Tag: Madhyom

Madhyom

  • Venezuela President Captured: ভেনেজুয়েলায় মার্কিন হামলা, দাম বাড়তে পারে অপরিশোধিত তেলের?

    Venezuela President Captured: ভেনেজুয়েলায় মার্কিন হামলা, দাম বাড়তে পারে অপরিশোধিত তেলের?

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: রাতের অন্ধকারে বাড়ি থেকে ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে বন্দি করে নিয়ে গেল ৪৭তম মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রাশাসন। বন্দি করা হয়েছে মাদুরোর স্ত্রীকেও। ভেনেজুয়েলা তেল (Crude Oil) সমৃদ্ধ দেশ। বিভিন্ন রকমের বিরল খনিজও রয়েছে দক্ষিণ আমেরিকার এই দেশের মাটির নীচে। তাই প্রেসিডেন্ট অপহরণ (Venezuela President Captured) হওয়ার পর আন্তর্জাতিক তেলবাজারে বড় ধরনের অস্থিরতার আশঙ্কা সৃষ্টি হয়েছে। বাজার বিশেষজ্ঞদের মতে, এর প্রভাবেই সোমবার অপরিশোধিত তেলের দামে গ্যাপ-আপ ওপেনিং দেখা যেতে পারে।

    ব্রেন্ট ক্রুডের দাম (Venezuela President Captured)

    বিশেষ করে ব্রেন্ট ক্রুডের দামে ঊর্ধ্বমুখী চাপ বাড়তে পারে। মার্কিন সামরিক হামালার ফলে যদি ভেনেজুয়েলার তেল পরিকাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত হয়, তবে ব্রেন্ট ক্রুডের দাম প্রতি ব্যারেল ৬৫ ডলারের দিকে এগোতে পারে বলে অনুমান। বিশ্ববাজারে তেলের সরবরাহ নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হলে তার সরাসরি প্রভাব পড়ে আন্তর্জাতিক শক্তির বাজারে। ফলে বিনিয়োগকারী ও তেল আমদানিকারী দেশগুলির মধ্যে উদ্বেগ বাড়ছে। আগামী কয়েক দিনে পরিস্থিতির ওপর নজর রাখছেন তেল ব্যবসায়ী ও বাজার বিশ্লেষকরা। ভারতের জটিল কাঠামোর তেল শোধনাগারগুলি বিশেষ করে গুজরাটের জামনগর রিফাইনারি ভেনেজুয়েলার ঘন ও ভারী অপরিশোধিত তেল প্রক্রিয়াকরণের জন্য বিশেষভাবে তৈরি। এই ধরনের অপরিশোধিত তেল শোধনের জন্য প্রয়োজন হয় উন্নত প্রযুক্তি ও নির্দিষ্ট পরিকাঠামো, যা ভারতের হাতে গোণা কয়েকটি রিফাইনারিতেই রয়েছে।

    বিকল্প উৎস খুঁজতে হিমশিম খেতে হবে

    বিশেষজ্ঞদের মতে, যদি ভেনেজুয়েলা থেকে তেল আমদানির ওপর সম্পূর্ণ নিষেধাজ্ঞা বা অবরোধ কার্যকর হয়, তাহলে ভারতীয় তেল সংস্থাগুলিকে বিকল্প উৎস খুঁজতে হিমশিম খেতে হবে। সে ক্ষেত্রে মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলির দিকে ঝুঁকতে হবে ভারতকে, যেখানে তুলনামূলকভাবে হালকা অপরিশোধিত তেলের দাম বেশি এবং শোধন করার খরচও বাড়তে পারে। এর ফলে ভারতের জ্বালানি আমদানির ব্যয় উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেতে পারে, যার প্রভাব পড়তে পারে দেশের অভ্যন্তরীণ জ্বালানি মূল্য ও সামগ্রিক অর্থনীতির ওপর। আন্তর্জাতিক ভূরাজনৈতিক টানাপোড়েনের মধ্যে এই পরিস্থিতি ভারতের জ্বালানি নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি করছে (Crude Oil)। ২০২৪ সালে ভারত ভেনেজুয়েলা থেকে ১.৭৬ বিলিয়ন মার্কিন ডলার মূল্যের অপরিশোধিত তেল আমদানি করেছিল। এই পরিসংখ্যান থেকে স্পষ্ট যে, দক্ষিণ আমেরিকার তেল সরবরাহের ওপর ভারতের নির্ভরতা এখনও উল্লেখযোগ্যভাবে বজায় রয়েছে।

    কী বলছেন বিশেষজ্ঞরা?

    বিশেষজ্ঞদের মতে, আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম দীর্ঘ সময় ধরে বাড়লে তার প্রভাব সরাসরি পড়তে পারে দেশের সাধারণ ভোক্তাদের ওপর। সাধারণত বিশ্ববাজারে তেলের দামে স্থায়ী বৃদ্ধি ঘটলে তার প্রতিফলন ভারতীয় বাজারে পেট্রোল ও ডিজেলের দামে দেখা যায় সপ্তাহ দুয়েকের মধ্যেই। ফলে পরিবহণ খরচ বৃদ্ধই, নিত্য প্রয়োজনীয় পণ্যের দাম বাড়ার আশঙ্কা এবং সামগ্রিকভাবে মূল্যস্ফীতির চাপ আরও তীব্র হতে পারে বলে অর্থনীতিবিদদের ধারণা। ২০২৫ সালের শেষাশেষি নাগাদ ভারতের মোট অপরিশোধিত তেল আমদানির প্রায় ৫০ শতাংশই এসেছে রাশিয়া থেকে আমদানি করা ডিসকাউন্টেড তেল থেকে। এই কৌশলগত পরিবর্তনের ফলে ভারতের জ্বালানি নিরাপত্তা অনেকটাই মজবুত হয়েছে।

    আর্থিক সুরক্ষা বলয়

    বিশেষজ্ঞদের মতে, রাশিয়ার সস্তা তেলের ওপর নির্ভরতা ভারতের জন্য এক বড় আর্থিক সুরক্ষা বলয় তৈরি করেছে। এর ফলে এক দশক আগের তুলনায় ভেনেজুয়েলার মতো তেল-উৎপাদক দেশের রাজনৈতিক বা অর্থনৈতিক অস্থিরতা ভারতের ওপর এখন অনেক কম প্রভাব ফেলবে (Venezuela President Captured)। একসময় ভেনেজুয়েলা ছিল ভারতের গুরুত্বপূর্ণ তেল সরবরাহকারী দেশগুলির অন্যতম। কিন্তু সেখানকার উৎপাদন সংকট ও আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞার কারণে ভারতকে বিকল্প উৎসের সন্ধান করতে হয়। রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের পর রাশিয়ান তেল আন্তর্জাতিক বাজারে ছাড়ে পাওয়া শুরু হলে, ভারত সেই সুযোগ কাজে লাগায়।

    কী বলছেন বিশেষজ্ঞরা?

    বিশেষজ্ঞদের মতে, এই নীতিগত সিদ্ধান্ত শুধু জ্বালানি নিরাপত্তাই বাড়ায়নি, বরং বৈদেশিক মুদ্রার সাশ্রয় এবং মূল্যস্ফীতির চাপ কমাতেও সাহায্য করেছে। ফলে আগামী দিনে বৈশ্বিক তেল বাজারে অস্থিরতা বাড়লেও ভারত তুলনামূলকভাবে অনেক বেশি সুরক্ষিত থাকবে।বিশ্ববাজারে বর্তমানে একটি বিশাল তেল উদ্বৃত্ত কার্যত সুরক্ষা বলয়ের মতো কাজ করছে। বিভিন্ন জাহাজে সংরক্ষিত অবস্থায় প্রায় ১৩০ কোটি ব্যারেল অপরিশোধিত তেল মজুত রয়েছে, যাকে বাজারের ভাষায় বলা হচ্ছে ‘অন ওয়াটার স্টোরেজ’। এই বিপুল মজুতের কারণে হঠাৎ করে তেলের দামে বড় কোনও ধাক্কা লাগার আশঙ্কা আপাতত কম। তবে বিশেষজ্ঞদের মতে, এমনকি যদি ভেনেজুয়েলা থেকে রাতারাতি তেল সরবরাহ বন্ধ হয়ে যায়, তাহলেও তাৎক্ষণিকভাবে আন্তর্জাতিক তেলের বাজারে বড় মূল্যবৃদ্ধি হওয়ার সম্ভাবনা প্রায় নেই বললেই চলে।

    বিশ্ববাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম

    বিশ্লেষকদের মতে, এই মজুত বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারকে স্বল্পমেয়াদে স্থিতিশীল রাখতে সাহায্য করছে। তবে দীর্ঘমেয়াদে উৎপাদন ব্যাহত হলে বা ভূ-রাজনৈতিক উত্তেজনা বাড়লে পরিস্থিতি বদলে যেতে পারে বলেও সতর্ক করেছেন তাঁরা। আন্তর্জাতিক বাজারে হঠাৎ করে অপরিশোধিত তেলের দাম বেড়ে গেলেও ভারতীয় গ্রাহকদের ওপর তাৎক্ষণিক কোনও প্রভাব পড়বে না। কারণ ভারতের তেল বিপণন সংস্থাগুলি খুচরো পেট্রোল ও ডিজেলের দাম নির্ধারণের আগে সাধারণত ১৫ দিনের গড় হিসেবে অপরিশোধিত তেলের দাম বিবেচনা করে।তাই আজ বিশ্ববাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম বেড়ে গেলেও দেশের সাধারণ যাত্রী বা দৈনন্দিন যাতায়াতকারীরা সঙ্গে সঙ্গে তার প্রভাব অনুভব করবেন না। তেলের দামের ওঠানামা সরাসরি খুচরো বাজারে প্রতিফলিত হওয়ার আগে একটি নির্দিষ্ট সময়সীমা পেরোতে হয় (Crude Oil)।

    আন্তর্জাতিক অস্থিরতার ধাক্কা

    বিশেষজ্ঞদের মতে, এই মূল্য নির্ধারণ পদ্ধতির ফলে হঠাৎ আন্তর্জাতিক অস্থিরতার ধাক্কা থেকে সাধারণ মানুষ কিছুটা সুরক্ষা পান। তবে যদি দীর্ঘমেয়াদে আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম চড়া থাকে, সেক্ষেত্রে খুচরো দামে পরিবর্তন আসতে পারে। নয়া লগ্নি এলে ভেনেজুয়েলা সরকার ভবিষ্যতে দৈনিক তেল উৎপাদন বাড়িয়ে ২০ লক্ষ ব্যারেল পর্যন্ত নিয়ে যেতে পারে বলে অনুমান। দেশটির তেল খাতে বিদেশি ও অভ্যন্তরীণ বিনিয়োগ বৃদ্ধি পেলে উৎপাদন সক্ষমতা উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়বে বলেই ধারণা বিশ্লেষকদের। বিশ্ববাজারে দীর্ঘমেয়াদে তেলের সরবরাহ বাড়লে তার সরাসরি প্রভাব পড়ে  জ্বালানির দামে। অতিরিক্ত সরবরাহের ফলে আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম কমার সম্ভাবনা তৈরি হবে, যা বড় তেল আমদানিকারী দেশগুলির জন্য স্বস্তির খবর।

