Tag: madhyom bangla

madhyom bangla

  • Maha shivratri 2026: সৃষ্টি ও জ্ঞানের প্রতীক শিব, জেনে নিন শিব রাত্রির ঐতিহাসিক মাহাত্ম্য

    Maha shivratri 2026: সৃষ্টি ও জ্ঞানের প্রতীক শিব, জেনে নিন শিব রাত্রির ঐতিহাসিক মাহাত্ম্য

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: মহা শিবরাত্রিতে (Maha shivratri 2026) ভগবান শিবের উদ্দেশ্যে ভক্তরা নিজেদের পুজো আরাধনাকে উৎসর্গ করে থাকেন। স্বয়ং শিব পবিত্র ত্রিমূর্তির প্রতীক। শিবরাত্রির উৎসব শিব ও শক্তির মিলনকে নির্দেশ করে, যা ভারসাম্য, সৃষ্টি এবং জ্ঞানালোকের মূর্ত রূপ। এই দিন কোটি কোটি শিব (Lord Shiv) ভক্ত নিজের মনের বাসনা পূরণ করতে ভগবান শিবকে স্মরণ করে থাকেন। লোকবিশ্বাস, শিবরাত্রিতে শিবের উপাসনা করলে যে কোনও অসাধ্য সাধন হয়। মনস্কামনা পূর্ণ হয়। দেশজুড়ে দ্বাদশ শিবলিঙ্গ সহ শৈব বিগ্রহগুলিতে শিবের উপাসনা করা হয়।

    শিবরাত্রির মহাত্ম্য (Maha shivratri 2026)

    মহাশিবরাত্রি (Maha shivratri 2026) হিন্দুধর্মের অন্যতম পবিত্র উৎসব। ভগবান শিবের উদ্দেশ্যে পালিত হয়, যিনি মহাজাগতিক শক্তি, মন্দের বিনাশ এবং জীবনের নবায়নের প্রতীক। উৎসবের আক্ষরিক অর্থ হলো শিব চতুর্দশীতে শিবের স্মরণে রাত্রি জাগরণ। বিশ্বজুড়ে ভক্তদের কাছে গভীর আধ্যাত্মিক ও সাংস্কৃতিক গুরুত্ব বহন করে এই উৎসব। প্রতি বছর কোটি কোটি ভক্ত রাত জেগে শিবের (Lord Shiv) মন্ত্র জপ এবং আচার অনুষ্ঠান পালন করে থাকেন। বিশ্বাস করা হয়, এই পবিত্র রাতে একাগ্র চিত্তে উপাসনা করলে পূর্বের সমস্ত পাপ থেকে মুক্তি মেলে এবং দিব্য চেতনার সঙ্গে মিলন ঘটে।

    এই বছর, মহা শিবরাত্রি পালিত হচ্ছে রবিবার, ১৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ তারিখে। হিন্দু পঞ্জিকা অনুযায়ী এই উৎসব পরদিন ১৬ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত চলবে। চতুর্দশী তিথি

    • শুরু: ১৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, বিকেল ০৫:০৪ মিনিটে।
    • শেষ: ১৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, বিকেল ০৫:৩৪ মিনিটে।

    পূজা ও ব্রতের মূল সময়সূচি

    • নিশীথ কাল পূজার সময়: রাত ১২:০৯ থেকে রাত ০১:০১ পর্যন্ত (১৬ ফেব্রুয়ারি)।
    • শিবরাত্রির পারণ (উপবাস ভাঙার সময়): সকাল ০৬:৫৯ থেকে দুপুর ০৩:২৪ পর্যন্ত (১৬ ফেব্রুয়ারি)।

    ভগবান শিব অনন্ত আলোকস্তম্ভ

    মহা শিবরাত্রি (Maha shivratri 2026) শুধুমাত্র একটি আনুষ্ঠানিক উপাসনার রাত নয়; এটি একটি মহাজাগতিক ঘটনা যা সৃষ্টি ও ভারসাম্যের দুই মূল শক্তি—শিব ও শক্তির মিলনকে প্রতীকায়িত করে। ভক্তরা বিশ্বাস করেন, এই রাতেই ভগবান শিব (Lord Shiv) অনন্ত আলোকস্তম্ভ অর্থাৎ ‘জ্যোতির্লিঙ্গ’ রূপে প্রকট হয়েছিলেন, যা সমগ্র সৃষ্টিতে তাঁর অসীম উপস্থিতি এবং শক্তির পরিচয় দেয়।

    চার প্রহরের তাৎপর্য ও সময়সূচি

    মহা শিবরাত্রির রাতকে চারটি ‘প্রহর’-এ ভাগ করা হয়েছে। প্রতিটি প্রহর আধ্যাত্মিক জাগরণের ভিন্ন ভিন্ন ধাপকে নির্দেশ করে:

    • প্রথম প্রহর: চেতনার জাগরণ। (সময়: সন্ধ্যা ০৬:১১ – রাত ০৯:২৩)
    • দ্বিতীয় প্রহর: ঐশ্বরিক ইচ্ছার কাছে আত্মসমর্পণ। (সময়: রাত ০৯:২৩ – রাত ১২:৩৫, ১৬ ফেব্রুয়ারি)
    • তৃতীয় প্রহর: মন ও আত্মার শুদ্ধিকরণ। (সময়: রাত ১২:৩৫ – ভোর ০৩:৪৭, ১৬ ফেব্রুয়ারি)
    • চতুর্থ প্রহর: দিব্য শক্তির সঙ্গে পরম মিলন বা মোক্ষ লাভ। (সময়: ভোর ০৩:৪৭ – সকাল ০৬:৫৯, ১৬ ফেব্রুয়ারি)

    আত্মা পরিশুদ্ধ হয়

    শাস্ত্রমতে, এই চার প্রহরে ভক্তি ও সচেতনতার সঙ্গে পুজো করলে অসীম আধ্যাত্মিক পুণ্য এবং শান্তি লাভ করা যায়। সারা রাত জেগে বেলপাতা, দুধ, জল ও ধুতুরা ফুল দিয়ে শিবলিঙ্গের অভিষেক করার সময় নিরবিচ্ছিন্নভাবে “ওঁ নমঃ শিবায়” (Lord Shiv) মন্ত্র জপ করলে ভক্তের আত্মা পরিশুদ্ধ হয় এবং ভগবান শিবের (Maha shivratri 2026) আশীর্বাদ লাভ হয়।

  • T20 World Cup 2026: টি টোয়েন্টি বিশ্বকাপে আজ মহারণ! ভারত বনাম পাকিস্তান ম্যাচে বৃষ্টির সম্ভাবনা কতটা, এগিয়ে কারা?

    T20 World Cup 2026: টি টোয়েন্টি বিশ্বকাপে আজ মহারণ! ভারত বনাম পাকিস্তান ম্যাচে বৃষ্টির সম্ভাবনা কতটা, এগিয়ে কারা?

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: অপেক্ষার অবসান। টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে (T20 World Cup 2026) আজ ভারত-পাকিস্তান ম্যাচ। শ্রীলঙ্কার কলম্বোয় খেলা। ভারত এবং পাকিস্তান দুই দলই দুটি করে ম্যাচ জিতে একে অপরের মুখোমুখি হবে। সেখানে এই ম্যাচ জিতে দুই দলই পরের রাউন্ডে জায়গা করতে চাইবে। তবে ইতিহাস ঘাঁটলে দেখা যায় ভারত পাকিস্তানের থেকে অনেকটা এগিয়ে রয়েছে। ফলে সেখান থেকে সূর্যকুমার যাদবরা যে ফের একবার সেই ধারা ধরে রাখতে চাইবেন সেটা বলাই বাহুল্য।

    ভারত-পাকিস্তান ‘হেড টু হেড’

    টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের ইতিহাস বলছে, পাকিস্তানের বিরুদ্ধে ভারতীয় দলের স্পষ্ট আধিপত্য দেখা যাচ্ছে। এখনও পর্যন্ত, এই মেগা টুর্নামেন্টে দুই দল মোট ৮বার মুখোমুখি হয়েছে। এই ৮টি ম্যাচের মধ্যে ভারত ৭টিতে জিতেছে। অপরদিকে পাকিস্তান মাত্র একবার জিতেছে। গত ২০২১ সালের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে পাকিস্তান ১০ উইকেটে ভারতকে হারিয়ে দেয়। সেটি ছাড়া বাকি সব ম্যাচেই ভারত জিতেছে। সামগ্রিকভাবে টি-টোয়েন্টি আন্তর্জাতিক ম্যাচেও, ১৬টি ম্যাচের মধ্যে ভারত ১৩টিতে জিতেছে এবং পাকিস্তান মাত্র ৩টি ম্যাচ জিততে সক্ষম হয়েছে।

    কলম্বোয় পারফরম্যান্স

    কলম্বোর প্রেমদাসা স্টেডিয়ামে দীর্ঘদিন ধরেই দাপুটে পারফরম্যান্স দেখিয়ে আসছে টিম ইন্ডিয়া। ২০০৯ সালের পর থেকে এই মাঠে ১৫টি টি-টোয়েন্টি আন্তর্জাতিক ম্যাচ খেলেছে ভারত, যার মধ্যে জিতেছে ১১টি এবং হেরেছে মাত্র ৪টি। শ্রীলঙ্কার মাটিতে ভারতের ধারাবাহিক সাফল্যের অন্যতম বড় প্রমাণ এই পরিসংখ্যান। ২০১২ সালের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপেও এই মাঠে দুর্দান্ত পারফরম্যান্স দেখিয়েছিল টিম ইন্ডিয়া। পাঁচটি ম্যাচের মধ্যে চারটিতে জয় পায় তারা। শুধুমাত্র হারতে হয় অস্ট্রেলিয়ার বিরুদ্ধে। উল্লেখযোগ্যভাবে, আয়োজক শ্রীলঙ্কা ছাড়া কেবল অস্ট্রেলিয়াই প্রেমদাসায় ভারতকে হারাতে পেরেছে। কলম্বোর এই ঐতিহাসিক ভেন্যুতে ভারতের আধিপত্য কার্যত স্পষ্ট। এই মাঠে সাধারণত রান তাড়া করা দলগুলির সুবিধা বেশি। তবে, চলতি টুর্নামেন্টে পাকিস্তান সবকটি ম্যাচই শ্রীলঙ্কায় খেলছে। তাই পরিবেশের সঙ্গে নিজেদের মানিয়ে নিতে পেরেছে পাক বাহিনী।

