Tag: Mamata Banerjee

Mamata Banerjee

  • BJP: এসআইআর-বিরোধী আন্দোলনের পালটা কলকাতার রাজপথে বিজেপি, মিছিলে নীতিন নবীন-শুভেন্দু-শমীক

    BJP: এসআইআর-বিরোধী আন্দোলনের পালটা কলকাতার রাজপথে বিজেপি, মিছিলে নীতিন নবীন-শুভেন্দু-শমীক

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: এসআইআর (ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন) ঘিরে দেশজুড়ে রাজনৈতিক উত্তাপ ক্রমশ বাড়ছে। নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে বিরোধীদের লাগাতার আন্দোলনের পালটা এবার রাজপথে নামল বিজেপি (BJP)। সোমবার কলকাতায় ‘গণতন্ত্র বাঁচাও, অরাজকতা হটাও’ স্লোগান সামনে রেখে পদযাত্রা করে গেরুয়া শিবির। কলেজ স্কোয়ার থেকে শুরু হয়ে মিছিল শেষ হয় ধর্মতলায় গিয়ে। এই কর্মসূচিতে নেতৃত্ব দেন বিজেপির সর্বভারতীয় সভাপতি নীতিন নবীন। তাঁর সঙ্গে মিছিলে হাঁটেন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী এবং বিজেপির রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য। জাতীয় পতাকা হাতে কয়েকশো দলীয় নেতা-কর্মী ও সমর্থকও এই পদযাত্রায় অংশ নেন (Kolkata Rally)।

    সোমবার বিকেলে কলকাতায় পৌঁছন নীতিন নবীন। বিমানবন্দরে তাঁকে স্বাগত জানান মুখ্যমন্ত্রী। এরপর দু’জনে কলেজ স্ট্রিটে পৌঁছন। তাঁদের ঘিরে তখন থেকেই এলাকায় বিজেপি কর্মী-সমর্থকদের ভিড় জমতে শুরু করে। নির্ধারিত সময়ে কলেজ স্কোয়ার থেকে পদযাত্রা শুরু হয়। মিছিলের সামনের সারিতে জাতীয় পতাকা হাতে দেখা যায় নীতিন নবীন, শুভেন্দু এবং শমীককে। কলেজ স্ট্রিট থেকে মধ্য কলকাতার বিভিন্ন রাস্তা ধরে মিছিল এগিয়ে যায় ধর্মতলার দিকে।

    গণতন্ত্র রক্ষার বার্তা (BJP)

    কর্মসূচি শুরুর আগে বিজেপির মুখপাত্র দেবজিৎ সরকার বিরোধীদের বিরুদ্ধে গণতন্ত্রের পরিবেশ নষ্ট করার অভিযোগ তোলেন। তাঁর বক্তব্য, বিরোধীরা গণতন্ত্রের কথা বললেও বাস্তবে অরাজকতা তৈরির চেষ্টা করছে। সেই প্রবণতার বিরুদ্ধে সাধারণ মানুষের কাছে গণতন্ত্র রক্ষার বার্তা পৌঁছে দিতেই এই পদযাত্রার আয়োজন। তিনি বলেন, “সত্যের পক্ষে এবং মিথ্যার বিরুদ্ধে রয়েছেন মানুষ।”

    একই সুর শোনা যায় বিজেপি বিধায়ক অর্জুন সিংয়ের গলায়ও। তাঁর অভিযোগ, দেশের গণতান্ত্রিক ব্যবস্থাকে দুর্বল করার চেষ্টা চলছে। এই কাজে বিদেশি শক্তির আর্থিক মদত রয়েছে বলেও দাবি করেন তিনি।

    এসআইআর প্রক্রিয়া নিয়ে নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে দীর্ঘদিন ধরেই সরব বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলি। জাতীয় নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতেও একাধিক কর্মসূচি নিয়েছে বিরোধী শিবির। বিভিন্ন রাজ্যে পথে নেমে বিক্ষোভ দেখাচ্ছে একাধিক রাজনৈতিক সংগঠন। এই আন্দোলনের পালটা হিসেবে দেশজুড়ে জনসংযোগ ও রাজনৈতিক কর্মসূচি গ্রহণ করেছে বিজেপি। দলের পক্ষ থেকে একাধিক শহরে ‘গণতন্ত্র বাঁচাও, অরাজকতা হটাও’ কর্মসূচির কথা ঘোষণা করা হয়েছে।

    মমতা-রাহুলকে নিশানা

    সোমবার কলকাতার পাশাপাশি বিহারের ভাগলপুরেও একই ধরনের কর্মসূচিতে অংশ নেন নীতিন নবীন। সেখানে এসআইআর-বিরোধী আন্দোলনকে কেন্দ্র করে তৃণমূল নেত্রী তথা বাংলার প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধীকে আক্রমণ করেন তিনি। বিজেপির এই কর্মসূচির অংশ হিসেবে হায়দরাবাদে জাতীয় পতাকা কাঁধে পদযাত্রায় অংশ নেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহও (BJP)।

    তবে কলকাতায় বিজেপির এই পদযাত্রা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে বাম শিবির। সিপিএম বিধায়ক মুস্তাফিজুর রহমান রানা এই কর্মসূচির প্রাসঙ্গিকতা নিয়ে সংশয় প্রকাশ করেন। তাঁর বক্তব্য, বিরোধীদের আন্দোলনের তেমন কোনও প্রভাব এ রাজ্যে পড়েনি। রাজ্যে নতুন সরকার গঠনের পর মাত্র ছ’মাস হয়েছে। তাহলে এখনই কলকাতায় এই ধরনের মিছিলের প্রয়োজনীয়তা কোথায়, সেই প্রশ্নও তোলেন তিনি।

    রাজনৈতিক মহলের মতে, এসআইআর নিয়ে বিরোধীদের লাগাতার প্রতিবাদের আবহে বিজেপির এই পদযাত্রা নিছক একটি সাংগঠনিক কর্মসূচি নয়, বরং পালটা রাজনৈতিক শক্তি প্রদর্শনের চেষ্টাও (Kolkata Rally)। একদিকে বিরোধীদের আন্দোলনের মোকাবিলা, অন্যদিকে দলের নেতা-কর্মীদের সক্রিয়তা বাড়ানো এবং জনসমক্ষে নিজেদের (BJP) অবস্থান তুলে ধরাই ছিল এই কর্মসূচির অন্যতম লক্ষ্য। বিহার থেকে কলকাতা, পরপর দুই রাজ্যে নীতিন নবীনের কর্মসূচি ঘিরে এসআইআরকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক সংঘাত যে আরও বিস্তৃত হচ্ছে, তা স্পষ্ট।

     

  • Kolkata Film Festival: নতুন লোগো প্রকাশে শুরু কলকাতা চলচ্চিত্র উৎসবের প্রস্তুতি! ফোকাস কান্ট্রি আয়ারল্যান্ড, ফিল্ম বাজার ঘিরে এবার বিশেষ চমক কলকাতায়

    Kolkata Film Festival: নতুন লোগো প্রকাশে শুরু কলকাতা চলচ্চিত্র উৎসবের প্রস্তুতি! ফোকাস কান্ট্রি আয়ারল্যান্ড, ফিল্ম বাজার ঘিরে এবার বিশেষ চমক কলকাতায়

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: দুর্গাপুজো, কালীপুজো, ছট, জগদ্ধাত্রী তারপর বড়দিন! কলকাতা এখন উৎসব মুখর। ডিসেম্বরে তিলোত্তমা মাতবে চলচ্চিত্র উৎসবে (Kolkata Film Festival)। ১৬ ডিসেম্বর থেকে ২৩ ডিসেম্বর ফিল্ম ফেস্টিভ্যাল শহরে। এখন তার প্রস্তুতিই তুঙ্গে। রবিবার উন্মোচিত হল ৩২ তম কলকাতা আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবের লোগো। জানানো হল, চেনা মঞ্চ ছেড়ে এবার ইতিহাসের শহরের অন্যতম ঐতিহ্যবাহী স্থাপত্য ভিক্টোরিয়া মেমোরিয়ালে বসতে চলেছে কলকাতা আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবের উদ্বোধনী আসর। উৎসব ঘিরে এবার রয়েছে চমকের পর চমক। দক্ষিণী ছবির মহাতারকা রজনীকান্ত থেকে প্রভাস, বলিউডের অক্ষয় কুমার, সঞ্জয় দত্ত, অনুপম খের, পরেশ রাওয়াল, কঙ্গনা রানাউত- উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকতে চলা তারকাদের তালিকা দীর্ঘ। সব মিলিয়ে ডিসেম্বরে কলকাতা দেখতে চলেছে তারকার মেলা।

    কলকাতা আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবের নতুন লোগো

    রবিবার নন্দনে ২- প্রেক্ষাগৃহে সাংবাদিক বৈঠকে উৎসবের নতুন লোগো প্রকাশের মাধ্যমে আনুষ্ঠানিক প্রস্তুতির সূচনা হল। পরিচালক সন্দীপ রায়ের পরিকল্পনায় তৈরি হয়েছে এবারের লোগো। সেটির উদ্বোধন করেন অভিনেতা মিঠুন চক্রবর্তী। উপস্থিত ছিলেন টলিউডের একাধিক পরিচিত মুখ এবং উৎসব কমিটির পদাধিকারীরা। সাংবাদিক বৈঠকের অন্যতম আকর্ষণ ছিলেন মিঠুন। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন প্রসেনজিৎ চট্টোপাধ্যায়, জিৎ, রুদ্রনীল ঘোষ, পাপিয়া অধিকারী-সহ বিশিষ্টরা। এ’বছর কলকাতা চলচ্চিত্র উৎসবের ফোকাস কান্ট্রি আয়ারল্যান্ড। ৫ নভেম্বর থেকে www.kiff.in ওয়েবসাইট থেকে চলচ্চিত্র উৎসব সংক্রান্ত সব তথ্য পাওয়া যাবে, আবেদন করা যাবে কার্ডেরও।

    উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে সম্ভাব্য অতিথিদের তালিকা

    লোগো প্রকাশের মঞ্চ থেকেই উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে সম্ভাব্য অতিথিদের তালিকা প্রকাশ্যে এনে কার্যত চমক দেন মহাগুরু। তাঁর কথায়, রজনীকান্ত, প্রভাস, অক্ষয় কুমার, সঞ্জয় দত্ত, পরেশ রাওয়াল, অনুপম খের, জনি লিভার এবং কঙ্গনা রানাউতের মতো তারকাদের উপস্থিত থাকার কথা রয়েছে। পাশাপাশি পরিচালক অনুরাগ বসু ও মধুর ভাণ্ডারকরও অনুষ্ঠানে যোগ দিতে পারেন। তবে এই তালিকার আনুষ্ঠানিক চূড়ান্ত ঘোষণা উৎসব কমিটির তরফে এখনও বাকি। তবে এবারের উৎসবে মোট কতগুলি ছবি দেখানো হবে, কোন কোন দেশের ছবি জায়গা পাবে, কিংবা প্রতিযোগিতা বিভাগের তালিকায় কারা থাকবে- সে বিষয়ে এখনও মুখ খোলেনি আয়োজকরা। প্রসেনজিৎ জানিয়েছেন, ছবি বাছাইয়ের কাজ চলছে। প্রথম সাংবাদিক বৈঠকের মূল উদ্দেশ্য ছিল লোগো প্রকাশ এবং উৎসবের প্রাথমিক পরিকল্পনা জানানো । নির্দিষ্ট সময়ে বাকি তথ্য আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করা হবে।

    পরিবেশগত বিধিনিষেধের প্রশ্ন

    এবার উদ্বোধনী অনুষ্ঠান ভিক্টোরিয়া মেমোরিয়ালে আয়োজনের সিদ্ধান্ত ঘিরে পরিবেশগত বিধিনিষেধের প্রশ্নে উৎসব কমিটির এক কর্তা আশ্বস্ত করেছেন, পরিবেশ সংক্রান্ত সমস্ত নিয়ম মেনেই অনুষ্ঠানের আয়োজন হবে। কোনও আইন বা বিধি লঙ্ঘন করা হবে না। উৎসব কমিটির চেয়ারম্যান প্রসেনজিৎ চট্টোপাধ্যায় জানিয়েছেন, উদ্বোধনের দিনে যে ছবি প্রদর্শিত হবে, প্রয়োজনে পরবর্তী সময়ে সেটি অন্য কোনও প্রেক্ষাগৃহে আবারও দেখানোর ব্যবস্থা করা হতে পারে। অর্থাৎ ভিক্টোরিয়ায় উদ্বোধনী আয়োজন হলেও দর্শকদের জন্য ছবিটি দেখার বিকল্প ব্যবস্থা রাখার ভাবনা রয়েছে কমিটির। উৎসবের থিম মিউজিক এবং বিশেষ প্রোমো তৈরির দায়িত্বে রয়েছেন রাতুল শঙ্কর ও অতনু।

