Tag: Madhyom

Madhyom

  • FIFA World Cup 2026: তোরেসের শটে দ্বিতীয়বার স্প্যানিশ আর্মাডার বিশ্বজয়, চোখের জলে-শূন্য হাতে বিদায় মেসির

    FIFA World Cup 2026: তোরেসের শটে দ্বিতীয়বার স্প্যানিশ আর্মাডার বিশ্বজয়, চোখের জলে-শূন্য হাতে বিদায় মেসির

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: রামায়ণ-মহাভারত থেকে ইলিয়াড-ওডিসি যে কোনও মহাকাব্যের শেষটা যেন ট্র্যাজেডি দিয়েই বোনা থাকে। চোখের জলেই নায়ক থেকে মহানায়ক হয়ে ওঠেন ম্যাকবেথ বা জুলিয়াস সিজার। সেরকমই মেসি-মহাক্যাবের শেষটাও হল চোখের জলেই। হয়তো গত বারের সুখের স্মৃতি নিয়ে বিদায় নিতে পারতেন তিনি। কিন্তু নিজেকে আরও এক বার চ্যালেঞ্জ জানাবেন বলেই আমেরিকায় বিশ্বকাপ খেলতে রাজি হয়েছিলেন। কিন্তু পারলেন না। বিশ্বকাপের শেষ অধ্যায় সুখের হল না মেসির জন্য। যুব বিশ্বকাপে ভারতে খেলে যাওয়া ফেরান তোরেসের গোলে দ্বিতীয়বার বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন স্পেন। ৮৩ হাজার দর্শক। ৭০ শতাংশই আর্জেন্টিনার। তাদের সামনে স্পেন বার বার আক্রমণ করেও আর্জেন্টিনাকে গোল দিতে পারেনি। নির্ধারিত সময়ে ম্যাচ ছিল গোল শূন্য। খেলা গড়ায় অতিরিক্ত সময়ে। ১১৬ মিনিটের মাথায় নিকো উইলিয়ামসের হেড থেকে ফেরান তোরেসের শট। জয়সূচক গোল। ওই একটি গোলেই টানা দু’বার বিশ্বকাপ হাতে তোলা হল না লিয়োনেল মেসির। রবিবার বিশ্বকাপ ফাইনালে স্পেনের কাছে ০-১ হেরে গেল আর্জেন্টিনা।

    সবচেয়ে খারাপ ম্যাচ খেলল আর্জেন্টিনা!

    এ বারের বিশ্বকাপের সবচেয়ে খারাপ ম্যাচ খেলল আর্জেন্টিনা। বস্তুত, তারা এতটাই খারাপ খেলেছে যে কী করে এই দল ফাইনালে উঠেছিল তা নিয়ে প্রশ্ন উঠতে বাধ্য। ১২০ মিনিটের ফুটবলে স্পেনের গোল লক্ষ্য করে একটিও শট নিতে পারেনি আর্জেন্টিনা। মেসিকে গোটা মাঠে খুঁজে পাওয়া যায়নি। তাঁকে বল পাস করতেই পারেননি সতীর্থেরা। শেষের দিকে তেড়েফুঁড়ে বেশ কয়েক বার আক্রমণ করেছিল আর্জেন্টিনা। কিন্তু ১০ জনের দলের পক্ষে সম্ভব ছিল না ওই জায়গা থেকে ম্যাচে ফেরা। বরং একাধিক সুযোগ নষ্ট না করলে স্পেনের জয়ের ব্যবধান আরও বেশি হতে পারত। এদিন স্পেনের গতির কাছে বারবার পরাস্ত হয়েছে আর্জেন্টিনা।

    যোগ্য দল হিসেবে জয়ী স্পেন

    বিশ্বকাপ তিনটি নকআউট ম্যাচে পিছিয়ে পড়ে জিতেছে আর্জেন্টিনা। তবে এদিন শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত আর্জেন্টিনা স্রেফ রক্ষণই করে গেল। স্পেনকে আরও বেশি খেলার সুযোগ করে দিল। আর্জেন্টিনা নিজেদের রক্ষণের ফাঁসে এতটাই ফেঁসে গেল যে স্পেনের কাজ আরও সহজ হয়ে গেল। ফাইনালের পরিসংখ্যান দেখলে আর্জেন্টিনার হতশ্রী দশা আরও স্পষ্ট হবে। স্পেনের ২০টি শটের বদলে আর্জেন্টিনা নিয়েছে মাত্র তিনটি শট। তিনটিই এসেছে শেষের তিন-চার মিনিটে। বল পজেশন স্পেনের ৬৮ শতাংশ, আর্জেন্টিনার ৩২ শতাংশয়। মোট পাস, নিখুঁত পাস, কর্নার— সব বিষয়েই আর্জেন্টিনার থেকে অনেক যোজন এগিয়ে ছিল স্পেন। তাই বিশ্বকাপ যে তারা যোগ্য দল হিসেবেই জিতেছে তা নিয়ে কোনও সন্দেহ থাকার কথাই নয়।

    পুরস্কার শূন্য মেসির ঝুলি

    ২০১৪ সালে বিশ্বকাপের ফাইনালে হারলেও সোনার বল জিতেছিলেন লিয়োনেল মেসি। প্রতিযোগিতার সেরা ফুটবলার হয়েছিলেন। কিন্তু এ বার আমেরিকা থেকে খালি হাতেই ফিরতে হল তাঁকে। একটিও পুরস্কার পেলেন না মেসি।

    কিলিয়ান এমবাপে (সোনার বুট): চলতি বিশ্বকাপের ফাইনালের আগেই সোনার বুট প্রায় পাকা করে নিয়েছিলেন এমবাপে। এ বার ১০টি গোল করেছেন তিনি। পাশাপাশি করেছেন চারটি অ্যাসিস্ট। তাঁর সবচেয়ে কাছে থাকা মেসি আটটি গোল ও চারটি অ্যাসিস্ট করেছেন।

    রদ্রি (সোনার বল): এ বার বিশ্বকাপের সেরা ফুটবলার হয়েছেন রদ্রি। ফাইনালে দলকে চ্যাম্পিয়ন করে সেই পুরস্কার নিয়েছেন স্পেনের অধিনায়ক। মিডফিল্ডারেরা সাধারণত এই পুরস্কার খুব বেশি পান না। কিন্তু এ বার রদ্রি গোটা প্রতিযোগিতায় স্পেনকে খেলিয়েছেন। বিশ্বকাপের ইতিহাসে সবচেয়ে বেশি সফল পাস দিয়েছেন। রদ্রি ছিলেন বলেই এক সুন্দর ফুটবল খেলেছে স্পেন। তাই রদ্রি যোগ্য হিসাবেই এই পুরস্কার জিতেছেন।

    উনাই সিমন (সোনার গ্লাভস): এই পুরস্কারও আগে থেকেই প্রায় পাকা ছিল। গোটা বিশ্বকাপে মাত্র একটি গোল খেয়েছেন স্পেনের গোলরক্ষক সিমন। তা ছাড়া তাঁকে এক বারও পরাস্ত করতে পারেননি কোনও ফুটবলার। গোটা প্রতিযোগিতায় একটি গোল খাওয়া গোলরক্ষকের হাতেই যে সোনার গ্লাভস উঠবে, তাতে অবাক হওয়ার কিছু নেই।

    পাউ কুবারসি (সেরা উদীয়মান তারকা): মাত্র ১৯ বছরের এই ফুটবলার স্পেনের রক্ষণ সামলেছেন। তিনি ছিলেন বলে সিমনকেও কম কষ্ট করতে হয়েছে। পাশাপাশি আক্রমণেও বল বাড়িয়েছে কুবারসি। এত অল্প বয়সে যে পরিণত মানসিকতা তিনি দেখিয়েছেন, তার জন্য বিশ্বকাপের সেরা উদীয়মান তারকা হয়েছেন তিনি।

    পা-এ বলই পেলেন না মেসি

    কেরিয়ারে বিশ্বকাপে প্রচুর ভাল ম্যাচ খেলেছেন মেসি। এ বারের বিশ্বকাপে তার কিছু দেখা গিয়েছে। কিন্তু রবিবারের পারফরম্যান্স তার লক্ষ লক্ষ মাইলের মধ্যেও আসবে না। এই ম্যাচে তিনি কোনও প্রভাবই ফেলতে পারেননি। দলকে কোনও ভাবে সাহায্য করতে পারেননি। দলের বিপদের সময়ের একার হাতে উদ্ধার করতে পারেননি। বহু ম্যাচে আর্জেন্টিনাকে উতরে দিয়েছেন। কিন্তু এই বয়সে তাঁকে অবিশ্বাস্য কিছু করতে হলে পায়ে বল তো পেতে হবে। সেটাই তো সতীর্থেরা দিতে পারলেন না। প্রথম ২০ মিনিটে মাত্র দু’বার বল পায়ে ঠেকিয়েছিলেন মেসি। গোটা প্রথমার্ধে তাঁর পায়ে বল এসেছে বার চারেক। ৩৯ বছর বয়সে স্বাভাবিক ভাবেই তিনি বেশি দৌড়তে পারবেন না। কিন্তু তাঁর পায়ে বল পৌঁছে দেওয়ার প্রাথমিক কাজটুকুও করতে পারেননি এনজো ফের্নান্দেজ, দি পলেরা।

