Tag: Madhyom

Madhyom

  • Modi Pezeshkian Meet: পশ্চিম এশিয়ায় শান্তি, নাবিকদের সুরক্ষায় জোর মোদির! ব্রিকসের ফাঁকে ইরানের প্রেসিডেন্টের সঙ্গে বৈঠক

    Modi Pezeshkian Meet: পশ্চিম এশিয়ায় শান্তি, নাবিকদের সুরক্ষায় জোর মোদির! ব্রিকসের ফাঁকে ইরানের প্রেসিডেন্টের সঙ্গে বৈঠক

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: পশ্চিম এশিয়ায় চলমান সংঘাতের অবসানে ফের সংলাপ ও কূটনীতির উপর জোর দিল ভারত। শুক্রবার নয়াদিল্লিতে আয়োজিত ব্রিকস শীর্ষ সম্মেলনের (BRICS Summit New Delhi) ফাঁকে ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান (Masoud Pezeshkian)-এর সঙ্গে গুরুত্বপূর্ণ দ্বিপাক্ষিক বৈঠকে বসলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। সেখানেই তিনি বলেন, আঞ্চলিক শান্তি ও স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করতে সব সমস্যার সমাধান আলোচনা ও কূটনীতির মাধ্যমেই করতে হবে। একই সঙ্গে নিরাপদ নৌ চলাচল, বাণিজ্যের অবাধ প্রবাহ এবং সমুদ্রযাত্রীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার প্রয়োজনীয়তার কথাও তুলে ধরেন তিনি। দিল্লিতে পেজেশকিয়ান (Modi Pezeshkian Meet) পৌঁছনোর কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই দুই রাষ্ট্রনেতার মধ্যে এই বৈঠক হয়। প্রেসিডেন্ট হিসেবে এটাই তাঁর প্রথম ভারত সফর। মাত্র দু’সপ্তাহের মধ্যে মোদি ও পেজেশকিয়ানের এটি দ্বিতীয় বৈঠক।

    পশ্চিম এশিয়ার সাম্প্রতিক পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা

    বৈঠকে পশ্চিম এশিয়ার সাম্প্রতিক পরিস্থিতি নিয়ে মতবিনিময় করেন দুই নেতা (India Iran Relations)। ভারতের বিদেশ মন্ত্রকের (MEA) তরফে জানানো হয়েছে, প্রধানমন্ত্রী ফের ভারতের দীর্ঘদিনের অবস্থান স্পষ্ট করে বলেছেন—পশ্চিম এশিয়ার সমস্ত সমস্যার সমাধান সংলাপ ও কূটনীতির মাধ্যমে করতে হবে। বিদেশ মন্ত্রক জানিয়েছে, ‘‘অঞ্চলে দীর্ঘস্থায়ী শান্তি ও স্থিতিশীলতা প্রতিষ্ঠার জন্য ধারাবাহিক প্রচেষ্টার প্রয়োজনীয়তার উপর জোর দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী।’’ পাশাপাশি নৌ চলাচল ও বাণিজ্যের স্বাধীনতা বজায় রাখা এবং সমুদ্রযাত্রীদের নিরাপত্তা ও কল্যাণ নিশ্চিত করার বিষয়টিও তিনি তুলে ধরেন। শুক্রবারের বৈঠকেও ভারতীয় পক্ষের তরফে জাহাজ চলাচল এবং আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের অবাধ প্রবাহ বজায় রাখার গুরুত্ব ফের তুলে ধরা হয়েছে বলে জানা গিয়েছে।

    নাবিকদের নিরাপত্তা নিয়ে কথা

    আলোচনায় আন্তর্জাতিক সামুদ্রিক বাণিজ্য পথ রক্ষা, বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল এবং সাগরে থাকা নাবিকদের নিরাপত্তার উপর বিশেষভাবে জোর দিয়েছেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী। পশ্চিম এশিয়ায় স্থায়ী শান্তি ও স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনার জন্য নিরবচ্ছিন্ন আন্তর্জাতিক প্রয়াসের প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, “বাণিজ্যিক জাহাজের অবাধ চলাচল, আন্তর্জাতিক সমুদ্র বাণিজ্য রক্ষা এবং জাহাজে কর্মরত নাবিকদের জীবন ও নিরাপত্তা সুনিশ্চিত করা অত্যন্ত জরুরি।” উল্লেখ্য, লোহিত সাগর ও হরমুজ প্রণালী সংলগ্ন এলাকায় সাম্প্রতিক সংঘাতের কারণে বহু ভারতীয় নাবিক এবং বাণিজ্যিক জাহাজ আন্তর্জাতিক ঝুঁকির মুখে পড়েছে। ইরানের হরমুজ প্রণালী অবরোধের জেরে বিশ্বজুড়ে তেল সরবরাহে বড় ধরনের ব্যাঘাত তৈরি হয়েছে। বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি সরবরাহপথ হিসেবে পরিচিত এই প্রণালী দিয়ে বিশ্বের মোট পেট্রোলিয়াম সরবরাহের প্রায় ২০ শতাংশ যাতায়াত করে। ফলে হরমুজ প্রণালী ঘিরে উত্তেজনা আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজার এবং সামুদ্রিক বাণিজ্যের উপরও গভীর প্রভাব ফেলছে।

    ভারত-ইরান দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক

    বৈঠকে ভারত-ইরান দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের বিভিন্ন দিক নিয়েও আলোচনা হয়। কঠিন পরিস্থিতির মধ্যেও ব্রিকসের বিভিন্ন বৈঠকে ইরানের নিয়মিত ও উচ্চপর্যায়ের অংশগ্রহণের জন্য পেজেশকিয়ানকে ধন্যবাদ জানান মোদি। তিনি ব্রিকস বিজনেস ফোরামের ‘লিডার্স সেশন’-এ অংশগ্রহণের জন্যও পেজেশকিয়ানকে ধন্যবাদ জানান। গ্লোবাল সাউথের (Global South) দেশগুলির মধ্যে সহনশীলতা, উদ্ভাবন, সহযোগিতা ও স্থায়িত্বের মানসিকতা গড়ে তুলতে ব্রিকস গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিতে পারে বলেও মন্তব্য করেন তিনি। বহুপাক্ষিক বিভিন্ন সংগঠনে, বিশেষ করে ব্রিকসের মতো মঞ্চে, পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয়ে ভারত ও ইরানের মধ্যে চলমান সহযোগিতারও প্রশংসা করেন প্রধানমন্ত্রী।

    ভারতকে বিশেষ আহ্বান পেজেশকিয়ানের 

    দুই সপ্তাহেরও কম সময়ের মধ্যে মোদি এবং পেজেশকিয়ানের মধ্যে এটি ছিল দ্বিতীয় শীর্ষ বৈঠক। এর আগে গত ৩১ আগস্ট বিশকেকে সাংহাই কো-অপারেশন অর্গানাইজেশন (SCO) সম্মেলনের ফাঁকে পেজেশকিয়ানের সঙ্গে বৈঠক করেছিলেন মোদি। সেই বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী জানিয়েছিলেন, পশ্চিম এশিয়ার সংঘাতের অবসানে সমস্ত প্রচেষ্টাকে ভারত সমর্থন করে। বিভিন্ন আন্তর্জাতিক ও বহুপাক্ষিক মঞ্চে ভারত ও ইরানের যৌথ স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয়ে পারস্পরিক সহযোগিতার ভূয়সী প্রশংসা করেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী। অন্যদিকে পেজেশকিয়ান ভারতের সঙ্গে বিভিন্ন পক্ষের বিস্তৃত যোগাযোগের কথা উল্লেখ করে মোদিকে যুদ্ধ ও রক্তপাতের পথ থেকে সংশ্লিষ্ট দেশগুলিকে সরিয়ে সংলাপ ও সমঝোতার পথে ফেরাতে ভূমিকা নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছিলেন।

    শান্তি ও কূটনীতির অনন্য ছবি

    নয়াদিল্লির ব্রিকস বিজনেস সামিট থেকে সামনে আসা একটি অনন্য ছবি এখন আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু। ফ্রেমে দেখা গেছে, বিভক্ত ও সংঘাতপূর্ণ বিশ্বের মাঝে দাঁড়িয়ে ভারতের কূটনৈতিক অবস্থানের প্রতীক হয়ে উঠেছেন প্রধানমন্ত্রী মোদি। সেখানে দেখা যায়, তিনি একহাতে ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ানের হাত ধরে আছেন, আর তাঁদের পাশেই দাঁড়িয়ে রয়েছেন রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন এবং দক্ষিণ আফ্রিকার প্রেসিডেন্ট সিরিল রামাফোসা। ছবিটি আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। কারণ একদিকে পশ্চিম এশিয়ায় যুদ্ধের কারণে বিশ্বব্যাপী জ্বালানি সরবরাহ ও সামুদ্রিক বাণিজ্য বিঘ্নিত হচ্ছে, আর অন্যদিকে ইউক্রেন যুদ্ধের কারণে পশ্চিমা বিশ্বের একের পর এক নজিরবিহীন নিষেধাজ্ঞার মুখে রয়েছে রাশিয়া। কিন্তু ভারত অত্যন্ত বুদ্ধিমত্তার সঙ্গে যেমন ইরান ও রাশিয়ার সঙ্গে তাদের ঐতিহাসিক ও কৌশলগত মিত্রতা বজায় রেখেছে, তেমনই অন্যদিকে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র-সহ পশ্চিমা শক্তিগুলির সঙ্গে নিজেদের সুদৃঢ় স্ট্র্যাটেজিক পার্টনারশিপ অক্ষুণ্ণ রেখেছে।

    সমস্ত বিরোধী মেরুর দেশের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা

    নয়াদিল্লি বারবার আন্তর্জাতিক মঞ্চে স্পষ্ট করে দিয়েছে যে – ভারত বিশ্বের কোনও ভূরাজনৈতিক সংঘাতের ক্ষেত্রে নিষ্ক্রিয় বা নিষ্ফল নিরপেক্ষ নয়, বরং ভারত সবসময় সরাসরি ‘শান্তির পক্ষে’ দাঁড়ায়। কোনও বিশেষ শক্তিশালী বলয়ে বা ক্যাম্পে যোগ না দিয়ে ভারত পৃথিবীর সমস্ত বিরোধী মেরুর দেশের সঙ্গে যোগাযোগ ও সংলাপের পথ খোলা রেখেছে। নয়াদিল্লির ব্রিকস সম্মেলন এমন এক সময়ে হচ্ছে, যখন রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ, মধ্যপ্রাচ্য সংকট, হরমুজ প্রণালির পরিস্থিতি এবং মার্কিন বাণিজ্য ও শুল্কনীতির প্রভাবে বিশ্ব অর্থনীতি নানা চ্যালেঞ্জের মুখে।

  • BRICS Summit Modi Putin: রুশ সফরে মোদিকে আমন্ত্রণ পুতিনের! ‘ফোর্ট্রেস অন হুইলস’-এ জমল কূটনীতির উষ্ণতা

    BRICS Summit Modi Putin: রুশ সফরে মোদিকে আমন্ত্রণ পুতিনের! ‘ফোর্ট্রেস অন হুইলস’-এ জমল কূটনীতির উষ্ণতা

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: কূটনীতি সাধারণত বৈঠকের টেবিলেই হয়। তবে সময়ের সঙ্গে বদলেছে সেই ছবিও। এবার সেই কূটনীতির সাক্ষী হল একটি বিলাসবহুল সাঁজোয়া গাড়ি। দিল্লিতে দ্বিপাক্ষিক বৈঠকের পর রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সাঁজোয়া অরাস সেনেট লিমুজিনে একসঙ্গে সফর করলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ও পুতিন (BRICS Summit Modi Putin)। ১১ সদস্যের ব্রিকস (BRICS) সম্মেলনের এক দিন আগে এই দৃশ্য ঘিরে তৈরি হয়েছে বিশেষ আগ্রহ। দ্বিপাক্ষিক বৈঠকের পর দুই নেতা একই গাড়িতে করে দিল্লির ভারত মণ্ডপমে আয়োজিত ইনোপ্রোম (INNOPROM) প্রদর্শনীতে যান। রাশিয়ার প্রেসিডেন্টের ব্যবহৃত গাড়ি-কে নিরাপত্তার কারণে প্রায়ই ‘ফোর্ট্রেস অন হুইলস’ বা ‘চাকার উপর দুর্গ’ বলা হয়। গত বছর চিনে সাংহাই কর্পোরেশন অর্গানাইজেশন (SCO) সম্মেলনের সময়ও মোদিকে পুতিনের সঙ্গে এই গাড়িতে সফর করতে দেখা গিয়েছিল।