    ‘সারপ্লাস শিল্ড’

    বিশেষ করে ভারতের মতো দেশ, যারা বিপুল পরিমাণ অপরিশোধিত তেল আমদানি করে, তারা এই পরিস্থিতি থেকে অর্থনৈতিকভাবে লাভবান হতে পারে। কম দামে তেল আমদানি করতে পারলে জ্বালানি ব্যয় হ্রাস পাবে, যার ইতিবাচক প্রভাব পড়বে পরিবহণ, শিল্প এবং সাধারণ ভোক্তার ওপর। বিশেষজ্ঞদের মতে, ভেনেজুয়েলার উৎপাদন বৃদ্ধি যদি বাস্তবে রূপ নেয়, তবে তা বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে শক্তির ভারসাম্যেও পরিবর্তন আনতে পারে (Venezuela President Captured)। ‘সারপ্লাস শিল্ড’ বা অতিরিক্ত মজুত সুরক্ষা থাকলেও দেশের জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থা নিয়ে এখনও সতর্ক অবস্থানে রয়েছে ভারতের রাষ্ট্রায়ত্ত তেল বিপণন সংস্থাগুলি। আন্তর্জাতিক ভূ-রাজনৈতিক টানাপোড়েন বাড়তে থাকায় সরবরাহ শৃঙ্খলে কোনও রকম বিঘ্ন ঘটতে পারে, এমনতর আশঙ্কা মাথায় রেখেই সতর্কতা জারি করা হয়েছে।

    বৈশ্বিক বাজারে অস্থিরতা

    সরকারি সূত্রে খবর, বর্তমানে প্রায় ১.৪০ লক্ষ কোটি টাকা মূল্যের জ্বালানি নিরাপত্তা বজায় রাখাই প্রধান লক্ষ্য ভারতের। মধ্যপ্রাচ্য-সহ বিভিন্ন অঞ্চলে সংঘাতের পরিস্থিতি এবং বৈশ্বিক বাজারে অস্থিরতার কারণে তেল এবং গ্যাসের আমদানি ও পরিবহণে ঝুঁকি তৈরি হতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। এই পরিস্থিতিতে দেশের তেল বিপণন সংস্থাগুলি মজুত ব্যবস্থাপনা, বিকল্প সরবরাহ উৎস এবং লজিস্টিক পরিকল্পনা আরও জোরদার করছে, যাতে কোনও সংকটের প্রভাব দেশের অভ্যন্তরীণ বাজারে না পড়ে (Crude Oil)। প্রসঙ্গত, ভারত তার জ্বালানি চাহিদার একটি বড় অংশ মেটায় আমদানির মাধ্যমে। ফলে বিশ্ববাজারে তেলের দাম কমলে ভারতের আমদানি ব্যয় কমবে, মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে আসতে পারে এবং অর্থনীতিতে ইতিবাচক প্রভাব পড়বে। বিশেষজ্ঞদের মতে, ভেনেজুয়েলার তেল উৎপাদন বাড়লে শুধু ভারত নয়, বিশ্ব অর্থনীতিতেও এর প্রভাব পড়বে (Venezuela President Captured)।

  • Malda Flood Relief Scam: মালদা বন্যা ত্রাণে ভয়াবহ দুর্নীতি! ক্যাগ রিপোর্টে প্রকাশ প্রায় ১০০ কোটি টাকার কেলেঙ্কারি

    Malda Flood Relief Scam: মালদা বন্যা ত্রাণে ভয়াবহ দুর্নীতি! ক্যাগ রিপোর্টে প্রকাশ প্রায় ১০০ কোটি টাকার কেলেঙ্কারি

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: আবারও দুর্নীতির জালে তৃণমূল। ২০১৭ সালের অগাস্ট মাসে মালদায় (Malda Flood Relief Scam) ভয়াবহ বন্যার পর ত্রাণ ও ক্ষতিপূরণের নামে যে বিপুল আর্থিক দুর্নীতি হয়েছে, তার বিস্ফোরক তথ্য উঠে এল প্রায় ৭০০ পাতার কম্পট্রোলার অ্যান্ড অডিটর জেনারেল (CAG) রিপোর্টে। এই রিপোর্ট সম্প্রতি কলকাতা হাইকোর্টে জমা পড়েছে। রিপোর্টে ইঙ্গিত মিলেছে, বন্যা ত্রাণের নামে প্রায় ১০০ কোটি টাকা লুট হয়েছে। সিএজি-র পর্যবেক্ষণে বলা হয়েছে, এটি নিছক প্রশাসনিক গাফিলতি নয়, বরং একটি সংগঠিত ও পরিকল্পিত লুটপাটের চিত্র, যেখানে প্রকৃত ক্ষতিগ্রস্তরা বঞ্চিত হয়েছেন এবং রাজনৈতিকভাবে প্রভাবশালীরা লাভবান হয়েছেন। এই রিপোর্টে উঠে এসেছে জনসাধারণের অর্থের নির্মম ও পরিকল্পিত লুণ্ঠনের ছবি,যেখানে প্রকৃত ক্ষতিগ্রস্তরা চরম দুর্দশায় পড়ে থাকলেও শাসক দলের ঘনিষ্ঠরা ত্রাণের টাকা লুটে নিয়েছে।

    পাকা বাড়ি ভাঙেনি, তবু কোটি টাকা ক্ষতিপূরণ

    প্রকাশিত প্রাথমিক ক্যাগ প্রতিবেদনে বিপুল পরিমাণ জালিয়াতির ইঙ্গিত পাওয়া গিয়েছে, যাতে ৮০-এর বেশি পঞ্চায়েত প্রধান ও কর্মকর্তার নাম জড়িয়ে আছে। এই ঘটনা রাজনৈতিক মহলে ঝড় তুলেছে, বিশেষ করে তৃণমূল কংগ্রেসের ‘ত্রাণ বিতরণ মডেল’-কে নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। ২০১৭ সালের বন্যায় মালদার লক্ষ লক্ষ মানুষের বাড়িঘর উজাড় হয়ে যায়। সরকার ১০০০ কোটি টাকারও বেশি ত্রাণ তহবিল বরাদ্দ করে, কিন্তু অভিযোগ উঠেছে যে, এই অর্থের একটি বড় অংশ আসল ক্ষতিগ্রস্তদের কাছে পৌঁছায়নি। বরং, এই অর্থগুলো কিছু নির্দিষ্ট ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে সাইফন করা হয়েছে। রিপোর্ট অনুযায়ী, মালদা জেলায় ১,৬০৯টি পাকা বাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত দেখিয়ে ৭.৫ কোটি টাকা দেওয়া হয়। অথচ জেলার তৎকালীন জেলাশাসক (DM) সরকারি নথিতে স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন, বন্যায় একটিও পাকা বাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়নি।

    একই ব্যক্তির অ্যাকাউন্টে ৪২ বার টাকা!

    সবচেয়ে চাঞ্চল্যকর তথ্য উঠে এসেছে ডুপ্লিকেট ও একাধিকবার অর্থপ্রদানের ঘটনায়। একই নাম, একই ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট ও আইএফএসসি কোডে ২ বার থেকে ৪২ বার পর্যন্ত ক্ষতিপূরণের টাকা জমা হয়েছে। হরিশ্চন্দ্রপুর–২ ব্লকে এক ব্যক্তি একই বাড়ির ক্ষতির জন্য ৪২ বার টাকা পেয়েছেন। শুধুমাত্র এই ধরনের ভুয়ো ও বহুগুণ অর্থপ্রদানের মাধ্যমে ৫.৯০ কোটি টাকা নয়ছয় হয়েছে বলে সিএজি জানিয়েছে। ৬,৯৬৫ জনকে একই ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে ২ থেকে ৪২ বার করে টাকা দেওয়া হয়েছে, বলে অভিযোগ।

    আমরা তো কিছু পাইনি

    প্রাথমিক তদন্তে দেখা গেছে, হাজার হাজার উপকারীদের একই মোবাইল নম্বর বা ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট দিয়ে রেজিস্ট্রেশন করা হয়েছে, যা স্পষ্টতই জালিয়াতির ইঙ্গিত। আদালতের একজন বিচারপতি বেঞ্চ বলেছেন, “এটা শুধু অর্থের অপব্যবহার নয়, এটা লোকজনের জীবনের সঙ্গে খেলা। বন্যার ক্ষতিগ্রস্তরা আজও ত্রাণের জন্য অপেক্ষায় আছে, আর অর্থগুলো কোথায় গেল?” পিটিশনে দাবি করা হয়েছে যে, ৮০-এর বেশি পঞ্চায়েত প্রধান এবং স্থানীয় কর্মকর্তা এই র‍্যাকেটে জড়িত। এদের মধ্যে অনেকেই তৃণমূল কংগ্রেসের সঙ্গে যুক্ত বলে অভিযোগ। একজন স্থানীয় বন্যা ক্ষতিগ্রস্ত বলছেন, “আমরা বাড়ি গাঁথতে পারিনি, কিন্তু শুনছি আমাদের নামে অর্থ বরাদ্দ হয়েছে। কোথায় গেল সেই টাকা? আমরা তো কিছু পাইনি।”

    তালিকাভুক্ত নন, আবেদন নেই—তবু টাকা!