    অস্তমিত নীল-সাদা

    আকাশের রং নীল-সাদা। লামিনে ইয়ামাল সেদিকেই চেয়ে। ১৮ বছরের তরুণকে ঘিরে কুকুরেয়া, পোরো, রড্রি, পেড্রি এবং বাকিরা। বিড়বিড় করছেন স্প্যানিশ ফুটবলের রাজপুত্ররা। হয়তো ফুটবল দেবতাকে লা রোহার কৃতজ্ঞতা। ততক্ষণে ভালোবাসার অত্যাচারে তিনি বন্দি। স্পেনের লাল-হলুদ পতাকা ঢেকে দিচ্ছে ইয়ামালকে। মহাজাগতিক ফ্রেমে লেপ্টে স্পর্ধা, আবেগ, আদর। পরাস্ত আর্জেন্টিনা। বিশ্বজয়ী স্পেন। ২০১০ সালে স্প্যানিশ ফুটবলের ধ্বজা উড়িয়েছিলেন জাভি, ইনিয়েস্তারা। ফের ২০২৬। স্প্যানিশ আর্মাডার বিশ্বজয়। লা রোহার দ্বিতীয়বার কাপ জয়ে নায়ক কে? ফুয়েন্তে ব্রিগেডে সবাই সেরা। তিকি-তাকার মায়াজালে অস্তমিত নীল-সাদা। কাঁদছেন আরেকজনও। লিও মেসি। বিদায়বেলায় চোখের কোন চিকচিকে। তাঁকে ঘিরেই ডে পল, মার্তিনেজ, রোমেরো, নিকো গঞ্জালেজরা।

    কাঁদল সারা বিশ্বের মেসি-প্রেমীরা

    চার বছর আগে কাতারে বিশ্বকাপ জিতে কেঁদেছিলেন। স্বপ্ন পূরণের পর আবেগ ধরে রাখতে পারেননি। প্রথম বার বিশ্বজয়ের আনন্দে চোখের জল বেরিয়েছিল। কিন্তু এ বার অনেক পরিণত তিনি। ট্রফির স্বাদ পেয়ে গিয়েছেন। সেই জন্যই হয়তো শুরুতে নির্লিপ্ত দেখাচ্ছিল মেসিকে। কিন্তু শেষ পর্যন্ত নিজের আবেগ ধরে রাখতে পারলেন না। রেফারি শেষ বাঁশি বাজানোর পর কিছু ক্ষণ মাঠে দাঁড়িয়ে ছিলেন। কোমরে হাত দিয়ে চার দিকে তাকাচ্ছিলেন। তার পর হাত, পা ছড়িয়ে মাঠেই বসে পড়লেন লিয়ো। এগিয়ে এলেন লামিন ইয়ামাল। ফাইনালের আগে যে দু’জনের লড়াইয়ের কথা হচ্ছিল। এই ম্যাচে মেসিকে ছাপিয়ে গিয়েছেন ইয়ামাল। কিন্তু শেষ বেলায় মেসিকে জড়িয়ে ধরে সান্ত্বনা দিলেন তিনি। ধীরে ধীরে উঠে দাঁড়ালেন মেসি। সতীর্থদের সঙ্গে মাঠে ঘুরলেন। সমর্থকদের ধন্যবাদ জানালেন। তার পর পুরস্কার মঞ্চের কাছে গিয়ে দাঁড়ালেন। মেসিকে দেখে মনে হচ্ছিল, যত তাড়াতাড়ি সাজঘরে ফিরতে পারবেন তত ভাল। মাঠে থাকতেও আর ইচ্ছা করছিল না তাঁর। কিন্তু তখনই মেসির নামে জয়ধ্বনি উঠল মাঠে। সমর্থকেরা তাঁদের প্রিয় তারকাকে ধন্যবাদ জানালেন। সেই জয়ধ্বনি শুনে আর আবেগ ধরে রাখতে পারলেন না মেসি। কেঁদে ফেললেন। কাঁদল সারা বিশ্বের মেসি-প্রেমীরা। চোখের জলেই নায়ক থেকে মহানায়ক হয়ে ওঠেন ম্যাকবেথ, জুলিয়াস সিজার। মেসি-তো মহানায়কই, তাই বিদায়টাও চোখের জলেই।

  • Amit Shah At WB: সীমান্তে কড়া বার্তা, কলকাতায় মেগা বৈঠক! নিরাপত্তা-উন্নয়ন-বিনিয়োগে বাংলাকে শাহি বার্তা

    Amit Shah At WB: সীমান্তে কড়া বার্তা, কলকাতায় মেগা বৈঠক! নিরাপত্তা-উন্নয়ন-বিনিয়োগে বাংলাকে শাহি বার্তা

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: উত্তরবঙ্গের কৌশলগত সীমান্ত এলাকা ‘চিকেনস নেক’ পরিদর্শন থেকে কলকাতার প্রশাসনিক বৈঠক, দেশের প্রথম ভারতীয় ভাষা বিষয়ক জাদুঘর ‘শব্দলোকে’র উদ্বোধন থেকে নতুন শিল্প প্রকল্পের ভিত্তিপ্রস্তর—তিন দিনের বঙ্গ সফরে (Amit Shah At WB) একাধিক গুরুত্বপূর্ণ কর্মসূচিতে অংশ নিলেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ (Amit Shah)। নিরাপত্তা, প্রশাসনিক সমন্বয়, সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য সংরক্ষণ এবং শিল্প বিনিয়োগ—এই চারটি বিষয়ই তাঁর সফরের মূল বার্তা হিসেবে উঠে এসেছে।

    কলকাতায় হাইভোল্টেজ প্রশাসনিক বৈঠক

    কলকাতায় পৌঁছনোর পর আলিপুরের ‘সৌজন্য’য় রাজ্যের আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে উচ্চপর্যায়ের রুদ্ধদ্বার বৈঠক করেন শাহ (Amit Shah)। বৈঠকে রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari), সিবিআই, এনআইএ, সিআরপিএফ, বিএসএফ এবং রাজ্য পুলিশের শীর্ষ আধিকারিকরা উপস্থিত ছিলেন। সূত্রের খবর, সীমান্ত নিরাপত্তা, অনুপ্রবেশ রোধ, সংগঠিত অপরাধ দমন, কেন্দ্র ও রাজ্যের বিভিন্ন সংস্থার মধ্যে সমন্বয় এবং নতুন ফৌজদারি আইন কার্যকর করার বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়। নিরাপদ পরিবেশ তৈরি হলে তবেই শিল্প ও বিনিয়োগের অনুকূল পরিস্থিতি গড়ে উঠবে- এই বিষয়েও গুরুত্ব দেওয়া হয়।

    উদ্বোধন ‘শব্দলোকে’র

    বৈঠক শেষে শাহ (Amit Shah) পৌঁছন কলকাতার ন্যাশনাল লাইব্রেরির বেলভেডিয়ার হাউসে। সেখানেই উদ্বোধন হয় দেশের প্রথম ভারতীয় ভাষা বিষয়ক জাদুঘর ‘মিউজিয়াম অফ ওয়ার্ডস’ বা ‘শব্দলোকে’র প্রথম পর্যায়। এই জাদুঘরে ভারতের ২২টি ভাষার বিবর্তন ও ঐতিহ্য তুলে ধরা হয়েছে। ন’টি গ্যালারিতে প্রাচীন পাণ্ডুলিপি, তাম্রলিপি, মৌখিক ঐতিহ্য, মুদ্রিত বই এবং আধুনিক ডিজিটাল ভাষা প্রযুক্তির ইতিহাস প্রদর্শিত হচ্ছে। ২০২০ সালে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি এই প্রকল্পের ঘোষণা করেছিলেন। সংস্কৃতি মন্ত্রকের অধীনে জাতীয় গ্রন্থাগার প্রায় ১৪ কোটি টাকা ব্যয়ে প্রথম পর্যায়ের কাজ সম্পন্ন করেছে। পুরো প্রকল্পের সম্ভাব্য ব্যয় প্রায় ৪১ কোটি টাকা।

