Tag: Madhyom

Madhyom

  • India Defence Deals: সামরিক আধুনিকীকরণে বড় পদক্ষেপ, নতুন কার্বাইন ও হেভিওয়েট টর্পিডো কিনছে ভারত

    India Defence Deals: সামরিক আধুনিকীকরণে বড় পদক্ষেপ, নতুন কার্বাইন ও হেভিওয়েট টর্পিডো কিনছে ভারত

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: দেশের সামরিক সক্ষমতা আরও শক্তিশালী করতে ৪,৬৬৬ কোটি টাকা মূল্যের প্রতিরক্ষা চুক্তি স্বাক্ষর করল কেন্দ্রের মোদি সরকার। এই চুক্তির মাধ্যমে ভারতীয় সেনা ও নৌবাহিনীর জন্য ক্লোজ কোয়ার্টার ব্যাটল (CQB) কার্বাইন এবং হেভিওয়েট টর্পিডো কেনার সিদ্ধান্ত নিয়েছে প্রতিরক্ষা মন্ত্রক।

    ৪.২৫ লক্ষ সিকিউবি কার্বাইন

    প্রতিরক্ষা মন্ত্রক জানিয়েছে, ভারতীয় সেনা ও নৌবাহিনীর জন্য ৪.২৫ লক্ষের বেশি সিকিউবি কার্বাইন ও সংশ্লিষ্ট সরঞ্জাম সরবরাহ করতে সরকার প্রায় ২,৭৭০ কোটি টাকার চুক্তি করেছে। রাষ্ট্রায়ত্ত সংস্থা ভারত ফোর্জ লিমিটেড ও পিএলআর সিস্টেমস প্রাইভেট লিমিটেডের সঙ্গে এই চুক্তি সম্পন্ন হয়েছে। আধুনিক এই কার্বাইনগুলি পুরনো অস্ত্রের জায়গা নেবে এবং সীমিত পরিসরের যুদ্ধ ও শহুরে সংঘর্ষে সেনাদের কার্যক্ষমতা উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি করবে।

    প্রতিরক্ষা মন্ত্রক জানিয়েছে, বহু প্রতিক্ষিত সিকিউবি কার্বাইন প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে দেশের স্থলবাহিনী আধুনিক ও বিশ্বমানের অস্ত্রে সজ্জিত হবে এবং খুব কাছে থেকে সরাসরি মুখোমুখি সংঘাতে সেনার কার্যকারিতা বাড়বে। একইসঙ্গে, ‘আত্মনির্ভর ভারত’ উদ্যোগের অংশ হিসেবে সরকার এই প্রকল্পে দেশীয় প্রতিরক্ষা শিল্পকে অগ্রাধিকার দিয়েছে। প্রতিরক্ষা মন্ত্রক মনে করছে, এই চুক্তির ফলে দেশীয় উৎপাদন বাড়বে এবং প্রতিরক্ষা খাতে নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হবে।

    ৪৮ হেভিওয়েট টর্পিডো

    অন্যদিকে, ভারতীয় নৌবাহিনীর সাবমেরিন শক্তি বৃদ্ধির লক্ষ্যে প্রতিরক্ষা মন্ত্রক প্রায় ১,৮৯৬ কোটি টাকার পৃথক চুক্তি স্বাক্ষর করেছে ইটালির ওয়াস সাবমেরিন সিস্টেম সংস্থার সঙ্গে। এই চুক্তির আওতায় নৌবাহিনী ৪৮টি হেভিওয়েট টর্পিডো পাবে, যা কালভারি শ্রেণির (প্রজেক্ট–৭৫) সাবমেরিনে সংযুক্ত করা হবে। প্রতিরক্ষা মন্ত্রক জানিয়েছে, ২০২৮ সালের এপ্রিল থেকে টর্পিডোর সরবরাহ শুরু হবে এবং ২০৩০ সালের শুরুর দিকে তা সম্পূর্ণ হবে। নতুন টর্পিডো যুক্ত হলে জলের নিচে ভারতীয় নৌবাহিনীর আক্রমণ সক্ষমতা বহুগুণে বৃদ্ধি পাবে বলে মন্ত্রকের দাবি।

    প্রতিরক্ষা আধুনিকীকরণ কর্মসূচির অংশ হিসেবে চলতি ২০২৫–২৬ অর্থবর্ষে প্রতিরক্ষা মন্ত্রক এখনও পর্যন্ত ১,৮২,৪৯২ কোটি টাকার মূলধনী প্রতিরক্ষা চুক্তি স্বাক্ষর করেছে। মোদি সরকার জানিয়েছে, ভবিষ্যতেও সেনা ও নৌবাহিনীর যুদ্ধক্ষমতা বাড়াতে আধুনিক অস্ত্র ও প্রযুক্তি অন্তর্ভুক্ত করার প্রক্রিয়া অব্যাহত থাকবে।

  • India Maldives Relations: হানিমাধু আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর পরিচালনায় ভারতের সহায়তা চাইল মলদ্বীপ

    India Maldives Relations: হানিমাধু আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর পরিচালনায় ভারতের সহায়তা চাইল মলদ্বীপ

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: নবনির্মিত ও আধুনিকীকৃত হানিমাধু আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর পরিচালনা ও ব্যবস্থাপনার জন্য ভারতের সহায়তা চাইল মলদ্বীপ। এ বিষয়ে ভারত সরকার এয়ারপোর্টস অথরিটি অব ইন্ডিয়া (AAI)-কে প্রস্তাবটি খতিয়ে দেখার নির্দেশ দিয়েছে। ২০২৫ সালের ৯ নভেম্বর হানিমাধু বিমানবন্দরের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে মলদ্বীপ সরকার আনুষ্ঠানিকভাবে এই প্রস্তাব দেয়। অনুষ্ঠানে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির বিশেষ দূত হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কেন্দ্রীয় অসামরিক বিমান পরিবহণমন্ত্রী কে রাম মোহন নাইডু।

    হানিমাধু বিমানবন্দর-এর জন্য সহায়তা

    অসামরিক বিমান পরিবহণ মন্ত্রকের এক শীর্ষ আধিকারিক বলেন, “হানিমাধু বিমানবন্দর পরিচালনার জন্য ভারতীয় সংস্থাগুলিকে যুক্ত করা সম্ভব কি না, তা মূল্যায়নের দায়িত্ব এএআই-কে দেওয়া হয়েছে।” বর্তমানে এএআই দেশের মধ্যে ১১৩টি বিমানবন্দরের মালিক এবং ২৬টি রাজ্যে বিমানবন্দর পরিচালনা করে। অন্যদিকে, জিএমআর, জিভিকে ও আদানি গোষ্ঠীর মতো বেসরকারি সংস্থাগুলি চুক্তির ভিত্তিতে এএআই-এর মালিকানাধীন ১৩টি বিমানবন্দর পরিচালনা করছে। হানিমাধু বিমানবন্দরের আধুনিকীকরণে ভারতের ভূমিকা উল্লেখযোগ্য। এক্সিম ব্যাঙ্ক অব ইন্ডিয়ার মাধ্যমে মলদ্বীপকে ৮০০ মিলিয়ন মার্কিন ডলারের ঋণ দিয়েছে ভারত। ১৩৬.৬ মিলিয়ন ডলারের পুনর্নির্মাণ প্রকল্পের দায়িত্ব পায় ভারতীয় সংস্থা জেএমসি প্রোজেক্টস।

    হানিমাধু বিমানবন্দর সমস্যা

    এই প্রকল্পের আওতায় হানিমাধু বিমানবন্দরে ২,৪৬৫ মিটার দীর্ঘ রানওয়ে তৈরি করা হয়েছে। যেখানে এয়ারবাস এ৩২০ শ্রেণির বিমান ওঠানামা করতে পারবে। পাশাপাশি বছরে ১৩ লক্ষ যাত্রী পরিষেবার সক্ষমতা সম্পন্ন একটি আধুনিক টার্মিনাল নির্মাণ করা হয়েছে। মলদ্বীপ কর্তৃপক্ষের আশা, এর ফলে দেশের উত্তরাঞ্চলের অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে গতি আসবে। তবে এই নতুন প্রস্তাবের প্রেক্ষাপটে উঠে আসছে এক দশকেরও বেশি পুরনো জিএমআর বিতর্কের স্মৃতি। ২০১২ সালে হঠাৎ করেই মলদ্বীপ সরকার মালে আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর পরিচালনা ও সম্প্রসারণের জন্য জিএমআর-এর সঙ্গে করা ৫১১ মিলিয়ন ডলারের চুক্তি বাতিল করে এবং সংস্থাটিকে সাত দিনের মধ্যে দেশ ছাড়ার নির্দেশ দেয়। দীর্ঘ আইনি লড়াইয়ের পর ২০১৬ সালে সিঙ্গাপুরের একটি আদালতের রায়ে জিএমআর ২৭০ মিলিয়ন ডলার ক্ষতিপূরণ পায়। সেই ঘটনা এখনও পর্যন্ত মলদ্বীপে ভারতীয় কর্পোরেট বিনিয়োগের ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ সতর্কবার্তা হিসেবে বিবেচিত হয়।

