রীলঙ্কায় নোঙর করার চেষ্টা করছে চিনের ‘গুপ্তচর’ জাহাজ। এই আবহে মোদির এই সফর তাৎপর্যপূর্ণ বলেই মনে করছেন কূটনীতিকরা। তার মধ্যে ভারত-শ্রীলঙ্কা দুই দেশের মধ্যে স্বাক্ষরিত হল প্রতিরক্ষা চুক্তি। যা চিন্তা বাড়াচ্ছে বেজিংয়ের।

    মৎস্যজীবীদের মুক্তি

    ভারতীয় মৎস্যজীবীরা সমুদ্রে মাছ ধরতে গিয়ে কখনও কখনও ভুলবশত শ্রীলঙ্কার জলসীমায় প্রবেশ করে যান। এমন বেশ কয়েকজন মৎস্যজীবী এখনও শ্রীলঙ্কার জেলে বন্দি। ভারতীয় মৎস্যজীবীদের যাতে অবিলম্বে ছেড়ে দেওয়া হয়, সে কথাও শ্রীলঙ্কার প্রেসিডেন্টকে জানিয়েছেন মোদি। বৈঠকের পরে যৌথ বিবৃতিতে অনুরাকে পাশে নিয়ে আবারও সেই কথা বলেছেন তিনি। মোদি বলেন, “মৎস্যজীবীদের বিষয়ে আমাদের মধ্যে আলোচনা হয়েছে। এ ক্ষেত্রে মানবিক দৃষ্টিভঙ্গির বিষয়ে আমরা একমত হয়েছি। তাঁদের (মৎস্যজীবীদের) দ্রুত ছেড়ে দেওয়া উচিত। তাঁদের নৌকাও ফিরিয়ে দেওয়া উচিত।” পরে বিদেশসচিব বিক্রম মিস্রী জানান, ভারতকে আশ্বস্ত করা হয়েছে ১১ জন মৎস্যজীবীকে শীঘ্রই মুক্তি দেওয়ার বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিয়েছেন শ্রীলঙ্কার কর্তৃপক্ষ। আগামী দিনে আরও মৎস্যজীবীকে মুক্তি দেওয়া হবে বলে আশাবাদী তিনি।

  • US Woman on India: ‘ভারতই সন্তানদের মানুষ করার সেরা ঠিকানা’, কেন জানালেন আমেরিকান মহিলা?

    US Woman on India: ‘ভারতই সন্তানদের মানুষ করার সেরা ঠিকানা’, কেন জানালেন আমেরিকান মহিলা?

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ভারততীর্থ মহামনবের মিলনক্ষেত্র। বরবার বিশ্বের নানা প্রান্তের মানুষ মিলিত হয় এই পুণ্যভূমিতে। ভারতীয় সংস্কৃতির সঙ্গে মিলেমিশে একাকার হয়ে গিয়েছে শক-হূণ-পাঠান-মোঘল থেকে ইংরেজ, পর্তুগীজ এমনকি আমেরিকানরাও। সকলকে নিজের সঙ্গে একাত্ম করে নিয়েছে ভারতবাসী। বৈচিত্রের মধ্যে ঐক্যই ভারতের বৈশিষ্ট্য। সম্প্রতি কার্স্টেন ফিশার (US Woman on India) নামে এক আমেরিকান জানিয়েছেন তিনি তাঁর সন্তানদের ভারতেই বড় করতে চান। গত চার বছর ধরে যুক্তরাষ্ট্র ছেড়ে ভারতে থাকছেন তিনি। দিল্লিতে তাঁর তিন সন্তানকে বড় করছেন কার্স্টেন। সম্প্রতি এক ভিডিওতে তাঁর এই সিদ্ধান্তের পেছনের কারণগুলো বিস্তারিতভাবে বর্ণনা করেছেন কার্স্টেন (Kristen Fischer)।

    সহানুভূতিশীল মন

    কার্স্টেন বলেন, “ভারতে বসবাসের মাধ্যমে আমার সন্তানরা বিভিন্ন মানুষ এবং সংস্কৃতির প্রতি সহানুভূতি বাড়াতে পারবে, যা তাদের সামাজিক দক্ষতা উন্নত করতে সাহায্য করবে।” ফিশার জানান, ভারতের পরিবারগুলি খুবই বন্ধুত্বপূর্ণ এবং পারস্পরিক সম্পর্কের প্রতি তাদের বিশেষ যত্ন থাকে। তিনি বিশ্বাস করেন, এর ফলে তার সন্তানরা আরও গভীর সম্পর্ক তৈরি করতে সক্ষম হবে, যা আত্মকেন্দ্রিক মার্কিন সংস্কৃতির তুলনায় অনেক বেশি গুরুত্বপূর্ণ। তিনি আরও বলেন, “ভারতে যে অঞ্চলে দারিদ্র্য এবং ধন-সম্পদের বৈপরীত্য রয়েছে, সেখানে জীবন যাপনের মাধ্যমে সন্তানরা সহজতা, কৃতজ্ঞতা এবং নিজেদের কাছে যা আছে তার মূল্য বুঝতে শেখে।”

    পরিবারের অনুভূতি

    ভারতীয় সমাজে সম্পর্কের গভীরতা এবং একে অপরকে সহায়তা করার পরিবেশের প্রশংসা করে কার্স্টেন তাঁর ভিডিওতে বলেন, “যদিও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে অর্থ উপার্জন করা কিছুটা সহজ, কিন্তু সত্যিকারের সুখ আসে সম্পর্ক এবং পরিবারের অনুভূতি থেকে, যা আমি ভারতে খুঁজে পেয়েছি।” এছাড়া, তিনি উল্লেখ করেন যে ভারতে বসবাসের ফলে তাঁর সন্তানরা বিশ্বের নানা প্রান্তের বন্ধু তৈরি করতে সক্ষম হবে, যা ভবিষ্যতে তাদের পেশাগত জীবনে সহায়ক হতে পারে। ফিশারের মতে, ভারতে আসার পর তিনি আরও বেশি সুখী। সাম্প্রদায়িক এবং সাংস্কৃতিকভাবে নিজেকে আরও সম্পৃক্ত অনুভব করেন, যা তিনি যুক্তরাষ্ট্রে কখনোই অনুভব করেননি।