    ‘ফিল্ম বাজার’-এর আয়োজন

    কলকাতা চলচ্চিত্র উৎসবকে কেন্দ্র করে এবার বড় আকারে ‘ফিল্ম বাজার’ আয়োজনের পরিকল্পনাও রয়েছে। এর মাধ্যমে চলচ্চিত্র নির্মাতা, প্রযোজক এবং সংশ্লিষ্ট শিল্পের সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তিদের মধ্যে যোগাযোগ ও কাজের সুযোগ তৈরির লক্ষ্য রয়েছে। সবমিলিয়ে এবারের কলকাতা আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসব শুধু ছবির প্রদর্শনীতে সীমাবদ্ধ থাকছে না। ভিক্টোরিয়ার ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপটে উদ্বোধন, মহাতারকাদের সম্ভাব্য উপস্থিতি, আয়ারল্যান্ডকে ফোকাস কান্ট্রি নির্বাচন এবং ফিল্ম বাজারের পরিকল্পনা জমজমাট কলকাতা ফিল্ম ইন্ডাস্ট্রি।

    ডেলিগেট কার্ডের জন্য নাম নথিভুক্তকরণ

    ডেলিগেট কার্ডের জন্য নাম নথিভুক্তকরণ এবং আবেদন প্রক্রিয়া নিয়েও প্রাথমিক তথ্য জানানো হয়েছে। উৎসব কমিটির সদস্য অভিনেতা রুদ্রনীল ঘোষ জানান, আগামী ৫ নভেম্বর থেকে উৎসবের নিজস্ব ওয়েবসাইটে আবেদন সংক্রান্ত যাবতীয় তথ্য পাওয়া যাবে। অনলাইনে আবেদনের পাশাপাশি প্রচলিত পদ্ধতিতেও ডেলিগেট কার্ড সংগ্রহের সুযোগ থাকবে।

    চলচ্চিত্র উৎসব উৎসাহী মুখ্যমন্ত্রী

    হাওড়ার সাঁতরাগাছি থেকে নতুন একটি ট্রেনের উদ্বোধন অনুষ্ঠানে উপস্থিত হয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে ফিল্ম ফেস্টিভ্যালের ঘোষণা করেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। এবছর বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকছেন রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মু৷ মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু বলেন, ‘চলতি বছরের কলকাতা ফিল্ম ফেস্টিভ্যালে অনেক জাতীয় স্তরের কর্মসূচি পালন করা হবে। প্রবাসী ভারতীয় সম্মেলন হবে।” প্রতি বছরই দুর্গাপুজো শেষ হতেই কলকাতা চলচ্চিত্র উৎসব ঘিরে উত্তেজনা বাড়তে থাকে। এ বার রাজনৈতিক পালাবদলের পরে প্রথম চলচ্চিত্র উৎসব। ফলে এবারের উৎসব ঘিরে বাড়তি আগ্রহ তৈরি হয়েছে চলচ্চিত্র মহলে। মুখ্যমন্ত্রীর ঘোষণার পর থেকে আগ্রহ দ্বিগুণ হয়েছে সিনেমাপ্রেমীদের৷ চলচ্চিত্রপ্রেমী থেকে শুরু করে সিনেদুনিয়ার কলাকুশলীরা, সকলেই এখন ১৭ ডিসেম্বরের দিকে তাকিয়ে। রবিবারের সাংবাদিক সম্মেলনে উৎসবের লোগো প্রকাশের মধ্যে দিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হল প্রস্তুতি পর্ব।

    নন্দন চত্বরে পরিবর্তনের ছোঁয়া

    বদলের বাংলায় নন্দন চত্বরেও এল পরিবর্তন। শহরের সংস্কৃতির প্রাণকেন্দ্রে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নামাঙ্কিত ফলকের উপরে সাদা রং করে দেওয়া হয়েছে। তবে অক্ষত রয়েছে জ্যোতি বসুর নামাঙ্কিত ফলক। ১৯৮০–তে নন্দনের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন হয়। তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রী জ্যোতি বসু যা স্থাপন করেছিলেন। তার ঠিক বছর পাঁচেক পর ১৯৮৫–তে সত্যজিৎ রায় নন্দনের উদ্বোধন করেছিলেন। ২০১১–তে রাজ্যে ক্ষমতার পালাবদল হয়। ২০১৬–য় মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নামাঙ্কিত ফলকও লাগানো হয়েছিল নন্দন–রবীন্দ্রসদন চত্বরে সৌন্দর্যায়নের কাজের পরে। ২০২৬–এ বিধানসভা নির্বাচনে রাজ্যে ফের পালাবদল হয়েছে। ১৫ বছরের তৃণমূলের শাসন শেষে রাজ্যে প্রথমবার ক্ষমতায় এসেছে বিজেপি। শুভেন্দু অধিকারীর মুখ্যমন্ত্রিত্বে হতে চলেছে ৩২তম কলকাতা আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসব। মিঠুন চক্রবর্তী জানিয়েছেন যে এখানে নতুন ফলক আবার বসবে। মিঠুন জানান সেখানে বাংলার কারুরই নাম আসবে, তবে কার কী নামের ফলক বসবে, সেটা তিনি এখনই জানাতে চাননি।

  • Suvendu Adhikari: ৩১ ডিসেম্বরের মধ্যে আড়াই লাখ মতুয়াকে নাগরিকত্ব দেওয়ার ঘোষণা শুভেন্দুর, ঠাকুরনগরের উন্নয়নে ৫০ কোটি

    Suvendu Adhikari: ৩১ ডিসেম্বরের মধ্যে আড়াই লাখ মতুয়াকে নাগরিকত্ব দেওয়ার ঘোষণা শুভেন্দুর, ঠাকুরনগরের উন্নয়নে ৫০ কোটি

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: মতুয়া সম্প্রদায়ের দীর্ঘদিনের নাগরিকত্বের দাবি পূরণে দ্রুত পদক্ষেপের আশ্বাস দিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। চলতি বছরের ৩১ ডিসেম্বরের মধ্যেই নাগরিকত্ব সংশোধনী আইনের আওতায় যোগ্য আড়াই লাখ আবেদনকারীকে ভারতীয় নাগরিকত্ব দেওয়ার প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার লক্ষ্যমাত্রা ঘোষণা করেছেন তিনি (Suvendu Adhikari)। মতুয়া সম্প্রদায়ের (Matua People) সার্বিক উন্নয়নের জন্য ৫০ কোটি টাকার বিশেষ আর্থিক প্যাকেজের কথাও জানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। স্বাস্থ্য পরিষেবা, সামাজিক সুরক্ষা, নাগরিক পরিকাঠামো এবং ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানগুলির উন্নয়নেও একাধিক উদ্যোগের কথা ঘোষণা করা হয়েছে।

    উত্তর ২৪ পরগনার বনগাঁ মহকুমার ঠাকুরনগরে আয়োজিত আন্তর্জাতিক মতুয়া গোসাঁই সম্মেলন ২০২৬-এ বক্তব্য রাখতে গিয়ে এই ঘোষণা করেন শুভেন্দু। তাঁর বক্তব্য, পশ্চিমবঙ্গে প্রথম বিজেপি সরকার গঠনে মতুয়া সম্প্রদায়ের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। তাই এই সম্প্রদায়ের দীর্ঘদিনের দাবিদাওয়া পূরণ এবং সার্বিক উন্নয়ন নিশ্চিত করতে তাঁর সরকার প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।

    আড়াই লাখ আবেদনকারীকে নাগরিকত্ব (Suvendu Adhikari)

    মুখ্যমন্ত্রী জানান, পশ্চিমবঙ্গে এখনও পর্যন্ত নাগরিকত্ব সংশোধনী আইনের অধীনে প্রায় ২৫ হাজার মানুষ নাগরিকত্ব পেয়েছেন। অথচ যোগ্য আবেদনকারীর সংখ্যা ঢের বেশি। এই পরিস্থিতিতে শুনানি ও আবেদন নিষ্পত্তির প্রক্রিয়া দ্রুত শেষ করার নির্দেশ দেওয়া হবে। তাঁর কথায়, “আমরা শুনানির প্রক্রিয়া দ্রুত করব এবং ২০২৬ সালের ৩১ ডিসেম্বরের মধ্যে আড়াই লাখ আবেদনকারীকে নাগরিকত্ব দেওয়ার ব্যবস্থা করব।”

    মতুয়াদের উদ্দেশে মুখ্যমন্ত্রীর বার্তা, “এই সরকার আপনাদের জন্য।” তাঁর দাবি, পশ্চিমবঙ্গের অন্য রাজ্যগুলিতে নাগরিকত্ব সংশোধনী আইন কার্যকর করে যোগ্য আবেদনকারীদের নাগরিকত্ব দেওয়া হলেও এ রাজ্যে প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এই আইনের বিরোধিতা করেছিলেন। এর ফলে মতুয়া সম্প্রদায়ের বহু যোগ্য মানুষ নাগরিকত্ব পাওয়ার সুযোগ থেকে বঞ্চিত হয়েছেন।

    শুভেন্দু আরও ঘোষণা করেন, নাগরিকত্ব সংশোধনী আইনের আওতায় ভারতীয় নাগরিকত্ব পাওয়া তফসিলি জাতিভুক্ত যোগ্য ব্যক্তিদের নিয়ম মেনে তফসিলি জাতির শংসাপত্রও দেওয়া হবে। এর ফলে নাগরিকত্ব পাওয়ার পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট সরকারি সুযোগ-সুবিধা পাওয়ার ক্ষেত্রেও তাঁদের সুবিধা হবে বলেও জানান তিনি।

    মতুয়া উন্নয়নে ৫০ কোটি টাকার প্যাকেজ

    মতুয়া সম্প্রদায়ের জন্য বরাদ্দ ৫০ কোটি টাকা দিয়ে স্বাস্থ্য পরিষেবা, সামাজিক সুরক্ষা, নাগরিক পরিকাঠামো এবং জনকল্যাণমূলক প্রকল্পের কাজ করা হবে বলে জানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর বক্তব্য, সরকারি নিয়ম ও নির্ধারিত পদ্ধতি মেনেই এই প্রকল্পগুলি বাস্তবায়িত হবে।

    শুভেন্দু বলেন, “স্বাস্থ্য পরিষেবা, সামাজিক সুরক্ষার ভাতা এবং অন্যান্য উন্নয়নমূলক কাজের জন্য আপনারা যা প্রয়োজন মনে করবেন, নিয়ম মেনে সরকার তার ব্যবস্থা করবে। এই সরকার আপনাদেরই।”

    এ দিন প্রস্তাবিত অন্নপূর্ণা যোজনার আওতায় আর্থিক সহায়তার কথাও ঘোষণা করেন তিনি। মুখ্যমন্ত্রীর ঘোষণা অনুযায়ী, ২৫ থেকে ৬০ বছর বয়সি মতুয়া মহিলারা মাসে ৩ হাজার টাকা করে পাবেন। ৬০ বছরের বেশি বয়সি পুরুষদের মাসিক দেড় হাজার টাকা করে দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। মতুয়া সম্প্রদায়ের সার্বিক উন্নয়নমূলক কাজের সমন্বয়ের জন্য পৃথক মতুয়া উন্নয়ন পর্ষদ গঠনের বিষয়টিও বিবেচনা করার আশ্বাস দিয়েছেন তিনি (Suvendu Adhikari)।

    ঠাকুরনগরকে পৃথক পুরসভা করার উদ্যোগ

    মতুয়া সম্প্রদায়ের ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডের অন্যতম প্রধান কেন্দ্র ঠাকুরনগরের পরিকাঠামোগত উন্নয়নেও একগুচ্ছ পরিকল্পনার কথা ঘোষণা করেছেন মুখ্যমন্ত্রী। ঠাকুরনগরকে পৃথক পুরসভার মর্যাদা দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন তিনি। আগামী রাজ্য বাজেটে এই প্রস্তাব বিবেচনা করা হতে পারে। পৃথক পুরসভা গঠিত হলে এলাকার নাগরিক পরিষেবা ও প্রশাসনিক ব্যবস্থার উন্নতি হবে বলে মনে করা হচ্ছে।