  • Osman Hadi: অভিযুক্ত দুবাইতে! মুখ থুবড়ে পড়ল হাদি-হত্যা নিয়ে বাংলাদেশের করা ভারত-বিরোধী অভিযোগ

    Osman Hadi: অভিযুক্ত দুবাইতে! মুখ থুবড়ে পড়ল হাদি-হত্যা নিয়ে বাংলাদেশের করা ভারত-বিরোধী অভিযোগ

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: এবার সরকারকে চূড়ান্ত আল্টিমেটাম দিল নিহত শরিফ ওসমান হাদির (Osman Hadi) ছাত্র সংগঠন ইনকিলাব মঞ্চ। এহেন আবহে সোশ্যাল মিডিয়ায় ঘুরছে হাদির অভিযুক্ত খুনির একটি ভিডিও। বাংলাদেশের তদন্তকারী সংস্থার মতে, হাদি হত্যাকাণ্ডের মূল সন্দেহভাজন ফয়সাল করিম মাসুদ ওই ভিডিওতে দাবি করেছে (Bangladesh), খুন করার পর সে হালুয়াঘাট সীমান্ত দিয়ে ভারতে পালিয়ে গিয়েছে – এই অভিযোগ সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন।

    অভিযুক্ত খুনির দাবি (Osman Hadi)

    মাসুদের দাবি, হাদির সঙ্গে তার সম্পর্ক কেবল আর্থিক লেনদেনের মধ্যেই সীমাবদ্ধ ছিল। ভিডিওতে সে জানায়, ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানের সময় সে আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়ে ছিল। সেই সময় সাহায্যের জন্য হাদির সঙ্গে যোগাযোগ করে সে। হাদি তাকে চাকরি পাইয়ে দেওয়ার আশ্বাস দিয়ে পাঁচ লাখ টাকা দাবি করেন বলে ভিডিওতে দাবি করা হয়েছে। মাসুদের বক্তব্য, পরে সে হাদির হয়ে রাজনৈতিক সংগঠনের কাজেও যুক্ত হয়। তবে ভিডিওটির সত্যতা যাচাই করেনি মাধ্যম। এই বিষয়ে এখনও পর্যন্ত ভারত বা বাংলাদেশের কোনও সরকারি সংস্থা আনুষ্ঠানিকভাবে কোনও প্রতিক্রিয়া জানায়নি। ভিডিওতে মাসুদ বলে, “হাদির সঙ্গে কথা বলার পর তিনি আমাকে চাকরি পাইয়ে দেওয়ার আশ্বাস দেন। তিনি পাঁচ লাখ টাকা চেয়েছিলেন। তাই আমি সেই টাকা দিই। এর উদ্দেশ্য ছিল শুধুমাত্র সরকারি প্রকল্প সংক্রান্ত লবিং।”

    ২৪ ঘণ্টার আল্টিমেটাম

    এদিকে, ইনকিলাব মঞ্চ রবিবার রাতে ঢাকার শাহবাগ থেকে মহম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকারকে ২৪ ঘণ্টার আল্টিমেটাম দিয়েছে। সংগঠনের সদস্য-সচিব আবদুল্লা আল জাবের এই ঘোষণা করেন। ভারতবিরোধী অবস্থান বজায় রেখে ইনকিলাব মঞ্চের দাবি, প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে প্রত্যর্পণ না করা হলে ভারতে কর্মরত ভারতীয় নাগরিকদের ওয়ার্ক পারমিট স্থগিত করতে হবে। পাশাপাশি ভারতের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক আদালতে মামলা দায়ের করার দাবিও জানানো হয়েছে। প্রসঙ্গত, ইনকিলাব মঞ্চের (Osman Hadi) এই দাবি আসে এমন একটা সময়ে, যখন ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ অভিযোগ করে যে হাদি হত্যাকাণ্ডের দুই প্রধান সন্দেহভাজন ময়মনসিংহ জেলার হালুয়াঘাট সীমান্ত দিয়ে ভারতে পালিয়ে গিয়েছে। এই সীমান্তটি ভারতের মেঘালয় রাজ্যের সঙ্গে যুক্ত। যদিও অভিযোগ অস্বীকার করে একে ‘ভিত্তিহীন’ বলে অভিহিত করেছে সে।

    অভিযুক্ত হত্যাকারীর ভিডিও

    এই অভিযোগ ওঠার ঠিক একদিন পরেই সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়ে অভিযুক্ত হত্যাকারীর একটি ভিডিও। ভাইরাল হওয়া ভিডিওটিতে ওই ব্যক্তি জানায়, সে দুবাইয়ে রয়েছে। ভিডিওতে তাকে বলতে শোনা যায়, সে ওসমান হাদিকে হত্যা করেনি। তার দাবি, জামাত-শিবিরের সদস্যরাই ছাত্রনেতা হাদিকে হত্যা করেছে এবং সে এই হামলার পেছনে জামাতিদের জড়িত থাকার অভিযোগ তোলে। যদিও ভিডিওটির সত্যতা যাচাই করা যায়নি। বিষয়টি নিয়ে ভারত ও বাংলাদেশের (Bangladesh) কোনও সংস্থাই এখনও কোনও প্রতিক্রিয়াও জানায়নি।

    হাদি হত্যাকাণ্ডের জেরে বাংলাদেশে অস্থিরতা

    ২০২৫ সালের ডিসেম্বর মাসে কট্টরপন্থী ছাত্রনেতা হাদির হত্যাকাণ্ডের পর বাংলাদেশে নতুন করে সংঘর্ষ ছড়িয়ে পড়ে। একাধিক শহরে হিংসার ঘটনা ঘটতে দেখা গিয়েছে। হাদির দল ইনকিলাব মঞ্চ তাঁর হত্যার জন্য ইউনূস নেতৃত্বাধীন সরকারকে দায়ী করেছে। এই হিংসার বলি হয়েছিলেন দীপু চন্দ্র দাস ও অমৃত মণ্ডল নামে দুই হিন্দু নাগরিক। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ভিত্তিক কট্টর ছাত্র সংগঠন ইনকিলাব মঞ্চের প্রতিষ্ঠাতা হাদি তাঁর তীব্র ভারতবিরোধী অবস্থানের জন্য পরিচিত ছিলেন। জানা গিয়েছে, তিনি ২০২৪ সালের ছাত্র আন্দোলনের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। ওই আন্দোলনের জেরেই ক্ষমতাচ্যুত হয়ে (Osman Hadi) দেশান্তরিত হতে হয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে।

    বাংলাদেশে জাতীয় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা ফেব্রুয়ারি মাসে। প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী বিএনপির খালেদা জিয়া প্রয়াত হয়েছেন। দীর্ঘ ১৭ বছর স্বেচ্ছানির্বাসনে থাকার পর বাংলাদেশে ফিরেছেন (Bangladesh) তাঁর ছেলে তারেক রহমান। ২৫ ডিসেম্বর পরিবার নিয়ে বাংলাদেশে ফেরেন তারেক। বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে বিএনপিকেই নির্বাচনের (Osman Hadi) অন্যতম প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে দেখা হচ্ছে। যদিও নির্বাচন বয়কট করেছে শেখ হাসিনার দল আওয়ামি লিগ।

  • Lashkar-e-Taiba: “কখনও কাশ্মীর মিশন থেকে সরে আসব না”, হুমকি লস্করের, মুখে বাংলার প্রসঙ্গও

    Lashkar-e-Taiba: “কখনও কাশ্মীর মিশন থেকে সরে আসব না”, হুমকি লস্করের, মুখে বাংলার প্রসঙ্গও