    নিউটাউনে আমুল প্রকল্পের ভিত্তিপ্রস্তর

    কলকাতার কর্মসূচির আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ ছিল নিউটাউন কনভেনশন সেন্টারে আমূলের নতুন প্রকল্পের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন। এই প্রকল্প চালু হলে দুগ্ধ শিল্পে নতুন বিনিয়োগ, কৃষক ও পশুপালকদের আয়ের সুযোগ বৃদ্ধি এবং কর্মসংস্থানের সম্ভাবনা তৈরি হবে। কোল্ড-চেন পরিকাঠামো ও খাদ্য প্রক্রিয়াকরণ শিল্পের বিকাশেও এই প্রকল্প গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিতে পারে বলে মনে করছে শিল্পমহল। রবিবারের এই অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী, বিজেপির রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য, মুখ্যসচিব মনোজ অগারওয়াল-সহ অন্যান্যরা।

    উল্লেখ্য, কলকাতার কর্মসূচির আগে উত্তরবঙ্গের কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ ‘চিকেনস নেক’ এলাকা পরিদর্শন করেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। বিএসএফ আধিকারিকদের সঙ্গে বৈঠকে সীমান্ত পরিস্থিতি, অনুপ্রবেশ রোধ, চোরাচালান বন্ধ এবং আধুনিক নজরদারি ব্যবস্থা নিয়ে আলোচনা করেন তিনি। জাতীয় নিরাপত্তার ক্ষেত্রে কোনও আপস করা হবে না বলেও সাফ জানিয়ে দেন শাহ (Amit Shah)। উত্তরবঙ্গ সফরে শিলিগুড়িতে দলীয় সাংসদ, বিধায়ক ও কোর কমিটির নেতাদের সঙ্গে বৈঠক করেন তিনি। রাজনৈতিক মহলের মতে, ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনের আগে উত্তরবঙ্গে সংগঠন মজবুত করতেও বৈঠক করেছিলেন তিনি।

    সফরের তাৎপর্য

    শাহের (Amit Shah) এই বঙ্গ সফরে নিরাপত্তা, প্রশাসন, সংস্কৃতি ও শিল্প- সব ক্ষেত্রেই সমান গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। সীমান্তে কড়া নজরদারি থেকে শুরু করে ভাষার ঐতিহ্য সংরক্ষণ এবং নতুন শিল্প বিনিয়োগের বার্তা- সব মিলিয়ে এই সফরকে উন্নয়ন ও নিরাপত্তার সমন্বিত রূপরেখা হিসেবেই দেখছে রাজনৈতিক মহলের একাংশ।

  • Ram Mandir CEO: রাম মন্দিরের সিইও পদে ২,৩৫৭ আবেদন! দৌড়ে প্রাক্তন আইএএস-আইপিএস, সেনা আধিকারিক থেকে সিএ-রা-ও 

    Ram Mandir CEO: রাম মন্দিরের সিইও পদে ২,৩৫৭ আবেদন! দৌড়ে প্রাক্তন আইএএস-আইপিএস, সেনা আধিকারিক থেকে সিএ-রা-ও 

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: রাম মন্দিরের প্রশাসনিক ব্যবস্থায় বড় পরিবর্তনের পথে শ্রী রাম জন্মভূমি তীর্থ ক্ষেত্র ট্রাস্ট। মন্দিরের প্রধান কার্যনির্বাহী আধিকারিক (Ram Mandir CEO) পদে নিয়োগের জন্য জমা পড়েছে ২,৩৫৭টি আবেদনপত্র। আবেদনকারীদের তালিকায় রয়েছেন অবসরপ্রাপ্ত আইএএস, আইপিএস আধিকারিক, সেনার প্রাক্তন কর্মী, চার্টার্ড অ্যাকাউন্ট্যান্ট (CA) এবং সমাজসেবার সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তিরা। ১৮ জুলাই ছিল আবেদনপত্র জমা দেওয়ার শেষ দিন। এবার শুরু হয়েছে আবেদনপত্র যাচাইয়ের কাজ। যোগ্য প্রার্থীদের বেছে নিতে তৈরি হয়েছে তিন সদস্যের বিশেষ কমিটি।

    কারা রয়েছেন কমিটিতে?

    মন্দিরের প্রধান কার্যনির্বাহী আধিকারিক (Ram Mandir CEO) নির্বাচনের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে তিন সদস্যের কমিটিকে। কমিটিতে রয়েছেন অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি প্রমোদ কোহলি, অবসরপ্রাপ্ত লেফটেন্যান্ট জেনারেল বিষ্ণুকান্ত চতুর্বেদী ও সুরেশ হাওয়ারে। এই কমিটি আবেদনগুলি খতিয়ে দেখবে। শিক্ষাগত যোগ্যতা, প্রশাসনিক অভিজ্ঞতার পাশাপাশি প্রার্থীর সততা, নেতৃত্ব দেওয়ার ক্ষমতা, আর্থিক স্বচ্ছতা এবং ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক বিষয়ে জ্ঞানও যাচাই করা হবে।

    কীভাবে হবে নিয়োগ (Ram Mandir CEO)?

    প্রথম ধাপে আবেদনপত্র বাছাই করা হবে। এরপর যোগ্য প্রার্থীদের ডাকা হবে সাক্ষাৎকারে। সেখান থেকে তিনজনের নাম চূড়ান্ত করে ট্রাস্টের কাছে পাঠাবে নির্বাচন কমিটি। শেষ পর্যন্ত তাঁদের মধ্যে একজনকে সিইও হিসেবে নিয়োগ করা হবে। জানা গিয়েছে, আবেদনপত্র যাচাইয়ের জন্য একজন সিনিয়র সচিব পর্যায়ের আধিকারিককে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।

    সিইও-র হাতে থাকবে বড় দায়িত্ব

    নতুন সিইও-র দায়িত্ব শুধু প্রশাসনিক কাজ দেখাই নয়, রাম মন্দিরের (Ayodhya Ram Mandir) পুরো ব্যবস্থাপনাকে আরও আধুনিক ও স্বচ্ছ করা। তাঁকে ট্রাস্ট, সরকারি দফতর, স্থানীয় প্রশাসন এবং বিভিন্ন কমিটির মধ্যে সমন্বয় রেখে কাজ করতে হবে। তাঁর দায়িত্বের মধ্যে থাকবে- মন্দিরের প্রশাসনিক কাজ পরিচালনা, আর্থিক ব্যবস্থায় স্বচ্ছতা বজায় রাখা, ভক্তদের পরিষেবা উন্নত করা, নিরাপত্তা ও কর্মী ব্যবস্থাপনা, বিভিন্ন বিভাগের মধ্যে সমন্বয় তৈরি করা।

    যোগ্যতা 

    ট্রাস্টের বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, সিইও পদের জন্য প্রার্থীর বয়স হতে হবে ৫০ থেকে ৭০ বছরের মধ্যে। থাকতে হবে স্বীকৃত বিশ্ববিদ্যালয়ের স্নাতক ডিগ্রি এবং বড় প্রতিষ্ঠান, সরকারি দফতর বা সংস্থায় অন্তত ২০ বছরের প্রশাসনিক অভিজ্ঞতা। প্রশাসন, অর্থ, হিসাবরক্ষণ, মানবসম্পদ, তথ্যপ্রযুক্তি, নিরাপত্তা এবং জনসংযোগের ক্ষেত্রে অভিজ্ঞ ব্যক্তিদের অগ্রাধিকার দেওয়া হবে। মন্দির বা ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের পরিচালনার অভিজ্ঞতা থাকলে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হবে।

    ২২ জুলাই গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক

    সিইও নিয়োগের পাশাপাশি ট্রাস্টের বিভিন্ন কমিটিতেও পরিবর্তন আনার পরিকল্পনা রয়েছে। এই বিষয়ে আলোচনা করতে ২২ জুলাই ট্রাস্টের বৈঠক ডাকা হয়েছে।

    দান চুরিকাণ্ডের পর বাড়ছে সংস্কারের গতি

    রাম মন্দিরে (Ayodhya Ram Mandir) প্রণামীর টাকা চুরি ও অনিয়মের অভিযোগ সামনে আসার পর প্রশাসনিক ব্যবস্থায় সংস্কারের প্রয়োজনীয়তা দেখা দেয়। এই ঘটনায় তদন্ত শুরু হয় এবং বিশেষ তদন্তকারী দল (SIT) গঠন করা হয়। তদন্তে কয়েকজনকে গ্রেফতার করা হয় এবং প্রায় ৭৯.৮৫ লক্ষ টাকা উদ্ধারের কথা জানানো হয়। এরপর থেকেই মন্দির পরিচালনায় আরও স্বচ্ছতা এবং জবাবদিহি আনার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। সিইও নিয়োগ সেই প্রক্রিয়ারই একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ বলে অনুমান ওয়াকিবহাল মহলের।

