Tag: Madhyom

Madhyom

  • IPL 2026: আইপিএল খেতাবের প্রতিশ্রুতি, কেকেআরে সংরক্ষিত আন্দ্রে রাসেলের ১২ নম্বর জার্সি

    IPL 2026: আইপিএল খেতাবের প্রতিশ্রুতি, কেকেআরে সংরক্ষিত আন্দ্রে রাসেলের ১২ নম্বর জার্সি

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: রাসেলের সঙ্গে সম্পর্ক চিরকালীন করে নিল কেকেআর (Andre Russell in KKR)। এতগুলো বছর নাইটদের ১২ নম্বর জার্সি গায়ে চাপিয়ে খেলেছেন। এবার রাসেলকে উৎসর্গ করে ১২ নম্বর জার্সির অবসর ঘোষণা করলেন কেকেআরের সিইও ভেঙ্কি মাইসোর। অর্থাৎ, নাইটদের এই জার্সি আর কোনওদিন অন্য কারও জন্য বরাদ্দ হবে না। চলতি বছর আইপিএল (IPL 2026) শুরুর আগে মঙ্গলবার রাতে কলকাতার একটি পাঁচতারা হোটেলে ‘কেকেআর আনপ্লাগড’ অনুষ্ঠান আয়োজিত হয়। সেই অনুষ্ঠানেই ১২ নম্বর জার্সি রাসেলের হাতে তুলে দেন ভেঙ্কি মাইসোর।

    ‘পাওয়ার কোচ’ আন্দ্রে রাসেল

    ২০১৪ থেকে ২০২৫, টানা ১২ বছর নাইটদের সংসারের স্থায়ী সদস্য। এক দশকেরও বেশি সময় সুখ, দুঃখের সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়িত জামাইকান। কিন্তু আসন্ন আইপিএল থেকে আর বেগুনি জার্সিতে দেখা যাবে না ড্রে রাসকে। তবে গাঁটছড়া মোটেই ভাঙেনি। শুধু ভূমিকা বদল। গতবারও ছিলেন ক্রিকেটার, এবার ‘পাওয়ার কোচ’ আন্দ্রে রাসেল। চতুর্থবারের জন্য কলকাতা আইপিএল জিতলে তিনি সমর্থকদের উপহার দেবেন স্পেশাল ‘দ্রে রাস লাইভ শো’।

    আবেগতাড়িত আন্দ্রে রাসেল

    কেকেআরের মঞ্চে আবেগতাড়িত হয়ে পড়েন রাসেল। জানান, নাইটদের হয়ে খেলা তাঁর কাছে বরাবরই বিশেষ ছিল। যে দল তাঁকে এত কিছু দিয়েছে, এবার তাঁদের ফিরিয়ে দিতে চান। অবদান রাখতে চান কোচ হিসেবে। রাসেল বলেন, ‘‘এই দলের অঙ্গ হতে পেরে গর্বিত। বিশ্বকাপ জয় সবসময় স্পেশাল। আইপিএল জয় আলাদা। এবার অন্য ভূমিকায়। অন্যভাবে উপভোগ করব। এবারের আইপিএলও আমার কাছে বিশেষ। মাঠে নিজেকে নিংড়ে দিয়েছি। এবার এই খেলাটার থেকে মুখ ফিরিয়ে নিতে পারব না। তাই নতুন ভূমিকা নিয়ে কোনও আফশোস নেই। আমাদের কোচিং স্টাফ ভালো। সবাই তরুণ এবং প্রতিভাবান। যে কেউ এই কোচিং স্টাফের অঙ্গ হতে চাইবে। সবাই মিলে কেকেআরের সাফল্যে অবদান রাখতে চাই।’’

    রাসেলের সঙ্গে  স্থায়ী সম্পর্ক

    ২০১৪ সাল থেকে কেকেআরের হয়ে আইপিএল খেলেছেন রাসেল। তার আগে দু’বছর দিল্লি ক্যাপিটালসের হয়ে খেললেও রাসেল নিজেকে কেকেআর পরিবারের অবিচ্ছেদ্য অংশ বলে মনে করেন। তাঁর এই আবেগকে সম্মান দিল কেকেআর। রাসেল ১২ নম্বর জার্সি পরে খেলতেন কেকেআরের হয়ে। মঙ্গলবার এক অনুষ্ঠানে কেকেআর সিইও বেঙ্কি মাইসোর এ বছরের ১২ নম্বর জার্সি ফ্রেমে বাঁধিয়ে রাসেলের হাতে তুলে দেন। তাতে লেখা ছিল ‘দ্রে রাস’। রাসেলের হাতে জার্সি তুলে দিয়ে মাইসোর বলেন, ‘‘বেগনি এবং সোনালি রঙের ১২ নম্বর জার্সি সব সময় শুধু তোমারই থাকবে।’’

  • PM Modi: ৫ এপ্রিল আলিপুরদুয়ারে আসছেন প্রধানমন্ত্রী মোদি, জোরদার প্রচার শুরু বিজেপির

    PM Modi: ৫ এপ্রিল আলিপুরদুয়ারে আসছেন প্রধানমন্ত্রী মোদি, জোরদার প্রচার শুরু বিজেপির

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ২০২৬-এর পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচন (West Bengal Elections 2026)-কে সামনে রেখে রাজ্যে প্রচারের গতি বাড়াচ্ছে ভারতীয় জনতা পার্টি। তারই অঙ্গ হিসেবে আগামী ৫ এপ্রিল উত্তরবঙ্গের আলিপুরদুয়ারে নির্বাচনী জনসভা করতে আসছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি (PM Modi)। আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনে তৃণমূল সরকারকে সরিয়ে ক্ষমতা দখলে তৎপর বিজেপির কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব। মোদির সভাকে ঘিরে ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা। নির্বাচনী তৎপরতা ও ভোটমুখী বাংলায় বিজেপি শীর্ষ নেতৃত্বের আনাগোনা বাড়ছে। আলিপুরদুয়ারে প্রধানমন্ত্রীর এই সফর কর্মীদের মনোবল চাঙ্গা করতে বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে।

    উত্তরবঙ্গের গুরুত্ব (PM Modi)

    রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে উত্তরবঙ্গ বরাবরই বিজেপির (West Bengal Elections 2026) শক্ত ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত। আসন্ন নির্বাচনে এই ধারা বজায় রাখতেই মোদির (PM Modi) এই ঝটিকা সফর। তাঁর সভাকে ঘিরে ইতিমধ্যে নেতা-কর্মী সমর্থকদের মধ্যে ব্যাপক উত্তেজনা শুরু হয়েছে। তবে দক্ষিণবঙ্গের তুলনায় উত্তরবঙ্গে বিজেপি অনেকটাই শক্তিশালী ফলে এখানে জয় নিয়ে একশ শতাংশ আশাবাদী বিজেপি। মোদির প্রচার ভোটে ব্যাপক প্রভাব ফেলবে বলে আশাবাদী বিজেপি।