    বৃষ্টিতে ভেস্তে যেতে পারে ম্যাচ

    হাইভোল্টেজ এই ম্যাচের আগে চিন্তার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে আবহাওয়া। পূর্বাভাস অনুযায়ী, ম্যাচের দিন প্রায় চার ঘণ্টা বৃষ্টি হতে পারে। পাশাপাশি বজ্রপাত এবং ঝড়ের সম্ভাবনাও রয়েছে প্রায় ২৬ শতাংশ। ফলে গোটা বিশ্ব যে লড়াই দেখার অপেক্ষায়, তা বৃষ্টির কারণে বিঘ্নিত হওয়ার আশঙ্কা উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না। বঙ্গোপসাগরে ঘনীভূত হয়েছে এক বিপরীত ঘূর্ণাবর্ত। এর জরে উত্তাল হবে সমুদ্র। বইতে পারে ৭০ কিলোমিটার বেগে ঝোড়ো হওয়া। আন্দামান এবং শ্রীলঙ্কা উপকূলের বিস্তীর্ণ অংশে বজ্রবিদ্যুৎ-সহ বৃষ্টি এবং দমকা হাওয়ার পূর্বাভাস। ফলে ভারত -পাক ম্যাচের আগে খেলা হওয়া নিয়ে আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। স্থানীয় সময় সন্ধ্যা ৭টায় খেলা শুরু হওয়ার কথা। তবে কিছু আবহাওয়া পূর্বাভাস অনুযায়ী, খেলা শুরুর ঠিক আগের কয়েক ঘণ্টায় প্রবল বজ্রবিদ্যুৎসহ বৃষ্টি হতে পারে। এর ফলে টস হতে দেরি হতে পারে অথবা ওভার কমিয়ে ছোটো ম্যাচ হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। রাত ৮টার পর আকাশ কিছুটা পরিষ্কার হওয়ার ইঙ্গিত থাকলেও,সারা রাত জুড়ে মাঝে মাঝে বৃষ্টির সম্ভাবনা থেকেই যাচ্ছে। প্রেমদাসা স্টেডিয়ামের একটি বড় সুবিধা হলো এর উন্নত জলনিষ্কাশন ব্যবস্থা এবং অভিজ্ঞ মাঠকর্মী, যারা কলম্বোর এই ভারী বৃষ্টি সামলাতে অভ্যস্ত। বিশ্বের অনেক স্টেডিয়ামে শুধু পিচ ঢেকে রাখা হলেও, প্রেমদাসা স্টেডিয়ামে পুরো খেলার মাঠ ঢেকে ফেলার মতো পর্যাপ্ত কভার বা ত্রিপল রয়েছে। এর ফলে বৃষ্টির জল সরাসরি আউটফিল্ডে পড়ে মাঠকে ভেজাতে বা কর্দমাক্ত করতে পারে না।

    হ্যান্ডশেক বিতর্ক

    ২০২৫ সালের এশিয়া কাপে বিতর্কের সূত্রপাত হয়, যেখানে সূর্যকুমার যাদব অ্যান্ড কোং পহেলগাঁও হামলার প্রতিবাদে পাকিস্তানের জার্সি পরা খেলোয়াড়দের সঙ্গে করমর্দন করতে অস্বীকার জানায়৷ সেই জঙ্গি হামলায় ২০ জনেরও বেশি বেসামরিক লোক, যাদের বেশিরভাগই পর্যটক, নিহত হয়েছিল। সেই টুর্নামেন্টে ভারত তিনবার পাকিস্তানের মুখোমুখি হয়েছিল, এবং তিনবারের- তিনবারই জিতেছিল৷ কিন্তু ভারতীয় খেলোয়াড়রা প্রতিবারই ম্যাচ চলাকালীন যে হ্যান্ডশেকের ট্র্যাডিশানাল পদ্ধতি তার থেকে বিরত ছিল৷ সেই ঘটনার পর চার মাস পেরিয়েছে, চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী দুই দল আবার কলম্বোতে মুখোমুখি হতে চলেছে, এবং ম্যাচটি শেষ হওয়ার পর কী ঘটে তা দেখার বিষয়। আপাতত, সূর্যকুমার তার তাস লুকিয়ে রেখেছেন। ম্যাচ-পূর্ব সংবাদ সম্মেলনে করমর্দনের বিষয়ে জিজ্ঞাসা করা হলে, ভারতীয় অধিনায়ক কেবল মিডিয়াকে “অপেক্ষা করুন এবং দেখুন” – এই উত্তরই দিয়েছেন৷

    মেগা সানডেতে ধুন্ধুমার

    মেগা সানডেতে ধুন্ধুমার। কলম্বোতে মুখোমুখি হচ্ছে ভারত ও পাকিস্তান (IND vs PAK)। আর প্রেমদাসায় দুই চিরপ্রতিদ্বন্দ্বীর ২২ গজের মহারণ শুরু হওয়ার প্রহর গুনছেন ক্রিকেটপ্রেমীরা। টি২০ বিশ্বকাপে ভারত–পাকিস্তান মহারণকে ঘিরে উন্মাদনা তুঙ্গে। রবিবার কলম্বোতে ম্যাচের আগে বিজ্ঞাপনের দর হু হু করে বেড়েছে। ১০ সেকেন্ডের টিভি বিজ্ঞাপনের স্লটের দাম পৌঁছেছে ৩০–৪০ লাখ টাকায়, যেখানে অন্য বড় বিশ্বকাপ ম্যাচে একই স্লটের রেট থাকে ২০–২৫ লাখ। সম্প্রচারকারী জিওস্টার এই টুর্নামেন্ট থেকে প্রায় ২,০০০ কোটি টাকার বিজ্ঞাপন রাজস্ব আয়ের আশা করছে। উল্লেখ্য বিষয় হল প্রেমদাসা স্টেডিয়ামে কিন্তু ভারত বনাম পাকিস্তানের টি-টোয়েন্টি দ্বৈরথ এই প্রথম নয়। এর আগে এই মাঠে দুই দল বিশ ওভারের ফর্ম্যাটে একবার মুখোমুখি হয়েছিল, তাও আবার বিশ্বকাপেই। ১৪ বছর আগে ২০১২ সালে দুই চিরপ্রতিদ্বন্দ্বীর সেই ম্যাচে ভারত হেসেখেলে জয় পেয়েছিল। এবারও সেই ধারা বজায় রাখতে চাইবে ভারত।

  • India AI Deepfake Rules: এআই লেবেল বাধ্যতামূলক! ডিপফেক রুখতে কড়া কেন্দ্র, ৩ ঘণ্টার মধ্যে কনটেন্ট সরানোর নির্দেশ

    India AI Deepfake Rules: এআই লেবেল বাধ্যতামূলক! ডিপফেক রুখতে কড়া কেন্দ্র, ৩ ঘণ্টার মধ্যে কনটেন্ট সরানোর নির্দেশ

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (India AI Deepfake Rules) ইউটিউবের মতো প্ল্যাটফর্মগুলিকে আরও কঠোর নিয়ম মেনে চলতে হবে বলে জানানো হয়েছে। নতুন কাঠামো অনুযায়ী, এআই দ্বারা তৈরি বা পরিবর্তিত সব ধরনের কনটেন্টে স্পষ্টভাবে লেবেল দিতে হবে এবং সেই কনটেন্টে এমবেডেড পরিচয়-চিহ্ন রাখতে হবে। কোনও কনটেন্ট সরকার চিহ্নিত করলে বা আদালতের নির্দেশ এলে, সংশ্লিষ্ট সংস্থাকে তিন ঘণ্টার মধ্যে সেই ডিপফেক বা এআই-তৈরি কনটেন্ট সরিয়ে ফেলতে হবে।

    তথ্যপ্রযুক্তি আইন সংশোধন

    মোদি সরকার ২০২১ সালের তথ্যপ্রযুক্তি আইন সংশোধন করেছে। সেই সংশোধন নিয়ে বিজ্ঞপ্তি দিয়েছে কেন্দ্রীয় সরকার। ২০ ফেব্রুয়ারি থেকে কার্যকর হবে আইনটি। নয়া আইন অনুযায়ী, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই)-র মাধ্যমে তৈরি ‘কনটেন্টে’ অবশ্যই তার উল্লেখ রাখতে হবে।কোনও কনটেন্টকে আদালত বা পুলিশ বা সরকার ডিপফেক বা বেআইনি চিহ্নিত করে সরাতে বললে তা তিন ঘণ্টার মধ্যে প্লাটফর্ম থেকে সরিয়ে দিতে হবে সমাজমাধ্যম সংস্থাগুলিকে (Social Media Regulation)। আগে এর জন্য ৩৬ ঘণ্টা সময় পেত মেটা, ইউটিউব, এক্সের মতো সংস্থাগুলি। এখন সেই সময় কমে যাওয়ায় চাপের মুখে পড়তে পারে সংস্থাগুলি। সংশোধিত আইনে বলা হয়েছে, এই সংক্রান্ত অভিযোগের নিষ্পত্তি সাত দিনের মধ্যে করতে হবে সংস্থাগুলিকে। আগে এর জন্য ১৫ দিন সময় পেত সংস্থাগুলি। জরুরি বিষয়ের ক্ষেত্রে অভিযোগের নিষ্পত্তি ৩৬ ঘণ্টার মধ্যে করতে হবে সংস্থাগুলিকে। আগে ৭২ ঘণ্টা সময় দেওয়া হত। কিছু ক্ষেত্রে কনটেন্ট সরিয়ে ফেলতে হবে দু’ঘণ্টার মধ্যে।