    রিপোর্টে আরও বলা হয়েছে, প্রায় ৭ কোটি টাকা দেওয়া হয়েছে এমন ব্যক্তিদের, যাঁদের নাম সরকারি ক্ষতিগ্রস্ত তালিকায় ছিল না, এমনকি অনেক ক্ষেত্রে কোনও আবেদনই জমা পড়েনি। রাতুয়া–১ ব্লকে এমন অনিয়মে ২.৬০ কোটি টাকা দেওয়া হয়েছে। গোটা জেলায় ক্ষয়ক্ষতি যাচাই না করেই মোট ৭.২৯ কোটি টাকা দেওয়া হয়েছে।

    জনপ্রতিনিধি ও সরকারি কর্মীদের ত্রাণ লুট

    সবচেয়ে গুরুতর অভিযোগ, ১০৮ জন জনপ্রতিনিধি ও সরকারি কর্মচারী বেআইনিভাবে বিপিএল (Below Poverty Line) ত্রাণের টাকা নিয়েছেন। এর মধ্যে— ৩৬ জন পঞ্চায়েত সমিতির সদস্য পেয়েছেন মোট ২৬ লক্ষ টাকা। হরিশ্চন্দ্রপুর–২ ব্লকের ৪ জন সরকারি কর্মী নিয়েছেন ৫.২৮ লক্ষ টাকা। সিএজি স্পষ্ট জানায়, এঁরা কেউই বিপিএল বা বন্যা-আক্রান্ত হওয়ার যোগ্য ছিলেন না।

    নথি “হারিয়ে গিয়েছে”

    নিয়ম অনুযায়ী, চার সদস্যের যাচাই কমিটির অনুমোদন ছাড়া ত্রাণ দেওয়া যায় না। কিন্তু— মানিকচক, ওল্ড মালদা, ইংরেজবাজার, কালিয়াচক–১ ও রাতুয়া–১ ব্লকে এই নিয়ম মানা হয়নি। ওল্ড মালদা ব্লকে (Malda Flood Relief Scam) অডিটের সময় গুরুত্বপূর্ণ নথি “হারিয়ে গিয়েছে” বলে দাবি করা হয়। অথচ নথি হারানোর বিষয়ে কোনও পুলিশি অভিযোগ দায়ের হয়নি।

    নির্বাচনের সময় টাকা তোলা নিয়ে প্রশ্ন

    রিপোর্ট ও আদালতে দায়ের হওয়া জনস্বার্থ মামলাগুলিতে অভিযোগ, পঞ্চায়েত নির্বাচনের সময় বড় অঙ্কের টাকা তোলা হয়েছিল, যা রাজনৈতিক প্রভাব বিস্তারে ব্যবহার করা হয়ে থাকতে পারে। এই ঘটনায় কলকাতা হাইকোর্টে দায়ের হওয়া তিনটি জনস্বার্থ মামলায় অভিযোগ, মোট লুটের অঙ্ক প্রায় ১০০ কোটি টাকা। আদালতে অন্তত ৩০ জন বিডিও-র নাম উঠে এসেছে, যাঁরা ২০১৭ থেকে ২০২০ সালের মধ্যে দায়িত্বে ছিলেন।

    দুর্নীতির পুরনো ছক?

    আমফান ঝড়, কোভিড ত্রাণ—একাধিক দুর্নীতির অভিযোগের পর মালদা বন্যা ত্রাণ কেলেঙ্কারি ফের প্রশ্ন তুলছে রাজ্যের দুর্যোগ মোকাবিলা ও ত্রাণ ব্যবস্থার স্বচ্ছতা নিয়ে। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় যেখানে “বঞ্চনা”-র কথা বলেন, সিএজি রিপোর্ট সেখানে ইঙ্গিত দিচ্ছে—এই বঞ্চনা রাষ্ট্রযন্ত্রের মধ্যেই পরিকল্পিতভাবে তৈরি করা হয়েছিল। প্রশ্ন উঠছে, এটাই টিএমসির ত্রাণ বিতরণের মডেল? আসল ক্ষতিগ্রস্তরা শূন্য পায়, আর অর্থ র‍্যান্ডম অ্যাকাউন্টে চলে যায়!

     

     

     

     

  • Daily Horoscope 04 January 2026: সম্পত্তির অধিকার নিয়ে বিবাদ হতে পারে এই রাশির জাতকদের

    Daily Horoscope 04 January 2026: সম্পত্তির অধিকার নিয়ে বিবাদ হতে পারে এই রাশির জাতকদের

    চাকরি থেকে ব্যবসা, বন্ধু থেকে ব্যক্তিগত জীবন, ভ্রমণ থেকে স্বাস্থ্য—কী বলছে ভাগ্যরেখা? কেমন কাটতে পারে দিন?

    মেষ

    ১) বাড়তি খরচের জন্য চিন্তা বাড়বে।

    ২) প্রেমের ব্যাপারে সিদ্ধান্ত নিতে দেরি হতে পারে।

    ৩) পুরনো বন্ধুর সঙ্গে দেখা হতে পারে।

    বৃষ

    ১) শেয়ার বাজারে লগ্নি নিয়ে চিন্তা বাড়তে পারে।

    ২) পেটের কষ্ট বাড়তে পারে।

    ৩) ভালো-মন্দ মিশিয়ে কাটবে দিনটি।

    মিথুন

    ১) সকাল থেকে শরীরে জড়তা বাড়তে পারে।

    ২) মাথার যন্ত্রণা বৃদ্ধি পাবে।

    ৩) সবাই আপনার প্রশংসা করবে।

    কর্কট

    ১) প্রেমের ব্যাপারে মনঃকষ্ট বাড়তে পারে।

    ২) পারিবারিক ভ্রমণে বাধা পড়তে পারে।

    ৩) ধৈর্য ধরতে হবে।

    সিংহ

    ১) রাজনীতির লোকেদের একটু চিন্তার কারণ দেখা দিতে পারে।

    ২) উচ্চশিক্ষার্থে বিদেশযাত্রার সুযোগ পেতে পারেন।

    ৩) বাণীতে সংযম রাখুন।

    কন্যা

    ১) প্রেমের অশান্তি মিটে যেতে পারে।

    ২) কোনও কারণে মনে সংশয় বা ভয় কাজ করবে।

    ৩) দুশ্চিন্তা বাড়বে।

    তুলা

    ১) কাউকে কোনও ব্যাপারে কথা দেবেন না।

    ২) আধ্যাত্মিক বিষয়ে বিশেষ মনোযোগ দেখা দেবে।

    ৩) কর্মক্ষেত্রে বাধা।

    বৃশ্চিক

    ১) গবেষণার কাজে সাফল্য লাভ।

    ২) খুব নিকট কোনও মানুষের জন্য দাম্পত্য কলহ সৃষ্টি হতে পারে।

    ৩) সবাইকে বিশ্বাস করবেন না।

    ধনু

     ১) সখ মেটাতে বাড়তি খরচ হতে পারে।

    ২) কোনও বন্ধুর জন্য বিপদ থেকে উদ্ধার লাভ।

    ৩) ডাক্তারের কাছে যেতে হতে পারে।

    মকর

    ১) মহিলাদের জন্য নতুন কিছু শুরু করার ভালো সময়।

    ২) কল্যাণকর কাজে কিছু অর্থ ব্যয় হতে পারে।

    ৩) আধ্যাত্মিকতায় মনোনিবেশ করুন।

    কুম্ভ

     ১) ব্যবসায় সমস্যা ও খরচ বৃদ্ধি পাবে।

    ২) চক্ষুরোগ দেখা দিতে পারে।

    ৩) কর্মক্ষেত্রে বাধা।

    মীন

    ১) সম্পত্তির অধিকার নিয়ে বিবাদ হতে পারে।

    ২) কপালে অপমান জুটতে পারে।

    ৩) ভেবেচিন্তে কথা বলুন।

    DISCLAIMER: এই প্রতিবেদনটি বিশেষজ্ঞদের মতামত অনুযায়ী লেখা। এর সঙ্গে মাধ্যম-এর কোনও সম্পর্ক নেই। মাধ্যম এর কোনও দায় নিচ্ছে না।

  • ED: বালি পাচার মামলায় চার্জশিট জমা দিল ইডি

    ED: বালি পাচার মামলায় চার্জশিট জমা দিল ইডি

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: বালি পাচার মামলায় শনিবার কলকাতার বিচার ভবনে চার্জশিট জমা দিল ইডি (ED)। তদন্তকারী সংস্থার দাবি, এই মামলায় আর্থিক অনিয়মের পরিমাণ প্রায় ১৪৫ কোটি টাকা। গত কয়েক দিন ধরে রাজ্যের বিভিন্ন জেলায় টানা তল্লাশি (Sand Mining Case) অভিযান চালিয়েছিল ইডি। তার পর এদিন জমা দেওয়া হল চার্জশিট।

    চার্জশিটে ১৮ জনের নাম (ED)

    ইডি সূত্রে খবর, চার্জশিটে মোট ১৮ জন অভিযুক্তের নাম রয়েছে। তাদের মধ্যে অন্যতম ব্যবসায়ী অরুণ সরফ। অরুণের পাশাপাশি তাঁর তিন কর্মচারির নামও উল্লেখ করা হয়েছে চার্জশিটে। কেবল ওই ব্যক্তিরাই নন, এই মামলায় কাঠগড়ায় তোলা হয়েছে ১৪টি সংস্থাকেও। এর মধ্যে রয়েছে অরুণ সরফের সংস্থাও। এই মামলার পরবর্তী শুনানি হবে সোমবার, বিচার ভবনে (ED)। তদন্তে জানা গিয়েছে, একাধিক নির্দিষ্ট সংস্থাকে সামনে রেখে দীর্ঘদিন ধরে বেআইনি বালি খনন ও বিক্রির কাজ চলছিল। ইডির দাবি, অরুণ সরফ নিজের নামে কোনও সরাসরি হিসেব না রেখে অন্য পথে আর্থিক লেনদেন চালাতেন। তদন্তে দেখা যায়, ১০৩ কোটি টাকার বালি বিক্রির কথা স্বীকার (Sand Mining Case) করলেও, তাঁর অ্যাকাউন্টে জমা পড়েছে প্রায় ১৩০ কোটি টাকা। এই অস্বাভাবিক ফারাক থেকেই তদন্তকারীদের সন্দেহ আরও ঘনীভূত হয়।

    বালির মজুত যাচাই

    জানা গিয়েছে, অরুণ যখন ইডি হেফাজতে থাকাকালীন রাজ্যের ১৩টি জায়গায় বালির মজুত যাচাই করা হয়। সেখানে বাস্তব স্টক ও নথিভুক্ত হিসেবের মধ্যে একাধিক গরমিল ধরা পড়ে বলে দাবি তদন্তকারী সংস্থার। পরে বিভিন্ন এলাকায় গিয়ে ফের যাচাই করেও মিলেছে সেই অসঙ্গতির প্রমাণ (ED)। তদন্তকারীদের অভিযোগ, বেআইনি বালি খননের পাশাপাশি ভুয়ো ই-চালান ব্যবহার করে সরকারি নিয়ম লঙ্ঘন করা হয়েছে। সরকারি রাজস্ব আত্মসাৎ এবং প্রশাসনিক ফাঁকফোকর কাজে লাগিয়েই এই চক্র দীর্ঘদিন ধরে সক্রিয় ছিল বলে অনুমান তদন্তকারীদের। গ্রেফতারির পর থেকে এখনও জেল হেফাজতেই রয়েছেন অরুণ (Sand Mining Case)।