    প্রস্তুতি তুঙ্গে

    প্রধানমন্ত্রীর (PM Modi) আগমণকে কেন্দ্র করে স্থানীয় বিজেপি নেতৃত্বের মধ্যে ব্যাপক উদ্দীপনা দেখা দিয়েছে। জনসভার স্থান নির্ধারণ ও নিরাপত্তার দিকটি খতিয়ে দেখতে ইতিবাচক তৎপরতা শুরু হয়েছে। নির্বাচন কমিশন ইতিমধ্যে ভোটের নির্ঘণ্ট প্রকাশ করেছে। প্রথম দফার ভোট ২৩ এপ্রিল, দ্বিতীয় দফার ভোট ২৯ এপ্রিল। প্রথম দফায় ১৪২ আসন এবং দ্বিতীয় দফায় ১৫২ আসনে ভোট গ্রহণ (West Bengal Elections 2026) হবে। তবে বিজেপির প্রার্থীরা বাড়ি বাড়ি গিয়ে ভোটারদের কাছে ভোট চাইছেন। প্রচার এখন তুঙ্গে।

    চা-বলয় এবং আদিবাসী অধ্যুষিত অঞ্চলের সমস্যাই হাতিয়ার

    সূত্র মারফত জানা যাচ্ছে, এই সভা থেকে প্রধানমন্ত্রী (PM Modi) কেন্দ্রীয় সরকারের বিভিন্ন উন্নয়নমূলক প্রকল্পের খতিয়ান তুলে ধরার পাশাপাশি রাজ্যের বর্তমান শাসক দলের বিরুদ্ধে সরব হতে পারেন। বিশেষ করে উত্তরবঙ্গের চা-বলয় এবং আদিবাসী অধ্যুষিত অঞ্চলের সমস্যা ও সম্ভাবনা তাঁর ভাষণে উঠে আসতে পারে। আলিপুরদুয়ারের এই জনসভা ঘিরে জেলায় কড়া নিরাপত্তা বলয় গড়ে তোলা হচ্ছে। রাজনৈতিক মহলের মতে, লোকসভা নির্বাচনের (West Bengal Elections 2026) সাফল্যের পুনরাবৃত্তি বিধানসভা নির্বাচনেও করতে চাইছে গেরুয়া শিবির, আর মোদির এই সফর সেই লক্ষ্যেই এক গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ।

  • Assembly Election 2026: “১৭৭ আসনে জিতবে বিজেপি”, রামনগরের সভায় স্পষ্ট বললেন শুভেন্দু

    Assembly Election 2026: “১৭৭ আসনে জিতবে বিজেপি”, রামনগরের সভায় স্পষ্ট বললেন শুভেন্দু

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: আগামী বিধানসভা নির্বাচনে (Assembly Election 2026) বিজেপি অন্তত ১৭৭টি আসন দখল করবে, বিজেপি৷ পূর্ব মেদিনীপুরের রামনগরে এমনই দাবি করেছেন বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী৷ রামনগরে বিজেপি প্রার্থী চন্দ্রশেখর মণ্ডলের সমর্থনে একটি সভা করেন শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari)৷ সেখানেই তিনি বলেন, “বিজেপি এবার বিপুল সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে সরকার গড়ূবে৷ আমার কথা রেকর্ড করে রাখুন৷ ২০১৬-তে ৩, ২০২১-এ ৭৭, ২০২৬-এ ১৭৭-এর নীচে নামবে না৷ তার উপরে কোথায় যাবে বলছি না৷ ৪ মে বিকেলে দেখা হবে৷”

    ৭৯ লক্ষের নাম বাদ

    মঙ্গলবার ভবানীপুরে প্রচার করতে গিয়ে শুভেন্দু বলেছিলেন, তৃণমূল এবার ‘ডাবল ডিজিটে’ উঠবে না। অর্থাৎ শুভেন্দু অধিকারীর পূর্বাভাস অনুসারে, বিধানসভা ভোটে ৯৯ পেরোতে পারবে না তৃণমূল। আর বুধবার সকালে রামনগরে বিজেপি প্রার্থী চন্দ্রশেখর মণ্ডলের সমর্থনে সভা করতে গিয়ে শুভেন্দু অধিকারীর দাবি, এবার বিধানসভা ভোটে ১৭৭-র নীচে নামবে না বিজেপি। এখানেই শেষ নয়। তৃণমূলকে ফের একবার শুভেন্দু মনে করিয়ে দিয়েছেন, এসআইআর-প্রক্রিয়ায় ইতিমধ্যেই ৭৯ লক্ষ নাম বাদ গিয়েছে। শুভেন্দু তাঁর স্বভাবসিদ্ধ ভঙ্গিমায় বলেন, “প্রথম রাউন্ড ব্রেকফাস্টে নাম বাদ গেছে ৫৮ লক্ষ। লাঞ্চে নাম বাদ গেছে ৬০ লক্ষ। সন্ধেবেলায় লিকার চা আর চিনাবাদাম হয়েছে, এখনও ডিনার হয়নি। এর মধ্যে ১৪ লক্ষ নাম বাদ গেছে। এখনও পর্যন্ত বাদ গেছে ৭৯ লক্ষের নাম, কত বাদ যাবে আর কিছু বলব না।”

    মহিলাদের তিন হাজার টাকা

    রামনগরের সভা থেকেও মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে হারানোর চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিয়েছেন বিরোধী দলনেতা৷ শুভেন্দু অধিকারী বলেন, “আগের বার বলেছিলাম নন্দীগ্রামে এসেছেন হারিয়ে পাঠাবো৷ এবারে বলে গেলাম ভবানীপুরে আপনাকে হারাবো৷” এছা়ড়াও শুভেন্দু ঘোষণা করেন, আগামী ১ জুন থেকে মহিলাদের অ্যাকাউন্টে তিন হাজার টাকা করে দেবে বিজেপি সরকার। তিনি বলেন, “ভোটের পর বিজেপি ক্ষমতায় আসছেই। মে মাসে বিজেপি সরকার গঠন হয়ে গেলেই চূড়ান্ত ঘোষণা করা হবে। আর তারপর জুনের ১ তারিখ থেকে মহিলাদের তিন হাজার টাকা করে দেওয়া হবে।” এর আগেও অন্নপূর্ণা প্রকল্পে প্রতিমাসে ৩ হাজার টাকা করে দেওয়ার কথা বলেছিলেন শুভেন্দু অধিকারী।

  • Bhangar Blast: ভাঙড় বিস্ফোরণের তদন্তভার নিচ্ছে এনআইএ, ভোটে বড়সড় ষড়যন্ত্রের অনুমান, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রকের সক্রিয় পদক্ষেপ

    Bhangar Blast: ভাঙড় বিস্ফোরণের তদন্তভার নিচ্ছে এনআইএ, ভোটে বড়সড় ষড়যন্ত্রের অনুমান, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রকের সক্রিয় পদক্ষেপ

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: দক্ষিণ ২৪ পরগনার ভাঙড়ে (Bhangra Blast) ঘটে যাওয়া ভয়াবহ বোমা বিস্ফোরণকাণ্ডের তদন্তভার হাতে নিতে চলেছে জাতীয় তদন্তকারী সংস্থা (NIA)। কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রক থেকে ইতিমধ্যেই এই সংক্রান্ত নির্দেশিকা জারি করা হয়েছে বলে এনআইএ সূত্রে জানা গেছে। ভোটের আগে সংবেদনশীল এলাকায় এই ভাবে বিস্ফোরণের কারণে ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। ভোটের আগে বুথগুলিকে ভয়মুক্ত করতেই পদক্ষেপ বলে মনে করছেন রাজনীতির একাংশ।

    বোমা বাঁধার সময় বিস্ফোরণ (Bhangra Blast)