  • Panama Foreign Minister visit India: ভারত সফরে পানামার বিদেশমন্ত্রী, দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক মজবুত করতে হাই-প্রোফাইল বৈঠক নয়াদিল্লিতে

    Panama Foreign Minister visit India: ভারত সফরে পানামার বিদেশমন্ত্রী, দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক মজবুত করতে হাই-প্রোফাইল বৈঠক নয়াদিল্লিতে

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: পাঁচ দিনের সফরে ভারতে পানামার বিদেশমন্ত্রী (Panama Foreign Minister visit India) হাভিয়ের এদুয়ার্দো মার্তিনেজ-আচা ভাসকুয়েজ (Javier Eduardo Martinez-Acha Vasquez)। রবিবার ভোরে দিল্লির ইন্দিরা গান্ধী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে এসে পৌঁছান তিনি। তাঁর সঙ্গে রয়েছেন স্ত্রী মিরেয়া পারিস দে মার্তিনেজ আচা-ও। বিমানবন্দরে তাঁকে উষ্ণ অভ্যর্থনা জানানো হয়। ভারতের বিদেশমন্ত্রক (MEA) জানিয়েছে, ভারত ও পানামার মধ্যে অংশীদারিত্ব অত্যন্ত দৃঢ়, যা অভিন্ন মূল্যবোধ, পারস্পরিক স্বার্থ এবং শুভেচ্ছার উপর ভিত্তি করে গড়ে উঠেছে। এই সফর দুই দেশের বাণিজ্যিক ও কূটনৈতিক সম্পর্ককে (India-Panama Relationship) এক নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাবে বলে আশা করা হচ্ছে।

    কী কী কর্মসূচি রয়েছে পানামার বিদেশমন্ত্রীর?

    বিদেশমন্ত্রকের সূত্র অনুযায়ী, পাঁচ দিনের এই সফরে পানামার বিদেশমন্ত্রী (Panama Foreign Minister visit India) একাধিক হাই-প্রোফাইল বৈঠক করবেন।

    ২০ জুলাই (সোমবার): বিকেলে নয়া সংসদ ভবনে ভারতের বাণিজ্য ও শিল্পমন্ত্রী পীযূষ গোয়েলের সঙ্গে বৈঠক করবেন তিনি। বাণিজ্য ও অর্থনৈতিক সহযোগিতা বৃদ্ধিই হবে এই বৈঠকের মূল লক্ষ্য। সোমবার সন্ধ্যায় দিল্লির হায়দরাবাদ হাউসে ভারতের বিদেশমন্ত্রী এস জয়শঙ্করের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক বৈঠকে বসবেন হাভিয়ের মার্তিনেজ-আচা ভাসকুয়েজ। সেখানে আন্তর্জাতিক ভূ-রাজনীতি, দুই দেশের কৌশলগত সম্পর্ক এবং যৌথ সহযোগিতা নিয়ে আলোচনা হবে।

    ২১ জুলাই (মঙ্গলবার): এই দিনে দিল্লিতে বেশ কিছু অভ্যন্তরীণ সরকারি কর্মসূচি ও গুরুত্বপূর্ণ প্রতিনিধিদের সঙ্গে সাক্ষাতের কথা রয়েছে পানামার বিদেশমন্ত্রীর।

    ২২ জুলাই (বুধবার): ট্রান্সপোর্ট ভবনে ভারতের বন্দর, জাহাজ চলাচল ও জলপথ মন্ত্রী সর্বানন্দ সোনোয়ালের সঙ্গে সাক্ষাৎ করবেন পানামার বিদেশমন্ত্রী। সমুদ্র বাণিজ্য এবং লজিস্টিকস ক্ষেত্রে দুই দেশের কাজের পরিধি বাড়াতে এই বৈঠক অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হতে চলেছে।

    ২৩ জুলাই (বৃহস্পতিবার): পাঁচ দিনের সফর শেষ করে দুপুর ১২:৩৫ নাগাদ দিল্লির বিমানবন্দর থেকে দেশের উদ্দেশে রওনা দেবেন তিনি।

    এই বছরের শুরুতে দাভোসে ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক ফোরামের (WEF 2026) সাইডলাইনে ভারতের পক্ষ থেকে পানামার সঙ্গে পরিবেশবান্ধব জ্বালানি (Clean Energy) এবং টেকসই প্রযুক্তি নিয়ে ইতিবাচক আলোচনা হয়েছিল। বর্তমান সফরটি সেই আলোচনার সূত্র ধরেই দ্বিপাক্ষিক বিনিয়োগ ও বাণিজ্যকে (India-Panama Relationship) আরও গতিশীল করবে বলেই মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।

  • PV Sindhu: ফিনিক্সের মতো ঘুরে দাঁড়ালেন সিন্ধু! ইয়ামাগুচিকে হারিয়ে দীর্ঘ ট্রফির খরা ঘুচল ভারতের শাটলারের

    PV Sindhu: ফিনিক্সের মতো ঘুরে দাঁড়ালেন সিন্ধু! ইয়ামাগুচিকে হারিয়ে দীর্ঘ ট্রফির খরা ঘুচল ভারতের শাটলারের

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ভারতীয় ব্যাডমিন্টনের জন্য এক সোনালী রবিবার! সমস্ত সংশয়, সমালোচনা আর চোট-আঘাতের কালো মেঘ সরিয়ে ফের একবার বিশ্বমঞ্চে জ্বলে উঠলেন ভারতের সোনার মেয়ে পিভি সিন্ধু (PV Sindhu)। টোকিওর মেট্রোপলিটন জিমনেসিয়ামে আয়োজিত জাপান ওপেন ২০২৬ (Japan Open 2026)-এর ফাইনালে স্বাগতিক দেশের ফেভারিট তারকা আকানে ইয়ামাগুচিকে স্ট্রেট গেমে উড়িয়ে দিলেন তিনি। খেলার ফল সিন্ধুর পক্ষে ২১-১৭, ২১-১৭। এই ঐতিহাসিক জয়ের সঙ্গে সঙ্গেই প্রথম ভারতীয় শাটলার হিসেবে মর্যাদাপূর্ণ জাপান ওপেন (Japan Open 2026) জয়ের রেকর্ড গড়লেন ৩১ বছর বয়সী সিন্ধু। এটি তাঁর কেরিয়ারের প্রথম ‘সুপার ৭৫০’ খেতাবও বটে।

    কোর্টে চেনা আগ্রাসন ও ট্যাকটিক্যাল মাস্টারক্লাস

    গত কয়েক বছর ধরে সিন্ধুর (PV Sindhu) ফর্ম এবং চোট নিয়ে কম সমালোচনা হয়নি। ২০২৪ সালের সৈয়দ মোদি ইন্টারন্যাশনালের পর আর কোনও বড় ট্রফি আসেনি তাঁর ঝুলিতে। অনেকেই ধরে নিয়েছিলেন, দু’বারের অলিম্পিক পদকজয়ী সিন্ধুর সেরা সময় বুঝি শেষ। কিন্তু ফাইনালে সিন্ধু বুঝিয়ে দিলেন-  “ফর্ম ইজ টেম্পোরারি, ক্লাস ইজ পার্মানেন্ট।”

    প্রথম গেম: ম্যাচের শুরু থেকেই ছিল হাড্ডাহাড্ডি লড়াই। বিশ্বের ৩ নম্বর তারকা ইয়ামাগুচির বিরুদ্ধে সিন্ধু তাঁর চেনা আগ্রাসী মেজাজে ধরা দেন। জোরালো ক্রস-কোর্ট ড্রপ এবং নিখুঁত স্ম্যাশের সংমিশ্রণে ইয়ামাগুচির রিদম ভেঙে দেন তিনি। স্কোর যখন সমান-সমান, ঠিক তখনই স্নায়ুর চাপ ধরে রেখে ২১-১৭ ব্যবধানে প্রথম গেম পকেটে পুরে নেন ভারতীয় তারকা।