    কেন এই পদক্ষেপ

    কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার (India AI Deepfake Rules) খারাপ প্রভাবকে নিয়ন্ত্রণ করতে আগেই উদ্যোগী হয়েছিল কেন্দ্রীয় সরকার। সে জন্য নতুন আইন না এনে বর্তমান আইন সংশোধনের পথে হেঁটেছে তারা। মনে করা হচ্ছে, সংশোধিত এই আইনের মাধ্যমে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা দ্বারা তৈরি কনটেন্ট, ডিপফেক ভিডিয়ো অনেকটাই নিয়ন্ত্রণ করা যাবে। কেন্দ্রীয় তথ্য ও প্রযুক্তি মন্ত্রক জানিয়েছে, প্রতারণা, শিশু নিগ্রহ, হেনস্থা, ভুয়ো তথ্য দিয়ে বা অপরাধে প্ররোচনা দিয়ে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার সাহায্যে কোনও কনটেন্ট তৈরি করা হলে তা বর্তমান আইনের অধীনে বেআইনি অনলাইন কনটেন্ট হিসাবে গণ্য করা হবে। আইন মেনে না চললে ব্যবহারকারীর বিরুদ্ধে আইন মেনে পদক্ষেপ করা হবে।

    কনটেন্টের ‘উৎস-পরিচয়’ সংরক্ষণ বাধ্যতামূলক

    সিনথেটিক কনটেন্টের ‘উৎস-পরিচয়’ সংরক্ষণ বাধ্যতামূলক করা হয়েছে, যাতে ব্যবহারকারী ও প্রশাসন সহজে বিকৃত বা কৃত্রিম কনটেন্ট শনাক্ত করতে পারেন। একবার এআই লেবেল বা সংশ্লিষ্ট মেটাডেটা যুক্ত হলে তা মুছে ফেলা, বদলানো বা আড়াল করার সুযোগ দেওয়া যাবে না। নির্দেশিকায় বলা হয়েছে, বেআইনি, যৌন শোষণমূলক বা বিভ্রান্তিকর এআই-তৈরি কনটেন্ট চিহ্নিত ও রোধ করতে প্ল্যাটফর্মগুলিকে “যৌক্তিক ও উপযুক্ত” প্রযুক্তিগত ব্যবস্থা নিতে হবে। এর মধ্যে স্বয়ংক্রিয় টুল ব্যবহারের কথাও উল্লেখ রয়েছে। পাশাপাশি ভারতীয় আইন—যেমন ভারতীয় ন্যায় সংহিতা, ২০২৩, পকসো আইন, ২০১২ এবং বিস্ফোরক দ্রব্য আইন, ১৯০৮—সহ প্রযোজ্য অন্যান্য আইনের সঙ্গে সামঞ্জস্য বজায় রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এছাড়া, প্রতি তিন মাস অন্তত একবার ব্যবহারকারীদের সহজ ভাষায় জানাতে হবে যে এআই-এর অপব্যবহার করলে কী পরিণতি হতে পারে। প্ল্যাটফর্মের নিয়মাবলি, গোপনীয়তা নীতি বা ব্যবহারকারী চুক্তির মাধ্যমে এই বার্তা পৌঁছে দিতে হবে।

    ব্যবহারকারীদেরও দায়িত্ব রয়েছে

    কোনও প্ল্যাটফর্ম যদি এআই-নির্ভর ভুয়ো বা বিকৃত তথ্য তৈরি, প্রকাশ বা শেয়ার করার ঘটনা সম্পর্কে অবগত হয়, তবে দ্রুত ও উপযুক্ত পদক্ষেপ করতে হবে বলেও নির্দেশিকায় জোর দেওয়া হয়েছে। ডিপফেকের ভাইরাল প্রকৃতির কথা মাথায় রেখেই দ্রুত পদক্ষেপের ওপর গুরুত্ব আরোপ করেছে কেন্দ্র। খসড়া নিয়মে ব্যবহারকারীদের ওপরও দায়িত্ব চাপানো হয়েছে। কেউ এআই-তৈরি বা এআই-পরিবর্তিত কনটেন্ট পোস্ট করলে তা প্রকাশ্যে জানাতে হবে। প্ল্যাটফর্মগুলিকে সেই ঘোষণা যাচাই করার প্রযুক্তিও চালু করতে হবে, যাতে অপব্যবহার রোখা যায়। উল্লেখ্য, বেশ কয়েকটি সোশ্যাল মিডিয়া সংস্থা ইতিমধ্যেই স্বেচ্ছায় এআই-তৈরি কনটেন্ট চিহ্নিত করার ব্যবস্থা চালু করেছে। তবে নতুন নির্দেশিকা সেই স্বেচ্ছামূলক পদক্ষেপকে আইনি বাধ্যবাধকতায় পরিণত করেছে এবং কঠোর সময়সীমা বেঁধে দিয়েছে। জেনারেটিভ এআই ব্যবহার করে ভুয়ো খবর ছড়ানো, প্রতারণা, হয়রানি ও সম্মতি ছাড়া অশ্লীল কনটেন্ট তৈরির ঘটনা বেড়ে চলায় সরকার এই কঠোর পদক্ষেপ নিয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে। নতুন নিয়মে সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্মগুলির জবাবদিহি আরও বাড়বে বলেই মত সংশ্লিষ্ট মহলের।

    বেআইনি কাজে এআই কনটেন্টও সমানভাবে দায়ী

    নতুন সংশোধনে স্পষ্ট করা হয়েছে, এআই-তৈরি কনটেন্ট যদি বেআইনি কাজে ব্যবহার হয়, তবে তা অন্য বেআইনি কনটেন্টের মতোই বিবেচিত হবে। শিশুপর্নোগ্রাফি, অশ্লীলতা, ভুয়ো পরিচয়, জাল নথি, অস্ত্র বা বিস্ফোরক-সংক্রান্ত বেআইনি কনটেন্ট তৈরিতে এআই ব্যবহার (India AI Deepfake Rules) রুখতে প্ল্যাটফর্মকে সক্রিয় থাকতে হবে। একই সঙ্গে সরকার জানিয়ে দিয়েছে, নিয়ম মেনে কনটেন্ট সরানো বা সীমিত করলে আইটি আইনের ৭৯ ধারার ‘সেফ হারবার’ সুরক্ষা প্ল্যাটফর্মগুলি পাবে। অর্থাৎ, নিয়ম মেনে কাজ করলে দায়মুক্তির সুরক্ষা থাকবে।

     

     

     

     

  • CBSE: দ্বাদশ শ্রেণির পরীক্ষার উত্তরপত্র মূল্যায়নে অন-স্ক্রিন মার্কিং প্রযুক্তি, ঘোষণা সিবিএসই-র

    CBSE: দ্বাদশ শ্রেণির পরীক্ষার উত্তরপত্র মূল্যায়নে অন-স্ক্রিন মার্কিং প্রযুক্তি, ঘোষণা সিবিএসই-র

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: সিবিএসই দ্বাদশ শ্রেণির বোর্ড পরীক্ষার মূল্যায়ন দ্রুততর করা এবং স্বচ্ছতা উন্নত করার লক্ষ্যে একটি বড় পরিবর্তনের মাধ্যমে কেন্দ্রীয় মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ড (CBSE) ২০২৬ সালের বোর্ড পরীক্ষা থেকে দ্বাদশ শ্রেণির উত্তরপত্র মূল্যায়নের জন্য অন-স্ক্রিন মার্কিং (OSM) চালু করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এই পদক্ষেপটি ডিজিটাল প্রক্রিয়া এবং পরীক্ষা-সম্পর্কিত কাজে আরও দক্ষতা বৃদ্ধি করবে। এটি কেন্দ্রীয় বোর্ডের বড় প্রচেষ্টা হবে। তবে, সিবিএসই জানিয়েছে, ২০২৬ সালের দশম শ্রেণির পরীক্ষার (12 Board Exams) উত্তরপত্রের মূল্যায়ন আগের মতো পুরনো পন্থা বা ম্যানুয়ালি করা হবে।

    কেন এমন পদক্ষেপ?

    সিবিএসই (CBSE) প্রতি বছর ভারত এবং ২৬টি দেশে দশম-দ্বাদশ শ্রেণির বোর্ড (12 Board Exams) পরীক্ষা পরিচালনা করে, যার ফলে প্রায় ৪৬ লক্ষ শিক্ষার্থীর পরীক্ষা গ্রহণ করে থাকে। এই মূল্যায়নকে একটি বৃহৎ এবং সময়সাপেক্ষ অনুশীলন বলে অনেকে মনে করে থাকেন। আর তাই সিবিএসই (12 Board Exams) বিশেষ পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে।

    সিবিএসই কী বলল

    সিবিএসই-র (CBSE) পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক ডঃ সান্যম ভরদ্বাজ বলেন, “মূল্যায়ন প্রক্রিয়ায় দক্ষতা এবং স্বচ্ছতা বৃদ্ধির জন্য বোর্ড নিরন্তর প্রচেষ্টার অংশ হিসেবে অন-স্ক্রিন মার্কিং চালু করছে। ৯ ফেব্রুয়ারি তারিখ বোর্ডের প্রকাশিত বিজ্ঞপ্তি অনুসারে, এই উদ্যোগটি মূল্যায়ন (12 Board Exams) প্রক্রিয়াকে সহজতর করা হবে। ধীরে ধীরে ম্যানুয়াল প্রক্রিয়ার উপর নির্ভরতা হ্রাস পাবে।”

    কেন সিবিএসই অন-স্ক্রিন মার্কিংয়ের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে?