    ইডির অভিযান

    প্রসঙ্গত, বালি পাচার মামলার বিভিন্ন সূত্র ধরে গত কয়েক মাস ধরে রাজ্যের বিভিন্ন জেলায় ধারাবাহিক অভিযান চালিয়েছে ইডি। সেই তদন্তের অংশ হিসেবেই গত নভেম্বরে হাওড়ার বালি এলাকা থেকে গ্রেফতার করা হয় অরুণকে। গ্রেফতার করার আগে ঘণ্টা সাতেক ধরে তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদ করেছিলেন ইডির তদন্তকারী আধিকারিকরা। ইডির দাবি, অরুণের বিরুদ্ধে একাই প্রায় ৭৮ কোটি টাকার দুর্নীতির অভিযোগ রয়েছে। তদন্তকারীদের আরও অভিযোগ, অরুণের সংস্থা ওয়েস্টবেঙ্গল স্যান্ড-মাইনিং-ট্রান্সপোর্ট-স্টোরেজ ও সেলে যে সব নিয়ম রয়েছে, সে সব কিছুকে উপেক্ষা করে বালি তুলত সে। পরে তা বিক্রি করত। এভাবে প্রচুর অর্থ রোজগার করেছিল তার সংস্থা। জানা গিয়েছে, ৫৭ দিনের মাথায় জমা পড়ল এই চার্জশিট।

    বালি পাচারকাণ্ডের তদন্ত

    গত ৮ সেপ্টেম্বর প্রথম বালি পাচারকাণ্ডের তদন্তে নামে ইডি। ওই দিন কেন্দ্রীয় তদন্তকারী এই সংস্থা এক যোগে হানা দেয় ঝাড়গ্রাম ও বেহালায়। খানাতল্লাশি চালানো হয় কলকাতা, ঝাড়গ্রাম, নদিয়া এবং পশ্চিম মেদিনীপুরে তল্লাশি চালায় ইডি। সেই সময়ই জিডি মাইনিংয়েও তল্লাশি চালান গোয়েন্দারা। ঝাড়গ্রামে গোপীবল্লভপুরে শেখ জহিরুল আলির বাড়িতে চলেছিল তল্লাশি। সুবর্ণরেখা নদী থেকে কোনও নিয়ম না মেনে দেদার বালি পাচারের অভিযোগ ছিল তাঁর বিরুদ্ধে। অন্যদিকে, পশ্চিম মেদিনীপুরে সৌরভ রায় নামের এক ব্যবসায়ীর বাড়িতেও তল্লাশি চালান গোয়েন্দারা। এরা সকলেই বালির অবৈধ কারবারের সঙ্গে অভিযুক্ত বলে দাবি ইডির। আজ তাঁদের (Sand Mining Case) বিরুদ্ধেই জমা পড়ল চার্জশিট (ED)।

  • IPL 2026: বাইশগজে বয়কট বাংলাদেশ! বিসিসিআই-এর নির্দেশ মেনে মুস্তাফিজুরকে ছেড়ে দিল কেকেআর

    IPL 2026: বাইশগজে বয়কট বাংলাদেশ! বিসিসিআই-এর নির্দেশ মেনে মুস্তাফিজুরকে ছেড়ে দিল কেকেআর

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: বাইশগজে বয়কট বাংলাদেশ। শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর ভারত-বাংলাদেশ (India Bangladesh Relation) দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কে শিথিলতা এসেছে। সম্প্রতি নোয়াখালিতে দীপু দাসকে পিটিয়ে হত্যা করে জ্বালিয়ে দেওয়ার পর ভারতীয়রা বাংলাদেশের পরিস্থিতি নিয়ে সোচ্চার হয়েছে। বাংলাদেশে সংখ্যালঘুদের উপর অত্যাচার বৃদ্ধির বিরুদ্ধে সোচ্চার হয়েছে ভারতের আমজনতা। দীপু দাসের ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করেছে নরেন্দ্র মোদি সরকারও। তার পর থেকে আইপিএলে (IPL 2026) বাংলাদেশের ক্রিকেটারের থাকা নিয়ে প্রতিবাদ শুরু হয়। এবার বিসিসিআইয়ের (BCCI) সিদ্ধান্ত মেনেই সমস্ত নিয়ম যথাযথভাবে পালন করে বাংলাদেশের ক্রিকেটার মুস্তাফিজুর রহমানকে (Mustafizur Rahman) ছেড়ে দিল কলকাতা নাইট রাইডার্স।

    কেকেআর কর্তৃপক্ষের বিবৃতি

    বোর্ডের নির্দেশের পেক্ষিতে একটি বিবৃতি প্রকাশ করেছেন কেকেআর কর্তৃপক্ষ। শিরোনামে লেখা হয়েছে, ‘‘কলকাতা নাইট রাইডার্স- দলের আপডেট।’’ মূল বিবৃতিতে লেখা হয়েছে, ‘‘কলকাতা নাইট রাইডার্স নিশ্চিত করছে, আইপিএলের নিয়ন্ত্রক সংস্থা বিসিসিআই আসন্ন মরসুমের আগে মুস্তাফিজুর রহমানকে দল থেকে ছেড়ে দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে। ভারতীয় বোর্ডের নির্দেশ এবং পরামর্শ মেনে যথাযথ প্রক্রিয়ায় তাঁকে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। আইপিএলের (IPL 2026) নিয়ম অনুযায়ী, বিসিসিআই এক জন পরিবর্ত খেলোয়াড় নেওয়ার অনুমতি দেবে কলকাতা নাইট রাইডার্সকে। এ ব্যাপারে বিস্তারিত তথ্য সময় মতো জানানো হবে।’’ কেকেআর কর্তৃপক্ষ জানিয়েছেন, বোর্ডের নির্দেশ পাওয়ার পরই তাঁরা প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ করেছেন। দল থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে বাংলাদেশের অভিজ্ঞ বাঁহাতি জোরে বোলারকে। ফলে কেকেআরের ক্রিকেটার সংখ্যা ২৫ থেকে কমে হল ২৪।

    পাকিস্তানের পর বাংলাদেশ

    ২০০৮ সালে মুম্বইয়ে জঙ্গি হামলার পর থেকে ভারত-পাকিস্তান দ্বিপাক্ষিক ক্রিকেট সম্পর্ক নেই বললেই চলে। ২০০৯ সাল থেকেই পাকিস্তানের ক্রিকেটারদের জন্য আইপিএলের (IPL 2026) দরজা বন্ধ করে দিয়েছে বিসিসিআই। গত বছর পহেলগাঁওয়ে জঙ্গি হামলা এবং অপারেশন সিঁদুরের পর ভারত-পাক ক্রিকেট সম্পর্ক আরও তলানিতে ঠেকেছে। বাংলাদেশের ক্রিকেটারদের ক্ষেত্রেও কি একই অবস্থান নিল বিসিসিআই? মুস্তাফিজুরকে ছেড়ে দেওয়ার নির্দেশের পরিপ্রেক্ষিতে এই প্রশ্ন তৈরি হয়েছে ক্রিকেটপ্রেমীদের একাংশের মনে। বাংলাদেশের ক্রিকেটারদের ক্ষেত্রে এই সিদ্ধান্ত সাময়িক না দীর্ঘমেয়াদি তা অবশ্য এখনই বলা সম্ভব নয়।

  • Bangladesh: মারাই গেলেন হিন্দু ব্যবসায়ী খোকন দাস, জ্যান্ত জ্বালিয়ে দেওয়া হয়েছিল ইউনূসের বাংলাদেশে

    Bangladesh: মারাই গেলেন হিন্দু ব্যবসায়ী খোকন দাস, জ্যান্ত জ্বালিয়ে দেওয়া হয়েছিল ইউনূসের বাংলাদেশে

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: শেষমেশ মারাই গেলেন বাংলাদেশের (Bangladesh) হিন্দু ব্যবসায়ী খোকন চন্দ্র দাস। বর্ষবরণের রাতে কয়েকজন দুষ্কৃতী প্রথমে ছুরিকাঘাত করে তাঁকে, পরে গায়ে লাগিয়ে দেয় আগুন। হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শনিবার সকালে মৃত্যু হয় তাঁর (Hindu Businessman)। ঢাকার জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে চিকিৎসাধীন অবস্থায় সকাল ৭টা ২০ মিনিট নাগাদ তাঁর মৃত্যু হয় বলে হাসপাতাল সূত্রে খবর। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছেন, গুরুতর দগ্ধ অবস্থায় প্রায় তিন দিন ধরে চিকিৎসাধীন ছিলেন খোকন। কিন্তু তাঁর শারীরিক অবস্থার ক্রমাগত অবনতি হওয়ায় শেষ পর্যন্ত তাঁকে বাঁচানো যায়নি। জাতীয় বার্ন ইনস্টিটিউটের অধ্যাপক ডা. শাওন বিন রহমান বলেন, “শরিয়তপুর জেলার দামুদ্যা উপজেলার অগ্নিসংযোগের ঘটনায় আহত খোকন দাস আজ সকাল ৭টা ২০ মিনিটে বাংলাদেশ জাতীয় বার্ন ইনস্টিটিউটে মারা গিয়েছেন।”

    হিন্দু ব্যবসায়ীর ওপর হামলা (Bangladesh) 

    নববর্ষের রাতে শরিয়তপুরের দামুদ্যা উপজেলায় একদল দুর্বৃত্ত খোকনের ওপর হামলা চালিয়েছিল। হামলাকারীরা প্রথমে তাঁকে ছুরি দিয়ে এলোপাথাড়ি কোপায়, পরে গায়ে আগুন লাগিয়ে দেয় বলে অভিযোগ। আশঙ্কাজনক অবস্থায় তাঁকে ঢাকায় স্থানান্তরিত করা হয়।এই ঘটনার জেরে এলাকায় চরম উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের নিরাপত্তা ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে নতুন করে (Bangladesh)। চিকিৎসকদের মতে, খোকনের শরীরের প্রায় ৩০ শতাংশ অংশ দগ্ধ হয়েছে। আগুনে মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে তাঁর মুখমণ্ডল ও শ্বাসনালী। চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, এই আঘাতগুলি অত্যন্ত গুরুতর ছিল। প্রশাসন সূত্রে খবর, প্রয়োজনীয় কাগজপত্রের কাজ সম্পন্ন হলেই দেহ তুলে দেওয়া হবে পরিবারের হাতে। এই ঘটনায় এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। ঘটনার পূর্ণাঙ্গ তদন্ত চলছে বলে জানিয়েছে প্রশাসন (Hindu Businessman)।