  • Indian Army: ১০ মিলিসেকেন্ডেই দুশমন খতম! পাক-সীমান্তে বসছে এআই-নির্ভর রোবোটিক ওয়েপন সিস্টেম

    Indian Army: ১০ মিলিসেকেন্ডেই দুশমন খতম! পাক-সীমান্তে বসছে এআই-নির্ভর রোবোটিক ওয়েপন সিস্টেম

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: সীমান্ত সুরক্ষা সুনিশ্চিত করতে বসতে চলেছে ‘টেন এআই ওয়েপন সিস্টেম’ (Ten AI Weapon System / TAIWS)। জম্মু-কাশ্মীর সীমান্তে পাহারা দেবে এই আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স নির্ভর ওয়েপন সিস্টেম। শীত-গ্রীষ্ম বা বর্ষা, পাকিস্তানের দিক থেকে সীমান্ত পেরিয়ে জঙ্গি অনুপ্রবেশ হতেই থাকে। ওয়াঘার ওপার থেকে জঙ্গি ভারতে ঢোকার কোনও বিরাম নেই। কখনও রাতের অন্ধকারে, কখনও দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়ার আড়ালে পাক জঙ্গিরা কাশ্মীরে ঢুকে ভারতের মাটিকে অশান্ত করতে, দেশের রক্তক্ষরণ ঘটাতে চায়। সেই সন্ত্রাসের আঁতুরঘর পাকিস্তানকে শায়েস্তা করতেই সীমান্তে নজিরবিহীন এক অস্ত্র মোতায়েন করতে চলেছে ভারতীয় সেনা।

    কী করবে টেন এআই ওয়েপন সিস্টেম

    এমন অস্ত্র না কেউ কখনও দেখেছে, না শুনেছে! শুনলে মনে হবে কল্পবিজ্ঞানের গল্প! কিন্তু সেটাই এবার বাস্তবে করে দেখাল ভারত। মুহূর্তে শত্রুকে চিহ্নিত করে কয়েক মিলিসেকেন্ডের মধ্যেই তাকে ঘায়েল করে দেবে টেন এআই ওয়েপন সিস্টেম (TAIWS)। এতে রয়েছে ঘন গাছপালা স্ক্যান করার জন্য দুটি ক্যামেরা। রয়েছে একটি মাঝারি মেশিনগান ব্যবহার করে যে কোনও হামলা মোকাবিলা করার ক্ষমতা। সব থেকে বড় বৈশিষ্ট হল এই সিস্টেম মাত্র ১০ মিলিসেকেন্ডের মধ্যে লক্ষ্যগুলিকে সারিবদ্ধ, সনাক্ত, ট্র্যাক এবং গুলি করতে পারে। এআই-ভিত্তিক “ট্র্যাক অ্যান্ড শুট” অস্ত্র, সম্প্রতি এরো ইন্ডিয়া ২০২৫-এ প্রদর্শন করা হয়েছিল।

    ১০ মিলিসেকেন্ডে দুশমন খতম

    এই যন্ত্রের প্রাইমারি ও সেকেন্ডারি ক্যামেরা প্রথমে চিহ্নিত করবে শত্রুকে। তারপর মেশিনগানের সাহায্যে অনুপ্রবেশকারী বা জঙ্গিকে গুলি করে আক্রমণ শানাবে। শত্রুর গতিবিধি আঁচ করে মাত্র ১০ মিলিসেকেন্ডেই শত্রুর খেল খতম করে দেবে আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স নির্ভর এই ওয়েপন সিস্টেম। তবে শত্রুপক্ষের উপর গুলি চালানো হবে কিনা, সেই সংক্রান্ত সিদ্ধান্ত নেবেন বাঙ্কারে বসে সিস্টেমটির নিয়ন্ত্রণের দায়িত্বে থাকা সেনা কর্মী। আগামী মাসে এই সিস্টেমটি মোতায়েন করা হবে বলে আশা করা হচ্ছে।

    এই সিস্টেমে রয়েছে অনন্য বৈশিষ্ট্য

    এই সিস্টেমে রয়েছে একটি উচ্চক্ষমতাযুক্ত ডে ক্যামেরা ও অত্যাধুনিক থার্মাল ইমেজ ক্যামেরা অন্ধকার বা ঝড়-কুয়াশার মতো প্রতিকূল আবহাওয়াতেও ২ কিলোমিটার পর্যন্ত স্পষ্ট ভাবে অনুসন্ধান চালাতে সক্ষম। টেন এআই ওয়েপন সিস্টেম-এর ক্যামেরা ৪০এক্স পর্যন্ত জুম করাও যাবে। মিডিয়াম মেশিন গানের ১.৮ কিলোমিটার পাল্লার গুলি জঙ্গল বা পাথরের আড়ালে লুকিয়ে থাকা শত্রুকেও ঘায়েল করে দিতে পারে নিমেষে। তবে, এই সিস্টেমের অনন্য বৈশিষ্ট্য হল, এর সেকেন্ডারি ক্যামেরার নেটওয়ার্ক, যা ভূখণ্ডের প্রয়োজনীয়তার উপর নির্ভর করে ৫০০ মিটার থেকে ২ কিমি ব্যবধানে স্থাপন করা যাবে। ফলে, একটি ক্যামেরা থেকে শত্রু নিজেকে আড়াল করতে সক্ষম হলেও, বিভিন্ন পয়েন্ট ও অ্যাঙ্গলে থাকা ক্যামেরায় সহজেই ধরা পড়ে যাবে।