    গত সপ্তাহে ভাঙড়ের চালতাবেড়িয়া অঞ্চলের পশ্চিম বামুনিয়া গ্রামে এক বিকট বিস্ফোরণ (NIA) ঘটে। তদন্তে উঠে এসেছে যে, সেখানে বোমা বাঁধার সময় এই দুর্ঘটনাটি ঘটে। বিস্ফোরণের কিছু সময় পর উত্তর ২৪ পরগনার হাড়োয়ায় মসিউর কাজি নামে এক ব্যক্তির ক্ষতবিক্ষত মৃতদেহ উদ্ধার হয়। পুলিশি তদন্তে জানা যায়, মসিউর দেগঙ্গার গাংনিয়া এলাকার তৃণমূলের বুথ সভাপতি ছিলেন এবং তিনি ভাঙড়ে বোমা বাঁধার সময় বিস্ফোরণে জখম হয়ে মারা যান।

    তদন্তের বর্তমান পরিস্থিতি

    এই ঘটনায় পুলিশ ইতিমধ্যেই সুজয় মণ্ডল, যিনি পেশায় অ্যাম্বুল্যান্স চালক ও সুরজ মোল্লা নামে দুজনকে গ্রেফতার করেছে। তদন্তকারীদের প্রাথমিক অনুমান, এই বিস্ফোরণের নেপথ্যে কোনও বড়সড় নাশকতামূলক ষড়যন্ত্র থাকতে পারে। ঘটনাস্থলের অদূরেই তল্লাশি চালিয়ে ৮৪টি তাজা বোমা ও একটি আগ্নেয়াস্ত্র (Bhangra Blast) উদ্ধার করা হয়েছে। এই বোমা কোন কাজে ব্যবহার করা হবে তার সন্ধান (NIA) করা হচ্ছে বলে জানা যাচ্ছে।

    এনআইএ-র ভূমিকা

    রাজ্য পুলিশ প্রথমে বিস্ফোরক আইনে (Explosive Substances Act) মামলা রুজু করেছিল। কেন্দ্রীয় নির্দেশের পর এনআইএ নতুন করে এফআইআর (FIR) দায়ের করে এই মামলার পূর্ণাঙ্গ তদন্ত শুরু করেছে। রাজনৈতিক মহলেও এই ঘটনা নিয়ে চাপানউতোর শুরু হয়েছে। আইএসএফ (ISF)-এর দাবি, তৃণমূল আশ্রিত দুষ্কৃতীরাই এই ঘটনার সঙ্গে জড়িত, যদিও তৃণমূল কংগ্রেস এই অভিযোগ অস্বীকার করেছে। এনআইএ-র (NIA) হস্তক্ষেপে এখন এই ঘটনার প্রকৃত রহস্য উদঘাটিত হবে বলে মনে করা হচ্ছে। উল্লেখ্য রাজ্যে গত কয়েকবছরে খাগড়াগড়, পটাশপুর, এগরা, বারাসত, নানুর, সূতি, বেলডাঙা সহ একাধিক এলাকায় বাজি ও বোমা বিস্ফোরণের (Bhangra Blast) ঘটনায় ব্যাপক উত্তেজনা ছড়িয়েছিল। বিজেপির অভিযোগ রাজ্যে কর্মসংস্থানের কারখানা নয়, বোমা বারুদের কারখানা গড়ে উঠেছে।

  • Strait of Hormuz: হরমুজ প্রণালী পেরোতে প্রস্তুত আরও ৬টি ভারতীয় এলপিজি ট্যাঙ্কার, ‘টোল’ নিচ্ছে না ইরান

    Strait of Hormuz: হরমুজ প্রণালী পেরোতে প্রস্তুত আরও ৬টি ভারতীয় এলপিজি ট্যাঙ্কার, ‘টোল’ নিচ্ছে না ইরান

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: পশ্চিম এশিয়ার অস্থির পরিস্থিতির মধ্যেও হরমুজ প্রণালী (Strait of Hormuz) দিয়ে ভারতীয় জাহাজ চলাচল অব্যাহত রয়েছে। কেন্দ্রীয় বন্দর, জাহাজ ও জলপথ মন্ত্রকের বিশেষ সচিব রাজেশ কুমার সিনহা মঙ্গলবার জানান, আরও ৬টি ভারতীয় পতাকাবাহী এলপিজি ট্যাঙ্কার প্রণালী পারাপারের জন্য প্রস্তুত রয়েছে এবং আন্তর্জাতিক সামুদ্রিক নিয়ম অনুযায়ী ইরান কোনও ‘টোল’ নিচ্ছে না। কেন্দ্রীয় সরকার মঙ্গলবার জানিয়েছে, পর্যাপ্ত অশোধিত তেলের মজুত-সহ দেশের সব শোধনাগার পূর্ণ ক্ষমতায় চালু রয়েছে। পেট্রল ও ডিজেলের পর্যাপ্ত মজুত রয়েছে বলেও দাবি করা হয়েছে। পেট্রোলিয়াম ও প্রাকৃতিক গ্যাস মন্ত্রকের বিপণন ও তেল শোধনাগার বিভাগের যুগ্ম সচিব সুজাতা শর্মা জানান, খুচরো তেল বিতরণ কেন্দ্রগুলিতে তেলের ঘাটতির কোনও খবর পাওয়া যায়নি।

    আসছে ‘জগ বসন্ত’ ও ‘পাইন গ্যাস’

    রাজেশ কুমার বলেন, ইতিমধ্যেই ‘জগ বসন্ত’ ও ‘পাইন গ্যাস’ নামের দুটি এলপিজি বাহক জাহাজ সোমবার সফলভাবে হরমুজ প্রণালী অতিক্রম করেছে। জাহাজ দুটি প্রায় ৯২ হাজার টন তরলীকৃত পেট্রোলিয়াম গ্যাস (এলপিজি) বহন করছিল এবং ভারতীয় নৌবাহিনীর সুরক্ষায় এই যাত্রা সম্পন্ন হয়। সরকারি সংস্থা ভারত পেট্রোলিয়াম কর্পোরেশন লিমিটেড (BPCL) এবং হিন্দুস্তান পেট্রোলিয়াম কর্পোরেশন লিমিটেড (HPCL)-এর চার্টার করা ট্যাঙ্কারগুলি ২৬ থেকে ২৮ মার্চের মধ্যে ভারতের বিভিন্ন বন্দরে পৌঁছানোর কথা। এর আগে ‘শিবালিক’ ও ‘নন্দা দেবী’ নামের জাহাজও নিরাপদে প্রণালী পার হয়ে প্রায় ৯২,৭০০ টন এলপিজি সরবরাহ করেছে।

