Tag: Mamata Banerjee

Mamata Banerjee

  • Gouri Shankar Ghosh: সব সরকারি গ্রন্থাগার থেকে সরানো হচ্ছে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বই, বড় ঘোষণা মন্ত্রী গৌরীশঙ্কর ঘোষের

    Gouri Shankar Ghosh: সব সরকারি গ্রন্থাগার থেকে সরানো হচ্ছে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বই, বড় ঘোষণা মন্ত্রী গৌরীশঙ্কর ঘোষের

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: রাজ্যে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর জনশিক্ষা প্রসার ও গ্রন্থাগার পরিষেবা দফতরে বড়সড় নীতিগত পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিলেন নতুন মন্ত্রী গৌরীশঙ্কর ঘোষ (Gouri Shankar Ghosh)। বৃহস্পতিবার বিকাশ ভবনে কার্যভার গ্রহণ করার পরেই তিনি ঘোষণা করেন, রাজ্যের কোনও সরকারি বা সরকার-পোষিত সাধারণ গ্রন্থাগারে প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের (Mamata Banerjee) লেখা বই আর রাখা হবে না।

    পড়াশোনার মানোন্নয়নে যা সহায়ক নয় (Gouri Shankar Ghosh)

    গ্রন্থাগারগুলির আধুনিকীকরণ ও আমূল পরিবর্তনের রূপরেখা স্পষ্ট করে মন্ত্রী (Gouri Shankar Ghosh) বলেন, “যে সমস্ত বই থেকে নতুন প্রজন্ম শিক্ষণীয় বা গঠনমূলক কিছু লাভ করতে পারবে না, সেগুলি গ্রন্থাগারে রাখার কোনও প্রয়োজনীয়তা নেই।” উদাহরণ হিসেবে প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রীর (Mamata Banerjee) লেখা বিখ্যাত ছড়ার বই ‘এপাং-ওপাং-ঝপাং’-এর প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, “এই ধরনের অপ্রয়োজনীয় লেখা শিক্ষার্থীদের কোনও উপকারে আসে না। তাই শিক্ষার্থীদের পড়াশোনার মানোন্নয়নে যা সহায়ক নয়, এমন সমস্ত বই দ্রুত গ্রন্থাগার থেকে সরিয়ে ফেলা হবে।”

    পরিবর্তে রাজ্য সরকার গ্রন্থাগারগুলিতে জাতীয়তাবাদী ভাবধারা, ভারতের প্রাচীন ইতিহাস এবং সংস্কৃতির ওপর বিশেষ জোর দিতে চলেছে। নতুন রূপরেখায় স্থান পাবে স্বামী বিবেকানন্দ, রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় এবং কাজী নজরুল ইসলামের মতো মনীষীদের জীবন ও কর্মভিত্তিক তথ্যসমৃদ্ধ বই। এছাড়া বিজ্ঞান ও আর্থ-সামাজিক বিষয়ের যেসব বই পড়ুয়াদের বৌদ্ধিক বিকাশে সাহায্য করবে, সেগুলিকে অগ্রাধিকার দেওয়া হবে।

    শিক্ষার্থীদের গৃহশিক্ষকের ওপর নির্ভরতা কমবে

    নতুন মন্ত্রী গৌরী শঙ্কর (Gouri Shankar Ghosh) কেবল বই পরিবর্তনের কথাই বলেননি, গ্রন্থাগারগুলির সার্বিক পরিকাঠামো উন্নয়নের ওপরও জোর দিয়েছেন। তিনি স্বীকার করে নেন যে বর্তমানে গ্রন্থাগারগুলিতে তীব্র কর্মী সঙ্কট রয়েছে। এই সঙ্কট দূর করতে দ্রুত কর্মী নিয়োগ, ই-লাইব্রেরি বা ডিজিটাল পাঠাগার ব্যবস্থার প্রসার এবং স্কুলের পাঠাগারগুলিকে আরও সমৃদ্ধ করার আশ্বাস দেন তিনি। মন্ত্রীর মতে, স্কুল স্তরে পর্যাপ্ত ও মানসম্মত বইয়ের জোগান নিশ্চিত করা গেলে শিক্ষার্থীদের গৃহশিক্ষকের ওপর নির্ভরতা কমবে এবং তারা বিদ্যালয়মুখী হবে। সরকারের এই নতুন সিদ্ধান্ত ঘিরে ইতিমধ্যেই রাজ্যের রাজনৈতিক ও বুদ্ধিজীবী মহলে ব্যাপক চর্চা শুরু হয়েছে। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের (Mamata Banerjee) বই যে আগামী প্রজন্মের কাছে অপ্রাসঙ্গিক তা মনে করিয়ে দেন রাজ্যের মন্ত্রী।

  • Abhishek Banerjee: মধ্যরাতেও ছাতার তলায়! জিজ্ঞাসাবাদে অসযোগিতা? ১৪ তারিখ ফের অভিষেককে তলব সিআইডির

    Abhishek Banerjee: মধ্যরাতেও ছাতার তলায়! জিজ্ঞাসাবাদে অসযোগিতা? ১৪ তারিখ ফের অভিষেককে তলব সিআইডির

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: অভিষেক বন্দ্যোপাধ্য়ায়কে (Abhishek Banerjee) টানা সাড়ে ৫ ঘণ্টা জিজ্ঞাসাবাদেও সন্তুষ্ট নন সিআইডি-র তদন্তকারীরা। সে কারণেই আগামী ১৪ তারিখ বেলা ১২টার সময় ফের তাঁকে তলব করেছে সিআইডি। এর আগে একাধিকবার নোটিস পেয়েও হাজিরা দেননি অভিষেক। হাইকোর্টের নির্দেশের পর বৃহস্পতিবার বিকেলে সিআইডি (CID) দফতরে হাজিরা দেন তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক। সূত্রের খবর, সই জাল-কাণ্ডে বিরোধী দলনেতা বাছাইয়ের রেজোলিউশন নিয়ে একাধিক প্রশ্নের মুখে পড়তে হয় তাঁকে। একবার চায়ের বিরতি নিয়ে প্রায় সাড়ে ৫ ঘণ্টা জিজ্ঞাসাবাদ করা হয় তাঁকে। সিআইডি সূত্রে খবর, প্রশ্নের উত্তর দেওয়ার মাঝেই মেজাজ হারিয়ে ফেলেন অভিষেক।

    টানা সাড়ে ৫ ঘণ্টা জিজ্ঞাসাবাদ

    প্রবেশ করেছিলেন সন্ধ্যা ৫টা ৪৯ মিনিট নাগাদ, প্রস্থান প্রায় রাত সাড়ে ১১টা! এদিন নির্ধারিত সময়ের আগেই ভবানীভবনে পৌঁছন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। বিমানবন্দর থেকে প্রথমে কালীঘাটের বাড়িতে যান তিনি। এরপর সেখান থেকে সোজা সিআইডি সদর দফতর ভবানীভবনে পৌঁছন। হাইকোর্টের নির্দেশ এবং সিআইডি-র একাধিক তলবের পর অবশেষে তদন্তকারীদের মুখোমুখি হন তিনি। সই জালিয়াতি কাণ্ডে এর আগে তিন তিনবার অভিষেককে ডেকে পাঠিয়েছিল সিআইডি। হাজিরা দেননি অভিষেক। শেষে জল গড়ায় কলকাতা হাইকোর্টে। হাইকোর্ট থেকে রক্ষাকবচ মিলতেই দিল্লি থেকে ফিরে সোজা বাড়ি ঘুরে ভবানীভবনে চলে যান অভিষেক। রাতে সেখান থেকে বের হওয়ার সময় সাংবাদিকরা তাঁকে গুচ্ছ গুচ্ছ প্রশ্ন করলেও কোনও প্রশ্নেরই উত্তর দিতে চাননি অভিষেক।

    কেন বারবার মেজাজ হারান অভিষেক?

    সূত্র মারফত জানা গিয়েছে, সিআইডি দফতরে প্রথমে ছয়-সাত জন অফিসার অভিষেককে জিজ্ঞাসাবাদ করেন। তারপর একসঙ্গে ১০ জন আধিকারিক প্রশ্নের ঝুলি নিয়ে হাজির হন তাঁর সামনে। ছিলেন সিআইডির এডিজি সুপ্রতিম সরকারও। জানা গিয়েছে, একাধিক কঠিন প্রশ্নের মুখে পড়তে হয়েছে অভিষেককে। বৈঠকে না থাকার পরও বিধায়কদের সই কীভাবে চিঠিতে রইল? কে বা কারা সই করেছেন? কেন করেছেন? রেজোলিউশন কপি কোথায়? এ ছাড়াও একাধিক কঠিন প্রশ্নের সম্মুখীন হতে হয়েছে তাঁকে। জানা যাচ্ছে, অধিকাংশ প্রশ্নের জবাবেই নাকি অভিষেক বলেছেন, জানি না। সূত্রের খবর, তদন্তকারী অফিসাররা তাঁকে বলেন, দলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক হিসেবে নিজের দায় কোনওভাবেই এড়াতে পারেন না তিনি। এ কথা শুনে নাকি মেজাজ হারান অভিষেক। স্পিকারের মতো সাংবিধানিক পদাধিকারীকে কোনও চিঠি দেওয়ার আগে ভালোভাবে জানা প্রয়োজন ছিল, এ কথা শুনেও মেজাজ হারিয়ে ফেলেন তিনি। তাঁর উত্তরে সন্তুষ্ট নন সিআইডি আধিকারিকরা। জিজ্ঞাসাবাদের সময় প্রশ্নের উত্তর দিতে হবে, এটাই স্বাভাবিক। কিন্তু অভিষেক কিছুই জানেন না এটা মানতে পারছেন না তদন্তকারীরা। আর যদি না-জানেন তাহলে বারবার এত মেজাজ হারান কেন অভিষেক? এই প্রশ্নও উঠছে।

    কী এই সই জাল কাণ্ড?