    রিমোট থাকবে সেনা অফিসারের হাতেই

    কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা আধুনিক অস্ত্র ব্যবস্থার ক্রমবর্ধমান গুরুত্বপূর্ণ অংশ হয়ে উঠেছে। স্বায়ত্তশাসিত ড্রোন থেকে শুরু করে স্মার্ট ক্ষেপণাস্ত্র পর্যন্ত। যদিও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা-ভিত্তিক অস্ত্র ব্যবস্থা অনেক সুবিধা প্রদান করে, তবুও এর কিছু বাধ্যবাধকতা আছে। তাই শত্রু দমন করলেও মানবতার দিক থেকে কোনও প্রশ্ন উঠুক তা চায় না ভারত। তাই টেন এআই ওয়েপন সিস্টেম (TAIWS) শত্রুকে শনাক্ত করলেও তার উপর গুলি চালানো হবে কিনা, সেই সংক্রান্ত সিদ্ধান্ত নেবেন বাঙ্কারে রিমোট হাতে দায়িত্বে থাকা সেনা কর্মী।

    অস্ত্র ব্যবস্থায় এআই

    অস্ত্র ব্যবস্থায় এআই-এর ব্যবহার নতুন কোনও ঘটনা নয়। কয়েক দশক ধরে, সামরিক গবেষকরা লক্ষ্য শনাক্তকরণ, গোয়েন্দা তথ্য সংগ্রহ, সরবরাহ ও সরবরাহ শৃঙ্খল ব্যবস্থাপনা সহ বিভিন্ন সামরিক প্রয়োগ উন্নত করার জন্য এআই অ্যালগরিদমের ব্যবহার অন্বেষণ করে আসছেন। সম্প্রতি, মানবহীন আকাশযান (UAV) এবং ড্রোনের মতো স্বায়ত্তশাসিত অস্ত্র তৈরিতে এআই ব্যবহারের আগ্রহ বেড়েছে, যা সরাসরি মানুষের নিয়ন্ত্রণ ছাড়াই কাজ করতে পারে। এই অস্ত্রগুলি সামরিক অভিযানের গতি এবং দক্ষতা উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি করেছে। তবে ভারতীয় সীমান্তে এই ধরনের অস্ত্র ব্যবহার প্রথম।

    কবে বসবে এইওয়েপন সিস্টেম

    আগামী কয়েক মাসের মধ্যেই জম্মু ও কাশ্মীর সীমান্তে সেনার বাঙ্কারে এই অস্ত্র বসানোর পরিকল্পনা রয়েছে ভারতীয় সেনাবাহিনীর। আগামী দিনে কাশ্মীর সীমান্ত সুরক্ষিত করতে ভারতীয় সেনার এই সমরাস্ত্র যে নিজের কেরামতি দেখাতে চলেছে তা আর বলার অপেক্ষা রাখে না। সেনা ও বন্দুকের গুলির সঙ্গে তাল মিলিয়ে এবার সীমান্ত পাহারায় নয়া উদাহরণ তৈরি করতে চলেছে টেন এআই ওয়েপন সিস্টেম (TAIWS)। সাম্প্রতিক অতীতে সীমান্ত সুরক্ষা সুনিশ্চিত করতে একাধিক যুগান্তকারী সিদ্ধান্ত নিয়েছে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক। এবার পাকিস্তান সীমান্তে অনুপ্রবেশ রুখতে অত্যাধুনিক এআই প্রযুক্তির অস্ত্র বসাতে চলেছে ভারতীয় সেনা। পাকিস্তানি সন্ত্রাসী ও অনুপ্রবেশকারী রুখতে আগামী দিনে ভারতের (India) নয়া বাজি আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স নির্ভর ওয়েপন সিস্টেম।

  • PM Modi: মুকুটে নয়া পালক! শ্রীলঙ্কার সর্বোচ্চ নাগরিক সম্মান ‘মিত্র বিভূষণ’ পেলেন মোদি

    PM Modi: মুকুটে নয়া পালক! শ্রীলঙ্কার সর্বোচ্চ নাগরিক সম্মান ‘মিত্র বিভূষণ’ পেলেন মোদি

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: মোদির মুকুটে নয়া পালক! এবার শ্রীলঙ্কার সর্বোচ্চ নাগরিক সম্মান পেলেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী (PM Modi)। আজ শনিবারই একথা ঘোষণা করেছেন শ্রীলঙ্কার রাষ্ট্রপতি অনুরা কুমার দিশানায়েক। শ্রীলঙ্কার সর্বোচ্চ নাগরিক সম্মান ‘মিত্র বিভূষণ’ (Mitra Vibhushana) পাওয়ার পরে, এই সম্মান মোদি ১৪০ কোটি ভারতীয়র উদ্দেশ্যে উৎসর্গ করেছেন। সম্মান পাওয়ার পর প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘‘ভারত ও শ্রীলঙ্কার জনগণের মধ্যে ঐতিহাসিক সম্পর্ক এবং গভীর বন্ধুত্বের প্রতিফলন ঘটাল এই সম্মান। এর জন্য আমি রাষ্ট্রপতি, শ্রীলঙ্কার সরকার এবং এর জনগণকে ধন্যবাদ জানাই।’’

    স্বাধীনতা স্কোয়ারে প্রথম কোনও বিদেশি রাষ্ট্রপ্রধানকে দেওয়া হয় সম্মান

    বিশ্লেষকদের মতে, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির (PM Modi) শ্রীলঙ্কা সফর অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। ভারতের প্রতিবেশী এই দ্বীপরাষ্ট্র সফরে একদিকে যেমন সেদেশের সর্বোচ্চ নাগরিক সম্মান পেলেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী। একইসঙ্গে তাঁকে স্বাগত জানানো হয় দ্বীপরাষ্ট্রের ঐতিহাসিক স্বাধীনতা স্কোয়ারে বর্ণাঢ্য অনুষ্ঠানের মাধ্যমে। প্রথম কোনও বিদেশি রাষ্ট্রপ্রধানকে (PM Modi) স্বাধীনতা স্কোয়ারে এভাবে সম্মানজ্ঞাপন করা হয়। অর্থাৎ ভারতের প্রধানমন্ত্রীর আগে অন্য কোনও বিদেশি রাষ্ট্রনেতাকে এমন সম্মান দেওয়া হয়নি। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের ধারণা, শ্রীলঙ্কার সরকারের এমন সম্মানে দুই দেশের কূটনৈতিক সম্পর্ক আরও মজবুত হবে।