    স্বাস্থ্য পরিষেবার ক্ষেত্রেও বড় ঘোষণা করেছেন শুভেন্দু। চাঁদপাড়া স্বাস্থ্যকেন্দ্রকে ১০০ শয্যার হাসপাতালে উন্নীত করার পরিকল্পনার কথা জানিয়েছেন তিনি। হাসপাতালটির নামকরণ করা হবে মতুয়া সম্প্রদায়ের শ্রদ্ধেয় আধ্যাত্মিক নেত্রী বড়মার নামে। এই হাসপাতাল তৈরি হলে ঠাকুরনগর এবং আশপাশের এলাকার বাসিন্দাদের চিকিৎসার জন্য দূরবর্তী হাসপাতালে যাওয়ার প্রয়োজন অনেকটাই কমবে বলে আশা প্রকাশ করেন মুখ্যমন্ত্রী।

    মতুয়া মহাতীর্থে নতুন মন্দির

    মতুয়া সম্প্রদায়ের ধর্মীয় ঐতিহ্য ও সাংস্কৃতিক পরিচয় সংরক্ষণের উপরেও বিশেষ গুরুত্ব দিয়েছেন শুভেন্দু অধিকারী। মতুয়া মহাতীর্থে একটি নতুন মন্দির নির্মাণের কথা ঘোষণা করেছেন তিনি। জানিয়েছেন, তীর্থক্ষেত্রের ট্রাস্টের অর্থেই এই মন্দির তৈরি করা হবে। মন্দিরের ভূমিপুজোর অনুষ্ঠানেও তিনি নিজে উপস্থিত থাকতে চান।

    মুখ্যমন্ত্রীর কথায়, “আজ ঘোষণা করছি, মতুয়া মহাতীর্থে একটি নতুন মন্দির নির্মাণ করা হবে। ট্রাস্টের অর্থেই এই মন্দির তৈরি হবে। ভূমিপুজোর অনুষ্ঠানে আমি নিজে উপস্থিত থাকব।”

    মন্দির নির্মাণ সম্পূর্ণ হলে উদ্বোধনের জন্য প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে আমন্ত্রণ জানানোরও চেষ্টা করবেন বলে জানিয়েছেন তিনি।

    মতুয়া সম্প্রদায়ের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ধর্মীয় সমাবেশ বারুণী মেলাকে জাতীয় স্তরে পরিচিত করে তোলার পরিকল্পনাও রয়েছে রাজ্য সরকারের। ঠাকুরবাড়ি মন্দিরের সম্প্রসারণের জন্যও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নিতে নির্দেশ দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী (Suvendu Adhikari)। মতুয়া সম্প্রদায়ের গুরুত্বপূর্ণ ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক প্রতিষ্ঠানগুলির উন্নয়নেও সরকার সহযোগিতা করবে বলে আশ্বাস দিয়েছেন তিনি।

    মতুয়া ভোটের গুরুত্ব যথেষ্ট তাৎপর্যপূর্ণ

    রাজ্যের রাজনীতিতে মতুয়া সম্প্রদায়ের প্রভাব অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষ করে উত্তর ২৪ পরগনা, নদিয়া এবং জলপাইগুড়ি জেলার একাধিক বিধানসভা ও লোকসভা কেন্দ্রে এই সম্প্রদায়ের ভোট রাজনৈতিক দলগুলির কাছে বিশেষ তাৎপর্য বহন করে। ২০১৯ সালের লোকসভা নির্বাচনে মতুয়া অধ্যুষিত এলাকাগুলিতে বিজেপি উল্লেখযোগ্য সাফল্য পেয়েছিল। ওই নির্বাচনে পশ্চিমবঙ্গে ১৮টি আসনে জয়ী হয়েছিল দলটি। পরবর্তী সময়েও রাজ্যের নির্বাচনী রাজনীতিতে মতুয়া ভোট একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হয়ে থেকেছে।

    এই সম্প্রদায়ের কাছে নাগরিকত্বের প্রশ্নটি দীর্ঘদিন ধরেই বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ। মতুয়া পরিবারের একটা বড় অংশের পূর্বপুরুষের শিকড় অধুনা বাংলাদেশের ভূখণ্ডে। দেশভাগ এবং পরবর্তী সময়ে পূর্ব পাকিস্তান ও বাংলাদেশ থেকে ভারতে চলে আসা বহু পরিবারের কাছে নাগরিকত্ব, পুনর্বাসন এবং সামাজিক সুরক্ষার বিষয়গুলি এখনও (Matua People) গুরুত্বপূর্ণ।

    উল্লেখ্য, ২০১৯ সালে প্রণীত নাগরিকত্ব সংশোধনী আইন অনুযায়ী, পাকিস্তান, বাংলাদেশ ও আফগানিস্তান থেকে ধর্মীয় নিপীড়নের শিকার হয়ে অথবা নিপীড়নের আশঙ্কায় ২০১৪ সালের ৩১ ডিসেম্বর বা তার আগে ভারতে আসা হিন্দু, শিখ, বৌদ্ধ, জৈন, পার্সি ও খ্রিস্টান সম্প্রদায়ের নির্দিষ্ট যোগ্য ব্যক্তিদের ভারতীয় নাগরিকত্ব পাওয়ার বিশেষ সুযোগ রয়েছে।

    মমতাকে দুষলেন শুভেন্দু

    ঠাকুরনগরে সম্মেলনে যোগ দেওয়ার আগে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়েও প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে সরব হন শুভেন্দু। তাঁর অভিযোগ, আগের সরকার মতুয়া সম্প্রদায়ের প্রকৃত উন্নয়নে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেয়নি। বরং সম্প্রদায়ের সামাজিক ও ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানগুলির মধ্যে বিভাজন তৈরি করা হয়েছিল।

    মুখ্যমন্ত্রীর অভিযোগ, নাগরিকত্ব সংশোধনী আইনের বিরোধিতা করে আগের সরকার প্রতিবেশী দেশগুলি থেকে আসা যোগ্য শরণার্থীদের নাগরিকত্ব পাওয়ার পথেও বাধা সৃষ্টি করেছিল।

    শুভেন্দু বলেন, “আগের মুখ্যমন্ত্রী মতুয়াদের এবং তাঁদের সমাজকে বিভক্ত করেছিলেন। তাঁদের জন্য কোনও কাজই করেননি। বরং সরাসরি নাগরিকত্ব সংশোধনী আইনের বিরোধিতা করেছিলেন। আগামী দিনে আমি তাঁদের জন্য কাজ করব।”

    ঠাকুরবাড়ির অভ্যন্তরে ভবিষ্যতে আর কোনও বিভাজন থাকবে না বলেও আশ্বাস দিয়েছেন তিনি। মতুয়া সমাজের ঐক্য বজায় রাখা এবং সম্প্রদায়ের সামগ্রিক উন্নয়নে সরকার কাজ করবে বলেও জানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী (Suvendu Adhikari)।

    মতুয়া সম্প্রদায়ের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে শুভেন্দু বলেন, তাঁদের সমর্থনেই পশ্চিমবঙ্গে বিজেপির সরকার গঠিত হয়েছে। ঠাকুরনগরের জন্য কিছু করতে পারলে সেটাকেই নিজের সবচেয়ে বড় প্রাপ্তি বলে মনে করবেন বলেও জানিয়েছেন তিনি।

    মতুয়া সম্প্রদায়ের উত্থান

    মতুয়া সম্প্রদায়ের ইতিহাস জড়িয়ে রয়েছে উনিশ শতকের দ্বিতীয়ার্ধে শুরু হওয়া একটি গুরুত্বপূর্ণ ধর্মীয় ও সামাজিক সংস্কার আন্দোলনের সঙ্গে। হরিচাঁদ ঠাকুরের নেতৃত্বে অবিভক্ত বাংলায় এই আন্দোলনের সূচনা হয়েছিল। মূলত নমঃশূদ্র সম্প্রদায়ের মানুষকে সংগঠিত করে সামাজিক সাম্য, মর্যাদা এবং ধর্মীয় সংস্কারের বার্তা ছড়িয়ে দেওয়াই ছিল এই আন্দোলনের অন্যতম উদ্দেশ্য।

    পরবর্তীকালে হরিচাঁদ ঠাকুরের পুত্র গুরুচাঁদ ঠাকুর এই আন্দোলনকে আরও বিস্তৃত করেন। তাঁদের শিক্ষা ও আদর্শের ভিত্তিতে মতুয়া সম্প্রদায়ের স্বতন্ত্র ধর্মীয় ও সামাজিক পরিচিতি গড়ে ওঠে। পশ্চিমবঙ্গের বিভিন্ন এলাকায়, বিশেষত তফসিলি জাতিভুক্ত জনগোষ্ঠীর মধ্যে এই সম্প্রদায়ের উল্লেখযোগ্য উপস্থিতি রয়েছে। নমঃশূদ্র সম্প্রদায় (Matua People) পশ্চিমবঙ্গে তফসিলি জাতির অন্তর্ভুক্ত।

    দেশভাগের পর পূর্ব পাকিস্তান এবং পরবর্তী সময়ে বাংলাদেশ থেকে বহু পরিবারের ভারতে চলে আসার কারণে মতুয়া সমাজের একাংশের কাছে নাগরিকত্ব, পুনর্বাসন ও সামাজিক নিরাপত্তার প্রশ্ন বিশেষ গুরুত্ব পেয়েছে (Suvendu Adhikari)।

    সব মিলিয়ে নাগরিকত্ব, আর্থিক সহায়তা, স্বাস্থ্য পরিষেবা এবং ধর্মীয় পরিকাঠামো উন্নয়নের একাধিক প্রতিশ্রুতির মাধ্যমে মতুয়া সম্প্রদায়ের পাশে থাকার বার্তাও দিয়েছেন শুভেন্দু।

     

  • INDIA Bloc Rally: দিল্লিতে ইন্ডিয়া জোটের সমাবেশকে ‘সুপার ফ্লপ’ কটাক্ষ বিজেপির, কী বলল পদ্মশিবির?

    INDIA Bloc Rally: দিল্লিতে ইন্ডিয়া জোটের সমাবেশকে ‘সুপার ফ্লপ’ কটাক্ষ বিজেপির, কী বলল পদ্মশিবির?