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: অপারেশন ‘সিঁদুরে’র ক্ষত এখনও পুরোপুরি শুকোয়নি পাকিস্তানের। ভারতের সফল সামরিক অভিযানের পর ফের প্রকাশ্যে হুঁশিয়ারি দিল জঙ্গি সংগঠন লস্কর-ই-তৈবা (Lashkar-e-Taiba)। ২০২৫ সালের ৭ মে ভারতের চালানো নির্ভুল সামরিক অভিযানের প্রতিক্রিয়ায় এই হুমকি দিয়েছে পাক মদতপুষ্ট এই জঙ্গি সংগঠন। লস্কর-ই-তৈবার সহকারী প্রধান এবং কুখ্যাত জঙ্গি হাফিজ সইদের ঘনিষ্ঠ সহযোগী সইফুল্লা কাসুরি (Terrorist Saifullah) সম্প্রতি হাজার হাজার সমর্থকের সামনে উসকানিমূলক ভাষণ দেয়। ওই বক্তব্যে সে কাশ্মীর থেকে শুরু করে হায়দরাবাদ ও জুনাগড় পর্যন্ত ভারতের বিভিন্ন ভূখণ্ডের ওপর ‘অধিকার’ দাবি করে।

    কাসুরির হুঁশিয়ারি (Lashkar-e-Taiba)

    উসকানিমূলক ভাষায় হুঁশিয়ারি দিয়ে কাসুরি বলে, “অপারেশন সিঁদুরের সময় ভারত বড় ভুল করেছে। কারণ তারা শুধু জঙ্গি ঘাঁটিগুলিকেই নিশানা করেছে।” বক্তব্যের শেষের দিকে সে আরও উত্তেজনা ছড়ানোর চেষ্টা করে বলে, “আমার শেষ কথা… আমাদের লোকেরা শুনুক, বাইরের লোকেরা শুনুক, বন্ধুরা শুনুক, শুনুক শত্রুরাও।” নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বক্তব্য ফের একবার প্রমাণ করছে যে পাকিস্তানভিত্তিক জঙ্গি সংগঠনগুলি ভারতের সামরিক ও কূটনৈতিক সাফল্যে গভীরভাবে বিচলিত এবং পরিস্থিতি অশান্ত করে তুলতে পরিকল্পিতভাবে উসকানিমূলক ভাষা ব্যবহার করছে।

    সইফুল্লার ‘কাশ্মীর মিশন’

    যারা জঙ্গি সংগঠনের ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করে এবং তাদের কাজকর্ম প্রকাশ্যে আনে, সইফুল্লা সরাসরি তাদের উদ্দেশে চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিয়েছে। তার দাবি, গোটা বিশ্বের ব্যবস্থাই বদলে দেওয়া সম্ভব। কিন্তু লস্কর-ই-তৈবা (Lashkar-e-Taiba) কখনও তাদের তথাকথিত ‘কাশ্মীর মিশন’ থেকে সরে আসবে না। তার এই বক্তব্যকে ভারতের সার্বভৌমত্ব ও জাতীয় নিরাপত্তার বিরুদ্ধে প্রকাশ্য হুমকি হিসেবেই দেখা হচ্ছে। শুধু তাই নয়, সে কাশ্মীর ইস্যুর গায়ে ধর্মের রং লাগানোর চেষ্টাও করেছে। কাশ্মীর প্রসঙ্গকে সে ‘প্রথম কিবলার মুক্তি’র সঙ্গে তুলনা করে, যা মূলত জেরুজালেমের প্রতি ইঙ্গিত করে (Terrorist Saifullah)। সইফুল্লা বলে, “যারা আমাদের সন্ত্রাসবাদী বলে এবং আমাদের ওপর নিষেধাজ্ঞা চাপায়, তারা যেন মন দিয়ে শোনে, কাশ্মীর ও প্যালেস্তাইনকে মুক্ত করার মিশন থেকে আমরা কখনওই পিছু হটব না।”

    সন্ত্রাসবাদকে উসকে দেওয়া হচ্ছে

    বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বক্তব্য আন্তর্জাতিক মহলে সন্ত্রাসবাদকে উসকে দেওয়ার পাশাপাশি দক্ষিণ এশিয়ার নিরাপত্তা পরিস্থিতিকে আরও অস্থির করে তুলতে পারে (Lashkar-e-Taiba)। শুধু হুমকি দেওয়ায়ই সীমাবদ্ধ থাকেনি সইফুল্লা। তার দাবি, ভারত কাশ্মীর, অমৃতসর, হোশিয়ারপুর, গুরুদাসপুর, জুনাগড়, মানাবদর, হায়দরাবাদ দাক্ষিণাত্য এবং এমনকি বাংলার মতো একাধিক অঞ্চল দখল করে নিয়েছে। সইফুল্লার অভিযোগ, এই সমস্ত এলাকাই নাকি মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ ছিল এবং ব্রিটিশ ও হিন্দুদের একটি তথাকথিত ষড়যন্ত্রের মাধ্যমে সেগুলি পাকিস্তানের হাত থেকে কেড়ে নেওয়া হয়েছে (Terrorist Saifullah)।

    সইফুল্লার দাবি ভিত্তিহীন

    বিশেষজ্ঞদের মতে, সইফুল্লার এই দাবি সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন, বিভ্রান্তিকর এবং ঐতিহাসিক সত্যের পরিপন্থী। একে উসকানিমূলক প্রচার হিসেবেই দেখা হচ্ছে (Lashkar-e-Taiba)। নিজের বক্তব্যে সইফুল্লা নিজেকে ও তার সংগঠনকে ‘শান্তিপ্রিয়’ বলে তুলে ধরার চেষ্টা করে। অথচ বাস্তবে লস্কর-ই-তৈবা বিশ্বের অন্যতম বিপজ্জনক সন্ত্রাসবাদী সংগঠন হিসেবে পরিচিত এবং ভারত-সহ একাধিক দেশে নিষিদ্ধ এই সংগঠন (Terrorist Saifullah)।

     

  • Indian Men’s Cricket Team: নতুন বছরে ঠাসা সূচি, জেনে নিন ২০২৬ সালে কোথায় কাদের বিরুদ্ধে খেলবে টিম ইন্ডিয়া?

    Indian Men’s Cricket Team: নতুন বছরে ঠাসা সূচি, জেনে নিন ২০২৬ সালে কোথায় কাদের বিরুদ্ধে খেলবে টিম ইন্ডিয়া?

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: নতুন বছরে টিম ইন্ডিয়ার ক্রিকেট মরশুম শুরু হচ্ছে আগামী ১১ জানুয়ারি। ঘরের মাঠে নিউজিল্যান্ডের বিরুদ্ধে তিন ম্যাচের একদিনের সিরিজ খেলবে ভারত। নতুন বছরে টিম ইন্ডিয়া ঘরোয়া সিরিজ, বিদেশ সফর এবং আইসিসির বড় টুর্নামেন্টে অংশ নেবে। রয়েছে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের আসর। ২০২৭ একদিনের বিশ্বকাপের আগে শেষ প্রস্তুতি নেওয়ার সুযোগ বিরাট কোহলি-রোহিত শর্মাদের কাছে।

    জানুয়ারি থেকে জুনের লড়াই

    ২০২৬ সালে নিউজিল্যান্ডের বিরুদ্ধে তিন ম্যাচের একদিনের সিরিজ খেলবে ভারত। ১১, ১৪ ও ১৮ জানুয়ারি খেলা তিনটি হবে বরোদা, রাজকোট ও ইন্দোরে। এরপর রয়েছে কিউয়িদের বিরুদ্ধে পাঁচ ম্যাচের টি–টোয়েন্টি সিরিজ। ২১, ২৩, ২৫, ২৮ ও ৩১ জানুয়ারি খেলাগুলি হবে নাগপুর, রায়পুর, গুয়াহাটি, বিশাখাপত্তনম ও তিরুঅনন্তপুরমে। এরপর রয়েছে ফেব্রুয়ারিতে বিশ্বকাপ। ভারত ও শ্রীলঙ্কায় যৌথভাবে হবে টুর্নামেন্ট। খেলা শুরু ৭ ফেব্রুয়ারি। ফাইনাল ৮ মার্চ। এরপর মার্চের শেষে শুরু হয়ে যাবে আইপিএল। চলবে মে মাস অবধি। আইপিএলের পর আবার আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে ফিরবে টিম ইন্ডিয়া। জুনে আফগানিস্তান আসবে ভারতে। খেলবে একটি টেস্ট ও তিনটি ওয়ানডে। দিন এখনও ঘোষণা করা হয়নি।