    বিধানসভা ভোটের ফল ঘোষণার পর, গত ৬ মে বিধায়কদের নিয়ে কালীঘাটে তৃণমূলনেত্রী বৈঠক করেন। তাতে বিরোধী দলনেতা হিসেবে শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়ের (Sovandeb Chattopadhyay) নাম প্রস্তাব করা হয়। ওইদিন যাঁরা উপস্থিত ছিলেন, তাঁরা সকলে হাত তুলে শোভনদেবকে সমর্থন জানান। কিন্তু বিধানসভায় এই সংক্রান্ত যে প্রস্তাবনা জমা দিতে হয়, তা দেয়নি তৃণমূল। এরপর ১৩ ও ১৪ মে বিধানসভায় তৃণমূল বিধায়কদের শপথগ্রহণ হয়। শপথের পর নিয়ম মেনে সই করেন বিধায়করা। বিরোধী দল হিসেবে তৃণমূলের কাছ থেকে বিরোধী দলনেতার নাম নিয়ে প্রস্তাবপত্র চান বিধানসভার সচিব। তা জমা দিতে ১৯ মে ফের কালীঘাটে বৈঠক ডাকা হয় বিধায়কদের। ওইদিন কেউ ছিলেন, কেউ ছিলেন না। উপস্থিত সকলের সই নেওয়া হয় দলের তরফে। মিলিয়ে দেখা হয় ক’জন গরহাজির। পরে দলের প্রস্তাবিত বিরোধী দলনেতার নামে সমর্থন জানিয়ে ৭০ জনের সই করা একটি কাগজ জমা দেওয়া হয় বিধানসভায়। তৃণমূলের তরফে জানানো হয়, ওটাই বিরোধী দলনেতার প্রস্তাবনাপত্র। আর এখানেই গরমিল শুরু। দুই জায়গায় তৃণমূল বিধায়কদের সই না মেলায় সন্দেহ হয় সচিবের। জল গড়ায় থানায়। দায়ের করা হয় এফআইআর। তদন্তভার পেয়ে কাজ শুরু করে সিআইডি। একাধিক বিধায়ককে জেরা করা হয়। দলের ‘বিদ্রোহী’ বিধায়কের অভিযোগের তির ছিল অভিষেকের দিকে। সেই কারণেই তাঁকে তলব করে সিআইডি।

    কেন ফের তলব অভিষেককে

    সূত্রের খবর, অভিষেকের দেওয়া জবাবে অসন্তুষ্ট সিআইডি-র তদন্তকারীরা। জবাবে অসঙ্গতি থাকাতেই ফের তাঁকে আরও একবার হাজিরা দেওয়ার জন্য বলা হচ্ছে। যে রেজোলিউশন নিয়ে এত শোরগোল সেই রেজোলিউশনের কপি সংক্রান্ত বিষয়ে কোনও তথ্য অভিষেক তদন্তকারীদের দিতে পারেননি। বারবার তাঁর কাছে এই নির্দিষ্ট বিষয়েই জানতে চাওয়া হয়। কিন্তু প্রতি ক্ষেত্রেই তিনি ‘জানি না’, ‘তার পক্ষে বলা সম্ভব নয়’, ‘বলতে পারব না’, এই জাতীয় উত্তর দিয়েছেন। স্বাভাবিকভাবেই এই জিজ্ঞাসাবাদে খুশি নিন সিআইডি আধিকারিকরা। সেই কারণেই রবিবার ফের তলব করা হয়েছে তাঁকে। রেজোলিউশন সংক্রান্ত বেশ কিছু নথি নিয়ে হাজিরা দিতে বলা হয়েছে তাঁকে।

    মধ্যরাতেও ছাতার তলায় মুখ ঢাকলেন

    রাত ১১টা ২৮ মিনিটে ভাবনীভবন থেকে বেরিয়ে সোজা কালীঘাটের রাস্তা ধরেছিলেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। চলে যান মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বাড়িতে। সেখানে বেশ কয়েকজন বর্ষীয়ান নেতার উপস্থিতিতে হয় বৈঠক। উপস্থিত ছিলেন তৃণমূল বিধায়ক মদন মিত্র, কুণাল ঘোষ। বারোটা বেজে দশ মিনিট নাগাদ দলনেত্রীর বাড়ি থেকে বের হন অভিষেক। তবে ছাতায় মুখ ঢেকে। তাঁকে দেখতে পাননি কেউ।

  • Mamata TMC Rebellion: ফাটল চওড়া তৃণমূলে! অভিষেককে ধুয়ে দিলেন কল্যাণ, ‘আলটিমেটাম’ মমতাকেও

    Mamata TMC Rebellion: ফাটল চওড়া তৃণমূলে! অভিষেককে ধুয়ে দিলেন কল্যাণ, ‘আলটিমেটাম’ মমতাকেও

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: “আপনি যদি অভিষেকের ওপরই নির্ভর করেন, তাহলে তাঁর সঙ্গেই থাকুন। আর যদি তাঁর থেকে দূরে সরে আসেন, তাহলে আমি আপনার পাশে আছি।” বৃহস্পতিবার মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের উদ্দেশে এমনই বার্তা দিলেন তৃণমূল সাংসদ কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata TMC Rebellion)। মমতার হাতে গড়া সাধের তৃণমূলে একের পর এক উইকেট পড়তে থাকায় এমনিতেই শ্যাম রাখি না কূল দশা তৃণমূল সুপ্রিমোর।

    ‘ভাইপো কালচারে’র জের! (Mamata TMC Rebellion)

    এহেন আবহে কল্যাণের এই হুমকি বার্তায় সিঁদুরে মেঘ দেখছেন তৃণমূলের মমতাপন্থী নেতারা। তৃণমূলে ‘ভাইপো কালচার’ শুরুর পর থেকেই বইতে শুরু করেছিল অশান্তির চোরাস্রোত। তবে সে সবকে কোনওদিনই পাত্তা দেননি (Kalyan Banerjee) দলনেত্রী। উল্টে সাপ এবং ব্যাঙ-দু’পক্ষকেই তাঁবে রাখতে একের পর এক ‘গেম’ খেলে গিয়েছেন তিনি। তবে তাতে যে বিশেষ কাজ হয়নি, তার প্রমাণ মিলল ছাব্বিশের বিধানসভা নির্বাচনে তৃণমূল গাড্ডায় পড়তেই। ভেঙে দু’খান হয়ে গেল কংগ্রেস ভাঙিয়ে তৃণমূল গড়ার ‘কারিগর’ মমতার দল।

    অভিষেককে নিশানা কল্যাণের

    এদিন কল্যাণ প্রকাশ্যেই ক্ষোভ উগরে দেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে। সই জালিয়াতি সংক্রান্ত একটি মামলায় তাঁর পরিবর্তে অন্য আইনজীবী নিয়োগ করাকে কেন্দ্র করে ‘ভাতিজা’র বিরুদ্ধে অসম্মান করার অভিযোগ তোলেন শ্রীরামপুরের সাংসদ। তিনি জানান, একজন সিনিয়র আইনজীবী হিসেবে তাঁকে অপমান করা হয়েছে। ভবিষ্যতে আর তিনি যে অভিষেকের হয়ে কোনও মামলায় সওয়াল করবেন না, তাও জানিয়ে দেন এই তৃণমূল সাংসদ। অভিষেককে নিশানা করে কল্যাণ বলেন, “ওঁর অহংকারী মনোভাবের কারণেই দলের মধ্যে সমস্যা সৃষ্টি হচ্ছে। উনি কাউকেই সম্মান করতে জানেন না।” তিনি জানান, দলের প্রবীণ নেতা ডেরেক ও’ব্রায়েন তাঁর সঙ্গে যোগাযোগ করলেও, মমতা এখনও ফোন করেননি। তবে তিনি যে তৃণমূলের অন্যান্য সাংগঠনিক ও আইনি বিষয়ে কাজ চালিয়ে যাবেন, তাও জানিয়ে দিয়েছেন এই আইনজীবী নেতা।