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ভোট চুরির অভিযোগ এবং নির্বাচন প্রক্রিয়ায় অনিয়মের প্রতিবাদে রবিবার দিল্লির রামলীলা ময়দানে সমাবেশ করেছিল বিরোধীদের ইন্ডিয়া জোট (INDIA Bloc Rally)। সেই সমাবেশ ‘সুপার ফ্লপ’ বলে দাবি করল (Ramlila Maidan) বিজেপি। সমাবেশে প্রত্যাশিত ভিড় না হওয়া নিয়ে বিরোধীদের কটাক্ষও করেন বিজেপি সাংসদ সম্বিত পাত্র।

    এদিনের সমাবেশে হাজির ছিলেন কংগ্রেস সাংসদ প্রিয়াঙ্কা গান্ধী বঢরা। ভাই রাহুল গান্ধীর ভোট চুরির অভিযোগকে সমর্থন করেন তিনিও। তাঁর দাবি, পশ্চিমবঙ্গ, মধ্যপ্রদেশ, হরিয়ানা, ছত্তিশগড়, মহারাষ্ট্র, কর্নাটক-সহ একাধিক রাজ্যে এবং চব্বিশের লোকসভা নির্বাচনে ভোটার তালিকায় ব্যাপক অনিয়ম হয়েছে। রাহুলের অভিযোগের উল্লেখ করে প্রিয়াঙ্কা বলেন, ২০২৪ সালের লোকসভা নির্বাচনের পর প্রায় ১৩ কোটি ৫০ লাখ ভোটারের নাম তালিকা থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে, যা মোট ভোটারের প্রায় ১৫ শতাংশ। তাঁর বক্তব্য, বিরোধীদের তুলনায় এনডিএর ভোটের ব্যবধান ছিল মাত্র ৩ শতাংশ। সেই পরিস্থিতিতে ১৫ শতাংশ ভোটারের নাম বাদ যাওয়ার অভিযোগ অত্যন্ত গুরুতর। এই কারণেই তিনি ২০২৪ সালের নির্বাচনকে ‘অবৈধ’ বলে দেগে দিয়েছেন।

    সমাবেশে হাজির মমতাও (INDIA Bloc Rally)

    দিল্লির সমাবেশে উপস্থিত ছিলেন মমতাও। তিনি আক্রমণ শানান বিজেপিকে। ককরোচ জনতা পার্টির নেতৃত্ব এবং নবীন প্রজন্মের আন্দোলনকারীদের প্রতি সংহতি প্রকাশ করে তিনি অভিযোগ করেন, বিজেপি নির্বাচনী প্রক্রিয়াকে প্রভাবিত করার চেষ্টা করছে। এসআইআর (বিশেষ নিবিড় সংশোধন) প্রক্রিয়াকে হাতিয়ার করে বিরোধী শাসিত রাজ্যগুলিকে নিশানা করা হচ্ছে বলেও দাবি করেন তিনি। মমতার অভিযোগ, এই প্রক্রিয়ার ফলে পশ্চিমবঙ্গ ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে এবং বিজেপি কার্যত বাংলাকে লুট করেছে। নির্বাচনী কারচুপির বিরুদ্ধে লড়াই চালিয়ে যাওয়ার অঙ্গীকারও করেন তিনি। মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারকে কটাক্ষ করে মমতা বলেন, “ভ্যানিশ কুমারজি, আপনি কবে ভ্যানিশ হবেন?” একই সঙ্গে গণতন্ত্র রক্ষার স্বার্থে রাজনৈতিক মতাদর্শ ও ধর্মীয় পরিচয়ের ঊর্ধ্বে উঠে সকলকে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানান তিনি। তাঁর দাবি, শেষ পর্যন্ত বিজেপির পরাজয় নিশ্চিত।

    বিরোধীদের সমাবেশকে কটাক্ষ করতে ছাড়েননি বিজেপি সাংসদ সম্বিত পাত্র। রাহুলের বক্তব্যের পাশাপাশি সমাবেশে লোকসমাগম নিয়েও প্রশ্ন তোলেন তিনি। তাঁর দাবি, সকাল থেকেই বিজেপি এই সমাবেশের দিকে নজর রেখেছিল এবং রাহুলের বক্তব্যও শোনা হয়েছে। কিন্তু শেষ পর্যন্ত গোটা অনুষ্ঠানকে সময়ের অপচয় বলেই মনে হয়েছে তাঁর।

    সম্বিতের দাবি, রামলীলা ময়দানের আয়তন ১০ থেকে ১২ একর। সেখানে প্রায় ২৮ হাজার আসনের ব্যবস্থা ছিল। মঞ্চ ও তার সামনের নির্দিষ্ট অংশ বাদ দিলে মাঠের প্রায় ৪০ শতাংশ জায়গাই ফাঁকা ছিল।তাঁর বক্তব্য, প্রায় ১৫ শতাংশ জায়গা মঞ্চ ও সংশ্লিষ্ট ঘেরাটোপের জন্য ব্যবহৃত হয়েছিল। বিকেল ৩টে থেকে সাড়ে ৩টের মধ্যে তোলা একটি ভিডিয়োর উল্লেখ করে তিনি জানান, সেই ছবি দেখিয়েই সমাবেশে উপস্থিত মানুষের সংখ্যা নিয়ে নিজের হিসাব তুলে ধরবেন (INDIA Bloc Rally)।

    কংগ্রেসকে নিশানা বিজেপির

    রাহুলকে নিশানা করে সম্বিত বলেন, “রাহুল গান্ধী বক্তব্য রাখছেন, অথচ সামনে ফাঁকা চেয়ার পড়ে রয়েছে। রামলীলা ময়দানও কংগ্রেস সম্পূর্ণ ভরাতে পারেনি। এই সমাবেশ পুরোপুরি ব্যর্থ।”

    তিনি আরও প্রশ্ন তোলেন, বিরোধীরা যে ১০ লাখ মানুষের জমায়েতের দাবি করেছিল, সেই বিপুল সংখ্যক মানুষ কোথায় গেলেন? তাঁর কথায়, “১০ লাখ মানুষ কোথায়? তাঁদের দেখান। এই ধরনের কৌশল করে কেউ নেতা বা প্রধানমন্ত্রী হতে পারেন না। প্রধানমন্ত্রী হওয়ার অর্থ শুধু প্রধানমন্ত্রীর পদ পাওয়া নয়। এখানে ‘পি’ অর্থ ঘাম এবং ‘এম’ অর্থ পরিশ্রম। ঘাম ঝরিয়ে এবং কঠোর পরিশ্রম করেই প্রধানমন্ত্রী হওয়া যায়। এতগুলি রাজনৈতিক দল ও পতাকা একত্রিত করেও তাঁরা ১০ লাখ মানুষের জমায়েত করতে পারেননি।”

    সমাবেশে বেশি মানুষের উপস্থিতি দেখানোর জন্য ক্যামেরার বিশেষ দৃষ্টিকোণ ব্যবহার করা হয়েছে বলেও অভিযোগ করেন বিজেপি সাংসদ। তাঁর দাবি, ছবিতে ভিড় বেশি দেখানোর এই কৌশল আসলে দৃশ্যের কারসাজি। রাহুলকে আক্রমণ করে তিনি বলেন, “রাহুলজি, হিন্দুস্তান আপনার পূর্বপুরুষের ব্যক্তিগত সম্পত্তি নয়। এই দেশ দেশের মানুষের। এখানে একজন চা-বিক্রেতাও প্রধানমন্ত্রী হতে পারেন। আর সেটাই আপনাদের অস্বস্তির কারণ।”

    শুধু সমাবেশের ভিড় নয়, রাহুলের বিদেশ সফর নিয়েও কটাক্ষ করেন সম্বিত। তাঁর পাসপোর্টে ভিয়েতনাম ও ব্যাঙ্ককের ছাপ থাকার প্রসঙ্গ তুলে তিনি প্রশ্ন করেন, রাহুল গান্ধী কখনও দিল্লির চাঁদনি চক বাজারে কেনাকাটা করতে গিয়েছেন কি না। তাঁর দাবি, রাহুল কেনাকাটা করতে যাওয়ার কথা বললেও কোথায় কেনাকাটা করবেন, তা স্পষ্ট করেননি। তবে তাঁর গন্তব্য সম্পর্কে উপস্থিত সকলেই অবগত বলে ইঙ্গিতপূর্ণ মন্তব্য করেন বিজেপি সাংসদ।

    সম্বিতের নিশানায় মমতাও

    মমতা, রাহুল ও তাঁদের সহযোগী বিরোধী নেতাদেরও আক্রমণ শানান সম্বিত। তাঁর অভিযোগ, অনুপ্রবেশকারীদের ভোটব্যাঙ্ক হিসেবে ব্যবহার করছেন বিরোধীরা। তিনি বলেন, ভারতের নির্বাচনে ভোট দেওয়ার অধিকার শুধুমাত্র এ দেশের নাগরিকদের রয়েছে। অথচ অনুপ্রবেশকারীরা দেশে ঢুকে ভোটার তালিকায় নাম নথিভুক্ত করছে বলে অভিযোগ করেন তিনি। মমতার কটাক্ষের জবাবে সম্বিত জানান, তাঁকে কী নামে ডাকা হচ্ছে, তা নিয়ে তিনি চিন্তিত নন। অনুপ্রবেশকারীরা যাতে ভোটার হিসেবে তালিকাভুক্ত হতে না পারে, তার জন্য বিজেপি প্রয়োজনীয় সব পদক্ষেপ করবে।

    উল্লেখ্য, ভোটার তালিকায় অনিয়ম এবং তথাকথিত ভোট চুরির অভিযোগকে সামনে রেখেই দিল্লিতে এই সমাবেশের (Ramlila Maidan) আয়োজন করেছিল ইন্ডিয়া জোট। সেখানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে রাহুল দাবি করেন, ভবিষ্যতে মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারকে পদ থেকে সরানো হবে এবং রাষ্ট্রদ্রোহের অভিযোগে তাঁকে জেলের মুখোমুখি হতে হবে। ফলে ভোটার তালিকা সংশোধন, নির্বাচন কমিশনের নিরপেক্ষতা (INDIA Bloc Rally) এবং গণতন্ত্রের স্বচ্ছতা নিয়ে শাসক ও বিরোধী শিবিরের সংঘাত যে আরও বাড়তে চলেছে, তা স্পষ্ট।

     

  • Indranil Sen Arrested: ‘‘সবে তো চা-বিস্কুট হয়েছে, এখনও প্রাতরাশ হয়নি’’, ইন্দ্রনীলের গ্রেফতারিতে কীসের ইঙ্গিত মুখ্যমন্ত্রীর?

    Indranil Sen Arrested: ‘‘সবে তো চা-বিস্কুট হয়েছে, এখনও প্রাতরাশ হয়নি’’, ইন্দ্রনীলের গ্রেফতারিতে কীসের ইঙ্গিত মুখ্যমন্ত্রীর?

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: “তদন্তকারী সংস্থাগুলি নিশ্চয়ই তথ্যপ্রমাণ পেয়েছে। সেই প্রমাণের ভিত্তিতেই আইন অনুযায়ী পদক্ষেপ করা হয়েছে।” বুধবার রাজ্যের প্রাক্তন মন্ত্রী তৃণমূলের ইন্দ্রনীল সেনের গ্রেফতারি প্রসঙ্গে এমনই মন্তব্য করলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। নবান্নে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে মুখ্যমন্ত্রী দাবি করেন, ইন্দ্রনীলের (Indranil Sen Arrested) বিরুদ্ধে কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা এবং কলকাতা পুলিশ তদন্ত চালাচ্ছিল।  প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের প্রসঙ্গ তুলেও আক্রমণ শানান শুভেন্দু। তাঁর অভিযোগ, এই ঘটনায় শুধু ইন্দ্রনীল নন, আরও অনেকে জড়িত থাকতে পারেন। তিনি বলেন, “আমি বহু রাজনৈতিক সভায় বলেছি, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের প্রত্যক্ষ মদতে এই ঘটনা ঘটেছে। একা তো আর কেউ টাকা নেননি! প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রীরও ভাগ থাকতে পারে।” ইন্দ্রনীলের সঙ্গে (ED) মমতার ঘনিষ্ঠতার প্রসঙ্গও তোলেন পালাবদলের মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর দাবি, দু’জনে একসঙ্গে ঘুরতেন এবং গানও গাইতেন। শুভেন্দুর কটাক্ষ, “মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং ইন্দ্রনীল সেন একে অন্যের পরিপূরক ছিলেন। যা পরিণতি হওয়ার, তা-ই হচ্ছে। সবে তো চা-বিস্কুট হয়েছে, এখনও প্রাতরাশ হয়নি। দুর্নীতিতে জড়িতদের সকলকেই জেলে যেতে হবে। ঠিক সময়ে বড় জায়গাতেও হাত পড়বে।”

    প্রসঙ্গত, দুর্গাপুজোর পাস বিক্রিকে কেন্দ্র করে আর্থিক দুর্নীতির অভিযোগে গ্রেফতার হন চন্দননগরের প্রাক্তন তৃণমূল বিধায়ক তথা রাজ্যের প্রাক্তন তথ্য ও সংস্কৃতিমন্ত্রী ইন্দ্রনীল সেন (Indranil Sen Arrested)। এদিন সল্টলেকের ইডি দফতরে হাজিরা দিতে গিয়েছিলেন তিনি। সেখান থেকে বেরোনোর পরেই তাঁকে আটক করে গাড়িতে তোলে কলকাতা পুলিশ। পরে তাঁকে লালবাজারে নিয়ে যাওয়া হয় বলে পুলিশ সূত্রে খবর। তদন্তে অসহযোগিতার অভিযোগেই এই পদক্ষেপ বলে জানা গিয়েছে (ED)।

    ইন্দ্রনীলের বিরুদ্ধে অভিযোগ (Indranil Sen Arrested)