    জুলাই-আগস্টে ইংল্যান্ড সফর

    জুলাইয়ে ভারত যাবে ইংল্যান্ড সফরে। খেলবে পাঁচটি টি–টোয়েন্টি ও তিনটি ওয়ানডে। ১, ৪, ৭, ৯, ১১ জুলাই টি–টোয়েন্টি ম্যাচগুলি হবে চেস্টার লি স্ট্রিট, ম্যাঞ্চেস্টার, নটিংহ্যাম, ব্রিস্টল ও সাউদাম্পটনে। আর ১৪, ১৬ ও ১৯ জুলাই একদিনের ম্যাচগুলি হবে বার্মিংহাম, কার্ডিফ ও লর্ডসে। আগস্টে ভারত যাবে শ্রীলঙ্কা সফরে। খেলবে দুই টেস্টের সিরিজ। এই সিরিজের দিনও এখনও ঘোষণা করা হয়নি।

    সেপ্টেম্বর থেকে ডিসেম্বর ২২ গজের লড়াই

    সেপ্টেম্বরে ভারত যাবে বাংলাদেশ সফরে। খেলবে তিনটি ওয়ানডে ও সমসংখ্যক টি–টোয়েন্টি ম্যাচ। এরপর ১৯ অক্টোবর থেকে ৪ অক্টোবর চলবে এশিয়ান গেমসে। জাপানে এই টুর্নামেন্টে আবার ক্রিকেট ফিরছে। এরপর আবার আফগানিস্তান আসবে ভারতে। খেলবে তিন ম্যাচের টি–টোয়েন্টি সিরিজ। এরপর দেশের মাটিতে রয়েছে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিরুদ্ধে তিন ওয়ানডে ও পাঁচ টি–টোয়েন্টির সিরিজ। অক্টোবর–নভেম্বরে ভারত যাবে নিউজিল্যান্ড সফরে। খেলবে দুটি টেস্ট, তিনটি ওয়ানডে ও পাঁচটি টি–টোয়েন্টি। এই সিরিজের দিন এখনও ঘোষণা করা হয়নি। ডিসেম্বরে শ্রীলঙ্কা আসবে ভারত সফরে। রয়েছে তিনটি ওয়ানডে ও সমসংখ্যক টি–টোয়েন্টি ম্যাচ।

    টি–টোয়েন্টি বিশ্বকাপ দখলে রাখার লড়াই

    এর মধ্যে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অবশ্যই দেশের মাটিতে টি–টোয়েন্টি বিশ্বকাপ। ২০২৪ সালে জিতেছিল টিম ইন্ডিয়া। তাই বিশ্বকাপ রক্ষার দায়িত্ব এবার সূর্যদের। দলও ঘোষণা হয়ে গিয়েছে। আগামী ৭ ফেব্রুয়ারি থেকে ৮ মার্চ পর্যন্ত চলবে এই মেগা টুর্নামেন্ট। সূর্যকুমার যাদবের অধিনায়কত্বে এই টুর্নামেন্টে খেলতে নামবে ভারত। কিউয়িদের বিরুদ্ধে পাঁচ ম্যাচের সিরিজে নিজেদের একবার যাচাই করে নেবেন সূর্যরা।

     

  • Weather Update: ১৮ বছরে শীতলতম বর্ষবরণ শহর কলকাতার! ভিড় চিড়িয়াখানা থেকে ইকো পার্কে

    Weather Update: ১৮ বছরে শীতলতম বর্ষবরণ শহর কলকাতার! ভিড় চিড়িয়াখানা থেকে ইকো পার্কে

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: নতুন বছরেও জাঁকিয়ে শীত (Weather Update)। বৃহস্পতিবার ভোরে কলকাতার (Winter in Kolkata) সর্বনিম্ন তাপমাত্রা নামল ১১.৬ ডিগ্রি সেলসিয়াসে, যা স্বাভাবিকের চেয়ে ২.৬ ডিগ্রি কম। গত ১৮ বছরে ১ জানুয়ারিতে কখনও এতটা পারদ পতন হয়নি কলকাতায়। ২০০৮ সালে বছরের প্রথম দিন কলকাতার সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ছিল ১১.৪। তার পর ২০২৬-এমন হাড়কাঁপানো ঠান্ডার সাক্ষী থাকল শহরবাসী। গত বছরের শেষ দিনে শহর কলকাতার তারপমাত্রা ছিল ১১ ডিগ্রি। জাঁকিয়ে শীতকে সঙ্গে নিয়ে এবার ভরা পৌষে চলছে কল্পতরু উৎসবও। বছরের প্রথম দিনে উৎসবের মেজাজে মানুষ ভিড় জমিয়েছেন চিড়িয়াখানা, ইকো পার্ক, ভিক্টোরিয়ায়। কল্পতরু উপলক্ষে ভিড় দক্ষিণেশ্বর, জয়রামবাটী-কামারপুকুরে।

    ফের পারদ পতনের সম্ভাবনা

    বুধবার মরসুমের শীতলতম দিন কাটিয়ে ফেলেছে কলকাতা। বুধবার ভোরে কলকাতার (Winter in Kolkata) সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ছিল ১১ ডিগ্রি সেলসিয়াস। বৃহস্পতিবার ভোরে তা সামান্য বেড়ে ১১.৬ ডিগ্রি হয়েছে। আজ শহর কলকাতার সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ২২ ডিগ্রি সেলসিয়াসের আশপাশে ঘুরপাক খেতে পারে। গতকালের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ২০.১ ডিগ্রি সেলসিয়াস ছিল, যা স্বাভাবিকের থেকে ৫.৩ ডিগ্রি কম ছিল। আলিপুর আবহাওয়া দফতর জানিয়েছে, আগামী তিন দিন কলকাতা-সহ দক্ষিণবঙ্গের জেলাগুলিতে রাতের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ২ থেকে ৩ ডিগ্রি কমবে। তার পরের চার দিন তাপমাত্রায় হেরফের হওয়ার তেমন সম্ভাবনা নেই। অর্থাৎ, আগামী সাত দিন শীতের কনকনানি থেকে খানিক রেহাই মিলতে পারে। তার পর ফের পারদ পতনের সম্ভাবনার কথা জানিয়েছে হাওয়া অফিস। আগামী কয়েক দিন উত্তরবঙ্গের জেলাগুলিতে সর্বনিম্ন তাপমাত্রায় বিশেষ পরিবর্তন হবে না। তবে এর পরের চার দিন ধীরে ধীরে কমতে পারে শীত।

    জেলায় জেলায় কুয়াশার দাপট

    নদিয়া, সিউড়ি, শ্রীনিকেতন, আসানসোলের তাপমাত্রা ঘোরাফেরা করছে ৬ থেকে ৮ ডিগ্রি সেলসিয়াসের কাছে। পশ্চিমের জেলাগুলিতে ৯ থেকে ১০ ডিগ্রির মধ্যে ঘুরপাক খাচ্ছে তাপমাত্রা। কোথাও তা ১২ ডিগ্রিতে পৌঁছেছে। উপকূলের জেলাতে ১৩ থেকে ১৬ ডিগ্রি সেলসিয়াসের মধ্যে তাপমাত্রা রয়েছে। আবহাওয়ার পূর্বাভাস বলছে, দক্ষিণবঙ্গে আগামী ৩ দিনে সর্বনিম্ন তাপমাত্রা একটু বাড়তে পারে। দক্ষিণবঙ্গের জেলাগুলিতে আগামী চার-পাঁচ দিনই কুয়াশা থাকবে। বৃহস্পতিবার ঘন কুয়াশার সতর্কতা রয়েছে দক্ষিণ ২৪ পরগনা, ঝাড়গ্রাম, পুরুলিয়া, বাঁকুড়া, পূর্ব বর্ধমান এবং পশ্চিম বর্ধমানে। শুক্রবারও দক্ষিণবঙ্গের অধিকাংশ জেলায় সকালের দিকে ঘন কুয়াশা থাকার সম্ভাবনা রয়েছে। দক্ষিণবঙ্গের সর্বত্রই হালকা থেকে মাঝারি কুয়াশার সতর্কতা জারি করা হয়েছে। এর ফলে দৃশ্যমানতা ৯৯৯ মিটার থেকে ২০০ মিটার পর্যন্ত নামতে পারে। উত্তরবঙ্গের জেলাগুলিতেও সকালের দিকে কুয়াশার দাপট থাকবে। বৃহস্পতি এবং শুক্রবার দার্জিলিং, জলপাইগুড়ি এবং কালিম্পং জেলায় হালকা বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। সেই সঙ্গে দার্জিলিঙের পার্বত্য এলাকায় তুষারপাতও হতে পারে। থাকবে কুয়াশাও।