    মোদি-পুতিন বিশেষ বৈঠক

    ব্রিকস সম্মেলনের ফাঁকে শুক্রবার রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সঙ্গে বৈঠক করেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। ১১ সেপ্টেম্বর নয়াদিল্লিতে অনুষ্ঠিত এই বৈঠকে দুই দেশের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের একাধিক গুরুত্বপূর্ণ দিক নিয়ে আলোচনা হয়। রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক, প্রতিরক্ষা, জ্বালানি, মহাকাশ, দক্ষতা ও কর্মী চলাচল এবং দুই দেশের মানুষের মধ্যে যোগাযোগ—সহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে সহযোগিতার অগ্রগতি পর্যালোচনা করেন দুই রাষ্ট্রনেতা। চলতি বছরে এটি মোদি ও পুতিনের দ্বিতীয় সাক্ষাৎ। এর আগে ৩১ অগস্ট ২০২৬-এ বিশকেকে ২৬তম সাংহাই কো-অপারেশন অর্গানাইজেশন (SCO) সম্মেলনের ফাঁকে তাঁদের বৈঠক হয়েছিল। বৈঠকে ভারত-রাশিয়া বাণিজ্য ও শিল্প সহযোগিতা আরও বাড়ানোর উপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়। রাশিয়ার আন্তর্জাতিক শিল্প প্রদর্শনী ‘INNOPROM India’-কে স্বাগত জানান দুই নেতা। ৯ থেকে ১১ সেপ্টেম্বর প্রথমবারের মতো ভারতে আয়োজিত এই শিল্প প্রদর্শনী দুই দেশের বাণিজ্যিক ও শিল্প সম্পর্ক সম্প্রসারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে মনে করেন তাঁরা। মোদি ও পুতিন দু’জনেই প্রদর্শনীটি পরিদর্শন করেন এবং সেখানে অংশগ্রহণকারী প্রতিনিধিদের সঙ্গে কথা বলেন।

    বন্ধু পুতিনকে বিশেষ উপহার মোদির

    ইনোপ্রোম (INNOPROM) হল আন্তর্জাতিক শিল্প প্রদর্শনী। বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তের নির্মাতা ও ক্রেতাদের একত্রিত করার পাশাপাশি অত্যাধুনিক প্রযুক্তি প্রদর্শন, আন্তর্জাতিক বাজারে প্রবেশ এবং ব্যবসায়িক যোগাযোগের সুযোগ তৈরি করাই এই প্রদর্শনীর অন্যতম উদ্দেশ্য। এর আগে দ্বিপাক্ষিক বৈঠকে পুতিনকে বিশেষ উপহার দেন প্রধানমন্ত্রী মোদি। তিনি রুশ প্রেসিডেন্টের হাতে তুলে দেন প্রাচীন তামিল শাস্ত্র ‘তিরুক্কুরাল’-এর রুশ অনুবাদ। তাঁতিবংশের সাধক ও কবি তিরুবল্লুভরের রচিত এই গ্রন্থে মানবজীবনের বিভিন্ন দিকের কথা তুলে ধরা হয়েছে। পুতিনকে উপহার দেওয়ার সময় মোদি বলেন, প্রায় দু’হাজার বছর আগে তিরুবল্লুভর ‘তিরুক্কুরাল’ রচনা করেছিলেন। মানবজীবনের বিভিন্ন দিক এই গ্রন্থে উঠে এসেছে। রুশ ভাষায় এর অনুবাদ ভারত ও রাশিয়ার মানুষের মধ্যে যোগাযোগ আরও বাড়াবে এবং দুই দেশের সম্পর্ককে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নেবে বলে আশাবাদী প্রধানমন্ত্রী। পরে সমাজমাধ্যমে একটি পোস্টে মোদি লেখেন, মহান তিরুবল্লুভরের চিরন্তন জ্ঞানকে ভাষা ও দেশের সীমানা পেরিয়ে পৌঁছে দিতে পুতিনকে ‘তিরুক্কুরাল’-এর রুশ অনুবাদ উপহার দিয়েছেন তিনি।

    ভারত ও রাশিয়া দীর্ঘদিনের কৌশলগত সম্পর্ক

    ভারত ও রাশিয়ার দীর্ঘদিনের কৌশলগত সম্পর্কের ক্ষেত্রে প্রতিরক্ষা ও সামরিক সহযোগিতা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। দিল্লির বৈঠকে দুই নেতাকে হাসিমুখে পরস্পরের সঙ্গে কথা বলতে এবং সৌহার্দ্যপূর্ণ পরিবেশে দেখা যায়। ভারতের বিদেশ মন্ত্রকের তরফে জানানো হয়েছে, ভারত-রাশিয়ার ‘স্পেশাল অ্যান্ড প্রিভিলেজড স্ট্র্যাটেজিক পার্টনারশিপ’ (Special and Privileged Strategic Partnership)-এর বিভিন্ন দিক নিয়ে মোদি ও পুতিনের মধ্যে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। বাণিজ্য, জ্বালানি, প্রতিরক্ষা, মহাকাশ এবং দুই দেশের মানুষের মধ্যে যোগাযোগ—সহ একাধিক ক্ষেত্রে দ্বিপাক্ষিক সহযোগিতার অগ্রগতি পর্যালোচনা করেন তাঁরা। উল্লেখ্য, পুতিন শেষবার ভারত সফরে এসেছিলেন ২০২৫ সালের ডিসেম্বর মাসে। তবে চলতি মাসের শুরুতেই কিরগিজস্তানে এসসিও সম্মেলনের ফাঁকে ফের মুখোমুখি বৈঠক হয়েছিল মোদী-পুতিনের। এবার দিল্লিতে ব্রিকস সম্মেলনের আগে তাঁদের বৈঠক এবং একই গাড়িতে সফর ভারত-রাশিয়া সম্পর্কের উষ্ণতার নতুন ছবি তুলে ধরল।

    পশ্চিম এশিয়া এবং কৃষ্ণসাগরীয় অঞ্চল নিয়ে আলোচনা

    এছাড়াও পশ্চিম এশিয়া এবং কৃষ্ণসাগরীয় অঞ্চল-সহ বিভিন্ন আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক বিষয় নিয়েও মতবিনিময় করেন দুই রাষ্ট্রনেতা। পশ্চিম এশিয়া ও কৃষ্ণসাগরীয় অঞ্চলে সংঘাতের কারণে সামুদ্রিক বাণিজ্য এবং ভারতীয় নাবিকদের নিরাপত্তা ও সুরক্ষা প্রভাবিত হয়েছে বলে উল্লেখ করা হয়। সংঘাতের সমাধানে আলোচনা ও কূটনীতিকেই এগিয়ে যাওয়ার পথ হিসেবে ভারত সমর্থন করে বলে ফের জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। শান্তি প্রতিষ্ঠার প্রচেষ্টায় ভারত প্রয়োজনীয় সহযোগিতা করতে প্রস্তুত বলেও জানান তিনি।

    রাশিয়া সফরে মোদিকে আমন্ত্রণ পুতিনের

    বৈঠকের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বিষয় ছিল রুশ প্রেসিডেন্টের আমন্ত্রণ। পুতিন প্রধানমন্ত্রী মোদিকে রাশিয়া সফরের আমন্ত্রণ জানিয়েছেন। সেখানে অনুষ্ঠিত হবে ২৪তম ভারত-রাশিয়া বার্ষিক শীর্ষ সম্মেলন। মোদী সেই আমন্ত্রণ গ্রহণ করেছেন। দুই দেশের কূটনৈতিক চ্যানেলের মাধ্যমে পারস্পরিক সুবিধাজনক সময়ে সম্মেলনের দিনক্ষণ চূড়ান্ত করা হবে। বৈঠকে বহুপাক্ষিক ক্ষেত্রে ভারত-রাশিয়ার সহযোগিতা নিয়েও মতবিনিময় করেন মোদি ও পুতিন। বিশেষ করে ২০২৬ সালে ভারতের ব্রিকস সভাপতিত্বের সময়ে দুই দেশের সমন্বয় নিয়ে আলোচনা হয়। তিন দিনের ভারত সফরে শুক্রবার নয়াদিল্লিতে পৌঁছন পুতিন। বিমানবন্দরে তাঁকে স্বাগত জানান বিদেশ প্রতিমন্ত্রী কে ভি সিং। পুতিনের সঙ্গে রয়েছেন উচ্চপর্যায়ের রুশ প্রতিনিধি দল। তাঁর এই সফরে ব্রিকস সম্মেলনে যোগ দেওয়ার পাশাপাশি মোদির সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য, বিনিয়োগ ও জ্বালানি সহযোগিতা আরও বাড়ানোর বিষয়ে আলোচনা হওয়ার কথা।

  • Modi-Xi Meet: মোদি-জিনপিং বৈঠকে গুরুত্ব বাণিজ্য ও সীমান্ত পরিস্থিতিকে, শনিবার ভারতে আসছেন চিনা প্রেসিডেন্ট

    Modi-Xi Meet: মোদি-জিনপিং বৈঠকে গুরুত্ব বাণিজ্য ও সীমান্ত পরিস্থিতিকে, শনিবার ভারতে আসছেন চিনা প্রেসিডেন্ট

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: দীর্ঘ সাত বছর পর ভারতে আসছেন চিনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং (Modi-Xi Meet)। আগামী ১২ থেকে ১৩ সেপ্টেম্বর নয়াদিল্লিতে আয়োজিত ব্রিকস শীর্ষ সম্মেলনে যোগ দেবেন তিনি। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির আমন্ত্রণেই তাঁর এই সফর। কূটনৈতিক সূত্রের খবর, শনিবার বিকেল ৫টা ৪৫ মিনিটে চিনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক বৈঠকে বসবেন মোদি। দুই রাষ্ট্রপ্রধানের আলোচনায় বাণিজ্য, সীমান্ত পরিস্থিতি এবং দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের উন্নয়ন গুরুত্বপূর্ণ জায়গা পেতে পারে। চিনের প্রেসিডেন্টের সঙ্গে ৬৭ সদস্যের সরকারি প্রতিনিধিদল ভারতে আসছে। এই দলে রয়েছেন চিনের কমিউনিস্ট পার্টির পলিটব্যুরোর স্ট্যান্ডিং কমিটির সদস্য এবং শি জিনপিংয়ের ঘনিষ্ঠ সহযোগী কাই চি এবং চিনের বিদেশমন্ত্রী ওয়াং ই। পাশাপাশি পৃথক একটি বাণিজ্যিক প্রতিনিধিদলও ভারতে আসবে।

    মোদির আমন্ত্রণেই ভারতে শি

    প্রায় ২৪ ঘণ্টার ঝটিকা সফরে ভারতে থাকবেন শি। শনিবার দুপুর ১২টা ১০ মিনিটে তাঁর ভারতে পৌঁছনোর কথা। পরদিন রবিবার দুপুর ১২টা ২০ মিনিটে তিনি ভারত ছাড়বেন। শনিবার দুপুর ২টা নাগাদ ভারত মণ্ডপমে তাঁকে এবং অন্যান্য রাষ্ট্রনেতাকে স্বাগত জানাবেন প্রধানমন্ত্রী মোদি। কূটনৈতিক সূত্রের খবর, ব্রিকসের একটি রুদ্ধদ্বার বৈঠকের পর এবং সন্ধ্যা সাড়ে ৭টায় প্রধানমন্ত্রী মোদির দেওয়া নৈশভোজের আগে দুই নেতার দ্বিপাক্ষিক বৈঠক হতে পারে। নৈশভোজেও উপস্থিত থাকবেন শি জিনপিং। গালওয়ান সংঘর্ষের পরে প্রথম ভারত সফরে আসছেন জিনপিং। গোটা বিশ্বের নজর থাকবে মোদি-জিনপিং বৈঠকের দিকে। কূটনৈতিক বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, দীর্ঘদিনের সামরিক উত্তেজনা, কূটনৈতিক দূরত্ব এবং অর্থনৈতিক টানাপড়েনের পর ভারত ও চিন উভয় দেশ সম্পর্ক পুনর্গঠনের চেষ্টা করতে পারে এই বৈঠকে।

    ভারত-চিন সম্পর্ক নিয়ে প্রশ্ন

    শেষ বার সাত বছর আগে ২০১৯ সালে ভারতে এসেছিলেন চিনের প্রেসিডেন্ট। তার পরের বছরেই পূর্ব লাদাখের গালওয়ানে ভারতীয় সেনাবাহিনীর সঙ্গে সীমান্ত সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে চিনের ফৌজ। রক্তক্ষয়ী ওই সংগ্রামে ২০ জন ভারতীয় জওয়ান নিহত হন। চিন সরকারি ভাবে তাদের বাহিনীর চার জনের মৃত্যুর কথা স্বীকার করে। ওই সংঘর্ষের পর থেকেই ভারত এবং চিনের পারস্পরিক সম্পর্কের দ্রুত অবনতি হয়। এই অবস্থায় দিল্লির ব্রিকস সম্মেলনে জিনপিংয়ের ভারত সফর তাৎপর্যপূর্ণ। যদিও প্রশ্ন উঠছে, ১৯৬২-র যুদ্ধের পর থেকে শুরু হওয়া অবিশ্বাসের কাঁটা, যা ২০২০ সালে গালওয়ানে দুই দেশের সেনার মধ্যে সংঘর্ষে কয়েক গুণ বেড়ে গিয়েছে। সাম্প্রতিক সময়ে অরুণাচল সীমান্তের অঞ্চলের দখলদারি নিয়েও দ্বন্দ্ব অব্যাহত। এর পরেও কি মধ্যপ্রাচ্যের একটানা চলা যুদ্ধের আবহে এশিয়ার দুই শক্তিশালী দেশ মধ্যবর্তী কোন সমঝোতায় আসবে?