    মিত্র বিভূষণ পদকের বিশ্লেষণ (Mitra Vibhushana)

    মিত্র বিভূষণ বা ধর্মচক্র উভয় দেশের (ভারত ও শ্রীলঙ্কা) সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যকে প্রতিফলিত করে। এই সম্মানে বৌদ্ধ ঐতিহ্য স্থান পেয়েছে। চালের সজ্জিত একটি উপাদান দেখতে পাওয়া যায় মিত্র বিভূষণ। এটি পুন কলস নামে পরিচিত যা সমৃদ্ধির প্রতীক বলে মনে করা হয়। এরসঙ্গে মিত্রবিভূষণে রয়েছে নবরত্ন (নয়টি মূল্যবান রত্ন)। এই নবরত্ন দুই দেশের (ভারত ও শ্রীলঙ্কার) মধ্যে অমূল্য এবং স্থায়ী বন্ধুতের প্রতীক বলে মনে করা হয়। অবশেষে, পদকে রয়েছে সূর্য ও চন্দ্র। এই দুই প্রতীক অতীত ও ভবিষ্যতের বন্ধনকেই নির্দেশ করে। একইসঙ্গে চন্দ্র ও সূর্য ভারত-শ্রীলঙ্কার মধ্যে গভীর সাংস্কৃতিক এবং আধ্যাত্মিক সংযোগকেও প্রতিফলিত করে।

  • Studio Ghibli: গা ভাসিয়েছেন ‘জিবলি’ ট্রেন্ডে? সাবধান! হতে পারে বিরাট ক্ষতি, বলছেন সাইবার বিশেষজ্ঞরা

    Studio Ghibli: গা ভাসিয়েছেন ‘জিবলি’ ট্রেন্ডে? সাবধান! হতে পারে বিরাট ক্ষতি, বলছেন সাইবার বিশেষজ্ঞরা

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: সমাজ মাধ্যমজুড়ে চলছে ‘জিবলি’ ট্রেন্ড (Ghibli Trend)। আট থেকে আশি সকলেই কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ব্যবহার করে সহজেই জাপানি অ্যানিমেটর হায়াও মিয়াজাকির মস্তিষ্কপ্রসূত ‘জিবলি’ স্টুডিওর (Studio Ghibli) তৈরি অ্যানিমেশনের আদলে ছবি বানিয়ে ফেলছেন। যেকোনও ছবিকেই বদলে দিচ্ছে ওপেনএআই সংস্থার ‘চ্যাটজিপিটি’ বা মাস্কের এক্স প্ল্যাটফর্মের এআই ‘গ্রোক’-এর মতো কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা মাধ্যম। তবে বিশেষজ্ঞরা বলছেন এআই-জেনারেটেড স্টুডিও ‘জিবলি’ ছবি ব্যবহারকারীদের জন্য মোটেও নিরাপদ নয়। কারণ হিসেবে তাঁরা জানাচ্ছেন, এআই প্রশিক্ষণের জন্য এই ব্যক্তিগত ছবিগুলি ব্যবহার করা হতে পারে। এর ফলে আমাদের ব্যক্তিগত ও পরিবারের তথ্য সহজেই চলে যাচ্ছে এআই সংস্থাগুলির কাছে।

    এআই গবেষক লুইজা জারোভস্কি কী বলছেন?

    এনিয়ে সম্প্রতি সামনে এসেছে এআই গবেষক লুইজা জারোভস্কির পোস্ট। নিজের এক্স মাধ্যমে এই জানাচ্ছেন, ‘জিবলি’ (Studio Ghibli) ছবি তৈরি করতে গিয়ে নেটিজেনরা নিজেদের সাইবার নিরাপত্তাকে প্রশ্নের মুখে ফেলে দিয়েছেন। ওই গবেষক লিখছেন, ‘‘লক্ষ লক্ষ মানুষ শুধুমাত্র ট্রেন্ডে থাকার জন্য নিজেদের ব্যক্তিগত ছবি তুলে দিচ্ছেন ওপেন এআই বা অন্য কোনও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা সংস্থার হাতে। এটাতে গ্রাহকরা আনন্দ পাচ্ছেন ঠিকই। কিন্তু ঘুরপথে লাভ হচ্ছে ওপেন এআই-এর মতো সংস্থাগুলিরও। বিনামূল্যেই তারা নিজেদের এআই-কে (Ghibli Trend) প্রশিক্ষণ দেওয়ার জন্য লক্ষ লক্ষ ভিন্ন মানুষের ছবি পেয়ে যাচ্ছে।’’

    নেটমহলে তথ্যের নিরাপত্তাহীনতা ও ডিপফেকের মতোও ঘটনাও বৃদ্ধি পাবে

    লুইজা জারোভস্কি তাঁর এক্স মাধ্যমের পোস্টে আরও দাবি করেছেন, ‘‘আমরা নিজেদের ব্যক্তিগত কিংবা পরিবারের সঙ্গে তোলা ছবি তাদের হাতে তুলে দিচ্ছি, শুধুমাত্র ট্রেন্ডে ভাসার জন্য। কিন্তু এর বদলে ওরা বিনামূল্যেই আমাদের জীবনের নানা তথ্যাদি সংগ্রহ করে আরও ক্ষমতাশালী হয়ে উঠছে। যা ওদের আগামী দিনে সুবিধা করে দিতে সক্ষম (Studio Ghibli)।’’ অনেক বিশেষজ্ঞ বলছেন, ‘‘সাধারণের ব্যক্তিগত ছবির অপব্যবহার হতে পারে। মানুষের সম্মতি ছাড়াই এআই সংস্থাগুলি এই সব ছবিকে তাদের এআই মডেল প্রশিক্ষণ তৈরির জন্য ব্যবহার করতে পারে। এমনকি, এই ধরনের ঘটনার ফলে নেটমহলে তথ্যের নিরাপত্তাহীনতা ও ডিপফেকের মতোও ঘটনাও বৃদ্ধি পায়।’’