    শরীরে পেট্রোল ঢেলে আগুন

    শরিয়তপুর জেলার দামুদ্যা উপজেলার কোনেশ্বর ইউনিয়নের কেয়ুরভাঙা বাজার এলাকায় ছিল খোকনের ওষুধের দোকান। বর্ষবরণের রাতেও প্রতিদিনের মতোই দোকান বন্ধ করে বাড়ি ফিরছিলেন তিনি। এই সময় একদল দুর্বৃত্ত পথরোধ করে ধারালো অস্ত্র দিয়ে আঘাত করতে থাকে তাঁকে। পরে তাঁর শরীরে পেট্রল ঢেলে আগুন ধরিয়ে দেয় হামলাকারীরা। প্রাণ বাঁচাতে রাস্তার পাশের একটি পুকুরে ঝাঁপ দেন খোকন। তাঁর চিৎকার শুনে স্থানীয় বাসিন্দারা ছুটে এলে হামলাকারীরা চম্পট দেয়। গুরুতর আহত অবস্থায় তাঁকে উদ্ধার করা হয় (Bangladesh)। শরিয়তপুরের ডামুড্যা উপজেলায় দুর্বৃত্তদের হামলায় গুরুতর আহত এক ব্যবসায়ী চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছেন। নিহতের নাম দাস। তিনি মোবাইল ব্যাংকিং ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত ছিলেন।

    চিকিৎসকের বক্তব্য

    স্থানীয়রা গুরুতর আহত অবস্থায় দাসকে উদ্ধার করে প্রথমে শরিয়তপুর সদর হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে জরুরি চিকিৎসা দেওয়ার পর অবস্থার অবনতি হলে চিকিৎসকরা সেদিন রাতেই তাকে ঢাকায় রেফার করেন। শরিয়তপুর সদর হাসপাতালের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক নজরুল ইসলাম জানান, খোকন দাসের শরীরের একাধিক জায়গায় আঘাতের চিহ্ন ছিল। তাঁর পেটে গুরুতর ক্ষত ছিল। তাঁর মুখমণ্ডল, মাথার পেছনের অংশ ও হাতের একটা অংশ আগুনে পুড়ে গিয়েছিল। ডামুড্যা থানার পুলিশ সূত্রে খবর, খোকন কনেশ্বর ইউনিয়নের তিলই গ্রামের বাসিন্দা ছিলেন।   ঘটনার সময় তিনি একটি অটোরিকশায় চড়ে ডামুড্যা–শরিয়তপুর সড়ক দিয়ে যাচ্ছিলেন। পথে দুর্বৃত্তরা তাঁর ওপর হামলা চালায় (Hindu Businessman)।

    কী বলছেন ওসি

    ডামুড্যা থানার ওসি মহম্মদ রবিউল হক জানান, ঘটনার সঙ্গে জড়িত দু’জনকে শনাক্ত করা হয়েছে। তিনি বলেন, “কেওড়ভাঙা বাজারে এক ব্যবসায়ীর ওপর হামলার খবর পেয়ে আমরা ঘটনাস্থলে যাই (Bangladesh)। হামলাকারীদের মধ্যে দু’জনের পরিচয় জানা গিয়েছে। তারা স্থানীয় বাসিন্দা রাব্বি ও সোহাগ। তাদের গ্রেফতার করার চেষ্টা চলছে। এই ঘটনায় আরও কেউ জড়িত আছে কি না, তাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।”

    গ্রেফতারির দাবি

    নিহতের এক আত্মীয় বলেন, “এই হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত কাউকেই ছাড় দেওয়া যাবে না। যাদের পরিচয় পাওয়া গিয়েছে, তাদের দ্রুত গ্রেফতার করতে হবে।” নিহতের স্ত্রী সীমা দাস জানান, বাড়িতে ঢোকার মুহূর্তেই তাঁর স্বামীর ওপর হামলা চালানো হয়। তিনি বলেন, “আমার স্বামী পেশায় ব্যবসায়ী। তিনি বাড়িতে ঢোকার সময় একদল লোক তাঁর ওপর হামলা চালায়। তারা গায়ে পেট্রল ঢেলে আগুন ধরিয়ে দেয়। আমার স্বামী অত্যন্ত শান্ত প্রকৃতির মানুষ ছিলেন। কারও সঙ্গে তাঁর কোনও শত্রুতা ছিল না। কেন হামলা করা হল, আমরা কিছুই বুঝতে পারছি না (Hindu Businessman)।”

    প্রসঙ্গত, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনা এমন একটা সময়ে ঘটল, যখন বাংলাদেশে হিন্দু সম্প্রদায়ের ওপর হিংসার ঘটনা ক্রমেই বাড়ছে (Bangladesh)। গত মাসেই ময়মনসিংহে পোশাক কারখানার কর্মী দীপু চন্দ্র দাসকে মিথ্যে ধর্ম অবমাননার অভিযোগে পিটিয়ে খুন করা হয়। একই সময়ে রাজবাড়িতে তোলাবাজির অভিযোগে অমৃত মণ্ডল নামে আর এক হিন্দু যুবককে প্রকাশ্যে পিটিয়ে খুন করা হয়। পরপর এই ধরনের ঘটনায় বাংলাদেশ ও ভারতের রাজনৈতিক মহল, ধর্মীয় সংগঠন এবং সংখ্যালঘু অধিকার সংগঠনগুলির মধ্যে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। বিভিন্ন মহল থেকে এই হিংসার তীব্র নিন্দা জানানো হয়েছে (Hindu Businessman)। দাবি উঠেছে দোষীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার (Bangladesh)।

  • TMC: মুসলিম-তোষণের জন্য এবার নিউটাউনে দুর্গা অঙ্গনের স্থান বদল! মমতাকে তুলোধনা বিজেপির

    TMC: মুসলিম-তোষণের জন্য এবার নিউটাউনে দুর্গা অঙ্গনের স্থান বদল! মমতাকে তুলোধনা বিজেপির

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: দুর্গা অঙ্গন বিতর্কে বেকায়দায় তৃণমূল (TMC)। এই ইস্যুতে রাজ্যের তৃণমূল সরকারকে ফের একবার তোপ দাগল বিজেপি। পদ্মশিবিরের দাবি, এই প্রকল্প ঘিরেই সাম্প্রতিক সময়ে রাজ্য রাজনীতিতে (Muslim Vote Bank) নতুন এক উত্তপ্ত পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। সংবাদ মাধ্যমের একটি প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, তৃণমূল সরকার নিউ টাউনের বিশ্ববাংলা সরণির ধারে সরকারি জমিতে বৃহৎ দুর্গা অঙ্গন প্রকল্পের কথা ঘোষণা করেন। মুখ্যমন্ত্রীর দফতরের পক্ষ থেকে একে মা দুর্গার প্রতি ‘সভ্যতাগত শ্রদ্ধার্ঘ্য’ বলে উল্লেখ করা হয়। দুয়ারে বিধানসভা নির্বাচন কড়া নাড়ায় প্রকল্পের জন্য গুরুত্বপূর্ণ সরকারি জমি নির্বাচনও করা হয়। দ্রুত টেন্ডার ডেকে তড়িঘড়ি করে চুক্তি স্বাক্ষর এবং মাটি ভরাটের কাজ শুরু হয়ে যায়।

    ৪ কোটি টাকা জলে (TMC)

    সরকারি নথি অনুযায়ী, ইতিমধ্যেই প্রায় ৪ কোটি টাকার কাজ সম্পন্ন হয়ে গিয়েছে। প্রকল্পের প্রস্তুতিমূলক ব্যয় ধরা হয়েছিল ১০ কোটি টাকার কাছাকাছি (Muslim Vote Bank)। হঠাৎ করে পরিস্থিতি বদলে যায়, যখন স্থানীয় সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের একাংশ দাবি তোলে যে ওই জমি মুসলিম ওরিজিন এবং সেখানে একটি হিন্দু ধর্মীয় কাঠামো নির্মাণে সরকারি অর্থ ব্যয় করা অনুচিত। এই আপত্তির পরেই অভিযোগ, রাজ্য সরকার আচমকাই প্রকল্পের কাজ বন্ধ করে দেয়। সবচেয়ে (TMC) বিতর্কের বিষয় হল, এই সিদ্ধান্তের ক্ষেত্রে সরকারের তরফে কোনও ব্যাখ্যা, কোনও দায়বদ্ধতা নির্ধারণ, এবং ইতিমধ্যেই ব্যয় হওয়া অর্থ ফেরতের কোনও উদ্যোগ নেওয়া হয়নি (Muslim Vote Bank)। শেষ মুহূর্তে প্রকল্পের শিলান্যাস অন্য একটি জমিতে সরিয়ে দেওয়া হয়, যা আদতে শিল্প প্রকল্পের জন্য নির্ধারিত ছিল।

    তুষ্টিকরণের রাজনীতি

    তৃণমূলের তুষ্টিকরণের এই রাজনীতিকেই নিশানা করেছে বিজেপি। পদ্ম-নেতা অমিত মালব্য এই ঘটনাকে কটাক্ষ করে বলেন, “এটি শাসনের নামে আতঙ্কজনিত তোষণ। তৃণমূলের ভোটব্যাঙ্ক রক্ষার জন্য করদাতাদের কোটি কোটি টাকা জলে ফেলা হয়েছে।” বিজেপির আরও অভিযোগ, দুর্গা সংক্রান্ত প্রকল্পে বারবার পিছু হটা এক ভয়ঙ্কর বার্তা দিচ্ছে, যেন হিন্দু ধর্ম ও ঐতিহ্য রাজনৈতিক চাপের কাছে  আপসযোগ্য। বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী এই প্রসঙ্গে আগে সমাজমাধ্যমে লেখেন, “এবার ছুঁচো গেলার অবস্থা হয় মাননীয়ার ! নিজেকে হিন্দু প্রমাণ করতে গিয়ে দুর্গাঙ্গন, মহাকাল মন্দির ইত্যাদি বানানোর ঘোষণা করা হয়ে গেছে, আবার মুসলিম ভোট ব্যাংক কে চটালে সাড়ে সর্বনাশ!” নন্দীগ্রামের বিধায়ক আরও লেখেন, “অজ্ঞতা ভোট ব্যাংকের ওজনের ভারের তুলনায় হিন্দুদের ভাবাবেগ হালকা, তাই তাড়াতাড়ি স্থান পরিবর্তন করে বর্তমানে দুর্গাঙ্গনের স্থান নির্ধারণ করা হয়েছে নিউটাউনের বাস স্ট্যান্ডের পাশে। এবারের চিহ্নিত জমি শিল্পের জন্যে নির্ধারিত ছিল!”