    বাণিজ্যে ভারসাম্যের বার্তা দিতে পারেন মোদি

    ভারত-চিন সম্পর্কের সাম্প্রতিক উন্নতির মধ্যেও বাণিজ্য ঘাটতি নিয়ে নয়াদিল্লির উদ্বেগ রয়েছে। বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী মোদি চিনের বাজারে ভারতীয় পণ্যের জন্য আরও ন্যায্য ও সমান সুযোগ, সরবরাহ শৃঙ্খলের নির্ভরযোগ্যতা এবং দুই দেশের বাণিজ্যে ভারসাম্যের প্রয়োজনীয়তার কথা তুলে ধরতে পারেন বলে জানা গিয়েছে। দুই দেশই অর্থনৈতিক সহযোগিতা আরও বাড়াতে আগ্রহী। ফলে শি জিনপিংয়ের সফরকে বাণিজ্যিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে।

    আলোচনায় সীমান্ত সমস্যাও

    বাণিজ্যের পাশাপাশি সীমান্ত পরিস্থিতিও মোদি-শি বৈঠকের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হতে পারে। ২০২০ সালের পূর্ব লাদাখের সামরিক সংঘাতের পর ভারত ও চিনের মধ্যে সম্পর্কের যে টানাপোড়েন তৈরি হয়েছিল, ২০২৪ সালে কাজানে মোদি-শি বৈঠকের পর তার বরফ গলতে শুরু করে। দুই দেশের সেনার সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্নকরণ এবং সীমান্তে শান্তি ও স্থিতাবস্থা ফিরিয়ে আনার ক্ষেত্রে অগ্রগতি হয়েছে। কাজান বৈঠকের পর দুই দেশ সীমান্ত প্রশ্নে বিশেষ প্রতিনিধিদের মাধ্যমে আলোচনা চালিয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেয়। ভারতের অবস্থান হল, সীমান্তে শান্তি ও স্থিতাবস্থা বজায় রাখা দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের সামগ্রিক উন্নতির পূর্বশর্ত। এরপর বিশেষ প্রতিনিধিরা তিন দফা সীমান্ত বৈঠক করেছেন। চলতি বছরের অগস্টে অনুষ্ঠিত সর্বশেষ বৈঠকে সীমান্ত নির্ধারণ ও সীমান্ত ব্যবস্থাপনা নিয়ে দ্রুত ও গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতির জন্য আলোচনার কাঠামো চূড়ান্ত করার সিদ্ধান্ত-সহ মোট আটটি বিষয়ে ঐকমত্য হয়।

    সম্পর্কের বরফ গলাতে গুরুত্বপূর্ণ

    গত বছর সাংহাই কো-অপারেশন অর্গানাইজেশন (SCO)-এর শীর্ষ সম্মেলনে যোগ দিতে চিন সফর করেছিলেন প্রধানমন্ত্রী মোদি। সেই সফরেও শি জিনপিংয়ের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক বৈঠক করেন তিনি। দুই নেতার ধারাবাহিক বৈঠকে ভারত-চিন সম্পর্কের উন্নতির ইঙ্গিত মিলেছে। দুই দেশের নেতাই ভারত ও চিনকে ‘প্রতিদ্বন্দ্বী নয়, অংশীদার’ হিসেবে দেখার বার্তা দিয়েছেন। এবার শি জিনপিংয়ের ভারত সফর চিনের কাছেও বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ। কারণ আগামী বছর ব্রিকসের সভাপতিত্ব করবে চিন, ভারতের কাছ থেকে দায়িত্ব গ্রহণ করবে তারা। ফলে ব্রিকসের পাশাপাশি ভারত-চিন দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক নিয়েও এই সফরে গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা হতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে। শি জিনপিংয়ের ঘনিষ্ঠ সহযোগী কাই চির সঙ্গেও এর আগে প্রধানমন্ত্রী মোদির বৈঠক হয়েছে। সেই সময় দুই দেশের মধ্যে যোগাযোগ আরও বাড়ানো এবং দুই রাষ্ট্রপ্রধানের মধ্যে হওয়া সমঝোতা অনুযায়ী দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ককে আরও এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার বিষয়ে চিনের আগ্রহের কথা জানিয়েছিলেন কাই।

     

     

     

     

  • India France Space Cooperation: ভারত-ফ্রান্স মহাকাশ সহযোগিতা, ৫২ উপগ্রহের নজরদারি কনস্টিলেশন নিয়ে বড় চুক্তি

    India France Space Cooperation: ভারত-ফ্রান্স মহাকাশ সহযোগিতা, ৫২ উপগ্রহের নজরদারি কনস্টিলেশন নিয়ে বড় চুক্তি

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: মহাকাশ ক্ষেত্রে আরও এক ধাপ এগোল ভারত-ফ্রান্স সহযোগিতা। উপগ্রহ উৎক্ষেপণ, মহাকাশ নজরদারি এবং মাইক্রোস্যাটেলাইট প্রযুক্তি—এই তিন গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্রে নতুন বাণিজ্যিক চুক্তি স্বাক্ষর করল দুই দেশের সংস্থাগুলি। প্যারিসে আয়োজিত প্রথম ইন্টারন্যাশনাল স্পেস সামিট-এ এই চুক্তিগুলি ঘোষণা করা হয়েছে। এর মধ্যে সবচেয়ে তাৎপর্যপূর্ণ হল ফ্রান্সের সাফরান স্পেস এবং ভারতের ধ্রুব স্পেস-এর মধ্যে ৫ মিলিয়ন ইউরোর (প্রায় ৫০ কোটি টাকা) বেশি মূল্যের চুক্তি। ভারতের পরিকল্পিত ৫২টি উপগ্রহের স্পেস-সার্ভেইলেন্স কনস্টিলেশন তৈরিতে এই প্রযুক্তি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নেবে।

    ৯ ও ১০ সেপ্টেম্বর প্যারিসে আয়োজিত এই আন্তর্জাতিক মহাকাশ সম্মেলনে বিভিন্ন দেশের সরকার, মহাকাশ গবেষণা সংস্থা, শিল্পক্ষেত্র এবং বিজ্ঞানীরা অংশ নেন। সম্মেলনে মোট ৫১টি ঘোষণা করা হয়েছে, যার আর্থিক মূল্য প্রায় ২০ বিলিয়ন ইউরো (প্রায় ২ লক্ষ কোটি টাকা)। সেই মঞ্চেই ভারতীয় মহাকাশ সংস্থাগুলির সঙ্গে ফরাসি সংস্থাগুলির একাধিক নতুন অংশীদারিত্ব সামনে এসেছে।

    ৫২ উপগ্রহের নজরদারি ব্যবস্থা

    সাফরান স্পেস এবং ধ্রুব স্পেস-এর চুক্তিটি বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ ভারতের এসবিএস-৩ স্পেস-সার্ভেইলেন্স কনস্টিলেশন-এর জন্য। পরিকল্পনা অনুযায়ী, ২০২৭ থেকে ২০৩০ সালের মধ্যে মোট ৫২টি উপগ্রহের এই কনস্টিলেশন গড়ে তোলা হবে।

    চুক্তির আওতায় ভারতীয় সংস্থাকে যোগাযোগ ব্যবস্থা, ইনারশিয়াল ন্যাভিগেশন ইউনিট, অপটিক্যাল পেলোড এবং গ্রাউন্ড স্টেশন-সংক্রান্ত প্রযুক্তি সরবরাহ করবে সাফরান স্পেস। এর ফলে কক্ষপথে থাকা বিভিন্ন মহাকাশযান ও অন্যান্য বস্তুর উপর নজরদারি এবং পরিস্থিতি সম্পর্কে দ্রুত তথ্য সংগ্রহের সক্ষমতা বাড়বে ভারতের।

    বিশ্লেষকদের মতে, মহাকাশে উপগ্রহের সংখ্যা দ্রুত বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে স্পেস সিচুয়েশনাল অ্যাওয়ারনেস বা মহাকাশ পরিস্থিতি সম্পর্কে সচেতনতা এখন জাতীয় নিরাপত্তারও গুরুত্বপূর্ণ অংশ হয়ে উঠছে। পৃথিবীর কক্ষপথে কোন উপগ্রহ কোথায় রয়েছে, কোনও মহাকাশযানের গতিপথে পরিবর্তন হচ্ছে কি না, কিংবা কোনও বস্তু সংঘর্ষের ঝুঁকি তৈরি করছে কি না—এসব বিষয়ে নির্ভুল তথ্য পাওয়ার জন্য শক্তিশালী স্পেস-সার্ভেইলেন্স পরিকাঠামো প্রয়োজন। ৫২টি উপগ্রহের পরিকল্পিত কনস্টিলেশন সেই সক্ষমতা বাড়ানোর দিকেই গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ।

    সরকারি কর্মসূচির বাইরে বেসরকারি মহাকাশ শিল্প

    এই চুক্তির আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হল, ভারত-ফ্রান্স মহাকাশ সহযোগিতা ক্রমশ সরকারি মহাকাশ সংস্থার গণ্ডি ছাড়িয়ে নিউ স্পেস বা বেসরকারি মহাকাশ শিল্পের ক্ষেত্রেও বিস্তৃত হচ্ছে।

    দীর্ঘদিন ধরে ভারত ও ফ্রান্সের মহাকাশ সহযোগিতার মূল স্তম্ভ ছিল ভারতের ইসরো এবং ফ্রান্সের সিএনইএস। কিন্তু সাম্প্রতিক চুক্তিগুলি দেখাচ্ছে, এখন ভারতীয় বেসরকারি সংস্থাগুলিও আন্তর্জাতিক মহাকাশ সরবরাহ-শৃঙ্খলের গুরুত্বপূর্ণ অংশ হয়ে উঠছে।

    ধ্রুব স্পেস-এর সঙ্গে সাফরানের চুক্তি সেই পরিবর্তনের অন্যতম উদাহরণ। পাশাপাশি ভারতের মেক ইন ইন্ডিয়া নীতির সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে বিদেশি প্রযুক্তি এবং ভারতীয় শিল্প-উৎপাদন সক্ষমতার সমন্বয় ঘটানোর সুযোগও তৈরি হচ্ছে।

    ভারতীয় সংস্থার সঙ্গে আরও দুই চুক্তি

    প্যারিস সম্মেলনে আরও দুটি গুরুত্বপূর্ণ চুক্তি হয়েছে। ফরাসি লঞ্চ-সার্ভিস সংস্থা রাইড এবং ভারতীয় সংস্থা টেকমিটুস্পেস-এর সঙ্গে একটি চুক্তি করেছে। এর আওতায় টেকমিটুস্পেস-এর দুটি উপগ্রহ উৎক্ষেপণ করা হবে। টেকমিটুস্পেস-কে ভারতের প্রথম অরবিটাল ডেটা সেন্টার-এর নকশাকারী সংস্থা হিসেবে তুলে ধরা হয়েছে।

    এই অংশীদারিত্ব ভারতীয় বেসরকারি মহাকাশ সংস্থাগুলির জন্য আন্তর্জাতিক উৎক্ষেপণ পরিষেবার বাজারে নতুন সুযোগ তৈরি করতে পারে। এর আগে রাইড এবং ভারতীয় মহাকাশ সংস্থাগুলির মধ্যে সহযোগিতার নজির রয়েছে। সম্প্রতি একটি ইউরোপীয় অ্যাটমস্ফেরিক রি-এন্ট্রি ক্যাপসুল ভারতের পিএসএলভি-র মাধ্যমে উৎক্ষেপণ, কক্ষপথে সংযুক্তি এবং পরে পৃথিবীতে ফেরানোর কাজে দুই পক্ষের সহযোগিতা হয়েছে।

    অন্যদিকে ফরাসি মহাকাশ সংস্থা ইউ-স্পেস এবং ভারতীয় প্রযুক্তি সংস্থা অ্যাক্সিসকেডস একটি বাণিজ্যিক সহযোগিতা চুক্তি করেছে। লক্ষ্য ভারতের দ্রুত বাড়তে থাকা মাইক্রোস্যাটেলাইট মার্কেট-এ একসঙ্গে কাজ করা। পরিকল্পনাটি ধাপে ধাপে এগোনোর কথা, যার অন্যতম ভিত্তি ভারতের মেক ইন ইন্ডিয়া নীতি। ফরাসি মহাকাশ প্রযুক্তির সঙ্গে ভারতীয় শিল্প ও ইঞ্জিনিয়ারিং সক্ষমতাকে যুক্ত করাই এই অংশীদারিত্বের মূল লক্ষ্য।

    পাঁচ দশকেরও বেশি পুরনো সম্পর্ক

    ভারত ও ফ্রান্সের মহাকাশ সহযোগিতা অবশ্য নতুন নয়। পাঁচ দশকেরও বেশি সময় ধরে দুই দেশ মহাকাশ গবেষণা ও প্রযুক্তির ক্ষেত্রে একসঙ্গে কাজ করছে। ইসরো এবং সিএনইএস-এর দীর্ঘদিনের অংশীদারিত্ব সেই সম্পর্কের অন্যতম ভিত্তি। পৃথিবী পর্যবেক্ষণ, স্পেস জিওডেসি, মানব মহাকাশ অভিযান, পরবর্তী প্রজন্মের লঞ্চ-ভেহিকল প্রযুক্তি এবং গ্রহ অনুসন্ধান—একাধিক ক্ষেত্রে দুই দেশ সহযোগিতা করেছে।

    দুই দেশের মধ্যে স্ট্র্যাটেজিক স্পেস ডায়ালগ বা কৌশলগত মহাকাশ সংলাপও প্রতিষ্ঠিত হয়েছে, যেখানে অসামরিক এবং প্রতিরক্ষা—দুই ধরনের মহাকাশ সহযোগিতা নিয়ে আলোচনা হয়। প্রথম বৈঠক হয় ২০২৩ সালের জুনে প্যারিসে। দ্বিতীয় বৈঠক হয় ২০২৪ সালের মার্চে নয়াদিল্লিতে।

    ইসরো-সিএনইএস সহযোগিতায় ত্রিশনা-সহ একাধিক প্রকল্প

    ইসরো এবং সিএনইএস ইতিমধ্যেই ভবিষ্যৎ লঞ্চ-ভেহিকল প্রযুক্তি, যৌথ ত্রিশনা আর্থ অবজারভেশন মিশন, সামুদ্রিক ক্ষেত্র সম্পর্কে নজরদারি এবং স্পেস সিচুয়েশনাল অ্যাওয়ারনেস-এর মতো বিষয়ে চুক্তি করেছে।