    দ্বিতীয় গেম: প্রথম গেম জয়ের আত্মবিশ্বাসকে কাজে লাগিয়ে দ্বিতীয় গেমে আরও ভয়ঙ্কর হয়ে ওঠেন সিন্ধু  (PV Sindhu)। ইয়ামাগুচিকে কোনও সুযোগ না দিয়েই নেটের খেলায় দুর্দান্ত ডিফেন্সের নমুনা দেখান। ঘরের মাঠের দর্শকদের সমর্থনে ইয়ামাগুচি ম্যাচে ফেরার মরিয়া চেষ্টা করলেও, ২০১৯ সালের বিশ্ব চ্যাম্পিয়নশিপের সেই অপ্রতিরোধ্য সিন্ধুর ছায়া দেখা গেল রবিবারের টোকিওতে। মাথা ঠান্ডা রেখে ২১-১৭ ব্যবধানে দ্বিতীয় গেম ও ম্যাচ জিতে ইতিহাস গড়েন তিনি। ২০১৯ সালের বিশ্ব চ্যাম্পিয়নশিপের পর এটিই সিন্ধুর কেরিয়ারের সবচেয়ে বড় এবং তাৎপর্যপূর্ণ জয়। এই জয় যেন বিশ্ব ব্যাডমিন্টনকে এক হুঙ্কার দিয়ে জানিয়ে দিল-সিন্ধু ফুরিয়ে যাননি, তিনি ফিরে এসেছেন রাজার মতোই।

    ভারতীয় ক্রীড়াজগতের নতুন রূপকথা

    সিন্ধুর (PV Sindhu) এই জয় কেবল তাঁর ব্যক্তিগত সাফল্য নয়, এটি সামগ্রিকভাবে ভারতীয় খেলাধুলার এক বিশাল জয়। বিশ্বমঞ্চে ভারতের তেরঙা উড়িয়ে যেভাবে তিনি ইতিহাস লিখলেন, তা কোটি কোটি ভারতীয়কে গর্বিত করেছে। ক্রিকেটপ্রেমী এই দেশে ব্যাডমিন্টনকে যেভাবে সিন্ধু ও তাঁর সমসাময়িকরা জনপ্রিয়তার শীর্ষে নিয়ে গেছেন, এই জয় সেই ধারাকে আরও একধাপ এগিয়ে নিয়ে গেল। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে এখন শুধুই সিন্ধুর বন্দনা, চারিদিকে ভারতের এই জয়জয়কার প্রমাণ করে দেয় যে বৈশ্বিক ক্রীড়া মানচিত্রে ভারত এখন পরাশক্তি।

    পিভি সিন্ধুর (PV Sindhu) গৌরবোজ্জ্বল ইতিহাস

    ভারতের হায়দরাবাদে ১৯৯৫ সালে জন্ম নেওয়া পুসারলা ভেঙ্কট সিন্ধু (পিভি সিন্ধু) আজ ভারতীয় খেলাধুলার এক জীবন্ত কিংবদন্তি। তাঁর বাবা-মা দুজনেই জাতীয় স্তরের ভলিবল খেলোয়াড় ছিলেন, তবে সিন্ধু বেছে নেন ব্যাডমিন্টনকে। কিংবদন্তি পুলেল্লা গোপীচাঁদের অ্যাকাডেমিতে কঠোর পরিশ্রমের মাধ্যমে বিশ্বমঞ্চে নিজের জায়গা পাকা করেন তিনি। তিনি ভারতের প্রথম মহিলা ক্রীড়াবিদ যিনি অলিম্পিকে দুটি ব্যক্তিগত পদক জিতেছেন। ২০১৬ রিও অলিম্পিকে রৌপ্য পদক এবং ২০২০ টোকিও অলিম্পিকে ব্রোঞ্জ পদক জয়। ২০১৯ সালে বিশ্ব ব্যাডমিন্টন চ্যাম্পিয়নশিপে সোনা জিতে ইতিহাস গড়েন। এই প্রতিযোগিতায় তাঁর মোট ৫টি পদক রয়েছে (১টি সোনা, ২টি রুপো, ২টি ব্রোঞ্জ)। ২০২২ কমনওয়েলথ গেমসে একক প্রতিযোগিতায় সোনা জয় এবং এশিয়ান গেমসে একাধিক পদক রয়েছে তাঁর ঝুলিতে। ক্রীড়াক্ষেত্রে অসামান্য অবদানের জন্য তিনি ভারতের সর্বোচ্চ ক্রীড়া সম্মান ‘খেলরত্ন’, এছাড়া ‘পদ্মশ্রী’ এবং ‘পদ্মভূষণে’র মতো অসামরিক সম্মানে ভূষিত হয়েছেন। চোট আঘাতের ধাক্কা কাটিয়ে ৩১ বছর বয়সে এসেও যেভাবে তিনি তরুণ তুর্কীদের হারিয়ে ট্রফি জিতছেন, তা আগামী প্রজন্মের ভারতীয় অ্যাথলিটদের কাছে এক বিরাট অনুপ্রেরণা হয়ে থাকবে।

  • US-Iran War: মধ্যপ্রাচ্যে মহাযুদ্ধের দামামা, মার্কিন সেনার মৃত্যুর বদলে ইরানে ঝাঁকে ঝাঁকে বিমান হানা ওয়াশিংটনের

    US-Iran War: মধ্যপ্রাচ্যে মহাযুদ্ধের দামামা, মার্কিন সেনার মৃত্যুর বদলে ইরানে ঝাঁকে ঝাঁকে বিমান হানা ওয়াশিংটনের

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: অব্যাহত ইরান-আমেরিকা সংঘাত (US-Iran War)। ক্রমশ জোরালো হচ্ছে মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতি। জর্ডনে ড্রোন হামলায় মার্কিন সেনা নিহতের ঘটনায় খেপে ছিল ওয়াশিংটন। তারই জেরে শনিবার গভীর রাতে দক্ষিণ ইরানের সিরিক এলাকায় বিমান হামলা চালাল আমেরিকা। বিশ্ব বাণিজ্যের অন্যতম লাইফলাইন ‘হরমুজ প্রণালী’র ওপর ইরানের নিয়ন্ত্রণ খর্ব করতেই এই অতর্কিত হামলা বলে জানিয়েছে পেন্টাগন। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে মধ্যপ্রাচ্য জুড়ে এখন চরম যুদ্ধকালীন পরিস্থিতি।

    প্রতিশোধের আগুনে জ্বলছে ওয়াশিংটন (US-Iran War)

    গত শুক্রবার জর্ডনের একটি সামরিক ঘাঁটিতে ইরানের ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় দুই মার্কিন সেনা নিহত হন, চারজন গুরুতর জখম হন। একজন এখনও পর্যন্ত নিখোঁজ। যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর এই প্রথম সরাসরি ইরানি হামলায় মার্কিন সেনার প্রাণহানির ঘটনা ঘটল। এর ঠিক পরেই আমেরিকার প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন ‘তাৎক্ষণিক ও কঠোর শাস্তি’ দেওয়ার হুঁশিয়ারি দেয়। ফলস্বরূপ, রবিবারের এই ভয়াবহ মার্কিন বিমান হামলা।

    অকেজো শান্তি চুক্তি, প্রচ্ছন্ন হুমকি মোজতবা খামেনেইর!

    আমেরিকার এই আগ্রাসনের জবাবে ইরানের সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনেই এক বিবৃতিতে ওয়াশিংটনকে ‘ক্ষমার অযোগ্য শিক্ষা’ দেওয়ার হুমকি দিয়েছেন। এর পাশাপাশি, মাত্র এক মাস আগে দুই দেশের মধ্যে হওয়া অন্তর্বর্তীকালীন শান্তি চুক্তিটিও ইরান বাতিল বলে ঘোষণা করেছে। ইরানের উপ-পররাষ্ট্রমন্ত্রী কাজেম গরিবাবাদী সাফ জানিয়েছেন, আমেরিকা চুক্তি ভঙ্গ করায় ইরান আর কোনও শর্ত মানতে বাধ্য নয়।

    ইরাক- কুয়েতেও যুদ্ধের আঁচ

    আমেরিকা ও ইরানের এই সংঘাতের (US-Iran War) রেশ আছড়ে পড়েছে প্রতিবেশী দেশগুলিতেও। ইরাকের ইরবিল অঞ্চলে কুর্দিশ বিদ্রোহী গোষ্ঠীর ঘাঁটিতে ড্রোন হামলা। জখম হয়েছেন বেশ কয়েকজন। অন্যদিকে, কুয়েতের একটি গুরুত্বপূর্ণ জল শোধন প্ল্যান্ট (ডেসালিনেশন প্ল্যান্ট) এবং তেল শোধনাগারে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র আঘাত হেনেছে। এর ফলে কুয়েতে পানীয় জলের তীব্র সঙ্কটের আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। পরিস্থিতি বেগতিক দেখে কুয়েত তাদের আকাশসীমা সাময়িকভাবে বন্ধ করে দেয় এবং জর্ডন ও সৌদি আরবও তাদের ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সক্রিয় করেছে।