    ২০টি জাহাজে ৫৪০-রও বেশি ভারতীয় নাবিক আটকে

    উল্লেখ্য, হরমুজ প্রণালী বর্তমানে ইরান, ইজরায়েল এবং মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রকে ঘিরে বাড়তে থাকা সংঘাতের কারণে অত্যন্ত স্পর্শকাতর হয়ে উঠেছে। এই প্রণালী দিয়েই বিশ্বের বড় অংশের জ্বালানি পরিবহণ হয়। ভারতের প্রায় ৬০ শতাংশ এলপিজি আমদানি হয়, যার প্রায় ৯০ শতাংশই এই পথ দিয়ে আসে। বর্তমানে প্রায় ৩ লক্ষ টন এলপিজি-সহ একাধিক পণ্যবাহী জাহাজ আটকে রয়েছে বলে জানা গিয়েছে। পাশাপাশি, প্রণালী অঞ্চলে প্রায় ২০টি জাহাজে ৫৪০-রও বেশি ভারতীয় নাবিক আটকে রয়েছেন। তাঁদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সরকার নজরদারি চালাচ্ছে এবং কিছু নাবিককে ইতিমধ্যেই উপসাগরীয় দেশগুলির সহায়তায় দেশে ফিরিয়ে আনার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। কূটনৈতিক স্তরেও উদ্যোগ জোরদার হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি এবং বিদেশমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর-এর উচ্চপর্যায়ের আলোচনা এই পরিস্থিতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিয়েছে বলে সূত্রের খবর। ভারতীয় নৌবাহিনীর যুদ্ধজাহাজও ওই অঞ্চলে মোতায়েন রয়েছে, যাতে ভারতীয় জাহাজগুলির নিরাপত্তা নিশ্চিত করা যায়।

  • IPL 2026: বিক্রি হয়ে গেল রাজস্থান রয়্যালস ও আরসিবি, টাকার অঙ্কে বৈভবের দলকে টেক্কা কোহলিদের

    IPL 2026: বিক্রি হয়ে গেল রাজস্থান রয়্যালস ও আরসিবি, টাকার অঙ্কে বৈভবের দলকে টেক্কা কোহলিদের

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: বিক্রি হয়ে গেল প্রথম বারের আইপিএল (IPL 2026) চ্যাম্পিয়ন দল রাজস্থান রয়্যালস (Rajasthan Royals)। বৈভবদের টেক্কা দিল গতবারের বিজয়ী রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স বেঙ্গালুরু (RCB)। বিরাট কোহলি, স্মৃতি মন্ধানাদের দল কিনে নিল ভারতের আদিত্য বিড়লা গোষ্ঠীর নেতৃত্বাধীন কনসর্টিয়াম। ১৭৮ কোটি ডলার বা প্রায় ১৬ হাজার ৭০৬ কোটি টাকায় বিক্রি হয়েছে আরসিবির ১০০ শতাংশ মালিকানা। অন্যদিকে, আমেরিকার ব্যবসায়ী কাল সোমানির নেতৃত্বাধীন কনসোর্টিয়াম রাজস্থানের ১০০ শতাংশ মালিকানা কিনে নিয়েছে। ১৬৩ কোটি ডলারে বিক্রি হল রাজস্থান।

    কত টাকায় বিক্রি হল রাজস্থান

    গত বছর আইপিএলের (IPL 2026) পর দল বিক্রি করে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন বর্তমান মালিক গোষ্ঠী। দল বিক্রির প্রক্রিয়াও শুরু হয়ে যায়। বেশ কয়েকটি গোষ্ঠী রাজস্থান কিনতে আগ্রহী ছিল। একাধিক প্রস্তাব ফিরিয়ে দেওয়ার পর সোমানির নেতৃত্বাধীন কনসর্টিয়ামের সঙ্গে চুক্তি চূড়ান্ত করেছেন রাজস্থানের বর্তমান মালিকেরা। ভারতীয় মূল্যে প্রায় ১৫ হাজার ২৮৫ কোটি ৩৯ লাখ টাকার চুক্তি হয়েছে। সোমানির নেতৃত্বাধীন কনসর্টিয়ামে রয়েছেন আমেরিকার আরও দুই ব্যবসায়ী। ওয়ালমার্টের কর্ণধার রব ওয়ালটন এবং ফোর্ডের কর্ণধার হ্যাম্প পরিবার।

    আদিত্য বিড়লা গোষ্ঠীর হাতে আরসিবি

    রাজস্থান রয়্যালসের (RR) পর বিক্রি হয়ে গেল রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স বেঙ্গালুরুও ( Royal Challengers Bengaluru)। দামে রাজস্থান রয়্যালসকে টেক্কা দিয়েছে বেঙ্গালুরু। গত বছর প্রথম বার আইপিএল (IPL 2026) চ্যাম্পিয়ন হয়েছে আরসিবি। সূত্রের খবর, আদিত্য বিড়লা গোষ্ঠীর নেতৃত্বাধীন কনসর্টিয়াম কোহলির দলকে কিনে নিয়েছে। এই সংস্থায় রয়েছে আমেরিকার ক্রীড়া বিনিয়োগকারী ডেভিড ব্লিটজার, আমেরিকার সংস্থা ব্ল্যাকস্টোন এবং টাইমস অফ ইন্ডিয়া গোষ্ঠী। আরসিবি বিক্রির সরকারি ঘোষণা অবশ্য হয়নি। মনে করা হচ্ছে, বর্তমান মালিক পক্ষের সঙ্গে সব কিছু চূড়ান্ত হয়ে গেলে সরকারি ভাবে ঘোষণা করা হবে। দলের নতুন চেয়ারম্যান হচ্ছেন আদিত্য বিড়লা গোষ্ঠীর ডিরেক্টর আর্যমান বিক্রম বিড়লা। ভাইস চেয়ারম্যান হচ্ছেন টাইমস অফ ইন্ডিয়া গোষ্ঠীর সত্যেন গজওয়ানি। ২০২৬ সালের আইপিএলের পর তাঁরা দায়িত্ব নেবেন। এত দিন বেঙ্গালুরুর মালিক ছিল ব্রিটিশ কোম্পানি দিয়াজিও পিএলসি। ইন্ডিয়ান আর্ম ইউনাইটেড স্পিরিট লিমিটেডের মাধ্যমে আরসিবি’র কর্মকাণ্ড সামলাতো দিয়াজিও। আরসিবি কেনার লড়াইয়ে ছিল সুইডেনের সংস্থা ইকিউটি এবং মণিপাল হাসপাতাল গোষ্ঠীর নেতৃত্বাধীন কনসর্টয়াম। আদিত্য বিড়লা গোষ্ঠীর নেতৃত্বাধীন কনসর্টিয়াম শেষ দিকে এই লড়াইয়ে ঢোকে। তবে, শেষ হাসি তারাই হাসল।

  • Assembly Election 2026: ‘মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের এত ভয় কেন?’ ভবানীপুরে বিজেপির জয় নিশ্চিত, দাবি শুভেন্দুর

    Assembly Election 2026: ‘মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের এত ভয় কেন?’ ভবানীপুরে বিজেপির জয় নিশ্চিত, দাবি শুভেন্দুর

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ভবানীপুরে জিতবে বিজেপিই। ভবানীপুরে থাকলেও মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এই কেন্দ্রে লড়তে ভয় পাচ্ছেন, দাবি বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারীর (Suvendu Adhikari)। হাইভোল্টেজ কেন্দ্র ভবানীপুরে জনসংযোগ করার সময় শুভেন্দু জানিয়েছেন, “কোনও চ্যালেঞ্জ নেই, অন্তত ২৫ হাজার ভোটে আমি জিতব।” আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনে (Assembly Election 2026) ভবানীপুর কার পাশে দাঁড়াবে? এই নিয়ে চুলচেরা বিশ্লেষণ চলছে। এই কেন্দ্রে বিজেপির হয়ে লড়বেন বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী, অন্যদিকে তৃণমূলের প্রার্থী মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।

    এত ভয় কেন?