  • PM Modi: খালেদা জিয়ার প্রয়াণে তারেক রহমানকে সমবেদনা ভারতের প্রধানমন্ত্রীর

    PM Modi: খালেদা জিয়ার প্রয়াণে তারেক রহমানকে সমবেদনা ভারতের প্রধানমন্ত্রীর

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: বাংলাদেশের প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী তথা বিএনপি চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করলেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি (PM Modi)। তিনি খালেদা জিয়ার বড় ছেলে তথা বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানকে (Tarique Rahman) শোকবার্তা পাঠিয়েছেন। তাতে প্রধানমন্ত্রী লিখেছেন, এই শোকের সময়ে তাঁর চিন্তা বাংলাদেশের জনগণের সঙ্গে রয়েছে। খালেদা জিয়ার মৃত্যু এক অপূরণীয় শূন্যতা তৈরি করলেও তাঁর রাজনৈতিক দর্শন ও উত্তরাধিকার ভবিষ্যতেও স্মরণীয় হয়ে থাকবে। তারেককে পাঠানো শোকবার্তায় প্রধানমন্ত্রী লিখেছেন, “আপনার মা, বাংলাদেশের প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী এবং বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের চেয়ারপার্সন, মহামান্য বেগম খালেদা জিয়ার প্রয়াণের সংবাদে আমি গভীরভাবে শোকাহত। এই গভীর ব্যক্তিগত ক্ষতির সময়ে আমার আন্তরিক সমবেদনা গ্রহণ করুন। ঈশ্বর তাঁর আত্মাকে চিরশান্তি দান করুন।”

    বাংলাদেশে জয়শঙ্কর (PM Modi)

    এরই মধ্যে ভারতের বিদেশমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর বুধবার খালেদা জিয়ার জানাজায় ভারতের পক্ষ থেকে প্রতিনিধিত্ব করেন। তিনি প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির পাঠানো শোকবার্তাটি সরাসরি তারেকের হাতে তুলে দেন। খালেদা জিয়া বাংলাদেশের প্রথম মহিলা প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দেশটির রাজনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছেন। তাঁর নেতৃত্ব, রাজনৈতিক সংগ্রাম এবং রাষ্ট্র পরিচালনার অভিজ্ঞতা দক্ষিণ এশিয়ার রাজনীতিতে একটি উল্লেখযোগ্য অধ্যায় হিসেবে বিবেচিত হয়। বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান ও আসন্ন ১২ ফেব্রুয়ারির সংসদ নির্বাচনে প্রধানমন্ত্রী পদপ্রার্থী হিসেবে আলোচিত তারেককে পাঠানো চিঠিতে খালেদার অবদান ও নেতৃত্বের ভূয়সী প্রশংসাও করেন প্রধানমন্ত্রী (PM Modi)। ওই চিঠিতে তিনি ২০১৫ সালের জুন মাসে ঢাকা সফরের সময় খালেদার সঙ্গে তাঁর সাক্ষাৎ ও আলোচনার কথা স্মরণ করেন। তিনি বলেন, খালেদা জিয়া ছিলেন অসাধারণ দৃঢ়তা ও অটল বিশ্বাসসম্পন্ন এক নেত্রী, যাঁর নেতৃত্ব দক্ষিণ এশিয়ার রাজনীতিতে বিশেষভাবে স্মরণীয় হয়ে থাকবে (Tarique Rahman)। দীর্ঘদিন অসুস্থ থাকার পর মঙ্গলবার প্রয়াত হন খালেদা। বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা ও প্রাক্তন রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের স্ত্রী খালেদা বাংলাদেশের রাজনীতিতে একটি শক্তিশালী ও প্রভাবশালী নাম। তাঁরই পুত্র তারেক বর্তমানে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন (PM Modi)।

    মোদির স্মৃতিচারণ

    প্রধানমন্ত্রী মোদি বলেন, বাংলাদেশের উন্নয়নে খালেদা জিয়ার গুরুত্বপূর্ণ অবদান রয়েছে। ভারত-বাংলাদেশ দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক সুদৃঢ় করতেও তিনি উল্লেখযোগ্য ভূমিকা পালন করেছেন। চিঠিতে প্রধানমন্ত্রী আশা প্রকাশ করে জানান, খালেদার আদর্শ ও মূল্যবোধ তাঁর পুত্র রহমানের হাত ধরেই এগিয়ে যাবে। সেই আদর্শ ভারত ও বাংলাদেশের গভীর, ঐতিহাসিক অংশীদারিত্বকে আরও সমৃদ্ধ করবে এবং দু’দেশের সম্পর্কের ক্ষেত্রে একটি নতুন অধ্যায়ের সূচনা করবে। প্রধানমন্ত্রী এও বলেন, খালেদা জিয়ার রাজনৈতিক দর্শন ভবিষ্যতেও দুই দেশের জনগণের জন্য একটি দিশা হিসেবে কাজ করবে (PM Modi)। শোকবার্তায় তিনি খালেদা জিয়াকে দৃঢ় সংকল্প ও অটল বিশ্বাসের বিরল নেতৃত্বের প্রতীকও বলে উল্লেখ করেন (Tarique Rahman)।

    প্রধানমন্ত্রী যা বললেন

    প্রধানমন্ত্রী বলেন, “২০১৫ সালের জুন মাসে ঢাকায় বেগম সাহেবার সঙ্গে আমার সাক্ষাৎ ও আলোচনা আমি উষ্ণতার সঙ্গে স্মরণ করি। তিনি ছিলেন এক বিরল দৃঢ়তা ও প্রত্যয়ের অধিকারী নেত্রী। বাংলাদেশের প্রথম মহিলা প্রধানমন্ত্রী হিসেবে তাঁর একটি বিশেষ জায়গা রয়েছে। বাংলাদেশের উন্নয়ন এবং ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্ককে আরও সুদৃঢ় করতে তিনি বহু গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখেছেন।” শোকবার্তায় প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, খালেদার প্রয়াণে এক অপূরণীয় শূন্যতার সৃষ্টি হয়েছে। তবে তাঁর আদর্শ ও রাজনৈতিক উত্তরাধিকার চিরস্থায়ী হয়ে থাকবে। তিনি আশা প্রকাশ করেন, বিএনপির বর্তমান নেতৃত্বের মাধ্যমে খালেদা জিয়ার আদর্শ আগামী দিনেও বহন করা হবে (Tarique Rahman)।প্রধানমন্ত্রীর (PM Modi) চিঠিতে উল্লেখ করা হয়, “আমি দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল আপনার দক্ষ নেতৃত্বে তাঁর আদর্শ এগিয়ে যাবে এবং ভারত ও বাংলাদেশের গভীর ও ঐতিহাসিক অংশীদারিত্বকে আরও সমৃদ্ধ করতে পথপ্রদর্শক হিসেবে কাজ করবে। এটি দুই দেশের সম্পর্কের ক্ষেত্রে এক নতুন দিশার সূচনা করবে।” খালেদার রাজনৈতিক জীবন, তাঁর নেতৃত্ব এবং ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্কের ক্ষেত্রে তাঁর ভূমিকা দুই দেশের ইতিহাসে চিরস্মরণীয় হয়ে থাকবে বলেও মনে করছে কূটনৈতিক ও রাজনৈতিক মহল।

    রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় দাফন

    এদিকে, বুধবার ঢাকার শেরেবাংলা নগরে স্বামী প্রাক্তন প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের কবরের পাশে রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় দাফন করা হয়েছে খালেদাকে। দীর্ঘদিনের অসুস্থতার পর মঙ্গলবার ৮০ বছর বয়সে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন খালেদা। তাঁর প্রয়াণে দেশজুড়ে নেমে এসেছে শোকের ছায়া। শেষ বিদায়ে শ্রদ্ধা জানাতে শেরেবাংলা নগরে জড়ো হন হাজার হাজার মানুষ। এঁদের মধ্যে যেমন ছিলেন রাজনৈতিক নেতা-কর্মী, তেমনই ছিলেন সাধারণ মানুষ (Tarique Rahman)। বাংলাদেশের রাজনৈতিক (PM Modi) ইতিহাসে এক প্রভাবশালী ও শক্তিশালী নেতৃত্ব হিসেবে খালেদা তিনবার দেশের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। সামরিক শাসনের পর গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠায় তাঁর ভূমিকা ছিল ঐতিহাসিক। তিনি ছিলেন দক্ষিণ এশিয়ার রাজনীতিতে অন্যতম প্রভাবশালী মহিলা নেত্রী।