    সিবিএসই (CBSE) দ্বাদশ শ্রেণির উত্তরপত্রের ডিজিটাল মূল্যায়নে পরিবর্তনের পিছনে একাধিক কারণ তালিকাভুক্ত করেছে। এই কারণগুলি হল নিম্নরূপ-

    • ১> সমস্ত স্কুলগুলির শিক্ষকদের বৃহত্তর অংশগ্রহণের মাধ্যমে দ্রুত মূল্যায়ন করা।
    • ২> মোট নম্বর গণনায় ত্রুটি দূর করা, কারণ নম্বর স্বয়ংক্রিয়ভাবে গণনা করা হয়।
    • ৩> স্বয়ংক্রিয় সমন্বয়, ম্যানুয়াল হস্তক্ষেপ এবং ভুলের সুযোগ হ্রাস করা।
    • ৪> ফলাফল দেরিতে প্রকাশকে কমাতে, ফলাফল-পরবর্তী নম্বর যাচাইয়ের প্রয়োজন হবে না।
    • ৫>  যাচাই-সম্পর্কিত কাজের জন্য লোকজন কম নিয়োগ করতে হবে।
    • ৬> পরিবহণের সময় এবং খরচ সাশ্রয় হবে, কারণ বাস্তব উত্তরপত্র স্থানান্তরের প্রয়োজন হবে না।
    • ৭> শিক্ষকরা তাদের নিজস্ব স্কুলে থাকতে পারবেন এবং মূল্যায়নের সময় নিয়মিত দায়িত্ব পালন করতে পারবেন।
    • ৮> মূল্যায়ন প্রক্রিয়ায় অবদান রাখার জন্য সমস্ত অনুমোদিত স্কুলের সুযোগ থাকবে।
    • ৯> কেবল ভূগোলের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়, বিশ্বব্যাপী সিবিএসই-অনুমোদিত স্কুলের শিক্ষকদের অংশগ্রহণ থাকবে।
    • ১০> পরিবেশ-বান্ধব মূল্যায়ন, টেকসই ডিজিটাল প্র্যাকটিসে যাওয়ার ভাবনাকে সিবিএসই সমর্থন করবে।

    স্কুলগুলিকে কী প্রস্তুতি নিতে হবে?

    অন-স্ক্রিন মার্কিং-এর সুষ্ঠু বাস্তবায়ন নিশ্চিত করার জন্য, সিবিএসই (CBSE) স্কুলগুলিকে প্রযুক্তিগত প্রস্তুতির নিশ্চয়তাকে আগে সম্পন্ন করতে হবে। স্কুলগুলিতে অবশ্যই পরিকাঠামোর ভাবনা থাকবে। তার জন্য যা যা করতে হবে তা তা হল-

    • ১> অ্যাফিলিয়েশন বাই-ল অনুসারে, একটি পাবলিক স্ট্যাটিক আইপি সহ একটি কম্পিউটার ল্যাব প্রয়োজন।
    • ২> উইন্ডোজ ৮ বা তার বেশি অপারেটিং সিস্টেমের পিসি বা ল্যাপটপ, কমপক্ষে ৪ জিবি র‍্যাম এবং সি ড্রাইভে ১ জিবি খালি জায়গা লাগবে।
    • ৩> ক্রোম, এজ, ফায়ারফক্স, অথবা ইন্টারনেট এক্সপ্লোরারের মতো আপডেট করা ইন্টারনেট ব্রাউজার অত্যন্ত আবশ্যক।
    • ৪> অ্যাডোবি রিডার ইনস্টল করতে হবে।
    • ৫> সর্বনিম্ন ২ এমবিপিএস গতিতে নির্ভরযোগ্য ইন্টারনেট সংযোগ রাখতে হবে।
    • ৬> নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ রাখতে হবে।

    সিবিএসই কীভাবে এই পরিবর্তনকে সমর্থন করবে?

    স্কুল এবং শিক্ষকদের নতুন ব্যবস্থার সাথে খাপ খাইয়ে নিতে সাহায্য করার জন্য, সিবিএসই বেশ কয়েকটি সহায়তা ব্যবস্থার রূপরেখা দিয়েছে। তার মধ্যে হল-

    • ১> ওএএসআইএস (OASIS) আইডি সহ সকল শিক্ষককে লগ ইন করতে এবং ওএসএম (OSM) প্ল্যাটফর্মের সাথে পরিচিত হতে অনুমতি নিতে হবে।
    • ২> শিক্ষকদের ডিজিটাল মূল্যায়ন প্র্যাকটিস সহায়তা করার জন্য একাধিক ড্রাই রান পরিচালনা করতে হবে।
    • ৩> সিস্টেমটি বিস্তারিতভাবে ব্যাখ্যা করার জন্য প্রশিক্ষণ কর্মসূচির আয়োজন করতে হবে।
    • ৪> সমস্যা সমাধানের জন্য একটি নিবেদিতপ্রাণ কল সেন্টার স্থাপন করতে হবে।
    • ৫> শিক্ষকদের ধাপে ধাপে নির্দেশনা দেওয়ার জন্য নির্দেশনামূলক ভিডিও প্রকাশ করতে হবে।

    আলাদাভাবে বিস্তারিত নির্দেশাবলী জারি করবে

    সিবিএসই (CBSE) পরীক্ষা ব্যবস্থার জন্য আলাদাভাবে বিস্তারিত নির্দেশাবলী জারি করবে। যাতে সমস্ত স্টেকহোল্ডারদের সময়মত প্রস্তুতি নিশ্চিত করা যায়। বোর্ড স্কুলগুলিকে এই সিদ্ধান্তের কথা জানিয়েছে এবং ২০২৬ সালের দ্বাদশ শ্রেণির বোর্ড পরীক্ষার আগে অন-স্ক্রিন মার্কিং-এ রূপান্তরকে মসৃণ এবং কার্যকর করার জন্য তাদের সহযোগিতা চেয়েছে। এই বছর, সিবিএসই বোর্ডের দশম এবং দ্বাদশ শ্রেণীর পরীক্ষা ১৭ ফেব্রুয়ারি থেকে শুরু হবে এবং ১০ এপ্রিল শেষ হবে। বোর্ড বছরে দুবার দশম শ্রেণী পরীক্ষা (12 Board Exams) পরিচালনা করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। দ্বিতীয় পরীক্ষা ১৫ মে থেকে ১ জুন পর্যন্ত অনুষ্ঠিত হবে। উভয় পরীক্ষাই একই সিলেবাস অনুসরণ করবে।

  • Seasonal Change Health Risks: বিদায় নেবে শীত! আগাম গরম কোন সমস্যা নিয়ে আসছে?

    Seasonal Change Health Risks: বিদায় নেবে শীত! আগাম গরম কোন সমস্যা নিয়ে আসছে?

    তানিয়া বন্দ্যোপাধ্যায় পাল

    বিদায় নিচ্ছে শীত! আর মাত্র কয়েক দিন! তারপরেই সোয়েটার আর লেপ কম্বলের পর্ব শেষ হতে চলেছে। গরম এবার আগাম পা বাড়িয়েছে। এমনটাই জানাচ্ছে আবহাওয়া দফতর। কিন্তু বসন্তেই গরম হাওয়া স্বাস্থ্যের জন্য ঝুঁকি বাড়াচ্ছে। এই আবহাওয়া একাধিক রোগের দাপট বাড়িয়ে দিতে পারে। তাই সুস্থ থাকতে বাড়তি সতর্কতা জরুরি। এমনটাই মত চিকিৎসকদের।

    কেন রোগের দাপট বাড়তে পারে?

    শীতে তাপমাত্রার পারদ কম থাকে। চলতি মরশুমে তাপমাত্রার পারদ অনেকখানি কমে গিয়েছিল। কিন্তু গরমের দাপটে আবহাওয়ার অনেকটাই পরিবর্তন হয়। শীত শেষের এই মরশুমে বাতাসে নানান ভাইরাসের দাপট বাড়ে। তাই সংক্রামক রোগের ঝুঁকিও বাড়ছে। তাছাড়া বছরের এই সময় শুষ্ক। বাতাসে ধূলিকণার পরিমাণ আরও বেড়ে যায়। তাই নানান ধরনের অ্যালার্জি হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ে। তাপমাত্রার হঠাৎ পরিবর্তন শরীর সহজে মেনে নিতে পারে না। পেশি ও মস্তিষ্কের স্নায়ুর পরিবর্তিত পরিবেশ মানিয়ে নিতে সময় লাগে। তার ফলে শরীর বেঁকে বসে। হজমের সমস্যা থেকে পেশির খিঁচুনির মতো নানান ভোগান্তি তৈরি হয়। তাই এই সময়ে বাড়তি সতর্কতা জরুরি বলেই মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। বিশেষত শিশু ও বয়স্কদের জন্য বাড়তি সতর্কতা প্রয়োজন। তাছাড়া আগামী সপ্তাহ থেকে দেশজুড়ে বোর্ড পরীক্ষা শুরু হচ্ছে। এই অবস্থায় তাদের শরীরের বাড়তি যত্ন নেওয়া জরুরি বলে মত বিশেষজ্ঞদের একাংশের।

    সুস্থ থাকার কী পরামর্শ দিচ্ছেন বিশেষজ্ঞ মহল?