    ভবানীপুরে হেভিওয়েট ডুয়েলের আগে কোমর বেঁধে ভোট ময়দানে নেমেছেন দুজনেই। নন্দীগ্রামের অফিসারকে ভবানীপুরে বদলি নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন মমতা। আর তারই জবাব দিতে গিয়ে প্রতিদ্বন্দ্বীকে খোঁচা দিলেন ভবানীপুরের বিজেপি প্রার্থী শুভেন্দু। বললেন, “নিজের বাড়ি, তাও মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের এত কেন ভয়?” রাজ্য বিজেপির সভাপতি শমীক ভট্টাচার্যকে পাশে বসিয়ে তিনি বলেন, “মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের এত ভয় কেন? নিজের বাড়ি। নিজের জায়গা। যেখানে তিনি ৪০ বছর ধরে রাজনীতি করেন বলে বলেন। তাহলে কেন এসব বলছেন? উনি হারের আতঙ্ক থেকে এই ধরনের কথা বলছেন। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় হারবেন। বিজেপি জিতবে। ভবানীপুর বিজেপির জায়গা। ২০১৪ সালে তথাগত রায় প্রথম দক্ষিণ কলকাতায় লড়েছিলেন এবং ভবানীপুরে লিড হয়েছিলেন। আমার পরম প্রাপ্তি তথাগত রায় আমায় মেসেজ করেছেন, আমি এই বয়সেও তোমার জন্য ভবানীপুরে কিছু করতে চাই। কি করতে হবে বলো, কবে যেতে হবে বলো। কর্মসূচিগুলো আমায় সূচনা দেবে। এটা পরম প্রাপ্তি আমার কাছে।”

    বিজেপির জয় সময়ের অপেক্ষা

    ভবানীপুরের নাম বাদ যাওয়া ভোটারদের হিসাবও দিলেন শুভেন্দু। বললেন, “তিন দফাতে ৫১ হাজার নাম বাদ গিয়েছে। প্রথমে ৪৫ হাজার। পরে ২ হাজার। আর বিবেচনাধীন তালিকায় প্রায় ৪ হাজার। এই ৫১ হাজার ভুয়ো ভোটের মালিক ছিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। ব্যথাটাও জানি। যন্ত্রণাটাও জানি। বুঝতে পারছেন আগামিদিনে কী হবে। পৃথিবীর কোনও শক্তি, কোনও মেডিসিনি নেই, এই কোমাতে চলে যাওয়া তৃণমূলকে পুনরুজ্জীবিত করে, বিজেপির জয় এখন সময়ের অপেক্ষা।” ভবানীপুরের পাশাপাশি, নন্দীগ্রাম নিয়ে তাঁর মন্তব্য, “সেখানকার মানুষ জানেন নন্দীগ্রাম আন্দোলনের সময় আমার ভূমিকা, সেখানকার মানুষ জবাব দেবে।” বৃহস্পতিবার (২৬ মার্চ) ভবানীপুরে রামনবমীর মিছিলে তিনি থাকবেন বলেও এদিন জানিয়ে দেন শুভেন্দু। উল্লেখ্য, এবছর পশ্চিমবঙ্গে বিধানসভা নির্বাচন হবে দুই দফায়। প্রথম দফায় রয়েছে ১৫২টি আসন, ভোট হবে ২৩ এপ্রিল। দ্বিতীয় দফায় ১৪২টি আসন, ভোট হবে ২৯ এপ্রিল। ভোটগণনা হবে ৪ মে ।

  • Project Kusha: প্রজেক্ট কুশ-এর পরীক্ষায় সাফল্য ডিআরডিও-র, দেশীয় ‘সুদর্শন’ নির্মাণে গুরুত্বপূর্ণ মোড়ে ভারত

    Project Kusha: প্রজেক্ট কুশ-এর পরীক্ষায় সাফল্য ডিআরডিও-র, দেশীয় ‘সুদর্শন’ নির্মাণে গুরুত্বপূর্ণ মোড়ে ভারত

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: সামরিক স্বনির্ভরতার পথে আরও একধাপ এগোল ভারত। দেশীয় দীর্ঘ-পাল্লার আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ‘প্রজেক্ট কুশ’-এর (মতান্তরে ‘কুশা’) প্রথম উন্নয়নমূলক পরীক্ষা সফলভাবে সম্পন্ন হয়েছে। প্রতিরক্ষা গবেষণা ও উন্নয়ন সংস্থা (DRDO) এবং ভারত ইলেকট্রনিক্স লিমিটেড (BEL)-এর যৌথ উদ্যোগে ডুয়াল-পালস রকেট মোটরসহ গুরুত্বপূর্ণ সাব-সিস্টেমের পরীক্ষা সম্পন্ন হয়েছে। এই ধাপটি সাধারণত যে কোনও মিসাইল প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার জন্য প্রযুক্তিগত বিশ্বাসযোগ্যতার ভিত্তি তৈরি করে। এই সাফল্যের ফলে প্রকল্পটি প্রাথমিক নকশা পর্যায় পেরিয়ে এখন ২০২৬ সালে সম্ভাব্য সমন্বিত ফ্লাইট পরীক্ষার দিকে এগোচ্ছে।

    এস-৪০০ ‘সুদর্শন’-এর দেশীয় বিকল্প

    ভারতের আকাশ প্রতিরক্ষা কাঠামোয় এক গুরুত্বপূর্ণ কৌশলগত পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিচ্ছে ‘প্রজেক্ট কুশ’। সরকারি ভাবে ‘এক্সটেন্ডেড রেঞ্জ এয়ার ডিফেন্স সিস্টেম’ (ERADS) নামে পরিচিত এই প্রকল্পের লক্ষ্য রাশিয়ার এস-৪০০ ও ভবিষ্যতের এস-৫০০ শ্রেণির সিস্টেমের দেশীয় বিকল্প গড়ে তোলা। প্রায় ২১,৭০০ কোটি টাকার এই প্রকল্প শুধু একটি প্রতিরক্ষা প্ল্যাটফর্ম নয়, বরং এটি একটি নেটওয়ার্ক-কেন্দ্রিক এয়ার ডিফেন্স দর্শনের প্রতিফলন। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির নেতৃত্বাধীন ক্যাবিনেট কমিটি অন সিকিউরিটি (CCS) এই প্রকল্পকে অনুমোদন দিয়েছে।এই সিস্টেমের লক্ষ্য দেশের গুরুত্বপূর্ণ সামরিক স্থাপনা ও শহরগুলিকে বহুস্তরীয় সুরক্ষা প্রদান করা। স্টেলথ যুদ্ধবিমান, ড্রোন থেকে শুরু করে ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র—বিভিন্ন ধরনের আকাশপথের হুমকি মোকাবিলায় সক্ষম হবে এই ব্যবস্থা।

    মাল্টি-লেয়ারড ডিফেন্স: তিন স্তরের প্রতিরক্ষা বলয়

    ‘প্রজেক্ট কুশ’-এর মূল শক্তি এর তিন-স্তরবিশিষ্ট ইন্টারসেপ্টর আর্কিটেকচার— এম১, এম২ ও এম৩। এই স্তরভিত্তিক প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ‘লেয়ার্ড ডিনায়াল’ কৌশলকে বাস্তবায়িত করে, যেখানে শত্রুপক্ষের আকাশপথে প্রবেশ ও অপারেশন ক্রমশ কঠিন হয়ে ওঠে।