  • Ram Navami: মমতা জমানায় রামনবমী পালনে বাধা? মূর্তি তৈরিতে ভয় পাচ্ছেন শিল্পীরা, বিধিনিষেধে জেরবার উদ্যোক্তারা

    Ram Navami: মমতা জমানায় রামনবমী পালনে বাধা? মূর্তি তৈরিতে ভয় পাচ্ছেন শিল্পীরা, বিধিনিষেধে জেরবার উদ্যোক্তারা

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: রাত পোহালেই রামনবমী। দেশ জুড়ে ভক্তরা মেতে উঠবেন শ্রী রামের আরাধনায় (Ram Navami)। পশ্চিমবঙ্গের রামনবমী নিয়েও চড়ছে রাজনীতির পারদ। এই আবহে মমতা প্রশাসনের বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠছে রামনবমীর শোভাযাত্রায় বাধা দেওয়ার। স্বরাজ্য পত্রিকায় প্রকাশিত প্রতিবেদন অনুযায়ী, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Banerjee) সরকার হিন্দু সংগঠনগুলির ওপর ব্যাপক বিধিনিষেধ জারি করেছে রামনবমী পালনের বিষয়ে। এক বিশ্ব হিন্দু পরিষদের কর্মীর কথায়, ‘‘পশ্চিমবঙ্গ সরকার কখনও চায় না যাতে আমরা রামনবমী পালন করতে পারি।’’

    হুমকি-হুঁশিয়ারি কুমোরটুলিতে! কী বলছেন শিল্পী?

    এদিকে হুমকি ও ভয়ের কারণে কুমোরটুলির শিল্পীরা রামের (Ram Navami) মূর্তি তৈরি করতে ভয় পাচ্ছেন বলেও অভিযোগ উঠেছে। এক সংবাদমাধ্যমকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে কুমোরটুলির শিল্পী মালা পাল বলেন, ‘‘রামের অর্ডার এসেছিল। তা একটু রাজনীতির মধ্যে চলে গেছে বলে ওই জন্য রামটা আর এবছর করলাম না। মানে অনেকটা রাজনীতির মধ্যে চলে গেছে বলে অনেকে একটু নিতে ভয়ও পাচ্ছে। আমাদের এটা পেশা। বানাতেও ভয় লাগে। কে যে কী বলবে না বলবে।’’

    কী বলছেন রামনবমীর (Ram Navami) উদ্যোক্তা

    রামনবমীর (Ram Navami) এক উদ্যোক্তা বলছেন, ‘‘রামের মূর্তি তৈরির জন্য, এবার শিল্পী খুঁজতে বেশ বেগ পেতে হয়েছে। অনেকেই আমাদের মূর্তির অর্ডার নিতে চাইছিল না। কিন্তু শেষমেশ রুদ্র পাল নামের একজন আমাদের মূর্তি করছেন। অনেকেই নিতে চাইছে না। তাঁরা বলছেন এই সময় করতে পারব না। সরাসরি তো কেউ বলতে পারে না। কিন্তু যেটা বোঝা যাচ্ছে যে একটা ভয়ের পরিবেশ তৈরি করে রেখেছে। আমরা তো ৬ বছর ধরে পুজো করে আসছি কিন্তু এ বছর এখনও পর্যন্ত আমরা সিপি অফিস, পিডাব্লুডি অফিস, ডিএম অফিস, আমাদের লোকাল পুলিশ স্টেশন ও থানাগুলোতে ঘুরে যাচ্ছি। এখনও পর্যন্ত পরিষ্কার করে আমাদের কোনও অনুমতি এখনও দেওয়া হয়নি।’’

    ভক্তিমূলক গান খুব জোরে বাজানো যাবে না

    স্বরাজ্য পত্রিকার মতে, রামনবমী সমাবেশে যাঁরা উদ্যোক্তা এবং আয়োজক তাঁদের কাছ থেকে প্রশাসনের কর্তারা প্রতিশ্রুতি নিয়েছেন। যেকোনও শোভাযাত্রায় ২০০ জনের বেশি রামভক্ত অংশগ্রহণ করতে পারবেন না। এর পাশাপাশি শ্রীরামের পতাকা উত্তোলনের জন্য ব্যবহৃত লাঠি যেন লম্বা না হয়। কোনও অস্ত্র যেন না থাকে সেই নির্দেশও দেওয়া হয়েছে। স্বরাজ্য পত্রিকা আরও লিখছে, রামনবমীর সমাবেশগুলি সেই সমস্ত রাস্তা দিয়ে যেতে দেওয়া হবে না যেখানে মসজিদ রয়েছে। এর পাশাপাশি, একাধিক রামনবমীর শোভাযাত্রাকে একত্রিত হতে দেওয়া হবে না। পুলিশ নির্ধারিত রুটগুলিকে কঠোরভাবে মেনে চলতে হবে। মিছিল চলাকালীন ভক্তিমূলক গান খুব জোরে বাজানো যাবে না। এমনও নির্দেশ দেওয়া হয়েছে বলে উল্লেখ করা হয়েছে স্বরাজ্য পত্রিকার ওই প্রতিবেদনে।