    আগাম গরমে বাড়তে পারে ভাইরাসঘটিত জ্বর ও কাশি।‌ তাই সংক্রমণ ঠেকাতে কয়েকটি বিশেষ পরামর্শ দিচ্ছেন বিশেষজ্ঞদের একাংশ। তাঁরা জানাচ্ছেন, শীত কমে গেলেও সন্ধ্যার পরে কিংবা ভোরে হালকা ঠান্ডা থাকে। তাই এই সময়ে বাইরে বেরোলে অবশ্যই কান, গলা ঢাকা দেওয়া পোশাক পরা জরুরি। তাহলে আপার রেসপিরেটরি ট্র্যাক্ট ইনফেকশনের ঝুঁকি কমানো যাবে। চিকিৎসকদের একাংশ জানাচ্ছেন, অনেকেই এই আবহাওয়ায় কাশি ও গলা ব্যথার সমস্যায় ভুগছেন। আপার রেসপিরেটরি ট্র্যাক্ট ইনফেকশন থেকে অনেক সময় জ্বর হয়। ভোগান্তি বাড়ে।

    বয়স্কদের মাস্ক ব্যবহারের পরামর্শ

    বছরের এই সময়ে বাতাস শুষ্ক হয়ে যায়। ধূলিকণার পরিমাণ বেড়ে যায়। এর ফলে ফুসফুসের সংক্রমণের ঝুঁকিও বেড়ে যায়। তাই শিশু ও বয়স্কদের মাস্ক ব্যবহারের পরামর্শ দিচ্ছেন বিশেষজ্ঞদের একাংশ। তাঁরা জানাচ্ছেন, বাইরে বেরোলে অবশ্যই মাস্ক ব্যবহার করা উচিত। তাছাড়া ট্রেন-বাস-অটোর মতো গণপরিবহণ ব্যবহারের সময় সকলকেই মাস্ক পরার পরামর্শ দিচ্ছেন বিশেষজ্ঞদের একাংশ। তাঁরা জানাচ্ছেন, ভাইরাস ঘটিত অসুখের সংক্রমণ দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে। এই সময়ে অনেকেই কাশি-সর্দি-জ্বরে ভুগছেন। তাই সংক্রমণ ঠেকাতে মাস্ক গুরুত্বপূর্ণ হাতিয়ার হতে পারে।

    সংক্রমণ ঠেকাতে হাত ধোয়া জরুরি

    বাইরে থেকে ফিরে অবশ্যই হাত ধোয়া জরুরি। তাতে নানান সংক্রমণ ঠেকানো সহজ হয় বলেই মত চিকিৎসকদের একাংশের।
    খাবার খাওয়া নিয়েও বাড়তি সতর্কতা জরুরি বলেই মত বিশেষজ্ঞদের একাংশের। বিশেষত পরীক্ষার্থীদের জন্য খাদ্যাভ্যাস খুব গুরুত্বপূর্ণ বলেই জানাচ্ছেন চিকিৎসকদের একাংশ। এই আবহাওয়ায় পেটের অসুখের ঝুঁকি বাড়ে। ঋতু পরিবর্তনের সময় হজমের গোলমাল হয়। তাপমাত্রার হঠাৎ বদলের জেরে শরীরের একাধিক সমস্যা তৈরি হয়। তাই হজমের গোলমাল, পেটের অসুখ, বমির মতো ভোগান্তি কমাতে হালকা খাবার খাওয়ার পরামর্শ দিচ্ছেন বিশেষজ্ঞদের একাংশ। তাঁরা জানাচ্ছেন, ভারি, অতিরিক্ত তেল মশলাযুক্ত খাবার হজমের সমস্যা তৈরির পাশাপাশি ঘুমের ব্যাঘাত ঘটায়। কিন্তু পরীক্ষার্থীদের জন্য পর্যাপ্ত ঘুম অত‌্যন্ত জরুরি। তাই বিশেষ করে রাতের দিকে তাদের হালকা খাবার দেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। তবে পেশির খিঁচুনি‌ এড়াতে, রক্তচাপ স্বাভাবিক রাখতে এবং হরমোনের ভারসাম্য বজায় রাখতে এই আবহাওয়ায় নিয়মিত শারীরিক কসরত করার পরামর্শ দিচ্ছেন বিশেষজ্ঞদের একাংশ। তাঁরা জানাচ্ছেন, নিয়মিত শারীরিক কসরত করলে শরীরে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ে। নানান সমস্যা এড়ানো যায়‌।

    DISCLAIMER: এই প্রতিবেদনটি বিশেষজ্ঞদের মতামত অনুযায়ী লেখা। এর সঙ্গে মাধ্যম-এর কোনও সম্পর্ক নেই। মাধ্যম এর কোনও দায় নিচ্ছে না। এখানে বলা যে কোনও উপদেশ পালন করার আগে অবশ্যই কোনও চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নিন।

  • Daily Horoscope 15 February 2026: বিতর্ক থেকে দূরে থাকুন এই রাশির জাতকরা

    Daily Horoscope 15 February 2026: বিতর্ক থেকে দূরে থাকুন এই রাশির জাতকরা

    চাকরি থেকে ব্যবসা, বন্ধু থেকে ব্যক্তিগত জীবন, ভ্রমণ থেকে স্বাস্থ্য—কী বলছে ভাগ্যরেখা? কেমন কাটতে পারে দিন?

    মেষ

    ১) বাড়ির কোনও সদস্যের বিষয়ে আপনাকে কোনও গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নিতে হতে পারে।

    ২) কাজের ক্ষেত্রে নিজের ইচ্ছেমতো চলবেন না।

    ৩) ভেবেচিন্তে সিদ্ধান্ত নিন।

    বৃষ

    ১) পরিবারে কোনও বিবাদ চললে তা সমাধানের চেষ্টা করুন।

    ২) সন্তান কোনও কারণে রেগে গেলে তাকে বোঝানোর চেষ্টা করুন।

    ৩) নতুন গাড়ি কেনার স্বপ্ন পূরণ হতে পারে।

    মিথুন

    ১) বন্ধুদের জন্য অশান্তি বাড়তে পারে।

    ২) আগুন থেকে বিপদের আশঙ্কা।

    ৩) দিনটি ভালো-মন্দ মিশিয়ে কাটবে।

    কর্কট

    ১) কোনও ধর্মীয় অনুষ্ঠানে অংশ নিতে পারেন, যা আপনার জন্য ভালো হবে।

    ২) পরিবারে আপনার প্রিয়জনের কাছ থেকে পূর্ণ সমর্থন পাবেন।

    ৩) আপনার সম্মান বৃদ্ধি হতে পারে।

    সিংহ

    ১) যানবাহন ব্যবহার করার সময় আপনাকে সতর্ক থাকতে হবে।

    ২) বেশ কয়েকদিনের ভ্রমণে যাওয়ার পরিকল্পনা করতে পারেন।

    ৩) পরিবারের মধ্যে কোনও দ্বন্দ্ব চললে আলোচনার মাধ্যমে সমাধান করার চেষ্টা করুন।

    কন্যা

    ১) বিতর্ক থেকে দূরে থাকুন।

    ২) স্বেচ্ছাচারী আচরণের জন্য আপনি অস্থির থাকতে পারেন।

    ৩) কর্মক্ষেত্রে, আপনার বস আপনার উপর দায়িত্বের বোঝা চাপিয়ে দিতে পারেন।

    তুলা

    ১) অর্শের যন্ত্রণা বৃদ্ধি পেতে পারে।

    ২) কর্মক্ষেত্রে সুনাম বাড়তে পারে।

    ৩) ডাক্তারের কাছে যেতে হতে পারে।

    বৃশ্চিক

    ১) ব্যবসায় অশান্তি হতে পারে।

    ২) চাকরির স্থানে উন্নতির সুযোগ পেতে পারেন।

    ৩) প্রিয়জনের সঙ্গে সময় কাটান।

    ধনু

    ১) জেদের কারণে কোনও ক্ষতি হতে পারে।

    ২) সম্পত্তির ব্যাপারে কোনও আত্মীয়ের সঙ্গে বিবাদ হতে পারে।

    ৩) দিনটি প্রতিকূল।

    মকর

    ১) শারীরিক কারণে ব্যবসায় সময় দিতে পারবেন না।

    ২) স্ত্রীর সঙ্গে সম্পর্ক ভালো থাকবে।

    ৩) দিনটি অনুকূল।

    কুম্ভ

    ১) চিকিৎসার জন্য খরচ নিয়ে চিন্তা।

    ২) বন্ধুদের সঙ্গে বিবাদের যোগ রয়েছে।

    ৩) বাণীতে সংযম রাখুন।

    মীন

    ১) স্ত্রীর কথায় বিশেষ ভাবে মনোযোগ দেওয়া প্রয়োজন।

    ২) খেলাধুলায় নাম করার ভালো সুযোগ হাতছাড়া হতে পারে।

    ৩) ধর্মস্থানে যেতে পারেন।

    DISCLAIMER: এই প্রতিবেদনটি বিশেষজ্ঞদের মতামত অনুযায়ী লেখা। এর সঙ্গে মাধ্যম-এর কোনও সম্পর্ক নেই। মাধ্যম এর কোনও দায় নিচ্ছে না।

  • PM Modi in Assam: জাতীয় সড়কে নামল প্রধানমন্ত্রীর বিমান, উড়ল রাফাল, সুখোই! প্রস্তুত উত্তর-পূর্ব ভারতের প্রথম ইএলএফ

    PM Modi in Assam: জাতীয় সড়কে নামল প্রধানমন্ত্রীর বিমান, উড়ল রাফাল, সুখোই! প্রস্তুত উত্তর-পূর্ব ভারতের প্রথম ইএলএফ