    • এম১ (≈১৫০ কিমি): প্রায় ১৫০ কিলোমিটার পর্যন্ত লক্ষ্যবস্তু ধ্বংস করতে সক্ষম। ইতিমধ্যেই এই ভ্যারিয়েন্টের সাব-সিস্টেম যাচাই সম্পন্ন হয়েছে এবং শীঘ্রই প্রথম ফ্লাইট টেস্ট হতে পারে। এটি ‘পয়েন্ট ডিফেন্স’ ও ‘এরিয়া ডিফেন্স’-এর মধ্যে ভারসাম্য তৈরি করে। ট্যাকটিক্যাল ফাইটার, স্ট্যান্ড-অফ ওয়েপন এবং লো-অবজারভেবল প্ল্যাটফর্মের বিরুদ্ধে কার্যকর।
    • এম২ (≈২৫০ কিমি): প্রায় ২৫০ কিলোমিটার পর্যন্ত প্রতিরক্ষা বলয় বিস্তৃত করে। AESA সিকার প্রযুক্তির মাধ্যমে উচ্চ নির্ভুলতা বজায় রাখে। এটি মধ্যম স্তরের প্রতিরক্ষা বলয় তৈরি করে এবং এইএসএ সিকার প্রযুক্তির মাধ্যমে উচ্চ গতিশীল ও ইভেসিভ টার্গেট ট্র্যাকিং সক্ষমতা প্রদান করে। এই স্তরটি মূলত শত্রুপক্ষের স্ট্রাইক প্যাকেজকে ভেঙে দিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নেবে।
    • এম৩ (৩৫০–৪০০+ কিমি): ৩৫০-৪০০ কিলোমিটারেরও বেশি দূরত্বে শত্রুপক্ষের গুরুত্বপূর্ণ সম্পদ—যেমন আর্লি ওয়ার্নিং বিমান বা রিফুয়েলার—ধ্বংস করতে সক্ষম। কৌশলগত দৃষ্টিকোণ থেকে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ স্তর। এটি শত্রুপক্ষের ‘হাই-ভ্যালু এয়ারবর্ন অ্যাসেট’—যেমন অ্যাওয়াক্স, এয়ার-টু-এয়ার রিফুয়েলার—এবং নির্দিষ্ট ধরনের ব্যালিস্টিক হামলাকে দূর থেকে নিষ্ক্রিয় করতে সক্ষম। এর মাধ্যমে শত্রুর ‘ফোর্স মাল্টিপ্লায়ার’ ক্ষমতা ভেঙে দেওয়া সম্ভব।

    এই তিনটি স্তরের সমন্বয়ে একটি ‘ডিফেন্স-ইন-ডেপথ’ মডেল গড়ে উঠছে, যা আধুনিক নেটওয়ার্ক-সেন্ট্রিক যুদ্ধের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ।

    প্রযুক্তিগত দিক: সেন্সর-শুটার ইন্টিগ্রেশন

    প্রজেক্ট কুশ-এর কার্যকারিতা নির্ভর করছে উন্নত সেন্সর, রাডার এবং ইন্টারসেপ্টর মিসাইলের মধ্যে রিয়েল-টাইম ডেটা লিঙ্কের উপর। এইএসএ রেডার (AESA Radar), উন্নত ফায়ার কন্ট্রোল সিস্টেম এবং কিল ভেহিকলের সমন্বয় একটি ‘সেন্সর-টু-শুটার’ চেইন তৈরি করবে, যা দ্রুত সিদ্ধান্ত গ্রহণ ও প্রতিক্রিয়া নিশ্চিত করবে। ডুয়াল-পালস রকেট মোটরের ব্যবহার মিসাইলকে শেষ পর্যায়ে অতিরিক্ত গতি ও ম্যানুভারেবিলিটি প্রদান করে—যা হাই-স্পিড ও ইভেসিভ টার্গেট ইন্টারসেপ্টে গুরুত্বপূর্ণ।

    পরবর্তী ধাপ ও সময়সীমা

    গ্রাউন্ড ট্রায়াল সফল হওয়ার পর এখন মূল লক্ষ্য এম১ ক্ষেপণাস্ত্রের ফ্লাইট টেস্ট। এরপর ধাপে ধাপে এম২ ও এম৩-এর পরীক্ষাও হবে। ভারতীয় বায়ুসেনা ইতিমধ্যেই একাধিক স্কোয়াড্রনের জন্য ‘অ্যাকসেপ্ট্যান্স অফ নেসেসিটি’ অনুমোদন দিয়েছে। প্রাথমিক ভাবে ২০২৮ সালের মধ্যে সিস্টেমের কিছু অংশ কার্যকর হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। ২০৩০ সালের মধ্যে সম্পূর্ণ তিন-স্তরের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা মোতায়েনের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। এই সময়সীমা বাস্তবায়িত হলে, ভারত প্রথমবারের মতো সম্পূর্ণ দেশীয় লং-রেঞ্জ মাল্টি-লেয়ারড এয়ার ডিফেন্স নেটওয়ার্ক পাবে।

    কৌশলগত গুরুত্ব: ‘মিশন সুদর্শন চক্র’ ও ভবিষ্যৎ রফতানি

    ‘মিশন সুদর্শন চক্র’-এর অংশ হিসেবে প্রজেক্ট কুশ ভারতের ভবিষ্যৎ আকাশ ও ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার অন্যতম স্তম্ভ। ২০৩৫ সালের মধ্যে একটি পূর্ণাঙ্গ জাতীয় প্রতিরক্ষা জাল গড়ে তোলাই লক্ষ্য। ‘আকাশ-এনজি’ এবং ব্যালিস্টিক মিসাইল ডিফেন্স ব্যবস্থার সঙ্গে সমন্বয়ে কাজ করে এই প্রকল্প ভারতের বিদেশি প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার উপর নির্ভরতা উল্লেখযোগ্যভাবে কমাবে।
    বিশেষজ্ঞদের মতে, এই উদ্যোগ শুধু প্রতিরক্ষা শক্তি বাড়াবে না, ভবিষ্যতে ভারতের জন্য উন্নত সামরিক প্রযুক্তি রফতানির নতুন দরজাও খুলে দিতে পারে। প্রজেক্ট কুশ শুধুমাত্র একটি মিসাইল সিস্টেম নয়, এটি ভারতের প্রতিরক্ষা নীতিতে একটি মৌলিক পরিবর্তনের প্রতীক। মাল্টি-লেয়ারড, নেটওয়ার্ক-সেন্ট্রিক এবং সম্পূর্ণ দেশীয় প্রযুক্তিনির্ভর এই উদ্যোগ সফল হলে, ভারতের আকাশ প্রতিরক্ষা সক্ষমতা নতুন উচ্চতায় পৌঁছবে—এবং বৈশ্বিক প্রতিরক্ষা মানচিত্রে দেশের অবস্থান আরও শক্তিশালী হবে।

  • Ghaziabad: ইনস্টাগ্রামে টোপ দিয়ে চরবৃত্তি! উত্তরপ্রদেশে আন্তঃসীমান্ত পাক গুপ্তচর চক্রের পর্দাফাঁস, গ্রেফতার ১৮

    Ghaziabad: ইনস্টাগ্রামে টোপ দিয়ে চরবৃত্তি! উত্তরপ্রদেশে আন্তঃসীমান্ত পাক গুপ্তচর চক্রের পর্দাফাঁস, গ্রেফতার ১৮