    ফাটল চওড়া হচ্ছে তৃণমূলে

    এদিকে, সময়ের সঙ্গে সঙ্গে তৃণমূলের ফাটল ক্রমেই চওড়া হচ্ছে। গত তিনদিনে পদত্যাগ করেছেন রাজ্যসভার তিন সাংসদ। বুধবার রাজ্যসভার সদস্যপদ ছাড়েন প্রকাশ চিক বরাইক। ৮ জুন ইস্তফা দিয়েছিলেন সুখেন্দুশেখর রায়। আর ১০ জুন পদত্যাগ করেন সুস্মিতা দেব। প্রকাশ জানান, পশ্চিমবঙ্গের মানুষের মতামতকে সম্মান জানিয়েই তিনি পদত্যাগের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। পরে তাঁকে বিজেপি সাংসদ নিশিকান্ত দুবের বাসভবনে যেতে দেখা যায়, যা নিয়ে রাজনৈতিক জল্পনার পারদ আরও চড়েছে।এদিকে, তৃণমূলের সঙ্গে সম্ভাব্য কোনও সংযুক্তির জল্পনা উড়িয়ে দিয়েছে কংগ্রেস। যদিও বুধবার দিল্লিতে লোকসভার বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধীর সঙ্গে বৈঠক করেন (Mamata TMC Rebellion) অভিষেক। অন্যদিকে, বিদ্রোহী তৃণমূল নেতা ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের দাবি, তাঁদের সঙ্গে সমর্থন রয়েছে ৬৪ জন বিধায়কের সমর্থন। বিদ্রোহী সাংসদ কাকলি ঘোষ দস্তিদার জানান, লোকসভায় ২০ জন সাংসদ পৃথক আসন বিন্যাসের দাবি জানিয়েছেন। এ থেকেই (Kalyan Banerjee) স্পষ্ট, তৃণমূলের ছত্রখান হওয়াটা স্রেফ সময়ের অপেক্ষা।

     

  • Prakash Baraik: তৃণমূলে ভাঙনের জল্পনা আরও জোরালো, এবার রাজ্যসভা থেকে ইস্তফা প্রকাশ চিক বরাইকের

    Prakash Baraik: তৃণমূলে ভাঙনের জল্পনা আরও জোরালো, এবার রাজ্যসভা থেকে ইস্তফা প্রকাশ চিক বরাইকের

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: তৃণমূলের অন্দরে চলতে থাকা রাজনৈতিক টানাপোড়েনের মধ্যেই রাজ্যসভার সদস্যপদে ইস্তফা দিলেন দলের প্রকাশ চিক বরাইক (Prakash Baraik)। বৃহস্পতিবার তিনি জানান, পশ্চিমবঙ্গের মানুষের রায়কে সম্মান জানিয়েই এই সিদ্ধান্ত নিয়েছেন তিনি। সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে প্রকাশ বলেন, “পশ্চিমবঙ্গের মানুষ যে মতামত দিয়েছেন, তা (BJP) মেনে নিয়েই আমি রাজ্যসভার সদস্যপদ থেকে ইস্তফা দিয়েছি।” প্রসঙ্গত, গত এক সপ্তাহে এটি তৃণমূলের তৃতীয় রাজ্যসভা সাংসদের পদত্যাগ। এর আগে ৮ জুন পদত্যাগ করেন সুখেন্দু শেখর রায়। তার ঠিক দুদিন পরে, ১০ জুন রাজ্যসভার সদস্যপদ ছাড়েন সুস্মিতা দেব। এবার সেই তালিকায় উঠে গেল প্রকাশের নাম।

    বিজেপি সাংসদের বাড়িতে প্রকাশ (Prakash Baraik)

    এহেন পরিস্থিতিতে বিজেপিতে যোগ দেওয়ার জল্পনাও উসকে দিয়েছেন প্রকাশ। এদিন ইস্তফাপত্র জমা দিয়ে প্রকাশ চলে যান বিজেপি সাংসদ নিশিকান্ত দুবের বাসভবনে। সেখানে তাঁর বিজেপিতে যোগ দেওয়া নিয়ে করা এক প্রশ্নের উত্তরে প্রকাশ বলেন, “সময়ই সব বলবে। এখনই কিছু বলতে চাই না। ভবিষ্যতে রাজনীতিতে কী করব, তা সময়ই ঠিক করবে।” তিনি জানান, তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে তাঁর কোনও ব্যক্তিগত ক্ষোভ নেই। তবে নিজের রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ নিয়ে সঠিক সময়ে সিদ্ধান্ত জানাবেন বলেও ইঙ্গিত দেন প্রকাশ। ইস্তফার কারণ ব্যাখ্যা করতে গিয়ে তিনি বলেন, “পশ্চিমবঙ্গের জনমত বিজেপির পক্ষেই ছিল। আমার নিজের এলাকায়ও তৃণমূল একটি আসনও জিততে পারেনি। উত্তরবঙ্গের ফলও আশানুরূপ হয়নি। সেই কারণেই আমি মনে করেছি, এই পদে আমার থাকা আর নৈতিকভাবে ঠিক নয়। তাই আমি সাংসদ পদ এবং দলের প্রাথমিক সদস্যপদ—দুই থেকেই ইস্তফা দিয়েছি।”

    ক্রমেই চওড়া হচ্ছে তৃণমূলের ফাটল

    এদিকে, তৃণমূলের অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্ব আরও প্রকট হয়েছে বিদ্রোহী নেতা ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের বক্তব্যে। তিনি সাফ জানিয়ে দিয়েছেন (Prakash Baraik), বিদ্রোহী গোষ্ঠীর সঙ্গে কংগ্রেসের কোনও ধরনের সংযুক্তির প্রশ্নই নেই এবং গোটা বিষয়টি সম্পূর্ণভাবে দলের অভ্যন্তরীণ বিষয়। ঋতব্রতের দাবি, তাঁদের শিবিরে এখন ৬৪ জন বিধায়কের সমর্থন রয়েছে, যা আগের ৫৮ জনের তুলনায় বেশি। খুব শীঘ্রই তাঁরা স্পিকারের কাছে (Prakash Baraik) সমর্থনের চিঠি জমা দেবেন বলেও জানান তিনি।তৃণমূল কংগ্রেসে ধারাবাহিক পদত্যাগ ও বিদ্রোহী শিবিরের সক্রিয়তায় বঙ্গের রাজনৈতিক পরিস্থিতি (BJP) নয়া মোড় নিতে পারে বলেই রাজনৈতিক মহলের ধারণা।

     

  • CBI: বাংলায় সিবিআই-এর ‘জেনারেল কনসেন্ট’ ফিরিয়ে আনল শুভেন্দু সরকার, ৮ বছর পর অবসান মমতার জমানার নিষেধাজ্ঞার

    CBI: বাংলায় সিবিআই-এর ‘জেনারেল কনসেন্ট’ ফিরিয়ে আনল শুভেন্দু সরকার, ৮ বছর পর অবসান মমতার জমানার নিষেধাজ্ঞার

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: পশ্চিমবঙ্গে দুর্নীতি ও অনিয়মের শিকড় উপড়ে ফেলে প্রশাসনিক স্বচ্ছতা ফিরিয়ে আনতে এক বড় পদক্ষেপ নিল শুভেন্দু অধিকারীর (Suvendu Adhikari) নেতৃত্বাধীন বিজেপি সরকার। দীর্ঘ ৮ বছর আগে তৃণমূল জমানায় প্রত্যাহার করে নেওয়া সিবিআই (CBI)-এর ‘জেনারেল কনসেন্ট’ বা সাধারণ সম্মতি পুনরায় বহাল করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে নবান্ন। এর ফলে রাজ্যে কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থাটির ক্ষমতা আরও বৃদ্ধি পাবে এবং নিয়োগ দুর্নীতিসহ একাধিক মামলার তদন্তের গতি কয়েকগুণ বাড়বে বলে মনে করা হচ্ছে।

    গত ৮ জুন ২০২৬ তারিখে পশ্চিমবঙ্গ সরকারের স্বরাষ্ট্র ও পার্বত্য বিষয়ক বিভাগ থেকে এই সংক্রান্ত একটি বিজ্ঞপ্তি জারি করা হয়। সেখানে ১৯৪৬ সালের ‘দিল্লি স্পেশাল পুলিশ এস্টাব্লিশমেন্ট’ (DSPE) আইনের ৬ নম্বর ধারার অধীনে সিবিআই-কে পুনরায় সাধারণ সম্মতি প্রদান করা হয়েছে।

    সাধারণ সম্মতি বা ‘জেনারেল কনসেন্ট’ বিষয়টি আসলে কী (CBI)?