    বাংলাদেশিদের পাশে মোদি

    অন্যদিকে, খালেদার মৃত্যুতে বাংলাদেশিদের উদ্দেশেও শোক প্রকাশ করেছেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী। ওই শোকবার্তায় তিনি বলেন, “এই জাতীয় শোকের মুহূর্তে আমার সহানুভূতি বাংলাদেশের জনগণের সঙ্গে রয়েছে। ইতিহাসজুড়ে তারা অসাধারণ শক্তি ও মর্যাদার পরিচয় দিয়েছে। আমি নিশ্চিত, গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ, ঐতিহ্য এবং জাতীয় ঐক্যের শক্তিতে তারা শান্তি ও সম্প্রীতির পথে এগিয়ে যাবে।” শোকবার্তায় প্রধানমন্ত্রী মোদি আরও বলেন (PM Modi), “দয়া করে আমার আন্তরিক সমবেদনা গ্রহণ করুন। আমি সর্বশক্তিমান ঈশ্বরের কাছে প্রার্থনা করি, তিনি যেন এই কঠিন সময়ে আপনাদের পরিবারকে শক্তি ও ধৈর্য দান করেন। ভবিষ্যতের সকল উদ্যোগে আমি আপনাদের সাফল্য কামনা করি।” প্রসঙ্গত, খালেদার মৃত্যু শুধু একটি রাজনৈতিক অধ্যায়ের সমাপ্তি নয়, বরং বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক সংগ্রামের ইতিহাসে এক গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় বন্ধ হয়ে গেল বলেই ধারণা রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের (Tarique Rahman)।

  • PM Modi: সমৃদ্ধ ভারত গঠনের আহ্বান, দেশবাসীর সুস্থ জীবন প্রার্থনা করলেন প্রধানমন্ত্রী, রাষ্ট্রপতি

    PM Modi: সমৃদ্ধ ভারত গঠনের আহ্বান, দেশবাসীর সুস্থ জীবন প্রার্থনা করলেন প্রধানমন্ত্রী, রাষ্ট্রপতি

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: স্বাগত ২০২৬! নতুন বছরে পা রাখল বিশ্ব। পৃথিবীর নানা প্রান্তে যখন নতুন বর্ষবরণের আনন্দ, সেই সময়ে দেশের মানুষকে নতুন বছরের শুভেচ্ছা জানালেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি (PM Modi Wishing New Year) ও রাষ্ট্রপতি (President of India) দ্রৌপদী মুর্মু। দেশকে আরও শক্তিশালী ও সমৃদ্ধ করার বার্তা দিলেন। দেশবাসীর উন্নতিতে প্রার্থনা করলেন। আহ্বান জানালেন সমৃদ্ধ ভারত গঠনের।

    প্রধানমন্ত্রী-রাষ্ট্রপতির বার্তা

    নতুন বছরের শুভেচ্ছা বার্তায় রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মু (Draupadi Murmu) ভারতে এবং ভারতের বাইরে বসবাসকারী সকল ভারতীয়কে (Indian) শুভেচ্ছা জানান। তিনি জানান, “নতুন বছর শক্তির পুণর্নবীকরণ এবং ইতিবাচক পরিবর্তনের প্রতীক। একই সঙ্গে এটি আত্ম দর্শনের এবং নতুন সংকল্পেরও সুযোগ এনে দেয়। এই অবসরে জাতির উন্নয়ন, সামাজিক সম্প্রীতি এবং প্রকৃতির রক্ষায় আমাদের প্রতিশ্রুতিকে আমরা আরও শক্তিশালী করি।” নতুন বছরের শুভেচ্ছা বার্তায় প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি দেশবাসীর জন্য প্রার্থনা করেন, যেন আগামী বছর প্রত্যেকের সুস্বাস্থ্য ও সমৃদ্ধি নিয়ে আসে। সেই সঙ্গে সকল প্রচেষ্টায় সফলতা ও সকল কার্যপূরণ হয়। তিনি বলেন, “আমাদের সমাজের শান্তি এবং সুখ প্রতিষ্ঠার প্রার্থনা করি। আশা রাখি ২০২৬ আমাদের জীবনে শান্তি, সুখ, সমৃদ্ধি নিয়ে আসুক এবং আমাদের মধ্যে নতুন শক্তি সঞ্চারিত করুক যাতে আমরা আরও শক্তিশালী এবং সমৃদ্ধ ভারত গড়ে তুলতে পারি। “

    বিশ্বজুড়ে বর্ষবরণ

    নববর্ষের আগের রাত শুরু হতেই বিশ্বজুড়ে মানুষ আতশবাজি, পারিবারিক জমায়েত এবং নতুন বছরের সংকল্পের মাধ্যমে আগামী বছরকে স্বাগত জানানো শুরু করেছিলেন সকলে। পরিবার ও বন্ধুদের সঙ্গে আনন্দের মুহূর্ত ভাগ করে নিয়ে সবাই উদযাপনে মেতে উঠেছিলেন। এই বিশ্বব্যাপী উদযাপনের সূচনা করে প্রশান্ত মহাসাগরের দ্বীপরাষ্ট্র কিরিবাতি, যা ক্রিসমাস আইল্যান্ড নামেও পরিচিত। বিশ্বের প্রথম দেশ হিসেবে এখানেই আনুষ্ঠানিকভাবে ২০২৬ সালকে স্বাগত জানানো হয়েছে। মধ্যরাত যত এগিয়ে আসছে, ততই উৎসবের প্রস্তুতিতে ব্যস্ত হয়ে উঠছে ভারতের নানা শহরও। বড় শহর থেকে শুরু করে ছোট শহর—সর্বত্রই পার্টি, আলোর সাজ, আতশবাজি এবং পারিবারিক ও বন্ধুমহলের জমায়েতে উচ্ছ্বাসের আবহ। হোটেল, রেস্তোরাঁ, ক্লাব ও খোলা প্রাঙ্গণে চলছে শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতি। অনেকেই আবার বাড়িতেই প্রিয়জনদের সঙ্গে সময় কাটিয়ে নতুন বছরকে স্বাগত জানানোর পরিকল্পনা করছেন। মন্দিরে প্রার্থনা, বাড়িতে বিশেষ রান্না এবং শুভেচ্ছা বার্তা আদানপ্রদানের মধ্য দিয়ে অনেক পরিবার নতুন বছরের সূচনা করতে চান।

  • Kalpataru Utsav: আজ ‘কল্পতরু উৎসব’, আজকের দিনেই ঠাকুর রামকৃষ্ণ বলেছিলেন, ‘‘তোমাদের চৈতন্য হোক’’

    Kalpataru Utsav: আজ ‘কল্পতরু উৎসব’, আজকের দিনেই ঠাকুর রামকৃষ্ণ বলেছিলেন, ‘‘তোমাদের চৈতন্য হোক’’

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ইংরেজি নতুন বছরের পয়লা দিন বলে কথা। বাঙালি মেতেছে বর্ষবরণের আনন্দে। এ আর নতুন কী! তবে ফি বছর ১ জানুয়ারির গুরুত্ব বাঙালির কাছে অন্যভাবেও রয়েছে, এদিন কল্পতর উৎসব (Kalpataru Utsav)। এদিনই বিশ্ববন্দিত হিন্দু ধর্মের প্রচারক স্বামী বিবেকানন্দের গুরু, ঠাকুর শ্রী শ্রী রামকৃষ্ণ পরমহংসদেব তাঁর শিষ্যদের উদ্দেশে বলেছিলেন, ‘‘তোমাদের চৈতন্য হোক’’। সকাল থেকেই দক্ষিণেশ্বর মন্দির থেকে শুরু করে রাজ্যের সর্বত্র ভক্তরা পালন করছেন কল্পতরু দিবস। ভোর থেকেই ভক্তদের ঢল দক্ষিণেশ্বর-কাশীপুর উদ্যানবাটিতে। এই দিনটির সঙ্গে জড়িয়ে রয়েছে ঠাকুর শ্রীরামকৃষ্ণদেবের (Sri Ramakrishna) স্মৃতি। ১৮৮৬ সালের ১ জানুয়ারি কল্পতরু রূপে ভক্তদের আশীর্বাদ করেছিলেন ঠাকুর শ্রীরামকৃষ্ণ।