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: সোশ্যাল মিডিয়াকে হাতিয়ার করে ভারতের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থায় থাবা বসানোর এক ভয়ঙ্কর ছক বানচাল করল গাজিয়াবাদ (Ghaziabad) পুলিশ। ইনস্টাগ্রামের মাধ্যমে উত্তরপ্রদেশের বেকার যুবকদের টাকার টোপ দিয়ে চরবৃত্তিতে লাগানোর অভিযোগে ১৮ জনকে গ্রেফতার (CCTV Operators Mobile Repairmen) করা হয়েছে। ধৃতদের মধ্যে ৬ জন নাবালক। ধৃতদের বিরুদ্ধে সামরিক ঘাঁটি ও রেল স্টেশনের ভিডিও এবং গোপন তথ্য পাকিস্তানের হ্যান্ডলারদের কাছে পাঠানোর অভিযোগ উঠেছে। দেশে এই ধরনের নেটওয়ার্কে অভিযান চালিয়ে বড়সড় নাশকতামূলক চক্রের পর্দা ফাঁস করেছে উত্তর প্রদেশ প্রশাসন।

    কীভাবে চলত এই চক্র (Ghaziabad)

    গাজিয়াবাদের (Ghaziabad) তদন্তকারী অফিসাররা জানিয়েছেন, এই চক্রটি মূলত গ্রামীণ এলাকার কারিগরি শিক্ষায় শিক্ষিত অথচ কর্মহীন যুবকদের (CCTV Operators Mobile Repairmen) লক্ষ্য করত। কমটাকা রোজগার করে এবং আর্থিক চাহিদা রয়েছে এমন লোকজনকে কাজে লাগানো হত। মোবাইল রিপেয়ারিং, সিসিটিভি অপারেটর বা কম্পিউটার মেকানিকের কাজ জানা যুবকদের ইনস্টাগ্রামের মাধ্যমে খুঁজে বের করত হ্যান্ডলাররা। অভাবের সুযোগ নিয়ে তাদের মোটা টাকার লোভ দেখিয়ে নামানো হত এই দেশবিরোধী কাজে। গত দুই বছর ধরে এই চক্রটি অবাধে সক্রিয় ছিল বলে জানা গেছে।

    অভিযানের সূত্রপাত

    গত ১৪ মার্চ কৌশাম্বী থানার (Ghaziabad) একজন বিট অফিসারের কাছে গোপন খবর আসে যে, ভৌয়াপুরে একদল যুবক সন্দেহজনক ভাবে ঘোরাঘুরি করছে। তারা রেল স্টেশন এবং নিরাপত্তা বাহিনীর গতিবিধির ভিডিও রেকর্ড করে বিদেশে পাঠাচ্ছিল বলে প্রথমে সন্দেহ করা হয়, এরপর জিজ্ঞাসাবাদ করতেই আসল তথ্য বের হয়। এর পরেই পুলিশ অভিযান চালিয়ে নওশাদ আলি, মীরা, সোহেল ওরফে রোমিও এবং ইরাম ওরফে মেহাক-সহ একাধিক অভিযুক্তকে গ্রেফতার (CCTV Operators Mobile Repairmen) করেছে।

    চাঞ্চল্যকর তথ্য ও প্রযুক্তির ব্যবহার

    পুলিশি (Ghaziabad) তদন্তে উঠে এসেছে একাধিক চমকপ্রদ তথ্য। নিজেরা স্মার্ট প্রযুক্তি, সিসিটিভি ক্যামেরা এবং ওটিপি পাচারের মতো গুরুত্বপূর্ণ কাজ করতো। ফলে বিদেশি শত্রুদের যাতে আক্রমণ এবং আঘাত হানতে সুবিধা হয় সেই দিকের কথা মাথায় রেখে তথ্য পাচারের কাজ চলত। পুলিশ কমিশনার এলও ও ট্র্যাফিক রাজ করণ নায়ার  সাংবাদিক সম্মলেন করে বলেন, “গোপন সূত্রে খবর পেয়ে পুলিশ কৌশাম্বী থানায় ভারতীয় ন্যায় সংহিতা (বিএনএস)-এর ৬১(২) (অপরাধমূলক ষড়যন্ত্র) এবং ১৫২ (ভারতের সার্বভৌমত্ব, ঐক্য ও অখণ্ডতা বিপন্নকারী কাজ) ধারার পাশাপাশি সরকারি গোপনীয়তা আইনের ৩ এবং ৫ ধারায় একটি মামলা দায়ের করেছে। এই মামলায় পুলিশ প্রাথমিকভাবে ১৪ মার্চ পাঁচজন পুরুষ ও একজন মহিলাকে গ্রেফতার করেছে। তাদের মোবাইল ফোনের গ্যালারিতে ‘আপত্তিকর’ ভিডিও ও ছবির পাশাপাশি গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠান সম্পর্কিত অবস্থান তথ্য ছিল।” সূত্র আরও জানা গিয়েছে, এই চক্রটি ভারতে অবস্থিত দুই বা তিনজন নিয়ন্ত্রক চালাত, যারা বিদেশে থাকা নিয়ন্ত্রকদের কাছে নির্দিষ্ট তথ্য সরবরাহ করত।

    স্মার্ট প্রযুক্তি

    ধৃতরা মোবাইলে এমন একটি বিশেষ অ্যাপ ব্যবহার করত যা ভিডিও বা ছবির ওপর সরাসরি জিপিএস কোঅর্ডিনেটস (GPS Coordinates) এবং সময় ফুটিয়ে তুলত।

    সিসিটিভি ক্যামেরা

    দিল্লি ক্যান্টনমেন্ট এবং সোনিপত রেল স্টেশনের মতো স্পর্শকাতর জায়গায় এরা সৌরশক্তি চালিত এবং সিম-কার্ড ভিত্তিক স্ট্যান্ডঅ্যালোন সিসিটিভি ক্যামেরা বসিয়েছিল, যার সরাসরি ফিড চলে যেত বিদেশে।

    ওটিপি পাচার

    ভারতীয় সিম কার্ডের ওটিপি (OTP) ৫০০ থেকে ৫০০০ টাকার বিনিময়ে বিদেশে পাঠানো হত, যাতে পাকিস্তানি হ্যান্ডলাররা ভারতীয় নম্বরে হোয়াটসঅ্যাপ অ্যাকাউন্ট খুলে তা চরবৃত্তিতে ব্যবহার করতে পারে।

    টাকার লেনদেন

    সাধারণ সিসিটিভি বসাতে যেখানে ৬-৭ হাজার টাকা দেওয়া হয়, সেখানে এই যুবকদের ১৬-১৭ হাজার টাকা দেওয়া হত। ধরা পড়ার ভয় এড়াতে টাকা সরাসরি ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে না নিয়ে ইউপিআই (UPI)-এর মাধ্যমে বিভিন্ন পাবলিক সার্ভিস সেন্টার বা দোকান থেকে নগদে সংগ্রহ করা হত।