    সিবিআই মূলত ‘দিল্লি স্পেশাল পুলিশ এস্টাব্লিশমেন্ট’ আইনের অধীনে কা জ করে। যেহেতু পুলিশ এবং আইন-শৃঙ্খলা রাজ্যের আওতাভুক্ত বিষয়, তাই কোনও রাজ্যে কেন্দ্রীয় সরকারি কর্মচারীদের বিরুদ্ধে তদন্ত করতে গেলে সিবিআই-এর (CBI) জন্য রাজ্য সরকারের অনুমতি প্রয়োজন হয়। প্রশাসনিক কাজ সহজ করতে রাজ্যগুলো সাধারণত তদন্ত সংস্থাকে একটি ‘ব্লাঙ্কেট পারমিশন’ বা সাধারণ সম্মতি দিয়ে রাখে। কিন্তু ২০১৮ সালে তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এই সম্মতি প্রত্যাহার করে নিয়েছিলেন। ফলে গত কয়েক বছরে নতুন কোনও মামলার তদন্ত শুরু করার আগে সিবিআই-কে প্রতিবার রাজ্য সরকারের অনুমতির জন্য অপেক্ষা করতে হতো অথবা আদালতের দ্বারস্থ হতে হতো। এবার থাকে এই নিয়মের বড় পরিবর্তন সূচনা করলেন শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari)।

    বিজ্ঞপ্তিতে কী বলা হয়েছে?

    শুভেন্দু অধিকারীর (Suvendu Adhikari) সরকারের জারি করা বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে যে, এখন থেকে সিবিআই পশ্চিমবঙ্গের যে কোনও প্রান্তে কেন্দ্রীয় সরকারি কর্মচারী, কেন্দ্রীয় পাবলিক সেক্টর আন্ডারটেকিং (CPSU) এবং বেসরকারি ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে কোনও পূর্ব অনুমতি ছাড়াই সরাসরি তদন্ত প্রক্রিয়া শুরু করতে পারবে। তবে বিজ্ঞপ্তিতে একটি বিশেষ শর্তও রাখা হয়েছে। কেন্দ্রীয় সংস্থা (CBI) সাধারণ সম্মতি ফিরে পেলেও, পশ্চিমবঙ্গ সরকারের অধীনে কর্মরত রাজ্য সরকারি আধিকারিক বা কর্মচারীদের বিরুদ্ধে তদন্তের ক্ষেত্রে এখনও রাজ্য সরকারের লিখিত আগাম অনুমতির প্রয়োজন হবে।

    ২০১৮ সালে কেন এই সম্মতি কেড়ে নিয়েছিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়?

    ২০১৮ সালের নভেম্বরে তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সিবিআই-এর সাধারণ সম্মতি প্রত্যাহার করে অভিযোগ করেছিলেন যে, কেন্দ্রীয় সরকার সিবিআই (CBI) এবং ইডি-র মতো সংস্থাগুলিকে রাজনৈতিক স্বার্থে ব্যবহার করছে। সারদা চিটফান্ড থেকে শুরু করে কয়লা পাচার, গরু পাচার এবং শিক্ষক নিয়োগ দুর্নীতির মতো একাধিক গুরুত্বপূর্ণ মামলায় তৃণমূলের শীর্ষ নেতাদের নাম জড়ানোয় তৎকালীন সরকার এই পদক্ষেপ নিয়েছিল বলে পর্যবেক্ষকদের মত। এর ফলে তদন্তের গতি শ্লথ হয়ে গিয়েছিল এবং বহু মামলা সুপ্রিম কোর্ট পর্যন্ত গড়িয়েছিল।

    প্রশাসনিক সংস্কারে অনড় শুভেন্দু সরকার

    ক্ষমতায় আসার পর থেকেই মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari) তৃণমূল জমানার বিভিন্ন অনিয়ম সংশোধনে একের পর এক কড়া পদক্ষেপ নিচ্ছেন।

    • নিয়োগ দুর্নীতি: গত মে মাসেই সরকার শিক্ষক নিয়োগ, পুরসভা নিয়োগ এবং সমবায় নিয়োগ দুর্নীতি মামলায় অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য সিবিআই-কে বিশেষ অনুমোদন দিয়েছিল।
    • ২০১৯-এর হিংসার তদন্ত: ২০১৯ সালে সিএএ-বিরোধী আন্দোলনের নামে রেলের যে ৯৩ কোটি টাকার সম্পত্তি ধ্বংস করা হয়েছিল, তার তদন্তের দায়িত্বও সম্প্রতি পুলিশকে দেওয়া হয়েছে।
    • তদন্ত কমিশন: প্রাতিষ্ঠানিক দুর্নীতি এবং নারীদের ওপর হওয়া অত্যাচারের অভিযোগ খতিয়ে দেখতে গত ১৮ই মে হাইকোর্টের অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতিদের নিয়ে দুটি কমিশন গঠন করা হয়েছে।

    রাজ্যে পুলিশ ও আমলাতন্ত্রের রাজনীতিকরণ বন্ধ করা এবং দুর্নীতির জাল ছিঁড়ে ফেলাই বর্তমান সরকারের মূল লক্ষ্য বলে মনে করা হচ্ছে। সিবিআই-এর (CBI) সাধারণ সম্মতি পুনরুদ্ধার সেই পথে আরও একটি ইতিবাচক ধাপ।

  • CID: সইকাণ্ডের তদন্তে কালীঘাটে সিআইডি, তল্লাশি তৃণমূলের সেন্ট্রাল পার্টি অফিসে

    CID: সইকাণ্ডের তদন্তে কালীঘাটে সিআইডি, তল্লাশি তৃণমূলের সেন্ট্রাল পার্টি অফিসে

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: সইকাণ্ডের তদন্তে মঙ্গলবার কালীঘাটে তৃণমূলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে হানা দেয় সিআইডির (CID) একটি দল। প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী তথা তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বাড়ি লাগোয়া ৩০বি, হরিশ চ্যাটার্জি স্ট্রিটের ওই কার্যালয়ে পুলিশ ও কেন্দ্রীয় বাহিনীকে সঙ্গে নিয়েই অভিযান চালানো হয়। যদিও প্রথমে কার্যালয়ে প্রবেশ করতে পারেননি তদন্তকারীরা। উপস্থিত তৃণমূল নেতাদের সঙ্গে ঘণ্টাখানেক বাগ্‌বিতণ্ডার পর বিকেল চারটের কিছু (TMC Central Office) পরে ভেতরে ঢোকে সিআইডি। তল্লাশি চালায় প্রায় দু’ঘণ্টা ধরে।জানা গিয়েছে, সিআইডি কার্যালয়ের সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহেরও চেষ্টা করেছিল। অভিযোগ, তৃণমূলের সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের পাঠানো একটি প্রস্তাবিত চিঠিতে কয়েকজন বিধায়কের সই জাল করা হয়েছে। সেই অভিযোগের তদন্তেই এই পদক্ষেপ।

    পার্টি অফিসে ঢুকতে বাধা (CID)

    কার্যালয়ের দায়িত্বে থাকা তৃণমূলের প্রাক্তন সাংসদ তথা দলের কোষাধ্যক্ষ শুভাশিস চক্রবর্তী প্রথমে তদন্তকারীদের ভেতরে ঢুকতে দেননি। তাঁর দাবি, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় বর্তমানে দিল্লিতে রয়েছেন। তাঁদের অনুপস্থিতিতে তিনি কার্যালয়ে তল্লাশির অনুমতি দিতে পারেন না। সিআইডিকে আরও কয়েকদিন সময় দেওয়ার অনুরোধও জানান শুভাশিস। এদিকে, সিআইডির দাবি, আদালত এবং আইন মেনেই তারা তদন্তের স্বার্থে তল্লাশি চালাতে এসেছে। তাদের সঙ্গে যে সংশ্লিষ্ট নোটিশটি ছিল তাও জানায় রাজ্যের গোয়েন্দা সংস্থা। দীর্ঘ বাগ্‌বিতণ্ডার পর শেষ পর্যন্ত তদন্তকারী দল কার্যালয়ে ঢোকে।

    একাধিকবার হাজিরার নোটিশ

    প্রসঙ্গত, সইকাণ্ডে অভিষেককে একাধিকবার হাজিরার নোটিশ পাঠিয়েছে সিআইডি। ১ জুন হাজিরার নির্দেশ দেওয়া হলেও, তিনি অতিরিক্ত সময় চান। পরে ফের সাত দিনের মধ্যে হাজিরার নির্দেশ দেওয়া হলেও, উপস্থিত হননি তিনি। সোমবার তাঁর কালীঘাটের বাড়িতে তৃতীয় নোটিশটি পাঠিয়ে মঙ্গলবার বিকেল ৫টার মধ্যে হাজির হতে বলা হয়েছিল। তার পরেও তৃণমূলের এই নেতা উপস্থিত না হওয়ায় এদিন (TMC Central Office) পার্টি অফিসে হানা দেয় সিআইডি। এদিন, অভিষেকের ক্যামাক স্ট্রিটের অফিসেও যায় সিআইডির একটি দল। সেখানেও চালানো হয় তল্লাশি। প্রসঙ্গত, যে বৈঠকে দলীয় বিধায়কদের সই সংগ্রহ করা হয়েছিল বলে দাবি করছে তৃণমূল, সেটি হয়েছিল কালীঘাটের এই পার্টি অফিসেই। তদন্তকারীরা সে দিনের বৈঠকে কারা উপস্থিত ছিলেন, কারা সই করেছিলেন এবং পুরো প্রক্রিয়াটি কীভাবে সম্পন্ন হয়েছিল, তার তথ্য জোগাড়ে জোর দিচ্ছেন।