    ঠাকুরের সংক্ষিপ্ত জীবনী

    পশ্চিমবঙ্গের হুগলি জেলার আরামবাগ মহকুমার কামারপুকুর গ্রামে ১৮৩৬ সালের ১৮ ফেব্রুয়ারি এক দরিদ্র বৈষ্ণব ক্ষুদিরাম চট্টোপাধ্যায় এবং চন্দ্রমণি দেবীর সন্তান ভূমিষ্ঠ হয়। কথিত আছে, সন্তান ভূমিষ্ঠ হওয়ার আগে গয়া তীর্থ ভ্রমণে গিয়ে ক্ষুদিরাম চট্টোপাধ্যায়, গদাধর বিষ্ণুকে স্বপ্নে দর্শন করেন। তাই নিজের চতুর্থ সন্তানের নাম তিনি রাখলেন গদাধর চট্টোপাধ্যায়। দাদা রামকুমার চট্টোপাধ্যায়ের হাত ধরে ১৮৫৫ সালে গদাধর চট্টোপাধ্যায়ের কলকাতায় আগমন ঘটে। কারণ মাহিষ্য সমাজের জমিদার পত্নী রানি রাসমণি দক্ষিণেশ্বরে কালীমন্দির প্রতিষ্ঠা করেছেন। রানিমা প্রধান পুরোহিতের দায়িত্বভার অর্পণ করেছেন কামারপুকুরের রামকুমারের হাতে। তরুণ গদাধর দাদাকে পুজোতে সাহায্য করবেন। ১ বছরের মধ্যে ছন্দপতন। আকস্মিকভাবেই ১৮৫৬ সালে মৃত্যু হল রামকুমার চট্টোপাধ্যায়ের। তাঁর স্থলাভিষিক্ত হলেন গদাধর চট্টোপাধ্যায়।

    দক্ষিণেশ্বর কালীমন্দিরের প্রধান পুরোহিতের দায়িত্বভার গ্রহণ করলেন তিনি। মন্দিরের ঠিক উত্তর-পশ্চিম কোনে তরুণ পুরোহিতের জন্য একটি ছোট্ট ঘর বরাদ্দ করা হল। শোনা যায়, এরপরেই রানি রাসমনির জামাতা মথুরামোহন গদাধর চট্টোপাধ্যায়ের নামকরণ রামকৃষ্ণ (Sri Ramakrishna) করেন, তবে এ নিয়ে বিভিন্ন মত রয়েছে, কেউ কেউ বলেন যে তাঁর এই নামকরণ করেন ঠাকুরের অন্যতম গুরু তোতাপুরী। প্রথাগত শিক্ষা তাঁর কিছুই ছিল না সেভাবে। কিন্তু মুখে মুখে বলে দিতেন হিন্দু শাস্ত্রের সমস্ত গূঢ়তত্ত্ব, অতি সরলভাষায়, একেবারে গল্পের ছলে। এজন্য তাঁকে গল্পের রাজাও বলা হয়। পরবর্তীকালে তাঁর এই বাণী সংকলিত হয় কথামৃত নামক গ্রন্থে। এরমধ্যে ঠাকুরের (Kalpataru Utsav) বিবাহ সম্পন্ন হয় কামারপুকুরের তিন মাইল উত্তর-পশ্চিমে জয়রামবাটী গ্রামের রামচন্দ্র মুখোপাধ্যায়ের কন্যা সারদাদেবীর সঙ্গে। সেটা ১৮৫৯ সালে। এতদিনে বঙ্গীয় শিক্ষিত সমাজ তাঁকে গুরুর আসনে বসিয়ে ফেলেছে। শিষ্য তালিকায় স্থান পেয়েছেন কেশবচন্দ্র সেন সমেত অন্যান্য গন্যমান্যরা।

    ১ জানুয়ারী ১৮৮৬

    শরীরে মারণ রোগ বাসা বাঁধলে, ডাক্তার মহেন্দ্রলাল সরকারের নির্দেশে তিনি নিজেকে গৃহবন্দি রাখেন প্রায় এক মাস। ১৮৮৬ খ্রিস্টাব্দের ১ জানুয়ারি কাশীপুর উদ্যানবাটিতে উপস্থিত রয়েছেন প্রায় ৩০জন মতো গৃহী ভক্ত। সকলে হাতে ফুল নিয়ে উপস্থিত। আজ ঠাকুরের দর্শন পাওয়া যাবে। ঘড়ির কাঁটায় তখন ঠিক দুপুর তিনটে। দোতলা ঘর থেকে তিনি নেমে এলেন বাগানে। পরনে সেই চিরাচরিত পোশাক। লাল পেড়ে ধুতি। উপস্থিত গৃহী ভক্তরা তাঁদের হাতে রাখা ফুল ঠাকুরের চরণে অঞ্জলি দিতে থাকেন। কথিত আছে, ঠাকুর তখন নাট্যকার গিরিশ ঘোষকে বলেন, ‘‘হ্যাঁ গো, তুমি যে আমার নামে এত কিছু চারিদিকে বলো, তো আমি আসলে কী?’’ গিরিশ ঘোষ উত্তর দিলেন, ‘‘তুমিই নররূপ ধারী পূর্ণব্রহ্ম ভগবান, আমার মত পাপী-তাপীদের মুক্তির জন্যই তোমার মর্ত্যে আগমন।’’ সবাই তখন ঠাকুরের চরণ স্পর্শ করলেন এবং ঠাকুর (Sri Ramakrishna) বললেন, ‘‘তোমাদের চৈতন্য হোক’’।

    এদিনের উৎসবকে কল্পতরু (Kalpataru Utsav) কেন বলা হয়?

    হরিবংশ ইত্যাদি পুরাণে ‘কল্পতরু’র উল্লেখ রয়েছে। দেবতা এবং অসুরদের মধ্যে সমুদ্র মন্থন হয়েছিল, পুরাণ অনুযায়ী সমুদ্র মন্থনকালে অমৃত, লক্ষ্মীদেবী, ঐরাবত ইত্যাদির সঙ্গে উঠে আসে একটি বৃক্ষ-ও। যাকে পারিজাত বৃক্ষ বলা হত। পরবর্তীতে দেবরাজ ইন্দ্রের বিখ্যাত নন্দনকাননের স্থান পায় এই পারিজাত বৃক্ষ এবং সেখান থেকে স্ত্রী সত্যভামার আবদারে শ্রীকৃষ্ণ (Sri Ramakrishna) পৃথিবীতে নিয়ে আসেন এই বৃক্ষ। এই পারিজাত বৃক্ষকে-ই ‘কল্পতরু’ বলা হয়েছে। অর্থাৎ সেই বৃক্ষ, যার কাছে যা চাওয়া হয় তাই পাওয়া যায়। কল্পতরু উৎসবের (Kalpataru Utsav) দিন ঠাকুরের ভক্তরা তাঁকে অবতার রূপে মেনে নেন। কথিত আছে, সেদিন উপস্থিত সকল ভক্তের মনোবাঞ্ছা ঠাকুরের কৃপায় পূরণ হয়েছিল। ভক্তদের বিশ্বাস রয়েছে, এই দিন ঠাকুর রামকৃষ্ণদেব সকলের মনের ইচ্ছা পূরণ করেন।

  • India’s Pralay Missile: রেঞ্জে বাংলাদেশ, পাকিস্তান! একই লঞ্চার থেকে পর পর দু’বার ছোড়া হল প্রলয়

    India’s Pralay Missile: রেঞ্জে বাংলাদেশ, পাকিস্তান! একই লঞ্চার থেকে পর পর দু’বার ছোড়া হল প্রলয়