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ঐতিহাসিক এক মুহূর্তের সাক্ষী থাকল অসম। শনিবার সকালে অসমের ডিব্রুগড় জেলার মোরানে উত্তর-পূর্ব ভারতের প্রথম ইমার্জেন্সি ল্যান্ডিং ফ্যাসিলিটিতে (ELF) অবতরণ করল প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির বিমান।

    জাতীয় সড়কে নামল মোদির বিমান

    দিল্লি থেকে অসমের চাবুয়া বিমানঘাঁটি পৌঁছান প্রধানমন্ত্রী। সেখানে তাঁকে স্বাগত জানান অসমের রাজ্যপাল লক্ষ্মণ প্রসাদ আচার্য, মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্ব শর্মা, কেন্দ্রীয় মন্ত্রী সর্বানন্দ সোনোয়াল সহ রাজ্যের শীর্ষ প্রশাসনিক আধিকারিকরা। চাবুয়া থেকে বায়ুসেনার সি-১৩০জে বিমানে চেপে প্রধানমন্ত্রী পৌঁছান মোরান মোরান বাইপাস এলাকায়। সেখানে জাতীয় সড়কের একটি অংশে বিশেষভাবে নির্মিত ইএলএফ-এ অবতরণ করে মোদির বিশেষ বিমান। এই উপলক্ষে উপস্থিত ছিলেন মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্ব শর্মা এবং বায়ুসনার প্রধান এয়ার চিফ মার্শাল এপি সিং। ১০০ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত এই ইএলএফ হল মোরান বাইপাসের ওপর ৪.২ কিলোমিটার দীর্ঘ একটি শক্তিশালী কংক্রিটের রানওয়ে। এটি ভারতীয় বায়ুসেনার (IAF) যুদ্ধবিমান ও পণ্যবাহী পরিবহণ বিমানের জন্য কৌশলগত ও বহু-উদ্দেশ্যপূর্ণ রানওয়ে হিসেবে কাজ করবে, যা প্রতিরক্ষা, লজিস্টিক্স এবং দুর্যোগ মোকাবিলার ক্ষমতা আরও মজবুত করবে।

    রানওয়ে থেকে উড়ল সুখোই, রাফাল

    এই নতুন ইএলএফ জরুরি পরিস্থিতিতে ডিব্রুগড় বিমানবন্দরের বিকল্প অবতরণস্থল হিসেবে ব্যবহৃত হবে, ফলে এটি ভারতের বিমান পরিকাঠামোয় একটি গুরুত্বপূর্ণ সংযোজন হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। এই উপলক্ষে প্রধানমন্ত্রী প্রায় ৪০ মিনিটের এক বিশাল এয়ার শো প্রত্যক্ষ করেন। প্রদর্শনীতে অংশ নেয় ভারতীয় বায়ুসেনার যুদ্ধবিমান, পরিবহণ বিমান ও হেলিকপ্টার। এর মাধ্যমে বায়ুসেনার অপারেশনাল প্রস্তুতি ও হাইওয়ের দ্বৈত ব্যবহারযোগ্যতার ক্ষমতা তুলে ধরা হয়। মোরনের ইএলএফ থেকে পরপর উড়ে যায় সুখোই-৩০এমকেআই, রাফালের মতো যুদ্ধবিমান।

    বায়ুসেনার নজিরবিহীন এয়ার শো

    এছাড়া, বায়ুসেনার ‘ওয়ার্কহর্স’ হিসেবে পরিচিত সি-১৩০জে সুপার হারকিউলিস এবং এএন-৩২ পরিবহণ বিমান বিশেষভাবে নির্মিত এই ৪.২ কিলোমিটার দীর্ঘ ইএলএফ-এ অবতরণ ও উড়ানের মহড়া চালায়। এছাড়া, অ্যাডভান্সড লাইট হেলিকপ্টার (ALH) দিয়ে বিশেষ হেলি-বোর্ন অপারেশন এবং মানবিক সহায়তা ও দুর্যোগ ত্রাণ (HADR) মহড়া চালানো হয়। এই হেলিকপ্টারগুলি নজরদারি, অনুসন্ধান ও উদ্ধার, চিকিৎসা সহায়তা এবং দুর্গম এলাকায় খাদ্য পৌঁছে দেওয়ার কাজে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। পাশাপাশি, ভারতীয় বায়ুসেনার এলিট বাহিনী গরুড় কমান্ডো বাহিনীর সদস্যরাও তাদের নিখুঁত দক্ষতা ও যুদ্ধকৌশল প্রদর্শন করেন।

    কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ

    কৌশলগত দিক থেকে এই ইএলএফ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। মোরান থেকে চিন সীমান্ত প্রায় ৩০০ কিলোমিটার এবং মায়ানমার সীমান্ত প্রায় ২০০ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত। প্রধানমন্ত্রী আগেই সামাজিক মাধ্যম ‘এক্স’-এ জানিয়েছিলেন, এই ইএলএফ জরুরি পরিস্থিতিতে দ্রুত উদ্ধার ও ত্রাণ মোতায়েনের ক্ষেত্রে অত্যন্ত কার্যকর ভূমিকা নেবে। এই পরিকাঠামো বন্যা ও ভূমিকম্পপ্রবণ উত্তর-পূর্বাঞ্চলে দুর্যোগ মোকাবিলার সক্ষমতা আরও বাড়াবে এবং দ্রুত উদ্ধার ও ত্রাণ কার্যক্রম চালানো সম্ভব হবে। ইএলএফটি সর্বোচ্চ ৪০ টন ওজনের যুদ্ধবিমান এবং ৭৪ টন ওজনের পরিবহণ বিমান ওঠানামায় সক্ষম।

    একাধিক কর্মসূচি ছিল প্রধানমন্ত্রীর

    মোরনের অনুষ্ঠান শেষে প্রধানমন্ত্রী ফের ইএলএফ থেকে বায়ুসেনার সি-১৩০জে বিমানে করে গুয়াহাটির উদ্দেশে রওনা দেন। গুয়াহাটির লাচিত ঘাটে ৫,৪৫০ কোটি টাকারও বেশি মূল্যের বিভিন্ন প্রকল্পের উদ্বোধন ও শিলান্যাস করেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি ব্রহ্মপুত্র নদীর উপর নির্মিত কুমার ভাস্কর বর্মা সেতুর উদ্বোধন করেন, যার নির্মাণ ব্যয় প্রায় ৩,০৩০ কোটি টাকা। এই ছয় লেনের এক্সট্রাডোজড প্রি-স্ট্রেসড্ কংক্রিট (PSC) সেতু গুয়াহাটি ও উত্তর গুয়াহাটিকে সংযুক্ত করেছে এবং এটি উত্তর-পূর্ব ভারতের প্রথম এক্সট্রাডোজড সেতু। এই সেতু চালু হলে গুয়াহাটি থেকে উত্তর গুয়াহাটি যাতায়াতের সময় কমে মাত্র ৭ মিনিটে দাঁড়াবে। এছাড়াও প্রধানমন্ত্রী আইআইএম গুয়াহাটির উদ্বোধন করেন এবং পিএম ই-বাস সেবা প্রকল্পের আওতায় চারটি শহরে ২২৫টি বৈদ্যুতিক বাসের সূচনা করেন।

  • SCALP-Meteor Missile: লাগবে নয়া রাফালে, সাড়ে ৪ হাজার কোটি টাকার স্ক্যাল্প-মিটিয়র ক্ষেপণাস্ত্র কেনার পথে ভারত

    SCALP-Meteor Missile: লাগবে নয়া রাফালে, সাড়ে ৪ হাজার কোটি টাকার স্ক্যাল্প-মিটিয়র ক্ষেপণাস্ত্র কেনার পথে ভারত

    সুশান্ত দাস

    গুলি ছাড়া যেমন বন্দুক মূল্যহীন, ঠিক তেমনই ক্ষেপণাস্ত্র ছাড়া যুদ্ধবিমানেরও কোনও মূল্য নেই। বৃহস্পতিবারই ভারতীয় বায়ুসেনার (IAF) জন্য ১১৪টি রাফাল যুদ্ধবিমান কেনার অনুমোদন দিয়েছে প্রতিরক্ষা মন্ত্রক। তবে, স্রেফ যুদ্ধবিমান কিনলেই তো হবে না, তার অস্ত্রও পেতে হবে। যে কারণে, রাফাল (Rafale) যুদ্ধবিমানে ব্যবহার করার জন্য বিশেষ ক্ষেপণাস্ত্রের বিপুল বরাতও দেওয়ার তোড়জোড় করছে মোদি সরকার। আর এই তালিকায় রয়েছে একজোড়া ভয়ঙ্কর ও পরীক্ষিত ক্ষেপণাস্ত্র— স্ক্যাল্প (SCALP) বা স্টর্ম শ্যাডো (Storm Shadow) এবং মিটিয়র (Meteor)। বরাতের মূল্য প্রায় সাড়ে চার হাজার কোটি টাকা। বলাবাহুল্য, এই দুই ক্ষেপণাস্ত্রও তৈরি করে ফ্রান্স— যে দেশ থেকে আসছে রাফাল জেট।

    ৩০ কোটি ইউরোর চুক্তি

    কেন্দ্রীয় সূত্রে খবর, এই মর্মে ভারত ও ফ্রান্স একটি বড় প্রতিরক্ষা চুক্তি চূড়ান্ত করার দিকে এগোচ্ছে। প্রায় ৩০ কোটি ইউরো (ভারতীয় মুদ্রায় ৩ হাজার কোটি টাকা) মূল্যের এই চুক্তির আওতায় ভারতীয় বায়ুসেনা বিপুল সংখ্যক স্ক্যাল্প ক্রুজ মিসাইল কিনতে চলেছে। এই স্ক্যাল্প ক্ষেপণাস্ত্র দিয়ে গত বছর ‘অপারেশন সিঁদুর’-এর সময় পাকিস্তানের ভিতরে জইশ-ই-মহম্মদ ও লস্কর-ই-তৈবার জঙ্গি ঘাঁটি ধ্বংস করেছিল ভারতীয় বায়ুসেনা। প্রতিরক্ষা সূত্রে খবর, ফ্রান্স থেকে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক স্ক্যাল্প ক্রুজ মিসাইল কেনার বিষয়ে আলোচনা চলছে এবং খুব শিগগিরই এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হতে পারে।

    স্ক্যাল্প মিসাইল কী ও কেন তা গুরুত্বপূর্ণ?