    দুই দেশের লঞ্চ-সার্ভিস সংস্থাগুলির মধ্যেও বহু বছরের সহযোগিতা রয়েছে। ভারতীয় পিএসএলভি বাণিজ্যিকভাবে ফরাসি উপগ্রহ উৎক্ষেপণ করেছে। আবার ফ্রান্সের এরিয়ানস্পেস ভারতীয় জিওস্টেশনারি উপগ্রহ উৎক্ষেপণে পরিষেবা দিয়েছে।

    ফলে মহাকাশ ক্ষেত্রে ভারত-ফ্রান্স সম্পর্ক শুধু গবেষণা বা সরকারি প্রকল্পের মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই। উৎক্ষেপণ, উপগ্রহ নির্মাণ, পৃথিবী পর্যবেক্ষণ, মহাকাশ নজরদারি এবং বেসরকারি মহাকাশ ব্যবসা—প্রায় প্রতিটি গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্রেই সহযোগিতার পরিধি বাড়ছে।

    চন্দ্রযান-৩ থেকে নতুন প্রজন্মের মহাকাশ সহযোগিতা

    ভারতের মহাকাশ কর্মসূচিতে ফরাসি শিল্পের অংশগ্রহণও দীর্ঘদিনের। সাফরানের ভারতের মহাকাশ কর্মসূচিতে যুক্ত থাকার পাশাপাশি চন্দ্রযান-৩ চন্দ্র অভিযানে তাদের অবদান ছিল। একই সঙ্গে ভারতে তাদের শিল্প পরিকাঠামোও সম্প্রসারিত হয়েছে।

    ফলে সাফরান-ধ্রুব স্পেস-এর নতুন চুক্তিকে বিচ্ছিন্ন কোনও বাণিজ্যিক চুক্তি হিসেবে দেখলে পুরো ছবিটি ধরা পড়বে না। বরং এটি ভারতীয় মহাকাশ পরিকাঠামো এবং ফরাসি মহাকাশ প্রযুক্তির মধ্যে ক্রমশ গভীরতর শিল্প-সহযোগিতার পরবর্তী ধাপ।

    প্রতিরক্ষা ও কৌশলগত ক্ষেত্রেও কেন গুরুত্বপূর্ণ?

    মহাকাশ এখন আর শুধুমাত্র বিজ্ঞান গবেষণার ক্ষেত্র নয়। যোগাযোগ, ন্যাভিগেশন, আবহাওয়া, গোয়েন্দা তথ্য, সীমান্ত নজরদারি, ক্ষেপণাস্ত্র সতর্কীকরণ এবং সামরিক যোগাযোগ—আধুনিক রাষ্ট্রের নিরাপত্তা কাঠামোর সঙ্গে মহাকাশ পরিকাঠামো সরাসরি যুক্ত।

    এই কারণেই ভারতের জন্য স্পেস সিচুয়েশনাল অ্যাওয়ারনেস এবং মহাকাশে নিজস্ব নজরদারি সক্ষমতা বৃদ্ধি কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ। বিদেশি প্রযুক্তির সঙ্গে ভারতীয় সংস্থার দক্ষতার সমন্বয়ে ৫২টি উপগ্রহের পরিকল্পিত কনস্টিলেশন সেই সক্ষমতাকে আরও শক্তিশালী করতে পারে।

    একই সঙ্গে বেসরকারি সংস্থাগুলিকে এই ধরনের প্রকল্পে যুক্ত করার ফলে ভারতের মহাকাশ শিল্পে প্রযুক্তি, উৎপাদন এবং গবেষণার পরিসরও বাড়বে। আন্তর্জাতিক অংশীদারিত্বের মাধ্যমে ভারতীয় নিউ স্পেস সংস্থাগুলি বিশ্ববাজারে প্রবেশের আরও সুযোগ পাবে।

    মাক্রঁর ভারত সফরের পর আরও গতি

    ফরাসি প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল মাক্রঁর ফেব্রুয়ারি মাসে ভারত সফরের সময়ও দুই দেশ অসামরিক উপগ্রহ নির্মাণ এবং মানব মহাকাশ অভিযান-সহ একাধিক ক্ষেত্রে সহযোগিতার পক্ষে সওয়াল করেছিল। তার পরেই প্যারিসের আন্তর্জাতিক মহাকাশ সম্মেলনে একসঙ্গে তিনটি নতুন বাণিজ্যিক চুক্তি সামনে আসা দুই দেশের মহাকাশ অংশীদারিত্বে নতুন গতি নির্দেশ করছে।

    সব মিলিয়ে, ভারত-ফ্রান্সের মহাকাশ সম্পর্ক এখন ইসরো-সিএনইএস-এর ঐতিহ্যবাহী সহযোগিতা থেকে বেরিয়ে সরকারি কর্মসূচি + প্রতিরক্ষা ও কৌশলগত মহাকাশ সক্ষমতা + বেসরকারি শিল্প + আন্তর্জাতিক বাণিজ্যিক উৎক্ষেপণ—এই চারটি স্তম্ভের উপর দাঁড়াচ্ছে। ২০২৭ থেকে ২০৩০ সালের মধ্যে ৫২টি উপগ্রহের পরিকল্পিত নজরদারি কনস্টিলেশন এবং নতুন বেসরকারি অংশীদারিত্বগুলি সেই পরিবর্তনেরই গুরুত্বপূর্ণ ইঙ্গিত।

  • Suvendu on PM Birthday: তৈরি হবে ‘ভারত মণ্ডল’, মোদির জন্মদিনে ‘আশীর্বাদের প্রদীপ’ জ্বালাবে এক কোটি পরিবার, ঘোষণা মুখ্যমন্ত্রীর

    Suvendu on PM Birthday: তৈরি হবে ‘ভারত মণ্ডল’, মোদির জন্মদিনে ‘আশীর্বাদের প্রদীপ’ জ্বালাবে এক কোটি পরিবার, ঘোষণা মুখ্যমন্ত্রীর

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির (PM Modi Birthday) জন্মদিনে ‘মেগা সেলিব্রেশন’-এর পরিকল্পনা করল পশ্চিমবঙ্গ সরকার। আগামী ১৭ সেপ্টেম্বর ৭৫ বছর পেরিয়ে ৭৬-এ পা রাখবেন প্রধানমন্ত্রী মোদি। প্রতি বছরই এই জন্মদিন উপলক্ষে বিজেপি একাধিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করে থাকে। এবার এ রাজ্যেও বিজেপি সরকার। ফলে বঙ্গবাসীও সামিল হবেন সেই উৎসবে। বৃহস্পতিবার সেই সংক্রান্ত প্রস্তুতি বৈঠক করেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। তারপরই তিনি নবান্ন থেকে সাংবাদিক বৈঠক করে বিস্তারিত কর্মসূচির কথা জানালেন। ১৭ সেপ্টেম্বর পূর্বঘোষণামতো ‘অন্নপূ্র্ণা দিবস’ পালনের পাশাপাশি কলকাতায় দিনভর একাধিক অনুষ্ঠান হবে।

    প্রদীপ জ্বালানো হবে রাজ্যজুড়ে

    শুধু প্রধানমন্ত্রী মোদির জন্মদিন নয়, ‘প্রশাসক’ নরেন্দ্র মোদির ২৫ বছরও পূর্ণ হচ্ছে এবছর। গুজরাটের মুখ্যমন্ত্রী ও দেশের প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্বে তিনি পেরিয়েছেন ২৫টি বছর। এই কৃতিত্বের জন্য তাঁকে এবার আলাদাভাবে সম্মানিত করতে চান মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। সেই উপলক্ষে ১৭ তারিখ বড়সড় অনুষ্ঠান হবে বাংলাজুড়ে। মূল অনুষ্ঠান অর্থাৎ সূর্যাস্তের পর প্রদীপ প্রজ্জ্বলন হবে কলকাতায়, গঙ্গার তীরে। ‘আশীর্বাদও কি দিয়া’ অর্থাৎ আশীর্বাদের প্রদীপ প্রজ্বলনের মধ্য দিয়ে এই উদযাপনের সূচনা হবে। ওই দিন রাজ্যের অন্তত এক কোটি পরিবার এই কর্মসূচিতে অংশ নেবে বলে জানান মুখ্যমন্ত্রী৷ এরপর নেতাজি ইন্ডোর স্টেডিয়ামে উদযাপন করা হবে প্রধানমন্ত্রী মোদির জন্মদিন। ওইদিন প্রায় ‘অকাল দিওয়ালি’র পরিবেশ তৈরি হতে চলেছে। মুখ্যমন্ত্রী এদিন জানান, ওইদিন কলকাতার বিভিন্ন সরকারি ও ঐতিহ্যবাহী ভবন, কালীঘাট মন্দির সাজানো হবে প্রদীপ দিয়ে। সবচেয়ে আকর্ষণীয় হতে চলেছে রঙ্গোলি যাত্রা। এতে প্রাকৃতিক সামগ্রী দিয়ে ১০৮ মিটার ‘ভারত মণ্ডল’ তৈরি হবে। রাজ্যজুড়ে মোদির জন্মদিনে মেগা সেলিব্রেশন হলেও নন্দীগ্রাম, রেজিনগরে তা পালিত হবে না। কারণ, আগামী ৬ অক্টোবর এই দুই বিধানসভা কেন্দ্রে উপনির্বাচন। এদিন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী জানিয়েছেন, ‘‘নন্দীগ্রাম, রেজিনগরে সরকারের তরফে কোনও অনুষ্ঠান হবে না। কারণ, এই দুই জায়গায় আদর্শ আচরণবিধি লাগু রয়েছে। সেখানকার সাধারণ জনতা অথবা রাজনৈতিক দলের তরফে অবশ্য উদযাপন হতে পারে।”

    সেবা সম্পর্ক অভিযান

    ১৭ সেপ্টেম্বর প্রধানমন্ত্রীর জন্মদিন থেকে একমাস ব্যাপী সেবামূলক কর্মসূচির পরিকল্পনা করেছে বিজেপি। যার নাম দেওয়া হয়েছে , সেবা সম্পর্ক অভিযান। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী বলেন, “গুজরাটের মুখ্যমন্ত্রী এবং ভারতবর্ষের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে, তার এই যে লম্বা কার্যকাল, এটাকে আমরা মর্যাদার সঙ্গে, পালন করার জন্য, অন্যান্য রাজ্যের মত পশ্চিমবঙ্গ সরকারও সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছি। পশ্চিমবঙ্গের বিভিন্ন স্কুলকে, ৮০ হাজারের বেশি স্কুলকে যুক্ত করা হয়েছে। আমাদের যারা বিদ্যার্থী আছেন, তাঁদের স্বপ্নের ভারত কেমন হওয়া উচিত, ২০৪৭ এর বিকশিত ভারত, তাঁকে সামনে রেখে ড্রয়িং, ক্যুইজ, তাৎক্ষণিক বক্তৃতা, বিতর্ক, রাইট আপ, নানা ধরণের কর্মসূচি, আমাদের স্কুল এডুকেশন ডিপার্টমেন্টের পক্ষ থেকে নেওয়া হয়েছে। এর বাইরেও নম সেবাগাথা, অঙ্গন কা উৎসব, কাহানী বদলাও কি, অর্থাৎ বিভিন্ন পরিবার, যারা প্রধানমন্ত্রী আবাস পেয়েছেন, শৌচালয় পেয়েছেন, জলজীবন মিশনের জল পেয়েছেন, প্রধানমন্ত্রী সূর্যঘর পেয়েছেন, আয়ুষ্মান ভারতে সম্প্রতি যুক্ত হয়েছেন, এছাড়াও পিএম কিষাণ সম্মাননিধি সহ, একাধিক কর্মসূচিতে যুক্ত হয়ে, তাঁদের পরিবারের এবং তাঁদের নিত্যদিনের, জীবন যাপনের ক্ষেত্রে, সামাজিক অর্থনৈতিক কী পরিবর্তন ঘটেছে, সেটাও আমাদের এই কর্মসূচির অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। বিকশিত ভারত সংকল্প যাত্রা, এই প্রোগ্রামও নেওয়া হয়েছে, বিভিন্ন জায়গায়, আমাদের এই উপলক্ষে সাইকেল ব়্যালি, বাইক ব়্যালি, পদযাত্রা, নানা ধরণের প্রোগ্রাম নেওয়া হয়েছে।”

  • Suvendu in Kalighat: “মায়ের ভোগের মাছ বা পাঁঠাবলির প্রসাদ গ্রহণে আমার দ্বিধা নেই” কালীঘাটে পুজো দিয়ে স্পষ্ট বার্তা মুখ্যমন্ত্রীর

    Suvendu in Kalighat: “মায়ের ভোগের মাছ বা পাঁঠাবলির প্রসাদ গ্রহণে আমার দ্বিধা নেই” কালীঘাটে পুজো দিয়ে স্পষ্ট বার্তা মুখ্যমন্ত্রীর