    কী বলছেন বিশ্ব হিন্দু পরিষদের নেতা

    রিপোর্ট অনুযায়ী, কলকাতা, হাওড়া, বর্ধমান, শিলিগুড়ি সমেত রাজ্যের বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ স্থানে রামনবমীর সমাবেশের আয়োজকদেরকে প্রশাসন তলব করেছে। তাঁদের বলা হয়েছে, সমাবেশের আকার যেন খুব বড় না হয়। সেই জন্য তাদের ওপরে চাপ প্রয়োগ করারও অভিযোগ উঠেছে। স্বরাজ্য পত্রিকাকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে বিশ্ব হিন্দু পরিষদের এক নেতা। যিনি উত্তর কলকাতার একটি বড় রামনবমীর (Ram Navami) আয়োজক। তিনি বলেন, ‘‘এত বিধি নিষেধ এবং সতর্কতা দেখেই বোঝা যাচ্ছে যে রাজ্য প্রশাসন কখনও চায় না আমরা যাতে রামনবমী উদযাপন করি। প্রশাসনের তরফ থেকে আরও জানানো হয়েছে যে সমাবেশ চলাকালীন কোনও রকমের অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটলে তার জন্য সম্পূর্ণভাবে দায়ী করা হবে আয়োজকদের।’’

    বদলে যাচ্ছে জনবিন্যাস, অভিযোগ শুভেন্দুর

    এক্ষেত্রে উল্লেখ করা দরকার, গত ২৬ মার্চ হিংসা ছড়ায় মালদার মোথাবাড়িতে। এ নিয়ে বিস্তর অভিযোগ উঠেছে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের প্রশাসনের বিরুদ্ধে। রাজ্যের বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী স্বরাজ্য পত্রিকাকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে বলেন, ‘‘মোথাবাড়ির এই অঞ্চলগুলিতে এবং রাজ্যের অন্যান্য সীমান্তবর্তী জেলাগুলিতে অবৈধ বাংলাদেশি মুসলিমদের ব্যাপক অনুপ্রবেশের ফলে জনবিন্যাসের পরিবর্তন ঘটে গিয়েছে। তিনি আরও বলেন, ‘‘আমরা সকলেই জানি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সরকার এবং অতীতের বামফ্রন্ট সরকার এদেরকে (বাংলাদেশি মুসলিম অনুপ্রবেশকারী) ভোট ব্যাঙ্ক হিসেবে ব্যবহার করে।’’

    শঙ্খ বাজানো, ঢোল বাজানোতে আপত্তি তুলছে মৌলবাদীরা, অভিযোগ দিলীপের

    শুভেন্দু অধিকারীর মতো একই অভিযোগ তুলেছেন বিজেপির প্রাক্তন রাজ্য সভাপতি দিলীপ ঘোষ। তিনি জানিয়েছেন যে পশ্চিমবঙ্গের মৌলবাদীরা হিন্দুদের ধর্মীয় শোভাযাত্রার বিষয়ে নানা জায়গায় আপত্তি জানাচ্ছে। একইসঙ্গে শঙ্খ বাজানো, ঢোল বাজানো, ঘণ্টা বাজানো, ভজন-কীর্তন করা এ বিষয়ে তাদের (মৌলবাদীদের) আপত্তি রয়েছে। বিজেপির প্রাক্তন রাজ্য সভাপতি দিলীপ ঘোষ এই ইস্যুতে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সরকারকে নিশানা করেন এবং তিনি বলেন, ‘‘সংখ্যালঘুদের তোষণ করতেই ব্যস্ত রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী।’’

  • Ram Navami in Ayodhya: ড্রোন দিয়ে ভক্তদের উপর ছেটানো হবে সরযূর জল, ২ লক্ষ প্রদীপের আলোয় ঝলমলে রামনবমীর অযোধ্যা

    Ram Navami in Ayodhya: ড্রোন দিয়ে ভক্তদের উপর ছেটানো হবে সরযূর জল, ২ লক্ষ প্রদীপের আলোয় ঝলমলে রামনবমীর অযোধ্যা

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: রবিবার রামনবমী। পালিত হবে রামলালার জন্মদিন। তার আগে সেজে উঠছে অযোধ্যা (Ram Navami in Ayodhya)। লক্ষাধিক ভক্তের ভিড়ে সরগরম সরযূ নদীর ধার। অযোধ্যায় রামনবমী উদযাপনের প্রস্তুতি চলছে জোরকদমে। ত্রেতা যুগে অযোধ্যায় সূর্যবংশীয় রাজা দশরথ এবং রানী কৌশল্যার পুত্র রূপে, পবিত্র চৈত্র শুক্ল নবমী তিথিতে ভগবান বিষ্ণুর অবতার রূপে শ্রীরামচন্দ্র অধর্মের বিনাশ এবং ধর্ম স্থাপনের উদ্দেশ্যে ধরাধামে অবতীর্ণ হন। তাই চৈত্র শুক্ল নবমী তিথিটি হিন্দুদের কাছে পবিত্র রামনবমী হিসাবে খ্যাত। রামজন্মভূমি অযোধ্যা এই সময় আনন্দে মেতে ওঠে।

    সেজে উঠেছে পথ-ঘাট

    রামনবমী (Ram Navami in Ayodhya) উপলক্ষে সাজ সাজ রব অযোধ্যায়। শহরের প্রধান মন্দির এবং রাস্তাগুলি বর্ণিল ফুল ও আলোকসজ্জায় সজ্জিত করা হয়েছে, যা ভক্তদের মনে আনন্দের সঞ্চার করছে।​ চলতি বছর রামনবমী পালিত হবে ৬ এপ্রিল রবিবার। এই দিনে ভগবান শ্রী রামের জন্মজয়ন্তী উপলক্ষে ভক্তরা বিশেষ পুজো ও উপবাস পালন করেন। পূজার শুভ মুহূর্ত বেলা ১১টা ০৮ থেকে দুপুর ১টা ৩৯ পর্যন্ত নির্ধারিত হয়েছে। রামনবমী উপলক্ষে এদিন ১৮ ঘণ্টা ধরে ভক্তরা রামলালার মূর্তি দর্শন করতে পারবেন। ২০ লাখ ভক্ত সমাগম হবে, বলে মনে করছে অযোধ্যা মন্দির ট্রাস্ট।