    বিজেপির অভিযোগ (TMC)

    বিজেপির দাবি, এই ঘটনা শুধুই আর্থিক অপচয় নয় (TMC), বরং রাজ্যের সংখ্যাগরিষ্ঠ জনগোষ্ঠীর ধর্মীয় অনুভূতির প্রতিও অবমাননাকর। এদিকে, দুর্গাপুজো ও হিন্দু ধর্মীয় রীতিনীতি নিয়ে ফের পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং তৃণমূল কংগ্রেসকে (TMC) আক্রমণ শানাল বিজেপি। গেরুয়া শিবিরের দাবি, গত কয়েক বছরে রাজ্য সরকারের নেওয়া একাধিক সিদ্ধান্তে একটি স্পষ্ট প্রবণতা দেখা যাচ্ছে, যেখানে সাংবিধানিক সমতা ও সাংস্কৃতিক মর্যাদার বদলে ভোটের অঙ্কই প্রধান হয়ে উঠেছে। গেরুয়া শিবিরের মতে, এই ধরনের সিদ্ধান্ত হিন্দু সমাজের ধর্মীয় অধিকারকে খর্ব করছে। এক্স হ্যান্ডেলে দেওয়া এক পোস্টে বিজেপির পশ্চিমবঙ্গ শাখার অভিযোগ, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় আবারও রাজনৈতিক তোষণের জন্য দুর্গাপুজোর সঙ্গে আপোস করেছেন। পোস্টে বলা হয়েছে, সংখ্যালঘু গোষ্ঠীর আপত্তি উঠলেই হিন্দু ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠানের ওপর নানা বিধিনিষেধ আরোপ করাকে রাজ্য সরকার কার্যত স্বাভাবিক করে তুলেছে।

    হিন্দু সমাজের মধ্যে ভয়ের পরিবেশ

    বিজেপির আরও অভিযোগ, এই ধরনের অবস্থান নির্বাচিত কিছু গোষ্ঠীকে বিক্ষোভে উৎসাহিত করছে এবং রাজ্যের হিন্দু সমাজের মধ্যে ভয় ও অনাস্থার পরিবেশ সৃষ্টি করছে। গেরুয়া শিবিরের মতে, এর ফলে রাজ্যে ধর্মীয় সহাবস্থানের ভারসাম্য নষ্ট হচ্ছে। এই ইস্যুতে এখনও পর্যন্ত তৃণমূল কংগ্রেস বা মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের তরফে কোনও প্রতিক্রিয়া মেলেনি (TMC)। তবে দুর্গাপুজো ঘিরে রাজনৈতিক তরজা যে আরও তীব্র হতে চলেছে, তা স্পষ্ট। একটি রাজনৈতিক দলের অভিযোগ, ২০১৬ সালে বীরভূম জেলার একটি গ্রামে টানা চার বছর ধরে দুর্গাপুজো করার অনুমতি পায়নি গ্রামের শতাধিক হিন্দু পরিবার। সংবাদ মাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদন থেকে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, ওই গ্রামের বাসিন্দারা জেলাশাসক, পুলিশ সুপার-সহ একাধিক ঊর্ধ্বতন প্রশাসনিক আধিকারিকের কাছে বারবার আবেদন করলেও, পুজোর অনুমতি মেলেনি।

    উদ্যোক্তাদের দাবি

    উদ্যোক্তাদের দাবি, প্রায় ২৫টি মুসলিম পরিবারের আপত্তির পরেই প্রশাসন দুর্গাপুজোর অনুমতি দিতে অস্বীকার করে। জেলা তৃণমূল কংগ্রেস সূত্রের বক্তব্য উদ্ধৃত করে ওই প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ওই এলাকায় পুজোর সংখ্যা আগেই চূড়ান্ত করা হয়ে গিয়েছিল (Muslim Vote Bank)। তাই নতুন করে আর কোনও পুজোর অনুমতি দেওয়ার সুযোগ নেই (TMC)। এই ঘটনাকে ঘিরে প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে এবং ধর্মীয় স্বাধীনতা খর্ব করার অভিযোগও প্রকাশ্যে এসেছে। কাংলাপাহাড়ি দুর্গা মন্দির কমিটির সদস্য চন্দন সাউয়ের অভিযোগ, পুজো আয়োজনের অনুমতি না মেলায় ওই এলাকার মহিলা ও শিশুদের দুর্গাপুজোয় আনন্দ করতে তিন থেকে আট কিলোমিটার পর্যন্ত পথ যাতায়াত করতে হচ্ছে। তাঁর দাবি, পরিস্থিতি জানা সত্ত্বেও জেলা প্রশাসন ইচ্ছাকৃতভাবে হস্তক্ষেপ করেনি। কারণ তারা মুসলিম সম্প্রদায়ের একটি অংশকে বিরূপ করতে চায়নি।

    বিজেপির প্রতিক্রিয়া

    এই ঘটনায় বিজেপির প্রতিক্রিয়া, এটি রাজনৈতিক চাপে পরিচালিত প্রশাসনিক পক্ষপাতের স্পষ্ট উদাহরণ (TMC)। বিজেপি এও মনে করিয়ে দিয়েছে, ২০১৭ সালে দুর্গাপ্রতিমা বিসর্জন নিয়ে তৈরি হওয়া বিতর্কের কথাও (Muslim Vote Bank)। সেই সময় মহরমের মিছিলের কথা উল্লেখ করে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন পশ্চিমবঙ্গ সরকার বিজয়া দশমীতে প্রতিমা বিসর্জনের ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করেছিল। ওই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আদালতে মামলাও হয়েছিল এবং কলকাতা হাইকোর্ট সেই নিষেধাজ্ঞা বাতিল করে দিয়েছিল।

    কী বলেছিল আদালত

    হাইকোর্ট তখন ওই সিদ্ধান্তকে খামখেয়ালি বলে আখ্যা দিয়েছিল। পর্যবেক্ষণে আদালত জানিয়েছিল, রাজ্য সরকার একটি সম্প্রদায়কে তুষ্ট করতে গিয়ে অন্য সম্প্রদায়ের স্বার্থ উপেক্ষা করেছে, যা গ্রহণযোগ্য নয়। কড়া ভাষায় দেওয়া সেই নির্দেশে আদালত স্পষ্ট জানায়, সরকার এমন কোনও সিদ্ধান্ত নিতে পারে না যা বিভিন্ন সম্প্রদায়ের মধ্যে বিভাজন সৃষ্টি করে। আদালত আরও উল্লেখ করেছিল, পূর্ববর্তী (Muslim Vote Bank) বছরগুলিতে (TMC) এই ধরনের কোনও বিধিনিষেধ ছিল না।

  • Rajnath Singh: “হাতে ডিগ্রি, পকেটে আরডিএক্স”! ‘হোয়াইট-কলার টেরর’ নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ রাজনাথের

    Rajnath Singh: “হাতে ডিগ্রি, পকেটে আরডিএক্স”! ‘হোয়াইট-কলার টেরর’ নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ রাজনাথের

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: দেশে ‘হোয়াইট-কলার সন্ত্রাস’-এর (White Collar Terror) প্রবণতা উদ্বেগজনকভাবে বাড়ছে বলে মন্তব্য করলেন কেন্দ্রীয় প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিং (Rajnath Singh)। তিনি সতর্ক করে বলেন, মূল্যবোধহীন উচ্চশিক্ষা সমাজের জন্য মারাত্মক বিপদের কারণ হয়ে উঠতে পারে। শুক্রবার রাজস্থানের ভোপাল নোবেলস্ বিশ্ববিদ্যালয়ের ১০৪তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী অনুষ্ঠানে ভাষণ দিতে গিয়ে রাজনাথ এই মন্তব্য করেন। গত ১০ নভেম্বর দিল্লির লালকেল্লার কাছে গাড়িবোমা বিস্ফোরণের প্রসঙ্গ টেনে নিজের বক্তব্যের ব্যাখ্যাও দেন প্রতিরক্ষামন্ত্রী।

    রাজনাথের বক্তব্য (Rajnath Singh)

    রাজনাথ জানান, ওই হামলায় অভিযুক্তরা সকলেই শিক্ষিত ও যোগ্য চিকিৎসক ছিল। এই ঘটনাকে তিনি এমন এক জ্বলন্ত উদাহরণ হিসেবে উল্লেখ করেন, যা প্রমাণ করে যে কেবলমাত্র শিক্ষা থাকলেই নৈতিকতা ও সামাজিক দায়বদ্ধতা নিশ্চিত হয় না। রাজনাথের বক্তব্য অনুযায়ী, শিক্ষার সঙ্গে নৈতিক মূল্যবোধ ও মানবিক চেতনার সংযোগ না থাকলে তা সমাজের পক্ষে ভয়ঙ্কর হয়ে উঠতে পারে। শিক্ষাব্যবস্থায় মূল্যবোধের গুরুত্বের ওপরও বিশেষ জোর দেন তিনি (Rajnath Singh)।

    ‘হোয়াইট-কলার সন্ত্রাস’

    দেশে বর্তমানে উদ্বেগজনকভাবে বেড়ে চলেছে ‘হোয়াইট-কলার সন্ত্রাস’। উচ্চশিক্ষিত হয়েও সমাজ ও দেশের বিরুদ্ধে কাজ করছেন এক শ্রেণির মানুষ। প্রতিরক্ষামন্ত্রী বলেন, “দিল্লির বোমা বিস্ফোরণের ঘটনায় যারা জড়িত ছিল, তাদের মধ্যে চিকিৎসকও ছিল, এক হাতে ডিগ্রি, আর পকেটে আরডিএক্স। এই ঘটনাই স্পষ্ট করে দেয় যে, কেবল শিক্ষালাভই যথেষ্ট নয়, শিক্ষার সঙ্গে নৈতিকতা ও চরিত্রগঠনও (White Collar Terror) জরুরি।” ১০ নভেম্বর দিল্লির রেড ফোর্ট এলাকায় বিস্ফোরণ ঘটে একটি বিস্ফোরকবোঝাই গাড়িতে। ঘটনায় মৃত্যু হয় ১৫ জনের। গাড়িটি চালাচ্ছিল উমর-উন-নবি নামে এক চিকিৎসক। ঘটনার তদন্তে নেমে নিরাপত্তা সংস্থাগুলি পরে একটি তথাকথিত ‘হোয়াইট-কলার টেরর মডিউল’-এর সন্ধান পায় (Rajnath Singh)।

    গ্রেফতার ৩ চিকিৎসক

    এই মডিউলের সঙ্গে যুক্ত থাকার অভিযোগে তিন চিকিৎসক মুজাম্মিল গনাই, আদিল রাদার এবং শাহিনা সইদ-সহ বেশ কয়েকজনকে গ্রেফতার করা হয়। তদন্তকারীদের মতে, শিক্ষিত ও পেশাগতভাবে প্রতিষ্ঠিত ব্যক্তিরাই এই নেটওয়ার্কের গুরুত্বপূর্ণ অংশ ছিল। এদিকে, ঘটনার প্রেক্ষাপটে শিক্ষাব্যবস্থা নিয়ে কড়া মন্তব্য করেছেন প্রতিরক্ষামন্ত্রী। তিনি বলেন, “শিক্ষার উদ্দেশ্য শুধু পেশাগত সাফল্য অর্জন নয়, নৈতিকতা, মূল্যবোধ (White Collar Terror) এবং মানবিক চরিত্র গঠনের দিকেও সমান গুরুত্ব দেওয়া প্রয়োজন। যে শিক্ষা ব্যবস্থা জ্ঞান দেওয়ার পাশাপাশি বিনয়, চরিত্রবোধ ও ধর্ম, অর্থাৎ ন্যায়পরায়ণতার শিক্ষা দিতে ব্যর্থ, তা কখনও সম্পূর্ণ হতে পারে না।”