    অভিযুক্তদের তালিকা ও আইনি পদক্ষেপ

    গ্রেফতার হওয়া ১৮ জনের মধ্যে উল্লেখযোগ্য নামগুলি হলো নওশাদ আলি (২০), মীরা (২৮), সোহেল (২৩), ইরাম (২৫), প্রবীণ (১৯), রাজ বাল্মীকি (২১) প্রমুখ (CCTV Operators Mobile Repairmen)। ধৃতদের কাছ থেকে প্রচুর আপত্তিকর ভিডিও, ছবি এবং লোকেশন ডেটা উদ্ধার করা হয়েছে। গাজিয়াবাদ (Ghaziabad) পুলিশের স্পেশাল ইনভেস্টিগেশন টিম (SIT) জানিয়েছে, “নওশাদ আলি এই চক্রের অন্যতম প্রধান পাণ্ডা ছিল। সে-ই সোশ্যাল মিডিয়া থেকে অপরাধপ্রবণ কিন্তু কোনও অপরাধমূলক রেকর্ড নেই—এমন যুবকদের খুঁজে বের করত। ধৃত মীরা এর আগেও অস্ত্র পাচারের অভিযোগে দিল্লি পুলিশের হাতে ধরা পড়েছিল।

    আদালতের কড়া অবস্থান

    ইতিমধ্যে অভিযুক্তদের মধ্যে দুই জন জামিনের আবেদন করলেও আদালত তা খারিজ করে দিয়েছে। আদালতের পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী, অভিযুক্তরা দেশের সার্বভৌমত্ব, ঐক্য এবং অখণ্ডতাকে বিপন্ন করার মতো গুরুতর অপরাধে লিপ্ত (CCTV Operators Mobile Repairmen)। ভারতীয় ন্যায় সংহিতা (BNS) এবং অফিসিয়াল সিক্রেটস অ্যাক্ট-এর অধীনে মামলা রুজু করে তদন্ত প্রক্রিয়া জারি রেখেছে পুলিশ।

  • Basanti Puja 2026: শারদীয় নয়, এটাই বাঙালির প্রাচীন দুর্গাপুজো! আজ বাসন্তী সপ্তমীতে দেবী আরাধনা শুরু

    Basanti Puja 2026: শারদীয় নয়, এটাই বাঙালির প্রাচীন দুর্গাপুজো! আজ বাসন্তী সপ্তমীতে দেবী আরাধনা শুরু

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: এখন চৈত্র মাসের শুক্লপক্ষের তিথি চলছে। প্রতি বছর চৈত্র মাসের শুক্ল তিথিতে আয়োজিত হয় নবরাত্রি উৎসবের। নয় রাত ধরে দেবী দুর্গার নয় রূপের আরাধনা করা হয়। আর এই সময়ে মহাধুমধামের সঙ্গে বাঙালি মেতে ওঠে বাসন্তী পুজোয়। হিন্দুশাস্ত্রমতে বসন্তকালে চৈত্র শুক্লপক্ষে আয়োজিত হয় বাসন্তী পুজো। পুরাণ অনুযায়ী, সমাধি নামক বৈশ্যের সঙ্গে মিলে রাজা সুরথ বসন্তকালে ঋষি মেধসের আশ্রমে দেবী দুর্গার আরাধনা করেন। যা পরে বাসন্তী পুজো (Basanti Puja) নামে প্রসিদ্ধ হয়। দেবী দুর্গার প্রথম পূজারী হিসাবে চণ্ডীতে রাজা সুরথের উল্লেখ রয়েছে। বাসন্তী পুজোই হল বাঙালির আদি দুর্গাপুজো। পরে শরত্‍কালে শারদীয়া নবরাত্রির সময় রামচন্দ্রের অকাল বোধন মেনে দুর্গাপুজোর প্রচলন হয়।

    কবে থেকে পুজো, দেবীর আগমন কিসে

    সপ্তমী থেকে নবমী, তিন দিন ধরে চলে বাসন্তী পুজো। দুর্গাপুজোর মতোই সব নিয়ম আচার মেনে বাসন্তী পুজো করা হয়। চলতি বছরে বাসন্তীপুজোর সপ্তমি পড়েছে আজ, বুধবার ২৫ মার্চ। এই পুজোর ষষ্ঠীই হল অশোক ষষ্ঠী। মূলত, সপ্তমী তিথিতে বাসন্তী পুজো, অষ্টমীতে দেবী অন্নপূর্ণার আরাধনা হয়, নবমী পালিত হয় রামনবমী হিসেবে। দেশের নানান জায়গায় যখন চৈত্র নবরাত্রির পার্বনে অনেকে উৎসবে মেতে রয়েছেন, তখন বাংলা এই চৈত্রের শুক্লপক্ষে দেবী বাসন্তীর আরাধনায় মেতে ওঠে। চলতি বছরের বাসন্তী পুজোয় দেবী দুর্গার আগমন ও গমন শাস্ত্র মতে বিশেষ বার্তাবাহক। পঞ্জিকা অনুসারে, এ বছর দেবী দুর্গার আগমন হবে পালকিতে (মতান্তরে নৌকায়) এবং গমন হবে গজে বা হাতিতে (মতান্তরে ঘোড়ায়)। পালকিতে আগমন অস্থির সময়, মড়ক বা রোগব্যাধির ইঙ্গিত দিলেও গজে গমন অতিবৃষ্টি ও শস্যহানিকর পরিস্থিতির ইঙ্গিত দেয়।

    রাজা সুরথের কাহিনী

    রাজা সুরথকে চিত্রগুপ্তবংশী রাজা (চিত্রগুপ্তের বংশধর) হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে দুর্গা সপ্তশতী দেবী মাহাত্ম্য এবং মার্কণ্ডেয় পুরাণে। সুরথ সুশাসক ও যোদ্ধা হিসেবে বেশ খ্যাত ছিলেন। কোনও যুদ্ধে নাকি তিনি কখনও হারেননি। কিন্তু প্রতিবেশী রাজ্য একদিন তাঁকে আক্রমণ করে এবং সুরথ পরাজিত হন। এই সুযোগে তাঁর সভাসদরাও লুটপাট চালায়। কাছের মানুষের এমন আচরণে স্তম্ভিত হয়ে যান সুরথ। বনে ঘুরতে ঘুরতে তিনি মেধাসাশ্রমে পৌঁছোন। ঋষি তাঁকে সেখানেই থাকতে বলেন। কিন্তু রাজা শান্তি পান না।

    বাসন্তী পুজোর সূচনা

    এর মধ্যে একদিন তাঁর সমাধির সঙ্গে দেখা হয়। তিনি জানতে পারেন, সমাধিকেও তাঁর স্ত্রী এবং ছেলে বাড়ি থেকে তাড়িয়ে দিয়েছে। তবুও তিনি স্ত্রী-ছেলের ভালোমন্দ এখনও ভেবে চলেছেন। তাঁরা দুজনেই তখন ভাবলেন, যাদের কারণে তাদের সব কিছু হারিয়েছে, তাদের ভালো আজও তাঁরা কামনা করছেন। ঋষিকে একথা বলায়, তিনি বলেন সবই মহামায়ার ইচ্ছা। এরপর ঋষি মহামায়ার কাহিনি বর্ণনা করেন। ঋষির উপদেশেই রাজা কঠিন তপস্যা শুরু করেন। পরে মহামায়ার আশীর্বাদ পেতেই বসন্ত কালের শুক্লপক্ষে রাজা পুজো শুরু করেন। শুরু হয় বাসন্তী পুজো (Basanti Puja)। এই পুজো এখন কয়েকটি বাড়িতেই শুধু হয়।

LinkedIn
Share