    তৃণমূল নেতার দাবি

    তল্লাশি শেষে কার্যালয় থেকে বেরিয়ে শুভাশিসের দাবি, সিআইডি কোনও নথি বা সামগ্রী বাজেয়াপ্ত করেনি। তাঁর সাফ কথা, তিনি কোনওভাবেই তদন্তে বাধা দেননি (CID)। যাঁর নামে চিঠি এসেছে, তিনি ফিরে এলেই তদন্তে পূর্ণ সহযোগিতা করা হবে। শুভাশিস বলেন, “অভিষেক ব্যানার্জিকে চিঠি দিয়েছেন। সার্চ করতে এসেছেন। আমি ওঁর অনুপস্থিতিতে কাউকে ঢুকতে দিতে পারি না। যাঁর চিঠি নিয়ে এসেছেন, তিনি আসুন, ওঁরা ঘরে ঢুকুন, আমরা সাহায্য করব। আমি ভলান্টিয়ারি চার্জে আছি। অফিস দেখছি একজন সাধারণ হিসেবে। আমি কোনও তদন্তে বাধা দিইনি। আমি বাধা দেওয়ার কেউ না। আমি সিআইডির কাছে (TMC Central Office) আবেদন করলাম, দু’দিন পরে আসতে।”

    সইকাণ্ড

    ছাব্বিশের বিধানসভা নির্বাচনে গোহারা হেরে গিয়ে বিরোধী আসনে বসে তৃণমূল। বিধানসভায় কে বিরোধী দলনেতা, মুখ্য সচেতক বা উপদলনেতা হবেন— তা ঠিক করতে তৃণমূলের ওই পার্টি অফিসে বিধায়কদের নিয়ে (CID) বৈঠকে বসেছিলেন দলনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সেই বৈঠকের পর শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়কে বিরোধী দলনেতা, নয়না বন্দ্যোপাধ্যায় এবং অসীমা পাত্রকে উপদলনেতা এবং মুখ্যসচেতক হিসাবে ফিরহাদ হাকিমের নাম প্রস্তাব করে স্পিকার রথীন্দ্র বসুকে চিঠি দেন তৃণমূলের সেকেন্ড ইন কমান্ড অভিষেক। অভিযোগ, তিনি তৃণমূল বিধায়কদের সই করা যে চিঠিটি পাঠিয়েছিলেন, তাতে কয়েক জন বিধায়কের সই ‘জাল’ করা হয়েছে। সেই অভিযোগ তুলে প্রথমে বিদ্রোহ ঘোষণা করেন উলুবেড়িয়া পূর্বের বিধায়ক ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় এবং এন্টালির বিধায়ক সন্দীপন সাহা। পরে তৃণমূল দু’জনকেই দলীয় পদ থেকে বহিষ্কার করে।

    মুখ্যমন্ত্রীর সাফ কথা

    সইকাণ্ডে সরকারের অবস্থান স্পষ্ট করতে গিয়ে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী বলেন, “ঋতব্রত এবং সন্দীপনের অভিযোগ পাওয়ার পরেই বিধানসভার তরফে হেয়ার স্ট্রিট থানার সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়। তার পরেই এফআইআরে দায়ের করে তদন্ত শুরু পুলিশ। সেই তদন্তে পুলিশকে সহযোগিতা করছে সিআইডি। তৈরি (TMC Central Office) হয়েছে সিট-ও। তদন্তের সূত্রে একাধিকবার অভিষেককে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তলব করে সিআইডি। পাঠানো হয় নোটিশও। তার পরেও তিনি হাজির না হওয়ায় এদিন চালানো হয় তল্লাশি (CID)।

     

  • TMC Crisis: তৃণমূলে মহাভাঙন! এনডিএ-তে যোগদানের আবেদন ২১ বিক্ষুব্ধ সাংসদের, দিল্লিতে চাপে মমতা-অভিষেক

    TMC Crisis: তৃণমূলে মহাভাঙন! এনডিএ-তে যোগদানের আবেদন ২১ বিক্ষুব্ধ সাংসদের, দিল্লিতে চাপে মমতা-অভিষেক

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: পশ্চিমবঙ্গের বিধানসভা নির্বাচনে বিপর্যয়ের পর তৃণমূল কংগ্রেসের অন্দরমহলে যে অসন্তোষ ক্রমশ বাড়ছিল, তা এবার প্রকাশ্যে বিস্ফোরিত হল। দলের ২১ জন বিক্ষুব্ধ সাংসদ এনডিএ-র শরিক হতে চেয়ে লোকসভার অধ্যক্ষের কাছে আনুষ্ঠানিক আবেদন জমা দিয়েছেন বলে রাজনৈতিক মহলে জোর চর্চা শুরু হয়েছে। এই ঘটনাকে তৃণমূল কংগ্রেসের ইতিহাসে অন্যতম বড় সাংগঠনিক সংকট বলে মনে করা হচ্ছে। সূত্রের খবর, সোমবার সকালে দিল্লিতে বিজেপির শীর্ষ নেতা ভূপেন্দ্র যাদবের বাসভবনে একটি গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। সেই বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী এবং তৃণমূলের বিদ্রোহী সাংসদদের একটি প্রতিনিধি দল। বৈঠকের পরই লোকসভার স্পিকারের দফতরে চিঠি জমা পড়ে বলে জানা গিয়েছে।

    বিজেপিতে নয়, এনডিএ-তে যোগ দিতে চান বিদ্রোহীরা

    সবচেয়ে তাৎপর্যপূর্ণ বিষয় হল, বিদ্রোহী সাংসদরা সরাসরি বিজেপিতে যোগদানের কথা বলেননি। তাঁদের দাবি, তাঁরা তৃণমূলের একটি পৃথক সংসদীয় ব্লক হিসেবে এনডিএ জোটের অংশ হতে চান। বিদ্রোহী শিবিরের নেত্রী হিসেবে কাকলি ঘোষ দস্তিদারের নাম সামনে এসেছে। উপদলনেতা হিসেবে থাকছেন শতাব্দী রায়। কাকলি ঘোষ দস্তিদারের পাঠানো চিঠিতে স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়েছে যে তাঁরা দল পরিবর্তন করছেন না, বরং সংসদে আলাদা গোষ্ঠী হিসেবে এনডিএ-র সঙ্গে যুক্ত হতে আগ্রহী। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এই আবেদন গৃহীত হলে কার্যত লোকসভায় তৃণমূলের বর্তমান সংসদীয় দলের অস্তিত্ব ভেঙে যাবে এবং একটি নতুন রাজনৈতিক সমীকরণের জন্ম হবে।

    দলত্যাগ বিরোধী আইন এড়াতেই কি সংখ্যার হিসাব?

    ভারতের দলত্যাগ বিরোধী আইন অনুযায়ী, কোনও সংসদীয় দলের অন্তত দুই-তৃতীয়াংশ সদস্য আলাদা হলে নির্দিষ্ট ক্ষেত্রে আইনগত সুরক্ষা পাওয়া সম্ভব। সেই হিসেবে তৃণমূলের লোকসভার সাংসদদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক সদস্যের সমর্থন প্রয়োজন ছিল। সূত্রের দাবি, প্রথমে ২০ জন সাংসদ বিদ্রোহী শিবিরে ছিলেন। পরে আরও একজন সাংসদ তাঁদের সঙ্গে যোগ দেওয়ায় সংখ্যা বেড়ে ২১-এ পৌঁছেছে। রাজনৈতিক মহলের একাংশের ধারণা, ভবিষ্যতে এই সংখ্যা আরও বাড়তে পারে।

    স্পিকারের দফতরে জমা পড়ল চিঠি

    সোমবার লোকসভার স্পিকার ওম বিড়লা দিল্লিতে উপস্থিত না থাকায় তাঁর অফিসে চিঠিটি জমা দেওয়া হয়েছে বলে জানা গিয়েছে। স্পিকার অন্য একটি সরকারি অনুষ্ঠানে যোগ দিতে রাজধানীর বাইরে রয়েছেন। চিঠির পরবর্তী সাংবিধানিক ও সংসদীয় প্রক্রিয়া কী হবে, তা নিয়ে এখন জল্পনা শুরু হয়েছে। স্পিকারের সিদ্ধান্তের উপরই নির্ভর করবে বিদ্রোহী সাংসদদের ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক অবস্থান।

    বিদ্রোহী শিবিরে কারা?