    দুর্গাপুজোর পাস বিক্রির ক্ষেত্রে রাষ্ট্রসংঘের শিক্ষা, বিজ্ঞান ও সংস্কৃতিবিষয়ক সংস্থা ইউনেস্কোর নাম ব্যবহার করে বিপুল অঙ্কের টাকা তোলার অভিযোগ উঠেছে ইন্দ্রনীলের বিরুদ্ধে। অভিযোগ, দুর্গাপুজোর বিশেষ দর্শন এবং বিশেষ পাস বিক্রির মাধ্যমে কোটি কোটি টাকার লেনদেন হয়েছিল। অথচ এই ধরনের বাণিজ্যিক কার্যকলাপের জন্য ইউনেস্কোর কোনও অনুমোদন বা চুক্তি ছিল না বলে অভিযোগকারীদের দাবি।

    এই ঘটনায় কলকাতা পুলিশের কাছে প্রথম অভিযোগ দায়ের করেন জয়দীপ মুখোপাধ্যায় নামে এক ব্যক্তি। বৌবাজার থানায় দায়ের হওয়া সেই অভিযোগের ভিত্তিতে মামলা রুজু হয়। পরে আর্থিক লেনদেনের বিষয়টি খতিয়ে দেখতে তদন্ত শুরু করে এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট।

    তদন্তের অংশ হিসেবে এর আগে একাধিক বার ইন্দ্রনীলকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে। তাঁর কসবার বাড়ি এবং সিঙ্গুরের বাগানবাড়ি-সহ একাধিক ঠিকানায় তল্লাশিও চালানো হয়। দুর্গাপুজো ও লক্ষ্মীপুজোর পরে ফের তাঁকে হাজিরার নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। সেই নির্দেশ মেনেই বুধবার তিনি তদন্তকারী সংস্থার দফতরে পৌঁছন (Indranil Sen Arrested)।

    ৫০ থেকে ৬০ কোটি টাকার দুর্নীতির সন্দেহ

    প্রাথমিক তদন্তে ৫০ থেকে ৬০ কোটি টাকার আর্থিক অনিয়মের সম্ভাবনা রয়েছে বলে তদন্তকারীদের অনুমান। অভিযোগ, দুর্গাপুজোর বিশেষ দর্শনের আয়োজন এবং বিশেষ প্রবেশপত্র বিক্রির নামে সাধারণ মানুষের কাছ থেকে টাকা সংগ্রহ করা হয়েছিল। প্রচারে ইউনেস্কোর নাম ও স্বীকৃতিকে এমনভাবে ব্যবহার করা হয়, যাতে সাধারণ মানুষের মনে ওই আয়োজনের সঙ্গে সংস্থাটির সরাসরি যোগসূত্র থাকার ধারণা তৈরি হয়।

    ইন্দ্রনীলের স্ত্রী মধুছন্দা সেনের বিরুদ্ধেও এই ঘটনায় যুক্ত থাকার অভিযোগ উঠেছে। তিনি ‘মাস আর্ট’ নামে একটি সংস্থার সঙ্গে যুক্ত। অভিযোগ, ওই সংস্থার মাধ্যমেই পাস বিক্রি এবং সংশ্লিষ্ট আর্থিক লেনদেন পরিচালিত হয়েছিল। ২০২১ সালে কলকাতার দুর্গাপুজো ইউনেস্কোর স্বীকৃতি পাওয়ার পর সংস্থাটি গড়ে ওঠে বলে জানা গিয়েছে।

    আগাম জামিনের আবেদন খারিজ

    তদন্ত চলাকালীন গ্রেফতারি এড়াতে আগাম জামিনের আবেদন করেছিলেন ইন্দ্রনীল। কিন্তু কলকাতা হাইকোর্ট সেই আবেদন খারিজ করে দেয়। এর পর তিনি সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হন। মঙ্গলবার শীর্ষ আদালতে মামলাটির শুনানি হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু বিচারপতি দীপঙ্কর দত্ত ব্যক্তিগত কারণ দেখিয়ে মামলা থেকে সরে দাঁড়ান। ফলে শুনানি পিছিয়ে যায় এবং নতুন করে বেঞ্চ গঠনের প্রয়োজন হয়ে পড়ে। সুপ্রিম কোর্ট সূত্রে খবর, আগামী সোমবার নতুন বেঞ্চে ইন্দ্রনীলের আগাম জামিনের আবেদন সংক্রান্ত মামলার শুনানি হওয়ার কথা।

    উল্লেখ্য, রাজ্যে রাজনৈতিক পালাবদলের পর পুরনিয়োগ সংক্রান্ত মামলায় গত ১১ মে রাজ্যের প্রাক্তন দমকলমন্ত্রী সুজিত বসুকে গ্রেফতার করা হয়েছিল (ED)। এ বার দুর্গাপুজোর পাস বিক্রির অভিযোগে গ্রেফতার হলেন তৃণমূল সরকারের আর এক প্রাক্তন মন্ত্রী (Indranil Sen Arrested)।

     

  • Ajinkya Shinde: যন্তর মন্তরে বিক্ষোভের ডাক, দিল্লিতে আটক আরশোলা পার্টির একাধিক নেতা, নিরাপত্তার চাদরে রাজধানী

    Ajinkya Shinde: যন্তর মন্তরে বিক্ষোভের ডাক, দিল্লিতে আটক আরশোলা পার্টির একাধিক নেতা, নিরাপত্তার চাদরে রাজধানী

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: জ্ঞানেশ কুমারকে কেন্দ্র করে বিতর্কের আবহে ককরোচ জনতা পার্টির আন্দোলন ঘিরে উত্তেজনা ক্রমশ বাড়ছে। দিল্লির যন্তর মন্তরে বিক্ষোভ কর্মসূচির আগেই আটক করা হয়েছে সংগঠনের তিন প্রধান মুখ অভিজিৎ দীপকে, সৌরভ দাস এবং আশুতোষ রাঙ্কাকে। তাঁদের অনুপস্থিতিতে আন্দোলনের নেতৃত্ব দেবেন সংগঠনের দায়িত্বপ্রাপ্ত নেতা অজিঙ্ক শিন্ডে (Ajinkya Shinde)। এদিকে, বিক্ষোভ ঘিরে দিল্লিতে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে। ব্যারিকেড, কাঁটাযুক্ত প্রতিবন্ধক এবং বিপুল সংখ্যক নিরাপত্তারক্ষী মোতায়েন করে কার্যত দুর্গে পরিণত করা হয়েছে রাজধানীকে (Cockroach Janta Party Protest)।

    অভিযোগ, দিল্লিতে মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের বিরুদ্ধে বিক্ষোভ কর্মসূচিতে যোগ দিতে যাওয়ার পথেই আটক করা হয়েছে ককরোচ জনতা পার্টির দেড় হাজারেরও বেশি সমর্থককে। দলের নেতাদেরও দিল্লি বিমানবন্দরে নামার পর আটক করা হয়। বিক্ষোভের মধ্যেই ইউটিউবার ধ্রুব রাঠিকেও গুরুগাঁওয়ের বাড়ি থেকে আটক করা হয়। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়, আম আদমি পার্টির নেতা অরবিন্দ কেজরিওয়াল এবং অল ইন্ডিয়া স্টুডেন্টস অ্যাসোসিয়েশনের নেত্রী নেহা বোরার মতো আরও কয়েকজন নেতাকে আটক করা হয়েছে বলে খবর।

    গ্রেফতারির আশঙ্কা (Ajinkya Shinde)

    গ্রেফতারির আশঙ্কা আগেই করেছিলেন দীপকে। সেই কারণে শুক্রবার রাতেই একটি ভিডিও রেকর্ড করে রেখেছিলেন তিনি। সেখানে স্পষ্ট জানিয়ে দেন, তিনি, সৌরভ দাস এবং আশুতোষ রাঙ্কা যত দিন আটক থাকবেন, তত দিন যন্তর মন্তরের বিক্ষোভের নেতৃত্ব দেবেন সংগঠনের দায়িত্বপ্রাপ্ত অজিঙ্ক শিন্ডে।

    ভিডিওতে অভিজিৎকে বলতে শোনা যায়, “আপনারা যদি এই ভিডিওটা দেখছেন, তার অর্থ আমি, আশুতোষ ও সৌরভ—আমরা তিনজনই গ্রেফতার হয়ে গিয়েছি। আমাদের পর এই আন্দোলনে অজিঙ্ক নেতৃত্ব দেবেন। আপনারা যাঁরাই এই ভিডিওটি দেখছেন, তাঁরা এ বার থেকে অজিঙ্ক শিন্ডেকে অনুসরণ করুন। আমি, আশুতোষ ও সৌরভের পর উনিই এখান থেকে ককরোচ জনতা পার্টিকে এগিয়ে নিয়ে যাবেন।”

    যন্তর মন্তরে বিক্ষোভ ঘিরে কড়া নিরাপত্তা

    প্রস্তাবিত বিক্ষোভ কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে দিল্লিতে নিরাপত্তা ব্যবস্থা ব্যাপকভাবে জোরদার করা হয়েছে। বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় ব্যারিকেড বসানো হয়েছে এবং মোতায়েন করা হয়েছে দিল্লি পুলিশ ও কেন্দ্রীয় সশস্ত্র পুলিশ বাহিনীর বিপুল সংখ্যক কর্মী। প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, চল্লিশ হাজারেরও বেশি নিরাপত্তাকর্মী মোতায়েন করা হয়েছে। যন্তর মন্তর ও তার আশপাশের এলাকায় বিক্ষোভকারীদের জমায়েত আটকাতে বিশেষ ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।

    কর্তব্যপথ সংলগ্ন এলাকায় ইন্টারনেট পরিষেবা বন্ধ রাখার কথাও জানানো হয়েছে। প্রশাসনিক বিধিনিষেধের পাশাপাশি ট্রেন চলাচল নিয়েও নিয়ন্ত্রণের খবর সামনে এসেছে। দুপুর পর্যন্ত নয়াদিল্লি ও হজরত নিজামুদ্দিন স্টেশনে কোনও ট্রেন প্রবেশ করবে না বলে জানানো হয়েছে। পরিস্থিতির দিকে নজর রাখছে প্রশাসন (Ajinkya Shinde)।

    এমন পরিস্থিতিতেও আন্দোলনকারীদের পিছিয়ে না আসার বার্তা দিয়েছে ককরোচ জনতা পার্টি। দলের নেতা অজিঙ্ক শিন্ডে সোশ্যাল মিডিয়ায় প্রকাশিত একটি ভিডিওতে বলেন, “দিল্লি পুলিশ যদি আপনাদের আটকানোর চেষ্টা করে, তা হলে যেখানে আপনাদের আটকানো হবে, সেই জায়গাটাই আপনাদের যন্তর মন্তর হয়ে উঠবে।” দীপকে আটক হওয়ার পর তিনিই আন্দোলনের নেতৃত্ব দিচ্ছেন।

    কেন ফের আন্দোলনে ককরোচ জনতা পার্টি?

    ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন প্রক্রিয়ায় অনিয়মের অভিযোগ তুলে মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগ দাবি করে আসছে ককরোচ জনতা পার্টি। সংগঠনের অভিযোগ, এই প্রক্রিয়ায় একাধিক অনিয়ম হয়েছে। সেই দাবিতে বিভিন্ন সময়ে বিক্ষোভ ও জনসমাবেশ করেছে তারা। গত ২ অক্টোবর মুম্বইয়েও এই ইস্যুতে বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করা হয়েছিল।

    এ বার দিল্লির যন্তর মন্তরে বিক্ষোভের পরিকল্পনা করা হলেও, প্রয়োজনীয় অনুমতি না থাকায় দিল্লি পুলিশ সেই কর্মসূচির আবেদন খারিজ করে দিয়েছে বলে জানা গিয়েছে। জনস্বার্থের কথা উল্লেখ করেই অনুমতি দেওয়া হয়নি বলে পুলিশের তরফে জানানো হয়েছে।

    নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা নিয়ে বিতর্ক

    জ্ঞানেশ কুমারের ভূমিকা নিয়ে বিতর্ক আরও তীব্র হয়েছে একটি ইংরেজি দৈনিকের প্রকাশিত একটি প্রতিবেদনের প্রেক্ষিতে। ওই প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন প্রক্রিয়ার সঙ্গে যুক্ত বিভিন্ন সিদ্ধান্ত ও পদ্ধতি নিয়ে নির্বাচন কমিশনার সুখবীর সিং সান্ধু এবং বিবেক যোশী দশ মাসে অন্তত ১৪ বার আপত্তি জানিয়েছিলেন।

    এই প্রতিবেদন প্রকাশ্যে আসার পর নির্বাচন কমিশনের কাজকর্ম এবং ভোটার তালিকা সংশোধনের পদ্ধতি নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে। ককরোচ জনতা পার্টির দাবি, গোটা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে হবে এবং অনিয়মের অভিযোগের জবাব দিতে হবে মুখ্য নির্বাচন কমিশনারকে। সেই দাবিতেই জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে আন্দোলন জারি রেখেছে সংগঠনটি।

    দিল্লিতে একের পর এক নেতা ও সমর্থক আটক হওয়ার পর আন্দোলন কোন পথে এগোয়, এখন সেটাই দেখার। নেতৃত্বে অজিঙ্ক শিন্ডেকে সামনে রেখে বিক্ষোভ চালিয়ে যাওয়ার বার্তা দিয়েছে ককরোচ জনতা পার্টি (Cockroach Janta Party Protest)। অন্যদিকে, প্রশাসনের কড়া নিরাপত্তা ব্যবস্থা এবং অনুমতি না দেওয়ার সিদ্ধান্তের ফলে পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে বলে  (Ajinkya Shinde) ধারণা ওয়াকিবহাল মহলের।

     

  • By Election: উপনির্বাচনেও ব্যাপক ভোট পড়ল নন্দীগ্রামে, রেজিনগরেও হাত উপুড় ভোটারদের

    By Election: উপনির্বাচনেও ব্যাপক ভোট পড়ল নন্দীগ্রামে, রেজিনগরেও হাত উপুড় ভোটারদের

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: মঙ্গলবার নন্দীগ্রাম ও রেজিনগর আসনে উপনির্বাচনকে (By Election) ঘিরে সকাল থেকেই উৎসাহ-উদ্দীপনা ছিল তুঙ্গে। বিকেল ৫টা পর্যন্ত নন্দীগ্রামে ভোট পড়েছে (Latest Update) ৭৯.৩৯ শতাংশ। খুব একটা পিছিয়ে নেই রেজিনগরও। সেখানে ভোটদানের হার ৭৮.৪২ শতাংশ।

    নন্দীগ্রাম (By Election)

    নন্দীগ্রামে বিজেপি প্রার্থী হাসিরানি রথের হয়ে রবিবার পদযাত্রা করেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। হাসিরানি নিহত বিজেপি নেতা চন্দ্রনাথ রথের মা। প্রচারে গিয়ে তৃণমূলের শীর্ষ নেতৃত্বকে নিশানা করেন শুভেন্দু। একুশের বিধানসভা নির্বাচনের সময় মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের পায়ে চোট লাগার ঘটনাকে কেন্দ্র করে বিস্ফোরক মন্তব্য করেন তিনি। শুভেন্দুর অভিযোগ, একুশের ভোটের সময় মমতার পায়ে চোট লাগার দাবি “মিথ্যা” ছিল। সেই ঘটনার পর খুনের চেষ্টার একটি মামলায় বিজেপি নেতাদের ফাঁসানোর জন্য তৎকালীন তৃণমূল সরকার সিআইডির “অপব্যবহার” করেছিল বলেও অভিযোগ করেন তিনি। এদিন টোটোয় চড়ে নন্দীগ্রামের একটি বুথে গিয়ে ভোট দেন মুখ্যমন্ত্রী। আজীবন এই কেন্দ্রের ভোটার থাকতে চান বলেও জানান তিনি

    রেজিনগর

    এদিকে, রেজিনগর আসনটি ফাঁকা হয়েছে আম জনতা উন্নয়ন পার্টির প্রতিষ্ঠাতা হুমায়ুন কবীরের কারণে। তিনি একই সঙ্গে রেজিনগর ও নওদা—দুই কেন্দ্র থেকে নির্বাচনে জয়ী হওয়ার পর নওদা আসনটি ধরে রাখেন। ফলে রেজিনগর আসনে উপনির্বাচন হয়েছে। এই কেন্দ্রে আম জনতা উন্নয়ন পার্টির হয়ে (By Election) লড়ছেন তাঁর ছেলে গোলাম নবী আজাদ। রেজিনগরে তৃণমূলের মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়পন্থী শিবিরের প্রার্থী রাবিউল আলম চৌধুরী। তৃণমূলের বিদ্রোহী শিবিরের প্রার্থী সাফিউজ্জামান শেখও প্রতিদ্বন্দ্বিতায় রয়েছেন। কংগ্রেসের প্রার্থী মহম্মদ আবদুল্লাহিল কাফি। ফলে এই কেন্দ্রে বহুমুখী লড়াইয়ের ছবি স্পষ্ট।

    তামিলনাড়ুতেও জমজমাট লড়াই

    তামিলনাড়ুর মাদুরান্থকম এবং ধরাপুরম আসন দুটিতেও উপনির্বাচন হয়েছে। অভিনেতা থেকে রাজনীতিতে আসা সি জোসেফ বিজয়ের দল তামিলগা ভেত্রি কাজাগমে যোগ দেওয়ার পর এই দুই আসন ছেড়ে দেন প্রাক্তন এআইএডিএমকে বিধায়ক কে মারাগাথাম কুমারাভেল এবং পি সত্যবামা। তাঁদের নিজেদের পুরনো কেন্দ্র থেকেই প্রার্থী করেছে বিজয়ের দল। মাদুরান্থকমে প্রাক্তন বিধায়ক আই পরন্থামেনকে এবং ধরাপুরমে সুগণ্যাকে প্রার্থী করেছে ডিএমকে। ধরাপুরমে সত্যবামার হয়ে প্রায় ৪০ কিলোমিটার পথজুড়ে প্রচার চালান বিজয়। ডিএমকেকে নিশানা করে তিনি অভিযোগ করেন, ওই দল মহিলাদের নিয়ে আপত্তিকর মন্তব্য করছে। তাঁর দাবি, মহিলাদের বিরুদ্ধে এই ধরনের আক্রমণ সীমা ছাড়িয়ে গিয়েছে। এই বিষয়ে আর নীরব থাকবেন না বলেও জানান বিজয়।

    অসমেও উপনির্বাচন

    অসমের নাগাঁও লোকসভা আসনটি মার্চ মাসে ফাঁকা হয়। কংগ্রেস সাংসদ প্রদ্যুৎ বরদলৈ দল ছেড়ে বিজেপিতে যোগ দেওয়ার পর এপ্রিলের বিধানসভা নির্বাচনে দিসপুর আসন থেকে জয়ী হন। ফলে নাগাঁও লোকসভা আসনে উপনির্বাচন হচ্ছে। এই কেন্দ্রে বিজেপি প্রার্থী তথা প্রাক্তন আমলা দেবাশিস শর্মার হয়ে প্রচার করেন মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্ব শর্মা। নাগাঁওয়ে মুসলিম ভোটারের সংখ্যা বেশি হওয়ায় বিজেপির সামনে নির্বাচনী চ্যালেঞ্জ রয়েছে বলে কার্যত স্বীকার করলেও, হিমন্তর দাবি, শেষ পর্যন্ত বিজেপি বড় ব্যবধানে জয় পাবে (Latest Update)। তাঁর পূর্বাভাস, জয়ের ব্যবধান আড়াই লাখ থেকে তিন লাখ ভোটের হতে পারে (By Election)।

     

  • Suvendu Adhikari: ‘এক্স-রে, এমআরআই দেখালে বাড়ি থেকে বেরতে পারবেন না’! পায়ের চোটকাণ্ডে মমতাকে নিশানা শুভেন্দুর

    Suvendu Adhikari: ‘এক্স-রে, এমআরআই দেখালে বাড়ি থেকে বেরতে পারবেন না’! পায়ের চোটকাণ্ডে মমতাকে নিশানা শুভেন্দুর

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ২০২১ সালের নন্দীগ্রাম বিধানসভা নির্বাচনের আগে তৃণমূল প্রার্থী তথা প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের (Mamata Banerjee) পায়ের হাড় আদৌ ভেঙেছিল কি না, তা নিয়ে নতুন করে রাজনৈতিক বিতর্ক শুরু হয়েছে। সম্প্রতি মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari) দাবি করেন, মমতার পায়ে হাড় ভাঙার প্রমাণ মেলেনি। এ নিয়ে নথিও প্রকাশ্যে আনেন তিনি। এর পরেই চিকিৎসা সংক্রান্ত ব্যক্তিগত নথি কীভাবে প্রকাশ্যে এল, তা জানতে এসএসকেএম হাসপাতাল ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে আইনি নোটিস পাঠিয়েছেন মমতার আইনজীবী।

    কী বললেন মুখ্যমন্ত্রী ((Suvendu Adhikari))

    সোমবার নবান্নে মন্ত্রিসভার বৈঠকের পর সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে এই বিতর্কে মুখ খোলেন মুখ্যমন্ত্রী। মমতার আইনি নোটিস প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “ভুল করছেন উনি। স্বাস্থ্য দফতরকে বলব, যে অভিযোগ উনি করেছেন সেটা আমার কাছে পাঠাতে। উনি বোধহয় জানেন না, উনি কী করেছিলেন। উনি নিজে এফআইআর করেছিলেন সব বিজেপি নেতাদের নামে। সিআইডি তদন্ত করছিল।” এর পরেই আরও কড়া সুরে শুভেন্দু বলেন, “আমি ওঁর আইনজীবীকে বলব, এসব নিয়ে বেশি ঘাঁটাঘাঁটি করবেন না। উনি ভেবেছিলেন চতুর্থবারের জন্য মুখ্যমন্ত্রী হবেন। তাই সব কাগজপত্র ওঁর ড্রয়ারে ছেড়ে গিয়েছিলেন।” তবে সেই ড্রয়ার থেকেই চিকিৎসা সংক্রান্ত নথি পেয়েছেন কি না, তা স্পষ্ট করেননি তিনি।

    প্রয়োজনে আরও চিকিৎসা সংক্রান্ত নথি প্রকাশ করার ইঙ্গিতও দিয়েছেন শুভেন্দু। তাঁর কথায়, “এক্স-রে প্লেট এবং এমআরআই রিপোর্ট যদি আমি দেখাই, তাহলে উনি বাড়ি থেকে বেরতে পারবেন না।” পাশাপাশি নথিগুলি কোথা থেকে পেয়েছেন, প্রয়োজন হলে তা প্রকাশ করবেন বলেও জানান তিনি। ২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনের আগে নন্দীগ্রামে প্রচারের সময় বিরুলিয়া বাজারের কাছে মমতার পায়ে চোট লাগে। এসএসকেএমে প্লাস্টার করিয়ে হুইলচেয়ারে বসেই সেবার নির্বাচনী প্রচার করেছিলেন তিনি। সেই সময় তাঁর চোটের ঘটনা নির্বাচনী প্রচারের অন্যতম চর্চার বিষয় হয়ে উঠেছিল। রাজনৈতিক মহলের একাংশের মতে, সেবার সহানুভূতির হাওয়ায় সওয়ার হয় তৃতীয়বারের জন্য মুখ্যমন্ত্রীর কুর্সিতে বসেছিলেন মমতা।

    সম্প্রতি শুভেন্দু যে নথি প্রকাশ্যে আনেন, সেটি ২০২১ সালের ১১ মার্চ বাঙুর ইনস্টিটিউট অব নিউরোসায়েন্সেসের তেজস্ক্রিয় রোগনির্ণয় বিভাগের প্রতিবেদন বলে দাবি করেন তিনি। তাঁর বক্তব্য, ওই প্রতিবেদনে পায়ে হাড় ভাঙা বা হাড় সরে যাওয়ার কোনও প্রমাণ মেলেনি। এই নথির ভিত্তিতেই মমতার তৎকালীন পায়ের চোটের দাবি নিয়ে প্রশ্ন তোলেন বর্তমান মুখ্যমন্ত্রী (Suvendu Adhikari)।