    বিপাকে বিশ্ব অর্থনীতি

    হরমুজ প্রণালী (Hormuz) দিয়ে সারা বিশ্বের প্রায় ২০ শতাংশ অপরিশোধিত তেল সরবরাহ করা হয়। বর্তমানে এই প্রণালীর দখল নিয়ে আমেরিকা ও ইরানের সংঘাতের (US-Iran War) ফলে বিশ্ববাজারে তেলের দাম এক ধাক্কায় আকাশছোঁয়া হওয়ার আশঙ্কা। অসামরিক পরিকাঠামো এবং সাধারণ নাগরিকদের ওপর এই হামলার কারণে উপসাগরীয় দেশগুলির জোট (GCC) ইরানকে সরাসরি ‘যুদ্ধাপরাধী’ হিসেবে দায়ী করেছে। সব মিলিয়ে, মধ্যপ্রাচ্যের এই পরিস্থিতি এখন এক সর্বাত্মক যুদ্ধের রূপ নিতে চলেছে, যা পুরো বিশ্বের কপালে চিন্তার ভাঁজ ফেলেছে।

  • Abhishek Banerjee: বুলডোজার অ্যাকশন শুরু, পুলিশ-কেন্দ্রীয় বাহিনীর ঘেরাটোপে আমতলায় গুঁড়িয়ে দেওয়া হচ্ছে অভিষেকের কার্যালয়

    Abhishek Banerjee: বুলডোজার অ্যাকশন শুরু, পুলিশ-কেন্দ্রীয় বাহিনীর ঘেরাটোপে আমতলায় গুঁড়িয়ে দেওয়া হচ্ছে অভিষেকের কার্যালয়

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: তৃণমূল সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় (Abhishek Banerjee) এর আমতলার অফিসে চলল বুলডোজার। ৫ তলা অফিস বেআইনিভাবে তৈরির অভিযোগ, ভেঙে ফেলার সিদ্ধান্ত নিয়েছে প্রশাসন। অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের আমতলার ওই সাংসদ কার্যালয় চারিদিক থেকে ঘিরে রেখেছে পুলিশ, কেন্দ্রীয় বাহিনী। ঘটনাস্থলে রয়েছে দমকল ও প্রশাসনের আধিকারিকরাও। পাঁচতলা এই কার্যালয়টি ভাঙতে আনা হয়েছে ৩টি বুলডোজার। প্রশাসনের পক্ষ থেকে আগেই জোড়া শুনানির নোটিস সাঁটিয়ে দেওয়া হয়। তবে সেই নোটিসের কোনও জবাব না মেলায় শনিবার বুলডোজার নিয়ে যাওয়া হল বিল্ডিং ভাঙার জন্য।

    বুলডোজার অ্যাকশন

    বিধানসভা নির্বাচনের ফল ঘোষণার পর থেকেই এই কার্যালয়টি তালাবন্ধ অবস্থায় ছিল। জেলা প্রশাসনের দাবি, এই কার্যালয়টি অবৈধভাবে নির্মাণ করা হয়েছিল। কোনও নথি ছাড়া এই কার্যালয়টি তৈরি হয়। কার্যালয়ের নির্মাণের কোনও বৈধ নথি দেখাতে পারেনি অভিষেক। যে কারণে বিল্ডিংটি ভেঙে ফেলা হল। ঘটনাস্থলে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে। নামানো হয়েছে পুলিশ ব়্যাফ। বাড়ি ঘিরে ফেলে কেন্দ্রীয় বাহিনী। এরপর শুরু হয় বুলডোজারের অ্যাকশন। বুলডোজার দিয়ে গুঁড়িয়ে দেওয়া হচ্ছে অভিষেকের ৫ তলা কার্যালয়। শনিবার সকালে প্রথমে কার্যালয়ের সামনে থাকা নীল রঙের শেডটি ভেঙে ফেলা হয়। ভবনের সামনে শেড ভাঙার পরে ভেঙে ফেলা হয় দোতলার সামনের দেওয়াল। সেখানে ততক্ষণে জড়ো হন এলাকাবাসীদের অনেকেই। কেউ কেউ ভবনের ভিতরেও ঢুকে পড়েন। তাঁদের ভবনের ভিতর থেকে বার করে দেয় পুলিশ।

    বিপত্তারিণীর দিনে বিপদ দূর!

    এই কার্যালয়টি সম্পূর্ণ বেআইনিভাবে ও কোনও অনুমোদিত প্ল্যান ছাড়াই গড়ে তোলা হয়েছে বলে জেলা প্রশাসনের কাছে অভিযোগ জমা পড়েছিল। এর আগে ১৫ জুলাই বেআইনি নির্মাণের অভিযোগে শুনানির জন্য জোড়া নোটিস পাঠায় প্রশাসন। বহু বিজেপি কর্মীকে দেখা যায় অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের (Abhishek Banerjee)আমতলার অফিসের সামনে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করতে। সেখান থেকে এক বিজেপি কর্মী-সমর্থক বলেন, ‘‘এখান থেকে বিগত দিনে আমাদের এত অত্যাচার করা হয়েছে, আমাদের বাড়ি থেকে বেরোতে দেওয়া হত না। মারধর করা হত। এই সেই জায়গা, যেখান থেকে আমাদের ওপর অত্যাচার করা হয়েছে। আজ বিপত্তারিণীর দিনে বিপদের খনিটাকেই উপড়ে দেওয়া হবে।’’

    বিজেপি কর্মীদের উচ্ছ্বাস

    অপর এক বিজেপি কর্মী-সমর্থক উত্তেজিত হয়ে বলেন, ‘‘এখান থেকে তৈরি হয়েছে শাহজাহান, জাহাঙ্গির। অবৈধ সন্তান তৈরি হয়েছে এখান থেকে পশ্চিমবঙ্গ জুড়ে রাজত্ব করার জন্য। বাবর থেকে ঔরঙ্গজেবের জন্ম এই অফিস থেকে। যার জন্য় এই সমাজের অবস্থা। আজ আমাদের পশ্চিমবঙ্গ রসাতলে চলে গিয়েছে। সবার আগে দরকার এখান থেকে এটা তুলে ফেলা। এটা অবৈধ। এখান থেকে বসে বসে আমাদের ওপর কী পরিমাণ অত্যাচার করা হয়েছে, আমরা জানি।’’ বিজেপি কর্মীরা অভিষেকের আমতলার সাংসদ কার্যালয়ের সামনে ‘ভারত মাতা কী জয়’, ‘জয় শ্রীরাম’ স্লোগান দিতে থাকেন। ওই সময় বিজেপি কর্মীদের জমায়েত সরিয়ে ফেলতেও দেখা যায় কেন্দ্রীয় বাহিনীকে। তারই মাঝে এক বিজেপি কর্মী বলেন, ‘‘এই সেই ঘাঁটি যেখান থেকে অভিষেক পাপী তৈরি করেছিল।’’ প্রসঙ্গত, আমতলায় নিজের কার্যালয় নিয়ে চরম প্রশাসনিক ও রাজনৈতিক টানাপোড়েনের মুখে পড়লেও অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় বিধানসভায় সই জাল করার মামলায় কলকাতা হাইকোর্ট থেকে আরও এক মাসের অন্তর্বর্তী রক্ষাকবচ পেয়েছেন।

    কেন কড়া পদক্ষেপ

    ডায়মন্ড হারবারের তৃণমূলের তরফে কোনও সভা হলে তা এই কার্যালয়ে আয়োজন করা হত। দক্ষিণ ২৪ পরগনা জেলা প্রশাসন গত ৩০ জুন প্রথম নোটিস পাঠিয়েছিল অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের (Abhishek Banerjee) আমতলার কার্যালয়ে। সেই নোটিসে কার্যালয় নির্মাণ সংক্রান্ত বিভিন্ন নথি ও অনুমোদন নিয়ে ব্যাখ্যা চাওয়া হয়েছিল। পরে ৭ জুলাই আরও একটি নোটিস দেওয়া হয়। পাশাপাশি ১৫ জুলাই জেলা প্রশাসনের দফতরে হাজির হয়ে বিষয়টি নিয়ে জবাব দেওয়ার নির্দেশও দেওয়া হয়েছিল। প্রশাসনের দাবি, পরপর দুটি নোটিস পাঠানো হলেও তার কোনও উত্তর দেওয়া হয়নি। জেলা প্রশাসনের দফতরেও হাজির হননি অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। এরপরই প্রশাসন আরও কড়া পদক্ষেপের পথে হাঁটার সিদ্ধান্ত নেয়। জেলা শাসক, এসডিও, বিডিওও সকলে মিলে এই বিল্ডিংটি ভাঙার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। জেলা প্রশাসনের নোটিসে উল্লেখ করা হয়েছে, যে জমির ওপর এই কার্যালয়টি নির্মিত হয়েছে, সেটি ‘লিপস অ্যান্ড বাউন্ডস’-এর নামে কেনা হয়েছিল। সেই জমির নথিতে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের বাবা অমিত বন্দ্যোপাধ্যায়ের নাম রয়েছে বলেও প্রশাসনের তরফে দাবি। এই সমস্ত বিষয়ের ব্যাখ্যা জানতে চেয়েই নোটিস পাঠানো হয়েছিল বলে জানা যায়। পরপর দু’বার নোটিসের কোনও জবাব না মেলায় প্রশাসন কঠোর অবস্থান নিয়েছে বলে সূত্রের দাবি।

    মাঠপুকুর-এর পর আমতলা!