    ড্রোন দিয়ে সরযূর জল

    রামনবমী উপলক্ষে অযোধ্যার (Ram Navami in Ayodhya) শ্রী রাম জন্মভূমি মন্দির বিশেষভাবে সজ্জিত হয়েছে। মন্দিরের প্রধান ফটক ও গর্ভগৃহে ভগবান রামের সিংহাসনকে আকর্ষণীয়ভাবে সাজানো হয়েছে, যা ভক্তদের মধ্যে ভক্তি ও উচ্ছ্বাস বাড়িয়ে তুলেছে।​ সমগ্র অযোধ্যা শহরটি উৎসবের রঙে রঙিন হয়েছে। রাস্তায় ঝলমলে আলোকসজ্জা, পরিষ্কার ও প্রশস্ত রাস্তা, সরযূ নদীর তীরের সৌন্দর্য বৃদ্ধি করেছে। ভক্তদের উপর সরযূর জল ছেটানোর জন্য ড্রোন ব্যবহার করা হবে। অযোধ্যার জেলা ম্যাজিস্ট্রেট চন্দ্র বিজয় সিং শুক্রবার এক বিবৃতিতে বলেন, “রাম নবমীতে আগত ভক্তদের উপর সরযূ নদীর পবিত্র জল ছেটানো হবে। এর জন্য ড্রোন ব্যবহার করা হবে। মা সরযূর প্রতি ভক্তদের গভীর বিশ্বাসের কথা মাথায় রেখে এই আয়োজন করা হয়েছে। এটি প্রযুক্তি এবং ঐতিহ্যের এক অনন্য সঙ্গম।”

    দুই লক্ষ প্রদীপ প্রজ্জ্বলন

    উত্তরপ্রদেশ সরকার এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, রামনবমী (Ram Navami in Ayodhya) উপলক্ষে দুই লক্ষেরও বেশি প্রদীপ জ্বালানো হবে সরযূর তীরে। এই দীপোৎসব কেবল আধ্যাত্মিকতার প্রতীকই নয়, পর্যটকদের জন্য একটি অনন্য দৃশ্যও উপস্থাপন করবে। এ ছাড়া, অষ্টমীর দিন কনক ভবন থেকে একটি ঐতিহ্য পদযাত্রার আয়োজন করা হবে, যা রাম কথা পার্কে শেষ হবে। রাম কথা পার্কে নৃত্য, সঙ্গীত এবং নাটকের মতো পরিবেশনা সহ বিভিন্ন সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে। ইতিমধ্যেই শহরের বিভিন্ন স্থানে ভজন ও কীর্তনের ধ্বনি প্রতিধ্বনিত হচ্ছে, যা ভক্তদের মনে ভক্তি ও আনন্দের সঞ্চার করছে।​

    সূর্যতিলক কখন

    এইদিন পুজোর সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ আচারগুলির মধ্যে একটি হল সূর্য তিলক। সূর্যের রশ্মি দিয়ে রামলালা মূর্তির প্রতীকী অভিষেক করা হয় বছরের এই দিনে। গত বছর, অযোধ্যায় (Ram Navami in Ayodhya)  নব উদ্বোধন হওয়া রাম মন্দিরে প্রথমবারের মতো এই ঘটনার সাক্ষী থেকেছিল গোটা বিশ্ব। এই ঘটনাকে সূর্যের আশীর্বাদের প্রতীক বলে ধরে নেওয়া হয়। যেহেতু রামচন্দ্র সূর্যবংশী রাজবংশের বংশধর তাই এই সূর্য তিলকের আয়োজন। এই অনুষ্ঠান কেবল তিলকের আকারে সূর্যের শক্তির শারীরিক রূপকেই সম্মান করে না বরং রামের মধ্যে বিদ্যমান সূর্যের গুণাবলী – তেজ, শক্তি এবং নির্দেশনার মূর্ত প্রতীক। রাম নবমীর দিন ঠিক দুপুর ১২টায় সূর্য তিলকের অনুষ্ঠান হওয়ার কথা। সূর্য দেবতার আশীর্বাদের প্রতীক হিসেবে সূর্যের আলো সরাসরি দেবতার কপালে পড়ার জন্য এই নির্দিষ্ট মুহূর্তটি বেছে নেওয়া হয়। পুরো প্রক্রিয়াটি প্রায় ৫ মিনিট স্থায়ী হবে।