    চিকিৎসা-তথ্যের গোপনীয়তা নিয়ে প্রশ্ন

    এদিকে, মমতার আইনজীবীর পাঠানো আইনি নোটিসে প্রশ্ন তোলা হয়েছে চিকিৎসা সংক্রান্ত ব্যক্তিগত তথ্যের গোপনীয়তা নিয়ে। কীভাবে ২০২১ সালের চিকিৎসা সংক্রান্ত নথি বর্তমান মুখ্যমন্ত্রীর হাতে পৌঁছল এবং পরে তা প্রকাশ্যে এল, তা জানতে চাওয়া হয়েছে। নোটিসটি এসএসকেএম হাসপাতালের অধিকর্তা ও চিকিৎসা-প্রশাসনের সংশ্লিষ্ট আধিকারিকদের পাশাপাশি বাঙুর ইনস্টিটিউটের সংশ্লিষ্ট বিভাগের কাছেও পাঠানো হয়েছে। রাজ্যের স্বাস্থ্য দফতরের মুখ্যসচিবকেও নোটিসের একটি প্রতিলিপি দেওয়া হয়েছে। নোটিসে জানতে চাওয়া হয়েছে, কোনও আদালতের নির্দেশে ওই চিকিৎসা সংক্রান্ত নথি প্রকাশ করা হয়েছিল কি না। যদি তা না হয়ে থাকে, তাহলে নথি যাঁরা সরবরাহ করেছেন তাঁদের বিরুদ্ধে কী পদক্ষেপ করা হয়েছে, সেই ব্যাখ্যাও চাওয়া হয়েছে। প্রকাশ্যে আসা নথিগুলি আদৌ মূল চিকিৎসা নথি কি না, সেটিও স্পষ্ট করতে বলা হয়েছে। আইনজীবীর তরফে আরও প্রশ্ন তোলা হয়েছে, সরকারি দফতর বা তদন্তকারী সংস্থা আইন মেনে নথি সংগ্রহ করলেও তা সাধারণের সামনে প্রকাশ করার অনুমতি স্বয়ংক্রিয়ভাবে পাওয়া যায় কি না। ভবিষ্যতে মমতার চিকিৎসা সংক্রান্ত কোনও ব্যক্তিগত নথি যাতে অনুমতি ছাড়া প্রকাশ্যে না আসে, সেই বিষয়েও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানানো হয়েছে। ফলে ২০২১ সালের নন্দীগ্রামকাণ্ডে মমতার (Mamata Banerjee) পায়ের চোটের সত্যতা নিয়ে পুরনো রাজনৈতিক বিতর্ক নতুন করে সামনে আসার পাশাপাশি, চিকিৎসা সংক্রান্ত ব্যক্তিগত তথ্য কীভাবে প্রকাশ্যে এল এবং সেই নথি প্রকাশের আইনগত বৈধতা কী, তা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। বিষয়টি নিয়ে রাজনৈতিক চাপানউতোরের পাশাপাশি হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের জবাবের দিকেও এখন নজর (Suvendu Adhikari) রাজ্যবাসীর।

     

  • Nandigram By Poll: ‘আমরা সরকারের বন্ধুত্ব চাই’ নন্দীগ্রামে শুভেন্দুর রোড শোতে প্ল্যাকার্ড হাতে সংখ্যালঘুরা

    Nandigram By Poll: ‘আমরা সরকারের বন্ধুত্ব চাই’ নন্দীগ্রামে শুভেন্দুর রোড শোতে প্ল্যাকার্ড হাতে সংখ্যালঘুরা

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: সংখ্যালঘুদের বন্ধুত্বের বার্তা দিয়েছিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari)। তাঁর সেই বার্তায় সাদরে হাত বাড়ালেন সংখ্যালঘুরা। রবিবার ‘বন্ধুত্বের’ ছবি দেখা গেল নন্দীগ্রামে (Nandigram By Poll)। উপনির্বাচনের প্রচারের শেষ দিনে মুখ্যমন্ত্রীর ব়্যালির সময় বন্ধুত্বের হাত বাড়িয়ে পোস্টার হাতে দেখা গেল সংখ্যালঘুদের। শুভেন্দুর ব়্যালির পর সংখ্যালঘুরা জানালেন, মুখ্যমন্ত্রীর বার্তায় তাঁরা খুশি। মুখ্যমন্ত্রীও বললেন, “প্রচারে বেরিয়ে আমার দেখে মনে হল, আমার বন্ধুত্বের আহ্বান অনেকটা কাজ করবে।” নন্দীগ্রামে উপনির্বাচনের প্রচারের শেষ দিনে বিজেপি প্রার্থী হাসিরানি রথের সমর্থনের নন্দীগ্রাম ১ ব্লকের সংখ্যালঘু অধ্যুষিত এলাকায় এদিন রোড শো করেন শুভেন্দু অধিকারী।

    নন্দীগ্রামে সংখ্যালঘু অঞ্চলে শুভেন্দু

    রবিবার ছিল নন্দীগ্রামে প্রচারের শেষ দিন। এদিন সকালে নন্দীগ্রাম ১ নম্বর ব্লকের টেঙ্গুয়া থেকে হাসপাতাল মোড় পর্যন্ত প্রায় তিন কিলোমিটার মিছিল করেন শুভেন্দু। দলীয় পতাকা, প্ল্যাকার্ড হাতে তাঁর সঙ্গে পা মেলান এলাকার বিজেপি কর্মী-সমর্থকরা। একই ভাবে বিকেলে নন্দীগ্রাম ২ নম্বর ব্লকের রাজারামচক থেকে মিরের বাজার পর্যন্ত পদযাত্রা করেন তিনি। দু’টি মিছিলেই ছিল উপচে পড়া ভিড়। রাস্তার ধারে জড়ো হয়েছিলেন সাধারণ মানুষ। শুভেন্দুর পাশাপাশি বিজেপি প্রার্থী হাসিরানির নামেও স্লোগান দেন তাঁরা। রাতে হরিপুরের পার্টি অফিসের সাংবাদিক সম্মেলনে জয় নিয়ে আত্মবিশ্বাসী শুভেন্দু বলে দিলেন, ‘বহু মানুষ রাস্তায় বেরিয়েছিলেন। প্ল্যাকার্ড হাতে নিয়ে পথের দু’ধারে দীর্ঘক্ষণ দাঁড়িয়ে ছিলেন তাঁরা। লেখা, ‘আমরা মুখ্যমন্ত্রীর পাশে আছি। আমরা বন্ধুত্ব করতে চাই সরকারের সঙ্গে।’

    রোড শো নিয়ে বার্তা মুখ্যমন্ত্রীর

    উপনির্বাচনের প্রচারে সংখ্যালঘু এলাকায় রোড শো নিয়ে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “এই এলাকাতে আমার মনে হয়, ভারতীয় জনতা পার্টি প্রথম কোনও কর্মসূচি করতে পারল। একুশ ও ছাব্বিশের বিধানসভা, চব্বিশের লোকসভা নির্বাচন এবং তেইশের পঞ্চায়েত নির্বাচনে এখানে প্রচার করিনি। কারণ, বাইরে থেকে লোক নিয়ে গিয়ে প্রচার করার কোনও মানে হয় না। এখানকার বুথগুলিতে বিজেপি কার্যত শূন্য ভোট পেয়েছিল।” এরপরই তিনি জানান, “এখানকার স্থানীয় বাসিন্দারা আমাদের দলের নেতৃত্বকে বলেছিলেন, যদি মুখ্যমন্ত্রী এলাকায় আসেন। আজ প্রচারে বেরিয়ে আমার দেখে মনে হল, বিজেপির ব্যবধান অনেকটাই বাড়বে। আপনি হাত বাড়ালে আমি ধরব।” সংখ্যালঘুরা বিজেপিকে আপন করে নিচ্ছে বলেও মনে করেন শুভেন্দু। নির্বাচন শান্তিপূর্ণ হবে বলেও আশ্বাস দেন তিনি। মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ‘আগামী পরশু শান্তিপূর্ণ নির্বাচন হবে। আমি মুখ্যমন্ত্রী, পুলিশমন্ত্রীও। তাই নিরাপত্তার বিষয়টা আমি দেখব।’ একই সঙ্গে তৃণমূলকে কটাক্ষ করতেও ছাড়েননি শুভেন্দু। ব্যঙ্গের সুরে বলেন, ‘আগেই বলেছিলাম, তৃণমূলের নাম-নিশান থাকবে না। সেটাই হলো। এখানে মমতার কোনও চিহ্ন নেই। রেজিনগরের নোটার নীচে থাকবে, ৫-৬ নম্বরে।’

  • Durga Puja 2026: দুর্গাপুজোকে ঘিরে অশান্তি, পশ্চিমবঙ্গে এক দশকের খতিয়ান

    Durga Puja 2026: দুর্গাপুজোকে ঘিরে অশান্তি, পশ্চিমবঙ্গে এক দশকের খতিয়ান

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: পশ্চিমবঙ্গের ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক জীবনে দুর্গাপুজো অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ উৎসব। পুজো কমিটি, মণ্ডপ, প্রতিমা, ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠান এবং বিসর্জনের শোভাযাত্রা—সব মিলিয়ে প্রতি বছরই রাজ্যের জনজীবনের সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়িয়ে থাকে দুর্গাপুজো। কলকাতার দুর্গাপুজো  (Durga Puja 2026) আন্তর্জাতিক স্বীকৃতিও পেয়েছে। মানবতার বিমূর্ত সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের প্রতিনিধি তালিকায় কলকাতার দুর্গাপুজোকে অন্তর্ভুক্ত করেছে ইউনেস্কো।

    তবে গত কয়েক বছরে পশ্চিমবঙ্গে দুর্গাপুজোকে কেন্দ্র করে একাধিক বিতর্ক, অশান্তি এবং প্রশাসনিক পদক্ষেপ সামনে এসেছে। কোথাও পুজো মণ্ডপে ভাঙচুর ও আগুন লাগানোর অভিযোগ উঠেছে, কোথাও ধর্মীয় আচার পালনে বাধা দেওয়ার অভিযোগ, আবার কোথাও বিসর্জনের শোভাযাত্রায় হামলা, প্রতিবাদীদের গ্রেফতার, পুলিশি পদক্ষেপ এবং প্রশাসনিক বিধিনিষেধ নিয়ে বিতর্ক তৈরি হয়েছে (Pandal Vandalism Incidents)।

    রাজনৈতিক বিতর্ক (Durga Puja 2026)

    ২০২৬ সালের সেপ্টেম্বরেও দুর্গাপুজোর মণ্ডপ সংলগ্ন সিপিআই(এম)-এর বইয়ের স্টলকে কেন্দ্র করে নতুন করে রাজনৈতিক বিতর্ক তৈরি হয়। “শারদোৎসবে”র বদলে ‘দুর্গোৎসব’ শব্দ ব্যবহার করতে হবে বলে সাফ জানিয়ে দেন মুখ্যমন্ত্রী। তা না করলে পুজো কমিটিগুলিকে সিপিআই(এম)-এর বইয়ের স্টল বসানোর অনুমতি না দেওয়ার আহ্বান জানানো হয় বলেও প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে। পাল্টা সিপিআই(এম)-এর রাজ্য সম্পাদক মহম্মদ সেলিম এই পদক্ষেপকে “ফ্যাসিবাদী আক্রমণ” বলে আখ্যা দেন এবং সরকারের বিরুদ্ধে ধর্মীয় আবেগ উসকে দেওয়ার অভিযোগ তোলেন। দীর্ঘদিন ধরেই পুজো মণ্ডপের আশপাশে সিপিআই(এম) ও তাদের সহযোগী সংগঠনগুলির বইয়ের স্টল বসানোর রীতি রয়েছে। সেখানে দলীয় প্রকাশনা, মার্কসবাদী সাহিত্য এবং বিভিন্ন বই বিক্রি করা হয়।

    ২০২৪ সালের দুর্গাপুজোর সময় একাধিক ঘটনাও বিশেষভাবে আলোচনায় আসে। কলকাতার গার্ডেন রিচ এলাকায় নিউ বেঙ্গল স্পোর্টিং ক্লাবের পুজোয় অষ্টমী ও নবমীর আচার-অনুষ্ঠানের সময় গান ও ভক্তিগীতি বাজানোকে কেন্দ্র করে আপত্তির অভিযোগ ওঠে। পুজো কমিটির অভিযোগ ছিল, একটি দল পুজোর অনুষ্ঠান বন্ধ করার হুমকি দেয় এবং দুর্গাপ্রতিমা ভাঙচুরেরও হুমকি দেওয়া হয়। অভিযোগের ভিত্তিতে পুলিশ মামলা করে।