    গত ২৪ মে ইএম বাইপাসের ধারের মাঠপুকুর এলাকায় দেবেন্দ্রচন্দ্র দে রোডের উপরে থাকা তৃণমূলের একটি দলীয় কার্যালয় বুলডোজার দিয়ে ভেঙে ফেলা হয়। ঘটনাস্থলে উপস্থিত ছিল ট্যাংরা থানার পুলিশ। স্থানীয়দের অভিযোগ, ২০১১ সালে রাজ্যে পালাবদলের পরে একটি বাড়ির সামনের অংশ দখল করে প্রথমে ‘মাঠপুকুর ব্যায়াম সমিতি’ নামে ক্লাব তৈরি হয়। পরে সেটিই তৃণমূলের কার্যালয়ে পরিণত হয়। দীর্ঘদিন ধরে সেখানে মদ-জুয়ার আসর ও নানা অসামাজিক কাজ চলত বলেও অভিযোগ করেন এলাকাবাসীরা। এবার স্থানীয় লোকেদের অভিযোগে ভেঙা ফেলা হল তৃণমূল সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় (Abhishek Banerjee) এর আমতলার কার্যালয়।

  • PM Modi On Vikram-1 Launch: ‘ভারতের তরুণদের উপর ভরসা রাখা যায়’, বিক্রম-১-এর সাফল্যে স্কাইরুটকে অভিনন্দন প্রধানমন্ত্রী মোদির

    PM Modi On Vikram-1 Launch: ‘ভারতের তরুণদের উপর ভরসা রাখা যায়’, বিক্রম-১-এর সাফল্যে স্কাইরুটকে অভিনন্দন প্রধানমন্ত্রী মোদির

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: দেশের তরুণ উদ্ভাবকদের ওপর আস্থা রাখার সিদ্ধান্ত যে সঠিক ছিল, তা আরও একবার প্রমাণিত হল। ভারতের প্রথম বেসরকারি কক্ষপথগামী রকেট ‘বিক্রম-১’-এর সফল উৎক্ষেপণের পর এমনই অভিমত ব্যক্ত করলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি (PM Modi On Vikram-1 Launch)। ভারতের মহাকাশ অভিযাত্রা ইতিহাস গড়ল। হায়দরাবাদ-ভিত্তিক স্কাইরুট অ্যারোস্পেস-এর ‘বিক্রম-১’ (Vikram-1) শনিবার যাত্রা শুরু করল। এটি শুধু সংস্থাটির জন্যই নয়, গোটা দেশের জন্যও এক ঐতিহাসিক মাইলফলক। বেসরকারি সংস্থার মাধ্যমে কক্ষপথে রকেট উৎক্ষেপণে সক্ষম বিশ্বের তৃতীয় দেশ হিসেবে আত্মপ্রকাশ করল ভারত। এরপরই হায়দরাবাদভিত্তিক মহাকাশ স্টার্টআপ স্কাইরুট (Skyroot’s Vikram-1) অ্যারোস্পেস-কে অভিনন্দন জানান প্রধানমন্ত্রী মোদি। তিনি এই সাফল্যকে ভারতের বেসরকারি মহাকাশ খাতের জন্য এক অনুপ্রেরণা বলে উল্লেখ করেন।

    ‘বিক্রম-১’ -এর সফল উৎক্ষেপণ

    মহাকাশে পাড়ি দিল দেশের প্রথম অরবিটাল রকেট ‘বিক্রম-১’। শনিবার দুপুর ১২টা ৫ মিনিটে অন্ধ্রপ্রদেশের শ্রীহরিকোটা থেকে সেটির উৎক্ষেপণ করা হয়। প্রাথমিক ভাবে শনিবার সকাল সাড়ে ১১টায় বিক্রম-১ লঞ্চ করার কথা ছিল। কিন্তু তার ঠিক ৫ মিনিট আগেই তা স্থগিত করে দেওয়া হয়। ঠিক কী কারণে শেষ মুহূর্তে এই সিদ্ধান্ত, তা স্পষ্ট নয়। তার পরে দুপুর ১২টা ৫ মিনিটে রকেটটি শেষপর্যন্ত মহাকাশের উদ্দেশে রওনা দেয়। ভারতের মহাকাশ কর্মসূচির জনক ড. বিক্রম সারাভাই-এর নামে এই রকেটের নামকরণ করা হয়েছে।

    প্রধানমন্ত্রীর অভিনন্দন বার্তা

    শনিবার উৎক্ষেপণ প্রত্যক্ষ করার পর প্রধানমন্ত্রী বলেন, “পবন চন্দনা, ভারত ডাকাসহ পুরো স্কাইরুট দলকে অভিনন্দন। তোমাদের এই সাফল্য দেশের অসংখ্য তরুণ-তরুণীকে বড় স্বপ্ন দেখতে এবং নতুন কিছু করার অনুপ্রেরণা দেবে। উৎক্ষেপণের পুরো অনুষ্ঠান আমি দেখেছি। তোমাদের দলের অধিকাংশ সদস্যের বয়স ২৫ থেকে ৩০ বছরের মধ্যে—এটাই ভারতের নতুন শক্তি।” মোদি স্মরণ করিয়ে দেন, বেসরকারি সংস্থার জন্য মহাকাশ খাত খুলে দেওয়ার সিদ্ধান্তের সময় নানা সংশয় ও আপত্তি উঠেছিল। সেই প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “যখন মহাকাশ খাতকে বেসরকারি সংস্থার জন্য উন্মুক্ত করার প্রস্তাব আসে, তখন অনেকেই উদ্বেগ প্রকাশ করেছিলেন। আজ আমার দলকেও স্বীকার করতে হবে যে ভারতের তরুণদের উপর ভরসা রাখা যায়।”

    ভারতের মহাকাশ ইতিহাসে নতুন অধ্যায়

    বিক্রম-১-এর সফল উৎক্ষেপণের মাধ্যমে ভারত প্রথমবারের মতো একটি বেসরকারি সংস্থার মাধ্যমে কক্ষপথে রকেট পাঠানোর সক্ষমতা প্রদর্শন করল। এর ফলে স্কাইরুট বিশ্বের সেই সীমিত সংখ্যক সংস্থার তালিকায় স্থান করে নিল, যারা নিজস্ব প্রযুক্তিতে কক্ষপথগামী রকেট তৈরি ও উৎক্ষেপণ করতে সক্ষম। সংস্থার পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, পূর্ণমাত্রায় বাণিজ্যিক পরিষেবা শুরু করার আগে আরও এক বা দুটি পরীক্ষামূলক উৎক্ষেপণ পরিচালনা করা হবে। স্কাইরুট অ্যারোস্পেস জানিয়েছে, বিক্রম-১ টেস্ট ফ্লাইট-১-এর পেলোডগুলির মধ্যে রয়েছে একটি অত্যন্ত বিশেষ স্মারক—প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির নিজের হাতে লেখা একটি পোস্টকার্ড, যাতে লেখা রয়েছে “বন্দে মাতরম”। সংস্থার বক্তব্য অনুযায়ী, এই স্মারকটি ‘মিশন আগমন’-এর অংশ। স্কাইরুটের ভাষায়, “মিশন আগমন হলো এমন এক উদযাপন, যা অসংখ্য মানুষের হাত ধরে মহাকাশে পৌঁছেছে এবং যার গর্ব ভাগ করে নিচ্ছে গোটা দেশ।”