    বিপুল ভক্ত-সমাগমের প্রস্তুতি

    রামনবমী উপলক্ষে অযোধ্যায় (Ram Navami in Ayodhya) বিপুল ভক্ত সমাগম আশা করা হচ্ছে। সেই অনুযায়ী ব্যবস্থাও নিয়েছে উত্তরপ্রদেশ সরকার। যাতে দর্শনার্থীরা কোনও ধরণের অসুবিধার সম্মুখীন না হন, তাই জন্য বিভিন্ন স্থানে ভাণ্ডার, পানীয় জল, স্বাস্থ্য শিবির এবং শৌচাগারের ব্যবস্থা করা হয়েছে। মানুষকে গরমের ক্লান্তি থেকে মুক্তি দিতে শহরের বিভিন্ন স্থানে চটির আয়োজন করা হয়েছে। সেখানে থাকছে ঠান্ডা জলের ব্যবস্থা। এর আগে, উত্তরপ্রদেশ সরকার বলেছিল যে ভক্তদের সুবিধার্থে, শৃঙ্গারহাট থেকে রাম পথের ৩ নম্বর গেট পর্যন্ত মাদুর বিছানো হবে এবং নিয়মিত জল ছিটানো হবে। ধর্মপথের পাশে ছায়াযুক্ত অস্থায়ী শিবির স্থাপন করা হবে এবং ২৪৩টি স্থানে পানীয় জলের সুবিধা প্রদান করা হবে। ধর্মপথ, রামপথ, ভক্তিপথ, আরতি ঘাট, চৌধুরী চরণ সিং ঘাট এবং দর্শন পথ সহ গুরুত্বপূর্ণ রুটগুলিতে তিন-পর্যায়ের পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করা হয়েছে। ভক্তদের ক্রমবর্ধমান সংখ্যার পরিপ্রেক্ষিতে রাম মন্দির ট্রাস্ট দর্শনের সময়কাল বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে। মন্দির প্রাঙ্গণে ভিড় ব্যবস্থাপনার জন্য অতিরিক্ত কর্মী মোতায়েন করা হয়েছে। এছাড়াও, শহরের বিভিন্ন স্থানে স্টল স্থাপন করা হয়েছে, যেখানে স্থানীয় খাবার এবং অন্যান্য সুযোগ-সুবিধা পাওয়া যাবে। আরেকটি আকর্ষণ হবে সরস মেলা, যেখানে সারা দেশের হস্তশিল্প এবং ঐতিহ্যবাহী পণ্য প্রদর্শিত হবে। এখানে স্থানীয় কারিগরদের শিল্প প্রদর্শন করা হবে। রামনবমীর দিন যাঁরা অযোধ্যায় উপস্থিত হতে পারবেন না, তারা প্রসার ভারতীর সরাসরি সম্প্রচারের মাধ্যমে এই উৎসব উপভোগ করতে পারবেন।

  • Amitabh Bachchan: রামনবমীতে অযোধ্যায় ‘রামকথা’ শোনাবেন অমিতাভ বচ্চন! কখন, কোথায় দেখতে পাবেন জেনে নিন

    Amitabh Bachchan: রামনবমীতে অযোধ্যায় ‘রামকথা’ শোনাবেন অমিতাভ বচ্চন! কখন, কোথায় দেখতে পাবেন জেনে নিন

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: রামনবমী (Ram Navami) উপলক্ষে অযোধ্যায় ‘রামকথা’ (Ram Katha) শোনাবেন বলিউড শাহেনশা অমিতাভ বচ্চন (Amitabh Bachchan)। যে অনুষ্ঠানের সাক্ষী থাকবে গোটা দেশ। রামলালার প্রতি তাঁর অগাধ শ্রদ্ধা, ভক্তি, প্রেম। মন্দির প্রতিষ্ঠিত হওয়ার পর থেকেই ঘন ঘন অযোধ্যায় পাড়ি দিয়েছেন অমিতাভ বচ্চন। রামলালার টানে একাধিক জমিও কিনেছেন অযোধ্যা নগরীতে। রামলালার জন্য গড়িয়ে দিয়েছেন সোনার হারও।

    রাম-নামে বিভোর অমিতাভ

    রামলালার প্রাণপ্রতিষ্ঠার অনুষ্ঠানে ছেলে অভিষেক বচ্চনকে নিয়ে সশরীরে হাজিরও হয়েছিলেন অমিতাভ বচ্চন (Amitabh Bachchan)। তারকাদের ভিড়ে একমাত্র বিগ বি’র সঙ্গেই প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে কুশলমঙ্গল বিনিময় করতে দেখা গিয়েছিল। এবার রামনবমীর পুণ্যতিথিতে রামকথা পাঠ করার গুরুদায়িত্ব পড়ল বিগ বি’র কাঁধে। জানা গিয়েছে, এপ্রিল মাসের ৬ তারিখ সকাল ৮টা থেকে দুপুর ১টা পর্যন্ত এই অনুষ্ঠান হবে। জিও হটস্টার-এ লাইভ স্ট্রিমিংয়ের মাধ্যমে এই অনুষ্ঠানে অংশ নিতে পারবেন কোটি কোটি মানুষ। বিগ বি শিশুদের সঙ্গে একটি ইন্টারেক্টিভ সেশনও পরিচালনা করবেন, সেখানে রামায়ণের কিছু নির্বাচিত গল্প আরও আকর্ষণীয় ভাবে তাদের সামনে তুলে ধরা হবে। তাছাড়াও আযোধ্যার বিশেষ পুজো এবং মন্দিরগুলিতে অনুষ্ঠানের নানা দৃশ্য তুলে ধরা হবে। ভদ্রাচলম, পঞ্চবটি, চিত্রকূট এবং আযোধ্যার আরতি, ভজন দেখানো হবে। তাছাড়াও কৈলাশ খের এবং মালিনী অবস্থি সহ জনপ্রিয় শিল্পীদের নিয়ে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান হবে।

    বিরাট সম্মান, বললেন বিগ বি

    এই পবিত্র অনুষ্ঠানে এহেন গুরুভার পেয়ে নিজের অনুভূতি ভাগ করে নিয়েছেন বিগ বি (Amitabh Bachchan)। সিনিয়র বচ্চনের কথায়, “এমন পবিত্র অনুষ্ঠানে অংশ নেওয়া জীবনের এক বিরাট সম্মান। রামনবমী শুধু উৎসব নয়, এক গভীর প্রতিফলনের মুহূর্ত। শ্রীরামের ধর্ম, ভক্তি এবং আদর্শ উদযাপনের সময়। প্রযুক্তির আশীর্বাদে জিও হটস্টার-এর দৌলতে সারা দেশ এদিন সংস্কৃতি এবং আধ্যাত্মিকতার এক অভূতপূর্ব উদযাপনে একত্রিত হবে।” প্রসঙ্গত, প্রতি বছর চৈত্র নবরাত্রির শেষ দিনে ভারত জুড়ে রাম নবমী উদযাপিত হয়। এদিন ভগবান রামের জন্মদিন হিসেবে পালিত হয়।

LinkedIn
Share