    দুর্গাপুজোকে কেন্দ্র করে অশান্তি

    হাওড়ার শ্যামপুরে দুর্গাপুজোকে কেন্দ্র করে অশান্তির অভিযোগ ওঠে। পুজো সংলগ্ন এলাকায় ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটে বলে অভিযোগ। পরে বেশ কয়েকজনকে গ্রেফতার করা হয় এবং এলাকায় নিষেধাজ্ঞামূলক নির্দেশ জারি করা হয়। অতিরিক্ত পুলিশ বাহিনী ও দ্রুত প্রতিক্রিয়া বাহিনী মোতায়েন করা হয়।

    এদিকে, দুর্গাপুজোর বিভিন্ন মণ্ডপে প্রতিবাদকে কেন্দ্র করেও পুলিশি পদক্ষেপ নিয়ে বিতর্ক দেখা দেয়। কলকাতা পুলিশ পুজোর সময় জুনিয়র চিকিৎসকদের “অভয়া পরিক্রমা” কর্মসূচি থামিয়ে দেয় এবং বেশ কয়েকজনকে আটক করে। পুজো মণ্ডপের বাইরে চিকিৎসকদের আন্দোলনের সমর্থনে প্রতিবাদ করার অভিযোগে আলিপুরে নয় যুবককে গ্রেফতার করা হলেও পরে কলকাতা হাই কোর্ট তাঁদের অন্তর্বর্তী জামিন দেয়। আদালত পর্যবেক্ষণে জানায়, তাঁদের উদ্দেশ্য ধর্মীয় বিদ্বেষ ছড়ানো বা ধর্মীয় ভাবাবেগে আঘাত করা ছিল না (Durga Puja 2026)।

    দুর্গাপুজোর সরকারি কার্নিভালেও এক চিকিৎসকের গ্রেফতারি নিয়ে বিতর্ক তৈরি হয়। আরজি কর-কাণ্ডে আন্দোলনরত জুনিয়র চিকিৎসকদের সমর্থনে ব্যাজ পরে পুজো কার্নিভালে অংশ নেওয়া কর্তব্যরত সরকারি চিকিৎসক তপাব্রত রায়কে কলকাতা পুলিশ গ্রেফতার করে বলে প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে। তাঁর গ্রেফতারির প্রতিবাদে চিকিৎসক ও অন্যদের বিক্ষোভের পর কয়েক ঘণ্টার মধ্যে তাঁকে ছেড়ে দেওয়া হয়। পরবর্তী সময়ে কলকাতা হাই কোর্ট ওই মামলায় তাঁকে অন্তর্বর্তী সুরক্ষাও দেয়।

    নদিয়ার রানাঘাটে প্রায় ৫০ বছর ধরে দুর্গাপুজো করে আসা একটি ক্লাবকে ১১২ ফুট উচ্চতার প্রতিমা পুজোর অনুমতি দেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ ওঠে। আইনশৃঙ্খলার কারণ দেখিয়ে অনুমতি না দেওয়ায় প্রশাসনের বিরুদ্ধে অসহযোগিতার অভিযোগ তুলে ক্লাবটি ওই বছর পুজো না করার সিদ্ধান্ত নেয় বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

    অশান্তি বিসর্জনের শোভাযাত্রায়ও

    দুর্গাপুজোর সঙ্গে যুক্ত বিসর্জনের শোভাযাত্রাতেও একাধিকবার অশান্তির অভিযোগ উঠেছে। ২০২৪ সালের ৯ অক্টোবর কলকাতার পার্ক সার্কাস ও নারকেলডাঙা এলাকায় কালী ও লক্ষ্মীপ্রতিমা বিসর্জনের সময় পাথর ছোড়ার অভিযোগ ওঠে। পুজো কমিটি ও শোভাযাত্রায় অংশ নেওয়া ভক্তদের অভিযোগ, রাজাবাজার এলাকায় হঠাৎ করে পাথর, কাচের বোতল এবং ইট ছোড়া হয়। আশপাশের বাড়ি থেকেও পাথর ছোড়া হয়েছিল বলে অভিযোগ। আতঙ্কে অনেকে দৌড়ে নিরাপদ জায়গায় আশ্রয় নেন এবং কয়েকটি শোভাযাত্রার যাত্রাভঙ্গ হয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ লাঠিচার্জ ও কাঁদানে গ্যাস ব্যবহার করে বলে প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে। পরে অবশ্য বিসর্জন শান্তিপূর্ণভাবেই সম্পন্ন হয় (Durga Puja 2026)।

    এই ঘটনার পর জাতীয় মহিলা কমিশনের সদস্য অর্চনা মজুমদার রাজ্যপালকে চিঠি দিয়ে নারকেলডাঙার হিংসার অভিযোগ জানান। তাঁর দাবি ছিল, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের সময় পুলিশ আধিকারিকদের আচরণও যথাযথ ছিল না। তিনি অভিযোগ করেন, পুলিশ আধিকারিকদের সঙ্গে কথা বলতে গেলে তাঁর সঙ্গে তর্ক হয় এবং পরে বিসর্জনের শোভাযাত্রায় থাকা আক্রান্তদের ওপর লাঠিচার্জ করা হয় (Pandal Vandalism Incidents)।

    ২০২০ সালের বিজয়া দশমীতে বীরভূমে দুর্গাপ্রতিমা বিসর্জনের শোভাযাত্রাকে কেন্দ্র করে পুলিশি লাঠিচার্জের অভিযোগ উঠেছিল। পুজো কমিটির সদস্য ও ভক্তদের ছত্রভঙ্গ করতে পুলিশ লাঠিচার্জ করে বলে অভিযোগ। ঘটনার ভিডিয়োয় এক পুলিশকর্মীকে এক যুবকের জামার কলার ধরে রাস্তায় টেনে নিয়ে যেতে দেখা যায় বলে প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে।

    দুর্গাপুজোর মণ্ডপের থিম এবং ধর্মীয় প্রতীক ব্যবহার নিয়েও বিতর্ক হয়েছে। ২০২১ সালে কলকাতার বড়িশা ক্লাবের দুর্গাপুজোকে ঘিরে জাতীয় নাগরিকপঞ্জির বিরোধিতায় বিভ্রান্তিকর বার্তা দেওয়ার অভিযোগ ওঠে। মণ্ডপে দুর্গাপ্রতিমার পাশাপাশি ঢাকার ঐতিহাসিক ঢাকেশ্বরী মন্দিরের প্রতিকৃতি ব্যবহার করা হয়েছিল। মণ্ডপসজ্জায় একটি দৃশ্যে দুর্গাপ্রতিমার সঙ্গে এক হিন্দু মহিলা ও তাঁর শিশুকে ভারতের একটি আটককেন্দ্রে বন্দি দেখানো হয় বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। তাঁদের বাংলাদেশে ফেরত পাঠানো হতে পারে—এমন ইঙ্গিতও ছিল বলে দাবি করা হয়েছে। এছাড়া কিছু দুর্গাপুজোয় প্রতিমার সামনে আজান দেওয়া হয় বলেও অভিযোগ ওঠে। আজান ইসলামে নমাজের আহ্বান। এই ঘটনাকে ঘিরেও ধর্মীয় প্রতীক ও পুজোর পরিবেশ নিয়ে বিতর্ক তৈরি হয়েছিল।

    খাগড়াগড় বিস্ফোরণকাণ্ড

    দুর্গাপুজোর সঙ্গে যুক্ত সবচেয়ে গুরুতর নিরাপত্তা-সংক্রান্ত ঘটনাগুলির একটি হল বর্ধমানের খাগড়াগড় বিস্ফোরণ মামলা। ২০১৪ সালের ২ অক্টোবর বর্ধমানের একটি দুর্গাপুজোর মণ্ডপে বিস্ফোরণ ঘটে। প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, বাংলাদেশি জঙ্গি সংগঠন জামাত-উল-মুজাহিদিন বাংলাদেশের একটি মডিউলের সঙ্গে এই ঘটনার যোগ ছিল। বিস্ফোরণে মণ্ডপের বেশ কয়েকটি প্রতিমা ক্ষতিগ্রস্ত হয়। তদন্তকারী সংস্থার দাবি, বিস্ফোরক তৈরির সময় দুর্ঘটনাবশত বিস্ফোরণ ঘটে এবং দু’জনের মৃত্যু হয়। পরে বিশেষ এনআইএ আদালত মামলায় ১৯ জনকে দোষী সাব্যস্ত করে, যাঁদের মধ্যে বাংলাদেশের নাগরিক ছিলেন (Durga Puja 2026) চারজন।

    দুর্গাপুজোকে কেন্দ্র করে প্রতিবাদ ও গ্রেফতারের ঘটনাও সামনে এসেছে। ২০২৪ সালের অক্টোবরে আলিপুরে পুজোর মণ্ডপ থেকে আরজি কর-কাণ্ডে আন্দোলনরত চিকিৎসকদের সমর্থনে প্রতিবাদ করার অভিযোগে নয় যুবককে গ্রেফতার করা হয়। আদালতে তাঁদের বিরুদ্ধে পুলিশি পদক্ষেপ নিয়ে প্রশ্ন ওঠে এবং অন্তর্বর্তী জামিন দেওয়া হয়।

    পুজো মণ্ডপে জুনিয়র চিকিৎসক ও প্রতিবাদীদের আটক এবং তাঁদের বিরুদ্ধে বলপ্রয়োগের অভিযোগ নিয়েও জাতীয় মানবাধিকার কমিশন কলকাতা পুলিশের কাছে জবাব চেয়েছিল। ত্রিধারা সম্মিলনী দুর্গাপুজোর মণ্ডপে ঘটনাকে কেন্দ্র করে এই নোটিশ দেওয়া হয়। সর্বভারতীয় ছাত্র ইউনিয়নের পক্ষ থেকে দায়ের করা অভিযোগের ভিত্তিতে জাতীয় মানবাধিকার কমিশন কলকাতা পুলিশের কাছে ঘটনার পরবর্তী পদক্ষেপের রিপোর্ট চায়।

    সব মিলিয়ে, গত এক দশকেরও বেশি সময় ধরে পশ্চিমবঙ্গে দুর্গাপুজোকে ঘিরে নানা ধরনের বিতর্ক ও সংঘাতের ঘটনা সামনে এসেছে। কোথাও পুজোর মণ্ডপে ভাঙচুর, কোথাও ধর্মীয় আচার পালনে বাধা, কোথাও বিসর্জনের শোভাযাত্রায় হিংসা, আবার কোথাও প্রতিবাদীদের বিরুদ্ধে পুলিশি পদক্ষেপ—বিভিন্ন ঘটনায় উৎসবের ধর্মীয়, সাংস্কৃতিক এবং সামাজিক পরিসর প্রশ্নের মুখে পড়েছে (Pandal Vandalism Incidents)।

    বিসর্জনের শোভাযাত্রায় পাথর ছোড়ার অভিযোগ

    বিশেষ করে ২০২৪ সালের ঘটনাগুলিতে দুর্গাপুজোর মণ্ডপ ও তার আশপাশের জনপরিসর একাধিক পৃথক সংঘাতের কেন্দ্র হয়ে ওঠে। গার্ডেন রিচে পুজোর আচার ঘিরে বিরোধ, শ্যামপুরে ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ, নারকেলডাঙায় বিসর্জনের শোভাযাত্রায় পাথর ছোড়ার অভিযোগ, পুজোর মণ্ডপের কাছে প্রতিবাদকারীদের গ্রেফতার এবং সরকারি পুজো কার্নিভালে কর্তব্যরত চিকিৎসকের আটক—সবক’টি ঘটনায়ই নতুন করে আইনশৃঙ্খলা ও প্রশাসনিক ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।

    এর পাশাপাশি প্রতিমা বিসর্জন, বিজয়া দশমীতে পুলিশি পদক্ষেপ, পুজোর মণ্ডপের থিম ও ধর্মীয় প্রতীক ব্যবহার এবং বর্ধমান বিস্ফোরণ মামলার মতো পুরনো ঘটনাগুলিও এই বিতর্কের পরিসরকে আরও বিস্তৃত করেছে।

    ২০২৬ সালের “শারদোৎসব” বিতর্ক সেই চলমান চর্চায় নয়া মাত্রা যোগ করেছে। দুর্গাপুজোর পরিচয়, নামকরণ, সাংস্কৃতিক উপস্থাপনা এবং পুজোকে ঘিরে (Durga Puja 2026) জনপরিসরের ব্যবস্থাপনা নিয়ে রাজনৈতিক দল ও প্রশাসনের মধ্যে মতপার্থক্য ফের প্রকাশ্যে এসেছে (Pandal Vandalism Incidents)।

     

LinkedIn
Share