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: কৌশিকী অমাবস্যায় (Koushiki Amabasya) কালীঘাট মন্দিরে (Kalighat) পুজো দিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari)। পুজো শেষ হওয়ার পর মন্দিরের মাটিতে বসেই ভোগের প্রসাদ গ্রহণ করেন মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর পাতে ছিল বাসন্তী পোলাও, মাছের মাথা ও পায়েস। বাঙালির ধর্মীয় সংস্কৃতিতে দেবীকে আমিষ ভোগ নিবেদনের যে দীর্ঘদিনের রীতি রয়েছে, এদিনের পুজোয় তারই প্রতিফলন দেখা যায়। মায়ের পুজোয় আমিষ গ্রহণ নিয়ে অকপট শুভেন্দু (Suvendu in Kalighat) বলেন, “সনাতন ও বাঙালি ঐতিহ্যকে কালিমালিপ্ত বা দুর্বল করার চেষ্টা কোনও দিন সফল হবে না। দুর্গাপুজোর অষ্টমী কিংবা কার্তিক মাসে আমি যেমন সম্পূর্ণ সাত্ত্বিক আহার মেনে চলি, তেমনই এক জন বাঙালি হিসেবে মায়ের ভোগের মাছ কিংবা পাঁঠাবলির প্রসাদ গ্রহণ করতেও আমার কোনও দ্বিধা নেই।”

    মাতৃকৃপায় তিনি জনকল্যাণে ব্রতী

    বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় পুজোর ডালা নিয়ে মন্দিরে প্রবেশ করেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। ডালায় ছিল বেনারসি শাড়ি, ফুলের মালা ও মিষ্টি। দেবী কালীর চরণে সেগুলি নিবেদন করে আরতি ও অঞ্জলি দেন মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর নামেই পুজোর সংকল্প করা হয়। ভবানীপুর কেন্দ্রে প্রার্থী হিসেবে নাম ঘোষণার পর মায়ের আশীর্বাদ নেওয়ার স্মৃতি স্মরণ করে এদিন তিনি জানান, মাতৃকৃপা ও প্রাপ্ত ‘গুরুদায়িত্ব’ নিয়েই তিনি জনকল্যাণে ব্রতী হয়েছেন। পুজো নিবেদনের পর সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, অখণ্ড ভারত গঠন, বাঙালি তথা সনাতন সংস্কৃতির সুরক্ষা এবং দেশবিরোধী শক্তির বিনাশই তাঁর মূল লক্ষ্য। শুভেন্দু বলেন, “যেদিন ভবানীপুরে আমার নাম ঘোষণা হয়েছিল, প্রথম মায়ের কাছে এসেছিলাম। মা পদধূলি দিয়ে বলেছিলেন, তোকে দায়িত্ব দিলাম।”

    বাঙালি ঐতিহ্য মেনেই মায়ের ভোগ

    বাঙালি হিন্দু সংস্কৃতির প্রচলিত রীতি মেনেই এদিন কালীঘাটে দেবীর জন্য সাজানো হয় নানা পদে সমৃদ্ধ ভোগের আয়োজন। সেখানে ছিল বাসন্তী পোলাও, পাঁচ রকম ভাজা, শুক্তো, ডাল, সবজি, পনির এবং একাধিক ধরনের মাছ। ইলিশ, চিংড়ি, ভেটকি, পার্শে ও কাতলা-সহ মাছের বিভিন্ন পদ ছিল ভোগের তালিকায়। ছিল কাতলা মাছের মাথাও। পাশাপাশি বলির পাঁঠার মাংস, পায়েস ও চাটনি পরিবেশন করা হয়। মায়ের ভোগ গ্রহণের প্রসঙ্গ টেনে মুখ্যমন্ত্রী জানান, মন্দিরের পুরোহিতদের দেওয়া মাছ ভাজা, মাছের মাথা, বাসন্তী পোলাও-সহ বিভিন্ন পদ তিনি প্রসাদ হিসেবে গ্রহণ করেছেন। নিজের খাদ্যাভ্যাসের প্রসঙ্গ তুলে তিনি জানান, অষ্টমীর দিন এবং কার্তিক মাসে তিনি সাত্ত্বিক আহার গ্রহণ করেন। আবার বাঙালি হিসেবে দেবীকে যে মাছ দিয়ে ভোগ দেওয়া হয়, সেই প্রসাদও তিনি গ্রহণ করেন। একইভাবে পাঁঠা বলির প্রসাদ গ্রহণের কথাও জানান তিনি।

    দুর্গাপুজোয় আমিষ বিতর্ক, মন্দির থেকেই বার্তা

    সাম্প্রতিক রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে এই ঘটনাকে ঘিরে আলাদা তাৎপর্য দেখছে রাজনৈতিক মহল। দুর্গাপুজোয় আমিষ খাবার গ্রহণ নিয়ে বাগেশ্বর বাবার মন্তব্যের পর দেশজুড়ে বিতর্ক তৈরি হয়েছিল। যদিও বিজেপির একাধিক নেতা স্পষ্ট করেছেন, দুর্গাপুজোয় আমিষ খাওয়ার বিষয়ে দলের কোনও আপত্তি নেই। এই আবহে কালীঘাটে মুখ্যমন্ত্রীর আমিষ ভোগ গ্রহণকে নিছক ধর্মীয় আচারের মধ্যে সীমাবদ্ধ না রেখে রাজনৈতিক বার্তা হিসেবেও দেখছেন অনেকে। বিশেষ করে বাঙালির নিজস্ব ধর্মীয় আচার, খাদ্যসংস্কৃতি এবং সনাতন ঐতিহ্যের প্রসঙ্গটি এদিনের অনুষ্ঠানে নতুন করে সামনে এসেছে। মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “কোনও সন্ত বা ধর্মীয় ব্যক্তিত্ব তাঁর নিজস্ব মতামত প্রকাশ করতেই পারেন। কে সেই মত গ্রহণ করবেন, তা ব্যক্তিগত বিষয়। আমিও কার্তিক মাস দামোদর মাসে সাত্ত্বিক আহার গ্রহণ করি, আবার বাঙালি হিসেবে..পাঁঠা বলির প্রসাদও গ্রহণ করি।”

    রাজনৈতিক প্রতিপক্ষকে বার্তা

    বৃহস্পতিবার বিধানসভা অধিবেশনে বিবৃতি দিতে গিয়ে মুখ্যমন্ত্রী আগেই বুঝিয়ে দিয়েছেন, বাগেশ্বর বাবার পরামর্শ কারও উপরে চাপিয়ে দেওয়া যেমন হবে না, তেমনই তাঁকে সামনে রেখে ঘোলা জলে বিরোধীরা মাছও ধরতে পারবে না। মুখ্যমন্ত্রীর কথায়, ‘লিলুয়ায় একজন সাধু এসেছিলে‍‍ন। তিনি দেশপ্রেমের কথা, রাষ্ট্রবাদের কথা, অখণ্ড ভারতের কথা বলেছেন। ভারতের ঐতিহ্য, সংস্কৃতির কথা তাঁর মতো করে তিনি বলেছেন। যাঁরা সে সব গ্রহণ করতে চান, করবেন। যাঁরা চান না, করবেন না। তিনি কারও উপরে কিছু চাপিয়ে দিতে চাননি।’ এরপরে নাম না–করে মুখ্যমন্ত্রী নিশানা করেন কংগ্রেসকে। ঠারেঠোরে বুঝিয়ে দেন, বাগেশ্বর বাবার পরামর্শ না–মানার অধিকার অবশ্যই আছে, কিন্তু তাঁর ছবি পোড়ানো সমর্থনযোগ্য নয়। মুখ্যমন্ত্রীর হুঙ্কার, ‘আমি কতগুলি লোককে দেখলাম, ভবানীপুর থানার সামনে ছবি পোড়াচ্ছে। আমি এখান থেকে সিপিকে (কলকাতার সিপি অজয় নন্দ) বলছি, ওই লোকগুলিকে গ্রেফতার করতে হবে। এ রাজ্যে এ সব চলবে না।’ তাঁর এই নির্দেশ থেকে স্পষ্ট, সাধু–সন্তদের অপমান বিজেপি–শাসিত বাংলায় কোনও ভাবেই বরদাস্ত করবে না সরকার।

    গেরুয়া ধ্বজা সব সময় উপরে থাকবে

    বাগেশ্বর বাবা আর বিজেপিকে এক বন্ধনীতে ফেলে পদ্ম–নেতাদের গায়ে বাঙালি বিরোধী তকমা সাঁটতে শুরু করে দিয়েছিলেন বিভিন্ন শিবিরের বিরোধীরা। যদিও বাগেশ্বর বাবার আমিষ–নিরামিষ সংক্রান্ত পরামর্শের সঙ্গে যে বিজেপি কোনও ভাবেই সম্পৃক্ত নয়, সেটা ঘটনার দু’দিনের মাথায় সাফ জানিয়ে দিয়েছিলেন দলের রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য। তিনি নবমীর দিন পাঁঠার মাংস খাওয়ার পক্ষে সওয়াল করেন। একই ভাবে নিজেদের আমিষপ্রীতির জানান দেন দি‍লীপ ঘোষ, অগ্নিমিত্রা পাল, সুকান্ত মজুমদারের মতো শীর্ষ বিজেপি নেতা–নেত্রীরা, এমনকী প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির অন্যতম অর্থনৈতিক উপদেষ্টা সঞ্জীব সান্যাল। এবার বিরোধীদের স্পষ্ট জবাব দিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari)। ধর্মীয় আচার ও বাঙালির নিজস্ব সংস্কৃতির প্রসঙ্গ তুলে শেষ পর্যন্ত সনাতন সংস্কৃতির জাগরণের কথাও বলেন মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর দাবি, সনাতন ও বাঙালি ঐতিহ্যকে কালিমালিপ্ত বা দুর্বল করার চেষ্টা কোনও দিন সফল হবে না। তাঁর কড়া হুঁশিয়ারি, “গেরুয়া ধ্বজা সব সময় উপরে থাকবে, কখনও নীচে নামবে না।” ‘বহুজন সুখায় বহুজন হিতায়’ নীতির কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে শুভেন্দু জানান, রাজ্য থেকে দেশবিরোধী শক্তিকে নির্মূল করার জন্য মায়ের কাছে শক্তি ও আশীর্বাদ প্রার্থনা করেছেন।

  • Swami Vivekananda Chicago Speech: ‘সিস্টার্স অ্যান্ড ব্রাদার্স অফ আমেরিকা’ ১৩৩ বছর পরও কেন প্রাসঙ্গিক স্বামী বিবেকানন্দের শিকাগো ভাষণ?

    Swami Vivekananda Chicago Speech: ‘সিস্টার্স অ্যান্ড ব্রাদার্স অফ আমেরিকা’ ১৩৩ বছর পরও কেন প্রাসঙ্গিক স্বামী বিবেকানন্দের শিকাগো ভাষণ?

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: আজ ১১ সেপ্টেম্বর। স্বামী বিবেকানন্দের (Swami Vivekananda) ঐতিহাসিক শিকাগো ভাষণের ১৩৩তম বর্ষপূর্তি। ১৮৯৩ সালের এই দিনেই মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের শিকাগো শহরে বিশ্বধর্ম সম্মেলনে হিন্দু ধর্মের প্রতিনিধি হিসেবে যোগ দিয়েছিলেন শ্রী রামকৃষ্ণের শিষ্য স্বামী বিবেকানন্দ। তাঁর সেই ঐতিহাসিক ভাষণ শুধু বিশ্বধর্ম সম্মেলনেই আলোড়ন তৈরি করেনি, বিশ্বমঞ্চে ভারতীয় সভ্যতা, সনাতন সংস্কৃতি এবং ধর্মীয় সহিষ্ণুতার এক শক্তিশালী পরিচয়ও তুলে ধরেছিল।

    নিজের ভাষণের শুরুতেই স্বামীজি বলেছিলেন, ‘‘সিস্টার্স অ্যান্ড ব্রাদার্স অফ আমেরিকা…’’। যার অর্থ, ‘আমেরিকাবাসী ভগিনী ও ভ্রাতৃবৃন্দ’। তাঁর এই সম্বোধনের পরেই প্রায় পাঁচ মিনিট ধরে করতালি চলেছিল বলে জানা যায়। কারণ, বিশ্বধর্ম সম্মেলনের মঞ্চে তার আগে বক্তারা সাধারণত ‘লেডিস অ্যান্ড জেন্টলম্যান’ বলেই শ্রোতাদের সম্বোধন করেছিলেন। সেখানে স্বামী বিবেকানন্দ আমেরিকাবাসীকে ‘ভাই ও বোন’ বলে সম্বোধন করেন।

    তাঁর বক্তব্যে উঠে এসেছিল ‘বসুধৈব কুটুম্বকম’-এর ভাবনা, ভারতের সুপ্রাচীন সভ্যতা, সনাতন সংস্কৃতি, ঐতিহ্য ও পরম্পরা। একই সঙ্গে তিনি তুলে ধরেছিলেন ধর্মীয় সহিষ্ণুতার ভারতীয় আদর্শ। তাঁর বক্তব্যের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ দিক ছিল—ভারতবর্ষ কখনও অন্য ধর্মের ওপর আঘাত হানার পথ অনুসরণ করেনি; বরং বিভিন্ন ধর্ম ও সম্প্রদায়ের মানুষকে আশ্রয় দিয়েছে।

    বিশ্বমঞ্চে স্বামীজির সেই ভাষণ সেদিন ব্যাপক আলোড়ন তৈরি করেছিল। তাঁর বক্তব্যের মধ্য দিয়ে ভারতীয় সভ্যতা ও সনাতন ধর্মের উদারতার একটি শক্তিশালী পরিচয় বিশ্বের সামনে প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল। তাঁর ঐতিহাসিক শিকাগো ভাষণের নির্বাচিত কিছু অংশ ও তার তাৎপর্য দেখে নেওয়া যাক।

    পৃথিবীর মধ্যে সর্বাপেক্ষা প্রাচীন সন্ন্যাসী-সমাজের পক্ষ হইতে আমি আপনাদিগকে ধন্যবাদ জানাইতেছি