    এখনও পর্যন্ত যে নামগুলি সামনে এসেছে, সেগুলি হল—

    • ● কাকলি ঘোষ দস্তিদার
    • ● পার্থ ভৌমিক
    • ● দেব (দীপক অধিকারী)
    • ● জুন মালিয়া
    • ● শর্মিলা সরকার
    • ● খলিলুর রহমান
    • ● অসিত মাল
    • ● অরূপ চক্রবর্তী
    • ● প্রসূন বন্দ্যোপাধ্যায়
    • ● শতাব্দী রায়
    • ● কালিপদ সোরেন
    • ● সুখেন্দু শেখর রায় (পদত্যাগ করেছেন)

    এছাড়াও আরও কয়েকজন সাংসদের নাম নিয়ে রাজনৈতিক মহলে আলোচনা চলছে, যদিও আনুষ্ঠানিকভাবে সব নাম এখনও প্রকাশ্যে আসেনি।

    সুখেন্দুশেখর রায়ের ইস্তফায় চরম অস্বস্তি

    এই রাজনৈতিক উত্তেজনার মধ্যেই তৃণমূল কংগ্রেসের বর্ষীয়ান নেতা ও রাজ্যসভার সাংসদ সুখেন্দুশেখর রায়ের পদত্যাগ পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে। তিনি শুধু রাজ্যসভার সদস্যপদই নয়, দলের প্রাথমিক সদস্যপদ থেকেও ইস্তফা দিয়েছেন। তাঁর দীর্ঘ পদত্যাগপত্রে গত পনেরো বছরের শাসনকালে তৃণমূল সরকারের বিরুদ্ধে একাধিক গুরুতর অভিযোগ উত্থাপন করা হয়েছে।

    চিঠিতে তিনি অভিযোগ করেছেন যে—

    • ● রাজ্যে ব্যাপক দুর্নীতি প্রাতিষ্ঠানিক রূপ পেয়েছে;
    • ● নারী নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগজনক পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে;
    • ● শিক্ষা ও স্বাস্থ্য ব্যবস্থার অবনতি ঘটেছে;
    • ● শিল্পায়ন ও কর্মসংস্থানে স্থবিরতা দেখা দিয়েছে;
    • ● আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি হয়েছে।

    সুখেন্দুশেখরের মতে, এই কারণগুলির ফলেই সদ্যসমাপ্ত বিধানসভা নির্বাচনে জনগণ তৃণমূল কংগ্রেসের বিরুদ্ধে রায় দিয়েছেন এবং বিজেপিকে ঐতিহাসিক সংখ্যাগরিষ্ঠতা প্রদান করেছেন। তিনি আরও দাবি করেন যে, নবগঠিত সরকার ইতিমধ্যেই নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের পথে এগোতে শুরু করেছে এবং জনগণের রায়কে সম্মান জানিয়েই তিনি এই সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। তাঁর পদত্যাগের ফলে রাজ্যসভায় তৃণমূল কংগ্রেসের সাংসদ সংখ্যা ১৩ থেকে কমে ১২-তে নেমে এসেছে।

    দিল্লিতে থেকেও ভাঙন আটকাতে ব্যর্থ মমতা-অভিষেক?

    ঘটনাচক্রে, এই সংকটের সময়েই দিল্লিতে রয়েছেন তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং দলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। ইন্ডি জোটের বৈঠকে অংশগ্রহণের পাশাপাশি জাতীয় রাজনীতিতে নিজেদের প্রভাব বাড়ানোর লক্ষ্যে একাধিক বৈঠকও করছিলেন তাঁরা। বিধানসভা নির্বাচনের পর মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নতুন করে জাতীয় স্তরে বিরোধী রাজনীতির অন্যতম মুখ হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করার চেষ্টা শুরু করেছিলেন। কংগ্রেসসহ অন্যান্য বিরোধী দলের সঙ্গে সম্পর্ক আরও সুদৃঢ় করার উদ্যোগও নেওয়া হয়েছিল। কিন্তু সেই সময়েই দলের লোকসভার বড় অংশের সাংসদ যদি এনডিএ-র সঙ্গে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেন, তাহলে তা মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের রাজনৈতিক অবস্থানকে উল্লেখযোগ্যভাবে দুর্বল করতে পারে বলে মনে করছেন পর্যবেক্ষকরা।

    জাতীয় রাজনীতিতে কী প্রভাব পড়বে?

    বর্তমানে লোকসভায় তৃণমূল কংগ্রেসের ২৮ জন সাংসদ রয়েছেন। যদি তাঁদের মধ্যে ২১ জন আলাদা গোষ্ঠী গঠন করে এনডিএ-র শরিক হন, তাহলে সংসদে তৃণমূলের শক্তি কার্যত ভেঙে পড়বে।

    এর ফলে—

    • ● লোকসভায় তৃণমূলের সাংসদ সংখ্যা ব্যাপকভাবে কমে যাবে।
    • ● ইন্ডি জোটে দলের গুরুত্ব হ্রাস পেতে পারে।
    • ● জাতীয় স্তরে বিরোধী রাজনীতির অন্যতম মুখ হিসেবে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের অবস্থান দুর্বল হতে পারে।
    • ● বিজেপি নেতৃত্বাধীন এনডিএ সংসদে আরও শক্তিশালী অবস্থানে পৌঁছতে পারে।

    রাজনৈতিক তাৎপর্য

    তৃণমূল কংগ্রেস প্রতিষ্ঠার পর থেকে দল একাধিক রাজনৈতিক চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হয়েছে। তবে লোকসভায় এত বড় মাপের সাংসদ বিদ্রোহের ঘটনা নজিরবিহীন। আগামী কয়েক দিনের রাজনৈতিক ও সাংবিধানিক পদক্ষেপই নির্ধারণ করবে এই বিদ্রোহ শুধুমাত্র ক্ষোভের বহিঃপ্রকাশ হয়ে থাকবে, নাকি তা দেশের রাজনৈতিক মানচিত্রে একটি বড় পরিবর্তনের সূচনা করবে। এখন রাজনৈতিক মহলের নজর স্পিকারের সিদ্ধান্ত, বিদ্রোহী সাংসদদের পরবর্তী পদক্ষেপ এবং মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সম্ভাব্য পাল্টা কৌশলের দিকে।

  • West Bengal Assembly: জাতীয় ই-বিদান অ্যাপ্লিকেশনে যুক্ত পশ্চিমবঙ্গ, দেশের সব আইনসভা এখন এক ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে

    West Bengal Assembly: জাতীয় ই-বিদান অ্যাপ্লিকেশনে যুক্ত পশ্চিমবঙ্গ, দেশের সব আইনসভা এখন এক ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: কেন্দ্র সরকারের ‘ওয়ান নেশন–ওয়ান অ্যাপ্লিকেশন’ উদ্যোগের আওতায় জাতীয় ই-বিদান অ্যাপ্লিকেশন (NeVA)-এ যোগ দিল পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা। বুধবার (৪ জুন) একটি ত্রিপাক্ষিক সমঝোতা স্মারক (MoU) স্বাক্ষরের মাধ্যমে পশ্চিমবঙ্গ দেশের শেষ রাজ্য হিসেবে এই ডিজিটাল আইনসভা ব্যবস্থার অন্তর্ভুক্ত হল। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন কেন্দ্রীয় সংসদ বিষয়ক ও সংখ্যালঘু বিষয়ক মন্ত্রী কিরেন রিজিজু (Kiren Rijiju), আইন ও বিচার প্রতিমন্ত্রী অর্জুন রাম মেঘওয়াল (Arjun Ram Meghwal) তথ্য ও সম্প্রচার প্রতিমন্ত্রী এল মুরুগান (L. Murugan) এবং পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভার স্পিকার রথীন্দ্র বোস (Rathindra Bose)। পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari) ভার্চুয়ালি অনুষ্ঠানে যোগ দেন।

    দেশের ৩৩টি আইনসভা একই প্ল্যাটফর্মে

    সংসদ বিষয়ক মন্ত্রকের বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, পশ্চিমবঙ্গের অন্তর্ভুক্তির ফলে দেশের ৩৩টি আইনসভা প্রতিষ্ঠান এখন নেভা (NeVA) প্ল্যাটফর্মের আওতায় এসেছে। এর মধ্যে রয়েছে লোকসভা, রাজ্যসভা এবং ২৮টি রাজ্য ও দিল্লি, জম্মু ও কাশ্মীর এবং পুদুচেরি—এই তিন কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলের বিধানসভা। এছাড়াও অন্ধ্রপ্রদেশ, বিহার, কর্ণাটক, মহারাষ্ট্র, তেলঙ্গানা এবং উত্তরপ্রদেশের ছয়টি বিধান পরিষদও ইতিমধ্যে নেভা-র সঙ্গে যুক্ত হয়েছে। এদিন সমঝোতা স্মারকে কেন্দ্রের পক্ষে স্বাক্ষর করেন সংসদ বিষয়ক মন্ত্রকের অতিরিক্ত সচিব ড. সত্য প্রকাশ, পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভার পক্ষে প্রধান সচিব সৌমেন্দ্রনাথ দাস এবং রাজ্যের সংসদ বিষয়ক দফতরের বিশেষ সচিব সম্পা ধর।