    এমন শিক্ষা মারাত্মক পরিণতির কারণ হতে পারে

    প্রতিরক্ষামন্ত্রীর এই বক্তব্য বর্তমান শিক্ষাব্যবস্থা ও সামাজিক দায়বদ্ধতা নিয়ে নতুন করে বিতর্ক উসকে দিল বলেই মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা (Rajnath Singh)। রাজনাথ বলেন, “জঙ্গিরা সব সময় অশিক্ষিত হয় না। অনেক ক্ষেত্রে তারা বিশ্ববিদ্যালয়ের ডিগ্রিধারী হলেও নৈতিকতা, মূল্যবোধ ও প্রজ্ঞার অভাব থাকে। এই মূল্যবোধের ঘাটতিই শেষ পর্যন্ত তাদের অপরাধের পথে ঠেলে দেয়।” ধর্ম প্রসঙ্গে রাজনাথ জানান, ধর্ম মানেই শুধু মন্দির, মসজিদ বা গির্জায় প্রার্থনা করা নয়। তাঁর কথায়, “ধর্ম আসলে কর্তব্যবোধ। শিক্ষা যদি ধর্ম ও নৈতিকতা থেকে বিচ্ছিন্ন হয়, তবে তা সমাজের কোনও কাজে আসে না। অনেক সময় এমন শিক্ষা মারাত্মক পরিণতির কারণও হতে পারে।”

    উচ্চশিক্ষিতরাও অপরাধমূলক কাজকর্মে জড়িয়ে পড়ছে

    তিনি আরও বলেন, “এই কারণেই অনেক সময় দেখা যায়, উচ্চশিক্ষিত ব্যক্তিরাও অপরাধমূলক কাজকর্মে জড়িয়ে পড়ছে।” ভারতের অর্থনৈতিক ও প্রযুক্তিগত অগ্রগতির প্রসঙ্গেও বক্তব্য রাখেন প্রতিরক্ষামন্ত্রী। তিনি জানান, বর্তমানে ভারত বিশ্বের চতুর্থ বৃহত্তম অর্থনীতি, এবং ২০৩০ সালের মধ্যে তৃতীয় বৃহত্তম অর্থনীতিতে পরিণত হওয়ার পথে এগোচ্ছে দেশ (Rajnath Singh)। এই অগ্রগতির ক্ষেত্রে বিশ্ববিদ্যালয়গুলির ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে মন্তব্য করেন তিনি। রাজনাথের মতে, ভবিষ্যতের দক্ষ, নৈতিক ও দায়িত্বশীল নাগরিক তৈরিতে উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলিকে আরও সক্রিয় ভূমিকা নিতে হবে (White Collar Terror)।

  • Mustafizur Rahman: “মুস্তাফিজুরকে রিলিজ করতে হবে”, বিতর্কের আবহে কেকেআর-কে নির্দেশ বিসিসিআই-এর

    Mustafizur Rahman: “মুস্তাফিজুরকে রিলিজ করতে হবে”, বিতর্কের আবহে কেকেআর-কে নির্দেশ বিসিসিআই-এর

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ভারত–বাংলাদেশ বর্তমান টানাপোড়েনের প্রভাব পড়ল আইপিএলেও। দেশজুড়ে প্রবল বিতর্কের মাঝেই বাংলাদেশি ক্রিকেটার মুস্তাফিজুর রহমানকে (Mustafizur Rahman) রিলিজ দেওয়ার জন্য কলকাতা নাইট রাইডার্সকে নির্দেশ দিল বিসিসিআই। সম্প্রতি এই কথা জানিয়েছেন বোর্ড সচিব দেবজিৎ সাইকিয়া। আইপিএল ২০২৬-এ (IPL 2026) খেলানো যাবে না মুস্তাফিজুরকে। বিসিসিআই-এর নির্দেশেই আর শাহরুখ খানের টিমে খেলা হবে না বাংলাদেশি ক্রিকেটার মুস্তাফিজুর রহমানের। আগামী আইপিএলে বাংলাদেশের একমাত্র ক্রিকেটার হিসাবে খেলার কথা ছিল মুস্তাফিজুরের।

    দ্রুত মুস্তাফিজুর রহমানকে রিলিজের নির্দেশ

    বাংলাদেশে সংখ্যালঘু হিন্দু সম্প্রদায়ের উপর অত্যাচার যেন দিনের পর দিন বেড়েই চলেছে। প্রতিদিন এমনই কোনও না কোনও খবর দখল করছে সংবাদ শিরোনাম। সম্প্রতি ২০২৬ আইপিএল নিলামে বাংলাদেশের ক্রিকেটার মুস্তাফিজ়ুর রহমানকে (Mustafizur Rahman) দলে নিয়েছিল কলকাতা নাইট রাইডার্স (Kolkata Knight Riders)। যদিও এই সিদ্ধান্তের কারণে কেকেআর ম্য়ানেজমেন্টকে কড়া সমালোচনার মুখে পড়তে হয়েছিল। বাংলাদেশের একজন ক্রিকেটারকে কেন কিনল শাহরুখ খানের (Shah Rukh Khan) দল, তা নিয়েও উঠেছিল একাধিক প্রশ্ন। অবশেষে বিসিসিআই কেকেআর-কে কড়া নির্দেশ দিয়েছে, যত দ্রুত সম্ভব মুস্তাফিজুর রহমানকে যেন স্কোয়াড থেকে রিলিজ করে দেওয়া হয়। প্রসঙ্গত, ২৬/১১ হামলার পর থেকেই কোনও পাকিস্তানি খেলোয়াড় আইপিএলে খেলার সুযোগ পায় না। এবার বাংলাদেশের খেলোয়াড়দের নিয়েও হয়তো একই পথে হাঁটবে বিসিসিআই।

    বয়কট বাংলাদেশ

    জানা গিয়েছে, বাংলাদেশি বোলার মুস্তাফিজুর রহমানকে সরানোর জন্য কেকেআর-কে চিঠি দিয়েছে বিসিসিআই সচিব। এবারের আইপিএলের নিলামে মোট সাতজন বাংলাদেশি খেলোয়াড় অংশ নিয়েছিলেন। এদের মধ্যে একমাত্র মুস্তাফিজুরই বিক্রি হয়েছিল। ৯.২০ কোটি টাকায় বাংলাদেশি পেসারকে কিনেছিল কলকাতা নাইট রাইডার্স। তবে বর্তমানে ভারত-বাংলাদেশের যে পরিস্থিতি, তা নজরে রেখে কেন মুস্তাফিজুর ভারতের আইপিএল খেলবে, তা নিয়ে রাজনৈতিক মহল প্রশ্ন তুলতে শুরু করেছিল। হুমকির মুখে পড়তে হয় কেকেআরের মালিক শাহরুখ খানকেও। এই পরিস্থিতিতে এবার হস্তক্ষেপ করল বিসিসিআই। দল থেকে মুস্তাফিজুরকে সরিয়ে দিতে বলা হল। বাংলাদেশি খেলোয়াড়ের বদলে অন্য কোনও বিদেশি খেলোয়াড় নিতে পারবে কেকেআর। এমনটাই বলা হয়েছে। সূত্রের খবর, মুস্তাফিজুরকে বাদ দিতে হবে, এমন কোনও নির্দেশ আসেনি সরকারের তরফে। কিন্তু বাংলাদেশের ক্রিকেটারকে নিয়ে যে বিতর্ক চলছে, তার পরেই এ নিয়ে নিজেদের অবস্থান স্পষ্ট করেছে বিসিসিআই। দেবজিৎ সাইকিয়া বলেছেন, “সাম্প্রতিক পরিস্থিতির প্রেক্ষাপটে, বিসিসিআই (BCCI) কলকাতা নাইট রাইডার্স (KKR) ফ্র্যাঞ্চাইজিকে তাদের স্কোয়াড থেকে বাংলাদেশের খেলোয়াড় মুস্তাফিজুর রহমানকে ছেড়ে দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে। কেকেআর যদি তাঁর পরিবর্তে অন্য কোনো খেলোয়াড় নিতে চায়, তবে বিসিসিআই সেই বদলি খেলোয়াড় নেওয়ার অনুমতি দেবে।”

  • Gandiva AI Tool: গোয়েন্দাদের হাতে ‘গাণ্ডীব’! সন্ত্রাস দমনে নয়া হাতিয়ার কৃত্রিম মেধা দিয়ে তৈরি টুল

    Gandiva AI Tool: গোয়েন্দাদের হাতে ‘গাণ্ডীব’! সন্ত্রাস দমনে নয়া হাতিয়ার কৃত্রিম মেধা দিয়ে তৈরি টুল

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: সীমান্ত পার থেকে সন্ত্রাসী হামলা বা দেশের অভ্যন্তরে আর্থিক তছরুপ কিংবা ভিন্‌রাজ্যে গিয়ে ডাকাতি-খুন, ধর্ষণ, মাদক ও অস্ত্র পাচার! দেশ জুড়ে বেড়ে চলা যাবতীয় অপরাধের সূচককে নিম্নমুখী করতে এবার কৃত্রিম মেধা বা এআইয়ের (আর্টিফিশিয়াল ইনটেলিজেন্স) সাহায্য নিচ্ছে কেন্দ্র। ইতিমধ্যেই দেশের পুলিশ ও তদন্তকারী সংস্থাগুলিকে আরও শক্তিশালী করতে তাদের হাতে ‘গাণ্ডীব’ তুলে দিয়েছেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক লোকসভায় জানিয়েছে যে জাতীয় গোয়েন্দা গ্রিড বা ন্যাটগ্রিড (NATGRID)-এর আইটি প্ল্যাটফর্মে একটি অরগানাইজড ক্রাইম নেটওয়ার্ক ডেটাবেস (Organised Crime Network Database) তৈরি করা হচ্ছে। এর মাধ্যমে জাতীয় তদন্তকারী সংস্থা (NIA) এবং রাজ্যগুলির অ্যান্টি-টেরর স্কোয়াড (ATS)-এর মধ্যে নিরাপদ তথ্য আদান-প্রদান সম্ভব হবে। মন্ত্রকের বক্তব্য অনুযায়ী, সন্ত্রাস দমনে ন্যাটগ্রিড-এর উন্নত হাতিয়ারগুলির মধ্যে উল্লেখযোগ্য ‘গাণ্ডীব’। যা বহু উৎস থেকে তথ্য সংগ্রহ ও বিশ্লেষণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে।