    স্ক্যাল্প (SCALP)-এর পূর্ণরূপ <Système de Croisière Autonome à Longue Portée>। ফরাসি এই শব্দগুচ্ছের অর্থ হল— দূরপাল্লার স্বায়ত্তশাসিত ক্রুজ সিস্টেম। আন্তর্জাতিকভাবে এই ক্ষেপণাস্ত্র ‘স্টর্ম শ্যাডো’ নামেও পরিচিত। ইউরোপীয় প্রতিরক্ষা সংস্থা এমবিডিএ নির্মিত যুদ্ধবিমান থেকে নিক্ষেপযোগ্য এই ক্রুজ মিসাইল মূলত বাঙ্কার, কমান্ড সেন্টার, বিমানঘাঁটি ও গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোর মতো উচ্চ-মূল্যের লক্ষ্যবস্তু ধ্বংসের জন্য তৈরি। এই মিসাইল অত্যন্ত নিচু উচ্চতায় উড়ে ভূখণ্ড অনুসরণ করে এগোতে পারে, ফলে শত্রুপক্ষের রেডার এড়ানো সম্ভব হয়। এর গাইডেন্স সিস্টেমে রয়েছে জিপিএস, ইনার্শিয়াল ন্যাভিগেশন, টেরেন ম্যাপিং এবং ইনফ্রারেড সিকার। এর পাল্লা ২৫০ কিলোমিটারেরও বেশি, ফলে যুদ্ধবিমান নিরাপদ দূরত্ব থেকেই আঘাত হানতে পারে।

    অপারেশন সিঁদুরে ব্যবহার

    গত বছরের অপারেশন সিন্দুর চলাকালীন রাফাল (Rafale) যুদ্ধবিমান থেকে ব্রহ্মোস (BrahMos) সুপারসনিক ক্রুজ মিসাইলের সঙ্গে স্ক্যাল্প মিসাইল ব্যবহার করে পাকিস্তানের মুরিদকে ও বাহাওয়ালপুর জেলায় জঙ্গি ঘাঁটিতে নির্ভুল হামলা চালানো হয়। আধিকারিকদের মতে, লক্ষ্যবস্তু সম্পূর্ণভাবে ধ্বংস করা হয়। ৬–৭ মে রাতের অভিযানের পর ভারতীয় বায়ুসেনা পাকিস্তান বিমানবাহিনীর (PAF) একাধিক ঘাঁটিতে ক্রুজ মিসাইল হামলা চালায়। এই অভিযানে ১২টি গুরুত্বপূর্ণ বিমানঘাঁটি লক্ষ্য করা হয় এবং সেখানে থাকা যুদ্ধবিমান ও নজরদারি বিমানের মতো একাধিক উচ্চ-মূল্যের সম্পদ ধ্বংস করা হয়। স্ক্যাল্প মিসাইল রাফাল যুদ্ধবিমানের অস্ত্রভাণ্ডারের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবেই ভবিষ্যতেও ব্যবহৃত হবে।

    মিটিয়র মিসাইল কী ও কেন তা গুরুত্বপূর্ণ?

    স্ক্যাল্প-এর পাশাপাশি, ভারতীয় বায়ুসেনা রাফাল যুদ্ধবিমানের যুদ্ধক্ষমতা আরও বাড়াতে বিপুল সংখ্যক মিটিয়র (Meteor) এয়ার-টু-এয়ার মিসাইল কেনার প্রক্রিয়াও শুরু করেছে। সূত্রের খবর, এর জন্য প্রায় ১৫০০ কোটি টাকার চুক্তি হতে পারে। বর্তমানে বিশ্বের অন্যতম সেরা এয়ার-টু-এয়ার মিসাইল হল মিটিয়র। এটি একটি আধুনিক প্রজন্মের বিয়ন্ড-ভিজুয়াল-রেঞ্জ (BVR) এয়ার-টু-এয়ার মিসাইল। এটি আকাশযুদ্ধে শত্রু বিমানের বিরুদ্ধে অনেক দূর থেকে অত্যন্ত নির্ভুল ও নির্ভরযোগ্য আঘাত হানার জন্য তৈরি করা হয়েছে। মিটিয়র মিসাইলের কার্যকর পাল্লা প্রায় ১৫০ থেকে ২০০ কিলোমিটার বা তারও বেশি। এর উন্নত গাইডেন্স সিস্টেমে রয়েছে ইনার্শিয়াল ন্যাভিগেশন, ডেটালিঙ্ক আপডেট এবং শেষ ধাপে অ্যাকটিভ রাডার সিকার, যার ফলে ইলেকট্রনিক যুদ্ধ পরিস্থিতিতেও লক্ষ্যবস্তু নির্ভুলভাবে শনাক্ত ও ধ্বংস করা সম্ভব হয়। এই মিসাইলের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বৈশিষ্ট্য হলো এর র‌্যামজেট প্রোপালশন সিস্টেম। সাধারণ মিসাইল যেখানে শেষ পর্যায়ে গতি ও শক্তি হারায়, সেখানে মিটিয়র পুরো উড়ানজুড়েই উচ্চগতি বজায় রাখতে পারে। ফলে দ্রুতগামী ও কৌশলী শত্রু বিমান, ড্রোন কিংবা ক্রুজ মিসাইল ধ্বংস করার সম্ভাবনা অনেক বেড়ে যায়। এই মিসাইলগুলো ভারতীয় নৌবাহিনীর জন্য কেনা ২৬টি রাফাল-মেরিন Rafale-M) যুদ্ধবিমানের সঙ্গেও যুক্ত করা হবে, যেগুলি আগামী তিন থেকে চার বছরের মধ্যে অন্তর্ভুক্ত হওয়ার কথা।

    ভারতের ভবিষ্যৎ বায়ুশক্তির কেন্দ্রে রাফাল

    প্রস্তাবিত স্ক্যাল্প ও মিটিয়র মিসাইল কেনা ভারতের বিমান শক্তিকে রাফালকে কেন্দ্র করে গড়ে তোলার বৃহত্তর পরিকল্পনার অংশ। কেন্দ্রীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, শীঘ্রই ১১৪টি রাফাল যুদ্ধবিমান কেনার প্রস্তাব নিয়ে আলোচনা হতে পারে প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বাধীন প্রতিরক্ষা বিষয়ক মস্ত্রিসভার কমিটিতে। এই প্রস্তাব অনুমোদিত হলে আগামী এক দশকের মধ্যে ভারতের রাফাল বহর প্রায় ১৭৫-এ পৌঁছাতে পারে, যা শত্রুদেশের গভীর আঘাত হানার ক্ষমতা ও প্রতিরোধ শক্তিকে উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়াবে। ভারত ও ফ্রান্সের প্রতিরক্ষা সহযোগিতা ক্রমশ গভীর হওয়ার প্রেক্ষাপটে, যুদ্ধক্ষেত্রে পরীক্ষিত কর্মক্ষমতার ভিত্তিতেই এই স্ক্যাল্প ও মিটিয়র মিসাইল চুক্তি একটি গুরুত্বপূর্ণ সামরিক পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

  • Enforcement Directorate: কয়লা পাচার মামলায় বড় সাফল্য ইডির, বাজেয়াপ্ত লালা সিন্ডিকেটের ১০০ কোটির বেশি সম্পত্তি

    Enforcement Directorate: কয়লা পাচার মামলায় বড় সাফল্য ইডির, বাজেয়াপ্ত লালা সিন্ডিকেটের ১০০ কোটির বেশি সম্পত্তি

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ভোটের আবহে আরও সক্রিয় হল এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট (Enforcement Directorate)। এবার কয়লা পাচার মামলার (Bengal Coal Scam) মূল অভিযুক্ত লালা সিন্ডিকেটের বিপুল সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করল কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা। শুক্রবার পুরনো কয়লা পাচার মামলাতেই ১০০ কোটি ৪৪ লক্ষ টাকার সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করেছে ইডি। এর ফলে এই মামলায় এখন পর্যন্ত বাজেয়াপ্ত সম্পত্তির মোট অঙ্ক দাঁড়াল ৩২২ কোটি ৭১ লক্ষ টাকা। তদন্তকারীরা জানান, গত ৪ জানুয়ারি দিল্লি ও কলকাতায় একযোগে চালানো তল্লাশি অভিযানের সময়ই লালা সিন্ডিকেটের গড়া এই বিপুল সম্পদের নথি উদ্ধার হয়। সেই সূত্র ধরেই পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।

    কীভাবে হত কয়লা পাচার?