    পূর্ববর্তী সরকারের সমালোচনা

    অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী দাবি করেন, পূর্ববর্তী তৃণমূল কংগ্রেস সরকার এই প্রকল্পে যোগ দিতে অনীহা দেখিয়েছিল। তাঁর অভিযোগ, তৎকালীন সরকার বিভিন্ন কেন্দ্রীয় প্রকল্পের মতো ‘ওয়ান নেশন–ওয়ান অ্যাপ্লিকেশন’ উদ্যোগেও অংশগ্রহণ করেনি। তিনি বলেন, “পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভার মতো বৃহৎ আইনসভায় এখনও কাগজের মাধ্যমে ভোটাভুটি হত। কোনও ইলেকট্রনিক ভোটিং ব্যবস্থা বা কার্যবিবরণীর লাইভ স্ট্রিমিং চালু ছিল না। পূর্ববর্তী সরকার এই বিষয়ে কোনও পদক্ষেপ করেনি।” মুখ্যমন্ত্রীর মতে, এর ফলে রাজ্যের মানুষ আধুনিক ও স্বচ্ছ ডিজিটাল আইনসভা ব্যবস্থার সুবিধা থেকে দীর্ঘদিন বঞ্চিত ছিলেন।

    কী এই ন্যাশনাল ই-বিদান অ্যাপ্লিকেশন?

    ন্যাশনাল ই-বিদান অ্যাপ্লিকেশন (NeVA) হল সংসদ বিষয়ক মন্ত্রকের একটি মিশন মোড প্রকল্প, যার উদ্দেশ্য দেশের সব আইনসভার কার্যক্রমকে ডিজিটাল ও কাগজবিহীন করা। এই প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে প্রশ্নোত্তর, বিল, নোটিস, আশ্বাস, কমিটির কার্যবিবরণী, কার্যতালিকা ও বুলেটিনসহ আইনসভার সমস্ত কাজ ডিজিটালভাবে পরিচালনা করা যায়। পাশাপাশি আইনসভার নথিপত্রের একটি স্থায়ী ডিজিটাল ভান্ডারও তৈরি হয়। কেন্দ্রীয় মন্ত্রী কিরেন রিজিজু পশ্চিমবঙ্গকে সম্পূর্ণ ডিজিটাল আইনসভায় রূপান্তরের জন্য কেন্দ্রের পূর্ণ সহযোগিতার আশ্বাস দেন। অন্যদিকে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী এই উদ্যোগকে রাজ্যের প্রশাসনিক আধুনিকীকরণ ও স্বচ্ছতা বৃদ্ধির ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ বলে উল্লেখ করেন।

     

     

     

     

     

  • FIR Against Mamata: হাদি হত্যা নিয়ে দেশবিরোধী মন্তব্য মমতার! দেশের তথ্য ফাঁসের অভিযোগে এফআইআর দায়ের

    FIR Against Mamata: হাদি হত্যা নিয়ে দেশবিরোধী মন্তব্য মমতার! দেশের তথ্য ফাঁসের অভিযোগে এফআইআর দায়ের

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: বাংলাদেশের ওসমান হাদি হত্যা নিয়ে প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের (Mamata Banerjee) বিতর্কিত মন্তব্য গুরুত্ব পেল না পদ্মাপাড়েই। উল্টে ফের মমতার বিরুদ্ধে এফআইআর দায়ের হল। উস্কানিমূলক বক্তব্য রাখার জন্য শিলিগুড়ি সাইবার ক্রাইম থানায় মমতার বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। পদ থেকে সরতেই কীভাবে দেশের অন্দরের তথ্য ফাঁস করলেন মমতা, তা নিয়ে উঠছে প্রশ্ন। গত ২ জুন রানি রাসমণি রোডের ভরা সভা থেকে নাম না করে বাংলাদেশের ওসমান হাদি হত্যা নিয়ে বিতর্কিত কথা বলেন মমতা। দেশের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রককে জড়িয়ে উস্কানিমূলক মন্তব্য ছুঁড়ে দেন রাজ্যের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী।

    কেন অভিযোগ দায়ের

    আইনজীবী রিঙ্কি সিং চট্টোপাধ্যায় মমতার বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের করেছেন। তাঁর অভিযোগ, গত ডিসেম্বরে বাংলাদেশে খুন হন বিতর্কিত ওসমান হাদি। হাদির হত্যাকারীরা গত জানুয়ারিতে মেঘালয় সীমান্ত পেরিয়ে এ রাজ্যে এলে দুজনকে গ্রেফতার করে রাজ্যের এসটিএফ। এরপর এই নিয়ে ২ জুনের ভরা সভা থেকে মমতা নাম উল্লেখ না করলেও সেই প্রসঙ্গ তুলে ইঙ্গিত করেন, অন্য দেশে খুন হলেও কারা জড়িত তিনি জানেন। নাম জড়ান কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীরও। এতে দেশের নিরাপত্তা বিঘ্নিত হতে পারে। সেই কারণেই রিঙ্কি শিলিগুড়ি থানায় অভিযোগ দায়ের করেছেন।

    বাংলাদেশকে ভারতের বিরুদ্ধে করার প্রয়াস

    রিঙ্কি বলেন, “উনি মুখ্য়মন্ত্রী থাকাকালীন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রকের যাই কথা হোক, সেটা এখন বাংলাদেশের একটা হত্যাকে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রকের নির্দেশে সংগঠিত হত্যা বলে চালাচ্ছেন। বাংলাদেশ ও ভারতের সংঘাতপূর্ণ পরিস্থিতি তৈরি করলেন। বিশ্বদরবারে ভারতের মাথা নত করলেন। বাংলাদেশের হিন্দুদের নিরাপত্তা বিঘ্নিত করেন। পদে আসার সময় শপথ নিয়েছিলেন যে উনি কোনওদিন দেশের গোপনীয়তা বজায় রাখবেন। যেই না পদ চলে গেছে অমনি উনি মৌলবাদীদের উস্কে দিলেন।” আন্তর্জাতিক বিশেষজ্ঞদের মতে, ধরনা মঞ্চ থেকে মমতা যে উক্তি করেছেন তা সাংঘাতিক। বাংলাদেশকে ভারতের বিরুদ্ধে ক্ষেপিয়ে দেওয়ার চেষ্টা। আতঙ্ক ছড়ানোর চেষ্টা। এর ফলে বাংলাদেশে হিন্দুদের উপর আক্রমণ বাড়বে।

    মমতার বিরুদ্ধে অভিযোগ

    • ● ১৫২- দেওয়ানি কার্যবিধি (CPC)
    • ● ১৫৩-দাঙ্গা সৃষ্টির উদ্দেশ্যে উস্কানি, জাতি ও ধর্মের মধ্যে বিদ্বেষ ছড়ানো
    • ● ১৫৩ এ- ধর্ম, জাতি, ভাষা, বা জন্মস্থানের ভিত্তিতে বিভিন্ন গোষ্ঠীর মধ্যে শত্রুতা, হিংসা, বা ঘৃণা ছড়ানো
    • ● ১৯১ ও ১৯২ ধারা- দাঙ্গা লাগানোর চেষ্টা
    • ● ১৯৬ ধারা-ধর্ম,বর্ণ,ভাষা বা অঞ্চলের ভিত্তিতে বিভিন্ন গোষ্ঠীর মধ্যে শত্রুতা বা বিদ্বেষ ছড়ানো এবং জনসম্প্রীতি বিনষ্ট করলে
    • ● ৩৫১- কোনও ব্যক্তিকে ভয় দেখানোর উদ্দেশ্যে বা তার ইচ্ছার বিরুদ্ধে কোনো কাজ করতে বাধ্য করার চেষ্টা
    • ● ৩৫২-ইচ্ছাকৃত ভাবে শান্তি ভঙ্গ করার উদ্দেশ্য

    পাত্তা দিল না বাংলাদেশ

    তবে, বাংলাদেশের মূলধারা রাজনৈতিক দলগুলি তৃণমূল নেত্রীর বক্তব্য নিয়ে তেমন একটা আগ্রহ দেখায়নি। কোন দলই পশ্চিমবঙ্গের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রীর (West Bengal Ex CM) বক্তব্যকে গুরুত্ব দিতে চায়নি। বাংলাদেশের শাসক দল বিএনপি (BNP) সরকারিভাবে কোন প্রতিক্রিয়া না দিলেও সে দেশের বিদেশ প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ মমতার বক্তব্যকে গুরুত্ব দেননি। তিনি বলেন, উনি (মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়) সদ্য নির্বাচনে হেরে গিয়েছেন। একজন ব্যক্তি বিশেষের কথা নিয়ে সরকারের‌ তরফে প্রতিক্রিয়া দেওয়া উচিত হবে না।