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: সারা বিশ্ব যখন বর্ষবরণ উৎসবের প্রস্তুতিতে মগ্ন, তখনই দেশের সুরক্ষায় কঠোর ভারত। বছরের শেষ দিনে শত্রুদের নিজের শক্তির কথা জানিয়ে সতর্ক করল ভারত। তবে কোনও হামলা নয়, নিজের আত্মরক্ষার প্রস্তুতিতে মগ্ন দিল্লি। ওড়িশার চাঁদিপুরে গর্জে উঠল ভারত। ৩১ ডিসেম্বর ২০২৫, ভারতের প্রতিরক্ষা মন্ত্রক ও ডিআরডিও পরপর একই লঞ্চার থেকে দু’টি ‘প্রলয়’ মিসাইল (India’s Pralay Missile) উৎক্ষেপণ করল। এই প্রথম ব্যাক-টু-ব্যাক টেস্ট। আর দুই ক্ষেত্রেই সফল ভারত। বুধবার সকাল সাড়ে ১০টা নাগাদ ওড়িশার চাঁদিপুর উপকূলের ‘ডক্টর এপিজে আব্দুল কালাম দ্বীপ’ থেকে প্রলয় ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণ করা হয়। বুধবারের সাফল্যে উচ্ছ্বসিত কেন্দ্রীয় প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিং। ডিআরডিও, ভারতীয় সেনাকে অভিনন্দন জানিয়েছেন তিনি।

    পিনাকারের পরে প্রলয়

    পিনাকার পরে প্রলয়- এক সপ্তাহের মধ্যেই পরপর দুটি মিসাইল পরীক্ষায় সাফল্য পেল ভারত। প্রতিরক্ষা মন্ত্রকের তরফে জানানো হয়েছে, বুধবার সকাল ১০ টা ৩০ মিনিট নাগাদ ওড়িশা উপকূল থেকে পরীক্ষামূলকভাবে দুটি প্রলয় মিসাইলের উৎক্ষেপণ করেছে ডিফেন্স রিসার্চ অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট অর্গানাইজেশন (ডিআরডিও)। রুটিন পরীক্ষার অংশ হিসেবে সেই মিসাইল লঞ্চ করা হয়েছে। আর চাঁদিপুরে থাকা ইন্টিগ্রেটেড টেস্ট রেঞ্জের ট্র্যাকিং সেনসর এবং জাহাজ থেকে যে তথ্য পাওয়া গিয়েছে, তা থেকে স্পষ্ট হয়ে গিয়েছে যে দুটি মিসাইলই নির্দিষ্ট পথ ধরেই এগিয়ে গিয়েছে। পূরণ করেছে যাবতীয় মাপকাঠি।

    প্রলয় মিসাইলের রেঞ্জ

    প্রলয় ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ১৫০ থেকে ৫০০ কিলোমিটার পর্যন্ত দূরের লক্ষ্যে আঘাত করতে পারে। ‘ভূমি থেকে ভূমি’ ক্ষেপণাস্ত্রগুলি উড়ন্ত অবস্থায় অভিমুখ বদলাতেও পারে। ২০২২ সালে ভারতীয় সেনার অস্ত্রাগারে প্রথম শামিল হয়েছিল প্রলয়। তার পর থেকে সেটি উন্নত করার কাজ করছে ডিআরডিও। ৩৫০ থেকে ৭০০ এবং ৫০০ থেকে হাজার কেজির উচ্চ শক্তির বিস্ফোরক ব্যবহার করে প্রলয়। শত্রুপক্ষের ইন্টারসেপ্টর ক্ষেপণাস্ত্রকে এড়িয়ে নির্দিষ্ট লক্ষ্যে আঘাত হানতে পারে প্রলয়। ভারতীয় সেনার পাশাপাশি বায়ুসেনাও এই ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করে থাকে।

    সম্পূর্ণ দেশীয় পদ্ধতিতে তৈরি প্রলয়

    সম্পূর্ণ দেশীয় সরঞ্জাম এবং পদ্ধতিতে এই ক্ষেপণাস্ত্র তৈরি করা হয়। ২০২০ সালে পূর্ব লাদাখে চিনা ফৌজের আগ্রাসন এবং গালওয়ান উপত্যকায় রক্তাক্ত সংঘর্ষের পরে এলএসি-তে প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা জোরদার করতে সক্রিয় হয়েছিল ভারতীয় সেনা। সেই প্রক্রিয়া অনুসরণ করে ২০২২ সালে পূর্ব লাদাখে মোতায়েন করা হয়েছে প্রলয়।

    প্রলয় কেন আলাদা

    প্রলয় কেবল কোনও সাধারণ মিসাইল নয়, এটি একটি আধা-ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র। সাধারণ ক্ষেপণাস্ত্রের মতো এটি নির্দিষ্ট পথে চলে না। ওড়ার সময় এটি নিজের গতিপথ বদলে ফেলতে পারে। ফলে শত্রুপক্ষের এয়ার ডিফেন্স একে ট্র্যাক করতে গিয়ে খেই হারিয়ে ফেলবে। ১৫০ থেকে ৫০০ কিলোমিটার পাল্লার এই মিসাইলটি মোবাইল লঞ্চার থেকে যে কোনও সময় ছোড়া সম্ভব।

    রণক্ষেত্রের গেম-চেঞ্জার

    প্রলয়ের আসল শক্তি লুকিয়ে আছে এর ওয়ারহেডে। পিএফ ওয়ারহেড: একটি ৭০০ কেজির ওয়ারহেডে থাকে ৮৩ হাজার ৫০০টি টাংস্টেনের টুকরো। বিস্ফোরণের পর ১০০ মিটার এলাকা কার্যত গুঁড়িয়ে দেয় এই মিসাইল। রানওয়ে ধ্বংস: এর আরডিপিএস প্রযুক্তি মাত্র কয়েক সেকেন্ডে শত্রু বিমানঘাঁটির রানওয়েতে বড় বড় গর্ত তৈরি করে দিতে পারে। ফলে যুদ্ধবিমান সেখানে থাকলেও তা ওড়ার সুযোগই পাবে না।

    সতর্ক পাকিস্তান-বাংলাদেশ

    প্রলয় মিসাইলের সেই পরীক্ষামূলক উৎক্ষেপণের দিনদুয়েক আগেই ওড়িশার উপকূল থেকে পিনাকা দূরপাল্লার মিসাইলের পরীক্ষা করা হয়। এই মিসাইলের এটি প্রথম পরীক্ষামূলক উৎক্ষেপণ ছিল। দেশীয় প্রযুক্তিতে তৈরি করা হয়েছে এই মিসাইল। এই পিনাকা গাইডেড রকেটটির সর্বোচ্চ ১২০ কিলোমিটার পর্যন্ত লক্ষ্যবস্তুতে নিখুঁত ভাবে আঘাত হানতে সক্ষম। অর্থাৎ ভারতের উত্তরপূর্ব সীমান্ত থেকে ঢাকা থেকে চট্টগ্রামের মতো শহর অনায়াসে সেই মিসাইলের রেঞ্জে চলে আসতে পারে। এছাড়াও বাংলাদেশের খুলনা, রাজশাহির মতো যে কোনও বড় শহরই এই মিসাইলের রেঞ্জে থাকবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। আর প্রলয়ের রেঞ্জেও বাংলাদেশ থাকবে। যেমন কলকাতা থেকে ঢাকার দূরত্ব মেরেকেটে ৩৫০ কিমি। যদিও সংশ্লিষ্ট মহলের মতে, ভারতের এমন অনেক মিসাইল আছে, যেগুলির রেঞ্জে আছে বাংলাদেশ। ব্রহ্মোস মিসাইলের তো রেঞ্জে আছে পাকিস্তানও। গত অক্টোবরেই ভারতের প্রতিরক্ষা মন্ত্রী রাজনাথ সিং তো বলেছিলেন, ‘দেশ আত্মবিশ্বাসী যে আমাদের প্রতিপক্ষরা আর কোনওভাবেই ব্রহ্মোসের গ্রাস থেকে পালাতে পারবে না। পাকিস্তানের ভূখণ্ডের প্রতিটি ইঞ্চি এখন আমাদের ব্রহ্মোসের নাগালের মধ্যে আছে।’ সামরিক বিশেষজ্ঞদের মতে, এই জোড়া উৎক্ষেপণ নিছক পরীক্ষা নয়। পূর্ব এবং পশ্চিম—দুই সীমান্তের প্রতিবেশীদের জন্যই এটি কড়া বার্তা। ভারতের কৌশলগত লক্ষ্য এখন পরিষ্কার, যুদ্ধের শুরুতেই শত্রুর তেল ভাণ্ডার এবং সেনা ছাউনি ধ্বংস করে তাদের মেরুদণ্ড ভেঙে দেওয়া।

LinkedIn
Share