    ইডি (Enforcement Directorate) সূত্রে আরও জানা গেছে, কয়লা পাচারের অর্থ দুটি বেনামি সংস্থার নামে জমি কেনা ও মিউচুয়াল ফান্ডে বিনিয়োগের মাধ্যমে লুকানো হয়েছিল। ভুয়ো চালানের মাধ্যমে ১০ বা ২০ টাকার নোট আটকে তার ছবি ব্যবহার করে লেনদেন দেখানো হত। এই সামান্য চালানের আড়ালেই গড়ে ওঠে কয়েক’শ কোটির সম্পত্তি। তদন্তে উঠে এসেছে, চালানে পিন আটকানো ১০ বা ২০ টাকার নোট। ওই নোটের নম্বরই আসলে কোড। নাম তার ‘লালা প‌্যাড’। কয়লা মাফিয়া হিসাবে অভিযুক্ত অনুপ মাঝি ওরফে লালার নামেই নামকরণ হয় এই প‌্যাডের। এই নোট-সহ প‌্যাডের ছবি হোয়াটসঅ‌্যাপে কয়লা পাচারের (Bengal Coal Scam) সঙ্গে যুক্ত পুলিশকর্মী ও আধিকারিকদের পাঠিয়ে দেওয়া হত। এই টাকা আটকানো চালান যে ট্রাক চালকের কাছে থাকত, তাঁকে আটকানো হত না। ভুয়ো চালানের সঙ্গে পাঠানো হত ট্রাকের নম্বর প্লেটও। সেই ছবির সঙ্গে মিলিয়ে ছেড়ে দেওয়া হত বেআইনি কয়লা-সহ ট্রাক। এভাবেই বেআইনি কয়লা খাদান থেকে কয়লা পাচার হত বলে দাবি এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেটের (Enforcement Directorate)। ইডির গোয়েন্দারা জানান, ওই কয়লা পাচার চক্র বিপুল টাকা পাচার করত হাওয়ালার মাধ‌্যমেও। সেই ক্ষেত্রেও ১০ টাকার নোটের নম্বর ব‌্যবহার করা হত। ওই নম্বর দেখেই হাওয়ালা চক্র জায়গামতো পাঠিয়ে দিত কোটি কোটি টাকা। তদন্তকারীদের ধারণা, লালা সিন্ডিকেটের মোট দুর্নীতির পরিমাণ ২,৭০০ কোটি টাকারও বেশি।

    জড়িত পুলিশ আধিকারিক?…

    একদিকে পুরনো মামলায় সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত হচ্ছে, অন্যদিকে নতুন মামলায় (Bengal Coal Scam) চলছে জোরদার তলব। সম্প্রতি কয়লা পাচার সংক্রান্ত নতুন মামলায় বুদবুদ থানার ওসি মনোরঞ্জন মণ্ডলকে হাজিরার নির্দেশ দেয় ইডি। নির্দিষ্ট দিনে তিনি উপস্থিত না হওয়ায় তাঁর বদলে দুই আইনজীবী—শুভ্রাংশু পাল ও দেবতনু দাস হাজির হন। তাঁদের কাছ থেকেই মনোরঞ্জন মণ্ডল এবং তাঁর বাবা-মায়ের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট সংক্রান্ত তথ্য সংগ্রহ করেন তদন্তকারীরা। উল্লেখ্য, ২০২০ সালে কয়লা পাচার মামলার তদন্ত শুরু করে সেন্ট্রাল ব্যুরো অফ ইনভেস্টিগেশন (সিবিআই)। রাজ্যের বিভিন্ন রেল সাইডিং এলাকা থেকে কয়লা চুরির ঘটনা সামনে আসতেই প্রথমে আয়কর দফতর এবং পরে সিবিআই তদন্তে নামে। সেই সূত্রেই প্রকাশ্যে আসে অনুপ মাঝি ওরফে লালা এবং তার সিন্ডিকেটের নাম। গত বছর ইডি (Enforcement Directorate) এই ঘটনায় আরও একটি নতুন মামলা দায়ের করে। ভোটমুখী বাংলায় সেই তদন্ত এখন ফের তীব্র গতিতে এগোচ্ছে।

  • Gen Naravane Memoir Row: জেনারেল নারাভানে স্মৃতিকথা বিতর্ক! কর্মরত ও অবসরপ্রাপ্ত প্রতিরক্ষা কর্মীদের বই প্রকাশে নির্দেশিকা আনছে কেন্দ্র

    Gen Naravane Memoir Row: জেনারেল নারাভানে স্মৃতিকথা বিতর্ক! কর্মরত ও অবসরপ্রাপ্ত প্রতিরক্ষা কর্মীদের বই প্রকাশে নির্দেশিকা আনছে কেন্দ্র

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: প্রাক্তন সেনাপ্রধান জেনারেল এম এম নারাভানের (Gen Naravane Memoir Row) অপ্রকাশিত বইকে ঘিরে বিতর্কের জেরে কেন্দ্র সরকার কঠোর পদক্ষেপের পথে হাঁটছে। ‘ফোর স্টারস অফ ডেস্টিনি’ (Four Stars of Destiny) শীর্ষক এই অপ্রকাশিত বইটি সম্প্রতি আলোচনায় আসে। লোকসভায় চলতি বাজেট অধিবেশনে বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধী বইটির কিছু অংশ উদ্ধৃত করার চেষ্টা করেন। ২০১৯ সালের ডিসেম্বর থেকে ২০২২ সালের এপ্রিল পর্যন্ত দেশের সেনাপ্রধান ছিলেন নারাভানে। তাঁর ‘অপ্রকাশিত’ বইয়ের কিছু অংশ সম্প্রতি প্রকাশিত হয়েছে একটি ম্যাগাজিনে। যার পর শুরু হয়েছে বিতর্ক।

    সেনা কর্মীদের জন্য কঠোর নির্দেশিকা

    প্রতিরক্ষা মন্ত্রক কর্মরত ও অবসরপ্রাপ্ত সেনা কর্মকর্তাদের বই প্রকাশ সংক্রান্ত নতুন নির্দেশিকা তৈরির প্রক্রিয়া শুরু করেছে। মন্ত্রক সূত্রে জানা গিয়েছে, এ বিষয়ে সম্প্রতি একটি বৈঠক হয়েছে এবং সেখানে বিস্তারিত উপস্থাপনাও করা হয়েছে। প্রস্তাবিত নির্দেশিকায় সার্ভিস রুলস এবং অফিসিয়াল সিক্রেটস অ্যাক্ট (ওএসএ)-এর বিধান অন্তর্ভুক্ত করা হবে। সম্প্রতি জেনারেল নারাভানের অপ্রকাশিত বইকে ঘিরে রাজনৈতিক ও আইনি বিতর্কের সূত্রপাত হয়। এর পরিপ্রেক্ষিতেই ভবিষ্যতে এ ধরনের পরিস্থিতি এড়াতে স্পষ্ট ও কঠোর নিয়ম প্রণয়নের সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। কেন্দ্রের মতে, মতপ্রকাশের স্বাধীনতা গুরুত্বপূর্ণ হলেও জাতীয় নিরাপত্তা সংক্রান্ত তথ্যের সুরক্ষা সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার। এই দুইয়ের মধ্যে ভারসাম্য বজায় রেখেই নতুন নির্দেশিকা তৈরি করা হচ্ছে।
    বর্তমান নিয়ম অনুযায়ী, কর্তব্যরত অবস্থায় সেনা আধিকারিক বা আমলাদের বই প্রকাশের ক্ষেত্রে কিছু বিধিনিয়ম রয়েছে। অবসরপ্রাপ্ত আধিকারিকদের ক্ষেত্রে কী নিয়ম প্রযোজ্য, তা নিয়ে ধোঁয়াশা রয়েছে। ১৯২৩ সালের অফিসিয়াল সিক্রেটস অ্যাক্ট অনুযায়ী, গোপন কোনও তথ্য, স্পর্শকাতর কোনও কথোপকথন, যাতে জাতীয় নিরাপত্তা বা বিদেশনীতি ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে, তা খোলসা করা যায় না। আবার সেন্ট্রাল সিভিল সার্ভিসেস পেনশন রুল ২০২১ সালে সংশোধন করা হয়, যাতে বলা হয়েছে, কাজ সংক্রান্ত কোনও রকম লেখা প্রকাশ করতে গেলে তাঁর আগের সংস্থার বর্তমান প্রধানের ছাড়পত্র প্রয়োজন। নিয়ম না মানলে পেনশন তুলতে সমস্যা হতে পারে। দেশের তিন বাহিনী এর অন্তর্ভুক্ত না হলেও, তাঁরাও বিধিনিয়ম মেনে চলবেন বলে প্রত্যাশা করা হয়।

    কী থাকতে পারে নতুন নিয়মে?

    নতুন নির্দেশিকায় স্পষ্ট করা হবে, কোনো পাণ্ডুলিপি প্রকাশের আগে কী প্রক্রিয়ার মধ্যে দিয়ে যেতে হবে। যদি বইয়ে সামরিক অভিযান, কৌশল বা সংবেদনশীল তথ্য সংক্রান্ত বিষয় থাকে, তবে লেখককে তা প্রকাশের আগে প্রতিরক্ষা মন্ত্রকে জমা দিয়ে অনুমোদন নিতে হবে। যথাযথ যাচাই-বাছাই ও পর্যালোচনার পর সংশ্লিষ্ট মন্ত্রক প্রকাশের অনুমতি দেবে। বর্তমানে অবসরপ্রাপ্ত সেনা কর্মকর্তাদের বই লেখার বিষয়ে একক কোনো আইন নেই। কর্মরত ও অবসরপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের ক্ষেত্রে আলাদা নিয়ম প্রযোজ্য। তবে উভয় ক্ষেত্রেই জাতীয় নিরাপত্তা ও গোপন তথ্য সুরক্ষা সর্বাধিক গুরুত্ব পায়। অফিসিয়াল সিক্রেটস অ্যাক্ট অনুযায়ী, গোপন বা সংবেদনশীল সামরিক তথ্য প্রকাশ করা দণ্ডনীয় অপরাধ। এই আইন অবসর গ্রহণের পরও আজীবন প্রযোজ্য থাকে।

LinkedIn
Share