    ভারতের বাণিজ্যিক মহাকাশ অভিযানে বড় পদক্ষেপ

    স্কাইরুট অ্যারোস্পেসের তৈরি বিক্রম-১ একটি ছোট উপগ্রহ উৎক্ষেপণকারী কক্ষপথগামী রকেট। এটি ভবিষ্যতে বৈশ্বিক ক্ষুদ্র উপগ্রহ উৎক্ষেপণ বাজারে ভারতের অবস্থানকে আরও শক্তিশালী করবে বলে মনে করা হচ্ছে। ‘মিশন আগমন’ নামে পরিচিত এই উৎক্ষেপণটি অন্ধ্রপ্রদেশের শ্রীহরিকোটার সতীশ ধাওয়ান স্পেস সেন্টার (SDSC-SHAR)-এর প্রথম উৎক্ষেপণ কেন্দ্র থেকে সম্পন্ন হয়। পরীক্ষামূলক এই অভিযানে দেশি ও বিদেশি গ্রাহকদের একাধিক পেলোড বহন করা হয়েছে।

    ‘প্রথম চেষ্টাতেই কক্ষপথে পৌঁছানো অবিশ্বাস্য’

    সফল উৎক্ষেপণের পর স্কাইরুটের সহ-প্রতিষ্ঠাতা পবন চন্দনা বলেন, “এটি শুধু স্কাইরুটের জন্য নয়, ভারতের এবং বিশ্ব মহাকাশ শিল্পের জন্যও একটি ঐতিহাসিক মুহূর্ত। প্রথম প্রচেষ্টাতেই আমরা কক্ষপথে পৌঁছাতে পারব, তা আমি ভাবিনি।” তিনি আরও জানান, “বিশ্বের অনেক দেশ ও সংস্থাকে উৎক্ষেপণের অনুমতির জন্য দীর্ঘদিন অপেক্ষা করতে হয়। কিন্তু আমাদের ক্ষেত্রে অনুমোদন পেতে কোনও বিলম্ব হয়নি।”

    ইসরোর সাম্রাজ্যে বিক্রম-১-এর থাবা!

    ‘বিক্রম-১’ সফল হলে নতুন ইতিহাস তৈরি করবে ভারত। এর ফলে ভারত প্রথমবার কোনও বেসরকারি সংস্থার তৈরি রকেটের মাধ্যমে মহাকাশে উপগ্রহ পাঠাবে। এতদিন শুধুমাত্র সরকারি সংস্থা ইসরো মহাকাশে রকেট পাঠাত। কিন্তু এ বার সেই ধারায় বদল আসতে চলেছে। তবে এই অভিযানে নানা ভাবে সহযোগিতা করেছে ইসরো (ISRO)। সাততলা ভবনের সমান উচ্চতার বিক্রম-১ রকেটটি পৃথিবীর পৃষ্ঠ থেকে ৪৫০ কিলোমিটার উচ্চতায় অবস্থিত লো আর্থ অরবিট (Low Earth Orbit)-এর উদ্দেশে যাত্রা করল। আমেরিকা ও চিনের পর ভারতই হল বিশ্বের তৃতীয় দেশ, যেখানে কোনও বেসরকারি সংস্থা কক্ষপথে রকেট উৎক্ষেপণ সম্ভব হল। স্কাইরুটের দাবি, তারা এমন একটি পরিষেবা চালু করতে চায়, যাকে তারা ‘মহাকাশে ক্যাব সার্ভিস’ বলে অভিহিত করছে। অর্থাৎ, ঠিক যেমন সহজে একটি ক্যাব বুক করা যায়, তেমনই ভবিষ্যতে সংস্থাগুলি একটি রকেট ভাড়া করে নির্দিষ্ট কক্ষপথে উপগ্রহ স্থাপন করতে বা মহাকাশ স্টেশনে পৌঁছতে পারবে।

  • Ladakh: ১৪ হাজার ফুট উচ্চতায়, ১,০০০ মিটার গভীর কূপ, লাদাখে তৈরি হল দেশের প্রথম জিওথার্মাল বিদ্যুৎকেন্দ্র

    Ladakh: ১৪ হাজার ফুট উচ্চতায়, ১,০০০ মিটার গভীর কূপ, লাদাখে তৈরি হল দেশের প্রথম জিওথার্মাল বিদ্যুৎকেন্দ্র

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ভারতের নবায়নযোগ্য শক্তি উৎপাদনের ইতিহাসে নতুন অধ্যায়ের সূচনা হল লাদাখের (Ladakh) পুগা উপত্যকায়। সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে প্রায় ১৪ হাজার ফুট উচ্চতায়, ভূপৃষ্ঠ থেকে ১,০০০ মিটার নিচে দেশের প্রথম ও সবচেয়ে গভীর ভূ-তাপীয় (Geothermal) কূপ সফলভাবে কমিশন করা হয়েছে। এই প্রকল্প বাস্তবায়ন করেছে ওএনজিসি এনার্জি সেন্টার (ONGC Energy Centre), যা ভারতের প্রথম ১ মেগাওয়াট ক্ষমতাসম্পন্ন জিওথার্মাল বিদ্যুৎ কেন্দ্র গড়ে তোলার পথে বড় পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। লাদাখের লেফটেন্যান্ট গভর্নর ভিকে সাক্সেনা আনুষ্ঠানিকভাবে এই দুই গভীর কূপের উদ্বোধন করেন। বিশ্বের অন্যতম প্রতিকূল ভৌগোলিক ও জলবায়ুগত পরিবেশে এই ড্রিলিং সম্পন্ন হওয়ায় একে প্রকৌশলগত দৃষ্টিকোণ থেকেও বড় সাফল্য হিসেবে দেখা হচ্ছে।

    নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহের পথে সাফল্য!

    পুগা উপত্যকা দীর্ঘদিন ধরেই ভারতের অন্যতম সমৃদ্ধ ভূ-তাপীয় অঞ্চল হিসেবে পরিচিত। এখানে প্রাকৃতিক উষ্ণ প্রস্রবণ এবং ভূ-তাপীয় কার্যকলাপের উপস্থিতি বিজ্ঞানীদের নজর কেড়েছে বহু আগে থেকেই। নতুন এই কূপগুলির মাধ্যমে এবার পৃথিবীর অভ্যন্তরের তাপশক্তিকে কাজে লাগিয়ে পরিবেশবান্ধব এবং ২৪ ঘণ্টা নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ উৎপাদনের পথ খুলে গেল। বিশেষজ্ঞদের মতে, সৌর ও বায়ুশক্তির মতো আবহাওয়া-নির্ভর নয় জিওথার্মাল শক্তি। ফলে দুর্গম পার্বত্য এলাকায় নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহের ক্ষেত্রে এই প্রযুক্তি অত্যন্ত কার্যকর হতে পারে। তবে এই প্রকল্প বাস্তবায়ন মোটেও সহজ ছিল না। ১৪ হাজার ফুটের বেশি উচ্চতায় অক্সিজেনের স্বল্পতা, তীব্র শীত, দুর্গম পাহাড়ি রাস্তা এবং কঠিন পরিবহন ব্যবস্থার মধ্যেও ওএনজিসি এনার্জি সেন্টার (ONGC Energy Centre) সফলভাবে দেশের গভীরতম ভূ-তাপীয় কূপ খনন করেছে। এই দুটি কূপ থেকেই ভবিষ্যতে পরীক্ষামূলকভাবে বিদ্যুৎ উৎপাদন শুরু হবে।

    ভূ-তাপীয় শক্তির ক্ষেত্রেও দেশের অগ্রণী রাজ্য লাদাখ!

    প্রকল্পটি একসময় প্রশাসনিক জটিলতার কারণে থমকে গিয়েছিল। লাদাখ প্রশাসন, লাদাখ অটোনোমাস হিল ডেভেলপমেন্ট কাউন্সিল (LAHDC), লে এবং ওএনজিসি এনার্জি সেন্টার (ONGC Energy Centre)-এর মধ্যে ত্রিপাক্ষিক সমঝোতা স্মারকের (MoU) মেয়াদ শেষ হয়ে যাওয়ায় কাজ বন্ধ হয়ে যায়। পরে লেফটেন্যান্ট গভর্নর ভি. কে. সাক্সেনার উদ্যোগে চলতি বছরের জুন মাসে চুক্তির মেয়াদ আরও পাঁচ বছরের জন্য বাড়ানো হয়। এরপরই দ্রুত কাজ শেষ করে দুটি কূপ কমিশন করা সম্ভব হয়েছে। এই প্রকল্প সফল হলে লাদাখ শুধু সৌরশক্তির কেন্দ্র হিসেবেই নয়, ভূ-তাপীয় শক্তির ক্ষেত্রেও দেশের অগ্রণী রাজ্যে পরিণত হবে। পাশাপাশি এই প্রকল্প থেকে প্রাপ্ত তথ্য ভবিষ্যতে ভারতের অন্যান্য সম্ভাবনাময় ভূ-তাপীয় অঞ্চলে বৃহৎ পরিসরে বিদ্যুৎ উৎপাদনের পথও সুগম করবে।

LinkedIn
Share