    কী বলেছেন মমতা

    মঙ্গলবার ধর্মতলায় তৃণমূলের ধর্না কর্মসূচিতে প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশের একটি হত্যা মামলার আসামি ভারতের মেঘালয় দিয়ে পশ্চিমবঙ্গে প্রবেশের পর পুলিশ তাঁকে গ্রেফতার করে। হোম মিনিস্টার তখন আমাকে ফোন করে বলেন পশ্চিমবঙ্গ পুলিশ যেন দেশের স্বার্থে এই ব্যাপারে মুখ না খোলে। তিনি আরও বলেন, ‘কাকে দিয়ে খুন করিয়েছিলেন? কার কার নাম বেরিয়ে ছিল? সবটাই জানি।’ তৃণমূল নেত্রীর ওই মন্তব্যের পর আলোচনায় আসে বাংলাদেশের ইসলামিক ঐক্য জোটের আহ্বায়ক শরিফ ওসমান হাদির হত্যাকাণ্ডের প্রসঙ্গ। গত বছর ১২ ডিসেম্বর ঢাকায় দিন দুপুরে তাঁকে খুন করা হয়। তারই হত্যাকারীদের ভারতীয় পুলিশ গ্রেফতার করে। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বক্তব্যকে অনেকেই ওসমান হাদির হত্যাকাণ্ডের প্রসঙ্গ বলে ধরে নিচ্ছেন। হোম মিনিস্টার বলতে তিনি ভারতের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহকে ইঙ্গিত করেছেন বলেও মনে করা হচ্ছে। যদিও তিনি অমিত শাহের নাম মুখে আনেননি। ‌ উল্লেখ করেননি হাদির নামও।

    মমতার মন্তব্য উদ্দেশ্য প্রণোদিত

    মঙ্গলবার ধর্মতলার কর্মসূচিতে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন হত্যাকাণ্ডে কারা জড়িত তাদের নাম যদি বলি তাহলে বাংলাদেশের তোলপাড় হবে। ওয়াকিবহাল মহলের অনেকের মতে, মমতার কথায় বাংলাদেশে ব্যাপক আলোড়ন তৈরি হবে বলে মনে করা হচ্ছিল। বাস্তবে সে‌ দেশের শাসক-বিরোধী কোনও দলই তৃণমূল কংগ্রেস নেত্রীর বক্তব্যকে খুব একটা গুরুত্ব দেয়নি। বাংলাদেশের একাধিক সংবাদ মাধ্যম সূত্রের খবর বিএনপি নেতৃত্ব একান্তে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বক্তব্য নিয়ে বিরক্তি প্রকাশ করেছে। তারা মনে করছে নির্বাচনে ভরাডুবির পর মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় কেন্দ্রে শাসকদল বিজেপিকে নিশানা করতে এই মন্তব্য করেছেন। বিএনপির এক বর্ষীয়ান নেতা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেছেন, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় পশ্চিমবঙ্গের নির্বাচনে পরাজিত হয়েছেন। সেখানে বিজেপি সরকার গড়েছে। এই পরিস্থিতিতে তার কোন মন্তব্য নিয়ে ভারতের সঙ্গে বিবাদে জড়াতে চায় না বিএনপি। ওই নেতার কথায় মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের মন্তব্য সম্পূর্ণভাবে একটি দেশ-বিরোধী পদক্ষেপ। ভারতের রাজনীতির এই অভ্যন্তরীণ বিষয় নিয়ে, তাই বিএনপি মাথা গলাতে আগ্রহী নয়। হাদির হত্যাকারীদের প্রত্যর্পণের জন্য বাংলাদেশ সরকার কূটনৈতিক চ্যানেলে আবেদন জানিয়ে রেখেছে। দুই দেশ যৌথভাবে ওই হত্যাকাণ্ডের তদন্ত চালাচ্ছে।

  • NIA: ভাঙড়ের হেরো তৃণমূল প্রার্থী সওকত মোল্লার বাড়িতে হানা এনআইএ-র, আটক ছেলে, কোন মামলায়?

    NIA: ভাঙড়ের হেরো তৃণমূল প্রার্থী সওকত মোল্লার বাড়িতে হানা এনআইএ-র, আটক ছেলে, কোন মামলায়?

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ঘোর বিপাকে ভাঙড়ের হেরো তৃণমূল প্রার্থী সওকত মোল্লা (Saokat Mullah)। ছাব্বিশের বিধানসভা নির্বাচনে হেরে গিয়ে (NIA) ঘরে সেঁধিয়েছেন বুয়া-ভাতিজা! একা হয়ে গিয়েছেন সওকত। মাথার ওপর থেকে ‘মমতা ব্র্যান্ডে’র ছাতাটা সরে যেতেই ফোঁসফাঁস করা বন্ধ করে দিয়ে সওকত এখন মিউমিউ করছেন! এহেন ‘ভাঙড়ের ত্রাসে’র আস্তানায় হানা দিল জাতীয় তদন্তকারী সংস্থা, এনআইএ। নির্বাচনোত্তর হিংসা এবং বিধানসভা নির্বাচনের মুখে বিস্ফোরণ সংক্রান্ত মামলার তদন্তে বৃহস্পতিবার সওকতের খোঁজে ক্যানিংয়ে পৌঁছয় এনআইএ। এদিন প্রথমে পুরো এলাকা ঘিরে ফেলে পুলিশ ও আধাসেনা। তার পরেই জীবনতলা এলাকার তাঁর বাড়িতে হানা দেয় এনআইএর বিশেষ দল৷ এদিন অবশ্য আধিকারিকরা সেখানে গিয়ে সওকতকে পাননি। তাই তদন্তের স্বার্থে তাঁর ছেলে ইমরান মোল্লাকে আটক করে সঙ্গে নিয়ে গিয়েছেন তাঁরা।

    সওকতের বাড়িতে এনআইএ (NIA)

    এদিন সাত সকালেই এনআইএর দু’টি দল জীবনতলা এলাকায় সওকতের বাড়িতে পৌঁছয়। তদন্তকারীরা অনেকক্ষণ ধরে পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কথা বলেন। খবরাখবর নেওয়া হয় সওকত কোথায় রয়েছেন, সেই ব্যাপারে। তৃণমূলের রাজত্বে ‘কেউটে’ থেকে পদ্ম-রাজে ‘হেলে’ হয়ে যাওয়া সওকত বাড়িতে নেই বলেই দাবি করেন পরিবারের লোকজন। তখনই তদন্তকারীরা ইমরান নামে তাঁর এর ছেলেকে নিজেদের গাড়িতে তুলে নিয়ে যান (NIA)। তাঁকে অবশ্য গ্রেফতার করা হয়নি, জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করা হয়েছে৷ এনআইএর একটি দল সওকতের হোটেল এবং অন্যান্য ‘ঠেকে’ তল্লাশি চালায়, জানার চেষ্টা করে তাঁর গতিবিধি সম্পর্কে।

    নির্বাচনোত্তর হিংসায় এল সওকতের নাম

    গত ১৮ মার্চ ভাঙড়ের চালতাবেড়িয়া-বামুনিয়া এলাকায় ভয়াবহ বিস্ফোরণ ঘটে। নির্বাচনোত্তর হিংসার একাধিক ঘটনার তদন্তেও নাম জড়িয়েছে সওকতের। সেই সূত্রেই তাঁর খোঁজে চলছে তল্লাশি অভিযান। স্থানীয়দের একাংশের অনুমান, সওকত বর্তমানে কলকাতা কিংবা তার আশপাশের কোনও এলাকায় রয়েছেন (Saokat Mullah)। রাজনৈতিক মহলে সওকত পরিচিত মুখ। ভাঙড় এলাকায় দীর্ঘদিন ধরেই দাপিয়ে ‘রাজ’ করছিলেন তিনি। একাধিক রাজনৈতিক সংঘর্ষ এবং হিংসার ঘটনায় নাম জড়িয়েছে তৃণমূলের এই প্রাক্তন বিধায়কের। যদিও সওকতের বিরুদ্ধে ওঠা যাবতীয় অভিযোগ (NIA) অস্বীকার করেছেন তৃণমূল নেতৃত্ব৷

    সওকতের বিরুদ্ধে অভিযোগের তালিকা দীর্ঘ 

    সওকতের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের তালিকা দীর্ঘ। কয়লাপাচার মামলার তদন্তে একাধিকবার সওকতকে তলব করেছিল আর এক কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা সিবিআই৷ সেই সময় তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদও করা হয়েছিল দীর্ঘক্ষণ ধরে। যদিও ওই মামলায় কাউকেই গ্রেফতার করা হয়নি। এবার ভোট-পরবর্তী হিংসা এবং বিস্ফোরণ মামলার তদন্তে নেমে এনআইএ হানা দিয়েছে সওকতের (Saokat Mullah) ডেরায়। তৃণমূলের প্রাক্তন এই বিধায়কের পরিণতি কী হয়, তা জানতে রাজ্যবাসীকে অপেক্ষা করতে হবে আরও কয়েকটা দিন (NIA)।

     

LinkedIn
Share