    ‘‘হে আমার আমেরিকাবাসী ভগিনী ও ভ্রাতৃবৃন্দ, আজ আপনারা আমাদিগকে যে আন্তরিক ও সাদর অভ্যর্থনা করিয়াছেন, তাহার উত্তর দিবার জন্য উঠিতে গিয়া আমার হৃদয় অনির্বচনীয় আনন্দে পরিপূর্ণ হইয়া গিয়াছে। পৃথিবীর মধ্যে সর্বাপেক্ষা প্রাচীন সন্ন্যাসী-সমাজের পক্ষ হইতে আমি আপনাদিগকে ধন্যবাদ জানাইতেছি। সর্বধর্মের যিনি প্রসূতি-স্বরূপ, তাঁহার নামে আমি আপনাদিগকে ধন্যবাদ জ্ঞাপন করিতেছি। সকল জাতি ও সম্প্রদায়ের অন্তর্গত কোটি কোটি হিন্দু নরনারীর হইয়া আমি (Swami Vivekananda) আপনাদিগকে ধন্যবাদ দিতেছি।’’

    আমরা শুধু সকল ধর্মকেই সহ্য করি না, সকল ধর্মকেই আমরা সত্য বলিয়া বিশ্বাস করি

    ‘‘এই সভামঞ্চে সেই কয়েকজন বক্তাকেও আমি ধন্যবাদ জানাই, যাঁহারা প্রাচ্যদেশীয় প্রতিনিধিদের সম্বন্ধে এরূপ মন্তব্য প্রকাশ করিলেন যে, অতি দূরদেশবাসী জাতিসমূহের মধ্য হইতে যাঁহারা এখানে সমাগত হইয়াছেন, তাঁহারাও বিভিন্ন দেশে পরধর্মসহিষ্ণুতার ভাব প্রচারের গৌরব দাবি করিতে পারেন। যে ধর্ম জগৎকে চিরকাল পরমতসহিষ্ণুতা ও সর্বাধিক মত স্বীকার করার শিক্ষা দিয়া আসিতেছে, আমি সেই ধর্মভুক্ত বলিয়া নিজেকে গৌরবান্বিত মনে করি। আমরা শুধু সকল ধর্মকেই সহ্য করি না, সকল ধর্মকেই আমরা সত্য বলিয়া বিশ্বাস করি। যে ধর্মের পবিত্র সংস্কৃত ভাষায় ইংরেজি ‘এক্সক্লুশন’ (ভাবার্থঃ বহিষ্কার, পরিবর্জন) শব্দটি অনুবাদ করা যায় না, আমি সেই ধর্মভুক্ত বলিয়া গর্ব অনুভব করি। যে জাতি পৃথিবীর সকল ধর্মের ও সকল জাতির নিপীড়িত ও আশ্রয়প্রার্থী জনগণকে চিরকাল আশ্রয় দিয়া আসিয়াছে, আমি (Swami Vivekananda) সেই জাতির অন্তর্ভুক্ত বলিয়া নিজেকে গৌরবান্বিত মনে করি।’’

    আমরাই ইহুদিদের খাঁটি বংশধরগণের অবশিষ্ট অংশকে সাদরে হৃদয়ে ধারণ করিয়া রাখিয়াছি

    ‘‘আমি আপনাদের এ কথা বলিতে গর্ব অনুভব করিতেছি যে, আমরাই ইহুদিদের খাঁটি বংশধরগণের অবশিষ্ট অংশকে সাদরে হৃদয়ে ধারণ করিয়া রাখিয়াছি; যে বৎসর রোমানদের ভয়ঙ্কর উৎপীড়নে তাহাদের পবিত্র মন্দির বিধ্বস্ত হয়, সেই বৎসরই তাহারা দক্ষিণভারতে আমাদের মধ্যে আশ্রয়লাভের জন্য আসিয়াছিলেন। জরাথুষ্ট্রের অনুগামী মহান পারসিক জাতির অবশিষ্টাংশকে যে ধর্মাবলম্বীগণ আশ্রয় দান করিয়াছিল এবং আজ পর্যন্ত যাহারা তাঁহাদিগকে প্রতিপালন করিতেছেন, আমি তাঁহাদেরই অন্তর্ভুক্ত।’’

    ‘যত মত তত পথ’-এর ভাবনা

    স্বামী বিবেকানন্দের শিকাগো ভাষণের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ দিক ছিল বিভিন্ন ধর্ম ও মতের প্রতি তাঁর উদার দৃষ্টিভঙ্গি। বিভিন্ন পথ অনুসরণ করেও মানুষ যে একই পরম লক্ষ্যে পৌঁছতে পারে, সেই ভাবনাই তিনি তুলে ধরেছিলেন।

    ‘‘বিভিন্ন নদীর উৎস বিভিন্ন স্থানে, কিন্তু তাহারা সকলে যেমন এক সমুদ্রে তাহাদের জলরাশি ঢালিয়া মিলাইয়া দেয়, তেমনই হে ভগবান, নিজ নিজ রুচির বৈচিত্র্যবশতঃ সরল ও কুটিল নানা পথে যাহারা চলিয়াছে, তুমিই তাহাদের সকলের একমাত্র লক্ষ্য। পৃথিবীতে এযাবৎ অনুষ্ঠিত সম্মেলনগুলির মধ্যে অন্যতম শ্রেষ্ঠ মহাসম্মেলনে গীতা-প্রচারিত সেই অপূর্ব মতেরই সত্যতা প্রতিপন্ন করিতেছি, সেই বাণীই ঘোষণা করিতেছিঃ ‘যে যথা মাং প্রপদ্যন্তে তাংস্তথৈব ভজাম্যহম্। মম বর্ত্মানুবর্তন্তে মনুষ্যাঃ পার্থ সর্বশঃ।।’ (যে কোনও ব্যক্তি যে ভাব আশ্রয় করিয়া আসুক না কেন, আমি তাহাকে সেই ভাবেই অনুগ্রহ করিয়া থাকি। হে অর্জুন মনুষ্যগণ সর্বতোভাবে আমার পথেই চলিয়া থাকে)।’’

    সাম্প্রদায়িকতা, গোঁড়ামি ও ধর্মোন্মত্ততার বিরুদ্ধে স্বামীজির বার্তা

    স্বামী বিবেকানন্দের শিকাগো ভাষণের শেষাংশে ছিল সাম্প্রদায়িকতা, গোঁড়ামি ও ধর্মোন্মত্ততার বিরুদ্ধে স্পষ্ট বার্তা। মানবসভ্যতার অগ্রগতির পথে ধর্মের নামে হিংসা ও বিভাজন যে কতটা ভয়ঙ্কর, তা তিনি সেদিন বিশ্বমঞ্চে তুলে ধরেছিলেন।

    ‘‘সাম্প্রদায়িকতা, গোঁড়ামি ও এগুলির ভয়াবহ ফলস্বরূপ ধর্মোন্মত্ততা এই সুন্দর পৃথিবীকে বহুকাল অধিকার করিয়া রাখিয়াছে। ইহারা পৃথিবীকে হিংসায় পূর্ণ করিয়াছে, বরাবর ইহাকে নরশোণিতে সিক্ত করিয়াছে, সভ্যতা ধ্বংস করিয়াছে এবং সমগ্র জাতিকে হতাশায় মগ্ন করিয়াছে। এই-সকল ভীষণ পিশাচগুলি যদি না থাকিত, তাহা হইলে মানবসমাজ আজ পূর্বাপেক্ষা অনেক উন্নত হইত। তবে ইহাদের মৃত্যুকাল উপস্থিত; এবং আমি সর্বতোভাবে আশা করি, এই ধর্ম-মহাসমিতির সম্মানার্থ আজ যে ঘণ্টাধ্বনি নিনাদিত হইয়াছে, তাহাই সর্ববিধ ধর্মোন্মত্ততা, তরবারি অথবা লিখনীমুখে অনুষ্ঠিত সর্বপ্রকার নির্যাতন এবং একই লক্ষ্যের দিকে অগ্রসর ব্যক্তিগণের মধ্যে সর্ববিধ অসদ্ভাবের সম্পূর্ণ অবসানের বার্তা ঘোষণা করুক।’’

    খেতড়ির রাজা অজিত সিংহের সাহায্যে স্বামীজি পৌঁছান আমেরিকা

    তবে স্বামী বিবেকানন্দের আমেরিকা সফরের পথ মোটেই সহজ ছিল না। উত্তর-পূর্ব রাজস্থানের খেতড়ির রাজা অজিত সিংহ তাঁকে শিকাগো যাওয়ার জন্য ‘ওরিয়েন্ট’ জাহাজের ফার্স্ট ক্লাসের টিকিট কিনে দিয়েছিলেন বলে জানা যায়। আমেরিকায় পৌঁছেও অবশ্য স্বামীজিকে নানা প্রতিকূলতার মুখোমুখি হতে হয়েছিল। এমনকী বর্ণবিদ্বেষেরও শিকার হয়েছিলেন তিনি।

    তৎকালীন আমেরিকার একাংশের মানুষের কাছে ভারত ছিল অত্যন্ত পিছিয়ে থাকা একটি দেশ। সেই পরিস্থিতিতেই শিকাগো পৌঁছে স্বামী বিবেকানন্দ বিশ্বধর্ম সম্মেলনে বক্তব্য রাখার সুযোগ পান। শেষ পর্যন্ত হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক জন হেনরি রাইটের ব্যক্তিগত পরিচিতি ও সুপারিশের মাধ্যমে সম্মেলনে তাঁর বক্তৃতা দেওয়ার পথ খুলে যায়।

    ১৮৯৩ সালের সেই ভাষণ আজও ভারতীয় ইতিহাসের এক গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়। ধর্মীয় সহিষ্ণুতা, মানবিকতা, বহুত্ববাদ এবং বিশ্বভ্রাতৃত্বের যে বার্তা স্বামী বিবেকানন্দ সেদিন দিয়েছিলেন, ১৩৩ বছর পরেও তার প্রাসঙ্গিকতা অটুট।

  • Modi Putin Meeting: এস-৪০০, এসইউ-৫৭ থেকে ব্রহ্মোস— শুক্রবার মোদি-পুতিন বৈঠকে প্রতিরক্ষায় হতে পারে বড় সিদ্ধান্ত

    Modi Putin Meeting: এস-৪০০, এসইউ-৫৭ থেকে ব্রহ্মোস— শুক্রবার মোদি-পুতিন বৈঠকে প্রতিরক্ষায় হতে পারে বড় সিদ্ধান্ত

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: শুক্রবার (১১ সেপ্টেম্বর) দিল্লিতে মুখোমুখি বৈঠকে বসতে চলেছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি এবং রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন। এই বৈঠক হতে চলেছে ১৮তম ব্রিকস শীর্ষ সম্মেলনের আগে দুই দেশের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি পর্ব। প্রতিরক্ষা, বাণিজ্য, জ্বালানি, পরমাণু সহযোগিতা থেকে শুরু করে পরিবর্তিত আন্তর্জাতিক ভূ-রাজনৈতিক পরিস্থিতি—একাধিক বিষয়ে আলোচনা হতে পারে দুই রাষ্ট্রনেতার মধ্যে।

    মোদি-পুতিন বৈঠকে বড় অংশ জুড়ে থাকবে প্রতিরক্ষা

    তবে মোদি-পুতিন বৈঠকে প্রতিরক্ষা সহযোগিতাই বিশেষ গুরুত্ব পেতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে। বিশেষ করে দীর্ঘদিনের ভারত-রাশিয়া প্রতিরক্ষা অংশীদারিত্বকে আরও এক ধাপ এগিয়ে নিয়ে গিয়ে যৌথ উৎপাদন, প্রযুক্তি হস্তান্তর এবং যৌথ উন্নয়নের দিকে যাওয়ার বিষয়ে আলোচনা হতে পারে। এই প্রেক্ষাপটে আলোচনার কেন্দ্রে থাকতে পারে এস-৪০০ আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা, রাশিয়ার এসইউ-৫৭ পঞ্চম প্রজন্মের যুদ্ধবিমান এবং ব্রহ্মোস ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচির পরবর্তী পর্যায়।

    এস-৪০০-এর শেষ ইউনিট কবে? বড় প্রশ্ন বৈঠকে

    মোদি-পুতিন আলোচনায় সবচেয়ে তাৎক্ষণিক প্রতিরক্ষা-সংক্রান্ত বিষয়গুলির মধ্যে অন্যতম হতে পারে এস-৪০০ ট্রায়াম্ফ আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার বাকি থাকা শেষ ইউনিটের সরবরাহ। ২০১৮ সালে প্রায় ৫.৪৩ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের চুক্তিতে রাশিয়ার কাছ থেকে পাঁচটি এস-৪০০ ব্যবস্থা কেনার সিদ্ধান্ত নেয় ভারত। এর মধ্যে চারটি ব্যবস্থা ইতিমধ্যেই ভারতে এসে পৌঁছেছে। কিন্তু রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের কারণে পঞ্চম এবং শেষ ইউনিটের সরবরাহে বিলম্ব হয়েছে।

    তবে মস্কো যে চুক্তির প্রতিশ্রুতি পূরণে এখনও দায়বদ্ধ, তা স্পষ্ট করেছে ক্রেমলিন। সম্প্রতি ক্রেমলিনের মুখপাত্র দিমিত্রি পেসকভও জানিয়েছেন, রাশিয়া চুক্তি অনুযায়ী নিজেদের দায়িত্ব পালন করবে। ভারতের জন্য এস-৪০০-এর গুরুত্বও যথেষ্ট বেশি। দীর্ঘ পাল্লায় বিমান এবং বিভিন্ন ধরনের ক্ষেপণাস্ত্রের মতো আকাশপথের হুমকি শনাক্ত ও প্রতিহত করার ক্ষমতার কারণে এটি ভারতের বহুস্তরীয় আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ। ফলে শেষ এস-৪০০ ইউনিটের সরবরাহের সময়সূচি নিয়ে দুই নেতার মধ্যে আলোচনা গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে।