    ন্যাটগ্রিড কী

    এনআইএ এবং এটিএসের মতো সন্ত্রাসবিরোধী তদন্তকারী এবং পুলিশি দলগুলির মধ্যে নিরাপদে তথ্য ভাগাভাগির কাজটি সহজতর করতে ‘ন্যাশনাল ইন্টেলিজেন্স গ্রিড’ বা ন্যাটগ্রিড নামের একটি তথ্যপ্রযুক্তি প্ল্যাটফর্ম তৈরি করা হয়েছে। এর মাধ্যমে একগুচ্ছ সরকারি এবং বেসরকারি সংস্থার রিয়েল টাইম তথ্য যখন-তখন হাতে পেতে পারবে পুলিশ ও কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা। ‘গাণ্ডীব’ নামের এআই টুলটি এর সঙ্গেই কাজ করবে বলে জানা গিয়েছে। ২৬/১১ মুম্বই সন্ত্রাসবাদী হামলার পর ২০০৯ সালে ন্যাটগ্রিড-এর ধারণা প্রথম উঠে আসে। দীর্ঘ প্রস্তুতির পর এটি গত বছর পুরোপুরি কার্যকর হয়। বর্তমানে শুধুমাত্র সুপারিনটেনডেন্ট অব পুলিশ (SP) পদমর্যাদার আধিকারিকরাই এই প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করতে পারেন। ন্যাটগ্রিড-এর মাধ্যমে অভিবাসন ও ভ্রমণ সংক্রান্ত তথ্য, আর্থিক লেনদেন, টেলিকম ও ইন্টারনেট ব্যবহারের মেটাডেটা, যানবাহন রেজিস্ট্রেশন, ড্রাইভিং লাইসেন্স ও পাসপোর্ট সংক্রান্ত তথ্য পাওয়া যায়। আগে এই ধরনের তথ্যের জন্য বিভিন্ন দফতরে আলাদা করে আবেদন করতে হতো।

    এনপিআরের সঙ্গে সংযুক্ত ন্যাটগ্রিড

    সম্প্রতি এই ন্যাটগ্রিডকে ‘ন্যাশনাল পপুলেশন রেজিস্ট্রার’ বা এনপিআরের সঙ্গে সংযুক্ত করেছে কেন্দ্র। এতে দেশের ১১৯ কোটি বাসিন্দার পরিবারভিত্তিক তথ্য রয়েছে। একে জাতীয় নাগরিকপঞ্জি বা এনআরসি (ন্যাশনাল রেজিস্ট্রার অফ সিটিজেন) তৈরির প্রথম ধাপ হিসাবে গণ্য করা হচ্ছে। ফলে ন্যাটগ্রিডকে ব্যবহার করে অধিকাংশ ভারতবাসীর তথ্য কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা ও এটিএসের মতো সংস্থার অফিসারেরা হাতে পেয়ে যাবেন, তা বলাই বাহুল্য। ২০১০ সালে ২০১১ সালের জনগণনার প্রথম পর্যায়ে এনপিআর-এর তথ্য সংগ্রহ শুরু হয় এবং সর্বশেষ ২০১৫ সালে বাড়ি-বাড়ি গিয়ে তথ্য হালনাগাদ করা হয়েছিল। এনপিআর একটি মৌলিক পরিচয় ও আবাসিক ডেটাবেস হিসেবে কাজ করে, যা নিরাপত্তা সংক্রান্ত গোয়েন্দা তথ্যের নির্ভুলতা ও গতি বাড়াতে সাহায্য করে। ন্যাটগ্রিড যেখানে বিভিন্ন সংস্থার ডেটা একত্র করে, সেখানে এনপিআর সেই তথ্যগুলির মধ্যে পরিচয় যাচাইকে আরও নির্ভরযোগ্য করে তোলে।

    ‘গাণ্ডীব’-এর গুরুত্ব কী?

    গাণ্ডীব হল ন্যাটগ্রিড-এর একটি উন্নত অ্যানালিটিক্স টুল, যা তথ্য অনুসন্ধান, বিশ্লেষণ ও সংযোগের পদ্ধতিকে আরও আধুনিক করে তুলেছে। এই টুলটি ফেসিয়াল রিকগনিশন এবং এনটিটি রেজোলিউশন-এর কাজে ব্যবহার করা যায়। এক পুলিশ আধিকারিকের কথায়, “যদি কোনও সন্দেহভাজনের ছবি পাওয়া যায়, সেটি গাণ্ডীব-এ আপলোড করা হলে টেলিকম কেওয়াইসি, যানবাহন রেজিস্ট্রেশন বা ড্রাইভিং লাইসেন্সের মতো পরিচয়পত্রের ছবির সঙ্গে মিলিয়ে দেখা সম্ভব। এতে তদন্তকারীদের সময় ও শ্রম দুটোই বাঁচে।”

    পুরাণে ‘গাণ্ডীব’-এর উল্লেখ

    মহাভারত অনুসারে, গাণ্ডীব ছিল পাণ্ডব অর্জুনের ঐশ্বরিক ধনুক। এই কারণেই অর্জুনকে ‘গাণ্ডীবধারী’ নামেও ডাকা হয়। ব্রহ্মার দ্বারা নির্মিত এই ধনুকে ছিল ১০৮টি অলৌকিক তার, যা দেবশক্তিতে পরিপূর্ণ বলে বিশ্বাস করা হয়। অগ্নিদেবকে খাণ্ডব বন দহন করতে সহায়তার সময় অর্জুন গাণ্ডীব লাভ করেন। এই ঘটনা অর্জুন ও গাণ্ডীবের সম্পর্কের সূচনা তো বটেই, পাশাপাশি দেবইচ্ছা পূরণে এই অস্ত্রের ভূমিকার কথাও তুলে ধরে। এআই গাণ্ডীব টুল-ও গোয়েন্দাদের হাতে অর্জুনের ধনুকের মতো। গাণ্ডীব তথ্যগুলিকে নন-সেনসিটিভ, সেনসিটিভ এবং হাইলি সেনসিটিভ—এই তিন ভাগে ভাগ করবে। ব্যাঙ্ক স্টেটমেন্ট, আর্থিক লেনদেন, কর সংক্রান্ত তথ্য এবং রফতানি-আমদানি সংক্রান্ত ডেটাকে অত্যন্ত সংবেদনশীল হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, গাণ্ডীব মূলত ন্যাটগ্রিড-কে একটি সাধারণ ডেটা-অ্যাক্সেস প্ল্যাটফর্ম থেকে উন্নত এআই-চালিত গোয়েন্দা হাতিয়ারে রূপান্তরিত করেছে, যেখানে একক অনুসন্ধান, দ্রুত সূত্র সন্ধান এবং বুদ্ধিমান বিশ্লেষণ সম্ভব হচ্ছে।

    ‘গাণ্ডীব’-এর ব্যবহারে সন্ত্রাস দমন সহজ

    কেন্দ্রের এই পদক্ষেপের ভূয়সী প্রশংসা করেছেন অবসরপ্রাপ্ত পুলিশ আধিকারিক থেকে শুরু করে দুঁদে গোয়েন্দাকর্তাদের একাংশ। তাঁদের দাবি, ২৬/১১-র মুম্বই হামলা বা তার পরবর্তী সময়ের নাশকতার প্রতিটা ক্ষেত্রে দেখা গিয়েছে, সীমান্তের ওপার থেকে এসেছে জঙ্গিরা। এ দেশে নৃশংস হত্যাকাণ্ড চালিয়ে দিব্যি বিদেশে পালিয়েও গিয়েছে তাঁদের কয়েক জন। এই ব্যর্থতার মূল কারণ হল তথ্যের অভাব। তদন্তকারীদের দাবি, বছরের পর বছর ধরে পাকিস্তান মদতপুষ্ট জঙ্গিরা এ দেশের কিছু ‘বিশ্বাসঘাতক’ নাগরিকের সাহায্য পেয়ে এসেছে। সরকারের কাছে তাঁদের ব্যাপারে যে কোনও তথ্য নেই, এমনটা নয়। কিন্তু সেটা এতটাই ছড়ানো-ছেটানো যে, প্রয়োজনের সময় দ্রুত একসঙ্গে সেগুলি পেতে সমস্যা হচ্ছিল। আর সেই সুযোগকে কাজে লাগিয়ে নাশকতার সঙ্গে সঙ্গেই দেশ ছেড়ে চম্পট দিচ্ছিল অভিযুক্তেরা। ন্যাটগ্রিড ও গাণ্ডীবের সাহায্যে তা বন্ধ করা যাবে বলে মনে করা হচ্ছে।

    কীভাবে কাজ করবে ‘গাণ্ডীব’

    কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক জানিয়েছে, একসঙ্গে ২১ উৎসের তথ্য একত্রিত করে নিমেষে তদন্তকারীর প্রশ্নের জবাব দিতে পারে কৃত্রিম মেধা প্রযুক্তির ‘গাণ্ডীব’। একটি উদাহরণের সাহায্যে এর কর্মপদ্ধতি বুঝে নেওয়া যেতে পারে। ধরা যাক, কোনও সন্দেহভাজন জঙ্গির স্কেচ তৈরি করল জন্মু-কাশ্মীর পুলিশের এটিএস। এর পর তা ‘গাণ্ডীব’ প্ল্যাটফর্মে তুলে দিলেই ওই ছবির মতো দেখতে কোনও লোক এ দেশে আছেন কি না, তা বলে দেবে সংশ্লিষ্ট এআই টুল। শুধু তা-ই নয়, এ ব্যাপারে তদন্তকারীদের আরও কিছু সাহায্য করবে ‘গাণ্ডীব’। সন্দেহভাজন ব্যক্তির ছবির সঙ্গে ড্রাইভিং লাইসেন্স, পাসপোর্ট, ব্যাঙ্ক বা টেলি পরিষেবা প্রদানকারী সংস্থায় জমা করা ‘নো ইয়োর কাস্টমার’ বা কেওয়াইসি ফর্মে সাঁটা ছবির সঙ্গে কোনও মিল আছে কি না তা-ও দ্রুত বলে দেবে ওই কৃত্রিম মেধা প্রযুক্তি। ফলে দ্রুত অভিযুক্তকে চিহ্নিত করে সন্ত্রাসবিরোধী অভিযানে নামতে পারবেন এটিএস এবং এনআইএ-র আধিকারিকেরা। এ-হেন ‘গাণ্ডীব’কে ন্যাটগ্রিডের মতো প্ল্যাটফর্মের সঙ্গে যুক্ত করেছে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক। ন্যাটগ্রিড আবার যুক্ত আছে এনপিআরের সঙ্গে। ফলে সংশ্লিষ্ট কৃত্রিম মেধাভিত্তিক প্রযুক্তিটি ব্যবহার করে ১১৯ কোটি বাসিন্দার মধ্যে থেকে অপরাধীকে চিহ্নিত করতে পারবেন তদন্তকারীরা।

LinkedIn
Share