    এসইউ-৫৭: শুধু যুদ্ধবিমান কেনা নয়, প্রযুক্তি হস্তান্তরেও নজর ভারতের

    মোদি-পুতিন বৈঠকে আরেকটি বড় বিষয় হতে পারে রাশিয়ার এসইউ-৫৭ পঞ্চম প্রজন্মের স্টেলথ যুদ্ধবিমান। ভারতের বাজারে এসইউ-৫৭-কে দীর্ঘদিন ধরেই তুলে ধরছে মস্কো। কিন্তু ভারতের আগ্রহ শুধু সরাসরি যুদ্ধবিমান কেনার মধ্যে সীমাবদ্ধ নাও থাকতে পারে। বরং প্রযুক্তি হস্তান্তর, দেশে উৎপাদন এবং ভারতীয় অস্ত্র ও প্রযুক্তির সঙ্গে রুশ যুদ্ধবিমানের সংযুক্তি—এই বিষয়গুলি আরও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে।

    ভারত গত কয়েক বছরে প্রতিরক্ষা ক্ষেত্রে আমদানিনির্ভরতা কমিয়ে দেশীয় উৎপাদন বাড়ানোর উপর জোর দিয়েছে। সেই দৃষ্টিকোণ থেকে এসইউ-৫৭ নিয়ে কোনও সম্ভাব্য চুক্তি হলে তার মূল্যায়ন শুধু কতগুলি বিমান কেনা হবে, সেই প্রশ্নে আটকে থাকবে না। ভারতের কাছে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে—কতটা প্রযুক্তি দেশে আসবে, উৎপাদনে ভারতীয় সংস্থাগুলির ভূমিকা কতটা থাকবে এবং ভবিষ্যতে এই যুদ্ধবিমানের রক্ষণাবেক্ষণ ও উন্নয়নে ভারত কতটা স্বাধীনতা পাবে। অর্থাৎ, এসইউ-৫৭ নিয়ে আলোচনা হলে তা ভারত-রাশিয়া প্রতিরক্ষা সম্পর্ককে ক্রেতা-বিক্রেতা সম্পর্ক থেকে প্রযুক্তিগত অংশীদারিত্বের দিকে নিয়ে যাওয়ার একটি সম্ভাব্য পদক্ষেপ হতে পারে।

    ব্রহ্মোসে এবার নতুন ক্ষমতা, নতুন বাজারের লক্ষ্য

    ভারত ও রাশিয়ার প্রতিরক্ষা সহযোগিতার সবচেয়ে সফল উদাহরণগুলির একটি হল ব্রহ্মোস সুপারসনিক ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র। দুই দেশ যৌথভাবে তৈরি করা এই ক্ষেপণাস্ত্র ইতিমধ্যেই ভারতীয় সশস্ত্র বাহিনীর গুরুত্বপূর্ণ অস্ত্র হয়ে উঠেছে। এবার ব্রহ্মোসের সক্ষমতা আরও বাড়ানোর বিষয়ে আলোচনা হতে পারে।

    ক্রেমলিনের তরফে ইতিমধ্যেই ব্রহ্মোসের উন্নয়ন এবং নতুন ক্ষমতা যুক্ত করার প্রয়োজনীয়তার কথা বলা হয়েছে। একই সঙ্গে সামনে আসছে ব্রহ্মোস-এনজি—বর্তমান ব্রহ্মোসের তুলনায় ছোট ও হালকা সংস্করণ।এই কমপ্যাক্ট সংস্করণের অন্যতম সুবিধা হতে পারে আরও বেশি সংখ্যক যুদ্ধবিমানে এটিকে সংযুক্ত করার সুযোগ। ভারতের দেশীয় তেজস-এর মতো তুলনামূলক হালকা যুদ্ধবিমানেও এর ব্যবহার সম্ভব হলে ভারতীয় বিমানবাহিনীর আকাশভিত্তিক আক্রমণক্ষমতায় নতুন মাত্রা যোগ হতে পারে।

    শুধু ভারতীয় বাহিনীর প্রয়োজন নয়, আন্তর্জাতিক বাজারেও ব্রহ্মোসের অবস্থান আরও শক্তিশালী করার দিকে নজর রয়েছে দুই দেশের। যৌথ উৎপাদন, প্রযুক্তিগত উন্নয়ন এবং তৃতীয় দেশে রফতানি—এই মডেল ভবিষ্যতে ভারত-রাশিয়া প্রতিরক্ষা সহযোগিতার আরও গুরুত্বপূর্ণ অংশ হয়ে উঠতে পারে।

    ভারত-রাশিয়া সম্পর্কের নতুন মডেল: অস্ত্র কেনা থেকে যৌথ উৎপাদন

    ভারত-রাশিয়া প্রতিরক্ষা সম্পর্ক ঐতিহাসিকভাবে অত্যন্ত শক্তিশালী। ভারতীয় সশস্ত্র বাহিনীর বিপুল সংখ্যক প্ল্যাটফর্ম ও অস্ত্র ব্যবস্থার সঙ্গে রুশ প্রযুক্তির দীর্ঘ সম্পর্ক রয়েছে। কিন্তু পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে সেই সম্পর্কের চরিত্রও বদলাচ্ছে। ভারত এখন চায় প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম আমদানির পাশাপাশি দেশের মাটিতে উৎপাদন, প্রযুক্তি অর্জন, গবেষণা ও উন্নয়ন এবং রফতানি সক্ষমতা বাড়াতে।

    অন্যদিকে, রাশিয়াও শুধুমাত্র অস্ত্র বিক্রির পরিবর্তে যৌথ গবেষণা, প্রযুক্তি ভাগাভাগি, উৎপাদন এবং তৃতীয় দেশের বাজারে প্রবেশের মাধ্যমে সহযোগিতা বাড়াতে আগ্রহী।  ব্রহ্মোস এই পরিবর্তিত মডেলের সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য উদাহরণ। বিশেষ করে ফিলিপিন্স ব্রহ্মোসের প্রথম বিদেশি ক্রেতা হওয়ার পর ভারতীয় প্রতিরক্ষা রফতানির ক্ষেত্রেও এই প্রকল্পের গুরুত্ব বেড়েছে।

    ইউক্রেন যুদ্ধের পরও কেন গুরুত্বপূর্ণ রাশিয়া?

    রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের ফলে মস্কোর সঙ্গে ভারতের প্রতিরক্ষা সহযোগিতায় সরবরাহ এবং রসদ সংক্রান্ত নতুন চ্যালেঞ্জ তৈরি হয়েছে। একই সময়ে ভারত তার প্রতিরক্ষা সরঞ্জামের উৎস আরও বৈচিত্র্যময় করার চেষ্টা করছে। তারপরও রাশিয়া ভারতের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ প্রতিরক্ষা অংশীদার।

    এই বাস্তবতায় মোদি-পুতিন বৈঠকের গুরুত্ব শুধু নতুন কোনও অস্ত্র চুক্তির সম্ভাবনায় সীমাবদ্ধ নয়। বরং পুরনো চুক্তিগুলির বাস্তবায়ন, সরবরাহ ব্যবস্থার স্থায়িত্ব এবং ভবিষ্যৎ সহযোগিতার কাঠামো—সবই আলোচনায় আসতে পারে। বিশেষ করে এস-৪০০-এর শেষ ইউনিটের সরবরাহ এবং ভবিষ্যতের যৌথ উৎপাদন প্রকল্পগুলি নিয়ে স্পষ্টতা দুই দেশের প্রতিরক্ষা সম্পর্কের পরবর্তী দিক নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে।

    ব্রিকসের আগে মোদি-পুতিন বৈঠক, নজরে ভূ-রাজনীতিও

    ১১ সেপ্টেম্বর মোদি-পুতিন বৈঠকের পরই ১২ ও ১৩ সেপ্টেম্বর দিল্লিতে বসবে ১৮তম ব্রিকস শীর্ষ সম্মেলন। সেখানে বিশ্বের একাধিক গুরুত্বপূর্ণ রাষ্ট্রনেতার উপস্থিতি প্রত্যাশিত। তাঁদের মধ্যে থাকবেন চিনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংও। ফলে মোদি-পুতিন বৈঠককে শুধু দ্বিপাক্ষিক প্রতিরক্ষা আলোচনার দৃষ্টিকোণ থেকে দেখলে ছবির একটি বড় অংশ বাদ পড়বে।

    প্রতিরক্ষার পাশাপাশি বাণিজ্য, জ্বালানি, পরমাণু সহযোগিতা এবং আন্তর্জাতিক ভূ-রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়েও আলোচনা হতে পারে। বর্তমান বিশ্ব রাজনীতিতে দ্রুত পরিবর্তনের মধ্যে ভারত ও রাশিয়ার সম্পর্ক কোন পথে এগোবে, তারও একটি গুরুত্বপূর্ণ বার্তা আসতে পারে এই বৈঠক থেকে।

    প্রতিরক্ষায় দ্বিপাক্ষিক প্রযুক্তি ও শিল্প সহযোগিতায় জোর

    এস-৪০০-এর বাকি সরবরাহ, এসইউ-৫৭-এর প্রযুক্তি হস্তান্তর এবং ব্রহ্মোসের নতুন সংস্করণ ও রফতানি—তিনটি বিষয়ই আলাদা হলেও এর মধ্যে একটি অভিন্ন সূত্র রয়েছে। সেটি হল—ভারত-রাশিয়া প্রতিরক্ষা সম্পর্ককে শুধুমাত্র অস্ত্র কেনাবেচার সম্পর্ক থেকে আরও গভীর প্রযুক্তিগত ও শিল্প সহযোগিতার দিকে নিয়ে যাওয়া। মোদি-পুতিন বৈঠকে সেই পরিবর্তনের কতটা স্পষ্ট রূপরেখা সামনে আসে, এখন সেদিকেই নজর প্রতিরক্ষা মহলের।

  • University Staff Teacher Transfer Bill: তীব্র বাকযুদ্ধ-হট্টগোলের মধ্যেই বিধানসভায় পাস শিক্ষা বদলি বিল, যাদবপুর নিয়ে কড়া বার্তা মুখ্যমন্ত্রীর

    University Staff Teacher Transfer Bill: তীব্র বাকযুদ্ধ-হট্টগোলের মধ্যেই বিধানসভায় পাস শিক্ষা বদলি বিল, যাদবপুর নিয়ে কড়া বার্তা মুখ্যমন্ত্রীর

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: তীব্র বিতর্ক, শাসক-বিরোধী বাকযুদ্ধ এবং হট্টগোলের মধ্যেই রাজ্য বিধানসভার বিশেষ অধিবেশনে পাস হয়ে গেল বহুচর্চিত ‘আন্তঃবিশ্ববিদ্যালয় কর্মী ও শিক্ষক বদলি (সংশোধন) বিল, ২০২৬’ (University Staff Teacher Transfer Bill)। ভোটাভুটিতে বিলের পক্ষে পড়েছে ১৭১টি ভোট। বিপক্ষে ভোট দিয়েছেন ১৫ জন বিধায়ক। এই ১৫ জনের মধ্যে (West Bengal) কালীঘাটের তৃণমূল শিবিরের ১১ জন বিধায়ক ছাড়াও রয়েছেন নওসাদ সিদ্দিকী, মোস্তাফিজুর রহমান এবং বিধানসভার দুই কংগ্রেস বিধায়ক।

    বিল নিয়ে দীর্ঘ আলোচনায় বিরোধী দলনেতা ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, “যদি এই বিল রাজ্য সরকার কোনও রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে বা প্রতিহিংসামূলকভাবে ব্যবহার না করে, তবে আমরা একে নীতিগতভাবে সমর্থন জানাব। তবে কোনওভাবেই যেন প্রশাসনিক ক্ষমতার অপব্যবহার না হয়। মুখ্যমন্ত্রী অতীতে সিপিএমের ‘অনিলায়ন’ এবং পরবর্তীতে ‘মমতায়নে’র কথা বলেছেন। আমাদের আশঙ্কা, বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বশাসন খর্ব করে এই বিলের আড়ালে এখন নতুন করে ‘গৈরিকীকরণ’ চাপিয়ে দেওয়ার চেষ্টা চলছে।” এর পরেই ক্ষোভে বিধানসভা থেকে ওয়াকআউট করেন ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন বিরোধী বিধায়করা।

    শুভেন্দুর সাফ কথা (University Staff Teacher Transfer Bill)

    বিল নিয়ে আলোচনার সময় মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী বিরোধীদের কটাক্ষ করে বলেন, “অতীতে সিপিএম উচ্চশিক্ষায় অনিলায়ন করেছিল। আর আপনাদের পার্টি এখন তিন না চার টুকরো, জানি না, আপনারা করেছিলেন মমতায়ন! আমরা তার কোনওটাই করব না। আমাদের লক্ষ্য দুর্বল বিশ্ববিদ্যালয়গুলিকে আরও শক্তিশালী ও স্বাবলম্বী করে তোলা।”

    এদিকে, বিলের মূল উদ্দেশ্য ও প্রস্তাবিত আইনের রূপরেখা ব্যাখ্যা করতে গিয়ে রাজ্যের উচ্চশিক্ষামন্ত্রী জগন্নাথ চট্টোপাধ্যায় বলেন, “স্বশাসনের নামে কোনও বিশ্ববিদ্যালয় যদি কুশাসন বা স্বেচ্ছাচারিতা চালায়, তবে এই বিলই হবে রাজ্য সরকারের সবচেয়ে বড় হাতিয়ার। বর্তমানে একই বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে থাকা কলেজের অধ্যাপকরা এক কলেজ থেকে অন্য কলেজে বদলির সুযোগ পেলেও, বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপকদের ক্ষেত্রে তা সম্ভব হত না। এই বৈষম্য দূর করতে এবং রাজ্যের শিক্ষাব্যবস্থায় সমতা আনতেই বিলটি পাস করা হল।”

    জুটার ‘ইতিহাস’ সরকারের কাছে রয়েছে: শুভেন্দু

    বিল নিয়ে আলোচনায় যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রসঙ্গও উঠে আসে একাধিকবার। মুখ্যমন্ত্রী সরাসরি যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়কে নিশানা করে বলেন, জুটার সদস্যরা অতীতে কোথায়, কখন কী ভূমিকা নিয়েছিলেন, তার সমস্ত ইতিহাস সরকারের কাছে রয়েছে।

    বামপন্থী শিক্ষকদের কটাক্ষ করে তিনি বলেন, “এত জ্ঞান, এত আন্তর্জাতিক বুদ্ধি যাঁদের, তাঁদের আমরা রাজ্যের নতুন ও পিছিয়ে পড়া দুর্বল বিশ্ববিদ্যালয়গুলিতে পাঠাব, যাতে সেই সব কেন্দ্রগুলিও সবল হয়ে ওঠে।”

    মুখ্যমন্ত্রীর দাবি, প্রস্তাবিত বিলের গুরুত্ব প্রথম দিকে বিরোধী দল এবং অধ্যাপক সংগঠনগুলি বুঝতে পারেনি। এখন সরকারের অবস্থান এবং বিলের সম্ভাব্য প্রয়োগের বিষয়টি আঁচ করেই বিভিন্ন মহলে আপত্তি ও প্রতিবাদ শুরু হয়েছে।

    যাদবপুরে ১৩০০ কোটি টাকা অনুদানের ঘোষণা

    যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের সাম্প্রতিক স্লোগান এবং বিশ্ববিদ্যালয় চত্বরের রাজনৈতিক পরিবেশ নিয়েও বিধানসভায় সরব হন শুভেন্দু। তিনি বলেন, “অনুমতি নিয়ে জাতীয় পতাকা হাতে মিছিল করার অধিকার সবার আছে। কিন্তু ক্যাম্পাসে বসে ‘কিষেনজি’ বা দেশবিরোধী কোনও নাম লেখা কিংবা লাল সেলাম জানানো বরদাস্ত করা হবে না (University Staff Teacher Transfer Bill)।”

    তিনি আরও বলেন, “সনাতন ধর্মকে যারা কেবল সাংস্কৃতিক মনে করেন আর ‘কাশ্মীর মাঙ্গে আজাদি’র স্লোগান তোলেন, তাঁদের জবাব নেতাজির ভাষাতেই দেওয়া হবে, গান্ধীর ভাষায় নয়।”

    যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্য ১৩০০ কোটি টাকা অনুদানের ঘোষণা করেন মুখ্যমন্ত্রী। বিধানসভায় তিনি বলেন, “রাজ্য ও কেন্দ্র মিলিয়ে ১৩০০ কোটি টাকা যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ে দেওয়া হবে।”

    অনুদানের পাশাপাশি বিশ্ববিদ্যালয়ের অভ্যন্তরীণ পরিস্থিতি নিয়েও ক্ষোভ উগরে দেন তিনি। মুখ্যমন্ত্রীর দাবি, যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিতরে যেন একটি পৃথক রাষ্ট্র গড়ে উঠেছে। সেখানে দেশ ভাঙার চেষ্টা চলছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি।

    বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিতরে ‘কিষেনজি লাল সেলাম’, ‘ফ্রি প্যালেস্তাইন’ কিংবা ‘কাশ্মীর মাঙ্গে আজাদি’র মতো স্লোগান লেখা বরদাস্ত করা হবে না বলে হুঁশিয়ারি দেন মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর কথায়, “ভারত তেরে টুকড়ে হোঙ্গে লিখলে, আমরাই টুকরো করে দেব। কিষেনজির নাম বিশ্ববিদ্যালয়ে লিখতে দেব না। বেছে বেছে গেরুয়াধারীদের তথাকথিত বামপন্থী অধ্যাপকরা টার্গেট করেছেন, এটা চলবে না।”

    সুর চড়ালেন মুখ্যমন্ত্রী

    শিক্ষা বিল সংশোধনীর পক্ষে বক্তব্য রাখতে মুখ্যমন্ত্রী উঠতেই বিরোধীরা স্লোগান দিতে শুরু করেন। পাল্টা সুর চড়িয়ে শুভেন্দু বলেন, “এই জন্যই আপনারা হেরেছেন। সামনের ভোটে আপনাদের কী অবস্থা গেরুয়া করবে, তা দেখবেন। আপনাদের বিরোধিতায় আমাদের সুবিধাই হচ্ছে।”

    তিনি আরও বলেন, “নতুন তৈরি হওয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে তথাকথিত পণ্ডিতদের পাঠাব। প্রতিষ্ঠিত আটটি বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রচুর অধ্যাপক ও শিক্ষাকর্মী আছেন, তাঁদের অন্যত্র পাঠানো হবে। অন্যান্য রাজ্যেও কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয়ে বদলির সংস্থান রয়েছে। কোন লাইনে যাচ্ছি, বোঝা যেতেই বিল নিয়ে চিড়বিড় করা শুরু হয়েছে। রাজ্যে বিধানসভায় আইন প্রণয়নের এবং নিজস্ব শিক্ষা আইন আনার সম্পূর্ণ ক্ষমতা রয়েছে। সরকারের আইনের জায়গা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইনের উপরে।”

    ‘স্বায়ত্তশাসন থাকবে, সরকারের দায়বদ্ধতাও দেখা হবে’

    বিধানসভায় দাঁড়িয়ে বামেদেরও নিশানা করেন মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর বক্তব্য, “বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বায়ত্তশাসন রক্ষা হবে, পাশাপাশি সরকারের দায়বদ্ধতাও দেখা হবে। যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয় কি দেশের বাইরে? আইনের ফাঁকের সুযোগ নিয়ে মূলত যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ে যা চলেছে, তার উত্তরে শৃঙ্খলা আনার জন্য এই আইন জরুরি। সিপিএম অনিলায়ন করেছিল, তৃণমূলের টুকরোরা মমতায়ন করেছিল, আমরা অবশ্য গৈরিকীকরণ করব না।”

    বদলি প্রসঙ্গে শুভেন্দু বলেন, “বদলি চাকরির অন্তর্নিহিত শর্ত। অসুবিধা হলে চাকরি ছেড়ে দিন, ঝোলা নিয়ে হোলটাইমার হয়ে যান।”

    নতুন বিশ্ববিদ্যালয়ে অভিজ্ঞ শিক্ষক পাঠানোর পরিকল্পনা

    মুখ্যমন্ত্রী জানান, এই আইন রাজ্যের উচ্চশিক্ষা ব্যবস্থার জন্য প্রয়োজনীয় ছিল। একই সঙ্গে তিনি আশ্বাস দেন, বিলের কোনও অপপ্রয়োগ হবে না। বিলের মাধ্যমে রাজ্যের আটটি প্রাচীন বিশ্ববিদ্যালয় থেকে শিক্ষক ও শিক্ষাকর্মীদের অপেক্ষাকৃত নবীন বিশ্ববিদ্যালয়গুলিতে পাঠানোর পরিকল্পনার কথাও জানান তিনি। তাঁর বক্তব্য, এর ফলে নতুন বিশ্ববিদ্যালয়গুলির পড়ুয়ারাও অভিজ্ঞ শিক্ষক ও শিক্ষাকর্মীদের পরিষেবা পাওয়ার সুযোগ পাবেন (West Bengal)। ব্যঙ্গের সুরে শুভেন্দু বলেন, “তথাকথিত সমাজবাদ যাঁরা প্রতিষ্ঠা করতে চান, তাঁদের বিরাট মেধাকে আমরা নতুন বিশ্ববিদ্যালয়গুলিতে কাজে লাগাতে চাই। এতে আপত্তির কী আছে (University Staff Teacher Transfer Bill)?” বিল নিয়ে বিতর্কের গোটা পর্বে বার বার যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রসঙ্গ টেনে আনেন মুখ্যমন্ত্রী। একই সঙ্গে বামপন্থী শিক্ষকদের রাজনৈতিক মতাদর্শ নিয়েও কটাক্ষ করেন তিনি।

     

  • Suvendu Adhikari: ‘শারদোৎসব’ নয়, এবার থেকে লিখতে হবে ‘দুর্গাপুজো’, স্টলে নাম বদলের নির্দেশ মুখ্যমন্ত্রীর

    Suvendu Adhikari: ‘শারদোৎসব’ নয়, এবার থেকে লিখতে হবে ‘দুর্গাপুজো’, স্টলে নাম বদলের নির্দেশ মুখ্যমন্ত্রীর

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: আর ‘শারদোৎসব’ নয়, এবার থেকে ‘দুর্গাপুজো’ (Durga Puja) বলা ও লেখার উপরেই জোর দিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari)। দুর্গাপুজোর পরিবর্তে কোনও পুজোর স্টলে ‘শারদোৎসব’ লেখা থাকলে তা বাতিল করার নির্দেশ দেন তিনি। বৃহস্পতিবার বিধানসভায় বক্তব্য রাখতে গিয়ে পুজোর নামকরণ নিয়ে এমনই বার্তা দিলেন রাজ্যের প্রথম বিজেপি সরকারের মুখ্যমন্ত্রী।

    শুভেন্দু বলেন, দুর্গাপুজোয় ‘পুজো’ শব্দটি এড়িয়ে তথাকথিত বামপন্থীরা যদি কোনও স্টল করেন এবং সেখানে ‘শারদোৎসব’ লেখা থাকে, তা বাতিল করা হবে। পুজো উদ্যোক্তাদের উদ্দেশে তিনি বলেন, “দুর্গাপুজোকে দুর্গাপুজোই বলতে হবে। ‘শারদোৎসব’ লেখা থাকলে সেই স্টল বাতিল করা হবে।”

    বৈষম্য বরদাস্ত নয় (Suvendu Adhikari)

    এদিন বিধানসভায় নিজের বক্তব্যে বারবার দুর্গাপুজোর প্রসঙ্গ উঠে আসে মুখ্যমন্ত্রীর কথায়। দুর্গাপুজোকে ‘সার্বজনীন উৎসব’ হিসেবে উল্লেখ করে তিনি জানান, পুজোর আয়োজনের ক্ষেত্রে ধর্মীয় পরিচয়কে কেন্দ্র করে কোনও ধরনের বৈষম্য বরদাস্ত করা হবে না।

    রাজনৈতিক বিক্ষোভ, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি এবং ধর্মীয় পরিচয়কে কেন্দ্র করেও একাধিক মন্তব্য করেন মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর বক্তব্য, কোনও পরিস্থিতিতেই ধর্মীয় পরিচয়ের ভিত্তিতে নির্দিষ্ট কোনও সম্প্রদায় বা গোষ্ঠীকে নিশানা করা উচিত নয়।

    বিক্ষোভ বা উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতি তৈরি হলে আইনশৃঙ্খলা রক্ষার দায়িত্ব পুলিশই পালন করবে বলেও জানান তিনি। জনপ্রতিনিধিদের হাতে লাঠি নিয়ে রাস্তায় নামার প্রয়োজন নেই বলে মন্তব্য করেন মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর কথায়, আইনশৃঙ্খলা রক্ষার দায়িত্ব পুলিশের। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে জনপ্রতিনিধিদের সরাসরি রাস্তায় নেমে পড়ার প্রয়োজন নেই।

    ‘হিংসা ছড়াবেন না’

    অতীতের কয়েকটি আন্দোলন ও সংঘর্ষের প্রসঙ্গও এদিনের বক্তব্যে তুলে ধরেন মুখ্যমন্ত্রী। রাজনৈতিক মতপার্থক্য থাকতেই পারে, কিন্তু তার জেরে হিংসা বা উত্তেজনা ছড়ানোর মতো পরিস্থিতি তৈরি করা উচিত নয় বলে মন্তব্য করেন তিনি। একই সঙ্গে শান্তির পক্ষে অবস্থান নেওয়ার বার্তাও দেন (Suvendu Adhikari)।

    ধর্মীয় পরিচয়ের ভিত্তিতে কাউকে নিশানা করার অভিযোগ নিয়েও সরব হন মুখ্যমন্ত্রী। বলেন, কেউ গেরুয়া পোশাক পরলে, মাথায় শিখা রাখলে কিংবা ধর্মীয় মালা পরলে তাঁকে আলাদা করে নিশানা করা যাবে না। মুসলিম, হিন্দু, বৌদ্ধ কিংবা অন্য যে কোনও ধর্মের মানুষকে নিজ নিজ ধর্ম পালনের স্বাধীনতা দেওয়া উচিত বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

    বক্তব্যের শেষাংশে দুর্গাপুজোর বিভিন্ন কমিটির (Durga Puja) উদ্দেশে পুজোর আয়োজন এবং সরকারি সহায়তার ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট নিয়ম মেনে চলার আবেদন জানান মুখ্যমন্ত্রী (Suvendu Adhikari)।

     

LinkedIn
Share